Sunday, April 1, 2018

আসানসোল সফর করে শাহনওয়াজ বললেন দিল্লিতে অমিত শাহকে রিপোর্ট দেবো

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় অশান্ত আসানসোল এলাকা সফর করে দিল্লিতে বিজেপি সভাপতি অমিত শাহকে রিপোর্ট দেবেন বলে জানালেন কেন্দ্রীয় বিজেপি নেতা শাহনওয়াজ হুসেন।
আজ (রোববার) বিজেপি’র সিনিয়র নেতা শাহনওয়াজ হুসেনের নেতৃত্বে, ওম মাথুর, বি রামা রাও এবং রূপা গঙ্গোপাধ্যায় সমন্বিত এক প্রতিনিধিদল আসানসোলের চাঁদমারি, রামকৃষ্ণ ডাঙালসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেন এবং কয়েকটি ত্রাণ শিবির পরিদর্শন করে সেখানকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন।
বিজেপি নেতা শাহনওয়াজ হুসেন বলেন,  ‘শান্তির জন্য আমরা এখানে এসেছি। যে অন্যায় এখানে  হচ্ছে, সরকার তাতে  নজর দিচ্ছে না। মমতাজি দিল্লিতে ব্যস্ত রয়েছেন। সেখানে  ‘ডিনার’ ও ‘লাঞ্চ’ চলছে।’
তিনি বলেন, ‘বিহারে উত্তেজনা  হয়েছে কিন্তু  নীতীশ কুমার (মুখ্যমন্ত্রী) কীভাবে সামলালেন? এখানে কেন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না? কারণ, এখানকার সরকারের উদ্দেশ্য ভালো নয়। আমরা এখানকার মানুষের দুঃখ কষ্ট দেখেছি। সেই রিপোর্ট অমিত শাহজিকে (বিজেপি’র সর্বভারতীয় সভাপতি) দেবো।’
সম্প্রতি রামনবমীর শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে অস্ত্রমিছিল ও সাম্প্রদায়িক সহিংসতা সৃষ্টি হয় আসানসোল ও রানিগঞ্জ এলাকায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েনসহ ১৪৪ ধারা জারি ও ইন্টারনেট পরিসেবায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
এদিকে, বিহারের ভাগলপুরে সম্প্রতি সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় উসকানি দেয়ার অভিযোগে গতকাল (শনিবার) রাতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অশ্বিনী চৌবের ছেলে অর্জিৎ শাশ্বতকে (৩৬) পুলিশ গ্রেফতার করেছে। আজ (রোববার) ভাগলপুরের অতিরিক্ত মুখ্য বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট তাকে ১৪ দিনের জন্য জেল হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

পূর্ব বায়তুল মুকাদ্দাসকে ফিলিস্তিনের রাজধানী হিসেবে সমর্থন দিল ইইউ

ফিলিস্তিনি স্বশাসন কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসকে ২৮ জাতির ইউরোপীয় ইউনিয়ন আশ্বস্ত করেছে যে, পূর্ব বায়তুল মুকাদ্দাসকে তারা ভবিষ্যত ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে সমর্থন দেবে।
বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে সোমবার মাহমুদ আব্বাসের সঙ্গে এক বৈঠকে ইইউ জোটের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান ফেডেরিকা মোগেরিনি এ সমর্থন ব্যক্ত করেন। এ সময় তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে নাকচ করেন। গত ৬ ডিসেম্বর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বায়তুল মুকাদ্দাসকে ইহুদিবাদী ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেন।
এ সম্পর্কে মোগেরিনি তার ভাষায় বলেন, “ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসকে এ নিশ্চিত প্রতিশ্রুতির বিষয়ে আবারো আশ্বস্ত করতে চাই যে, দুই রাষ্টভিত্তিক সমাধানের প্রতি ইইউ’র সমর্থন রয়েছে এবং বায়তুল মুকাদ্দাস হবে দুই রাষ্ট্রের রাজধানী।”
ট্রাম্পের স্বীকৃতি প্রসঙ্গে মোগেরিনি বলেন, এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িতদের জ্ঞানের পরিচয় দেয়া উচিত এবং সেভাবে কাজ করা দরকার।

গাজা অবরোধের অবসান ঘটান: ইইউ

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার ওপর থেকে ইসরাইলি অবরোধের অবসান ঘটানোর আহ্বান জানিয়েছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান ফেডেরিকা মোগেরিনি।
এক বিবৃতিতে তিনি আজ (রোববার) বলেন, “গাজা অবরোধের অবসান ও ক্রসিং পয়েন্টগুলো সম্পূর্ণভাবে খুলে দেয়ার জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন তার আহ্বানের পুনরাবৃত্তি করছে তবে ইসরাইলের নিরাপত্তার বিষয়টিও স্বীকার করতে হবে।”
গাজা উপত্যকার ওপর ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার কথাও বলেছেন মোগেরিনি। গত শুক্রবার ভূমি দিবস উপলক্ষে গাজা সীমান্তের কাছে ফিলিস্তিনিদের অবস্থান কর্মসূচির ওপর ইহুদিবাদী সেনাদের বর্বর হামলার পর মোগরিনি এসব কথা বললেন। শুক্রবারের হামলায় অন্তত ১৭ ফিলিস্তিনি শহীদ ও ১,৫০০ আহত হয়েছেন। এসব মানুষের সবাই ছিলেন সম্পূর্ণ নিরস্ত্র। নিহতদের জন্য শোক প্রকাশ করেছেন ফেডেরিকা মোগেরিনি।
১৯৪৮ সালে অবৈধ ইসরাইল প্রতিষ্ঠার পর থেকে ফিলিস্তিনি ভূমি জবর দখল করে চলেছে। একাজ করতে গিয়ে তারা নিরাপত্তার নামে এ পর্যন্ত হাজার হাজার ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে।

জম্মু-কাশ্মিরে ব্যাপক সংঘর্ষ: নিরাপত্তা বাহিনীর ৩ সদস্যসহ নিহত ১৬; বনধের ডাক

জম্মু-কাশ্মিরের অনন্তনাগ ও সোপিয়ানে তিনটি পৃথক সংঘর্ষে সেনাবাহিনীর ৩ সদস্যসহ ১৬ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১১ গেরিলা ও ২ বেসামরিক ব্যক্তি রয়েছেন। ওই ঘটনায় রাজ্যে তীব্র উত্তেজনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
অন্যদিকে, নিরাপত্তা বাহিনী অভিযান চালানোর সময় তাদের বাধা দিতে প্রতিবাদী জনতা বিক্ষোভ প্রদর্শন করায় উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে ৫০ জনেরও বেশি বেসামরিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। অন্য একটি সূত্রে প্রকাশ, ওই ঘটনায় কমপক্ষে একশ’ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।
আজ (রোববার)মুখ্যমন্ত্রী মেহেবুবা মুফতি সংঘর্ষে বেসামরিক ব্যক্তি ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যের হতাহতের ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
আজ বিক্ষোভকারীরা নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করলে নিরাপত্তা বাহিনী কাঁদানে গ্যাসের সেল নিক্ষেপসহ পেলেট গানের ছররা গুলিবর্ষণ করে পাল্টা জবাব দেয়। এসময় কমপক্ষে ২৫ বেসামরিক ব্যক্তি পেলেট গানের ছররা গুলিতে আহত হয়েছেন। আহতদের স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে চোখে আঘাত পাওয়া বেশ কয়েকজন তরুণকে উন্নত চিকিৎসার জন্য শ্রীনগর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
সংঘর্ষের পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে দক্ষিণ কাশ্মিরের সোপিয়ান ও অনন্তনাগ জেলায় ইন্টারনেট পরিসেবা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে, শ্রীনগর ও বানিহালের মধ্যে ট্রেন চলাচলও বন্ধ রাখা হয়েছে।
আগামীকাল (সোমবার) সমস্ত স্কুল-কলেজসহ সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে বলে সরকারি ঘোষণা দেয়া হয়েছে। কাশ্মিরের প্রতিরোধ আন্দোলনের নেতারা আজ থেকে দু’দিনের বনধ পালনের ডাক দিয়েছেন।

অবরুদ্ধ গাজা

ফিলিস্তিনের গাজার বিভিন্ন দিক দিয়ে নিরাপত্তা বেষ্টনি তৈরি করেছে ইসরাইলি সেনারা। কার্যত গাজা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। শুক্রবার থেকে সেখানে ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় কমপক্ষে ১৭ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে।  তারদ ওপর ড্রোন ব্যবহার করে কাঁদানে গ্যাস ফেলা হচ্ছে। হাজার হাজার ফিলিস্তিনি সীমান্তে এসে জড়ো হয়েছে। উত্তেজিত এসব মানুষ আগুনে পুড়িয়ে দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের ছবি। যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস তেলআবিব থেকে জেরুজালেমে স্থানান্তরের প্রতিবাদ অব্যাহত রেখেছে। সরকারি হিসাবে, গাজা সীমান্তে ইসরাইলি সেনাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে আহত হয়েছে কমপক্ষে ১৪০০ ফিলিস্তিনি। জেরুজালেমের বিভিন্ন স্থানে সীমান্তের বাইরে কমপক্ষে পাঁচটি স্থানে অস্থায়ী তাঁবু পেতেছে ফিলিস্তিনিরা। ৬ সপ্তাহ বিক্ষোভ প্রতিবাদ অব্যাহত রাখার জন্য পরিকল্পনা নিয়েছে তারা। আগামী ১৪ই মে তেলআবিব থেকে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস স্থানান্তর হওয়ার কথা রয়েছে। সেই পর্যন্ত এভাবে বিক্ষোভ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে তারা। ইসরাইলি সেনাবাহিনী বলছে, ৩০ হাজার ফিলিস্তিনি বিক্ষোভ করছে। তাদেরকে ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ছোড়া হচ্ছে ড্রোন দিয়ে। ওদিকে গাজার কর্মকর্তারা বলছেন, যারা এরই মধ্যে নিহত হয়েছেন তাদের বয়স ১৬ বছরের মধ্যে। ইসরাইলের সরাসরি গুলিতে আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৪০০ মানুষ। অন্যরা আহত হয়েছে রাবার বুলেটে, কাঁদানে গ্যাসে। অন্যদিকে বিভিন্ন স্থানে গাড়ির টায়ারে আগুন ধরিয়ে দিয়ে বিক্ষোভ করছে ফিলিস্তিনিরা। ইসরাইলি বাহিনী যে এলাকায় সীমান্ত বেষ্টনি তৈরি করেছে তার কয়েক শত গজ দূরেই অস্থায়ী ক্যাম্প পেতেছে ফিলিস্তিনিরা। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ কিশোর-যুবকদের বিরত থাকার আহ্বান জানালেও তাতে কোনো কাজে আসছে না। ইসরাইলি সেনারা তাদেরকে দূরে থাকতে নির্দেশ দিচ্ছে। কিন্তু কোনো কাজ হচ্ছে না।

৭৫-এ সম্পাদক গোলাম সারওয়ার: সুবর্ণরেখায় বাতিঘর

রোববার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ারের ৭৫তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশিষ্টজনের উপস্থিতিতে 'সুবর্ণরেখায় বাতিঘর' সম্মাননা গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয়- সমকাল
পথটা সোনায় মোড়ানো ছিল না। অবশ্য কাঁটা বিছানোও নয়। ৭৫ বছর ধরে তাকে পাড়ি দিতে হয়েছে অনেক পথ এবং সেই পথে চড়াই-উতরাই তো ছিলই। দীর্ঘ পথপরিক্রমায় নিজেকে বাতিঘরে রূপান্তরিত করেছেন, যে বাতিঘর দূরের যাত্রীকে পথ দেখায়। সুবর্ণরেখায় সেই বাতিঘর, বাংলাদেশের সাংবাদিকতার পথিকৃৎ গোলাম সারওয়ারের ৭৫তম জন্মবার্ষিকীতে সাংবাদিকরা তো বটেই, সমবেত হয়েছিলেন শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি ও রাজনীতি অঙ্গনের শীর্ষজন।
সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ারের জন্মের শুভদিনটি উদযাপনের প্রস্তুতি ছিল আগে থেকেই। সর্বজনশ্রদ্ধেয় শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আনিসুজ্জামানকে সভাপতি করে গঠিত হয় '৭৫-এ সম্পাদক গোলাম সারওয়ার: জন্মবার্ষিকী উদযাপন কমিটি'। কমিটির উদ্যোগে প্রকাশনা সংস্থা কথাপ্রকাশ প্রকাশ করেছে সম্মাননাগ্রন্থ- 'সুবর্ণরেখায় বাতিঘর'।
লেখক-অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের সম্পাদনায় প্রকাশিত সম্মাননা গ্রন্থটিতে গোলাম সারওয়ারকে নিয়ে ৭২টি লেখা ছাপা হয়েছে। বইটি শুরু হয়েছে তার শিক্ষক আনিসুজ্জামানের লেখা দিয়ে। শেষ লেখাটি তার নাতি শায়ের নাঈমের।
বইয়ে বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার সন্ধ্যা নদীতীরের এক বালক, যাকে তার মা আদর করে দুলাল বলে ডাকতেন, সেই বালকটির প্রথিতযশা সাংবাদিক গোলাম সারওয়ার হয়ে ওঠার গল্পটি পাওয়া যায়। বাংলাদেশের সংবাদপত্রের বিকাশ ও ক্রমপরিণতির ইতিহাসে যার নাম অতিগুরুত্বের সঙ্গে উচ্চারিত হয়, শৌখিন, কুটিরশিল্পসদৃশ সংবাদপত্রের ক্ষীণ বলয় থেকে বৃহৎ কলেবরের সংবাদপত্রের অভিযাত্রার অন্যতম সফল পথিকৃৎ যিনি, তাকে নিয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, সাবেক রাষ্ট্রপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা সুলতানা কামাল, রাশেদা কে চৌধুরী, লেখক-প্রাবন্ধিক অধ্যাপক যতীন সরকার, কথাশিল্পী রাহাত খান, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি মুহম্মদ শফিকুর রহমান, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আবেদ খান, সাংবাদিক নেতা মনজুরুল আহসান বুলবুলসহ সব অঙ্গনের বিশিষ্টজনের লেখা রয়েছে। ষাটের দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে গোলাম সারওয়ারের পারিবারিক এবং বিশিষ্টজনের সঙ্গে তার অনেক ছবিও রয়েছে বইটিতে। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের কার্নিভাল হলে জন্মবার্ষিকী উদযাপনের অনুষ্ঠানে চমৎকার এই বইটির মোড়ক উন্মোচন করা হয়। অবশ্য এর আগেও ছিল বেশ কিছু আনুষ্ঠানিকতা। পূজা সেনগুপ্ত ও তার দলের নৃত্য দিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠান।
নৃত্যের পর রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা পরপর কয়েকটি রবীন্দ্রসঙ্গীত গেয়ে শোনান। প্রদর্শিত হয় গোলাম সারওয়ারকে নিয়ে একটি তথ্যচিত্র।
জন্মবার্ষিকী উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব ও সমকালের নির্বাহী সম্পাদক মুস্তাফিজ শফি সবাইকে স্বাগত জানান। এরপর গোলাম সারওয়ারকে উত্তরীয় পরিয়ে দেন অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। জন্মদিনের সম্মাননাপত্র পাঠ করেন আবৃত্তিশিল্পী ও নাট্যাভিনেতা জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়। অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে শেষ হয় প্রথম পর্বের এই আয়োজন।
গোলাম সারওয়ারের ৭৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়ে আনিসুজ্জামান বলেন, 'অনেক কাল আগে সারওয়ারকে পেয়েছিলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররূপে। সেই থেকে সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে তার প্রবেশ এবং উন্নতি লাভের ধারাটি আমি সাগ্রহে ও সানন্দে দেখে আসছিলাম। নিজ মেধা ও শ্রমে সে দেশের বহুল প্রচারিত দৈনিকের সম্পাদক পদে সগৌরবে অধিষ্ঠিত হয়েছে। সাংবাদিক মহলে সে সমাদৃত শ্রদ্ধার পাত্র হিসেবে। এই অর্জন সামান্য নয়।' বক্তব্যে তিনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতি গোলাম সারওয়ারের অঙ্গীকার এবং ব্যক্তিগত সৌজন্যবোধের ভূয়সী প্রশংসা করেন। এই পর্ব পরিচালনা করেন সমকাল'র ফিচার সম্পাদক মাহবুব আজীজ।
সম্মাননা গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচনের পর শুরু হয় শুভেচ্ছা জ্ঞাপন। সুধীজনের শুভেচ্ছায় সিক্ত গোলাম সারওয়ার নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
তিনি বলেন, 'আমি বুঝতেই পারিনি মানুষ আমাকে এত ভালোবাসে। এ এক অলৌকিক আনন্দ। আমি মুগ্ধ, আমি কৃতজ্ঞ।' অনুভূতি প্রকাশের এ বক্তব্যে গোলাম সারওয়ার বিশ্ববিদ্যালয় জীবন থেকে যে সাংবাদিকতার শুরু, তার কথাও বললেন। সংবাদ থেকে ইত্তেফাক পর্যন্ত নিজের বিকাশের নানা স্তর তুলে ধরেন। সম্পাদক হিসেবে আবির্ভাব এবং একাধিক পত্রিকা সম্পাদনার কথা বলে বর্তমান পত্রিকা সমকালেই কর্মজীবন শেষ করার আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করে বলেন, 'বার্তাকক্ষেই জীবন শেষ করতে চাই।'
গোলাম সারওয়ারকে শুভেচ্ছা জানাতে আসেন স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, জাসদ সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. আবদুর রাজ্জাক এমপি, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, জাতীয় পার্টির (জাপা) মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমীন হাওলাদার, প্রেসিডিয়াম সদস্য জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু এমপি, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, আইন সম্পাদক স ম রেজাউল করিম প্রমুখ।
জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতে আসেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা শিক্ষাবিদ রাশেদা কে চৌধুরী, গীতি আরা সাফিয়া চৌধুরী, ব্যারিস্টার আমীর-উল ইসলাম, অর্থনীতিবিদ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান বিচারপতি মমতাজ উদ্দিন আহমেদ, বিচারপতি এ এইচ শামসুদ্দিন চৌধুরী ও অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।
বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান, প্রধানমন্ত্রীর সাবেক মুখ্য সচিব কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী, কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন, কবি হেলাল হাফিজ, আনোয়ারা সৈয়দ হক, নাট্যজন আতাউর রহমান, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব গোলাম কুদ্দুছ, অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ, সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার, জাদুশিল্পী জুয়েল আইচ, অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, পরিবেশ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. আইনুন নিশাত, নাট্যজন ম. হামিদ, নাট্যকার মামুনুর রশীদ, গণসঙ্গীতশিল্পী ফকির আলমগীর, প্রচ্ছদশিল্পী ধ্রুব এষও শুভেচ্ছা জানাতে আসেন।
নিউজ টুডের সম্পাদক রিয়াজউদ্দিন আহমেদ, ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম, ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুল, কথাসাহিত্যিক সাংবাদিক আনিসুল হক, প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক মিজানুর রহমান খান, পিআইবির মহাপরিচালক শাহ আলমগীর, সাংবাদিক নেতা ওমর ফারুক জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানান গোলাম সারওয়ারকে। শুভেচ্ছা জানাতে আসেন র‌্যাব মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ, মুখপাত্র কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান, ঢাকা মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান। ব্র্যাক হেড অব করপোরেট অ্যাফেয়ার জারা জাবিন মাহবুব, পপুলার লাইফ সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর আলমগীর ফিরোজ, আমিন মোহাম্মদ গ্রুপের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিনুল হকও জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানান সমকাল সম্পাদককে।
শেষপর্বে ছিল ঐশী, কর্নিয়া, কিশোরসহ নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের গান।

