Saturday, March 18, 2017

শিবালয়ে মাটিবাণিজ্য : হুমকির মুখে ফেরি-লঞ্চ ঘাট

স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ পাটুরিয়া ফেরি ঘাটের উত্তর পার্শ্বে যমুনা তীরবর্তী বিআইডব্লিউটিএ’র অধিভূক্ত স্থান থেকে স্থানীয় এক স্কুল শিক্ষকের নেতৃত্বে কতিপয় লোকজন অবৈধভাবে মাটি কেটে বিক্রি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এহেন ‘মাটি বানিজ্যের’ সাথে এক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান জড়িত থাকায় শিক্ষার্থী-অভিভাবক ও সচেতন মহলে নানা গুঞ্জনের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি নিয়ে দায়সাড়া গোচের ভূমিকা নেয়ায় জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। জানা গেছে, প্রতি বছর আগস্ট-সেপ্টেম্বর থেকে এ এলাকা থেকে দেশী পদ্ধতির ড্রেজিং মেশিন বসিয়ে হাজা-মজা পুকুর, নিচু জমি, ভিটি-বাড়ি, রাস্তা-ঘাট ভরাট, ইট ভাটা ও ঠিকাদারদের নিকট চুিক্ততে মাটি বিক্রি করে স্থানীয় উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের নেতৃত্বে একটি চক্র লক্ষ-লক্ষ টাকা কামিয়ে নিচ্ছে। এছাড়া, নদী তীর শুকিয়ে গেলে এ স্থান থেকে প্রত্যহ এস্কেবেটর, বেলচা-কোদাল ইত্যাদি দিয়ে মাটি কেটে ট্রাক, লড়ি, ট্রাক্টর, নছিমনযোগে বিভিন্ন স্থানে পৌছে দেয়া হয়। পূর্ণ মওসুম চলায় বর্তমানে এ স্পট থেকে হাজার-হাজার ঘন মিটার মাটি বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করা হচ্ছে। পলি, ভিটি বালু, এঁটেল-বেলে-দোআঁশ মাটি ইত্যাদি প্রকার ভেদে উচ্চমূল্যে বিক্রি হচ্ছে। অপরদিকে, এ স্থানে ড্রেজার বসিয়ে মাটি কেটে নিয়ে দূরবর্তী স্থানের ডোবানালা, নিচু জমি ভারাট করে বিপুল অর্থ কামিয়ে নেয়া হচ্ছে। এহেন অবৈধ ভাবে মাটির ব্যবসার সাথে স্থানীয় এক উচ্চ বিদ্যালয়ে সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের ভূমিকায় সংশ্লিষ্ট মহলে নানা বিতর্ক জন্ম দিয়েছে। এহেন ব্যবসায় জড়িত থাকায় তিনি প্রত্যহ বেশির ভাগ সময় বাহিরে দৌঁড়ঝাঁপ পারায় বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত ও ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হওয়ায় সংশ্লিষ্ট মহলে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। উল্লেখ্য, ২০০২ সালের ১২ মার্চ আরিচা থেকে পাটুরিয়ায় ফেরি ঘাট স্থানান্তর হয়। এ সুবাদে পাটুরিয়া এলাকায় ব্যবসায়-বানিজ্যের গুরুত্ব বৃদ্ধি পায়।
যাতায়াত ব্যবস্থা সুবিধা থাকায় পাটুরিয়া ঘাটের উত্তর দিকে জেগে উঠা পলি মাটি কতিপয় শিক্ষকের নেতৃত্বে একটি চক্র ব্যবসার উদ্দেশ্যে কেটে অন্যত্র বিক্রি করছে। সচেতনমহল মত দিয়েছেন, উক্ত প্রধান শিক্ষক ও সহযোগীরা দলীয় প্রভাবশালী নেতা-কর্মী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ‘ম্যানেজ’ করে দীর্ঘ দিন যাবৎ এ ভাবে ব্যবসা চালিয়ে আসছে। বিআইডব্লিউটিএ’র আরিচা নদী বন্দর, পাটুরিয়া ফেরি ঘাট, জাফরগঞ্জ বাজার পর্যন্ত বিশেষ করে পদ্মা-যমুনা তীরবর্তী এলাকায় মালপত্র উঠানামর জন্য প্রতি বছর ইজারার মাধ্যমে রাজস্ব আয় হয়ে থাকে। এতে নদী তীরবর্তী সিকস্তী বা পয়স্তী স্থান থেকে মাটি কেটে নেয়ার কোন বিধান নেই। কিন্ত, এ ক্ষেত্রে অবাক করার মতো ঘটনা হচ্ছে- পাটুরিয়া ঘাটের উত্তর দিকে যে স্থান থেকে এ যাবৎ লক্ষ-লক্ষ ঘনমিটার মাটি কাটা হয়েছে তাতে আগামী বর্ষা মওসুমে পানিতে ঘুর্ণাবর্ত সৃস্টি হলে ফেরি ও লঞ্চ ঘাটের একাংশ বিলিন হওয়ার আশংকা রয়েছে। ফেরি ও লঞ্চ ঘাট এলাকা ভাঙ্গনের মুখে পড়লে দেশে দক্ষিণ-পশ্চিামাঞ্চলের ২১ জেলার সাথে রাজধানী ঢাকার যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিপর্যয় হয়ে পড়বে। উল্লেখ্য, গত বর্ষা মওসুমে এহেন কারনে দৌলতদিয়া ফেরি ঘাট ভাঙ্গনের কবলে পরায় যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটে। এছাড়া, ঘাট স্থনান্তর ও মেরামতে সরকারের কোটি-কোটি টাকা ব্যয় হয়। আরিচা বন্দর ও পরিবহণ কর্মকর্তা সেলিম রেজা জানান, পাটুরিয়া ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নদী তীরবর্তী স্থান থেকে অবৈধভাবে মাটি কেটে নেয়ার বিরুদ্ধে যথাসময়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করলেও কোন কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহন না করায় একটি চক্র ক্রমেই বেপড়োয়া হয়ে উঠেছে। এ বিষয়ে নালী-বড়রিয়া কেসি উচ্চ বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক মোঃ মোন্তাজ আলী নদী তীরবর্তী স্থান থেকে এহেন মাটি কাটার পক্ষে বৈধতা প্রমান ও স্বপক্ষে কোন যুক্তি দেখাতে পারেননি।

