Wednesday, February 26, 2014

মিসর- কে হবেন প্রেসিডেন্ট, সিসি না সাবাহি by কামাল গাবালা

মিসরীয়রা এখন পড়েছে নতুন দোলাচলে। বিশেষ করে ঝানু বামপন্থী হামদিন সাবাহি নিজেকে প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দেওয়ার পর। ২০১২ সালে যে নির্বাচনে মোহাম্মদ মুরসি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছিলেন, তাতে সাবাহি অধিকার করেছিলেন তৃতীয় স্থান।
সাবাহির এই ঘোষণা এল আরেক দফা প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার প্রাক্কালে, যে নির্বাচনে সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আবদেল ফাতাহ আল-সিসির প্রার্থী হওয়ার জোর সম্ভাবনা রয়েছে।

গত বছরের জুন মাসে মিসরজুড়ে বিক্ষোভের মুখে ইসলামপন্থী প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিকে উচ্ছেদ করে সিসি আরবের সবচেয়ে জনবহুল দেশে বিপুল জনপ্রিয় হন।
মিসরীয়রা এখন যার যার রাজনৈতিক পক্ষ, মতামত ও আদর্শিক অবস্থান থেকে তর্ক ও আলোচনা চালাচ্ছে। সেসব আলোচনা প্রকাশ্যে উঠেও আসছে। এরই একটা উদাহরণ হলো ন্যাশনাল সালভেশন ফ্রন্ট আর তামারোদ মুভমেন্টের এক সারিতে চলে আসা। প্রথমটি গঠিত হয়েছিল ২০১২ সালের শেষে মুরসি প্রশাসনের বিরোধিতা করার জন্য আর গত বছরজুড়ে বিক্ষোভ সংঘটিত করে যাচ্ছিল তামারোদ, যার পরিণতি হলো মুরসির অপসারণ। এমনকি তাদের নামকরণও বোঝায় যে একই উদ্দেশ্যে তারা গঠিত। এবং অবশ্যই তাদের সঙ্গে ছিল নাসেরপন্থীসহ বিভিন্ন বামপন্থী গোষ্ঠী। এই বামপন্থীদের থেকেই এসেছেন সাবাহি।
মিসরের এখন প্রতিটি বাড়িতেই কান পাতলে শোনা যাবে সিসি আর সাবাহিকে নিয়ে আলোচনা। সব পরিবারই যেন একটি প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে: এই দুজনের কে হবেন মিসরের যোগ্যতম প্রেসিডেন্ট?
এ বছরের গোড়াতেই প্রথম নির্বাচিত প্রেসিডেন্টের তৈরি করা সংবিধান স্থগিত করে আধুনিক, নাগরিক ও গণতান্ত্রিক মিসরের লক্ষ্যে নতুন সংবিধান পাস হয়েছে। তা ছাড়া ইসলামপন্থী আমলের অভিজ্ঞতা ফিরে আসার যে ভয় সবকিছু আচ্ছন্ন করে ছিল, তা কাটিয়ে মিসরীয়রা এখন এমন একজন সেনানায়ক চায়, যিনি তাদের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষা করবেন। এই সেনানায়ক ‘ধর্মের’ লেবাসের আড়ালে ভেসে ওঠা পুনর্জীবিত সন্ত্রাসবাদকে মোকাবিলা করছেন। ২০১১ সালে হোসনি মোবারকের বিতাড়নের পর থেকে মিসরের অর্থনীতি যে নাটকীয় দুর্দশার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল, তা থেকেও উঠে আসার লক্ষণমিলছে।
এখনকার মিসরে সাবাহি ও সিসির (যিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য উর্দি খুলে নামবেন বলে ভাবা হচ্ছে) মধ্যে কে ভালো হবেন তা নিয়ে দোলাচলের সঙ্গে অতীতের দোলাচলের কোনো তুলনা চলে না। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতো করে সাবাহিও একে বর্ণনা করেছেন ‘ভালো’ আর ‘উত্তমের’ মধ্যকার লড়াই বলে। গত বছরের ২৫ জানুয়ারির গণ-অভ্যুত্থান এবং তার সংশোধনে আসা ৩০ জুনের ঘটনার সমর্থক বিপ্লবীদের দৃষ্টিতে ব্যাপারটা এ রকমই। আজকের পরিস্থিতি ২০১২ সালের থেকে এখানেই আলাদা যে তখন মিসরীয়দের বেছে নিতে হচ্ছিল মুসলিম ব্রাদারহুডের প্রার্থী মোহাম্মদ মুরসি বনাম মোবারকের শাসনের প্রতিনিধি আহমেদ শফিকের মধ্যে। সে রকম অবস্থায় পরিস্থিতিটা ছিল ‘খারাপ’ আর ‘নিকৃষ্টের’ মধ্যকার প্রতিযোগিতার মতো। অথবা ব্যাপারটা ছিল যেন কলেরায় মরব নাকি প্লেগে মরব; তা বাছাই করে নেওয়ার প্রশ্ন।
মিসরে চলমান বিতর্কের বিষয় দুই প্রার্থীর মধ্যকার মিল ও ভিন্নতা নিয়ে। দুজনই জনপ্রিয় হওয়ায় বেছে নেওয়াও কঠিন হয়ে গেছে ভোটারদের পক্ষে। এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে সাবাহি বিনয়ের সঙ্গে বলেছেন যে আমি সব মিসরীয় ও সিসিকে বলছি, তিনি একজন উত্তম প্রার্থী, তবে আমিও ‘উত্তম’ প্রার্থী হতে পারি।
