Tuesday, July 12, 2011

সেপ্টেম্বরে ডিএসইতে চালু হচ্ছে এমএসএ প্লাস সফটওয়্যার

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) আগামী সেপ্টেম্বর মাস থেকে মেম্বার সার্ভার অ্যাপলিকেশন (এমএসএ) প্লাস সফটওয়্যার চালু হবে। ফলে ইন্টারনেটের মাধ্যমে গ্রাহকেরা সরাসরি লেনদেনে অংশ নিতে পারবেন। এরই মধ্যে ডিএসইর সদস্য বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউসের অথরাইজ রিপ্রেজেনটেটিভদের নিয়ে ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ মাসের ২০ তারিখ থেকে মোক ট্রেডিং শুরু করবে ব্রোকারেজ হাউসগুলো।
এ দিকে এমএসএ প্লাস সফটওয়্যার চালু হলে অমনিবাস অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন ডিএসইর জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আহসানুল ইসলাম। তিনি জানান, সেপ্টেম্বর মাস থেকে পুরোপুরিভাবে অমনিবাস হিসাব বন্ধ হয়ে যাবে। কারণ বর্তমানে ডেক্সটপ ট্রেডিং পদ্ধতিতে লেনদেনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। এতে বেনিফিশিয়ারি ওনার্স (বিও) হিসাব ছাড়াও অমনিবাস হিসাব থেকে সেল অথবা বাই অর্ডার করা যায়। এমএসএ প্লাস সফটওয়্যার চালু হলে লেনদেনে জন্য আলাদা বিও হিসাবের প্রয়োজন হবে।
সাধারণত মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো অমনিবাস হিসাবের মাধ্যমে লেনদেন করে থাকে। একটি অমনিবাস হিসাবে অনেক বিনিয়োগকারীর হিসাব সংরক্ষিত থাকে। তবে সিডিবিএলে শুধু একটি অমনিবাস হিসাব যুক্ত থাকে। এ ক্ষেত্রে অমনিবাস হিসাবের মাধ্যমে লেনদেনের মোট হিসাব সিডিবিএলে যায়।
এর আগে গত ৩০ মে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ক্যাপিটাল মার্কেট (বিআইসিএম) মিলনায়তনে বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউসের প্রতিনিধিদের নিয়ে আয়োজিত এমএসএ প্লাসের ওপর এক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।

ডিএসইতে আজও দেড় হাজার কোটি টাকার লেনদেন

ধর্মভিত্তিক দল ও সংগঠনের ডাকা ৩০ ঘণ্টা হরতালের দ্বিতীয় দিনেও আজ সোমবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) দেড় হাজার কোটি টাকার বেশি লেনদেন হয়েছে। আজ দুপুর ১২টায় এই হরতাল শেষ হয়। আজও পুঁজিবাজারে হরতালের কোনো প্রভাব পড়েনি। বেলা ১১টায় নির্ধারিত সময়েই দুই স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেন শুরু হয়।
ডিএসই সূত্রে জানা যায়, আজ এই এক্সচেঞ্জে এক হাজার ৫৮১ কোটি টাকার লেনদেন হয়। গতকালও এক হাজার ৬৪৬ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছিল। এ নিয়ে টানা চার দিন এক হাজার কোটি টাকার বেশি লেনদেন হলো।
আজ লেনদেনের ১০ মিনিটের মাথায় ডিএসইর সাধারণ মূল্যসূচক ২৪ পয়েন্ট কমে যায়। এরপর সূচক ঊর্ধ্বমুখী হয়। বেলা একটা ১৫ মিনিটে সূচক দিনের সর্বোচ্চ ৬১ পয়েন্ট বাড়ে। তবে দিন শেষে কিছুটা কমলেও ডিএসইর সাধারণ মূল্যসূচক ২০.৫৯ পয়েন্ট বেড়ে ৬,৪৫৮.০৯ পয়েন্টে দাঁড়ায়। ডিএসইতে আজ হাতবদল হওয়া ২৬০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বেড়েছে ১৭৭টি প্রতিষ্ঠানের দাম। কমেছে ৭৪টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে নয়টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম।
আজ ডিএসইতে লেনদেনে শীর্ষে থাকা ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে বেক্সিমকো, লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট, ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ, বেক্সটেক্স, ওয়ান ব্যাংক লিমিটেড, আরএন স্পিনিং, ইউসিবিএল, তিতাস গ্যাস, বিএসআরএম স্টিল ও এমআই সিমেন্ট।
অন্যদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক ২৯.৪৩ পয়েন্ট বেড়ে ১৮১৫৮.১৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। সিএসইতে লেনদেন হওয়া ২০০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বেড়েছে ১২৪টির, কমেছে ৬৮টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে আটটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম। আজ স্টক এক্সচেঞ্জটিতে ১৬৫ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, যা গতকালের চেয়ে ১৩ কোটি টাকা বেশি।

