Monday, November 16, 2015
ইউরোপজুড়ে অভিযান- নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৩২
এরই মধ্যে তিন হামলাকারীর পরিচয় শনাক্ত করেছে ফরাসি পুলিশ। এদের একজনের বাবা ও ভাইসহ ছয় নিকটজনকে আটক করা হয়েছে। শনাক্ত হওয়া তিনজন পরস্পরের ভাই হতে পারে বলে জানিয়েছে ফরাসি গণমাধ্যম।
হামলায় ব্যবহৃত একটি গাড়ি পাওয়াগেছে পরিত্যক্ত অবস্থায়। এর মধ্যে ছিল কয়েকটি একে-৪৭ রাইফেল। এ থেকে ধারণা করা হচ্ছে, হামলাকারীদের কেউ কেউ হয়তো পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে।
ফরাসিরা যখন এসব তৎপরতায় ব্যস্ত, তখন বিশ্বনেতারা এই বলে আশ্বস্ত করেছেন যে ফরাসি জনগণের পাশে তাঁরা আছেন। লড়াই চালিয়ে যাবেন এই হামলার দায় স্বীকার করা আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিরুদ্ধে। তুরস্কের আনাতোলিয়ায় গতকাল রোববার থেকে শুরু হওয়া জি-২০ সম্মেলনে জড়ো হওয়া নেতারা সমস্বরে এ কথাই জানিয়েছেন।
দুই দিন আগের ভয়াবহ হামলা এবং দেশে জরুরি অবস্থা চলায় জি-২০ সম্মেলনে যোগ দেননি ফরাসি প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদ। খবর এএফপি ও রয়টার্সের।
আরও তিনজনের মৃত্যু: প্যারিসের ছয়টি স্থানে শুক্রবারের ওই হামলায় আহত ব্যক্তিদের মধ্যে তিনজন গতকাল মারা গেছেন। এ নিয়ে নিহত ব্যক্তিদের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৩২ জন। এঁদের মধ্যে ফরাসি ছাড়াও আছেন ১৪টি দেশের ২২ জন। এসব দেশের মধ্যে বেলজিয়াম ও চিলির তিনজন করে; আলজেরিয়া, পেরু, রোমানিয়া ও তিউনিসিয়ার দুজন করে এবং যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ইতালি, মেক্সিকো, মরক্কো, যুক্তরাষ্ট্র, স্পেন ও সুইডেনের একজন করে।
গতকাল পর্যন্ত ১০২ জনের মৃতদেহ শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানান ফরাসি প্রধানমন্ত্রী ম্যানুয়েল ভল্স। তিনি বলেছেন, ‘আমরা এখন যুদ্ধের মধ্যে আছি। যুদ্ধের মতোই সংগঠিতভাবে আমাদের ওপর আক্রমণ করা হয়েছে। আমরাও এর সমুচিত জবাব দেব। অবশ্যই সেটা ফ্রান্সে ও ইউরোপে; সিরিয়া এবং ইরাকেও।’
শোক ও স্মরণ: ফ্রান্সে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোকের দ্বিতীয় দিন ছিল গতকাল রোববার। সাপ্তাহিক ছুটির এই দিনেও বন্ধ ছিল প্যারিসের বিখ্যাত জাদুঘর ও থিয়েটারগুলো। লোকজন খুব একটা বের হয়নি ঘরের বাইরে। তবে এর মধ্যে রাস্তাঘাটে কড়াকড়ি নিরাপত্তা ও তল্লাশি ছিল জোরালো। সেনাবাহিনী ও পুলিশের শত শত সদস্য টহল দেন রাজপথ ও মেট্রো স্টেশনগুলোতে।
এর মধ্যেও প্যারিসের প্লস দো রিপাবলিক স্কয়ারে গতকাল দিনভর জড়ো হয় শত শত মানুষ। সেখানে নিহত ব্যক্তিদের স্মরণে অনেক মানুষ হামলাস্থলে ফুল দেয়, মোমবাতি জ্বালায়। এই জায়গাটি শুক্রবারের হামলার মূল স্থল দাতাক্লঁ কনসার্ট হলের খুব কাছে। স্থানীয় সময় সন্ধ্যার দিকে সেখানে কিছুটা উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। গুলির শব্দ শোনার কথা বলে সেখানে জড়ো হওয়া লোকজন। এরপর লোকজন দ্রুত সরে পড়ে। তবে তেমন কিছু ঘটেনি বলে জানায় পুলিশ।
আর নিহত ব্যক্তিদের স্মরণে প্যারিসের নটর ডেম ক্যাথিড্রালে গতকাল সন্ধ্যায় আয়োজন করা হয় প্রার্থনাসভার। সেখানে যোগ দেয় কয়েক হাজার মানুষ।
এদিকে হামলার পর জারি করা জরুরি অবস্থা তিন মাস বলবৎ রাখতে চান ফরাসি প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদ। আধা সামরিক বাহিনীর একটি সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে। তবে ১২ দিনের বেশি জরুরি অবস্থা রাখতে গেলে পার্লামেন্টের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।
ফরাসিদের পাশে আছে বিশ্ব: আইএস হামলার দায় স্বীকার করে প্যারিসে আরও হামলার হুমকি দিলেও তার কড়া জবাব দিয়েছে ফ্রান্স। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এখন আইএসবিরোধী লড়াইয়ের জন্য আরও দ্বিগুণ সক্রিয় হবে তাঁর দেশ। জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে আলাদা বৈঠক করেছেন। ইরাক ও সিরিয়ায় আইএসের অবস্থানগুলোর ওপর রোববার জোরদার বিমান হামলা চালানো হয়েছে। পেন্টাগন সূত্র জানিয়েছে, আইএসবিরোধী লড়াইয়ের ‘জোরালো পদক্ষেপ’ নিতে সম্মত হয়েছেন ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রীরা।
ফ্রান্সবাসীর শোকের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের সুপরিচিত স্থাপনাগুলো ফরাসি পতাকার রঙের সঙ্গে মিলিয়ে আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হয়। এর মধ্যে ছিল লন্ডনের টাওয়ার ব্রিজ, বার্লিনের ব্রান্ডেনবার্গ গেট ও নিউইয়র্কের বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্র। এ ছাড়া বিশ্বজুড়ে ফরাসি দূতাবাসসহ বিভিন্ন স্থানে ফুল দিয়ে ও মোমবাতি জ্বালিয়ে প্যারিসের নিহত ব্যক্তিদের প্রতি শ্রদ্ধা জানায় মানুষ।
এদিকে জাতিসংঘের শিক্ষা, সংস্কৃতি ও বিজ্ঞান–বিষয়ক সংস্থা ইউনেসকো তার ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল রাতে আয়োজিত কনসার্ট অনুষ্ঠান চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে বিবিসি জানিয়েছে।
একে-৪৭সহ কালো গাড়ি জব্দ: ফ্রান্সের বিচার বিভাগীয় একটি সূত্র জানিয়েছে, প্যারিসের উপকণ্ঠ মঁত্রাই এলাকায় পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি কালো রঙের সিয়াট গাড়ি পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ছিল কয়েকটি একে-৪৭ রাইফেল। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, শুক্রবার রাতে কয়েকটি হামলাস্থলে তাঁরা এই রঙের একটি সিয়াট গাড়ি থেকে গুলি ছুড়তে দেখেছেন।
প্যারিসের পূর্বাংশে লা বেল একিপ নামের পানশালায় বন্দুকধারীদের গুলিতে নিহত হয় ১৯ জন। সেখানেও এমন একটি কালো সিয়াট গাড়ির পেছন দিক থেকে গুলি ছুড়তে দেখেছেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
সবচেয়ে বেশি ৮৯ জন নিহত হয় বাতাক্লঁ কনসার্ট হলে। সেখানে বন্দুকধারীরা একে-৪৭ রাইফেল থেকে নির্বিচারে গুলি চালায় বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ছাড়া একটি রেস্তোরাঁ ও বারে হামলার সময় এই রঙের কালো সিয়াট গাড়ি থেকে গুলি ছুড়তে দেখেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
হামলায় জড়িত তিন ভাই!: হামলার ঘটনায় জড়িত তিনজনকে শনাক্ত করার কথা জানা গেছে। এঁরা তিনজনই ফরাসি নাগরিক। তবে দুজন ব্রাসেলসে থাকতেন। একজন থাকতেন প্যারিসে। প্যারিসে যিনি থাকতেন, তাঁর নাম ওমর ইমলাইল মোস্তফে। গতকাল পুলিশ জানায়, ওমর ইসমাইলের বাবা ও ভাইসহ ছয়জনকে আটক করা হয়েছে।
ব্রাসেলসে যে দুজন থাকতেন তাঁদের মধ্যে আবদেসােলম সালেহ নামের একজনের ছবি প্রকাশ করেছে ফ্রান্সের পুলিশ। তিনিও হামলায় অংশ নিয়ে পালিয়ে যান বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ ছাড়া দাতাক্লঁ কনসার্ট হলে হামলাকারী নিহত এক ব্যক্তিকে শনাক্ত করার কথা জানা গেছে গত রাতে। এঁরা তিনজন ভাই বলে জানিয়েছে ফরাসি গণমাধ্যম। তবে ফরাসি পুলিশ বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।
অভিযান ইউরোপজুড়ে: শুক্রবারের হামলায় অংশ নেওয়া সাতজনের মধ্যে ছয়জন বিস্ফোরণে নিজেদের উড়িয়ে দেয়। আর একজন নিহত হয় পুলিশের গুলিতে। এতগুলো মানুষ এমন সুসংগঠিত হয়ে কীভাবে হামলা চালাতে পারল, সেটাই এখন খুঁজে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ বলেছে, হামলাকারীদের কাজ দেখে মনে হয়েছে, প্রশিক্ষণ দিয়ে অনেক দিন ধরে তাদের তৈরি করা হয়েছে। এমনও হতে পারে, তারা সিরিয়ার যুদ্ধে অংশ নিয়েছে।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদ আগেই বলেছেন, দেশের বাইরে প্রস্তুতি নিয়ে সুপরিকল্পিতভাবে এই হামলা করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ফ্রান্সের ভেতর থেকেও সহযোগিতা পেয়েছে হামলাকারীরা।
ধারণা করা হচ্ছে, হামলাকারীদের কেউ কেউ ফ্রান্সে ঢোকে আশপাশের দেশ থেকে। সেই ধারণা থেকে ইউরোপের অনেকগুলো দেশে চালানো হচ্ছে অভিযান। এরই মধ্যে বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলস থেকে সন্দেহভাজন কয়েকজনকে আটক করেছে সে দেশের পুলিশ।
বেলজিয়ামের বিচারমন্ত্রী কোয়েন গিনস জানান, প্যারিসের বাতাক্লঁ কনসার্ট হলের কাছে একটি পোলো গাড়ি পাওয়া গেছে। ওই গাড়িটি ভাড়া করা হয়েছিল বেলজিয়াম থেকে। এই সূত্র ধরেই এখানে কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে।
এ ছাড়া নিহত এক হামলাকারীর মৃতদেহের কাছে সিরিয়ার একটি পাসপোর্ট পাওয়ার পর গ্রিস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই পাসপোর্টধারী ব্যক্তিটি একজন সিরীয় নাগরিক। গত অক্টোবরে শরণার্থী হিসেবে তিনি আসেন লেরোস দ্বীপে।
৫ নভেম্বর জার্মানির ব্যাভারিয়া এলাকায় মেশিনগান, হাতবন্দুক, বিস্ফোরকবোঝাই গাড়িসহ এক ব্যক্তিকে আটক করেছিল পুলিশ। প্যারিসে হামলার সঙ্গে ওই ব্যক্তির যোগসূত্র থাকতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বাংলাদেশেও একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য প্রার্থনা by সোহরাব হাসান
জনগণের এবং জনরায়ের শক্তি যে কামান-বন্দুক দিয়ে দমন করা যায় না, একাত্তরে এ দেশের মানুষ তা প্রমাণ করেছে। গণতন্ত্রের জন্য যে লড়াই, সেটি স্বাধীনতার পরপরই শেষ হয়ে যায়নি। নির্বাচন ও শাসনপদ্ধতি নিয়ে আমরা কদাচিৎ একমত হতে পেরেছি। আমাদের সংবিধানের ৭ অনুচ্ছেদে লেখা আছে, ‘জনগণই প্রজাতন্ত্রের মালিক।’ নেতা-নেত্রীরাও বক্তৃতা-বিবৃতিতে প্রায়ই বাক্যটি আওড়ান। কিন্তু রাষ্ট্র পরিচালনায় সেই জনগণকে তঁারা সম্পৃক্ত করতে চান না। বরং জনগণের শক্তিকে ভয় পান বা এড়িয়ে চলেন। স্বাধীনতার অব্যবহিত পর যাঁরা সাচ্চা গণতন্ত্র ও বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য সরকারের ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন, পরবর্তীকালে তঁাদেরই দেখা গেছে সেনাশাসকদের সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধতে।
গণতন্ত্র নিয়ে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্যেই দেশে যে সামরিক শাসনের জগদ্দল পাথর চেপে বসে, কেউ কেউ তাকে ‘সিপাহি জনতার বিপ্লব’ বলে যতই গৌরবান্বিত করুন না কেন, সত্তরের শেষার্ধ ও আশির দশকজুড়ে দেশে সামরিক শাসনবিরোধী যে আন্দোলন গড়ে ওঠে, তারও প্রধান লক্ষ্য ছিল একটি অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা। নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বৈরশাসক এরশাদ বিতাড়িত হওয়ার পর ১৯৯১ সালে অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত হয় একটি গণতান্ত্রিক সরকার ও সংসদ। সেই সংসদেই প্রথম ও শেষবারের জন্য সরকার ও বিরোধী দল মিলে সংসদীয় গণতন্ত্রে পুনঃপ্রবর্তন করে, যা ১৯৭৫ সালে একদলীয় শাসনের মাধ্যমে হরণ করা হয়েছিল। এরপরও নানা চড়াই-উতরাইয়ের মধ্য দিয়ে দেশে যে তিনটি নির্বাচন হয় (১৯৯৬ সালের ১২ জুন, ২০০১ সালের ১ অক্টোবর, ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর), তা মোটামুটি অবাধ সুষ্ঠু বলে স্বীকৃতি পেয়েছে।
