Tuesday, April 18, 2017

রাঙ্গাবালীর তরমুজ যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে

উপযোগী মাটি, সঠিক পরিচর্যা আর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর পটুয়াখালী জেলার কয়েকটি উপজেলায় তরমুজের ভালো ফলন হয়েছে। বিশেষ করে রাঙ্গাবালী উপজেলাতে তরমুজের বাম্পার ফলন হয়েছে। তরমুজ চাষিরা ক্ষেত থেকে তরমুজ তুলে বাজারজাত করতে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। তারই ধারাবাহিকতায় প্রতিদিন পটুয়াখালীর চরাঞ্চল রাঙ্গাবালীসহ একাধিক উপজেলা থেকে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তরমুজ সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে এখনও ক্ষেত থেকে পুরোদমে তরমুজ সংগ্রহ শুরু করেননি কৃষকরা। রাঙ্গাবালী উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি রবিশস্য মৌসুমে অন্যান্য রবিশস্যের পাশাপাশি রাঙ্গাবালী উপজেলায় এ বছর ১১২০০ হেক্টর জমিতে তরমুজের আবাদ করেছেন তরমুজ চাষীরা। এরমধ্য রাঙ্গাবালী উপজেলা সদর, বড়বাইশদিয়া, ছোটবাইশদিয়া, চরমোন্তাজ, চালিতাবুনিয়া, কাছিয়বুনিয়া, কাউখালীসহ বেশ কয়েকটি স্থানে প্রতিবছরের ন্যায় এবছরও তরমুজের আবাদ করা হয়েছে। তবে মার্চের প্রথম দিকে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে তরমুজ চাষীরা কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তা না হলে এ বছর তরমুজ ফলনে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যেত বলে দাবী করেন কৃষকরা। তবে বিপর্যয়ের ফলে চাষিরা এবছর দাম ভালো পাচ্ছেন বলে জানান আড়ৎ মালিকরা। সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রতিদিন ঢাকাগামী লঞ্চ, ট্রলার, এবং ট্রাক যোগে রাঙ্গাবালী উপজেলার বেশ কয়েকটি পয়েন্ট থেকে ঢাকা, রাজশাহী, দিনাজপুর, বগুড়া, ঝিনাইদাহ, সিলেট, খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তরমুজ সরবরাহ করা হচ্ছে। দীর্ঘ সময় পাড় করে তরমুজ চাষীরা ক্ষেত থেকে তরমুজ তুলে বাজারজাত করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এর সাথে সম্পৃক্ত রয়েছে স্থানীয় আড়তদার এবং সৃজনশীল ব্যবসায়ীরা। রাঙ্গাবালী উপজেলার কাউখালী গ্রামের রাহেলা বেগম জানান, তিনি এ বছর ২ একর জমিতে তরমুজের আবাদ করেছেন। এতে তার ব্যয় হয়েছে আনুমানিক ৪০ হাজার টাকা। তিনি তিন ধাপে এপর্যন্ত আড়াই লাখ টাকার তরমুজ বিক্রি করেছেন। গত বছরের তুলনায় এ বছর ফলন ভাল হয়েছে। তবে মার্চ মাসের বৃষ্টিপাতের কারণে কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। তা না হলে আরো ৫০ হাজার টাকার সমপরিমাণ তরমুজ তার ক্ষেত থেকে উৎপাদন করা সম্ভব হতো।
কিন্তু এবছর দাম ভাল পাচ্ছেন বলে জানা তিনি। রাঙ্গাবালী উপজেলা যুগীর হাওলা গ্রামের তরমুজ চাষী আবু হানিফ জানান, এবছর তিনি ৬০ হাজার টাকা ব্যায়ে ৪ একর জমিতে তরমুজের আবাদ করেছেন। এর মধ্যে বৃষ্টিতে ১ একর জমির তরমুজ বৃষ্টিতে বিনষ্ট হয়ে যায়। তিনি এ পর্যন্ত ৩ ধাপে সাড়ে তিন লাখ টাকার তরমুজ সরবরাহ করেছেন। সে ক্ষেত্রে তার এ বছর তরমুজ চাষ থেকে তিন লাখ টাকা লাভ হয়েছে। তবে তিনি জানান, কৃষি দফতর যদি তাদের নানা পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করতেন তাহলে ফলন আরো ভালো হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। উপজেলার গাব্বুনিয়া গ্রামের দুদা মুন্সি জানান, তার ছোট ভাই ইমাম মুন্সি এবং তিনি মিলে ৯ একর জমিতে তরমুজের চাষ করেছন। এতে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ৩ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। তারা দুই ভাই এ পর্যন্ত স্থানীয় আড়তদারের কাছে ৪ ধাপে অন্তত ১২ লাখ টাকার তরমুজ বিক্রি করেছেন। চালিতা বুনিয়ার নাসির সিকদার জানান, গত বছরের তুলনায় এবছর তার ক্ষেতে ফলন ভালো হয়েছে। এবছর আমি ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা ব্যয় করে ৪ একর জমিতে তরমুজের আবাদ করে এ পর্যন্ত ২ ধাপে ৬ লাখ ৫০ হাজার টাকারও বেশি তরমুজ বিক্রি করেছি। তাতে আমার সব পুশিয়ে অন্তত ৫ লাখ টাকা লাভ হয়েছে। বৃষ্টিতে ক্ষতি না হলে তিনি তার ক্ষেত থেকে ১০ লাখ টাকার তরমুজ উৎপাদন করতে পারতেন বলে জানান। পটুয়াখালী জেলা শহরের আরত মালিক মো: খায়রুল হাসান জানান ভিন্ন কথা। তিনি জানান, এ বছর তরমুজের বাম্পার ফলন হয়েছে। কিন্তু মার্চ মাসের দিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে তরমুজ চাষিরা কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিন্তু গত বছরের তুলনায় এ বছর কৃষকরা দাম ভালো পাচ্ছেন।

নলছিটিতে গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ

ঝালকাঠির নলছিটিতে এক গৃহবধূকে হত্যার পর লাশ হাসপাতালে রেখে শ্বশুরবাড়ির লোকজন পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে নলছিটি উপজেলার বহরমপুর গ্রামে এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে। নিহতের স্বজনরা জানান, গৃহবধূ মারুফা আক্তার (১৯) প্রেমহার গ্রামের মৃত মানিক হাওলাদারের মেয়ে এ বছর এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। চার বছর আগে বহরমপুর গ্রমের সুলতান হাওলাদারের ছেলে সুমনের হাওলাদারের সাথে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর সৌদি আরব চলে যায় সুমন।
এরপর বিভিন্ন সময় শ্বশুর বাড়ির লোকজন ওই গৃহবধূকে নির্যাতন করে আসছিল। সোমবার সন্ধ্যায় মারুফাকে শ্বাসরোধে হত্যার পরে হাসপাতালে নিয়ে আসে তার শাশুড়ি, ননদ ও জা। কর্তব্যরত চিকিৎসক মারুফাকে মৃত ঘোষণা করলে লাশ হাসপাতালে রেখেই তারা পালিয়ে যায়। ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক বদরুদ্দোজা জোবায়ের জানান, গৃহবধূর মৃত্যুর বিষয়টি ময়না তদন্তের পর জানা যাবে। তার গলায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। হাসপাতালে লাশ রেখে নিহতের স্বজনরা পালিয়ে গেছেন বলেও তিনি জানান। মারুফাকে শ্বাসরোধে হত্যা পরে লাশ ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয় বলেও অভিযোগ করেন নিহতের স্বজনরা। নলছিটি থানার ওসি এ কে এম সুলতান মাহামুদ জানান, লাশের ময়না তদন্ত করা হবে। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।

কাশ্মিরে ভূমিকম্প

ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মির ও এর আশেপাশের বিভিন্ন এলাকায় মঙ্গলবার মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫.০। সরকারি কর্মকর্তা ও স্থানীয় বাসিন্দারা একথা জানিয়েছেন। শ্রীনগরে আবহাওয়া বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, স্থানীয় সময় রাত ১০টা ৪১মিনিটে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর উৎপত্তিস্থল ছিল জম্মু ও কাশ্মিরের ৩৩.৮ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ এবং ৭৬.৬ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে। ভূমিকম্পটি পুরো কাশ্মির জুড়ে অনুভূত হয় এবং এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

৫০ কোটি টাকার সাপের বিষ উদ্ধার, গ্রেফতার ৫

রাজধানীতে ৫০ কোটি টাকা সমমূল্যের ১২ পাউন্ড সাপের বিষসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা উত্তর বিভাগের বিমান বন্দর জোনাল টিম সোমবার সন্ধ্যায় কুড়িল বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ এ কথা জানানো হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হলো মোঃ আবু হানিফ (চেয়ারম্যান), মোঃ আফছার আলী,
মোঃ নজরুল ইসলাম, মোঃ মুক্তার হোসেন ও মোঃ রহিচ উদ্দিন। পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃতদের কাছে একটি ফল রাখার বক্সে ছয়টি স্বচ্ছ কাঁচের জারের মধ্যে দুটি কৌটায় বাদামী রঙয়ের তরল জাতীয় পদার্থ, অপর দুটি কৌটার মধ্যে সাদা রংয়ের পাউডার জাতীয় পদার্থ এবং আরো দুটি কৌটার মধ্যে নীল জাতীয় পাউডার সাদৃশ্য পদার্থ দেখা যায়। এছাড়াও একটি সিলভার রঙয়ের প্রাইভেটকারও উদ্ধার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা জানায়, উদ্ধারকৃত সাপের বিষ চোরাই পথে আমদানী করে তারা বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানিতে সরবরাহ করে থাকে।

এমপি রানার জামিন স্থগিত বাড়ল

মুক্তিযোদ্ধা ফারুক হত্যা মামলায় টাঙ্গাইলের এমপি আমানুর রহমান খান রানার জামিন ৮ মে পর্যন্ত স্থগিত করেছেন চেম্বার জজ আদালত। একই সঙ্গে আবেদনটি আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠানো হয়েছে। বুধবার বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর আদালত এই আদেশ দেন। ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মাসুদ হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনের শুনানি শেষে চেম্বার জজ আদালত এমপি রানার হাইকোর্টের দেয়া জামিন আদেশ স্থগিত করেছেন। একই সঙ্গে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে জামিন আবেদটি পাঠানোর আদেশ দেন।
মাসুদ হাসান বলেন, আগামী ৮ মে পর্যন্ত আদালত জামিন স্থগিত করেছেন। ওইদিন এ বিষয়ে আপিল বিভাগে শুনানি হতে পারে। এর আগে ১৬ এপ্রিল আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি ১৮ এপ্রিল  পর্যন্ত এমপি রানার অন্তর্বর্তীকালীন জামিন স্থগিত করেছিলেন।

সিংড়ায় শ্রমিককে শ্বাসরোধ করে হত্যা

নাটোরের সিংড়া উপজেলার কালিগঞ্জ বাজারে সালামত আলী (৩৫) নামের এক শ্রমিককে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নিহত সালামত আলী ছাতারদীঘি গ্রামের কৃষক আবুল হোসেনের জামাতা ও পার্শ্ববর্তী রাণী নগর উপজেলার পাচুপুর গ্রামের মকবুল হোসেনের ছেলে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে স্থানীয় লেবার ফেরদৌস ও আবু বক্কর নামের দু'জনকে আটক করেছে পুলিশ।
কালিগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বাবুল হোসেন জানান, নিহত শ্রমিক সালামত আলী সিংড়া উপজেলার ছাতারদীঘি গ্রামের কৃষক আবুল হোসেনের মেয়েকে বিয়ে করে দীর্ঘ দিন ধরে তার বাড়িতে ঘর জামাই ও কালিগঞ্জ বাজারের লেবারের কাজ করতেন। সোমবার সন্ধ্যায় সে শ্বশুর বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়। মঙ্গলবার সকালে বাজারের রাস্তায় তার লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয় এলাকাবাসী। পুলিশের ধারণা, তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। তার গলায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, লাশ ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

খাগড়াছড়িতে 'হঠাৎ কান্না', অজ্ঞান ৭৫

খাগড়াছড়ির গুইমারা উপজেলায় হঠাৎ করেই গণহারে মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। সোমবার থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত উপজেলার প্রত্যন্ত তৈ-মথাং গ্রামের অন্তত ৭৫ জন নারী ও পুরুষ অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাদের জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। স্থানীয় দয়া কুমার ত্রিপুরা জানান, সোমবার সকাল থেকে ওই গ্রামের মানুষেরা একে অন্যকে জড়িয়ে ধরে কান্নাকাটি শুরু করেন। লোক দেখলেই তারা পালিয়ে যাচ্ছেন ও নানা রকম পাগলামি করতে শুরু করেন। এভাবে এক পর্যায়ে তারা অজ্ঞান হয়ে পড়তে থাকেন।
রোগীদের স্বজন গিরিবালা ত্রিপুরা, রাবাম ত্রিপুরা জানান, ঘটনার তিন দিন আগে এক পাহাড়ি বৈদ্য গ্রামবাসীর কাছ থেকে জনপ্রতি ১শ’ টাকা করে নেন। সবাই দিলেও দু'জন টাকা দিতে রাজি হননি। তারা জানান, সে সময় বৈদ্য বলেছিলেন- সবাই টাকা না দিলে গ্রামবাসী পাগলামী শুরু করবে। রোগীর স্বজনদের ধারণা, বৈদ্যর জাদুমন্ত্রে গ্রামবাসীরা পাগলামী ও অসুস্থ হতে শুরু করেছেন। খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার নয়ন ময় ত্রিপুরা জানান, সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ১৫ জন এবং মঙ্গলবার সকালে আরও ১৫ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তিনি জানান, এটি একটি গণমনস্তাত্ত্বিক রোগ। তারা কয়েক দিনের মধ্যে সুস্থ হয়ে উঠবেন। আতংকিত হওয়ার কিছু নেই।

‘কাউয়ার’ পর এখন আওয়ামী লীগে ‘ফার্মের মুরগি’!

আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম কম কথা বলতেন। দলের নেতা-কর্মীরাও নাকি সহজে তাঁর সাক্ষাৎ পেতেন না। বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সেই তুলনায় খুবই তৎপর। দলের ভেতরে-বাইরে আলোচনা আছে, আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখেই ওবায়দুল কাদেরকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। সেই চ্যালেঞ্জ তিনি কীভাবে মোকাবিলা করেন, সেটাই এখন দেখার বিষয়। এ কথা ঠিক যে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা এখন চাইলেই সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে দেখা করতে পারেন। অনেকে মনে করেন, আগের সাধারণ সম্পাদকের চেয়ে দলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে তাঁর জানাশোনাও ভালো। সেই জানাশোনা থেকে কি না জানি না, তিনি দলের মূল্যায়ন করতে শুরু করেছেন। এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের নেতারা অন্য দল নিয়ে যত কথা বলেন, নিজ দলের জন্য তার সিকিভাগও করেন না। সেদিক থেকে ওবায়দুল কাদের কিছুটা ব্যতিক্রম। প্রথমে তিনি বললেন, আওয়ামী লীগে ‘কাউয়া’ ঢুকে পড়েছে। আওয়ামী লীগের মতো এ রকম সাচ্চা গণতন্ত্রী ও দেশপ্রেমী দলে কাউয়া ঢুকে পড়াটা মোটেই স্বস্তিকর নয়। দলে কাউয়া বলতে তিনি কী বোঝাতে চেয়েছেন, সে সম্পর্কে স্পষ্ট ব্যাখ্যা না দিলেও আমাদের বুঝে নিতে কষ্ট হয় না। কোনো বাড়িতে বা দোকানে উন্মুক্ত স্থানে উপাদেয় খাবার থাকলে কাউয়া ছোঁ মেরে নিয়ে যায়। এখন আওয়ামী লীগের মধ্যে ঢুকে কারা কাউয়ার মতো ছোঁ মেরে রাতারাতি কোটি কোটি টাকার সম্পদ হাতিয়ে নিচ্ছে, সেটি জানালে দল তো বটেই, দেশবাসীও উপকৃত হতো। এই কাউয়াদের কারণে যে দলের ত্যাগী ও সাচ্চা নেতা-কর্মীরা বঞ্চিত হচ্ছেন, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু সেই সমস্যার সমাধান তো শুধু কথা বলে হবে না। এ জন্য কাউয়াদের খুঁজে বের করে দলকে কলুষমুক্ত করতে হবে। আওয়ামী লীগ অনেক কিছু নিয়েই জরিপ করে। তারা কাউয়াদের নিয়েও একটি জরিপ করে দেখতে পারে। গতকাল সোমবার মুজিবনগর দিবসের অনুষ্ঠানে দলের সাধারণ সম্পাদক বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগে ফার্মের মুরগি ঢুকেছে। ফার্মের মুরগির কারণে দেশি মুরগি কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। দেশি মুরগি দরকার, ফার্মের মুরগি নয়। ফার্মের মুরগি স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়। চারদিকে আতি নেতা, পাতি নেতায় ভরে গেছে। তবে আওয়ামী লীগের নাম ভাঙিয়ে অপকর্ম করা চলবে না। তাহলে কাউকে ক্ষমা করা হবে না। দেশ বাঁচাতে হলে, মুক্তিযুদ্ধ ও গণতন্ত্রকে বাঁচাতে হলে আওয়ামী লীগকে বাঁচাতে হবে।’ ফার্মের মুরগি দলের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো না হলেও মানবদেহের জন্য অস্বাস্থ্যকর—এই তথ্য তিনি কোথায় পেলেন? বাংলাদেশসহ পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষ ফার্মের মুরগি খেয়েই বেঁচে আছে। তাঁর এই বক্তব্য বাংলাদেশের পোলট্রিশিল্পকে বিপর্যয়ের মধ্যে ঠেলে দিতে পারে।
সত্যিকার ফার্মের মুরগির বিষয়টি স্বাস্থ্য ও খাদ্য বিশেষজ্ঞদের হাতে ছেড়ে দেওয়াই উত্তম। আশা করি, ফার্মের মুরগি বলতে তিনি দলের ফুলেফেঁপে ওঠা নেতা-কর্মীদের বুঝিয়েছেন। তবে দেশি মুরগি বোঝাতে যদি তিনি সৎ ও ত্যাগী কর্মীদের বুঝিয়ে থাকেন আর ফার্মের মুরগি বলতে সুবিধাভোগী নেতা-কর্মীদের বুঝিয়ে থাকেন, তাহলে পরিস্থিতিকে হতাশাজনক মানতেই হবে। কেননা, আট বছর একটানা ক্ষমতায় থাকা দলটিতে ফার্মের মুরগির দৌরাত্ম্যই বেশি। বলতে গেলে তাদের দাপটে দেশি মুরগিদেরই কোণঠাসা অবস্থা। আমাদের ভয় হয়, ফার্মের মুরগি বের করতে গিয়ে ওবায়েদুল কাদের সাহেবের যেন ‘লোম বাছতে কম্বল উজাড়’ অবস্থা না নয়। এই যে বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগসহ হরেক রকম লীগের মধ্যে অন্তর্দ্বন্দ্ব, কোন্দল, মারামারি, ঝগড়াঝাঁটি, তার পেছনে ওই স্বার্থের বিরোধ, আদর্শের বিরোধ নয়। এ কারণেই বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীরা আওয়ামী লীগের ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সাচ্চা কর্মী হয়ে যাচ্ছেন। ওই সমাবেশে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আরও বলেছেন, বিএনপি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস করে না বলে ১৭ এপ্রিল পালন করে না। আর দলটি নাকি এখন নালিশ পার্টিতে পরিণত হয়েছে। যাকে পায়, তার কাছে সরকারের বিরুদ্ধে নালিশ করতে থাকে। তারা চোরাবালিতে আটকে গেছে। খুবই খাঁটি কথা। বিএনপি নালিশ পার্টি হলে আওয়ামী লীগের উচিত সেই নালিশের কারণগুলো দূর করা। আর মুজিবনগর দিবস পালন করে আওয়ামী লীগ বাহবা নিতে চাইছে! দিবস পালন তো নিছক আনুষ্ঠানিকতা বা স্মৃতিতর্পণ নয়। যে চেতনা নিয়ে একাত্তরের এই দিনে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার গঠিত হয়েছিল, সেই চেতনা ধারণ করাই হলো দিবস পালনের প্রকৃত তাৎপর্য। মৌলবাদী হেফাজতের সঙ্গে আপস করে আর যা-ই হোক, মুজিবনগর দিবসকে ধারণ করা যায় না।

