Sunday, December 23, 2018

যেনতেন নির্বাচন সংকট আরো গভীর করবে -সিজিএস-এর সেমিনারে বক্তারা

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশের বিশিষ্টজনরা। তারা বলেছেন, যেনতেন নির্বাচন দেশে সংকট আরো গভীর করবে। ভোটাররা নিশ্চিন্তে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারবেন কিনা এ নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। কেউ কেউ নির্বাচন শেষ পর্যন্ত হবে কিনা সেই প্রশ্নও তুলেছেন। এছাড়া ভালো নির্বাচনের ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের যে ভূমিকা থাকার ছিল তা নিয়ে অনেকেই হতাশা ব্যক্ত করেছেন। বলেছেন, গণমাধ্যম এক থাকলে তিনদিনের মধ্যে পরিস্থিতি পাল্টে যাবে। এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যমকে পালন করতে হবে অগ্রণী ভূমিকা। গতকাল রাজধানীর পুরাতন এলিফ্যান্ট রোডে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিস) মিলনায়তনে ‘নির্বাচন ও গণমাধ্যম’ শীর্ষক সেমিনারে তারা এসব কথা বলেন।
সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস)-এর উদ্যোগে এই সেমিনারের আয়োজন করা হয়। বক্তরা আরো বলেন, নির্বাচন ঘিরে তৈরি হওয়া সংকট রাজনীতিবিদদেরই সৃষ্টি। একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পরিবেশ রাজনীতিবিদদেরই তৈরি করতে হবে।  নির্বাচনের জন্য এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যার ওপর মানুষ আস্থা রাখতে পারে।
সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, যেনতেন নির্বাচন সংকট আরো গভীর করবে। এতে ভোটের টার্নওভারে অ্যাফেক্ট হবে। ভোটারদের আগ্রহ হারিয়ে যাবে। সরকার নৈতিকতার চ্যালেঞ্জর সম্মুখীন হবে। তিনি বলেন, সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য অর্থবহ নির্বাচনে জবাবদিহিতামূলক শাসন ব্যবস্থা জোরদার হয়। এটা মানুষের ইচ্ছা। এখন মুখ্য বিষয় হচ্ছে হয়ে দাঁড়িয়েছে- ভোটাররা নির্ভয়ে ভোট দিতে পারবেন কি-না। বাস্তবতা দেখা দিয়েছে এখন একপেশে মাঠ। বিরোধী দল অনুপস্থিত।
গায়েবি মামলা অব্যাহত রয়েছে। দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষণের সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। বাস্তবতার নিরিখে উদ্বেগের বিষয় তৈরি হয়েছে। হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, এখন রাজনৈতিক প্রচারণা রাজনৈতিক শক্তি-সক্ষমতা প্রদর্শনের কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশে দলীয় সমর্থন প্রদর্শনের বিষয় নয়। অন্ধ দলীয় সমর্থন করার মধ্যে একটা তফাত থাকা উচিত। বাংলাদেশে বৃহৎ দু’দলের সমর্থন আছে। অন্ধ সমর্থন দেশে ১০ থেকে ১৫ ভাগ। ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, দেশ দুটি শিবিরে বিভক্ত। এটা সঠিক নয়, অসত্য কথা। এর বাইরেও একটি শীর্ষ গ্রুপ আছে দেশে। জবাবদিহি ব্যবস্থা তৈরি করে তারা।
তিনি বলেন, সার্বিকভাবে মানুষ ঐক্যবদ্ধ। সাবেক এই উপদেষ্টা বলেন, এই মুহূর্তে বাংলাদেশে  মিডিয়ার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ থাকলেও শেষ পর্যন্ত গণমাধ্যমই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে আছে। তিনি আরো বলেন, পেশাগত মর্যাদা যাই দেখছি, সঠিকভাবে উপস্থাপন করছে মিডিয়া। ভোটাররা কেন্দ্রে নির্ভয়ে যেতে পারবে কিনা তা গণমাধ্যম তুলে ধরবে। ভোটাররা নির্ভয়ে ভোট কেন্দ্রে যেতে পারবেন কিনা, এ বিষয়ে গণমাধ্যমের একটা বড়ধরনের দায়িত্ব আছে। উদ্বেগ এবং আশা মাথায় নিয়ে গণমাধ্যম একটা ভূমিকা রাখবে আশা করি। তিনি আরো বলেন, ২০১৮ সালের নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যেনতেন নির্বাচন যেন না হয়। আইনি বৈধতার নির্বাচন যেন না হয়, পরবর্তী সরকারের নৈতিক বৈধতা যদি তৈরি না হয় তাহলে কিন্তু সংকট আরো গভীর হবে। তাই নির্বাচনে কে নির্বাচিত হবে সেটা ভোটারদের উপরই আমরা ছেড়ে দেই।
আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন বলেন, জনগণ সম্পৃক্ত থাকলে নির্বাচন হবে। সুষ্ঠু সঠিক নির্বাচন হবে। তিনি বলেন, বিভিন্ন দল বলেছে সেবাবাহিনীর প্রয়োজন নেই। কিন্তু নির্বাচন কমিশন সেবাবাহিনী মোতায়েনের কথা বলেছে।
সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আর্মি সব সময় লাগে। আর্মি ছাড়া ইলেকশন হবে না। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, ভালো নির্বাচন হোক। মিডিয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচনকে মিডিয়া কতখানি প্রভাবিত করতে পারে। দেশে শত শত কাগজ বের হচ্ছে। মিডিয়ার কর্র্মীদের প্রশিক্ষণ কম। কোনো কিছুর পটভূমি বুঝতে তাদের প্রশিক্ষণ দরকার। বিএনপি ২০১৪ সালে নির্বাচনে না গিয়ে অনেক সমর্থক হারিয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ভারতীয় সাংবাদিক এবং সাউথ এশিয়ান মনিটরের নির্বাহী নির্বাহী সম্পাদক চন্দন নন্দী বলেন, জেনারেল জিয়া হত্যায় জড়িত একজন মেজর মোজ্জাফল ভারতীয় পাসপোর্ট নিয়ে কলকাতায় অবস্থান করছেন। এটা তিনি শুনে আসছেন। তিনি বলেন, র’ যে বাংলাদেশের নির্বাচনে সংযুক্ত এটা এখন আর সিক্রেট (গোপন) না। মিডিয়ার ভারসাম্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা ভারতের গোয়েন্দা সংস্থার চেয়ে দুর্বল।
মানবজমিন-এর প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, সাংবাদিকতায় যে সংকট তৈরি হয়েছে তার জন্য কাকে দায়ী করবেন। সরকারকে দায়ী করার আগে নিজেদের আত্মসমালোচনার দরকার আছে। তিনি বলেন, এই পরিস্থিতি তিনদিনের মধ্যে পাল্টে দেয়া সম্ভব- যদি সাংবাদিকরা নিজেদেরকে জবাবদিহিতার মধ্যে নিয়ে আসেন। কিন্তু দুর্ভাগ্য হচ্ছে সাংবাদিকরা কিছু প্রাপ্তির আশায় পেশার প্রতি অবিচার করছেন।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদুু বলেন, ধীরে ধীরে আমরা একটি অন্ধকারের দিকে ধাবিত হচ্ছি। ছাত্রজীবন থেকেই আমরা নিজেদের মতো করে অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেছি, আবার সেগুলো অতিক্রমও করেছি। কিন্তু বর্তমানে এক অন্ধকার জায়গায় বাস করছি আমরা। অনেকেই বলছে, ২৪ তারিখের পরে সেনাবাহিনী নামবে- এই ২৪ তারিখের পরে দেশ অন্ধকার হবে নাকি আলোকিত হবে সেটির জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। কারণ পুলিশ প্রশাসন  তো এক পক্ষ নিয়ে ফেলেছে যার যতটুকু আছে ততটুকু করছে তারা।
শিক্ষাবিদ অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেন, গণতন্ত্র আছে কিনা তা নিয়ে আমি চিন্তিত। গণতন্ত্র নেই,  রোগে এর ধমনিগুলো শুকিয়ে গেছে। দেশে পেশাদার সাংবাদিকের যথেষ্ট অভাব আছে। সুপ্রিম কোর্টের সাবেক রেজিস্ট্রার এবং সাবেক জজ ইকতেদার আহমেদ বলেন, টকশোতে গেলে হাতে চাপ দিয়ে ধরে বলেন আমাদের বিপদে ফেলবেন না। মিডিয়া এককভাবে দায়িত্ব পালন করে না, অন্যরা যদি সঠিক দায়িত্ব পালন না করে তাহলে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না। তিনি বলেন, ইসি চূড়ান্ত করার পর দেখি উচ্চ আদালত একাধিক প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করেছে। তিনি বলেন, এক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। উচ্চ আদালত এমন সিদ্ধান্ত দিতে পারে না।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক সালেহ আহমেদ বলেন, প্রত্যেক মানুষের মধ্যে ভীতি তৈরি হয়েছে, ভোট দিতে পারবো কিনা। প্রথম আলোর কনসালটেন্ট আয়শা কবির প্রশ্ন করে বলেন, আসলে কি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হচ্ছে। মানুষ ভোট দিতে পারবে কিনা আতঙ্কে আছেন।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধে ইংরেজি দৈনিক নিউএজ-এর সম্পাদক নুরুল কবীর বলেন, মানুষের ভোট দেয়ার পরিস্থিতি  এই মুহূর্তে হুমকির মুখে। যে পরিস্থিতি আছে তা কারো জন্য মঙ্গলজনক নয়। পত্রিকার সূত্র ধরে বলেন, নির্বাচন হবে কিনা- এখনও সংশয় আছে। নির্বাচন কমিশন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সার্চ কমিটি মেরুদণ্ডহীন নাগরিক তাদের মধ্যে থেকে অনুগত লোককে খুঁজে নিয়োগ দিয়েছে। বেছে বেছে অফিসারদের ওএসডি করা হয় এবং অনুগতদের দায়িত্ব দেয়া হয়।
খুঁজে বের করা কমিশনার একজন বিব্রত হন, একজন কমিশনার আরেকজনকে মিথ্যাবাদী বলেন। এই নির্বাচনে কোন পেশার কত শতাংশ প্রার্থী প্রতিযোগিতা করছেন তার একটি পরিসংখ্যান তুলে ধরেন তিনি। এতে দেখা যায়- সবচেয়ে বেশি ব্যবসায়ীরা ৫৫ শতাংশ। ১১ শতাংশ আইনজীবী। ৭ শতাংশ কৃষি, ৬ শতাংশ বিভিন্ন পেশার, ৪ শতাংশ পলিটিশিয়ান এবং ১৭ শতাংশ নানা পেশার মানুষ রয়েছেন। এই নির্বাচনে এখনো অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার হয়নি বা কোনো ব্যবস্থা নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন। কাজেই আগামী দিনে সংঘর্ষ হবে না তা নিশ্চিত হতে পারিনি।
১৬ জন প্রার্থী কারাগারে। প্রতিদিন ৩ থেকে ৪শ’ গ্রেপ্তার হচ্ছেন। বিব্রতকর অবস্থা তৈরি হয়েছে। প্রবন্ধে তিনি বলেন, নির্বাচনে মিডিয়ার গুরুত্ব আছে। কিন্তু মিডিয়ার যে  আচরণ- বেশির ভাগই জনগণের স্বার্থের বাইরে গিয়ে দলের হয়ে কাজ করছে। জনগণের দু’দলের  বিভাজনের মতো মিডিয়াতেও বিভাজন প্রকট। সরকার চেষ্টা করে নিজের অনুগতদের নিউজ ম্যানেজমেন্টে বসানোর। আওয়ামী লীগের নির্বাচনী  মিডিয়া উপ-কমিটিতে ৭৫ জন সাংবাদিক রয়েছেন, যারা সামাজিকভাবে সম্মানিত। প্রবন্ধকার আশা প্রকাশ করে বলেন, কোনদিন এর ইতিবাচক পরিবর্তন হবে।
সিজিএস-এর চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম আতাউর রহমানের সভাপতিত্বে এবং সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক জিল্লুর রহমানের সঞ্চালনায় সেমিনারে আরো বক্তব্য রাখেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি এবং নির্বাচন পর্যবেক্ষণ সংস্থা-জানিপপ-এর চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ, দৈনিক দিনকাল-এর সম্পাদক ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী, ডা. সাখাওয়াত হোসেন শায়েন্থ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সাহাব এনাম খান, সিজিএস-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. মনজুর আহমেদ চৌধুরী প্রমুখ।

সুচির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সিদ্ধান্ত ভুল- শেখ হাসিনা

মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সুচির একটি ভুলের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় তার সারাজীবনের অর্জনকে কেড়ে নিতে চায়। এটা ঠিক নয় (দ্যাট ইজ নট কারেক্ট)। সফররত ভারতীয় একদল সাংবাদিকদের কাছে এমন মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আগামী সপ্তাহে বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ সময়ে বাংলাদেশ সফরে থাকা সাংবাদিকদের কাছে সরকার গঠন, তার দলের অর্জন ও বিরোধীদের বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন শেখ হাসিনা। রোহিঙ্গা ইস্যুতে তিনি বলেছেন, আমরা মিয়ানমারের সঙ্গে ঝগড়া করতে চাই না। এ খবর দিয়েছে ভারতের অনলাইন টাইমস অব ইন্ডিয়া। এতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথোপকথন সংক্ষিপ্ত আকারে তুলে ধরা হয়।
তাতে উঠে এসেছে বাংলাদেশে নির্বাচন, তিস্তা চুক্তি, সন্ত্রাস, রোহিঙ্গা সহ অনেক ইস্যু। অং সান সুচি ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, সর্বত্রই অং সান সুচির সমালোচনা করা হচ্ছে। নিন্দা জানানো হচ্ছে। এত আমি বেদনাবোধ করি। তবে হ্যাঁ, ভাল কিছু করতে পারতেন তিনি। আমাদেরকে অবশ্যই স্মরণ রাখতে হবে যে, তিনি কয়েক দশক একা একা সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন। তাদের গণতন্ত্র বিকশিত হচ্ছে। তাই সম্ভবত তার একার জন্য এটা (ভাল কিছু) করতে পারা কঠিন। রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় আমাদের জনগণকে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় দিয়ে সহায়তা করেছিল ভারত। এ জন্য এখনও আমরা কৃতজ্ঞ। আর মানবিক দিক থেকে রোহিঙ্গাদের সহায়তা করেছি আমরা। মিয়ানমারের সঙ্গে কোনো বিবাদ চাই না। তবে আমরা তাদের সঙ্গে একটি চুক্তি করেছি। তাদেরকে (রোহিঙ্গা) ফেরত নেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তারা। কিন্তু আমরা উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করতে বলেছি তাদেরকে। রোহিঙ্গারা চিরদিন (বাংলাদেশের আশ্রয়শিবিরে) থাকতে পারে না। তাদেরকে অপব্যবহার করা হতে পারে। মিয়ানমারকে সমর্থন করছে ভারত ও চীন। এক্ষেত্রে আমরা আর একটু সাহায্য চাই ভারতের কাছে।
তিস্তা ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনাদের (ভারতে) অব্যাহত গণতন্ত্র আছে। এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। শুধু এটাই আপনাদেরকে জনগণের জন্য কাজ করার সুযোগ দিয়েছে।  সম্ভবত তিস্তা চুক্তি করতে অসমর্থ হওয়ায় তাদের (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) কিছু কারণ আছে। আমাদের ভূপ্রকৃতিই এমন। এখন আমাদের নদীগুলো আমরাই ড্রেজিং করার পরিকল্পনা নিয়েছি, যাতে বেশি পানি ধরে রাখা যায়। (ভারতের) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আমি পরামর্শ দিয়েছি যে, তাদেরও তাদের নদী খননে একই রকম কাজ করা উচিত। আমাদের যৌথ নদী কমিশন যেহেতু এরই মধ্যে কাজ করে যাচ্ছে, তাই আমাদের অভিন্ন নদীগুলো একসঙ্গে ড্রেজিং করা যেতে পারে।
এ সময় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তার সরকারের অর্জন বিষয়ে বলেন, আমি আশা করি আবার সরকার গঠন করতে পারবো। আমরা কিছু ভাল কাজ করেছি। বেশ কিছু বড় প্রকল্প সম্পন্ন হওয়ার পথে। আমি বিশ্বাস করি, আমি ক্ষমতায় ফিরলে তাতে বাংলাদেশের উত্থানে সুবিধা হবে। এখন আমাদের জাতীয় প্রবৃদ্ধি শতকরা ৭.৮৬ ভাগ। তবে আমরা মুদ্রাস্ফীতি শতকরা ৫ ভাগের সামান্য বেশিতে ধরে রাখতে সফল হয়েছি। এটা একটা অর্জন। তিনি বলেন, পদ্মাসেতুর মতো বড় বড় প্রকল্প আছে, যা আমরা সম্পন্ন করতে চাই। এ জন্য বিশ্বব্যাংক আমাদেরকে ঋণ বাতিল করে দেয়ার পর এ প্রকল্প নিজেরাই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। পদ্মাসেতুর কাজ শেষ হলে তা থেকে জাতীয় প্রবৃদ্ধি শমকরা ১.২ ভাগ যোগ হবে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শততম জন্মবার্ষিকী ও দেশের ৫০তম বার্ষিকী উদযাপন করতে চাই আমরা ২০২১ সালে। আমরা ক্ষমতায় না ফিরলে আমি মনে করি, বাংলাদেশের সৌভাগ্যে ঘাটতি হবে।
নির্বাচন ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, নির্বাচনকে আমি রাজনৈতিক সফলতা হিসেবে দেখি। সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আমি কথা বলেছি এবং তাদেরকে আস্থায় এনেছি। আগেও আমি বলেছি, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকা উচিত। কিন্তু তারা আমার কথা শোনে নি। তারা ভেবেছিল, নির্বাচন থামিয়ে দিতে পারবে। গত নির্বাচনে তারা যা করেছে তা ছিল ভয়াবহ। তারা হাতবোমা ছুড়েছে। ৩৯০০ টি গাড়ি পুড়িয়েছে। মানুষ হত্যা করা হয়েছে। এটা গ্রহণযোগ্য নয়। কিন্তু আমি জনগণের শক্তিতে বিশ্বাস করি। হ্যাঁ, তারা ঐক্যফ্রন্ট গঠন করেছে। তারা আমাকে লিখেছিল যে, আমার সঙ্গে বসতে চায় না। তা মেনে নিয়েছি।
বিরোধীদের প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, আপনারা জানেন মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় বিএনপির সঙ্গে যুক্ত আছে জামায়াতে ইসলামী। আমি বিশ্বাস করি না যে, মানুষ তাদের আদর্শকে গ্রহণ করবে। কিন্তু তাদের (বিরোধীদের) রয়েছে জোট। তারা মনোনয়নপত্র নিলামে দিয়েছে, যেন তারা জাতিকেই নিলামে তুলছে। এভাবেই তারা সব করতে চায়। আমাদের দিক থেকে বলব, নির্বাচনের একটি উপযুক্ত পেিবশ বজায় রাখার চেষ্টা করবো।
সার্ক ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিবেশী ও আঞ্চলিক সহযোগিতাকে মূল্যায়ন করি আমরা। কিন্তু আমাদের কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। আমাদের ক্ষমতার সময়ে তারা (পাকিস্তান) আমাদের বিরুদ্ধে কর্মকান্ড চালানোর চেষ্টা করেছে সন্ত্রাসকে উস্কে দেয়ার মাধ্যমে। এখন পাকিস্তানের অবস্থা দেখেন আপনারা। আমরা চাই অন্য দেশের আভ্যন্তরীণ বিষয়ে আরেক দেশের হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়।

নির্বাচনে সাংবাদিকদের মোটরসাইকেল ব্যবহারসহ বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের দাবি বিএফইউজে ও ডিইউজের

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে নানা বিধিনিষেধ আরোপ করে নির্বাচন কমিশন সাংবাদিকদের জন্য যে নীতিমালা জারি করেছে তার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন-বিএফইউজে ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন-ডিইউজে’র নেতৃবৃন্দ। বিশেষ করে নির্বাচনের দিন ও আগে-পরে মিলিয়ে ৪ দিন সাংবাদিকদের মোটরসাইকেল ব্যবহার ও ভোট কেন্দ্রে দায়িত্বপালনে প্রিজাইডিং অফিসারের অনুমতি নেয়ার যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে তা প্রত্যাখ্যান করে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ বলেন, স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিপন্থী নির্বাচন কমিশনের কোন বিধিনিষেধ সাংবাদিক সমাজ মানবে না।
গণমাধ্যমে পাঠনো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানিয়েছে সংগঠন দু’টি। তারা বলেন, সাংবাদিকরা দেশের প্রচলিত আইন ও সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসরন করে অতীতের মত স্বাধীনভাবে পেশাগত দায়িত্ব পালন করবে। অবিলম্বে নীতিমালার নামে জারি করা বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের দাবি জানান সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ।
বিএফইউজে সভাপতি রুহুল আমিন গাজী ও মহাসচিব এম আবদুল্লাহ, ডিইউজে সভাপতি কাদের গনি চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মো. শহিদুল ইসলাম আজ (২৩ ডিসেম্বর) এক যুক্ত বিবৃতিতে এ দাবি জানান।
উল্লেখ্য, ২১শে ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশন জারি করা এক নীতিমালায় ভোটের সময় মোটরসাইকেল চালনার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। এক্ষেত্রে ২৯শে ডিসেম্বর মধ্যরাত থেকে ২রা জানুয়ারি মধ্যরাত পর্যন্ত, ক্ষেত্র বিশেষ আরও অধিককাল মোটরসাইকেল বা অনুরূপ যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকবে। ফলে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণের আগে পরে মোট চার দিন সাংবাদিকরা মোটরসাইকেল ব্যবহার করতে পারবেন না।
সাংবাদিকদের মোটরসাইকেলের স্টিকার না দেয়ার সিদ্ধান্তের বিষয়টি এবারই প্রথম।
সাংবাদিক নীতিমালায় ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করে প্রিজাইডিং অফিসার অনুমতি নিয়ে ছবি তোলা, ভিডিও করা ও তথ্য সংগ্রহ করতে বলা আছে। আবার একাধিক সাংবাদিক একই ভোটকেন্দ্রের একই ভোটকক্ষে একসঙ্গে প্রবেশ করতে পারবেন না। এমনকি ভোটকক্ষ থেকে সরাসরি সম্প্রচার বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও সরাসরি প্রচার করা যাবে না।
বিবৃতিতে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ বলেন, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে গণমাধ্যম ও সাংবাদিকরা সব সময় সহায়ক ভূমিকা পালন করে থাকে। অথচ বর্তমান নির্বাচন কমিশন বার বার নানা বিধিনিষেধের বেড়াজালে সাংবাদিকদের আটকানোর অপপ্রয়াস চালাচ্ছে। সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনের সময়ও বিতর্কিত আদেশ জারি করে সমালোাচিত হয়েছে।
নেতৃবৃন্দ বলেন, সাংবাদিকরা কারো পক্ষ বা প্রতিপক্ষ নয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী  যেমন তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব স্বাধীনভাবে পালন করে, তেমনি সাংবাদিকরাও তাদের পেশাগত দায়িত্ব স্বাধীনভাবে পালন করে আসছে এবং ভবিষ্যতেও করবে। মূলধারার গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ করলে গুজব ও মিথ্যা প্রোপাগান্ড ডালপালা মেলে, এটা সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নির্বাচন কমিশনকে অনুধাবন করতে হবে। নির্বাচন কমিশনের বিতর্কিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নীতিমালা মানতে সাংবাদিক সমাজ বাধ্য নয়।
বিবৃতিতে সাংবাদিক নেতারা আরও বলেন, সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্বপালনের ক্ষেত্রে প্রধান বাহন হচ্ছে মোটরসাইকেল। কারণ দ্রুততম সময়ে স্পটে পৌঁছতে এবং অলিগলিতে থাকা ভোট কেন্দ্রে যেতে মোটরসাইকেলের কোন বিকল্প নেই। মোটরবাইকের ওপর নিষেধাজ্ঞা মানে সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্বপালনে অনাকাঙ্খিত বাধা। সাংবাদিকরা মোটরসাইকেল ব্যবহার করে বা স্বাধীনভাবে দায়িত্বপালন করে সুষ্ঠু নির্বাচনের বিঘ্ন ঘটিয়েছে এমন কোন নজীর নেই।
নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে সকল বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করে সাংবাদিকদের আস্থায় নিয়ে স্বাধীনভাবে পেশাগত দায়িত্ব পালনের পরিবেশ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

‘মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে অবস্থান নেয়া’ আওয়ামী লীগের ২২ ব্যক্তির নাম দিলো বিএনপি

