Sunday, May 20, 2018

কূটনীতিকদের নিয়ে বিএনপির ইফতারঃ গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করছি: ফখরুল

কূটনীতিকদের নিয়ে ঢাকার ওয়েস্টিন হোটেলে ইফতার করেছেন বিএনপি নেতারা। রোববার রাজধানীর হোটেল ওয়েস্টিনে তারা এই ইফতারের আয়োজন করেন। প্রতিবছর দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কূটনীতিকদের সম্মানে ইফতার পার্টি দিলেও এবার তার কারাবন্দি অবস্থায় দলের সিনিয়র নেতারা এই ইফতারের আয়োজন করেন। ইফতারে কূটনৈতিকদের স্বাগত জানান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি বলেন, আমি দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ দলের পক্ষ থেকে আপনাদের রমজানের ইফতারে স্বাগত জানাচ্ছি। আমি নিশ্চিত যে, আজকে খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতি আপনারা উপলব্ধি করছেন। আজ খালেদা জিয়া পরিত্যক্ত জেলখানার চার দেওয়ালের মধ্যে কঠিন সময় অতিক্রান্ত করছেন। একটি মিথ্যা বানোয়াট মামলায় বিনাদোষে কারাবন্দি হয়ে সুবিচার থেকে প্রতিনিয়ত বঞ্চিত হচ্ছেন তিনি। দেশে আইনের শাসন নেই বলেই ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তিনি। দেশের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে মির্জা আলমগীর বলেন, বৈশ্বিক যুগে বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থা আমরা আমাদের বিদেশী বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করছি। তবে আমরা বুঝি, আমাদের যে সংগ্রাম সেটা আমাদের নিজেদেরকেই সামনে দিকে এগিয়ে নিতে হবে। তিনি বলেন, আমরা যদি দেশে অবাধ সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহনমূলক একটা নির্বাচন নিশ্চিত করতে না পারি তাহলে দেশের গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ ধ্বংস হয়ে যাবে। আর বিএনপি এ গণতন্ত্রের জন্যই সংগ্রাম করে যাচ্ছে। ইফতারে কূটনীতিক কোরের ডীন ভ্যাটিকেন সিটির রাষ্ট্রদূত আর্চ বিশপ জর্জ কোচেরী, ভারতের হাই কমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা, চীনের রাষ্ট্রদূত ঝাং জুও, সোদি আরবের উপ-রাষ্ট্রদূত আমীর বিন ওমর বিন সালেম, কানাডার রাষ্ট্রদূত বেনওয়া প্রিফনটেইন, অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার জুলিয়া নিবালেত, প্যালেস্টাইনের চার্জ দ্য এ্যাফেয়ার্স ইউসেফ রামাডান ও নেদারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত লিওনি মার্গারেটা কুলিনারে প্রমুখ অংশ নেন। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, নরওয়ে, পাকিস্তান, ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ড, সুইডেন, ভিয়েতনাম, ফ্রান্স, মালদ্বীপ, আফগানিস্তান, ভুটান, ইরান, মরক্কো, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার কূটনীতিকরা ইফতারে অংশ নেন। ইফতারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. মাহবুবউল্লাহ, গণস্বাস্থ্যের ট্রাস্ট্রি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, সাংবাদিক সৈয়দ কামাল উদ্দিন, মাহফুজউল্লাহ, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্ণর সালেহউদ্দিন আহমেদ, সাবেক রাষ্ট্রদূত হেমায়েত উদ্দিন, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি জয়নাল আবেদীন, সম্পাদক মাহবুবউদ্দিন খোকন, প্রফেসর সাহিদুজ্জামান, প্রফেসর বোরহান উদ্দিন, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব তাজুল ইসলাম, তার স্ত্রী ফেরদৌসী আরা, নাসির উদ্দিন বখতিয়ার ইফতারে অংশ নেন। ইফতারে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমেদ, চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, সেলিমা রহমান, খন্দকার মাহবুব হোসেন, মীর নাসির উদ্দিন, আবদুল আউয়াল মিন্টু, চেয়াপারসনের উপদেষ্টা রিয়াজ রহমান, সাবিহউদ্দিন আহমেদ, গোলাম আকবর খন্দকার, ইসমাইল জবিউল্লাহ, আবদুল কাইয়ুম, একরামুজ্জামান, কোষাধ্যক্ষ মিজানুর রহমান সিনহা, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা শামা ওবায়েদ, ব্যারিস্টার নওশাদ জমির, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, মাসুদ আহমেদ তালুকদার, ফাহিমা মুন্নী, রুমিন ফারহানা, নজরুল ইসলাম আজাদ, বেবী নাজনীন, মীর হেলালউদ্দিন ইফতারে অংশ নেন। ইফতারের আগে কারাবন্দি খালেদা জিয়ার মুক্তি, আরোগ্য লাভ ও লন্ডনে অবস্থানরত দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সুস্বাস্থ্য কামনা এবং দেশের অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

খোয়াই নদীর পানি বিপদসীমার উপরে: চুনারুঘাটে ধসে গেছে সড়ক

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে হবিগঞ্জের খোয়াই নদীর পানি বিপদসীমার ৭০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পাহাড়ি ঢলে ভেঙে গেছে ঢাকা-সিলেট প্রাক্তন মহাসড়কের রামগঙ্গা ব্রিজের এপ্রোচ। নালুয়া চা বাগানে ও উসমানপুর গ্রামে ভেসে গেছে ৩টি সেতু। গতকাল বিকাল ৫টায় খোয়াই নদীর মাছুলিয়া পয়েন্টে এ পানির রিডিং নেয় পানি উন্নয়ন বোর্ড । পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে খোয়াই নদীর পানি বাড়তে শুরু করে। এছাড়া ভারত থেকে নেমে আসা পানির চাপে খোয়াই নদীর পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। প্রতি মুহূর্তে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। পানি বৃদ্ধিতে খোয়াই নদীর আশপাশের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। তবে আর বৃষ্টি না হলে পানি কমতে শুরু করবে।
চুনারুঘাটে ধসে গেছে তিন সেতু
এদিকে অবিরাম বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও উজান থেকে ধেয়ে আসা পানিতে চুনারুঘাটে দেখা দিয়েছে বন্যা। পাহাড়ি ঢলে ভেঙে গেছে ঢাকা-সিলেট প্রাক্তন মহাসড়কের রামগঙ্গা ব্রিজের এপ্রোচ। নালুয়া চা বাগানে ও উসমানপুর গ্রামে ভেসে ৩টি সেতু। পানির তোড়ে ভেসে আসা বিষধর সাপের কামড়ে জারুলিয়া গ্রামে মারা গেছে মুক্তার নামের এক যুবক।  খোয়াই নদীর দুকূল উপচে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে অন্তত ত্রিশটি গ্রামে। গাজীপুর ইউনিয়নের জারুলিয়া, ক্বারিশাহ বস্তি, চেকানগর, উসমানপুর, আহম্মদাবাদ ইউনিয়নের বনগাঁও, কোর্টবাড়ি গঙ্গানগর, আলীরাজাপুর, রাজারবাজার, রাণীরকোট সহ দেওরগাছ, মিরাশী ও সাটিয়াজুড়ি ইউনিয়নের ৩০টি গ্রাম তলিয়ে গেছে। বানের পানিতে পাকা বোরো ধান, সবজিক্ষেত তলিয়ে গেছে বানের পানিতে।
মাধবপুরে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত
কয়েকদিনের বর্ষণে ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার নিম্নাঞ্চলগুলো প্লাবিত হয়েছে। অনেক রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। মাধবপুর- ধর্মঘর রাস্তায় মনতলা বিজিবির ক্যাম্পের নিকট জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। ওই এলাকার লোকজন উপজেলা সদরে আসতে নানা দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বৃহস্পতিবার রাতে ভারি বর্ষণে সবজি  ও উঠতি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ভারত থেকে নেমে আসা পানিতে উপজেলার ধর্মঘর, চৌমহনী, বহরা, আদাঐর, শাহজাহানপুর, জগদীশপুর, আন্দিউড়া  ইউনিয়নের অনেক ফসলি জমিতে পানি জমে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। উপজেলার চৌমুহনী ইউনিয়নের কৃষক বদু মিয়া জানান, কয়েকদিন যাবত বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তরমুজ, বেগুন, কড়লা, বরবটি জমি নষ্ট হয়েছে।  অপরদিকে উজান থেকে নেমে আসা পানিতে ব্যাপক এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে অনেকে পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। মাধবপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আতিকুল হক জানান, মাধবপুরে ৫ হেক্টর আউশের বিজতলা ও ৩০ হেক্টর সবজি করা হয়েছে। উজান থেকে নেমে আসা পানি দীর্ঘস্থায়ী না হলে  এবং আর বৃষ্টিপাত না হলে তেমন কোন ক্ষতি হবে না।