জনঘনত্ব ও খাদ্যনিরাপত্তা ব্য জিয়া উদ্দিন আহমেদ

আমাদের অত্যুচ্চ জনঘনত্ব ধরিত্রীর ইতিহাসে কেবল এক নজিরবিহীন ঘটনাই নয়, জীবতাত্ত্বিক বিস্ময়ও। বিশ্বের ১৯৫টি দেশের মধ্যে জনঘনত্বে বাংলাদেশের অবস্থান প্রথম, জনসংখ্যায় সপ্তম এবং আয়তনে চুরানব্বইতম। কৃষিকাজে নিয়োজিত মোট জনগোষ্ঠীর আকার হিসেবে মাথাপিছু জমির পরিমাণ আমাদের অতি নগণ্য—০.১ হেক্টর, যা বিশ্বের সর্বনিম্ন। তবে দেশে মোট আবাদি জমির পরিমাণ হিসেবে বিশ্বে আমাদের স্থান ৩৪তম। দেশের বেশির ভাগ এলাকা বিস্তীর্ণ বদ্বীপের অংশ এবং প্রাকৃতিকভাবে উর্বর আর নিবিড় চাষযোগ্য। দিনে দিনে আমাদের জনসংখ্যা বাড়ছে। কমছে চাষের জমি। বাঁচার প্রয়োজনে চাই রাস্তাঘাট, হাটবাজার, বাড়িঘর, স্কুল-কলেজ, দোকানপাট, ক্লিনিক-হাসপাতাল, কলকারখানা ইত্যাদি। এসব উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য পর্যাপ্ত পতিত জমি আমাদের নেই, সবকিছুই গড়ে উঠবে কৃষিজমি উদরস্থ করে।
নতুন জমি সৃষ্টির পথও আমাদের সীমিত। কিছু পরিমাণ জমি হাওর-বিল ভরাট হয়ে তৈরি হচ্ছে আর সামান্য পরিমাণ উপকূলীয় জমি ধীরে ধীরে আবাদযোগ্য করা যাবে সীমিত ফসলাদির জন্য। দেশে আবাদি জমির পরিমাণ ও জমিতে ফলনের হিসাব নিয়ে তথ্য অপ্রতুল, অনেক ক্ষেত্রে তথ্যের উপস্থাপনাও সহজবোধ্য হয় না। জাতিসংঘের (UNDP/FAO) ১৯৮৮ সালের এক হিসাব অনুযায়ী, আমাদের দেশে মোট আবাদি জমির পরিমাণ ১.৩৮ কোটি হেক্টর বলা হয়েছে, যা থেকে খাদ্যশস্য উৎ পাদনে ব্যবহূত জমির পরিমাণ প্রায় এক কোটি হেক্টর—অভ্যন্তরীণ ৭০ লাখ এবং উপকূলীয় আবাদযোগ্য ৩০ লাখ হেক্টর। এই তথ্য নিট জমির সূত্ররেখা হিসেবে ধরে ভবিষ্যতে জমির পরিমাণ এবং খাদ্যশস্য উৎ পাদনের মাত্রা সম্বন্ধে ধারণা করা যায়। ২০০৮ সালের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, দেশে মোট আবাদি জমির পরিমাণ প্রায় ৭৭ লাখ হেক্টর আর নিট ৫০ লাখ হেক্টর জমিতে বাৎ সরিক গড়ে দুটি ধান চাষ করে হেক্টরপ্রতি উৎ পাদন ২.৮ টন হিসাবে মোট চাল উৎ পাদন হয় বাৎ সরিক ২.৯ কোটি টন। ২০০০ সালে দেশে নিট আবাদি জমির পরিমাণ ছিল ৮০ লাখ হেক্টর, ২০০৮ সালে ৭৬ লাখ হেক্টর—অর্থাৎ ০.৫ লাখ হেক্টর নিট আবাদি জমি (বছরে জমিতে গড়ে দুটি ফসল করা হলে এক লাখ হেক্টর আবাদকৃত জমি) প্রতিবছর আবাদকক্ষ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। এটি হচ্ছে অতিঘন জনবসতির নিবিড় উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের চাপের ফল।
ফলে ২০৫০ সালের চিত্রটি হবে ভিন্ন। তখন দেশে জনসংখ্যা হবে ৩০ কোটি এবং খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতার প্রয়োজনে আমাদের বছরে প্রায় ৫.৩ কোটি টন চাল উৎ পাদন করতে হবে। তখন সর্বোচ্চ নিট ৩০ লাখ হেক্টর জমি ধান চাষের জন্য পাওয়া যেতে পারে। সেখানে বছরে দুটি ফসলের মাধ্যমে হেক্টরপ্রতি ৮.৫ টন খাদ্যশস্য উৎ পাদন সম্ভব হলে মোট বাৎ সরিক উৎ পাদন হবে ৫.১ কোটি টন। আর জনসংখ্যা ২০৫০ সালে ২৫ কোটিতে স্থিতিশীল হলে এবং একই পরিমাণ জমি ধান চাষের জন্য পাওয়া গেলে আমাদের প্রয়োজন হবে ৪.৪ কোটি টন খাদ্যশস্য এবং উৎ পাদন হতে হবে হেক্টরপ্রতি বছরে সাত টন। বর্তমানে বোরো, আমন, আউশ—এসব জাতের ধান দেশের বিভিন্ন ইকোসিস্টেমে বিভিন্ন পদ্ধতিতে চাষ করে গড় বার্ষিক চাল উৎ পাদন হচ্ছে হেক্টরপ্রতি সর্বোচ্চ ৩.৫ টন। এই মাত্রা থেকে আমাদের হেক্টরপ্রতি বছরে ৮.৫ টনে পৌঁছাতে হবে। কারিগরি দিক থেকে এটি অসম্ভব না হলেও এটি অর্জনের জন্য নানা বিষয়ে ব্যাপক গবেষণা প্রয়োজন। আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলোতে বর্তমানে চালের গড় উৎ পাদন টন হিসাবে হেক্টরপ্রতি থাইল্যান্ডে ৩.০, শ্রীলঙ্কা ৪.০, ভারত ৪.০। এ প্রসঙ্গে আমাদের অতিঘন জনবসতির জানা-অজানা নানাবিধ জৈবিক চাপের কথাও খাদ্য উৎ পাদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিবেচনায় রাখতে হবে।
আমাদের দেশে কৃষি হচ্ছে বেঁচে থাকার একটি বিশেষ ক্ষেত্র। জমির তীব্র সংকটের কারণে কৃষি আমাদের বাজারভিত্তিক বাণিজ্যিক বিষয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারেনি। এ ক্ষেত্রে আমরা উৎ পাদনের মাত্রাজনিত সুবিধা থেকে সর্বদা বঞ্চিত এবং এ কারণেই কৃষিক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধির হার নিম্নমুখী। আমাদের জনসংখ্যা কবে কোন মাত্রায় স্থিতিশীল হবে, তখন আবাদি জমির পরিমাণ কী থাকবে, একরপ্রতি খাদ্যশস্যের ফলন বৃদ্ধি কী পরিমাণ সম্ভব হবে—এসব বিষয়ে সঠিক তথ্য আবশ্যক। বর্তমানে অধিক অর্থকরী ফসলে জমি পুনর্বণ্টন হচ্ছে, ধানচাষকক্ষ থেকে অনেক জমি অধিক মূল্যসংযোজিত ফসলের আবাদে হারিয়ে যাচ্ছে। মূল খাদ্য উৎ পাদনের জন্য সর্বোচ্চ কারিগরি প্রচেষ্টা সত্ত্বেও আমাদের ৭৫ শতাংশ জমি ব্যবহূত হলে ফসল বহুমুখীকরণের স্বরূপ কেমন হবে, তা-ও একটি ভাবনার বিষয়।
আমাদের খাদ্যশস্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতার জন্য যে পরিমাণ জমি প্রয়োজন, তা চিহ্নিত করে ‘আবদ্ধীকরণ’ সম্ভব কি না, সেই বিষয়টিও বিবেচ্য বটে। জমি আবদ্ধীকরণ দুইভাবে হতে পারে—ফসলের উচ্চমূল্য নিশ্চিত করতে পারলে কৃষক ধান উৎ পাদনে উৎ সাহিত হবেন। আর আইন করেও তা করা যেতে পারে, তবে সেখানেও দুটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ—কৃষকের স্বার্থরক্ষা এবং দরিদ্র মানুষের চাল পাওয়ার নিশ্চয়তা। তাদের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজনীয় ভর্তুকির ব্যবস্থাও রাখতে হতে পারে।
ফসল বহুমুখীকরণও উপেক্ষার বিষয় নয়, তবে তা আবদ্ধিকৃত জমির বাইরে হতে হবে। খাদ্যশস্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতার প্রয়োজনে ধানি জমির পরিমাণ ২০৫০ সাল নাগাদ অবশ্যই নিট ৩০ লাখ হেক্টরে টিকিয়ে রাখতে হবে। নতুন জমি সৃষ্টির সম্ভাবনার কথাও চিন্তা করতে হবে। জনসংখ্যার প্রচণ্ড চাপের কারণে প্রচুর রাস্তাঘাট তৈরি অপরিহার্য হয়ে দাঁড়াবে। সীমিত ভূমিতে ঘন জনবসতির পরিস্থিতিতে রাস্তাঘাট নির্মাণের পরিকল্পনায় নানা সীমাবদ্ধতা থাকবে। নদীভাঙন নিয়ন্ত্রণে রেখে যদি এভাবে কিছু কৃষিজমি সৃষ্টি সম্ভব হয়, তবে তা আমাদের জন্য সুফল বয়ে আনতে পারে। এ ছাড়া দেশে প্রায় তিন লাখ হেক্টর সমুদ্রতীরবর্তী এলাকা রয়েছে, যা উপযুক্ত জাতের ফসল উদ্ভাবনের মাধ্যমে কৃষি উপযোগী করে তোলা সম্ভব।
আর্থিক উন্নতির সঙ্গে মানুষের খাদ্যাভ্যাসেও কিছু পরিবর্তন আসবে এবং মাথাপিছু চালের প্রয়োজন কমে যাবে। পরিবর্তে মাংস, দুগ্ধজাত খাদ্য, ফলমূল ও সবজি ইত্যাদির ব্যবহার বাড়তে থাকে। জমির অভাবে গৃহপালিত পশুপালন অসম্ভব হলে পশুজাত মাংসাহারের পরিবর্তে হাঁস-মুরগি ও মাছের চাষ হতে পারে, তাও সম্ভব না হলে আমিষসমৃদ্ধ শাকসবজি ও ফলমূল আহারের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। প্রয়োজনীয় খাদ্য নিজ দেশে উৎ পাদন হচ্ছে খাদ্যনিরাপত্তার সর্বোত্তম পথ।
জিয়া উদ্দিন আহমেদ: ভিজিটিং প্রফেসর, মাইক্রোবায়োলজি বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।

নেপালে ন্যানো গাড়ির জন্য ফরমায়েশ

ভারতের টাটা কোম্পানির তৈরি ন্যানো গাড়ি নেপালে বিক্রি শুরু হয়েছে। গত ২৭ জুন ন্যানো গাড়ির উদ্বোধনের পরের ১০ দিনে অন্তত ৩৫২টি ন্যানো কেনার জন্য ফরমায়েশ দিয়েছেন নেপালের ক্রেতারা। ভারতের বাইরে শ্রীলঙ্কার পর এবার নেপালে ন্যানো গাড়ি বিক্রি করা হচ্ছে।
ভারতীয় মুদ্রায় পাঁচ লাখ রুপি মূল্যের এ গাড়ি নেপালের ভোক্তাদের জন্য সবচেয়ে সস্তা দামের গাড়ি। নেপালে টাটার ডিস্ট্রিবিউটর সিপ্রাদি ট্রেডিং প্রাইভেট লিমিটেডের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির ৪৫ শতাংশ ভোক্তা টাটা ন্যানো স্ট্যান্ডার্ড কিনতে আগ্রহী। ৫৫ শতাংশের পছন্দ টাটা এলএক্স (উচ্চমূল্যের) ও ন্যানো সিএক্স (মধ্য-উচ্চমূল্যের)।
নেপালের ক্রেতারা কিস্তিতে ন্যানো কেনার সুযোগ পাচ্ছেন। এককালীন ১০ হাজার রুপি ও প্রতি মাসে ১১ হাজার ১১১ রুপি কিস্তি দিতে হবে তাঁদের।

