Tuesday, July 4, 2017

সাবেক প্রেমিকের সঙ্গে মেসির স্ত্রীর অন্তরঙ্গ ছবি ফাঁস

দীর্ঘদিনের প্রেমিকা আন্তোনেল্লা রোকুজ্জোকে সম্প্রতি বিয়ে করেছেন লিওনেল মেসি। মেসি এবং রোকুজ্জোর মধ্যকার সম্পর্ক বাল্যকাল থেকে বলে জানা যায়। একে অন্যকে চেনেন পাঁচ বছর বয়স থেকে। মেসি কিংবা রোকুজ্জোর অন্য কোনো প্রেমের খবর জানা যায় না। কিন্তু ‘পারা তি’ নামে আর্জেন্টিনার এক পত্রিকা বোমা ফাটানো খবর দিলো। মেসির স্ত্রী রোকুজ্জোর আরেকটি প্রেম ছিল। মেসি-রোকুজ্জোর বিয়ের পর সাবেক প্রেমিক মুখ খুলেছেন। এমন কি রোকুজ্জোর সঙ্গে তোলা তার কিছু অন্তরঙ্গ ছবি ফাঁস করে দিয়েছেন। ওই ছেলের সঙ্গে মেসির স্ত্রীর এক সময় সম্পর্ক ছিল বলে স্বীকার করলেন রোকুজ্জোর এক বন্ধুও। তিনি ‘পারা তি’ পত্রিকাকে বলেন, ছোট বেলায় মেসি ও রোকুজ্জোর মধ্যে সম্পর্ক ছিল। তখন তারা থাকতো রোজারিওতে। কিন্তু এরপর মেসির পরিবার রোজারিও ছেড়ে দেয়। স্পেনের বার্সেলোনায় গিয়ে বসবাস শুরু করে। এ সময় রোকুজ্জোর সঙ্গে মেসির যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর রোজারিওতে একটি ছেলের সঙ্গে রোকুজ্জোর সম্পর্ক তৈরি হয়। তারা একসঙ্গে ঘুরতেন, ফিরতেন। রোকুজ্জোর ওই বন্ধুও মাঝেমধ্যে তাদের সঙ্গে থাকতেন বলে দাবি করেন।
তাদের মধ্যকার এ সম্পর্ক প্রায় ২০০৭ সাল পর্যন্ত ছিল। কিন্তু এরপর ২০০৭ সালে ফের রোকুজ্জোর সঙ্গে মেসির যোগাযোগ হয়। রোকুজ্জোকে বেশকিছু দামি উপহার দেন মেসি। তারমধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল ব্ল্যাাকবেরি মোবাইল ফোন। এরপর ওই ছেলের সঙ্গে রোকুজ্জোর সম্পর্কে অবনতি হতে শুরু করে। মেসির সঙ্গে জুটিয়ে প্রেম শুরু করেন রোকুজ্জো। এই হিসেবে মেসির সঙ্গে রোকুজ্জোর প্রকৃত প্রেমের সম্পর্ক ২০০৭ সাল থেকে। বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন রোকুজ্জোর সাবেক প্রেমিকও। তিনি শুধু এতটুকু বলেন, ‘সে আমাকে অনক বড় আঘাত দিয়েছে। মেসির কারণে সে আমাকে আঘাত দিয়েছে। একজন বুড়ো মানুষের জন্য সে আমাকে ছেড়ে যেতে নাও পারতো।’ আর্জেন্টিনার পত্রিকা থেকে নিয়ে এই খবর প্রকাশ করেছে স্পেনের ‘এএস’।

জাপান সাগরে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে উত্তর কোরিয়া

উত্তর কোরিয়া জাপান সাগরে ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে বলে দাবি করেছে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া। দেশেটির পশ্চিমাঞ্চলীয় এলাকা থেকে এই ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয় বলে জানান জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মকর্তারা। খবর বিবিসির। দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাবাহিনীর বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা ইউহাপ নিউজ এজেন্সি জানায়, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার ৯টা ৪০ মিনিটে উত্তর পিয়ংগান প্রদেশ থেকে এই মিসাইল ছোঁড়া হয়। টোকিও বলছে, জাপান সাগরের অর্থনৈতিক অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্রটি আঘাত হেনেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে উত্তর কোরিয়ার পরমাণু ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির কারণে ওই অঞ্চলে এক ধরনের উত্তেজনা বিরাজ করছে। জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মকর্তারা বলছেন, ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রায় প্রায় ৪০ মিনিট উড়ে ৯৩০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেয়ার পর জাপান সাগরে পতিত হয়েছে। যদিও একদিন আগেই উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক পরীক্ষা বন্ধে জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে ও চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে কথা বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চলতি বছর উত্তর কোরিয়া যে কয়টি ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে আজকেরটি ১১তম। গত মে মাসেও ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছিল উত্তর কোরিয়া।

'বিস্ফোরিত বয়লারটি মেয়াদোত্তীর্ণ'

গাজীপুরের কাশিমপুরে পোশাক কারখানায় বিস্ফোরিত বয়লারটি মেয়াদোত্তীর্ণ ছিল বলে জানিয়েছেন তদন্ত কমিটির প্রধান জেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাহেনুল ইসলাম। মঙ্গলবার দুপুরে ওই পোশাক কারখানায় পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের একথা জানান তিনি। সোমবার রাতের ওই বিস্ফোরণের ঘঠনায় আট সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে গাজীপুর জেলা প্রশাসন। ওই কমিটির সদস্যরা আজ দুপুরে পোশাক কারখানাটি পরিদর্শন করেন। এসময় তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. রাহেনুল ইসলাম জানান, গত ২৪ জুন পর্যন্ত এ বয়লারটি মেয়াদ ছিল। কিন্তু এরপর বয়লারটি নবায়ন করা হয়নি। তবে তিনি বলেন, 'কেবলমাত্র নবায়ন না করার কারণে বয়লারটি বিস্ফোরিত হতে পারে তা আমি মনে করি না। তারপরও এটি কারণ হিসেবে নিয়ে তদন্ত কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।' তিনি আরও জানান, তদন্ত কমিটি তাদের কাজ শুরু করেছে। দুর্ঘটনার কারণ নির্ণয় করার জন্য তদন্ত কমিটি ঘটনাস্থল পরিদর্শনসহ বিভিন্ন বিষয়ে পর্যালোচনা করছে। শিগগিরই দুর্ঘটনার কারণ নির্ণয় করা সম্ভব হবে। উল্লেখ্য, সোমবার রাতে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের কাশিমপুর নয়াপাড়া এলাকায় মাল্টি ফ্যাবস লিমিটেড নামের পোশাক কারখানায় বয়লার বিস্ফোরণে ১০ জন শ্রমিক নিহত এবং অর্ধশতাধিক আহত হন।

ফরাসি প্রেসিডেন্ট ম্যাত্রেঁদ্ধাকে হত্যাচেষ্টা

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাত্রেঁদ্ধাকে হত্যার পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। ১৪ জুলাই ফ্রান্সের জাতীয় দিবস বাস্তিল ডে’তে ম্যাত্রেঁদ্ধাকে হত্যার ষড়যন্ত্র করছিল ২৩ বছর বয়সী এক ফরাসি নাগরিক। উগ্র ডানপন্থী ওই যুবক একই সঙ্গে কৃষ্ণাঙ্গ, আরব, ইহুদি ও সমকামীদের হত্যা করতে চেয়েছিল। এমন অভিযোগে তাকে বুধবার আটক করা হয়। পুলিশ হেফাজতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের পর এসব তথ্য উঠে এসেছে। শনিবার তাকে সন্ত্রাসবাদের অপরাধে অভিযুক্ত করা হয়েছে। খবর দ্য গার্ডিয়ানের। ১৪ জুলাই বাস্তিল দিবসে ফ্রান্সে থাকার কথা রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের।
তার সামনেই ম্যাত্রেঁদ্ধাকে হত্যা করবে বলে ছক কষছিল ওই যুবক। প্যারিসের প্রসিকিউট সূত্রগুলো বলছে, আটক ওই যুবক তার উদ্দেশ্য সফল করতে অনলাইনে একটি ভিডিও গেমস ফোরাম থেকে অস্ত্র সংগ্রহের চেষ্টা করছিল। এ ওয়েবসাইটগুলোতে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা নজর রাখছিলেন। বিষয়টি তাদের নজরে এলে বুধবার সন্ত্রাসবিরোধী পুলিশ আরজেনটেউল এলাকায় তার ফ্ল্যাটে যায়। এ সময় সে রান্নাঘরের ছুরি দিয়ে তাদের হুমকি দেয়। কিন্তু সন্ত্রাসবিরোধী পুলিশ সদস্যরা শক্তি প্রয়োগ করে তাকে আটক করে এবং হেফাজতে নেয়। তার গাড়ি তল্লাশি করে আরও অস্ত্র পাওয়া গেছে।

প্রথম ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইসরাইল সফরে মোদি

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আজ ইসরাইল সফরে যাচ্ছেন। তিনিই হতে যাচ্ছেন ইসরাইল সফরকারী প্রথম কোনো ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী। ইসরাইলের সঙ্গে ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ২৫ বর্ষপূর্তিতে নরেন্দ্র মোদি এ সফরে যাচ্ছেন। খবর এএফপির। ইসরাইলের সঙ্গে দিন দিন বেড়ে চলা সম্পর্কের সূত্র ধরেই মোদি ইসরাইল সফরে যাচ্ছেন আর এ সম্পর্কের মূলে রয়েছে কয়েকশ’ কোটি ডলারের প্রতিরক্ষা চুক্তি। ভারত বিশ্বের বৃহত্তম অস্ত্র আমদানিকারক এবং ইসরাইল তাদের অন্যতম সরবরাহকারী। ইসরাইলি গণমাধ্যম বলছে দুটো দেশ প্রতি বছর শত কোটি ডলারের অস্ত্র চুক্তিতে আবদ্ধ থাকতে চায়। মোদি ক্ষমতায় আসার পর ইসরাইলের সঙ্গে বেশ কয়েকটি বড় অস্ত্র চুক্তি করেছে ভারত। গত এপ্রিলে ভারতে ২০০ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রির ঘোষণা দেয় ইসরাইলের রাষ্ট্রীয় অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান। এটাকে ইসরাইলের সবচেয়ে বড় অস্ত্রচুক্তি বলে মনে করা হয়। পরবর্তী সময় ভারতীয় নৌবাহিনীর কাছে আরও ৬৩ কোটি ডলারে ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রির ঘোষণা দেয় ইসরাইল। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে বিভিন্ন ইস্যুতে সমর্থন লাভের জন্য ইসরাইল অব্যাহতভাবে বন্ধু খুঁজে চলেছে এবং ভারত হতে যাচ্ছে নতুন সেই বন্ধুদেশ। ফলে স্বাভাবিকভাবেই নরেন্দ্র মোদির আসন্ন সফরকে ইহুদিবাদী ইসরাইল ‘ঐতিহাসিক’ বলে আখ্যা দিয়েছে। ইসরাইলের বিশ্লেষকরা বলছেন, নরেন্দ্র মোদি তেল আবিব সফরে গিয়ে সম্ভবত পশ্চিম তীরের রামাল্লাহ শহরে যাবেন না। সাধারণত বিদেশি কোনো প্রেসিডেন্ট কিংবা প্রধানমন্ত্রী ইসরাইল সফরে গেলে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও দেখা করেন। তবে, নরেন্দ্র মোদির ক্ষেত্রে তার ব্যতিক্রম ঘটতে যাচ্ছে। অবশ্য, গত মে মাসে ফিলিস্তিনি স্বশাসন কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস নয়াদিল্লি সফর করেছেন এবং সে সময় তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন। ভারত মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষার খাতিরে সবসময় ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের প্রতি সমর্থন দিয়ে এসেছে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে ভারতের লাখ লাখ শ্রমিক কাজ করেন। এসব দেশের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষার জন্য ভারত প্রথম দিকে ইসরাইলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠায় আগ্রহী ছিল না। হিন্দু জাতীয়তাবাদী নেতা মোদির সঙ্গে ইসরাইলের উগ্র মুসলিম বিদ্বেষী নেতা বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠতাকে স্বাভাবিক হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

জার্মানিতে যাত্রীবাহী বাসে লরির ধাক্কায় নিহত ১৮

জার্মানির বাভারিয়া রাজ্যে যাত্রীবাহী একটি বাসের সঙ্গে লরির সংঘর্ষে অন্তত ১৮ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ৩০ জন আহত হয়েছেন। স্থানীয় পুলিশ হতাহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। বিবিসি জানায়, সোমবার সকালে দক্ষিণ জার্মানির বাভারিয়া অঞ্চলের মুঞ্চবার্গ এলাকার বাস ও লরির মধ্যে সংঘর্ষের পর বাসটিতে আগুন ধরে যায়। জার্মানির স্যাক্সোনা থেকে দেশটির পেনশনভোগীরা বাসটিতে করে ঘুরতে বের হয়েছিলেন। বাসটি জার্মানির নুরেমবার্গের উদ্দেশে যাত্রা করেছিল। জ্বলন্ত বাস থেকে ৩০ জনকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকাজে উড়োজাহাজ ব্যবহার করা হয়। দুর্ঘটনার কারণে নুরেমবার্গের দিকে যাওয়ার রাস্তা সাময়িক বন্ধ হয়ে যায়। কী কারণে বাস ও লরির মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে তা এখনও জানা যায়নি। ওই সময় ট্রাফিকও স্বাভাবিক ছিল। কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে। বাসটিতে ৪৬ যাত্রী এবং দু’জন চালক ছিলেন। দমকলকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে না পৌঁছাতেই বাসটি পুড়ে ছারখার হয়ে যায়। ঘটনাস্থলেই একজন চালক নিহত হয়েছেন। হতাহতের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেল।

ইরানের বৃহত্তম গ্যাস খনির নিয়ন্ত্রণ চায় ভারত

ইরানের একটি বৃহত্তম প্রাকৃতিক গ্যাস খনির উন্নয়নে ১১০০ কোটি ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে ভারতের একটি কনসোর্টিয়াম। ভারতের বৃহত্তম তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি ওএনজিসির অন্তর্ভুক্ত ওই কোম্পানিটি জানায়, ইরানের গ্যাসক্ষেত্রের উন্নয়ন ছাড়াও এ প্রকল্পের আওতায় জ্বালানি রফতানির জন্য উপযুক্ত অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। এ প্রস্তাবের মাধ্যমে পারস্য উপসাগরীয় এ দেশটিকে ‘উপযুক্ত বিনিময়’ দেয়া হবে বলেও প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে। খবর এনডিটিভির। ওএনজিসি ভিদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নরেন্দ্র কুমার ভার্মা বলেন, ‘ফারজাদ-বি’ নামে ওই গ্যাসক্ষেত্রের প্রথম দফা উন্নয়নকাজের জন্য ৬০০ কোটি ডলার বিনিয়োগের একটি প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। বাকি অর্থ তরল প্রাকৃতিক গ্যাস রফতানির জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যয় হবে। এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ভার্মা বলেন, ভারতের ওই কোম্পানিটি এ প্রকল্প থেকে আসা সব গ্যাস ক্রয় করতে প্রস্তুত রয়েছে। আমরা আমাদের উত্তম প্রস্তাবটাই তাদের দিয়েছি। এখন সম্মত হওয়া না হওয়া তাদের নিজস্ব ব্যাপার। আমরা ইরানের কর্তৃপক্ষকে স্পষ্ট করে জানিয়েছি যে এর মাধ্যমে কিছু মৌলিক বিনিময়ও দেয়া হবে। ভারতীয় কোম্পানি ওই উন্নয়ন কাজ শুরু করতে পারলে ‘ফারজাদ-বি’ গ্যাসক্ষেত্র থেকে প্রতিদিন প্রায় ১ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করা যাবে। বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানিকারক দেশ হিসেবে ভারত তাদের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে গ্যাস কিনতে উৎসাহিত হচ্ছে। জ্বালানি খাতে বিনিয়োগে ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল হওয়ার পর তেহরান জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ ঘটাচ্ছে। পারস্য উপসাগরীয় দেশটি সোমবার ফ্রান্সের জ্বালানি কোম্পানি টোটাল এসএ ও চায়না ন্যাশনাল পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের সঙ্গে একটি আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষর করার পরিকল্পনা করেছে। এটি বিশ্বের বৃহত্তম প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্রের অফশোর সাউথ পার্স প্রকল্পটির অংশীদারিত্ব বজায় রাখার জন্য। এ ব্যাপারে ইরানের জ্বালানি মন্ত্রণালয় ও ন্যাশনাল ইরানিয়ান অয়েল কোম্পানি কোনো মন্তব্য করেনি। উভয় দেশ গ্যাসক্ষেত্রের উন্নয়নের জন্য চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির মধ্যে একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে চেয়েছিল। ভারত বলছে, ২০১২ সালে আবিষ্কৃত ইরানের ওই গ্যাসক্ষেত্রটিতে প্রায় ১৯ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস মজুদ রয়েছে। ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন এবং অয়েল ইন্ডিয়া লিমিটেড ২০০৯ সাল থেকে ফারজাদ-বি গ্যাসক্ষেত্রের উন্নয়নের অধিকার নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে। এপ্রিল মাসে ব্ল–মবার্গের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে বিলম্বের ফলে দুই দেশের মধ্যে তেল বাণিজ্যে ব্যাঘাত ঘটছে। তেহরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন কয়েকটি দেশের দেয়া নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও অপরিশোধিত তেল কিনেছে ভারত। সাম্প্রতিক সময়ে তেল ক্রয়ের পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছে নয়াদিল্লি। ভার্মা বলেন, এখন আমরা বিনিয়োগ করতে প্রস্তুত।

