Friday, February 13, 2026
একা লড়ে ৪৪ হাজারের বেশি ভোট পেলেন তাসনিম জারা
কোনো দলের ছায়া ছাড়া নির্বাচনে নতুন প্রার্থী হিসেবে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ ছিল তাঁর সামনে। নির্বাচনে তিনি জয় পাননি। তবে একা লড়াই করে, প্রচলিত নির্বাচনী প্রচারের বিরুদ্ধে গিয়ে ভিন্নভাবে প্রচার করে তিনি পেয়েছেন ৪৪ হাজার ৬৮৪ ভোট। যত ভোট পড়েছে, তার প্রায় ২১ শতাংশ ভোট পেয়েছেন তিনি।
ঢাকা–৯ আসনে প্রাপ্ত ভোটের দিক দিয়ে তাসনিম জারার অবস্থান তৃতীয়। এই আসন থেকে ১ লাখ ১১ হাজার ২১২ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন বিএনপির হাবিবুর রশিদ। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এনসিপির মোহাম্মদ জাবেদ মিয়া। তিনি পেয়েছেন ৫৩ হাজার ৪৬০ ভোট।
তাসনিম জারা ভিন্ন ধরনের নির্বাচনী প্রচার নিয়ে প্রশংসিতও হয়েছিলেন। তাঁর প্রচারে লাউড স্পিকার, মাইকের ব্যবহার ছিল না। তিনি গত ২৫ জানুয়ারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তাঁর পক্ষে ভোট চাইতে ৩০ হাজার স্বেচ্ছাসেবী প্রয়োজন বলে জানিয়েছিলেন। তাঁর আহ্বানে সাড়া দিয়ে তাঁর নির্বাচনী পোর্টালে ১৯ হাজার ৭৩১ জন স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে নিবন্ধন করেছিলেন।
নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে আজ শুক্রবার তাসনিম জারার সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে নির্বাচনী প্রচারের শেষ দিন ৯ ফেব্রুয়ারি তাসনিম জারা যখন খিলগাঁওয়ের গৌড়নগর পূর্বপাড়া (পানির ট্যাংক সংলগ্ন) ও নাগদারপাড় এলাকায় ভোট চাইছিলেন, তখন সেখানে উপস্থিত ছিলেন প্রথম আলোর প্রতিবেদক। ওই সময় তিনি নির্বাচনে জয়ের বিষয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেছিলেন। ভোটারদের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছেন জানিয়ে তিনি বলেছিলেন, অর্থ ও পেশিশক্তি ছাড়া রাজনীতি করা যায় না, এমন ধারণা রয়েছে। নির্বাচনে প্রার্থী হলে পোস্টার দিয়ে ছেয়ে ফেলতে হবে, শোডাউন করতে হবে, মাইকিং করতে হবে—এগুলো আসলে জনগণের সেবা দেওয়ার জন্য করা হয় না। ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে ভোট নেওয়ার চিন্তা করা হয়। তিনি বলেন, ‘আমরা ভেবেছি, এসব ছাড়া কীভাবে মানুষের কাছে পৌঁছানো যায়। আমরা মানুষের ওপর বিশ্বাস রেখেছি। একজনের অপরজনের প্রতি যে আস্থা, সেটার ওপর ভরসা রেখেছি। মানুষ খুঁজে খুঁজে পরিচিত মানুষকে বের করে আমার জন্য ভোট চাইছেন। এর পাশাপাশি পায়ে হেঁটে ভোটারদের কাছে পৌঁছাচ্ছি। অভূতপূর্ব সাড়া পাচ্ছি মানুষের কাছ থেকে।’
তাসনিম জারা পেশায় চিকিৎসক। তাঁর ফেসবুক অনুসারী ৭২ লাখ। এ দুটো বিষয় প্রার্থী হিসেবে তাঁকে সুবিধা দিচ্ছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা সুবিধা দিচ্ছে। অনেক বছর ধরে অনেকে কাজ দেখেছেন, আমাকে চিনেছেন। আমার প্রতি তাঁদের ভরসা তৈরি হয়েছে।’
তাসনিম জারা ঢাকা-৯ আসনের ভোটার ছিলেন না। তাঁর ভোট ছিল ঢাকা-১১ আসনে।
ঢাকা-৯ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৬৯ হাজার ৩৫৬। ভোট দিয়েছেন ২ লাখ ১৭ হাজার ৬৮৮ জন। অর্থাৎ প্রায় ২১ শতাংশ ভোট পেয়েছেন তাসনিম জারা।
এবার ওই আসন থেকে প্রার্থী হয়েছিলেন মোট ১২ জন। এর মধ্যে তাসনিম জারাসহ দুজন নারী প্রার্থী ছিলেন। অপর নারী গণফোরামের নাজমা আক্তার পেয়েছেন ১৭১ ভোট। অপর আট প্রার্থীর মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শাহ ইফতেখার আহসান পেয়েছেন ৫ হাজার ৮২৭ ভোট, জাতীয় পার্টির কাজী আবুল খায়ের ১ হাজার ২০২, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির মো. মনিরুজ্জামান ৪৬২, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) শাহীন খান ২০৪, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টের (বিএনএফ) মোহাম্মদ শফি উল্লাহ চৌধুরী ১২৪, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের নাহিদ হাসান চৌধুরী জুনায়েদ ১৩১, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের মাসুদ হোসেন ১১৮ এবং বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্ক্সবাদী) খন্দকার মিজানুর রহমান ৯৩ ভোট পেয়েছেন।
নির্বাচন পরবর্তী ভাবনা জানালেন তাসনিম জারা, বললেন সেরা সময় সামনে
আজ শুক্রবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে নির্বাচন পরবর্তী ভাবনা জানিয়েছেন তাসনিম জারা। বিকেল পৌনে চারটার দিকে দেওয়া ওই স্ট্যাটাসে জারা জানান, তিনি তাঁর আসনে বিজয়ী বিএনপির প্রার্থী হাবিবুর রশীদ হাবিবকে ফোন করে শুভকামনা জানিয়েছেন। তাঁরা গঠনমূলক শক্তি হিসেবে কাজ করবেন। তবে ক্ষতিকর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকবেন। একটিমাত্র নির্বাচনের জন্য পথচলা শুরু করেননি বলে জানান তাসনিম জারা। তিনি জানান, রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তনই তাঁদের লক্ষ্য এবং এটি দীর্ঘ পথ। জটিল সময়ে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ও তাঁর দল এবং নির্বাচন কমিশনকে ধন্যবাদ জানান তিনি। পোস্টে তাসনিম জারা আরও লেখেন, ক্যাম্পেইনে নারীদের অভূতপূর্ব অংশগ্রহণ ছিল তাঁদের জন্য বড় এক প্রাপ্তি। তিনি লেখেন, ‘অনেক নীতিনির্ধারণী আলোচনায় আমি দেখেছি যে সিদ্ধান্ত গ্রহণের টেবিলে নারীরা থাকলে আলোচনার মান বদলে যায়।’ সেরা সময় এখনো সামনে বলে ওই পোস্টে জানান তাসনিম জারা।
![]() |
| রাজধানীর খিলগাঁও মডেল কলেজ কেন্দ্র পরিদর্শনে এসেছেন ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারা। বৃহস্পতিবার সকালে। ছবি: শুভ্র কান্তি দাশ |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের চার প্রার্থীর জয়
২৯৯টি সংসদীয় আসনে গতকাল বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোটের ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়। এর মধ্যে ২৭০টির প্রাপ্ত বেসরকারি ফলাফল বিশ্লেষণে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
ঢাকা–৩ আসন থেকে জয় পেয়েছেন বিএনপি নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনি ঢাকার কেরানীগঞ্জের স্থায়ী বাসিন্দা। কেরানীগঞ্জ উপজেলার জিনজিরা, আগানগর, তেঘরিয়া, কোন্ডা ও শুভাঢ্যা এলাকা নিয়ে গঠিত ঢাকা–৩ আসন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় পেয়েছেন ৯৮ হাজার ৭৮৫ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. শাহীনুর ইসলাম। তিনি পেয়েছেন ৮২ হাজার ২৩২ ভোট।
মাগুরা-২ আসনে জয়ী হয়েছেন বিএনপির নেতা নিতাই রায় চৌধুরী। তিনি বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান। তিনি গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের বেয়াই। নিতাই রায় চৌধুরী ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ভোট পেয়েছেন ১ লাখ ৪৭ হাজার ৮৯৬টি। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী মো. মুশতারশেদ বিল্লাহ। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ১৭ হাজার ১৮ ভোট।
বান্দরবান থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে জয়লাভ করেছেন সাচিং প্রু। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৫৫ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী আবু সাঈদ মো.সূজা উদ্দীন। তিনি পেয়েছেন ২৬ হাজার ১৬২ ভোট। সাচিং প্রু বান্দরবান জেলা বিএনপির আহ্বায়ক। ২০১৮ সালের নির্বাচনেও তিনি বিএনপির মনোনয়নে ভোট করেছিলেন।
রাঙ্গামাটি আসনে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচনে জয়লাভ করেছেন দীপেন দেওয়ান। তিনি পেয়েছেন ২ লাখ ১ হাজার ৫৪৪ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী পহেল চাকমা। তিনি ফুটবল প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৩১ হাজার ২২২ ভোট।
বিএনপি এবার ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায় থেকে ছয় ব্যক্তিকে মনোনয়ন দিয়েছিল। তাঁদের মধ্যে দুজন পরাজিত হয়েছেন। তাঁরা হলেন বাগেরহাট–১ আসনের কপিল কৃষ্ণ মণ্ডল ও বাগেরহাট–৪ আসনের সোমনাথ দে।
এবারের নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি একজন করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রার্থী দিয়েছিল। তাঁরা দুজনই পরাজিত হয়েছেন। তাঁরা হলেন খুলনা–১ আসনে জামায়াতের প্রার্থী কৃষ্ণ নন্দী এবং মৌলভীবাজার–৪ আসনে এনসিপির প্রার্থী প্রীতম দাশ।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অন্তত ৭৯ জন ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। নিবন্ধিত ৬০টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ২২টি দল সংখ্যালঘু সম্প্রদায় থেকে ৬৭ জনকে মনোনয়ন দিয়েছিল। এর বাইরে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ১২ জন প্রার্থী নির্বাচন করেন।
| গয়েশ্বর চন্দ্র রায় (ওপরে বাঁয়ে), নিতাই রায় চৌধুরী, সাচিং প্রু (নিচে বাঁয়ে) ও দীপেন দেওয়ান। কোলাজ |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সাত স্বতন্ত্র প্রার্থী জিতলেন, তাঁরা কারা
গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ভোট হয়। শেরপুর-৩ আসনে জামায়াতের প্রার্থী মারা যাওয়ায় সেখানে ভোট বাতিল করা হয়। এই নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন পেয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি। এবারের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে প্রায় দুই দশক পর বিএনপি সরকার গঠন করছে।
বেসরকারিভাবে ২৯৭টি আসনের ফলাফল পাওয়া গেছে। এর মধ্যে বিএনপি ও জোটভুক্ত দলগুলো পেয়েছে ২১২ আসন। আর জামায়াতে ইসলামী ও মিত্রদলগুলো পেয়েছে ৭৭টি আসন। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ একটি আসন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা পেয়েছেন সাতটি আসন।
স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে জিতলেন যাঁরা
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগর আংশিক) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানা (হাঁস প্রতীক) বড় ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী, তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ১৭ হাজার ৪৯৫ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি জোটের প্রার্থী জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের জুনায়েদ আল হাবিব। তাঁর চেয়ে ৩৭ হাজার ৫৬৮ ভোট বেশি পেয়েছেন রুমিন ফারহানা। তিনি বিএনপির সংসদ সদস্য ছিলেন। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে এবার তিনি স্বতন্ত্র নির্বাচন করেন।
টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনে জয়ী হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী লুৎফর রহমান খান আজাদ। তিনি বিএনপির সাবেক নেতা, সাবেক প্রতিমন্ত্রী। মোটরসাইকেল প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৭ হাজার ৯০১ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী ওবায়দুল হক নাসির। তিনি পেয়েছেন ৮২ হাজার ৭৬৯ ভোট। বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় লুৎফর রহমানকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়।
কিশোরগঞ্জ-৫ (বাজিতপুর-নিকলী) আসনে জয়ী হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ মজিবুর রহমান। তিনি পেয়েছেন ৭৯ হাজার ৬০৪ ভোট। তিনি ২০১৮ সালে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী সৈয়দ এহসানুল হুদা। তিনি পেয়েছেন ৬৬ হাজার ৪৫০ ভোট। মজিবুর রহমান বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় তাঁকে বাজিতপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়।
চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনে স্বতন্ত্র আব্দুল হান্নান বিজয়ী হয়েছেন। উপজেলা বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হান্নান পেয়েছেন ৭৪ হাজার ১৭৫ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী মো. হারুনুর রশিদ। তিনি পেয়েছেন ৬৯ হাজার ১৫৫।
কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আতিকুল আলম ওরফে শাওন কলস প্রতীকে পেয়েছেন ৯১ হাজার ৬৯০ ভোট। তিনি উপজেলা বিএনপির বহিষ্কৃত সভাপতি। তাঁর নিকটতম প্রার্থী বিএনপির প্রার্থী রেদোয়ান আহমদ। তিনি পেয়েছেন ৪৮ হাজার ৫০৯ ভোট। তিনি সাবেক প্রতিমন্ত্রী।
ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট ও ধোবাউড়া) আসনে জয়ী হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী সালমান ওমর। বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী, তিনি ১ লাখ ৭ হাজার ২৪১ ভোট পেয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৭৩৬ ভোট। এখানে বিএনপির মনোনয়নবঞ্চিত হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হন সালমান ওমর। প্রার্থী হওয়ায় দল তাঁকে বহিষ্কার করে।
দিনাজপুর-৫ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী এ জেড এম রেজওয়ানুল হক বিজয়ী হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ১৪ হাজার ৪৮৪ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আব্দুল আহাদ। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ১০ হাজার ১৯৫ ভোট। এ আসনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন এ কে এম কামরুজ্জামান। রেজয়ানুল হক বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ছিলেন। বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় তাঁকে দল বহিষ্কার করে।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মেধা ও প্রযুক্তিনির্ভর দেশ গড়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ
আজ শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন সালাহউদ্দিন আহমদ। সুশাসন, সাম্য ও মানবিক মর্যাদার ভিত্তিতে একটি রাষ্ট্র গড়ে তুলতে তিনি সবার সহযোগিতাও কামনা করেছেন।
বিএনপির সরকার তিনটি বিষয়কে গুরুত্ব দিবে উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমরা তিনটি জিনিসকে সবচাইতে গুরুত্ব দিচ্ছি, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও দুর্নীতি নির্মূল করা।’
নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে শক্তিশালী গণতন্ত্র চর্চার ভিত্তি রচনা শুরু হয়েছে বলে মনে করেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, এই যাত্রা অব্যাহত থাকবে।
বিএনপির ৩১ দফার আলোকে রাষ্ট্র ও সংবিধানের সংস্কার করা হবে বলে জানান সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ইতিমধ্যে জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরিত হয়েছে, এটি একটি রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল, এটি অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হবে।
বিএনপির এই জয়কে বহুল প্রত্যাশিত উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ আশা প্রকাশ করেন বিজয়ীদের বিষয়ে বিকেলের মধ্যে নির্বাচন কমিশন (ইসি) প্রজ্ঞাপন জারি করবে।
সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও মর্যাদার ভিত্তিতে বিএনপির সরকার পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখবে। যেখানে সমতা ও পারস্পরিক সম্পর্কও গুরুত্ব পাবে বলে জানান তিনি।ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয় পাওয়া বিএনপির সরকার দেশ গড়ার ক্ষেত্রে মেধা ও প্রযুক্তিকে গুরুত্ব দেবে বলে জানিয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, আইনের শাসন, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও দুর্নীতি নির্মূলে প্রাধান্য দিয়ে কাজ করবে বিএনপি। যেখানে মেধা ও প্রযুক্তিনির্ভর দেশ গড়াকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
আজ শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন সালাহউদ্দিন আহমদ। সুশাসন, সাম্য ও মানবিক মর্যাদার ভিত্তিতে একটি রাষ্ট্র গড়ে তুলতে তিনি সবার সহযোগিতাও কামনা করেছেন।
বিএনপির সরকার তিনটি বিষয়কে গুরুত্ব দিবে উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমরা তিনটি জিনিসকে সবচাইতে গুরুত্ব দিচ্ছি, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও দুর্নীতি নির্মূল করা।’
নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে শক্তিশালী গণতন্ত্র চর্চার ভিত্তি রচনা শুরু হয়েছে বলে মনে করেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, এই যাত্রা অব্যাহত থাকবে।
বিএনপির ৩১ দফার আলোকে রাষ্ট্র ও সংবিধানের সংস্কার করা হবে বলে জানান সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ইতিমধ্যে জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরিত হয়েছে, এটি একটি রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল, এটি অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হবে।
বিএনপির এই জয়কে বহুল প্রত্যাশিত উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ আশা প্রকাশ করেন বিজয়ীদের বিষয়ে বিকেলের মধ্যে নির্বাচন কমিশন (ইসি) প্রজ্ঞাপন জারি করবে।
সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও মর্যাদার ভিত্তিতে বিএনপির সরকার পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখবে। যেখানে সমতা ও পারস্পরিক সম্পর্কও গুরুত্ব পাবে বলে জানান তিনি।
![]() |
| রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবি: সাজিদ হোসেন |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
রুমিন ফারহানা–তাহসিনা রুশদীর–শামা ওবায়েদসহ জয়ী হলেন ৭ নারী
নির্বাচনের ফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এবার নির্বাচনে মোট নারী প্রার্থীর সংখ্যা ৮৫। তাঁদের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৭ জন বিজয়ী হয়েছেন।
মানিকগঞ্জ-৩ (সাটুরিয়া, মানিকগঞ্জ পৌর ও জেলা সদরের ৮ ইউনিয়ন) আসনে বিএনপির প্রার্থী আফরোজা খানম ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৬৭ হাজার ৩৪৫ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মুহাম্মদ সাইদ নূর (রিকশা) পেয়েছেন ৬৪ হাজার ২৪২ ভোট।
ঝালকাঠি-২ (ঝালকাঠি সদর-নলছিটি) আসনের ১৪৭ কেন্দ্রে পোস্টাল ভোটসহ বিএনপি জোটের প্রার্থী ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো ধানের শীষ প্রতীক পেয়েছেন ১ লাখ ১৩ হাজার ১০০ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী এস এম নেয়ামুল করিম দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৬৯ হাজার ৮০৫ ভোট।
সিলেট-২ (বিশ্বনাথ ও ওসমানীনগর) আসনে ৭৯ হাজার ৩২১ ভোটের ব্যবধানে জয় পেয়েছেন ‘গুম’ হওয়া বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর (লুনা)। ধানের শীষের প্রার্থী তাহসিনা রুশদীর পেয়েছেন ১ লাখ ১৭ হাজার ৯৫৬ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১-দলীয় ঐক্য জোটের প্রার্থী খেলাফত মজলিসের মুহাম্মদ মুনতাছির আলী পেয়েছেন ৩৮ হাজার ৬৩৫ ভোট। সিলেট জেলার ছয়টি আসনের ৩৩ প্রার্থীর মধ্যে তাহসিনা রুশদীর একমাত্র নারী।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া–২ (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগর আংশিক) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানা (হাঁস প্রতীক) বড় ব্যবধানে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ১৭ হাজার ৪৯৫ ভোট। তিনি তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি জোটের প্রার্থী জমিয়তে উলামায়ের জুনায়েদ আল হাবিবের চেয়ে ৩৭ হাজার ৫৬৮ ভোট বেশি পেয়েছেন।
এ ছাড়া নাটোর-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী ফারজানা শারমিন, ফরিদপুর-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং ফরিদপুর–৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী নায়াব ইউসুফ আহমেদ বেসরকারিভাবে জয়ী হয়েছেন।
এবারের নির্বাচনে ৩০০ আসনে প্রার্থীর সংখ্যা ২ হাজার ১৭। ২০ জানুয়ারি প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিনের পর নির্বাচন কমিশন যে তালিকা দিয়েছে, সেই তালিকা অনুসারে, নারী প্রার্থীর সংখ্যা ৮৪। অর্থাৎ মোট প্রার্থীর মধ্যে নারী প্রার্থী মাত্র ৪ শতাংশ। দলের হয়ে প্রার্থী হয়েছেন ৬৬ জন নারী। আর স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন ১৯ জন। এর বাইরে ১ জন প্রার্থী হিজড়া জনগোষ্ঠীর।
নির্বাচন কমিশনে (ইসি) জমা দেওয়া নারী প্রার্থীদের হলফনামা পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে, নারী প্রার্থীদের ৬৪ জনই স্নাতক ও স্নাতকোত্তর, অর্থাৎ ৭৫ শতাংশই উচ্চশিক্ষিত। ২৫ থেকে ৩৯ বছর বয়সী প্রার্থীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি, ৩২। পেশাগত বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রায় ৬৭ শতাংশ নারী কর্মজীবী।
![]() |
| আফরোজা খানম, ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো, তাহসিনা রুশদীর, রুমিন ফারহানা, ফারজানা শারমিন, শামা ওবায়েদ ইসলাম ও নায়াব ইউসুফ আহমেদ (ওপরের সারির বাঁ দিক থেকে) ছবি: কোলাজ |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
২০ কিলোমিটার দূরে ভোটকেন্দ্র, যেতে হয় হেঁটে by বুদ্ধজ্যোতি চাকমা
একই অবস্থা বান্দরবানের লামা উপজেলার গজালিয়া ইউনিয়নের দোলাপাড়া, তাংখুংপাড়া, মংহ্লাপাড়ার ভোটারদেরও। তাংখুংপাড়ার বাসিন্দা লাং রাও ম্রো জানান, তাঁদের আট কিলোমিটার হেঁটে জিন্দাবটপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে ভোট দিতে যেতে হয়।
কেবল মেনদুই ম্রো ও রাও ম্রো নয়, বান্দরবানের অন্তত তিনটি উপজেলার দুর্গম অনেক এলাকার বাসিন্দাদেরই ভোটকেন্দ্রে যেতে হয় দীর্ঘ পথ হেঁটে। অনেক ক্ষেত্রে কিছুদূর গিয়ে সড়কপথ থাকলেও ভোটের দিন যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়তে হয় এই ভোটারদের। ফলে এসব এলাকার ভোটারদের কেন্দ্রে নিয়ে আসাও চ্যালেঞ্জ হতে পারে বলে সম্প্রতি উঠে এসেছে নির্বাচন কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নিয়ে আয়োজিত এক পর্যালোচনা সভায়।
বান্দরবানের চিম্বুক পাহাড়ের বাবুপাড়ার বাসিন্দাদের একজন ৭৭ বছর বয়সী মেননী ম্রো। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দিতে হলে তাঁকে পাহাড় ও ঝিরি-ঝরনা পেরিয়ে হেঁটে যেতে হবে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরের মুরংবাজারে। ভোটকেন্দ্রে পৌঁছাতে সময় লাগবে প্রায় তিন ঘণ্টা। অবশ্য পাড়া থেকে কিছুদূরে গিয়ে গাড়ি চলাচলের রাস্তা রয়েছে। তবে ভোটের দিন যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় হাঁটা ছাড়া উপায় নেই তাঁর। এ অবস্থায় এত দূর পথ পাড়ি দিয়ে ভোট দিতে যাওয়া নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন বলে জানালেন মেননী ম্রো।
জেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বান্দরবান আসনে ভোটকেন্দ্র রয়েছে ১৮৬টি। এর মধ্যে অতিদুর্গম কেন্দ্র ৩৮টি, যেখানে মুঠোফোনের নেটওয়ার্কও নেই। এসব কেন্দ্রের অধিকাংশে সড়ক যোগাযোগ নেই, কোনোটিতে সীমিত আকারে রয়েছে। ভোটারদের পায়ে হেঁটে কেন্দ্রে আসতে হয়।
বান্দরবানের ৩০টি ভোটকেন্দ্রে কিছুদূর পায়ে হেঁটে এবং এরপর সড়কপথে যানবাহনে যাতায়াত করা সম্ভব। কিন্তু ভোটের দিন যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় হেঁটেই যেতে হয় ভোটারদের। আসনের অন্তত ৫০টি ভোটকেন্দ্রে বিদ্যুতের ব্যবস্থা নেই।
নির্বাচন কর্মকর্তারা জানান, বান্দরবানে অনেকটা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ১১টি ভোটকেন্দ্রে ভোট গ্রহণে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারী, ব্যালট পেপারসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পাঠানো হয় হেলিকপ্টারে করে। ওই কেন্দ্রগুলোকে ‘হেলিসটি’ কেন্দ্র বলা হয়। তবে সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা সম্প্রসারিত হওয়ায় আগের চেয়ে ‘হেলিসটি’ কেন্দ্র কমে এসেছে। আগে বান্দরবানে ১৫ থেকে ১৮টি ‘হেলিসটি’ কেন্দ্র ছিল।