জাপানের পারমাণবিক চুল্লিগুলোতে পরীক্ষার বিস্তারিত প্রকাশ আজ

জাপানের বন্ধ থাকা পারমাণবিক চুল্লিগুলোতে নিরাপত্তা পরীক্ষা চালাবে সরকার। আর এ পরীক্ষার খুঁটিনাটি আজ সোমবার প্রকাশ করা হবে। গতকাল রোববার জাপানের পরমাণু দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী এ কথা জানান।
ফুকুশিমা বিপর্যয়ের পর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে জাপান সরকার।
মন্ত্রী গোহশি হোসোনো বলেন, বিদ্যুতের ঘাটতির ব্যাপারে ব্যবসায়ী মহলের উদ্বেগ প্রশমিত করার জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ-সম্পর্কিত একটি পরিকল্পনাও ঘোষণা করবে সরকার।
ফুজি টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎ কারে মন্ত্রী গোহশি হোসোনো বলেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে পরীক্ষার উদ্দেশ্য হচ্ছে, মার্চে আঘাত হানা ভূমিকম্প ও সুনামির মতো বড় ধরনের প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মুখে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো টিকে থাকতে পারবে কি না, তা যাচাই করে দেখা।
জাপানে শক্তিশালী ভূমিকম্প: জাপানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে গতকাল সকালে একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। তবে এতে ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। ভূমিকম্পের পর পরই জাপান সরকার দেশটির উত্তর-পূর্ব উপকূলে সুনামির সতর্কতা জারি করে। তবে দুই ঘণ্টা পর তা আবার প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।
মার্কিন ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা জানায়, ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৭। মার্চে একই এলাকায় শক্তিশালী ভূমিকম্প ও সুনামি আঘাত হানে।

সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

লেবাননের সাবেক প্রেসিডেন্ট রফিক হারিরি হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নিয়োজিত বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গতকাল রোববার বলেছে, ওই ঘটনায় সন্দেহভাজন চার ব্যক্তির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোল গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। ২০০৫ সালে বোমা হামলায় নিহত হন হারিরি।
সন্দেহভাজন ওই ব্যক্তিরা হলেন: মুস্তাফা বদরেদ্দিন, সালিম আয়াশ, আসাদ সাবরা ও হুসেইন আনাইসি। তাঁরা সবাই শিয়া রাজনৈতিক সংগঠন হিজবুল্লাহর সদস্য।
মার্টিন ইউসেফ বলেন, গত শুক্রবার ইন্টারপোল সদস্য দেশগুলোতে তথাকথিত ‘রেড নোটিশ’ জারি করেছে। তবে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের অবস্থান ও পরিচয় সম্পর্কে ইন্টারপোল কোনো তথ্য জানায়নি।
লেবাননের নিরাপত্তা বাহিনীর একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, গত শনিবার ইন্টারপোলের সদস্যভুক্ত সব দেশে রেড নোটিশ পৌঁছে গেছে। নোটিশে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করে জাতিসংঘের সমর্থিত ওই ট্রাইব্যুনালে হস্তান্তর করার জন্য দেশগুলোর প্রতি অনুরোধ করা হয়েছে।

ওবামার অবকাশযাপন কেন্দ্রের ওপর থেকে বিমান আটক

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের অবকাশযাপন কেন্দ্র ক্যাম্প ডেভিডের আকাশ থেকে বেসামরিক দুটি বিমান পাকড়াও করেছে দেশটির বিমান বাহিনী।
বিমানগুলো পাকড়াও করার সময় প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ওই অবকাশযাপন কেন্দ্রে ছিলেন।
শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ১৭ মিনিটে ও সন্ধ্যা ছয়টা ৫৬ মিনিটে ঘটনা দুটি ঘটে। বিমান দুটি বিনা অনুমতিতে প্রেসিডেন্টের অবকাশযাপন কেন্দ্রের আকাশসীমায় প্রবেশ করে।
দুটি ঘটনায় বিমান বাহিনীর এফ-১৫ যুদ্ধবিমান তাদের ধাওয়া করে এবং কোনো দুর্ঘটনা ছাড়াই নিকটবর্তী বিমানবন্দরে অবতরণ করানো হয় বলে নর্থ আমেরিকান অ্যারোস্পেস ডিফেন্স কমান্ডের মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কমান্ডার বিল লুইস জানান।
বেসামরিক সাধারণ একটি বিমান হিসেবে শনাক্ত হওয়া প্রথম বিমানটি বেতার যোগাযোগের বাইরে ছিল। দুটি যুদ্ধবিমান এটিকে ধাওয়া করে নিকটবর্তী বিমানবন্দরে অবতরণে বাধ্য করে।
অপরটি সেসনা ২১০ বিমান। এটিকেও বিমান বাহিনীর দুটি যুদ্ধবিমান ধাওয়া করে মেরিল্যান্ডের অন্য একটি বিমানবন্দরে অবতরণ করায়।
বারাক ওবামা ক্যাম্প ডেভিডে অবকাশযাপনের সময় গত এক মাসে চতুর্থবারের মতো এ ধরনের ঘটনা ঘটল। এর আগে ২ জুলাই একটি এবং গত ১১ জুন অপর একটি বিমান ক্যাম্প ডেভিডের আকাশসীমা থেকে আটক করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের মেরিল্যান্ড পর্বতমালার কাছে অবস্থিত ক্যাম্প ডেভিড এলাকাটি গত কয়েক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের অবকাশযাপন কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহূত হয়ে আসছে।

ভারতে ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত নিহত ৩৫, আহত ২৫০

ভারতে এক ট্রেন দুর্ঘটনায় গতকাল রোববার ৩৫ জন নিহত ও আড়াই শতাধিক আহত হয়েছে। রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ধারকাজে সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। উত্তর প্রদেশের ফতেপুর জেলার মালওয়া স্টেশনের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
কর্তৃপক্ষ জানায়, স্থানীয় সময় দুপুর সাড়ে ১২টায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। এতে ইঞ্জিনসহ ১৬টি বগি লাইনচ্যুত হয়। এরমধ্যে ইঞ্জিনের পেছনের ছয়টি বগি বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আহত হয় আড়াই শতাধিক যাত্রী। তবে এখন পর্যন্ত বেসরকারি সূত্রে ৩৫ জনের মৃত্যুর সংবাদ পাওয়া গেছে। ট্রেনে সংরক্ষিত আসনে যাত্রী ছিল ৫২৭ জন।
একটি সূত্র জানায়, মেল ট্রেনটি গত শনিবার রাত পৌনে আটটার দিকে হাওড়া থেকে দিল্লি অভিমুখে যাত্রা করে। গতকাল দুপুরে একটি মালগাড়ির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে দুর্ঘটনাটি ঘটে। এ সময় ট্রেনটি ঘণ্টায় ১০৮ কিলোমিটার বেগে চলছিল। এদিকে অপর একটি সূত্র জানায়, রেললাইনে কিছুসংখ্যক গবাদিপশু উঠে পড়লে ট্রেনের চালক আকস্মিকভাবে ব্রেক কষলে এই দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনাকবলিত যাত্রীদের অধিকাংশই ছিল পশ্চিমবঙ্গের।
এরই মধ্যে উদ্ধারকাজে সেনাবাহিনী নামানো হয়েছে। আহত ব্যক্তিদের নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কানপুর ও এলাহাবাদ থেকে দুটি উদ্ধারকারী ট্রেন মালওয়ার উদ্দেশে রওনা হয়েছে। হাওড়া, ফতেপুর ও খুরজা স্টেশনে হেল্পলাইন খোলা হয়েছে।
এদিকে এ দুর্ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও সাবেক রেলমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রধানমন্ত্রী দুর্ঘটনার যথাযথ তদন্ত ও আহত ব্যক্তিদের সুচিকিৎ সার নির্দেশ দিয়েছেন। রেল প্রতিমন্ত্রী মুকুল রায় বলেন, নিহত প্রত্যেক ব্যক্তির পরিবারকে পাঁচ লাখ ও আহত ব্যক্তিদের এক লাখ রুপি করে দেওয়া হবে। অন্যদিকে উত্তর প্রদেশ সরকার নিহত প্রত্যেক ব্যক্তির পরিবারকে এক লাখ এবং আহত ব্যক্তিদের ৫০ হাজার রুপি করে সাহায্যের ঘোষণা দিয়েছে।