প্রখ্যাত মিসরীয় রাজনীতিবিদ মোহামেদ সালমাওয়ি এককথায় এভাবে বলেছেন, সাবাহি ও সিসি এই অর্থে মিসরীয়দের চোখে সম্পর্কিত যে উভয়ই তাঁদের মনে করিয়ে দিচ্ছে সাবেক জাতীয়তাবাদী প্রেসিডেন্ট গামাল আবদেল নাসেরের কথা। সিসি যেভাবে জনগণের ইচ্ছাকে তুলে ধরেছেন, যেভাবে তিনি আন্তর্জাতিক শক্তি ও ইসলামপন্থী গোষ্ঠীর বিপরীতে জনগণের স্বার্থকে গ্রহণ করেছেন, তাতে অনেক মিসরীয়র মনেই তাঁকে নাসেরের প্রতীক বলে মনে হয়।
অন্যদিকে সাবাহি হলেন নাসেরের সরাসরি অনুসারীদের মধ্যে প্রধানতম নাসেরপন্থী নেতা। বাল্যকাল থেকেই তিনি নাসেরপন্থার সঙ্গে যুক্ত এবং তাঁরই প্রতিনিধি হিসেবে চিত্রিত হন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে নাসেরপন্থী হিসেবে তিনি নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০১২ সালের নির্বাচনেও তিনি নাসেরপন্থী হিসেবেই তৃতীয় স্থান অর্জন করেন, যেমন এখন তিনি সংসদে নাসেরের ধারারই নেতার ভূমিকা পালন করছেন।
সালমাওয়ি আরও বলেন যে ২০১৪ সালের নির্বাচনী দৌড়ে সিসি আর সাবাহিই হবেন প্রধান প্রতিযোগী। এর অর্থ হলো, যে নাসের তাঁর পরের প্রেসিডেন্ট আনোয়ার আল সাদাতের আমলে ব্যাপকভাবে আক্রমণের শিকার হয়েছিলেন, সেই নাসেরের প্রত্যাবর্তন ঘটছে। এখন তাহরির স্কয়ারে নাসেরের পোস্টারের পাশে শোভা পাচ্ছে সিসির পোস্টার। আর তারা স্লোগান দিচ্ছে, ‘মুক্তি, ইনসাফ ও মানবতার সম্মান’-এর জন্য।
সাবাহি বলেছেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে আমার বিশ্বাস, সিসি একজন দেশপ্রেমিক ব্যক্তি এবং আমি তাঁর জন্য শুভকামনা ছাড়া অন্য কিছু বোধ করি না। কারণ, তিনি এক ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁকে নিরাপদ রাখার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো বর্তমানের মতোই তাঁর প্রতিরক্ষামন্ত্রীর অবস্থানে থেকে যাওয়া।’
সাবাহি যুক্তি দেন, চারপাশে ঘিরে থাকা লোকজনের চাপে যদি সিসি প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে নির্বাচন
কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্য দিয়ে শেষ হবে। এই বামপন্থী রাজনীতিবিদ মনে করেন, প্রেসিডেন্ট হিসেবে সিসির নির্বাচিত হওয়া তেমন অবধারিত নয়, যদিও গণমাধ্যম ও অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক তেমনটাই ভাবেন।
এরই মধ্যে প্রখ্যাত মিসরীয় সাংবাদিক মোহামেদ হাসানাইয়েন হেকেল নিজের অতীতের উক্তি সংশোধন করে বলেন যে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক সংকট কাটিয়ে উঠতে মিসরের দরকার অলৌকিক ঘটনা। এর আগে তিনি বলেছিলেন যে সিসিই ন্যায্য প্রার্থী। তিনি আরও বলেন, সিসি যদিও অনেক জনপ্রিয়তা উপভোগ করেন, তাহলেও অন্যান্য প্রার্থীও নিজেদের মনোনীত করতে সক্ষম হবেন। আর এটা ঘটতে হবে সত্যিকার নির্বাচনী প্রক্রিয়ায়।
হেকেল বলেন, সাবাহির মনোনীত হওয়া খুবই ন্যায়সংগত। কারণ, তাঁর রাজনৈতিক মেধা রয়েছে এবং ছাত্র আন্দোলনের কর্মী হওয়া থেকে শুরু করে পরের দিকে তিনি নিজেকে জাতীয় রাজনীতির জন্য যোগ্য হিসেবে বিকশিত করেছেন। তিনি আরও বলেন, সাবাহির তেমন আকাঙ্ক্ষা রয়েছে, রয়েছে রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও জনপ্রিয় সমর্থন। এই সমর্থন দিচ্ছে তরুণ উৎসাহী জনতা। এ কথা বলে
তিনি ইঙ্গিত করেন ২০১২ সালের নির্বাচনের কথা, যেখানে সাবাহি পেয়েছিলেন ৫০ লাখ ভোট। ওই নির্বাচনে সাবাহির সাফল্য বিস্ময়কর ছিল। কারণ, অন্য প্রার্থীরা বিপুল অর্থ ও যোগাযোগ বিনিয়োগ করে তাঁর জন্য পরিস্থিতি কঠিন করে তুলেছিলেন।
সিসির প্রেসিডেন্ট হওয়ার আকাঙ্ক্ষার পথে হুমকি হলো মোবারকের স্বৈরাচারী শাসনের সমর্থকদের পুনরাবির্ভাব। এরা যদি সিসিকে সমর্থন দেয়, তাহলে মিসরের ভেতরে ও বাইরে তাঁর প্রতিপক্ষ সুবিধা পাবে। আর তাহলে গত বছরের ৩০ জুন মিসরীয় সেনাবাহিনী মুরসিকে উচ্ছেদ করে যে বাহবা কুড়িয়েছিল, তাতে চিড় ধরবে।