দুর্গম এলাকার স্থানীয় কয়েকজন জনপ্রতিনিধি বলেন, ভোটকেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি বাড়ানোর জন্য দুর্গম এলাকার বাসিন্দাদের ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনের আলাদা ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। এ ক্ষেত্রে ভোটারদের চিহ্নিত করে তাঁদের যাতায়াতের সুবিধা নিশ্চিত করা যায়। প্রয়োজনে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থাও কমিশন থেকে করা যেতে পেরে। নির্বাচন কমিশন এই ব্যবস্থা না নেওয়ায় অনেক সময় প্রার্থীরা ‘অনৈতিকভাবে’ এসব সুবিধা ভোটারদের জন্য নিশ্চিত করেন, যা নিয়ে সমালোচনা হয়।
বান্দরবানের অতিরিক্ত জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আবদুল শুক্কুর বলেন, জেলায় দুর্গম কেন্দ্রের সংখ্যা বেশি থানচি, রুমা ও রোয়াংছড়ি উপজেলায়। থানচি উপজেলা সদর থেকে ৬৫ কিলোমিটার দূরে সর্বশেষ ভোটকেন্দ্র বড় মদক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
থানচির জনপ্রতিনিধিরা জানান, রেমাক্রী ইউনিয়নের বড় মদক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে মিয়ানমারের সীমান্তসংলগ্ন পানঝিরি, লৈইক্রী ও আন্ধারমানিক থেকে বাসিন্দারা ভোট দিতে আসেন। এ ক্ষেত্রে ইঞ্জিনচালিত নৌকা ভাড়া করলে জনপ্রতি এক হাজার টাকা খরচ হয়। এক রাত থাকা-খাওয়ার খরচসহ প্রায় দুই হাজার টাকা প্রয়োজন। তিন্দু ইউনিয়নের প্রতিটি কেন্দ্রেরও একই রকম অবস্থা।
নির্বাচন–সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বান্দরবানে ভোটার উপস্থিতি নিশ্চিত করে নির্বাচন আয়োজনের জন্য ১০টি চ্যালেঞ্জ শনাক্ত করা হয়েছে। সেগুলোর মধ্যে দুর্গম এলাকার ভোটকেন্দ্রে ভোটার নিয়ে আসা, আঞ্চলিক দলগুলোর সশস্ত্র কার্যক্রম, মুঠোফোন নেটওয়ার্কহীন ও বিদ্যুৎবিহীন কেন্দ্রের ফলাফল দ্রুত পৌঁছানোর বিষয়টি রয়েছে।
জানতে চাইলে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুল আলম বলেন, চ্যালেঞ্জগুলো প্রকৃত নয়, অনুমিত। এ পর্যন্ত এসব বিষয়ে কোনো প্রার্থী অভিযোগ করেননি। তবে এটা ঠিক, দুর্গম কেন্দ্রগুলোতে ভোটার উপস্থিতির কিছুটা চ্যালেঞ্জ আছে।
রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক শামীম আরা রিনি বলেন, দুর্গম এলাকার ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের যাতায়াতের সমস্যার ব্যাপারে আলাপ চলছে। বিষয়টি নির্বাচন কমিশনে জানানো হবে। নির্বাচন কমিশন থেকে যাতায়াতের ব্যবস্থা করা এত স্বল্প সময়ে সম্ভব নয়, তবে এলাকার বাস্তবতায় সীমিত পরিসরে যানবাহন চালু রাখা যায় কি না, নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলাপ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
| বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়। ফাইল ছবি |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
অস্ট্রেলিয়ার বিরোধী দলের নেতৃত্বে বড় পরিবর্তন, নতুন নেতা অ্যাঙ্গাস টেইলর
অ্যাঙ্গাস টেইলরের এই জয়ের পরপরই সুসান লি রাজনীতি থেকে সম্পূর্ণ অবসর নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। ২০০৯ সাল থেকে নিউ সাউথ ওয়েলসের ‘ফারের’ আসনটি তাঁর দখলে ছিল। সুসান লি বলেছেন, তিনি এখন তাঁর পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে চান এবং নিজের আজীবনের শখ বিমান চালনায় আরও বেশি মনোনিবেশ করতে চান। তাঁর এই আকস্মিক বিদায়ে ওই আসনে এখন উপনির্বাচন অনিবার্য হয়ে পড়েছে।
এদিকে দলের উপনেতা নির্বাচিত হয়েছেন ভিক্টোরিয়ার সিনেটর জেন হিউম। তিনি টেড ও’ব্রায়েনকে ৩০-২০ ভোটে পরাজিত করেন।
নতুন নেতৃত্ব অস্ট্রেলিয়ার স্থানীয় সময় আজ বিকেলেই গণমাধ্যমের সামনে তাঁদের আগামীর কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন। জেন হিউম বলেন, তাঁরা লিবারেল পার্টিকে বাম বা ডানের সংকীর্ণতায় না আটকে বরং সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চান। নতুন নেতা অ্যাঙ্গাস টেইলর সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় ও আবাসনসংকটের মতো মৌলিক সমস্যাগুলো সমাধানে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার অঙ্গীকার করেন।
সংবাদ সম্মেলনে অভিবাসন নীতি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে টেইলর বলেন, অস্ট্রেলিয়ার স্বার্থ রক্ষায় একটি স্বচ্ছ অভিবাসনব্যবস্থা প্রয়োজন। তাঁর মতে, যারা এ দেশের মূল্যবোধে বিশ্বাস করে, তারাই প্রকৃত অর্থে এ দেশের সম্পদ। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তিনি দলের নতুন অভিবাসন নীতি প্রকাশ করবেন বলে জানান।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, সুসান লির বিদায়ের ফলে শূন্য হওয়া ফারের আসনের উপনির্বাচন হবে অ্যাঙ্গাস টেইলরের জন্য প্রথম বড় পরীক্ষা। একদিকে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য হেলেন ডাল্টন এবং অন্যদিকে কট্টর ডানপন্থী দল ওয়ান নেশনের বার্নাবি জয়েস এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ইঙ্গিত দিয়েছেন। সব মিলিয়ে অস্ট্রেলিয়ার রাজনীতিতে এখন নতুন এক মেরুকরণের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
![]() |
| অস্ট্রেলিয়ার বিরোধী দল লিবারেল পার্টির নতুন নেতা অ্যাঙ্গাস টেইলর ও উপনেত্রী জেন হিউম। ছবি: অ্যাঙ্গাস টেইলরের ফেসবুক থেকে |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ এগিয়ে আছে
২৯৯টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ৫৬টি আসনে গণভোটের আংশিক ফলাফল গতকাল রাত একটা পর্যন্ত জানা গেছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন গতকাল বৃহস্পতিবার জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান-সম্পর্কিত প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নে গণভোটও অনুষ্ঠিত হয়।
যে ৫৬টি সংসদীয় আসনের গণভোটের ফলাফল জানা গেছে, তাতে মাত্র দুটি আসন (রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি) ছাড়া বাকি সব কটিতে ‘হ্যাঁ’ ভোট এগিয়ে আছে।
নেত্রকোনা জেলার পাঁচটি নির্বাচনী আসনে মোট ভোটার ২০ লাখ ৪৪ হাজার ৭৩৬ জন। জেলার ৬৭৬টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৬৬৫টির গণভোটের ফলাফলে দেখা যায়, ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ৫ লাখ ৮৯ হাজার ২৮৩টি। আর ‘না’ ভোট পড়েছে ৩ লাখ ৫৯ হাজার ৭৪৭টি।
একইভাবে কুমিল্লা-১ (দাউদকান্দি-মেঘনা) আসনে ১৪৬টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১০৩টির ফলাফল পাওয়া গেছে। এখানে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট পেয়েছে ১ লাখ ১৩ হাজার ১৪টি। আর ‘না’ ভোট পেয়েছে ৩৮ হাজার ৫৪৬টি।
ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল) আসনে ‘হ্যাঁ’ ভোট পেয়েছে ৯৪ হাজার ৬০৫টি। ‘না’ ভোট পেয়েছে ২৭ হাজার ৪৯৭টি। ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনে ‘হ্যাঁ’ ভোট পেয়েছে ৫১ হাজার ৮৭৫টি। ‘না’ ভোট পেয়েছে ২৫ হাজার ৪০১টি।
রাজশাহী–১ আসনেও ‘হ্যাঁ’ ভোট এগিয়ে আছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ আসনে ‘হ্যাঁ’ ৪০ হাজার ৬১১ ভোট পেয়ে এগিয়ে আছে। এখানে ‘না’ পেয়েছে ১৩ হাজার ৯২৯ ভোট।
এর বাইরে হবিগঞ্জ–১, পাবনা–২, পটুয়াখালী–১, কুমিল্লা–১, ৭ ও ৮, পিরোজপুর–২, জয়পুরহাট–২, বাগেরহাট– ১ ও ৩, চট্টগ্রাম–১, ৭, ১৪ ও ১৫, ফেনী–২ ও ৩ এবং চাঁদপুর–৩ আসনে গণভোটের সর্বশেষ ফলাফল অনুযায়ী, ‘হ্যাঁ’ এগিয়ে আছে।
অবশ্য রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি—এই দুটি সংসদীয় আসনে গত রাত ১টা পর্যন্ত পাওয়া সর্বশেষ ফলাফলে (আংশিক) ‘হ্যাঁ’ ভোট পিছিয়ে আছে। রাঙামাটির ২১৪টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৭৪টির ফলাফল পাওয়া গেছে। এতে দেখা যায়, ‘হ্যাঁ’ পেয়েছে ২২ হাজার ৮৬৮ ভোট। আর ‘না’ পেয়েছে ৬১ হাজার ২৬২ ভোট।
অন্যদিকে খাগড়াছড়ির ২০৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ৪১টি কেন্দ্রের ফলাফল পাওয়া গেছে। এখানেও ‘হ্যাঁ’ পিছিয়ে আছে। ‘হ্যাঁ’ পেয়েছে ৩০ হাজার ৬৬৫ ভোট। আর ‘না’ পেয়েছে ৩১ হাজার ৭৬ ভোট।
‘হ্যাঁ’ জিতলে কী হবে
গণভোটে হ্যাঁ জয়ী হলে সংস্কার প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নের পথ খুলবে। এতে প্রধানমন্ত্রীর একচ্ছত্র ক্ষমতা কিছুটা কমার পাশাপাশি রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা কিছু ক্ষেত্রে বাড়বে। সাংবিধানিক পদে নিয়োগ হবে ক্ষমতাসীন দল, বিরোধী দল ও ক্ষেত্রবিশেষে বিচার বিভাগের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত কমিটির মাধ্যমে। বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী, প্রায় সব নির্বাহী কর্তৃত্ব প্রধানমন্ত্রীর হাতে ন্যস্ত। প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগ ছাড়া রাষ্ট্রপতিকে অন্য যেকোনো কাজ করতে হয় প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী।
এ ছাড়া কোনো বিষয়ে সংসদে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যদের স্বাধীনতার আওতা বাড়বে। সব মিলিয়ে রাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য তৈরির সম্ভাবনা বাড়বে।
হ্যাঁ ভোট জয়ী হলে আগামী সংসদ হবে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট। সংবিধান সংশোধন পদ্ধতিতে পরিবর্তন আসবে। কোনো একটি দলের চাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে সংবিধান সংশোধন করা কঠিন হবে।
জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়। এরপর সরকার রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কারের অঙ্গীকার করে। এ লক্ষ্যে ২০২৪ সালের অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে সংবিধান, নির্বাচনব্যবস্থা, বিচার বিভাগ, দুর্নীতি দমন কমিশন, পুলিশ ও জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন গঠন করে। এরপর আরও কয়েকটি খাতে সংস্কারের সুপারিশ দিতে কমিশন করা হয়।
প্রথমে গঠন করা ছয়টি সংস্কার কমিশনের সুপারিশগুলোর মধ্যে ১৬৬টিকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এগুলো নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ঐকমত্য তৈরির লক্ষ্যে গত বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের কার্যক্রম শুরু হয়। ৩০টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কমিশনের দীর্ঘ আলোচনা শেষে ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাবে ঐকমত্য ও সিদ্ধান্ত হয়। এগুলো নিয়ে তৈরি করা হয়েছে জুলাই জাতীয় সনদ। এই প্রস্তাবগুলোর মধ্যে ৪৮টি সংবিধান–সম্পর্কিত। অন্য প্রস্তাবগুলো সরকারি আদেশ, অধ্যাদেশ জারি বা আইন বিধি করে বাস্তবায়ন সম্ভব। বিভিন্ন সংস্কার কমিশনের কিছু প্রস্তাব ইতিমধ্যে বাস্তবায়ন করেছে অন্তর্বর্তী সরকার।
কিন্তু সংবিধান–সম্পর্কিত প্রস্তাবগুলো অধ্যাদেশ বা কোনো আদেশের মাধ্যমে বাস্তবায়নের সুযোগ নেই। জুলাই জাতীয় সনদে থাকা সংবিধান–সম্পর্কিত এই ৪৮টি সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে গতকাল অনুষ্ঠিত হয় গণভোট। এসব প্রস্তাবের মধ্যে ১৯টি মৌলিক সংস্কার প্রস্তাব হিসেবে চিহ্নিত করেছিল জাতীয় ঐকমত্য কমিশন।
মূলত সংবিধান–সম্পর্কিত প্রস্তাবগুলোর বাস্তবায়নে তিনটি স্তর। প্রথমত, আইনি ভিত্তি দিতে আদেশ জারি। গত ১৩ নভেম্বর জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ জারি করেন রাষ্ট্রপতি।
বাস্তবায়নের দ্বিতীয় স্তরে হয়েছে গণভোট। এই গণভোট হয়েছে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ এবং জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান সংস্কার–সম্পর্কিত অংশ নিয়ে।
