Thursday, October 3, 2019

ইমপিচমেন্ট ইস্যুতে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ডেমোক্র্যাটদের উপর ক্ষুব্ধ বাক্যবাণ

ইমপিচমেন্ট তদন্তের অংশ হিসেবে হোয়াইট হাউজের ওপর আইনি সমন জারির ঘোষণা করার পর ডেমোক্র্যাটদেরও ওপর ক্ষুব্ধ বাক্যবাণ ছুঁড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ইউক্রেনের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের যোগাযোগের তথ্য প্রমাণ চেয়েছে, যা ওই ইমপিচমেন্ট তদন্তের মূল বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মি. ট্রাম্প ডেমোক্র্যাট নেতাদের বিরুদ্ধে 'অসততা', এমনকি রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ এনেছেন।
তবে ওই তদন্তের পক্ষে অবস্থান নিয়ে ডেমোক্র্যাটরা বলেছেন যে, তারা একটি নিরপেক্ষ তদন্ত করছেন।

ডোনাল্ড ট্রাম্প কি বলেছেন?

ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট সলি নিনিস্তোর সঙ্গে একটি যৌথ সংবাদ সম্মেলনে জো বাইডেন এবং তার ছেলে হান্টারকে 'ঠান্ডা মাথার দূর্ণীতিবাজ' বলে বর্ণনা করেন।
হাউজ ইন্টেলিজেন্স কমিটির চেয়ারম্যান অ্যাডাম স্কিফকে তিনি, 'চতুর স্কিফ', 'কৃপণ' এবং 'তার উচিত লজ্জার সঙ্গে অফিস থেকে পদত্যাগ করা' বলে মন্তব্য করেছেন।
তিনি বলেন, ''সত্যি কথা বলতে, তাদের (কংগ্রেস) উচিত তাঁর ব্যাপারে রাষ্ট্রদ্রোহিতার ব্যাপারে খোঁজ নেয়া উচিত।''
মি. ট্রাম্প আরো বলেছেন, তার বিশ্বাস মি. স্কিফ তথ্যফাঁসকারীর অভিযোগ 'লিখতে সহায়তা' করেছেন, যেখানে কোন প্রমাণ তুলে ধরা হয়নি।
''ওই ব্যক্তিকে সবার খুঁজে বের করা উচিত, কারণ আমার মতে ওই ব্যক্তি একজন গুপ্তচর,'' মি. ট্রাম্প বলেছেন।
কংগ্রেসকে তিনি সবসময় সহযোগিতা করবেন বলে জানালেও, ওই তদন্তকে তিনি 'ধাপ্পাবাজি' বলে আখ্যায়িত করেছেন এবং আমেরিকান জনগণের ওপর 'জালিয়াতির অপরাধ' বলে বর্ণনা করেছেন।
হোয়াইট হাউজে রয়টার্সের একজন সংবাদদাতার সঙ্গেও তর্কে জড়ান মি. ট্রাম্প, যিনি তাঁর কাছে জানতে চেয়েছিলেন যে, রাষ্ট্রদ্রোহিতা বলতে তিনি কি মনে করেন।
মি. ট্রাম্প বলেন, যারা রাশিয়া তদন্তে অংশ নিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে হয়তো তাকে অনেক মামলা করতে হবে।
এর আগে হাউজ অব রিপ্রেজেন্টিভের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি আর মি. স্কিফের বিরুদ্ধে টুইটারে ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেন যে, তারা 'বাজে কথায়' মনোযোগ দিচ্ছে।
তিনি ন্যান্সি পেলোসিকে তার নিজের শহর, সানফ্রান্সিসকোর দিকে মনোযোগ দিতে বলেন, যে শহরকে তিনি গৃহহীন মানুষের 'তাঁবু শহর' বলে বর্ণনা করেছেন।

যা নিয়ে তদন্ত

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির যেলেনস্কির সময় গত ২৫শে জুলাই টেলিফোন আলাপের সময় ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী জো বাইডেন এবং তার ছেলের ব্যাপারে তদন্ত করার জন্য চাপ দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে।
ইউক্রেনের একটি গ্যাস প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন তাঁর ছেলে। যদিও তাদের ব্যাপারে অন্যায় কিছু পাওয়া যায়নি।
একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা ওই তথ্য ফাঁস করার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে তার পদ থেকে সরিয়ে দেয়ার ব্যাপারে ইমপিচমেন্ট তদন্ত শুরু করে ডেমোক্র্যাটরা।
তাদের অভিযোগ, ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের একটি বন্ধু দেশকে ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করতে মি. ট্রাম্প রাজি করানোর চেষ্টা করেছিলেন।

ডেমোক্র্যাটরা কি বলছেন?

কংগ্রেসের তদন্তে বাধা তৈরির জন্য হোয়াইট হাউজের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে ডেমোক্র্যাটরা এবং নথিপত্র হস্তান্তর করতে অস্বীকার করেছে, যে কারণে তাদের সমন পাঠিয়ে হাজির করার হুমকি দেয়া হয়েছে।
হাউজ ওভারসাইট কমিটির চেয়ারম্যান এলিজা কামিংস বলেছেন, ''আমি এসব পদক্ষেপকে হালকাভাবে দেখছি না।''
''গত কয়েক সপ্তাহ ধরে কমিটি আশা করেছিল যে, আমাদের অনুরোধের নথিপত্র স্বেচ্ছায় দেয়া হবে। কিন্তু হোয়াইট হাউজ তা করেনি-এমনকি কমিটির অনুরোধে সাড়াও দেয়নি।''
সমন জারি করা হলে ইউক্রেনের সঙ্গে আলাপ সম্পর্কিত মি. ট্রাম্পের টেলিফোন আলাপ এবং ভারপ্রাপ্ত চিফ অফ স্টাফ মাইক মুলভানির যোগাযোগের সকল নথিপত্র হাজির করার জন্য বলা হবে।
ইমপিচমেন্ট প্রক্রিয়ার পক্ষে অবস্থান তুলে ধরে মিসেস পেলোসি এবং মি. স্কিফ বলেছেন, '' আমরা অযথা এখানে আসিনি'' এবং এই তদন্তের উদ্দেশ্য কাউকে টেনে ধরা নয়।
তথ্য ফাঁসকারীর ব্যাপারে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেছেন, 'এটা সাক্ষীদের ভয় দেখানোর চেষ্টা' এবং সহিংসতার জন্য প্ররোচনা দেয়া।

ইমপিচমেন্ট সম্পর্কিত কিছু তথ্য

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে তার অফিস থেকে রাজনৈতিকভাবে অপসারণে কংগ্রেসের দুইটি ধাপের প্রথমটি হচ্ছে ইমপিচমেন্ট।
হাউজ অব রিপ্রেজেন্টিভ যদি ইমপিচমেন্টের পক্ষে ভোট দেয়, তাহলে সিনেট একটি বিচার কার্যক্রম আয়োজন করতে বাধ্য হবে।
প্রেসিডেন্টকে দোষী সাব্যস্ত করতে হলে সিনেটে দুই তৃতীয়াংশ ভোট লাগবে। তবে এই ক্ষেত্রে সেটার সম্ভাবনা কম কারণ মি. ট্রাম্পে পার্টি সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে মাত্র দুইজন প্রেসিডেন্টের ইমপিচমেন্ট হয়েছিল। তারা হলেন বিল ক্লিনটন এবং অ্যান্ড্রু জনসন, কিন্তু সিনেটে তারা দোষী প্রমাণিত হননি এবং ক্ষমতা থেকেও সরে যেতে হয়নি।
ইমপিচমেন্ট প্রক্রিয়ার আগেই পদত্যাগ করেছিলেন প্রেসিডেন্ট।

ইলিশ: উৎস স্থানের চেয়ে ঢাকায় কেন ইলিশের দাম কম by সায়েদুল ইসলাম

বরিশালের মেয়ে লাভলী আক্তার ঢাকায় এক জোড়া ইলিশ মাছ কিনেছিলেন ১৬০০ টাকা দিয়ে। কয়েকদিন পরে তিনি গ্রামের বাড়ি বাকেরগঞ্জে গিয়ে গিয়ে দেখতে পান, একই আকৃতির একজোড়া ইলিশ সেখানে বিক্রি হচ্ছে ২৫০০ টাকায়।
''আমি খুব অবাক হলাম। কারণ এসব জায়গা থেকেই তো ইলিশ ধরে ঢাকায় পাঠানো হয়। অথচ সেখানে ইলিশ মাছের দাম কম, আর যেখানে ইলিশ ধরা পড়ছে, সেখানে মাছের দাম এতো বেশি!''
এরকম অভিজ্ঞতা শুধু তার একার নয়।
ঢাকার কাঠালবাগান মাছ বাজারের একজন ক্রেতা নাজমা আনোয়ার বলছেন, দুইদিন আগে তিনি এক কেজি ওজনের একেকটি ইলিশ মাছ কিনেছেন ৯০০ টাকা কেজি দরে।
অপরদিকে ঝালকাঠির একজন ক্রেতা তৈমুর হোসেন বলছেন, সেখানে এখন এক কেজি ওজনের ইলিশ মাছ বিক্রি হচ্ছে ১২০০ টাকা কেজি হিসাবে।
এসব ইলিশ নদী বা সাগর থেকে ধরার পর, বরফ দিয়ে, ট্রলার বা ট্রাকে করে বহু পথ পাড়ি দিয়ে ঢাকার মতো শহরগুলোয় বিক্রি করা হয়।
কিন্তু যেখানে ধরা পড়ছে, ঢাকার তুলনায় সেসব উৎস স্থানে কেন ইলিশের দাম চড়া?

ইলিশ এলাকার চেয়ে ঢাকায় কেন দাম কম?

বরগুনার পাথরঘাটায় ইলিশ মাছের ব্যবসা করেন মজনু হোসেন। তিনি পাইকারি দরে ইলিশ কিনে ঢাকায় পাঠান।
তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, এই ইলিশের মোকামে [ব্যবসার জন্য নির্ধারিত স্থান] মূলত দুই ধরণের ইলিশ মাছ আসে। একটি নদী থেকে ধরা ইলিশ মাছ, যেগুলো আশেপাশের বড় বড় নদী, যেমন পশুর নদী, বলেশ্বর নদী ইত্যাদি থেকে ধরা হয়।
এগুলো আসলে ধরার দিনেই আড়তে চলে আসে। স্বাদও বেশি। এগুলো একটু চড়া দামে বিক্রি করা হয়। এই মোকামে এগুলোর কেজি বিক্রি হয় ৭৫০ টাকা থেকে শুরু করে ৯০০ টাকার মধ্যে। ইলিশ বেশি বড় হলে দামও একটু বেশি হয়।
আরেকটি হচ্ছে সাগর থেকে ধরা ইলিশ। জেলেরা ট্রলার নিয়ে ১০/১৫দিন সাগরে থেকে অনেক মাছ বরফ দিয়ে নিয়ে একবারে ফিরে আসে। এসব মাছের দাম তুলনামূলক কম। যেমন বড় ইলিশেরই দাম ৪০০/৫০০ টাকা কেজি। পরিবহন খরচ যোগ করার পরেও এই ইলিশ ঢাকায় ৫০০/৬০০ টাকায় বিক্রি করা যায়।
তিনি জানান, ঢাকায় মূলত এই ইলিশ মাছগুলোই কম দামে বিক্রি হয়।
আবার কোন কোন জেলে বা আড়তদার জেলেদের কাছ থেকে কিনে স্থানীয় বাজারে ইলিশ বিক্রি করেন। সংখ্যা কম হওয়ায়, নদীর মাছ আর তাজা হওয়ায় এসব ইলিশের দামও একটু বেশি হয়ে থাকে।

ইলিশ মাছের চেইন

ব্যবসায়ী মজনু হোসেন বলছেন, স্থানীয় বাজারে আসলে ইলিশ কম যায়।
কারণ হিসেবে তিনি জানান, জেলেদের সাথে দাদনদারদের চুক্তি থাকায় তারা সরাসরি সব মাছ আড়তে দিয়ে যায়। আবার আড়তদাররা সেগুলো স্থানীয় বাজারে বিক্রি না করে বরফ দিয়ে সেগুলো ঢাকায় বা অন্যান্য শহরে পাঠিয়ে দেন।
"ফলে কাছের নদী থেকে ধরা হলেও, এখানকার মাছ স্থানীয় বাজারে খুব একটা পাওয়া যায় না।'' এর ফলে অল্প যা পাওয়া যায়, তার মূল্য খুব চড়া থাকে।
নদী থেকে ধরা ইলিশ মাছগুলো বেশিরভাগ ক্ষেত্রে রপ্তানিকারকরা কিনে নেন।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, ইলিশ মাছ ধরার জেলেদের সঙ্গে স্থানীয় আড়ত ব্যবসায়ীদের চুক্তি থাকে। সে অনুযায়ী তারা অমৌসুমের সময় জেলেদের অর্থ সাহায্য করেন। ইলিশ ধরার জাল ও খরচ দেন। শর্ত থাকে, ধরে আনা ইলিশ শুধুমাত্র তাদের কাছেই বিক্রি করতে হবে।
এই পাইকারি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আবার যোগাযোগ থাকে ঢাকার পাইকারি ইলিশ বিক্রেতাদের। অনেক সময় ঢাকার বড় পাইকারি বিক্রেতা ও রপ্তানিকারকরা এই আড়ত মালিকদেরও আগাম অর্থ দিয়ে থাকেন।
ফলে ইলিশ ধরার পর জেলেরা এই আড়ত মালিকদের কাছে পৌঁছে দিয়ে তাদের আগাম নেয়া অর্থের সমন্বয় করেন। এরপর আড়ত মালিকরা বরফ দিয়ে সেসব মাছ সরাসরি ঢাকার পাইকারি বিক্রেতা এবং রপ্তানিকারকদের কাছে পাঠিয়ে দেন।
যেহেতু পুরো প্রক্রিয়াটি আগাম অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে ঘটে থাকে, তাই এসব ইলিশ ক্রয়-বিক্রয়ও বাজারের দামের চেয়ে কিছুটা কম দরে হয়।

'স্থানীয় বাজারে ইলিশ নেই'

যেসব স্থানে ইলিশ ধরা পড়ে, সেখানকার স্থানীয় বাজারে অনেক সময় ইলিশ কম পাওয়া যায়।
শরীয়তপুরের একজন বাসিন্দা শাহরিয়ার হোসেন বলছেন, ''নদী থেকেই মাছগুলো আড়তদারদের আড়তে চলে যায়। সেখান থেকে বরফ দিয়ে চাঁদপুর, ঢাকা ইত্যাদি অঞ্চলে চলে যায়। আমাদের বাজারে মাছ ওঠে অনেক কম।''
ব্যবসায়ী মজনু হোসেন বলছেন, ইলিশ ধরার এলাকাগুলোয় এই প্রক্রিয়ার ফাঁক গলে অল্প কিছু ইলিশ বাজারে ওঠে। ফলে সেখানে দামও থাকে তুলনামূলক বেশি।

ইলিশের 'সিন্ডিকেট'

বিভিন্ন স্থান থেকে ইলিশ মাছ সংগ্রহ করে ঢাকায় বিক্রি করেন একজন উদ্যোক্তা প্রবীর কুমার সরকার।
তিনি বলছেন, যেসব স্থানে ইলিশ ধরা পড়ে, সব জায়গাতেই সেখানে ইলিশের একটা 'সিন্ডিকেট' আছে। সেই সিন্ডিকেটের বাইরে গিয়ে ইলিশ কেনাবেচা করা যায় না।
তিনি বলছেন, ঢাকায় যেসব ইলিশ মাছ পাওয়া যায়, তার বড় একটি অংশ আসে কোল্ড স্টোরেজ থেকে, যেগুলো সাধারণত ঈদের মতো সময়ে সস্তায় কিনে রাখা ইলিশ।
''এছাড়া মিয়ানমার থেকে আসা ইলিশ, সাগরে ধরা ইলিশ কিনতে খরচ কম পড়ে বলে সেগুলো বাজারেও কম দামে বিক্রি করা যায়। পরিবহন খরচ যোগ করার পরেও সব মিলিয়ে এগুলোর দাম কমই পড়ে।''
''ঢাকার ক্রেতারা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কোনটা সাগরের, কোনটা নদীর বুঝতে পারেন না। ফলে ক্রেতাদের কাছে বিক্রেতারা এসব ইলিশ অনেক কম দামে বিক্রি করতে পারে, যা একজন সাধারণ গ্রাহকের পক্ষে ধরা কঠিন,'' বলছেন মি. সরকার।
তিনি জানান, ইলিশের বড় একটি মোকাম চাঁদপুর, যেখানে বরিশাল, ভোলা, চট্টগ্রামসহ নানা জায়গার ইলিশ আসে। নদীর ভালো আর তাজা ইলিশগুলো এই ঘাট থেকেই রপ্তানির জন্য বেশি দামে বিক্রি হয়ে যায়। এমনকি এখান থেকে ইলিশ নিয়ে পদ্মার ইলিশ বলেও মাওয়ায় বিক্রি করা হয়।
এখানে সাগরের, মিয়ানমারের বা চট্টগ্রামের ইলিশের দাম কম থাকে। আবার নদীর মাছের দাম বেশি হয়।
''কিন্তু এখানে আপনি যদি একটা-দুইটা ইলিশ কিনতে যান, তাহলে আপনাকে ঢাকার চেয়েও বেশি দাম দিতে হবে।"
কারণ এখানে বড় একটি সিন্ডিকেট আছে, যারা জেলেদের কাছ থেকে কম দামে কিনে নিতে পারে। কিন্তু গ্রাহক পর্যায়ে কিনতে গেলে সেখানে দাম অনেক বেশি পড়বে।, বলেন তিনি।
এই পাইকারি মার্কেটের ফাঁক গলে সামান্য কিছু ইলিশ স্থানীয় বাজারে পৌছাতে পারে। ফলে সেখানে এর দাম হয় অনেক চড়া। তবে দাম বেশি হলেও এই মাছগুলো তরতাজা হয়ে থাকে।
ঢাকার অনেক পাইকারি বিক্রেতা বিভিন্ন ইলিশ এলাকার জেলে ও আড়তদারকে আগাম টাকা-পয়সা দিয়ে রাখেন। ফলে তারা যে ইলিশ পান, সেগুলো তারা এই পাইকারি ব্যবসায়ীদের পাঠিয়ে দেন। অনেক সময় এসবের দাম বাজার মূল্যের চেয়েও কম হয়ে থাকে।
পিরোজপুরের কচা নদী থেকে ধরে আনা তাজা ইলিশ মাছ বিক্রির জন্য সাজিয়ে রাখা হয়েছে

