Sunday, March 22, 2026

ইসরায়েলের বাধা: ছয় দশকের মধ্যে এই প্রথম আল-আকসায় হলো না ঈদের নামাজ

দ্য গার্ডিয়ান ও আল–জাজিরাঃ ইসরায়েলের নিষেধাজ্ঞার কারণে প্রায় ছয় দশকের মধ্যে এই প্রথম ফিলিস্তিনের জেরুজালেমে মুসলিমদের প্রথম কিবলা আল-আকসা মসজিদে ঈদের নামাজ হয়নি। আশপাশের সড়ক ও ফুটপাতে নামাজ পড়তে গেলেও স্টান গ্রেনেড এবং কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে তাঁদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় ইসরায়েলি বাহিনী।

১৯৬৭ সালের পর এই প্রথম ঈদুল ফিতরের দিন আল-আকসা মসজিদ বন্ধ রাখা হয়। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ মসজিদ চত্বরটি বন্ধ রাখায় ফিলিস্তিনিদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায়ের জন্য মুসল্লিরা বন্ধ করে দেওয়া ওই স্থাপনার যতটা সম্ভব কাছে জড়ো হন।

ইসরায়েলি নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে আল-আকসার খতিব ও জেরুজালেমের সাবেক গ্র্যান্ড মুফতি শেখ ইকরিমা সাবরি একটি ধর্মীয় নির্দেশনা জারি করেন। তিনি মুসলিমদের মসজিদের নিকটতম স্থানে ঈদের নামাজ আদায়ের আহ্বান জানান।

আজ শুক্রবার সকালে ইসরায়েলি পুলিশ জেরুজালেমের ওল্ড সিটির প্রবেশপথগুলোতে ব্যারিকেড দেওয়ায় শত শত মুসল্লি বাইরে নামাজ পড়তে বাধ্য হন। মুসল্লিদের একটি অংশ আল-আকসা মসজিদের দিকে যেতে চাইলে স্টান গ্রেনেড এবং কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে তাঁদের ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয়।

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল চলমান যুদ্ধের কারণে নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ দেখিয়ে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে আল-আকসা মসজিদের চত্বরটি কার্যত সিলগালা করে দেয় ইসরায়েল। এর ফলে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি ওল্ড সিটির ফটকের আশপাশে জড়ো হয়ে ঈদের নামাজ আদায় করেন।

ফিলিস্তিনিদের দাবি, এটি ইসরায়েলের একটি বৃহত্তর কৌশলের অংশ। তাদের মতে, নিরাপত্তা উত্তেজনাকে পুঁজি করে আল-আকসা মসজিদ চত্বরের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করতে চায় ইসরায়েল।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে জেরুজালেমের মুসল্লি ও ধর্মীয় নেতাদের গ্রেপ্তার ব্যাপক বেড়েছে। পাশাপাশি ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরাও বারবার এই চত্বরে অনুপ্রবেশ করেছে। পুলিশ নামাজের সময়সহ বিভিন্ন সময়ে মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে লোকজনকে আটক করেছে এবং ফিলিস্তিনিদের প্রবেশে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।

বিবর্ণ ঈদ আনন্দ

ঈদের আগের দিনগুলোতে জেরুজালেমের ওল্ড সিটি সাধারণত ফিলিস্তিনিদের ভিড়ে মুখর থাকে। কিন্তু ইসরায়েলি নিষেধাজ্ঞার কারণে এবার ঈদের দিনও এ শহর ছিল অনেকটা জনশূন্য। রাস্তাঘাট ছিল অস্বাভাবিক নিরিবিলি।

ফিলিস্তিনি দোকানদারদের বেশির ভাগ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খুলতে দেওয়া হয়নি। শুরু ফার্মেসি ও জরুরি খাদ্যের দোকানগুলো খোলার অনুমতি ছিল। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, এই পদক্ষেপের কারণে তাঁরা চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন।

আল-আকসা মসজিদ বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনায় বিশেষ করে পবিত্র রমজান মাসে মুসল্লিদের সেখানে যেতে না দেওয়ার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশন (ওআইসি), আরব লিগ এবং আফ্রিকান ইউনিয়ন কমিশন। এক যৌথ বিবৃতিতে সংস্থাগুলো জানায়, এই পদক্ষেপ দখলকৃত জেরুজালেম শহরের ইসলামি ও খ্রিষ্টান পবিত্র স্থানগুলোর বিদ্যমান ঐতিহাসিক ও আইনি স্থিতাবস্থার গুরুতর লঙ্ঘন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘দখলদার শক্তি হিসেবে এই অবৈধ ও উসকানিমূলক পদক্ষেপের ফলে উদ্ভূত পরিস্থিতির সব দায় ইসরায়েলকেই নিতে হবে।’ সংস্থাগুলো সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকলে তা সহিংসতা ও উত্তেজনা বাড়িয়ে দেবে এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তাকে বিঘ্নিত করবে।

গাজায় ধ্বংসস্তূপে শোক আর আনন্দ

অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় মানবিক সংকট আরও ঘনীভূত হচ্ছে। চলমান বড় পরিসরের যুদ্ধের ছায়ায় সেটি ঢাকা পড়েছে। গাজায় ইসরায়েলি হামলা আগের চেয়ে বিক্ষিপ্ত হলেও থামেনি। এর মধ্যেই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া শহরগুলোতে ঈদুল ফিতর উদ্‌যাপন করছেন লাখো মানুষ।

গাজায় এবারের ঈদ এক চরম বৈপরীত্যের রূপ নিয়েছে। শোক আর ক্ষণস্থায়ী আনন্দ, ক্ষুধা আর উদ্‌যাপন এবং বিলাপের সঙ্গে মিলেমিশে আছে প্রাত্যহিক জীবনের লড়াই। উত্তর গাজা থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে দেইর আল-বালাহতে আশ্রয় নেওয়া দুই সন্তানের জননী সাদিকা ওমর (৩২) বলেন, ‘ঈদের আনন্দ এবার অপূর্ণ। আমাদের কেউ ঘর হারিয়েছে, কেউ হারিয়েছে পরিবারের সদস্যকে। আমার স্বামী দূরে আছেন, সীমান্ত পারাপার বন্ধ থাকায় তিনি গাজায় ফিরতে পারছেন না। তবু আমরা যতটা সম্ভব ধর্মীয় শিক্ষা অনুসরণ করার চেষ্টা করছি।’

গাজায় এই নামমাত্র উদ্‌যাপনের আড়ালে রয়েছে হারানোর গল্প। মায়েরা সাম্প্রতিক হামলায় নিহত সন্তানদের জন্য শোক করছেন। আবার কেউ কেউ কোনো আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই নীরবে ঈদ পালন করছেন, যাঁদের সম্বল এখন কেবলই স্মৃতি।

https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla%2F2026-03-20%2Fhy944rbv%2FWhatsApp-Image-2026-03-20-at-3.20.54-PM.jpeg?rect=0%2C33%2C1600%2C1067&w=622&auto=format%2Ccompress&fmt=avif
পবিত্র আল–আকসা মসজিদের প্রাঙ্গণে ঈদের নামাজ আদায় করতে আসা মুসল্লিদের ওপর কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে ইসরায়েলি বাহিনী। ২০ মার্চ ২০২৬ ছবি: আল–জাজিরার ভিডিও থেকে নেওয়া স্ক্রিনশট