নওগাঁয় বৃদ্ধা মাকে পিটিয়ে হত্যা

নওগাঁয় ছেলের হাতে মা খুনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। মান্দা উপজেলায় গতকাল শুক্রবার রাত ১১টার দিকে উপজেলার পরানপুর ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।ছেলের হাতে এক বৃদ্ধা খুন হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।  নিহত নারী ওই গ্রামের মরহুম গিয়াস উদ্দিনের স্ত্রী আকলিমা বিবি (৫৫)। তাঁকে হত্যায় সন্দেহভাজন ছেলের নাম আশরাফুদ্দৌলা ওরফে লাইট। মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিছুর রহমান জানান,
পারিবারিক বিরোধের জেরে মা-ছেলের মধ্যে শুক্রবার দিনভর ঝগড়া-বিবাদ চলে। রাতে খাওয়া-দাওয়া করে আকলিমা বিবি শয়নকক্ষে ঘুমানোর জন্য যান। এ সময় ছেলে আশরাফুদ্দৌলা ওরফে লাইট মায়ের ঘরে প্রবেশ করেন। পরে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেন তাঁর মা আকলিমা বিবিকে। ওসি আনিছুর আরো জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল  থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহত নারীর আরেক ছেলে আশরাফুদ্দৌলা ওরফে সুইট বাদী হয়ে মান্দা থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। হত্যাকারীকে আটক করা হয়েছে।