বিস্ময়কর সাফল্য এই নারী উদ্যোক্তার by তৌহিদুল ইসলাম

আজকাল অনেক বাসাবাড়ি ও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থা দেখা যায়। অনেকে হয়তো খেয়াল করেছেন, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণকারী যন্ত্রটির গায়ে ইংরেজি বর্ণে লেখা ‘GREE’ (গ্রি), যা কিনা চীনের বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠান গ্রি ইলেকট্রিকের পণ্যের ব্র্যান্ড। এই গ্রি ব্র্যান্ডের পণ্যের সাফল্যের নেপথ্যে যে কত চড়াই-উতরাই আর শ্রম-ঘামের সংগ্রামী গল্প লুকিয়ে আছে, তা হয়তো অনেকেরই অজানা। সেই গল্পই এই নিবন্ধের বিষয়বস্তু:
চীনে নারী উদ্যোক্তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরিচিত ও জনপ্রিয় নাম দং মিংঝু। ৬৪ বছর বয়সী এই নারী বিশ্বের বৃহত্তম শীতাতপ নিয়ন্ত্রণযন্ত্র প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান গ্রি (GREE)-এর প্রধান। কঠোর পরিশ্রম আর সৃজনশীল কর্মকৌশল প্রয়োগ করে তিনি আজ এই পর্যায়ে। তাঁর এই বিস্ময়কর সাফল্য গোটা চীনকে রীতিমতো ঝাঁকুনি দিয়েছে। তাক লাগিয়ে দিয়েছে অনেককেই। কেউবা হয়েছেন ঈর্ষান্বিত। সফল নারী উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ী হিসেবে দং মিংঝু বিশ্বের অনেকের কাছে এখন রোল মডেল। সেই সঙ্গে অসংখ্য নারীর অনুপ্রেরণার উৎস তিনি।
দং মিংঝু ১৯৭৫ সালে পরিসংখ্যান বিষয়ে স্নাতক পাস করেন। এরপর তিনি চীনের নানজিং শহরে স্থানীয় সরকারের রসায়ন বিজ্ঞানাগারে প্রশাসনিক পদে চাকরিতে যোগ দেন। ১৫ বছর তিনি সেই চাকরি করেন। বেসরকারি খাতে অপার সম্ভাবনা দেখে তিনি ক্যারিয়ারে বাঁক পরিবর্তন করেন।
সম্প্রতি যুক্তরাজ্যভিত্তিক সাময়িকী ‘দ্য ইকোনমিস্ট’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৯০ সালে বিক্রয়কর্মী হিসেবে গ্রিতে যোগ দেন দং মিংঝু। মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে তিনি গ্রি ব্র্যান্ডের এয়ার কন্ডিশনার (শীতাতপ নিয়ন্ত্রণকারীযন্ত্র) বিক্রি শুরু করেন। ৮ বছর বয়সী পুত্রসন্তানকে নিয়ে জীবনসংগ্রাম চলে এই নারীর। এরই মধ্যে তাঁর স্বামী মারা যান।
দং মিংঝু কাজে যোগ দেওয়ার এক মাসের মধ্যে বিক্রি বেড়ে যায়। তাঁর ক্যারিয়ার তর তর করে এগিয়ে যেতে থাকে। মাত্র চার বছরের মাথায় ১৯৯৪ সালে তিনি প্রতিষ্ঠানটির বিক্রয় বিভাগের প্রধান হিসেবে পদোন্নতি পান। এ সময় তিনি বিক্রয় প্রক্রিয়ায় আরও নতুন নতুন কৌশল যুক্ত করেন। ফলে গ্রি ব্র্যান্ডের পণ্যের কদর আরও বেড়ে যায়। তাঁর দক্ষ নেতৃত্বে একদিকে প্রতিষ্ঠান সম্প্রসারিত হয়, অন্যদিকে নিজের ক্যারিয়ার হয় আরও সমৃদ্ধ।
১৯৯৬ সালে দং মিংঝু গ্রি ইলেকট্রিকের ডেপুটি প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পান। পরে ২০০১ সালে তিনি প্রেসিডেন্ট হন। ২০১২ সালে তিনি গ্রি ইলেকট্রিকের মূল প্রতিষ্ঠান গ্রি গ্রুপের চেয়ার-উইম্যানের দায়িত্ব পান। ২০১৬ সালের নভেম্বর পর্যন্ত এই দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি গ্রি ইলেকট্রিকের চেয়ার-ওম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন। সফল এই নারীর ভাষ্য, অল্পসংখ্যক পুরুষ অথবা নারী বড় চ্যালেঞ্জে জয়ী হন। তিনি তাঁদেরই একজন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়, গ্রি ইলেকট্রিক এয়ার কন্ডিশনার, ইলেকট্রিক ফ্যান এবং গৃহস্থালির অন্যান্য যন্ত্রপাতি তৈরি করে। প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান বাজার মূলধন ৪০ দশমিক ৭৬ বিলিয়ন ডলার। এর সবচেয়ে বড় শেয়ার হোল্ডার হচ্ছে চীনের রাষ্ট্রমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান গ্রি গ্রুপ। এর আছে ১৮ শতাংশ শেয়ার।
দং মিংঝুকে চীনের অদম্য এক ব্যবসায়ী হিসেবে অভিহিত করে বিশেষ প্রতিবেদন করেছে নিউইয়র্ক টাইমস। সেরা ধনীদের তালিকা প্রস্তুতকারী চীনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান হুরুন রিচ লিস্ট। এর প্রতিবেদনে বলা হয়, নিজ প্রচেষ্টায় ৮৯ জন নারীর মধ্যে ৫১ জন এই বছর বিলিয়নিয়ার (কোটিপতি বা ধনকুবের) হয়েছেন। তাঁরা সবাই চীনের নাগরিক। এদের মধ্যে একজন অতিসম্পদশালী। বর্তমান বিশ্বে নারীদের মোট শেয়ারের ২০ শতাংশই হচ্ছে চীনা নারীদের। চীনে সব ক্ষেত্রেই উৎপাদন ব্যাপকভাবে বাড়ছে। এটি সম্ভব হয়েছে নারীদের অভূতপূর্ব অংশগ্রহণের ফলে। অবশ্য অতীতেও শ্রমবাজারে চীনা নারীদের অংশগ্রহণ তুলনামূলক বেশি ছিল।
চীনের সাবেক বিখ্যাত নেতা মাও জেদং (মাও সেতুং) ‘হাফ দি স্কাই’ কর্মসূচির আওতায় ১৯৬৮ সালে নারীদের শ্রমবাজারে সম্পৃক্ত করেন। এরপর থেকে কর্মক্ষেত্রে ক্রমেই নারীদের অংশগ্রহণ বাড়তে থাকে। আশির দশকে তা প্রায় ৮০ শতাংশে পৌঁছে। ওই সময় কর্মক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যের নারীদের অংশগ্রহণ ছিল ৬০ শতাংশ। আমেরিকানদের ছিল আরও কম। মার্কিনরা এখনো চীন ও যুক্তরাজ্যের চেয়ে পিছিয়ে আছে।
গ্লোবাল এন্ট্রাপ্রেনিউরশিপ মনিটরের জরিপে দেখা গেছে, স্টার্টআপ (নতুন উদ্যোগ) কার্যক্রমের সূচক অনুযায়ী চীনে যেখানে ১০ জন পুরুষ ব্যবসা শুরু করছেন, সেখানে ৮ জন নারী সেই একই কাজ করছেন।
কারখানার ফ্লোর থেকে উঠে এসে অনেক চীনা নারী এখন সফল ব্যবসায়ী। এক সময় অভিবাসী কর্মী ছিলেন ঝোউ কুনফি নামে এক নারী। তিনি প্রতিষ্ঠা করেন লেনস টেকনোলজি নামে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান। তাঁর প্রতিষ্ঠান অ্যাপলের প্রযুক্তি পণ্যের স্ক্রিন তৈরি করে। নিজ প্রচেষ্টায় বিশ্বের সেরা নারী ধনীদের তালিকায় কুনফির নাম রয়েছে।
মিংঝু, কুনফির মতো চীনের অনেক নারী বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে সফল হয়ে দেশটির বেসরকারি অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। দং মিংঝুর শৈশবে স্বপ্ন ছিল সামরিক সেনা হওয়ার। জীবনের নানা জটিল সমীকরণে সেই স্বপ্ন তাঁর পূরণ হয়নি। এখন তাঁর মোট সম্পদের মূল্য ৩ বিলিয়ন ইউয়ান বা ৪৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
এক নজরে দং মিংঝু
  • *জন্ম: ১৯৫৪ সালে চীনের জুহই শহরে।
  • *শ্রমজীবী পরিবারের সর্বকনিষ্ঠ সন্তান।
  • *১৯৫৭ সালে বিশেষায়িত ইনস্টিটিউট থেকে স্নাতক পাস করেন।
  • *তাঁর সম্পদের মোট মূল্য ৩ বিলিয়ন ইউয়ান বা ৪৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
  • *আত্মজীবনীসহ লিখেছেন দুটি বই।
  • *পরিসংখ্যান বিষয়ে স্নাতক পাস করেন ১৯৭৫ সালে।
  • *১৫ বছর সরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন।
  • *৩৬ বছর বয়সে গ্রি ইলেকট্রিক প্রতিষ্ঠানে যোগ দেন।
  • *বর্তমানে গ্রি ইলেকট্রিকের চেয়ার-উইম্যান।

এনআরসি বিতর্কের মধ্যে ভারত সফর করছেন শেখ হাসিনা: -ডেকান ক্রনিকলের রিপোর্ট

চারদিনের সরকারি সফরে নয়া দিল্লি যাত্রা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানে তিনি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক সম্মেলনে ভাষণ দেবেন। তারপর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় মিলিত হবেন। কিন্তু দৈবক্রমে, আসামের নাগরিকপঞ্জি বা এনআরসি নিয়ে সৃষ্ট বিতর্কের মধ্যে তিনি এই সফর করছেন। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যে সম্পন্ন হওয়া এনআরসির ফলে অবৈধ কোনো অভিবাসীকে ফেরত নেবে না- এ কথা অব্যাহতভাবে বলে আসছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ আরও বলে আসছে যে, ভারতীয় কথিত কোনো অবৈধ অভিবাসীই বাংলাদেশী নন। তবে এ বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে শেখ হাসিনার আলোচনায় উঠে আসবে কিনা তা স্পষ্ট নয়। যদি ইস্যুটি ওই আলোচনায় উঠে আসে তবে বাংলাদেশ আরও একবার তার অবস্থানে অটুট থাকবে বলেই মনে হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব কথা লিখেছে ভারতের অনলাইন ডেকান ক্রনিকল।
এতে বলা হয়েছে, দৃশ্যপট যদি এমনই হয় তাহলে আসামের এনআরসি থেকে বাদ পড়া ১৯ লাখ ৬৫৭ জন মানুষকে নিয়ে কি করা হবে সে বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে হবে ভারতকে, যদিও নয়া দিল্লি অব্যাহতভাবে জোর দিয়ে বলে আসছে, এসব মানুষকে সব আইনগত প্রতিকার দেয়ার পথ উন্মুক্ত রয়েছে। এর আগে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পুনর্ব্যক্ত করেছে যে, সুপ্রিম কোর্টের তদারকিতে স্বচ্ছ আইনগত প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হয়েছে এনআরসি এবং এটা ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়।
পুনরুল্লেখ করা যেতে পারে যে, গত মাসে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, এনআরসি থেকে যাদের নাম বাদ পড়েছে তারা ‘রাষ্ট্রহীন’ নন। আইনের অধীনে তারা যে প্রতিকার পাবেন তার সুযোগ শেষ হয়ে না যাওয়া পর্যন্ত তারা নাগরিকদের সব অধিকার অব্যাহতভাবে ভোগ করতে পারবেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরো বলেছে, আসামের কোনো ব্যক্তিবিশেষকে তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করার জন্য নয় এনআরসি করা হয়নি।
১৯৭১ সালের ২৪ শে মার্চ পর্যন্ত এবং এর আগে থেকে যেসব মানুষ আসামে বসবাস করছেন তাদেরকে ভারতের নাগরিকত্ব নির্ধারণ করতে এনআরসি করা হয়েছে। এতে আবেদন করেছিলেন কমপক্ষে ৩ কোটি ৩০ লাখ মানুষ। তার মধ্য থেকে ১৯ লাখ ৬৫৭ জনকে বাদ রাখা হয়েছে। ওদিকে মঙ্গলবার রাতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি বিবৃতি দিয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী মোদির আমন্ত্রণে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৩ থেকে ৬ই অক্টোবর ভারতে সরকারি সফরে আসছেন। বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ভারতে জাতীয় নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর এটা প্রথম ভারত সফর। এই সফরে প্রেসিডেন্ট রামনাথ কোবিন্দর সঙ্গে সাক্ষাত করবেন শেখ হাসিনা। ৫ই অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় বসবেন। এই সফরে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী বেশ কিছু চুক্তিতে স্বাক্ষর করা কথা রয়েছে। তা ছাড়া তারা ভিডিও লিঙ্ক মারফতে তিনটি দ্বিপক্ষীয় প্রকল্প উদ্বোধন করবেন।

