Saturday, October 12, 2024

টাটা ট্রাস্টের নতুন চেয়ারম্যান নোয়েল টাটা, পেলেন দ্বিতীয় সুযোগ

ভারতের শীর্ষস্থানীয় শিল্পপতি রতন টাটার মৃত্যুর পর টাটা ট্রাস্টের দায়িত্ব পেয়েছেন তাঁর সৎভাই নোয়েল টাটা। টাটা ট্রাস্টের পরিচালনা পর্ষদ ৬৭ বছর বয়সী নোয়েলকে পরবর্তী চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। গত বুধবার মুম্বাইয়ে মারা যান ৮৬ বছর বয়সী রতন টাটা।

নোয়েল টাটার পারিবারিক অবস্থান এবং টাটা গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় তাঁর পেশাগত অভিজ্ঞতার কারণে টাটা ট্রাস্টে রতন টাটার উত্তরসূরি হিসেবে নোয়েলকেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করা হতো।

টাটা গোষ্ঠীর বেশ কয়েকটি কোম্পানির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন নোয়েল টাটা। যেমন ট্রেন্ট, ভোল্টাস, টাটা ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন ও টাটা ইন্টারন্যাশনালের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। টাটা স্টিল ও ঘড়ি কোম্পানি টাইটানের ভাইস চেয়ারম্যান তিনি। এ ছাড়া স্যার রতন টাটা ট্রাস্টেরও একজন সদস্য নোয়েল।

টাটা গোষ্ঠীর প্রধান দুই অঙ্গপ্রতিষ্ঠান হচ্ছে টাটা সন্স ও টাটা ট্রাস্ট। এর মধ্যে টাটা গ্রুপের হোল্ডিং প্রতিষ্ঠান টাটা সন্স গোষ্ঠীটির ব্যবসায়িক উদ্যোগগুলো (কোম্পানি) নিয়ন্ত্রণ করে। অন্যদিকে টাটা ট্রাস্ট হলো দাতব্য সংস্থা; এটি আবার টাটা সন্সের বেশির ভাগ (৬৬ শতাংশ) শেয়ারের মালিক এবং টাটা গ্রুপের মূল্যবোধের ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব রাখে। মূলত মানবহিতৈষী টাটা ট্রাস্টের মাধ্যমেই টাটা সাম্রাজ্য পরিচালিত হয়।

তবে টাটা সন্সের চেয়ারম্যান ও টাটা ট্রাস্টের চেয়ারম্যানের পদকে আলাদা করেছিলেন রতন টাটা। উদ্দেশ্য ছিল—উভয় প্রতিষ্ঠানের ওপরে একজন ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণ বা খুব বেশি কর্তৃত্ব এড়ানো। ২০১২ সাল পর্যন্ত টাটা সন্সের চেয়ারম্যান ছিলেন রতন টাটা। এরপর টাটা ট্রাস্টের চেয়ারম্যান হন তিনি। যদিও টাটা গ্রুপের সার্বিক বিষয়ে তাঁর যথেষ্ট প্রভাব ছিল।

আর বর্তমানে টাটা সন্সের চেয়ারম্যান নটরাজন চন্দ্রশেখরন, যিনি চন্দ্র নামেই বেশি পরিচিত। টাটা সন্সের পরিচালনা পর্ষদে তিনি যোগ দেন ২০১৬ সালে। এক বছর পর তিনি চেয়ারম্যান হিসেবে নিযুক্ত হন। একই সঙ্গে তিনি টাটা গোষ্ঠীর বেশ কয়েকটি কোম্পানির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

পড়াশোনা ও কর্মজীবন

নোয়েল টাটার জন্ম ১৯৫৭ সালে। তিনি যুক্তরাজ্যের সাসেক্স ইউনিভার্সিটি থেকে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেন। পরে ফ্রান্সের ইনসিয়াদ (ইনস্টিটিউট ইউরোপিয়ান ডি’প্রশাসন দেস অ্যাফেয়ার্স) থেকে ইন্টারন্যাশনাল এক্সিকিউটিভ প্রোগ্রাম (আইইপি) সম্পন্ন করেন।

টাটা গ্রুপে যোগদানের আগে নোয়েল যুক্তরাজ্যে নেসলেতে কাজ করতেন। ১৯৯৯ সালে টাটা গ্রুপের রিটেইল কোম্পানি ট্রেন্টে কাজ শুরু করেন নোয়েল। পরে ২০১৪ সালে তিনি ট্রেন্টের চেয়ারম্যান হন। ২০১০ সালে তিনি টাটা ইন্টারন্যাশনালে যোগ দেন। কোম্পানিটি চামড়াজাত পণ্য, খনিজ ও ধাতু রপ্তানি করে। এই প্রতিষ্ঠানে নোয়েল ২০২১ সাল পর্যন্ত কাজ করেন। বর্তমানে তিনি টাটা গ্রুপের অন্য দুটি কোম্পানি—ভোল্টাস ও টাটা ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশনের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্বে পালন করছেন।

২০১৯ সালে স্যার রতন টাটা ট্রাস্টে এবং ২০২২ সালে স্যার দোরাবজি টাটা ট্রাস্টের পর্ষদ সদস্য হন নোয়েল টাটা। গত মে মাসে নোয়েল টাটার তিন সন্তানকেও টাটা ট্রাস্টের অধীনে পাঁচটি জনহিতকর সংস্থার পরিচালনা পর্ষদে নিযুক্ত করা হয়।

টাটা গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে টাটা ইন্টারন্যাশনালে নোয়েলের ভূমিকাকে সবচেয়ে বড় করে দেখা হয়। এটি টাটা গ্রুপের ট্রেডিং ও ডিস্ট্রিবিউশন শাখা। ২০১০ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত নোয়েল এতে ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন। এ সময়ে তাঁর নেতৃত্বে এটি ৫০০ মিলিয়ন (৫০ কোটি) ডলার থেকে ৩ বিলিয়ন (৩০০ কোটি) ডলারের কোম্পানিতে পরিণত হয়। অন্যান্য প্রতিষ্ঠানেও তিনি ভালো ভূমিকা রেখেছেন।

টাটাদের পরবর্তী প্রজন্ম

রতন টাটার সৎভাই নোয়েল টাটা হলেন নাভাল টাটা ও সিমোন টাটার (নাভাল টাটার দ্বিতীয় স্ত্রী) ছেলে। তিনি আইরিশ নাগরিক হলেও তাঁর যাবতীয় কার্যক্রম ভারতকেন্দ্রিক। নোয়েল বিয়ে করেছেন প্রয়াত পালোনজি মিস্ত্রির মেয়ে ও প্রয়াত সাইরাস মিস্ত্রির বোন আলু মিস্ত্রিকে। মায়া ও লিয়া নামে তাঁদের দুই মেয়ে ও নেভিল নামে এক ছেলে রয়েছে।

টাটা গ্রুপের হোল্ডিং কোম্পানি টাটা সন্সে ভারতীয়-আইরিশ শাপুরজি পালোনজি পরিবারের ১৮ দশমিক ৪ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। শাপুরজি পালোনজি গ্রুপের সাবেক চেয়ারম্যান হলেন পালোনজি মিস্ত্রি; আর টাটা গ্রুপে একসময় চেয়ারম্যান ছিলেন সাইরাস মিস্ত্রি।

নোয়েল টাটার মেয়ে লিয়া (৩৯) টাটা এডুকেশন ট্রাস্ট, টাটা সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট ও সার্বজনিক ট্রাস্টে কাজ করছেন। আরেক মেয়ে মায়া (৩৬) টাটা এডুকেশন ট্রাস্ট ও সার্বজনিক ট্রাস্টের পাশাপাশি আরডি টাটা ট্রাস্টে যুক্ত রয়েছেন। আর ছেলে নেভিল (৩২) টাটা ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব স্কিলসের (টিআইআইএস) বোর্ড সদস্য। তাঁদের তিনজনই আবার কলকাতায় অবস্থিত ক্যানসার হাসপাতাল টাটা মেডিকেল সেন্টারেরও ট্রাস্ট সদস্য। পর্যবেক্ষকেরা মনে করেন, উত্তরাধিকার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নোয়েল টাটা আগে থেকেই তাঁর ছেলেমেয়েদের এভাবে বিভিন্ন দায়িত্বে যুক্ত করেছেন।

দ্বিতীয় সুযোগ

প্রায় ১২ বছর আগে টাটা গ্রুপের গুরুত্বপূর্ণ অংশ টাটা সন্সের চেয়ারম্যান হওয়ার খুব কাছাকাছি গিয়েছিলেন নোয়েল টাটা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি ওই পদে যেতে পারেননি। এর তিন বছর পরেই টাটা সন্সের চেয়ারম্যানের পদ ছেড়ে টাটা ট্রাস্টের চেয়ারম্যান হন রতন টাটা।

ওই সময় টাটা সন্সের চেয়ারম্যান বাছাইয়ের জন্য একটি বোর্ড গঠন হয়েছিল। নতুন চেয়ারম্যানের কী যোগ্যতা থাকা উচিত, তা নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন রতন টাটা। সেই যোগ্যতার বিচারে পিছিয়ে ছিলেন নোয়েল টাটা।

যাহোক, শেষ পর্যন্ত নোয়েলের শ্যালক সাইরাস মিস্ত্রি টাটা সন্সের চেয়ারম্যান হন। এতে অবশ্য অনেকে অবাক হয়েছিলেন। কারণ, টাটা গ্রুপ ও শাপুরজি পালোনজি গ্রুপের মধ্যে ঐতিহাসিকভাবে একটি টানাপোড়েনের সম্পর্ক ছিল। বলা হয়ে থাকে, ওই সময় রতন টাটা তাঁর পরবর্তী উত্তরসূরি হিসেবে নোয়েলকে যোগ্য মনে করেননি। এ কারণে বাছাইপ্রক্রিয়া থেকে বাদ পড়েন নোয়েল।

উল্লেখ্য, স্যার রতন টাটা ট্রাস্ট ১৯১৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। নোয়েল টাটা হলেন ট্রাস্টের ষষ্ঠ চেয়ারম্যান। এ ছাড়া টাটা গোষ্ঠীর আরেক ট্রাস্ট স্যার দোরাবজি টাটা ট্রাস্টের ১১তম চেয়ারম্যানও তিনি। ২০২৩-২৪ সালে টাটার কোম্পানিগুলোর মোট রাজস্ব ছিল ১৬ হাজার ৫০০ কোটি ডলারের বেশি। টাটা সন্সের হিসাবে, এ প্রতিষ্ঠানগুলোতে সম্মিলিতভাবে ১০ লাখের বেশি লোক কাজ করছেন।

সংবাদ সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড ও এনডিটিভি।

ভাই রতন টাটার মরদেহ দেখার জন্য হাজির হয়েছিলেন তাঁর সৎভাই নোয়েল টাটা (মাঝে)। ১০ অক্টোবর মুম্বাইয়ে তোলা ছবি। টাটা ট্রাস্টে চেয়ারম্যান নিযুক্ত হয়েছেন নোয়েল
ভাই রতন টাটার মরদেহ দেখার জন্য হাজির হয়েছিলেন তাঁর সৎভাই নোয়েল টাটা (মাঝে)। ১০ অক্টোবর মুম্বাইয়ে তোলা ছবি। টাটা ট্রাস্টে চেয়ারম্যান নিযুক্ত হয়েছেন নোয়েল। ছবি: রয়টার্স

নেতানিয়াহুর পরবর্তী লক্ষ্য কী

লেবাননে ইসরাইলের স্থল আগ্রাসন দ্বিতীয় সপ্তাহ অতিক্রম করেছে। এর মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইলের যুদ্ধ দ্বিতীয় বছরে প্রবেশ করেছে। বৃহস্পতিবার রাতে লেবাননের রাজধানী বৈরুতে হামলার পর যুদ্ধবিরতির আহ্বান জোরালো হয়েছে। তবে এই হামলা শুক্রবারও অব্যাহত ছিল। তাতে লেবাননের দক্ষিণে ইসরাইলি সেনাদের হামলায় আহত হয়েছেন জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী।

অন্যদিকে যুদ্ধবিরতির আহ্বান থাকা সত্ত্বেও গাজার উত্তরে নতুন করে হামলা শুরু করেছে ইসরাইল। এর আগে গত সপ্তাহে ইসরাইলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করেছে ইরান। তাদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরাইল। এমন সময়ে তাদেরকে সংযত থাকার আহ্বান জানাচ্ছে মিত্ররা। কিন্তু এসব চাপ সত্ত্বেও ইসরাইল তার নিজের পথে অব্যাহত থাকবে তিনটি ফ্যাক্টরকে সামনে রেখে। তা হলো- ৭ অক্টোবর, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও যুক্তরাষ্ট্র। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।

২০২০ সালের জানুয়ারিতে ইরানের রেভ্যুলুশনারি কুদস ফোর্সের প্রধান জেনারেল কাসেম সোলাইমানি দামেস্ক থেকে নৈশকালীন ফ্লাইটে সবেমাত্র বাগদাদ বিমানবন্দরে অবতরণ করেছেন। তার দায়িত্ব ছিল ইরানের রেভ্যুলুশনারি গার্ডস কোরের বৈদেশিক অপারেশন দেখভালের দায়িত্ব। কুদস ফোর্স নামটির অর্থ জেরুজালেম। তাদের প্রধান প্রতিপক্ষ হলো ইসরাইল। অভিযোগ আছে তারা ইরাক, লেবানন, ফিলিস্তিন এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন লড়াইরত শক্তি বা বাহিনীকে অস্ত্র, প্রশিক্ষণ, অর্থ ও নির্দেশনা দেয়ার জন্য দায়ী।

ওই সময় সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির পর সোলাইমানিকে ইরানের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শক্তিধর হিসেবে দেখা হতো। ওই রাতে তাকে বহনকারী গাড়িবহর বিমানবন্দর ত্যাগ করার পর ড্রোন থেকে তাতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করে ধ্বংস করে দেয়া হয় তা। এতে তাৎক্ষণিকভাবে নিহত হন সোলাইমানি। যদিও চিরশত্রুকে শনাক্ত করতে গোয়েন্দা সহায়তা নিয়েছিল ইসরাইল, তবু যে ড্রোন ব্যবহার করেছিল তা যুক্তরাষ্ট্রের। সোলাইমানিকে হত্যার নির্দেশ ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দেননি। এই নির্দেশ দিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের তখনকার প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।

সোলাইমানিকে হত্যার প্রসঙ্গে পরে বক্তব্যে ট্রাম্প বলেছেন, নেতানিয়াহু আমাদেরকে হতাশ করেছেন। এটা আমি কখনো ভুলবো না। আলাদা এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তিনি আশা করেছিলেন এই হামলায় অধিক সক্রিয় ভূমিকা রাখবে ইসরাইল।

ট্রাম্পের এ বক্তব্য নিয়ে বিতর্ক থাকলেও ওই সময় ধারণা করা হতো যে, এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে নেতানিয়াহু খুশি হয়েছিলেন। কারণ, তিনি উদ্বিগ্ন ছিলেন এই ভেবে যে, এই হত্যাকাণ্ডে সরাসরি ইসরাইল জড়িত হলে তাতে ইসরাইলের বিরুদ্ধে বিরাট আকারে যুদ্ধের উস্কানি দেয়া হতো। ইরান থেকে সরাসরি হামলা হতে পারতো। এমনকি লেবানন ও ফিলিস্তিন থেকে প্রক্সি যুদ্ধ হতে পারতো। এমনিতেই ইরানের বিরুদ্ধে একটি ছায়াযুদ্ধে লিপ্ত ইসরাইল। কিন্তু উভয় পক্ষই এই লড়াইকে একটি নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যে আটকে রাখতে সতর্কতা অবলম্বন করেছে। তারা উভয়েই বৃহত্তর যুদ্ধের বিষয়ে সচেতন।

এর চার বছর পরে এ বছর এপ্রিলে সেই একই বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দামেস্কে ইরানের কন্স্যুলেট ভবনের ওপর বোমা হামলা করতে নির্দেশ দিলেন ইসরাইলি যুদ্ধবিমানকে। এতে ইরানের দু’জন জেনারেলসহ বেশ কয়েকজন নিহত হন। এরপর জুলাইয়ে বৈরুতে বিমান হামলা করে হিজবুল্লাহর শীর্ষ সামরিক কমান্ডার ফুয়াদ শুকুরকে হত্যার নির্দেশ দেন নেতানিয়াহু। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের সুপরিচিত সাংবাদিক বব উডওয়ার্ড তার লেখা নতুন বই ‘ওয়্যার’-এ দাবি করেছেন, হোয়াইট হাউস কয়েক মাস ধরে যুদ্ধ বন্ধের জন্য যে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে তাতে নেতানিয়াহুর এমন প্রতিক্রিয়ায় বিস্মিত হয়েছেন জো বাইডেন। বাইডেন বলেন, বিশ্বজুড়ে ক্রমশ একটি ধারণা বৃদ্ধি পাচ্ছে যে, ইসরাইল একটি দুর্বৃত্ত রাষ্ট্র।

২০২৩ সালের ৭ই  অক্টোবর অবশ্যই দুটি বিষয় খুব জোরালো করে তোলে। তা হলো- ইসরাইলের ইতিহাসে সেটা ছিল সবচেয়ে রক্তাক্ত দিন এবং রাজনৈতিক, সামরিক ও গোয়েন্দা ব্যর্থতা ছিল সেদিন। এসব বিষয়ে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে একজন মার্কিন প্রেসিডেন্টের ইচ্ছাকে উপেক্ষা করেছেন নেতানিয়াহু। এই যুদ্ধ কেন অব্যাহত রয়েছে তা ব্যাখ্যা করতে ইসরাইলের জন্য সহায়ক হয়েছে এই দুটি ফ্যাক্টর। সাম্প্রতিক যুদ্ধগুলো ইসরাইল কয়েক সপ্তাহ পরেই শেষ করতে বাধ্য হয়েছিল।

কারণ, আন্তর্জাতিক চাপ এতটাই প্রবল হয়েছিল যে, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছিল। কিন্তু ইসরাইলের বিরুদ্ধে হামাসের ভয়াবহ হামলা ও তার ভয়াবহতা ইসরাইলের সমাজে ও তাদের নিরাপত্তায় এতটাই প্রভাব ফেলেছে যে, এই যুদ্ধকে অন্য সাম্প্রতিক যুদ্ধের মতো দেখা হয় না। যুক্তরাষ্ট্র শত শত কোটি ডলারের অস্ত্র দিয়ে যাচ্ছে ইসরাইলকে। গাজায় যে পরিমাণ সাধারণ মানুষ নিহত হচ্ছেন এবং মানুষের যে দুর্ভোগ তা গভীরভাবে অস্বস্তিকর এবং প্রশাসনের জন্যও রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিকর। এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বেশি সহায়তাপ্রাপ্ত দেশে যুক্তরাষ্ট্র সুপারপাওয়ার হিসেবে প্রভাব খাটাচ্ছে না বলে সমালোচনা রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।

এপ্রিলে ইসরাইলের বিরুদ্ধে ইরানের হামলাকে বাতিল করে দিতে যুক্ত হয় যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমান। এর মধ্য দিয়ে একটি লক্ষণ পরিষ্কার হয় যে, ইসরাইল কিভাবে তার মিত্রকে সঙ্গে নিয়ে নিরাপত্তা বৃদ্ধি করেছে। ফলে তারা যুদ্ধের প্রকৃতি পরিবর্তন করেনি। যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে আগেভাগে কোনো অনুমোদন না নিয়েই তারা এই গ্রীষ্মে হিজবুল্লাহর সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত হয়। ইসরাইলের সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু। তার আছে কমপক্ষে ২০ বছরের অভিজ্ঞতা। এ সময়ে তিনি শিখেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের চাপ তিনি উপেক্ষা করতে পারেন। তিনি এটাও জানেন যে, যুক্তরাষ্ট্রে এ বছর নির্বাচনের সময়। এ সময়ে তিনি যে পথ অবলম্বন করবেন তার বিরোধিতা করতে কোনো পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্র নেবে না।

গত মাসে লেবাননে যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সের দ্বারা স্থবির হয়ে যায়। সমালোচনা আছে যে, প্রস্তাবিত ২১ দিনের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব এসেছে বিরোধীদের পক্ষ থেকে। আন্তর্জাতিক চাপ উপেক্ষা করতে পারে শুধু এটা ভেবে ইসরাইল যুদ্ধ অব্যাহত রাখেনি। একই সঙ্গে ৭ই অক্টোবরের পর তাদের বিরুদ্ধে যেসব হুমকি বৃদ্ধি পেয়েছে তার জন্য এই যুদ্ধ তারা এখন সচল রেখেছে।

 কয়েক বছর ধরে হিজবুল্লাহ হুমকি দিয়ে এসেছে যে, তারা ইসরাইলের উত্তরাঞ্চলে গ্যালিলি এলাকায় অভিযান চালাবে। তাছাড়া সম্প্রতি ইসরাইলের ভিতরে অস্ত্রধারীদের অনুপ্রবেশ ঘটেছে। এসব হুমকিকে নির্মূল করতে চায় ইসরাইল। সাম্প্রতিক সময়ে এমন কিছু ঘটনা ঘটে গেছে যা একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের দিকে নিয়ে যেতে পারে।

তেহরান, বৈরুত, তেলআবিব ও জেরুজালেমে বোমাবৃষ্টি এবং ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে। তেহরানে যখন ইরানের অতিথি হিসেবে অবস্থান করছিলেন হামাস প্রধান তখন তাকে হত্যা করেছে ইসরাইল। হিজবুল্লাহর পুরো নেতৃত্বকেই সেদিন ধ্বংস করেছে তারা। সিরিয়ায় ইরানের সিনিয়র কর্মকর্তাকে হত্যা করেছে।   

তেল আবিব সহ ইসরাইলের বিভিন্ন শহরে কমপক্ষে ৯ হাজার ক্ষেপণাস্ত্র, রকেট ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে হিজবুল্লাহ। একই রকম কাজ করেছে ইয়েমেনে ইরান সমর্থিত হুতিরা। তবে বেশির ভাগ হামলা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে ধ্বংস করেছে ইসরাইল। গত ছয় মাসের মধ্যে ইসরাইলে দুইবার হামলা করেছে ইরান। তাতে কমপক্ষে ৫০০ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা করেছে। ইসরাইলও লেবাননে আগ্রাসন চালিয়ে যাচ্ছে। এর যেকোনো ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধে রূপ নিতে পারে।

mzamin

ইতিহাস গড়তে পারবেন তো কমালা হ্যারিস!

যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় ক্রমশ ঘনিয়ে আসছে। এক মাসেরও কম সময় হাতে আছে প্রচারণার। তারপরই ৫ই নভেম্বর ভোটযুদ্ধ। তাতে কে হবেন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রেসিডেন্ট! ডেমোক্রেট প্রার্থী কমালা হ্যারিস কী প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট হিসেবে ‘গ্লাস সিলিং’ ভেঙে ইতিহাস সৃষ্টি করতে পারবেন! নাকি রিপাবলিকান ডনাল্ড ট্রাম্পের গলায় উঠবে জয়ের মালা! এ নিয়ে এখন সারাবিশ্বে বিশ্লেষণ। সবাই তাকিয়ে আছে যুক্তরাষ্ট্রের দিকে। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি, প্রেসিডেন্ট কে হচ্ছেন- তার ওপর নির্ভর করে বিশ্ব রাজনীতি, অর্থনীতি, কূটনীতি। এ জন্যই বিশ্বমোড়ল বলে খ্যাতি আছে যুক্তরাষ্ট্রের। সেখানে এবার ডেমোক্রেট প্রার্থী কমালা হ্যারিস ও রিপাবলিকান ডনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে টক্কর হচ্ছে। বাঘা বাঘা দলীয় নেতারা নেমে পড়েছেন প্রচারণায়। বসে নেই সাবেক প্রেসিডেন্ট ডেমোক্রেট বারাক ওবামাও। তিনি দেশটির কৃষ্ণাঙ্গদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন। বলেছেন, কমালা হ্যারিসের পাশে থাকার জন্য। তার আহ্বান যে গুরুত্ব বহন করে এটা বলার অপেক্ষা রাখে না। কারণ, তিনি নিজেও একজন কৃষ্ণাঙ্গ বংশোদ্ভূত। তার আহ্বান এক্ষেত্রে কৃষ্ণাঙ্গ সম্প্রদায় ফেলে দেবে না,  এমনটা আশা করাই যায়। সুইং স্টেট পেনসিলভ্যানিয়াতে কমালা হ্যারিসের প্রচারণা অফিসে আকস্মিক অঘোষিতভাবে উপস্থিত হন বারাক ওবামা। সব কারণ এবং অজুহাত সামনে এনে একজন নারী প্রেসিডেন্ট প্রার্থীকে সমর্থন না করার জন্য তিনি পুরুষ ভোটারদের সমালোচনা করেন। পরে তিনি ২০২৪ সালের নির্বাচনে ট্রাম্পের দুই ঘণ্টার বক্তব্য, ষড়যন্ত্র তত্ত্ব এবং শব্দের বুলির সমালোচনা করেন। বৃহস্পতিবার ব্যাটলগ্রাউন্ড বলে পরিচিত মিশিগান রাজ্যে বক্তব্য দেয়ার সময় ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, যদি কমালা হ্যারিস নির্বাচিত না তাহলে পুরো দেশ জগাখিচুড়ি হয়ে যাবে।

এ যাবতকালের মধ্যে সবচেয়ে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে এবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে। অল্প ভোটের ব্যবধানে বা অল্প ইলেকটোরাল ভোটের ব্যবধানে জয়-পরাজয় নিশ্চিত হবে বলে পূর্বাভাস পাওয়া যাচ্ছে। এম  অবস্থায় কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করছেন কমালা হ্যারিস। কিন্তু ন্যাশনাল এসোসিয়েশন ফর দ্য এডভান্সমেন্ট অব কালারড পিপল সেপ্টেম্বরে যে জরিপ করেছে তাতে ইঙ্গিত মিলেছে যে, ৫০ বছরের নিচে এমন প্রতি চারজন কৃষ্ণাঙ্গ পুরুষের মধ্যে একজন মাত্র নভেম্বরের নির্বাচনে ট্রাম্পকে সমর্থন করবেন। এ জন্যই কৃষ্ণাঙ্গ পুরুষ ভোটারদের তিরস্কারের সুরে কথা বলেছেন ওবামা। তিনি কমালা হ্যারিস সম্পর্কে বলেন, তিনি আপনাদের মতোই বেড়ে উঠেছেন, আপনাদেরকে জানেন, আপনাদের সঙ্গেই কলেজে গিয়েছেন, লড়াইকে বুঝতে শিখেছেন, নানা হাসি-বেদনার মধ্য দিয়ে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেছেন। অন্যদিকে ট্রাম্প অবজ্ঞা করে এসেছেন। তিনি সম্প্রদায়কেই শুধু অবজ্ঞা করেননি। একই সঙ্গে আপনার মতো ব্যক্তিকেও অবজ্ঞা করেছেন।

mzamin

উপসাগরীয় দেশগুলোকে ইরানের কঠোর হুঁশিয়ারি

যুক্তরাষ্ট্রের তেলসমৃদ্ধ মিত্রদের বড় আকারে সতর্কতা দিয়েছে ইরান। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারের মতো মার্কিন মিত্রদের এই সতর্কতা পাঠানো হয়েছে গোপন কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে উদ্ধৃত করে এক রিপোর্টে এসব তথ্য দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি। এতে বলা হয়েছে আরব প্রতিবেশী এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের সতর্ক করে ইরান বলেছে, যদি তাদের ভূখণ্ড অথবা আকাশসীমা ইরানের বিরুদ্ধে আক্রমণে ইসরাইলকে ব্যবহার করতে দেয়া হয় তাহলে তার কঠোর প্রতিশোধ নেয়া হবে।

এ মাসে শুরুর দিকে ইসরাইলকে টার্গেট করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে ইরান। তার জবাবে তেহরানের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিশোধ নেয়ার হুমকি দিয়েছে ইসরাইল। ওই হামলার ফলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ইসরাইলি কর্মকর্তারা। ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা বা তেলক্ষেত্রের ওপর প্রতিশোধমূলক হামলার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে তারপর। এই হামলা করতে যদি ইসরাইলকে কোনো দেশ তাদের ভূখণ্ড বা আকাশসীমা ব্যবহার করতে দেয় তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার হুমকি দিয়েছে ইরান।  ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের মতে, ওইসব দেশ এরই মধ্যে আরেকটি বৃহত্তর যুদ্ধে নিজেদের জড়ানোর বিষয়ে অস্বীকৃতি জানিয়েছে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনকে। এসব জ্বালানিসমৃদ্ধ উপসাগরীয় দেশগুলোর কর্মকর্তাদের আশঙ্কা তাদের তেলক্ষেত্র নিয়ে। এসব তেলক্ষেত্র প্রকৃতপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তায় আছে। তাদের আশঙ্কা যদি শত্রুতা বৃদ্ধি পায়, যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে তাহলে এসব স্থাপনা হতে পারে প্রধান টার্গেট। বিশ্বে সবচেয়ে বেশি মার্কিন সেনা মোতায়েন আছে বর্তমানে ওই অঞ্চলে। যদি ওইসব স্থাপনায় হামলা হয় তাহলে মার্কিন বাহিনীও বড় রকম ঝুঁকিতে থাকবে।  উপসাগরীয় দেশগুলোর বড় উদ্বেগের মধ্যে অন্যতম হলো- যুদ্ধ শুরু হয়ে গেলে বিশ্ব তেলের বাজারে তার বড় প্রভাব পড়বে। তারা মনে করেন ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ হলে তাতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল রপ্তানি বিঘ্নিত হবে। এই প্রণালীকে বিশ্ব বাজারে তেল সরবরাহের চেকপয়েন্ট হিসেবে দেখা হয়। ফলে সেখানে কোনো রকম বিঘ্ন ঘটলে তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়ে উঠবে। তাতে শুধু ওই অঞ্চলই অস্থিতিশীল হবে এমন না। একই সঙ্গে বিশ্ববাজারও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের মতে, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত সহ আরব নেতারা  ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলায় জড়িত হওয়া এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল শিল্পের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বিশেষ করে ইরানের কথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’ জাহাজকে লক্ষ্য করে। ইরানের পেট্রোলিয়াম পরিবহনের সঙ্গে জড়িত বহু কোম্পানি এবং জাহাজকে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় নিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক যোদ্ধাগোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন দেয়ার আর্থিক লাইফলাইন কর্তন করার চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র।

mzamin

বিবিসি’র বিশেষ প্রতিনিধির চোখে: বাংলাদেশের জন্য ভারত ‘মাইন্ড ব্লক’ by ইশতিয়াক পারভেজ

হঠাৎ করেই দিল্লির বিবিসি’র প্রধান কার্যালয়ে আমন্ত্রণ। ভারতের রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রেই এই আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাটির অফিস। প্রবেশ মুখে বেশ ভালোই সিকিউরিটি ব্যবস্থা। তা পেরিয়ে অফিসে প্রবেশ করতেই  বোঝা গেল পূজার ছুটির আমেজ লেগেছে। সেখানে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন বিবিসি’র বাংলা বিভাগের বিশেষ প্রতিনিধি শুভ জ্যোতি ঘোষ। নিজেই কফি বানিয়ে আনলেন, জমে উঠলো আড্ডা। বিষয় আর কী! ‘বাংলাদেশ’ আর বাংলাদেশের ক্রিকেট। তিনি কলকাতার মানুষ, তাই ওপার বাংলার ক্রিকেট ও রাজনীতির বেশ ভালোই খবর রাখেন। আগের রাতে দিল্লির অরুন জেটলি স্টেডিয়ামে টাইগারদের বাজে হারে তার চোখেমুখে স্পষ্ট বিরক্তি। টেস্টের পর টি-টোয়েন্টি’র প্রথম দুটি ম্যাচে নাজমুল হোসেন শান্তরা কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতাই গড়তে পারেনি। কী কারণ এর নেপথ্যে! দলের ক্রিকেটাররা দেশের উইকেট নিয়ে অভিযোগ করলেও শুভ জ্যোতি এটি মানতে নারাজ। আড্ডা দিতে দিতে জানালেন এমন হারের  পেছনে তার ভাবনার কথা-‘আমার মনে হয় ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশ যখন খেলতে নামে তখন একটি মেন্টাল ব্লক তাদের মধ্যে কাজ করে। মনে আছে ২০১৬তে বেঙ্গালুরুতে মাহমুদুল্লাহ-মুশফিক জেতা ম্যাচটি কীভাবে দলকে হারিয়ে দিলো! আসলে দু’টি জিনিস হয় একটি কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়তে পারে না আরেকটি হলো জেতার মতো অবস্থাতে এসে হেরে যায়।’

ভারতে আসার আগে পাকিস্তানকে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করে বাংলাদেশ দল তাদেরই মাটিতে। যে কারণে সবার বিশ্বাস ছিল ভারতে হয়তো জিততে না পারলেও কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে পারবে টাইগাররা। কিন্তু চেন্নাইয়ে প্রথম টেস্ট সাড়ে তিনদিনে হার! আর কানপুরে বৃষ্টিতে ৩ দিন ভেসে যায়। কিন্তু শেষ দুই দিনেই ভারত ব্যাটিং-বোলিংয়ে রেকর্ড গড়ে জিতে যায়। গোয়ালিয়রে প্রথম টি- টোয়েন্টিতে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতাই গড়তে পারেনি। দিল্লিতে এসে কিছুটা হলেও ঘুরে দাঁড়ানোর অনুপ্রেরণা খুঁজে পেয়েছিল। কিন্তু সেই ম্যাচে বড় রানের ব্যবধানে হার! এমন হারের জন্য যতটা টাইগারদের স্কিলের দায় তারচেয়ে বেশি মানসিক দুর্বলতা। কারণটাও ব্যাখ্যা করলেন বিবিসি’র বিশেষ প্রতিনিধি। শুভ জ্যোতি বলেন, ‘আশা করেছিলাম পাকিস্তানে যেভাবে খেলেছে সেটির একটি ধারাবাহিকতা রাখবে। কিন্তু অবাক হয়ে দেখলাম বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা আগের মতোই চাপ নিতে ব্যর্থ। আমার কাছে মনে হয় ভারত দলে যে বড় বড় নামগুলো প্রভাব ফেলে বাংলাদেশের ওপর। আমি ২০০৫ থেকে বাংলাদেশের ক্রিকেটকে ফলো করি। যখন ইংল্যান্ডে বাংলাদেশ সিরিজ খেলতে গিয়েছিল। আমার মনে আছে সেটি মুশফিকের প্রথম সিরিজ, একেবারেই বাচ্চা ছেলে। সেখানে আশরাফুল বেশ ভালো খেলেছিল। যাই হোক, তখন থেকেই দেখছি ভারত সামনে এলেই তাদের মধ্যে একটা ‘মাইন্ড ব্লক’ কাজ করে। নার্ভের ওপর চাপ ফেলে। জিতেছে কয়েকবার এটাতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু অনেক  ক্লোজ ম্যাচ বাংলাদেশ শেষ মুহূর্তে হেরেছে।  টেস্ট, টি-টোয়েন্টি এই দুটি ফরম্যাটে বাংলাদেশ যে ভারতকে হারাতে পারে তারা সেই বিশ্বাসটাও খুঁজে পায় না। তারা এমন করে যে জিতে থাকা ম্যাচেও তারা হঠাৎ করে সব এলোমেলো করে ফেলে। কিন্তু  দেখেন একই সময় অন্য দলগুলোর বিপক্ষে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স কিন্তু এমন নয়। তারা দারুণ খেলে।’

২০১৯, দিল্লির আকাশে ঘন  ধোঁয়াশা। বায়ুদূষণ বিপৎসীমা ছাড়িয়েছে। ভারতের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচ হবে কি হবে না তা নিয়ে শঙ্কা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত  খেলতে মাঠে জিতে দিল্লির দিল জিতে নেয় বাংলাদেশ। সেবারই প্রথম আমন্ত্রণে দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলতে এসেছিল টাইগাররা। অবশ্য পরের টানা দুই টি- টোয়েন্টি টানা হার ও টেস্ট সিরিজে হোয়াইটওয়াশ। ঠিক পাঁচ বছর পর এসে একই পরিণতি। দিল্লি জয়ের যে সুখস্মৃতি ছিল সেটি এবারের বাজে হারের আড়ালে ঢাকা পড়ে গেল। এমন পারফরম্যান্সের নেপথ্যে বড় কারণ জানালেন শুভ জ্যোতি। তার মতে, ‘এটাতে সন্দেহ করার কোনো কারণ নেই যে ভারত অনেক অনেক ভালো দল। ক্রিকেটের সব ফরম্যাটেই ভারত অনেক এগিয়ে। তাদের শত বছরের ক্রিকেট খেলার ইতিহাস। আর বাংলাদেশ তো সেই হিসাব করলে শুরু করলো মাত্র। এখানে দিল্লি, মুম্বই, হায়দরাবাদ সবার একটি আলাদা ক্রিকেট কালচার আছে। আর গেল ১০/১২ বছরে আইপিএল ভারতের ক্রিকেটকে অনেক উচ্চতায় নিয়ে গেছে। যে কারণে টেস্টেও তারা টি- টোয়েন্টির মতো খেলতে পারে। কানপুরই তো তার প্রমাণ বাংলাদেশ কল্পনাও করতে পারেনি এমন একটি বৃষ্টি বিঘ্নিত ম্যাচ শেষ দুইদিনে ভারত জিতে যাবে।’

‘সাকিব-মাহমুদুল্লাহদের বিদায় বাস্তবতা’
টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি সিরিজ হারের পরও ভারতে বাংলাদেশ দল দু’টি কারণে বেশ আলোচনায়। কানপুরে হঠাৎ করেই দুই ফরম্যাট থেকে অবসরে ঘোষণা দেন সাকিব আল হাসান। এরপর দিল্লিতে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ জানিয়ে দেন তিনিও আর টি-টোয়েন্টি খেলবেন না। ভেবেচিন্তে অবসর নিয়েছেন। এই দুই ঘোষণাতে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে শেষ হয়ে গেল টাইগার পঞ্চপাণ্ডবের ইতিহাস। এর আগে মাশরাফি বিন মুর্তজা, তামিম ইকবাল, মুশফিক এই ফরম্যাট ছেড়েছেন। কেউ কেউ এটিকে দলের জন্য আশীর্বাদ মনে করেন। তবে শুভ জ্যোতির কাছে এটি বাস্তবতা। তার মতে, ‘ভারত, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, অস্ট্রেলিয়া, শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটে এমন বড় বড় ক্রিকেটাররা একটা সময় বিদায় নিয়েছেন। বাংলাদেশের পঞ্চপাণ্ডব বলে যারা পরিচিত তাদের আর টি- টোয়েন্টিতে দেখা যাবে না। এমনকী ধীরে ধীরে তারা অন্য কোনো ফরম্যাটেও থাকবেন না। এটি আসলে আশীর্বাদও না আবার দলের জন্য বড় কোনো ক্ষতি বা অভিশাপও না। আমি মনে করি এটাই বাস্তবতা, তাদের চলে যেতে হবে, গেছেন। এখন নতুনরা সেখানে জায়গা করে নেবে। এখন দেখার বিষয় যে, বেঞ্চটা আছে সেখানে তাদের অভাব পূরণ করার মতো কেউ আছে কিনা। যদি থাকে ভালো নয়তো বেশ কিছু দিন স্ট্রাগল করতে হবে।’

mzamin


ইরানি হামলার ক্ষয়ক্ষতি ফাঁস করায় সাংবাদিকের সঙ্গে যা করল ইসরায়েল

মধ্যপ্রাচ্যে চলছে তুমুল উত্তেজনা। সম্প্রতি ইরান খোদ ইসরায়েলের রাজধানী তেল আবিবে প্রায় ২০০ ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়েছে। এতে দেশ দুটি এবার সরাসরি সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইরানের হামলার পর ব্যাপক আলোচনার ঝড় উঠেছে বিশ্বব্যপী।

