Sunday, January 15, 2012

ভারতীয় হিন্দি ফিল্ম আমদানির পাঁয়তারাঃ এই ফন্দি রুখতে হবে

প্রথমে ডিম, পরে আলু, সর্বশেষ হিন্দি ফিল্ম। বাংলাদেশে ভারতীয় হিন্দি ছবি আমদানি এবং বাণিজ্যিক ভিত্তিতে প্রদর্শনের জন্য একটি মহল উঠে-পড়ে লেগেছে। গতকাল আমার দেশ-এর শেষ পাতায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেট্রোপলিটন এক্সিবিটর্স অ্যাসোসিয়েশন (ঢাকার সিনেমা হল মালিকদের সংগঠন) ভারতীয় হিন্দি ছবি এনে পরীক্ষামূলকভাবে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে সেগুলো প্রদর্শনের অনুমতি চেয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সন্তোষঃ বাস্তবতার সঙ্গে মিল নেই

রাজধানীসহ সারাদেশে খুন-খারাবি, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই-সন্ত্রাসের ঘটনা জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তুললেও সরকার যে নির্বিকার সেটা বোঝা গেছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মুখের কথায়। তিনি বুধবার যশোরে আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় প্রধান অতিথির ভাষণে জেলার পরিস্থিতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

বিচারবহির্ভূত হত্যা শুধু দেশের অভ্যন্তরে নয়, সীমান্তেও উদ্বেগজনক by কুতুব উদ্দিন প্রধান

র্তমান সরকারের নির্বাচনী ওয়াদায় বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড শুধু বন্ধই নয়; বিগত সময়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী দ্বারা যেসব হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, তা তদন্তপূর্বক আইনের মুখোমুখি করা হবে উল্লেখ ছিল। নির্বাচনী ইশতেহারে অনেক সুন্দর কথার মধ্যে এ সুন্দর কথায় দেশবাসী আশ্বস্ত ছিল।

দারিদ্র্য নির্মূলে দক্ষিণ এশীয় ইউনিয়ন চাই by ড. মুহাম্মদ ইউনূস

নোবেল শান্তি পুরস্কারপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস দক্ষিণ এশীয় ইউনিয়ন গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দারিদ্র্য নির্মূলে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের আদলে এই ইউনিয়ন গঠন সময়ের দাবি। গতকাল ভারতীয় পার্লামেন্ট লোকসভায় হিরেণ মুখার্জি স্মারক বক্তৃতায় তিনি এ প্রস্তাব করেন। এর আগে এ বক্তৃতা দিয়েছেন অর্থনীতিতে নোবেলপ্রাপ্ত অধ্যাপক অমর্ত্য সেন। ড. ইউনূসের ভাষণের পূর্ণ বিবরণ নিচে দেয়া হল :

ম্যানিকিনের মতো মানুষ by মাহমুদ শামসুল হক

চৌষট্টি কলার কথা বলেছেন প্রাচীন ভারতীয় পণ্ডিত বাত্সায়ন। এখন এর সঙ্গে আর দুটো কলা যোগ করা দরকার—বিজ্ঞাপন-কলা এবং প্যাকেজ-কলা। ‘মুক্তবাজার’ নামে যে বাজার অর্থনীতি গড়ে উঠেছে, তাতে এই দ্বিবিধ কলাকে বাদ রাখার আর কোনো রাহা নেই। একালের অর্থনীতিবিদরা যাই বলুন, এখন কলার সংখ্যা ছিষট্টি।

প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি যাওয়া হলো না by শাহ আহমদ রেজা

ভারতের সঙ্গে আওয়ামী লীগ সরকারের সম্পর্কে কোনো এদিক-সেদিক হয়েছে কি-না তা নিয়ে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে কৌতূহল দেখা দিয়েছে। এই কৌতূহলের কারণ, অনেক ঢাকঢোল পেটানো হলেও প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফর হঠাত্ স্থগিত হয়ে গেছে। ১৯ ডিসেম্বর তার দিল্লি যাওয়ার কথা ছিল।

চিকিৎসা সমাজসেবা কার্যক্রমের বেহালদশাঃ গরিব রোগীরা দাঁড়াবে কোথায়?



দেশের বিভিন্ন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের সেবার মান নিয়ে অভিযোগের বহর কেবলই বাড়ছে। কোনোটি অতিশয় রুগ্ন, কোনোটি অর্ধমৃত। কোনোটি হোঁচট খেতে খেতে চলত্শক্তি হারিয়ে ফেলছে। কোনোটি আবার পড়ে আছে মুখ থুবড়ে। বর্তমানে এই তালিকায় যোগ হয়েছে সমাজসেবা অধিদফতরের নাম।

কাঁচা পাট রফতানিতে নিষেধাজ্ঞাঃ ক্ষতির দায়িত্ব কে নেবে?


নির্বাচিত সরকার সাধারণত গণতান্ত্রিক হয়। সব মহলের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সাধারণের স্বার্থে সিদ্ধান্ত নেয়াই তার বৈশিষ্ট্য। তবে সব সময়ই এমনটা হয় না। কখনও কখনও মহলবিশেষের স্বার্থই প্রাধান্য পায়। আওয়ামী মহাজোট সরকারের প্রথম বছর পূর্তির আগেই সর্বত্র গোষ্ঠী বা দলপ্রীতি এমন হয়ে উঠেছে যে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ রাস্তায় নামতে বাধ্য হচ্ছে।

বলদের দিশা by মোহাম্মদ রফিকউজ্জামান



ত ২৭-১০-০৯ তারিখে এই কলামে ‘বদলের দিশা’ শিরোনামে একটি নিবন্ধ লিখেছিলাম। লেখাটা নতুন করে পড়তে গিয়ে, ‘বদল’ শব্দটা কেন জানি মাথায় ঢুকে প্রচণ্ড দাপাদাপি শুরু করল! দাপাদাপি করতে করতে অক্ষরগুলো এলোমেলো হয়ে যেভাবে বেরিয়ে এলো, তা হলো—‘বলদ’।

স্মরণঃ বেগম রোকেয়া by তারাপদ আচার্য্য


বেগম রোকেয়া। ১৮৮০ সালের ৯ ডিসেম্বর রংপুর জেলার মিঠাপুকুর থানার অন্তর্গত পায়রাবন্দ ইউনিয়নে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম জহিরুদ্দিন মোহাম্মদ আবু আলী হায়দার সাবের এবং মায়ের নাম রাহাতুন্নেসা সাবেরা চৌধুরানী। রোকেয়ার পিতা নানা ভাষার ওপর দক্ষ ছিলেন। রোকেয়ার বড় দুই ভাই ছিলেন।

সতীর্থ নওয়াজেশ আহমদ ও তার সময় by এবনে গোলাম সামাদ


মানুষ এক সময় সব দেশেই কৃষিকাজ করেছে পিতৃপুরুষের কাছ থেকে শিখে। সে শিক্ষা চলেছে বংশপরম্পরায়। কৃষি শিক্ষার জন্য কোনো বিশেষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ার কথা কোনো দেশেই ভাবা হয়নি। যাকে বলা হয় বৈজ্ঞানিক কৃষি তা হলো মাত্র শ’তিনেক বছরের ঘটনা।

বিএনপির পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিলে বেগম খালেদা জিয়ার ভাষণের পূর্ণ বিবরণঃ দেশের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ থেকে কঠিন সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত হোন


বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
সম্মানিত দেশি ও বিদেশি আমন্ত্রিত অতিথিগণ,
সহকর্মী নেতৃবৃন্দ, প্রিয় সাংবাদিক এবং সারাদেশ থেকে আগত
কাউন্সিলর ও ডেলিগেট ভাই ও বোনেরা,
আসসালামু আলাইকুম

কোপেনহেগেন সম্মেলন নিয়ে সংশয়ঃ জলবায়ু সংক্রান্ত সমঝোতা কতদূর!



ৎস্য কন্যার প্রতীকধারী কোপেনহেগেন এখন হয়ে উঠেছে আশার শহর। জলবায়ু বিপর্যয় এড়াতে সারা বিশ্বের দৃষ্টি নিবদ্ধ সেখানে। বিশ্ব উষ্ণায়নের জন্য দায়ী কার্বন-ডাই-অক্সাইড বা গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ আরও কমানোর বিষয়টিই ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেনে শুরু হওয়া বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনে আলোচনার প্রধান বিষয়।

বিএনপির পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিলে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয়ঃ দেশবাসীর প্রত্যাশা পূরণ হবে কি?


ত্রুর মুখে ছাই দিয়ে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে গতকাল বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা এবং স্বতঃস্ফূর্ত প্রাণচাঞ্চল্যের মধ্য দিয়ে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হলো বিএনপির পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিল অধিবেশন। দেশের সব প্রান্ত থেকে আসা দলীয় কাউন্সিলর, ডেলিগেট, কর্মী, সমর্থকদের ব্যাপক উপস্থিতি ছাড়াও দেশি-বিদেশি অতিথিদের সমাগমে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বর্ণাঢ্য রূপ পেয়েছিল।

কই যাইবেন ভাই by আল মাহমুদ



লিখেই এক সময় একটা অবস্থায় একদিন উপনীত হবো—এ ধারণা আর আমি পোষণ করি না। লেখাটা হলো পরিশ্রমের কাজ। এটা মানি। কিন্তু পরিশ্রম করলেই যে খুব বেশি একটা কিছু অর্জন করা সম্ভব হবে, এটা আর মানতে ইচ্ছা করে না। তবুও পেশাটা আমার লেখালেখির মধ্যেই আবর্তিত হচ্ছে। এতে খানিকটা স্বস্তির মতো ব্যাপার আমাকে উদ্বেলিত রাখে।

আজ বিএনপির কাউন্সিলঃ সম্ভাবনা ও প্রত্যাশার হিসাব-নিকাশ by ডক্টর নয়ন বাঙ্গালী

কাউন্সিলের ঠিক হুবহু বাংলা জানা নেই, তবে তার সিনোনিমে যে শব্দগুলো আছে সেগুলো হচ্ছে—কংগ্রেস, অ্যাসেম্বলি, কনভেনশন ইত্যাদি। তবে আমরা রাজনৈতিকভাবে সম্মেলন শব্দটি খুব বেশি মনে-প্রাণে আত্মস্থ করেছি। দীর্ঘ ১৬ বছর পর আজ বিএনপির ৫ম জাতীয় কাউন্সিল।

আস্থার সঙ্কটে ভুগছে পুঁজিবাজার by হারুন-আর-রশিদ



পুঁজিবাজারে চলছে এখন চরম অনিয়ম ও অস্থিরতা। পুঁজি হারাচ্ছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। কালো টাকার মালিক যারা তাদের সঙ্গে ডিএসই মেম্বারদের সঙ্গে রয়েছে সখ্য—তারা জানেন কোন কোন কোম্পানির শেয়ারের দাম কখন বাড়বে, সেভাবেই কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করে এক মাসের ব্যবধানেই আয় করে নিচ্ছে দ্বিগুণ টাকা।

বিএনপির জাতীয় কাউন্সিল ও জনপ্রত্যাশা by মাহফুজ উল্লাহ


দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও অনিশ্চয়তা শেষে আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ৫ম জাতীয় কাউন্সিল অধিবেশন। দীর্ঘ প্রতীক্ষা এই কারণে যে, সর্বশেষ কাউন্সিল অধিবেশন হয়েছিল ১৯৯৩ সালে। সে সময় দলটি ক্ষমতায় ছিল। পরবর্তী সময়ে বিরোধী দলে থেকে উপেক্ষিত হওয়ার ও মর্যাদাবঞ্চিত হওয়ার বেদনাও উপলব্ধি করেছে।

জলে-স্থলে দুর্ঘটনাঃ আইনের কঠোর প্রয়োগ দরকার


লে-স্থলে যানবাহন দুর্ঘটনা এখন আকস্মিক কোনো ঘটনা নয়। পত্রিকার পাতায় প্রায় প্রতিদিন প্রকাশিত হচ্ছে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির মর্মান্তিক সংবাদ। গত এক সপ্তাহের মধ্যে দুটি ভয়াবহ নৌযান দুর্ঘটনায় শতাধিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। এ সময় বেশক’টি প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটেছে সড়কপথেও। সর্বশেষ বড় ধরনের বাস দুর্ঘটনার ঘটনাটি ঘটেছে ফরিদপুরে।

উলফা নেতাদের গ্রেফতার নিয়ে ধূম্রজালঃ কার কথা সত্য?


ত কিছুদিনের মধ্যে উত্তর-পূর্ব ভারতের স্বাধীনতাকামী সংগঠন ইউনাইটেড লিবারেশন ফ্রন্ট অব আসামের (উলফা) বেশ ক’জন শীর্ষ নেতার বাংলাদেশে গ্রেফতার হওয়ার পর তাদের গোপনে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেয়ার ঘটনা মিডিয়ায় প্রকাশ হওয়ায় ভীষণ চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে।

সিলেটে ইউপি চেয়ারম্যানদের আলটিমেটাম, শাবিতে শিবিরের ধর্মঘট প্রতিহতের ঘোষণা ছাত্রলীগের

সিলেট অফিস: শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ-ছাত্রশিবির সংঘর্ষের ঘটনার ইন্ধনদাতা সন্দেহে সিলেটের  পৃষ্ঠা ২০ কলাম ১
 সদর উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও জামায়াত নেতা জালাল আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল বিকালে সিলেট নগরীর জেলা পরিষদের সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। জালালাবাদ থানার সাব-ইন্সপেক্টর আবদুল লতিফ বাদী হয়ে পুলিশকে মারধরের অভিযোগে একটি এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহসভাপতি নাঈম হাসান ও মহানগর ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে জালালাবাদ থানায় আরও দু’টি মামলা দায়ের করা হয়। ৩টি মামলায় নাশকতা সৃষ্টির সন্দেহভাজন পরিকল্পনাকারী হিসেবে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে আজকের শিবিরের ডাকা ছাত্রধর্মঘট যে কোনমূল্যে প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছে শাবি শাখা ছাত্রলীগ। অপরদিকে জালাল আহমদকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে ৭২ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছে চেয়ারম্যানরা। আদালত প্রাঙ্গণে তাৎক্ষণিক এক প্রতিবাদ সভায় গতকাল মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে তারা এ আলটিমেটাম দেয়। শিবিরমুক্ত ক্যাম্পাস বর্তমানে ছাত্রলীগের পুরো নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। শিবির ক্যাডাররা ছাত্রধর্মঘট ডাকার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন বাস চালকদের বাস না চালানোর জন্য হুমকি দিয়েছে- উল্লেখ করে গতকাল বাস চালকরা নিরাপত্তা চেয়ে লিখিতভাবে শাবি প্রশাসনকে একটি চিঠি দিয়েছে বলে পরিবহন দপ্তর সূত্রে জানা গেছে। অন্যদিকে শাবি বিএনপি-জামায়াত শিক্ষকরা গতকাল সন্ধ্যায় ভিসি কার্যলয়ে দেখা করে আজকের ক্লাস পরীক্ষা বন্ধের সুপারিশ করেছে বলে বিএনপি-জামায়াত শিক্ষক প্যানেলের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক অধ্যাপক কামাল আহমেদ চৌধুরী জানান। এছাড়া গতকাল বিকাল সাড়ে ৩টায় তিনি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগাঠনিক সম্পাদক এডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ যুদ্ধাপারীদের বিচারে যারা বাধাগ্রস্তকারীদের বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ শক্ত হাতে দমন করবে বলে শাবি ভিসির সঙ্গে দেখা করে ওই মন্তব্য করেন। এ সময় শাবিতে ছাত্রলীগের আনন্দ মিছিলে শিবিরের  হামলার নিন্দা জানান। বুধবার ছাত্রলীগ-শিবির সংঘর্ষের পর শিবির কর্মীরা হল ও ক্যাম্পাস ছেড়ে পালিয়ে যায়। এর পর শিবির ক্যাম্পাসে ঢোকার অংশ হিসেবে আজ ছাত্র ধর্মঘট ডেকেছে। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নাঈম হাসান জানান, ক্যাম্পাস শান্ত রয়েছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের আতঙ্কিত হবার কোন কারণ নেই। শিবিরমুক্ত ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীরা আনন্দ ঊৎসব করবে। শিবিরের অপতৎপরতা সম্পর্কে শাবি ছাত্রলীগের আহ্বায়ক শামসুজ্জামান চৌধুরী সুমন জানান, শাবিতে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ধরে রাখতে শাবি ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা বদ্ধপরিকর।  শাবি শিবির সভাপতি মোজাহিদ রুমি জানান, ধর্মঘট বাস্তবায়নের জন্য সব ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হবে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের প্রতিহত করে মেধাহীন ছাত্র রজানীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে শাবি শাখা ছাত্রশিবির বদ্ধপরিকর। সিলেটের জালালাবাদ থানার ওসি সেলিম আহমেদ মানবজমিনকে জানান, ইউপি চেয়ারম্যান জালালকে গ্রেপ্তার করে তাকে জালালাবাদ থানায় হস্তান্তর করা হয়। ওই মামলায় তাকে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান তিনি। এদিকে সিলেট জেলা পরিষদ মিলনায়তনে সিলেট জেলা দায়রা জজ কর্তৃক আহূত জাতীয় আইনগত সহায়তা সংস্থার এক কর্মশালা থেকে বের হওয়ার পথে জালালাবাদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জালাল আহমদকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে ৭২ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছেন চেয়ারম্যানরা। গতকাল আদালত প্রাঙ্গণে তাৎক্ষণিক এক প্রতিবাদ সভায় নেতৃবৃন্দ এ আলটিমেটাম দেন। এ সময় তারা বলেন, সভাস্থল থেকে ফোন করে ডেকে নিয়ে জেলা পরিষদের প্রধান ফটক থেকে জালাল আহমদকে সাদা পোশাকের পুলিশ কর্তৃক অন্যায়ভাবে  গ্রেপ্তারের ঘটনা অমানবিক ও আইনবহির্ভূত। সিলেট জেলার সকল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন কর্মকর্তাবৃন্দের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এ রকম একটি কর্মশালা থেকে একজন জনপ্রতিনিধিকে গ্রেপ্তারের ঘটনা কোনভাবে মেনে নেয়া যায় না। আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে জালাল আহমদকে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে। অন্যথায় বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ ফোরাম সিলেট জেলা ও বিভাগীয় কমিটি কলম বিরতি সহ কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে।  বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ ফোরাম সিলেট জেলা সভাপতি ও কানাইঘাট সদর ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও ২ নং খাজাঞ্চি ইউপি চেয়ারম্যান মো. নিজাম উদ্দিনের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন টুকের বাজার ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ শহীদ আহমদ, মোগলগাঁও ইউপি চেয়ারম্যান শামছুল ইসলাম, লালাবাজার ইউপি চেয়ারম্যান খায়রুল আফিয়ান চৌধুরী, জালালপুর ইউপি চেয়ারম্যান মাওলানা সোলায়মান আহসান, গোলাপগঞ্জ বাদেপাশা ইউপি চেয়ারম্যান রেহান উদ্দিন রায়হান, লামাকাজী ইউপি চেয়ারম্যান কবির হোসেন ধলা মিয়া, ৬ নং বিশ্বনাথ ইউপি চেয়ারম্যান জালাল উদ্দিন, বাঘা ইউপি চেয়ারম্যান কবির আহমদ, চিকনাগুল ইউপি চেয়ারম্যান মো. জাকারিয়া, কানাইঘাট পূর্ব দীঘির পার ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল মুমিন চৌধুরী, গোয়াইনঘাট আলীরগাঁও ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কাসেম, বিশ্বনাথ ৪ নং রামপাশা ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ার খান, আলী নগর ইউপি চেয়ারম্যান মামুন রশিদ, কানাইঘাট জিংগাবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান রফিক আহমদ চৌধুরী, রাজাগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান ডা. মানিক মিয়া, গৌরীপুর ইউপি চেয়ারম্যান মাওলানা তরিকুল ইসলাম, হাটখোলা ইউপি চেয়ারম্যান হাজী জমির উদ্দিন প্রমুখ।