কিন্তু পরাজিত দল যেমন সেই নির্বাচন হৃষ্টচিত্তে মেনে নেয়নি, তেমনি বিজয়ী দলও দেশ পরিচালনায় বিরোধী দলকে সম্পৃক্ত করতে ব্যর্থ হয়েছে। আর ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে সরকারি দল, বিরোধী দল নির্বাচন কমিশন—এই তিন পক্ষের কেউই খেলার নিয়ম মানেনি বলেই দেশবাসী তাদের পছন্দসই প্রতিনিধি বেছে নিতে ব্যর্থ হয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে আমরা সম্প্রতি অনুষ্ঠিত কাছের ও দূরের চারটি দেশের নির্বাচনী ফলাফল পর্যবেক্ষণ করতে পারি। এই চারটি দেশের মধ্যে যেমন দীর্ঘ সামরিক শাসনকবলিত মিয়ানমার আছে, তেমনি আছে রাজনৈতিক সংঘাতের শিকার তুরস্কও। অন্য দুটি দেশ হলো ভারত ও কানাডা। এর মধ্যে একমাত্র তুরস্ক ছাড়া বাকি তিনটিতেই বিরোধী দল বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছে। গত জুনে তুরস্কে প্রথম ধাপের ভোটে ক্ষমতাসীন দল জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি ৪০ শতাংশ ভোট পেলেও মাত্র পাঁচ মাসের ব্যবধানে ৪৮ শতাংশে উন্নীত করে ৬৩০ সদস্যের পার্লামেন্টে ৩১৬টি পেয়ে চতুর্থবারের মতো ক্ষমতাসীন হয়েছে। নির্বাচনের তিন সপ্তাহ আগে আঙ্কারা রেলস্টেশনের কাছে দুটি আত্মঘাতী বোমা হামলায় শ খানেক মানুষ নিহত হয়। জঙ্গি সংগঠন আইএস এ হামলার দায় স্বীকার করে। মধ্যপন্থী বিরোধী দল রিপাবলিকান পিপলস পার্টি জনজীবনের নিরাপত্তার বিষয়টি নির্বাচনে ইস্যু করেও সুবিধা করতে পারেনি।
কানাডার ফলাফল পুরোপুরি বিপরীতমুখী। ২০১১ সালে লিবারেল পার্টি যেখানে ৩৪টি আসন পেয়েছিল, সেখানে এবার ৩৩৮ আসনের পার্লামেন্টে ১৮৪টি আসন পেয়েছে। কীভাবে এই অসম্ভব ঘটনা ঘটল? ক্ষমতায় থাকতে যেসব ভুল তারা করেছিল, সেগুলো ভবিষ্যতে করবে না বলে জনগণকে আশ্বস্ত করেছে এবং দলের নেতৃত্বে পরিবর্তন এনেছে। অন্যদিকে, ২০১১ সালে যে প্রত্যাশা নিয়ে জনগণ তার প্রতিপক্ষকে ভোট দিয়ে ক্ষমতায় এনেছিল, তারা সেটি পূরণ করতে পারেনি। কিন্তু আমাদের দেশে ক্ষমতাসীনেরা কখনো ভুল করে না। আর বিরোধীরাও নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পর আত্মসমালোচনা কিংবা নেতৃত্বে পরিবর্তন আনার কথা ভাবে না।
ভারতের বিহারের নির্বাচন ক্ষমতাসীন ও বিরোধী উভয় দলের জন্যই একটি উদাহরণ হতে পারে। মাত্র দেড় বছর আগে ২০১৪ সালের মে মাসে নরেন্দ্র মোদির বিজেপি গত ৫০ বছরের মধ্যে রেকর্ড-সংখ্যক আসন পেয়ে ক্ষমতায় আসে। নির্বাচনের আগে বিজেপি মেড ইন ইন্ডিয়ার গালভরা বুলি আওড়ালেও নির্বাচনের পর ধর্মীয় উগ্রতা, সাম্প্রদায়িকতা ও হিন্দুত্ববাদকেই উসকে দিয়েছে। উগ্রপন্থীদের হাতে একজন লেখক খুন হন, দাদরিতে গরুর মাংস খাওয়ার মিথ্যা অপবাদ দিয়ে একজন মুসলমানকে পিটিয়ে হত্যার পর দেশব্যাপী সমালোচনার ঝড় বইলেও ক্ষমতাসীনেরা আমলে নেননি। বরং বিহারের নির্বাচনেও তারা সেই সাম্প্রদায়িকতা ও উগ্রতাকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে গেলে মানুষ তা পছন্দ করেননি। তারা নিতীশ কুমার-লাল্লু প্রসাদের বিজেপিবিরোধী মহাজোটকেই ফের ক্ষমতায় নিয়ে আসে। অথচ বছর দুই আগেও বিহারে বিজেপি ছিল নিতীশ কুমারের সরকারের অন্যতম শরিক। এর আগে দিল্লির রাজ্য নির্বাচনেও বিজেপি কেজরিওয়ালের আম আদমির কাছে গো হারা হারে; যদিও ভারতের কেন্দ্রে এবং অনেকগুলো রাজ্যও মোদির দলই ক্ষমতায়।
আর আমাদের পুবের পাশের দেশটিতে যে অভাবিত ঘটনা ঘটেছে, তা কেবল মিয়ানমারের নির্বাচনের ইতিহাসে নয়, বিশ্ব নির্বাচনের ইতিহাসে মাইলফলক হয়ে থাকবে। সেনাবাহিনী ও প্রশাসনের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে সেখানে জনগণ তাদের পছন্দসই দল ও প্রার্থীকে বেছে নিতে পেরেছে। গণতন্ত্রের এই শুভসূচনার জন্য যেমন দেশটির জনগণ কৃতিত্ব দাবি করতে পারে, তেমনি ধন্যবাদ পেতে পারেন ক্ষমতাসীন সেনা-বেসামরিক যৌথ নেতৃত্বও।
ছাত্র, গণ-অভ্যুত্থানের মুখে ১৯৮৮ সালে নে উইন সরকারের পতন ঘটলেও পরবর্তী আড়াই দশক নানা নামে সেনাবাহিনীই দেশটি শাসন করে আসছে। নব্বইয়ের নির্বাচনে ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) জয়ী হলেও নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর না করে তারা দমন–পীড়ন চালাতে থাকে এবং গণতন্ত্রের নেত্রী বলে খ্যাত অং সান সু চিকে অন্তরীণ রাখে। তখন পর্যন্ত মিয়ানমার ছিল বহির্বিশ্ব থেকে প্রায় ‘বিচ্ছিন্ন’। অর্থনৈতিক অবরোধের মুখে দেশটির অর্থনৈতিক অবস্থা ক্রমশ খারাপ হতে থাকলে সামরিক জান্তা তাদের সঙ্গে আপসরফায় আসে। ২০০৮ সালে জেনারেল থেইন সেইন ক্ষমতায় এসে ‘সীমিত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি সংবিধান প্রণয়ন করেন, যাতে সেনাবাহিনীর জন্য পার্লামেন্টে ২৫ শতাংশ আসন সংরক্ষিত রাখা হয়। এ ছাড়া সংবিধানে এই ধারা যুক্ত করা হয় যে, কেউ বিদেশি বিয়ে করলে কিংবা তাঁর সন্তান বিদেশি নাগরিক হলে তিনি প্রেসিডেন্ট হতে পারবেন না। প্রকৃতপক্ষে সু চিকে সামনে রেখেই এই আইন করা হয়।
এরপর ২০১০ সালের নির্বাচন সু চির এনএলডি বর্জন করলে সেনানিয়ন্ত্রিত ইউএসডিপি প্রায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়। কিন্তু ২০১২ সালে আন্তর্জাতিক চাপে থেইন সেইন সু চির সঙ্গে একটি সমঝোতায় আসেন এবং ক্ষমতাসীন দলে ছেড়ে দেওয়া ৪৫টি আসনে উপনির্বাচন করে এনএলডি ৪৩টিতে জয়ী হয়। সু চি হন বিরোধী দলের নেত্রী। সেই থেকে সু চি সংবিধান সংশোধন এবং জনগণের দাবিদাওয়া নিয়ে আন্দোলন করে আসছেন। কিন্তু তাঁর এই আন্দোলন ছিল সম্পূর্ণ অহিংস ও শান্তিপূর্ণ। সরকারের নানা উসকানির মুখেও তিনি কখনো ধ্বংসাত্মক কর্মসূচি নেননি। তিনি জানেন, জনগণ তাঁর সঙ্গে আছে, এবং নির্বাচনে সেটাই প্রমাণিত হলো। মিয়ানমারের নির্বাচনের সঙ্গে একমাত্র ১৯৭০ সালে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত জাতীয় পরিষদ ও প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনের তুলনা করা যায়। সত্তরের নির্বাচন ছিল ছয় দফা তথা জনগণের স্বাধিকারের পক্ষে গণভোট। আর এবারে মিয়ানমারের নির্বাচনটি ছিল গণতন্ত্রের পক্ষে গণভোট। মিয়ানমারের মানুষ যে দীর্ঘ সামরিক শাসনে ক্ষুব্ধ, তারই প্রতিফলন ঘটেছে নির্বাচনে। ক্ষমতাসীনেরা গত কয়েক বছরের উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, বিদেশি বিনিয়োগ ইত্যাদি বলে জনগণের ভোট টানতে চেয়েছে। কিন্তু তঁারা নিরঙ্কুশ গণতন্ত্রের পক্ষেই রায় দিয়েছে।
মিয়ানমারের নির্বাচনে একদিকে ছিল জনগণ, জনগণের নেত্রী অং সান সু চি এবং তাঁর দল। অন্যদিকে ছিল গোটা রাষ্ট্রীয় প্রশাসন, প্রেসিডেন্ট, মন্ত্রী, জেনারেল, অধস্তন সেনা কর্মকর্তা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জনগণেরই জয় হয়েছে। হিংসার বিরুদ্ধে জয়ী হয়েছে অহিংসা ও সহিষ্ণুতা। ঘৃণার বিরুদ্ধে শান্তি। জবরদস্তির বিরুদ্ধে নমনীয়তা।
এই চারটি নির্বাচনের মাধ্যমে আবারও প্রমাণিত হলো, জনগণই সব ক্ষমতার উৎস। বাংলাদেশের মানুষও এ রকম একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য কায়মনোবাক্যে প্রার্থনা করছে। কিন্তু আমাদের রাজনৈতিক নেতৃত্ব সেই প্রার্থনায় সাড়া দেবেন কি?
সোহরাব হাসান: কবি, সাংবাদিক।
sohrabhassan55@gmail.com
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
প্যারিসে সন্ত্রাসী হামলা: ইউরোপের ভেতরের যুদ্ধ? by মশিউল আলম
এর কিছু সময় পরে প্রেসিডেন্ট ওলাঁদকে দেখা গেল টেলিভিশনের পর্দায়। জাতির উদ্দেশে তিনি বললেন, ‘যে মুহূর্তে আমি আপনাদের উদ্দেশে কথা বলছি, তখন অভূতপূর্ব মাত্রার একাধিক সন্ত্রাসী হামলা চলছে প্যারিসের বিভিন্ন জায়গায়।...কয়েক ডজন লোক নিহত হয়েছে, আহত হয়েছে অনেকে। এটা একটা বিভীষিকা।’
ওই রাতে সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে প্যারিস নগরের ছয়টি জায়গায়; নিহত হয়েছে অন্তত ১২৭ জন। আহত হয়েছে প্রায় ২০০ জন, তাদের মধ্যে অন্তত ৮০ জনের অবস্থা গুরুতর। প্যারিসের পুলিশ কর্তৃপক্ষের বরাতে কিছু কম-বেশি এ রকম তথ্যই জানা গেল বার্তা সংস্থা এএফপি, যুক্তরাষ্ট্রের দৈনিক নিউইর্য়ক টাইমস, যুক্তরাজ্যের গার্ডিয়ান, দ্য ইনডিপেনডেন্ট, রুশ দৈনিক ইজভেস্তিয়ার অনলাইন সংস্করণসহ বিভিন্ন অনলাইন সংবাদমাধ্যম থেকে।
শনিবার বিকেলে ইসলামি স্টেট (আইএস) হামলাগুলোর দায়িত্ব স্বীকার করার আগেই নিউইয়র্ক টাইমস লিখেছে, হামলার পরপরই মাইক্রোব্লগের জনপ্রিয় সাইট টুইটারে ইসলামিক স্টেটের সমর্থকদের অ্যাকাউন্টগুলো উল্লাসে ভরে গেছে। পত্রিকাটি আরও লিখেছে, প্যারিসের বাতাক্লোঁ কনসার্ট হলে কনসার্ট চলার সময় সন্ত্রাসী হামলার সময় এক প্রত্যক্ষদর্শী ফ্রান্সের বিএফএম টিভি চ্যানেলকে বলেছেন, তিনি একজন হামলাকারীকে গুলি করতে করতে ‘আল্লাহু আকবর’ বলে চিৎকার করতে দেখেছেন। রুশ দৈনিক ইজভেস্তিয়া লিখেছে, ইতালির লা রিপুবলিকা পত্রিকা বাতাক্লোঁর প্রবেশপথে একটা সাইনবোর্ডের ছবি প্রকাশ করেছে, যেখানে শার্লি এবদো পত্রিকার অফিসে আল-কায়েদা জঙ্গিদের হামলায় নিহত ব্যক্তিদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে লেখা রয়েছে Je Suis Charlie (আমি শার্লি এবদো)। স্মরণ করা যেতে পারে, মহানবী হজরত মোহাম্মদ (সা.)-এর ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশ করার পর শার্লি এবদোর অফিসে হামলা চালিয়ে ইসলামি জঙ্গিরা ১৭ জন সাংবাদিককে হত্যা করেছিল।
অবশ্য প্রেসিডেন্ট ওলাঁদ শুক্রবার রাতে তাঁর টিভি ভাষণে কোনো গ্রুপের নাম উল্লেখ না করে বলেন, ‘আমরা জানি, এসব হামলা কারা চালাচ্ছে।’ তাঁর ইঙ্গিতও ছিল ইসলামিক স্টেটের জঙ্গিদের প্রতিই। পরে তিনি সেটা স্পষ্ট করেই বলেছেন। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী ম্যালকম টার্নবল স্পষ্ট করে বলেন, ‘এই হামলগুলোতে ইসলামিক স্টেটের জঙ্গিদের সংশ্লিষ্টতার সব লক্ষণ আছে।’ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বা ন্যাটোর মহাসচিব—কেউই আইএসএর নাম উল্লেখ করেননি। কিন্তু আইএস দায় স্বীকার করার আগে থেকেই ‘টেরোরিস্ট’, ‘ডেভিল’ এবং বাকি যেসব তীব্র নেতিবাচক বিশেষণের সঙ্গে হামলাকারীদের নিন্দা জানানো হচ্ছিল, ‘সন্ত্রাসবাদের’ বিরুদ্ধে ‘গণতন্ত্রের’ বিজয়ের আশাবাদ ব্যক্ত করা হচ্ছিল, তাতে এটা বুঝতে মোটেও কষ্ট হচ্ছিল না যে গোড়া থেকেই সবার আঙুল ছিল ইসলামি জঙ্গিবাদীদের দিকেই।
কিন্তু প্যারিস হামলার দায় স্বীকারকারী এই ‘আইএস’ও আমাদের দেশের ‘আইএস’ বা ‘আনসারুল্লাহ বাংলা টিম’-এর মতো ভারচুয়াল কি না, কে জানে। এক বন্ধু টেলিফোনে আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, প্যারিস, ঢাকা, রংপুরের কাউনিয়া, ঈশ্বরদী একই সূত্রে গাঁথা কি না। এ প্রশ্নের উত্তর আমার জানা নেই। কারণ এ ব্যাপারে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য নেই। অবশ্য জল্পনা-কল্পনা ও ‘ষড়যন্ত্র’ আছে অনেক। আমাদের সরকার বলছে, পশ্চিমা শক্তিগুলো আমাদের দিয়ে স্বীকার করিয়ে নিতে চায় যে এ দেশে আইএস আছে। তাহলে তাদের এ দেশের ওপর ‘হামলে পড়তে’ সুবিধা হবে।
কিন্তু প্যারিসে শুক্রবারের হত্যাযজ্ঞগুলোর ফলে কার কী সুবিধা হবে? এসব হামলা যদি সত্যিই আইএসের কাজ হয়ে থাকে, তাহলে খোদ ইউরোপীয় ভূখণ্ডের ভেতরে একের পর এক এগুলো তারা চালাতে পারছে কীভাবে? একই সঙ্গে এই প্রশ্নও চলে আসে, আইএস বা আইসিস বা দায়েশ আসলে কী? তাদের এমন ধ্বংসক্ষমতার উৎস কোথায়?
পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমের একটা অংশ অনেক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দেখানোর চেষ্টা করেছে, আইসিস আমেরিকা ও তার মিত্রদের তৈরি করা এক ভয়াবহ সশস্ত্র গোষ্ঠী, যাদের ব্যবহার করে বৈশ্বিক রাজনীতির একটা বড় অংশের কলকাঠি নাড়া হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল, যুক্তরাজ্য, সৌদি আরব, কুয়েত ও কাতারের সরকারি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো অর্থ, অস্ত্র ও পরামর্শ দিয়ে আইএসকে পরিপুষ্ট করেছে, এমন বক্তব্য–বিশ্লেষণসহ প্রচুর লেখা ইন্টারনেটে খুঁজলে পাওয়া যায়। এমন বক্তব্যও পাওয়া যায় যে আইএস আমেরিকা ও তার মিত্রদের জন্য এখন একটা ফ্র্যাঙ্কেনস্টাইন হয়ে উঠেছে। অর্থাৎ, এই ভয়াবহ দানব এখন আর তাদের নিয়ন্ত্রণে নেই।
এ রকম ধারণা কিছুটা সত্য হতেও পারে। এবং এমন সংশয়ও পুরোপুরি অমূলক হবে না, ইসলাম ধর্মের ঝান্ডাধারী সশস্ত্র কিছু গোষ্ঠীকে সম্ভবত ইউরোপীয় ভূখণ্ডের ভেতরের শ্বেতাঙ্গ বর্ণবাদী, উগ্র জাতীয়তাবাদী বিভিন্ন গোষ্ঠী ব্যবহার করছে। এই গোষ্ঠীগুলো রাজনৈতিক ক্ষমতা পেতে চায়, নিজ নিজ দেশের রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হতে চায়। সেই লক্ষ্য হাসিলের উপায় একটাই, নির্বাচনে জয়ী হওয়া। কিন্তু আধুনিক ইউরোপে বহুত্বকামী মানুষ এখনো সংখ্যাগরিষ্ঠ; পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে আসা অভিবাসী নাগরিকদের সমান নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারের ব্যাপারে তাদের আপত্তি নেই। এই বহুত্ববাদী, উদার গণতান্ত্রিক ইউরোপের বিপরীতে বিশুদ্ধ জাতীয়তাবাদী ইউরোপের স্বপ্নে উজ্জীবিত গোষ্ঠীগুলো পশ্চিম ইউরোপের প্রায় সব দেশেই ক্রমশ আগের চেয়ে শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। আইএস কি এখন তাদের স্বার্থ হাসিলের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে? এ রকম একটার পর একটা হামলার মধ্য দিয়ে উগ্র জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠীগুলো কি উদারপন্থী ইউরোপীয়দের মনে মুসলিম-বিদ্বেষ, অভিবাসী-বিদ্বেষ, বর্ণবাদী-বিদ্বেষ জাগিয়ে তোলার চেষ্টা করছে?
প্যারিসে শুক্রবারের হামলাগুলো যারা চালিয়েছে, এ পর্যন্ত জানা খবরে তাদের মোট সংখ্যা ছিল আট। সাতজনই নির্বিচার গুলিতে সাধারণ মানুষের ওপর হত্যাযজ্ঞ চালানোর একপর্যায়ে নিজেদের বুকে ও কোমরে বাঁধা আত্মঘাতী বোমা ফাটিয়ে মারা গেছে। অবশিষ্ট একজন মারা গেছে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে। তাদের পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে। এটা একটা কৌতূহলোদ্দীপক বিষয়: হামলাকারীরা শেতাঙ্গ না ভিন্ন বর্ণের? ফ্রান্সের নাগরিক, নাকি বিদেশ থেকে আসা? ফ্রান্সের নাগরিক হলে ইউরোপীয় বংশোদ্ভূত, নাকি পাকিস্তান-আফগানিস্তান-বাংলাদেশ বা মধ্যপ্রাচ্যের কোনো দেশের অভিবাসীদের সন্তান? সবাই মুসলমান কি না? এক প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণে জানা গেল, একজন হামলাকারীকে তাঁর মনে হয়েছে উচ্চ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ‘কমব্যাট সোলজার’।
ফরাসি পুলিশ সম্ভবত নিহত সব হামলাকারীর পরিচয় আদ্যোপান্ত উদ্ধার করে ফেলবে। আমরা তা জানতে পারব কি না, তা অবশ্য বলা যায় না। এ ধরনের হামলায় কখনো কেন একজন হামলাকারীকেও জীবন্ত ধরা সম্ভব হয় না, এমন প্রশ্নও আছে।
যাই হোক, আমাদের মনে যত প্রশ্ন জাগে, উত্তর জানার ততো উপায় আমাদের নেই। আমরা পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমের ওপর নিরুপায়রূপে নির্ভরশীল এবং নানা ধরনের জল্পনা-কল্পনা ও ‘ষড়যন্ত্রতত্ত্ব’ আমাদের ভাবনাগুলো এলোমেলো করে দিতে পারে।
পশ্চিমাদের দেওয়া আরও কিছু তথ্য এখানে তুলে ধরা যাক: গার্ডিয়ান লিখেছে, এ বছরের এপ্রিল মাসে ফ্রান্সের সিনেট ইন্টেলিজেন্স সার্ভিসের প্রকাশ করা হিসাব অনুযায়ী ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে তিন হাজারের বেশি ‘জিহাদি’ তরুণ-তরুণী সিরিয়া ও ইরাকে গিয়ে ইসলামিক স্টেটের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১ হাজার ৪৩০ জনই ফরাসি নাগরিক। এ বছরের আরও আগের দিকে বার্তা সংস্থা এএফপি লিখেছিল, ফ্রান্সে বসবাসরত ১ হাজার ৫৭০ জন ফরাসি নাগরিক সিরিয়ার জিহাদিদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছেন বলে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো জানতে পেরেছে। তারা আরও ধারণা করছে, প্রায় সাত হাজার ফরাসি নাগরিক আইএসের সঙ্গে যোগ দিতে সিরিয়া-ইরাকে যেতে পারেন। ফরাসি পুলিশ কর্তৃপক্ষের হিসাবে, বর্তমানে দেশটিতে ১৫০ জন ফরাসি নাগরিক ‘জিহাদি’ কর্মকাণ্ডের অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে কারাভোগ করছেন এবং আরও ২০০ জন মুক্তভাবে চলাফেরা করছেন, যাঁরা সিরিয়া ও ইরাকের আইএস-নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলো থেকে ঘুরে এসেছেন।
এসব তথ্যের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ওলাঁদের ‘আমরা জানি, এসব হামলা কারা চালাচ্ছে’ উক্তিটা যোগ করলে প্রতীয়মান হয়, আইএস সম্ভবত এখন ফ্রান্সের ভেতরেরও বাস্তবতা। আরেকটু বড় অর্থে, এটা ইউরোপের অভ্যন্তরীণ যুদ্ধ।
আধুনিক, বহুত্ববাদী, উদার গণতান্ত্রিক ও মানবতাবাদী ইউরোপ এই যুদ্ধ কীভাবে মোকাবিলা করবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
মশিউল আলম: সাংবাদিক
mashiul.alam@gmail.com
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ফুটপাতে শিক্ষকেরা by আনু মুহাম্মদ
![]() |
| অর্ধাহার, অনাহার সইতে না পেরে এই শিক্ষকেরা দাবি নিয়ে বসেছেন ঢাকার ফুটপাতে |
১৮ দিন ধরে ঢাকা শহরে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কয়েক শ শিক্ষক রাস্তায় অবস্থান করছেন বহু বছরের খুবই যুক্তিসংগত দাবি নিয়ে। কিন্তু এখনো সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া তাঁরা পাননি। গত ২৬ অক্টোবর এই শিক্ষকেরা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে তাঁদের অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। চার দিন অবস্থান করেও কোনো সাড়া না পেয়ে তাঁরা ৩০ অক্টোবর থেকে জাতীয় প্রেসক্লাবে অনশন কর্মসূচি শুরু করেন। ৪ নভেম্বর অনশন স্থগিত করে সেখানে এখন লাগাতার অবস্থান কর্মসূচিতে আছেন।
কর্মসূচি খুবই শান্তিপূর্ণ বলেই হয়তো সংবাদমাধ্যমেরও যথাযথ মনোযোগ পাচ্ছেন না তাঁরা। শিক্ষা মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয় যে ভবনে, সেই সচিবালয়ের পাশে প্রেসক্লাবের সামনে ফুটপাতেই ১৬ দিন ধরে দিনরাত কাটাচ্ছেন আট হাজারেরও বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় এক লাখ শিক্ষকের প্রতিনিধি কয়েক শ মানুষ, যুবক, বৃদ্ধ নারী-পুরুষ। তাঁরা শিক্ষক। স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার। তাঁদের প্রতিষ্ঠান সরকারের স্বীকৃতিপ্রাপ্ত, সরকার তাঁদের দিয়ে নির্বাচন, শুমারি, নানা জরিপ সবই করায়। এখানে নিয়মিত ক্লাস হয়; প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী, জেএসসি, এসএসসি, এইচএসসি সব পরীক্ষা হয়। শিক্ষার্থীরা এই শিক্ষকদের কাছ থেকে শিক্ষা অর্জন করে উচ্চতর শিক্ষায় যায়। চাকরি পেয়ে শিক্ষককে পায়ে ধরে সালাম করে, মিষ্টি খাওয়ায়। কিন্তু অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে এত সব দায়িত্ব পালন করার পরও মাসের পর মাস, বছরের পর বছর সরকারের কাছ থেকে তাঁদের বেতন আসে না। আসে না বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ভাতা, উৎসব ভাতা।
এগুলো ছাড়াই এই শিক্ষকেরা ক্লাস নিতে থাকেন, অন্য সব কাজ করেন বছরের পর বছর। কীভাবে সম্ভব? এক শিক্ষক কাঁদতে কাঁদতে বলছিলেন, ‘ঘরে খাওয়ার জোগান দিতে পারি না, নিজেও অনেক সময় না খেয়ে থাকি। সবাই বলেন, ছেড়ে দাও এই কাজ। আমিও মাঝে মাঝে ভাবি, ছেড়ে দিয়ে নাহয় রিকশা চালাই, মাটি কাটি, তাও তো খেতে পারবে দুই বেলা। কিন্তু গ্রামের ভেতরে যখন হাঁটি, ছেলেমেয়েরা সালাম দেয়, নানা কিছু জিজ্ঞাসা করে, পাস করে মুখে হাসি নিয়ে সামনে দাঁড়ায়। বুকটা ভরে যায়। আর ছাড়তে পারি না।’ ঠিকই, একজন শিক্ষকের জন্য এটাই তো বড় তৃপ্তি, বড় পাওয়া। শিক্ষার্থী ছেলেমেয়েদের আগ্রহ, উৎসাহ, সাফল্য যে একজন শিক্ষকের জন্য কত বড় প্রেরণা আর আনন্দের বিষয়, তা নিজের শিক্ষকজীবন থেকে বুঝি। এর কোনো তুলনা হয় না। শিক্ষকতা ছাড়া আর কোনো কিছু দিয়েই তা পাওয়া সম্ভব নয়।
কিন্তু শিক্ষকদের তো বেঁচে থাকতে হয়, তাঁদের ওপরও নির্ভর করে থাকে আরও কিছু মানুষ। সন্তান, পিতামাতা, স্ত্রী/স্বামী, আত্মীয়স্বজন। সে জন্য বেতন দরকার হয়। একজন শিক্ষক যেমন বললেন, ‘মেয়েটা ক্লাস সিক্সে পড়ে। এত দিন ধরে ওদের ছেড়ে আছি, ওরা কীভাবে চলছে তাও জানি না। মেয়ে ফোনে আমাকে কাঁদতে কাঁদতে বলে, চলে আসো বাবা। ঢাকার লোক ভালো না। ওরা কিছু দেবে না।’
শিক্ষকদের কাছেই শুনলাম কেউ কেউ দিনমজুরির কাজ নিয়েছেন অনাহার থেকে পরিবারকে বাঁচাতে। বাংলাদেশে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা পর্যায়ের বহু শিক্ষক এই বেদনাতেই দিনরাত পার করেন। এমনিতে শিক্ষকদের বেতন সুযোগ-সুবিধা বিশ্বের অন্য সব দেশের তুলনায় কম। আর তাঁদের মধ্যেও নিরাশ্রয় এই বেসরকারি স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসার শিক্ষকেরা। এসব প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছিল বেসরকারি উদ্যোগে। কেউ হয়তো জমি দিয়েছেন, কেউ টাকা দিয়েছেন, কেউ হয়তো সরকারি অনুমোদন এনে দিয়েছেন। কিন্তু সরকারি স্বীকৃতি পেলেই তো হয় না। গ্রামগঞ্জের এসব প্রতিষ্ঠানে ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে উচ্চবেতন নেওয়াও সম্ভব হয় না, তার ফলে তাঁদের তাকাতে হয় সরকারের দিকে।
মন্ত্রী, এমপি, আমলাসহ যাঁরা সরকার চালান, যাঁরা দেশের সম্পদ নিয়ন্ত্রণ করেন, তাঁরা সবাই শিক্ষাজীবন পার করেছেন। তাঁরা আর কত দিন শিক্ষকদের অপমান করেন কিংবা তা সহ্য করেন, সেটাই কি আমাদের দেখতে হবে?
