Tuesday, December 4, 2018

ঢাকায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সঙ্গে রেডিও তেহরানের মতবিনিময়

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থা আইআরআইবি'র বাংলা অনুষ্ঠানের (রেডিও তেহরান) স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাবিষয়ক অনুষ্ঠান 'স্বাস্থ্যকথা'য় অংশগ্রহণকারী বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ (মঙ্গলবার) দুপুরে রাজধানী ঢাকার একটি রেস্তোরাঁয় ওই সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যকথা অনুষ্ঠানের পরিচালক সৈয়দ মূসা রেজা, রেডিও তেহরানের সাংবাদিক মুজাহিদুল ইসলাম, সিরাজুল ইসলাম এবং ঢাকায় নিযুক্ত বিশেষ প্রতিনিধি আব্দুর রহমান খান।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঢাকার অন্যতম প্রাচীন এবং অভিজাত দন্ত চিকিৎসা কেন্দ্র মেট্রোপলিটান ডেন্টাল ক্লিনিকের ডা. আবদুল্লাহ খান, সিরাজগঞ্জ জেলার খাজা ইউনুস আলী মেডিক্যাল কলেজের নাক-কান-গলা বিভাগের প্রধান ডা. মাহবুবুল আলম মোল্লা, ঢাকার হারুন আই ফাইন্ডেশন হসপিটালের অধ্যাপক ডা. মো. হযরত আলী, জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউটের সার্জিক্যাল অনকোলজির সহকারি রেজিস্টার ডা. খাদিজা রহমান সোনিয়া, ইবনে সিনা ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড ইমেজিং সেন্টারের অধ্যাপক ডা. এম. ফখরুল ইসলাম।
এছাড়া, উপস্থিত ছিলেন শিফট ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের সিইও কাউসার আহমদ, কম্পিউটার বিশেষজ্ঞ বদরুল হাসান, জনসংখ্যা বিশেষজ্ঞ মো. জাহিদুল হক, ড্রাগ ইন্টারন্যাশনালের প্রতিনিধি নিখিল চন্দ্র সরকার, সাবেক ব্যাংকার ও ব্যবসায়ী কাজী ওবায়দুর রহমান, আইনজীবী  জাকির হোসেন এবং আলোকচিত্রি কামরুল আখন্দ।
মতবিনিময় সভায় স্বাস্থ্য সচেতনতা সৃষ্টির ক্ষেত্রে যোগাযোগের ভূমিকা, ভেষজ ওষুধের গুরুত্বসহ নানা বিষয়ে আলোচনা করা হয়। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা রেডিও তেহরানের স্বাস্থ্যকথা অনুষ্ঠানের ভূঁয়সী প্রশংসা করেন এবং জনকল্যাণমূলক এ অনুষ্ঠানটি সম্প্রচার করায় আইআরআইবি'র বিশ্বকার্যক্রমের প্রধান ড. পেইমান জেবেলি, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের প্রধান মোহাম্মদ হাসান নওরোজি এবং বাংলা বিভাগের প্রধান মুজতাবা ইবরাহিমিকে বিশেষ উপহার প্রদান করেন। এসময় রেডিও তেহরানের পক্ষ থেকে উপস্থিত অতিথিদের শুভেচ্ছা উপহার দেওয়া হয়।

উত্তর প্রদেশে গো-রক্ষকদের তাণ্ডবে পুলিশসহ নিহত ২, তদন্তের দাবি

ভারতের বিজেপিশাসিত উত্তর প্রদেশে স্বঘোষিত গো-রক্ষকদের তাণ্ডবে পুলিশের এক কর্মকর্তা ও এক বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছে। রাজ্যের সাবেক মন্ত্রী ও সমাজবাদী পার্টির নেতা মুহাম্মদ আজম খান ওই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন।
পুলিশ এ পর্যন্ত চার জনকে গ্রেফতার করতে সমর্থ হলেও প্রধান অভিযুক্ত উগ্র হিন্দুত্ববাদী বজরং দলের জেলা আহ্বায়ক যোগেশ রাজকে এখনও পলাতক রয়েছেন। তাঁকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। পুলিশের এডিজি আনন্দ কুমার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। অভিযুক্ত যোগেশই থানায় গোহত্যার অভিযোগ জানায় এবং সহিংসতা ছড়াতে ইন্ধন জোগায় বলে পুলিশ মনে করছে।
গতকাল (সোমবার) বুলন্দশহরের স্যানা মহকুমা এলাকায় মাহু গ্রামের বাইরে জঙ্গল লাগোয়া একটি মাঠে গো-হত্যা হয়েছে অভিযোগ করে মৃত গরুর দেহাবশেষ নিয়ে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের কর্মীরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। পুলিশ কর্মকর্তা সুবোধ কুমার সিংহের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ওই অবরোধ সরাতে গেলে ক্ষুব্ধ জনতা (স্বঘোষিত  গোরক্ষক) ও পুলিশের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। মারমুখী জনতা পাথর নিক্ষেপসহ চিংরাবটি পুলিশ ফাঁড়িতে আক্রমণ করে সেখানে ভাঙচুর করে পুলিশ গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এসময় সুমিত কুমার নামে এক বিক্ষোভকারী পুলিশের গুলিতে নিহত হয়। অন্যদিকে, জনতার আক্রমণে নিহত হন পুলিশ কর্মকর্তা সুবোধ কুমার সিংহ। তিনিও গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন।
উত্তর প্রদেশের সমাজবাদী পার্টির নেতা আজম খান বলেছেন, ‘যদি পশুহত্যার কোনও ঘটনা ঘটে তাহলে পুলিশকে এটাও তদন্ত করা উচিত সেখানে পশুর দেহাবশেষ কে নিয়ে এসেছিল, কারণ, যে এলাকায় সহিংসতা হয়েছে সেখানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষজন বাস করে না।’
গোলযোগপূর্ণ এলাকায় পাঁচ কোম্পানি ‘র‍্যাফ’ ও ছ’কোম্পানি প্রভিন্সিয়াল আর্মড কনস্ট্যাবুলারি (পিএসি) মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশি এফআইআরে হিন্দুত্ববাদী বজরং দল, বিশ্ব হিন্দু পরিষদের নেতাদের নামও তালিকায় রয়েছে। ওই ঘটনায় প্রায় ৯০ জনের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়েছে।
আজম খান
বুলন্দশহরের জেলা প্রশাসক অনুজ কুমার ঝা বলেন, ওই ঘটনার ম্যাজিস্ট্রেট তদন্ত করে দোষীদের শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।
সমাজবাদী পার্টির মুখপাত্র সুনীল কুমার সিং সাজন বলেন, রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। পুলিশকেও হত্যা করা হচ্ছে। ওই দুর্বৃত্তরা সরকারের কাছ থেকে কোথাও না কোথাও সুরক্ষা পাচ্ছে।
কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যখনই নির্বাচন সামনে আসে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়ানো হয়। রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ। যদি তাঁরা সরকার না চালাতে পারে, তাহলে ওঁদের ইস্তফা দেয়া উচিত।
উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ
এদিকে, উত্তর প্রদশে সরকারের মন্ত্রী ও ‘সুহেলদেব ভারতীয় সমাজ পার্টি’র সভাপতি ওমপ্রকাশ রাজভর বলেছেন, ‘এটা বিশ্ব হিন্দু পরিষদ, বজরং দল এবং আরএসএসের ষড়যন্ত্র। এখন তো পুলিশ বিজেপি কর্মীদের নামও অন্তর্ভুক্ত করেছে। মুসলিমদের ইজতেমার (তবলীগী ইজতেমা) দিনেই কেন ওই বিক্ষোভ প্রদর্শন হল? এটা অশান্তি ছড়াবার চেষ্টা।’
অন্যদিকে, নিহত পুলিশ কর্মকর্তার বোন অভিযোগ করেছেন, তাঁর ভাই মুহাম্মদ আখলাক হত্যার তদন্ত করেছেন। এজন্য ষড়যন্ত্র করে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে।’ বাসায় গোমাংস রাখার সন্দেহে উত্তর প্রদেশের দাদরির বাসিন্দা মুহাম্মদ আখলাককে প্রায় তিন বছর আগে পিটিয়ে হত্যা করেছিল উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা।
কংগ্রেসের সিনিয়র নেতা কপিল সিব্বল বলেছেন, ‘রাজ্যকে খেয়াল রাখার পরিবর্তে যোগি (উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগি আদিত্যনাথ) তেলেঙ্গানাতে বিষ ছড়াচ্ছেন।’ তেলেঙ্গানায় আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন উপলক্ষে মুখ্যমন্ত্রীসহ অন্য বিজেপি নেতারা ঘনঘন রাজ্যটি সফর করে জনসমাবেশে ভাষণ দিচ্ছেন।