ক্যাসিনো বিরোধী অভিযান: ইতিবাচক পরিবর্তন by মরিয়ম চম্পা

ক্যাসিনো বিরোধী অভিযানকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন সাধারণ মানুষ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেয়া প্রতিক্রিয়া এবং আলাপ-আলোচনায় এর বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। অনেকেই স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। কেউবা হয়েছেন আবার বিস্মিত। এ অভিযান শুরুর পর বেশ কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেছে। রাস্তায় দামি গাড়ির সংখ্যা কমে গেছে, কমেছে মোটরসাইকেলের সংখ্যাও। এতোদিন দাপটের সঙ্গে চলতেন এমন অনেক নেতা দেশত্যাগ করেছেন। অনেকে আবার চলে গেছেন আত্মগোপনে।
হত্যা, ধর্ষণের মতো অপরাধ কমে আসছে অনেকটাই।
এ বিষয়ে সাবেক নির্বাচন কমিশনার, অনারারি ফেলো এসআইপিজিএনএসইউ অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ড. এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, এটা অত্যন্ত ইতিবাচক একটি বিষয়। এটা ইতিবাচকভাবে না দেখে কোনো উপায় নেই। দেরিতে হলেও প্রধানমন্ত্রী খুব একটা শক্ত অবস্থান নিয়েছেন। সেটাই ওনার কাছ থেকে আমরা আশা করেছিলাম। এটা যদি চলমান থাকে এবং আরো কিছু অ্যাকশন হয় তাহলে দুর্নীতি অনেকটা কমে আসবে। কিন্তু অভিযান থেমে গেলে আবার দেখা যাবে গ্যাপের মধ্যে চলে এসেছে। এটা শুধু যে সমাজের জন্য সমস্যা তা কিন্তু নয়। ক্ষমতাসীন দলের জন্যও সমস্যা। পরিস্থিতি আউট অব কন্ট্রোল হয়ে যায়। এখন তো দেখা যাচ্ছে এরা সব নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল। তাদের কথাবার্তা শুনে মনে হয় এখনো নিয়ন্ত্রণের বাইরে আছে। মাঝপথে যদি এটা বন্ধ হয়ে যায় তাহলে সকলের জন্য এটা বিপদ হবে। সে জন্য আমি মনে করি, সরকার যে পদক্ষেপ নিয়েছেন তাতে আমরা সবাই সমর্থন করি। এটা যে অত্যন্ত পজেটিভ এবং জনপ্রিয় একটি পদক্ষেপ তাতে কোনো সন্দেহ নেই।
প্রখ্যাত বুদ্ধিজীবী অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, এই অভিযানের মধ্যে দিয়ে পরিবর্তন কী করে আসবে। গোটা ব্যবস্থাটাই দুষ্টু হয়ে পরেছে। এখন কিছু অপরাধিকে চিহ্নিত করলে বা তাদেরকে জনসম্মুখে উপস্থিত করলে হবে না। গোটা ব্যবস্থা দুর্নীতিগ্রস্থ হয়ে পরেছে। ব্যবস্থাটা ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম হয়েছে। এখন এই ব্যবস্থা থেকে এই রকম সংস্কারমূলক কাজ দিয়ে হবে না। একটি মৌলিক পরিবর্তন দরকার। এটা কেবল ধারাবাহিকতা রক্ষা করার ব্যাপার না। মৌলিক পরিবর্তন আনতে হবে। অবকাঠামো ব্যবস্থায় নতুন লোকদের আনতে হবে। কি করতে হবে তা জানি না। কিন্তু এটা জানি যে, এভাবে গুটি কয়েকজনকে তুলে ধরলে হবে না। কথায় আছে, ‘আইসবার্গের উপরের অংশটা শুধু দেখা গেল। ভেতরে তো আরো অনেক কিছু ছিল’। সেখানে হাত দেয়াটা সোজা কাজ না। সেখানে হাত না দিলে কাজও হবে না, আমার মনে হয়। এতোদিন মানুষ জানতো না এটার সঙ্গে কে বা কারা জড়িত। কি হচ্ছে তাও জানতো না। একটি ক্ষেত্রে জানা গেল, জুয়া খেলা চলছিল। বিশেষ করে জুয়া খেলার বিষয়টাতো পাবলিক জানতো না। কতো টাকা আয় করেছে এবং পাচার করেছে এটাও জানতো না। এটা হচ্ছে সুবিধা জনক দিক। আরেকটি বিষয় হলো, মিডিয়া এখানে ভালো এবং গুরুত্বপূর্ণ একটি ভূমিকা পালন করেছে। মিডিয়া এগুলোকে সকলের সামনে তুলে ধরছে। পুরো বিষয়টি ব্যবসার অধীনে চলে গেছে। এখন আর নৈতিকতা, অঙ্গিকার এগুলো কার্যকর নয়। এখন ব্যবসায়ীরা সমস্ত কিছু নিয়ন্ত্রণ করছে। তারাই রাজনীতি করছে। এবং রাজনীতিতে প্রভাব ফেলছে। যুবলীগ বা ছাত্র লীগ নামে এই যে প্রতিষ্ঠান এদের কাজটা কি সেই প্রশ্নটাও মানুষের মনের মধ্যে এসেছে। যুবলীগ কি ক্যাসিনো ব্যবসা করে না আরো ভালো কাজ করে। ছাত্রলীগ নিজ দলের লোকদের আক্রমন করে। শো ডাউন করে। ভেতরে ভেতরে তারা আবার ঠিকাদারির সঙ্গে জড়িত। শুদ্ধি উন্মোচনটা ভালো। যে শাস্তি হবে তার চেয়ে উন্মোচনটাই আমি ভালো মনে করছি।
এ অভিযান নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অনেকে। আওয়ামী লীগ নেতা শফি আহমেদ তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘অপরাধীরা কোথায় গা ঢাকা দিলো! কত গভীরে, বুঝতে পারছি না! প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দুনীতি না হলে দেশের চেহারা পাল্টে যেত। ফাঁকফোকর কোথায় এবং কারা উন্নয়ন প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত করছে, তাদের খুঁজে বের করতে হবে’। বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকার সম্পাদক নঈম নিজাম লিখেছেন, ‘অভিযান হালকা না করে এবার লুটতরাজের খলনায়কদের ধরুন। জি কে শামীম, খালেদ, ফিরোজদের গডফাদার কারা? জিজ্ঞাসাবাদ করে যে সব নাম পেয়েছেন ব্যবস্থা নিন। বঙ্গবন্ধু কন্যার নির্দেশ পালন করুন। সাংবাদিক অঘোর মন্ডল লিখেছেন, শুদ্ধি। সংস্কার। এই দুই দুইয়ের আপাত যোগফল অভিযান। আর সেই অভিযানের প্রতিফল, বাংলাদেশের ক্লাব সংস্কৃতির অন্যরকম এক স্বরুপ উন্মোচিত হলো। এই দেশে হাউজি, মদ, জুয়া ছাপিয়ে ক্লাবগুলো পরিণত হয়েছে ক্যাসিনোতে! বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নতি ঘটেছে। ক্যাসিনো খেলতে অনেক বিত্তবান উইকেন্ডে আশপাশের বিভিন্ন দেশে উড়াল দেন। পয়সা আছে। সামর্থ্য আছে। মনে ইচ্ছা আছে। উড়াল তারা দিতেই পারেন। কিন্তু ক্যাসিনো এখন ফকিরাপুলে, এটা কী জানতেন এদেশের আমজনতা? মনে হয় না। তবে প্রশাসন, পুলিশ, ক্লাব কর্তারা জানতেন না, সেটা বলা যাচ্ছে না। তারা শুধু জানতেন, তা নয়। তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে খেলাধুলার ক্লাবে গজিয়ে উঠেছে ক্যাসিনো। রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রছায়া না পেলে এ ধরনের অনৈতিক কমর্কান্ড খোদ রাজধানীতে কীভাবে চলে! অশুভ-অস্থির এক সময়ে প্রধানমন্ত্রীর শুদ্ধি অভিযানের সিদ্ধান্ত কিছুটা হলেও মানুষকে স্বস্তি জোগাচ্ছে। আশা জাগাচ্ছে। ঘর থেকে, দল থেকে যে অভিযান শুরু, সেটা চলমান থাকবে সেই প্রত্যাশাটুকু করা বাড়াবাড়ি কিছু নয়। আমরা সুস্থ সমাজের বাসিন্দা হিসেবে বাঁচতে চাই। আগামী প্রজন্মের জন্য আরো সুন্দর একটা সমাজ রেখে যেতে চাই।
এদিকে, শুদ্ধি অভিযান শুরু হওয়ার পর হঠাৎ করে সড়কে কমে গেছে বিলাসবহুল গাড়ির সংখ্যা। রাস্তায় কম বেশি প্রাইভেট গাড়ি থাকলেও দামি ব্রান্ডের গাড়ির সংখ্যা হঠাৎ করে কমে গেছে। ভিআইপি গাড়ির সঙ্গে কমেছে মোটরসাইকেলের সংখ্যা। একই সঙ্গে গাড়ির শো রুম গুলো ঘুরে দেখা যায় বিকিকিনি খুবই কম। গাড়ি বিক্রি অর্ধেকে নেমে এসেছে বলে জানিয়েছেন, একাধিক গাড়ি বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান। রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউ-এ কার হাটের বিক্রেতা মামুন বলেন, আমাদের শো রুমে সপ্তাহে আগে বাইশ থেকে পঁচিশটি গাড়ি বিক্রি হতো। সেখানে এখন বারো থেকে তেরো তে নেমে এসেছে। অনেক দিন থেকেই এই মন্দা ভাব চললেও সম্প্রতি এটা বেড়েছে। এখন ব্যবসা টিকিয়ে রাখা অনেকটা দায় হয়ে পরেছে। নিটল মোটরস গ্রুপের বিক্রেতা নিয়াজ মাহমুদ বলেন, আমাদের সব গাড়ি টাটা প্রাইভেট কার। সারে চৌদ্দ লাখ থেকে ত্রিশ লাখ টাকা মূল্যের গাড়ি রয়েছে। আমাদের শো রুমে গাড়ি বিক্রিতে প্রভাব না পরলেও খুব যে বিকিকিনি হচ্ছে এটা বলা যাবে না। কিছুটা প্রভাব পড়েছে। পাঁচ থেকে দশ ভাগ বিক্রি কমেছে। আমরা সাধারণত ব্রান্ডের গাড়ি বিক্রি করি। প্রতি মাসে পঞ্চাশটি গাড়ি বিক্রয় হয়। যেটা এখন কমে গেছে। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, হয়তো এই মুহুর্তে মানুষের গাড়ি ক্রয়ের প্রয়োজন নেই। যদিও আমাদের গাড়ির ক্রেতা শুদ্ধি অভিযানের ব্যক্তিদের মধ্যে পড়ে না।

দ্য হিন্দুর দৃষ্টিতে আজকের ৫ শীর্ষ ইভেন্ট

প্রতিদিনের মতো আজও ঘটছে নানা গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট। তার মধ্য থেকে ভারতের দ্য হিন্দু’র বিজনেস লাইন শীর্ষ পাঁচটি খবর বাছাই করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ইন্ডিয়া ইকোনমিক সামিট, ভারত-২২ ইটিএফ, ওয়ার্ল্ডস ওমেন বক্সিং চ্যাম্পিয়নশিপ, পিএসবি কাস্টমার আউটরিচ ইনিশিয়েটিভ এবং দিল্লি-কাত্রা ভান্দে ভারত এক্সপ্রেস। এর মধ্যে আজই বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের ইন্ডিয়া ইকোনমিক সামিট শুরু হচ্ছে। ৩৩তম এই সামিটে গুরুত্ব দেয়া হবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, পরিবেশগত সংস্কার, অবকাঠামো, উদ্ভাবন ও দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনৈতিক বিষয়াবলী। এতে অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত হওয়ার কথা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। এই সামিটে সিঙ্গাপুরের উপ প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি তার সহ-সভাপতিত্ব করার কথা। দুই দিনের এই ইভেন্টে ৪০টিরও বেশি দেশ থেকে প্রায় ৮০০ নেতা অংশগ্রহণ করবেন।
ওদিকে চতুর্থ দফায় ভারত-২২ এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ড উন্মুক্ত করা হবে আজ বৃহস্পতিবার। এর মধ্য দিয়ে চতুর্থ দফায় বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ভারত সরকার ৮০০০ কোটি রুপি তহবিল সংগ্রহ করতে চায়। ইস্যু মূল্যের ওপরে এ জন্য বিনিয়োগকারীরা পাবেন শতকরা ৩ ভাগ ডিসকাউন্ট। এখন পর্যন্ত সরকার ভারত-২২ ইটিএফ তহবিলে সংগ্রহ করেছে ৩৫০০০ কোটি রুপি।
ওদিকে রাশিয়ায় আজ শুরু হচ্ছে বিশ্ব নারী বক্সিং চ্যাম্পিয়নশিপ। এতে ভারত থেকে অংশ নিচ্ছেন কয়েকজন। তার মধ্যে অন্যতম এমসি ম্যারি কোম এবং সারিতা। ম্যারি কোম ৬ বারের চ্যাম্পিয়ন। ফলে তার দিকে সবার দৃষ্টি থাকবে।
সরকারিখাতের ব্যাংকগুলো প্রথম দফায় শুরু করছে ‘কাস্টমার আউটরিচ ইনিশিয়েটিভ’। এর আওতায় প্রায় ৫০টি জেলায় সেবা দেয়া হচ্ছে। চারদিনের এই ইভেন্টে খুচরা বিক্রেতা, কৃষি, যানবাহন, ঘর নির্মাণ, এমএসএমই, শিক্ষা ও ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ঋণ দেয়া হচ্ছে।
আজই ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উদ্বোধন করছেন নয়া দিল্লি-কাত্রা ভান্দে ভারত এক্সপ্রেস ট্রেন। জম্মু-কাশ্মীরে বৈষ্ণ দেবী মন্দিরে তীর্থযাত্রীদের জন্য ঘাঁটি হলো কাত্রা। সেই কাত্রা যাওয়ার পথে তিনটি পয়েন্টে থামবে এই ট্রেন।

দল, আত্মীয় দেখতে চাই না অভিযান চলবে: -ভয়েস অব আমেরিকাকে প্রধানমন্ত্রী

দুর্নীতি সমাজে বৈষম্যের সৃষ্টি করছে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন সমাজে একজন সৎভাবে জীবনযাপন করে, আরেকজন দুর্নীতি করে বিশাল অর্থবিত্তের মালিক হয়। এতে সন্তানদের মধ্যে খারাপ প্রভাব ফেলে। তাদের যতই বোঝানো হোক, নিজের বাবা-মাকে প্রশ্ন করে- তারা পারলে তুমি কেন পারো না? প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফলে ছেলে মেয়েদের মধ্যেও লোভ-লালসার তৈরি হয়। চলমান দুর্নীতি বিরোধী অভিযান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই ক্ষেত্রে আমি আমার দলের কে কি তা দেখতে চাই না, আমার আত্মীয়-পরিবার দেখতে চাই না, কে কত বেশি উচ্চবিত্ত সেটাও আমি দেখতে চাই না। অনিয়ম যেখানে আছে  দুর্নীতি যেখানে আছে বা আমাদের দেশকে ফাঁকি দিয়ে যেকিছু করতে চাচ্ছে তার বিরুদ্ধে অভিযান চলবে। জাতিসংঘের ৭৪ তম সাধারণ অধিবেশন শেষে নিউইয়র্কে ভয়েস অব আমেরিকার সঙ্গে একান্ত সাক্ষাতকারে শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। ভয়েস অব আমেরিকার বাংলা বিভাগের প্রধান রোকেয়া হায়দার প্রধানমন্ত্রীর ওই সাক্ষাতকার গ্রহণ করেন।

বাংলাদেশে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল কতখানি সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে সরকার সক্ষম হচ্ছে? এমন প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অবশ্য আমাদের যত প্রোগ্রাম আমরা করছি বা প্ল্যান নিচ্ছি, আমাদের উন্নয়ন প্রকল্পগুলো নিচ্ছি, আমার মাথার ভেতরে এটাই থাকে যে, প্রত্যেকটি উন্নয়নের সুফল আমার তৃণমূলের মানুষজন পায়।
বাংলাদেশের জনগণ যেনো পায়। যেমন আপনি দেখেন আমাদের প্রবৃদ্ধি আমরা ৮.১৩ ভাগে উন্নীত করতে পেরেছি, কিন্তু মূল্যস্ফীতি আমরা ৫ দশমিক ৪ বা ৬-এর মধ্যে রাখতে সক্ষম হয়েছি। এর অর্থ হলো প্রবৃদ্ধির উচ্চহারের সাথে সাথে যদি মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে থাকে তবে সুফলটা সাধারণ মানুষ পায়, গ্রামের মানুষ পায়। ওটা তৃণমূল পর্যায়ে যায়। এবং আমরা আমাদের যত অর্থনৈতিক পরিকল্পনা গ্রহণ করি সবসময় মাথায় এটাই থাকে যে, গ্রামের মানুষ, তৃণমূলের মানুষ তারা কতটুকু লাভবান হবে, তাদের ভাগ্য কতটুকু ফিরবে। কারণ আমাদের মূল লক্ষ্যটা হচ্ছে দারিদ্র্য বিমোচন। দারিদ্যমুক্ত দেশ  হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। সে লক্ষ্য নিয়েই আমাদের পরিকল্পনা।

আন্তর্জাতিক পর্যায় থেকে রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে কি আশ্বাস পেয়েছেন এমন প্রশ্নে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা একটা মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছিলাম। কারণ আমাদের জীবনেও এ ধরণের ঘটনা ঘটেছিলো। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর অত্যাচার, নির্যাতন, গণহত্যা, নারী নির্যাতন অগ্নিসংযোগ, লুটপাট- এসব কারণে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রায় এককোটির মতো মানুষ আশ্রয় নেয় ভারতে। আবার ৭৫ এর ১৫ই আগস্ট আমাদের পরিবারসহ আত্মীয়-স্বজন যাদের ওপর আক্রমণ হয়েছিলো, আমাদের পরিবারের সদস্যরা শাহাদাতবরণ করেছিলো এবং আমিসহ যারাই বেঁচেছিলো, আমি আমার ছোটবোনসহ সবাই আশ্রয় নিয়েছিলাম ভারতে। কাজেই রিফিউজি থাকা- এর যে কষ্ট-দুঃখ সেটা আমরা জানি। সেই মানবিক কারণেই আমরা তাদেরকে আশ্রয় দিয়েছিলাম এবং সাথে সাথে তাদের চিকিৎসা, খাদ্যের ব্যবস্থা শুরুতে আমাদের নিজেদেরই করতে হয়েছে। ধীরে ধীরে দেশের বিভিন্ন সংস্থা, আন্তর্জাতিক সংস্থা সাহায্যের হাত বাড়িয়েছে। তবে এটা ঠিকই বলেছেন, এই সমস্যাটা প্রায় তৃতীয়বর্ষে পদর্পন করতে যাচ্ছে। আমরা কিন্তু মিয়ানমারের সঙ্গে একটা আলোচনা শুরু করেছিলাম। এবং একটা চুক্তিও আমাদের সই হয়েছে যে, তারা এদেরকে ফেরত নেবে। কিন্তু যতবারই সে উদ্যোগটা নেয়া হচ্ছে, তালিকা হচ্ছে, সম্পূর্ণ ব্যবস্থা হচ্ছে ঠিক যে সময়টা ফেরত যাওয়ার কথা সে সময়টা কিছু সমস্যা দেখা দিচ্ছে। আর ফেরত নেয়া হচ্ছে না।

আন্তর্জাতিকভাবে বিভিন্ন দেশের সাথে, রাষ্ট্রপ্রধানের সাথে বা বিভিন্ন সংস্থার সাথে যে আলাপ আলোচনা হচ্ছে বা ইতিমধ্যে হয়ে গেছে, সকলেই সহানুভূতিশীল এবং সকলেই এটা বোঝে যে মিয়ানমার তাদের নাগরিক ফিরিয়ে নেবে এটাই স্বাভাবিক। এটাই সবাই আশা করে। কিন্তু মিয়ারনমারের কাছ থেকেও যতটা সাড়া পাওয়ার কথা আমরা পাই না। তবে এখানে একটা কথা আছে, সমস্যাটা হচ্ছে মিয়ানমারের নিজের সৃষ্টি করা। এটা মিয়ানমার সরকার এবং তাদের জনগণ, তাদের মাঝে সংঘাতটা। যেহেতু সমস্যাটা মিয়ানমারের অভ্যন্তরীন ব্যাপার এবং তারা নিজেরাই সমস্যাটা সৃষ্টি করেছে সমাধানটা তাদেরকেই করতে হবে। তাদেরই করা উচিত।

বাংলাদেশ ৫০ বছর পূর্ণ করতে যাচ্ছে অচিরেই। বর্তমানে দেখা যাচ্ছে যে, একটি গণতান্ত্রিক দেশ, একটি সফল গণতান্ত্রিক দেশ বাংলাদেশ। সেই অর্থে একটি বলিষ্ঠ বা শক্তিশালী গণতান্ত্রিক দল গড়ে ওঠেনি। এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটা সম্ভব হচ্ছে না এই কারণে যে, বাংলাদেশে আসলে গণতান্ত্রিক ধারাটা অব্যাহত থাকতে পারেনি। আমরা আমাদের মহান নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে দীর্ঘ নয় মাস মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে দেশটা স্বাধীন করেছি এবং এই সংগ্রামটাও সেদিন ছিলো মিলিটারি ডিক্টেটরশিপের বিরুদ্ধে। স্বাধীনতার পর মাত্র সাড়ে তিন বছরের মধ্যে তিনি একটি যুদ্ধবিধস্ত দেশ গড়ে তুলেছিলেন। এবং গণতান্ত্রিক শক্তিগুলি যাতে আরও শক্তিশালী হয়, তৃণমূল পর্যায় থেকে গণতন্ত্রটা গড়ে ওঠে তার জন্য তিনি ক্ষমতাটাকে বিকেন্দ্রীকরণ করে তৃণমূলকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ব্যবস্থা তিনি নিয়েছিলেন। দুর্ভাগ্য ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট তাকে হত্যা করা হলো। আবার সেই মিলিটারি ডিক্টেটররা দেশ শাসন করেছে। এখানে সমস্যাটা হচ্ছে, যখন একটা মিলিটারি ডিক্টেটর ক্ষমতা দখল করে, সংবিধান লঙ্ঘন করে। প্রথমে তো রাজনীতিবিদদের যথেষ্ঠ গালিগালাজ করেই আসে, দোষারোপ করেই আসে এবং নিজেরাই রাজনীতিবিদ হয়ে যায়। তখন একটা দল গঠন করে। এখন ক্ষমতায় বসে থেকে, ক্ষমতার সুযোগ-সুবিধা দিয়ে, তারপর যখন একটা দল গঠন করে এবং সেই দল দিয়ে একটা প্রহসনের নির্বাচন দিয়ে ক্ষমতাকে তারা কুক্ষিগত করার চেষ্টা করে।