জারদারিকে কিয়ানির শর্ত

নবজমিন ডেস্ক: টান টান উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে এক টেবিলে মুখোমুখি বসলেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি ও সেনাপ্রধান জেনারেল আশফাক পারভেজ কিয়ানি। প্রেসিডেন্টকে কিয়ানি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন তার ক্ষোভের কথা। বললেন- মেমোগেট কেলেঙ্কারি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানি সেনাপ্রধান ও আইএসআই প্রধানকে জড়িয়ে চীনা একটি পত্রিকাকে যে বক্তব্য দিয়েছেন তাতে তার আপত্তি আছে। প্রধানমন্ত্রীকে ওই বক্তব্য প্রত্যাহার করে নতুন বিবৃতি দিতে হবে। তার এ শর্তের জবাবে প্রেসিডেন্ট জারদারি কি বলেছেন তা জানা যায় নি। অনলাইন ডন জানায়, গতকাল মেমোগেট কেলেঙ্কারি ও জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত অন্যান্য বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ও সেনাপ্রধানের মধ্যে এক ঘণ্টার উপরে আলোচনা হয়। সেনাপ্রধানের আহ্বানে তারা দু’জন মুখোমুখি বসেন। মেমোগেট নিয়ে সেনাপ্রধান ও আইএসআই প্রধান পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টে বিবৃতি দেয়ার পর প্রধানমন্ত্রী তাদের এ কাজকে অসাংবিধানিক আখ্যা দিয়ে চীনের একটি পত্রিকায় বিবৃতি দেন। এতেই ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে সেনাবাহিনী। ওদিকে, পাকিস্তানে অভ্যুত্থান আতঙ্কে সরকার এতটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে যে, বারবারই তারা অভ্যুত্থান ঠেকাতে বিদেশী হস্তক্ষেপ কামনা করছে। এ ধারায় প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারির পর যুক্ত হলেন প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানি। তিনি সরকারকে বাঁচাতে সহায়তা চেয়েছেন যুক্তরাজ্যের। গত বছর ২রা মে ইসলামাবাদের অ্যাবোটাবাদে আল কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেনকে যুক্তরাষ্ট্র হত্যা করার পর সামরিক অভ্যুত্থান আতঙ্কে ছিলেন প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি। তিনি তখন একটি চিরকুটের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা চেয়েছিলেন। এ ঘটনাই সেখানে মেমোগেট কেলেঙ্কারি নামে পরিচিত এবং পাকিস্তান সঙ্কটের শুরু এখান থেকেই। এরপর সেই একই অভ্যুত্থান আতঙ্কে প্রধানমন্ত্রী গিলানি চাইলেন যুক্তরাজ্যের সহায়তা। গত সপ্তাহে পাকিস্তানে সামরিক অভ্যুত্থানের আলামত তৈরি হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী তড়িঘড়ি ফোন করেন ইসলামাবাদে বৃটিশ হাইকমিশনারকে। তার মাধ্যমে অভ্যুত্থান ঠেকাতে সহায়তা চান যুক্তরাজ্যের। কিন্তু বৃটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইলিয়াম হেগ পাকিস্তানবাসীকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন, যদিও দেশে সামরিক অভ্যুত্থান ঘটার আশঙ্কা বাড়ছে। উইলিয়াম হেগ বলেছেন, পাকিস্তানে যেহেতু উত্তেজনা পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে। সেখানে প্রচণ্ড ঝুঁকি আছে। এ অবস্থায় আমরা তা নিয়ে কোন কথা বলবো না। আমরা সরাসরি পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবো না। এই রাজনৈতিক লড়াইয়ে আমরা কোন পক্ষ নিতে যাবো না। এটা পাকিস্তানের জনগণকে নির্ধারণ করতে হবে। বার্তা সংস্থা এপি’র উদ্ধৃতি দিয়ে টাইমস অব ইন্ডিয়া জানায়, ইসলামাবাদে বৃটিশ এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অভ্যুত্থান প্রায় ঘটে চলেছে এমন এক সময় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী গিলানি বৃটিশ শীর্ষ কূটনীতিককে ফোন করেন। তার মাধ্যমে যুক্তরাজ্যের সহায়তা চান। তিনি ফোন করেন ইসলামাবাদে নিযোজিত বৃটিশ হাইকমিশনার অ্যাডাম থমসনকে। তবে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আশফাক পারভেজ কিয়ানির সামরিক অভ্যুত্থানের দিকে তেমন ঝোঁক নেই বলে মনে করেন বেশির ভাগ বিশ্লেষক। তারা মনে করেন, কিয়ানি খুশি হবেন যদি সাংবিধানিক উপায়ে সুপ্রিম কোর্ট সরকারকে বরখাস্ত করে। আর এ জন্যই সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্ট জারদারিসহ কয়েক শ’ রাজনীতিকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলাগুলো পুনরুজ্জীবিত করার জন্য সরকারকে চাপ দিয়েছে। এই সপ্তাহে সুপ্রিম কোর্ট তাদেরকে হুমকি দিয়েছে, মামলাগুলো নিয়ে তারা প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীকে বরখাস্ত করতে পারে। এমনই এক অবস্থায় বেআইনি কর্মকাণ্ডের অভিযোগে প্রধানমন্ত্রী গিলানি বরখাস্ত করেন প্রতিরক্ষা সচিব লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) নাঈম খালিদ লোদিকে, যিনি সেনাপ্রধান কিয়ানির ডানহাত বলে পরিচিত। তাকে বরখাস্তের পরই সেনাবাহিনী প্রধান কিয়ানি কোর কমান্ডারদের জরুরি সভা আহ্বান করেন। এ সময় দেশে-বিদেশে অভ্যুত্থান আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঠিক এ সময়ই প্রধানমন্ত্রী গিলানি ফোন করেন বৃটিশ হাইকমিশনারকে। প্রায় সবারই এখন জানা হয়ে গেছে, প্রেসিডেন্ট জারদারি ও প্রধানমন্ত্রী গিলানির বেসামরিক সরকারকে পছন্দ নয় সামরিক বাহিনীর। পাকিস্তানের ইতিহাসে এ যাবৎ চারবার সামরিক অভ্যুত্থান ঘটে গেছে। সেনাবাহিনী নিজেদের সেখানে সত্যিকার অর্থে একমাত্র অভিভাবক হিসেবে মনে করে- এমন মন্তব্য করেছে অনলাইন ডেইলি মেইল। সর্বশেষ পাকিস্তানে বেসামরিক সরকারের সঙ্গে সেনাবাহিনীর সংঘাত সৃষ্টি হয় সেই মেমোগেট নিয়ে। তা নিয়ে এখন তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টে সেনাপ্রধান কিয়ানি ও সামরিক গোয়েন্দা প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ সুজা পাশা বিবৃতি দিয়েছেন। তার তীব্র সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, তারা এর মাধ্যমে সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন। সব মিলে পাকিস্তান সঙ্কটে জড়িয়ে পড়ে সেনাবাহিনী, সুপ্রিম কোর্ট ও সরকার। তা আস্তে আস্তে জটিল থেকে জটিল আকার ধারণ করে। এখন সেখানে সরকার টেকানোই কঠিন হয়ে পড়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আগামীকাল পার্লামেন্টে আস্থা ভোটের মুখোমুখি হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী গিলানি। গণতন্ত্রপন্থিরা বলে, পাকিস্তানের ইতিহাসে সামরিক অভ্যুত্থান ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় আদালতের হস্তক্ষেপের কারণেই দেশটি বারবার এমন সঙ্কটকালে উপনীত হচ্ছে। এমনিতেই দেশটি নানা জটিল সব সমস্যায় জর্জরিত। এর মধ্যে আছে অর্থনীতি ভেঙে পড়া। আল কায়েদা ও তালেবানপন্থিদের উত্থান। অভিযোগ আছে, দেশটির সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই নিজেই জঙ্গিদের সমর্থন দেয়। গত বছর সাংবাদিক সালিম শাহজাদকে হত্যা করা হয়। এ নিয়ে সরকার নিয়োজিত এক তদন্ত কমিশন তাদের তদন্ত প্রতিবেদন শুক্রবার জমা দিয়েছেন। তাতে তারা আইএসআই’কে আরও বেশি আইন মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছে। ওই সাংবাদিক তার বন্ধুদের বলেছিলেন- তাকে আইএসআই থেকে হুমকি দেয়া হচ্ছে। এ কথা প্রকাশ পাওয়ার পরই তাকে হত্যা করা হয়।
ওদিকে বিলম্বে পাওয়া খবরে জানা যায়, সামরিক অভ্যুত্থান আতঙ্কে প্রধানমন্ত্রী গিলানি বৃটিশ সহায়তা চাননি। এমন কথা বলা হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে। প্রধানমন্ত্রী হাউজ থেকে এক মুখপাত্র এ ধরনের খবর প্রত্যাখ্যান করেছেন।


র‌্যাবের ডগ স্কোয়াডে সরাইলের হাউন্ড কুকুর

জাবেদ রহিম বিজন/মাহবুব খান বাবুল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে: র‌্যাব-এর ডগ স্কোয়াডে যোগ হচ্ছে সরাইলের বিখ্যাত হাউন্ড কুকুর। জার্মান শেফার্ড ও  ল্যাবরেটর প্রজাতির কুকুরের সঙ্গে এগুলোকেও অপরাধ নির্মূলে কাজে লাগানো হবে  পৃষ্ঠা ৮ কলাম ৫
। সহিংসতা প্রতিরোধ ও দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসীদের ধরার কাজে ব্যবহার করার লক্ষ্যে ইতিমধ্যে র‌্যাব সংগ্রহ করেছে হাউন্ড কুকুরের ৪টি বাচ্চা। এদিকে সরকারিভাবেও বিলুপ্তপ্রায় সরাইলের হাউন্ড কুকুর রক্ষার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বন্ধ হয়ে যাওয়া কুকুর সংরক্ষণাগার কেন্দ্রটি আবার চালু করা এবং কুকুরের বর্তমান হাল অবস্থা জানিয়ে ইতিমধ্যে উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ  ঢাকায় প্রতিবেদন পাঠিয়েছে। আশির দশক পর্যন্ত সরাইল সমৃদ্ধ ছিল হাউন্ড কুকুরে। বিখ্যাত এ কুকুর পরিণত হয়েছিল এখানকার ঐতিহ্যে। কুকুরের কারণে সরাইলের নামডাক ছড়িয়ে পড়েছিল দেশ-বিদেশে। ওই সময়টাতে নিয়মিত সরাইলে হাউন্ড কুকুরের প্রদর্শনী হতো। যার কুকুর সবদিক দিয়ে ভাল তাকে দেয়া হতো পুরস্কার। ছিল কুকুর সংরক্ষণাগার কেন্দ্র। বাড়ি বাড়ি ছিল এই কুকুর। শুধু শখে নয়, নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়েই গৃহস্থরা পুষতেন এই কুকুর। বলা হয়, যে বাড়িতে এ কুকুর ছিল সে বাড়িতে রাতে তো বটেই, দিনের বেলায়ও অপরিচিত কোন লোকের ঢোকার সাধ্যি ছিল না। মোটকথা, একটি কুকুর নিজ গৃহস্থের বাড়ি যেমন বিশ্বস্ততার সঙ্গে পাহারা দিয়েছে তেমনি পুরো পাড়া-মহল্লাবাসীকেই রেখেছে নিরাপদ। এ অবস্থা এখন আর নেই। হাতেগোনা কয়েকটি বাড়িতে দেখা মিলে কুকুরের। তাও আসল নয়। শুধু কুকুরের সাহসিকতার গল্পই ফিরে মানুষের মুখে মুখে। সরাইলের জমিদার দেওয়ান মোস্তফা আলীই প্রথম এ জাতের কুকুর সরাইলে নিয়ে আসেন। এদের আদিবাস ইউরোপে। ইতিহাসে বলা হয়, ২ শতাধিক বছর আগে তদানিন্তন সরাইল পরগনার জমিদার দেওয়ান মন্নর আলী এক আফগান সওদাগর মতান্তরে ইংরেজ সাহেবের কাছ থেকে হাতীর বিনিমেয় বিশেষ জাতের এক মাদী কুকুর সংগ্রহ করেন। একদিন এ জমিদার জঙ্গলে শিকারে গেলে সঙ্গে থাকা মাদী কুকুরটি হারিয়ে যায়। ৬ মাস পর এটি গর্ভবস্থায় ফিরে আসে। বাচ্চা প্রসব করার পর দেখা যায় এগুলোর আকার আকৃতি সাধারণ কুকুরের চেয়ে ভিন্নতর। এগুলো বড় হয়ে বাঘের বাচ্চার মতো আচরণ করতে শুরু করলে সবাই ধারণা করেন, মাদী কুকুরটির সঙ্গে জঙ্গলে কোন বাঘের মিলন ঘটেছিল। সরাইল উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মজিবুর রহমান জানান, এই কুকুরগুলোর লেজ থাকে নিচের দিকে। এগুলো লম্বাটে এবং চিকন হয়। পায়ের থাবাগুলো বাঘের মতো। মুখ লম্বাটে ধরনের হয় এবং খুব দৌড়াতে পারে। ঘণ্টায় একটি কুকুর ৬৭ কিলোমিটার দৌড়াতে পারে বলে ধারণা পাওয়া যায়। প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আর জানান, দেশীয় কুকুরের সঙ্গে মিশ্রণে এর অরিজিনাল জাতটি এখন হারিয়ে যেতে বসেছে। তারপরও বর্তমানে যেগুলো আছে সেগুলো অন্যান্য কুকুরের চেয়ে ভাল। সরজমিন কুকুর পালনকারীদের সঙ্গে কথা বলে বিশেষ জাতের এ কুকুর বিলুপ্তির নানা কারণ জানা গেছে। একজন মানুষের পেছনে যে খরচ হয় তার চেয়েও বেশি খরচ হয় একটি হাউন্ড কুকুর পালনে। সপ্তাহে ২/৩ দিন মাংস খেতে দিতে হয়। আর জন্মের পর ৬ মাস পর্যন্ত খাওয়াতে হয় দুধ। এ খরচ জোগানের সঙ্গতি না থাকা, যথাযথ পরিচর্যার অভাব এবং চিকিৎসা অপ্রতুলতা কুকুর বিলুপ্ত হওয়ার মুখ্য কারণ বলে জানান সৌখিন কুকুর পালনকারী  শরীফ আবদুল্লাহ রানা ও তপন লাল রবি দাশ। সরাইলের নোয়াগাঁও ইউনিয়নের চৌরাগোদা গ্রামের তপনরা তিন পুরুষ ধরেই কুকুর লালন পালন আর বিক্রির কাজ করছেন। সরাইল হাউন্ড কুকুরের ঠিকানা বলতে এখন তপনের বাড়ি। কেউ কুকুর দেখতে চাইলে বা কিনতে চাইলে তপনদের বাড়িতেই নিয়ে আসা হয়। র‌্যাব তপনের কাছ থেকেই কিনেছে ৪টি বাচ্চা। তার মতে, পৃষ্ঠপোষকতার অভাবই কুকুর বিলুপ্তির প্রধান কারণ। তপন বলেন, আমরা ১০/১২টি কুকুর পালি। কুকুরের বাচ্চা বেচা বিক্রি করি। অনেক সময় বাচ্চা টিকেও না। ৫/৬টা বাচ্চা দিলে ২/৩টা টিকে। মোটকথা ধারদেনা করেই আমাদের এগুলো লালন পালন করতে হয়। কেউ সাহায্য করে না।
১৯৮৩ সালে সরকারিভাবে হাউন্ড কুকুর রক্ষার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। তখন ৩২ হাজার টাকা ব্যয়ে উপজেলা পরিষদের কাছে ৪ কক্ষবিশিষ্ট কুকুর সংরক্ষণাগার কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু নানা অনিয়ম দুর্নীতির কারণে ২/৩ বছরের মধ্যে এটি বন্ধ হয়ে যায় বলে অভিযোগ আছে। বর্তমানে এই কেন্দ্রটি ব্যবহৃত হচ্ছে উপজেলা আনসার ও ভিডিপি অফিস হিসেবে। বেশ কয়েক বছর আগে ড. জিয়াউদ্দিন ঠাকুর নামে এখানকার এক সৌখিন কুকুর পালনকারী স্থানীয় বিসিক শিল্প নগরীতে একটি প্লট নিয়ে একটি খামার করেছিলেন। কিন্তু তার এ চেষ্টাও  সফল হয়নি। তবে আশার কথা হচ্ছে, কুকুরগুলো রক্ষায় আবারও সরকারিভাবে উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি র‌্যাবও বিশেষ জাতের এ কুকুরের ব্যাপারে আগ্রহী হয়ে উঠেছে।
আবার কুকুর রক্ষার চেষ্টা: ২৩/২৪ বছর পর বিশেষ জাতের এ কুকুর রক্ষায় নেয়া হচ্ছে আবার সরকারি উদ্যোগ। স্থানীয় সংসদ সদস্য এডভোকেট জিয়াউল হক মৃধা ২০০৯ সালের ২২শে ডিসেম্বর মৎস্য ও পশুসম্পদ মন্ত্রণালয়ে সরাইলের হাউন্ড কুকুর রক্ষায় উদ্যোগ গ্রহণের জন্য একটি ডিও লেটার দেন। এতে তিনি বলেন, প্রচণ্ড রকম হিংস্র, সাহসী ও প্রভুভক্ত হওয়ায় অল্প দিনের মধ্যে এ কুকুরের সুনাম ছড়িয়ে পড়েছিল দেশ-বিদেশে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কুকুরের এ প্রজাতিটিকে রক্ষার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে কিছু পরিকল্পনা হাতে নিয়েছিলেন। তার মৃত্যুর পর সেগুলো আর আলোর মুখ দেখেনি। ১৯৮৩ সালে জাতীয় পার্টির সরকারের সময় এ কুকুর রক্ষায় সরকারিভাবে একটি খামার করা হয়। ১৯৮৮ সালে অর্থাভাবে তা বন্ধ হয়ে যায়। তিনি ডিও লেটারে এ খামারটি আবার চালু করার দাবি জানান। সংসদ সদস্য এটি সংসদেও উত্থাপন করেন। উপজেলা সমন্বয় কমিটির সভায় এ নিয়ে আলোচনা হয়। সরাইল উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মজিবুর রহমান জানান, সংসদ সদস্যের ডিও লেটারের প্রেক্ষিতেই মন্ত্রণালয় থেকে আমাদের কাছে খামারটির বর্তমান অবস্থা এবং এতে ক’টি কুকুর আছে তা জানতে চাওয়া হয়। এরপর উপজেলা চেয়ারম্যানকে সঙ্গে নিয়ে আমরা এ বিষয়ে একটি জরিপ করি এবং খামারের জায়গাটির বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে ঢাকায় প্রতিবেদন পাঠিয়ে দেই।
র‌্যাবের খাঁচায় হাউন্ড কুকুর: সরাইলের কুকুরের বিশেষ গুণ আগ্রহী করে তুলেছে র‌্যাবকে। হাউন্ড কুকুরের ৪টি বাচ্চা এখন বেড়ে উঠছে র‌্যাবের খাঁচায়। জানা গেছে, এগুলোকে প্রশিক্ষিত করে লাগানো হবে অপরাধ দমন কাজে। এই কুকুর দিয়েই গঠন করা হবে র‌্যাবের দাঙ্গা দমন ইউনিট। বর্তমানে র‌্যাবের ডগ স্কোয়াডে জার্মান শেফার্ড ও ল্যাবরেটর প্রজাতির ৭৪টি কুকুর রয়েছে বলে জানা যায়। এই কুকুরগুলো বিস্ফোরক, অস্ত্র ও মাদক বিষয়ে প্রশিক্ষিত। এর সঙ্গে প্রাথমিকভাবে সরাইলের আরও ১২টি কুকুর যোগ করা হবে। মাস দেড়েক আগে নোয়াগাঁও ইউনিয়নের চৌরাগোদা গ্রামের তপন লাল রবি দাসের বাড়ি থেকে ৩০ হাজার টাকায় ৪টি বাচ্চা কিনে নেয় র‌্যাব। এ ব্যাপারে র‌্যাব-৯ কর্মকর্তা মেজর মো. আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, আমরা সরাইল থেকে কুকুরগুলো সংগ্রহ করে র‌্যাব হেড কোয়ার্টারে পাঠিয়ে দিয়েছি। এগুলো র‌্যাব ডগ স্কোয়াডে সংযোজন করা হবে। আমরা আরও হাউন্ড কুকুরের পুরুষ বাচ্চা সংগ্রহ করবো।