কামাল গাবালা: মিসরের আলআহরাম পত্রিকাগোষ্ঠীর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক।

মিসর- কে হবেন প্রেসিডেন্ট, সিসি না সাবাহি by কামাল গাবালা

মিসরীয়রা এখন পড়েছে নতুন দোলাচলে। বিশেষ করে ঝানু বামপন্থী হামদিন সাবাহি নিজেকে প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দেওয়ার পর। ২০১২ সালে যে নির্বাচনে মোহাম্মদ মুরসি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছিলেন, তাতে সাবাহি অধিকার করেছিলেন তৃতীয় স্থান।

জঙ্গি দমনে জাতীয় ঐকমত্য প্রয়োজন

দণ্ডিত তিন জঙ্গিকে পুলিশের গাড়ি থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়
দণ্ডিত তিন জঙ্গিকে পুলিশের গাড়ি থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনাকে কীভাবে দেখছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা। এটি কি নিছক দুর্ঘটনা, না জননিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি? পড়ুন নিরাপত্তা বিশ্লেষকের মন্তব্য
গত পাঁচ বছরে জেএমবি, হুজিসহ বিভিন্ন জঙ্গি গ্রুপের সদস্যদের পাকড়াও করার ক্ষেত্রে সরকার বেশ সক্রিয় ছিল এবং এখনো আছে। তবে এ-ও বুঝতে হবে যে জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলের ক্ষেত্রে এটি হলো একটি উপায়, একমাত্র নয়। আমরা যে কথাটির ওপর জোর দিই তা হলো, জঙ্গিবাদ মোকাবিলা করতে হলে এর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ও সামাজিক পদক্ষেপ নিতে হবে এবং তাতে দল-মতনির্বিশেষে সবাইকে একত্র করা জরুরি। সরকার জঙ্গিদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করছে, এটি অবশ্যই ভালো দিক। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক যে, এর সঙ্গে রাজনৈতিক মতৈক্য প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেই; বরং দোষারোপের রাজনীতি চলছে। সম্প্রতি পুলিশের গাড়ি থেকে জঙ্গি ছিনতাইয়ের যে ঘটনা ঘটল, তা নিয়েও অভিযোগের তির ছুড়ছে একে অপরের বিরুদ্ধে। এর অর্থ, জঙ্গিবাদের বিষয়টি কেউ-ই গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছে না। এ থেকে দলীয় ফায়দা লোটার চেষ্টা চালাচ্ছে উভয় পক্ষ। আমাদের সমাজটি মারাত্মকভাবে বিভাজিত। রাজনৈতিকভাবে যেমন, তেমনি মতাদর্শিকভাবেও। যেসব গোষ্ঠী বা সংগঠন ধর্ম নিয়ে কাজ করে, তাদের মধ্যে একধরনের বিচ্ছিন্নতাবোধ কাজ করে। এর কারণ যা-ই হোক, রাষ্ট্র বা সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে সেই বিচ্ছিন্নতা বাড়তে না দেওয়া এবং তাদের মূলধারায় ফিরিয়ে আনা। কেননা, সামাজিক সংঘবদ্ধতাই রাষ্ট্রের নিরাপত্তার পূর্বশর্ত।
এর অর্থ এই নয় যে যারা সন্ত্রাস করছে বা জননিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ, সরকার তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে না। দণ্ডিত তিন জঙ্গি ছিনতাইয়ের ঘটনায় প্রমাণিত হলো যে জঙ্গিবাদীরা যতটা নিষ্ক্রিয় হয়ে গেছে সরকারি মহল থেকে বলা হচ্ছে, ততটা নিষ্ক্রিয় তারা হয়নি। এই মুহূর্তে তারা প্রকাশ্য তৎপরতা চালাচ্ছে না, বলা যায়, স্লিপিং সেল বা ঘুমন্ত অবস্থায় আছে। যেকোনো