কয়েদি থেকে হবু প্রধানমন্ত্রী

তিনি মালয়েশিয়ার দীর্ঘ সময়ের বিরোধী নেতা। বুধবার কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। তাঁর রাজনৈতিক জীবন ও অবশেষে রাজনীতির শিখরে প্রত্যাবর্তন বিরোধীদের আন্দোলনকে অনুপ্রাণিত করেছে, জুগিয়েছে এগিয়ে চলার খোরাক। মুক্তিলাভের পর প্রথম সংবাদ সম্মেলনে আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমার জীবনের ট্যাগলাইন হতে পারে কারাগার  থেকে প্রাসাদে।’ মালয়েশিয়ার রাজা পঞ্চম মুহম্মদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে কুয়ালালামপুরে নিজের বাড়িতে ফিরেছেন ইব্রাহিম। ২০১৫ সালে তাঁকে যে অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল, তা থেকে রাজা এ প্রবীণ নেতাকে মুক্তি দিয়েছেন। ইব্রাহিমের মতে, তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
আমি কখনও লড়াই ছাড়িনি
৭০ বছর বয়সী ইব্রাহিমের ‘পিপল্‌স জাস্টিস পার্টি’ ক্ষমতায় আসা চারদলীয় জোট ‘কোয়ালিশন অফ হোপ’-এর শরিক। প্রাক্তন এক সতীর্থের সঙ্গে যৌন সংসর্গের দায়ে ২০১৫ সালে ইব্রাহিমকে পাঁচ বছরের কারাবাসের সাজা দেয়া হয়। মালয়েশিয়ার বর্তমান আইন অনুযায়ী, মুক্তি পাওয়ার পাঁচ বছর পর্যন্ত কেউ প্রশাসনিক পদে থাকতে পারবেন না, যদি না রাজা তাঁকে মার্জনা করেন। এই পরিস্থিতিতে তিন বছর আগে সাজাপ্রাপ্ত ইব্রাহিমের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ সবদিক থেকেই অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিল।
তবে মালয়েশিয়ার রাজনীতি সর্বদাই চমকে ভরা। ইব্রাহিমের থেকেও বড় মাপের কোনো রাজনীতিক যদি মালয়েশিয়ায় থাকেন, তিনি ৯২ বছরের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মুহাম্মদ। এই মাহাথির কখনও ইব্রাহিমের গুরু, কখনও তাঁর বিপর্যয়ের কারণ, কখনও আবার সহযোগী।
৯ই মে’র নির্বাচনে বারিসান ন্যাশনালের পরাজয়ের ঠিক এক সপ্তাহ পর আনোয়ার ইব্রাহিম মুক্তি পেয়েছেন। ইব্রাহিম কবুল করেছেন যে, এটা সম্ভব হয়েছে মাহাথিরেরই অক্লান্ত প্রচেষ্টার ফলে। রাজার কাছ থেকে ক্ষমালাভের পর ইব্রাহিম বলেন, ‘বন্দি থাকার সময় বোঝা যায় স্বাধীনতার গুরুত্ব কোথায়। কারও ক্ষেত্রে যেন এমনটা না হয়। এ সময়টা অনেকে আমার পাশে থেকেছেন। তবে এটা ঠিক যে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে মানুষকে কারারুদ্ধ করা আমাদের বন্ধ করতে হবে।’
রাজনীতিতে নিজের প্রত্যাবর্তন সমপর্কে ইব্রাহিম বলেন, ‘আমি কখনও লড়াই ছাড়িনি। আমি রাজনীতিতেই ছিলাম। শারীরিকভাবে না হলেও ছিলাম। মাহাথিরের শেষ বার্তাটি ছিল খুব সপষ্ট, আবেদনময়। সেই বার্তা আমি শুনেছি। তাঁর পাশেই থেকেছি।’ রাজনীতিতে ফেরার পর এবার বিদেশ সফরের পরিকল্পনা করেছেন ইব্রাহিম। তিনি বলেন, ‘আমি হার্ভার্ড ও জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ে বক্তৃতা দিতে যাবো। কয়েকটি মুসলিম দেশও সফর করবো। আমাকে এটা প্রচার করতে হবে যে, যুক্তি ও সহিষ্ণুতাই ইসলামের পথ। এর মাধ্যমে দেশের নাগরিকদের স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচারও নিশ্চিত করা যাবে।’
নাজিবের বিরুদ্ধে আমার কোনো ক্ষোভ নেই
দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাকের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয়া হবে? এ প্রশ্নের উত্তরে ইব্রাহিম জানান, ‘জনতার প্রতি অন্যায়, অপরাধ, চরম দুর্নীতি এ দেশের নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর জবাব তাঁকে দিতেই হবে। আমি অবশ্য তাঁকে ক্ষমা করে দিয়েছি। কারণ আমি এগিয়ে যেতে চাই। নাজিবের বিরুদ্ধে আমার কোনো ক্ষোভ নেই।’ মাহাথিরের সঙ্গে হাত মিলিয়ে কাজ করার ব্যাপারে ইব্রাহিম বলেন, ‘আমার লক্ষ্য দেশের মঙ্গল। মাহাথির আমার মুক্তির জন্য অক্লান্ত চেষ্টা চালিয়ে গেছেন। সংস্কারের লক্ষ্যেও তিনি অবিচল।
আমার তাঁর প্রতি ক্ষোভ থাকবে কেন?’
আনোয়ারের রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় কুয়ালালামপুরের মালয় বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেটা ১৯৬০ সাল। তখন তরুণ ছাত্রনেতা ইব্রাহিম ‘মুসলিম ইয়থ মুভমেন্ট অফ মালয়েশিয়া’ (এবিআইএম) গঠন করেছিলেন। ১৯৮২ সাল পর্যন্ত এই সংগঠনের প্রেসিডেন্ট ছিলেন ইব্রাহিম। সে সময় তিনি সুদক্ষ বাগ্মিতায় গ্রামীণ জীবনের সমস্যার কথা তুলে ধরেছিলেন। এছাড়া তৎকালীন শাসক বারিসান ন্যাশনালের সঙ্গে ইউনাইটেড মালয়েজ ন্যাশনাল অর্গানাইজেশন (ইউএমএনও) জোটেরও তীব্র সমালোচক ছিলেন তিনি। ঘটনাচক্রে প্রধানমন্ত্রী মাহাথিরের পক্ষ থেকে ইউএমএওতে যোগ দেয়ার আমন্ত্রণ পান তিনি। ১৯৮২ সালে সেই আমন্ত্রণ স্বীকার করেন ইব্রাহিম। এরপরই তাঁর উত্থান ঘটে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়ে ১৯৯৮ সালে তিনি ‘এশিয়ান অফ দ্য ইয়ার’-এর শিরোপাও পান।
উত্থান-পতন
ইব্রাহিমের রাজনৈতিক জীবন উত্থান-পতনে ভরা। ২০১৪ সালের ভোটে যখন তার জয়ের সম্ভবনা উজ্জ্বল, ঠিক তখনই ধাক্কা খান আনওয়ার ইব্রাহিম। দশ বছর আগে স্ত্রীর গাড়িচালকের সঙ্গে যৌন সংসর্গের যে অভিযোগ থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন, আদালতের সেই নির্দেশ পালটে যায়। ফিরে আসে পুরনো অভিযোগ। আবারো জেলে যেতে হয় ইব্রাহিমকে। এদিকে রাজনীতির পট পরিবর্তন হতে থাকে। নাজিবের প্রতি বিরক্ত মাহাথির জোট ছেড়ে নয়া দল গঠন করেন। যে দলের হয়ে তিনি ২২ বছর ক্ষমতায় ছিলেন, বিরোধী জোটের নেতা হিসেবে সে দলেরই প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাককে ক্ষমতাচ্যুত করেন তিনি।
ইব্রাহিমের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব ঘুচিয়ে প্রতিশ্রতি দেন, জনতা তাঁকে ক্ষমতায় ফেরালে ইব্রাহিমের মুক্তির উদ্যোগ নেবেন তিনি স্বয়ং। ৯ই মে ভোটে জেতার পর কথা রেখেছেন মাহাথির। অবশেষে মুক্তি পেয়েছেন আনোয়ার ইব্রাহিম। রাজার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ইব্রাহিম বলেন, ‘দেশে নতুন ভোর এসেছে। আমি জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে দেশবাসীকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। জনতা যে দায়িত্ব আমাকে দিয়েছেন, আমি তা পূরণ করতে চাই।’ প্রধানমন্ত্রী হওয়ার উচ্চাশা কি তাঁর নেই? ইব্রাহিম বলেন, ‘আমি মাহাথিরকে সমর্থন জোগাতে চাই যাতে তিনি সংস্কারের কাজ শেষ করতে পারেন। এজন্য কোনো সময়সীমা বেঁধে দেয়ার দরকার নেই।’
সূত্র: ডয়েচে ভেলে

দোলাচলে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার by রোকনুজ্জামান পিয়াস