ইরান যুদ্ধ: যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়াই বিশ্বের এগিয়ে যাওয়ার সময় এসেছে by সি জাস্টিন রবিনসন

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে। জাতিসংঘের কোনো অনুমোদন তো দূরের কথা, কোনো পূর্বঘোষণাও ছিল না। ওই হামলায় ইরানকে লক্ষ্যবস্তু করা হয় এবং নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি।

তার মাত্র দুই মাস আগে ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্র আরেকটি চমকপ্রদ অভিযান চালায়। মার্কিন বিশেষ বাহিনী কারাকাসে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোর বাসভবনে অভিযান চালিয়ে তাঁকে অপহরণ করে। পরে তাঁকে নিউইয়র্কে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে ফেডারেল আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়েছে।

এ দুই ঘটনার মাঝখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আরও একাধিক নাটকীয় সিদ্ধান্ত নেন। তিনি জাতিসংঘের ৩১টি সংস্থাসহ মোট ৬৬টি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করেন। পাশাপাশি তিনি ‘বোর্ড অব পিস’ নামে একটি নতুন প্রতিষ্ঠান গঠন করেন, যার চেয়ারম্যান তিনি নিজেই। ট্রাম্প এমনও ইঙ্গিত দেন—এ প্রতিষ্ঠান ভবিষ্যতে জাতিসংঘের বিকল্প হয়ে উঠতে পারে।

সাম্প্রতিক এসব ঘটনা দেখিয়ে দিচ্ছে, ১৯৪৫ সালে যে বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তুলতে যুক্তরাষ্ট্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল, আজ তা আর তাদের স্বার্থ পূরণ করছে না।

প্রায় আট দশক ধরে এই আন্তর্জাতিক কাঠামো টিকিয়ে রাখতে যুক্তরাষ্ট্র বিপুল অর্থ, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ও সামরিক শক্তি ব্যয় করেছে। এই শক্তি কীভাবে ব্যবহার হয়েছে, তা নিয়ে সমালোচনা থাকতে পারে। কিন্তু সেই অঙ্গীকারের পরিসর ছিল বিস্ময়কর। আর গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এটি করতে যুক্তরাষ্ট্রকে কেউ বাধ্য করেনি। তারা নিজেই সেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।

কিন্তু ২০২৬ সালের বিশ্ব ১৯৪৫ সালের বিশ্বের মতো নেই। ইউরোপ পুনর্গঠিত হয়েছে। চীন একটি বড় শক্তি হয়ে উঠেছে। কানাডা, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং উপসাগরীয় অনেক দেশ এখন ধনী রাষ্ট্র। ব্রাজিল, ইন্দোনেশিয়া, নাইজেরিয়া, ভারত, ভিয়েতনামসহ আরও অনেক দেশ দ্রুত উত্থান ঘটাচ্ছে।

জলবায়ু পরিবর্তন, মহামারি, সন্ত্রাসবাদ নিয়ে আজকের বিশ্ব যে হুমকির মুখোমুখি, জাতিসংঘ সনদ রচনার সময় সেগুলোর অনেকটাই কল্পনার বাইরে ছিল। ফলে মার্কিন নাগরিকেরা যদি প্রশ্ন তোলেন—এমন এক ব্যবস্থার (যার জন্ম হয়েছিল এক ভিন্ন যুগে) জন্য কেন তাঁদের এখনো অসমানভাবে বড় দায়ভার বহন করতে হবে, তা অযৌক্তিক নয়।

তবে এখানেই মূল প্রশ্ন উঠে আসে—বাকি বিশ্ব কী করতে চায়? দীর্ঘদিন ধরে বহুপক্ষীয়তা যেন এমন একটি ব্যবস্থা ছিল, যা যুক্তরাষ্ট্র সরবরাহ করেছে আর অন্যরা ব্যবহার করেছে।

ইউরোপের অনেক দেশ মার্কিন নিরাপত্তা–ছাতার নিচে আশ্রয় নিয়েছে, আবার একই সঙ্গে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির সমালোচনাও করেছে। উন্নয়নশীল দেশগুলো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান সংস্কারের দাবি তুলেছে, কিন্তু অর্থের জন্য নির্ভর করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর। আর ক্যারিবীয় অঞ্চলের মতো ছোট দেশগুলো আন্তর্জাতিক আইনকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছে, কিন্তু তা কার্যকর করার ক্ষেত্রে অবদান রেখেছে সামান্যই।

যদি সত্যিই আমরা এই আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে মূল্য দিই, তবে এখন সেই মূল্য শুধু কথায় নয়, সম্পদ দিয়েও প্রমাণ করতে হবে।

এর একটি শক্তিশালী প্রথম পদক্ষেপ হতে পারে জাতিসংঘ সদর দপ্তর নিউইয়র্ক থেকে সরিয়ে নেওয়া। একটি দেশ যখন জাতিসংঘের এতগুলো সংস্থা থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে এবং বিকল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলছে, তখন কেন বিশ্ব সংস্থাটি সেই দেশের মধ্যেই থাকবে?

সদর দপ্তর স্থানান্তর করা হলে সেটি হবে একটি বাস্তবতার স্বীকৃতি। একই সঙ্গে এটি জানিয়ে দেবে—মার্কিন অংশগ্রহণ থাকুক বা না থাকুক, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বহুপক্ষীয় ব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখতে চায় এবং তার ব্যয়ভারও বহন করতে প্রস্তুত।

নতুন সদর দপ্তরের জন্য বিকল্পও কম নয়। নিরপেক্ষতার জন্য জেনেভা বা ভিয়েনা উপযুক্ত হতে পারে। আবার নাইরোবি বা রিও ডি জেনিরো হলে সংগঠনটি আরও স্পষ্টভাবে গ্লোবাল সাউথের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসবে।

একটি দ্বীপরাষ্ট্রও হতে পারে সম্ভাব্য স্থান—অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডা, বার্বাডোস, জ্যামাইকা কিংবা মরিশাস। এতে একটি বার্তাও যাবে। তা হলো—এটি এখন শক্তিধরদের নয়, বরং ঝুঁকিপূর্ণ ও দুর্বল দেশগুলোর প্রতিষ্ঠান।

বিশ্ব যখন যুদ্ধ বা অর্থনৈতিক উদ্ধার কর্মসূচির জন্য ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয় করতে পারে, তখন জাতিসংঘ সদর দপ্তর সরানোর খরচ জোগাড় করাও অসম্ভব নয়।

তবে আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো জাতিসংঘের অর্থায়নের নতুন কাঠামো। বর্তমানে জাতিসংঘের নিয়মিত বাজেটের প্রায় ২২ শতাংশই আসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে তাদের অবদান আরও বেশি। এই নির্ভরতা ওয়াশিংটনকে অতিরিক্ত প্রভাব দিয়েছে এবং সংস্থাটিকে প্রায়ই মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতির কাছে বন্দী করে তুলেছে।

যদি আমরা সত্যিই বহুপক্ষীয়তাকে গুরুত্ব দিই, তবে এই ঘাটতি পূরণ করতে হবে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, চীন, জাপান, উপসাগরীয় দেশগুলো এবং উদীয়মান অর্থনীতিগুলোকে তাদের স্বার্থের অনুপাতে অবদান রাখতে হবে।