১০০০০ রোহিঙ্গার দ্বিতীয় তালিকা দিচ্ছে ঢাকা: প্রত্যাবাসনে ৫৫৯ জনে অনাপত্তি by মিজানুর রহমান

পুরনো ৮ হাজার ৩২ জনের তালিকা থেকে ৬শ’রও কম বাস্তুচ্যুতকে রাখাইনের বাসিন্দা বলে স্বীকৃতি দিয়েছে মিয়ানমার। তারা যেকোনো সময় ফিরতে পারবেন বলে ঘোষণা দিয়েছে দেশটির সরকার। তবে কবে নাগাদ তারা ফিরতে পারবেন তা নিয়ে এখনো অস্পষ্টতা রয়ে গেছে। এ অবস্থায় দ্বিতীয় প্রত্যাবাসন তালিকা প্রস্তুত করেছে বাংলাদেশ। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা মানবজমিনকে জানিয়েছেন, প্রায় ১০ হাজার রোহিঙ্গার ওই তালিকা শিগগিরই মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে। প্রত্যাবাসন তালিকাকে মিয়ানমারের স্বীকৃতি বা অনাপত্তি দেয়া না দেয়া নিয়ে যখন বিতর্ক তুঙ্গে তখন ’১১ সালের আগে আসা ২৪১৫ জনকে স্বীকৃতি দিয়েও মিয়ানমারের না ফেরানোর বিষয়টি সামনে আসছে । কূটনীতিক ও পর্যবেক্ষকরা বলছেন, সংখ্যা মুখ্য নয়, প্রত্যাবাসনে সুচি সরকারের আন্তরিকতাটা জরুরি। কারণ মিয়ানমার সরকার ২০১৪ সালে ২৪১৫ জনকে রাখাইনের বাসিন্দা বলে ফিরতে ‘অনাপত্তি সনদ’ দিয়েছিল। কিন্তু আজও অবধি তাদের ফেরায় নি। নবাগত রোহিঙ্গাদের ফেরানোর আলোচনায় পুরনোদের বিষয়টি এখন চাপা পড়ে গেছে। গত বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংক্রান্ত জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের আসন্ন দ্বিতীয় বৈঠকের প্রস্তুতি সভায় মিলিত হয়েছিলেন বাংলাদেশের কর্মকর্তারা। পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হকের সভাপতিত্বে তার দপ্তরে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে দ্বিতীয় প্রত্যাবাসন তালিকা এবং প্রথম তালিকার ৫৫৯ জনের স্বীকৃতির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সেই বৈঠকে প্রত্যাবাসনের জন্য পাঠানো প্রথম তালিকার ৮ হাজার ৩২ জনের মধ্যে ৬শ’ জনেরও কম ব্যক্তিকে রাখাইনের বাসিন্দা বলে স্বীকৃতি দেয়ায় বিস্ময় প্রকাশ করা হয়। এ বিষয়ে আসন্ন জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকে ব্যাখ্যা চাওয়ার পরামর্শও আসে। বৈঠকে অংশ নেয়া ওয়ার্কিং গ্রুপের সদস্য সরকারের শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ আবুল কালাম অবশ্য গণমাধ্যমকে বলেছেন, যাচাইয়ের পর মিয়ানমারের অনাপত্তি সংক্রান্ত (প্রথম তালিকার) যে নামগুলো বাংলাদেশ পেয়েছে এখন তাদের প্রত্যাবাসনের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। পাশাপাশি মিয়ানমারকে দ্বিতীয় তালিকা দেয়ার প্রস্তুতিও প্রায় চূড়ান্ত। প্রথম তালিকার সব নাম যাচাইয়ের আগে দ্বিতীয় তালিকা দেয়ার যৌক্তিকতা বিষয়ে জানতে চাইলে আবুল কালাম বলেন, এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। দ্বিতীয় তালিকা দিতে কোনো অসুবিধা নেই। গত ১৬ই ফেব্রুয়ারি ঢাকায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশ ১ হাজার ৬৭৩ পরিবারের ৮ হাজার ৩২ জন রোহিঙ্গার প্রথম প্রত্যাবাসন তালিকা মিয়ানমারকে দিয়েছিল। সেই তালিকা থেকে এ পর্যন্ত ৫৫৯ জনকে (প্রথমে ৩৭৪, পরে ১৮৫) রাখাইনের আদি বাসিন্দা বলে স্বীকার করে বাংলাদেশকে ফিরতি তালিকা দিয়েছে মিয়ানমার। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা গত বৃহস্পতিবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এক সেমিনারের সাইড লাইনে মানবজমিনের সঙ্গে আলাপে বলেন, প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় সংখ্যা একটি বিষয়, কিন্তু এটিকে বড় করে দেখলে পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হতে পারে। সংখ্যা নিয়ে আমাদেরও প্রশ্ন আছে। কিন্তু আমরা এটাকে বড় করে দেখতে চাই না। আমরা পুরো প্রক্রিয়াকে জোরালোভাবে এগিয়ে নিতে চাই। এখানে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের ফেরাতে মিয়ানমারের সদিচ্ছাটা জরুরি। দেরি হলেও আমরা টেকসই প্রত্যাবাসন চাই। আর এটি হতে হবে অবশ্যই নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ এবং স্বেচ্ছায়। প্রত্যাবাসন বিষয়ক জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের আসন্ন দ্বিতীয় বৈঠক ঢাকায় হবে জানিয়ে ওই কর্মকর্তা বলেন, এখনো সময়ক্ষণ চূড়ান্ত হয়নি। তবে এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে এটি হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। সে মতেই প্রস্তুতি চলছে। প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় সহায়তার জন্য জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর-এর সঙ্গে পাকা চুক্তি শিগগিরই হবে বলেও জানান ঢাকার ওই কূটনীতিক। উল্লেখ্য, গত বছরের ২৫শে আগস্ট রাখাইনে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর আচমকা অভিযানে গত কয়েক মাসে প্রায় ৭ লাখ রোহিঙ্গা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। ২০১৬ সালের অক্টোবরের পর এসেছে ৮৭ হাজার। আর এখানে আগে থেকে আরো প্রায় ৪ লাখ রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। এ পর্যন্ত বাংলাদেশ প্রায় ১০ লাখ ৯৫ হাজার রোহিঙ্গাকে নিবন্ধনের আওতায় নিয়ে আসতে পেরেছে। নিবন্ধন প্রক্রিয়াটি এখনো চলমান রয়েছে।
কথা রাখেনি মিয়ানমার, পুরাতন ২৪১৫ জনকে ফেরায়নি, উদ্যোগও নেই: সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছে, ২০১১ সালের অক্টোবরের আগে বাংলাদেশে আসা কয়েক লাখ রোহিঙ্গার মধ্যে দুই হাজার ৪১৫ জনের পরিচয় যাচাই করে রাখাইনের আদি বাসিন্দা হিসেবে স্বীকার করে তাদের ফেরায় অনাপত্তি দিয়েছিল মিয়ানমার। কিন্তু আজ অবধি তাদের ফেরায় নি। নবাগতদের ফেরানোর সামপ্রতিক চুক্তি ও মাঠ পর্যায়ের তৎপরতায় পুরাতনদের ফেরানোর কোনো উদ্যোগই এখন নেই। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, মিয়ানমারের কূটকৌশলে এখানে বছরের পর বছর ধরে অস্থায়ী আশ্রয়ে থাকা রোহিঙ্গাদের ফেরার বিষয়টি আড়াল হয়ে আছে। আদৌ আর কোনো দিন এদের নিয়ে কেউ আলোচনা করবে কি-না তা নিয়েও যথেষ্ট সংশয় রয়েছে! সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, ২০১৪ সালের ৩১শে আগস্ট ঢাকায় পররাষ্ট্র সচিবদের নেতৃত্বে বৈঠকে মিয়ানমার তাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া দুই মাসের মধ্যে শুরুর আশ্বাসও দিয়েছিল। এমনকি গত বছরের ২৫শে আগস্ট রাখাইন রাজ্যে নতুন করে অভিযান শুরুর পর বাংলাদেশমুখী ঢলের পরিপ্রেক্ষিতে মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রও বলেছিলেন, সবাইকে নয়, বরং এর আগে যাচাই করা সেই দুই হাজার ৪১৫ জনকেই তারা ফেরত নেবেন। কিন্তু গত ২৩শে নভেম্বর দুুই দেশের মধ্যে যে চুক্তি হয়েছে এবং গত ১৯শে ডিসেম্বর ঢাকায় দুই দেশের মধ্যে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের কার্যপরিধি ঠিক করা হয়েছে, সেখানে ওই দুই হাজার ৪১৫ জনের প্রত্যাবাসন বিষয়ে কোনো কিছু বলা হয়নি। কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, বাংলাদেশ যখন শরণার্থী শিবিরের বাইরে অবৈধভাবে অবস্থান করা কয়েক লাখ রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নেয়ার জোর দাবি জানাচ্ছিল তখনও মিয়ানমার ওই দুই হাজার ৪১৫ জনকে ফেরত নিয়ে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরুর আশ্বাস দিয়েছে। কিন্তু এরপর আর তা বাস্তবায়ন করেনি। বরং তাদের সৃষ্টি করা পরিস্থিতিতে আরো অন্তত সাত লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে।
ঝুঁকিতে থাকা রোহিঙ্গাদের নিরাপদ স্থানে সরানো হচ্ছে: প্রত্যাবাসনে দেরি হওয়া এবং বর্ষা মৌসুমে ভূমিধস, বন্যা, সাইক্লোন হওয়ার আশঙ্কায় পাহাড়ি এলাকায় চরম ঝুঁকিতে থাকা কয়েক হাজার রোহিঙ্গাকে নিরাপদে সরিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। মূলত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন শরণার্থী বিষয়ক বিশেষ সেলের তত্ত্বাবধানে কাজটি শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সূত্র মতে, চরম ঝুঁকিতে থাকা রোহিঙ্গাদের বিষয়ে সমপ্রতি জাতিসংঘের যেসব রিপোর্ট এসেছে তার ভিত্তিতে ১১ হাজার জনকে এরই মধ্যে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। এপ্রিলের মাঝামাঝি আরো ১৪ হাজার রোহিঙ্গাকে সরানো হবে বলে জানা গেছে।

