Tuesday, December 13, 2016

আলেপ্পোর শিশুরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত: ইউনিসেফ

আলে​ে্প্পাতে বিমান হামলায় ধসে পড়া ভবন
থেকে শিশুদের উদ্ধার করার ফাইল ছবি। এএফপি
সিরিয়ার যুদ্ধবিধ্বস্ত আলেপ্পোর সব শিশুই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত (ট্রমা আক্রান্ত) বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ শিশু তহবিল ইউনিসেফ। কয়েক বছর ধরে চলা গৃহযুদ্ধ সিরিয়ার সবচেয়ে বড় ও ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া শহরটির শিশুদের মনে বড় ধরনের অভিঘাত সৃষ্টি করেছে বলে মনে করে সংস্থাটি। আলেপ্পোয় ইউনিসেফের প্রধান মাঠ কর্মকর্তা রাদোসওয়াফ আরজেহাক বলেন, আলেপ্পোর সব শিশুই ভীতসন্ত্রস্ত। এই কর্মকর্তা ১৫ বছর ধরে ইউনিসেফে কর্মরত।
তিনি বলেন, ‘আমি আমার জীবনে এ ধরনের পরিস্থিতি কখনো দেখিনি। আলেপ্পোর শিশুদের বেলায় যা হয়েছে, তা এককথায় বর্ণনাতীত।’ সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় এ শহরের লাখো শিশু প্রায় ছয় বছর ধরে অন্যতম ভয়ংকর ও রক্তাক্ত লড়াইয়ের সাক্ষী হয়ে আছে। রাদোসওয়াফ বলেন, শহরের পাঁচ লাখ শিশুর মানসিক ও সামাজিক সহযোগিতা লাগবে সামনের দিনগুলোতে। এর মধ্যে এক লাখ শিশুর স্বাভাবিক জীবনযাপনের জন্য বিশেষ সহযোগিতার একান্ত প্রয়োজন। তিনি বলেন, ‘আলেপ্পোর পূর্বাঞ্চল থেকে আসা শিশুদের মানসিক অবস্থা প্রাথমিকভাবে পর্যবেক্ষণ করে আমরা দেখেছি, তারা আত্মরক্ষার সহজাত প্রবণতাটুকুও হারিয়ে ফেলেছে। শিশুদের মধ্যে যাদের বয়স পাঁচ থেকে ছয়, তারা যুদ্ধ-বিগ্রহের মধ্যেই জন্মগ্রহণ করেছে এবং বেড়ে উঠেছে। তারা কেবল যুদ্ধই দেখেছে, বোমা হামলাই দেখেছে—এটাই তাদের পৃথিবী!’
ইউনিসেফের কর্মকর্তা বলেন, বোমা হামলা হবে। তার থেকে বাঁচার জন্য দৌড়াতে হবে, বাংকারে গিয়ে আশ্রয় নিতে হবে, অভুক্ত থাকতে হবে—এই শিশুদের জন্য এটাই যেন স্বাভাবিক ঘটনা। এ ধরনের বিপর্যস্তকর মানসিক পরিস্থিতি তাদের দীর্ঘ সময় ধরে ভোগাবে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে চলে যাচ্ছে যে বোমা বর্ষণের সময় শিশুরা দৌড়ে গিয়ে নিরাপদ জায়গায় আশ্রয় নেওয়ার মানসিক সক্ষমতাটুকুও হারিয়ে ফেলেছে। এ অবস্থা তাদের ভবিষ্যতের জন্য খুবই আতঙ্কের বিষয়। ইউনিসেফ কর্মকর্তারা বলেন, পশ্চিম আলেপ্পোর শিশুদের অভিজ্ঞতাও কম উদ্বেগজনক নয়। সেখানে স্কুলে বোমা হামলার ফলে চোখের সামনে শিক্ষক ও সহপাঠীদের মরতে দেখছে শিশুরা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিশুদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ জায়গা হওয়ার কথা, অথচ তা-ও হয়ে গেছে তাদের মৃত্যুকূপ। অব্যাহত যুদ্ধের ফলে শিশুদের মা-বাবারাও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। ফলে তাঁরাও সন্তানদের দেখভাল ঠিকমতো করতে পারছেন না।

পালমিরায় আবার আইএস

জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস) সিরিয়ার প্রাচীন নগর পালমিরা আবার দখল করে নিয়েছে। পালমিরা থেকে হটিয়ে দেওয়ার নয় মাস পর আবার তারা নগরটি দখল করে নিল। যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস আইএস এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। গত শনিবার পালমিরায় আইএস ঢুকে পড়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রুশ বিমান হামলার মুখে তারা পিছু হটে। তবে রোববার তারা নগরের কেন্দ্রস্থলে ঢুকে পড়ে। আইএস-সংশ্লিষ্ট বার্তা সংস্থা আমাকের প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, রোববার আইএস সদস্যরা পালমিরায় অবস্থান করছে। আমাক দাবি করেছে, শহর থেকে সিরীয় বাহিনী পালিয়ে গেছে। পালমিরা ঐতিহ্যবাহী একটি শহর। জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা ইউনেসকো ১৯৮০ সালে পালমিরাকে বিশ্ব ঐতিহ্য ঘোষণা করে। ২০১১ সালে সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে প্রতিবছর গড়ে দেড় লাখ পর্যটক পালমিরা ভ্রমণ করতেন। দুই হাজার বছরেরও বেশি সময়ের পুরোনো মন্দির, কারুকার্যমণ্ডিত স্তম্ভসহ নানা নিদর্শনের জন্য বিখ্যাত শহরটি। তবে ২০১৫ সালের মে মাসে প্রথম পালমিরা দখল করে আইএস। তারা সেখানকার বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকাভুক্ত মন্দিরসহ অনেক স্থাপনা ধ্বংস করে। চালায় হত্যাযজ্ঞ। রুশ বিমান হামলার সহযোগিতায় গত মার্চে আইএসকে পালমিরা থেকে হটিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সিরিয়ার প্রাচীন নিদর্শক-বিষয়ক সংস্থার মহাপরিচালক মামুন আবদুলকরিম বলেন, ‘দুর্যোগ নেমে এসেছে। আমি পুরোপুরি হতবিহ্বল। আমি আশা হারিয়ে ফেলছি।
