Wednesday, August 23, 2017

ভারতের ভূখণ্ডে আমরা ঢুকলে ‘চরম বিশৃঙ্খলা’ হবে: চীন

চীন হুশিয়ারি দিয়ে বলেছে, তাদের সৈন্যরা যদি ভারতের সীমান্তে ঢুকে পড়ে তাহলে একটা ‘চরম বিশৃঙ্খলা’ তৈরি হবে। মঙ্গলবার এ বার্তা দিয়ে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ভারত-চীন-ভুটান সীমান্তে দোকালাম এলাকায় চীনের রাস্তা তৈরি করার ব্যাপারটি তাদের (ভারত) জন্য হুমকি তৈরি করেছে বলে যুক্তি দেখাচ্ছে নয়াদিল্লি। তবে তাদের এ দাবি হাস্যকর বলে মনে করছে চীন। চীন আরও বলেছে, কোনো ব্যক্তি বা দেশকে তাদের আঞ্চলিক সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করতে দেবে না তারা। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হুয়া ছুন ইং বলেন, চীনের রাস্তা নির্মাণের ঘটনার অজুহাতে ভারত অন্যায়ভাবে সীমান্ত অতিক্রম করেছে। তাদের দেখানো কারণটি হাস্যকর এবং প্রকৃত উদ্দেশ্যও পরিষ্কার। তিনি আরও বলেন, আপনারা ব্যাপারটি নিয়ে চিন্তাভাবনা করতে পারেন। আর যদি আমরা ভারতের হাস্যকর যুক্তি সহ্য করি তাহলে কোনো কাজ অপছন্দ হলেই যে কেউ তাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্রের ভূখণ্ডে ঢোকার সাহস পাবে। সাম্প্রতিক এ বিষয়টিকে যদি চীন হুমকি মনে করে, তাহলে কি দেশটি ভারতের ভূখণ্ডে প্রবেশ করবে? আর যদি সত্যিই প্রবেশ করে তাহলে কি বড় বিশৃঙ্খলা হবে না- প্রশ্ন তোলেন চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র। খবর দি ইকোনমিক টাইমস, সিআরআই অনলাইন ও এনডিটিভির। ভারত আগ্রাসী নয় এবং সীমান্ত বৃদ্ধিতেও তারা উচ্চাকাক্সক্ষী নয়- ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের এমন মন্তব্যের জেরে হুয়া ছুন জানান, চীন শান্তিকে ভালোবাসে এবং দৃঢ়ভাবে শান্তি বজায় রাখে। এ সময় তিনি সংকট নিরসনে দোকালাম থেকে সৈন্য সরিয়ে নিতে ভারতের প্রতি আহ্বান জানান। সম্প্রতি চীন-ভারত সীমান্তে দু’পক্ষের অপ্রীতিকর ঘটনার নিশ্চিত তথ্য পেয়েছে বলেও জানিয়েছে বেইজিং। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ছুন ইং বেইজিংয়ে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, ১৫ আগস্ট চীনের সীমান্তরক্ষী চীন-ভারত সীমান্তের পশ্চিমাঞ্চলের বেন গং অঞ্চলের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা চীনের অংশে নিয়মিত টহলের সময় ভারতের সীমান্তরক্ষীদের আক্রমণের শিকার হয়। এতে চীনা সীমান্তরক্ষী আহত হন। হুয়া উল্লেখ করেন, ভারতের এ আচরণ সীমান্ত এলাকায় শান্তি বজায় রাখার বিষয়ে মতৈক্যের ক্ষতি ঘটিয়েছে। এতে এ দুটি দেশের মধ্যকার সীমান্তের পশ্চিমাঞ্চলের পরিস্থিতি উত্তেজনাসংকুল হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, ভারতের আচরণে চীন প্রবলভাবে অসন্তুষ্ট। এ ব্যাপারে ভারতকে কঠোর মনোভাবের কথা জানিয়ে দিয়েছে তার দেশ। ভারতকে ১৯৫৯ সালে প্রণীত বাস্তব নিয়ন্ত্রণ রেখা এবং দু’দেশের সংশ্লিষ্ট চুক্তি মেনে চলার তাগিদও দিয়েছে তারা। দোকালাম চীনে দংলাং নামে পরিচিত। চীনের ওই কাজের বিরোধিতা করে ভুটান। আর ভারত তাতে সমর্থন দেয়ায় উত্তেজনা শুরু হয়। এ রাস্তাটি যদি তৈরি হয়, তাহলে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর সঙ্গে একটা যোগযোগ স্থাপনের উপায় হবে চীনের। মূল ভূখণ্ড থেকে মাত্র ২০ কিলোমিটার দূরে এ রাস্তা হওয়ায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে ভারত। এ সড়ক কৌশলগতভাবে ভারতকে কিছুটা অরক্ষিত করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

এমপি রানাকে আদালতে হাজিরের নির্দেশ

আওয়ামী লীগ নেতা মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলায় এমপি আমানুর রহমান খান রানাকে পরবর্তী তারিখে বিচারিক আদালতে হাজিরের নির্দেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগ। একইসঙ্গে হাইকোর্টের দেয়া জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনের শুনানি ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে (স্ট্যান্ড ওভার)। এর ফলে চেম্বার আদালতের দেয়া জামিনের স্থগিতাদেশের মেয়াদ আরো বাড়লো। ওইদিন পর্যন্ত এমপি রানা কোনো জামিন পাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী রোকন উদ্দিন মাহমুদ। মামলার তারিখে বিচারিক আদালতে আমানুরকে হাজির করা হয় না জানিয়ে এ বিষয়ে নির্দেশনা চেয়ে করা অ্যাটর্নি জেনারেলের আরজির পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আপিল বিভাগ এই আদেশ দেন। এর আগে জামিন বিষয়ে আদেশ সংশোধন চেয়ে আবেদন তুলে ধরে আমানুরের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন আইনজীবী রোকন উদ্দিন মাহমুদ। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মুস্তাফিজুর রহমান খান। গত ১৩ এপ্রিল এমপি রানাকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে কেন তাকে স্থায়ী জামিন দেয়া হবে না এই মর্মে রুলও জারি করেন আদালত। বিচারপতি মো. মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরী ও বিচারপতি এএনএম বসির উল্লাহর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। হাইকোর্টের এই জামিন আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করেন রাষ্ট্রপক্ষ। পরে ৮ মে এমপির রানার জামিন চার মাসের জন্য স্থগিত করেন আপিল বিভাগ। একইসঙ্গে এই মামলা ৬ মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে নিম্ন আদালতকে নির্দেশ দেয়া হয়। এর আগে গত ৩০ মার্চ এমপি রানার জামিন প্রশ্নে জারি করা রুল খারিজ করে দেন হাইকোর্ট। পরে আবারও হাইকোর্টে জামিন আবেদন করা হয়। আওয়ামী লীগের টাঙ্গাইল জেলা কমিটির সদস্য ফারুক আহমেদকে ২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আমানুর গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারক। বর্তমানে তিনি কাশিমপুর কারাগারে রয়েছেন।

সাগর-রুনি হত্যা মামলার প্রতিবেদন ফের পেছাল

সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ আবারো পেছানো হয়েছে। চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলার প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৮ অক্টোবর পরবর্তী দিন ধার্য করেছেন আদালত। বুধবার ঢাকা মহানগর হাকিম মাজহারুল হক নতুন এ দিন ধার্য করেন। আজ এ মামলার প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। কিন্তু র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) বরাবরের মতো প্রতিবেদন দাখিল না করে সময় আবেদন করে। আদালত সময় আবেদন মঞ্জুর করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য এ দিন নির্ধারণ করলেন। সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যা মামলার প্রতিবেদন দাখিলে এ নিয়ে ৫০ বারের মতো সময় পেছানো হলো। ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সারোয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি দম্পতি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের বাসায় খুন হন। এ ঘটনায় রুনির ভাই নওশের আলম রোমান শেরেবাংলা নগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। প্রথমে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন ওই থানার এক উপপরিদর্শক (এসআই)। চারদিন পর চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলার তদন্তভার ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়। দুই মাসেরও বেশি সময় তদন্ত করে ডিবি রহস্য উদঘাটনে ব্যর্থ হয়। পরে হাইকোর্টের নির্দেশে হত্যা মামলাটির তদন্তভার র‌্যাবের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