মালয়েশিয়ার সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে দেশটির শ্রমবাজার নিয়েও নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। দেশটির দায়িত্বশীল পর্যায় থেকে বলা হচ্ছে, শ্রমবাজার সম্পর্কিত বিগত সরকারের চুক্তি নতুন করে পর্যালোচনা করা হবে। সেক্ষেত্রে বিদেশি শ্রমিকদের ওপর নির্ভরতা কমানোর কথাও বলেছেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী।  তাদের এই পর্যালোচনা বাংলাদেশি কর্মী প্রেরণের ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব ফেলবে কিনা তা নিয়েও চলছে নানা বিশ্লেষণ। এদিকে দেশটির নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর সেখানে অবস্থিত বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরাও নড়েচড়ে বসেছেন। কর্মী প্রেরণে দীর্ঘদিন থেকে চলে আসা সিন্ডিকেট ভাঙতে উদ্যোগ নিয়েছে তারা।
এ ব্যাপারে কুয়ালালামপুরস্থ বাংলাদেশি হাইকমিশনে স্মারকলিপি দিয়েছে ব্যবসায়ী কমিউনিটি। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কোনো দেশের সরকার পরিবর্তন হলে, পুরাতন চুক্তিগুলো পর্যালোচনা করে নতুন সরকার। মালয়েশিয়াও তাই করছে। তাদের এ পর্যালোচনার কারণে শ্রমবাজারে তেমন কোনো প্রভাব পড়বে না বলেও মন্তব্য করেন ব্যবসায়ী নেতারা। আর সিন্ডিকেট ভাঙার দাবির বিষয়টিও পুরনো। বর্তমানের আলোচনাও সেটারই ধারাবাহিকতা। অপরদিকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, সামনে উভয় দেশের শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধিদের নিয়ে জয়েন্ট টেকনিক্যাল গ্রুপের একটি সভা অনুষ্ঠিত হবে। ওই সভায় শ্রমবাজার সম্পর্কিত বিস্তারিত আলোচনা হবে।
সূত্রমতে, ২০১৬ সালে বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় তিন বছরে ১৫ লাখ শ্রমিক নেয়ার ঘোষণা দেয়। এ লক্ষ্যে ওই বছরের ৮ই ফেব্রুয়ারি দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়। দুই দেশের মধ্যে চুক্তি সইয়ের পর মালয়েশিয়া সরকারের কাছে বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্টদের তালিকা পাঠায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।
ওই সময় মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মালয়েশিয়ায় যেতে প্রত্যেক কর্মীর খরচ পড়বে ৩৪ থেকে ৩৭ হাজার টাকা। বিমান ভাড়া, রিক্রুটিং এজেন্টদের সার্ভিস চার্জ, মেডিকেল খরচ বাবদ ব্যয় হবে এই টাকা। আর বাকি টাকা দেবে চাকরিদাতারা। এরপর একই বছরের ২১শে সেপ্টেম্বর মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশনকে একটি নথি পাঠায়। যেখানে বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (বিডাব্লিউএমএস) নামে নতুন একটি বিষয় সম্পর্কে বলা হয়। পাশাপাশি বিষয়টি সিনারফ্লাক্স এসডিএন বিএইচডি নামে একটি কোম্পানির হাতে  দেয়া হয়। পরে সিনারফ্লাক্সের বিরুদ্ধে মনোপলি ব্যবসার অভিযোগ করেন বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিজ (বায়রা)। মালয়েশিয়ান এই প্রতিষ্ঠানটি ১০টি এজেন্সির মাধ্যমে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তোলে। পরবর্তীতে তারা এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কর্মী নেয়া শুরু করে। বায়রা’র সদস্য এজেন্সিগুলো শুরু থেকেই এই সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের কাছে ধরনা দেয়। কিন্তু তাতে কোনো কাজ হয়নি।
এদিকে, সম্প্রতি মালয়েশিয়ায় সরকার পরিবর্তনের পর থেকে আবারো আলোচনায় এসেছে দেশটির শ্রমবাজার। সেদেশের সরকার বলছে, ২০১৬ সালে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে এ বিষয়ে ১৫ লাখ শ্রমিক নেয়ার ব্যাপারে যে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত নতুন করে পর্যালোচনা করবে। বৃহস্পতিবার ইন্ডাস্ট্রিয়াল কোর্ট পরিদর্শন শেষে দেশটির মানবসম্পদ বিষয়ক মন্ত্রী এম কুলাসেগারান এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, বিদেশি শ্রমিকদের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আনতে চাইছে তাদের সরকার। তাই সব কিছুই রিভিউ করা প্রয়োজন। আমরা বিদেশি শ্রমিকদের বিষয়ে বেশি সচেতন। তাই তাদের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আনতে চাই।
অত্যাবশ্যক খাতেই শুধু আমরা বিদেশি শ্রমিকদের অনুমোদন দেবো। মন্ত্রী বলেন, আমরা মালয়েশিয়ার শ্রমিকদেরকে সবার আগে অগ্রাধিকার দেবো। আগে ভাববো মালয়েশিয়ার মানুষের কথা। দ্বিতীয় পর্যায়ে ভাববো অন্যদের। তিনি এ সময় আরো বলেন, অন্য যেসব দেশের সঙ্গে চুক্তি আছে তাও পর্যালোচনা করা হবে। তবে মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য আপাতত কোনো ভয় নেই বলে তিনি জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, যারা বৈধতার অধীনে মালয়েশিয়ায় কাজ করছেন তাদেরকে যথাযথ প্রক্রিয়া ছাড়া চলে যেতে বলা হবে না। তার ভাষায়, এক্ষেত্রে কিছু সময় লাগবে। মালয়েশিয়ায় যারা কাজ করছেন তাদেরকে অবিলম্বে বাক্স-প্যাটরা গুটিয়ে চলে যেতে বলা হবে না। তারা এখানে আসার জন্য দেশ ছেড়েছেন। তাই আমরা যতটুকু পারি ততটুকু করবো। মন্ত্রী বলেন, এক সময় যে চাকরিগুলো বিদেশিরা করতেন সেখানে শূন্য পদ সৃষ্টিতে কাজ করবে সরকার। এসব শূন্যপদ পূরণ করে তাদেরকে নতুন করে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। যদি আপনি নিউজিল্যান্ড বা অস্ট্রেলিয়া যান তাহলে সেখানে কোনো বিদেশি শ্রমিক পাবেন না। আমাদেরও তাই করতে হবে।
এদিকে মালয়েশিয়ায় ডা. মাহাথির মোহাম্মদ নেতৃত্বাধীন জোট রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসার পর শ্রমবাজার সিন্ডিকেট বন্ধে বাংলাদেশ হাইকমিশনে স্মারকলিপি দিয়েছেন বাংলাদেশ কমিউনিটি ব্যবসায়ী নেতারা। মালয়েশিয়া বিজনেস কমিউনিটির ব্যানারে গত মঙ্গলবার বিকেলে তারা ওই স্মারকলিপি দেন। স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, সোর্স কান্ট্রি হিসেবে ৩৭ হাজার টাকায় জনশক্তি পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে ঢাকার ১০টি রিক্রুটিং এজেন্সির সমন্বয়ে গঠিত সিন্ডিকেট অসহায় শ্রমিকদের কাছ থেকে জোরপূর্বক তিন লাখেরও বেশি টাকা আদায় করছে। এভাবে তারা হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে  নেয়ায় বর্তমানে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার অনেকটা হুমকির মুখে পড়েছে। বিজনেস কমিউনিটির ১৪ সদস্যের স্বাক্ষরযুক্ত ‘মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার সিন্ডিকেট মুক্তকরণ’ ওই স্মারকলিপিতে আরো বলা হয়েছে, আমিন গং ও ১০ সিন্ডিকেট মালয়েশিয়ার বিগত সরকারের (নাজিব রাজাক) সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে এসপিপিএ কোম্পানির কথা বলে ভিসা প্রসেসিং খরচ বাবদ শ্রমিকদের কাছ থেকে জনপ্রতি ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা জোরপূর্বক আদায়ের প্রথা চালু করে। নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর ‘সিন্ডিকেটের’ মূল হোতাসহ অন্যরা গা-ঢাকা দিয়েছে। কিন্তু এখনও রয়ে গেছে তাদের চালু হওয়া অতিরিক্ত টাকা আদায় পদ্ধতি। এই স্মারকলিপির অনুলিপি প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিজকে (বায়রা) দেয়া হয়েছে।
এদিকে নতুন করে আলোচনায় আসা মালয়েশিয়ার এই শ্রমবাজার নিয়ে চিন্তিত নয় সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। সমঝোতা স্বাক্ষর পর্যালোচনা বিষয়ে বৃহস্পতিবার দেশটির মন্ত্রীর দেয়া বক্তব্যের ব্যাপারে বায়রার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমেদ চৌধুরী নোমান বলেন, কোনো দেশে নতুন সরকার, পূর্বের সরকারের সময়ে করা চুক্তি পুনর্বিবেচনা করতেই পারে। তার মানে এই নয় যে, তারা ওই চুক্তি থেকে সরে আসবে। তিনি বলেন, এর আগে বাংলাদেশ থেকে তারা কর্মী নিতো বিশেষ পদ্ধতিতে। কিন্তু এখন বাংলাদেশ সোর্স কান্ট্রি। সেক্ষেত্রে কর্মী নেয়া বন্ধ করতে হলে অন্যান্য দেশ থেকেও কর্মী নেয়া বন্ধ করতে হবে তাদের। নোমান বলেন, দেশটির চাহিদার আলোকেই পূর্বের সরকার তিন বছরে ১৫ লাখ লোক নেয়ার কথা বলেছিলো। এ সরকার সেটাই বিবেচনা করবে।
তিনি বলেন, বাস্তবতা হচ্ছে তাদের বিদেশি কর্মী লাগবে। সেক্ষেত্রে পর্যালোচনা করলেও কমিয়ে দেয়া বা বন্ধ করে দেয়ার কোনো সুযোগ নেই। তাদের চাহিদা অনুযায়ীই লোক যাবে। সিন্ডিকেটের ব্যাপারে বায়রার এই নেতা বলেন, শুরু থেকেই সিন্ডিকেটের ব্যাপারে আমরা কথা বলে আসছি। মন্ত্রণালয়ে এ বিষয়ে আমরা একাধিকবার কথা বলেছি। এটা নতুন কোনো বিষয় না বলেও তিনি জানান। শামীম আহমেদ চৌধুরী নোমান বলেন, মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জয়েন্ট টেকনিক্যাল কমিটির সভায় তারা এ বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলবেন। এদিকে হাইকমিশনের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, এখনো নতুন মন্ত্রী দায়িত্বগ্রহণ করেননি। তিনি দায়িত্ব নিলেই সিন্ডিকেটের বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জন্য উত্থাপন করা হবে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নমিতা হালদার এনডিসি গণমাধ্যমকে বলেন, মালয়েশিয়ার নতুন সরকার কি ভাবছে আমরা জানি না। আমরা অপেক্ষা করছি উভয় দেশের সমন্বয়ে জয়েন্ট টেকনিক্যাল গ্রুপের সভার। এই সভায় আমরা আমাদের জনশক্তি বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবো।