মনে হচ্ছে, আমরা শহরটির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছি।’ তিনি বলেন, কিছুদিনের মধ্যে শহরের মূল্যবান অনেকগুলো ঐতিহ্যবাহী নিদর্শন রাজধানী দামেস্কে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে শহরে এখনো কিছু প্রাচীন নিদর্শন রয়েছে। এর মধ্যে প্রাচীন দুর্গ ও উন্মুক্ত মঞ্চ হুমকির মধ্যে রয়েছে। এখনই যদি সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে আইএস সদস্যদের তাড়িয়ে দেওয়া যায়, তবে ওই নিদর্শনগুলো রক্ষা করা যেতে পারে। সিরিয়ায় থাকা বিবিসির সাংবাদিক জানান, সরকারি বাহিনী আলেপ্পো পুনর্দখল নিয়ে বেশি মনোযোগ দেওয়ার সুযোগ নিয়ে আইএস সদস্যরা পালমিরা দখল করে নিয়েছেন। বিবিসি জানিয়েছে, হোমস প্রদেশের গভর্নর তালাল বারাজি বলেন, সরকারি বাহিনী শহর থেকে বেরিয়ে গেলেও এখন তারা ইসলামিক স্টেটকে পর্যুদস্ত করার জন্য নতুন করে পুনর্গঠিত হচ্ছে। সরকারি বাহিনী আইএসকে শহরে থাকতে দেবে না। তাদের তাড়িয়ে দিতে সব প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। আলেপ্পো থেকে অনেক সেনাসদস্যকে পালমিরার দিকে পাঠানো হয়েছে। শক্তি বৃদ্ধি করে আইএসের ওপর হামলা চালানো হবে। পূর্ব আলেপ্পোয় আরও নিয়ন্ত্রণ: বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, সিরিয়ার সেনাবাহিনী গতকাল সোমবার আলেপ্পোর দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ জেলা বিদ্রোহীদের কাছ থেকে দখল করে নিয়েছে। ফলে আলেপ্পোর ৯০ শতাংশের বেশি এলাকা এখন প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ অনুগত বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে। নগরীর বেশির ভাগ এলাকা একসময় বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস জানায়, গতকাল বিদ্রোহীদের সঙ্গে ভয়াবহ যুদ্ধের পর আসাদের অনুগত বাহিনী শেখ সাঈদ জেলা দখল করে নেয়। ফলে এখন কেবল পার্শ্ববর্তী আর দুটি জেলা বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

‘নোবেল পাওয়ার অনুভূতি চাঁদে দাঁড়ানোর মতো’

সবাইকে শুভসন্ধ্যা। আমি সুইডিশ একাডেমির সব সদস্য এবং আজ রাতে উপস্থিত বিশিষ্ট অতিথিদের জানাই উষ্ণতম শুভকামনা। সশরীরে এখানে আসতে না পারার জন্য আমি দুঃখিত। কিন্তু এটা জানবেন, আমি মনেপ্রাণে আপনাদের সঙ্গেই আছি। আর এ রকম একটি মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার পেয়ে আমি সম্মানিত বোধ করছি। সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পাব—এটা আমি কখনো স্বপ্নেও ভাবতে পারিনি।
ছেলেবেলা থেকেই আমি তাঁদের সম্মান করেছি, লেখা পড়েছি এবং আত্মস্থ করেছি, যাঁদের এই মর্যাদার জন্য যোগ্য বিবেচনা করা হতো: কিপলিং, শ, টমাস মান, পার্ল বাক, আলবেয়ার কামু ও হেমিংওয়ে। সাহিত্যের এই মহারথীদের লেখা স্কুলে পড়ানো হয়, তাঁদের বই বিশ্বজুড়ে পাঠাগারগুলোয় স্থান পায় এবং লোকে যখন তাঁদের সম্পর্কে কথা বলে, তাঁদের কণ্ঠে সম্ভ্রমের সুর শোনা যায়। তাঁরা সব সময়ই আমার মনে গভীর ছাপ ফেলেছেন। এখন আমি তাঁদের কাতারে যোগ দিচ্ছি, সত্যি এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। আমি জানি না, যাঁদের কথা বললাম, তাঁরাও নোবেল পুরস্কার পাবেন বলে ভেবেছিলেন কি না, কিন্তু আমি ধারণা করি, যাঁরা বই, কবিতা বা নাটক লেখেন, তাঁরা হয়তো মনের গহিনে এই পুরস্কার পাওয়ার গোপন স্বপ্ন লালন করেন। সম্ভবত এই বাসনা মনের এত গহিনে থাকে যে এর অস্তিত্ব টের পাওয়া যায় না। কেউ যদি আমাকে কখনো বলতেন, নোবেল পুরস্কার পাওয়ার ন্যূনতম সম্ভাবনাও আমার আছে, তাহলে আমাকে ভাবতে হতো, চাঁদে দাঁড়ালে মানুষের মনে যে অদ্ভুত অনুভূতি হয়, আমার সে রকম অনুভূতি হচ্ছে। বস্তুত যে বছর আমি জন্মালাম এবং তার কয়েক বছর পর পৃথিবীতে এমন কেউ ছিল না, যাকে এই পুরস্কারের জন্য খুব বেশি বিবেচনা করা হয়েছিল। তাই স্বীকার করছি, খুব কম করে বললেও বলতে হয়, আমি কিছু বিরল মানুষের সাহচর্যে এসেছি। এই বিস্ময়কর খবরটি যখন পেলাম, তখন আমি রাস্তায় এবং খবরটি হজম করতে আমার বেশ কয়েক মিনিট সময় লেগে যায়। আমি তখন মহান সাহিত্যিক উইলিয়াম শেক্‌সপিয়ারের কথা ভাবতে শুরু করি। আমি আন্দাজ করি, তিনি নিজেকে নাট্যকার ভাবতেন। তিনি সাহিত্য লিখছেন, এই চিন্তা তাঁর মাথায় ঢুকতে পারেনি। তিনি মঞ্চের জন্য লিখতেন, অর্থাৎ বলার জন্য লিখতেন, পড়ার জন্য নয়। আমি নিশ্চিত, তিনি যখন ‘হ্যামলেট’ লিখছিলেন, তখন তিনি ভিন্ন আরও অনেক কিছুই ভাবছিলেন: ‘এই চরিত্রে কে ভালো অভিনয় করতে পারবেন?’ ‘কীভাবে এর মঞ্চায়ন হবে?’ ‘আমি কি সত্যিই ডেনমার্কের পটভূমিতে নাটকটি লিখতে চাই?’ সন্দেহ নেই, তাঁর সৃজনশীল অন্তর্দৃষ্টি এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষাই মনের পুরোভাগে ক্রিয়াশীল ছিল, কিন্তু তাঁকে আরও অনেক পার্থিব বিষয় নিয়ে ভাবতে হচ্ছিল: ‘টাকাপয়সা কি পাওয়া যাবে?’ ‘মঞ্চে কি আমার পৃষ্ঠপোষকদের জন্য যথেষ্ট ভালো জায়গা আছে?’ ‘মানুষের মাথার খুলিই-বা কোত্থেকে পাব?’ আমি বাজি ধরে বলতে পারি, শেক্‌সপিয়ারের মনে সবচেয়ে দূরবর্তী যে প্রশ্নটি ছিল তা হচ্ছে, ‘এটা কি সাহিত্য?’ কিশোর বয়সে যখন আমি গান লিখতে শুরু করি এবং নিজের ক্ষমতার জন্য কিছু খ্যাতিও অর্জন করি, তখন গান নিয়ে আমার আকাঙ্ক্ষা আসলে ঠিক তত দূরই গিয়েছিল। ভেবেছিলাম, কফি হাউস ও বারে গাইতে পারব আমি, হয়তো পরবর্তী সময়ে কার্নেগি হল ও লন্ডন প্যালাডিয়ামেও গাইতে পারব। আমি যদি সত্যিই বড় স্বপ্ন দেখতাম, তাহলে হয়তো রেকর্ড বের করার কল্পনা করতাম এবং তারপর রেডিওতে গাওয়ার কথা ভাবতাম। বড় পুরস্কার হিসেবে এই-ই ছিল আমার মনে।
রেকর্ড বের করা ও রেডিওতে গান গাওয়ার মানে হচ্ছে, আপনি অনেক দর্শকের কাছে পৌঁছাতে পারছেন এবং আপনি যা করতে শুরু করেছেন, তা করে যেতে পারবেন। দীর্ঘদিন ধরে যা করব বলে শুরু করেছিলাম, আমি এখন সেটাই করছি। আমার ডজন খানেক রেকর্ড বেরিয়েছে, সারা পৃথিবীতে হাজার খানেক কনসার্টে গেয়েছি। কিন্তু আমি যা করি তার কেন্দ্র কিন্তু আমার গানই। বিভিন্ন দেশের ও সংস্কৃতির বহু মানুষের জীবনে আমার গান স্থান পেয়েছে, যার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। কিন্তু আমাকে একটি কথা বলতেই হবে। পারফরমার হিসেবে আমি যেমন ৫০ হাজার মানুষের সামনে গেয়েছি, তেমনি ৫০ জনের সামনেও গেয়েছি এবং আমি বলতে পারি, ৫০ হাজারের চেয়ে ৫০ জনের জন্য গাওয়া কঠিন। প্রত্যেক মানুষের নিজস্ব এবং পরস্পর থেকে আলাদা পরিচয় রয়েছে, তাঁদের নিজের নিজের পৃথিবী রয়েছে। তাঁরা আরও পরিষ্কারভাবে সবকিছু উপলব্ধি করতে পারেন। আপনার সততা এবং তা কীভাবে আপনার প্রতিভার গভীরতার সঙ্গে সম্পর্কিত, তার একটা পরীক্ষা হয়ে যায়। আমি আসলে বলতে চাইছি, নোবেল কমিটি ছোট হলেও তার গুরুত্ব আমার কাছে কম নয়। কিন্তু শেক্‌সপিয়ারের মতো আমি প্রায়ই সৃজনশীলতা ও জীবনের জাগতিকতার অন্বেষণে ব্যাপৃত হয়ে পড়ি: ‘আমার গানগুলোর জন্য কে বাজালে সবচেয়ে ভালো হবে?’ ‘আমি কি সঠিক স্টুডিওতে গান রেকর্ড করছি?’ ‘সুর কি ঠিক আছে?’ কিছু কিছু জিনিসের কখনো পরিবর্তন হয় না, এমনকি ৪০০ বছরেও না। আমার জীবনে কখনোই এমন সময় আসেনি, যখন আমার নিজেকে প্রশ্ন করতে হয়েছে, ‘আমার গান কি সাহিত্য?’ কাজেই, আমি সুইডিশ একাডেমিকে ধন্যবাদ জানাতে চাই, কারণ তারা একই সঙ্গে এই প্রশ্ন বিবেচনা করার জন্য সময়ক্ষেপণ করেছে এবং সর্বোপরি আমাকে এমন একটি চমৎকার উত্তর দিয়েছে। আপনাদের সবার জন্য শুভকামনা। বব ডিলান

সুখের জন্য কী লাগে?

আয় দ্বিগুণ হলে একজন মানুষ যতটা সুখী হয়, তার চেয়ে অনেক বেশি সুখী সুন্দর মানসিক স্বাস্থ্য এবং একজন ভালো জীবনসঙ্গী থাকলে। যুক্তরাজ্যের লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকসের একদল গবেষক এ তথ্য দিয়েছেন। ওই গবেষকেরা দুই লাখ মানুষের ভালো থাকার নেপথ্য কারণ জানতে চেষ্টা করে দেখতে পান, বিষণ্নতা বা উদ্বেগের মতো সমস্যাগুলো ব্যক্তিপর্যায়ে সবচেয়ে বেশি অশান্তি তৈরি করে। আর বিপরীত লিঙ্গের কারও সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের মাধ্যমেই সুখের মাত্রা সবচেয়ে বেশি বাড়ে। গবেষণাটি মূলত বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক জরিপের তথ্য সংকলন। এতে দেখা যায়, প্রতি ১০ জনের ১ জনের উপার্জন দ্বিগুণ হলে তাঁদের সুখ শূন্য দশমিক ২ মাত্রারও কম বৃদ্ধি পায়। তবে একজন জীবনসঙ্গী থাকলে তাঁদের সুখ শূন্য দশমিক ৬ মাত্রায় বাড়ে।