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে তৃতীয় স্তর শুরু হবে। এ ক্ষেত্রে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করা হবে। সংসদ সদস্যরা একই সঙ্গে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। সংস্কার পরিষদ প্রথম অধিবেশন শুরুর তারিখ থেকে ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে জুলাই জাতীয় সনদ এবং গণভোটের ফলাফল অনুসারে সংস্কার সম্পন্ন করবে। তবে পরিষদ নির্দিষ্ট সময়ে সংবিধান সংস্কার না করলে কী হবে, তা বাস্তবায়ন আদেশে উল্লেখ নেই।
সংস্কার প্রস্তাব অনুযায়ী, এক ব্যক্তি জীবনে সর্বোচ্চ ১০ বছর প্রধানমন্ত্রী পদে থাকতে পারবেন। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী পদে আসীন ব্যক্তি একই সঙ্গে দলীয় প্রধানের পদে থাকবেন না, এমন বিধানও প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে এই প্রস্তাব নিয়ে বিএনপির ভিন্নমত ছিল।
এখন প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে রাষ্ট্রপতিকে কাজ করতে হয়। তবে জুলাই সনদের প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে মানবাধিকার কমিশন, তথ্য কমিশন, প্রেস কাউন্সিল, আইন কমিশন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এবং এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে কারও পরামর্শ বা সুপারিশ ছাড়াই নিজ এখতিয়ারে রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দিতে পারবেন।
জুলাই সনদে আইনসভা বা সংসদকে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট করা এবং উচ্চকক্ষে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতিতে গঠন করার প্রস্তাব করা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, সংবিধান সংশোধন করতে নিম্নকক্ষের দুই–তৃতীয়াংশ এবং উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সমর্থন লাগবে।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আওয়ামী লীগের দমন-পীড়নের কারণে জামায়াতের উত্থান: মির্জা ফখরুল
জামায়াতে ইসলামীর উত্থান সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিএনপির মহাসচিব বলেন, দীর্ঘ ১৫ বছর ফ্যাসিস্ট শাসনের ফলে এটা হয়েছে। এটা একটা বিজ্ঞান, পলিটিক্যাল সায়েন্সের একটা অংশ। যখনই গণতন্ত্র চাপা থাকে, মানুষের কণ্ঠ রোধ করা হয়, তখন উগ্রবাদী শক্তিগুলো মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে থাকে—সেটাই এ দেশে ঘটেছে। আজকে জামায়াতের যেটুকু উত্থান হয়েছে, তা আওয়ামী লীগের কারণেই হয়েছে। তাদের দমন–পীড়নমূলক শাসন, বিরোধী দলকে কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে না দেওয়া, নির্বাচন করতে না দেওয়ার কারণে এটা হয়েছে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমি অত্যন্ত কনফিডেন্ট, বাংলাদেশের জনগণ ইতিমধ্যে তাদের (জামায়াত) রিজেক্ট করেছে। বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে গেছে। জনগণ আবারও সুষ্ঠু, সৎ ও জনকল্যাণমূলক রাজনীতির মধ্য দিয়ে তাদের অপপ্রবণতাগুলোকে রুখে দিতে সক্ষম হবে।’ বিএনপির রাষ্ট্র সংস্কারের কথা, প্রতিশ্রুতি ও পয়েন্টগুলো জনগণ গ্রহণ করেছে বলে এই ‘ল্যান্ডস্লাইড ভিক্টোরি’ বলে তাঁর মত।
জাতীয় সরকার গঠন প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা সব সময় আমাদের কমিটমেন্টে অটল থাকি। আমরা বলেছিলাম ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে যাঁরা বিএনপির সঙ্গে রাস্তায় যুগপৎ আন্দোলন করেছেন, যাঁদের সঙ্গে নিয়ে নির্বাচন করেছি, তাঁদের সঙ্গে নিয়ে আমরা ইনশা আল্লাহ সরকার গঠন করব।’ জুলাই সনদ বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘জুলাই সনদের যেসব অংশে আমরা সই করেছি, এগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করতে থাকব। আমাদের যে ৩১ দফা আছে, সেগুলো পর্যায়ক্রমে কার্যকর করব।’
রংপুর বিভাগে জামায়াতে ইসলামীর বেশি আসন পাওয়া প্রসঙ্গে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘এটার বিভিন্ন কারণ আছে। বৃহত্তর দিনাজপুরে কিন্তু জামায়াত একটাও আসন পায়নি। বৃহত্তর দিনাজপুরে ৩টি জেলা, ১১টি আসন। সেই আসনগুলো বিএনপি পেয়েছে। আমরা আশাবাদী, আমরা যদি জনগণের সঙ্গে ইন্টারঅ্যাক্ট করতে পারি, রাজনৈতিক-সাংগঠনিকভাবে যদি কাজ করতে পারি, অবশ্যই এই প্রবণতাকে দূর করতে পারব।’
এ সময় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী, সাবেক সহসভাপতি আবু তাহের, পৌর বিএনপির সভাপতি শরিফুল ইসলামসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
![]() |
| বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আজ শুক্রবার সকালে ঠাকুরগাঁওয়ে তাঁর বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। ছবি: প্রথম আলো |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
এনসিপির কোন প্রার্থী কোন আসনে জয়ী হলেন
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের দল এনসিপি। আজ শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত পাওয়া বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী, দলটির যে ছয় প্রার্থী হয়েছেন, তাঁরা হলে—নাহিদ ইসলাম, আখতার হোসেন, হাসনাত আবদুল্লাহ, আবদুল হান্নান মাসউদ, আবদুল্লাহ আল আমিন ও আতিকুর রহমান মোজাহিদ।
গতকাল বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়। আজ দুপুর ১২টা নাগাদ পাওয়া তথ্যে বেসরকারি ফলাফলে বিএনপি ও তার মিত্ররা ১৮২টি আসনে বেসরকারিভাবে জয়ী হয়েছে। জামায়াত ও তার মিত্ররা জয়ী ৬৯টি আসনে। এর মধ্যে এনসিপি জয়ী ৬টি আসনে।
ঢাকা-১১ আসনে নাহিদ ইসলাম
ঢাকা-১১ আসনের বেসরকারি ফলাফলে জয়ী হয়েছেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। এই আসনে শাপলা কলি প্রতীকে তিনি ৯৩ হাজার ৮৭২ ভোট পেয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী এম এ কাইয়ুম। তিনি পেয়েছেন ৯১ হাজার ৮৩৩ ভোট। অর্থাৎ নাহিদ ইসলাম ২ হাজার ৩৯ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। এই আসনে পোস্টাল ভোটসহ ১৬৩টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ হয়। ভোটের হার ছিল ৪৫ শতাংশ। আসনটির মোট ভোটার ৪ লাখ ৩৯ হাজার ৭৫ জন। এর মধ্যে ভোট দিয়েছেন ১ লাখ ৯৬ হাজার ৩৭০ জন। ভোট বাতিল হয়েছে ৩ হাজার ৫১৭টি। সেই হিসাবে বৈধ ভোট ১ লাখ ৯২ হাজার ৮৫৩টি।
রংপুর-৪ আসনে আখতার হোসেন
রংপুর-৪ আসনে এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন বেসরকারি ফলাফলে বিজয়ী হয়েছেন। শাপলা কলি প্রতীক নিয়ে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৪৯ হাজার ৯৬৬ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির এমদাদুল হক ভরসা। ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৪০ হাজার ৫৬৪ ভোট। আর জাতীয় পার্টির প্রার্থী আবু নাসের শাহ মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৬৬৪ ভোট। ৫ লাখ ৯ হাজার ৯০৬ ভোটারের এই আসনে মোট ভোটকেন্দ্র ছিল ১৬৪টি। ভোট পরার শতকরা হার ৬৪ দশমিক ৩৫।
কুমিল্লা-৪ আসনে হাসনাত আবদুল্লাহ
কুমিল্লা-৪ আসনে এনসিপির মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ জয়ী হয়েছেন। শাপলা কলি প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৬৬ হাজার ৫৮৩ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি-সমর্থিত গণ অধিকার পরিষদের প্রার্থী জসিম উদ্দিন। তিনি ট্রাক প্রতীকে ৪৯ হাজার ৮৮৫ ভোট পেয়েছেন।
নোয়াখালী-৬ আসনে আবদুল হান্নান মাসউদ
নোয়াখালী-৬ আসনে বেসরকারিভাবে জয়ী হয়েছেন এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ। তিনি পেয়েছেন ৯১ হাজার ৮৯৯ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মাহবুবের রহমান পেয়েছেন ৬৪ হাজার ২১ ভোট।
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে আব্দুল্লাহ আল আমিন
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল আমিন ১ লাখ ৬ হাজার ১৭১ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির শরিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের প্রার্থী মনির হোসেন কাসেমী। তিনি পেয়েছেন ৮০ হাজার ৬১৯ ভোট।
কুড়িগ্রাম-২ আসনে আতিকুর রহমান মোজাহিদ
কুড়িগ্রাম-২ আসনে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক আতিকুর রহমান মোজাহিদ ১ লাখ ৭৮ হাজার ৮৬৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৭০ হাজার ৩৩৫ ভোট।
![]() |
| (ওপরে বাঁ থেকে) নাহিদ ইসলাম, আখতার হোসেন, হাসনাত আবদুল্লাহ; (নিচে বাঁ থেকে) আবদুল হান্নান মাসউদ, আবদুল্লাহ আল আমিন ও আতিকুর রহমান মোজাহিদ। কোলাজ |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আয়েশি ভোটার, সরস্বতীর দৃঢ়তা ও হাদিকে ভুলতে না পারা মানুষ by রাফসান গালিব
রিকশায় করে ঘুরতে ঘুরতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস হয়ে পুরান ঢাকা পৌঁছে গেলাম। এরই মধ্যে এক নতুন ভোটারের সঙ্গে দেখাও হয়ে গেল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র খন্দকার গোলাম মওলা। তিনি জানালেন, প্রথম ভোটের উত্তেজনায় সারা রাত ঘুমাতে পারেননি। সকালে কয়েক জায়গায় ফোনও দিয়েছেন ভোটকেন্দ্রে গিয়ে কী করবেন, কীভাবে ভোট দেবেন। প্রথম ভোটারের ভোট দেওয়ার এ উত্তেজনা ও আনন্দ দেখার মতোই।
মাঘ মাস শেষ হতে আর এক দিন বাকি। এরপর বসন্ত। কার্জন হল দিয়ে যেতে যেতে কোকিলের ডাক ভেসে এল কানে। আরামদায়ক এক রোদ্দুরে দিন। পুরান ঢাকার নাজিরাবাজার এলাকায় ঢুকতেই অন্য এক পরিবেশ। ভোটের আমেজে হুমড়ি খাওয়ার দশা। মহল্লায় মহল্লায় উৎসব লেগে গেছে যেন। দোকানপাট সব বন্ধ। কাচ্চির ঘ্রাণও নেই। ফলে মানুষের ভিড় হওয়ার কথাও নয়। কিন্তু ভোটের দিন গলিঘুপচির সব মানুষ যেন বের হয়ে এসেছেন রাস্তায়।
একদিকে বাপ-চাচাদের গ্রুপের আড্ডা। আরেক দিকে তরুণদের আড্ডা। ভোট দিতে-আসতে দেখা হয়ে যাওয়ার আড্ডা। ভোটকেন্দ্রগুলোর সামনে ভিড়, লম্বা লাইন। কোথাও কোনো ধাক্কাধাক্কি নেই। সুশৃঙ্খল বলতে আক্ষরিক অর্থে যা বোঝায়, তা-ই। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সদা সতর্কতায়। রাস্তায় কয়েক মিনিট পরপর সেনা টহল। পুরান ঢাকার ছোট অলিগলিতে মানুষের আড্ডা আর ভিড়ের কারণেও সেনা টহলের গাড়ি থেমে যায় অবস্থা।
বেলা দুইটা বাজে প্রায়। এ সময় ভোটকেন্দ্র কিছুটা ফাঁকা থাকার কথা। কিন্তু পুরান ঢাকার নিয়ম তো ভিন্নই হবে! নাজিরাবাজার চৌরাস্তায় এক চিপা গলির মুখে ঘিঞ্জি ভবনের ভেতর এক মাদ্রাসায় ভোটকেন্দ্রে ঢুকে প্রিসাইডিং কর্মকর্তার সঙ্গে কথা হলো। তিনি বললেন, ‘সকালে কম ভোটার ছিল। বোঝেন তো, পুরান ঢাকা। এরা হচ্ছে আয়েশি মানুষ। সারা রাত জমজমাট। সকালবেলা ঘুমায়। যে কারণে দুপুরবেলা ভিড় বেড়ে গেছে।’ ভোটারের চাপে বেচারা বেশিক্ষণ কথাও বলতে পারলেন না।
বাইরে লাইনে দাঁড়ানো নারী ভোটারদের সঙ্গে কথা হলো। নীলুফার ইয়াসমিন নামের এক তরুণী জানালেন, ভোটার হয়েছেন আগেই। কিন্তু ভোট দিলেন এবার প্রথম। আগেরবার ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকলেও দেননি। ভোট দেওয়ার মতো পরিবেশ ছিল না।
কেন্দ্রে কেন্দ্রে ঘুরতে ঘুরতে খিদেই মোচড় দিয়ে উঠল পেট। পুরান ঢাকায় এলাম আর কাচ্চি বা তেহারি না খেয়ে ফিরতে হবে, এটি কেমন হয়! তা–ও কয়েকজনের কাছে জানতে চাইলাম, কোথায় কাচ্চির দোকান খোলা আছে। কেউ কয় ওই দিকে, কেউ কয় অন্যদিকে। খোঁজ দ্য সার্চ ফর কাচ্চি। এদিক-ওদিক দৌড়াদৌড়ি করে একটা দোকান পাওয়া গেল অবশেষে। অর্ধেক শাটার নামানো। বসে খাবারের ব্যবস্থা রাখেনি। শুধু প্যাকেট সার্ভিস। সেখানে দাঁড়িয়েই খেতে হলো। পুরান ঢাকার মহল্লার তেহারি। তৃপ্তিভরেই খাওয়া গেল। আরেকজনের সঙ্গে মজাও করা গেল—ভোটকেন্দ্রের কাছে টাকা দিয়ে তেহারি খেতে হয়, এমন নির্বাচন কি আমরা চেয়েছিলাম!
