Friday, September 13, 2013

সরল গরল- ইউনূসকে নিয়ে হিং টিং ছট্ by মিজানুর রহমান খান

আমাদের পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির অর্থমন্ত্রী এ এম এ মুহিত ও আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ যা করছেন, তাতে মনে হচ্ছে তাঁরা যেন অবতীর্ণ হয়েছেন নিজেদের নিচে নামানোর এক অভূতপূর্ব প্রতিযোগিতায়।

সময়ের প্রেক্ষিত- স্মৃতি কেন এতটা ক্ষণস্থায়ী? by মনজুরুল হক

বিস্মৃতির বিরুদ্ধে স্মৃতির লড়াই নতুন কিছু নয়। মানুষের স্মৃতিকে যারা ভুলিয়ে দিতে তৎপর, সেই দলে আছে ক্ষমতার দম্ভে দিন-রাতের হিসাব ভুলে যাওয়া মানুষ, যারা আমাদের দিয়ে এমনকি রাতকেও দিন বলিয়ে নিতে বাধ্য করানোর খেলায় তৎপর।

নগর দর্পণ: চট্টগ্রাম- ‘সেরা’ বিশ্ববিদ্যালয়, ‘সেরা’ ব্যবস্থাপক! by বিশ্বজিৎ চৌধুরী

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়কে সর্বসেরা আঞ্চলিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং এই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আনোয়ারুল আজিম আরিফকে বছরের সেরা ব্যবস্থাপক হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে।

সম্পূর্ণ প্রেমের গল্প by বদরুন নাহার

১.
লেফটেন্যান্ট কর্নেল শফি সফ্ট সাটিন নাইট ড্রেসে ঘরে আসতেই ডোনা বুঝতে পারে। সে সুইজারল্যান্ড থেকে আনা সুগন্ধি মোম জ্বেলে নেয়।

পিপ্পির মন খারাপ by আশিক মুস্তাফা

মরিচ দেখলেই মাথায় চক্কর মেরে ওঠে পিপ্পির। এক জায়গায় স্থির থাকতে পারে না। হেলেদুলে পড়ে যায়। জ্ঞান হারিয়ে ফেলে।

শরতের কবিতা- স্মৃতিময় শারদীয় হাওয়া by সৈয়দ শামসুল হক

সে কী বিস্ময়! কী যে বিস্ময়! কী করে ভুলি!

আকাশের নীল ঘন শাদা মেঘ, কবেকার গ্রামপথে ডুলি!

নাইওরে যাচ্ছে বউ! একদিন চুল তার—

থ্রিজি এখন by নুরুন্নবী চৌধুরী

হয়ে গেল তৃতীয় প্রজন্মের মোবাইল নেটওয়ার্ক প্রযুক্তি থ্রিজির নিলাম। এর ফলে টেলিটকের পর বেসরকারি মোবাইল সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান গ্রামীণফোন, রবি, বাংলালিংক ও এয়ারটেল গ্রাহকদের থ্রিজি সেবা দেওয়ার অনুমতি পেল।

মাহমুদুল ইসলামের মতে ড. ইউনূস সরকারি চাকুরে নন

মন্ত্রিসভার নজিরবিহীন সিদ্ধান্তে অনেক আইনি প্রশ্ন সামনে এসেছে। আরেকটি তথ্য হচ্ছে ১৯৯৯ সালে ড. ইউনূসের বয়সসীমা ৬০ বছর অতিক্রমের পর তিনি গ্রামীণ ব্যাংকের কাজে বিদেশ ভ্রমণে কোন অর্থ নেননি।

কোহিনুরকে ফুঁসলিয়ে ঢাকায় এনেছিল লোকমান by মামুনুর রশিদ

কিশোরী কোহিনুরকে ফুঁসলিয়ে গ্রামের বাড়ি থেকে ঢাকায় এনেছিল লম্পট লোকমান। তারা সম্পর্কে খালাত ভাই-বোন।

মসজিদের শহর বারোবাজার by নূর ইসলাম

মসজিদের শহর বারোবাজার। যশোর শহর থেকে ১৭ কিলোমিটার দূরে যশোর-ঝিনাইদহ সড়কে বারোবাজারের অবস্থান।