আলজাজিরা কেন সৌদি জোটের চক্ষুশূল

আরব বিশ্বের মুক্ত স্বাধীন গণমাধ্যম হিসেবে আলজাজিরা নিজেকে নতুন এক চূড়ায় নিয়ে গেছে বেশ আগেই। ভেঙে ফেলেছে পশ্চিমা সংবাদ মাধ্যমের কর্তৃত্বও। মধ্যযুগের পর সম্ভবত প্রথম তাদের হাত ধরেই পাশ্চাত্যের মানুষ প্রাচ্যের কথা শুনেছে প্রাচ্যের মানুষের মুখে। তবে ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত আলজাজিরা এখন বন্ধের হুমকিতে। সৌদি আবর, আরব আমিরাত, বাহরাইন ও মিসর গত মাসে কাতারের বিরুদ্ধে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ করেছে। অভিযোগ তুলেছে, দেশটি সন্ত্রাসবাদে মদদ দিচ্ছে আর তাতে ওই অঞ্চলের স্থিতিশীলতা নষ্ট হচ্ছে। কাতারকে সংশোধনের সুযোগ দিয়ে ১৩ দফা দাবি চাপিয়ে বলছে ৩ জুলাইয়ের মধ্যে সেগুলো মেনে নিতে, নইলে ভয়াবহ পরিণতি...। ১৩ দফা শর্তের প্রথমটিই হচ্ছে আলজাজিরা বন্ধ করতে হবে। দোহা যদি তা মেনে নেয় (না মানার ইঙ্গিতই দেখা যাচ্ছে), তবে দেশটি তার সার্বভৌমত্ব হারাবে, করদ রাজ্যে পরিণত হবে সৌদি ও আমিরাতের। শেষ পর্যন্ত যা-ই ঘটুক না কেন, এ পরিস্থিতিকে আলজাজিরার সাফল্য হিসেবেই মেনে নিতে হবে। প্রতিষ্ঠার ২১ বছর পরও তারা মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষমতাসীনদের চক্ষুশূল। খুব কম গণমাধ্যমই নিজেকে এতটা অনুপ্রেরণাদায়ী বলে দাবি করতে পারে। আলজাজিরা আবর গণমাধ্যমের খোল-নলচে পাল্টে দিয়েছে তো বটেই, ২০১০ সালে গোটা আরবজুড়ে সত্যিকারের রাজনৈতিক বিপ্লব জাগাতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে গণমাধ্যমটি। আলজাজিরার আগে আরব টেলিভিশন স্টেশনগুলো ছিল ক্ষমতাসীনদের দিনলিপি প্রদর্শনের মাধ্যম। আলজাজিরা সম্প্রচারে এসেই সেগুলোকে এককথায় উড়িয়ে দেয়। যাদের কণ্ঠস্বর কখনও শোনা যেত না, তাদের মুখপত্র বনে যায় গণমাধ্যমটি। হোক সে ইসরাইলি কিংবা মুয়াম্মার গাদ্দাফি, অথবা চেচেন বিদ্রোহী, কিংবা ওসামা বিন লাদেন। এমনও হয়েছে, ড. ফয়সাল আল কাশেমের ‘দ্য অপোজিট ডিরেকশন’ শো’র সময় শহরগুলো থাকত নিঝুম, সবার চোখ টিভি পর্দায়। ইরাকে ১৯৯৮ সালের ডেজার্ট ফক্স অপারেশনের কভারেজ, ৯/১১ পরবর্তী ওসামা বিন লাদেনের সাক্ষাৎকারসহ অসংখ্য স্কুপ স্টেশনটিকে বৈশ্বিক গ্রহণযোগ্যতা দিয়েছে। এমনকি আফগানিস্তানে মার্কিন জোটের অবরোধের সময় কয়েক সপ্তাহের জন্য আলজাজিরাই হয়ে উঠেছিল বিশ্বের নির্ভরযোগ্য নিউজ এজেন্সি। কারণ আফগানিস্তানে শুধু তাদেরই উপস্থিতি ছিল। আরব চ্যানেলগুলোর মধ্যে আলজাজিরা প্রথম অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার চর্চা শুরু করে। টকশোগুলোয় হাজির করে নতুন নতুন মুখ, যাদের আগে দেখা যেত না। আত্মঘাতী হামলা থেকে ঈশ্বরের অস্তিত্ব বিতর্কিত এমন অনেক বিষয়ই দারুণভাবে তুলে আনে তারা। এগুলো সবই সামাজিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয় ট্যাবু ভেঙে ফেলে এবং ওই অঞ্চলে সাংবাদিকতার নতুন মান বিশ্ববাসীর সামনে নিয়ে আসে। গণমাধ্যমটি আরব বিশ্বে গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের মতো ধারণার প্রবর্তন ঘটায় এবং বাক-স্বাধীনতার সীমানা আরও প্রশস্ত করে।
আলজাজিরা সম্প্রচারিত বিষয়গুলো ওই অঞ্চলের সরকারগুলোকে প্রতিনিয়ত চ্যালেঞ্জের মধ্যে ফেলে দেয়। ওমান ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের সব দেশের সঙ্গে কাতারের নিষ্পত্তি-অযোগ্য কূটনৈতিক বিরোধ দেখা দেয়। আলজাজিরার কণ্ঠরোধে হেন কোনো উপায় নেই যার প্রয়োগ হয়নি। সাংবাদিক গ্রেফতার, ব্যুরো অফিস বন্ধ করে দেয়া, একাধিক মামলা, কার্যালয়ে বোমা হামলা চালিয়ে সাংবাদিক হত্যা- বাদ যায়নি কোনো কিছুই। শেষ পর্যন্ত আলজাজিরার অস্ত্রেই তাকে খতমের প্রত্যাশা থেকে ২০০৩ সালে সৌদি সরকার চালু করে আল অ্যারাবিয়া টিভি। তবে কাতার ও তার প্রতিবেশীদের মধ্যে বৈরিতার একমাত্র কারণ আলজাজিরা নয়। সৌদি ও কাতার বিশ্বের দুটি ওয়াহাবি রাষ্ট্র হওয়া সত্ত্বেও দেশ দুটির মধ্যে ঐতিহাসিক ও মতাদর্শগত বেশ পার্থক্য রয়েছে। সৌদি জোটের ১৩ দফায় আলজাজিরা রয়েছে কারণ এটা কাতারের শক্তিমত্তার প্রতীক এবং তাদের নীতিগত অবস্থানের প্রকাশ। কিন্তু এর বাইরেও আরও গভীর এক কারণ আছে। এটা বুঝতে হলে পশ্চিমাদের জানতে হবে আলজাজিরার আদল দুটি- একটি ইংরেজি, আরেকটি আরবি। এর আরবি সংস্করণই কাতারের প্রতিবেশীদের গাত্রদাহের প্রকৃত কারণ। আলজাজিরার ইংরেজি সংস্করণের সঙ্গে পশ্চিমা দর্শকরা বেশ পরিচিত। মানসম্মত প্রতিবেদন, দৃষ্টিনন্দন ডকুমেন্টারি বিবিসি, সিএনএন, ফ্রান্স টোয়েন্টিফোর, রাশিয়া টুডের মতো আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের যোগ্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী করে তুলেছে একে। অনেক বিশেষজ্ঞ স্বীকার করেন যে উন্নয়নশীল দেশগুলো নিয়ে আলজাজিরা যে ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করে তার মান বিবিসি, সিএনএনেরও চেয়ে ভালো। আলজাজিরা নতুন রাজনৈতিক সচেতনতা এবং সামাজিক ন্যায়বিচায় ও মানবাধিকারের মতো বিষয়গুলো উপস্থাপন করায় তা কাতারের প্রতিবেশীদের অস্বস্তিতে ফেলেছে। আর সবচেয়ে বেশি ঘৃণা সৃষ্টি হয়েছে গণমাধ্যমটির একটি মনোভাবে। তা হল- এ অঞ্চলে একদিন না একদিন হয় বিপ্লব বা গণতান্ত্রিক নির্বাচনে মুসলিম ব্রাদারহুড ও হামাসের মতো রাজনৈতিক দলগুলো ক্ষমতায় আসবে বলে মনে করে আলজাজিরা। এ বিষয়ে চ্যানেলটির নিজস্ব মনোভাব রয়েছে, যেটা আবার কাতারি নেতৃত্বেরও ধারণা। যেহেতু বিষয়টি ইসরাইল ও পশ্চিমা অনেক দেশের জন্যই উদ্বেগজনক, সে কারণেই আলজাজিরা বন্ধের বিষয়টিতে গুরুত্ব দিয়েছে সৌদি জোট। শঙ্কাটা একেবারে অমূলক নয়। যে গুটিকয়েক সুন্নি আরব দেশে নির্বাচন হয়েছে, সেগুলোর অধিকাংশেই জিতেছে ইসলামী দলগুলো। যদিও তাদের ক্ষমতায় যেতে দেয়া হয়নি বা হটিয়ে দেয়া হয়েছে দ্রুতই। একদিন ফের তারা ক্ষমতায় আসবে কাতারের এই বিশ্বাসকে একেবারে উড়িয়ে দেয়া যায় না। কিন্তু কাতারের প্রতিবেশীদের জন্য এটা অস্তিত্ব সংকটের প্রশ্ন। কাতারের বিরুদ্ধাচারী আরব দেশগুলোর ক্ষমতাসীনরা জনপ্রিয় বিপ্লবের মাধ্যমে ক্ষমতায় থেকে উৎখাত হওয়ার ঝুঁকিতে আছে এবং সে শূন্যস্থান যে ইসলামী দলগুলো পূরণ করবে সে ব্যাপারে নিশ্চিত তারা। সুতরাং আলজাজিরায় এ দলগুলোর বৈধ অংশগ্রহণ তাদের অস্তিত্বের জন্য স্পষ্টত ঝুঁকি। আরব জনগণ তাদের দুর্নীতিগ্রস্ত ও অনির্বাচিত সরকারগুলোর ওপর ক্ষুব্ধ এবং ভবিষ্যতে বিকল্প কিছুর জন্যও প্রস্তুত। উদারপন্থী কিংবা ইসলামন্থী সুন্নি আরবদের একটি বড় অংশ আলজাজিরার গণতান্ত্রিক, ইসলামী উজ্জ্বল ভবিষ্যতের দৃষ্টিভঙ্গিকে অনুপ্রেরণাদায়ী মনে করে। গার্ডিয়ানে প্রকাশিত ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক হিউ মাইলসের নিবন্ধ

শিক্ষক যখন যৌন নিপীড়ক

শিক্ষক বা শিক্ষিকারা হলেন মানুষ গড়ার কারিগর। তাদেরকে দেখা হয় শিক্ষার্থীদের অভিভাবক হিসেবে। তারা শিক্ষার্থীদের দেন সঠিক দিকনির্দেশনা। কিন্তু তাদের কেউ কেউ যখন শিক্ষার্থীর জন্য হয়ে ওঠেন হায়েনার মতো তখন সংশ্লিষ্ট ওই শিক্ষক বা শিক্ষিকা সম্মানের জায়গাটি হারিয়ে ফেলেন। মানুষ তখন তাকে সম্মান করার পরিবর্তে ঘৃণা করে। এমনই এক পাশবিকতা জেগে উঠেছিল স্কটল্যান্ডের এক শিক্ষক জর্জ ফিশারের মধ্যে। সে এক ছাত্রীকে বেশি নম্বর দিয়ে প্রলুব্ধ করেছে। এরপর তার ধীরে ধীনে তার দিকে অগ্রসর হয়ে তার কুমারিত্ব হরণ করেছে। তাও আবার স্কুল চত্বরে। জর্জ ফিশার বিবাহিত। অনলাইন ডেইলি মিরর এ খবর দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, এক ছাত্রীর বয়স যখন ১২ বছর তখনই তার দিকে চোখ পড়ে জর্জ ফিশারের। সে তাকে বেশি নম্বর দিয়ে আকৃষ্ট করা শুরু করে। এভাবে তার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলে একসময় তার ভিতরের পিশাচটি বেরিয়ে আসে। ওই ছাত্রীকে তার শিকারে পরিণত করে। শয্যাসঙ্গী করে তার সম্ভ্রম লুট করে। ওই ছাত্রীর পিতামাতা যখন কর্মক্ষেত্রে ছুটে যেতেন তখনই জর্জ ফিশার তার বাড়িতে গিয়ে হাজির হতো। সেখানে অবাধে ওই ছাত্রীর সঙ্গে মেলামেশা করেছে সে। এ কথা সে স্বীকার করেছে জেনারেল টিচিং কাউন্সিলের কাছে। এ বিষয়ে যৌন অপরাধের একটি অভিযোগ নিবন্ধিত হয়েছে ৩১ শে জানুয়ারি। তবে রিপোর্টটি বিলম্বে প্রকাশ হয়েছে মঙ্গলবার। এতে বলা হয়েছে, এ অপরাধের জন্য ওই শিক্ষককে ৮ মাসের জেল দিয়েছে কিলমারনোক শেরিফ কোর্ট। রিপোর্টে বলা হয়েছে, ওই ছাত্রীর বয়স যখন মাত্র ১২ বছর তখনই তার সঙ্গে মোবাইল নম্বর বিনিময় করে জর্জ ফিশার। ছাত্রীটির বয়স ১৬ হলে তাদের সম্পর্ক মারাত্মক আকার ধারণ করে। এ সময় জর্জ ফিশার ওই ছাত্রীর বাসায় যাওয়া আসা শুরু করে। বিশেষ করে যখন তার মা-বাবা কাজের জন্য বাইরে বেরিয়ে যেতেন সেই সময়টাকে মোক্ষম সুযোগ হিসেবে বেছে নিতো জর্জ ফিশার। এ সময় ওই ছাত্রীর সঙ্গে বিছানায় লুটোপুটি খাওয়া শুরু করে। চলতে থাকে তাদের অবাধ যৌনাচার। শুধু বাসায়ই নয়, তাদের এই অবাধ সম্পর্ক স্কুলের ভিতরেও চলতে থাকে। জর্জ ফিশারকে ৮ মাসের জেল দেয়া হলেও এ বিষয়ে শুনানি চলছে।

হাত হারানো সিয়ামকে ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণের নির্দেশ

শরীয়তপুরে পল্লী বিদ্যুতের ছেঁড়া তারে জড়িয়ে দুই হাত হারানো সিয়াম খানকে ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদেশ পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডকে এ অর্থ পরিশোধ করার নির্দেশ দেয়া হয়। মঙ্গলবার বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ-সংক্রান্ত রুল নিষ্পত্তি করে এ আদেশ দেন। আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মাহবুব শফিক। সঙ্গে ছিলেন আবেদনকারী আইনজীবী সিফাত মাহমুদ। পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন। গত ৬মে দৈনিক যুগান্তরে 'বিদ্যুৎ বিভাগের অবহেলা: শরীয়তপুরে কলেজছাত্রের দুই হাত কেটে ফেলা হল' শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ হয়। এছাড়া দেশের বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমেও বিষয়টি ফলাও করে প্রকাশ হয়। প্রকাশিত এসব প্রতিবেদন যুক্ত করে গত মে মাসে আদালতে রিট করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সিফাত মাহমুদ। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে আদালত রুলসহ অন্তর্বর্তী আদেশ দেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে বিদ্যুৎ-সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর ওই এলাকায় যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিবাদীদের ব্যর্থতা কেন অবহেলা ঘোষণা করা হবে না এবং সিয়াম খান আহত হওয়ার জন্য কেন দায়ী করা হবে না এবং সিয়াম খানকে কেন ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে না, রুলে তা জানতে চাওয়া হয়। এ জন্য গত ২৯ মে আদালত অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা জানাতে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের সদস্য (ডিস্ট্রিবিউশন অ্যান্ড সাপ্লাই), জেনারেল ম্যানেজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি, সহকারী মহাব্যবস্থাপক (অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল ম্যানেজার, ও অ্যান্ড এম) নড়িয়া সাব-জোনাল অফিস শরীয়তপুর, সেক্রেটারি শরীয়তপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিকে আদালতে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দেন উচ্চ আদালত। এ ধারাবাহিকতায় তারা আদালতে হাজির হন।
৩০ মে শুনানিতে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের আইনজীবী আদালতে বলেন, অভ্যন্তরীণ তদন্ত চলছে। ওই চারজন ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতির আবেদন জানান। ওই দিন আদালত ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে তাদের অব্যাহতি দিয়ে ৪ জুলাই তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। আজ তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে উপস্থাপন করা হয়। পরে শুনানি শেষে আদালত এ রায় দেন। প্রসঙ্গত, গত ৫ এপ্রিল বিকালে নড়িয়ার বিঝারী এলাকায় ঝড়ে পল্লী বিদ্যুতের সঞ্চালন লাইনের তার ছিঁড়ে মাটিতে পড়ে যায়। ওই দিন সন্ধ্যায় বিঝারী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক মেম্বার মজিবুর রহমান বিষয়টি পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের জেলা কার্যালয়ে ফোনে জানান। পর দিন সকালে ওই সঞ্চালন লাইনের মেরামত করা হবে বলে মজিবুর রহমানকে জানানো হয়। কিন্তু সঞ্চালন লাইন মেরামত না করেই পর দিন ৬ এপ্রিল দুপুরে লাইনটি চালু করে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। ওই সময় ঝড়ে পড়ে যাওয়া সঞ্চালন লাইনের তারে জড়িয়ে শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া উপজেলার বিঝারী গ্রামের হতদরিদ্র ফারুক খানের ছেলে নড়িয়া সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণীর ছাত্র সিয়াম মারাত্মক আহত হন। এরপর তাকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিটে প্রেরণ করেন। পরে ১২ এপ্রিল তার দুটি হাতের কব্জির উপরের অংশ কেটে ফেলা হয়। এতে সিয়াম সারা জীবনের জন্য পঙ্গু হয়ে যায়।

ফরহাদ মজহারকে আদালতে নেয়া হবে: ডিবি

নিখোঁজের ১৯ ঘণ্টা পর যশোরের অভয়নগর থেকে উদ্ধার হওয়া কবি, সাহিত্যিক ও কলামিস্ট ফরহাদ মজহারকে ঢাকা মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে নেয়া হবে। মঙ্গলবার দুপুর সোয়া ১টার দিকে সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) যুগ্ম কমিশনার আবদুল বাতেন। পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, সার্বিক দিক বিবেচনা করে ফরহাদ মজহারকে আদালত নেয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, ফরহাদ মজহারের স্ত্রী’র করা জিডি অনুযায়ী ভিকটিম হিসেবে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নেয়া হবে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ফরহাদ মজহারকে আদালতে সোপর্দ করা হবে। এরপর আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান ডিবির এই যুগ্ম কমিশনার। সোমবার ভোর ৫টার পর শ্যামলির নিজ বাসা থেকে বের হবার পর নিখোঁজ হন ফরহাদ মজহার। তার নিখোঁজ হওয়া নিয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে আদাবর থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়।
সোমবার রাত ১১টার দিকে যশোরেরে নওয়াপাড়া বেঙ্গল টেক্সটাইল মিলের সামনে ঢাকাগামী হানিফ পরিবহনের একটি বাস থেকে তাকে উদ্ধার করে র‌্যাব। বাসটি খুলনা থেকে ছেড়ে আসে। পরে তাকে স্থানীয় অভয়নগর থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে রাতেই কড়া প্রহরায় তাকে পার্শ্ববর্তী ফুলতলা থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। আজ সকাল ৯টায় যশোর থেকে ফরহাদ মজহারকে প্রথমে ঢাকার আদাবর থানায় পরে সেখান থেকে মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে নেয়া হয়। এদিকে ফরহাদ মজহারকে উদ্ধারের পর সোমবার রাত ১টার দিকে খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি দিদার আহমেদ এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, প্রাথমিকভাবে আমাদের মনে হয়েছে, তিনি ঢাকা থেকে স্বেচ্ছায় খুলনায় ভ্রমণ করেন। দৈনন্দিন ব্যবহারের জিনিসসহ তার সঙ্গে ব্যাগপত্র ছিল। তবে এখনই এ বিষয়ে পুরোপুরি নিশ্চিত করে কিছু বলা যাবে না। তাকে ঢাকায় এনে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। পুলিশের এ দাবি নাকচ করে পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে ‘বাসার সিসিটিভির ভিডিও ফুটেজে তারা দেখেছেন, বাসা থেকে বের হওয়ার সময় তার হাতে কোনো ধরনের ব্যাগপত্র ছিল না।’ পরিবারের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, উদ্ধারের পর ফরহাদ মজহার পরিবারকে জানিয়েছেন- ‘সন্ধ্যার পর তার চোখের বাঁধন খোলা হয়’।