রাস্তার গর্ত দ্রুততম সময়ে মেরামতের নির্দেশ যোগাযোগমন্ত্রীর

স্টাফ রিপোর্টার: যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের দেশের সড়ক, মহাসড়কগুলোতে সৃষ্ট গর্ত ভরাট করে দ্রুততম সময়ে চলাচল উপযোগী করার নির্দেশ দিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট সকলকে সতর্ক করে দিয়ে তিনি বলেন, মাঠপর্যায়ে কোথাও কেউ দায়িত্বে অবহেলা করলে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে। গতকাল শনিবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মন্ত্রী সড়ক ভবনে অফিস করেন। তিনি সাতটি ডিভিশনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীদের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন। রাস্তার কোথায় কোথায় খানাখন্দক হয়েছে, কোথায় কতটুকু মেরামত করতে হবে, কতটা করা হয়েছে বিস্তারিত জানতে চান। সড়ক, মহাসড়ক ঝুঁকিমুক্ত চলাচল উপযোগী রাখার নির্দেশ দিয়ে মন্ত্রী মেরামত কাজের সময়সীমাও নির্ধারণ করে দেন।

আখেরি মোনাজাত আজ, তুরাগ তীরে মুসল্লির ঢল

ইকবাল আহমদ সরকার/ এম,এ হায়দার সরকার, টঙ্গী থেকে ফিরে: লাখো মুসল্লির জিকির-আজকার ও তাবলীগের শীর্ষ মুরব্বিদের তাৎপর্যপূর্ণ বয়ানের মধ্য দিয়ে ধর্মীয় ভাবগম্ভীর পরিবেশে গতকাল বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয়  পৃষ্ঠা ৮ কলাম ১
দিন অতিবাহিত হয়েছে। মুসল্লিদের জিকির-আজকার আর ইবাদত-বন্দেগীতে টঙ্গীর তুরাগ তীরের বিশাল এলাকা পবিত্র পুণ্যভূমিতে পরিণত হয়েছে। আজ দুপুরে আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটবে বিশ্ব তাবলীগ জামাতের ৪৭তম ইজতেমার প্রথম পর্ব।
আখেরি মোনাজাতে প্রেসিডেন্ট জিল্লুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়া, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা এবং মুসলিম বিশ্বের কূটনীতিকরা অংশ নেবেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য ইজতেমা ময়দানের পূর্ব পাশে বাটা সু ফ্যাক্টরিতে ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জন্য এটলাস হোন্ডা ফ্যাক্টরিতে বিশেষ মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট জিল্লুর রহমান ইজতেমার মূল মঞ্চের পাশে স্থাপিত বিশেষ মঞ্চে অবস্থান নিয়ে আখেরি মোনাজাতে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে।
বয়ান ও মোনাজাত: তাবলীগ জামাতের শীর্ষ মুরব্বি ভারতের মাওলানা যোবায়েরুল হাসান আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করবেন। গতকাল ফজরের পর মুসল্লিদের উদ্দেশে বয়ান শুরু করেন পাকিস্তানের মাওলানা মো. এহসান, জোহরের পর বাংলাদেশের মাওলানা নুরুল হক, আসরের পর তাবলিগ মারকাজের বর্তমান প্রধান দিল্লির হজরত মওলানা যোবায়েরুল হাসান এবং মাগরিব নামাজের পর ভারতের আহম্মদ লাট বয়ান করেন। রোববার সকাল থেকে মোনাজাতের আগ পর্যন্ত চলবে হেদায়েতি বয়ান। অন্য যে কোন বছরের তুলনায় এবার ইজতেমা ময়দানে অধিক সংখ্যক মুসল্লির সমাবেশ ঘটেছে।
ইবাদত-বন্দেগীর পরিবেশ: ইজতেমাস্থল ঘুরে ময়দানের চারদিকে শুধু ইবাদত-বন্দেগীর পরিবেশ  দেখা যায়। ধনী-গরিব নির্বিশেষে দেশ-বিদেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানগণ সুবিশাল প্যান্ডেলের নিচে মহান আল্লাহ তায়ালার জিকিরে মশগুল ছিলেন। যাতায়াত, থাকা-খাওয়া, বিশ্রাম, টয়লেট ব্যবস্থার ক্ষেত্রে নানা অসুবিধা সত্ত্বেও ধর্মপ্রাণ মুসলমানগণ নীরবে আল্লাহকে খুশি করতে যেন নিবেদিত ছিলেন সবাই।
ঈমান, আমল ও দাওয়াতের বয়ান: বিভিন্ন সময়ে দেশ-বিদেশের শীর্ষস্থানীয় তাবলীগ জামাতের মুরব্বিগণ ঈমান, আমল ও দাওয়াতের মেহনত সম্পর্কে বয়ান করেন। বয়ানে তারা বলেন, দুনিয়া ও আখেরাতে কামিয়াবির একমাত্র তরিকা হচ্ছে ঈমান ও আমলের মেহনত করা। তারা পবিত্র কোরআন ও সুন্নাহর যথার্থ অনুসরণ-অনুশীলনের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে বলেন, দুনিয়াতে শান্তি ও আখেরাতে মুক্তি পাওয়ার এটাই একমাত্র পথ। মানব জাতিকে সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে অতি উচ্চ মর্যাদা দিয়ে মহান আল্লাহ তায়ালা দুনিয়ায় প্রেরণ করেছেন। দাওয়াতে তাবলীগের মেহনত ছাড়া ঈমান জিন্দাহ থাকে না উল্লেখ করে আলেমগণ বলেন, জিন্দেগির প্রতিটি কাজ করতে হবে আল্লাহর হুকুম ও হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর তরিকা মোতাবেক। বয়ানে ঈমানি শক্তির ওপর গুরুত্বারোপ করে তাবলীগের মুরব্বিগণ বলেন, মহান আল্লাহ প্রদত্ত ও রাসুল (সা.) প্রদর্শিত পথই হতে হবে মোমেনদের একমাত্র পাথেয়। যার ঈমানি শক্তি যতো বেশি, সে ততো বেশি দ্রুত আখেরাতের পুলসিরাত পার হয়ে বেহেশতে যাবে এবং বেহেশতের পরিপূর্ণ নিয়ামত পাবে। তাই দ্বীনের ওপর চললে দুনিয়া ও আখেরাতে কামিয়াবি হওয়া যাবে। নিজের ইচ্ছামতো না চলে আল্লাহর হুকুম মতো চললে আল্লাহ পুরো কামিয়াবি দান করবেন। আল্লাহ মোমেনদের যেসব নেয়ামত প্রদানের ওয়াদা করেছেন, পরিপূর্ণ আমল করলেই সেসব নেয়ামত পাওয়া যাবে। আমল ভাল না হলে, জীবনের সর্বক্ষেত্রে পরিণতি খারাপ হয়ে যেতে পারে। মাওলানাগণ ইজতেমায় সমবেত তাবলীগ অনুসারীদের উদ্দেশে বলেন, দুনিয়ার সর্বক্ষেত্রে ধর্মীয় পরিবেশ গড়ে তোলার চেষ্টা করতে হবে। মানুষ সবচেয়ে বেশি আনন্দ উপভোগের সময় নিজেকে ছাড়া সবকিছু ভুলে যায়। রাসুল (সা.)-এর জীবনের সবচেয়ে আনন্দের মুহূর্তটি ছিল আল্লাহর নৈকট্য লাভের সময়। কিন্তু তিনি তখনো তার উম্মতের কথা ভুলে যাননি।
যৌতুকবিহীন বিয়ে: ইজতেমার রেওয়াজ অনুসারে এখানে প্রতিবছর দ্বিতীয় দিন বাদ আছর যৌতুকবিহীন বিয়ের আসর বসে। অভিভাবকরা আগেই নবদম্পতিদের নাম তালিকাভুক্ত করেন। প্রতিবারের মতো ইজতেমার দ্বিতীয় দিনে শনিবার বিকালে ইজতেমাস্থলে হজরত ফাতেমা (রা.) ও হজরত আলীর (রা.) বিয়ের দেনমোহর অনুসারে  যৌতুকবিহীন বিয়ে সম্পন্ন হয়।
ইজতেমার মূল মঞ্চে কনের অভিভাবক ও বরের উপস্থিতিতে আসরের নামাজের আগে অর্ধশতাধিক জোড়া বর-কনের বিয়ে যৌতুকবিহীন পড়ানো হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। বিয়ে শেষে মঞ্চে খেজুর ও মিষ্টি বিতরণ করা হয়।
গোয়েন্দাদের তীক্ষ্ন নজরদারি: বিশ্ব ইজতেমা উপলক্ষে নিরাপত্তার বলয়ে ঘিরে ফেলা হয়েছে গোটা টঙ্গী শিল্প নগরী। পুরো টঙ্গী এখন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গোয়েন্দা সদস্যদের তীক্ষ্ন নজরদারিতে রয়েছে। টঙ্গীর ২৫টি স্কুল-কলেজ এখন পুলিশ ব্যাটালিয়ন আনসারসহ বিভিন্ন ধরনের নিরাপত্তা কর্মীদের আবাসকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলার দায়িত্বে কাজ করছেন প্রায় ১০ হাজার নিরাপত্তা কর্মী। মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে র‌্যাব সদস্যরা চেকপোস্ট বসিয়ে যানবাহনে তল্লাশি চালাচ্ছে ইজতেমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে। র‌্যাব তাদের কন্ট্রোল রুম থেকে ৬০টি সিসি টিভির পাশাপাশি মুভি ক্যামেরার মাধ্যমে গোটা মাঠ মনিটরিং করছে । সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সদস্যরা প্যান্ডেলের বিভিন্ন খিত্তায় বিচরণ করছেন। র‌্যাবের তুরাগ নদীতে স্পিডবোট ও আকাশে হেলিকপ্টারের বিশেষ টহল অব্যাহত রয়েছে। তাবলীগের বিদেশী মুসল্লিগণও সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা নিয়ে সন্তুষ্ট। তারা বলছেন, বাংলাদেশের ইজতেমায় এসে সবাই খুশি।
পুলিশ প্রশাসন প্যান্ডেলের ভেতরে নাশকতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে যাতে অপ্রত্যাশিত লোকজন ঢুকতে না পারে, সে জন্য সাদা পোশাকে গোয়েন্দ নিয়োগ করেছে। সবুজ টুপি পরা প্রায় হাজার খানেক সাদা পোশাকি পুলিশ ইজতেমার গেইটে এবং ভেতরে তল্লাশি চালচ্ছে। পুলিশ, র‌্যাব ও ইজতেমার নিজস্ব পাহারাদারগণ মাঠের চারদিকে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার জন্য নিরলস পরিশ্রম করছেন। ইজতেমা মাঠ ও আশপাশের এলাকা থেকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা শুক্রবার রাত ও শনিবার বিকালে কমপক্ষে ১৫ পকেটমার ও সন্দেহজনক লোকজনকে আটক করেছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে শনিবার দুপুরে ইজতেমা মাঠ সংলগ্ন পুলিশ কন্ট্রোল রুমে ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। এতে ব্রিফিং দেন পুলিশের ডিআইজি মো. আসাদুজ্জামান মিয়া। এ সময় সংসদ সদস্য আকম মোজাম্মেল হক ও জাহিদ আহসান রাসেল বক্তব্য রাখেন।
মহিলাদের ভিড়: বিশ্ব ইজতেমায় মহিলাদের অংশগ্রহণ ও অবস্থানের কোন সুযোগ নেই। তাদের জন্য কোন প্যান্ডেল তো দূরের কথা ইজতেমায় আসার ব্যাপারে আয়োজক কর্তৃপক্ষের বিধি-নিষেধও রয়েছে। তারপরও আখেরি মোনাজাতে অংশ নিতে দূর-দূরান্ত থেকে এসে হাজার হাজার মহিলা ইজতেমা মাঠের বাইরে, আত্মীয়-স্বজনের বাসায় বিশেষ করে তুরাগ নদীর পশ্চিম পাড়ে অবস্থান নিয়েছেন। তাদের অনেকেই ঠাঁই নিয়েছেন খোলা আকাশের নিচে।
আরও ২ মুসল্লির মৃত্যু : ইজতেমা ময়দানে আব্দুল মজিদ (৬৫) ও শফিউল্লাহ চৌধুরী নামের আরও ২ মুসল্লির মৃত্যু হয়েছে। মজিদের বাড়ি বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জের চাদপাশা গ্রামে। বার্ধক্যজনিত কারণে মৃত্যু হলে শুক্রবার এশার নামাজের পর জানাজা শেষে রাতেই লাশ গ্রামের বাড়িতে পাঠানো হয় । শফিউল্লাহর বাড়ি ভোলা জেলার দৌলতখান তানার চরপাতা গ্রামে।
সাড়ে ১৭ হাজার বিদেশী মুসল্লি: শনিবার দুুপুর পর্যন্ত ৮০টি দেশের প্রায় সাড়ে ১৭ হাজার বিদেশী মুসল্লি ইজতেমাস্থলে এসেছেন। বিভিন্ন ভাষাভাষী ও মহাদেশ অনুসারে ইজতেমা ময়দানে বিদেশী মেহমানদের জন্য প্রায় ৩০টি তাঁবু নির্মাণ করা হয়েছে। সেখানে তাদের জন্য কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনী, সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ, টেলিফোন, মেডিকেল জামাত, অগ্নি নির্বাপক যন্ত্রসহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা রাখা হয়েছে।
ঘরে ঘরে মেহমান: টঙ্গীর ঘরে ঘরে এখন ইজতেমার মেহমান। অনেক সময় দাওয়াত দিয়েও যাদের আনা সম্ভব হয় না, তাদের অনেকে আখেরি  মোনাজাতে অংশ নিতে এসে টঙ্গীতে আত্মীয়ের বাসায় উঠেছেন। আর বাড়তি আত্মীয়দের পেয়ে কারোরই ক্লান্তি নেই যেন মেহমানদারিতে। অনেক বাসাবাড়িতে এজন্য আলাদা প্রস্তুতিও রয়েছে।
অস্থায়ী বাজার জমে উঠেছে: বিশ্ব ইজতেমা উপলক্ষে মুসল্লিদের সুবিধার্থে ইজতেমা ময়দানের আশপাশে গড়ে উঠেছে ৫টি অস্থায়ী বাজার। এখানে পাওয়া যাচ্ছে প্রয়োজনীয় সবকিছুই। মন্নু টেক্সটাইল, অলিম্পিয়া টেক্সটাইল মিলস, সেনাকল্যাণ ভবন সংলগ্ন মাঠ, কামারপাড়াসহ এসব অস্থায়ী বাজারে বালিশ-কম্বল, জুতা-সেন্ডেল, পাজামা-পাঞ্জাবি, টুপি, হাঁড়ি-পাতিল, চুলা, শীতবস্ত্র, কাঁচা বাজারসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সবকিছুই পাওয়া যাচ্ছে। তবে এসব বাজারে বেশি দরে পণ্য বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে।
হোগলা পাটির বাজার: বছরের অন্য সময়  হোগলার চাটাইয়ের তেমন কদর না থাকলেও ইজতেমা উপলক্ষে এর দাম বেড়ে গেছে।  নোয়াখালীর নাছিরডুগী এলাকা থেকে অনেক ব্যবসায়ী এই চাটাই নিয়ে এসেছেন ইজতেমায় বিক্রির জন্য। ছোট থেকে বড় সাইজের প্রতিটি চাটাই ৩০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বান্দরবানে ৫০০ ফুট খাদে বাস নিহত ১৭

বান্দরবান প্রতিনিধি: বান্দরবান থানছি উপজেলার বিনতেপাড়ায় একটি যাত্রীবাহী বাস ৫০০ ফুট গভীর খাদে পড়ে নিহত হয়েছে ১৭ জন। এ ঘটনায় আহত ৩৫ জনের মধ্যে ২৫ জনকে     পৃষ্ঠা ৮ কলাম ১
বান্দরবান সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাসের চালক সুভাস দাশসহ ১০ জনকে মুমূর্ষু অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পর পর সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ ও রেডক্রিসেন্টের কর্মীরা উদ্ধার তৎপরতা চালায়। বিজিবি’র বলিপাড়া ১০ ব্যাটালিয়ন কমান্ডার লে. কর্নেল নুরুল মোমেন চৌধুরী জানান, সকাল ৮টায় ‘পাহাড়িকা’ নামের একটি যাত্রীবাহী বাস (চট্ট-মেট্টো-গ-১১-০২৭৬) বান্দরবানের উদ্দেশ্যে থানছি থেকে যাত্রা করে। সকাল সাড়ে ৮টায় জেলা শহর থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরে এই দুর্ঘটনার কবলে পড়ে বাসটি। থানছি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিয়ামত-উল করিম পাটোয়ারী জানান, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি ৫০০ ফুট গভীর খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলে ১৩ জনের মৃত্যু হয়। হাসপাতালে নেয়ার পর আরও ৪ জনের মৃত্যু হয়।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগে সিভিল সার্জন ডা. মংতেঝ-এর নেতৃত্বে চিকিৎসকরা রোগীদের চিকিৎসা সেবা দেয়। পাশাপাশি সেনাবাহিনীর চিকিৎসক ও নার্সরাও রোগীদের চিকিৎসায় এগিয়ে আসেন। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ১০ জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
নিহতদের মধ্যে ১০ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। এরা হলেন, উহ্লাচিং মেম্বার, ডচিংনু, কিসিংনু মারমা, ক্যাচিং, চিংসাঅং, সশং ত্রিপুরা, ফ্রাইনসিস ত্রিপুরা, মামা থুই, রিন্টু চাকমা, জ্যাকব ত্রিপুরা। বাকিদের পরিচয় জানা জায়নি। নিহতদের মধ্যে ৪ জন পর্যটক রয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা করিতাসের ২ জন এবং স্বাস্থ্য বিভাগে মাঠকর্মী রয়েছেন।
স্থানীয় জনগণের সহায়তায় সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিজিবি ও রেডক্রিসেন্টের সদস্যরা আহতদের সেবায় এগিয়ে আসেন। বান্দরবান সফররত চট্টগ্রামে অতিরিক্ত ডিআইজি বিশ্বাস আফজাল হোসেন, পুলিশ সুপার মো. কামরুল আহসান, বান্দরবান পৌরসভার মেয়র মোহাম্মদ জাবেদ রেজা আহতদের দেখতে বান্দরবান সদর হাসপাতালে ছুটে যান। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহত পরিবার প্রতি নগদ ৫ হাজার টাকা এবং ৫০০ কেজি চাল দেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়। বিজিবি, পুলিশ ও এলাকাবাসী জানান, থানচি থেকে বান্দরবান যাওয়ার পথে বিনতেপাড়া এলাকায় উঁচু পাহাড়ি পথ দিয়ে নামার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি কমপক্ষে ৫০০ ফুট নিচে খাদে পড়ে যায়।
সিরাজগঞ্জে নিহত ৩, আহত ১
ওদিকে সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল-বনপাড়া মহাসড়কের সলঙ্গা থানার রামারচর নামক স্থানে দ্রুতগামী যানবাহন ও শ্যালো ইঞ্জিন চালিত ভুটভুটির সংঘর্ষে চালকসহ ৩ জন নিহত ও ১ যাত্রী আহত হয়েছে। এরা হলো- ভুটভুটির চালক তাড়াশ উপজেলার মাধাইনগর ইউনিয়নের হারু সেখের ছেলে হাসান শেখ (৪০), ভুটভুটির যাত্রী একই উপজেলার মাধাইনগর গ্রামের আফসার আলীর ছেলে আবদুল খালেক (৩৫) ও সলঙ্গা থানার শ্রীরামপাড়ার মৃত শুকুর আলীর ছেলে সাখাওয়াত হোসেন (২৮)। আহত সলঙ্গা থানার শ্রীরামপাড়ার মোক্তার হোসেনের ছেলে লাবু শেখ (২৫)কে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বগুড়ার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
নিহত চাঁদপুরের দু’জনের
বাড়িতে মাতম
চাঁদপুর প্রতিনিধি জানান, বান্দরবানে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত দু’জনের পরিবারে চলছে শোকের মাতম। গতকাল সকালে ওই সড়ক দুর্ঘটনায় চাঁদপুরের রাজীব চৌধুরী (৪০) ও মো. হাসান (৩৯) নামের দু’জন নিহত হন। রাজীব চৌধুরী শহরের জোড়পুকুরপাড় এলাকার মৃত ওদুদ চৌধুরীর ছেলে। তারা ৪ ভাই ও ৩ বোন। তার স্ত্রী ও দুই সন্তান রয়েছে। রাজীব পেশায় কাপড় ব্যবসায়ী ছিল। দুর্ঘটনায় অপর নিহত মো. হাসান (৩৯) চাঁদপুর শহরের পালপাড়া এলাকায় থাকে। হাসান পেশায় একজন ঠিকাদার ও অবিবাহিত।