বিশ্বায়নের কাল- বিশ্বের সবচেয়ে প্রাণঘাতী সীমান্ত

বিশ্বের সবচেয়ে প্রাণঘাতী সীমান্ত কোনটি? এ প্রশ্নের জবাবে আমাদের মনে ভেসে উঠতে পারে ফিলিস্তিনিদের গাজা ভূখণ্ডের সঙ্গে ইসরায়েলের সীমান্তের কথা।

লিভার অকেজোর ১০ কারণ

মানুষের শরীরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অভ্যন্তরীণ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মধ্যে একটি হচ্ছে লিভার বা যকৃৎ। লিভারের সুস্থতার ওপর নির্ভর করে শারীরিক সুস্থতা।

ফাঁসির দণ্ড দিল্লির চার ধর্ষকের

আগেই তাদের দোষী সাব্যস্ত করেছিলেন আদালত। সবাই অপেক্ষায় ছিলেন, কী সাজা হয়! আজ শুক্রবার দিল্লির আদালত জানিয়ে দিলেন, নির্ভয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় অভিযুক্ত চারজনের ফাঁসি হবে।

দুই দেশের নিরাপত্তা ও জনস্বার্থেই চাই ছিটমহল বিনিময় by সুমি খান

৫১ হাজার ৫৪৯ জন ‘নাই’ দেশের নাগরিক ছিটমহলবাসী। এরা প্রত্যেকে তাদের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রশ্নে  বিশ্ববাসী এক।

নাইন ইলেভেনের স্মৃতি by আদনান সৈয়দ

প্রতিবারই ‘নাইন ইলেভেন’ চলে আসে যখন, হঠাৎ করেই যেন সেই পুরনো স্মৃতিতে এক ঝলক ঘুরে আসি। স্মৃতির আয়নায় স্পষ্ট দেখতে পাই ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের সেই জমজ দুটো দালান ঠিক যেন জড়াজড়ি করেই দাঁড়িয়ে আছে।

সংঘাত এড়াতে একটি নির্বাচনী ফর্মূলা by আবদুল হামিদ মাহবুব

দেশ আসন্ন সংঘাতের পথে। একটিমাত্র বিষয় নিয়ে এই সংঘাতের আশঙ্কা। আগামী সংসদ নির্বাচন কার অধীনে হবে? তত্ত্বাবধায়ক, অন্তর্বর্তী না বর্তমান সংবিধানের বিধান অনুযায়ী?

অন্তঃসত্ত্বা সেজে মাদক পাচার

মাদক পাচারে নানা কৌশল অবলম্বন করে থাকে এ অবৈধ ব্যবসার সঙ্গে জড়িতরা। বিমানবন্দরে কাস্টমসের চোখে ধুলো দিয়ে গলে যায় অনেক সময়।

গর্ভধারণ যখন পেশা

জীবিকার তাগিদে মানুষ কত কী-ই না করে। অন্যের সন্তান নিজের গর্ভে ধারণ ও জন্ম দেওয়াও যে একটি পেশা হতে পারে, তা আমাদের অনেকের কাছে বিস্ময়ের।

মিস ভেনেজুয়েলার সঙ্গে ‘ক্লান্ত’ ওজিল, তাই বাদ রিয়াল থেকে

ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো থেকে জোয়াকিম লো। স্পেন থেকে জার্মানি। রিয়াল মাদ্রিদ তাঁকে আর্সেনালে বিক্রি করার জন্য গত কয়েক দিন ধরে কম ক্ষোভ দেখা যায়নি।

১৫ মিনিটের পারিশ্রমিক ৫ লাখ ডলার!