কুনিও হত্যা মামলার আইনজীবী নিখোঁজ: হুমকির বিষয়ে পুলিশকে জানিয়েছিল পরিবার

জাপানি নাগরিক হোশি কুনিও ও মাজার খাদেম রহমত আলী হত্যা মামলায় সরকার পক্ষের প্রধান আইনজীবী ও রংপুর বিশেষ জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আওয়ামী লীগ জেলা আইন বিষয়ক সম্পাদক রথিশ চন্দ্র ভৌমিক বাবু সোনা নিখোঁজ। ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও তার সন্ধান না পাওয়ায় জেলার প্রশাসন, রাজনৈতিক, সামাজিক ও  সাংস্কৃতিক সংগঠনে  চলছে ব্যাপক তোলপাড়। অ্যাডভোকেট রথিশ চন্দ্র ভৌমিককে উদ্ধারের টার্গেট নিয়ে মাঠে নেমেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী র‌্যাব-পুলিশ। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান পায়নি প্রশাসন। আওয়ামী লীগ নেতা ও আইনজীবী অ্যাডভোকেট রথিশ কেন নিখোঁজ হলো, কারা এর সঙ্গে জড়িত, কিংবা কেউ কি অপহরণ করেছে, অপহরণের নেপথ্যের কারণই বা কী, জঙ্গিদের বিপক্ষে আইনজীবী অবস্থান নেয়ার কারণ কী তার কাল নাকি ডিমলা জমিদারের রাজ দেবোত্তর সম্পত্তি সাড়ে ৯ একর জমি দখলের বিরোধের কারণে নিখোঁজ। এ নিয়ে নগরজুড়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা ও গুঞ্জন। এদিকে অ্যাডভোকেট রথিশ চন্দ্রের উদ্ধারের দাবিতে গতকাল শনিবার সকালে নগরীর স্টেশন এলাকায় রেললাইন ও সড়ক অবরোধ করে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেছে আওয়ামী লীগ। অপরদিকে এলাকাবাসী কুড়িগ্রাম-লালমনিরহাট ও রংপুর মহাসড়কের তাজহাট এলাকায় সকাল সাড়ে ৯টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত দুই ঘণ্টাব্যাপী সড়ক অবরোধ করে রাখে। ফলে দুই ধারে শত শত গাড়ি আটকা পড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়। এ সময় কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাট থেকে সারা দেশের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ওদিকে বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ ও খিষ্ট্রান ঐক্য পরিষদ জেলা ও মহানগর শাখা এবং বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন পরিষদ রংপুর জেলা ও মহানগর শাখার যৌথ উদ্যোগে বেলা ২টায় রংপুর প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ ও খিষ্ট্রান ঐক্য পরিষদের জেলা সভাপতি বনমালী পাল তার লিখিত বক্তব্যে বলেন,  হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট্রের ট্রাস্ট্রি, পূজা উদযাপন পরিষদ রংপুর জেলা শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট রথিশ চন্দ্র ভৌমিক শুক্রবার সকাল সাড়ে ৬টায় তার আলমনগর বাবুপাড়া রোডস্থ বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেনি। এ ঘটনায় রাতে তার পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় জিডি করা হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা উদ্বেগ প্রকাশ করছি তার এ নিখোঁজে। তারা আরো বলেন, অ্যাডভোকেট বাবু সোনা রংপুর জেলা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা আইনজীবী সমিতির সহসাধারণ সম্পাদক। তার মতে, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত সমাজের নাগরিক এভাবে নিখোঁজ হওয়া আমাদেরকে হতাশ করেছে। দেশের সর্বোচ্চ পর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে আহ্বান জানাচ্ছি অবিলম্বে আমাদের প্রিয় নেতাকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে আমাদের মাঝে ফিরিয়ে দিন। তারা এ নিখোঁজের জন্য পুলিশ প্রশাসনকে দায়ী করে বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অ্যাডভোকেট রশিথ চন্দ্র ভৌমিককে নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, রথিশ চন্দ্র রংপুর বিশেষ জজ আদালতে সরকার পক্ষে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া দুটি মামলা পরিচালনা করছিলেন। তিনি জামায়াতে ইসলামের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজাহারুল ইসলামের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার সাক্ষী ছিলেন। ওই মামলার রায়ে আজাহারুলের ফাঁসির আদেশ হয়েছে। তিনি মামলা পরিচালনা করে জঙ্গিদের ফাঁসির রায় নিশ্চিত করেন। জাপানি নাগরিক হত্যার মামলার রায়ের পর থেকেই তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয় জেএমবি। এ ব্যাপারে পুলিশকে জানালে তার বাড়ির সামনে পুলিশি পাহারা বসানো হয়। দুদিন পর সে পাহারা তুলে নেয় প্রশাসন। সম্প্রতি মাজার খাদেম হত্যার রায়ে জেএমবি জঙ্গিদের ফাঁসি রায় হলে আবার তিনি হুমকির মুখে পড়েন। কিন্তু তার নিরাপত্তার জন্য প্রশাসন থেকে কোনো পদক্ষেপ না নেয়ায় আজকের এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিতিরা বলেন, অবিলম্বে আমাদের প্রিয় নেতা অ্যাডভোকেট রথিশকে উদ্ধার করা না হলে আমরা বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলবো। সংবাদ সম্মেলনে আজ রোববারের রংপুর জেলা ও উপজেলায় মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এতে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ ও খিষ্ট্রান ঐক্য পরিষদের জেলা সাধারণ সম্পাদক স্বপন কুমার রায়, গৌতম রায়, মহানগর কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট কমল কুমার মজুমদার, পূজা উদ্‌যাপন মহানগর কমিটির সভাপতি সুব্রত সরকার মুকুল, সহ-সভাপতি অজয় প্রসাদ বাবন, যুগ্ম সম্পাদক লহ্মীণ চন্দ্র দাস, পার্থ বোস, সাংগঠনিক সম্পাদক অলোক নাথ প্রমুখ। পাশাপাশি নিখোঁজ অ্যাডভোকেট বাবু সোনার পরিবারের সদস্যসহ স্বজন ও সহকর্মীদের অভিযোগ, বেশ কিছুদিন ধরে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। বিষয়টি পুলিশকে জানানোর পরও তারা নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেয়নি বলে একই অভিযোগ করা হয়। নিখোঁজ আইনজীবীর স্ত্রী দীপা ভৌমিক জানান, শুক্রবার সকাল ৬টার দিকে তাদের রংপুর নগরীর আলমনগর বাবুপাড়া এলাকার বাসা থেকে বাবু সোনাকে কেউ ডেকে নিয়ে যায়। এসময় তিনি ঘরে কাজ করছিলেন। কোথায় যাচ্ছেন জানতে চাইলে তিনি বলেছিলেন, ‘বাইরে যাচ্ছি দুপুরের আগে বাসায় ফিরবো।’ এরপর পাঞ্জাবি পরা এক ব্যক্তির লালরঙের মোটরসাইকেলে চড়ে চলে যান। মোটরসাইকেলে কে বা কারা এসেছিল তা তিনি জানেন না। তিনি আরও জানান, সাধারণত বাবু সোনা সকাল ৮-৯টার দিকে বাসা থেকে বের হন। তিনি যাওয়ার পর সকাল ৭টার পর থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তখন আমরা ভেবেছি হয়তো কোনো জরুরি মিটিংয়ে আছেন, সেজন্য ফোন বন্ধ। কিন্তু দুপুর ৩টার পরেও তার ফোন বন্ধ পাওয়ায় আমরা বিভিন্ন স্বজনের সঙ্গে যোগাযোগ করি। রাতেও তিনি বাসায় না ফেরায় আমরা পুলিশকে বিষয়টি জানাই। দীপা ভৌমিক তার স্বামীকে অক্ষত অবস্থায় ফিরে পাওয়ার দাবি জানান। সরকার পক্ষের প্রধান আইনজীবী রথিশ চন্দ্র ভৌমিক নিখোঁজ বাবু সোনার ছোট ভাই সাংবাদিক সুশান্ত ভৌমিক জানান, সকালে কে তাকে (আইনজীবী) ডাকতে এসেছিল, সেটাও অনুসন্ধান করা দরকার। বিষয়টি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। প্রাণনাশের হুমকির বিষয়ে স্বজনদের অভিযোগ বিষয়ে রংপুরের কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাবুল হোসেন বলেন, ‘আমরা বিষয়টির তদন্ত করছি।’ এদিকে নিখোঁজ হওয়ার সংবাদ পেয়ে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী, আইনজীবী (পিপি) রথিশ চন্দ্র ভৌমিকের বাড়িতে আসেন। তারা পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রাজু জানান, বাবু সোনা অসম্ভব জনপ্রিয় মানুষ। তিনি জেলার বিভিন্ন সংগঠনের শীর্ষ নেতা ছিলেন। দুই মামলায় জঙ্গিদের ফাঁসির আদেশ হয়েছে। বেশ কিছুদিন ধরে তিনি বলছিলেন তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। ‘মূলত সামনে নির্বাচন দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে এটা পরিকল্পিত কাজ। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং দলের ঊর্ধ্বতন নেতাদের জানানো হয়েছে।’
রংপুরের অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার মারুফ হোসেনও নিখোঁজ বাবু সোনার বাসা পরিদর্শন করেছেন। তিনি সাংবাদিকদের জানান, তারা জঙ্গিদের বিষয়সহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তদন্ত শুরু করছেন। অচিরেই ভালো খবর দিতে পারবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি। সর্বশেষ সংবাদ লেখা পর্যন্ত সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের নেতা অ্যাডভোকেট রথিশ চন্দ্র ভৌমিককে উদ্ধারের দাবিতে পাবলিক লাইব্রেরি মাঠ থেকে এক বিক্ষোভ মিছিল বের করে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট।

নির্বাচন সামনে রেখে বিরোধীদের ওপর দমনপীড়ন -এশিয়ান হিউম্যান রাইটসের রিপোর্ট

ডিসেম্বরে অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ওপর দমনপীড়ন বৃদ্ধি করেছে বাংলাদেশ সরকার। এমনিতেই দেশটিতে মানবাধিকার পরিস্থিতি নাজুক এবং উচ্চমাত্রায় উদ্বেগজনক। তার ওপর ভিন্ন মতাবলম্বীদের বিক্ষোভে প্রায়শই সহিংস মনোভাব প্রদর্শন করছে দেশের আইন প্রয়োগকারী এজেন্সিগুলো। এ অবস্থায় ডিসেম্বরে অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচনের জন্য বিশ্বাসযোগ্য পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। সেই নির্বাচন হতে হবে সবার অংশগ্রহণমূলক। এ দিকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে নজর দিতে হবে। মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠন এশিয়ান হিউম্যান রাইটস কমিশন এক বিবৃতিতে এসব কথা লিখেছে। এর শিরোনাম ‘বাংলাদেশ: ক্র্যাকডাউন অন অপজিশন প্রায়র টু ইলেকশনস ডেটেরিওরেটস দ্য হিউম্যান রাইটস সিটুয়েশন’।
বেশ দীর্ঘ ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যাপক আকারে মানবাধিকার লঙ্ঘন ঘটছে কর্তৃপক্ষের অধীনে। সব নাগরিকের যে খেয়ালখুশিমতো স্বাভাবিক জীবনযাপনের অধিকার আছে, তা এরই মধ্যে ঝুঁকিতে পড়েছে। ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশে জোরপূর্বক গুম হয়েছেন ৪২২ জন। এতে জড়িত আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো দায়মুক্তি পেয়ে গেছে। সম্প্রতি পার্লামেন্টে এক বক্তব্যে এর পক্ষে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি গুমকে জাস্টিফাই করেছেন। বলেছেন, বৃটেন ও যুক্তরাষ্ট্রেও তো বিপুলসংখ্যক মানুষ নিখোঁজ হন। আবারো জোরপূর্বক গুমকে বৈধতা দেয়ার চেষ্টা করেছেন বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ ও এ অঞ্চলে কয়েক দশক ধরে গুমের ঘটনা ঘটে আসছে। এশিয়ান হিউম্যান রাইটস কমিশন বলেছে, তবে প্রকৃত সত্য হলো, প্রধানমন্ত্রী যেসব দেশে গুমের কথা বলেছেন সেখানে কিন্তু আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হাতে জোরপূর্বক গুমের ঘটনা ঘটেনি। স্বাধীনতা পরবর্তী সময় ও ১৯৯৬ সালের জুন মাস বাদে অন্য কোনো দশকে কিন্তু বাংলাদেশে গুম হয়নি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসেন ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে। এরপর থেকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর হাতে বিচারবহির্ভূত হত্যাকা- হয়েছে ১৪৮০টি। এই ধারা অব্যাহত আছেই। নিরাপত্তা হেফাজতে পর্যায়ক্রমিক নির্যাতনে প্রাণ গেছে আরো ১২০ জনের।
অন্যদিকে পুলিশি নিরাপত্তা হেফাজতে থাকা অবস্থায় কয়েক ডজন ভিক্টিমের পায়ে গুলিতে তারা স্থায়ীভাবে বিকলাঙ্গ হয়ে গেছেন। এশিয়ান হিউম্যান রাইটস কমিশন ওই বিবৃতিতে আরো লিখেছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে দুর্নীতির মামলাকে কেন্দ্র করে ও ওই মামলায় পাঁচ বছরের জেল দেয়ার আগে পরে বিভিন্ন বাহিনী তাদের নির্যাতনের মাত্রা বৃদ্ধি করেছে। বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের গণহারে আটক করে নিয়ে যাচ্ছে পোশাক পরা বা সাধারণ বেশে থাকা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার লোকজন। এ বছর ৩০শে জানুয়ারি থেকে বিরোধী দলের কমপক্ষে ৫ হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার, আটক বা নির্যাতন করা হয়েছে। সম্প্রতি গণহারে গ্রেপ্তার করা হয়েছে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে। যাদের আটক করা হয়েছে তাদের পরিণতি এখনও জানা যায়নি। পুলিশ এখনও এসব আটক ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের কাছে প্রকাশ করেনি যে, তারা কোথায় আছে। আটক ব্যক্তিদের পরিবারগুলো অভিযোগ করছে, তাদের প্রিয়জনকে আটক রাখা হয়েছে কোনো গোপন বন্দিশিবিরে। সেখান থেকে কোনো যোগাযোগ করা সম্ভব নয়। তাদের অব্যাহতভাবে নির্যাতন করা হচ্ছে। নিখোঁজ করে দেয়া হচ্ছে। যেমনটা ঘটেছিল ২০১৩ সালের শেষের দিকে ও ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে নির্বাচনের সময়কালে। এশিয়ান হিউম্যান রাইটস কমিশন তার বিবৃতিতে আরো লিখেছে, এরই মধ্যে এক ভয়াবহ প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। রাষ্ট্রীয় এক্টর, যেমন ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের দেখা যাচ্ছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে সহায়তা করছে, নজরদারি হিসেবে। এক্ষেত্রে বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগ করা হচ্ছে।
বিরোধী দলের ছাত্রবিষয়ক একজন নেতা জাকির হোসেনকে আটক করে পুলিশ রিমান্ডে নেয়া হয়। এর তিন দিন পরে ১২ই মার্চ তিনি মারা যান নির্যাতনে। তার সারা শরীরে ছিল ক্ষতচিহ্ন। তার হাত ও পায়ের আঙুলের নখ উপড়ে ফেলা হয়েছিল। এশিয়ান হিউম্যান রাইটস কমিশন ওই বিবৃতিতে আরো লিখেছে, সর্বশেষ ভিন্ন মতাবলম্বীদের বিরুদ্ধে যে দমনপীড়ন চলছে তা যুক্ত হয়েছে সরকারের অব্যাহতভাবে শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ বা জনসভার অধিকার প্রত্যাখ্যানের রীতির সঙ্গে।
সাম্প্রতিক সময়ে বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য জনসভায় বিদ্বেষমূলক বক্তব্য দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও তার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। বেশির ভাগ সংবাদমাধ্যম হোক সেটা ইলেক্ট্রনিক বা ছাপার সংস্করণ, তার বেশির ভাগেরই মালিক অথবা নিয়ন্ত্রণ করেন সরকারপন্থি ব্যবসায়ী বা সাংবাদিক। নির্বাসনে থাকা একজন বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্য ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে প্রকাশ করার কারণে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল একুশে টেলিভিশনের (ইটিভি) চেয়ারম্যান আবদুস সালামকে খেয়াল-খুশিমতো গ্রেপ্তার করা হয়। ওই আটকের পর তিনিসহ আরো দুজন সাংবাদিক মাহাথির ফারুকী খান ও কনক সারোয়ার বিচারের মুখোমুখি। তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ আনা হয়েছে। এশিয়ান হিউম্যান রাইটস কমিশন আরো লিখেছে, ওই টেলিভিশনটর মালিকানা এর চেয়ারম্যানের কাছ থেকে কেড়ে নিয়ে সরকারপন্থি একজন ব্যবসায়ীকে দেয়ার চেষ্টা করছে। মত প্রকাশের স্বাধীনতা অব্যাহতভাবে সরকারের নজরদারিতে, পর্যবেক্ষণে, হুকমিতে, নিয়ন্ত্রণে ও প্রতিশোধপরায়ণতার মুখে রয়েছে- এটা হলো তার একটিমাত্র উদাহরণ।
এশিয়ান হিউম্যান রাইটস কমিশন লিখেছে, গত নয় বছর ধরে অব্যাহতভাবে যেভাবে ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে দায়মুক্তি দেয়া হচ্ছে তা এটা নিশ্চিত করে যে, নির্যাতিতদের জন্য ন্যায়বিচার পাওয়ার কোনো স্থান নেই অথবা তাদের সেই সক্ষমতা নেই। এক্ষেত্রে প্রধান বিচারপতির পদ থেকে সুরেন্দ্র কুমার সিনহাকে সরিয়ে দেয়ার বিষয়টি আসতে পারে। তাকে জোর করে নির্বাসনে পাঠানো হয়েছে। তার অপরাধ তিনি সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর বিরুদ্ধে ছিলেন। অথচ সরকার চাইছিল এটা পাস করতে। বাংলাদেশের বিচার বিভাগের স্বাধীনতার কি পরিস্থিতি তা এর মধ্য দিয়েই উদাহরণ হিসেবে ফুটে উঠেছে।
বিশ্বাসযোগ্য মানবাধিকার বিষয়ক ডকুমেন্টে এসব ঘটনাই নিশ্চিত করে। বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের গুম করে দিতে বা ব্যাপক হারে বিচার বহির্ভূত হত্যাকা- বাস্তবায়ন করতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে ব্যস্ত রেখেছে সরকার। এসব ঘটানো হয়েছে ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারিরর নির্বাচনকে সামনে রেখে। সব বিরোধী দল ওই নির্বাচন বর্জন করে। ফলে ক্ষমতাসীন দল ও তার মিত্ররা ১৫৩টি আসন নিয়ে নেন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। নির্বাচনে একটি ভোট পড়ারও আগে এ ঘটনাটি ঘটেছে। বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে আসন রয়েছে মোট ৩০০। এখন সরকার ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর মনোভাব দেখে মনে হচ্ছে তারা সেই একই ধারায় অগ্রসর হচ্ছে। একই রকমভাবে দমনপীড়ন চালাবে। যাকেই তারা শাসকগোষ্ঠীর জন্য হুমকি মনে করবে তার বিরুদ্ধেই এমন ব্যবস্থা নেয়া হবে। বাংলাদেশ সরকার দাবি করেছে, এখানে জাতীয় প্রবৃদ্ধি শতকরা ৭ ভাগের ওপরে। যুদ্ধকবলিত দেশগুলো থেকে ২০১৭ সালে ইউরোপে যেসব উদ্বাস্তু বা শরণার্থী আশ্রয় নিয়েছেন তার মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যক হলো বাংলাদেশি। বিশ্বে শতকরা ৭ ভাগের বেশি জাতীয় প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে এমন কোনো দেশের এমন সংখ্যক শরণার্থী নেই।
এশিয়ান হিউম্যান রাইটস কমিশন লিখেছে, বাংলাদেশে মানবাধিকার বিপর্যয়ের এত সব বাস্তবতা সত্ত্বেও অপ্রত্যাশিতভাবে নীরব রয়েছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। এক্ষেত্রে সরকার আন্তর্জাতিক দৃষ্টি সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে রোহিঙ্গা উদ্বাস্তু ইস্যুতে। দেশের অভ্যন্তরে যে মানবাধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে তাকে ধামাচাপা দেয়ার জন্য শক্ত বর্ম হিসেবে রোহিঙ্গা ইস্যুকে ব্যবহার করছে বাংলাদেশ। সুষ্ঠু প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার জন্য বাংলাদেশে সবার অংশগ্রহণমূলক, বিশ্বাসযোগ্য একটি নির্বাচনের পরিবেশ জরুরি ভিত্তিতে সৃষ্টি করা প্রয়োজন। ব্যবসা, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও ভূ-রাজনৈতিক সম্পর্কের পরিবর্তে একটি বিশ্বাসযোগ্য গণতন্ত্রের জন্য মানবাধিকার পরিস্থিতিতে সর্বাগ্রে অগ্রাধিকার দেয়া উচিত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের।