সৌদি এয়ারলাইন্সের হজ টিকিট বাণিজ্য

রিপ্লেসমেন্ট বন্ধ রেখে হাতেগোনা কয়েকটি এজেন্সির কাছে হজে যাওয়ার বিমান টিকিট দিয়ে সিন্ডিকেট ব্যবসার সুযোগ করে দেয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে সৌদি এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। সূত্রমতে, চলতি বছর সৌদি এয়ারলাইন্স তাদের ৬৫ হাজার টিকিটের মধ্যে প্রায় ২৫ হাজারই শানসাইন এক্সপ্রেসকে, আল গাজী ট্রাভেলসকে ১০ হাজার ও কাজী এয়ারকে ৮ হাজার টিকিট দিয়েছে। বাকি ২২ হাজার ২৭টি এজেন্সিকে দেয়া হয়েছে। এতে ওই তিনটি এজেন্সি টিকিটপ্রতি ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা বাড়তি দামে বিক্রি করেছে। সে হিসাবে প্রায় ৪০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এ সিন্ডিকেট। এদিকে যাত্রী সংকটের কারণে এখন পর্যন্ত ২৮টি হজ ফ্লাইট বাতিল করেছে বিমান বাংলাদেশ ও সাউদিয়া এয়ারলাইন্স। এর মধ্যে বিমানের ২৪টি ও সাউদিয়ার ৪টি। এজেন্সি মালিকদের সংগঠন হজ এজেন্সি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) নেতারা বলছেন, ফ্লাইট বিপর্যয়ের নেপথ্যে টিকিট সিন্ডিকেটের কারসাজি রয়েছে। এ কারসাজির কারণেই বিমানের হজ ফ্লাইটগুলো বাতিল হয়েছে। এতে শুধু বিমানেরই প্রায় ৬০ কোটি টাকা গচ্চা গেছে। তবে এ নিয়ে পরিচয় প্রকাশ করে হাবের কোনো নেতা কথা বলতে রাজি হননি। এ বিষয়ে হাবের একজন শীর্ষ নেতা যুগান্তরকে বলেন, এবার বিপুলসংখ্যক হজ ফ্লাইট বাতিলের মূল কারণ টিকিট সিন্ডিকেট। এ কারণেই ফ্লাইট বিপর্যয়। এ সিন্ডিকেট কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিলেও তাদের বিরুদ্ধে বিমান মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টরা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। জানা গেছে, চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে মোট ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জনকে পবিত্র হজ পালনের অনুমতি দিয়েছে সৌদি সরকার। প্রচলিত নিয়মানুসারে মোট হজযাত্রীর শতকরা ৫০ ভাগ রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এবং অবশিষ্ট যাত্রী সৌদি এয়ারলাইন্স পরিবহন করবে। বাংলাদেশে শত শত ট্রাভেল এজেন্সি হজ কার্যক্রমে জড়িত থাকলেও সম্প্রতি সৌদি এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ মাত্র ৩০টি এজেন্সিকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রায় ৬৫ হাজার টিকিট বিক্রির অনুমতি দিয়েছে। মূলত বছরব্যাপী ওমরাহ, লেবার ও ভিজিট ভিসার যাত্রীদের কাছে টিকিট বিক্রির অনুপাতে হজের আগে প্রধান ৩০টি এজেন্সির তালিকা করে সৌদি এয়ারলাইন্স। অর্থাৎ কোনো এজেন্সি যদি সারা বছর মোট এক কোটি টাকার টিকিট বিক্রি করে তাহলে সে হজের ২০ শতাংশ টিকিট বিক্রির জন্য পাবে। যদিও এ ব্যাপারে অন্ধকারে থেকে যায় এজেন্সি মালিকরা। কারণ তারা জানে না কোন কোন এজেন্সি ওই তালিকায় স্থান পায়। এ বছরও একই অবস্থা। অভিযোগ উঠেছে, চলতি বছর সৌদি এয়ারলাইন্স তাদের ৬৫ হাজার টিকিটের মধ্যে প্রায় ২৫ হাজারই শানসাইন এক্সপ্রেস, আল গাজী ট্রাভেলসকে ১০ হাজার ও কাজী এয়ারকে ৮ হাজার টিকিট দিয়েছে। বাকি ২২ হাজার টিকিট ২৭টি এজেন্সিকে দিয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়া আগে বুকিং দেয়া টিকিট রিপ্লেসমেন্ট (প্রতিস্থাপন) করতে চাইলে ৩শ’ ডলার জরিমানা দিতে হয়। গত ১৮ আগস্ট সৌদি এয়ারলাইন্স সংশ্লিষ্ট এজেন্সি মালিকদের কাছে একটি ই-মেইল বার্তা পাঠিয়ে রিপ্লেসমেন্ট বন্ধের ঘোষণা দেয়। কিন্তু তাদের পছন্দের দু’তিনটি এজেন্সিকে অনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে গোপনে রিপ্লেসমেন্টের সুবিধা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে সৌদি এয়ারের কান্ট্রি ম্যানেজার রিয়াদ আল হোতাইফ, স্টেশন ম্যানেজার মোহাম্মদ সালেহ এবং সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং ম্যানেজার ওমর খৈয়ামের সহযোগিতায় শানসাইন এক্সপ্রেসের মিজানুর রহমান, আল গাজী ট্রাভেলসের হাসান মোহাম্মদ রাতারাতি বাতিল হওয়া টিকিটগুলোর রিপ্লেসমেন্ট সুবিধা আদায় করেছে। এখন শেষ মুহূর্তের টিকিট-স্বল্পতার সুযোগে টিকিটপ্রতি ৮-১০ হাজার টাকা বেশি নিয়ে বিক্রি করার অভিযোগ করেছেন অনেক এজেন্সি। এ বছর প্রতিটি এজেন্সি গড়ে ২-৩ হাজার করে টিকিট বিক্রির সুযোগ পেলেও শানসাইন এক্সপ্রেস ইতিমধ্যে একাই ১৮ হাজার টিকিট বিক্রি করেছে। রিপ্লেসমেন্টের সুযোগ নিয়ে আরও কয়েক হাজার টিকিট হাতিয়ে নিয়েছে বলে জানা গেছে। সৌদি এয়ারের কান্ট্রি ম্যানেজার হোতাইফ এখন সৌদি আরবে থাকায় যোগাযোগ সম্ভব হয়নি। স্টেশন ম্যানেজার সালেহ ব্যস্ততার দোহাই দিয়ে কথা বলতে রাজি হননি। সেলস ম্যানেজার ওমর খৈয়ামকে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। প্রতিবেদকের পরিচয় জানিয়ে এসএমএস পাঠানো হলেও তিনি সাড়া দেননি। এদিকে হজযাত্রীদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে ভিসা না করিয়ে প্রতারণার অভিযোগে মঙ্গলবার হজ অফিস ৩টি হজ এজেন্সির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ তিনটি এজেন্সি হল- ইউরেশিয়া ট্রাভেল, নিবির ট্রাভেল অ্যান্ড টুর এবং ইকো হজ এজেন্সি। অভিযোগ রয়েছে, এ তিনটি হজ এজেন্সি হজযাত্রীদের কাছ থেকে ৪০-৫০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছে। এ কারণে ২-৩শ’ হজযাত্রী টাকা দিয়েও হজে যেতে পারছেন না। হজ অফিসার সাইফুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, এ তিনটি এজেন্সির অ্যাকাউন্টধারী ব্যাংকগুলোকে আজ চিঠি দিয়ে সতর্ক করে দেয়া হবে, যাতে টাকা উঠাতে না পারে। এদিকে ভিসা হওয়ার পরও ৩১ হাজার ৭৮৩ জন হজযাত্রী জেদ্দা যেতে পারেননি। ২৭ আগস্ট শেষ হচ্ছে হজ ফ্লাইট। হজ অফিস বলছে, সৌদি আরব কর্তৃপক্ষ যদি হজ ফ্লাইটের সময়সীমা না বাড়ায় তাহলে কমপক্ষে ৪ হাজার হজযাত্রীর হজে যেতে সমস্যা হবে। মঙ্গলবার পর্যন্ত বিমান ও সাউদিয়া এয়ারলাইন্স ৯৪ হাজার ৪১০ জন হজযাত্রী সৌদি আরব নিয়ে গেছে। এর মধ্যে বিমান ৪৬ হাজার ১৭০ জন আর সাউদিয়া এয়ারলাইন্স ৪৮ হাজার ২৪০ জন পরিবহন করেছে। বিমান বলছে, তারা যদি অতিরিক্ত স্লট পায় তারপরও এয়ারক্রাফটের অভাবে ২ হাজারের মতো হজযাত্রী পরিবহন করতে পারবে না। এদিকে থার্ড ক্যারিয়ার দিয়ে অতিরিক্ত হজযাত্রী পরিবহনের সিদ্ধান্ত হলেও এখন পর্যন্ত এরকম কোনো এয়ারলাইন্স জোগাড় করতে পারেনি বিমান। জানা গেছে, এ মুহূর্তে কোনো এয়ারলাইন্সেরই অতিরিক্ত এয়ারক্রাফট নেই। খোদ সাউদিয়া এয়ারলাইন্সকেও এবার ২ হাজারের মতো হজযাত্রী পরিবহনে হিমশিম খেতে হবে।