‘এই মুহূর্তে আমি কোনো কিছু বলার জন্য প্রস্তুত নই’ -নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার

নির্বাচনি পরিবেশ আছে কি নেই, এই মুহূর্তে সেটা বলার প্রস্তুতি নেই বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার। আজ মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর আগাওগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের একথা জানান তিনি। 
উদ্দেশ্যমূলক ভাবে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে কি না এবং আপিলে কমিশন নিরপেক্ষতার পরিচয় দেবে কি না এমন দুটি প্রশ্নের জবাবে মাহবুব তালুকদার বলেন, এ ব্যাপারে আমার এককভাবে কোনো বক্তব্য দেওয়ার কথা নয়। এভাবে বলে তো আর লাভ হবে না। যারা আপিল করেছেন বা করছেন, শুনানিতে তারা তাদের তথ্যগুলো উপস্থাপন করবেন। এ বিষয়ে ব্যক্তিগত কোনো অভিমত আমার নাই। আমরা অবশ্যই ন্যায় বিচারে প্রত্যাশী।
তিনি বলেন, তবে আমরা যা কিছু করব, তা আইনানুগভাবেই আমাদের করতে হবে। কারো প্রতি পক্ষপাতিত্ব আমরা অবশ্যই দেখাব না।
প্রতিটি কেসেরই (আপিল) মেরিট আমরা দেখব। আমি যেটা মনে করি, নির্বাচন কমিশন সব ব্যাপারেই একটা নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করবে।
নির্বাচনের পরিবেশের বিষয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মাহবুব তালুকদার বলেন, নির্বাচনি পরিবেশ আছে কি নেই, যদি দুই পক্ষই (আওয়ামী ও বিএনপি) অভিযোগ করে, আমরা এখন কী বলব। নির্বাচনি পরিবেশ আছে কি নেই, আমরা এই বিষয়ে আলাপ-আলোচনা করে দেখতে পারি। নির্বাচনি পরিবেশ আছে কি নেই, এই মুহূর্তে আমি কোনো কিছু বলার জন্য প্রস্তুত নই।
মনোনয়ন অবৈধ ঘোষণা হওয়ার বিষয়ে এই কমিশনার বলেন, যাদের যা কিছু অভিযোগ, লিপিবদ্ধ করে আমাদের এখানে দেবেন, তাদের প্রত্যেকটি অভিযোগের বিষয়ে আমরা শুনানি করব। এরপর আমরা এটার বিষয়ে ব্যবস্থা নেব।
দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের প্রার্থী হাজি সেলিম ও পঙ্কজ দেবনাথ নির্বাচন করতে পারবেন কি না  জানতে চাইলে এই কমিশনার বলেন, আমার কথা হলো, এসব অভিযোগের প্রশ্নের উত্তর আমি এই মুহূর্তে দিতে পারি না। এই মুহূর্তে আমি এটার জন্য প্রস্তুত না। আমি কেবল দেখতে এসেছি, যারা আপিল করতে আসছেন, তাদের কোনো অভিযোগ আছে কি না। জমা দেওয়ার ব্যাপারে কোনো অসুবিধা হচ্ছে কি না।
ন্যায়বিচারের ব্যাপারে কমিশন বিষয়ে স্বচ্ছ থাকবে কি না, এ বিষয়ে মাহবুব তালুদকার বলেন, আমি কখন বলব না, ন্যায়বিচারের পক্ষে স্বচ্ছ থাকবে। ন্যায়বিচার তো আপেক্ষিক বিষয়। এটার উত্তর আমি এখনই দিতে পারি না।
তিনি বলেন, কোনো কোনো ক্ষেত্রে একজন সাজাপ্রাপ্ত হন, পরে আবার তিনি খালাসও পান। সেক্ষেত্রে আমি বলব, ন্যায়বিচার বিষয়টি পুরোপুরি আপেক্ষিক। কোনটা ন্যায়বিচার আর কোনো ন্যায়বিচার নয়, সেটার বিচারক তো আমি নই।
অবৈধভাবে মনোনয়নপত্র বাতিলের অভিযোগের বিষয়ে আটজন রিটার্নিং কর্মকর্তাকে যে চিঠি দেওয়া হয়েছিল, সেটার কোনো উত্তর এসেছে কি না।
উত্তরে মাহবুব তালুকদার বলেন, এটা সচিব মহোদয়ের বিষয়। আমাকে এ ধরনের প্রশ্ন করে লাভ নাই। আর কিছু প্রশ্ন করা হচ্ছে, যেগুলো প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে করার কথা। আমি পাঁচজনের একজন। পাঁচজনের দায়দায়িত্ব তো আমি একা গ্রহণ করতে পারব না।
রেকর্ড সংখ্যক প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিলের বিষয়ে মাহবুব তালুকদার বলেন, আমিও পত্রিকায় দেখেছি। এ বিষয়ে নিয়ম অনুযায়ী আপিল করা ছাড়া আর কিছুই করার নেই।
নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার বলেন, যাদের প্রার্থীতা বাতিল হয়েছে তারা ৫ই ডিসেম্বর পর্যন্ত আপিল করতে পারবেন। আগামী ৬, ৭ ও ৮ই ডিসেম্বর আপিলের শুনানি হবে। শুনানি শেষে আমরা আমাদের জাজমেন্ট (রায়) দেব। ৯ই ডিসেম্বর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। এরপর আমরা প্রার্থীদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা দেব।