আর সঙ্গীর মৃত্যু বা বিচ্ছেদে একই মাত্রায় সুখ কমে যায়। আবার বিষণ্নতা ও দুশ্চিন্তাই মানুষের সুখের ওপর সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে। বেকারত্বও মানুষের অশান্তির মাত্রা প্রায় একইভাবে বাড়িয়ে দেয়। গবেষণা প্রতিবেদনটির সহ-লেখক অধ্যাপক রিচার্ড লেয়ার্ড বলেন, রাষ্ট্রকে তার নাগরিকদের সুখের জন্য নতুন ভূমিকা পালন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে তাঁদের সম্পদ বৃদ্ধির পরিবর্তে ভালো থাকার সুযোগ সৃষ্টির দিকে বেশি মনোযোগ দিতে হবে। তথ্যপ্রমাণ বলছে, মানুষের সুখ-দুঃখের নেপথ্যে সামাজিক সম্পর্ক এবং শারীরিক স্বাস্থ্যই সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে। অধ্যাপক লেয়ার্ড আরও বলেন, অতীতে রাষ্ট্র যথাক্রমে দারিদ্র্য, বেকারত্ব, শিক্ষা ও শারীরিক স্বাস্থ্য দেখভালের বিষয়ে বেশি নজর দিত। কিন্তু এখন পারিবারিক নির্যাতন বা সহিংসতা, মাদকাসক্তি, বিষণ্নতা ও দুশ্চিন্তার মতো বিষয়গুলো বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ, এগুলো তরুণসমাজকে বিচ্ছিন্ন করে দিচ্ছে।

ক্ষমার ‘প্রথম নিদর্শন’

ক্ষমার ‘প্রথম নিদর্শন’ হিসেবে থাইল্যান্ডের নতুন রাজা মাহা ভাজিরালংকর্ন হাজারো বন্দীকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। রাজপ্রাসাদের মুখপত্র রয়্যাল গেজেটে রোববার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, এটি ছিল রাজার ক্ষমা প্রদর্শনের প্রথম নিদর্শন। বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ক্ষমা পাওয়ার তালিকায় রয়েছেন প্রথম অপরাধের সাজা খাটছেন, এমন নারী এবং যেসব বন্দী ইতিমধ্যে কারাদণ্ডাদেশের এক-তৃতীয়াংশ পূর্ণ করেছেন তাঁরা।
যেসব বন্দীর ডায়াবেটিস ও অন্যান্য গুরুতর অসুস্থতা রয়েছে, তাঁরাও ক্ষমার আওতায় পড়বেন। ধারণা করা হচ্ছে, এর ফলে প্রায় ৩০ হাজার বন্দী মুক্তি পেতে পারেন। উল্লেখ্য, প্রয়াত রাজা ভুমিবলের আমলে প্রতিবছরই সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করা হতো। সাত দশক রাজত্বের পর গত ১৩ অক্টোবর মারা যান থাইল্যান্ডের প্রভাবশালী রাজা ভুমিবল আদুলিয়াদেজ (৮৮)। বাবার মৃত্যুর পর চলতি মাসের শুরুতে আনুষ্ঠানিকভাবে রাজা হিসেবে সিংহাসনে আরোহণ করেন মাহা ভাজিরালংকর্ন।

শস্য ফলানো চাষি ও নাড়া-কাটা

মুক্তিযুদ্ধ ছিল সম্মিলিত সাহস ও ঐক্যবদ্ধ
প্রতিরোধের মহাকাব্যিক আয়োজন
এখনকার বঙ্গসন্তানদের মতো অতীতে আমাদের পূর্বপুরুষদের অনেকেই যেমন ছিলেন ঠকবাজ ও নষ্ট, তেমনি কেউ কেউ ছিলেন বুদ্ধিমান, সত্যনিষ্ঠ, ন্যায়পরায়ণ, সৃষ্টিশীল ও প্রজ্ঞার অধিকারী। মানবচরিত্র ও সমাজের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করার যথেষ্ট ক্ষমতা তাঁদের ছিল। তাঁরা লক্ষ করেছেন, সমাজে যার অবদান বেশি সে অবহেলিত, তাকে সমাজ দেয় অল্প। যার অবদান সামান্য, তার প্রাপ্তি বেশি। তাই একটি প্রবচন প্রচলিত হয়: ‘যে এল চষে, সে রইল বসে, নাড়া-কাটাকে ভাত দাও এক থালা কষে’।
যে শ্রম দিয়ে চাষ করে ধান ফলায়, তার চেয়ে যে বসে বসে ফোপর দালালি করে অর্থাৎ নাড়া কাটে, তার কদর বেশি। কৃতী ও কর্মীর ভাগ্যে ভাত না জুটলেও নাড়া-কাটার ভাগ্য খুবই সুপ্রসন্ন। তার প্রাপ্তিযোগ থালাভরা ভাত। যে ঘটনায় কোনো জাতির লাখ লাখ মানুষ নিহত হয়, সে ঘটনায় যে কত মানুষের অংশগ্রহণ থাকতে পারে, তা যে কারও পক্ষে অনুমান করা সহজ। একাত্তরে রাজনৈতিক নেতৃত্বের ভূমিকাই প্রধান এবং তাদের সমর্থক জনগণের অংশগ্রহণই আসল জিনিস। অল্পসংখ্যক মানুষের দৈহিক বীরত্ব দিয়ে একটি জাতির মহত্ত্ব পরিমাপ করা যায় না। একাত্তর ছিল শত্রুর বিরুদ্ধে সম্মিলিত সাহস ও ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ার এক মহাকাব্যিক আয়োজন। সেখানে মূল রাজনৈতিক নেতৃত্ব ছাড়া অন্য সবার অবদানই সমান পাল্লায় মাপা বাঞ্ছনীয়। তা ছাড়া মনে রাখা দরকার, এক বালতি দুধে এক ফোঁটা চোনা পড়লে যেমন সমস্ত দুধটাই ফেটে যায়, তেমনি এক গামলা সত্যের মধ্যে অল্প কিছু মিথ্যা পড়লে সত্যটাও আর বিশ্বাসযোগ্য থাকে না। ৪৫ বছর ধরে নিজের বীরত্বমূলক স্মৃতিচারণা করতে করতে এখন অনেকেই খেই হারিয়ে ফেলেছেন। কী বলতে কী বলছেন তা বুঝে উঠতে পারছেন না। ৪৫ বছর আগের কোনো কোনো কাহিনি যেমন চমকপ্রদ, তেমনি রোমাঞ্চকর। ৯ ডিসেম্বর একটি শীর্ষ জাতীয় দৈনিকে একজন বীর অধিনায়ক তাঁর স্মৃতি রোমন্থনে বলেছেন: ‘৬ ডিসেম্বর আমরা তেলিয়াপাড়া থেকে আশুগঞ্জ যাচ্ছি।...পথে ইসলামপুরে একটি গাড়ি আমাদের দিকে আসে। ব্যাটালিয়ন কমান্ডার এটিকে ব্যাটালিয়ন এমোনিশন গাড়ি মনে করে। কিন্তু পাশে আসতেই বুঝতে পারি এটি এমোনিশন গাড়ি না। শত্রুসেনাদের গাড়ি।