সময় বিস্ফোরণে রূপ নিতে পারে। আরেকটি কথা মনে রাখতে হবে যে রাজনৈতিক হানাহানির সুযোগেই জঙ্গিগোষ্ঠী সমাজে জায়গা করে নেয়। গত দুই বছরের অব্যাহত রাজনৈতিক হানাহানির কারণে সরকারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গোয়েন্দা বিভাগ ব্যস্ত ছিল বিরোধী দলের আন্দোলন-সংগ্রাম নিয়ে। এমনকি নিম্ন আদালতও ব্যস্ত ছিলেন বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের জামিন শুনানির কাজে। ফলে জঙ্গিদের তৎপরতা রোধে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যতটা মনোযোগ দেওয়ার কথা, সেটি তাঁরা দিতে পারেননি। ফলে জঙ্গিবিরোধী অভিযান অনেকটা বজ্র আঁটুনি ফসকা গেরোতে পরিণত হয়েছে বলেই প্রতীয়মান হয়। কেবল সশস্ত্র অভিযান চালিয়ে যে এ ধরনের জঙ্গিগোষ্ঠীকে নির্মূল করা যায় না, তার প্রমাণ আফগানিস্তান। ১২ বছর ধরে পরাশক্তিগুলো সেখানে সামরিক অভিযান চালিয়েও আল-কায়েদাকে নিবৃত্ত করতে পারেনি। আরেকটি কথা, বাংলাদেশের ৮৯-৯০ শতাংশ মানুষ ইসলাম ধর্মাবলম্বী। তাদের ধর্মীয় আবেগ-অনুভূতির প্রতিও আমাদের খেয়াল রাখতে হবে। অনেকেই রাজনৈতিক বক্তৃতা-বিবৃতিতে অহেতুক ধর্মকে টেনে আনেন,
ধর্ম নিয়ে কটূক্তি করতেও দ্বিধা করেন না। এসব বক্তৃতা-বিবৃতিতে যে ধর্মপ্রাণ মানুষ আহত হতে পারেন, তা-ও মনে রাখেন না। বাংলাদেশের মানুষ ধর্মপ্রাণ হলেও ধর্মান্ধ নন। তবে ধর্মপ্রাণ মানুষ আহত হন এমন কিছু করলে জঙ্গিবাদীরা সেই সুযোগ নিতে পারে। অন্যদিকে শহর ও গ্রামাঞ্চলের মধ্যে সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বিভাজনটি অনেক বেশি প্রকট। সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার স্বার্থেই এই বৈষম্য দূর করতে হবে, শিক্ষার বিস্তার ঘটাতে হবে। আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিতর্ক আছে। জাতীয় ইস্যুগুলোর ব্যাপারেও তাদের মধ্যে কোনো মতৈক্য নেই। যেকোনো দেশের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য এটা বড় হুমকি বলে মনে করি। আয়তনে বাংলাদেশ ছোট হলেও এর রয়েছে বিশাল জনগোষ্ঠী। এত বড় সমাজে কেবল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দিয়ে জঙ্গি মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। এর জন্য রাজনৈতিক, শিক্ষাগত, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। আশার কথা, বাংলাদেশে জঙ্গিরা বিচ্ছিন্নভাবে কিছু পকেটে তৎপরতা চালালেও বৃহত্তর সমাজে শিকড় গাড়তে পারেনি। এর অন্যতম কারণ, এখানকার মানুষের সহিষ্ণু মনোভাব ও নারীর ক্ষমতায়ন। তৈরি পোশাকশিল্পে ৪০-৪৫ লাখ নারী কাজ করেন। তাঁরা কোনোভাবেই এসব জঙ্গি তৎপরতা মেনে নেবেন না। সর্বোপরি জঙ্গিবাদ নির্মূলে চাই রাজনৈতিক ঐকমত্য। বিরোধী দলের সঙ্গে যতই মতবিরোধ থাকুক না কেন, এ ব্যাপারে সরকারের উচিত হবে তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসা। প্রতিবেশী ভারতসহ অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশে সেটাই করা হয়ে থাকে।
এম সাখাওয়াত হোসেন: নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও সাবেক নির্বাচন কমিশনার।
hhintlbd@yahoo.com