ইরানের এই হামলায় ইসরায়েলের ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতিরও খবর পাওয়া যায়। তবে বরাবরের মতোই ইসরায়েল এ বিষয়ে মুখ খোলেনি। এমনকি ক্ষয়-ক্ষতির কথা প্রকাশ না করার জন্য নির্দেশ দেয় নেতানিয়াহু সরকার।

তবে সম্প্রতি এ নিয়েই ঘটে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা। জানা যায়, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সময় নেভাটিম বিমানঘাঁটির ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে সংবাদ সংগ্রহ করছিলেন জেরেমি লোফ্রেডো নামে ২৮ বছর বয়সি একজন মার্কিন সাংবাদিক। এতে করে ইসরায়েলের গোমর ফাঁস হয়ে যাওয়ার ভয়ে সেই সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করে ইসরায়েলি পুলিশ। শুক্রবার এক প্রতিবেদনে এ খবর নিশ্চিত করেছে আল জাজিরা।

গেল ১ অক্টোবর, ইসরাইলের ভেতরে ইরানের ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর খবর পাওয়া যায়। তেহরানের এই হামলার অন্যতম লক্ষ্য ছিল ইসরাইলি বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটি। ইসরায়েলের এমনই একটি ঘাঁটি হলো নেভাটিম বিমানঘাঁটি।

ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর দাবি, ইরানের হামলায় এই বিমানঘাঁটির ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে সেটা খুব ভয়াবহ নয়। বিমানঘাঁটি অচলও হয়নি। তবে ইরানের বার্তা সংস্থা মেহের নিউজ জানায়, নেভাটিম বিমানঘাঁটিতে ইরানের ১৫টি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। এতে বিমানঘাঁটিটি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি তা অকার্যকর হয়ে পড়ে।

বৃহস্পতিবার ইসরায়েলি সংবাদ মাধ্যম ওয়াই-নেট জানিয়েছে, লোফ্রেডোর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের মধ্যে রয়েছে ‘যুদ্ধকালীন সময়ে শত্রুকে সহায়তা করা’ এবং ‘শত্রুকে তথ্য সরবরাহ করা’। জানা যায়, লোফ্রেডো, মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য গ্রেজোনে স্বাধীন সাংবাদিক হিসেবে কর্মরত আছেন। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ যে পাঁচ সাংবাদিককে আটক করেছে তাদের মধ্যে তিনি একজন।

আন্দ্রে এক্স নামে একজন রাশিয়ান সাংবাদিক বুধবার এ নিয়ে এক্সে একটি পোস্টও করেছেন। সেখানে তিনি জানান, সেদিন তাকে মারধর করা হয়, অপহরণ করা হয়, চোখ বেঁধে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর একটি সামরিক ঘাঁটিতে নিয়ে যায়। সেখানে আরও ৪ সাংবাদিকও ছিলেন। তিনি আরও জানান, অভিযোগ ছাড়াই ১১ ঘণ্টা আটকে রাখা হয় তাদের।

জেরেমি লোফ্রেডোকে গ্রেপ্তার করেছে ইসরায়েলি পুলিশ। ছবি : সংগৃহীত
জেরেমি লোফ্রেডোকে গ্রেপ্তার করেছে ইসরায়েলি পুলিশ। ছবি : সংগৃহীত



জুলাই-আগস্ট হত্যা: চলতি সপ্তাহেই বিচারক নিয়োগ, দ্রুত বিচারের উদ্যোগ by রাশিম মোল্লা

ভবনের সংস্কার চলছে। কাজ এগিয়ে নিচ্ছে প্রসিকিউশন ও তদন্ত সংস্থা। জুলাই ম্যাসাকারের অগোছালো মামলা নিয়ে যখন নানা মহলে প্রশ্ন উঠছে তখন সংশ্লিষ্টরা জানাচ্ছেন, সহসাই পুরো প্রক্রিয়ায় গতি আসবে। ইতিমধ্যে হাইকোর্টে ২৩ জন বিচারপতি নিয়োগ দেয়া হয়েছে। চলতি সপ্তাহেই ট্রাইব্যুনালে বিচারপতি নিয়োগ দেয়া হতে পারে। এরপর আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে বিচার প্রক্রিয়া। আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেছেন, ট্রাইব্যুনালে গণহত্যার বিচার শুরু হলে সকল দ্বিধা, প্রশ্ন কেটে যাবে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ট্রাইব্যুনালে এরইমধ্যে ৪৫টি এবং তদন্ত সংস্থায় ১৬টি অভিযোগ জমা পড়েছে। সবমিলে ৬১টি অভিযোগ পড়েছে। বেশিরভাগ অভিযোগই আওয়ামী লীগ নেতা, সাবেক মন্ত্রী, এমপি ও পুলিশের সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। সবচেয়ে বেশি অভিযোগ পড়েছে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে। তিনি ইতিমধ্যে দেশত্যাগ করেছেন। অন্য অভিযুক্তদের একটি বড় অংশও এরইমধ্যে দেশত্যাগ করেছে বলে বিভিন্ন মাধ্যমে খবর পাওয়া যাচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে বিচার প্রক্রিয়া শুরুর পরপরই আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাসহ অভিযুক্ত মূল আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করা হবে। ট্রাইব্যুনালে সাক্ষী হাজিরের ব্যাপারে বড় ধরনের চমক থাকতে পারে। মামলার তদন্ত পদ্ধতিতেও চমক থাকবে। এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী তাজুল ইসলাম মানবজমিনকে বলেন, সবগুলো অভিযোগ এলাকা/জোন ওয়ারী ভাগ করা হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট এলাকার অভিযোগগুলো একসঙ্গে তদন্তের কার্যক্রম শুরু হবে।  তিনি বলেন, কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। আবার কারও প্রতি জুলুমও করা হবে না। এটা হবে এমন একটা বিচার যে বিচারের পরে শহীদ পরিবার, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার, বাদীপক্ষসহ আসামিপক্ষও মনে করবে তাদের প্রতি ন্যায়বিচার করা হয়েছে। এ বিচার কার্যক্রমে দু’টি চ্যালেঞ্জ। এক, বাংলাদেশের ৫৬ হাজার বর্গমাইলে গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে। প্রত্যেকটা জায়গায় একটা কমন ইনস্ট্রাকশন ছিল গুলি করে সব মেরে ফেলা। এ অপরাধের যে আলামতগুলো সেগুলো সংগ্রহ করা, কম্পাইল করা। দ্বিতীয় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে আসামিরা এখনো পলাতক, বিশেষ করে প্রধান আসামি দেশত্যাগ করেছেন। অনেকে এখনো দেশত্যাগের চেষ্টায় আছেন। তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসাটাও চ্যালেঞ্জ। গণহত্যা চালানোর অভিযোগের প্রধান আসামি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কীভাবে বিচারের সম্মুখীন করবেন- এমন প্রশ্নে আইনজীবী তাজুল ইসলাম বলেন, আইনগতভাবেই শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা সম্ভব। তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য আইনি প্রক্রিয়া সেটা আমরা শুরু করবো। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের অপরাধী প্রত্যর্পণ চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে ২০১৩ সালে। শেখ হাসিনা সরকারের সময়ে এ চুক্তিটি হয়েছিল। এই বন্দি বিনিময় চুক্তির মাধ্যমেই তাকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব। যেহেতু অধিকাংশ মামলায় তাকে গণহত্যার প্রধান আসামি করা হয়েছে। সুতরাং এ প্রক্রিয়া শুরুর মাধ্যমে তাকে আইনগতভাবে বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার চেষ্টা করবো।
কথা হয় প্রসিকিউটর বিএম সুলতান মাহমুদের সঙ্গে। তিনি বলেন, ৬১টি অভিযোগের মধ্যে বেশিরভাগ মামলা ঢাকার যাত্রাবাড়ী, মোহাম্মদপুর, উত্তরা-আজমপুর, রামপুরা-বনশ্রী, বাড্ডা, মিরপুর ও আশুলিয়া এলাকায় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা। ঢাকার বাইরে ময়মনসিংহ ও লক্ষীপুর থেকেও অভিযোগ পড়েছে। প্রায়  প্রতিটি মামলাতেই আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন হলে এসব মামলার প্রধান আসামি শেখ হাসিনাসহ মূল আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়না জারির আবেদন করা হবে। এক প্রশ্নের জবাবে প্রসিকিউটর বিএম সুলতান বলেন, ট্রাইব্যুনালের বিচারক কারা হচ্ছে সে বিষয়ে তার কাছে কোনো তথ্য নেই। তবে চলতি সপ্তাহেই ট্রাইব্যুনালে তিনজন বিচারক নিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়,  জমা পড়া মর্মান্তিক ৬১ অভিযোগের মধ্যে কিছু অভিযোগ চরম মর্মান্তিক। গণহত্যাকারীরা শিক্ষার্থীদের শুধু হত্যা করেই ক্ষান্ত হয়নি। লাশ দাফন ও গোসলেও বাধা দেয়। এমনই একজন শহীদ শেখ ফাহমিন জাফর। লাশ গোসলেও বাধা দেয়। এ বিষয়ে গত ১৮ই সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দায়ের করেছেন শহীদ শেখ ফাহমিনের মা কাজী মাখমিন শিল্পী। অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদের, আসাদুজ্জামান খান কামাল, আনিসুল হক, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও উত্তরা স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দসহ ৩৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শহীদ শেখ ফাহমিন জাফর। ১৮ বছরের কিশোর। ছিলেন টঙ্গী সরকারি কলেজের ইন্টারমিডিয়েট প্রথমবর্ষের ছাত্র। গ্রামের বাড়ি নওগাঁর আত্রাই উপজেলার তারাটিয়া গ্রামে। ১৮ই জুলাই সকাল। ছাত্র আন্দোলন তুঙ্গে। মায়ের অনুমতি নিয়ে আন্দোলনে যোগ দেন ফাহমিন। আন্দোলনে যাওয়ার সময় মাকে একটি আরজি জানান। মাকে বলেন, আমি যদি আন্দোলনে  শহীদ হই তবে আমার লাশ যেন ঘরে না আনা হয়। লাশ নিয়ে সোজা গণভবনে যাওয়া হয়। আন্দোলন সফল না হওয়া পর্যন্ত লাশ গণভবন থেকে যেন নিয়ে আসা না হয়। এ কথা বলে উত্তরা আজমপুর সুপার মার্কেট এলাকায় সংঘটিত হওয়া আন্দোলনে যোগ দেন ফাহমিন।  ঘটনাস্থলেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। শহীদ হন ফাহমিন। ঢাকার ক্রিসেন্ট হাসপাতালে পাওয়া যায় তার লাশ। লাশ দাফন করানোর জন্য গোসল করাতে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় উত্তরার স্থানীয় মসজিদ কমিটি লাশ গোসল করাতে বাধা দেয়।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শহীদ জাফরের শার্টের পকেটে রক্তাক্ত অবস্থায় তার লেখা দু’টি কবিতা পাওয়া যায়। একটি কবিতা সিঁড়ি। আজ স্বাধীনতার পর, কেন স্বাধীন দেশের ছাত্রের রক্ত ঝরলো? কেন তাদের প্রাণ গেল? যে কথা বলার স্বাধীনতা নেই। কেমন স্বাধীনতা পেলাম? যেখানে আন্দোলনে গুলি ছোড়ে! স্বাধীনতার মূল্য কোথায়? পরাধীন রাষ্ট্রে ভাই রফিক, জব্বারের রক্ত স্বাধীন রাষ্ট্রে ভাই সাঈদ, রাফির রক্ত। তাহলে কী স্বাধীনতা পাইনি। স্বাধীনতা পেলাম তো রক্ত কেন দিলাম? রক্ত দিলাম তোর স্বাধীন দেশে তাই রক্ত দিয়ে আবার স্বাধীনতা আনবো।

আরেকটি কবিতা- হয়তো মানুষ হতে চাই...। বিষ মতন ওষুধ চাই, বেঁচে থাকতে দোয়া চাই। মৃত আত্মায় প্রাণ চাই জীবিত দেহে কাফন চাই। মহাকালের ভুল পথে সুপথ চাই সুপথে চলতে পা চাই। মস্তিষ্কে বিবেক চাই বিবেক, ভালো-মন্দ বিচার করতে চাই। মরে যেয়েও বেঁচে আছি আমি... মরে যেয়েও বেঁচে আছি আমি। বিশ্রি থেকে শুশ্রি হতে চাই সর্বোপরি মানুষ হতে চাই।

এমন আরও অনেক ঘটনার অভিযোগ রয়েছে। শহীদ পরিবারের দাবি, আমরা কিছুই চাইনা। শুধু চাই পুত্র হত্যার বিচার। তবে বিচারটা যেন দীর্ঘসূত্রীতায় পড়ে না থাকে। জীবদ্দশায় যেন বিচার দেখে যেতে পারি। গত ৫ই আগস্ট বিকালে সাভারের আশুলিয়ায় শহীদ হন মানারত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সির্টির ত্রিপলী ডিপার্টমেন্টের শিক্ষার্থী আহনাফ আশরাফ উল্লাহ। এ বিষয়ে শহীদ আহনাফের বোন ঢাকা জজ কোর্টের আইনজীবী সাইদা আক্তার মানবজমিনকে বলেন, গত ৫ই আগস্ট শহীদ হয় আমার একমাত্র ভাই আহনাফ। ওর স্বপ্ন ছিল বড় হয়ে দেশ মাতৃকার জন্য কাজ করা। কিন্তু আল্লাহ তার আগেই এই দেশের স্বাধীনতার জন্য কবুল করেছেন। এখন আর ভাই এর জন্য কান্না করি না।  ওকে ভাই পরিচয় দিতে আমি গর্ববোধ করি। এই সরকারের কাছে আমাদের একটাই দাবি, আমার ভাইসহ সব শহীদ হত্যার বিচার চাই। আইনের মারপ্যাচে যেন কেউ বের হয়ে যেতে না পারে।

খুব দ্রতই পুনর্গঠন হবে ট্রাইব্যুনাল। এরই মধ্যে গত ১৮ই সেপ্টেম্বর মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্ত পরিচালনার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে ১০ কর্মকর্তার সমন্বয়ে তদন্ত সংস্থা পুনর্গঠন করে পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। তদন্ত সংস্থায় কো-অর্ডিনেটর পদে মো. মাজহারুল হককে (এডিশনাল ডিআইজি, অবসরপ্রাপ্ত) এবং কো-কোঅর্ডিনেটর পদে মুহাম্মদ শহিদুল্যাহ চৌধুরীকে (পুলিশ সুপার, অবসরপ্রাপ্ত) যোগদানের তারিখ থেকে পরবর্তী দুই বছরের জন্য নিয়োগ দেয়া হয়েছে। 

mzamin

মানবতা আজ কোথায়, প্রশ্ন লেবাননের প্রধানমন্ত্রীর

লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাজিব মিকাতি অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, মানবতা আজ কোথায়? ইসরায়েল বেসামরিক নাগরিকদের মেরে ফেলছে। এখনই যুদ্ধবিরতি প্রয়োজন।

শুক্রবার (১১ অক্টোবর) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, লেবাননের প্রধানমন্ত্রী মিকাতি ইসরায়েলের সঙ্গে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির দাবিতে জাতিসংঘে একটি প্রস্তাব উত্থাপনের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি ইসরায়েলকে বেসামরিক নাগরিক ও আবাসিক এলাকায় আক্রমণ বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, গতকালের (বৃহস্পতিবার) হামলায় ১৩৯ জন নিহত হয়েছেন। তারা সবাই বেসামরিক নাগরিক। এটা আর গ্রহণযোগ্য নয়। কোথায় মানবতা? আমরা কোন বাস্তবতায় বাস করছি?

বৃহস্পতিবার (১০ অক্টোবর) লেবাননে বড় ধরনের হামলা করেছে ইসরায়েল। বৈরুতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সেন্ট্রাল বৈরুতে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এতে বহু হতাহতের ঘটনা ঘটে।

আলজাজিরা জানিয়েছে, স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত ভিডিও এবং ফ্যাক্ট চেকিং এজেন্সি সনদের যাচাই করা ভিডিওতে ইসরায়েলি বাহিনীর নৃশংসতার দেখা মিলেছে। বৃহস্পতিবার রাস এল নাবা এবং আল নুয়েইরিতে এ হামলা চালানো হয়েছে।

হিজবুল্লাহর এক সিনিয়র নেতাকে নিশানা করে এ হামলা করা হয়েছে। হামলার পর ধোঁয়ার কুণ্ডলী উড়তে দেখা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীর বরাতে সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ইসরায়েলি বাহিনী আবাসিক ভবন ও ছোট শপিংমলের কাছে একটি গ্যাস স্টেশন এলাকায় বিমান হামলা চালিয়েছে।

হিজবুল্লাহর পরিচালিত আল মানার টেলিভিশনের প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, হামলার পর থেকে উদ্ধারকর্মীরা টর্চ ব্যবহার করে উদ্ধার কার্যক্রম চালাচ্ছে। হামলার বিষয়ে ইসরায়েল তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।

এদিকে মিকাতি আরও বলেন, দক্ষিণ লেবাননে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীর ওপর ইসরায়েলি হামলা ঘৃণ্য অপরাধ।

প্রসঙ্গত, লেবাননে হামলায় যুদ্ধের কোনো নিয়ম-নীতি মান্য করছে না ইসরায়েল। এমনকি তারা জাতিসংঘ শান্তিরক্ষীদের তিনটি অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা করেছে। বৃহস্পতিবার (১০ অক্টোবর) পৃথক দুুটি অবস্থানে হামলা হয়। অপর হামলটি করা হয় বুধবার (৯ অক্টোবর)।

জাতিসংঘের বাহিনী বলেছে, ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর ঘাঁটিতে ক্রমাগত হামলা করছে। সেখানে তীব্র লড়াই হচ্ছে। অঞ্চলটিতে বেসামরিক নাগরিকদের বাড়িতে ফিরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেতানিয়াহুর বাহিনী দিচ্ছে না। এরই মধ্যে জাতিসংঘের বাহিনীর ব্যবহৃত স্থানে হামলা হলো।

শান্তিরক্ষী বাহিনী আরও বলেছে, একটি ঘটনায় ইসরায়েলি ট্যাংক নাকোরায় বাহিনীর প্রধান সদর দপ্তরের একটি ওয়াচটাওয়ারে গুলি ও গোলা নিক্ষেপ করে। এতে টাওয়ারটি ভেঙে পড়ে। সেখানে তাদের দুজন শান্তিরক্ষী আহত হয়েছেন। অন্য দুটি ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। শান্তিরক্ষীদের উপর ইচ্ছাকৃতভাবে যে কোনো আক্রমণ আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন। আর এটিই ইসরায়েলি সেনাবাহিনী করল। 

লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাজিব মিকাতি। ছবি : রয়টার্স
লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাজিব মিকাতি। ছবি : রয়টার্স

গ্রাম থেকে আসা মেয়েদের দিয়ে দেহব্যবসা, পেছনে ছাত্রলীগ নেতা?