দক্ষিণ চীন সাগরে মার্কিন উপস্থিতি বজায় থাকবে

যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান মাইক মুলেন বলেছেন, ‘দক্ষিণ চীন সাগরে আমরা আমাদের উপস্থিতি বজায় রাখতে অঙ্গীকারবদ্ধ।’ তিনি আরও বলেন, বিতর্কিত জলসীমা নিয়ে এ অঞ্চলে গুরুতর সংঘাত সৃষ্টি হওয়ার বিষয়ে ওয়াশিংটন উদ্বিগ্ন।
চার দিনের চীন সফরের প্রথম দিনে গতকাল রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে মাইক মুলেন এসব কথা বলেন। সফরকালে চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলও) চিফ অব দ্য জেনারেল স্টাফ চেন বিংদে এবং চীনা সরকারের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের তাঁর সঙ্গে বৈঠক করার কথা।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ দক্ষিণ চীন সাগরের মালিকানা নিয়ে ফিলিপাইন ও ভিয়েতনামের সঙ্গে বিতর্কে জড়িয়ে পড়ে চীন।
মাইক মুলেন বলেন, ‘আমার মতো অন্যরাও উদ্বিগ্ন যে দক্ষিণ চীন সাগরের মালিকানা নিয়ে চলমান বিতর্ক একটি ভুল বোঝাবুঝি ও বিপর্যয়ের সূত্রপাত করতে পারে, যা কেউই প্রত্যাশা করে না।’
চীনের ক্রমাগত সামরিক শক্তি বৃদ্ধি ও দক্ষিণ চীন সাগরের বিতর্কিত জলসীমার বিষয়ে অস্থিরতা সত্ত্বেও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার সামরিক সম্পর্ক উন্নয়নের পথে এগিয়েছে এবং গত মাসে চীনের প্রভাবশালী সেনা কর্মকর্তার ওয়াশিংটন সফরের পরিপ্রেক্ষিতে মুলেনের এ সফরকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ফিলিপাইন ও ভিয়েতনাম ছাড়াও ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও ব্রুনাইও দক্ষিণ চীন সাগরে তাদের মালিকানা আছে বলে দাবি করছে। তবে চীনের দাবি, তাদের মালিকানাই বেশি।

উইলিয়াম-কেটের কাছে ম্লান হলিউডের নামী তারকারা

যুক্তরাজ্যের প্রিন্স উইলিয়াম ও তাঁর স্ত্রী কেট মিডলটনকে গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। এদিন উইলিয়াম সান্তা বারবারা শহরে এক প্রীতি পোলো ম্যাচেও অংশ নেন।
শনিবার রাতে ব্রিটিশ অ্যাকাডেমি ফর ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন (বাফটা) আয়োজিত নৈশভোজে অংশ নেন ব্রিটিশ সিংহাসনের উত্তরাধিকারী উইলিয়াম ও তাঁর স্ত্রী কেট। এ সময় তাঁদের লাল গালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়। হলিউডে কর্মরত ব্রিটিশ বংশোদ্ভূত উঠতি তারকাদের উৎ সাহিত করাই ছিল উইলিয়ামের সফরের উদ্দেশ্য।
লস অ্যাঞ্জেলেসের বেলাসকো থিয়েটারে এই নৈশভোজ শুরুর আগে থেকেই বাইরে শত শত ভক্ত জড়ো হয়। উইলিয়াম ও কেট অনুষ্ঠানস্থলে হাজির হলে হলিউড তারকাদের ক্ষেত্রে যতটা, তার চেয়ে অনেক বেশি উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বাইরে সমবেত ভক্তরা। প্রসঙ্গত, উইলিয়াম বাফটার প্রেসিডেন্ট।
এর আগে বিকেলে প্রশান্ত মহাসাগর উপকূলীয় শহর সান্তা বারবারায় এক প্রীতি পোলো খেলায় অংশ নেন উইলিয়াম। দর্শক-সারিতে বসে কেট খেলা উপভোগ করেন। উইলিয়ামের কাছে বল গেলেই উল্লাসে ফেটে পড়ে দর্শক। প্রিন্সের দলই খেলায় জয়লাভ করে।
নয় দিনের কানাডা সফর শেষে উইলিয়াম ও কেট গত শুক্রবার ক্যালিফোর্নিয়ায় পৌঁছান। তিন দিনের এই সফরের প্রথম দিন রাজকীয় এই দম্পতি দুটি জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে যোগ দেন। আজ রোববার তাঁরা লস অ্যাঞ্জেলেসে শিশুদের একটি আর্ট সেন্টার পরিদর্শন করবেন। আজই তাঁরা দেশে ফিরবেন। বিয়ের পর এটাই ছিল উইলিয়াম দম্পতির প্রথম বিদেশ সফর।

পাকিস্তানে ৮০ কোটি ডলারের মার্কিন সামরিক সাহায্য স্থগিত

যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর জন্য প্রায় ৮০ কোটি ডলারের সাহায্য স্থগিত করেছে। যুক্তরাষ্ট্র বছরে পাকিস্তানকে যে সামরিক সহায়তা দিয়ে থাকে, এটা তার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ।
সন্ত্রাসবাদবিরোধী লড়াইয়ে পাকিস্তান ঘনিষ্ঠ মিত্র হলেও তাদের সাম্প্রতিক কিছু কর্মকাণ্ডে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ বিল ড্যালে গতকাল রোববার বলেছেন, ‘পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক খুবই জটিল। এই দুরূহ পর্যায়গুলো পার না হওয়া পর্যন্ত মার্কিন করদাতারা যে অর্থ তাদের দেয়, তার কিছুটা আমাদের আটকে রাখতে হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘পাকিস্তান এমন কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে, যাতে আমাদের কিছু সহায়তা স্থগিত করতে হয়েছে।’
এর আগে গত শনিবার নিউইয়র্ক টাইমস-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর জন্য প্রায় ৮০ কোটি ডলারের সাহায্য স্থগিত কিংবা বাতিল করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। নিউইয়র্ক টাইমস-এর ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, এই পদক্ষেপের অংশ হচ্ছে পাকিস্তান কর্তৃক মার্কিন সামরিক প্রশিক্ষকদের বহিষ্কার করায় যুক্তরাষ্ট্র যে ক্ষুব্ধ হয়েছে, তা দেখানো এবং জঙ্গিদের বিরুদ্ধে লড়াই তীব্রতর করার জন্য একটা চাপ প্রয়োগ করা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, জঙ্গিদের বিরুদ্ধে আরও কার্যকরভাবে লড়াই করার জন্য পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর চাপ সৃষ্টি করাও এ পদক্ষেপের উদ্দেশ্য।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, নানা কারণে মার্কিন ও পাকিস্তান সরকারের মধ্যকার সম্পর্কে টানাপোড়েন চলে আসছে। যুক্তরাষ্ট্র চায়, পাকিস্তান সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম আরও জোরদার করুক। পাকিস্তানের অভ্যন্তরে মার্কিন বিশেষ বাহিনীর অভিযানে আল-কায়েদার নেতা ওসামা বিন লাদেনের নিহত হওয়ার ঘটনা, মার্কিন পাইলটবিহীন বিমানের হামলায় বেসামরিক লোকজনের মৃত্যুসহ অন্যান্য বিষয় নিয়েও দুই দেশের মধ্যে টানাপোড়েন রয়েছে।
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান অ্যাডমিরাল মাইক মুলেন অভিযোগ করেন, পাকিস্তান একজন সাংবাদিককে অপহরণ ও হত্যা করেছে। এ ছাড়া গত বছর সিআইএর একজন ঠিকাদার লাহোরে দুজন পাকিস্তানিকে গুলি করে হত্যা করে। ওই ঘটনায়ও যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের মধ্যকার সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
নিরাপত্তা সহায়তা হিসেবে পাকিস্তানকে বছরে ২০০ কোটি ডলারেরও বেশি সহায়তা দিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। টাইমস পত্রিকার সূত্রগুলো জানায়, মার্কিন সহায়তার মধ্যে ৩০ কোটি ডলার দেওয়ার কথা আফগান সীমান্তে এক লাখের বেশি সেনা মোতায়েনের জন্য। তালেবানসহ অন্যান্য জঙ্গিগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য এসব সেনা মোতায়েন করার কথা। বাকি অর্থসহায়তা দেওয়ার কথা ছিল প্রশিক্ষণ ও সামরিক সরঞ্জামের জন্য।
মার্কিন কর্মকর্তারা পত্রিকাটিকে বলেছেন, যদি সম্পর্কের উন্নতি হয় এবং পাকিস্তান যদি জঙ্গিদের বিরুদ্ধে আরও ব্যবস্থা নেয়, তাহলে সাহায্য ও যন্ত্রপাতি সহায়তা আবারও শুরু করা হতে পারে।
গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ের অনুরোধ পাকিস্তানের: পাকিস্তান আল-কায়েদার নতুন প্রধান আয়মান আল জাওয়াহিরিসহ শীর্ষ জঙ্গি নেতাদের সম্পর্কে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে পাকিস্তান। গতকাল পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর এক বিবৃতিতে এ অনুরোধ জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমরা আশা করি জাওয়াহিরি-সম্পর্কিত প্রাপ্ত যাবতীয় গোয়েন্দা তথ্য ও গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্র আমাদের সঙ্গে আলোচনা করবে। এর মধ্যে পাকিস্তান দেশটির জনগণের জন্য হুমকিস্বরূপ আল-কায়েদা ও এর সহযোগী জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে। গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় করা হলে ইসলামাবাদের পক্ষে এ জঙ্গিবিরোধী অভিযানের লক্ষ্য দ্রুত অর্জন সম্ভব হবে বলে বিবৃতিতে মত প্রকাশ করা হয়।

