Sunday, February 19, 2017

আফগানিস্তানে জঙ্গি ঘাঁটিতে ‘হামলা’ পাকিস্তানের

আফগানিস্তানে জঙ্গি ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। গণমাধ্যমের খবরে এমনটাই বলা হচ্ছে। টাইমস অব ইন্ডিয়া অনলাইনের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়। সিন্ধু প্রদেশে এক সুফি সাধকের মাজারে বোমা হামলার জন্য জঙ্গিরা ঘাঁটি হিসেবে আফগানিস্তানের ভূখণ্ড ব্যবহার করেছে বলে দাবি করে পাকিস্তান। এই দাবির কয়েক ঘণ্টার মাথায় আফগানিস্তানে জঙ্গি ঘাঁটি লক্ষ্য করে পাকিস্তান হামলা শুরু করে। সামরিক সূত্রগুলো বলছে, গত শুক্রবার রাতে আফগানিস্তানে জঙ্গি ঘাঁটিতে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর হামলা শুরু হয়। হামলার বিষয়ে পাকিস্তান সরকারের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য সত্য হলে তা হবে আফগান ভূখণ্ডে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর এই ধরনের প্রথম অভিযান।
এই ঘটনা ইসলামাবাদের সঙ্গে কাবুলের সম্পর্ক নতুন করে তিক্ত করে তুলতে পারে। গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, জামাত-উল-আহরার জঙ্গিগোষ্ঠীর চারটি শিবির লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। এক কর্মকর্তার ভাষ্য, জামাত-উল-আহরার গোষ্ঠীর প্রধান ওমর খালিদ খোরাসানির একাধিক প্রশিক্ষণকেন্দ্র লক্ষ্য করে নিরাপত্তা বাহিনী হামলা চালায়। হামলায় ভারী অস্ত্র ব্যবহার করা হয়। আফগান ভূখণ্ডে পাকিস্তানের চালানো এই হামলায় জঙ্গিদের হতাহত হওয়ারও খবর পাওয়া যাচ্ছে। পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশে গত বৃহস্পতিবার রাতে ত্রয়োদশ শতকের সুফি সাধক লাল শাহবাজ কালান্দারের মাজারে আত্মঘাতী বোমা হামলা হয়। এতে শিশুসহ অন্তত ৮০ জন নিহত হয়। হামলায় দায় স্বীকার করে জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস)। এই হামলার পর পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী ব্যাপক অভিযান শুরু করে। এ অভিযানে শতাধিক ‘জঙ্গি’ নিহত হয়েছে।

গণমাধ্যমকে ‘মার্কিন জনগণের শত্রু’ বললেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

নির্বাচনী প্রচারণার সময় থেকেই গণমাধ্যমের ওপর খাপ্পা ডোনাল্ড ট্রাম্প। জয়ী হওয়ার পরও ক্ষোভ প্রশমিত হয়নি। গত শুক্রবার নিজের টুইটার ব্যবহার করে গণমাধ্যমের ওপর আবার ঝাল ঝাড়লেন তিনি। তাঁর ভাষায়, ‘মার্কিন জনগণের শত্রু হলো গণমাধ্যম।’ ট্রাম্পের এবার টুইটার হামলাটি সুনির্দিষ্টভাবে মার্কিন গণমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস, এনবিসি নিউজ, এবিসি, সিবিএস এবং সিএনএনকে লক্ষ্য করে। ছুটি কাটাতে শুক্রবার হোয়াইট হাউস থেকে ফ্লোরিডায় নিজ অবকাশ যাপনকেন্দ্র মার-এ-লোগোতে যান ট্রাম্প। সেখানে নামার পরই আসে ১৪০ বর্ণের টুইটার আক্রমণ। ট্রাম্প লেখেন, ‘মিথ্যা সংবাদ দেওয়া গণমাধ্যম (নিউইয়র্ক টাইমস, এনবিসি নিউজ, এবিসি, সিবিএস এবং সিএনএন) আমার শত্রু নয়, বরং তারা মার্কিন জনগণের শত্রু।’ তিনি টুইটারে প্রথমে নিউইয়র্ক টাইমস, এনবিসি নিউজ ও সিএনএনের নাম উল্লেখ করে ঝাল ঝাড়েন। এই গণমাধ্যমগুলোকে অসুস্থ বলেন। পরে ওই টুইটার বার্তাটি মুছে ফেলেন। পুনরায় টুইট করেন এবং সেখানে ‘জনগণের শত্রু গণমাধ্যমের’ তালিকায় আরও দুটি নাম যুক্ত করেন—এবিসি ও সিবিএস।এরপর আরেকটি টুইটার বার্তায় ট্রাম্প নিজেই নিজের সংবাদ সম্মেলনের প্রশংসা করেন। ডানপন্থী এক সাংবাদিকের ‘প্রশংসার’ কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, সবাই বলছে, সংবাদ সম্মেলন দারুণ হয়েছে। অথচ ‘অসৎ গণমাধ্যম’ বলছে উল্টো কথা। এর আগে সাংবাদিকদের ‘সবচেয়ে অসৎ’ বলেছিলেন তিনি। গত বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে নিজের প্রশাসনের সব সমস্যার জন্য গণমাধ্যমকে দোষারোপ করেন তিনি। এদিকে ফ্লোরিডায় নেমে অবকাশকেন্দ্রে যাওয়ার পথে ট্রাম্পের গাড়িবহরে একটি বস্তু নিক্ষেপ করা হয়েছিল। সেটি কী এবং কে বা কারা নিক্ষেপ করেছিল, সে সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছেন মার্কিন গোয়েন্দারা। তাঁরা বলেছেন, এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া গেছে, কিছু একটা নিক্ষেপ করা হয়েছিল ট্রাম্পের মোটর শোভাযাত্রায়। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে এবং এর চেয়ে বেশি কিছু এখন বলা যাচ্ছে না।

বিতর্কিত প্রুইটই যুক্তরাষ্ট্রের নতুন পরিবেশপ্রধান

মার্কিন পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থার (ইপিএ) কড়া সমালোচক বলে পরিচিত ওকলাহোমার অ্যাটর্নি জেনারেল স্কট প্রুইটই এ সংস্থার প্রধান হলেন। সিনেটের অনুমোদনের পর গত শুক্রবার শপথ নেন তিনি। এদিকে ওকলাহোমার এক বিচারক প্রুইটকে আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে তেল-গ্যাস কোম্পানিগুলোর নির্বাহী কর্মকর্তাদের সঙ্গে আদান-প্রদান করা তাঁর ই-মেইল প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন। বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা ওই ই-মেইল প্রকাশের দাবি জানিয়ে ছিল। ডেমোক্রেটিক পার্টির অভিযোগ, পরিবেশ বিষয়টি দেখভালের দায়িত্বে থাকা ইপিএর প্রধান প্রুইট তেল-গ্যাস উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ। বিচারকের নির্দেশ অনুযায়ী তাঁর আদান-প্রদান করা ই-মেইলগুলো প্রকাশ না করা পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকে সিনেটকে বিরত রাখতে চেলেছিলেন ডেমোক্রেটিক পাির্টর নেতারা।
কিন্তু রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত সিনেটে ৫২-৪৬ ভোটে অনুমোদন পেয়ে যান প্রুইট। পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, ৪৮ বছর বয়সী প্রুইট হয়তো তেল-গ্যাস কোম্পানিগুলোর জন্য তাঁর সংস্থার বিধিনিষেধ শিথিল করে দেবেন। পরিবেশবাদী সংগঠন ‘প্রাকৃতিক সম্পদ সুরক্ষা কাউন্সিল’ প্রেসিডেন্ট রিয়া সুহ বলেন, ইপিএকে নেতৃত্ব দিতে স্কট প্রুইট হলেন সবচেয়ে খারাপ পছন্দ। তিনি বলেন, ‘আমাদের আকাশ ও পানির ক্ষতি করা, আমাদের সমাজ ও শিশুদের জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বিপর্যয়ে ফেলা থেকে প্রুইটকে ঠেকাতে সর্বাত্মক চেষ্টা করব আমরা।’

মেক্সিকো–যুক্তরাষ্ট্র সীমান্তে ট্রাম্পবিরোধী মানবপ্রাচীর

মেক্সিকোর হাজারো মানুষ গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র সীমান্তের কাছে এক ‘মানবপ্রাচীর’ গঠন কর্মসূচিতে অংশ নেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওই সীমান্তে সুবিশাল দেয়াল নির্মাণের যে পরিকল্পনা করেছেন, তার বিরুদ্ধে মেক্সিকানরা এভাবেই প্রতিবাদ জানালেন। সীমান্ত শহর সিউদাদ হুয়ারেসের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ, বিভিন্ন সংগঠন, রাজনীতিক, সামাজিক নেতা-কর্মী ও ছাত্রছাত্রীরা এতে অংশ নেন। একই সঙ্গে অনেকে অস্ত্র ও ফুল নিয়ে এই মানবপ্রাচীর গঠন কর্মসূচিতে অংশ নেন। সিউদাদ হুয়ারেসের সঙ্গে বেড়া দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে নিজেদের শহর এল পাসোকে পৃথক করে নিয়েছে। বিক্ষোভকারীরা ট্রাম্পবিরোধী স্লোগান দেন।
তিনি অভিবাসীদের প্রবেশ রুখতে ওই সীমান্তে দেয়াল তৈরির ঘোষণা দিয়েছেন। পাশাপাশি ওই স্থাপনার নির্মাণব্যয় মেক্সিকোর কাছ থেকেই আদায় করার ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন তিনি। এতে মেক্সিকোর জনগণ স্বভাবতই চরম অসন্তুষ্ট হয়েছে। মার্কিন অভিবাসন বিভাগের কর্মীরা গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রায় ৬৮০ জন বিদেশিকে গ্রেপ্তার করেছেন। তাঁদের ওই দেশে বসবাসের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নেই। মার্কিন প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ অবৈধ অভিবাসী রয়েছেন। সরকারি কর্মকর্তারা অভিবাসী পাকড়াও অভিযানের সাফাই গাইলেও অধিকার সংগঠনগুলো বলছে, বড় ধরনের অপরাধী না হওয়া সত্ত্বেও অনেকে এ অভিযানে ধরা পড়ছেন। ট্রাম্পের অভিবাসন নীতি নিয়ে ক্যারিবীয় নেতাদের উদ্বেগ: ক্যারিবীয় অঞ্চলের ১৫টি দেশের নেতারা গত শুক্রবার ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিতর্কিত অভিবাসন নীতির ব্যাপারে উদ্বেগ জানিয়ে বলেছেন, এটির বাস্তবায়ন হলে ওই অঞ্চলে লোকজনের যাতায়াত কমে যেতে পারে। ক্যারিবীয় দেশগুলো মূলত পর্যটনশিল্পের ওপর নির্ভরশীল। গায়ানার রাজধানী জর্জটাউনে ক্যারিবীয় নেতারা এক শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেন।

তামিলনাড়ুর বিধানসভায় ভাঙচুর, স্পিকারকে হেনস্তা

শেষ পর্যন্ত আস্থা ভোটে জয় হলো তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এরাপড্ডি পালানিসামির। তবে তার আগে দিনভর তাণ্ডব চলল বিধানসভায়। স্পিকারকে হেনস্তা হতে হলো। ছিঁড়ে দেওয়া হলো সভার কাগজপত্র। ভাঙা হলো আসবাব। দুবার মুলতবি হলো সভা। শেষ পর্যন্ত বিরোধীশূন্য বিধানসভায় নেওয়া হলো আস্থা ভোট। ১২২ জন বিধায়কের ধ্বনি ভোটে জিতে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী পালানিসামি। তামিলনাড়ুর ইতিহাসে গত ২৯ বছরে এটাই প্রথম আস্থা ভোট। গতকাল শনিবার বেলা তিনটায় তৃতীয়বারের জন্য সভার কাজ শুরু হলে স্পিকার ডিএমকের ৮৮ ও মুসলিম লিগের একজন সদস্যকে সভা থেকে বের করে দেন। প্রতিবাদে কংগ্রেসের সদস্যরাও ওয়াকআউট করেন। আস্থা ভোটের বিরোধিতা করেন অস্থায়ী মুখ্যমন্ত্রী পনিরসেলভামসহ ১১ জন। গোলমালের শুরু বেলা ১১টায়। স্পিকার পি ধনপাল জানিয়ে দেন, আস্থা ভোট নেওয়া হবে ডিভিশনের সাহায্যে। স্পিকারের সিদ্ধান্ত শোনামাত্রই বিরোধী দল ডিএমকে ও পনিরসেলভামের অনুগামীরা গোপন ব্যালটের দাবি জানাতে থাকেন।
শুরু হয় গোলমাল। ডিএমকের সদস্যরা স্পিকারকে ঘিরে ফেলেন। তাঁর টেবিল থেকে উপড়ে ফেলা হয় মাইক্রোফোন। টুকরো টুকরো করে ছিঁড়ে ফেলা হয় সভার কাগজপত্র। ভাঙা হয় চেয়ার। স্পিকারকে জবরদস্তি তুলে দেওয়া হয় তাঁর আসন থেকে। ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়ে যায়। তাঁর জামা ছিঁড়ে যায়। মার্শালরা কোনো রকমে আগলে তাঁকে সভার বাইরে নিয়ে যান। সভা মুলতবি হয়ে যায় বেলা একটা পর্যন্ত। দুপুরে সভা বসলে স্পিকার প্রথমেই জানান কীভাবে তাঁকে হেনস্তা হতে হয়েছে। ছিঁড়ে দেওয়া হয়েছে জামা। এরপরই তিনি বিরোধী সদস্যদের সভা থেকে বের করে দেওয়ার নির্দেশ দেন এবং পালানিসামিকে আস্থা ভোটের প্রস্তাব পেশ করতে বলেন। স্পিকারের নির্দেশ মানতে অস্বীকার করেন ডিএমকের সদস্যরা। শুরু হয়ে যায় মার্শালদের সঙ্গে বিধায়কদের ধাক্কাধাক্কি। এর ফলে সভা ফের মুলতবি করে দেওয়া হয় বেলা তিনটা পর্যন্ত।
তিনটায় সভা শুরু হলে বিরোধীশূন্য বিধানসভায় পালানিসামি আস্থা প্রস্তাব পেশ করেন। তার আগে পনিরসেলভাম ও তাঁর অনুগামীরা ভোট পিছিয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানান। তাঁদের দাবি, বিধায়কদের বন্দী করে রাখা হয়েছিল। হোটেল থেকে সোজা তাঁদের বিধানসভায় নিয়ে আসা হয়েছে। স্পিকার সেই দাবি নাকচ করে দেন। নাকচ করা হয় গোপন ব্যালটের দাবিও। স্পিকার জানান, কীভাবে আস্থা ভোট নেওয়া হবে তা ঠিক করার দায়িত্ব তাঁরই। পালানিসামি আস্থা ভোটে জিতে যাওয়ায় তামিলনাড়ুতে যে রাজনৈতিক অস্থিরতা চলছিল, আপাতত তার অবসান হলো। জেলে যেতে হলেও দলে যে তাঁর অধিকার নিরঙ্কুশ, শশীকলা তা প্রমাণ করলেন।