জেএসসিতে এমসিকিউ থাকছে, কমছে ২০০ নম্বর by নূর মোহাম্মদ

প্রাথমিক সমাপনীতে নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্ন তুলে দেয়া হলেও বহাল থাকছে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষা (জেএসসিতে)। শিক্ষাবিদ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ বিভিন্ন মহল থেকে এমসিকিউ তুলে দেয়ার চাপ থাকলেও তা আপাতত বাতিল করছে না শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তবে আসন্ন জেএসসি ২০০ নম্বরের পরীক্ষা কমিয়ে নতুন মানবণ্টন করা হচ্ছে। এর মধ্যে বাংলা ও ইংরেজি দুটি বিষয়ে ৫০ নম্বর করে ১০০ নম্বরের পরীক্ষা কমানোর সিদ্ধান্ত হবে। তবে কত নম্বরের এমসিকিউ থাকছে তা এখনও পরিষ্কার করতে পারেনি কর্মকর্তারা। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য আগামী রোববার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের বৈঠক ডাকা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, জেএসসিতে ঐচ্ছিক বিষয়ের (গার্হস্থ অর্থনীতি/কৃষি) পরীক্ষা তুলে দেয়া হবে। শিক্ষার্থীদের ওপর পরীক্ষার চাপ কমাতে গত ৮ই মে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক উপকমিটির সভায় এসব সিদ্ধান্ত হয়। প্রস্তাবটি এখন মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের অপেক্ষায়। অনুমোদন হলে আগামী ১লা নভেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া অষ্টম শ্রেণির পরীক্ষা ৬৫০ নম্বরের হবে।
বিষয়টি স্বীকার করে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের সদস্য (কারিকুলাম) প্রফেসর ড. মসিউজ্জামান মানবজমিনকে বলেন, এমসিকিউ যেভাবে আছে সেভাবেই থাকবে। এ বছরের পরীক্ষায় এমসিকিউতে কোনো পরিবর্তন আসছে না। তিনি আরো বলেন, আমি শুনেছি আন্তঃবোর্ডের সমন্বয় সভায় বাংলা ও ইংরেজি বিষয়ে ৫০ নম্বর কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আন্তঃবোর্ড আসলে আমাদের বলবে না। তারা মন্ত্রণালয়কে বলবে। মন্ত্রণালয় আমাদের নির্দেশ দিলে তখন আমরা নম্বর বণ্টনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিবো। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ১৫০ নম্বরের পরীক্ষা ১০০ নম্বরের হলে ৩০ নম্বর এমসিকিউ প্রশ্ন থাকবে। তবে আগের ১৫০ নম্বরের পরীক্ষার কোনো অংশ থেকে কত এমসিকিউ থাকবে তা নির্ধারণ করতেই হয়তো মন্ত্রণালয় সভা ডেকেছে। আর আন্তঃবোর্ডের সমন্বয়ক ও ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মু. জিয়াউক হক মানবজমিনকে বলেন, আমাদের মতামত শিগগিরই মন্ত্রণালয়কে পাঠাবো। তবে চলতি বছর এমসিকিউ রেখেই আমরা প্রস্তাব পাঠাবো। বোর্ড কর্মকর্তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের ওপর পরীক্ষার চাপ কমাতে বাংলা ও ইরেজি বিষয়ে ৫০ নম্বর করে কমাতে এবং চতুর্থ বিষয়ের পরীক্ষা তুলে দিতে সবাই একমত হয়েছেন। মন্ত্রণালয় আমাদের প্রস্তাব অনুমোদন দিলে চলতি বছরের জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষা থেকে তা কার্যকর হবে। উপকমিটির সভায় সাতটি বিষয়ের পরীক্ষা নেয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকরা। আর বাংলা ও ইংরেজি বিষয়ের দুই পত্রের ১৫০ নম্বরের পরিবর্তে ১০০ নম্বরের পরীক্ষা হবে। গার্হস্থ্য অর্থনীতি বা কৃষি দুটি বিষয়ের একটি শিক্ষার্থী নিজেদের পছন্দমতো নিতে পারতেন। এবার থেকে এ বিষয়ের পরীক্ষা না নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। অর্থাৎ ২০০ নম্বরের পরীক্ষা তুলে দেয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তুলে দেয়া ২০০ নম্বর শ্রেণিকক্ষে ধারাবাহিক মূল্যায়ন করতে হবে। শিক্ষার্থীদের জিপিএ নির্ধারণের ক্ষেত্রে এর কোনো প্রভাব থাকবে না। এর আগে গত বছর জেএসসি ও জেডিসিতে ১৩টি বিষয়ের মধ্যে তিনটি বিষয়ের ওপর পরীক্ষা তুলে দেয়া হয়। বিষয়গুলো হচ্ছে- চারু ও কারুকলা, শারীরিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্য এবং কর্ম ও জীবনমুখী শিক্ষা। এই তিনটি বিষয়ে ৫০ নম্বর গত বছর থেকে শ্রেণিকক্ষে ধারাবাহিক মূল্যায়ন হচ্ছে। বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, গত বছর জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষায় ১০টি বিষয়ে মোট ৮৫০ নম্বরের পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়েছে। এর মধ্যে বাংলা প্রথমপত্র ১০০; দ্বিতীয়পত্র ৫০; ইংরেজি প্রথমপত্র ১০০; দ্বিতীয়পত্র ৫০; গণিত এবং বিজ্ঞান, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় এবং ধর্ম, গার্হস্থ অর্থনীতি/কৃষি বিষয়ে ১০০ করে ৮০০ নম্বর এবং তথ্যপ্রযুক্তিতে ৫০ নম্বরসহ মোট ৮৫০ নম্বরের পরীক্ষা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মাধ্যমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে পরামর্শ দিতে ২০১৬ সালে দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সদস্যদের নিয়ে ওই বছরের ২৫ ও ২৬শে নভেম্বর কক্সবাজারে দুই দিনের আবাসিক কর্মশালার আয়োজন করে মন্ত্রণালয়। এতে শিক্ষাবিদরা বেশকিছু সুপারিশ করেন। সুপারিশ বাস্তবায়নে কয়েকটি সাব কমিটিও গঠন করা হয়। সুপারিশ বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে গত ৩০শে নভেম্বর মন্ত্রণালয়ে একটি বর্ধিতসভা হয়। সভায় শিক্ষাক্রম পর্যালোচনা সাবকমিটি অষ্টম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষায় চারু ও কারুকলা, ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা, কৃষি, গার্হস্থ্য বিজ্ঞান, শরীরচর্চা ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়গুলো পর্যায়ক্রমে বিদ্যালয়ভিত্তিক মূল্যায়নসহ বেশকিছু সুপারিশ করেন। মূলত শিক্ষাবিদদের সুপারিশের আলোকেই বোর্ডগুলো এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

রাজকীয় বিয়ে

বর্ণাঢ্য আয়োজনে গাঁটছড়া বাঁধলেন প্রিন্স হ্যারি ও মেগান মার্কেল। বৃটিশ রাজপরিবারের ইতিহাসে সবচেয়ে জমকালো আয়োজনে রাজবধূ হলেন মার্কিন অভিনেত্রী মেগান। এখন থেকে এ নবদম্পতি পরিচিত হবেন ডিউক অ্যান্ড ডাচেস অব সাসেক্স হিসেবে। উইন্সসরের সেন্ট জর্জ চ্যাপেলে বৃটিশ রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ ও ৬০০ অভিজাত অতিথির উপস্থিতিতে তারা শপথ নেন একসঙ্গে বাকি জীবন অতিবাহিত করার। এর আগে তারা পরস্পরের আঙলে আংটি পরিয়ে দেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে গির্জায় বড় ভাই প্রিন্স উইলিয়ামের সঙ্গে উপস্থিত হন প্রিন্স হ্যারি। পরে শ্বশুর প্রিন্স চার্লসের হাত ধরে সেখানে হাজির হন সফেদ পোশাক পরিহিত মেগান মার্কেল। স্থানীয় সময় বেলা একটার দিকে তাদের বিয়ে পড়ান যাজক জাস্টিন উইলবি। পরে উইন্ডসরের রাস্তায় নববিবাহিত দম্পতিকে নিয়ে রাজকীয় শোভাযাত্রা বের হয়। ঘোড়ার গাড়িতে চড়ে শহর প্রদক্ষিণ করেন তারা।
বিয়ের মূল অনুষ্ঠান শুরুর অনেক আগে থেকেই চ্যাপেলে হাজির হতে শুরু করেন আমন্ত্রিত অতিথিরা। আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে ছিলেন অপরাহ উইনফ্রে, জর্জ ও আমাল ক্লুনি, ডেভিড বেকহ্যাম, ভিক্টোরিয়া বেকহ্যাম ও স্যার এল্টন জন। রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ স্বামী ফিলিপের সঙ্গে একটি ছাদখোলা গাড়িতে চড়ে বিয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন। এসময় রাস্তায় দু’পাশে অবস্থান নেয় হাজারো মানুষ। তারা হাত নেড়ে মহামান্য রানীকে অভিবাদন জানান। শনিবার সন্ধ্যায় নবদম্পতির সম্মানে রাজকীয় পার্টি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। যাতে উপস্থিত থাকবেন দুই শতাধিক অভিজাত অতিথি।
এদিন রাজপরিবারের উল্লেখযোগ্য প্রত্যেকেই উপস্থিত ছিলেন। তবে, একজনের অনুপস্থিতি ঠিকই অনুভব করেছেন প্রিন্স হ্যারি। তার প্রয়াত মা প্রিন্সেস ডায়ানা। তিনি থাকলে ছোটছেলে প্রিন্স হ্যারির নববধূকে তিনিই বরণ করে নিতেন। হ্যারির মতো তার বড় ভাই প্রিন্স উইলিয়ামের বিয়েও হয়েছে মায়ের অনুপস্থিতিতে। তবে, দু’ছেলেই তাদের প্রিয় মাকে নিজেদের বিয়ের অংশ করে রেখেছেন। ২০১০ সালে উইলিয়াম কেট মিডলটনের হাতে বাগদানের যে আংটি পরিয়ে দিয়েছিলেন সেটা ছিল প্রিন্সেস ডায়ানার। আর প্রিন্স হ্যারি বাগদানের যে আংটি মেগান মার্কেলকে দিয়েছেন তাতে রয়েছে ডায়ানার অলংকারের সংগ্রহ থেকে নেয়া কতগুলো হীরা। আর আরেকজনের অনুপস্থিতি কাঁদিয়েছে রাজবধূ মেগান মার্কেলকে। তার পিতা থমাস মার্কেল অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না। হার্ট অ্যাটাক হওয়ার পর তিনি চিকিৎসা নিচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রে। বৃহস্পতিবার তার অনুপস্থিতিতেই বিয়ের আনুষ্ঠানিকতার রিহার্সেল করেন বর ও কনে। তখন বার বার পিতার অনুপস্থিতি কাঁদিয়েছে মেগান মার্কেলকে। আর তা দেখে কেঁদেছেন প্রিন্স হ্যারিও। ছোট ভাইয়ের হবু বউ, ছোটভাইকে এভাবে কাঁদতে দেখে অশ্রুসজল হয়ে যান প্রিন্স উইলিয়ামও।
রাজকীয় এ বিয়ে উপভোগ করতে করতে আগের দিন রাত থেকেই উইন্ডসরের রাস্তায় রাস্তায় মানুষের ঢল নামে। সবচেয়ে ভালোভাবে দেখা যাবে এমন স্থানটি নিশ্চিত করতে তারা রাতেই জায়গা দখল করেন। কেউ কেউ পুরো রাতই কাটিয়ে দেন রাস্তায়। বিয়ে করার আগের রাতে উইন্ডসরে সমবেত লোকজনকে প্রিন্স হ্যারি আশার বাণী শোনান। বলেন, তিনি একেবারে রিলাক্সড। অর্থাৎ তিনি শান্ত আছেন। অন্যদিকে মেগান মার্কেল বলেন ওয়ান্ডারফুল অনুভূতি কাজ করছে তার মধ্যে। কয়েকদিন ধরেই বৃটিশ সংবাদমাধ্যমগুলোতে বিয়ের খবরই প্রাধান্য পেয়েছে। বেশির ভাগই সব খবর নামিয়ে প্রধান সংবাদ শিরোনাম করেছে এ নিয়ে। রাজপরিবার বিষয়ক বিবিসির সাংবাদিক জোনি ডায়মন্ড বলছেন, রাজপরিবারের প্রতিটি বিয়েই আলাদা। তবে প্রতিটি বিয়েই একটি সম্ভাবনা নিয়ে আসে কোনো না কোনোভাবে। এর মধ্য দিয়ে রাজপরিবার যে নতুন করে যাত্রা করে। তবে প্রিন্স হ্যারি ও মেগান মার্কেলের মধ্যে যে বিয়ে হতে যাচ্ছে তাকে ‘বিগ ওয়েডিং’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এমনটা খুব কমই ঘটে। এ বিয়ে যেন বৈশ্বিক রূপ পেয়েছে। বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তের মানুষের মধ্যে সাড়া ফেলেছে।
জমকালো এ বিয়ের অনুষ্ঠানটি উপভোগ করে বিশ্বের লক্ষ লক্ষ মানুষ। শীর্ষ টিভি ও নিউজ চ্যানেলগুলো ও তাদের ইউটিউব চ্যানেলে পুরো আয়োজন সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। মেগান মার্কেল যখন সেন্ট জর্জ চ্যাপেলের দিকে অগ্রসর হচ্ছিলেন তখন হিথ্রোর ওপর নো ফ্লাই জোন ঘোষণা করা হয়।
হ্যারি-মেগানের রাজসিক বিয়ে ২০১১ সালে হওয়া প্রিন্স উইলিয়ামের বিয়ে থেকে কিছুটা আলাদা ছিল। এদিন কোনো রাজনীতিবিদ, রাষ্ট্রদূত বা বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানরা উপস্থিত ছিলেন না। বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে’ও বিয়ের অনুষ্ঠান উপভোগ করেছেন টিভিতে। ১০ নং ডাউনিং স্ট্রিটের টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে তিনি শুভকামনা জানিয়েছেন নবরাজদম্পতি প্রিন্স হ্যারি ও মেগান মার্কেলকে।