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানের পক্ষে অবস্থান নেয়া আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এমন ২২ জনের নাম চিহ্নিত করেছে বিএনপি। আজ নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে আওয়ামী লীগের দাবি ও তাদের অতীত সম্পর্কে তুলে ধরেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন- যারা যুদ্ধাপরাধীদের মনোনয়ন দেয়, তারা দেশকে ধ্বংস করে দেবে। ধানের শীষকে ভোট দেয়া মানে দুর্নীতি, লুটপাট ও জঙ্গীবাদকে প্রশ্রয় দেয়া।
ওই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে রিজভী বলেন, আপনি বাংলাদেশ ব্যাংক লুটের কথা তো বললেন না? এটা কে লুট করেছে? সব ব্যাংকগুলো লুটপাট করে খালি করেছে কারা? শেয়ার বাজার লুট করেছে কারা ? তিনি বলেন, আপনার অর্থমন্ত্রী সংসদে দাঁড়িয়ে বলেছেন- এই সরকারের আমলে পুকুর চুরি নয়, সাগর চুরি হয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে দেশ থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচারের খবর প্রকাশিত হয়েছে। মাত্র কয়েকদিন আগেই সংবাদ সম্মেলন করে বলেছে- গত দশ বছরে সাড়ে বাইশ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে এই সরকারের লোকজন। আবার একসময় হলমার্ক কেলেঙ্কারীর সময় অর্থমন্ত্রী বলেছিলেন- চার হাজার কোটি টাকা নাকি কোন টাকাই নয়।
রিজভী বলেন, আওয়ামী সরকারের আমলে দুর্নীতির তীব্রতায় শিক্ষামন্ত্রী প্রকাশ্যে সরকারী কর্মচারীদের বলেছেন- সহনীয় পর্যায়ে ঘুষ খেতে। আওয়ামী সরকার আত্মস্বীকৃত দুর্নীতিবাজ ও লুটপাটকারি।
তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের কথা বলছেন প্রধানমন্ত্রী, আপনিই তো জামালপুরের নুরু রাজাকারের গাড়িতে প্রথম পতাকা দিয়েছেন। এখনও আপনার দলে স্বাধীনতাবিরোধীদের ভিড়। জনগণকে প্রতারিত করে প্রধানমন্ত্রী আবারও মুক্তিযুদ্ধকে বিক্রি করে চলেছেন।
রিজভী বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে হানাদার বাহিনীর সহযোগী হিসেবে কাজ করেছে, এমন অভিযোগে এক ডজন ব্যক্তির বিচার করেছে আওয়ামী লীগ সরকার। আওয়ামী সরকার নিজেদের মুক্তিযুদ্ধের কথিত স্বপক্ষ শক্তি দাবি করে এ বিচার করলেও তাদের দলে থাকা রাজাকারদের ব্যাপারে একেবারে নিরব। এ দলটিতেও রয়েছে কুখ্যাত রাজাকার, আল বদর, আল শামস, গণহত্যকারী, গণধর্ষণকারী, অগ্নিসংযোগকারীসহ অসংখ্য ব্যক্তি। যারা স্বাধীনতাযুদ্ধে মানবতাবিরোধী লিপ্ত ছিল। এই ব্যক্তিরাসহ তাদের সন্তান-সন্তুতি এখন আওয়ামী লীগের বড় নেতা বা তাদের টিকিটে নির্বাচন করছেন। কিন্তু এখন তারা রয়েছেন ধরা ছোঁয়ার বাইরে।
রিজভী বলেন, আওয়ামী লীগের নেতারা বিভিন্ন সময় বক্তৃতায় বলেছেন- আওয়ামী লীগে রাজাকার থাকলে দেখিয়ে দেন, আমরা তাদের বিচার করবো। আওয়ামী লীগের ২৩ জন যুদ্ধাপরাধী বা তাদের পরিবার কোন না কোনভাবে ৭১ সালে পাকিস্তান সরকার ও যুদ্ধাপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের এসব নেতা ঘৃণিত ভূমিকা পালন করেছেন। পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতেতে সক্রিয় থেকে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি বনে গিয়েছে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্বাদের হত্যাসহ নানা ধরনের মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তারা।
বিএনপির সিনিয়র এই নেতা বলেন, আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত যুদ্বাপরাধী ও যুদ্বাপরাধী পরিবারের সন্তানদের মধ্যে রয়েছেন- ঢাকায় প্রথম যার নেতৃত্বেই শান্তি কমিটি গঠন করা হয় সেই নেজামে ইসলামি পাটির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক হাকিম হাফেজ আজিজুল ইসলামের ভাই ঢাকা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও আইন প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তান আর্মিতে কর্মরত পর্যটন মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতা লে. কর্ণেল (অব) ফারুক খান, ফরিদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য, মন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেয়াই ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন, সাবেক এমপি ময়মনসিংহের এডভোকেট মোসলেম উদ্দিন, আওয়ামী লীগের সেকেন্ড ইন কমান্ড সংসদ উপনেতা ও ফরিদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফর উল্লাহ, গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিমের ছেলের শ^শুর মুসা বিন শমসের, জামালপুর–-৩ আসনের সংসদ সদস্য যুবলীগের লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সরকার দলীয় হুইপ মির্জা গোলাম আযমের বাবা মির্জা গোলাম কাশেম, রংপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক এইচএন আশিকুর রহমান, চাদপুর-১ আসনের সরকার দলীয় সংসদ সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দিন খান আলমগীর, জামালপুরের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মাওলানা নুরুল ইসলাম, কোটালীপাড়ায় উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক মজিবর রহমান, গোপালগঞ্জ কোটালীপাড়া উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী রাফেজা বেগমের ভাই আজিজুল হক, আওয়ামী লীগ নেতা ও গোপালগঞ্জ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার আবুল কালাম দাড়িয়ার বাবা মালেক দাড়িয়া, গোপালগঞ্জ কোটারিপাড়া উপজেলা শ্রমিকলীগ সভাপতি আমির হোসেনের পিতা মোহন মিয়া, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া দাড়িয়ার বাবা মুন্সি রজ্জব আলী দাড়িয়া, কোটালিপাড়া পৌর মেয়র ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা এইচএম অহেদুল ইসলামের ভগ্নিপতি রেজাউল হাওলাদার, কোটালিপাড়া স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও পৌর মেয়র এইচএম অহেদুল ইসলামের পিতা বাহাদুর হাজরা, গোপালগঞ্জের এপিপি ও আওয়ামী লীগ নেতা এডভোকেট দেলোয়ার হোসেন সরদার, এডভোকেট দেলোয়ার হোসেন সরদারের পিতা হাসেম সরদার ও জামালপুর বকশিগঞ্জ আওয়ামী লীগ সভাপতি অবুল কালাম আজাদের পিতা আবদুল কাইয়ুম মুন্সী প্রমূখ। অভিযুক্তদের ব্যাপারে তিনি দায়েরকৃত মামলা ও নানা বইপুস্তকের রেফারেন্স দেন রিজভী।
রিজভী বলেন, জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত কুৎসা, ঘৃন্য অপপ্রচারের ধারাবাহিকতা এখনও অব্যাহত আছে। আইএসআই নাকি বিএনপি’র মনোনয়নে ভূমিকা রেখেছে। এটি ডাহা মিথ্যাই নয়, নোংরা অপপ্রচার।

নির্বাচন আর সন্ত্রাস একসঙ্গে চলতে পারে না: ইসি মাহবুব

বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনার (ইসি) মাহবুব তালুকদার বলেছেন, নির্বাচন আর সন্ত্রাস একসঙ্গে চলতে পারে না। ভোটার যাতে নিরাপদে ভোট দিয়ে বাড়ি ফিরতে পারে তা নিশ্চিত করতে হবে।
আজ (রোববার) সকালে সিলেটে বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়ে তিনি এসব কথা বলেন। মাহবুব তালুকদার বলেন, ‘কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে হবে। নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়ে কেউ যাতে আঙুল তুলতে না পারে সে বিষয়ে সবাইকে নজর রাখতে হবে। ভোটার যেন ভোট দিয়ে নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে হবে।’
এ সময় নির্বাচনে দায়িত্বপালনকারী কর্মকর্তাদের পক্ষপাতমূলক আচরণ না করার নির্দেশ দেন মাহবুব তালুকদার।
মতবিনিময় সভায় সিলেট বিভাগীয় কমিশনার মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী ও চার জেলার রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে শুক্রবার নির্বাচন কমিশনার (ইসি) রফিকুল ইসলাম বলেছেন, মারামারি ও উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির অংশ। যখন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়, তখন আরেকটু গরম হয়ে যায়। আর উত্তাপ না থাকলে ভালো লাগে না।
ভোটের মাঠে সাম্প্রতিক সহিংসতা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
আসন্ন সংসদ নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন প্রসঙ্গে আরেক প্রশ্নে ইসি রফিকুল ইসলাম আরও বলেন, বিচারিক ক্ষমতা কারও নেই। পুলিশের নেই, র‍্যাবের নেই, সেনাবাহিনীর নেই- কারও নেই। যার হাতে অস্ত্র থাকে তার কিন্তু বিচারিক ক্ষমতা থাকে না। কারণ এটি বাংলাদেশের সংবিধানের জন্য স্ববিরোধী।বক্তব্য রাখছেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার

ড. কামালকে ফোন দেয়া গেল না by সাজেদুল হক

ইতিহাসের শহর ঢাকা। বিচিত্র অভিজ্ঞতা এ শহরের মানুষের। তিন রাষ্ট্রের শাসন দেখেছেন এমন মানুষও এখানে আছেন। কত রকম নির্বাচনই না তারা দেখেছেন। ভোট উৎসব। যুগের পর যুগ ধরেই এটাই ছিল সাধারণ চিত্র। হাঙ্গামা, রক্তারক্তি, কেন্দ্র দখল, জাল ব্যালটে বাক্স বোঝাই যে হয়নি তা নয়। সেসব ছিল ভোটের দিনের চিত্র।
কিন্তু এবারের দৃশ্যপট একেবারেই নতুন। ঢাকা এমন ভোট আগে কখনো দেখেনি।
ক’দিন আগে নির্বাচন কমিশনে ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেনের একটি কথা কৌতূহল তৈরি করেছিল। নির্বাচন কমিশনারদের সম্ভবত, তিনি এটা বুঝিয়েছিলেন যে, ধানের শীষ প্রতীকের কোনো পোস্টার দেখলে তাকে যেন ফোন করা হয়। তিনি নিজে গিয়ে সেটা দেখে আসবেন। কমিশনের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি নিজেই এই তথ্য জানান। এ রিপোর্টার অথবা সাংবাদিকদের তিনি ফোন দিতে বলেন নি। তবুও গতকাল তিন ঘণ্টার কিছু বেশি সময় সরজমিন অনুসন্ধানে তাকে ফোন দেয়ার কোনো সুযোগ তৈরি হয়নি। কেননা, ধানের শীষের কোনো পোস্টার এ রিপোর্টারের চোখে পড়েনি।
দড়িতে টানানো সারি সারি পোস্টার। সবই নৌকার। কোদাল, হাতপাখা, কাস্তে হাতেগোনা। কে বলবে ছয় দিন পর ভোট। অন্তত ঢাকার চিত্র দেখলে বুঝা দায়। ভদ্রলোকের বয়স ৫০-এর কিছু বেশি। শেওড়াপাড়ায় একটি বহুতল ভবনে ব্যবস্থাপনার চাকরি করেন। এখানে আছেন ২২-২৩ বছর ধরে। জানতে চাইলাম, ভোট নিয়ে কী ভাবছেন। কিছুটা লম্বা উত্তরে যা বললেন তাতে বুঝা যায়, এ নিয়ে তার কোনো উৎসাহ নেই। শঙ্কা, চিন্তা ভর করেছে মনে। ঢাকায় সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ভাবনাও হয়তো এমনই। গতকাল সরজমিন অনুসন্ধানে দেখা যায়, অংশগ্রহণমূলক, একতরফা নির্বাচনের চিত্র। চায়ের দোকানে, রাস্তায় ভোট নিয়ে কথা বলছেন খুব কম লোকই। অনেকেই বলছেন, এটা নজিরবিহীন এক পরিস্থিতি।
১২টার কিছু পর। শেওড়াপাড়ার বিভিন্ন এলাকা। ঢাকা-১৫ এর প্রান্তিক অংশ। মেট্রোরেলের কাজ চলছে। সর্বত্র নৌকার পোস্টার। প্রার্থী কামাল আহমেদ মজুমদার। হঠাৎ, হঠাৎ লাঙলের দুই/একটি পোস্টারের ঝলক। এখানে ধানের শীষের প্রার্থী ডা. শফিকুর রহমান। জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল। কোথাও তার পোস্টারের দেখা মেলেনি। তবে এলাকার কয়েকজন জানালেন, ধানের শীষে ভোট চেয়ে তাদের মোবাইলে এসএমএস এসেছে।
শেওড়াপাড়া থেকে এগুতে থাকি আগারগাঁওয়ের দিকে। একইদৃশ্য। শুধুই নৌকার পোস্টার। মসজিদে আজান হচ্ছে। হাইয়া আলাল ফালা-হ। কল্যাণের জন্য এসো। কল্যাণের দিকে মানুষ যাচ্ছে কি-না কে জানে। কিছুদূর পর দেখা মিললো একটি মিছিলের। নৌকা, নৌকা। মিছিলে চিকিৎসক, নার্সরা। তাদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে হাঁটা কঠিন। দ্রুত হেঁটে সামনে গিয়ে ব্যানার দেখে বুঝা গেল মিছিলটি স্বাচিপের জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল শাখার। মিছিলের পাশেই একজন তার সঙ্গীকে বলছেন, স্যার সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কী মিছিল করতে পারেন। তিনি কী জবাব দিলেন শোনা গেল না। বাংলাদেশে এখন এমন অনেক কিছুই শোনা যায় না। এটি অবশ্য অন্য একটি নির্বাচনী এলাকা। এবং এখানে নৌকা ছাড়াও কোদাল প্রতীকের কিছু পোস্টার আছে।
মোহাম্মদপুরে প্রবেশ করে দেখা গেল সাদেক খানের পোস্টারের রাজত্ব। ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে নামকরণ করা হয়েছে সড়কগুলোর। সাদাকালো পোস্টারে উজ্জ্বল প্রচারণা আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাদেক খানের। শুরুতে মনোনয়ন নিয়ে দলের কেন্দ্রীয় নেতা জাহাঙ্গীর কবীর নানকের সঙ্গে তার টানাপড়েন ছিল। এ এলাকায় কিছু পোস্টার আছে হাত-পাখা ও কাস্তের। এ তিনটি নির্বাচনী এলাকায় ভিন্ন প্রতীকের কিছু পোস্টার চোখে পড়লেও ঢাকা-১০ এর চিত্র আরো কিছুটা ব্যতিক্রম। ধানমণ্ডি, ঝিগাতলা সর্বত্র শুধু শেখ ফজলে নূর তাপসের ছবি, পোস্টার। একদিন আগে প্রচারণা শুরু করা বিএনপি প্রার্থী আব্দুল মান্নানের পোস্টারের দেখা মেলেনি কোথাও। ধানমণ্ডি এলাকার ফুটপাথে দুটি চায়ের স্টলে বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করা। এইসব দোকানগুলো সাধারণত রাজনৈতিক আড্ডার জন্য বিখ্যাত। কিন্তু কোথাও রাজনীতি নিয়ে মানুষকে আড্ডায় আগ্রহী দেখা গেল না। জায়গাটায় আগে আজকের কাগজের অফিস ছিল। এখন একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস। পাশেই চায়ের দোকানে একজনকে শুধু বলতে শোনা গেল, সুস্থ একটা নির্বাচন দিয়ে দিলেই হয়। পাশেই আরেকজন বলে উঠলেন, ‘হ। দিবো। তোমরা অসুস্থ নাকি?’
১৯৭০-এর ঐতিহাসিক নির্বাচন থেকে শুরু করে বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রতিটি নির্বাচনই দেখেছেন লেখক, গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, এরকম একপক্ষীয় প্রচারণা আগে কখনো ঘটেনি। এটা একেবারেই নজিরবিহীন। যদিও তিনি জানিয়েছেন, টিভিতে ধানের শীষ প্রতীকের পোস্টার তিনি দেখেছেন। নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, এখন পর্যন্ত প্রচারণায় আওয়ামী লীগ অনেক এগিয়ে। আওয়ামী লীগ তো একবছর আগে থেকেই প্রচারণা চালিয়ে আসছে। এখন বিএনপির জন্য চ্যালেঞ্জ হচ্ছে সংসদীয় রাজনীতিতে ফেরা। আর আওয়ামী লীগের চ্যালেঞ্জ হচ্ছে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখা। উন্নয়ন ও সুশাসনের সমন্বয় কীভাবে হয় সেটাই হবে দেখার।
ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকায় আসন রয়েছে ১৫টি। এর প্রতিটিতে নৌকার পাশাপাশি ধানের শীষের প্রার্থী রয়েছেন। বিএনপি প্রার্থীদের দাবি, পুলিশ আর সরকারি দলের নেতাকর্মীদের বাধার কারণে তারা পোস্টার লাগাতে পারছেন না। লাগালেও ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে। বিএনপি প্রার্থী মির্জা আব্বাস ও আফরোজা আব্বাসের প্রচারণায় হামলার ঘটনাও ঘটেছে।

আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় পাই না -কনকচাঁপা

আসন্ন নির্বাচনে সিরাজগঞ্জ-১ (কাজিপুর ও সদরের একাংশ) আসনের বিএনপি’র প্রার্থী রুমানা মোর্শেদ কনকচাঁপা। দেশজুড়ে শিল্পী কনকচাঁপা নামেই পরিচিত। বাবা আজিজুল হক মোর্শেদ ছিলেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা। ছিলেন সংগীতশিল্পী। পাঁচ ভাই বোনের মধ্যে রুমানা তৃতীয়। সংসার জীবনে দুই ছেলে-মেয়ে রয়েছে। ছেলে ফয়জুল ইসলাম খান। মেয়ে ফারিয়া ইসলাম খান।
রয়েছে নাতি-নাতনি। দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে সংগীতাঙ্গনে সমানতালে কাজ করে যাচ্ছেন। এ পর্যন্ত তিনি চলচ্চিত্রে তিন হাজারেরও বেশি গানে কণ্ঠ দিয়েছেন। প্রকাশিত হয়েছে ৩৫টি একক গানের অ্যালবাম। গানের পাশাপাশি লেখক হিসেবেও কনকচাঁপার খ্যাতি রয়েছে। জাতীয় দৈনিকে কলামও লিখেন তিনি। মানবজমিনকে তিনি বলেন, আমার মা মোমেনা জাহান একজন সমাজকর্মী। ছোটবেলা থেকেই দেখেছি মা খুব অল্প পরিসরে অল্প বিষয়ে মানুষের সেবা করে যাচ্ছেন।
তিনি নারী মৈত্রী নামক একটি সংগঠনের সঙ্গে জড়িত। লিখতেন বেগম পত্রিকায়। পাড়ার মহিলাদের বাচ্চা হওয়া থেকে শুরু করে মৃত মানুষের লাশ ধোয়া সব বিষয়েই রয়েছে তার অসামান্য অবদান। পাতের ভাতের দু’মুঠো ভাত দিয়ে মানুষকে সাহায্য করেন তিনি। এসব দেখেই আমি ঠিক করলাম যে বড় পরিসরে না হোক একদম ছোট পরিসর থেকেও মানুষের সেবা করা যায়। আমি মধ্যবৃত্ত থেকে উচ্চবৃত্তে আসিনি। নিজের আয়ের যে বাড়তি পয়সা তা দিয়ে দুস্থ শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় সাহায্য করি। একটা সময় আমার স্বামী বললো তুমি যদি নিয়মিত কাজ করতে চাও তাহলে মানুষের সেবা করার জন্য সবচেয়ে সুন্দর এবং বড় উপায় হলো রাজনীতির প্ল্যাটফর্ম। আমি মনে করি শিল্পীও যেমন তৈরি করা যায় না একইভাবে রাজনীতিবিদও তৈরি করা যায় না। রাজনীতিবিদ আসলে জন্ম নেয়।
চলমান রাজনীতি নিয়ে মূল্যায়ন করতে গিয়ে বলেন, দেশ ঠিকই আগাচ্ছে। কিন্তু মানুষের নৈতিকতা অনেক নিচে নেমে যাচ্ছে। আমি মনে করছি এখনো সময় আছে। ভালো মানুষরা যদি নেতৃত্ব দেয় তাহলেই ভালো কিছু করা সম্ভব।
আমাদের দেশের মানুষতো খুব অল্পতেই সন্তুষ্ট হয়। তারা অন্যান্য দেশের মানুষের তুলনায় অনেক বেশি সুখি। তারা অল্পতেই হাসতে পারে। পলিমাটির বাংলাদেশ। অফুরন্ত সম্ভাবনা রয়েছে। আমাদের যুব সম্প্রদায় বলে নষ্ট রাজনীতি। আমি তাদের বলি এটা বলবে না। কারণ রাজনীতি অনেক বড় একটি বিষয়। জনপ্রতিনিধি হওয়া এতো সহজ না। আমি বিলাসী বা আরামের জীবন পছন্দ করি না। আমি ইচ্ছা করলে এখন অবসর নিয়ে নাতি-নাতনি নিয়ে ফুলের বাগানের মতো সংসারে থাকতে পারি। কিন্তু এখন শত বিপদ ও সংকুলতার মধ্যেও মানুষের জন্য কাজ করতে চাই। এক্ষেত্রে বড় সাপোর্ট হচ্ছে আমার স্বামী। আমি এগিয়ে যাব। একমাত্র আল্লাহ্‌ ছাড়া কাউকে ভয় পাই না। কোনো বাধায় আমি পিছ পা হবো না। যুদ্ধের মাঠ থেকে ফেরত আসে কাপুরুষরা। 
তিনি বলেন, রাজনীতি নিয়ে আমার স্বপ্ন হচ্ছে যতটা সম্ভব সচ্ছতা এবং জবাবদিহিতার সঙ্গে আমার নির্বাচনী এলাকা কাজিপুরের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য কাজ করে যাব। নির্বাচিত হওয়ার পর এলাকার লোকদের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত থাকব। কনকচাঁপাকে যেন তারা ডাকলেই পায়। অন্য নেতাদের মতো যেন খুঁজে বেড়াতে না হয়।

ভিসা জটিলতায় নির্বাচন পর্যবেক্ষণে আসছে না আনফ্রেল, হতাশ যুক্তরাষ্ট্র

ভিসা না পাওয়ায় বাংলাদেশে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন বাতিল করেছে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক প্রতিষ্ঠান এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশনস (আনফ্রেল)। যুক্তরাষ্ট্র সরকারের  প্রতিনিধি হিসেবে ওই মিশনের বাংলাদেশে একাদশ সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণের কথা ছিল। যুক্তরাষ্ট্র ৩২ জন পর্যবেক্ষক পাঠাচ্ছে- জানিয়ে একটি বিশ্বাসযোগ্য আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ মিশন চালানোর মতো সময়ের মধ্যে তাদের পরিচয়পত্র (অ্যাক্রিডিটেশন) ও ভিসা প্রদান নিশ্চিতেও ঢাকার প্রতি অনুরোধ করেছিল ওয়াশিংটন।
নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে দেখা করেও বিষয়টি অবহিত করেছিলেন। কিন্তু নির্বাচন দোরগোড়ায় এলেও (৯ দিন বাকি) আনফ্রেলের অধিকাংশ পর্যবেক্ষকের ভিসা না হওয়ায় তারা বাংলাদেশে পর্যবেক্ষণ মিশন বাতিলে বাধ্য হয়। অবশ্য যথাযথ সময়ে ভিসা না পাওয়ায় আনফ্রেলের মিশন বাতিলে বাধ্য হওয়ায় খবরে গভীর হতাশা ব্যক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। স্টেট ডিপার্টমেন্টের ডেপুটি স্পোকসপারসন রবার্ট প্যালাদিনো গতকাল আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এর বিস্তারিত তুলে ধরেন। আপকামিং ইলেকশন ইন বাংলাদেশ (বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন) শীর্ষক ওয়াশিংটনের বিবৃতিটি ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস তাদের অফিসিয়্যাল ওয়েব সাইট এবং ফেসবুক পেজে (বঙ্গানুবাদ করে) প্রচার করে।
২১শে ডিসেম্বর ডেটলাইনে প্রচারিত ওই বিবৃতিতে বলা হয়- এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশনস (আনফ্রেল) এর অধিকাংশ আন্তর্জাতিক নির্বাচন পর্যবেক্ষককে বাংলাদেশ সরকার একটি বিশ্বাসযোগ্য পর্যবেক্ষণ মিশন চালানোর মতো যথাযথ সময়ের মধ্যে পরিচয়পত্র ও ভিসা দিতে না পারায় যুক্তরাষ্ট্র হতাশ।
যুক্তরাষ্ট্র সরকার ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ইনস্টিটিউটের মাধ্যমে ওই মিশনে অর্থায়ন করেছিল। যথাসময়ে পরিচয়পত্র ও ভিসা না পেয়ে আনফ্রেল তাদের ৩০শে ডিসেম্বরের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে। মুখপাত্র প্যালাদিনো তার বিবৃতিতে বলেন, এবারের নির্বাচনে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকের সংখ্যা কম থাকায় বাংলাদেশ সরকারকে স্থানীয় এনজিওগুলোর গঠন করা ‘ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপ’কে স্বীকৃতি দিতে হবে।
যাতে তারা নির্বাচন পর্যবেক্ষণের অত্যাবশ্যক কাজগুলো করতে পারেন। মুখপাত্র বলেন, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ মিশন না থাকায় নির্বাচন পর্যবেক্ষণের গুরুত্বপূর্ণ কাজটি করতে ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপের (ইডব্লিউজি) সদস্য স্থানীয় এনজিওগুলোর জন্য পরিচয়পত্রসহ আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার বিষয়টি বাংলাদেশ সরকারের জন্য এখন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এরমধ্যে ইউএসএআইডির অর্থায়ন করা বেশ কয়েকটি এনজিও রয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, একটি গণতান্ত্রিক নির্বাচনের জন্য অবশ্যই শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও অভিব্যক্তি প্রকাশের সুযোগ থাকতে হবে। একইসঙ্গে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা থাকতে হবে, যাতে তারা নির্বাচনের সকল সংবাদ প্রচার করতে পারে। হুমকি, সহিংসতা ও হয়রানি ছাড়াই প্রত্যেকে যাতে নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশ নিতে পারে- সেটি নিশ্চিত করতে হবে। বিবৃতিতে শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশগ্রহণ নিশ্চিতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতিশ্রুতিকে স্বাগত জানিয়ে বলা হয়- ৩০শে ডিসেম্বরের নির্বাচনে যেন শান্তিপূর্ণভাবে সবাই অংশ নিয়ে নিজেদের মতামত প্রকাশ করতে পারে, তা নিশ্চিত করার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি অঙ্গীকার সমুন্নত রাখতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।
উল্লেখ্য, গত ২০ বছরের মধ্যে এবারের নির্বাচনে (ব্যতিক্রম ২০১৪’র ৫ই জানুয়ারি) সবচেয়ে কম মোট ১৬৭ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক ইসিতে নিবন্ধন করেছিলেন। কিন্তু ভিসা জটিলতায় বেশির ভাগই (নিবন্ধিতদের) ৩০শে ডিসেম্বরের ভোটের আগে ঢাকা আসতে পারছেন না। ফোরাম অব ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট বডিস অব সাউথ এশিয়া (ফেমবোসা), এ-ওয়েব, অ্যাসোসিয়েশন অব আফ্রিকান ইলেকশন অথরিটিস (এএইএ) নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ইসির আমন্ত্রণ পেয়েছে। ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী ভারত, ভুটান ও মালদ্বীপের নির্বাচন পর্যবেক্ষক টিমও বিশেষ আমন্ত্রণের তালিকায় রয়েছে। ভারতীয় নির্বাচন কমিশনের ৩ জন প্রতিনিধি আসছেন, এটা প্রায় নিশ্চিত। তবে ইইউ কোনো পর্যবেক্ষক টিম পাঠাচ্ছে না, আগেই জানিয়ে দিয়েছে। এবার মিশন বাতিল করলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিয়োগ করা প্রতিষ্ঠান আনফ্রেল। নির্বাচন কমিশন সূত্র বলছে, তারা এখন ঢাকাস্থ ৫২টি কূটনৈতিক মিশন থেকে বিদেশি এবং লোকাল স্টাফ মিলে প্রায় ১০০ জনের করা পর্যবেক্ষণের আবেদন যাচাই-বাছাই করছেন।
বিদেশি সংস্থার লোকাল স্টাফদের ‘স্থানীয় পর্যবেক্ষক হিসেবে’ কার্ড দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি। এর বাইরে ঢাকাস্থ ৪টি আন্তর্জাতিক সংস্থার ৩২ জন প্রতিনিধির পর্যবেক্ষক হিসাবে অনুমতির আবেদন ঝুলে আছে। তবে ওই তালিকায় বিদেশি এবং স্থানীয় স্টাফও রয়েছেন। স্মরণ করা যায়- বিদেশি পর্যবেক্ষকদের অনুমতি দেয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতার জন্য ইসিকে দুই দফায় আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটি অনুরোধ করেছে। বিদেশি পর্যবেক্ষকদের বিষয়ে কেন আওয়ামী লীগের বাড়তি সতর্কতা? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে কমিটির কো-চেয়ারম্যান এইচটি ইমাম বলেছিলেন, বিদেশিরা অনেক সময় সাংবাদিক সেজে আসে, হঠাৎ করেই বলে আমি পর্যবেক্ষক। এমন ঘটনা যাতে না ঘটে, সেজন্য ইসিকে সতর্ক থাকতে আমরা বলেছি। তার মতে, বিদেশিদেরও আচরণবিধি মানতে হবে। বাংলাদেশের আইন মেনে চলতে হবে। এটি আমাদের সার্বভৌমত্বের ব্যাপার।