প্রধান বিচারপতিকে পদত্যাগের আহ্বান

২৪ আগস্টের মধ্যে পদত্যাগ অন্যথায় অক্টোবর থেকে একদফা আন্দোলন বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের * বিচার বিভাগ নিয়ে মন্তব্য করায় প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের আগামী ২৪ আগস্টের মধ্যে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাকে পদত্যাগের আলটিমেটাম দিয়েছেন বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের নেতারা। এই সময়ের মধ্যে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ে দেয়া পর্যবেক্ষণ ও রায় প্রত্যাহারেরও আহ্বান জানান তারা। অন্যথায় অক্টোবর থেকে একদফা আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে আওয়ামীপন্থী আইনজীবীদের এই শীর্ষ সংগঠন। এর আগে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে সুপ্রিম কোর্টের দেয়া রায় ২৪ আগস্টের মধ্যে বাতিলের দাবি জানিয়েছিল সংগঠনটি। অপর দিকে প্রধান বিচারপতি এবং বিচার বিভাগ সম্পর্কে মন্তব্য করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগ দাবি করেছেন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের নেতারা। মঙ্গলবার দুপুরে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনের সামনে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ মানববন্ধন এবং সমিতি ভবনের উত্তর হলে প্রতিবাদ সভা করে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম। সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে দেয়া রায়ের অপ্রাসঙ্গিক ও অসাংবিধানিক বক্তব্যে সংক্ষুব্ধ আইনজীবীদের ব্যানারে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ এ মানববন্ধনের আয়োজন করে। মানববন্ধনে প্রধান বিচারপতির অপসারণ দাবি করে নানা স্লোগান দেন আইনজীবীরা। মানববন্ধনে পরিষদের সদস্য সচিব ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস বলেন, ‘গত পরশু প্রধান বিচারপতি এজলাসে বসা অবস্থায় প্রধানমন্ত্রীকে চোখ রাঙানির মাধ্যমে বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি তার বক্তব্যে বলেছেন, পাকিস্তানের মতো প্রধানমন্ত্রীকে নাকি তিনি পদ থেকে সরিয়ে দিতে পারেন। এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি (প্রধান বিচারপতি) তার শপথ ভঙ্গ করেছেন। প্রধান বিচারপতির এজলাসে বসে প্রধানমন্ত্রীকে এ রকম হুমকি দেয়া নজিরবিহীন উল্লেখ করে ব্যারিস্টার তাপস বলেন, ‘এটা শপথ ভঙ্গের শামিল। সুতরাং আগামী ২৪ তারিখের মধ্যে এই রায়ের প্রাসঙ্গিক, অগণতান্ত্রিক, অসাংবিধানিক বক্তব্য প্রত্যাহারসহ সম্পূর্ণ রায় বাতিলপূর্বক তার পদত্যাগ দাবি করছি। অন্যথায় আগামী অক্টোবর থেকে একদফা আন্দোলনের মাধ্যমে তাকে অপসারণ করার আন্দোলনের কর্মসূচি দিতে আমরা বাধ্য হব।’ তিনি বলেন, ‘ষোড়শ সংশোধনীর রায়ে প্রধান বিচারপতি অপ্রাসঙ্গিক, অসাংবিধানিকভাবে যে মন্তব্য করেছেন এ মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি আমাদের পবিত্র ধর্ম ইসলামকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করেছেন। তিনি আমাদের স্বাধীনতার স্থপতি যার নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলার চেষ্টা করেছেন। সংসদকে হেয় করেছেন। তিনি মহিলা সংসদ সদস্যের বিষয়ে কটূক্তি করে নারীদের হেয় করেছেন। তাদের হেয় করে গোটা নারী সমাজকে হেয় করেছেন।’ তাপস বলেন, ‘প্রধান বিচারপতি তার রায়ে উল্লেখ করেছেন তিনি নাকি কারও সার্ভেন্ট নন। তিনি প্রজাতন্ত্রের কোনো কর্মকর্তা নন। তিনি হলেন নিজেই মাস্টার। আমরা তার নিন্দা জানাই।’ সংগঠনের আহ্বায়ক সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ইউসুফ হোসেন হুমায়ন বলেন, ‘প্রাসঙ্গিক নয়, অথচ ওপেন কোর্টে অ্যাটর্নি জেনারেলকে উদ্দেশ করে তিনি বললেন কী হয়েছে পাকিস্তানে দেখেছেন? সুপ্রিম কোর্ট কী পারে।’ তিনি বলেন, ‘আমি একটি কথা বলতে চাই, বাংলাদেশ ইজ নট পাকিস্তান, এটা মনে রাখতে হবে। এ বাংলাদেশ রক্তের মাধ্যমে অর্জিত বাংলাদেশ। এই বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ। এটা অসম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ, বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ। কাজেই ওই সব কথা বলে পার পাবেন না।’ সুপ্রিমকোর্টের সিনিয়র এই আইনজীবী আরও বলেন, ‘আগামী ২৪ আগস্ট আমরা এ দাবিতে আবার মিলিত হব।
আমরা এর আগে বলেছিলাম ২৪ তারিখের মধ্যে আপনার অপ্রাসঙ্গিক বক্তব্য প্রত্যাহার করবেন।’ মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের আইন সম্পাদক শ ম রেজাউল করিম, সুপ্রিমকোর্ট বারের সাবেক সম্পাদক নুরুল ইসলাম সুজন এমপি, সাবেক বিচারপতি মুনসুরুল হক চৌধুরী, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন, অ্যাডভোকেট লায়েকুজ্জামান মোল্লা, সাবেক সম্পাদক মমতাজ উদ্দিন আহমেদ মেহেদী, সানজিদা খানম এমপি, আওয়ামীপন্থী আইনজীবী নেতা আজহার উল্লাহ ভুইয়া, রবিউল আলম বুদু প্রমুখ। এদিকে সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনে সমিতি ভবনের উত্তর হলে প্রতিবাদ সভা করেন বিএনপি সমর্থক আইনজীবীরা। জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের ব্যানারে সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন সমিতির সম্পাদক ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের মহাসচিব মাহবুবউদ্দিন খোকন, অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া, আবেদ রাজা, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, গাজী কামরুল ইসলাম সজল প্রমুখ। প্রতিবাদ সভায় অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন বলেন, প্রধানমন্ত্রী প্রধান বিচারপতিকে পদত্যাগ করতে বলেছেন। বিচার বিভাগ নিয়ে মন্তব্য করার কারণে আপনি নেজিই পদত্যাগ করুন। তিনি বলেন, প্রধান বিচারপতি একা এই রায় দেননি। আপিল বিভাগের সব বিচারপতি একমত হয়ে এ রায় দিয়েছেন। প্রধান বিচারপতিকে বলব, সরকারের কিছু ব্যক্তি ছাড়া ১৬ কোটি মানুষ আপনার সঙ্গে আছে। তিনি বলেন, সাবেক প্রধান বিচারপতি ও আইন কমিশনের চেয়ারম্যান খায়রুল হক রায় নিয়ে যে মন্তব্য করেছেন তা বিচার বিভাগকে হেয় করেছে। তিনি বিচার বিভাগকে বিতর্কিত করেছেন। এ পদে থাকার কোনো অধিকার তার নেই। তার পদত্যাগ করা উচিত।