হলিউড অভিনেত্রী ক্রিস্টেন স্টুয়ার্টের ১৫ মিনিট সময় বিক্রি হয়েছে ৫ লাখ ডলারে। বাংলাদেশি টাকায় যার পরিমাণ ৩৮ কোটিরও বেশি।

শরৎ বৃথা বয়ে যায় by হাসান আজিজুল হক

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের স্মৃতি-বিস্মৃতি দুই-ই ঘটে। আমার যেহেতু কিছুটা বয়স বেড়েছে, তাই মাঝেমধ্যেই স্মৃতি এসে হানা দেয়, ফিরে ফিরে যাই শৈশবে। যেমন এই শরৎকালের কথা মনে এলে মনের মধ্যে বারবার জেগে ওঠে ছেলেবেলার নানা স্মৃতি। আমার মনে হয়, বয়স বাড়ার সঙ্গে পৃথিবীতে মানুষ যত পুরোনো হতে থাকে, তার কাছে ঋতুর বৈচিত্র্যও তত পুরোনো হতে শুরু করে। আমাদের দেশে ঋতুগুলো একসময় খুব পরিষ্কারভাবে বিভক্ত ছিল। আর এখন বিষাক্ত পৃথিবীতে প্রকৃতির ভারসাম্যহীনতার কারণে ঋতুর বিচিত্রতা তো তেমনভাবে বোঝাই যায় না—কোন ঋতু যে কখন পার হয়, টেরই পাওয়া যায় না! ছেলেবেলায় শরৎকাল আমি যে কী পছন্দ করতাম! শরতের নির্মল আকাশে থাকত ননি মাখানো মেঘ—মেঘটা পেঁজা তুলোর মতো ভেসে বেড়াত। মনে পড়ে, শরতের সময় যবগ্রামে আমাদের খামারবাড়িতেই কাটাতাম বিকেলগুলো।
শেষ বিকেল পেরিয়ে সন্ধ্যা নামার ঠিক আগে আকাশের মেঘ সরে যেত, জ্বলে উঠত সন্ধ্যাতারা। আমাদের গ্রামটা ছিল আদিগন্ত সবুজের সমুদ্র। শারদীয় ভোরে বাড়ি থেকে ছুটে বেরিয়ে যেতাম গ্রামে। মাঠভর্তি কাশফুলের আড়ালে চুপচাপ বসে থাকতাম—ভাবখানা এমন, যেন আমাকে কেউ দেখতে পাবে না। শরতের সঙ্গে দুর্গাপূজাও শুরু হতো, ছুটি থাকত স্কুলে। ফলে মজাটা দ্বিগুণ হয়ে উঠত। আমাদের গ্রামে হিন্দুই ছিল বেশি। তাই শরৎ আসার আগ থেকেই গ্রামজুড়ে শুরু হতো দুর্গাপূজার ঢাক-গুড়গুড়। সারা বছর প্রতিমার যে খড়ের কাঠামোটি ঘরের এক কোনায় পড়ে থাকত, শরতে পূজার বাতাস পেয়ে সেটি পেয়ে যেত পূর্ণাঙ্গ প্রতিমার গড়ন—প্রতিমার খড়ের কাঠামোতে এক মাটি, দুই মাটি, খড়িমাটি—এভাবে শেষ পর্যায়ে হতো চক্ষুদান। আমাদের কাছে এ পর্বটি ছিল খুবই আকর্ষণীয়। রাজ্যের বিস্ময় নিয়ে দেখতাম, প্রতিমার চক্ষুদান হচ্ছে—আকর্ণবিস্তৃত চোখ আঁকছেন শিল্পী—সেসব কী ভোলা যায়! প্রতিবছরই শরৎ আসে। কিন্তু নানা কাজকর্মের চাপে এ ঋতুকে কি সেভাবে খেয়াল করা হয় এখন? তবে এখনো নীল আকাশে তাকিয়ে পেঁজা তুলোর মতো মেঘ ভাসতে দেখলে আমার কেবল ছেলেবেলার কথা মনে পড়ে। দুর্গাপূজার ঢাকের শব্দ শুনে মন বলে, ক্ষণিকের অতিথি হয়ে শরৎ বৃথা বয়ে যায়!