বিস্তৃত অর্থায়ন কাঠামো শুধু জাতিসংঘকে টিকিয়ে রাখবে না, বরং বহুদিন ধরে প্রত্যাশিত বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থার গণতান্ত্রিকীকরণও সম্ভব করবে।

এই সংস্কারের জরুরি প্রয়োজন এখন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে চলমান সংকটগুলোর কারণে। ইরানের ওপর হামলা মধ্যপ্রাচ্যে বড় আঞ্চলিক সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি করেছে। এতে উপসাগরীয় দেশগুলো জড়িয়ে পড়তে পারে, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হতে পারে এবং দুর্বল অর্থনীতিগুলো মন্দার মুখে পড়তে পারে।

অন্যদিকে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টকে অপহরণের ঘটনা লাতিন আমেরিকাকে অস্থিতিশীল করেছে। এটি এমন এক দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে, যেখানে কোনো সার্বভৌম রাষ্ট্রপ্রধানই একতরফা শক্তি প্রয়োগের বাইরে নন।

এরই মধ্যে গাজা ও সুদানে যুদ্ধ চলছে। পূর্ব কঙ্গোতে সংঘাত থামছে না। আর বাস্তুচ্যুত মানুষের ঢল সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলো।

ভেটো কাঠামোর কারণে প্রতিটি ক্ষেত্রেই জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। কারণ, সেখানে শক্তিধরদের স্বার্থ দুর্বলদের প্রয়োজনকে চাপা দেয়।

যদি জাতিসংঘ নতুনভাবে সংগঠিত হয়, বিস্তৃত অর্থায়নে চলে এবং কোনো একক পৃষ্ঠপোষকের ওপর নির্ভরশীল না থাকে, তাহলে হয়তো এসব সংকটের রাতারাতি সমাধান হবে না। কিন্তু অন্তত সংস্থাটি বেশি বৈধতা নিয়ে কাজ করতে পারবে এবং দ্বিচারিতা কমবে।

তখন হয়তো কোনো সদস্যের ভূরাজনৈতিক স্বার্থের বাধা ছাড়াই মানবিক করিডর অনুমোদন করা সম্ভব হবে। জ্বালানির মূল্য স্থিতিশীলতা নিয়ে জরুরি বৈঠক ডাকা যাবে। যুদ্ধের অভিঘাতে বিপর্যস্ত অর্থনীতির দেশগুলোর জন্য ঋণমুক্তির সমন্বয় করা যাবে। এমনকি শান্তিরক্ষা মিশনও আর কোনো এক দেশের বাজেট রাজনীতির ওপর নির্ভর করবে না।

বাস্তবতা হলো, সংস্কার করা একটি জাতিসংঘ নিখুঁত হবে না। কিন্তু বর্তমান কাঠামো এতটাই সীমাবদ্ধ যে জরুরি বৈশ্বিক সংকটে কার্যকর প্রতিক্রিয়া দেওয়া তার পক্ষে প্রায় অসম্ভব।

প্রতিটি মাসের নিষ্ক্রিয়তা জাতিসংঘের প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবতার ফারাক আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। আর এতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার ওপর আস্থাও কমে যাচ্ছে।

জলবায়ু ব্যবস্থাপনাতেও দ্রুত পদক্ষেপ জরুরি। জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সরে যাওয়ার ফলে গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড, অ্যাডাপ্টেশন ফান্ড এবং লস অ্যান্ড ড্যামেজ ব্যবস্থাগুলো হুমকির মুখে পড়েছে।

ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্র ও জলবায়ুঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর জন্য এগুলো কোনো তাত্ত্বিক বিষয় নয়; এগুলো তাদের অস্তিত্বের প্রশ্ন।

মার্কিন অংশগ্রহণ ছাড়াই জলবায়ু অর্থায়নের ব্যবস্থা গড়ে তোলার সময় খুব বেশি নেই, তবে সুযোগ এখনো রয়েছে। ইউরোপকে তার জলবায়ু নেতৃত্ব বাস্তব অর্থায়নের মাধ্যমে প্রমাণ করতে হবে। আর বিশ্বের বৃহত্তম নির্গমনকারী চীন চাইলে নৈতিক নেতৃত্ব দাবি করার জন্য বড় অবদান রাখতে পারে।

ক্যারিবীয় অঞ্চলের জন্য এই পরিবর্তন একদিকে বিনয় দাবি করে, অন্যদিকে উচ্চাকাঙ্ক্ষাও। বিনয়—কারণ, এত দিন আমরা এমন কাঠামোর ওপর নির্ভর করেছি, যার অর্থায়নে আমাদের অবদান ছিল সামান্য। আর উচ্চাকাঙ্ক্ষা—কারণ, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে আমাদের রয়েছে ১৪টি ভোট, জলবায়ু সংকটের সম্মুখসারির অভিজ্ঞতা এবং নিজের ওজনের চেয়ে বেশি প্রভাব বিস্তারের ঐতিহ্য।

ক্যারিবীয় কমিউনিটি বা ক্যারিকম চাইলে সদর দপ্তর স্থানান্তর ও অর্থায়ন সংস্কার নিয়ে একটি প্রস্তাব উত্থাপন করতে পারে। সমমনা রাষ্ট্রগুলোকে একত্র করতে পারে। এমনকি বৈশ্বিক ব্যবস্থা ব্যর্থ হলে আঞ্চলিক স্তম্ভ হিসেবে ক্যারিবীয় কোর্ট অব জাস্টিসকে শক্তিশালী করতে পারে।

ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্র, আফ্রিকা এবং উন্নয়নশীল বিশ্বের অন্যান্য জোট যদি একসঙ্গে কাজ করে, তবে বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থাকে নতুনভাবে গড়ে তোলার মতো সংখ্যাগত শক্তি তাদের আছে।

সবকিছুর পরও যুক্তরাষ্ট্র এখনো বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতি। তার সামরিক শক্তি সবচেয়ে বেশি। বৈশ্বিক অগ্রগতির পেছনে থাকা বহু প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয়, করপোরেশন ও নাগরিক সংগঠনের আবাসও সেই দেশ।

বহুপক্ষীয়তায় বিশ্বাসী মার্কিন নাগরিকের সংখ্যাও কম নয়। ফলে যুক্তরাষ্ট্র যদি আবার এই ব্যবস্থায় ফিরে আসতে চায়, সেই দরজা সব সময় খোলা থাকা উচিত।

কিন্তু বিশ্বের বাকি অংশ অনির্দিষ্টকাল অপেক্ষা করতে পারে না—মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতি কবে স্থিতিশীল হবে তার জন্য।

আমাদের এমন প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে হবে, যা যুক্তরাষ্ট্র থাকুক বা না থাকুক—কার্যকরভাবে কাজ করতে পারবে।

১৯৪৫ সালে যুদ্ধবিধ্বস্ত পৃথিবীর সামনে দাঁড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্র একটি উদার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল—পিছু হটার বদলে একটি আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলেছিল। সেই সিদ্ধান্তই আমাদের পাওয়া পৃথিবীকে গড়ে দিয়েছে।