এই মুহুর্তে বাংলাদেশে একটি দুর্নীতি বিরোধী অভিযান চলছে। কিভাবে এই সিদ্ধান্ত নিলেন? কেনোই বা বিরাট একটা শুদ্ধি অভিযান শুরু করলেন? এমন প্রশ্নে শেখ হাসিনা বলেন, এটা তো খুবই স্বাভাবিক। কারণ এক নাম্বার, আপনি দেখেন এখানে যে জঙ্গিবাদ এবং সন্ত্রাস শুরু হয়েছে, আপনার নিশ্চয় মনে থাকার কথা যে, একই সময় বাংলাদেশের ৫০০ জায়গায় বোমা হামলা হয়েছে। আমি নিজে গ্রেনেড হামলার শিকার হয়েছি, দশ ট্রাক অস্ত্র চালান, মানিলন্ডারিং, বিদেশে অর্থপাচার, এই যে অনিয়মগুলি হচ্ছিলো, আমরা কিন্তু সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা দিয়ে অভিযান শুরু করলাম। সন্ত্রাস দমন করলাম। এটা যে শুধু আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে করলাম তা কিন্তু নয়, আমার প্রত্যেকটা কাজে আমি জনগণকে সম্পৃক্ত করি। আমি দেশবাসীকে আহ্বান করলাম, সকল শ্রেণি পেশার মানুষ, অভিভাবক, শিক্ষক, ইমাম, আমাদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, আমাদের পুলিশ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সকলকে একযোগে বললাম জঙ্গিবাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে হবে। এখন আমাদের দেশকে অর্থনীতিতে উন্নতি করতে হবে। জঙ্গিবাদ দমনের সাথে সাথে আমরা মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করলাম। একটা পর্যায়ে এসে মাদক অনেকটা নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছি, সেই অভিযান চলছে। সেই সাথে সাথে আমি মনে করলাম আমি যদি দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান না চালাই তাহলে আমাদের সমাজে বিরাট বৈষম্য তৈরি হয়ে যাবে। আমি এখানে সংক্ষেপে বলতে চাই, একটা সমাজে একজন সৎভাবে জীবনযাপন করে আর আরেকজন দুর্নীতি করে বিশাল অর্থের মালিক হয়ে জীবনযাপন করে।

এই যে একটা বৈষম্য, এতে তার বাড়ির শিশু থেকে শুরু করে তরুণ দেখে যে তার বাবা-মা সৎভাবে জীবন যাপন করছে ঠিক একইভাবে তার পাশে বিশাল বিত্ত-ভৈবের মালিক হয়ে বিলাসী জীবন যাপন করছে, খুব স্বাভাবিকভাবে ছেলেমেয়েদের মনে একটা প্রশ্ন জাগে। প্রশ্ন করে ওর বাবা দিতে পারে তুমি পারো না কেনো? আপনি যতই নীতির কথা বলেন, যতই তাদেরকে বোঝান, এরপরও ওইসব শিশুদের মনে প্রশ্ন থেকে যায়। সেই চিন্তা থেকেই আমি সিদ্ধান্ত নিলাম কোথায় একটা কিন্তু রয়েছে সেটা খুঁজে বের করতে হবে। তার বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে হবে এবং ব্যবস্থা নিতে হবে। এই ক্ষেত্রে আমি বলবো এখানে আমার দলের কে কি আমি দেখতে চাই না, আমার আত্মীয়-পরিবার আমি দেখতে চাই না, কে কত বেশি উচ্চ বিত্ত সেটাও আমি দেখতে চাই না। অনিয়ম যেখানে আছে, দুর্নীতি যেখানে আছে বা আমাদের দেশকে ফাঁকি দিয়ে যে কিছু করতে চাচ্ছে তার বিরুদ্ধে অভিযান চলবে। এটা খুব রিস্কি। তা না হলে সম্পদ দেখানোর একটা প্রতিযোগিতা। এই যে একটা অসুস্থ প্রতিযোগিতা, আমি মনে করি এটা অসুস্থ একটা মানসিকতা। সম্পূর্ণ একটা অসুস্থ মানসিকতা। এখান থেকে আমাদের সমাজটাকে রক্ষা করতে হবে। কারণ এটাতো মুষ্টিমেয় লোক করে যাচ্ছে, আমার সাধারণ মানুষ তো না। এদের প্রভাব তো চলে আসছে বিভিন্ন পর্যায়। সেখান থেকে মানুষকে রক্ষা করা বিভিন্ন প্রজন্মকে রক্ষা করা যারা একটি আদর্শ নিয়ে... এতো কষ্ট করে যে দেশটা গড়ে দিয়ে যাচ্ছি সেটাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার মানসিকতা নিয়েই চলবে।

বাংলাদেশের বিশাল মানবসম্পদ, তাদেরকে দক্ষ করে গড়ে তুলতে আপনার সরকার কোন পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে কি? বিদেশে যদি দক্ষ জনশক্তি পাঠানো যায় তাহলে অনেক সুফল আসবে, সেক্ষেত্রে কতটুকু পদক্ষেপ রয়েছে?  এমন প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগে বিদেশ যেতো মানুষ একটা ধরণের কাজ করতো। আমরা কিন্তু বিভিন্ন ধরনের কাজে দক্ষতা অর্জন করার উদ্যোগ নিয়েছি। আমাদের যে শিক্ষানীতি সেখানেও ভোকেশনাল ট্রেনিং, কারিগরি শিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়েছি। প্রত্যেকটা উপজেলায় একটা করে কারিগরি স্কুল তৈরি করে দিচ্ছি, ইনস্টিটিউট তৈরি করে দিচ্ছি, ট্রেনিং বহুমুখী করে দিচ্ছি। ডিজিটাল বাংলাদেশের ঘোষণা দিয়েই থেমে থাকিনি, প্রযুক্তির উন্নয়নে আমরা বিভিন্ন উপজেলা জেলায় ৫০০ হাজারের মতো ট্রেনিং সেন্টার করে দিয়েছি। সেখানে আমরা আইসিটি পার্ক করে দিচ্ছি। আমাদের মানবসম্পদ এবং প্রযুক্তি রপ্তানী করা যেমন ডিজিটাল ডিভাইস তৈরী করা- সে সুযোগটা আমাদের তৈরী হচ্ছে। ইতিমধ্যে একটি টেক্সটাইল ইউনিভার্সিটি করে দিয়েছি। ডিজিটাল ইউনিভার্সিটি করে দিয়েছি, ফ্যাশন ডিজাইন ইউনিভার্সিটি আছে। সব যে সরকারিভাবে তা না, আমাদের বেসরকারি খাতগুলোতে উৎসাহিত করছি, সুযোগ করে দিচ্ছি, জমি দিয়ে দিচ্ছি যে আপনারাও করেন। এগ্রিকালচার আমাদের বড় একটি খাত সেখানেও বিভিন্ন ধরনের সুযোগ করে দিচ্ছি।

দলমত নির্বিশেষে বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা কতখানি এমন প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সব থেকে বেশি স্বাধীনতা যদি ভোগ করে থাকে তবে সেটি বাংলাদেশের সাংবাদিকরা। এ কারণে যে, আপনি জানেন, আমাদের ১৬ কোটি মানুষের দেশ। স্বাক্ষরতার হার গত এক দশকে আমরা ৭৩% এ উন্নীত করতে পেরেছি। এটা ছিলো মাত্র ৪৫%।

তারপরও আমাদের সংবাদপত্রের সংখ্যাধিক্য কত বেশি। প্রায় ৭ হাজারের মতো আমাদের সংবাদপত্র আছে। এক সময় শুধুমাত্র একটাই সরকারি টেলিভিশন-বিটিভি, রেডিও একটাই- বাংলাদেশ বেতার। ৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর আমি খুলে দিলাম বেসরকারি খাতে। ৪৪ টা লাইসেন্স দেয়া আছে, এরমধ্যে ২৪টা ভালোভাবে চালু আছে। এই যে টেলিভিশনগুলি চলে, তাদের যে টকশো, তাদের যে আলোচনা, তাদের যে সংবাদ পর্যালোচনা, সেখানে কি আমরা কখনো হস্তক্ষেপ করি? করি না। কিন্তু পৃথিবীর সবদেশে, ভয়েস অব আমেরিকা বলেন, সিএনএন বলেন, বিবিসি বলেন, প্রত্যেকের একটা নীতিমালা আছে এবং সেই নীতিমালা মেনেই সকলে চলে। সাংবাদিকতার ইথিকসও থাকে। আমার মনে আছে বিবিসিতে একবার ওদের পার্লামেন্ট মেম্বার সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য দিয়েছিলো বলে সেটা প্রমাণ হওয়ার পর সকলকে পদত্যাগ করতে হয়েছিলো। আমাদের দুর্ভাগ্য, আমাদের দেশে একটা মিথ্যা তথ্য প্রকাশিত হওয়ার পর যতই প্রতিবাদ দেন, মিথ্যাটা যত বড় করে ছাপা হয়, প্রতিবাদটা দেয়া হয় ছোট করে। ইথিকস টা কোথায়? তাহলে আপনি সাংবাদিকতার স্বাধীনতা আছে কি না প্রশ্নটা করবেন কিভাবে? আমিতো বলবো সবচেয়ে বেশি স্বাধীনতা আমাদের দেশে ভোগ করে।

উত্তর প্রদেশে কথিত অবৈধ বাংলাদেশিদের বিরুদ্ধে দমনপীড়ন

উত্তর প্রদেশে বাংলাদেশি কথিত অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে দমনপীড়ন শুরু করতে সব জেলা পুলিশ প্রধানকে নির্দেশ দিয়েছে রাজ্যের পুলিশ মহাপরিচালক ওপি সিং। তাদেরকে বলা হয়েছে, উত্তর প্রদেশে যেসব বাংলাদেশি নাগরিক অবৈধভাবে বসবাস করছেন তাদের চিহ্নিত করতে, ভিডিওগ্রাফভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ করতে এবং আঙ্গুলের ছাপসহ একটি ডাটাবেজ তৈরি করতে। যাতে ভবিষ্যতে তাদের বিরুদ্ধে, দেশ থেকে বের করে দেয়া থেকে শুরু করে যেকোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়। এ খবরটি খুবই গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করেছে ভারতীয় মিডিয়া। অনলাইন দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া লিখেছে, এমন নির্দেশনা দেয়া হয়েছে সোমবার। এতে আসামে সম্প্রতি সমাপ্ত নাগরিকপঞ্জী বা এনআরসি মডেলের কথা সামনে চলে এসেছে। আসামের মতো উত্তর প্রদেশেও এনআরসি বাস্তবায়নে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সরকার প্রত্যয় ব্যক্ত করে। সোমবার ইস্যু করা ওই নির্দেশনায় ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ২০১৭ সালের অক্টোবরের গাইডলাইন অনুসরণ করা হয়েছে বলে বলা হয়েছে।
ওই গাইডলাইনে অবৈধ অভিবাসীদের চিহ্নিত করার কথা বলা আছে। এ বিষয়ে মঙ্গলবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন পুলিশের মহাপরিচালক ওপি সিং। তিনি বলেছেন, উত্তর প্রদেশে অবৈধভাবে বসবাস করছেন হাজার হাজার বাংলাদেশি। তার মধ্যে বহু সংখ্যক ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন। তাই রাজ্যের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য বাংলাদেশি ও অন্য বিদেশিদের শনাক্ত করা প্রয়োজন। রেলওয়ে, বাস স্টেশন, নতুন নতুন সব বসতি এবং রাস্তার পাশে অস্থায়ীভিত্তিতে নির্মিত ছালার ঘরে এ অভিযান চালাতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে পুলিশ টিমকে। এতে অবৈধ অভিবাসীদের চিহ্নিত করা হবে।
পুলিশের মহাপরিচালক বলেছেন, পুরো প্রক্রিয়া ভিডিওতে ধারণ করতে হবে। উত্তর প্রদেশে বসবাসকারী অবৈধ বিদেশিদের আঙ্গুলের ছাপ সহ ডাটাবেজ তৈরি করা হবে এগুলো দিয়ে। পরে সংগৃহীত আঙ্গুলের ছাপ পাঠিয়ে দেয়া হবে ফিঙ্গারপ্রিন্ট ব্যুরোর কাছে। যদি কোনো অবৈধ অভিবাসী অন্য কোনো রাজ্যের অধিবাসী বলে দাবি করেন তাহলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়ার আগে পুলিশ তার ব্যক্তিগত বিশ্বাসযোগ্য তথ্য যাচাই করবে। তারা যেসব ডকুমেন্ট হাজির করবে তার যথার্থতাও পুলিশ যাচাই করবে। এর মধ্যে রয়েছে আধার কার্ড, ড্রাইভিং লাইসেন্স, ভোটার আইডি এমনকি অস্ত্রের লাইসেন্স। এ অভিযানে যেসব কর্মকর্তা জড়িত থাকবেন তারা এসব কর্মকাণ্ডের দালালদেরও চিহ্নিত করবেন। এবং যাচাই করবেন কীভাবে তারা এসব ডকুমেন্ট তৈরি করেছে।