আল-কায়েদাকে কৌশলগতভাবে পরাজিত করা সম্ভব

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লিওন প্যানেট্টা বলেছেন, আল-কায়েদাকে কৌশলগতভাবে পরাজিত করা সম্ভব। তবে এ জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে আল-কায়েদা ও এর সহযোগী গোষ্ঠীগুলোর ২০ জনের মতো নেতাকে হত্যা কিংবা আটক করতে হবে।
গতকাল রোববার ঝটিকা সফরে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল পৌঁছার আগে মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইয়ের সাবেক প্রধান প্যানেট্টা সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। ১ জুলাই দায়িত্ব নেওয়ার পর এটাই তাঁর প্রথম আফগানিস্তান সফর। গত জুন মাস পর্যন্ত তিনি সিআইএ প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন।
আফগানিস্তান পৌঁছার পর প্যানেট্টা হেলমান্দ প্রদেশে একটি অস্থায়ী হাসপাতাল পরিদর্শন করেন এবং মার্কিন সেনাদের সঙ্গে কথা বলেন। চলতি মাসেই আফগানিস্তানে নিয়োজিত শীর্ষ মার্কিন কমান্ডার জেনারেল ডেভিড পেট্রাউসের দায়িত্ব ছাড়ার কথা। আগামী সেপ্টেম্বর মাসে তাঁর সিআইএর প্রধানের দায়িত্ব গ্রহণের কথা রয়েছে।
আফগানিস্তান সফরে প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাইয়ের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন প্যানেট্টা। বৈঠকে আফগান নিরাপত্তার দায়িত্ব সে দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে হস্তান্তরের অংশ হিসেবে ন্যাটোর অধীনে থাকা কয়েকটি জায়গার নিরাপত্তার দায়িত্ব আফগান নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে হস্তান্তর প্রক্রিয়ার বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা। চলতি মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে এ প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ঘোষণা দিয়েছেন, ২০১৪ সালের মধ্যে আফগানিস্তান থেকে সব মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়াকে সামনে রেখে চলতি বছর সেখান থেকে ১০ হাজার সেনা প্রত্যাহার করা হবে এবং আগামী বছরের সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ আরও ২৩ হাজার সেনা প্রত্যাহার করা হবে।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, পাকিস্তানে মার্কিন কমান্ডোদের অভিযানে আল-কায়েদার নেতা ওসামা বিন লাদেন নিহত হওয়ার পর থেকে পাকিস্তান, ইয়েমেন, সোমালিয়া ও উত্তর আফ্রিকায় সংগঠনটির ১০ থেকে ২০ জন শীর্ষস্থানীয় নেতাকে চিহ্নিত করা হয়েছে। গত মে মাসের শুরুর দিকে রাজধানী ইসলামাবাদের কাছে অ্যাবোটাবাদের একটি বাড়িতে মার্কিন কমান্ডোদের অভিযানে নিহত হন বিন লাদেন।
লিওন প্যানেট্টা বলেন, ‘আমরা যদি আল-কায়েদার ওই নেতাদের নাগাল পাই, তাহলে আমরা সংগঠনটিকে কৌশলগতভাবে পরাজিত করতে পারব বলে আমার ধারণা।’ তিনি আরও বলেন, ‘অবশ্যই বিন লাদেনের হাত থেকে মুক্তি পাওয়ার মাধ্যমে আমরা একটা ভালো শুরু করতে পেরেছি। সিআইয়ের দায়িত্ব পালনের সময় আমি আমার যোগ্যতা সম্পর্কে আস্থাশীল ছিলাম এবং এ যোগ্যতার ভিত্তিতে আমি বলতে পারি, আমরা আল-কায়েদাকে কৌশলগতভাবে পরাজিত করার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছি।

জাতীয় নয়, আঞ্চলিক রাজনীতি নিয়ে ব্যস্ত রাহুল গান্ধী

কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক রাহুল গান্ধীকে ভারতের ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী ভাবা হচ্ছে। অথচ সেই রাহুল কিনা দেশব্যাপী চিন্তা না করে শুধু দিল্লির নিকটবর্তী রাজ্যগুলোতে মনোযোগ দিচ্ছেন। বর্তমানে তাঁর রাজনীতির ময়দান উত্তর প্রদেশ (ইউপি)।
ইউপি নিয়ে রাজনীতি করার পেছনে অবশ্য যথেষ্ট কারণও আছে। ২০০৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে এই প্রদেশে ভালো করেছে কংগ্রেস। ইউপির ৮০টি আসনের মধ্যে ২২টিতে জেতে ক্ষমতাসীন দল।
উত্তর প্রদেশের আগে রাহুলের নজর ছিল বিহারের ওপর। কিন্তু গত বছর বিধানসভা নির্বাচনে সেখানে দলের বাজে পারফরম্যান্সের কারণে রাহুল তাঁর দৃষ্টি বিহার থেকে উত্তর প্রদেশের দিকে সরিয়ে নেন। ২০১২ সালে এই রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
তবে বিহারের চেয়ে উত্তর প্রদেশে কংগ্রেস সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছে। সর্বশেষ ২০০৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনে দলিত নেত্রী মুখ্যমন্ত্রী মায়াবতীর দল বহুজন সমাজ পার্টি (বিএসপি) নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলেও এবার সেই রকম একচেটিয়া ফল অর্জন সহজ হবে না বলেই মনে হচ্ছে।
উত্তর প্রদেশের পরবর্তী বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের ভালো করার ব্যাপারে রাহুলকে বেশ আত্মবিশ্বাসী বলেই মনে হচ্ছে। যদিও তিনি এই মুহূর্তে এককভাবে প্রচারণা চালাচ্ছেন। তবে বিএসপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ভবিষ্যতে সমাজবাদী পার্টির সঙ্গে কংগ্রেসের জোট বাঁধাটাও অসম্ভব কিছু নয়।
রাহুল তাঁর নির্বাচনী প্রচারণায় বৃহত্তর নয়ডার ভট্ট প্রসুলে সংঘটিত কৃষক আন্দোলনকে ইস্যু হিসেবে নিয়েছেন। সেখানে ভূমি অধিগ্রহণ নিয়ে পুলিশের সঙ্গে কৃষকদের সংঘর্ষ হয়েছে। ভূমি অধিগ্রহণ ইস্যুতে পশ্চিমবঙ্গে এরই মধ্যে চড়া মাশুল গুনেছে সিপিআই(এম)। ভূমি অধিগ্রহণের বিষয়টি সংবেদনশীল হওয়ায় তা নির্বাচনে সব ময়ই প্রভাব ফেলছে।
ভারতের শিল্পপতি ও আবাসন ব্যবসায়ীরা তাঁদের প্রকল্পের জন্য নতুন নতুন জায়গার অনুসন্ধান করছেন। আর এ নিয়েই স্থানীয়দের সঙ্গে তাঁদের দ্বন্দ্ব।
ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কৃষকদের আন্দোলনে সমর্থন দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করছেন রাহুল। তাঁর এ ধরনের কর্মকাণ্ডের ফলে এটাই প্রতীয়মান হয়, সৃজনশীল রাজনীতি ও জাতীয় চিন্তাভাবনার বদলে তিনি নির্বাচনকেন্দ্রিক রাজনীতি করছেন। রাজ্যের নির্বাচনে জয়ই তাঁর মুখ্য উদ্দেশ্য।
আর এ-ও হতে পারে, ৪১ বছর বয়সী রাহুল ভাবতে পারেন যে রাষ্ট্রনায়োকোচিত রাজনীতিবিদ হয়ে ওঠার মতো বয়স এখনো তাঁর হয়নি। কিন্তু দুর্নীতি, ভর্তুকি, বিদেশি বিনিয়োগ, অর্থনীতি ও পররাষ্ট্রনীতির মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোতে রাহুলের মতো একজন জাতীয় পর্যায়ের রাজনীতিবিদের কাছ থেকে আরও বেশি সোচ্চার ভূমিকা প্রত্যাশা করা হচ্ছে। তাই একজন ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শুধু দলিত ও কৃষকশ্রেণীর নেতা হওয়াটাই রাহুলের জন্য যথেষ্ট নয়।