২০২৬ সালে একটি ভিন্ন যুক্তরাষ্ট্র ভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই বাস্তবতাকে ক্ষোভ নয়, ঠান্ডা মাথায় মেনে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

সি জাস্টিন রবিনসন অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডার ইউনিভার্সিটি অব দ্য ওয়েস্ট ইন্ডিজের ফাইভ আইল্যান্ডস ক্যাম্পাসের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর ও ক্যাম্পাস প্রিন্সিপাল।

- আল–জাজিরা থেকে নেওয়া
- অনুবাদ: সারফুদ্দিন আহমেদ

ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু
ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি : এএফপি

কলকাতার মুসলিম এলাকায় জমজমাট ইফতারির বাজার by অমর সাহা

পবিত্র রমজান মাস চলছে। রোজা ঘিরে এখন কলকাতায় বিশেষ করে মুসলিম এলাকায় ইফতারির বাজার জমে উঠেছে। ঐতিহ্যবাহী নানা বাহারি খাবার আর ফলমূল থাকছে কলকাতার ইফতারির বাজারে।

কলকাতার মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় বরাবরই ইফতারির বাজার জমজমাট থাকে। তবে দুই বছর ধরে দুই দেশের মধ্যে ভিসা ইস্যু এক রকম বন্ধ থাকায় বাংলাদেশ থেকে কলকাতায় পর্যটক আসা একদম কমে গেছে। এতে কলকাতা ইফতারির বাজারে কিছুটা ভাটার টান চলছে।

অবশ্য কলকাতার মুসলিম এলাকার ব্যবসায়ীরা আশায় আছেন, এই পরিস্থিতির উন্নতি হবে। পার্ক সার্কাস এলাকার ইফতারির দোকানদার আফতাব আহমেদ বলেছেন, এটা সাময়িক। বাংলাদেশি পর্যটকদের আসা শুরু হলে আবার ভিড় জমবে কলকাতার ইফতারির বাজারে।

এখন মেডিক্যাল ভিসায় আসা হাতেগোনা কিছু পর্যটকের দেখা মিলছে। গতকাল শুক্রবার বিকেলে নিউমার্কেটে এক বাংলাদেশি পর্যটক আশা প্রকাশ করে বলছিলেন, ভিসা সমস্যা অচিরেই কেটে যাবে। আবার চলবে দুই দেশের মধ্যে ট্রেন ও বাস পরিষেবা। ফিরে আসবে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের সুদিন।

তবে কলকাতার বাংলাদেশি ক্রেতাদের পছন্দের জায়গা হিসেবে পরিচিত এলাকাগুলো এখন অনেকটাই ফাঁকা। প্রতিবছরই বহু বাংলাদেশি ঈদের কেনাকাটা করতে কলকাতায় আসেন। থাকেন কলকাতার বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে। কলকাতার ইফতারির বাজার থেকে নানা ইফতারি কেনেন। অনেকে বিভিন্ন হোটেলে গিয়ে ইফতার করেন। বাংলাদেশি পর্যটক না থাকায় ওইসব এলাকায় ইফতারির বাজারের জৌলুশ অনেকটা কমে গেছে।

কলকাতার নিউমার্কেট, সদর স্ট্রিট, মার্কুইস স্ট্রিট, কলিন স্ট্রিট, এসএন ব্যানার্জি রোড, রফি আহমেদ কিদোয়াই রোড, বড়বাজার—এসব এলাকায় পবিত্র রমজানে ইফতারির বাজার জমজমাট থাকে। এবারও ব্যতিক্রম নয়। নিউমার্কেট, জাকারিয়া স্ট্রিটের নাখোদা মসজিদ–সংলগ্ন ইফতারির বাজার, ধর্মতলার টিপু সুলতান মসজিদ–সংলগ্ন ইফতারির বাজার আর জাকারিয়া স্ট্রিট, পার্ক সার্কাসের ইফতারির বাজার বেশ জমজমাট। গ্রাহকেরা কিনে নিচ্ছেন হরেক রকম ইফতারি।

ইফতারির বাজারে ব্যবসায়ীরা ফলমূল থেকে মাংসের নানা পদ, পেঁয়াজু, জিলাপিসহ নানা ঐতিহ্যবাহী খাবারের পসরা সাজিয়েছেন। এখানে মিলছে ইফতারির নানা ঐতিহ্যবাহী খাবার। বাড়িতে রান্নার ঝামেলা না করে অনেকেই কিনে নিচ্ছেন বাজার থেকে ইফতারির নানা পদ।

সবকিছুর পরও বাংলাদেশি পর্যটকদের নিয়ে আফসোসটা রয়েই যাচ্ছে কলকাতার ব্যবসায়ীদের। ধর্মতলার টিপু সুলতান মসজিদ–সংলগ্ন ইফতারির বাজারের ব্যবসায়ী মুক্তার খান বলছিলেন, ‘এখন বাংলাদেশে নতুন সরকার গঠন হয়েছে। আমরা আশা করি, এই সরকারের আমলে ফের কলকাতার সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আবার পূর্বাবস্থায় ফিরে আসবে। ইফতারির বাজার জমজমাট হবে।’

নিউমার্কেটের ফুটপাতের ব্যবসায়ী আজাদ বলেছেন, ‘আমরা নতুন করে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে ওঠার স্বপ্ন দেখছি। মনে করছি, আবার জমজমাট হবে কলকাতার ঈদ ও ইফতারির বাজার।’

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় ইফতারির পসরা সাজিয়ে বসেছেন ব্যবসায়ীরা। ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, জাকারিয়া স্ট্রিট
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় ইফতারির পসরা সাজিয়ে বসেছেন ব্যবসায়ীরা। ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, জাকারিয়া স্ট্রিট। ছবি: ভাস্কর মুখার্জি

ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রে কাঁপল ইসরায়েলের তিন শহর, আহত ২০০

ইসরায়েলের আরাদ, দিমোনা ও তেল আবিব শহরে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় প্রায় ২০০ জন আহত হয়েছেন। তাঁদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজন বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এ ছাড়া লেবানন সীমান্তে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর হামলায় এক ইসরায়েলি নিহত হয়েছেন।

ইসরায়েলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ৪ হাজার ২৯২ জন আহত ব্যক্তিকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে আনা হয়েছে। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় আনা হয় ৩০৩ জনকে। ইরানের হামলায় এখন পর্যন্ত ১৬ ইসরায়েলি নিহত হয়েছেন।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আরাদ শহরে গতকাল শনিবারের হামলায় আহত হয়েছেন কমপক্ষে ১১৬ জন। তাঁদের মধ্যে ১০ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় শহরটির কেন্দ্রস্থলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।

অন্যদিকে গতকাল কাছাকাছি সময়ে দিমোনা শহরে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আহত হয়েছেন আরও ৬৪ জন। ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে বেশ কয়েকটি আবাসিক ভবন ধ্বংস হয়ে যায়। স্প্লিন্টারের আঘাতে আহত ব্যক্তিদের শরীরে জখম হয়েছে। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর এক মুখপাত্র জানান, হামলার সময় আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছিল। তবে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ‘বিশেষ বা অপরিচিত’ কোনো ঘরানার না হওয়া সত্ত্বেও কিছু ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে ব্যর্থ হয়েছে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা।

ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা জানিয়েছেন, দিমোনা ও আরাদ—উভয় শহরেই ইন্টারসেপ্টর বা ক্ষেপণাস্ত্র–বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিল, কিন্তু সেগুলো লক্ষ্যভেদে ব্যর্থ হয়। এর ফলে কয়েক শ কেজি ওজনের ওয়ারহেডসহ দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি আঘাত হানে।’

ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর দিমোনা দেশটির পারমাণবিক স্থাপনা থেকে মাত্র ১৩ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। ইরান জানিয়েছে, দেশটির নাতাঞ্জ পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার জবাবে দিমোনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, হামলার পর তিনি আরাদ শহরের মেয়রের সঙ্গে কথা বলেছেন। নেতানিয়াহু এ ঘটনাকে শহরটির জন্য ‘অত্যন্ত কঠিন এক সন্ধ্যা’ বলে বর্ণনা করেছেন।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আজ রোববার ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তেল আবিবে একজন মারাত্মক আহত হয়েছেন। আয়ালোন হাইওয়ে ও পার্শ্ববর্তী রামাত গান শহরসহ ছয়টি স্থানে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে আরও ১০ জন আহত হয়েছেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মধ্য ইসরায়েলের পেতাহ তিকভা শহরেও একটি ভবন ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে সেখানে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

উত্তরাঞ্চলে হামলায় নিহত ১

এদিকে ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্তে লেবানন থেকে ছোড়া রকেট হামলায় আজ একজন নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলের জরুরি উদ্ধারকারী সংস্থার বরাতে বার্তা সংস্থা এএফপি এ তথ্য জানিয়েছে।

কয়েকটি গাড়িতে রকেটটি আঘাত হানে। পরে একটি গাড়ির আরোহীকে মৃত ঘোষণা করা হয়। স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, রকেটের ‘সরাসরি আঘাতে’ দুটি গাড়ি দাউ দাউ করে জ্বলতে দেখা গেছে।

তবে হারেৎজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওফের মস্কোভিৎজ নামের ওই ব্যক্তি লেবানন থেকে ছোড়া ট্যাংক–বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে নিহত হয়েছেন। তিনি একটি কৃষিখামারের ব্যবস্থাপক ছিলেন।

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে বিধ্বংস্ত ভবনে তল্লাশি ও উদ্ধারকাজে ইসরায়েলি সেনারা। দিমোনা; ২১ মার্চ ২০২৬
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে বিধ্বংস্ত ভবনে তল্লাশি ও উদ্ধারকাজে ইসরায়েলি সেনারা। দিমোনা; ২১ মার্চ ২০২৬ ছবি: রয়টার্স


ইরানকে দ্রুত হারানোর কৌশল কাজ করেনি, এখন ‘প্ল্যান বি’তে যেতে হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলকে by পল রজার্স

প্রকাশ ১২ মার্চ ২০২৬ঃ ইরানের যুদ্ধ নিয়ে যত খবর হচ্ছে, তা দেখে মনে হবে এখানে খেলছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। আসলে তা নয়। এখানে মূল খেলোয়াড় বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি ইসরায়েলের তুলনায় অনেক বেশি হলেও এই সংঘাতে খেলছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীই।

এখন বলা যায়, নেতানিয়াহু নিজের তৈরি এক ফাঁদে নিজেই পড়েছেন, আর সেই ফাঁদে তিনি ট্রাম্প এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীকেও টেনে এনেছেন। ইসরায়েলের জন্য কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য, এই যুদ্ধের শেষ হতে হবে পূর্ণ বিজয়ের মাধ্যমে। এর কম কিছু হলে তা অর্থহীন হয়ে পড়বে।

যদি যুদ্ধ এমন অবস্থায় শেষ হয় যে বড় ক্ষতি কিংবা ব্যাপক প্রাণহানির পরও ইরানের শাসনব্যবস্থা টিকে থাকে, সেটাও ইসরায়েলের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না। তখন ইরানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হয়ে দাঁড়াবে তাদের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ব্যবহার করে দ্রুত একটি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি ও পরীক্ষা করা, যাতে ভবিষ্যতে আর কেউ তাদের ওপর হামলা করার সাহস না পায়।

এটি অসম্ভব করে তুলতে হলে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের ওপর এমন পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে হবে, যাতে তারা রাষ্ট্রের প্রতিটি অংশে প্রবেশাধিকার পায়। মাটির গভীরে থাকা বাংকার এবং গত জুনের হামলার পরও টিকে থাকা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রেও। এখন আরও বিমান হামলায় তা সম্ভবপর হবে না, এমনকি যুক্তরাজ্যের ঘাঁটি থেকে উড়ে আসা বি-২ স্টিলথ বোমারু বিমান ওড়ালেও।

এদিকে একদিকে বলা হচ্ছে যুদ্ধ প্রায় জিতে গেছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী অঞ্চলটিতে তৃতীয় একটি বিমানবাহী নৌবহর মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

এ যুদ্ধ শুরু থেকেই পরিকল্পনামাফিক এগোয়নি। পরিকল্পনা ছিল ইরানের সর্বোচ্চ নেতা এবং ধর্মীয় ও ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর যত বেশি সম্ভব শীর্ষ নেতাকে হত্যা করা, যাতে ইরানে ক্ষমতাসীনেরা দুর্বল হয়ে পড়েন এবং তাঁদের ইসলামি শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। কিন্তু এই পরিকল্পনা সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়েছে, যেমনটি আগে থেকেই এক মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়নে বলা হয়েছিল।

ইরানি শাসনব্যবস্থার নতুন নেতা মজুত রয়েছে এবং সম্ভবত মোজতবা খামেনি যদি নিহতও হন, সে ক্ষেত্রেও দায়িত্ব নেওয়ার জন্য এক বা একাধিক নেতা আগে থেকেই তৈরি আছে।

এখন তাই যুদ্ধের কৌশল এখন ‘প্ল্যান বি’-তে পৌঁছেছে, যার দুটি উপাদান আছে। এর মধ্যে অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো কুর্দি বা বালুচদের মতো সংখ্যালঘু গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে কাজ করে তাদের বিদ্রোহে উৎসাহ দেওয়া, যাতে ইরান ভেঙে পড়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়।

এতে কিছু প্রভাব পড়তে পারে, কিন্তু উদাহরণ হিসেবে কুর্দিরা ইসরায়েলের ওপর সহজে আস্থা রাখবে না। আর ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর তো আরও কম।

দ্বিতীয় উপাদানটি অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এটি ইসরায়েলের ঐতিহ্যগত সামরিক কৌশলের সঙ্গে সম্পর্কিত, তা হলো শত্রুর নিজ দেশে সমর্থনে চিড় ধরানো।

এটাই ‘দাহিয়া নীতি’। এই নীতি অনুযায়ী যদি কোনো বিদ্রোহ দমন করা না যায় বা কোনো রাষ্ট্রের নেতৃত্বকে বশে আনা সম্ভব না হয়, তাহলে বিজয়ের পথ হলো বেসামরিক জনগণের ওপর অবিরাম কঠোর আঘাত হানা।

এই নীতি বর্তমানে লেবাননে প্রয়োগ করা হচ্ছে। সেখানে দক্ষিণ বৈরুতের দাহিয়া উপশহরে হিজবুল্লাহর শক্ত ঘাঁটি ধ্বংস করার অভিযান শুরু হয়েছে। ২০০৬ সালের হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধের সময় থেকেই এই এলাকার নাম থেকেই নীতিটির নামকরণ হয়েছিল।