লাগাম টেনে ধরার প্রয়োজনীয়তা তৈরি হয়েছে -হোসেন জিল্লুর by মরিয়ম চম্পা

হোসেন জিল্লুর রহমান। বিশ্বের সবচেয়ে বড় এনজিও ব্র্যাকের চেয়ারপারসন। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের  উপদেষ্টা হিসেবে ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। অর্থনীতিবিদ হোসেন জিল্লুর দারিদ্র্যবিমোচন নিয়ে লড়াই করছেন দীর্ঘদিন ধরেই। সমাজের নানা গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে তিনি ভাবেন, মত দেন। সম্প্রতি মানবজমিনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে সাম্প্রতিক নানা ইস্যুতে কথা বলেছেন খোলামেলা।
চলমান দুর্নীতিবিরোধী অভিযান বা শুদ্ধি অভিযান প্রসঙ্গে হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, এখানে ক্ষমতা বলয়ের মধ্যে কিছু টানাপড়েন তৈরি হয়েছে হয়তো। এই অভিযান সম্পর্কে খুব বেশি ব্যাখ্যা দেয়া কঠিন। এ বিষয়ে নীতিনির্ধারক মহল আরো পরিষ্কার করে বলতে পারবেন।
কিন্তু এটা থেকে একটি বিষয় বোঝা যাচ্ছে যে, লাগাম টেনে ধরার একটি প্রয়োজনীয়তা তৈরি হয়েছে হয়তো। সেটা কেন তৈরি হলো এগুলো ব্যাখ্যার বিষয়। এটা আরেকটু বিশ্লেষণ করে দেখতে হবে। অভিযানের গন্তব্য কোথায়- সেটা এই মুহূর্তে বলাটা মুশকিল। কিন্তু এই অভিযানের ফলে সমাজের যে বিভিন্ন প্রশ্নের যথার্থতা প্রতিষ্ঠা পেয়েছে- ওটাই বড় করে এখন এই মুহূর্তে বলা যায়। এটা এমন ধরনের অভিযান হচ্ছে যেখানে আসলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকেই প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। সেটা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হোক, ক্ষমতাসীন দল হোক বা অঙ্গ সংগঠন, প্রাইভেট সেক্টরের লোকজন হোক কেউ বাদ যাচ্ছে না। এমনকি আমাদের ঠিকাদারি কাজগুলো কীভাবে দেয়া হয় এটা তো ইতিমধ্যে পরিষ্কার। ই-টেন্ডারিংয়ের কথা আমরা অনেকবার শুনেছি। যেটা দু’একজনই পাচ্ছে। ঠিকাদারি কাজগুলোর সিদ্ধান্ত কীভাবে গ্রহণ করা হচ্ছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কোন খবরের কারণে খবরের শিরোনাম হচ্ছে।
বিশ্বব্যাপী আমরা কেন র‌্যাঙ্কিংয়ে ঢুকতে পারছি না। এটার জন্য কিন্তু আলোচনায় আসছে না। অবকাঠামো তৈরির দুর্নীতি আলোচনায় আসছে। এই কারণে একটি বড় ধাক্কা দিচ্ছে আমাদেরকে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ভুল কারণগুলোতেই খবরের শিরোনাম হচ্ছে। এবং বিশেষ করে বেপরোয়া বলতে অঙ্গ সংগঠন ইত্যাদি এদের মূল উদ্দেশ্যে কী সেগুলো আমাদের বোঝা মুশকিল হয়ে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে নানা ধরনের নেতিবাচক বিষয় দেখা গেছে।
প্রখ্যাত এই অর্থনীতিবিদ বলেন, আমার মনে হচ্ছে যে, একটি উদ্বেগের বিষয় ছিল জনমনে। উন্নয়ন ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। এবং তার পরিসংখ্যানও আছে। পাশাপাশি মানুষের মনে নানা ধরনের প্রশ্ন এবং উদ্বেগ ছিল তার যথার্থতা অনেকটা এই অভিযান প্রতিষ্ঠা করেছে। দুর্নীতির একটি বিষয় ছিল। বৈধ আয়ের বিষয় ছিল। বিভিন্ন দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি এবং যোগসাজশে নানা ধরনের অনিয়মের বিষয় ছিল। আপাতদৃষ্টিতে এগুলোও বড় বিষয় নয়। দুর্নীতি বহু দেশে হয়। সবচেয়ে বড় যে চিন্তা বা উদ্বেগের বিষয় মানুষের মনে সেটা হচ্ছে অভিযানের গন্তব্য নিয়ে নয়, উন্নয়নের গন্তব্য কোথায় এটা নিয়ে। উন্নয়নের গন্তব্য যদি হয় অত্যন্ত বেপরোয়া ও নিয়ম ভঙ্গকারী তাহলে ক্ষমতাকে অপব্যবহারকারী গোষ্ঠী আরো নিরন্তর ভাবে এবং রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী হবে এবং হচ্ছে। সেটা নিয়েই মনে হয় মানুষের মনে আরো বেশি দুশ্চিন্তা ছিল। কত হাজার টাকা দুর্নীতি হয়েছে সেটা বড় বিষয় নয়। মানুষের মনে এখন সবচেয়ে বড় যে চিন্তা এবং উদ্বেগ সেটা হচ্ছে উন্নয়নের গন্তব্যটা কোথায়। আমরা মধ্যম আয়ের স্বপ্ন দেখছি। এবং সেটা একটি যথার্থ স্বপ্ন। আমরা দরিদ্র একটি দেশ ছিলাম।
সেখান থেকে একটি সমৃদ্ধ স্বপ্ন দেখার সাহস, শক্তি এবং যোগ্যতা দেখাচ্ছি এটা অত্যন্ত অভিনন্দনযোগ্য। কিন্তু কোন উপাদান দিয়ে এই স্বপ্নটা সাজানো হচ্ছে- সেটাই এখন সবচেয়ে বড় বিষয় হয়ে সামনে চলে আসছে। এই মধ্যম আয়টা কি শুধুমাত্র সেই ক্ষমতার অপব্যবহারকারী, বেপরোয়া ও অনিয়মের সূত্র ধরে অতি ধনীর পথ তৈরির জায়গাগুলোই কি মূলত মধ্যম আয়ের জায়গা। নাকি এখানে আমাদের জীবনমানের ডিগনিটি, শিক্ষার মান, স্বাস্থ্যের মান, বিশেষ করে নিয়মতান্ত্রিকভাবে সবকিছু হওয়া। ক্ষমতার অপব্যবহার না হওয়া। উন্নয়নের গন্তব্য বলতে বৈষম্যটা মূল গন্তব্য হতে পারে না। শুধু বৈষম্য নয়। বৈষম্য কোন পন্থায় হচ্ছে। এমন যদি হতো একজন ব্যক্তি প্রচণ্ড কষ্ট করে বেশি টাকা অর্জন করছে। আরেক জন অলসভাবে বেশি টাকা অর্জন করছেন। সেটাও বৈষম্য। এটা হচ্ছে অনৈতিকভাবে, নিয়ম ভঙ্গ করে, অন্যকে বিপদে ফেলে যোগসাজশের মাধ্যমে করা হচ্ছে। এভাবে বৈষম্য তৈরি হচ্ছে। তার মানে আজকের বাংলাদেশে বৈষম্য শুধু বিষয় নয়। বৈষম্য কোন পথে হচ্ছে প্রকৃতপক্ষে সেটা নিয়ে প্রশ্ন। অনেক দেশে নানা পর্যায়ে বৈষম্য আছে। যেকোনো দেশে অতি বৈষম্য একটি দুশ্চিন্তার কারণ। কিন্তু আজকে মূল বিষয় হচ্ছে বৈষম্যের চেয়েও অনৈতিক পথে বৈষম্য তৈরি হচ্ছে। এখানে নজর দেয়া দরকার।
হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, চলমান অভিযান এক অর্থে বেপরোয়া অনৈতিক খাতগুলোর ওপর আঘাত। এটা একদিকে আমি ভালো এবং সঠিক মনে করছি। কিন্তু শুদ্ধি অভিযানটা মাঝপথে থেমে গেলে এক ধরনের ধারণা আমরা নেবো। এটা যদি আংশিক হয় তাহলেও এক ধরনের ধারণা নিতে হবে। এটা কি এক গোষ্ঠীর লড়াইয়ের অংশ কিনা-এটা আমাদের এখনো দেখার বাকি আছে যে, অভিযানটা সার্বিকভাবে কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে। এখনো তো এটা চলছে। চলমান একটি প্রক্রিয়া। সেই অর্থে আমার মনে হয় আমাদের অপেক্ষা করাটাই শ্রেয় হবে। বরং যে প্রশ্নগুলো সমাজের মধ্যে তোলপাড় করছিল। এবং এ কথাগুলো হয়তো জনসম্মুখে বলাবলি হচ্ছিল বা হচ্ছিল না। সেগুলোর যথার্থতা প্রতিষ্ঠা পেয়েছে এই অভিযানের মধ্যদিয়ে।
অভিযানে টাকা পাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটাকে খুব একটা মুখরোচক খবর হিসেবে দেখাটা উচিত হবে না। হয়তো এটা খুব নগ্নভাবে চোখে পড়েছে। কিন্তু ব্যাংক থেকে টাকা লুণ্ঠন হলো ওটা তো নগ্নভাবে চোখে পড়েনি। কিন্তু ওটা তো হয়ে গেল। নানাভাবে ব্যাংকিং সেক্টরে যে সমস্যাগুলো সেখানে বড় ধরনের অর্থ পাচার হচ্ছে। এখন যে টাকার ছড়াছড়ি সেক্ষেত্রে এটাও সত্য যে, আমাদের ব্যাংকগুলো সার্বিকভাবে একটি চরম স্ববিরোধী পরিসংখ্যানে ভরে আছে। একদিকে ব্যাংক পরিচালনায় উচ্চ মুনাফা দেখতে পাচ্ছি। অন্যদিকে আমাদের প্রবৃদ্ধি এত কিন্তু খেলাপি ঋণও বেশি। ব্যাংকে তারল্য সংকট আছে ইত্যাদি অনেক কিছু আছে। এটা অত্যন্ত জরুরি যে, আমরা একটি যোগসূত্র তৈরি করি। এই যে বস্তাভর্তি টাকা এটার সঙ্গে ব্যাংকের বিষয়গুলো দেখতে হবে। শেয়ার বাজার অথবা ঠিকাদারি কার্যগুলো কীভাবে দেয়া হচ্ছে। এই সবগুলোকে একত্রে দেখতে হবে। শুধুমাত্র একটি অংশ ধরে সেটাকেই হাইলাইট করলাম তখন পুরো বিষয়টা আংশিক হয়ে যাবে।
তিনি বলেন, ভিআইপি কালচারকে এখন নেতিবাচকভাবে ভাবা হচ্ছে। যেখানে ভিআইপিকে সম্মানজনকভাবেও ভাবা যায়। এখানে নেতিবাচকভাবে ভাবতে বাধ্য হয়েছে সাধারণ মানুষ। যারা নিয়ম ভাঙছে, রাস্তার উল্টোদিকে চলছে, আইনের তোয়াক্কা করছে না। তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনৈতিক সহায়তা হয়তো পাচ্ছে। এবং সুযোগ নিচ্ছে। ক্ষমতার দম্ভ দেখাচ্ছে। সেটা হতে পারে ঘরের মধ্যে, রাস্তায়, প্রতিষ্ঠানে সর্বত্রই ক্ষমতার দম্ভের যে আস্ফালন দেখাচ্ছে। হোসেন জিল্লুর বলেন, প্রবাদ বাক্য আছে, ‘লেখাপড়া করে যে, গাড়ি ঘোড়া চড়ে সে’। এই প্রবাদ বাক্যে যেটা বলা হয়েছে শিক্ষার মাধ্যমে সামাজিক গতিময়তা তৈরি হওয়া। আমি হতদরিদ্র। কিন্তু শিক্ষার মাধ্যমে উপরে উঠতে পারি। কিন্তু আজকে মানসম্মত শিক্ষার সুযোগটা বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছাচ্ছে না।
এখানেও একটি প্রশ্ন রয়েছে, আমাদের নীতি নির্ধারকদের নজরগুলো কোথায় আসলে। বৃহৎ অবকাঠামোর দিকে নজর আছে সেটা পরিষ্কারভাবে আমরা বুঝতে পারছি। কিন্তু মানসম্মত শিক্ষা, স্বাস্থ্য, শহর এবং প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার যে একটি সমান গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য সেখানে যদি নজরটা না থাকে তাহলে সবাই সমান সুফল পাবে না। উন্নয়নের যে গন্তব্য সেখানে কারা স্থান দখল করে থাকবে সেটাও দেখার বিষয়। আরেকটি হচ্ছে কোন বিষয়গুলো বেশি নজর পাচ্ছে বা পাচ্ছে না এখানেও একটি বড় প্রশ্ন আছে।
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের এই উপদেষ্টা বলেন, ক্ষমতায় যখন একটি বেপরোয়া ভাব আসে যে, আমি জবাবদিহিতার ঊর্ধ্বে তখন কিন্তু যে উপসর্গগুলো তৈরি হয় তার অন্যতম একটি বিষয় হচ্ছে ভায়োলেন্স (সহিংসতা)। বিশেষ করে দুর্বল জায়গা। নারী-শিশু তাদের প্রতি সহিংসতা একটা কারণে বেড়ে গেছে। যেটা বেপরোয়া ক্ষমতার একটি কারণ। আমরা সড়কে শৃঙ্খলা আনতে পারছি না। নারী এবং শিশুদের নির্যাতন ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়া। এটার মাধ্যমে বহিঃপ্রকাশ হচ্ছে যে ক্ষমতা-বেপরোয়াভাব জবাবদিহিতার ঊর্ধ্বে। এবং তথাকথিত ভিআইপি সংস্কৃতির অত্যন্ত নেতিবাচক ধারণার মধ্যে আমরা বসবাস করছি। সেখান থেকে এই অভিযানটা একটি ধাক্কা দিয়েছে। তবে এটা কোথায় যাবে, কি হবে সেটা দেখার বিষয় আছে।

ক্যাসিনো বিরোধী অভিযান: আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের চোখে by কাজী সোহাগ

কলুষমুক্ত বিশুদ্ধ আওয়ামী লীগ দেখতে চান দলটির বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মীরা। দুর্নীতি, অপকর্ম আর দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের সঙ্গে জড়িতরা দলে আর যেনো মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে তেমনটিই প্রত্যাশা তাদের। তাই চলমান অভিযানে খুশি দলের তৃণমুলের ত্যাগী নেতাকর্মীরা। তবে অভিযানের প্রক্রিয়া নিয়ে কিছুটা অসন্তোষ রয়েছে শীর্ষ কয়েক নেতার। তাদের যুক্তি, এভাবে ঢাকঢোল পিটিয়ে দলের নেতাদের গ্রেপ্তার না করে বিষয়টি নীরবেও করা সম্ভব হতো। দলটির বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মীরা জানান, দলের নাম ভাঙিয়ে অবৈধ ব্যবসা পরিচালনা করা, আঙুল ফুলে কলাগাছে পরিণত হয়ে ক্ষমতার দাপট দেখানো ও বলয় তৈরি করে রাজনীতি করা কথিত নেতাদের লাগাম টেনে ধরতেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলের সর্বস্তরে শুদ্ধি অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি দলকে পরিশুদ্ধ করে জনগণের কাছে আওয়ামী লীগকে জনপ্রিয় সংগঠন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছেন। চলমান শুদ্ধি অভিযান প্রসঙ্গে তৃনমুলের কর্মীরা মানবজমিনকে জানিয়েছেন, অনেক আগে থেকেই দুর্নীতিবাজদের লাগাম টেনে ধরার দরকার ছিলো।
চাঁদার বখরা নিয়ে দলের মধ্যে মারামারি, খুনোখুনির অনেক ঘটনা ঘটেছে। যে অভিযান শুরু হয়েছে তা শেষ পর্যন্ত চালিয়ে যেতে হবে। এতে পরিস্থিতির উন্নতি হবে। দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সুবাতাস বইবে।
তারা বলেন, দলীয় সভাপতির এ উদ্যোগ সবার জন্য কড়া সতর্কবার্তা। বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে নিয়ে দলের নেতাকর্মীরা তাদের আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনা, কর্মপদ্ধতি এগিয়ে নিয়ে যাবে। এতে বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি মাইলফলক হিসেবে থাকবে। আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা জানান, গত ১১ বছর সরকার দেশের উন্নয়নে যেভাবে অবদান রেখেছে, সেভাবে দল ও সরকারের ইমেজ বাড়েনি। সরকারের সেক্টর-ভিত্তিক ঈর্ষণীয় উন্নয়ন হলেও তা ম্লান হয়েছে কতিপয় দুর্নীতিবাজ আর সন্ত্রাসীর অপকর্মে। আর এসবের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের বেশির ভাগই ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে কোনও না কোনোভাবে সম্পৃক্ত। তাই তাদের কর্মের বদনামটা শেষ পর্যন্ত দল বা সরকারের ওপরই এসে পড়ছে। এসব বিষয় বিবেচনা করে সরকার এবার মাদক নির্মূল ও দুর্নীতি-সন্ত্রাস দমনের ওপর জোর দিয়েছে। দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, আওয়ামী লীগ থেকে দুষিত রক্ত বের করতে হবে। আমাদের পার্টির ক্লিন ইমেজ গড়ে তুলতে হবে। ক্লিন ইমেজ করতে হলে আমাদের আগাছা,পরগাছা মুক্ত আওয়ামী লীগ গড়ে তুলতে হবে, সেটাই বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার স্বপ্নের আওয়ামী লীগ। দুঃসময়ের কর্মীরা যে আওয়ামী লীগে কোনঠাসা, সেই আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার নয়। সেখানে দলের আদর্শ নেই। ওবায়দুল কাদের বলেন, যারা বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার ছবি ব্যবহার করে অপকর্ম, দুর্নীতি, লুটপাট, ভূমি দখল করবে-তারা আওয়ামী লীগের লোক হতে পারে না। আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য আমির হোসেন আমু বলেন, দুর্নীতি মুক্ত সমাজ গড়ার জন্য শেখ হাসিনা মদ ও জুয়ার বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছেন। উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য তোফায়েল আহমেদ বলেন, আজকে কিছু অনুপ্রবেশকারী দলে প্রবেশ করে আমাদের সুনাম নষ্ট করার চেষ্টা করছে।
আওয়ামী লীগ বিশাল রাজনৈতিক দল, কত দল এদেশে এসছিলো  কিন্তু আজকে খুঁজে পাওয়া যায় না, আমাদের সকলকে সচেতন থাকতে হবে। ক্যাসিনো জুয়া এগুলো আমাদের সংবিধান পরিপন্থী, সংবিধানের ১৮ অনুচ্ছেদে আছে মদ ও জুয়া নিষিদ্ধ, ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ, এগুলো জিয়াউর রহমান চালু করেছিলেন। বঙ্গবন্ধু একটা সুন্দর দেশ গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর সেই স্বপ্ন পূরণ করার জন্য এগিয়ে যাচ্ছেন। আমরা বিশ্বাস করি তিনি তার লক্ষ্যে পৌঁছাবেন। সাংগঠনিক কাজে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির কার্যালয়ে আসা পাবনার স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মাসুদ আলম বলেন, দলের ভেতরে যে অসংগতি দেখা দিয়েছিলো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তা হৃদয় দিয়ে উপলব্ধি করেছেন। জনগনের কান্না তিনি বুঝতে পেরেছিলেন। তার নির্দেশে পরিচালিত এই অভিযানের কারনে এখন আমরা বুক ফুলিয়ে বলতে পারি আমরা আওয়ামী লীগ করি, শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগের কর্মী আমরা। একই এলাকার আরেক আওয়ামী লীগ কর্মী মিজান আরমান বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারে আছে এটাই ছিলো এতদিন আমাদের গর্বের বিষয়। এখন নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। সেটা হলো দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেয় না আওয়ামী লীগ। বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগ জনগণের আওয়ামী লীগ। দুর্নীতিবাজ আর অপকর্মকারীরা কিছুদিনের জন্য হয়তো দলে রাজা হয়ে থাকেন, দীর্ঘদিনের জন্য না। ধানমন্ডি থানা আওয়ামী লীগ নেতা জেরিন সুলতানা বলেন, দলকে ভালোভাবে টিকিয়ে রাখতে হলে ভালো ও ক্লিন ইমেজের নেতাদের বেছে নিতে হবে। তাদের দায়িত্ব দিতে হবে। আর দুর্নীতিবাজদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

অপকর্মে জড়িত থাকলে দল পরিবার নির্বিশেষে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ, মাদক ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে চলমান অভিযান অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে বলেছেন, সরকার দেশের উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ উইপোকায় ধ্বংস করা থেকে রক্ষায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তিনি বলেন, আমরা চলতি বাজেটে ১৭৩ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়েছি। দুর্নীতিবাজ উইপোকাড়া উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নকালে অর্থ লুটে নিচ্ছে। দেশের উন্নয়নের জন্য জনগণের কষ্টার্জিত অর্থের প্রতিটি পয়সার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিতের জন্য আমাদের ওইসব উইপোকাকে আটক করতে হবে। এই সব অপকর্মের সঙ্গে জড়িত থাকলে দল, পরিবার নির্বিশেষে কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না। প্রধানমন্ত্রী গতকাল রাজধানীর একটি হোটেলে দেশের প্রথম কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১-এর মাধ্যমে সকল দেশীয় টেলিভিশন চ্যানেলের বাণিজ্যিক ট্রান্সমিশনের উদ্বোধনকালে এসব কথা বলেন।
শেখ হাসিনা বলেন, আমি দেশের দরিদ্র মানুষের মুখে হাসি ফুটিয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন পূরণ করতে চাই। অপপ্রচারগুলো সরকারের বিরোধিতার নামে মানুষের মধ্যে অনাস্থা সৃষ্টির পাশাপাশি দেশে বিশৃঙ্খলা ও নৈরাজ্য সৃষ্টি করে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি আপনাদের কাছে আরেকটি আবেদন রাখতে চাই।
আপনারা সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড তুলে ধরুন যাতে করে দেশবাসীর মনে সরকারের প্রতি বিশ্বাস ও আস্থা তৈরি হয় এবং তারাও উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখতে পারে।’ অনুষ্ঠানে উপস্থিত গণমাধ্যম ব্যক্তিবর্গের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা বিরুদ্ধে বলেন, বিরোধিতা করেন, আমার তাতে কোন আপত্তি নেই। কিন্তু মিথ্যা বা অপপ্রচার যেন না হয় সে ব্যাপারে দয়া করে একটু সতর্ক থাকবেন।’ তিনি বলেন, ‘অপপ্রচার বা যাতে দেশ এবং মানুষের মনে অযথা সন্দেহ বা সংঘাত সৃষ্টি করে সে ধরনের সমপ্রচারের বিষয়ে আপনাদের একটু সতর্ক থাকতে হবে। কিছু না হোক গোটা ১০ বছরে কিছু কাজতো আমরা করেছি সেটাকে তো আর অস্বীকার করা যাবে না। সেটাও একটু প্রচার করবেন, সেটাও আমরা চাই। কারণ, আপনি কাজের মধ্যদিয়ে তখনই সফলতা অর্জন করতে পারবেন যখন দেশের মানুষের মাঝে আত্মবিশ্বাস গড়ে উঠবে। কাজেই এমন কিছু করা ঠিক হবে না যাতে করে মানুষ আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলে, দিশেহারা হয়ে যায়। যেটুকু ভাল কাজ করেছি সেটুকুর প্রচার অন্তত আমি দাবি করি।
সরকার জাতীয় সমপ্রচার নীতিমালা ২০১৪ প্রণয়ন করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তথ্য কমিশন গঠনের পাশাপাশি নতুন নতুন বেসরকারি টিভি চ্যানেল এবং রেডিওকে অনুমতি দিয়েছি। কাজেই ব্যবসা-বাণিজ্যের পাশাপাশি দেশের উন্নয়নের তথ্যগুলো দয়া করে মানুষের কাছে একটু পৌঁছে দেবেন। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর মাধ্যমে বাণিজ্যিক সমপ্রচারের জন্য বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলো চুক্তিবদ্ধ হওয়ায় মালিকদের ধন্যবাদ জানান শেখ হাসিনা। বিদেশি স্যাটেলাইট ভাড়া করে অতীতে সমপ্রচারের জন্য যে পরিমাণ টাকা খরচ হত এখন তা বেঁচে যাওয়ায় সে অর্থ তাঁরা কি কাজে লাগাবেন সে প্রশ্ন উত্থাপন করে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কল্যাণে এর কিছু অংশ ব্যয় করারও পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে স্যাটেলাইটের মাধ্যমে দুর্যোগ মোকাবিলা, দুর্গম পাহাড় বা চর অঞ্চল বা হাওড় অঞ্চলের মানুষের কাছে টেলিমেডিসিন সেবা পৌঁছে দেয়া, শিক্ষার ক্ষেত্রে প্রত্যন্ত অঞ্চলে ই-এডুকেশন পদ্ধতি চালুর কথাও তুলে ধরেন।
নিজস্ব স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১ এর মাধমে সমপ্রচার শুরু হওয়ায় ইলেকট্রনিক সমপ্রচার মাধ্যমগুলোর অনেক বাধা দূর হবে বলে আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে পরনির্ভরশীলতা থাকবে না। আমরা নিজের পায়ে দাঁড়ানোর সুযোগ পেলাম। আমরা আশপাশের দেশগুলোর কাছেও অফার করেছি। তারাও চাইলে ভাড়া নিতে পারবে। এখান থেকেও আমরা অর্থ উপার্জন করতে পারবো। এই স্যাটেলাইটের মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলে অনেক সহজে বার্তা পৌঁছাবে। দ্বিতীয় স্যাটেলাইট উৎক্ষেপনেও দেশ তৈরি হচ্ছে আভাস দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটা স্যাটেলাইটের নির্দিষ্ট সময় থাকে ১৫ বছর। এর মধ্যে আরেকটা আমাদের আনতে হবে।
এর মধ্যে পাঁচ বছর হয়ে গেছে। দ্বিতীয়টা তৈরি করা শুরু করেছি, সময় থাকতে নিয়ে আসব। সেটা আমরা একটু বড় আকারে করতে চাই। এ সময় প্রধানমন্ত্রী ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে তাঁর সন্তান এবং তথ্য প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজিব ওয়াজেদ জয়েরও কৃতিত্ব তুলে ধরেন। ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত দেশ বিনির্মাণে সরকারের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ ও পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, বাংলাদেশ নিজের পায়ে দাঁড়াবে। কারো কাছে হাত পেতে চলবে না। আজকে আমাদের বাজেটের সমস্ত অর্থ আমাদের নিজস্ব অর্থায়ন থেকে আসে। আর বিদেশি কিছু ঋণ সহযোগিতা থাকে সেটা ১০ থেকে ১৪ শতাংশের বেশি নয়। তিনি বলেন, এই নিজস্ব অর্থে নিজের পায়ে দাঁড়াবার যে সক্ষমতা আমরা অর্জন করেছি তা আমাদের ধরে রাখতে হবে। দেশব্যাপী একশ’ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠায় সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আসবে, মানুষের কর্মসংস্থান হবে, উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে, রপ্তানি বৃদ্ধি পাবে। কাজেই এই রপ্তানিকে আমরা বহুমুখি করতে চাই। কোন একটা পণ্যের ওপর নির্ভরশীল থাকতে চাই না।

