Tuesday, February 14, 2017

ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার পদত্যাগ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইকেল ফ্লিন পদত্যাগ
করেছেন। আজ মঙ্গলবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।

ট্রাম্পের মন কী জানি কেমন

আধুনিক কালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো আর কোনো প্রেসিডেন্টকে নিয়ে এত বিচার-বিশ্লেষণ হতে দেখা যায়নি। বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্টকে নিয়ে ঔৎসুক্য-কৌতূহলের শেষ নেই। বিশ্বের অন্যান্য দেশের নেতারা ট্রাম্পকে বলতে গেলে চেনেন না। তাঁরা তাঁকে পড়তে পারেন না। তাঁর মতিগতি বোঝেন না। ট্রাম্প কখন কী বলেন, কখন কী করেন, তা অনুমান করা কঠিন।
কথাবার্তা, আচার-আচরণ, ভাবভঙ্গি, চিন্তাভাবনায় ট্রাম্প যেন এক ‘দুর্বোধ্য’ প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্পকে নিয়ে বিশ্বনেতারা প্রকাশ্যে-অপ্রকাশ্যে উদ্বিগ্ন। কূটনীতিবিদেরা বিভ্রান্ত। এ কারণে সবাই ট্রাম্পের প্রতিটি কর্মকাণ্ডের দিকে সূক্ষ্ম নজর রাখছেন। তাঁকে বোঝার চেষ্টা করছেন। গত ২০ জানুয়ারি ক্ষমতায় বসে রাজনীতি-কূটনীতির চিরচেনা নিয়মকানুন অগ্রাহ্য করছেন ট্রাম্প। ওলট-পালট করা সব সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। তাঁর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দেশে-বিদেশে বিক্ষোভ-প্রতিবাদ হচ্ছে। কূটনীতিকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের অনুষ্ঠান, সভা-সেমিনার, এমনকি সাধারণ মানুষের আলোচনায়ও থাকছেন ট্রাম্প। তাঁর পদক্ষেপ নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ হচ্ছে। বিশ্লেষণ থেকে ট্রাম্পের মনও বাদ পড়ছে না। মার্কিন রাজনীতিতে রুশবিরোধী মনোভাব প্রবল। অথচ নির্বাচনী প্রচারপর্ব থেকেই ট্রাম্প রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। তিনি রাশিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়তে আগ্রহী। ক্ষমতায় বসার আগেই গত বছরের ডিসেম্বরে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ফোনে কথা বলে চীনকে চটিয়ে দেন ট্রাম্প। এই ঘটনার পর ট্রাম্পের আমলে চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধ তুঙ্গে ওঠার আশঙ্কা করা হচ্ছিল। সেই ট্রাম্পই আবার সম্প্রতি চীনা প্রেসিডেন্টকে চিঠি লিখেছেন। প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। ‘এক চীন’ নীতিতে যুক্তরাষ্ট্র অটল থাকবে বলে তাঁকে জানিয়েছেন ট্রাম্প। ট্রাম্প এমন সব কাণ্ডকীর্তি করছেন, যা আগের কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টকে করতে দেখা যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রের পুরোনো মিত্রদের হুমকি, বড় বড় করপোরেশনকে ধমকি, সরকারি কর্মকর্তাদের চোখরাঙানির মতো কাজ ট্রাম্পকে করতে দেখা গেছে। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী ম্যালকম টার্নবুলের সঙ্গে ফোনালাপের সময় এক হাস্যকর কাণ্ড ঘটান ট্রাম্প। তিনি রেগে ফোন কেটে দেন। আবার মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট এনরিক পেনা নিয়েতোর সঙ্গে ফোনালাপেও ট্রাম্প রূঢ় আচরণ করেন। ইরানের সঙ্গে পাঁচ বিশ্বশক্তির সম্পাদিত পরমাণু চুক্তি নাকচ করার কথা নির্বাচনী প্রচারের সময়ই বলেছিলেন ট্রাম্প। ক্ষমতায় বসার পর ইরানের সঙ্গে ট্রাম্পের যুক্তরাষ্ট্রের টানাপোড়েন শুরু হয়ে গেছে। ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার জেরে দেশটির ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন তিনি। নির্বাহী আদেশে মুসলিমপ্রধান যে সাত দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা দেন তিনি, তার মধ্যে ইরান অন্যতম।
ক্ষমতায় বসতে না বসতেই বিচারকদের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়েছেন ট্রাম্প। তাঁর আরোপ করা ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার ওপর স্থগিতাদেশ দেওয়ায় সিয়াটলের এক বিচারককে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করেন তিনি। সংশ্লিষ্ট বিচারককে ‘তথাকথিত বিচারপতি’ আখ্যা দিয়ে তাঁর সিদ্ধান্তকে ‘হাস্যকর’ বলে বর্ণনা করেন ট্রাম্প। বিচারককে নিয়ে এমন মন্তব্যের পর সংবিধান ও বিচারপতিদের প্রতি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের শ্রদ্ধাবোধ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সানফ্রান্সিসকোর আপিল আদালতও ট্রাম্পের অভিবাসনসংক্রান্ত নির্বাহী আদেশের ওপর স্থগিতাদেশ বহাল রাখেন। আপিল আদালতের রায়কে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে অভিহিত করেন ট্রাম্প। ঘোষণা করেন, ‘আদালতেই দেখা হবে।’ পরে হোয়াইট হাউস থেকে জানানো হয়, ট্রাম্প নতুন নির্বাহী আদেশ জারি করবেন। এই ঘোষণার পরক্ষণই বলা হয়, ট্রাম্প সুপ্রিম কোর্টে যাবেন। আবার আরেক ঘোষণায় জানানো হয়, ট্রাম্প নতুন আদেশ জারি করবেন, সুপ্রিম কোর্টেও যাবেন। ট্রাম্পের সঙ্গে গণমাধ্যমের ‘সাপে-নেউলে’ সম্পর্ক। তাঁকে নিয়ে বিপদেই আছে মার্কিন গণমাধ্যম। তিনি সাংবাদিকদের ‘অসৎ’ বলে গাল দিয়েছেন। গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চলছে বলেও জানিয়েছেন। তাঁর প্রধান উপদেষ্টা স্টিভ ব্যানন গণমাধ্যমকে ‘বিরোধী দল’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে গেছে যে ট্রাম্প ও তাঁর প্রশাসনের খবর লেখার কৌশল নিয়ে গণমাধ্যমকে ভাবতে হচ্ছে। নিন্দুকেরা ট্রাম্পকে ‘আত্মকামী’ বা ‘আত্মম্ভরি’ প্রেসিডেন্ট বলেন। তিনি সব সময় আলোচনায় থাকতে চান। থাকতে চান ‘এক নম্বরে’। অনেকের ভবিষ্যদ্বাণী, ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত টিকতে পারবেন না। ট্রাম্পের আত্মবিনাশ দেখতেও অনেকে উন্মুখ। যে যেমনই ভাবুক বা বলুক না কেন, ট্রাম্প চলছেন ‘ট্রাম্পের মতো’। ‘আমেরিকা প্রথম’ স্লোগান ঢাল করে নানান সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন তিনি। ট্রাম্পের মন বদলাতে সময় লাগে না। তাই তাঁর জামানায় ঠিক কী কী ঘটবে, এখনই তা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব না। রয়টার্স, এএফপি, বিবিসি ও দ্য ইনডিপেনডেন্ট অবলম্বনে।

অভিবাসন নিয়ে ট্রাম্পের নতুন ঘোষণা আসছে

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন ঘোষণা আসছে বলে নিশ্চিত করেছেন তাঁর একজন শীর্ষ সহযোগী। পূর্বঘোষণা অনুযায়ী, গতকাল সোমবারই (বাংলাদেশ সময় গতকাল গভীর রাতে) ট্রাম্প তাঁর এই নতুন উদ্যোগের বিষয়টি জানাতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছিল। গতকালই প্রতিবেশী কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর যুক্তরাষ্ট্রে সফরে যাওয়ার কথা। তাঁর সঙ্গে আলাপের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অভিবাসী নিয়ে নতুন ঘোষণা দেওয়ার কথা। সাত মুসলিমপ্রধান দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ সাময়িক নিষিদ্ধ করে ট্রাম্পের দেওয়া নির্বাহী আদেশ আদালত স্থগিত করে দেওয়ায় ক্ষুব্ধ ট্রাম্প আগেই বলেছিলেন, তিনি এ বিষয়ে নতুন ব্যবস্থা নেবেন। হোয়াইট হাউস সূত্র বলেছে, তাদের সামনে দুটি পথ খোলা। হয় ফেডারেল আদালতের স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে  জরুরি আপিল করতে হবে, না হয় ট্রাম্পকে নতুন করে অভিবাসন নিয়ে নির্বাহী আদেশ দিতে হবে। তবে শেষোক্ত বিকল্পটিই ট্রাম্প বেছে নেবেন বলে গতকাল এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মনে করা হচ্ছিল। কারণ শুক্রবার ট্রাম্প নিজেই এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত ২৭ জানুয়ারি এক নির্বাহী আদেশে মুসলিমপ্রধান সাতটি দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ ৯০ দিনের জন্য নিষিদ্ধ করেন।
এর বাইরে সিরিয়া বাদে বিশ্বের সব দেশের শরণার্থীদের জন্য ১২০ দিন এবং সিরীয় শরণার্থীদের জন্য অনির্দিষ্টকাল যুক্তরাষ্ট্রে ঢোকা বন্ধ করে দেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আপিল আদালত ট্রাম্পের এই আদেশ স্থগিত করে দেন। এর ফলে আগে থেকেই যাঁরা যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পেয়েছিলেন, তাঁরা এখন ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে পারছেন। এখন তাঁদের কীভাবে ঠেকানো যায়, সেটাই খতিয়ে দেখছে হোয়াইট হাউস। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের শীর্ষস্থানীয় সহযোগী স্টিফেন মিলার রোববার ‘ফক্স নিউজ সানডে’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ‘নিরাপত্তার স্বার্থে’ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ‘সব ধরনের বিকল্প গ্রহণের’ চিন্তাভাবনা করছেন। মিলার বলেন, তাঁর বিশ্বাস প্রেসিডেন্ট ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারির মাধ্যমে তাঁর কর্তৃত্বের বাইরে কিছু করেননি। এনবিসির ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে স্টিফেন মিলার বলেন, ‘শুধু অভিবাসন বিষয়টিকে বাহন হিসেবে ব্যবহার করে মার্কিন মূল্যবোধবিরোধী লোকজন যাতে যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকে পড়তে না পারে, সে জন্য আমরা নতুন এবং বাড়তি কিছু ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাবছি।’ ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ আদালত স্থগিত করার পর গত সপ্তাহজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে অবৈধ অভিবাসীদের ধরপাকড় করা হয়েছে। কয়েকজনকে ইতিমধ্যে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এতে অভিবাসীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ট্রাম্পের এই অভিবাসননীতির বিরুদ্ধে গতকাল প্রতিবেশী মেক্সিকোজুড়ে বিক্ষোভ হয়েছে।

বিপাকে ট্রাম্পের উপদেষ্টা ফ্লিন

রাশিয়ার ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া নিয়ে এক রুশ কূটনীতিকের সঙ্গে আলোচনার অভিযোগ ওঠার পর বেকায়দায় পড়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইকেল ফ্লিন। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, প্রেসিডেন্টের অভিষেকের কয়েক সপ্তাহ আগেই তিনি যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত সেরগেই কিসলিয়াকের সঙ্গে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আলোচনা করেছিলেন। হোয়াইট হাউসের কয়েকজন কর্মকর্তা এখন মাইকেল ফ্লিনের বিরুদ্ধে অভিযোগটির সত্যতা খতিয়ে দেখছেন। ফ্লিন প্রথমে বলেছিলেন, রুশ রাষ্ট্রদূত কিসলিয়াকের সঙ্গে নিষেধাজ্ঞা নিয়ে তাঁর কোনো কথা হয়নি। তবে পরে ফ্লিনের একজন মুখপাত্র বলেন, এখন এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য হলো, বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছিল কি না, তা এখন তাঁর মনে নেই।
তবে হোয়াইট হাউসের সাবেক ও বর্তমান মিলিয়ে নয়জন কর্মকর্তা ওয়াশিংটন পোস্টকে বলেছেন, এ নিয়ে ওই দুজনের মধ্যে কথা হয়েছিল। শপথ নেওয়ার আগেই বিদেশি কূটনীতিকের সঙ্গে দেশের পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে আলোচনায় মার্কিন আইনের ব্যত্যয় হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। মাইকেল ফ্লিন প্রথম থেকেই ডোনাল্ড ট্রাম্পের কট্টর সমর্থক বলে পরিচিত। তবে অভিযোগ ওঠার পর এ বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দিক থেকেও তিনি সমর্থন পাচ্ছেন না। ট্রাম্পের নীতিবিষয়ক উপদেষ্টা স্টিফেন মিলারকে এ বিষয়ে সাংবাদিকেরা বারবার জিজ্ঞাসা করলেও তিনি প্রশ্ন এড়িয়ে যান। ট্রাম্প মাইকেল ফ্লিনের পক্ষে অবস্থান নিচ্ছেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে মিলার সাংবাদিকদের বলেন, এর জবাব প্রেসিডেন্টই দিতে পারবেন। হোয়াইট হাউস সূত্রগুলো বলছে, এই অভিযোগ ওঠার পর মার্কিন প্রশাসনে ফ্লিনের অবস্থান নাজুক হয়ে পড়েছে।

ট্রাম্পের ‘মুসলিম নিষিদ্ধ’ আদেশের কারণে...

১৩ থেকে ২৪ মার্চ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জাতিসংঘের নারীর মর্যাদাসংক্রান্ত কমিশনের (কমিশন অন স্ট্যাটাস অন উইমেন) বার্ষিক সম্মেলন। প্রতিবছর এই সম্মেলনে বিশ্বের অধিকাংশ দেশ থেকে কয়েক হাজার নারী প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করে থাকেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মুসলিমপ্রধান সাতটি দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ায় এ বছর তাঁদের অনেকেই এই সম্মেলনে অংশগ্রহণ করবেন না। জেনেভাভিত্তিক নারীদের আন্তর্জাতিক সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল লিগ ফর পিস অ্যান্ড ফ্রিডম জানিয়েছে, তারা এ বছরের নারী সম্মেলনে অংশ নিতে নিউইয়র্ক আসছে না। ট্রাম্পের নিষিদ্ধাদেশের বিরুদ্ধে প্রতিবাদস্বরূপ এই সিদ্ধান্ত। ট্রাম্পের আদেশটি এই মুহূর্তে আদালতের নির্দেশক্রমে স্থগিত থাকলেও ইন্টারন্যাশনাল লিগ ফর পিস অ্যান্ড ফ্রিডম বলেছে, ভ্রমণনিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা সাতটি দেশের প্রতি সংহতি প্রকাশসহ নীতিগত কারণে তারা এই সিদ্ধান্ত গ্রহণে বাধ্য হয়েছে। উল্লেখ্য, ১০২ বছরের পুরোনো সংগঠনটি এই প্রথমবারের মতো নারী কমিশনের বার্ষিক সম্মেলনে অংশ নিচ্ছে না। ইন্টারন্যাশনাল লিগ মনে করে, ওই সাত দেশ থেকে নারীদের এই সম্মেলনে অংশগ্রহণ করতে না দিলে তা নারীর মর্যাদা কমিশনের মূল লক্ষ্য (সব নারীর জন্য একটি উন্মুক্ত ও অংশগ্রহণমূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করা) ব্যাহত হবে।

নকল প্রেমের ফাঁদে

সেন্ট ভ্যালেন্টাইনস ডে বা বিশ্ব ভালোবাসা দিবসের মধুর আমেজ চারদিকে। কিন্তু এর মাঝে অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরে ভালোবাসার নামে ছড়িয়ে পড়েছে উপদ্রব। ভালোবাসা দিবস কেন্দ্র করে দেশগুলোয় প্রেমের নামে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন অনেকে। মূলত একাকিত্বে ভোগা লোকজনকেই অনলাইনে প্রেমের ফাঁদে ফেলে পকেট খালি করা হচ্ছে সেখানে। অস্ট্রেলিয়া,
মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের কর্তৃপক্ষ ভালোবাসার নামে প্রতারণা থেকে সাবধান করে দিয়েছে জনগণকে। অস্ট্রেলিয়ান কম্পিটিশন অ্যান্ড কনজ্যুমার কমিশন (এসিসিসি) জানিয়েছে, দেশটিতে বিভিন্ন ধরনের প্রতারণার মধ্যে প্রেমসংক্রান্ত প্রতারণার মাধ্যমেই সবচেয়ে বেশি পরিমাণ অর্থ খসানো হয়। আর ৪৫ বছরের বেশি বয়সের মানুষই এ ধরনের প্রতারণার খপ্পরে পড়েন বেশি। মধ্যবয়সী লোকজনকে চিহ্নিত করে অনলাইনে প্রেমের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। এর বিনিময়ে অপরিচিত ব্যক্তিদের কাছে অর্থ পাঠাতে বলা হয়। এসিসিসির কর্মকর্তা ডেলিয়া রিকার্ড লোকজনকে সতর্ক করে বলেছেন, ‘প্রতারক প্রেমিকেরা দিন দিন আরও চতুর ও সুযোগসন্ধানী হচ্ছে।
ফলে এই ভ্যালেন্টাইনে আপনি যদি ভালোবাসার খোঁজে অনলাইনে থাকেন, তবে সাবধান। সতর্কসংকেতগুলো চিনতে শিখুন। যদি অনলাইনে কারও সঙ্গে ভালো লাগার সম্পর্ক হয়, তবে খোঁজখবর করে নেবেন।’ এদিকে মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের পুলিশ মিলে কুয়ালালামপুর থেকে ২৭ সন্দেহভাজন লোককে গ্রেপ্তার করেছে। তাঁদের মধ্যে ১১ জন নাইজেরিয়ার নাগরিক। তাঁরা প্রেম ও সঙ্গ দেওয়ার ফাঁদ পেতে বহু লোকের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়েছেন। পুলিশ বলেছে, তাঁরা ২০১৬ সালে ১০৮ জনের সঙ্গে প্রতারণা করে প্রায় ৫০ লাখ ডলার খসিয়েছেন। মালয়েশিয়ার বাণিজ্যিক অপরাধ-সংক্রান্ত তদন্ত সংস্থার পরিচালক আখুয়েল সানি বলেন, ‘প্রেমের ফাঁদে ফেলার জন্য মিষ্টি কথার খুদে বার্তা পাঠিয়ে মন গলানোর চেষ্টা করে এ ধরনের চক্রের সদস্যরা। তারা কখনো ফোনে সরাসরি কথা বলে না।

ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভ মেক্সিকোজুড়ে

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসন নীতি এবং মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণের বিরোধিতা করে প্রতিবেশী দেশটিতে রোববার হাজারো মানুষ বিক্ষোভ করেছে। সাদা পোশাক পরে এবং মেক্সিকোর জাতীয় পতাকা ও ট্রাম্পবিরোধী স্লোগান-সংবলিত প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে তারা রাজধানী মেক্সিকো সিটি ও বেশ কয়েকটি শহরে এই বিক্ষোভ করে। আয়োজকেরা বলেছেন, এ বিক্ষোভের মাধ্যমে তাঁরা এই বার্তা দিতে চান যে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মেক্সিকো ঐক্যবদ্ধ রয়েছে। এ ছাড়া তাঁরা ‘দুর্নীতি সামাল দেওয়া এবং সহিংসতা কমাতে ব্যর্থ হওয়ার জন্য’ মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট এনরিকে পেনা নিয়েতোর কড়া সমালোচনা করেন। মারিয়া আম্পারো কাসার নামের একজন বিক্ষোভকারী বলেন, ট্রাম্পের অভিবাসন নীতি ‘বিশ্ব সম্প্রদায়ের জন্য হুমকি’। তিনি বলেন, এ কথা ভুলে গেলে চলবে না, অভিবাসীরাই মার্কিন সমাজ নির্মাণ করেছে এবং এখনো করছে। রাজধানী মেক্সিকো সিটির বিক্ষোভকারীদের হাতে জাতীয় ঐক্যের প্রতীক-সংবলিত প্ল্যাকার্ড দেখা যায়।
একটি ব্যানারে লেখা ছিল, ‘মেক্সিকোকে এক করার জন্য ট্রাম্প মহোদয়কে ধন্যবাদ’। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ট্রাম্প অবৈধ অভিবাসী ঠেকাতে মেক্সিকো সীমান্তে দুই হাজার মাইল দীর্ঘ দেয়াল তুলতে চেয়েছেন। এর খরচ মেক্সিকোকেই দিতে হবে বলে তিনি দাবি করে আসছেন। তবে মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট পেনা নিয়েতো জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁর দেশ দেয়াল তোলায় বিশ্বাসী নয় এবং এর খরচও তাঁরা দেবেন না। সম্প্রতি ট্রাম্প অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করায় যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত মেক্সিকান নাগরিকদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। প্রতিবেশী দেশ হওয়ায় মেক্সিকোর বহু লোক যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। তাঁদের অনেকেরই বৈধ কাগজপত্র নেই।

এআইএডিএমকের দড়ি টানাটানি চলছেই

রাজ্যপালের সিদ্ধান্তহীনতায় তামিলনাড়ুর শাসক দল এআইএডিএমকেতে ক্ষমতা দখলের দড়ি টানাটানি চলছেই। মুখ্যমন্ত্রিত্বের দাবিদার শশীকলা নটরাজন গতকাল সোমবার নতুন করে রাজ্যপাল সি বিদ্যাসাগর রাওকে অনুরোধ করেছেন, অবিলম্বে তাঁকে সরকার গঠনের সুযোগ দেওয়া হোক। কারণ, সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়কের সমর্থন তাঁরই দিকে। রাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল গতকাল রাজ্যপালকে পরামর্শ দিয়েছেন, বিবদমান দুই পক্ষকেই গরিষ্ঠতার প্রমাণ রাখার সুযোগ দেওয়া হোক। সুপারিশ মেনে রাজ্যপাল কবে সেই দিন ধার্য করবেন, তা গতকাল পর্যন্ত জানানো হয়নি। তামিলনাড়ুর পুলিশ গতকাল মাদ্রাজ হাইকোর্টকে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, চেন্নাইয়ের অদূরে এক রিসোর্টে ১১৯ জন বিধায়ককে জোর করে আটকে রাখার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ কেউ করেননি। আদালতের কাছে জবরদস্তি করে আটকে রাখার অভিযোগ করা হয়েছিল। হাইকোর্ট তা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছিলেন পুলিশকে। রাজ্যপাল কেন শশীকলাকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন না, তার কারণ এখনো অজানা। শশীকলার দাবি, তাঁর পক্ষে ১২৮ জন বিধায়কের সমর্থন রয়েছে। এর সমর্থনে তিনি বিধায়কদের চিঠিও জমা দিয়েছেন। শশীকলার চ্যালেঞ্জার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী পনিরসেলভামও রাজ্যপালকে পাল্টা চিঠি দিয়ে বলেছেন, তাঁকে ভয় দেখিয়ে জোর করে পদত্যাগপত্র লিখিয়ে নিলেও সংখ্যাগরিষ্ঠের সমর্থন তাঁরই দিকে রয়েছে। তাঁকে সেই গরিষ্ঠতা প্রমাণের সুযোগ দেওয়া হোক। রাজ্যপালের সিদ্ধান্ত না নেওয়ার একটি সম্ভাব্য কারণ সুপ্রিম কোর্ট।
মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন জয়ললিতা, তাঁর ঘনিষ্ঠ বান্ধবী শশীকলা ও তাঁর পরিবারের অন্য সদস্যদের বিরুদ্ধে জানা আয়-বহির্ভূত সম্পত্তির মামলার রায় সুপ্রিম কোর্টের চলতি সপ্তাহের মধ্যেই দেওয়ার কথা। দোষী সাব্যস্ত হলে এবং দুই বছরের বেশি কারাদণ্ড হলে শশীকলা ভোটে দাঁড়ানোর অধিকার হারাবেন। রাজ্যপাল সম্ভবত সেই রায়েরই অপেক্ষা করছেন।   শশীকলা এই বিলম্বের পেছনে রাজনৈতিক কারণ দেখতে পাচ্ছেন। সে জন্য তিনি প্রতিদিনই রাজ্যপালের ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন। একই সঙ্গে ধরে রাখার চেষ্টা চালাচ্ছেন সমর্থনকারী বিধায়কদের। রবি ও সোমবার তিনি রিসোর্টে গিয়ে বিধায়কদের সঙ্গে কথা বলেন। প্রয়াত মুখ্যমন্ত্রী জয়ললিতার কথা বলতে গিয়ে তিনি কেঁদে ফেলেন। শশীকলা বলেন, ‘আম্মার শেষ কথা ছিল, কেউ আমাদের দল ভেঙে দিতে পারবে না।’ সেই চেষ্টা চলছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘এই দল আমাদের সম্পদ। আম্মা এই সম্পদ দিয়ে গেছেন। এটা আমরা রক্ষা করব।’ দলের মনোবল অটুট রাখতে শশীকলা বলেন, জয়ললিতার ছবি সাক্ষী রেখে তাঁরা সরকার গঠনের শপথ নেবেন। এই শপথ তাঁরা আম্মার সমাধিতে গিয়েও নেবেন। তামিলনাড়ু বিধানসভার মোট সদস্য ২৩৪। ২০১৬ সালের বিধানসভা ভোটে এআইএডিএমকে জেতে ১৩৪ আসনে। পনিরসেলভাম ও তাঁর অনুগামীরা চাইছেন শশীকলার পক্ষে সমর্থন, যাতে কিছুতেই ১১৮ ছুঁতে না পারে। এখনো পনিরসেলভামের দিকে বেশি বিধায়কের সমর্থন নেই। কিন্তু তিনি দাবি করছেন, নির্ভয়ে ভোট দিতে পারলে সমর্থন তাঁর দিকেই ঢলবে। কারণ, জয়ললিতা যতবার বিপদে পড়েছেন, ততবারই তাঁকে অস্থায়ী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বেছে নিয়েছেন।

সৌদি আরবে পরিবর্তন আসছে?

সৌদি আরবে কী কী পরিবর্তন হয়েছে জানতে চাইলে অনেকে সচরাচর বলে থাকেন, হবে। তবে তার জন্য সময় লাগবে। বাস্তবে কিন্তু দেশটিতে কয়েক মাসের মধ্যেই পরিবর্তনের আভাস মিলছে। স্থানীয় এক সফল নারী ব্যবসায়ী বললেন, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসের মধ্যে নারীরা গাড়ি চালানোর অনুমতি পাবেন—এমন দাবির পক্ষে তিনি এক পুরুষ সহকর্মীর সঙ্গে বাজি ধরেছেন। তবে এখন মনে হচ্ছে,
ব্যাপারটা ঘটতে বছর গড়িয়ে যাবে। আর আপাতত কেবল ৪০ বছরের বেশি বয়সী নারীরাই গাড়ি চালানোর সুযোগ পেতে পারেন। নারীদের গাড়ি চালানোর সুযোগ পাওয়ার বিষয়টি সৌদি আরবে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্কের বিষয়। রাজপরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ লোকজনের মধ্যেও এ বিষয়ে নানা রকমের ভবিষ্যদ্বাণী শোনা যাচ্ছে। কেউ বলছেন, অল্প বয়সী নারীরাও শিগগির গাড়ি চালানোর সুযোগ পাবেন। এটা একটা অর্থনৈতিক বিষয়ও বটে। একাধিক গবেষণার ফল বলছে, মেয়েদের গাড়ি চালাতে দিলে সৌদি অর্থনীতিও চাঙা হবে। সৌদি আরবের শাসকেরা এখনো বেশ রক্ষণশীল। সেখানে বহু সাধারণ মানুষও পুরোনো ধাঁচের জীবনযাত্রা বহাল রাখার পক্ষপাতী। তারপরও বিশ্বের বৃহত্তম তেল উৎপাদনকারী দেশটির সমাজে বড় ধরনের পরিবর্তনের জন্য চাপ ক্রমেই বাড়ছে। রিয়াদের গালফ রিসার্চ সেন্টারের বিশ্লেষক জন সফাকিয়ানাকিস বলেন, ‘সময় বদলে যাচ্ছে। তেল বিক্রি করে সৌদি আরবের আয় বছর কয়েক আগেই অর্ধেকে নেমে এসেছে। তাই এখন বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরিবর্তন জরুরি। বিমানটি এত দিন একটা ইঞ্জিনে চলেছে। এখন কয়েকটি ইঞ্জিন প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।’ বলা বাহুল্য, ‘একটা ইঞ্জিন’ বলতে তেল ও গ্যাসের ওপর সৌদি অর্থনীতির ৯০ শতাংশ নির্ভরতার দিকেই ইঙ্গিত করেছেন সফাকিয়ানাকিস। নতুন এই বাস্তবতার সামনে দাঁড়িয়ে সৌদি শাসকেরা ভিশন ২০৩০ নামের এক মহাপরিকল্পনা নিয়েছেন। গত বছর এটি প্রকাশ করা হয়েছে। ৩১ বছর বয়সী উপ-যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এই উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা তৈরির জন্য নামীদামি বেশ কয়েকজন পরামর্শককে দায়িত্ব দিয়েছিলেন।
সৌদি আরবে সরকারি চাকরির বেতন ও প্রণোদনা কমেছে। প্রবৃদ্ধির একটি চালিকাশক্তি হিসেবে বেসরকারি খাত বিকশিত হচ্ছে। একজন ব্যবসায়িক নির্বাহী বললেন, তাঁরা এখন ভালো দাম না পেলে সরকারের কাছে পণ্য বিক্রি করছেন না। ভিশন ২০৩০ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়নের সম্ভাবনা কম। তারপরও একটা লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করাটাকেই অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে। ৮১ বছর বয়সী সৌদি বাদশাহ সালমানের প্রিয় ছেলে হিসেবে পরিচিত উপ-যুবরাজ এই পরিকল্পনায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন। সে কারণেই পরিবর্তনের সম্ভাবনাটা বেশি। দেশটির দুই-তৃতীয়াংশ মানুষই তরুণ বা কম বয়সী। তাঁদের অনেকে পশ্চিমা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পেয়েছেন। সৌদি আরবে চলচ্চিত্র প্রদর্শন নিষিদ্ধ। রেস্তোরাঁয় নারী-পুরুষের বসার জায়গা আলাদা। সেখানে আত্মীয় ছাড়া কোনো নারীর সঙ্গে বসে খাওয়াদাওয়ার নিয়ম নেই। তবু এক বছরে ছোটখাটো হলেও তাৎপর্যপূর্ণ কিছু পরিবর্তন চোখে পড়ে। রাস্তায় রাস্তায় আগে যে কঠোর ধর্মীয় পুলিশ ছিল, এখন তারা নেই। কঠোরতা শিথিলের অংশ হিসেবে এই বাহিনীকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। জনগণের জন্য বিনোদনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ দেশবাসীর জীবনে কিছু আনন্দ জোগানোর দায়িত্ব নিয়েছে। তবে তাতে সীমারেখা থাকবে।

ফাইয়াদই ‘সঠিক ব্যক্তি’: গুতেরেস

যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধিতা সত্ত্বেও গতকাল সোমবার জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, তিনি মনে করেন লিবিয়ায় জাতিসংঘের দূত হিসেবে ফিলিস্তিনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী সালাম ফাইয়াদই ‘সঠিক ব্যক্তি’। লিবিয়ায় রাজনৈতিক মিশনের প্রধান হিসেবে সালাম ফাইয়াদকে নির্বাচিত করায় এর আগে হতাশা ব্যক্ত করেছিলেন জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালি।
তিনি বলেছিলেন, জাতিসংঘ বরাবরই ফিলিস্তিনের প্রতি পক্ষপাতমূলক আচরণ করে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ইসরায়েলের বিরোধিতা করে। এ প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘ মহাসচিব দুবাইতে এক সম্মেলনে বলেন, ‘আমি মনে করি এ মুহূর্তে এই কাজের জন্য তিনি (ফাইয়াদ) সঠিক ব্যক্তি।...আমি এও মনে করি, তাঁকে নিয়োগ করতে না পারলে লিবিয়ার শান্তি-প্রক্রিয়া ও লিবীয় জনগণেরই ক্ষতি হবে।’ রয়টার্স

পাকিস্তানে যেখানে ভালোবাসা দিবস নিষিদ্ধ

পাকিস্তানে উন্মুক্ত স্থান ও সরকারি অফিসে ভালোবাসা দিবস উদ্‌যাপন নিষিদ্ধ করে আদেশ জারি করেছেন ইসলামাবাদ হাইকোর্ট। আজ সোমবার আদালতের এ সিদ্ধান্ত সারা দেশে ‘দ্রুত কার্যকর করতে’ ব্যবস্থা গ্রহণেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ডন অনলাইনের খবরে বলা হয়েছে, ভালোবাসা দিবসের আগের দিন আজ বিচারপতি শওকত আজিজ এ–সংক্রান্ত শুনানি শেষে উন্মুক্ত স্থান ও সরকারি অফিসে ভালোবাসা দিবস উদ্‌যাপনে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। এ আদেশ দ্রুত কার্যকর করতে আদালত দেশটির তথ্য মন্ত্রণালয়, পাকিস্তান ইলেকট্রনিক মিডিয়া রেগুলেটরি অথোরিটি (পেমরা) ও ইসলামাবাদ হাইকমিশনের প্রতি আদেশ জারি করেন। আদালত ‘অবিলম্বে ভালোবাসা দিবসসংক্রান্ত প্রচার বা উৎসাহ বন্ধ করতে’ পত্রিকা ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমকে সতর্ক করে দিয়েছেন। পত্রিকা ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমে ভালোবাসা দিবসসংক্রান্ত প্রচার হচ্ছে কি না, তা তদারকি করতে পেমরাকে আদেশ দেওয়া হয়েছে। দেশটির আবদুল আজিজ নামের একজন ব্যক্তি আদালতে একটি পিটিশন দেন। তিনি তাতে বলেন, মূলধারার গণমাধ্যমে এবং সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ভালোবাসা দিবস নিয়ে প্রচার ও পালনে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। এটা পালন ‘ইসলামের শিক্ষার সঙ্গে বিরোধী এবং এটা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে’। এরপরই এক শুনানি শেষে ইসলামাবাদ আদালত উন্মুক্ত জায়গায় বিশ্ব ভালোবাসা দিবসের অনুষ্ঠান পালনে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। প্রতিবছর ভালোবাসা দিবস পালন নিয়ে পাকিস্তানে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ করা যায়। কেউ কেউ এটা স্বচ্ছন্দে পালন করে থাকেন। আবার এর বিরোধিতাও দেশটিতে দেখা যায়।
পাকিস্তানের প্রধান শহরগুলো ও বিভিন্ন রেস্তোরাঁ-বেকারিতে ভালোবাসা দিবসে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে বিরোধীরা দেশব্যাপী ‘ভালোবাসা দিবসকে না বলুন’-এর প্রচার চালায়। আদালতের এই নিষেধাজ্ঞা নিয়ে ডন অনলাইনে একটি জরিপের মাধ্যমে পাঠকের কাছে পক্ষে-বিপক্ষে ভোট চাওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ সময় রাত নয়টা পর্যন্ত ওই জরিপে ৪ হাজার ৬৪৯ ভোট পড়েছে। তাতে দেখা যায়, আদালতের রায়ের সঙ্গে একমত পোষণ করেন ২ হাজার ৮২ জন। রায়ের সঙ্গে একমত নন ২ হাজার ৫৬৭ জন। গত বছর দেশটির প্রেসিডেন্ট মামনুন হুসেইন ভালোবাসা দিবস উদ্‌যাপন না করার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন। ওই সময় ইসলামাবাদে এক অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট এ আহ্বান জানিয়ে বলেন, এটা মুসলিম ঐতিহ্যের অংশ নয়, এটা পশ্চিমাদের সংস্কৃতি। পাকিস্তানের সংস্কৃতির সঙ্গে ভালোবাসা দিবসের কোনো সম্পর্ক নেই। কাজেই এটিকে পরিহার করতে হবে। এর আগে পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের একটি জেলায় ভালোবাসা দিবস উদ্‌যাপন নিষিদ্ধ করা হয়। পাকিস্তানের কট্টর ইসলামপন্থীরা ভালোবাসা দিবস উদ্‌যাপনের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিল, এটি পাকিস্তানি সংস্কৃতির পরিপন্থী।

পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ১

বগুড়ার কাহালু উপজেলায় পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ এক ব্যক্তি নিহত হয়েছে। গতকাল সোমবার রাতে উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নে কথিত এই বন্দুকযুদ্ধ হয়। নিহত ব্যক্তির নাম-পরিচয় জানাতে পারেনি পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য, নিহত ব্যক্তি সন্ত্রাসী বা ডাকাত হতে পারেন। ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।
বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সনাতন চক্রবর্তীর ভাষ্য, দুর্গাপুর ইউনিয়নে পুলিশের টহল গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে দুর্বৃত্তরা। পুলিশের পাল্টা গুলি ছোড়ে। এতে এক দুর্বৃত্ত গুলিবিদ্ধ হয়। উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) শাহ আলম বলেন, দিবাগত রাত তিনটার দিকে গুলিবিদ্ধ এক ব্যক্তিকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। তাঁর লাশ কলেজের মর্গে রাখা হয়েছে।

আসামিদের পরীক্ষা করলেন আদালত, আজ সাফাই সাক্ষ্য

রংপুরে জাপানি নাগরিক কুনিও হোশি হত্যা মামলায় গতকাল সোমবার ফৌজদারি ৩৪২ ধারায় আসামিদের পরীক্ষা করেছেন আদালত। আজ মঙ্গলবার সাফাই সাক্ষীর সাক্ষ্য অনুষ্ঠিত হবে। রংপুরের বিশেষ জজ আদালতের বিচারক নরেশ চন্দ্র সরকারের আদালতে এ মামলার বিচারকাজ চলছে। সরকারপক্ষে মামলা পরিচালনাকারী আইনজীবী বিশেষ পিপি রথীশ চন্দ্র ভৌমিক বলেন, আসামি পরীক্ষায় আদালত অভিযুক্ত আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ পাঠ করে শোনান। এ সময় কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা পাঁচ আসামি তাঁদের নির্দোষ দাবি করেন।
আজ সাফাই সাক্ষী সাক্ষ্য দেবেন। আদালত সূত্র জানায়, গতকাল সকালে পুলিশি নিরাপত্তায় অভিযুক্ত আট আসামির মধ্যে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকা পাঁচজনকে আদালতে হাজির করা হয়। তাঁরা হলেন জেএমবির পীরগাছার আঞ্চলিক কমান্ডার পীরগাছা উপজেলার পশুয়া টাঙ্গাইলপাড়ার মাসুদ রানা ওরফে মামুন ওরফে মন্ত্রী (২১), একই এলাকার জেএমবির সদস্য ইছাহাক আলী (২৫), বগুড়ার গাবতলী এলাকার জেএমবির সদস্য লিটন মিয়া ওরফে রফিক (২৩), পীরগাছার কালীগঞ্জ বাজারের জেএমবির সদস্য আবু সাঈদ (২৮) ও গাইবান্ধার সাঘাটার হলদিয়ার চর এলাকার সাখাওয়াত হোসেন (৩২)। পলাতক আসামি হলেন কুড়িগ্রামের রাজারহাটের মকর রাজমাল্লী এলাকার আহসান উল্লাহ আনসারী ওরফে বিপ্লব (২৪)।
এই মামলার অভিযুক্ত আসামি পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জের গজপুরি এলাকার নজরুল ইসলাম ওরফে হাসান ওরফে বাইক হাসান (২৮) অভিযোগ গঠনের আগেই রাজশাহীতে এবং মামলার অভিযোগ গঠনের পর কুড়িগ্রামের রাজারহাটের চর বিদ্যানন্দ এলাকার সাদ্দাম হোসেন ওরফে রাহুল ওরফে চঞ্চল ওরফে সবুজ ওরফে রবি (২১) ঢাকার মোহাম্মপুর বেড়িবাঁধে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন। ২০১৫ সালের ৩ অক্টোবর রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার কাচু আলুটারি গ্রামে কুনিও হোশিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ওই দিনই কাউনিয়া থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের নামে হত্যা মামলা করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও কাউনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল কাদের জিলানী গত বছরের ৩ জুলাই নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) আট সদস্যের বিরুদ্ধে রংপুরের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিমের আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। হত্যাকাণ্ডের ১৩ মাস ১২ দিন পর গত ১৫ নভেম্বর সাত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত।

মালিবাগ-মৌচাক সড়কে অচলাবস্থা

মালিবাগ থেকে মৌচাক পর্যন্ত যানবাহন চলাচলে একরকম অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। প্রধান সড়কের পশ্চিম দিকের রাস্তা বন্ধ। পূর্ব দিকের রাস্তা একমুখী চলাচলের আওতায় আনা হয়েছে। দুই দিকেই টানাভাবে বিশাল রাস্তা খোঁড়া এবং নর্দমা করার কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। একমুখী ভাঙাচোরা রাস্তায় চলাচল করতে গিয়ে রিকশা আরোহীরা আতঙ্কে থাকছেন সার্বক্ষণিকভাবে। অনেক যানবাহন বিকল্প রাস্তা ব্যবহার করছে। এ কারণে চৌধুরীপাড়া, রামপুরা ও হাতিরঝিলে প্রচণ্ড যানজট হচ্ছে। গত দুই দিন এলাকায় গিয়ে এ অবস্থা দেখা যায়। মালিবাগ থেকে মৌচাক প্রধান সড়কের পূর্ব দিকে ঢাকা ওয়াসার ড্রেনেজ লাইন আর পশ্চিম দিকে ঢাকা বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানির কেব্ল লাইনের জন্য রাস্তার দুরবস্থা। মাঝখানে উড়ালসড়ক ও এর নির্মাণসামগ্রী। খিলগাঁও তিলপাপাড়া এলাকা থেকে ব্যক্তিগত গাড়িতে কারওয়ান বাজারে আসতে গিয়ে মহাদুর্ভোগে পড়েন বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত বাবু আহমেদ। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, আগে তাঁর গাড়িতে করে খিলগাঁও উড়ালসড়কে (ফ্লাইওভার) উঠে শাজাহানপুর, মালিবাগ চৌরাস্তা হয়ে মগবাজার পথে অফিসে আসতেন। মৌচাক-মগবাজার উড়ালসড়কের কাজে খোঁড়াখুঁড়ির কারণে এই যাত্রার পরিবর্তন হয়েছে। গত কয়েক মাস মালিবাগ রেলগেট হয়ে অলিগলি পথে অফিসে আসছেন তিনি। কিন্তু এখন মালিবাগ থেকে মৌচাক পর্যন্ত রাস্তায় মোটরযান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাঁকে বিকল্প পথ ধরতে হয়েছে। বিকল্প পথটি হচ্ছে, চৌধুরীপাড়া আবুল হোটেলের পাশ দিয়ে রামপুরা হয়ে। গত রোববার হাতিরঝিল পথে আসতে গিয়ে আটকা পড়ে তাঁর গাড়ি। শুধু হাতিরঝিল পেরোতেই ঘণ্টা পার হয়ে যায়। এরপর এফডিসির রাস্তায় আরেক দফায় যানজট। শুধু বাবু আহমেদ নন, লাখ লাখ মানুষ ভুক্তভোগী মৌচাক-মালিবাগ সড়কে অচলাবস্থার কারণে।
গত শুক্রবার সকালে চৌধুরীপাড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, খিলগাঁও উড়ালসড়ক দিয়ে গাড়ি এসে মালিবাগ বাজার বা রেলগেটের দিকে না গিয়ে ঢুকে পড়ছে চৌধুরীপাড়ায়। পল্লীমা সংসদ হয়ে সাউথ পয়েন্ট স্কুলে যাওয়ার পুরো পথ যানবাহনে ঠাসা। যেসব গাড়ি আবুল হোটেলের পাশ দিয়ে রামপুরা হয়ে হাতিরঝিল বা বাড্ডার দিকে যাচ্ছে, সেগুলোকেও পড়তে হচ্ছে বিড়ম্বনায়। সেখানে ঢাকা ওয়াসা ড্রেনেজ লাইনের জন্য রাস্তা খুঁড়েছে। বড় বড় পাইপ রাখায় রাস্তা সরু হয়ে গেছে। ইউলুপের ওপর দাঁড়িয়ে হাতিরঝিলে তাকিয়ে দেখা যায়, শুধু যানবাহনের সারি। কিছু সময়ের জন্য একরকম স্থবির হয়ে আছে। চলছে, আবার থেমে যাচ্ছে। রামপুরার দিক থেকে মৌচাকে যেতে ভোগান্তি আরও চরমে। ওয়াপদা রোডের বাসিন্দা নূরজাহান বেগম তাঁর মেয়েকে নিয়ে নিয়মিত সিদ্ধেশ্বরী কোচিং সেন্টারে যান। যাতায়াতের বিড়ম্বনার কথা তুলে ধরে গতকাল এই প্রতিবেদককে তিনি বলেন, আগে মৌচাক পর্যন্ত যেতে রিকশা ভাড়া লাগত ২৫ টাকা। এখন মৌচাক মার্কেটের দক্ষিণে কোচিং সেন্টারে যেতে লাগে ৬০-৭০ টাকা। আরেক মেয়েকে ভিকারুননিসায় নিয়ে যেতে রিকশা ভাড়া দিতে হয় প্রায় ১০০ টাকা। ভাঙাচোরা রাস্তায় চলতে গিয়ে সার্বক্ষণিক আতঙ্কে থাকতে হয়। এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বড় বড় গর্ত আর বিধ্বস্ত হওয়ায় চলাচলকারী বাসগুলো চলছে লাফিয়ে লাফিয়ে। বাসের ফাঁকে রিকশা, অটোরিকশা—এই বুঝি বাস গড়িয়ে পড়বে আরোহীদের গায়ে।

জাদুঘরে নান্দনিক মৃৎশিল্পের সমারোহ

প্রথমেই স্বাগত জানাবে মৃৎশিল্পীদের দেবতা বিশ্বকর্মা। তারপরই আছে দুটি ধাপে কিছু পাটের ব্যাগ। এরপর মাটি পোড়ানোর চুল্লি। এর চারপাশ ঘিরে নানান তৈজসপত্র। চারদিকে চোখ বোলালেই দেখা যাবে মাটির তৈরি হরেক রকম জিনিস। জাতীয় জাদুঘরের নলিনীকান্ত ভট্টশালী প্রদর্শনকক্ষে চলছে মৃৎশিল্পীদের শিল্পসামগ্রীর প্রদর্শনী। নওগাঁ জেলার পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার-সংলগ্ন গ্রাম মিঠাপুর ও জামালপুরের মৃৎশিল্পীদের নিয়ে সপ্তাহব্যাপী এই পোড়ামাটির প্রদর্শনী ও মেলা শুরু হয়েছে গত শুক্রবার থেকে। চলবে আগামী শনিবার পর্যন্ত।
এক টেপা পুতুলেরই কত বর্ণ আর আকার-আকৃতি। কোনোটার নাচের ভঙ্গি, কোনোটা সন্তান কোলে, আবার কোনোটা ঘোড়ায় চড়েছে। মাছ, ময়ূর, পাখি, হাতি, ঘোড়া, বিভিন্ন রকম টেরাকোটা ও ফুলের টবে এই প্রদর্শনকক্ষটিতে যেন এক টুকরা গ্রামীণ পরিবেশের ছোঁয়া। গতকাল সোমবার দেখা যায়, কমল চন্দ্র পাল নিজের স্টলে বসেই ময়ূরের পাখার কারুকাজ করছিলেন। পাশেই একটি মাছ ও রাজহাঁস বানানো। এখনো কাঁচা। পোড়ানোর ব্যবস্থা নেই বলে বাতাসে শুকানোর জন্য রেখে দিয়েছেন। ঘর সাজানোর মৃৎসামগ্রীর পাশাপাশি হাঁড়ি, পিঠা তৈরির পাত্র, কলস, সরা, ঢাকনাসহ অনেক ব্যবহারিক সামগ্রীও রয়েছে। লুবানা হক খুব আগ্রহের সঙ্গে কয়েকটি টেপা পুতুল হাতে নিয়ে দেখছিলেন। তিনি বলেন, ‘ছোট সময়ে বড়দের হাত ধরে মেলায় যেতাম। সেখানে পাওয়া যেত এই জিনিসগুলো। কত পুতুল যে পথেই ভেঙেছি। ঢাকায় এসে এগুলো আর দেখিনি। আজকে দেখে ওই সময়ের কথা মনে হলো।’ ইউনেসকোর রকফান্ড অ্যান্ড ট্রাস্টের পৃষ্ঠপোষকতায় বাংলাদেশ জাতীয় কারুশিল্প পরিষদ এর আয়োজক। মিঠাপুর ও জামালপুর গ্রামের ২৬ জন মৃৎশিল্পীকে টেরাকোটার ওপর এক বছর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। সেখান থেকে সেরা ২০ জন শিল্পী এবারের প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে সাতজন নারী শিল্পী। প্রত্যেকেই বংশপরম্পরায় এই মৃৎশিল্পী হয়ে উঠেছেন। বাংলাদেশ জাতীয় কারুশিল্প পরিষদের সভাপতি চন্দ্র শেখর সাহা বলেন, ‘আমরা তাঁদের বলিনি এটা করতে হবে, ওটা করতে হবে।
শুধু ধারণা দিয়েছি। এই শিল্পীরা নিজেরাই প্রতিটি জিনিস বানিয়েছেন।’ তিনি আরও বলেন, ঢাকার যাঁরা কারুশিল্পের বিপণন করেন, তাঁদের সঙ্গে পরিচয় এবং বড় পরিসরে তাঁদের জন্য বাজার তৈরি করাই এ আয়োজনের উদ্দেশ্য। এই শিল্পীদের আর্থিক অবস্থার উন্নতি ও শিল্পটাকে ছড়িয়ে দেওয়ার একটি চেষ্টা এই প্রদর্শনী। গুরুদাশির বয়স ৫২। বাপ-দাদার পেশা তিনি ধরে রেখেছেন। সংসারের কাজে লাগে এমন জিনিসই বানাতেন। কিন্তু এখন তাঁর স্টলে শোভা পাচ্ছে নান্দনিক নানান জিনিস। তিনি বলেন, ‘আমাগের ওখান টেরাকোটা শিখায়। ওখন অনেক কিছুই বানাত পারি।’ দুই মেয়েকেও তিনি শিখিয়েছেন। মমতা রাণীর (৩০) স্বামী গ্রামে একটি দোকান চালান। সংসারের প্রয়োজনে নিজের শিল্পী সত্তা দিয়ে মাটির টব, হাঁড়ি তৈরি করতেন। গ্রামের মানুষের কাছে এসবের চাহিদাই বেশি। প্রশিক্ষণের পর নানান রং-ঢঙের টব বানিয়েছেন তিনি। প্রদর্শনীতে এসে শিল্পীরাও খুশি, নিজেদের কাজগুলো ঢাকার মানুষকে দেখাতে পেরে।

বন্দরের ইজারায় আপত্তি জেলা প্রশাসনের

কর্ণফুলী নদীর তীরে চট্টগ্রাম বন্দরের ক্যাপিটাল ড্রেজিং প্রকল্প এলাকায় মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (চবক) কাছ থেকে ইজারা নিয়ে চাক্তাই ও রাজাখালী খালের মাঝখানে প্রায় চার একর জায়গায় এই স্থাপনা নির্মাণ করছে বাংলাদেশ মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেড। চবক ইজারা দিলেও জায়গাটির মালিকানা দাবি করেছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালের ১ জানুয়ারি বন্দর কর্তৃপক্ষ চাক্তাই ও রাজাখালীর মধ্যবর্তী ১ লাখ ৭৩ হাজার ২৬৩ বর্গফুট জায়গা বাংলাদেশ মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেডকে ইজারা দেয়। জায়গার বার্ষিক ভাড়া ধরেছে ২৮ লাখ ১৫ হাজার ৫২৩ টাকা। ১৫ বছরের জন্য এ ইজারা দেওয়া হয়। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীন সমবায় অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিষ্ঠান হচ্ছে মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি। এ বিষয়ে বন্দর পর্ষদ সদস্য জাফর আলম প্রথম আলোকে বলেন, সাধারণত কর্ণফুলী নদীর হাই ওয়াটার মার্ক (সাধারণ জোয়ারে নদীর পানি যে সীমানা স্পর্শ করে) দেড় শ ফুট পর্যন্ত বন্দরের এখতিয়ারাধীন। আর নদীকেন্দ্রিক যেসব প্রতিষ্ঠান ব্যবসা পরিচালনা করে, তাদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করাও বন্দরের কাজ। মৎস্য একটি বড় ক্ষেত্র। কিন্তু তাদের জন্য কোনো কিছু করা হয়নি। ওই চিন্তা করে তাদের জায়গাটি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, জমিসংক্রান্ত বিষয়ে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা চলছে। কর্ণফুলী নদীর তীরে নির্মাণাধীন এ স্থাপনা নিয়ে গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসককে একটি প্রতিবেদন দেন সদর সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) আছিয়া খাতুন।
ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, চাক্তাই ও রাজাখালী খালের মধ্যবর্তী স্থানের যে জায়গায় স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে, তা খাস খতিয়ানভুক্ত নদী (কর্ণফুলী নদী) শ্রেণির জমি। খাস খতিয়ানভুক্ত জায়গা কী বিবেচনায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ইজারা বা ব্যবহারের অনুমতি প্রদান করেছে, তা বোধগম্য নয়। এই প্রতিবেদনের সূত্র ধরে তৎকালীন জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন গত বছরের সেপ্টেম্বরে সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে কর্ণফুলী নদীর পাশের জমিতে স্থাপনা নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। এ ছাড়া ইজারা প্রদানের বিষয়ে মতামত প্রদানের জন্য বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানকে চিঠি দেন তিনি। গত বছরের ১১ ডিসেম্বর বন্দরের সচিব মো. ওমর ফারুক স্বাক্ষরিত চিঠিতে এ বিষয়ে মতামত দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, কর্ণফুলী নদী শাসন, নদী খনন, নদী সংরক্ষণ, নদীতীর রক্ষণাবেক্ষণ ও বন্দর অবকাঠামো নির্মাণ চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের আওতাভুক্ত। কর্ণফুলী নদীর হাই ওয়াটার মার্ক অর্থাৎ ১৫০ ফুট পর্যন্ত বন্দর কর্তৃপক্ষের এখতিয়ারাধীন। কর্ণফুলী নদীতে হাজার হাজার মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলার যত্রতত্র নোঙর করে, যা জাহাজ চলাচলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এবং নদীর স্বাভাবিক গতিপ্রবাহে বাধার সৃষ্টি করে। বন্দর কর্তৃপক্ষ নৌযান ও ট্রলারের নিরাপদ নোঙরের জন্য মৎস্য বন্দর নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করে, যাতে দরিদ্র মৎস্যজীবীরা উপযুক্ত মূল্যে মৎস্য অবতরণ ও বিক্রয় করতে পারেন। গত বুধবার সরেজমিনে দেখা যায়, কর্ণফুলী নদীর তীর ঘেঁষে গড়ে ওঠা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে পাঁচটি একতলা ভবন ও একটি দোতলা ভবন তৈরি করা হয়েছে। একতলা ভবনের দোকানগুলোতে মাছের আড়ত থাকবে এবং দোতলা ভবনে শৌচাগার ও পোশাক পরিবর্তনের কক্ষ হিসেবে ব্যবহৃত হবে।

নাগরিক মনে ফাগুনের রঙ

কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায় বসন্তের জন্য ফুল ফোটার ওপর যেমন শর্তারোপ করেননি, তেমনি বসন্তের মানেতেও কোনো শর্ত নেই। তাই শর্তহীনভাবে গতকাল বসন্তের প্রথম দিনটি হয়ে উঠেছিল সবার জন্যই একটুখানি অন্য রকম উৎসবমুখর, রঙিন। কোথাও কোথাও দু-একটি কোকিলের কুহু ডাক ছাড়া এই নীরস শহরে বসন্ত এসেছে জানাতে পারেনি প্রকৃতি। কিন্তু হৃদয়ের বসন্ত থেমে থাকেনি। তাই তো নগরের নানা বয়সের মানুষ বসন্তবরণ উৎসবে মেতে উঠেছে।
হলুদ, বাসন্তী, লাল, সাদা, নীল নানা রং, গান আর উচ্ছ্বাসে গতকাল বসন্তের প্রথম দিনটি হয়ে উঠেছিল দারুণ রঙিন। মূল আয়োজনটা ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের বকুলতলায়। পয়লা ফাল্গুনে সোমবার সকালে থেকেই চারুকলা ইনস্টিটিউটের বকুলতলায় জমে ওঠে বসন্তবরণ উৎসব। জাতীয় বসন্ত উৎসব উদ্যাপন পরিষদ প্রতিবছরের মতো এবারও আয়োজন করে বসন্ত উৎসবের। বকুলতলায় ফাগুনের উৎসবের যে রং লেগেছিল, সে রং ছড়িয়ে পড়ল পুরো বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায়। সেখান থেকে গোটা নগরে। যেদিকে চোখ যায়, সেদিকেই বাসন্তীরঙা শাড়িতে শোভিত তরুণী। তাদের পাশের পুরুষ সঙ্গীটির পরনে বসন্তের আবহ। সব মিলিয়ে নগরে যেন ‘ফাগুন লেগেছে বনে বনে’। সকালে মতিয়ার রহমানের ধ্রুপদি যন্ত্রসংগীত পরিবেশনার মাধ্যমে বসন্ত উৎসবের শুরু হয়। তিনি রাগ ভৈরবী পরিবেশন করেন। যন্ত্রের বাদন শেষে শাস্ত্রীয় সংগীত উপস্থাপন করেন অসিত রায়। তিনি গেয়ে শোনান বসন্তভিত্তিক ধ্রুপদি রাগ। ঋতুরাজকে স্বাগত জানিয়ে সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠী গেয়ে শোনায় ‘আয়রে বসন্ত নবীন পাখা মেলে’। এরপর সাঁওতালি নাচ পরিবেশন করা হয়। ‘কোন গহিনে ফুটে চম্পা’ গানের সঙ্গে দলীয় নৃত্য পরিবেশন করে ‘কাদা মাটি’। তামান্না রহমানের নির্দেশনায় ‘বসন্ত এসে গেছে’ গানের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করে নৃত্যম। রবীন্দ্রনাথের ‘শেষ বসন্ত’ কবিতাটি আবৃত্তি করেন ভাস্বর বন্দ্যোপাধ্যায়।
ফাহিম হোসেন চৌধুরী গেয়ে শোনান ‘অলি বারবার ফিরে আসে যায়’। ‘আমার মল্লিকা বনে’ গেয়ে শোনান বুলবুল ইসলাম। ‘জাগাও জাগাও গানের সুরে’ নৃত্য পরিবেশন করে নৃত্যনন্দন। ‘বসন্ত এল এল রে’ পরিবেশন করে গানের দল সুরসপ্তক। ‘বসন্ত বর্ণন’ শীর্ষক মণিপুরি নাচ পরিবেশন করেন ওয়ার্দা রিহাব ও তাঁর দল ধৃতি নর্তনালয়। পরে একক গান পরিবেশন করেন বিমান চন্দ্র বিশ্বাস। নৃত্যনাট্য পরিবেশন করে পূজা সেনগুপ্ত। ‘বসন্ত বাতাসে সই গো’ গানটি গেয়ে শোনান বুলবুল ললিতকলা একাডেমি। ‘আহা আজি এ বসন্তে’ পরিবেশন করে নৃত্যাক্ষ। রাঙামাটি থেকে আসা অন্তর দেওয়ান ও তার দল আদিবাসী নৃত্য পরিবেশন করে। শিল্পকলা একাডেমিতে বসন্ত উৎসব বসন্তবরণে শিল্পকলা একাডেমিতে গতকাল বিকেলে শুরু হয়েছে তিন দিনের বসন্ত উৎসব। বিকেল সাড়ে পাঁচটায় একাডেমির নন্দন মঞ্চে শুরু হয় এ উৎসব। এর আয়োজক একাডেমির সংগীত, নৃত্য ও আবৃত্তি বিভাগ। এতে ছিল সমবেত ও একক গান, নৃত্য ও আবৃত্তি পরিবেশনা।
চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে ‘বসন্তবরণ’
চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে সকালে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘বসন্তবরণ’ অনুষ্ঠান ‘গানে গানে সকাল শুরু’। এতে গান করেছেন জনপ্রিয় রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা ও তাঁর সংগীত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সুরের ধারার শিল্পীরা। নাচ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃত্যকলা বিভাগের শিক্ষার্থীরা।

বসন্ত উৎসবে মাতোয়ারা চট্টগ্রাম

বসন্ত এসেছে প্রকৃতিতে। ফুটেছে পলাশ। বাসন্তী রঙের পোশাকে সেজেছে তরুণ-তরুণী। মঞ্চ থেকে ভেসে আসা সুরের মূর্ছনা, কথামালায়ও বসন্ত আবাহন। পয়লা ফাগুনে গান, নাচ, আবৃত্তিসহ নানা আয়োজনে ঋতুরাজ বসন্তকে বরণ করে নিয়েছে চট্টগ্রাম নগরবাসী। গতকাল সোমবার সকাল থেকে নগরের শিল্পকলা একাডেমি ও ডিসি হিলে বসন্ত উৎসবকে ঘিরে ছিল নানা আয়োজন। শিল্পকলায় প্রমা আবৃত্তি সংগঠন ও ডিসি হিলে বোধন আবৃত্তি পরিষদ দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠান ছাপিয়ে মূর্ত হয়ে ওঠে বসন্তবরণে আসা নর-নারীর বর্ণিল উপস্থিতি। শিল্পকলা একাডেমিতে সকালে বসন্ত উৎসবের উদ্বোধন করেন আজাদী সম্পাদক এম এ মালেক। প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মো. সামসুল আরেফিন।
বেহালা বাদনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় বসন্ত উৎসব। এ সময় আবৃত্তির মধ্য দিয়ে বসন্ত আবাহন করেন রাশেদ হাসান। পরে দলীয় সংগীত, একক সংগীত, নৃত্য ও আবৃত্তি পরিবেশন করেন শিল্পীরা। ডিসি হিলে সকালে বোধন আবৃত্তি পরিষদের আয়োজনে শুরু হয় বসন্ত উৎসব। ওস্তাদ স্বর্ণময় চক্রবর্তীর রাগ সংগীতের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এ অনুষ্ঠানে অভ্যুদয় সংগীত অঙ্গন, গীতধ্বনি, ঘুঙুর নৃত্যকলা একাডেমি, ওডিসি অ্যান্ড টেগোর ড্যান্স মুভমেন্টসহ বিভিন্ন সংগঠন অংশ নেয়। প্রবীণ আবৃত্তি শিল্পী রণজিৎ রক্ষিত বলেন, ‘বসন্তে প্রকৃতির মতো মানুষ আবার জেগে ওঠে। আমাদের ভীরুতা, জঙ্গিবাদ কিংবা সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর প্রেরণা জোগায়।’

চট্টগ্রাম মেডিকেলের ছাত্রাবাস চত্বর থেকে বিলাসবহুল জিপ জব্দ

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের প্রধান ছাত্রাবাসের সামনের চত্বর থেকে মিতসুবিশি ব্র্যান্ডের একটি বিলাসবহুল জিপ (ব্যক্তিগত গাড়ি) জব্দ করেছেন শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।¯গতকাল সোমবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে শুল্ক গোয়েন্দাদের একটি দল সেখানে গিয়ে গাড়িটি জব্দ করেন। শুল্কমুক্ত সুবিধার অপব্যবহার করে গাড়িটি আমদানি করা হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক তারেক মাহমুদ প্রথম আলোকে বলেন, গাড়িটি লক (বন্ধ) করা অবস্থায় ছিল। এর আগে গত বছরের আগস্ট মাসে চট্টগ্রামের আমিরবাগ আবাসিক এলাকা থেকে একটি রেঞ্জ রোভার গাড়ি জব্দ করেছিল শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। এ ছাড়া অলংকার মোড়ের একটি পেট্রলপাম্প থেকে পোরশে ব্র্যান্ডের আরও একটি গাড়ি জব্দ করা হয়। শুল্ক গোয়েন্দার অভিযানে জব্দ হওয়া ওই দুটি গাড়ি পর্যটন সুবিধায় শুল্ক-কর ছাড়া আনা হয়েছিল।

বাক্সে পড়ে আছে সরঞ্জাম, অস্ত্রোপচার বন্ধ ৬ বছর

ছয় বছর আগে দুপচাঁচিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অস্ত্রোপচার কক্ষ নির্মাণ করা হয়। কিন্তু অবেদনবিদ ও শল্যচিকিৎসক না থাকায় গত ছয় বছরে এখানে কোনো অস্ত্রোপচার করা হয়নি। স্থানীয় ব্যক্তিদের বেশি টাকা খরচ করে বেসরকারি ক্লিনিকগুলো থেকে সেবা নিতে হচ্ছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানায়, হাসপাতালটি ২০০৭ সালে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। ছয় বছর আগে হাসপাতালের নতুন ভবন নির্মাণ করা হয়। সেখানে একটি অস্ত্রোপচার কক্ষ করা হয়।
কিন্তু অস্ত্রোপচারের সরঞ্জামগুলো এখনো বাক্সবন্দী হয়ে আছে। শল্যচিকিৎসক (সার্জন) ও অবেদনবিদ (অ্যানেসথেসিয়া বিশেষজ্ঞ) না থাকায় কোনো অস্ত্রোপচার করা যাচ্ছে না। এদিকে এক্স-রে যন্ত্রের স্ক্রিন (পর্দা), এক্স-রে টেবিল ও রেডিয়েশনপ্রুফ কক্ষ না থাকায় এক্স-রেও করা হয় না। তবে এখানে স্বাভাবিক প্রসব করানো হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবদুল ওয়াদুদ বলেন, এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২১ জন চিকিৎসকের জায়গায় ১২ জন কর্মরত আছেন। অবেদনবিদ ও শল্যচিকিৎসক না থাকায় কোনো অস্ত্রোপচার করা যাচ্ছে না। এসব বিষয়ে জেলা সিভিল সার্জনকে প্রতি মাসে প্রতিবেদন পাঠানো হয়। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকেরা আরও বলেন, বহির্বিভাগে প্রতিদিন গড়ে ২৫০ জন রোগী চিকিৎসা নিতে আসে। ৫ ফেব্রুয়ারি ৪১ জন রোগী ভর্তি ছিল। কয়েক বছর ধরে হাসপাতালের জেনারেটরটি নষ্ট। ফলে রাতে বিদ্যুৎ না থাকলে রোগী ও তাদের স্বজনেরা মোমবাতি জ্বালায়। এদিকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অস্ত্রোপচার না হওয়ায় স্থানীয় লোকজন ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। বিশেষ করে অন্তঃসত্ত্বা নারীদের ভোগান্তি বেশি।
স্থানীয় এক বেসরকারি ক্লিনিকে ভর্তি আছেন উপজেলার খাগড়া গ্রামের নিজাম উদ্দিন (৫২)। কয়েক দিন আগে তাঁর পিত্তথলি থেকে পাথর অপসারণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, গত সপ্তাহে পেটের ব্যথায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন। চিকিৎসকেরা তাঁকে রক্ত পরীক্ষা ও আল্ট্রাসনোগ্রাম করার পরামর্শ দেন। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরীক্ষার ব্যবস্থা না থাকায় এই ক্লিনিকে ভর্তি হয়ে সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও অস্ত্রোপচার করান। এতে তাঁর ১০ হাজার টাকার বেশি খরচ হয়েছে। কাহালুর বীরকেদার গ্রামের বীথি বেগম (২৪) আরেকটি ক্লিনিকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তাঁর স্বামী সিরাজুল ইসলাম প্রামাণিক বলেন, স্বাভাবিকভাবে সন্তান প্রসব না হওয়ায় চিকিৎসক অস্ত্রোপচার করার পরামর্শ দেন। পরে তাঁরা এখানে আসেন। বেসরকারি ক্লিনিকগুলোয় সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের জন্য সাত থেকে আট হাজার করে টাকা নেওয়া হচ্ছে। বগুড়া জেলা সিভিল সার্জন অর্ধেন্দু দেব মুঠোফোনে বলেন, জেলার প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শল্যবিশেষজ্ঞ ও অবেদনবিদের সংকট। তাঁরা প্রতি মাসে এ সমস্যার প্রতিবেদন অধিদপ্তরে পাঠান। তবে সরকার সম্প্রতি এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন কোনো চিকিৎসক নিয়োগ হলে প্রথমেই তাঁদের অবেদন বিষয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। শিগগিরই এ সংকটের সমাধান করা হবে।

কুষ্টিয়ায় আর্জেস গ্রেনেড গুলি ও ককটেল উদ্ধার

কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলায় একতারপুর গ্রামের মাঠ থেকে রাইফেলের গুলি, আর্জেস গ্রেনেড ও ককটেল উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল সোমবার দুপুরে উপজেলার জানিপুর ইউনিয়নের একতারপুর গ্রামে এক স্কুলশিক্ষকের পানের বরজ থেকে এসব উদ্ধার করা হয়। খোকসা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেলিনা বানু ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হুদা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দা সূত্র জানায়, একতারপুর গ্রামের স্কুলশিক্ষক সুকুমার চক্রবর্তী গ্রামের মাঠে তাঁর পানের বরজে প্রতিবছর শ্রমিক দিয়ে মাটি কাটান। গতকাল সোমবার সকালে জমির পানি নিষ্কাশনের জন্য পানের বরজে শ্রমিকেরা মাটি কেটে নালা তৈরি করছিলেন। বেলা একটার দিকে মাটি কাটার সময় এক শ্রমিকের কোদালে মাটির নিচে শক্ত কিছু আটকে যায়।
এরপর সেখান থেকে মাটি সরানো হলে গুলি দেখতে পান। বিষয়টি শ্রমিকেরা সুকুমারকে জানান। এরপর সুকুমার মুঠোফোনে ইউএনও ও ওসিকে ঘটনা জানান। খোকসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হুদা প্রথম আলোকে বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে মাটির প্রায় এক হাত নিচ থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় রাইফেলের ২৪০টি গুলি, তিনটি আর্জেস গ্রেনেড ও দুটি ককটেল উদ্ধার করা হয়। পরে সেগুলো থানায় নেওয়া হয়। গুলিগুলো এখনো তাজা রয়েছে। গ্রেনেড ও বোমাগুলো ঠিক আছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ জন্য গ্রেনেড ও বোমা বিশেষজ্ঞদের সহায়তা নেওয়া হবে। ওসি আরও বলেন, উদ্ধার করা গুলি, গ্রেনেড ও ককটেল পুলিশ লাইনে পাঠানো হবে। ধারণা করা হচ্ছে, এগুলো ৫-৬ বছর আগে মাটির নিচে পুঁতে রাখা হয়েছিল। ইউএনও সেলিনা বানু বলেন, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে যাওয়া হয়েছিল। স্কুলশিক্ষকের স্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়েছে। তাঁরা এ বিষয়ে কিছুই জানেন না।

ওষুধ উদ্ভাবন ও সহজলভ্যতা একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ

খ্যাতিমান মানব উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক সাকিকো ফুকুদা-পার বলেছেন, ওষুধ উদ্ভাবন ও ওষুধের সহজলভ্যতা একুশ শতকের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। অনেক বাণিজ্য চুক্তি থাকার পরও বিশ্বব্যাপী ওষুধের দাম আকাশচুম্বী হচ্ছে। ওষুধ সহজলভ্য না হলে সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা অর্জিত হবে না। গতকাল সোমবার গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) তৃতীয় বার্ষিক বক্তৃতা অনুষ্ঠানে সাকিকো ফুকুদা-পার এ কথা বলেন।
তিনি জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসির ভাইস-চেয়ার। রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে সিপিডি এ বক্তৃতার আয়োজন করে। দেশের শীর্ষ জনস্বাস্থ্যবিদ, অর্থনীতিবিদ, ওষুধ ব্যবসায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং এনজিও কর্মকর্তারা এতে উপস্থিত ছিলেন। স্বাস্থ্য ও বাণিজ্যবিষয়ক বক্তৃতায় সাকিকো ফুকুদা-পার বলেন, ওষুধের মূল্যবৃদ্ধির সমস্যা বাংলাদেশেও আছে। বাংলাদেশে যক্ষ্মা রোগে ২০১৪ সালে ৮১ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। এ রোগে সংক্রমণ ও মৃত্যু হারে বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বে চতুর্থ। এ দেশে ওষুধ প্রতিরোধী যক্ষ্মার (এমডিআর টিবি) প্রকোপ উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। যক্ষ্মা চিকিৎসায় গত ৪০ বছর পর দুটি নতুন ওষুধ তৈরি হয়েছে। ওষুধ দুটি এ দেশে ব্যবহৃত হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের দ্য নিউ স্কুলের গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রাম ইন ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্সের এই অধ্যাপক আরও বলেন, উন্নয়নশীল দেশের মতো উচ্চ আয়ের দেশের মানুষও ওষুধের মূল্যবৃদ্ধির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এটা এইচআইভি, যক্ষ্মা ও ম্যালেরিয়ার মতো সংক্রামক ব্যাধির পাশাপাশি অসংক্রামক ব্যাধির ক্ষেত্রেও ঘটছে। এ ছাড়া জনস্বাস্থ্যের অগ্রাধিকার বিবেচনা করে ওষুধ উদ্ভাবনেও বিনিয়োগ অপর্যাপ্ত। জন অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ না হওয়ায় ওষুধের সহজলভ্যতা ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে ব্যবধান তৈরি হয়েছে। অনুষ্ঠানের সভাপতি ও সিপিডির চেয়ারপারসন অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেন, যে ওষুধ (অ্যাসপিরিন) তৈরি করতে পাঁচ সেন্ট খরচ হয় তা নিউইয়র্ক শহরে পাঁচ ডলারে বিক্রি হয়। যুক্তরাষ্ট্রের জিডিপির ১৬-১৭ শতাংশ ব্যয় হয় স্বাস্থ্য খাতে।
এটা কাঠামোগত অর্থায়ন সমস্যা। স্বাস্থ্যের ব্যয়নির্বাহের জন্য মহাকাশ গবেষণায় খরচ কমাতে হচ্ছে। বিশিষ্ট এই অর্থনীতিবিদ বলেন, স্বাস্থ্য অন্য অনেক বিষয়ের চেয়ে আলাদা। আন্তর্জাতিক আলোচনা বা দলিলে স্বাস্থ্যকে ‘বৈশ্বিক গণপণ্য’ (গ্লোবাল পাবলিক গুডস) হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, দুজন বিজ্ঞানী এ দেশে কলেরা চিকিৎসায় স্যালাইন আবিষ্কার করেন। সেই আবিষ্কার ব্র্যাকের সহায়তায় মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে যায়। এ দেশের মানুষ খাওয়ার স্যালাইন তৈরি করতে পারে। পৃথিবীর নানা প্রান্তে এ রকম উদাহরণ আরও আছে। এসব উদাহরণকে আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য আলোচনায় সামনে আনতে হবে। বক্তৃতা শুরুর আগে সাকিকো ফুকুদা-পারের পরিচয় তুলে ধরেন সিপিডির বিশেষ ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, একাধিক ইউএনডিপি মানব উন্নয়ন প্রতিবেদনের প্রধান লেখক অধ্যাপক ফুকুদা-পার। লেখাপড়া করেছেন কেমব্রিজ ও সাসেক্সে। তিনি কলম্বিয়া ও হার্ভার্ডে শিক্ষকতা করেছেন। ফুকুদা-পার, রেহমান সোবহানসহ মুক্ত আলোচনায় অংশ নেওয়া একাধিক আলোচক বলেন, ওষুধ প্রস্তুতকারী কোম্পানিগুলো যুক্তি দেয় গবেষণা ও পণ্য উন্নয়নের জন্য প্রচুর খরচ হয়। সেই খরচ সে পুষিয়ে নেয় ওষুধের দাম থেকে। ফুকুদা-পার বলেন, গবেষণা ও উন্নয়নে কত খরচ হয় সে ব্যাপারে স্বচ্ছতা থাকা দরকার। দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের সঞ্চালনায় মুক্ত আলোচনা ও প্রশ্নোত্তর পর্বে ২২ জন অংশগ্রহণকারী প্রশ্ন করেন, মতামত দেন। গণস্বাস্থ্যকেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ব্যবসায়ীদের দাপট থাকায় ওষুধের দাম বেশি। ওষুধ রপ্তানি থেকে আয় মোট রপ্তানি আয়ের ১ শতাংশের কম। এমনকি সেই আয় শাকসবজি রপ্তানি আয়ের চেয়েও কম। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান।

আমাদের অর্থনীতি অংশগ্রহণমূলক নয়: ড. ইউনূস

নোবেল লরিয়েট মুহাম্মদ ইউনূস আর্থিক সেবাকে অর্থনৈতিক জীবনের অক্সিজেন বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেন, জনসংখ্যার নিচের অর্ধেক, বিশেষ করে নিচের দিকের নারীরা এই অক্সিজেন থেকে বঞ্চিত। আর এ কারণেই অর্থনৈতিক জীবনে তাঁরা খুব দুর্বল থেকে যাচ্ছেন।
কিছু সুবিধাভোগী এই অক্সিজেন একচেটিয়াভাবে ভোগ করছে। ভারতের অন্ধ্র প্রদেশের রাজ্যসভা আয়োজিত জাতীয় নারী পার্লামেন্টের সম্মেলনে দেওয়া বক্তৃতায় তিনি এই মন্তব্য করেন। গত শুক্রবার অন্ধ্র প্রদেশের রাজধানী অমরাবতীতে তিন দিনব্যাপী ‘নারীর ক্ষমতায়ন—শক্তিশালী গণতন্ত্র’ শীর্ষক এই সম্মেলন শুরু হয়। ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের ১২ হাজার তরুণী এই সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন। প্রফেসর ইউনূস বলেন, ‘অংশগ্রহণমূলক গণতন্ত্র নিশ্চিত করা সমাজের মৌলিক লক্ষ্যগুলোর একটি। কিন্তু আমাদের ভুলে গেলে চলবে না যে অংশগ্রহণমূলক অর্থনীতি ছাড়া অংশগ্রহণমূলক গণতন্ত্র সম্ভব নয়। আমরা যে অর্থনীতিতে বাস করছি, তা কোনোভাবেই অংশগ্রহণমূলক নয়। সমাজের নিচের অর্ধেক মানুষের এতে খুব সামান্যই অংশগ্রহণ রয়েছে। পৃথিবীর মাত্র ১ শতাংশ মানুষ এর ৯৯ শতাংশ সম্পদের মালিক।
এটাকে কোনোভাবেই অংশগ্রহণমূলক বলা চলে না।’ নোবেল লরিয়েট ও আধ্যাত্মিক নেতা দালাই লামা, ইউনিয়ন মন্ত্রী এম ভেঙ্কাইশ নাইডু ও পি অশোক গজপতি রাজু, অন্ধ্র প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডু, পদুচেরির লেফটেন্যান্ট গভর্নর কিরণ বেদী, গান্ধীবাদী ইলা ভাট, বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী, অভিনেত্রী মনীষা কৈরালা এবং বিশিষ্ট আরও অনেক অতিথি সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন। ওই দিনই ড. ইউনূস ব্যাঙ্গালুরুতে ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্টে ছাত্র ও শিক্ষকদের এক সমাবেশে বলেন, ‘প্রতিটি মানুষই জন্মগতভাবে একজন উদ্যোক্তা। অন্যের জন্য কাজ করতে পৃথিবীতে কেউ জন্মায় না।’ তিনি যে ধরনের যুক্তি থেকে এসব সমস্যার সৃষ্টি, তা থেকে বেরিয়ে এসে সমস্যার মূলে প্রবেশ করতে ও নতুন যুক্তিকাঠামো তৈরি করতে সবাইকে আহ্বান জানান। বিজ্ঞপ্তি

গুলিস্তানে ফুটপাতের চাঁদা দৈনিক ২০–২৫ লাখ টাকা!

রাজধানীর গুলিস্তান ও আশপাশের এলাকার ফুটপাত দখলমুক্ত করা নিয়ে হকার ও ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় নেতারা দ্বিধাবিভক্ত। দুই পক্ষের নেতা-কর্মী, হকার, পুলিশ ও ফুটপাতের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এসব এলাকা থেকে প্রতিদিন গড়ে ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা চাঁদা তোলা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে হকার উচ্ছেদ, দখল, পাল্টা দখল এবং এসব নিয়ে মামলা-হামলার নেপথ্যে রয়েছে এই টাকার ভাগ-বাঁটোয়ারা নিয়ে বিরোধ।
তবে কোনো পক্ষই চাঁদাবাজির সঙ্গে নিজেদের সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করেনি। প্রথম আলোর অনুসন্ধানে জানা গেছে, গুলিস্তান ও এর আশপাশের এলাকায় ৪৫টির মতো ফুটপাতে ভাসমান হকার বসেন। এর মধ্যে ৩০টি ফুটপাত পড়েছে পল্টন থানায়, ১২টি মতিঝিল থানায় ও ৩টি শাহবাগ থানা এলাকায়। এসব ফুটপাতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) তালিকাভুক্ত হকার আছেন প্রায় আড়াই হাজার। তালিকার বাইরে কত হকার আছেন, তার সঠিক হিসাব পাওয়া যায়নি। হকারদের বিভিন্ন সংগঠনের তথ্য অনুযায়ী, ৪৫টি ফুটপাতে অন্তত ১০-১২ হাজার ভাসমান দোকান রয়েছে। এসব দোকান থেকে প্রতিদিন ৫০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা তোলা হয়। চাঁদার হার গড়ে ২০০ টাকা করে হলে ৪৫টি ফুটপাত থেকে দিনে ২০ লাখ টাকা চাঁদা ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, চাঁদার এই টাকা ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় নেতা-কর্মী, সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর, পুলিশ ও চাঁদা তোলার কাজে নিয়োজিত লাইনম্যান এবং তাঁদের সহযোগীরা ভাগ করে নেন। জানতে চাইলে ডিএসসিসির মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন প্রথম আলোকে বলেন, রাজনৈতিক নেতা নামধারী কিছু চাঁদাবাজ ও সংশ্লিষ্ট থানার কিছু পুলিশ সদস্য ফুটপাতের চাঁদার টাকার ভাগ নেন৷ তাঁদের নির্ধারিত লাইনম্যানরা মাঠপর্যায় থেকে চাঁদা আদায় করেন। ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের ‘নগর পরিস্থিতি ২০১৬: ঢাকা মহানগরের যানজট-শাসন-ব্যবস্থার পরিপ্রেক্ষিত’ নামের এক গবেষণায় বলা হয়, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের ফুটপাতের মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ৪৩০ কিলোমিটার। এসব ফুটপাতে প্রায় আড়াই লাখ হকার আছেন। তাঁদের কাছ থেকে বছরে ১ হাজার ৮২৫ কোটি টাকা চাঁদা আদায় করা হয়।
এই অর্থ দুই সিটি করপোরেশনের বাজেটের প্রায় সমান। প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয় গত ৩০ জানুয়ারি। রাজধানীর ফুটপাতগুলোতে ইচ্ছেমতো কোনো হকার বসতে পারেন না। এ জন্য স্থানীয় রাজনীতিক, প্রশাসন ও প্রয়োজনে সিটি করপোরেশনের লোকজনকে ‘ম্যানেজ’ করতে হয়। এই অনুমতির একমাত্র মাধ্যম হলো ‘লাইনম্যান’। ফুটপাতের দোকানিদের নিয়ন্ত্রণ করা, চাঁদা তোলা থেকে শুরু করে সব ধরনের যোগাযোগে লাইনম্যান হলেন মাঠপর্যায়ের লোক। সাধারণত প্রতিদিন বেলা দুইটা থেকে বিকেল পাঁচটার মধ্যে চাঁদা তোলা হয়। হকার উচ্ছেদ নিয়ে দ্বন্দ্ব ডিএসসিসি এলাকায় হকার উচ্ছেদের পক্ষে-বিপক্ষে আন্দোলনের সূচনা হয় হাইকোর্টের একটি আদেশকে কেন্দ্র করে। ২০১২ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি দেওয়া ওই আদেশে জিরো পয়েন্ট থেকে সদরঘাট পর্যন্ত এলাকার ফুটপাত এবং রাস্তার ওপর থেকে দোকান তুলে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে তা এত দিন কার্যকর হয়নি। ২০১৬ সালের ১৯ এপ্রিল একনেকের সভায় সাপ্তাহিক ছুটির দিনে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য এলাকাভিত্তিক সাপ্তাহিক বাজার এবং হকারদের স্থায়ী পুনর্বাসনের জন্য ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে বহুতল মার্কেট নির্মাণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাশাপাশি প্রকৃত হকার শনাক্ত করতে তাঁদের ছবি ও ভিডিও রাখার সিদ্ধান্ত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ডিএসসিসি গুলিস্তান এলাকার ২ হাজার ৫০৬ জন হকারের তালিকা করে। এই তালিকা নিয়েও হকারদের একটি বড় অংশে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
সেই ক্ষোভের আগুনে ঘি ঢালেন স্থানীয় পর্যায়ের নেতারা। এতে করে হকাররা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েন। এক পক্ষ বেশি সুবিধার আশায় ডিএসসিসির মেয়রের পক্ষ নেয়, আরেক পক্ষ কর্মহীন হয়ে পড়ার ভয়ে বিরোধিতা শুরু করে। এই পক্ষের সঙ্গে যোগ দেন লাইনম্যান ও চাঁদার টাকার সুবিধাভোগীরা। বাংলাদেশ হকার্স ফেডারেশনের সভাপতি এম এ কাশেম প্রথম আলোকে বলেন, চাঁদাবাজি বন্ধ হওয়ার ভয়ে এবং চাঁদাবাজদের স্বার্থ রক্ষার জন্য আন্দোলনের নামে হকারদের বিভক্ত করার অপচেষ্টা চলছে। গত ২৬ অক্টোবর গুলিস্তানে উচ্ছেদ অভিযান চালায় ডিএসসিসি। পরদিন আবার অভিযানে গেলে হকার ও লাইনম্যানদের সঙ্গে ডিএসসিসি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সংঘর্ষ হয়। এ সময় স্থানীয় ছাত্রলীগের একটি অংশ উচ্ছেদের পক্ষে অবস্থান নিয়ে প্রকাশ্যে গুলিবর্ষণ করে। এরপর ডিএসসিসির পক্ষ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়, ১৫ জানুয়ারি থেকে গুলিস্তান ও আশপাশের এলাকায় কর্মদিবসে সড়ক ও ফুটপাতে হকার বসা যাবে না। তবে কর্মদিবসে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার পর থেকে এবং সরকারি ছুটির দিনে সারা দিন হকাররা বসতে পারবেন। কিন্তু হকাররা তা না মেনে আন্দোলন করতে থাকেন। এর মধ্যে ৯ ফেব্রুয়ারি ডিএসসিসির পক্ষ থেকে পল্টন, শাহবাগ ও মতিঝিল থানায় ৭২ জনকে আসামি করে তিনটি মামলা করা হয়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ৩ মামলার ৭২ আসামির অধিকাংশই সরকারদলীয় রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। এ ছাড়া ২৫ জন বিএনপি, ছয়জন বাম রাজনীতির সঙ্গে জড়িত, 
কজন গোয়েন্দা পুলিশের সোর্স হিসেবে নিজের পরিচয় দেন। জানতে চাইলে মামলা তিনটির তদন্ত কর্মকর্তারা (পল্টন থানার এসআই সুমেন কুমার বড়ুয়া, মতিঝিলের এসআই শফিকুল ইসলাম আকন্দ, শাহবাগের এসআই মাহবুবুল আলম) জানিয়েছেন, গত রোববার পর্যন্ত পল্টন থানায় দেলোয়ার হোসেন ভোলা নামের একজন গ্রেপ্তার হয়েছেন। আন্দোলন ও মামলা এখন উচ্ছেদবিরোধী আন্দোলন হচ্ছে বাংলাদেশ হকার্স সমন্বয় পরিষদের ব্যানারে। হকারদের নিবন্ধিত আটটি সংগঠনের মধ্যে দুটি সংগঠনসহ ১৬টি সংগঠনের সমন্বয়ে এই পরিষদ গঠন করা হয়েছে। নিবন্ধিত অন্য সংগঠনগুলো বাংলাদেশ হকার্স ফেডারেশনের নেতৃত্বে মেয়র সাঈদ খোকনের পক্ষ নিয়েছে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, নিজেদের পছন্দমতো লোক নিয়ে ফুটপাত নিয়ন্ত্রণ করতেই মেয়র এই পথ বেছে নিয়েছেন। আন্দোলনরত হকার্স ইউনিয়নের আহ্বায়ক আবদুল হাশেম অভিযোগ করেন, আন্দোলন বন্ধ করতেই ডিএসসিসির পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে। তিনি নিজেও এই মামলার আসামি। তবে মেয়র সাঈদ খোকন প্রথম আলোকে বলেন, আসামিরা ফুটপাত ও সড়কে দোকানপাট বসিয়ে মোটা অঙ্কের চাঁদা আদায় করতেন৷ এর বাইরে আরও লাইনম্যান নামের চাঁদাবাজ রয়েছেন৷ পুলিশ তদন্ত করে মামলায় তাঁদের নাম অন্তর্ভুক্ত করতে পারে। অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধেও হকার ও লাইনম্যান সূত্রে জানা গেছে, পুলিশ কর্মকর্তারা সরাসরি হকারদের হাত থেকে চাঁদা নেন না। তবে লাইনম্যানদের সংগ্রহ করা চাঁদার ভাগ পায় পুলিশ।
এক সপ্তাহ পর পর সাত দিনের ভাগের টাকা লাইনম্যানদের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট থানায় গিয়ে দিয়ে আসা হয়। আবার অনেক ক্ষেত্রে পুলিশ কর্মকর্তারা বিশ্বস্ত ব্যক্তির মাধ্যমে ভাগের টাকা সংগ্রহ করে নিয়ে যান। ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে হকার্স লীগের পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে এক অভিযোগে বলা হয়, লাইনম্যানের মাধ্যমে ফুটপাতের হকারদের কাছ থেকে ৫০ থেকে ২০০ টাকা দৈনিক চাঁদা আদায় করা হয়। যার একটি অংশ কিছু অসাধু পুলিশ কর্মকর্তা নেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশে পুলিশ সদর দপ্তরের পক্ষ থেকে অভিযোগের তদন্ত করা হয়। কিন্তু ঘটনা সত্য নয় বলে তারা প্রতিবেদন দেয়। এদিকে গত বছরের এপ্রিলে নিউমার্কেট হকারদের পক্ষ থেকে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়ার কাছে অভিযোগ করে বলা হয়, নিউমার্কেট, গাউছিয়া, সায়েন্সল্যাব ও ধানমন্ডি হকার্স মার্কেটসহ ছয়টি এলাকার ফুটপাত থেকে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের পরিচয়ে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। চাঁদার একটি অংশ নিউমার্কেট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, নিউমার্কেট জোনের সহকারী কমিশনার, নিউমার্কেট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ও ডিএমপির রমনা বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনারসহ অনেক পুলিশ কর্মকর্তা পেয়ে থাকেন। জানতে চাইলে ডিএমপির রমনা বিভাগের উপকমিশনার মারুফ হোসেন সরদার প্রথম আলোকে বলেন, এই অভিযোগ সম্পর্কে তিনি জানেন না। তবে পুলিশের কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ উঠলে তদন্ত করা হয়।
তদন্তে প্রমাণ পাওয়া গেলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হয়। যেভাবে নিয়ন্ত্রিত হয় অনুসন্ধানে জানা গেছে, গুলিস্তান, ফুলবাড়িয়া, বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ, মাওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়াম, জিপিও, পুরানা পল্টন, বায়তুল মোকাররম, দিলকুশা, মতিঝিল এলাকার মূল ফুটপাতগুলো পড়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৯, ১৩ ও ২০ নম্বর ওয়ার্ডে। অভিযোগ রয়েছে, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও যুবলীগ নেতা কে এম মমিনুল হক ও ২০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও সাবেক যুবলীগ নেতা ফরিদ উদ্দিন আহমেদের কর্মীরা চাঁদাবাজির সঙ্গে যুক্ত। জানতে চাইলে ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, তিনি বা তাঁর কোনো কর্মী চাঁদার টাকা নেন না। তবে মাঠপর্যায়ে কাজ করা যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও আওয়ামী লীগের কর্মীরা দৈনিক ৪ হাজার ২০০ টাকা করে ভাগ পান। এ কারণেই অন্যদের নামে বদনাম হয়। আরেক কাউন্সিলর কে এম মমিনুল হক প্রথম আলোকে বলেন, নিজ উদ্যোগে তিনি উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছেন। এতে ক্ষতিগ্রস্তরা ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁর বিরুদ্ধে চাঁদার ভাগ নেওয়ার অভিযোগ করেছেন। একসময় স্থানীয় কিছু অসাধু নেতা-কর্মী চাঁদার ভাগ নিতেন। এখন লাইনম্যানরাই বড় রাজনীতিবিদ, তাঁদের সিন্ডিকেট এত শক্তিশালী যে কাউকে ভাগ দিতে হয় না।
জানতে চাইলে ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের শিক্ষক ও ‘নগর পরিস্থিতি ২০১৬: ঢাকা মহানগরে যানজট-শাসন-ব্যবস্থার পরিপ্রেক্ষিত’ শীর্ষক গবেষণা দলের প্রধান শাহনেওয়াজ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, কোনো চক্রের মদদ ছাড়া ফুটপাতে হকার বসতে পারেন না, এটাই বাস্তবতা। হকাররা এই চক্রকে যে চাঁদা দেন, তা গুলশান-বনানীর ভাড়ার চেয়েও বেশি। কাজেই মেয়র চাইলেও হকার উচ্ছেদ করতে পারবেন না। তবে এ পরিস্থিতিকে অবশ্যই নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আনতে হবে, যানজটের সৃষ্টি হবে এমন জায়গায় হকারদের বসতে দেওয়া যাবে না। তিনি বলেন, এই পরিচয়পত্রের মাধ্যমে হকারেরা সিটি করপোরেশনের কাছ থেকে বৈধভাবে নির্ধারিত জায়গার বরাদ্দ নেবেন। এতে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব পাবে সিটি করপোরেশন। পাশাপাশি হকারদের নিয়ন্ত্রণে লাইনম্যান বা পুলিশ সদস্যদেরও কাজে লাগানো যেতে পারে। ফুটপাত থেকে আয়ের একটি অংশ করপোরেশনের পক্ষ থেকে তাঁরাও পেতে পারেন।

পেশা ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন হালদাপাড়ের জেলেরা

হালদা নদীর পাড়ে হাটহাজারীর উত্তর মাদার্শার জলদাশ পাড়া। এই জেলেপল্লিতে ৪২টি পরিবারের বসবাস। একটি পরিবারের প্রধান জহরলাল দাশ (৬৫)। হালদা নদীকে ঘিরেই তাঁর জীবনজীবিকা। তিন ছেলে তিন মেয়ের বাবা জহরলাল সাত বছর ধরে কার্যত বেকার। কখনো রিকশাভ্যান চালিয়ে কখনো বা দিনমজুরের কাজ করে সংসারের খরচ মেটাচ্ছেন তিনি।
জীবনের শেষ প্রান্তে এসে পেশা পাল্টানোর আক্ষেপ তাঁর চোখে-মুখে। হালদা নদীতে মাছের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য নদীর ৪০ কিলোমিটার এলাকা অভয়াশ্রম ঘোষণা করেছে সরকার। এতে জহরলালের মতো বেকার হয়ে পড়েছেন হালদার দুই পাড়ের রাউজান ও হাটহাজারী উপজেলার প্রায় দুই হাজার জেলে। ডিম সংগ্রহে বিধিনিষেধ না থাকলেও হালদায় মা মাছের সংখ্যা কমে গেছে। ফলে ডিমও আগের মতো মিলছে না। মাছ ধরতে না পেরে বাধ্য হয়ে পূর্বপুরুষের পেশা ছেড়েছেন তাঁরা। হালদা নদীতে মাছের প্রজনন ফিরিয়ে আনতে ১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘হালদা নদীর প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র পুনরুদ্ধার প্রকল্প’ নামের একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করে জেলা মৎস্য কার্যালয়। ২০০৭ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদ ছিল। এই প্রকল্প চলার সময়ে ২০০৭ সালে প্রথমে হালদা নদীর সত্তারঘাট থেকে মদুনাঘাট পর্যন্ত নদীর ২০ কিলোমিটার, পরে ২০১০ সালে নাজিরহাট থেকে কালুরঘাট সেতু পর্যন্ত ৪০ কিলোমিটার এলাকাকে অভয়াশ্রম ঘোষণা করা হয়। মা মাছ রক্ষার জন্য হালদায় জাল ফেলা নিষিদ্ধ করা হলেও এ নদীর ওপর নির্ভরশীল জেলে পরিবারগুলোকে পুনর্বাসন করা হয়নি—এ অভিযোগ জেলেদের। পেটের তাগিদে তাই অনেক জেলে রাতের আঁধারে মাছ ধরার চেষ্টা করেন। গত সাত মাসেই হাটহাজারী মৎস্য কার্যালয় অভিযান চালিয়ে ৬০টি জাল ও ১টি নৌকা জব্দ করেছে।
জেলা মৎস্য কার্যালয় বলছে, প্রকল্পের আওতায় মৎস্যজীবীদের পুনর্বাসনের চেষ্টা করা হয়েছে। ২০১০ সালে প্রায় দুই হাজার মৎস্যজীবীকে ঋণ হিসেবে দেড় বছরের জন্য জনপ্রতি ১০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়। ২০১১ সালে জনপ্রতি দুই মাসের জন্য ৪০ কেজি করে চাল দেওয়া হয়। এই সহায়তা ২০১৫ সাল পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। এর মধ্যে ২০১৩ সাল থেকে চালের বরাদ্দ বাড়ানো হয়। ২০১৩ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত প্রতিবছর গড়ে ৬০ কেজি করে প্রতি পরিবারকে চাল দেওয়া হয়। এরপর চাল সহায়তাও বন্ধ হয়ে যায়। হালদা নদীর প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র পুনরুদ্ধার প্রকল্পের তৎকালীন পরিচালক ও বর্তমানে মৎস্য পরিদর্শন ও মাননিয়ন্ত্রণ বিভাগের উপপরিচালক প্রভাতী দেব প্রথম আলোকে বলেন, ২০১৪ সালে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। তারপরও জেলেদের ২০১৫ সালে চাল দেওয়া হয়েছে। আবারও তাঁদের চাল দেওয়া যায় কি না সে চেষ্টা করা হচ্ছে। হাটহাজারী উপজেলার মৎস্য কর্মকর্তা মো. আজহারুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, হাটহাজারীতে জেলেদের মোট ৬৬ লাখ টাকা ঋণ হিসেবে দেওয়া হয়েছিল। কথা ছিল তাঁরা দেড় বছরের মধ্যে টাকা পরিশোধ করে প্রয়োজনে পুনরায় ঋণ নেবেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত প্রায় ৩৭ লাখ টাকা আদায় করা সম্ভব হয়নি।
গত মঙ্গলবার হাটহাজারীর উত্তর মাদার্শার জলদাসপাড়া ও গড়দুয়ারার সোনাইচরণ দাস পাড়ায় গিয়ে কথা হয় জেলেদের সঙ্গে। প্রয়োজন অনুযায়ী সরকারি সহায়তা না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন অনেকে। জলদাশপাড়ার মৎস্যজীবী শ্রীধাম জলদাশ বলেন, কয়েক পুরুষ ধরে মাছ ধরাই ছিল তাঁদের একমাত্র পেশা। কিন্তু হালদায় মাছ ধরা নিষিদ্ধ হওয়ার পর এখন দিনমজুরি করে সংসার চলে তাঁর। রাউজান উপজেলার উরকিরচর ইউনিয়নের মইশকরম জেলেপাড়ার বাবুল জলদাশ আক্ষেপ করে বলেন, গত বছর ডিম ধরার মৌসুমে মাত্র ১ হাজার ২০০ টাকা পেয়েছি। সারা বছর দিনমজুরি করে যে আয় হয় তাতে ছয়জনের সংসারে টানাটানি লেগেই থাকে। ১০ হাজার টাকা ঋণ বা চাল বিতরণ জেলেদের জীবনে কোনো পরিবর্তন আনেনি বলে মনে করেন হালদা নদী রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী। তিনি বলেন, মাত্র ১০ হাজার টাকা দিয়ে বরং জেলেদের ঋণের ফাঁদে ফেলা হয়েছে। এই টাকায় কিছুই করা সম্ভব নয়। জেলেদের তাঁদের পেশা থেকে পুরোপুরি সরিয়ে আনা উচিত নয়। হাটহাজারী এলাকায় সরকারের অনেকগুলো বড় বড় পুকুর আছে।
এগুলো জেলেদের লিজ দেওয়া যায়। তাঁরা সেখানে হালদার প্রকৃত পোনা চাষ করবেন। মাছ যখন পরিণত হবে, সরকার সেগুলো কিনে নিয়ে হালদায় ছাড়বে। এটা করা গেলে জেলেদের পুনর্বাসন ও হালদার মা মাছ বাড়ানো ও রক্ষা সবই সম্ভব। হালদার মাছের ডিম কমে যাওয়া যে শুধু জেলেদের জীবনে প্রভাব ফেলেছে তা নয়, মৎস্যচাষিরাও ভুগছেন মন্দায়। হাটহাজারীর মধ্যম মাদার্শার আশু বড়ুয়া তিন পুরুষ ধরে মৎস্য চাষের সঙ্গে যুক্ত। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘গত বছর ৮টি নৌকা ও ১৬ জন জেলেকে নিয়ে রেণু সংগ্রহ করতে পেরেছি মাত্র ১ কেজি ৮০০ গ্রামের মতো। অথচ এর আগের বছরেও ৬ কেজির মতো রেণু পেয়েছিলাম। দিন দিন আমাদের অবস্থা খারাপ হচ্ছে। দুই দশক আগেও বছরে ২২ থেকে ২৫ কেজি রেণু সংগ্রহ করতে পারতাম।’

পরিবারের সদস্যদের জড়ানোর চেষ্টা ছিল

পদ্মা সেতু নির্মাণে দুর্নীতির বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের অভিযোগ ও অবস্থানকে দৃঢ়ভাবে চ্যালেঞ্জ করার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়েছে মন্ত্রিসভা। গতকাল সোমবার মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে প্রসঙ্গটি নিয়ে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা হয়। বৈঠকে নিয়মিত আলোচ্যসূচির পাশাপাশি কানাডার আদালতের রায় এবং পদ্মা সেতু বিষয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের অবস্থান নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ সময় বলেন, তাঁর পরিবারের সদস্যদের এই কল্পিত ঘটনায় জড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু কানাডার আদালতের রায়ে প্রমাণিত হলো যে কোনো দুর্নীতি হয়নি। গতকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও পদ্মা সেতু বিষয়ে আলোচনায় অংশ নেন তোফায়েল আহমেদ, মোহাম্মদ নাসিম, আনিসুল হক, রাশেদ খান মেনন, মতিয়া চৌধুরী প্রমুখ তাঁদের কেউ কেউ এ বিষয়ে জাতীয় সংসদে সাধারণ প্রস্তাব ওঠানোর কথা বলেন। বৈঠকে অংশ নেওয়া একাধিক মন্ত্রী নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী আলোচনায় অংশ নিয়ে তাঁর পরিবারের সদস্যদের জড়ানোর বিভিন্ন অপতৎপরতার কথা উল্লেখ করেন।
সরকারের একজন জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টার নাম উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁরা বিশ্বব্যাংকের শর্ত মেনে ওই সময়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করতে প্রধানমন্ত্রীকে পরামর্শ দিয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে এক মন্ত্রী, এক উপদেষ্টা ও এক সচিব ছিলেন। এর মধ্যে একজন সচিব গ্রেপ্তারও হন। বিষয়টি জানার পর প্রধানমন্ত্রী তাঁকে মুক্তির ব্যবস্থা করতে নির্দেশ দেন। বৈঠক সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী আলোচনার ফাঁকে ফাঁকে বিশ্বব্যাংকের ঋণ প্রত্যাহারের পেছনে নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের ভূমিকার কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, অধ্যাপক ইউনূসকে গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে রাখতে সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন তাঁকে (প্রধানমন্ত্রীকে) টেলিফোনে কয়েকবার অনুরোধ করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আইন অনুযায়ী এটা সম্ভব নয়। প্রধানমন্ত্রী ব্যাংকের উপদেষ্টা হিসেবে ইউনূসকে গ্রামীণ ব্যাংকে রাখার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু সেটি তাঁরা মেনে নেননি। গত শুক্রবার কানাডার একটি আদালত পদ্মা সেতু নিয়ে বিশ্বব্যাংকের দুর্নীতির অভিযোগ খারিজ করে দেন। এরপর থেকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। গতকাল মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের বলেন, মন্ত্রিসভা সন্দেহজনক অভিযোগের ভিত্তিতে প্রতিশ্রুত অর্থ প্রদান স্থগিত করার জন্য বিশ্বব্যাংকের নিন্দা জানায়।
তিনি বলেন, এর মাধ্যমে গত কয়েক বছরে বাংলাদেশকে তার কাঙ্ক্ষিত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। যথাসময়ে পদ্মা সেতু নির্মিত হলে মোট দেশজ উৎপাদনের প্রবৃদ্ধি আরও ১ দশমিক ২ শতাংশ অর্জিত হতো। এর ফলে জিডিপি হতো ৮ শতাংশ। সেতু নির্মাণে বিলম্বের কারণে দেশ এই অগ্রগতি থেকে বঞ্চিত হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, মন্ত্রিসভার সদস্যরা বিশ্বব্যাংকের দুর্নীতির অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে প্রধানমন্ত্রীর পাল্টা চ্যালেঞ্জ জানানোর দৃঢ় অবস্থানের প্রশংসা করেন। সচিব বলেন, মন্ত্রিসভা মনে করে, কানাডার আদালতের রায়ে প্রমাণিত যে বিশ্বব্যাংক তাদের অভিযোগ প্রমাণ করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। অথচ বিশ্বব্যাংকের সিদ্ধান্তের কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতির বিপুল ক্ষতি হয়েছে। মন্ত্রিসভায় এই অভিমত ব্যক্ত করা হয় যে কানাডার আদালতের রায় বাংলাদেশের অবস্থানকে সুসংহত এবং বিশ্বদরবারে সরকারের ভাবমূর্তি উজ্জ্বলতর করেছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, গতকালের বৈঠকে রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়েছে। মন্ত্রিসভা মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত নাগরিকদের সহায়তায় ত্রাণসামগ্রী পাঠানোর জন্য মালয়েশিয়ার সরকারকে ধন্যবাদ জানায়। তিনি বলেন, বিশ্বের মধ্যে মালয়েশিয়াই প্রথম রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য ত্রাণসামগ্রী পাঠিয়েছে।
বিমান চলাচলে বিঘ্ন ঘটালে মৃত্যুদণ্ড বেসামরিক বিমান চলাচলে যেকোনো ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টির ঘটনা প্রমাণিত হলে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার বিধান যুক্ত করে নতুন আইন করা হচ্ছে। সর্বোচ্চ এই শাস্তির বিধানসংবলিত বেসামরিক বিমান চলাচল আইন, ২০১৭-এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এর আগে মৃত্যুদণ্ডের বিধান ছাড়া খসড়াটি গত বছরের ২৯ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিসভায় নীতিগত ও পরে চূড়ান্ত অনুমোদন লাভ করে। কিন্তু আইন মন্ত্রণালয়ের আইনি মত (ভেটিং) শেষে এটি জাতীয় সংসদে ওঠানোর আগমুহূর্তে সর্বোচ্চ শাস্তির বিষয়টি নতুনভাবে সংযোজন করা হলো। মন্ত্রিপরিষদ সচিব সাংবাদিকদের বলেন, আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান পরিবহন সংস্থার (আইসিএও) দিকনির্দেশনা অনুযায়ী বেসামরিক বিমান পরিবহন অধ্যাদেশ, ১৯৬০-এর হালনাগাদ করা হয়েছে। গতকাল মন্ত্রিসভায় চূড়ান্ত অনুমোদন লাভ করেছে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট আইন, ২০১৭-এর খসড়া এবং বাংলাদেশ পারমাণবিক শক্তি কমিশন আইন, ২০১৭-এর খসড়া। এ ছাড়া খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০১৭-এর খসড়ায় একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা প্রতিষ্ঠারও প্রস্তাব করা হয়েছে। বস্ত্র খাতের ভিশন ও মিশন নিয়ে বস্ত্রনীতি হালনাগাদ করা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন সম্পর্কে কিছু কথা

শুভ সূচনায় মিষ্টিমুখ করানো বাঙালির চিরকালের ঐতিহ্য। পরীক্ষায় কেউ পাস করেছে, তাকে মিষ্টিমুখ করাতে হয়। ঘনিষ্ঠরা মিষ্টির হাঁড়ির গলায় দড়ি বেঁধে ছুটে যায় তার বাড়িতে। তার উপলক্ষে আরও ১০ জনের মিষ্টি খাওয়া হয়ে যায়। বহু কাঠখড় পুড়িয়ে অবশেষে কিছু খরচাপাতি করে একটা চাকরি পাওয়া গেছে, প্রথম মাসের মাইনে পাওয়ার পর তাঁর বাড়িতে মিষ্টির ছড়াছড়ি। বিয়ের কথা পাকাপাকি হলে বর-কনে দুই পক্ষের বাড়িই মিষ্টিতে সয়লাব হয়ে যায়।
কার ডায়াবেটিস আছে আর কার নেই, তা নিয়ে মাথা ঘামায় না কেউ। প্রমোশন পাওয়ার পরে পদোন্নতির চিঠি এবং কয়েক পাত্র মিষ্টি নিয়ে বাড়ি আসেনি এমন কৃপণ ও বেরসিক মানুষ বাঙালি সমাজে দুর্লভ। সেই সমাজে যদি কেউ কোনো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে নিয়োগ পান, তাঁকে মিষ্টিমুখ করানোর জন্য তাঁর শপথ গ্রহণের দিনটি পর্যন্ত অপেক্ষা করবে—এমন ধৈর্যশীল মানুষকে কল্পনা করাও বোকামি। প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পাওয়ায় কে এম নুরুল হুদাকে তাঁর পটুয়াখালীর বাউফলের বাসায় গিয়ে স্থানীয় কয়েকজন জনপ্রতিনিধি ও আওয়ামী লীগের নেতা মিষ্টি খাইয়ে দেন। অবশ্য নবনিযুক্ত সিইসি প্রথম আলোর সংবাদদাতাকে বলেছেন, ‘তাঁদের কেউই দলগতভাবে ফুল দিতে [বা মিষ্টান্ন খাওয়াতে] আসেননি। তাঁরা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি। কেউবা আমার ঘনিষ্ঠ আত্মীয়, কেউবা একই গ্রাম বা ইউনিয়নের। এখানে রাজনৈতিক কোনো ব্যাপার ছিল না।’ রাজনীতির সঙ্গে মিষ্টির সম্পর্ক প্রত্যক্ষ নয়, সম্পর্কটা পরোক্ষ। বস্তুত, রাজনীতির সঙ্গে পরোক্ষ সম্পর্ক কাচ্চি বিরিয়ানি, তেহারি, খাসির রেজালা, ভুনা খিচুড়ি—অনেক কিছুরই। নির্বাচনের আগের দিন ওসব খাদ্যবস্তু রাজনীতির সঙ্গে একাকার হয়ে যায়।
কোনো শুভ মুহূর্তে কাউকে মিষ্টিমুখ করানো দোষের কিছু নয়। নবনিযুক্ত সিইসির মিষ্টান্ন-পর্ব থেকে একটি অতীব জরুরি জিনিস প্রমাণিত হয়েছে। মিষ্টিমুখ করানোতে যেমন ‘রাজনৈতিক কোনো ব্যাপার’ ছিল না, তেমনি সিইসির ঘনিষ্ঠ আত্মীয় ও বন্ধুবান্ধবের মধ্যে বিএনপিপন্থী কেউ নেই। সেই না-থাকাটা বিশেষ ‘রাজনৈতিক ব্যাপার’। এবং তার তাৎপর্য বঙ্গীয় রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে বিরাট। লজিকের ভাষায় হাইপোথেটিক্যালি যদি ধরে নিই যে মিষ্টির পাত্র নিয়ে তাঁর বাড়িতে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল বা জাসাসের কয়েকজন নেতা যেতেন, তাঁরা নিজের হাতে দুটো রসগোল্লা বা কালোজাম খাইয়ে দিতেন, তাহলে তিনি সে মিষ্টির স্বাদ যা-ই হোক, সানন্দে খেতেন কি না? এখন অবস্থাটা দাঁড়িয়েছে এমন যে পঞ্চাশের কম বয়সী বহু মানুষ নিজের বিএনপিপন্থী বাবাকে বাপ বলে পরিচয় দিতে সংকোচবোধ করেন। অন্যদিকে ঘোরতর রাজাকার জন্মদাতাকে ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’ পরিচয় দিতে অনেকেই লেশমাত্র দ্বিধা করে না। এর অর্থ হলো এই, আমাদের সমাজ থেকে ব্যক্তিগত সম্পর্ক—মানবিক সম্পর্ক—চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গেছে রাজনীতির দূষিত বাতাসে। বর্তমান নির্বাচন কমিশন নিয়োগ নিয়ে গত দুই-আড়াই মাসে বাংলাদেশে যা ঘটেছে, পৃথিবীর ইতিহাসে তা অভূতপূর্ব।
১২১৫ খ্রিষ্টাব্দে ব্রিটেনের রাজার ম্যাগনা কার্টা স্বাক্ষরের পরবর্তী ৮০০ বছরে গণতান্ত্রিক বিশ্বে যা ঘটেনি, তা-ই ঘটেছে বাংলাদেশে ২০১৭ সালে। যে কৃষক শ্যালো ইঞ্জিন দিয়ে রাতের বেলা তাঁর খেতে পানি দেন ও ট্রানজিস্টার শোনেন, অথবা যে কিশোর পিঠে ব্যাগ নিয়ে কলেজে যায়, তার ধারণা হতে পারে, নির্বাচন কমিশন এক বিরাট ব্যাপার। পৃথিবীর খুব মানুষেরই সে দায়িত্ব পালনের যোগ্যতা রয়েছে। এবং সে দায়িত্ব যিনি বা যাঁরা পালন করবেন, কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বা কোনো দলের নেতার সঙ্গে তাঁর বা তাঁদের চৌদ্দ পুরুষের তিলমাত্র সম্পর্ক থাকলে তিনি অযোগ্য বা ডিসকোয়ালিফাইড। অনুসন্ধান কমিটি যখন নির্বাচন কমিশনারদের খোঁজে সন্ধানী-আলো নিয়ে ছোটাছুটি করে গলদঘর্ম হচ্ছিল, তখন আমি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে শয্যাগত ছিলাম। ২০-২৫ বছর যাবৎ সুষ্ঠু নির্বাচন-নির্বাচন করে কথা বলে, গলা শুকিয়ে ফেলেছি বলে মিডিয়া পরিস্থিতি সম্পর্কে মতামত জানতে চেয়েছে। তাঁদের আমি বলেছি, দেশে বিজ্ঞ ও প্রাজ্ঞজনের অভাব নেই। অসুখ-বিসুখের মধ্যে মাথার ঠিক নেই, কিসের মধ্যে কী বলি, আমাকে মাফ করেন। দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার চেয়ে আমার নিজের গতরতন্ত্র ঠিক রাখা বা সুস্থ থাকা অনেক বেশি জরুরি।
প্রচারের জন্য নয়, ব্যক্তিগতভাবে জানার জন্য এক সাংবাদিক আমাকে জানতে চেয়েছিলেন, বর্তমান অবস্থায় নির্বাচন কমিশনারদের অনুসন্ধানে আপনাকে যদি ছুটতে বলা হতো, তাহলে আপনি কী করতেন? আমি বলেছিলাম, ঘরের খেয়ে কেউ আমাকে মোষ তাড়াতে বললে, আমি সম্মত হতাম না। কারণ, একজন নাগরিক হিসেবে ওটা আমার দায়িত্ব নয়। সরকারের কাজ সরকার করবে, তারা কোনো অন্যায় বা ভুল করলে সচেতন নাগরিক হিসেবে কেউ তার সমালোচনা করতে পারে, কিন্তু সরকারের কাজ সরকারকেই করতে দেওয়া উচিত। তারপরও সরকার যদি স্বচ্ছতার স্বার্থে কোনো নাগরিকের সহায়তা বা পরামর্শ চায়, তাহলে সে পরামর্শ দেওয়া নাগরিকের দায়িত্ব। তবে প্রার্থী নির্বাচন করতে গিয়ে গোপনীয়তার লেশমাত্র থাকা উচিত নয়। অনুসন্ধানের দায়িত্ব আমি পেলে অবসরপ্রাপ্ত এবং চাকরিতে রয়েছেন এমন বেসামরিক, সামরিক, প্রশাসন ও বিচার বিভাগের দুই-আড়াই শ কর্মকর্তার জীবনবৃত্তান্ত নিতাম। তাঁদের অতীত পর্যালোচনা করে তাঁদের সঙ্গে কথা বলতাম এবং তা থেকে সংক্ষিপ্ত একটি তালিকা করে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে পেশ করতাম। আমাদের তালিকা নিয়ে সরকারি দল বা সংসদের বাইরের বিরোধী দল কী বলল, তা বিবেচ্য বিষয় নয়।
নির্বাচনে কমিশনের কাজটা কোনো বাঘ-ভালুক ব্যাপার নয়, সততা, নৈতিক বল ও প্রশাসনিক দক্ষতা থাকলে যে কেউই নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পালন করতে পারেন। মানুষ হিসেবে যদি কেউ সৎ হন এবং থাকে তাঁর নৈতিক বল ও প্রশাসনিক দক্ষতা, তাহলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিকটাত্মীয়ও সুষ্ঠু নির্বাচন করতে পারেন অথবা খালেদা জিয়া বা তারেক রহমানের রক্তসম্পর্কের আত্মীয়ের পক্ষেও নিরপেক্ষ নির্বাচন করা সম্ভব। কথাটি অতিরঞ্জন মনে হবে, কিন্তু আমি দায়িত্ব নিয়েই বলছি, বাংলাদেশে দক্ষ কর্মকর্তার আকালের মধ্যেও অন্তত ৬০টি নির্বাচন কমিশন গঠনের মতো শ তিনেক সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তা রয়েছেন, যাঁদের দ্বারা সরকার চাইলে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব। যেকোনো দেশের সাধারণ নির্বাচন একটি বিশাল কর্মযজ্ঞ। জনবহুল বাংলাদেশের ক্ষেত্রে তা আরও বেশি প্রযোজ্য। সেদিন আমি কথাচ্ছলে একজন সাংবাদিককে বলেছিলাম, আমার ছেলেমেয়েদের সহপাঠী উপসচিব বা উপজেলা নির্বাহী অফিসার পর্যায়ের অনেক দক্ষ ও সৎ কর্মকর্তা আছেন, যাঁদের দায়িত্ব দিলেও ভালো নির্বাচন করতে পারবেন। অনেক উপনির্বাচন করে তা দেখিয়েছেন তাঁরা। উপনির্বাচন সুষ্ঠু হলে অথবা কোনো সিটি করপোরেশন নির্বাচন ভালো হলে সাধারণ নির্বাচন সুষ্ঠু হতে বাধা কোথায়? তবে হ্যাঁ, বাধা আছে। সে বাধা দূর করাই একটি ভালো নির্বাচন কমিশনের কাজ। ভোটের আগের রাতে অথবা ভোটের দিন ‘সিল মারো ভাই সিল মারো’ মার্কা মোটরসাইকেলঅলা ব্রিগেডের সদস্যদের ভোটকেন্দ্র থেকে দূরে রাখা তাদের দায়িত্ব। পাঁচজন কমিশনার নির্বাচন সুষ্ঠু করতে পারেন না। তাঁরা তদারকি করেন। নির্বাচনের সঙ্গে যে ছয় লাখ কর্মচারী-কর্মকর্তা জড়িত, তাঁদের ওপর নজরদারি করাই নির্বাচন কমিশনের মূল দায়িত্ব। নির্বাচনকালীন সরকারকে যদি নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পারেন, তাহলে সেই নির্বাচন কমিশন অর্থহীন। কোন দল নির্বাচনের পর সরকার গঠন করবে,
সেদিকে নির্বাচনী কর্মকর্তাদের দৃষ্টি থাকে। সেখান থেকেই নির্বাচন প্রভাবিত হয়। অতীতে সে রকম ঘটনা আমরা দেখেছি। কথায় কথায় আমরা ভারতের সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার  টি এন সেশনের উদাহরণ দিই। সেশন ব্যক্তি নন, তিনি ভারতীয় উচ্চতর ব্যুরোক্রেসির একজন সেরা প্রতিনিধি মাত্র। তিনি না হলে তাঁর ক্যাডারের অন্য যে কেউই তাঁর মতোই দায়িত্ব পালন করতেন। কারণ তাঁরা জানেন, কী তাঁদের কর্তব্য। বহু বছর আমি ভারতের গান্ধীবাদীদের সঙ্গে চলাফেরা করেছি। অশোকা গুপ্ত ১৯৪৬ সালে নোয়াখালী নারকীয়তার পরে গান্ধীজির কর্মী বাহিনীর সঙ্গে এসেছিলেন ত্রাণকাজে। কলকাতায় আমি তাঁর বাড়িতে অনেকবার অতিথি হয়েছি। তাঁর স্বামী শৈবাল গুপ্ত ছিলেন গান্ধীজির স্নেহভাজন। সেই সূত্রে বিধানচন্দ্র রায়ের এবং জওহরলাল নেহরুরও। শৈবাল গুপ্তের অগ্রজ বন্ধু সহকর্মী ছিলেন ভারতের প্রথম প্রধান নির্বাচন কমিশনার সুকুমার সেন। সুকুমার সেনের বহু গল্প আমি অশোকা গুপ্তের কাছে শুনেছি। তিনি আইসিএস কর্মকর্তা হিসেবে গান্ধী-নেহরু উভয়েরই প্রীতিভাজন ছিলেন। স্বাধীনতার আগে থেকেই তিনি হবু শাসক দল কংগ্রেসের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন আরও অনেক কর্মকর্তার মতো। ১৯৪৭-এর পরে সুকুমার সেন পশ্চিমবঙ্গের প্রথম চিফ সেক্রেটারি হন। ১৯৫০-এ পণ্ডিত নেহরু যখন তাঁকে দিল্লি ডেকে নিয়ে নির্বাচন কমিশনার হওয়ার প্রস্তাব দেন, তিনি বলেছিলেন, সে দায়িত্ব তিনি নিতে পারেন; যদি তাঁকে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করার দায়িত্ব দেন। কংগ্রেসের নেতা-কর্মীদের কোনো রকম হস্তক্ষেপ তিনি সহ্য করবেন না। নেহরু নাকি বলেছিলেন, আমিও সেটাই চাই বলে আপনাকে নিয়োগ দিচ্ছি। তাঁর অধীনে নির্বাচন করে বড় বড় কংগ্রেস নেতা হেরে গেছেন। কিন্তু ভারতে তিনিই প্রথম ‘পদ্মবিভূষণ’।
আমরা শুধু সেশনের নামটা শুনেছি। বাঙালি সুকুমার সেন শুধু ভারতে নয়, গোটা পৃথিবীতে একজন নিরপেক্ষ ও যোগ্য নির্বাচন কমিশনার হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। ১৯৫৩-তে তিনি আন্তর্জাতিক নির্বাচন কমিশনের সভাপতি নির্বাচিত হন। স্বাধীনতা লাভের আগে সুদানে ১৯৫৩-তে যে গণভোট হয়, তা পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয় ভারতের সুকুমার সেনকে। তিনি ছিলেন একজন কংগ্রেস-সমর্থক কর্মকর্তা। কিন্তু সততা, ন্যায়পরায়ণতা ও কর্তব্যনিষ্ঠার কাছে তাঁর রাজনৈতিক বিশ্বাস পরাভূত হয়েছে। শেষ পর্যন্ত কি আমাদের অন্য কোনো গ্রহ থেকে আনতে হবে সুকুমার বাবুর মতো একজন নির্বাচন কমিশনার? পরিশেষে প্রসঙ্গত একটি কথা বলা প্রয়োজন মনে করি। যেকোনো সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থার মতোই নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন কমিশন কখনো শূন্য থাকার কথা নয়। একটির মেয়াদ শেষ হতেই আরেকটি দায়িত্ব গ্রহণ করবে। ১৫ ফেব্রুয়ারি নতুন কমিশন শপথ নেওয়ার আগে কে বাংলাদেশের প্রধান নির্বাচন কমিশনার? এ রকম একটা অবস্থা ভারতে হয়েছিল সেশনের দায়িত্ব গ্রহণের আগে। পেরি শাস্ত্রীর মেয়াদ শেষ হওয়ার পর দুই সপ্তাহ শ্রীমতী ভি এস রমা দেবী প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেন। খেয়ালখুশি নয়, রাষ্ট্র সাংবিধানিক বিধিমতো চালাতে চাইলে তেমনটিই হয়ে থাকে। তবে পৃথিবীর বহু দেশের সরকারই সংবিধানের বিধিবিধানের পরোয়া করে না।
সৈয়দ আবুল মকসুদ: লেখক ও গবেষক।

তিস্তা থেকে গঙ্গা

তিস্তার পানি নিয়ে পাঁচ বছর ধরে চলছে অপেক্ষা আর আহাজারি। তিস্তার বুক চিরে যে বাঁধ একদা তৈরি হয়েছিল, আজ তা অকেজো হতে বসেছে। এই বাঁধ এখন পানি ধরে রাখবে কি, উজান থেকে পানিই আসছে না। ব্যারাজ এখন শুধুই ব্রিজ। অথচ এমনটি হওয়ার কথা ছিল না। বাংলাদেশ সরকার তিস্তা ব্যারাজ তৈরির কাজ শুরু করেছিল ১৯৭৯ সালে। উত্তরাঞ্চলে তিস্তার আশপাশের পাঁচটি জেলার ৯ লাখ ৪১ হাজার ৫০০ হেক্টর জমি এই প্রকল্পের আওতায় সেচসুবিধা পাবে, এমনটি আশা করা গিয়েছিল। জেনারেল এরশাদের জমানায় বাঁধ তৈরির কাজ পুরোদমে এগিয়ে যায়। জায়গাটি তাঁর এলাকায়। তিনি ওই এলাকার ছাওয়াল হিসেবে আদৃত। যেখানে তাঁর জন্য আলিশান একটা বিশ্রামাগারও বানানো হয়েছিল। সেখানে তিনি মাঝেমধ্যে রিট্রিটে যেতেন। প্রকল্পটি চালু হয় ১৯৯৩-৯৪ সালে। এখন শুকনো মৌসুমে উজান থেকে পানি আর আসে না বা যেটুকু আসে, তা খুবই কম।
ব্যারাজ থেকে ৯৭ কিলোমিটার ভাটিতে ডালিয়া পয়েন্ট পর্যন্ত প্রকৃতপক্ষে এক ফোঁটা পানিও পৌঁছায় না। তিস্তার সঙ্গে লতায়-পাতায় জড়িয়ে থাকা করতোয়া, কাটাখালী, ঘাঘট, দুধকুমার, যমুনেশ্বরী আর বুড়িতিস্তায় মরুকরণ-প্রক্রিয়া বেশ স্পষ্ট। ভূ–ওপরস্থ পানির অভাবে জমিতে সেচ দেওয়া যাচ্ছে না। গেরস্তরা নলকূপ বসিয়ে মাটির নিচ থেকে পানি তুলছেন। ফলে একদিকে বাড়ছে চাষের খরচ, অন্যদিকে পরিবেশের বারোটা বাজছে। শুধু কি খেতের ফসল, মাছেরও আকাল দেখা দিয়েছে। গত বছর কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতায় তিস্তা অববাহিকার জন্য ‘সমন্বিত কৃষি কৌশল পরিকল্পনা’ নামে একটা সমীক্ষা চালানো হয়েছিল। এই সমীক্ষায় ওই অঞ্চলে নেমে আসা দুর্ভোগের ভয়াবহ ছবি ফুটে উঠেছে। তিস্তা বাঁধের ‘সুবিধাভোগী’ এলাকায় মাছের বসতি ধ্বংস হয়েছে ২ লাখ ৮৭ হাজার ৪২৩ হেক্টর। ৫ প্রজাতির মাছ হারিয়ে গেছে এবং ৩৫ প্রজাতির মাছ বিলুপ্ত হওয়ার পথে। তিস্তার দুঃখ শুরু হয়েছিল অনেক আগেই। ভারতের পশ্চিমবঙ্গে গজলডোবা এলাকায় তিস্তায় বহুমুখী ব্যারাজ তৈরির পর থেকেই ভাটি এলাকার মানুষ সমস্যায় পড়ে যায়। গজলডোবায় একতরফা পানি প্রত্যাহার করে নেওয়ার কারণে পানি বাংলাদেশের ভেতরে কম ঢুকছে। জলের ধারা কমতে কমতে ২০১৫ সালে তা দাঁড়িয়েছিল ২৫০ কিউসেকে। তিস্তার পানি ভাগাভাগি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে কোনো সমঝোতা হওয়ার আগেই বাংলাদেশ সরকার ব্যারাজ তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এত বছরেও কোনো সমঝোতা হয়নি। শুনেছি এ নিয়ে দিল্লি আর কলকাতার মধ্যে রশি টানাটানি হচ্ছে। বুঝতে পারছি না এটা পাতানো খেলা, নাকি অন্য কিছু। ইতিমধ্যে তিস্তা ব্যারাজ এক অতিকায় সাদা হাতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের ইঞ্জিনিয়ারিং মনুমেন্টের এই দশা দেখে দুঃখ হয়।
আন্তর্জাতিক বলয়ে কিছু সাধারণ নিয়ম আছে। কোনো আন্তর্জাতিক নদীর ওপর অবকাঠামো তৈরি করতে হলে এবং তার ফলে পানিপ্রবাহে যদি বিরূপ প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কা থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যে চুক্তি থাকা দরকার। তা না হলে কোনো তৃতীয় দেশ বা সংস্থা অর্থায়ন করে না। বাংলাদেশের তিস্তা ব্যারাজ প্রকল্পে তাই বিদেশি অর্থায়ন ছিল না। শেষ দিকে এসে ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক অল্প কিছু টাকা দিয়েছিল। সরকারের কর্তারা বেশ গর্ব করেই বলে থাকেন, আমাদের সরকারের টাকায় আমরা এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছি। তাঁরা বলেন, জিওবির টাকা। সরকারের লোকদের কোনো রকমেই বোঝানো গেল না যে সরকারের কোনো টাকা নেই। এটা হলো জনগণের টাকা, পাবলিক মানি। গরিব মানুষের ট্যাক্সের টাকা এ দেশে যেভাবে নয়ছয় হয়, তা বলে শেষ করা যাবে না। সেনাপতিরা যখন এই প্রকল্পের পেছনে জনগণের কষ্টে আয় করা টাকা ঢালতে শুরু করেন, তখন সরকারের কোনো জবাবদিহির ব্যবস্থা ছিল না। না হলে প্রশ্ন তোলা যেত, ভারতের সঙ্গে স্থায়ী চুক্তি ছাড়া এ ধরনের ব্যয়বহুল প্রকল্প নেওয়ার পেছনে কী যুক্তি থাকতে পারে? প্রশ্ন উঠতে পারে, কবে চুক্তি হবে, তার আশায় আমরা বসে থাকব, নাকি আমরা নিজেরা উদ্যোগ নিয়ে কিছু করব। উত্তম কথা। তাহলে ধরে নিতে হবে, চুক্তি না হলেও আমরা নির্দিষ্ট পরিমাণ পানি পাব এবং তার ওপর নির্ভর করে আমরা অবকাঠামো তৈরি করব। কিন্তু এই অনুমানও মিথ্যা হয়ে যাচ্ছে। গজলডোবার পর ভারতের সিকিমে একাধিক প্রকল্প তৈরি হয়েছে এবং ওখান থেকে পশ্চিমবঙ্গে পানির প্রবাহ কমে গেছে। এখন পশ্চিমবঙ্গ গোঁ ধরেছে, আমরাই জল পাই না,
তোমাদের দেব কোথা থেকে। এ রকম যখন পরিস্থিতি, তখন আমরা নিজেদেরই প্রশ্ন করতে পারি, কার ভরসায় আমরা হাজার হাজার কোটি টাকা ঢাললাম তিস্তার জলে? টাকাটা কি তবে জলেই গেল? বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড আবারও নড়েচড়ে বসেছে। অনেক দিন থেকেই বোর্ডের প্রকৌশলীরা গঙ্গা ব্যারাজের প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। তাঁদেরই বা দোষ দিয়ে লাভ কী? পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনার ওপর তাঁরা যে প্রযুক্তিজ্ঞান লাভ করেছেন, তা তো প্রয়োগ করার ক্ষেত্র চাই! পশ্চিমবঙ্গের ফারাক্কায় গঙ্গার ওপর বাঁধ দিয়ে ভারত একতরফা পানি প্রত্যাহার শুরু করার পর থেকেই বাংলাদেশের ভেতরে পদ্মা নদীতে ব্যারাজ করার কথা বলে আসছেন আমাদের প্রকৌশলীরা। কাগজে-কলমে গঙ্গা নদী বাংলাদেশের ভেতরে পদ্মা নামে প্রবাহিত হলেও প্রস্তাবিত ব্যারাজটি বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড গঙ্গা ব্যারাজ নামেই উল্লেখ করে থাকে। এখানে ব্যারাজ হলে তার প্রভাব পশ্চিমবঙ্গেও পড়তে পারে, এই আশঙ্কায় ভারত এত দিন প্রস্তাবিত গঙ্গা বাঁধের ব্যাপারে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। এখন শোনা যাচ্ছে, ভারত কিছুটা নরম হয়েছে এবং এই বাঁধের ব্যাপারে বাংলা-ভারত সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি হতে পারে। ঘর পোড়া গরু সিঁদুরে মেঘ দেখলে ভয় পায়। তিস্তার তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে গঙ্গা ব্যারাজের ব্যাপারে সাবধান হওয়া দরকার। ফারাক্কায় গঙ্গার পানি ভাগাভাগি নিয়ে একটা চুক্তি হয়েছিল ১৯৯৬ সালে। চুক্তির মেয়াদ ৩০ বছর। মেয়াদ শেষ হতে বাকি আছে আর মাত্র ৯ বছর।
বাঁধ তো শুধু বাঁধ নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে নানা ধরনের অবকাঠামো। সবকিছু তৈরি হতে সময় নেবে ১৫ থেকে ২০ বছর, কিংবা তারও বেশি। তত দিনে গঙ্গার কী হাল হবে, তা কি আমরা জানি? গঙ্গার অবস্থা তিস্তার মতোই। উজানে বিহার আর উত্তর প্রদেশে গঙ্গাজল দেদার তোলা হচ্ছে সেচ ও অন্যান্য কাজে। ফলে ফারাক্কা পয়েন্টে পানির প্রবাহ আগের মতো নেই। ভারতের অনেক রাজ্যে পানির জন্য রীতিমতো হাহাকার। ভারত সরকার গঙ্গার জল অন্যান্য রাজ্যে চালান করতে চাইছে। সে জন্য গঙ্গার প্রবাহ বাড়ানোর লক্ষ্যে হিমালয় থেকে নেমে আসা অনেকগুলো নদীর পানি গঙ্গায় চালান করার একটা চেষ্টা চলছে। আন্তনদী সংযোগ প্রকল্প নামে এই বিরাট কর্মযজ্ঞ শুরু হয়ে গেছে। ভারতের এই পরিকল্পনায় বাংলাদেশ নেই। একই অববাহিকার দেশ হওয়া সত্ত্বেও এ অঞ্চলে পানি নিয়ে কোনো বহুপক্ষীয় সমঝোতার ক্ষেত্র এখনো তৈরি হয়নি। ‘জল জাতীয়তাবাদ’ ভারতে বেশ জোরদার। বাংলাদেশকে দুয়োরানির চেয়ে অমর্যাদাকর অবস্থায় থাকতে হচ্ছে। এই যখন অবস্থা, তখন চার বিলিয়ন ডলারের গঙ্গা ব্যারাজ নিয়ে আমরা কেন মাতামাতি করছি?
আমাদের পানিসম্পদমন্ত্রী এ নিয়ে বেশ উৎসাহী এবং উচ্চকিত। কিন্তু টাকার জোগান দেবে জনগণ। সুতরাং এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষকে স্বচ্ছতার সঙ্গে সবকিছু জানানো দরকার। পদ্মায় পানিপ্রবাহ না বাড়াতে পারলে আমাদের কৃষি, মৎস্য চাষ, পশুপালন, নৌ-যোগাযোগ—সবই হুমকির মধ্যে পড়বে। নৌ-যোগাযোগ বেহাল তো অনেক বছর ধরেই। এর সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে উপকূলীয় অঞ্চলের ভবিষ্যৎ। উজান থেকে মিষ্টি পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার কারণে সুন্দরবন ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। পানি ও জমিতে লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়ায় জীববৈচিত্র্য নষ্ট হতে চলেছে। সুতরাং পানিপ্রবাহ বাড়ানোর জন্য গঙ্গা ব্যারাজের পক্ষে জোরালো যুক্তি তুলে ধরা হবে সন্দেহ নেই। কিন্তু প্রশ্ন হলো, পানি কতটুকু পাওয়া যাবে? আমাদের অভিজ্ঞতা বলে, এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নে যদি ২০ বছর লাগে, তাহলে প্রকল্পের প্রাক্কলিত খরচ যে শেষমেশ নিদেনপক্ষে ৩০০ শতাংশ বাড়বে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। এ ধরনের প্রকল্প থেকে সুবিধা পেতে সময় লাগবে কমপক্ষে ৫০ থেকে ১০০ বছর। অর্থাৎ এই প্রকল্প শুরু করার আগে অবশ্যই ভারতের সঙ্গে আমাদের ৫০ থেকে ১০০ বছরের একটা চুক্তি থাকতে হবে পানি ভাগাভাগির। তার আগে কোটি কোটি টাকা খরচ করে গঙ্গা ব্যারাজের সম্ভাব্যতা জরিপ করার কী দরকার? বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের এখন দীনহীন দশা। নতুন নিয়োগ নেই, বিনিয়োগের জন্য পর্যাপ্ত বরাদ্দ নেই, ইতিমধ্যে তৈরি হওয়া অবকাঠামো দেখভাল করার জন্য যথেষ্ট তহবিলের জোগান দেওয়া হয় না।
পানি উন্নয়ন বোর্ডকে বাঁচাতে দরকার বড় বড় প্রকল্প। তাই গঙ্গা ব্যারাজ নিয়ে বোর্ডের অনেক উৎসাহ এবং আশা। কিন্তু এটা যে আরেকটা সাদা হাতি হবে না, তার কি কোনো নিশ্চয়তা আছে? এ ধরনের মেগা প্রকল্প একধরনের কামধেনু। এটাকে দোহন করে অনেকের ভাগ্য বদলে যায়। এসব প্রকল্প নিয়ে আমলা, রাজনীতিবিদ আর ঠিকাদারের আঁতাত বেশ লক্ষণীয়। কিন্তু খরচের বোঝাটা গিয়ে পড়ে আমজনতার ওপর। বড় বড় সড়ক, সেতু আর বাঁধ উন্নয়নের জন্য খুবই দরকার। কিন্তু কোনটা কখন ও কোন জায়গায় দরকার, তা জানতে হবে। আদৌ দরকার আছে কি না, নাকি অন্য বিকল্প আছে, তা–ও খতিয়ে দেখতে হবে। দেশে হাজারো সমস্যা। কোনটা অগ্রাধিকার পাবে, তা-ও বিবেচনা করা দরকার। তিস্তা নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে গঙ্গা প্রসঙ্গে কথা বললাম। আমাদের দেশে পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা নিয়ে একটা খোলামেলা জন-আলোচনা হওয়া দরকার। উন্নয়নের নামে এ দেশে অনেক বড় বড় প্রকল্প নেওয়া হয়, সেসবের যে হাজারো রকমের উপকার, তার ফিরিস্তি সম্ভাব্যতা জরিপের রিপোর্টে মলাটবন্দী হয়ে থাকে। সরকার কিংবা ঋণদাতা সংস্থা ইন্টারনাল রেট অব রিটার্নের হিসাবটা দেখেই প্রকল্পে হ্যাঁ বা না বলে দেয়। যাদের টাকায় প্রকল্প, সেই আমজনতা থাকে অন্ধকারে। একটা গণতান্ত্রিক সমাজে এ রকম চলতে দেওয়া যায় না। জবাবদিহির জায়গাটা আরও শক্ত ও সুনির্দিষ্ট করা দরকার।
মহিউদ্দিন আহমদ: লেখক ও গবেষক।
mohi2005@gmail.com