দলবাজি নয়, বুদ্ধিবৃত্তিক আলোচনা চাই

‘টক শো’ এখন একটি বাস্তবতা। লেখক-সাংবাদিক ফয়েজ আহমদ ‘মধ্যরাতের অশ্বারোহী’ শিরোনামে চমৎকার সব কলাম লিখতেন। এখন অশ্বারোহী নেই। চার চাকার গাড়িতে চড়ে নানান বর্ণের সুশীলেরা এখন টেলিভিশনের পর্দা আলোকিত করে রাখেন রাতের প্রথম, দ্বিতীয় এমনকি তৃতীয় প্রহরেও। এক-এগারোপরবর্তী নাগরিক জীবনে সন্ধ্যাকালীন চিন্তাচর্চা কিংবা বিনোদন, যে নামেই বলা হোক না কেন, টক শো এখনো দর্শক-শ্রোতা আকর্ষণ করে। তবে এর জনপ্রিয়তায় কিছুটা ভাটা পড়েছে বলেই মনে হয়। একটা সময় ছিল, যখন টক শোর আলোচক ছিলেন হাতে গোনা কয়েকজন। আমি একই রাতে একজন আলোচককে অল্প সময়ের ব্যবধানে তিন-চারটি চ্যানেলের পর্দায় দেখেছি। তখন একটা চুটকি চালু হয়ে গিয়েছিল যে কিছু কিছু মানুষ কারওরান বাজারসংলগ্ন রাজপথে সন্ধ্যা নামতেই হাঁটাহাঁটি করতে থাকেন, কখন কোন চ্যানেল থেকে ‘নির্ধারিত শিল্পীর অনুপস্থিতিতে’ আলোচক হিসেবে ডাক আসবে। এখন আলোচকের সংখ্যা বেড়েছে, টক শোর সময় ও পরিমাণ বেড়েছে, টক শো প্রচারকারী চ্যানেলের সংখ্যাও বেড়েছে। টক শোর মাধ্যমে টেলিভিশন চ্যানেলগুলো এমন একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে দেয়, যেখানে আলোচকেরা বিষয়ভিত্তিক আলোচনা ও বিতর্কের মাধ্যমে জনমত গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। পৃথিবীর অনেক দেশের গণমাধ্যমে এ ধরনের অনুষ্ঠান প্রচারিত হয়। এরা সমাজে ‘অপিনিয়ন মেকার’ হিসেবে স্বীকৃত।
আমাদের দেশে এ ধরনের ‘পাবলিক ডিক্টেটর’ বড়ই অভাব। টক শোর মাধ্যমে আমি কিছু কিছু বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছি এবং আলোচনা শুনেছি। উদাহরণ হিসেবে আমি প্রাকৃতিক সম্পদ, বিশেষ করে গ্যাস-কয়লা উত্তোলন বিষয়ে বিতর্ক, নদীদূষণ কিংবা খাল খনন, এসবের উল্লেখ করতে পারি। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, আমাদের চ্যানেলগুলো অধিকাংশ ক্ষেত্রেই রাজনৈতিক বিষয়গুলো এমনভাবে উপস্থাপন করে, যেখানে মননশীল আলোচনা থাকে প্রায়ই অনুপস্থিত। তারা এমন সব আলোচককে নেমন্তন্ন করেন, যাঁরা ঘুরেফিরে আওয়ামী-বিএনপি ঝগড়ার আবর্তের বাইরে যেতে পারেন না। রাজনীতিতে যেমন এই দুই পরাশক্তির প্রবল উপস্থিতি, টক শোতে অংশ নেওয়া আলোচকেরাও নিজেদের সুশীল কোর্তার ভেতর থেকে কোনো একটি দলের প্রতি আনুগত্যের সনদটি বের করে নিয়ে আসেন। ব্যতিক্রম অবশ্য আছে কিছু কিছু। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, আলোচনা কিংবা বিতর্ক নোংরা দলবাজির চোরাবালিতে হারিয়ে যায়, দর্শক-শ্রোতাকে নতুন চিন্তার কোনো খোরাক জোগান দিতে পারে না। দলীয় সুশীলদের এসব জাবরকাটা দেখে ও শুনে টক শোর ওপর অনেকেই বীতশ্রদ্ধ হয়ে পড়েছেন। অনেককেই বলতে শোনা যায়, রাতের ঘুম নষ্ট করে আওয়ামী-বিএনপির ঝগড়া দেখার কোনো মানে হয় না। ঝগড়াঝাঁটি মাঝেমধ্যে এমন পর্যায়ে চলে যায়, তখন আর তা বিনোদনের পর্যায়েও থাকে না। আলোচনার মধ্যে হাতের আস্তিন গোটানো ও অশ্রাব্য গালমন্দও হতে দেখেছি আমরা। শোভনতার সীমা অতিক্রমকারীদের বর্জন করারও তেমন কোনো উদ্যোগ দেখা যায় না।
