Wednesday, October 26, 2016

নার্সকে চুমু দিলেন ওবামা

ইবোলা রোগীকে সেবা দিয়ে সুস্থ করায় এক নার্সকে চুমু দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। শুক্রবার হোয়াইট হাউসে ডেকে নিয়ে অভিনন্দন জানানোর সময় ওই নার্সকে জড়িয়ে ধরেন তিনি। এসময় সাংবাদিকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করলেও কয়েকজন ফটোগ্রাফারকে ঢোকার অনুমতি দেয়া হয়েছিল।
শনিবার আইএএনএস প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২৬ বছর বয়সী নিনা ফামের সঙ্গে ওভাল অভিসে সাক্ষাৎ করেন ওবামা। লাইবেরিয়ার এক ইবোলা রোগীকে চিকিৎসা দিয়ে সারিয়ে তুলেছেন ফাম। যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম ব্যক্তি হিসেবে এই সফলতা পেয়েছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের ডালাস হাসপাতালে চিকিৎসা হয় ইবোলা রোগীর। সেখানে নার্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ফাম। শুক্রবার সকালে ওই রোগীকে ছাড়পত্র দেয়া হয়। হোয়াইট হাউস মুখপাত্র জোস আর্নেস্ট বলেন, ফামকে বারাক ওবামার কাছে যাওয়ার জন্য কোনো চেকপয়েন্টের মুখোমুখি হতে হয়নি। তবে এর আগে পাঁচটি মেডিকেল সার্টিফিকেট জমা নেয়া হয়েছিল।

ট্রাম্প নিজের অযোগ্যতা প্রমাণ করছেন: হিলারি

হিলারি ক্লিনটন
ইরাকের মসুলে জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিরুদ্ধে চলমান মার্কিন অভিযান সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য করায় প্রতিদ্বন্দ্বী ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া সমালোচনা করেছেন ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন। হিলারি বলেছেন, ট্রাম্প এসব মন্তব্যের মধ্য দিয়ে প্রমাণ করছেন যুক্তরাষ্ট্রের সর্বাধিনায়ক হওয়ার কোনো যোগ্যতাই তাঁর নেই। গত রোববার এক টুইটার বার্তায় রিপাবলিকান প্রার্থী ট্রাম্প মন্তব্য করেন, ‘ইরাকের মসুলে সপ্তাহব্যাপী চলা আইএসবিরোধী অভিযান ব্যর্থ হচ্ছে এবং তা বিপর্যয়ে পর্যবসিত হয়েছে। আমরা আসলে তাদের (আইএস) বহু মাসের সময় দিয়েছি। যুক্তরাষ্ট্র সেখানে অভিযান চালিয়ে বোকা হয়ে গেছে।’ এর আগে শেষ নির্বাচনী বিতর্কের সময় ট্রাম্প মন্তব্য করেছিলেন, হিলারিকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জেতানোর জন্যই ইরাকের মসুলে হামলা চালানো হচ্ছে। ট্রাম্পের এ ধরনের মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে গত সোমবার নিউ হ্যাম্পশায়ারে এক প্রচারণা অনুষ্ঠানে হিলারি বলেন, তিনি (ট্রাম্প)
আসলে যুদ্ধ শুরুর আগেই পরাজয়ের ঘোষণা করছেন। তিনি বিশ্বের কাছে যা প্রমাণ করছেন, তা হলো তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সর্বাধিনায়ক হওয়ার একেবারেই অযোগ্য। যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনপুষ্ট ইরাকের সরকারি বাহিনী এবং কুর্দি যোদ্ধারা চতুর্মুখী আক্রমণ উত্তরাঞ্চলীয় শহর মসুল থেকে আইএস সদস্যদের অনেকটা পিছু হটিয়ে দিয়েছে। তবে সেখান থেকে গুটিয়ে নিলেও সোমবার নতুন করে পশ্চিমাঞ্চলীয় আল আনবার প্রদেশের রুতবা শহরের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে জঙ্গিরা। সেখান থেকে বিভিন্ন দিকে হামলা চালাচ্ছে আইএস সদস্যরা। এত সমালোচনার পরও ট্রাম্প নিজের অবস্থানে অনড় রয়েছেন। সোমবার ফ্লোরিডায় এক প্রচারণা অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘মসুলে যা হচ্ছে তা ভয়াবহ। যতটুকু মনে করা হয়েছিল, আইএস তার চেয়েও বেশি শক্তিশালী। আমরা মসুলে আটকে গিয়েছি। আমরা যাচ্ছি এই কথা জানান দিয়ে অভিযান পরিচালনা করার কী দরকার ছিল?’
রিপাবলিকান এই প্রার্থী অভিযোগ করেন, জানান দিয়ে অভিযান চালানোটাই হচ্ছে সবচেয়ে বড় ভুল। অনেক দিন ধরে অভিযানের বিষয়ে বলা হচ্ছিল। ফলে শত্রুরা প্রস্তুতি নেওয়ার অনেক সময় পেয়েছে। ফলে হামলা চালিয়ে অগ্রগতি পাওয়া যাচ্ছে না। সপ্তাহ কেটে গেছে। মাসও লেগে যেতে পারে অগ্রগতি অর্জনের জন্য। কয়েক দিন আগে তৃতীয় ও শেষ নির্বাচনী বিতর্কের সময় ট্রাম্প মন্তব্য করেছিলেন, হিলারিকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জেতানোর জন্যই প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ইরাকের মসুলে হামলা চালাচ্ছেন। ট্রাম্পের দাবি, ‘এ অভিযান চালানো হচ্ছে, কারণ তিনি (হিলারি) প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়ছেন। তাঁকে দৃঢ়চেতা হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা হচ্ছে। নির্বাচনে জেতার জন্য তিনি ইতিবাচক ভাবমূর্তি দেখাতে চান। এ জন্য তাঁরা যুদ্ধ করছেন।’