ধরা পড়লেন আইএস–প্রশিক্ষিত মেডিকেল শিক্ষার্থী

সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে অন্যের প্ররোচনায় আইএসে জড়িয়ে পড়েন পাকিস্তানের মেডিকেলছাত্রী নওরিন লেঘারি। এরপরই মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট বা আইএসে যোগ দিতে পাড়ি জমান সিরিয়ায়। প্রশিক্ষণ শেষে দেশে ফেরেন। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যের হাতে ধরা পড়েন তিনি। পাকিস্তানের ইংরেজি দৈনিক ডন নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হায়দরাবাদের এক মেডিকেল শিক্ষার্থী নওরিন লেঘারি আইএসে যোগ দেওয়ার পর সিরিয়ায় গিয়ে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। প্রশিক্ষণ শেষে পাকিস্তানে ফিরে গ্রেপ্তার হয়েছেন। গত ফেব্রুয়ারিতে তিনি আইএসে যোগ দিতে বাড়ি ছেড়ে চলে যান। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে নওরিন লেঘারি আইএসে জড়িয়ে পড়েন। নওরিন লেঘারি নামে ওই নারীর স্বামী আলী তারিকও আইএসের সমর্থক ছিলেন। গত শুক্রবার রাতে পাঞ্জাব হাউজিং সোসাইটির কাছে পুলিশের গুলিতে নিহত হন তারিক। নওরিন লেঘারি লিয়াকত ইউনিভার্সিটি অ্যান্ড হেলথ সায়েন্সেসের ছাত্রী। এর উপাচার্য নওশাদ শেখ বলেন, সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে একটি ছেলের সঙ্গে পরিচয় হওয়ার পরই নওরিন লেঘারি আইএসে জড়িয়ে পড়েন। ওই ছেলেই নওরিনকে চরমপন্থায় উদ্বুদ্ধ করে। এরপরই আইএসে যোগ দেন নওরিন। তিনি আরও বলেন, নওরিন একজন ‘রক্ষণশীল নারী’।
এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। নওরিন লেঘারিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে বাড়ি ছেড়ে নওরিন সিরিয়ায় পাড়ি জমান। অভিযোগ আছে, নওরিন সেখানে আইএসের হয়ে অস্ত্র চালনাসহ নানান প্রশিক্ষণ নেন। তিন সপ্তাহ আগে নওরিন পাকিস্তানে ফেরেন। এ সময় নিরাপত্তা বাহিনীর গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাঁর ও তাঁর স্বামীর আইএস সংশ্লিষ্টতা পায়। এরপর তারা তদন্ত শুরু করে। নওরিন স্বামীর সঙ্গে লাহোরের বেদিয়ান রোডে বাস করছিলেন। আইএসে যোগ দিয়ে বাড়ি ছাড়ার পর তাঁদের দেখা হয় এবং তাঁরা বিয়ে করেন। আইএস এখন ইরাক ও সিরিয়ায় কোণঠাসা অবস্থায় আছে। সন্ত্রাসী এ সংগঠনটি তাদের কার্যক্রম অক্ষুণ্ন রাখতে নানাভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছে।

যাত্রীভোগান্তি কমাতে পরিকল্পিত উদ্যোগ দাবি

রাজধানীতে যাত্রীভোগান্তি কমাতে জরুরি ভিত্তিতে পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। আজ মঙ্গলবার দুপুরের দিকে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানায় সংগঠনটি। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী।
তিনি বলেন, সিটিং সার্ভিস বন্ধের নামে রাজধানীতে ‘অঘোষিত’ পরিবহন ধর্মঘট চলছে। যেসব বাস এই ধর্মঘটে রয়েছে, এগুলোর রুট পারমিট বাতিল করাসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) আন্দোলনের চেয়ারম্যান চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন। রাজধানীতে সিটিং সার্ভিস বন্ধের সিদ্ধান্ত এবং বিআরটিএর অভিযানে নগরে বাস-মিনিবাসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে। অনেক পরিবহনমালিক গত রোববার থেকে বাস-মিনিবাস চলাচল বন্ধ রেখেছেন। গতকাল সোমবারও ছিল একই অবস্থা। সড়কে বাস-মিনিবাস অনেক কম থাকায় যাতায়াতে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন নগরবাসী। অন্যদিকে, ‘সিটিং সার্ভিস’ বন্ধ হলেও ভাড়া কমেনি।

ট্রাম্পকে কী ইশারা মেলানিয়ার?

হোয়াইট হাউসে ঐতিহ্যবাহী ইস্টার এগ রোল উৎসব ছিল গতকাল সোমবার। উৎসবে আসা অতিথিদের স্বাগত জানান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প ও তাঁদের ছেলে ব্যারন। একপর্যায়ে জাতীয় সংগীত শুরু হওয়ার সময় সম্মান প্রদর্শনের স্মারক হিসেবে স্লোভেনীয় বংশোদ্ভূত ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ও ব্যারন দ্রুত বুকে ডান হাত রাখেন। কিন্তু ট্রাম্প তা করেননি।
ভিডিও ক্যামেরায় এক মুহূর্তের জন্য দেখা যায়, ট্রাম্পকে হাত দিয়ে ইশারা করেন মেলানিয়া। এরপর ট্রাম্পও একইভাবে বুকে হাত রেখে সম্মান প্রদর্শন করেন। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ভিডিওটি ভাইরাল হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রথা অনুসারে জাতীয় সংগীতের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা হয় ডান হাত বুকের ওপর রেখে। এনডিটিভি অবলম্বনে

এক দিন পর আবার নিম্নমুখী সূচক

এক দিন দর বাড়ার পর আবার সূচক কমছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই)। আজ মঙ্গলবার সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবসে সূচক কমছে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই)। দৈনন্দিন লেনদেনের গতিও গতকাল সোমবারের চেয়ে কম আজ ডিএসই ও সিএসইতে। সেই সঙ্গে দুই পুঁজিবাজারেই কমেছে বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দর। আট কার্যদিবস কমার পর গতকাল দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স লেনদেন শেষে সামান্য বাড়ে, ৩ দশমিক ২৯ পয়েন্ট। গতকালের আগে টানা আট কার্যদিবসে ডিএসইতে সূচক কমে ১৮৫ পয়েন্ট। এদিকে আজ লেনদেনের শুরুতে বাড়লেও, দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ ডিএসইএক্স সূচক ২০ দশমিক ৪৪ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৫৫৭৬ পয়েন্টে। দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত লেনদেন হয়েছে প্রায় ৩৩২ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। গতকাল এ সময় পর্যন্ত লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৪১৬ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। লেনদেনে অংশ নিয়েছে ৩১৩টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের শেয়ার। এর মধ্যে দর বেড়েছে ৯২টির, কমেছে ১৭৪টির। দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৪৭টি কোম্পানির। অন্যদিকে, সিএসইতে আজ দুপুর ১২টা নাগাদ সার্বিক সূচক কমেছে ৩৩ পয়েন্ট। মোট লেনদেনের পরিমাণ এখন পর্যন্ত ১৮ কোটি টাকা। গতকাল এ সময় পর্যন্ত লেনদেনর পরিমাণ ছিল ১৯ কোটি টাকা। আজ দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ সিএসইতে লেনদেনে অংশ নিয়েছে ১৯৬টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের শেয়ার। এর মধ্যে দর বেড়েছে ৬১টির, কমেছে ১০৬টির। দর অপরিবর্তিত রয়েছে ২৯টি কোম্পানির।

সাংসদ আমানুরের জামিন স্থগিতের সময় বাড়ল

আওয়ামী লীগ নেতা মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলায় টাঙ্গাইল-৩ আসনের সাংসদ আমানুর রহমান খানের জামিন স্থগিতের মেয়াদ বাড়িয়েছেন চেম্বার বিচারপতি। হাইকোর্টের দেওয়া জামিন আগামী আট মে পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। পাশাপাশি ওই দিন আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে বিষয়টি শুনানির জন্য পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। আজ মঙ্গলবার অবকাশকালীন চেম্বার বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী এ আদেশ দেন। এর আগে গত রোববার (১৬ এপ্রিল) চেম্বার বিচারপতি ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত করে আজ শুনানির দিন ধার্য করেছিলেন। এর ধারাবাহিকতায় আজ বিষয়টি শুনানির জন্য ওঠে। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। আমানুর রহমান খানের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আবদুল বাসেত মজুমদার ও আইনজীবী রুশো মোস্তফা। পরে রুশো মোস্তফা প্রথম আলোকে বলেন, আমানুর রহমান খান ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রিজন সেলে চিকিৎসাধীন।
জামিন স্থগিত হওয়ায় আপাতত তিনি মুক্তি পাচ্ছেন না। এর আগে ৩০ মার্চ হাইকোর্টের অপর একটি দ্বৈত বেঞ্চ তার জামিন প্রশ্নে দেওয়া রুল উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ করে দেন। এরপর ২ এপ্রিল বিচারিক আদালতে আমানুর করলে তা নামঞ্জুর হয়। এর বিরুদ্ধে জামিন চেয়ে ৪ এপ্রিল হাইকোর্টে আবেদন করেন আমানুর, যার ওপর শুনানি নিয়ে ১৩ এপ্রিল হাইকোর্ট অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন। আওয়ামী লীগের টাঙ্গাইল জেলা কমিটির সদস্য ফারুক আহমেদকে ২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি গুলি করে হত্যা করা হয়। তিন দিন পর তাঁর স্ত্রী টাঙ্গাইল মডেল থানায় অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজনকে আসামি করে মামলা করেন। এ মামলায় গত বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি আমানুর, তাঁর তিন ভাইসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর ১৮ সেপ্টেম্বর টাঙ্গাইলের আদালতে আত্মসমর্পণ করেন আমানুর। পরে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

১১ মাস ধরে বেতন নেই ১৪ শিক্ষকের

নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৪ জন শিক্ষক ১১ মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে বেতনের চাহিদা না পাঠানোয় তাঁরা বেতন পাননি। দীর্ঘদিন বেতন বন্ধ থাকায় তাঁরা মানবেতর জীবন যাপন করছেন। কর্মকর্তাদের রোষানলে পড়ার ভয়ে এ ব্যাপারে অভিযোগ করার সাহস পাচ্ছেন না তাঁরা। গত রোববার বিকেলে উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কার্যালয়ে ভুক্তভোগী ওই ১৪ শিক্ষক তাঁদের বেতন ছাড়ের জন্য আসেন। সেখানে পরিচয় গোপন রাখার শর্তে জানান, পুল শিক্ষক হিসেবে উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তাঁরা বিভিন্ন সময় যোগ দিয়ে মাসিক ছয় হাজার টাকা বেতনে চাকরি করছিলেন। পরে উচ্চ আদালতের নির্দেশের ভিত্তিতে গত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে সরকারি শিক্ষক হিসেবে নতুন করে যোগ দেন। এর আগে গত বছরের মে থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি মাস পর্যন্ত নয় মাস তাঁদের বেতন দেওয়া হয়নি। আবার ১ ফেব্রুয়ারি সরকারি শিক্ষক হিসেবে যোগদান করলেও ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত বেতন পাননি। নতুন-পুরোনো মিলে মোট সাড়ে ১১ মাস তাঁরা চাকরি করছেন। তবে কোনো বেতন-ভাতা পাননি। এ সময় তাঁরা হতাশা প্রকাশ করে বলেন, বেতন পেতে নানা সময় শিক্ষা অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তবে বেতনের পরিবর্তে কপালে দুর্ব্যবহার জুটেছে। নতুনভাবে সরকারি হওয়ার পর ‘বেতন নির্ধারণের’ সময় মিষ্টি খাওয়ার নামে প্রত্যেকের কাছ থেকে নির্দিষ্ট অঙ্কের উৎকোচ নেওয়া হয়েছে। এখন হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা জানাচ্ছেন, ‘বেতন নির্ধারণে’ নানা ধরনের ত্রুটি রয়েছে। এ ব্যাপারে উপজেলা শিক্ষা অফিসের প্রধান হিসাবরক্ষক হাবিবুর রহমান বলেন, যথা সময়ে চাহিদা পাঠাতে গিয়ে ভুলে ১৪ জন পুল শিক্ষকের চাহিদাপত্র পাঠানো হয়নি। তবে ভুল ধরা পড়ার পর থেকে নিয়মিত চাহিদা পাঠানো হচ্ছে। ঢাকায়ও যোগাযোগ করা হচ্ছে। হয়তো অল্প সময়ের মধ্যে বরাদ্দ চলে আসতে পারে।
অপর অফিস সহকারী মনছুর রহমান বলেন, ‘প্রথম বেতন নির্ধারণের সময় ভুল হতে পারে। আর আমরা কোনো শিক্ষকের কাছ থেকে “দাবি” করে কিছু নিই না। তাঁরা “খুশি” হয়ে দুই-পাঁচ টাকা দিলে তা নিই।’ উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, শিক্ষা অফিসের করা ফিক্সেশন যাচাই করতে গিয়ে প্রথমেই ভুল ধরা পড়ায় সতর্কতার সঙ্গে সব যাচাই করতে সময় লাগছে। তিনি বলেন, যোগে ভুল, আবার বড়াইগ্রামের পরিবর্তে বাগাতিপাড়া উপজেলায় ফিক্সেশন পোস্টিংসহ বিভিন্ন ভুল ধরা পড়ায় বেতন ছাড় করতে দেরি হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, শিক্ষা অফিস অযথা প্রায় আড়াই মাস সময় নিয়েছে। এরপরও ভুলে ভরা। যাচাইয়ের কাজ শেষ পর্যায়ে। হয়তো অল্প সময়ের মধ্যেই ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসের বেতন ছাড় করা সম্ভব হবে। আর নতুন বরাদ্দ না এলে বকেয়া অপর নয় মাসের বেতন দেওয়া সম্ভব হবে না। এ ব্যাপারে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আকলিমা খানমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি নতুন এসেছি। তাই সবকিছু এখনো বুঝে উঠতে পারিনি। তবে খোঁজ নিয়ে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

কুমিল্লার মেয়রের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

দুর্নীতির মামলায় কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়র ও বিএনপির নেতা মনিরুল হক সাক্কুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁর মালামাল ক্রোকেরও আদেশ দেওয়া হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সকালে ঢাকা মহানগরের জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মো. কামরুল হোসেন মোল্লা এ আদেশ দেন। সাক্কুর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে আদালত এ আদেশ দেন বলে প্রথম আলোকে জানিয়েছেন দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল। মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণ অনুযায়ী, ২০০৮ সালের ৭ জানুয়ারি দুদকের সহকারী পরিচালক শাহীন আরা মমতা বাদী হয়ে সাক্কু ও তাঁর স্ত্রী আফরোজা জেসমিনের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও তথ্য গোপন করার অভিযোগে রমনা থানায় মামলা করেন। দীর্ঘ আট বছর তদন্ত শেষে গত বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি দুদকের সহকারী পরিচালক নুরুল হুদা আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।
তবে মামলা থেকে সাক্কুর স্ত্রীকে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন জানানো হয়। অভিযোগপত্রে সাক্কুর বিরুদ্ধে বলা হয়, ১ কোটি ১২ লাখ ৪০ হাজার ১২০ টাকার তথ্য গোপনের অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে। ৪ কোটি ৫৭ লাখ ৭৩ হাজার ৯৩৩ টাকা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে। গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ব্যাপারে মনিরুল হক সাক্কু প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি ওই মামলায় আদালতে হাজির না হওয়ার কারণে এ আদেশ জারি করা হয়েছে। ওই মামলায় আমি সুপ্রিম কোর্ট থেকে স্থায়ী জামিন নিয়েছি। তবে আমার আইনজীবী বিষয়টি আদালতের কাছে উল্লেখ না করায় এ অবস্থা হয়েছে। আগামীকাল আদালতে এ-সম্পর্কিত নথিপত্র উপস্থাপন করব।’ গত ৩০ মার্চ কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হন মনিরুল হক সাক্কু। সাক্কু ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে পান ৬৮ হাজার ৯৪৮ ভোট। আর আওয়ামী লীগের প্রার্থী আঞ্জুম সুলতানা সীমা নৌকা প্রতীক নিয়ে ভোট পান ৫৭ হাজার ৮৬৩।