মিরপুরে তরুণকে ডেকে এনে কুপিয়ে হত্যা

রাজধানীর মিরপুরের উত্তর পীরেরবাগে মঙ্গলবার এক তরুণকে হত্যা করা হয়েছে। কবির হোসেন (২১) নামের ওই তরুণ পেশায় গার্মেন্ট কর্মী। সকালে মোবাইল ফোনে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে শরীরে বিভিন্ন অংশে একের পর এক ছুরিকাঘাত করে ও পিটিয়ে তাকে হত্যা করা হয়। সেই দৃশ্য ধরা পড়ে এক বাড়ির ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরায়। ভিডিও ফুটেজে তিন তরুণকে এ অপকর্মে দেখা গেছে। স্থানীয় সূত্র বলছে, ওই তিন তরুণ হলেন- বাপ্পী, মুন্না ও রাজু। বাপ্পী ও মুন্না দুই ভাই। দু’দিন আগে কবিরের নেতৃত্বে বাপ্পী ও তার বাবা ফজলুল হকের ওপর হামলা হয়েছিল। এরপর বাপ্পীকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রতিশোধ নিতে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে আসে বাপ্পী। এরপর পরিকল্পিতভাবে কবিরকে খুন করা হয়। তিন মিনিটে শেষ হয় কিলিং মিশন। স্থানীয় সূত্র বলছে, সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ্বে চার মাস ধরে উত্তর পীরেরবাগে তরুণদের দুটি গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। এর জের ধরে মাঝেমধ্যেই দুই গ্রুপের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। ধীরে ধীরে দুটি গ্রুপের দ্বন্দ্ব চরমে পৌঁছে। এর জেরেই কবিরের নেতৃত্বে বাপ্পী ও তার বাবার ওপর হামলা হয়। কবিরকে হত্যার পর বাপ্পী-মুন্নার বাবা ফজলুল হককে আটক করেছে পুলিশ। তিনি একজন ব্যবসায়ী। তাকে থানায় আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় কোনো মামলা হয়নি। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে উত্তর পীরেরবাগের ৩৬৩/৮/১ নম্বর বাসার সামনে। ওই বাড়ির সামনের দিকের একটি সিসি ক্যামেরায় খুনের দৃশ্যটি ধরা পড়েছে। ওই বাড়ির মালিক অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা নজমুল নেওয়াজ। তিনি যুগান্তরকে বলেন, ঘটনাটি ঘটেছে সকালে। আমরা কোনো কিছু টের পাইনি। সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে, এক তরুণের ওপর তিন তরুণ হামলা চালাচ্ছে। একজন লাঠি দিয়ে পেটাচ্ছে আর অন্য দু’জন ছুরিকাঘাত করছে। পরে তারা পালিয়ে যায়। তবে আমি তাদের কাউকে চিনি না। পুলিশের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে ৬টা ৯ মিনিট থেকে ৬টা ১২ মিনিট পর্যন্ত কবিরের ওপর হামলা চলে। ছুরি দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন অংশে একের পর এক জখম করা হয়। এরপর হামলাকারী তিন তরুণ পালিয়ে যায়। কবিরের বড় ভাই মাইনুদ্দিন যুগান্তরকে বলেন, আকাশ নামে স্থানীয় এক তরুণ মোবাইল ফোনে কবিরকে ডেকে নিয়ে আসে। কিছুক্ষণ পর খবর পাই কবিরের ওপর হামলা হয়েছে। দৌড়ে গিয়ে দেখি, রাস্তায় কবির পড়ে আছে। তখনও সে বেঁচে ছিল। জিজ্ঞাসা করি, তোর এই অবস্থা করেছে কে। ওই সময় কবির জানায়, বাপ্পী, মুন্না, রাজু, সোহেল ও আকাশ তার ওপর হামলা করেছে। সে আর কিছু বলতে পারেনি। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
মিরপুর থানার ওসি নজরুল ইসলাম মঙ্গলবার দুপুরে যুগান্তরকে বলেন, এখানে সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ্ব আছে এমন ঘটনা আমাদের জানা নেই। বাপ্পী ও তার বাবার ওপর দু’দিন আগে কবিরের নেতৃত্বে হামলা হয়েছিল। ওই হামলার প্রতিশোধ নিতেই কবিরকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এর পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে কিনা তা অনুসন্ধান করে দেখা হচ্ছে। পরিবার জানায়, কবিরের গ্রামের বাড়ি ভোলা সদরে। তার বাবা মো. হানিফ পেশায় কৃষক। চার ভাই ও দুই বোনের মধ্যে সে তৃতীয়। কবিরের বাবা ভোলাতেই থাকেন। পরিবারের অন্যরা উত্তর পীরেরবাগের ৩৬৮ নম্বর বাসায় ভাড়া থাকেন। যে কারণে খুন : স্থানীয়রা জানান, কবির ও তার বন্ধুরা এক সময় মুন্নার সহযোগী ছিল। মুন্না এলাকার স্থানীয় হওয়ার কারণে অন্যদের ওপর প্রভাব বিস্তার করত। এক সময় মুন্না নিজেকে সিনিয়র দাবি করে। এ নিয়ে কবিরের সঙ্গে চার মাস আগে কথা কাটাকাটি হয়। ওই সময় কবিরের নেতৃত্বে আলাদা গ্রুপ তৈরি হয়। বিভিন্ন সময় দুটি গ্রুপের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা ও মারধরের ঘটনা ঘটেছে। রোববার সকালে কবির ও তার তিন বন্ধু মিরপুরের কর্মস্থল থেকে বাসায় ফিরছিল। এ সময় মুন্না তাকে উদ্দেশ করে বলে, ‘তুই দাঁত কিটমিট করছিস কেন?’ কবির পাল্টা জবাবে বলে, ‘দাঁত কিটমিট করলে তুই কী করবি?’এর মধ্যেই মুন্নার বড় ভাই বাপ্পী চলে আসে। তখন মুন্না ও তার সহযোগীরা কবির ও তার তিন বন্ধু লোকমান, রুবেল ও শাকিলকে মারধর করে। এ ঘটনার পর কবিরের নেতৃত্বে বাপ্পী ও তার বাবা ফজলুল হকের ওপর হামলা চালানো হয়। পুলিশ জানায়, বাপ্পীর শরীরে ২৬টি সেলাই দেয়া হয়। তার বাবা ফজলুল হকের শরীরেও ৬টি সেলাই লাগে। মূলত এর প্রতিশোধ নিতেই পরিকল্পিতভাবে কবিরকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। কবিরের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছেন মিরপুর থানার এসআই নাসির উদ্দিন। প্রতিবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, পেটের ডান পাশে কাটার জখম, বুকে দুটি রক্তাক্ত জখম, পিঠের ডান পাশে দুটি কাটা রক্তাক্ত জখম, পিঠে দুটি কাটা রক্তাক্ত জখম, বাম হাতের কনুইর নিচে গভীর কাটা রক্তাক্ত জখম, কব্জির ওপরে গভীর কাটা জখম, ডান হাতের কনুইর নিচে রক্তাক্ত জখম, দুই হাতে দুটি রক্তাক্ত জখম, ডান পায়ের হাঁটুতে কাটা রক্তাক্ত জখম এবং বাম কোমরের ওপরে দুটি কাটা রক্তাক্ত জখম রয়েছে। দুই গ্যাংয়ে ২০ সদস্য : স্থানীয় সূত্র বলছে, আধিপত্য বিস্তার ও এলাকার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে উত্তর পীরেরবাগে দুটি গ্যাং গড়ে উঠেছে। একটি গ্যাংয়ের নেতৃত্বে ছিল নিহত কবির। অপর গ্যাংয়ের নেতৃত্বে মুন্না। দুটি গ্যাংয়ের সদস্যদের বয়স ১৪ থেকে ২১ বছরের মধ্যে। এই গ্যাংয়ে স্কুল পড়–য়া কিশোরও রয়েছে। চার মাস আগে আলাদা কোনো গ্যাং ছিল না। আধিপত্য বিস্তার ও সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ্বে চার মাস আগে দুটি গ্যাং তৈরি হয়। মুন্নার নেতৃত্বে গড়ে ওঠা গ্যাংয়ের সদস্যরা হল মুন্না, রাজু, রিপন, বিপ্লব, মানিক, জয়, সোহেল, আকাশ ও শাহীন। কবিরের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা গ্যাংয়ের সদস্যরা হল- রকিব, সম্রাট, লোকমান, শাকিল, আকাশ, আল-আমিন, হৃদয়, নয়ন, ইমন ও রাহাত।

ডাকাতের ধারালো অস্ত্রে যুবক নিহত, গুলিবিদ্ধ ১

গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলায় ডাকাতের ধারালো অস্ত্রে দুলাল মিয়া (৩২) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। এসময় বাবলু মিয়া নামে আরো একজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার দিবাগত রাত ২টার দিকে ফজলুপুর ইউনিয়নের চরচৌমুহন (বুলবুলির চর) গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত দুলাল মিয়া ওই গ্রামের সাইফুল ইসলামের ছেলে। গুলিবিদ্ধ বাবলু মিয়া একই এলাকার মগবুল হোসেনের ছেলে। তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ফুলছড়ি থানার ওসি আবু হায়দার মো. আশরাফুজ্জামান জানান, রাত ২টার দিকে ডাকাতরা দুলাল মিয়ার বাড়িতে ডাকাতির চেষ্টা চালায়। এসময় বাধা দিলে ডাকাতরা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপায়। এতে বাড়ি ওয়ালা দুলাল মিয়া ঘটনাস্থলেই নিহত হন। এসময় দুলালের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে আসেন। তাদের প্রতিরোধের মুখে ডাকাতরা পালিয়ে যাওয়ার সময় গুলিবর্ষণ করলে বাবলু মিয়া নামের আরো একজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে জানান ওসি।

প্রধানমন্ত্রী গাইবান্ধা ও বগুড়া যাচ্ছেন শনিবার

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী শনিবার বন্যাকবলিত গাইবান্ধা ও বগুড়ার সারিয়াকান্দি যাচ্ছেন। ওই দিন সকাল সাড়ে ১০টায় গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চত্বরে বন্যার্তদের মধ্যে ত্রাণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে ধানের চারা বিতরণ করবেন। গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক গৌতম চন্দ্র পাল প্রধানমন্ত্রীর সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী বেলা সাড়ে ১১টায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা, সুধীসমাজ ও বন্যা ব্যবস্থাপনা কমিটির কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। পরে তিনি বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার উদ্দেশে রওনা হবেন। সেখানে তিনি বন্যাদুর্গতদের মাঝে ত্রাণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে ধানের চারা বিতরণ করবেন। এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সারিয়াকান্দি সফর উপলক্ষে মঙ্গলবার উপজেলা পরিষদের হলরুমে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামানের সভাপতিত্বে সভায় বগুড়া-১ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল মান্নান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাহাদারা মান্নান, উপজেলা চেয়ারম্যান মাছুদুর রহমান হিরু মণ্ডল প্রমুখ বক্তব্য দেন। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ মমতাজ উদ্দিন জানান, প্রধানমন্ত্রী গাইবান্ধায় বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শন শেষে সারিয়াকান্দি আসবেন। বন্যাদুর্গতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ ছাড়াও তিনি স্থানীয় ডিগ্রি কলেজ মাঠে আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য দেবেন।