খাওয়াদাওয়া শেষে আরেক কেন্দ্রের ঢুকলাম—বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান উচ্চবিদ্যালয়। স্কুল গেট দিয়ে ঢুকেই দেখা মেল এল আকৃতিতে বিশাল দুই ভবন। সামনে মোটামুটি বড় একটা খেলার মাঠ। এই এলাকার সবচেয়ে বড় কেন্দ্র। দুই ভবনে অনেকগুলো বুথ। সব বুথের সামনেই লম্বা লাইন। মানুষ ভোট দিতে আসছেন, ভোট দিয়ে ফেরত যাচ্ছেন। অন্যবারের মতো ডামি ভোটের লাইনের কারবার নেই কোনো। পঞ্চাশের কাছাকাছি বয়সের ওভারসিজ ব্যবসায়ী মাসুদ রানা বললেন, ‘অনেকবার ভোট দিয়েছি, এবারের মতো সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণ ভোট আগে কখনো দিইনি।’
পুরুষদের বুথের দিকে গিয়ে লাইনে দাঁড়ানো নতুন ভোটার তরুণ পোলাপানের উচ্ছ্বাস দেখে ভালোই লাগল। আরেক ভবনে নারীদের বুথ। সিঁড়ি দিয়ে উঠতে উঠতে নারী ভোটারদের সঙ্গে কথা হলো। দোতলায় উঠে একটি টুলে বসে আছেন দুজন। নাম জিজ্ঞাসা করলাম। সরস্বতী ও চান্দা রানী। কাছেই মেথরপট্টির বাসিন্দা। একজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি হলে চাকরি করেন। সরস্বতী নতুন শাড়ি পরে এসেছেন। নাকে নোলক। মুখে আদুরে হাসি। তাঁদের সঙ্গে কথা হলো। সরস্বতী বললেন, ‘কোনো ভোটই বাদ দেই না। কেউ ভয়ডর দেখালেও লাভ নেই। বাঁচলে বাঁচব, মরলে মরব।’ শত আকাঙ্ক্ষার মধ্যে অপ্রাপ্তি ও হতাশার বেড়াজালে সরস্বতীদের এমন দৃঢ়তাই আমাদের আশাবাদী করে তোলে।
বুথের রুমে ঢুকলাম। বাইরের লাইন থেকে একসঙ্গে কয়েকজন কয়েকজন করে ভেতরে নিয়ে আসছেন স্বেচ্ছাসেবকেরা। ভোট দেওয়ার পর্দা ঢাকা কোনার আগে কয়েকজন দাঁড়িয়ে আছেন। মাদ্রাসাপড়ুয়া বাচ্চাকে নিয়ে এসেছেন সোনিয়া আক্তার। বোরকা ও নেকাব পরা। তাঁর পেছনেই শাঁখা–সিঁদুরের সেতারা রানি। ছবি তুলতে চাইলে সেতারা রানী মাথার শাড়ি টেনে নিলেন। পেছনের জানালা দিয়ে পড়ন্ত বিকেলের রোদ এসে পড়ল ঠিক তাঁর মাথা বরাবর। কী সুন্দর একটা আবহ তৈরি হলো। পরনে নতুন ফুলেল শাড়ির উজ্জ্বলতা আরও বাড়িয়ে দিল।
এবার ফেরার পালা। ফায়ার ব্রিগেডের হেডকোয়ার্টারের পাশে আরেকটি ভোটকেন্দ্র দেখে থামলাম। এখানে ভোট দিতে আসছেন আর যাচ্ছেন ভোটাররা। বিভিন্ন প্রার্থীর নেতা-কর্মীরা রাস্তায় দাঁড়িয়ে গ্রুপ ছবি তুলছেন। কেন্দ্রে ঢোকার মুখেই এক পাশে সাত মাসের ঘুমন্ত শিশু কোলে এক যুবক দাঁড়িয়ে আছেন। মেহরাব হোসেন। ব্র্যাকের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। পড়াশোনা করেছেন মালয়েশিয়ায়। ভোট দিয়েছেন আরেক কেন্দ্রে। স্ত্রীর কেন্দ্র পড়েছে এ কেন্দ্রে। জানালেন, ২০১৮ সালে প্রথম ভোট দিয়েছেন। চব্বিশে ভোট দেননি। কারণ জানালেন—ফলাফল তো জানাই ছিল, ভোট দিয়ে তো লাভ নেই।
কেন্দ্রের ভেতরে দৈর্ঘ্যে লম্বা খোলা চত্বর। কেন্দ্রীয় ভেটেরিনারি হাসপাতাল পরিচালকের কার্যালয়। এক যুগল ভোটার ছবি তুলছেন। নতুন ভোটার এক তরুণীও আঙুলের ছাপের ছবি তুলছেন। ফেসবুকে দেবেন। তাঁর মা লিপি বেগমের সঙ্গে কথা বললাম। জানালেন, শান্তিমতো ভোট দিয়ে ভালো লাগছে তাঁর। চব্বিশে কেন্দ্রে এসেও ভোট দিতে পারেননি। বললেন, আগেই তাঁর ভোট কেউ দিয়ে দিয়েছিলেন।
চারটা বাজে প্রায়। ভোট গ্রহণের সময় শেষ হয়ে এল বলে। বিকেলটাও পড়ে এসেছে। আবার রিকশা নিয়ে অফিসের দিকে রওনা দিলাম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের ভেতর দিয়েই। টিএসসি ফেলে শাহবাগের দিকে জাতীয় কবি নজরুল ইসলামের কবরের সামনে থামতেই হলো। এখানেই কবর দেওয়া হয়েছে চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা তরুণ নেতৃত্ব শহীদ ওসমান হাদিকে। ভোটের দিনও মানুষ তাঁর কবর জেয়ারত করতে এসেছেন। লাইন ধরে কেউ দোয়া–দরুদ পড়ছেন, কেউ মোনাজাতে কান্না করছেন।
সেখানে হাসিবুল হাসান নামের এক যুবকের সঙ্গে কথা হলো। ব্যবসা করেন। ওসমান হাদির সঙ্গে অনেকবার দেখা হয়েছে। বললেন, ঢাকা কলেজের কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন। এরপর ছুটে এসেছেন হাদির কবর জেয়ারত করতে। বললেন, ‘বেঁচে থাকলে হাদি তো এ আসন থেকেই নির্বাচন করত। ভাই থাকত আজকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। গণতন্ত্রের লড়াইয়ের জন্য, একটা সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচনের জন্য লড়াই করে গেলেন। জীবনও দিয়ে দিলেন। আজকের দিনে মন মানছিল না। তাই তাঁর কবরের কাছে ছুটে এসেছি।’ সঙ্গে তাঁর চার বছর বয়সী মেয়ে। হাতে ফুলের তোড়া। মুখে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার মাস্ক।
নির্বাচনের প্রস্তুতির প্রচারণা চালিয়ে আলোড়ন তুলেছিলেন হাদি। কুড়িয়েছিলেন মানুষের ভালোবাসা। তফসিল ঘোষণার পরদিনই ঘাতকের গুলিতে গুরুতর আহত হলেন। এরপর তো মারাই গেলেন। মনে পড়ে, তফসিল ঘোষণার দিন হাদি ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছিলেন—নির্বাচন মোবারক। ঈদ উৎসবের মতো সেই নির্বাচন এসেছে ঠিকই। তাঁর সহযোদ্ধারা কেউ কেউ জিতেও এলেন। কিন্তু হাদি থাকল না। থাকতে দেওয়া হলো না। তাঁকে নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা যা-ই থাকুক, গণতান্ত্রিক যাত্রায় এমন এক উদ্যমী, প্রাণচঞ্চল, সাহসী তরুণকে মানুষ ভুলতে পারে না।
হাদির মৃত্যু ঘিরে শোককে ব্যবহার করে একটি সংঘবদ্ধ গোষ্ঠী দেশের বড় দুটি সংবাদমাধ্যমের ওপর নজিরবিহীন হামলা চালাল। হাদির হত্যাকাণ্ড ও সংবাদমাধ্যম পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা অন্তর্বর্তী সরকারের শাসনে বড় দাগই লাগিয়ে দিল।
এসব ভাবতে অফিসে ফেরা হলো। ভোটকেন্দ্রে ঘোরাঘুরি শেষ। এবার অপেক্ষার পালা। কে জেতে, কে হারে। গণতন্ত্রের পথে নতুন যাত্রা কেমন হবে?