'ভূমি দিবসে' গাজায় ইসরাইলি গণহত্যায় আমেরিকা ও সৌদি আরবের সমর্থন ছিল

ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা বা ওআইসি'র আন্ত:সংসদীয় ইউনিয়নের প্রধান ও ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার আলী লারিজানি ভূমি দিবসে নিরস্ত্র ফিলিস্তিনিদের বিক্ষোভ মিছিলের ওপর দখলদার ইসরাইলের বর্বরোচিত হামলা ও মানবতা বিরোধী অপরাধের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
তিনি মজলুম ফিলিস্তিনিদের ন্যায্য দাবির প্রতি সমর্থন জানানোর পাশাপাশি ইসরাইলি অপরাধযজ্ঞের নিন্দা জানানো এবং নতুন করে সংকট সৃষ্টির ইসরাইলি প্রচেষ্টা রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য মুসলিম দেশগুলোসহ সারা বিশ্বের সংসদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
ফিলিস্তিনিদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রধান সমর্থক হিসেবে ইরান সারা বিশ্বের কাছে ইসরাইলের অপরাধযজ্ঞের স্বরূপ তুলে ধরেছে। আমেরিকার সবুজ সংকেতে সৌদি আরবসহ আরো কয়েকটি আরব দেশের সমর্থন নিয়ে ইসরাইল ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে নতুন করে নৃশংসতা শুরু করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বায়তুল মোকাদ্দাসকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার পর ইসরাইল আরো বেশি বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। সৌদি সরকার দখলদার ইসরাইলের সঙ্গে আপোষের নীতি গ্রহণ করলেও ফিলিস্তিনিদের অধিকার রক্ষার বিষয়টি তাদের কাছে প্রাধান্য পাচ্ছে না। সৌদি যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমানের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড থেকে এ চিত্রই ফুটে উঠেছে। সৌদি যুবরাজের সম্প্রতি আমেরিকা সফর ইসরাইলি অপরাধযজ্ঞের প্রতি রিয়াদের সমর্থনেরই প্রমাণ। কেননা আমেরিকার সবুজ সংকেত পেয়েই গত দু'দিনে ইসরাইল গাজায় গণহত্যা চালিয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বাহরাম কাসেমি এ ব্যাপারে বলেছেন, ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরাইল দীর্ঘদিন ধরে দখলদারিত্ব, হত্যা, নির্যাতন চালিয়ে আসছে। কিন্তু তারপরও গোপনে কিংবা প্রকাশ্যে ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করার জন্য মার্কিন শাসক গোষ্ঠী এবং মধ্যপ্রাচ্যের অপরিপক্ক ও অনভিজ্ঞ কিছু নেতা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এ কারণে ইসরাইল আরো বেশি ঔদ্ধত্য হয়ে উঠেছে।
গত শুক্র ও শনিবার সৌদি আরব ও আমেরিকার সবুজ সংকেতে ফিলিস্তিনি বিক্ষোভকারীদের ওপর ইসরাইলি সেনাদের নির্বিচারে গুলিবর্ষণে ১৭ জন শহীদ ও দেড় হাজার আহত হয়েছে। গাজায় ইসরাইলি অপরাধযজ্ঞের নিন্দা জানাতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের উদ্যোগের বিরুদ্ধে আমেরিকার অবস্থান থেকে বোঝা যায়, এ অঞ্চলের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে নিজেদের অনুকূলে আনার জন্য ওয়াশিংটন ইসরাইলকে সর্বাত্মক সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী এই বর্বর গণহত্যার প্রতি সমর্থন দিয়েছেন। তবে তার এটা মনে রাখা উচিত ফিলিস্তিনের প্রতিরোধ যোদ্ধারা এ আগ্রাসনে জবাব দেবে। ইসরাইলকে শাস্তি দেয়ার ক্ষমতা যদিও মুসলিম বিশ্বের রয়েছে কিন্তু কয়েকটি আরব দেশের শাসকের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে ইসরাইলের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছে না।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা আলী আকবর বেলায়েতি বলেছেন, আমেরিকা ও ইউরোপের কয়েকটি সরকার মধ্যপ্রাচ্যে তাদের নীল নকশা বাস্তবায়নের জন্য ইসরাইলকে সর্বাত্মক সহযোগিতা দেয়ার পাশাপাশি মুসলমানদেরকে একে অপরের বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়েছে। কিন্তু ফিলিস্তিনি জনগণ প্রতিরোধের মাধ্যমে তাদের হারানো ভূমি একদিন পুনরুদ্ধার করেই ছাড়বে।

ফারমার্স ব্যাংকে খাঁ-খাঁ

ঋণ কেলেঙ্কারির ঘটনায় ধুঁকতে থাকা ফারমার্স ব্যাংকের শাখাগুলো এখন খাঁ-খাঁ করছে। নেই গ্রাহক-আমানতকারীর আনাগোনা। যারা যাচ্ছেন তাদের গচ্ছিত আমানতের খোঁজখবর নিতে। আমানতের টাকা তুলতে গিয়ে খালি হাতে ফেরত আসছেন অনেকে। গ্রাহকের জমা রাখা টাকাও ফেরত দিতে পারছে না ব্যাংকটি। গ্রাহকদের কাছে সময় চাওয়া হচ্ছে টাকা ফেরত দিতে। এদিকে মূলধন সংকটের কারণে ব্যাংকটির এটিএম বুথের কার্যক্রমও ক্ষেত্রবিশেষে বন্ধ রাখা হয়েছে। ৪০০ কোটি   টাকা নিয়ে কার্যক্রমে আসা বেসরকারি ফারমার্স ব্যাংক লিমিটেড অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে ইতিমধ্যেই ২৮৩ কোটি টাকার মূলধন ঘাটতিতে পড়েছে। নানা কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে ধুঁকতে থাকা ব্যাংকটির কার্যক্রমে নেমে এসেছে স্থবিরতা। বৃহস্পতিবার গুলশানের প্রধান কার্যালয়সহ চারটি শাখা ঘুরে এমন চিত্রই দেখা গেছে।
গুলশান-১ এ অবস্থিত ফারমার্স ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, তেমন কোনো ব্যস্ততা নেই সেখানে। দু’একজন গ্রাহক আসেন দীর্ঘ সময় বিরতি দিয়ে। কাঙ্ক্ষিত কর্মকর্তার সঙ্গে দেখা করতে এসে অনেকক্ষণ অবস্থান করেও দেখা পাননি। অবশেষে হতাশ হয়ে ফেরত গেছেন। এছাড়া কয়েকজন শাখা ব্যবস্থাপক এসেছিলেন নিজ নিজ শাখার সমস্যা নিয়ে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাদের সমস্যা সমাধানে সময় চেয়েছেন। তারা বলছেন, খুব শিগগির পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে। তখন আর সমস্যা থাকবে না। একজন শাখা ব্যবস্থাপক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তিনি অনেকটাই হতাশ। একদিকে চাকরির চিন্তা, অন্যদিকে আমানতকারীদের চাপ। ঢাকার পার্শ্ববর্তী একটি শাখায় কর্মরত ওই কর্মকর্তা জানান, ব্যাংকটিতে তার চাকরির বয়স এক বছর। এরই মধ্যে ব্যাংকটি সংকটে পড়ে। এরপর থেকেই বাড়তে থাকে আমানতকারীদের চাপ। তিনি জানান, তার শাখায় গ্রাহকের আমানতের পরিমাণ প্রায় ২০ কোটি টাকা। প্রতিদিনই কোনো না কোনো আমানতকারী এসে ধর্না দেন। এতে করে তারা বিপদে পড়েছেন। নতুন করে আমানত সংগ্রহ করছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, সংগ্রহ তো দূরের কথা, যারা এর আগে টাকা রেখেছে তারাই উল্টো ধর্না দিচ্ছে প্রতিদিন। তিনি আরো বলেন, সব পরিচিত মানুষের কাছ থেকে আমানত সংগ্রহ করা, তাই বিড়ম্বনা বেশি। তবে তিনি বলেন, ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাদের আশ্বস্ত করেছেন। শিগগিরই স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে ব্যাংক।
গুলশান-১ এর জব্বার টাওয়ারের ১৩ তলায় অবস্থিত ব্যাংকটির করপোরেট শাখা। সেখানে কথা হয় জনসংযোগ কর্মকর্তা আলতাফ হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, আমরা বর্তমানে বেশ চাপে রয়েছি। তবে বেশিদিন এই অবস্থা থাকবে না।
ফারমার্স ব্যাংকের ধানমন্ডি শাখায় সরজমিনে দেখা গেছে, দুপুর বেলায় ব্যাংকের ভেতরে অনেকটা ফাঁকা পরিবেশ। অধিকাংশ চেয়ার ফাঁকা। কর্মকর্তারা-কর্মচারীরা অলস সময় কাটাচ্ছেন। প্রায় দুই ঘণ্টা অবস্থানের পর দুইজন গ্রাহকের দেখা মেলে। তাদের একজন হিসাব বন্ধ করতে এসেছেন। আরেকজন এসেছেন টাকা তুলে নিতে। তাদের মধ্যে একজন জানান, পত্রিকা মারফত জানতে পেরেছেন ব্যাংকের অবস্থা ভালো না। তাই খোঁজ নিতে এসেছেন এবং সম্ভব হলে টাকা উত্তোলন করবেন। কিন্তু ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, এই মুহূর্তে তারা টাকা দিতে পারবেন না। ব্যাংকের নিচেই এটিএম বুথ। কিন্তু টাকা না থাকায় বুথের দরজায় ‘আউট অব সার্ভিস’ নোটিশ ঝুলিয়ে দেয়া হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা জানান, পাঁচ হাজার টাকা গ্রাহককে দেয়ার মতো অবস্থা নেই ধানমন্ডি শাখার। যারা টাকা তুলতে আসছেন তাদের পরবর্তী সপ্তাহে যোগাযোগ করে আসতে বলা হচ্ছে। তবে নিজেদের বেতন পেতে সমস্যা হচ্ছে না বলে দাবি করেন তিনি। কিন্তু অপর এক কর্মচারী জানান, তিনি বেতনের টাকা তুলতে কয়েক দফা ক্যাশে যোগাযোগ করেছেন। কিন্তু টাকা না থাকায় তাকে অপেক্ষা করতে হয়েছে। সকাল থেকে যারা টাকা তুলতে এসেছেন তাদের অনুরোধ করা হয়েছে অ্যাকাউন্ট বন্ধ না করার জন্য। ওই কর্মচারী আরো বলেন, ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আশ্বাস দিয়েছেন দু’একদিনের মধ্যে পরিস্থিতি ঠিক হয়ে যাবে।
ওই শাখার একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা অন্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ করছিলেন। তাদের কথোপকথন থেকে জানা যায়, গত কয়েকদিন যাবৎ রহস্যজনক লেনদেন হচ্ছে ফারমার্স ব্যাংকে। কয়েকটি অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা কমে গেছে। কিন্তু কারা এই টাকা সরাচ্ছে তা ধরতে পারছেন না তারা। গতকাল দুপুরেও একটি বিদেশি ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির অ্যাকাউন্ট থেকে অস্বাভাবিক টাকা কমে যায়। অন্য কোনো ব্রাঞ্চ থেকে টাকা উঠানো হচ্ছে কিনা তাও বুঝতে পারছিলেন না তারা।
ব্যাংকটির মতিঝিল শাখায়ও একই চিত্র দেখা গেছে। রাজধানীর উত্তরা শাখায়ও একই পরিবেশ বলে জানান কর্মকর্তারা। শাখাটির নেটিশ বোর্ডে লাগানো হয়েছে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত ইতিবাচক সংবাদগুলো। এসব সংবাদ দেখানোর মাধ্যমে গ্রাহকদের আস্থা অর্জন করাই আশা কর্মকর্তাদের। এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, টাকা তুলতে প্রতিদিন ভিড় করছেন গ্রাহকরা। জমা রাখা টাকা ফেরত পাচ্ছেন না আমানতকারীরা। কিন্তু তাদের হতাশ করছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। আবার ব্যাংকের হিসাবে টাকা না থাকায় বারবার চেক ডিজঅনার (প্রত্যাখ্যাত) হচ্ছে। যার জমা ৫ লাখ টাকা, তাকে দেয়া হচ্ছে ৫০ হাজার টাকা। কাউকে কয়েকদিন পর আসতে বলা হচ্ছে। এদিকে চরম অর্থ সংকটে থাকা ব্যাংকটির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পাওয়ার বিষয়টিও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।
ফারমার্স ব্যাংকের উপদেষ্টা প্রদীপ কুমার দত্ত বলেন, ব্যাংকের আমানতের চেয়ে ঋণ প্রদান বেশি হওয়ায় গ্রাহকের টাকা ফেরত দেয়া যাচ্ছে না। তিনি বলেন, আগের সমস্যার কারণে ফারমার্স ব্যাংকে খেলাপির পরিমাণ এখন বেশি। তবে ধীরে ধীরে সব সমস্যা কেটে যাচ্ছে। গ্রাহকদের টাকার সমস্যাও প্রায় সমাধানের পর্যায়ে চলে এসেছে।
সূত্র জানায়, তারল্য সংকটে পড়ায় এখন নতুন করে মূলধন জোগান দিয়ে ব্যাংকটি টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছে সরকার। এ জন্য সরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) উদ্যোগে রাষ্ট্রমালিকানাধীন চার ব্যাংক থেকে মূলধন সংগ্রহের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ জন্য ব্যাংকগুলো মূলধন জোগান দেয়ার পাশাপাশি ফারমার্স ব্যাংকের পর্ষদে বসতে চাইছে। তবে ব্যাংকটির বর্তমান পর্ষদ তা মানতে কিছুটা দোটানায় রয়েছে। এ কারণে গত জানুয়ারিতে এই উদ্যোগ নেয়া হলেও এখনো তা আলোর মুখ দেখেনি।
সম্প্রতি প্রাক-বাজেট আলোচনা শেষে অর্থমন্ত্রী বলেন, ফারমার্স ব্যাংকের ৬০ শতাংশ শেয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত কয়েকটি ব্যাংকের নামে লিখে দিতে হবে। ওই পরিমাণ শেয়ার লিখে দিলেই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর পক্ষ থেকে টাকা দেয়া হবে।
ফারমার্স ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩ সালে যাত্রার পর ব্যাংকটি নিট মুনাফা করেছিল প্রায় ৪ কোটি টাকা। ২০১৪ সালে মুনাফা হয় ৩ কোটি, ২০১৫ সালে ২১ কোটি ও ২০১৬ সালে ২৩ কোটি টাকা। এরপর ২০১৭ সালে এসে লোকসান হয় ৫৩ কোটি টাকা। বিতরণ করা ৫ হাজার ১৩০ কোটি টাকা ঋণের মধ্যে ৭২৩ কোটি টাকাই খেলাপি।
রাজনৈতিক বিবেচনায় বর্তমান সরকারের গত মেয়াদে অনুমোদন পাওয়া নতুন ৯টি ব্যাংকের ১টি ফারমার্স ব্যাংক। ২০১৩ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরুর পর বছর না ঘুরতেই ঋণ অনিয়মে জড়িয়ে পড়ে, যার ভুক্তভোগী এখন সাধারণ আমানতকারীরা।
ব্যাংকটিকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে ২০১৭ সালের অক্টোবরে জাতীয় সংসদের অর্থ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির কাছে বিস্তারিত তুলে ধরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্যাংকটির দায় পরিশোধের সক্ষমতা নেই। সাধারণ আমানতকারী ও বিভিন্ন ব্যাংক থেকে উচ্চ সুদে আমানত নেয়া এবং ধার করে বর্তমানে টিকে আছে ফারমার্স ব্যাংক। ফলে ব্যাংকটি পুরো ব্যাংক খাতে পদ্ধতিগত ঝুঁকি (সিস্টেমেটিক রিস্ক) তৈরি করেছে, যা আমানতকারীদের আস্থা নষ্ট করতে পারে।
এরপরই মূলত ব্যাংকটি থেকে টাকা তুলে নেয়া শুরু হয়। এর ফলে চরম আর্থিক সংকটে পড়ে গেলে গত বছরের ২৭শে নভেম্বর ফারমার্স ব্যাংকের চেয়ারম্যানের পদ ছেড়ে দেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতা মহীউদ্দীন খান আলমগীর। ব্যাংকটির নিরীক্ষা কমিটির চেয়ারম্যান ও পরিচালক মাহাবুবুল হক চিশতীকেও পদ ছাড়তে হয়। এরপর ১৯শে ডিসেম্বর দায়িত্বে অবহেলা ও ব্যাংক পরিচালনায় ব্যর্থতার দায়ে ব্যাংকের এমডি এ কে এম শামীমকে অপসারণ করে বাংলাদেশ ব্যাংক।
এরপরই বেরিয়ে আসে যে সরকারি খাতের বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের বড় অঙ্কের আমানত আটকে গেছে ব্যাংকটিতে। এর মধ্যে জলবায়ু ট্রাস্ট ফান্ডের ৪৯৯ কোটি ৬৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা জমা আছে ফারমার্স ব্যাংকের গুলশান, মতিঝিল ও গুলশান সাউথ অ্যাভিনিউ শাখায়। সুদসহ যা ৫১০ কোটিতে পৌঁছেছে। এ ছাড়া জীবন বীমা করপোরেশনের আটকা পড়েছে শতকোটি টাকার বেশি। এসব টাকা চেয়ে আমানতকারী প্রতিষ্ঠান চিঠি দিয়েও ব্যাংকটির সাড়া পাচ্ছে না। এদিকে গতকাল এক বিবৃতিতে ফারমার্স ব্যাংক কর্তৃক আমানতকারীদের অর্থ ফেরতে ক্রমাগত ব্যর্থতায় উদ্বেগ জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ এক প্রতিবেদন উল্লেখ করা হয়েছে, সংকটে পড়া ফারমার্স ব্যাংক ২০১৭ সালে ৫৩ কোটি টাকা নিট লোকসান করেছে। বছর শেষে ব্যাংকটির আমানত কমে হয়েছে ৪ হাজার ৬৭৩ কোটি টাকা। অথচ ব্যাংকটির ঋণ ৫ হাজার ১৩০ কোটি টাকা। আমানতের চেয়ে ঋণ বেশি হওয়ায় ফারমার্স ব্যাংক গ্রাহকদের টাকা ফেরত দিতে পারছে না। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ফারমার্স ব্যাংক থেকে বড় অঙ্কের টাকা বের করা হয়েছে মূলত মতিঝিল ও গুলশান শাখার মাধ্যমে। এর মধ্যে মতিঝিল শাখার ঋণ প্রায় ১,১০০ কোটি টাকা ও গুলশান শাখার ঋণ ১,৪০০ কোটি টাকা। এসব অনিয়ম হয়েছে ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর ও নিরীক্ষা কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক চিশতীর সময়ে।