হিলারির পাশে ফেসবুকের সহপ্রতিষ্ঠাতা

ডাস্টিন মস্কোভিৎস
ফেসবুকের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ডাস্টিন মস্কোভিৎসের নাম সবার জানার কথা নয়। ফেসবুক বলতে সবাই মার্ক জাকারবার্গের নামই বোঝে। বিশ্বের অন্যতম প্রধান ধনী ব্যক্তি হলেও খুব কম লোকই জানে যে মস্কোভিৎস এর সহপ্রতিষ্ঠাতা। এই মুহূর্তে তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলার।
এই মস্কোভিৎস এখন ট্রাম্পকে পরাস্ত করতে উঠেপড়ে লেগেছেন। হিলারি ক্লিনটনকে সমর্থন করে এমন একটি পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটিকে তিনি ইতিমধ্যে ৩৫ মিলিয়ন ডলার দান করেছেন। কিন্তু এ নিয়ে কোনো ঘোষণা নেই, কোনো সংবাদ সম্মেলন নেই, এমনকি ফেসবুকেও এ নিয়ে কোনো বাড়াবাড়ি নেই। হঠাৎ বিশাল এই চাঁদা পেয়ে পলিটিক্যাল কমিটি হাতে চাঁদ পেয়েছে। তারা আশা করছে, মস্কোভিৎসের দেখাদেখি সিলিকন ভ্যালির নব্য মেগাধনীরা, যাঁদের অধিকাংশের বয়স ২৫-৩৫ এর মধ্যে, ট্রাম্পের বিপক্ষে তাঁরা মানিব্যাগ এগিয়ে ধরবেন।

উদ্বিগ্ন বিদেশি ব্যবসায়ীদের চলে যেতে বললেন দুতার্তে

ফিলিপাইনে মাদকবিরোধী অভিযানে উদ্বিগ্ন বিদেশি ব্যবসায়ীদের গতকাল মঙ্গলবার ‘তল্পিতল্পা নিয়ে’ চলে যেতে বলেছেন প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতার্তে। বিদেশি বিনিয়োগকে আকৃষ্ট করতে জাপান সফরে যাওয়ার প্রাক্কালে তিনি এ কথা বলেন। আগের দিনই এশিয়ায় নিযুক্ত মার্কিন দূত বলেছিলেন, রদ্রিগো দুতার্তের মাদকবিরোধী ব্যাপক অভিযান দেশটির ব্যবসা বাণিজ্যের জন্য ভালো নয়। এটি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের উদ্বিগ্ন করে তুলতে পারে। এর জবাবেই মূলত দুতার্তে এই কড়া বাক্য উচ্চারণ করলেন।
রদ্রিগো দুতার্তে বলেন, ‘এই আমেরিকানরা আসলেই বাতিকগ্রস্ত। তারা নিজেদের কেউকেটা মনে করে।’ এ সময় তাঁর হাতে একটি পত্রিকা ছিল। ওই পত্রিকাটিতে পূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলবিষয়ক মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড্যানিয়েল রাসেলের সমালোচনামূলক মন্তব্য ছিল। এক প্রতিবেদনে ড্যানিয়েল রাসেলকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, দুতার্তের মন্তব্য ব্যবসায়িক মহলে উদ্বেগ সৃষ্টি করছে। এর জবাবে দুতার্তে বলেন, ‘তাহলে বোঁচকা বেঁধে চলে যাও। আমরা সামলে উঠব। আমি আপনাকে নিশ্চয়তা দিচ্ছি।’