গাড়িতে ড্রাইভারের পাশে বসা একজন জেসিও লাফিয়ে নেমে আমাকে জাপটে ধরে। আমার রানারের কাছে স্টেনগান ছিল। আর জেসিওর কাছে ছিল একটি রাইফেল। আমাদের দুজনের মধ্যে ধস্তাধস্তি চলছিল বলে রানার গুলিও করতে পারছিল না। গুলি করলে আমার গায়েও লাগতে পারে। একপর্যায়ে আমি হাঁটু দিয়ে ওই জেসিওর শরীরের বিশেষ স্থানে আঘাত করলে তার বাঁধন শিথিল হয়ে যায়। আমি ঘুষি দিলে সে পড়ে যায়। জেসিও উঠে দাঁড়িয়ে আমার রানারকে শিল্ড হিসেবে (পেছন থেকে জাপটে ধরে) তার স্টেনগানের ট্রিগার চাপে। কিন্তু গুলি আমার কোমরে থাকা পিস্তলে লাগে। আমি রানারের কাছ থেকে রাইফেল নিয়ে জেসিওর মাথায় পরপর কয়েকবার আঘাত করি। একপর্যায়ে জেসিও নিস্তেজ হয়ে পড়ে। মাটিতে পড়ে থাকা রানারের রাইফেল উঠিয়ে দেখি রাইফেল ভাঙা। আমি ঘুরে দাঁড়াতেই পাশে একটি বাস থামে। ঝাঁকে ঝাঁকে শত্রুসেনা নামছে। রাইফেলটি হাতে নিয়ে তাদের লক্ষ্য করে গুলি করতে গিয়ে দেখি রাইফেল ভাঙা। কোমরে থাকা পিস্তল ধরতেই দেখি সেটি গুলি লেগে ভেঙে গেছে। ওই মুহূর্তে পাশের খালে লাফিয়ে পড়ি। আমার গলায় একটা ছোট কোরআন শরিফ ছিল। আমি দোয়া করছিলাম, “আল্লাহ, অস্ত্র ছাড়া আমার মৃত্যু কবুল করো না।” কাদাপানিতে ডুবে থাকার কারণে আমার পোশাকের রং ওদের [পাকিস্তানি সৈন্যদের] পোশাকের রঙের সঙ্গে মিলে গিয়েছিল আর সে কারণে ওরা আমাকে সন্দেহ করেনি। সেদিন রাতে ওই এলাকাতেই ছিলাম। পরদিন হেডকোয়ার্টারে বন্দী অবস্থায় আহত এক পাকিস্তানি সেনা অফিসারকে নিয়ে আসে আমার সৈন্যরা এবং তিনি চিনতে পারেন আমাকে। এই সেনা অফিসারটির সঙ্গে আগের দিন আমার সংঘর্ষ হয়েছিল। সে আমাকে গুলি করেছিল আর আমি তাকে রাইফেল দিয়ে বাড়ি মেরে মাথা ফাটিয়ে দিয়েছিলাম। আমি ভেবেছিলাম, আমার আঘাতে সে মারা গেছে। সে আমার কাছে জানতে চায়, আগের দিন আমাকে গুলি করার শোধ আজ আমি নেব কি না? উত্তরে আমি বলি নিরস্ত্র লোকের ওপর হামলা করা কোনো মুসলমানের ধর্ম নয়।
আমি তাকে চিকিৎসা করার জন্য হাসপাতালে পাঠাতে চাইলে সে হতবাক হয়ে যায়। বিস্মিত হয়ে জানতে চায়, আমি মুসলমান কি না?’ এ যেন গ্রিক বীর আলেকজান্ডার এবং ভারতীয় বীর পুরুষ কাহিনিরই বাঙালি মুসলমানি সংস্করণ। একই সঙ্গে বীরত্ব ও মহত্ত্ব। তা ছাড়া কাহিনির যে বাঁধুনি ও নাটকীয়তা, তা শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যোমকেশ রহস্যোপন্যাসের সঙ্গে তুলনীয়। তাই মল্লযুদ্ধের বাস্তবতা একজন দক্ষ সেনাধ্যক্ষের পক্ষেই বিশ্লেষণ করা সম্ভব, আমার পক্ষে নয়। তবে নিরস্ত্র শত্রুকে হত্যা না করার নীতি শুধু মুসলমানদের নয়; হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টানদেরও থাকার কথা। তিনি আরও বলেন, ‘১৯৭২ সালের ৫ এপ্রিল বঙ্গবন্ধু আমাকে ডেকে সেনাপ্রধানের দায়িত্ব নিতে বলেন। আমার অনিচ্ছা সত্ত্বেও বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে সেনাপ্রধানের দায়িত্ব নিতে হয়।’ তিনি সেই বিরল ভাগ্যবান, যিনি শুধু বঙ্গবন্ধুরই স্নেহ পাননি, তাঁর ঘাতক খন্দকার সাহেবেরও স্নেহের পাত্র ছিলেন। তাঁর ভাষায়, ‘১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পরই খন্দকার মোশতাক আমাকে ডেকে বললেন, দেশের জন্য তো আপনি অনেক কিছু করেছেন। এবার দেশের বাইরে আপনার সেবা চাই। আপনার ও আপনার পরিবারের নিরাপত্তার জন্যই আপনার বাইরে যাওয়া উচিত বলে মনে করি।’ যখন বঙ্গবন্ধু সপরিবারে নিহত হলেন, তখন স্বঘোষিত রাষ্ট্রপতির তাতে কিছুমাত্র করুণার উদ্রেক হলো না, তিনি বিচলিত হলেন সেনাপতি ও তাঁর পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে। মোশতাকের কথায় তিনি প্রথম ‘রাজি’ না হলেও, তাঁর ভাষায়, ‘শেষ পর্যন্ত ১৯৭৬ সালের জানুয়ারিতে আমি রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব নিই। ১৬ বছর মালয়েশিয়া, কানাডা, সুইডেন, ইংল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করি। ১৯৯২ সালে স্বেচ্ছায় অবসর নিই।’ ১৯৭৬ থেকে ১৯৯২ পর্যন্ত দেখা যায়, বাংলাদেশে সরকারপ্রধান ছিলেন জিয়াউর রহমান, আবদুস সাত্তার, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, সাহাবুদ্দীন আহমদ ও খালেদা জিয়া। বিদেশে রাষ্ট্রদূত তাঁরাই হন, যাঁরা সরকারপ্রধানের অত্যন্ত আস্থাভাজন। জিয়া লোকটা ‘খুব খারাপ’ হলেও তাঁর সহকর্মী-বন্ধুকে রাষ্ট্রদূত হিসেবে পুরো সময়টা রেখে দেন। বেগম জিয়ার সময়ও বছরখানেক কাজ করেন, তিনিও তাঁকে আজীবন রাখতেন, কিন্তু তিনি ‘স্বেচ্ছায় অবসর’ নেন, খালেদা জিয়া তাঁকে অপসারণ করেননি।