* রাফসান গালিব, প্রথম আলোর সম্পাদকীয় সহকারী। ই–মেইল: rafsangalib1990@gmail.com
- মতামত লেখকের নিজস্ব
![]() |
| পুরান ঢাকার গলিতে ভোটকেন্দ্রে ভিড়। আরেক কেন্দ্রে বসে আছেন সরস্বতী ও চান্দা রানী। শহীদ ওসমান হাদির কবর জিয়ারত করছেন হাসিবুল হাসান। ছবি: লেখকের সৌজন্যে |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
পারমাণবিক ইস্যু: চুক্তিতে নমনীয় যুক্তরাষ্ট্র–ইরান
হাকান ফিদা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ মেনে নিতে আগ্রহী বলে মনে হচ্ছে, যা একটি ইতিবাচক দিক।
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইরান এখন বুঝতে পারছে যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছানো প্রয়োজন। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রও বুঝতে পারছে যে ইরানের কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তাদের ওপর জোর খাটানো এখন অর্থহীন।
পাল্টাপাল্টি অবস্থান
এ পর্যন্ত ওয়াশিংটন দাবি করে আসছিল যে ইরানকে তাদের ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ত্যাগ করতে হবে। উল্লেখ্য, ৯০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামকে সাধারণত পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির উপযোগী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
অন্যদিকে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান স্পষ্ট করে বলেছেন, তেহরান আর্থিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণসহ তাদের পারমাণবিক অধিকারের দাবিতে অনড় থাকবে।
তবে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মনে করেন, তেহরান ‘আন্তরিকভাবেই একটি প্রকৃত চুক্তিতে পৌঁছাতে চায়’। বিনিময়ে তারা সমৃদ্ধকরণের মাত্রায় বিধিনিষেধ এবং কঠোর পরিদর্শন ব্যবস্থা মেনে নিতে প্রস্তুত, যেমনটি তারা ২০১৫ সালের চুক্তিতে করেছিল।
কূটনৈতিক তৎপরতা
কূটনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে গত সপ্তাহে ওমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কূটনীতিকেরা আলোচনায় বসেন। যদিও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওই অঞ্চলে নৌবহর মোতায়েন করায় নতুন করে সামরিক উত্তেজনার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এমনকি গত মঙ্গলবার ট্রাম্প জানিয়েছেন, আলোচনা শুরুর প্রস্তুতির মধ্যেই তিনি মধ্যপ্রাচ্যে দ্বিতীয় একটি বিমানবাহী রণতরি পাঠানোর কথা ভাবছেন।
তবে হাকান ফিদান সতর্ক করে বলেছেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের এই আলোচনা যদি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পর্যন্ত বিস্তৃত করা হয়, তবে তা ‘যুদ্ধ ছাড়া আর কিছুই বয়ে আনবে না’।
ইসরায়েলের নাশকতা চেষ্টা
ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের চলমান আলোচনায় ইসরায়েল নাশকতার চেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ইরানের নীতিনির্ধারক আলী লারিজানি। তাঁর দাবি, এই আলোচনার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধ উসকে দিতে চাইছে ইসরায়েল।
গত শুক্রবার ওমানের মাসকাটে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। দ্বিতীয় দফা আলোচনার প্রস্তুতি চলাকালে গত বুধবার ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ওয়াশিংটনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে নেতানিয়াহু ইরানের সঙ্গে চুক্তির ক্ষেত্রে কিছু কঠোর ‘নীতিমালা’ প্রস্তাব করেন। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো না গেলেও তিনি ইরানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যেতে চান।
ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে অনড় তেহরান
তেহরান এখনো ওয়াশিংটনের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো প্রস্তাব পায়নি। লারিজানি বলেন, ‘পারমাণবিক অস্ত্র না বানানোর বিষয়ে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে একটি সাধারণ ঐকমত্য রয়েছে। তবে ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার কোনো সুযোগ নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।
পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি
যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় গত জুনের মতো আবারও হামলা চালায়, তবে ইরানও হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন লারিজানি। তিনি স্পষ্ট জানান, তেমন পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করবে তেহরান।
ওয়াশিংটন ও তেহরান পরবর্তী দফার আলোচনার কথা বিবেচনা করলেও এখন পর্যন্ত কোনো দিনক্ষণ চূড়ান্ত হয়নি। আলোচনা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অবশ্য মিশ্র সংকেত দিয়ে চলেছেন। প্রথম দফার আলোচনাকে ‘খুব ভালো’ হিসেবে বর্ণনা করলেও, ওয়াশিংটনের দাবি না মানলে সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকিও দিয়ে রেখেছেন তিনি।
![]() |
| ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা। ছবি: এআই দিয়ে তৈরি |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কুখ্যাত এপস্টিনের ‘পুরুষ ক্লাবে’ নারীদের কীভাবে দেখা হতো
ই–মেইলটি ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের এক শনিবার সন্ধ্যায় লেখা, যেখানে জেফরি এপস্টিন তাঁর আয়োজন করা একটি ডিনারের অতিথি তালিকা মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটসের সহকারীকে পাঠিয়েছেন।
ই–মেইলের শুরুতেই লেখা—‘বিলের জন্য যাঁরা।’ এরপর এপস্টিন লেখেন, সম্ভাব্য অতিথি: জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন, চলচ্চিত্র পরিচালক উডি অ্যালেন, কাতারের প্রধানমন্ত্রী, হার্ভার্ডের দুজন শিক্ষাবিদ, হায়াৎ হোটেলের ধনকুবের সিইও, হোয়াইট হাউসের একজন যোগাযোগবিষয়ক পরিচালক ও যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী।
এপস্টিন ১০ জন প্রভাবশালী পুরুষের নাম নেন, তারপর লেখেন ‘অ্যান হ্যাথওয়ে (সত্যিই)’। অ্যান হ্যাথওয়ের নাম লিখে ব্রাকেটে ‘রিয়েলি’ বা ‘সত্যি’ শব্দটি লিখে এপস্টিন এটা স্পষ্ট করে দিতে চেয়েছিলেন, তিনি মজা করছেন না।
কারণ, এপস্টিন যখন এই প্রস্তাব দেন, সে সময়ে একজন নারীও যে তাঁদের সঙ্গে ডিনারের টেবিলে বসতে পারেন, তা পুরুষদের কাছে খুবই অস্বাভাবিক বিষয় ছিল। এ কারণে একজন নারী থাকার বিষয়টির ওপর জোর দিতে গিয়ে এপস্টিন লিখতে বাধ্য হন—‘সত্যিই’।
অতিথি তালিকাটি খানিকটা অস্থিরভাবে শেষ হয়। এপস্টিন লেখেন, ‘ভিক্টোরিয়া সিক্রেট মডেলরা?’
এরপর এপস্টিন জিজ্ঞাসার সুরে লেখেন, ‘তালিকার ব্যক্তিদের মধ্যে কার সঙ্গে তিনি (বিল গেটস) সবচেয়ে বেশি আনন্দ পাবেন বলে আপনি মনে করেন?’
এপস্টিনের এসব নথিতে পুরুষের আধিপত্য প্রকাশ পেয়েছে। সেখানে এমন একটি জগতের চিত্র উঠে এসেছে, যেখানে শুধু পুরুষেরাই ধনী ও ক্ষমতাশালী, নারীরা নন।
এপস্টিনের ই–মেইলগুলো সারা বিশ্বের প্রভাবশালী ও ক্ষমতাবান পুরুষদের ব্যক্তিগত আচরণ প্রকাশ পেয়েছে—কীভাবে তাঁরা নেটওয়ার্ক তৈরি করেন, মজা করেন এবং তথ্য বিনিময় করেন। তাঁদের এই জগতে নারীরা কোণঠাসা হয়ে থাকেন। ধনী এই পুরুষেরা নারীদের রাখেন শুধু তাঁর ব্যস্ত দিনের সূচি গুছিয়ে দেওয়ার জন্য, টেবিলে খাবার সাজাতে, টেবিলে উপস্থিত থেকে তাঁদের বিনোদন দিতে আর পুরুষের যৌনসঙ্গী হতে।
এপস্টিন তাঁর নেটওয়ার্কে থাকা এক পুরুষকে যে ধরনের ই–মেইল পাঠাতেন, সেগুলো সাধারণত এ রকম হতো—‘নোবেল শান্তি পুরস্কার কমিটির প্রধান থরবজন ইয়াগল্যান্ড আমার সঙ্গে নিউইয়র্কে থাকবেন। হয়তো আপনার কাছে তাঁকে আকর্ষণীয় মনে হতে পারে।’
আর নারীদের পাঠানো ই–মেইলে এপস্টিন সাধারণ যৌনতাপূর্ণ কথা বলেছেন।
এপস্টিন–সংক্রান্ত এই বিশৃঙ্খল, বিস্তৃত ও কুৎসিত তথ্যভান্ডার নিয়ে যদি কেউ কয়েক দিন ঘাঁটাঘাঁটি করেন, তবে তিনি বুঝতে পারবেন, কীভাবে পুরুষতান্ত্রিক ব্যবস্থা আধুনিক বিশ্বকে শাসন করছে। এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্ঞান অর্জন করতে পারবেন। তিনি দেখতে পাবেন, কীভাবে পুরুষেরা একে অন্যের প্রশংসা করেন, পরস্পরকে সুবিধা দিয়ে এবং মাঝেমধ্যে একে অন্যের জন্য কী করেছেন, সে কথা মনে করিয়ে দিয়ে বিশ্বজুড়ে নিজেদের প্রভাব ধরে রাখেন।
নারীদের জন্যও এসব ফাইল আদতে অসাধারণ এক সুযোগ নিয়ে এসেছে। পুরুষতান্ত্রিক ওই সব আলোচনা, যেখানে নারীরা জায়গা পান না, এসব আলোচনায় পুরুষেরা নারীদের সম্পর্কে কী ভাবেন ও কী বলেন, তা এপস্টিনের নথিতে অনেকটাই উঠে এসেছে।
এপস্টিনের ফাইলে দুই দল মানুষের কথা বলা আছে। তার একটি দল হলো, পুরুষ। এই পুরুষেরা ধনী, প্রযুক্তি উদ্যোক্তা, ব্যাংকার, রাষ্ট্রনায়ক, রাজনীতিক, নেতা—এমন মানুষ, যাঁদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলা লাভজনক। কারণ, তাঁদের মাধ্যমে এপস্টিন নিজের প্রভাবের জাল আরও শক্ত ও বিস্তৃত করতে পারতেন।
আরেকটি দল হলো নারীরা। এপস্টিনের কাছে নারীরা তুচ্ছ এবং শুধুই যৌন বা বিনোদনসঙ্গী। নারীদের তিনি অর্থের বিনিময়ে সেবা দেওয়ার জন্য রাখতেন। সেখানে নারীদের কেবলই বস্তু হিসেবে উপস্থাপন করা হতো। এ কারণে এপস্টিন নারীদের দাঁত ঠিক করতে, ওজন কমাতে, যৌন সংক্রামক রোগের চিকিৎসা করাতে এবং মুখের আদল পরিবর্তন করতে বলতেন। যেমন ২০১৭ সালের জুলাইয়ে এপস্টিন একজন অজ্ঞাত নারীর কাছে লিখেছেন, ‘বয়স ২৩ হওয়ার আগেই নাকটা একটু ছোট করার জন্য চিকিৎসককে দেখাবে কী।’
এপস্টিনের পুরুষ অতিথিদের সেবা দিতে একদল নারী সহকারী থাকত। তাঁর দীর্ঘদিনের নির্বাহী সহকারী লেসলি গ্রফ মূলত এসব বিষয় দেখভাল করতেন। তিনি সূচি ঠিক করতেন, খাবারের আয়োজন করতেন এবং যৌনসঙ্গীর ব্যবস্থা করতেন।
২০১২ সালে ল্যারি সামার্সের সঙ্গে বৈঠক করেন এপস্টিন। ওই বৈঠক সামনে রেখে তাঁর দলে থাকা নারীদের গ্রফ বলেছিলেন, ‘ল্যারি একজন ভিআইপি। ল্যারির জন্য খাবার নিয়ে আমাদের প্রস্তুত থাকা উচিত।’
গ্রফ তাঁর দলে থাকা নারীদের পরে আবার মনে করিয়ে দেন, ‘আমরা কি ল্যারির জন্য হালকা কোনো খাবারের ব্যবস্থা করতে পেরেছি?’