আগাম ভোটে এগিয়ে হিলারি, জনমতে পিছিয়ে ট্রাম্প

হিলারি, ট্রাম্প
নির্বাচনের বাকি মাত্র ১৩ দিন। ঠিক এই সময় একাধিক জনমত জরিপ থেকে সুখবর পেলেন প্রেসিডেন্ট পদে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন। গত সোমবার প্রকাশিত সর্বশেষ সিএনএন/ওআরসির জনমত জরিপে জাতীয় পর্যায়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের তুলনায় হিলারি ৫ পয়েন্টে এগিয়ে রয়েছেন। গণনা না হলেও আগাম ভোটে হিলারি এগিয়ে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট পদে রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প কিছুটা হাত কচলে স্বীকার করেছেন জনমত জরিপে তিনি পিছিয়ে আছেন। তবে সে জন্য সব দোষ তথ্যমাধ্যমের। তারা সত্যি কথা বলছে না, তাঁকে হারাতে হিলারির পক্ষে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। ট্রাম্প এই অভিযোগও করেছেন, যেসব জনমত জরিপে তিনি এগিয়ে, তথ্যমাধ্যম সে ব্যাপারে মনোযোগ দিচ্ছে না। গত সোমবার ফ্লোরিডায় এক খামারে তাঁর সমর্থকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি দাবি করেন, পত্রপত্রিকায় তাঁর পিছিয়ে পড়ার কথা বলা হলেও আসলে তিনি এগিয়ে আছেন। নতুন যেসব জনমত জরিপ প্রকাশিত হয়েছে তাতে ট্রাম্প পিছিয়ে থাকলেও নিজের একনিষ্ঠ সমর্থকদের মধ্যে তাঁর সমর্থন মোটেই কমেনি। গত এক মাসে গৃহীত অধিকাংশ জরিপের গড় হিসাবে হিলারি ট্রাম্পের তুলনায় ৪-৫ পয়েন্টে এগিয়ে থেকেছেন। ট্রাম্পের নারীঘটিত নানা কেলেঙ্কারির পরেও তাঁদের দুজনের ব্যবধান এখনো প্রায় সেই পরিমাণ রয়েছে। বস্তুত স্বল্পশিক্ষিত শ্বেতাঙ্গ পুরুষদের মধ্যে ট্রাম্পের প্রতি আস্থা ৪৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ৫২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। তবে কলেজশিক্ষিত এমন শ্বেতাঙ্গদের মধ্যে ট্রাম্পের তুলনায় হিলারি ক্লিনটনের সমর্থন ১১ পয়েন্ট বেশি। ট্রাম্প সবচেয়ে পিছিয়ে নারী ও অশ্বেতকায় ভোটারদের মধ্যে, যাঁদের দুই-তৃতীয়াংশ হিলারিকে সমর্থন করে যাচ্ছেন। রিয়েল ক্লিয়ার পলিটিকস, যারা একাধিক জাতীয় জরিপের গড় হিসাব করে থাকে, তারা জানিয়েছে ট্রাম্পের তুলনায় হিলারি সাড়ে ৫ পয়েন্টে এগিয়ে। এসব জরিপের ভিত্তিতে বিখ্যাত নির্বাচনী বিশেষজ্ঞ নেট সিলভার জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে নির্বাচন হলে হিলারির জয়ের সম্ভাবনা ৮৫ শতাংশ। আর হিলারি যে এগিয়ে থাকছেন, তার আরেক প্রমাণ মিলেছে আর্লি ভোটিং বা আগাম ভোটের হিসাব থেকে। ৮ নভেম্বর ভোটের তারিখ হলেও যুক্তরাষ্ট্রের অনেক রাজ্যেই আগাম ভোট দেওয়া শুরু হয়ে গেছে। এমএসএনবিসি জানিয়েছে, ইতিমধ্যে ৬৫ লাখ মানুষ তাঁদের ভোট দিয়ে ফেলেছেন। এঁরা কাকে ভোট দিয়েছেন, তা জানা না গেলেও কোন দলের সমর্থকেরা এই ভোট দিয়েছেন, তার হিসাব রয়েছে। প্রধান দুই দল আগাম ব্যালট সংগ্রহের যে হিসাব দিয়েছে, তা সত্যি হলে ইতিমধ্যে রিপাবলিকানদের তুলনায় ডেমোক্রেটিক ভোটাররা আগাম ভোটদানে অংশ নিয়েছেন প্রায় দ্বিগুণ হারে। আইওয়া, ফ্লোরিডা ও ওহাইও ছাড়া ‘ব্যাটেলউন্ড স্টেট’ হিসেবে পরিচিত আটটি অঙ্গরাজ্যেই ভোট গ্রহণের এই চিত্র বেরিয়ে এসেছে। এসব অঙ্গরাজ্যে পুরুষদের তুলনায় নারীরা অনেক বেশি সংখ্যায় ভোট দিচ্ছেন। জনমত জরিপ অনুসারে এসব অঙ্গরাজ্যে নারীদের মধ্যে ট্রাম্পের তুলনায় হিলারির সমর্থন প্রায় ১৯ পয়েন্ট বেশি। হিলারির জন্য আরও বড় সুখবর এসেছে ইলেকটোরাল ভোটের হিসাবে। ওয়াশিংটন পোস্ট বিভিন্ন জরিপের ভিত্তিতে যে ইলেকটোরাল মানচিত্র তৈরি করেছে, তাতে এই মুহূর্তে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে হিলারি ও ট্রাম্প পাবেন যথাক্রমে ৩২৩ ও ১৮০ ইলেকটোরাল ভোট। নির্বাচনে জিততে হলে দরকার কমপক্ষে ২৭০টি ইলেকটোরাল ভোট। ওয়াশিংটন পোস্ট-এর হিসাব অনুসারে, রিপাবলিকানদের জন্য নিরাপদ বলে বিবেচিত একাধিক অঙ্গরাজ্য এই মুহূর্তে হিলারির দিকে ঝুঁকছে। এমনকি ‘গভীর রকম লাল’ (অর্থাৎ রিপাবলিকানদের কট্টর সমর্থক) হিসেবে বিবেচিত টেক্সাস ও ইউটা পর্যন্ত ডেমোক্র্যাটদের জন্য প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠেছে। সেই কারণে শুধু হোয়াইট হাউস নয়, তারা কংগ্রেসের উভয় কক্ষ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে ফিরে পাওয়ার স্বপ্ন দেখছে। এ কাজে ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে নির্বাচনী অভিযানে জামার হাতা গুটিয়ে প্রচারে নেমেছেন প্রেসিডেন্ট ওবামা ও ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামা। তাঁরা দুজনেই ডেমোক্রেটিক সমর্থকদের আগাম ভোটব্যবস্থার সুযোগ গ্রহণের জন্য জোর প্রচার চালাচ্ছেন। প্রেসিডেন্ট ওবামার লক্ষ্য অবশ্য আরও সুদূরপ্রসারী। গত সোমবার ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগোতে মোটা অঙ্কের চাঁদাদাতাদের এক সভায় তিনি বলেন, হিলারি নয়, যাতে কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণ অর্জিত হয়, সে জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালাতে হবে। তিনি বলেন, ‘আমাদের শুধু জিতলেই চলবে না, বড় ব্যবধানে জিততে হবে। সবার কাছে এই বার্তা পৌঁছে দিতে হবে যে আমেরিকা সম্বন্ধে ট্রাম্পের যে দৃষ্টিভঙ্গি, আমরা তা সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করি।’ নিজের দুই দফা শাসনের অধিকাংশ সময় ওবামাকে রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেসের বিরোধিতা মোকাবিলা করতে হয়েছে। সে কারণে নিজের পরিকল্পনা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা তাঁর পক্ষে সম্ভব হয়নি। হিলারি যাতে সেই একই সংকটে না পড়েন, সে জন্য তিনি শুধু সিনেট নয়, প্রতিনিধি পরিষদও ছিনিয়ে আনার কাজে উঠেপড়ে লেগেছেন।