দূতাবাসের অনুষ্ঠানেও স্পন্সর করতেন সেলিম by মিজানুর রহমান ও শুভ্র দেব

‘থাই ডন’ খ্যাত সেলিম প্রধানের ব্যাংকক কানেকশনের বিভিন্ন চাঞ্চল্যকর তথ্য এখন গোয়েন্দাদের হাতে। ব্যাংককে বাংলাদেশ দূতাবাসের বিভিন্ন মেগা ইভেন্ট আয়োজনসহ স্বাধীনতা দিবসের মতো অভ্যন্তরীণ অনুষ্ঠানও স্পন্সর করতেন তিনি। খাতির বাড়ানোর জন্য মোটা অঙ্কের টাকা ঢালতেন সূযোগ পেলেই। অনুষ্ঠানগুলোতে তার অর্থ লগ্নির দু’টি প্রমাণ হাতে পেয়েছে মানবজমিন। ডকুমেন্টের সত্যতাও স্বীকার করেছেন দূতাবাসে দায়িত্বপালনকারী কর্মকর্তারা। তবে ক্যাসিনো কাণ্ড এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকার প্রধানের কঠোর অবস্থানের কারণে কর্মকর্তারা সেলিম কানেকশনের বিষয়ে একে অন্যের ঘাড়ে দোষ চাপানোর চেষ্টা করছেন। সরকারি ও কূটনৈতিক সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য এবং ডকুমেন্ট বলছে, অনলাইন ক্যাসিনোর ডন সেলিম প্রধান ২০১৬ সালে ব্যাংককে বাংলাদেশের এ যাবৎকালে সবচেয়ে বড় আয়োজন ‘বাংলাদেশ এক্সপো’র টাইটেল স্পন্সর ছিলেন। যার স্পন্সর মূল্য ছিল ৩ লাখ ৩১ হাজার ৫০ বাথ।
যা বাংলাদেশি অর্থে ৮ লাখ টাকার বেশি। ওই অনুষ্ঠানে ঢাকার মন্ত্রী-এমপি, সংসদ সদস্য এবং বড় বড় কর্মকর্তারা অংশ নিয়েছিলেন। অনুষ্ঠানের ব্যানার-স্যুভিনিরে সেলিমের দুটি প্রতিষ্ঠান স্পন্সর হিসাবে প্রদর্শিত হয়েছিল। এক. জাপান বাংলাদেশ সিকিউরিটি প্রিন্টিং এবং অন্যটি প্রধান-ইয়ট বিল্ডিং কোম্পানী লিমিডেট। সূত্র বলছে, কেবল স্পন্সরই নয়, ওই আয়োজনে ফ্যাশন শো থেকে শুরু করে সাজ সজ্জার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন সেলিম প্রধানের জাপানী স্ত্রী ইউকিমি। তার তত্ত্বাবধানেই ১০ জন থাই র‌্যাম্প মডেল ফ্যাশন শোতে ক্যাটওয়াক করেছিল। ওই আয়োজনে ফ্যাশন ডিজাইনার রীনা লাতিফা এবং মাহিন খানও বাংলাদেশ থেকে অংশ নিয়েছিলেন।
সেলিমের কানেকশনে এতে বাংলাদেশ থেকে প্রিয়া বিপাশা নামের একজন মডেল পারফর্ম করার সূযোগ পেয়েছিলেন। সূত্র মতে, ওই বছরের ২৬শে মার্চ দূতাবাসের স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে ১ লাখ বাথ স্পন্সর করেছিলেন সেলিম। দূতাবাসের কূটনীতিকদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ানোর জন্য প্রায়শই তিনি আইফোনসহ বিভিন্ন দামি গিফট দিতেন। কর্মকর্তাদের সঙ্গে সম্পর্ক এবং অবস্থান বুঝে তার গিফটের দামে তারতম্য হতো। সেলিম অন্তত ৩৫ বার ব্যাংকক গেছেন বলেও তথ্য মিলেছে। যার মধ্যে অন্তত ২০ বার তিনি মিশনে গেছেন। তাকে নিয়ে কর্মকর্তাদের ‘কালার পার্টি’ করার বিষয়টিও ‘ওপেন সিক্রেট’- মানছেন সেই সময় কূটনৈতিক অ্যাসাইনমেন্টে থাকা কর্মকর্তারা। ২০১৬ সালে বাংলাদেশ এক্সপোর আয়োজনের সঙ্গে ব্যাংককস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারিরা যুক্ত ছিলেন। সবার সর্বাত্মক অংশগ্রহণেই আয়োজনটি সফল হয়েছিল- বলছেন দায়িত্বপ্রাপ্তরা। ২০১৬ সালের ৩০শে মে ব্যাংককের ওই আয়োজন ছিলো প্রথমবারের মতো থাইল্যান্ডে বাংলাদেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ প্রদর্শনী। যার উদ্দেশ্য ছিলো বাংলাদেশের রফতানি পণ্যের সঙ্গে থাই ভোক্তাদের পরিচয় করিয়ে দেয়া এবং থাইল্যান্ডসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর আমদানিকারক, উৎপাদনকারী, বিনিয়োগকারী, বেসরকারি খাত এবং নীতিনির্ধারকদের বাংলাদেশের প্রতি আকৃষ্ট করার প্রয়াস।
বাংলাদেশে উৎপাদন খরচ কম এবং এখান থেকে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নসহ অন্যান্য অনেক দেশে শুল্কমুক্ত সুবিধা আছে, এই বার্তাটিও এ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিশ্বকে জানানো হয়েছিল।
অনলাইন ক্যাসিনো ডন সেলিম প্রধানকে সোমবার থাই এয়ারওয়েজের একটি বিমান থেকে আটক করে র‌্যাবের একটি টিম। পরে মঙ্গলবার তার দেয়া তথ্যমতে র‌্যাব তার বাসায় অভিযান চালিয়ে বিপুল বৈদেশিক মূদ্রা, টাকা, বিদেশি মদ, আট কোটি টাকার চেক, হরিণের চামড়া ও অনলাইন ক্যাসিনোর সার্ভার জব্দ করে। আটক করা হয়েছে তার দুই সহযোগীকে। সম্প্রতি ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানে সেলিম প্রধানের নাম উঠে আসে। এরপর থেকে গাঁঢাকা দেন। সেলিমের ঘনিষ্ট সূত্র জানায়, শুধু অনলাইনে ক্যাসিনো ব্যবসা নয় সেলিম প্রধান রাষ্ট্রীয় একটি ব্যাংক থেকে শতকোটি টাকা ঋণ নিয়ে আর ফেরত দেননি। স্পা ও ম্যাসেজ সেন্টারের আড়ালে গড়ে তুলেছিলেন অবৈধ অসামাজিক ব্যবসা।
এছাড়া দেশের বাইরে বড় অংকের বিনিয়োগ করে একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়েছেন। এসব ব্যবসার জন্য তিনি দেশ থেকে হুন্ডির মাধ্যমে পাচার করেছেন শত কোটি টাকা। একাধিক বিয়েও করেছেন। থাইল্যান্ডের পাতায়া শহরে রয়েছে তার হোটেল ও ডিস্কো বার। এই বারে নিয়মিত নাচ-গান করেন বিভিন্ন দেশ থেকে বাছাই করা তরুণীরা। এছাড়া একাধিক ম্যাসেজ পার্লার, বিউটি পার্লার খোলেছেন পাতায়ায়। এসব পার্লারে ফিলপাইন, রাশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের সুন্দরী তরুণীরা কাজ করেন। সেলিম কয়েক বছরে দেশ থেকে শ শ কোটি টাকা পাচার করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

ক্যানসারের যুগান্তকারী ওষুধ অনুমোদন ইউরোপে

প্রথমবারের মতো ইউরোপে অনুমোদন দেয়া হয়েছে নতুন এক ধরনের ক্যানসার-রোধী ওষুধ, যাকে ডাক্তাররা ‘যুগান্তকারী’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। এই ওষুধ যুক্তরাজ্যে যেসব ডাক্তার পরীক্ষা করেছেন, তারা বলছেন প্রকৃত অর্থেই এটি দারুণ এক ওষুধ। এর ফলে আরো বেশি রোগীকে সুস্থ  করা ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। এ খবর দিয়েছে বিবিসি।
খবরে বলা হয়, নতুন এ ওষুধকে বলা হচ্ছে ‘ল্যারোট্রেসটিনিব।’ এই ওষুধের প্রথম উপকারভোগীদের মধ্যে একজন শার্লোত্তে স্টিভেনসন। ২ বছর বয়সী এই শিশু থাকে বেলফাস্টে। তার শরীরের কানেকটিভ কোষে ক্যানসার ধরা পড়েছিল। পরীক্ষামূলকভাবে তার চিকিৎসায় ল্যারোট্রেসটিনিব ব্যবহার করা হয় গত এক বছর ধরে। তার মা ইসথার বলেন, ‘আমরা জানতাম যে, আমাদের কাছে বিকল্প খুব কম।
কাজেই আমরা পরীক্ষামূলক চিকিৎসায় অংশ নিতে সম্মতি জানাই। সেজন্য আজ আমি খুশি। আমরা দেখছি যে, শার্লোত্তে খুব দ্রুতগতিতে বাড়ছে। তার এখন যে জীবনীশক্তি তা দেখে আমরা বিস্মিত। জীবনের যেটুকু সে হারিয়েছিল, এখন সে তা পুষিয়ে নিচ্ছে। সে এখন তুলনামূলকভাবে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারবে। তার টিউমারের বিরুদ্ধে ওই ওষুধ দারুণ প্রভাব ফেলেছে।’
শার্লোত্তের কোষে টিউমার দেখা দেয় এক ধরনের জীনগত অস্বাভাবিকতার কারণে। তার ডিএনএ’র একটি অংশ দৈবক্রমে অন্য আরেকটির সঙ্গে একীভূত হয়ে গিয়েছিল। এই বিকৃতির কারণেই ক্যানসার বাসা বাঁধে তার শরীরে। এ ধরনের সমস্যা অনেকের ব্রেন, কিডনি, থাইরয়েড ক্যানসারেও দেখা যায়।
শার্লোত্তের চিকিৎসা হয়েছিল যেই রয়্যাল মার্সডেন হসপিটালে, সেখানকার একজন ডাক্তার জুলিয়া সিশম বলেন, ‘এটি সত্যিই দারুণ একটি জিনিস। নানা ধরনের ক্যানসারে এটি কার্যকরী। একটিতেই সীমাবদ্ধ নয়।’ তিনি আরো বলেন, নির্দিষ্ট কোনো ক্যানসারের জন্য নয়, এই ওষুধ মূলত জীনগত অস্বাভাবিকতাকেই টার্গেট করে। ফলে নানা ধরনের ক্যানসারের ক্ষেত্রেই এটি কার্যকরী।
তবে ইউরোপিয়ান কর্তৃপক্ষ অনুমোদন দিলেও এই ওষুধ এখনই সহজলভ্য হচ্ছে না। এর আগে বৃটেনের জাতীয় স্বাস্থ্য সেবা (এনএইচএস) কর্তৃপক্ষ বলেছিল, এই ওষুধ যুগান্তকারী এবং ক্যানসার চিকিৎসায় ‘ব্রেকথ্রু’। রোগীদের জন্য এই ওষুধ সহজলভ্য করার কাজ চলছে। এনএইচএস-এর প্রধান নির্বাহী সিমন স্টিভেন্স বলেন, ‘একটি ওষুধের মাধ্যমেই নানা ধরনের ক্যানসারের চিকিৎসা করা গেলে রোগীদের জন্য, বিশেষ করে শিশুদের জন্য, এর সম্ভাব্য সুবিধা অনেক।’ যুক্তরাজ্যের ক্যানসার রিসার্চ-এর প্রধান অধ্যাপক চার্লস সোয়ানটন বলেন, এই নতুন ওষুধ দারুণ জিনিস। এই ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান বেয়ার-এর ডাক্তার ব্রেন্ডন গ্রে বলেন, ইউরোপে এটিই প্রথম টিউমার-রোধী ওষুধ। ল্যারোট্রেসটিনিবকে সত্যিকার অর্থেই ক্যানসার চিকিৎসায় প্রকৃত পরিবর্তন বলা যেতে পারে।

সৌদি আরব-ইরান সম্পর্কের বরফ গলবে!

তবে কি মধ্যপ্রাচ্যে, বিশেষ করে সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যকার জমাট বরফ গলবে! কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় সৃষ্টি হবে এক নতুন অধ্যায়! শান্তি ফিরে আসবে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে! এমন আশা জাগছে আঞ্চলিক বিরোধ নিষ্পত্তিতে সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের আগ্রহকে কেন্দ্র করে। তিনি তার দেশের ভীষণ বৈরি ইরানের সঙ্গে শান্তি প্রতিষ্ঠার আগ্রহ দেখিয়েছেন। তার এ আগ্রহকে স্বাগত জানিয়েছে ইরান। দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার আলি লারিজানি বলেছেন, সৌদি আরবের সঙ্গে সংলাপ শুরু করতে উন্মুক্ত ইরান। ফলে যদি দুই দেশ মনে শান্তি প্রতিষ্ঠার ইচ্ছা নিয়ে আলোচনার টেবিলে বসে তাহলে মধ্যপ্রাচ্য শান্তিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
রোববার সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান সিবিএস টেলিভিশনকে বলেছেন, আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য ইরানের সঙ্গে বিরোধ মিটিয়ে ফেলতে তিনি শান্তিপূর্ণ একটি সমাধানের পক্ষে থাকবেন। তার এই কথাটির মধ্যে অনেক কথা বলা হয়ে গেছে। ওদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প নিউ ইয়র্কে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে বৈঠকে তাকে সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে বিরোধ নিষ্পত্তিতে মধ্যস্থতার আহ্বান জানিয়েছেন।
ইমরান খান সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়েছেন, তিনি এরই মধ্যে এ কাজ শুরু করেছেন। ফলে পরিস্থিতি আশা জাগানিয়া।
এমন পরিস্থিতিতে ইরানের স্পিকার বলেছেন, আঞ্চলিক প্রতিপক্ষ সৌদি আরবের সঙ্গে তারা আলোচনা শুরু করতে উন্মুক্ত। তিনি আল জাজিরাকে একটি এক্সক্লুসিভ সাক্ষাতকার দেন। তা প্রচার করা হয় মঙ্গলবার। এতে তিনি বলেন, সৌদি আরব ও আঞ্চলিক অন্য দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা করতে প্রস্তুত ইরান। তার ভাষায় ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যে সংলাপ হলে তাতে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক বহু সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। ইরানের রাজধানী তেহরান থেকে আল জাজিরার সাংবাদিক আসাদ বেগ বলছেন, এমন সংলাপ হলে তা ইরানের জন্য বিজয় হিসেবে দেখা হবে। এতে মনে হবে ইরানের সামরিক কৌশল কাজ করছে। ইরান নিজের সামরিক শক্তিকে শক্তিশালী হিসেবে প্রদর্শন করছে এবং যদি কোনো বন্ধুদেশ ইরানের বন্ধু হতে চায় তাহলে তাদেরকে সামরিক সংঘাত পরিহার করে সংলাপে আসতে হবে।
আলি লারিজানি বলেছেন, প্রধান মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর করা বা তাদের ওপর ভর দিয়ে চলার কোনো প্রয়োজন নেই সৌদি আরবের। ইরান-সৌদি আরব সংলাপের টেবিলে আলোচনার জন্য প্রস্তাব দিতে পারে রিয়াদ। এক্ষেত্রে ইরানের পক্ষ থেকে কোনো পূর্বশর্ত থাকবে না। ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান সংলাপ চেয়েছেন। তাকে আমরা স্বাগত জানাই। সম্ভবত সৌদি আরব বুঝতে পেরেছে যে, আঞ্চলিক স্বার্থই সবার আগে দেখা উচিত।
ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদের সাক্ষাতকার রোববার প্রচার করে সিবিএস ৬০ মিনিট অনুষ্ঠানে। এতে তিনি উল্লেখ করেছেন, সশস্ত্র সংঘাত হলে অশোধিত তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়ে যেতে পারে। বিশ্বে যে পরিমাণ জ্বালানি সরবরাহ হয় তার মধ্যে শতকরা প্রায় ৩০ ভাগই সরবরাহ দেয় মধ্যপ্রাচ্য।
ওদিকে কয়েকদিন আগে সৌদি আরব সফর করেছেন ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আদেল আবদুল মাহদি। তিনি সাক্ষাত করেছেন বাদশা সালমানের সঙ্গে। এরপর তিনি বলেছেন, ওই অঞ্চলে আরেকটি যুদ্ধ বন্ধ করার জন্য প্রত্যেকেই আগ্রহী। সোমবার আল জাজিরায় প্রচারিত এক সাক্ষাতকারে আবদুল মাহদি বলেন, কোনো দেশেরই তার শত্রুদের ভয়াবহ ক্ষতি করার জন্য অস্ত্র থাকা উচিত নয়। বিশৃংখলা এবং ধ্বংসযজ্ঞ পুরো অঞ্চলকে আঘাত করবে। এ সময় তিনি দীর্ঘদিন ধরে চলমান ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধের সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেন আবদুল মাহদি।
ইরানের স্পিকার আলি লারিজানি বলেছেন, সৌদি আরবের সঙ্গে যেকোনো একটি যুদ্ধবিরতিতে রাজি হতে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের প্রতি আহ্বান জানায় ইরান। এটা হবে রিয়াদের স্বার্থের জন্যও ভালো। ২০১৫ সাল থেকে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেতৃত্বাধীন জোট বাহিনীর বিরুদ্ধে সামরিক যুদ্ধে লিপ্ত রয়েছে হুতিরা। সম্প্রতি সৌদি আরবের দুটি গুরুত্বপূর্ণ তেলক্ষেত্রে তারা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। হামলার দায় তারা স্বীকার করলেও তা প্রত্যাখ্যান করে সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্র। তারা এর জন্য দায়ী করে ইরানকে। এ নিয়ে সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দেয়।