তিনি আরেকটি তথ্য দিয়েছেন, যা সত্য কি না জানি না: ‘১৯৭৫-এর ২৪ আগস্ট আমাকে সেনাবাহিনী থেকে বরখাস্ত করে সেনাপ্রধানের বঙ্গভবনেই অন্তরীণ রাখা হয়।’ আমরা ৪৫ বছর জেনে এসেছি তাঁর চাকরি সেনাবাহিনী থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়, সেটা এখনো অনেককে করা হয়ে থাকে।  অন্য পদে বদলি করা আর ‘বরখাস্ত’ করা একেবারেই দুই জিনিস। ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতার জীবন রক্ষায় এগিয়ে যান না যিনি, দায়িত্বে চরম অবহেলার জন্য তাঁর লজ্জিত হয়ে চুপ থাকার কথা। কিন্তু প্রচারমাধ্যমের প্রশ্রয়ে স্মৃতি তাঁদের রোমন্থন করতেই হয়। সেসব কথা আমরা আড়ি পেতে শুনি। স্বাধীন বাংলাদেশে রাষ্ট্রদূত হওয়ার মতো পেশাদার কূটনীতিকের কি অভাব ছিল? ৪৫ বছর আগের ভূমিকা বিক্রি করে অনেকে রাষ্ট্র থেকে পেয়েছেন এবং পাচ্ছেন সীমাহীন। কেউ সেই দুর্বিষহ দিনে সবকিছু হারিয়েও পাননি কিছুই। রাজবাড়ীর শহীদ অধীরের মা চারুবালার আজ অর্ধাহারে দিন কাটে। স্বাধীনতার ৪৫ বছর পরও অধীরের মা চারুবালা না পেয়েছেন শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সম্মান, না কোনো সরকারি সাহায্য-সহযোগিতা। চার ছেলের মধ্যে শহীদ অধীর ছিলেন তৃতীয়। ‘মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার কামান্না নামক স্থানে রণাঙ্গনে সম্মুখযুদ্ধে শহীদ হন অধীর ও গৌড়সহ ১১ মুক্তিযোদ্ধা।’ [সমকাল, ১২ ডিসেম্বর] বাংলাদেশের প্রতিটি জনপদে চারুবালাদের নিঃশব্দ হাহাকার আজও আকাশে-বাতাসে ধ্বনিত হয়। রাষ্ট্রের কান নেই, তাই রাষ্ট্র শোনে না। শাসকশ্রেণির চোখ নেই, তাই তারা দেখতে পায় না। ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইলের এই ভূখণ্ডে যাঁরা স্বাধীনতার শস্য বুনে গেছেন, সেই ফসল আমরা ঘরে তুলে ভোগ করছি, তারপর তাঁদের ভুলে গেছি অথবা মনে রেখেছি শুধু তিরিশ-পঁয়ত্রিশ জনকে। তাঁদের কথাই ঘুরে ঘুরে সারা বছর মানুষ জানে। অধীরদের কেউ চেনে না।     তাঁর মা চারুবালা স্মৃতি রোমন্থন কাকে বলে তা জানেন না। যে জাতি বর্তমানের দীনতা অতীতের কোনো একটি অর্জনের গল্প দিয়ে ঢেকে রাখতে চায়, তার অগ্রগতি হয় না। অতীত অপরিবর্তনীয়, যা হয়েছে তা হয়েছেই, কিন্তু চেষ্টা দ্বারা বর্তমানকে বদলানো যায়। মুষ্টিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলীর একটি বক্তব্য এ রকম: ‘কেউ যদি কুড়ি বছর বয়সে পৃথিবীটাকে যেভাবে দেখেছিল, পঞ্চাশ বছর বয়সেও ঠিক তেমনিভাবেই দেখে, তাহলে বলতে হয় সে তার জীবনের তিরিশটি বছর অপচয় করেছে।’ আমরা ৪৫ বছরের কতটা অপচয় করেছি, তা আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের মানুষ একদিন মূল্যায়ন করবেন।
সৈয়দ আবুল মকসুদ: লেখক ও গবেষক।

শোকের দিন, উঠে দাঁড়ানোর দিন

রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে পাকিস্তানিদের বর্বরতার খণ্ডচিত্র
স্কুলে পড়ার সময় আমাদের বাংলার শিক্ষক নাসির স্যার কোনো এক মনীষীকে উদ্ধৃত করে বলতেন, ‘দাসের শান্তি নিয়ে থাকার চাইতে বিপজ্জনক স্বাধীনতা অনেক বেশি কাঙ্ক্ষিত।’ তিনি যখন এই কথা আমাদের বলতেন, স্বাধীনতা শব্দটি তখনো আমাদের হয়নি, অখণ্ড পাকিস্তানে অর্জিত দাসের শান্তিকে বড় কোনো বিপদের মুখে ফেলতেও কিছু মানুষ প্রস্তুত ছিলেন না। স্যার কোনো আশু রাজনৈতিক সম্ভাবনার কথা মনে রেখেও কথাটি বলতেন না। তিনি আমাদের যা বোঝাতে চাইতেন, তা হচ্ছে স্বাধীনতা শব্দটির গূঢ়ার্থ। হয়তো তাঁর বুদ্ধিবৃত্তির জগতে স্বাধীনতার ব্যাপক অর্থ ছিল, হয়তো তিনি তাঁর লেখালেখির স্বাধীনতার কথা মনে রেখেই এটি বলতেন, আমরা এর কিছু না বুঝলেও। স্যার আমেরিকা ঘুরে এসে এক ভ্রমণকাহিনি লিখে বিখ্যাত হয়েছিলেন। হয়তো কথাটি তিনি সে দেশে শুনেছেন অথবা সে দেশের মানুষের ব্যক্তিস্বাধীনতার বিষয়টি তাঁকে খুব নাড়া দিয়েছিল, কে জানে। কিন্তু স্যার স্বাধীনতা বলতে ঠিক কী বুঝতেন এবং বিপজ্জনক স্বাধীনতাই বা কী, তা নিয়ে আমরা কঠিনভাবে ভাবতেও শুরু করলাম মাত্র আট কি নয় বছরের মধ্যেই, সত্তরের নির্বাচনের সময় থেকেই। একাত্তরজুড়ে আমরা দাসের শান্তিকে পায়ে ঠেলে আমাদের নিজেদের পরিচিত, অস্তিত্ব, মালিকানা আর ঠিকানাকে প্রতিষ্ঠা দেওয়ার লক্ষ্যে যুদ্ধ করেছি। একাত্তরে আমরা জেনেছি স্বাধীনতা শব্দটি কত বিপজ্জনক হতে পারে। মানুষ মরেছে অকাতরে, মা সন্তানকে শত্রুর বন্দুকের সামনে ঠেলে দিয়ে বলেছেন, শিরদাঁড়া সোজা করে লড়বে। সন্তানেরা লড়েছে। তাদের সোজা শিরদাঁড়ার সামনে শত্রু বিপর্যস্ত হয়েছে।
সারা একাত্তরে বিপদ ছিল কায়ার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ছায়ার মতো। কিন্তু বাঙালি বিপদকে পরোয়া করেনি। একাত্তরের ১৪ ডিসেম্বর অনেক বাঙালি বুদ্ধিজীবীকে কাপুরুষের মতো হত্যা করে পাকিস্তানিরা তাদের কিছু এদেশীয় বশংবদের সহায়তায়, যারা দাসের শান্তিকে জীবনের আদর্শ মেনেছিল। যাঁদের তারা মেরেছিল, তাঁরা বিপজ্জনক স্বাধীনতা কথাটির গূঢ়ার্থ জানতেন। এবং সেই জ্ঞান তাঁরা শুধু তাঁদের কাজে এবং জীবনে প্রমাণ করে গেছেন তা-ই নয়, মৃত্যুতেও তাঁরা বুঝিয়ে দিয়ে গেছেন। তাঁরা দেখিয়েছেন, স্বাধীনতার জন্য সবচেয়ে সুন্দর আর সৃষ্টিশীল জীবনটাকেও বিপদের হাতে ঠেলে দিতে হয়। রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে পাকিস্তানিদের বর্বরতার বলি হাত-পা বাঁধা কান্তিমান এই মানুষগুলোর ছবি যেদিন কাগজে এল, কেন জানি নাসির স্যারের ওই উদ্ধৃতি মনে পড়েছিল। এবং স্বাধীনতা শব্দটির কত অর্থ হতে পারে তা বুঝেছিলাম। একাত্তরের এই শহীদেরা ছিলেন আমাদের শিল্প-সাহিত্য, চিকিৎসা-শিক্ষকতা, দর্শন-সাংবাদিকতা-সংস্কৃতি নানা ক্ষেত্রে সক্রিয়; তাঁরা তাঁদের চিন্তা দিয়ে, ভাবনা দিয়ে, সৃষ্টি দিয়ে, সক্রিয়তা দিয়ে মানুষকে জাগাচ্ছিলেন। তাঁরা সবাই পরাধীনতার বৃত্ত থেকে মুক্তি পেতে মানুষকে উদ্ধুদ্ধ করেছেন এবং তাঁরা তা করছেন সেই কবে থেকে—পঞ্চাশের দশক থেকেই—যখন মানুষ রাজনৈতিক স্বাধীনতা, একটা আরোপিত সংজ্ঞাকেই প্রয়োগ হতে দেখছে চারদিকে। তাঁরা জানতেন, সাতচল্লিশের পর বাঙালির একটা ধারণা জন্মেছিল, তারা স্বাধীন। ১৯৫২ সালে সেই ধারণায় চিড় ধরেছিল। তারপরও বাঙালি এটি ভাবেনি, পাকিস্তানিরা তাদের উপনিবেশী দাসের জায়গায় দেখছে, যদিও কিছু মানুষের তাতে আপত্তি ছিল না। কিন্তু ষাটের দশকের শুরু থেকেই, মানুষও বুঝতে শুরু করেছিল, অনেক আশা নিয়ে কাটা স্বাধীনতার ছকটায় একটা বড় গন্ডগোল দেখা দিয়েছে। একাত্তরে যেসব বুদ্ধিজীবী শহীদ হয়েছিলেন, বিশেষ করে ১৪ ডিসেম্বর, তাঁরা এই ছকটার অসারতার বিষয়টি বুঝেছিলেন, তাঁরা প্রত্যেকেই স্বাধীনতার একটা ভিন্ন অর্থে আস্থা স্থাপন করেছিলেন, যে অর্থ যতটা রাজনৈতিক, ততটা বুদ্ধিবৃত্তিক; যতটা বস্তুগত ততটা সাংস্কৃতিক, যতটা আর্থসামাজিক ততটা সৃষ্টিশীল। এবং এই প্রতিটি স্বাধীনতা চিন্তাই ছিল বিপজ্জনক। ১৯৪৭-এ আমাদের অনেকে না বুঝলেও পাকিস্তানিরা ঠিকই বুঝেছিল বাঙালিদের অধস্তন রাখতে গেলে তাদের সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা দেওয়া যাবে না, বুদ্ধিবৃত্তিক ও বস্তুগত স্বাধীনতা দেওয়া যাবে না।
তাদের ওপর উর্দু চাপিয়ে, তাদের ভাষা রোমান হরফে লিখে নজরুলের কবিতায় মহাশ্মশানের জায়গায় গোরস্তান বসিয়ে, তাদের পাট বেচা টাকা নিজের পকেটে নিয়ে, তাদের লোকজনকে কেরানির চাকরি দিয়ে সাহেবের চাকরি নিজেরা নিয়ে ভালোমতো তাদের ওপর ডান্ডা ঘোরানো যাবে। যেহেতু সেনাসামন্ত তাদের, পাইক–পেয়াদা তাদের, কোনো ওজর-আপত্তি উঠলে সেই ডান্ডা মাথায় মারা যাবে। আমাদের শহীদ বুদ্ধিজীবীরা ঠিকই বুঝেছিলেন, মানুষ জাগলে এই ডান্ডা তার তেজ হারাবে, একসময় ডান্ডা ফেলে দৌড়াতে হবে উজির-নাজির, পাইক–পেয়াদাদের। কিন্তু ডান্ডার সামনে দাঁড়ানোটা বিপজ্জনক। সে কাজটি করা যায় তখনই যখন শিরদাঁড়া সোজা রেখে স্বাধীনতার স্বপ্নটা চোখে রেখে শত্রুর সামনে দাঁড়ানো যায়। সেই জ্ঞানটি, সেই উৎসাহটি তাঁরা মানুষকে দিয়েছেন আমৃত্যু। আশ্চর্য, তাঁদের জ্ঞান থেকে পাওয়া শক্তিটি আমাদের মায়েরা ঠিকই নিজেদের শুভ-অশুভ চিন্তায় নিজেদের মতো করে ধারণ করে নিয়েছিলেন। সে জন্যই কি না, ওই বুদ্ধিজীবী-পেশাজীবী-শিক্ষকদের মতো পাকিস্তানিরা আমাদের মায়েদের বিরুদ্ধে পাশবিক আক্রোশ দেখিয়েছে। ১৪ ডিসেম্বর তারিখটি আমাদের জন্য নানা কারণে গুরুত্বপূর্ণ। এটি বিশাল এক শোকের দিন, কালো রঙে