ঢাকা উত্তরের নগর ভবন হচ্ছে কাওরানবাজারে

 কাজী সোহাগ: নতুন নগর ভবন নির্মাণের জন্য চিঠি পাঠিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সদ্য নিযুক্ত প্রশাসক খোরশেদ আলম চৌধুরী। চিঠিতে তিনি নতুন নগর ভবন রাজধানীর কাওরানবাজারে স্থাপনের পরামর্শ দিয়েছেন। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তার ওই প্রস্তাবকে গ্রহণযোগ্য   পৃষ্ঠা ১৭ কলাম ১
 বলে জানানো হয়েছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। শিগগিরই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক করে বিষয়টির সুরাহা করা হবে। এর আগে করপোরেশনের জন্য কাওরানবাজারের জনতা টাওয়ারের দুটি ফ্লোর বরাদ্দ দেবে সরকার। আন্তঃমন্ত্রণালয়ের বৈঠক ডেকে ফ্লোর বরাদ্দের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হবে। পরে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের জন্য কাওরানবাজারে সাড়ে তিন কাঠা জমির ওপর নির্মিত হবে নগর ভবন। এ বিষয়ে করপোরেশনের প্রশাসক খোরশেদ আলম চৌধুরী মানবজমিনকে বলেন, আমরা স্থায়ী নগর ভবনের জন্য সুপারিশ করেছি। আশা করি কয়েক বছরের মধ্যে নগর ভবন নির্মাণের কাজ শেষ হবে। উত্তর সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এক মাস অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত করপোরেশনের অফিস গোছানোর কাজ শেষ হয়নি। তাই পুরোদমে নাগরিক সেবা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না।
প্রশাসকের চিঠিতে যা বলা হয়েছে: স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু আলম মো. শহিদ খানকে দেয়া চিঠিতে প্রশাসক লিখেছেন, আপনার সদয় অবগতির জন্য জানাচ্ছি যে, মেয়র ভবন ৮১, গুলশান এভিনিউতে নবগঠিত ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের কার্যালয় স্থাপন করা হয়েছে। বর্তমানে মেয়র ভবনে যে কয়টি কক্ষ রয়েছে প্রয়োজনের তুলনায় তা নিতান্তই অপ্রতুল। এ করপোরেশনের ওপর অর্পিত দায়িত্ব সুচারুরূপে সম্পাদনের জন্য প্রায় ১৮টি বিভাগ দায়িত্ব পালন করে। এসব বিভাগে প্রায় এক হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োজিত থাকবে। বর্তমানে মেয়র ভবন, মেয়র ভবনের পাশের একটি ছোট্ট অস্থায়ী শেড ও বনানী কমিউনিটি সেন্টারে অবস্থিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যালয়ের ৮টি কক্ষের অপ্রতুল স্থানে করপোরেশনের ওপর অর্পিত দায়িত্ব ও কার্যক্রম পরিচালনা দুরূহ হয়ে পড়েছে। চিঠিতে যুক্তি তুলে ধরে দুটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দেয়া হয়। প্রথম প্রস্তাবে বলা হয়েছে, বহুতলবিশিষ্ট জনতা টাওয়ার ভবন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সদর দপ্তরের জন্য উপযুক্ত স্থান হতে পারে। এ ভবনটি বর্তমানে অব্যবহৃত অবস্থায় রয়েছে। এ বিষয়ে আমি পূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মহোদয়ের সঙ্গে আলাপ করেছি। তিনি আমাকে জানিয়েছেন, ভবনটি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অনুকূলে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। উক্ত ভবন থেকে আংশিক ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনকে বরাদ্দ দেয়া যায় কিনা তা একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেয়া যেতে পারে। এ ভবনটি বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত সমস্যার সমাধান হতে পারে। চিঠির দ্বিতীয় প্রস্তাবে বলা হয়েছে, কাওরানবাজার এলাকায় অবস্থিত বিদ্যমান কাঁচাবাজারটি মহাখালী, আমিনবাজার ও যাত্রাবাড়িতে নবনির্মিত ৩টি পাইকারি কাঁচাবাজারে স্থানান্তরিত হচ্ছে। ফলে করপোরেশনের মালিকানাধীন সাত দশমিক ৮৬৬১ একর জমি পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকবে। সার্বিক বিবেচনায় সদর দপ্তরের জন্য স্থানটি অত্যন্ত উপযোগী। এ স্থানে ভবন নির্মাণে উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে। তবে এ প্রস্তাবটি বাস্তবায়ন সময়সাপেক্ষ। সরকার ঢাকা সিটি করপোরেশনকে উত্তর ও দক্ষিণ দুই ভাগ করে গত ২৯ নভেম্বর সংসদে আইন পাস করে। এর গেজেট প্রকাশিত হয় গত ১ ডিসেম্বর। এরপর নগর ভবনে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কার্যালয় রেখে উত্তরের অস্থায়ী কার্যালয় করা হয় ৮১ গুলশান এভিনিউর মেয়র ভবনে। ঢাকার দুটি সিটি করপোরেশনের প্রতিটিতে ১৮টি করে শাখা রয়েছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীর অনুমোদিত পদ প্রায় এক হাজার। উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র ভবনটি একটি দোতলা আবাসিক ভবন। কক্ষও সীমিত। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, মেয়র ভবনে সিটি করপোরেশনের কার্যালয় চালানো কোনভাবেই সম্ভব নয়। বনানী কমিউনিটি সেন্টারও এ কাজের উপযুক্ত নয়।

সারাদেশে সিএনজি ব্যবসা গুটিয়ে নেয়ার হুমকি

স্টাফ রিপোর্টার: আলোচনা ছাড়া একতরফাভাবে কমপ্রেসড ন্যাচারাল গ্যাসের (সিএনজি) দাম বাড়ানো হলে সারাদেশে ব্যবসা গুটিয়ে নেয়ার হুমকি দিয়েছে সিএনজি সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী সমিতিগুলো। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে গতকাল এ হুমকি দেন তারা    পৃষ্ঠা ১৭ কলাম ৩
। সিএনজিসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী নেতারা বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে সিএনজির দাম বাড়ানো হয়েছে শতকরা ৭০ ভাগ। এরপর আরেক দফা সিএনজির দাম বাড়ানো হলে তাদের পক্ষে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া কষ্টকর হয়ে পড়বে। এ অবস্থায় কোন ধরনের আলোচনা ছাড়া সরকার এককভাবে সিএনজির দাম বাড়ালো আমরা ব্যবসা গুটিয়ে নিতে বাধ্য হবো। দফায় দফায় সিএনজির দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত থেকে সরকারকে সরে আসার আহ্বানও জানানো হয় সংবাদ সম্মেলন থেকে। যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এসোসিয়েশন অব বাস কোম্পানিজ, ঢাকা বাস-ট্রাক ওনার্স গ্রুপ, ট্যাক্সিক্যাব এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ, ফোর স্ট্রোক সিএনজি অটোরিকশা ওনার্স এসোসিয়েশন, ঢাকা মহানগর সিএনজি অটোরিকশা মালিক সমিতি ও বাংলাদেশ সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভার্শন ওয়ার্কশপ ওনার্স এসোসিয়েশনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সংগঠনগুলোর পক্ষে বাংলাদেশ সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভার্শন ওয়ার্কশপ ওনার্স এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাজিদুল ইসলাম চৌধুরী দিপু লিখিত বক্তব্যে বলেন, সরকার অযৌক্তিকভাবে সিএনজির দাম বাড়াচ্ছে। দাম বাড়ানোর মাধ্যমে এ খাতটিকে ধ্বংস করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, সরকার রাতের আঁধারে গ্যাসের দাম বাড়িয়ে সম্পূর্ণ খেয়াল-খুশিমতো পরিবহন খাতে অব্যবস্থাপনা তৈরি করছে। এর ভুক্তভোগী হচ্ছেন সাধারণ জনগণ। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সরকার সিএনজি সেক্টরে জড়িতদের সঙ্গে কোনরকম আলোচনা না করে  দাম বাড়ালে সারা দেশে সিএনজি এসোসিয়েশনেগুলো তাদের ব্যবসা গুটিয়ে নেবে।

চতুর্মুখী আন্দোলনে অচল জাবি, বন্ধ ক্লাস, একাডেমিক কার্যক্রম

সিরাজুল ইসলাম/জাকারিয়া পলাশ, জাবি থেকে: চতুর্মুখী আন্দোলনে অচল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। একদিকে সাধারণ শিক্ষার্থী। অন্যদিকে শিক্ষক সমাজ। অপরদিকে ভিসিপন্থি শিক্ষক গ্রুপ। আরেকদিকে ভিসিপন্থি ছাত্রলীগ। সবাই পৃথক কর্মসূচি নিয়ে রাজপথে। এতে করে বন্ধ রয়েছে ক্লাস-পরীক্ষাসহ একাডেমিক কার্যক্রম। দাবি আদায়  পৃষ্ঠা ২০ কলাম ৩
 না হওয়া পর্যন্ত ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনসহ প্রশাসনিক ভবন ঘেরাও কর্মসূচি দিয়েছে শিক্ষক সমাজ। অবিলম্বে দাবি বাস্তবায়ন না হলে চলমান কর্মসূচি পালনের পাশাপাশি কঠিন আন্দোলনের ঘোষণা দিবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তারা আজ সন্ধ্যায় মশাল মিছিল করার ঘোষণা দিয়েছে। ভিসিপন্থি শিক্ষক এবং ছাত্রলীগের অংশটি ক্লাস পরীক্ষা চালুর পক্ষে আন্দোলনে নেমেছে।
জুবায়ের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, প্রক্টর ও প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যদের অপসারণ, শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক এএ মামুনকে লাঞ্ছনাকারীদের বিচার এবং গণ-নিয়োগের মাধ্যমে নিয়োগ দেয়া দলীয় অযোগ্য শিক্ষকদের বরখাস্তের দাবি জানিয়েছে  শিক্ষক সমাজ এবং “সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর” ব্যানারে আন্দোলনরত সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তারা গতকাল ক্লাস বর্জন, মৌন মিছিল, সমাবেশসহ নানা কর্মসূচি পালন করেছে। শিক্ষার্থীরা আজ থেকে আন্দোলনের পাশাপাশি ক্লাস শুরু করার ঘোষণা দিলেও শিক্ষকরা অনড়। তারা জানিয়েছেন, একজন শিক্ষার্থীকে হত্যার পর আমরা যেসব দাবি নিয়ে মাঠে নেমেছি গত ৬ দিনেও এসবের প্রতি কোন আন্তরিকতা দেখায়নি প্রশাসন। ভিসি অধ্যাপক শরীফ এনামুল কবিরের একগুঁয়েমি এবং ভিসির মদতপুষ্ট ২০-২৫ জন শিক্ষকের কারণে  বিশ্ববিদ্যালয়ে অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে। সোমবার দুপুর ১২টার মধ্যে আমাদের দাবি না মানলে আমরা ভিসি অপসারণের আন্দোলনে যেতে বাধ্য হব। গতকাল ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়ে ভিসিকে স্মারকলিপি দিয়েছে শিক্ষক সমাজ। তারা আগামীকাল সকাল ১০টায় ভিসি অফিস ঘেরাও কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে। আন্দোলন চালিয়ে নেয়ার জন্য সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক নাসিম আখতার হোসাইনকে সমন্বয়কারী করে একটি সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্যদের মধ্যে অধ্যাপক এমএ মতিন, মজিবর রহমান, এটিএম আতিকুর রহমান, শামছুল আলম সেলিম, আনোয়ারুল্লাহ ভুঁইয়া, মানস চৌধুরী, সহযোগী অধ্যাপক জামাল উদ্দিন রুনু, মাফরুহী সাত্তার টিটু ও সহকারী অধ্যাপক মজিবুল আনাম লাবিব। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক শরীফ এনামুল কবির, প্রক্টর অধ্যাপক আরজু মিয়া এবং প্রক্টরিয়াল বডির অন্য সদস্যদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ এনেছেন আন্দোলনকারীরা।
ওদিকে গতকাল ‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ’র ব্যানারে প্রফেসর আবুল খায়ের, আবুল হোসেন, এসএম বদিয়ার রহমান, আবদুল মান্নান চৌধুরী, আরজু মিয়া, এএসএম আবু দায়েনসহ ভিসিপন্থি  শিক্ষকরা মৌন মিছিল ও সমাবেশ করেছেন। তারা বলেন, শিক্ষক সমিতির সভাপতিকে লাঞ্ছিত করা হয়নি। প্রশাসনের বিরুদ্ধে একটি মহল নানা অপপ্রচারে লিপ্ত। যে কোন মূল্যে তাদের রোখা হবে। তারা সবাইকে একাডেমিক কার্যক্রমে অংশ নেয়ার আহ্বান জানান। তারা জানান, জুবায়ের হত্যাকাণ্ডের বিচারের জন্য প্রশাসন আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।
গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অমর একুশের সামনে শিক্ষার্থীদের সমাবেশে ৩৫তম ব্যাচের মৈত্রী বর্মণ বলেন ‘ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের নাম সবাই জানে। ভিসির কাছে হত্যাকারীদের তালিকা দেয়া হয়েছে। অজ্ঞাত কারণে ভিসি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা সন্ত্রাসী হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়নি। টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি এবং দলীয় লেজুড়বৃত্তিসহ নানা কারণে তারা সন্ত্রাসী হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এদের মদত দেয়া হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের ৬ দিন পরও সন্ত্রাসীরা ক্যাম্পাসে ঘুরছে। সাধারণ ছাত্ররা ঐক্যবদ্ধ হয়ে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের ক্যাম্পাস থেকে বিতাড়িত করবে। ৩৮তম ব্যাচের জাহিদুল ইসলাম জিন্নাহ জানান, ৪ দফা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ৩৬তম ব্যাচের আফিফা রাজ্জাক মুনা, ৩৭তম ব্যাচের আর্ক রহমান, মেহেদী উল্লাহ প্রমুখ।
শহীদ মিনারের পাদদেশে শিক্ষক সমাজের  সমাবেশে অধ্যাপক এমএ মতিন বলেন, ভিসি অগণতান্ত্রিকভাবে ক্ষমতায় থাকার জন্যই সন্ত্রাসীদের লালন করছেন। অধ্যাপক একেএম শাহনেওয়াজ বলেন, বিশেষ গোষ্ঠীর অধীনে চাকরি করে শিক্ষকদের নৈতিক স্খলন চরম মাত্রায় পৌঁছেছে। এখন আর শিক্ষক সুলভ আচরণ করে না। সহযোগী অধ্যাপক জামাল উদ্দিন রুনু বলেন ভিসি শিক্ষক নিয়োগের নামে গুণ্ডা-পাণ্ডা নিয়োগ দিয়ে শিক্ষাঙ্গনকে কলুষিত করেছেন। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক এএ মামুন, সাধারণ সম্পাদক ড. মো. শরিফ উদ্দিন, অধ্যাপক নাসিম আখতার হোসাইন, অধ্যাপক শামছুল আলম সেলিম, অধ্যাপক এটিএম আতিকুর রহমান প্রমুখ।
এদিকে শিক্ষক সমিতির সভাপতি’র ওপর হামলাকারীদের বিচার ও জুবায়ের হত্যার সঙ্গে জড়িত সব ছাত্রলীগ কর্মীকে অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবিতে সাভারে ছাত্রদল এবং ঢাকায় জাতীয়তাবাদী গ্রাজুয়েট ফোরামের পক্ষ থেকে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করা হয়েছে। সমাবেশে ছাত্রদলের জাবি শাখার সভাপতি জাকির হোসেন বলেন, আমরা আজ রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হওয়ায় ক্যাম্পাসে যেতে পারি না। তাই ক্যাম্পাসের বাইরে থেকেই জুবায়ের হত্যার প্রতিবাদ জানিয়ে বিচার দাবি করছি। একই দাবিতে মৌন মিছিল ও ক্লাস বর্জন কর্মসূচি পালন করেছে পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
আরও ১ কর্মী গ্রেপ্তার: জুবায়ের হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে গতকাল ছাত্রলীগ কর্মী নাজমুস সাকিব তপুকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। এ নিয়ে ৩ ছাত্রলীগ কর্মী গেপ্তার হলো। এর আগে একই অভিযোগে সোমবার আশিক ও বৃহস্পতিবার মাহবুব আকরামকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তদন্ত চলছে: জুবায়ের হত্যার ঘটনায় আটক হওয়া ৩ ছাত্রকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে বলে জানিয়েছেন আশুলিয়া থানার ওসি এসএম বদরুল আলম। তিনি জানান, ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে গ্রেপ্তার হওয়া আশিক। তার কাছ থেকে আরও ৬ ছাত্রের নাম জানা গেছে। তদন্তের স্বার্থে তাদের নাম জানানো যাচ্ছে না। আইনের আওতায় আনতে তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। ঘটনার তদন্তে গঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের তদন্ত কমিটিও কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন কমিটির সদস্য প্রক্টর আরজু মিয়া।
প্রক্টরিয়াল বডিতে কারা: প্রক্টর অধ্যাপক আরজু মিয়াসহ ৯ সদস্যের প্রক্টরিয়াল বড়ির ৭ জনের বিরুদ্ধেই রয়েছে নানা অভিযোগ। ৪ জনই ছিলেন ছাত্রলীগ নেতা-কর্মী। অভিযোগ রয়েছে, প্রক্টর হওয়ার পর থেকেই আরজু মিয়া ভিসিপন্থি ছাত্রলীগকে দিয়ে ভিন্ন মতের ছাত্রদের দমন করে আসছেন। এখন পর্যন্ত প্রায় দু’শ’ শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসের বাইরে অবস্থান করছে। তারা বিভিন্ন সময় প্রক্টরের কাছে সহাবস্থানের দাবি জানালেও তিনি এতে কর্ণপাত করেননি। বিদ্যুতের দাবিতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করলে প্রক্টর ক্যাম্পাসে ভিসি লীগ নামে পরিচিত ছাত্রদের ব্যবহার করে আন্দোলনরত  শিক্ষার্থীদের মারধর করে। জুবায়ের হত্যার বিষয়ে প্রক্টর তার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন বলে অভিযোগ করছেন সাধারণ শিক্ষকরা। সর্বশেষ গত ১২ই জানুয়ারি শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক এএ মামুনের গায়ে হাত তুলে তাকে লাঞ্ছিত করেন প্রক্টর। এ কারণে সবমহল থেকেই তার পদত্যাগের দাবি উঠেছে। তিনি এ ব্যাপারে বলেন, আমি সাফল্যের সঙ্গে ৩ বছর প্রক্টরের দায়িত্ব পালন করছি। এখন পদত্যাগের প্রশ্নই আসে না।
সহকারী প্রক্টরদের মধ্যে সুবিধাবাদী শিক্ষক হিসেবে পরিচিত কবিরুল বাশার। ২০০৫ সালে বিএনপির সময় নিয়োগ পাওয়া এই শিক্ষক বর্তমান প্রশাসনের কাছ থেকে সুবিধা হাতিয়ে নিতে যোগ দেন ভিসির সঙ্গে। পুরস্কার হিসেবে বর্তমান উপাচার্য তাকে সহকারী প্রক্টরের দায়িত্ব দেন।
সহকারী প্রক্টর সাব্বির আলম মীর মশাররফ হোসেন হলের ছাত্রলীগ কর্মী ছিলেন। ২০০৯ সালের মীর মশাররফ হোসেন হলের প্রীতম-সাব্বির গ্রুপের নেতৃত্বে ছিলেন এই সাব্বির। সে সময় হল দখলের জন্য একাধিক হামলা ও সশস্ত্র সংঘর্ষের নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। আ স ম  ফিরোজ-উল-হাসান ৩ মাস আগে মেডিকেল প্রশ্নপত্র জালিয়াতির অভিযোগে রাজধানীর শ্যামলীতে র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। জামিনে বের হয়ে এখনও তিনি সহকারী প্রক্টর পদে দায়িত্ব পালন করছেন। তার বিরুদ্ধে ওই  মামলা এখনও অব্যাহত রয়েছে। ক্যাম্পাসের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ও মারমুখী ছাত্রলীগের ক্যাডার বাহিনীর আবাসস্থল রফিক-জব্বার হলের ছাত্রলীগ তিনিই পরিচালনা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ছাত্রদের কাছে নিজের দাপট দেখাতে বেশ পটু আরেক সহকারী প্রক্টর মুহাম্মদ ছায়েদুর রহমান। তার বিরদ্ধে লোকপ্রশাসন বিভাগে ২০০৬-০৭ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক সম্মান শ্রেণীর চূড়ান্ত পরীক্ষায় ফলাফল জালিয়াতির অভিযোগ কয়েকটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত হয়। কিন্তু সহকারী প্রক্টর এক সময়ের ছাত্রলীগ কর্মী হওয়ায় প্রশাসন কোন তদন্ত কমিটি গঠন করেনি। আরেক সহকারী প্রক্টর কামাল হোসেনও ছাত্রলীগের রাজনীতি করতেন। শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার কিছুদিন পর বঙ্গবন্ধু হলের লন্ড্রিবয়ের সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটান। পরে তিনি এর জন্য ক্ষমাও চান। তার স্ত্রী একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পরিসংখ্যান বিভাগে পাস করেছেন। কিন্তু তাকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে জাবি স্কুল অ্যান্ড কলেজের কম্পিউটার বিজ্ঞানের শিক্ষক হিসেবে। কামালের বিরুদ্ধে রয়েছে ভিসি অফিসের কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ। ভিসির ভাগ্নে বউ হওয়ার কারণেই সেলিনা আক্তার নিয়োগ পেয়েছেন শিক্ষক হিসাবে। একই কারণে তাকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে সহকারী প্রক্টর হিসাবে। এ ব্যাপারে অধ্যাপক নাসিম আক্তর হোসাইন বলেন, ভিসি অনির্বাচিত ভাবে ক্ষমতায় থাকতে শিক্ষার্থীদের পেটানোর জন্য তৈরি করেছেন বিশেষ বাহিনী। তেমনি শিক্ষকদের পেটানোর জন্য তৈরি করেছেন প্রক্টরিয়াল বাহিনী।
ভিসির বিরুদ্ধে যত অভিযোগ: ভিসি অধ্যাপক শরীফ এনামুল কবিরের বিরুদ্ধে রয়েছে এন্তার অভিযোগ। ২০০৮ সালের ২৪শে  ফেব্রুয়ারি ভিসি নিযুক্ত হওয়ার পর তিন বছরের মধ্যে তিনি দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ দিয়েছেন প্রায় ২০০ শিক্ষক। ক্যাম্পাস চালাতে তিনি নিজের অধীনস্ত ছাত্রলীগ কর্মীদের দিয়ে গঠন করেছেন গোপালগঞ্জ-নির্ভর বিশেষ বাহিনী। এদেরকে তিনি ছাত্রলীগ নাম দিলেও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সঙ্গে এদের কোন যোগাযোগ নেই। ভিসির বিমাতাসুলভ আচরণের কারণে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি সাধারণ সম্পাদকসহ ছাত্রলীগের অনেকেই ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারছে না বলে অভিযোগ ছাত্রলীগের। দায়িত্ব পাওয়ার ৩ বছর পার হলেও ভিসি পদে নির্বাচন না দিয়ে অগণতান্ত্রিকভাবে ক্ষমতায় রয়েছেন তিনি। জুবায়ের হত্যাসহ ছাত্রলীগের বিভিন্ন গ্রুপে অর্ধশতাধিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ভিসি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সমিতিকেও নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখার বিভিন্ন সময়ে চেষ্টা চালিয়েছেন। ২০১২ সালের সাংবাদিক সমিতির নির্বাচনে তফসিল ঘোষণার পরও নির্বাচন স্থগিত হয়েছে ভিসির হস্তক্ষেপে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গতকাল দুপুরে তার দপ্তরে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করা হয়। তিনি কথা বলতে পারবেন না বলে জানিয়ে দেন।
জাবি ছাত্র যুুবায়ের হত্যার
বিচার দাবি
বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার জানান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষার্থী যুবায়ের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সব খুনির বিচার, খুনিদের মদদদাতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিসহ ভিসি ও প্রক্টরের অপসারণ দাবি করেছেন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের নেতারা। গতকাল  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে ছাত্র ইউনিয়নের নেতারা এসব দাবি করেন। তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলারও প্রতিবাদ জানান। এ সময় বক্তারা বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বছরের শুরুতেই ছাত্রলীগ বেপরোয়া ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড শুরু করেছে। মধ্যযুগীয় কায়দায় তারা সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের ওপর হামলা চালিয়ে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। অন্যদিকে দলীয় প্রশাসনের স্বেচ্ছাচারি ভূমিকার ফলে ক্যাম্পাসে গণতান্ত্রিক পরিবেশের অনুপস্থিতি দিন দিন প্রকট হয়ে উঠছে। তারা আরও অভিযোগ করেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক শরীফ এনামুল কবীর ক্যাম্পাসে সহাবস্থান বজায় না রেখে নিজের নামে দলীয় অনুগত বাহিনীর মাধ্যমে ক্যাম্পাসে একক আধিপত্য বজায় রেখেছেন। বক্তারা এ সময় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা উন্নয়ন ফি প্রত্যাহারের অংশ হিসেবে ব্যাংক অবরোধ কর্মসূচিতে ছাত্রলীগের হামলার প্রতিবাদ ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন। এছাড়া খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) ও রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রগতিশীল ছাত্রজোটের নেতা-কর্মীদের ওপর হামালার শাস্তি দাবি করেন তারা। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক এস এম শুভ। সংবাদ সম্মেলনে ছাত্র ইউনিয়নের পক্ষে মোট ৫ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যে ১৭ই জানুয়ারি সারা দেশে শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সন্ত্রাস-দখলাদিরত্বের বিরুদ্ধে এবং ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ এবং কেন্দ্রীয়ভাবে প্রগতিশীল ছাত্রজোটের উদ্যোগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও চ্যান্সেলর বরাবর স্মারকলিপি পেশ। ২১শে জানুয়ারি অবিলম্বে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবিতে ভিসি/অধ্যক্ষ বরাবর স্মারকলিপি এবং ৩০শে জানুয়ারি ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবিতে ছাত্র সংগঠন ও ছাত্র সংসদের সাবেক নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হবে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি ফেরদৌস আহমেদ উজ্জল, কেন্দ্রীয় সহসভাপতি আবু তোয়াব অপু, মীর মোশাররফ হোসেন, কোষাধ্যক্ষ মনজুর মঈন, আরিফুল ইসলাম নাদিম, রেজাউল করিম খোকন ।
কলাপাড়ায় মানববন্ধন ও
প্রতিবাদ সমাবেশ
কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি জানান, ছাত্রলীগের নির্মম নির্যাতনে নিহত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি শেষবর্ষের ছাত্র জুবায়ের আহমেদ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবিতে পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় গতকাল শোকর‌্যালি, মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিকালে শিশু কিশোর সংগঠন মানিকমালা খেলাঘর আসরের স্থানীয় শাখার উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়। শিশুপার্ক সংলগ্ন সংগঠনের কার্যালয় থেকে বের হয়ে শোকর‌্যালিটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে নতুন বাজার এলাকার মনোহরি পট্টিতে এসে শেষ হয়। এরপর বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ।
মানিকমালা খেলাঘর আসরের সহসভানেত্রী ও খেপুপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা মনোয়ারা বেগমের সভাপতিত্বে ওই প্রতিবাদ সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কলাপাড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোস্তাফিজুর রহমান, খেলাঘর জাতীয় পরিষদের সদস্য কমরেড নাসির তালুকদার, কলাপাড়া উপজেলার মানিকমালা খেলাঘর আসরের সাধারণ সম্পাদক মো. হেমায়েত উদ্দিন লিটন, সাংগঠনিক সম্পাদক ও আমিরাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শাহ সুজা, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক তুষার কান্তি হাওলাদার প্রমুখ ব্যক্তিবর্গ।
কলাপাড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোস্তাফিজুর রহমান তার বক্তব্যে বলেন, ‘একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির মদদপুষ্ট ছাত্ররা এমন ঘটনা ঘটাতে পারে, গণতান্ত্রিক দেশে এটা কোনভাবেই কাম্য নয়। আমরা দায়ী ভিসির বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সরকারের কাছে আহ্বান জানাচ্ছি।’