সমালোচকেরা বলেন, গত ৩০ মাসে গাজায় হামাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধেও এই নীতি ব্যাপকভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে। এতে অন্তত ৭০ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে, আরও অনেক বেশি মানুষ আহত হয়েছে এবং গাজার বেশির ভাগ এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। তবু হামাস এখনো টিকে আছে এবং গাজার কিছু অংশ এখনো তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

এই বাস্তবতা সত্ত্বেও এখন ইসরায়েলি প্রতিরক্ষাবাহিনী এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনী ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে একই নীতি প্রয়োগ করছে। অবকাঠামোর ওপর হামলার ক্রমবর্ধমান প্রমাণ এরই মধ্যে দৃশ্যমান।

মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সতর্ক করে বলেছেন, এটি হবে ‘ইরানের ভেতরে আমাদের সবচেয়ে তীব্র হামলার দিন’ এবং ‘অপারেশন এপিক ফিউরির দশম দিনে ইরান একা হয়ে গেছে এবং তারা মারাত্মকভাবে হারছে।’

সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েলের সামরিক কৌশলের অভিজ্ঞতা এবং ট্রাম্প ও হেগসেথের অধীনে যুক্তরাষ্ট্রের আরও আক্রমণাত্মক অবস্থান, এই দুইয়ের সমন্বয়ে আমরা সম্ভবত ইরানজুড়ে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ দেখতে পাব।

এটি একটি বিশাল কাজ এবং প্রায় ৯ কোটি ৩০ লাখ মানুষের দেশে এর বড় প্রভাব ফেলতে কয়েক মাস সময় লাগবে, যা গাজার জনসংখ্যার তুলনায় ৪০ গুণের বেশি।

তা ছাড়া এই কৌশল কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনাও খুব কম।

এর একটি অবশ্যম্ভাবী ফল হতে পারে, ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর পশ্চিম উপসাগরীয় দেশগুলো যেমন সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত ও সৌদি আরবের তেল ও গ্যাস শিল্পে হামলা বাড়িয়ে দেওয়া।

এতে বিশ্ব অর্থনীতিতে এমন ধাক্কা লাগতে পারে, যার তুলনা হতে পারে ১৯৭৩–৭৪ সালের ওপেক তেল নিষেধাজ্ঞার সময়কার ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের সঙ্গে।

তবে এখনো সামান্য আশা আছে যে কিছুটা বুদ্ধি ও সংযম কাজ করতে পারে। ট্রাম্প যে দাবি করছেন যুদ্ধ প্রায় জিতে গেছেন। তা হয়তো কেবল তাঁর কল্পনা। তবে এমন কিছু ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে ইসরায়েলের ভেতরে কেউ কেউ দ্বিতীয়বার ভাবতে শুরু করেছেন এবং এই যুদ্ধ থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজছেন। ওয়াশিংটনেও এমন ভিন্নমত হয়তো ধীরে ধীরে জায়গা করে নিচ্ছে।

এটি হয়তো খুবই সতর্ক আশাবাদ। তবু তা বর্তমান পরিস্থিতির চেয়ে ভালো, যেখানে সামনে রয়েছে এই ভয়াবহ ও ক্রমবর্ধমান যুদ্ধের আরও বহু সপ্তাহ ও মাস।

* পল রজার্স, প্রফেসর ইমিরেটাস, শান্তি অধ্যয়ন বিভাগ, ব্র্যাডফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়

তেহরানে একটি শোভাযাত্রায় ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির ছবি তুলে ধরেছেন সমর্থকেরা।  ৯ মার্চ ২০২৬
তেহরানে একটি শোভাযাত্রায় ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির ছবি তুলে ধরেছেন সমর্থকেরা।  ৯ মার্চ ২০২৬ ছবি: এএফপি

দিনে যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা নাকচ করে রাতেই কেন যুদ্ধ বন্ধের ইঙ্গিত ট্রাম্পের

ইরানের বিরুদ্ধে অব্যাহত হুমকির পর কিছুটা সুর নরম করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক অভিযান ‘গুটিয়ে নেওয়ার’ বিষয়টি বিবেচনা করছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে এমন সময়ে তিনি এ কথা বললেন, যখন মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত মার্কিন সেনা পাঠানো হচ্ছে। পাশাপাশি ইরানের সঙ্গে কোনো ধরনের যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

এদিকে যুদ্ধের চতুর্থ সপ্তাহে এসেও ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অবস্থানে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা অব্যাহত রেখেছে ইরান। ইসরায়েলের বেনগুরিয়েন বিমানবন্দরে জ্বালানি ট্যাংকার ও রিফুয়েলিং উড়োজাহাজে ড্রোন হামলার দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে মধ্য ইসরায়েলেও। এ ছাড়া ইরানের আকাশসীমায় ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানকে বিমানবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে নিশানা করা হয়েছিল বলে স্বীকার করেছে তেল আবিব।

চলমান যুদ্ধ বন্ধের সম্ভাবনা নিয়ে বারবার মিশ্র বার্তা দিয়ে আসছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর আগে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১২০ ডলারের কাছাকাছি গেলে দ্রুত যুদ্ধ বন্ধের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন তিনি। যদিও পরে সেই অবস্থান থেকে সরে এসে ‘সব লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত’ যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেন ট্রাম্প। সম্প্রতি ইরানের সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে হামলা হলে উপসাগরীয় অঞ্চলের বেশ কয়েকটি জ্বালানি স্থাপনায় পাল্টা হামলায় চালায় ইরান। এতে আবার প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ১১৫ ডলারের কাছে গিয়ে ঠেকে।

এ অবস্থায় ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি নিয়ে স্থানীয় সময় শুক্রবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘আমি কোনো যুদ্ধবিরতি করতে চাই না। যখন আপনি আক্ষরিক অর্থেই প্রতিপক্ষকে নিশ্চিহ্ন করে দিচ্ছেন, তখন আপনি যুদ্ধবিরতি চাইবেন না।’

কিন্তু গভীর রাতে নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লেখেন, ‘আমরা আমাদের লক্ষ্য পূরণের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছি। ইরানের সন্ত্রাসী শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যে আমাদের মহান সামরিক চেষ্টা গুটিয়ে নেওয়ার কথা আমরা বিবেচনা করছি।’

এমন এক সময়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এ মন্তব্য করলেন, যখন ওই অঞ্চলে স্থল অভিযানে পারদর্শী আরও তিনটি মার্কিন উভচর জাহাজ এবং প্রায় আড়াই হাজার মেরিন সেনা পাঠানোর খবর পাওয়া যাচ্ছে। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইরানের খারগ দ্বীপ দখল বা অবরোধ করার বিষয়টিও বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। এর উদ্দেশ্য হলো তেহরানকে হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দিতে বাধ্য করা।

এদিকে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি সপ্তাহে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল হামলার তীব্রতা ‘উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে’ বলে জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ। সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মূল্যায়ন সভায় তিনি বলেন, ইসরায়েল রাষ্ট্র এবং এই অঞ্চলে মার্কিন স্বার্থের ওপর থেকে প্রতিটি নিরাপত্তা হুমকি দূর না হওয়া পর্যন্ত ‘ইরানি সন্ত্রাসী শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আক্রমণ চালিয়ে যেতে, কমান্ডারদের নির্মূল করতে এবং তাদের কৌশলগত সক্ষমতা নস্যাৎ করতে ইসরায়েল দৃঢ়প্রতিজ্ঞ’। তিনি বলেন, ‘যুদ্ধের সব লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত আমরা থামব না।’

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এমন হুমকির মধ্যেই ইরানের নাতাঞ্জ পারমাণবিক স্থাপনায় দ্বিতীয়বারের মতো হামলার খবর পাওয়া গেছে। বিষয়টি আন্তর্জাতিক আণবিক সংস্থাকে (আইএইএ) জানিয়েছে ইরান। এ ছাড়া পারস্য উপসাগরে বেসামরিক কার্গো জাহাজ এবং ব্যক্তিমালিকানাধীন জাহাজে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তেহরান। আধা সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম হরমোজগান প্রদেশের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলেছে, এ হামলায় ১৬টি ব্যক্তিমালিকানাধীন কার্গো জাহাজ ধ্বংস হয়ে যায়। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ইরানের আট হাজার লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে। এর মধ্যে ১৩০টি যুদ্ধজাহাজকে নিশানা করা হয়েছে।

এদিকে এসব হামলার পাল্টা জবাব দিচ্ছে ইরান। এই প্রথম ভারত মহাসাগরে ডিয়েগো গার্সিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের একটি যৌথ সামরিক ঘাঁটি নিশানা করে দুটি মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে দেশটি। ইরান থেকে এই দ্বীপের দূরত্ব প্রায় চার হাজার কিলোমিটার। অথচ ইরান এত দিন দাবি করে আসছে, তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সর্বোচ্চ পাল্লা দুই হাজার কিলোমিটার।

ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েত। হামলার আশঙ্কায় বাহরাইনে সাইরেনের শব্দ শোনা গেছে। কয়েক ডজন ড্রোন প্রতিহত করার কথা জানিয়েছে সৌদি আরবও। ইরাকে মার্কিন ঘাঁটির লজিস্টিক সাপোর্ট কেন্দ্রে ড্রোন হামলা হয়েছে। এ ছাড়া ইরান-সমর্থিত লেবাননের হিজবুল্লাহ সশস্ত্র গোষ্ঠীর রকেট হামলায় ইসরায়েলে দুটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

অব্যাহত হামলা এবং যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের নতুন চিন্তাভাবনার মধ্যেই নিজেদের অবস্থান জানিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জাপানের কিয়োডো নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘আমাদের বার্তা হলো, এই যুদ্ধ আমাদের নয়। এটি আমাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের অবস্থান হলো, আমরা কোনো সাময়িক যুদ্ধবিরতি গ্রহণ করব না। কারণ, আমরা গত বছরের পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি চাই না। যুদ্ধ অবশ্যই সম্পূর্ণ ও স্থায়ীভাবে বন্ধ হতে হবে। এই পরিস্থিতির আর পুনরাবৃত্তি হবে না বলে গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তা থাকতে হবে।’

ইরানের পাশে আছে রাশিয়া: পুতিন

এদিকে ইরানের নেতাদের নওরোজ বা ফারসি নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে দেওয়া এক বার্তায় শনিবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, একনিষ্ঠ বন্ধু ও নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে তেহরানের পাশে রয়েছে মস্কো। ক্রেমলিনের ভাষ্যমতে, ভ্লাদিমির পুতিন ইরানের জনগণকে এই কঠোর পরীক্ষা সসম্মানে কাটিয়ে ওঠার শুভকামনা জানিয়েছেন।

ক্রেমলিন জানায়, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলা পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে এক গভীর অতল গহ্বরে ঠেলে দিয়েছে এবং একটি বড় ধরনের বৈশ্বিক জ্বালানিসংকট তৈরি করেছে। পুতিন একই সঙ্গে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির হত্যাকাণ্ডকে ‘নৃশংস’ বলে নিন্দা জানিয়েছেন।

রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে একটি কৌশলগত অংশীদারত্বের চুক্তি রয়েছে। তবে এর প্রকাশিত নথিপত্রে কোনো ‘পারস্পরিক প্রতিরক্ষা ধারা’ নেই। এ ছাড়া রাশিয়া বারবার বলে আসছে, পারমাণবিক বোমা তৈরি করুক, তা চায় না ইরান।

ইরানি তেলে নিষেধাজ্ঞা শিথিল

জ্বালানি তেলের দামে ক্রমবর্ধমান ঊর্ধ্বগতির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট শুক্রবার জানান, ট্রাম্প প্রশাসন সমুদ্রে থাকা ইরানি তেল কেনার ওপর ৩০ দিনের জন্য নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে। এ ঘোষণার পর ভারতসহ এশিয়ার অন্য দেশগুলো আবারও ইরানি তেল কেনার পরিকল্পনা করছে। ব্যবসায়ীরা এ তথ্য জানিয়েছেন।

ভারতের তিনটি রিফাইনারি (তেল শোধনাগার) সূত্র জানিয়েছে, তারা ইরানি তেল কিনতে প্রস্তুত এবং এ বিষয়ে সরকারের নির্দেশনা ও পেমেন্ট পদ্ধতির মতো বিষয় নিয়ে ওয়াশিংটনের কাছ থেকে স্পষ্ট বার্তার অপেক্ষায় রয়েছে। শনিবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

জ্বালানি বাজার বিশ্লেষক সংস্থা কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সমুদ্রের বিভিন্ন প্রান্তে জাহাজে প্রায় ১৭ কোটি ব্যারেল ইরানি তেল রয়েছে। অন্যদিকে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এনার্জি আসপেক্টস ১৯ মার্চ এই তেলের পরিমাণ ১৩-১৪ কোটি ব্যারেল বলে প্রাক্কলন করেছিল।

মূলত হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ব্যর্থ হয়ে ইরানি তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিলসহ বিভিন্ন বিকল্প দেখছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এর মধ্যে স্থল অভিযান চালিয়ে ওই এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার বিষয়টিও তাঁর বিবেচনায় রয়েছে। তবে এখনো সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছেন তিনি। এ নিয়ে নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির মধ্যেই বিরোধিতা রয়েছে।

মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক নেভি সিল কর্মকর্তা ও উইসকনসিন থেকে নির্বাচিত প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকান সদস্য ডেরিক ভ্যান ওরডেন সিএনএনকে বলেন, তিনি প্রশাসনকে বিশেষভাবে ইরানে স্থলসেনা না পাঠানোর পরামর্শ দিয়েছেন।

টেনেসি থেকে নির্বাচিত টিম বারচেটও একই সুরে বলেন, ‘আমি মনে করি, আমাদের যত দ্রুত সম্ভব সরে আসার কৌশল (এক্সিট স্ট্র্যাটেজি) খুঁজে বের করা দরকার। আমি কোনোভাবেই সেখানে মার্কিন স্থলসেনা মোতায়েন চাই না।’

https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla%2F2026-03-20%2Flp6xdx0d%2FUS-Navy.jpg?w=622&auto=format%2Ccompress&fmt=avif
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সামরিক অভিযানে বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের ডেকে একটি এফ/এ-১৮ই সুপার হর্নেট যুদ্ধবিমানকে নির্দেশনা দিচ্ছেন মার্কিন নৌ সেনা। অজ্ঞাত স্থানে, ৪ মার্চ ২০২৬ ছবি: রয়টার্স