বেতন নিশ্চিত করতে, এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে এমপিওভুক্ত করার দাবি নিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এই শিক্ষকেরা ঢাকায় এর আগে এসেছিলেন ২০১৩ সালে। পুলিশের লাঠি, স্প্রে, মরিচের গুঁড়া—সবই প্রয়োগ করা হয়েছে এই অভুক্ত শিক্ষকদের ওপর। শিক্ষামন্ত্রী তিন মাসের মধ্যে সব দাবি মেনে নেবেন বলেছিলেন, সেই আশা নিয়ে শিক্ষকেরা আবার ক্লাসে ফিরেছিলেন, কিন্তু এত দিনেও সেই দাবি পূরণ হয়নি। শিক্ষামন্ত্রীর কথার এমনই দাম! কয়েক শ কোটি টাকা হলে সব শিক্ষকের ন্যূনতম দাবি পূরণ হয়, সরকার তাঁদের শ্রম নেবে কিন্তু বেতন দেবে না। কারণ, ‘সরকারের টাকা নেই’! বটেই তো, কয়েক হাজার কোটি টাকা লোপাট হলে যদি অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এটা কোনো ব্যাপারই না’, তিনি কী করে বহু লাখ শিক্ষার্থীর শিক্ষকদের পাওনা কয়েক শ কোটি টাকা খুঁজে পাবেন!!
উল্লেখ্য, বর্তমানে ২৮ হাজার বেসরকারি মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় পাঁচ লাখ শিক্ষক তাঁদের মূল বেতনের শতভাগ সরকার থেকে পাচ্ছেন। সরকারি ও এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের অবস্থাও যে খুব সম্মানজনক তা নয়। কম হলেও বেতন তাঁরা পান, তবে অবসর গ্রহণের পর তাঁদের দুনিয়া আন্ধার হয়ে যায়। অবসর ভাতা, প্রভিডেন্ট ফান্ডসহ যা কিছু তাঁদের জীবনে শেষ পর্যায়ে প্রধান অবলম্বন, সেগুলো অধরা হয়ে যায়। তাঁদেরই টাকা তহবিলে জমা হওয়ার পর সরকার এখানেও বলে ‘টাকা নেই’। মাসের পর মাস, বছরের পর বছর শিক্ষকেরা ঘুরতে থাকেন, শরীর চলে না, তাও এসে শিক্ষা ভবনে মাথা পেতে দিতে হয়। আমলা-কর্মচারীরা তাঁদের ভিক্ষুক গণ্য করেন, দূর দূর করেন। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষকদের মর্যাদা সবার ওপরে। কিন্তু শিক্ষকদের পাওনা টাকা দেওয়ার ব্যাপারে তাঁদের কোনো উদ্যোগ দেখা যায় না।
সরকারের নিজের টাকা বলে তো কিছু নেই, সবই তো জনগণের টাকা। জনগণের স্বার্থে বিশেষত শিক্ষার কাজে সরকার জনগণের টাকা খরচ করবে না কেন? নিজেদের বিলাসিতা আর কিছু গোষ্ঠীর বিত্তগঠনে কেন জনগণের টাকা শেষ হবে? গত ২৯ অক্টোবর শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, শিক্ষা বাজেট বাড়ানো ছাড়া এমপিও ব্যবস্থায় নতুন স্কুল অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব নয়। শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষা বাজেটের অজুহাত দিচ্ছেন, যা বছরের পর বছর অনেক নিম্ন মাত্রায় আটকে আছে। জাতিসংঘের সুপারিশ অনুসারে বাংলাদেশে শিক্ষা বাজেট প্রয়োজনের নিরিখে তিন ভাগের একভাগ। অর্থাৎ শিক্ষা বাজেট আরও অনেক বৃদ্ধি খুবই যৌক্তিক। অথচ এ বছর অনুপাত আরও কমেছে।
আমরা প্রতিবছর দেখি, বাজেটের শৃঙ্খলা ভেঙে সরকার অনেক কিছুই করছে। বাজেটের পরে ভ্যাটসহ নতুন কর বসায়, প্রত্যাহার করে; উন্নয়ন বাজেট বাড়ায়-কমায়। এ ছাড়া ঋণ মওকুফ বা বিলোপ করে হাজার হাজার কোটি টাকা অদৃশ্য করে দেয় রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক, ফ্লাইওভার দুই হাজার কোটি থেকে ছয় হাজার কোটি টাকায় পৌঁছে যায়, রূপপুর প্রকল্পের ব্যয় ২০ হাজার কোটি টাকা থেকে পাঁচ গুণ বেড়ে লাখ কোটি টাকায় দাঁড়ায়, সব প্রকল্পে ভূতের জোগান দিতে হাজার লাখ কোটি টাকা গায়েব হয়ে যায়। কেবল কিংবা সেই কারণেই জনস্বার্থের কাজে, শিক্ষকদের দাবি ও পাওনা পরিশোধে কয়েক শ কোটি টাকার সংস্থান হয় না।
মন্ত্রী, এমপি, আমলাসহ যাঁরা সরকার চালান, যাঁরা দেশের সম্পদ নিয়ন্ত্রণ করেন, তাঁরা সবাই শিক্ষাজীবন পার করেছেন। তাঁরা আর কত দিন শিক্ষকদের অপমান করেন কিংবা তা সহ্য করেন, সেটাই কি আমাদের দেখতে হবে?
আনু মুহাম্মদ: অর্থনীতিবিদ ও অধ্যাপক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।
anu@juniv.edu/anujuniv@gmail.com
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
হরতাল নয়, প্রয়োজন সংলাপ ও সমঝোতা by বদিউল আলম মজুমদার
অজয় দাশগুপ্তর সন্নিবেশিত তথ্যগুলো এখনো বিশ্লেষণের অপেক্ষায় আছে, যে কাজটি তিনি করবেন বলে উপস্থিত শ্রোতাদের আশ্বস্ত করেছেন। তবে সন্নিবেশিত ‘র’ বা কাঁচা তথ্যগুলো, গভীর বিশ্লেষণের আগেই আমাদের বাংলাদেশের ইতিহাসের, বিশেষত রাজনৈতিক ইতিহাসের গতি-প্রকৃতি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করে, যা অত্যন্ত প্রণিধানযোগ্য।
অনেকেই অবগত আছেন যে হরতালের জনক মহাত্মা গান্ধী। তিনি ১৯১৯ সালে প্রথম হরতাল ডাকেন ভারতে ব্রিটিশদের একটি নিবর্তনমূলক আইন প্রণয়নের বিরুদ্ধে নীরব ও শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ হিসেবে। তিনি দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে টেলিগ্রাম পাঠিয়ে এই হরতালের আহ্বান জানিয়েছিলেন। যদিও গান্ধীর হরতাল ছিল শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ, তবে এই অভিনব প্রতিবাদ ছিল অত্যন্ত কার্যকর। কিন্তু কালের পরিক্রমায় হরতাল আর অহিংস থাকেনি, এটি বহুলাংশে তার কার্যকারিতাও হারিয়ে ফেলেছে এবং রাজনীতিবিদদের একটি আয়েশি কর্মসূচিতে পরিণত হয়েছে। এখন অনেকেই হরতালকে ‘না’ বলার দাবি তুলছেন।
গবেষক দেখিয়েছেন যে ১৯৪৭ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত জাতীয়ভাবে মোট ৬০৫টি হরতাল ডাকা হয়। এর মধ্যে ১৯৪৭ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে ২৫ মার্চ ১৯৭১ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন ইস্যুতে মোট ৪৭টি হরতাল পালিত হয়। জাতীয় হরতালের সঙ্গে আঞ্চলিকভাবেও অনেকগুলো হরতাল ডাকা হয়। মূলত বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এসব হরতাল আহ্বান করে। তবে এর কিছু ব্যতিক্রমও রয়েছে। যেমন, সর্বশেষ হরতাল ডাকে গণজাগরণ মঞ্চ, ৩ নভেম্বর তারিখে ব্লগার ও প্রকাশক হত্যার প্রতিবাদে।
প্রসঙ্গত, পাকিস্তান সৃষ্টির পর প্রথম হরতাল পালিত হয় ১৯৪৭ সালের ১৩ ডিসেম্বর। সচিবালয়ের কর্মচারীরা ওই হরতালটি ডেকেছিলেন কিছু দাবিদাওয়া আদায়ের লক্ষ্যে এবং পাকিস্তানি মুদ্রা ও ডাকটিকিটে বাংলা না লেখার প্রতিবাদে। এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে এই হরতালের মাধ্যমেই সম্ভবত পাকিস্তানের বিলুপ্তির প্রথম বীজ রোপিত হয়।
আমাদের স্বাধীনতা আন্দোলনের সময়ে ১৯৭১ সালে একমাত্র হরতাল ডাকা হয় ৩ ডিসেম্বর তারিখে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রবেশের প্রতিবাদে। জামায়াতে ইসলামী এই হরতালের ডাক দেয়।
স্বাধীনতা-পরবর্তীকালে জাতীয়ভাবে ৫৫৭ দিন হরতাল ডাকা হয়। এর মধ্যে ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সালের ১৪ আগস্ট পর্যন্ত পাঁচ দিন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট থেকে ১৯৮২ সালের ২৩ মার্চ পর্যন্ত ছয় দিন, ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ থেকে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৭২ দিন, ১৯৯০ সালের ৭ ডিসেম্বর থেকে ১৯৯৬ সালের ৩০ মার্চ পর্যন্ত ৮১ দিন, ১৯৯৬ সালের ৩১ মার্চ থেকে ২০০১ সালের ১৫ জুলাই পর্যন্ত ৫৯ দিন, ২০০১ সালের ১০ অক্টোবর থেকে ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত ৯১ দিন এবং ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৫ সালের ৩ নভেম্বর পর্যন্ত ৩৮৩ দিন হরতাল ডাকা হয়। অর্থাৎ হরতালের সংখ্যা একটি ব্যতিক্রম ছাড়া দিন দিন বেড়েছে।
হরতালের এই তথ্য-উপাত্তগুলোকে গবেষক ভিন্ন সময়কালের ভিত্তিতেও উপস্থাপন করেন। তাঁর উপস্থাপনা থেকে দেখা যায় যে জাতীয়ভাবে মার্চ ১৯৮২ সাল থেকে ৬ ডিসেম্বর ১৯৯০ পর্যন্ত ৭২ দিন, ৭ ডিসেম্বর থেকে ডিসেম্বর ২০০০ পর্যন্ত ১৩০ দিন এবং ২০০১ সাল থেকে জুন ২০১৫ পর্যন্ত ৩৩৩ দিন হরতাল ডাকা হয়। এভাবে দেখলেও হরতালের সংখ্যা ক্রমাগতভাবে বেড়েছে।
গবেষণা প্রতিবেদনটিতে বলা হয় যে এসব হরতালের কারণে ১৯৪৭ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ৬৫৫ জন নিহত, প্রায় ২৫ হাজার ব্যক্তি আহত এবং ১৭ হাজার জন গ্রেপ্তার হন। এ ছাড়া প্রতিবেদনে হরতালের আর্থিক ক্ষতির তথ্যও তুলে ধরা হয়েছে, যদিও এ সম্পর্কে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ভিন্ন মত রয়েছে।
রাজনৈতিক হানাহানি ও দমন-পীড়ন সংকটকে আরও ঘনীভূতই করবে, যা জঙ্গিবাদের বিস্তৃতির জন্য উর্বর ক্ষেত্র বিস্তার করবে এবং জাতিকে বিপর্যয়ের দিকেই ঠেলে দেবে বলে আমাদের আশঙ্কা অজয় দাশগুপ্তর উপস্থাপিত তথ্য-উপাত্ত থেকে এটি সুস্পষ্ট যে হরতালের ইতিহাস মূলত বাংলাদেশের ইতিহাস, বিশেষত বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাস। এ ছাড়া এগুলো বাংলাদেশের আগত দিনেরই ইতিহাসের ইঙ্গিত বাহকও। চলমান রাজনৈতিক বিরোধ, খুনখারাবি এবং সন্ত্রাস ও জঙ্গি কর্মকাণ্ডের কারণে বাংলাদেশ বর্তমানে ভয়াবহ সংকটের মুখোমুখি, যা ভবিষ্যতে আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে বলে অনেকের আশঙ্কা। বস্তুত হরতালের সংখ্যার ঊর্ধ্বগতি আমরা যে ক্রমাগতভাবে এই সংকটের গহ্বরে প্রবেশ করছি, তারই সুস্পষ্ট ভবিষ্যৎ বার্তা বহন করে। অন্যভাবে বলতে গেলে, বেশি বেশি হরতাল আমাদের ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক বিরোধ নিয়মতান্ত্রিকভাবে মীমাংসায় অপারগতা ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের প্রতি চলমান অসহিষ্ণুতারই প্রতিফলন, আর এ অসহিষ্ণুতাই আমাদের সংকটকে দিন দিন আরও ঘনীভূত করে তুলছে।