পূর্ব লন্ডনে মুসলিমদের এসিড হামলা আতঙ্ক by এডাম লুশার

পূর্ব লন্ডনে মুসলিমদের ওপর সাম্প্রতিক এসিড হামলার ফলে তারা এখন ঘর থেকে বের হতে আতঙ্কে আছেন। গত ২১ শে জুন পূর্ব লন্ডনের নিউহ্যামে উদীয়মান মডেল রেশাম খান (২১) ও তার কাজিন জামিল মুখতারের (৩৭) ওপর এসিড হামলা হয়েছে। তাদের গাড়ির জানালা দিয়ে ছোড়া হয়েছে এসিড। এর পর থেকে এসিড হামলার আতঙ্ক বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে প্রাথমিকভাবে পুলিশ বলেছে, বর্ণবাদী বা ধর্মীয় কোনো উদ্দেশে এমন হামলার পক্ষে তারা কোনো প্রমাণ পায় নি। তারা এটাকে দেখছেন ঘৃণাপ্রসূত অপরাধ হিসেবে। জন টমলিন (২৪) নামের এক যুবককে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। জামিল মুখতার এ হামলাকে ইসলামবিরোধী হিসেবে অবিহিত করছেন। এসিড হামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে আরো একই রকম হামলার খবর আসছে। অনেকেই ধরে নিচ্ছেন, মুসলিমরা অথবা দেখতে এশিয়ান এমন মানুষদেরকে টার্গেট করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার টাওয়ার হ্যামলেটে কমার্শিয়াল রোডে গাড়ি চালাচ্ছিলেন এশিয়ান বংশোদ্ভূত এক ব্যক্তি। এ সময় তার দিকে বিষাক্ত কিছু ছুড়ে দেয়া হয়। এতে তিনি দ্রুত সহায়তা পেতে গাড়ি থেকে বের হন। সঙ্গে সঙ্গে তার গাড়িটি নিয়ে চম্পট দেয় হামলাকারীরা। সামাজিক মিডিয়ায় আরো দুটি হামলার খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনা ঘটেছে শুক্রবার ইস্ট হ্যামে। একটি ঘটনায় এক নারীকে এসিড ছোড়া হয়েছে তার বাসার দরজায়। সেখানে একজন ব্যক্তি নিজেকে ডেলিভারি ম্যান পরিচয় দিয়ে হাজির হয়। এরপর ওই নারী ঘর থেকে দরজা খুলতেই তার ওপর এসিড ছোড়া হয়। এতে তার শরীরের বিভিন্ন অংশ পুড়ে যায়। প্লাশেট গ্রোভ এলাকায় আরেক নারীকেও এসিড ছোড়া হয়েছে। এমন অবস্থার প্রেক্ষিতে পূর্ব লন্ডনের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক তীব্র আকার ধারণ করেছে। তারা রোববার সন্ধ্যায় এ নিয়ে জরুরি বৈঠক করেছেন। তাতে যোগ দিয়েছিলেন টাওয়ার হ্যামলেটের মেয়র জন বিগস। সেখানে অধিবাসীরা তাদের অভিযোগের কথা শোনেন তিনি। জন বিগসকে জানানো হয়, ‘এসব হামলা এখন আমাদের ঘরের দরজায় পৌঁছে গেছে। আমাদের নারীরা, পুরুষরা, ছোটরা সবাই অনিরাপদ বোধ করছে। তারা ঘর থেকে বের হতে ভয় পাচ্ছে’। একই কথার প্রতিধ্বনি শোনা যায় স্থানীয় একজন ইমামের মুখে। তিনি বলেন, কিছু এসিড হামলা চালানো হচ্ছে ডাকাতি করার উদ্দেশে। এগুলোকে ঘৃণাপ্রসূত অপরাধ বলা যাবে না। তবে তিনি স্বীকার করেন, ‘তা সত্ত্বেও আমার স্ত্রী পর্যন্ত এখন ঘরের বাইরে যেতে ভয় পাচ্ছেন। তিনি কোনো অবস্থায়ই ঘরের বাইরে যেতে চাইছেন না। কারণ, তার ভয় তার মুখেও এসিড ছুড়ে মারা হতে পারে’। সামাজিক মিডিয়ায় তাই সতর্কতা দেয়া হচ্ছে। বলা হচ্ছে ‘যদি আপনাকে দেখতে ব্রাউন বা বাদামী বা পিঙ্গল বা এশিয়ান বলে মনে হয় তাহলে দয়া করে সতর্ক থাকুন। দক্ষিণ এশিয়ান অথবা দেখতে মুসলিম মনে হয় এমন ব্যক্তিদের টার্গেট করে এসব হামলা চালানো হচ্ছে’। এসব ঘটনায় পুলিশ শুধু একটি ঘটনাকে ঘৃণাপ্রসূত অপরাধ হিসেবে দেখছে। সেটি হলো রেশাম খান ও জামিল মুখতারের ঘটনা। বাকিগুলোকে ঘৃণাপ্রসূত অপরাধ হিসেবে না দেখে, দেখা হচ্ছে ডাকাতির ঘটনা হিসেবে। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যেসব অপরাধের কথা বলা হচ্ছে সেগুলো কি পুলিশে রিপোর্ট করা হয়েছে কিনা সে সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে পরিষ্কারভাবে কিছু জানা যায় নি। তবে দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্টকে স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড বলেছে, কমার্শিয়াল রোডে একজনের কাছ থেকে যে গাড়িটি চুরি হয়েছে সেটাকে তারা ডাকাতি হিসেবে দেখছে। স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের মুখপাত্র বলেছেন, এ ঘটনাটি রেশাম, জামিল ঘটনার মতো নয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ রকম আরেকটি অপরাধের কথা বলা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, ৮ই জুন লিটোনস্টোনে হুইপস ক্রস হাসপাতালের বাইরে জুনিয়র একজন ডাক্তার সৈয়দ নাদিম (৪৪) আক্রান্ত হয়েছেন। মুখোশ পরা চারজন ব্যক্তি মোটর সাইকেলে করে দ্রুত তার কাছে যায়। তারা চিৎকার করে তাকে বলতে থাকেÑ ‘তোমার কাছে যে অর্থ আছে সবটা আমাদের দিয়ে দাও। না হলে তোমার গলা কেটে ফেলবো’। এ সময় সৈয়দ নাদিমের মুখের ওপর এসিড স্প্রে করে দেয়া হয়। এতে তার মুখ ও বাহু মারাত্মভাবে পুড়ে যায়। তিনি যখন দেখেছেন এক ঘন্টার মধ্যে এ অ্যান্ড ই-এর চিকিৎসকরা আরো তিনজন এসিড আক্রন্ত ব্যক্তির চিকিৎসা করেছেন তখনই বৃটেনের জাতীয় স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে হোয়াটস অ্যাপে সতর্কতা দেয়া হয়েছে। সৈয়দ নাদিম বলেন, আমরা একটি টেক্সট ম্যাসেজ পাই। তাতে বলা হয়, গাড়ির জানালায় নক করা হচ্ছে। আপনি জানালা খুললেই এসিড ছোড়া হচ্ছে।
ইস্ট হ্যামে প্লাশেট গ্রোভে একজন নারী গাড়ি চালকের ওপর যেভাবে হামলা চালানো হয়েছে এসব ঘটনা সেই একই রকম। এমন অনেক ঘটনার খবর পাওয়া যাচ্ছে। মার্চে মেট্রোপলিটন পুলিশ বলেছে, লন্ডনের মধ্যে নিউ হ্যামে ২০১১ সাল থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে সবচেয়ে বেশি এসিড হামলা হয়েছে। এর সংখ্যা ৩৯৮। এক্ষেত্রে একই সময়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে টাওয়ার হ্যামলেট। সেখানে এসিড হামলা হয়েছে ৮৪টি। এসব ঘটনায় দেখা যায় লন্ডনজুড়ে এসিড হামলা দ্রুত বাড়ছে। ২০১৫ সালে এ সংখ্যা ছিল ২৬১। কিন্তু ২০১৬ তে এসে তা দাঁড়িয়েছে ৪৩১। বিশ্বে যত এসিড হামলা হয় তার মধ্যে নারীদের ওপর পুরুষরা বেশি হামলা চালায়। এমন ঘটনা শতকরা ৮০ ভাগ। যৌন সুবিধা নিতে অথবা বিয়েতে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণে প্রতিশোধ নিতে এমনটা করা হয়ে থাকে। কিন্তু বৃটেনে এসব হামলায় দেখা যাচ্ছে উচ্চ হারে পুরুষের ওপর পুরুষে এসিড হামলা চালাচ্ছে। ওদিকে রেশাম খান ও জামিল মুখতারের ওপর এসিড হামলার পর এসিড বিক্রির ওপর কঠোর বিধিবিধান দাবি করে একটি পিটিশনে স্বাক্ষর করেছেন কমপক্ষে ২ লাখ ৫৫ হাজার মানুষ। বুধবার সন্ধ্যায় পূর্ব লন্ডনের স্ট্রাটফোর্ড স্টেশনে এ জন্য একটি সংহতি সমাবেশ করবে স্ট্যান্ড আপ টু রেসিজম।
(লন্ডনের অনলাইন দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্টে প্রকাশিত লেখার অনুবাদ)

প্রতিবেদন দাখিলের নতুন তারিখ ৬ আগস্ট

ব্লগার নীলাদ্রি চট্টোপাধ্যায় নিলয় হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নতুন তারিখ ৬ আগস্ট নির্ধারণ করেছেন আদালত। তদন্তকারী সংস্থা ডিবি পুলিশ মঙ্গলবার মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দিতে না পারায় ঢাকা মহানগর হাকিম জসিম উদ্দিন নতুন এ দিন ধার্য করেন। উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ৭ আগস্ট রাজধানীর গোড়ানের ১৬৭ নম্বর বাড়ির পঞ্চম তলায় ব্লগার নিলয়কে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। পরে ঘটনার দায় স্বীকার করে বিবৃতি দেয় জঙ্গি সংগঠন আল-কায়েদার ভারতীয় উপমহাদেশ শাখা (একিউআইএস)। পরে এ ঘটনায় নিহত নিলয়ের স্ত্রী অজ্ঞাতপরিচয় চারজনকে আসামি করে খিলগাঁও থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার পর বিভিন্ন সময় আনসারুল্লাহ বাংলাটিমের সাত সদস্যকে গ্রেফতার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পরে তাদের বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডে নেয়া হয়।

ঈদযাত্রায় ৩১১ জনের প্রাণহানি: যাত্রী কল্যাণ সমিতি

ঈদযাত্রায় সারা দেশে বিভিন্ন দুর্ঘটনায় ৩১১ জন প্রাণ হারিয়েছেন। কেবলমাত্র সড়ক-মহাসড়কেই ২০৫টি দুর্ঘটনায় ২৭৪ জন নিহত হন। আহত হয়েছেন ৮৪৮ জন। এ ছাড়া নৌ-পথে ১টি দুর্ঘটনায় ৩ জন নিহত ও ১৪ জন আহত হয়েছে এবং রেলপথে ট্রেনে কাটা পড়ে পূর্বঞ্চলে ২৫ জন ও পশ্চিমাঞ্চলে ৯ জনসহ মোট ৩৪ জন নিহত হয়েছেন। ফলে সর্বমোট ২৪০টি দুর্ঘটনায় ৩১১ জন নিহত ও ৮৬২ জন আহত হয়েছেন। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির ‘ঈদযাত্রায় দুর্ঘটনা প্রতিবেদন-২০১৭’ এসব তথ্য জানানো হয়েছে। মঙ্গলবার ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করে সংগঠনটি। সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, প্রতিবছর ঈদযাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনা আশংকাজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় গত চার বছর ধরে বিষয়টি তারা পর্যবেক্ষণ করে আসছেন। এবারের ঈদে রেশনিং পদ্ধতিতে ছুটি থাকায় ঈদ যাত্রায় খানিকটা স্বস্তিদায়ক হলেও সড়ক দুর্ঘটনা বেড়েছে। ফলে বেড়েছে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও। প্রতিবেদনে বলা হয় ঈদযাত্রা শুরুর দিন ১৯ জুন থেকে ঈদ শেষে বাড়ি থেকে কর্মস্থলে ফেরা ১ জুলাই পর্যন্ত ১৩ দিনে সড়কে ২০৫টি দুর্ঘটনায় ২৭৪ জন নিহত ও ৮৪৮ জন আহত হয়েছেন। একই সময় নৌ-পথে ১টি দুর্ঘটনায় ৩ জন নিহত ও ১৪ জন আহত হয়েছে এবং রেলপথে ট্রেনে কাটা পড়ে পূর্বাঞ্চলে ২৫ জন ও পশ্চিমাঞ্চলে ৯ জনসহ মোট ৩৪ জন নিহত হয়েছেন। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির সড়ক দুর্ঘটনা মনিটিরিং সেলের সদস্যরা ২২টি জাতীয় দৈনিক, ৬টি আঞ্চলিক দৈনিক, ১০টি অনলাইনে সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ মনিটরিং করে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। তবে গত বছর ঈদুল ফিতরের তুলনায় এবার দুর্ঘটনার সংখ্যা কমলেও বেড়েছে মৃত্যুর হার। গত বছর দুর্ঘটনা ঘটে ১২১টি। এতে নিহত হয় ১৮৬জন। এবারের নিহতের সংখ্যা গত বছরের চেয়ে ৮৮জন বেশি। গত বছর আহত হয় ৪৪৬জন এবার এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৪৮ জনে।

আরও দুই সপ্তাহ চলবে ভ্রাম্যমাণ আদালত

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা বিষয়ে হাইকোর্টের দেয়া রায় আরও দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিত করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। মঙ্গলবার এ বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য ছিল। তবে রাষ্ট্রপক্ষের সময় আবেদনের প্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার নেতৃত্বাধীন সাত সদস্যের আপিল বিভাগ স্থগিতাদেশ দিয়ে শুনানি দুই সপ্তাহ মুলতবি করেন। এর আগে ভ্রাম্যমাণ আদালতকে 'অবৈধ' ঘোষণা করে দেয়া হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে গেলে শুনানির জন্য ছয় সপ্তাহ সময় পেয়েছিল রাষ্ট্রপক্ষ। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।
আর রিট আবেদনকারীর পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার হাসান এম এস আজিম। পৃথক তিনটি রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০১১ ও ২০১২ সালে জারি করা রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি শেষে বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি আশীষ রঞ্জন দাসের হাইকোর্ট বেঞ্চ গত ১১ মে ওই রায় দেয়। হাইকোর্টের ওই রায়ে বলা হয়, ২০০৯ সালের ভ্রাম্যমাণ আদালত আইনের ১১টি ধারা-উপধারা অবৈধ ও অসাংবিধানিক। একইসঙ্গে এ আইন বিচার বিভাগের স্বাধীনতারও পরিপন্থী বলে ঘোষণা করা হয়।

ফরহাদ মজহার ঢাকায়

যশোরের নওয়াপাড়া থেকে উদ্ধারের পর কবি, প্রাবন্ধিক ও গবেষক ফরহাদ মজহারকে ঢাকা আনা হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে তাকে ঢাকায় আনার পর আদাবর থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। আদাবর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) সুজিত কুমার সাহা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে একটি দল ফরহাদ মজহারকে ঢাকায় নিয়ে আসে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে। পরে সকাল ১০টার দিকে তাকে মিন্টো রোডের গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কার্যালয়ে নিয়ে ‍যাওয়া হয়। ফরহাদ মজহারকে ঢাকার আদাবর থানায় আনার পর তার পরিবারের সদস্যরা সেখানে তার সঙ্গে দেখা করেছেন। ফরহাদ মজহারের স্ত্রী ফরিদা আখতার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ফরহাদ মজহারকে উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘ফরহাদ মজহারকে উদ্ধারে আমরা খুশি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী চাইলে সব সম্ভব। তবে বাসায় না ফেরা পর্যন্ত উৎকণ্ঠায় আছি। এর আগে নিখোঁজের ১৯ ঘণ্টা পর সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে যশোরেরে নওয়াপাড়া বেঙ্গল টেক্সটাইল মিলের সামনে ঢাকাগামী হানিফ পরিবহনের একটি বাস থেকে তাকে উদ্ধার করে র‌্যাব। বাসটি খুলনা থেকে ছেড়ে আসে। পরে তাকে স্থানীয় অভয়নগর থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে রাতেই কড়া প্রহরায় তাকে পার্শ্ববর্তী ফুলতলা থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
সেখান থেকে আজ আনা হয় ঢাকা আদাবর থানায়। পরিবারের দাবি, ঢাকার শ্যামলীর নিজের বাসা থেকে সোমবার ভোর পাঁচটার দিকে একটা ফোন পেয়ে বের হয়ে যান ফরহাদ মজহার। এরপর তার মোবাইল ফোন ব্যবহার করে একাধিকবার মুক্তিপণ দাবি করা হয়। এরপরই ফরহাদ মজহারকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না জানিয়ে তার পরিবার আদাবর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করে। এদিকে ফরহাদ মজহারকে উদ্ধারের পর সোমবার রাত ১টার দিকে খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি দিদার আহমেদ এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, প্রাথমিকভাবে আমাদের মনে হয়েছে, তিনি ঢাকা থেকে স্বেচ্ছায় খুলনায় ভ্রমণ করেন। দৈনন্দিন ব্যবহারের জিনিসসহ তার সঙ্গে ব্যাগপত্র ছিল। তবে এখনই এ বিষয়ে পুরোপুরি নিশ্চিত করে কিছু বলা যাবে না। তাকে ঢাকায় এনে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। পুলিশের এ দাবি নাকচ করে পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে ‘বাসার সিসিটিভির ভিডিও ফুটেজে তারা দেখেছেন, বাসা থেকে বের হওয়ার সময় তার হাতে কোনো ধরনের ব্যাগপত্র ছিল না।’ পরিবারের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, উদ্ধারের পর ফরহাদ মজহার পরিবারকে জানিয়েছেন- ‘সন্ধ্যার পর তার চোখের বাঁধন খোলা হয়’।