খরচ কম, সহজে ভর্তি; বাংলাদেশে বাড়ছে বিদেশী শিক্ষার্থী by শফিক রহমান

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর শিক্ষার্থীদের পছন্দের তালিকায় ক্রমশ গুরুত্ব পাচ্ছে বাংলাদেশ। দেশটির সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়সহ মেডিকেল কলেজ, ডেন্টাল কলেজ ও নার্সিং ইনস্টিটিউটগুলো রয়েছে তাদের পছন্দের তালিকার শীর্ষে। এ ধারা ধরে রাখতে পাড়লে খুব শিগগিরই বিদেশি শিক্ষার্থীবান্ধব দেশ হবে বাংলাদেশ। তবে গুরুত্ব দিতে হবে শিক্ষার মানে, নিশ্চয়তা দিতে হবে সার্বিক নিরাপত্তার- এমনটিই মনে করছেন শিক্ষা সংশ্লিষ্ঠরা।

গত সেশনে বাংলাদেশে বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছেন ২,৪৩৮ জন। সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। তবে মেডিকেল কলেজ, ডেন্টাল কলেজ ও নার্সিং কলেজগুলোতে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের সংখ্যা এর দ্বিগুণেরও বেশি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক ছাত্রবিষয়ক দফতরের ডেপুটি রেজিস্ট্রার শিউলি আফছার জানান, মেডিকেল, মেডিসিন ও স্বাস্থ্য সেবা সম্পর্কিত শিক্ষার্থীদের সংখ্যা প্রায় পাঁচ হাজার (মেডিকেল কলেজ ও ডেন্টাল কলেজগুলোর ভর্তি প্রক্রিয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে হয়ে থাকে)।

সরকারি হিসাবে ভর্তি হওয়া এই শিক্ষার্থীদের দেশগুলোর তালিকায় ইউরোপ, আমেরিকা, আফ্রিকা ও এশিয়া অঞ্চলের ৩৫টি দেশের কথা বলা হলেও বড় একটি আসছে নেপাল, ভারত, ভূটান, মালদ্বীপ, শ্রীলংকা ও আফগানিস্তান থেকে।

এক সময় বাংলাদেশে মালয়েশিয়া, ইরান, ফিলিস্তিনি এবং আফ্রিকার দেশগুলোর শিক্ষার্থীদের প্রাধান্য ছিল। গত শতকের আশির দশকের শেষের দিকে সার্ক বৃত্তি (দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা-সার্ক) চালু হলে সার্কভুক্ত দেশগুলোর শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশে আসা শুরু করে। ওরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশে পড়তে এসেছিলেন ভূটানের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ডা. লোটে শেরিং। এমনকি তাঁর কেবিনেটের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. তানজিং দর্জি, তিনি ছিলেন ডা. লোটে শেরিং-এর ‍রুম মেট এবং ‘ক্যাম্পাসের বড় ভাই’ (সিনিয়র ব্যাচমেট)। এঁরা দুজনেই ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের ছাত্র ছিল। ডা. লোটে শেরিং ১৯৯১ সাল থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে ছিলেন। এফসিপিএস কোর্সও তিনি বাংলাদেশে করেন।

তবে বর্তমানে সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ, ডেন্টাল কলেজ কিংবা নার্সিং ইনস্টিটিউটগুলোর ক্যাম্পাস নেপালী শিক্ষার্থীদের দখলে। স্কলারশিপ কিংবা প্রচার-প্রাচারণা নয় স্রেফ পারিবারিক সংযোগেই প্রতিবছর আসছেন শত শত শিক্ষার্থী। বিশেষ করে কারো মামা-চাচা বা কারো ভাই-ভগ্নিপতি এখানে পড়াশুনা করে গেছেন এখন আসছেন তাদের জুনিয়র গ্রুপ।

এমন পারিবারিক সংযোগেরই গল্প জানালেন ঢাকার শের-এ-বাংলা নগর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র অনকতি কুমাড় মহন্থ। যিনি লেখা-পড়ার পাশাপাশি যুক্ত রয়েছেন বাংলাদেশ বেতারের বহির্বিশ্ব বিভাগের সঙ্গে। তিনি সহ মোট ১০ জনের অংশগ্রহণে সপ্তাহের প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭.১৫টা থেকে ৭.৪৫টা পর্যন্ত টার্গেট এরিয়া নেপালের জন্যে প্রচারিত হচ্ছে নেপালী ভাষায় অনুষ্ঠান।

অনকতি কুমাড় অস্পষ্ট বাংলা উচ্চারণে বলেন, ‘আমার বড় বোনের স্বামী এখানে ডেন্টাল কলেজ থেকে কোর্স সম্পন্ন করেছেন। এখন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে পোস্ট গ্রাজুয়েট করছেন। আমার যখন ভর্তি হওয়ার সময় আসে তখন বাবার এক নম্বর চয়েস ছিল বাংলাদেশ। তিনি বলতেন ‘বাংলাদেশ ভালো দেশ। ওখানে তুই নিরাপদে থাকবি।’

এছাড়া মানসম্মত শিক্ষা কার্যক্রম, তুলনামূলক কম শিক্ষা খরচ, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং সহজতর ভর্তি প্রক্রিয়ার কথা বলেন অনকতি কুমাড়।

আসছে ভারতের শিক্ষার্থীও। স্বাস্থ্য অধিদফতরের চিকিৎসা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য জনশক্তি উন্নয়ন শাখা সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালে সার্ক ও নন-সার্ক কোটায় মোট ১২৬ জন বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছেন। এদের মধ্যে ৮৫ জন সার্ক কোটায় এবং ৪১ জন নন-সার্ক কোটায় ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। সার্ক কোটায় সবচেয়ে বেশি ২২ জন ভারতের শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। আর নন-সার্ক কোটায় সর্বোচ্চ ১৪ জন ফিলিস্তিনের শিক্ষার্থী সুযোগ পেয়েছেন।

সার্ক কোটায় নির্বাচিত বিভিন্ন দেশের ৮৫ শিক্ষার্থীর মধ্যে ভারতের ২২ জন, পাকিস্তানের ২১, নেপালের ১৯, ভুটানের ১০ ও শ্রীলঙ্কার ১৩ জন শিক্ষার্থী রয়েছেন। অপরদিকে নন-সার্ক কোটায় ৪১ জনের মধ্যে ফিলিস্তিনের ১৪ জন, যুক্তরাষ্ট্রের সাতজন, যুক্তরাজ্যের তিনজন, কানাডার পাঁচজন, আয়ারল্যান্ডের একজন শিক্ষার্থী রয়েছেন।

এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চলতি সেশনে ভর্তি হয়েছেন ৭৫ জন। এদের মধ্যে ৭ জন রয়েছেন ভারতের। নেপালের ৩০ জন। এছাড়া আফগানিস্তানের রয়েছেন ১৯ জন। যারা পক্ষাঘাতগ্রস্থদের পুনর্বাসন কেন্দ্র সিআরপিতে (সেন্টার ফর দ্য রিহ্যাবিলিটেশন অফ দ্য প্যারালাইজ্‌ড) কোর্স করছেন। তবে এই মুহূর্তে পাকিস্তানের কোন শিক্ষার্থী নেই। সেটা পাকিস্তানের সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন থাকার কারণে বলে জানান শিউলি আফছার। ২০১৫ সালের ১৪ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় এ সম্পর্ক চ্ছিন্ন করা হয়।

এদিকে বিদেশি শিক্ষার্থীদের বড় অংশীদার দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ, ডেন্টাল কলেজ কিংবা নার্সিং ইনস্টিটিউটগুলো। বৃহৎ ক্যাম্পাস এবং সরকারি নানা সুযোগ-সুবিধা নিয়েও বিদেশি শিক্ষার্থী টানতে পারছে না সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। ইউজিসি’র ২০১৮ সালের হিসাব এখনও প্রকাশ হয়নি। কিন্তু ২০১৭ সালের হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে- ওই বছর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যলয়গুলোতে মোট বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে ১৯৭৭ জন। এর আগের বছরেও ভর্তি হয়েছিল ১৯২৭ জন।

কিন্তু এর বিপরীতে ২০১৭ সালে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি হয়েছে ৪৬১ জন। গত দশ বছরে সর্বোচ্চ ৫৯৩ জন ভর্তি হয়েছিল ২০১৫ সালে। অথচ, চট্টগ্রামের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতেই (ইউএসটিসি) ২০১৭ সালে বিদেশি শিক্ষার্থী ছিলেন ৬১৮ জন।

তবে বিদেশি শিক্ষার্থীদের আসার এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর দাবি শিক্ষা সংশ্লিষ্ঠদের। গত ২১ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মোজাফ্‌ফর আহমেদ চৌধুরী মিলনায়তনে বিদেশি শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় ১২তম আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী সম্মেলন। ফেডারেশন অব ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনস (ইউডিইএফ) ও রানার বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি আয়োজিত ওই সম্মেলনে অতিথি ছিলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. খান আবুল কালাম আজাদ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জাতিসংঘ উইংয়ের মহাপরিচালক নাহিদা সোবহান, বাংলাদেশে নিযুক্ত তুরস্কের ডেপুটি হেড অব মিশন এনিস ফারুক এরদেম এবং ইউডিইএফের ভাইস প্রেসিডেন্ট আসলান বেকিরোগলু। তাদেরও বক্তব্য: বিদেশি শিক্ষার্থীদের কাছে বাংলাদেশের ইতিবাচক একটি ইমেজ তৈরি হয়েছে সেটাকে কাজে লাগাতে হবে। এর জন্য দরকার একটু প্রচার-প্রচারণা এবং পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাওয়া।

ইউজিসি’র সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আব্দুল মান্নান বলেন, কম শিক্ষা খরচ এবং সহজতর ভর্তি প্রক্রিয়ার কারণে বিদেশি শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশমুখী হচ্ছে। তবে যতজন এসেছে তার চাইতে ১০ গুণ শিক্ষার্থী অধ্যায়ন করা সম্ভব। এর জন্য দরকার বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শিক্ষা মেলায় অংশগ্রহণসহ প্রচার-প্রচারণা। সেখানে ঘাটতি আছে বলে সেই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারছি না।

প্রায় একই বক্তব্য ইউজিসি’র বর্তমান চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল্লাহর। তিনি বলেন, এক সময় আমাদের এখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসগুলোতে অস্থিরতা ছিল, সেশন জট ছিল। কিন্তু বিগত বছরগুলোতে সেই সমস্যা আমরা কাটিয়ে উঠেছি, পরিবেশ উন্নত হয়েছে। কিন্তু এখন নজর দিতে হবে শিক্ষার মানে। আর যেই সুযোগটা তৈরি হয়েছে সেটাকে কাজে লাগাতে হবে।

প্রায়ই আলোচনা হয় বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিশ্ব র‌্যাংকিং কিংবা এশিয়া র‌্যাংকিংয়ে অবস্থান নিয়ে। বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়াতে পারলে তা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সুনাম বৃদ্ধিতে যথেষ্ঠ কাজ দেবে।
১২তম ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট সামিটে অংশ নেয়া বাংলাদেশে অধ্যয়নরত বিদেশি ও দেশি শিক্ষার্থীরা

শিশুরা কোথায় নিরাপদ? বাড়ছে হত্যা, ধর্ষণ by মরিয়ম চম্পা

সাত বছরের ছোট্ট শিশু সামিয়া আফরিন সায়মা। পড়ালেখার পাশাপাশি খেলাধুলাই ছিল তার নেশা। ওয়ারি সিলভারডেল স্কুলের নার্সারিতে পড়তো। সে ছিল মায়াবী এবং মিশুক। ওয়ারির ১৩৯ নং বনগ্রাম  রোডের বাসায় এখন শোকের মাতম। সায়মার মায়ের আহাজারিতে কংক্রিটের দেয়ালগুলোও যেন গুমরে কাঁদছে। ওদিকে নারায়ণগঞ্জে ফতুল্লায় বাইতুল হুদা ক্যাডেট মাদ্রাসার ১২ ছাত্রীকে ধর্ষণ ও যৌন হয়রানির অভিযোগে সম্প্রতি আটক হয় মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আল আমিন। তার বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা হয়েছে।
র‌্যাবের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে ২০১৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত ওই শিক্ষক মাদ্রাসার ১০ থেকে ১২ জন ছাত্রীকে ধর্ষণ করেছে। এ ছাড়া তার মুঠোফোন ও কম্পিউটারে তল্লাশি চালিয়ে পর্নো ভিডিও পাওয়া গেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শিশুদের ধর্ষণ, ধর্ষণের চেষ্টা ও যৌন হয়রানির কথা স্বীকার করেছে আল আমিন। এমন একটি দুটি নয়। প্রতিদিন ঘটছে ধর্ষণের ঘটনা। শিশুরাও এখন অনিরাপদ হয়ে উঠেছে।
চলতি মাসে নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আবুল খায়ের বেলালী আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পৃথক দুটি ধর্ষণ মামলায় তাঁকে জেলার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। আবুল খায়ের বেলালী কেন্দুয়া পৌরশহরের একটি মহিলা কওমি মাদ্রাসার অধ্যক্ষ। তাঁর গ্রামের বাড়ি সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার আটগাঁওয়ের গোনাকানি গ্রামে। অধ্যক্ষ বেলালী আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে দুই শিশুকে ধর্ষণ করার কথা স্বীকার করেছেন। এর আগে মাদ্রাসার আরও ছয় ছাত্রীকে ধর্ষণ করেছেন বলেও স্বীকারোক্তি দিয়েছেন বেলালী। শুধু এসব ঘটনাই নয় সম্প্রতি সারা দেশে বেড়েছে শিশু ধর্ষণ ও নির্যাতনের ঘটনা। ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনাও ঘটেছে বেশ কয়েকটি। এসব ঘটনায় উদ্বিঘ্ন মানবাধিকার সংগঠনগুলো। প্রশ্ন উঠেছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বসবাসের জায়গাসহ নিরাপদ স্থানেই যদি শিশুরা নির্যাতিত হয়, নিরাপদ না থাকে থাহলে তারা নিরাপত্তা পাবে কোথায়?
রাজধানীর ধানমন্ডির একটি বেসরকারি হাসপাতালে এক শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে সম্প্রতি অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ৪ জুলাই বৃহস্পতিবার বিকেলে এই ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। যার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে, সে কিশোর। অভিযোগ ওঠা কিশোর হাসপাতালটির ক্যান্টিনে কাজ করে। সে এখন পুলিশ হেফাজতে।
জুন মাসে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার ৯ মাসের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এক যুবক আদালতে আত্মসমর্পণ করেছে। একই মাসে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে আইসক্রিম খাওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে ৯ বছর বয়সী এক কন্যাশিশুকে ধর্ষণ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত ওই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত এই ছয় মাসে বাংলাদেশে ৩৯৯জন শিশু ধর্ষণ ও ধর্ষণ চেষ্টার শিকার হয়েছে বলে জানিয়েছে বেসরকারি সংস্থা মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন। তাদের এক প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ধর্ষণের পর একজন ছেলে শিশুসহ মোট ১৬জন শিশু মারা গেছে। ছয়টি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত ৪০৮টি সংবাদ বিশ্লেষণ করে সংস্থাটি এই তথ্য পেয়েছে। প্রতিবেদনের আরো বলা হয়, অন্তত ৪৯টি শিশু (৪৭ জন মেয়েশিশু ও ২ জন ছেলেশিশু) যৌন হয়রানির শিকার হয়েছে। এর আগে ২০১৮ সালে ৩৫৬টি শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছিল বলে জানিয়েছিল সংস্থাটি। এর মধ্যে মারা গেছে ২২ জন এবং আহত হয়েছে ৩৩৪ জন।
শিশু ধর্ষণের ঘটনা আংশকাজনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম এক বিবৃতিতে অভিভাবক, শিশু সংগঠন, মানবাধিকার সংস্থা ও তরুণদের সম্মিলিতভাবে এই অপরাধ ঠেকাতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।
গণমাধ্যমের পৃথক একটি গবেষণার দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি ধর্ষণের শিকার হচ্ছে অনূর্ধ্ব ১৬ বছর বয়সী শিশুরা। ২০১৯ সালে শিশু ধর্ষণের মাত্রা এতটাই বেড়েছে যে, প্রথম সাড়ে চার মাসেই ২০১৮ সালের পুরো বছরের পরিসংখ্যানকে ছাড়িয়ে গেছে। ২০১৮ সালে ধর্ষণের শিকার শিশুর সংখ্যা ছিল ২৮৯ এবং চলতি বছর ২০১৯ সালের ১৫ মে পর্যন্ত ধর্ষণের শিকার শিশুর সংখ্যা ২৯৬ জন। ফল পর্যালোচনায় আরও দেখা যায়, ধর্ষণের শিকার হচ্ছে ছেলে শিশুও।
শিশু নির্যাতন নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে কাজ করছেন সাংবাদিক ও গবেষক আফসান চৌধুরী। তিনি মানবজমিনকে বলেন, এতো বেশি শিশুদের যৌন নির্যাতন করা হচ্ছে যেটা আগেও হয়েছে এবং এখনও হচ্ছে।
তিনি বলেন, এখন সমাজ অনেক বেশি হিংসাত্মক হয়ে গেছে। ফলে এখন যৌন ঘটনার সঙ্গে হিংসাত্মক ঘটনাও ঘটছে। হিংসাত্মক ঘটনার সঙ্গে যৌন নির্যাতন জড়িত। এবং দুর্বলের ওপর অত্যাচার করার যে প্রবণতা এটা বেড়েছে। আগে বিচারহীনতার সংস্কৃতি এতো প্রতিষ্ঠা পায়নি। সোনাগাজির নুসরাতের মা কিন্তু যৌন নির্যাতনের প্রতিবাদ করে পুলিশের কাছে গিয়েছে। কিন্তু আগে কোনো অভিভাবক পুলিশের কাছে যেতেন না। আগে থেকে সমাজ অনেক বেশি হিংস্র এখন। এখন সমাজে সবচেয়ে অনিরাপদ হচ্ছে শিশুরা। ওকে (শিশুকে) রক্ষা করার কেউ নেই। সমাজে অসহায়ত্ব অনেক বেড়ে গেছে। ২০ বছর আগের তুলনায় তুলনায়মূলকভাবে এই সমাজ এখন অনেক বেশি অসহায়।
মানবাধিকার আইনজীবী এডভোকেট সালমা আলী বলেন, শিশুরা নিজেদের পরিবারের সদস্য চাচা, মামাসহ কাছের লোকদের দ্বারাও নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। ওয়ারিতে ধর্ষণ শেষে খুন হওয়া সায়মা নামের শিশুটির বিষয়ে পড়েছি ওকে নাকি সবাই অনেক আদর করতো। একজন সচেতন মা বাবা কোনো ভাবেই এলাউ করবে না তার বাচ্চাকে আদর করতে। ‘গুড টাচ এবং ব্যাড টাচ’ বলে একটা বিষয় আছে। একটা মেয়ে বা শিশুকে টাচ করার মধ্যে আদরের টাচ যেমন আছে আবার খারাপ বা যৌনতা সংক্রান্ত টাচও আছে। ওই শিশুটিকে হয়তো বেশ কিছুদিন ধরেই বিভিন্ন ভাবে নির্যাতনকারী অনুস্বরণ করছিল। কিন্তু বাচ্চারা তো এটা বোঝে না। তিনি বলেন, আমাদের বাবা-মা ছোট বেলায় আমাদের শিখিয়েছে ‘কেউ গায়ে হাত দিলে, কোনো কিছু করলে, কেউ আদর করতে চাইলে এগুলো তুমি নিবে না। এবং কোনো কিছু করলে আমাকে এসে বলবে’। একটি শিশুর বাসার ভেতরে আর মাঠে খেলার মধ্যে অনেক পার্থক্য। এ বিষয়ে বাবা-মায়ের অনেক বেশি সচেতন হওয়া উচিৎ। এক্ষেত্রে পরিবারের যেমন দায়িত্ব আছে একইভাবে কমিউনিটিরও একটি দায়িত্ব আছে।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক বলেছেন, সম্প্রতিকালে ৫ বছর ও তার কম বয়সের বাচ্চা থেকে শুরু করে কোনো শিশুই নিরাপদ না। যে সকল ঘটনা ঘটছে তাতে কোনো শিশুই যে একেবারে নিরাপদে আছে এটা বলা যাবে না। শিশুদের এই যে নিরাপত্তাহীনতা এটা প্রচন্ড একটি উদ্বেগজনক বিষয়। এটা সমাজের জন্য খুব একটা খারাপ চিত্র বহন করে। খুব খারাপ ম্যাসেজ দেয় ‘যে শিশুরা নিরাপদ না’। অতএব শিশুদের নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