ঢাকা দিন: কিন্তু দিনটি জাগরণেরও। নাসির স্যার যে স্বাধীনতা শব্দটি নিয়ে আমাদের ভাবতে অনুপ্রাণিত করেছিলেন, সেই স্বাধীনতাকে এই উজ্জ্বল মানুষেরা অসম্ভব মহিমা আর মর্যাদায় সেদিন অধিষ্ঠিত করেছেন। জাগরণটা চিত্তের, শুভের, শুভবুদ্ধির। সারা দেশ দেখেছে পাকিস্তানিরা এমন কিছু মানুষকে বর্বরের মতো মেরেছে, যাঁরা কোনো দিন বন্দুক হাতে নেননি। তাঁদের হাতে ছিল কলম, যে কলমের কালিতে একটি জাতির ইতিহাস-সংস্কৃতি-সাহিত্যসহ অসংখ্য সৃষ্টিশীলতার গাথাগুলো লেখা হয়েছে। পাকিস্তানিরা এই কলমের শক্তিকে মানতে বাধ্য হয়েছে। কিন্তু তলোয়ারের সঙ্গে কলমের পার্থক্য হলো তলোয়ার ভেঙে গেলে বা ভোঁতা হলে তাতে আর কোনো কাজ হয় না। অথচ হাতের কলম ভেঙে গেলে হৃৎকলম ঠিকই লিখে যায়। আমাদের শহীদ বুদ্ধিজীবীরা হৃৎকলমের শক্তি তুলে দিয়েছেন আমাদের হাতে, একাত্তরের ১৪ ডিসেম্বর। এই কলম দিয়ে স্বাধীনতার অনেক অর্থ আমরা লিখছি, আমাদের নানা অর্জনের গাথা লিখছি। এই কলমের টানে আমরা জাগি। ১৪ ডিসেম্বর তাই জাগরণের দিন। ১৪ ডিসেম্বর না হলে ১৬ ডিসেম্বরকে আমরা পরিপূর্ণভাবে অনুধাবন করতে পারতাম না। ১৪ ডিসেম্বর বিপজ্জনক স্বাধীনতার এক চূড়ান্ত অর্জনের পথ ধরে ১৬ ডিসেম্বরের বিজয়রথ হাজির হয়েছে। সেই রথের মাথায় লাল-সবুজের যে পতাকা তা আমাদের স্বাধীনতার সব অর্থ-গূঢ়ার্থের এক প্রতীকী প্রতিফলন। ১৪ ডিসেম্বর আমাদের জানায় বুদ্ধির ও চিত্তের স্বাধীনতা না এলে, অন্ধকার আর অশুভের হাত থেকে মুক্তি না পেলে সাংস্কৃতিক আর বস্তুগত স্বাধীনতা না এলে, ধর্ম-বর্ণ-শ্রেণিভিত্তিক নানা বিভাজনের বৃত্ত থেকে বেরিয়ে না আসতে পারলে রাজনৈতিক স্বাধীনতা অর্থপূর্ণ হতে পারে না। অর্থাৎ আমাদের বিজয় দিবসের উদ্‌যাপন অনেকটাই পোশাকি হয়ে দাঁড়ায় যদি আমরা ১৪ ডিসেম্বরের শহীদদের আত্মত্যাগের মহিমাকে হৃদয়ে ধারণ করতে না পারি।
২. তাহলে প্রশ্ন ওঠে, আমরা কি বুদ্ধির এবং চিত্তের, সংস্কৃতির এবং কল্পনার মুক্তি নিশ্চিত করতে পেরেছি? ধর্মের নামে, বর্ণের নামে, বৃহৎ-ক্ষুদ্রের নামে বিভাজন বৈষম্য থেকে মুক্তির সংগ্রামে আছি? যাদের হাত ধরে পাকিস্তানিরা ১৪ ডিসেম্বরের হত্যাযজ্ঞ ঘটিয়েছিল, তাদের মত আর পথের কি অবসান হয়েছে? নাকি দেশজুড়ে হঠাৎ একটা উল্টো ঢেউ ছড়িয়ে পড়ছে? একাত্তরের মা তার সন্তানদের ধর্মভিত্তিক বিভাজন চিন্তার শিক্ষা দেননি। অথচ এখন প্রচুর মানুষ তা-ই করছে। ধর্মীয় উগ্রবাদ বেড়েছে। হিন্দুদের মন্দির আর প্রতিমা এবং গৃহস্থালি আক্রান্ত হয়েছে, বৌদ্ধদের মন্দির ভেঙে দেওয়া হয়েছে, সাঁওতালদের তাদের জমি থেকে উৎখাত করা হয়েছে, তাদের ও অন্যান্য আদিবাসীর ‘আদিবাসী’ পরিচয়টিও মুছে দেওয়া হচ্ছে।আজ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টধর্মাবলম্বীদের মধ্যে আতঙ্ক এবং নিরাপত্তার অভাব, আদিবাসীরা শঙ্কিত অধিকার-বঞ্চনা নিয়ে। মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে এক বর্বর শক্তির ঝাঁপিয়ে পড়ায় সংগতভাবেই আমরা ক্ষুব্ধ, কিন্তু আমার দেশের সাঁওতালদের বাড়িছাড়া করা হলে, হিন্দুদের মন্দির ভাঙলে আমরা কেন ক্ষুব্ধ হই না?
আমরা কি মানুষকে মানুষ না ভেবে তার ধর্ম আর বর্ণ দিয়ে বিচার করতে শুরু করেছি? এই শিক্ষা কি ১৪ ডিসেম্বরের এবং সারা একাত্তরের শহীদেরা আমাদের দিয়ে গেছেন? আমাদের শহীদ বুদ্ধিজীবীদের ঘাতকদের, যুদ্ধাপরাধীদের অনেককে আমরা বিচারের আওতায় আনতে পেরেছি। বাকিদের আনতে পারলে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা পাবে। কিন্তু একই সঙ্গে, এই শহীদেরা  বিপজ্জনক স্বাধীনতায় বিশ্বাস করতেন, সেই স্বাধীনতাকে মর্যাদা দিতে না পারলে আমরা তাঁদের স্মৃতির প্রতি সুবিচার করব না। যে জাতি বুদ্ধির ও চিত্তের, সংস্কৃতির ও নন্দনচিন্তার, বস্তুজীবনের ও সৃষ্টিশীল জীবনের স্বাধীনতা এবং উৎকর্ষ অর্জনের পথে থাকে—যার আহ্বান ১৪ ডিসেম্বরের শহীদেরা আমাদের দিয়েছেন—তাদের দেশে মানুষে মানুষে ভেদাভেদ থাকে না। সেখানে সবাই এক মায়ের সন্তানের মতো মিলেমিশে থাকে। এই সুন্দর জীবনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করাটা সহজ কাজ নয়, বিপজ্জনকই বটে। তবে এই বিপজ্জনক স্বাধীনতার পথে একাত্তরের ৪৫ বছর পর আমাদের নামতে হবে।
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম: কথাসাহিত্যিক। অধ্যাপক, ইংরেজি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।