Thursday, April 6, 2017

বসিয়ে দেয়া হলো মার্কিন নৌবাহিনীর সব প্রশিক্ষণ বিমান

মার্কিন নৌবাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান টি-৪৫সি গোশ্যাওয়াকের গোটা বহরের উপর উড্ডয়ন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এ বহরে ২০০ বিমান রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। অনেক পাইলট অসুস্থ হয়ে পড়ার পর এবং প্রশিক্ষকদের প্রতিবাদের মুখে এ ব্যবস্থা নেয়া হয়। মার্কিন নৌবাহিনীর বিমান প্রশিক্ষকদের ৪০ শতাংশ এ বিমান চালাতে অস্বীকার করেছেন বলে সামরিক সূত্র থেকে স্বীকার করা হয়েছে। আগাম কোনো সতর্ক বার্তা না দিয়েই প্রশিক্ষণ বিমানের অক্সিজেন ট্যাংকে ক্রুটি দেখা দেয় বলে একজন পাইলট জানান। প্রশিক্ষণ বিমান টি-৪৫সি গোশ্যাওয়াকের অক্সিজেন ট্যাংকে ত্রুটির কারণে সপ্তাহে গড়ে ৩ জন করে পাইলট অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনা ঘটছে।
এ পর্যন্ত যে সব পাইলট এ রকম ঘটনার শিকার হয়েছেন তাদের মধ্যে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সের ছেলে ফার্স্ট লেফটেন্যান্ট মাইকেল পেন্সও রয়েছেন। মেরিন পাইলট হিসেবে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন মাইকেল পেন্স। অক্সিজেন ট্যাংকের ত্রুটির বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং পর্যালোচনা চলছে। মার্কিন নৌবাহিনীর বিমান বহরের প্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল মাইক শুমেকার বলেছেন, অক্সিজেন সরবরাহ সংক্রান্ত ইস্যুকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দেখা হচ্ছে। সূত্র : ওয়েবসাইট

চলতি অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি হবে ৬.৯%

চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৯ শতাংশ  হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে এশিয়ান উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। ২০১৬ অর্থবছরের জুনে প্রবৃদ্ধি ছিল ৭ দশমিক ১ শতাংশ। চলতি বছর এই প্রবৃদ্ধি কমার পেছনে রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়া ও রফতানি কমে যাওয়াকে উল্লেখ করেছে এডিবি।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এডিবি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এতে এসব তথ্য ওঠে আসে। প্রতিবেদনে বলা হয়, এবার মূল্যস্ফীতি হবে ৬ দশমিক ১ শতাংশ, যা সরকারের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি। একই সঙ্গে ২০১৮ সালের প্রবৃদ্ধিও ৬ দশমিক ৯ শতাংশ হবে পূর্বাভাস দিয়েছে এডিবি।

রুশ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে পারবে না যুক্তরাষ্ট্র

মার্কিন স্ট্র্যাটেজিক কমান্ডের প্রধান জেনারেল জন হাইটেন বলেছেন, সম্প্রতি মোতায়েন রাশিয়ার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে পারবে না আমেরিকা বা তার মিত্ররা। সিনেট আর্মড সার্ভিসেস কমিটিকে এ কথা বলেন মার্কিন বিমান বাহিনীর জেনারেল হাইটেন। সিনেটের শুনানিতে ভূমি থেকে ছোঁড়ার উপযোগী রুশ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে এ উদ্বেগ ব্যক্ত করেন তিনি। রুশ ভোলগোগ্রাদ অঞ্চলসহ অজ্ঞাত আরেকটি অঞ্চলে এ ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করেছে মস্কো। এর বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয়া যায় তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র চিন্তা ভাবনা করছে বলেও জানান তিনি।
অবশ্য, এটি মোতায়েনের মধ্য দিয়ে ভূমি থেকে ছোঁড়ার উপযোগী মধ্যপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র সংক্রান্ত চুক্তি রাশিয়া লঙ্ঘন করেছে বলে অভিযোগ করেছে আমেরিকা। কিন্তু রুশ কর্মকর্তারা পাল্টা একই অভিযোগ ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে করেছেন। এ ছাড়া, পরমাণু অস্ত্র ভাণ্ডার আধুনিকায়নের রুশ সামগ্রিক পরিকল্পনার নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মার্কিন জেনারেল। সূত্র : ওয়েবসাইট

বিএনপি-জামায়াত জোটের নীতি ছিল মানুষকে ভিক্ষুক করে রাখা : প্রধানমন্ত্রী

বিএনপি-জামায়াত জোট দেশটিকে ভিক্ষুকের সর্দারের মতই পরিচালনা করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ বলেছেন, তাদের নীতিটাই ছিল নিজেদের স্বার্থে দেশের মানুষকে আজীবন ভিক্ষুক বানিয়ে রাখা। তারা কখনও চাইতো না যে বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হোক। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আসলে তাদের (বিএনপি-জামায়াত) নীতিটাই আলাদা ছিল। বিএনপি-জামায়াত কখনই চায়নি বাংলাদেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে। কারণ, তাদের সবসময় লক্ষ্য ছিল ব্যবসা-বাণিজ্য। চাল আমদানি করে দু পয়সা কামাই করবে এটাই তাদের লক্ষ্য ছিল।’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ সকালে রাজধানীর ফার্মগেটস্থ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ডিপ্লোমা কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনের (কেআইবি) উদ্যোগে আয়োজিত ‘ডিপ্লোমা কৃষিবিদ মহাসম্মেলন-২০১৭’ তে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোট দেশটিকে ভিক্ষুকের সর্দারের মতই পরিচালনা করেছে। দেশের মানুষ যত গরীব থাকবে, জীর্ণশীর্ণ থাকবে ততই লাভ। তাদের দেখিয়ে বিদেশ থেকে টাকা এনে ভাগাভাগিটা করা যাবে। দেশ খাদ্যে স্বনির্ভর হলেতো আর টাকা আসবে না। এজন্য দেশবাসীকে ভিক্ষুক বানিয়ে রাখাই তাদের উদ্দেশ্য ছিল।’ এ প্রসংগে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার দল আওয়ামী লীগ বিএনপি’র মত ভিক্ষুকের সর্দার হয়ে থাকতে চায় না। তিনি বলেন, আমরা শাসক নয়, সেবক হয়ে দেশ পরিচালনা করেই দেশের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করে যেতে চাই। আর এখানেই আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি’র মধ্যে পার্থক্য। ‘খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়া নাকি ভাল নয়, তাহলে বিদেশের সাহায্য পাওয়া যাবে না,’ ক্ষমতায় থাকাকালীন এটাই ছিল বিএনপি নেতা, মন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের অভিমত, বলেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন কৃষিমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনের সাবেক মহাসচিব আফম বাহাউদ্দিন নাছিম এমপি। ডিপ্লোমা কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনের সভাপতি এটিএম আবুল কাশেম অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। সম্মেলনে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন সংগঠনের মহাসচিব মো. আব্দুর রাশেদ খান।
অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্যবৃন্দ, সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ, কূটনৈতিক মিশনের সদস্যবৃন্দ, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার সদস্যবৃন্দ, আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ, বিভিন্ন গবেষণাগারের কর্মকর্তাবৃন্দ, বিজ্ঞানীবৃন্দ, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তাবৃন্দ এবং ডিপ্লোমা কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনের সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এরআগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পায়রা উড়িয়ে ডিপ্লোমা কৃষিবিদ মহাসম্মেলন ২০১৭ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। প্রধানমন্ত্রী জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন, এ সময় সমবেত কন্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশিত হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, পঁচাত্তর-পরবর্তী সরকারগুলো এদেশের উন্নয়নে কোন কাজ না করে শুধু নিজেদের ভাগ্য গড়ায় ব্যস্ত হয়ে পড়ে। শুধু তাই নয়, যেহেতু অবৈধভাবে সংবিধান লঙ্ঘন করে তারা ক্ষমতায় এসেছিল তাই ক্ষমতাকে কিভাবে ধরে রাখবে এই কাজেই তারা ব্যস্ত ছিল। দেশের মানুষের দিকে তাকোনোর কোন ফুরসৎ ছিল না। সাথে সাথে যেসব শিল্প করকারখানা ছিল, এমনকি আমাদের কৃষিভিত্তিক শিল্প যেগুলো পাকিস্তানীরা ফেলে যাওয়ার পরে জাতির পিতা জাতীয়করণের মাধ্যমে স্বাধীনতার পর চালু করেন, সেগুলো একে একে সেই শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ করে দেয়। অর্থাৎ আমাদের দেশের অর্থনীতিকে পঙ্গু করে রাখাই তাদের লক্ষ্য ছিল। শুধু তাই নয়, ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের পরামর্শ অনুযায়ী বিএডিসি বন্ধ করে দেবার সিদ্ধান্ত নেয় বিএনপি সরকার। সূত্র : বাসস

শিবালয়ে ২০ হাজার একর জমিতে জলাবদ্ধতা ফসলহানির আশংকা

সেচ ও বৃষ্টির পানিতে জলাবদ্ধতার কারনে শিবালয় উপজেলার ১০টি মৌজার অন্তত ২০ হাজার একর জমিতে আবাদকৃত অধিকাংশ বোরো ধান তলিয়ে গেছে। এতে কৃষকরা ফসলহানি ও বিপুল আর্থিক ক্ষতির আশংকা করছে। জানা গেছে, চলতি বোরো মওসুমে শিবালয়ের জাফরগঞ্জ, গোয়াড়িয়া, মিরপুর, মালুচি, শুকনাই, ষাইটঘর, বাশাঈল, জমদুয়ারা, তেঁতুলিয়া, সমেশঘর, নিহালপুর, কৃষ্ণপুর, উথলী, বেলতাসহ বিভিন্ন চকে বোরো ধান আবাদ করা হয়। কয়েক দফা প্রবল বৃষ্টি ও সেচকৃত পানিতে এ সকল চকের নি¤œাঞ্চল প্লাবিত হয়। বিশেষ করে বোরো প্রকল্পে ব্যবহৃত সেচ যন্ত্রের সাহায্যে তোলা পানি উপচে পড়ে বিভিন্ন খাল, ডোবা-নালা দিয়ে নি¤œাঞ্চলে প্রবাহিত হয়। বিপুল পরিমান উদ্বৃত পানি সহজে নদী বা খালে প্রবাহিত হতে না পারায় নিচু জমির ধান ক্ষেত ক্রমশ তলিয়ে যাচ্ছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এ সকল চকের পানি দক্ষিন দিকে গড়িয়ে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের উথলী ইন্টারসেকশন সচিব মোড় হয়ে পূর্ব দিকে ইছামতি নদীতে যেতে বাঁধাপ্রাপ্ত হচ্ছে। ভূক্তভোগী কৃষকদের অভিযোগ, এ মহাসড়কের নাভানা সাইনবোর্ডের নিকট থেকে পূর্বদিকে অন্তত এক কিলোমিটার খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় সহজে পানি ইছামতি নদীতে যেতে পারছে না।
তা সত্বেও একশ্রেণির মাটি ব্যবসায়ীরা ‘হাবির বাসা’ নামক স্থানে খালে আঁড়াআড়িভাবে বাঁধ দেয়ায় পরিস্থিতি আরো নাজুক হয়েছে। এরফলে, বোয়ালী, আনুলিয়া, আড়পারা, কাশাদহ, দুবুলিয়াডাঙ্গা,চর-ফরিদপুরসহ বিভিন্ন চকে অনুরুপ জলাবদ্ধতা দেখা দিচ্ছে। প্রত্যহ ডুবে যাওয়া ক্ষেতের পরিমান ক্রমশ: বৃদ্ধি পাচ্ছে। তেওতা ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আব্দুল কাদের ইত্তেফাককে জানান, উথলী মোড় হতে পূর্ব-পশ্চিম দিকে প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ খালে অন্তত ৪ থেকে ৬ ফুট গভীরতায় সরু খাল খনন করলে এ সমস্যা দুর হওয়া সম্ভব। দ্রুত পানি প্রবাহের ব্যবস্থা না করলে কৃষকের হাত মাথায় উঠবে। বিষয়টি উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছে। শিবালয় ইউএনও কামাল মোহাম্মদ রাশেদ জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শনপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

দালাই লামার সফরে সম্পর্ক মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হলো

তিব্বতি বৌদ্ধ ধর্মগুরু দালাই লামার অরুণাচল প্রদেশ সফর রুখতে চীন আরও আগ্রাসী ভূমিকা নিল। চীনা আপত্তি অগ্রাহ্য করে দালাই লামা অবশ্য অরুণাচল প্রদেশে পৌঁছে গেছেন। তিনি বমডিলায় পৌঁছানোর দিনেই চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলে দেয়, এই সফরে চীন-ভারত সম্পর্ক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলো। শুধু তা-ই নয়, দালাই লামার এই সফর নিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকেও একহাত নিয়েছে চীন। সে দেশের সরকারি প্রচারমাধ্যমে এক নিবন্ধে লেখা হয়েছে, ‘দালাই লামা প্রশ্নে পূর্বসূরিদের পথে না হেঁটে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মনে হচ্ছে ভিন্ন পথে হাঁটছেন। সরকারি মদদে তাঁর অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে চীনের ক্ষমতাকে তিনি চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছেন।’ দালাই লামা কিন্তু এর আগে ছয়বার অরুণাচলে গেছেন।
এমনকি একাধিকবার তাওয়াং গেছেন। এই তাওয়াংকেই চীন তাদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে। আগে কোনবার কোন তারিখে দালাই লামা অরুণাচল প্রদেশে গেছেন, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার তা প্রকাশও করে। কিন্তু তা সত্ত্বেও চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হুয়া চুনইং গতকাল বুধবার বলেন, এই সফরের ব্যবস্থা করে ভারত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের মারাত্মক ক্ষতি করেছে। দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বার্থ রক্ষায় চীন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। চীনের এই প্রতিক্রিয়ার জবাবে গতকাল ভারত নতুন করে কিছু বলেনি। মন্ত্রণালয় সূত্রের খবর, প্রাকৃতিক বিপর্যয় না ঘটলে দালাই লামার সফরে পরিবর্তন ঘটছে না। সূত্র বলছে, হাফিজ সাঈদ ইস্যু ও এনএসজিতে ভারতের অন্তর্ভুক্তিসহ বিভিন্ন বিষয়েও নয়াদিল্লির মনোভাবকে গুরুত্ব দিচ্ছে না বেইজিং। আর দালাই লামা রাজনৈতিক ব্যক্তি নন। তাওয়াং গুম্ফায় তিনি ধর্ম ও শান্তির বাণীই প্রচার করবেন।

সু চির অস্বীকার

মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলিম নিধনের কথা অস্বীকার করেছেন দেশটির নেত্রী অং সান সু চি। বিবিসিকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এই দাবি করেন তিনি। দেশটির রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলিমদের নিধন করা হচ্ছে বলে ব্যাপকভিত্তিক অভিযোগ রয়েছে। এই অভিযোগ অস্বীকার করলেও রাখাইন সমস্যা আছে বলে স্বীকার করেছেন শান্তিতে নোবেলজয়ী সু চি। ‘জাতিগত নিধন’ শব্দগুলো ব্যবহার করার বিষয়ে আপত্তি করেন মিয়ানমারের এই নেত্রী। তিনি বলেন, দেশ থেকে চলে যাওয়া রোহিঙ্গারা ফিরে এলে তাঁদের স্বাগত জানাবে মিয়ানমার। সু চি বলেন, ‘আমি মনে করি না, সেখানে (রাখাইন) জাতিগত নিধন চলছে। যা ঘটছে, তা প্রকাশে “জাতিগত নিধন” কথাটা ব্যবহার কড়া হয়ে যাচ্ছে।’ রাখাইনে অনেক বৈরিতা আছে বলে মনে করেন সু চি। তিনি বলেন, সেখানে মুসলিমরাও নিজেদের হত্যা করছে। মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের নাগরিক বলে মেনে নেয়নি। তাঁরা স্বাস্থ্য, শিক্ষা, এমনকি মুক্তভাবে চলাফেরার সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে।
২০১২ সালে জাতিগত সহিংসতায় লাখো রোহিঙ্গা বাস্তুচ্যুত হয়। মিয়ানমারে গত বছর অক্টোবরে সীমান্তবর্তী নিরাপত্তাচৌকিতে হামলার সূত্র ধরে রাখাইন রাজ্যে অভিযান শুরু করে নিরাপত্তা বাহিনী। জাতিসংঘসহ মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, রাখাইন রাজ্যের শত শত রোহিঙ্গাকে হত্যা করা হয়েছে। নারী-শিশুরা ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে। রোহিঙ্গাদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে মিয়ানমার সরকার। তাদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, অভিযোগগুলো অতিরঞ্জিত। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, সবশেষ এই অভিযানকালে প্রাণ বাঁচাতে ৭০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়নসহ সহিংসতার ঘটনাগুলো তদন্তের ঘোষণা দিয়েছে জাতিসংঘ।

উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা ভবন থেকে কমান্ডারের মৃতদেহ উদ্ধার

নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন থেকে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার রাশেদুন নবী ওরফে বেফিনের (৬৫) মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে ভবনের তিনতলার একটি কক্ষ থেকে রশিতে ঝোলানো অবস্থায় মৃতদেহটি উদ্ধার করা হয়। বাগাতিপাড়া থানা সূত্রে জানা যায়, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার রাশেদুন নবী ওরফে বেফিন বুধবার রাতে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনে অবস্থান করছিলেন। আজ সকাল ১০টার দিকে পরিচ্ছন্নতাকর্মী তাঁর কক্ষের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ অবস্থায় পান।
বারবার ডাকাডাকি করেও তাঁর সাড়া পাওয়া যায় না। ফোন করলে তিনি মুঠোফোনও ধরেন না। খবর পেয়ে পুলিশ এসে ওই কক্ষ থেকে রশিতে ঝোলানো অবস্থায় রাশেদুন নবীর মৃতদেহ উদ্ধার করে। বেলা পৌনে ১১টা পর্যন্ত সেখানে তাঁর মৃতদেহ রাখা ছিল। বাগাতিপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তিনি নিজেও ঘটনাস্থলের দিকে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে যাচ্ছিলেন। তিনি শুনেছেন যে কমান্ডার রাশেদুন নবী আত্মহত্যা করেছেন। লাশ ময়নাতদন্ত করার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হবে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর বলা যাবে, কী কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।

সোনারগাঁর চেয়ারম্যানের সাময়িক বরখাস্তের আদেশ স্থগিত

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার চেয়ারম্যান আজহারুল ইসলাম মান্নানকে দ্বিতীয় দফায় সাময়িক বরখাস্তের আদেশ ৬ মাসের জন্য স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ তাঁর করা এক আবেদনের শুনানি নিয়ে আজ বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেন। আদালতে আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মাহবুব উদ্দীন খোকন ও এইচ এম সানজীদ সিদ্দিকী।
আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোখলেছুর রহমান। গত ৮ মার্চ নাশকতার একটি মামলায় আজহারুলের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গৃহীত হওয়ায় তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। বর্তমানে তিনি জামিনে আছেন। এর আগে গত বছর তাঁর নামে নাশকতার আরেকটি মামলায় অভিযোগপত্র গৃহীত হওয়ায় তাঁকে ওই বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি প্রথম দফায় সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। পরে এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট ওই বছরের ৩ মে সাময়িক বরখাস্তের আদেশটি স্থগিত করেন, পাশাপাশি রুল দেন। এবার দ্বিতীয় দফায় বরখাস্তের আদেশের বৈধতা নিয়ে গতকাল আবেদন করেন আজহারুল। শুনানি নিয়ে আদালত এ আদেশ দেন।

বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের আশপাশে বিস্ফোরক পোঁতা

বাংলাদেশ-মিয়ানমার শূন্য লাইনের আশপাশে আইইডি (ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস বা হাতে তৈরি বোমা-গ্রেনেড) ও মাইন পুঁতে রাখা হয়েছে। সেসবের বিস্ফোরণে সেখানে হতাহতের ঘটনা ঘটছে।  আজ বৃহস্পতিবার সকালে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদর দপ্তরে বিজিবির অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আনিসুর রহমান এ তথ্য জানিয়েছেন। তবে কারা সেসব বিস্ফোরক পুঁতে রেখেছে তা তিনি স্পস্ট করেননি। তিনি জানিয়েছেন, ওই সব জায়গায় বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এখনো পৌঁছাতে পারেনি। ১ থেকে আজ ৬ এপ্রিল পর্যন্ত সাত দিনব্যাপী সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে বিজিবির সদর দপ্তরে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে দুই দেশের সীমান্ত পরিস্থিতি ও অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বিষয়ে বিভিন্ন সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। ওই সময় উপস্থিত ছিলেন চিফ অব পুলিশ জেনারেল স্টাফ (মিয়ানমার পুলিশ ফোর্স) মেয়োসেও উইন। সংবাদ সম্মেলনে বিজিবির অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আনিসুর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের শূন্য লাইনের আশপাশে পুঁতে রাখা আইইডি ও মাইন অপসারণে দুই দেশ সম্মত হয়েছে। দুই দেশের সরকার তাদের ভূমি সন্ত্রাসীদের ব্যবহার করতে দেবে না। সীমান্তের কোনো বিশেষ এলাকায় এ ধরনের অপরাধীদের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য পাওয়া গেলে সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করা হবে।’ তিনি বলেন, মিয়ানমার সীমান্তের ওপারে ৪৯টি ইয়াবা তৈরির কারখানা থাকার তথ্য মিয়ানমারকে দিয়েছে বাংলাদেশ। কারা আইইডি ও মাইন পুঁতে রেখেছে—প্রশ্ন করা হলে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আনিসুর রহমান তা স্পষ্ট করেননি। বলেছেন, বাংলাদেশ এখনো সেসব জায়গায় যেতে পারছে না। তবে যাওয়ার চেষ্টা করছে। ওই সব বোমা বিস্ফোরণে কতজন হতাহত হয়েছে, সে বিষয়েও তিনি কোনো তথ্য দেননি। রোহিঙ্গাসহ অবৈধ অনুপ্রবেশকারী প্রসঙ্গে আনিসুর রহমান বলেন, সীমান্ত এলাকা এখন স্থিতিশীল। অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের ব্যাপারে দুই পক্ষেরই তথ্য সরবরাহ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। মিয়ানমার জানিয়েছে, রোহিঙ্গারা চাইলে এখন সেখানে ফিরে যেতে পারে। সংবাদ সম্মেলনে মিয়ানমারের প্রতিনিধিদের কোনো প্রশ্ন করতে দেওয়া হয়নি। সংবাদ সম্মেলন শেষে চিফ অব পুলিশ জেনারেল স্টাফ (মিয়ানমার পুলিশ ফোর্স) মেয়োসেও উইন বেরিয়ে যাওয়ার সময় তাঁকে প্রশ্ন করা হলে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, বৈঠকে মিয়ানমারের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত, মতামত বাংলাদেশকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

মাদকাসক্ত ছেলেকে পুলিশে দিলেন মা, পরে কারাদণ্ড

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় মাদকাসক্ত এক তরুণকে থানায় এনে পুলিশে সোপর্দ করলেন তাঁর মা। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে তাঁকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা, পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ওই তরুণের নাম রহমত উল্লাহ (৩০)। বাড়ি উপজেলার কাশিমনগর গ্রামে। সূত্রটি জানায়, রহমত উল্লাহ দীর্ঘ দিন ধরে ইয়াবা ও গাঁজা সেবন করছেন। মাদকের টাকা না পেলে প্রায়ই তিনি তাঁর মা রহিমা বেগম ও বড় ভাই মালু মিয়াকে মারধর করতেন। বুধবার সকাল আটটায় মাদক কেনার জন্য মায়ের কাছে কিছু টাকা চান। এতে অপারগতা জানালে ওই তরুণ তাঁর মা ও বড় ভাইকে মারধর ও গালাগাল করেন। তাঁর অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে রহিমা বেগম তাঁর বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। ওই দিন সন্ধ্যায় থানায় নিয়ে তাঁকে পুলিশের কাছে তুলে দেন।
আজ সকাল ১০টায় পুলিশ তাঁকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে পাঠায়। উপজেলা পরিষদে পরিচালিত ওই আদালত তাঁকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেন। ওই আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী হাকিম মোহাম্মদ মফিজুল ইসলাম। তরুণের মা রহিমা বেগম বলেন, তাঁর ছেলে মাদকাসক্ত। নেশা করার টাকা না পেলে প্রায়ই তাঁর গায়ে হাত তুলতেন। এ জন্য ছেলেকে পুলিশের কাছে দিয়েছেন। তাঁর শাস্তি হওয়া উচিত। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর হোসেন মজুমদার বলেন, ওই ছেলের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেন তাঁর মা। থানায় এনে পুলিশের কাছেও তুলে দেন। তাঁর (রহমত উল্লাহ) বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হয়েছে। ইউএনও মোহাম্মদ মফিজুল ইসলাম বলেন, আজ দুপুর ১২টায় রহমত উল্লাহকে চাঁদপুর কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

কানে হেডফোন, ট্রেনের ধাক্কায় ছিন্নভিন্ন দেহ

রাজশাহীতে ট্রেনে কাটা পড়ে আরিফ আরমান সজীব (২১) নামে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। নিহত সজীব ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। সজীবের বাড়ি রাজশাহী নগরের তেরখাদিয়া এলাকায়। বাবা মাহবুবুর রহমান প্রকৌশলী। তাঁদের গ্রামের বাড়ি রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাজশাহী নগরের কাদিরগঞ্জ গ্রেটার রোড মসজিদ রেলগেট এলাকায় আজ বুধবার রাত আটটার দিকে রেললাইনে সজীব কানে হেডফোন লাগিয়ে মোবাইলে কথা বলছিলেন। এ সময় চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে রাজশাহীগামী একটি ট্রেন এলেও সজীব লক্ষ করেননি। অদূরে থাকা কয়েকজন তাঁকে সরে দাঁড়াতে বললেও তিনি শুনতে পাননি। এর মধ্যে ট্রেন ধাক্কা দেয় তাঁকে।
এ সময় ট্রেনের সঙ্গে আটকে গিয়ে তাঁর দেহ ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। সজীবের মামা মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সজীবের বাবা মাহবুবুর রহমান সিলেট পল্লী বিদ্যুতে চাকরি করেন। মা নার্গিস ফেরদৌসী ১৫ দিন ধরে সেখানেই আছেন। সজীবদের তেরখাদিয়া এলাকায় বাড়িটির নির্মাণের কাজ চলছে। সে জন্য তাঁরা কাদিরগঞ্জ গ্রেটার রোড মসজিদ রেললাইনের পাশে একটি বাড়ি ভাড়া নেন। সেখানে তাঁরা কয়েক মাস ধরে আছেন। তিনি আরও জানান, রেললাইনের পাশে একটি দোকানে তেরখাদিয়ায় নির্মিত বাড়ির লোহার গ্রিল বানানোর জন্য সজীব টাকা দিয়ে লাইনের ধারে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলেন। এ সময় দুর্ঘটনাটি ঘটে। রাজশাহী রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আকবর হোসেন জানান, খবর পেয়ে রেলওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

টাঙ্গাইলে ইঞ্জিনসহ বগি লাইনচ্যুত, ট্রেন চলাচল বন্ধ

টাঙ্গাইলে বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্ব প্রান্তে ঢাকা থেকে লালমনিরহাটগামী আন্তনগর লালমনি এক্সপ্রেস ট্রেনের ইঞ্জিনসহ তিনটি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। এতে ঢাকার সঙ্গে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। আজ বৃহস্পতিবার ভোররাত তিনটার দিকে বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব রেলস্টেশনের পরে পাথাইলকান্দি রেলক্রসিংয়ের কাছে ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয়।
বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব রেলস্টেশনের মাস্টার নুরুল হুদা ও বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থানার দ্বিতীয় কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) হাবিবুর রহমান বলেন, ভোররাত তিনটার দিকে আন্তনগর লালমনি এক্সপ্রেস ট্রেনটি বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব রেলস্টেশন ছেড়ে যাওয়ার পর পাথাইলকান্দি রেলক্রসিংয়ের কাছে পৌঁছার পর লাইনচ্যুত হয়। এ ঘটনায় আপাতত ঢাকার সঙ্গে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। বিভিন্ন স্টেশনে বেশ কিছু ট্রেনও আটকা পড়ে আছে। ঢাকা থেকে উদ্ধারকারী ট্রেন ঘটনাস্থলের দিকে রওনা হয়েছে বলে রেলওয়ে সূত্র জানিয়েছে।

শেখ হাসিনার সফরকে ‘যথেষ্ট গুরুত্ব’ ভারতের

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নয়াদিল্লি সফরকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছে ভারত। কাল শুক্রবার চার দিনের এই সফর শুরু হচ্ছে। ভারতের কূটনীতিকেরা আশা করছেন, দুই নিকট প্রতিবেশীর মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ের ঘনিষ্ঠতাকে ভবিষ্যতে আরও নিবিড় করার ক্ষেত্রে এই সফর ভূমিকা রাখবে। ভারতের রাজনৈতিক নেতৃত্বের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, দুই দেশের বন্ধুত্বকে নতুন মাত্রা দিতে নয়াদিল্লি সেই পদক্ষেপগুলোই নেবে, যেখানে শুধু ভারত নয়, বাংলাদেশও লাভবান হবে। শেখ হাসিনার সফর নিয়ে গতকাল বুধবার ভারতের রেলমন্ত্রী সুরেশ প্রভু ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা এমন মনোভাব ব্যক্ত করেছেন। সাত বছর পর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরকে গুরুত্ব দিয়ে একে সম্পর্কের নতুন মাত্রা হিসেবে আখ্যায়িত করলেও তিস্তা নিয়ে নাটকীয় কিছু হওয়ার কথা শোনা যায়নি ভারতীয় কূটনীতিকদের মুখ থেকে। যদিও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শনিবার শেখ হাসিনার সম্মানে রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির দেওয়া নৈশভোজে যোগ দেওয়ার খবরে সফরের আগ মুহূর্তে তিস্তা নিয়ে গণমাধ্যমে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে। তিস্তা চুক্তি সই নিয়ে হঠাৎ করে প্রত্যাশা না বাড়িয়ে বাস্তবতা মেনে নেওয়ার কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন এখানকার কূটনীতিক মহল। ভারতের অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়ায় রাজ্যকে নিয়ে সমস্যার সমাধান হয়ে থাকে। তাই অভিন্ন নদীটির চুক্তি সইয়ে সময় লাগবে। আর দুই নিকট প্রতিবেশীর সম্পর্ক শুধু তিস্তাকে নিয়ে নয়। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গোপাল বাগলে বলেছেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে ‘যথেষ্ট গুরুত্ব’ দিচ্ছে ভারত। তাঁর প্রত্যাশা, দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বটা আরও শক্তিশালী করার পথ তৈরি করে দেবে শেখ হাসিনার সফর। তাই সফরটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। গোপালের সহকর্মী ও ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (বাংলাদেশ-মিয়ানমার ডেস্ক) শ্রীপ্রিয়া রঙ্গনাথন বলেন, এই মুহূর্তে সম্পর্কটা সবচেয়ে ভালো পর্যায়ে আছে। সফরটি সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নেবে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই দুই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা দিল্লি সফররত বাংলাদেশের গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপে এসব মন্তব্য করেন। শেখ হাসিনার সফর উপলক্ষে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আমন্ত্রণে বাংলাদেশের গণমাধ্যমকর্মীদের একটি প্রতিনিধিদল এখন দিল্লিতে রয়েছে।
প্রতিনিধিদলটি বিকেলে ভারতের রেলমন্ত্রী সুরেশ প্রভুর সঙ্গে তাঁর দপ্তরে দেখা করে। এ সময় সুরেশ প্রভু বাংলাদেশের সাংবাদিকদের কাছে প্রশ্ন রাখেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফর নিয়ে নিশ্চয়ই যথেষ্ট আগ্রহ আছে? সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে তাঁকে বলা হয়, এই সফর নিয়ে বাংলাদেশে প্রত্যাশা আছে। এরপর তিনি বলেন, প্রত্যাশা তো তখনই থাকে, যখন আগ্রহ থাকে। ভারতের রেলমন্ত্রী বলেন, ‘দুই প্রতিবেশীর সম্পর্ক এখন যেখানটায় আছে, অতীতে কখনো তেমনটা ছিল না। বাংলাদেশের জন্য আমাদের পক্ষে যতটা সম্ভব তার সবটাই করব। যা বাংলাদেশ চায় তার চেয়ে বেশি করতে পারলে খুশি হব। আমরা এমন কিছু করতে চাই না, যার সুফল বাংলাদেশ পাবে না।’ পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী গত মঙ্গলবার ঢাকায় সাংবাদিকদের বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে ৩৩টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হচ্ছে। এ নিয়ে জানতে চাইলে শ্রীপ্রিয়া রঙ্গনাথন বলেন, সংখ্যাটি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া তথ্যের কাছাকাছি হলেও সবকিছু চূড়ান্ত হয়নি। দু-একটিতে কিছু পরিবর্তন হতে পারে। এ ছাড়া ভারতে চুক্তি কিংবা সমঝোতা স্মারক যেটাই হোক না কেন, সইয়ের আগে তাতে মন্ত্রিসভার অনুমোদন নিতে হয়। দিল্লির কূটনৈতিক সূত্রগুলোতে যোগাযোগ করে জানা গেছে, প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় কী হতে যাচ্ছে, অর্থাৎ চুক্তি না সমঝোতা, তা এখনো চূড়ান্ত নয়। দুই দেশের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে এ মুহূর্তে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আছে। প্রতিরক্ষা সহযোগিতার রূপরেখা সই হলে তা একটি কাঠামো তৈরি করে দেবে, যাতে দুই দেশের প্রাতিষ্ঠানিকভাবে কাজ করতে সুবিধা হয়। দিল্লির কূটনৈতিক সূত্রগুলোতে কথা বলে জানা গেছে, এবার বেশ কিছু ইতিবাচক ও আধুনিক ক্ষেত্র যেমন সাইবার নিরাপত্তা, তথ্যপ্রযুক্তি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানিসহ নতুন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা আসবে। দুই প্রধানমন্ত্রী প্রায় দুই বছর আগের সিদ্ধান্তগুলো পর্যালোচনা করবেন। নতুন কোন কোন ক্ষেত্রে সহযোগিতা হতে পারে তা নিয়ে আলোচনা করবেন। এ বিষয়গুলো সম্পর্কের ভবিষ্যৎ পথরেখার ইঙ্গিত দিচ্ছে। দুই দেশের সম্পর্ক সমন্বিত ও সামগ্রিক প্রেক্ষাপট থেকে বিচার করা উচিত। কারণ, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুই দেশের সম্পর্কে আস্থা বেড়েছে, পরিপক্বতা এসেছে। তাই এই পরিবেশটাকে কাজে লাগিয়ে এখানে দুই পক্ষের লাভবান হওয়ার যথেষ্ট সুযোগ আছে।