এখন অবস্থা এমন হয়েছে যে আলোচকদের নাম শুনেই কিংবা চেহারা দেখেই বলে দেওয়া যায়, তাঁরা বিভিন্ন পেশাজীবী পরিচয় থাকা সত্ত্বেও মূলত এই দলের কিংবা ওই দলের। অথচ নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে তাঁরা সত্যিকার অর্থেই নাগরিক ভাবনা তুলে ধরতে পারেন এবং জনমত গঠনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারেন। এখানে একটি বিষয় লক্ষ করার মতো। আলোচকরা সবাই আলোচ্য বিষয়ের ব্যাপারে বিশেষজ্ঞ, তা জোর গলায় বলা যাবে না। অবস্থা এমন হয়েছে যে বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো বিষয়ে শিক্ষকতার চাকরি করলেই তাঁকে ওই বিষয়ের একজন বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। যেমন, রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষক মানেই রাজনীতি বিশেষজ্ঞ, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে শিক্ষকতার চাকরি করলেই তিনি আন্তরাষ্ট্র সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ, সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তা হলেই তিনি নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ, অবসরপ্রাপ্ত অসামরিক কর্মকর্তা হলেই তিনি জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ, আর সাংবাদিক হলেই সবজান্তা। অথচ আমরা জানি যে সাহিত্যের শিক্ষক মাত্রেই সাহিত্যিক নন, বিজ্ঞানবিষয়ক লেখক হলেই তিনি বিজ্ঞানী হবেন না এবং নারী মাত্রই জেন্ডার-সংবেদনশীল নন। তাঁরা অনেক সময় এমনভাবে আলোচনা করেন, যা কিনা কষ্টকল্পিত এবং জোর করে জ্ঞান দেওয়ার মতো। টক শো উপস্থাপনার ক্ষেত্রেও সমস্যা আছে। উপস্থাপক অনেক ক্ষেত্রেই উপস্থাপিত বিষয়ের ওপর ‘হোমওয়ার্ক’ করে আসেন না। কী রকম প্রশ্ন করতে হবে এবং কখন সেই প্রশ্নটি করতে হবে, এটা অনেক সময় তাঁরা বোঝেন বলে মনে হয় না। সবচেয়ে বিরক্তিকর ঠেকে, যখন আলোচনা বেশ একটু প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে, ঠিক তখনই আলোচনা থামিয়ে উপস্থাপক বলেন, ‘এখন আমাকে একটি বিজ্ঞাপন বিরতিতে যেতে হবে’।