কাঁদলেন হ্যারি মার্কেল ও উইলিয়াম

বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা নিয়ে রিহার্সেল দিতে গিয়ে কেঁদেছেন প্রিন্স হ্যারি ও মেগান মার্কেল। তাদের কান্না দেখে কেঁদেছেন প্রিন্স হ্যারির বড়ভাই প্রিন্স উইলিয়ামও। কিন্তু কেন? এর কারণ হচ্ছেন মার্কিন অভিনেত্রী মেগান মার্কেলের পিতা থমাস মার্কেল। আজ তার মেয়ে ও মার্কিন অভিনেত্রী মেগান মার্কেলের সঙ্গে প্রিন্সেস ডায়ানার ছোট ছেলে প্রিন্স হ্যারির বিয়ে। আর তাতে উপস্থিত থাকছেন না তিনি। এর কারণ, তিনি হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত। চিকিৎসা নিচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রে। ওদিকে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা কেমন হবে তা নিয়ে বর ও কনে রিহার্সেল করেছেন বৃহস্পতিবার। তখন বার বার পিতার অনুপস্থিতি কাঁদিয়েছে মেগান মার্কেলকে। আর তা দেখে কেঁদেছেন প্রিন্স হ্যারিও। ছোট ভাইয়ের হবু বউ, ছোট ভাইকে এভাবে কাঁদতে দেখে অশ্রুসজল হয়ে যান প্রিন্স উইলিয়ামও। বৃহস্পতিবার এ ঘটনা ঘটে উইন্ডসোরে অবস্থিত সেইন্ট জর্জেস চ্যাপেলে। আজ সেখানেই আনুষ্ঠানিক বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হবেন হ্যারি-মার্কেল। বৃহস্পতিবারের ওই রিহার্সেলে উপস্থিত ছিলেন এমন একটি সূত্র দ্য সান’কে বলেছেন, মেগান মার্কেলের পিতা যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন। তাকে মিস করছেন কনে। এই কষ্টে কেঁদে ফেলেন মেগান মার্কেল ও প্রিন্স হ্যারি। তা দেখে আপসেট হয়ে পড়েন প্রিন্স উইলিয়ামও। পিতা থমাস মার্কেল (৭৩)কে বার বার বিয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়ার জন্য অনুরোধ করেছেন মার্কেল। কিন্তু বরাবরই তিনি বৃটেনে আসতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তিনি বলছেন, হার্ট অ্যাটাকে ভুগছেন বলে মনে হচ্ছে তার। আজকের এই রাজকীয় বিয়ে প্রত্যক্ষ করতে উইন্ডসোর এলাকায় সারা বিশ্ব থেকে রাজপরিবারের কমপক্ষে দেড় লাখ ভক্ত সমবেত হয়েছেন। ওদিকে পিতার অনুপস্থিতিতে কে কনে মেগান মার্কেলকে বিয়ের মঞ্চ পর্যন্ত নিয়ে যাবেন! হ্যাঁ, এক্ষেত্রে পিতার দায়িত্ব পালন করবেন হবু শ্বশুর প্রিন্স চার্লস। গাড়ি থেকে নামার পর তিনিই মেগান মার্কেলকে বিয়ের মঞ্চ পর্যন্ত পৌঁছে দেবেন। এ জন্য তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন থমাস মার্কেল। তিনি বলেছেন, এ জন্য তিনি সম্মানিত বোধ করছেন।

বিবিসি বাংলার সংবাদদাতার চোখে খুলনার নির্বাচন

জাতীয় নির্বাচনের কয়েক মাস আগে অনুষ্ঠিত খুলনা সিটি নির্বাচন নিয়ে চলছে নানা আলোচনা বিচার-বিশ্লেষণ। প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে এ নির্বাচন সারা দেশের নজর কাড়ে। ভোট শেষে বিএনপি ব্যাপক ভোট জালিয়াতির অভিযোগ করলেও আওয়ামী লীগ একে ভিত্তিহীন এবং অপপ্রচার হিসেবে আখ্যায়িত করছে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে কেমন হলো খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচন?
খুলনার ডাকবাংলা মোড়ে ভোটের পরদিন খবরের কাগজের স্টলে কয়েকজনের সঙ্গে কথা হয়। একজন ব্যবসায়ী বলছিলেন, “খালেক ভাই নিঃসন্দেহে ভালো লোক। তার উন্নয়ন ছিল। কিন্তু আমরা চেয়েছিলাম সুন্দর একটা নির্বাচন। খুলনার জনগণ যদি বিবেকবান হন তাহলে এবার তাকে নির্বাচিত করবে। কিন্তু এভাবে নির্বাচিত হয়ে আসাটা আমার কাছে কাম্য ছিল না।” কর্মজীবী এক তরুণের অভিযোগ, “অনেকে ওপেন জালভোট দিয়েছে, অনেকে ভোট দিতে এসে ফিরে গেছে। ভোট দিতে পারেনি।” নির্বাচন কমিশন কি তার দায়িত্ব যথাযথ পালন করেছে এমন প্রশ্নে সেখানে উপস্থিত কয়েকজন বলে উঠলেন, “না, না।” অবশ্য পাশে দাঁড়ানো বয়স্ক একজন বলেন, “এটা কমিশনারদের দ্বন্দ্ব, মেয়রের না। কমিশনারদের দ্বন্দ্বে দুটো কেন্দ্র বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। জালভোট হয়েছে প্রথম শুনলাম। প্রশাসন খুব ভালো পদক্ষেপ নিয়েছে।”
সাধারণ মানুষের বক্তব্যের যথার্থতা নির্ণয় করা মুশকিল। কে কোন দলের সেটিও বোঝা যায় না। তবে খুলনার নাগরিকদের বক্তব্য যাই হোক বোঝা দরকার নির্বাচনটি কেমন হলো। ভোটের দিন সকাল থেকে খুলনা শহরে বেশক’টি কেন্দ্র পর্যবেক্ষণ করেছি। সকালের দিকে যারা ভোট দিতে এসেছেন তারা অনেকেই সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। ভোটের পরিবেশও ছিল দৃশ্যত শান্তিপূর্ণ। কিন্তু সকাল থেকেই বিএনপির প্রার্থী অভিযোগ করেন, ৪০টি কেন্দ্রে তাদের এজেন্টদের ঢুকতে দেয়া হয়নি। কোথাও ভয়-ভীতি দেখিয়ে এবং কোথাও মারধর করে বের করে দেয়া হয়েছে। এমন অভিযোগও পাওয়া যায় যে আওয়ামী লীগের কর্মীরা দেখানোর জন্য ধানের শীষের ব্যাজ পরে বিএনপির প্রার্থীর এজেন্ট সেজে বসে আছে। যদিও আওয়ামী লীগের পক্ষে এসব অভিযোগ নাকচ করা হয়। কিছু কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে যে বিএনপির এজেন্টরা সত্যিই অনুপস্থিত। আর অন্যদিকে, সব কেন্দ্রে এবং কেন্দ্রের বাইরে নৌকা মার্কার ব্যাজপরা কর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি। ভোটকেন্দ্রগুলো কার্যত নৌকার কর্মীদের টহল এবং নিয়ন্ত্রণে ছিল বলেই মনে হয়েছে। পরিচয় গোপন রেখে কয়েকজন জানান, “কিছু কেন্দ্রে দলবেঁধে ঢুকে ২০-২৫ মিনিটের মধ্যে ভোট কাটার ঘটনা ঘটেছে। প্রকাশ্যে কোনো দাঙ্গা হাঙ্গামা না বাঁধিয়ে সুকৌশলে কাজ হয়েছে।”
দুপুরের পর কয়েক জায়গা থেকে ভোটে অনিয়মের ব্যাপক অভিযোগ আসে। যে কারণে তিনটি কেন্দ্রের ভোট বন্ধ করে দেয়া হয়। অনেকে ভোট দিতে এসে হতাশ হয়ে সেসব কেন্দ্র থেকে ফেরত গিয়েছেন। ভোটের প্রকৃত অবস্থা বোঝার জন্য একটি কেন্দ্রে ভোট গণনার সময় উপস্থিত ছিলাম। ওই কেন্দ্রে ৬৮ শতাংশের ওপরে ভোট পড়েছে। ব্যালট বাক্স থেকে বের করে গণনার সময় দেখেছি কিছু ব্যালটের পেছনে সিল এবং স্বাক্ষর আছে। কিছু ব্যালটের পেছনে দেখেছি সিলমোহর আছে কিন্তু স্বাক্ষর নেই। আবার কিছু দেখেছি সিল স্বাক্ষর কিছুই নেই। নির্বাচনী কর্মকর্তারা ভোট গণনার এক পর্যায়ে স্বাক্ষরবিহীন একটি ব্যালট প্রিজাইডিং অফিসারকে দেখালে তিনি অবৈধ ঘোষণা করেন। পরক্ষণেই একইরকম একগাদা ব্যালট তার হাতে দেয়া হলে তিনি অপ্রস্তুত হয়ে পড়েন। ওই সব ব্যালটই ছিল নৌকা মার্কায় দেয়া ভোট। পরে ভোটকেন্দ্রে অবস্থানরত পুলিশের সঙ্গে পরামর্শ করে প্রিজাইডিং অফিসার ব্যালটে স্বাক্ষরবিহীন ভোট বৈধ হিসেবে গণনার নির্দেশ দেন। এরপর আর ব্যালটে স্বাক্ষর আছে কিনা সেটি খতিয়ে দেখা হয়নি। এ ব্যাপারে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আইনত এসব ভোট বাতিল হওয়ার কথা। কিন্তু স্বাক্ষরবিহীন সব ব্যালটকে বৈধ ধরে নিয়েই গণনা হয়েছে ১৮৬ নম্বর কেন্দ্রে। ওই কেন্দ্রে নৌকা মার্কা পেয়েছে ১১৫৬ ভোট আর ধানের শীষ পেয়েছে ১৩৩ ভোট। ওই কেন্দ্রে বিএনপি প্রার্থীর কোনো এজেন্ট উপস্থিত ছিল না।
কেন্দ্রের গণনা শেষে ফলাফল নির্ধারণ হওয়ার পর প্রিজাইডিং অফিসারের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি মন্তব্য না করেই দ্রুত বেরিয়ে যান। কেন্দ্রের নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের সঙ্গে আড়ালে কথা বলে জানা যায় ওই কেন্দ্রে ভোটে অনিয়ম হয়েছে। একই ব্যক্তি একাধিকবার ভোট দিয়েছেন এমন ঘটনাও ঘটেছে। অপ্রাপ্তবয়স্করাও ভোট দিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বলেন, “হুমকি দিয়েছে যে, কথা না শুনলে একজনও বাড়িতে ফিরতে পারবে না।” তার ভাষায় “এরে নির্বাচন কয় না।” ভোটশেষে ১০৫টি কেন্দ্রে ব্যাপক অনিয়ম ও ভোট কাটার অভিযোগ তুলে পুনঃনির্বাচন দাবি করেছেন বিএনপির প্রার্থী। আরো ৪৫টি কেন্দ্রে তদন্ত দাবি করা হয়েছে। ভোটের পরদিন সংবাদ সম্মেলনে নজরুল ইসলাম মঞ্জু চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেছেন ওসব কেন্দ্রে অধিকাংশ ভোটে সিল স্বাক্ষর পাওয়া যাবে না। এ ছাড়া মেয়রের ভোট এবং কাউন্সিলরদের ভোটের তারতম্য রয়েছে বলেও তার দাবি। মঞ্জু বলেন, “এ সরকারের অধীনে এবং এ নির্বাচন কমিশনের পক্ষে সুষ্ঠু জাতীয় নির্বাচন সম্ভব নয়।” অবশ্য ভোটের দিন সকালে মঞ্জুর বক্তব্য ছিল এ সরকারের অধীনে সুষ্ঠু ভোট সম্ভব নয় সেটিই তিনি খুলনার নির্বাচনের মধ্য দিয়ে প্রমাণ করতে চান। বিএনপির কর্মী-সমর্থকরা ভোটের দিন তেমন কোনো প্রতিরোধ গড়ে তোলেনি।
এদিকে খুলনার এ ভোট জাতীয় নির্বাচনেও প্রভাব ফেলবে বলে মনে করেন অনেকে। নির্বাচন কমিশনের জন্যও ছিল এটি একটি পরীক্ষা। আওয়ামী লীগের দাবি বিএনপির এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন, অপপ্রচার। তারা নির্বাচন এবং কমিশনকে বিতর্কিত করতে চায়। আর নির্বাচন কমিশনের পক্ষেও দাবি করা হয় বিচ্ছিন্ন দু’একটি ঘটনা ছাড়া খুলনার ভোট অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট হয়েছে। এবং কমিশন সন্তোষ জানাচ্ছে খুলনায় এরকম নির্বাচন আয়োজন করতে পেরে। ভোটের পর খুলনার অনেকেই নির্বাচন কমিশনের প্রতি তাদের আস্থা কমেছে বলেই জানিয়েছেন। সার্বিকভাবে খুলনার এ ভোট নিয়ে সন্তুষ্ট হতে পারেননি পর্যবেক্ষকরাও। নির্বাচনী কার্যক্রম দেখেছেন খুলনার শিক্ষাবিদ আনোয়ারুল কাদির। তিনি বলেন, “পুরনো খুলনার টুটপাড়া, ইকবালনগর, শিপইয়ার্ড এই বেল্টে বেশকিছু অনিয়ম আমাদের চোখে পড়েছে। শুধু আমাদের চোখে পড়ে না এটা কিছুকিছু জায়গায় একেবারে ওপেন হয়ে গিয়েছিল। আমাদের এখানকার নির্বাচনী রাজনীতিতে এই কাজটি চলছে। আমরা বারবারই চাইছিলাম যে এটি থেকে বের হয়ে আসতে। কিন্তু এই আশাটা আর পূরণ হলো না।”