‘হেফাজতকে কাছে টানার চেষ্টা করছে সরকার’

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, হেফাজতে ইসলাম ও বিএনপি আগের অবস্থানেই আছে। হেফাজতের সব নয়, কিছু কিছু দাবির সঙ্গে বিএনপি একমত ছিল; এখনো সেই অবস্থানেই আছে। বরং হেফাজতকে বশে এনে কাছে টানার চেষ্টা করছে সরকার। এ ব্যাপারে বিএনপির অবস্থান ডাবল স্ট্যান্ড (দ্বৈত নীতি) না। আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল এ কথা বলেন। উজানের ঢল ও ভারী বর্ষণে হাওর অঞ্চল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনায় এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। মির্জা ফখরুল দেশের হাওর অঞ্চলকে দুর্গত এলাকা ঘোষণা করার দাবি জানিয়ে বলেছেন, কৃষকেরা তাদের একমাত্র ফসল হারিয়ে এখন দিশেহারা। এখন পর্যন্ত বিএনপির প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, নেত্রকোনা, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, সিলেট ও কিশোরগঞ্জ জেলার প্রায় সাড়ে তিন লাখ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিএনপির মহাসচিব বলেন, ভারতের সঙ্গে ৫৪টি অভিন্ন নদীর পানি চুক্তি করতে হবে। বাঁধ দিয়ে ভারত এসব নদীর পানি নিয়ন্ত্রণ করছে। বর্ষা মৌসুমে পানি ছেড়ে দিয়ে ভারত বাংলাদেশের ব্যাপক ক্ষতি করছে। অন্য দিকে শুষ্ক মৌসুমে পানি আটকিয়ে দিচ্ছে। উজানের ঢল ও ভারী বর্ষণে হাওর অঞ্চল ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সরকার কোনো পদক্ষেপ নেয়নি—মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, কোনো মন্ত্রীও ওই এলাকায় যাননি।
সেখানে দ্রুত ত্রাণ সহায়তা দেওয়ার দাবি জানান তিনি। তিনি বলেন, বাংলাদেশে খুবই নীরবে এক বিশাল এবং ভয়ংকর দুর্যোগ ঘটে গেছে এপ্রিল মাসের শুরুতে। বিস্তৃত হাওর অঞ্চলের ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। হাওর অঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা জানিয়েছেন যে ফসল নষ্ট হওয়ায় তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অবিলম্বে ক্ষতিগ্রস্ত হাওর অঞ্চলের পুরোনো কৃষি ঋণ মওকুফ, বিনা মূল্যে সার, বীজ বিতরণসহ কয়েকটি দাবি জানান তিনি। বিএনপির মহাসচিব বলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আলোচনা করে সেখানকার মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে তিনি নেত্রকোনা ও সুনামগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে সাধ্যমতো সহায়তা করেছেন বলে জানান। স্থানীয় নেতৃবৃন্দকেও দুর্গতদের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা কায়সার কামাল, এমরান সালেহ প্রিন্স, সাখাওয়াত হোসেন জীবন, আবদুস সালাম আজাদ, ছাত্রদলের সহসভাপতি নাজমুল হাসান ও নেত্রকোনা জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ।

বাস–মিনিবাসে নৈরাজ্য, মানুষের চরম দুর্ভোগ

রাজধানীতে সিটিং সার্ভিস বন্ধের সিদ্ধান্ত এবং বিআরটিএর অভিযানে নগরে বাস–মিনিবাসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে। অনেক পরিবহনমালিক গত রোববার থেকে বাস-মিনিবাস চলাচল বন্ধ রেখেছেন। গতকাল সোমবারও ছিল একই অবস্থা। সড়কে বাস-মিনিবাস অনেক কম থাকায় যাতায়াতে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন নগরবাসী। অন্যদিকে ‘সিটিং সার্ভিস’ বন্ধ হলেও ভাড়া কমেনি। ঢাকা পরিবহন মালিক সমিতি ১৫ এপ্রিল থেকে নগরে বাস–মিনিবাসে ‘সিটিং সার্ভিস’ বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়। রোববার থেকে রাজধানীতে শুরু হয় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান। এই পরিস্থিতিতে শুরু হয় গণপরিবহনে নৈরাজ্য। গতকাল ফার্মগেট, আরামবাগ, ফকিরাপুল, মতিঝিল, টিকাটুলী, গুলিস্তান, আজিমপুর, নিউমার্কেটসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, গণপরিবহনের ভাড়া ও নিয়মের ক্ষেত্রে কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। বাসের ভেতরে গন্তব্য অনুসারে ভাড়ার তালিকা টাঙানোর নিয়ম থাকলেও তা দেখা যায়নি। একই পথের কোনো পরিবহন সিটিং সার্ভিস বাতিল করলেও অন্য পরিবহন তা বহাল রেখেছে। বাস চলছে কম। প্রায় প্রতিটি বাসস্ট্যান্ডেই যাত্রীদের বাসের জন্য খররোদ মাথায় নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল মোড়ে জাকিয়া বেগম তাঁর নাতনি চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী ফাহমিদা আক্তারকে নিয়ে বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। যাবেন যাত্রাবাড়ীর মীরহাজিরবাগ। স্কুল ছুটি হয়েছে বেলা ১১টায়। অনেকক্ষণ পরপর একটি বাস আসছিল। প্রতিটিই লোকজনে ঠাসা। আগে সিটিং বাসে ১০ টাকা ভাড়ায় যেতেন। এখন লোকাল বাস ৫ টাকা নিচ্ছে, কিন্তু বাসে উঠতেই পারছিলেন না। একই কথা বললেন তাঁদের কাছাকাছি দাঁড়ানো টিপু সুলতান রোডের সলিমুল্লাহ ডিগ্রি কলেজের রসায়নের প্রভাষক মোহাম্মদ আলাউদ্দিন। তাঁর বাসা শাহজাহানপুরে। তিনি বলেন, লোকাল বাসে ভাড়া অর্ধেক হয়েছে বটে, তবে বাস পাওয়া যাচ্ছে না। যাত্রীদের এমন দুর্ভোগের দৃশ্য প্রায় সব বাসস্ট্যান্ডেই দেখা গেছে। গুলিস্তানে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে অপেক্ষা করছিলেন নাদিরা বেগম। তিনি নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। উৎসব পরিবহনের সিটিং সার্ভিসে নারায়ণগঞ্জ থেকে গুলিস্তান এসেছেন ৩৬ টাকায়। তিনি বললেন, গুলিস্তান-নারায়ণগঞ্জ পথে উৎসব ও বন্ধন নামে দুটি পরিবহন সিটিং সার্ভিস চালু রেখেছে। তাঁর গলায় সমস্যা, শাহবাগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে যাবেন। কিন্তু গুলিস্তান নেমে বাস পাচ্ছেন না। মোহাম্মদপুরগামী এফটিসিএল পরিবহনের একটি বাস থামল। শাহবাগ হয়েই যাবে। চালকের সহকারী বললেন, লোকাল চলছে। সর্বনিম্ন ভাড়া ৭ টাকা। নাদিরা ওঠার চেষ্টা করলেন। অপেক্ষমাণ অনেক লোক ছুটলেন বাসের দরজার দিকে। হুড়োহুড়ি শুরু হলো। তিনি উঠতে পারলেন না। টিকাটুলী মোড়ের স্ট্যান্ডে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পথের আনন্দ পরিবহনের টিকিটবিক্রেতা রাগিব হোসেন বললেন, তাঁরা সিটিং সার্ভিস চালাচ্ছেন। টিকাটুলী থেকে জুরাইন, পোস্তগোলার ভাড়া ১০ টাকা। তবে বলাকা পরিবহন লোকাল হয়েছে। গুলিস্তান-ধামরাই পথের বাস লোকাল চলছে। এসব বাসে গুলিস্তান থেকে সাভারের ভাড়া ৩০ টাকা। কিন্তু ঠিকানা পরিবহন সিটিং সার্ভিসই রয়েছে। এই বাসে সাভার ও নবীনগরের ভাড়া ৫০ টাকাই। ভাড়ার নৈরাজ্য নিয়েও বিরক্তি প্রকাশ করেছেন যাত্রীরা। দুপুরে আগারগাঁও থেকে নিসর্গ সার্ভিসের বাসে করে আজিমপুরে নামলেন কেরানীগঞ্জের মোহাম্মদ মোখলেস। ভাড়া নিয়েছে ১৫ টাকা। এটি লোকাল সার্ভিস। তিনি বললেন, সকালে আগারগাঁওয়ে পাসপোর্ট অফিসে যাওয়ার সময় ৩৬ নম্বর সিটিং বাসে ২০ টাকা ভাড়া দেন। মতিঝিল শাপলা চত্বর থেকে হিমালয় পরিবহনের বাসে চিটাগাং রোড যাচ্ছিলেন শিপন খান। তিনি বললেন, সকালে আসার সময় ২৫ টাকায় এসেছেন। এই পথে কোনো বাসে ২০ টাকা আবার কোনো বাসে ২৫ টাকা ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। বাসের সংখ্যা কমে যাওয়ার প্রধান কারণ হিসেবে লোকাল সার্ভিসে আয় কমে যাওয়ার কথা বলেছেন পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। আজিমপুর স্ট্যান্ডে দেখা গেল গাজীপুর চৌরাস্তায় যাবে মাইশা পরিবহনের একটি বাস। যাত্রীরা লাইন দিয়ে টিকিট কেটে বাসে উঠছেন। সুপারভাইজার শুক্কুর আলী বললেন, আগে এটি সিটিং সার্ভিস ছিল। ভাড়া ছিল ৫৫ টাকা। এখন লোকাল, ৪০ টাকা ভাড়া। ছাত্ররা উঠলে অর্ধেক ভাড়া দেয়, অনেকে দেয়ও না। ভাড়া নিয়ে কিছু বলতে গেলে নাকি ছাত্ররা গাড়ি আটকে দেয়, ভাঙচুর করে। বললেন, আয় কমে গেছে বলে তাঁদের সব বাস চলছে না। বাস-মিনিবাসের সংখ্যা কমে যাওয়ার একই কারণ বলেছেন ফাল্গুন পরিবহনের সুপারভাইজার মো. রাজ। তাঁদের বাস চলে উত্তরা-আজিমপুর পথে। আগে সিটিং সার্ভিসে ভাড়া ছিল ৫০ টাকা, চার জায়গায় থামত (ভাড়ার হার ছিল ১৫+১৫+১০+১০)। এখন লোকাল সার্ভিস চলছে, ভাড়া ৩৫ টাকা। বাসগুলো চালকেরা মালিকের কাছ থেকে দিন চুক্তিতে নিয়ে চালান। প্রতিবার যাওয়ার জন্য ৭০০ টাকা জমা দিতে হয়।
জ্বালানি তেল লাগে প্রায় ৫০০ টাকার। বাসে আসন ৪০টি। সিটিং সার্ভিসে ভাড়া আসত ২ হাজার টাকা। এখন ভাড়া উঠছে ১ হাজার ৪০০ টাকা। কাজেই চালকদের পোষাচ্ছে না। তাঁরা বাস নিচ্ছেন না। ফাল্গুন পরিবহনের ৩৫টি বাস, এর মধ্যে গতকাল সাতটি বাস পথে নেমেছে বলে সুপারভাইজার বললেন। এদিকে জাবালে নূর পরিবহনের বাসে সিটিং বাসের ভাড়া দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে ভাড়ার তালিকা চেয়েছিলেন একাত্তর টেলিভিশনের প্রযোজক আতিক রহমান। এ নিয়ে বাগ্‌বিতণ্ডার একপর্যায়ে ঘুষি মেরে আতিকের নাক ফাটিয়ে দেন বাসকর্মীরা। আতিককে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। একাত্তর টিভির জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক পারভেজ নাদির রেজা বলেন, এ বিষয়ে মিরপুর থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। আসাদগেটে বিআরটিএর ভ্রাম্যমাণ আদালত নিউ ভিশন পরিবহনের একটি বাসকে বিভিন্ন অভিযোগে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন। বাসটির যাত্রী দৈনিক সমকাল–এর প্রতিবেদক ইন্দ্রজিৎ সরকার বলেন, তিনি মিরপুর যাওয়ার জন্য ফার্মগেট থেকে উঠেছিলেন। মাঝপথে নেমে যেতে হওয়ায় তিনি ভাড়া ফেরত চাইলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের সামনেই তাঁকে মারধর করেন কয়েকজন পরিবহনমালিক ও শ্রমিকনেতা। বাস-মিনিবাসের স্বল্পতা ও নৈরাজ্যের বিষয়ে ঢাকা সড়ক পরিবহন সমিতির সাধারণ সম্পাদক খোন্দকার এনায়েত উল্যাহ প্রথম আলোকে বলেন, ‘যাত্রীদের সুবিধার্থে লোকাল সার্ভিস চালু করা হয়েছে। সিটিংয়ের কারণে মাঝপথের অনেক যাত্রী বাসে উঠতে পারতেন না। এখন বাসগুলো আসনের বেশি যাত্রী নিতে পারছে। কাজেই জনপ্রতি ভাড়া কমলেও লোকসানের কারণ নেই। অনেকের কাগজপত্র হালনাগাদ করা নেই বলে তাঁরা বাস নামাচ্ছেন না। আমরা ভ্রাম্যমাণ আদালতকে সহায়তা দিচ্ছি। অনেক মালিক সিটিং বজায় রেখেছেন। এই বিশৃঙ্খলা সাময়িক। খুব শিগগির এর সমাধান হয়ে যাবে।’ এদিকে বিআরটিএ গতকাল পাঁচটি স্থানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে। এসব ভ্রাম্যমাণ আদালত ১১৯টি মামলা করেন। ৩ লাখ ৬০ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা ও দুজন চালককে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

আজ বাড়ি ফিরছেন আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ

কদিন বিশ্রাম পেয়ে আবদুল্লাহ সায়ীদের মুখশ্রী উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে। ল্যাব এইড হাসপাতাল থেকে আজ মঙ্গলবার বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ। গত ১৮ মার্চ বাংলা মোটরের কাছে সড়কবিভাজক পার হতে গিয়ে পড়ে গিয়েছিলেন তিনি। তখন তাঁর কোমরের কাছের একটা হাড় (নেক অব দ্য ফিমার) ভেঙে যায়। ল্যাব এইডের অধ্যাপক আমজাদ হোসেন তাঁর অস্ত্রোপচার করেন। চিকিৎসা শেষে তিনি বাড়ি ফিরেও গিয়েছিলেন।
পরে তার শরীর আবারও খারাপ হলে তিনি ফের হাসপাতালে ভর্তি হন। আজ তিনি বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন। আজ তাঁকে বেশ প্রাণবন্ত দেখাচ্ছিল। তিনি বলেন, একবার কক্সবাজারে ছিলাম দেড় মাস। ১৫ ফুট বাই ১৫ ফুট দোকানে গিয়ে দেখি ১০ ফুট লম্বা একটা বাইন মাছ। ইয়া মোটা। কারণ তা সমুদ্রের মাছ। সমুদ্রের মাছ নদীতে থাকতে পারে না। হাসপাতালের ছোট চত্বরে থাকলে তো চলবে না। তাঁর স্বজনেরা দর্শনার্থীদের ভিড় না করতে অনুরোধ জানিয়েছেন।

রাজশাহীতে ভাস্কর্য উল্টে ফেলা, সন্দেহে সাত ছাত্র

রাজশাহী বিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের মৃৎশিল্প ও ভাস্কর্য বিভাগের কয়েক ছাত্র ভাস্কর্য উল্টে ফেলার কাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় ওই বিভাগের সাত ছাত্রকে শনাক্ত করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।  এ ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে দুজন ছাত্র গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন। আজ মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মৃৎশিল্প ও ভাস্কর্য বিভাগের স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থী ইউসুফ আলী স্বাধীন ও ইমরান আলী সাংবাদিকদের বলেন, চারুকলায় কোনো নিরাপত্তা নেই। যখন-তখন বাইরের লোকজন এখানে ঢুকে পড়ে। এর প্রতিবাদ হিসেবে বিভাগের কয়েকজন মিলে ভাস্কর্য উল্টে ফেলার সিদ্ধান্ত নেন। এ ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে মৃৎশিল্প ও ভাস্কর্য বিভাগের চেয়ারম্যান মোস্তফা শরীফ আনোয়ার বলেন, ‘ওই শিক্ষার্থীরা যে কাণ্ড করেছে, তা নিন্দনীয়। ওই সাতজন শিক্ষার্থী বিকৃত মস্তিষ্কের পরিচয় দিয়েছে।’
তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে তাঁরা বিভাগে বৈঠক করেছেন। নিন্দা জানিয়েছেন। পরে প্রক্টর ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে তা অবহিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তির দাবি জানানো হয়। ভাস্কর্য উল্টে ফেলার ঘটনায় চারুকলা বিভাগের অন্য শিক্ষার্থীরা নিন্দা জানান। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, এ ধরনের কাণ্ড ঘটানোর ব্যাপারে তাঁরা কিছুই জানতেন না। এ বিষয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের কোনো সমর্থনও নেই। আজ মঙ্গলবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অফিস সহকারী চারুকলা বিভাগের শিক্ষার্থীদের গড়া সব ভাস্কর্য শিক্ষকদের কক্ষের সামনে এবং আশপাশে উল্টে পড়ে থাকতে দেখেন। গতকাল সোমবার রাতে এ ঘটনা ঘটানো হয় বলে ধারণা করা হয়। চারুকলা বিভাগের শিক্ষক মৃৎশিল্প ও ভাস্কর্য বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কনক কুমার পাঠক এবং গ্রাফিকস ডিজাইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মনির উদ্দীন ওই সময় প্রথম আলোকে বলেন, শিক্ষার্থীদের গড়া এ ভাস্কর্যগুলো মাঠে রাখা ছিল। কে বা কারা এক রাতের মধ্যে এ কাণ্ড ঘটিয়েছে। শতাধিক ভাস্কর্য মাঠে উল্টে ফেলে রেখে গেছে। আর কিছু ভাস্কর্য শিক্ষকদের কক্ষের দরজার সামনে রেখে গেছে।

বাল্যবিবাহ ঠেকাতে জীবন দিল মেয়েটি!