ক্ষোভে ফুঁসছেন লাখ লাখ শিক্ষক

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক সিদ্ধান্তে ৫ লাখ শিক্ষক-কর্মচারীর মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর ও কল্যাণ সুবিধা দেয়ার লক্ষ্যে তাদের এমপিও’র অর্থ থেকে আগে ৬ শতাংশ হারে কেটে রাখা হতো। কিন্তু নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১০ শতাংশ অর্থ কেটে রাখা হবে। অথচ বাড়তি টাকা দেয়ার বিনিময়ে চাকরি শেষে তারা অতিরিক্ত কোনো আর্থিক সুবিধা পাবেন না। এ নিয়েই ক্ষোভে ফুঁসছেন শিক্ষকরা। মন্ত্রণালয়সহ শিক্ষা বিভাগের বিভিন্ন দফতরে কয়েকদিন ধরে অনেক শিক্ষককে ক্ষোভের কথা জানাতে দেখা গেছে। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকেও এ নিয়ে কেউ কেউ শিক্ষামন্ত্রীর বিবেকবুদ্ধি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। কেউ আবার তার পদত্যাগ দাবি করতেও পিছপা হননি। এ রকম মন্তব্য শিক্ষামন্ত্রীর জন্য বিব্রতকর হলেও ভুক্তভোগীরা বলছেন, জোরপূর্বক পকেট কাটার এ অন্যায় সিদ্ধান্ত বাতিল করা না হলে তারা আন্দোলনের পাশাপাশি আইনি লড়াইয়ে নামতে বাধ্য হবেন। এছাড়া বিক্ষুব্ধ শিক্ষকরা জানিয়েছেন, যারা এমন অন্যায় সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা শুধু শিক্ষকদের নয়, সরকারেরও ব্যাপক ক্ষতি করেছেন। তারা মনে করেন, নির্ঘাত আগামী জাতীয় নির্বাচনে ভুক্তভোগী লাখ লাখ শিক্ষক আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে চলে যাবে। ভোট তো দূরের কথা যেসব শিক্ষক প্রিসাইডিং অফিসার ও সহকারী প্রিসাইডিং অফিসারের দায়িত্বে থাকবেন তারা নেতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারেন।
জানতে চাইলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন যুগান্তরকে বলেন, বেসরকারি শিক্ষকদের কাছ থেকে অবসর ও কল্যাণ খাতে চাঁদা হিসেবে প্রতি তিন মাসে যে অর্থ পাওয়া যায়, তা অবসরপ্রাপ্তদের দাবি মেটাতে এক মাসেই খরচ হয়ে যায়। সেই হিসাবে ১২ মাসের চাঁদার অর্থ ৪ মাসে ব্যয় হয়। ফলে বাকি ৮ মাস শিক্ষকদের অবসর সুবিধার আবেদন নিষ্পত্তি করা কঠিন হয়ে পড়ছে। এ কারণে আবেদনের দীর্ঘ জট লেগে আছে। এই পরিস্থিতিতে শিক্ষক প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করেই চাঁদা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। শিক্ষকরা বাড়তি যে অর্থ দেবেন, তা তাদের পেছনেই ব্যয় হবে। প্রসঙ্গত, কল্যাণ ট্রাস্ট খাতে চাঁদা ২ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৪ শতাংশ হারে কেটে নেয়ার ব্যাপারে ১৫ জুন শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করে। অবসর বোর্ডের খাতে বর্তমানে ৪ শতাংশ হারে কেটে নেয়া হচ্ছে। এটা ৬ শতাংশ হারে কেটে নেয়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত আছে। দু’একদিনের মধ্যে প্রজ্ঞাপনও জারি হবে। মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা যুগান্তরকে এমনটি জানিয়েছেন। এদিকে সূত্র বলছে, নতুন এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে বছরে এভাবে প্রায় ৪২০ কোটি টাকা বেশি আদায় হবে। ২ শতাংশ হারে কল্যাণ তহবিলে মাসে ১৭ কোটির বেশি টাকা চাঁদা আদায় হয়। ৪ শতাংশ হারে এই অঙ্ক দাঁড়াবে প্রায় ৩৫ কোটি টাকা। অপরদিকে অবসর খাতেও প্রতি মাসে বর্তমানে প্রায় ৩৫ কোটি টাকা চাঁদা কেটে রাখা হয়। ৬ শতাংশ হার বাস্তবায়ন হলে এটা দাঁড়াবে প্রায় ৫২ কোটি। তবে বর্ধিত চাঁদা কাটার সিদ্ধান্ত কার্যকরের কোনো উদ্যোগ রোববার পর্যন্ত নেয়া হয়নি বলে জানান মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. এসএম ওয়াহিদুজ্জামান। শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান এবং অবসর বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্টের সাবেক সদস্য সচিব অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূঁইয়া যুগান্তরকে বলেন, গরিব শিক্ষকদের মাসিক বেতন থেকে বাড়তি টাকা কেটে নেয়ার এই সিদ্ধান্ত অযৌক্তিক, অমানবিক এবং লুটপাটের শামিল। তিনি বলেন, যাদের ক্লাসরুমের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই, সে ধরনের শিক্ষক নেতার সঙ্গে আলোচনা করে চাঁদা বাড়ানোর সিদ্ধান্তের মধ্যে সাধারণ শিক্ষকদের মতামতের প্রতিফলন নেই। চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলছি, সংকট নিরসনে বাড়তি কোনো টাকা কর্তনের প্রয়োজন নেই। বাড়তি টাকা ছাড়াই এ সমস্যা আমরাই সমাধান করতে পারি। সেলিম ভূঁইয়া ক্ষোভে সঙ্গে বলেন, ৪২০ কোটি টাকা কেটে নেয়ার সিদ্ধান্ত না পাল্টালে আগামী নির্বাচনে সরকার এর সমুচিত জবাব পাবে।
তবে অবসর সুবিধা বোর্ডের সদস্য সচিব অধ্যক্ষ শরীফ আহমদ সাদী যুগান্তরকে বলেন, বর্তমানে প্রায় ৬৭ হাজার শিক্ষক অবসরে গিয়ে আর্থিক সুবিধার জন্য অপেক্ষা করছেন। গত বছর জুন নাগাদ এটা ছিল ৭৫ হাজার। আবেদনের পাহাড় নিষ্পত্তির জন্য সব শিক্ষক নেতাকে নিয়ে সরকার বসেছিল। সেখানেই সরকারের পাশাপাশি শিক্ষকদের পক্ষ থেকে কন্ট্রিবিউশনের সিদ্ধান্ত হয়। সেই মোতাবেক সরকার গত বছরের বাজেটে জট দূর করতে অবসর বোর্ডে ১শ’ কোটি ও কল্যাণ ট্রাস্টে ৫০ কোটি টাকা থোক বরাদ্দ দেয়। এছাড়া অবসর বোর্ডে ৫শ’ কোটি টাকা সিডমানি (যা খরচ করা যাবে না) দিয়েছে। থোক বরাদ্দ, সিডমানির সুদ এবং চাঁদাসহ অন্যান্য অর্থ মিলিয়ে এক বছরে ৮ হাজার আবেদন নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়েছে। এবারের বাজেটেও অবসর খাতে দেড়শ’ এবং কল্যাণ খাতে ৫০ কোটি টাকা বিশেষ বরাদ্দ এসেছে। যেহেতু সরকার এগিয়ে এসেছে, তাই এক বছর পর শিক্ষকদের চাঁদা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত কার্যকরের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। কিন্তু বাড়তি হারে টাকা দেয়ার পরও শিক্ষকদের অবসরে গিয়ে আগের হারেই অর্থ তুলতে হবে। এ নিয়েই শিক্ষকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বেসরকারি শিক্ষক ফোরাম নামে ফেসবুকের একটি পেজে এ নিয়ে শিক্ষকদের ব্যাপক অসন্তোষ প্রকাশ করতে দেখা যায়। আনোয়ারুল আজীম নামে একজন ২৮ জুন লিখেছেন, ‘শুভঙ্করের ফাঁকি। একজন শিক্ষক যদি ২২ হাজার টাকা স্কেলে চাকরি শুরু করেন এবং ৩০ বছর চাকরি করেন তাহলে তার কাছ থেকে ১০% হারে অবসর সুবিধা ও কল?্যাণ ট্রাস্ট বাবদ কর্তন হবে ৭ লাখ ৯২ হাজার টাকা। অথচ ওই শিক্ষক যদি চাকরির শুরুতে ২২শ’ টাকার একটি ১০ বছর মেয়াদি ডিপিএস হিসাব খুলতেন তাহলে তিনি জমা দিতেন ২ লাখ ৬৪ হাজার টাকা। মেয়াদ শেষে যা বেড়ে হতো ৫ লাখ টাকা। এই ৫ লাখ টাকা ফিক্সড ডিপোজিট করলে পরবর্তী ৭ বছরে ১০ লাখ, ১৪ বছরে ২০ লাখ, ২১ বছরে ৪০ লাখ টাকা হতো। অপরদিকে একজন শিক্ষক ২৫ বছর চাকরি করলে সর্বশেষ স্কেলের ১০০ মাসের বেতনের সমপরিমাণ হিসাব করে অবসর সুবিধা ও কল্যাণ তহবিল থেকে পাবেন ২২ লাখ টাকা। তাহলে বেসরকারি শিক্ষকদের অবসর সুবিধা ও কল্যাণ ট্রাস্টে চাঁদা দিয়ে লাভ কী? তার চেয়ে বরং কাটাকুটি বন্ধ করে দিক, আমরা নিজেরাই সঞ্চয় করে ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সচেষ্ট হব।’ এ প্রসঙ্গে অবসর সুবিধা বোর্ডের সদস্য সচিব অধ্যক্ষ সাদী যুগান্তরকে জানান, ‘আমাদের সিদ্ধান্তকে দায়ী করতে এই শিক্ষক একটি কল্পচিত্র তুলে ধরেছেন। যে শিক্ষক এমন হিসাব তুলে ধরেছেন তার সারাজীবনে চাঁদা বাবদ এক-দেড় লাখ টাকা জমা হবে। অথচ তিনি নেবেন ২৪ থেকে ৪০ লাখ টাকা। তিনি বলেন, বাড়তি হারে এই টাকা নেয়া হচ্ছে, অনিষ্পন্ন ৬৭ হাজার আবেদনকারীর দায় পরিশোধের জন্য। জট না থাকলে চাঁদা হয়তো একদিন আগের অবস্থায় ফিরে যেতে পারে। একই আভাস দিয়েছেন কল্যাণ ট্রাস্টের সদস্য সচিব অধ্যক্ষ শাহজাহান আলম সাজু।
শিক্ষক ফোরামের ফেসবুক পেজে শুধু উল্লিখিত শিক্ষকই নন, আরও অনেকেই এ নিয়ে নানা মন্তব্য করছেন। তাতে অবসর-কল্যাণ ট্রাস্টের দুই সদস্য সচিবের ব্যাপারেও ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে। খোদ শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের পদত্যাগ দাবি এবং আন্দোলনের ডাক দেয়াসহ মামলার হুমকি দেয়া হয়েছে। ওয়ায়েশ আলী নামে একজন শিক্ষক লিখেছেন, ‘শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে বসে যারা জুন মাস থেকে ৪% অতিরিক্ত কর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তারা নিশ্চয়ই আওয়ামী লীগকে আগামী জাতীয় নির্বাচনে পরাজিত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। কারণ ৪% অতিরিক্ত কর্তনের ফলে শুধু ৫ লাখ শিক্ষক-কর্মচারীই সরকারের বিপক্ষে যাবে না। এর সঙ্গে তাদের পরিবার-পরিজন, আত্মীয়-স্বজন, শুভানুধ্যায়ী এবং সমাজের একটি বড় অংশ সরকারের বিপক্ষে চলে যাবে। তাছাড়া জাতীয় নির্বাচনে এই শিক্ষকরাই ভোট কেন্দ্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। আমরা বুঝতে পারছি না শিক্ষামন্ত্রীর বিবেকবুদ্ধি লোপ পেয়েছে কিনা!!’ আবদুস সালাম লেখেন, ‘৫% (বার্ষিক বর্ধিত বেতন) না দিয়ে অতিরিক্ত ৪% কাটার সিদ্ধান্ত বিশ্বাসঘাতকতা ছাড়া কিছুই না।’ মাহমুদুল হাসান মাহমুদ নামে একজন লিখেছেন, ‘শিক্ষক কল্যাণ ট্রাস্টের সচিব শাহজাহান সাজু যদি সত্যিকার শিক্ষকবান্ধব নেতা হতেন, তাহলে এমপিও শিক্ষকদের ৬% কর্তনের স্থলে ১০% শোনার পরই পদত্যাগ করতেন।’ ফরিদ আহমেদ লেখেন, শিক্ষক নেতাদের মুখে তালা কেন? জিএম শাওন নামে একজন লেখেন, ‘আগামীকাল (মঙ্গলবার) থেকে আন্দোলনের লক্ষ্যে আমরা সিরাজগঞ্জ সদর ও কাজিপুর উপজেলার প্রত্যেকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মতবিনিময় করতে যাচ্ছি। আপনারাও শুরু করুন।’ আরেক স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, ‘৩৮০০০ নয়, ৩৮০০ হলেই সারা বাংলাদেশ কেঁপে উঠবে। কিন্তু জাগতে হবে আমাকে, আপনাকে, সবাইকে। সময় হয়েছে রুখে দাঁড়ানোর।’ কামাল আহমেদ লিখেছেন, ‘আমরা আন্দোলনে নামব। মরলে মরব।’ আহসান টিটু লেখেন, ‘কোনো বাড়তি সুবিধা না দিয়ে অতিরিক্ত ৪% কর্তন করা বেসরকারি শিক্ষকদের প্রতি অন্যায়। ভাবছি, রিট করব- যদি আপনারা সঙ্গে থাকেন। একজন খ্যাতনামা ব্যারিস্টারের সঙ্গে প্রাথমিক কথাও বলেছি।’ মো. রাশেকুর রহমান রাসেল নামে একজন শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করে লেখেন, ‘শিক্ষকদের এই মুহূর্তে উচিত হবে শিক্ষামন্ত্রীর কাছে ন্যায্য অধিকার আদায় করে নেয়া, নয়তো শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করা।’ তবে আজাদ নজরুল নামে একজন লেখেন, ‘আমি আশাবাদী, বেসরকারি শিক্ষকদের ন্যায্য অধিকারগুলো সরকার কোনো আন্দোলন ছাড়াই মেনে নেবে।’
দুই খাতে আয়-ব্যয় : অবসর-কল্যাণ সুবিধার দাবি পরিশোধ করা হয় দুই উৎস থেকে আসা অর্থের মাধ্যমে। একটি চাঁদা, অপরটি ব্যাংকে গচ্ছিত ডিপোজিট ও সিডমানি থেকে সুদ বাবদ আয়। অবসর সুবিধা বোর্ডে বর্তমানে ৫শ’ কোটি টাকা সিডমানি এবং ১৪৭ কোটি টাকা ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ আছে। এর মধ্যে আবার ৯০ কোটি টাকা থেকে আসা সুদের অর্থে অফিস খরচ চালানো হয়। এ নিয়ে অবশ্য বোর্ড সদস্যদের আপত্তি আছে। অবসর বোর্ডের সদস্য সচিব অধ্যক্ষ সাদী বলেন, ব্যাংক থেকে সুদ বাবদ বছরে ৩৫ কোটি টাকা আসে। ৪ শতাংশ হারে বছরে চাঁদা আসে ২১৬ কোটি টাকা। এরপরও বছরে যে চাহিদা তাতে ২১৬ কোটি টাকা ঘাটতি থাকে। তবে চাঁদার বর্ধিত হার বাস্তবায়িত হলে বছরে আসবে আরও ২০৪ কোটি টাকা। এই প্রক্রিয়ায়ও অবশ্য কিছু আবেদন নিষ্পত্তিহীন থাকবে। তবে আবেদনের জট খুলতে সরকারের কাছে আগামী অর্থবছরে আরও বেশি থোক বরাদ্দ চাওয়া হবে। আবেদনের জট নিরসনে মোট ১৮শ’ কোটি টাকা দরকার। এর মধ্যে দুই অর্থবছরে আড়াইশ’ কোটি টাকা পাওয়া গেছে। অপরদিকে কল্যাণ তহবিলের আবেদনের জট খুলতে অতিরিক্ত ৬শ’ কোটি টাকা দরকার বলে জানান এর সদস্য সচিব অধ্যক্ষ সাজু। তিনি বলেন, এর মধ্যে দুই অর্থবছরে ১শ’ কোটি টাকা মিলেছে। বাকিটা আগামীতে পাওয়ার আশ্বাস পেয়েছি। কল্যাণ তহবিলে বর্তমানে মাসে শিক্ষকদের দাবি পূরণে ব্যয় হচ্ছে ৪০ থেকে ৪২ কোটি টাকা। শিক্ষকদের কাছ থেকে কল্যাণ ট্রাস্টে ২ শতাংশ চাঁদা বাড়ালে এটা ৩৫ কোটি টাকা হবে। এর সঙ্গে যুক্ত হবে প্রায় সোয়া ২শ’ কোটি টাকার এফডিআরের আয় থেকে ৩ কোটি টাকা। তারপরও কিছু আবেদন নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে না বলে মনে করেন অধ্যক্ষ সাজু। এজন্য আগামীতে বাজেটে থোক বরাদ্দ দরকার হবে। তবে জট খুলে গেলে বাড়তি চাঁদার অর্থ দরকার হবে না বলে জানান তিনি।

'সন্ধ্যার পর মজহারের চোখের বাঁধন খোলা হয়'

কবি, সাহিত্যিক ও কলামিস্ট ফরহাদ মজহারের উদ্ধারের খবরে সন্তোষ প্রকাশ করেছে তার পরিবার। ফরহাদ মজহারের স্ত্রী ফরিদা আক্তার সাংবাদিকদের বলেন, ফরহাদ মজহারকে উদ্ধার করা হয়েছে এটুকু জেনে স্বস্তি পাচ্ছি। আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী চাইলে সব সম্ভব। উদ্ধারের পর ফরহাদ মজহারের সঙ্গে কথাও হয়েছে বলে জানিয়েছেন ফরিদা আক্তার। ফোনে ফরহাদ মজহার সুস্থ রয়েছেন বলে পরিবারকে জানিয়েছেন। এদিকে পুলিশের খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি রাতে ফুলতলা থানায় এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন, অপহরণ নয়, স্বেচ্ছায় ভ্রমণে বের হয়েছিলেন কলামিস্ট ফরহাদ মজহার। তবে ফরহাদ মজহার পরিবারকে জানিয়েছে, সন্ধ্যার পর তার চোখের বাঁধন খোলা হয়।

খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিবেদন ১০ আগস্ট

নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খানের মিছিলে বোমা হামলার ঘটনায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন আদালত। মঙ্গলবার মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল না হওয়ায় আগামী ১০ আগস্ট প্রতিবেদন দাখিলের নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন ঢাকা মহানগর হাকিম নুর নাহার ইয়াসমিন। মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০১৫ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি মুক্তিযোদ্ধা পরিষদ বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচি পালনের জন্য গুলশানে সমবেত হয়। সেখানে সমাবেশ শেষে ২০ থেকে ৩০ হাজার সাধারণ মানুষ নৌ পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানের নেতৃত্বে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয় ঘেরাওয়ের উদ্দেশে রওনা হলে আসামিরা হত্যার উদ্দেশে তাদের ওপর বোমা হামলা চালায়। এ ঘটনায় ঢাকা যানবাহন ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন বাচ্চু বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান ও বিএনপি নেতা খন্দকার মাহবুবুর রহমানসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

কক্সবাজারে পাহাড়ধসে নিহত ১

কক্সবাজারের মহেশখালীতে পাহাড়ধসে মাটি চাপা পড়ে মনোয়ার আলম (৩৩) নামের এক নারী নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে উপজেলার হোয়ানক ইউনিয়নের মহুঘাটা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মনোয়ারা ওই গ্রামের নূর ইসলামের ছেলে। হোয়ানফ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল গণমাধ্যমকে জানান, পাহাড়ি ওই এলাকায় মনোয়ারা তার বাড়ির পাশে ভারী বৃষ্টির মধ্যে মাটি কেটে পানি সরিয়ে দিচ্ছিলেন। এসময় হঠাৎ পাহাড়ধসে মাটি চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