বিক্ষোভের পর সৌদি যুবরাজের ইরাক সফরের পরিকল্পনা অস্বীকার

সৌদি যুবরাজ মুহাম্মাদ বিন সালমানের এখনই ইরাক সফরের পরিকল্পনা নেই। এ কথা জানিয়েছে সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তারা এক বিবৃতিতে বলেছে, যুবরাজ অদূর ভবিষ্যতে ইরাক সফর করবেন বলে যে খবর বেরিয়েছে তা সঠিক নয়। সৌদি যুবরাজের সম্ভাব্য সফরের বিরুদ্ধে বাগদাদে ব্যাপক বিক্ষোভের পর রিয়াদের পক্ষ থেকে এ ঘোষণা দেওয়া হলো।
সৌদি যুবরাজ খুব শিগগিরই বাগদাদ সফর করবেন বলে ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে তথ্য প্রকাশের পর গত শুক্রবার জুমা নামাজের পর বিক্ষোভকারীরা বাগদাদে মিছিল বের করেন এবং বিন সালমানকে তারা যুদ্ধাপরাধী হিসেবে অভিহিত করেন।
এছাড়া, সৌদি আরবকে তারা উগ্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দায়েশ ও আল-কায়েদার সমর্থক বলে স্লোগান দেন। এসময় বিক্ষোভাকারীদের হাতে নানা ধরনের  ব্যানার ও ফেস্টুন ছিল।
ইরাকের হিজবুল্লাহ ব্রিগেড গতকালের বিক্ষোভ-মিছিলের আয়োজন করে। এ ব্রিগেড ইরাকে দায়েশ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। 
সম্প্রতি সৌদি যুবরাজ আমেরিকা সফরে গিয়ে বেশ কয়েকজন ইহুদিবাদী নেতার সঙ্গে বৈঠক করেছেন। ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়া হিসেবে তিনি এ বৈঠক করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সৌদি আরব বেশ কিছুদিন ধরে ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। তার এ তৎপরতার কারণে মুসলমানরা ক্ষুব্ধ হয়েছেন।#

নেপালে বিমান দুর্ঘটনার পর নানা অভিযোগ, জবাব কী?

নেপালে ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের বিমান দুর্ঘটনার পর থেকে আকাশপথের নিরাপত্তা ইস্যুতে চলছে আলোচনা সমালোচনা। সরকারি বেসরকারি অপারেটর এবং কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কতটা তৎপর সেটি নিয়েও হচ্ছে নানা বিশ্লেষণ।
বাংলাদেশি একটি বিমানটি এমন সময় দুর্ঘটনার শিকার হলো যার কিছুদিন আগে আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা 'আইকাও' নিরাপত্তার ব্যাপারে বাংলাদেশে একটি নিরীক্ষা চালিয়েছিল।
আইকাও'র ওই অডিটে ইউএস বাংলা এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকেই নমুনা হিসেবে নেয়া হয়েছিল। অবশ্য আইকাও'র সেফটি অডিটে বাংলাদেশের অবস্থার উন্নতি হয়েছে বলেই উঠে আসে।
গত ১২ই মার্চ ইউএস-বাংলার ফ্লাইটটি বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় ২৬ জন বাংলাদেশি, ২২ জন নেপালি এবং একজন চীনা যাত্রী নিহত হন।
ঐ ঘটনায় আহত হন ১০ জন বাংলাদেশি, নয় জন নেপালি এবং মালদ্বীপের একজন নাগরিক।
প্রাকৃতিক কারণে, মানুষের কোনো ভুল বা কারিগরি ত্রুটি প্রধানত এই তিনটি কারণেই বিমান দুর্ঘটনা ঘটে। সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ বলছে, নেপাল দুর্ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয়ার সময় এখনো আসেনি। এজন্য দুর্ঘটনার তদন্ত শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। কারণ তদন্ত রিপোর্টে জানা যাবে ঠিক কী কারণে দুর্ঘটনায় পতিত হয় ফ্লাইটটি।
বাংলাদেশ সিভিল এভিয়েশনের পরিচালক সেফটি এন্ড রেগুলেশন্স চৌধুরী মোঃ জিয়াউল কবীর জানান, নিরাপত্তা ইস্যুতে এক যায়গায় থেমে থাকার কোনো সুযোগ নাই। দুর্ঘটনা হোক বা না হোক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে প্রতিদিনই একটা নতুন দিন। নেপাল দুর্ঘটনার পর নিরাপত্তা ইস্যুতে প্রাথমিকভাবে কিছু পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।
"আমরা প্রত্যেকটা এয়ারলাইনে গিয়েছি। তাদের সঙ্গে নিরাপত্তা সচেতনতা নিয়ে আলোচনা করেছি। বৈঠক হয়েছে। সবারটা র‍্যান্ডম চেক করা হয়েছে।"
"আমাদের রেগুলার যে অ্যাক্টিভিটিস আছে সেটি বিশ্বমানের। আইকাও'র সর্বশেষ অডিটে বাংলাদেশের সেফটি রেটিং (ইফেকটিভ ইমপ্লিমেন্টেশন) স্কোর ৫০ থেকে বেড়ে ৭৫ এর বেশি অর্জিত হয়েছে। এশিয়া তো বটেই বিশ্বের মধ্যে ৩০-৩৫টি দেশের এই স্কোর আছে। কিন্তু আমাদের টার্গেট সর্বোচ্চ স্কোর অর্জনকারী দেশের কাতারে যাওয়া।" বাংলাদেশ থেকে বর্তমানে ১৬টি আন্তর্জাতিক ও ৮টি অভ্যন্তরীণ রুটে সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার বিমান চলাচল করছে।
গত প্রায় এক দশকে বাংলাদেশের যাত্রী এবং ফ্লাইটের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে গেছে। আকাশপথে যাতায়াতের চাহিদাও বাড়ছে।
বেসরকারি তিনটি অপারেটর এখন দেশ ও দেশের বাইরে ফ্লাইট পরিচালনা করছে।
দুর্ঘটনার পর কেউ কেউ বেসরকারি সংস্থার ফ্লাইট পরিচালনায় বৈমানিকদের বাড়তি কাজের চাপ দেয়ার অভিযোগ করেছিলেন। অনেক উড়োজাহাজের প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণ যথাযথ হয়না বলে অভিযোগ তোলেন।
অনেক আলোচনায় নিরাপত্তার প্রশ্নে গাফিলতি বা উদাসীনতার অভিযোগ ওঠে। বৈমানিকদের বরাত দিয়ে গণমাধ্যমেও বেশকিছু খবর প্রকাশ হয়েছে।
বেসরকারি অপারেটর রিজেন্ট এয়ারওয়েজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এম এফ আকবর এ ব্যাপারে বলেন, নিরাপত্তা ইস্যুতে কোনো ছাড় দেয়ার সুযোগ নেই।
"কেউ কিন্তু পাইলটকে ফোর্স করতে পারে না। কারণ এটা তার লাইফ। হি ইজ ফ্লাইং। তার নিজের জীবন কিন্তু সেখানে জড়িত।"
ইউএস বাংলার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরান আসিফ বলেন, "একজন পাইলট কত ঘণ্টা কাজ করবেন এটি কোনো অপারেটর ঠিক করতে পারে না। এটি সুনির্দিষ্ট করে দিয়েছে আন্তর্জাতিক সিভিল এভিয়েশন সংস্থা আইকাও। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১৪ ঘণ্টার যে ফ্লাইট ডিউটি লিমিট সেখানে চার সেক্টরের বেশি করা যাবে না এ ধরনের কিন্তু কোনো লিমিট আইকাও দেয় নাই।" অপারেটরদের বাধ্য করা যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ না করার অভিযোগ এসেছে বেসরকারি বিমান সংস্থার বিরুদ্ধে। এ ব্যাপারে বেসরকারি দুটি কোম্পানির বক্তব্য হচ্ছে সিভিল এভিয়েশনের আন্তর্জাতিক নিয়ম নীতি লঙ্ঘন করে ফ্লাইট পরিচালনা অসম্ভব।
তারা বলছেন, প্রতিটি উড়োজাহাজের রক্ষণাবেক্ষণের আন্তর্জাতিক বাঁধাধরা নিয়ম আছে। নির্দিষ্ট ঘণ্টা ওড়ার পর প্রতিটি বিমানকে রক্ষণাবেক্ষণ ও চেক করতে হয়।
মি. আসিফ বলেন, "রেগুলার ইন্টারভেলে মেইনটেনেন্স না করে ফ্লাইট অপারেটর করা কোনো অপারেটরের পক্ষে সম্ভব না। এফডিএম ডেটা আমাদেরকে সিভিল এভিয়েশন এবং প্রস্ততকারকদের নিয়মিত সরবরাহ করতে হয়। কেউই মেইনটেনেন্সের বাইরে গিয়ে ফ্লাইট পরিচালনা করতে দেয় না।"
পাইলটকে ফোর্স করে ফ্লাইট চালাবো, এবং পাইলট সেই ফ্লাইট নিয়ে চলে যাবেন আবার টাওয়ারও লিমিটেশন যেনে ওই এয়ারক্রাফটকে অনুমতি দেবে! এ ধরনের ধারণা খুবই অর্বাচীনমূলক হবে।"
বাংলাদেশের ভূখণ্ডে গত ৪৬ বছরে ১৬টি বিমান দুর্ঘটনা ঘটেছে।
এর মধ্যে ১৯৮৪ সালে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট ঢাকা বিমানবন্দরে অবতরণের আগে বিধ্বস্ত হয়। যেখানে ৪৯ আরোহীর সবাই নিহত হন। ওই দুর্ঘটনা তদন্ত শেষে বিমানের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নানা উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল।
নেপাল দুর্ঘটনার তদন্ত শেষ হলে তার রিপোর্টের ভিত্তিতেই ভবিষ্যৎ একইরকম দুর্ঘটনা এড়াতে পদক্ষেপ নেয়া হবে বলেও জানাচ্ছে সবাই।
সূত্রঃ বিবিসি

পাগলা মসজিদের দানবাক্সে ৮৫ লাখ টাকা

কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দান সিন্দুক থেকে এবার ৮৪ লাখ ৯২ হাজার টাকা পাওয়া গেছে। শনিবার বিকালে গণনা শেষে বিপুল পরিমাণ দানের এই টাকার হিসাব পাওয়া যায়। বিপুল পরিমাণ এই নগদ টাকা ছাড়াও বিভিন্ন বৈদেশিক মুদ্রা ও দান হিসেবে অনেক স্বর্ণালঙ্কার পাওয়া গেছে। মাত্র ৮৪ দিনে এই টাকা দান পাওয়া গেছে। সে হিসেবে প্রতিদিন মসজিদটিতে এক লাখেরও বেশি টাকা মানুষ দান করেন।
এর আগে সর্বশেষ গত ৬ই জানুয়ারি মসজিদের ৫টি দানসিন্দুক খুলে গণনা করে সর্বোচ্চ এক কোটি ২৭ লাখ ৩৬ হাজার ৪৭১ টাকা পাওয়া গিয়েছিল। চার মাস ১০দিনে তখন ওই টাকা দান হিসেবে পাওয়া গিয়েছিল। এর আগে গত ২৬শে আগস্ট মসজিদের দানসিন্দুক খুলে গণনা করে এক কোটি ১৫ লাখ ৫৯ হাজার টাকা পাওয়া গিয়েছিল।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, গত ৬ই জানুয়ারি সর্বশেষ দানসিন্দুক খোলার ৮৪ দিন পর শনিবার সকালে জেলা প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাগণের উপস্থিতিতে দান সিন্দুকগুলো খোলা হয়। দান সিন্দুক থেকে টাকা খুলে প্রথমে বস্তায় ভরা হয়। এরপর শুরু হয় দিনব্যাপী টাকা গণনা। টাকা গণনায় মসজিদ মাদরাসার ৬০জন ছাত্রশিক্ষক ছাড়াও রূপালী ব্যাংকের কর্মকর্তাগণ অংশ নেন।
টাকা গণনার কাজ তদারকি করেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আলমগীর হোসাইন, সিনিয়র নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবু তাহের মো. সাঈদ, সিন্দুক খোলা কমিটির সদস্য সাংবাদিক সাইফুল হক মোল্লা দুলুসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা, মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদস্যবৃন্দ ও সার্বক্ষণিক দায়িত্বরত কর্মকর্তা-কর্মচারিগণ। টাকা গণনার এই এলাহী কাণ্ড নিজ চোখে অবলোকন করতে মসজিদে ছুটে যান প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. আ.ন.ম নৌশাদ খান, জেলা ক্যাব সভাপতি আলম সারোয়ার টিটুসহ সমাজের বিভিন্ন স্তরের লোকজন।
পাগলা মসজিদের দানসিন্দুক খুললে প্রতিবারেই বিপুল পরিমাণ টাকা পাওয়া যায়। আগে চার মাস অন্তর অন্তর দানসিন্দুক খোলা হলেও দানসিন্দুকে দেয়া টাকা নষ্ট হওয়া থেকে রক্ষা করতে এবার ৮৪ দিন পরই দানসিন্দুক খোলার উদ্যোগ নেয়া হয়। প্রতিদিনই অসংখ্য মানুষ মসজিদটির দানসিন্দুকগুলোতে নগদ টাকা-পয়সা ছাড়াও স্বর্ণালঙ্কার, গবাদিপশু, হাঁস-মুরগীসহ বিভিন্ন ধরনের জিনিসপত্র দান করেন। কথিত আছে, খাস নিয়তে এই মসজিদে দান করলে মনোবাঞ্চা পূর্ণ হয়। সেজন্য দূর-দূরান্ত থেকেও অসংখ্য মানুষ এখানে দান করে থাকেন।
জেলা শহরের নরসুন্দা নদীর তীরে এ মসজিদটির অবস্থান। দেশের অন্যতম আয়কারী ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃত মসজিদটিকে পাগলা মসজিদ ইসলামী কমপ্লেক্স নামকরণ করা হয়েছে। এ মসজিদের আয় দিয়ে কমপ্লেক্সের বিশাল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া মসজিদের আয় থেকে বিভিন্ন সেবামূলক খাতে অর্থ সাহায্য করা হয়।
টাকা গণনা কার্যক্রম তদারকির দায়িত্বে থাকা জেলা প্রশাসনের সিনিয়র নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবু তাহের মো. সাঈদ জানান, পাগলা মসজিদের দান সিন্দুক খুলে এবার ৮৪ লাখ ৯২ হাজার টাকা পাওয়া গেছে। টাকাগুলো রূপালী ব্যাংকে জমা করা হয়েছে। এছাড়া সৌদী রিয়াল, বাহরাইনের দিনার, অ্যামেরিকান ডলার, ইথিওপিয়ান বির ছাড়াও ভাল পরিমাণের স্বর্ণালঙ্কার পাগলা মসজিদের দান বাক্সে জমা পড়েছে।