এটা অনেক সময় আগুনে জল ঢেলে দেওয়ার মতো। চ্যানেলগুলোর বাণিজ্যিক দিকটা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু একটা আলোচনাকে মাঝপথে খুন করে বিজ্ঞাপন দেখিয়ে বিতর্কের মজাটাই তেতো করে দেওয়া হয়। কিছু কিছু উপস্থাপক কথা বলেন বেশি এবং অনেক সময় তা হয় অপ্রাসঙ্গিক ও অবান্তর। তাঁরা বুঝতে চান না, দর্শক-শ্রোতা উপস্থাপকের বাণী শোনার জন্য টেলিভিশনের সামনে বসেননি, তাঁরা আলোচকদের কথাই শুনতে চান। ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমগুলোর ব্যাপারে আমার নিজস্ব একটি পর্যবেক্ষণ আছে। এ দেশে চ্যানেল অনেক। সব কটিই চালানো হয় ২৪ ঘণ্টা। কিন্তু ২৪ ঘণ্টা চ্যানেল চালানোর মতো পর্যাপ্ত মাল-মসলা তাদের হাতে নেই। তাই দেখা যায়, যেনতেন প্রকারে একটা প্রোগ্রাম বানিয়ে প্রচারের প্রবণতা, একই জিনিস বারবার দেখানো, ১০ মিনিটের প্রোগ্রাম ৪০ মিনিট ধরে দেখানোর কারণে বাকি ৩০ মিনিট বিজ্ঞাপন প্রচার এবং একই বিজ্ঞাপন দু-এক মিনিট পর পর পুনঃপ্রচার করে দর্শক-শ্রোতার বিরক্তি উৎপাদন করা। এ সবকিছুর ভিকটিম হলেন দর্শক-শ্রোতা। জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে মননশীল আলোচনার কোনো বিকল্প নেই। পত্রপত্রিকায় তাৎক্ষণিক বিতর্কের সুযোগ নেই, যা আছে টিভি চ্যানেলগুলোতে। এ জন্য প্রয়োজন উপস্থাপকদের একটু পরিশ্রম করা, একটু পড়াশোনা করে নেওয়া। বিষয়ের ওপর দখল আছে, এমন আলোচকদের খুঁজে বের করা এবং তাঁদের নিয়ে আসা। আলোচকদের দায়িত্ব অনেক। তাঁদের কাজ হলো,
বিষয়টির বিভিন্ন দিক নির্মোহভাবে উপস্থাপন ও আলোচনা করা, কোনো রাজনৈতিক দলের তত্ত্ব ফেরি করা নয়। রাজনৈতিক বিষয়ের ওপর রাজনৈতিক দলের মতামত জানার সবচেয়ে সহজ ও উত্তম উপায় হলো রাজনৈতিক দলের কোনো মুখপাত্রকে আলোচক হিসেবে নিয়ে আসা, কোনো ‘সুশীল’কে নয়। আমাদের অনেক ‘সুশীল’ এটা বুঝতে চান না যে ‘রাজনীতি’ করলে তিনি আর ‘সুশীল’ থাকেন না। আমাদের দেশে অনেক সমস্যা। অনেক আলোচকের কথা শুনলে মনে হয়, সব সমস্যা তাঁর জানা এবং সমাধানের ধন্বন্তরি ওষুধটাও তাঁর পকেটে আছে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। সমস্যা চিহ্নিত করার জন্য চাই সুস্থ আলোচনা এবং সমাধানের জন্য দরকার গঠনমূলক বিতর্ক। সবকিছু সরলরেখায় চলে না। একটি বিষয় আরও ১০টি বিষয়ের ওপর নির্ভরশীল। একটি সমস্যার সমাধান করতে হলো আরও ১০টি সমস্যাকে সমান্তরালভাবে আমলে নেওয়া দরকার। এভাবেই গড়ে উঠতে পারে বহুমাত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি। আর তখনই টক শো হবে প্রাণবন্ত, অর্থবহ ও শিক্ষণীয়। জাতীয় সংসদে আমরা যে ঝগড়াঝাঁটি দেখে অভ্যস্ত, টেলিভিশনের পর্দায় আমরা তার পুনরাবৃত্তি দেখতে চাই না। আমরা চাই, টক শো হোক মুক্তবুদ্ধি চর্চার ক্ষেত্র, যেখানে দর্শক-শ্রোতা চিন্তার খোরাক পাবেন, বিষয়টি নিয়ে ভাববেন। তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি আরও স্বচ্ছ হবে এবং নিজের সীমিত ক্ষমতা ও সুযোগ ব্যবহার করে অবদান রাখার ব্যাপারে অনুপ্রাণিত হবেন।