শুধু তা–ই নয়, গ্রফ অন্যান্য ধনী ও প্রভাবশালী পুরুষের নারী সহকারীদের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখতেন। যেমন ইলন মাস্কের সহকারী মেরি বেথ ও অ্যান এবং ব্র্যানসনের সহকারী হেলেন। তাঁরা নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করে তাঁদের বসের পছন্দ-অপছন্দ জেনে নিতেন।
গ্রফ তাঁর বসের জন্য বিভিন্ন ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক আয়োজন, বৈঠকের সময় ঠিক করা, সেখানে যাওয়ার ব্যবস্থা করার কাজও করতেন।
এপস্টিন–কাণ্ডে গ্রফও বিচারের মুখোমুখি হন। এর আগে তাঁর আইনজীবীরা বলেছিলেন, তাঁদের মক্কেলের চোখের সামনে কখনো কোনো অন্যায় বা বেআইনি কাজ হয়নি।
২০১৩ সালের নভেম্বরের শুরুর দিকে এক মঙ্গলবার সকালে আরব আমিরাতের ব্যবসায়ী সুলতান আহমেদ বিন সুলায়েম এপস্টিনকে একটি বার্তা পাঠান। সেখানে লেখা, ‘ইউক্রেনীয় ও মলদোভীয় [নারী] এসেছে। বড় হতাশাজনক বিষয় হলো মলদোভীয় নারী ছবির মতো আকর্ষণীয় নয়।’
এপস্টিন জবাবে লেখেন, ‘ফটোশপ।’
সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) ব্যবসায়ী সুলতান আহমেদ বিন সুলায়েম বন্দর পরিচালনাকারী সংস্থা ‘ডিপিওয়ার্ল্ড’-এর চেয়ারম্যান। এই ‘ডিপিওয়ার্ল্ড’ নামের বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। তবে তাদের সময়ে আর এই চুক্তি হচ্ছে না বলে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এপস্টিনের জবাবে সুলতান আহমেদ পাল্টা লেখেন, ‘ঠিক তা নয়, মলদোভীয় নারী খুবই খাটো আর চিকন।’
এপস্টিনের অন্তত ৫২৫টি বার্তায় নারীর যৌনাঙ্গের উল্লেখ আছে। পুরুষেরা এপস্টিনকে বার্তা পাঠিয়ে নতুন বছর বা জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতে গিয়ে বারবার নারীর যৌনাঙ্গের উল্লেখ করে কথা বলতেন।
এপস্টিনের অনেক বন্ধু তাঁকে ই–মেইলে যৌন সম্পর্ক স্থাপন স্বাস্থ্যের জন্য কতটা ভালো, সেসব নিয়ে কথা বলতেন। সেসব বার্তা অশ্লীল ও যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ।
এপস্টিনের ফাইলে নারীদের তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে মজা করার অনেক উদাহরণও আছে। যেমন এপস্টিন কারাগার থেকে ছাড়া পাওয়ার পর কীভাবে গ্রেস ও মডেস্টি নামের দুই স্ট্রিপারের [যারা নগ্ন হয়ে নাচেন] সঙ্গে কারামুক্তি উদ্যাপন করেছেন, তা নিয়ে কথা বলেন। পিটার ম্যান্ডেলসনের সঙ্গে সে কথোপকথন ছিল তাচ্ছিল্য আর কৌতুকে ভরা।
ই–মেইলগুলোতে আরও দেখা গেছে, এপস্টিন প্রায়ই নারীদের নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করতেন।
এপস্টিন তাঁর জীবনে থাকা নারীদের সব সময় নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করতেন। তিনি এক নারীকে যৌন রোগের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দেন এবং হরমোনের পরীক্ষা করাতে বলেন। তিনি নারীদের যৌন শিক্ষার ক্লাস করার পরামর্শ দিতেন।
অন্য একজন নারী তাঁর বিরুদ্ধে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ করেছেন। ওই নারী লিখেছেন, ‘আমি তোমার পছন্দমতো পোশাক পরেছি। আমি তোমার চাওয়ামতো চুলের স্টাইল করেছি। আমরা সহবাস করেছি। আমি তোমার জন্য বিরামহীন ম্যাসাজ করেছি। তোমার ও তোমার মেয়েদের সঙ্গে গোসল করেছি, যদিও আমি এটা পছন্দ করি না। আমি নেচেছি, যদিও নাচার সময় আমার মনমেজাজ ভালো ছিল না।’
এপস্টিন তাঁর দীর্ঘদিনের প্রেমিকার আচরণ নিয়েও বিরক্তি প্রকাশ করেছেন। নিজের প্রেমিকার বিরুদ্ধে তিনি ‘ঘ্যানঘ্যান ও হাহাকার’ করার অভিযোগ করেছেন।
এপস্টিন লেখেন, তিনি ক্ষমতাশালী পুরুষদের সঙ্গে আয়োজন করা ডিনারে তাঁর প্রেমিকাকে অংশ নিতে দিচ্ছেন না বলে তিনি কান্নাকাটি ও হাহাকার করছেন।
এপস্টিন বিরক্তি প্রকাশ করে বলেন, নারীরা কেন এখনো বুঝতে পারেন না যে তাঁরা পুরুষের সঙ্গে একই টেবিলে বসার আশা করতে পারেন না। নারীদের নিজস্ব পছন্দ থাকতে পারে না এবং নারীদের সব সময় নাচার জন্য প্রস্তুত থাকতে হয়।
![]() |
| জেফরি এপস্টিন ও তাঁর সাবেক প্রেমিকা গিলেন ম্যাক্সওয়েল। ছবি: মার্কিন বিচার বিভাগ |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
হাত দিয়ে টান দিতেই উঠে যাচ্ছে সড়কের কার্পেটিং, ভিডিও ভাইরাল by কাইছার হামিদ
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভিডিওটি গত বৃহস্পতিবারর চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার নাওঘাটা গ্রামে ধারণ করা। যে সড়ক থেকে কার্পেটিং তোলা হচ্ছিল, তা স্থানীয়ভাবে পদুয়া-নাওঘাটা সড়ক নামে পরিচিত। এটি দিয়ে উপজেলার নাওঘাটা,আঁধারমানিক, ধলিবিলা ও বাগমুয়া গ্রামের ১৫ হাজার মানুষ নিয়মিত চলাচল করেন। কার্পেটিং তোলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা নাওঘাটা গ্রামেরই বাসিন্দা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত মঙ্গলবার সড়কটির সংস্কারকাজ শেষ করেন ঠিকাদার। তবে দুই দিন যেতেই এর কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে। বাসিন্দাদের অভিযোগ, দায়সারাভাবে ঠিকাদার সড়কের সংস্কার কাজটি শেষ করেছেন। এ কারণে আগামী বর্ষায় এতে খানাখন্দ তৈরি হবে। এর ফলে দীর্ঘ মেয়াদে দুর্ভোগে পড়বেন ওই সড়ক দিয়ে চলাচল করা পথচারীরা।
লোহাগাড়া উপজেলা এলজিইডি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২০-২১ অর্থবছরে সড়কটির এক হাজার ৫০ মিটার অংশ উন্নয়নের জন্য ৯৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয় সরকার। এরপর দরপত্র আহ্বান করা হয়। পরে সড়কটির কার্যাদেশ পায় স্থানীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স দিপু কান্তি পাল’। ২০২৪ সালের জুনে বিটুমিন ও পাথরের কার্পেটিং দিয়ে সড়কটির কাজ সম্পন্ন করা হয়। তবে গত বছর সড়কটির একাধিক স্থানে কার্পেটিং উঠে যায়।
![]() |
| হাত লাগাতেই উঠে আসছে পিচঢালাইয়ের কার্পেটিং। চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার নাওঘাটা গ্রামে। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া |
উপজেলা প্রশাসন জানায়, সড়কটির মোট বরাদ্দ থেকে প্রায় ৯ লাখ টাকা জামানত হিসেবে রাখা হয়েছিল। প্রকল্পের শর্ত অনুযায়ী সড়কের কাজ বুঝিয়ে দেওয়ার এক বছর পর ঠিকাদারকে ওই টাকা ফিরিয়ে দেওয়ার কথা। তবে এর মধ্যে সড়কে কোথাও সংস্কার প্রয়োজন হলে তা ঠিকাদারকে করে দিতে হবে এমন শর্ত দেওয়া হয়েছিল। এ কারণে ঠিকাদার জামানতের ৯ লাখ টাকা ফেরত পেতে যেনতেনভাবে সড়কটির সংস্কার করেছেন।
গত বৃহস্পতিবার বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সড়কটির ডেলিয়াপাড়া এলাকায় অন্তত ২০ ফুট কার্পেটিং হাত দিয়ে তুলে ফেলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁরা জানান, বৃহস্পতিবার সকালে একটি ট্রাক ওই স্থানে ব্রেক করতেই কার্পেটিং উঠে যায়। এ কারণে তাঁরা ক্ষুব্ধ হয়ে কার্পেটিং তুলে ফেলছেন।
পদুয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান লেয়াকত আলী প্রথম আলোকে বলেন, ২০২৪ সালে সড়কটি প্রথমবার উন্নয়নকাজের সময়ও ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। সেই উন্নয়ন এক বছরও স্থায়ী হয়নি। পুনরায় সংস্কারকাজেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সড়কটি শর্ত মেনে সংস্কার করা হোক।
প্রকল্পটির ঠিকাদার দিপু কান্তি পাল ছয় মাস আগে মারা গেছেন। এলজিইডি কার্যালয় এবং সড়ক সংস্কারে নিয়োজিত শ্রমিকেরা জানান, দিপু কান্তি পালের সহযোগী জাকারিয়া বাবুল নামের স্থানীয় এক ব্যক্তি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের হয়ে সড়কটি সংস্কার করেছেন। তবে জাকারিয়া বাবুলের কাছে সড়কের কার্পেটিং উঠে যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকার কথা অস্বীকার করেন।
জানতে চাইলে লোহাগাড়া এলজিইডি কার্যালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী মইনুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘ঠিকাদার আমাদের না জানিয়ে নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজটি করেছেন। কাজটি সঠিকভাবে সম্পন্ন করে আমাদের বুঝিয়ে না দিলে জামানতের টাকা ফেরত দেওয়া হবে না।’
![]() |
| বিক্ষুব্ধ দুজন বাসিন্দা সড়কের কার্পেটিং তুলে নিচ্ছেন। চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার নাওঘাটা গ্রামে। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
জামালপুরের দুই পাঠাগার: ঝকঝকে ভবন, তাকে তাকে সাজানো বই, নেই শুধু পাঠক by আবদুল আজিজ
এ অবস্থা দেখা গেছে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ ও বকশীগঞ্জ সরকারি গণগ্রন্থাগারে। ২০১৫ সালে পাঠাগার দুটির উদ্বোধন হয়। প্রথমদিকে সেখানে কিছু পাঠক ছিলেন। এখন মাঝেমধ্যে স্কুলের কিছু শিক্ষার্থী এলেও ক্রমে পাঠকশূন্য হয়ে যাচ্ছে দৃষ্টিনন্দন পাঠাগার দুটি। পাঠক ফেরাতেও নেই তেমন কোনো উদ্যোগ।
৫ অক্টোবর সরেজমিনে দেখা যায়, দেওয়ানগঞ্জ শহর থেকে অল্প দূরেই এ কে মেমোরিয়াল কলেজ। কলেজের প্রধান ফটক পেরোতেই চোখে পড়ে দৃষ্টিনন্দন একটি ভবন। আর কলেজ ক্যাম্পাসের পূর্ব পাশে দাঁড়িয়ে আছে দেওয়ানগঞ্জ সরকারি গণগ্রন্থাগারের দোতলা ভবনটি। ভবনের নিচতলায় প্রায় ২০০ মানুষের ধারণক্ষমতাসংবলিত একটি বিশাল মিলনায়তন। ওপরে দোতলায় মূল পাঠাগার। কিন্তু পাঠাগারে কোনো পাঠক নেই। পাঠাগার বিষয়ে কথা বলার মতো লোকজনও খুঁজে পাওয়া গেল না।
১২ অক্টোবর সরেজমিনে দেখা যায়, বকশীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণের দক্ষিণ পাশে সরকারি গণগ্রন্থাগারের দোতলা ভবন। দেওয়ানগঞ্জের মতোই পুরো পাঠাগার চকচকে-তকতকে। ওপরে দোতলায় মূল পাঠাগার। সেখানে গিয়ে কিছু শিক্ষার্থীকে পাওয়া গেল। কয়েকজন পাঠাগারে বসে গল্প করছে। কয়েকজন বই পড়ছেন।