মেয়েটি লেখাপড়া করতে চেয়েছিল। আর অভিভাবকেরা তাকে বিয়ে দিতে পীড়াপীড়ি করছিলেন। ছেলেপক্ষের লোকজন তাকে দেখে পছন্দও করে যান। সে নবম শ্রেণিতে পড়ে, এখন বিয়ে করবে না বলে অভিভাবকদের জানিয়ে দিয়েছিল। গতকাল সোমবার ছেলেকে দেখতে যাওয়ার কথা ছিল মেয়েপক্ষের। কিন্তু সকালে জানা গেল, মার্জিয়া সুলতানা নামের মেয়েটি ‘আত্মহত্যা’ করেছে। ঘটনাটি জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার দেবীসাউল গ্রামের। প্রতিবেশীরা জানান, সে উপজেলার রায়কালী উচ্চবিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী। কাল সকালে ঘর থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। মার্জিয়ার পরিবার বিয়ের উদ্যোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে বলছে, আত্মহত্যার কারণ তারা জানে না।
মেয়েটির মা রোজিনা বেগম জানান, সকাল ছয়টার দিকে মার্জিয়া ঘুম থেকে উঠে খেতে চায়। এরপর কিছুক্ষণ এদিক-সেদিক হাঁটাহাঁটি করে নিজের ঘরে চলে যায়। ঘণ্টা দুয়েক পরে ডাকতে গিয়ে দেখা যায় দরজা বন্ধ। দরজা ভাঙার পর ঘরের বাঁশের আড়ার সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায় মার্জিয়াকে। মার্জিয়ার বাবা ব্যবসায়ী আমজাদ হোসেন বলেন, ‘মার্জিয়ার বিয়ের কথাবার্তা চলছিল। আজকে (গতকাল) ছেলে দেখতে যাওয়ার কথা ছিল। কী কারণে সে আত্মহত্যা করল, তা আমরা কেউই জানি না।’ সকালে মেয়েটির মৃত্যুর খবর পেয়ে তার বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সহপাঠীরা তাদের বাড়িতে ভিড় করে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নিতে চাইলে শিক্ষার্থীরা এর বিরোধিতা করে। ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ দাফনের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করে তারা। পরে আক্কেলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলামসহ গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা সেখানে গিয়ে শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে শান্ত করেন। ওসি বলেন, মেয়েটির বিয়ের কথাবার্তা চলছিল বলে জানা গেছে। এ কারণে সে আত্মহত্যা করতে পারে। থানায় অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা হয়েছে।

যাত্রীরা পদে পদে ঠকছে, যখন–তখন বাস বন্ধ

মোটরযান আইন ও রুট পারমিটের (চলাচলের অনুমতি) শর্ত লঙ্ঘন করে ঢাকায় গতকাল সোমবার প্রায় ৪০ শতাংশ বাস ও মিনিবাস চলাচল করেনি। এতে দিনভর দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে সাধারণ যাত্রীদের। এভাবে ইচ্ছাকৃত বাস বন্ধ রাখার দায়ে রুট পারমিট বাতিলের বিধান রয়েছে। বাড়তি মুনাফার জন্য বাস-মিনিবাসে নির্ধারিত সংখ্যার চেয়ে বাড়তি আসন সংযোজন করে অতিরিক্ত যাত্রী গাদাগাদি করেও বহন করা হচ্ছে, যা মোটরযান আইনের পরিপন্থী ও রুট পারমিটের শর্ত লঙ্ঘন। এতে পদে পদে মূলত যাত্রীরা ভোগান্তির পাশাপাশি আর্থিকভাবেও ঠকছে। কিন্তু এসব কারণে কোনো পরিবহনের চলাচলের অনুমতি বাতিল করার নজির নেই বলে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) সূত্রে জানা গেছে। গত রোববার থেকে মোটরযান আইন মেনে সিটিং সার্ভিস বন্ধ করতে রাস্তায় নামেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। পরিবহনমালিক-শ্রমিক সূত্র বলছে, অভিযান এড়াতে মূলত তারা অনেক বাস-মিনিবাস চালায়নি। শুধু এবারই নয়, এর আগে যতবার সরকার অভিযান পরিচালনা করেছে, ততবারই বাস-মিনিবাস চলাচল কমে যায়। গত ৫ মার্চ ২০ বছরের পুরোনো যানবাহন উচ্ছেদে বিআরটিএ, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ও মহানগর পুলিশ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে। এতে প্রথম দিন থেকেই রাজধানীর সড়ক প্রায় বাসশূন্য হয়ে পড়ে। গতকাল এ বিষয়ে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ঢাকায় অনিয়মই নিয়ম হয়ে গেছে। বাসমালিক-শ্রমিক কেউ আইন মানছেন না। এ জন্য যাত্রীরা পদে পদে ঠকছে। তিনি বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান শুরুর পর প্রায় ৪০ শতাংশ বাস-মিনিবাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তিনি যাত্রাবাড়ী, মিরপুর, উত্তরা ও টঙ্গী এলাকা ঘুরে এই ধারণা পেয়েছেন। তিনি বলেন, এসব এলাকায় সড়কের পাশে, পেট্রলপাম্পে এবং খোলা জায়গায় বাস-মিনিবাস থামিয়ে রাখতে দেখা যায়। সরকারের প্রায় সব পরিবহন কমিটিতে মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতারা সদস্য। বাস-মিনিবাসের চলাচলের অনুমতি দেওয়ার কমিটিতেও সরকারি কর্মকর্তাদের বাইরে একমাত্র মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা রয়েছেন। সব সময়ই সরকারপন্থীরা এই মালিক ও শ্রমিক সমিতিগুলোর নেতৃত্ব দিয়ে থাকেন। এই বিষয়ে মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, পরিবহনমালিক ও শ্রমিকনেতারা রাজনৈতিক আশীর্বাদপুষ্ট। পরিবহন কমিটিগুলোতেও তাঁদের প্রভাব প্রচুর। ফলে যাত্রীস্বার্থ রক্ষা হচ্ছে না। তিনি বলেন, ২০১৫ সালে ঢাকার বাস-মিনিবাস চলাচল কমিটিতে তাঁকে রাখা হয়েছিল। কিন্তু মালিক-শ্রমিক নেতাদের চাপে কোনো বৈঠকে অংশ নেওয়ার আগেই তাঁকে বাদ দেওয়া হয়। বাস চলাচল কমে যাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে ঢাকা সড়ক পরিবহন সমিতির সাধারণ সম্পাদক খোন্দকার এনায়েত উল্যাহ প্রথম আলোকে বলেন, যেসব বাসের ফিটনেস সনদ ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নেই, সেগুলো নামেনি। অবৈধ অ্যাঙ্গেল ও বাম্পার থাকা বাস-মিনিবাসও চলেনি। এটা সব সময়ই হয়। তবে এবারের অভিযান চলতে থাকবে। কেউ বাস না চালিয়ে পারবে না। মোটরযান আইনে বাস-মিনিবাসের অনুমতির অন্যতম শর্ত হচ্ছে গাড়ি চলাচল নিয়মিত অব্যাহত রাখা এবং যাত্রীদের সঙ্গে চালক বা কন্ডাক্টরের আচরণ আপত্তিকর হওয়া যাবে না। জানতে চাইলে বিআরটিএর প্রতিষ্ঠাকালীন কর্মকর্তা ও সাবেক উপপরিচালক আবদুর রব প্রথম আলোকে বলেন, বাস-মিনিবাসের চলাচল বন্ধ রাখতে হলে কর্তৃপক্ষকে আগে থেকে জানাতে হবে। আর হঠাৎ নষ্ট হলে সেটাও জানানোর নিয়ম। এর ব্যত্যয় ঘটলে তা অনুমতির শর্ত লঙ্ঘন করবে। এর সর্বোচ্চ শাস্তি অনুমতি বাতিল। মোটরযান আইনে, বাস ও মিনিবাসের চলাচলের অনুমতির ক্ষেত্রে কমবেশি ৩০টি শর্ত পূরণ করতে হয়। এটি নিশ্চিত করার দায়িত্ব আঞ্চলিক পরিবহন কমিটির। জেলায় সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে এই কমিটি গঠিত হয়। আর ঢাকাসহ মহানগরে পুলিশ কমিশনার কমিটির নেতৃত্ব দিয়ে থাকেন। এই কমিটিতে পুলিশ, বিআরটিএ, সরকারের অন্য সংস্থা ও মালিক-শ্রমিক সংগঠনের নেতারা থাকেন। এ বিষয়ে সড়ক পরিবহন বিভাগের সচিব এম এ এন সিদ্দিক প্রথম আলোকে বলেন, যেসব বাস-মিনিবাস ইচ্ছাকৃতভাবে বসিয়ে রাখা হচ্ছে, সেগুলো খুঁজে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে নির্বাহী হাকিমদের। এসব বাসের চলাচলের অনুমতি বাতিল করে দেওয়া হবে।
যাত্রীরা শুধু ঠকছে
মোটরযান আইনে সিটিং সার্ভিস নামে কোনো ব্যবস্থা নেই। বাসে গাদাগাদি করে যাত্রী তোলারও নিয়ম নেই। কিন্তু যত্রতত্র যাত্রী উঠিয়ে আসনের প্রায় দ্বিগুণ যাত্রী বহন করা হচ্ছে। গত শনিবার থেকে সিটিং সার্ভিস বন্ধ হওয়ার পর সব বাসেই ঠাসাঠাসি করে যাত্রী তোলা হচ্ছে। গণপরিবহনের অনুমতির শর্তে বলা হয়েছে, নির্দিষ্ট সময় বা মৌসুম এবং নির্দিষ্ট যানবাহন বাদে সব বাস-মিনিবাসে নির্ধারিত আসনের অধিক যাত্রী বহন করা যাবে না। তবে নিবন্ধনের শর্তের মধ্যে বলা আছে, যথাযথ কর্তৃপক্ষ চাইলে ১০ জন যাত্রী দাঁড় করিয়ে নিতে পারবেন। তবে বাসের মেঝে থেকে ছাদের উচ্চতা কমপক্ষে ছয় ফুট হতে হবে। আর মাঝখানের পথটি ১৮ ইঞ্চি চওড়া হতে হবে। বিআরটিএর সূত্র বলছে, ঢাকার কোনো মিনিবাসই এত উঁচু নয়। এই নিয়ম বাসের ভেতরের স্থান দেখে ঠিক করে দেওয়ার কথা সরকারের। তবে তা করা হয় না। যাঁরা বাস-মিনিবাসে আসন পান, তাঁরাও পা সোজা করে বসতে পারেন না। বিআরটিএর আইন অনুসারে, যাত্রীবাহী বাস-মিনিবাসের আসনের হেলান দেওয়ার স্থান অন্য আসনের হেলান দেওয়ার স্থানের দূরত্ব হতে হবে ২৬ ইঞ্চি। বিআরটিএ সূত্র বলছে, ঢাকার বেশির ভাগ বাসেই এই পরিমাণ ফাঁকা জায়গা নেই। চলাচলের অনুমতির সময়, বাস-মিনিবাস কোথায় থামবে সেই স্থানও নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়। কিন্তু তা মানা হয় না। কোমল পরিবহনের মিনিবাসের চলার পথ সায়েদাবাদ থেকে নারায়ণগঞ্জের আদমজী পর্যন্ত। মাঝখানে এই পরিবহনের বাস থামার কথা যাত্রাবাড়ী, শনির আখড়া ও চিটাগাং রোড। কিন্তু কাজলা, রায়েরবাগ, সাইনবোর্ড, সানারপাড়সহ আরও পাঁচ-ছয়টি স্থানে যাত্রী তোলে। এ বিষয়ে সড়ক পরিবহন বিভাগের সচিব বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালতে নির্ধারিত স্থানের বাইরে বাস থামিয়ে যাত্রী তোলা হচ্ছে কি না, সেটাও দেখা হচ্ছে। আর যাত্রীদের আরাম নষ্ট করে আসন বৃদ্ধির জন্য প্রতিদিনই মামলা হচ্ছে। গতকাল ঢাকায় পাঁচটি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়। এসব আদালতে সাড়ে তিন লাখ টাকার বেশি জরিমানা আদায় করা হয়। লাইসেন্স ছাড়া যান চালানোর দায়ে দুজনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
বাসেরও সংকট