জঙ্গি হামলায় রক্তাক্ত কোয়েটা, নিহত ৬১

আড়াই মাসের মাথায় ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় আবার রক্তাক্ত হলো পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশের রাজধানী কোয়েটা। গত সোমবার রাতে সেখানকার একটি পুলিশ একাডেমিতে আত্মঘাতী বোমা হামলা ও গুলিতে নিহত হয়েছেন অন্তত ৬১ জন। এ হামলার দায় স্বীকার করেছে ইসলামিক স্টেট (আইএস) ও পাকিস্তান তালেবান। এর আগে গত ৮ আগস্ট কোয়েটার একটি সরকারি হাসপাতালে জঙ্গি হামলায় নিহত হন ৭০ জন। নিহত ব্যক্তিদের একটি বড় অংশই ছিলেন আইনজীবী ও সংবাদকর্মী। এবার জঙ্গি হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হলো পুলিশ। সোমবার রাতের এই হামলা পাকিস্তানের ইতিহাসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো স্থাপনায় সবচেয়ে বড় রক্তাক্ত হামলা। ২০০১ সালে আফগানিস্তানে মার্কিন নেতৃত্বাধীন বহুজাতিক বাহিনীর আগ্রাসনের পর থেকেই প্রতিবেশী পাকিস্তান একের পর এক বোমা হামলায় রক্তাক্ত হচ্ছে।
কোয়েটার হামলা ছিল এগুলোর মধ্যে সাম্প্রতিকতম। এ হামলার দায় স্বীকার করেছে পাকিস্তানের তালেবান এবং সিরিয়া ও ইরাকভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস) উভয়ই। তবে দাবির বস্তুনিষ্ঠতা নিরপেক্ষ সূত্রে যাচাই করা যায়নি। সোমবার রাতের হামলার স্থান ‘বেলুচিস্তান পুলিশ কলেজ’ প্রাদেশিক রাজধানী কোয়েটার কেন্দ্রস্থল থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। কয়েক ঘণ্টা ধরে বন্দুকধারীরা একাডেমি দাপিয়ে বেড়ায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার রাতে কোয়েটার দক্ষিণ-পশ্চিমের ওই পুলিশ একাডেমিতে তিনজন বন্দুকধারী ঢুকে নতুন নিয়োগ পাওয়া পুলিশ ক্যাডেটদের রাতযাপনের ভবনগুলোকে নিশানা বানায়। প্রায় ৭০০ জন থাকার উপযোগী ভবনগুলো। অস্ত্রধারীরা গুলি ছুড়তে ছুড়তে ভবনে ঢুকতে থাকে। প্রাণ বাঁচাতে ক্যাডেটরা পালাতে শুরু করেন। আর্সেলান নামের এক ক্যাডেট বলেন, ‘রাত প্রায় সাড়ে ১১টা। আমরা বসে তাস খেলছিলাম। হঠাৎই শুরু হলো গুলিবর্ষণ। শব্দ শুনে আমরা বিছানার নিচে লুকিয়ে পড়ি।’ আরেক ক্যাডেট বলেন, ‘দেখলাম মুখ ঢাকা ছদ্মবেশী তিন লোক। তাদের সঙ্গে কালাশনিকভ রাইফেল। গুলি করতে করতে তারা ভবনে ঢুকছিল।
একটি দেয়াল টপকে আমি পালাতে সক্ষম হই।’ বেলুচিস্তানের প্রাদেশিক সরকারের মুখপাত্র আনওয়ারউল্লাহ কাকার এএফপিকে বলেন, হামলায় ৬০ জন নিহত ও ১১৮ জন আহত হয়েছেন। তবে হাসপাতাল থেকে দেওয়া নিহতদের তালিকায় ৬১ জনের নাম রয়েছে। তাঁদের মধ্যে কোনো হামলাকারী রয়েছে কি না তা স্পষ্ট নয়। হামলার পরদিন গতকাল মঙ্গলবার ওই একাডেমি ও এর সংলগ্ন এলাকার নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। এলাকায় টহল দেন নিরাপত্তা বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য। এ ছাড়া আহত ব্যক্তিদের স্বজনেরা কোয়েটার প্রধান হাসপাতালে ভিড় করেন। বেলুচিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সরফরাজ বুগতি বলেন, হামলাকারী ছিল মাত্র তিনজন। হামলাকারীরা প্রথমে পর্যবেক্ষণ টাওয়ারে থাকা প্রহরীর ওপর গুলি চালায়। গুলিবিনিময়ে তিনি প্রাণ হারানোর পর তারা অ্যাকাডেমির ভেতরে প্রবেশ করে।’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সরফরাজ আরও বলেন, আত্মঘাতী বোমার বিস্ফোরণে দুই হামলাকারী নিজেদের উড়িয়ে দেয়। অপরজন নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহত হয়। হামলার পরপরই পাল্টা অভিযানে নামে আধা সামরিক সীমান্তবাহিনী। অ্যাকাডেমিতে আটকে পড়া কয়েক শ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযানে নেতৃত্বদানকারী মেজর জেনারেল শের আফগান হামলার জন্য জঙ্গিগোষ্ঠী লস্কর-ই-জাংভিকে (এলইজে) দায়ী করেন। কর্মকর্তারা জানান, প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে চলা পাল্টা অভিযানকালে বন্দুকধারীরা বেশ কিছু ক্যাডেটকে জিম্মি করে। আর হামলায় নিহত ব্যক্তিদের অধিকাংশ ক্যাডেট। এলইজের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ পাকিস্তানি তালেবান এক ই-মেইল বার্তায় হামলার দায় স্বীকার করে বলেছে, মোল্লা দাউদ মনসুরের নির্দেশনায় তাদের চারজন যোদ্ধা এ হামলা চালিয়েছে। সম্প্রতি পাঞ্জাবে লস্কর-ই-জাংভির সদস্যদের বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যার ঘটনার দিকে দৃশ্যত ইঙ্গিত করে এতে আরও বলা হয়, পাঞ্জাবের কারাগারগুলোর বাইরে তাদের মুজাহিদদের নির্বিচারে হত্যার প্রতিশোধ এ হামলার ঘটনা। অন্যদিকে, আইএসের নিজস্ব বার্তা সংস্থা আমাকের মাধ্যমে এই জঙ্গি সংগঠনটিও এ হামলার দায় স্বীকার করেছে। এ-সংক্রান্ত একটি ছবিও প্রকাশ করেছে তারা। বলেছে, তাদের তিন সদস্য হামলায় অংশ নেয়।