কার্বন নির্গমন প্রতিরোধে কর আরোপ করবে অস্ট্রেলিয়া

অস্ট্রেলিয়ার সরকার দেশটির কার্বন নির্গমনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর কর আরোপের পরিকল্পনা নিয়েছে। গতকাল রোববার অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী জুলিয়া গিলার্ড এ পরিকল্পনা প্রকাশ করেন।
পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী বছরের জুলাই মাস থেকে দেশটির সবচেয়ে বেশি কার্বন নির্গমনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে টনপ্রতি ২৩ অস্ট্রেলিয়ান ডলার (২৫ মার্কিন ডলার) হারে কর দিতে হবে। দেশটিতে গৃহীত গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে সুদূরপ্রসারী এক অর্থনৈতিক সংস্কার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে পরিবেশ সংরক্ষণের এ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। কার্বন নির্গমন প্রতিরোধে ইউরোপের বাইরে এটিই সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ।
প্রধানমন্ত্রী জুলিয়া গিলার্ড রাজধানী ক্যানবেরায় সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘জাতি হিসেবে কার্বন নির্গমনের ওপর কর আরোপ করে আমাদের একটি দূষণমুক্ত জ্বালানি ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।’ তিনি আরও বলেন, ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম উৎ পাদনকারীসহ দেশের ৫০০টি পরিবেশদূষণকারী ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে ওই কর দিতে হবে। বছরে ওই করের হার দুই দশমিক পাঁচ শতাংশ হারে বাড়বে। ২০১৫ সালের মধ্যে বাজারভিত্তিক এ বাণিজ্য পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।
অস্ট্রেলিয়ার এই পরিকল্পনা কার্বনদূষণ প্রতিরোধে গৃহীত বৈশ্বিক পদক্ষেপের ক্ষেত্রেও সহায়ক হবে। বর্তমানে ইউরোপের বাইরে একমাত্র নিউজিল্যান্ডে এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কুইন্সল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জন কুইগিন বলেন, চীন ও ভারত সবচেয়ে বেশি কার্বন নির্গমন করছে। তাই সেখানে নিশ্চয়ই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে এটিই কার্বনের মূল্য নির্ধারণে সবচেয়ে বড়, ব্যাপকভিত্তিক ও সুশৃঙ্খল উদ্যোগ।
পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো সরকারের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। অস্ট্রেলিয়ান কনজারভেশন ফাউন্ডেশনের পরিচালক ডন হেনরি বলেন, এ পরিকল্পনা কেবল সঠিক নয়, অস্ট্রেলিয়ার জন্য এটি এখনই শুরু করা অপরিহার্য। তিনি আরও বলেন, এ পরিকল্পনার ফলে ২০২০ সালের মধ্যে কার্বনদূষণের পরিমাণ কমবে ১৫৯ মিলিয়ন টন। এ ছাড়া ২০০০ সালের চেয়ে কার্বন নির্গমন কমবে পাঁচ শতাংশ।

মেসিদের জন্য কোস্টারিকাও বড় দল!

কোচ তিনি আসলেই কোন মাপের এ নিয়ে বিতর্ক হতে পারে অনেক। কিন্তু এটা সত্য, আলফিও বাসিলের অধীনে ধুঁকতে ধুঁকতে বাছাইপর্ব থেকেই বিদায় নেওয়ার শঙ্কায় পড়া আর্জেন্টিনা শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপের টিকিট পেয়েছিল ডিয়েগো ম্যারাডোনার হাত ধরেই। বর্তমানে দলের যে হাল, তাতে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত দলকে নিয়ে যাওয়াটাও এখন মনে হচ্ছে অনেক বড় অর্জন।
১৮ বছর পর শিরোপা জেতার স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নামা আর্জেন্টিনা এখন যখন পরের রাউন্ডে কীভাবে উঠবে, সেই হিসাব করেই কূল পাচ্ছে না, সেই সময় খবর রটল, ম্যারাডোনা আসছেন, আসছেন ত্রাতা হয়ে! কোপায় আর্জেন্টিনার ভরাডুবি হলেই নাকি আবারও ম্যারাডোনার কাঁধে উঠবে দলের ভার। এমনই বলছেন কেউ কেউ। সর্বশেষ ১৯৯৩ সালে আর্জেন্টিনাকে কোপা জেতানো কোচ বাসিলেও বলছেন, ‘আমরা পরের রাউন্ডে যেতে না পারলে দেখা দেবে ভয়াবহ বিপর্যয়।’ অবশ্য প্রতিপক্ষ কোস্টারিকা বলেই বিজ্ঞ বাসিলে আশ্বস্ত হচ্ছেন, ‘এই ম্যাচটা আমাদের জেতারই কথা।’
জেতার কথা, কারণ কোস্টারিকার বিপক্ষে খেলে ৫ ম্যাচের কোনোটাতেই হারেনি আর্জেন্টিনা। অবশ্য দুটি ম্যাচ ড্র হয়েছিল। এই দুই ড্রয়ের একটি আবার সর্বশেষ সাক্ষাতেই, গত মার্চে। বলিভিয়ার সঙ্গেও যে আর্জেন্টিনা ড্র করে, তাদের জন্য কোস্টারিকা তো অনেক বড় প্রতিপক্ষ!
এমন মনে হচ্ছে পরিস্থিতির কারণেই। তবে পরিস্থিতি এবার পাল্টাবে বলেই বিশ্বাস সার্জিও বাতিস্তার। শুধু তা-ই নয়, প্রথম ম্যাচে ব্যর্থ হওয়ার পর একরকম গোঁ ধরেই দল না পাল্টানো বাতিস্তা এখন সুর নরম করেছেন। বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিতই মিলছে। মেসিকে নিচে নামিয়ে প্লে-মেকারের ভূমিকায় খেলানো হতে পারে। বাসিলেও দিচ্ছেন সেই পরামর্শ, ‘ওকে আমি চিনি। মেসির পায়ে বল দিতেই হবে। কারণ ও বল না পেলে পাগল হয়ে ওঠে।’
কিন্তু মেসি পর্যন্ত বলই ঠেলতে পারছিলেন না মিডফিল্ডাররা। এবার মেসিই তাই মাঝমাঠের দায়িত্ব নিচ্ছেন। এখন পর্যন্ত আর্জেন্টিনার হয়ে একমাত্র গোলটি করা সার্জিও আগুয়েরোর সঙ্গে আক্রমণভাগে জুটি বাঁধছেন গত বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিক করা গঞ্জালো হিগুয়েইন। প্রথম ম্যাচে ভালো খেলেও দ্বিতীয় ম্যাচে সুযোগ না পাওয়া অ্যাঙ্গেল ডি মারিয়াও নামছেন। বড় ধরনের পরিবর্তনই আসছে একাদশে।
এটাই বলছে, দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে আর্জেন্টিনার। এ অবস্থা থেকে দল অবশ্যই ঘুরে দাঁড়াবে বলে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন মেসিও, ‘আমি খুব ভালো অনুভব করছি। লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, দল পরের রাউন্ডে যাবে। আমরা এ অবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়াব।’
মেসির কথাই যেন সত্যি হয়। কারণ জিতলে কোয়ার্টার ফাইনাল যতটা নিশ্চিত, ততটাই অনিশ্চিত ম্যাচটা ড্র করলে কিংবা হেরে গেলে।