ঢাকা ও এর আশপাশে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার বাস চলাচলের অনুমোদন রয়েছে। পরিবহনমালিকেরা বলছেন, যান্ত্রিক ত্রুটিসহ নানা কারণে এর প্রায় এক হাজার চলে না। যানজটের কারণে প্রায় সব বাসই দিনে নির্দিষ্ট গন্তব্যে পাঁচবারের বেশি আসা-যাওয়া করে না। ফলে যত যাত্রী যাতায়াত করার সুযোগ রয়েছে, তা-ও অব্যবহৃত থাকে। এতে স্বাভাবিক ব্যস্ত সময়েও যাত্রীরা বাস পান না। যানজট ও স্বাভাবিক সময়ে বাস চলাচলের একটি চিত্র পাওয়া যায় গত বছর প্রকাশিত ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিআইজিডি) ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণা প্রতিবেদনে। এতে বলা হয়, অপেক্ষাকৃত কম ব্যস্ত সময়ে শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে গুলশান ও গুলিস্তান হয়ে পোস্তগোলা পর্যন্ত ২২ কিলোমিটার দীর্ঘ পথে যানবাহনের গড় গতি ঘণ্টায় ২২ কিলোমিটার। আর ব্যস্ত সময়ে ঘণ্টায় ৯ কিলোমিটার। এই গবেষণায় আরও এসেছে যে ঢাকায় প্রতি এক লাখ মানুষের জন্য ৩০টি বাস রয়েছে। অথচ দিল্লি, কলকাতা, বেঙ্গালুরু, হংকং ও লন্ডনের মতো মেট্রোরেল থাকা শহরে এর চেয়ে অনেক বেশি বাস চলে। ঢাকার গণপরিবহনে শৃঙ্খলা আনতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন গত বছর সব বাসকে একটি কোম্পানির আওতায় আনার উদ্যোগ নেয়। সরকারের ২০ বছরের পরিবহন পরিকল্পনাতেও এই পদ্ধতি চালুর সুপারিশ ছিল। উত্তর সিটি করপোরেশন এ বিষয়ে একটি সমীক্ষাও করে। এতে বলা হয়, এক কোম্পানির অধীনে এলে সব বিনিয়োগকারী বিনিয়োগের হার অনুযায়ী লাভ পাবে। এতে যানজটও কমবে। যাত্রী হয়রানিও কমবে। কিন্তু বিষয়টি এখনো আলোর মুখ দেখেনি।
মোটরযান আইন ও রুট পারমিটের (চলাচলের অনুমতি) শর্ত লঙ্ঘন করে ঢাকায় গতকাল সোমবার প্রায় ৪০ শতাংশ বাস ও মিনিবাস চলাচল করেনি। এতে দিনভর দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে সাধারণ যাত্রীদের। এভাবে ইচ্ছাকৃত বাস বন্ধ রাখার দায়ে রুট পারমিট বাতিলের বিধান রয়েছে। বাড়তি মুনাফার জন্য বাস-মিনিবাসে নির্ধারিত সংখ্যার চেয়ে বাড়তি আসন সংযোজন করে অতিরিক্ত যাত্রী গাদাগাদি করেও বহন করা হচ্ছে, যা মোটরযান আইনের পরিপন্থী ও রুট পারমিটের শর্ত লঙ্ঘন। এতে পদে পদে মূলত যাত্রীরা ভোগান্তির পাশাপাশি আর্থিকভাবেও ঠকছে। কিন্তু এসব কারণে কোনো পরিবহনের চলাচলের অনুমতি বাতিল করার নজির নেই বলে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) সূত্রে জানা গেছে। গত রোববার থেকে মোটরযান আইন মেনে সিটিং সার্ভিস বন্ধ করতে রাস্তায় নামেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। পরিবহনমালিক-শ্রমিক সূত্র বলছে, অভিযান এড়াতে মূলত তারা অনেক বাস-মিনিবাস চালায়নি। শুধু এবারই নয়, এর আগে যতবার সরকার অভিযান পরিচালনা করেছে, ততবারই বাস-মিনিবাস চলাচল কমে যায়। গত ৫ মার্চ ২০ বছরের পুরোনো যানবাহন উচ্ছেদে বিআরটিএ, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ও মহানগর পুলিশ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে। এতে প্রথম দিন থেকেই রাজধানীর সড়ক প্রায় বাসশূন্য হয়ে পড়ে। গতকাল এ বিষয়ে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ঢাকায় অনিয়মই নিয়ম হয়ে গেছে। বাসমালিক-শ্রমিক কেউ আইন মানছেন না। এ জন্য যাত্রীরা পদে পদে ঠকছে। তিনি বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান শুরুর পর প্রায় ৪০ শতাংশ বাস-মিনিবাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তিনি যাত্রাবাড়ী, মিরপুর, উত্তরা ও টঙ্গী এলাকা ঘুরে এই ধারণা পেয়েছেন। তিনি বলেন, এসব এলাকায় সড়কের পাশে, পেট্রলপাম্পে এবং খোলা জায়গায় বাস-মিনিবাস থামিয়ে রাখতে দেখা যায়। সরকারের প্রায় সব পরিবহন কমিটিতে মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতারা সদস্য। বাস-মিনিবাসের চলাচলের অনুমতি দেওয়ার কমিটিতেও সরকারি কর্মকর্তাদের বাইরে একমাত্র মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা রয়েছেন। সব সময়ই সরকারপন্থীরা এই মালিক ও শ্রমিক সমিতিগুলোর নেতৃত্ব দিয়ে থাকেন। এই বিষয়ে মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, পরিবহনমালিক ও শ্রমিকনেতারা রাজনৈতিক আশীর্বাদপুষ্ট। পরিবহন কমিটিগুলোতেও তাঁদের প্রভাব প্রচুর। ফলে যাত্রীস্বার্থ রক্ষা হচ্ছে না।
তিনি বলেন, ২০১৫ সালে ঢাকার বাস-মিনিবাস চলাচল কমিটিতে তাঁকে রাখা হয়েছিল। কিন্তু মালিক-শ্রমিক নেতাদের চাপে কোনো বৈঠকে অংশ নেওয়ার আগেই তাঁকে বাদ দেওয়া হয়। বাস চলাচল কমে যাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে ঢাকা সড়ক পরিবহন সমিতির সাধারণ সম্পাদক খোন্দকার এনায়েত উল্যাহ প্রথম আলোকে বলেন, যেসব বাসের ফিটনেস সনদ ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নেই, সেগুলো নামেনি। অবৈধ অ্যাঙ্গেল ও বাম্পার থাকা বাস-মিনিবাসও চলেনি। এটা সব সময়ই হয়। তবে এবারের অভিযান চলতে থাকবে। কেউ বাস না চালিয়ে পারবে না। মোটরযান আইনে বাস-মিনিবাসের অনুমতির অন্যতম শর্ত হচ্ছে গাড়ি চলাচল নিয়মিত অব্যাহত রাখা এবং যাত্রীদের সঙ্গে চালক বা কন্ডাক্টরের আচরণ আপত্তিকর হওয়া যাবে না। জানতে চাইলে বিআরটিএর প্রতিষ্ঠাকালীন কর্মকর্তা ও সাবেক উপপরিচালক আবদুর রব প্রথম আলোকে বলেন, বাস-মিনিবাসের চলাচল বন্ধ রাখতে হলে কর্তৃপক্ষকে আগে থেকে জানাতে হবে। আর হঠাৎ নষ্ট হলে সেটাও জানানোর নিয়ম। এর ব্যত্যয় ঘটলে তা অনুমতির শর্ত লঙ্ঘন করবে। এর সর্বোচ্চ শাস্তি অনুমতি বাতিল। মোটরযান আইনে, বাস ও মিনিবাসের চলাচলের অনুমতির ক্ষেত্রে কমবেশি ৩০টি শর্ত পূরণ করতে হয়। এটি নিশ্চিত করার দায়িত্ব আঞ্চলিক পরিবহন কমিটির। জেলায় সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে এই কমিটি গঠিত হয়। আর ঢাকাসহ মহানগরে পুলিশ কমিশনার কমিটির নেতৃত্ব দিয়ে থাকেন। এই কমিটিতে পুলিশ, বিআরটিএ, সরকারের অন্য সংস্থা ও মালিক-শ্রমিক সংগঠনের নেতারা থাকেন। এ বিষয়ে সড়ক পরিবহন বিভাগের সচিব এম এ এন সিদ্দিক প্রথম আলোকে বলেন, যেসব বাস-মিনিবাস ইচ্ছাকৃতভাবে বসিয়ে রাখা হচ্ছে, সেগুলো খুঁজে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে নির্বাহী হাকিমদের। এসব বাসের চলাচলের অনুমতি বাতিল করে দেওয়া হবে।
যাত্রীরা শুধু ঠকছে
মোটরযান আইনে সিটিং সার্ভিস নামে কোনো ব্যবস্থা নেই। বাসে গাদাগাদি করে যাত্রী তোলারও নিয়ম নেই। কিন্তু যত্রতত্র যাত্রী উঠিয়ে আসনের প্রায় দ্বিগুণ যাত্রী বহন করা হচ্ছে। গত শনিবার থেকে সিটিং সার্ভিস বন্ধ হওয়ার পর সব বাসেই ঠাসাঠাসি করে যাত্রী তোলা হচ্ছে। গণপরিবহনের অনুমতির শর্তে বলা হয়েছে, নির্দিষ্ট সময় বা মৌসুম এবং নির্দিষ্ট যানবাহন বাদে সব বাস-মিনিবাসে নির্ধারিত আসনের অধিক যাত্রী বহন করা যাবে না। তবে নিবন্ধনের শর্তের মধ্যে বলা আছে, যথাযথ কর্তৃপক্ষ চাইলে ১০ জন যাত্রী দাঁড় করিয়ে নিতে পারবেন। তবে বাসের মেঝে থেকে ছাদের উচ্চতা কমপক্ষে ছয় ফুট হতে হবে। আর মাঝখানের পথটি ১৮ ইঞ্চি চওড়া হতে হবে। বিআরটিএর সূত্র বলছে, ঢাকার কোনো মিনিবাসই এত উঁচু নয়। এই নিয়ম বাসের ভেতরের স্থান দেখে ঠিক করে দেওয়ার কথা সরকারের। তবে তা করা হয় না। যাঁরা বাস-মিনিবাসে আসন পান, তাঁরাও পা সোজা করে বসতে পারেন না। বিআরটিএর আইন অনুসারে, যাত্রীবাহী বাস-মিনিবাসের আসনের হেলান দেওয়ার স্থান অন্য আসনের হেলান দেওয়ার স্থানের দূরত্ব হতে হবে ২৬ ইঞ্চি। বিআরটিএ সূত্র বলছে, ঢাকার বেশির ভাগ বাসেই এই পরিমাণ ফাঁকা জায়গা নেই। চলাচলের অনুমতির সময়, বাস-মিনিবাস কোথায় থামবে সেই স্থানও নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়। কিন্তু তা মানা হয় না। কোমল পরিবহনের মিনিবাসের চলার পথ সায়েদাবাদ থেকে নারায়ণগঞ্জের আদমজী পর্যন্ত। মাঝখানে এই পরিবহনের বাস থামার কথা যাত্রাবাড়ী, শনির আখড়া ও চিটাগাং রোড। কিন্তু কাজলা, রায়েরবাগ, সাইনবোর্ড, সানারপাড়সহ আরও পাঁচ-ছয়টি স্থানে যাত্রী তোলে। এ বিষয়ে সড়ক পরিবহন বিভাগের সচিব বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালতে নির্ধারিত স্থানের বাইরে বাস থামিয়ে যাত্রী তোলা হচ্ছে কি না, সেটাও দেখা হচ্ছে। আর যাত্রীদের আরাম নষ্ট করে আসন বৃদ্ধির জন্য প্রতিদিনই মামলা হচ্ছে। গতকাল ঢাকায় পাঁচটি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়। এসব আদালতে সাড়ে তিন লাখ টাকার বেশি জরিমানা আদায় করা হয়। লাইসেন্স ছাড়া যান চালানোর দায়ে দুজনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
বাসেরও সংকট
ঢাকা ও এর আশপাশে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার বাস চলাচলের অনুমোদন রয়েছে। পরিবহনমালিকেরা বলছেন, যান্ত্রিক ত্রুটিসহ নানা কারণে এর প্রায় এক হাজার চলে না। যানজটের কারণে প্রায় সব বাসই দিনে নির্দিষ্ট গন্তব্যে পাঁচবারের বেশি আসা-যাওয়া করে না। ফলে যত যাত্রী যাতায়াত করার সুযোগ রয়েছে, তা-ও অব্যবহৃত থাকে। এতে স্বাভাবিক ব্যস্ত সময়েও যাত্রীরা বাস পান না। যানজট ও স্বাভাবিক সময়ে বাস চলাচলের একটি চিত্র পাওয়া যায় গত বছর প্রকাশিত ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিআইজিডি) ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণা প্রতিবেদনে। এতে বলা হয়, অপেক্ষাকৃত কম ব্যস্ত সময়ে শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে গুলশান ও গুলিস্তান হয়ে পোস্তগোলা পর্যন্ত ২২ কিলোমিটার দীর্ঘ পথে যানবাহনের গড় গতি ঘণ্টায় ২২ কিলোমিটার। আর ব্যস্ত সময়ে ঘণ্টায় ৯ কিলোমিটার। এই গবেষণায় আরও এসেছে যে ঢাকায় প্রতি এক লাখ মানুষের জন্য ৩০টি বাস রয়েছে। অথচ দিল্লি, কলকাতা, বেঙ্গালুরু, হংকং ও লন্ডনের মতো মেট্রোরেল থাকা শহরে এর চেয়ে অনেক বেশি বাস চলে। ঢাকার গণপরিবহনে শৃঙ্খলা আনতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন গত বছর সব বাসকে একটি কোম্পানির আওতায় আনার উদ্যোগ নেয়। সরকারের ২০ বছরের পরিবহন পরিকল্পনাতেও এই পদ্ধতি চালুর সুপারিশ ছিল। উত্তর সিটি করপোরেশন এ বিষয়ে একটি সমীক্ষাও করে। এতে বলা হয়, এক কোম্পানির অধীনে এলে সব বিনিয়োগকারী বিনিয়োগের হার অনুযায়ী লাভ পাবে। এতে যানজটও কমবে। যাত্রী হয়রানিও কমবে। কিন্তু বিষয়টি এখনো আলোর মুখ দেখেনি।