‘মার্কা বের হওয়ার পর আমাদের কেউ আটকাতে পারবে না’ -মান্না

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রতীক পাওয়ার পর তাদের কেউ আটকাতে পাবেন না বলে জানিয়েছেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না। তিনি বলেন, এখন নানা প্রতিবন্ধকতা আছে এটা ঠিক। কিন্তু মার্কা বের হওয়ার পর আমাদের কেউ আটকাতে পারবে না।
আজ মঙ্গলবার বিকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। 'বর্তমান নির্বাচন পরিস্থিতি এবং নির্বাচনী এলাকা নিয়ে কথা বলতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে নাগরিক ঐক্য। সংবাদ সম্মেলনে তিনি লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।
পুলিশ প্রশাসনে কর্মকর্তাদের উদ্দেশে মান্না বলেন,  আপনারাও এই দেশের সন্তান এবং আপনারা নাগরিকদের করের টাকায় বেতন পান। আমরা এমন একটা রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখি, যেখানে নাগরিকগণ রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে তার সেবক হিসাবে পাবে এবং সবাই শান্তিতে সহাবস্থান করবে। কিন্তু সেই সহাবস্থানের জরুরি পূর্বশর্ত হল, পুলিশ বর্তমানে বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের যে হয়রানি করছে সেটা এই মুহূর্তেই সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে হবে।
তিনি বলেন, প্রশাসনের ন্যাক্কারজনক পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের ফলে সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে বাধা তৈরি হলে যে সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি হবে সেটার সম্পূর্ণ দায়-দায়িত্ব প্রশাসন এবং পুলিশকে নিতে হবে। সবার মনে রাখা উচিত এই সরকারই শেষ সরকার নয়।
মান্না বলেন, দীর্ঘ ১০ বছর পর দেশে একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হচ্ছে।
কিন্তু এই নির্বাচনটি আদৌ ন্যূনতম গ্রহণযোগ্য হবে কিনা সেটা নিয়ে গুরুতর সন্দেহ রয়েছে। বর্তমান সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের আচরণ আমাদের সমাজে এই সন্দেহ প্রতিদিন আরও শক্তিশালী করছে। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর বিরোধী দলের জন্য পরিস্থিতির কিছুটা হলেও উন্নতি হবার প্রত্যাশাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে প্রতিদিন নতুন করে পরিস্থিতি আগের চাইতে আরো বেশি খারাপ হচ্ছে।
তিনি বলেন, বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের একাকার হয়ে যাওয়ায় জনগণের মনে এই শঙ্কা তৈরি করছে যে, সরকার একটি নীল-নকশার নির্বাচনের মাধ্যমে আবার ক্ষমতায় থেকে যেতে চাইছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের নির্বাচন পরিস্থিতি সবার সমান সুযোগ সৃষ্টি বা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’-এর ধারে কাছেও নেই। একদিকে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকার সুযোগ নিচ্ছে, অন্যদিকে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের ওপর দমন-পীড়ন তীব্র রয়ে গেছে। কথাগুলো আমাদের না, কথাগুলো বলা হয়েছে ব্রিটিশ এমপিদের জন্য তৈরি হাউস অব কমন্সের লাইব্রেরির গবেষণাপত্রের মূল্যায়ণে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, প্রতিদ্বন্দ্বিতার নিয়মকানুনের প্রতি (রুলস অব গেম) সার্বিক আস্থার মাত্রা তলানিতে রয়ে গেছে।
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম এই নেতা বলেন, নির্বাচনের সময় পুরো প্রশাসন নির্বাচন কমিশনের অধীনে চলে না গেলেও সংবিধানের ১২০ এবং ১২৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু নির্বাচন করার স্বার্থে যে কোনো প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সমর্থন সরকারের কাছে চাইলে সরকার সেটা দিতে বাধ্য থাকে। কিন্তু নির্বাচন কমিশন সরকারের প্রতি কোন রকম চাপ সৃষ্টি করছে না বরং সরকার যা বলছে সেটাই করছে, কমিশনার রফিকুল ইসলামের বক্তব্য সেটাকে স্পষ্ট করেছে। বিরোধীদলকে সর্বোচ্চ চাপে রেখে একতরফা একটা নির্বাচন করার যে নীলনকশা ধরে সরকার এগিয়ে চলছে, অত্যন্ত হতাশাজনকভাবে নির্বাচন কমিশন সেই নীলনকশা বাস্তবায়নে পূর্ণ সহযোগিতা করে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, এই নীল-নকশার অংশ হিসাবেই সারাদেশে বিরোধীদলীয় নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা,'গায়েবি' মামলা দিয়ে অসংখ্য মানুষকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। অনেককে গুম করা হচ্ছে। অবিশ্বাস্যভাবে এই গেপ্তারের তালিকায় অনেক সম্ভাব্য প্রার্থী রয়েছে। একজন সম্ভাব্য প্রার্থীকে হোটেল রুম থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে হত্যা করে লাশ বুড়িগঙ্গা নদীতে ফেলে দেয়ার সংবাদও আমরা পেয়েছি। নির্বাচনের আর খুব কম সময় বাকি থাকলেও এসব বিষয়ে নির্বাচন কমিশন কোনো কথা বলছে না।
তিনি আরও বলেন, মামলার হয়রানির মাধ্যমে বিরোধী দলের কর্মীদের নিপীড়নের ধারা চলছে আমার নির্বাচনী এলাকায়ও। আমার নির্বাচনী এলাকা বগুড়া-২ এর অন্যতম নেতা, শিবগঞ্জ উপজেলার বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক, পৌর বিএনপি'র সাবেক সভাপতি এবং বারংবার নির্বাচিত শিবগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মতিয়ার রহমান মতিনকে মিথ্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে। জয়পুরহাট জেলার কালাই এর স্থানীয় কর্মকারদের তৈরি হাসুয়া উদ্ধার মামলায় স্থানীয় কতিপয় ব্যক্তির মদতে মতিনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
আমার নির্বাচনী এলাকার কর্মীদের মধ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মানুষ মতিনের বিরুদ্ধে এই রকম হয়রানিমূলক মামলা স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে প্রশাসন আমার নির্বাচনী কাজে বাধা সৃষ্টি করতে চাইছে। এলাকার অন্যান্য কর্মীদের মধ্যে অত্যন্ত জনপ্রিয় মতিন এমন মামলায় জড়িত করা কর্মীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। অবিলম্বে মতিনকে এই মামলা থেকে মুক্তির দাবি জানান মান্না।
এ ছাড়া বগুড়া সদর থানা ছাত্রদল আহ্বায়ক সিফাদ সরকার,  শিবগঞ্জ উপজেলার সৈকত, নাহিদ, আব্দুস সালাম, শাহজাহানপুর উপজেলার আব্দুল মজিদ, হজরত, সুজাউল সোনাতলা উপজেলা আহসান হাবিব রাজা, আহসান হাবিব রাসেল, ধুনট উপজেলার রেজাউল হক দুলাল, বাদশাহ, চান মিয়া, আমজাদ হোসেনসহ সকল কর্মীদের দ্রুত মুক্তি এবং মামলা প্রত্যাহার দাবি করেন তিনি।
এছাড়া সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া শিবগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান শাহে আলম, নাগরিক ঐক্যের সদস্য ফজলুর রহমান, শহিদুল্লাহ কায়সার, নজরুল ইসলাম, অতিকুর রহমান প্রমুখ।

এরশাদের বাইরে যাওয়া জরুরি : রাঙ্গা

জাতীয় পার্টি (জাপা) নতুন মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙা বলেছেন, এরশাদ হান্ড্রেড পারসেন্ট ফিট রয়েছেন। তবে তার বাইরে যাওয়া জরুরি। এটা হবে ১০ তারিখের পর।
এছাড়া রক্তে হিমোগ্লোবিনেরর মাত্রা কমে যাওয়ার পর শারীরিক অবস্থা নিয়ে ‘ভয় লাগে বলে’ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচে) ভর্তি হন বলে মন্তব্য করেন দলটির নতুন মহাসচিব।
মঙ্গলবার দুপুরে বনানীতে এরশাদের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে রাঙ্গা জানিয়েছেন, মহাজোটের সঙ্গে আসন ভাগাভাগির পর দলীয় অবস্থান বিবেচনায়  এরশাদ ১০ই ডিসেম্বরের পর উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে যেতে পারেন।
জাপার মহাসচিবের পদ থেকে অব্যহতির ব্যাপারে এবিমএম রুহুল আমিন হাওলাদারের প্রসঙ্গে রাঙ্গা জানান, ‘শারীরিকভাবে অসুস্থ’ থাকায় দল পরিচালনায় ‘অক্ষমতার’ কথা জানিয়ে তিনি নিজেই ।  হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের হাতে পদত্যাগপত্রও তিনি জমা দিয়েছেন।
নব্বইয়ে গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর কখনো আওয়ামী লীগ, কখনো আবার বিএনপির সঙ্গে জোট বাঁধার ঘোষণা দিয়ে জাতীয় নির্বাচনের আগে আলোচনায় উঠে আসেন এরশাদ।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের অসুস্থতা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে রয়েছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। ২০১৪ সালের নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে এরশাদ নাটকীয় অসুস্থতা নিয়ে সিএমএইচে ভর্তি হয়েছিলেন।
কিন্তু সেখানে ভর্তি থাকা অবস্থায়ই এমপি নির্বাচিত হন তিনি। পরে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত করা হয় তাকে।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে জাপা যখন নির্বাচনে অংশগ্রহণ ইচ্ছুকদের মধ্যে মনোনয়নপত্র বিতরণ শুরু করেছিল, তখনই জাপা জানায়, ‘অসুস্থতার’ জন্য এরশাদ সিএমএইচে ভর্তি হয়েছেন।
পরে সুস্থ হয়ে মনোনয়নপত্র বিক্রয় কার্যক্রম উদ্বোধন করে আবারও সিএমএইচে ভর্তি হন এরশাদ।
নির্বাচনের আগে তার শারীরিক অসুস্থতা ‘এমন কিছু নয়’ জানিয়ে সাবেক মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার সাংবাদিকদের বলেছিলেন, তার অসুস্থতা এমন কিছু নয়। তিনি নির্বাচনে অংশ নেবেন।
এরশাদের এই অসুস্থতা নিয়ে মঙ্গলবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে জাপার সদ্য নিযুক্ত মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা সাংবাদিকদের বলেন, (এরশাদের) ঘুমের ডিস্টার্ব হলেও তিনি সিএমএইচে যান। বাসায় একা থাকেন বলে তার ভয় করে। তাছাড়া ইনফেকশনের ভয়ও আছে।
জাপার মনোনয়নপ্রাপ্ত ও মনোনয়ন বঞ্চিত নেতারা এরশাদের দেখা পাচ্ছেন না বলে গণমাধ্যমের কাছে বিশেদাগার করেছেন।
মঙ্গলবার সকালে বারিধারার পার্ক রোডে এরশাদের বাসায় প্রাতঃরাশ সেরে আসার কথা জানিয়ে রাঙ্গা বলেন, তার বাসায় অবাঞ্ছিত কাউকে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না।
রাঙ্গা বলেন, তিনি এখন হান্ড্রেড পারসেন্ট ফিট রয়েছেন। তবে তার বাইরে যাওয়া জরুরি। তবে তা হবে ১০ তারিখের পর।
আগামী দুই একদিনের মধ্যে মহাজোটের সঙ্গে আসন ভাগাভাগির বিষয়টি চূড়ান্ত হয়ে যাবে বলে জানান রাঙ্গা।
পরে বলেন, চেয়ারম্যান মহোদয় ১০ তারিখ পর্যন্ত পরিস্থিতি দেখবেন।  দলের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব শেষ না করে তিনি দেশের বাইরে যেতে চান না।
মহাজোটের কাছে ৫৪-৫৫টি আসন পাওয়া যেতে পারে বলে আশা করছেন রাঙ্গা।
রাঙ্গা জানান,মহাজোটের প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়ার আগে নেতাদের পারিবারিক ও স্থানীয় অঞ্চলে রাজনৈতিক অবস্থান বিবেচনার পাশাপাশি তাদের পরিবারে কেউ যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত কি না তাও খতিয়ে দেখছে জাপা।
সাবেক মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার আসন বন্টন ইস্যুতে আওয়ামী লীগের সঙ্গে যে ‘দর কষাকষি’র কথা জানিয়েছিলেন, সেই প্রসঙ্গে রাঙ্গা বলেন, যেসব স্থানে আমাদের প্রার্থীদের জয়ের ব্যাপারে আমরা নিশ্চিত, তা আমরা মহাজোটের কাছে উপস্থাপন করব। সে আসনগুলো আমরা চাইব। আমরা এত বেশি আসন চাইছি না। জোটে আমাদের সমঅধিকার আছে। কোন আসনে কে জিতবে, কে হারবে, তা বিবেচনায় আনতে হবে। মহাজোটের সঙ্গে আসন বন্টন ইস্যুতে জাপার ৯ সদস্যবিশিষ্ট একটি দল আলোচনা করছে বলে জানান রাঙ্গা।
দলের সিদ্ধান্ত না মেনে কেউ বিদ্রোহী হলে জাপা গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে বলে হুশিয়ার করে দেন তিনি।
রুহুল আমিন হাওলাদারের অভিযোগ তদন্তে জাপার তদন্ত কমিটি এখনও কাজ শুরু না করলেও রাঙ্গা জানান, হাওলাদার ‘শারীরিক অসুস্থতার’ কারণে তিনি দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেছেন।
ঋণখেলাপী হওয়ায় পটুয়াখালী-১ আসন থেকে হাওলাদারের মনোনয়ন বাতিল হয়ে যাওয়ায় ‘মন খারাপ’ও পদত্যাগের ‘কারণ হতে পারে’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