নিলামে হিটলারের টেলিফোন

নাৎসি একনায়ক অ্যাডলফ হিটলারের ব্যক্তিগত টেলিফোন সেটটি নিলামে বিক্রি হচ্ছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এটি ব্যবহার করে তিনি নানা ভয়ংকর নির্দেশ দিয়েছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিষ্ঠান আজ রোববার ওই টেলিফোন নিলামে তুলবে। ১৯৪৫ সালে হিটলারের পরাজয়ের পর জার্মানির রাজধানী বার্লিনের একটি বাংকারে টেলিফোন সেটটি পাওয়া যায়। শুরুতে এটি কালো রঙের ছিল। পরে এতে লাল রঙের প্রলেপ দেওয়ার পাশাপাশি হিটলারের নাম ও নাৎসি বাহিনীর প্রতীক স্বস্তিকা বসানো হয়। আলেক্সান্ডার হিস্টরিক্যাল অকশনস নামের নিলাম প্রতিষ্ঠান আশা করছে, টেলিফোনটির দাম দুই থেকে তিন লাখ মার্কিন ডলারের মতো উঠবে। মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যে রোববার অনুষ্ঠেয় ওই নিলামে সিমেন্টের টেলিফোনটির পাশাপাশি হাজারখানেক জিনিস বিক্রি হবে। নাৎসি জার্মানির সশস্ত্র বাহিনী হিটলারকে ওই টেলিফোন সেট দিয়েছিল। আলেক্সান্ডার হাউস বলছে,
হিটলার দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ দুই বছরে টেলিফোনটি ব্যবহার করে বেশির ভাগ নির্দেশ দিয়েছিলেন। এ সময় তাঁর সেনাবাহিনী লাখো মানুষকে হত্যা করেছিল। জার্মানির আত্মসমর্পণের পর ব্রিটিশ ব্রিগেডিয়ার স্যার রালফ রাইনার বার্লিনে হিটলারের বাংকার পরিদর্শনে গিয়েছিলেন। তখন রুশ কর্মকর্তারা তাঁকে ওই টেলিফোন উপহার দেন। রাইনারের ছেলে উত্তরাধিকার সূত্রে ফোনটি পেয়েছেন। তিনিই ঐতিহাসিক জিনিসটি নিলামে বিক্রি করছেন। তবে তার আগে টেলিফোনের লাল রং তুলে আগের রং (কালো) ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। আলেক্সান্ডার হাউসের প্রতিনিধি অ্যান্ড্রিয়াস কর্নফেল্ড বলেন, ইতিহাসের সবচেয়ে মন্দ মানুষটির ব্যবহৃত টেলিফোনটির চেয়ে বিরল নিদর্শন খুঁজে পাওয়া কঠিন। এটা তো মামুলি কোনো জিনিস নয়, বরং হিটলারের ধ্বংসযজ্ঞের নীরব সাক্ষী।

‘মুগাবের লাশও প্রার্থী হলে জিতবে’

জিম্বাবুয়ের ফার্স্ট লেডি গ্রেস মুগাবে বলেছেন, তাঁর স্বামী রবার্ট মুগাবে এতটাই জনপ্রিয় যে তিনি মারা যাওয়ার পর মরদেহকে প্রেসিডেন্ট পদের নির্বাচনের প্রার্থী করা হলেও বিজয় নিশ্চিত। মুগাবে গত শতাব্দীর আশির দশক থেকে দেশটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ৯২ বছর বয়সী রবার্ট মুগাবের ২০১৮ সালে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। জিম্বাবুয়ের পূর্বাঞ্চলীয় বুহেরা এলাকায় জানু-পিএফের এক সমাবেশে গ্রেস বলেন, দলের কিছু লোক ষড়যন্ত্র করছেন। তাঁরা রবার্ট মুগাবের কাছ থেকে ক্ষমতা ছিনিয়ে নিতে চাইছেন। কিন্তু জনগণ রবার্টকেই চান।
ফার্স্ট লেডি বলেন, ‘যদি স্রষ্টা তাঁকে (রবার্ট মুগাবে) নিয়ে যান, তাহলে আমরা তাঁর লাশকে প্রার্থী করব। আমি নিশ্চিত জনগণ মুগাবের লাশকেই ভোট দেবেন। তাঁরা নিজেদের প্রেসিডেন্টের প্রতি ভালোবাসা দেখাতে একটুও কার্পণ্য করবে না।’ আগামী মঙ্গলবার ৯৩ বছর বয়সে পড়তে যাওয়া রবার্ট মুগাবে শারীরিক জটিলতার কারণে লোকচক্ষুর সামনে খুব একটা আসেন না। গ্রেসকেই বেশি দেখা যায় রাজনৈতিক সভা-সমাবেশে। বিবিসি

ট্রাম্প-মনোনীত ‘বিতর্কিত’ প্রুইট পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থার প্রধান

যুক্তরাষ্ট্রের পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থার প্রধান হিসেবে শপথ নিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মনোনীত স্কট প্রুইট। প্রুইট এই সংস্থার কড়া সমালোচকও।
বিবিসির খবরে জানা যায়, স্থানীয় সময় গতকাল শুক্রবার সিনেটে প্রুইটের নিয়োগ ৫২-৪৬ ভোটে অনুমোদন পায়। ডেমোক্র্যাটদের বিরোধিতা সত্ত্বেও রিপাবলিকানরা এই অনুমোদন দেন। গত বৃহস্পতিবার ওকলাহোমার একজন বিচারক প্রুইটকে আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে ই-মেইল প্রকাশের নির্দেশ দেন। তাঁর বিরুদ্ধে তেল ও গ্যাস কোম্পানির নির্বাহীদের সঙ্গে ই-মেইল বিনিময়ের অভিযোগ ছিল। তবে প্রুইট এই অভিযোগ অস্বীকার করেন।
ডেমোক্র্যাটদের অভিযোগ, জ্বালানি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রুইটের যোগসাজশ রয়েছে। ডেমোক্র্যাটরা ই-মেইল নিয়ে অভিযোগ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত প্রুইটের নিয়োগের বিষয়টি বিলম্বিত করতে সিনেটে চাপ দেন। যুক্তরাষ্ট্রের পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থার (ইপিএ) শতাধিক সাবেক সদস্য খোলা চিঠিতে প্রুইটের নিয়োগের কড়া সমালোচনা করেছেন। অনেকে প্রুইটকে ‘অযোগ্য উগ্র সমালোচক’ বলে চিহ্নিত করেছেন।

জামালপুরে এক ব্যক্তির বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধার

জামালপুর সদর উপজেলার দিগপাইত ইউনিয়নে শফিকুল ইসলাম (৪০) নামের এক ব্যক্তির বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ওই ইউনিয়নের চানপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত শফিকুলের বাড়ি উপজেলার চানপুর গ্রামে। তিনি দরজির কাজ করতেন। পুলিশ জানায়, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শফিকুল ইসলাম স্থানীয় বাজারে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন।
আএরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। আত্মীয়স্বজন গত পাঁচ দিন তাঁকে খোঁজাখুঁজি করেও পাননি। আজ সকালে চানপুর গ্রামের বংশাল খালের পাড়ে একটি বস্তা দেখতে পান স্থানীয় লোকজন। তাঁরা বস্তার মুখ খুলে লাশ দেখে পুলিশকে খবর দেন। জামালপুর সদর উপজেলার নারায়ণপুর পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের পরিদর্শক (ইনচার্জ) মুহাম্মদ মহব্বত কবীর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

টানা ধর্মঘটের পর মাংস বিক্রি

ব্যবসায়ীদের টানা ছয় দিনের ধর্মঘটের পর আজ রোববার রাজধানীর অনেক জায়গায় পশুর মাংস বিক্রি হচ্ছে। মাংস ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, রোববার সাধারণত ঢাকায় পশু জবাই করা হয় না। কিন্তু ভোক্তার চাহিদার কথা বিবেচনা করে আজ এই নিয়ম শিথিল করা হয়েছে। বাংলাদেশ মাংস ব্যবসায়ী সমিতির মহাসচিব রবিউল আলম বলেন, গত সোমবার থেকে শুরু হওয়া ধর্মঘট গতকাল শনিবার শেষ হয়েছে।
আজ থেকে ধর্মঘট নেই। এমনিতে রোববার ঢাকায় পশু জবাই হয় না। কিন্তু ছয় দিনের ধর্মঘটের প্রেক্ষাপটে এই নিয়ম শিথিল করায় আজ রাজধানীর অনেক জায়গায় পশুর মাংস বিক্রি হচ্ছে। গাবতলী পশুর হাটে অতিরিক্ত খাজনা আদায় বন্ধসহ চার দফা দাবিতে টানা ছয় দিনের ধর্মঘট ডেকেছিল বাংলাদেশ মাংস ব্যবসায়ী সমিতি ও ঢাকা মেট্রোপলিটন মাংস ব্যবসায়ী সমিতি। মাংস ব্যবসায়ীদের দাবির বিষয়ে আজ বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

মহাসড়কে গাড়িচাপায় ভ্যানচালক নিহত

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ভোগড়া এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ভ্যান চালানোর সময় গাড়িচাপায় শরীফুল ইসলাম (৪০) নামের চালক নিহত হয়েছেন। আজ রোববার সকাল ছয়টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। শরীফুলের বাড়ি নীলফামারীর ডোমরা থানার চান্দুখানা এলাকায়।
নাওজোর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আব্দুস ছালামের ভাষ্য, মহাসড়কে ভ্যান চালানোর সময় অজ্ঞাত একটি গাড়ি শরীফুলকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। পরে খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

রাজশাহীতে র‍্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ১

রাজশাহী মহানগরের মতিহার থানার বুধপাড়া এলাকায় গতকাল শনিবার দিবাগত রাত পৌনে তিনটার দিকে র‍্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। র‍্যাব বলছে, ওই ব্যক্তি ডাকাত ছিলেন। তাঁর কাছ থেকে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধারের দাবি করেছে র‍্যাব। নিহত ব্যক্তির নাম কাওছার হোসেন (৪৫)। তাঁর বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের তিয়ারাপাড়া এলাকায়।
র‍্যাব–৫–এর (অপারেশন) এএসপি রমজান আলীর ভাষ্য, রাতে ওই এলাকা দিয়ে র‍্যাবের টহল দল যাচ্ছিল। এ সময় ‘ডাকাতেরা’ র‍্যাবকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। র‍্যাবও পাল্টা গুলি ছোড়ে। এতে আহত হন কাওছার। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক কাওছারকে মৃত ঘোষণা করেন। র‍্যাব দাবি করেছে, ‘বন্দুকযুদ্ধে’ তাঁদের দুজন সদস্য আহত হয়েছেন। এএসপি রমজান আলী আরও জানান, কাওছারের কাছ থেকে একটি পিস্তল, চারটি গুলি, ম্যাগাজিন, হাঁসুয়া, ড্যাগার ও কিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। কাওছারের লাশ রাজশাহী মেডিকেল কলেজের মর্গে রয়েছে।

ফুটপাত ও রাস্তা দখল করে কাঁচাবাজার

বিমানবন্দর-দক্ষিণখান সড়কের আশকোনা রেল ক্রসিং থেকে হাজি ক্যাম্পের সামনের অংশ পর্যন্ত থাকা ফুটপাত ও রাস্তা দখল করে গড়ে উঠেছে কাঁচাবাজার। এ কারণে স্বচ্ছন্দে চলাচল করতে পারছেন না পথচারীরা। যান চলাচলে ঘটছে ব্যাঘাত, সারাক্ষণই লেগে থাকছে জট। গতকাল শনিবার সরেজমিনে দেখা যায়, বিমানবন্দর থেকে দক্ষিণখান ইউনিয়নগামী সড়কটির আশকোনা রেলক্রসিং থেকে শুরু করে হাজি ক্যাম্পের বিপরীত অংশের প্রায় ২০০ মিটার ফুটপাত ও রাস্তা দখলে চলে গেছে। সেখানে বসেছে শতাধিক শাকসবজি, ফলমূল, তরিতরকারি ও মাছের দোকান। পাঁচ ফুট চওড়া ফুটপাত এত সরু হয়ে গেছে যে হেঁটে চলাও যাচ্ছে না। ফুটপাত দখল করে এসব দোকানি বসছেন স্থায়ীভাবেই। আর যাঁরা ফুটপাতে জায়গা পাচ্ছেন না, তাঁরা মালামাল নিয়ে বসে পড়েছেন রাস্তার ওপরই। এমনকি রাস্তার বিভাজকের ওপরেও রাখা আছে ফলের ঝুড়ি, সবজির বস্তা প্রভৃতি।
ফলে ঝুঁকি নিয়ে পথচারীদের চলতে হচ্ছে মূল সড়কে নেমে মাঝপথ বরাবর। দক্ষিণখানের বাসিন্দা রেদওয়ান চৌধুরী বলেন, ‘এই পথেই আমাদের নিয়মিত যাতায়াত করতে হয়। কিন্তু বর্তমানে ফুটপাতের পুরো অংশেই বাজার বসে গেছে। হেঁটে চলাচলের আর কোনো উপায় নেই। মাস দুয়েক আগে এখানে প্রথমে দু-একজন ব্যবসায়ী খাঁচায় করে ফলমূল বিক্রি করতেন। পরে দিন দিন দোকানের পরিমাণ বাড়তে থাকে।’ ফুটপাত দিয়ে হাঁটতে গিয়ে ভিড়ের কারণে সামনে এগোতে পারছিলেন না এক পথচারী। তিনি বলেন, ফুটপাতের যেটুকু অংশ ফাঁকা আছে, সেটা তো লোকজনের চলাচলের জন্য নয়। ওই অংশটা হলো ক্রেতাদের দাঁড়িয়ে কেনাকাটা করার জন্য। রাস্তার ওপর দোকান, মূল সড়কে হেঁটে চলা মানুষ, ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক, রিকশা—সব মিলিয়ে একটা প্রচণ্ড বিশৃঙ্খল অবস্থা। একটু পর পর লেগে যায় যানজট। দক্ষিণখান থানার বাসিন্দা এনায়েত উল্লাহ বলেন, এটি অনেক ব্যস্ত সড়ক। এখান দিয়ে বিমানবন্দর, রেলস্টেশন ও রাজধানীমুখী মানুষের সার্বক্ষণিক চলাচল থাকে। তার মধ্যে এখানে একটি লেভেল ক্রসিং আছে। এমন একটি স্থানে ফুটপাত ও রাস্তা দখল করে কাঁচাবাজার গড়ে ওঠায় জনসাধারণের চলাচলে সমস্যা হচ্ছে।

শহীদ মিনারে যাতায়াতের রুট

মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদ্‌যাপনের লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও আজিমপুর কবরস্থানে জনসাধারণের যাতায়াতের জন্য বিকল্প পথ ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘একুশে উদ্‌যাপন কেন্দ্রীয় সমন্বয় কমিটি’। কমিটির পক্ষ থেকে আজিমপুর কবরস্থান ও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে যাতায়াতের জন্য একটি রুটম্যাপও দেওয়া হয়েছে। এটি ২০ ফেব্রুয়ারি সোমবার রাত আটটা থেকে কার্যকর হবে। গতকাল শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে দেওয়া রুট-ম্যাপ অনুযায়ী, পুরোনো হাইকোর্টের সামনের রাস্তা দিয়ে দোয়েল চত্বর ক্রসিং, বাংলা একাডেমি, টিএসসি মোড়, উপাচার্য ভবনের পাশ দিয়ে নীলক্ষেত পুলিশ ফাঁড়ি মোড়, নিউমার্কেট ক্রসিং পার হয়ে আজিমপুর কবরস্থানের উত্তর দিকের গেট দিয়ে কবরস্থানে যেতে হবে। শহীদদের কবর জিয়ারতের পর আজিমপুর কবরস্থানের মূল গেট (দক্ষিণ দিকের) দিয়ে বের হয়ে আজিমপুর সড়ক হয়ে পলাশী মোড় ও ফুলার রোড মোড় হয়ে (সলিমুল্লাহ মুসলিম হল ও জগন্নাথ হলের সামনে দিয়ে) শহীদ মিনারে যাওয়া যাবে।
কবরস্থানে না গিয়ে বিকল্প পথে যাঁরা শহীদ মিনারে যেতে চান, তাঁরা উপাচার্য ভবন পার হয়ে নীলক্ষেত পুলিশ ফাঁড়ি মোড় থেকে বাঁ দিকের রাস্তা দিয়ে (জহুরুল হক হলের পশ্চিমের রাস্তা) সলিমুল্লাহ মুসলিম হল ও জগন্নাথ হলের সামনের রাস্তা হয়ে শহীদ মিনারে যেতে পারবেন। নিউমার্কেট ক্রসিং থেকে গার্হস্থ্য অর্থনীতি ও ইডেন কলেজের সামনের রাস্তা দিয়েও আজিমপুর (বেবী আইসক্রিম) মোড়, পলাশী মোড় হয়ে সলিমুল্লাহ মুসলিম হল ও জগন্নাথ হলের সামনের রাস্তা হয়ে শহীদ মিনারে যাওয়া যাবে। চানখাঁরপুল এলাকা থেকে বকশীবাজার মোড় হয়ে প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ পাশের রাস্তা দিয়েও পলাশী মোড় হয়ে সলিমুল্লাহ মুসলিম হল ও জগন্নাথ হলের সামনের রাস্তা দিয়ে শহীদ মিনারে যাওয়া যাবে। এদিকে টিএসসি মোড় থেকে জগন্নাথ হলের পূর্ব পাশের রাস্তা, অর্থাৎ শিববাড়ির পশ্চিম পাশ দিয়ে শহীদ মিনারে ও মেডিকেল কলেজে যাওয়ার রাস্তা সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। উপাচার্য ভবন গেট থেকে ফুলার রোড হয়ে ফুলার রোড মোড় পর্যন্ত রাস্তা এবং চানখাঁরপুল থেকে কার্জন হল পর্যন্ত রাস্তা জনসাধারণের যাতায়াতের জন্য সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। শহীদ মিনারে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণের পর সেখান থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠের সামনের রাস্তা দিয়ে দোয়েল চত্বর ও পেছনের রাস্তা দিয়ে চানখাঁরপুল হয়ে শুধু প্রস্থান করা যাবে, শহীদ মিনারের দিকে আসা যাবে না।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় পোস্টার ও ব্যানার লাগানো যাবে না
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মহান ভাষাশহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস সুষ্ঠুভাবে পালন উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গঠিত ‘একুশে উদ্‌যাপন কেন্দ্রীয় সমন্বয় কমিটি’র সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গতকাল শনিবার থেকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, রং ও সাজসজ্জার কাজ শুরু হয়েছে। এ সময় শহীদ মিনারে কোনো সংগঠনের কোনো ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা যাবে না। অমর একুশের ভাবগাম্ভীর্য ও সৌন্দর্য রক্ষার্থে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার দেয়ালগুলোয় কোনো ছবি, পোস্টার ও ব্যানার না লাগানোর জন্য সবার  প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন উপকমিটির ওপর অর্পিত দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে পালন   করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি  সমন্বয় কমিটির পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