লাতিন আমেরিকায় আহমাদিনেজাদের বন্ধু খোঁজার মিশন শেষ



মানবজমিন ডেস্ক: ইকুয়েডর সফরের মধ্য দিয়ে লাতিন আমেরিকা সফর শেষ করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ। ইরানের বিরুদ্ধে পশ্চিমাদের একের পর এক অবরোধ আরোপের প্রেক্ষিতে তার এই সফর খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, তিনি যখন আন্তর্জাতিক দুনিয়া থেকে একা হয়ে পড়ছেন তখনই ‘বন্ধু’ খোঁজার মিশনে তিনি এ সফরে বেরিয়েছিলেন। পরমাণু কর্মসূচি বন্ধের জন্য তার দেশের ওপর পশ্চিমাদের রয়েছে প্রচণ্ড চাপ। এমনকি ইরানে হামলা চালানোর হুমকিও আছে। তবে তিনি ইকুয়েডরে বলেছেন, পরমাণু কর্মসূচি বন্ধে ক্রমেই বাড়তে থাকা আন্তর্জাতিক চাপের কাছে ইরান নতি স্বীকার করবে না। এ চাপের উপযুক্ত জবাব দেয়ারও প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। ইকুয়েডরের রাজধানী কুইটোতে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে মাহমুদ আহমাদিনেজাদ বলেন, ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার ফলে ইরানের কোন ক্ষতি হয়নি। যদি যুক্তরাষ্ট্র ইরানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে, ক্ষতি করে বা জনগণের ওপর হামলা চালিয়ে ইরানের শান্তি বিঘ্নিত করতে চায়, তবে স্বাভাবিকভাবেই ইরানের জনগণও শক্তিশালী ভূমিকা নেবে। তারা কঠোরভাবে এর জবাব দেবে। এ খবর দিয়ে অনলাইন আল-জাজিরা জানিয়েছে, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে এমন সন্দেহ তিনি নাকচ করে দেন। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে আমরা সর্বোচ্চ সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করেছি। ইরানের প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ইরানের পারমাণবিক ইস্যুটি একটি রাজনৈতিক সমস্যা। এটা স্পষ্ট যে, ইরানের মানুষের উন্নয়ন ব্যাহত করতে অজুহাত খুঁজছে যুক্তরাষ্ট্র।

‘ভোটের আগে জনগণই রাজা, আমরা প্রজা’

স্টাফ রিপোর্টার: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ভোটের আগে জনগণই রাজা। আমরা প্রজা। কাজেই দুর্নীতি করলে ক্ষমতায় যাওয়া যাবে না। গতকাল ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশের ৫৩তম কনভেনশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন। তিনি বলেন, আমাদের দেশের নির্বাচনে বেশির ভাগ সময়ই ভোট চুরি ও কারচুপির ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু এবার এমন এক যন্ত্র (ইভিএম) চালু হয়েছে যে কেউ কারও ভোটে সিল মেরে নিজের নামে নিতে পারবে না। এ জন্য তিনি প্রকৌশলীদের ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, চিকিৎসক, প্রকৌশলী সবারই বেতন হয় জনগণের ট্যাক্সের টাকায়। আমাদের সম্পদের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তবে সুষ্ঠু ও পরিকল্পিত ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারলে সীমিত সম্পদ দিয়েই অনেক বেশি মানুষের সেবা করা সম্ভব। তিনি সুষ্ঠু পরিকল্পনা ও যথাযথ প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর জোর দিয়ে বলেন, আমি আশা করি আমাদের প্রকৌশলী ও প্রযুক্তিবিদগণ এ বিষয়ে আরও গভীর মনোযোগ দেবেন। আইইবি প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের রাস্তাঘাট, সেতু, স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়, বাড়িঘর, মিল-কারখানা ও অন্যান্য স্থাপনা নির্মাণের দায়িত্ব প্রকৌশলীদের এবং আপনাদের মাধ্যমে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে প্রায় শতকরা ৮৫ ভাগ অর্থ ব্যয় হয়। এসব কাজের গুণগত মান বজায় রাখা ও রাষ্ট্রের সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করা প্রকৌশলীদের দক্ষতা, কর্তব্যনিষ্ঠা ও সততার ওপর নির্ভর করে। প্রধানমন্ত্রী স্বল্প খরচে টেকসই যন্ত্রপাতি ও স্থাপনা নির্মাণ এবং তা রক্ষণাবেক্ষণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বিকল্প জ্বালানি ও জ্বালানি সাশ্রয়ী যন্ত্রপাতি উদ্ভাবন এবং স্বল্প ব্যয়ে বাড়িঘর নির্মাণ কৌশল ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনের ওপর জোর দেন। খাদ্য নিরাপত্তা অর্জন ও শস্য সংরক্ষণে উন্নত পদ্ধতি গ্রহণ করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যথাযথ সংরক্ষণের অভাবে প্রতি বছর ৩০ হাজার কোটি টাকার ফসল নষ্ট হয়। তিনি এ অপচয় হ্রাসের উপায় খুঁজে বের করতে প্রকৌশলীদের প্রতি আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় নতুন নতুন প্রযুক্তি বিশেষ করে নদী ভাঙন রোধ ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাপনা প্রভৃতি ক্ষেত্রে টেকসই প্রযুক্তি উদ্ভাবনে প্রকৌশলীদের মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দেন। আইইবি সভাপতি প্রকৌশলী নূরুল হুদা ও সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী আবদুস সবুর অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। আইইবি সভাপতি নূরুল হুদা প্রধানমন্ত্রীর হাতে আইইবি’র ৫৩তম সম্মেলনের ক্রেস্ট তুলে দেন। পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ উন্মোচন করেন। বিদ্যুৎ উৎপাদনে দেশকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার কয়েকটি দ্রুত ও বাস্তব উদ্যোগ গ্রহণ করায় গত তিন বছরে জাতীয় গ্রিডে প্রায় তিন হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যোগ হয়েছে।  বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার এক মেগাওয়াট বিদ্যুৎও উৎপাদন করতে পারেনি। প্রধানমন্ত্রী আঞ্চলিক যোগাযোগের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে বলেন, কোন দেশই তার প্রতিবেশীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক না রেখে এগিয়ে যেতে পারে না। সম্মেলনের প্রতিপাদ্য হিসেবে ‘ভিশন টুওয়ার্ডস রিজিওনাল কানেক্টিভিটি’ নির্বাচন করায় তিনি আইইবি’র প্রশংসা করেন। অব্যাহত গণতান্ত্রিক অনুশীলনের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে তিনি বলেন, গণতন্ত্র ছাড়া কোন দেশই তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করতে পারে না এবং জনগণ সিদ্ধান্ত নেবে কে ক্ষমতায় যাবে, আর কে যাবে না। তিনি বলেন, ‘সামরিক ও সেনা-সমর্থিত সরকারের শাসনের কারণে দেশের গণতন্ত্র বারংবার বাধাগ্রস্ত হয়েছে। অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা ২০১১ সালে নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ১২ প্রকৌশলীকে পদক ও সার্টিফিকেট প্রদান করেন।

ইসির সংস্কার প্রস্তাব সরকারের কাছে যাচ্ছে আজ



স্টাফ রিপোর্টার: নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনে ‘সার্চ কমিটি’সহ গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও)-এর বেশকিছু ধারা সংশোধন/বিয়োজনে আজই সরকারের কাছে সংস্কার প্রস্তাব পাঠাচ্ছে নির্বাচন কমিশন। এক সপ্তাহ আগে কমিশন বৈঠকে এ সংস্কার প্রস্তাব চূড়ান্ত হয়। প্রস্তাবগুলোর মধ্যে আরও থাকছে নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণ, আইন সংশোধন, আরও বড় পরিসরে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম)-এর ব্যবহার। সূত্র জানায়, প্রেসিডেন্ট মো. জিল্লুর রহমানের সংলাপে বেশির ভাগ রাজনৈতিক দল ‘সার্চ কমিটি’ গঠনে আইন প্রণয়নের পক্ষে মতামত দেয়ায় কমিশন আইনের একটি খসড়াও সরকারের কাছে পাঠাচ্ছে। যদিও প্রধান বিরোধী দল বিএনপি এ বিষয়ে কোন সুপারিশ করেনি। বিএনপি নতুন কমিশন গঠনের আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। সরকারের কাছে সংস্কার প্রস্তাব পাঠানোর বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন জানান, কমিশনার নিয়োগ বিধিসহ গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের বেশকিছু সংশোধনীর প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হয়েছে। চলতি সপ্তাহের মধ্যেই এ সংস্কার প্রস্তাব আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দেয়া হবে। সংস্কার প্রস্তাব সম্পর্কে তিনি বলেন, প্রধান প্রস্তাবগুলোর মধ্যে থাকছে- সার্চ কমিটির মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ পদ্ধতির আইন প্রণয়ন, জাতীয় নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম)-এর ব্যবহার, নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণে নতুন আইন ও বিধিমালা প্রণয়ন এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২-এর অধিকতর সংশোধন। সাখাওয়াত বলেন, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২-এর অধিকতর সংশোধনীতে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা-অযোগ্যতায় সংশোধনীর প্রস্তাব করা হচ্ছে। যাতে আগামীতে কোন প্রার্থী হলফনামা আকারে অসত্য বা মিথ্যা তথ্য দিয়ে পার না পান। এছাড়া নির্বাচনের সময় তখন যে কোন ফর্মের সরকারই থাকুক না কেন- সরকারের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, এলজিআরডি, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যেন তখন কমিশনের পরামর্শ না নিয়ে কোন ধরনের পদক্ষেপ না নিতে পারে- আরপিওতে এমন বিধিও সংযুক্ত করার প্রস্তাব করা হচ্ছে। কমিশন সচিবালয়ের একটি সূত্র জানায়, নির্বাচনী আইন সংস্কার প্রস্তাবের মধ্যে সংবিধানের ১১৮ ধারার আলোকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের জন্য আইন প্রণয়নের সুপারিশও করা হচ্ছে। প্রস্তাবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও কমিশনার নিয়োগে সার্চ কমিটির গঠনের কথা বলা হয়েছে। সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও সর্বাধিক ৪ জন নির্বাচন কমিশনারসহ কমিশন গঠনের কথা বলা হয়েছে। আইন না থাকায় অতীতে অনেক অযোগ্য এবং দলসংশ্লিষ্ট লোক কমিশনার পদে নিয়োগ পাওয়ায় কমিশন এবার ‘সার্চ কমিটি’ গঠন করার প্রস্তাব করছে। যাতে দক্ষ, যোগ্য ও দল নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের কমিশনার পদে নিয়োগ নিশ্চিত করা যায়। প্রস্তাবিত প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও কমিশনার নিয়োগের আইনে বলা হয়েছে, একজন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং একজন মহিলা নির্বাচন কমিশনারসহ অনধিক ৫ সদস্যের সমন্বয়ে নির্বাচন কমিশন গঠিত হবে। এই কমিটির সদস্য হবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার, হাইকোর্টের একজন বিচারক, দুদকের চেয়ারম্যান, সরকারি কর্মকমিশনের চেয়ারম্যান ও মহাহিসাব নিরীক্ষক। কমিটি প্রতিটি পদের জন্য তিনজনের নাম নির্ধারণ করবে। কমিটির কাজ পরিচালনার নিয়মাবলিও ওই কমিটি তৈরি করবে। প্যানেল প্রস্তুতের পর তা জাতীয় সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটির পরীক্ষার জন্য প্রধানমন্ত্রীর অফিসে পাঠাতে হবে। কার্য উপদেষ্টা কমিটি ওই প্যানেল পরীক্ষা করে চূড়ান্ত করবে এবং ওই প্যানেল থেকে প্রেসিডেন্ট যে কোন ব্যক্তিকে নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ করবেন। আরও বলা হয়েছে, প্রধান নির্বাচন কমিশনারের শূন্যপদ পূরণের ক্ষেত্রে অনুসন্ধান কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া, বিদ্যমান সীমানা নির্ধারণ আইনও সংশোধনের প্রস্তাব করছে কমিশন। বিদ্যমান সীমানা আইনে সর্বশেষ আদমশুমারির জনসংখ্যার ভিত্তিতে সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণের বিধান রয়েছে। তবে দিন দিন মানুষ শহরমুখী হওয়ায় শহর এলাকায় সংসদীয় আসন বেড়েই চলছে। বিপরীতে কমছে মফস্বল এলাকার আসন সংখ্যা। রাজধানী ঢাকাসহ বিভাগীয় শহরগুলোর আসন সংখ্যা সীমিত রাখার পক্ষে অবস্থান নিয়ে কমিশন তাই সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণ আইন সংশোধনের প্রস্তাব করছে। সংশোধনীর স্বপক্ষে রাজনৈতিক দলগুলোর মতামতও সংযুক্ত করা হচ্ছে। প্রস্তাবিত আইনে ঢাকা সিটি করপোরেশনের আসনসংখ্যা ১০-এ সীমাবদ্ধ রাখার কথা বলা হয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়া ভোট গ্রহণে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার, নির্বাচনী ব্যয় ও জামানতের টাকা বৃদ্ধি, নির্বাচনী কর্মকর্তাদের শাস্তির বিধান সংযোজন/সংশোধন করার প্রয়োজনীয়তা কমিশনের প্রস্তাবে থাকছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। উল্লেখ্য, আগামী ৫ই ফেব্রুয়ারিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ড. এ টি এম শামসুল হুদা এবং নির্বাচন কমিশনার মুহাম্মদ ছহুল হোসাইন এবং ১৪ই ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কমিশনার এম সাখাওয়াত হোসেনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। এরই মধ্যে তিন কমিশনারই বিদায়ের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার বহাল না হলে দেশ অনিশ্চয়তার দিকে যাবে: ড. মোশাররফ