‘দুটি প্রবাদ বাক্যের মধ্যে প্রতিযোগিতা চলছে’ by মরিয়ম চম্পা

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এবং বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেছেন, মনে হচ্ছে বাংলাদেশের দুটি প্রবাদ বাক্যের মধ্যে এক ধরনের প্রতিযোগিতা চলছে। একটি প্রবাদ বাক্য হচ্ছে ‘ছলে বলে কৌশলে’। এটা হচ্ছে ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর। আর বিরোধী গোষ্ঠির প্রবাদ হচ্ছে ‘দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে’। দুটি খুবই প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশি প্রবাদ বাক্য।
মানবজমিনের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, এই দুটি বাক্য এক অর্থে সার্বিক পরিবেশটাকে চিত্রায়িত করছে। কারণ প্রতিষ্ঠানগুলো পক্ষপাতিত্বমূলকভাবে ছল-বল এবং কৌশল তিনটিই ব্যবহার করার চেষ্টা করছে। সর্বশেষ দেখলাম যে মানিকগঞ্জে একটি প্রশ্নবিদ্ধ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
বলা হচ্ছে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুলের স্বাক্ষর মিলছে না। তার স্বাক্ষর কি না সেটা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশের ভিক্তিতে মনোনয়ন বাতিল করে দেয়া হয়েছে। এই ধরনের প্রশ্নবিদ্ধ সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে ক্ষমতাসীন গোষ্ঠির একটি প্রয়াস দেখছি। 
পিপিআরসি’র এই নির্বাহী চেয়ারম্যান বলেন, আর অন্য পক্ষের যে দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে এটাও খুবই স্পষ্ট। তাদের নির্বাচনি ময়দানে টিকে থাকার প্রচেষ্টা চলছে। এভাবে কে কতোদুর আগাতে পারে সেটা দেখার অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে আমাদের।
এত কিছুর পরেও নির্বাচনটা আসলে কেমন হবে এটা বলাটা এখন কঠিন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই মুহূর্তে যেভাবে দেখছি সেখানে অনেক প্রশ্নের বিষয় থেকে যাচ্ছে। কিন্তু আল্টিমেটলি প্রতিযোগীদের টিকে থাকার প্রচেষ্টা চলছে। পক্ষান্তরে ভোটাররা যেটা চায় যে ভয়মুক্ত পরিবেশ। সেটা কেমন হবে এই মুহূর্তে বলা যাচ্ছে না। কাজেই কেমন নির্বাচন হবে এ বিষয়ে আপাতত আপেক্ষিক উত্তর দেয়া ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।
জোট-মহাজোটে নির্বাচন হচ্ছে এই নির্বাচন বাংলাদেশের রাজনীতিতে স্থিতি আনবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে স্থিতিটা একভাবে বোঝার চেষ্টা। আমরা চাই যে অংশগ্রহণমূলক একটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার ভিক্তিতে সার্বিকভাবে রাজনীতি এবং সুষ্ঠু দেশ শাসন এগুলো নিশ্চিত হবে। এর অন্যতম পূর্বশর্ত হচ্ছে একটি অংশগ্রহণমূলক এবং সুষ্ঠু নির্বাচন। সেটার অপেক্ষায় আমরা আছি। কিন্তু তার পরেও একটি চ্যালেঞ্জ থেকে যায়। জবাবদিহিতামূলক শাসন ব্যবস্থা। সেটা শুধু নির্বাচন করেই নিশ্চিত হবে না। এটার জন্য বাড়তি প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।

যুক্তরাজ্যে কর্মী সংকটে বন্ধ হচ্ছে দিনে একটি করে রেস্টুরেন্ট by অদিতি খান্না

যুক্তরাজ্যে দেশটিতে প্রতিদিন প্রায় একটি করে উপমহাদেশীয় খাবারের রেস্টুরেন্ট বন্ধ হয়ে যাচ্ছে বলে সরকারকে সতর্ক করে দিয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত এক রেস্টুরেন্ট মালিক।  ‘ব্রিটিশ কারি অ্যাওয়ার্ডে’র প্রতিষ্ঠাতা ও যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশি খাবার শিল্পের শীর্ষ প্রচারণাকারী এনাম আলী এই সতর্কতা জানান। তিনি বলেন,  বর্তমানে যুক্তরাজ্যে উপমহাদেশীয় খাবার শিল্পে প্রায় ৩০ হাজারের মতো দক্ষ শ্রমিক দরকার। বিদ্যমান শিল্পগুলো টিকিয়ে রাখতে হলে অবিলম্বে এই জনবল নিয়োগ দেওয়া দরকার।
এনাম আলী বলেন, ‘কর্মী সংকটের কারণে আমাদের অনেককে ভোক্তাদের চাহিদা পূরণে হিমশিম খেতে হচ্ছে। আর এজন্য আমরা চাইলেও এই শিল্পের বিস্তার ঘটানো অসম্ভব।’
রেস্টুরেন্টে কর্মী সংকট দূর করার জন্য এনাম আলী সম্প্রতি দক্ষিণ-পূর্ব ইংল্যান্ডের নর্থ ইস্ট সুরেই কলেজ অব টেকনোলজির সঙ্গে মিলে বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছেন। সেখান থেকে কর্মীদের রেস্টুরেন্ট শিল্পে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে তার। তিনি বলেন, ‘শিল্প হিসেবে আমরা অভ্যন্তরীণভাবে সব ধরনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছি। এজন্য এমন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে যাতে তরুণ প্রজন্ম  সক্রিয়ভাবে এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।’
রেস্টুরেন্ট মালিকদের মাধ্যমে স্বল্প মেয়াদী কাজের ভিসা দিতে বর্তমান আইন পুনর্মূল্যায়ন করার জন্য যুক্তরাজ্য সরকারের কাছে তদবির করে আসছেন এনাম আলী। উপমহাদেশীয় খাবার শিল্পের পক্ষ থেকে বারবার একটি বিষয়কে ‘ব্রেক্সিট প্রতারণা’ হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। তাহলো ব্রেক্সিটপন্থী রাজনীতিকরা বাংলাদেশি এসব রেস্টুরেন্ট মালিকদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, একবার ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে যুক্তরাজ্য আলাদা হতে পারলে দক্ষিণ এশীয় নাগরিকদের ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করা হবে।
বর্তমান আইন অনুসারে দক্ষিণ এশিয়া থেকে একজন বাবুর্চি নিয়ে যাওয়া হলে তাকে নূন্যতম ৩৫ হাজার পাউন্ড বেতন দিতে হবে। এই বেতন ছোট ছোট রেস্টুরেন্টের মালিকদের দেওয়ার সাধ্য নেই।
গত সপ্তাহে লন্ডনে অনুষ্ঠিত ‘ব্রিটিশ কারি অ্যাওয়ার্ডের’ অনুষ্ঠানে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে বলেছেন, ‘ভারতীয় উপমহাদেশীয় খাবারের রেস্টুরেন্ট ব্যবসার সাফল্য যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে বড় অর্জনগুলোর একটি।  ২০০ বছর আগে প্রথম স্থাপিত হয়েছিল এমন রেস্টুরেন্ট, আজ যা শত শত কোটি পাউন্ডের বিশাল এক শিল্প। এ শিল্প আধুনিক, সফল এবং অগ্রসরমান।’ তিনি আরও বলেছেন, ভারতীয় উপমহাদেশীয় খাবারের ব্যবসায় হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়। খাতটি প্রবৃদ্ধিতেও ভূমিকা রাখে। কিন্তু শিল্পটি বর্তমানে যেসব সমস্যায় ভুগছে তা নিয়ে তিনি বিশেষ কিছু বলেননি।
২০১৮ সালের পুরষ্কারপ্রাপ্ত রেস্টুরেন্টগুলোর মধ্যে অ্যাবারডিনের ‘লাইট অব বেঙ্গল’ পেয়েছে ‘বেস্ট স্পাইসি রেস্টুরেন্ট ইন স্কটল্যান্ড’ এবং লন্ডনের ‘চিলি টুক টুক’ পেয়েছে ‘বেস্ট ডেলিভারি রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড টেক অ্যাওয়ের’ পুরষ্কার।
ইউরোপের উপমহাদেশীয় খাবার শিল্পের অগ্রগতিতে রাখা অবদানের জন্য বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সুইডেনবাসী রেজাউল করিমকে ‘স্পেশাল রেকগনিশন অ্যাওয়ার্ড’ দেওয়া হয়েছে। সুইডেনে তার ভারত উপমহাদেশীয় খাবারের চেইন রেস্টুরেন্ট রয়েছে।