ক্ষোভের মুখে সিকৃবির নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত: দিনভর উত্তেজনা, পুলিশ মোতায়েন

ইন্টারভিউ কার্ড ইস্যু না করায় সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভের মুখে স্থগিত করা হয়েছে নিয়োগ পরীক্ষা। বিক্ষোভকালে পুলিশ মোতায়েন, শিক্ষকদের আচরণ নিয়ে হতাশা ব্যক্ত করেন নিয়োগ  প্রত্যাশীরা। তারা বলেন, নিয়ম লঙ্ঘন করে পরীক্ষা গ্রহণের প্রস্তুতি কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অতীতে দেখা যায়নি। এর প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে নানা হুমকির মুখে পড়েন চাকরি প্রত্যাশীরা। এ কারণে গতকাল  দিনভর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে উত্তেজনা বিরাজ করে। পরে অবশ্য ভিসির নির্দেশে নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করা হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে।
চাকরি প্রত্যাশীরা জানিয়েছেন- সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে গত ৫ই এপ্রিল ১১টি প্রশাসনিক পদে ১১ জন কর্মকর্তা ও ১১ জন কর্মচারী নিয়োগের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়। এই বিজ্ঞপ্তির বিপরীতে গোটা দেশ থেকে প্রায় ৩০০ জন চাকরি প্রত্যাশী আবেদন করেন। নিয়ম অনুযায়ী তারা চাকরির আবেদনের পর ইন্টারভিউ কার্ড পাওয়ার কথা। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই নিয়োগ কমিটির পক্ষ থেকে কোনো ইন্টারভিউ কার্ড ইস্যু করা হয়নি।
তারা জানিয়েছেন, শুক্রবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অফিস থেকে ফোন করে জানানো হয় শনিবার তাদের পরীক্ষা। যারা পরীক্ষায় অংশ নেবেন তারা যেনো এসে অংশ নেয়। অথচ এর আগে ৩০০ জন থেকে বাছাই করে ৫০ জনের একটি শর্ট লিস্ট করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন। ওই শর্ট লিস্টে যাদের নাম রয়েছে তাদের কেবল মোবাইল ফোনে ইন্টারভিউয়ের কথা জানিয়ে দেয়া হয়। এদিকে- পরীক্ষার খবর শুক্রবার রাতে চাকরি প্রত্যাশীদের মধ্যে জানাজানি হলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। চাকরি প্রত্যাশীরা কোনো ইন্টারভিউ কার্ড না পাওয়ায় তারা বুঝতে পারেননি ইন্টারভিউয়ের জন্য তাদের ডাকা হয়েছে কী না?-এই বিভ্রান্তির মধ্যে গতকাল সকাল থেকে চাকরি প্রত্যাশী প্রার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারী ভবনের সামনে জড়ো হন। এ সময় তারা ইন্টারভিউ কার্ড প্রদানের জন্য স্লোগান দেন। এবং প্লেকার্ড ঝুলিয়ে দাবি জানান। এদিকে- বিক্ষুব্ধ চাকুরী প্রার্থীদের শান্ত করতে সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
পুলিশ মোতায়েনের পর আরো বেশি বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা প্রশাসনিক ভবনের তালা ঝুলিয়ে দেয়। শিক্ষার্থীরা জানায়- গোটা দেশ থেকে চাকরি প্রত্যাশীরা ইন্টারভিউয়ের জন্য সিলেটে এসেছেন। কিন্তু কার্ড না পাওয়ায় তারা ইন্টারভিউ দিতে পারছেন না। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর নাজিম উদ্দিন সেখানে গিয়ে বিক্ষুব্ধ চাকুরী প্রার্থীদের শান্ত করেন। কিন্তু ওই ফাকে গণতান্ত্রিক শিক্ষক পরিষদের এক নেতা গিয়ে চাকরি প্রত্যাশীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করলে ফের উত্তেজনা দেখা দিয়ে।
এই অবস্থায় দুপুরের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির সঙ্গে জরুরি ভিত্তিতে দেখা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর। ছিলেন রেজিস্ট্রারও। চাকরি প্রত্যাশীদের দাবি যৌক্তিকতা বিবেচনা করে ভিসি প্রফেসর ড. গোলাম শাহি আলমের নির্দেশে ওই নিয়োগপরীক্ষা স্থগিত করা হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এসে চাকরি প্রত্যাশীদের বিষয়টি অবগত করলে তারা আন্দোলন স্থগিত করেছে। আন্দোলনকারীদের নেতা সিকৃবি ছাত্রলীগের নেতা নিজাম উদ্দিন জানিয়েছেন- যাদের মাস্টাররোলে নিয়োগ দেয়া হয়েছে এই নিয়োগে তাদের বৈধতা দেয়ার সুযোগ নেই। ইউজিসির নিয়ম অনুযায়ী তাদের দুই বছর চাকুরী হতে হবে। কিন্তু ওদের চাকুরীর বয়স হয়েছে মাত্র ১ বছর। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বদরুল ইসলাম শোয়েব জানিয়েছেন- ভিসির নির্দেশে ওই নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। পরবর্তীতে নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হবে বলে জানান তিনি।