সম্পূর্ণ প্রেমের গল্প by বদরুন নাহার

১. লেফটেন্যান্ট কর্নেল শফি সফ্ট সাটিন নাইট ড্রেসে ঘরে আসতেই ডোনা বুঝতে পারে। সে সুইজারল্যান্ড থেকে আনা সুগন্ধি মোম জ্বেলে নেয়। বিছানায় লেফটেন্যান্ট তার পুরো শরীরটাকে আষ্টেপৃষ্ঠে ধরলে ডোনা সম্পূর্ণরূপে তাঁর শরীরের চাপ অনুভব করে। তখনো কর্নেল স্লিপিং গাউনের ফিতা উন্মুক্ত করেননি। সাধারণত সেটা আর একটু পরের পর্ব। প্রথমে চেপে থাকা ডোনার শরীর থেকে পোশাক টেনে টেনে খুলবেন তিনি; এবং নিজের গাউন উন্মুক্ত করবেন একটানে, মাত্র একটি ফিতায় হাত রেখে। কিন্তু তার আগে তিনি ডোনার ঠোঁটটা পুরে নেবেন মুখের ভেতর। ঘরে তখন সৌরভময় ধোঁয়া ছড়িয়ে গলে পড়ছে মোম। ডোনা প্রতিটি মুহূর্তকে তারিয়ে তারিয়ে অনুভব করে। ঠোঁট পিষ্ট শেষ হতে না হতেই ফোনটা বেজে ওঠে। অনায়াসে শফি উঠে পড়লেন। ডোনা শুয়ে শুয়ে অপেক্ষা করে। তার শরীর জেগে উঠেছে, তাড়া সইছে না। লেফটেন্যান্ট বুট ছাড়াই পা ফ্লোরে দপ করে ফেলে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে বললেন, ‘ইয়েস, স্যার।’ ডোনা বিছানা থেকে দেখে বুঝতে পারছে না, শফির মুখে কোনো ভাঁজ পড়ছে কি না। মোমের আলোতে ঠিক মুখের কাছে মুখটা মুখোমুখি ঝুলে থাকলেই কেবল সে ভালো করে তাঁকে দেখতে পায়।
একসময় একটি তুলতুলে পাখির ছানার মতো সে শফির বুকের সঙ্গে মিশে থাকতে থাকতে দেখত শারীরিক শ্রমের প্রতি পর্বে তাঁর মুখের ভাঁজের পরিবর্তন। লেফটেন্যান্ট পা আরও সোজা করে বললেন, ‘ইয়েস, স্যার।’এবং আবারও বললেন, ‘ইয়েস, স্যার।’ এবার তিনি রুম থেকে বেরিয়ে গেলেন, ডোনা অনুভব করল, তার ঠোঁট এতক্ষণে স্বাভাবিক হয়েছে এবং ঠোঁটে দাঁতের স্পর্শে মাংস উঁচু হয়ে গেছে। সে তবু একটুও নড়ে না। সে অপেক্ষা করে লেফটেন্যান্ট কর্নেলের ফিরে আসার। আর ভাবতে থাকে, ফিরে এসে তিনি কি আবার ঠোঁট থেকে শুরু করবেন নাকি পিঠের নিচে হাত দিয়ে খুলে ফেলবেন হুক? সে চোখ বন্ধ করে বিষয়টি অনুভবে আনতে চায়। ঠিক তখনই পাশের ঘর থেকে ভেসে আসে অতিপ্রিয় বুটের শব্দ। আজ রাতে সেই স্বপ্নময় আওয়াজে ডোনা চমকে ওঠে। চোখ মেলে দরজায় দেখতে পায় তাঁকে। সেখান থেকেই লেফটেন্যান্ট শফি বলে ওঠেন, ‘গুড নাইট, সুইটহার্ট।’ বুটের আওয়াজ তুলে চলে যান শফি। ডোনার ঠোঁটে হঠাৎ ব্যথা অনুভূত হয়। মিলিয়ে যেতে থাকা বুটের শব্দকে ফিরে চলা ঘোড়ার খুরের আওয়াজ বলে মনে হয়। সে ব্যথিত হয়। সেই কবে থেকে ঘোড়ার খুরের ধুলো উড়িয়ে আসার প্রতীক্ষায় ছিল সে! আজ প্রথমবারের মতো মনে হয়, ঘোড়া চেপে নয়, ফিরে এসো রাজকুমার নগ্ন পা ফেলে।