স্টাফ রিপোর্টার: তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল না হলে দেশ ভয়াবহ অনিশ্চয়তার দিকে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। বলেছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করে সরকার দেশকে অনিশ্চয়তার দিকে নিয়ে গেছে। তাই সংসদের আগামী অধিবেশনে বিল এনে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে। অন্যথায় দেশ যে সংঘাতের দিকে যাবে তার জন্য সরকারকেই দায়ী থাকতে হবে। আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের ভিসি ড. মোহাম্মদ মাহবুব উল্লাহর মৃত্যুতে গতকাল জাতীয় প্রেসক্লাবের সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ আয়োজিত এক স্মরণসভায় তিনি একথা বলেন। ড. মোশাররফ বলেন, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের জন্য সব কিছু আগে থেকেই ঠিকঠাক করে রেখে প্রেসিডেন্টকে দিয়ে সরকার একটি নাটক করেছে। পত্রিকায় দেখেছি, বর্তমান প্রধান নির্বাচন কমিশনকেই আবার নিয়োগ দেয়া হবে। বর্তমান প্রধান নির্বাচন কমিশনার অতীতের সব নির্বাচন কমিশনারদের চেয়ে বিতর্কিত। তিনি তার সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রয়োগে ব্যর্থ হয়েছেন। তিনি বিএনপিকে নিশ্চিহ্ন করার জন্য সব রকমের কৌশল অবলম্বন করেছিলেন। তিনি বলেন, যে সিইসি সকালে এক কথা বিকালে আরেক কথা বলেন, নিজের দেয়া কথা রাখতে পারেন না তাকে পুনঃনিয়োগ দেয়া হলে জনগণ মেনে নেবে না। বিএনপির সিনিয়র এ নেতা বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি এখন গণদাবিতে পরিণত হয়েছে। প্রেসিডেন্টের সংলাপে যে কয়টি দল যোগ দিয়েছে তাদের মধ্যে কয়েকটি ছাড়া অধিকাংশ দল তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পক্ষে মত দিয়েছে। তারপরও সরকার যদি নিজেদের অধীনে নির্বাচন করতে চায়, তাহলে গণঅভ্যুত্থানের মুখে তাদের পতন হবে। সংগঠনের আহ্বায়ক ও দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের সভাপতিত্বে স্মরণসভায় ঢাবির সাবেক প্রো-ভিসি ড. আফম ইউসুফ হায়দার, অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ, জাবির সাবেক ভিসি ড. মোস্তাহিদুর রহমান, ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ড. শাহ মোহাম্মদ ফারুক, বিএফইউজের সভাপতি রুহুল আমীন গাজী, ড্যাব সভাপতি ডা. একেএম আজিজুল হক ও প্রকৌশলী আনহ আখতার হোসেন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। স্মরণসভায় দেশের শিক্ষাখাতে মরহুম অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহবুব উল্লাহর নানা অবদানের কথা তুলে ধরেন বক্তারা।

ইসলাম রক্ষায় ২৮শে জানুয়ারি জাতীয় কনভেনশন সফল করার আহ্বান

স্টাফ রিপোর্টার: সম্মিলিত উলামা-মাশায়েখ পরিষদের সভাপতি মাওলানা মুহিউদ্দীন খান বলেছেন, দেশ থেকে ইসলাম বিদায় করার চতুর্মুখী আয়োজন চলছে। এ পরিস্থিতিতে দলমতের ঊর্ধ্বে থেকে সর্বশ্রেণীর আলেম, উলামাদেরকে ইসলাম রক্ষার স্বার্থে ঐক্যবদ্ধভাবে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। তিনি বলেন, দেশ থেকে ইসলাম নির্মূলের অংশ হিসেবে সংবিধান থেকে আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস মুছে ফেলে ধর্মনিরপেক্ষতা ও সমাজতন্ত্র স্থাপন, নারীর প্রতি অবমাননাকর নারী নীতি অনুমোদন, ধর্মহীন শিক্ষানীতি প্রণয়নসহ ইসলামবিরোধী নানা ষড়যন্ত্র চলছে। নাস্তিক মুরতাদ ও ইসলামের দুশমনরা ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও অসৌজন্যমূলক বক্তব্য পেশ করার পরও তাদের উপযুক্ত শাস্তি না হওয়ায় ইসলাম বিরোধীদের দৌরাত্ম্য বেড়েই চলেছে। অপরদিকে ইসলাম নির্মূলের চক্রান্ত ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন করার জন্য শীর্ষ ইসলামী ব্যক্তিত্ব ও উলামায়ে কেরামদের ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় আটক রেখে মৌলিক মানবাধিকার লঙ্ঘন করা হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে ইসলাম হেফাজতের জন্য আমাদেরকে শাহাদাতের তামান্না নিয়ে ইসলামী মূল্যবোধ রক্ষায় সম্মিলিত প্রয়াস চালাতে হবে। এ পরিস্থিতিতে ঘরে বসে থাকলে ঈমান ও ইসলাম রক্ষা করা যাবে না। তিনি ইসলাম রক্ষায় ২৮শে জানুয়ারির জাতীয় কনভেনশন সফল করার আহ্বান জানান। গতকাল সম্মিলিত উলামা-মাশায়েখ পরিষদের এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় তিনি একথা বলেন। পুরানা পল্টন কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ সভায় ইসলামী ঐক্য জোটের মহাসচিব মাওলানা আব্দুল লতিফ নেজামী, সম্মিলিত উলামা পরিষদের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা যাইনুল আবেদীন, ইসলামিক পার্টির সভাপতি এডভোকেট আব্দুল মোবিন, বাংলাদেশ আইম্মা পরিষদের সভাপতি মাওলানা মহিউদ্দীন রব্বানী,  প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। 

আগামীতে ভোটগ্রহণের পদ্ধতি ভিডিও রেকর্ডিং করা হবে- সিইসি

নরসিংদী প্রতিনিধি: ইভিএম পদ্ধতিতে ভোটদান একটি সহজতম পদ্ধতি উল্লেখ করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এটিএম শামসুল হুদা বলেছেন, জাতীয় নির্বাচনে শতভাগ ইভিএম ব্যবহার না করা হলেও নরসিংদী পৌরসভার উপনির্বাচন থেকে শুরু করে পরবর্তী প্রত্যেকটি স্থানীয় নির্বাচনে শতভাগ ইভিএম ব্যবহার করা হবে। জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই ৩৮টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৩০টি দল আলোচনা অংশগ্রহণ করেছে। দলগুলোর পরামর্শে স্থানীয় নির্বাচনে শতভাগ ইভিএম ব্যবহার করে অভিজ্ঞতা সঞ্চালনের পরবর্তীতে জাতীয় নির্বাচনে শতভাগ ইভিএম ব্যবহার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনী ফলাফল নিয়ে প্রার্থীদের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ এড়াতে আগামীতে প্রতিটি বুথে ওয়েব ক্যামেরা লাগানো হবে এবং ভোটগ্রহণের পদ্ধতি ভিডিও রেকর্ডিং করা হবে। যাতে ফলাফল নিয়ে প্রার্থী মধ্যে বিতর্ক সৃষ্টি না হয়। কোন প্রার্থীর অভিযোগ থাকলে সে সব রেকর্ড চালিয়ে দেখা হবে। নির্বাচন কমিশনার নরসিংদী উপ-নির্বাচনকে শেষ নির্বাচন উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, এই নির্বাচন কমিশনের অধীনে ভাল নির্বাচন হবে যা দেশবাসীকে উপহার। তাই শেষ এই নির্বাচন সুন্দরভাবে পরিচালনা করতে সবাইকে সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি নির্বাচনী পরিবেশ বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সজাগ থাকার আহ্বান জানান। তিনি সকাল ১১টায়  নরসিংদী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আয়োজিত আইনশৃঙ্খলা সভায় এসব কথা বলেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন নরসিংদী জেলা প্রশাসক ওবায়দুল আজম, পুলিশ সুপার মহিদ উদ্দিন, রিটার্নিং অফিসার আবদুল অদুদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আলী আহসান, র‌্যাব-১১ কমান্ডিং অফিসার মেজর সারোয়ারসহ নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ। সভা শেষে তিনি শহরের বিভিন্ন এলাকায় ইভিএমের সঙ্গে ভোটারদের পরিচিতিমূলক প্রদর্শনী ও প্রামাণ্যচিত্র দেখানোর স্পট ঘুরে দেখেন।

শিশু চুরির অভিযোগ এক নারী গ্রেপ্তার

স্টাফ রিপোর্টার: শিশু চুরির অভিযোগে রাজধানীর মিটফোর্ড হাসপাতাল থেকে এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তার নাম মর্জিনা আক্তার (৪০)। তিন মাসের এক শিশুকে চুরি করে পালিয়ে যাওয়ার সময় তাকে আটক করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। পরে তাকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। মর্জিনা যে শিশুটিকে চুরি করে পালিয়ে যাচ্ছিল তার নাম তামিম। তাকে উদ্ধার করে বাবা মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে। মিটফোর্ড হাসপাতালের উপ-পরিচালক আবুল হাশেম খান জানান, তামিমের মা সাজেদা বেগম শরিয়তপুর থেকে এসে কয়েক দিন আগে হাসপাতালে ভর্তি হন। মর্জিনা দুপুরের দিকে কৌশলে   তামিমকে কোলে নিয়ে বেরিয়ে যান। কিছুক্ষণ পর সাজেদা তার সন্তানকে পাশে না পেয়ে চিৎকার শুরু করলে আশপাশের সবাই তাকে (তামিমকে) খুঁজতে শুরু করে। একপর্যায়ে হাসপাতালের নিরাপত্তা কর্মীরা মর্জিনাকে বাবুবাজার এলাকা থেকে আটক করে। তামিমকেও তার সঙ্গে পাওয়া যায়। কোতোয়ালি থানার ওসি সালাহউদ্দীন খান জানিয়েছেন, মিটফোর্ড থেকে এর আগেও শিশু চুরির ঘটনা ঘটেছে। গ্রেপ্তাকৃত মর্জিনা সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্য কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। 

ঠিক হলো সাইফ-কারিনার বিয়ের তারিখ

বিনোদন ডেস্ক: বলিউডের সবচেয়ে আলোচিত জুটি সাইফ-কারিনার বিয়ের দিন অবশেষে ঠিক হলো। এ প্রেমিক যুগলের বিয়ের সম্ভাব্য দিন হতে পারে ৩০শে মার্চ অথবা ১লা এপ্রিল। সমপ্রতি ‘সাইফিনা’ জুটির বিয়ের ব্যাপারে মুখ খুললেন সাইফের বোন সোহা আলি খান। তিনি জানান, ‘সাইফিনা’ জুটির বহুল প্রতীক্ষিত ছবি ‘এজেন্ট বিনোদ’ মুক্তির ঠিক এক সপ্তাহ পরেই বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। শ্রীরাম রাঘবান পরিচালিত ‘এজেন্ট বিনোদ’ মুক্তি পাবে ২৩শে মার্চ। ছবিতে সাইফ-কারিনা আছেন প্রধান চরিত্রে। বোন সোহার কথা যদি সত্য হয় তাহলে মুক্তির সাত দিনের মাথায় অর্থাৎ ৩০শে মার্চ বা ১লা এপ্রিল বলিউডে হতে পারে বছরের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত বিয়েটি। তাছাড়া কারিনাও বিয়ের ব্যাপারে কিছুদিন আগে জানিয়েছিলেন, ‘এজেন্ট বিনোদ’ মুক্তির পরই বিয়ের ব্যাপারে বিস্তারিত সবাইকে জানাবেন।

সুপার হিরো রোজের প্রথম ছবি

স্টাফ রিপোর্টার: ফেয়ার এন্ড লাভলী সুপার হিরো সুপার হিরোইন প্রতিযোগিতার দ্বিতীয় রানারআপ রোজের প্রথম ছবি ‘জোর করে ভালবাসা যায় না’। ছবিটি পরিচালনা করবেন অনেক সফল ছবির পরিচালক কমল সরকার। সমপ্রতি গান রেকর্ডিংয়ের মাধ্যমে এই ছবির কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করেছেন পরিচালক। আজ থেকে শুরু হবে ‘জোর করে ভালবাসা যায় না’ ছবির শুটিং। এই ছবির মাধ্যমে চলচ্চিত্রের ক্যামেরার সামনে প্রথম দাঁড়াবেন সুপার হিরো রোজ। প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় রানারআপ হওয়ার পর থেকেই একটি ভাল সুযোগের অপেক্ষায় ছিলেন রোজ। এর জন্য অনেক ধৈর্য ধরতে হয়েছে তাকে। শেষ পর্যন্ত ভাল একটা সুযোগ পেয়েছেন সম্ভাবনাময় রোজ। ‘জোর করে ভালবাসা যায় না’ ছবির এক নায়ক তিনি। তার সঙ্গে চার নায়িকা। এর মধ্যে চূড়ান্ত হয়েছেন আঁচল, আনার ও জান্নাত। অচিরেই চূড়ান্ত হবেন আরও একজন নায়িকা। ধৈর্যের ফল পেয়ে বেশ আনন্দিত আর আত্মবিশ্বাসী রোজ। বললেন, কমল সরকারের মতো বড়মাপের পরিচালক আমাকে এতো বড় সুযোগ দিয়েছেন, যার জন্য আমি তার কাছে চিরকৃতজ্ঞ থাকবো। রোজ বলেন, যে বিশ্বাস নিয়ে কমল সরকার আমাকে এতো বড় সুযোগ দিয়েছেন আমি আমার সর্বোচ্চ মেধা দিয়ে সেই সুযোগ কাজে লাগানোর চেষ্টা করবো এবং আমার বিশ্বাস আমি পারবো।

চ্যানেল আই’র ফিল্ম আর্কাইভে ৪ ছবি

স্টাফ রিপোর্টার: চ্যানেল আই’র ফিল্ম আর্কাইভে ৪টি ছবি উপহার হিসেবে দিয়েছেন তিনজন প্রযোজক। এরা হলেন চলচ্চিত্রের মুভি মোগল নামে পরিচিত একেএম জাহাঙ্গীর খান, বিশিষ্ট প্রযোজক খোরশেদ আলম খসরু এবং প্রযোজক-পরিচালক বুলবুল জিলানী। জাহাঙ্গীর খান শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সাহিত্যকর্ম নিয়ে নির্মিত ‘চন্দ্রনাথ’ ও ‘শুভদা’, খোরশেদ আলম খসরু ‘ভালবাসার লাল গোলাপ’ এবং বুলবুল জিলানী ‘নীল আঁচল’ ছবিগুলো উপহার হিসেবে চ্যানেল আই’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগরের হাতে তুলে দেন। শুক্রবার অনুষ্ঠিত কিউট চ্যানেল আই চলচ্চিত্র মেলার মূল মঞ্চে ফরিদুর রেজা সাগর ছবিগুলো গ্রহণ করেন।

ইরাকে আত্মঘাতী হামলায় নিহত ৫৩

মানবজমিন ডেস্ক: ইরাকের দক্ষিণাঞ্চলীয় বসরা শহরে আত্মঘাতী হামলায় শিয়া সমপ্রদায়ের কমপক্ষে ৫৩ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় কমপক্ষে ৯০ জন আহত হয়। তবে, নিহতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। অনলাইন আল-জাজিরা জানিয়েছে, আত্মঘাতী ওই হামলাকারী পুলিশের পোশাক পরে এ হামলা চালায়। তার কোমরে বোমা দিয়ে তৈরি বিশেষ একটি আত্মঘাতী বেল্ট বাঁধা ছিল। বসরা শহরের পশ্চিমে আল-জুবাইর অঞ্চলে একটি শিয়া মসজিদে নামাজ আদায় করতে যাওয়ার সময় শিয়া মুসলমানদের ওই দলটির ওপর এ হামলা চালানো হয়। মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পর ইরাকে শিয়া-সুন্নি বিরোধ আরও প্রকট আকার ধারণ করছে। দেশটির রাজনৈতিক নেতৃত্বেও বিরোধের সুর বাজছে। ইরাক ক্রমেই দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ছে বলে ধারণা করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

সিরিয়ায় বিদেশী হস্তক্ষেপের পক্ষে কাতারের আমীর

মানবজমিন ডেস্ক: প্রকাশ্যে সিরিয়ায় বিদেশী হস্তক্ষেপের পক্ষে কথা বললেন কাতারের আমীর শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি। তিনি বলেছেন, সিরিয়ায় রাজনৈতিক অস্থিরতা থামাতে এবং বেসামরিক মানুষ হত্যা বন্ধে আরব দেশগুলোর সেনা পাঠানো উচিত। শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের টেলিভিশন চ্যানেল সিবিএস নিউজ প্রোগ্রাম ‘৬০ মিনিট’কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এমন আহ্বান জানান। প্রকাশ্যে সিরিয়ায় আরব দেশগুলোর হস্তক্ষেপের পক্ষে তার এই বক্তব্য নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চারদিকে। ওই অনুষ্ঠানে তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল- তিনি সিরিয়া পরিস্থিতিতে আরব হস্তক্ষেপের পক্ষে কিনা। জবাবে কাতারের আমীর বলেন, ওই পরিস্থিতিতে হত্যা বন্ধের জন্য কিছু সেনা পাঠানো উচিত। সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের বিরুদ্ধে ১০ মাস ধরে গণআন্দোলন চলছে। এরই মধ্যে সেখানে গৃহযুদ্ধের আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। জাতিসংঘের হিসাবে এই আন্দোলনে কমপক্ষে ৫০০০ মানুষ নিহত হয়েছেন। এমন অবস্থায় কাতারের আমীর বলেন, আমরা ওই দেশগুলোর মানুষকে সমর্থন করছি। তাদেরকে ন্যায়পরায়ণতা ও মর্যাদাবোধের বিষয়ে সমর্থন দিচ্ছি। যদি এটা হয় হস্তক্ষেপ তাহলে আমি মনে করি আমরা হস্তক্ষেপ করছি। আমার মতে, তাদেরকে বিশ্বের সমর্থন করা উচিত। ওদিকে ফ্রি সিরিয়ান আর্মি বলছে, শুক্রবারও সেখানে কমপক্ষে ২৬ জন মানুষ নিহত হয়েছেন। ওদিকে সিরিয়া সরকারকে আন্দোলনকারীদের দমন-পীড়নে ইরান সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের এক সিনিয়র কর্মকর্তা। ওই কর্মকর্তা আল জাজিরা টেলিভিশন চ্যানেলকে বলেছেন, আসাদ শাসক গোষ্ঠীর পাশে দাঁড়িয়েছে ইরান। তারাই অব্যাহতভাবে মানুষের ওপর দমন-পীড়নে সিরিয়ার শাসকদের সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ অন্য আরব নেতাদের মতো তার পতন ঠেকাতে চান। আর এতে তাকে ইরান সহায়তা দিচ্ছে- যুক্তরাষ্ট্রের এমন সন্দেহ দীর্ঘদিনের। যুক্তরাষ্ট্রের ওই কর্মকর্তা বলেন, সিরিয়ার শাসক গোষ্ঠীর সঙ্গে সমন্বয়ের জন্য ইরানের বেশকিছু কর্মকর্তা সিরিয়া সফর করেছেন। এ মাসের শুরুতেই দামেস্ক সফর করেছেন ইরানের ইসলামিক রেভ্যুলুশনারি গার্ড কোর কুদস ফোর্স-এর কমান্ডার ঘাসেম  সোলাইমানি।

ডুবোচরে জাহাজের ধাক্কা, নিহত ৩

মানবজমিন ডেস্ক: ইতালির সমুদ্রবন্দর থেকে ৪ হাজারেরও বেশি আরোহী নিয়ে রওনা হওয়ার পর কোস্টা কনকর্ডিয়া নামের একটি জাহাজ সমুদ্রের ডুবোচরে ধাক্কা খেয়ে প্রায় ডুবে গেছে। জাহাজটি ডুবোচরে আঘাত হানার পর প্রাণ বাঁচাতে সমুদ্রে ঝাঁপিয়ে পড়ে পাশের দ্বীপে ওঠার চেষ্টা করেন অনেক আরোহী। এ সময় তাদের মধ্যে টাইটানিক ডুবে যাওয়ার কথা মনে পড়ে। ফলে তাড়াহুড়ো করে তারা দ্বীপে আশ্রয় নিতে গিয়ে কমপক্ষে ৩ জন প্রাণ হারান। শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে জাহাজটি আসোলা দেল গিগলিও দ্বীপের কাছে একটি ডুবোচরে আঘাত হানে। এতে জাহাজটি প্রায় ২০ ডিগ্রি কাত হয়ে যায়। এ সময় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে যাত্রীদের মাঝে। প্রাণ বাঁচাতে সমুদ্রে ঝাঁপিয়ে পড়েন অনেকে। অনেকে লাইফবোট নিয়ে সমুদ্রে নেমে পড়ার চেষ্টা করেন। সাঁতরে পাশের দ্বীপে ওঠার চেষ্টা করতে গিয়ে প্রাণ হারান কয়েকজন। অনলাইন বিবিসি জানিয়েছে, জাহাজটিতে ক্রুসহ মোট ৪ হাজারেরও বেশি যাত্রী ছিলেন। রোমের কাছে একটি বন্দর থেকে শুক্রবার সকালে ইতালির ১ হাজার, জার্মানির ৫শ’ ও ফ্রান্সের ১৬০ জন যাত্রী নিয়ে জাহাজটি যাত্রা শুরু করে। মোট ৩ হাজার ২শ’ যাত্রীর মধ্যে ইতালি, জার্মানি, ফ্রান্স ও বৃটেনের নাগরিকও ছিলেন। নাবিকসহ মোট ক্রু ছিল ১ হাজার। ওদিকে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে জাহাজে আটকে পড়া অবশিষ্ট ৫০ যাত্রীকে উদ্ধারে হেলিকপ্টার পাঠানো হয়।

গ্রিসের রাস্তায় পরিত্যক্ত কোলের শিশু



মানবজমিন ডেস্ক: দেশের অর্থনীতির দুরবস্থার সঙ্গে তাল মেলাতে না পেরে অবশেষে কোলের শিশুকে বাবা-মায়েরা এবার গ্রিসের রাস্তায় ফেলে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। সন্তানের ভরণ-পোষণ করতে ব্যর্থ হয়ে এখন গ্রিসের বিভিন্ন পরিবারের পিতামাতারা এ পথ বেছে নিয়েছেন বলে ডেইলি মেইল এক রিপোর্টে জানিয়েছে। ইউরো সংকটের মানবিক বিপর্যয়ের এটাই প্রথম নিদর্শন বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থনৈতিক সংকটের পাশাপাশি গ্রিসে ওষুধ সংকটও দেখা দিয়েছে বলে জানা গেছে। সেখানে এসপিরিনের মজুত শূন্যের কোঠায় এসে দাঁড়িয়েছে বলে ফার্মাসিস্টরা জানিয়েছেন। এথেন্সের আর্ক অব দি ওয়ার্ল্ড ইয়ুথ সেন্টার জানিয়েছে, গত কয়েক মাসে তাদের দরজায় চারটি পরিত্যক্ত শিশু পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে একটি নবজাতকও ছিল। সংস্থাটি দাবি করেছে, তাদের কাছে দুই বছরের শিশু নাতাশাকে গুঁজে দিয়েই তার মা দৌড়ে পালিয়েছে। আর চার বছর বয়সী অ্যানাকে যখন পাওয়া গিয়েছিল তখন তার সঙ্গে একটি ছোট বার্তাও ছিল। তাতে লেখা ছিল: আমি আজ আর অ্যানাকে নিতে আসব না। কারণ, আমি আর তার ভরণ পোষণের খরচ জোগাড় করতে পারছি না। দয়া করে ওর দিকে একটু খেয়াল রাখবেন। আরেক মা মারিয়া চাকরি হারিয়ে আট বছরের অ্যানাস্টেশিয়াকে ত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন। এক বছরের বেশি সময় ধরে তিনি নতুন করে কাজের সন্ধান করছিলেন। কিন্তু কোথাও কোন ব্যবস্থা করতে না পারায় তিনি এ কাজ করতে বাধ্য হযেছেন। এতদিন তিনি মেয়েকে রেখে গির্জায় বিলানো খাবার জোগাড় করে মেয়ের খাবার জোগাড় করলেও এখন তিনি সেটাও পারছেন না। তিনি বলেছেন, প্রতি রাতেই বাড়িতে আমি একা একা কাঁদি। কিন্তু আমি আর কি করতে পারি? আমার হৃদয় ভেঙে খান খান হয়ে যায়। কিন্তু এছাড়া আমার সামনে আর কোন পথই খোলা ছিল না। আর্ক সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা অ্যান্টোনিওস পাপানিকালাউ বলেছেন, গত বছর থেকেই শত শত বাবা-মা তাদের সন্তানকে আমাদের কাছে রেখে যেতে চাইছেন। তারা বলছেন, সন্তানের জন্য তারা প্রয়োজনীয় অর্থ, আশ্রয় বা খাবারের ব্যবস্থা করতে পারছেন না। তারা আশা করছেন এসব সন্তানের জন্য প্রয়োজনীয় ভরণ-পোষণের ব্যবস্থা হয়তো আমরা করতে পারবো। গ্রিসে এখন প্রয়োজনীয় ওষুধের অপর্যাপ্ততাও সেখানকার অর্থনৈতিক দুরবস্থার চিত্র তুলে ধরছে।
 সরকার ওষুধের দাম কমিয়ে দেয়ায় কোম্পানিগুলো বেশি দামে দেশের বাইরে সেগুলো বিক্রি করছে। আর সংকট সৃষ্টি হচ্ছে দেশের বাজারে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে ওষুধের দোকানগুলোকে বেশ হিমশিম খেতে হচ্ছে। এদিকে ইউরোপের সিনিয়র ব্যাংকাররা জানিয়েছেন, গ্রিসে বেসরকারি খাতে ঋণ দেয়ার অগ্রগতিও খুব একটা সন্তোষজনক নয়। এতে প্রতীয়মান হচ্ছে, ইউরো জোনের সরকারদের সাহায্যের পরিমাণ আরও বাড়াতে হবে।

সিলেটে ‘গেরিলা’ উৎসব ১৯-২১শে জানুয়ারি

সিলেট অফিস: সম্মিলিত নাট্য পরিষদ সিলেটের আয়োজনে বিজয়ের ৪০ বছর উপলক্ষে আগামী ১৯, ২০ ও ২১শে জানুয়ারি সিলেট অডিটোরিয়ামের বড় পর্দায় প্রদর্শিত হবে দেশের সাড়া জাগানো ও আন্তর্জাতিক পুরস্কার প্রাপ্ত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘গেরিলা’। সৈয়দ শামসুল হক’র উপন্যাস ‘নিষিদ্ধ লোবান’ এবং ১৯৭১’র একজন মুক্তিযোদ্ধার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা অবলম্বনে নাসির উদ্দিন ইউসুফ’র চলচ্চিত্র গেরিলা প্রদর্শিত হবে প্রতিদিন সকাল ১১টায়, বিকাল ৩টায় এবং সন্ধ্যা ৬টায়। শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায়,  বেলা ৩টায় ও সন্ধ্যা ৬টায়। প্রদর্শনীর প্রবেশপত্র আগামী ১৮ই জানুয়ারি বুধবার সকাল ১১টা থেকে রিকাবীবাজার সিলেট অডিটোরিয়াম হলে পাওয়া যাবে। নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানাতে এবং সিলেটের বিভিন্ন মহলের আগ্রহের কথা চিন্তা করে দ্বিতীয়বারের মতো এই প্রদশর্নীর আয়োজন করা হয়েছে।

লাইফ সাপোর্টে মেহেদী হাসান

স্টাফ রিপোর্টার: অবনতি হয়েছে উপমহাদেশের স্বনামধন্য গজল শিল্পী মেহেদী হাসানের শারীরিক অবস্থার। বর্তমানে পাকিস্তানের করাচির একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে তাকে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, মেহেদী হাসান মারাত্মক বুক এবং ইউরিন ইনফেকশনসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন। আইসিইউতে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে তাকে। গত মঙ্গলবার হঠাৎ করে শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা তীব্র আকার ধারণ করলে তাকে করাচির আগা খান হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দ্রুত সেখানে চিকিৎসা দেয়ার ফলে তখন তার শারীরিক অবস্থার খানিক উন্নতি হয়। কিন্তু বৃহস্পতিবার থেকে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বেশ সংকটাপন্ন অবস্থায় রয়েছেন কিংবদন্তি এ গজল শিল্পী। তবে খুব দ্রুত তার সুস্থ হয়ে ওঠার ব্যাপারে আশাবাদও ব্যক্ত করেছেন তারা। এদিকে পিতার সুস্থতা চেয়ে তার ভক্ত-শুভানুধ্যায়ীদের কাছে প্রার্থনার অনুরোধ জানিয়েছেন মেহেদি হাসানের ছেলে আরিফ হাসান। তিনি বলেন, বাবা এখন লাইফ সাপোর্টে রয়েছেন। সৃষ্টিকর্তার কাছে এখন আর দোয়া চাওয়া ছাড়া কোন উপায় নেই। সবাই আমার বাবার জন্য দোয়া করবেন।

চলচ্চিত্র রক্ষায় ঐক্যের আহ্বান

স্টাফ রিপোর্টার: সমগ্র চলচ্চিত্রের প্রতি সব ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছেন বিশিষ্ট চলচ্চিত্র পরিচালক ও বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সাবেক সভাপতি সাঈদুর রহমান সাঈদ। বুধবার সন্ধ্যায় বিনোদন সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি ‘আমরাই আমাদের সঙ্কট’ দাবি করে চলচ্চিত্র নামক ডুবন্ত জাহাজকে সম্মিলিত প্রচেষ্টার মধ্যে টেনে তোলার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান। মতবিনিময় অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট বিনোদন সাংবাদিক কাহিনীকার আহমদ জামান চৌধুরী, সাংবাদিক পরিচালক রফিকুজ্জামান ও পরিচালক চিত্র সম্পাদক আবু মুসা দেবু উপস্থিত ছিলেন। মতবিনিময়কালে সাংবাদিকদের উদ্দেশে অসংখ্য হিট সুপার হিট ছবির পরিচালক সাঈদুর রহমান সাঈদ বলেন, চলচ্চিত্রের সঙ্গে আমার ৪০ বছরের সম্পর্ক। প্রযোজনা-পরিচালনা ছাড়াও চলচ্চিত্রের সুদিন-দুর্দিনে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে আমি নিজেকে খুঁজে পেতাম। এখনও পাচ্ছি। চলচ্চিত্র প্রযোজক পরিবেশক সমিতির নির্বাহী সদস্য থেকে পরিচালক সমিতির সহসভাপতি এবং সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছি। চলচ্চিত্রের সুসময় দেখেছি। অতিক্রম করে এসেছি এর প্রাণোচ্ছল রমরমা দিনগুলো। আজ পরিচালক সমিতির নির্বাহী সদস্য হিসেবে চলচ্চিত্রের দুঃসময়কে বিশ্লেষণ করার ধৃষ্টতা দেখাচ্ছি। সাঈদুর রহমান সাঈদ বলেন, কেউ বলেন অশ্লীলতা, কেউ বলেন পাইরেসি, কেউ আবার বলেন প্রেক্ষাগৃহ, আবার অনেক বিদগ্ধজন বলেন, মেধার অভাবই সিনেমাকে সঙ্কটে ফেলে দিয়েছে। কিন্তু আমার উপলব্ধি ভিন্ন। আমি আপনাদের মাধ্যমে বলতে চাই, ‘আমরাই আমাদের সঙ্কট’। তিনি বলেন, চলচ্চিত্রের শিল্পী, কুশলী, পরিচালক, প্রযোজক- সবার মুখেই একটাই সুর, সেটা হতাশার। সিনেমা বুঝি শেষ হয়ে গেল। কিন্তু আমি বলি সিনেমা আছে। সিনেমা থাকবে। এতো বড় একটা সংস্কৃতির অবকাঠামো তিল তিল করে গড়ে ওঠা একটা শিল্পসৌধ সামান্য ক’জন হঠকারী বেনিয়ার অদূরদর্শী ফুঁৎকারে ধসে পড়বে- তা হয় না, হতে পারে না। আমাদের সংস্কৃতির টাওয়ারটি, সিনেমা নামক শিল্পসৌধটি কিসের আঘাতে হেলে পড়েছে? নানাজন নানাভাবে বিশ্লেষণ করবেন। তিনি বলেন, হেলে পড়েছে, এটা সত্যি। তবে সিনেমার এই কাত হয়ে পড়াটাকে সোজা এবং সুসংহত করা কি খুবই কঠিন? সাঈদুর রহমান সাঈদ বলেন, সবার আগে চলচ্চিত্রের কর্মী, কুশলী, শিল্পী, প্রযোজক, পরিচালক- সবার সর্বস্ব শক্তি দিয়ে শিল্পের এই হেলে পড়া সৌধটাকে সোজা করে দাঁড় করাতে হবে। এর জন্য প্রয়োজন ঐক্যবদ্ধ একটা প্রচেষ্টা। অথচ আমাদের মাঝে এই ঐক্যটারই বড় অভাব। অশ্লীলতা, পাইরেসি, সিনেমা হল, আকাশ সংস্কৃতি- এসব কিছুর পচা জল আমাদের শিল্পসৌধের ভিতটাকে দুর্বল করে ফেলে দিতে চাইছে। কিন্তু একে পুনর্গঠন, সুসংহত করাও কঠিন কিছু নয়। এজন্য সর্বাগ্রে প্রয়োজন আমাদের ঐক্যবদ্ধ হওয়া। অথচ আমরা এটাই পারছি না। কে বড়? নেতৃত্ব কে দেবে- এ নিয়েই আমরা নিজেরা যুদ্ধে লিপ্ত। সাঈদুর রহমান সাঈদ বলেন, প্রযোজকদের ভাবনা, তিনি টাকা দেন তিনিই নেতৃত্ব দেবেন। শিল্পীদের ভাবনা ওদের জন্যই প্রেক্ষাগৃহ দর্শকমুখর হয়। প্রযোজক তার লগ্নি ফিরে পান। তারাই বা কম কিসে। আবার ক্যামেরাম্যান মনে মনে ভাবছে তারাই তো সব। গিল্ডের সম্পাদকের কথা, সিনেমা তো টেবিলেই তৈরি হয়। আর পরিচালক তো ক্যাপ্টেন অব দ্য শিপ। আসলে আগে কেন আমরা এই প্রতিযোগিতাতেই দৌড়াচ্ছি। সবাই মুখে বলেন, পরিচালকরাই ‘ক্যাপ্টেন অব দ্য শিপ’। আর ওই শিপ বা জাহাজের মালিক প্রযোজক। সুতরাং তার কমান্ডই আগে। কিন্তু ডুবন্ত জাহাজকে ভাসমান রাখবে কে? নিশ্চিতভাবেই তার ক্যাপ্টেন। এটাই যদি সত্যি হয় তাহলে তার ক্যাপ্টেনসিটা মেনে নিতে বাধা কোথায়? লাভবান তো প্রযোজকরাই হবেন। আপনার ক্রুরাও বেঁচে যাবেন। তিনি বলেন, আজ জাহাজে অনেক ফুটো। টগবগ করে পানি উঠছে। মাস্তুল হেলে পড়েছে। আসুন না সবাই মিলে ক্যাপ্টেনকে অনুসরণ করি। তার পেছনে দাঁড়িয়ে সব হাত একত্রিত করে জাহাজটিকে ডুবে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করি।