এখন যেমন চলছে ইউএস-বাংলা by দীন ইসলাম

নেপালে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনার পর ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স তাদের ফ্লাইট ব্যবস্থাপনায় ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে। এয়ারক্রাফটে ওঠার পর যাত্রীদের সঙ্গে ব্যবহার, ভেতরে নিরাপত্তা নির্দেশিকা, জরুরি অবস্থায় বহির্গমন দরজা কীভাবে খুলতে হয় তা হাতে কলমে শিক্ষা এবং পাইলটদের কথাবার্তায় যাত্রীরা যাতে সাহসী থাকেন এমন প্রেরণাদায়ক কিছু করা হচ্ছে। গত সপ্তাহে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভ্রমণকালে এমন বেশকিছু পরিবর্তন চোখে পড়ে। তবে যাত্রীদের চোখে-মুখে ভীতির ছাপ দেখা যায়। এদিন বেলা একটায় কক্সবাজার থেকে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স উড়াল সময় ঘোষণা করে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের কিছুটা পরে যাত্রীদের জন্য বোয়িং-৭৩৭-৮০০ এয়ারক্রাফটের দরজা খুলে দেয়া হয়। যাত্রীদের স্বাগত জানাতে বিজনেস ক্লাসের কাছে দরজার সামনে দুই জন কেবিন ক্রু দাঁড়ানো ছিল। উড়োজাহাজে ওঠার সময় কয়েক জন যাত্রীকে উচ্চ স্বরে দোয়া পড়তে শোনা যায়। কোনো কোনো যাত্রী উচ্চ শব্দে কান্না করে বলেন, আমি টিকিট বদল করতে বলেছি। তুমি আমার কথা শুনলে না। সব যাত্রীকে উড়োজাহাজে ওঠানোর পর নিরাপত্তার খাতিরে বেল্ট পরতে বলা হয়। এরপর একজন কেবিন ক্রু ‘সূরা জুখরুফ’-এর আয়াত পড়ে শোনান। এরপর বাংলা অর্থের তরজমা করার সময় শেষদিকে বলেন, ‘আমরা অবশ্যই আমাদের প্রতিপালকের কাছে ফিরে যাবো’। সূরা আরবি ও বাংলায় তরজমার পর কেবিন ক্রু পাইলট জাকিউল ও ফার্স্ট অফিসারের পক্ষ থেকে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সে ভ্রমণের জন্য আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানান। ধন্যবাদ পর্ব শেষে উপর থেকে মনিটর নেমে আসে। যাতে নিরাপত্তামূলক বার্তা দেখানো হয়। এর সঙ্গে সঙ্গে কেবিন ক্রুরা অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে বার্তা সবার কাছে পৌঁছে দেন। যাত্রীরা বেশ আগ্রহ ভরে এসব নিরাপত্তা নির্দেশিকা দেখেন ও শোনেন। জরুরি অবতরণের সময় কোন ছয়টি বহির্গমন পথ ব্যবহার করতে হবে তা দেখানো হয়। এসব বহির্গমন পথের দরজা কীভাবে খুলতে হবে সেটাও দেখিয়ে দেন কেবিন ক্রুরা। উড়োজাহাজটি আকাশে উড়ার ১৫ মিনিট পর পাইলট জাকিউর তার টিমের পক্ষ থেকে সব যাত্রীকে ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সে ভ্রমণের জন্য বেছে নেয়ায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পাইলট জাকিউর বলেন, আমি, একজন ফার্স্ট অফিসার এবং চার জন কেবিন ক্রু এয়ারক্রাফটটিতে দায়িত্ব পালন করছি। ২০ হাজার ফুট উপর দিয়ে উড়োজাহাজ চলছে। আশা করছি ৩০ মিনিটের মধ্যে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করতে সক্ষম হবো। তবে আকাশে হালকা মেঘ রয়েছে। পাইলটের কথাবার্তা ছিল বেশ উদ্দীপনামূলক। যাত্রীদের উদ্দেশ্যে পাইলটের কথা শেষে বিমান যাত্রী ও এইচএসবিসি ব্যাংকের কর্মকর্তা শাহরিন আমরান বলেন, আমার ভ্রমণ জীবনে পাইলটের উদ্দীপনামূলক কথাবার্তা কমই শুনেছি। তবে পাইলটের কথা শুনে অনেক যাত্রী আশ্বস্ত হয়েছেন। বিষয়টি সম্পর্কে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের জিএম কামরুল ইসলাম মানবজমিনকে বলেন, যাত্রীরা আমাদের আস্থার জায়গা। তাদেরকে ভালো সেবা দিতে আমাদের বিভিন্ন পরিবর্তন আসতেই পারে। বড় দুর্ঘটনার পর আমরা কিছু পরিবর্তন এনেছি। আগামীতে এগুলো অব্যাহত থাকবে। এর আগে গত ১২ই মার্চ নেপালের ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণকালে বিধ্বস্ত হয় ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট। এতে নিহত হন ৫১ জন। যাদের মধ্যে ২৬ জন বাংলাদেশি। ময়নাতদন্ত সাপেক্ষে এদের মধ্যে মরদেহ শনাক্ত করা হয়েছে। প্রায় সবার মরদেহ দেশে এসে পৌঁছেছে। এ দুর্ঘটনার পর ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে ধস নামে। যাত্রী সংখ্যা কমে যায়। এর ভিত্তিতেই ফ্লাইট ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন এনেছে ইউএস- বাংলা।

উত্তপ্ত গাজা: নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৭

ফিলিস্তিনে ‘ভূমি দিবসের’ পূর্ব নির্ধারিত বিক্ষোভে ইসরাইলি বাহিনীর গুলিবর্ষণে নিহতের সংখ্যা ১৭ জনে পৌঁছেছে। আহত হয়েছে প্রায় দেড় হাজার ফিলিস্তিনি। বছরের সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী এ সংঘর্ষে নিহতদের স্মরণে শনিবার ‘জাতীয় শোক’ ঘোষণা করেছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ। এদিকে, সংঘর্ষের পর আবারো বিক্ষোভের প্রস্তুতি নিচ্ছে ফিলিস্তিনিরা। সীমান্তের কাছে অস্থায়ীভাবে নির্মাণ করা তাঁবুতে ফিরে নতুন উদ্যমে বিক্ষোভ করার পরিকল্পনা করছে তারা। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি ও আল জাজিরা।
খবরে বলা হয়, ভূমি দিবসকে ঘিরে শুক্রবার থেকে ছয়দিনের বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু করে ফিলিস্তিনিরা। তারা ইসরাইলের দেয়া সীমান্ত বেড়ার কাছে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করতে থাকে। শুক্রবার গাজা উপত্যকায় ইসরাইলের সীমান্ত বেড়ার কাছে ৬টি স্থানে বিক্ষোভ করে ফিলিস্তিনিরা। এসময় ইসরাইলি সেনারা বিক্ষোভকারী ফিলিস্তিনিদের ওপর টিয়ারগ্যাস ও গুলি ছুড়তে থাকে। এতে ঘটনাস্থলেই গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন ৬ ফিলিস্তিনি। এছাড়া দিনের প্রথমভাগে বিক্ষোভ শুরুর পূর্বেই গাজার খান ইউনুস শহরে এক ফিলিস্তিনি কৃষককে গুলি করে হত্যা করা হয়। শুক্রবার সারা দিন ফিলিস্তিনি বিক্ষোভকারীদের ওপর আক্রমণ অব্যাহত রাখে ইসরাইলি সেনারা। এতে এখন পর্যন্ত ১৭ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। আহত কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। আশঙ্কা করা হচ্ছে নিহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে।
ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ভূমি দিবসের বিক্ষোভে ১৪শ’রও বেশি মানুষ আহত হয়েছে। এছাড়া ফিলিস্তিনের ভূমিতে ইসরাইলের দখলদারিত্বের প্রতিবাদে বিক্ষোভকারী ছয় নিরস্ত্র ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে ইসরাইলি সেনারা। নিহতদের স্মরণে একদিনের শোক ঘোষণা করেছেন ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। শুক্রবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, শনিবার সারা দেশে সকল সরকারি কার্যালয়, স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকবে।
এদিকে, ইসরাইল অভিযোগ করেছে, বিক্ষোভকারীরা তাদের ওপর পাথর ও জ্বলন্ত টায়ার নিক্ষেপ করেছে। পরে বাধ্য হয়ে তারা ফাঁকা গুলি চালিয়েছে। বিক্ষোভকারীরা ইসরাইলের সীমান্ত বেড়া ভাঙার চেষ্টা করছিল বলেও অভিযোগ করেছে তারা। ইসরাইলি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রোনেন ম্যানেলিস বলেন, শুক্রবারের বিক্ষোভ কোনো প্রতিবাদ ছিল না। এটা ছিল পরিকল্পিত সন্ত্রাসী হামলা। এর জন্য ফিলিস্তিনের রাজনৈতিক দল হামাসকে দায়ী করেন তিনি। পাশাপাশি সন্ত্রাসী কার্যক্রম অব্যাহত রাখলে ভবিষ্যতে আরো বড় ধরনের সেনা অভিযানের হুমকি দেন। গাজায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরাঁ। তিনি একটি স্বচ্ছ ও স্বাধীন তদন্তের আহ্বান জানান। এছাড়া, বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলা করায় ইসরাইলের নিন্দা জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ।

নবীগঞ্জে অপ-চিকিৎসায় প্রসূতি ও নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ

নবীগঞ্জে নার্স ও আয়ার অপ-চিকিৎসায় প্রসূতি ও নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। আলোচিত ঘটনায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা সেবায় অব্যস্থাপনার চিত্র প্রকাশ পেয়েছে। এনিয়ে উপজেলা শহরে তোলপাড় চলছে। নিহত প্রসূতির নাম সুফলা রাণী দাশ (৩৩)। তিনি উপজেলার রোকনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গত বুধবার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তার অকাল মৃত্যু হয়। তার অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। চিকিৎসাসেবা নিয়ে অবহেলার অভিযোগে আইনি প্রক্রিয়ার খবর পাওয়া গেছে। নিহত প্রসূতি পৌর এলাকার শিবপাশা গ্রামের মৃত সুমেশ চন্দ্র দাশের কন্যা ও উপজেলার আমড়াখাইড় গ্রামের রিপন তালুকদারের স্ত্রী। প্রসূতি সুফলা রাণী দাশের পারিবারিক সূত্র জানায়, সুফলা গর্ভবতী হওয়ার পর থেকেই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আয়া নমিতা রানী আচার্য্য তাকে বিভিন্ন পরামর্শ দেন। এমনকি ঘটনার তিন দিন পূর্বে অর্থাৎ গত রোববার বিকেলেও বাসায় গিয়ে সুফলা রাণী দাশকে দেখে আসেন এবং বলেন তার প্রসবের আরো তিন দিন সময় আছে। সবকিছু ঠিক আছে। বুধবার বিকেল ৩টায় শিক্ষিকা সুফলার প্রসব ব্যথা শুরু হলে আয়া নমিতাকে খবর দেয়া হয়। খবর পেয়ে নমিতা প্রসূতির বাড়িতে যান। এ সময় তিনি সুফলাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রসূতিকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ডেলিভারির কার্যক্রম শুরু করেন। প্রসূতির মা প্রণতি রাণী জানতে চান আয়া নমিতা ও সিনিয়র স্টাফ নার্স আরতি বালা নাথ দ্বারা কি তার কন্যা সুফলার ডেলিভারি সম্ভব? এমন প্রশ্নের জবাবে আয়া নমিতা রাণী প্রসূতির মাকে বলেন, তারা থাকতে ডেলিভারিতে কোনো সমস্যা হবে না এবং আর কোনো বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের প্রয়োজন নেই। এমন কথা বলে ওই হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স আরতি ও চন্দ্রনা দে কে এনে তারা তিন জনের সমন্বয়ে ডেলিভারির কার্যক্রম শুরু করেন। এ সময় প্রসব ব্যথায় বেকুল প্রসূতির সুফলা অসহ্য হয়ে ছটফট ও হাউ মাউ করে কান্নাকাটি করলে তারা তাকে সান্ত্বনার স্থলে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। এমনকি প্রসূতির গলা শুকিয়ে ওষ্ঠাগত হওয়ার ফলে তাদের কাছে পানি চাইলে তারা কোন কর্ণপাত না করে ডেলিভারির কাজ অসমাপ্ত রেখে অন্য রোগীদের পাশে গিয়ে সময় দেন। এ সময় প্রসূতির গর্ভধারিণী মা প্রণতি রাণী মেয়ের করুণ অবস্থা দেখে কাকুতি-মিনতি করে আয়া নমিতা ও তার সহযোগীদের কাছে গিয়ে তাদেরকে ডেলিভারি কক্ষে নিয়ে আসেন। একপর্যায়ে হাসপাতালের চিকিৎসক চম্পক কিশোর সাহা সুমন প্রসূতির চিকিৎসার খবর নেন। ডাক্তার সুমন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর প্রসূতির অবস্থা স্বাভাবিক রয়েছে বলে সান্ত্বনা দেন এবং জরুরি বিভাগে চলে যান। এরই মধ্যে প্রসূতির গর্ভের সন্তান অর্ধেক ভূমিষ্ঠের পথে। কিন্তু আয়া ও নার্সরা প্রসূতির সন্তানকে কোনো ভাবে উদ্ধার করতে না পেরে ‘কেচি দিয়ে কেটে’ নবজাতককে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। যার ফলে প্রসূতির অতিরিক্ত রক্ত ক্ষরণ হয়। এরই মধ্যে সুফলার মৃত নবজাতক উদ্ধার করে তারা। তার অবস্থার অবনতি হলে দায়ভার এড়াতে তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। সিলেট নেয়ার পথে উপজেলার আউশকান্দি কাছে গিয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন প্রসূতি সুফলা রাণী দাশ। সুফলার মা প্রণতি রাণী দাশ বলেন, তার মেয়ের এমন রক্তক্ষরণ হয়েছে যা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। ওই সময় তার রক্তে ডেলিভারি কক্ষ প্লাবিত হয়েছে। ওইদিন জরুরি বিভাগে কর্মরত চিকিৎসক ডা. চম্পক কিশোর সাহা বলেন, আয়া নমিতার তত্ত্বাবধানে প্রসূতির পরিবার তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন এবং তিনি গিয়ে দেখেছেন প্রসূতির মৃত বাচ্চা প্রসব হয়েছে। প্রসূতির অধিক রক্তক্ষরণের ফলে তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টিএইচও (ভারপ্রাপ্ত) ডা. আব্দুস সামাদ বলেন, জেনেছি ওইদিন ওই প্রসূতির মৃত বাচ্চা ভূমিষ্ঠ হয়েছে এবং অবস্থা খারাপ দেখে তাকে সিলেট রেফার্ড করা হয়। ওদিকে, হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা নিয়ে বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় একাধিক সংবাদ পরিবেশিত হলেও চিকিৎসাসেবায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে না। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লোকজন অভিযোগ করে বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্মরত চিকিৎসকরা প্রাইভেট চিকিৎসা ব্যস্ত থাকেন। হাসপাতালে কর্মরত নার্স আর আয়া দিয়ে চলছে চিকিৎসার নামে বাণিজ্য। শিক্ষিকা প্রসূতির মৃত্যুর রহস্য উদঘাটন ও উপজেলা স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে তদারকি কার্যক্রম জোরদারের দাবি জানিয়েছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লোকজন।

কালিয়ায় ৫০ কোটি টাকা নিয়ে উধাও চলন্তিকা সোসাইটি by ওয়ারেশ হোসেন

কালিয়া থেকে ৫০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে উধাও হয়ে গেছে চলন্তিকা যুব সোসাইটি। এসব টাকা ছিল দিনমজুর, কৃষক, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ীর। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় কালিয়া পৌরসভা সদরে চলন্তিকা যুব সোসাইটির অফিসটি গ্রাহকরা ঘেরাও করেন। সূত্র জানিয়েছে, কালিয়া উপজেলা, কালিয়া পৌরসভা, বড়দিয়া, মহাজন ও গাজিরহাট শাখার গ্রাহকের সংখ্যা প্রায় ৮ হাজার। গ্রাহকরা বলেন, তাদের নিকট থেকে দিনে, মাসিক, বাৎসরিক কিস্তি আদায় করা হতো। গ্রাহকদের ৬ বছরে দ্বিগুণ টাকা প্রদান করার প্রতিশ্রুতি দেয় এই চলন্তিকা যুব সোসাইটি রেজিং নং কে/১১০/০৪। এত বেশি লাভের আশায় গ্রাহকরা এ দিকে ঝুঁকে পড়েন।
আমানতকারীদের মধ্যে কালিয়া উপজেলা গুরুদাশ স্বর্ণকারের ১৫ লাখ, রামনগর গ্রামের অঞ্জলীর ১ লাখ, শালবরাত গ্রামের গীতা ঢালীর ৫০ হাজার, উত্তম কুমারের ৫০ হাজার, বিলব্যওচ গ্রামের শহীদ মোল্যার দেড় লাখ, বড়কালিয়া গ্রামের পেন্টুর আড়াই লাখ, খোকনের আড়াই লাখ, জোকার চর গ্রামের অনিমেশ কুমার দাশের দেড় লাখ, পিযুষ দাশের ১ লাখ ২০ হাজার, শ্যামল দাশের ২ লাখ, গোপাল দাশের ২ লাখ, পরিমল দাশের ৫০ হাজার, তপন দাশের ৫০ হাজার, সন্‌জয় দাশের ১ লাখ ৫ হাজার, রাজকুমারের ২ লাখ ১৫ হাজার, কল্পনার ২০ হাজার, ফাতেমার ৫০ হাজার, এম এম পাভেলের ১০ লাখ টাকা, কানাই লাল সাহার ৫ লাখ ১৫ হাজার, রানা টেলিকম মালিকের দেড় লাখ টাকা, হাসিব সেখের ৫০ হাজার, প্রাক্তন কমিশনার আকবর হোসেনের ৫০ হাজার, শান্তির ৭০ হাজার, মিতার ৭৫ হাজার, ঝন্টু বর্মনের ৩০ হাজার, মহাজন গ্রামের বিষ্ণুু পদা সিকদারের ৫ লাখ। কামাল সেখের, মকিদ চৌধুরীর, নার্গিস বেগম, শাহিনুর, জামেলা বেগম, মধুসূধন দাশ, তপন চক্রবর্তীসহ রয়েছেন অন্তত ৮ হাজার গ্রাহক। এসব গ্রাহকের লগ্নিকৃত টাকার পরিমাণ ৫০ কোটি টাকার উপরে হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। ২৮শে মার্চ বিকাল থেকে সোসাইটি অফিস তালাবদ্ধ। সোসাইটির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কোনো গ্রাহক ফোনেও যোগাযোগ করতে পারেননি। একপর্যায়ে তারা বিভিন্ন সূত্রে জানতে পারেন বাগেরহাট ও গোপালগঞ্জ থেকে ওই সোসাইটি কর্মকর্তারা একইভাবে গা-ঢাকা দিয়েছেন। কালিয়া গ্রাহকরা পর্যায়ক্রমে একত্রিত হন। তখন শত শত আমানতকারী কান্নায় ভেঙে পড়েন। খবর পেয়ে সেখানে উপস্থিত হন কালিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজমুল হুদা। তিনি কালিয়া ও বড়দিয়া ও মহাজন শাখার এজিএম মিলন কুমার দাশ ও দিলিপ কুমার সাহাকে ফোনে চেষ্টা করেও সংযোগ পাননি। মিলন কুমার দাশের বাড়ি আমানতকারীরা ঘেরাও করে রেখেছেন। রাতে পুলিশ মিলন দাশের বাড়ি যায়। তবে কালিয়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ শমসের আলী জানান, তাদের কাছে কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। তবে এ সমস্ত ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাকে অবহিত করেছেন। শুক্তগ্রামে রতন ঠাকুর ইতোমধ্যে ভারতে পাড়ি জমিয়েছে। চলন্তিকা অফিস উধাও হওয়ার খবর পেয়ে মহাজন গ্রামের ঠাকুর দাশ (৫০) ভারতে স্ট্রোক করে হাসপাতালে ভর্তি আছেন। গত দু’দিন আগে ঠাকুর দাশ ভারতে যান। তিনি তার মহাজন গ্রামের সব সম্পত্তি ৩২ লাখ টাকা বিক্রি করে ফিক্সড ডিপোজিট করেন। ইউএনও এবং পুলিশের সহযোগিতায় কালিয়া চলন্তিকা যুব সোসাইটির অফিস ভবনটি সিলগালা করে দেয়া হয়। একটি সূত্র জানায়, গত কয়েক মাস আগে ওই অফিসের গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র পোড়ানো হয়েছে। মহাজন শাখার দিপঙ্কর দাশকে এলাকার গ্রাহকরা দু’দিনব্যাপী তালাবদ্ধ করে রেখেছেন। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মহাজন গ্রামের বিশ্ব সাহার বাড়িতে এক সালিশ বৈঠক চলছে বলে জানা যায়। এ ব্যাপারে কালিয়া অগ্রণী ব্যাংকের প্রিন্সিপ্যাল অফিসার বুলবুল হোসেন জানান চলন্তিকা যুব সোসাইটির নামে সিডি ০২০০০০৩৭৩০৩২৭নং একাউন্ট আছে। তিনি জানান, এ বছরে উক্ত একাউন্টে কোনো টাকা লেনদেন হয়নি। গত বছরে ১০-১২ লাখ টাকা মাত্র লেনদেন হয়েছে। তবে ২১/১২/২০১৭ তারিখে ৫ লাখ টাকা অনলাইনের মাধ্যমে উঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে কালিয়ার ইউএনও নাজমুল হুদা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন সেখানকার ওই আমানতকারীর তছরুপকৃত টাকার পরিমাণ ৫০ কোটি টাকা।