একনজরে ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের ইতিহাস

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সংঘাত
ভারতের পুলওয়ামায় একটি সেনা বহরে জঙ্গি হামলার ঘটনার জবাব দিতে পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের কয়েকটি স্থানে বিমান হামলা চালিয়েছে ভারত।
এরপর দুই দেশের সীমান্ত রেখা বরাবর পাল্টা হামলার কথা জানিয়েছে পাকিস্তানও।
তবে প্রতিবেশী বৈরী এই দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে।
তবে এই দুই দেশের মধ্যে সংঘাত বা উত্তেজনা এবারই প্রথম নয়। দেশ বিভাগের পর থেকেই এই দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা চলছে, যার বড় কারণ কাশ্মীর।
অক্টোবর ১৯৪৭: ভারত আর পাকিস্তানের মধ্যে প্রথম যুদ্ধ হয় দেশবিভাগের মাত্র দুই মাসের মাথায়, যে যুদ্ধের কারণ ছিল কাশ্মীর।
অগাস্ট ১৯৬৫: কাশ্মীর নিয়ে দুই দেশের মধ্যে বড় ধরণের যুদ্ধ হয় এবার।
ডিসেম্বর ১৯৭১: পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশের স্বাধীন হওয়ার যুদ্ধে সহায়তা করতে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে ভারত। পাকিস্তানের ভেতরে বোমা নিক্ষেপ করে ভারতীয় বিমান বাহিনী। বাংলাদেশের স্বাধীনতার মধ্য দিয়ে যুদ্ধটি শেষ হয়।
১৯৮৯: ভারতীয় শাসনের বিরুদ্ধে কাশ্মীর উপত্যকায় সশস্ত্র লড়াই শুরু হয়।
ফেব্রুয়ারি ১৯৯৯: ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী একটি বাসে করে পাকিস্তানের লাহোরে যান, যেখানে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের সঙ্গে তার একটি শান্তি চুক্তি হয়।
জুলাই ১৯৯৯: পাকিস্তানি সেনা এবং জঙ্গিরা কার্গিল পর্বতে ভারতের একটি সামরিক চৌকি দখল করে নেয়। ভারত বিমান এবং সেনা অভিযান শুরু করার পর দখলকারীরা পিছু হটে যায়।
মে ২০০১: ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী বাজপেয়ীর সঙ্গে ভারতের আগ্রায় মিলিত হন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট পারভেজ মুশাররফ। তবে তারা কোন সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হন।
অক্টোবর ২০০১: শ্রীনগরে কাশ্মীর বিধানসভায় একটি ভয়াবহ হামলায় ৩৮জন নিহত হন।
১৩ ডিসেম্বর ২০০১: দিল্লিতে ভারতের সংসদ ভবনে সশস্ত্র হামলায় ১৪জন নিহত হয়।
ফেব্রুয়ারি ২০০৭: ভারত- পাকিস্তানের মধ্যে চলাচলকারী সমঝোতা এক্সপ্রেস ট্রেনে বোমা হামলায় ৬৮জন নিহত হন।
২৬শে নভেম্বর ২০০৮: মুম্বাইয়ের প্রধান রেলওয়ে স্টেশন, বিলাসবহুল একটি হোটেল এবং একটি ইহুদি সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে প্রায় ৬০ ঘণ্টা ধরে চলা জঙ্গি হামলায় ১৬৬জন নিহত হন। ভারতের অভিযোগ, ওই হামলার পেছনে রয়েছে পাকিস্তানি গ্রুপ লস্কর-ই-তাইবা।
জানুয়ারি ২০১৬: পাঠানকোটে ভারতের বিমান ঘাটিতে চারদিন ধরে চলা হামলায় সাতজন ভারতীয় সেনা এবং ছয়জন জঙ্গি নিহত হয়।
১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৬: ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের উরি সেনা ঘাটিতে জঙ্গি হামলায় ১৯জন সেনা সদস্য নিহত হয়।
৩০শে সেপ্টেম্বর ২০১৬: ভারত জানিয়েছে, তারা পাকিস্তানের কাশ্মীরের জঙ্গিদের ওপর 'সার্জিক্যাল স্ট্রাইক' চালিয়েছে। যদিও এরকম কোন হামলার কথা নাকচ করে দিয়েছে ইসলামাবাদ।
১৪ই ফেব্রুয়ারি ২০১৯: কাশ্মীরের পুলওয়ামায় একটি সামরিক কনভয়ে আত্মঘাতী হামলায় অন্তত ৩৪জন সেনা সদস্য নিহত। পাকিস্তান-ভিত্তিক নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জৈশ-এ মোহাম্মদ এই হামলার দায় স্বীকার করে।
২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯: ভারত জানিয়েছে, তারা পাকিস্তানের অভ্যন্তরে কাশ্মীরে জঙ্গি ঘাটিতে বিমান হামলা করেছে এবং জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংস করে দিয়েছে।

চা বাগান ঘেরা শমশেরনগর by নুসরাত জাহান

২২ জুলাই ২০১৯: যান্ত্রিকতার শহর ছেড়ে, কোলাহল থেকে দূরে প্রিয় মানুষদের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটানো সত্যিই তৃপ্তি এনে দেয়। আর সবুজের মাঝে একটি দিন হারিয়ে যাওয়ার আনন্দ বলে বোঝানো সম্ভব নয়! চারপাশে সবুজের সমারোহ বরাবরই আমার ভালো লাগে। ঘোরাঘুরির সময় তাই পাহাড় আর সবুজকে প্রাধান্য দিতে চেষ্টা করি। সেই ভাবনা থেকে দুই দিনের জন্য হারিয়ে গিয়েছিলাম সবুজের সান্নিধ্যে।
শমসেরনগরে সুইস ভ্যালি রিসোর্টে লেখক ও তার ছেলে
ভোরবেলা কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে ট্রেন ধরলাম। শহর ছেড়ে ট্রেন চলছে। যতই সামনে এগোচ্ছি ততই সবুজের সমারোহ চোখে পড়ছে। দুপুরে গিয়ে পৌঁছালাম গন্তব্যে। চারপাশে সারি সারি চা বাগান।
আমরা গিয়েছিলাম মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগরে। ইউনিয়ন হলেও এলাকাটি বেশ সমৃদ্ধ। এখানে আছে বিমানবন্দর, রেলস্টেশন, বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর স্কুল, দ্রুতগতির ইন্টারনেট সুবিধা, স্যাটেলাইট চ্যানেলের পূর্ণাঙ্গ সুবিধা আর চা শ্রমিকদের জন্য ডানকান ব্রাদার্স ফাউন্ডেশনের বেশ উন্নত একটি হাসপাতাল।
এছাড়া এই ইউনিয়নে সুইস ভ্যালি নামের একটি রিসোর্টের নাম শুনেছি। এতে থাকার জন্য ছয়টি সুন্দর কটেজে রয়েছে ১১টি কক্ষ। প্রতিটি কটেজ আলাদা। বিভিন্ন ধরনের বাঁশ ও কাঠের সমন্বয়ে তৈরি কটেজগুলো বেশ সুন্দর।
শমসেরনগরে সুইস ভ্যালি রিসোর্টের কটেজ
শমসেরনগরে সুইস ভ্যালি রিসোর্টের কটেজ
আমাদের কটেজ আগে থেকেই ঠিক করা ছিল। এর পাশেই বেশ লম্বা খোলা জায়গা। রাতে পুরো কটেজ জুড়ে বিভিন্ন রঙের আলো জ্বলে উঠলে মন জুড়িয়ে যায়। কটেজগুলোতে যেমন রয়েছে এয়ারকন্ডিশন সুবিধা, তেমনি আছে চমৎকার বাথরুম ও আলাদা গোসলের জায়গা। গ্রামীণ আবহে সাজানো কটেজের জানালা খুলে দিলে মনে হয় নির্জন এক গ্রামে বসে আছি!
আগেই জেনেছি, সুইস ভ্যালি রিসোর্টে খোলা জায়গায় রাতের খাবারের ব্যবস্থা আছে। বিশেষ করে বারবিকিউ’র ব্যবস্থা আছে জেনে খুবই ভালো লাগলো। সেই সঙ্গে স্থানীয় আয়োজন বা গানের ব্যবস্থা।
আমরা যেদিন গিয়েছি সেদিনই আকাশ ভেঙে বৃষ্টির সম্ভাবনা দেখা গেলো। তার আগেই রিসোর্টের এক কোণে ১ হাজার ৯৫৯ বর্গফুটের সুইমিং পুলে গিয়ে নামলাম আমরা। আমার সাড়ে তিন বছর বয়সী ছেলে নুহান নেহাদ পুলে নেমে খুবই খুশি। নীল স্বচ্ছ পানি দেখে সে বিস্ময়ে তাকিয়ে থেকে লাফিয়ে পড়তে চায়! সুইমিং পুল তার খুব পছন্দের। যেখানেই পায় খুশিতে ডগমগ হয়ে যায়!
শমসেরনগরে টিনের চালে বৃষ্টির শব্দ
শমসেরনগরে টিনের চালে বৃষ্টির শব্দ
সুইমিং পুলের পর্ব শেষে কটেজে ফিরতেই নেমে এলো বৃষ্টি। ঝুম বৃষ্টির মধ্যেই আমরা কটেজে বসে পেলাম দারুণ এক আবহ। উপরে টিনের চালে বৃষ্টির ঝমঝম শব্দ। আমরা জানালা খুলে তা উপভোগ করছি। সত্যিই এক অসাধারণ অনুভূতি। রাতেও বৃষ্টির দেখা পেয়েছি।
পরদিন সকালে উঠেই পুরো সুইস ভ্যালি ঘুরে দেখলাম। কটেজগুলোর সামনে মাটি কেটে কেটে সুন্দরভাবে পথ তৈরি করা। একটি টিলার ওপরে আছে বসার জায়গা। কটেজের একপাশে রয়েছে সুন্দর একটি লেক।
সুইস ভ্যালি রিসোর্টে মাটি কেটে তৈরি করা পথ
সুইস ভ্যালি রিসোর্টে মাটি কেটে তৈরি করা পথ
মূল সড়ক থেকে কটেজ পর্যন্ত যেতে চারপাশে সুন্দর দৃশ্য চোখে পড়ে। আলাদা মাচা আছে এখানে, যার চারপাশ খোলা। শুয়েবসে গল্প করার জন্য দারুণ জায়গা এটি। ক্লান্তি লাগলে কটেজের পাশে আছে ঝুলে থাকার ব্যবস্থা! কাপড়ে নিজেকে মুড়িয়ে এতে শুয়ে থাকা যায়। বাচ্চাদের জন্য আছে একাধিক খেলার ব্যবস্থা।
এককথায় সুইস ভ্যালি রিসোর্ট চমৎকার একটি জায়গা। রিসোর্টের কর্মীরা যেকোনও প্রয়োজনে সহায়তা করেন। মূল ফটকে সবসময়ই প্রহরী থাকেন।
সুইস ভ্যালি রিসোর্টে শিশুদের জন্য আছে খেলার ব্যবস্থা
সুইস ভ্যালি রিসোর্টে শিশুদের জন্য আছে খেলার ব্যবস্থা
কটেজ বুকিংয়ের সঙ্গে থাকে সৌজন্য নাশতা। স্যাটেলাইট সংযোগযুক্ত টিভি দেখার ব্যবস্থা আছে কক্ষে। ঢাকার বাইরে এতদূরে সুন্দর ও চকচকে টিভি চ্যানেল দেখে সত্যিই ভালো লেগেছে। প্রতিদিনের সংবাদপত্র পাওয়া যায় সৌজন্য হিসেবে।
ক্লান্তি এলে ঝুলে শুয়ে থাকা যায় সুইস ভ্যালি রিসোর্টে
ক্লান্তি এলে ঝুলে শুয়ে থাকা যায় সুইস ভ্যালি রিসোর্টে
রিসোর্টের একেবারে কাছেই হাঁটা দূরত্বে রয়েছে শমশেরনগর বিমানবন্দর, রাবার বাগানসহ বেশকিছু সুন্দর জায়গা। এছাড়া রিসোর্টের খুব কাছেই রয়েছে ভারতের সীমান্ত, যার ওপাশে ত্রিপুরা।
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় চা-বাগান শমশেরনগরেই অবস্থিত। এখানে এসে চা শ্রমিকদের জীবনযাপন, খাশিয়া গ্রাম, মণিপুরি গ্রাম, মাধপুর লেক, লাউয়াছড়া রিজার্ভ ফরেস্ট, মাগুরছাড়া গ্যাসফিল্ড, বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট, ছোট চিড়িয়াখানা, সাত রঙের চা, বাইক্কা বিল, হাকালুকি হাওর, মাধবকুন্ড জলপ্রপাত উপভোগ করা যায় চাইলেই।
সুইস ভ্যালি রিসোর্টে স্বামী-সন্তানের সঙ্গে লেখক
সুইস ভ্যালি রিসোর্টে স্বামী-সন্তানের সঙ্গে লেখক
যেভাবে যাবেন
ঢাকা থেকে ২২০ কিলোমিটার দূরত্বে সুইস ভ্যালি রিসোর্ট। চাইলে ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে যাওয়া যায়। রিসোর্টে গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা আছে। এছাড়া ঢাকা থেকে সিলেটের উদ্দেশে নিয়মিত ট্রেন ছাড়ে। এগুলো হলো পারাবত এক্সপ্রেস, জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস, কালনি এক্সপ্রেস ও উপবন এক্সপ্রেস।
শমসেরনগর রেলস্টেশন থেকে রিসোর্টের দূরত্ব মাত্র দুই কিলোমিটার। ট্রেনে করে যেতে চাইলে শমসেরনগর স্টেশন বা ভানুগাছি স্টেশনে নামতে হবে। বাসে গেলে শ্রীমঙ্গল যেতে হবে। এরপর সিএনজির মাধ্যমে রিসোর্টে যাওয়া যায়। বিমানে চড়ে যেতে চাইলে সিলেট বিমানবন্দরে নেমে সেখান থেকে রিসোর্টে যাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। আগে থেকে রিসোর্টে যোগাযোগ করলে গাড়ি মিলে যেতে পারে।
>>>ছবি: লেখক