৬ বার নির্বাচন করেছি প্রতিবারই বৈধ ছিল

৩০ বছরের পুরনো টেলিফোন বিল বকেয়া দেখিয়ে শরীয়তপুর-১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সরদার একেএম নাসিরউদ্দিন কালুর মনোনয়নপত্র বাতিল করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। সাদা কাগজে করা অভিযোগে ১৯৮৮ সাল থেকে  ১৯৯১ সাল পর্যন্ত তার বকেয়া টেলিফোন বিলের অঙ্ক দেখানো হয়েছে ৩৮১৫ টাকা। কিন্তু বিটিসিএল ফরিদপুর শাখার ছাড়পত্রটি বিবেচনায় নেননি শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা কাজী আবু তাহের। আর নাসিরউদ্দিন কালুর প্রার্থিতা বাতিল হওয়ায় ওই আসনে নেই কোনো বিএনপি মনোনীত প্রার্থী।
মনোনয়নপত্র বাতিল প্রসঙ্গে শরীয়তপুর-১ আসনের প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাসিরউদ্দিন কালু মানবজমিনকে বলেন, আমার বিরুদ্ধে একটি সাদা কাগজে ত্রিশ বছরের কয়েকটি পুরনো বিল বকেয়া দেখানো হয়েছে। সেখানে দেখা গেছে, ১৯৮৮ সালে ১৫২টাকা, ১৯৮৯ সালে ২৭৮ টাকা ও ৩৭১ টাকা, ১৯৯০ সালে ৪০৯ টাকা, ১৯৯১ সালে ৬১২ টাকা ও ১২৭৩ টাকা মিলিয়ে সর্বমোট ৩৮১৫ টাকা বকেয়া দেখানো হয়েছে।
তিনি বলেন, বিটিসিএল ফরিদপুর শাখা থেকে আমার ব্যবহৃত টেলিফোন ৩৩৩/৭৭৭ এর অনুকূলে ফ্যাক্সে একটি ছাড়পত্র পাঠানো হয়েছে জেলা প্রশাসকের বরাবর। সেখানে বলা হয়েছে, ১৯৮৪ সালের ১লা নভেম্বর থেকে ১৯৯৩ সালের মে পর্যন্ত আমার ব্যবহৃত নাম্বারের সকল বিল পরিশোধিত রয়েছে।
কিন্তু রিটার্নিং কর্মকর্তা ফরিদপুর শাখা বিটিসিএলের সে ছাড়পত্র বিবেচনায় নেননি। সরদার নাসিরউদ্দিন কালু বলেন, আমার কোনো টেলিফোন বিল বকেয়া নেই। ১৯৯৩ সালের পর আমি টেলিফোনও ব্যবহার করি না। তিনি বলেন, যে সময়ের টেলিফোন বিল বকেয়া দেখানো হয়েছে তার পরে আমি ৬ বার নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছি। আমি ১৯৯১, ১৯৯৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও একবার উপনির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছি।
২০০৪ সালে শরীয়তপুর পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হয়েছি। এ ছাড়াও ২০০৮ ও ২০১৪ সালের পৌর নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছি। প্রতিবারই আমার মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে। এতদিন পর আমার টেলিফোন বিল কীভাবে বকেয়া হলো তা আমার জানা নেই। নাসিরউদ্দিন কালু বলেন, সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে, অযৌক্তিকভাবে, খামখেয়ালিভাবে আমার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। আমি বিএনপি দলীয় প্রার্থী এটাই আমার অপরাধ। আমি ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে ফরিদপুর শাখা বিটিসিএলের ছাড়পত্রের ফটোকপিসহ আনুষঙ্গিক কাগজপত্র সংগ্রহ করেছি। প্রার্থিতা ফিরে পেতে আমি নির্বাচন কমিশনে আপিল করবো। এদিকে টেলিফোন বিল বকেয়া থাকায় শরীয়তপুর-২ আসনে জাকের পার্টির প্রার্থী বাদল কাজী ও শরীয়তপুর-৩ আসনে কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) প্রার্থী সুশান্ত ভাওয়ালের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। বাদল কাজীর বকেয়া বিলের পরিমাণ ১১ হাজার ৮১ টাকা ও সুশান্ত ভাওয়ালের কাছে ২ হাজার ১২৩ টাকা বিল বকেয়া রয়েছে।
এ ছাড়া শরীয়তপুর-১ আসনে জাকের পার্টির প্রার্থী আলমগীর হোসেন ঋণখেলাপি হওয়ায় এবং শরীয়তপুর-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী সফিউদ্দিন মানিক হাওলাদারের এক শতাংশ ভোটারের সমর্থন সংবলিত স্বাক্ষর জমা না দেয়ায় মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। আলমগীর হোসেন স্থানীয় গোসাইরহাট উপজেলার কোদালপুর শাখা কৃষি ব্যাংকের ১ লাখ ৬০ হাজার টাকার ঋণখেলাপি। উল্লেখ্য, টেলিফোন বিল বকেয়া থাকায় তখন ওই তিন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাছাই বিকাল পর্যন্ত স্থগিত রাখা হয়। এ সময়ের মধ্যে ওই তিন প্রার্থী বিটিসিএলের রাজস্ব শাখা ফরিদপুরে বকেয়া বিল নগদ টাকায় পরিশোধ করেন। কিন্তু নির্বাচনী আইনে মনোনয়নপত্র দাখিলের সাত দিন আগে সব বকেয়া বিল ও ঋণ পরিশোধ করতে হবে। এখন শরীয়তপুর-১ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ইকবাল হোসেন অপুসহ সাতজন প্রার্থী অংশ নিতে পারবেন।

নির্বাচনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত হতে দেয়া যাবে না -নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার

নির্বাচন কর্মকর্তারা ব্যর্থ হলে নির্বাচন ব্যর্থ হবে বলে মন্তব্য করেছেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার। আইনসিদ্ধ না হলে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হবে উল্লেখ করে নির্বাচন কর্মকর্তাদের তিনি বলেছেন, প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন করে আমরা নিজেদের প্রশ্নবিদ্ধ করতে চাই না। আপনাদের কেউ কলঙ্কের ভাগিদার হতে চাইবেন না জানি। ভোটকেন্দ্রের সকল অনিময় রোধ, শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগের ক্ষমতা আপনাদের দেয়া হয়েছে। এই সর্বোচ্চ শক্তি আপনাদের কতটুকু, তা আপনাদের প্রশিক্ষকদের কাছ থেকে জেনে নেবেন। আপনাদের দায়িত্ব পালনে শিথিলতা কখনো বরদাশত করা হবে না। যুদ্ধক্ষেত্রে সম্মুখ সমরে সাফল্যের কোনো বিকল্প নেই।
গতকাল আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করে তিনি বলেন, আপনারা নির্ভয়ে, সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন।
আপনারা ব্যর্থ হলে নির্বাচন ব্যর্থ হবে। অন্যদিকে আপনাদের সাফল্যে উদ্ভাসিত হবে সমগ্র জাতি।
তিনি বলেন, দেশের ইতিহাসে কখনো তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে, কখনো সেনা সমর্থিত সরকারের অধীনে, আবার কখনো দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হয়েছে। ফলে নির্বাচনী সংস্কৃতিতে কোনো ধারাবাহিকতা গড়ে ওঠেনি। এবার পূর্ণাঙ্গ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে ধারাবাহিকতার ঐতিহ্য সৃষ্টি করতে যাচ্ছি। এই জন্য নির্বাচনকে আমরা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত হতে দিতে পারি না। সেই লক্ষ্য পূরণে নির্বাচন কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
মাহবুব তালুকদার বলেন, নির্বাচন সম্পর্কে জনমনে আস্থার ক্ষেত্র তৈরি করবেন। নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সকল প্রার্থী যেন আপনাদের দিকে তাকিয়ে নিশ্চিন্ত থাকতে পারে। নির্বাচনী কর্মকর্তাদের কাছে দেশের মানুষের প্রত্যাশা অতি সামান্য। তারা শুধু চান, ভোটের দিন যেন কেন্দ্রে গিয়ে নির্বিঘ্নে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন। তাদের এই সামান্য চাওয়াই রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিশাল কর্মযজ্ঞে রূপান্তরিত হয়েছে ভোটের মাঠে।
তিনি বলেন, নির্বাচনের পূর্বশর্ত হলো অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষতা। এই পূর্বশর্ত পালনে আইনানুগভাবে কর্তব্য পালনে আপনারা দৃঢ় ভূমিকা রাখবেন। একটা কথা মনে রাখতে হবে, আইন যদি নিজস্ব গতিতে না চলে তাহলে কোনো কার্যক্রমই আইনানুগ হতে পারে না। সবার জন্য সমভাবে আইনের প্রয়োগ করা না হলে সেই আইন আইন নয়, আইনের অপলাপ মাত্র।
মাহবুব তালুকদার বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর মাত্র ২৬ দিন বাকি। নির্বাচনের মূল দায়িত্বপালন করেন প্রিজাইডিং অফিসার। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে একজন করে প্রিজাইডিং অফিসার থাকেন। সার্বিক বিবেচনায় তিনিই সঞ্চালক। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আরো নতুন সঞ্চালক তৈরির আপনারা কারিগর। সব অনিয়ম রোধ, শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগের ক্ষমতা আপনাদেরকে দেয়া হয়েছে। এই সর্বোচ্চ শক্তি সেটা কোনো পুলিশ কর্মকর্তা বা সামরিক কর্মকর্তার থেকে কম নয়।
তিনি বলেন, আমরা নির্বাচন কমিশনের কমিশনার হিসেবে সংবিধান অনুযায়ী দায়িত্ব পালনের শপথ নিয়েছি। আপনারা আমাদের শপথ গ্রহণের মূল অংশীদার। আপনাদের মাধ্যমেই আমরা নির্বাচন সম্পন্ন করি। এক্ষেত্রে আমাদের শপথ আপনাদের মধ্যে সঞ্চারিত হয় এবং আপনাদের দায়িত্ব পালনের ওপর বর্তায়। আপনারাও মনে মনে শপথগ্রহণ করুন দেশ ও জাতির স্বার্থে নির্বাচনের এই দায়িত্ব পালনে প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবেন। সব মিলিয়ে ১০ থেকে ১২ লাখ কর্মকর্তা-কর্মচারী নির্বাচন প্রক্রিয়ায় যুক্ত রয়েছেন জানিয়ে মাহবুব তালুকদার বলেন, আগামী ৩০শে ডিসেম্বর বাংলাদেশের মানুষ ইতিহাসের এক সোনালি অধ্যায় রচনা করবে। সেই সোনালি অধ্যায়ের রূপকার আপনারা। জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে আমরা শুধু দেশবাসী নয়, বিশ্ববাসীর নজরদারির সামনে। আমাদের কার্যকলাপ, প্রতিটি পদক্ষেপ সবাই প্রত্যক্ষভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। সেদিক থেকে এই নির্বাচন আমাদের আত্মমর্যাদা সমুন্নত রাখার নির্বাচন।
নির্বাচন সামনে রেখে সারা দেশের ২ হাজার ২৬ জন নির্বাচন কর্মকর্তাকে কয়েক ধাপে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। এর অংশ হিসেবে গতকাল সোমবার ও আজ মঙ্গলবার নয় জেলার মোট ৪০৮ কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব মোখলেসুর রহমান ও নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক মোস্তফা ফারুক উপস্থিত ছিলেন।

আশরাফের প্রার্থিতা নিয়ে বিএনপির প্রশ্ন

আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের মনোনয়নপত্র নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা। বিএনপি’র তরফেও এ নিয়ে অভিযোগ তোলা হয়েছে। বলা হচ্ছে, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনার লঙ্ঘন করে তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে রিটার্নিং কর্মকর্তা। এদিকে কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে রোববার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত জেলার ৬টি আসনের মনোনয়নপত্র বাছাই কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরী মনোনয়নপত্র বাছাই করে বৈধ ও অবৈধ প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন।
সকালে কিশোরগঞ্জ-১ (কিশোরগঞ্জ সদর-হোসেনপুর) আসনের মনোনয়নপত্র বাছাই করা হয়। বাছাইয়ে এই আসনে মনোনয়নপত্র জমাদানকারী ১৩ জনের মধ্যে বিএনপি মনোনীত দুই প্রার্থী এডভোকেট শরীফুল ইসলাম শরীফ ও খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খানসহ মোট পাঁচ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেন রিটার্নিং অফিসার। তবে এ আসনে বিএনপি’র অপর প্রার্থী রেজাউল করিম খান চুন্নুর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়।
আওয়ামী লীগের দুই প্রার্থী আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এমপি ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী কৃষিবিদ মো. মশিউর রহমান হুমায়ুনসহ এ আসনে মোট আট জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়। তবে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের সময় বিএনপি প্রার্থী ঢাকা বিভাগীয় সাবেক স্পেশাল জজ মো. রেজাউল করিম খান চুন্নু আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের মনোনয়নপত্রের সঙ্গে যুক্ত করা হলফনামায় স্বাক্ষরের ব্যাপারে সন্দেহ প্রকাশ করে তা যথাযথ আইন মেনে দাখিল করা হয়নি অভিযোগ করে মনোনয়নপত্র বাতিলের জন্য রিটার্নিং অফিসারের কাছে দাবি জানান।
এ প্রসঙ্গে বিএনপি প্রার্থী রেজাউল করিম খান চুন্নু ও তার আইনজীবী রিটার্নিং অফিসারকে বলেন- সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের ভাই ও আত্মীয়রা জানিয়েছেন, সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম একজন অসুস্থ ও আনকনসাস ব্যক্তি। তিনি থাইল্যান্ডে চিকিৎসাধীন থাকায় সশরীরে আসতে পারেননি। তাঁর মনোনয়নপত্র বাংলাদেশে বসে নোটারি করা হয়েছে। কিন্তু নোটারি পাবলিকের দেশের বাইরে কোনো ক্ষমতা নেই। তাই তাঁর (সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম) হলফনামা ও ফরম আইনত বাতিল হবে। তবে রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরী বাংলাদেশ দূতাবাসের কনস্যুলারের উপস্থিতিতেও স্বাক্ষর করার বিধান রয়েছে জানিয়ে মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন। বিএনপি প্রার্থী রেজাউল করিম খান চুন্নু ও তার আইনজীবী জানান, হলফনামায় স্বাক্ষরের ক্ষেত্রে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করা ছাড়াও নতুন আইনের বিধান অনুযায়ী ব্যাংক অ্যাকাউন্ট করে সেখানে নির্বাচনে ব্যয়ের জন্য টাকা জমা রাখতে হবে। দেশের যে কোনো ব্যাংকে ম্যানেজারের সামনে স্বাক্ষর দিয়ে অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে। কিন্তু সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম থাইল্যান্ডের হাসপাতালে চার মাস ধরে অচেতন অবস্থায় আছেন।
তাই তাঁর পক্ষে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলারও কোনো সুযোগ নেই। এতে কোনো অবস্থাতেই তাঁর মনোনয়নপত্র বৈধ হতে পারে না। বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম মনোনয়নপত্রে স্বাক্ষর না করা সত্ত্বেও তার মনোনয়নপত্র বৈধ করা হয়েছে। বলা হয়েছে- সৈয়দ আশরাফের মনোনয়নপত্রে টিপসই দেয়া হয়েছে। তিনি গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় অচেতন হয়ে থাইল্যান্ডে চিকিৎসাধীন আছেন। কেউ বিদেশে অবস্থান করলে তার স্বাক্ষর কিংবা টিপসই সংশ্লিষ্ট দেশে বাংলাদেশ অ্যাম্বেসির একজন ফার্স্ট সেক্রেটারি কর্তৃক সত্যায়িত করতে হবে, যার মর্যাদা হবে প্রথম শ্রেণির একজন ম্যাজিস্ট্রেটের সমমানের। এ ধরনের কর্মকর্তার মাধ্যমে সত্যায়িত হয়নি সৈয়দ আশরাফের মনোনয়নপত্র। তার মনোনয়নপত্র নোটারি করা হয়েছে বাংলাদেশে, যা আইনসিদ্ধ নয়।
সৈয়দ আশরাফের নামে নির্বাচনী কোনো ব্যাংক একাউন্ট নেই, যেখান থেকে নির্বাচনী খরচ চালানো হবে। তাহলে সৈয়দ আশরাফের মনোনয়নপত্র বৈধ হলো কিভাবে? উল্লেখ্য, কিশোরগঞ্জ-১ আসনে বৈধ ঘোষিত অন্য প্রার্থীরা হলেন- গণতন্ত্রী পার্টির প্রার্থী এডভোকেট ভূপেন্দ্র ভৌমিক দোলন, কৃৃষক-শ্রমিক জনতা লীগের প্রার্থী মো. আমিনুল ইসলাম তারেক, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী মো. এনামুল হক, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রার্থী মো. মহিউদ্দিন ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ প্রার্থী মুহাম্মদুল্লাহ জামী।