ভোট চাওয়া রাজনৈতিক অধিকার, যেখানে যাব সেখানেই ভোট চাইব -প্রধানমন্ত্রী

রাজনৈতিক দলের নেত্রী হিসেবে নৌকায় ভোট চাওয়া রাজনৈতিক অধিকার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমি একটি দলের সভাপতি। আমি নৌকায় ভোট চাইব, এটা আমার রাজনৈতিক অধিকার। রাজনৈতিক দলের নেত্রী হিসেবে যেখানে যাবো সেখানেই    নৌকায় ভোট চাইব। গতকাল সন্ধ্যায় গণভবনে আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকের সূচনা বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে দলের নীতি নির্ধারণী ফোরামের বৈঠকের শুরুতেই আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের যোগ্যতা অর্জন করায় ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পর দলের নেতাদের নিয়ে বৈঠক করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি। বৈঠকে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও দলীয় কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে আসন্ন নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী নিয়ে আলোচনা হয় বলেও বৈঠক সূত্র জানিয়েছে।
আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের নৌকা মার্কায় ভোট চাওয়ার আহ্বান জানিয়ে দলীয় সভাপতি বলেন, আগামীদিনে নির্বাচন হবে। অবশ্যই আমাদের জনগণের কাছে যেতে হবে। নৌকায় ভোট চাইতে হবে। সকলকে বলতে হবে এবং বোঝাতে হবে; একমাত্র নৌকায় ভোট দিলেই এদেশের মানুষ উন্নতি পায়। তিনি বলেন, নৌকায় ভোট দিয়েই দেশের মানুষ স্বাধীনতা পেয়েছে, রাষ্ট্রভাষা বাংলা পেয়েছে আর দেশের উন্নতির ছোঁয়াটাও নৌকা মার্কায় ভোট দিয়েই পেয়েছে। কাজেই এই কথাটা সকলকে বলতে হবে, যে আমরা নৌকা মার্কায় ভোট চাই আর দেশের উন্নয়ন করার সুযোগ চাই।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাটা ব্যাহত হয়েছে ২০০১ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসতে পারেনি বলে। যারা এর আগে ক্ষমতায় এসেছিল এবং যুদ্ধাপরাধীদের হাতে পতাকা তুলে দিয়েছে এবং খুনিদের পুরস্কৃত করেছিল তারা কখনো চায়নি বাংলাদেশ উন্নত হোক, বাংলাদেশ সমৃদ্ধশালী হোক, বাংলাদেশের মানুষ দুই বেলা পেট ভরে খেয়ে থাকুক, তাদের একটু বাসস্থান হোক, তারা একটু চিকিৎসা সেবা পাক, শিক্ষায়-দীক্ষায় উন্নীত হোক- এগুলো এরা চায়নি। তাই যদি চাইতো তাহলে তো এ দেশ অনেক আগেই উন্নত হতো। আওয়মী লীগ একমাত্র সংগঠন যা বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া, তিনি বাংলাদেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে স্বাধীনতা এনেছিলেন। স্বাভাবিকভাবে আওয়ামী লীগ বিজয়ী হলে বাংলাদেশের উন্নতি হয়। ২০০৮ সালে নির্বাচনে জনগণ নৌকা মার্কায় ভোট দিয়েছে, আমরা সরকার গঠন করেছি। বাংলাদেশের উন্নয়নের যাত্রা শুরু হয়েছে। ২০১৪ সালের নির্বাচন ঠেকানোর নামে বহু মানুষকে হত্যা করা হয়েছে, প্রিজাইডিং অফিসারদের হত্যা করা হয়েছে। ভোট ঠেকানোর নাম করে ভোটারদের ওপর অত্যাচার, কেন্দ্র পুড়িয়ে দেয়াসহ এমন কোনো তাণ্ডব নেই, যা বিএনপি-জামায়াত জোট করেনি। তার পরেও বাংলাদেশের মানুষ এটা প্রতিহত করেছে এবং ভোট দিয়েছে এবং আওয়ামী লীগকে বিজয়ী করেছে। ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার ফলে দেশের উন্নয়নের ধারাবাহিকতাটা বজায় ছিল। আর এ ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে বলেই আজকে আমরা উন্নতি লাভ করতে সক্ষম হয়েছি। আমরা কিন্তু ২০০৯ সালে সরকার গঠন করে পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা নিয়েছি।  বিএনপির কাছে ভোগ-বিলাসী ক্ষমতা ছিল, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ছিল তাদের নিজেদের ভাগ্য গড়া। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ব্যবহার করে তারা নিজেদের আখের গুছিয়েছে। মানি লন্ডারিং, বাংলাদেশকে পাঁচবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন করা, জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করা, লুটপাট, এটাই ছিল তাদের নীতি। যার ফলে বাংলাদেশ এগুতে পারেনি। কিন্তু আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরে আমরা যেহেতু পাঁচ বছর মেয়াদি পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা প্রণয়ন করি এবং সেটা বাস্তবায়ন যখন শুরু করি- তখন আবার একটা দীর্ঘ মেয়াদি ১০ বছরের পরিপ্রেক্ষিত পরিকল্পনা হাতে নেই। পরিকল্পনা নিয়ে না আগালে উন্নয়নের গতিটা ধরে আগানো যায় না। সেদিকে লক্ষ্য রেখেই ২০১০ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত পরিপ্রেক্ষিত পরিকল্পনা হাতে নিয়ে আমরা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। এর ফলে আমরা জাতিসংঘ ঘোষিত এমডিজি সফলতার সঙ্গে বাস্তবায়ন করতে পেরেছি আবার এসডিজি অর্জন করার জন্যও কাজ করে যাচ্ছি। এই অল্প সময়ের মধ্যে আজকে বাংলাদেশ উন্নতি হওয়ার জন্য যে কয়টি উপাত্ত প্রয়োজন ছিল তা পূরণ করে যাচ্ছি। কাজেই আমরা দেশকে উন্নত করতে পারছি। আমাদের সবসময় চিন্তা করতে হবে আমাদের স্বল্প সম্পদ নিয়ে কীভাবে আগাবো। তবে আমাদের উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে আমরা নিবো এবং বিদেশি বিনিয়োগ নিবো। বিদেশি বিনিয়োগ আমাদের প্রয়োজন তবে আমাদের নিজেদেরও সংগতি থাকতে হবে, কারো মুখাপেক্ষী না হতে হয়, কারো কাছে ছোট হতে না হয়, কারো কাছে নতি স্বীকার করতে না হয়। আমরা বিজয়ী জাতি, আমরা মহান মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ী হয়েছি- এটাই হচ্ছে আমাদের নীতি, এটাই আমাদের সিদ্ধান্ত।
তিনি বলেন, আজকে আমাদের দেশকে উন্নত সমৃদ্ধ করে বিশ্বের দরবারে বাঙালি জাতির মর্যাদা দাঁড় করাতে হবে। আমরা লক্ষ্য অর্জনে এখন এক ধাপ এগিয়ে, সেটা আমাদের মাথায় রাখতে হবে। আমাদের বিরুদ্ধে কথা বলার মানুষের অভাব নেই। প্রতিনিয়ত তারা বলেই যাচ্ছে। তাদের উন্নয়ন চোখেই পড়ে না। চোখ না থাকলে তারা কীভাবে দেখবে। যারা বলে তারা বলে যাক, ওদিকে আমাদের কান দেয়ার সময় নেই। আমরা জানি কীভাবে দেশের উন্নয়ন করতে হবে। আর সেটা জানি বলেই কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের উন্নয়নের সবচেয়ে বড় হচ্ছে গ্রাম থেকে কাজ করে যাচ্ছি। আজকে গ্রাম-গঞ্জে উন্নয়নের ছোঁয়া চোখে পড়ছে। ভূ-রাজনৈতিক অবস্থানের ফলে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের মধ্যে বাংলাদেশের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এখানে আমরা অনেক কাজ করতে পারি। যার মাধ্যমে আমরা নিজেরাই অর্থ উপার্জনের পথ করে নিতে পারি। কিন্তু এদিকে কেউ কখনো দৃষ্টি দেয়নি। প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের মাঝে সেতুবন্ধ করার দয়িত্বটা বাংলাদেশ নিতে পারে। সেখান থেকেই আমদের বিরাট অর্থনেতিক অর্জন হতে পারে। কিন্তু এগুলো কখনো কেউ সেভাবে বোঝেও নাই, ভাবেও নাই। বৈঠকে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের নেতারা অংশ নেন।
লুসি হল্টকে নাগরিকত্ব প্রদান: বাংলাদেশকে ভালোবেসে যুগের পর যুগ মানুষের সেবায় নিয়োজিত ব্রিটিশ নাগরিক লুসি হেলেন ফ্রান্সিস হল্টকে নাগরিকত্ব দেয়া হয়েছে। শনিবার বিকালে লুসি হল্টের হাতে বাংলাদেশের নাগরিকত্বের সনদটি তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসময় প্রধানমন্ত্রীর ছোট বোন শেখ রেহানা এবং শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ হোসেনও উপস্থিত ছিলেন। ৮৭ বছর বয়সী লুসি জীবনের ৫৭ বছর কাটিয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশে; এদেশের মাটি ও মানুষকে ভালোবেসে ভুলে থেকেছেন পরিবারকে। মৃত্যুর আগে তার একটাই চাওয়া ছিল ‘দ্বৈত নাগরিকত্ব’ শনিবার তিনি তা পেলেন। মানুষের সেবা করার জন্য ১৯৬০ সালে বরিশালের অক্সফোর্ড মিশনে যোগ দেন লুসি। এদেশে এসে অক্সফোর্ড মিশন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুদের পড়ানো শুরু করেন। একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে যশোর ক্যাথলিক চার্চে শিশুদের ইংরেজি পড়াতেন তিনি। যুদ্ধের কারণে চার্চ বন্ধ করে সবাই নিরাপদ আশ্রয়ে চলে গেলেও যাননি লুসি হল্ট। যুদ্ধাহত মানুষদের সেবা দিয়েছেন তিনি। ২০০৪ সালে অবসরে যাওয়ার আগে খুলনা, নওগাঁ, কুড়িগ্রাম, গোপালগঞ্জ ও ঢাকায় কাজ করেছেন লুসি হল্ট। অবসর জীবনে তিনি বরিশাল অক্সফোর্ড মিশনের শিশুদের মানসিক বিকাশ ও ইংরেজি শিক্ষা দিচ্ছেন। বাকি জীবনটা বরিশালেই কাটিয়ে দিতে চান লুসি। তার শেষ ইচ্ছা, মৃত্যুর পরে তাকে যেন বাংলাদেশের মাটিতেই চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।
অবসরকালীন ভাতা সাড়ে সাত হাজার টাকা দিয়ে জীবন চালিয়ে নিচ্ছেলেন লুসি। কিন্তু প্রতি বছর ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর জন্য ৩৮ হাজার টাকা দেয়া তার জন্য কষ্টকর হচ্ছিল। চলতি বছরের ৮ই ফেব্রুয়ারি লুসি হল্টকে ১৫ বছরের মাল্টিপল ভিসা দেয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে ভবিষ্যতের জন্য তার ভিসা ফি মওকুফও করা হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের জানান, বাংলাদেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করায় লুসি হল্টকে ধন্যবাদ জানান শেখ হাসিনা। গণভবনে এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব নজিবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

শুভ জন্মদিন গোলাম সারওয়ার

বাংলাদেশ সম্পাদক পরিষদের সভাপতি ও সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ারের ৭৫তম জন্মবার্ষিকী আজ রোববার। দিনটি উদযাপনে এবার বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। গত রাত ১২টা ১ মিনিটে সমকাল কার্যালয়ে কেক কাটার মধ্য দিয়ে শুরু হয় জন্মদিনের অনুষ্ঠান। প্রিয় সম্পাদককে শুভেচ্ছা ও ভালোবাসায় সিক্ত করেন সমকালের সহকর্মীরা। গোলাম সারওয়ারের পরিবারের সদস্যরাও অনুষ্ঠানে  উপস্থিত ছিলেন।
জন্মদিন উপলক্ষে আজ রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে রয়েছে আনন্দঘন অনুষ্ঠান। 'সুবর্ণরেখায় বাতিঘর' শীর্ষক এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামানের সভাপতিত্বে গঠিত 'গোলাম সারওয়ার জন্মবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় কমিটি'। অনুষ্ঠানে সম্মাননা গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হবে। থাকবে রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যার রবীন্দ্রসঙ্গীত এবং পূজা সেনগুপ্ত ও তার দলের নৃত্য।
বাংলাদেশের সাংবাদিকতায় উজ্জ্বল এক নাম গোলাম সারওয়ার। মুক্তচিন্তা, প্রগতিশীল মূল্যবোধ ও মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষে তিনি সোচ্চার। সাংবাদিকতা জগতে তিনি প্রতিষ্ঠানতুল্য ব্যক্তিত্ব। ষাটের দশকে সাংবাদিকতার শুরু থেকে টানা পাঁচ দশকের বেশি সময় গোলাম সারওয়ার এই পেশায় মেধা, যুক্তিবোধ, পেশাদারিত্ব, দায়িত্বশীলতা, অসাম্প্র্রদায়িক চিন্তা-চেতনার নিরবচ্ছিন্ন চর্চায় নিজেকে অনন্য উচ্চতায় প্রতিষ্ঠিত করেছেন। প্রতিষ্ঠান হিসেবে সংবাদপত্রের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ বার্তা বিভাগে তার সৃজনশীলতা, সংবাদবোধ ও তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এদেশের সংবাদমাধ্যম জগতে উদাহরণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
গোলাম সারওয়ার দৈনিক ইত্তেফাক-এ দীর্ঘ ২৭ বছর বার্তা সম্পাদকের দায়িত্ব পালনকালে একাধারে সৃজনশীল ও পেশাদার সাংবাদিকতায় অতুলনীয় দক্ষতার স্বাক্ষর রাখেন। কৃতিত্বের ধারাবাহিকতায় ১৯৯৯ সালে সম্পাদক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন দৈনিক যুগান্তর। ছয় বছর পর ২০০৫ সালে দৈনিক সমকালের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি। মুক্তিযোদ্ধা গোলাম সারওয়ার সাংবাদিকতায় জীবনব্যাপী অনন্য অবদানের জন্য ২০১৪ সালে একুশে পদক পান। মেধা, নিষ্ঠা ও দক্ষতার কারণে তাকে অনেকেই 'সাংবাদিকদের শিক্ষক' হিসেবে অভিহিত করেন।
গোলাম সারওয়ারের জন্ম ১৯৪৩ সালের ১ এপ্রিল বরিশালের বানারীপাড়ার এক সল্ফ্ভ্রান্ত পরিবারে। বাবা মরহুম গোলাম কুদ্দুস মোল্লা ও মা মরহুম সিতারা বেগমের জ্যেষ্ঠ সন্তান তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবস্থায় ১৯৬২ সালে চট্টগ্রামের দৈনিক 'আজাদী'র বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদদাতা হিসেবে তার সাংবাদিকতা পেশার সূচনা।