সংকটে বিআরটিসি

সম্প্রতি প্রথম আলোসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে আমাদের সরকারি গণপরিবহন সংস্থা বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট করপোরেশনের (বিআরটিসি) আর্থিক দৈন্য নিয়ে একটি প্রতিবেদন এসেছে। প্রতিবেদনের ভিত্তি সংস্থার প্রকাশিত আর্থিক বিবরণী। এসব থেকে জানা যায়, তাদের প্রতিটি বাস থেকে দৈনিক মুনাফার পরিমাণ ২০০ টাকারও কম।
অথচ তাদের বাসবহরে রয়েছে ১ হাজার ৫৩৯টি বাস। এর মাঝে চালু আছে ১ হাজার ১৮টি। সংস্থাটির মতে, তাদের প্রায় সব বাস পুরোনো। তাই সচল রাখতে প্রচুর টাকা ব্যয় করতে হয়। আয়ের সিংহভাগ ব্যয় হয় জ্বালানি, মেরামত আর কর্মচারীদের বেতন দিতে। ঢাকা শহরের ট্রাফিক জ্যামের জন্য হয় অতিরিক্ত জ্বালানি ব্যয়। কর্মচারীদের বেতন বাড়ায় ব্যবস্থাপনা ব্যয় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। তদুপরি ৩ হাজার কর্মচারীর মধ্যে ৩০০ জন বার্ধক্যের কারণে কোনো কাজ করতে পারছেন না। একই অবস্থা চলছে তাদের ১৪৬টি ট্রাকের বহরেও। এগুলোর মাঝে ২০১৫-২০১৬ সালে চালু ছিল ৯৮টি। এই ট্রাকগুলো প্রতিটি থেকে দৈনিক গড় মুনাফা থাকে ৭৫ থেকে ৪০০ টাকার মতো। বলা হচ্ছে, এসব গাড়ি লাভজনক মেরামতের আওতার বাইরে চলে গেছে। এ চিত্রটি অভিনব কিছু নয় আর শুধু সরকারের এ সংস্থার মাঝেই সীমাবদ্ধ নয়। এ ধরনের প্রায় সবই অনুরূপ ব্যাধিতে আক্রান্ত। ১৯৬১ সালে বেসরকারি সড়ক পরিবহনের একচেটিয়া কর্তৃত্বের বিপরীতে সরকারের একটি সংস্থা হিসেবে তদানীন্তন ইপিআরটিসি প্রতিষ্ঠিত হয়। এরই উত্তরসূরি সংস্থা আজকের বিআরটিসি। সে সময়কার বেসরকারি সড়ক পরিবহনব্যবস্থায় বাস–ট্রাকের সংখ্যার তুলনায় এখন বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। আর তা ক্রমবিকাশমানও বটে। এটি সরকারের সেবা খাতে প্রবৃদ্ধিতে অবদানও রাখছে। তবে অনেকটা নিয়ন্ত্রণহীন। মালিক ও চালকদের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধে নিয়মনীতি প্রতিষ্ঠা করা একরকম কঠিনই হয়ে পড়েছে। তাঁদের সংগঠনগুলোর প্রতি রয়েছে সরকারের কারও কারও সমর্থন। আর তা ছিল সব সরকারের সময়েই। এগুলোর বিপরীতে বিআরটিসির সামর্থ্য এখন তুলনাতেই আসে না।
বিআরটিসির জন্য সরকার বিভিন্ন সময়ে নতুন নতুন অত্যাধুনিক মডেলের গাড়ি আমদানি করেছে। আর এগুলোর মেরামত কিংবা প্রতিস্থাপন তো হওয়ার কথা চলমানগুলোর আয়ের মুনাফা থেকে। বেসরকারি খাতে তো তা-ই হয়। সরকারি খাতে বেতন বৃদ্ধি একটি বাস্তবতা। আর চালক ও হেলপাররা বিআরটিসিতে যে বেতন-ভাতা পান, বেসরকারি খাতে তার চেয়ে কম পান না। বেসরকারি খাত লাভ করছে। করে চলেছে। আর বিআরটিসি ক্রমান্বয়ে হয়ে পড়ছে নিষ্প্রাণ। আর  ১০ শতাংশ অর্থাৎ প্রায় ৩০০ কর্মচারী বার্ধক্যের কারণে সেবা দিতে অক্ষম। তাঁদের অবসরসুবিধা দিয়ে অব্যাহতি দেওয়ার বিধান তো রয়েছে। উল্লেখ্য, সংস্থাটির অনেক জমি ও সম্পদ আছে। আছে মেরামত কারখানা এবং ড্রাইভিং শিক্ষাকেন্দ্র। তাহলে এটিকে একটি কোম্পানি করে কন্ট্রোলিং শেয়ার সরকারের নিয়ন্ত্রণে রেখে বাকিটা পুঁজিবাজারে ছাড়লে অনেক টাকা আসার কথা। আর সে টাকায় জোগান হবে নতুন মূলধন। সংযোজন হবে বাস ও ট্রাক। আর এখন যাঁরা কাজ করছেন, তাঁদের চাকরির শর্তাবলি অপরিবর্তিত রেখেও তা করা যায়। নতুনেরা কোম্পানিতে যোগ দেবেন। সে কোম্পানি বোর্ডে ব্যক্তি খাতে কেনা শেয়ার মালিকদের প্রতিনিধি থাকার কথা। তাঁদের সক্রিয় অংশগ্রহণে সরকারি কর্মকর্তারা অধিকতর তৎপর হতে পারেন। এটি ধারণামাত্র। বিকল্প কিছুও ভাবনায় আসতে পারে। তবে আমাদের প্রায় সব সরকারি খাতেরই একই হাল। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো নিয়ে অনেক লেখা হয়েছে। সরকার থেকে প্রায়ই তাদের মূলধন জোগান দিতে হয়। অথচ ব্যাংকগুলোকে কোম্পানি করা হয়েছিল শেয়ারের একটি অংশ বাজারে ছাড়ার জন্যই। একই অবস্থানে বাংলাদেশ বিমান। প্রবাসে এক কোটি বাঙালি। তার সিংহভাগ মধ্যপ্রাচ্য ও মালয়েশিয়ায়। শুধু এসব যাত্রী আনা-নেওয়ার সুবন্দোবস্ত করতে পারলে বাংলাদেশ বিমান স্বর্ণ প্রসবিণী হতে পারে। অথচ টিকিটের অভাবে আমাদের যাত্রীরা প্রায়ই হাঙ্গামায় পড়েন। বস্তুতপক্ষে, তাঁরা বাংলাদেশ বিমানে চলাচল করতেই বোধ করেন স্বাচ্ছন্দ্য।