ত্রাণ না পেয়ে হাউমাউ করে কেঁদে উঠলেন বৃদ্ধা

নওগাঁর মান্দা উপজেলার দারিয়াপুর গ্রাম। পাশের গ্রাম থেকে গলা পানি মাড়িয়ে এসেছেন ৫৫ বছরের বৃদ্ধা আরতি রানী। লোকমুখে তিনি শুনেছিলেন ত্রাণ বিতরণের কথা। কিন্তু এখানে এসে তার কপালে জোটেনি কোনো সাহায্য। খালি হাতে ফেরার সময় সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে হাউমাউ করে কেঁদে উঠলেন তিনি। বললেন, আত্রাই নদীর বানে ঘরবাড়ি ডুবে গেছে। আশ্রয় নিয়েছেন রাস্তার ধারে। পরিবারের আয় উপার্জনের কেউ নেই। ঘরে খাবারের জোগাড়ও নেই। যা ছিল কয়েক দিনে তাও শেষ। তাই দু’দিন ধরে পেটে ভাত যায়নি। কোনো বেলা পাউরুটি আবার কোনো বেলা চিড়া খেয়ে আছি। রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় ওই ঘটনার সময় আরতি রানী আরও জানান, একদিন আগেই স্থানীয় এমপি ও পাটমন্ত্রী ইমাজউদ্দিন প্রামাণিক ত্রাণ বিতরণ করে গেছেন। তবে বেশির ভাগ মানুষই ওই সাহায্য পাননি। এ নিয়ে হট্টগোল হয়েছে। কিন্তু লাভ হয়নি। এই জেলার বানভাসি মানুষ এখন খাবার ও চিকিৎসার অভাবে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছে। জীবন বাঁচানোর তাগিদে বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে শত শত বানভানি আশ্রয় নিলেও বিপদ তাদের পিছু ছাড়েনি। প্রসাদপুর ইউনিয়নের দারিয়াপুর গ্রামের সড়কের দুই পাশে আশ্রয় নিয়েছেন কয়েকশ’ বানভাসি পরিবার। এখন পানি কমছে। কিন্তু বেড়েছে পানিবাহিত রোগবালাই। এজন্য মেডিকেল টিম নির্ধারিত রয়েছে। কিন্তু সরেজমিন দেখা যায়, ডায়রিয়ার সমস্যা নিয়ে অন্তত পাঁচজন সকাল থেকে বসে আছেন মেডিকেল টিমের ব্যানার টানানো স্থানে। তাদের মধ্যে একজন বৃদ্ধ আছেন। তারা জানান, তিন দিন আগে ডাক্তার (স্বাস্থ্যকর্মী) এসেছিলেন। এখন ডায়রিয়া প্রায় সবারই শুরু হয়েছে। কিন্তু ডাক্তারের খোঁজ নেই। শুধু ব্যানার টানিয়েই চলে গেছেন তারা। ওই এলাকার হাফিজউদ্দিন মৃধা জানান, এক সপ্তাহ ধরে বন্যায় মানুষ দিশেহারা। থাকার জায়গা নেই। খাবার নেই। এ অবস্থায় বেঁচে থাকাটা কঠিন হয়ে পড়েছে। কিন্তু সবাই শুধু মুখে মুখে সাহায্যের কথা বলছে। বাস্তবে কোনো কিছুই নেই। আর রাস্তায় ঠাঁই নেয়াদের আপাতত থাকার ছাউনির জন্য প্লাস্টিক দিয়েছে একটি এনজিও। কিন্তু এর বাইরে কিছু পাইনি। মন্ত্রী ত্রাণ বিতরণ করলেও পেয়েছেন দলীয় সমর্থকরা। প্রকৃত নিঃস্বরা পায়নি। উপজেলার কুসুম্বা ইউনিয়নের রেবা আখতার দাখিল মাদ্রাসা বন্ধ করে বানভাসি কয়েকশ’ নারী-পুরুষকে রাখা হয়েছে। এখানে ঠাঁই নেয়া কয়েকজন জানান, তিন দিন ধরে তারা ভাত খেতে পাননি। সকালে পাউরুটি দেয়া হয়। দুপুরে খিচুড়ি। রাতে চিড়া। এসব খেয়ে তো আর দিন চলে না। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা তীব্র খাবার সংকটে পড়েছেন। ওই মাদ্রাসার শিক্ষক নজরুল ইসলাম বলেন, প্রায় আটশ’ মানুষ এখানে আশ্রয় নিয়েছেন। গাদাগাদি করে থাকতে হচ্ছে। শোয়ার জায়গা নেই। খাবার পানি ও টয়লেটের ব্যবস্থাও নাজুক। স্থানীয় যারা বিত্তবান আছেন, তারাই কেউ সকালে, কেউ দুপুরে আবার কেউ রাতের খাবারের খরচ দিচ্ছেন। তবে এ বিষয়ে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী ইমাজউদ্দিন প্রামাণিক বলেন, যেভাবে বন্যা হচ্ছে, তা এখন জাতীয় দুর্যোগে রূপ নিয়েছে। কাজেই দলীয় লোক দেখে ত্রাণ বিতরণের অভিযোগ থাকার কথা নয়। দল ও মতের ঊর্ধ্বে থেকে সবাইকে এই বিপদে সাহায্য করা হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত ত্রাণ বরাদ্দ অব্যাহত আছে। নওগাঁর সিভিল সার্জন ডা. রওশন আরা যুগান্তরকে জানান, বন্যাদুর্গতদের স্বাস্থ্যসেবা দিতে ১২৪টি মেডিকেল টিম কাজ করছে। প্রতিটি টিমে উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা-কর্মীরা কাজ করছেন। গ্রামে গ্রামে গিয়ে এই টিম খাবার স্যালাইনসহ প্রয়োজনীয় ওষুধ বিতরণ করছে বলেও দাবি করেন তিনি। এদিকে ছোট যমুনা ও আত্রাই নদীর পানি কমলেও দুর্ভোগ কমেনি নওগাঁর বন্যার্ত মানুষের। দুর্গত এলাকার প্রায় চার লাখ মানুষ পানিবন্দি জীবনযাপন করছেন। ইকরতারা নামক স্থানে ছোট যমুনা নদীর বাঁধ ভেঙে সদর উপজেলার তিলকপুর, বোয়ালিয়া ইউনিয়ন, নওগাঁ পৌরসভার পার-নওগাঁ, সুলতানপুর এলাকা, পার্শ্ববর্তী বগুড়ার আদমদিঘি উপজেলার ছাতিয়ান গ্রাম, সান্তাহার এলাকা নতুন করে প্লাবিত হয়েছে। বন্যা নিয়ন্ত্রণ কক্ষ সূত্রে জানা গেছে, নওগাঁর মোট ১০ উপজেলায় ৬৬ ইউনিয়নের ৫১৬টি গ্রাম বন্যাকবলিত হয়েছে। ৪১টি আশ্রয় কেন্দ্রে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ ঠাঁই নিয়েছে। বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে ১৭০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। প্রায় ৬৮ হাজার ৫৩৬ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে। জেলায় প্রায় ৮১ হাজার বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৫৫ হাজার বাড়িঘর সম্পূর্ণভাবে এবং ২৬ হাজার বাড়িঘর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যায় মোট ১২ জন লোক নিখোঁজ রয়েছে। দুই শিশুসহ নিহত হয়েছে তিনজন। জেলা প্রশাসক ড. মো. আমিনুর রহমান জানান, জেলায় বন্যার্তদের ত্রাণ সাহায্য অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন, রোববার পর্যন্ত জেলার ৯টি উপজেলায় ৩৪৭ মেট্রিক টন চাল এবং ১৫ লাখ ২২ হাজার নগদ টাকা বিতরণ করা হয়েছে।

কোন্দলের মাশুল দিতে হতে পারে আ’লীগ-বিএনপিকে

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মৌলভীবাজার-৩ (সদর ও রাজনগর) আসনের সম্ভাব্য প্রার্থীরা এলাকাবাসীর দোয়া ও আশীর্বাদ চেয়ে প্রচারে নেমে পড়েছেন। পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তৎপরতা চালাচ্ছেন সমর্থকরা। বিভিন্ন দিবসে শুভেচ্ছা জানিয়ে শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে টানানো শুরু হয়েছে ব্যানার ও ফেস্টুন। আওয়ামী লীগ-বিএনপি ছাড়াও জাতীয় পার্টি, খেলাফত মজলিস, জামায়াত, কমিউনিস্ট পার্টিসহ ২০ দলীয় ও ১৪ দলীয় জোটের সম্ভাব্য ডজন খানেক প্রার্থী নানা কায়দায় তাদের আগ্রহের বিষয়টি জানান দিচ্ছেন। তবে মনোনয়ন যারাই পাক না কেন দলীয় কোন্দলই বিএনপি ও আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়াতে পারে। আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় রয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য ও প্রয়াত সমাজকল্যাণমন্ত্রী সৈয়দ মহসিন আলীর সহধর্মিণী সৈয়দা সায়রা মহসিন, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নেছার আহমদ, দলের জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক ও চেম্বার সভাপতি মো. কামাল হোসেন, সাবেক ব্রিটিশ কাউন্সিলর এমএ রহিম (সিআইপি) ও মৌলভীবাজার সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালিক তরফদার সোয়েব। মৌলভীবাজার-৩ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য সৈয়দা সায়রা মহসিন বলেন, দল থেকে মনোনয়ন পেলে নির্বাচন করব। যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সহসভাপতি, সাবেক ব্রিটিশ কাউন্সিলর এমএ রহিম বলেন, ২০০৬ সাল থেকে একাধিক জাতীয় নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বিরত থেকেছি। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী ও মুক্তিযোদ্ধাদের স্বপ্নপূরণ এবং সোনার বাংলা গড়তে আগামী নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে অংশগ্রহণ করব। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি উপাধ্যক্ষ আবদুস শহিদ বলেন, মনোনয়নপ্রত্যাশীরা কাজ শুরু করেছেন। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দলীয় বোর্ড বসে পর্যালোচনার মাধ্যমে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে। এর আগে যে কেউ নিজেকে সম্ভাব্য প্রার্থী ঘোষণা করে প্রচারণা চালাতে পারেন।
বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় রয়েছেন- সাবেক এমপি ও জেলা বিএনপির সভাপতি এম নাসের রহমান ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান। জেলা বিএনপির সভাপতি এম নাসের রহমান এ প্রসঙ্গে বলেন, জাতীয় নির্বাচনের এখনও অনেক সময় বাকি। সময় এলে পরিবেশ পরিস্থিতির আলোকে প্রস্তুতি নেয়া হবে। জাতীয় পার্টির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে শোনা যাচ্ছে জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি সৈয়দ শাহাবউদ্দিন আহমদ ও সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ নুরুল হকের নাম। এ ছাড়া জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মাওলানা জামিল আহমদ আনসারী ও শরিফ খালেদ সাইফুল্লাহ দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে এলাকায় তৎপর। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আহমদ বিলাল কেন্দ্রের অনুমতিসাপেক্ষে নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু করেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির স্থানীয় নেতারা দলের মধ্যে বিদ্যমান কোন্দলকে চিন্তার বড় কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকরা বলছেন, আগামী নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হলেও দলীয় কোন্দল দলের প্রার্থীর বিজয় ঠেকিয়ে দিতে পারে। জেলা বিএনপির সভাপতি ও সম্পাদকের অবস্থান দুই মেরুতে। তাদের কারণে দুই ভাগে বিভক্ত মৌলভীবাজার বিএনপি। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজানকে সরকারের দালাল আখ্যা দিয়ে রাজপথে মিছিলও হয়েছে। বিভক্তির কারণে মৌলভীবাজারে বিএনপি সরকারবিরোধী আন্দোলনের পরিবর্তে নিজেদের মধ্যে দলাদলিতে ব্যস্ত সময় পার করছে। এটা যদি চলতে থাকে তাহলে তা আগামী নির্বাচনের ওপর প্রভাব পড়বে বলে মন্তব্য তৃণমূল নেতাকর্মীদের। দলীয় সূত্র জানায়, ২০০৯ সালের ৮ ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় বিএনপির সম্মেলনের আগে মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির দু’গ্রুপের সমন্বয়ে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও যুগ্ম সম্পাদকের নাম উল্লেখ করে কমিটি অনুমোদন দেয় তৎকালীন মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার হোসেন। ওই কমিটির সভাপতি হন সাবেক অর্থমন্ত্রী, প্রয়াত এম সাইফুর রহমানের ছেলে এম নাসের রহমান। অপর গ্রুপ থেকে খালেদা রব্বানীকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। সভাপতি বলয়ের আবদুুল মুকিতকে করা হয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব নিরসনে একাধিকবার কেন্দ্রীয় নেতারা মৌলভীবাজার সফর করলেও পরস্পরবিরোধী অবস্থানের হেরফের হয়নি। জেলা বিএনপির গ্রুপিংকে কেন্দ্র করে যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনও বিভক্ত। জানতে চাইলে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, সভাপতি বলয়ের নেতাকর্মীরা আমার জনপ্রিয়তা সহ্য করতে না পেরে আমাকে সরকারের দালাল আখ্যায়িত করে রাজপথে মিছিল করেছে। এরা উড়ে এসে জুড়ে বসেছে। আমি তৃণমূল থেকে রাজনীতি করে এ পর্যন্ত এসেছি। আমি চাই, সব ভেদাভেদ ভুলে একত্রিত হয়ে কাজ করতে। সভাপতি সেটা চান না। তিনি বলেন, যারা আমাকে দালাল বলছে তারা সরকারি দলের সঙ্গে আঁতাত করে ব্যবসা-বাণিজ্য করছেন। তবে আগামী জাতীয় নির্বাচনে ধানের শীষকে বিজয়ী করতে খালেদা জিয়ার নির্দেশ অনুযায়ী কাজ চালিয়ে যেতে হবে। এদিকে আওয়ামী লীগেও একই হাল। এই আসনে উপাধ্যক্ষ আবদুস শহিদ ও সায়রা মহসিনকে ঘিরে দুটি বলয় গড়ে উঠেছে। আগস্ট মাসে দুটি শোকের অনুষ্ঠান পালনকে কেন্দ্র করে বিভক্তি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এর আগে ভোটারদের কাছে আওয়ামী লীগের দ্বন্দ্ব প্রকাশ না পেলেও শোকের অনুষ্ঠানকে ঘিরে আলাদা অনুষ্ঠান করার মধ্য দিয়ে বিষয়টি প্রকাশ্যে চলে আসে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে শেষ পর্যন্ত আসনটি আওয়ামী লীগের হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা তৃণমূল নেতাকর্মীদের। সূত্র বলছে, প্রয়াত সমাজকল্যাণমন্ত্রী সৈয়দ মহসিন আলীর স্ত্রী সৈয়দা সায়রা মহসিন, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মো. ফিরোজ ও সদর আওয়ামী লীগের সভাপতি মসুদ আহমদকে ঘিরে এ বলয় কাজ করছে। অপরদিকে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক চিফ হুইপ মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য উপাধ্যক্ষ আবদুস শহিদের নেতৃত্বাধীন বলয়ে রয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকসহ বেশ কয়েকজন নেতা। তবে দলীয় অনুষ্ঠানে সায়রা মহসিনসহ তার বলয়ের নেতাকর্মীদের তেমন দেখা যায় না। দলের কোন্দল নিয়ে জানতে চাইলে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি উপাধ্যক্ষ আবদুস শহিদ বলেন, আমি এবং জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সব সময় দলীয় ও জাতীয় অনুষ্ঠানাদি পালন করে আসছি। এসব অনুষ্ঠানে অনেক নেতাকর্মী উপস্থিত হন আবার কেউ কেউ আসছেন না। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক যেখানে উপস্থিত সেখানে গুটি কয়েকের অনুপস্থিতিকে গ্রুপিং বলা যায় না। এদিকে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জেলা জাতীয় পার্টিকে শক্তিশালী করতে জেলা সম্মেলন করার জন্য ইতিমধ্যে সদর উপজেলা ও পৌর কমিটি ভেঙে আহ্বায়ক কমিটি করা হয়েছে। এ বছরের শেষদিকে জেলা সম্মেলন করে নতুন আয়োজনে নির্বাচনের প্রস্তুতি নেবেন বলে দলীয় একাধিক সূত্র জানায়। এ বিষয়ে আলাপকালে জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি সৈয়দ শাহাব উদ্দিন বলেন, একাদশ জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে এরশাদের হাতকে শক্তিশালী করতে আমরা জেলা সম্মেলন করে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত করব। নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে জেলা কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি অ্যাডভোকেট মকবুল হোসেন বলেন, এখনও আমাদের প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়নি তবে শিগগির বসে আমরা সিদ্ধান্ত নেব। জেলা জামায়াতের আমীর আবদুল মান্নান বলেন, দলীয়ভাবে মৌলভীবাজার-৩ আসনে নির্বাচন করার কোনো পরিকল্পনা নেই এখন পর্যন্ত। জেলা খেলাফত মজলিসের সভাপতি অধ্যাপক আবদুস সবুর বলেন, আমরা প্রাথমিকভাবে প্রার্থী নির্ধারণ করে নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময় শুরু করেছি। নির্বাচন ঘনিয়ে এলে আমাদের তৎপরতা আরও বৃদ্ধি পাবে।

৩০০ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী চূড়ান্ত : এরশাদ

সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছেন, আগামী সংসদ নির্বাচনে জোট নয়, জাতীয় পার্টি এককভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। এ জন্য ৩০০ আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে রংপুর সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন তিনি। এ সময় ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ের প্রসঙ্গ উঠলে এরশাদ বলেন, এ নিয়ে আগেও কিছু বলিনি, এখনও কোনো মন্তব্য করব না। এর আগে এরশাদ নীলফামারীর সৈয়দপুরে বন্যাদুর্গতদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করেন। আর সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের পর ইউনিয়ন ব্যাংক রংপুর শাখার উদ্বোধন করেন তিনি। বন্যা পরিস্থিতি সম্পর্কে এরশাদ বলেন, সরকার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারেনি। ত্রাণ তৎপরতা অপ্রতুল। তবে জাতীয় পার্টি বানভাসি মানুষদের পাশে দাঁড়িয়েছে। সাধ্যমতো ত্রাণ দেয়ার চেষ্টা করছে। রংপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগ কোনো প্রার্থী দেবে না বলে আশা প্রকাশ করেন এরশাদ। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ প্রার্থী দিলেও জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা বিপুল ভোটে জয়ী হবে। ইউনিয়ন ব্যাংক রংপুর শাখার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন এরশাদ। সেখানে তিনি বলেন, রংপুরের উন্নয়নের দায়িত্ব বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নিজেই নিয়েছেন। সেই উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে রংপুরের পুত্রবধূ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অবশ্যই রংপুর অঞ্চলে পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস আনবেন। ইতিমধ্যে তিনি সব রকম উদ্যোগ নিয়েছেন। বর্তমান সরকারের আমলে রংপুরের উন্নয়ন প্রসঙ্গে সাবেক এ রাষ্ট্রপতি বলেন, অনেক বাধা ছিল, এখন তা কেটে যাচ্ছে। রংপুরের মানুষের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারলে এ অঞ্চলে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা কমে যাবে।
তিনি বলেন, রংপুরের মানুষ অলস নয়, তারা কাজ করে জীবনের উন্নয়ন ঘটাতে পারবে। ইউনিয়ন ব্যাংককে রংপুরের মানুষের পারিবারিক ব্যাংক উল্লেখ করে এরশাদ এ ব্যাংকের সমৃদ্ধিতে সবাইকে সহযোগিতা করার আহবান জানান। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওমর ফারুকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ ছালেহ, সনিক প্রাইম গ্রুপের চেয়ারম্যান প্রফেসর আক্কাছ আলী সরকার, রংপুর চেম্বারের সাবেক প্রেসিডেন্ট আবুল কাশেম, বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট মঞ্জুর আহমেদ আজাদ এবং উইমেন চেম্বারের পরিচালক জাকিয়া আহসান। দুপুরে এরশাদ রংপুর সার্কিট হাউসে পৌঁছলে দলের নেতাকর্মীরা তাকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান। এ সময় রংপুর মহানগর জাতীয় পার্টির সভাপতি মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, সাধারণ সম্পাদক এসএম ইয়াসির আহাম্মেদ প্রমুখ সেখানে ছিলেন। পরে পুলিশের একটি চৌকস দল এরশাদকে গার্ড অব অনার দেয়। সৈয়দপুরে ত্রাণ বিতরণ : সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি জানান, একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের বিমানে সকালে ঢাকা থেকে সৈয়দপুরে আসেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। সেখান থেকে তিনি কামারপুকুর কলেজ মাঠে আসেন। সেখানে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেন। প্রতি প্যাকেটে ছিল একটি করে শাড়ি ও লুঙ্গি, এক কেজি মসুর ডাল ও পাঁচ কেজি চাল। পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান ও নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ সদস্য শওকত চৌধুরীও এ সময় বক্তব্য দেন। এরশাদ বলেন, ১৯৮৮ সালের বন্যায় বুকভরা পানিতে নেমে আমি দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলাম। আজও আপনাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছি। কিন্তু বর্তমান সরকার তেমনভাবে বন্যার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ায়নি। তিনি বলেন, মানুষ এখন একই দলকে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় দেখতে চায় না। ক্ষয়িষ্ণু দল বিএনপিকেও ক্ষমতায় দেখতে চায় না তারা। তাই আসন্ন নির্বাচনে জাতীয় পার্টির দিকে তাকিয়ে আছে দেশের জনগণ। এছাড়া কোনো উপায় নেই।

শিশুদের বন্ধু হন

একদিন ক্লাসে শিক্ষিকা সবাইকে ‘তোমার জীবনের লক্ষ্য’ বিষয়ে লিখতে বললেন। লেখার নির্ধারিত সময় শেষ হলে তিনি সবার খাতা নিলেন এবং সেদিনের মতো ক্লাস শেষ করে চলে গেলেন। বাসায় এসে তিনি সব খাতা পড়তে শুরু করলেন। একটি খাতায় তার চোখ আটকে গেল। লেখাগুলো পড়ে তার চোখ দিয়ে টপটপ করে পানি পড়তে লাগল। পাশে থাকা তার স্বামী বিষয়টি লক্ষ করে জানতে চাইলেন, কী হয়েছে? শিক্ষিকা কথা না বলে খাতাটি এগিয়ে দিলেন।
তাতে লেখা : ‘আমার জীবনের লক্ষ্য হল টেলিভিশন হওয়া। কারণ আমাদের বাসায় যে টেলিভিশনটি আছে, দিনের একটি নির্দিষ্ট সময়ে সবাই এর সামনে গিয়ে বসে আর গভীর মনোযোগ গিয়ে টিভি দেখে। অনেক সময় খাওয়া-দাওয়ার কথাও মনে থাকে না। টেলিভিশনের নানা অনুষ্ঠান দেখে তারা হাসি-আনন্দে ফেটে পড়ে। দিনের বিভিন্ন সময় টিভির অনুষ্ঠানগুলো নিয়ে নিজেরা আলোচনা করে। যদি টিভিটি নষ্ট হয়ে যায় তাহলে তা ঠিক করার জন্য সবাই উঠেপড়ে লাগে। আমি চাই টেলিভিশনের মতোই আমাকে সবাই গুরুত্ব দেবে। আমার প্রতি মনোযোগী হবে। আমি অসুস্থ হয়ে পড়লে সবাই আমার যত্ন নেবে। এ কারণেই আমি টেলিভিশন হতে চাই।’ পড়া শেষে স্বামী বলল, ছেলেটি কত দুর্ভাগা! নিশ্চয়ই তার বাবা-মা ও পরিবারের সবাই অনেক ব্যস্ত। তাকে কেউ সময় দেয় না। তখন শিক্ষিকা বললেন, তুমি মনে হয় খেয়াল করোনি যে এসব লিখেছে সে আমাদেরই ছেলে! এটি একটি গল্প হলেও এর ভেতর দিয়ে একটি ছেলের গভীর হতাশাবোধ, হাহাকার ও নিঃসঙ্গতার চিত্র ফুটে উঠেছে। বর্তমান সময়ের সঙ্গে রয়েছে এর যোগসূত্র। আজকাল অনেক পরিবারেই বাবা-মা খুব ব্যস্ত থাকেন। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে শিশুদের ওপর। বড়দের বাইরে যাওয়ার এবং নিজের মতো করে সময় কাটানোর সুযোগ থাকে; কিন্তু শিশুদের তেমনটি থাকে না। আবার এখন মাঠের সংখ্যা কমে যাওয়ায় শিশুরা আগের মতো খেলাধুলাও করতে পারছে না।
এ কারণে তাদের বাসায় অবসরে অলস সময় কাটানো, টিভি দেখা, কম্পিউটার নিয়ে পড়ে থাকা ও মোবাইলে গেম খেলাটাই হয়ে দাঁড়ায় মুখ্য বিষয়। আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মানসিক সুস্থতার স্বার্থে তাদের বন্ধু হওয়া, তাদের জন্য পরিবারের সময় দেয়া জরুরি। সাম্প্রতিক সময়ে পত্রিকা খুললেই দেখা যায় শিশু নির্যাতন, হত্যা, ধর্ষণ, পরকীয়ার বলি হওয়া, বখাটেদের উৎপাতে কিশোরীর আত্মহত্যা ইত্যাদি ঘটনার খবর। এসব উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। চার বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনা এ জাতির জন্য লজ্জাজনক। একটি শিশুর প্রতি যদি এমন আচরণ করা হয়, তাহলে এ জাতির ভবিষ্যৎ কী? এর একটি সমাধান হতে পারে শিশুদের বন্ধু বানানো। তাদের বন্ধুত্ব করিয়ে দেয়া যেতে পারে ভালো ও সৎ মানুষের সঙ্গে। রাষ্ট্রকে হতে হবে শিশুবান্ধব, রাষ্ট্র তাদের জন্য নির্মল বিনোদনের ব্যবস্থা করবে, উন্মুক্ত ও সবুজ মাঠে খেলাধুলা করার অবারিত সুযোগ তৈরি করে দেবে এবং নানা ধরনের সাংস্কৃতিক ও শিশুবিকাশ কার্যক্রম চালু করবে। সেই সঙ্গে সব ধরনের শিশু নির্যাতনের দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করবে।
মু. তৌহিদুল ইসলাম : শিশু সংগঠক; কাউন্সিলর, বাংলাদেশ শিশুকল্যাণ পরিষদ

অ্যাকজিমা কি সারে না?