শিশুদের মুখে অমলিন হাসি, দুশ্চিন্তায় বাবা-মা

মুখে ফুটফুটে হাসি দু’জনের। আনমনে বিছানায় শুয়ে থেকে খেলা করে শিশু দু’টি। আবার খেলার ছলে বিছানায় ঘুমিয়ে পড়ে। অপরিচিত কাউকে দেখলেও তাদের মুখে অমলিন হাসি। দেখে বোঝার উপায় নেই শিশু দু’টির মাথা জোড়া লাগানো। তবে কষ্ট হচ্ছে তা তাদের দেখলেই বোঝা যায়। পাশ ফিরতে পারে না; ওপর হতেও পারে না। দু’জনকে একসঙ্গে কোলে নিতে বাবা-মা’রও ভীষণ কষ্ট হয়। কথা হচ্ছে পাবনার চাটমোহর উপজেলার আটলংকা গ্রামের দম্পতি রফিকুল ইসলাম-তাসলিমা খাতুনের দুই সন্তান রাবেয়া-রোকাইয়াকে নিয়ে।জানা যায়, ২০১৬ সালের ১৬ জুন পাবনার একটি ক্লিনিকে সিজারের মাধ্যমে জন্ম হয় এই মাথা জোড়া লাগানো যমজ কন্যা শিশুর। বর্তমানে তাদের বয়স এক বছর। এই দম্পতির সংসারে সাড়ে ৬ বছরের আরও একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। সিজার করার আগের দিন পর্যন্ত বাবা-মা জানতে পারেননি পেটে এমন যমজ শিশু আছে। এমনকি ডিজিটাল আলট্রাসনোগ্রাফিতেও বিষয়টি ধরা পড়েনি।
বাবা-মা’র স্বপ্ন ছিল সুস্থ, স্বাভাবিক শিশু নিয়ে আনন্দে ভরে উঠবে সংসার। কিন্তু মাথা জোড়া থাকায় তাদের নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তাদের। দিন যত যাচ্ছে শঙ্কা ততই বাড়ছে। জোড়া মাথার যমজ শিশু সেই আগ্রহের পরিবর্তে পরিবারে নিয়ে এসেছে নিরানন্দ। ঘরে নতুন অতিথি আসলেও স্বজনদের মাঝে নেই আনন্দ। তাদের আশা, অপারেশনের মাধ্যমে জোড়া মাথা আলাদা করা গেলে আনন্দে ভরে উঠবে পরিবার। রফিকুল ইসলাম ও তাসলিমা খাতুন যুগান্তরকে জানান, ‘মাথা জোড়া হলেও তাদের বর্তমান সময় পর্যন্ত আচরণ স্বাভাবিক। কিন্তু সমস্যা হয় খাওয়ানো, গোসল করানো, কোলে রাখা, উঠাবসা সবকিছুতে অস্বস্তি কাজ করে। এখন কষ্ট করে হলেও তাদের লালন পালন করতে হচ্ছে।’ রাবেয়া-রোকাইয়ার মাথা অপারেশনের মাধ্যমে আলাদা করা গেলে খুব ভালো হতো বলে জানান তারা। তবে এমন ঝুঁকিপূর্ণ ও ব্যয় বহুল অপারেশনে সরকারি ও বেসরকারি সহায়তা চাইলেন ওই দম্পতি। এ বিষয়ে চাটমোহর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. স ম বায়েজীদ উল ইসলাম যুগান্তরকে জানান, জন্মগত ত্রুটির কারণে জোড়া মাথার যমজ শিশুর জন্ম হয়। পরীক্ষা-নীরিক্ষার পর বোঝা যাবে তাদের মাথা আলাদা করা যাবে কি না। তিনি বলেন, অপারেশনের মাধ্যমে শিশু দু’টিকে আলাদা করা ব্যয়বহুল ও ঝুঁকিপূর্ণ। ঢাকায় নিয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

বেঞ্চ স্বল্পতায় দাঁড়িয়েই ক্লাস করছেন শিক্ষার্থীরা

শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীর তুলনায় বেঞ্চ স্বল্পতা রয়েছে। তাই দীর্ঘদিন ধরে দাঁড়িয়েই শ্রেণিকক্ষে পাঠ গ্রহণ করছেন শিক্ষার্থীরা। এ অবস্থায় পাঠে ঠিকমতো তাদের মনোযোগ দেয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছে রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার বুড়িরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তারা জানায়, বেঞ্চের অভাবে শ্রেণিকক্ষে দাঁড়িয়েই ক্লাস করতে হচ্ছে তাদের। এতে পড়াশুনায় ঠিকমত মনোযোগ দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। অনেক সময় ধরে দাঁড়িয়ে ক্লাস করায় তাদের পায়ে ব্যাথা সৃষ্টির কথাও বলেছেন কোনো কোনো শিক্ষার্থী। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিতে ৮৮১ জন শিক্ষার্থীর জন্য ১০টি শ্রেণিকক্ষ ও ১৩৫টি বেঞ্চ রয়েছে। প্রতিটি বেঞ্চে তিনজন করে বসা যায়। কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় বেঞ্চ কম হওয়ায় একেকটি বেঞ্চে ছয়জন ঠাসাঠাসি করে বসছে। তারপরও অনেকে বেঞ্চে বসার সুযোগ পায় না। তাই বাধ্য হয়ে অনেক শিক্ষার্থীকে দাঁড়িয়েই ক্লাস করতে হয়। ১৯৪৯ সালে ৩ একর ১৭ শতক জমির ওপর এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি গড়ে উঠে। বিদ্যালয়টিতে শিক্ষক-কর্মচারী আছেন ১৯ জন। শিক্ষকরা জানান, তিন বছর ধরে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের এই দুর্দশা চলছে। অনেক আবেদন-নিবেদনের পরও শিক্ষার্থীদের দুর্দশা লাঘবে কেউ এগিয়ে আসছে না। এ অবস্থার মধ্যেই পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। মঙ্গলবার সকাল ১১টায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বিদ্যালয়ের প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে বেঞ্চের অভাবে একাধিক শিক্ষার্থী দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে শিক্ষকের পাঠ গ্রহণ করছেন। আর প্রতিটি বেঞ্চে ৩ শিক্ষার্থীর জায়গায় ৫-৬ জন করে বসা। সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী লিতুন জেরা জানান, আগে আসলে বেঞ্চ পাওয়া যায়। পরে আসলে সবার শেষে দেয়ালের সঙ্গে দাঁড়িয়ে ক্লাস করতে হয়। স্যারদের বেঞ্চের কথা বললে বলেন ধৈর্য্য ধরতে। ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র রিয়াদুল কবির বলেন, অন্য স্কুলে সব ছাত্রের জন্য বেঞ্চ আছে। কিন্তু আমাদের স্কুলে নেই।
দাঁড়িয়ে ক্লাস করায় পড়ালোখায় মানোযোগ আসে না। অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী তাসলিমা খাতুন বলেন, আমাদের বসার বেঞ্চ নেই, রুম নাই, একটি ছোট বেঞ্চে ছয়জন করে বসতে হয়। গরমে ঠাসাঠাসি করে দাঁড়িয়ে ক্লাস করতে করতে পায়ে ব্যথা হয়। সহকারী শিক্ষক আরফিন হাবিব বলেন, ১০টি শ্রেণিকক্ষের মধ্যে ৩টিতে টিনের চালা। বৃষ্টি এলে এই ৩টি শ্রেণিকক্ষে টিনের ফুটো দিয়ে পানি পড়ে শিক্ষার্থীদের বই-খাতা ভিজে যায়। রোদ উঠলে টিন থেকে যেন আগুন বেরোয়। রুমে থাকা যায় না। তিনি বলেন, বেঞ্চ সংকট তো আছেই। শিক্ষার্থীদের দাঁড়িয়ে ঠাসাঠাসি করে ক্লাস করতে হয়। আগে ১৮০টি বেঞ্চ ছিল সেগুলো বেশির ভাগেই ভেঙে গেছে। এখন বর্তমান ৮৮১ জন ছাত্র-ছাত্রীর জন্য মাত্র ১৩৫টি বেঞ্চ আছে। এই শিক্ষক আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ক্লাস করতে দেখে নিজেরই খুব কষ্ট লাগে। প্রধান শিক্ষক কাশেম আলী বলেন, বিদ্যালয়টির এই অবস্থার কারণে ছেলেমেয়েদের পড়ালেখার খুবই ক্ষতি হচ্ছে। বিষয়টি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউএনওকে জানানো হয়েছে। তারাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিলুফা সুলতানার কাছে এ বিষয়ে জানতে মোবাইল ফোনে কল করলে তাকে পাওয়া যায়নি। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান লিটন জানান, উপজেলা পরিষদের আগামী মাসিক সমন্বয় সভায় এ বিষয়ে আলোচনা করা হবে।

মুখরোচক মৌসুমি ফল লটকন

কাঠের ঝুড়িতে কিংবা বেতের ঝুড়িতে আবার কখনও কিছুটা উঁচু থেকে ঝুলিয়ে থরে থরে রাখা হয় গোলাকৃত্রির একটি ফল যার নাম লটকন। মুখরোচক এই মৌসুমি ফল সব মহলের মানুষের কাছে বেশ পছন্দের। এর টক-মিষ্টি স্বাদ আপনাকে নিমিষেই নিয়ে যাবে শৈশবের সেই স্মৃতিমাখা মধুর সময়ে। একটি শক্ত খোসার আবরণে ঢাকা থাকে সম্পূর্ণ ফলটি। এর ভেতরে রয়েছে তিন থেকে চারটি দানা। কিছুটা চারকোনা আকৃতির এই দানা বা শাঁসগুলো মূলত দুটি রঙের হয়ে থাকে। লাল আর গোলাপি সাদা মিশ্রণ। এই ফলটি মূলত পাওয়া যায় জুন এবং জুলাই এই পুরোটা সময় জুড়ে। লটকনের বংশবিস্তার দু’ভাবে হয়ে থাকে। বীজ ও অঙ্গজ পদ্ধতিতে। লটকনের পুরুষ ও স্ত্রী-গাছ আলাদা হয়ে থাকে। বীজ দ্বারা বংশবিস্তার করলে স্ত্রী গাছের চেয়ে পুরুষ গাছের সংখ্যা বেশি হয় এবং ফল পেতে পাঁচ থেকে সাত বছর সময় লাগে। অঙ্গজ তথা কলম পদ্ধতি ব্যবহারে তিন বছরের মধ্যে ফল পাওয়া যায় ও গাছ খাটো হয় বিধায় ফল তোলা সহজ হয়। একটি বয়স্ক গাছ থেকে ১০০-১৫০ কেজি ফল পাওয়া যায়। জিবে জল আনা এ ফলের টক-মিষ্টি স্বাদের কাছে যে কোনো বয়সের মানুষ বন্দি। শুধু লবণের দানার গায়ে মাখিয়ে আপনি যেমন লটকন খেতে পারবেন আবার তার সঙ্গে যুক্ত করতে পারবেন মরিচ। অনেকে লবণ, লেবুর রস আর সঙ্গে মরিচ ও চিনি মাখিয়ে লটকনের ভর্তা তৈরি করে। গরমের দুপুরে যা আপনাকে দেয় প্রশান্তি। কাঁচা আর পাকা লটকন চেনার রয়েছে খুব সহজ পদ্ধতি। যে ফলগুলো দেখতে তুলনামূলক সবুজ তা এখনও খাবার যোগ্য হয়ে ওঠেনি। আর যে ফলগুলো হালকা কিংবা হলুদ আর সবুজ রং ধারণ করেছে তা খাওয়ার জন্য একদম প্রস্তুত। লটকন ফলটি এক এক স্থানে এক এক নামে পরিচিত। স্বাদের দিক দিয়ে এক হলেও নামের দিক দিয়ে আছে কিছুটা ভিন্নতা। কোথাও এটি পরিচিত লটকা নামে আবার কোথাও লটকাউ আবার ডুবি কিংবা কানাইজু, হাড়ফাটা নামে এর রয়েছে পরিচিতি। আর এই ফলটি পাকলে এর সুমধুর ঘ্রাণে ভরে ওঠে চারিদিক।
এ ফলটি কেবল মুখরোচকই নয়, এতে আছে নানা ভিটামিন। লটকন আপনার শরীরের যেমন ভিটামিনের চাহিদা পূরণ করতে পারে তেমনি পারে আপনার মুখের স্বাদের পরিবর্তন আনতে। যাদের মুখের স্বাদ খুব দ্রুত পরিবর্তন হয় তাদের জন্য লটকন হতে পারে খুব ভালো পছন্দ। লটকনে আছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি-১, বি-২ ও ভিটামিন সি। এছাড়া আছে ফসফরাস, ক্যালসিয়াম, ক্রোমিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও পটাসিয়াম। বেশিরভাগ লটকন ফল অ্যাস্করবিক এসিড, অ্যানজাইম, বায়োফ্ল্যাভনয়েডসমৃদ্ধ। লটকনে এসব কিছুর পাশাপাশি আছে ফ্যাট আর প্রোটিন। যা আপনার আর্থাইটিস রোগের জন্য উপকারী। ফোঁড়া এবং অন্যান্য ত্বকের রোগ সারাতেও লটকনের জুড়ি নেই। এছাড়া পাকস্থলীর ব্যথা আর খাবার হজমে সাহায্য করে এই লটকন। শুধু যে এই ফল উপকারী তাই নয় এর পাতাতেও আছে নানা গুণাবলী। লটকন গাছের পাতা শুকিয়ে গুঁড়া করে খেলে ডায়রিয়া থেকে উপশম পাওয়া যায়। লটকন গাছের ডাল আর বাকল চর্মোরোগের ক্ষেত্রে বেশ উপকারী। তাই খাবারের টেবিল থেকে শুরু করে আড্ডার মহল সব জায়গাতেই স্থান পায় এই ফলটি। এর টক-মিষ্টি স্বাদ আর সহজলভ্যতা একে খুব সহজেই পৌঁছে দেয় সবার কাছে।

নওগাঁয় নৈশপ্রহরীকে কুপিয়ে হত্যা

নওগাঁর মান্দা উপজেলায় মনছুর সরদার (৩৫) নামে মাদরাসার এক নৈশপ্রহরীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বত্তরা। সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। মনছুর উপজেলার ভালাইন গ্রামের আব্দুল মালেকের ছেলে। তিনি ভালাইন ইসলামীয়া দারুল উলুম কওমি হাফেজিয়া মাদরাসার আবাসিক হোস্টেলে অস্থায়ী ভিত্তিতে নৈশপ্রহরীর দায়িত্বে ছিলেন। স্থানীয়রা জানান, ওই মাদরাসার আবাসিকে ৩৫/৪০ জন শিক্ষার্থী থাকে। সোমবার রাতের খাবার খেয়ে মাদরাসার বারন্দায় শুয়ে ছিলেন মনসুর। রাত সাড়ে ১১টার দিকে কে বা কারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে বুকের ডান পাশে আঘাত করে পালিয়ে যায়। তার চিৎকারে স্থানীয়রা এসে বিষয়টি দেখে থানা পুলিশে সংবাদ দেয়। পরে পুলিশ এসে মনছুরকে গুরতর অবস্থায় উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ২টার দিকে তিনি মারা যান। মান্দা থানার ওসি আনিছুর রহমান বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তবে পরিবারটি খুবই দরিদ্র। পরিবারের বরাত দিয়ে ওসি বলেন, হত্যাকাণ্ডের সময় অন্ধকারে একজনকে দৌড়ে পালিয়ে যেতে দেখা গেছে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার সকালে নিহতের ছোটভাই মজিদুর রহমান বাদী হয়ে অজ্ঞাত নামে থানায় মামলা করেন। এ হত্যার সঙ্গে জড়িতদের আটকের চেষ্টা চলছে। মরদেহ উদ্ধার করে নওগাঁ সদর হাসপাতালে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান ওসি।

শায়েস্তাগঞ্জে দুই রেলসেতুর স্লিপার রক্ষায় বাঁশ!

আখাউড়া-সিলেট রেললাইনের হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ জংশনের আওতাধীন মকন্দপুর-সাটিয়াজুরী স্টেশন। এ রেল জংশনের পশ্চিমে দুই কিলোমিটার দূরত্বে সুতাং সেতু ও পূর্বে দুই কিলোমিটার দূরত্বে খোয়াই সেতুর কাঠের অর্ধেক স্লিপার নষ্ট হয়ে গেছে। নষ্ট স্লিপারগুলো রক্ষায় এখন ব্যবহার করা হচ্ছে বাঁশ ও কাঠ। এ অবস্থায় যে কোনো সময় বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন সহকারী প্রকৌশলী (পথ) রুহুল আক্তার খান যুগান্তরকে জানান, শায়েস্তাগঞ্জে ৯০ নম্বর সুতাং নদীর ওপর প্রায় ৭০ মিটার দৈর্ঘ্যরে সেতুতে ১৫০টি স্লিপার রয়েছে। এছাড়া ৯৮ নম্বর খোয়াই নদীর ওপর প্রায় ৮০ মিটার দৈর্ঘ্যরে সেতুতে ১৭৫টি স্লিপার রয়েছে। তিনি আরও জানান, রেলসেতুর পিলার ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমলে নির্মিত। কিন্তু পিলারগুলো কালক্রমে দুর্বল হয়ে যাওয়ায় অনেক স্থানে ফাটল এবং দেবে যায়। আবার কোনো স্থানে বালু উত্তোলনের ফলে সেতু দেবে যায়। সেতুটি সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার মধ্যে পড়েছে। সরেজমিন দেখা যায়, রেলওয়ের ৯ কি-ম্যান (রক্ষণাবেক্ষণকর্মী) সেতুর ওপরে নাটবল্টু লাগিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত স্লিপারের সঙ্গে নিচের গার্ডারের সংযোগ দেয়ার কাজ করছেন। এর মধ্যে খোয়াই ও সুতাং সেতুতে দুই কর্মী রয়েছেন। বাকি সেতুগুলো ৭ জনের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। সেতুর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত স্লিপারে পেরেক ঠুকে বাঁশের ফালি ও কাঠ লাগানো হচ্ছে। শায়েস্তাগঞ্জে দায়িত্বরত রক্ষণাবেক্ষণকর্মী নুরুজ্জামান ও আলমগীর বলেন, মকন্দপুর-সাটিয়াজুরী রেললাইনের সব সেতুর অধিকাংশ স্লিপার দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট হয়ে আছে। ট্রেন চলাচলের সময় ঝাঁকুনিতে নাটবল্টু খুলে স্লিপার জড়ো হয়ে যায় এবং সেতুর পিলার দুর্বল হয়ে যাওয়ায় সেগুলো নড়াচড়া করে। দিনে দুই-তিনবার এসে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখতে হয়। তারা আরও বলেন, স্লিপার যাতে স্থানচ্যুত না হতে পারে, সেজন্য বাঁশের ফালি ও কাঠ দিয়ে আটকে রাখা হয়েছে। তবে এ অবস্থায় ট্রেন চলাচলে যে কোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। ট্রেন চালক নাজমুল হক বলেন, ট্রেন চালানোর সময় রেললাইনের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা তাদের পক্ষে সম্ভব হয় না। যদি কোনো কারণে রেলসেতুর পুরনো পিলার দেবে যায় বা ভেঙে যায়, তবে মারাত্মক দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া কোনো কারণে স্লিপার স্থানচ্যুত হয়ে রেললাইন সরে গেলেও ট্রেন দুর্ঘটনায় পড়তে পারে। এ ব্যাপারে শায়েস্তাগঞ্জ রেলস্টেশনের মাস্টার জাহাঙ্গীর আলম যুগান্তরকে বলেন, রেললাইনের রক্ষণাবেক্ষণের কাজ তদারকি করা আমার কাজ নয়। আমি শুধু স্টেশনের ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে নিয়োজিত। তাই সুতাং ও খোয়াই রেলসেতুসহ অন্যান্য সেতুর স্লিপার নষ্ট এবং তাতে বাঁশ ও কাঠ লাগানো হয়েছে কিনা, তা আমার জানা নেই।