কসবায় `বন্দুকযুদ্ধে' নিহত ১

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ জহিরুল ইসলাম (৩৫) নামে একজন নিহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তি ডাকাত বলে দাবী করেছে পুলিশ।  এতে আহত হয়েছেন তিন পুলিশ সদস্য। শনিবার দিনগত রাত ৪টার দিকে উপজেলার বিনাউটি গ্রামে এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। নিহত জহিরুল উপজেলার কায়েমপুর গ্রামের মধ্যপাড়ার নসু মিয়ার ছেলে।
পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি পাইপগান, চার রাউন্ড কার্তুজ, ১২টি ককটেল ও দু’টি চাপাতি উদ্ধারের দবী করেছে। কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিউদ্দিন অাহাম্মেদের দাবি, নিহত জহিরুল ডাকাত দলের সদস্য। তার বিরুদ্ধে ডাকাতির অভিযোগে কসবা থানায় ছয়টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে অাইনমন্ত্রী অানিসুল হকের গ্রামের বাড়িতে ডাকাতির মামলাও রয়েছে।

ওরা অসভ্যের মতো হামলে পড়েছিল by রুদ্র মিজান



ভিড় ঠেলে রিকশাটা এগুচ্ছিল। তখন অগণিত চোখের লোলুপ দৃষ্টি পড়েছে রিকশাযাত্রী দুই তরুণীর ওপর। রিকশায় দুই বোন তখন ভয়ে জড়সড়। ‘হুররে’ বলে রং ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে পথচারী, রিকশা আরোহী মেয়েদের ওপর। সুযোগ পেলেই হামলে পড়ছে তারা। হিংস্র ক্ষুধার্ত পশুদের মতো। মেয়েরা হাতজোড় করে মাফ চাচ্ছেন। ‘ভাই, আমাকে ছেড়ে দেন।’ চিৎকার করছেন। কাঁদছেন। রক্ষা পেতে দৌড়ে পালাচ্ছেন। কিন্তু রেহাই নেই। চারদিক ঘেরাও করে রাখা হচ্ছে। তারপর রং ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে পুরো শরীরে। জোর করেই জড়িয়ে ধরা হচ্ছে মেয়েদের। হাত দেয়া হচ্ছে তাদের শরীরে। একই কাণ্ড করছে একজনের পর আরেক জন বখাটে। প্রকাশ্যে। হাজার হাজার মানুষের সামনে রাস্তায় এভাবেই চলছিল আবির খেলার নামে নিপীড়ন। বাদ যাননি মধ্য বয়সী নারীরাও।
এমনি পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী সাদিয়া ও তার ছোট বোন আনিকা (ছদ্মনাম)। গত সোমবার সূত্রাপুরের বাসা থেকে রিকশায় করে রায় সাহেব বাজার মোড়ের একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যাচ্ছিলেন তারা। সাদিয়া জানান, আবির খেলার নামে এরকম কিছু হতে পারে তা কল্পনাও করতে পারেননি তারা। রিকশাটি ভিক্টোরিয়া পার্কের সামনে পৌঁছলে ভয়ে কাঁপুনি শুরু হয়। প্রতিদিনের চেনা-জানা এই এলাকা সম্পূর্ণ বদলে গেছে। অসভ্যতায় মেতে উঠেছে কিছু তরুণ। যে কোনো বয়সের নারী দেখলেই তারা হামলে পড়ছে। সাদিয়ার ভাষায় ‘পশুরা যেভাবে শিকার পেলে উল্লাস করে ঠিক তেমনি ওরা নারী দেখলেই উল্লাস প্রকাশ করছিল। রং ছিটাচ্ছিলো। টেনে রিকশা থেকে নামাচ্ছিল।’ ভিক্টোরিয়া পার্ক এলাকা পেরিয়ে রিকশাটি মহানগর দায়রা জজ আদালতের পুরনো গেটের সামনে গেলে অন্তত আট থেকে ১০ জন বখাটে রিকশাকে ঘিরে ধরে। প্রথমে রং ছিটিয়ে দেয়া হয় তাদের ওপর। রিকশার মধ্যেই তাদের শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে নানাভাবে হাত বুলাতে থাকে। সাদিয়া ও আনিকা তখন কান্না করছিলেন। বারবার বলছিলেন, ‘ভাই আমাদের সঙ্গে এরকম করবেন না। আমাদের ছেড়ে দিন।’ কিন্তু তাদের কথা শুনছিল না কেউ। টেনে রিকশা থেকে নামানো হয় তাদের। যে যার মতো হামলে পড়ে। দুই বোনের চিৎকার ও বখাটেদের নগ্ন উল্লাস চলছিল। এরমধ্যেই জগন্নাথের দুই ছাত্র এগিয়ে যান। আপ্রাণ চেষ্টা করেন দুই তরুণীকে উদ্ধারের। একপর্যায়ে তাদের উদ্ধার করে আদালত সংলগ্ন পুলিশ সুপারের অফিসের সামনে নিয়ে যান। তাৎক্ষণিকভাবে ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শাহ মিজান শাফিউর রহমানের কাছে যান দুই তরুণী। ঘটনার বর্ণনা দেন। এসপি শাহ মিজান শাফিউর রহমান কোতোয়ালি থানায় কল দিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলেন। ততক্ষণে ফোনে খবর পেয়ে ছুটে এসেছেন ওই দুই তরুণীর ভাই।
কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) পারভেজ ইসলাম জানান, নির্যাতিতা তরুণীরা তিন বখাটেকে শনাক্ত করেন। তাৎক্ষণিকভাবে তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ বিষয়ে নির্যাতিতাদের ভাই বাদী হয়ে একটি মামলা করেছেন বলে জানান তিনি। গ্রেপ্তারকৃতরা হচ্ছে, সিদ্দিকবাজার আলুবাজার এলাকার আকাশ, সিফাত ও শনির আখড়া এলাকার মামুন। গ্রেপ্তারকৃতরা ১৮ থেকে ২২ বছর বয়সী। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) জাহাঙ্গীর জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু আদালত তা মঞ্জুর করেননি। বর্তমানে আসামিরা জেলহাজতে রয়েছে। এতে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।
সোমবার সকাল থেকেই পুরান ঢাকার তাঁতীবাজার, শাঁখারী বাজার এবং লক্ষ্মীবাজার এলাকায় শুরু হয় আবির উৎসব। অফিসগামী এক তরুণী জানান, সকালে বাংলাবাজার এলাকা থেকে মতিঝিলের অফিসের উদ্দেশে বের হন তিনি। বাংলাবাজার পুস্তক ভবনের পাশে বখাটেরা ঘিরে ধরে তাকে। অনুনয় করেও রক্ষা পাননি এই তরুণী। তার পুরো শরীরে রং ছিটিয়ে দেয়া হয়। কান্নাকাটি করে অসহায়ের মতো বাসায় ফিরে যান তিনি। একইভাবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় নির্যাতনের শিকার হয়েছেন মধ্য বয়সী এক নারী। তিনি বলেন, তরুণরা প্রথমে তার রিকশা থামায়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই রং ছিটিয়ে দেয়া হয়। কয়েক বখাটে তার হাত টেনে ধরে নামানোর চেষ্টা করে। এসময় তার শরীরের বিভিন্ন স্থান স্পর্শ করে বখাটেরা। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে বিভিন্ন বয়সের বহু নারী ওই দিন বখাটেদের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। কিন্তু সামাজিকতার কারণে থানা-পুলিশমুখো হননি তারা।
পুলিশের লালবাগ জোনের উপ-কমিশনার মো. ইব্রাহিম খান বলেন, হলি উৎসবে পুলিশের যথেষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিলো। এরমধ্যেই ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান চালানো হয়েছে। পুলিশ তৎপর ছিলো বলেই তিন বখাটে গ্রেপ্তার হয়েছে বলে জানান তিনি।

জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্যের তাগিদ



টঙ্গীতে জঙ্গি নেতা মুফতি হান্ন্নানকে ছিনিয়ে নিতে পুলিশের প্রিজন ভ্যানে বোমা হামলা, চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে জঙ্গি আস্তানায় শাসরুদ্ধকর অভিযান এবং আত্মঘাতী বোমায় ৫ জনের মৃত্যু, আশকোনায় র‌্যাব দপ্তরে আত্মঘাতী বোমা হামলার ১ জন নিহতের ঘটনায় আবারো জঙ্গি ইস্যু সামনে চলে এসেছে। মানবাধিকার নেতৃবৃন্দ ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশে জঙ্গিবাদের শেকড় যে উপড়ে ফেলা যায়নি-এসব  ঘটনা তারই প্রমাণ। তবে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অবস্থান এবং অভিযানে কিছুটা সন্তুষ্টি প্রকাশ করলেও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে আদর্শিক লড়াই এবং জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তারা। একই সঙ্গে সরকার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরো সতর্ক ও গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন তারা।    
সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) আবদুর রশিদ  মানবজমিনকে বলেন, জঙ্গিবাদের দুটি ধারা আছে। একটি অভ্যন্তরীণ অন্যটি আন্তর্জাতিক। আন্তর্জাতিকভাবে আইএস এখন সিরিয়াসহ অন্যান্য জায়গায় চাপের মুখে ও ক্ষয়িষ্ণু অবস্থায় আছে। যেহেতু তারা চাপের মুখে সেহেতু তারা প্রমাণ করতে চায় যে এখনো সক্রিয় রয়েছে। আর অভ্যন্তরীণভাবে জঙ্গিবাদের ঘটনাগুলোয় বোঝা যাচ্ছে-এদেশীয় জঙ্গিরা দেশকে আবারও অস্থিতিশীল করতে চায়। দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করাই তাদের উদ্দেশ্য। দেশের অভ্যন্তরে তারা চাপের মুখে আছে বলেই তীব্রভাবে আক্রমণের চেষ্টা করছে।  কিন্তু তাদের লক্ষ্য ও আক্রমণ দুটিই ব্যর্থ হয়েছে। তিনি বলেন, জঙ্গিবাদের যে বৈশিষ্ট্য, এই ঘটনাগুলো এর বাইরে নয়। এরা যখন চাপের মুখে থাকে তখনই সংঘবদ্ধ হয়ে আক্রমণের চেষ্টা করে। তাদের অবস্থান জানান দেয়ার চেষ্টা করে। এ ঘটনাগুলোয় মনে হয়েছে জঙ্গিবাদ এখনও আছে। তবে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও তাদের কঠোরভাবে মোকাবিলা করেছে। এক প্রশ্নের জবাবে মেজর জেনারেল (অব.) আবদুর রশিদ বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্কাবস্থায় আছে। কিছু ক্ষেত্রে জনগণও এগিয়ে এসেছে। এক্ষেত্রে জনসচেতনতা ও গোয়েন্দা তৎপরতা আরো বাড়াতে হবে।
আইন ও সালিশ কেন্দ্র’র ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী নূর খান লিটন বলেন, দেশে জঙ্গিবাদের বিষয়ে আমাদের তথ্যগত ঘাটতি রয়েছে। আমরা আসলে মনে করছি তারা সংগঠিত হচ্ছে। আসলে তারা সংগঠিত ছিলই। তবে, কিছু ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান, বন্দুকযুদ্ধ ইত্যাদি মাধ্যমে জঙ্গিবাদ কিছুটা নিয়ন্ত্রণে ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো প্রমাণ হয়েছে দেশে জঙ্গিবাদ অব্যাহত রয়েছে। তিনি  বলেন, সমাজে যে অস্থিরতা বিরাজ করছে সেটি নির্মূল করতে হবে। আর রাজনীতিতে অস্থিতিশীলতা, দুর্বৃত্তায়ন দূর করে রাজনীতিকে নৈতিক জায়গায় নিয়ে যেতে হবে। রাজনীতিকে দুর্বৃত্তায়িত করলে, গণতন্ত্রকে সংকুচিত করলে জঙ্গিবাদ নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না। নূর খান লিটন বলেন, জঙ্গিবাদ নিয়ন্ত্রণে আরো উন্নতমানের দীর্ঘমেয়াদি আদর্শিক লড়াই দরকার। এজন্য জাতীয় ঐকমত্য দরকার। জঙ্গিবাদ নিয়ন্ত্রণে শুধু সশস্ত্র অভিযানই যথেষ্ট নয়। জনগণকে যুক্ত করে এর বিরুদ্ধে আদর্শিক লড়াই করতে হবে। তিনি আরো বলেন, জঙ্গিদের দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হয়তো সফল হচ্ছে। কিন্তু সীতাকুণ্ডে আমরা দেখেছি জনগণের প্রচেষ্টায় জঙ্গিদের বিরুদ্ধে অভিযান সম্ভব হয়েছে। তাই জনগণের ঐক্য বাড়াতে হবে।