৪০০০ কিমি দূরের মার্কিন ঘাঁটি নিশানা করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ

ভারত মহাসাগরের দিয়েগো গার্সিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের একটি যৌথ সামরিক ঘাঁটি নিশানা করে দুটি মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান। এ ঘটনা চলমান যুদ্ধে উত্তেজনা বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশটির ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা এবং কৌশলগত ভূরাজনৈতিক প্রভাব সামনে এনেছে।

একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, একটি ক্ষেপণাস্ত্র মাঝপথে ভেঙে পড়ে। অন্য ক্ষেপণাস্ত্রটি ভূপাতিত করা হয়। এরপরও ইরানের এই হামলার প্রচেষ্টা ঝুঁকির মানচিত্র বদলে দিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

দিয়েগো গার্সিয়া যুক্তরাজ্যের নিয়ন্ত্রণাধীন একটি প্রবাল দ্বীপ। ইরান থেকে এই দ্বীপের দূরত্ব প্রায় চার হাজার কিলোমিটার। অথচ ইরান এত দিন দাবি করে আসছে, তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সর্বোচ্চ পাল্লা দুই হাজার কিলোমিটার। যদি ইরান সত্যিই তাদের ঘোষিত সীমার দ্বিগুণ দূরত্বে হামলার চেষ্টা করে থাকে, তাহলে এর মানে হলো দেশটির এমন কিছু অপ্রকাশিত সক্ষমতা রয়েছে, যা বিশ্ব এখনো জানে না।

ইরান সম্ভবত এমন একটি পরীক্ষা চালিয়েছে, যা মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের (আইআরবিএম) কাছাকাছি। এই ক্ষেপণাস্ত্র ভারত মহাসাগরের গভীরে, এমনকি দক্ষিণ ইউরোপ পর্যন্ত পৌঁছাতে সক্ষম। তেহরান নিজেদের হামলা চালানোর প্রকৃত সক্ষমতা সম্পর্কে শত্রুদের ধোঁয়াশায় রেখে বাড়তি সুবিধা পাচ্ছে।

এই কৌশলগত অস্পষ্টতা যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের সামরিক পরিকল্পনাকে জটিল করে তুলছে। ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা বাড়ার এই বার্তা উপসাগরীয় দেশগুলো এবং ইসরায়েলকে তাদের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নতুন করে মূল্যায়ন করতে বাধ্য করবে।

কেন নিশানায় দিয়েগো গার্সিয়া

দিয়েগো গার্সিয়া সাধারণ কোনো সম্পদ নয়, বরং এটি বিশ্বজুড়ে মার্কিন শক্তি প্রদর্শনের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। এটি লজিস্টিক ও হামলার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে। এ ঘাঁটিতেই যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী বোমারু বিমান ও নজরদারি বিমানগুলো রাখা হয়।

ইরানের আধা সরকারি বার্তা সংস্থা মেহের নিউজ জানিয়েছে, এই ঘাঁটি নিশানা করে হামলা চালানো একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এটি প্রমাণ করে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা শত্রুর আগের ধারণার চেয়েও বেশি।

দিয়েগো গার্সিয়ায় হামলার চেষ্টার মধ্য দিয়ে ইরান যুদ্ধক্ষেত্র মধ্যপ্রাচ্য থেকে ভারত মহাসাগর অঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত করেছে। দেশটি এই বার্তা দিয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ঘাঁটিই তাদের নাগালের বাইরে নয়। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যকে তাদের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা দক্ষিণে সরাতে হবে, যা তাদের জন্য বাড়তি চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।

প্রযুক্তিগতভাবে এই হামলায় লক্ষ্যভেদ হয়েছে কি না, তার চেয়েও রাজনৈতিকভাবে দিয়েগো গার্সিয়াকে হামলার সীমার মধ্যে দেখানোর বিষয়টিই এখানে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র একটি ‘এসএম-৩’ ইন্টারসেপ্টর বা ক্ষেপণাস্ত্রবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে, যদিও এর ফলাফল এখনো অস্পষ্ট। তবে ইন্টারসেপ্টরটি সফলভাবে কাজ করলেও ইরান রাজনৈতিকভাবে জয়ী হয়েছে।

বলা হচ্ছে, এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের উচ্চ প্রযুক্তির প্রতিরক্ষা সম্পদ ব্যবহারে বাধ্য করেছে ইরান। আর যদি এই প্রতিরোধ ব্যবস্থা ব্যর্থ হয়ে থাকে, তবে তা প্রমাণ করবে পুরোনো প্রযুক্তির ব্যালিস্টিক প্ল্যাটফর্মও পরীক্ষিত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে চাপে ফেলতে পারে।

যুদ্ধের পরিসর বাড়াচ্ছে ইরান

আল–জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, দিয়েগো গার্সিয়াকে নিশানা করা ইরানের সমরাস্ত্রের দীর্ঘ পাল্লার সক্ষমতাকে সামনে এনেছে। ব্রাসেলসভিত্তিক সামরিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক এলিজা ম্যাগনিয়ার বলেন, এই হামলা গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শুরু করা যুদ্ধের বিপরীতে ইরানের পাল্টা জবাবের গভীরতা প্রকাশ করে।

এলিজা আল–জাজিরাকে বলেন, ‘যুদ্ধক্ষেত্র ভৌগোলিকভাবে বিস্তৃত হচ্ছে। আর এমনটা ঘটলে উত্তেজনার নিয়ন্ত্রণ, যা যুক্তরাষ্ট্র চায় তা অনেক বেশি কঠিন হয়ে পড়বে। কারণ, নতুন স্থাপনা, নতুন অবস্থান এখন ঝুঁকিতে পড়ছে।’

এই সামরিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক আরও বলেন, ‘এ কারণেই যুক্তরাষ্ট্রকে পুরো কৌশল নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে। কারণ, ইরান কোনো প্রথাগত যুদ্ধে জেতার চেষ্টা করছে না। প্রথাগত যুদ্ধে তারা পারবেও না, কারণ যুক্তরাষ্ট্র অনেক বেশি শক্তিশালী। বরং ইরান যুদ্ধের ব্যয়ের সমীকরণ বদলে দেওয়ার চেষ্টা করছে।’

এলিজা বলেন, ‘একটি দূরবর্তী লক্ষ্যবস্তুকে হুমকির মুখে ফেলার মাধ্যমে এই সংকেত দেওয়া হচ্ছে যে যুদ্ধ অব্যাহত রাখার অর্থ হবে ক্রমাগত উচ্চ ঝুঁকির মুখোমুখি হওয়া।’
https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla%2F2026-03-21%2F0x5r1org%2FmissileiranDiego-Garcia.jpg?rect=0%2C0%2C576%2C384&w=622&auto=format%2Ccompress&fmt=avif
ভারত মহাসাগরের দিয়েগো গার্সিয়া দ্বীপ। ছবি: যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী