Sunday, August 10, 2014

ম্যাডোনা কন্যা লর্ডিসের কান্ড

কানের সমুদ্রসৈকতে অবকাশযাপন করছেন ম্যাডোনা কন্যা লর্ডিস। বিকিনি পরা লাস্যময়ী লর্ডিস যেন খুশির জোয়ারে ভাসছিলেন। কানে আসার উদ্দেশ্য হলো মায়ের জন্মদিন উদযাপন। এ খবর দিয়েছে বৃটেনের ডেইলি মেইল। শুক্রবার কানের রৌদ্রজ্জ্বল সমুদ্র সৈকতে ১৭ বছরের লর্ডিসকে দেখা যায় পারিবারিক বন্ধুদের সঙ্গে। এছাড়াও ছিলেন ৫৫ বছর বয়সী ম্যাডোনার বয়ফ্রেন্ড টিমোর স্টিফেন্স (২৬)। ম্যাডোনার ৫৬তম জন্মদিন আসছে ১৬ই আগস্ট। ম্যাডোনার ছেলে রোকোও সেখানে ছিলেন। কিন্তু মেইলের ছবিতে তাকে দেখা যায়নি। সবাই মিলে সমুদ্র সৈকতে গিয়ে মেতে ওঠেন জলকেলিতে।

তুরস্কে নতুন পদ্ধতিতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হচ্ছে আজ

অন্যতম প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান
তুরস্কে প্রথমবারের মতো সরাসরি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোট গ্রহণ হচ্ছে আজ রোববার। নির্বাচনী প্রচারণার শেষ দিনে গতকাল শনিবার মধ্য আনাতোলিয়ার কোনিয়া শহরে শেষ সমাবেশে অংশ নেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী এবং প্রেসিডেন্ট প্রার্থী রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। খবর বিবিসি ও এবিসির। গত শুক্রবার রাজধানী আঙ্কারায় এক সমাবেশে অংশ নেন এরদোয়ান।
তাঁর অপর দুই প্রতিপক্ষও এদিন প্রচারাভিযান চালান। আঙ্কারার সমাবেশে অংশ নিয়ে আজ অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে ভোট দিয়ে তাঁকে নির্বাচিত করতে এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের এক হাত দেখিয়ে দিতে সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানান ইসলামপন্থী জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির (একেপি) নেতা এরদোয়ান। তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে তিনি হবেন একজন সক্রিয় রাষ্ট্রপ্রধান। প্রেসিডেন্ট পদটি আগে কেবল আনুষ্ঠানিক পদ থাকলেও এখন তার সীমা ও ক্ষমতা বাড়ানো হবে। অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট পদটির প্রচলিত ভূমিকার যথাযথ প্রয়োগের অঙ্গীকার করেছেন এরদোয়ানের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী একলেমেদ্দিন ইসানোগলু। তৃতীয় প্রার্থী হচ্ছেন সেলাহাত্তিন দেমিরতাস।

রহস্যময় সম্প্রদায় ইয়াজিদি

প্রার্থনা করছে একদল ইয়াজিদি কিশোর–কিশোরী
মধ্যপ্রাচ্যে ইসলামিক স্টেট (আইএস) জঙ্গিদের উত্থানে যেসব গোষ্ঠীর ওপর প্রভাব পড়েছে তার মধ্যে রয়েছে ইয়াজিদি নামের একটি জনগোষ্ঠী। এদের কম-বেশি ৫০ হাজার সদস্য আটকা পড়েছেন উত্তর-পশ্চিম ইরাকের পাহাড়ি এলাকায়। রহস্যময় ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের কারণে ইয়াজিদিদের নিয়ে বেশ কিছু ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে। আইএসসহ (আগের নাম আইএসআইএল বা ইসলামিক স্টেট ইন ইরাক অ্যান্ড দ্য লেভান্ট) সুন্নি চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলোর বিশ্বাস, ইয়াজিদি নামটি এসেছে ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়ার নাম থেকে। উমাইয়া বংশের দ্বিতীয় খলিফা (৬৪৭-৬৮৩) ইয়াজিদ অত্যন্ত অজনপ্রিয় শাসক ছিলেন। তবে আধুনিক গবেষণায় দেখা গেছে, এ গোষ্ঠীর নামটির সঙ্গে খলিফা ইয়াজিদ বা পারস্যের (প্রাচীন ইরান) শহর ইয়জদের কোনো সম্পর্ক নেই। বরং নামটি নেওয়া হয়েছে আধুনিক ফার্সি ‘ইজদ’ থেকে, যার অর্থ হচ্ছে দেবদূত বা দেবতা। তা থেকে ইয়াজিদি শব্দের সাধারণ অর্থ হচ্ছে, ‘ঈশ্বরের উপাসক’।
ইয়াজিদিরা ইসলাম ধর্মের পবিত্র গ্রন্থ আল কোরআন এবং খ্রিষ্টধর্মের পবিত্র গ্রন্থ বাইবেল উভয়কেই শ্রদ্ধা করে থাকে। তাদের নিজস্ব ধর্মীয় প্রথাগুলোর বেশির ভাগই মৌখিক। এমন ভুল ধারণাও রয়েছে যে ইয়াজিদি মতবিশ্বাস জরথুস্ত্রবাদ (প্রাচীন পারস্য ধর্মীয় বিশ্বাস ও দর্শন, যার অনুসারীরা অগ্নি উপাসক ছিলেন) মতবাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত। ব্যাপ্টিস্ট খ্রিষ্টানদের মতো ইয়াজিদি সম্প্রদায়ের শিশুদের সর্বাঙ্গ পবিত্র পানিতে ডুবিয়ে দীক্ষা দেন একজন পীর। ডিসেম্বর মাসে ইয়াজিদিরা তিন দিন রোজা রাখে। পরে পীরের সঙ্গে সুরা পান করে। সেপ্টেম্বর মাসের ১৫ থেকে ২০ তারিখ ইয়াজিদিদের বার্ষিক তীর্থযাত্রার সময়। এ সময় তারা মসুল শহরের উত্তরে অবস্থিত লালেশ এলাকার শেখ আদির মাজারে গিয়ে নদীতে ওজুর মতো করে পবিত্র হয়। এ ছাড়া ইয়াজিদি সম্প্রদায়ের মধ্যে পশু উৎসর্গ করা এবং খতনা দেওয়ার প্রথাও রয়েছে। ইয়াজিদিদের সর্বোচ্চ দেবতার নাম ইয়াজদান। সাতটি মহাত্মার উৎস ইয়াজদান। এর মধ্যে প্রধান মালাক টাউসকে দিনে পাঁচবার উপাসনা করে ইয়াজিদিরা।বিবিসি।

ইরাকে অভিযান দীর্ঘমেয়াদি: ওবামা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা গতকাল শনিবার সতর্ক করে বলেছেন, ইরাকে মার্কিন সামরিক অভিযানের কোনো সময়সীমা নেই। সুন্নি কট্টরপন্থীদের দমন এবং দেশটিতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে ‘কিছু সময়’ লাগবে। এটা একটা ‘দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প’। এদিকে ইরবিল শহরের কাছে যোদ্ধাদের অবস্থানে দ্বিতীয় দফায় বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব সত্ত্বেও কুর্দি যোদ্ধাদের জন্য অস্ত্র পাঠিয়েছে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী নুরি আল-মালিকির সরকার। খবর এএফপি, রয়টার্স, বিবিসি। মার্কিন সামরিক অভিযানের মাধ্যমে ইরাকের সুন্নি কট্টরপন্থীদের সংগঠন ইসলামিক স্টেটের (আইএস) যোদ্ধাদের ঠেকিয়ে রাখা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন ওবামা। তিনি ইরাকি কর্তৃপক্ষকে সমস্যা সমাধানে জরুরি ভিত্তিতে ঐক্যের সরকার গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন। ওবামা বলেন, ‘আমাদের বিশ্বাস, আমরা আইএসের যোদ্ধাদের সিনজার পর্বতে গমন এবং সেখানে অবস্থানরত ইয়াজিদি সম্প্রদায়ের লোকজনকে হত্যা ঠেকাতে পারব। কিন্তু এর পরবর্তী পদক্ষেপ খুবই কঠিন। ওই পর্বত থেকে লোকজনকে নিরাপদে নামিয়ে আনা এবং তাঁদের নিরাপদ একটি স্থানে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা সত্যিই কঠিন চ্যালেঞ্জ।’ মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ইরাকের সেনাবাহিনীকে পুনর্গঠন, পুনরায় তাদের সহযোগিতা প্রদান এবং সুন্নিদের মধ্যে সমর্থন তৈরিতে সময় লাগবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরাকি জনগণের একতা ও তাঁদের ঐক্যের সরকার গঠনের ওপরই সাফল্য নির্ভর করছে।
ওবামা বলেন, ‘জিহাদিদের মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের প্রয়োজন। আমি মনে করি না, আমরা কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সমস্যার সমাধান করতে পারব। এর জন্য কয়েক মাসও লেগে যেতে পারে।’ ওবামা আরও বলেন, শুক্রবারের বিমান হামলায় আইএসের অস্ত্র ও সরঞ্জাম ধ্বংস হয়েছে। এর মাধ্যমে ইয়াজিদি সম্প্রদায়ের হাজার হাজার লোককে আইএস যোদ্ধাদের হাত থেকে রক্ষা করা গেছে। আইএসের যোদ্ধারা ইরবিল শহর থেকে ১৮ মাইল দূরে অবস্থান করছেন, শহরের গভর্নর এমন আশঙ্কা প্রকাশের পর সেখানে দ্বিতীয় দফায় বিমান হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ওবামা ইরাকে ‘সীমিত পরিসরে’ বিমান হামলা চালানোর অনুমোদন দেওয়ার পর গত শুক্রবার ওই হামলা শুরু হয়। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের মুখপাত্র জন কারবি বলেন, দ্বিতীয় দফায় একই দিন আইএসের একটি গোলন্দাজ সরঞ্জামের অবস্থানকে লক্ষ্যবস্তু করে মার্কিন চালকবিহীন বিমান (ড্রোন)। এর কিছুক্ষণ পরে আইএস যোদ্ধারা যখন ফিরে যাচ্ছিলেন, তখন আরেক দফা আঘাত হানে ড্রোন। এরপর যুদ্ধবিমানগুলো থেকেও যোদ্ধাদের অবস্থানে বোমা ফেলা হয়। এসব হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল যোদ্ধাদের সাতটি গাড়ির একটি বহর ও আরেকটি গোলন্দাজ অবস্থান। ওবামা বলেছেন, তিনি ইরাক ও সিরিয়ায় সুন্নি মুসলিম জিহাদিদের তাঁদের ঘোষণামতো ‘খিলাফত’ প্রতিষ্ঠা করতে দেবেন না। প্রয়োজনে বিমান হামলা অব্যাহত রাখা হবে। তিনি এও বলেন, আমেরিকান সেনাবাহিনী আর ইরাকে লড়াইয়ে ফিরে যাবে না।

মালিক শ্রমিক মন্ত্রী, সবই তিনি by আনোয়ার হোসেন

নৌপথের নিরাপত্তা ও যাত্রীস্বার্থ রক্ষার দায়িত্ব এবং পরিবহনব্যবস্থা তদারকির দায়িত্ব যে মন্ত্রণালয়ের, সেই নৌমন্ত্রীর পরিবারই এই খাতের ব্যবসায় নিয়োজিত। দুর্ঘটনাপীড়িত মাওয়া-কাওড়াকান্দি পথে চলাচল–কারী সার্বিক শিপিং লাইনসের মালিক তাঁর পরিবারের সদস্যরা। এই কোম্পানির লঞ্চের নাম এমভি ঐশী খান।
ঢাকা থেকে মাওয়া ঘাট হয়ে মাদারীপুরের মধ্যে চলাচলকারী বাস সার্বিক পরিবহনের মালিকও নৌমন্ত্রীর পরিবার। এই নৌমন্ত্রীই আবার বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের কার্যকরী সভাপতি।
সড়ক পরিবহন ও নৌপরিবহন খাতের শ্রমিক সংগঠনগুলো বাস ও লঞ্চ থেকে প্রতিদিন চাঁদা তোলে। শ্রমিকনেতা হিসেবে এই দায় শাজাহান খানের। আবার মন্ত্রী হিসেবে এই চাঁদাবাজি বন্ধ করার অন্যতম দায়িত্বও তাঁর।
লঞ্চ ও পরিবহনমালিক, শ্রমিক-নেতা ও মন্ত্রী—এই তিন পারস্পরিক বৈপরীত্য এবং নৈতিকভাবে সাংঘর্ষিক অবস্থানে থেকেও এই দুই খাত দাবড়ে বেড়াচ্ছেন শাজাহান খান। জনপ্রতিনিধি হলেও তাঁর এই স্বার্থের দ্বন্দ্বে উপেক্ষিত কেবল জনগণ। কারণ, লঞ্চ আর সড়ক পরিবহনের ভাড়া নির্ধারণে অতীতে তাঁকেই মালিকদের পক্ষে সবচেয়ে সক্রিয় দেখা গেছে।

মালিক, শ্রমিকনেতা ও জনগণের স্বার্থে আইনের প্রয়োগকারী হিসেবে তাঁর দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে স্বার্থের সংঘাত তৈরি হচ্ছে কি না, জানতে চাইলে শাজাহান খান গতকাল শনিবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘না, এমন সংঘাতের সুযোগ নেই। সব দিকে নিয়ন্ত্রণ আছে বলেই এই খাতে শৃঙ্খলা আছে।’ তিনি বলেন, ‘পরিবারের সদস্যদের বলে দিয়েছি, ব্যবসা করবা আইন মেনে। এ ক্ষেত্রে আমি সফল।’
মাওয়া-কাওড়াকান্দি পথে চলাচলকারী এমভি ঐশী খান নৌমন্ত্রীর পারিবারিক লঞ্চ। ঐশী খান মন্ত্রীর মেয়ের নাম। শাজাহান খান প্রথম আলোকে বলেন, মেয়ে ছাড়াও তাঁর ছোট ভাই, ভায়রা ও শ্যালক লঞ্চটির মালিক। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর এই লঞ্চটি নামানো হয়েছে।
জানতে চাইলে নৌমন্ত্রীর ভায়রা সিদ্দিক মোল্লা গত শুক্রবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি ও আমার শ্যালক (নৌমন্ত্রীরও শ্যালক) শেয়ারে এই লঞ্চ ব্যবসা করছি।’ সার্বিক তো নৌমন্ত্রীর কোম্পানি, মালিকও তিনিই হওয়ার কথা—জবাবে সিদ্দিক মোল্লা বলেন, ‘কোম্পানি মন্ত্রীর। কিন্তু মালিক তিনি নন।’
এই বিষয়ে শাজাহান খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘মালিক চারজন, সবাই আমার পরিবারের। আদর করে সবাই আমার মেয়ের নামে লঞ্চের নাম রেখেছে। আমি মন্ত্রী বলে তাদের তো ব্যবসা করতে মানা নেই। আর সড়ক পরিবহন ব্যবসা আমার বাবার আমলের।’
সার্বিক পরিবহন নামে নৌমন্ত্রীর পরিবারের বাস কোম্পানিও আছে। এই পরিবহনের বাস ঢাকা থেকে মাওয়া-কাওড়াকান্দি ও পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া—এই দুই পথে চলাচল করে।
মাওয়া, কাওড়াকান্দিসহ দেশের নৌঘাটগুলোর নিয়ন্ত্রক বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। এই প্রতিষ্ঠানটি লঞ্চ চলাচলের অনুমোদন দেয়। একই সঙ্গে ভাড়া নির্ধারণ, বাড়তি ভাড়া আদায় রোধ, যাত্রীদের নিরাপত্তা, অতিরিক্ত যাত্রী বহন প্রতিরোধ করার দায়িত্বও এই সংস্থার। আর লঞ্চের নকশা অনুমোদন, নিবন্ধন এবং এর ফিটনেস ছাড় দেওয়ার দায়িত্ব সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরের। দুটি সংস্থাই নৌ মন্ত্রণালয়ের অধীন দুটি বিভাগ।
নৌ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, মাওয়া-কাওড়াকান্দি পথে চলাচলকারী ৮৬টি লঞ্চের অন্তত ৩৩টি অধিক পুরোনো ও ফিটনেস সনদ পাওয়ার যোগ্যতা নেই। পিনাক-৬ লঞ্চটিও এই ৩৩টির একটি। অভিযোগ রয়েছে, ডুবে যাওয়ার দেড় মাস আগে পিনাক-৬-এর অনুমোদন বাতিল করা হয়েছিল। ৮৫ জন যাত্রী বহনের অনুমোদন ছিল এই লঞ্চটির। কিন্তু তা মানা হয়নি। ফলে বিআইডব্লিউটিএ এবং সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরের বিরুদ্ধে দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগ উঠেছে।
মালিকদের চাপে সরকারের পিছু হটার কথা স্বীকার করলেও দায়িত্ব পালনে স্বার্থের সংঘাতের কথা অস্বীকার করেন নৌমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘মালিকেরা শক্তিশালী। ৩৩টি লঞ্চের চলাচল বন্ধ করতে গেলে তারা ধর্মঘট করে। এরপর আমি পিছু হটেছি। তবে সময় দেন। একদিন সফল হব।’
নিজেকে শতকরা ৭০ ভাগ সফল দাবি করে শাজাহান খান বলেন, চারদলীয় জোট সরকারের আমলে বছরে সর্বোচ্চ ৩১টি থেকে সর্বনিম্ন ২০টি পর্যন্ত দুর্ঘটনা ঘটেছিল। লঞ্চ উদ্ধারেও ওই সরকার ব্যর্থ হয়েছিল। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর বছরে সর্বোচ্চ ১৬টি থেকে সর্বনিম্ন পাঁচটি দুর্ঘটনা ঘটেছে। পিনাক-৬ লঞ্চও উদ্ধার করতে পারবে তারা।
তবে গত শুক্রবার মন্ত্রীর পরিবারের মালিকানাধীন এমভি ঐশীকেও ১০ হাজার টাকা জরিমানা এবং দুই মাসের জন্য চলাচলের অনুমতি বাতিল করেছে বিআইডব্লিউটিএ। নৌমন্ত্রী প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার পরিবারের মালিকানাধীন লঞ্চটি ওই পথের সবচেয়ে বড় ও মানসম্মত লঞ্চ। জরিমানা করা হয়েছে অগ্নিনির্বাপণব্যবস্থা না থাকার দায়ে।’
শ্রমিক-মালিকের দ্বৈত ভূমিকার কারণে দীর্ঘদিন ধরেই পরিবহন খাতে শাজাহান খানের একচ্ছত্র আধিপত্য। নৌমন্ত্রী হওয়ার সুবাদে এবং মাদারীপুর সদর আসনের সাংসদ হিসেবে মাওয়া-কাওড়াকান্দি নৌ ও সড়কপথেও তাঁর একক কর্তৃত্ব আছে বলে পরিবহন ও লঞ্চমালিকেরা জানিয়েছেন।
ওই পথে চলাচলকারী একাধিক পরিবহনমালিক অভিযোগ করেন, কাওড়াকান্দি ঘাটে প্রতিটি পরিবহনের প্রতি যাত্রায় ৫০ টাকা চাঁদা দিতে হয়। ঈদের সময় চাঁদার হার বাড়িয়ে ১০০ টাকা করা হয়। এ ছাড়া খুলনা, বাগেরহাটসহ দক্ষিণের বিভিন্ন জেলা থেকে কাওড়াকান্দি পর্যন্ত চলাচলকারী বাস, মাইক্রোবাস চলে৷ সেগুলোকে আরও বেশি চাঁদা গুনতে হয়।
পরিবহনমালিকেরা জানান, বর্তমানে কাওড়াকান্দি ঘাটে চাঁদা তোলার দায়িত্বে আছেন ফারুক ব্যাপারী, ইসমাইলসহ স্থানীয় কয়েকজন। ইসমাইল স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। ফারুক ব্যাপারী বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এখন শ্রমিক লীগ করেন।
জানতে চাইলে ফারুক ব্যাপারী প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি একা চাঁদা নিয়ন্ত্রণ করি না। আরও অনেকেই আছেন। তবে যারাই চাঁদা তুলুক না কেন, গাড়ি চলাচল নিয়ন্ত্রণের জন্য যে লোকবল নিয়োগ দিতে হয়, তাদের পেছনেই এই টাকা খরচ হয়ে যায়।’
নিজের রাজনৈতিক পরিচয় সম্পর্কে ফারুক ব্যাপারী বলেন, তিনি বিএনপির রাজনীতি ছেড়ে শ্রমিক লীগে যোগ দিয়েছেন। এখন স্থানীয় শ্রমিক লীগের কার্যকরী সভাপতি। শাজাহান খানের সঙ্গে তাঁর ভালো সম্পর্ক রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁকে চাঁদার টাকা দেন কি না—জানতে চাইলে ফারুক ব্যাপারী বলেন, ‘২০ টাকা চলে যায় শ্রমিক সংগঠনের নামে। আর বাকি টাকা ব্যয় হয় তদারকির কাজে।’
পরিবহনমালিক ও শ্রমিকদের স্থানীয় সূত্র জানায়, মাওয়া প্রান্তে দিনে চাঁদা আদায় না হলেও রাতে প্রতিটি গাড়ি থেকে স্থানীয় যুবলীগ ৩০ টাকা করে চাঁদা আদায় করে।
এই চাঁদাবাজির বিষয়ে জানতে চাইলে শাজাহান খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘চাঁদাবাজি হয় জানি। তবে আমার সংশ্লিষ্টতা নেই। যতটুকু পারি, নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করি। কারা চাঁদাবাজিতে জড়িত, তাদের আপনারা খুঁজে বের করেন।’
সড়ক, রেল ও নৌপথে যাত্রী অধিকার নিয়ে কাজ করা বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, নৌ মন্ত্রণালয়, বিআইডব্লিউটিএ ও সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তর লঞ্চমালিকদের কবজায় চলে গেছে। গত বছর বিআইডব্লিউটিএর বৈঠকে নৌ-নিরাপত্তা ও যাত্রী অধিকার নিয়ে বক্তব্য দেওয়ায় তাঁকে গত ঈদুল ফিতরের আগে অনুষ্ঠিত এ-সংক্রান্ত বৈঠকে ডাকাই হয়নি।

একটি জাতির ডুবে যাওয়ার গল্প by সাজেদুল হক

আন্দোলন নেই। সহিংসতা নেই। তবুও ভাল নেই বাংলাদেশ। মৃত্যুর মিছিল চলছে এখানে-সেখানে। আশার দেশে হতাশার রাজত্ব। একটি ডুবন্ত লঞ্চ। যেন একটি জাতি-রাষ্ট্রের ব্যর্থতারই গল্প। পাঁচ দিন পেরিয়ে গেল। অথচ পদ্মায় ডুবে যাওয়া পিনাকের খোঁজ আর মিললো না। এ তো শুধু একটি লঞ্চের ডুবে যাওয়া নয়। তখন মানুষের মধ্যে জীবিত ফিরতে পেরেছেন সামান্যই। মৃত ফেরা মানুষের সংখ্যাও কম। এক আশ্চর্য ব্যর্থতায় ডুবে গেছে কত মানুষের স্বপ্ন, ভালবাসা। মুহূর্তে হারিয়ে গেছে কত সন্তান। মায়ের কাছে আর কোন দিনই ফিরবেন না তারা। এক পিতা বর্ণনা করছিলেন কিভাবে তার দুই সন্তান হাত থেকে ছুটে গেল। এই দুঃখ, এই যন্ত্রণার বর্ণনা দেয়ার ভাষা নেই। সদ্যবিবাহিত স্ত্রী ঘাটে অপেক্ষা করছিলেন স্বামীর জন্য। চোখের সীমানার মধ্যে আসা লঞ্চ আর ঘাটে ভিড়লো না। এ যন্ত্রণা সারা জীবনই বয়ে বেড়াতে হবে তাকে। লঞ্চ ডুবিতে মৃত মানুষের লাশ ওঠাতে রাষ্ট্রের অবহেলার অভিযোগ আগেও উঠেছে। চার দশকে লঞ্চ ডুবিতে নিহত ১০ হাজারের বেশি মানুষের অনেকের লাশই পাওয়া যায়নি। তবে লঞ্চেরও খোঁজ না পাওয়ার ঘটনা অভাবনীয়। লাশ নয় এবার যেন হারিয়ে গেল লঞ্চও। নানা উদ্ধার জাহাজ চেষ্টা করছে। কিন্তু কোথায় আছে লঞ্চটি তা-ও জানা যায়নি এখনও। পদ্মার পাড়ে অপেক্ষা করা স্বজনদের আর্তনাদ হৃদয় ছোঁয়া। অতীতে প্রতিটি লাশের জন্য ছাগল অথবা ২০ হাজার টাকা দিতে আমরা দেখেছি। লাশ খুঁজে না পাওয়ায় হয়তো বা রাষ্ট্রের অর্থ সংকুলান হবে। এক স্বজনের আকুতি মর্মস্পর্শ- প্রয়োজন হলে আমরা টাকা দেবো। তবুও আমাদের লাশ দেয়া হোক। এই যন্ত্রণার গল্প অবশ্য বাংলাদেশে নতুন কিছু নয়। মৃত বিবেকের দেশে এতে কেউ অবাকও হন না। যেন ডুবে মরার জন্য অথবা সড়কে চালকের খামখেয়ালিতে খুন হওয়ার জন্যই জন্ম হয়েছে আমাদের। পিনাকের ডুবে যাওয়ার ক’দিন আগেই নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান দাবি করেছিলেন, বিএনপির আমল থেকে আওয়ামী লীগ আমলে নৌ-দুর্ঘটনায় কম মানুষ মরেছেন। ওই উক্তি প্রমাণ করে রাজনীতি কত জঘন্য। লঞ্চ ডুবিতে মৃত্যু নিয়েও প্রতিযোগিতা। অথচ এই সব তো দুর্ঘটনা নয়। এক ধরনের সিস্টেমেটিক হত্যা। পিনাকের কথাই ধরুন না। ধারণ ক্ষমতার দুই গুণের বেশি যাত্রী নিয়ে এ লঞ্চের চলাচলে বাধা দেয়ার মতো কেউ বাংলাদেশে ছিল না। একই ধরনের খামখেয়ালি আর অব্যবস্থাপনায় গত কয় দিনে সড়ক দুর্ঘটনায় এক শ’র বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। বাংলাদেশে সাধারণত ক্ষমতাহারা অথবা ক্ষমতাহীনদের মধ্যেই বিবেক কাজ করে। যাদের আহ্বানে কিছু যায় আসে না। সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত যেমন পিনাক উদ্ধার না হওয়াকে চরম ব্যর্থতা হিসেবেই অভিহিত করেছেন। তিনি বলেছেন, পিনাক-৬ ডুবে যাওয়া অত্যন্ত মর্মান্তিক। ডুবে যাওয়া লঞ্চের লাশগুলো বিকৃত হয়ে গেছে। তারপরও পদ্মার পাড়ে এখন লাশের জন্য হাহাকার। এত অগ্রসর যুগেও লঞ্চ খুঁজে না পাওয়া চরম ব্যর্থতা। যারা লঞ্চ ডোবার জন্য দায়ী, তাদের নামে মেরিটাইম কোর্র্টে অনেক মামলা রয়েছে। কিন্তু এর একটারও বিচার হয়নি। লঞ্চ ডুববে আর মালিকেরা দায়ী হবে না- এটা হতে পারে না। প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপেই এ ধরনের লঞ্চডুবির ঘটনা চিরতরে বন্ধ হবে বলেও মন্তব্য করেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। আর সব কিছুর মতো লঞ্চ দুর্ঘটনা বন্ধেও প্রধানমন্ত্রী হস্তক্ষেপ করেন কিনা তাই এখন দেখার বিষয়। কথাসাহিত্যিক আনিসুল হক তার এক লেখায় কয়দিন আগেই কোরিয়ায় ফেরি দুর্ঘটনায় শিশু মৃত্যুর পর দেশটির প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের ঘটনা উল্লেখ করেন। যে স্কুলের শিশুরা মারা গেছে তার দায়িত্বে থাকা সহকারী হেডমাস্টার আত্মহত্যা করেন। সুপার মার্কেটের ছাদ ধসে পড়ার ঘটনায় পদত্যাগ করেছিলেন লাটভিয়ার প্রধানমন্ত্রী। না, বাংলাদেশে কেউ পদত্যাগ করেননি। বাংলাদেশে কেউ আত্মহত্যা করেননি। বাংলাদেশে এক মন্ত্রী বলেছিলেন, আমি পদত্যাগ করলে যদি আর লঞ্চ না ডোবে তাহলে আমি পদত্যাগ করবো। সড়কে মৃত্যুর মিছিলের প্রতিবাদে যখন সরব হয়ে উঠেছিল বাংলাদেশ তখন এক মন্ত্রী বলেছিলেন, ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার জন্য গরু, ছাগল চেনাই যথেষ্ট। না, বাংলাদেশে শত মৃত্যুতেও কারও টনক নড়ে না। কেউ পদত্যাগ করেন না, কেউ আত্মহত্যা করেন না। কারণ আমাদের বিবেক আত্মহত্যা করেছে।

ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরাইলি বর্বরতা চলছেই...

ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরাইলি বর্বরতা চলছেই। গতকালের হামলায় ৫ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এবারে হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে মসজিদ। ইসরাইলি ধ্বংসলীলায় তিনটি মসজিদ মাটিতে মিশে গেছে। আর, হামাস পাল্টা রকেট ছুড়েছে ইসরাইলে। এদিকে কায়রোতে থমকে গেছে যুদ্ধবিরতি আলোচনা। গাজায় মসজিদ লক্ষ্য করে ইসরাইলের হামলা এটাই প্রথম নয়। ৭২ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতির আগে তারা নৃশংসভাবে অনেকগুলো মসজিদ, হাসপাতাল, জাতিসংঘের স্কুল, জনবসতিতে হামলা চালিয়ে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিয়েছে। এতে পুরো গাজা হয়ে পড়ে এক মৃত্যু উপত্যকা। যুদ্ধবিরতির সময় শেষ হয়ে যাওয়ার পর পরই ইসরাইল নতুন করে তীব্র হামলা শুরু করে গাজায়। ফিলিস্তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইসরাইলি যুদ্ধবিমানগুলো শুক্রবার দিবাগত মধ্যরাতের পর ৩০বার হামলা চালিয়েছে। এতে ধ্বংস হয়েছে তিনটি মসজিদ। এর একটি জেইতাউন এলাকায়, একটি উত্তরের জাবালিয়াতে। অন্যটি নুসেইরাতে ছিটমহলে। গাজা জরুরি সেবা দপ্তরের মুখপাত্র আশরাফ আল কুদরা বলেন, আল মাঘাজি ক্যাম্পে একটি  মোটরবাইককে লক্ষ্য করে ছোড়া হামলায় নিহত হয়েছেন দু’জন। আর নুসেইরাত ক্যাম্পে আল কাসাম মসজিদের ধ্বংসাবশেষের মধ্য থেকে উদ্ধার করা হয়েছে তিন ব্যক্তির লাশ। বার্তা সংস্থা এএফপি’র এক ফটোগ্রাফার জানিয়েছেন, নুসেইরাতের বিরাট আল-কাসাম মসজিদ এখন ধুলোয় মিশে গেছে। দাঁড়িয়ে আছে শুধু একটি মিনার। এদিকে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী বলেছে, ফিলিস্তিনি জঙ্গিরা ৬টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। কিন্তু সেগুলো মরুভূমি এলাকায় আছড়ে পড়ায় কোন হতাহত হয়নি। শুক্রবার যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার পর থেকেই আবারও চড়াও হয় ইসরাইলি বাহিনী। ৮ই জুলাই শুরু হওয়া ইসরাইলি আগ্রাসনে এ পর্যন্ত মারা গেছেন কমপক্ষে ১৮৯৮ ফিলিস্তিনি। জাতিসংঘ জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে রয়েছে ৪৪৭টি শিশু। পক্ষান্তরে নিহত ৬৭ ইসরাইলির বেশির ভাগই সেনা। শুক্রবার মিশরের মধ্যস্থতাকারীরা আবারও ফিলিস্তিনি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক করেন। তারা এখনও ইসরাইলি পক্ষ থেকে জবাব আসার অপেক্ষা করছেন। শুক্রবারের হামলায় ১০ বছরের এক বালকসহ নিহত হন ৫ ফিলিস্তিনি। মিশর জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার আগ দিয়ে সমঝোতার অগ্রগতি হয়েছিল। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ফিলিস্তিনি জনগণের কাছে গুরুত্বপূর্ণ এমন বেশির ভাগ বিষয়েই সমঝোতা হয়েছিল। কিন্তু সীমিত কিছু বিষয় অমীমাংসিত রয়ে যায়। ওই সমঝোতা প্রক্রিয়া ভেঙে যাওয়ার পর গাজা থেকে ইসরাইলে ৪৪টি রকেট ছোড়া হয়েছে। এতে আহত হয়েছে একজন বেসামরিক লোক আর একজন সেনা। পক্ষান্তরে শুক্রবারের পর থেকে ইসরাইলি সেনাবাহিনী আকাশপথে ১০০ বার হামলা চালিয়েছে। এদিকে ইসরাইলে একটি গ্রুপ পিস নাও সমর্থকদের উদ্দেশে শুক্রবার রাতে তেল আবিবে সমাবেশের ডাক দিয়েছে। তারা যুদ্ধের বিরুদ্ধে ও কূটনৈতিক সমাধানের জন্য জোর দাবি জানিয়েছেন।

দুবাইয়ে বাংলাদেশী নারীদের দিয়ে দেহ ব্যবসার ফাঁদ by উৎপল রায়

মধ্যপ্রাচ্যের দুবাইয়ে বাংলাদেশী নারী কর্মীদের দেহ ব্যবসায় বাধ্য করছে একটি চক্র। ওই চক্রটি ভাল কাজ দেয়ার কথা বলে বিভিন্ন ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে নারী কর্মীদের দুবাই পাঠায়। তারপর নির্যাতন করে ওই নারীদের অসামাজিক কাজ করতে বাধ্য করে। এমন প্রতারণার শিকার হয়ে দেশে এসেছেন এমন একজন নারী জানিয়েছেন প্রতিনিয়ত সেখানকার দালালচক্রের শিকার হয়েছেন অসংখ্য নারী। তাদের কেউ দেশে ফিরেছেন। আবার কেউবা দেহ ব্যবসা করতে বাধ্য হচ্ছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানীর ফকিরাপুলস্থ মিনার এয়ার ট্রাভেলস এর অধীনে সমপ্রতি ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলার শংকরপাশা গ্রামের ‘এস’ (৩০) আদ্যক্ষরের গৃহবধূ ও তার খালাতো বোন ‘আর’ (২৬) আদ্যক্ষরের তরুণী দুবাই যান। স্বামী কবির হোসেন স্বপ্ন দেখছিলেন দিন ফেরানোর। স্ত্রীকে দুবাই পাঠিয়ে নিজেও কিছুদিনের মধ্যে চলে যাবেন। দুবাইয়ের নাগরিকত্ব পাবেন। দু’জনের আয়ে সচ্ছল জীবনযাপন করবেন। উপরন্ত দেশে কিছু টাকা পাঠিয়ে মাস শেষে কিছু সঞ্চয়ও করার চিন্তা করেছিলেন। কিন্তু তাদের সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি। শারীরিকভাবে নির্যাতিত হয়ে দুবাই থেকে গত ২৭শে জুন দেশে ফিরে এসেছেন কবির হোসেনের স্ত্রী। এসেছেন ঠিকই, তবে সম্ভ্রম হারিয়ে। একেবারে নিঃস্ব হয়ে। এখন যে অবস্থায় কবির ও তার স্ত্রী জীবন কাটাচ্ছেন তার নাম ‘যন্ত্রণা’। একে তো লোকলজ্জার ভয়। অন্যদিকে স্ত্রীর এই অবস্থা। এ নিয়ে থানায় অভিযোগ করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, প্রভাবশালীদের চাপে মামলা নেয়নি পুলিশ। বিচার না পাওয়ার হতাশা ও লোকলজ্জার ভয়ে কবির হোসেন স্ত্রীকে নিয়ে যাযাবর জীবনযাপন করছেন। অন্যদিকে নির্যাতিতা গৃহবধূর খালোতো বোনের এখন পর্যন্ত কোন খোঁজ মেলেনি। ধারণা করা হচ্ছে দুবাইয়ের অন্ধকার জগতে হারিয়ে গেছে সে। তাকেও দেহব্যবসায় বাধ্য করা হয়েছে। দেশে ফিরে ঐ গৃহবধূ দুবাইয়ে বাংলাদেশী নারী কর্মীদের ওপর পাশবিক নির্যাতনের ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন। খুব কাছ থেকে দেখেছেন দিন ফেরানোর আশায় দুবাই যাওয়া বাংলাদেশী তরুণী ও গৃহবধূদের ওপর নির্যাতনের চিত্র।
ভুক্তভোগীর স্বামীর বক্তব্য: পল্টন থানায় দাখিলকৃত গৃহবধূর স্বামী কবির হোসেনের অভিযোগ থেকে জানা যায়, ট্রাভেল এজেন্সি মিনার এয়ার ট্রাভেলসের মাধ্যমে ‘এস’ ও ‘আর’ আদ্যক্ষরের দুই খালাতো বোন গত ৭ ও ৯ জুন দুবাইয়ে যান। ‘এস’ আদ্যক্ষরের নারীর স্বামী কবির হোসেন জানান, ‘আমার স্ত্রী ও তার খালাতো বোনকে দুবাইয়ে পাঠাতে মিনার এয়ার ট্রাভেলসের স্বত্বাধিকারী আনোয়ার হোসেনকে দুই কিস্তিতে মোট ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা দিয়েছি। আমাদের বলা হয় দুবাইয়ে গিয়ে তারা ক্লিনারের কাজ করবেন। মাস শেষে ৪৫ হাজার টাকা বেতন পাবে। সঙ্গে ওভারটাইম, বাড়তি সুযোগ সুবিধা পাওয়া যাবে। এমনকি ক’দিন পরে আমাকেও নিয়ে যাবে। কবির জানান, গত ৯ই জুন আমার স্ত্রীকে ও ৭ই জুন তার খালাতো বোনকে দুবাইয়ে পাঠানো হয়। ১১ই জুন আমার স্ত্রী মোবাইলে জানায়, বাংলাদেশী যে এজেন্সির মাধ্যমে তাদের পাঠানো হয়েছে তারা দুবাইয়ের এক দালালের কাছে তাকে ও তার খালাতো বোনকে বিক্রি করে দিয়েছে। শুধু তাই নয়, তাদেরকে দেহ ব্যবসায় বাধ্য করাচ্ছে। কবিরের দায়েরকৃত অভিযোগ থেকে জানা যায়, ১৪ই জুন এ বিষয়ে পল্টন থানায় একটি অভিযোগ দাখিল করেন কবির। তাতে মিনার এয়ার ট্রাভেলসের স্বত্বাধিকারী আনোয়ার হোসেন ও শহীদ হোসেন, মোতালেব হোসেন, শাকিব হোসেনকে দায়ী করা হয়। এ বিষয়ে পুলিশ মিনার এয়ার ট্রাভেলসের স্বত্বাধিকারী আনোয়ার হোসেনকে চাপ দেয় কবিরের স্ত্রী ও তার খালাতো বোনকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য। ১৪ই জুন পল্টন থানার উপ-পরিদর্শক (এস আই) ওবায়দুর রহমানের উপস্থিতিতে আনোয়ার হোসেন এ বিষয়ে একটি অঙ্গীকারনামা দাখিল করেন। তাতে আনোয়ার উল্লেখ করেন, পরবর্তী ৭ দিনের মধ্যে ভুক্তভোগী দুই তরুণীকে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে। কিন্তু আনোয়ার কথা রাখেনি। গৃহবধূ ফিরে এলেও তার খালাতো বোনের এখন পর্যন্ত কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি। কবির জানান, গত ২৭শে জুন সকালে আমার স্ত্রী দেশে ফিরে আসে। তখন তার অবস্থা ছিল বিধ্বস্ত ও সঙ্কটাপন্ন। আমাকে সে জানায়, তাকে একের পর এক যৌন নির্যাতন করা হয়েছে। সেখানে অবস্থা সঙ্কটাপন্ন হলে স্ত্রীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করি। গত মঙ্গলবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে ছাড়পত্র দিয়েছে।’ হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ডাক্তারি ছাড়পত্রে দুবাইয়ে নির্যাতিত ঐ গৃহবধূকে ‘সেক্সুয়াল অ্যাসাল্ট’-এর শিকার বলে উল্লেখ করা হয়েছে। যৌন নিগ্রহের ফলে তার শরীরে এইচআইভি’র (এইডস) জীবাণু আছে কিনা তা শারীরিক পরীক্ষার পর জানা যাবে। তবে সে এখন সুস্থ হলেও ঘটনার ভয়াবহতা কিছুতেই ভুলতে পারছে না।
নির্যাতিতা নারী যা বলেন: ভুক্তভোগী ওই নারী মানবজমিনকে বলেন, ৭ই জুন দুবাই এয়ারপোর্ট থেকে একটি মাইক্রোবাসযোগে আমিসহ ১২ জন নারীকে বাংলাদেশী সাইফুল ইসলাম নামের একজনের অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সেখান থেকে তিন-চারজন করে ভাগ করে বিভিন্ন অফিসে পাঠানো হয়। আমাকেসহ ৪ জনকে নাইজেরিয়ান এক মহিলার কাছে তুলে দেয় সাইফুল। সঙ্গে ছিল সাইফুলের স্ত্রী খায়রুন। আমি তখনও কিছুই বুঝতে পারিনি। সাইফুল ও তার স্ত্রীকে জিজ্ঞাসা করলে তারা জানায় সবকিছু ঠিক আছে। দু’দিনের মধ্যে তোমরা কাজে যোগ দেবে। আমাকেসহ ৪ জনকে নাইজেরিয়ান ওই মহিলার তিনতলার একটি বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু বাড়িতে প্রবেশ করেই কিছুটা সন্দেহ হয়। দেখি আমাদের মতো আরও অনেক তরুণী। তাদের পোশাক আঁটসাঁট ও আপত্তিকর। ১০ জন সবাই বাংলাদেশী তরুণী। তাদের সবার বয়স পঁচিশ থেকে ৩৫-এর মধ্যে। সাইফুলের স্ত্রী খায়রুন আমাকে নাইজেরিয়ান ওই মহিলার কাছে সোপর্দ করে (পরে জানতে পারি আফ্রিকান ঐ মহিলা আসলে ‘মক্ষীরানী’। তার কাছে আমাকে বাংলাদেশী টাকায় ১ লাখ ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি করেছে)। কিছুক্ষণ পরেই আমাকে একটি সুসজ্জিত কক্ষে পাঠিয়ে দেয়া হলো। সেখানে বিছানায় দেখি একজন ভিনদেশি পুরুষ আপত্তিকর অবস্থায় বসে আছে। এরপর একে একে ওই কক্ষে ৮ জন পুরুষ প্রবেশ করে। এদের মধ্যে আফ্রিকান কিছু লোক ছিল। এতে আমি ভয়ে ওই রুমে প্রবেশ করতে চাইনি। কিন্তু সাইফুলের স্ত্রী খায়রুনসহ দুই-তিনজন তরুণী মিলে আমাকে টেনেহিঁচড়ে রুমে নিয়ে যায়। এরপর আমাকে জোর করে এক ধরনের ওষুধ খাওয়ায়। সঙ্গে সঙ্গে মাথা ঝিমঝিম করতে থাকে। ভুক্তভোগী নারী আরও বলেন, প্রথমে ওই পুরুষ আমার ওপর হামলে পড়ে। একে একে ৮ জন আমাকে পাশবিক নির্যাতন করে। প্রথম দিনেই কিছুক্ষণের মধ্যেই আমি সংজ্ঞা হারাই। রক্তপাত শুরু হয়। তবুও পাষণ্ডরা ক্ষান্ত হয়নি। এভাবে চলে ৮ দিন। খাওয়া নেই, ঘুম নেই। কেবলই শরীরের ওপর নির্যাতন। প্রতিদিন অন্তত ৭-৮ জন আমাকে ব্যবহার করে। আমন্ত্রিতদের খুশি করতে না পারলে নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে যেতো। ভুক্তভোগী ওই গৃহবধূ বলেন, ওখানে (দুবাই) দেহ ব্যবসায় বাংলাদেশী নারীদের চাহিদা বেশি। সাইফুল নারী পাচারকারীচক্রের হোতা। দুবাইয়ে তার তিন স্ত্রী রয়েছে। তিনজনই বাংলাদেশী। তারাও দেহ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। নির্যাতিতা গৃহবধূ বলেন, ২০শে জুন পল্টন থানা থেকে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমার সঙ্গে কথা বলেন। তখন তাকে শুধু বলেছি আমাকে দিয়ে এখানে দেহব্যবসা করানো হচ্ছে। এখান থেকে আমাকে নিয়ে যান। দেশে ফিরে সব বলবো। নির্যাতনের শিকার ওই গৃহবধূর দাবি, দুবাইয়ে যেখানে তাকে দিয়ে দেহব্যবসা করানো হয়েছে সেটি বাংলাদেশী নারীদের দেহ ব্যবসার কেন্দ্র। ওই বাড়িতে তিনি যেসব তরুণী ও গৃবধূদের দেখেছেন তাদের প্রায় সবাই বাংলাদেশী। সচ্ছলতার আশায় দুবাই গিয়ে দেহ ব্যবসা করতে বাধ্য হয়েছেন তারা। তাদেরকে ১ থেকে দেড় লাখ টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। এদের মধ্যে কুষ্টিয়ার রত্না (ছদ্মনাম) নামে এক তরুণী কিছুদিন আগে দেশে ফিরেছেন। তবে তিনি এখনও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারেনি। এছাড়া ঢাকার মিরপুরের আঁখি ও কুমিল্লার রাজিয়াসহ আরও অন্তত আট থেকে দশজন এ বাড়িটিতে দেহব্যবসায় নিযুক্ত রয়েছে। তারাও শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছে প্রতিনিয়ত।
জানতে চাইলে মিনার এয়ার ট্র্যাভেলসের স্বত্বাধিকারী আনোয়ার হোসেন উল্টো কবির হোসেনকে নারী ব্যবসায়ী বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, আমি নিজের উদ্যোগে ওর স্ত্রীকে ফেরত এনেছি। যদি আমার কোন সমস্যা থাকতো তাহলে তো আমি তাকে ফেরত আনতে পারতাম না। এ বিষয়ে কবির হোসেন বলেন, মান, সম্মান, অর্থ সব হারিয়ে ফেলেছি। ভাই আমরা এখন মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। অনেক আশা নিয়ে স্ত্রীকে দুবাই পাঠিয়েছিলাম। স্বপ্নতো শেষ হলোই, সেই সঙ্গে মানসিক যন্ত্রণাও বাড়লো। এ বিষয়ে পল্টন থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ওবায়দুর রহমান বলেন, মামলা না নেয়ার অভিযোগ সঠিক নয়। কবির হোসেনের অভিযোগ পাওয়ার পর পরই সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সহযোগিতা ও আমি নিজে উদ্যোগী হয়ে তার স্ত্রীকে দেশে ফেরত এনেছি। ও যাতে ক্ষতিপূরণ ও ন্যায় বিচার পায় সেজন্য চেষ্টা করেছি। এখন কেউ যদি এসব বিষয় স্বীকার না করে তাহলে তো আমাদের করার কিছুই নেই।
পল্টন থানাকে মামলা নেয়ার নির্দেশ: এদিকে ভুক্তভোগী ওই নারীর স্বামীর দায়ের করা মামলা পল্টন থানার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে এজাহার হিসেবে গ্রহণ করার নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক এনামুল হক ভূঁইয়া। গত বৃহস্পতিবার ভুক্তভোগীর স্বামী কবির হোসেন এই আদালতে একটি অভিযোগ দাখিল করেন। উভয়পক্ষের আইনজীবীদের বক্তব্য শেষে আদালতের বিচারক এ মামলাটি নিয়মিত মামলা হিসেবে গ্রহণ করার জন্য পল্টন থানাকে নির্দেশ দেয়।