কিন্তু বিমানের ফ্লাইটের সংখ্যা কম, শিডিউল অনিয়মিত ইত্যাদি কারণে সে যাত্রীরা বেছে নেন ভিন্ন বিমান সংস্থা। সেসব সংস্থা চুটিয়ে ব্যবসা করছে। আমরা দিন দিন গুটিয়ে পড়ছি। বাংলাদেশ রেলের হালচাল তো দেশের সব শ্রেণির মানুষের জানা। যাত্রায় সবার প্রথম পছন্দ ট্রেন। অথচ টিকিট নেই সে ট্রেনের। আবার ‘কোনোক্রমে’ টিকিট জোগাড় করে ট্রেনে উঠে দেখা যায় অর্ধেক খালি। বলা হচ্ছে এখন কম্পিউটারে এসব ব্যবস্থাপনা হচ্ছে। কারচুপির সুযোগ নেই। তবে কম্পিউটার চালায় মানুষ, এটাও আমাদের জানা। রেলওয়ের জন্য বড় ধরনের বিনিয়োগ চলছে নিয়মিত। বাংলাদেশ রেলের দুটো মূল্যবান ওয়ার্কশপও আছে। আছে প্রচুর জমি। অবশ্য অনেক বেহাত হয়ে গেছে। ট্রেন চলাচলের সময়সূচি একটি থাকে বটে, তবে এটা মানার বাধ্যবাধকতা চিন্তাতেই নেই। চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় শুধু কনটেইনার পরিবহন করে রেলওয়ে তার অবস্থান ফেরাতে পারে। এমন কথা অনেক সেমিনারে আলোচিত হয়েছে। অথচ বন্দরে আগত ঢাকামুখী কনটেইনারের  ৫ শতাংশও রেলওয়ে টানতে পারছে না। একই হালচাল শিপিং করপোরেশন, আইডব্লিউটিসিসহ এ ধরনের সর্বত্র। তাহলে প্রশ্ন থাকবে, সবকিছুই কি বেসরকারীকরণ করা হবে? সহজ উত্তর, সেবামূলক কাজের বেশ কিছু সরকারের মালিকানাতেই থাকতে হবে। আমাদের বেসরকারি খাত দিন দিন সমৃদ্ধ হচ্ছে বটে। তবে এগুলো যথাযথভাবে নিয়মনীতি মানছে কি না, এসব বিষয় দেখার উপযুক্ত রেগুলেটরের সংকটে আমরা ভুগছি। এর কারণ দ্বিবিধ। কেউ সে বিষয়ে দক্ষ নন আর কেউবা বেসরকারি খাতের অনুগত সেবক। এ অবস্থায় সবকিছু শুধু বেসরকারি খাতের ওপর ছেড়ে দেওয়ার অবস্থায় আমরা এখনো আসিনি। আর তা সব খাতের জন্য প্রযোজ্য নয়। আমাদের অতি স্পর্শকাতর কিছু খাত সরকারের হাতেই রাখতে হবে। যেমন গণখাতে খাদ্যশস্য সংগ্রহ, মজুত ও বিপণন। জ্বালানি তেলে ইদানীং বেসরকারি খাত যুক্ত হচ্ছে। তেমনি বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিপণনব্যবস্থায়ও তারা ক্ষেত্রবিশেষে অংশীদার। সড়ক পরিবহন তো বলতে গেলে বেসরকারি সংস্থারই একচেটিয়া কর্তৃত্বে। অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল এবং সমুদ্রগামী জাহাজও তাদেরই কর্তৃত্বে। তাহলে এ ক্ষেত্রগুলোতে আমাদের ধুঁকে ধুঁকে চলা সংস্থাগুলো কীভাবে চালাব? কী হবে বিমান আর রেলওয়ের? এগুলোতে লোকসানি অবস্থা স্থায়ীভাবে চালিয়ে রাখার যৌক্তিকতা নেই। রেল চলাচলে বেসরকারি সংস্থার ভূমিকাই নেই।
তবে কোম্পানি করলে বাজারে শেয়ার ছেড়ে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের সংশ্লিষ্ট করার সুযোগ রয়েছে। যে সংস্থাগুলোর বিষয়ে এখানে আলোচিত হলো সেগুলোর, এমনকি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর প্রচুর সম্পদ রয়েছে। তাই শেয়ার ভালো প্রিমিয়াম নিয়েই বিক্রি করা যাবে। এর ভিন্ন ধরনের প্রস্তাবও থাকতে পারে। বিশেষ করে ট্রেড ইউনিয়নগুলোর পক্ষ থেকে কোম্পানি সম্পর্কে একটি সংশয় রয়েছে। সেখানে বিকল্প প্রস্তাব আসতেই পারে। সরকার আকস্মিকভাবে এগুলো থেকে সরে আসতে পারবে না। আবার এদের দৈন্যদশাও এভাবে চলতে পারে না। তবে নতুনভাবে বিনিয়োগে কাঠামোগত পরিবর্তনের বিষয়টি বিবেচনায় রাখা আবশ্যক। উল্লেখ করা যায়, এ লোকসান যাচ্ছে করদাতা জনগণের ওপর। এটা ব্যাহত করছে আমাদের প্রবৃদ্ধি। দুর্নীতি আর রাষ্ট্রায়ত্ত খাতে লোকসান আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে প্রবৃদ্ধির হারও বেড়ে যাবে—এটা অনস্বীকার্য। আর এর জন্য আমরা দীর্ঘকাল হাত গুটিয়ে বসে থাকতে পারি না। উল্লেখ করা হয়েছে, সেবামূলক কিছু কৌশলগত ক্ষেত্রে রাষ্ট্রকে সম্পূর্ণ কিংবা আংশিকভাবে হলেও থাকতে হবে। তবে বেশ কিছু খাত থেকে সরে আসারও সময় এসেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালে বিশেষ পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রকে চাল, তেল, চিনি এমনকি কেরোসিনও রেশনে বিক্রি করতে হয়েছে। আবার সময়ে এর ইতিও ঘটানো হয়েছে। সে সময়ে হেচ বার্নওয়েল নামক একজন ব্রিটিশ আইসিএস কর্মকর্তা অবিভক্ত বাংলার সিভিল সাপ্লাই ডিপার্টমেন্টের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন। এ দেশে তাঁর চাকরিকালীন স্মৃতিচারণাসংক্রান্ত বইটিতেও তিনি এ ধরনের কথাই বলেছেন। একটি বাংলা প্রবাদ বাক্য দিয়ে তিনি অধ্যায়টির ইতি ঘটিয়েছেন। সে বাক্যটি হলো ‘রাজা ব্যাপারী, প্রজা ভিখারি’।
আলী ইমাম মজুমদার: সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব।
majumder234@yahoo.com