মহিউদ্দিন আহমদ: লেখক ও গবেষক।

সুনন্দার মৃত্যু বিষে : বিজেপি

ভারতের মানবসম্পদ উন্নয়নবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শশী থারুরের স্ত্রী সুনন্দা পুস্কারের মৃত্যুরহস্য ঘিরে এবার বাকযুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে কংগ্রেস-বিজেপি। পাঁচ সপ্তাহ আগে রহস্যজনকভাবে সুনন্দার মৃত্যু ঘটে। এর পর সোমবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে বিজেপি নেতা সাবরামানিয়ান স্বামী বলেন, ‘সুনন্দাকে রাশিয়ার বিষ প্রয়োগে হত্যা করা হয়েছে।’ এর প্রতিবাদে সুনন্দার স্বামী কংগ্রেস সদস্য এবং মন্ত্রী শশী থারুর প্রমাণ চাইলে প্রতি উত্তরে স্বামী বলেন, ফরেনসিক প্রতিবেদনই এর প্রমাণ। নয়াদিল্লির একটি পাঁচতারা হোটেলের নিজ কক্ষে সুনন্দার মৃতদেহ পাওয়া যায়। ওই দিন রাত ৯টায় শশী থারুরের ব্যক্তিগত সচিব অভিনব কুমার সরোজিনি নগর থানায় ফোন করে সুনন্দার মৃত্যুর খবরটি জানান।
এর চার ঘণ্টা আগে সুনন্দার মৃত্যু হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল মৃত্যুটি ছিল ‘আকস্মিক ও অস্বাভাবিক’। তদন্তের প্রতিবেদনে বলা হয়, পরীক্ষায় বিষক্রিয়া বা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করার কোনো আলামত প্রাথমিকভাবে পাওয়া যায়নি। তবে অতিরিক্ত ড্রাগ গ্রহণের কারণে মৃত্যু হওয়ার বিষয়টি উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না। প্রকৃত কারণ জানতে আরও কিছুটা সময় লাগবে বলে জানা গেছে। এদিকে পাকিস্তানি সাংবাদিক মেহের তারারের সঙ্গে তার স্বামী শশীর সম্পর্ক নিয়ে তিনি খুব অবসন্ন ছিলেন সুনন্দার টেলিফোন কথোপকথনে জানা যায়। মিডিয়ায় প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, শশী থারুরের সঙ্গে মেহেরের প্রেম ছিল। এর জের ধরেই তাদের দাম্পত্য জীবনে ঝড় বয়ে যাচ্ছিল।

মিসরে সেনাসমর্থিত সরকারের পদত্যাগ

পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছে মিসরের সেনাসমর্থিত অন্তর্বর্তী সরকার। প্রধানমন্ত্রী হাজেম এল-বেবলাবি দেশটির টেলিভিশনে দেয়া এক ভাষণে এ পদত্যাগের ঘোষণা দেন। তবে পদত্যাগের বিষয়ে কোনো ক?ারণ জানা যায়নি। এদিকে সংবাদ মাধ্যম আল-হামরায় প্রকাশিত খবরে জানা যায়, হাজেম এল-বেবলাবির স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন গৃহায়ণমন্ত্রী ইব্রাহিম মিহলিব। ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে গত বছরের জুলাইয়ে মুরসির পতনের পর দায়িত্ব নেন বেবলাবি। আল-হামরায় প্রকাশিত সংবাদের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম জানায়, বর্তমান মন্ত্রিসভার সদস্যরা অন্তর্বর্তী সরকারের প্রেসিডেন্ট আদেল মানসুরের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।
পত্রিকাটি আরও জানায়, সোমবার এক ১৫ মিনিট স্থায়ী বৈঠকের পর এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। হাজেম এল-বেবলাবি তার ভাষ্যে এ পদত্যাগের পেছনে কোনো কারণ উল্লেখ করেননি। ধারণা করা হয়েছিল মিসরীয় সেনাপ্রধান আবেদল ফাত্তাহ আল-সিসি সামরিক বাহিনীসমর্থিত সরকারের প্রেসিডেন্ট হবেন। ইতিপূর্বে তিনি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। কিন্তু পরিষদ বাতিল হয়ে পড়লে নতুন দিকে বাঁক নিতে যাচ্ছে মিসরের রাজনৈতিক পরিস্থিতি। মিসরের নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিকে উৎখাতের পর মিসরের সামরিক বাহিনী হাজেম এল-বেবলাবিকে প্রধানমন্ত্রী পদে নিয়োগ দেয়। ল্যাভরভ বলেন, ‘বিরোধীদের এই আন্দোলন সশস্ত্র চরমপন্থীদের দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। এর ফলে দেশটির সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়তে পারে।’