এটি সুস্পষ্ট যে নীরব প্রতিবাদের পরিবর্তে হরতাল ক্রমাগতভাবে আমাদের দেশে রাজপথে জোর করে সমস্যা সমাধানের একটি হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে, যা ক্রমান্বয়ে সহিংস রূপ নিচ্ছে। রাজনৈতিক ও অন্যান্য জাতীয় সমস্যা সমাধানের সর্বোত্তম, বহু পরীক্ষিত ও টেকসই পন্থা হলো রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সঙ্গে মতের আদান-প্রদান, সংলাপ ও সমঝোতা। রাজপথের লড়াকু আন্দোলন, তার প্রতিক্রিয়ায় দমন-পীড়ন ও সহিংসতা সমস্যার সমাধান তো করেই না; বরং সমস্যাকে আরও প্রকট, জটিল ও বেসামাল করে। মনে হয়, বাংলাদেশে আজ যেন আমরা এমনই জটিল একটি পরিস্থিতির মুখোমুখি।
গবেষকের উপস্থাপিত হরতালের সংখ্যার ক্রমবৃদ্ধি থেকে এটি আরও সুস্পষ্ট যে আমাদের রাজনৈতিক ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে আমরা প্রচলিত গণতান্ত্রিক পন্থা ও দায়িত্বশীলতার আশ্রয় নিইনি। আমরা সংসদকে কার্যকর ও সব সমস্যা সমাধানের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করিনি। অন্যান্য গণতান্ত্রিক ও দায়বদ্ধতার প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করিনি। গণতান্ত্রিক রীতিনীতির চর্চা করিনি। জনগণের মৌলিক ও রাজনৈতিক অধিকারগুলো নিশ্চিত করিনি। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের বাধাগুলো দূর করিনি। প্রদর্শন করিনি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের প্রতি প্রয়োজনীয় শ্রদ্ধাশীলতা। সর্বোপরি সংলাপের মাধ্যমে কতগুলো মৌলিক বিষয়ে জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তুলিনি। বরং সংসদীয় ‘টিরানি অব দ্য মেজরিটি’ বা সংখ্যাগরিষ্ঠের স্বৈরতন্ত্র কাজে লাগিয়ে কিংবা হরতাল-অবরোধসহ অজয় দাশগুপ্তর উপস্থাপিত তথ্যমতে, রাজপথে সহিংস আন্দোলনের মাধ্যমে মতৈক্যের ক্ষেত্রগুলোকে আরও সংকুচিত করেছি। প্রসঙ্গত, ১৯৭২-এর সংবিধান ছিল আমাদের জাতীয় মতৈক্যের এক অনন্য উদাহরণ, যা কতগুলো হীন স্বার্থে গৃহীত সংশোধনী এবং আদালতের বিতর্কিত রায়ের মাধ্যমে আমরা চূর্ণবিচূর্ণ করে ফেলেছি। অনেকের মতে, আমাদের বর্তমান সংকট এসব পাপেরই মাশুল।
দুর্ভাগ্যবশত অতীতের এসব ভুল থেকে আমরা যেন এখনো শিক্ষা গ্রহণ করিনি। আমরা এখনো ‘মেজরিটারিয়ান’ বা সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোর খাটিয়ে এবং মূলত বলপ্রয়োগ ও দমন-পীড়নের মাধ্যমে ক্রমবর্ধমান সহিংসতা ও জঙ্গি কর্মকাণ্ডের সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করছি। আমাদের আশঙ্কা যে বর্তমান সংকট শুধু আইনশৃঙ্খলা-সম্পর্কিত বিষয়ই নয়, যদিও যারা খুনখারাবি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তাদের অবশ্যই খুঁজে বের করে বিচারের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে আমাদের রাজনৈতিক নেতাদের আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে কতগুলো বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছাতে হবে এবং মতৈক্য গড়ে তুলতে হবে। জাতীয় মতৈক্যের ভিত্তিতেই সম্মিলিতভাবে জঙ্গিদের আমাদের মোকাবিলা করতে হবে। কারণ, জঙ্গি কারও বন্ধু নয় এবং বন্ধু হতেও পারে না। রাজনৈতিক হানাহানি ও দমন-পীড়ন সংকটকে আরও ঘনীভূতই করবে, যা জঙ্গিবাদের বিস্তৃতির জন্য উর্বর ক্ষেত্র বিস্তার করবে এবং জাতিকে বিপর্যয়ের দিকেই ঠেলে দেবে বলে আমাদের আশঙ্কা। এটাই আমরা মনে করি অজয় দাশগুপ্তর গবেষণার অন্তর্নিহিত বার্তা।
ড. বদিউল আলম মজুমদার, সম্পাদক, সুজন—সুশাসনের জন্য নাগরিক।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বিদ্যার জন্য শুভকামনা by মহিউদ্দিন আহমদ
![]() |
| নেপালের নতুন প্রেসিডেন্ট বিদ্যা দেবী ভান্ডারি |
বিদ্যার স্বামী মদন ভান্ডারি একসময় নেপালের কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তখন দলটি ছিল আরও বড়। মদন ছিলেন দলটির কান্ডারি। ১৯৯৬ সালে নগরকোট যাওয়ার পথে তাঁকে বহনকারী গাড়িটি উঁচু পাহাড়ি পথ থেকে খাদে পড়ে গেলে তিনি নিহত হন। এর তিন বছর পর দলের একটা অংশ নিয়ে কয়েকজন ভিন্নমতাবলম্বী নেতা বেরিয়ে যান। পরে তঁারা তৈরি করেন ‘কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপাল-মাওয়িস্ট’। এর প্রধান নেতা হলেন পুষ্প কমল দহল। প্রচণ্ড নামে তাঁকে সবাই চেনেন।
স্বামী দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ার পর বিদ্যা দলের মধ্যে ধীরে ধীরে জায়গা করে নেন। তাঁর দল ১৯৯৪ সালে একটি কোয়ালিশন সরকারেরও নেতৃত্ব দিয়েছিল। তখন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন দলের নেতা মনমোহন অধিকারী। এই অঞ্চলে এটাই ছিল কমিউনিস্ট পরিচালিত প্রথম নির্বাচিত সরকার। ১৯৯৮ সালের নির্বাচনে বিদ্যা পার্লামেন্টের সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
দক্ষিণ এশিয়ার নাগরিক সমাজের একটা নেটওয়ার্ক হলো সাউথ এশিয়া ‘অ্যালায়েন্স ফর পভার্টি ইরাভিকেশন’, সংক্ষেপে ‘সাপে’। বিদ্যা এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে প্রথম থেকেই ছিলেন। আমরা দুজনই এই সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, ২০০১ সাল থেকে। তারপর তাঁর সঙ্গে অনেকবার দেখা হয়েছে, কাঠমান্ডু, ইসলামাবাদ কিংবা কলম্বো শহরে। ইসলামাবাদের একটা ঘটনা ভোলার নয়।
২০০৪ সালের জানুয়ারিতে সার্ক শীর্ষ সম্মেলন হলো। আমরা ‘সাপে’র পক্ষ থেকে আয়োজন করলাম সমান্তরাল সম্মেলন ‘পিপলস সার্ক’। সভা শেষে আমরা ফিরে আসছি যার যার দেশে। ইসলামাবাদ বিমানবন্দরের বহির্গমন লাউঞ্জে বসে আছি। বিদ্যাও আছেন সেখানে। আমার সহযাত্রীদের অন্যতম ছিলেন সাংবাদিক সোহরাব হাসান। আমরা দুবাই হয়ে ঢাকা ফিরব। কিন্তু বিমান ছাড়ার ঘোষণা দিচ্ছে না। সময় পেরিয়ে যাচ্ছে, এক ঘণ্টা-দুই ঘণ্টা। আমরা খুবই বিরক্ত, ক্ষুব্ধ। শুনলাম একজন ভিভিআইপি যাবেন। তাই সব ফ্লাইট বন্ধ হয়ে আছে। আগে ওই অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির বিমান উড়বে। তারপর আমাদেরটা। জানালার কাচ ভেদ করে চোখ পড়ল টারমাকের ওপর। দেখি লালগালিচা বিছানো। তার ওপর দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মামুন আবদুল গাইয়ুম।
মামুন আবদুল গাইয়ুমের জন্য পুরো বিমানবন্দর দুই ঘণ্টা অচল! কিন্তু এটা হলো তৃতীয় দুনিয়ার দেশগুলোর ‘নিরাপত্তা প্রটোকল’। এখন বিদ্যা ভান্ডারি নেপালের রাষ্ট্রপ্রধান। তিনিও একই ধরনের প্রটোকল পাবেন। তবে আমি তাঁর জন্য দুই-তিন ঘণ্টা হাসিমুখেই অপেক্ষা করতে রাজি আছি। কারণ, তিনি আমাদের বন্ধু, আমাদেরই একজন।
মাঝে বিদ্যা খুব অসুস্থ ছিলেন। ক্যানসারে ভুগেছিলেন বেশ কয়েকটা বছর। এটা ছিল তাঁর এক প্রাণপণ লড়াই, অসুখকে জয় করার। অসুস্থ শরীর নিয়েই তিনি অল্প কিছুক্ষণের জন্য আমাদের একটা সভায় এসেছিলেন। এটা ২০০৭ কিংবা ০৮ সালের কথা। যা হোক, লড়াই করে তিনি কর্কট রোগকে বশে রেখেছেন এবং স্বাভাবিক কাজকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন। রাজনীতিতেও বহাল থেকেছেন প্রবল প্রতাপে। এর আগে প্রতিরক্ষামন্ত্রীও হয়েছিলেন।
এই অঞ্চলে বেশ কয়েকজন কমিউনিস্ট নেতা-নেত্রী দেখেছি। নেপালের মানুষ এমনিতেই অমায়িক। ওদের দেশের কমিউনিস্ট পার্টিগুলো এখনো জনগণের দল, শুধু একজন নেতার প্যাড-সর্বস্ব দল নয়। এর মধ্যেই বিদ্যা তাঁর দলের শীর্ষে পৌঁছাতে পেরেছেন, পেয়েছেন জনগণের ভালোবাসা। এখন তো তিনি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান। বিদ্যা ভান্ডারি, আপনার জন্য শুভকামনা রইল।
মহিউদ্দিন আহমদ: লেখক-গবেষক
mohi2005@gmail.com
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মাত্র ১ শতাংশ হামলার জন্য মুসলমানরা দায়ী! by আসিফ হাসান
অবশ্য কেবল এবারই নয়, ৯/১১ পরবর্তী বিভিন্ন দেশে যখনই সন্ত্রাসী হামলা হয়, তখন প্রথমেই মুসলমানদের দিকে সন্দেহের দৃষ্টি পড়ে। অথচ সাংবাদিক, লেখক বেন নর্টন তার শনিবার Our terrorism double standard: After Paris, let’s stop blaming Muslims and take a hard look at ourselves শীর্ষক প্রতিবেদনে জানিয়েছেন, ২০০৯ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত ইউরোপিয়ান ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোতে পরিচালিত হামলার মাত্র দুই শতাংশ ছিল ধর্মীয় উদ্দীপনা-সংশ্লিষ্ট। ২০১৩ সালের ১৫২টি হামলার মাত্র ১ শতাংশ ছিল ধর্মীয় প্রকৃতির।

বেন নর্টন জানান, প্যারিস বা পাশ্চাত্যের কোনো দেশে হামলা হলেই মিডিয়া হইচই করতে থাকে। অথচ এই ২৮ সেপ্টেম্বর ইয়েমেনে যখন বিয়ের আসরে বোমা মেরে ৮০ নারীসহ ১৩১ বেসমারিক লোককে হত্যা করা হলো, তখন কেউ টু শব্দটি পর্যন্ত করেনি। তখন ওবামা বা হঁলাদের কেউ বলেনি এটা একটা গণহত্যা।

কিন্তু সামরিক পথেই কি সমাধান আসবে? তিনি প্রশ্ন রেখেছেন। তুর্কি, কুর্দি, ইয়েমেনিদের চেয়ে কি ফরাসিদের জীবন দামি?