মাহীর মনোনয়ন নিয়ে নানা রহস্য

বিকল্পধারার যুগ্ম মহাসচিব মাহী বি. চৌধুরীর মনোনয়নের বৈধতা নিয়ে রহস্য তৈরি হয়েছে। একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রায় সোয়া ১ কোটি টাকা ঋণ পরিশোধ না করার অভিযোগ থাকার পরও তার মনোনয়ন বৈধতা পেয়েছে! মনোনয়নপত্র যাচাই বাছাইকালে মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সামনে সশরীরে উপস্থিত হয়ে ওই প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা ঋণ আদায় না হওয়া সংক্রান্ত অভিযোগ তুলে আনুষ্ঠানিক আপত্তি জানিয়েছিলেন। তার আগে বাংলাদেশ ব্যাংককেও লিখিতভাবে তারা তাদের আপত্তির কথা জানান। কিন্তু রহস্যজনক কারণে এসব অভিযোগ-আপত্তি আমলে নেয়া হয়নি। বরং আর্থিক প্রতিষ্ঠানটির ঋণ ফেরৎ না পাওয়ার অভিযোগ আমলে না নিয়েই মুন্সীগঞ্জ-১ আসনে বিকল্পধারা তথা যুক্তফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থী মাহী বি. চৌধুরীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার সায়লা ফারজানা মাহীর মনোনয়নপত্র চ্যালেঞ্জ হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন। ডিসি বলেন, প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই বাছাইকালে একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি দাঁড়িয়ে আপত্তি করেছিলেন। কিন্তু তারা ওই প্রার্থীকে কত টাকা ঋণ দিয়েছেন, কত পরিশোধ হয়েছে এবং কত টাকা পাওনা? তাৎক্ষণিক তার কিছুই জানাতে পারেন নি।
উল্লেখ্য, সাবেক প্রেসিডেন্ট ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরী তনয় মাহী বি. চৌধুরী শ্রীনগর ও সিরাজদিখান উপজেলা নিয়ে গঠিত মুন্সীগঞ্জ-১ আসন থেকে নির্বাচন করছেন। তিনি এর আগেও মুন্সীগঞ্জে তার পিতার ছেড়ে দেয়া আসনে (উপনির্বাচনে) এমপি হয়েছিলেন। সূত্র মতে, মেসার্স এন্টারটেইনমেন্ট রিপাবলিক নামে একটি প্রতিষ্ঠানের স্বত্ত্বাধিকারী মাহী বি চৌধুরী। ওই প্রতিষ্ঠানের জন্য ২০০৮ সালের ৩০শে ডিসেম্বর আর্থিক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি লিমিটেড (বিআইএফসি) থেকে তিনি ৩৬ মাস মেয়াদে ৩০ লাখ টাকার ঋণ নেন। কিন্তু সেটি সময়মতো পরিশোধ করতে পারেন নি।
ঋণ পরিশোধের সময় দেড় বছর বাকি থাকতেই (২০১০ সালের জুনে) ঋণটি পুনঃতফসিলের (রি-শিডিউল) জন্য তিনি প্রতিষ্ঠান বরাবর আবেদন করেন। তার আবেদনের প্রেক্ষিতে সেই সময়ের পরিচালনা পর্ষদ (বিকল্পধারা মহাসচিব শিল্পপতি মেজর (অব.) আবদুল মান্নানের নেতৃত্বাধীন) ঋণটি পুনঃতফসিলের অনুমোদন দেয়। ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে ঋণ আদায়ের স্বাভাবিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে গ্রহীতাকে ৬৫ লাখ ১৪ হাজার ৫শ’ ৬২ টাকা পরিশোধের অনুরোধ জানিয়ে চিঠি পাঠায় বিআইএফসি।
প্রায় তিন মাস পর (২০১৫ সালের ২৯শে মার্চ) ৩০ লাখ টাকা পরিশোধ করেন মাহী। সেই সময়ে তার কাছে ঋণের বকেয়া ছিল ৭৯ লাখ ৯ হাজার ৩শ’ ২০ টাকা। ওই সময়ে বাকি টাকা পরিশোধ না করায় ২০১৫ সালের ৩১শে ডিসেম্বর সিএল ব্যালেন্স দাঁড়ায় ৪৪ লাখ ১৮ হাজার ৮শ’ নব্বই টাকা। ২০১৭ সালের মার্চে ঋণ গ্রহীতাকে বাকি টাকা পরিশোধের অনুরোধ করে ফের চিঠি পাঠায় প্রতিষ্ঠানটি। ওই চিঠির জবাবে মাহী বি. চৌধুরী একটি এনওসি’র কপি প্রেরণ করেন। ওই এনওসি কীভাবে মাহী পেলেন তার কোনো রেকর্ড সংরক্ষিত না থাকায় সেই সময়ের এমডি ইনামুর রহমানকে শোকজ করা হয়। সাবেক ওই ব্যবস্থাপনা পরিচালককে এ নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির তরফে দু’দফা চিঠি দেয়া হলেও তিনি আজ অবধি এর কোনো জবাব দেননি। মাহী বি. চৌধুরীর ওই ঋণটিকে ‘মন্দ ও ক্ষতিজনক’ পর্যায়ে রেখেছে বিআইএফসি। সর্বশেষ হিসাব জানিয়ে (২৫শে নভেম্বর ২০১৮ পর্যন্ত) বিআইএফসি মাহীর কাছে ১ কোটি ১৪ লাখ ৬০ হাজার ৩৪ টাকা ৬৫ পয়সা পায় বলে বাংলাদেশ ব্যাংকে চিঠি পাঠিয়েছে। এ সম্পর্কে মাহী বি. চৌধুরী মানবজমিনকে বলেন, এটা সেটেল ম্যাটার। এটা এখন বলা হচ্ছে কেন?