ক্ষমা চাইলেন আলভেজ

ব্রাজিলের হলুদ জার্সি। প্যারাগুয়ের লাল-সাদা ডোরাকাটা। কিন্তু মাঠের পারফরম্যান্সে ব্রাজিলের হলুদ চোখ ধাঁধাল না। পরশু দুই দলকে আলাদা করল এই জার্সিরই রং। বল হারানো, এলোমেলো পাস আর সমন্বয়হীনতা—সব মিলিয়ে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের সঙ্গে প্যারাগুয়ের তেমন ব্যবধান ছিল না।
ম্যাচ শেষেও ব্রাজিলকে ব্রাজিল মনে হয়নি। একমাত্র কোচ মানো মেনেজেসের কথায়ই ব্রাজিলিয়ান অহংবোধটা থাকল। মাঠের কুশীলব আলভেজ, এলানো, ফ্রেড, লুকাসদের কথায় তা ছিল না। প্যারাগুয়ের রক সান্তা ক্রুজ, লুকাস ব্যারিয়স, ক্রিস্টিয়ান রিভেরারা জয় হাতছাড়া করে হতাশ!
ব্রাজিলের খেলোয়াড়দের মিলিত সুর—কোয়ার্টার ফাইনালে যেতে হলে আরও উন্নতি করতে হবে, ভুলগুলো শুধরে নিতে হবে। হারতে হারতে ড্র করে বাঁচার আনন্দই ধরা পড়ছে তাঁদের কথাবার্তায়। আর প্যারাগুয়ের খেলোয়াড়েরা পুড়ছেন জয় হাত ফসকে যাওয়ার হতাশায়। প্রায় জিতে যাওয়া ম্যাচটিতে শেষ মুহূর্তে ড্র করার কষ্ট ভুলতেই পারছেন না তাঁরা।
‘এই ম্যাচে হেরে যাওয়া আমাদের জন্য নিষ্ঠুর ফলই হতো। বেশির ভাগ সময়েই ম্যাচটি নিয়ন্ত্রণ করেছি আমরা’—ম্যাচ শেষে বলেছেন ব্রাজিল কোচ মানো মেনেজেস। যাঁর গোল বাঁচিয়েছে ব্রাজিলকে সেই সুপার সাব ফ্রেড এবং আরেক বদলি খেলোয়াড় এলানো ড্রতেই সন্তুষ্টি খুঁজছেন। ‘১-০-তে এগিয়ে গিয়েছিলাম আমরা। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে দুটি গোল খেয়েছি আমরা। তবে দল দারুণভাবে ফিরে এসেছে’—বলেছেন সান্তোস মিডফিল্ডার এলানো। ফ্রেডের কথা, ‘এ অবস্থায় ম্যাচের শেষে একটি গোল পাওয়া দারুণ।’
ড্রতে ‘জীবন’ ফিরে পেয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার কথাই ভাবছেন ব্রাজিল খেলোয়াড়েরা। দলের প্রয়োজনে গোল করতে পেরে দারুণ খুশি ফ্রেড। তাঁর ভাবনায় এখন কোয়ার্টার ফাইনাল, ‘এখন পরের রাউন্ডে যেতে হলে শেষ ম্যাচের আগে আমাদের উন্নতি করতে হবে।’ এলানো বলেছেন, ‘আমরা ঠিক পথেই আছি। এখন শুধু নির্দিষ্ট কিছু জায়গায় উন্নতি করতে হবে।’ আলেসান্দ্রে পাতোর দাবী দল ধীরে ধীরে উন্নতি করছে, ‘আমাদের সমন্বয়টা হচ্ছে এবং উন্নতি করছি। এ ম্যাচে গোল অন্তত পেয়েছি। এখন ভালো ফল পেতে প্রয়োজন আরও উন্নতি।’
দানি আলভেজ আর কী বলবেন? তাঁর ভুলেই এগিয়ে যাওয়া গোলটি করেছে প্যারাগুয়ে। সতীর্থ-সমর্থকদের কাছে ভুলের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন বার্সেলোনা ডিফেন্ডার, ‘আমরা ভালো খেলছিলাম। কিন্তু সমতা ফেরানোর পর ওরাও ভালো খেলতে শুরু করে। আর এ সময়েই বাজে একটা ভুল করে বসি আমি। আমি ভুল স্বীকার করছি এবং আমার সতীর্থদের কাছে ক্ষমা চাইছি।’ আলভেজের সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়ে গোলরক্ষক হুলিও সিজার ক্ষমা চেয়েছেন ব্রাজিলের সমর্থকদের কাছে।
প্যারাগুয়ে দলে শুধু আফসোস। ‘দারুণ একটি ম্যাচ খেলেছি আমরা। শেষ মুহূর্তে গোল খেয়ে ড্র করতে হয়েছে বলে সবাই হতাশ’—বলেছেন প্যারাগুয়ের প্রথম গোলদাতা ম্যানচেস্টার সিটি স্ট্রাইকার সান্তা ক্রুজ। বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের স্ট্রাইকার ব্যারিয়স হতাশ, ‘তিক্ত স্বাদ নিয়ে ম্যাচটি শেষ করলাম আমরা।’ উইঙ্গার মার্সেলো এস্টিগারিবিয়া নিজেদের ওপর বিরক্ত, ‘আমরা নিজেরাই নিজেদের বিরক্তির কারণ হয়েছি।’