বিদ্যুতের অবৈধ সংযোগই প্রধান কারণ

গত দুই বছরে ঢাকায় অন্তত ১০টি বস্তিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ফায়ার সার্ভিস বলছে, বিদ্যুতের অবৈধ সংযোগ এবং অসতর্কতার কারণে বস্তিতে অগ্নিকাণ্ড বেশি ঘটছে। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে বস্তির বাসিন্দারা উচ্ছেদের উদ্দেশ্যে আগুন লাগানোর অভিযোগ করছে। গত ১০ দিনে রাজধানীর তিনটি বস্তিতে আগুনের ঘটনা ঘটেছে। তেজগাঁওয়ে রেলওয়ে কলোনি বস্তিতে ১০ ফেব্রুয়ারি আগুন লাগে। মোহাম্মদপুরের বাঁশবাড়ি বস্তিতে গত বৃহস্পতিবার ভোররাতে আগুন লেগে শতাধিক ঘর পুড়ে যায়।
সর্বশেষ মিরপুরের বাউনিয়াবাদ বস্তিতে গত শুক্রবার অগ্নিকাণ্ডে ৩০টি বসতঘর পুড়ে গেছে। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের বস্তি উন্নয়ন বিভাগ থাকলেও আদতে সেগুলোর কোনো কার্যক্রম নেই। বস্তিবাসীদের জীবনমান উন্নয়ন, পুনর্বাসনের মতো বিষয়ে সিটি করপোরেশনের কোনো দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাও নেই। দুই সিটির বস্তি উন্নয়ন বিভাগের কার্যক্রম মূলত বিদেশি দাতা সংস্থার প্রকল্পকেন্দ্রিক। ২০১৫ সালের ১১ জানুয়ারি মোহাম্মদপুরের শহীদ বুদ্ধিজীবী সড়কের জাফরাবাদে পুলপাড় এলাকার বটতলা বস্তিতে লাগা আগুনে মারা যায় ফাতেমা নামের তিন বছরের এক শিশু। নিঃস্ব হয় পাঁচ শতাধিক পরিবার। গত বছর মাত্র নয় মাসের ব্যবধানে তিনবার মহাখালীর কড়াইল বস্তিতে আগুন লাগে। গত বছরের ১৫ মার্চ কড়াইল বস্তিতে আগুন লাগে। এরপর ২১ নভেম্বর ও ৪ ডিসেম্বর দুই দফায় আগুন লাগে কড়াইল বস্তিতে। আগুনে কড়াইল বস্তির হাজারখানেক ঘর পুড়ে যায় এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়, গৃহহীন হয় কয়েক হাজার মানুষ। কল্যাণপুর পোড়া বস্তির একটি অংশে গত বছরের ২২ জানুয়ারি আগুন লাগে। এর আগের দিন আদালতের নিষেধাজ্ঞায় বস্তির উচ্ছেদ কার্যক্রম বন্ধ হয়। বস্তিবাসীর অভিযোগ, উচ্ছেদ করতে ব্যর্থ হয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আগুন লাগানো হয়। একের পর এক বস্তিতে আগুনের ঘটনার বিষয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক শাকিল নেওয়াজ প্রথম আলোকে বলেন, বস্তির আগুনগুলো মূলত অসতর্কতার কারণে ঘটে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায়, বৈদ্যুতিক সংযোগ ও রান্নাঘরের আগুন থেকে বস্তির আগুনগুলোর সূত্রপাত হয়। কল্যাণপুর, সাততলা, বাগানবাড়ি, বাঁশবাড়ি ও সোবহান রোড বস্তি ঘুরে দেখা যায়, বস্তির ভেতরে এলোমেলোভাবে জড়িয়ে থাকা বিদ্যুতের তার ঝুলছে। মূল সড়ক থেকে এসব অবৈধ সংযোগ আনা হয়েছে, যার ন্যূনতম নিরাপত্তাব্যবস্থা নেই। ঝুঁকিপূর্ণ এসব সংযোগের কারণে যেকোনো সময় আগুন লাগতে পারে। বস্তিগুলো খুবই ঘিঞ্জি। ফাঁকা জায়গা নেই বললেই চলে। এসব বস্তির অন্তত ১০ জন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কিছু অসাধু কর্মচারী ও বস্তির কয়েকজন বাসিন্দা মিলে বিদ্যুতের অবৈধ সংযোগ দিয়ে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। বস্তি এলাকার রাস্তা খুবই সরু হওয়ায় আগুন নেভাতে অনেক সময় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে দেরি হয়ে যায়। আবার বস্তির পানির উৎসও সীমিত। ফলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেড়ে যায়।
নগর বস্তিবাসী উন্নয়ন সংস্থার (এনবাস) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হান্নান আকন্দ প্রথম আলোকে বলেন, অপরিকল্পিত ঘিঞ্জি ঘর, সাধারণ তার দিয়ে বিদ্যুতের অবৈধ সংযোগ, রান্নার ক্ষেত্রে অসাবধানতার কারণে বস্তিগুলোতে আগুন বেশি লাগছে। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে বস্তি উচ্ছেদ করার জন্যও অগ্নিকাণ্ডের ষড়যন্ত্র হয়। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ২০১৪ সালের ‘বস্তিতে শুমারি ও ভাসমান লোকগণনা’ শীর্ষক প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় অবস্থিত ১ হাজার ৬৪৪টি বস্তিতে ১ লাখ ৪২ হাজার পরিবার থাকে। উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় বস্তির সংখ্যা ১ হাজার ৭৫৬টি। এসব বস্তিতে বাস করে ৪১ হাজার ৬১১টি পরিবার। প্রতিটি পরিবার বা খানার গড় সদস্যসংখ্যা ৩ দশমিক ৭৩। সে হিসাবে ঢাকায় বস্তিতে থাকে প্রায় ৬ লাখ ৮৫ হাজার মানুষ। বস্তিবাসীর পুনর্বাসন ও জীবনমান উন্নয়নে এখন পর্যন্ত দুই সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে উল্লেখযোগ্য কোনো উদ্যোগ লক্ষ করা যায়নি। এ বিষয়ে ডিএনসিসির বস্তি উন্নয়ন কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন ভুঁইয়া প্রথম আলোকে বলেন, বস্তিগুলোর বিষয়ে সিটি করপোরেশনের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা থাকে না। কাজগুলো মূলত বিদেশি দাতা সংস্থা, বেসরকারি সংস্থার প্রকল্পভিত্তিক। এসব প্রকল্পের অংশ হিসেবে বস্তিতে সচেতনতাবিষয়ক নানান কার্যক্রম চালানো হয়।

স্কুলছাত্র হৃদওয়ান হত্যার বিচার চায় শিক্ষার্থীরা

পুরান ঢাকার নারিন্দা সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র হৃদওয়ান ইসলামের (১১) হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন ধলপুর ও গোলাপবাগের বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। গতকাল শনিবার সকালে ধলপুর কমিউনিটি সেন্টারের সামনে হৃদওয়ান হত্যাকাণ্ডের বিচার চেয়ে আয়োজিত এক মানববন্ধনে এই দাবি জানানো হয়। এ সময় বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার হাতে নিয়ে মানববন্ধনে দাঁড়ায় বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীরা। তারা হত্যাকারীদের শাস্তি দাবি করে স্লোগান দেয়। একই দাবিতে আগামী ৪ মার্চ জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে নিজ স্কুল নারিন্দা সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করবে।গত ৩০ জানুয়ারি গোলাপবাগের ব্রাহ্মণচিরনের বাসার সামনে ছুরিকাঘাতে হৃদওয়ান ইসলাম নিহত হয়। এ ঘটনায় ওই দিনই যাত্রাবাড়ী থানায় বাদী হয়ে মামলা করেন তার বাবা নজরুল ইসলাম৷ এজাহারে বলা হয়, ব্রাহ্মণ রিচন এলাকায় একটি বাড়ি পুনর্নির্মাণ করা নিয়ে এলাকার বাসিন্দা আবদুল মান্নান মুন্সী (৫৮) এবং তাঁর দুই ছেলে মো. আল আমিন (২৭) ও আরমিনের (২৪) সঙ্গে আগে বিরোধ হয়। এই বিরোধের জের ধরে খুনের ঘটনা ঘটে। নজরুল ইসলাম বলেন,
২০১৫ সালের অক্টোবরে তাঁর মালিকানাধীন ওই জায়গায় বহুতল ভবন নির্মাণে বাধা দেন আসামিরা। তখন তাঁদের কথামতো প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দেন তিনি। কিন্তু আল আমিন ওই টাকার ভাগ কম পেয়েছেন বলে দাবি করে আরও চাঁদা চান৷ তা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তার পরিবারের সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি হয়। পরে আবদুল মান্নান মুন্সী ও আরমিনের ইন্ধনে তাঁর ছেলেকে হত্যা করেন আল আমিন। হৃদওয়ানের মা রিনা ইসলাম বলেন, তিন ভাইবোনের মধ্যে হৃদওয়ান সবার ছোট ছিল। পরিবারে একমাত্র ছেলে। বন্ধুদের সঙ্গে খেলতে গিয়ে আর ঘরে ফেরেনি তাঁর সন্তান। মানববন্ধনে হৃদওয়ান হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দেয় তার বন্ধু ও সিটি করপোরেশন আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র মো. আবদুল্লাহ এবং রোজ গার্ডেন উচ্চবিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র শাহরিয়ার হোসেন। তারা বলে, ওই দিন বিকেলে হৃদওয়ানের সঙ্গে তারা খেলাধুলা করছিল। এ সময় তার পেছন দিক থেকে এসে ছুরি দিয়ে আঘাত করা হয়। মানববন্ধনে রোজ গার্ডেন উচ্চবিদ্যালয় ও সিটি করপোরেশন আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়।

হঠাৎ ধর্মঘটে ‘অবরুদ্ধ’ মানুষ

পরিবহনশ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষের জের ধরে সিলেটে গতকাল শনিবার সকাল ছয়টা থেকে আচমকা পরিবহন ধর্মঘট ডাকা হয়। টানা আট ঘণ্টার ধর্মঘটে দুর্ভোগে পড়ে সাধারণ মানুষ। গত শুক্রবার রাতে মাইক্রোবাসচালকদের সংগঠন শুরুতে ধর্মঘট আহ্বান করে। পরে সব পরিবহন সংগঠন তাতে একাত্মতা প্রকাশ করে। ভোর থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত দূরপাল্লার বাসসহ সব ধরনের যানবাহন,
এমনকি নগরে রিকশাও চলাচল করতে পারেনি। পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের সঙ্গে পরিবহনশ্রমিক সংগঠনের নেতাদের বৈঠকের পর বেলা দুইটা থেকে ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়। এরপর থেকে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হলেও প্রায় অর্ধেকটা দিন সিলেট নগর অনেকটা অবরুদ্ধ অবস্থায় ছিল। নগরের মহাজনপট্টি এলাকায় দুই পরিবহনশ্রমিককে আটক করাকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এর জের ধরে শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ধর্মঘটের ডাক দেয় জেলা মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়ন। আকষ্মিকভাবে ডাকা এই ধর্মঘটে দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা। ভোরে অনেককে বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে গাড়ি না পেয়ে ফিরে যেতে দেখা যায়। আবার অনেকে হেঁটেই গন্তব্যে রওনা দেন। সকাল থেকে নগরের বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে পিকেটিং করতে দেখা যায় পরিবহনশ্রমিকদের। দক্ষিণ সুরমার চণ্ডীপুল, হুমায়ুন রশীদ চত্বর, কদমতলী, সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের কুমারগাঁও বাসস্টেশনসহ বিভিন্ন সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন শ্রমিকেরা। গাড়ি চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির পাশাপাশি সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন তাঁরা। পুলিশ ও পরিবহনশ্রমিক সংগঠন সূত্র জানায়, নগরের সোবহানীঘাট এলাকায় একটি পিকআপ ভ্যানে তল্লাশি চালিয়ে তুরণ মিয়া ও লিটন আহমদ নামের দুই পরিবহনশ্রমিককে মাদকসহ আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ। এ সময় ওই দুজনকে ছাড়িয়ে নিতে সোবহানীঘাট পুলিশ ফাঁড়িতে যান কয়েকজন শ্রমিকনেতা। পুলিশের সঙ্গে তর্কাতর্কির একপর্যায়ে সেখানে ধস্তাধস্তির পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে শাহজালাল সেতু এলাকায় মাইক্রোবাসচালক সংগঠনের উপকমিটির কার্যালয়ে পরিবহনশ্রমিকেরা জড়ো হন।
রাত সাড়ে আটটা থেকে সেখানে পুলিশের সঙ্গে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া শুরু হয়। একসময় পুলিশ-পরিবহনশ্রমিক সংঘর্ষ সোবহানীঘাট, শাহজালাল উপশহর ও মহাজনপট্টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। শেষে পুলিশ ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে পরিবহনশ্রমিকদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, দুই শ্রমিককে আটক করে পুলিশ ঘুষ দাবি করায় সাধারণ শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ধর্মঘট আহ্বান করা হয়। রাত সাড়ে ১১টার দিকে মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়ন ধর্মঘটের ডাক দিলে মধ্যরাতে এই কর্মসূচির প্রতি একাত্ম হয় ট্রাক, অটোরিকশাসহ পরিবহনশ্রমিকদের বিভিন্ন সংগঠন। গতকাল শনিবার সকালে ও দুপুরে দুই দফায় সিলেটের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকা—দক্ষিণ সুরমার কদমতলী ও সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের কুমারগাঁও বাসস্টেশন এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, কোনো ধরনের যানবাহন চলাচল করছে না। টিকিট কাউন্টারগুলোতে যোগাযোগ করে জানা যায়, ভোরে পরিবহন সংগঠনগুলো ধর্মঘট পালনের বিষয়টি জানায়। ওই সময় থেকে ঢাকাগামীসহ দূরপাল্লার বাসগুলোর বিক্রি হওয়া টিকিট যাত্রীদের কাছ থেকে ফেরত নেওয়া হয়। নগরের বাইরে এ অবস্থা থাকায় সিলেট নগর অনেকটা অবরুদ্ধ অবস্থায় ছিল। সিলেট জেলা মাইক্রোবাস সমিতির সভাপতি শাহ রিপন আহমদ বলেন, আটক দুই শ্রমিকের মুক্তির দাবিতে ধর্মঘট ডাকা হয়। এতে সব সংগঠন একাত্ম হওয়ায় সর্বাত্মকভাবে ধর্মঘট পালিত হয়েছে। তাঁদের মুক্তির আশ্বাস পাওয়ায় ধর্মঘট স্থগিত করা হয়েছে। এ ব্যাপারে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার রোকন উদ্দিন বলেন, পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে যেটুকু জানা গেছে, মাদকসহ শ্রমিক আটকের পর পুলিশ আক্রান্ত হয়েছিল।

মনিপুর স্কুলে জমাটি আয়োজন

মিলনায়তনের দুই তলা কানায় কানায় ভরা। বিতার্কিকেরা অপেক্ষায় আছে চূড়ান্ত ফল জানতে। মঞ্চ থেকে ঘোষণা আসতেই মধ্যম সারিতে বসা একদল শিক্ষার্থী আনন্দে চিৎকার করে উঠে দাঁড়াল। ছুট লাগাল মঞ্চের দিকে। জিরাবো ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজের এই চারজনের দলটিই চ্যাম্পিয়ন। ‘যুক্তিতে মুক্তি’ স্লোগানে গতকাল শনিবার প্রথম আলো স্কুল বিতর্ক উৎসব-২০১৭-এর দ্বিতীয় আয়োজন ছিল মিরপুরের রূপনগরে মনিপুর উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজ প্রাঙ্গণে। ১৬টি স্কুলের ১৬ দলের অংশগ্রহণে দিনভর চলে পাল্টাপাল্টি যুক্তির খেলা। সকালে বেলুন উড়িয়ে উৎসবের উদ্বোধন করেন ভাষাসৈনিক আহমদ রফিক।
সঙ্গে ছিলেন মনিপুর উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ ফরহাদ হোসেন, প্রথম আলো বন্ধুসভার সভাপতি সাইদুজ্জামান রওশন ও জাতীয় কমিটির সহসভাপতি জান্নাতুল বাকের। আহমদ রফিক বলেন, ‘ভাষা আন্দোলন আমাদের মুক্তির স্লোগান। জাতীয়তাবোধের মূলনীতিকে জীবনের সব ক্ষেত্রে যুক্ত করতে হবে। যুক্তি ও বিচার-বুদ্ধির মাধ্যমে দেশের জন্য অবদান রাখতে হবে।’ মনিপুর স্কুলের অধ্যক্ষ ফরহাদ হোসেন বলেন, বিতর্ক প্রতিযোগিতা শিক্ষার্থীদের সত্যসন্ধানী করে তোলে। তাদের নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্যতা বাড়ায়। উৎসবে চারটি পর্বে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। সকাল থেকেই এক একটি শ্রেণিকক্ষে বিতর্কের আসর বসে। প্রথম পর্বে ১৬টি দল অংশ নেয়। প্রতি পর্বে নকআউটের মাধ্যমে দুটি দল চূড়ান্ত পর্বে পৌঁছায়। দুপুরে খাবারের বিরতি দিয়ে বিকেল পর্যন্ত প্রতিযোগিতা চলে। চূড়ান্ত পর্বের বিতর্কের বিষয় ছিল ‘সারা বছরজুড়ে বইমেলা হওয়া উচিত’। কলেজ ভবনের মিলনায়তনে চূড়ান্ত পর্বের বিতর্ক উপভোগ করেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী-অভিভাবক-অতিথিরা। বিষয়ের পক্ষে ছিল মিরপুর গার্লস আইডিয়াল ল্যাবরেটরি ইনস্টিটিউটের মেয়েরা।
তাদের হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় বিষয়ের বিপক্ষ দল জিরাবো ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ। বিকেলে পুরস্কার বিতরণী পর্বে অতিথি ছিলেন গবেষক-প্রাবন্ধিক সৈয়দ আবুল মকসুদ। খুদে বিতার্কিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘এই জীবনে যুক্তিশীলতা ছাড়া প্রতিষ্ঠিত হওয়া যায় না।’ তিনি বলেন, যেকোনো প্রতিযোগিতার উপযোগিতা আছে। বিতর্কের উপযোগিতা হলো, এখানে যারা অংশগ্রহণ করে তারা নিজেদের যোগ্যতা বিচার করতে পারে। পুরস্কার বিতরণী পর্বে বারোয়ারি বিতর্কের তিন সেরা বক্তাকে পদক এবং বিজয়ী ও রানারআপ দলকে স্মারক ও পদক তুলে দেন অতিথিরা। উৎসবের আয়োজক প্রথম আলো বন্ধুসভা জাতীয় কমিটি। সমাপনী পর্বে আয়োজকদের পক্ষ থেকে সাইদুজ্জামান রওশন সবাইকে ধন্যবাদ জানান। এ বছর ঢাকা মহানগরকে পাঁচটি অঞ্চলে ভাগ করে স্কুল বিতর্ক উৎসব হচ্ছে। গত সপ্তাহে উৎসব শুরু হয় ধানমন্ডি অঞ্চলের লালমাটিয়া বালিকা উচ্চবিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে। এরপর রামপুরা, উত্তরা ও পুরান ঢাকায় এ বিতর্ক উৎসব চলবে।

সিদ্ধিরগঞ্জে এক অপহরণ চক্রের ভয়ংকর আস্তানা

টিনের ছাউনির একতলা বাড়ি। পেছনের অংশে ডোবা। সামনে খোলা মাঠ। এমনই এক নির্জন বাসায় দুই শিশুসহ চারজনকে খুন করেছে একটি অপহরণকারী চক্র। বাড়িটি নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের নিমাইকাসারী এলাকায় অবস্থিত। র‍্যাব-পুলিশের কাছে শিশু অপহরণকারী চক্রের সদস্য আর স্থানীয়ভাবে মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত জাকির হোসেন ও তাঁর স্ত্রী মর্জিনা বেগম ওরফে বানেছার বাড়ি এটি।
এই বাসায় চারজনকে খুন করা হয়েছে বলে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন এক আসামি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে, বাড়িটি একটি সুসংগঠিত অপহরণ চক্রের আস্তানা হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। গত ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে খুন হওয়া ওই চারজন হলো নাজমুল (৮), আকাশ (১৬), জাহিদ (১৮) ও জুয়েল (১৯)। নাজমুল ও আকাশ নামের দুই শিশুকে অপহরণের পর এখানে খুন করা হয়। আর অপহরণকারী চক্রের সদস্য জাহিদ ও জুয়েলকে এই বাসায় ডেকে এনে খুন করা হয় বলে অভিযোগ আছে। সম্প্রতি জাকির ও বানেছাকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব। র‍্যাব-১১-এর জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. আলেপ উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, সিদ্ধিরগঞ্জের জাকির হোসেন ও বানেছা শিশু অপহরণকারী চক্রের প্রধান হোতা। তাঁদের বাসাতেই ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে একে একে চারজনকে খুন করা হয়। খুন করার পর শিশু দুটির লাশ কাঁচপুর ব্রিজের নিচে ফেলে দেন অপহরণকারীরা। বাকি দুজনের লাশ ফেলা হয় ডেমরা এলাকায়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পরিদর্শক (অপারেশন) নাসির উদ্দিন সরকার প্রথম আলোকে বলেন, জাকির হোসেনের সিদ্ধিরগঞ্জের বাসায় খুন করার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন আসামি টিটু। গত বৃহস্পতিবার নারায়ণগঞ্জের মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে তিনি এই জবানবন্দি দেন। নাসির উদ্দিন বলেন, দুই বছর আগে জাকির-বানেছা দম্পতি শিশু অপহরণ চক্র গড়ে তোলেন। এই চক্রের সদস্যরা শিশুদের অপহরণ করে এনে প্রথমে জাকিরের বাসায় রাখতেন। পরে এই বাসা থেকে দালালেরা শিশুদের কিনে নিয়ে যেতেন। বাসায় ফেলেই খুন করা হয়েছে বলে চক্রের সদস্য টিটু জানিয়েছেন।
খুনের প্রধান পরিকল্পনাকারী জাকির ও বানেছা। সরেজমিনে দেখা যায়, জাকির-বানেছার টিনশেডের একতলা বাড়িটি পাঁচিল দিয়ে ঘেরা। বাসায় ঢোকার প্রধান গেট বন্ধ। সামনের দেয়ালে জমির মালিকানা-সংক্রান্ত সাইনবোর্ড। তাতে লেখা, জামির মালিক বানেছা। স্বামীর নাম জাকির হোসেন। স্থানীয় ব্যক্তিরা জানালেন, জাকির-বানেছা দম্পতি প্রায় ১২ বছর ধরে এই বাসায় ভাড়া ছিলেন। সাত মাস আগে ইউনুছ নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে ৪০ লাখ টাকা দিয়ে বাড়িটি কিনেছেন। তা ছাড়া সম্প্রতি কাঁচপুরে ১০ কাঠা জমিও কিনেছেন এই দম্পতি। বাসাটির সামনে বাগমারা রোডের মজিবুর রহমান নামের এক চায়ের দোকানদার বললেন, বাসায় ঢোকার প্রধান গেট অধিকাংশ সময় বন্ধ থাকে। জাকির-বানেছা এলাকায় বাবা (ইয়াবা) ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত। বানেছা প্রকাশ্যে ইয়াবা বিক্রি করতেন। মাদক ব্যবসার কারণে বাইরের লোকজন ওই বাসায় যেত না। শিশুদের অপহরণ করে বাসায় এনে খুন করা হয়েছে কি না, তা তিনি জানেন না। স্থানীয় আরেক দোকানদার আবদুল খালেক বলেন, এলাকার সবাই এই দুজনকে মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে চেনে। ওই বাসায় কী হতো, এলাকার সাধারণ মানুষ কেউ জানে না। তবে স্থানীয়ভাবে পরিচিত অনেক মাদক বিক্রেতার এখানে নিয়মিত যাতায়াত ছিল।
জাকির-বানেছার বাসায় যেভাবে চার খুন
আদালত-পুলিশ সূত্র নিশ্চিত করেছে, জাকির-বানেছার নিমাইকাসারীর বাসায় চারজন খুনের কথা আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে স্বীকার করেছেন চক্রের সদস্য টিটু। জবানবন্দিতে টিটু বলেছেন, জাকির হোসেনের সিদ্ধিরগঞ্জের বাড়িতে খুন করা হয়েছে। ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে এই খুন করা হয়। র‍্যাবের এএসপি আলেপ বলেন, চক্রের সদস্য টিটু স্বীকার করেছেন, তিনি নিজে চার খুনেই জড়িত ছিলেন। অপহরণ করে দুই শিশুকে জাকির হোসেনের বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। এরপর শিশু দুটিকে খুন করে লাশ কাঁচপুর ব্রিজ থেকে ফেলে দেন টিটু, দেলু ও জাকির। নাজমুল নামের শিশুটিকে রূপগঞ্জের ভুলতা থেকে মাইক্রোবাসে করে অপহরণ করে নিয়ে আসা হয়। আর আকাশকে সিদ্ধিরগঞ্জের বাগমারা থেকে আনা হয়। জানুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময়ে একই দিন এ দুই শিশুকে খুন করে অপহরণকারী চক্র। খুনের পর সেদিন রাত ১১টার দিকে সিদ্ধিরগঞ্জের জাকিরের বাসা থেকে অ্যাম্বুলেন্সে তোলা হয় দুজনের লাশ। গাড়ি চালিয়েছিলেন দেলু। গাড়িতে জাকিরও ছিলেন। ওই র‍্যাব কর্মকর্তা বলেন, খুন হওয়া এ দুই শিশুর পুরো ঠিকানা এখনো জানা সম্ভব হয়নি। তাদের লাশও পাওয়া যায়নি। পুরো ঠিকানা বের করার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। জাহিদ ও জুয়েলের খুনের ব্যাপারে র‍্যাব কর্মকর্তা আলেপ বলেন, খুন হওয়া এই দুজনই জাকির হোসেনের দলের লোক ছিলেন।
গ্রেপ্তার টিটু বলেছেন, টাকাপয়সার ভাগাভাগি নিয়ে দ্বন্দ্বে জেরে জাহিদকে বাসায় ডেকে এনে খুন করা হয়। পরে তাঁর লাশ ফেলে দেওয়া হয় ডেমরার রাজধানী ফিলিং স্টেশনের পেছনে। ২ জানুয়ারি তাঁর লাশ উদ্ধার করে ডেমরা থানার পুলিশ। পুলিশ কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন বলেন, জাহিদের বাড়ি বরিশালে। তিনি জাকির হোসেনের হয়ে মাদক বিক্রি করতেন। মাদকের টাকা নিয়ে দ্বন্দ্বের জের ধরে তাঁকে খুন করেছেন টিটু, জাকিরসহ অন্যরা। র‍্যাব কর্মকর্তা আলেপ বলেন, একটি মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে দেলু ও জুয়েলের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছিল। গত ডিসেম্বরে জাকিরের বাসায় ডেকে এনে জুয়েলকে হত্যা করেন টিটু, দেলুসহ অন্যরা। জাকিরের বাসায় খুন করার পর লাশ ডেমরা এলাকায় পুঁতে রাখা হয়। গত ১০ ফেব্রুয়ারি জাহিদ খুনের অভিযোগে ডেমরা থানার মামলায় জাকিরসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে ডেমরা থানার পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডেমরা থানার এসআই তহিদুল ইসলাম গতকাল শনিবার প্রথম আলোকে বলেন, জাহিদ খুনের মামলায় শিগগিরই জাকিরসহ ছয়জনকে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে (সিএমএম) হাজির করে রিমান্ড চাওয়া হবে।
শিশু বায়েজিদকে খুঁজতে গিয়েই সিদ্ধিরগঞ্জের আস্তানার সন্ধান
গত বছরের ডিসেম্বরে নারায়ণগঞ্জ বন্দর এলাকা থেকে ৮ বছর বয়সী বায়েজিদ নামের এক শিশুকে অপহরণ করে জাকির চক্র। পরে বায়েজিদকে খুঁজতে গিয়েই সিদ্ধিরগঞ্জের এই আস্তানার সন্ধান পায় র‍্যাব। র‍্যাব কর্মকর্তা আলেপ বলেন, বায়েজিদকে অপহরণ করার পর তার মা একদিন তাঁর কাছে আসেন। তিনি জানান, অপহরণকারীরা তাঁর মুঠোফোনে মুক্তিপণ চেয়েছেন। যে নম্বর থেকে মুক্তিপণ চাওয়া হয়েছিল, সেই নম্বরে তিনি নিজে ১ হাজার ৫০০ টাকা পাঠান। পরে সিদ্ধিরগঞ্জের নিমাইকাসারী এলাকা থেকে ওই টাকা তোলেন টিটু নামের এক অপহরণকারী। পরে টিটুকে কমলাপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। টিটুই সিদ্ধিরগঞ্জের এই আস্তানার সন্ধান দেন।
ফোন করে পরিবারগুলোর কাছে টাকা চান টিটু
ইমন শিকদার (১৩)। তার বাবার নাম বাবুল শিকদার। বাড়ি বরিশাল। সে বরিশালের বিমানবন্দর এলাকার একটি মাদ্রাসায় ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ত। গত ২০ নভেম্বর বরিশাল থেকে ঢাকায় আসার জন্য লঞ্চে ওঠে। এরপর থেকে আর কোনো খোঁজ মেলেনি। শিশু ইমনের নানা আবদুল মান্নান খান প্রথম আলোকে বলেন, টিটু নামের একজন ১ লাখ টাকা মুক্তিপণ চেয়েছেন, কিন্তু টাকা দিতে পারেননি। একই কথা জানালেন রাজধানীর মানিকনগরের বাসিন্দা সানির বাবা সাইদুল। ২২ ডিসেম্বর তাঁর ছয় বছরের ছেলে সানি অপহৃত হয়। অপহরণকারীরা মুক্তিপণ চেয়েছেন। এ দুটি শিশুর মতো আরও কয়েকটি শিশুকে অপহরণ করে বিদেশে পাচার করার কথা স্বীকার করেছেন টিটু ও অন্যরা। গ্রেপ্তার হওয়া জেসমিন ৭০-৮০ হাজার টাকার বিনিময়ে চক্রের সদস্য শাহাবুদ্দিন ও মনিরের কাছে সাতটি শিশু বিক্রির কথা স্বীকার করেছেন। শাহাবুদ্দিনকে গ্রেপ্তার করলে অনেক শিশুর সন্ধান মিলবে।
অপহরণের পর মুক্তিপণ
রাজধানীর মধ্য বাড্ডা থেকে রাকিব হোসেন ইমরানকে (৮) অপহরণ করা হয়। তার বাবা আবদুল জলিল হাওলাদার প্রথম আলোকে বলেন, অপহরণকারীরা মুক্তিপণ নিয়ে তাঁর ছেলেকে ৪ জানুয়ারি ছেড়ে দেয়। জুবায়ের ইসলাম (১৪) নামের এক কিশোরকে কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে অপহরণ করা হয়। পরে মুক্তিপণ নিয়ে তাকে ছেড়ে দেয় বলে জানান তার বাবা রকিবুল ইসলাম। নাজমুল (১০) নামের শিশুটিকে সাভার থেকে অপহরণ করার পর মুক্তিপণ নিয়ে ছেড়ে দেয় এই অপহরণকারী চক্র। মুক্তিপণ দিয়ে আরও সাতটি শিশু মুক্তি পেয়েছে বলে অভিভাবকেরা র্যা বকে জানিয়েছেন। অপহরণ ও খুনের ব্যাপারে জানতে চাইলে র‍্যাব-১১-এর সিইও লে. কর্নেল কামরুল হাসান বলেন, এই চক্র ভয়ংকর। এরা শিশুদের খুন করছে, বিদেশে পাচার করছে।

ঠেঙ্গারচর বাসযোগ্য নয়?

রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনের জন্য নির্ধারিত ঠেঙ্গারচরের মাটি ও পরিবেশ এখনো মানুষের বসবাসের উপযোগী হয়নি। বর্ষার পুরো সময়জুড়ে চরটি পানিতে ডুবে থাকে। শুষ্ক মৌসুমে তা জেগে উঠলেও জোয়ারের সময় এর বড় অংশ পানিতে তলিয়ে যায়। নরম মাটি ও কাদায় পূর্ণ ওই চরটিকে স্থায়ী করতে আট বছর ধরে বন বিভাগ সেখানে ম্যানগ্রোভ বা শ্বাসমূলীয় প্রজাতির গাছ লাগাচ্ছে। পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় ২০১৩ সালে চরটিকে সংরক্ষিত বন ঘোষণা করেছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ বার্ড ক্লাব ও পাখিবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা স্পুন বিলড সেন্ড পাইপার টাস্কফোর্সের জরিপে দেখা গেছে, ওই চর-সংলগ্ন এলাকায় ৫৫ হাজার প্রজাতির পাখি বসবাস করে।
দেশের উপকূলের মধ্যে হাতিয়ার পাশে ঠেঙ্গারচরসহ পার্শ্ববর্তী এলাকায় শীতকালে ৫৫ প্রজাতির প্রায় ৫০ হাজার পাখি এসে বসত গড়ে। সেখানে সাত প্রজাতির প্রায় বিপন্ন, এক প্রজাতির বিপদাপন্ন এবং এক প্রজাতির পাখি রয়েছে, যা পৃথিবীজুড়েই মহা বিপদাপন্ন। সংস্থা দুটির গবেষণায় দেখা গেছে, ওই চর এখনো মানুষের বসবাসের উপযোগী হয়ে ওঠেনি। নরম মাটি ও জোয়ারের পানিতে বেশির ভাগ সময় ডুবে থাকে বলেই সেখানে এত পাখি আসে। মৎস্য অধিদপ্তর ওই এলাকাসহ ভোলা থেকে নোয়াখালী পর্যন্ত মেঘনার অববাহিকাকে ইলিশের অভয়াশ্রম হিসেবে ঘোষণা করেছে। সেখানে নিয়মিত ডলফিন বিচরণ করে। ৫ ফেব্রুয়ারি বন বিভাগের পক্ষ থেকে ঠেঙ্গারচর নিয়ে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের কাছে একটি চিঠি দেওয়া হয়। তাতে বলা হয়, নোয়াখালীর ঠেঙ্গারচর নামে যে এলাকায় রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, সেটি জোয়ারের সময় পানিতে ডুবে থাকে। শুষ্ক মৌসুমে এ চরের কিছু অংশ দৃশ্যমান হলেও অতি জোয়ারের সময় ও বর্ষা মৌসুমে প্লাবিত হয়। ঠেঙ্গারচরে অপেক্ষাকৃত উঁচু স্থানের ভূমি এখনো স্থায়িত্ব লাভ করেনি। জলযান থেকে নেমে হাঁটু পরিমাণ কাদা ডিঙিয়ে চরের অপেক্ষাকৃত উঁচু স্থানে পৌঁছাতে হয়। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক বদরে মুনির ফেরদৌস প্রথম আলোকে বলেন, ওই চরে কোনো বন্য প্রাণী নেই। কিছু বক ছাড়া সেখানে কোনো প্রাণী দেখা যায় না। আর সংরক্ষিত হিসেবে ঘোষিত বন বাতিল করার সুযোগ আছে। সরকার সেখানে বেড়িবাঁধসহ অন্যান্য স্থাপনা করে রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসন করতে পারে। কীভাবে সেখানে বসতি করা যায়, সে ব্যাপারে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য বন বিভাগের সঙ্গে জেলা প্রশাসন কাজ করছে বলেও জানান তিনি। বাংলাদেশ বার্ড ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা প্রখ্যাত পাখি বিশেষজ্ঞ ইনাম আল হক এ ব্যাপারে প্রথম আলোকে বলেন, ‘১০ বছর ধরে আমরা দেশের উপকূলীয় এলাকার পাখি ও বন্য প্রাণী পর্যবেক্ষণ করতে গিয়ে দেখতে পেয়েছি, এলাকাটি দেশের বিপন্নপ্রায় নানা পাখির শেষ আশ্রয়স্থল। সেখানে জোয়ারের পানির উচ্চতা ও কাদার পরিমাণ এতই বেশি যে কোনো মানুষের পক্ষে সেখানে বাস করা সম্ভব না। সরকার যদি সেখানে জোর করে রোহিঙ্গাদের বসতি করতে চায়, তাহলে তা হবে আত্মঘাতী। শেষ পর্যন্ত মানুষও সেখানে বসবাস করতে পারবে না। আর বন্য প্রাণী তার আশ্রয় হারাবে।’ বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছিল বন বিভাগ ৫ ফেব্রুয়ারি বন বিভাগ থেকে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়কে দেওয়া এক চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, সামুদ্রিক ঢেউ,
জলোচ্ছ্বাস ও অন্যান্য প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে চরটি প্রায়ই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ কারণে আজ পর্যন্ত সেখানে কোনো বসতি গড়ে ওঠেনি। কক্সবাজারে বসবাসরত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ঠেঙ্গারচরে পুনর্বাসন না করে স্থায়িত্ব লাভসহ চাষাবাদ উপযোগী একটি চরে পুনর্বাসনের প্রস্তাব দিয়েছিল বন বিভাগ। বন বিভাগ একই উপজেলার মূল ভূখণ্ড থেকে দু-তিন কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত ঘাসিয়ার চরের ৫০০ একর সংরক্ষিত বনের পতিত এলাকায় রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনের জন্য প্রস্তাব দিয়েছিল। বন বিভাগ থেকে বলা হয়েছে, ঘাসিয়ার চরে ম্যানগ্রোভ বন সৃজন করা হয়েছে এবং সেখানে সাম্প্রতিক সময়ে কিছু জনবসতি স্থাপন করতে দেখা গেছে। বন বিভাগ থেকে সরেজমিন পরিদর্শন শেষে ওই চরটিকে রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনের অনুপযোগী হিসেবে তুলে ধরেছে। পাশাপাশি বন বিভাগ সেখানে সরকার যদি রোহিঙ্গা পুনর্বাসন করতে চায়, তাহলে মোট ছয়টি পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। এসব পরামর্শ মেনে সরকার সেখানে রোহিঙ্গা পুনর্বাসন করলে প্রথমেই সংরক্ষিত বনের মর্যাদা বাতিল করতে হবে। ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর সরকার এর জীববৈচিত্র্যের কথা চিন্তা করে সংরক্ষিত বন ঘোষণা করে। অন্যদিকে বন বিভাগ থেকে বলা হয়েছে, যদি ঠেঙ্গারচরে মানব বসতি করতে হয়, তাহলে এর চারদিকে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করতে হবে। চরটি স্থায়ী হয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করতে হবে। পানীয় জলের ব্যবস্থা ও ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করতে হবে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে প্রধান বন সংরক্ষক মোহাম্মদ সফিউল আলম চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, বন বিভাগ সরকারের পক্ষে বনভূমি রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করে থাকে। সরকার যদি ঠেঙ্গারচরে রোহিঙ্গাদের বসতি গড়ে তোলার পরিকল্পনা করে, তাহলে বন বিভাগ থেকে এ ব্যাপারে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। বিপন্ন চামচ-ঠুঁটো বাটান পাখির আশ্রয়স্থল ঠেঙ্গারচরের মাটি কাদা ও বালুর বিশেষ ধরনের মিশ্রণে গড়ে উঠেছে। সেখানে একধরনের পোকা হয়, যা খাওয়ার লোভে ওই চরে চামচ-ঠুঁটো বাটান নামে পৃথিবী থেকে প্রায় বিলুপ্ত হতে যাওয়া এক জাতের পাখি শীতকালে বসত গড়ে। সারা পৃথিবীতে ওই পাখি আছেই মাত্র ২০০ জোড়া, যার ৬০ জোড়া আছে ওই চর ও পার্শ্ববর্তী এলাকায়। এদের বিলুপ্তি থেকে বাঁচাতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বন্য প্রাণীপ্রেমী ও গবেষকেরা মিলে চামচ-ঠুঁটো বাটান টাস্কফোর্স নামে একটি সংগঠনও গড়ে তুলেছেন। স্পুন বিলড সেন্ড পাইপার টাস্কফোর্সের সমন্বয়কারী ক্রিস্টফ জক্লার এ ব্যাপারে প্রথম আলোকে বলেন, ‘এই এলাকা শুধু বাংলাদেশের না, সারা বিশ্বের পাখির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
এ ছাড়া ওই এলাকাটি বিশ্বব্যাপী বিপন্ন নরমানের সবুজ পা এবং বড় নট, সংকটাপন্ন দেশি গাংচশা এবং আরও অনেক পাখির জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ। ফলে ওই পাখিগুলো রক্ষা করতে এদের আবাসস্থল ওই চরগুলোকে রক্ষা করতে হবে।’ ২০১১ সালে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে জীববৈচিত্র্যের অধিকারকে যুক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া ২০১০ সালের পরিবেশ সংরক্ষণ আইনে জলাভূমি ভরাট করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আর ২০১২ সালে সংসদে অনুমোদন হওয়া জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী বিজ্ঞানীদের বসতি এলাকা ধ্বংস করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ ব্যাপারে ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচার (আইইউসিএন), বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ইশতিয়াক উদ্দিন আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, ওই চরটি উপকূলীয় জীববৈচিত্র্য ও মহা বিপদাপন্ন পাখি চামচ-ঠুঁনো বাটানদের বসতি এলাকা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনের আগে সেখানকার প্রতিবেশব্যবস্থা ও জীববৈচিত্র্যের একটি মূল্যায়ন হওয়া প্রয়োজন। পরিবেশগত প্রভাব সমীক্ষা করে তারপর সেখানে পুনর্বাসন বা কোনো অবকাঠামো নির্মাণ করা যাবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। এদিকে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর থেকেও রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ঠেঙ্গারচরে পুনর্বাসনের ব্যাপারে আপত্তি তোলা হয়েছে।

অ্যান্টিবায়োটিকের অকার্যকারিতায় জনস্বাস্থ্য সমস্যা

বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, দেশে অ্যান্টিবায়োটিকের বাজার প্রায় তিন হাজার কোটি টাকার। এটি ওষুধের বাজারের প্রায় ১৬ শতাংশ। অ্যান্টিবায়োটিকের অযৌক্তিক ব্যবহারে বাজার বড় হচ্ছে। তবে রোগ নিরাময়ে এর অকার্যকারিতা জনস্বাস্থ্য সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে। এ ব্যাপারে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা জরুরি হয়ে পড়েছে।
গতকাল শনিবার ‘স্যামসন এইচ চৌধুরী স্মৃতি সম্মেলন ২০১৭’-এর দ্বিতীয় অধিবেশনে বিশেষজ্ঞরা এ কথা বলেন। স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস ঢাকা ক্লাবে এই সম্মেলনের আয়োজন করে। ওষুধশিল্প মালিক, কর্মকর্তা, ওষুধ বিশেষজ্ঞ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক এতে অংশ নেন। সকালের প্রথম অধিবেশনে ‘কমন টেকনিক্যাল ডকুমেন্ট’-এর ওপর বক্তব্য দেন অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী ফ্রিল্যান্স পরামর্শক মো. জহিরুল ইসলাম খান। স্কয়ার গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত স্যামসন এইচ চৌধুরীর সম্মানে প্রতি দুই বছর পর এই সম্মেলন আয়োজন করা হয়। সম্মেলনের চতুর্থ ও শেষ অধিবেশনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, বাংলাদেশ যখন কোনো সাফল্য অর্জন করে, তখন এর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হয়। ওষুধ কোম্পানিগুলো প্রয়োজনের ৯৮ শতাংশ ওষুধ তৈরি করছে। ওষুধ রপ্তানিও হচ্ছে। এটা বড় সাফল্য। এখন কিছু চেনামুখ ওষুধশিল্পের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে। সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে বাংলাদেশে অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার বৃদ্ধি ও রোগ নিরাময়ে অকার্যকর হওয়ার প্রবণতা নিয়ে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (রোগনিয়ন্ত্রণ) অধ্যাপিকা সানিয়া তাহমিনা। তিনি বলেন, অ্যান্টিবায়োটিকের আবিষ্কার রোগ নিরাময়ে বিস্ময়কর অবদান রেখেছিল। উন্নত বিশ্ব ও বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশ অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেয়নি। বৈশ্বিক হিসাব উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে ২০৫০ সালে সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা যাবে মূলত অ্যান্টিবায়োটিক অকার্যকর হওয়ার কারণে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ইসমাইল খান বলেন, অ্যান্টিবায়োটিক অকার্যকর হওয়া এখন বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য সমস্যা। শুধু মেধা দিয়ে এই সমস্যার সমাধান হবে না, সমাধানে আন্তরিক উদ্যোগ নিতে হবে। আইসিডিডিআরবির বিজ্ঞানী ওয়াসিফ আলী খান বলেন, গণমাধ্যম সচেতনতা বৃদ্ধি করে এই সমস্যা সমাধানে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। তৃতীয় অধিবেশনে় ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল মোক্তাদির, বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমান প্রমুখ বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে দুজন নবীন বিজ্ঞানীকে পুরস্কার দেওয়া হয়। তাঁরা হলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মনোয়ারা সুলতানা এবং জিন প্রকৌশল ও জীবপ্রযুক্তি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আবুল বাসার মীর মো. খাদেমুল ইসলাম। দিনব্যাপী এই সম্মেলনের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তপন চৌধুরী। শেষ অধিবেশনে তিনি বলেন, ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণে ভালো ভূমিকা রাখছে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর। তবে কিছু বিষয়ে সরকার অনেক বেশি কর ধার্য করে, যা শিল্প সহায়ক নয়।

ঠেঙ্গারচর থেকে জালিয়ারচর

হাতিয়ার মূল ভূখণ্ড থেকে ঠেঙ্গারচরের দূরত্ব নদীপথে প্রায় ১৫ কিলোমিটার। ট্রলারে যেতে সময় লাগে দুই ঘণ্টা। জোয়ার এলে ডুবে যায় চরের বেশির ভাগ এলাকা। চরে দস্যুদের আনাগোনা থাকতে পারে। জেলেদের কাছে এই চর গাঙ্গুরিয়ারচর নামেও পরিচিত। হাতিয়া পৌরসভার কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে ঠেঙ্গারচর সম্পর্কে এতটুকুই জানা গেল।
এই তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটায় হাতিয়ার নলচিরাঘাট থেকে ইঞ্জিনচালিত কাঠের নৌকায় (ট্রলার) করে যাত্রা ঠেঙ্গারচরের উদ্দেশে। চরে দস্যুদের কবলে পড়লে আক্রমণ ঠেকাতে নিরাপত্তার জন্য ঘাট থেকে নৌপুলিশের দুই কনস্টেবল সঙ্গী হলেন। শীতের সকালে জোয়ারের ঢেউয়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ট্রলার ছুটে চলে ঠেঙ্গারচরের উদ্দেশে। ট্রলারে থাকতেই মুঠোফোনে বন বিভাগের এক কর্মকর্তার কাছ থেকে জানা গেল আরও কিছু তথ্য। চরের আয়তন প্রায় ১০ হাজার একর। এ চরে সরকারিভাবে বনায়ন শুরু হয় ২০১০-১১ সালে। ইতিমধ্যে ৪ হাজার ৮০০ একর জমিতে বনায়ন করা হয়েছে। যাত্রার সোয়া দুই ঘণ্টা ট্রলার চলার পর দেখা মিলল সেই কাঙ্ক্ষিত চরের। চরের তীরের অবস্থা দেখে হোঁচট খাওয়ার জোগাড়। বহু কষ্টে কাদা মাড়িয়ে চরের বুকে পা রাখলেও হাঁটা প্রায় অসম্ভব হয়ে ওঠে। সঙ্গে থাকা পুলিশ সদস্য ও ট্রলারের মাঝি চরে হাঁটার কৌশলটা দেখিয়ে দেওয়ায় কিছুটা রক্ষা। প্রায় আধা ঘণ্টা চরের প্রায় এক কিলোমিটার এলাকা ঘুরেও শুকনো মাটি দেখা পাওয়া গেল না। এই চরে রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসন করা হবে—এ নিয়ে ভাবতে ভাবতে ট্রলারে উঠে আবার নদীপথে চরের চারদিক ঘুরে দেখার সিদ্ধান্ত হলো। এ সময় আরেকটি নৌকা দেখা যায়। এ নৌকায় ছিলেন চারজন। তাঁরা কাঁকড়া শিকারি। বাড়ি হাতিয়ার চরকিংয় এলাকায়। তাঁদের একজন পিন্টু চন্দ্র দাসের সঙ্গে আলাপ। আলাপের একপর্যায়ে জানালেন, এই চরে নয়, তাঁরা শুনেছেন মেঘনার জালিয়ারচরে রোহিঙ্গাদের জায়গা দেওয়া হবে। সেখানেই কয়েক দিন আগে সরকারি বড় কর্মকর্তারা ঘুরে গেছেন।
ওই চরটির নামও ঠেঙ্গারচর বলে জানান তিনি। কাঁকড়া শিকারি পিন্টু চন্দ্র দাসের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নতুন গন্তব্যের দিকে আবার যাত্রা শুরু। শুরুতে ট্রলারের সারেং (মাঝি) রাজি হচ্ছিলেন না। শেষ পর্যন্ত অনেক বলে-কয়ে তাঁকে রাজি করানো হলো। ঠেঙ্গারচর থেকে জালিয়ারচরের দূরত্ব হবে ১৪-১৫ কিলোমিটার। প্রায় পৌনে দুই ঘণ্টা ট্রলার চলার পর দেখা মিলল জালিয়ারচরের। দূর থেকে দেখতেই চরটিকে বেশ উঁচু মনে হলো। কাছে যাওয়ার পর আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে চরের ভূখণ্ড উঁচু। চারদিকে ঘন বন। দুপুর ১২টার দিকে চরের মাটিতে পা রাখতেই চারদিকে বনের সবুজ গাছ চোখে পড়ে। চরটি দেখে সহজেই বোঝা যায় এটি অনেক পুরোনো। মাটিও অনেক শক্ত। প্রায় এক ঘণ্টা চরের নানা দিকে ঘুরে দস্যুদের কাটা বেশকিছু গাছের গুঁড়িও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায়। চোখে পড়ে একটি খাল। সেখানে পরিযায়ী পাখিসহ নানা প্রজাতির পাখি রয়েছে। চরের খালে মাছ শিকার করতে আসা হাতিয়ার জাহাজমারা এলাকার জগেশ চন্দ্র দাস, আলাউদ্দিন, আলী আহম্মদসহ ছয়-সাতজন জেলে প্রথম আলোকে বলেন, ২০-২২ বছর আগে এই চরটি জেগে উঠতে দেখেন তাঁরা। এটি শুরুতে উত্তর-দক্ষিণে লম্বালম্বি ছিল। চরটি এরই মধ্যে বসবাসের উপযোগী হয়েছে বলে দাবি করে তাঁরা বলেন, এখানে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য চরের চারপাশে উঁচু বেড়িবাঁধ নির্মাণ করতে হবে। পাশাপাশি স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণ, রাস্তাঘাট তৈরি, শিক্ষা-স্বাস্থ্য ও বিশুদ্ধ খাওয়ার পানির ব্যবস্থা করা ছাড়াও চরটিকে চাষাবাদ উপযোগী করতে হবে। রোহিঙ্গাদের এই চরে স্থানান্তর করার কথা তাঁরা লোকমুখে শুনছেন। বন বিভাগের নথি অনুযায়ী, মেঘনা নদীতে ১৯৯০ সালের দিকে জালিয়ারচর জেগে ওঠে। ১৯৯৮ সাল থেকে সেখানে সরকারিভাবে বনায়নও শুরু হয়। হাতিয়ার মূল ভূখণ্ড থেকে জালিয়ারচরের দূরত্ব প্রায় ২৫ কিলোমিটার। চরের অবস্থান হাতিয়ার উত্তর-পূর্ব দিকে। এই চরে ভূমির পরিমাণ কত, সে-সংক্রান্ত কোনো তথ্য হাতিয়া উপজেলা ভূমি কর্মকর্তার কার্যালয়ে নেই।
বন বিভাগের কর্মকর্তারাও চরের আয়তন সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেননি। অবশ্য চরে বিভিন্ন সময়ে মাছ শিকারে যাওয়া জেলেদের দাবি অনুযায়ী, চরটি দৈর্ঘ্যে প্রায় চার মাইল, প্রস্থে প্রায় আড়াই মাইল। হাতিয়া থেকে বড় ট্রলারে করে চরে পৌঁছাতে প্রায় আড়াই ঘণ্টা লাগে। মাঝারি আকৃতির ট্রলারে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা। শীত মৌসুম ছাড়া বছরের অন্য সময়ে নদীপথে এই চরে যাতায়াত ঝুঁকিপূর্ণ বলে জানান জেলেরা। নোয়াখালীর বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. আমির হোসাইন চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ঠেঙ্গারচর অপেক্ষাকৃত নতুন চর। চরে বনায়ন করা হচ্ছে। ঠেঙ্গারচরের উত্তর-পূর্ব দিকে আরও একটি চর আছে। নাম জালিয়ারচর। এটি অনেক পুরোনো চর। বনায়ন করা হয়েছে প্রায় ১৮ বছর আগে। গাছগুলো অনেক বড় হয়ে গেছে। চরের জমিও কৃষির উপযোগী হয়ে যাওয়ার কথা। চরের নাম নিয়ে জটিলতার বিষয়ে হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মোহাম্মদ রেজাউল করিম প্রথম আলোকে বলেন, হাতিয়ার আশপাশের চরগুলোর প্রতিটিরই একাধিক নাম রয়েছে। ঠেঙ্গারচরেরও একাধিক নাম রয়েছে। কেউ এটাকে বলে ভাসানচর, কেউ বলে জালিয়ারচর। যে নামই হোক, রোহিঙ্গাদের স্থানান্তরের জন্য এই চরটিকে নির্বাচন করা হয়েছে।

জার্মানিসহ বিশ্বসম্প্রদায়ের সহায়তা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশে মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ পরিবেশে অস্থায়ী আবাসন তৈরিতে জার্মানিসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চেয়েছেন। গতকাল শনিবার মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে অংশ নেওয়ার ফাঁকে জার্মানির চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেলের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজসভায় তিনি এই আহ্বান জানান বলে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিমকে উদ্ধৃত করে বাসস জানায়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আঙ্গেলা ম্যার্কেলকে বলেন, মিয়ানমারের মূলধারা থেকে বাদ পড়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিষয়টিকে বাংলাদেশ মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে নিয়েছে। কিন্তু কক্সবাজারের মতো গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন শহরে তাদের অবস্থান ও তৎপরতার কারণে পরিবেশ, পয়োনিষ্কাশন ও প্রকৃতি বিপর্যস্ত হচ্ছে, যা তাদের অমানবিক পরিবেশে বাস করতে বাধ্য করছে। তাই সব ধরনের নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করে তাদের একটি খোলামেলা ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে সরিয়ে নিতে চায় বাংলাদেশ সরকার। এক ঘণ্টার আলোচনায় দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নিতে দুই নেতা ব্যবসা-বাণিজ্য, উন্নয়ন ও শরণার্থী প্রসঙ্গসহ পারস্পরিক স্বার্থের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন। আলোচনা শেষে বাংলাদেশের যন্ত্রে পাঠযোগ্য পাসপোর্টের আধুনিকায়নে বাংলাদেশ ও জার্মানি একটি সমঝোতা স্মারক সই করে।
সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী বাংলাদেশকে ৫০ লাখ ই-পাসপোর্ট সরবরাহ করবে জার্মানি। এ ছাড়া সন্ত্রাসবাদ দমনে রাজনৈতিক পর্যায়ে আলোচনার বিষয়ে একটি যৌথ ঘোষণায় সই করে দুই দেশ। ওই ঘোষণা অনুযায়ী সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে বাংলাদেশ ও জার্মানি কর্মসূচি নেবে এবং রাজনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা চালাবে। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব জানান, শেখ হাসিনার দেওয়া আমন্ত্রণ গ্রহণ করে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরে আগ্রহ দেখিয়েছেন জার্মানির চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল। জার্মানির চ্যান্সেলর বাংলাদেশের আর্থসামাজিক অগ্রগতির প্রশংসা করেন। ভবিষ্যতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের সম্পর্ক আরও নিবিড় হওয়ার ব্যাপারেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। বাংলাদেশে ১০০টি বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চলের প্রসঙ্গ টেনে শেখ হাসিনা এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অংশীদারির মাধ্যমে ব্যবসার জন্য জার্মানির প্রতিষ্ঠানগুলোকে আমন্ত্রণ জানান। আলোচনায় অন্যদের মধ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী, পররাষ্ট্রসচিব মো. শহীদুল হক, স্বরাষ্ট্রসচিব কামালউদ্দিন আহমেদ ও জার্মানিতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ইমতিয়াজ আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। ৫৩তম মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে অংশ নিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত শুক্রবার থেকে জার্মানিতে রয়েছেন। এই সফর শেষ করে আজ রোববার রাতে তাঁর ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।

শহীদ দিবসকে কালজয়ী করে শহীদ মিনার

২১ ফেব্রুয়ারির শহীদদের রক্তাক্ত স্মৃতি হৃদয়ে ধারণ করে পরদিন ২২ ফেব্রুয়ারি ঢাকার ক্রুদ্ধ প্রতিবাদী মিছিলে স্লোগান ওঠে, ‘শহীদ স্মৃতি অমর হোক’। কার কণ্ঠে এই স্লোগান উচ্চারিত হয়েছিল, সেটা আজ আর জানা যাবে না। তবে এ কথা সত্য যে সেদিন নুরুল আমিন সরকার সশস্ত্র পুলিশ ও ইপিআর সেনা জওয়ানদের নামিয়ে রাজপথে একের পর এক রক্তের ছাপ এঁকে দিয়েছিল। শহীদ শফিউর-আউয়াল-অহিউল্লাহ-সিরাজুদ্দিন প্রমুখ নাম চেতনায় আগুন ধরিয়ে দিয়েছিল। দিনভর মিছিলে হাঁটার শেষে পরদিন ২৩ ফেব্রুয়ারি মেডিকেল কলেজ হোস্টেলে কয়েকজন নেতৃস্থানীয় ছাত্রের জটলায় আলোচনার বিষয় ছিল পুলিশের গুলি ও পরপর দুই দিন ছাত্র-জনতাকে হত্যা। সম্ভবত পূর্বোক্ত স্লোগানটিই উপস্থিত কারও চিন্তা উসকে দেয়, তাই প্রস্তাব, শহীদদের স্মৃতি ধরে রাখতে একটি শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ তৈরি করতে হবে।
উপস্থিত সবাই এক কথায় রাজি। তবে আজ আর নিশ্চিত বলা যাবে না কে এই প্রস্তাব করেছিলেন। ব্যস, শুরু হয়ে যায় প্রস্তুতি পর্বের কাজ—রাজমিস্ত্রি ও মাল-মসলা জোগাড়। কলেজ প্রাঙ্গণে জমা ছিল বিস্তর ইট-বালু, গুদামে সিমেন্ট। গুদামের চাবিও সহজেই পাওয়া গেল হোসেনি দালান এলাকার বাসিন্দা পিয়ারু সরদারের কাছ থেকে। কাজ শুরু রাত ১০টা থেকে। স্মৃতিস্তম্ভ তৈরির কাজ শেষ হয় খুব ভোরে। প্লাস্টার করা শহীদ মিনারটি ঢেকে দেওয়া হয় শোকের প্রতীক কালো কাপড়ে। চারদিক দিয়ে দড়ির ঘের, দড়িতে টানানো পোস্টার, লাল বর্ণমালার। তাতে লেখা রকমারি স্লোগান। এমন স্লোগানও ছিল, ‘রাষ্ট্রভাষা তহবিলে মুক্ত হস্তে দান করুন’, ‘ব্লাড ব্যাংকে রক্ত দিন’ ইত্যাদি। খবর দ্রুতই পৌঁছে যায় শহরের বিভিন্ন মহল্লায়। তাঁরা ছুটে আসেন শহীদ মিনার দেখতে। এই দেখা তাঁদের সরকারের বিরুদ্ধে আরেক দফা উত্তেজিত করে। সরকারবিরোধী স্লোগানে মিনার এলাকা মুখর হয়ে ওঠে, তবে তা ক্বচিৎ। অধিকাংশ মানুষকে নীরবে প্রার্থনার ভঙ্গিতে শহীদ স্মৃতিস্তম্ভের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।
কখনো হাতে ফুল বা অন্তত একগুচ্ছ পাতা। স্মৃতিস্তম্ভটি এভাবে দর্শনার্থীদের কাছে পবিত্র মাজারের মর্যাদা পেয়ে যায়। দেখেশুনে মনে হয়েছে, বাঙালি কি প্রতিবাদের ক্ষেত্রেও ভক্তিতে মুক্তি খোঁজে? শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ তৈরির পর প্রথম আলোর সকালটি ছিল রোববার, সরকারি ছুটির দিন। হয়তো তাই দুপুর গড়িয়ে বিকেল থেকে শহীদ মিনার দেখতে মানুষের পর মানুষ, মিনার কখনো নিঃসঙ্গ হয় না। নরনারী, শিশু—নানা বয়সী মানুষের ভিড় সেখানে লেগেই থাকে। মনে হয় গোয়েন্দা বার্তায় শঙ্কিত মুখ্যমন্ত্রী নুরুল আমিন। তাই দ্রুতই সিদ্ধান্ত স্মৃতিস্তম্ভটি ধ্বংস করার। ইতিমধ্যে ২৪ ফেব্রুয়ারি সকালে দু-একজন মেডিকেল ছাত্রের উদ্যোগে শহীদ সফিউর রহমানের পিতা মাহবুবুর রহমানকে দিয়ে অনানুষ্ঠানিকভাবে তড়িঘড়ি শহীদ মিনার উদ্বোধন করা হয়। পরে অবশ্য হোস্টেলের ছাত্রনেতারা ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নেন আজাদ সম্পাদক সাংবাদিক আবুল কালাম শামসুদ্দীনকে দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করার। কারণ তিনি পুলিশের গুলি চালনার প্রতিবাদে ২২ ফেব্রুয়ারি পরিষদের সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন। দিনটি ছিল ২৬ ফেব্রুয়ারি সকাল। শহীদ স্মৃতিস্তম্ভের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন। জমায়েত কম ছিল না। ছাত্রদের পাশে বেশ কিছুসংখ্যক সাধারণ মানুষেরও উপস্থিতি দেখা গেছে। অনুষ্ঠানের ছবি তুলেছিলেন আমার সহপাঠী হুমায়ুন কবির। পরে এ বিষয়ে তাঁর লেখা ছোট একটি নিবন্ধ ইত্তেফাক-এ ছাপা হয়, যাতে ওই ছবি ছিল। ২৪ ফেব্রুয়ারির পর মাত্র আড়াই দিনের মাথায় ২৬ ফেব্রুয়ারি নুরুল আমিন সরকারের সশস্ত্র পুলিশ শেষ বিকেলে মেডিকেল হোস্টেল ঘেরাও করে শহীদ মিনারটি ভেঙে ফেলে।
শেষ ইটের টুকরোটিও তারা ট্রাকে তুলে নিয়ে যায়। পেছনে রেখে যায় ডিজেলের পোড়া গন্ধ ও কিছু ধোঁয়া। হোস্টেলে তখন সামান্য কজন ছাত্র। তাঁরা পুলিশের উঁছিয়ে ধরা রাইফেলের মুখে এই করুণ দৃশ্যটি দেখেন। প্রতিবাদের উপায় ছিল না, ছবি তোলারও সুযোগ ছিল না। এভাবে একটি ইতিহাসের মৃত্যু ঘটে। এ সম্পর্কে মাত্র ছোট্ট একটি খবর আজাদ পত্রিকায় ছাপা হয়, ‘গতকল্য মেডিকেল কলেজ হোস্টেলে শহীদানের যে স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধন করা হইয়াছিল, পুলিশ সন্ধ্যায় তাহা ভাঙিয়া ফেলিয়াছে।’ কিন্তু শহীদ মিনার মরেনি। দেশজুড়ে তৈরি হয় অসংখ্য ছোট-বড় আকারের শহীদ মিনার। পরে সরকার প্রথম শহীদ মিনারের কাছাকাছি স্থানে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার নির্মাণ করে।
আহমদ রফিক: ভাষাসংগ্রামী, কবি ও রবীন্দ্র-গবেষক