বাসের ধাক্কায় ইজিবাইকের ৩ আরোহী নিহত

দিনাজপুরের কাহারোলে বাসের ধাক্কায় ইজিবাইকের তিন আরোহী নিহত হয়েছেন। এসময় আহত হয়েছেন তিনজন। সোমবার দিবাগত রাত ১টার দিকে দিনাজপুর ঠাকুরগাঁও মহাসড়কের উপজেলার রামপুর ষোলমাইল নামক এলাকয় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- বকুল চন্দ্র রায় (৬৮), শুভ রায় (২২), বৈশাবু রায় (৬৮)। এরা সবাই উপজেলার দহন্ডা এলাকার বাসিন্দা। কাহারোল থানার ওসি মনসুর আলী সরকার জানান, রাতে হানিফ পরিবহনের একটি বাস ঢাকা থেকে ঠাকুরগাঁও যাচ্ছিল। পথে ওই এলাকায় বাসটি বিপরীতমুখী একটি ইজিবাইককে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়। এসময় আহত হয় তিনজন। আহতদের উদ্ধার করে দিনাজপুর আবদুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। নিহতদের মৃতদেহ ওই একই হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে বলে জানান ওসি।

গাজীপুরে পোশাক শ্রমিককে ছুরিকাঘাতে হত্যা

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের তেলিপাড়ার এলাকায় হাসানুর রহমান (৩০) নামে এক পোশাক শ্রমিককে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। মঙ্গলবার ভোর ৬টার দিকে তেলিপাড়ার ট্রাকস্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত হাসানুর রহমান শেরপুরের শ্রীবরদী থানার আজিজুর রহমানের ছেলে। তিনি স্থানীয় ন্যাভেন্ডা পোশাক কারখানার কিউসি পদে চাকরি করতেন। ভোগড়া ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই জাকির হোসেন জানান,  সকাল ৬টার দিকে তেলিপাড়ার ট্রাকস্ট্যান্ড এলাকায় কয়েকজন দুর্বৃত্ত হাসানুরকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়।এসময় গুরুতর আহত অবস্থায় ওই শ্রমিকে উদ্ধার করে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।এসআই জাকির আরও জানান, কী কারণে এবং কারা তাকে হত্যা করেছে সে বিষয়ে এখনি কিছু বলা যাচ্ছে না। এ ব্যাপারে তদন্ত চলছে। নিহতের লাশ ওই হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।

‘কছম কইয়ার, কেউ এক মুইট চাউল দিছে না’

সাড়ে তিন মাস থাকি পানিবন্দি। কছম (শপথ) কইয়ার, কেউ এক মুইট চাউল দিছে না। এখন ঢেউয়ে ঘরবাড়ি ভাঙিয়া নেরগি। ইলা দুর্ভোগে আর কতদিন কাটাইতাম।’ এভাবে আক্ষেপ প্রকাশ করেন বন্যাদুর্গত মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার ভুকশিমইল ইউনিয়নের বড়দল গ্রামের জামাল মিয়া (৭০)। তিনি জানান, তিনি একা বাড়ি পাহারার জন্য থেকে গেছেন। স্ত্রীসহ ছয় সন্তানকে পাঠিয়ে দিয়েছেন আত্মীয়ের বাড়িতে। শুধু কুলাউড়াই নয়, পাহাড়ি ঢল ও ভারি বর্ষণের কারণে দেশের বন্যাকবলিত কয়েকটি জেলায় বিশুদ্ধ পানি ও খাবার সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। অনেকে কোমর পানি ভেঙে কলসি নিয়ে দূরবর্তী স্থান থেকে খাবার পানি সংগ্রহ করছেন। ফলে বন্যাকবলিত এলাকায় পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পর্যাপ্ত ত্রাণ সরবরাহ নেই বলে অভিযোগ করেছেন বানভাসি মানুষ। এদিকে তিস্তা ও কুশিয়ারা নদীর পানি সোমবারও বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। কুড়িগ্রামে অরক্ষিত বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ। যুগান্তর ব্যুরো ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর- কুলাউড়া, জুড়ী ও বড়লেখা : মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার ভুকশিমইলের কাড়েরা গ্রামের যগেশ দাশ, আবদুল মালিক, তজমুল আলী, প্রণতি দাস জানান, ত্রাণ চাইতে গেলে মেম্বার-চেয়ারম্যানরা উল্টো ধমক দেন। ঘরে চাল নেই, চুলো জ্বলে না। চার দিকে পানি থৈথৈ। কিন্তু পান করার পানির জন্য চলছে হাহাকার। নলকুপগুলো বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় বিশুদ্ধ পানির খোঁজে ছুটতে হয় দূর-দূরান্তের উঁচু কোনো বাড়িতে। একই গ্রামের সাধন দাস, সজল দাস, শামল দাস জানান, এলাকার বেশির ভাগ মানুষের উঠোনে পানি। কারও ঘরে দুই-তিন ফুট পানি। পেশায় তারা মৎস্যজীবী হলেও তারা মাছ ধরতে পারছেন না। কারণ বন্যার পানি এতই বেশি যে, জাল দিয়ে মাছ ধরা সম্ভব হচ্ছে না। গত সাড়ে তিন মাস ধরে হাকালুকি হাওর পারের এ মানুষগুলো খেয়ে না খেয়ে কোনোমতে জীবন ধারণ করছেন। তাদের দাবি, হাওর তীরে এখনও ৫০ শতাংশ মানুষের কাছে সরকারি ত্রাণ সহায়তা পৌঁছেনি। গবাদিপশু নিয়েও বিপাকে পড়েছেন তারা। মৌলভীবাজারের জুড়ী ও বড়লেখা উপজেলায়ও বানভাসি মানুষের একই রকম দুর্দশা। হাওর তীরের বন্যাকবলিত এ তিন উপজেলায় শতভাগ মানুষ প্রকৃতির কাজ (প্রস াব-পায়খানা) সাড়ছেন বানের পানিতে। ফলে হাওর এলাকার পানি ভয়াবহ দূষণের মুখে পড়ছে। জুড়ী উপজেলার দুটি আশ্রয় কেন্দ্রে রয়েছে ২৫টি পরিবার। এর মধ্যে শাহাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয় কেন্দ্রে রয়েছে ১০টি পরিবার। আশ্রয় কেন্দে র দ্বিতীয়তলায় অবস্থান করছেন মানুষ। নিচতলায় তিন ফুট পানি। বিদ্যালয়ের টয়লেট বন্যাকবলিত হওয়ায় আশ্রিত মানুষকেও বন্যার পানিতে মলমূত্র ত্যাগ করতে হচ্ছে। এসব এলাকায় বিশুদ্ধ পানি ও খাবারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। ওএমএস ডিলার আজমল আলী জানান, ১ জুলাই থেকে চাল বিক্রি বন্ধ করে দেয়ায় প্রতিদিন ৩০০-৪০০ লোক ফেরৎ যাচ্ছে। কুলাউড়া উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে ওএমএস কার্যক্রম চালু ছিল। সেটি বন্ধ হওয়ায় মাসে বন্যাদুর্গত ৪২ হাজার পরিবার ওএমএসের চাল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
সিলেট : বালাগঞ্জ, ওসমানীনগর, গোলাপগঞ্জ ও জকিগঞ্জ উপজেলার দুর্গত এলাকায় বিশুদ্ধ পানি ও খাবার সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। ফেঞ্চুগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় এলাকায় বিশুদ্ধ পানীয় পানির সংকট দেখা দিয়েছে। সোমবার ফেঞ্চুগঞ্জে কুশিয়ারা নদীর পানি বিপদসীমার ১৩৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এদিন সকালে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী। সভায় ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার বন্যা পরিস্থিতি মনিটরিংয়ের জন্য বন্যা নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়। বন্যার্তদের সাহায্যে উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে দুই লাখ টাকা অনুদানের ঘোষণা দেন উপজেলা পরিষদের অস্থায়ী চেয়ারম্যান মো. শহিদুর রহমান রোমান। বিয়ানীবাজার প্রতিনিধি জানান, ফের কুশিয়ারার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় পুনরায় সিলেট-বিয়ানীবাজার আঞ্চলিক সড়কের মেওয়া মায়ন চত্বর অংশ তলিয়ে গেছে। এ সড়কের আঙ্গারজুর, বৈরাগী বাজার ও তেরাদল অংশের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় সোমবার থেকে ছোট ও মাঝারি যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। ঝুঁকি নিয়ে চলছে বাস ও মাল বোঝাই ট্রাক। নৌকাযোগে যাতায়াত করছেন এসব এলাকার লোকজন। বন্যাদুর্গত এলাকায় ত্রাণ বিতরণ করেছে বিয়ানীবাজার উপজেলা বিএনপি। জাতীয় পার্টিও দুর্গত সব ইউনিয়নে পর্যায়ক্রমে ত্রাণ বিতরণ করবে বলে জানান যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আবদুুল খালিক লালু। দক্ষিণ সুরমা উপজেলায় সোমবার নতুন করে বন্যাকবলিত হয়েছে তিনটি ইউনিয়ন। উপজেলা চেয়ারম্যান আবু জাহিদ জানান, দাউদপুর, মোগলাবাজার ও জালালপুর ইউনিয়নের বিস্তীর্র্ণ এলাকা বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে তিন উপজেলার অর্ধশতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহেদ মোস্তফা জানান, বন্যার সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য উপজেলায় কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। তবে চাহিদার তুলনায় ত্রাণ অপ্রতুল। গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, সোমবার সিলেটের গোলাপগঞ্জে বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শন করেন স্থানীয় এমপি ও শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। তিনি উপজেলার শরীফগঞ্জ ইউনিয়নের দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত লোকদের সঙ্গে কথা বলেন।
সিরাজগঞ্জে যমুনার পানি বৃদ্ধি : পানি উন্নয়ন বোর্ড সিরাজগঞ্জ পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণ বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী রণজিৎ কুমার সোমবার বিকালে জানান, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং থেমে থেমে ভারি বর্ষণের কারণে যমুনা নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ৭২ ঘণ্টায় সিরাজগঞ্জের কাছে যমুনার পানি ৩৭ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে ব্রহ্মপুত্র বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের বাইরে সমতল ও নিচু এবং চরাঞ্চলের ২৭টি ইউনিয়নের নিচু এলাকায় পানি ঢুকতে শুরু করেছে।
কুড়িগ্রাম : কুড়িগ্রামে অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধগুলো। জেলায় ২১০ কিলোমিটার বাঁধের মধ্যে গত কয়েক বছরের ভাঙনে ২১ দশমিক ২০ কিলোমিটার নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এ ছাড়াও ৫১টি পয়েন্টে অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে ৪৮ কিলোমিটার বাঁধ। বাঁধ ভেঙে পড়ায় ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছে হাজার হাজার পরিবার। কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড ও জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্র থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। জেলার রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের তৈয়ব খাঁ এলাকার আইজার রহমান বলেন, তিস্তা নদীতে পানি বাড়ার ফলে ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। এ পর্যন্ত আটবার নদীভাঙনের ফলে বাঁধে আশ্রয় নিয়েছি। এবার বাঁধও ভেঙে যাচ্ছে। জানি না পরিবার নিয়ে কোথায় যাব।
একই এলাকার কাঁচামাল ব্যবসায়ী মতিয়ার রহমান জানান, পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তিস্তা নদীতে ভাঙন বৃদ্ধি পেয়েছে। ইতোমধ্যে তৈয়ব খাঁ বাজারের একাংশ নদীতে বিলীন হয়েছে। ভাঙনের মুখে রয়েছে তৈয়ব খাঁ জামে মসজিদ, বিদ্যানন্দ নিন্মমাধ্যমিক বিদ্যালয়, তৈয়ব খাঁ বাজার, সর্বজনীন মন্দিরসহ শত শত বসতবাড়ি। রাজিবপুর উপজেলার মোহনগঞ্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন জানান, ব্রহ্মপূত্র নদের তীব্র ভাঙনে এই ইউনিয়নের নয়ারচর বাজারের ৪৯টি দোকানঘর বিলীন হয়ে গেছে।
গাইবান্ধা : উজান থেকে নেমে আসা ঢল এবং গত তিন দিনের ভারি বর্ষণে গাইবান্ধায় সব নদীর পানি ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, তিস্তা, করতোয়া, ঘাঘট, বাঙালিসহ সব নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নদী তীরবর্তী নিচু অঞ্চলগুলো ডুবে গেছে। বিশেষ করে সুন্দরগঞ্জ, সাঘাটা, ফুলছড়ি ও সদর উপজেলার চরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা ইতিমধ্যে পানির নিচে। ফলে বিভিন্ন এলাকায় পাট, আউশ ধান ও শাক-সবজিসহ উঠতি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
আলীকদম (বান্দরবান) : টানা দু’দিনের ভারি বর্ষণে বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় পাহাড়ি ঢলে মাতামুহুরী নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করেছে। আলীকদম-লামা-ফাঁসিয়াখালী সড়কের কয়েকটি পয়েন্টে পানি ঢুকে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। পানির নিচে রয়েছে কয়েকশ’ বাড়িঘর। পানিবন্দি হাজারো মানুষ।
রাউজান : রোববার রাত ও সোমবার দিবন্যাপী ভারি বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল এবং হালদা ও কর্ণফুলী নদীর উজানে পানিবন্ধি হয়ে পড়েছেন কয়েক লাখ মানুষ। রাউজান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) জোনায়েদ কবির সোহাগ বলেন, প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে আবারও বন্যা দেখা দিয়েছে। রাউজানে শতাধিক সড়ক, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও কয়েকশ’ ঘরবাড়ি পানির নিচে।
চকরিয়া (কক্সবাজার) : পাহাড় থেকে নেমে আসা ঢলের পানি কক্সবাজারের চকরিয়া অংশে মাতামহুরী নদীর দু’কূল উপচে লোকালয়ে প্রবেশ করেছে। চকরিয়া চিরিঙ্গা ব্রিজ পয়েন্টে মাতামুহুরী নদীর পানি বিপদসীমার ৩ ফুট উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। চকরিয়া উপজেলার সুরাজপুর-মানিকপুর ইউপি চেয়ারম্যান আজিমুল হক জানান, তার ইউনিয়নের সুরাজপুর-মানিকপুরের হিন্দুপাড়া, দক্ষিণপাড়া, মাঝেরপাড়া, চেয়ারম্যানপাড়া, খন্দকারপাড়া, মাতবরপাড়া ও বড়–য়াপাড়ায় ঢলের পানি ঢুকে পড়েছে। ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাট প্লাবিত হয়েছে।

দেশে ফিরলেন মির্জা ফখরুল

অস্ট্রেলিয়া থেকে দেশে ফিরেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সোমবার রাত সাড়ে ১১টায় সিঙ্গাপুর এয়ার লাইন্সের একটি ফ্লাইটে ঢাকায় পৌঁছান তিনি। গত ২০ জুন অস্ট্রেলিয়ার ক্ষমতাসীন দল লিবারেল পার্টির আমন্ত্রণে দলটির ৫৯তম ফেডারেল কনভেনশনে যোগ দিতে সিডনি যান বিএনপি মহাসচিব।
চেযারপারসনের প্রেস উইংয়ের কর্মকর্তা শায়রুল কবির খান যুগান্তরকে জানান, লিবারেল পার্টির কনভেনশন শেষ করে বিএনপি মহাসচিব ও তার স্ত্রী রাহাত আরা ক্যানবেরায় বড় মেয়ে মির্জা সামারুহর বাসায় যান। সেখানেই তারা ঈদ উদযাপন করেন। সিডনির আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত এই কনভেনশনে পর্যবেক্ষক হিসেবে যোগ দেয়া ছাড়াও বিএনপি মহাসচিব ‘এশিয়া-প্যাসিফিক ডেমোক্রেট ইউনিয়ন(ইপিডিইউ)’ এর সম্মেলনে অংশ নেন এবং সেখানে বক্তব্য রাখেন। এছাড়া মির্জা ফখরুল প্রধানমন্ত্রী লিবারেল পার্টির প্রধান ম্যালকম টার্নবুল ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

কারামুক্ত নেতাকর্মীদের সঙ্গে খালেদা জিয়ার সাক্ষাৎ

জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের মহানগরের সদ্য কারামুক্ত অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী বিএনপি চেযারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাত করেছেন। এসময় তারা চেয়ারপারসনকে ফুলের শুভেচ্ছা জানান। সোমবার রাতে গুলশান কার্যালয়ে এসে পৌঁছালে কারামুক্ত নেতারা দেখা করে এই শুভেচ্ছা জানান। সদ্য কারামুক্ত নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন-স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ইয়াসীন আলী, শহিদুর রহমান মামুন, মো. ইকবাল রিপন, হাসান আহমেদ, নবী হোসেন, শামীম আহসান, কামাল আহমেদ আসাদ, গোলাম কিবরিয়া শিপু, খান মুনির, মনির মৃধা, রেজাউল করীম সবুজ, মো ইলিয়াছ, মূর্তজা বশির আপেল, এস এম সায়েম, মো নাদিম, মো ফারুক, মো. মিজানুর রহমান, মো. সাইদুর রহমান রিপন, মো. মঈন, আনোয়ার হোসেন পিচ্ছি প্রমুখ। এছাড়াও এ সময় স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি সভাপতি শফিউল বারী বাবু, সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েল, সিনিয়র সহ-সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান, সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ, ফখরুল ইসলাম রিপন, এসএম জিলানি, রফিক হাওলাদার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

টিনএজারদের ব্রণ সমস্যা

ব্রণ টিনএজারদের সচরাচর সমস্যা। ব্রণ বা একনে শতকরা ৮০ ভাগ টিনএজারদের সমস্যা। ত্বকের সৌন্দর্যহানির জন্য ব্রণ দায়ী। ছেলেদের ব্রণ তীব্রতার দিক থেকে বেশি হলেও মেয়েদের ক্ষেত্রে সামাজিক কারণে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এটি এক প্রকার বিড়ম্বনা। ত্বকের ভেতর অবস্থিত সেবাসিয়াস গ্রন্থি থেকে সেবাম নামক এক প্রকার তৈলাক্ত পদার্থ বের হয় এবং লোমকূপের গোড়া দিয়ে ত্বকে এসে যায়। সেবাম উৎপাদন বেড়ে গিয়ে এবং এর নির্গমনের পথ বন্ধ হলে ব্রণ সৃষ্টি হয়ে থাকে। প্রোপাইনো ব্যাকটেরিয়াম একনে হচ্ছে ব্রণের জীবাণুর নাম। এন্ড্রোজেন হরমোনের কারণে ব্রণ বেশি হয়। এন্ড্রোজেনের প্রভাবে সেবাম নিঃসরণ বেড়ে যায়। টিনএজারদের শরীরে এই হরমোনের কার্যকারিতা বেশি হয়। যাদের ত্বক তৈলাক্ত ও মাথায় খুশকি আছে তাদের ব্রণ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। যারা ধুলোবালু ও রোদে বেশি বের হয় তাদেরও ব্রণ হতে পারে। কিছু কিছু ওষুধ ও জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়িও ব্রণের তীব্রতা বাড়ায়। ব্রণ দেখতে বিভিন্ন রকম হতে পারে। গুটিগুটি, দানাদার, লালচে গোটা, পুঁজসহ দানা, বড় চাকা ইত্যাদি হতে পারে। ব্রণের সঠিক চিকিৎসা না হলে বাজে ধরনের কালো দাগ পড়তে পারে। এ ছাড়া মুখে ছোট ছোট ক্ষত বা গর্ত সৃষ্টি হতে পারে। সৌন্দর্যহানি ও মানসিক নানা ভোগান্তির শিকার হয় ব্রণের রোগীরা। ব্রণের হাত থেকে রেহাই পেতে চিকিৎসা করা প্রয়োজন। ব্রণের চিকিৎসা দীর্ঘস্থায়ী। তাই রোগীর ধৈর্যধারণ প্রয়োজন। আধুনিক চিকিৎসার মাধ্যমে ব্রণের চিকিৎসা নিলে ব্রণ ভালো হবে। তবে এরপরে আর কখনও ব্রণ উঠবে এমন বলা যায় না। মুখ পরিষ্কার রাখা বা ত্বক সঠিক নিয়মে পরিষ্কার করা ব্রণের রোগীদের ক্ষেত্রে খুব প্রয়োজন। সঠিক সাবান দিয়ে দিনে তিনবার মুখ ধুতে হবে। আবার ব্রণের কালো দাগের রয়েছে আলাদা চিকিৎসা। তাই ব্রণের চিকিৎসার পাশাপাশি আগের ব্রণের কালো দাগ নির্মূলের জন্যও চিকিৎসা করানো প্রয়োজন। ব্রণ হলে হাত দিয়ে খুঁটবেন না এবং প্রয়োজনে চিকিৎসা করান। মনে রাখবেন, মুখ মনের আয়না।
ত্বক ও যৌনব্যাধি বিশেষজ্ঞ
আলরাজী হাসপাতাল, ফার্মগেট, ঢাকা।
মোবাইল- ০১৭১৫৬১৬২০০