যেভাবে বেপরোয়া কাউন্সিলর মোস্তাকিম by প্রতীক ওমর

শুরুটা টোকাই থেকেই। আজ থেকে বছর দশেক আগেও তার পরিচয় ছিল টোকাই। এলাকায় ছোটখাটো চুরি-ছিনতাইয়ের মধ্য দিয়েই আলোচনায় আসে মোস্তাকিম। ২০০৮-৯ সালের দিকে খান্দার এলাকার টপটেরর সুজনের নজরে আসে সে। ওই সময় সুজন বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে চলতো বগুড়ার একটা অংশ। মোস্তাকিমের সাহস এবং কাজকর্মে অনেকটা সন্তুষ্ট হয়েই সেই সময় সুজন তাকে তার বাহিনীর সদস্য করে নেয়। মাস্তানির ওস্তাদ সুজন। মারামারি, দখল, চাঁদাবাজির সব আয়োজনে মোস্তাকিমের উপস্থিতি ছিল তখন। একপর্যায়ে সুজনের সেকেন্ড ইন কমান্ড হয়ে ওঠে। ওই বাহিনীর ভয়ে পুরো এলাকার সাধারণ মানুষ তটস্থ হয়ে ওঠে। দোকানে চাঁদা, জমি দখল, বাড়ি তৈরিতে চাঁদা, মাদক ব্যবসা, বিভিন্ন সরকারি অফিসে টেন্ডারবাজি এমনকি ভাড়াটিয়া খুনের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে মোস্তাকিম। ভাড়ায় বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার হয়ে গুণ্ডামি করতো নিয়মিত। সুজন বাহিনীতে যোগ দেয়ার বছর তিনেকের মধ্যেই মোস্তাকিম অপ্রতিরোধ্য ক্ষমতাধর হয়ে ওঠে। নিজেকে তখন কারো অধীনে সন্ত্রাসী করার প্রয়োজন মনে করেনি। সুজনের সঙ্গে দ্বন্দ্ব লেগে যায় মোস্তাকিমের। একপর্যায়ে ২০১২ সালের নভেম্বর মাসে মোস্তাকিমের হাতে খুন হয় তার ওস্তাদ সুজন। ওস্তাদকে খুন করে পুরোপুরি ওস্তাদ বনে যায় মোস্তাকিম। ২০১২ সালের ৩রা নভেম্বর সুজন হত্যার দায়ে তার নামে মামলা হয়। ক্ষমতার দাপটের কাছে ওই মামলা অসহায় হয়ে পড়ে। ঢিমে তালে চলতে থাকে মামলা। ক্রমান্বয়ে মামলাটির গতি আরো কমে যায়। এখন অনেকটাই নিখোঁজের পর্যায়ে সেই মামলা। এ ছাড়াও মোস্তাকিমের নামে আরো যেসব মামলা হয়, ২০১২ সালের ২রা অক্টোবর একটি মারামারির মামলা, একই বছরের ২৩শে এপ্রিল অস্ত্রমামলা, ২০১১ সালের ২রা আগস্ট চাঁদাবাজির মামলা।
মোস্তাকিমের দাপটে বগুড়া শহরের খান্দার, কৈগাড়ী, ছিলিমপুর, মালগ্রাম, শাকপালার সাধারণ মানুষ অসহায় হয়ে ওঠে। তার বিরুদ্ধে কোনো কথা বলার সাহস কারোই ছিলো না। পুলিশের কাছে নালিশ দিয়ে উল্টো হয়রানির শিকার কেউ সহজে হতে চায়নি। পুলিশের সঙ্গে মোস্তাকিমের সখ্য দেখে সাধারণ মানুষ আইনের প্রতি বিশ্বাস হারিয়ে ফেলে। মোস্তাকিমের অপ্রতিরোধ্য চাঁদাবাজি, জমি দখল, মাদক ব্যবসার পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব পুলিশের কাছে আছে। তার পরেও মোস্তাকিমের বিরুদ্ধে কোনো দিন পুলিশ অ্যাকশন নেয়নি। এমন পরিস্থিতিতে এলাকার মানুষ তাকে ম্যানেজ করেই এলাকায় থাকতো।
মোস্তাকিমকে এত ক্ষমতাধর করে তোলার পেছনে বগুড়ার একজন প্রভাবশালী যুবলীগ নেতার সরাসরি হাত আছে। তার ছত্রছায়ায় মোস্তাকিম এক সময় শহর যুবলীগের শহর কমিটির দপ্তর সম্পাদকের পদ পেয়ে যায়। এর পর তাকে আর কে রোখে? গেল পৌরসভা নির্বাচনে ৯নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নির্বাচন করে সে। ভোটারদের অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তার পক্ষে সিল মারতে বাধ্য করে। কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়ে যায়।
বেপরোয়া মোস্তাকিম বাহিনী বগুড়ায় যা করছে: টোকাই মোস্তাকিম কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়ার পর তার বাহিনীর পরিধি বাড়তে থাকে। বর্তমানে তার অধীনে দেড় শতাধিক টোকাই কাজ করে। এদের দ্বারা এমন কোনো অন্যায় নেই যা সে করে না। বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল তার এলাকাতেই অবস্থিত। ওই হাসপাতালের বিভিন্ন সরঞ্জামাদি কেনার প্রায় টেন্ডার সে বিভিন্ন কৌশলে নিতো। কখনো নিজের নামে আবার কখনো অন্যের নামে টেন্ডার ড্রপ করতো। তার ভয়ে অন্য কেউ সেখানে টেন্ডার দিতে পারে না। অপরদিকে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেলকেন্দ্রিক প্রায় ২৫-৩০টি বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স আছে। মোস্তাকিম এসব অ্যাম্বুলেন্স নিয়ন্ত্রণ করে। পালাক্রমে তার বাহিনীর সদস্যরা সেখানে অবস্থান নেয়। ওই মেডিকেল থেকে কোনো রোগী ঢাকায় স্থানান্তর হলে অথবা অন্যকোনো হাসপাতালে চলে গেলে অ্যাম্বুলেন্স লাগে। আর এসব অ্যাম্বুলেন্সের মালিকদের কোনো কারণ ছাড়াই মোস্তাকিম বাহিনীর হাতে প্রতি খেপে ৫০০ টাকা দিতে হয়। অপর একটি গ্রুপ সার্বক্ষণিক মেডিকেলের ইমারজেন্সি বিভাগের সামনে কাজ করে। গুরুতর রোগীদের ভর্তি হতে সাহাস্য করার নাম করে অপারেশনের জন্য ব্যবহৃত জিনিসপত্র, ওষুধ একটি দোকান থেকে বেশি দামে কিনতে বাধ্য করে।
মেডিকেল ছাড়াও মোস্তাকিমের আরেক বাহিনী উল্লিখিত এলাকায় জমিজমা নিয়ে কাজ করে। তারা কাগজপত্রের সমস্যা আছে এমন জমির মালিকদের খুঁজে বের করে। তারপর এক পক্ষের দ্বারা কাউন্সিলর বরাবর বিচার চেয়ে দরখাস্ত করায়। মোস্তাকিম কৌশলে এক পক্ষের হয়ে বিচার করে দেয়। এতে লাখ লাখ টাকা অবৈধভাবে হাতিয়ে নেয়। আরেকটি কৌশল হচ্ছে, জমিজমা নিয়ে দুই পক্ষের মামলা চলছে তাদের একপক্ষের থেকে জোর করে নামমাত্র টাকা দিয়ে বায়না দলিল করে নেয় সে। তার পর সেখানে বড় সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেয় বায়না সূত্রে এই জমির মালিক মোস্তাকিম রহমান। ব্যস, ওই জমিতে আর কেউ আসার সুযোগ পায় না। বগুড়া শহরে এরকম শতশত একর জমি এখন মোস্তাকিমের দখলে। সেই জমিগুলোতে এখনো ঝুলছে মোস্তাকিমের সাইনবোর্ড।
এ ছাড়াও খান্দার গোহাইল রোডে প্রতিদিন প্রায় ৩ শতাধিক অটোরিকশা চলাচল করে। ওই সব অটোরিকশার চালকরা প্রতিদিন মোস্তাকিম বাহিনীর হাতে চাঁদা দিতে হয় ৬০ টাকা করে। এ ছাড়া নতুন কেউ অটোরিকশা রাস্তায় নামাতে হলে তার দরবারে মোটা অঙ্কের নজরানা দিতে হয়।
মোস্তাকিম বাহিনীকে বগুড়া শহরের দক্ষিণ পশ্চিম অঞ্চলে যে কেউ নতুন বাড়ি করতে চাইলে তাকে মোটা অঙ্কের টাকা চাঁদা দিতে হয়। পরিমাণ কমপক্ষে ২ লাখ। বড় বাড়ি হলে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত তাকে দিতে হয়। টাকা না দিলে কেউ বাড়ির কাজ করতে পারে না।
যেভাবে ফেঁসে গেলেন মোস্তাকিম: বগুড়ার পাসপোর্ট অফিসের আগের সহকারী চালকসহ অন্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে গোজসাজশ করে মোস্তাকিম বাহিনীর সদস্যরা সেখানে দালালি করতো। এতে সাধারণ মানুষ চরম ভাবে হয়রানির শিকার হতো। বর্তমান সহকারী পরিচালক (এডি) সাজাহান কবির ৬-৭ মাস আগে বগুড়া আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে যোগদানের পর থেকে তিনি অফিস থেকে দালালদেরকে বিতাড়িত করেছেন। পাসপোর্ট করতে আসা লোকজনের কাছে অফিসের কোনো কর্মচারী ঘুষ দাবি, ঘুষ না পেয়ে খারাপ ব্যবহার করলে তাদের ব্যাপারে অভিযোগ জমা দেয়ার জন্য তিনি অফিসের খোলা জায়গায় স্বচ্ছ কাচের বাক্স স্থাপন করেছেন। এতে সাধারণ মানুষ কোনো হয়নারানি ছাড়াই অফিসিয়াল কাজ শেষ করতে পারতো। ফলে অফিসের অন্য কর্মকর্তা কর্মচারীদের অবৈধ আয় বন্ধ হয়ে যায়। বন্ধ হয়ে যায় দালালদের দৌরাত্ম্য। সাজাহান কবির তার অফিসকে দুর্নীতিমুক্ত করার কারণে তার সহকর্মীদের মধ্যে দিনদিন ক্ষোভের দানা বড় হতে থাকে। তার প্রতিফলন ঘটে ২৯শে মার্চ বৃহস্পতিবার দুপুরে। নির্মম ভাবে রাস্তায় একা পেয়ে তার ওপর হামলা চালায় মোস্তাকিম বাহিনী। তিনি বাড়ি যাওয়ার জন্য ওই দিন দুপুর দেড়টার দিকে অটোরিকশাযোগে শহরতলির শাকপালা যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে কৈগাড়ি এলাকায় বিভাগীয় বন অফিসের সামনে মোটরসাইকেলযোগে তিন দুর্বৃত্ত তার অটোরিকশার গতি রোধ করে। তিনি কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাকে রাম দা দিয়ে ডান পায়ে কোপ দেয়। এ সময় তিনি রিকশা থেকে নেমে দৌড়ে বন অফিসের ভিতরে একটি কক্ষে ঢুকে দরজা আটকিয়ে দেয়। দুর্বৃত্তরা ওই কক্ষের দরজা ভেঙ্গে তাকে বের করে কুপিয়ে ফেলে রেখে যায়। এ সময় বন অফিসের কর্মচারীরা পার্শ্ববর্তী মসজিদে নামাজ আদায় করছিলেন। এ দৃশ্য দেখে মসজিদ থেকে লোকজন এগিয়ে এলে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। ওই রাতেই বগুড়া পাসপোর্ট অফিসের অফিস সহকারী শাজেনুর আলম বাদী হয়ে মোস্তাকিমকে প্রধান আসামি করে শাজাহানপুর থানায় আরো ১১ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছেন। বৃহস্পতিবার রাতে জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে চারজন এবং দিনাজপুরে হাকিমপুর উপজেলার ডাঙ্গাপাড়া সাতকুড়ি বাজার থেকে শুক্রবার সকালে মোস্তাকিমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে শুক্রবার বিকালে সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঞা জানান, অপরাধী যত শক্তিশালী হোক তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। তিনি মোস্তাকিমের উপযুক্ত শাস্তি হবে বলে জানান।
সাজাহান কবিরের স্ত্রী নাহিদ কবির জানান, সাজাহান কবিরের অবস্থা বর্তমানে আশঙ্কা মুক্ত। তিনিও তার স্বামীর উপর হামলাকারীদের কঠিন শাস্তি দাবি করেন।
পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর: শনিবার মোস্তাকিমকে বগুড়ার সিনিয়র চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। বিচারক আবু রায়হান শুনানি শেষে ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

৩ মাসে ১৮৭ নারী ধর্ষিত

সারা দেশে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত তিন মাসে  ১৮৭ জন নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। এদের মধ্যে ধর্ষণের পর ১৯ নারীকে হত্যা করা হয়েছে। দুজন ধর্ষণের শিকার হয়ে আত্মহত্যা করেছেন। এছাড়া ধর্ষণের চেষ্টা চালানো হয়েছে আরো ২১ নারীর ওপর। এর বাইরে যৌন হয়রানি ও সহিংসতার শিকার হয়েছেন ২৭ নারী। যৌন হয়রানির  কারণে আত্মহত্যা করেছেন ১ নারী। যৌন হয়রানির প্রতিবাদ করতে গিয়ে আহত হয়েছেন দুজন পুরুষ। এছাড়া লাঞ্ছনার শিকার হয়েছেন আরো ৩২ নারী পুরুষ। মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) ত্রৈমাসিক পরিসংখ্যানে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কর্র্তৃক হেফাজতে ও ক্রসফায়ারে আরো ৪৬ জন মারা গেছেন। এদের মধ্যে র‌্যাবের ক্রসফায়ারে ১৬ জন, পুলিশের ক্রসফায়ারে ১৯ জন, ডিবি পুলিশের ক্রসফায়ারে ৫ জন, নৌ-পুলিশের ক্রসফায়ারে ১ জন, বিজিবির ক্রসফায়ারে ১ জন, ডিবি পুলিশের নির্যাতনে ১ জন ও পুলিশের গুলিতে ২ জন মারা গেছেন। পাশাপাশি কারা হেফাজতে তিন মাসে মারা গেছেন ২৫ জন। এদের মধ্যে ১১ জন কয়েদি ও ১৪ জন হাজতি। ১২ই মার্চ কারা হেফাজতে মারা যান ছাত্রদল নেতা জাকির হোসেন। পুলিশের নির্যাতনে মৃত্যু হয়েছে বলে তার পরিবার অভিযোগ করেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে সাদা পোশাকধারী ব্যক্তিরা ৪ জনকে আটক করেছে। এদের মধ্যে দুজন ফেরত এসেছেন এবং একজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে বলে ভুক্তভোগীদের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।
আসকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত তিন মাসে পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ১০৭ জন নারী। এদের মধ্যে ৭৫ জন নারীকে হত্যা করা হয়েছে। পারিবারিক নির্যাতনের কারণে আত্মহত্যা করেছেন ১৪ জন নারী। এছাড়া শারীরিকভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ১৮ জন নারী। যৌতুককে কেন্দ্র করে নির্যাতনের শিকারে হয়েছেন ৫৫ জন নারী। এদের মধ্যে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ২১ জন।  যৌতুকের জন্য নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে ২১ ও একই কারণে আত্মহত্যা করেছেন ৪ জন নারী। স্বামীর বাড়ি থেকে বিতাড়িত হয়েছেন আরো ৯ নারী। দেশের বিভিন্ন স্থানে শিশু হত্যা এবং নির্যাতনের সংখ্যা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে আসক। তিন মাসে ৪২২ জন শিশু বিভিন্ন নির্যাতন ও হত্যার শিকার হয়েছে। এরমধ্যে ৭১ শিশুকে হত্যা, ২৬ শিশু আত্মহত্যা করেছে। নিখোঁজের পর ২ শিশু এবং বিভিন্ন সময় ২০ শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হয়েছে আরো ৭ শিশুর। এছাড়া একই সময়ে ৬৫ জন সাংবাদিক বিভিন্নভাবে নির্যাতন, হয়রানি, হুমকি ও পেশাগত কাজ করতে গিয়ে বাধার সম্মুখীন হয়েছেন। রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে নিজ ফ্ল্যাটে সুমন সিকদার নামে এক সাংবাদিকের হাত পা বাধা অবস্থায় গলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আসকের প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, চলতি বছরে গণপিটুনিতে মারা গেছেন ১৬ জন। এসিড সন্ত্রাসের শিকার হয়েছেন ৩ জন নারী এবং সালিশ ও ফতোয়ার মাধ্যমে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন আরো ৩ নারী। রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১১ জন এবং আহত হয়েছেন ১৪৮৮ জন। সীমান্তে বিএসএফ নির্যাতনে নিহত হয়েছেন ৩ জন আহত হয়েছেন ৭ জন ও অপহরণের শিকার হয়েছেন আরো ৩ জন। হিন্দু সম্প্রদায়ের ৫টি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর, ১৭টি প্রতিমা ভাঙচুর, মন্দির ও পুজামণ্ডপে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন ১৯ জন।