Friday, March 17, 2017

ঢাকায় র‌্যাবের অস্থায়ী ক্যাম্পে বোমা বিস্ফোরণ চালানোর দাবি আইএস’র



বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় র‌্যাবের একটি অস্থায়ী ক্যাম্পে আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণের দায় স্বীকার করেছে জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস। বিবিসি বাংলার এক রিপোর্টে এ কথা বলা হয়েছে। ওই রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, আইএস’র সংবাদ মাধ্যম আমাক-এ জানানো  হয়েছে ঢাকায় র‌্যাব বাহিনীর একটি সামরিক ক্যাম্প লক্ষ্য করে একজন আত্মঘাতী বোমা হামলাকারী আক্রমণ চালিয়েছে। বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয় শুক্রবার (১৭ই মার্চ) জুমার নামাজের সময় বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী র‌্যাবের একটি অস্থায়ী শিবির লক্ষ্য করে বোমা হামলা চালানো হয়, যে হামলায় দুজন র‌্যাব সদস্য আহত হয়েছে । একজন যুবকের নিহত হবার খবরও সংবাদমাধ্যমগুলোতে জানানো হয়েছে। আমাক মেসেজিং অ্যাপ টেলিগ্রামের মাধ্যমে এই হামলার ঘটনার দায়িত্ব স্বীকার করেছে।

        রাজধানীতে প্রকাশ্যে নারী ব্যাংক কর্মকর্তাকে কুপিয়ে হত্যা



        রাজধানীর সেন্ট্রাল রোড এলাকায় দুর্বৃত্তদের হামলায় এক নারী ব্যাংক কর্মকর্তা খুন হয়েছেন। তার নাম: আরিফুন নেছা আরিফা (২৭)। তিনি যমুনা ব্যাংকের পল্টন শাখায় কর্মরত ছিলেন। এ ঘটনায় কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ। তবে পুলিশ ও পরিবারের ধারণা, ওই ঘটনায় নিহতের সাবেক স্বামী রবিন জড়িত থাকতে পারে। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে আগেই কলাবাগান থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন তিনি।
        পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সকাল ৮টার দিকে সেন্টাল রোডের আইডিয়াল কলেজের সামনে দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। রক্তাক্ত অবস্থায় পথচারীরা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১০২ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করেন। দুপুর ১২টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। খবর পেয়ে নিহতের স্বজন ও সহকর্মীরা হাসপাতালে ছুটে আসেন। তাদের আহাজারিতে হাসপাতালের পরিবেশ ভারী হয়ে উঠে।
        নিহতের বড় ভাই আল-আমিন ঢামেক হাসপাতালে সাংবাদিকদের জানান, কলাবাগানের সেন্ট্রাল রোডের একটি বাসায় তার মাকে নিয়ে থাকতেন আরিফা। ইডেন কলেজ থেকে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেছিলেন। যমুনা ব্যাংকের পল্টন শাখায় কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলো তার বোন। ইডেনে পড়াশুনাকালীন গ্রামের বাড়িতে  রবিন নামে এক ছেলের সঙ্গে আরিফার প্রেমের সম্পর্ক হয়। এরপর তারা নিজেরাই বিয়ে করে। রবিন ছিল মাদকাসক্ত। তিনি আরো জানান, বিয়ের দুই মাস সংসার করার পর আরিফার ওপর নির্যাতন শুরু করে রবিন। মোটা অঙ্কের যৌতুকের টাকা দাবি করে। দিনে দিনে আরিফার ওপর নির্যাতন বেড়েই চলছিল। এরপর আরিফা নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে রবিনকে ডিভোর্স নিতে বাধ্য হয়। তিনি আরো জানান, গত ৩ মাস আগে আরিফা তার স্বামীকে তালাকনামা পাঠিয়ে দেয়। ডিভোর্স দিয়ে আরিফা তার মাকে নিয়ে সেন্টাল রোডের ওই বাসায় থাকতো।
        নিহতের ভাবী খাদিজা ইসলাম জানান, আরিফা রবিনকে তালাকনামা পাঠিয়ে দেয়ার পর রবিন তাকে মাঝে মধ্যে হুমকি দিতো। কখনো রাস্তায় সামনে দাঁড়াতো। তার জীবনের নিরাপত্তা হুমকি হওয়ার কারণে কলাবাগান থানায় একটি জিডিও দায়ের করেছিলো। জিডি করেও প্রাণে বাঁচতে পারলো না আরিফা।
        কলাবাগান থানার ওসি ইয়াসির আরাফাত মানবজমিনকে জানান, ঘটনার দিন সকাল বেলায় রবিন আরিফার বাসায় এসেছিল। ধারণা করা হচ্ছে রবিনই তাকে হত্যা করেছে। তবে বিষয়টি তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে খুনিদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে। এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। জিডির বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি জানান, নিহতের জিডির বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আরিফার গ্রামের বাড়ি জামালপুর সদর উপজেলার কথাকলি মার্কেট এলাকায়। ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সার্জন ডা.  জেসমিন নাহার জানান, আরিফার ডান গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। ওই আঘাত এতটাই গভীর ছিলো যে, তার গলার রগ কেটে  গেছে।