সুন্দর সমাজের জন্যে পারিবারিক শিষ্টাচার

পরিবার হচ্ছে একটি সমাজ বা রাষ্ট্রের ক্ষুদ্রতম একক; কিন্তু এ ক্ষুদ্রতম এককের ওপরই নির্ভর করে একটি জাতির সভ্যতা। পরিবারের ভালো-মন্দ রাষ্ট্রকেও আলোড়িত করে। পরিবার হচ্ছে মানুষ তৈরির কারখানা। পরিবারেই মানবশিশুর জন্ম হয়, পরিবারেই বিকশিত হয় এবং ধাপে ধাপে পূর্ণাঙ্গ মানুষে পরিণত হয়। পরিবারেই ভালো মানুষের জন্ম হয়, আবার খারাপ মানুষের জন্ম হয়। পরিবারেই রাষ্ট্রনায়কদের জন্ম হয়, আবার সভ্যতা ধ্বংসকারী নরপিচাশের জন্ম হয়। এই যে ভালো-মন্দের পার্থক্য, তা গড়ে দেয় যে বিষয়টি তাহল পারিবারিক শিষ্টাচার। শিষ্টাচার কী? মানুষের আচার-আচরণ, কথা, বার্তা, কার্যকলাপ, ভাববিনিময় ইত্যাদি সুন্দররূপে, ভদ্ররূপে প্রকাশিত হওয়াই শিষ্টাচার। শিষ্টাচার হল মানুষের চরিত্রের অলংকার। যেসব গুণাবলি মানুষের চরিত্রকে সুন্দর, আকর্ষণীয় ও গৌরাম্বিত করে তুলে তার মধ্যে শিষ্টাচার বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। সত্য কথন, পরোপকার, ক্ষমা, দয়া-দানশীলতা, ভক্তি, শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা, সম্প্রীতি ও ভালোবাসা, ক্ষমা, ধৈর্য, সহিষ্ণুতা, শালীনতা, বিনয়, ভদ্রতা ইত্যাদি বিশ্বজনীন গুণাবলি নিজের মধ্যে ধারণ, অনুশীলন এবং এর বিপরীত বিষয়গুলো বর্জন করাই হচ্ছে শিষ্টাচার। শিষ্টাচারের অভ্যাস বা কৌশল রপ্ত করার প্রাথমিক ও প্রধান শিক্ষালয় হল পরিবার। একজন শিশু কিছু বুঝতে শিখলেই সে মা-বাবা, ভাইবোন এবং নিকটাত্মীয়ের কথা, বার্তা ও আচার-আচরণ অনুসরণ করার চেষ্টা করে। সংসারে যদি মা-বাবার মধ্যে অশান্তির সৃষ্টি হয়, ঝগড়া-ফ্যাসাদ লেগে থাকে, তাহলে শিশুর মনে বিরূপ প্রভাব পড়ে। ফলে ভবিষ্যতে নেতিবাচক মানুষ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। পক্ষান্তরে মা-বাবা বা সংসারের অন্য বড়দের সৌহার্দ্যপূর্ণ সহঅবস্থান ও ভালোবাসা পূর্ণ পরিবেশে বেড়ে উঠা শিশু পরিপূর্ণভাবে বিকশিত হয়, একজন সত্যিকার মানুষ হিসেবে গড়ে উঠে। নৈতিক শিক্ষা পারিবারিক শিক্ষার একটি বড় দিক। নৈতিক শিক্ষা শিশুর মধ্যে সৎ গুণাবলির সঞ্চার করে। আর এ সৎ গুণ তার ভবিষ্যৎ জীবনকে সুন্দর করে তোলে। শিশুরা যা দেখে তাতেই প্রশ্ন করে। অনেক সময় বড়রা বিরক্ত হয়ে ছোটদের ধমক দিয়ে থাকে; কিন্তু এটি ঠিক নয়। এতে শিশুর শেখার বা জানার আগ্রহ নষ্ট হয়ে যায়। কারণ শিশুরা প্রশ্নই করে নতুন কিছু জানার জন্য। তাকে ধমক বা শাসন না করে বিষয়বস্তু বুঝিয়ে বলুন। তাদের সঙ্গে কোমল আচরণ করুন। পাশাপাশি এ শিষ্টাচার শেখাতে হবে, বড়দের জরুরি কোনো কথা বলার সময় যেন অহেতুক প্রশ্ন না করে বা বিরক্ত না করে। অনেকে প্রাইভেসির নামে সন্তানকে দূরে সরিয়ে রাখে, আবার অনেকে সন্তানকে ভালোবাসে বলে নিজের প্রাইভেসি নষ্ট করে। সন্তানকে শেখাতে হবে কারও রুমে ঢুকতে হলে তার অনুমতি নেয়া প্রয়োজন। পরিবারের বড়দের যথাযথ সম্মান এবং ছোটদের স্নেহ-ভালোবাসা দিতে হবে। কারও মতামতকে উপেক্ষা না করে ধৈর্যসহকারে শুনতে এবং গুরুত্ব দিতে হবে। তার মতামতও যুক্তিসঙ্গত এবং ফলপ্রসূ হতে পারে। ছোট বলে পাত্তা না দিলে একসময় তার মন বিদ্রোহী হয়ে উঠতে পারে। পাশাপাশি তাকে গুরুত্ব দিলে সে আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠবে এবং বড়দের প্রতি বিশ্বস্ত ও অনুগত থাকবে। পরিবারে ছোট-বড় সবার মাঝে পারস্পরিক সালাম বিনিময়ের অভ্যাস গড়ে তুলুন। বাসা থেকে বের হওয়ার সময় বাবা-মা, কারও বাবা-মা না থাকলে স্ত্রীকে বলে বের হোন।
ছোটরা অবশ্যই বড় কাউকে না বলে বাইরে যাবে না। বাসায় ফেরার পর অন্যদের খোঁজখবর নিন। জীবন-জীবিকার তাগিদে ব্যস্ততা থাকতেই পারে। ব্যস্ততা যতই থাকুক না কেন, অন্ততপক্ষে দিনে একবার পরিবারের সঙ্গে খাওয়া প্রয়োজন। খাবার টেবিলে বয়োজ্যেষ্ঠদের খাবার উঠিয়ে দিন বা সাধাসাধি করুন। এতে মনে তিনি সুখ পাবেন। ভাববে বৃদ্ধ হলেও তারা সংসারে অপাঙক্তেয় নয়। তাদের স্বাস্থ্যের নিয়মিত খোঁজখবর নিতে হবে। এতে তারা নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ ভাববে। পারিবারিক কোনো বিষয়ে সবাই মিলে একমতে পৌঁছাতে চেষ্টা করুন। পারিবারিক অনুষ্ঠানে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ করুন। পরিবারে স্বামী-স্ত্রীর বিবাহকেন্দ্রিক যে জীবন গড়ে উঠে তা কিন্তু সাধারণত সুখ-শান্তি দিয়েই শুরু হয়। এ সুখ-শান্তি বজায় রাখতে হলে স্বামী-স্ত্রী পরস্পর-পরস্পরের প্রতি বিশ্বস্ত থাকতে হবে। পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকতে হবে। একজনের কাজ কর্মে অন্যজনকে যথাসম্ভব সহযোগিতা করতে হবে। স্ত্রী সংসারের কাজ করতে করতে অস্থির যাবে আর স্বামী সোফায় বসে পায়ের ওপর পা তুলে হুকুম দিয়ে যাবে এটি ঠিক নয়। গৃহস্থালি কাজে স্ত্রীকে সহযোগিতা করায় অগৌরবের কিছু নেই। এটি শুধু কাজ নয়, এটি স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ। নিজের আত্মীয়স্বজন বা অন্যদের সামনে তাকে হেয় করা উচিত নয়। পরিবারের কোনো আত্মীয়স্বজন বেড়াতে এলে অনেকে উটকো ঝামেলা মনে করেন। মেহমান এলে তাদের সাদরে গ্রহণ করুন এবং যথাসম্ভব আপ্যায়নের ব্যবস্থা করুন। হাসিমুখে কথা বলুন। প্রতিবেশীদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ ও সদ্ভাব বজায় রাখুন। তাদের সঙ্গে বিনয়ীভাবে কথা বলুন এবং বিপদে-আপদে সহযোগিতা করুন। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করুন। মেহমান এবং প্রতিবেশীর মাধ্যমেই কিন্তু আপনার পরিবারের ইমেজ বাইরে প্রচারিত হয়। ব্যক্তি জীবনে বিনয়ী ও ভদ্র আচরণে অভ্যস্ত হোন। ভুল করলে ক্ষমা প্রার্থনা করুন- এতে লজ্জার কিছু নেই। প্রশংসা করুন যখন কেউ সেটা প্রাপ্য হয়। কারণ প্রশংসা পেতে সবাই ভালোবাসে। বস্তুনিষ্ঠ বিতর্ক করুন, কাউকে ব্যক্তিগত আক্রমণ নয়। নিজের মধ্যে শিষ্টাচারের গুণাবলি ধারণ করুন এবং তা নিজে ও নিজ পরিবারে অনুশীলন করুন। আমাদের সবার শিষ্টাচারই পরিবার এবং সমাজকে সুখময় ও শান্তিময় করে তুলবে।

মুখরোচক খাবার

হায়দ্রাবাদি বিরিয়ানি
যা লাগবে : মাটন ১ কেজি, বাসমতী চাল ৫০০ গ্রাম, পেঁয়াজ বেরেস্তা ১ কাপ, পেঁয়াজ বাটা ১ কাপ, আদা বাটা ১ টেবিল চামচ, রসুন বাটা ১ টেবিল চামচ, জিরার গুঁড়া ১ চা চামচ, ধনিয়া গুঁড়া ১ চা চামচ, জয়ত্রী গুঁড়া আধা চা চামচ, জয়ফলের গুঁড়া ১ চা চামচের ৩ ভাগের ১ ভাগ, পোস্তদানা বাটা ১ চা চামচ, কাঠবাদাম বাটা ১ চা চামচ, পেস্তাবাদাম বাটা ১ চা চামচ, আলুবোখারা ৬-৭টি, গোলমরিচের গুঁড়া আধা চা চামচ, গরম মশলার গুঁড়া আধা চা চামচ, কিশমিশ ২ টেবিল চামচ, কাঠবাদাম ও পেস্তাবাদাম কুচি ২ টেবিল চামচ, দারুচিনি-এলাচি ৪-৫টি করে, লবঙ্গ ৩টি, ঘি আধা কাপ, তেল আধা কাপ, টমেটোসস আধা কাপ, টকদই ১ কাপ, লালমরিচের গুঁড়া ২ চা চামচ, কাঁচামরিচ ৭-৮টি, পুদিনাপাতা কুচি ৩ টেবিল চামচ, জর্দার রং ২ চিমটি, হলুদ ফ্রুটস কালার ১ ফোঁটা, জাফরান পরিমাণমতো লবণ স্বাদমতো।
যেভাবে করবেন : প্রথমে চাল ২০ মিনিট পানিতে ভিজিয়ে রাখবেন। এরপর চাল সিদ্ধ করে নেবেন। চাল এমনভাবে সিদ্ধ করবেন যাতে ঝরঝরা থাকে। আর চাল সিদ্ধ করার সময় সামান্য তেল, সামান্য ঘি দেবেন তাতে, চাল ঝরঝরা থাকবে। চালের সঙ্গে তেজপাতা, দারুচিনি, এলচ ২টি করে দেবেন তাতে সুন্দর ফ্লেবার আসবে। এরপর একটি পাত্র নিন। মাটন পাত্রে নিন। তারপর মাটনের সঙ্গে টকদই, লেবুর রস, পেঁয়াজ বাটা, আদা বাটা, রসুন বাটা, লালমরিচের গুঁড়া, জিরার গুঁড়া, ধনিয়া গুঁড়া, গরম মশলার গুঁড়া, জয়ত্রী, জয়ফলের গুঁড়া, লবঙ্গ, কাঠবাদাম, পেস্তাবাদাম বাটা, লবণ, টমেটোসস দিন। এবার সব মশলা হাত দিয়ে মাংসে লাগিয়ে দিন। ম্যারিনেট করে মাংস ফ্রিজে রেখে দিন ১ ঘণ্টা। তারপর একটি প্যানে তেল গরম করে দারুচিনি, এলাচ, তেজপাতা ভেজে নিন। এরপর ম্যারিনেট করা মাংস দিন। মাংসগুলো ভালো করে কষাতে থাকুন। তেল ওপরে উঠে এলে কাঁচামরিচ দিয়ে দিন। ২ মিনিট পর চুলা থেকে মাংস নামিয়ে নিন। তারপর একটি হাঁড়িতে আগে রান্না করা মাংস অর্ধেকটা সমান করে বিছিয়ে নিন। তারপর মাংসের ওপর কিছু পেঁয়াজের বেরেস্তা দিয়ে দিন। এবার বেরেস্তার ওপর সিদ্ধ করা রাইস অর্ধেকটা দিয়ে আবার রাইসের ওপর বেরেস্তা ও পুদিনাপাতা দিন। একই প্রনালিতে আবার বেরেস্তার ওপর বাকি মাংস সমানভাবে বিছিয়ে তার ওপর বেরেস্তা রাইস, পুদিনাপাতা দিন। সর্বশেষে রাইসের ওপর কিছুটা বেরেস্তা, কিশমিশ, আলুবোখারা, কাঠবাদাম, পেস্তাবাদামের কুচি, জর্দার রং, হলুদ ফ্রুটস কালার ও জাফরানের পানি ছিটিয়ে দিন। তারপর ঘি চারদিকে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দিন। একটা ঢাকনা দিয়ে ঢেকে চুলায় দমে বসিয়ে দিন ১৫ মিনিট। ১৫ মিনিট পর চুলা থেকে নামিয়ে ফেলুন। এরপর হাঁড়ি থেকে বিরিয়ানি পরিবেশন পাত্রে সাজিয়ে নেবেন। হয়ে গেল হায়দ্রাবাদি বিরিয়ানি। [বি: দ্র: আপনি চাইলে সুগন্ধি কেওড়া জল দিতে পারেন]
সুলতানি রোস্ট
যা লাগবে : মুরগির মাংস ১ কেজি, টকদই এক কাপ, পাউডার দুধ ৩ টেবিল চামচ, লেবুর রস ২ চা চামচ, টমেটোসস ৩ টেবিল চামচ, পেঁয়াজ বেরেস্তা ১ কাপ, পেঁয়াজ বাটা ২ কাপ, আদা বাটা ১ চা চামচ, রসুন বাটা ১ চা চামচ, জিরা বাটা ১ চা চামচ, ধনিয়া গুঁড়া ১ চা চামচ, জয়ত্রী, জায়ফল বাটা আধা চামচ করে, পেস্তা বাদাম, কাজুবাদাম, কাঠবাদাম, পোস্তদানা বাটা ১ চা চামচ করে, জাফরানের পাপড়ি ২ পিস পানিতে ভিজিয়ে রাখবেন, লালমরিচের গুঁড়া ১ চা চামচ, কাঁচামরিচ ৪-৫টি, গরম মশলার গুঁড়া ১ চা চামচ, সাদা গোলমরিচের গুঁড়া ১ চা চামচ, টেস্টিং সল্ট আধা চা চামচ, এলাচ, দারুচিনি, তেজপাতা ৪-৫টি করে, কিশমিশ ১০-১২টি, ঘি আধা কাপ, তেল ও লবণ পরিমাণমতো। কেওড়া জল ২ ফোঁটা অথবা গোলাপ জল ১ চা চামচ।
যেভাবে করবেন : প্রথমে ডুবো তেলে মাংসগুলোকে হালকা ভেজে নিন। এর পর একটি প্যানে ঘি গরম করে নিন। তারপর পেঁয়াজ, রসুন, আদা বাটা তেলে ভেজে নিন। এরপর সামান্য পানি দিন। তারপর জিরা বাটা, ধনিয়া গুঁড়া, লালমরিচের গুঁড়া, পেস্তাবাদাম বাটা, কাঠবাদাম বাটা, কাজুবাদাম বাটা, জায়ফল, জয়ত্রী, সাদা গোলমরিচের গুঁড়া ও দারুচিনি, এলাচ, তেজপাত দিন। এবার মশলাগুলো ভালো করে কষিয়ে নিন ১০ মিনিট। তারপর মুরগির মাংস দিন। এরপর টকদই, পাউডার দুধ, টমেটোসস, লেবুর রস, কিশমিশ ও গরম মশলার গুঁড়া দিন। এবার ভালোভাবে কষিয়ে নিন ১০ মিনিট। এরপর কাঁচামরিচ দিন। কিছুক্ষণ নেড়ে ৩ কাপ পরিমাণ পানি দিয়ে ঢাকনা দিয়ে ঢেকে দিন। পানি শুকিয়ে এলে জাফরানের পানি দিন। রোস্টটা গ্রেভি ভাব হয়ে এলে পেঁয়াজ বেরেস্তা দিন। এরপর কেওড়াজল অথবা গোলাপজল ছিটিয়ে দিন। ৫ মিনিট চুলায় রেখে নামিয়ে ফেলুন। এবার পরিবেশন পাত্রে রোস্টগুলোকে সাজিয়ে নিন। হয়ে গেল সুলতানি রোস্ট।
সাহেবি মাটন রেজালা
যা লাগবে : খাসির মাংস ১ কেজি, পেঁয়াজ বাটা ২ টেবিল চামচ, রসুন বাটা ২ চা চামচ, আদা বাটা ১ টেবিল চামচ, লালমরিচের গুঁড়া ১ চা চামচ, কাঁচামরিচ বাটা আধা চা চামচ, জিরা গুঁড়া ১ চা চামচ, ধনিয়া গুঁড়া ১ চা চামচ, জয়ফল গুঁড়া আধা চা চামচ, জয়ত্রী বাটা আধা চা চামচ, কাজুবাদাম বাটা ২ চা চামচ, কাঠবাদাম বাটা ১ চা চামচ, টকদই ১ কাপ, টমেটোসস ২ টেবিল চামচ, টমেটো পিউরি আধা কাপ, এলাচ ৪টি, দারুচিনি ৪ টুকরা, সরষে বাটা ২ চা চামচ, তেজপাতা ৩টি, কাঁচামরিচ, কিশমিশ, পেঁয়াজ বেরেস্তা ৪ টেবিল চামচ, তেল ৩ টেবিল চামচ, ঘি ৩ টেবিল চামচ, লেবুর রস ১ টেবিল চামচ ও লবণ পরিমাণমতো।
যেভাবে করবেন : পাত্রে তেল, ঘি, পেঁয়াজ বেরেস্তা ও কাঁচামরিচ ছাড়া সব উপকরণ একত্রে মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। এবার খাসির মাংস মাখিয়ে মেরিনেট করে ফ্রিজে রেখে দিন আধা ঘণ্টা। এরপর একটি প্যানে তেল ও ঘি গরম করে নিন। এবার ম্যারিনেট করা খাসির মাংস গরম তেলে ছেড়ে দিন। এবার চুলার আঁচ কমিয়ে একটা ঢাকনা দিয়ে জাল দিতে থাকুন। ভালোমতো কষানো হলে ২ কাপ পানি দিন। এবার জাল দিতে থাকুন। ৫ মিনিট পর কাঁচামরিচ দিন। এরপর ২০ মিনিট পেঁয়াজের বেরেস্তা দিয়ে পরিবেশন করুন।
চাপলি কাবাব
যা লাগবে : মাংসের কিমা ২৫০ গ্রাম, ডিম ৪টি (ঝুরি করে ভাজা), (শুকনা লালমরিচ ২টি, জিরা ১ চা চামচ, ধনিয়া ১ চা চামচ, মৌরি ১ চা চামচ, জায়ফল একটার অর্ধেক, জয়ত্রী ৪-৫ পিস, গোলমরিচ ১ চা চামচ সব একত্রে টেলে নিয়ে গুঁড়া করতে হবে), কাবাব মশলা ১ টেবিল চামচ, আদা বাটা ১ টেবিল চামচ, রসুন বাটা ১ টেবিল চামচ, ধনেপাতা কুচি ১ টেবিল চামচ, পুদিনাপাতা কুচি ২ টেবিল চামচ, মরিচ গুঁড়া ১ চা চামচ, লবণ ২ চা চামচ, চিনি আধা চা চামচ, টমেটোসস ১ টেবিল চামচ, ভিনেগার ১ চা চামচ, সয়াসস ১ টেবিল চামচ, কাঁচামরিচ কুচি ৫টি, পেঁয়াজ কুচি আধা কাপ, ব্রেডক্রাম অথবা বিস্কুটের গুঁড়া আধা কাপ ও তেল পরিমাণমতো কাবাব ভাজার জন্য।
যেভাবে করবেন : তেল ছাড়া সব উপকরণ একসঙ্গে মেরিনেট করে নিন। মেরিনেট করা মাংস কাবাবের আকারে তৈরি করে ১৫ মিনিট ডিপ ফ্রিজে রেখে দিন। এবার তেল গরম করে বাদামি করে ভেজে নিন। হয়ে গেল চাপলি কাবাব।