দেশে ফেরা সব নারী শ্রমিকের নির্যাতনের অভিযোগ সত্য নয়! by উদিসা ইসলাম

মানবন্দরে শুক্রবার বাবাকে জড়িয়ে ধরে
কাঁদছেন সৌদি আরব ফেরত এক নারী
শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের শিকার হয়ে কেবল সৌদি আরব থেকেই গত ৩ বছরে ফিরেছেন চার হাজারের বেশি নারী শ্রমিক। তারা বলছেন, সম্মানজনক কাজ দেওয়ার কথা বলে দেশটিতে নিয়ে গেলেও যাওয়ার পর থেকে তাদের আটকে রেখে মারধর ও যৌন নির্যাতন করা হয়। অকথ্য নির্যাতনে অনেকের হাত-পা ভেঙে গেছে।
অথচ বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব বলছেন, যারা ফিরছে তাদের পক্ষ থেকে করা শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ সবক্ষেত্রে সত্য নয়।
মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশি নারী শ্রমিকরা নিরাপদ নন–এমনটি সবক্ষেত্রে সঠিক নয় উল্লেখ করে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নমিতা হালদার বলেন, ‘আমরা যে নির্যাতনের অভিযোগগুলো পাই, সেগুলোর ভিত্তিতে সৌদি সরকারকে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে প্রশ্ন করায় তারা আমাদের জানিয়েছে, ৪৫ শতাংশ নারী চুক্তি ভেঙে দেশে ফেরে এবং সেটা ঘটে তিন মাসের ভেতরে। যারা ফিরছে তাদের পক্ষ থেকে করা শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ সবসময় সত্য নয়; আমি নিজে সেটি জানি।’ অনেক সময় নারীরা বিদেশে যাওয়ার তিন মাস না পেরোতেই ফিরে আসার জন্যও এমন অভিযোগ করে থাকেন বলে জেরায় বেরিয়ে এসেছে বলে জানান তিনি।
সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, তারা সরকারি-বেসরকারিভাবে যাওয়া শ্রমিকদের দায় নেবেন কিন্তু যে বিশালসংখ্যক নারী অবৈধভাবে যান, তাদের নিয়ে কর্তৃপক্ষ বেকায়দায় পড়ে যায়।
প্রবাসী শ্রমিক ও নারী অধিকার নিয়ে যারা কাজ করেন তারা বলছেন, ২০১৫ সালে শ্রমিক পাঠানোর জন্য যে চুক্তি হয়েছিল, তা বাস্তবায়ন সম্ভব না হওয়া এবং সরকারের দিক থেকে সতর্কতা অবলম্বন না করায় বিপুলসংখ্যক নারী ভাগ্য ফেরাতে মধ্যপ্রাচ্যে গিয়ে শূন্যহাতে ফিরে আসতে বাধ্য হচ্ছেন। আর দেশে ফেরা নারীরা বলছেন, এখনও শত শত নারী দেশে ফেরার পথ খুঁজছেন।
জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) দেওয়া তথ্যমতে, ২০১৭ সালে অভিবাসী নারীর সংখ্যা ছিল ১২ লাখ ১৯ হাজার ৯২৫ জন; যা মোট অভিবাসনের ১৩ শতাংশ। ১৯৯১ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত একা অভিবাসন প্রত্যাশী নারী শ্রমিকদের অভিবাসনে বাধা দেওয়া হলেও পরে ২০০৩ এবং ২০০৬ সালে তা কিছুটা শিথিল করা হয়। ২০০৪ সালের পর থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত নারী শ্রমিকের অভিবাসন হার ক্রমাগত বাড়তে থাকে। ২০১৫ সালে এ সংখ্যা দাঁড়ায় মোট অভিবাসনের ১৯ শতাংশে। কিন্তু ২০১৬ সালে অভিবাসী নারী শ্রমিকের সংখ্যা নেমে আসে ১৬ শতাংশে এবং ২০১৭ সালে ১৩ শতাংশে।
এর বাইরে কত নারী কী উপায়ে বিদেশ গেছেন সে পরিসংখ্যান নেই। প্রবাসী নারী শ্রমিকদের নিয়ে কাজ করে এমন সংগঠনের পর্যবেক্ষণ হচ্ছে, যথাযথ প্রশিক্ষণ না থাকা এবং এজেন্টদের ওপর মনিটরিং ব্যবস্থা না থাকার কারণে বিদেশে ঘটছে দুর্ঘটনা, মেয়েদের জীবন পড়ছে শঙ্কায়।
এ মাসে দেশে ফিরেছেন নির্যাতনের শিকার রুবিনা (ছদ্মনাম)। রিক্রুটিং এজেন্সি স্টামফোর্ড (আর.এল-১৩৫২) এর মাধ্যমে গত ২০ এপ্রিল সৌদি গিয়ে ২০ দিন গৃহকর্তার নির্যাতনের শিকার হয়েছেন রুবিনা। তার অভিযোগ, মোটা টাকার বিনিময়ে সৌদিতে তাকে বিক্রি করে দিয়েছিল ওই এজেন্সি।
এর আগে এ মাসের শুরুতে ব্র্যাক মাইগ্রেশন তথ্যকেন্দ্রে গিয়ে অভিযোগ জানান রুবিনার দুই মেয়ে। তারা বলেন, রিক্রুটিং এজেন্সি স্টামফোর্ডের মাধ্যমে গত ২০ এপ্রিল সৌদি আরব যান তাদের মা; এরপর থেকে কোনও যোগাযোগ নেই।
এরপর গত ১ মে ইন্টারনেট নম্বর থেকে এক বাংলাদেশি ফোন করে জানান, রুবিনা মারা গেছেন। একথা শোনার পরে রুবিনার দুই মেয়ে ওই এজেন্সির অফিসে যোগাযোগ করলে উল্টো তাদের হুমকি দেওয়া হয় এবং মায়ের সঙ্গে কথা বলিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে সারাদিন অফিসে বসিয়ে রাখা হয়।
জানা যায়, রুবিনার পাসপোর্ট তৈরি করেছিল ওই এজেন্সি। জাতীয় পরিচয়পত্রে তার জন্মসাল ১৯৭৫ হলেও পাসপোর্টে লেখা হয় ১৯৮২। কেবল রুবিনা নয়, গৃহকর্মী হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোয় পাঠানো নারী শ্রমিকদের প্রায় সবারই বয়স কমিয়ে দেখানো হয়।
নির্যাতনের শিকার হয়ে দেশে ফেরা নারীদের অভিযোগ–বিদেশে নিয়ে গিয়ে ‘বিক্রি’ করে দেওয়া, যে বাড়িতে কাজ দেওয়া হয় সেখানে যৌন নির্যাতনের শিকার হয়ে পালিয়ে যাওয়া, পুলিশের হাতে ধরা পড়ে সেই বাড়িতেই আবার ফেরার মতো ঘটনার শিকার হচ্ছেন শত শত নারী। প্রায় প্রতিদিনই নানা ক্ষত নিয়ে ফিরে আসছেন দেশে।
অভিবাসী মহিলা শ্রমিক অ্যাসোসিয়েশনের (বোমসা) পরিচালক সুমাইয়া ইসলাম বলেন, ‘গতকালই (শুক্রবার) হুট করে পাঁচজন ফিরেছেন, বিষয়টি এমন নয়। প্রতিদিনই অনেকে বাধ্য হচ্ছেন সর্বস্ব খুইয়ে দেশে ফিরতে। আজও আমাকে কল করে নূরজাহান নামের একজন জানালো, সে পালিয়ে রাস্তায় নেমেছে কিন্তু দূতাবাসটাও চেনে না, ওই দেশের ভাষাও ঠিকমতো জানে না। ফলে দূতাবাস তাকে কে চিনিয়ে দেবে, তাও জানে না। এভাবে বেশিক্ষণ থাকলে স্থানীয় পুলিশ তাকে আটক করে আবারও ওই নির্যাতনকারীদের হাতেই দিয়ে আসবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সরকারকে অবশ্যই বাংলাদেশি নারী শ্রমিকদের ওপর নির্যাতনের বিষয়টি জিরো টলারেন্স হিসেবে বিবেচনায় নিতে হবে। যদি সুরক্ষার ব্যবস্থা করতে না পারে তাহলে শ্রমিক পাঠানো বন্ধ করে দেওয়া উচিত। সৌদি মালিকরা যদি নিরাপত্তা, সুরক্ষা, মর্যাদা ও অধিকার–এ চারটি জিনিস না দিতে পারে তাহলে আমাদের মেয়েদের ওখানে পাঠানোর কোনও প্রয়োজন নেই।’
বাংলাদেশ সরকার ২০১৫ সালে যে চুক্তি করেছিল, সেটির ভিত্তিতে গতমাসে আবারও সমঝোতা প্রস্তুত করেছে উল্লেখ করে সুমাইয়া ইসলাম বলেন, ‘ওই ভায়োলেশনগুলো যেন না ঘটে সেটি বলা হয়েছে সেখানে। ২০১৫ সালের চুক্তি অনুযায়ী, পর্যালোচনা করে একটি সমঝোতা হয়েছে কিন্তু এটি বাস্তবায়ন হচ্ছে কিনা সেই মনিটরিং ব্যবস্থার জন্য কি কেউ আছে?’
ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের প্রধান শরিফুল হাসান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘প্রতিদিনই মেয়েরা ফিরে আসছে। একটু ভালো ভবিষ্যতের জন্য যারা নিজেদের শেষ সম্বলটুকু বিক্রি করে বিদেশ যায়, তারা এমনিতেই ফিরে আসবে–এটা বিশ্বাসযোগ্য নয়। ফেরার কারণ হিসেবে তারা যেমনটা বলছেন, তাদের শরীরে তেমনই ক্ষত আমরা দেখতে পাই। আমরা যেখানে আমাদের নিজেদের মেয়ে পাঠাব না, সেখানে আমরা কেন দেশের মেয়েদের পাঠানোর সাহস করি। বছরের পর বছর এই জিনিস চলে আসছে। এর শেষ হওয়া দরকার।’
তিনি আরও বলেন, ‘মেয়েদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টি আমাদের সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনায় নেওয়া উচিত।’

আল-আকসা মসজিদে লাখো ফিলিস্তিনি

রমজানের প্রথম শুক্রবারে জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদে প্রার্থনা করেছেন এক লাখের বেশি ফিলিস্তিনি। যাদের বেশির ভাগই পশ্চিম তীরের অধিবাসী। সাধারণত দখলকৃত এ অঞ্চলের ফিলিস্তিনিরা জেরুজালেমে প্রবেশাধিকার পায় না। কিন্তু পবিত্র রমজানের মাসের শুক্রবারগুলোতে কঠোর শর্তাবলীর মধ্য দিয়ে তাদেরকে মসজিদে প্রবেশাধিকার দেয়া হয়েছে। এ খবর দিয়েছে আল- জাজিরা। খবরে বলা হয়, পশ্চিম তীর থেকে জেরুজালেমে প্রবেশের প্রধান প্রবেশদ্বার কালান্দিয়া চেকপয়েন্ট দিয়ে প্রবেশকালে কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। তবে এ বছর চল্লিশোর্ধ্ব পুরুষ এবং সকল বয়সের নারীদেরকে পূর্বের বছরগুলোর ন্যায় কঠোর তল্লাশি চৌকিতে আটকে দেয়া হচ্ছে না। কিছু মা তাদের কিশোর ছেলেদের সঙ্গে নিয়ে এসেছেন এই আশায় যাতে তাদেরকে ছেড়ে দেয়া হয়। যেন তাদেরকে কঠোর তল্লাশির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়। চল্লিশ বছর বয়সী মুনিরা আবু নাসরা বলেন, আমি ভেবেছিলাম এই শুক্রবার বেশি মানুষ হয়তো জেরুজালেম যাবে না। তবে সীমান্ত পাড়ি দেয়া চলমান লোকের ভিড়ের দেখে আমি জেরুজালেম যাওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিই। যদিও মানুষ জানে না যে পরিস্থিতি এখন যথেষ্ট স্থিতিশীল কিনা। আর গত সপ্তাহের ঘটনার প্রেক্ষিতে তারা জেরুজালেম যাওয়ার ব্যাপারে এখনও ভীত-সন্ত্রস্ত। প্রসঙ্গত, গত সোমবার হাজারো ফিলিস্তিনি মার্কিন দূতাবাস জেরুজালেমে স্থানান্তরের প্রতিবাদে একত্রিত হন এবং সেই প্রতিবাদ মিছিলে ইসরাইলি সেনাদের হামলায় ৬২ ফিলিস্তিনি নিহত হন।