প্রবাসী ও ধনী ছেলেদের টার্গেট করে খুলনায় ভয়ংকর প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার জাল বিছিয়েছে একটি চক্র। চক্রটি গ্রাম থেকে শহরে আসা মেয়েদের টার্গেট করে প্রথমে অল্প ভাড়ায় ফ্ল্যাটে আশ্রয় দেয়। তারপর সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন কনটেন্ট তৈরি করে সবার মাঝে পরিচিত করে। সর্বশেষ কৌশলে বাধ্য করে দেহ ব্যবসায়। একই সঙ্গে ওই মেয়েদের দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করেও চলে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাৎ।

এসব ছাড়াও চক্রটির বিরুদ্ধে শারীরিক নির্যাতন, মাদক ব্যবসা, এমনকি নারী পাচারের ভয়ংকর অপরাধেরও অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগী এক প্রবাসীর করা অভিযোগের ভিত্তিতে অনুসন্ধানে নামে কালবেলা। অনুসন্ধানেই বের হয়ে আসে খুলনার বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের টার্গেট করে দেহ ব্যবসা এবং মাদকের ভয়ংকর সিন্ডিকেটের তথ্য।

কাতার প্রবাসী বিলাল (২৬)। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্পর্ক হয় খুলনার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পরিচয় দেওয়া নুসরাত জাহান অর্নার সঙ্গে। নুসরাত ও তার মায়ের সঙ্গে নিয়মিত কথা হতো বিলালের। বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে ২১ লাখ টাকা নিয়েছে মা ও মেয়ে। প্রেমের ২ বছরের মাথায় ক্যানসার আক্রান্ত বাবার চিকিৎসা করাতে দেশে ফেরেন বিলাল। কিন্তু ফেরার মাত্র একদিন পরই আসল চেহারা দেখায় নুসরাত। তার সিন্ডিকেট দিয়ে নির্মম নির্যাতন চালায় বিলালের ওপর। দেওয়া হয় মামলা।

বিলাল বুঝতে পারেন প্রেমের নামে তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন। ২৬ দিন পর কারামুক্ত হন তিনি। এরপর ঘটনার বর্ণনা দিয়ে এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে পাল্টা মামলা করেছেন বিলাল। মামলায় এসআই সুকান্ত, নুসরাত জাহান অর্নাসহ চক্রের ৫ সদস্যকে আসামি করা হয়। মামলাটি তদন্ত করছে পিবিআই কর্মকর্তা ইকবাল।

বিলাল অভিযোগ করে বলেন, সাড়ে পাঁচ বছরের প্রবাস জীবন শেষে দেশে এসে ক্যানসারে আক্রান্ত পিতার চিকিৎসা করাতে চেয়েছিলাম। কিন্তু নুসরাত আর তার সিন্ডিকেট যে কত ভয়ংকর হতে পারে তা আমার ধারণার বাইরে ছিল। এসআই সুকান্ত নামে এক পুলিশের মাধ্যমে আমাকে ‘ক্যাসল সালামে’ ডেকে নেওয়া হয়। তারপর আমার মোবাইল কেড়ে নিয়ে আমাকে হাতকড়া পরিয়ে থানায় নিয়ে যায়। ওসির রুমে অন্তত ৭/৮ জন আমাকে নির্মম নির্যাতন করে। ইলেকট্রিক শক দেয়। আমাকে মারধরের ভিডিও আমার পরিবারের কাছে পাঠিয়ে ৩০ লাখ টাকা দাবি করে। কিন্তু বড় ভাই মাত্র দেড় লাখ টাকা দিতে পারেন। তবে টাকা কম দেওয়ায় আমাকে না ছেড়ে উল্টো আমার মোবাইলে কিছু অশ্লীল ভিডিও পাঠিয়ে পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা দেয়। রিমান্ডে নিয়ে আবারও নির্যাতন করে। রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর ২৬ দিনের মাথায় আমি জামিনে মুক্তি পাই।

শুধু বিলাল না, কালবেলার হাতে আসে এই চক্রটির হাতে প্রতারিত ও নির্যাতনের শিকার এমন আরও অন্তত ৬ ভুক্তভোগীর তথ্য। এদের মধ্যে ইরাক প্রবাসী, দুজন ছাত্র ও দুজন ব্যবসায়ী রয়েছেন।

এমনই এক ব্যক্তি ইরাক প্রবাসী শাকিল (ছদ্মনাম)। কালবেলাকে তিনি বলেন, ২০২৩ সালে ইরাকে থাকাকালে আমার সম্পর্ক হয় তাসমি নামে এক মেয়ের সঙ্গে। প্রেমের অভিনয় করে পড়াশোনা ও ভরণপোষণ বাবদ আমার কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে ৮ থেকে ৯ লাখ টাকা নেয়। এক পর্যায়ে তাসমি ও তার চক্র সম্পর্কে জেনে টাকা দেওয়া বন্ধ করে দিই আমি। কিন্তু দেশে আসার পর আমার ওপর তারা নির্যাতন চালায়। আমার বিরুদ্ধে মামলা দেয়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, এই চক্রের দেহ ব্যবসার অংশে নেতৃত্ব দেন সোনাডাঙ্গা থানা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফাহিম হাসান আকাশ। অনিক নামে একজনের গাড়িতে সাতক্ষীরা থেকে নিয়মিত ফেনসিডিল ও গাঁজার চালান আনতেন বলে অভিযোগ আছে। নগরীর মজিদ স্মরণী রোডের ধাবা রেস্টুরেন্টে চলে এসব ফেনসিডিল ও গাঁজার অবৈধ বেচাকেনা।

রেস্টুরেন্টের সাবেক এক কর্মচারী কালবেলাকে বলেন, এলাকার কাউন্সিলর রাজুল ইসলাম রাজুর ডান হাত হিসেবে পরিচিত হওয়ায় রেস্টুরেন্টটি মূলত ফাহিমের নিয়ন্ত্রণে ছিল। যা ইচ্ছা তাই করত। এখানেই মাদক সেবনসহ সব ধরনের অপকর্ম করত সে।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বিশেষ করে যারা গরিব এবং সুন্দরী তাদের টার্গেট করেন ফাহিমের কথিত স্ত্রী নুসরাত তাসমি। তাসমির বিরুদ্ধে ইরাক প্রবাসী ব্যক্তি, ব্যবসায়ী, ধনীর ছেলেদের টার্গেট করে কৌশলে ফাঁসিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার একাধিক প্রমাণ মিলেছে।

গ্রুপের অপর সদস্য নুসরাত জাহান অর্না। কাতার প্রবাসী ব্যবসায়ী, কলেজ শিক্ষার্থী, মোটরসাইকেল শোরুম মালিক এবং এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষককে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অর্নার এসব কাজে তার মূল হাতিয়ার মা সালমা বেগম। এ ছাড়া সুমাইয়া সুলতানা রিমা নামে গ্রুপের অপর সদস্যের নামে বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের ব্ল্যাকমেইল করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।

জানা যায়, ভয়ংকর এই চক্রের গড মাদার হিসেবে রয়েছে ফাতেমা আফরোজ। খুলনা অনলাইন শপিং নামে এক ফেসবুক পেজের এডমিন তিনি। মিল শ্রমিক বাবার দরিদ্র সংসারের মেয়ে ফাতেমা আফরোজ এখন একাধিক ফ্ল্যাট ও গাড়ির মালিক। খুলনা সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক, শেখ সোহেলের বন্ধু হিসেবে পরিচিত কাজী ফয়েজ এবং একজন সাংবাদিক নেতার বন্ধু হিসেবে পরিচিত এই ফাতেমা আফরোজ।

দীর্ঘদিন ব্ল্যাকমেইল হওয়া এক নারী শিক্ষার্থী কালবেলাকে বলেন, আমার মতো গ্রাম থেকে আসা অনেকেই এই চক্রের মাধ্যমে প্রতারিত হয়েছে। নর্দান এবং নর্থওয়েস্টার্ন এই দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এবং বর্তমান কিছু শিক্ষার্থী সোনাডাঙ্গা দ্বিতীয় ফেজ আবাসিক এলাকায় একাধিক বিলাসবহুল ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে এসব অবৈধ কার্যক্রম চালায়। আমি এদের বিচার চেয়ে কোথাও বিচার পাইনি। পরে আত্মহত্যা করার জন্য আমি ছাদ থেকে লাফ দিই। কিন্তু প্রাণে বেঁচে যাই। সেখান থেকে আমি খুলনার বাইরে। এখনো খুলনায় যেতে পারছি না।

অভিযোগের বিষয়ে ফাহিম হাসান আকাশ বলেন, কাতার প্রবাসী যে ছে‌লে সব জায়গায় অভিযোগ ক‌রে‌ছে তার সা‌থে অর্ণা না‌মে এক মে‌য়ের সম্পর্ক ছি‌ল। অর্ণা আমা‌দের ছোট বোন। অর্ণার সাথে কোনো ছেলেকে কথা বলতে দেখলে বা জানলে ওই কাতার প্রবাসী তাকে নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দিত। এভাবে অর্ণার জীবন অতিষ্ঠ করে তুলেছিল। আমরা শুনেছি যে, ওই ছেলে কাতার থেকে ফিরেছে এবং পুলিশ তাকে এসব অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে। তখন আমিসহ অন্তত ৫০-৬০ জন সদর থানায় তা‌কে দেখ‌তে যাই। কিন্তু আর কোনোদিন তার সাথে আমার দেখা বা কথা হয়‌নি।

তিনি বলেন, আমার স্ত্রী তাস‌মি ওই ছে‌লেটার কাছ থে‌কে কোনো টাকা নেয়নি। আমার স্ত্রী বরং ওকে বি‌ভিন্ন সময়ে টাকা পা‌ঠি‌য়ে‌ছে যার তথ‌্য আমার কা‌ছে আছে।

অভিযোগের বিষয়ে চক্রের অন‌্যতম সদস‌্য নুসরাত তাস‌মি কাল‌বেলা‌কে ব‌লেন, সাইমুম না‌মে আমার কোনো স্বামী নেই। দুই বছর আগে আমা‌দের একটা সম্পর্ক ছি‌ল। এখন তার লাইফ নি‌য়ে সে ভা‌লো আছে, আমার লাইফ নি‌য়ে আমি ভা‌লো আছি। আমাদের বিষয় সে‌টেল্ড হ‌য়ে গে‌ছে, এই বিষয় নি‌য়ে আমি আর কোনো কথা বল‌তে চাই না। অপরদিকে ফা‌তেমা আফ‌রো‌জের মোবাইল ও হোয়াটসঅ্যাপে একা‌ধিকবার কল দি‌লেও কলটি রিসিভ হয়নি। পরে অভিযোগের বিষয়ে হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ দেওয়া হলেও তার কোনো রিপ্লাই পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (দক্ষিণ) মো. মনিরুজ্জামান মিঠু কালবেলাকে বলেন, ‘আমি সদ্য যোগদান করেছি। এখন পর্যন্ত এ ধরনের অভিযোগ পাইনি। অপরাধের সঙ্গে পুলিশ সদস্য বা যেই জড়িত থাকুক তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

প্রতীকী ছবি

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে হিজবুল্লাহর নতুন সামরিক নেতৃত্ব, চলছে গেরিলা হামলা

দক্ষিণ লেবাননে শত্রুপক্ষকে দুর্বল করার কৌশল হাতে নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহ। ইসরায়েলের হামলায় এরই মধ্যে সংগঠনটির শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন নেতা নিহত হয়েছেন। তবে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে স্থল ও রকেট হামলা চালাতে নতুন সামরিক নেতৃত্ব গঠন করেছে তারা। হিজবুল্লাহর কর্মকাণ্ডের বিষয়ে জানাশোনা আছে, এমন একাধিক সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

গত মাসে শুরু হওয়া ইসরায়েলের হামলায় হিজবুল্লাহর প্রধান হাসান নাসরুল্লাহ নিহত হন। ক্ষতিগ্রস্ত হয় সংগঠনটির বহু স্থাপনা। তবে হিজবুল্লাহ–সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ইসরায়েলের হামলার পরও সংগঠনটির হাতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অস্ত্র রয়েছে। নিজেদের সবচেয়ে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্রগুলো এখনো ব্যবহার করেনি তারা। এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।

সূত্র জানিয়েছে, গত ২৭ সেপ্টেম্বর বৈরুতে নাসরুল্লাহ নিহত হওয়ার পর হিজবুল্লাহর নেতৃত্ব সমস্যার মুখে পড়ে। তবে এর ৭২ ঘণ্টার মধ্যে নতুন সামরিক নেতৃত্ব গঠন করা হয়। ইসরায়েলের চলমান হামলার মধ্যেও নতুন নেতৃত্ব কাজ করে যাচ্ছে। অর্থাৎ কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী, দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর যোদ্ধারা লড়াই করছেন ও রকেট হামলা চালাচ্ছেন।

হিজবুল্লাহর নতুন নেতৃত্ব গোপনে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির একজন কমান্ডার। তবে সদস্যদের সঙ্গে নতুন নেতারা কীভাবে যোগাযোগ করছেন বা নেতৃত্বে কারা রয়েছেন, সে বিষয়ে কিছুই বলেননি তিনি। নাসরুল্লাহর মৃত্যুর পর হাসেম সাফিয়েদ্দিন তাঁর স্থলাভিষিক্ত হবেন বলে ধারণা করা হচ্ছিল। তবে তিনিও পরে ইসরায়েলের হামলায় নিহত হন।

হিজবুল্লাহকে আগে যেমন ভয়ংকর মনে করা হতো, এখনো তেমনই আছে বলে মনে করেন ইসরায়েলভিত্তিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান আলমার বিশ্লেষক আব্রাহাম লেভাইন। তিনি বলেন, এটা সত্য যে ইসরায়েলের হামলায় হিজবুল্লাহর নেতৃত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ইসরায়েলের মানুষ বা সেনাসদস্যদের ওপর হামলা চালানোর ক্ষেত্রে তাদের সক্ষমতা কমে যায়নি।

সুড়ঙ্গে যুদ্ধ

১ অক্টোবর ইসরায়েলি বাহিনী দক্ষিণ লেবাননে স্থল হামলা শুরুর ঘোষণা দেয়। বর্তমানে সেখানে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর চারটি ডিভিশন অবস্থান করছে। একেকটি ডিভিশনে এক হাজারের বেশি সেনাসদস্য থাকেন। ইসরায়েল জানিয়েছে, স্থল হামলা শুরুর পর দক্ষিণ লেবানন ও উত্তর ইসরায়েলে তাদের ১২ সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন।

দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর সুড়ঙ্গের বিশাল একটি নেটওয়ার্ক রয়েছে। গবেষণাপ্রতিষ্ঠান আলমা এ নিয়ে ২০২১ সালে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল। তাতে বলা হয়, ২০০৬ সালে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধের পর এসব সুড়ঙ্গ গড়ে তোলা হয়। সুড়ঙ্গগুলো কয়েক শ কিলোমিটার দীর্ঘ বলে ধারণা ইসরায়েলের।

সুড়ঙ্গগুলো নিয়ে হিজবুল্লাহর একজন কমান্ডার বলেন, দক্ষিণ লেবাননে যুদ্ধের ভিত্তিই হলো এসব সুড়ঙ্গ। সেগুলো গড়ে তুলতে বছরের পর বছর সময় লেগেছে। এখন সুড়ঙ্গগুলো কাজে লাগানোর সময় চলে এসেছে।

সম্প্রতি দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সেনাদের দখল করা কয়েকটি সুড়ঙ্গের ভিডিও প্রকাশ করা হয়। ৫ অক্টোবর প্রকাশিত এমনই একটি ভিডিওতে টেলিফোন সংযোগসহ মাটির নিচের কয়েকটি কক্ষ দেখা যায়। হিজবুল্লাহর ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, উত্তর ইসরায়েলের গ্যালিলি অঞ্চলে প্রবেশ করতেই ওই সুড়ঙ্গগুলো নির্মাণ করা হয়েছিল। সেগুলো সম্পর্কে ইসরায়েলের পুরোপুরি ধারণা নেই।

গেরিলা হামলা

সূত্র জানিয়ছে, গত সপ্তাহে দক্ষিণ লেবাননের ওদাইসে গ্রামের দিকে এগোচ্ছিল ইসরায়েলি বাহিনী। এ সময় লুকিয়ে থাকা হিজবুল্লাহ যোদ্ধারা তাদের ওপর হামলা চালান। হামলায় তাঁরা মাইন ও ‘করনেট’ নামে রাশিয়ার তৈরি ট্যাংক বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছিলেন। একই ধরনের অস্ত্র ২০০৬ সালের যুদ্ধে ব্যবহার করেছিল হিজবুল্লাহ।

ওই গেরিলা হামলা ২ অক্টোবর ইসরায়েলি বাহিনীর ওপর হামলার ঘটনার দিকে ইঙ্গিত করে। ইসরায়েলি বাহিনীর ভাষ্যমতে, সেদিন হিজবুল্লাহর সঙ্গে লড়াইয়ে ইসরায়েলের পাঁচ সেনা নিহত ও পাঁচজন আহত হন। একই দিনে আলাদা একটি হামলায় নিহত হন আরও দুই ইসরায়েলি সেনা।

গত বছর গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই পাল্টাপাল্টি হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ। এতে লেবানন সীমান্তবর্তী উত্তর ইসরায়েল থেকে অনেক বাসিন্দা নিরাপদে সরে গেছেন। তাঁদের ঘরে ফেরানোর চেষ্টায় রয়েছে ইসরায়েল সরকার। বৈরুতভিত্তিক কার্নেগি মিডল ইস্ট সেন্টারের গবেষক মহানন্দ হেজ বলেন, তিনি আগে থেকেই আশঙ্কা করেছিলেন ইসরায়েল স্থল হামলা চালাবে। তবে প্রশ্ন হলো, তাদের জন্য হিজবুল্লাহ এটা কতটা কঠিন করে তুলবে?

দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর বড় সমর্থন রয়েছে। এ অঞ্চলে ইসরায়েলের দখলদারত্বের বিরুদ্ধে লড়তেই মূলত গত শতকের আশির দশকে ইরানের সমর্থনে গড়ে উঠেছিল সংগঠনটি। কিংস কলেজ লন্ডনের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক আন্দ্রিয়েস ক্রেইগ বলেন, স্থলে ইসরায়েলের সঙ্গে লড়াই করা হিজবুল্লাহর জন্য বেশ সহজ। এমন যুদ্ধের জন্যই তারা প্রশিক্ষণ নিয়ে থাকে। আর স্থল যুদ্ধকে কেন্দ্র করেই তাদের বেশির ভাগ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে।

ইসরায়েলের হামলায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে একটি ভবন। আজ শুক্রবার লেবাননের রাজধানী বৈরুতে
ইসরায়েলের হামলায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে একটি ভবন। আজ শুক্রবার লেবাননের রাজধানী বৈরুতে। ছবি: রয়টার্স

লেবানন-সিরিয়া সীমান্তে ট্যাংক–বিধ্বংসী একটি কামানের সামনে দাঁড়িয়ে হিজবুল্লাহ যোদ্ধা
লেবানন-সিরিয়া সীমান্তে ট্যাংক–বিধ্বংসী একটি কামানের সামনে দাঁড়িয়ে হিজবুল্লাহ যোদ্ধা। ফাইল ছবি: রয়টার্স

 

লেবাননে আগ্রাসন: শান্তিরক্ষীদের ওপরেও হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনীর ওপর আবারও হামলা করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। গতকাল শুক্রবারের এ হামলায় দুই শান্তিরক্ষী আহত হয়েছেন। এ নিয়ে টানা তিন দিন শান্তিরক্ষীদের ওপর ইসরায়েলি বাহিনীর হামলার ঘটনা ঘটল। শান্তিরক্ষীদের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন দেশ।

এদিকে গত বৃহস্পতিবার লেবাননের রাজধানী বৈরুতের কেন্দ্রস্থলে ইসরায়েলের দুই দফা বিমান হামলায় ২২ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন শতাধিক। লেবাননের সরকার এ কথা জানিয়েছে। লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর জ্যেষ্ঠ নেতা ওফিক সাফাকে লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়েছিল। তবে হামলা থেকে বেঁচে যান তিনি। তিনটি সূত্র এ কথা জানিয়েছে।

ইসরায়েল সীমান্তবর্তী লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে জাতিসংঘ শান্তি মিশন ইউনিফিলের অধীন এক হাজারের বেশি শান্তিরক্ষী মোতায়েন রয়েছেন। ব্যাপক বিমান হামলার পাশাপাশি বর্তমানে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে স্থল অভিযানও চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী।

গতকাল নাকোরা এলাকায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশন ইউনিফিলের মূল ঘাঁটির একটি পর্যবেক্ষণ টাওয়ারে ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণ করে ইসরায়েলি বাহিনী। এতে দুই শান্তিরক্ষী আহত হন। আগের দিন একই ঘাঁটির পর্যবেক্ষণ টাওয়ারে গোলাবর্ষণ করলে টাওয়ারটি ধসে পড়ে। এতে দুই শান্তিরক্ষী আহত হন।

আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গতকালের হামলায় শ্রীলঙ্কার কয়েকজন শান্তিরক্ষী আহত হয়েছেন। আগের দিনের হামলায় ইন্দোনেশিয়ার দুই শান্তিরক্ষী আহত হন।

শান্তরক্ষীদের ওপর হামলার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি ইসরায়েল সরকার। তবে জাতিসংঘে নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন গত বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে বলেছেন, লড়াই তীব্রতর হওয়ায় ঝুঁকি এড়াতে ইউনিফিল মিশন আরও পাঁচ কিলোমিটার উত্তরে সরিয়ে নেওয়া হোক।
নিন্দার ঝড়

শান্তিরক্ষীদের ওপর গোলাবর্ষণ ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। তিনি হামলার ঘটনাকে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছেন। এ ধরনের ঘটনার যাতে পুনরাবৃত্তি না হয়, সে আহ্বান জানিয়েছেন গুতেরেস।

শান্তিরক্ষীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন জাতিসংঘের মহাসচিব। একই সঙ্গে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতে উসকানির সুযোগ দিতে পারে না বিশ্ব। এটিকে বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জাতিসংঘের শান্তিরক্ষীদের ওপর হামলার খবরে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। হামলার বিষয়ে ইসরায়েলের কাছে বিস্তারিত জানতে চেয়েছে ওয়াশিংটন। এদিকে গতকাল লাওসে অনুষ্ঠিত পূর্ব এশিয়া সম্মেলনে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন লেবাননে কূটনৈতিক সমাধানে পৌঁছানো যাবে এবং বৃহৎ পরিসরে সংঘাত ছড়িয়ে পড়া ঠেকানো যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, ‘এই অঞ্চলে বৃহত্তর সংঘাত প্রতিরোধে আমরা নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছি।’

শান্তিরক্ষীদের ওপর হামলা করায় ইসরায়েলের কড়া সমালোচনা করেছেন ইতালির প্রতিরক্ষামন্ত্রী গুইদো ক্রসেত্তো। এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘এটি ভুলবশত ঘটেনি এবং এটি কোনো দুর্ঘটনা ছিল না।’ ইতালির প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, এটি যুদ্ধাপরাধের শামিল হতে পারে এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের গুরুতর লঙ্ঘনের বিষয়টিই তুলে ধরেছে।

এদিকে শান্তিরক্ষীদের ওপর হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ এবং এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে চীনও। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং বলেন, ইউনিফিলের অবস্থানে ও পর্যবেক্ষণ পোস্টগুলোতে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর হামলার ঘটনায় চীন গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে এবং এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে।
বৈরুতের প্রাণকেন্দ্রে হামলা

বৃহস্পতিবার বৈরুতের মধ্যাঞ্চলে দুই দফা ইসরায়েলি বিমান হামলায় ২২ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ১১৭ জন। লেবাননের জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এসব তথ্য জানিয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোতে প্রচারিত ভিডিওতে বৈরুতের রাস এল নাবা ও আল নুয়েইরি এলাকায় বিমান হামলার পর বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি দেখা গেছে।

আগে থেকে কোনো ধরনের সতর্কবার্তা ছাড়াই এসব হামলা চালানো হয়েছে। এতে বৈরুতের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ইসরায়েলি হামলার মুখে অনেকেই দক্ষিণাঞ্চল থেকে সরে গিয়ে রাজধানী বৈরুতে আশ্রয় নিয়েছেন।

গত সেপ্টেম্বরের শেষ থেকে এ পর্যন্ত তৃতীয়বারের মতো বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহরতলি দাহিয়ের বাইরে ইসরায়েলি বিমান হামলার ঘটনা ঘটেছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দাহিয়েতে প্রায় প্রতিদিনই বিমান হামলা হতে দেখা গেছে।

এদিকে ইসরায়েলে পাল্টা হামলা চালানো অব্যাহত রেখেছে হিজবুল্লাহ। দেশটির উত্তরাঞ্চলের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ শহর হাইফা লক্ষ্য করেও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে সশস্ত্র গোষ্ঠীটি। লেবাননের পাশাপাশি ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায়ও হামলা জোরদার করেছে ইসরায়েল। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গতকাল জানিয়েছে, গাজায় ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় আরও ৬১ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ২৩১ জন। এ নিয়ে গত বছরের ৭ অক্টোবর থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় ৪২ হাজার ১২৬ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

ইসরায়েলি বাহিনীর বিমান হামলায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে ঘরবাড়ি। সেখানকার পরিস্থিতি দেখছেন কয়েকজন। গতকাল লেবাননের বৈরুতে
ইসরায়েলি বাহিনীর বিমান হামলায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে ঘরবাড়ি। সেখানকার পরিস্থিতি দেখছেন কয়েকজন। গতকাল লেবাননের বৈরুতে। ছবি: রয়টার্স

তুর্কমেনিস্তানে পুতিন-পেজেশকিয়ানের বৈঠক, উদ্বেগ যুক্তরাষ্ট্রের

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সাথে বৈঠক করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। শুক্রবার তুর্কমেনিস্তানে একান্ত আলাপে মিলিত হয়েছিলেন এ দুই নেতা। তারা নিজ নিজ দেশের অর্থনীতি এবং বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে একে অপরের সহযোগিতার প্রশংসা করেছেন। তেহরান-মস্কোর এই বৈঠকে উদ্বেগ জানিয়েছে ওয়াশিংটন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে পশ্চিমা ব্লকের সাথে চরম উত্তেজনাকর সময় পার করছে মস্কো। পশ্চিমাদের স্বার্থান্বেষী পদক্ষেপের বিরুদ্ধে তেহরান-মস্কোর এই বৈঠক বেশ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন পুতিন। পশ্চিমাদের গ্লোবাল ইস্ট হিসেবে উল্লেখ করে গ্লোবাল সাউথের সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন তিনি।

আগামী ২২ থেকে ২৪ অক্টোবর ব্রিকসের সদস্য দেশগুলোকে নিয়ে শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন করছে রাশিয়া। সেখানে ইরানের প্রেসিডেন্টকে রাষ্ট্রীয় সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন পুতিন। তার আমন্ত্রণে রাশিয়া সফরে যেতে সম্মত হয়েছেন পেজেশকিয়ান।

শুক্রবারের বৈঠকে রাশিয়ার সাথে ইরানের অর্থনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক যোগাযোগ দিন দিন শক্তিশালী রূপ পাচ্ছে বলে জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট। যদিও ইরান ও রাশিয়ার এই ক্রমবর্ধমান সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্ক ভালো চোখে দেখছেনা পশ্চিমা দেশগুলো। বিশেষ করে গত মাসে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা মোকাবিলায় মস্কোর সঙ্গে তেহরানের সম্পর্ক আরও গভীর করার প্রতিশ্রুতির পর থেকে এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা ব্লক। মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইলকে শর্তহীন ভাবে সমর্থন করে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এর বিপরীতে রাশিয়ার সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক আরও জোরদার করতে বৈঠকে আলাপ করেছেন পেজেশকিয়ান ও পুতিন। দেশ দুটির কৌশলগত অংশীদারিত্ব বৃদ্ধিতেও নান পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এই অংশীদারিত্ব আরও গভীর করতেই চলতি মাসে ব্রিকসের সম্মেলনে যোগ দেয়ার কথা জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট।

অন্যদিকে পুতিনও দুদেশের সম্পর্ক উন্নয়নে বেশ আগ্রহ দেখিয়েছেন। তিনি মনে করেন বিশ্ববাসীর জন্য নয়া ওয়ার্ল্ড অর্ডার প্রয়োজন। এক্ষেত্রে পুতিন বলেছেন, আমরা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একসঙ্গে কাজ করছি। বিশ্বের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে মস্কো-তেহরানের পর্যবেক্ষণ খুব কাছাকাছি।

মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক উত্তেজনা নিয়েও কথা বলেছেন দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধান। ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেছেন, ইসরাইলের এখনই নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করা বন্ধ করা উচিত। ইসরাইলকে সমর্থন করায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয়ান ইউনিয়নেরও কড়া সমালোচনা করেছেন তিনি। ইসরাইলের বিরুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যে লড়াই করা যোদ্ধাগোষ্ঠীগুলোর নিজেদের ভূখণ্ড এবং জনগণের পক্ষে আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে বলে মনে করেন রুশ প্রেসিডেন্ট।

mzamin

ঢাকায় অটোরিকশা চার্জের কয়েক হাজার স্টেশন! by নাজমুল হুদা

অবৈধ অটোরিকশার নগরে পরিণত হয়েছে ঢাকা। লাখ লাখ অটোরিকশা সড়ক-মহাসড়কে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। এসব অটোরিকশা চার্জ দিতে ঢাকায় কয়েক হাজার চার্জিং স্টেশন রয়েছে। এসব স্টেশনে দৈনিক চার্জ দেয়া হয় এসব অটোরিকশা। গ্যারেজে গড়ে ওঠা চার্জিং স্টেশনের বাইরেও অসংখ্য অবৈধ চার্জিং পয়েন্ট ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে শহরের আনাচে কানাচে। মানুষের বাসা-বাড়িতেও চার্জ করা হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু  ঢাকাতেই এসব অবৈধ অটোরিকশা চার্জ করতে দৈনিক অন্তত ৩০০-৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে। সারা দেশে দৈনিক খরচ হচ্ছে ২ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। যা ঢাকা জোনের পিক আওয়ারে খরচ হওয়ার বিদ্যুতের এক তৃৃতীয়াংশ।

খিলগাঁও থানার সাহেরনবাগ রিকশা গ্যারেজ মো. উজ্জ্বলের। সেখানে ৫০-৬০টা রিকশা রাখা যায়। প্রতিদিন ১০-১২টি অটোরিকশা তার গ্যারেজে চার্জ করা হয়। এতেই প্রত্যেক মাসে তার ২৫-২৬ হাজার টাকার বিদ্যুৎ বিল চলে আসে বলে জানান তিনি। বলেন, কেউ এখন প্যাডেল রিকশা চালাতে চায় না। অটোরিকশা চালায়। এগুলো চার্জ দেয়ার চাহিদাও অনেক। আমার এখানে ১০-১২টার চার্জ দেই প্রতিদিন। জায়গা থাকলে আরও চার্জ দেয়া যেতো। শুধু উজ্জ্বলের গ্যারেজই নয়, ঢাকায় ছোট-বড় এমন কয়েক হাজারের অধিক গ্যারেজে চার্জিং স্টেশন রয়েছে। তবে ২০২১ সালে ট্রাফিক পুলিশের একটি তালিকায় ৭৫২ স্টেশনের নাম রয়েছে। এরমধ্যে ট্রাফিকের ওয়ারি, তেজগাঁও, মতিঝিল, লালবাগ, গুলশান ও উত্তরা বিভাগে সবচেয়ে বেশি চার্জিং স্টেশন রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের সড়কে প্রায় ৪০ লাখ অটোরিকশা চলাচল করে। এসব অটোরিকশা ৫-১০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার করছে। যদি ৫০ শতাংশ অটোরিকশাও দৈনিক সড়কে চলাচল করে সে হিসাবে প্রায় ২ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ খরচ করে। গ্যারেজে গড়ে ওঠা চার্জিং স্টেশন ছাড়াও আবাসিক সংযোগ দিয়েও রিকশা ব্যাটারি চার্জ করা হচ্ছে। এতে সরকারও রাজস্ব হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আবার লোডশেডিং-এর ওপর চাপ পড়ছে। বর্তমানে ঢাকার অটোরিকশার চিত্র তুলে ধরে পরিবহন বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় বুয়েটের অধ্যাপক হাদিউজ্জামান মানবজমিনকে বলেন, ঢাকায় প্রতি বর্গকিলোমিটারে ২ হাজার অটোরিকশা চলছে। পুরো ঢাকায় ৬-৭ লাখ অবৈধ অটোরিকশা রয়েছে। তারা দৈনিক ৩০০-৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ খরচ করছে। চার্জিং স্টেশন ছাড়াও অনেকে বাসা থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে চার্জ করে। তিনি বলেন, এত বড় গ্যারেজ এটা চোখের সামনে দেখা যায়। অবৈধভাবে বিদ্যুৎ খাচ্ছে। কিন্তু সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে না। বিদ্যুৎ বিভাগের অসাধুরাও এখানে জড়িত রয়েছে।
অটোরিকশাগুলো রাতে ১০-১২ ঘণ্টা চার্জে রাখা হয়। অনেকে দিনেও চার্জ করেন। বিদ্যুৎ বিভাগের পাওয়ার সেলের পরিচালক (ম্যানেজমেন্ট) শেখ মুনির আহমেদ মানবজমিনকে বলেন, এই রিকশাগুলো সাধারণত মধ্যরাতে চার্জ হয়। আগে মধ্যরাতে আমাদের বিদ্যুতের চাহিদা তেমন ছিল না। কিন্তু এখন মধ্যরাতে চাহিদা বেড়ে যায়। ওই সময় এই লোডটা এখান (ব্যাটারি চার্জ) থেকে আসে। আগে রাত ১২টা থেকে ৩টার দিকে অফ পিক আওয়ার ছিল। এটা কিন্তু এখন অফ পিক আওয়ারের প্যাটার্নে নাই। এই সময়ে শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও তুলনামূলক বেশি বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে।

অটোরিকশায় সয়লাব ঢাকার সড়ক, বিশৃঙ্খলা, যানজট:
হাসিনা সরকার পতনের পর থেকেই ঢাকায় অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে অটোরিকশা। পাড়া-মহল্লার আনাচে কানাচে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে এসব অটোরিকশা। সড়ক, মহাসড়ক এমনকি ফ্লাইওভারেও দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। এতে সড়কের গতিরোধ সৃষ্টি হয়ে যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। ব্যাটারিচালিত এসব রিকশার হটস্পট ওয়ারি, মতিঝিল, তেজগাঁও, লালবাগ, গুলশান ও উত্তরার জোনগুলো। লাখ লাখ অটোরিকশা এসব এলাকায় দেদারছে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তুলনামূলক ভাড়া কম ও দ্রুত চলায় এই রিকশাগুলোতে করে প্রধান সড়কে ওঠার ক্ষেত্রে যাত্রীদের সায়ও রয়েছে। এসব রিকশার কারণে গতি হারাচ্ছে বাস, ট্রাক, প্রাইভেট ও মোটরবাইকের মতো উচ্চ গতির যানবাহনগুলো। এতে সড়কে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়ে যানজট বাড়ছে।

mzamin

ভ্যাপিং বা ই-সিগারেটের থাবা স্কুলের শিক্ষার্থীদের মধ্যেও by ফরিদ উদ্দিন আহমেদ

ভ্যাপিং বা ই-সিগারেট দিন দিন বাড়ছে। সম্প্রতি রাজধানীর পুরান ঢাকার লালবাগ এলাকার কয়েকটি স্কুলের ছাত্র-শিক্ষকদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, শিক্ষার্থীরা স্কুলের ব্যাগে করে ভ্যাপিং বা ই-সিগারেট নিয়ে আসে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে। লালবাগের একটি সরকারি প্রাইমারি স্কুলের তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির কিছু শিক্ষার্থীর স্কুল ব্যাগে সুগন্ধি মেশানো নানা ফ্লেভারের ই-সিগারেট দেখতে পান শিক্ষকরা। তাৎক্ষণিক বিষয়টি অভিভাবকদের ডেকে অবহিত করেন তারা। ভ্যাপিং বা ই-সিগারেটের শারীরিক ও আর্থিক ক্ষতিকর দিক এবং এটি নিষিদ্ধ একটি পণ্য তাও তাদের অভিভাবকদের জানান স্কুল কর্তৃপক্ষ। শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যের হুমকির কথা তুলে এখনই তাদের সন্তানদের সাবধান করার পরামর্শ দেন শিক্ষকরা। কয়েকজন ছাত্র শিক্ষকদের জানায়, যেসব ছাত্রদের স্কুল ব্যাগে ই-সিগারেট পাওয়া গেছে এসব শিশু শিক্ষার্থীরা বাবা মা’র চোখ ফাঁকি দিয়ে খেলাধুলার নামে মাঠেও নিয়ে যায় এসব পণ্য। সেখানে দল বেঁধে এগুলো সেবন করে। র্থীরা টিফিনের ও যাতায়াতের খরচের নাম করে বাবা-মা’র কাছ থেকে টাকা নিয়ে এগুলো কিনে বলে ওই প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষকরা জানিয়েছেন।

ই-সিগারেট গ্রাস করছে তরুণ সমাজকে। এতে উদ্বিগ্ন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, ইমার্জিং টোব্যাকো প্রোডাক্টস (ভ্যাপিং, ই-সিগারেট)-এর আবির্ভাবের পর থেকে বিশ্বব্যাপী তামাক ব্যবহারের পদ্ধতি ও ব্যবহার, বিপণন কৌশল, তামাক আসক্তি সম্পর্কিত দৃষ্টিভঙ্গি এবং তামাক ব্যবহারজনিত মৃত্যু প্রভৃতি ক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। কৌশলী প্রচার-প্রচারণার কারণে এসব পণ্যের জনপ্রিয়তা এবং ব্যবহার বর্তমানে আশঙ্কাজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ইতিমধ্যে অনেক দেশ ই-সিগারেট ও ভ্যাপিং পণ্য নিষিদ্ধ করেছে। বাংলাদেশেও দাবি উঠেছে তামাকমুক্ত বাংলাদেশ অর্জনে অবশ্যই ই-সিগারেট বন্ধে আইন প্রণয়ন ও তা বাস্তবায়ন করতে হবে।

রাস্তাঘাট, ক্যাম্পাস, তরুণদের আড্ডাস্থল, বিভিন্ন মার্কেট এবং রাস্তার মোড়ে গড়ে ওঠা ভ্যাপিং ক্লাবে এসব পণ্যের ব্যবহার ব্যাপকহারে চোখে পড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান বাজারে মোট দুই ধরনের ইমার্জিং টোব্যাকো প্রোডাক্ট পাওয়া যায়। ইলেক্ট্রনিক নিকোটিন ডেলিভারি সিস্টেম্‌স এবং হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্ট। ইলেক্ট্রনিক নিকোটিন ডেলিভারি সিস্টেম্‌স এক ধরনের ব্যাটারিচালিত ডিভাইস যা ই-লিক্যুইড বা নিকোটিনযুক্ত তরল দ্রবণকে তাপের মাধ্যমে বাষ্পে রূপান্তরিত করে। একজন ব্যবহারকারী যখন ডিভাইসটিতে টান দেয়, তখন নিকোটিনের দ্রবণ গরমে বাষ্পীভূত হয় এবং ব্যবহারকারীকে নিকোটিন সরবরাহ করে।
নিকোটিন ছাড়াও নানারকম রাসায়নিক মিশ্রণ এবং সুগন্ধি মেশানো থাকে, যা মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। ইলেক্ট্রনিক সিগারেট বা ই-সিগারেট, ভ্যাপ বা ভ্যাপ পেন্‌স?, ই-হুক্কা, ই-পাইপ এবং ই-সিগার প্রভৃতি এন্ডস?? পণ্যের বিভিন্ন ধরন। সাধারণ সিগারেট বা পাইপ আকৃতি ছাড়াও এগুলো দেখতে কলম, পেনড্রাইভ, বিভিন্ন খেলনা কিংবা সিলিন্ডার আকৃতির হয়ে থাকে।
ধানমণ্ডির লেকের পাড়ে বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে কয়েকজন স্নাতক পর্যায়ে পড়ুয়া শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে তিন-চার জন ই-সিগারেট টানছিলেন। কিছুক্ষণ পরপর মুখ দিয়ে পাফ নিচ্ছেন আর মুখ থেকে অনেক ধোঁয়া ছাড়ছেন। জানতে চাইলে এই প্রতিবেদককে একজন জানান, ই-সিগারেটের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে তার তেমন জানা নেই। বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায় থাকলে তিনি ই-সিগারেট টানেন। তার মতে, এটা সিগারেটের চেয়ে কিছুটা ‘নিরাপদ’।

স্বাস্থ্যখাত সংস্কার-বিষয়ক বিশেষজ্ঞ প্যানেলের সদস্য সচিব এবং জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. আব্দুল্লাহ আল শাফি মজুমদার এ প্রসঙ্গে মানবজমিনকে বলেন, স্কুল গোয়িং শিক্ষার্থীরাও ভ্যাপিং বা ই-সিগেটে ঢুকে যাচ্ছে, যা আমাদের জন্য অ্যালার্মিং এবং পার্শ্ববর্তী দেশসহ ৩৪টি দেশে পণ্যটি নিষিদ্ধ। এই হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ বলেন, এ বিষয়ে আমাদের অবস্থান কঠোর থাকবে। প্রজন্মকে রক্ষা করার জন্য আইনকে শক্তিশালী করা দরকার বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
অতি সম্প্রতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) প্রকাশিত  ইলেক্ট্রনিক নিকোটিন ডেলিভারি সিস্টেমস (ঊঘউঝ) অর্থাৎ ই-সিগারেটসহ সকল ইমার্জিং টোব্যাকো প্রোডাক্টকে স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর পণ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এগুলো আসক্তিসহ নানাবিধ স্বাস্থ্য ক্ষতি তৈরি করে। ইলেক্ট্রনিক নিকোটিন ডেলিভারি প্রোডাক্ট তামাকপণ্য ব্যবহারের ‘মধঃবধিু’ হিসেবেও কাজ করে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ইউএস সার্জন জেনারেল রিপোর্ট ২০১৬ এ ই-সিগারেটসহ নিকোটিনযুক্ত সকল পণ্যকে ‘অনিরাপদ’ বলে অভিহিত করা হয়েছে। বিশেষ করে ২০১৯ সালে ই-সিগারেট বা ভ্যাপিং-সৃষ্ট শ্বাসযন্ত্রের জটিলতা যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন রাজ্যে মহামারির আকার ধারণ করলে এই ইমার্জিং টোব্যাকো প্রোডাক্টসগুলোর সত্যিকারের চেহারা আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে।

শিশু-কিশোর এবং তরুণরাই মূল টার্গেট: মূলত তরুণ এবং শিশুদের টার্গেট করে বাংলাদেশসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এসব ইমার্জিং টোব্যাকো প্রোডাক্টস উৎপাদন ও বাজারজাত করছে তামাক কোম্পানিগুলো। উদ্ভাবনী কৌশল, সুগন্ধি ব্যবহার এবং আকর্ষণীয় ডিজাইনের কারণে কিশোর এবং তরুণদের মাঝে বিশেষত বিদ্যালয়গামী শিশুদের মধ্যে এসব তামাকপণ্যের জনপ্রিয়তা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

তারুণ্যনির্ভর বাংলাদেশ এখন তামাক কোম্পানির মূল টার্গেট:  বাংলাদেশেও ইমার্জিং টোব্যাকো প্রোডাক্টসের ব্যবহার তরুণ এবং যুব সমাজের মধ্যে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। রাস্তাঘাট, ক্যাম্পাস, তরুণদের আড্ডাস্থল, বিভিন্ন মার্কেট এবং রাস্তার মোড়ে গড়ে ওঠা ভ্যাপিং ক্লাবে এসব পণ্যের ব্যবহার ব্যাপক হারে চোখে পড়ছে। ঢাকাসহ বিভিন্ন বিভাগীয় শহরে গড়ে উঠেছে অসংখ্য বিক্রয় কেন্দ্র। অনলাইন এবং ফেসবুকে ব্যাপকভাবে ই-সিগারেট সামগ্রী নিয়ে আলোচনা, বিক্রয় ও হাতবদল হচ্ছে। তবে এসব পণ্য ব্যবহারের মাত্রা কতোটা বিস্তার লাভ করেছে সে বিষয়ে সর্বশেষ কোনো গবেষণালব্ধ তথ্য-উপাত্ত নেই।
তামাক কোম্পানিগুলোও এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠীকে যেকোনো উপায়ে তামাকপণ্য ও ইমার্জিং টোব্যাকো প্রোডাক্ট-এ আসক্ত করে নিজেদের ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং মুনাফা বৃদ্ধি করতে চায়। এ জন্য তারা ইমার্জিং টোব্যাকো প্রোডাক্টস অর্থাৎ ইলেক্ট্রনিক সিগারেট, ভ্যাপিং, হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্ট ইত্যাদিকে সিগারেটের ‘নিরাপদ বিকল্প’ হিসেবে ভোক্তা এবং নীতিনির্ধারকদের সামনে উপস্থাপন করে থাকে।

তামাক বিরোধী সংগঠন প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান)-এর নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের এ ব্যাপারে বলেন, ইমার্জিং টোব্যাকো প্রোডাক্টের ক্রমবর্ধমান ব্যবহার ও ক্ষয়ক্ষতি থেকে বাংলাদেশের তরুণ ও যুব সমাজকে রক্ষা করতে ই-সিগারেটসহ সকল ভ্যাপিং এবং হিটেড তামাকপণ্যের উৎপাদন, আমদানি ও বাজারজাতকরণ নিষিদ্ধ করতে হবে। ইতিমধ্যে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত ই-সিগারেট নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। এ ছাড়াও শ্রীলঙ্কা, নেপাল, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুরসহ ৩৪টির অধিক দেশ এসব পণ্য নিষিদ্ধ করেছে। ই-সিগারেট এবং হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্ট (এইচটিপি) বিক্রয় নিষিদ্ধ করা হলে তরুণ এবং কিশোর বয়সীদের ধূমপানে আসক্ত হওয়া থেকে বিরত রাখা যাবে, যা ২০৪০ সালের মধ্যে তামাকমুক্ত বাংলাদেশ অর্জনে সহায়তা করবে।
এ বিষয়ে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের যুগ্ম সচিব (মহাপরিচালক ভারপ্রাপ্ত, জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেল) মো. আখতারউজ-জামান মানবজমিনকে বলেন, আইনটির খসড়া মন্ত্রণালয়ে আছে। এর চেয়ে বেশি কিছু বলতে রাজি হননি তিনি।

mzamin

বাংলাদেশে সবার সমান মর্যাদা ও অধিকার রয়েছে -আসিফ নজরুল

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, এই দেশে আমরা কেউ সংখ্যালঘু না, সংখ্যাগুরু না, আমরা সবাই বাংলাদেশি নাগরিক। সবারই সমান মর্যাদা ও অধিকার নিয়ে থাকবো এবং সকলেই সবার ধর্মের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে যাবো। গতকাল বিকালে সিরাজগঞ্জ পৌর শহরের শ্রী শ্রী মহাপ্রভুর আখড়া পূজামণ্ডপে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে আসিফ নজরুল বলেন, আপনারা কখনো অসহায়বোধ মনে করবেন না। সেইসঙ্গে কোনোদিন রাজনৈতিক দলের ফাঁদে পা দেবেন না। আপনারা বাংলাদেশের নাগরিক, স্বাধীনভাবে মতামত প্রকাশ করবেন। আমাদের সরকারের পক্ষ থেকে যতটুকু করার প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে আমরা করবো। হত্যা মামলার আসামিদের আকস্মিক জামিন হওয়ার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে আসিফ নজরুল বলেন, আমরা সবার ন্যায়বিচার নিশ্চিতের প্রশ্নে বদ্ধপরিকর। জামিন প্রশ্নে আমি শিগগিরই মন্ত্রণালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে কথা বলবো। কিছুদিনের মধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠিত হয়ে যাবে। এই ট্রাইব্যুনালের প্রশিকিউশন টিম জুলাই-আগস্ট পৈশাচিক গণহত্যার প্রচুর আলামত সংগ্রহ করেছে, গণহত্যার বিচার শুরু হলে আমাদের সকল দ্বিধা, প্রশ্ন কেটে যাবে।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শহীদ ও আহতদের শ্রদ্ধা ও স্মরণ করে ড. আফিস নজরুল বলেন, আমাদের এখন সময় নষ্ট করা যাবে না, নতুন বাংলাদেশ গড়তে। আমরা এই দেশের সব ধর্মের মানুষ একসঙ্গে বসবাস করি। গত আন্দোলন কোনো একটি নির্দিষ্ট ধর্মের মানুষের আন্দোলন ছিল না। সব ধর্মের মানুষ এতে অংশ নিয়েছিলেন। এ কারণে এ দেশে সংখ্যালঘু বলতে কিছু নেই। আমরা সবাই বাংলাদেশের নাগরিক। সভায় সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক (ভারপ্রাপ্ত) তোফাজ্জল হোসেন, পুলিশ সুপার ফারুক হোসেন, সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাহিদ হোসেন, জেলা পূজা উদ্‌যাপন কমিটির সভাপতি সন্তোষ কুমার কানু ও জেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি অমর কৃষ্ণ দাস, এডভোকেট কল্যাণ সাহা, এডভোকেট ইন্দ্রজিত সাহা ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক ঈশান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এর আগে, দুপুর ১২টার দিকে জেলার শাহজাদপুরের রবীন্দ্র কাছারি বাড়ি ও তাড়াশ উপজেলার চলন বিল ঘুরে দেখেন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল।

mzamin


‘পূজা কমিটির নেতার অনুরোধে মণ্ডপে যায় ইসলামী গানের দল’

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বন্দর নগরীর জেএম সেন হলের পূজামণ্ডপে গান পরিবেশন করেন ‘চট্টগ্রাম কালচারাল একাডেমি’ নামের একটি সংগীত দলের শিল্পীরা। উপস্থিত দর্শকরা গান উপভোগও করছিলেন। তবে কয়েক ঘণ্টা পরই সেই গান নিয়ে তৈরি হয় তুমুল বিতর্ক। অভিযোগ উঠেছে, চট্টগ্রাম কালচারাল একাডেমি নামে এই গানের দলের সঙ্গে সম্পৃক্ততা রয়েছে জামায়াত শিবিরের। সংগঠনটির দাবি, পূজা উদ্‌যাপন কমিটির যুগ্ম সম্পাদক সজল দত্তের নিমন্ত্রণে তারা মঞ্চে সম্প্রীতির গান গেয়েছিল। পুলিশের পক্ষ থেকেও পূজা উদ্‌যাপন কমিটির এই শিল্পীদেরকে দাওয়াত দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে চট্টগ্রাম কালচারাল একাডেমির ৬ সদস্য জেএম সেন হলে গান পরিবেশন করতে মঞ্চে ওঠেন। তারা সেখানে শাহ আব্দুল করিমের লেখা  বিখ্যাত গান ‘আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম’ এবং চৌধুরী আবদুল হালিমের লেখা ‘শুধু মুসলমানের লাগি আসেনিকো ইসলাম-শীর্ষক গান দু’টি পরিবেশন করেন। এর মধ্যে শুধু মুসলমানের লাগি আসেনিকো ইসলাম গানের একটি খণ্ডিত অংশ ছড়িয়ে পড়ে  ফেসবুকে। আর এতেই শুরু হয় বিতর্ক। ধর্মপ্রাণ হিন্দু সম্প্রদায়ের একটি অংশের দাবি, মণ্ডপে  ইসলামী গান গেয়ে পূজার পবিত্রতা নষ্ট করা হয়েছে। অপরপক্ষের দাবি, এই গানের দল দাওয়াত পেয়ে সেখানে গিয়েছিল। তারা সম্প্রীতির গানই গেয়েছে। আর ছোট একটা বিষয়কে ব্যবহার করে ষড়যন্ত্রকারীরা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার চেষ্টা করছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চট্টগ্রাম মহানগর পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের যুগ্ম সম্পাদক সজল দত্তের নগরের আন্দরকিল্লায় একটা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আছে। তারা ঠিক পাশেই চট্টগ্রাম কালচারাল একাডেমি’র সভাপতি সেলিম জামানের দোকান। মূলত সেই সূত্রেই সেলিমের সঙ্গে সজল দত্তের ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। সেই  সুবাদেই সেলিম জামানের সাংস্কৃতিক সংগঠনকে জেএম সেন মণ্ডপে গান পরিবেশনের জন্য দাওয়াত দেন সজল দত্ত। এ বিষয়ে সেলিম জামান বলেন, পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সজল বাবু আমাদের দাওয়াত দিয়েছিলেন। তিনি ফোন করে বলেন ‘আপনারা একটু আসেন। আপনাদের একটু ফ্লোর দেবো। কিছু দেশাত্মবোধাক গান গাইবেন।’ সে আমন্ত্রণে গিয়ে আমাদের দলটি দুটি সম্প্রীতির গান করে। কিন্তু এটি নিয়ে একটা পক্ষ প্রচারণা চালাচ্ছে ষড়যন্ত্র করতেই আমরা গান করতে গিয়েছি। আমরা তো জোরপূর্বক কিছুই করিনি। দাওয়াত পেয়েই গিয়েছিলাম।

চট্টগ্রাম কালচারাল একাডেমি জামায়াতের কোনো গানের দল কিনা এমন প্রশ্নে সেলিম জামান বলেন, এটি জামায়াতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো সংগঠন নয়। শুদ্ধ সাংস্কৃতিক চর্চার উদ্দেশ্যে ২০১৫ সালে আমাদের গানের দলটি প্রতিষ্ঠিত হয়। এ বিষয়ে চট্টগ্রাম নগর পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হিল্লোল সেন উজ্জ্বল বলেন, যুগ্ম সম্পাদক সজল দত্তের অনুমতি নিয়ে ওই গানের দলটি পূজা মণ্ডপে এসে গান পরিবেশ করেছে বলে জেনেছি। তবে ওই সময় আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম না। সংগঠনটি জামায়াতের কিনা এমন প্রশ্নে হিল্লোল সেন উজ্জ্বল বলেন, এই বিষয়ে আমার জানা নেই। চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ও প্রচার বিভাগের পরিচালক মোরশেদুল ইসলাম চৌধুরী  বলেন, কয়েকটি ছেলে মণ্ডপে গিয়ে  সম্প্রীতির গান গেয়েছে শুনলাম। তবে এদের সঙ্গে জামায়াত বা শিবিরের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

এদিকে মণ্ডপে গান বিতর্কের জেরে বৃহস্পতিবার রাতভর জেএম সেন হলে হিন্দু  সম্প্রদায়ের দু’গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা দেখা যায়। একপর্যায়ে সেনা সদস্যরা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। বর্তমানে শান্তিপূর্ণভাবে  মণ্ডপে পূজা উদ্‌যাপন করা হচ্ছে। এরমধ্যে  গান গাওয়া ২ তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারা হলেন- গান পরিবেশনকারী শহিদুল ইসলাম (৪২) ও নুরুল ইসলাম (৩৪)। শহিদুল নগরীর তানজীমুুল উম্মাহ মাদ্রাসা ও নুরুল করিম দারুল ইফরান মাদ্রাসার শিক্ষক। একই সঙ্গে তাদেরকে  দাওয়াত দেয়ায়  চট্টগ্রাম মহানগর পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের যুগগ্ম সম্পাদক সজল দত্তকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম  মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) মো. রইছ উদ্দিন বলেন, জেএম সেন হলের পূজামণ্ডপে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটছে। সেখানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে একটি ইসলামী গান গাওয়া নিয়ে ফেসবুকে বেশ সমালোচনা হয়। আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, পূজা কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সজল দত্ত চট্টগ্রাম কালচারাল একাডেমির একদল শিল্পীকে অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করার জন্য অনুরোধ করে। তার অনুরোধে শহীদুল করিম (৪২), মো. নুরুল ইসলাম (৩৪), আব্দুল্লাহ ইকবাল (৩০, রনি (২৮) ও গোলাম মোস্তফা ও মো. মামুন (২৭) গান দুইটি পরিবেশন করেন। সেখানে একটি গানের ভাষায় শব্দ চয়ন সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে বলে প্রতীয়মান হয়। পরে পুলিশ এ ঘটনায় তৎপর হয় এবং বৃহস্পতিবার রাতে অভিযান চালিয়ে দুইজনকে আটক করে।

এদিকে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার অভিযোগে পূজা উদ্‌যাপন কমিটির অর্থ সম্পাদক সুকান্ত মহাজন বাদী হয়ে গতকাল সন্ধ্যায় কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের যুগ্ম সম্পাদক সজল দত্তসহ ৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। আসামিদের মধ্যে ৫ জন মণ্ডপে গান গাওয়া শিল্পী।

mzamin

ওয়াশিংটনে পররাষ্ট্র সচিবের সিরিজ বৈঠক: অন্তর্বর্তী সরকারকে সহযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্রের আশ্বাস পুনর্ব্যক্ত