‘অতীতের চাইতে ভবিষ্যৎ নিশ্চয়ই সুখকর’

আমাদের জাতীয় জীবনের অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ দিনগুলো আমরা বরং ঘটা করে পালন করি। গণমাধ্যমেও প্রচার পায় ভালো। দলীয় নেতা-কর্মীদের উৎসাহও প্রচুর। অথচ যেসব দিন জাতির ইতিহাসে মাইলফলক, স্বর্ণাক্ষরে লেখা, সেগুলোর তাৎপর্য নিয়ে সাধারণের মধ্যে এবং একাডেমিক পর্যায়ে আলোচনা-গবেষণা যথেষ্ট নয়। সে রকম একটি দিন ১৭ এপ্রিল। একাত্তরের সেই ভয়াবহ সময়ে ওই দিনটির ঘটনাপ্রবাহ যারা স্বাধীন বাংলা বেতার, আকাশবাণী, বিবিসি এবং ভয়েস অব আমেরিকা থেকে শুনেছেন এবং শুনে যেভাবে শিহরিত হয়েছেন, মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে অনুপ্রাণিত হয়েছেন, তার বর্ণনা এখন কারও পক্ষে দেওয়া সম্ভব নয়। ১০ এপ্রিল মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলা নামক স্থান, যার নামকরণ হয় ‘মুজিবনগর’, সেখান থেকে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা ঘোষণা করেন ‘স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র’ এবং নতুন সরকার গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়। সেই ঘোষণায় বলা হয়েছিল, ‘বাংলাদেশের জনগণ তাদের বীরত্ব, সাহসিকতা ও বিপ্লবী ঐকান্তিকতা দ্বারা বাংলাদেশের এলাকায় কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করিয়াছেন।’ সেই অমূল্য ঐতিহাসিক ঘোষণায় আরও বলা হয়েছিল, ‘জনগণ কর্তৃক আমাদের উপর অর্পিত নির্দেশের প্রতি, যাহাদের নির্দেশই চূড়ান্ত, সশ্রদ্ধ অনুগত থাকায় আমরা বাংলাদেশের জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিগণ আমাদের নিজেদেরকে লইয়া যথাযথভাবে সংবিধান রচনার গণপরিষদ গঠন করিলাম।’ বঙ্গবন্ধুকে সামরিক জান্তা গ্রেপ্তার করে পঁচিশে মার্চ রাতেই পাকিস্তানে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে অজ্ঞাত কারাগারে বন্দী রাখে। কিন্তু তার উপস্থিতিতেই হোক বা অনুপস্থিতিতেই হোক, তিনি ছিলেন বাংলাদেশের মানুষের অফুরন্ত প্রেরণার উৎস। স্বাধীনতার ‘ঘোষণাপত্রে’ বলা হয়েছিল, ‘এতদ্বারা নিশ্চিত করিতেছি এবং সিদ্ধান্ত লইতেছি যে, সংবিধান যে-সময় পর্যন্ত প্রণীত না হয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রপতি থাকিবেন ও সৈয়দ নজরুল ইসলাম প্রজাতন্ত্রের উপরাষ্ট্রপতি থাকিবেন, এবং রাষ্ট্রপতি প্রজাতন্ত্রের সকল সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হইবেন।’ অস্থায়ী সরকারের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছিলেন তাজউদ্দীন আহমদ। এখন সেখানে অনেক কিছুই হয়েছে, কিন্তু আগে ওই জায়গাটিতে গেলে রোমাঞ্চিত হতে হতো। সেই আমবাগান যেন কথা বলত। সৈয়দ নজরুল ইসলাম, এম মনসুর আলী, তাজউদ্দীন আহমদ, এ এইচ এম কামারুজ্জামান, খন্দকার মোশতাক আহমদ, অধ্যাপক ইউসুফ আলী, সৈয়দা জোহরা তাজউদ্দীন, ব্যারিস্টার আমীর-উল ইসলাম, তোফায়েল আহমেদের সঙ্গে আমি কয়েকবার হেলিকপ্টারে মুজিবনগরের আম্রকাননে গিয়েছিলাম। স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে ওই স্থানটি অনন্য। অনেক বছর যাইনি। শুনেছি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার মুজিবনগর কমপ্লেক্সকে মনোরম করে গড়ে তুলেছে। পর্যটকেরা সেখানে প্রতিদিনই যান। হয়তো এখন দেখলে আমার অন্য রকম লাগবে। সেদিন আম্রকানন দেখে যেমন রোমাঞ্চিত হয়েছি, এখন তা হবে না।
আমি অনেকবার টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে বলেছি, আমরা তাজউদ্দীনের অস্থায়ী সরকারকে প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার বলে থাকি বটে, কিন্তু ১৭ এপ্রিলের শপথ গ্রহণ করা যে সরকার, সেটি আক্ষরিক অর্থে ‘প্রবাসী সরকার’ ছিল না। কারণ হিসেবে আমার যুক্তি হলো, যত প্রত্যন্ত জায়গাটিতেই হোক, ওই সরকার বাংলাদেশের ভূখণ্ডেই শপথ নিয়েছিল। পরে তা পরিস্থিতির কারণে কলকাতার থিয়েটার রোডে গিয়ে অস্থায়ী কার্যালয় প্রতিষ্ঠা করে। ১১ এপ্রিল স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ যে ভাষণ দেন, তার ঐতিহাসিক মূল্য বিরাট। তিনি তাঁর দীর্ঘ বেতার ভাষণে বলেছিলেন: ‘আমাদের মানবিক মূল্যবোধ ও আদর্শের পতাকা সমুন্নত রেখে আমরা আবার প্রমাণ করেছি যে আমরা তিতুমীর সূর্য সেনের বংশধর। স্বাধীনতার জন্যে যেমন আমরা জীবন দিতে পারি, তেমনি আমাদের দেশ থেকে বিদেশী শত্রুসেনাদের চিরতরে হটিয়ে দিতেও আমরা সক্ষম। আমাদের অদম্য সাহস ও মনোবলের কাছে শত্রু যত প্রবল পরাক্রান্ত হোক না কেন, পরাজয় বরণ করতে বাধ্য। আমরা যদি প্রথম আঘাত প্রতিহত করতে ব্যর্থ হতাম তাহলে নতুন স্বাধীন প্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ হয়তো কিছুদিনের জন্যে হলেও পিছিয়ে যেত। আপনারা শত্রুসেনাদের ট্যাঙ্ক ও বোমারু বিমানের মোকাবিলা করেছেন এবং আপনাদের যার হাতে যে অস্ত্র ছিল তাই নিয়েই রুখে দাঁড়িয়েছেন এবং তাদেরকে পিছু হটে গিয়ে নিজ শিবিরে আশ্রয় নিতে বাধ্য করেছেন। বাংলাদেশ আজ স্বাধীন, বাংলাদেশ আজ মুক্ত।’ স্বাধীনতার পর তাজউদ্দীন ও বেগম তাজউদ্দীনের সঙ্গে আমি তাঁদের কাপাসিয়ার বাড়িতে গিয়ে এক রাত ছিলাম। অনেক কথা হতো। সুলিখিত বেতার ভাষণটির প্রসঙ্গেও কথা হয়েছে। উঠানে চেয়ারে বসে জোছনারাতে তাজউদ্দীন সাহেব বলেছেন, কর্মকর্তাদের দিয়ে তিনি ভাষণ লেখাতেন না। নিজের হাতে লিখতেন। ওই ভাষণ রচনায় তিনি বঙ্গবন্ধুর সাতই মার্চের ভাষণের স্পিরিটকে গ্রহণ করেছিলেন, সে জন্যই স্বাধীনতার কথাও ছিল, মুক্তির কথাও ছিল। দীর্ঘস্থায়ী ভাষণে প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন জাতিকে যাবতীয় বিষয় বিস্তারিতভাবে অবগত করেছিলেন। সুলিখিত ভাষণে তিনি বলেছিলেন, ‘বৃহৎ শক্তিবর্গের অস্ত্রাগারে নির্মিত আধুনিক সরঞ্জামে সজ্জিত জেনারেল ইয়াহিয়ার হানাদার বাহিনী আজ আমাদের শান্তিপ্রিয় ও নিরস্ত্র বাঙালির কণ্ঠ স্তব্ধ করে দেওয়ার এক পৈশাচিক উন্মত্ততায় মত্ত। আমরা সেইসব বৃহৎ শক্তিবর্গের কাছে মানবতার নামে আবেদন জানাচ্ছি, যেন এই হত্যাকারীদের হাতে আর অস্ত্র সরবরাহ করা না হয়। এ সমস্ত অস্ত্র দেওয়া হয়েছিল বিদেশী শত্রুর আক্রমণ থেকে দেশকে রক্ষা করার জন্য—বাংলার নিষ্পাপ শিশুদেরকে ও নিরপরাধ নরনারীকে নির্বিচারে হত্যা করার জন্য নিশ্চয়ই এ অস্ত্র তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়নি।’ আমেরিকা, চীন, সোভিয়েত ইউনিয়ন, ফ্রান্স, ব্রিটেনের প্রতি তাদের নাম না নিয়ে তিনি এ কথা বলেছিলেন। তিনি আরও বলেছিলেন, ‘পৃথিবীর জনমতকে উপেক্ষা করে আজও ইয়াহিয়ার ভাড়াটে দস্যুরা বাংলাদেশের বুকে নির্বিচারে গণহত্যা চালিয়ে যাচ্ছে। তাই আমরা সমস্ত দেশের কাছে অস্ত্র সাহায্য চাচ্ছি এবং যারা জাতীয় জীবনে স্বাধীনতাকে সর্বোচ্চ মূল্য দিয়ে এসেছেন ও নিজেদের দেশেও হানাদারদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন তারা আমাদের এ ডাকে সাড়া না দিয়ে পারবেন না, এ বিশ্বাস আমাদের আছে।’ এই বক্তব্যে তিনি চীনকে ইঙ্গিত করেছিলেন। কিন্তু কাজ হয়নি। তাজউদ্দীন বলেছিলেন, ‘আজ প্রতিরোধ আন্দোলনের কথা গ্রামবাংলার প্রতিটি ঘরে পৌঁছে গেছে। হাজার হাজার মানুষ আজকের এই স্বাধীনতাসংগ্রামে যোগ দিয়েছেন। বেঙ্গল রেজিমেন্ট ও ইপিআর-এর বীর বাঙালি যোদ্ধারা এই স্বাধীনতাসংগ্রামের যে যুদ্ধ তার পুরোভাগে রয়েছেন এবং তাদের কেন্দ্র করে পুলিশ, আনসার, মুজাহিদ, আওয়ামী লীগ স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী, ছাত্র, শ্রমিক ও অন্যান্য হাজার হাজার সংগ্রামী মানুষ এই যুদ্ধে যোগ দিয়েছেন। অতি অল্প সময়ের মধ্যে এদেরকে সমরকৌশলে পারদর্শী করা হয়েছে ও শত্রুদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া অস্ত্র ও গোলাবারুদ দিয়ে বাংলার এই মুক্তিবাহিনীকে শত্রুদের মোকাবিলা করার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।’
তিনি বলেছিলেন সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকার কথাও। তাঁর ভাষায়, ‘চট্টগ্রাম ও নোয়াখালী অঞ্চলের সমর পরিচালনার ভার পড়েছে মেজর জিয়াউর রহমানের উপর। নৌ, স্থল ও বিমানবাহিনীর আক্রমণের মুখে চট্টগ্রাম শহরে যে প্রতিরোধব্যূহ গড়ে উঠেছে এবং আমাদের মুক্তিবাহিনী ও বীর চট্টলের ভাই-বোনেরা যে সাহসিকতার সঙ্গে শত্রুর মোকাবিলা করেছেন, স্বাধীনতাসংগ্রামের ইতিহাসে এই প্রতিরোধ স্ট্যালিনগ্রাডের পাশে স্থান পাবে। এই সাহসিকতাপূর্ণ প্রতিরোধের জন্য চট্টগ্রাম আজও শত্রুর কবল মুক্ত রয়েছে। চট্টগ্রাম শহরের কিছু অংশ ছাড়া চট্টগ্রাম ও সম্পূর্ণ নোয়াখালী জেলাকে “মুক্ত এলাকা” বলে ঘোষণা করা হয়েছে। ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইল অঞ্চলের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মেজর সফিউল্লাহর উপর।...দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলে ইপিআর-এর বীর সেনানী মেজর ওসমানের উপর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কুষ্টিয়া ও যশোহর জেলার। কুষ্টিয়ার ঐতিহাসিক বিজয়ের পর আমাদের মুক্তিবাহিনী সমস্ত এলাকা থেকে শত্রুবাহিনীকে বিতাড়িত করেছে এবং শত্রুসেনা এখন যশোহর ক্যান্টনমেন্টে ও খুলনা শহরের একাংশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। মেজর জলিলের উপর ভার দেওয়া হয়েছে ফরিদপুর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালীর।’ সেদিনের অস্থায়ী সরকার গঠন এবং তার শপথ গ্রহণ বিশ্ববাসীর কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছিল। সে বার্তা হলো: জাতি পাকিস্তানি সামরিক জান্তাকে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং স্বাধীনতার প্রশ্নে ঐক্যবদ্ধ। শুধু তা-ই নয়, অস্থায়ী সরকারপ্রধান জানিয়ে দেন যে রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং সামরিক নেতৃত্ব এক। আরও পরিষ্কার করে বলে দেন রাজনৈতিক নেতৃত্বের অধীনে সামরিক নেতৃত্ব কাজ করছে। এবং তাদের সঙ্গে রয়েছে জনগণ। তাজউদ্দীন তাঁর ভাষণের শুরুতেই বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশের সাড়ে সাত কোটি মুক্তিপাগল গণমানুষের নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার সরকারের পক্ষ থেকে আমি আপনাদেরকে আমার সংগ্রামী অভিনন্দন জানাচ্ছি। আমরা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি তাদের যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা রক্ষা করতে গিয়ে তাদের মূল্যবান জীবন আহুতি দিয়েছেন, যত দিন বাংলার আকাশে চন্দ্র-সূর্য-গ্রহ-তারা রইবে, যত দিন বাংলার মাটিতে মানুষ থাকবে, তত দিন মাতৃভূমির স্বাধীনতা রক্ষার সংগ্রামের বীর শহীদদের অমর স্মৃতি বাঙালির মানসপটে চির অম্লান থাকবে।’ সেদিন তিনি তাঁর ভাষণ শেষ করেছিলেন ‘জয় বাংলা’ ‘জয় স্বাধীন বাংলাদেশ’ বলে। শব্দব্যবহারে তাজউদ্দীন ছিলেন খুবই সতর্ক। এর মধ্যে ওই ১৭ এপ্রিলই পাকিস্তানের আরেক বিপর্যয় ঘটে। কলকাতায় তাদের ডেপুটি হাইকমিশনার হোসেন আলী তঁাদের অর্থ তহবিলসহ বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে দূতাবাস ভবনে বাংলাদেশের পতাকা উড়িয়ে দেন। দিল্লির হাইকমিশনের দ্বিতীয় সচিব কে এম শেহাবুদ্দিন তার আগে ৬ এপ্রিল বাংলাদেশের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেন। অস্থায়ী সরকারের নেতাদের মধ্যে এবং সামরিক নেতৃত্বের মধ্যে নানা সময় অনৈক্য ও বিরোধ দেখা দেয়। কিন্তু ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সরকারের হস্তক্ষেপে ও মধ্যস্থতায় সে বিরোধ মুক্তিযুদ্ধের ক্ষতি করতে পারেনি। এক দিন পর অস্থায়ী সরকার একটি ‘নির্দেশাবলী’ প্রচার করে। কলকাতা থেকে সেটা মুদ্রিত হয়েছিল, কিন্তু তার কপি বাংলাদেশের ভেতরে ছেপে প্রচার করা হয়। তার ওপরে লেখা ছিল, ‘আল্লাহু আকবর—স্বাধীন বাংলার সংগ্রামী জনগণের প্রতি বাংলাদেশ সরকারের নির্দেশাবলী’। তাতে বলা হয়েছিল, ‘বাঙালীকে শোষণমুক্ত করে একটি নতুন সুখী-সমৃদ্ধ সমাজব্যবস্থা গড়ে তুলবার দৃপ্ত শপথ ও ব্রত নিয়ে বাঙালীর প্রাণপ্রিয় নেতা বঙ্গবন্ধুর আদর্শে ও নেতৃত্বে গত ১২ই এপ্রিল রাত্রে স্বাধীন বাংলাদেশ বেতার থেকে বাংলাদেশ সরকার ঘোষণা করা হয়েছে।’ ১০টি নির্দেশ শেষ করা হয় পবিত্র কোরআনের একটি আয়াতের অংশ দিয়ে, ‘“অতীতের চাইতে ভবিষ্যৎ নিশ্চয়ই সুখকর”। বিশ্বাস রাখুন, “আল্লাহর সাহায্য ও বিজয় নিকটবর্তী।”’
সৈয়দ আবুল মকসুদ: লেখক ও গবেষক।

‘কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন’ বজায় রাখতে হবে : আ ন ম মনিরুজ্জামান

প্রথম আলো * ভারতের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সমঝোতা স্মারক বিষয়ে চীনা মনোভাব নজরে পড়েছে কি?
আ ন ম মুনিরুজ্জামান * ওই সমঝোতা স্মারকের বিস্তারিত জানা যায়নি। আর চীনা প্রতিক্রিয়া আপাতত পরিষ্কার নয়। তবে তাদের সরকারি বা আধা সরকারি গ্লোবাল টাইমস বলেছে, চীনের দক্ষিণ এশীয় প্রভাবকে ভারত খর্ব করতে চাইলে চীন তা প্রতিহত করবে।
প্রথম আলো * বাংলাদেশ ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনার আমলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্ট্যাটাস অব ফোর্সেস অ্যাগ্রিমেন্ট (সোফা) সই করতে গেলে ভারত প্রতিবাদ করেছিল। আবার রাশিয়ার কাছ থেকে মিগ-২৯ কেনার সময় যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিল। কিন্তু এবার যুক্তরাষ্ট্র নীরব। মুনিরুজ্জামান* তারা একটি ক্রান্তিকাল পার করছে। তবে এই অঞ্চলে তাদের স্বার্থে বাধা এলে তারা বাধা দেবে।
প্রথম আলো * অনেকের মতে, দীর্ঘদিন ধরে ভারতের সঙ্গে যৌথ মহড়া ও প্রশিক্ষণের মতো সামরিক সহযোগিতা চলে আসছিল, তাকেই এবার লিখিত রূপ দেওয়া হয়েছে। দুই দেশের প্রতিরক্ষা কলেজের মধ্যে চুক্তি হয়েছে।
মুনিরুজ্জামান* যে সমঝোতা হয়েছে, তার একটা আঞ্চলিক নিরাপত্তাগত মাত্রা রয়েছে। বিশেষ করে চীন-বাংলাদেশ সম্পর্কের ওপর সেটা একটা সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে। এনডিসি ও ডিফেন্স স্টাফ কলেজের মধ্যে আরও অন্তত ১০টি দেশের সঙ্গে ছাত্র বিনিময় চলছে। তাই ভারতের সঙ্গে কেন চুক্তি করতে হলো, সেটাই প্রশ্ন। সামরিক চিন্তাচেতনায় যদি অন্য কারও প্রভাব পড়ে, সেটা আমাদের জাতীয় সামরিক স্বার্থের পক্ষে যাবে না।
প্রথম আলো * চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সামরিক ও ‘কৌশলগত অংশীদারত্বের’ সম্পর্ক থাকতে পারলে, ভারতের সঙ্গে একই ধরনের চুক্তি নয় কেন?
মুনিরুজ্জামান* চীন-বাংলাদেশ সামরিক সহযোগিতা আর ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক মৌলিকভাবে আলাদা। ভারতীয় নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা একটি সম্ভাব্য চীন-ভারত সংঘাত অরুণাচল প্রদেশকে নিয়ে দেখতে পান। তাঁরা মনে করেন, বাংলাদেশের ভৌগোলিক সাহায্য ছাড়া তেমন একটি সংঘাতে জয়ী হওয়া ভারতের জন্য কঠিন হবে। এ কারণে নতুন প্রতিরক্ষা সমঝোতার অন্যতম লক্ষ্য হতে পারে, তেমন সংঘাতে ভারতের পক্ষে বাংলাদেশকে জড়িয়ে ফেলা। সে কারণেই এ রকম চুক্তি জাতীয় স্বার্থে একেবারেই সমীচীন নয়, বরং ঝুঁকিপূর্ণ।
প্রথম আলো * অরুণাচল ভারতের অংশ হওয়ার পর চীন বলেছিল, তারা কোনো দিনই এটা মানবে না। ভারত ও চীনের মধ্যে এ ধরনের অনেক বিরোধ থাকা সত্ত্বেও তারা ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্পর্কের উন্নয়ন ক্রমাগতভাবে বাড়িয়ে চলেছে।
মুনিরুজ্জামান* এটা চীন সরকারের ঘোষিত জাতীয় নীতি। তারা বলেছে, এ ধরনের বিরোধ অমীমাংসিত থাকলেও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নে বাধা হবে না।
প্রথম আলো * আপনি কি মনে করেন যে ভারতের সঙ্গে সামরিক চুক্তি হওয়ার কারণে চীন অবশ্যই বাংলাদেশবিরোধী একটা অবস্থান নিতে পারে?
মুনিরুজ্জামান* সেটা না-ও ঘটতে পারে। কারণ, বাংলাদেশে তাদের যে ধরনের ব্যবসা-বাণিজ্য ও অন্যান্য স্বার্থ রয়েছে, তার গুরুত্ব ও তাৎপর্য অনেক বেশি। বিশেষ করে তাদের ওয়ান রোড ওয়ান বেল্ট বাস্তবায়নের পথে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারত্ব রয়েছে। কিন্তু তাই বলে এর বিভিন্নমুখী নেতিবাচক প্রভাব নাকচ করা যাবে না।
প্রথম আলো * ভারতের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ কি লাভবান হতে পারে না?
মুনিরুজ্জামান* না, আমি মনে করি, সেই বিষয়ে যথেষ্ট উদ্বেগ রয়েছে। কারণ, ক্ষুদ্র প্রতিবেশী তার বৃহৎ প্রতিবেশীর সঙ্গে এ ধরনের যত বেশি চুক্তিতে যাবে, ততই তার ‘ম্যানুভারিং স্পেস’ সংকুচিত হবে বা বাধাগ্রস্ত হবে। বাংলাদেশের মতো ক্ষুদ্র রাষ্ট্রের পক্ষে এ ধরনের পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হতে পারে। এতে জাতীয় স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই ভারতের সঙ্গে এ ধরনের কোনো সামরিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়া আমাদের উচিত নয়।
প্রথম আলো * তাহলে চীনের সঙ্গে কেন উচিত?
মুনিরুজ্জামান* ভারত তিন দিক থেকে বাংলাদেশকে বেষ্টন করে আছে। এ কারণে তার সঙ্গে সম্পর্কের সমীকরণ অন্যান্য দেশ থেকে ভিন্ন হতে বাধ্য।
প্রথম আলো * ভারতের সঙ্গে যে সামরিক সমঝোতা হয়ে গেছে, তার কোনো সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব এড়ানোর উপায় কী?
মুনিরুজ্জামান* বাংলাদেশকে অবশ্যই তার স্ট্র্যাটেজিক অটোনমি বা কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন বজায় রাখতে হবে।
প্রথম আলো * ৫০ কোটি ডলারের ঋণের যে চুক্তি হয়েছে, তার আওতায় বাংলাদেশ কী ধরনের সুবিধা পেতে পারে?
মুনিরুজ্জামান* ওই চুক্তির আওতায় কী ধরনের ভারতীয় সরঞ্জাম বাংলাদেশে আনা হবে, তা আমার জানা নেই। তবে ভারত একটি অস্ত্র আমদানিকারক দেশ। উপরন্তু তারা তাদের অস্ত্রের গুণগত মান সম্পর্কে সুনাম অর্জন করতে পারেনি।
প্রথম আলো * ভিয়েতনামের সঙ্গে ভারত সম্প্রতি একইভাবে ৫০ কোটি ডলারের একটি ঋণচুক্তি সই করেছে। ভিয়েতনামের পর বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের চুক্তি সই করার মধ্যে কোনো মিল-অমিল দেখতে পান কি?
মুনিরুজ্জামান* ভিয়েতনাম ও বাংলাদেশের মধ্যে এ ক্ষেত্রে তুলনা করার আদৌ কোনো সুযোগ নেই। বরং বাস্তবতা হলো, দক্ষিণ চীন সমুদ্রে ভিয়েতনামের সঙ্গে চীনের প্রকাশ্য বৈরিতা রয়েছে। সুতরাং ভারত চীনের শক্তিকে চ্যালেঞ্জ করেছে, এমন একটি দেশের সঙ্গে ওই ঋণচুক্তি করেছে। আর বাংলাদেশের ক্ষেত্রে বিষয়টি একেবারেই বিপরীত। কারণ, চীনের প্রতিরক্ষা প্রতিনিধিদল যখন ঢাকা সফর করেছে, তখন বাংলাদেশ তাদের আশ্বস্ত করেছে যে দক্ষিণ চীন সমুদ্রে নেওয়া চীনের নীতির প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন রয়েছে।
প্রথম আলো * আপনাকে ধন্যবাদ।
মুনিরুজ্জামান* আপনাকেও ধন্যবাদ।