দুধে ভাতে থাকিবে কতো মার সন্তান

কাউন্সিলে প্রচুর মানুষ এলেও তাতে শৃঙ্খলা ছিল
অবশেষে সাঙ্গ হলো আওয়ামী লীগের মিলনমেলা, ২০তম জাতীয় কাউন্সিল সভা। ৬৮ বছরে পা দেওয়া দলটি আজ বয়সে প্রবীণ এবং যথেষ্ট অভিজ্ঞ। হাজার হাজার সদস্যের ভিড়ে মোটামুটি শৃঙ্খলা বজায় রেখেই দুদিনের সম্মেলন সফলভাবে শেষ হয়েছে। বলা চলে, মধুরেন সমাপয়েৎ।
কমিটি গঠন করা নিয়ে নেতা-কর্মী ও পর্যবেক্ষকদের আগ্রহ ছিল। কয়েক দিন ধরেই সচেতনভাবে এই আগ্রহ তৈরি করা হয়েছিল। বলা হয়েছিল, ‘চমক’ আসছে। তো সেই চমক এল না। স্বাধীন বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের কোনো সাধারণ সম্পাদক অবশ্য একনাগাড়ে দুই মেয়াদের বেশি দায়িত্বে থাকেননি। কৌতূহল ছিল, তাহলে কে আসছেন। শেষমেশ সাধারণ সম্পাদকের ব্যাটনটি সৈয়দ আশরাফের হাত থেকে ওবায়দুল কাদেরের হাতে গেল, আর দায়িত্বের গাড়ি ঝিকঝিক করে চলে গেল কিশোরগঞ্জ থেকে কোম্পানীগঞ্জ। এতে চমকের কিছু ছিল না। ওবায়দুল কাদের দলের একজন সিনিয়র নেতা। প্রেসিডিয়ামের সদস্য ছিলেন। এখন সাধারণ সম্পাদক হয়ে পদাধিকারবলে প্রেসিডিয়ামে থাকবেন। সৈয়দ আশরাফের অবস্থানেও তেমন নড়চড় হয়নি। তিনিও পদাধিকারবলে প্রেসিডিয়ামের সদস্য ছিলেন। এখন স্থায়ী সদস্য হলেন। কোনোটাকেই পদোন্নতি বা পদাবনতি বলা যাবে না। তবে সাধারণ সম্পাদক গণমাধ্যমের আনুকূল্য পান একটু বেশি। সেটা ওবায়দুল কাদের আগে থেকেই পেয়ে আসছেন।
বেশ কিছুদিন ধরেই সামাজিক মাধ্যমে ওবায়দুল কাদেরের একটা জনবান্ধব ভাবমূর্তি তৈরির চেষ্টা চলেছিল। তিনি হঠাৎ করেই রাস্তাঘাটে বেরিয়ে পড়েন, পথের ধারে টুলে বসে চা খান, বাসে চলাফেরা করেন—কখনো দাঁড়িয়ে, কখনো বা বসে। সঙ্গে আলোকচিত্রীরা থাকেন। এসব ছবির মাধ্যমে তিনি একটা বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেন—আমি তোমাদেরই লোক। কাউন্সিলের আগে থেকেই তরুণ নেতৃত্বের কথা জোরেশোরেই শোনা যাচ্ছিল। কাউন্সিলে ঘোষিত প্রেসিডিয়াম সদস্যরা সবাই প্রবীণ। ইতিমধ্যে কয়েকজন বিভাগীয় সম্পাদকের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। সেখানে অপেক্ষাকৃত তরুণেরা জায়গা করে নিয়েছেন। সেনাসমর্থিত কেয়ারটেকার সরকারের গড়া নির্বাচন কমিশন ঠিক করে দিয়েছিল, রাজনৈতিক দলের সব স্তরের কমিটিতে ন্যূনতম এক-তৃতীয়াংশ সদস্য হতে হবে নারী। ২০২০ সালের মধ্যেই এটা করতে হবে। ইতিমধ্যে আট বছর পেরিয়ে গেছে। হুট করে পরে কোনো এক কাউন্সিলে এই ‘কোটা’ পূরণ করা কষ্টকর হবে। দেখা যাক, যেসব পদে এখনো মনোনয়ন দেওয়া হয়নি, সেখানে নারী প্রতিনিধিত্বের আকার ও প্রকার কেমন হয়।
কাউন্সিল সভাটি ছিল সর্বাঙ্গসুন্দর। কোনো হইচই, ঝগড়াঝাঁটি নেই। পদ-পদবি নিয়ে প্রকাশ্যে কাউকে ক্ষুব্ধ হতে বা হতাশা জানাতে দেখা যায়নি। খাবারের প্যাকেট নিয়ে কাড়াকাড়ি ছিল না। সবটাই ছিল শৃঙ্খলার চাদরে মোড়া। দৃষ্টিনন্দন মঞ্চ তৈরিতে ছিল শিল্পের ছোঁয়া। পুরো ঢাকা শহর মরিচবাতির ছটায় রঙিন হয়ে উঠেছিল। এটা হলো বাইরের দিক। ভেতরে-ভেতরে ছবিটা ছিল অন্য রকম। ঢাকাবাসীকে দুদিন ঘরের মধ্যে আটকে রেখে এই সম্মেলন আয়োজনের মধ্য দিয়ে শহরের নাগরিকদের প্রাণান্তকর কষ্ট দেওয়া হয়েছে। সম্মেলনস্থলটিকে বলা যায় নগরের ফুসফুস।  আশপাশের রাস্তাঘাটে যান চলাচল বন্ধ বা নিয়ন্ত্রণ করে সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীদের নিরাপত্তা হয়তো শতভাগ নিশ্চিত করা গেছে। কিন্তু নগরবাসীর প্রাত্যহিক কাজকর্মে ব্যাঘাত ঘটেছে অনেক। প্রশ্ন উঠেছে, আওয়ামী লীগ সরকারে না থাকলে কি এটা করতে পারত? আমি জানি না, পশ্চিমের কোনো দেশে মানুষকে ঘরে আটকে রেখে এ ধরনের কার্নিভালের আয়োজনের চিন্তা কেউ করবেন কি না। বিষয়টা সব দলের নীতিনির্ধারকদের ভেবে দেখতে বলছি। অন্যান্য দলও যদি এই মডেল অনুসরণ করতে চায়, তাহলে ব্যাপারটা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে?
কেউ কেউ বলবেন, তাহলে বিকল্প কী? একটা রাজনৈতিক দল কি তাদের সম্মেলন করবে না? সব স্তরে নেতা-কর্মীদের সমাবেশ ঘটাবে না? কোনো একটা অডিটোরিয়ামে কি এ ধরনের আয়োজন সম্ভব? আমি সবাইকে অনুরোধ করব, বিকল্প জায়গা হিসেবে অন্য কোনো জায়গার সন্ধান করতে। মানুষকে কষ্ট দিয়ে আড়ম্বর দেখানোর মধ্যে বাহাদুরির কিছু নেই। একটা রাজনৈতিক দলের কর্মকাণ্ডের নানান দিক আছে। তবে আগ্রহ বেশি থাকে কমিটি করা এবং কর্মসূচি নিয়ে। এবারের সম্মেলনে কমিটির দিকেই সাধারণের নজর ছিল বেশি। কর্মসূচি নিয়ে কথাবার্তা হয়েছে কম। সম্মেলনে সভাপতির ভাষণে শেখ হাসিনা তাঁর দলের অভীষ্টের কথা বলেছেন। বলেছেন, ২০৪১ সালে তিনি দেশকে কোথায় নিয়ে যেতে চান। তবে এটা তাঁর বক্তৃতাতেই সীমাবদ্ধ থেকেছে। এ নিয়ে দলের মধ্যে কাজ হয়নি, তৈরি হয়নি কোনো ভিশন ডকুমেন্ট। গন্তব্য যদি হয় ২০৪১ সাল, তাহলে আগামী পাঁচ-দশ-বিশ বছরের জন্য লক্ষ্য স্থির করা দরকার। একই সঙ্গে প্রয়োজন কর্মসূচি বাস্তবায়নের কৌশল নির্ধারণ করা। আশা করছি, আগামী নির্বাচন সামনে রেখে আওয়ামী লীগ শিগগিরই রূপকল্প ২০৪১ বিস্তারিতভাবে তৈরি ও উপস্থাপন করবে।