২. কবে থেকে ডোনা স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিল? স্কুলের গেটে ভিখিরির মতো দাঁড়িয়ে থাকা ছেলেগুলোর দিকে সে তাকাতে পারত না। কারণ, সে সব সময় ভাবত যে দিগন্ত কাঁপিয়ে টগবগ টগবগ শব্দে আসবে রাজকুমার। কলেজের প্রথম বর্ষের মেয়েদের মধ্যে ডোনাকে আলাদাভাবে চিনে নিত যে কেউ। তার মতো সুন্দর মুখের প্রাচুর্য তো ক্লাসময় ছিল না। কিন্তু সবাই তার দিকে তাকালেও ডোনা তাদের দেখেনি কখনো। সে কেবল কান পেতে থেকেছে। ঘোড়ার খুরের শব্দ দূর থেকে ক্রমশ কাছে আসতে আসতে বেড়ে যাওয়া শব্দের রাশ টেনে ধরায় প্রতিবাদী ঘোড়ার হ্রেষা; ঘোড়া থেকে লাফিয়ে নেমে আসবে যে, সে হবে পাহাড়ের মতো উঁচু, তার কণ্ঠের চমকে স্থির হয়ে যাবে ব্যস্ত শহর। সেই স্থির নীরবতায় পা ফেলে এগিয়ে এসে রাজকুমার হাঁটু গেড়ে নতজানু হবে ডোনার সামনে। বলবে, ‘এসেছি।’ ডোনার অধর কেঁপে কেঁপে যাবে, সে বলে উঠবে, ‘ভালোবেসেছি...ভালোবেসেছি...।’ শহর স্থির হয় না, ডোনার অধরও কাঁপে না। ব্যস্ততাক্লিষ্ট শহরের মধ্যে সাইকেলের টুংটাং শব্দে গতকালের চালানে আসা সবচেয়ে রঙিন গোলাপ হাতে কেউ এসে দাঁড়ালেও ডোনা চোখ ফিরিয়ে নেয়। এমনকি পালসার কিংবা ডিসকভারির হানড্রেড ফিফটি মোটরবাইক হার্ডব্রেক কষে দাঁড়িয়ে পথরোধ করলেও উল্টো পথে হেঁটেছে ডোনা। সে তার সব প্রেম নিয়ে অপেক্ষায় আছে ঘোড়া সওয়ারির। মনে মনে ভেবে রেখেছে, তার সামনে নিজের আচরণটা কী হবে। কতটা নেশাগ্রস্ত হয়ে উঠবে দুজন প্রথম দর্শনে। সে কি হাত বাড়িয়ে ঘোড়ার পিঠে তুলে নেবে তাকে? হারিয়ে যাবে দিগন্ত থেকে দিগন্তে, নাকি হাত বাড়িয়ে চুম্বন করবে হাতে, চোখ বুজে আসবে ডোনার...।
ক্লাসের ফাঁকে এমন সব ভাবনায় ফ্লোরোসেন্ট-ফরসা মুখে গিরগিটির মতো রক্ত জমা হলে বান্ধবীরা চেপে ধরত, ‘বল না, কে? কত দিন ধরে...ডুবে ডুবে জল!’ কিন্তু কোথায় সে? ক্লাসের পরীক্ষা ছাড়া আর সেই গোধূলি ধুলোর ঝড় তোলা-ক্ষণ আসে না। তবু ডোনা জানত, আসবে। তাই তার অপেক্ষার সময়গুলো পরিকল্পনার সিঁড়ি বেয়ে এগিয়ে যায়। ডোনা ভেবে রাখে, রাজকুমারকে সাত বর্ণের ঝালর বানিয়ে দেবে নিজ হাতে। কী ফুল আনবে সে? সে কি জানবে না রক্তকরবী নয়, নীলপদ্মও নয়, কেবল ক্যামেলিয়া ফুলের জন্য আজন্ম অপেক্ষা তার। প্রতিদিনই নিজেকে সুন্দর থেকে সুন্দর করে পরিপাটি করতে থাকে ডোনা। তবে দিন শেষে ক্লান্ত মনে সে অস্থির হয়। আর কবে? বান্ধবীদের কাছে হাসির খোরাক হচ্ছে দিনে দিনে। কেউ কেউ বলে অহংকারী। কিন্তু ডোনা কাউকে কিছুতেই বোঝাতে পারে না তার প্রেমের গভীরতা, অপেক্ষার প্রহরে একাকিত্বের কষ্ট নিয়ে সে জেগে আছে দূরের চাঁদের মতো! শহরে তখন তুমুল জনস্রোত। কিন্তু পথটাকে ডোনার প্রতিদিনের মতো লাগে না, তবে কি সে ভিন্ন কোথায় চলে এল? জনস্রোতকে স্তব্ধ করে ভেসে আসে ছুটন্ত ঘোড়ার পদধ্বনি, হ্রেষা। এছাড়া আর সবই স্তব্ধ। যেমনটা হওয়ার কথা ছিল, ঠিক তা-ই। ক্রমশ শব্দের নৈকট্যে ডোনার অস্থিরতা বাড়ে। ঘোড়ার মুখের পানে চেয়ে তাকাতে চায় রাজকুমারের দিকে, ঠিক তখনই জেগে ওঠে ডোনা। তার সারা শরীর কেঁপে কেঁপে যায়, দুঃখ এসে ভর করে মনে। চেহারাটা পর্যন্ত দেখা হলো না! স্পর্শের কাছে পেয়েও যেন দূর হয়ে গেল সবকিছু। ডোনা জানালায় দাঁড়িয়ে মধ্যরাতে তারার ছুটে চলা দেখে। মনে মনে প্রার্থনা করে, রাজপুত্র এবং তার ঘোড়ার জন্য। তারাটি কি ডোনার খবর পৌঁছে দেবে তাকে?
৩. মা বললেন, ‘ছেলেটা ভালো। তোমার বাবার সঙ্গে আমিও ছিলাম, দেখেছি। একেবারে রাজপুত্রের মতো।’ ডোনার মন ক্রমশ মেঘাচ্ছন্ন হয়। সে ভাবে, তাহলে কেন ঘোড়ায় সওয়ার হয়ে এল না সে, এসে অস্ফুট স্বরে বলল না, ‘এসেছি।’ মা বলেন, ‘এখনকার দিনে সবচেয়ে দামি পাত্র সে। ডিফেন্সে আছে, বিয়ে করতে একটু দেরি হলো ক্যারিয়ারের জন্য।’ ডোনার চোখের সামনে ধুলোর ভেতর থেকে বেরিয়ে আসা মুখ সহজেই একটা অবয়ব পেতে থাকে। সে কোনো উত্তর দিতে পারে না। মা তাকে সময় দেন। রাজকুমারের অপেক্ষায় থেকে এমন সমস্যার মুখোমুখি হতে হবে, সে চিন্তা কখনো হয়নি তার। বান্ধবীরা শুনেই বলে, ‘এই জন্যই অপেক্ষায় ছিলি?’ সে কিছু বলে না। কাউকে কিছু বললে হাসবে, ডোনার এই অপেক্ষারত প্রেমের কথা এমনকি মাকেও বলা যাচ্ছে না। তবে কি ব্যর্থ প্রেমের যন্ত্রণা তাকে বয়ে বেড়াতে হবে সারাটা জীবন? অস্পষ্ট মুখের ছায়া খুঁজে ফিরতে হবে গোপনে, অন্যের বাহুলগ্ন থেকে! ডোনা স্বপ্নভঙ্গের ব্যথায় ব্যাকুল। ভাবতে থাকে, আসলে সে কেমন দেখতে হতো, তার বুকটা কি লোমশ নাকি ঠোঁটের নিচে তিল? ডোনার আকাঙ্ক্ষার উচ্চতা ছিল একটু বেশিই, তাই চারপাশে সবকিছু বড় তুচ্ছ আর নীচু মনে হয়েছে সব সময়। মা-ই তাকে তৈরি করে তুলেছিলেন উচ্চাভিলাষী করে। ছোটবেলায় মেয়ের নাক প্রতিদিন টেনে টেনে তেল মাখতেন তিনি, চোখে কাজল পরাতেন। ডোনা নাকি তাই এত সুন্দর হয়েছে, যা কিছু চিনতে শিখেছে, সবই সুন্দর। এমনকি অনেক উঁচুতে তার ভাবনার বসবাস! কিন্তু সেখান থেকে আজও সে ছুঁতে পারেনি প্রেম। এত যত্ন করে ভালোবাসতে শিখেছে, অথচ কোথায় সে জন? ডোনা চোখ মেলে পথের দিকে তাকিয়ে দেখতে পায়, রিকশার হুড ফেলে চলে যাওয়া ছেলেটির চিবুকে ভাঁজ, মোটরবাইকের হেলমেট; কিন্তু কোথাও মেলে না খুরের শব্দে ছুটে আসা সেই রাজকুমার। অতঃপর নীরবতা পেরিয়ে বিয়ে!