চট্টগ্রামে দুই কিশোরীকে ধর্ষণের পর হত্যা

সীতাকুণ্ড জঙ্গল মহাদেবপুর পাহাড়ের ত্রিপুরা পাড়ায় আদিবাসী দুই কিশোরীকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে মামলা হয়েছে। শনিবার নিহত কিশোরী ছবি রানী ত্রিপুরার (১৪) বাবা সুমন ত্রিপুরা বাদী হয়ে সীতাকুণ্ড থানায় মামলাটি দায়ের করেন। এতে স্থানীয় চৌধুরী পাড়ার ইসমাইল হোসেনের পুত্র আবুল হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় খবর পেয়ে পুলিশ সীতাকুণ্ড পৌরসভার জঙ্গল মহাদেবপুর পাহাড়ের ত্রিপুরাপাড়া থেকে ফলিন ত্রিপুরার মেয়ে সুখলতি ত্রিপুরা (১৫) ও সুমন ত্রিপুরার মেয়ে ছবি রানী ত্রিপুরার (১১) মরদেহ উদ্ধার করে। তারা দুজনেই বান্ধবী।
সীতাকুণ্ড থানার এএসআই মো. হানিফ বলেন, ত্রিপুরাপাড়ার আদিবাসী দুই কিশোরীকে ধর্ষণের পর পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগ এনে একটি মামলা হয়েছে। মামলায় আবুল হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে প্রধান আসামি করা হয়েছে।
সীতাকুণ্ড থানার ওসি (তদন্ত) মোজাম্মেল হক বলেন, শুক্রবার রাতে লাশ দুটি উদ্ধার করে থানায় আনা হয়। শনিবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে ময়নাতদন্ত রিপোর্টে ধর্ষণের আলামত পাওয়ার পর সুমন ত্রিপুরা মামলা দায়ের করেন।
মামলার বাদী সুমন ত্রিপুরার দাবি প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় চৌধুরীপাড়া এলাকার বখাটে আবুল হোসেন (২৪) ও তার সঙ্গীরা ধর্ষণের পর পরিকল্পিতভাবে দুই কিশোরীকে হত্যা করেছে। হত্যার ঘটনা ধামাচাপা দিতে বখাটেরা দুই কিশোরীর মুখে বিষ ঢেলে বসতঘরের একটি কক্ষে দুজনকে একসঙ্গে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রাখে।
নিহত সুখলতি ত্রিপুরার বাবা পুনেল কুমার ত্রিপুরা জানান, বিগত একমাস ধরে চৌধুরী পাড়ার ইসমাইল হোসেনের পুত্র আবুল হোসেন তার বখাটে সঙ্গীদের সঙ্গে নিয়ে ত্রিপুরা পল্লীতে গিয়ে সুখলতি ত্রিপুরাকে প্রেমের প্রস্তাব দেয়। এতে সুখলতি অসম্মতি জানালে বখাটে আবুল হোসেন ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। এক পর্যায়ে সপ্তাহখানেক আগে সুখলতিকে তার হাতে তুলে দিতে আমার ওপর চাপ প্রয়োগ করে।
এ নিয়ে প্রতিবাদ জানালে আবুল হোসেন আমার মেয়েকে অপহরণ ও হত্যার হুমকি দেয়। শুক্রবার আমাদের অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে আমার মেয়ে সুখলতি ও তার বান্ধবীকে হত্যার পর মুখে বিষ ঢেলে এবং পরবর্তীতে তাদের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে আত্মহত্যার নাটক সাজিয়েছে।
ত্রিপুরা পল্লীর বাসিন্দারা জানান, সকালে জুমচাষের জন্য কিশোরী সুখলতি ও ছবি রানীকে ঘরে রেখে তার বাবা, মা পাহাড়ে চলে যান। বিকালে নিজ ঘরে ফেরার পর পুনেল ত্রিপুরার বসতঘরের একটি কক্ষে দুই কিশোরীকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে আর্তচিৎকার করেন সুখলতির মা। এতে আশেপাশের প্রতিবেশীরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।
এ বিষয়ে সীতাকুণ্ড উপজেলা আদিবাসী ত্রিপুরা পরিষদের সাধারণ সমপাদক রবীন্দ্র ত্রিপুরা বলেন, এভাবে দুটি মেয়ে বিষপানে আত্মহত্যা কোনোভাবে সম্ভব নয়। গত কয়েকদিন ধরে সুখলতি ত্রিপুরাকে যেই ছেলে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল, সেই আজ পরিকল্পিতভাবে সুকলতি ও তার বান্ধবীকে হত্যা করে। আমরা এ বিষয়ে আইনের সহায়তা কামনা করছি।

ধানের দাম নিয়ে চিন্তিত কৃষক

শস্যভাণ্ডার খ্যাত চলনবিলের তাড়াশে পুরোদমে বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে এবং ভালো ফলন হওয়ায় কৃষকের চোখে মুখে হাসি ফুটলেও ধানের দাম কম হওয়ায় তা নিয়ে প্রান্তিক ও মধ্যবিত্ত কৃষক চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে চলনবিলের সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে ৩০ হাজার হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছে। এরই মধ্যে বিভিন্ন জাতের ব্রি আর, মিনিকেট, জিরা শাইল, ব্রি আর-২৮, ব্রি-আর নাটোর, ব্রি-আর-৭৬, বি আর কাজল লতা, বি আর মিনিকেট-২ প্রভৃতি জাতের ধান কাটা চলছে। স্থানীয় কুন্দাশন গ্রামের কৃষক মোজাফ্‌ফর হোসেন জানান, তাড়াশে বোরো ধান কাটছেন তাদের প্রতিবিঘা জমিতে প্রকারভেদে ২৫-২৮ মণ হারে ফলন হচ্ছে। এদিকে উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের ফসলি মাঠে বোরো ধানের ভালো ফলন হওয়ায় কৃষকের চোখে মুখে হাসি ফুটলেও ধানের দাম নিয়ে তারা চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। উপজেলার বিভিন্ন প্রসিদ্ধ ধানের হাট- গুল্টা, বিনসাড়া, নওগাঁসহ ১০ থেকে ১৫টি হাটে প্রচুর পরিমাণে নতুন বোরো ধান বিক্রি হচ্ছে। হাট ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে বি-আর মিনিকেট জাতের ধান (ভেজা) মণপ্রতি ৫৫০-৬০০ টাকা, (শুকনা) ৭০০-৭৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বি-আর ২৮ জাতের ধান মণপ্রতি (শুকনা) ৭০০-৭২০, সদ্য উঠা বি-আর ২৯ জাতের ধান ৬৫০-৭০০ (শুকনা) টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। নওগাঁ হাটে আসা পাবনার ধানের ব্যাপারি আব্দুর রাজ্জাক জানান, মাত্র ১ সপ্তাহের ব্যবধানে তাড়াশের হাট বাজারে প্রকারভেদে ধানের দাম প্রতিমণে ১৫০-২০০ টাকা কমে গেছে। এদিকে যেসব মধ্যবিত্ত ও প্রান্তিক কৃষক ধানের ওপর নির্ভরশীল তারা ধার দেনা করে বোরো আবাদ করেছিলেন ধানের দাম কমায় তারা চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। উপজেলার লালুয়ামাঝিড়া গ্রামের কৃষক ফরহাদ হোসেন বলেন, তার পরিবার মূলত ধানের ওপর নির্ভরশীল। বর্তমানে ধানের দাম যেভাবে কমছে তা অব্যাহত থাকলে তাদের উৎপাদন ব্যয় উঠবে না। তাড়াশ উপজেলার সরকারি খাদ্য গুদামে সরকারিভাবে ধান কেনা শুরু হয়নি।
ফলে যেসব কৃষক ঋণ করে বোরো আবাদ করেছিলেন তাদের ঋণের টাকা পরিশোধ ও সংসার চালাতে কম দামে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। এ কারণে দ্রুততম সময়ে সরকারি খাদ্য গুদামগুলোতে প্রকৃত কৃষকদের কাছ হতে ধান কেনার দাবি জানিয়েছেন এলাকার কৃষকরা। এ প্রসঙ্গে তাড়াশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাইফুল ইসলাম জানান, তাড়াশে বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। বর্তমান হাট বাজারে ধানের দাম ওঠা নামা করছে। সরকারিভাবে ধান ক্রয় শুরু হলে কৃষক লাভবান হবেন।

পথচারী ও শিক্ষার্থীদের মরণ ফাঁদ

শ্রীমঙ্গলে দি বাডস রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে কয়েকটি সিমেন্টের বৈদ্যুতিক খুঁটি খুব হালকাভাবে মাটিতে পুঁতে রাখা হয়েছে। অথচ এই খুঁটির নিচ দিয়ে প্রতিদিন হাজারো শিক্ষার্থীসহ পথচারী যাতায়াত করছে। প্রচণ্ড ঝড়-তুফানে যেকোনো সময় এই খুঁটি পড়ে মারাত্মক দুর্ঘটনার ঝুঁকি রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ঝড়-তুফানে যেকোনো সময় মাটিতে পড়ে বা সচল বৈদ্যুতিক লাইনের তারের উপর পড়ে পথচারী বা শিক্ষার্থীদের দুর্ঘটনায় পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
কলেজ রোডের বাসিন্দা তারিক হাসান বলেন, শ্রীমঙ্গলের বড় বড় সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আমাদের কলেজ রোডে। প্রতিদিন বাডস, ভিক্টোরিয়া, উদয়ন, সরকারি কলেজের হাজার হাজার শিক্ষার্থী এই রাস্তা দিয়েই আসা যাওয়া করে। কিন্তু চরম ভীতিপ্রদ বিষয় হচ্ছে এই রাস্তাতেই মরণ ফাঁদ পেতে রেখেছে মৌলভীবাজার পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি। তিনি আশঙ্কা ব্যক্ত করে বলেন- প্রবল ঝড়-বৃষ্টির এই মৌসুমে হাজার হাজার কেজির একেকটি পিলার গেড়ে রেখেছে কাত করে, তাও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর একেবারে সামনে। ক’দিন আগেই হবিগঞ্জ রোডে ঢাকা সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের উত্তর উত্তসূর এলাকার বিসিক শিল্পনগরীর সামনেই হালকা বৃষ্টিপাতে প্রায় ৮টি পিলার তারসহ মাটিতে লুটিয়ে পড়তে দেখেছি। যেকোনো সময় এখানে এক মহাবিপর্যয় দেখা দিলে এর দায়ভার কে গ্রহণ করবে বলে প্রশ্ন তুলেন তিনি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মৌলভীবাজার পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) প্রকৌশলী শিবু লাল বসু বলেন, ‘পুরানা খুঁটিগুলো যেগুলো অনেকদিন ধরে ব্যবহারের কারণে দুর্বল হয়ে গেছে। সেগুলোর খুঁটি পরিবর্তন করছি। তিনি বলেন, ‘এই কাজগুলো প্রকল্প বিভাগের মাধ্যমে করে থাকে। তবুও বিপদজনক হলে লোক পাঠিয়ে ঠিক করে ফেলব। এ বিষয়টি আমার নলেজে নেই। আমি খোঁজ নিয়ে দেখছি’।