ইসির নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন হিউম্যান রাইটস ওয়াচের

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক নির্বাচনী সহিংসতা ও এর প্রতি কর্তৃপক্ষের ভূমিকায় নির্বাচন কমিশন ও পুলিশ প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। নিউ ইয়র্ক ভিত্তিক এই সংগঠনটি বলেছে, নির্বাচনী সহিংসতার ঘটনায় কর্তৃপক্ষ নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে ব্যর্থ হয়েছে। বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের ঢালাওভাবে গ্রেপ্তার করলেও পুলিশ বিরোধী নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগে সরকারদলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে।
গতকাল সংগঠনটির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক রিপোর্টে এসব কথা বলা হয়। এতে সংগঠনটি বলেছে, জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বিরাজমান দমনমূলক রাজনৈতিক পরিবেশ নির্বাচন প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ন করছে। বাংলাদেশ সরকারের উচিত নির্বাচনী সহিংসতার ঘটনাগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা ও এতে দায়ী ব্যক্তিদের বিচারের মুখোমুখি করা। ‘ক্রিয়েটিং প্যানিক: বাংলাদেশ ইলেকশন ক্র্যাকডাউন অন পলিটিক্যাল অপনেন্টস অ্যান্ড ক্রিটিকস’ শীর্ষক এ রিপোর্টে বলা হয়, বাংলাদেশে বাক স্বাধীনতার ওপর নজরদারি করা হচ্ছে, কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ সরকারের নেয়া আরো কিছু কর্তৃত্ববাদী পদক্ষেপের বিষয়ে জানতে পেরেছে, যার ফলে বাংলাদেশে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে সহিংস হামলার ঘটনা ঘটেছে।
কিন্তু এক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ নিরপেক্ষভাবে ভূমিকা পালন করতে ব্যর্থ হয়েছে। পুলিশ বিরোধীদলীয় কর্মীদের গ্রেপ্তার ও বন্দি করেছে। তবে, বিরোধী প্রার্থীদের ওপর হামলা চালানোর পরেও পুলিশ সরকারদলীয় সমর্থকদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক ব্র্র্যাড অ্যাডামস বলেন, নির্বাচনে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ নিশ্চিত করার জন্য পুলিশ ও নির্বাচন কমিশনের সরকারি দলের অতিরিক্ত শাখার ভূমিকায় আবির্ভূত হওয়া উচিত না। বাংলাদেশে নির্বাচনী প্রচারণাকে ঘিরে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। প্রধানত বিরোধী নেতাকর্মীরাই এর শিকার হচ্ছেন। কর্তৃপক্ষ যে নিরপেক্ষ আচরণ করছে না, এটা তারই প্রমাণ।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ অর্ধ-শতাধিক রাজনৈতিক কর্মী, শিক্ষার্থী ও সুশীল সমাজের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে এ রিপোর্ট তৈরি করেছে। এ ছাড়া আদালতের নথি, নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে ঢালাওভাবে বিক্ষোভকারী ও বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের সাক্ষ্য-প্রমাণ, ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র ও যুব শাখার সদস্যদের সহিংসতা ও হুমকি দেয়ার ঘটনাও বিশ্লেষণ করেছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। এর ভিত্তিতে সংগঠনটি বলেছে, বিচার বিভাগ ও নির্বাচন কমিশনসহ রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্বাচন ও নির্বাচনী প্রচারণা নিয়ে ওঠা বিতর্কগুলো স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে সমাধান করতে পুরোপুরি প্রস্তুত বলে মনে হচ্ছে না।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ মনে করে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, টেলিভিশন, পত্র-পত্রিকাসহ সব জায়গায় ভিন্নমত ও সরকার বিরোধী সমালোচনার কণ্ঠরোধ করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে সরকার। সাংবাদিকরা বলছেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মাধ্যমে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এখন বাংলাদেশিরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেল্ফ সেন্সরশিপ করার চাপে বা গ্রেপ্তারের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
সাম্প্রতিক সহিংসতার বিষয়ে রিপোর্টে বলা হয়েছে, প্রার্থীদের তালিকা অনুমোদন ও নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর পর থেকেই বাংলাদেশে ব্যাপকভাবে নির্বাচনী সহিংসতা শুরু হয়েছে। গত ১১ই ডিসেম্বর পৃথক দুইটি ঘটনায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের দুই কর্মী নিহত হন। তবে, বেশিরভাগ সহিংসতার টার্গেট ছিল বিএনপি ও নবগঠিত সরকার-বিরোধী জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। পুলিশ সরকারদলীয় নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার ও তদন্ত শুরু করলেও বিরোধীদলের অভিযোগ আমলে নিচ্ছে না। সব কটি বড় দলই সহিংসতার জন্য পরস্পরের ওপর দোষ চাপাচ্ছে। কিন্তু যখনই বিরোধী মতাদর্শের কেউ হামলার শিকার হচ্ছে, পুলিশ ও নির্বাচন কমিশন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এমনকি বিরোধীদের ওপর হামলা করা হয়েছে এটা স্বীকার করতেও নারাজ তারা। বিএনপি প্রার্থী মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান হিউম্যান রাইটস ওয়াচকে বলেছেন, গত ১১ই ডিসেম্বর তার নির্বাচনী প্রচারণায় হামলা করা হয়। এর পরে তিনি দফায় দফায় নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ করেছেন। তার অভিযোগ গ্রহণ করলেও কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
গণমাধ্যমে বিএনপি প্রার্থীদের ওপর সিরিজ হামলার খবর প্রচার করা হয়েছে। ১৬ই ডিসেম্বর আব্দুল মইন খান, ১২ই ডিসেম্বর আফরোজা খানম রিতা, ১১ই ডিসেম্বর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের গাড়িবহরে হামলা করা হয়েছে। এ ছাড়া ১৫ই ডিসেম্বর পুলিশ ও বিরোধী জোটের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের সময় আহত হন আরেক বিএনপি প্রার্থী রুমানা মাহমুদ। ১৪ই ডিসেম্বর সরকারদলীয় নেতাকর্মীরা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা ড. কামাল হোসেনকে বহনকারী গাড়িতে হামলা করে। এতে তিনি অক্ষত থাকলেও বিরোধী জোটের অন্তত ২৫ জন আহত হন।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ মনে করে, ইন্টারন্যাশনাল কভেন্যান্ট অন সিভিল অ্যান্ড পলিটিক্যাল রাইটসের (আইসিসিপিআর) প্রতি দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার জন্য এসব ঘটনা রোধে অবিলম্বে পদক্ষেপ নেয়া উচিত বাংলাদেশের। এবারের নির্বাচনে পর্যবেক্ষক পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ ছাড়াও প্রতিনিধি পরিষদের সদস্যরা নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য বাংলাদেশের বিচার বিভাগ ও রাজনৈতিক নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন তাদের এক্সপার্ট মিশন পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আর যুক্তরাজ্য স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের সহায়তা করার কথা বলেছে।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের পরিচালক ব্র্যাড অ্যাডামস বলেন, নির্বাচনের পূর্বে ও পরে সহিংসতার ঝুঁকি কমাতে সবদলের উচিত, তাদের সমর্থকদের সহিংসতা এড়ানোর নির্দেশনা দেয়া। আর কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষভাবে আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করা উচিত।

পুলিশের দিকে প্রার্থীদের অভিযোগের তীর by জিয়া চৌধুরী

নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা, অসহযোগিতাসহ প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের হামলার ঘটনায় অভিযোগ জানানোর পরও পুলিশ ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন ঢাকা মহানগরের ১৫টি আসনের বেশিরভাগ প্রার্থী। গতকাল শনিবার রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা মহানগরের প্রার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে এমন অভিযোগ করেন প্রার্থীরা। পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এমন আচরণে নির্বাচনের সমতল পরিবেশ তৈরি হয়নি বলেও মন্তব্য করেছেন প্রার্থীরা।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৪ আসন থেকে ঢাকা-১৫ আসনের প্রার্থীদের নিয়ে মতবিনিময় সভার আয়োজন করে ঢাকা মহানগর রিটার্নিং অফিস। সভায়, সরকারদলীয় মহাজোট, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও বিএনপির বেশিরভাগ প্রার্থী অনুপস্থিত ছিলেন। তবে সভায় অংশ নেয়া বেশিরভাগ প্রার্থীই পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে একপাক্ষিক আচরণের অভিযোগ করেন। ঢাকা-১৩ আসনের ঐক্যফ্রন্ট ও বিএনপির প্রার্থী আব্দুস সালাম অভিযোগ করেন, ওই আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও কর্মী-সমর্থকরা বিএনপির পোস্টার সাঁটাতে দিচ্ছেন না। এ ছাড়া, নির্বাচনী প্রচারণায়ও বাধা দেয়া হচ্ছে।
আব্দুস সালাম বলেন, সংশ্লিষ্ট থানা ও নির্বাচন কমিশনে এসব অভিযোগ জানিয়েও কোনো প্রতিকার পাইনি। নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে গায়েবি মামলা ও গ্রেপ্তার করে হয়রানি করা হচ্ছে।
নির্বাচনের আগের অন্তত বাকি কয়েকদিন প্রচারণার সুযোগ করে দিতে প্রয়োজনে একমঞ্চে সব প্রার্থীদের প্রচারণার সুযোগ করে দিতে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে অনুরোধ করেন এই প্রার্থী। ঢাকা-৬ আসনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী সুব্রত চৌধুরী সভায় জানান, তার নির্বাচনী এলাকায় ভয়াবহ ভীতিকর অবস্থার সৃষ্টি করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ডিবি নেতাকর্মীদের ধরে নিয়ে যাচ্ছে। যাদের ধরে নিয়ে যাচ্ছে না, তাদেরও ৩০শে ডিসেম্বর পর্যন্ত এলাকা ছাড়তে হুমকি দিচ্ছে। পুলিশ ও মহাজোটের প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা প্রচারণা করতে গেলে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। ১৪, ১৫ ও ১৮ই ডিসেম্বর সুব্রত চৌধুরী ও তার কর্মী-সমর্থকদের ওপর অনেকটা পুলিশি প্রহরায় হামলা হয়েছে বলে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করেন এই প্রার্থী। বলেন, গ্রেপ্তার আতঙ্কে কেউ প্রচারণায় নামতে পারছে না। এমন পরিস্থিতিতে জনগণের কাছে ভোট চাওয়া দূরে থাক নিজের নিরাপত্তা নিয়েই সন্দেহ প্রকাশ করেছেন ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী। অন্যদিকে, যেকোনো প্রয়োজন ও জরুরি মুহূর্তে পুলিশ, রিটার্নিং অফিসের সহযোগিতা পাওয়া যায় না বলে অভিযোগ জানান ঢাকা-৯ আসনের ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী অ্যাডভোকেট সরদার মো. মানিক মিয়া।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বিটিভিকে সব দলের প্রার্থীর প্রচারণার খবর সমানভাবে প্রচারেরও আহ্বান জানান এই প্রার্থী। ঢাকা-১২ আসনের বাম গণতান্ত্রিক জোটের প্রার্থী জোনায়েদ সাকি অভিযোগ করেন, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের কথা বলে নৌকা মার্কার কর্মীরা কোদাল মার্কার পোস্টার সাঁটাতে দিচ্ছে না। পোস্টার লাগাতে গেলে বাম জোটের কর্মীদের হয়রানি করা হচ্ছে। এ ছাড়া, হুমকি ও ভয়ভীতির কারণে কোথাও নির্বাচনী ক্যাম্প বা অফিস স্থাপন করতে পারছেন না বলেও জানান জোনায়েদ সাকি। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ফেসবুক আইডি ও পেজ হ্যাক করা হয়েছে বলেও মন্তব্য এই প্রার্থীর। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এসব ঘটনায় নিশ্চুপ থাকছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। ঢাকা-১২ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের কর্মী-সমর্থকরাও এই সভায় উপস্থিত ছিলেন।
জোনায়েদ সাকির বক্তব্যের পরপরই তার অভিযোগ অস্বীকার করে আসাদুজ্জামান খানের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট বলেন, ঢাকা-১২ আসনে প্রথম কোদাল মার্কার লেমিনেটেড পোস্টার লাগানো হয়। এই আসনে নৌকার প্রার্থী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অন্য প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের প্রতি সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় রেখে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন বলেও দাবি করেন তিনি। নির্বাচনী প্রচারণার কাজে কাফরুল থানা পুলিশ অসহযোগিতা করছে বলে অভিযোগ করেন ঢাকা-১৫ আসনে বাম জোটের প্রার্থী শামছুল আলম চৌধুরী। পুলিশি সহযোগিতার পাশাপাশি নির্বাচনের প্রচারণার সময় বাড়ানোরও দাবি জানান বাঘ মার্কার এই প্রার্থী। ঢাকা-৬ আসনে বাম জোটের প্রার্থী আবু তালেব মহাজোট প্রার্থীর বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘন করে অফিস স্থাপন, দেয়ালে পোস্টার লাগানো ও মোটরসাইকেলে মহড়া দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ করেন। ঢাকা-৪ আসনে এনডিএফ-এনপিপির প্রার্থী সুমন কুমার রায় প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি অনুরোধ করেন।
সেই সঙ্গে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোটারদের নিরাপত্তা দিতে তিনি জোর দাবি জানান। ঢাকা-১৭ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুর রহিম নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন। ঢাকা-৮ আসনে শুধু একটি দল প্রচারণা চালাচ্ছে বলে জানান জাতীয় পার্টির প্রার্থী ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ। প্রতিটি কেন্দ্রে সেনাবাহিনীর মাধ্যমে ভোট পরিচালনারও আহ্বান জানান তিনি। তবে মতবিনিময় সভায় ভিন্নমত জানান সরকার দল ও মহাজোটের প্রার্থীরা। ঢাকা-৪ আসনে মহাজোটের প্রার্থী সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা নির্বাচনে পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এই পরিবেশ যেন ভোটের দিন পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। ঢাকা-১৬ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ইলিয়াছ মোল্লার প্রধান নির্বাচনী সমন্বয়ক প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেন। অন্য প্রার্থীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে বেরিয়ে এসে ভোটের মাঠে নামারও আহ্বান জানান তিনি।
ঢাকা-১৫ আসনে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হামলা ও নাশকতার ছক করছেন বলে অভিযোগ করেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী কামাল আহমেদ মজুমদার। এর আগে, তার নির্বাচনী অফিসে হামলা, ভাঙচুর ও ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগ করেন তিনি। ভোটের দিন পর্যন্ত তার আসনে বহিরাগতরা যেন ঢুকতে না পারে সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি অনুরোধ জানান কামাল আহমেদ মজুমদার। ওই আসনে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী শফিকুর রহমানের প্রার্থিতা বাতিলেরও দাবি তোলেন নৌকার প্রার্থী। সবশেষে প্রার্থীদের বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে উত্তর দেন সংশ্লিষ্টরা।
মহানগর রিটার্নিং কর্মকর্তা কে এম আলী আজম জানান, এখন পর্যন্ত ২৩টি অভিযোগের বিষয়ে নিষ্পত্তি করা হয়েছে। তবে প্রার্থীরা নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ না দিয়ে সরাসরি রিটার্নিং অফিসে জানালে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব বলেও জানান তিনি। ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার কৃষ্ণপদ রায় বলেন, প্রার্থীদের কথা শুনে মনে হচ্ছে সব অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধেই। নির্বাচনের সময় পুলিশ এক ধরনের চাপে থাকে। প্রার্থী ও সমর্থকরা পুলিশের সে চাপ আরো বাড়িয়ে দেন। তবে পুলিশ কোনো প্রার্থীর প্রচারণায় বাধা দিচ্ছে না। সকলে সহযোগিতা করলে নির্বাচন ব্যর্থ হবে হবে না বলেও মত দেন পুলিশের এই কর্মকর্তা।
আগামী ৩০শে ডিসেম্বর ভোটাররা উৎসবমুখর পরিবেশেই ভোট দিতে পারবেন বলে সভায় জানান বিজিবি’র প্রতিনিধি মেজর তারিক। আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা রকিব উদ্দিন মণ্ডল জানান, প্রার্থীদের নির্বাচনী ব্যয় ও আচরণবিধি মানার বিষয়ে নজরদারি করছে কমিশন। কারো বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের প্রমাণ পেলে কমিশন ব্যবস্থা নেবে বলেও জানান তিনি।

আবার ক্ষমতায় গেলে দারিদ্র্য বলে কিছু থাকবে না -সিলেটে প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন- ‘বিএনপি একেকটা সিট অকশনে দিয়েছে। আসন অকশনে দিতে গিয়ে তাদের এই ছানাবড়া অবস্থা। টাকা ছাড়া তারা মনোনয়ন দেয় না। প্রথমে ৩-৪ জন করে মনোনয়ন দিয়েছে। এরপর দাম তুলে মনোনয়ন দিয়েছে। যে যার চেয়ে বেশি টাকা দিয়েছে তাদের মনোনয়ন দেয়া হয়েছে।’ তারা ৩ থেকে ৪ কোটি টাকা করে নিয়েছে বলে অভিযোগ করেন প্রধানমন্ত্রী। গতকাল বিকেলে সিলেটের আলীয়া মাদ্‌রাসা ময়দানে নির্বাচনী সমাবেশে প্রধান অতিথির ভাষণ দান কালে এ কথা বলেন তিনি। সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন- আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে দেশের উন্নয়ন হয়।
মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়। আর বিএনপি ক্ষমতায় গেলে দেশে সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও লুটপাট বেড়ে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাওয়া হয়।
এজন্য প্রধানমন্ত্রী আগামী ৩০শে তারিখের নির্বাচনে নৌকা মার্কায় ভোট দেয়ার জন্য সিলেট অঞ্চলের মানুষের প্রতি আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকাল ১১ টায় বিমানযোগে সিলেটে আসেন। এরপর তিনি সিলেটে ওলিকুল শিরোমনি হযরত শাহ্‌জালাল, হযরত শাহ্‌পরাণ ও আদি মুসলমান হযরত বুরহান উদ্দিন (রহ.) মাজার জিয়ারত করেন। বিকালে সিলেটের ঐতিহাসিক আলীয়া মাদ্‌রাসা ময়দানে আওয়ামী লীগ আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন। সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সিলেটের ১৯ আসনের মহাজোটের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিয়ে নৌকা মার্কার ভোট চান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন- ‘চলতি বছরের ৩০শে জানুয়ারি সিলেটে এসে নৌকা মার্কার পক্ষে প্রচারণা শুরু করেছিলাম। এখন এসেছি দোয়া নিতে। এজন্য আপনাদের দোয়া ও সমর্থন প্রয়োজন।’ তিনি বলেন- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সাড়ে ৩ বছরে দেশকে স্বল্প উন্নত দেশ হিসেবে উপহার দিয়ে যান। কিন্তু ৭৫ সালে ১৫ই আগস্ট জাতির পিতাকে হত্যার মধ্য দিয়ে দেশকে সন্ত্রাসী রাষ্ট্রে পরিণত করা হয়। দেশের মানুষের গণতন্ত্র হরণ করা হয়। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে দেশের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ শুরু করে। বিদ্যুৎসহ সবক্ষেত্রে বাংলাদেশের উন্নতি হয়।
সম্ভাবনাময় দেশে রূপান্তর শুরু হয় বাংলাদেশ। কিন্তু ২০০১ সালে  সেই সম্ভাবনার শেষ হয়ে গেল। দেশে মানুষ খুন, বোমাবাজি শুরু হলো। কত মানুষকে হত্যা করা হয়। দুর্নীতি, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসের দেশ হিসেবে পরিচিত হয় বাংলাদেশ। এ কারণে বিশ্বের দরবারে অপমানিত হয় দেশ। তারা আমাকে মেরে ফেলার চেষ্টা করেছিলো। ওই সময় আইভি রহমান সহ ২২ জন নেতাকর্মী নিহত হয়েছেন। সেই মামলায় এখন সাজাপ্রাপ্ত হয়ে লন্ডনে আছে। ২০১৪ সালে বিএনপি ও জামায়াত আগুন দিয়ে মানুষ হত্যা করে। মানুষ খুন, অর্থ আত্মসাৎ ও আর লুটপাট ছাড়া তারা কিছুই বুঝে না। তারা এতিমের টাকা মেরে খায়। তাদের নিয়োজিত কেয়ারটেকার সরকার এতিমের টাকা মেরে দেয়ায় মামলা দিয়েছে।
২০০৮ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন- আওয়ামী লীগ সরকার দেশে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে দেশে উন্নয়ন হয়, মাথাপিছু আয় বাড়ে। আমরা সিলেট অঞ্চলে অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে দিয়েছি। ২০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছি। হাওরে সোলার প্যানেলের মাধ্যমে বিদ্যুতের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এতে করে দেশের মানুষের ভাগ্য উন্নয়ন হচ্ছে। সিলেটে গড়ে তোলা অর্থনৈতিক অঞ্চলে প্রবাসীদের বিনিয়োগের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। বলেন- আওয়ামী লীগ সিলেটে ব্যাপক উন্নয়ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। চা নিলাম কেন্দ্র করা হয়েছে। চা শ্রমিকদের ভাগ্য উন্নয়নে সরকার কাজ করছে। কমিউনিটি ক্লিনিক গড়ে তোলা হয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হয়েছে। সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়াম নির্মাণ করেছি। সিলেট মেডিকেল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়ককে চার লেনে রূপান্তরের কাজ শুরু হবে। হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ ও মৌলভীবাজারে তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণ করা হবে। সিলেটে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর স্থাপন করা হয়েছে। সরকার ৬ খানা বিমান কিনেছে। আরো ৫ খানা বিমান আসছে।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তৃতায় নৌকায় ভোট চেয়ে বলেন- আমরা মাথা উঁচু করে চলবো। কারো কাছে মাথা নত করবো না। নৌকায় ভোট দিলে মানুষের ভাগ্যের উন্নয়ন গড়ে দেবো। নিজের ভাগ্যের দিকে কখনো নজর দেই না। সব সময় মানুষের কথাই ভাবি। বলেছিলাম ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের টাকা লাগবে না, নিজের টাকা দিয়ে পদ্মা সেতু করবো। সেটি করতে যাচ্ছি। আর এই একটি কাজ বাংলাদেশকে বিশ্বের কাছে সম্মানিত করেছে। ইনাম আহমদ চৌধুরী আওয়ামী লীগে যোগদান প্রসঙ্গে তিনি বলেন- এবার বিএনপি প্রতিটি আসনে ৩-৪ জন করে মনোনয়ন দিয়েছে। এরপর সিটকে অকশনে দিয়েছে। আর অকশনে দিতে গিয়ে তাদের এই ছানাবড়া অবস্থা। এ সময় প্রধানমন্ত্রী সমাবেশে ইনাম আহমদ চৌধুরীকে খুঁজেন। আগামীতে ক্ষমতায় গেলে সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের দেশে এনে বিচার করবেন বলে সমাবেশে জানান প্রধানমন্ত্রী। বলেন- নৌকায়ই উন্নয়ন। ধানের শীষ সন্ত্রাস ও দুর্নীতিবাজ ও যুদ্ধপরাধীদের মনোনয়ন দিয়েছে। তারা ক্ষমতায় এলে দেশের সকল অর্জন নস্যাৎ করে দেবে।
মৌলভীবাজার-২ আসনের প্রার্থী এমএম শাহীনকে পরিচয় করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন- শাহীনকে নৌকায় তুলে এনেছি। এবার যারা মহাজোটের অন্যান্য প্রতীক নিয়ে আসেন তাদেরকেও ভবিষ্যতে নৌকায় তুলে নেবো। এ সময় হবিগঞ্জ-১ আসনের প্রার্থী মিলাদগাজীকে পরিচয় করিয়ে দেয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী রেজা কিবরিয়ার সমালোচনা করেন। বলেন- পিতার খুনিদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে রেজা কিবরিয়া ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছে। এটা দুঃখজনক।
সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এডভোকেট লুৎফুর রহমানের সভাপতিত্বে ও মহানগর সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের পরিচালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন- অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বাহাউদ্দিন নাছিম, এডভোকেট আহমদ হোসেন, এডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফজিলাতুন্নেছা ইন্দিরা, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী, সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এনামুল কবির ইমন, কেন্দ্রীয় নেত্রী নাজমা আক্তার, মহানগর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন, স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি মোল্লা আবু কাওছার, কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ, মৌলভীবাজার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিসবাউর রহমান, ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী প্রমুখ। এ সময় প্রার্থীদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- সিলেট-১ আসনের প্রার্থী ড. একে আবদুুল মোমেন, সিলেট-২ আসনের প্রার্থী ইয়াহ্‌ইয়া চৌধুরী এহিয়া, সিলেট-৩ আসনের প্রার্থী মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েস, সিলেট-৪ আসনের প্রার্থী ইমরান আহমদ, সিলেট-৫ আসনের প্রার্থী হাফিজ আহমদ মজুমদার ও সিলেট-৬ আসনের প্রার্থী নুরুল ইসলাম নাহিদ বক্তব্য রাখেন।

জনপ্রতিক্রিয়া- প্রসঙ্গ: সেনা মোতায়েন

জাতীয় নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব নিয়ে মাঠে নামছে সশস্ত্র বাহিনী। ২৪শে ডিসেম্বর থেকে সেনা মোতায়েন করার কথা। নিয়মিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে কাজ করবে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা। নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতার পাশাপাশি অনাকাঙ্খিত কোন পরিস্থিতি তৈরি হলে তারা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে পারবে। প্রয়োজনে অপরাধীদের গ্রেপ্তারও করতে পারবে। নির্বাচনের মাঠে সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে সাধারণ ভোটার ও রাজনৈতিক দলগুলোর। আর নির্বাচন নিয়ে কি ভাবছে সাধারণ মানুষ? রাজধানীর নানা শ্রেণি পেশার মানুষের কাছ থেকে উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেছি। মানবজমিন রিপোর্টার শুভ্র দেব, মরিয়ম চম্পা, হাফিজ মুহাম্মদ ও মোহাম্মদ ওমর ফারুক নগরীর বিভিন্ন এলাকার ৮০ জন নাগরিকের সঙ্গে কথা বলেছেন।

বাসাবোর মুদির দোকানি মোহাম্মদ আলী বলেন, সেনাবাহিনী মাঠে নামলে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হবে। তাদের সামনে কোনো ঝামেলা হোক- এটা তারা মেনে নেবে না। কারণ, বিশ্বে তাদের একটা গ্রহণযোগ্যতা আছে। তারা সেটা নষ্ট করতে চাইবে না।
বিজয়নগরে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বিক্রয় সহকারী পরিমল দাস বলেন, বিরোধী দল এখন মাঠে নামলে যারা হামলা চালায় সেনাবাহিনী মাঠে থাকলে তখন তারা সেই সাহস পাবে না। তখন বিএনপি প্রচারণা চালাতে পারবে।
সংবাদকর্মী মাহমুদ হোসাইন বলেন, আরো আগে সেনাবাহিনীকে নামালে পরিস্থিতি আরও ভালো হতো। তবে এই সময়ের ভেতরে পরিস্থিতি কিছুটা ভালো হওয়ার সম্ভাবনা দেখছি।

সেগুনবাগিচায় সৌদি প্রবাসী আলিম উদ্দিন বলেন, একটা জাতীয় নির্বাচন হচ্ছে, অথচ কোথাও কোনো নির্বাচনী আমেজ নেই। নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশে এসেছি। কিন্তু কোথাও বিরোধী দলের প্রার্থীদের পোস্টার, ব্যানার, প্রচারণা নেই। এ কেমন নির্বাচন হচ্ছে? আমার এলাকা কুমিল্লায় খোঁজ নিয়েছি। একই অবস্থা সেখানেও। পোস্টার লাগানো মাত্র ছিঁড়ে ফেলে দেয়া হচ্ছে। সেনাবাহিনী মাঠে নামলে বিরোধীদলীয় প্রার্থীরা সাহস পেতে পারেন।

সেগুনবাগিচা কাঁচাবাজার এলাকার চা-দোকানি আনোয়ার হোসেন বলেন, বিরোধী দলের প্রার্থীদের কি নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর অধিকার নেই। তাদের ওপরে গণহারে হামলা-মামলা করা হচ্ছে। প্রকাশ্য ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। পুলিশ বাহিনী দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছে। এখন শেষ ভরসা সেনাবাহিনী। তারাই পারে পরিস্থিতিটা স্বাভাবিক করতে।

রিকশাচালক রফিক উদ্দিন বলেন, আস্থা ও ভরসার শেষ জায়গা সেনাবাহিনী।
খিলগাঁর তিলপাপাড়া এলাকায় ট্র্যাভেলস এজেন্সি ব্যবসায়ী জয়নাল আবেদিন বলেন, সেনাবাহিনী সাধারণ মানুষের আস্থা কুড়িয়েছে। এই সেনাবাহিনী মাঠে নামলে পরিস্থিতি বদলাবে।

কাকরাইলে সিএনজিচালক নুরু মিয়া বলেন, দেশটা আসলে কোথায় যাচ্ছে সেটাই ভাবছি। কোথাও কোনো আশার কথা শোনা যায় না। যে দেশে নির্বাচনের জন্য প্রার্থীরা প্রচারণা চালাতে পারেন না, সে দেশের ভবিষ্যৎ কী?

ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আবুল বাশার বলেন, সেনাবাহিনী নামলে এরকম পরিস্থিতি থাকবে না। তাদের সামনে কোনো দলের লোকই মারামারি করতে পারবে না। সেনাবাহিনীর প্রতি মানুষের একটা ভয় কাজ করে। অনিয়ম-অবিচার হলে তারা সেটা বরদাস্ত করবে না।
বেসরকারি চাকরিজীবী ফারুক হোসেন বলেন, সেনাবাহিনী নিরপেক্ষ। তারা সরকারের হয়ে কাজ করবে না।
মালিবাগের সবজি ব্যবসায়ী আব্দুল হান্নান বলেন, পরিস্থিতিটা এমন হয়েছে, কোনো কথা বলার অবস্থা নেই। আমরা সাধারণ মানুষ দেশে একটা সুষ্ঠু নির্বাচন চাই। যেটা এখন আমরা দেখতে পাচ্ছি না। সেনাবাহিনী অবশ্যই সেই পরিবেশটা ফিরিয়ে আনতে পারবে।
আলমগীর হোসেন নামের নির্মাণশ্রমিক বলেন, পাঁচ বছর পর পর একটা জাতীয় নির্বাচন আসে। সবাই চায় তাদের পছন্দের দলের প্রার্থীকে ভোট দেবে। ইদানীং ভোটকেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায় একজনের ভোট আরেকজন দিয়ে দেয়। সেনাবাহিনী থাকলে সে পরিস্থিতি হবে না।

ভোট হবে কি হবে না- এই নিয়ে শঙ্কা দেখছেন মগবাজারের বাসিন্দা গৃহিণী মিনা বেগম। তিনি বলেন, ঢাক-ঢোল পিটিয়ে ভোটের আয়োজন করে কী লাভ? যদি না মানুষ পছন্দের প্রার্থীকে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারে। তবে আশা আছে, সেনাবাহিনী মাঠে নামলে একটা ভালো পরিবেশ তৈরি হবে।
আইটি প্রকৌশলী সোহেল হায়দার বলেন, সেনাবাহিনীর প্রতি মানুষের আস্থা আছে। সেনাবাহিনী অবশ্যই মানুষের সেই আশা পূরণ করবে।
বড় মগবাজার এলাকার সংস্কৃতিকর্মী আরাফাত হোসেন বলেন, একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করবে সেনাবাহিনী- এই প্রত্যাশা সবার। গণতান্ত্রিক দেশে ভোট নিয়ে কোনো ধরনের কারচুপি বা হানাহানি-মারামারি হোক সেটা কাম্য নয়।

শিক্ষক ও সমাজসেবী আক্তার হোসেন বলেন, সেনাবাহিনীর প্রতি সাধারণ মানুষের যথেষ্ট আস্থা আছে। এখন যে রকম একটা দলের ওপর অবিচার হচ্ছে। তাদেরকে প্রচার প্রচারণা চালাতে দেওয়া হচ্ছে না- সেনাবাহিনী মাঠে নামলে সেটা হবে না।
পোশাক কারখানার কর্মী সাইদুর রহমান বলেন, সেনাবাহিনী যদি মাঠে নেমে সুন্দর একটা পরিবেশ তৈরি করে তবে ভোট দিতে যাব।
ফুটপাতের পিঠা বিক্রেতা মনিরুল ইসলাম বলেন, সেনাবাহিনী নির্বাচনের মাঠে আসুক- এটা আমরা সবাই চাই। তাদের প্রতি মানুষের মনোভাবটা অন্যরকম। আগেও যখন সেনাবাহিনী মাঠে ছিল তখন কোনো ঝামেলা ছিল না। দেশ অনেক সুন্দরভাব চলেছে। এখনও তাই হবে।

মোটরসাইকেল ওয়ার্কশপের মালিক ফিরোজ হোসেন বলেন, সেনাবাহিনীকে বিচারকি ক্ষমতা দিলে বিশৃঙ্খলাকারীরা ভয়ে থাকবে।
পোশাক ব্যবসায়ী রবিন তালুকদার বলেন, শুধু টহল দিলে হবে না। সেনাবাহিনীকে অ্যাকশনে যেতে হবে। তাহলে কেউ কিছু করার সাহস পাবে না।
শিক্ষিকা তাসফিয়া মেহজাবিন বলেন, আমরা ভোট দিতে চাই। সেই পরিবেশ তৈরি করুক সেনাবাহিনী। তাহলে সাধারণ মানুষের মধ্যে সংশয় কাটবে।
মোটরপার্টস বিক্রেতা রুহুল কবির বলেন, আস্থা বলেন আর ভরসা বলেন এই একটা জায়গাই আছে। সাধারণ মানুষের ভোট দেয়ার অধিকার ও নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি করবে সেনাবাহিনী।
রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ী শিকদার হোসেন বলেন, প্রচারণার শুরু থেকে যদি সেনাবাহিনী নামানো হতো অনেক ভালো হতো।
খবর পাঠক ও মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী তাজকিয়া বিনতে নাজিব বলেন, প্রায় এক সপ্তাহ আগে আর্মি মাঠে নামছে। সেক্ষেত্রে পরিস্থিতি অনেকটা ঠিক হয়ে যাবে। সকল দল প্রচার-প্রচারণা চালানোর সুযোগ পাবে।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. মোস্তাফিজ তাকিয়ে আছেন সেনাবাহিনী মাঠে নামার অপেক্ষায়। তাদের মাধ্যমে বর্তমান পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে বলে তার বিশ্বাস।

লিফট ইলেক্ট্রিশিয়ান মো. জুয়েল রানা বলেন, নির্বাচন নিয়ে তার কোনো মাথাব্যথা নেই। তবে ঢাকা-১৪ আসনে আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্য কোনো প্রার্থীর প্রচারণা তিনি দেখছেন না। এমনকি এ আসনে বিএনপির যে প্রার্থী রয়েছেন তার কোনো পোস্টার চোখে পড়েনি। তবে তার ধারণা সেনাবাহিনী নামলে বিএনপিও মাঠে নামবে। প্রচার-প্রচারণা চালাতে পারবে। তখন ধরপাকড় ও হামলা হবে না।
চা-দোকানি মো. নূর আলম বলেন, আমার ধারণা নির্বাচন হচ্ছে একপাক্ষিক। যারা ক্ষমতায় তারাই নির্বাচন দিচ্ছে।
মিরপুর-১ নম্বরে চল্লিশোর্ধ্ব এক নারী হোটেল ব্যবসায়ী বলেন, আমি আশুলিয়ার ভোটার। ভোট নিয়ে আমার তেমন কোনো চিন্তা নেই। সেনাবাহিনীর দেশপ্রেমকে সাধারণ মানুষ ভয় পায়। একারণে কেউ মারামারি করবে না। তখন আওয়ামী লীগ-বিএনপি সকলেই মাঠে নামতে পারবে।
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী আতিকুর রহমান স্বাধীন মনে করেন, আওয়ামী লীগ সরকার ১০ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকায় তাদের এক বিশাল কর্মী বাহিনী গড়ে উঠেছে। সেনাবাহিনী নামলেও তারা মাঠে সক্রিয় থাকবে। সেনাবাহিনীকে যথেষ্ট ক্ষমতা দেয়া হচ্ছে না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতার শিক্ষার্থী মীর হুজাইফা আল মামদূহ বলেন, প্রচার-প্রচারণা চালানোর জন্য একটা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জরুরি হয়ে পড়েছে। নয়তো ক্ষমতাধররা সব সময়ই তাদের ক্ষমতা দেখিয়ে যাবে।
চিকিৎসক ও সংগঠক নাজমুল ইসলাম মনে করেন, বাংলাদেশের সেনাবাহিনী জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। সাধারণ মানুষ হিসেবে মনে করি অবস্থার পরিবর্তন হবে।