গণতান্ত্রিক সংস্কার ও অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে বাংলাদেশের অন্তবর্তী সরকার গৃহীত উদ্যোগে জোরালো সহযোগিতার আশ্বাস পুনর্ব্যক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটন মনে করে দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধির ক্ষেত্রে ঢাকার সঙ্গে বিদ্যমান সম্পর্ক ও সহযোগিতা জোরদার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ওয়াশিংটন সফররত বাংলাদেশের পররাষ্ট্রসচিব মো. জসীম উদ্দিনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের বিভিন্ন পর্যায়ের বৈঠকে এ বিষয়গুলো আলোচনায় এসেছে। পররাষ্ট্রসচিবের সঙ্গে আলোচনার পর যুক্তরাষ্ট্রের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডলে দেয়া প্রতিক্রিয়ায় বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র সফররত পররাষ্ট্রসচিব জসীম উদ্দিন গত বুধবার রাতে ওয়াশিংটনে পৌঁছান। বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্রসচিবের মূল বৈঠক হয় যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিবিষয়ক ভারপ্রাপ্ত আন্ডার সেক্রেটারি জন বাসের সঙ্গে। এ ছাড়া তাঁর খসড়া সূচিতে ওই দিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক জ্যেষ্ঠ পরিচালক লিন্ডসে ফোর্ড, উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী রিচার্ড ভার্মা, সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডন লিঞ্চের সঙ্গে বৈঠক হওয়ার কথা। এসব বৈঠকের মাঝে তিনি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন। সেখানে অন্যদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লু। রাজনীতিবিষয়ক ভারপ্রাপ্ত আন্ডার সেক্রেটারি জন বাস এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, পররাষ্ট্রসচিব জসীম উদ্দিনের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও সন্ত্রাসবাদ দমনের বিষয়ে আমাদের অভিন্ন লক্ষ্যের বিষয়ে আলোচনার প্রশংসা করি। আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ সহযোগিতার বিশেষ গুরুত্বের বিষয়ে আমরা আলোচনা করেছি। মার্কিন উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী রিচার্ড ভার্মা আলোচনার পর এক্সে লিখেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রসচিব জসীম উদ্দিনের সঙ্গে দেখা হওয়াটা আমার জন্য আনন্দের। তাঁর কাছে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সংস্কার, স্থিতিশীলতা ও অর্থনীতি জোরদারের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছি। এদিকে জনসংখ্যা, শরণার্থী ও অভিবাসনবিষয়ক ভারপ্রাপ্ত সহকারী মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্থা কস্টানজো ইয়ুথ বাংলাদেশের পররাষ্ট্রসচিবের সম্মানে ওয়াশিংটনে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত ডি এম সালাহউদ্দিন মাহমুদের দেওয়া মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন। ওই মধ্যাহ্নভোজের পর মার্থা কস্টানজো তাঁর এক্সে লিখেছেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রসচিবের সঙ্গে চমৎকার আলোচনা হয়েছে। রোহিঙ্গা সংকটের শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশ অংশীদার হিসেবে কাজ করছে। রোহিঙ্গা সংকটে সাড়াদান এবং অন্য দাতারা যাতে আরও বেশি ভূমিকা রাখেন, সে ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র অঙ্গীকারবদ্ধ। স্মরণ করা যায়, গত সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের  সাইড লাইনে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বিরল বৈঠক করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। ওই বৈঠকে তিনি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সংস্কার ও অর্থনৈতিক পুনর্গঠনে জোরালো সহযোগিতার আশ্বাস দেন। এরপর বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানের সঙ্গে দেখা করেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন। সেখানে দুই দেশের সহযোগিতার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এর আগে গত ১৫ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সফর করে গেছে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল। এসব সফর ও বৈঠকের ধারাবাহিকতায় পররাষ্ট্রসচিব এখন ওয়াশিংটন সফর করছেন।
mzamin

মামলা পিছু ছাড়ছে না সিলেটে ‘ভূমির কুতুব’ মহিতোষের by ওয়েছ খছরু

সিলেটের ভূমির মালিকদের কাছে আলোচিত নাম মহিতোষ চন্দ্র দাস। ভূমি জরিপকালে ছিলেন আতঙ্কের নামও। ক’বছর আগে বিতর্ক এড়াতে এই ভূমি জরিপ কর্মকর্তা অবসরে গিয়েছেন। এরপরও তাকে ঘিরে আলোচনা শেষ হয়নি। বরং দিন দিন ডালাপালা মেলছে। এখনো তার ওপর সংক্ষুব্ধ মানুষ। ভূমিতে চাকরি করে হয়েছেন টাকার মালিক। গড়েছেন সম্পদের পাহাড়। এখন অনেকটা আত্মগোপনে রয়েছেন। সম্প্রতি তিনি হয়েছেন মামলার আসামি। সিলেটের আদালতে দায়ের করা মামলা তদন্ত করছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন- পিবিআই। সেটেলমেন্ট কর্মকর্তা থাকাকালে রেকর্ড সংশোধনের পর ছাপা খতিয়ান সৃজন করার নামে কুলাউড়া উপজেলার বাসিন্দা সামসুল হোসেনের কাছ থেকে ৩০ লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছিলেন মহিতোষ। কিন্তু কাজ করেননি। সামসুল ইসলাম একাধিকবার যোগাযোগ করলেও তিনি টাকা পরিশোধ করেননি। এই অবস্থায় সামসুল ইসলামকে এড়িয়ে চলছেন। সামসুল ইসলাম জানিয়েছেন, সিলেট নগরের পনিটোলার বাসভবনে গিয়ে একাধিকবার সন্ধান করলেও তার স্ত্রী শিল্পী রানী ধর ও কাজের লোক দুর্ব্যবহার করেন। দেন নানা হুমকিও। এ অবস্থায় সম্প্রতি ৩০ লাখ টাকা আত্মসাতের দায়ে সিলেট মেট্রোপলিটন ২য় আদালতে মামলা করেছেন তিনি। এ মামলায় মহিতোষের স্ত্রী শিল্পী রানী ধর ও জগন্নাথপুর উপজেলার ভূমি দালাল হিসেবে খ্যাত সময় চন্দ্র দাসকেও আসামি করা হয়েছে। সামসুল জানান, আদালত ন্যায়বিচারের স্বার্থে তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে  (পিবিআই) নির্দেশ প্রদান করায় সাব-ইন্সপেক্টর মোহন লাল দাস তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছেন। তাকে বাদী হিসেবে আমরা সার্বিক সহযোগিতা করছি। সিলেটে বহুল আলোচিত সমালোচিত এ ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এবারই প্রথম মামলা হয়নি। ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, তার বিরুদ্ধে ঘুষ-দুর্নীতি, জালিয়াতির ঘটনায় অনেক মামলা হয়েছে। একাধিক মামলার ঘটনাটি দুদক তদন্তও করেছে। কিন্তু এসব মামলা থেকে মহিতোষ কৌশলে বেরিয়ে যান। সিলেটে এক সময় মহিতোষকে সবাই চিনতেন প্রয়াত রাজনীতিবিদ সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের স্বজন হিসেবে। কেউ কেউ বলতেন সুরঞ্জিতকে ‘ধর্মের পিতা’ হিসেবে মানতেন মহিতোষ। এ কারণে সিলেট সেটেলমেন্টসহ ভূমি সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরে একচেটিয়া প্রভাব খাটিয়েছেন মহিতোষ। তার বাড়ি সুনামগঞ্জের শাল্লায়। পিতা ছিলেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের ডানহাত। ভূমির কয়েকজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সাবেক জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসার সৈয়দ ফারুক আহম্মদ ও মুহাম্মদ ওবায়দুর রহমানের সময় মহিতোষের দাপটে সবাই তটস্থ থাকতেন।

এমনকি সেটেলমেন্ট অফিসাররাও তাকে সমীহ করতেন। আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের সঙ্গে সম্পর্কের কারণে ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরে উপ-সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার বা কানুনগো পদে নিয়োগ লাভের পর সিলেটে যোগদান করেন। এরপর তাকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। মহিতোষ সিলেট সেটেলমেন্টে একক সাম্রাজ্য কায়েম করে অর্ধশত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। নিজ এলাকা শাল্লা ও মামার বাড়ি হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলায় বিঘার পর বিঘা জমির মালিকানাসহ ফিসারিজ ব্যবসাও রয়েছে তার। সিলেট শহরের পনিটোলা, ভাতালিয়া, বিমান বন্দর এলাকা, সালুটিকর, সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের পার্শ্বে, সুনামগঞ্জ শহর, ঢাকার সিদ্ধেশ্বরী, বসুন্ধরা, বনশ্রী ও আফতাবনগর এলাকায় রয়েছে তার বিশাল প্লট ও ফ্ল্যাট। এই সম্পত্তির মূল্য অর্ধশত কোটি টাকারও বেশি। চাকরি জীবনে টাকা দিলে ভূমি রেকর্ড বিভাগে এমন কোনো কাজ নেই যা তিনি করেননি। টাকা দিলে অসম্ভবকে সম্ভব করাই ছিল তার একমাত্র নেশা। সরকারি সম্পত্তি, খেলার মাঠ, সাবেক অতিরিক্ত সচিবের ভূমিসহ সিলেট বিভাগের হাজার হাজার নিরীহ ভূমির মালিকদের নির্ভেজাল ভূমির রেকর্ড অবৈধ পন্থায় পরিবর্তন করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এ দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা। দামি গাড়িতে চড়ে অফিসে যাতায়াত করতেন। তার স্ত্রী ও দুই সন্তানের জন্য রয়েছে আলাদা গাড়ি। কানাডায়ও রয়েছে তার বাড়ি-গাড়ি। সেখানে তার দুই সন্তান বসবাসও করেন। ৫ই আগস্টের প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের আগে কখনো কখনো প্রকাশ্য দেখা গেলেও এখন পুরোপুরি আত্মগোপনে।

সিলেট নগরের পনিটুলা এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, মহিতোষের বাসভবন এলাকার মানুষের জন্য যন্ত্রণার আরেক নাম। পাওনাদাররা সব সময় তার বাসায় আসেন। কিন্তু স্ত্রী ফটকই খুলেন না। এ কারণে প্রতিদিনই মানুষ এসে গালিগালাজ করে যায়। এ গালিগালাজের দৃশ্য এখন এলাকার মানুষের কাছে নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা জানান, পনিটোলার নিজ বাসভবনে গভীর রাতে সবার অগোচরে এলেও ভোর রাতে পুনরায় বাসভবন থেকে চলে যান। সিলেট বিভাগের নিরীহ ভূমির মালিকদের টাকা আত্মসাৎ করে সিলেট, হবিগঞ্জ ও ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপনে থেকে কানাডায় যাওয়ার চিন্তা-ভাবনা করছেন বলে জানান প্রতিবেশীরা। ভুক্তভোগী কয়েকজন জানিয়েছেন, শত শত আবেদন সাবেক প্রধানমন্ত্রী, মুখ্য সচিব, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, জনপ্রশাসন সচিব, ভূমি সচিব, মহাপরিচালক, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা শাখা ও দুদক প্রধান কার্যালয়ে অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি। ২০২০ সালে সরকারি চাকরি  থেকে অবসর গ্রহণ করেন তিনি। দুর্নীতির দায়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের জরিপ শাখা থেকে অবসরোত্তর ছুটি ও থোক বরাদ্দ  মঞ্জুর করা হলেও এখনো স্থায়ী পেনশন মঞ্জুর হয়নি। এই টাকা পেতে তিনি  দৌড়ঝাঁপ করছেন।
তারা জানান, মহিতোষের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে বিভিন্ন সময় ভূমি অফিসের কর্মকর্তা মামলাসহ নানা ধরনের হেনস্থার শিকার হয়েছেন। এখন অনেকেই ফেরারি জীবন কাটাচ্ছেন বলে জানান তারা।

mzamin

এবার খেলোয়াড়দের ওজনের অজুহাত দিলেন পোথাস

ভারত সফর জুড়ে বাংলাদেশ দলের বাজে পারফরম্যান্সের কারণ হিসেবে নানা ধরনের যুক্তি দিয়েছেন ক্রিকেটাররা। কখনো ভারতীয় ক্রিকেটের শানশওকতের কথা, কখনো আইপিএল-বিপিএল’র পার্থক্য। কখনও বা মিরপুরের উইকেটকে ঢাল হিসেবে দাঁড় করিয়েছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। কেউ আবার স্কিলের ঘাটতির কথাও বলেছেন। গতকাল হায়দরাবাদে বাংলাদেশ দলের ফিল্ডিং কোচ নিক পোথাস শোনালেন দুই দলের শারীরিক শক্তির ব্যবধানের কথা।

২ ম্যাচের টেস্ট সিরিজ ২-০ ব্যবধানে হারের পর ৩ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ২টিতে একেবারে পাত্তাই পায়নি বাংলাদেশ। ভারত ঘরের মাঠে টানা ১৬তম টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতে নিয়েছে ১ ম্যাচ হাতে রেখেই। আজ রাজীব গান্ধী স্টেডিয়ামে হবে সিরিজের শেষ ম্যাচ। তার আগে সিরিজ জুড়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং ব্যর্থতার বিষয়টি বারবার এসেছে গতকাল পোথাসের সংবাদ সম্মেলনে। উত্তর দিতে গিয়ে ভারত থেকে শিক্ষা নেওয়ার কথাটা অনেকবার বলেছেন পোথাস। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট যেহেতু, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের ছক্কা মারার সামর্থ্যের বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলে পোথাস দুই দলের খেলোয়াড়দের ওজনের পার্থক্য তুলে ধরে বলেন, ‘কঠিন কথা বললেন। একজন যদি ৯৫-১০০ কেজি ওজনের হয় আর আরেকজন যদি হয় ৬৫ কেজি, তাহলে একজন তো বেশি দূরে বল পাঠাবেই। অবশ্যই এখানে টাইমিং আছে, টেকনিক আছে, সব আছে। আমরা প্রতিনিয়ত কাজও করে যাচ্ছি।’ এরপর ঘুরেফিরে আইপিএলের যুক্তিতে গিয়ে পোথাস বলেন, ‘আইপিএলের দিকেও তাকাতে হবে। আইপিএল দুনিয়ার সেরা টুর্নামেন্ট। প্লেয়ারদের কোয়ালিটি মিলিয়ে দারুণ টুর্নামেন্ট। আইপিএল খেলোয়াড়দের তৈরি করে দেয় আন্তর্জাতিক মঞ্চের জন্য। ফলে এখানে আপনি পুরো ভিন্ন দুটি জিনিসের তুলনা করছেন যে ভারতের কটি ছক্কা এবং আমাদের কটি ছক্কা। এটা অনেকটা এমন হয়ে গেল, ওয়েস্ট ইন্ডিজ কটি ছক্কা মেরেছে আর আমরা কটি। তারা অনেক শক্তিশালী ক্রিকেটার। আমরা স্ট্রেংথ এবং কন্ডিশনিংয়ের দিকে উন্নতি করছি। কিন্তু জেনেটিকস নিয়ে তো আর লড়াই করতে পারবেন না।’ তাই বলে প্রথম দুই টি-টোয়েন্টি ম্যাচে দেড় শও করতে পারবে না বাংলাদেশ? এ প্রশ্নের উত্তরে পোথাস বলেন, ‘আমরা দারুণ প্রতিপক্ষের বিপক্ষে তাদেরই মাঠে খেলছি। আপনি সঠিক বলেছেন। দুই দলের পার্থক্য দেখলে বোঝা যাবে সব। টপ অর্ডারে দেখুন ইমন (পারভেজ হোসেন) ২ ম্যাচ খেলেছে। হ্যাঁ, দলে অভিজ্ঞরাও আছে।’ পরে অবশ্য নিজেদের ব্যর্থতা মেনে নিয়ে ফিল্ডিং কোচ বলেন, ‘আমরা প্রত্যাশা অনুযায়ী ব্যাটিং করতে পারিনি। অবশ্যই ১৭০-১৮০ রান করতে পারতাম। তারা ২২০ করুক বা যাই করুক, সেটা বোলিংয়ের ব্যাপার। সেটা আমি মেনে নিচ্ছি। আমাদের আরও বেশি রান করা দরকার ছিল। দারুণ উইকেট ছিল। ভারতও অনেক ভালো বল করেছে। আমরাও ম্যাচের অনেক সময়ে অনেক সুযোগ নিতে পারিনি।’

রিয়াদের বিষয়ে নিশ্চুপ
দেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি ১৪০টি ম্যাচ খেলা মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ আজ টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটকে বিদায় বলবেন। রিয়াদকে বিদায় জানাতে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের পক্ষ থেকে কোনো আয়োজন থাকাই স্বাভাবিক। কিন্তু হায়দরাবাদে গতকাল সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ দলের ফিল্ডিং কোচ নিক পোথাস পরিষ্কার করে কিছু বলতে চাইলেন না। তার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, মাহমুদউল্লাহকে বিদায়ী ম্যাচে কোনো সংবর্ধনা দেওয়া হবে কি না কিংবা এমন কোনো আয়োজন আছে কি না?  পোথাস এই প্রশ্নের উত্তরে বলেন, ‘দুঃখিত, এটা (দলের) অভ্যন্তরীণ ব্যাপার।’

mzamin

দীপ্ত টিভি’র কর্মকর্তা খুন: গ্রেপ্তার ৫, ওসি প্রত্যাহার

রাজধানীর রামপুরার মহানগর প্রজেক্ট এলাকায়  দীপ্ত টেলিভিশনের সম্প্রচার বিভাগের কর্মকর্তা তানজিল জাহান ইসলাম তামিম হত্যার অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহতের বাবা সুলতান আহমেদ বাদী হয়ে হাতিরঝিল থানায় হত্যা মামলা করেন। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- আব্দুল লতিফ (৪৬), কুরবান আলী (২৪), মাহিন (১৮), মোজাম্মেল হক কবির (৫২) ও বাঁধন (২০)। ফ্ল্যাটের মালিকানা নিয়ে বৃহস্পতিবার সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হন তামিম। এ ঘটনায় প্রাথমিকভাবে ডেভেলপার কোম্পানির মালিক এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) এক কর্মকর্তা ও বিএনপি নেতা শেখ রবিউল আলমের সম্পৃক্ততা পেয়েছে পুলিশ এবং দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলামকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। গতকাল রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি’র মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. রুহুল কবির খান।

বলেন, ডেভেলপার জমির মালিককে ফ্ল্যাটটি বুঝিয়ে দেয়ার পরেও তৃতীয়পক্ষের কাছে বিক্রি করে দেয়। এটা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। বৃহস্পতিবার সকালে জমির মালিক ভবনের সাত তলায় নিজের ফ্ল্যাটে কাজ করতে যায়। মামুনের সহযোগিতায় ডেভেলপার কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল লতিফসহ ২০ থেকে ২৫ জনকে নিয়ে দীপ্ত টিভি’র সম্প্রচার কর্মকর্তা ও জমির মালিকের ছেলে তানজিল জাহান ইসলাম তামিমের ওপর হামলা করে। আহত অবস্থায় তামিমকে মনোয়ারা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নিহতের বাবা সুলতান আহমেদ বাদী হয়ে হাতিরঝিল থানায় মামলা করেন। মামলার পরপরই অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন- মো. আব্দুল লতিফ (৪৬). কুরবান আলী (২৪), মাহিন (১৮), মোজাম্মেল হক কবির (৫২) ও বাঁধন (২০)।

বিএনপি’র প্রভাবশালী নেতার ডেভেলপার কোম্পানির মালিকের ইন্ধনে তামিমের ওপর হামলার অভিযোগ তুলেছে নিহতের পরিবার। এ ছাড়া এ ঘটনায় মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। এক প্রশ্নের জবাবে রুহুল কবির খান বলেন, রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনায় দেখছি না। আমরা অপরাধ ও অপরাধী হিসেবে দেখছি। সে যে ই হোক তার দায় থাকলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে আমরা চার্জশিট দেবো। আমরা প্রাথমিকভাবে তার সম্পৃক্ততা পাচ্ছি। এই ঘটনায় কার কী ভূমিকা ছিল তা তদন্তে উঠে আসবে। এ ছাড়া, মাদকের ওই কর্মকর্তাকে মামলার ১ নম্বর আসামি করা হয়েছে। আমরা তার সম্পৃক্ততার বিষয় তদন্ত করে দেখবো। বিএনপি নেতা রবিউল তিন নম্বর আসামি।

তিনি বলেন, জমির মালিকের সঙ্গে ডেভেলপার কোম্পানির দ্বন্দ্ব, সুতরাং তার তো দায় থাকবে। বাকিটা তদন্তে উঠে আসবে। এই ঘটনায় রাজনৈতিক প্রভাব থাকায় পুলিশ ব্যবস্থা নেয়নি। এ প্রশ্নের জবাবে রুহুল কবীর বলেন, হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) দায়িত্বে অবহেলার দায়ে ইতিমধ্যে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে তার অবহেলা পেয়েছি। ওই জমির মালিক নিহত তামিমের বাবা। সেখানে ভবন নির্মাণের জন্য প্লিজেন্ট প্রোপার্টিজের সঙ্গে তাদের যে চুক্তি হয়, তাতে জমির মালিককে পাঁচটি ফ্ল্যাট দেয়ার কথা ছিল। এ পর্যন্ত ডেভেলপার কোম্পানির দুটি ফ্ল্যাট হস্তান্তর করেছে, বাকি তিনটির মধ্যে একটি ফ্ল্যাট মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মামুনের শ্বশুরের কাছে বিক্রি করে প্লিজেন্ট প্রোপার্টিজ। এ নিয়েই গত তিন বছর ধরে দুই পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। ঘটনার বিস্তারিত তদন্তের জন্য গ্রেপ্তারকৃতদের রিমান্ড আবেদনসহ বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ছাড়া এজাহারনামীয় অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

mzamin

মাধ্যমিক শিক্ষার্থীপ্রতি ব্যয়: এক বছরে বেড়েছে ৫১ শতাংশ

বাংলাদেশের মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে মাত্র ১১ শতাংশ শিক্ষার্থী আইসিটি সরঞ্জাম ব্যবহার করতে পারে। আর প্রাথমিকে এই সরঞ্জাম ব্যবহারের হার মাত্র ১.৫ শতাংশ। ২০২৩ সালের বাংলাদেশের এডুকেশন ওয়াচ প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। এতে দেখা যায়, ২০২৩ সালের প্রথম ৬ মাসে পারিবারিক শিক্ষার ব্যয় ২০২২ সালের তুলনায় প্রাথমিক স্তরে ২৫ শতাংশ ও মাধ্যমিক স্তরে ৫১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

এডুকেশন ওয়াচ ২০২৩ সালের তথ্যের উপর ভিত্তি করে সম্প্রতি তাদের প্রতিবেদন প্রকাশ পায়। এটি প্রকাশ করে গণসাক্ষরতা অভিযান। এতে সারা দেশের ১৬ জেলার শহর ও গ্রামাঞ্চলসহ ১২৮টি স্কুলের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এতে শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গসহ মোট ৭ হাজার ২২৫ জন উত্তর দেন। প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২০ সালে বিদ্যালয়ে থাকা দ্বিতীয় শ্রেণির ৪.৫ শতাংশ এবং ষষ্ঠ শ্রেণির ৬ শতাংশ শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয়ে পাওয়া যায়নি। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের তিন চতুর্থাংশেরও বেশি শিক্ষার্থী প্রাইভেট টিউটর বা কোচিংয়ের সঙ্গে যুক্ত। আর শিক্ষার্থীরা (প্রাথমিক ৯২ ও মাধ্যমিক ৯৩ শতাংশ) প্রায় সকলেই বাণিজ্যিক গাইড বইয়ের উপর নির্ভরশীল। প্রাথমিকের ৪১ শতাংশ ও মাধ্যমিকের ৫৮ শতাংশ শিক্ষার্থীর ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ ছিল। উভয় পর্যায়ের দুই তৃতীয়াংশ শিক্ষকের ‘ব্লেন্ডেড লার্নিং’ পদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা নেই।

২০২২ সালে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীর জন্য পরিবার বার্ষিক গড় ব্যয় ছিল ১৩ হাজার ৮৮২ টাকা, মাধ্যমিকে ২৭ হাজার ৩৪০ টাকা। ২০২৩ সালের প্রথম ৬ মাসে পারিবারিক শিক্ষার ব্যয় ২০২২ সালের তুলনায় প্রাথমিক স্তরে ২৫ শতাংশ ও মাধ্যমিক স্তরে ৫১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রাথমিক স্তরে ৪১ শতাংশ অভিভাবক এবং মাধ্যমিক স্তরের ১৭ শতাংশ অভিভাবক বলেন, প্রতি সন্তানের তাদের মাসিক ব্যয়ের সামর্থ ছিল ২ হাজার টাকার মধ্যে। যা ২০২২ ও ২০২৩ সালের গড় ব্যয়ের তুলনায় অনেক কম।

উপজেলা পর্যায়ে তত্ত্বাবধায়নের জন্য শিক্ষা কর্মকর্তাদের আওতাভুক্ত স্কুলের সংখ্যার তারতম্য রয়েছে। উপজেলার তত্ত্বাবধানে প্রাথমিক স্তরে ৩৮টি থেকে সর্বোচ্চ ২৮৫টি বিদ্যালয় রয়েছে। মাধ্যমিক স্তরে যা ৯টি থেকে সর্বোচ্চ ১০৪টি। বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে প্রাথমিকে ১১ শতাংশ এবং মাধ্যমিকে ২৫.৪ শতাংশ শ্রেণিকক্ষে আইসিটি এবং এ সংক্রান্ত উপকরণ ছিল। ৬৭.২ শতাংশ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে একটি পরীক্ষাগার রয়েছে। তবে গ্রামীণ এলাকায় ২৮ শতাংশ একটি বিজ্ঞানাগার রয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে ৫ এবং মাধ্যমিক পর্যায়ে ৮ শতাংশ বিদ্যালয়ে নিজস্ব মিড-ডে মিল চালু করেছে। নিষিদ্ধ হওয়ার পরও ৯ শতাংশ প্রাথমিকে ও ১৬ শতাংশ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষে বেত দেখা গেছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে মাল্টিমিডিয়ার সরঞ্জাম ব্যবহার অত্যন্ত নগণ্য। প্রাথমিকে মাত্র ১.৫ শতাংশ আর ১১ শতাংশ মাধ্যমিকে।

এতে বেশকিছু সুপারিশ করা হয়। অন্যতম হলো উপবৃত্তি ও পরিকল্পিত আর্থিক সহায়তা বৃদ্ধি, বিবাহিত মেয়েদের উপবৃত্তি প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বৈষম্যমূলক নিয়ম বাদ দেয়া, শ্রেণিকক্ষে মনিটরিং, প্রাইভেট টিউটরিং এবং গাইড বই নির্ভরতা কার্যকরভাবে হ্রাস করা, মুখস্থ নির্ভর শিখন থেকে নিবৃত করা, স্কুল কর্তৃক আনুষ্ঠানিক-অনানুষ্ঠানিক ফি নিয়ন্ত্রণ করা, স্কুল মিল কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা, কানেক্টিভিটি, হার্ডওয়্যার, ডিজিটাল কন্টেন্ট, রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রযুক্তি সহায়তায় ব্লেন্ডেড লার্নিং সম্প্রসারণ করা, সরকারি বাজেট বৃদ্ধি ইত্যাদি।

mzamin

১৬ বছর দেশের ১৮ কোটি মানুষ মজলুম ছিলেন -সিলেটে আমীরে জামায়াত

শুধু জামায়াতে ইসলামী নয়, গত ১৬ বছর দেশের ১৮ কোটি মানুষ মজলুম ছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতের আমীর ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন; এই সময়ে দেশের প্রতিটি মানুষ কোনো না কোনোভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। কিন্তু যারা এসব করেছে তারা এখন মুখ দেখাতে পারে না। প্রশ্ন রেখে ডা. শফিকুর রহমান বলেন- যদি মুখ দেখাতে না পারেন তাহলে এই জীবনের মূল্য কি? একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে  তাদের কর্মকাণ্ডে আমিও লজ্জিত। তিনি গতকাল সন্ধ্যায় সিলেটের দক্ষিণ সুরমার কুশিয়ারা ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন হলে সিলেট জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত সুধী সমাবেশ প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন। ডা. শফিকুর রহমান বলেন- আমরা যারা রাজনীতি করি তাদের সবার উচিত জাতিকে ভালোবাসা। জাতির ভালোবাসা বাদ দিয়ে যদি নিজেদের আত্মতুষ্টি নিয়ে থাকি তাহলে জাতির সঙ্গে প্রতারণা করা হবে। সুতরাং জাতীয় স্বার্থে সবাইকে এক ও ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। তিনি উপস্থিত সুধী সমাজকে আহ্বান জানিয়ে বলেন- ঐক্যমতের জাতিকে কোনো ষড়যন্ত্রকারী পরাস্থ করতে পারবে না। এজন্য দেশের মানুষের মধ্যেও ঐক্যবদ্ধ জাতি গড়ার প্রয়াস থাকতে হবে। জাতীয় স্বার্থে রাজনৈতিক দলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার প্রেরণা যোগাতে হবে। তিনি বলেন- বর্তমানে যারা রাষ্ট্র পরিচালনায় আছেন তারা কিছু সংস্কার করবেন। সংস্কারের পর একটি গ্রহণযোগ্য ও সুষ্ঠু নির্বাচন দেয়া প্রধান কাজ।

সিলেট মহানগর জামায়াত আয়োজিত সুধী সমাবেশে কয়েকটি রাজনৈতিক দলের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া সিলেটের বিভিন্ন পর্যায়ের সুধীজনরা অংশ নেন। সুধী সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন নগর জামায়াতের আমীর মো. ফখরুল ইসলাম। নগরের সেক্রেটারি মো. শাহজাহান আলীর পরিচালনায় সুধী সমাবেশে বক্তব্য রাখেন- দলের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের আমীর মো. সেলিম উদ্দিন, মজলিস শূরার সদস্য ও ইবনে সিনার চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান, সিলেট দক্ষিণ জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক আব্দুল হান্নান, উত্তরের আমীর হাফিজ আনোয়ার হোসেন খানসহ দলের সিনিয়র নেতারা। এর আগে বিকাল ৩টায় একইসঙ্গে কর্মিসভার আয়োজন করা হয়। এতে জামায়াতের আমীর বলেন- ৫ই আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের ক্রেডিট কোনো দলের নয়, এর ক্রেডিট শুধু ছাত্র-জনতার। ছাত্র-জনতা বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়ে দেশকে ফ্যাসিবাদ মুক্ত করেছে। যদিও এর পেছনে আমাদের অনেক শহীদের ত্যাগ রয়েছে। ২০০৯ সালে বিডিআর বিদ্রোহে ৫৭ জন মেধাবী সেনা অফিসারের ত্যাগ দিয়ে যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল ৫ই আগস্ট হাজারো শহীদের রক্তের বিনিময়ে ফ্যাসিবাদের পতনের মধ্যদিয়ে শেষ হয়েছে। ৫ই আগস্ট পরবর্তী সময়ে দেশে একটি সাময়িক পরিবর্তন হয়েছে। একে স্থায়ী রূপ দিতে হলে প্রয়োজন সৎলোকের শাসন ও আল্লাহর আইন। যেখানে দল-মতের ঊর্ধ্বে সকল নাগরিক সমান অধিকার ভোগ করবে। আমরা কাজের মাধ্যমে দেশবাসীর প্রকৃত ভালোবাসা অর্জন করতে চাই। সংখ্যালঘু-সংখ্যাগুরু ভেদাভেদ চাই না। এমন সমাজ গঠন করতে চাই যেখানে মসজিদের মতো মন্দিরেও পাহারার প্রয়োজন হবে না।

যদি কেউ আমাদের সম্প্রীতি নষ্ট করতে চায় তাহলে ঐক্যবদ্ধভাবে তাদের রুখে দিতে হবে। দেশকে ভালোবাসতে হলে প্রথমে নিজেকে বদলাতে হবে। দীর্ঘদিন পর প্রকাশ্যে কর্মী সম্মেলনকে কেন্দ্র করে সিলেট মহানগর জামায়াতের সকল স্তরের নেতাকর্মীদের মাঝে প্রাণচাঞ্চল্য দেখা দেয়। বেলা ৩টার আগেই কুশিয়ারা কনভেনশন হলের ভেতর লোকে লোকারণ্য হয়। উপস্থিত কর্মীদের জনস্রোতে এক সময় হলের বাহিরও কানায় কানায় পরিপূর্ণ হতে দেখা গেছে। মাজেদ মাহফুজের পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্যদিয়ে সূচিত সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন- জামায়াতের সিলেট অঞ্চল টিম সদস্য হাফিজ আব্দুল হাই হারুন, ইস্ট লন্ডন মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা আলিম হোসেন খান, সিলেট মহানগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি এডভোকেট মোহাম্মদ আব্দুর রব, ড. নুরুল ইসলাম বাবুল ও জাহেদুর রহমান চৌধুরী, সাবেক ছাত্রশিবির নেতা সুলতান আহমদ ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির সিলেট মহানগর সভাপতি শরীফ মাহমুদ প্রমুখ। সম্মেলনে একক ইসলামী সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী রাসেদুল হাসান রাসেল। সম্মিলিত কণ্ঠে ইসলামী সংগীত পরিবেশন করেন সিলেট সাংস্কৃতিক সংসদের শিল্পীবৃন্দ। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, দেড় যুগ পর দেশ ফ্যাসিবাদ মুক্ত হয়েছে। হাজার শহীদের রক্তের বিনিময়ে ফ্যাসিবাদ মুক্ত দেশ গঠনে আমরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে চাই। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, ৫ই আগস্ট পরবর্তী দেশে ইসলাম ও ইসলামী আন্দোলনের প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়ছে। আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমানসহ জামায়াত নেতৃবৃন্দ যেখানেই যাচ্ছেন মানুষের বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস দেখতে পাচ্ছি।

mzamin

রপ্তানি রেমিট্যান্সে ইতিবাচক রিজার্ভ

গত ৫ই আগস্টের শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। তারা সেই প্রতিশ্রুতি রেখেছেন। এতে প্রতি মাসেই রেমিট্যান্স আসা বেড়েই চলেছে। অন্যদিকে শীর্ষ রপ্তানি খাত তৈরি পোশাক শিল্পে শ্রমিক অসন্তোষের পরও গত মাসে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি বেড়েছে ১৬.২৭ শতাংশ। এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের কঠোর তদারকির কারণে অযৌক্তিক আমদানি বন্ধ হয়েছে। সব মিলিয়ে রপ্তানি আয় এবং রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণও বাড়ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে এমন চিত্র উঠে এসেছে।

বাড়ছে রেমিট্যান্স: গত জুলাইয়ে কোটা সংস্কার নিয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে দেশ জুড়ে সংঘাত-সংঘর্ষ, কারফিউ ও ইন্টারনেট বন্ধের প্রেক্ষাপটে বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাবে না বলে হুমকি দেন প্রবাসীরা। প্রতিবাদ হিসেবে দেশে বৈধপথে ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স না পাঠানোর বিষয়ে ক্যাম্পেইন করেছেন অনেক প্রবাসী। যার প্রভাব পড়েছিল প্রবাসী আয়ে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে দেশে ১৯০ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা, যা ছিল গত ১০ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। নতুন সরকার গঠনের পর আবার দেশ গঠনে বৈধপথে রেমিট্যান্স পাঠানোর বিষয়ে ক্যাম্পেইন শুরু করেন অনেক প্রবাসী বাংলাদেশি। ফলে আবারো প্রবাসী আয় বাড়তে শুরু করে। আগস্ট মাসে দেশে প্রবাসী আয় বেড়ে দাঁড়ায় ২২২ কোটি ডলারে (২.২২ বিলিয়ন)। গত সেপ্টেম্বর মাসে দেশে বৈধপথে ব্যাংকিং চ্যানেলে ২৪০ কোটি ৪৮ লাখ (২.৪০ বিলিয়ন) ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। দেশীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ ২৮ হাজার ৮৫৭ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১২০ টাকা ধরে)। কোনো একক মাসে এত প্রবাসী আয় গত ৪ বছরের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। গত জুন মাসে ব্যাংকিং চ্যানেলে ২৫৪ কোটি ডলার এবং তারও আগে ২০২০ সালের জুলাইয়ে ২৫৯ কোটি ৮২ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে দেশে ১৯১ কোটি ৩৫ লাখ ৮০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা আগের ১০ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। এর আগে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৩৩ কোটি ডলার।

রপ্তানি বাড়াছে: জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে পণ্য রপ্তানির হিসাব অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে ৩৮৬ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। গত বছরের সেপ্টেম্বরে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৩৩২ কোটি ডলার। এনবিআরের তথ্যানুযায়ী, গত জুলাইয়ে ৩৮২ ও আগস্টে ৪০৭ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। তখন রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি ছিল যথাক্রমে ৩ ও ৫ শতাংশ। সব মিলিয়ে চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রথম ৩ মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ১ হাজার ১৭৫ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭.৮৯ শতাংশ বেশি।

বাড়ছে রিজার্ভ: বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ৮ই অক্টোবর গ্রস (মোট) রিজার্ভ ২ হাজার ৪৯৭ কোটি ডলার বা ২৪.৯৭ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। আর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী রিজার্ভ এখন ১ হাজার ৯৮২ কোটি ডলার (১৯.৮২ বিলিয়ন)। গত সপ্তাহে অর্থাৎ ২রা অক্টোবর গ্রস রিজার্ভ ছিল ২৪.৭৪ বিলিয়ন এবং বিপিএম-৬ ছিল ১৯.৭৬ বিলিয়ন ডলার। সেই হিসাবে রিজার্ভ সামান্য বেড়েছে। গ্রস রিজার্ভ ও বিপিএম-৬ এর বাইরে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিট বা প্রকৃত রিজার্ভের আরেকটি হিসাব রয়েছে, যা শুধু আইএমএফকে দেয়া হয়। প্রকাশ করা হয় না। দেশে চলমান সংকট কাটাতে রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি না করার ঘোষণা ছিল বাংলাদেশ ব্যাংকের। কিন্তু চাহিদা ঠিক রাখতে গিয়ে প্রতিশ্রুতি উপেক্ষা করে চলতি সেপ্টেম্বরেও রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মধ্যদিয়ে চলতি অর্থবছরের এ পর্যন্ত প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার বিক্রি করেছে। তবে এখন রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি অনেকটা বন্ধ আছে।

এ বিষয়ে সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, বৈশ্বিক আর্থিক সংকটে আমাদের সমস্যা হয়নি, আমরা ভাগ্যবান। চার-পাঁচটি পরিবার ব্যাংক থেকে ২ লাখ কোটি টাকা নিয়ে গেছে। এতে অর্থনীতিতে মন্দা নেমে আসতে পারতো, সেটা হয়নি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি করলে ৬ মাস পর শ্রীলঙ্কার মতো পরিস্থিতি হয়ে যাবে। এটা কোনো সমাধান হতে পারে না। এ জন্য আমাদের কিছুদিন কষ্ট করতে হবে।

অর্থনীতিবিদরা বলেন, রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি পুরোপুরি বন্ধ করার কারণে এখন থেকে ধীরে ধীরে রিজার্ভেরও উন্নতি হচ্ছে। সিন্ডিকেট ভেঙে যাওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকের কঠোর অবস্থানের কারণে ডলার বাজারে স্থিতিশীলতা বিরাজ করছে। রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয়ে আশানুরূপ প্রবৃদ্ধির ফলে রিজার্ভের পতন ঠেকানো সম্ভব হয়েছে। এ ছাড়া বিশ্বব্যাংক, এডিবিসহ বিভিন্ন দাতাগোষ্ঠীর পক্ষ থেকে নতুন করে ঋণ সহায়তার প্রতিশ্রুতি মিলেছে।

mzamin