তিনি বলেন, রাজনৈতিক চক্র অব্যাহত থাকলে সহিংসতা কখনো কমবে না, বরং বাড়তেই থাকবে।
সূত্র : স্যালন.কম
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
এত ভয় জীবনে কখনও পাইনি : শাহাবুদ্দিন আহমেদ
আর এই খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে আনন্দবাজার পত্রিকায় শাহাবুদ্দিন আহমেদের কলাম থেকেই। লেখাটি তুলে ধরা হল-
ভয়ঙ্কর রাত কাটালাম। ভয়ঙ্কর! এখনও থেকে থেকে শিউরে উঠছি। আতঙ্ক কেমন একটা ঘোর লাগিয়ে দিয়েছে। রাত তখন সাড়ে ৮টা। ডিনারের জন্য আমরা প্রস্তুত হচ্ছি। আমার মেয়ে চিত্র তখনও ফেরেনি। বাস্তিলের দিকে গিয়েছে। প্রত্যেক উইকএন্ডে-ই সে বন্ধুদের সঙ্গে বাস্তিলের দিকে যায়। তরুণ প্রজন্মের ভিড়বাট্টাই ও দিকে বেশি। উইকএন্ডে ভিড় আরও বেশি থাকে।
আমিও সন্ধেবেলা বাস্তিলের দিকেই গিয়েছিলাম। তরুণ চিত্রীদের একটা প্রদর্শনী চলছে। সেটা দেখে তাড়াতাড়িই বাড়ি ফিরেছি। জানি চিত্রর ফিরতে রাত হবে। সে ডিনার করেই ফিরবে। তাই আমি আর আমার স্ত্রী ডিনারের জন্য তৈরি হচ্ছি। চিত্র ফোন করল। ব্যস্ত কণ্ঠস্বর। সে জানাল, খুব বিপদ। বাস্তিল এলাকার একটি ক্যাফের বেসমেন্টে সে লুকিয়ে রয়েছে আরও অনেকের সঙ্গে। সব আলো নিভিয়ে দেওয়া হয়েছে। চিত্র বলছিল, ‘খুব গোলাগুলি চলছে। মনে হচ্ছে যুদ্ধ শুরু হয়ে গিয়েছে।’
আমার তো বিশ্বাস হচ্ছিল না। স্ত্রীকে বললাম টিভি চালাতে। নিউজ চ্যানেল দেখে আমরা হতবাক। একটু আগেই যেখান থেকে ঘুরে এলাম, সেখানে এ কী অবস্থা! রীতিমতো যুদ্ধ চলছে। সেনাবাহিনী ছোটাছুটি করছে। গোলাগুলি চলছে। জানতে পারলাম ভয়ঙ্কর জঙ্গি হামলার শিকার হয়েছে প্যারিস।
খুব টেনশন শুরু হয়ে গেল। শুধু ভাবছি মেয়েটাকে কখন দেখতে পাব। আদৌ দেখতে পাব তো? খুব অসহায় লাগছিল আমাদের। তবে চিত্র মাঝেমধ্যে সুযোগ মতো ফোন করে নিজের খবর দিচ্ছিল। ওরা ক্যাফেতে বেশি ক্ষণ লুকিয়ে থাকতে পারেনি। আলো নিভিয়ে সবাই বেসমেন্টে চলে গিয়েছিল ঠিকই। কিন্তু যুদ্ধ এমন ভয়ঙ্কর আকার নিচ্ছিল যে ওরা ভয় পেয়ে যায়।
যে রাস্তায় ওই ক্যাফেটা, সেই রাস্তাতেই বাতাক্লাঁ কনসার্ট হল। ফলে, বিস্ফোরণ, গোলাগুলি, আর্তনাদ, মৃত্যু- সব চলছিল চিত্রদের ঘিরেই। ওদের মনে হচ্ছিল ক্যাফেটাতেও বোমা হামলা হতে পারে। তাই পিছনের দরজা দিয়ে লুকিয়ে বেরিয়ে, হামাগুড়ি দিয়ে কোনওক্রমে পিছন দিকের একটা গার্ডেনে পৌঁছায় চিত্ররা। তার পাশে সার সার বাড়ি। কিন্তু সব অন্ধকার। শুধু স্ট্রিট লাইটগুলো জ্বলছে। জঙ্গি হামলার ভয়ে বাড়ি-ঘর, দোকানপাট, ক্যাফে-রেস্তঁরায় সব আলো নিভিয়ে দেওয়া হয়েছে। দরজা-জানালা সব বন্ধ। কারও বাড়ির ভিতরে লুকিয়ে যে প্রাণ বাঁচাবে, তারও উপায় নেই।
কিছুক্ষণ পর চিত্রর ফোন পেলাম। শশ ব্যস্ত ফোন ধরেছি। দম বন্ধ হয়ে আসার জোগাড়। চিত্র জানাল, এক মহিলা নিজের বাড়িতে তাদের আশ্রয় দিয়েছেন। সেখানেই তাদের লুকিয়ে থাকতে হবে আরও কিছুক্ষণ। হতে পারে অনেক ক্ষণ। পুলিশ কাউকে বাইরে বের হতে নিষেধ করেছে।
আমি বললাম, ‘যেখানে আছো, সেখানেই চুপ করে বসে থাকো। একদমই বাইরে বেরনোর চেষ্টা করবে না।’
চিত্র বন্ধুদের থেকেও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল। প্রবল আতঙ্কে পালানোর সময় কে কোথায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে গিয়েছে, কেউ জানত না। একে একে আশ্রয় খুঁজে নেওয়ার পর তারা মোবাইলে পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগ করা শুরু করে।
কারও পক্ষেই একা বাড়ি ফেরা সম্ভব ছিল না। একা কাউকে রাস্তায় দেখলে সেনা তাকেও জঙ্গি বলে ভাবতে পারে। তাই সবাই এক জায়গায় জড়ো হতে চাইছিল।
রাত ১২টা নাগাদ পুলিশ জানাল, জঙ্গিরা শেষ। চিত্ররাও ততক্ষণে একত্র হতে পেরেছে। তবে প্যারিস পুরোপুরি জঙ্গিমুক্ত কি না, তা তখনও নিশ্চিত নয়। আতঙ্ক গিলে ফেলেছে গোটা শহরটাকে।
মেয়ে সুস্থ রয়েছে জানতে পেরেই আমার অন্য বন্ধু আর পরিচিতদের খোঁজ নিতে শুরু করি। বাস্তিল চত্বরে বিভিন্ন ক্যাফে, রেস্তোঁরাতে অনেক বাঙালি কাজ করেন। বেশিরভাগই বাংলাদেশের। ফোন করে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করি। জানতে পারি তাঁরাও অক্ষতই রয়েছেন। বন্ধু-বান্ধবরা আমাদেরও বার বার ফোন করছিলেন। খোঁজখবর নিচ্ছিলেন। প্রশাসন এবং রেডক্রস-সহ নানা সংগঠন ততক্ষণে ঘটনাস্থলে পৌঁছে গিয়েছে। জখমদের উদ্ধারের সঙ্গে আটকে পড়া মানুষদের বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থাও করছিল তারা।
চিত্রকে অবশ্য আমার এক বন্ধু নিজের গাড়িতে করে বাড়ি পৌঁছে দিল। তখন ভোর চারটে। মেয়েকে গাড়ি থেকে অক্ষত নামতে দেখে বুক থেকে যেন পাথর নামল।
এত ভয় আগে কখনও পাইনি। এত অসহায় আগে কখনও মনে হয়নি নিজেকে। মুম্বাইতে যে রকম হামলা হয়েছিল, প্যারিসে হুবহু সে রকমই দেখলাম। মুম্বাইয়ের ঘটনা টিভিতে দেখেছিলাম। ভয়ঙ্কর! এবার প্যারিসে নিজেই সেই পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে গেলাম। এমন জঘন্য কাজ কারা ঘটাতে পারে! কোন ধরনের মানুষ তারা? অথবা আদৌ মানুষ কি? আমার সত্যিই আতঙ্কের ঘোর কাটছে না। গোটা রাত ঘুমাতে পারিনি। এখন কথা বলতেও কষ্ট হচ্ছে। কিন্তু ঘুমিয়ে পড়ব, তেমন মানসিক স্থিতিতে পৌঁছতে পারছি না।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
নিশ্চিন্তে খাওয়া যায় যে খাবারগুলো

মধু
মধু ভালোভাবে সংরক্ষণ করতে পারলে, কখনো নষ্ট হয় না৷ অর্থাৎ খুব শক্ত করে বোতলের মুখ বন্ধ করে ঠাণ্ডা জায়গায় রাখলে বহু পুরোনো মধুও আপনি অনায়াশে খেতে পারবেন৷ মধু পুরনো হলে রঙ বদলাতে পারে বা জমে যেতে পারে ঠিকই, কিন্তু এতে মধুর গুণগত কোনো ক্ষতি হয় না৷
সীমের বিচি এবং বিভিন্ন রকমের ডাল ঘরে অনেকদিন রাখলেও নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা নেই, অর্থাৎ তা নিশ্চিন্তে খাওয়া যায়৷ শুধু তাই নয়, বিভিন্ন বিচি ও ডালে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিনও৷
এতে প্রচুর অ্যাসিড থাকার কারণে খাবার সহজে নষ্ট হয় না৷ ভিনেগার শুধু খাবার ভালো রাখতেই সাহায্য করে না, রান্নাঘরের কফিমেশিন, কাঁচের থালাবাসন, এমনকি ঘরের মেঝে মুছতেও পানির সাথে খানিকটা ভিনেগার মিশিয়ে নিলে অনেক বেশি পরিষ্কার হয়৷
চিনি যদি পানির সাথে না মেশানো হয়, অর্থাৎ শুকনো থাকে, তাহলে চিনি নষ্ট হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই৷ চিনি নষ্ট হয় বা চিনি থেকে জীবাণু ছড়াতে পারে কেবল তখনই, যখন চিনির সাথে পানি মিশে যায়৷
লবণ একদম শুকনো থাকলে, তা দশ বছরও ভালো থাকতে পারে৷ শুধু তাই নয়, গোস্ত ও জলপাইয়ে বেশি করে লবণ দিয়ে রেখে দিলে, তা ভালো থাকে৷
আমরা জানি যে চাল, নুডলস বা আটা সহজে নষ্ট হয় না৷ তাই ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এ সব খাবারের প্যাকেটের ওপর থেকে মেয়াদ-শেষের তারিখটি তুলে ফেলার পক্ষে৷
বৈয়মে ভরা এই রেডিমেড খাবারগুলো (অনেকটা আমাদের আচারের মতো) অনেকটা সময় ঠিক থাকে৷ তবে সময়ের সাথে সাথে খাবারের রঙ ও স্বাদ বদলায়৷ এগুলো পুরনো হলে স্বাস্থ্যের জন্য হুমকি না হলেও, এর আসল স্বাদ আর পাওয়া যায় না৷
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মার্কিনদের যা জানতে হবে by রবার্ট ফিস্ক
তাঁরা আবিষ্কার করবেন, তিনি মুঠোফোন, হোয়াটসঅ্যাপ ও স্কাইপে এসএমএস চালাচালি করে দলের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি কথা বলেন ইংরেজিতে। এমনকি তাঁর চাহিদা হচ্ছে, খবরের কাগজে ছাপা হওয়া সব গোয়েন্দা প্রতিবেদন যেন একটি এ৪ কাগজে ছাপিয়ে তাঁকে দেওয়া হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিলও তাঁর আমলাদের কাছে একই দাবি করতেন। এমনকি বাগদাদি চান যে তাঁর খিলাফতের নাগরিকেরা যেন সপ্তাহে ছয় দিন কাজ করে। আইএসের রাজধানী রাকায় একটি ডাকব্যবস্থা আছে। আর আপনি যদি বাগদাদির (ইব্রাহিম আওয়াদ ইব্রাহিম আল-বদরি) কাছে চিঠি লিখতে চান, তাহলে আপনাকে ঠিকানার জায়গায় লিখতে হবে: আল-খলিফা ইব্রাহিম, রাকা। ‘নিশ্চিত থাকুন, এটা জায়গামতো পৌঁছাবে’—কালো পতাকার অধীনে যে লেখকেরা আছেন, তাঁদের জানানো হয়েছে।
তাঁর নাম সামি মুবায়েদ, তিনি একজন ইতিহাসবিদ ও বৈরুতের কার্নেগি সেন্টারের পণ্ডিত। তিনি দামেস্কে থাকেন, একজন সাহসী মানুষ হিসেবে তিনি এটা জানেন। তিনি আমাকে বলেছেন, ‘এই বই আমার জন্য খুবই বিপজ্জনক। এর জন্য আমাকে জীবন দিতে হতে পারে। আমি অতীতে যা লিখেছি, সেগুলো থেকে এটা একদম ভিন্ন। এটা এক ভিন্ন সিরিয়ার গল্প, যা লেখাও আমার জন্য খুব বেদনাদায়ক ছিল। আপনাকে এই কট্টরদের বিরুদ্ধে লড়তে হবে, কিন্তু এদের ওপর বোমা বর্ষণ করাটা জবাব হতে পারে না।’
মুবায়েদ তাঁর বইয়ে আরও বলেছেন, ‘১৯৫০-এর দশকের বাথ-পূর্ব সিরিয়া কখনোই ফিরে আসবে না, আবার ১৯৬৩-২০১১ পর্যায়ের বাথরাও ফিরে আসবে না...ইসলামপন্থী ও ক্ষমতালোভী সেনাদের প্রতি আমার কোনো সহমর্মিতা নেই। আজ সিরিয়ায় যা ঘটছে, তা দেশটির ইতিহাসে একদমই নতুন ব্যাপার। এটা এক নোংরা অধ্যায়, কিন্তু আমাদের অনেকের আকাঙ্ক্ষার চেয়ে এটা অনেক বেশি দীর্ঘস্থায়ী হবে।’ তিনি কি একজন হতাশাবাদী? নিশ্চিতভাবেই বাথপন্থীদের নয়, মুবায়েদের সতর্ক থাকা উচিত।
আল-বাগদাদি যে রাকাকে রাজধানী হিসেবে বেছে নিয়েছেন, সেটা বিস্ময়কর ব্যাপার নয়। তিনি সিরিয়ার শহরগুলোর তিনটি ইতিহাস পাঠ করেছেন, তিনি আইএসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন, তাঁদের মধ্যে দলটির পটু যোগাযোগকর্মীরাও রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে একজন হচ্ছেন আলেপ্পো বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজির স্নাতক ২৫ বছর বয়সী আবু আল-নাদা আল-ফরাজ, তিনি আইএসকে স্রেফ ‘আরেকটি ভালো বেতন দেওয়া চাকরিদাতা মনে করেন।’ এই ব্যক্তি আইএসের বিতৃষ্ণাকর ম্যাগাজিন দাবিক-এর জন্য অনুবাদ করেন। এই ম্যাগাজিনের সব কর্মীই ইউরোপীয় মুসলমান, এঁরা গুগলে আসক্ত। তাঁরা অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশনা পড়ে থাকেন। এ তালিকায় রয়েছে দ্য ইনডিপেনডেন্ট, ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল, ফরেন পলিসি ও সিরিয়ার সরকারের সংবাদ এজেন্সি সানা।
রাকার করব্যবস্থা খুবই কার্যকর, সেখানকার স্কুলগুলো আবার খুলেছে। তবে সেখানে ধর্মের ওপর অনেক বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে। বৈপরীত্যমূলক ব্যাপার হচ্ছে, এসব স্কুলের পরীক্ষার খাতা সিরিয়ার সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হচ্ছে। আইএস সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী, কিন্তু দেখা যাচ্ছে, তারা অতটা শক্তিশালী নয়।