সানেমের দ্বিতীয় বার্ষিক অর্থনৈতিক সম্মেলনে রেহমান সোবহান

বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ রেহমান সোবহান বলেছেন, এই দেশে সম্পদশালীরাই এখন নির্বাচন করেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তাজউদ্দীন আহমদ, তোফায়েল আহমেদরা নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে এসেছেন। তাঁরা মাঠে-ঘাটে হেঁটে রাজনীতি করেছেন। কিন্তু এখন বিভিন্ন স্তরের জনপ্রতিনিধিদের (ইলেকটিভ বডি) জায়গাগুলো দখল করে ফেলেছেন একশ্রেণির বিত্তশালী ও প্রভাবশালী।
এটা তাঁদের একধরনের বিনিয়োগও। এসব কারণে সমাজে অন্যায্যতা ও বৈষম্য তৈরি হয়েছে। গতকাল শনিবার আঞ্চলিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (এসএএনইএম—সানেম) আয়োজিত দ্বিতীয় বার্ষিক অর্থনীতিবিদ সম্মেলনের একটি অধিবেশনে বিশেষ বক্তা ছিলেন রেহমান সোবহান। তিনি বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) চেয়ারম্যান। দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের অর্থনীতিবিদ ও গবেষকদের নেটওয়ার্ক হলো সানেম। মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলন হচ্ছে। রেহমান সোবহান প্রথম দিনের শেষ অধিবেশনে বক্তব্য দেন। এতে সভাপতিত্ব করেন আরেক অর্থনীতিবিদ ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। এই অধিবেশনের বিষয় হলো সামাজিক অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ার প্রবৃদ্ধি ব্যবস্থাপনা। বাংলাদেশে সুশাসন নিয়ে গবেষণা হওয়া উচিত বলে মনে করেন রেহমান সোবহান। তাঁর মতে, সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী রাষ্ট্রের বিভিন্ন সেবা থেকে বঞ্চিত হয়। প্রভাবশালীরা সহজেই সরকারি সেবা যেমন পান, আবার অনেকে নিয়মকানুনও মানেন না। সরকারি সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে এই দুই শ্রেণির মধ্যে বিরাট পার্থক্য আছে। এ বিষয়ে রানা প্লাজার উদাহরণ দিয়ে রেহমান সোবহান বলেন, সেখানে যাঁরা কাজ করতেন, তাঁরা আগেই বলেছিলেন, ভবনটি ভেঙে পড়তে পারে। কিন্তু তাঁদের তত্ত্বাবধায়ক বাধ্য করেছিলেন কাজে যেতে। বলা হয়েছিল, কাজে না গেলে চাকরি থেকে বাদ দেওয়া হবে। দেখা গেল, ভবনের মালিক রানা রাজনৈতিকভাবে খুবই প্রভাবশালী। তিনি ভবন কোড মেনে ভবনটি নির্মাণ করেননি। এখানে দেখা গেছে অর্থ ও রাজনৈতিক প্রভাবই সব নিয়ন্ত্রণ করেছে। রেহমান সোবহান বিপরীত উদাহরণ দিয়ে বলেন, সরাসরি বাজারের সঙ্গে যোগাযোগ না থাকায় দেশের কৃষক, ছোট ছোট পণ্য উৎপাদকেরা ন্যায্যমূল্য পান না। সরবরাহব্যবস্থার বিভিন্ন স্তরে প্রভাবশালীরাই থাকেন। তাঁর মতে, কৃষক ও ছোট ছোট উৎপাদককে প্রণোদনা দিয়ে পণ্য উৎপাদনে উৎসাহিত করা উচিত। তিনি বলেন, প্রান্তিক উৎপাদকদের বাজারসুবিধা নিশ্চিত করার একটি বড় উদাহরণ হলো ভারতের আমুল ডেইরি। ২০ থকে ৩০ লাখ খামারি দুধ উৎপাদন করেন। এই দুধ দিয়ে সমাজের বনেদি শ্রেণির জন্য মাখন, পনির এসব উৎপাদন করা হয়। বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠান প্রাণ এভাবে চেষ্টা চালাচ্ছে। রেহমান সোবহান আরও বলেন, সমাজে বৈষম্য আছে। এটি রাজনীতিরও একটি অংশ। প্রান্তিক মানুষের ওপর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রভাব কীভাবে পড়ছে তা দেখতে হবে। মানুষের বঞ্চনার ভিত্তিতে বৈষম্য নিরূপণ করা উচিত। এ জন্য মানসম্পন্ন স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। মানুষের দক্ষতা বৃদ্ধিতে সুযোগ তৈরি করা উচিত। সিঙ্গাপুর, তাইওয়ানের মতো দেশ মানসম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিত করে বহুদূর এগিয়ে গেছে। বাংলাদেশে খানা আয় ও ব্যয়ে জরিপের তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রেহমান সোবহান। এই অর্থনীতিবিদ বলেন, মাঠপর্যায়ের তথ্যসংগ্রাহকেরা অনেক ধনী মানুষের বাসায় ঢুকতে পারেন না। ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, ‘কীভাবে মানব উন্নয়নকে উচ্চ আয়ে রূপান্তরিত করছি, সেটাই বড় বিষয়। অর্থনৈতিক সুযোগই প্রবৃদ্ধির উৎস তৈরি করে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই যুগে প্রবৃদ্ধি অর্জনে প্রযুক্তি খুব কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। উচ্চ বৈষম্য যেমন প্রবৃদ্ধি অর্জনে বাধা, আবার উচ্চ প্রবৃদ্ধি টেকসই করাও কঠিন। এই দুটির জন্য সহায়ক নীতি গ্রহণ করতে হয়।’ সিপিডির নির্বাহী পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাণিজ্য-ব্যবস্থার বিভিন্ন নিয়মকানুনের কারণে এই দেশের গ্রামের কৃষকদের বিশ্ববাজারের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে পারছি না। তাঁরা শুধু অভ্যন্তরীণ বাজারের সঙ্গে সম্পৃক্ত।’ তিনি আরও বলেন, ‘টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যের (এসডিজি) অন্যতম লক্ষ্য তথ্য-উপাত্ত প্রাপ্তিতে ব্যাপক ঘাটতি আছে। খানা আয় ও ব্যয় জরিপে এখনো বিভাগীয় পর্যায় পর্যন্ত তথ্য পাই।’ এই অধিবেশনে আরও বক্তব্য দেন সানেমের নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান, শ্রীলঙ্কার ইনস্টিটিউট অব পলিসি স্টাডিজের (আইপিএস) নির্বাহী পরিচালক সামান কেলেগামা, সাউথ এশিয়া ওয়াচ অন ট্রেড, ইকোনমিকস অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টের (এসএডব্লিউটিইই) চেয়ারম্যান পশ রাজ পান্ডে, ভারতের ইনস্টিটিউট অব ইকোনমিক গ্রোথের অধ্যাপক সব্যসাচী কর প্রমুখ। দুপুরের অধিবেশনের বিষয় ছিল প্রবৃদ্ধির রাজনীতি। এই অধিবেশনে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যবসায়ীরা বেশ প্রভাবশালী। আবার আমলাতন্ত্রও ব্যবসায়ীদের সহায়তা করে। সুশাসনের ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ ভালো প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। এই অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এবং পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান। তিনি বলেন, নব্বইয়ের দশকে ব্যাংক, স্থানীয় সরকার, টেলিযোগাযোগ ও অবকাঠামো খাতে ব্যাপক সংস্কার হয়েছে। তাই সুশাসনের দুর্বলতা থাকা সত্ত্বেও প্রবৃদ্ধিও হয়েছে। এ অধিবেশনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সানেমের নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান, ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্নেন্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (বিআইজিডি) গবেষক মির্জা এম হাসান, ভারতের ইনস্টিটিউট অব ইকোনমিক গ্রোথের অধ্যাপক সব্যসাচী কর।

রিমান্ড শেষে মেয়র হালিমুল কারাগারে

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে সাংবাদিক আবদুল হাকিম হত্যা মামলায় পৌরসভার মেয়র হালিমুল হকসহ ছয় আসামিকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে গতকাল শনিবার তাঁদের সিরাজগঞ্জের মুখ্য বিচারিক হাকিমের আদালতে হাজির করা হলে জ্যেষ্ঠ বিচারক হাকিম শরিফুল ইসলাম এ নির্দেশ দেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শাহজাদপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মনিরুল ইসলাম বলেন, ছয় আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। তবে মামলার স্বার্থে তা প্রকাশ করা যাচ্ছে না।
মনিরুল ইসলাম আরও জানান, সাংবাদিক হত্যা মামলায় মেয়রের দুই ভাই হাসিবুল হক ও হাবিবুল হককে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। আগামীকাল তাঁদের রিমান্ড শেষ হবে। মেয়র হালিমুল ছাড়া বাকি আসামিরা হলেন আরশেদ আলী, আলমগীর হোসেন, নাজমুল খাঁ, নাসির উদ্দিন ও জহির শেখ। গত ২ ফেব্রুয়ারি শাহজাদপুরে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষের সময় খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে মাথায় গুলিবিদ্ধ হন দৈনিক সমকাল-এর স্থানীয় প্রতিনিধি আবদুল হাকিম। পরদিন ঢাকায় নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। ওই দিনই মেয়র হালিমুলকে প্রধান আসামি করে শাহজাদপুর থানায় হত্যা মামলা করেন হাকিমের স্ত্রী নুরুন্নাহার। এর আগে ছাত্রলীগ নেতা বিজয় মাহমুদকে মারধরের ঘটনায় সংঘর্ষের দিন তাঁর চাচা এরশাদ আলী হালিমুল, তাঁর ভাইসহ বেশ কয়েকজনকে আসামি করে পৃথক মামলা করেন। গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল গত ৫ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর শ্যামলী থেকে হালিমুলকে আটক করে।

টেকসই উন্নয়নে প্রয়োজন বিশ্ব তহবিল

জাতীয় সংসদের স্পিকার ও কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়েশনের (সিপিএ) নির্বাহী কমিটির চেয়ারপারসন শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেছেন, টেকসই উন্নয়ন একটি বৈশ্বিক লক্ষ্য। এর বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন বিশ্ব তহবিল। একই সঙ্গে প্রয়োজন আছে প্রতিটি দেশের নিজস্ব তহবিলের। ভারতের ইন্দোরে অনুষ্ঠিত টেকসই উন্নয়নবিষয়ক দক্ষিণ এশীয় স্পিকার সম্মেলনে গতকাল শনিবার শিরীন শারমিন এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জনে বিশ্ব তহবিল ও নিজস্ব তহবিলের যথাযথ প্রাপ্তি ও ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। সংসদ সচিবালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। শিরীন শারমিন বলেন, তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে সম্পদের সীমাবদ্ধতা প্রকট। উন্নত দেশগুলোর অর্থনৈতিক ও কারিগরি সহযোগিতার মাধ্যমে এ সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।
একই সঙ্গে সীমিত সম্পদের সঠিক ও সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমে বিশ্বের সব দেশের পক্ষে টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব। জাতিসংঘ ঘোষিত সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার কথা উল্লেখ করে শিরীন শারমিন বলেন, বাংলাদেশ এ লক্ষ্যমাত্রার অনেকগুলো অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। ইতিমধ্যে নারীদের রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ সারা বিশ্বে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। সম্মেলনে ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) প্রেসিডেন্ট সাবের হোসেন চৌধুরী ও ভারতের লোকসভার স্পিকার সুমিত্রা মহাজনসহ মালদ্বীপ, ভুটান, শ্রীলঙ্কা ও আফগানিস্তানসহ দক্ষিণ এশিয়ার স্পিকারেরা অংশগ্রহণ করেন।

অধিকতর, নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের বিচার দাবি

পূর্ব সুন্দরবনের করমজল কুমির প্রজননকেন্দ্রে ৬২টি কুমিরছানার মৃত্যু-রহস্য উদ্ঘাটনে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রকৃত দোষী ব্যক্তিদের শাস্তি ও বিচারের দাবিতে খুলনায় মানববন্ধন হয়েছে। পাশাপাশি সুন্দরবন সুরক্ষার জন্য আলাদা সুন্দরবন আইন প্রণয়নেরও দাবি জানানো হয়েছে। গতকাল শনিবার খুলনা নগরের পিকচার প্যালেস মোড়ে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন জনউদ্যোগ এই মানববন্ধন ও সমাবেশের আয়োজন করে। সংগঠনের খুলনার আহ্বায়ক কুদরত-ই-খুদার সভাপতিত্বে ও সদস্যসচিব মহেন্দ্রনাথ সেনের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সুন্দরবনের করমজল কুমির প্রজননকেন্দ্র থেকে কুমিরছানা উধাও ও মৃত্যুর ঘটনা কেন্দ্র করে তদন্ত কমিটি চিতাবিড়ালকে দায়ী করেছে। তবে এটি চিতাবিড়াল দ্বারা সংঘটিত হয়েছে কি না, তা নিয়ে জনমনে সংশয় সৃষ্টি হয়েছে।
এ ছাড়া ৫ ফেব্রুয়ারি রাতে চিতাবিড়ালটি হত্যা করার সিদ্ধান্তটি আইনবহির্ভূত কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সুন্দরবন সুরক্ষার জন্য আলাদা আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়ে বক্তারা বলেন, সুন্দরবন অন্যান্য বন থেকে আলাদা প্রকৃতির এবং বিশ্বের অন্যতম জীববৈচিত্র্যের বনভূমি। তাই প্রচলিত বন আইনে নয়, সুন্দরবন সংরক্ষণে পৃথকভাবে ‘সুন্দরবন আইন’ করাটা এখন সময়ের দাবি। মানববন্ধনে বক্তব্য দেন খুলনা নাগরিক সমাজের আহ্বায়ক মুক্তিযোদ্ধা আ ফ ম মহসীন, মাসাসের নির্বাহী পরিচালক শামীমা সুলতানা, মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা খুলনার সমন্বয়ক মোমিনুল ইসলাম, বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির একাংশের মহাসচিব এস এম সোহরাব হোসেন, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির দেলোয়ার হোসেন, মফিদুল ইসলাম, গ্লোবাল খুলনার শাহ মামুনুর রহমান, খুলনা হ্যান্ডেলিং শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. নাসির খান প্রমুখ।

ওবায়দুল কাদেরের হাতে লাঞ্ছিত সাংসদ ছানোয়ার?

টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সাংসদ ছানোয়ার হোসেনকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। গতকাল শনিবার রাত পৌনে ৯টার দিকে টাঙ্গাইলের যমুনা রিসোর্টের পদ্মা রেস্ট হাউসে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, রাজশাহীতে কর্মিসভা শেষ করে ওবায়দুল কাদের ঢাকায় ফেরার পথে বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম প্রান্তে যমুনা রিসোর্টে যাত্রাবিরতি করেন।
সেখানে আগে থেকেই টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলুর রহমান খান, সাধারণ সম্পাদক জোয়াহেরুল ইসলাম, সাংসদ ছানোয়ার হোসেন, সাংসদ অনুপম শাহজাহান জয়সহ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা স্বাগত জানানোর জন্য উপস্থিত হন। তিনি সেখানে পৌঁছানোর পর দলীয় কর্মীরা জয় বাংলা স্লোগান দিলে তিনি স্লোগান থামাতে বলেন এবং এ নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করেন। দলীয় সূত্রে জানা যায়, ওবায়দুল কাদেরকে সেখানে আপ্যায়নের আমন্ত্রণ করেছিলেন টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনের নবনির্বাচিত সাংসদ হাসান ইমাম খান। কিন্তু হাসান ইমাম শনিবার বঙ্গবন্ধুর মাজার জিয়ারত করতে টুঙ্গিপাড়া যাওয়ায় যমুনা রিসোর্টে উপস্থিত হতে পারেননি। ওবায়দুল কাদের রিসোর্টের পদ্মা রেস্ট হাউসে ঢুকে সাংসদ হাসান ইমাম উপস্থিত নেই জানতে পেরে তাঁকে উদ্দেশ করে গালাগাল করেন। এ সময় টাঙ্গাইল-৫ আসনের সাংসদ ছানোয়ার হোসেন হাসান ইমামের পক্ষ নিয়ে ওবায়দুল কাদেরকে কিছু বলতে গেলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং ছানোয়ার হোসেনকে তিনটি চড় ও ঘুষি মারেন। পরে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে রেস্ট হাউস থেকে বের হয়ে যান। তিনি হেঁটেই রিসোর্টের গেট পর্যন্ত আসেন। সেখানে দলীয় নেতাদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। সাংসদ ছানোয়ার হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাঁর মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত জেলা আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। এ বিষয়ে কথা বলার জন্য ওবায়দুল কাদেরের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন ধরেননি।

সেতুর অভাবে চার জেলার মানুষের ভোগান্তি

রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় বাসুপাড়া ইউনিয়নে ফকিন্নী নদীর সেতুর কাছ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন ও স্থানীয় একটি মাদ্রাসার শিক্ষক সিরাজ উদ্দিনের নেতৃত্বে গত দুই দিন রাতের বেলায় সেখান থেকে বালু তোলা হয়েছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন। ওই সেতুর পাশে নদীর জমি দখল করে তাঁরা ভবনও নির্মাণ করছেন। গতকাল শনিবার সরেজমিনে দেখা যায়, দেউলা-ভবানীগঞ্জ সংযোগস্থলে ফকিন্নী নদীর সেতু থেকে ২০-২৫ গজ দূরে একটি শ্যালো মেশিন (অগভীর নলকূপ) পড়ে আছে। পাইপের এক প্রান্ত নদীর মধ্যে। আরেক প্রান্ত তীরের ওপর। শ্যালো মেশিনের ১০-১৫ গজের মধ্যে রয়েছে একটি নির্মাণাধীন ভবন। ভবনটির পাশেই ওই পাইপের মাধ্যমে তোলা বালু তুলে স্তূপ করে রাখা হয়েছে। কিছুটা দূরে রয়েছে বেশ কিছু বাড়িঘর, আবাদি জমি, দোকানপাট ও উপজেলা ভূমি কার্যালয়।
বাসুপাড়া ইউনিয়ন ও ভবানীগঞ্জ পৌরসভা এলাকার অন্তত ২০ জনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত বৃহস্পতি ও গতকাল শুক্রবার রাতে বাসুপাড়া ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন ও শিক্ষক সিরাজ উদ্দিন মেশিন বসিয়ে সেতুর কাছ থেকে বালু উত্তোলন করছেন। দিনের বেলা সমস্যা হতে পারে, এ জন্য রাতে বালু তোলা হয়েছে। সন্ধ্যার পর তাঁদের কার্যক্রম শুরু হয়। স্থানীয় লোকজন নিষেধ করলেও তাঁরা শোনেননি। উল্টো বলেছেন, তাঁদের ভাষায়, ‘ক্ষতি হলে প্রশাসন দেখবে।’ এর আগে নদী দখল করে তাঁরা ভবন নির্মাণ শুরু করেন। এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দিলেও কোনো কাজ হয়নি। কয়েক দিন নির্মাণকাজ বন্ধ ছিল, আবারও তা শুরু হয়েছে। বাসুপাড়া ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি লুৎফর রহমান বলেন, নদী দখল করে ভবন নির্মাণ এবং সেতুকে হুমকিতে ফেলে বালু উত্তোলন করা ঠিক হচ্ছে না। প্রশাসন দেখার পরেও কেন ব্যবস্থা নিচ্ছে না, সেটা রহস্যজনক। সিরাজ উদ্দিন ও আমজাদ হোসেন বলেন, তাঁরা সেতুর কাছ থেকে আর বালু উত্তোলন করবেন না।
তাঁদের দাবি—নিজেদের জমিতেই ভবন নির্মাণ করছেন তাঁরা। এই কাজে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো সময় বাধা দেওয়া হয়নি। স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তরের বাগমারা কার্যালয়ের প্রকৌশলী সানোয়ার হোসেন বলেন, সেতুর নিচ থেকে মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের বিষয়টি তিনি জানেন না। এভাবে বালু উত্তোলন করলে সেতু, আশপাশের বাড়িঘর ও আবাদি জমির ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। এর আগে সেতুঘেঁষে ভবন নির্মাণ করার সময়ও তিনি বিরোধিতা করেছিলেন। কিন্তু কোনো ফল পাননি। সেতুর কাছে থেকে বালু উত্তোলনের বিষয়টি জানেন না বলে জানান বাগমারার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আলমগীর হোসেন। তিনি বলেন, বিষয়টি খোঁজ করে দেখা হবে। নদী দখল করে ভবন নির্মাণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভাঙনে নদী সামনের দিকে এগিয়ে আসাতে মনে হয়েছে, নদী দখল করা হয়েছে। তবে জায়গাটি তাঁদের নিজস্ব। এরপরও নদীর ভেতরে ভবন করা ঠিক হয়নি।

শখের বশে কোয়েল পালন করে লাভবান

অনেকটা শখের বশেই বাড়িতে কোয়েল পালন শুরু করেন সুজন সরকার (৩৮)। ছয় মাস না যেতেই তিনি দেখেন লাভের মুখ। এরপর বাড়িতেই গড়ে তোলেন কোয়েলের খামার। এখন কোয়েলের ডিম বিক্রি করে বেশ লাভবান তিনি। সুজন সরকার মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার গড়পাড়া ইউনিয়নের পাঞ্জনখাড়া গ্রামের বাসিন্দা। এখন তাঁর খামারে প্রায় চার হাজার কোয়েল পাখি রয়েছে।
লেয়ার মুরগির খামারও রয়েছে তাঁর। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কম পুঁজি নিয়ে কোয়েলের খামার তৈরি করা যায়। কোয়েলের আকার ছোট বলে এদের লালনপালনের জন্য জায়গাও কম লাগে। একটি মুরগি পালনের স্থানে মোটামুটিভাবে ১০ থেকে ১২টি কোয়েল পালন করা যায়। বাংলাদেশের আবহাওয়া কোয়েল পালনের জন্য উপযোগী। রোগব্যাধির দিকে থেকে কোয়েলের খামার খুবই লাভজনক বিনিয়োগ। কারণ কোয়েলের রোগব্যাধি প্রায় হয় না বললেই চলে। সাধারণত ৬ থেকে ৭ সপ্তাহ বয়সেই একটি কোয়েল ডিম দিতে শুরু করে এবং বছরে সাধারণত ২৮০ থেকে ৩০০টি ডিম দিয়ে থাকে। ১০ ফেব্রুয়ারি সুজনের কোয়েলের খামারে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির পাশে টিনশেডের তৈরি খামারে সুজন কোয়েলের যত্ন নিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এ সময় সুজন বলেন, তিন বছর আগের কথা। একদিন মানিকগঞ্জ শহরের একটি বাজারে মুরগির ডিম বিক্রির করতে যান। দেখতে পান, ক্রেতারা ওই বাজার থেকে কোয়েলের ডিম কিনছেন। মুরগির চেয়ে কোয়েলের ডিমের চাহিদাও কম নয়। বিষয়টি বুঝতে পেরে কোয়েল পালনের আগ্রহ জন্মে তাঁর। সিদ্ধান্ত নিলেন কোয়েল পালনের। কিন্তু কীভাবে শুরু করবেন, কোথায় কোয়েলের বাচ্চা পাবেন, তা নিয়ে ভাবতে থাকেন। এর এক সপ্তাহ পর বাজারের ওই ডিম বিক্রেতার কাছে খোঁজ পান কোথায় কোয়েলের বাচ্চা পাওয়া যায়। পরে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদের কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে শুরু করেন কোয়েলের পালন। শুরুতেই ২১ হাজার টাকায় যশোর থেকে ৪ সপ্তাহের ৫০০ কোয়েলের বাচ্চা কিনে আনেন। প্রথমে পরিবারের সদস্যরা এতে নিষেধ করেছিলেন।
তবে কোয়েলের ডিমের চাহিদার বিষয়টি তাঁদের আগ্রহ জোগায়। এ ছাড়া কোয়েল পালনের শখও ছিল সুজনের। এই দুই কারণে বাড়িতেই কোয়েল পালন শুরু করেন। চার সপ্তাহ পালনের পর সেগুলো ডিম দিতে শুরু করে। এর বছরখানেক পর বাড়ির পাশে কোয়েলের খামার করেন। বর্তমানে খামারে কোয়েল পাখির সংখ্যা প্রায় ৪ হাজার, যার সবই এখন নিয়মিত ডিম দিচ্ছে। এসব ডিম তিনি মানিকগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করছেন। প্রতিটি ডিম ১ টাকা ৭০ পয়সা দরে বিক্রি করছেন। এ থেকে খরচ বাদে প্রতিদিনত×তাঁর ৩ হাজার টাকা আয় হচ্ছে। তাঁর দেখাদেখি আরও দুই যুবক কোয়েলের খামার করেছেন। স্থানীয় গড়পাড়া বহুমূখী উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক চান মিয়া বলেন, দিন দিন কোয়েলের ডিম ও মাংসের চাহিদা বাড়ছে। সুজনের মতো কোয়েলের খামার করে বেকার যুবকেরা কর্মসংস্থানের সুযোগ গ্রহণ করতে পারেন। সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ প্রথম আলোকে বলেন, অল্প পুঁজি ও স্বল্প পরিসরে কোয়েল পালন করা যায়। এর মাংস, ডিম সুস্বাদু ও পুষ্টিকর। এ কারণে দিন দিন কোয়েল পালনে অনেকে আগ্রহী হচ্ছেন।

সাভারে পিকার্ড কমিউনিটি স্কুলে পুরস্কার বিতরণ

ঢাকার আশুলিয়ার কোন্ডলবাগে পিকার্ড কমিউনিটি স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান গতকাল শনিবার অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সাংসদ কাজী রোজী। বিশেষ অতিথি ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত সচিব জাহাঙ্গীর হোসেন, পিকার্ড বাংলাদেশের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) অমৃতা মাকিন ইসলাম, মানবসম্পদ বিভাগের প্রধান রাশেদা খানম, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সহসভাপতি কাজী নুসরাত সুলতানা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পিকার্ড বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি সায়ফুল ইসলাম। জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে বেলা ১১টায় অনুষ্ঠানের সূচনা করা হয়। এরপর বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। প্রতিযোগিতায় মোট ১৭টি খেলায় বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। এর মধ্যে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে সাংসদ কাজী রোজী বলেন, ‘তোমরা আজ যে পুরস্কার পেলে তা শুধুই পুরস্কার নয়, এই পুরস্কার হচ্ছে তোমাদের এগিয়ে চলার গান, সাফল্যের গান। সাফল্য না থাকলে পুরস্কার অর্থবহ হয় না।’ তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই যেন এক হাতে কাজ করতে পারি আর কাজের বিনিময়ে পুরস্কার নিতে পারি।’ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিমাংশু কুমার সরকার বলেন, বিদ্যালয়টি পরিচালিত হয় পিকার্ড বাংলাদেশের তত্ত্বাবধানে। ২০১৫ সালের জানুয়ারি মাসে বিশমাইল-জিরাব সড়কের পাশে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৩৭। এর মধ্যে প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরত শ্রমিকদের ছেলেমেয়ে ৩৯ জন। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে প্লে থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ানো হয়।

ভায়রার হাতে ভায়রার মৃত্যু

ফরিদপুরে ভায়রা বাচ্চু খানের (২২) রডের আঘাতে নিহত হয়েছেন আরেক ভায়রা আজাদ শেখ (২৫)। গতকাল শনিবার সকাল নয়টার দিকে ফরিদপুর শহরের হাবেলী গোপালপুর মহল্লার ডগবস্তি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। দুপুরে পুলিশ বাচ্চু খানকে আটক করে। তবে তাঁকে (বাচ্চু খান) কোতোয়ালি থানায় ঢোকানোর সময় বস্তিবাসী বাচ্চুকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় পুলিশের সঙ্গে বস্তিবাসীর ধস্তাধস্তি হয়। নিহত আজাদ শেখ ডগবস্তি এলাকার হারুন শেখের ছেলে। তিনি এক ছেলের বাবা। আজাদ শেখ ও বাচ্চু খান উভয়েই শহরের রেলস্টেশন সড়কে অবস্থিত লাকি ডেকোরেটরে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। ঘটনার দুজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, বাচ্চু খান প্রায়ই তাঁর স্ত্রী আঁখি বেগমকে মারপিট করতেন।
গতকাল সকালে বাচ্চু তাঁর স্ত্রীকে মারপিট করা শুরু করলে ভায়রা আজাদ বাধা দেন। এ ঘটনায় বাচ্চু ক্ষিপ্ত হয়ে লোহার রড দিয়ে আজাদের ঘাড়, হাত, পিঠ ও পায়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে আহত করেন। এলাকাবাসী আহত আজাদকে প্রথমে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু অবস্থার অবনতি ঘটলে তাঁকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অসীম মণ্ডল বলেন, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে একটি হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে। তিনি বলেন, এ ঘটনার পর বাচ্চু খান পালিয়ে যান। পরে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বাচ্চু খানকে শহরতলির শিবরামপুর এলাকা থেকে আটক করা হয়। ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাজিমউদ্দিন আহমেদ বলেন, বাচ্চুকে থানায় ঢোকানোর সময় ফটকের সামনে ডগবস্তির দেড় শতাধিক লোক সমবেত হয়ে বাচ্চুকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় পুলিশের সঙ্গে বস্তিবাসীর ধস্তাধস্তি হয়। এতে রাস্তায় পড়ে পুলিশসহ চারজন আহত হয়।

গোয়ালন্দে আনন্দ মিছিল

জাতীয় সংসদে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ-মানিকগঞ্জের পাটুরিয়ায় দ্বিতীয় পদ্মা সেতু বাস্তবায়নের ঘোষণায় গতকাল শনিবার বিকেলে গোয়ালন্দবাসীর ব্যানারে শহরে আনন্দ মিছিল বের করা হয়েছে। দৌলতদিয়া-পাটুরিয়ায় এ বছরই দ্বিতীয় পদ্মা সেতু বাস্তবায়নের কাজ শুরু করার দাবিতে গতকাল গোয়ালন্দবাসীর ব্যানারে বিকেলে গোয়ালন্দ বাজার শহীদ মুহিউদ্দিন আনছার ক্লাব চত্বরে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বক্তব্য দেন গোয়ালন্দ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও রাজবাড়ী জেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান ফকির আবদুল জব্বার, রাজবাড়ী পৌরসভার মেয়র মহম্মদ আলী চৌধুরী, গোয়ালন্দ পৌরসভার মেয়র শেখ মো. নিজাম,
জেলা পরিষদের নবনির্বাচিত সদস্য ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হাসান ইমাম চৌধুরী, গোয়ালন্দ কামরুল ইসলাম ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মোয়াজ্জেম হোসেন, সাবেক অধ্যক্ষ খন্দকার আবদুল মুহিত, উজানচর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আবুল হোসেন ফকির, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার আবদুস সামাদ মোল্লা, উজানচর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান নাজিরুল ইসলাম, গোয়ালন্দ নাজির উদ্দিন সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুলতান উদ্দিন আহম্মেদ, উপজেলা যুবলীগ সভাপতি ইউনুস মোল্লা প্রমুখ। সভায় বক্তারা অবিলম্বে প্রধানমন্ত্রীর ওয়াদা ও সম্প্রতি জাতীয় সংসদে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ঘোষণা দ্বিতীয় পদ্মা সেতু বাস্তবায়নের ঘোষণার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ও ধন্যবাদ জানান। এ ছাড়া তাঁরা অবিলম্বে পদ্মা সেতু কার্যকরের দাবি জানান। আলোচনা সভা শেষে বিকেল পাঁচটায় আনন্দ শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।