আওয়ামী লীগ এখন থেকেই নির্বাচনের কথা ভাবছে। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, আগামী নির্বাচন কেমন হবে। ২০১৪ সালের নির্বাচন নিয়ে নানান কথা হয়েছে। এ নিয়ে আওয়ামী লীগও স্বস্তিতে নেই। ‘বিনা ভোটের’ নির্বাচন নিয়ে তাঁদের অনেককেই নানান কথা শুনতে হচ্ছে। ক্লাসে একজন ছাত্র থাকলে সে-ই ফার্স্ট হবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। রিপোর্ট কার্ডে লেখা হবে সে বিজয়ী। কিন্তু প্রতিযোগিতাহীন এই পরীক্ষায় ওই ছাত্রের মেধা বা সক্ষমতার পরিচয় মেলে না। এটা ওই ছাত্রের দোষ না। অন্য কোনো ছাত্র ওই প্রতিষ্ঠানে কেন ভর্তি হয় না, তা খতিয়ে দেখা দরকার। এ দেশে নির্বাচন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হয়েছে বারবার। এ থেকে বেরিয়ে আসা দরকার। শেখ হাসিনা অষ্টমবারের মতো দলের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর উপস্থিতি ও নেতৃত্ব দলে স্থিতি এনেছে, ধারাবাহিকতা দিয়েছে। একে একে পাঁচজন সাধারণ সম্পাদককে নিয়ে কাজ করেছেন তিনি। এখন ৬ নম্বরে আসা নতুন সম্পাদককে নিয়ে তিনি কর্মযজ্ঞ শুরু করবেন।
নতুন সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের একজন পোড় খাওয়া রাজনীতিবিদ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় থেকেই আমি তাঁকে চিনি। তিনি মুহসীন হলে আমার সতীর্থ, দুই ব্যাচ সিনিয়র। বাহাত্তর সালে ছাত্রলীগ যখন দুই প্যানেল নিয়ে ডাকসু নির্বাচন করেছিল, তখন তিনি মুহসীন হল ছাত্র সংসদের নির্বাচনে ‘বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র’ গ্রুপের হয়ে সাধারণ সম্পাদক পদে দাঁড়িয়েছিলেন। ওই নির্বাচনে তিনি ছাত্র ইউনিয়নের প্রার্থীর কাছে হেরে গিয়েছিলেন। পরে তিনি ‘বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র’ ছেড়ে ‘মুজিববাদের’ ক্যাম্পে যোগ দেন এবং এখন পর্যন্ত সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন। ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে তিনি ডাকসুর সহসভাপতি পদে নির্বাচন করতে গিয়ে পরপর দুবার প্রতিপক্ষ জাসদ-ছাত্রলীগের প্রার্থী মাহমুদুর রহমান মান্নার কাছে পরাজিত হয়েছিলেন। নব্বইয়ের দশকে মান্না আওয়ামী লীগে কাদেরের সহযাত্রী হয়েছিলেন। কিন্তু পরে আবার দলছুট হয়ে যান। কাদের মাটি কামড়ে আওয়ামী লীগেই পড়ে আছেন। আন্দোলন-সংগ্রামে ছিলেন, কারা নির্যাতন ভোগ করেছেন, কিন্তু দলের প্রতি তাঁর আনুগত্যে ভাটা পড়েনি। এবার সাধারণ সম্পাদক পদটি তিনি তাঁর কাজ ও আনুগত্যের স্বীকৃতি হিসেবে দেখছেন। শিকড় থেকে পৌঁছেছেন শিখরে। তাঁর প্রতি আমার শুভেচ্ছা রইল। দলের সাধারণ সম্পাদক কে হবেন, তা কাউন্সিলরদের ওপর পুরোপুরি নির্ভর করে না।
এখানে দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার বিবেচনা এবং সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত। শেখ হাসিনা ওবায়দুল কাদেরের ওপর আস্থা রেখেছেন এবং কাদেরের সাংগঠনিক দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি আগামী নির্বাচনে লড়তে চান। নিঃসন্দেহে কাদেরের জন্য এটা একটা বড় দায়িত্ব। মন্ত্রী পদে থেকে এই দায়িত্ব তিনি কতটা পালন করতে পারবেন, তা নিয়ে প্রশ্ন থাকতে পারে। ভালো হয়, যদি তিনি বঙ্গবন্ধুর অনুসৃত নীতি মেনে মন্ত্রী পদে ইস্তফা দেন এবং একজন সার্বক্ষণিক কর্মী হিসেবে দলের দায়িত্ব নেন। সরকারের বাইরে থেকে দলকে নির্বাচনে জেতাতে পারলে সেটা হবে পরম শ্লাঘার বিষয়। আওয়ামী লীগ নিয়ে আলোচনা করলে ঘুরেফিরে শেখ হাসিনার প্রসঙ্গ আসবেই। দলে তাঁর কোনো বিকল্প নেই। রাজনীতিতে পারিবারিক উত্তরাধিকার বহন করলেও সভাপতি পদে তিনি এই অধিকারের জোরে বসেননি। সবাই মিলে ধরে এনে তাঁকে সভাপতি বানিয়েছিলেন। তা না হলে দল আবারও ভাঙত। তিনি দলের সংহতির প্রতীক। এক দিনের জন্যও ছাত্রলীগ বা যুবলীগ করেননি, পরিবারের এমন সদস্যদের যদি তিনি কমিটিতে ঢোকান, তাহলে সেটা হবে পরিবারতন্ত্রের রাজনীতি। তিনি এই কাউন্সিলে ওই পথে হাঁটেননি। দেশের গরিব মানুষের সংখ্যা অনেক। তাদের অনেকেরই মাথার ওপর ছাউনি নেই, ঘর থাকলেও খাবার নেই, কাজ নেই। তিনি সবার জন্য ঘর আর ভাত-কাপড়ের কথা বলেছেন, বলেছেন ২০৪১ সালে এ দেশে কোনো দরিদ্র লোক থাকবে না। তিনি বাঙালির হতদরিদ্র জীবনের চেহারা তুলে ধরেছেন, উন্নয়নের অঙ্গীকার করেছেন। মঙ্গলকাব্যে ‘ঈশ্বরী পাটনী’র জবানিতে তিনি জনগোষ্ঠীর প্রত্যাশার কথা বলেছেন:
প্রণমিয়া পাটুনী কহিছে জোড় হাতে।
আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে।।
তথাস্তু বলিয়া দেবী দিলা বরদান।
দুধে ভাতে থাকিবেক তোমার সন্তান।।
শেখ হাসিনা বরাভয় দিয়েছেন। দুধে ভাতে না হোক, পেট ভরে শাক-ভাত খেতে পারলেই মানুষ বর্তে যাবে।
মহিউদ্দিন আহমদ: লেখক ও গ​েবষক।
mohi2005@gmail.com