ঢাকা-১৪ আসনের ভোটার চা-বিক্রেতা কবির বলেন, আমি আশাবাদী। সেনাবাহিনী নামলে পরিস্থিতি এমন থাকবে না।
বিক্রয় কর্মী এখলাস হাসান বলেন, সেনাবাহিনী নামলে পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে মনে করার কারণ নেই। সরকারের কথাবার্তায় এমনটা মনে হয়নি। তবে সেনাবাহিনী তাদের প্রফেশনালিজম ধরে রাখতে চেষ্টা করবে।

বেসরকারি চাকরিজীবী মো. মোহিব্বুল্লাহ বলেন, সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সকল বিরোধী দল এটাই মনে করছে যে, সেনাবাহিনী মাঠে নেমে যদি নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করে তবেই হয়তো পরিস্থিতি শান্ত হবে এবং বিরোধী দলের সকলেই সমানভাবে প্রচার-প্রচারণা চালাতে পারবে। আমিও এটাই মনে করি সেনাবাহিনী নামলে পরিস্থিতির কিছুটা পরিবর্তন হবে।

মফস্বল সাংবাদিক আবদুল আজিজ মনে করেন, পরিস্থিতি কতটা পরিবর্তন হবে সেটা বলা যাবে সেনাবাহিনী কী কী পদক্ষেপ নেয় তার ওপর। তারা যদি মাঠ পর্যায়ে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করে তাহলে হয়তো দেশের মানুষ এর সুফল পাবেন। তারা নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।
সাংবাদিকতার শিক্ষার্থী সাদিয়া নওশীনের কথা-আশায় আছি, দেখা যাক কি হয়।
রিকশাচালক ছলিম বলেন, সেনাবাহিনী আইলে খালি মারামারি কমবে।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী বলেন, সেনাবাহিনী মাঠে নামলে অবশ্যই অবস্থার পরিবর্তন হবে। কোনো গ্যাঞ্জাম-হাঙ্গামা হতে দিবে না। তখন শুধুমাত্র মুখ দেখে পুলিশি ধরপাকড় কিছুটা হলেও বন্ধ হবে। সব কিছুই একটি শৃঙ্খলার মধ্যে চলে আসবে।
একজন সংবাদকর্মী বলেন, সেনাবাহিনী মাঠে নামলে পরিস্থিতি কতোটা পরিবর্তন কিংবা উন্নতি হবে সেটা ডিপেন্ড করছে অন্যদের ওপর। কারণ প্রাইমারি ফোর্সতো হচ্ছে আনসার, বিজিবি, পুলিশ। ওরা সেনাবাহিনী থাকবে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে। সুতরাং পুলিশ যদি বলে আমরা এখানে আছি অন্য কাউকে দরকার নেই। আর পুলিশ আল্টিমেটলি না ডাকলে সেনাবাহিনী যাবে না।
পিটিআইয়ের নির্মাণ শ্রমিক আবুল কালাম বলেন, সেনাবাহিনী এলে পরিবর্তন হবে। কোনো হুড়-হাঙ্গামা থাকবে না। পরিবেশ কিছুটা শান্ত হবে। মোটকথা এখনকার থেকে কম ঝামেলা হবে।
লেগুনা ড্রাইভার মো. শামীম বলেন, সেনাবাহিনী নামার পরে দেখা যাক কি হয়। আশা করি ভালো কিছু হবে। তারা যদি সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করে তাহলে অবশ্যই অবস্থার পরিবর্তন আসবে।

চা দোকানদার সেলিম বলেন, সেনাবাহিনী এলে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে। কোনো গ্যাঞ্জাম হবে না। কোনো সরকার এলো বা না এলো সেটা আমাদের দেখার বিষয় না। জনগণ নির্ভয়ে ও শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিতে চায়। যে সরকার ভালো কাজ করবে আমরা তাকেই ভোট দিবো।
ঝালমুড়ি বিক্রেতা ছালাম সরদার বলেন, হয় দেখা যাক। এখনো সময় আছে। তবে ধীরে ধীরে অবস্থার পরিবর্তন হবেই।
বাংলালিংকের ভ্রাম্যমাণ সিমকার্ড বিক্রেতা মো. আরিফুজ্জামান মিলন বলেন, আমরা চাই সেনাবাহিনী আসুক। তারা এলে সবাই নির্ভয়ে থাকবে। গ্যাঞ্জাম-ফ্যাসাদ হবে না।
জুতা মেরামতের কাজ করা স্বপন দাস বলেন, সেনাবাহিনী আরো আগে দেয়া উচিত ছিল। দেরিতে হলেও সেনাবাহিনী এলে ভালো হবে।
সিমেন্ট ব্যবসায়ী ননী গোপাল বলেন, সেনাবাহিনী নামলে বিএনপি মাঠে নামতে পারবে।
ব্যবসায়ী মো. মাহমুদুর রহমান বলেন, আমি মনে করি এখন পরিস্থিতি নরমাল ও স্বাভাবিক আছে। পুলিশ নিজেদের মতো করে একরকম দায়িত্ব পালন করছে। তবে এটাও ঠিক যে, সেনাবাহিনীকে সবাই ভয় পায়। সম্মান করে।

তালা মিস্ত্রি শামীম বলেন, সেনাবাহিনী এলে অবশ্যই পরিবর্তন হবে। সবজি বিক্রেতা মজিবর বলেন, সেনাবাহিনী এলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে। জনগণের জন্য সুবিধা হবে। সবাই নিরাপদে থাকবে। কোনো ঝামেলা হবে না। সবদিকেই সুবিধা হবে। লেপ-তোষক বিক্রেতা নাইম বলেন, সেনাবাহিনী এলে ভালো হবে। এখনতো বিএনপি পোস্টার লাগাতে পারে না। মাঠে প্রচারণায় নামতে পারছে না। এখন নির্দিষ্ট এক পার্টি একপাক্ষিকভাবে মাঠে নামছে। তখন দুই পার্টিই মাঠে নামতে পারবে।
চাল ব্যবসায়ী স্বপন বলেন, অবস্থার আর কি পরিবর্তন হবে।

আগারগাঁও আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. তায়েফ হোসেন বলেন, সেনাবাহিনী যদি আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দু’পক্ষের হয়ে কাজ করে তাহলে অবস্থার পরিবর্তন হবে।
পুলিশ সদস্য ট্রাফিক কনস্টেবল মোকসেদ বলেন, এটাতো আগের থেকেই হয়ে আসছে। নির্বাচনের সময় প্রত্যেক বাহিনীর লোক অংশ নিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন করবে এটাই নিয়ম। শুধুমাত্র পুলিশ দিয়েতো কাজ হবে না। সব বাহিনীর সহযোগিতা লাগবে।
ভাঙাড়ি ব্যবসায়ী আল-আমিন বলেন, সেনাবাহিনী নামলে মানুষের মনে যে একটি ভয় আছে সেটা থাকবে না। এখন সঠিকভাবে ভোট দিতে পারবো কি না এটা নিয়ে বড় টেনশনে আছি।
মাংস বিক্রেতা মো. খোকন কসাই বলেন, কোন পরিবর্তন আসবে বলে মনে হয় না। দেশ তো তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে যায়নি। দলীয় সরকারই এখনো রয়ে গেছে।

বনানীর চেয়ারম্যান বাড়ি এলাকার পত্রিকা বিক্রেতা সিরাজুল ইসলাম বলেন, সরকার ক্ষমতার যত্রতত্র ব্যবহার করছে, যার জন্য নির্বাচনে বিরোধী দল কোনো ভূমিকাই রাখতে পারছে না। এটা কিন্তু ভালো লক্ষণ নয়।

গুলশান-১ এ লোটাস কামাল টাওয়ারের সামনের চা দোকানি আলী হোসেন বলেন, সেনাবাহিনী আসলে সবার জন্য সুবিধা। আর না আসলে ক্ষমতায় থাকা দল সবসময়ই বিরোধী দলকে জুলুম করে। এক দল আরেক দলকে কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়ার চেষ্টা করে। এতে সাধারণ ভোটাররা সবসময়ই আতঙ্কে থাকে। তাই আমার মনে হয় সেনাবাহিনী আসলে এটা আর হবে না। সবাই নিরাপদ থাকবে।
মহাখালী রসুলবাগের বাসিন্দা নাদের মিয়া বলেন, দিনে দিনে এই দেশ গণতন্ত্রহীন হয়ে যাচ্ছে, ভোট কেন্দ্রেও এই প্রভাব পড়বে। কেন্দ্র দখল করতে পারে সরকারদলীয় লোকজন। ফলে সাধারণ ভোটারদের হতাহতের সম্ভাবনা থাকতে পারে। সেই ক্ষেত্রে সেনাবাহিনী আসলে সবার জন্যই ভালো হবে।

পান্থপথের বাসিন্দা ইলিয়াস আকবর বলেন, এবার যদি কেন্দ্রে গিয়ে সাধারণ ভোটাররা ভোট দিতে না পারেন এর পরিণতি সারা দেশের মানুষ ভয়াবহভাবে ভোগ করবে। ভোটারদের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিতে হবে নির্বাচন কমিশনের। সেই ক্ষেত্রে যে যে পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন সেটাই করতে হবে। আর সেনাবাহিনী আসলে তো কোনো কথাই নেই, একটি সুষ্ঠু নির্বাচন আমরা দেখতে পাবো।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী আমজাদ হোসাইন বলেন, জীবনে প্রথম ভোট দেবো। প্রথম ভোটটা যেন ভোটকেন্দ্রে গিয়ে সঠিকভাবে নিরাপদে দিতে পারি এটিই চাওয়া। কিন্তু গত ২০১৪ সালের ভোটের মতো আমি চাই সেনাবাহিনীকে তাদের ক্ষমতা দিয়ে নির্বাচনকালীন সময়টাতে রাখা হোক তাহলে মানুষ নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারবে।

সুষ্ঠু নির্বাচনে বিশিষ্টজনদের ৫ দাবি

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ-নিরপেক্ষ-সুষ্ঠুু হওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশিষ্টজনরা। শনিবার ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে ‘নির্বাচনে জনগণের ঢল নামুক, ভোটকেন্দ্র হোক ভোটারের’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগ বিভাগের অধ্যাপক গীতি আরা চোধুরী। আলোচনায় অংশ নেন ইতিহাসবিদ অধ্যাপক আহমেদ কামাল, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আনু মোহাম্মদ, সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী এড. শাহদীন মালিক, এড. সারা হোসেন, আলোকচিত্রী শহিদুল আলমসহ সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।
বক্তরা বলেন, নানা প্রতিকুলতা ও অনিয়মের মধ্যেও সকল দল একাকার হয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শক্তিশালী করার জন্য একটি ভালো খবর। কিন্তু নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর পর থেকে প্রায় প্রতিদিন বিপক্ষ দলের প্রার্থী এবং নেতাকর্মীরা হামলা-মামলা ও হয়রানীর শিকার হচ্ছেন। নিকট অতীতে নাগরিকের মতপ্রকাশের অধিকারকেও হরণ করা হয়েছে।
ভিন্নমতের কণ্ঠরোধ করা হয়েছে। গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণসহ শান্তিপূর্ন আন্দোলন দমন করা হয়েছে। বিশিষ্টজনেরা বলছেন, এ অবস্থায় একটি সুষ্ঠু নির্বাচন প্রায় অসম্ভব।
এ প্রেক্ষিতে অনুষ্ঠানে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা ৫টি দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো, প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা, স্বাধীনভাবে দেশী ও বিদেশী পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের যথাযত ভূমিকা পালন করতে দেয়া, হামলা-মামলা-ভয়ভীতি প্রদর্শন ও সহিংসতা বন্ধ করা এবং এসব কাজে জড়িত ব্যক্তি ও গোষ্ঠির বিরুদ্ধে সক্রিয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা, সকল প্রকার যোগাযোগমাধ্যমকে বাধা সৃষ্টির বদলে উন্মুক্ত করে দেয়া, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠির মানুষদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।