আরাফাত সানির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের মামলায় জাতীয় দলের ক্রিকেটার আরাফাত সানির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে মোহাম্মদপুর থানা-পুলিশ। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার মহানগর হাকিম এস এম মাসুদ জামানের আদালতে ওই অভিযোগপত্র উপস্থাপন করা হয়। আদালত পুলিশের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) নিজামউদ্দিন প্রথম আলোকে এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, আরাফাত সানির বিরুদ্ধে দেওয়া অভিযোগপত্র আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে।
শিগগিরই বিচারের জন্য তা ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালে যাবে। এর আগে গত ৫ জানুয়ারি আরাফাত সানির বিরুদ্ধে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইনে মোহাম্মদপুর থানায় এই মামলা করেন স্ত্রী বলে দাবি করা এক তরুণী। গত ১৯ জানুয়ারি সানিকে ঢাকার আমিনবাজার এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ওই তরুণী নিজেকে আরাফাত সানির স্ত্রী দাবি করে ২০ লাখ টাকা যৌতুক দাবির অভিযোগে যৌতুক নিরোধ আইনে গত ২০ জানুয়ারি ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে আরেকটি মামলা করেন। ১৫ ফেব্রুয়ারি এ মামলায় আরাফাত সানির জামিন নাকচ করে দেন আদালত। সম্প্রতি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ওই মামলায় ঢাকার একটি আদালত থেকে জামিন পান আরাফাত সানি।

গাজীপুরে ছাত্র খুন

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের দক্ষিণ সালনা এলাকায় দুর্বৃত্তের হামলায় আহত এক ছাত্র আজ বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। মারা যাওয়া ছাত্রের নাম মো. সোহেল রানা (২৫)। তিনি দক্ষিণ সালনা এলাকার আবদুল মালেকের ছেলে। গতকাল বুধবার দিবাগত রাতে দুর্বৃত্তের হামলায় আহত হন সোহেল। গাজীপুরের মডেল ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির ছাত্র ছিলেন সোহেল। পড়াশোনার পাশাপাশি সালনা বাজারে মুদি দোকানের ব্যবসা করতেন তিনি। সোহেলের মা আম্বিয়া খাতুনের ভাষ্য, দোকান থেকে রাত সাড়ে ১২টার দিকে বাসায় ফিরছিলেন তাঁর ছেলে। এ সময় সোহেলের ওপর ধারালো অস্ত্র ও লাঠি নিয়ে হামলা করে দুর্বৃত্তরা। পরে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে তাঁকে প্রথমে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ সকালে তাঁর মৃত্যু হয়। সোহেলের মামা আবদুল মান্নানের ভাষ্য, একটি রাস্তা নিয়ে প্রতিবেশী শহীদুল ইসলাম কাজীর সঙ্গে সোহেলদের বিরোধ চলছে। এ নিয়ে সোহেলদের হুমকি দেওয়া হতো। এই বিরোধের জেরে সোহেল খুন হতে পারেন। জয়দেবপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সাদেকুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ গেছে। এ ঘটনায় মামলা হবে।

বুলবুলের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের মেয়র হিসেবে স্বপদে ফিরতে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ স্থগিত চেয়ে আবেদন করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। আজ বৃহস্পতিবার সংশ্লিষ্ট শাখায় আবেদনটি জমা দেওয়া হয়েছে। দুপুরে চেম্বার বিচারপতির আদালতে এই আবেদনের ওপর শুনানি হতে পারে বলে একটি সূত্র জানিয়েছে।
রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র মোসাদ্দেক হোসেনকে দায়িত্বে ফেরার দিনে ২ এপ্রিল দ্বিতীয় দফায় সাময়িক বরখাস্ত করে স্থানীয় সরকার বিভাগ। এর বিরুদ্ধে ৪ এপ্রিল হাইকোর্টে রিট করেন মোসাদ্দেক। পরে তাঁর সাময়িক বরখাস্তের আদেশ স্থগিত করেন হাইকোর্ট। উচ্চ আদালতের আদেশে প্রায় দুই বছর পর গত রোববার মেয়রের দায়িত্ব নিয়েছিলেন বুলবুল। চেয়ারে আট মিনিট বসার পর তাঁকে ফের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

খালেদা জিয়ার আত্মপক্ষ শুনানির দিন পিছিয়েছে

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি পিছিয়েছে। ১৩ এপ্রিল এ মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ ধার্য করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা সময় চেয়ে আবেদন করলে ঢাকার মহানগর দায়রা জজ মো. কামরুল হোসেন মোল্লা এ দিন ধার্য করেন। এর আগে এই মামলা ঢাকার ৩ নম্বর বিশেষ জজ আদালতে বিচারাধীন ছিল। গত ফেব্রুয়ারি মাসে ওই আদালতের প্রতি অনাস্থা জানিয়েছিলেন খালেদা জিয়া। পরবর্তী সময়ে উচ্চ আদালতের নির্দেশে এ মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে পাঠানো হয়। খালেদা জিয়ার আইনজীবী জয়নাল আবেদিন মেজবাহ প্রথম আলোকে বলেন, এ মামলার আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানির দিন ধার্য ছিল আজ। তবে খালেদা জিয়ার নিরাপত্তার কথা উল্লেখ করে আজ আদালতে সময় চেয়ে আবেদন করা হয়।
আদালত শুনানি শেষে ওই আবেদন মঞ্জুর করে নতুন সময় ধার্য করেন। গত ২ ফেব্রুয়ারি জিয়া চ্যারিটেবল ও জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির দুটি মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানিতে হাজির হয়ে ঢাকা ৩ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক আবু আহমেদ জমাদারের আদালতের প্রতি অনাস্থা জানান বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার শুনানি শেষে আদালত খালেদা জিয়ার কাছে জানতে চান ‘তিনি (খালেদা জিয়া) দোষী না নির্দোষ?’ সে সময় খালেদা জিয়া আদালতের প্রশ্নের জবাব না দিয়ে বলেন, তাঁর আইনজীবীরা আদালতের প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করেছেন। তিনিও আদালতের প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করছেন।

হাসিনা-মোদির বৈঠকে থাকছেন মমতা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আসন্ন ভারত সফরের সময় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও রাজধানী দিল্লি আসছেন। সবকিছু ঠিক থাকলে ৮ এপ্রিল হায়দরাবাদ হাউসে দুই প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকেও মমতা উপস্থিত থাকবেন। বিশ্বস্ত সূত্রে এই খবর জানা গেছে। শেখ হাসিনার সফরের সময় মমতাকে দিল্লি আসার আমন্ত্রণ জানানো হয় তিন তরফে। হাসিনার সম্মানে রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি রাষ্ট্রপতি ভবনে যে নৈশভোজের আয়োজন করেছেন, সেখানে আসার জন্য তিনি প্রথম মমতাকে আমন্ত্রণ জানান। তারপর দিল্লি আসার অনুরোধ আসে প্রধানমন্ত্রীর তরফে। গত মঙ্গলবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ ফোন করেন মমতাকে। বিশ্বস্ত সূত্রের খবর, মমতাকে হায়দরাবাদ হাউসের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে বিশেষভাবে বলা হয়। এরপরই মুখ্যমন্ত্রী দিল্লি আসার সিদ্ধান্ত নেন। হাসিনা যেদিন দিল্লি আসছেন, সেই ৭ এপ্রিল মমতাও আসছেন। পরের দিন সকালে রাষ্ট্রপতি ভবনে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনার পর হাসিনা যাবেন রাজঘাটে জাতির জনক মহাত্মা গান্ধীর সমাধিস্থলে শ্রদ্ধা জানাতে। হায়দরাবাদ হাউসে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক তারপর। প্রথমে দুই প্রধানমন্ত্রীর নিভৃত আলোচনা। তারপর বৈঠক দুই দেশের প্রতিনিধিদলকে সঙ্গে নিয়ে। এরপর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দেওয়া মধ্যাহ্নভোজ। বিশ্বস্ত সূত্র অনুযায়ী, হায়দরাবাদ হাউসের এই আসরেই মমতার সঙ্গে হাসিনা ও মোদির কথা হবে। হাসিনার সঙ্গে মমতার ফের দেখা হবে পরের দিন রাষ্ট্রপতি ভবনের নৈশভোজের আসরে। তার আগে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দেখা করবেন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি ও উপরাষ্ট্রপতি হামিদ আনসারির সঙ্গে। সন্ধ্যায় কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী ও সহসভাপতি রাহুল আসবেন তাঁর সঙ্গে দেখা করতে।
হাসিনার এই সফর থেকেই খুলনা-কলকাতা বাস চলাচল আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করার কথা। শোনা যাচ্ছে, একটি ভিডিও কনফারেন্স মারফত তা শুরু করা হবে। সেই অনুষ্ঠানেও মমতা থাকবেন বলে সূত্রের খবর। সূত্র অনুযায়ী, তিস্তা পানি চুক্তি ও গঙ্গা ব্যারাজ নিয়ে দুই নেত্রীর মধ্যে কথা হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। মমতার দিল্লি আসার খবর প্রচারিত হওয়ার পর থেকেই হাসিনার সফর ঘিরে অন্য এক আশা সঞ্চারিত হয়েছে। যদিও মমতার দিল্লি আসা ও হায়দরাবাদ হাউসে উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা নিয়ে বাংলাদেশ হাইকমিশনের কিছু জানা নেই। হাইকমিশনার সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী বুধবার দুপুরে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা কিন্তু আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো কিছু জানি না। তবে উনি যদি আসেন, তিস্তা ও গঙ্গা ব্যারাজ নিয়ে যদি মতবিনিময় করেন, তাহলে ভালোই।’ তিস্তার পানির ন্যায্য প্রাপ্য নিয়ে বাংলাদেশের দাবির কোনো পরিবর্তন নেই। এই মন্তব্য করে হাইকমিশনার বলেন, ‘গ্রীষ্মকালে এই নদীতে পানিপ্রবাহ যদি কমেই যায়, তা হলে শুকনো মৌসুমে সেই প্রবাহ বাড়ানোর বিষয়টি নিয়েও ভাবার অবকাশ রয়েছে। সে জন্য উজানে কোনো জলাধার তৈরি করা যায় কি না, যা প্রয়োজনের সময় দুই দেশকেই বাড়তি পানি জোগাবে, তা বিবেচনার মধ্যে আনা প্রয়োজন।’ গঙ্গা ব্যারাজ প্রসঙ্গে তাঁর মন্তব্য, ‘এটা ভবিষ্যতের চাহিদা। বাংলাদেশ ও ভারতকে এখন থেকেই এ নিয়ে ভাবনা-চিন্তা করতে হবে।’ হাসিনা ৯ এপ্রিল যাবেন রাজস্থানের আজমির শরিফ। ১০ এপ্রিল ঢাকা ফেরার আগে দুই দেশের শিল্পপতি ও বণিক সভার অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন তিনি। মমতা কলকাতা ফিরবেন তার পরের দিন। এর অর্থ বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়ে দিল্লি তাঁর সঙ্গে আরও আলোচনা করতে চাইলে সে সুযোগও থাকছে।
তিস্তায় পানি নেই: মমতা
ভারতের বার্তা সংস্থা আইএএনএস জানিয়েছে, তিস্তায় পানি নেই বলে মন্তব্য করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পশ্চিমবঙ্গের বাকুড়ায় গতকাল এক সমাবেশে তিনি বলেন, ‘তিস্তায় যদি পানি না থাকে, তাহলে আমি কী করব? তিস্তায় পানিই নেই। মুকুটমানিপুর শুকিয়ে গেছে... মহানন্দা শুকিয়ে গেছে। এটা কেবল এপ্রিল মাস। সামনে মে, জুন। বৃষ্টি শুরু হতে সেই জুন মাস। কাজেই এই তিন মাস...পানির জন্য হাহাকার।’ মমতা বলেন, ‘দামোদরের উজানে বেড়িবাঁধ তৈরির জন্য তিন হাজার কোটি রুপির একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। সেচের জন্য ৫০০ কোটি রুপির একটি বাঁধ তৈরির প্রকল্পও আমরা হাতে নিয়েছি। আগস্ট নাগাদ বাকুড়ার আরও আটটি ব্লকে পানি সরবরাহের একটি নতুন প্রকল্প আমরা শুরু করব।’

শিক্ষার্থী হত্যায় ৩ জনের ফাঁসি, নারীর যাবজ্জীবন

গাজীপুরে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র আবদুর রহমান রিয়াদকে অপহরণের পর হত্যার দায়ে তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড ও এক নারীকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রায়ে একই সঙ্গে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা এবং যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত নারীকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরও এক মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আজ বৃহস্পতিবার সকালে গাজীপুরের জেলা ও দায়রা জজ একেএম এনামুল হক এই রায় ঘোষণা করেন। এ সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। আসামিরা হলেন, টাঙ্গাইল জেলার মো. রেজাউল করিম ওরফে সাগর (৩২), জামালপুরের মো. জামাল উদ্দিন (৩৬), মৌলভীবাজারের মো. শাহাব উদ্দিন (২৭)। যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হলেন, জামালপুরের সানজিদা আক্তার লিপি (৩০)। গাজীপুর আদালতের পুলিশ পরিদর্শক মো. রবিউল ইসলাম জানান, নোয়াখালীর সেনবাগ থানার নবীপুর গ্রামের মো. আবদুর রহমান রিয়াদ (২৫) টঙ্গীর চেরাগ আলী এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে উত্তরা ইউনির্ভাসিটিতে বিবিএ পড়তেন। অধ্যয়নরত অবস্থায় স্থানীয় একটি কোচিং সেন্টারে সানজিদার সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। সানজিদা আবদুরের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন।
একপর্যায়ে ২০১৩ সালের ২৩ জুলাই সানজিদা আবদুরকে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে অপহরণ করেন। এতে সহযোগিতা করেন সানজিদার স্বামী রেজাউল। ২৫ জুলাই রিয়াদের দুবাই প্রবাসী বাবা খাঁজা মাইন উদ্দিনকে ফোন করে অপহরণকারী রেজাউল ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণদাবি করেন। পরবর্তীতে ২৮ জুলাই রেজাউল আবারও পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। না দিলে রিয়াদের কান কেটে ফেলা হবে বলে হুমকি দেন। এ ঘটনায় রিয়াদের মামাতো ভাই সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট মো. জাকির হোসেন ৩০ জুলাই টঙ্গী থানায় অপহরণ মামলা দায়ের করেন। মোবাইল ট্র্যাক করে র‍্যাব-১ রেজাউলকে গ্রেপ্তার করেন। এ সময় রেজাউলের কাছ থেকে অপহরণে ব্যবহৃত মোবাইলটি উদ্ধার করা হয়। পরে তাঁর স্বীকারোক্তি অনুসারে সানজিদা ও শাহাব উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। সে সময় শাহাব উদ্দিন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাকে জানান, রিয়াদকে অপহরণের পর হত্যা করা হয়েছে। গলায় রশি পেঁচিয়ে লাশ গাছে টাঙিয়ে রাখা হয়েছে। শাহাবউদ্দিন আরও জানান, হত্যায় তিনি রেজাউল ও জামাল উদ্দিন অংশ নেন। পরে জামাল উদ্দিনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন, সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) হারিছ উদ্দিন আহম্মেদ এবং আসামিপক্ষে ছিলেন, ওয়াহেদুজ্জামান আকন।

আমরাও ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্ব চাই

গত নভেম্বরে দিল্লিতে গিয়েছিলাম সেখানে প্রতিষ্ঠিত সাউথ এশিয়ান ইউনিভার্সিটিতে অনুষ্ঠিত সেমিনারে প্রবন্ধ পাঠ করতে। সে  সময় দিল্লির বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যক্তির সঙ্গে রামপালে সুন্দরবনবিনাশী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়েও আলোচনা হয়। এর মধ্যে ভারতীয় পার্লামেন্টের কয়েকজন এমপি এবং সাবেক মন্ত্রীও ছিলেন। তাঁরা কেউ–ই ভারত সরকারের এই উদ্যোগকে সমর্থন করেননি, বরং অনেকেই নিজ নিজ অবস্থান থেকে এই প্রকল্প বাতিলে সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। আগে থেকে অনেকেই কাজ করছেনও। যেমন এর আগে ১৮ অক্টোবরে আমরা যখন এই সর্বনাশা প্রকল্প বাতিল করতে জলকামান-টিয়ার গ্যাস-লাঠির আক্রমণ সত্ত্বেও ভারতের প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে একটি খোলা চিঠি দিয়েছিলাম, সেই দিনই আমাদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে ভারতের ৪০টি সংগঠনের প্রতিনিধি, বিজ্ঞানী, লেখক, শিক্ষক, গবেষক, পরিবেশ আন্দোলনের নেতা দিল্লিতে এক সাংবাদিক সম্মেলন করেন। সেখান থেকে তাঁরাও ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কাছে এই প্রকল্প বাতিলের দাবি জানিয়েছিলেন। রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রসঙ্গে তাঁরা বলেন, ভারতের ‘এনটিপিসি এই প্রকল্পের অংশীদার, ভারতের এক্সিম ব্যাংক এই প্রকল্পে অর্থ বিনিয়োগ করছে, যন্ত্রপাতি সরবরাহ করছে ভারত হেভি ইলেকট্রিক লিমিটেড (ভেল) এবং ভারতীয় প্রাইসওয়াটারহাউসকুপারস প্রাইভেট লিমিটেডের সঙ্গে দীর্ঘ মেয়াদে কয়লা সরবরাহের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। সুতরাং এই প্রকল্পে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারত্ব রয়েছে।’ তাঁরা বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ থেকেই বলেছেন, ‘এই প্রকল্পের কারণে ব্যাপক সামাজিক ও পরিবেশগত নেতিবাচক প্রভাব, বিশেষত সুন্দরবন এবং তার চারপাশের নাজুক প্রতিবেশের অপরিবর্তনীয় ক্ষতিসাধন হবে।’ ভারতের প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তাঁরা তাই বলেন, ‘এই প্রকল্প ভারত ও বাংলাদেশের জনগণ ও পরিবেশের যে ভয়াবহ ক্ষতি করবে, তা বোঝার চেষ্টা করুন এবং এই প্রকল্প থেকে ভারতের সমর্থন প্রত্যাহার করুন।’ যাহোক, নভেম্বরে দিল্লিতে এই বিষয়ে আলোচনার শেষে ভারতের একজন এমপি রমেশ রাজা আমাকে জানালেন,
পরদিন থেকেই লোকসভা বসছে, তিনি সেখানে বিদ্যুৎমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলবেন। তিনি বলেছিলেন, ঢাকায় ফিরে ই-মেইলে জানলাম, মন্ত্রী সাহেব বলেছেন, এই প্রকল্প নিয়ে ভারতের তেমন কোনো আগ্রহ নেই, বাংলাদেশের আগ্রহেই তাঁরা রামপালে এই প্রকল্পে যুক্ত হয়েছেন। আমি পাল্টা প্রশ্ন করেছিলাম, ‘বাংলাদেশের তো আরও অনেক বিষয়ে আগ্রহ, তার কোনোটিতেই ভারতের সাড়া পাওয়া যায় না, অথচ এটাতেই ভারত এভাবে বিশ্বজনমত উপেক্ষা করে, নিজেদের কলঙ্কিত করে, বাংলাদেশ ও ভারতের বন্ধুত্বকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে কেন “সাড়া” দিচ্ছে?’ বস্তুত, বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে ভারতের সঙ্গে অনেক বিষয় নিষ্পত্তির দাবি আছে। এর মধ্যে অভিন্ন নদীর পানিপ্রবাহে এ দেশের অধিকার নিশ্চিত করা, সীমান্ত হত্যা বন্ধ করা, সুন্দরবনবিনাশী রামপাল প্রকল্প বাতিল, কাঁটাতারের বেড়া খুলে ফেলা, ভারতের বাজারে বাংলাদেশের পণ্য প্রবেশের পথে নানা বাধা দূর করা, নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে বিদ্যুৎসহ নানা বিষয়ে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক ও সহযোগিতার সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার পথে প্রতিবন্ধকতা দূর করা অন্যতম। এসব বিষয়ে ভারত কোনো পদক্ষেপ না নিলেও ভারত সরকারের সব চাহিদা পূরণে বাংলাদেশ সরকার কার্পণ্য করেনি। ভারতের একটি প্রবল ইচ্ছা ছিল বাংলাদেশের বন্দর, রেলওয়ে, সড়কপথ ব্যবহার করে তাদের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে যাওয়ার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। এতে তাদের দূরত্ব ও খরচ কমে যায় শতকরা ৬০ থেকে ৭৫ ভাগ। এতে আমাদের কী ক্ষতি কী লাভ, তার যথাযথ পর্যালোচনা ছাড়াই বাংলাদেশ এতে রাজি হয়েছে। কিন্তু যাতে ভারতের বিপুল লাভ, তা থেকে বাংলাদেশের সামান্য শুল্ক নিয়েও অনেক নাটক হলো। শেষ পর্যন্ত প্রায় বিনা শুল্কেই যাত্রা শুরু হলো। ‘মানবিক কারণে’ খাদ্য গেল, এমনকি নদীতে আড়াআড়ি বাঁধ দিয়েও ত্রিপুরায় প্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রী গেল। আরও ব্যাপক আয়োজন চলছে। প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের প্রাক্কালে তিস্তা চুক্তি করা না-করা নিয়ে অনেক হট্টগোল হচ্ছে, কিন্তু গজলডোবাসহ আরও বাঁধের কারণে তিস্তায় পানি যদি না-ই থাকে,
তাহলে পানিপ্রবাহ নিশ্চিত না করে যেনতেন চুক্তিতেই বা লাভ কী? গত দুই দশকে নদীতে পানির প্রবাহ এমনি এমনি কমেনি। ১৯৯৭ সালে শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশের তিস্তা অংশে পানির প্রবাহ ছিল ৬ হাজার ৫০০ কিউসেক, ২০০৬-এ তা নেমেছে ১ হাজার ৩৪৮ এবং ২০১৬-তে তা আরও নেমে দাঁড়িয়েছে ৩০০ কিউসেকে। এক হিসাবে দেখা যায়, ২০০৬ থেকে ২০১৪ সালে এই পানিপ্রবাহ কমে যাওয়ায় যে পরিমাণ ফসল এই অববাহিকায় কম হয়েছে, শুধু তার আর্থিক মূল্যই দাঁড়ায় ৮ হাজার ১৩২ কোটি টাকা। (ডেইলি স্টার, ২.৪.১৭) এই হিসাবে প্রতিবেশগত ক্ষতির পরিমাণ ধরা হয়নি। ফারাক্কার কারণে গত কয় দশকের ক্ষতির পরিমাণ তো ভয়াবহ। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী চাইলে বাংলাদেশ এসব ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারে। এখন ভারতের মধ্য থেকেই ফারাক্কা বাঁধ ভেঙে ফেলার দাবি উঠেছে। কারণ, এ রকম স্থাপনা ভারতের বিহারসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ভয়াবহ ফলাফল তৈরি করেছে। সামরিক অস্ত্র ক্রয় ও প্রতিরক্ষা চুক্তি বা সমঝোতা নিয়ে যখন সবার মনোযোগ, তখন তার অনেক প্রস্তুতি সম্পন্ন। রাশিয়া থেকে ঋণ নিয়ে অস্ত্র কেনা হয়েছে কয়েক বছর আগেই, সম্প্রতি চীন থেকে ঋণ নিয়ে সাবমেরিন কেনা হয়েছে। আর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নানাবিধ চুক্তি সমঝোতা কেনাকাটা আগে থেকেই আছে। ভারতও এখন এই একই আগ্রহ বা দাবি তুলছে। ভারত এখন বিশ্বের বৃহত্তম অস্ত্র আমদানিকারক দেশ, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের সামরিক চুক্তিও আছে। বাংলাদেশ, বিশেষত বঙ্গোপসাগর ঘিরে ভারত, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মনোযোগ কৌশলগত কারণে অনেক বেড়েছে। তাদের ঐক্য বা সংঘাত দুটোতেই বাংলাদেশের বিপদ। বাংলাদেশ যদি নিজের পায়ের নিচে মাটি শক্ত না করে, স্বাধীন জনসমর্থিত দৃঢ় অবস্থান না নিয়ে এদের স্বার্থরক্ষার প্রতিযোগিতায় পা দেয়, তা যে দেশের জন্য খুবই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা তৈরি করবে, তা নিশ্চিতভাবেই বলা যায়। বাংলাদেশের সবচেয়ে বিপজ্জনক এবং উঁচু ঋণনির্ভর রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পের ব্যবস্থাপনার সঙ্গে, বন্দর ব্যবস্থাপনার সঙ্গেও ভারত যুক্ত থাকতে আগ্রহী। সে বিষয়েও কাজ অনেক দূর অগ্রসর হয়েছে। সমুদ্রবন্দর ব্যবহারের ক্ষেত্রেও ভারত অগ্রাধিকার দাবি করছে। সেটাও পাকাপোক্ত হয়ে যাওয়ার পথে। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ব্যবস্থাপনার সঙ্গে ভারতের যুক্ততার ধরন সম্পর্কে জানা যায় যে, ‘জাতীয় পর্যায়ে একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎ কর্মসূচি (নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্রোগ্রাম) সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়ন ও পরিচালনার জন্য সার্বিকভাবে সমন্বিত একটি ব্যবস্থা গড়ে তোলা। এই ব্যবস্থার মধ্যে পারমাণবিক গোয়েন্দা ইউনিট গঠন, সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, এমনকি জাতীয় নিরাপত্তাকাঠামো পুনর্গঠনের বিষয় অন্তর্ভুক্ত।’
(প্রথম আলো, ৬ অক্টোবর ২০১৬) বাংলাদেশের অস্তিত্বের জন্য প্রধান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা প্রাকৃতিকভাবে তৈরি হয়েছে সুন্দরবনের মাধ্যমে। এই প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস করে অস্ত্র কেনার ও বাংলাদেশে ভারতের তদারকি বাড়ানোর প্রতিরক্ষাব্যবস্থা বাংলাদেশের জন্য কী ফল দেবে? এটা অনেকটা নিজের পা কেটে ফেলে অন্যের লাঠি ধরার মতো অবস্থা। আমরা এখনো আশা করতে চাই যে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তাঁর আসন্ন ভারত সফরে বাংলাদেশের প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষাব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে বলবেন সুন্দরবনবিনাশী প্রকল্প বাতিল করতে। শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট ভারতের এ রকম একটি প্রকল্প থেকে এভাবেই তাঁর দেশকে রক্ষা করেছিলেন। ভারত নিজেও এ রকম প্রকল্প বাতিল করেছে নিজ দেশের স্বার্থে। ভারত পারলে, শ্রীলঙ্কা পারলে বাংলাদেশ পারবে না কেন? অভিন্ন নদী ও পানিপ্রবাহ নিয়ে বিবাদ, অবিশ্বাস আর দেনদরবারের কোনোই প্রয়োজন হবে না যদি আন্তর্জাতিক পানি কনভেনশন অনুযায়ী ভারত ও বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে। দুই দেশের জন্য নদী ও পানির প্রবাহ খুবই গুরুত্বপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশও এই আন্তর্জাতিক কনভেনশনে চূড়ান্ত স্বাক্ষর দেওয়া থেকে এখনো বিরত আছে। দুই দেশের কানেকটিভিটি বাড়ানোর কথা বলে ট্রানজিট হয়, কিন্তু বাংলাদেশের মানুষের কণ্ঠস্বর যাতে ভারতে না পৌঁছায়,
তার জন্য তৈরি করা হয় অযুত বাধা। বাংলাদেশ ও ভারতের সরকার যদি সত্যিই দুই দেশের মানুষের মধ্যে বন্ধুত্ব চায়, তাহলে বৈরিতা সৃষ্টির সব উপাদান দূর করার ব্যাপারে তাদের গুরুত্ব দিতে হবে। দুই দেশের মানুষের মধ্যে, শিক্ষক-গবেষক-লেখক-শিল্পীদের মধ্যে যোগাযোগ আরও বাড়াতে হবে, দুই দেশের বই, জার্নাল, আনা-নেওয়া আরও সহজ করতে হবে। ভারতের টিভি চ্যানেল সবই বাংলাদেশে দেখা যায়। এত এত সম্পর্কের উন্নয়নের কথা শুনি, কিন্তু বাংলাদেশের চ্যানেলগুলো ভারতে প্রদর্শন এখনো কঠিন বাধার মুখে। তাহলে ভারতের মানুষ বাংলাদেশের পরিস্থিতি, মানুষের ভাষা বুঝবে কী করে? না বুঝলে যোগাযোগ কী করে হবে? ভারত প্রসঙ্গে যুক্তিযুক্ত কথা বলাও সহজ নয়। ভারতবিরোধী বা ভারতবিদ্বেষী লেবেল দিয়ে সব আলোচনা বন্ধ করে দেওয়ার চর্চা খুব শক্তিশালী। ভারতের জনগণের কাছে বাংলাদেশের জনগণের ক্ষোভের কথা পৌঁছানোও তাই কঠিন। কিন্তু আমরা যদি সীমান্ত হত্যা বন্ধ করার দাবি তুলি, সেটি কি ভারতবিরোধী, না বাংলাদেশের অধিকার নিয়ে কথা? আমরা যদি সুন্দরবনবিনাশী প্রকল্প বাতিলের দাবি করি, তা কি ভারতবিরোধী না মানবজাতির পক্ষে অবস্থান? আমরা যদি নদীর পানিপ্রবাহ অবাধ রাখার কথা বলি, সেটি কি ভারতবিরোধী, না আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সব মানুষের অধিকারের কথা উচ্চারণ? আমরা যদি কাঁটাতারের বিরুদ্ধে কথা বলি, সেটা কি ভারতবিরোধী, না দুই দেশের মানুষের সম্পর্ক সহজ করার দাবি? আমরা যদি নেপাল-ভুটানের সঙ্গে সম্পর্কের পথে বাধা সরাতে বলি, তাহলে তা কি ভারতের বিরোধিতা, না দক্ষিণ এশিয়া উন্মুক্ত করার দাবি? আমরা চাই, দুই দেশের মানুষের মধ্যে বন্ধুত্ব। বন্ধুত্ব মানে অবশ্যই পারস্পরিক মর্যাদা ও অধিকারের ভিত্তিতে বন্ধুত্ব, আধিপত্য নয়।
আনু মুহাম্মদ: অর্থনীতিবিদ ও অধ্যাপক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।
anu@juniv.edu/anujuniv@gmail.com

তিস্তাই এখন আসল পরীক্ষা

সুহাসিনী হায়দার * শেখ হাসিনা যখন ২০১০ সালে শেষবার দ্বিপক্ষীয় সফরে দিল্লিতে আসেন, তখন আপনি হাইকমিশনার ছিলেন। সাত বছর পর এবারের সফরের সম্ভাব্য ফলাফল কী হবে বলে আপনার মূল্যায়ন?
তারিক করিম * আপনার মনে থাকার কথা, সেবার কিন্তু হাসিনা নির্বাচিত হওয়ার পুরো এক বছর পর দিল্লি সফর করেন। এমনকি তখনো এই সফরের সূচি প্রণয়ন করতে বলা হলে আমরা বলেছিলাম, যখন সফর থেকে দুই পক্ষের জন্য সুনির্দিষ্ট কিছু পাওয়ার অবকাশ সৃষ্টি হবে, তখনই সফরটি হওয়া উচিত। ওই সফর আমাদের সম্পর্কের ধারা বদলে দেয়। সেই সফরে উভয় প্রধানমন্ত্রী রূপরেখা প্রণয়ন করেছিলেন। আর মনমোহন সিং যখন ফিরতি সফরে ঢাকায় গেলেন, তখন কিন্তু ঘোষণা অনুসারে অনেক কিছুই করা হয়ে গেছে। তবে ইউপিএ সরকার রাজনৈতিক ক্ষমতা হারানোয় মোদি সরকার আসা পর্যন্ত অনেক কিছুই বাস্তবায়ন করা যায়নি, সেটা ভিন্ন ব্যাপার। কিন্তু লক্ষ্যটা সব সময়ই ছিল। মোদি সেই সুযোগ নিয়ে এগিয়ে যেতে পেরেছেন। ২০১৫ সালে মোদির সফর এই সবকিছুর স্বাভাবিক পরিণতিই ছিল। এখন স্থলসীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়িত হয়ে গেছে এবং যোগাযোগও স্থাপিত হয়েছে। বাকি আছে শুধু তিস্তা চুক্তি। আর মোদি ভবিষ্যৎ পথপরিক্রমার গতিমুখও নির্ধারণ করেছেন।
সুহাসিনী * তিস্তা চুক্তি এখনো বাস্তবায়িত হচ্ছে না কেন?
তারিক * একসময় শীর্ষ পর্যায়ে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ছিল। এর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা গওহর রিজভী সাবেক ভারতীয় জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা শিবশঙ্কর মেননের সঙ্গে প্রতি মাসে একবার দেখা করতেন। সেখানে তাঁরা মূল্যায়ন করতেন, কী হয়েছে আর কী হয়নি। কিন্তু সেটা পরবর্তীকালে আর চলেনি। এটাও মনে রাখা দরকার, শেখ হাসিনার শাসনকালের দ্বিতীয় ভাগ চলছে। পৃথিবীর যেকোনো দেশের সরকারের জন্যই এটা সমস্যাজনক। বাংলাদেশে গেলে দেখবেন, আমি দেখেছি, ব্যাপারটা হলো, মানুষকে বললাম শতাধিক চুক্তির মধ্যে ৯০-এর বেশি বাস্তবায়িত হয়েছে, আরও ৫০টি পাইপলাইনে আছে। কিন্তু তারা শুধু বলে, ‘তিস্তা চুক্তি কেন হচ্ছে না?’
সুহাসিনী * ২০১৪ সালের এক সাক্ষাৎকারে আপনি বলেছিলেন, তিস্তা ভারত-বাংলাদেশ সরকারের লিটমাস টেস্ট। কেন?
তারিক * এটা আমাদের অতীতের ধারাবাহিকতা। আমরা তিস্তা চুক্তি করে ফেলতে পারলে ৫৪টি অভিন্ন নদীর অববাহিকা ব্যবস্থাপনার দিকে যেতে পারব। শেখ হাসিনা শুধু নদী ‘ভাগাভাগির’ কথা বলবেন না, তার ব্যবস্থাপনার কথা বলবেন। আপনি জমি ভাগ করতে পারেন, কিন্তু পানি বা বাস্তুতন্ত্র ভাগ করতে পারবেন কি? আমরা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সৃষ্ট সার্বভৌমত্বের নয়া ধারণানির্ভর (ওয়েস্টফালীয়) ব্যবস্থার কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছি। আমরা অতি উৎসাহী হয়ে জাতীয়তা রক্ষার চেষ্টা করতে গিয়ে প্রয়োজনীয় কাজটি করতে ভুলে যাই, যা আমার জাতীয় সীমা অতিক্রম করে যায়। তিস্তা এখন সে রকমই একটি আবেগের ব্যাপার।
সুহাসিনী * এই অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে তিস্তা চুক্তি ছাড়া ফেরত যাওয়া কতটা কঠিন হবে?
তারিক * রাজনৈতিকভাবে ব্যাপারটা কঠিন হবে, খুবই কঠিন। তিস্তা ইস্যু দিয়ে বিরোধীরা তাঁকে গুঁতো দেয়। তারা বলে, হাসিনার যদি ভারত ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে এত ভালো সম্পর্ক থাকে, তাহলে তিনি তিস্তা চুক্তি করতে পারেন না কেন? সাত বছর পর এসে তাঁর তো অবশ্যই কিছু নিয়ে যেতে পারা উচিত। দেখুন, তিস্তা সমস্যার তালিকায় না থাকলে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে আর তো ঝগড়া থাকবে না। ২০১১ সালেই তো তিস্তা চুক্তি হয়ে যেত, যেমন আমাদের মধ্যে মতৈক্য হয়েছিল। অর্থাৎ নদীটি জীবিত রাখতে একটি রূপরেখা করা হয়েছিল। উভয় পক্ষই একমত হয়েছিল, নদীটি বহমান রাখতে হবে। পানির নির্দিষ্ট একটি প্রবাহ রাখতে হবে, এরপর যা থাকে তার আধাআধি ভাগ হবে। এই উদ্যোগ শুরুও হয়েছিল, শুধু চুক্তিটা সই হওয়া বাকি ছিল।
সুহাসিনী * তাহলে তখন সেটা হয়নি কেন?
তারিক * এখানেই ভারতের ‘কো-অপারেটিভ ফেডারেলিজম’ নীতি ক্রিয়াশীল হয়। অর্থাৎ পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের সম্মতি ছাড়া শুধু নির্বাহী
আদেশ দিয়ে তারা এটা করতে পারে না। আমার প্রশ্ন হচ্ছে, কো-অপারেটিভ ফেডারেলিজমের মন্ত্র দিয়ে যদি বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থের তুরুপ খেলা যায়, তাহলে সহযোগিতামূলক উপ-আঞ্চলিকতাবাদ দিয়ে কেন এটাকে তুরুপ করে দেওয়া যাবে না? পরিসর বড় করতে হবে, কারণ এর লাভ এত বেশি যে তা সব উদ্বেগ আড়াল করে দেবে।
সুহাসিনী * এখন ভারতের কেন্দ্র সরকারের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মধ্যকার সমস্যার সমাধান না হওয়ায় সরকার বিকল্প কী
করতে পারে?
তারিক * এই সফর কার্যকর করার একটি তরিকা হচ্ছে শেখ হাসিনা অন্য কী নিয়ে যেতে পারেন, তার সন্ধান করা। বাংলাদেশ দুটি জিনিস চায়: পানির নিরাপত্তা ও জ্বালানি নিরাপত্তা। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, ভারত যদি বলে এটা বাংলাদেশের জন্য সহায়ক হবে, তাহলে ব্যাপারটা এক রকম। গঙ্গা ব্যারাজ প্রকল্প সব সময় আটকে গেছে, কারণ আমাদের সেই টাকা ছিল না। অন্যদিকে দাতারাও টাকা দিতে চায়নি, কারণ পর্যাপ্ত পানির প্রবাহ নিশ্চিত করার জন্য ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে চুক্তি থাকা প্রয়োজন। তখনকার রাজনৈতিক জোট এটা যাতে না হয়, সেটা নিশ্চিত করেছে। এই সফরে এটা হয়ে গেলে শেখ হাসিনা ঢাকায় ফিরে গিয়ে বলতে পারেন, এটা তাঁর বাবার স্বপ্ন ছিল। তিনি উত্তরাধিকারসূত্রে ফারাক্কা ব্যারাজ পেয়েছিলেন, কিন্তু সব সময় গঙ্গা ব্যারাজ চেয়েছেন। তিনি যদি বলতে পারেন এটা হয়ে গেছে এবং আমরা অববাহিকা ব্যবস্থাপনা চুক্তি করতে পারি, তাহলে আরও উৎপাদনশীল কিছু করা সম্ভব।
সুহাসিনী * আপনি তো অনেক বিকল্পের কথা বললেন। ওদিকে শেখ হাসিনার উপদেষ্টা তো ওপরের দেশ হিসেবে চীনকেও এর মধ্যে আনার পরামর্শ দিয়েছেন।
তারিক * ভারত এটা গ্রহণ করবে না। অকপটে বলছি, চীন হয়তো আমাদের কথা শুনবে না। কিন্তু তারা যা-ই করুক বা তাদের অংশের নদীতে যা-ই করুক না কেন, নদীর ৭০ শতাংশ পানি ভারত ও বাংলাদেশের মধ্য দিয়েই প্রবাহিত হয়েছে। আমাদের ভেবে দেখতে হবে, কীভাবে এর সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়। কারণ, এখন পর্যন্ত ৬০ শতাংশ পানি সমুদ্রে চলে যায়। আমরা যা করতে পারি, তা আমাদের করাই উচিত। আর বাধাগুলো অপসারিত হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। সার্কের ক্ষেত্রে আমরা তা-ই করেছি, কারণ আমরা যোগাযোগের জন্য বিবিআইএন (বাংলাদেশ, ভুটান, ইন্ডিয়া, নেপাল) নামের আঞ্চলিক জোট গঠন করেছি।
সুহাসিনী *এই গত মার্চ মাসে শেখ হাসিনা এক রেডিও অনুষ্ঠানে ভারতের এক গোয়েন্দা সংস্থার বিরুদ্ধে অভিযোগ করলেন, তারা ২০০১ সালে বাংলাদেশের নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করেছে, যে নির্বাচনে তিনি হেরেছিলেন। তাঁর এই ধারণা হলো কেন?
তারিক * এটা রাজনীতি, খুবই সাধারণ ব্যাপার। তিনি বিএনপিকে বললেন, তিনি ভারতের তঁাবেদার নন। অর্থাৎ তিনি ভারতকে বলতে পারেন, ২০০১ সালে তারা ভুল করেছিল। আমাদের এই অঞ্চলে নেতৃত্বের এ রকম সাহস দেখাতে হয়।
সুহাসিনী * নয়াদিল্লি তো বাংলাদেশকে শতভাগ সমর্থন দিয়েছে, তা সে ২০১৪ সালের নির্বাচন হোক বা যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ফাঁসিতে ঝোলানো হোক। এখন ভারত সরকার ২৫ মার্চ বিশ্ব গণহত্যা দিবস পালনে বাংলাদেশের দাবিতে সমর্থন দিতে ইচ্ছুক। তাহলে বাংলাদেশে এখনো কেন এত ভারতবিরোধিতা?
তারিক * দেখুন, বাংলাদেশের ২০০১ সালের নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন আছে। সেটা মোকাবিলা করতে হবে। আবার আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে রাজনৈতিক বিবাদও আছে, কখনো যাকে ‘বেগমদের লড়াই’ নামে অভিহিত করা হয়। এ কারণে ভারতবিষয়ক এই মনোভাব হালে পানি পায়। কিন্তু সত্য হচ্ছে, এর পরিবর্তন হচ্ছে। সম্প্রতি বিএনপির অনেক প্রতিনিধিদল ভারতে গিয়েছে। তারা সেখানে ভারতীয় নেতা, কর্মকর্তা ও মানুষের সঙ্গে আলোচনা করেছে। তাই মনে হয়, ভারতবিষয়ক ধারণা বদলাচ্ছে। এ ছাড়া ভারতবিষয়ক আরও অনেক দ্বিদলীয় মতৈক্য আছে। এই প্রক্রিয়া চলছে, তবে এতে আরও কিছু সময় হয়তো লেগে যাবে।
সুহাসিনী হায়দার * আপনাকে ধন্যবাদ।
তারিক করিম * আপনাকেও ধন্যবাদ।
দ্য হিন্দু থেকে নেওয়া, অনুবাদ: প্রতীক বর্ধন।

শিশুটি কি যথেষ্ট পানি পান করছে?

খুব ছোট শিশুরা নিজেদের চাহিদার কথা বলতে পারে না, তাই অভিভাবকেরই দায়িত্ব হলো যাতে সে যথেষ্ট পানি পান করে।
শিশুর পানির চাহিদা মেটানোর প্রধান উৎস
বুকের দুধ, খাবার জল, অন্যান্য পানীয় ও খাবার। যেমন: তরমুজ, ফলের রস, স্যুপ প্রভৃতি। শিশুরা দ্রুতই শরীর থেকে পানি হারায়। আর তা হয় মূলত প্রস্রাব, মল ও ত্বক, শ্বাস-প্রশ্বাসের সঙ্গে। পানি গ্রহণ ও পানি হারানোর মধ্যে সামঞ্জস্য না থাকলে শিশুর ছোট্ট শরীরে পানির সমতা নষ্ট হয়ে যাবে এবং সে অসুস্থ হয়ে পড়বে। শিশুর পানির চাহিদার দৈনিক পরিমাণ তার পরিপাক ক্রিয়া, শ্রম, শরীরের গঠন, আবহাওয়া এবং সুস্থতা-অসুস্থতার ওপর নির্ভরশীল। ওজন অনুপাতে এক বছরের কম বয়সী শিশুর পানির পরিমাণ বেশি লাগে, শিশুর বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে চাহিদার পরিমাণ কমে যায়। প্রথম ছয় মাস বয়সে বুকের দুধ পানির চাহিদা মেটাতে যথেষ্ট। ছয় মাস পূর্ণ হলে পরিপূরক খাবারের সঙ্গে পানির জোগান দিলেই হবে। পানির ঘাটতি হলে পানিস্বল্পতা হয়, দেহের তাপমাত্রা ও শরীরের কর্মক্ষমতা অটুট রাখতে সমস্যা হয়। হৃৎস্পন্দন বেড়ে যায়, রক্তচাপ হ্রাস পায়, শিশু হঠাৎ মূর্ছা যেতে পারে, কোষ্ঠকাঠিন্য হয় এমনকি কিডনি সমস্যা ও কিডনিতে পাথর হওয়ার মতো ঝুঁকি তৈরি হয়। আবার যদি শিশু বেশি বেশি পানি পান করে তবে তা রক্তে লবণ-পানির সমতা নষ্ট করে।
এখন জেনে নিন শিশুদের গড়ে দিনে প্রয়োজনীয় পানির পরিমাণ
* ৭-১২ মাস বয়সে ৮০০ মিলি
* ১-৩ বছর বয়সে ১.৩ লিটার
* ৪-৮ বছর বয়সে ১.৭ লিটার
ছেলেসন্তান
* ৯-১৩ বছর ২.৪ লিটার
* ১৪-১৮ বছর বয়সে ৩.৩ লিটার
* ১৯ বছর বয়সে ৩.৭ লিটার
মেয়েসন্তান
* ৯-১৩ বছর বয়সে ২.১ লিটার
* ১৪-১৮ বছর বয়সে ২.৩ লিটার
* ১৯ বছর বা তার বেশি বয়সে ২.৭ লিটার
আপনার শিশু ঠিকমতো পানি পান করছে কি না তা জানতে কিছু বিষয় লক্ষ রাখুন:
* গরমের দিনে পানিযুক্ত বা সরস ফলমূল ও খাবার খেতে দিন; যেমন: তরমুজ, শসা, টমেটো ইত্যাদি।
* স্কুলে যে পানির বোতল দিচ্ছেন তা পুরোটা শেষ করছে কি না খেয়াল করুন।
* গরমের দিনে খুব ঘামলে বা বেশি খেলাধুলা করলে পানি একটু বেশি পান করতে হবে।
* মনে রাখবেন, পানির চাহিদা কোমল পানীয় দিয়ে মেটে না।
* শিশুর প্রস্রাবের পরিমাণ ঠিকঠাক ও পরিষ্কার রঙের হচ্ছে কি না খেয়াল করুন।
ডা. প্রণব কুমার চৌধুরী
বিভাগীয় প্রধান, শিশুরোগ বিভাগ, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল

মুখে ঘা সারাবেন কীভাবে?

মুখের ভেতরে, গালের নরম মাংসপেশিতে, জিহ্বার এক পাশে একধরনের ঘা দেখা যায়। যার নাম অ্যাপথাস আলসার। ছোট্ট একটি গোলাকার অংশ সাদাটে হয়ে ওঠে। আর সাদা অংশটার মধ্যে অনেক সময় পুঁজ জমে থাকে। পুঁজের চারপাশে হালকা একটা সীমানা থাকে। গোলাকার বা ছোট্ট ডিম্বাকৃতির অংশে যা হয়।
কারণ
রাজধানীর স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক চিকিৎসক আ ফ ম হেলাল উদ্দীন বলেন, এই ঘা হওয়ার জন্য নির্দিষ্ট কোনো কারণ জানা যায়নি। তবু মনে করা হয়, কিছু বিষয়ের কারণে এমনটা হতে পারে।
*রক্তে আয়রন ও ভিটামিন বি কমপ্লেক্সের অভাব।
*কিছু রক্তের অসুখ।
*অ্যালার্জিজনিত সমস্যা।
*অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা।
*হঠাৎ গালে বা ঠোঁটের মাংসপেশিতে দাঁতের ধাক্কায় কেটে যাওয়ার পর সংক্রমণ হয়ে এই ঘা হতে পারে।
*মাদকদ্রব্য, অ্যালকোহল গ্রহণকারীদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ার জন্য এই ঘা হতে পারে। তবে এটি কোনো ছোঁয়াচে অসুখ নয়।
*অতিরিক্ত পান, সুপারি, জর্দা থেকে মুখের ভেতরে চামড়া উঠে, মাড়ি বা মুখের নরম মাংসপেশি ক্ষয় হয়েও এই সমস্যা হয়।
*ক্রোমোজোমের সমস্যাজনিত কারণে কিছু কিছু ক্যানসার রোগীর মুখে এই ঘা হয়।
*দাঁতের গোড়ায় সংক্রমণ, আবার অনেকের গর্ভাবস্থায়ও বারবার এই সমস্যা হয়।
উপসর্গ
*অ্যাপথাস আলসারের চারপাশে ব্যথা, জ্বালা, পোড়া, হালকা চুলকানোর (যদি পুঁজ জমে যায়) সমস্যা থাকে।
*অনেক সময় মুখের একাধিক জায়গায় এই ঘা হয়। তখন খাবার গিলতে, কথা বলতে বা মুখ হাঁ করতেও কষ্ট হতে পারে।
*অনেকের এই ঘা থেকে খুব বেশি জ্বালাপোড়ার জন্য একটু লালা ঝরতে পারে।
করণীয়
সহকারী অধ্যাপক আ ফ ম হেলাল উদ্দীনের মতে, মুখের ঘা প্রতিরোধে করণীয়—
*মুখের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে হবে। পান, সুপারি, জর্দা, গুল, তামাক পাতা, মাদক, অ্যালকোহল, অতিরিক্ত চা, কফি বর্জনীয়।
*আয়রন ও ভিটামিন বি কমপ্লেক্স ট্যাবলেট খেতে হবে।
*পেটের কোনো অসুখ হলে তার চিকিৎসা জরুরি।
*পানিশূন্যতা, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস ও দাঁতের ক্যারিজ জাতীয় অসুখ থাকলে তার দ্রুত সমাধান জরুরি।
*মাউথওয়াশ দিয়ে মুখ পরিষ্কার করতে হবে। অথবা হালকা গরম পানিতে লবণ দিয়ে কুলি করা দরকার।
*কষ্ট বেশি হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন।
লেখক: চিকিৎসক

গেইলের আর ৩১ রানের অপেক্ষা

আইপিএলের প্রথম ম্যাচেই ক্রিস গেইল ছুঁয়ে যেতে পারতেন অনন্য মাইলফলকটি। কিন্তু সেটি হয়নি। সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিপক্ষে ৩২ রানে আউট হয়ে তাঁর অপেক্ষাটা বেড়েছ। প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ১০ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করতে তাঁর প্রয়োজন আর মাত্র ৩১ রান। গেইলের এই রেকর্ডটি অবশ্য আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি বাদ দিয়েই। সেটি ধরলে তিনি আরও আগে ১০ হাজার রানের মাইলফলক পেরিয়ে গেছেন। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে তাঁর রান ১ হাজার ৫১৯। ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে গতকাল পর্যন্ত তাঁর রান ৯ হাজার ৯৬৯। ২৮৭টি ম্যাচ খেলে এই অনন্য অর্জন তাঁর। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের কিংবদন্তিই তো বলা চলে গেইলকে। ঘরোয়া টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরি (১৮), সর্বোচ্চ হাফ সেঞ্চুরি (৬০) আর সর্বোচ্চ ছক্কার (৭৩৫) রেকর্ড তাঁরই অধিকারে।
এর সঙ্গে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টির আরও ১৩টি হাফ সেঞ্চুরি, ২টি সেঞ্চুরি আর ৯৮টি ছক্কা যোগ করে নিন। এককভাবে ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ১০ হাজার রানের মাইলফলক ছোঁয়া যেকোনো বিচারেই বিরাট কীর্তি গেইলের জন্য। ব্যাপারটা এই ক্যারিবীয় ক্রিকেটারকেও উদ্বেলিত করছে, ‘আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অনেক ক্রিকেটারই ১০ হাজার রান করেছে। ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে আমিই প্রথম ১০ হাজার রানের মালিক হব। মাইলফলকটা অতিক্রম করাটা হবে দারুণ। এরপর আমি দেখতে চাই আরও কত রান করতে পারি।’ সূত্র: জি নিউজ।

জিদানের ‘জুয়া জয়’ মোরাতার হ্যাটট্রিকে

সামনে অপেক্ষা করে আছে কঠিন পরীক্ষার ১৮টি দিন। পরীক্ষাই তো! এই ১৮ দিনে রিয়ালকে পেরোতে হবে কঠিন সব প্রতিপক্ষের বাধা। স্প্যানিশ লিগে ঘরের মাঠে রিয়াল আতিথ্য দেবে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনা আর অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদকে। চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে লড়াই তাদের বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে। এই তিনটি বড় ম্যাচ সামনে রেখে দলের শক্তি সংরক্ষণের কারণেই কোচ জিনেদিন জিদান কাল লেগানেসের বিপক্ষে অন্যভাবে সাজিয়েছিলেন তাঁর একাদশ। ব্যাপারটিকে ‘জুয়া’ হিসেবে ধরে নেওয়া যেতেই পারে। তবে সেটি যা-ই হোক জিদানের একাদশ কাল তাঁকে আনন্দই উপহার দিয়েছে। রাউল গঞ্জালেসের পর রিয়ালের প্রথম স্প্যানিশ খেলোয়াড় হিসেবে হ্যাটট্রিক করেছেন আলভারো মোরাতা। গোল পেয়েছেন হামেস রদ্রিগেজ। লেগানেসের বিপক্ষে ৪-২ গোলে জিতে বার্সার চেয়ে ২ পয়েন্টে এগিয়ে থাকল রিয়াল। ক্রিস্টিয়ানো রোনালেদা, গ্যারেথ বেল কাল খেলেননি। ছিলেন না টনি ক্রুজ ও করিম বেনজেমাও। কিন্তু সেরা তারকাদের অনুপস্থিতি টেরই পেতে দেননি মার্কো আসেনসিও, হামেস রদ্রিগেজ কিংবা মোরাতারা। সুযোগের সদ্ব্যবহার তাঁরা করেছেন দুর্দান্তভাবেই। কোচ জিদান অবশ্য তাঁর এই ‘অন্যরকম’ একাদশকে জুয়া বলতে একেবারেই রাজি নন। তাঁর কাছে ব্যাপারটি রিয়ালের শক্তিমত্তার এক ধরনের প্রদর্শনই, ‘আমি এটিকে জুয়া বলতে চাই না। আমাদের গোটা স্কোয়াডই খুব শক্তিশালী।’ ‘জুয়া’ প্রসঙ্গটি নিয়েও যেন একটু বিরক্ত জিদান, ‘সব সময় আমাকে এই প্রশ্ন করা হয়। কারা শুরুর একাদশের খেলোয়াড়, কারা রিজার্ভ, এসব বলা হয়। আমি মনে করি এই ভেদাভেদের প্রসঙ্গ টানাই ঠিক নয়। আমারা সবাই একই জাহাজের অভিযাত্রী।
আমরা এক সঙ্গে দারুণ দারুণ সব সাফল্য এনেছি। আমাদের যেতে হবে বহুদূর। পাড়ি দিতে হবে কঠিন সব পথ। এর জন্য আমার স্কোয়াডের প্রতিটি খেলোয়াড়কেই দরকার।’ ম্যাচের ২৩ মিনিটের মধ্যই ৩-০ গোলে এগিয়ে গিয়েছিল রিয়াল। সমর্থকেরা বড় জয়ের স্বপ্ন দেখতে দেখতেই লেগানেস ৩২ ও ৩৪ মিনিটে ২ গোল শোধ করে খেলাটা জমিয়ে তুলেছিল। তবে শেষ পর্যন্ত তারা পেরে ওঠেনি রিয়ালে শক্তিমত্তা ও অভিজ্ঞতার কাছে। ১৫ মিনিটে মার্কো আসেনসিওর দারুণ একটা আক্রমণ থেকে গোল করেন রদ্রিগেজ। মাঝমাঠ থেকে বল নিয়ে দুই লেগানেস খেলোয়াড়কে কাটিয়ে আসেনসিও বল বাড়ান বক্সের মধ্যে। সেটি ধরে সহজেই গোল করেন কলম্বিয়ান তারকা। ১৮ মিনিটে নাচো ফার্নান্দেজের হেড খুব কঠিন কোণে পেয়ে ফিরতি হেডে গোল করেন মোরাতা। ২৩ মিনিটে ব্যবধান ৩-০ করেন তিনি। ৩ গোলে পিছিয়ে পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে লেগানেস। ৩২ মিনিটে গ্যাব্রিয়েল পাইরেসের গোলে স্কোরলাইন ৩-১ করে লেগানেস। ৩৪ মিনিটে গোল করে রিয়াল ডাগ আউটে শঙ্কা জাগিয়ে তোলেন লুসিয়ানো। শঙ্কাটা উড়িয়ে দেয় মোরাতার হ্যাটট্রিক। ৪৮ মিনিটে রাউলের পর রিয়ালের প্রথম স্প্যানিশ ফুটবলার হিসেবে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন মোরাতা। এই জয়ে ২৯ ম্যাচে রিয়ালের পয়েন্ট ৭১। এক ম্যাচ বেশি খেলে ৬৯ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে বার্সেলানা । সূত্র: এএফপি

সূচকের নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত পুঁজিবাজারে

সূচকের নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত আছে দেশের দুই পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই)। আজ বৃহস্পতিবার সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে দৈনন্দিন লেনদেনের গতি কিছুটা বেড়েছে ডিএসইতে। তবে বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দর কমেছে দুই পুঁজিবাজারে। ডিএসইতে আজ দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ প্রধান সূচক ডিএসইএক্স সূচক ২ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৫৭৫৪ পয়েন্টে। দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত লেনদেন হয়েছে প্রায় ৫৬৩ কোটি ৭২ লাখ টাকা। গতকাল এ সময় পর্যন্ত লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৫৩২ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। আজ দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নিয়েছে ৩২২টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের শেয়ার।
এর মধ্যে দর বেড়েছে ১১০টির, কমেছে ১৬৩টির। দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৪৯টি কোম্পানির। গতকাল বুধবার লেনদেন শেষে ডিএসইএক্স সূচক ২০ দশমিক ১৯ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করে ৫৭৫৬ পয়েন্টে। অন্যদিকে, সিএসইতে আজ দুপুর ১২টা নাগাদ সার্বিক সূচক কমেছে ১০ দশমিক ২৪ পয়েন্ট। মোট লেনদেনের পরিমাণ এখন পর্যন্ত ২৬ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। গতকাল এ সময় পর্যন্ত লেনদেন হয় ২৪ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। আজ দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ সিএসইতে লেনদেনে অংশ নিয়েছে ২০৯টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের শেয়ার। এর মধ্যে দর বেড়েছে ৬৪টির, কমেছে ১০৮টির। দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৩৭টি কোম্পানির।

মতবিরোধ এখনো মেটেনি

নতুন মূল্য সংযোজন কর (মূসক) আইন চালু হতে আর মাত্র তিন মাস বাকি। কিন্তু ১৫ শতাংশ মূসক হার নিয়ে এখনো ব্যবসায়ী ও সরকারের মধ্যে মতবিরোধ রয়েই গেছে। সম্প্রতি দুই পক্ষের মধ্যে এক দফা সভা হলেও কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। আর নতুন আইন চালু হলে প্রায় ৪ হাজার ৮০০ পণ্যে সরাসরি ১৫ শতাংশ মূসক আরোপ হবে। আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন মূল্য সংযোজন কর (মূসক) ও সম্পূরক শুল্ক আইন বাস্তবায়ন শুরু হবে। এই ঘোষণা আগেই দিয়েছে সরকার। ইতিমধ্যে নতুন মূসক আইনকে কেন্দ্র করেই আগামী বাজেটে রাজস্ব আদায়ের সব হিসাব-নিকাশ হচ্ছে। ইতিমধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সব ব্যবসায়ী সংগঠনকে জানিয়ে দিয়েছে, নতুন আইনের আলোকেই যেন বাজেট প্রস্তাব দেওয়া হয়। এনবিআর মনে করে, আইনটি বাস্তবায়িত হলে প্রায় ১৫-২০ শতাংশের মতো মূসক আদায় বাড়বে। প্রতিবছর জাতীয় বাজেটের আকার বাড়াচ্ছে সরকার।
আগামী অর্থবছরেও প্রায় সাড়ে চার লাখ কোটি টাকার বাজেট দিতে যাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী। প্রতিবারের মতো সিংহভাগ অর্থের জোগান দেবে এনবিআর। বর্তমান সরকার প্রথম মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর ২০০৯-১০ অর্থবছরে ১ লাখ ১৩ হাজার ৮১৯ কোটি টাকার বাজেট দেওয়া হয়েছিল। গত আট বছরে বাজেটের আকার তিন গুণ বেড়েছে। সরকার উন্নয়ন বাজেটও বাড়িয়েছে কয়েক গুণ। বাজেটের বিশাল অর্থের জোগান দেয় এনবিআর। দিন দিন বাজেটে এনবিআরের আনুপাতিক অংশও বাড়ছে। ২০০৯-১০ অর্থবছরে বাজেটের ৫৩ শতাংশ অর্থ দিয়েছে এনবিআর। চলতি অর্থবছরে তা বেড়ে ৬০ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। তাই এনবিআরকে গত আট বছরে বার্ষিক রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য ৬১ হাজার কোটি টাকা থেকে ২ লাখ কোটি টাকায় বাড়াতে হয়েছে। তবে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) উদারীকরণ ব্যবস্থার কারণে রাজস্ব আদায়ে আমদানিনির্ভর শুল্ক আদায়ের সুযোগ কমে যাচ্ছে। আয়করের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ উৎস, বিশেষ করে মূসক খাত থেকে রাজস্ব আদায়ে বেশি মনোযোগী হতে বাধ্য হচ্ছে এনবিআর। মূসক খাত থেকেই সবচেয়ে বেশি রাজস্ব আদায় করে এনবিআর। এনবিআরের মোট রাজস্ব আদায়ের অর্ধেকই আসে মূসক ও সম্পূরক শুল্ক থেকে।
এ প্রেক্ষাপটেই এবার এনবিআর সবচেয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে নতুন ভ্যাট আইনকে। এই আইনে রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি করার পাশাপাশি করদাতাদের হয়রানি এড়াতে অনলাইনভিত্তিক কর পরিশোধের সুযোগ রাখা হয়েছে। নতুন আইনটি নিয়ে প্রায় দুই বছর ধরেই ব্যবসায়ী ও এনবিআরের মধ্যে মতবিরোধ চলছে। মূল মতবিরোধটি হলো, নতুন আইনে ১৫ শতাংশ হারে মূসক দিতে হবে। প্যাকেজ মূসক, নির্ধারিত মূল্যে কিংবা সংকুচিত ভিত্তিমূল্যে (১৫ শতাংশের পরিবর্তে রেয়াতি হারে) মূসক ব্যবস্থা উঠে যাবে, যা ব্যবসায়ীরা মানতে রাজি নন। ব্যবসায়ীদের দাবি হলো, মূসক হার সাড়ে ৭ থেকে ১০ শতাংশের মধ্যে রাখা। এ অবস্থায় গত ২৩ মার্চ শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদসহ এনবিআরের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় দুই পক্ষই নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকায় কোনো সিদ্ধান্তে আসা সম্ভব হয়নি। আবারও সভা হবে। সভার নতুন তারিখ ঠিক হয়নি। ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সহসভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা ১৫ শতাংশ নয়, ৭ থেকে ১০ শতাংশের মধ্যে একাধিক হারে মূসক চাই। তা না হলে ভোক্তাকে বেশ ভুগতে হবে। যেমন বিদ্যুৎ বিলের ওপর এখন ৫ শতাংশ মূসক আছে। এটি তখন ১৫ শতাংশ হয়ে যাবে। তাঁর মতে, আইনটি নিয়ে সরকার ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে যে আলোচনা চলমান আছে, তা থেকে যদি ইতিবাচক কোনো সিদ্ধান্ত না আসে;
তবে ব্যবসায়ীদের মধ্যে আস্থা সংকট দেখা দেবে, যা বিনিয়োগে প্রভাব পড়বে।’ এই ব্যবসায়ী নেতা আরও বলেন, এনবিআরের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, হিসাব রাখতে হবে না; শুধু পণ্যের চালান রসিদ দিয়েই রেয়াত নেওয়া যাবে। কিন্তু নতুন আইনে এর কোনো আইনি ভিত্তি নেই। বরং এতে হয়রানি বাড়বে। তবে এনবিআরের চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, প্যাকেজ মূসকের আইনগত কোনো সমর্থন নেই, এটি আর ফিরে আসবে না, এটি ব্যবসায়ীরা অনুধাবন করেছেন। ব্যবসায়ীদের আরেকটি দাবি, টার্নওভার করের সীমা বৃদ্ধি করা। সেটিও ২৪ লাখ থেকে বাড়িয়ে ৩০ লাখ টাকা করা হয়েছে। তবে ১৫ শতাংশ মূসক হার হবে নাকি ভিন্ন হার হবে—সেটা নিয়ে আলোচনা চলছে। শিগগিরই অর্থমন্ত্রী ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এ নিয়ে আবারও আলোচনা করে সিদ্ধান্ত দেবেন। এনবিআর চেয়ারম্যান আরও বলেন, মূসক আইন বাস্তবায়নের জটিলতা কাটাতে এনবিআর ও এফবিসিসিআইয়ের যৌথ কমিটির সুপারিশের আলোকেই এখন আলোচনা চলছে। মূসক আদায়ের সম্ভাবনা নিয়ে সম্প্রতি এনবিআর একটি সমীক্ষা করেছে। সেই সমীক্ষা অনুযায়ী, সুযোগ থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশে এখনো ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ মূসক আদায় করা যায়নি। এটি বলা হচ্ছে ‘ভ্যাট গ্যাপ’। ২০১২-১৩ অর্থবছরকে ভিত্তি ধরে এই সমীক্ষাটি করা হয়েছে। সমীক্ষায় বলা হয়েছে, ওই অর্থবছরে ৯৪ হাজার ৫৬৭ কোটি টাকা মূসক আদায়ের সুযোগ ছিল। কিন্তু আদায় হয়েছে মাত্র ৪১ হাজার ৭৪৮ কোটি টাকা। আদায় করা যায়নি ৫২ হাজার ৮১৯ কোটি টাকা। সার্বিকভাবে ‘ভ্যাট গ্যাপ’ ৫৬ শতাংশ। ৫ শতাংশ কমবেশি ধরে হিসাব করলে ৫০-৬০ শতাংশ ‘ভ্যাট গ্যাপ’ আছে। নতুন আইনে যা থাকবে: আইনেই মৌলিক খাদ্য, নির্ধারিত জীবন রক্ষাকারী ওষুধ,
গণপরিবহন সেবা, গণস্বাস্থ্য ও চিকিৎসাসেবা, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ, কৃষি, মৎস্য চাষ, দাতব্য প্রতিষ্ঠানের অবাণিজ্যিক কার্যক্রম, অলাভজনক সাংস্কৃতিক সেবা—এসব ক্ষেত্রে মূসক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বাকি সব ক্ষেত্রেই আমদানি, উৎপাদন কিংবা বিক্রি পর্যায়ে মূসক বসবে। এ ছাড়া বর্তমানে স্থানীয় উৎপাদন পর্যায়ে ৮৫টি পণ্যে ট্যারিফ মূল্যের ওপর ভিত্তি করে মূসক আরোপ করা হয়। ২০ ধরনের সেবার ওপর সংকুচিত ভিত্তিমূল্যে দেড় থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত মূসক আরোপ হয়। এখন থেকে এসব পণ্য ও সেবায় ১৫ শতাংশ হারেই মূসক বসবে। এনবিআরের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, নতুন মূসক আইন হলে ট্যারিফ লাইনের ৭৪ দশমিক ৪ শতাংশ পণ্যের ওপর ১৫ শতাংশ হারে মূসক আরোপ হবে। বর্তমানে ট্যারিফ লাইনে ৬ হাজার ৪৪১ ধরনের পণ্য আছে। সেই হিসাবে ৪ হাজার ৭৯২ ধরনের পণ্যের ওপর ১৫ শতাংশ হারে মূসক বসবে। ১৯৯১ সাল থেকে এই পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে এনবিআর প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে আমদানি, উৎপাদন ও বিক্রি পর্যায়ে ১ হাজার ৮৭৪টি পণ্য ও সেবাকে মূসক অব্যাহতি দিয়েছে। এ ছাড়া বিদ্যমান আইনটি চালু সময়েই বিশেষ আদেশে ৮৯ ধরনের পণ্য ও সেবায় মূসক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে ট্যারিফ লাইনের ১ হাজার ৯৮৩টি পণ্য ও সেবায় মূসক দিতে হয় না। নতুন আইন হলে এনবিআর প্রজ্ঞাপন দিয়ে মূসক কমাতে পারবে না। তাই সব আলোচনা মূসক আইন চালুর আগেই শেষ করতে হবে।

রপ্তানি আয়ে খরা কাটেনি

গত মার্চ মাসে ৩১০ কোটি মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ। এ ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৯ দশমিক ৮৩ শতাংশ, যা গত পাঁচ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। তবে এই প্রবৃদ্ধিও সামগ্রিক রপ্তানি চিত্রের দৈন্যদশা ঘোচাতে পারেনি। চলতি ২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র ৩ দশমিক ৯৭ শতাংশ। আট মাস শেষে এটি ছিল ৩ দশমিক ২২ শতাংশ। তবে অর্থবছরের শুরুর দিকে দেশের পণ্য রপ্তানি আয় মোটামুটি সন্তোষজনক ছিল। গত নভেম্বর থেকে প্রবৃদ্ধি কমতে থাকে।
চলতি ২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে অর্থাৎ জুলাই-মার্চে ২ হাজার ৫৯৪ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। এই আয় গত অর্থবছরের একই সময়ের ২ হাজার ৪৯৫ কোটি ডলারের চেয়ে ৩ দশমিক ৯৭ শতাংশ বেশি হলেও লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৪ দশমিক ৩০ শতাংশ কম। রপ্তানি আয়ের এই হালনাগাদ পরিসংখ্যান গতকাল বুধবার প্রকাশ করেছে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)। মোট পণ্য রপ্তানির ৮০ শতাংশের বেশি তৈরি পোশাক খাত থেকে আসে। তবে কয়েক মাস ধরে পোশাক রপ্তানিতে ভালো প্রবৃদ্ধি না থাকায় সামগ্রিক রপ্তানি আয়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে ২ হাজার ৯২ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে। এই আয় গত অর্থবছরের একই সময়ের ২ হাজার ৪৪ কোটি ডলারের চেয়ে ২ দশমিক ৩৯ শতাংশ বেশি। চলতি অর্থবছরের নয় মাসে ২ হাজার ৯২ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানির মধ্যে নিট পোশাক থেকে ১ হাজার ১৪ এবং ওভেন পোশাক থেকে ১ হাজার ৭৮ কোটি ডলার এসেছে। এর মধ্যে নিট পোশাকে ৪ দশমিক ৮৫ শতাংশ এবং ওভেনে শূন্য দশমিক ১৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। গত কয়েক মাসে একাধিক পোশাকমালিক প্রথম আলোকে বলেন, বৈশ্বিক চাহিদা কমে যাওয়া, প্রত্যাশা অনুযায়ী চীনের ব্যবসা না আসা, ডলারের বিপরীতে টাকা শক্তিশালী, ডলারের বিপরীতে ইউরো দুর্বল এবং কর্মপরিবেশ উন্নয়নে ব্যর্থ হয়ে অনেক কারখানা বন্ধ হওয়ার কারণে পোশাক রপ্তানি কমেছে। জানতে চাইলে তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান গত রাতে প্রথম আলোকে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে পোশাক রপ্তানি বাড়াতে হলে সরকারকে বিশেষ সহায়তা দিয়ে এ খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে হবে। তিনি বলেন, ‘সক্ষমতা বাড়াতে আগামী অর্থবছরের বাজেটে আমরা ৫ শতাংশ নগদ সহায়তা, উৎসে কর শূন্য দশমিক ৭০ শতাংশ থেকে কমিয়ে শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ এবং পোশাক খাতকে মূসকমুক্ত রাখার সুবিধা চাইব।’ তিনি আরও বলেন, ‘সুবিধাগুলো পেলে আমরা বিদেশি ক্রেতাদের পোশাক তৈরিতে কম দাম অফার করতে পারব। তাতে ক্রয়াদেশ বাড়বে।’ ইপিবির তথ্যানুযায়ী,
পোশাকের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৯২ কোটি ২৯ লাখ ডলারের রপ্তানি আয় চামড়া ও চামড়াজাত খাত থেকে এসেছে। এই আয় গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৮ দশমিক ৪১ শতাংশ এবং আলোচ্য সময়ের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩ দশমিক ২৫ শতাংশ বেশি। এ ছাড়া পাট ও পাটজাত পণ্য থেকে ৭৩ কোটি ১০ লাখ ডলারের রপ্তানি আয় এসেছে। এ ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৩ দশমিক ৯৪ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে হোম টেক্সটাইলে ৫৮ কোটি, প্রকৌশল পণ্যে ৫৪ কোটি, কৃষিজাত পণ্যে ৪০ কোটি ৯০ লাখ, হিমায়িত খাদ্যে ৩৮ কোটি, প্লাস্টিক পণ্যে ৯ কোটি এবং আসবাবে ৩ কোটি ৫৬ লাখ ডলারের রপ্তানি আয় হয়েছে। গত অর্থবছর ৩ হাজার ৪২৫ কোটি ৭১ লাখ ডলারের রপ্তানি আয় হয়েছিল। চলতি অর্থবছর ৩ হাজার ৭০০ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। লক্ষ্য অর্জন করতে হলে আগামী তিন মাসে গড়ে ৩৬৮ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করতে হবে। তবে চলতি অর্থবছরের কোনো মাসেই এই পরিমাণ রপ্তানি আয় সম্ভব হয়নি।

বন্ডে ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা কমল

এখন থেকে কোনো ব্যাংক তার মূলধনের ৫ শতাংশের বেশি কোনো এক প্রতিষ্ঠানের বন্ড বা ডিবেঞ্চারে বিনিয়োগ করতে পারবে না। বাংলাদেশ ব্যাংক গতকাল বুধবার এ নির্দেশনা দিয়েছে। আগে ব্যাংকগুলো তাদের মূলধনের ১০ শতাংশ পর্যন্ত এক প্রতিষ্ঠানের বন্ড বা ডিবেঞ্চারে বিনিয়োগ করতে পারত। বাংলাদেশ ব্যাংক আরও বলেছে, এক প্রতিষ্ঠানের বন্ডে বিনিয়োগ কোনোভাবেই একক ঋণগ্রহীতার সীমা অতিক্রম করতে পারবে না। গতকাল বুধবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ-সংক্রান্ত এক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) অনুমতি নিয়ে ব্যাংক ঋণের পরিবর্তে বন্ড ছেড়ে বাজার থেকে অর্থ সংগ্রহ করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। ব্যাংকগুলোও তাতে বিনিয়োগ করে থাকে। গতকালের জারি করা নির্দেশনার মাধ্যমে সংশোধিত ব্যাংক কোম্পানি আইন পরিপালন ও মূলধনের সংজ্ঞা সুস্পষ্ট করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এখন থেকে কোনো ব্যাংক তার আদায়কৃত মূলধন, শেয়ার প্রিমিয়াম, সংবিধিবদ্ধ সঞ্চিতি ও রিটেইন্ড আর্নিংয়ের ৫ শতাংশের বেশি একক কোনো কোম্পানির বন্ড বা ডিবেঞ্চারে বিনিয়োগ করতে পারবে না। যে বন্ডে ব্যাংক বিনিয়োগ করবে, সেটি অবশ্যই বিএসইসির অনুমোদিত হতে হবে।
কোন ধরনের কোম্পানির বন্ডে বিনিয়োগ করা যাবে, তা জানিয়ে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এমন কোম্পানির বন্ড বা ডিবেঞ্চার কেনা যাবে, যার অভ্যন্তরীণ ক্রেডিট রেটিং বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বীকৃত কোনো রেটিং এজেন্সি থেকে ন্যূনতম রেটিং মান দীর্ঘ মেয়াদে ‘২’ ও স্বল্প-মেয়াদে এস ২ পাওয়া। তবে কোনো ব্যাংক থেকে ইস্যু করা ইন্সট্রুমেন্টে (স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত নয় এবং ব্যাংকের টায়ার ২ মূলধনে বিবেচনাযোগ্য ইন্সট্রুমেন্ট) বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এই প্রজ্ঞাপনের নির্দেশনা প্রযোজ্য হবে না। আর পরিপত্র জারির তারিখে কোনো ব্যাংকের ধারণ করা বন্ড বা ডিবেঞ্চারের পরিমাণ নির্ধারিত সীমার বেশি হলে তা মেয়াদপূর্তি পর্যন্ত ধারণ করা যাবে। তবে মেয়াদপূর্তির পর নগদায়নের মাধ্যমে বন্ড বা ডিবেঞ্চারে বিনিয়োগসীমা ৫ শতাংশে নামিয়ে আনতে হবে। সংশোধিত ব্যাংক কোম্পানি আইনে নতুন সংযোজিত ২৬ক-এর সঙ্গে সামঞ্জস্য আনতে এই প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, সংশোধিত ব্যাংক কোম্পানি আইন ২০১৩-এর সঙ্গে সামঞ্জস্য আনতে নতুন এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে বন্ডে ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা কমলেও বাজারে এর কোনো প্রভাব পড়বে না। কারণ করপোরেট বন্ডে ব্যাংকের বিনিয়োগ খুবই কম। তা ছাড়া কোনো ব্যাংকের বিনিয়োগসীমার বেশি হলেও মেয়াদপূর্তি পর্যন্ত ধারণ করা যাবে।

খালেদা জিয়ার আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি ১৩ এপ্রিল

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আত্মপক্ষ সমর্থনের বিশয়ে শুনানি পিছিয়ে আগামী ১৩ এপ্রিল ধার্য করেছেন আদালত। আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর বকশীবাজারে কারা অধিদফতরের প্যারেড মাঠে স্থাপিত সিনিয়র স্পেশাল জজ কামরুল ইসলাম মোল্লার অস্থায়ী আদালত এ দিন ধার্য করেন। ব্যক্তিগত কারণে আজ খালেদা জিয়া আদালতে হাজির হতে না পারায় তার পক্ষে আইনজীবীরা সময় প্রর্থনা করেন। আগামী ১৩ এপ্রিল খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার দিন ধার্য থাকা আইনজীবীদের আবেদনে একই তারিখে শুনানির দিন ধার্য করেন।
খালেদা জিয়ার পক্ষে আদালতে  শুনানি করেন প্রবীন আইনজীবী ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, অ্যাডভোকেট আব্দুর রেজ্জাক খান, এজে মোহাম্মদ আলী, জয়নুল আবেদীন, সানাউল্লাহ মিয়া, মাসুদ আহমেদ তালুকদার, বোরহান উদ্দিন আহমেদ প্রমুখ। গত ৩০ মার্চও খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে তার আইনজীবীদের আবেদনে আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি পিছিয়ে ৬ এপ্রিল দিন পুনর্নির্ধারণ করেছিলেন আদালত। অরফানেজ মামলায় খালেদা জিয়াসহ আসামি মোট ছয়জন। অন্য পাঁচ আসামি হলেন- বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ও খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান, মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল ওরফে ইকোনো কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান।

সুন্দরবনের চারদিকে ১০ কিলোমিটারের মধ্যে শিল্পকারখানা সরিয়ে নিতে রিট

বিশ্বের সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের চারদিকে ১০ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে স্থাপিত শিল্পকারখানাসহ অন্যান্য স্থাপনা সরিয়ে নেয়ার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে একটি  রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে। সেভ দ্যা সুন্দরবন ফাউন্ডেশনের সভাপতি শেখ ফরিদুল ইসলাম হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিট আবেদন দাখিল করেন। আগামী ৯ এপ্রিল রোববার রিট আবেদনটির ওপর বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ ও বিচারপতি মো. সেলিমের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে শুনানি হতে পারে বলে জানিয়েছেন রিটের আইনজীবী ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন। রিটে সুন্দরবনের চারদিকে  ১০ কিলোমিটারের মধ্যে যেসব কলকারখানা স্থাপনের অনুমতি বা ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে তা বাতিলের আবেদন জানানো হয়েছে। রিট আবেদনে পরিবেশ সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, পরিবেশ অধিদপ্তরের ডিজি ও সুন্দরবনের আশপাশের জেলাগুলোর জেলা প্রশাসককে বিবাদী করা হয়েছে।
রিট আবেদনে বলা হয়েছে, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় ১৯৯৯ সালের ৩০ আগস্ট এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সুন্দরবনকে সংরক্ষিত বন এবং এর চারদিকে ১০ কিলোমিটার এলাকাকে পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা হিসেবে ঘোষণা করে। এ প্রজ্ঞাপন অনুসারে সুন্দরবনের চতুর্দিকে ১০ কিলোমিটার এলাকায় ভূমি, পানি, বায়ু ও শব্দ দূষণকারী শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপন করা যাবে না। কিন্তু গণমাধ্যমে খবর এসেছে, পরিবেশ অধিদপ্তর ইতিমধ্যে প্রায় ১৫০টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে প্রকল্প করার জন্য অবস্থানগত ছাড়পত্র দিয়েছে। যার মধ্যে জাহাজ ভাঙা শিল্পসহ পরিবেশ দূষণকারী প্রকল্প রয়েছে। এসব শিল্পকারখানা স্থাপনের অনুমোদন দেওয়া সংবিধানের ১৮(ক) অনুচ্ছেদ ও পরিবেশ আইন ১৯৯৫-এর সুস্পষ্ট লংঘন। তাছাড়া এসব শিল্পকারাখানা সুন্দরবনের জন্য হুমকিস্বরূপ।

সালাউদ্দিন কাদেরের আইনজীবী ব্যারিস্টার ফখরুলের জামিন স্থগিত

মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া বিএনপির স্থায়ী কমিটির সাবেক সদস্য সালাউদ্দিন কাদের সাকা চৌধুরীর রায় ফাঁসের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ১০ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার ফখরুল ইসলামকে এক বছরের জামিন দিয়ে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগ। আগামী ১০ এপ্রিল পর্যন্ত তার জামিন স্থগিত করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে ব্যারিস্টার ফখরুল ইসলামের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদিন ও অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান।
রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। মঙ্গলবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ তাকে জামিন দেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর রায়ের খসড়া ফাঁসের অভিযোগে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের মামলায় ২০১৪ সালের ২০ নভেম্বর সেগুন বাগিচায় পাইওনিয়ার রোডের চেম্বার থেকে আইনজীবী ফখরুলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর থেকে তিনি দীর্ঘ দিন আটক রয়েরছন। গত বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর সালাউদ্দিন কাদের সাকা চৌধুরীর  চৌধুরীর মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায়ের খসড়া ফাঁসের মামলায় বাংলাদেশ সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনাল ব্যারিস্টার ফখরুল ইসলামকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেয়।

মাদারীপুরের ওসি ও এসআইকে প্রত্যাহারের নির্দেশ আপিল বিভাগে বহাল

দুই শিশুকে বাইরে রেখে তাদের স্তন্যদায়ী দুই মাকে ১৩ ঘণ্টা থানায় আটকে রাখার ঘটনায় মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিয়াউল মোরশেদ ও এসআই মো. মাহাতাবকে অবিলম্বে প্রত্যাহারে দেওয়া হাইকোর্টের নির্দেশ বহাল রেখেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। আজ বৃহস্পতিবার সকালে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে করা আবেদন খারিজ করে দিয়ে এ আদেশ দেন। আদালতে রিটকারীর পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট আবদুল মতিন খসরু ও রানা কাওসার। পুলিশ কর্মকর্তাদের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী এ এম আমীন উদ্দীন। এর আগে গত ২৯ মার্চ মাদারীপুরের সদর থানার ওসি জিয়াউল মোরশেদ ও এসআই মো. মাহাতাবকে অবিলম্বে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে বিষয়টি তদন্ত করে আগামী ৮ মে’র মধ্যে পুলিশের আইজিপিকে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়। পরে এ আদেশ স্থগিত চেয়ে আবেদন করেন দুই পুলিশ কর্মকর্তা। গত ২১ মার্চ এ ঘটনায় মাদারীপুর সদর থানার ওসি জিয়াউল মোরশেদ ও এসআই মো. মাহাতাবকে তলব করেন হাইকোর্ট। এ ছাড়া অমানবিকভাবে দুই মাকে ১৩ ঘণ্টা আটকে রাখার ঘটনাকে কেন বেআইনি ও অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তা জানতে রুল জারি করা হয়। গত ২০ মার্চ বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদন সংযুক্ত করে জনস্বার্থে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ রিট দায়ের করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী রানা কাওসার।
পরে রিটকারী আইনজীবী রানা কাওসার সাংবাদিকদের জানান, গত ১২ মার্চ সকাল ১০টার দিকে বিরোধপূর্ণ একটি জমির তদন্ত কাজে যান মাদারীপুর সদর থানার এসআই মাহাতাব হোসেন। এ সময় তিনি লক্ষ্মীগঞ্জ এলাকার বিরোধপূর্ণ জমির পাশের বাড়ির খালেক বেপারীর ছেলে পনির হোসেনের কাছে মামলাসংক্রান্ত বিষয়ে জানতে চান। পনির হোসেন মামলার বিষয়ে কিছু জানে না বলে জানান। এতে এসআই মাহাতাব ক্ষিপ্ত হয়ে পনিরকে থাপ্পড় দেন। এতে পনির হোসেন পুলিশের সঙ্গে বাগবিতাণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। এতে আরো বেশি ক্ষিপ্ত হন মাহাতাব। পরে ফোন করে সদর থানা থেকে তিন গাড়ি পুলিশ নিয়ে পনিরের বাড়িতে ব্যাপক তাণ্ডব চালান তিনি। এ সময় পনির ও তার বড় ভাই-বোনের ঘরের মূল্যবান আসবাব ও নিত্য প্রয়োজনীয় তৈজসপত্র ও চুলা ভেঙে ফেলে পুলিশ। এক পর্যায়ে পনিরের স্ত্রী ঝুনু বেগম ও তার বড় ভাইয়ের স্ত্রী আকলিমা বেগমকে টেনে-হিঁচড়ে পুলিশের গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। তখন ঝুনু বেগমের তিন মাসের শিশু ও আকলিমা বেগমের ১৮ মাসের শিশুকে কোল থেকে রেখে যেতে বাধ্য করে পুলিশ। পরে রাত ১২টার দিকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে সাদা কাগজে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।

ক্রিকেটার সানির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের মামলায় ক্রিকেটার আরাফাত সানির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ। আজ বৃহস্পতিবার সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ইয়াহিয়া খান ঢাকা মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) এস এম মাসুদুজ্জামানের আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
নাসরীন সুলতানা নামের এক নারীর দায়ের করা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের এ মামলায় সানি জামিনে রয়েছেন। এ ছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলায়ও তিনি জামিন পেয়ে মুক্ত আছেন।

‘মাশরাফি তুমি ফিরো এসো’

‘মাশরাফি তুমি ফিরে এসো’, ‘মাশরাফি তুমি ফিরে এসো’...এই আহবান আর স্লোগানে মুখরিত গোটা নড়াইল। টি-২০ ক্রিকেটে অধিনায়ক হিসেবে মাশরাফি বিন মর্র্তুজাকে প্রত্যাবর্তন করার দাবিতে এই আহবান নড়াইলের সর্বস্তরের মানুষের। ‘ক্রিকেটপ্রেমী নড়াইলবাসী’র উদ্যোগে আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা থেকে প্রায় আধাঘণ্টাব্যাপী এসব কর্মসূচি পালিত হয়। ‘নড়াইল এক্সপ্রেস’ লড়াকু ক্রিকেটার মাশরাফি বিন মর্তুজাকে টি-২০ ক্রিকেটে অধিনায়কের দায়িত্ব পুনর্বহালের দাবিতে শহর, বন্দর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ নড়াইলের বিভিন্ন স্থানে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
পাশাপাশি সড়ক অবরোধও হয়েছে। নড়াইল টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে প্রায় আধাঘণ্টা নড়াইল-যশোর সড়ক অবরোধ করে রাখা হয়। এ সময় সব ধরণের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বিভিন্ন যানবাহনের চালকসহ যাত্রীরাও কর্মসূচীতে অংশগ্রহণ করেন। নড়াইলের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, জনপ্রতিনিধি, রাজনীতিবিদ, সুধীজন, শ্রমজীবী, বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনসহ সর্বস্তরের মানুষ মানববন্ধন এবং সড়ক অবরোধ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন। সবার কণ্ঠে একই আওয়াজ-‘মাশরাফি তুমি ফিরে এসো’, “বাংলার ক্রিকেটকে এখনো অনেক কিছু দেবার বাকি আছে তোমার, তুমি বাংলার সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ অধিনায়ক।”

গাজীপুরে কলেজ ছাত্র হত্যায় ৩ জনের ফাঁসি

গাজীপুরে প্রেমের ফাঁদ পেতে সহপাঠি বিশ^বিদ্যালয় ছাত্রকে অপহরণের পর হত্যার দায়ে তিন জনের ফাঁসি ও এক নারীর যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড দিয়েছে আদালত। রায়ে একই সঙ্গে ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত আসামিদের ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা এবং যাবজ্জীবন দন্ডপ্রাপ্ত নারীকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরো এক মাসের সশ্রম কারাদন্ডাদেশ দেয়া হয়। বৃহস্পতিবার সকালে গাজীপুরের জেলা ও দায়রা জজ একেএম এনামুল হক এ রায় ঘোষনা করেন। রায় ঘোষণাকালে দন্ডপ্রাপ্ত আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলো-টাঙ্গাইল জেলার গোপালপুর থানার জামতৈল এলাকার মো. আবদুস সামাদ মাষ্টারের ছেলে মো. রেজাউল করিম ওরফে সাগর (৩২), জামালপুরের মহনপুর এলাকার মৃত সলিম উদ্দিনের ছেলে মো. জামাল উদ্দিন (৩৬), মৌলভীবাজারের বেকামোড়া (বেগবাড়ি) এলাকার মো. ইয়াবর মিয়ার ছেলে মো. শাহাব উদ্দিনকে (২৭) এবং জামালপুরের মেলান্দহ থানার বল্লভপুর গ্রামের আ: সামাদ মন্ডলের মেয়ে ও মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত আসামি সাগরের স্ত্রী সানজিদা আক্তার লিপিকে (৩০) যাবজ্জীবন কারাদন্ডাদেশ দিয়েছে আদালত। গাজীপুর আদালতের পুলিশ পরিদর্শক মো. রবিউল ইসলাম জানান, নোয়াখালীর সেনবাগ থানার নবীপুর গ্রামের খাঁজা মাইন উদ্দিনের ছেলে মো. আবদুর রহমান ওরফে রিয়াদ (২৫) টঙ্গীর চেরাগ আলী এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে উত্তরা ইউনির্ভাসিটিতে বিবিএ পড়তো। অধ্যয়নরত অবস্থায় স্থানীয় একটি কোচিং সেন্টারে সানজিদার সাথে তার পরিচয় হয়। ওই পরিচয়েল সূত্রধরে সাগর তার স্ত্রী সানজিদা আক্তার লিপিকে দিয়ে রিয়াদের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। এক পর্যায়ে ২০১৩ সালের ২৩ জুলাই সানজিদা রিয়াদকে চাকুরীর প্রলোভন দেখিয়ে অপহরন করে তার স্বামী সাগরের হাতে তুলে দেয়। পরে ২৫ জুলাই রিয়াদের দুবাই প্রবাসী পিতা খাঁজা মাইন উদ্দিনকে ফোন করে অপহরকারী সাগর জানায় ‘বিয়াদ আমাদের কাছে আছে, আইনের আশ্রয় নিলে তাকে মেরে ফেলা হবে।’ পরে ঘটনার চারদিন পর (২৭ জুলাই) সাগর প্রবাসী পিতার কাছে মোবাইল ফোনে ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। পরবর্তীতে ২৮ জুলাই সাগর আবারও ৫ লাখ টাকা না দিলে রিয়াদের কান কেটে ফেলা হবে বলে রিয়াদের প্রবাসী বাবার কাছে মোবাইলে মেসেজ পাঠায়। পরে রিয়াদের বাবার নিকট অপহরণের ঘটনা শুনে রিয়াদের মামাতো ভাই অবসরপ্রাপ্ত সেনাবাহিনীর সার্জেন্ট মো. জাকির হোসেন ৩০ জুলাই টঙ্গী থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন। পরে মোবাইল ট্যাকিং এর মাধ্যমে র‌্যাব-১ আসামী সাগরকে গ্রেফতার করে।
এ সময় সাগরের কাছ থেকে অপহরণে ব্যবহৃত মোবাইলটি উদ্ধার করা হয়। পরে তার স্বীকারোক্তিতে র‌্যাব জামালপুর থেকে সাগরের স্ত্রী সানজিদা আক্তার লিপি ও শাহাব উদ্দিনকে গ্রেফতার করে। সে সময় সাহাব উদ্দিন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার নিকট জানায় রিয়াদকে অপহরণের পর ঘুমের ঔষধ দিয়ে জামালপুরে নিয়ে গলায় রশি পেঁচিয়ে হত্যা করে লাশ গাছে টাঙিয়ে রাখে। এসময় সে আরও জানায় রেজাউল করিম সাগর, জামাল উদ্দিন মিলে তারা তিনজনে তাকে হত্যা করে। পরবর্তীতে জামাল উদ্দিনকে পুলিশ গ্রেফতার করে। অপরদিকে জামালপুরে রিয়াদের লাশ অজ্ঞাত হিসেবে আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলাম দাফন করে। পরবর্তীতে রিয়াদের পরিচয় প্রকাশ পেলে দাফনের ৩৬ দিন পর লাশ কবর থেকে উত্তোলন করে পুনরায় সুরতহাল ও ময়নাতদন্তর সম্পন্ন করা হয়। পরে আদালতের মাধ্যমে জামালপুর থেকে মামলাটি গাজীপুরে স্থানান্তর করা হয়। পুলিশ সানজিদাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়ে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করলে বাদী তাতে না রাজী দেন। পরবর্তীতে মামলার অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডি উপর দায়িত্ব অর্পিত হয়। পরে সিআইডির তৎকালীন গাজীপুরের পরিদর্শক মো. মনিরুজ্জামান সার্বিক তদন্তের পর উল্লেখিত চার আসামির বিরুদ্ধে সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল করে। মামলায় ১৯ জন স্বাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহন ও দীর্ঘ শুনানী শেষে বৃহস্পতিবার সকাল পৌণে ১১টায় জনাকীর্ণ আদালতে আসামিদের উপস্থিতিতে বিচারক এই রায় প্রদান করেন। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন পিপি এড. হারিছ উদ্দিন আহম্মেদ এবং আসামি পক্ষের আইনজীবী ছিলেন এড. মো. ওয়াহেদুজ্জামান আকন (তমিজ)।

ধর্মপাশায় ১৯০ বস্থা সরকারি চাল জব্দ

অকাল বন্যায় উপজেলার সব কটি হাওর তলিয়ে জাওয়ায় অসাধু সিন্ডিকেট চাল ব্যবসায়ীরা ১৫শ টাকা বস্থার চাল ২৬শ টাকায় বিক্রি করছে। এসব চাল ব্যবসায়িদের নিয়ন্ত্রনে আনতে গিয়ে গত ৪ এপ্রিল মঙ্গলবার সন্ধায় ভ্রাম্যমান কোট পরিচালনায় ১৯০বস্থা চাল জব্দ করা হয়। জব্দকৃত চাল ও বস্থা সরকারি খাদ্য গুদামের বলে প্রমানিত হয়েছে। এসব চাল জব্দ করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মামুন খন্দকার। জব্দকৃত চাল ছিজার লিষ্ট করে পুলিশ হেফাজতে খাদ্য গুদামে জমা রাখা হয়েছে। ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন পুলিশ কাষ্টরির মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরন করা হয়েছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, জব্দকৃত ১৯০বস্থা চালের বস্থঅর গায়ে লিখা ছিল খাদ্য অধিদপ্তরের জন্য উৎপাদিত। এবং এসপাটের মাধ্যমে প্রমানিত হয়েছে চাল গুলো খাদ্য গুদামের সংরখনকৃত।
বিধায় ভূক্তা আইনে ওই অসাধু চাল ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট তৈরীকরে ১৫শ টাকা বস্থার চাল প্রতি বস্থা ২৬শ টাকায় বিক্রি করছে। সংবাদ পেয়ে গতকাল ৫এপ্রিল মঙ্গলবার সন্ধার পর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ মামুন খন্দকা ভ্রাম্যমান কোট পরিচালনা করে খয়দিরচর গ্রামের আব্দুল গনির ছেলে ধর্মপাশা বাজারের অসাধু চাল ব্যবসায়ি মোঃ আনোয়ার হোসেনের (৩৫) এর চালের দোকানে অভিযান চালিয়ে ১৯০বস্থা চাল জব্দকরে ছিজার লিষ্টের মাধ্যমে এসব চাল পুলিশ হেফাজতে খাদ্য গুদামে জমা রাখা হয়। ব্যবসায়ি মোঃ আনোয়ারকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জেল হাজতে প্রেরনেরূ নির্দেশ দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্যার্ড (ইউএনও) মোঃ মামুন খন্দকার।

ধর্মপাশায় বাঁধ ভেঙে তলিয়ে গেছে ২৫ হাজর হেক্টর বোরো ফসল

অকাল বন্যায় ধর্মপাশা উপজেলায় ছোট-বড় ৭৮টি হাওরের মধ্যে ৭৬টি হাওর তলিয়ে গেছে। এ বছর উৎপাদন লক্ষ্যমাত্র নির্ধারন ছিল ৩১হাজার ৮শত হেক্টর বোরো জমিতে চাষাবাদ করেছিল কৃষকেরা। ইতিমধ্যে ৭৫ হাজার হেক্টর বোরো জমির কাঁচা ধান তলিয়ে গেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১২টা পর্যন্ত দন-নদীর পানি বিপদ সিমার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। অরশিষ্ট ২টি হাওর রয়েছে সেগুলোর বাঁধ ঝূঁকীপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। যে কোন মুহুর্তে ঝূঁকীপূর্ণ বড় গুড়াডুবা ও জয়দনা হাওরের বাঁধ ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে সেগুলোতেও বৃষ্টির পানিতে জলাব্দতা সৃষ্টিহয়ে ৪০ভাগ জমির ধান তলিয়ে গেছে। ৭৮টি হাওরের মধ্যে ৭৬টি হাওর তলিয়ে গেছে, অবশিষ্ট ২টি হাওর এখন পর্যন্ত সুরক্ষিত থাকলেও যে কোন মুহুর্তে প্রাবীত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশী। কৃষকরা তাদের গর্বাদি পশু (হালের বলদ) পানির দামে বিক্রি করছে। অসাধু চাল ব্যবসায়িদের হাত থেকে চালের বাজার নিয়ন্ত্রনে রাখতে বাজারে মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে টানা সপ্তাহ ব্যাপী অভিরাম বৃষ্টি ও ভারতের মেঘালয় পাহাড়ের ঢলের পানি মুকশেদপুর দিগর ও সুরমা নদী এবং মাটিয়ান পাহাড়ের ঢলের পানি শুসং দুর্গাপুর হয়ে এর সুমেশ্বরী নদী দিয়ে বিপদ সীমায় প্রবাহিত হয়ে চলতি বোরো ফসল সহ নি¤œঞ্চল প্রাবিত হয়। এং নদ-নদী গুলোর নব্বতা সংখটের কারনে ভারতের ঢলের পানিতে নদ-নদী গুলোর কানায় কানায় ভড়ে গিয়ে বেড়ী বাঁধের উপর চাপ সৃষ্টি হয়। এতে ডোবাইল হাওর, চন্দ্র সোনারতাল, ডোবাইল, সুনামড়ল, ধারাম, মরিচাউড়ী, মেঘনা, গনিয়াউড়ী, বোয়ালা ও টগাসহ নয়টি হাওরের, প্রায় পাঁচ হাজার হেক্টর জমির কাঁচা বোরো ধান তলিয়ে যায়। আরো মাত্র চারটি হাওর ঝুঁকীপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। যেমন ধানকুনিয়া হাওরের সুরমা নদীর তীরবর্তী মহিনিপুরের বাঁধ, পুরাতন সুইজ গেইটের বাঁধ ও আজরাখালীর বাধ, জয়দনা হাওরের মুক্তারপুর গ্রাম সংলগ্ন বাঁধ ঝুঁকীপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। কালিয়ানী হাওরের নষিংপুরের জাঙ্গাল, কৈই জোড়ার বাঁধ, বড় গুড়াডোবার বাঁধসহ এসব বাঁধগুলো গত ৩ ও ৪ এপ্রিল এপ্রিল রবিবার ও সোমবার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মোতালিব খান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মামুন খন্দকার, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মোসাইদ তালুকদার, মধ্যনগর ইউপি চেয়ারম্যান প্রবীর বিজয় তালুকদার, প্রবীন সাংবাদিক গিয়াস উদ্দিন রানা, একাউঞ্চ অফিসার মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, গুড়াডোবা, কাইঞ্জা, বাইনচাপড়া হাওরের ঝুঁকীপূর্ণ বাঁধ গুলো পরির্দশন করেন। এবং সেচ্ছা শ্রমে বাঁধ নির্মান কাজের শ্রমিকদের চিড়া, গুড়, বাঁস, বাঁসের চাটাই, ত্রিফাল, সুতলি ইত্যাদি জোগান দিয়ে সহযোগীতা করেন। সুনামগঞ্জ জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবোর) তরপ থেকে উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে খালি বস্থা দেওয়া হচ্ছে। বাঁধগুলো টিকানোর জন্য খালী বস্থা দিয়ে সহযোগীতা করছেন। এসব ঝুঁকীপূর্ণ বাঁধে এলাকার শত শত কৃষকরা সেচ্ছা শ্রমে রাত-দিন বাঁেধর উপর মাটি কাটছেন এবং এসব ঝুঁকীপূর্ণ বাঁধ গুলোতে রাতে জেনারেটারের লাইট জ্বালিয়ে বাঁধগুলো পাহাড়া দিচ্ছেন। গতকাল ৫ এপ্রিল মঙ্গলবার স্থানীয় সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মোতালিব খান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মামুন খন্দকার,
ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ মোসাইদ তালুকদার, সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের সদস্য শামীম আহমেদ মুরাদ ও মোজাম্মেল হক রোকন প্রমুখরা, ধানকুনিয়া ও জয়দনা হাওরের ঝুঁকীপূর্ণ বাঁধ গুলো পরির্দষন করেন। এ দিকে গত ১ এপ্রিল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুল মোতালিব খান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মনিন্দ্র চন্দ্র তালুকদার, উপজেলা সদর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ সেলিম আহমেদ, সুখাইড় রাজাপুর (দঃ) ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আলমগীর, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারন সম্পাদক ও সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের সদস্য শামীম আহমেদ মুরাদসহ একাধিক নেতা-কর্মীরা সার্বক্ষনিক ঝুঁকীপূর্ণ বাঁধগুলো পরির্দন করেন। এবং তাদেরকে ছিড়া-গুড় ও আর্থীক সহযোগীতা করে এসব শ্রমীকদের উৎসাহিত করেন। অসহায় কৃষক-কৃষানীসহ এলাকাবাসীর দাবি, প্রথমেই সুনামগঞ্জ জেলাকে দুর্গত উপজেলা ঘোষনা এবং চাল-আটা সহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য মূল্যের দাম নিয়ন্ত্রনে রাখার জন্য সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান কৃষকরা। এবং এক বছরের জন্য কৃষি ও এঞ্জিয়র ঋনের কিস্থি বন্ধ রাখার জন্য দাবি জানান। হাওর গুলো তলিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে কৃষকদের গর্বাদি পশুলো পানির দামে বাজারে বিক্রি করছেন তারা। ওই এলাকায় মানুষের খাদ্যই নেই আবা গর্বাদি পশুর খাদ্য আসবে কোথায় থেকে। এলাকার কৃষকদের দঃখ্য ধুর্দশার ও বিমামহীম থান্দা এবং তাদের দুঃখ্য দুর্দশার কথা লিখে শেষ করার মতো নয়। দুর্গত উপজেলা ঘোষনার দাবিতে ধর্মপাশা প্রেসক্লাব, মুক্তিযুদ্ধা সংসদসহ বিভিন্ন সংগঠনের মানববন্দন অব্যহত রয়েছে।