শিক্ষার্থীদের কয়েকজন বললেন, তাঁরা মাঝেমধ্যে এখানে আসেন। সব ধরনের বই এখানে আছে। গ্রন্থাগারটা অনেক সুন্দর করে বানানো হয়েছে। তবে তেমন কেউ যান না বই পড়তে। এখন সবাই মোবাইলেই সময় কাটান।
গণগ্রন্থাগার সূত্রে জানা গেছে, এ কে মেমোরিয়াল কলেজ ক্যাম্পাসে ও বকশীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে গণপূর্ত অধিদপ্তর ২০১৩ সালে পাঠাগার দুটির নির্মাণকাজ শেষ করে। সব কাজ শেষ হওয়ার পর ২০১৫ সালে এই দুটি পাঠাগার জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। পাঠাগার দুটিতে প্রায় ২০ হাজার বই আছে। প্রতিদিনের সংবাদপত্রও থাকে।
জামালপুর শহরের সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের অধ্যাপক মো. আবদুল হাই আলহাদী প্রথম আলোকে বলেন, ‘পড়িলে বই আলোকিত হই’—জ্ঞানে, প্রজ্ঞায়, আচরণে এই আলোকিত হওয়ার প্রবণতা এখন উদ্বেগজনকভাবে কমে এসেছে। পাড়ায় পাড়ায় পাঠাগার গড়ে তোলার যে আন্দোলন একসময় ছিল, তা আর দেখা যায় না। কারণ, জেলা, উপজেলা বা কোনো কোনো ক্ষেত্রে বড় শহরের গ্রন্থাগারগুলোতেও এখন চলছে পাঠকের আকাল। সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত গ্রন্থাগারেও পাঠক নেই।
সব আয়োজন থাকার পরও পাঠক না থাকার প্রসঙ্গে মো. আবদুল হাই আলহাদী বলেন, কেন পাঠক নেই বা পাঠক তৈরি হচ্ছে না—সেটা নিয়ে গবেষণা করা দরকার। পরীক্ষায় ভালো করার প্রতিযোগিতা, ইন্টারনেট ও স্মার্টফোনের সহজলভ্যতা, অনলাইনে তথ্যপ্রাপ্তির অবাধ সুযোগ; এ যুগের শিক্ষার্থীদের গ্রন্থাগারবিমুখ করার অন্যতম কারণ। তরুণ প্রজন্ম বই পড়ার বদলে সময় দিচ্ছে ফেসবুক, ইউটিউবসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।
জাতীয় কবিতা পরিষদ জামালপুর জেলা শাখার উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর সেলিম বলেন, মানুষকে পাঠাগারে ফেরাতে সামাজিক বিভিন্ন উদ্যোগ নিতে হবে। অফিস সময়ের পর গ্রন্থাগার বন্ধ থাকে। ফলে সান্ধ্য অবসরে পাঠক গ্রন্থাগারে যাওয়ার সুবিধাটা পান না। বিনোদনের নানা কিছু এসে পাঠাভ্যাসকে বদলে দিয়েছে। পাঠক আকৃষ্ট করতে নানা প্রতিযোগিতা ও পুরস্কারের আয়োজন করা দরকার।
গ্রন্থাগারে পাঠক নেই, এ এক দুঃখজনক বাস্তবতা—এমন মন্তব্য করে সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মুজাহিদ বিল্লাহ ফারুকী বলেন, ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে তথ্য পাওয়া সহজ হওয়ায় মানুষ এখন গ্রন্থাগারে যেতে চান না। বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারগুলোও এখন চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতিকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। এই দেশে জ্ঞানীরা সম্মানের অধিকারী নন, যেকোনো উপায়ে বিত্তবান ও রাজনৈতিক ব্যক্তিরা সমাজের নিয়ন্ত্রক বলে মানুষ জ্ঞানলাভে উৎসাহী নয়। জ্ঞানভিত্তিক সমাজগঠনে রাষ্ট্র এগিয়ে এলে, চাকরিপ্রার্থীদের বাছাইপ্রক্রিয়া মুখস্থ তথ্যভিত্তিক না হয়ে মননধর্মী হলে, জ্ঞানীদের সম্মান দেওয়া শুরু হলে গ্রন্থাগারে আবারও পাঠক যাবেন বলে তিনি আশা করেন।
বকশীগঞ্জ উপজেলা সরকারি গণগ্রন্থাগারের সহকারী গ্রন্থাগারিক মো. মোখলেছুর রহমান দেওয়ানগঞ্জের গণগ্রন্থাগারের অতিরিক্ত দায়িত্বও পালন করছেন। তিনি বলেন, গ্রন্থাগার দুটির বড় সমস্যা জনবল। বকশীগঞ্জে তাঁরা তিনজন এবং দেওয়ানগঞ্জে মাত্র দুজন আছেন। পাঠক না থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, বকশীগঞ্জে শিক্ষার্থীসহ কিছু পাঠক আছেন। তবে দেওয়ানগঞ্জেরটা কলেজ ক্যাম্পাসের মধ্যে হওয়ায় অনেকেই মনে করেন, সেটা কলেজের গ্রন্থাগার। ফলে সেখানে পাঠক একদমই কম। পাঠকদের ফেরাতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রচার চালানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
![]() |
| পাঠাগারের তাকে তাকে সাজানো নানা ধরনের বই। আছে নতুন টেবিল–চেয়ার, নেই শুধু পাঠক। জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা সরকারি গণগ্রন্থাগারে। ছবি: প্রথম আলো |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
‘ট্রাম্পকে নিয়ে ঝগড়ার’ পর বাবার অস্ত্রের গুলিতে নিহত মেয়ে
লুসি হ্যারিসন হত্যাকাণ্ড নিয়ে তদন্তের শুনানিতে এসব তথ্য উঠে আসে।
লুসি থাকতেন যুক্তরাজ্যের চেশায়ারের ওয়্যারিংটনে। গত বছরের ১০ জানুয়ারি ডালাসের কাছের শহর প্রসপারে তাঁকে গুলি করা হয়।
পুলিশ ২৩ বছর বয়সী লুসির হত্যাকাণ্ড নিয়ে তদন্তে নামে। তবে কলিন কাউন্টির গ্র্যান্ড জুরি বাবা ক্রিস হ্যারিসনের বিরুদ্ধে অভিযোগ না তোলায় সে সময় তাঁর বিরুদ্ধে কোনো মামলা করা হয়নি।
পরে চেশায়ারের করোনারের (জুরি) আদালত লুসি হ্যারিসনের মৃত্যু নিয়ে তদন্ত শুরু করে।
শুনানিতে লুসির প্রেমিক স্যাম লিটলার আদালতকে বলেন, ১০ জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে নিয়ে বাবা–মেয়ের মধ্যে ‘বড় ধরনের ঝগড়া হয়েছিল’। যে সময় ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে শপথ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
ছুটিতে লিটলারও লুসির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন। লিটলার বলেন, যখনই লুসির বাবা লুসিকে তাঁর কাছে একটি বন্দুক থাকার কথা বলতেন, প্রায় সময়ই লুসি এ নিয়ে বিরক্তি বা অসন্তোষ প্রকাশ করতেন।
তদন্ত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ক্রিস হ্যারিসন মাদকাসক্ত। এ জন্য আগে তাঁকে রিহ্যাবেও পাঠানো হয়েছিল। লুসি যখন ছোট, তখন তাঁর বাবা ক্রিস যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান।
লুসির মৃত্যু নিয়ে তদন্তের শুনানিতে ক্রিস হ্যারিসন উপস্থিত ছিলেন না। তবে তিনি আদালতে একটি বিবৃতি পাঠিয়ে স্বীকার করেছেন, গুলির ঘটনার দিন তিনি মদ্যপ ছিলেন, প্রায় ৫০০ মিলিলিটার সাদা ওয়াইন পান করেছিলেন।
লিটলার আদালতে বলেছেন, ১০ জানুয়ারির সকালে ট্রাম্পকে নিয়ে তর্কের সময় তাঁর প্রেমিকা তাঁর বাবার কাছে প্রশ্ন করেছিলেন, ‘যদি আমি সেই পরিস্থিতিতে পড়তাম এবং যৌন নিপীড়নের শিকার হতাম, তখন তোমার কেমন লাগত।’
লিটলার বলেন, ‘জবাবে ক্রিস বলেছিলেন, তাঁর আরও দুটো মেয়ে আছে, যারা তাঁর সঙ্গে থাকে। তাই এটা তাঁকে খুব একটা বিচলিত করত না। এটা শুনে লুসি হতাশ হয়ে দৌড়ে সিঁড়ি বেয়ে ওপরে চলে যায়।’
সেদিনই লুসি ও লিটলার যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন। সেদিনের বর্ণনায় লিটলার আরও বলেন, তাঁরা বিমানবন্দরে রওনা হওয়ার প্রায় আধা ঘণ্টা আগে লুসি রান্নাঘরে ছিলেন। তাঁর বাবা তাঁকে সেখান থেকে হাত ধরে নিচে তাঁদের শয়নকক্ষের দিকে নিয়ে যান।
লিটলার বলেন, লুসিকে নেওয়ার প্রায় ১৫ সেকেন্ড পর তিনি জোরে আওয়াজ পান। এরপর ক্রিস হ্যারিসন চিৎকার করে তাঁর স্ত্রী হেদারকে ডাকেন।
লিটলার বলেন, ‘আমার মনে আছে, আমি দৌড়ে শয়নকক্ষে যাই, দেখি লুসি ঘরে ঢোকার দরজার সামনে মেঝেতে পড়ে আছে, আর ক্রিস পাগলের মতো চিৎকার করছিলেন।’
ক্রিস তাঁর বিবৃতিতে সেদিনের ঘটনার ভিন্ন বিবরণ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, সেদিন তিনি তাঁর মেয়ের সঙ্গে বন্দুক হাতে অপরাধের খবর দেখছিলেন। তখন কথায় কথায় তিনি মেয়েকে তাঁর কাছে একটি বন্দুক আছে বলে জানান।
ক্রিসের দাবি, তিনি এর আগে কখনো লুসিকে বন্দুক থাকার কথা বলেননি। লুসি সেটি দেখতে চাইলে তিনি মেয়েকে নিয়ে শোবার ঘরের দিকে যান।
শোবার ঘরে খাটের পাশে ক্যাবিনেটে সেটি রাখা ছিল। ক্রিস বলেন, পরিবারের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে কয়েক বছর আগে তিনি ৯এমএম আধা স্বয়ংক্রিয় বন্দুকটি কিনেছিলেন।
তদন্তে জানা গেছে, পুলিশ কর্মকর্তা লুসিয়ানা এস্কালেরা গুলির ঘটনার খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে ক্রিস হ্যারিসনের শ্বাসে মদের গন্ধ পেয়েছিলেন। সিসিটিভি ফুটেজেও ক্রিসের মদ কেনার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
ক্রিস বলেন, ‘আমি বন্দুকটি তাকে দেখানোর জন্য তুলছিলাম। তখনই জোরে একটি শব্দ শুনতে পাই। আমি বুঝতে পারছিলাম না কী ঘটেছে। দেখি লুসি মেঝেতে পড়ে আছে।’
কখন বন্দুকের ট্রিগারে তাঁর আঙুল গেছে, তা তিনি মনে করতে পারছেন না বলেও দাবি করেন ক্রিস।
![]() |
| গুলিতে নিহত লুসি হ্যারিসন। ছবি: লুসি হ্যারিসনের ফেসবুক থেকে নেওয়া |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
-
▼
2026
(1426)
-
▼
February
(244)
-
▼
Feb 13
(16)
- একা লড়ে ৪৪ হাজারের বেশি ভোট পেলেন তাসনিম জারা
- সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের চার প্রার্থীর জয়
- সাত স্বতন্ত্র প্রার্থী জিতলেন, তাঁরা কারা
- মেধা ও প্রযুক্তিনির্ভর দেশ গড়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ
- রুমিন ফারহানা–তাহসিনা রুশদীর–শামা ওবায়েদসহ জয়ী হলে...
- ২০ কিলোমিটার দূরে ভোটকেন্দ্র, যেতে হয় হেঁটে by বুদ...
- অস্ট্রেলিয়ার বিরোধী দলের নেতৃত্বে বড় পরিবর্তন, নতু...
- গণভোটে ‘হ্যাঁ’ এগিয়ে আছে
- আওয়ামী লীগের দমন-পীড়নের কারণে জামায়াতের উত্থান: মি...
- এনসিপির কোন প্রার্থী কোন আসনে জয়ী হলেন
- আয়েশি ভোটার, সরস্বতীর দৃঢ়তা ও হাদিকে ভুলতে না পারা...
- পারমাণবিক ইস্যু: চুক্তিতে নমনীয় যুক্তরাষ্ট্র–ইরান
- কুখ্যাত এপস্টিনের ‘পুরুষ ক্লাবে’ নারীদের কীভাবে দে...
- হাত দিয়ে টান দিতেই উঠে যাচ্ছে সড়কের কার্পেটিং, ভিড...
- জামালপুরের দুই পাঠাগার: ঝকঝকে ভবন, তাকে তাকে সাজান...
- ‘ট্রাম্পকে নিয়ে ঝগড়ার’ পর বাবার অস্ত্রের গুলিতে নি...
-
▼
Feb 13
(16)
-
▼
February
(244)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...