মুবায়েদের নতুন বইটির পর্যালোচনা হয়নি বললেই চলে, ব্যাপারটা খুবই খারাপ হয়েছে। বইটিতে মুবায়েদ আইএসের নৃশংস, অমানবিক শাস্তি ও হত্যার পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ দিয়েছেন, যেগুলো যুদ্ধাপরাধের পর্যায়েই পড়ে। কিন্তু তিনি সেটার ঐতিহাসিক পরিপ্রেক্ষিতও খুঁজতে চান। সুন্নিরা বিশ্বাস করে, খলিফাকে মক্কার কুরায়েশ গোত্রের মানুষ হতে হবে। সে কারণে আল-বাগদাদি নিজের নামের সঙ্গে অতিরিক্ত দুটি নাম লাগাতে চান, ‘আল-কুরায়শি’ ও ‘আল-হাসানি’ (নবীর বংশধর)। আইএস সব সময় তাঁকে এই তিনটি নামে ডেকে থাকে।
১৪ শতকে ইসলামি চিন্তাবিদ ইবনে তাইমিয়া নৈতিক অধঃপতনের বিরুদ্ধে বিশুদ্ধ ইসলাম পুনঃপ্রবর্তনের জন্য জিহাদের মাধ্যমে ইসলামি রাষ্ট্র কায়েমের ডাক দিয়েছিলেন। তারপর ১৮ শতকে মোহাম্মদ আবদুল ওয়াহাব ও মোহাম্মদ ইবনে সৌদ আরব ভূমিতে নিজেদের বিশুদ্ধ শাসন বিস্তৃত করার অভিপ্রায়ে ময়দানে নেমেছিলেন।
হ্যাঁ, আল-বাগদাদি যে রাকাকে রাজধানী হিসেবে বেছে নিয়েছেন, সেটা বিস্ময়কর ব্যাপার নয়। তিনি সিরিয়ার শহরগুলোর তিনটি ইতিহাস পাঠ করেছেন। কারণ, আব্বাসীয় রাজত্বের একদম মধ্যগগনে এই একই শহর থেকে একটি মুসলিম সাম্রাজ্য পরিচালিত হয়েছে, যেটা উত্তর আফ্রিকা থেকে মধ্য এশিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
ফলে সিরিয়ায় আসার আগে মার্কিন সেনাদের এসব জানতে হবে।
ইংরেজি থেকে সংক্ষেপিত অনুবাদ: প্রতীক বর্ধন দ্য ইনডিপেনডেন্ট থেকে নেওয়া
রবার্ট ফিস্ক: দ্য ইনডিপেনডেন্টের মধ্যপ্রাচ্য প্রতিনিধি।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
তিন দলে ভাগ হয়ে হামলা- আটক ৩ সন্দেহভাজন, চিহ্নিত ১ হামলাকারী
কৌঁসুলি মোলিনস সাংবাদিকদের জানান, হামলাকারীরা কোন জায়গা থেকে এসেছে, তা আমাদের চিহ্নিত করতে হবে। তাদের অর্থ যোগান দেয়া হয়েছে কিভাবে, সেটাও বের করতে হবে। তিনি জানান, সাত হামলাকারী নিহত হয়েছে। তাদের সবার কাছেই ছিল ভারী অস্ত্রশস্ত্র। ছিল কালাশনিকভ রাইফেল। সবার পরনে ছিল একই ধরনের বিস্ফোরক বেল্ট।
তিনি আরও জানান, এ হামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিনজনকে বেলজিয়ামে আটক করা হয়েছে। বেলজিয়ামের বিচার বিভাগের এক মুখপাত্রও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মূলত, প্যারিস হামলার ঘটনাস্থলে পাওয়া একটি গাড়ি ভাড়া করা হয়েছিল বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলস থেকে। এ কারণেই অভিযান শুরু হয়েছে দেশটিতে। পশ্চিমা একটি গোয়েন্দা সংস্থার একটি সূত্র বলেছে, মোলেনবিক-সেইন্ট-জিন এলাকার তিনটি ঘরে এ অভিযান চালানো হয়েছে। ওই সূত্র জানায়, প্যারিস হামলার সঙ্গে জড়িত কয়েকজনকে চেনে বেলজিয়ামের গোয়েন্দা সংস্থা। তার ওপর ভিত্তি করেও অভিযান চালানো হয়েছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী চার্লস মিশেল বলেন, ব্রাসেলসে আটককৃত সন্দেহভাজনদের সঙ্গে প্যারিস হামলার কোন যোগসূত্র আছে কি-না তা পরখ করা হচ্ছে।
মোলিনস জানান, অন্যতম হামলাকারী হিসেবে চিহ্নিত ওমর ইসমাইলের বয়স ২৯ বছর। সে ফরাসি নাগরিক। তার অতীতে অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার একটি প্রমাণ পাওয়া গেলেও, কখনও কারাগারে থাকতে হয়নি। ঘটনাস্থলে পড়ে থাকা তার আঙ্গুলের ছাপ পরীক্ষা করে এ বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ।
ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, প্যারিসের ২৫ কিলোমিটার দক্ষিণে কৌরকৌরন্নেস নামে এক শহরে থাকতো ইসমাইল। সে মৌলবাদে দীক্ষিত হয়েছে বলে নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে তথ্য ছিল। কিন্তু সন্ত্রাসবাদবিরোধী কোন তদন্তে কখনই তার নাম উঠে আসেনি। বার্তা সংস্থা এএফপি বলছে, মোস্তেফাই সিরিয়ায় কখনও গিয়েছে কি-না, সেটি এখন যাচাই করা হচ্ছে। তার পিতা ও ভাইকে ইতিমধ্যেই কারাগারে নিয়েছে পুলিশ। তল্লাশি চালিয়েছে তার ঘরে। মোস্তেফাইর বড় ভাই স্বেচ্ছায় একটি পুলিশ স্টেশনে গিয়ে হাজির হয়েছেন। তিনিও হামলার ব্যাপারে নিজের ক্ষোভ, বিহ্বলতা প্রকাশ করেন। তবে তার দাবি, কয়েক বছর থেকেই তার এ ছোট ভাইয়ের সঙ্গে কোন যোগাযোগ ছিল না তার।
জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস এ হামলার দায় স্বীকার করেছে। একটি কনসার্ট হল, বৃহৎ স্টেডিয়াম, রেস্তরাঁ ও বারে প্রায় একযোগে হামলাগুলো চালানো হয়েছে। আইএস বলেছে, সিরিয়ায় আইএস-এর ওপর ফরাসি বিমান হামলা চালানোর প্রতিবাদেই ওই হামলা চালানো হয়েছে। তবে ফরাসি প্রধানমন্ত্রী ম্যানুয়েল ভালস বলেছেন, সিরিয়ায় আইএস-এর বিরুদ্ধে বিমান হামলা অব্যাহত রাখবে ফ্রান্স।
তিন দলে ভাগ হয়ে হামলা
ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে শুক্রবার রাতের ভয়াবহ হামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার সন্দেহে বেলজিয়ামে তিন ব্যক্তিকে আটক করেছে সে দেশের পুলিশ। তাদের সঙ্গে হামলার যোগসূত্র আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্যারিসের প্রধান কৌঁসুলি ফ্রাঙ্কো মোলিনস জানান, সন্ত্রাসীরা তিনটি দলে ভাগ হয়ে শুক্রবার রাতের হামলাটি চালিয়েছে। অপরদিকে ফ্রান্সের এক পার্লামেন্ট সদস্য ও মেয়র জানান, এক হামলাকারীকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তার নাম ওমর ইসমাইল মোস্তেফাই। এ খবর দিয়েছে বিবিসি ও সিএনএন। শুক্রবার রাতে প্যারিসে চালানো ওই হামলায় নিহত হন কমপক্ষে ১২৯ জন। আহত হন ৩৫০ জনেরও বেশি। কৌঁসুলি মোলিনস সাংবাদিকদের জানান, হামলাকারীরা কোন জায়গা থেকে এসেছে, তা আমাদের চিহ্নিত করতে হবে। তাদের অর্থ যোগান দেয়া হয়েছে কিভাবে, সেটাও বের করতে হবে। তিনি জানান, সাত হামলাকারী নিহত হয়েছে। তাদের সবার কাছেই ভারি অস্ত্রশস্ত্র ছিল। ছিল কালাশনিকভ রাইফেল। সবার পরনে ছিল একই ধরনের বিস্ফোরক বেল্ট।
তিনি আরও জানান, এ হামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিনজনকে বেলজিয়ামে আটক করা হয়েছে। বেলজিয়ামের বিচার বিভাগের এক মুখপাত্রও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মূলত, প্যারিস হামলার ঘটনাস্থলে পাওয়া একটি গাড়ি ভাড়া করা হয়েছিল বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলস থেকে। এ কারণেই অভিযান শুরু হয়েছে দেশটিতে। পশ্চিমা একটি গোয়েন্দা সংস্থার এক সূত্র বলেছে, মোলেনবিক-সেইন্ট-জিন এলাকার তিনটি ঘরে এ অভিযান চালানো হয়েছে। ওই সূত্র জানায়, প্যারিস হামলার সঙ্গে জড়িত কয়েকজনকে চেনে বেলজিয়ামের গোয়েন্দা সংস্থা। তার ওপর ভিত্তি করেও অভিযান চালানো হয়েছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী চার্লস মিশেল বলেন, ব্রাসেলসে আটককৃত সন্দেহভাজনদের সঙ্গে প্যারিস হামলার কোন যোগসূত্র আছে কি না তা পরখ করা হচ্ছে।
মোলিনস জানান, অন্যতম হামলাকারী হিসেবে চিহ্নিত ওমর ইসমাইলের বয়স ২৯ বছর। সে ফরাসি নাগরিক। তার অতীতে অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার একটি প্রমাণ পাওয়া গেলেও, কখনও কারাগারে থাকতে হয়নি। ঘটনাস্থলে পড়ে থাকা তার আঙ্গুলের ছাপ পরীক্ষা করে এ বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ।
ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, প্যারিসের ২৫ কিলোমিটার দক্ষিণে কৌরকৌরন্নেস নামে এক শহরে থাকতো ইসমাইল। সে মৌলবাদে দীক্ষিত হয়েছে বলে নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে তথ্য ছিল। কিন্তু সন্ত্রাসবাদ বিরোধী কোন তদন্তে কখনই তার নাম উঠে আসেনি। বার্তা সংস্থা এএফপি বলছে, মোস্তেফাই সিরিয়ায় কখনও গিয়েছে কি না, সেটি এখন যাচাই করা হচ্ছে। তার পিতা ও ভাইকে ইতিমধ্যেই কারাগারে নিয়েছে পুলিশ। তালাশ চালিয়েছে তার ঘরে। মোস্তেফাইর বড় ভাই স্বেচ্ছায় একটি পুলিশ স্টেশনে গিয়ে হাজির হয়েছেন। তিনিও হামলার ব্যাপারে নিজের ক্ষোভ, বিহ্বলতা প্রকাশ করেন। তবে তার দাবি, কয়েক বছর থেকেই তার এ ছোট ভাইয়ের সঙ্গে কোন যোগাযোগ ছিল না তার।
জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস এ হামলার দায় স্বীকার করেছে। একটি কনসার্ট হল, বৃহৎ স্টেডিয়াম, রেস্তোরাঁ ও বারে প্রায় একযোগে হামলাগুলো চালানো হয়েছে। আইএস বলেছে, সিরিয়ায় আইএস-এর ওপর ফরাসি বিমান হামলা চালানোর প্রতিবাদেই ওই হামলা চালানো হয়েছে। তবে ফরাসি প্রধানমন্ত্রী ম্যানুয়েল ভালস বলেছেন, সিরিয়ায় আইএস-এর বিরুদ্ধে বিমান হামলা অব্যাহত রাখবে ফ্রান্স।
প্যারিস হামলাস্থলে পাওয়া সিরিয়ান পাসপোর্ট দুইটি ভুয়া
প্যারিসে আক্রমণস্থলে পাওয়া পাসপোর্ট দু’টি ভুয়া। যদিও ওই পাসপোর্ট ব্যবহার করেই হামলাকারীরা শরণার্থী হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছিলো। এ তথ্য দিয়েছে ফ্রান্সের লা মন্ডে পত্রিকা। ফরাসি পুলিশ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। যুক্তরাজ্যের চ্যানেল ফোরের সাংবাদিক জন স্নো টুইটারে বলেন, ঘটনাস্থলে পাওয়া দুইটি সিরিয়ান পাসপোর্ট মূলত ভুয়া। এগুলো সম্ভবত তুরস্কে বানানো হয়েছে। বেসরকারি গোয়েন্দা সংস্থা লেভান্টাইন গ্রুপের নিরাপত্তা বিশ্লেষক মাইকেল হরোইটজ জানিয়েছেন, ইরাকের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, ফ্রান্সের ওপর হামলা সহ আইএস-এর বেশ কয়েকটি সম্ভাব্য হামলার ব্যাপারে তাদের কাছে গোয়েন্দা তথ্য ছিল। এদিকে জার্মান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, প্যারিস হামলার সঙ্গে কোন অবস্থাতেই শরণার্থী সংকটকে জড়িয়ে ফেলা উচিত হবে না।
ভাই-বোনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখে নি ওমর ইসমাইল