অভিনেত্রীর ‘সি-থ্রু’ পোশাক নিয়ে মিশরে তোলপাড়

মিশরের জনপ্রিয় অভিনেত্রী রানিয়া ইউসেফ (৪৪)। বৃহস্পতিবার তিনি উপস্থিত হয়েছিলেন কায়রো আন্তর্জাতিক ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে। তার পর থেকে তাকে নিয়ে যেন ঝড় উঠেছে সেখানে। কেউ তার সমালোচনায় বাতাস গরম করে তুলেছেন। কেউ তার পক্ষে কথা বলছেন। ওই চলচ্চিত্র উৎসবে রানিয়া যে পোশাক পরে উপস্থিত  হয়েছিলেন তা নিয়েই এত আলোচনা-সমালোচনা। তিনি ওইদিন পরেছিলেন একটি কালো লেসি ড্রেস। এর ভিতর দিয়ে তার কোমরসন্ধিস্থল থেকে পুরো পা দেখা যাচ্ছিল।
এমন পোশাককে ইংরেজিতে ‘সি-থ্রু ড্রেস’ বলে আখ্যায়িত করা হয়। এমন পোশাকের ভিতর দিয়ে কারো শরীরের সবটা দেখা যায়। এজন্য অভিনেত্রী রানিয়ার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন দু’জন আইনজীবী। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আল জাজিরা।
এ মামলায় আগামী মাসে বিচারের মুখোমুখি হতে হচ্ছে রানিয়াকে। শনিবার বিচার বিভাগের একটি সূত্র এ কথা বলেছেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, রানিয়া যে পোশাক পরেছিলেন তার নিচে স্পষ্ট দেখা যায় আরেকটি ড্রেস, যা সাঁতারের পোশাকের মতো দেখায়। তবে কালো লেসি ড্রেসের ভিতর দিয়ে তার সেই কালো পোশাকটি পরিষ্কার দেখা যায়। এর বাইরে বেরিয়ে ছিল নিতম্বদেশের অনেকটা অংশ। এর মধ্য দিয়ে লাম্পট্যকে উস্কানি দেয়া হয়েছে বলে ওই অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন দু’জন আইনজীবী আমরো আবদেল সালাম ও সমির সাবরি। যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয় তাহলে অভিনেত্রী রানিয়ার ৫ বছর পর্যন্ত জেল হতে পারে। সমির সাবরি বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেছেন, রানিয়া ইউসেফ যে পোশাকে উপস্থিত হয়েছিলেন তাতে সামাজিক মূল্যবোধ, প্রচলিত রীতিনীতি, নৈতিকতার মানদণ্ড অনুসরণ করা হয় নি। এর মধ্য দিয়ে তিনি ওই উৎসবের সুনাম ও মিশরীয় নারীদের সুনাম নষ্ট করেছেন। আগামী ১২ই জানুয়ারি তার বিরুদ্ধে বিচারকাজ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
রানিয়া ইউসেফ ইস্যুতে এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে বিভক্তি। অনেকেই তার সমালোচনা করছেন। আবার অনেকে তার পক্ষ নিয়েছেন। তারা বলছেন, রানিয়া যে পোশাকই পরতে চান তা পরার অধিকার আছে তার। এ ইস্যুতে কথা বলেছে মিশরে অভিনেতা-অভিনেত্রীদের সংগঠন দ্য ইজিপশিয়ান এক্টরস সিন্ডিকেট। তারা রানিয়া ইউসেফের নাম বা অন্য কোনো সেলিব্রেটির নাম উল্লেখ না করে বলেছে, চলচ্চিত্র উৎসবে উপস্থিত হওয়া অতিথিদের কেউ কেউ প্রচলিত রীতি ও সামাজিক মূল্যবোধের বিষয়ে তোয়াক্কা করেন নি। এতে উৎসব ও এই সংগঠনের মানহানি হয়েছে।
এই সংগঠনের একজন সদস্য রানিয়া ইউসেফ। সংগঠন এমন বিবৃতি দেয়ার পর তার হুঁশ ফিরেছে। তিনি নিজের টুইটার অ্যাকাউন্টে পরে এজন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। এতে তিনি বলেছেন, সম্ভবত এই পোশাকটি বাছাই করার ক্ষেত্রে আমি ভুল হিসাব করেছিলাম। এটাই প্রথমবার আমি এমন পোশাক পরেছি। বুঝতে পারি নি এতে এত ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়বে। মিশরে আমরা যে মর্যাদা লালন করেছি তার প্রতি আমি আবারও প্রতিশ্রুতির প্রত্যয় ঘোষণা করছি।
উল্লেখ্য, মিশর হলো মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রক্ষণশীল দেশ। লাম্পট্যকে উস্কানি দেয়ার অভিযোগে এ বছর শুরুর দিকে চার দিনের জন্য একজন গায়িকাকে আটক করেন প্রসিকিউটররা। ওই গায়িকা অনলাইনে একটি ভিডিও প্রকাশ করেছিলেন। তাতে তাকে নাচতে দেখা যায়। তার ওই ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর ওই ব্যবস্থা নেয়া হয়। গত বছর আরেকজন পপ গায়িকাকে একই রকম অভিযোগে দু’বছরের জেল দেয়া হয়েছে।

দু’দিন বাদে বিজেপি শূন্য হয়ে যাবে, ভারত থেকে বিদায় হবে: মমতা

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, ‘দিল্লির চোখরাঙানি দেখাবে না, দিল্লিতে দু'দিন বাদে বিজেপি শূন্য হয়ে যাবে, ভারত থেকে বিজেপি বিদায় হবে।’ তিনি আজ (সোমবার) পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার কেশিয়ায়ড়িতে এক জনসমাবেশে ভাষণ দেয়ার সময় ওই মন্তব্য করেন।
মমতা বলেন, ‘আমরা সিপিএমকে বিদায় দিয়েছি, বিজেপিকেও আগামীদিনে বিদায় দেবো। এটা আমাদের প্রতিজ্ঞা, এটা আমাদের প্রতিজ্ঞা, এটা আমাদের প্রতিজ্ঞা, এটা আমাদের শপথ, এটা আমাদের অঙ্গীকার।’
বিজেপি’র তৎপরতা প্রসঙ্গে সবাইকে সতর্ক করে দিয়ে মমতা বলেন, ‘ওঁরা কতটা বিপজ্জনক তা আপনারা জানেন না। ওঁরা আপনাদের ভিটেমাটি বিক্রি করে দেবে। মাথায় রাখবেন। ওঁরা কোনও কাজ করবে না। ওঁরা হনুমানের সঙ্গে দলিতদের তুলনা করছে! ঐতিহাসিক স্থানগুলোর নাম পরিবর্তন করে দিচ্ছে।’
ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংক এবং কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থায় বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারের হস্তক্ষেপ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আরবিআই থেকে সিবিআইতে বিজেপি পার্টির সাইনবোর্ড লাগিয়ে দেয়া হচ্ছে! বিভিন্ন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের ঐতিহ্য নষ্ট করে দেয়া হচ্ছে, যা আগে কখনও হয়নি। আজকে দলিতদের অপমান করার জন্য বলা হচ্ছে হনুমানরা দলিত! এতে দলিতদের অসম্মান করা হচ্ছে। এরা পাড়ায় পাড়ায় হিন্দু-মুসলিমের মধ্যে বিভাজনের কথা বলবে।’
মমতা কেন্দ্রীয় বিজেপি নেতাদের নাম উল্লেখ না করে বলেন, ‘আমাদের নজর ভালো করে আছে। কখনও কখনও দিল্লির কোনও নেতা আসে বসন্তের কোকিলের মতো এবং গালাগালি দিয়ে চলে যায়। ওঁরা আগুন ধরিয়ে দিয়ে চলে যায়। আগুন লাগিয়ে দিলে আগুনটা আমাদের নেভাতে হয়।’
তিনি বিজেপিকে রাবণের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, রাজনীতির মধ্য দিয়েই ‘রাবণ বধ’ করতে হবে। সেজন্য আগামীদিনে আমরা তৈরি আছি। ওঁরা দলিতদের হনুমান বলছে! কবে হয়তো অন্য কোনও জাতিকে বলে দেবে ইঁদুর, কাউকে বেড়াল অথবা কুকুর বলবে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নাম ভুলিয়ে দিয়েছে ওঁরা। এখন আবার মানুষের নামের সঙ্গে পশুপাখির নাম যুক্ত করে দিচ্ছে!’
‘ওঁরা ঝাড়খণ্ড সামলাতে পারে না কিন্তু ঝাড়খণ্ড থেকে এখানে এসে আগুন জ্বালানোর চেষ্টা করে, ওঁদের কথায় কেউ পা দেবেন না বলেও মমতা সবাইকে সতর্ক করে দেন।