ফ্রেড বাঁচালেন ব্রাজিলকে

প্যারাগুয়ের সঙ্গে ২-২ গোলের ড্রয়ের পর ‘উৎ সব’ করল ব্রাজিল। পাতো-গানসো-ফ্রেডরা যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচলেন। তখন অন্য প্রান্তে হতাশায় ভেঙে পড়া প্যারাগুয়ে দলের রক সান্তা ক্রুজ, জাস্তো ভিলাররা সান্ত্বনা দিচ্ছেন একে অন্যকে।
ড্র করে খুশি ব্রাজিল—এমন দৃশ্য বিশ্ব ফুটবলে অচেনা। তবে পরশু সত্যিই হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছে ব্রাজিল। হারটাকে যখন নিয়তির মতো অমোঘ মনে হচ্ছিল, তখনই ফ্রেডের গোল পরাজয়ের হাত থেকে বাঁচাল দলকে। করডোবার মারিও কেম্পেস স্টেডিয়ামে প্রথমে অবশ্য এগিয়ে গিয়েছিল ব্রাজিলই। প্রথমার্ধের খেলা শেষের মিনিট ছয়েক আগে ব্রাজিলকে এগিয়ে দেন রবিনহোর জায়গায় সুযোগ পাওয়া জাডসন। পরে সান্তা ক্রুজ আর নেলসন ভালদেজের গোলে এগিয়ে যায় প্যারাগুয়ে। ৮৯ মিনিটে ব্রাজিলকে সমতায় ফেরান সুপার সাব ফ্রেড।
প্যারাগুয়ে জিতলে ম্যাচের গতিপ্রকৃতির সঙ্গে অসামঞ্জস্য কিছু হতো না। তবে ব্রাজিল কোচ মানো মেনেজেস প্যারাগুয়ের জয়টাকে স্বাভাবিকভাবে নিতে পারতেন না, ‘আমাদের হারটা হতো অন্যায়। আমাদের হারানোর মতো ভালো প্যারাগুয়ে খেলেনি।’ তাহলে ড্রয়ের মধ্যেই সঠিক বিচারটা পেয়েছে ম্যাচ! মেনেজেস এটাই বলতে চাইছেন, আর সারা বিশ্ব যেটা বলল, শুরু থেকেই হতাশা ‘উপহার’ দিতে থাকা কোপা আমেরিকা পরশুও আরেকটি হতাশার ম্যাচ দেখাল।
পাওলো হেনরিক গানসোর ডিফেন্স চেরা অসাধারণ দুটি পাস, দানি আলভেজের একটি রক্ষণ ভুল। ৯০ মিনিটের ম্যাচে বলার মতো ঘটনা বলতে তো এই!
গানসোর প্রথম পাসেই প্রথম গোল পেয়ে যায় ব্রাজিল। রামিরেস মাটিতে পড়ে গিয়েও বলটি দিতে পারেন গানসোকে। একজনকে কাটিয়ে দুজন ডিফেন্ডারের মাঝ দিয়ে সান্তোস প্লে-মেকার বল দেন ফাঁকায় দাঁড়িয়ে থাকা জাডসনকে। অতি দ্রুততায় নেওয়া জাডসনেরই গড়ানো শটে ৩৯ মিনিটে এগিয়ে যাওয়ার আনন্দে ভাসে ব্রাজিল।
ব্রাজিলকে পয়েন্ট নিয়ে ঘরে ফেরা দ্বিতীয় গোলটিও বানিয়ে দিয়েছেন গানসো। দুই ডিফেন্ডারের মাঝে দাঁড়িয়ে থাকা ফ্রেডকে বল দেন তিনি। ফ্লুমিনেন্সের হয়ে ১৯৪ ম্যাচে ১৪১ গোল করে পাওয়া ‘ফ্রেডগোল’ ডাকনামটি সার্থক করেছেন ফ্রেড হাফভলিতে দারুণ এক গোল করে। ৬৬ মিনিটে ব্রাজিল পিছিয়ে পড়ে দানি আলভেজের গুরুতর এক ভুলে। বক্সের ডান প্রান্তে অহেতুক কারিকুরি করতে গিয়ে বার্সেলোনা উইঙ্গার বল জমা দিয়ে দেন ক্রিস্টিয়ান রিভেরোর পায়ে। আলভেজকে কাটিয়ে তিনি বল ফেলেন বক্সে। জালে বল ঠেলতে ভুল করেননি নেলসন ভালদেজ। ৫৪ মিনিটে প্যারাগুয়ের প্রথম গোলটিও একটি ব্রাজিল রক্ষণের ভুলের মাশুল। আন্দ্রে সান্তোস দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে নিজের পাশ থেকে সান্তা ক্রুজকে ছুটে আসতে দেখেও তাঁকে ঠেকাতে গা করেননি।
তবে আসল প্রশ্ন এটা নয়। আর্জেন্টিনার না হয় একজন প্লে-মেকারের অভাব, কিন্তু গানসো-রবিনহো-নেইমারদের মতো বল প্লেয়ার থাকতে ব্রাজিলও ধুঁকছে কেন? মাঝমাঠে একজন যোগ্য নেতার অভাব। ব্যক্তিগত নৈপুণ্য থাকলেও দল হিসেবে ব্রাজিলকে খুব এলোমেলো মনে হচ্ছে। রক্ষণের সঙ্গে মাঝমাঠ, আর মাঝমাঠের সঙ্গে আক্রমণভাগ—সমন্বয়ই নেই দলে।
গ্রুপের শেষ ম্যাচে ইকুয়েডরের বিপক্ষে এই সমন্বয়ের সুতোটা জোড়া দিতে পারবে ব্রাজিল? না পারলে বিপদ। বৃহস্পতিবারের এই ম্যাচ জিততে না পারলে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের কোপায় হ্যাটট্রিক শিরোপার অভিযান মুখ থুবড়ে পড়তে পারে অকালেই। পরশু দ্বিতীয় ম্যাচে ভেনেজুয়েলা ৬২ মিনিটে সিজার গঞ্জালেসের দেওয়া গোলে ইকুয়েডরকে হারিয়ে (১-০) এই গ্রুপের শীর্ষে উঠে গেছে প্রথম ম্যাচে ব্রাজিলকে রুখে দেওয়া ভেনেজুয়েলা।

ডমিনিকা টেস্ট ড্র, সিরিজ ভারতের

ডমিনিকা টেস্টে জয়ের পথে বেশ ভালোমতোই এগিয়ে যাচ্ছিল ভারত। কিন্তু নবম উইকেটে শিবনারায়ণ চন্দরপল ও ফিদেল এডওয়ার্ডের ৬৫ রানের ধৈর্যশীল জুটি জয়-বঞ্চিত করেছে ভারতকে। পঞ্চম দিনে জয়ের জন্য ৪৭ ওভারে ১৮০ রানের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাট করতে নেমে শেষ পর্যন্ত সফরকারীরা সংগ্রহ করেছে তিন উইকেটে ৯৪ রান। তবে সিরিজের শেষ টেস্টটা জিততে না পারলেও ১-০ ব্যবধানে সিরিজটা ঠিকই জিতে নিয়েছে ভারত।
ছয় উইকেটে ২২৪ রান নিয়ে পঞ্চম দিন শুরু করেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দিনের শুরুতেই ড্যারেন স্যামি ও রবি রামপালকে সাজঘরে ফিরিয়ে জয়ের আশাটা আরও জোরদার করেছিল ভারত। কিন্তু এরপর তাদের হতাশায় ডোবান চন্দরপল ও এডওয়ার্ড। নবম উইকেটে ৬৫ রানের জুটি গড়েন এ দুই ব্যাটসম্যান। উইকেটে ছিলেন ৩৭ ওভার। ১০৬ বল খেলে ৩০ রান করে আউট হয়েছেন এডওয়ার্ড। তবে চন্দরপল শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ছিলেন ১১৬ রান করে।
১৮০ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ইনিংসের প্রথম বলেই অভিনব মুকুন্দের উইকেট তুলে নিয়েছিলেন এডওয়ার্ড। এরপর আর জয়ের পেছনে না ছুটে ধীরেসুস্থেই খেলার সিদ্ধান্ত নেন ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা। দ্বিতীয় উইকেটে ৭৩ রানের জুটি গড়েছিলেন মুরলি বিজয় ও রাহুল দ্রাবিড়। এরপর খুব দ্রুতই রবি রামপালের শিকারে পরিণত হয়ে সাজঘরে ফেরেন বিজয় ও সুরেশ রায়না। তবে ৩৪ রান করে শেষ পর্যন্ত উইকেটে ছিলেন দ্রাবিড়।

নতুন দিনের অপেক্ষায় রুনি

চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে বার্সেলোনার কাছে হেরে শিরোপা জয়ের স্বপ্নটা পূরণ না হলেও, রেকর্ড ১৯তম বারের মতো ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা জিতে গত মৌসুমটা মোটামুটি সফলভাবেই শেষ করেছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড (ম্যান ইউ)। কিন্তু পল স্কলস, এডউইন ভন ডার সার, ওয়েস ব্রাউন ও জন ও’শেয়াদের মতো অভিজ্ঞ ফুটবলারদের অবসরে যাওয়ার পর এখন ওল্ড ট্রাফোর্ডে নতুন একটি যুগ শুরু হতে যাচ্ছে বলে অভিমত দিয়েছেন অনেকে। তবে এখন সেগুলো নিয়ে আফসোস না করে ম্যান ইউয়ের নতুন তারকাদের নিয়েই ভাবতে চাচ্ছেন ইংল্যান্ডের তারকা স্ট্রাইকার ওয়েইন রুনি।
সম্প্রতি ডেইলি মিররকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রুনি বলেছেন, ‘তাদেরকে সাজঘরে আর দেখতে পাওয়া যাবে না, এটা অবশ্যই খুব দুঃখজনক। ফন ডার সার, ব্রাউন ও পল স্কলের মতো ফুটবলারদের মাঠে না পাওয়া অবশ্যই আমাদের জন্য একটা বড় ক্ষতি। কিন্তু অন্যদিকে এখন ম্যান ইউয়ে অনেক নতুন মুখ দেখা যাবে। এটাও খুব ভালো ব্যাপার। আমাদের এখন নতুনদের নিয়েই ভাবতে হবে।’
এবারের দল বদলের মৌসুমে ম্যান ইউ দলে ভিড়িয়েছে নতুন গোলরক্ষক ডেভিড ডি জিয়া, ডিফেন্ডার ফিল জোনস ও মিডফিল্ডার অ্যাশলি ইয়ংকে। প্রিমিয়ার লিগের নতুন মৌসুম শুরু আগে নতুন এ মুখগুলো নিয়েই তিন সপ্তাহের জন্য যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাবে ম্যান ইউ।