ইবিতে বিদ্যুতের মারাত্মক অপচয়

আর্থিক সংকট কাটিয়ে উঠতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসন সাশ্রয় নীতি অবলম্বন করেছে। বিভিন্ন খাতে অর্থ ব্যয় করার সময় একাধিক বার পর্যালোচনা করা হচ্ছে। যেন অর্থ অপচয় না হয়। প্রশাসন সাশ্রয় নীতির কথা বললেও সরেজমিন পর্যবেক্ষণে উঠে আসে ভিন্ন চিত্র। ফাঁকা শ্রেণীকক্ষে ঘন্টার পর ঘন্টা ঘুরছে ফ্যান, চলছে এসি। অ্যাকাডেমিক এবং প্রশাসনিক বিভিন্ন অফিসেরও একই অবস্থা। সরেজমিন পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, শিক্ষক ক্লাস শেষ করে শ্রেণীকক্ষ ত্যাগ করার সাথে শিক্ষার্থীরাও শ্রেনীকক্ষ ত্যাগ করে। কিন্তু শ্রেণীকক্ষের ফ্যান এবং লাইটগুলো চলতেই থাকে। দেখা যায়, প্রতিটি বড় কক্ষে ১২ থেকে ১৫টি ফ্যান এবং ১০ থেকে ১৪টি বৈদ্যুতিক বাল্ব রয়েছে। অফিসগুলোতেও রয়েছে পর্যাপ্ত ফ্যান ও বাল্ব। সম্প্রতি অনুষদ ভবনের ১০৩ নম্বর রুমে দ্পুুর সাড়ে ১২টার দিকে গিয়ে দেখা যায় কক্ষের বৈদ্যুতিক পাখাগুলো ঘুরছে। অথচ কক্ষে কোনো শিক্ষক-শিক্ষার্থী নেই। টিএসসিসির নিচ তলায় এবং দ্বিতীয় তলার করিডোরের শ্রেণীকক্ষগুলোতে নিয়মিতই এমন দৃশ্য দেখা যায়। অনেক ক্ষেত্রে এসি বা ফ্যান-লাইট বন্ধ না করেই দিন শেষে কক্ষের তালা ঝুলিয়ে চলে যান বিভাগের কর্মচারীরা। সে ক্ষেত্রে সারা দিন সারা রাত যত সময় বিদ্যুত থাকে ততো সময় ফ্যান লাইটগুলো ঘুরতেই থাকে। এতে বিদ্যুত অপচয় মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। একই অবস্থা বিভিন্ন অ্যাকাডেমিক অফিসগুলোর। ঘন্টার পর ঘন্টা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা রুমে না থাকলেও ফ্যান চলতেই থাকে। প্রশাসনিক ভবনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কক্ষের ফ্যান-লাইট বন্ধ না করেই আম বাগানে চা খেতে আসে।
মূলত বিদ্যুত অপচয়ের কারণেই প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকা অতিরিক্ত বিল দিতে হচ্ছে প্রশাসনকে। বর্তমান বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যুত বিল সংক্রান্ত যাবতীয় দায়িত্ব পালন উপ-প্রধান প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম। অফিসিয়াল তথ্য মতে, ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ১৪ লাখ ৪০ হাজার ২৪১ টাকা, অক্টোবরে ১৯ লাখ ৩৬ হাজার ৬৪৯ টাকা, নভেম্বরে ১১ লাখ ৯ হাজার ৯৬৭ টাকা, ডিসেম্বরে ১৬ লাখ ৫০ হজার ১৪৯ টাকা, জানুয়ারি ২০১৭ তে ১১ লাখ ৫ হাজার ৬৫ টাকা এবং ফেব্রয়ারিতে ১০ লাখ ৫৭ হাজার ৯০০ টাকা বিদ্যুত বিল পরিশোধ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়। গরমের সময় বিলের পরিমাণ বেড়ে যায়। তবে গরম আর শীতের মৌসুমের বিলের পরিমাণে খুব বেশি পার্থক্য দেখা যায়নি। কারণ অনুসন্ধানে জানা যায়, গরমে যেমন এসি বা ফ্যান ব্যবহার করা হয়। শীতে তেমন বৈদ্যুতিক হিটার ব্যবহার করে রুমের উষ্ণতা বৃদ্ধি করা হয়। ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী এ কে সালাম বলেন, ‘আর্থিক সংকটের একটি কারণ বিদ্যুত অপচয়। প্রতিমাসে আমাদেরকে ১২-১৮ লাখ টাকা বিদ্যুৎ বিল দিতে হয়। নিজেদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করে এ সমস্যার সমাধান করা যেতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকেও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বিদ্যুত ও পানির অপচয় রোধে বক্তব্য দেওয়া যেতে পারে।’ শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘এ ক্ষেত্রে ব্যক্তিসচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। সম্মানিত শিক্ষকবৃন্দও ক্লাসে পাঠদানের সময় বিদ্যুত অপচয়ের না করার বিষয়ে সচেতনতামূলক শিক্ষা দিতে পারেন। নিজের সম্পদ নিজে হেফাজত করাই সর্বোত্তম। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মনিটরিং সেলও করা যেতে পারে। তবে এতে খুব ভালো ফল পাওয়া যাবে বলে মনে হয় না।’

বরিশালের অভ্যন্তরীণ দুই রুটে বাস চলাচল বন্ধ

বরিশালের অভ্যন্তরীণ বানারীপাড়া ও হিজলা রুটে বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে বাস মালিক সমিতি। পার্কিং চার্জ বৃদ্ধি ও নির্দিষ্ট স্থানে পার্কিং করতে না দেয়ার প্রতিবাদে আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে জনগুরুত্বপূর্ণ এ দুই রুটে বাস চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়। নথুল্লাবাদ বাস মালিক সমিতি সাধারণ সম্পাদক কিশোর কুমার দে জানান, বানারীপাড়ায় নির্দিষ্ট স্থানে পার্কিং করতে না দেয়াতে তারা ওই রুটে বাস চলাচল বন্ধ রেখেছেন। অপরদিকে হিজলা পৌরসভা কর্তৃপক্ষ ১০ টাকা পার্কিং চার্জ বৃদ্ধি করায় ওই রুটেও বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এর সমাধান না হলে বুধবার থেকে অভ্যন্তরীণ আটটি রুটের বাস চলাচল অর্নিদিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

মিয়ানমারে পানি উৎসবে নিহত ২৮৫, আহত ১০৭৩

মিয়ানমারে চার দিনব্যাপী পানি উৎসব চলাকালে দেশব্যাপী ২৮৫ জনের প্রাণহানি ও এক হাজার ৭৩ জন আহত হয়েছেন। আজ মঙ্গলবার মিয়ানমারের সরকারি সংবাদ মাধ্যম গ্লোবাল নিউ লাইট একথা জানায়। গত বছরের এ উৎসব চলাকালে যত লোকের প্রাণহানি ঘটে এ বছর তার চেয়ে ১৩ জন বেশি মারা যান। এদিকে এ পানি উৎসব চলাকালে বিভিন্ন ঘটনায় মোট এক হাজার দুই শ' মামলা হয়েছে। এদের মধ্যে নেপিতাওয়ে ১০ জন, ইয়াংগুনে ৪৪ জন, মান্দালেতে ৩৬ জন, সাঙ্গাইং অঞ্চলে ২৬ জন, তানিনথারি অঞ্চলে ১১ জন, বাগো অঞ্চলে ৩৭ জন, মাগওয়ে অঞ্চলে ১১ জন, মন স্টেটে ২০ জন, রাখাইনে ১৭ জন, শান স্টেটে ২৯ জন ও আইয়াওদি অঞ্চলে ২৮ জনের মৃত্যু হয়। গত বছর এ উৎসব চলাকালে মোট ২৭২ জনের প্রাণহানি ও এক হাজার ৮৬ জন আহত হন।

উ. কোরিয়াকে চাপে রাখতে হবে : অ্যাবে

জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো অ্যাবে উত্তর কোরিয়াকে ঘিরে সৃষ্ট সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সফররত মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সের সাথে আলোচনা শুরুর প্রেক্ষাপটে মঙ্গলবার অ্যাবে এ গুরুত্বরোপ করেন। অ্যাবে বলেন, ‘সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং পাশাপাশি কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ওপর আমাদের গুরুত্বারোপ করা উচিত।’ তিনি আরো বলেন, ‘কেবল আলোচনার জন্যে আলোচনা অর্থহীন, একইসাথে চাপ প্রয়োগও জরুরি।’

রাবিতে চারুকলার ভাস্কর্য তছনছ করেছে শিক্ষার্থীরাই

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে চারুকলা অনুষদের ভাস্কর্যের নিরাপত্তা ও যথাযথ সংরক্ষণ না করায় সকল ভাস্কর্য উল্টে দিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন কতিপয় শিক্ষার্থী। গতকাল সোমবার দিবাগত রাতে এ ঘটনা ঘটায় তারা। এদিকে আজ মঙ্গলবার সকালে এ দৃশ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নজরে আসে। পরে অবশ্যই বিভাগের শিক্ষার্থীরা স্বীকার করে নেয়। জানতে চাইলে ভাস্কর্য বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী ইমরান হোসেন অনিক ও ইউসুফ হোসেন স্বাধীন দাবী করেন, ‘রাতে আমাদের বিভাগের ৪০-৫০ জন শিক্ষার্থী নিরাপত্তা বেষ্টানী ও ভাস্কর্য রাখার গ্যালারী না থাকায় আমরা মূর্তিগুলো উল্টে দিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছি। এই প্রতিবাদ বিভাগের উন্নতির জন্যই করেছি, অন্যকোনো উদ্দেশ্য নেই।’ এব্যাপারে ভাস্কর্য বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ড. মোস্তফা শরীফ আনোয়র বলেন, ‘আমরা সকালে এই ঘটনা দেখার পরে জরুরি মিটিংয়ে বসেছিলাম। আমরা সেখান থেকে নিশ্চিত হয়েছি বিভাগের ৭-৮জন শিক্ষার্থী এই কাজের সাথে জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে একাডেমিক কাউন্সিলের মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আর এঘটনায় আমরা সামগ্রীকভাবে নিন্দা জানাচ্ছি।’ এসময় তিনি বলেন, ‘কোথাও ভাস্কর্য গ্যালারিতে রাখা হয় না।
সব সময় বাহিরে রাখা হয়, যা দেখে শিক্ষার্থীরা শিখতে পারে।’ এদিকে সরেজমিনে চারুকলা অনুষদে যেয়ে দেখা যায়, প্রায় তিনশতাধিক ভাস্কর্য মাটিতে উল্টো অবস্থায় পড়ে আছে। অনেক ভাস্কর্য আবার উল্টে দেওয়াতে ভেঙ্গে গেছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত চিত্রকলা বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী আল-আমিন প্রধান তারেক বলেন, ‘ভাস্কর্য ভেঙ্গে প্রতিবাদ হতে পারে না। আর এটা কোনো প্রতিবাদের ভাষাও নয়। প্রতিবাদের দরকার হলে আমরা সকলে মিলে বিষয়টির প্রতিবাদ করতাম অন্য পন্থায়।’ ঘটনাস্থলে উপস্থিত ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক ও বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব প্রফেসর মলয় কুমার ভৌমিক বলেন, ‘সারাদেশে উগ্রবাদী তৎপরতা বাড়ছে। আমরা প্রথম ধারণা করেছিলাম এটা সাথে এই ধারণার সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে। কিন্তু শিক্ষর্থীরা এভাবে এমন কাজ করতে পারে না।’ চারুকলা অনুষদের ডীন প্রফেসর ড. মো. মোস্তফিজুর রহমান বলেন, ‘এখন পর্যন্ত বুঝা যাচ্ছে, কতিপয় শিক্ষার্থী চাওয়া-পাওয়ার ক্ষোভের জায়গা থেকে এটা করেছে।’ এদিকে এঘটনায় প্রতিবাদে জানিয়ে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ।

বিকেলে খালেদা জিয়ার সাথে নরওয়ে রাষ্ট্রদূতের বৈঠক

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সাথে বৈঠক করবেন বাংলাদেশে নিযুক্ত নরওয়ের রাষ্ট্রদূত সিডশেল ব্লেকেন। আজ মঙ্গলবার বিকেল ৫টায় বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে এই বৈঠক হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান।

রাজধানীর গণপরিবহনে নৈরাজ্য বন্ধ করুন : জাতীয় কমিটি

বাস-মিনিবাসের কথিত সিটিং সার্ভিসের (মোট আসনের সমসংখ্যক যাত্রী) বিরুদ্ধে চলমান অভিযানে রাজধানীজুড়ে সৃষ্ট নৈরাজ্য ও জনভোগান্তি অবিলম্বে বন্ধের দাবি জানিয়েছে নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটি। আইন লঙ্ঘন করে অতিরিক্ত যাত্রী বহন, ভাড়া আদায় ও বাস-মিনিবাস বন্ধ রেখে কৃত্রিম পরিবহন সংকট সৃষ্টিকারী মালিক-শ্রমিকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিও জানিয়েছে দীর্ঘদিন ধরে একটি নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবিতে সোচ্চার বেসরকারি এই সংগঠনটি। আজ মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে সংগঠনের উপদেষ্টা ও প্রবীণ রাজনীতিবিদ মনজুরুল আহসান খান এবং সাধারণ সম্পাদক আশীষ কুমার দে সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষের প্রতি এই আহ্বান জানান। বিবৃতিতে বলা হয়, সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির পরামর্শে এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) গত রোববার থেকে কথিত সিটিং সার্ভিসের নামে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও ত্রুটিপূর্ণ যানবাহনের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা শুরু করে। কিন্তু পূর্বঘোষিত এই অভিযান শুরুর দিন সকাল থেকেই রাজধানীর সড়ক পরিবহন খাতে দেখা দেয় চরম বিশৃঙ্খলা, নৈরাজ্য ও জনদুর্ভোগ। জাতীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, এক শ্রেণির মালিক-শ্রমিকের খামখেয়ালীপনায় গত তিনদিন ধরে প্রায় ৪০ শতাংশ বাস-মিনিবাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে বিদ্যমান গণপরিবহন সংকট আরো বেড়ে গেছে। অন্যদিকে, সিটিং সার্ভিস বন্ধ হওয়ায় চলাচলরত বাস-মিনিবাসগুলোতে নির্ধারিত আসনের দ্বিগুণ যাত্রী বহন করা হচ্ছে। এতে সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তি তীব্র আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধসহ কর্মজীবী নারীরা অবর্ণনীয় ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। বিবৃতিদাতারা বলেন, চলমান অভিযানের কারণে সিটিং সার্ভিসগুলো ইতোমধ্যে লোকাল সার্ভিস হয়ে গেছে।
এসব বাস-মিনিবাসে প্রতিটি স্টপেজ থেকে যাত্রী ওঠা-নামা করছে; তবে আগের সিটিং সার্ভিসের ভাড়াই নেওয়া হচ্ছে। অথচ অতিরিক্ত যাত্রী বহন ও বাড়তি ভাড়া আদায় বন্ধ করা হচ্ছে না। এতে একদিকে সাধারণ জনগণ প্রতারণার শিকার হচ্ছে, অন্যদিকে পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা বাড়তি মুনাফা অর্জন করছেন। বিবৃতিতে বলা হয়, মোটরযান চলাচল অধ্যাদেশে ইচ্ছাকৃত গণপরিবহন চলাচল বন্ধ রাখলে রুট পারমিট বাতিলসহ বিভিন্ন ধরনের শাস্তির বিধান রয়েছে। অথচ যেসব মালিক গত তিনদিন যানবাহন বন্ধ রেখে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না বিআরটিএ। এছাড়া ভ্রাম্যমান আদালত অতিরিক্ত ভাড়া আদায়সহ বিধি লঙ্ঘনকারী অনেক যানবাহনের কাছ থেকে জরিমানা আদায় ও শ্রমিকদের বিরুদ্ধে কারাদ-াদেশ দিলেও কোনো পরিবহন মালিককে সরাসরি শাস্তির আওতায় আনা হয়নি। সাময়িক জনদুর্ভোগ সত্ত্বেও রাজধানীসহ সারা দেশে সড়ক পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে চলমান অভিযান অব্যাহত রাখার পক্ষে মত দেন জাতীয় কমিটির নেতারা। তবে গাড়ি বন্ধ রেখে কৃত্রিম পরিবহন সংকট সৃষ্টি এবং জোরপূর্বক অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের সঙ্গে জড়িত মালিক ও শ্রমিকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণসহ সংশ্লিষ্ট যানবাহনের রুট পারমিট বাতিলের দাবি জানানো হয় বিবৃতিতে। সেই সঙ্গে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশনের (বিআরটিসি) বহরে পর্যাপ্ত সংখ্যক বাস যুক্ত করে রাষ্ট্রীয় এ বাণিজ্যিক সংস্থাকে শক্তিশালী ও গতিশীল করার আহ্বান জানান বিবৃতিদাতারা।