অ্যাকজিমা ত্বকের এক ধরনের অ্যালার্জিজনিত প্রদাহ। রাসায়নিক পদার্থ, প্রোটিন, জীবাণু, ছত্রাক ইত্যাদির প্রভাবে অ্যাকজিমা হতে পারে। কিছু কিছু অ্যাকজিমা বংশগত। যেমন- এটপিক অ্যাকজিমা, লাইকেন সিমপ্লেক্স। তবে বংশগত কোনো সম্পর্ক পাওয়া যায় না সংস্পর্শ অ্যাকজিমা, স্ক্যারিয়াস অ্যাকজিমা, অপুষ্টিজনিত ও ছত্রাকজনিত অ্যাকজিমা। অনেকের ধারণা অ্যাকজিমা সারলে হাঁপানি হয়। এই ধারণার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। তবে এটপিক অ্যাকজিমার সঙ্গে হাঁপানির সম্পর্ক আছে। দেখা গেছে এটপিক অ্যাকজিমায় আক্রান্ত রোগীর বংশে কারও হাঁপানি আছে। যাদের দীর্ঘদিনের অ্যাকজিমা আছে তাদের অবশ্যই চিকিৎসার প্রয়োজন আছে। রোগ পুষে রাখলে জীবাণুর সংক্রমণ হতে পারে কিংবা সারা দেহে ছড়িয়ে পড়ে এক্সফোলিয়েটিভ অ্যাকজিমার সৃষ্টি হতে পারে। অনেকের এও ধারণা অ্যাকজিমা ছোঁয়াচে। এটিও সত্য নয়। অ্যাকজিমার ওপরে জীবাণুর সংক্রমণ হলে অন্য কেউ সংক্রমিত হতে পারে। স্ক্যাবিয়াস অ্যাকজিমা রোগী থেকে সুস্থ দেহে চুলকানি সৃষ্টি করতে পারে। অ্যাকজিমা হলে রক্ত খারাপ হয়ে গেছে কিংবা বিয়ে করা যাবে না- এটিও সত্য নয়। অ্যাকজিমা নিশ্চয়ই সারে। সঠিক চিকিৎসা নিলে এবং যে কারণে অ্যাকজিমা হচ্ছে তার কারণ পরিহার করে চলতে পারলে প্রায় সব ক্ষেত্রেই অ্যাজকিমা সারে। তবে চিকিৎসা একটু দীর্ঘস্থায়ী।
ডা. দিদারুল আহসান, ত্বক ও যৌনব্যাধি বিশেষজ্ঞ
আল-রাজী হাসপাতাল, ফার্মগেট, ঢাকা।
মোবাইল ফোন : ০১৭১৫৬১৬২০০

চড়া সুদে ৪ হাজার কোটি টাকা দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক

বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন নেটওয়ার্ক উন্নয়নসংক্রান্ত প্রকল্পে বিশ্বব্যাংক থেকে চড়া সুদে ঋণ নিচ্ছে সরকার। এ ঋণের পরিমাণ ৫০ কোটি মার্কিন ডলার, যা স্থানীয় মুদ্রায় (প্রতি ডলার ৮০ টাকা ধরে) প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা। সংস্থাটি স্কেলআপ ফ্যাসিলিটির (এসইউএফ) আওতায় এ ঋণ নেয়া হচ্ছে। ফলে সুদের হার সব মিলিয়ে ৩-৪ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। তবে বর্তমানে সহজ শর্তের ঋণে কোনো সুদ না দিলেও সার্ভিস চার্জ হিসেবে শূন্য দশমিক ৭৫ শতাংশ নেয় বিশ্বব্যাংক। পরিশোধের সময়ও দীর্ঘ। অর্থাৎ ৬ বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ৩৮ বছরে পরিশোধ করতে হয়। সেখানে এ কর্মসূচির আওতায় ঋণ নেয়া হলে পরিশোধের সময়ও কম হবে। এ ঋণের বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের সম্মতি পাওয়ার পর বিদ্যুৎ বিভাগের কাছে মতামত চেয়ে চিঠি দিয়েছে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)। মতামত পেলেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে বিশ্বব্যাংককে। জানতে চাইলে ইআরডির অতিরিক্ত সচিব ও বিশ্বব্যাংক উইংয়ের প্রধান মাহমুদা বেগম মঙ্গলবার যুগান্তরকে বলেন, এ স্কেলআপ ফ্যাসিলিটির আওতায় গত অর্থবছরে ৩০ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ নেয়ার কথা ছিল বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিদ্যুতের একটি প্রকল্পে ৫৯ মিলিয়ন ডলার ঋণ নেয়া হয়েছে। চলতি অর্থবছরে ৫০ কোটি ডলার ঋণ নেয়ার সীমা নির্ধারিত রয়েছে। তাই বেশি প্রকল্পের না নিয়ে আমরা একটিতেই এ পরিমাণ ঋণ নেয়ার বিষয়ে নেগোশিয়েশন করেছি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিদ্যুৎ খাতে অনেক বেশি সুদে ঋণ নেয়া হচ্ছে, সেক্ষেত্রে এটি এখনও কম বলা চলে।
যদিও সহজ শর্তের ঋণের চেয়ে এক্ষেত্রে সুদের হার বেশি হবে। তারপরও নেয়া যেতে পারে। সে সিদ্ধান্ত নেয়ার দায়িত্ব বিদ্যুৎ বিভাগের। ইআরডি সূত্র জানায়, ২০ আগস্ট বিদ্যুৎ সচিবের কাছে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ থেকে যে চিঠি পাঠানো হয়েছে সেখানে উল্লেখ করা হয়, ২০১৫ সালের ২৪ নভেম্বর ইনহ্যান্সমেন্ট অ্যান্ড স্ট্রেনদেনিং অব পাওয়ার ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক ইন ইস্টার্ন রিজিওন শীর্ষক প্রকল্পের জন্য ২৯ কোটি ২৭ লাখ ৪ হাজার ডলার অর্থায়নে বিশ্বব্যাংককে অনুরোধ জানানো হয়। প্রকল্পটির বাস্তবায়নকারী সংস্থা পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি)। ওই প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের স্কেলআপ ফ্যাসিলিটি (এসইউএফ) শীর্ষক তহবিল থেকে ৫০ কোটি ডলার ঋণ দেয়ার বিষয়ে বিশ্বব্যাংক সম্মত হয়েছে। এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এসইউএফ তহবিল থেকে ঋণ গ্রহণে বাংলাদেশ সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত রয়েছে। এছাড়া অন্যান্য উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলো হচ্ছে- এ তহবিলের ঋণ স্থির সুদের হারে প্রদেয়, ত্রৈমাসিকভাবে এ স্থির সুদের হার বিশ্বব্যাংকের সহযোগী সংস্থা আইডিএ’র মাধ্যমে নির্ধারিত. এককালীন ফ্রন্ট-ইন্ড ফি শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ এবং অনুত্তোলিত ঋণের স্থিতির ওপর শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ কমিটমেন্ট ফি প্রদান করতে হবে। অপরদিকে বিদ্যুৎ খাতে অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা বা দেশগুলো তুলনামূলক উচ্চ সুদে ঋণ প্রদান করে থাকে। লন্ডন উন্টার ব্যাংক অফারড রেট (লাইবর) অস্থিতিশীল হলে সুদের হার পরিবর্তিত হলে ঋণ ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, সাধারণত উন্নয়ন সহযোগী দেশ বা সংস্থা ব্যয় ও পরিশোধের মুদ্রা নির্ধারণ করে। এসইউএফ তহবিলের ক্ষেত্রে বাস্তবায়নকারী সংস্থা গ্রান্ট এলিমেন্ট বিবেচনা করে সুবিধা অনুযায়ী এসডিআর ছাড়াও এসডিআরভুক্ত চারটি মুদ্রা মার্কিন ডলার, ইউরো, পাউন্ড ও জাপানি ইয়েনের যে কোনো একটি মুদ্রায় সিঙ্গেল কারেন্সি লেন্ডিং (এসসিএল) কর্মসূচির আওতায় ঋণ গ্রহণ করতে পারবে। সূত্র জানায়, এর আগে এসইউএফ তহবিল থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে বাস্তবায়নাধীন পাওয়ার সিস্টেম রিলায়েবিলিটি অ্যান্ড ইফিসিয়েন্সি ইমপ্র“ভমেন্ট প্রজেক্টের জন্য যে ৫৯ মিলিয়ন ডলার ঋণ নেয়া হয়েছিল, সেক্ষেত্রে ২ দশমিক ৮৫ শতাংশ স্থির হারে সুদ ধার্য করা হয়েছে। এ ঋণ ইউরোতে গ্রহণ ও পরিশোধ করা হবে- যা ৯ বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ৩০ বছরে পরিশোধ করতে হবে। এ প্রকল্পটি ইতিমধ্যেই অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এক প্রশ্নের জবাবে মাহমুদা বেগম বলেন, যখন এ তহবিল থেকে ঋণ প্রস্তাব পাঠানো হয় তখন প্রকল্পটির ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই ২৯ কোটি ২৭ লাখ ৪ হাজার মার্কিন ডলার ঋণ চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরে বিশ্বব্যাংকের মিশন এসে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখেছে, প্রকল্পে নতুন কম্পোনেন্ট যোগ হওয়ায় এর ব্যয়ও বেড়ে গেছে। তাই তারা ৫০ কোটি ডলার ঋণ দিতে সম্মত হয়েছে।