নিখোঁজের ১৯ ঘণ্টা পর ফরহাদ মজহার উদ্ধার

রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ১৯ ঘণ্টা পর যশোরের শিল্পশহর নওয়াপাড়া থেকে উদ্ধার হয়েছেন লেখক, কবি, বুদ্ধিজীবী ও কলামিস্ট ফরহাদ মজহার। সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে নওয়াপাড়া বেঙ্গল টেক্সটাইল মিলের সামনে ঢাকাগামী হানিফ পরিবহনের একটি বাস থেকে তাকে উদ্ধার করে র‌্যাব। বাসটি খুলনা থেকে ছেড়ে আসে। পরে তাকে স্থানীয় অভয়নগর থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে রাতেই কড়া প্রহরায় তাকে পার্শ্ববর্তী ফুলতলা  থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
এর আগে ভোরে রাজধানীর শ্যামলী এলাকায় নিজ বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ ছিলেন ফরহাদ মজহার। প্রথম থেকেই নিখোঁজের ঘটনাটিকে পুলিশ রহস্যজনক মনে করলেও ফরহাদ মজহারকে অপহরণ করা হয়েছে বলে দাবি করেছিলেন তার পরিবারের সদস্যরা।
র‌্যাব-২ এর উপ-অধিনায়ক মেজর মোহাম্মদ আলী যুগান্তরকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, রাতে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিস্তারিত জানানো হবে।
উদ্ধারের পর রাত সোয়া ১টার দিকে খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি দিদার আহমেদ এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, প্রাথমিকভাবে আমাদের মনে হয়েছে, তিনি ঢাকা থেকে স্বেচ্ছায় খুলনায় ভ্রমণ করেন। তবে এখনই এ বিষয়ে পুরোপুরি নিশ্চিত করে কিছু বলা যাবে না। তাকে ঢাকায় এনে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। 
এদিকে সোমবার ভোরে নিখোঁজের পর থেকে সর্বশেষ রাত ৮টা পর্যন্ত পরিবারের সদস্যদের কাছে ৫ থেকে ৭ দফায় ফোন করে মুক্তিপণ দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন পরিবারের সদস্যরা। প্রথমে ৩৫ লাখ টাকা চাইলেও অপহরণকারীরা রাতে তা কমিয়ে মুক্তিপণ বাবদ ২০ লাখ টাকা নির্ধারণ করে দেয়। একই ফোন থেকে ফরহাদ মজহারও কয়েক দফায় তার স্ত্রী ফরিদা আক্তারের সঙ্গে কথা বলেছেন। তবে এসব ফোন করা হয়েছে ফরহাদ মজহারের ফোন থেকেই। আর কথা বলার পরপরই বন্ধ করে দেয়া হয় মোবাইল ফোনটি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মোবাইল ফোনটি ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে ফরহাদ মজহারের সর্বশেষ অবস্থান খুলনায় বলে নিশ্চিত হয়। এমনকি রাত ৮টা ২০ মিনিটে খুলনা নিউমার্কেট সংলগ্ন ‘গ্রিল হাউস’ নামে একটি রেস্টুরেন্টে ফরহাদ মজহারকে রাতের খাবার গ্রহণ করতেও দেখা গেছে। রেস্টুুরেন্টের মালিক আবদুল মান্নান জানান, রাত ৮টা ২০ মিনিটে ফরহাদ মজহার তার রেস্টুুরেন্টে আসেন। পরে টেলিভিশনে খবর দেখে তিনি বিষয়টি র‌্যাবকে অবহিত করেন। এরপরই র‌্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সেখানে যান।
সংবাদ সম্মেলন : উদ্ধারের দেড় ঘণ্টা আগে ফরহাদ মজহারের শ্যামলীর বাসায় সংবাদ সম্মেলন করে পরিবারের সদস্য এবং বন্ধুরা। সোমবার রাত ১০টায় সংবাদ সম্মেলন করে তারা আশা প্রকাশ করে বলেছেন, আমরা সরকারকে দোষারোপ করছি না। আবেদন জানাচ্ছি, ফরহাদ মজহারকে অক্ষত ফিরিয়ে দিতে।’
ফরিদা আখতার বলেন, দ্বিতীয়বার কল আসে সকাল ৬টা ২১ মিনিটে। ওই কলে ৩৫ লাখ টাকা দাবি করা হয়। এরপর সারাদিনে ছয়বার কল এসেছে। প্রতিবারই টাকা চাওয়া হয়। সর্বশেষ কলটি আসে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায়।
এর আগে প্রযুক্তির সহায়তায় নিশ্চিত হওয়ার পর সোমবার বিকাল থেকেই পুলিশ ও র‌্যাবসহ বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরা খুলনার কেডিএ এভিনিউয়ের বেশ কয়েকটি বাড়িতে অভিযান চালায়। নিখোঁজের কয়েক ঘণ্টা পর সোমবার দুপুরে ফরহাদ মজহারের স্ত্রী ফরিদা আক্তার যুগান্তরকে জানান, ‘ভোররাতে তার স্বামী শ্যামলীর রিং রোডের হক গার্ডেনের নিজ বাসা থেকে বের হন। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ রয়েছেন। ফরিদা আক্তার আরও বলেন, প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে তিনি নিজ কম্পিউটারে বসে কাজ করে থাকেন। এটি তার (ফরহাদ মজহার) দীর্ঘদিনের অভ্যাস। তিনি আরও জানান, সোমবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে তিনি ঘুম থেকে উঠে স্বামী ফরহাদ মজহারকে কম্পিউটারে কাজ করতে দেখেন। এরপর তিনি ফরিদা আক্তার) আবারও ঘুমিয়ে পড়েন। ফরিদা আক্তার জানান, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নিজের মোবাইল ফোন থেকে ফরহাদ মজহার তাকে (ফরিদা আখতার) ফোন করে অপহরণের বিষয়টি জানান।
ওই সময় তিনি বলেন, ‘ওরা আমাকে নিয়ে যাচ্ছে। ওরা আমাকে মেরে ফেলবে।’ অপহরণকারীরা মুক্তিপণ বাবদ ৩৫ লাখ টাকা দাবি করছে বলেও ফরহাদ মজহার তার স্ত্রী ফরিদা আক্তারকে জানান।
তিনি (ফরিদা আক্তার) বলেন, ‘কথা শেষ হওয়ার আগেই কেউ একজন তার (ফরহাদ মজহার) হাত থেকে মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়।’ এমনকি কে বা কারা তাকে অপহরণ করেছে, কীভাবে কার কাছে টাকা দিতে হবে- সে বিষয়েও তার স্বামী কিছু জানাতে পারেননি। এরপর থেকেই তার স্বামীর মোবাইল ফোনটি বন্ধ রয়েছে বলে জানান ফরিদা আক্তার।
ফরহাদ মজহারকে উদ্ধারে একযোগে কাজ শুরু করেছে পুলিশ ও সরকারের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা। প্রযুক্তির সহায়তায় গোয়েন্দারা ফরহাদ মজহারের সর্বশেষ অবস্থান খুলনার কেডিএ এভিনিউ বলে জানতে পেরেছে। এ তথ্য পাওয়ার পরপরই খুলনা মেট্রোপলিটন এলাকায় কড়া নজরদারি শুরু করে পুলিশ। খুলনার প্রবেশপথগুলোয় বসানো হয় তল্লাশি চৌকি। সন্ধ্যায় খুলনার কেডিএ এভিনিউয়ে একটি বাড়িতে তল্লাশিও করে পুলিশ। এ ঘটনায় রাজধানীর আদাবর থানায় পুলিশের পক্ষ থেকে একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। এ ঘটনার পর ফরহাদ মজহারের বাসার সামনে ও আদাবর রিং রোডের বিভিন্ন ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরায় ধারণকৃত ফুটেজ সংগ্রহ করেছে পুলিশ। আদাবর থানার ওসি শাহীনুর রহমান যুগান্তরকে জানান, সকাল ১০টার দিকে ফরহাদ মজহারের পারিবারিক বন্ধু পরিচয় দিয়ে গৌতম দাস থানায় এসে বিষয়টি জানান। এরপরই তিনি বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন এবং শ্যামলীর রিং রোডের ফরহাদ মজহারের বাসা হক গার্ডেনে ছুটে যান।
পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) বিপ্লব কুমার সরকার যুগান্তরকে বলেন, খবর পাওয়ার পর থেকেই পুলিশ ফরহাদ মজহারকে উদ্ধারে ব্যাপক তৎপরতা শুরু করে। তিনি বলেন, ফরহাদ মজহারের বাড়ির সামনের সিসি ক্যামেরার ফুটেজে ভোর ৫টা ৫ মিনিটে তাকে স্বাভাবিক পোশাকে হেঁটে বাসা থেকে বেরিয়ে যেতে দেখা গেছে। তার পরিবারের দেয় তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ কর্মকর্তা বিপ্লব সরকার বলেন,  ফরহাদ মজহার খুব ভোরে ঘুম থেকে ওঠেন। তবে এত ভোরে তিনি কখনও বাসা থেকে বের হন না। তিনি সাধারণত সকাল ৮টা থেকে ১০টার পরই বাসার বাইরে যান। বিপ্লব কুমার বলেন, অপহরণের অভিযোগ ওঠায় থানা পুলিশ ছাড়াও বিভিন্ন সংস্থা প্রযুক্তির সহায়তায় ফরহাদ মজহারের অবস্থান জানার চেষ্টা করে। মোবাইল ফোন বন্ধ থাকলেও প্রযুক্তির সহায়তায় ফরহাদ মজহারের ফোন ট্র্যাক করে তার অবস্থান কখনও আরিচা, ফরিদপুর বা কখনও মাগুরায় বলে জানা যায়। পুলিশ কর্মকর্তা বিপ্লব সরকার আরও বলেন, দ্রুত অবস্থান পরিবর্তন হওয়ায় তাকে খুঁজে পেতে ওই সড়কে বিভিন্ন থানায় বার্তা পাঠিয়ে সন্দেহভাজন গাড়িতে তল্লাশি চালানোর জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়। ডিসি বিপ্লব কুমার সরকার আরও বলেন, ফরহাদ মজহার সাধারণত যে মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন, সোমবার সকালে বাসা থেকে বের হওয়ার সময় তিনি সেটি নিয়ে যাননি। আরেকটি সেট নিয়ে গেছেন, যেটি মাঝেমধ্যে ব্যবহার করতেন তিনি।
৭০ বছর বয়সী ফরহাদ মজহার একাধারে লেখক, কবি, বুদ্ধিজীবী ও কলামিস্ট হিসেবে পরিচিত। তবে হেফাজতে ইসলামের সঙ্গে সম্পৃক্ততা নিয়ে বাম দলগুলোর সমালোচনা রয়েছে তার বিরুদ্ধে। শাহবাগের ওই আন্দোলনের বিরোধিতাকারী হেফাজতে ইসলামের পক্ষে বিভিন্ন সভা-সমাবেশে বক্তব্য দিতেও দেখা গেছে তাকে। ২০১৩ সালে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে শাহবাগে গড়ে ওঠা গণজাগরণ আন্দোলনের সমালোচক ফরহাদ মজহার বিভিন্ন বক্তব্যের জন্য আলোচিত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফার্মেসিতে পড়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে অর্থনীতিতে ডিগ্রি নেন ফরহাদ মজহার। দেশে ফিরে তিনি উবিনীগ নামে একটি এনজিও গড়ে নয়াকৃষি আন্দোলন শুরু করেন। চিন্তা নামে একটি পত্রিকার সম্পাদক দীর্ঘকেশী ফরহাদ মজহার সব সময় লুঙ্গি পরে থাকেন, যা নিয়েও রয়েছে আলোচনা। ফরহাদ মজহারের অপহরণের ঘটনায় নিন্দা ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সংগঠন ও দেশের বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবীরা। লেখক, কবি, বুদ্ধিজীবী ও কলামিস্ট ফরহাদ মজহারকে দ্রুত উদ্ধারের দাবিতে সোমবার রাজধানীতে মানববন্ধনও হয়েছে।
খুলনায় তল্লাশি : খুলনা ব্যুরো জানায়, নগরীর শিববাড়ী মোড় সংলগ্ন ইব্রাহিম মিয়া সড়কে (জমিদার বাড়ি লেন) কবি, লেখক, কলামিস্ট ফরহাদ মজহারের অবস্থান রয়েছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে তল্লাশি চালায় র‌্যাব, পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থা। সোমবার বিকাল ৪টা থেকে মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে ফরহাদ মজহারের ব্যবহৃত রবির মোবাইল নম্বরটির লোকেশন ওই এলাকায় রয়েছে এমন তথ্য পাওয়ার পর থেকে ওই সড়কের দুই প্রান্তে পাহারা বসিয়ে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। পুলিশ, ডিবি, র‌্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থার শতাধিক সদস্যের খণ্ড খণ্ড টিম সড়ক সংলগ্ন সব বাড়িতে তল্লাশি চালায়। সন্ধ্যার আগে ইব্রাহিম মিয়া সড়কের চিত্রনায়িকা পপির বাড়ির সামনে থেকে একটি সাদা মাইক্রোবাস উদ্ধার করেছে পুলিশ। নগর ডিবির সহকারী কমিশনার এএম কামরুল ইসলাম জানান, নগরীর প্রবেশপথগুলোতে তল্লাশি, বিভিন্ন যানবাহন ও ফরহাদ মজহারের মোবাইল ফোনের লোকেশন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট এলাকায় বাড়ি বাড়ি অভিযান চালানো হয়। নায়িকা পপির বাড়ির সামনে থেকে একটি মাইক্রোবাস পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার হয়েছে। তবে এটি ফরহাদ মজহারের অপহরণে ব্যবহৃত কিনা তা নিশ্চিত নয়। তিনি বলেন, ফরহাদ মজহারের ব্যবহৃত রবি নম্বরের লোকেশন ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায় তার অবস্থান খুলনার শিববাড়ীতে।
খালেদা জিয়ার টুইট : ফরহাদ মজহার উদ্ধার হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এক টুইট বার্তায় বলেছিলেন, ফরহাদ মজহারকে এখনই পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিন। তার কিছু হলে এর দায়-দায়িত্ব সরকারকেই নিতে হবে।
এ ঘটনায় সরকারের ‘কোনো এজেন্সি’ জড়িত -বিএনপি : ফরহাদ মজহারকে অপহরণের ঘটনার সঙ্গে সরকারের ‘কোনো এজেন্সি’ জড়িত বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। সোমবার বিকালে নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এ অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, ‘এ দেশের প্রখ্যাত কলামিস্ট, গবেষক, কবি এবং প্রতিথযশা বুদ্ধিজীবী ফরহাদ মজহার ভোর ৫টায় তার বাসা থেকে বেরোনোর কিছুক্ষণ পরেই তাকে অপহরণ করা হয়েছে। পরিবার সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করে যে তথ্য পেয়েছি, তা হৃদয়বিদারক, অমানবিক এবং সারা জাতির জন্য ভীতি ও শঙ্কার। আমরা যেটা মনে করি, সরকারের অজান্তে এ ঘটনা ঘটেনি। সরকারের কোনো এজেন্সি বা কোনো টিম এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত। আমি বিএনপির পক্ষ থেকে এই ঘৃণ্য অপহরণের ঘটনার তীব্র নিন্দা এবং অবিলম্বে তাকে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেয়ার দাবি জানাচ্ছি।’
রিজভী অভিযোগ করে বলেন, ফরহাদ মজহারের মতো একজন বিদগ্ধ মানুষ, শুভচিন্তক মানুষ এই দুর্বিষহ দুঃসময়ের মধ্যেও যার ক্ষুরধার লেখনী আজকের সংগ্রামরত-আন্দোলনরত মানুষকে উদ্বুদ্ধ করছে, তাকে এমনি সামাজিক কোনো মুক্তিপণের আদায়ে কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠী, অপহরণকারী গোষ্ঠী এটা করতে পারে না। সরকার তার যে লেখনী, তার যে চিন্তা, তার যে মনন, এটিকে ভয় পেয়ে অনেকদিন ধরেই মনে হয় টার্গেট করেছিল, আজকে সেই টার্গেটটা সম্পন্ন করার তারা চেষ্টা চালিয়েছে। আমরা মনে করি, এই অপহরণের উদ্দেশ্য হচ্ছে আর যাতে কেউ কলম না ধরতে পারে, আর যাতে অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে না পারে। আমি আবারও বলছি, ফরহাদ মজহারকে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিন। নইলে এ দেশের মানুষ ক্ষোভে প্রতিবাদে ফেটে পড়বে।
অপহরণের জন্য সরকারের কোন এজেন্সিকে আপনি সন্দেহ করছেন- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা তো আমরা বলতে পারব না। এ ধরনের ঘটনাগুলো আমরা এর আগেও দেখেছি। এম ইলিয়াস আলী, সাইফুল ইসলাম হীরু, চৌধুরী আলমের অপহরণের ন্যাচারটা এই রকম ছিল।’