৪. নিজের কল্পনাশক্তির প্রতি ডোনার বিশ্বাস ছিল, কিন্তু সেই কল্পনাকে যেন হার মানাল বাস্তব! এভাবে সত্যি সত্যিই তার আসল রাজকুমারকেই পেয়ে যাবে, তা কি আদৌ ভেবেছিল ডোনা! মায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা ভাষায় প্রকাশের নয়, আসলেই মা তাকে রাজকুমার এনে দিয়েছেন। সেই ছোটবেলায় যেমন নাকটা টেনে টেনে উঁচু করেছিলেন, আজও যেন তাঁর যত্নের সেই ছোঁয়া। ডোনার নিভে যাওয়া স্বপ্নের দরজায় প্রথম কড়া নাড়ে লেফটেন্যান্ট কর্নেল শফির চৌকস বুটের শব্দ। এল বুঝি রাজকুমার! কর্নেলের বুটের শব্দে সহসা মনে হয় ঘোড়ার খুরের আওয়াজ! এল রাজকুমার। তারপর শফি আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরে অধর ছুঁয়ে গেলে ডোনা কেঁপে কেঁপে যায়। সেই অপেক্ষমাণ কম্পনের ভেতর সে শুনতে পায়, ‘আই লাভ ইউ।’ তার ঠোঁট দুটো রাজকুমারের গহ্বরে ডুবে যেতে যেতে বলতে থাকে, ‘ভালোবেসেছি...ভালোবেসেছি।’ সেই থেকে ডোনার স্বপ্নের সংসারে লেফটেন্যান্ট শফি ঘোড়ার খুরের মতো পা ফেলে ফেলে ফিরে আসেন। তাঁর পৌরুষদীপ্ত ছোঁয়ায় একসময় নিজেকে রাজেশ্বরী মনে হতো ডোনার। কিন্তু আজ! শরীরের ওপর কর্নেল না থাকলেও সে এতটুকু নড়তে পারে না। তার ভীষণ কষ্ট হয়। বুটের শব্দ মিলিয়ে গেলেও ডোনার কানে তা বেজে চলে কর্কশভাবে। সুগন্ধি মোমের মতো নীরবে তার চোখ বেয়ে নামে জল। আহারে রাজকুমার! আজ হয়তো সারা রাত ঘোড়ার মতো দাঁড়িয়ে কাটাবে। রাজার আদেশ।

পরমাণু ইস্যুতে জয়-জয় বৈঠক চান রুহানি

ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানি বলেছেন, তার সরকার পরমাণু সমস্যার এমন একটি সমাধান চায় যেখানে দু’পক্ষই বিজয়ী হবে। তবে পরমাণু বিষয়ে যে কোন আলোচনা হতে হবে পারস্পরিক সম্মান ও আস্থার ওপর ভিত্তি করে এবং পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি বা এনপিটি’র গঠনকাঠামোর বাইরে যাওয়া যাবে না। ড. রুহানি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন প্রেসটিভিতে সম্প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে বলেন, এনপিটি চুক্তিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের যে অধিকার দেয়া হয়েছে ইরানকে তা ব্যবহার করতে দিতে হবে।