প্যারিস হামলার অন্যতম ঘাতক ওমর ইসমাইল মোস্তেফাই। ২৯ বছর বয়সী এই যুবক ফরাসি নাগরিক। প্যারিস থেকে ২৫ কিলোমিটার দক্ষিণে কোরকোরোনেস শহর থেকে সে প্রবেশ করে প্যারিসে। পাশ্ববর্তী কারট্রিস শহরে বসবাস করতো ২০১২ সাল পর্যন্ত। এসব তথ্য দিয়েছেন ডেপুটি মেয়র জ্যাঁ পিয়েরে গর্জেস। ওমরের বিরুদ্ধে এর আগে থেকেই অপরাধে জড়িত থাকার ইতিহাস আছে। তবে তাকে কখনও জেলে যেতে হয় নি। নিরাপত্তা বিভাগগুলো মনে করছে তার মাঝে কট্টরপন্থি চিন্তাচেতনা ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে ২০১০ সালে। তবে তাকে কখনও সন্ত্রাস বিরোধী জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হয় নি। তার বড়ভাই বলেছেন, পারিবারিক বিরোধের কারণে বেশ কয়েক বছর ওমর তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখে নি। এখন ওমর কট্টরপন্থি হয়ে পড়েছে এ কথা শুনে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন। তিনি আরও বলেন, শুক্রবার রাতে তিনি ছিলেন প্যারিসে। নিজ চোখে দেখেছেন কি রক্তপাত ঘটানো হয়েছে। তাই যখন ওমরের নাম উঠে আসে তিনি পিতাকে সঙ্গে নিয়ে নিজে গিয়ে পুলিশের কাছে ধরা দেন। ওমর ইসমাইল মোস্তেফাই ছিলেন তার পরিবারের ৬ ভাই-বোনের একজন। এর আগে সে তার মেয়ে ও পরিবারের অন্যদের নিয়ে আলজেরিয়া সফর করেছে। বলা হচ্ছে, সে বেলজিয়ামের এক ধর্ম প্রচারকের কাছ থেকে কট্টরপন্থি আদর্শের শিক্ষা নিয়েছে।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আমরা সবাই ফরাসি কখনও সিরীয়, ইরাকি বা লেবানিজ নই by ডেভিড সোয়ানসন
আমি শুধু মনে করি, একই কথা প্রযোজ্য হওয়া উচিত বিশ্বের অন্য যে কোন স্থানের মানুষের জন্য। সামপ্রতিক যুদ্ধগুলোতে মারা যাওয়া বেশির ভাগ মানুষই বেসামরিক। মার্কিন গণমাধ্যমকে কখনই দেখা যায় না, ইয়েমেন, পাকিস্তান বা ফিলিস্তিনে মানুষের মৃত্যুকে আমাদের সাধারণ মানবতার ওপর আঘাত হিসেবে ঘোষণা করতে।
আমি সহানুভূতি পাওয়ার যোগ্যতা হিসেবে উপরে ‘যুদ্ধংদেহী সরকার’ থাকার কথা উল্লেখ করেছি। কারণ, আমি ২০০৩ সালের একটি ঘটনা মনে করতে পারি। সেদিন আমিই বরং চিৎকার করছিলাম, ‘আমরা সবাই ফ্রান্স’। অপরদিকে আমেরিকার যুদ্ধপন্থি নেতারা তখন ফ্রান্সের নিন্দা জানিয়ে আসছিল। কারণ, ফ্রান্স তখন ইরাক যুদ্ধে সহায়তা দিতে অস্বীকার করেছিল। ফ্রান্স তখন নিশ্চিত করে বলে আসছিল, মার্কিন যুদ্ধ হবে হিতে-বিপরীত, বয়ে আনবে সর্বনাশা বিপদ। ৯/১১ হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি সহানুভূতি জ্ঞাপন করেছিল ফ্রান্স। কিন্তু ফ্রান্স সেদিন আমেরিকাকে পরামর্শ দিয়েছিল, ওই হামলার বিপরীতে বিবেচনাবোধ, শালীনতা ও সততার পরিচয় দিতে। জবাবে ফ্রান্সকে যুক্তরাষ্ট্র বলেছিল, জাহান্নামে যাও। এমনকি ফ্রান্সকে অপমান করতে, মার্কিন কংগ্রেসের বেশ কয়েকটি ভবনের নাম পাল্টে রাখা হয়েছিল ‘ফ্রেঞ্চ ফ্রাইজ’।
সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ১৪ বছরের বৈশ্বিক যুদ্ধে কেবল নতুন করে সন্ত্রাসেরই জন্ম হয়েছে। ১৪ বছর আগের ফ্রান্স পাল্টে গেছে। এখনকার ফ্রান্স অনেক উৎসাহী এক দখলদার, দস্যু, বোমাবাজ ও বিদ্বেষপূর্ণ গোঁড়ামির প্রচারক। ‘সমতা ও স্বাধীনতার উচ্চাসনে অধিষ্ঠিত’ সৌদি আরবের কাছে আজ ফ্রান্স লাখো কোটি ডলারের সমরাস্ত্র বিক্রি করে। অনেক সৌদি যে পশ্চিমা-বিরোধী সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে অর্থায়ন করে আসছে, সে ব্যাপারে চোখ বুজে আছে ফ্রান্স।
মার্কিন সমরাস্ত্রবাদ ৯/১১ প্রতিহত করতে ব্যর্থ হয়েছিল। আমি তখন ভেবেছিলাম, এর ফলে আমেরিকার সমরাস্ত্রবাদ খর্ব হবে। কিন্তু আমি ভুল প্রমাণিত হলাম। কয়েকদিন আগে যখন রাশিয়ার বেসামরিক বিমান বিধ্বস্ত হলো, তখন আমি এক সেকেন্ডের ভগ্নাংশের জন্য ভাবলাম, আমেরিকার করা ভুল থেকে শিক্ষা নেবে রাশিয়া। যখন ফ্রান্সে শত মানুষ খুন হলো, তখন আমি একবারও কল্পনা করি নি, ফ্রান্স নিজের বোধবুদ্ধিতে ফিরে আসবে। কারণ, দেশটির ‘সমাজতন্ত্রী’ প্রেসিডেন্ট ইতিমধ্যেই ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়ে বুশের মতোই বলে গেছেন সব।
তিনি বললেন, ‘এ নিষ্ঠুর জিনিস যারা দেখেছেন, তাদের সবাইকে বলছি। আমি বলতে চাই, আমরা এমন এক যুদ্ধে নেতৃত্ব দেব, যা হবে ‘মায়াহীন’। কারণ, যখন সন্ত্রাসীরা এ ধরনের নৃশংসতা চালানোর সামর্থ্য রাখে, তখন তারা নিশ্চয়ই আরও বেশি ঐক্যবদ্ধ ও সংকল্পবদ্ধ ফ্রান্সকে মোকাবিলার জন্য প্রস্তুতি নিয়েই রেখেছে’।
ওই ভিডিওতে প্রেসিডেন্ট ফ্রাসোয়া ওঁলাদকে বুশের মতো মনে হয়নি। সত্যি বলতে কি, যে ফরাসি শব্দ তিনি উচ্চারণ করেছিলেন, সেটার অর্থ ‘যুদ্ধ’ নয়, ওয়াশিংটন পোস্ট বললেও নয়। ওই শব্দ বুঝিয়ে থাকতে পারে, অন্য ধরনের এক লড়াই। কিন্তু এই অন্য ধরনের লড়াই জিনিসটা কি? আমি নিশ্চিত নই। এ হামলার জন্য কারও বিচার করাটাই হবে সবচেয়ে যুক্তিযুক্ত বিষয়। কিন্তু কোন ফৌজদারি বিচার কাঠামোই ‘মায়াহীন’ হতে পারে না। যুদ্ধই কেবল মায়াহীন হতে পারে এবং যুদ্ধের ফলে আরও নিশ্চিত হামলা হবে কেবল। এই যুদ্ধটাই ফ্রান্স মাত্র শুরু করলো।
আলবার্ট কামুস বলেছিলেন, চিন্তক মানুষদের কাজ হলো, জল্লাদদের পক্ষালম্বন না করা। ফ্রান্স, দয়া করে আগের মতো চিন্তক হও। আমরা তোমাকে ভালোবাসি। তোমাদের প্রতি আমাদের শুভকামনা। একই সঙ্গে তোমাদের কল্যাণকর প্রবণতার বিরুদ্ধে মার্কিন প্রভাবের জন্য আমরাও দুঃখিত।
(লেখক: ডেভিড সোয়ানসন ২০১৫ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছিলেন। তিনি লেখক ও সাংবাদিক। তার এ নিবন্ধটি কাউন্টারকারেন্টস.অর্গে প্রকাশিত লেখার অনুবাদ)
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সন্ত্রাসের নয়া কৌশল
সন্ত্রাসী হামলা ইউরোপে একেবারে নতুন কিছু নয়। ২০০৪ সালের মাদ্রিদ হামলা, ২০০৫ সালের লন্ডন হামলা এবং ২০১৪ সালের ব্রাসেলস হামলার কথাও স্মরণে রয়েছে ইউরোপের মানুষের। তবে হত্যাযজ্ঞের নিষ্ঠুরতা আর কৌশলগত দিক থেকে প্যারিস হামলাটি একেবারেই নতুন। এ হামলায় এখন পর্যন্ত নিহত হয়েছেন ১২৯ জন। আর আহত হয়েছেন তিন শতাধিক। হামলার বৈশিষ্ট্য দেখে নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, সন্ত্রাসীরা নির্দিষ্ট কাউকে লক্ষ্য করে এ হামলা পরিচালনা করেনি। তাদের টার্গেট ছিল যত বেশি সম্ভব মানুষ হত্যা করা। স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠানরত জার্মানি ও ফ্রান্সের ফুটবল ম্যাচও ছিল হামলাকারীদের টার্গেট। স্টেডিয়ামের পাশে তিনজন আত্মঘাতী হামলাকারী নিজেদের শরীরের সঙ্গে বেঁধে রাখা বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে নিজেদের হত্যা করেছে। ফ্রান্সে এরআগে এ ধরনের হামলার ঘটনা কখনও ঘটেনি। তারপর আছে বাটাক্লার কনসার্ট হলের হামলা। সেখানেও তারা যতো বেশি সম্ভব ফরাসি তরুণকে হত্যা করতে চেয়েছে। সেখানে নিহত হয়েছে ৮০ জনেরও বেশি। যেখানে যখন সম্ভব, সেখানেই সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়েছে। আইএস দেখিয়েছে যে, তারা যেকোন সময় যেকোন স্থানে হামলা চালাতে সক্ষম এবং ইউরোপের আধুনিক শহরগুলো তা প্রতিরোধে কতোটা ব্যর্থ।
এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্যে জানা যাচ্ছে, তিনটি দলে ভাগ হয়ে প্যারিসে হামলা চালিয়েছিল আইএস জঙ্গিরা। প্রাথমিক তদন্তের পর এমন তথ্যই এসেছে তদন্তকারীদের হাতে। প্যারিসের চিফ প্রসিকিউটর মোঁলি জানাচ্ছেন, এখন পর্যন্ত একজন হামলাকারীর পরিচয় জানা গেছে। ওমর নামে নিহত ওই সন্ত্রাসী ফ্রান্সেরই বাসিন্দা। মৃত এক সন্ত্রাসীর পাশে সিরিয়ার পাসপোর্ট পাওয়ার কথা বলা হলেও এখন জানা যাচ্ছে ওই পাসপোর্ট ভুয়া। মোঁলি জানাচ্ছেন, প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে একটা জিনিস পরিষ্কার, যত পারো খুন করো- এটাই ছিল এই সন্ত্রাসী হামলার প্রধান লক্ষ্য। ঠাণ্ডা মাথায় গোটা অপারেশনটা চালিয়েছে ওই তিন দল। প্রত্যেকের হাতে ছিল স্বয়ংক্রিয় আগ্নেয়াস্ত্র। কোমরে ছিল বিস্ফোরক বাঁধা বেল্ট।
নাইন ইলেভেন পৃথিবীর ইতিহাসের গতিপথ বদলে দিয়েছিল। ইরাক-আফগানিস্তান যুদ্ধের সূচনা হয়েছিল যে হামলার পর। তখনই ধারণা করা হয়েছিল, এক দীর্ঘ মেয়াদি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা বিশ্ব। তবে সে যুদ্ধ যে এতোটা দীর্ঘমেয়াদি হবে তা হয়তো অনেকেই ভাবতে পারেননি। ইরাক প্রশ্নে মার্কিন-বৃটিশ নীতির সমালোচনা হচ্ছে আজও। সিরিয়া সংকট সমাধানে পশ্চিমা বিশ্ব ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে বলে মনে করেন অনেক পর্যবেক্ষক। সেখানে এরইমধ্যে রাশিয়াও ঢুকে পড়েছে। আইএস রাশিয়াতেও হামলা চালানোর ঘোষণা দিয়েছে। সম্প্রতি সিনাই উপত্যকায় রাশিয়ার একটি যাত্রীবাহী বিমান বিধ্বস্তের দায় স্বীকার করে আইএস। মিশর ও রাশিয়া শুরুতে এ দাবি উড়িয়ে দিয়েছিল। তবে এখন পর্যন্ত যেসব প্রতিবেদন পাওয়া যাচ্ছে, তাতে প্রায় নিশ্চিত করেই বলা যায়, বোমার বিস্ফোরণেই বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে। যা আইএসের দাবির, যথার্থতাই প্রমাণ করে। ক্রমশ অনিরাপদ হয়ে ওঠছে পৃথিবী। প্যারিস হামলার বিষয়টি সারা দুনিয়ায় আলোচনার ঝড় তুলেছে। তবে তার কয়েক ঘণ্টা আগে লেবাননের বৈরুতেও একই ধরনের হামলা চালায় আইএস। যে হামলায় ৪৩ জন নিহত হন। ওই হামলাটি তেমন আলোচনায় আসেনি।
থার্টিন ইলেভেনের সামনের দিনগুলোতে আরও অশান্ত হয়ে উঠবে দুনিয়া। বারাক ওবামা ও তার মিত্রদের সিরিয়া-ইরাক নীতিতে পরিবর্তন আসবে শিগগিরই। এখন পশ্চিমারা আইএস দমনে তাদের সর্বশক্তি নিয়োগ করবে। নিশ্চিতভাবেই সিরিয়া এবং ইরাকে আইএসের সাম্রাজ্যে সর্বাত্মক হামলা পরিচালনা করবে তারা। তবে শিগগিরই তারা জয়ী হবেন- তার কোন নিশ্চয়তা নেই। পশ্চিমা সন্ত্রাসবাদ বিশেষজ্ঞরা এখন একমত, অতীতের যেকোন সময়ের তুলনায় এখন শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে আইএস। পৃথিবীর কোন দেশই আইএস হামলার সম্ভাবনা থেকে মুক্ত নয়। প্যারিসের মতো শহরে আইএসের শক্তি প্রদর্শন আতঙ্কে রাখছে পৃথিবীর অন্য শহরগুলোকেও। যে শঙ্কা হয়তো দীর্ঘদিনেও কাটবে না।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1398)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
-
▼
2015
(11541)
-
▼
November
(600)
-
▼
Nov 16
(13)
- ইউরোপজুড়ে অভিযান- নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৩২
- বাংলাদেশেও একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য প্রার্থনা b...
- প্যারিসে সন্ত্রাসী হামলা: ইউরোপের ভেতরের যুদ্ধ? b...
- ফুটপাতে শিক্ষকেরা by আনু মুহাম্মদ
- হরতাল নয়, প্রয়োজন সংলাপ ও সমঝোতা by বদিউল আলম মজ...
- বিদ্যার জন্য শুভকামনা by মহিউদ্দিন আহমদ
- মাত্র ১ শতাংশ হামলার জন্য মুসলমানরা দায়ী! by আসিফ ...
- এত ভয় জীবনে কখনও পাইনি : শাহাবুদ্দিন আহমেদ
- নিশ্চিন্তে খাওয়া যায় যে খাবারগুলো
- মার্কিনদের যা জানতে হবে by রবার্ট ফিস্ক
- তিন দলে ভাগ হয়ে হামলা- আটক ৩ সন্দেহভাজন, চিহ্নিত ১...
- আমরা সবাই ফরাসি কখনও সিরীয়, ইরাকি বা লেবানিজ নই by...
- সন্ত্রাসের নয়া কৌশল
-
▼
Nov 16
(13)
-
▼
November
(600)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...


