রামপাল প্রকল্পের কারণে পুরো বাংলাদেশই অরক্ষিত হবে : আনু মুহাম্মদ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং তেল-গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেছেন, ‘সকল বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ থেকে এটা নিশ্চিত হয়েছে যে, রামপাল প্রকল্পসহ সুন্দরবনবিনাশী অপতৎপরতায় পুরো বাংলাদেশই অরক্ষিত হবে, ভয়াবহ মাত্রায় বিপদাপন্ন হবে। তবে বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, খুলনা, বরগুনা, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, পটুয়াখালি, ভোলা, বরিশালসহ উপকূলীয় জেলাগুলোতে ক্ষতির পরিমাণ হবে সবচাইতে বেশি। এই ক্ষতি নদীর পানি ও বায়ু দূষণের মাধ্যমে, প্রাকৃতিক দুর্যোগ তীব্রতর করবার মাধ্যমে দেশের আরও বহু অঞ্চলে আঘাত করবে।’ সুন্দরবন রক্ষায় আগামী ২০ এপ্রিল খুলনায় উপকূলীয় মহাসমাবেশকে সামনে রেখে আজ মঙ্গলবার তেল-গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি আয়োজিত সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। উপকূলীয় অঞ্চলের প্রায় ৫০ লাখ মানুষের জীবন-জীবিকা ও কমপক্ষে ৫ কোটি মানুষের জীবন ও সম্পদের জন্য হুমকি রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র বাতিল এবং সুন্দরবনবিনাশী অপতৎপরতা বন্ধ, পাটশিল্পের বিকাশ, মৎস্যজীবী ও বনজীবীদের জীবন ও জীবিকার নিরাপত্তাসহ উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ ও প্রকৃতি বান্ধব উন্নয়ন পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন, গ্যাস রফতানির চুক্তি বাতিলসহ জাতীয় কমিটির ৭ দফা বাস্তবায়নের দাবীতে ২০ এপ্রিল বেলা সাড়ে তিনটায় খুলনা শহীদ হাদিস পার্কে এ মহাসমাবেশ হবে। সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ আরো বলেন, সরকার একদিকে ঋণের বোঝা জনগণের কাঁধে ফেলে অস্ত্র ক্রয়ের চুক্তি করছে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার নামে, অন্যদিকে আরও ঋণের বোঝা জনগণের কাঁধে ফেলে বাংলাদেশের প্রধান প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সুন্দরবন ধ্বংসের চুক্তি নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। এগুলো জনগণের সাথে ভয়ংকর প্রতারণা ও নিষ্ঠুর রসিকতা ছাড়া আর কিছু নয়। আর্থিক বোঝা, বেশি দামে বিদ্যুৎ সর্বোপরি সুন্দরবন বিনাশ করেও রামপাল প্রকল্প নিয়ে সরকারের এই ভূমিকা অবিশ্বাস্য মাত্রায় জাতীয় স্বার্থবিরোধী। আমরা সরকারের এই ভূমিকায় আবারও ধিক্কার জানাই। বাংলাদেশের মানুষ এই দেশের প্রধান প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সুন্দরবন ও নদী বিনাশ কোনোভাবেই মেনে নেবে না।’ পুরানা পল্টস্থ মুক্তিভবনের প্রগতি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এ সংবাদ সম্মেলনে সূচনা বক্তব্য রাখেন জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী শেখ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। উপস্থিত ছিলেন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মধ্যে টিপু বিশ্বাস,
রুহিন হোসেন প্রিন্স, বজলুর রশীদ ফিরোজ, জোনায়েদ সাকী, সাইফুল হক, শুভাংশু চক্রবর্তী, মোশারেফ হোসেন নান্নু, শহিদুল ইসলাম সবুজ, নাসির উদ্দিন নাসু, মাহিন উদ্দিন চৌধুরী লিটন, প্রকৌশলী মাহবুব সুমন প্রমুখ। সম্মেলনে আরো বলা হয়, ‘বিদ্যুৎ সংকট সমাধানের মুখোশ দিয়েই এ্ সর্বনাশা প্রকল্প জায়েজ করবার চেষ্টা চলছে। অথচ এরচাইতে কম দামে পরিবেশসম্মতভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদনের অনেক পথ আছে। যেমন, বাংলাদেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট সমাধানে বঙ্গোপসাগরের গ্যাস সম্পদ আগামি কয়েক দশকে প্রধান অবলম্বন হতে পারে। এই সম্পদ অনুসন্ধান, উত্তোলন ও ব্যবহারের যথাযথ নীতি গ্রহণ করলে সুন্দরবিনাশী বা দেশধ্বংসী কোনো প্রকল্পের যৌক্তিকতা দেখানো যায় না। বরং গ্যাসসম্পদের ব্যবহার করে সুলভে, পরিবেশবান্ধব উপায়ে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছানোও সম্ভব হয়, উৎপাদনশীল খাতও ব্যাপক গতি পেতে পারে। অথচ সরকার উল্টোযাত্রা করছে। নিজস্ব সম্পদ দেশের কাজে শতভাগ ব্যবহারের নীতিমালা গ্রহণ না করে উচ্চ দামে এবং রফতানিমুখি ধারা রেখে বিদেশি কোম্পানির সাথে চুক্তি করা হচ্ছে। এতে এই সম্পদ দেশের কাজে লাগানো সম্ভব হবে না বরং এই চুক্তির কারণে দেশের ওপর আরো আর্থিক বোঝা বাড়বে। সম্পদও হারাবে দেশ।’

এক টুকরো কাচা আদাই হাজার রোগের ওষুধ

রোগ-ব্যাধির যন্ত্রণায় মুঠো মুঠো ওষুধ খাচ্ছেন? বিপদ বাড়ছে, কিন্তু কমছে না? আপনার হাতের কাছেই আছে মহৌষধ। কাঁচা আদা। একটুকরো কাঁচা আদাই হাজারো রোগ-ব্যাধির ওষুধ। জ্বর, ঠাণ্ডা, সর্দি, কাশি, খাওয়ার ইচ্ছে নেই? হাত-পায়ের জয়েন্টে ব্যথা? বমি বমি ভাব বা মাথা ঘুরছে? হাতের কাছেই চটজলদি সমাধান, একটু করো কাঁচা আদা। আদা কুচি বা আদা বাটা রান্নায় আনে দারুণ টেস্ট। একটু আদার কুচি বা আদা থেঁতো করে চায়ে দিলে বদলে যায় চায়ের স্বাদ। এসবই আমরা কমবেশি জানি। কিন্তু একটুকরো কাঁচা আদাই মহৌষধ। ১০০ গ্রাম আদায় রয়েছে ৮০ ক্যালরি এনার্জি। কার্বোহাইড্রেট ১৭ গ্রাম। ফ্যাট ০.৭৫ গ্রাম। পটাসিয়াম ৪১৫ মিলিগ্রাম এবং ৩৪ মিলিগ্রাম ফসফরাস। অর্থাৎ‍, আদা মানেই এক সুষম সবজি। আদার অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল এজেন্ট শরীরের রোগজীবাণুকে ধ্বংস করে। তবে রান্না করার চেয়ে কাঁচা আদাই বেশি উপকারি। খাবার দেখলেই অসুস্থ বোধ করছেন? খাওয়ার আগে ১ চা চামচ আদা খেলেই ফেরে মুখের রুচি। খানিকটা অলিভ অয়েলে আদা ছেঁচে পাঁচ মিনিট ফুটিয়ে নিয়ে ঠাণ্ডা করে হাত-পায়ের জয়েন্টে মালিশ করলেই, ব্যথা উধাও। প্রতিদিন ১ ইঞ্চি আদা কুচি খাওয়ার অভ্যাস সাইনাস প্রতিরোধ করে। সিজন চেঞ্জের সময় অ্যাজমা, মাইগ্রেনের সমস্যা ভোগায়। এই সময় ডায়েটে আদা রাখলে সমস্যার চটজলদি সমাধান।
আর্টারি ওয়ালে ব্যাড কোলেস্টেরল ও ফ্যাটি অ্যাসিড জমে করোনারি হার্ট ডিজিজের সমস্যা হয়। ফলে রক্ত চলাচলে অসুবিধে হয়। আদা রক্ত চলাচলে সাহায্য করে। লিভার ও রক্তে ব্যাড কোলেস্টেরল জমা আটকায়। স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমায়। অতিরিক্ত মেদ ঝরায়। ডায়াবেটিস জনিত কিডনির জটিলতা দূর করে আদা। অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর আদা ক্যান্সার ও হার্টের সমস্যা প্রতিরোধ করে। বিশেষ করে ওভারিয়ান ক্যান্সার প্রতিরোধে আদা উপকারি। কোলন ক্যান্সার প্রতিরোধ করে। ত্বকে পড়ছে বয়সের ছাপ? প্রতিদিন সামান্য কাঁচা আদা চিবিয়ে খেতে হবে। আদায় রয়েছে অ্যান্টিএইজিং উপাদান ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা দেহের টক্সিন দূর করে ও রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে ত্বকে বয়সের ছাপ প্রতিরোধ করে। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে এড়িয়ে চলতে হবে আদা। যারা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত ওষুধ খান, তাদের ডায়েট চার্ট থেকে চিরতরে ডিলিট করে দিতে হবে আদা। একই কথা প্রযোজ্য উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের ক্ষেত্রেও। অন্তঃসত্ত্বাদের এড়িয়ে চলতে হবে আদা। বিশেষ করে প্রেগনেন্সির শেষ সপ্তাহগুলোতে আদা খাওয়া কখনই উচিত নয়। প্রিম্যাচিওর শিশু জন্মের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। পিত্তথলিতে পাথর থাকলে বা খাদ্যনালিতে ঘা হলে আদা খাওয়া চলবে না। সূত্র : ইন্টারনেট

কুমিল্লার মেয়র সাক্কুর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

দুর্নীতির মামলায় কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়র ও বিএনপির নেতা মনিরুল হক সাক্কুর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। একই সঙ্গে তার মালামাল ক্রোকেরও আদেশ দেয়া হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সকালে ঢাকা মহানগরের জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মো. কামরুল হোসেন মোল্লা এ আদেশ দেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সরকারি কৌঁসুলি মোশাররফ হোসেন কাজল সংবাদমাধ্যমকে জানান, আজ এ মামলায় সাক্কুর বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নিয়ে বিচারক এ আদেশ দেন। এ ছাড়া আজ সাক্কুর স্ত্রীকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।
মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণ অনুযায়ী, ২০০৮ সালের ৭ জানুয়ারি দুদকের সহকারী পরিচালক শাহীন আরা মমতা সাক্কু ও তার স্ত্রী আফরোজা জেসমিনের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও তথ্য গোপন করার অভিযোগে রমনা থানায় মামলা করেন। দীর্ঘ আট বছর তদন্ত শেষে গত বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি দুদকের সহকারী পরিচালক নুরুল হুদা আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। তবে মামলা থেকে সাক্কুর স্ত্রীকে অব্যাহতি দেয়ার আবেদন জানানো হয়।

৩ দিনের সফরে ভুটানের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর ঢাকা ত্যাগ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ সকালে তিন দিনের সরকারি সফরে ভুটানের রাজধানী থিম্পুর উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছেন। সফরকালে প্রধানমন্ত্রী ভুটানে অটিজম এবং নিউরোডেভেলপমেন্ট ডিসঅর্ডার বিষয়ক একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দেবেন এবং ভুটানের রাজা জিগমে খেসার ন্যামগেল ওয়াংচুক ও প্রধানমন্ত্রী তেসেরিং তোবগের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় ও আঞ্চলিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন বলে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম বাসস’কে জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের নিয়ে দ্রুক এয়ারের একটি ভিভিআইপি ফ্লাইট আজ সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করে। বিমানবন্দরে শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ আসম ফিরোজ, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী এবং মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো: শফিউল আলম প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী, প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালিক, অটিজম এবং নিউরোডেভেলপমেন্ট ডিসঅর্ডার বিষয়ক সরকারের জাতীয় উপদেষ্টা কমিটির চেয়ারপার্সন সায়মা ওয়াজেদ হোসেন এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হয়েছেন। আগামীকাল থেকে ভুটানের রাজধানী থিম্পুতে অটিজম এবং নিউরোডেভেলপমেন্ট ডিসঅর্ডার বিষয়ক তিন দিনের আন্তর্জাতিক সম্মেলন শুরু হবে। বুধবার সকালে শেখ হাসিনা গেস্ট অব অনার হিসেবে ‘অটিজম ও নিউরোডেভেলপমেন্টাল ডিসঅর্ডার’ শীর্ষক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।
বিকালে শেখ হাসিনা টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রার অংশ হিসেবে অটিজম ও অন্যান্য নিউরোডেভেলপমেন্ট সমস্যার যথাযথ সমাধানে সক্ষমতা অর্জন শীর্ষক উচ্চ পর্যায়ের এক আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করবেন। বাংলাদেশ ও ভুটানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় যৌথভাবে এ সম্মেলনের আয়োজন করছে। এতে কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে সূচনা ফাউন্ডেশন (সাবেক গ্লোবাল অটিজম), অ্যাবিলিটি ভুটান সোসাইটি (এবিএস) ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া কার্যালয়। সম্মেলনের প্রতিপাদ্য হচ্ছে- ‘এএসডি ও অন্যান্য নিউরোডেভেলপমেন্টাল সমস্যায় ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের জন্য কার্যকর ও টেকসই বহুমুখী কর্মসূচি’। সম্মেলনে উদ্বোধনী ও সমাপনী অনুষ্ঠান ছাড়াও কয়েকটি কারিগরি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। সরকারি নেতৃবৃন্দ, নীতিনির্ধারক, বিশেষজ্ঞরা সম্মেলনে অটিজম সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে কৌশলগত দিক নিয়ে আলোচনা করবেন। ভুটানের রাজা জিগমে খেসার ন্যামগেল ওয়াংচুক ও রানী জেটসান পেমার সঙ্গে ভুটানের রাজপ্রসাদে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাত হবে। ভুটানের প্রধানমন্ত্রী তেসেরিং তোবগে এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পূর্বে দু’দেশের মধ্যে জলবিদ্যুৎ, যোগাযোগ এবং ব্যবসা-বাণিজ্য বিষয়ে ৬টি চুক্তি স্বাক্ষরের কথা রয়েছে। শেখ হাসিনা হেজো’তে বাংলাদেশ দূতাবাসের ভিত্তিপ্রস্তরের ফলক উন্মোচন করবেন। প্রধানমন্ত্রী আগামীকাল তার সম্মানে ভুটানের রাজা ও রানীর দেয়া এক ব্যক্তিগত ভোজেও যোগ দেবেন। প্রধানমন্ত্রী তার ৩ দিনের সফর শেষে বৃহস্পতিবার সকালে দেশে ফিরবেন। সূত্র: বাসস

আন্তঃবাহিনী ক্বিরাত ও আযান প্রতিযোগিতার উদ্বোধন

বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ‘আন্তঃবাহিনী ক্বিরাত ও আযান প্রতিযোগিতা-২০১৭ মঙ্গলবার ঢাকার মিরপুরস্থ লালাসরাই নাবিক কলোনী মসজিদে শুরু হয়েছে। প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সহকারী বিমান বাহিনী প্রধান (মেইনটেন্যান্স) এয়ার ভাইস মার্শাল এম মাজহারুল ইসলাম, বিএসপি, পিএসসি। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে ঢাকাস্থ বানৌজা হাজী মহসীন নৌঘাঁটির অধিনায়ক ক্যাপ্টেন আরিফ আহমেদ মোস্তফাসহ তিন বাহিনীর পদস্থ সামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বিপুলসংখ্যক সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
চার দিনব্যাপী এ প্রতিযোগিতায় সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর মোট ৩০ জন প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করছেন। ক্বিরাত ও আযান প্রতিযোগিতায় একক ও দলীয় পর্যায়ে পয়েন্ট তালিকার ভিত্তিতে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান নির্ধারণ করা হবে। আগামী ২১ এপ্রিল, শুক্রবার জুমার নামাযের পর একই স্থানে প্রতিযোগিতার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হবে। সূত্র : আইএসপিআর

এরদোগানের প্রশংসায় সৌদি আরব

গণভোটে বিজয়ী হওয়ায় তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেফ তায়েফ এরদোগানকে অভিনন্দন জানিয়েছে সৌদি আরব। মন্ত্রিপরিষদের সাপ্তাহিক বৈঠকে সোমবার এরদোগানের নেতৃত্বের প্রশংসা করা হয়। খবর: আল-আরাবিয়ার। মন্ত্রিপরিষদ এরদোগান ও তার দেশের জনগণকে সংবিধান সংশোধনের পক্ষে রায় দেয়ায় অভিনন্দন জানায়।
সৌদি সরকার আশা করে, এ রায়ের মাধ্যমে তুরস্ক উন্নয়নের পথে আরও এগিয়ে যাবে। পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়ে তুর্কি জাতি এক নতুন স্তম্ভে পা রাখল। এর আগে গণভোটে বিজয়ের পর সোমবার এরদোগানকে ফোন করে অভিনন্দন জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সংবিধান সংশোধনে তুরস্কের ৫১ ভাগের বেশি জনগণ 'হ্যাঁ' ভোট দেন। আর 'না' ভোট পড়ে ৪৯ শতাংশ নাগরিক। ১৬ এপ্রিল এই গণভোটের মাধ্যমে তুরস্ক সংসদীয় ব্যবস্থা থেকে কার্যত প্রেসিডেন্সিয়াল শাসন ব্যবস্থায় ফিরে যাচ্ছে।

রায়পুরে শ্বাসরোধে স্ত্রীকে হত্যা

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় জোসনা আক্তার (২৮) নামে এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে উপজালার দক্ষিণ চরবংশী ইউপির ৩নং ওয়ার্ড চরলক্ষ্মী গ্রাম থেকে ওই লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। জোসনা আক্তার একই এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আব্দুর রশীদ পেদার (৩৭) স্ত্রী। তাদের সংসারে একটি ছেলে ও একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। নিহতের বাবা কৃষক দুলাল আখন জানান, প্রায় ২৮ বছর আগে পাশ্ববর্তী গ্রামের বেকার আব্দুর রশীদের সঙ্গে মেয়ের বিয়ে দেন।
ব্যবসার জন্য যৌতুক চেয়ে প্রায় জোসনার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতো রশীদ। মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে দুলাল আখন তাকে কয়েক দফায় লক্ষাধিক টাকাও দেন। স্থানীয়রা জানায়, সোমবার রাত ১১টার দিকে আব্দুর রশীদ জোসনাকে বাবার বাড়ি থেকে ফের টাকা এনে দিতে চাপ দেয়। প্রতিবাদ করলে নির্যাতনের এক পর্যায়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে বসতঘরের পাশে গাছে জোসনার দেহ ঝুলিয়ে রেখে পালিয়ে যায় রশীদ। চরবংশী ফাঁড়ির ইনচার্জ (এসআই) মো. ইয়াহিয়া জানান, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। স্বামী আব্দুর রশীদ পলাতক রয়েছেন। মামলা হলে আইন ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।