বিরামহীন মোশাররফ করিম

স্টাফ রিপোর্টার: বিরামহীন ব্যস্ততায় পথ চলছেন মোশাররফ করিম। আর এ ব্যস্ততা নাটক ও চলচ্চিত্রে অভিনয়ে। বর্তমানে তিনি একটি নাটকে অভিনয় করছেন মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলা একজন যুবকের চরিত্রে। নাটকের নাম ‘নো টু ডার্টি লাভ’। ইস্রাফিল বাবুর রচনায় নাটকটি যৌথভাবে পরিচালনা করেছেন জহিরুল ইসলাম পলাশ ও শাহজাহান সোহাগ। মোশাররফ করিম বলেন, নাটকের গল্পটি অনেক সুন্দর। মানসিক ভারসাম্যহীন পরিস্থিতিতেও আমার মধ্যে একটি প্রেম বোধ কাজ করে। নাটকে আমি প্রায়ই অন্য প্রেমিক প্রেমিকাদের পরামর্শ দেই যে, সত্যিকারের ভালবাসাকে হ্যাঁ এবং মিথ্যা ভালবাসাকে না বলুন। ১৯৯০ সালের এ মঞ্চকর্মী এভাবেই কোন না কোন একক নাটক, বিজ্ঞাপন ও ধারাবাহিক নাটকে অভিনয়ে এখন বেশ ব্যস্ত। মোশররফ করিম বলেন, ব্যস্ততা আমার সবসময়েই ছিল। আমি ব্যস্ততাই পছন্দ করি। নাট্যদল নাট্যকেন্দ্রে যোগ দেয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মঞ্চনাটকে বেশি ব্যস্ত হয়ে যাই। নিয়মিত মহড়া আর প্রদর্শনীর মাঝেই এ ব্যস্ততা চলে। এরপর নাট্যকেন্দ্র থেকেই একে একে ‘বিচ্ছু’, ‘তুঘলক’, ‘সুখ’, ‘কুছিবল’, ‘প্রতিসরণ’ এবং সর্বশেষ ‘আরজচরিতামৃত’ নাটকে অভিনয় করি। মোশাররফ করিম তার মঞ্চ ব্যস্ততা থেকে আরও বেশি ব্যস্ততার জন্য নব্বই দশকের শেষ দিকে এসে টেলিভিশন নাটকে অভিনয় করতে শুরু করেন। ২০০৫ সালে ‘ক্যারাম’ নাটকে অভিনয় করে তিনি লাইমলাইটে চলে আসেন। তারপরই ‘সাকিন সারিসুরি’, ‘মাইক’, ‘এইম ইন লাইফ’, ‘জামাই মেলা’, ‘হাউজফুল’, ‘ফিফটি ফিফটি’, ‘চাঁদের নিজের কোন আলো নেই’ নামে বেশক’টি জনপ্রিয় ধারাবাহিকে দুর্দান্ত অভিনয়শৈলী প্রদর্শন করেন তিনি। বর্তমানে তার অভিনীত নাটক ‘লংমার্চ’ এবং ‘হাড়কিপটে’ প্রচার হচ্ছে। একই সঙ্গে চলছে তার চলচ্চিত্রে অভিনয়। মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর পরিচালনায় ‘থার্ড পারসন সিঙ্গুলার নাম্বার’ এবং মোহাম্মদ মুস্তফা কামাল রাজের পরিচালনায় ‘প্রজাপতি’ ছবিতে তার জনপ্রিয়তা বেশ লক্ষ্য করা যায়। এরই ধারাবাহিকতায় এখন চলছে মোস্তফা সরয়ার ফারুকী পরিচালিত ‘টেলিভিশন’ চলচ্চিত্রের শুটিং। বিজ্ঞাপন ও অনুষ্ঠান উপস্থাপনাতেও হঠাৎ করেই দর্শক সম্মুখে আসেন এ অভিনেতা। মোশররফ করিম বলেন, আসলে সবই দর্শকের জন্য। তাদের ভাললাগার মতো করেই নিজেকে বিভিন্ন মাধ্যমে উপস্থাপন করি। আর এ ধারাবাহিক ব্যস্ততায় মৃত্যুর আগ পর্যন্ত থাকবো বলে আমার বিশ্বাস।

পহেলা বৈশাখে একসঙ্গে দুই বাংলায় আসছে ‘হঠাৎ সেদিন’

স্টাফ রিপোর্টার: বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ প্রযোজনায় বাসু চ্যাটার্জী পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘হঠাৎ সেদিন’  দুই বাংলায় মুক্তি পাবে পহেলা বৈশাখে। এর কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন বাংলাদেশের ফেরদৌস ও কলকাতার হৃদিমা ঘোষ। ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারিতে কলকাতায় ছবিটির দৃশ্যধারণ শুরু হয়েছিল। সমপ্রতি বাংলাদেশ ও কলকাতার বিভিন্ন লোকেশনে এ ছবির দৃশ্যধারণ শেষ হয়েছে। ছবি সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পরিচালক বাসু চ্যাটার্জী ও নায়ক ফেরদৌসের ইচ্ছা ছবিটি একসঙ্গে দুই বাংলায় মুক্তি দেয়ার। সেরকমই পরিকল্পনা হয়েছে। সেন্সর বোর্ডের ছাড়পত্র পেলেই ছবিটি মুক্তি দেয়ার প্রস্তুতি নেয়া হবে। উল্লেখ্য, ১৩ বছর আগে বাসু চ্যাটার্জী নির্মাণ করেছিলেন যৌথ প্রযোজনার ছবি ‘হঠাৎ বৃষ্টি’। ওই ছবির মাধ্যমেই চলচ্চিত্র অভিনেতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিলেন ফেরদৌস। সর্বশেষ একসঙ্গে দুই বাংলায় মুক্তি পেয়েছে গৌতম ঘোষ পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘মনের মানুষ’।

প্রস্তুতি ম্যাচে জিতলো আইভরি কোস্ট

স্পোর্টস ডেস্ক: ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগের তারকা ফুটবলারদের নৈপুণ্যে জয় পেলো আফ্রিকান জায়ান্ট আইভরি কোস্ট। আরব আমিরাতে প্রীতি ম্যাচে এদিন চেলসির দুই তারকা কালু ও স্ট্রাইকার দিদিয়ার দ্রগবার লক্ষ্যভেদে তিউনিশিয়াকে তারা ২-০ গোলে পরাজিত করে। প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে কালু এগিয়ে নেন আইভরি কোস্টকে। বিরতির পর পেনাল্টি গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন দ্রগবা। কিন্তু প্রিমিয়ার লীগে নিউক্যাসল ইউনাইটেডের অপর আইভরিয়ান তারকা শেইখ তিওতে বিপজ্জনক ফাউলে লাল কার্ড দেখে বহিষ্কৃত হন। আগামী ২১শে জানুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে আফ্রিকান নেশন্স কাপ। আসরের ফেভারিট আইভরি কোস্ট তার আগে আগামীকাল লিবিয়ার সঙ্গে শেষ প্রস্তুতি ম্যাচটি খেলবে।

চলচ্চিত্র শিল্পের জন্য সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধিতে তথ্যমন্ত্রীর আশ্বাস

স্টাফ রিপোর্টার: চলচ্চিত্র শিল্পের জন্য সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করার আশ্বাস প্রদান করেছেন তথ্য ও সংস্কৃতিমন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়নে অনেক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার নিয়মিতকরণ, পুরস্কারের অর্থমূল্য বৃদ্ধি, সরকারি অনুদানে নির্মিত ছবির সংখ্যা বৃদ্ধি সর্বোপরি চলচ্চিত্র শিল্পের আধুনিকায়নের জন্য ৫৯ কোটি ২৮ লাখ টাকা প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যা সমগ্র চলচ্চিত্র শিল্পের জন্য সহায়ক ভূমিকা হিসেবে কাজ করবে। তিনি আরও বলেন, চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য যাতে ব্যাংক  থেকে সহজ শর্তে ঋণ পাওয়া যায় সে উদ্যোগও সরকার গ্রহণ করবে। তিনি যৌথ প্রযোজনার ছবি নির্মাণের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, যৌথ প্রযোজনায় ছবি নির্মাণ হলে আমাদের দেশের শিল্পীরা বিদেশে পরিচিত এবং জনপ্রিয় হতে পারবেন এবং বিদেশের শিল্পীরাও আমাদের দেশের চলচ্চিত্রপ্রেমী দর্শকদের আনন্দ দিতে পারবেন। তথ্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ শুক্রবার বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএফডিসি) ও চ্যানেল আই’র যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘কিউট চ্যানেল আই’ চলচ্চিত্র মেলা ২০১২-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন। এ সময় অন্যদের মধ্যে তথ্য সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন এনডিসি, বিএফডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ম. হামিদ, চ্যানেল আই’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর, সুভাষ দত্ত, নায়করাজ রাজ্জাক, সোহেল রানা, আলমগীর, ইলিয়াস কাঞ্চন, শাকিব খানসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

হাবিবের স্টুডিও পর্যন্তই...

স্টাফ রিপোর্টার: হালের জনপ্রিয় নারীকণ্ঠ ন্যান্সি খুব প্রয়োজন ছাড়া এখন ঘর থেকে বেরই হচ্ছেন না। বের হলেও হাবিবের গ্রিনরোডস্থ স্টুডিও পর্যন্তই সীমাবদ্ধ থাকছেন। গত মাসটি টানা শো করে কাটিয়েছেন ন্যান্সি। বিশেষ করে  ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের স্টেজ শোতে অংশ নিয়েছেন তিনি। আর এই টানা শোর কারণে বেশ অসুস্থও হয়ে পড়েছিলেন। বিশেষ করে জ্বর-ঠাণ্ডাকেন্দ্রিক অসুস্থতাই তাকে ঘিরে বসেছিল। বর্তমানে খানিকটা সুস্থ হলেও ক্লান্তি এখনও কাটেনি তার। তাই বিশ্রামেই রয়েছেন তিনি। হাবিবের গ্রিনরোডস্থ স্টুডিওতে এখন ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় একক অ্যালবামের কাজ করছেন ন্যান্সি। অ্যালবামটির সর্বশেষ খবর হলো, হাবিবের সুর-সংগীতায়োজনে ৯টির মধ্যে ৭টি গানের কাজ শেষ হয়ে গেছে। ইতিমধ্যে বেশ কিছু গানে কণ্ঠ দিয়েছেন ন্যান্সি। আসছে ভালবাসা দিবসেই প্রকাশ পাবে এ অ্যালবাম। এদিকে নিজের একক ছাড়া আপাতত নতুন কোন অ্যালবামে কাজ করবেন না বলেও জানিয়েছেন ন্যান্সি। ক্লান্তির কারণে স্টেজ শো থেকেও তিনি সাময়িক বিরতিতে রয়েছেন । বাসায় থেকে সময় পেলেই ফেসবুকে  বসে যাচ্ছেন । হাবিবের সংগীতায়োজনে নিজের স্বপ্নের এ অ্যালবামটি নিয়ে বেশ আশাবাদী সুরে ন্যান্সি বলেন, শুধু আমার অ্যালবামের জন্য হাবিব ভাই অন্য অ্যালবামের কাজ করছেন না। প্রতিটি গানই অনেক এক্সপেরিমেন্ট করে তৈরি করছেন তিনি। শতভাগ সঠিক হওয়ার জন্য একটি গানের ভয়েস নিচ্ছেন বার বার। এ পর্যন্ত যে গানগুলো করেছি, আমার কাছে অনেক ভাল লেগেছে। এটা আমার স্বপ্নের অ্যালবাম। শ্রোতাদেরও গানগুলো অনেক ভাল লাগবে বলে আশা করি।

ঢাকায় শিক্ষকতা করতে আসছেন মিঠুন চক্রবর্তী

স্টাফ রিপোর্টার: ভারতীয় চলচ্চিত্রের বাঙালি সুপারস্টার মিঠুন চক্রবর্তী দুই মাসের জন্য ঢাকায় আসছেন। একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম এন্ড মিডিয়া বিভাগের প্রধান অতিথি শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য আসন্ন ফেব্রুয়ারি মাসের যে কোন দিন তিনি ঢাকায় আসবেন এমনটি প্রায় চূড়ান্ত। গুলশানে অবস্থিত দেশের একজন বিশিষ্ট শিল্পপতির মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ফিল্ম এন্ড মিডিয়া’ বিভাগের ছাত্রছাত্রীদের প্রশিক্ষণ দেয়ার জন্য মিঠুন চক্রবর্তী সম্মতি প্রদান করেছেন বলে একটি বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে। ভারতের এই বাঙালি সুপারস্টার সমপ্রতি ভারতীয় বিভিন্ন চ্যানেলের রিয়েলিটি শো-এর প্রধান বিচারক এবং উপস্থাপকের দায়িত্ব পালন করে নিজেকে ব্যাপকভাবে আলোচনায় রেখেছেন। বর্তমানে তিনি জিবাংলার জমজমাট গেম শো ‘দাদাগিরি’র উপস্থাপকের দায়িত্ব পালন করে চমক সৃষ্টি করছেন। মিঠুন চক্রবর্তী ইতিমধ্যে বেশ কয়েকবার বাংলাদেশে এসেছেন ছবির শুটিং করতে। কিন্তু এবার আসবেন সিনেমাকর্মী তৈরির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব নিয়ে। মিঠুন চক্রবর্তীর ঢাকায় আসার তারিখ চূড়ান্ত হওয়ার পর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়টি ব্যাপক আকারে প্রচারণা চালাবে বলে জানা গেছে।

অস্ট্রেলিয়ান ওপেন, শুরুর আগেই অঘটন!

স্পোর্টস ডেস্ক: ড্র ভাগ্য ২০১২ অস্ট্রেলিয়ান ওপেন শুরুর তিন দিন আগেই অঘটনের শুরু। সাত বছরের মধ্যে এই প্রথম রজার ফেদেরার এবং রাফায়েল নাদাল একই গ্রুপে। ফলে সেমিফাইনালেই এই দুই প্রবল প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। শুধু তাই নয়, ফাইনালে যেতে জোকোভিচও তাদের প্রতিপক্ষ হতে পারে। ক্যারিয়ারের বেশির ভাগ সময় দুজন ভিন্ন গ্রুপে খেললেও বর্তমান র‌্যাংকিং তাদেরকে গ্রুপ প্রতিপক্ষ বানিয়েছে। র‌্যাংকিংয়ের কারণেই ফেদেরার-জোকোভিচ সেমিফাইনাল আমেরিকান গ্রান্ডস্লামেরও অলিখিত নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে।সেমিফাইনালের আগেই সম্ভাব্য অঘটন সামপ্রতিক ইনজুরি এবং অকার্যকারিতার কারণে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের সেমিফাইনালের আগে নাদালকে হারানো হতে পারে সবচেয়ে বড় সম্ভাব্য অঘটন। তিনি টমাস বারডিসচকে উপরের দিকে এবং জন ইসনার/ফেলিছিয়ানো লোপেজকে চতুর্থ রাউন্ডের সম্ভাব্য দাবিদার বলেছেন। ২০১১ সালের ফ্রেঞ্চ ওপেনে ইসনারের লম্বা সার্ভ ভালই ভোগায় নাদালকে। কিন্তু ববি রেনল্ডের কাছে সামপ্রতিক পরাজয় এই আমেরিকানকে নাদালের বিপক্ষে অস্বস্তিতেই রাখবে। কঠিনতম ড্র: অ্যান্ডি রডিক, রায়ান হ্যারিসন লড়াই
অ্যান্ডি রডিক প্রথম রাউন্ডে রবিন হাসিকে পেলে লিটন হিউয়িট, মিলোস রায়োনিক এবং নোভাক জোকোভিচের মুখোমুখি হতে হবে তাকে। প্রথম রাউন্ডে অ্যান্ডি মারের বিপক্ষে জিততে হলে ১৯ বছরের রায়ান হ্যারিসনকে অতি মানবীয় নৈপুণ্য দেখাতে হবে।
প্রথম রাউন্ডে সম্ভাব্য সেরা ম্যাচ: ফার্নান্ডো ভারদেসকো বনাম বার্নাড টমিক
মেলবোর্নের ইতিহাস সেরা ম্যাচের নায়ক ভারদেসকো মুখোমুখি হবেন অস্ট্রেলিয়ার টিনএজ তারকা বার্নাড টমিকের। ১৯ বছরের এ তরুণ গত বছর উইম্বলডনের কোয়ার্টার ফাইনালে খেলে যথেষ্ট প্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন।
সম্ভাব্য সেরা কোয়ার্টার ফাইনাল: অ্যান্ডি মারে (৪) বনাম জো-উইলফ্রিড সোঙ্গা (৬) অ্যান্ডি মারে বনাম জো-উইলফ্রিড সোঙ্গার ম্যাচটি হতে পারে সম্ভাব্য সেরা চারটি ম্যাচের একটি। কোয়ার্টার ফাইনালে যেতে তাদের সামনে বড় বাধা না থাকলেও এ দুইয়ের বিজয়ীকে সেমিফাইনালে লড়তে হবে জোকোভিচের সঙ্গে।
সেমিফাইনালিস্ট: জোকোভিচ বনাম সোঙ্গা, ফেদেরার বনাম রাফায়েল নাদাল
ফাইনালিস্ট: জোকোভিচ বনাম ফেদেরার
২০০৭ সালের ইউএস ওপেনের ফাইনাল বাদে জোকোভিচ এবং ফেদেরার এ পর্যন্ত সাতটি গ্রান্ড স্লামের সেমিফাইনালে লড়েন। বর্তমান এক নম্বর খেলোয়াড় জোকোভিচ তাতে ৪-৩ ব্যাবধানে এগিয়ে আছেন। তার ক্যারিয়ার সেরা বছর ২০১১’র মত যদি ২০১২’র সূচনা হয় এবং প্রতিপক্ষ হিসেবে ফেদেরারকে পায়, তাহলে একটি ধ্রুপদি ফাইনালের প্রত্যাশা দর্শক করতেই পারেন।

আলোচনায় বসতে হোয়াটমোর লাহোরে

স্পোর্টস ডেস্ক: পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে আলোচনায় বসতে শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশের সাবেক কোচ ডেভ হোয়াটমোর এখন লাহোরে। পাকিস্তানের হেড কোচের পদে এ অসি কোচের সম্ভাবনা উজ্জ্বল। গতকাল লাহোরে পৌঁছেই পাকিস্তানের ন্যাশনাল ক্রিকেট একাডেমীতে চলে যান শ্রীলঙ্কার হয়ে বিশ্বজয়ী এ কোচ। এখানে দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে হোয়াটমোর ও পিসিবি’র এ সংক্রান্ত কমিটির আলোচনায় বসার কথা। হোয়াটমোর দেখা করবেন পিসিবি’র নতুন  প্রেসিডেন্ট জাকা আশরাফের সঙ্গেও। ধারণা করা হচ্ছে আরব আমিরাতে আসন্ন ইংল্যান্ড সিরিজের পর হোয়াটমোরকে দায়িত্ব তুলে দিতে পারে পিসিবি। ওয়াকার ইউনুস দায়িত্ব ছেড়ে দিলে বর্তমানে পাক কোচের অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব সামলাচ্ছেন প্রধান নির্বাচক মহসিন খান। পূর্ণ মেয়াদে এ দায়িত্ব পেতে আবেদন করে রাখলেও মহসিনের সম্ভাবনা কম মনে করছে পাকিস্তানের মিডিয়া। পাকিস্তানের এবারের হেড কোচ একই সঙ্গে দলের ব্যাটিং কোচের দায়িত্বও সামলাবেন। বোলিং কোচ চূড়ান্ত না করে ইংল্যান্ড সিরিজ পর্যন্ত সাবেক তারকা আকিব জাভেদকে দায়িত্ব দিয়েছে পিসিবি। আর ফিল্ডিং কোচের পদে বর্তমানে দায়িত্বে থাকা ইজাজ আহমেদের ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক ফিল্ডিং কোচ জুলিয়ান ফাউন্টেন।

আপাতত খেলতে চাইছেন না যুবরাজ

স্পোর্টস ডেস্ক: অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে আসন্ন ওয়ানডে ট্রাই সিরিজের ভারত দলে তাকে না রাখতে অনুরোধ করেছেন যুবরাজ সিং। ফুসফুসে টিউমার ধরা পড়ায় বর্তমানে এর চিকিৎসা নিচ্ছেন ভারতের সফল এই ক্রিকেটার। তাই পুরোপুরি সুস্থ না হয়ে খেলায় ফিরতে চান না তিনি। ভারতের ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)কে বিষয়টি জানিয়েছেন যুবরাজ। যুবরাজ বলেন, ‘আমার কাশি ও বমি বমিভাব হচ্ছিল বিশ্বকাপ চলাকালেই। মনে করেছিলাম অতিচাপের কারণে এমনটি হয়ে থাকবে। কিন্তু পরীক্ষা-নিরীক্ষায় অসুখের বিষয়টি ধরা পড়ে।’ ভারতের বিশ্বকাপজয়ী সেরা খেলোয়াড় যুবরাজের বাম ফুসফুসে একটি গলফ বল সাইজের টিউমার দেখা দেয় সামপ্রতিক পরীক্ষা-নিরীক্ষায়। তবে টিউমারটি ক্ষতিকর (ক্যান্সার) নয় বলে জানিয়েছেন যুবরাজের চিকিৎসকরা। বিশ্বকাপের পর ইনজুরির কারণে খেলার বাইরে থাকতে হয় যুবরাজকে। ইংল্যান্ড সফরে নটিংহ্যাম টেস্টে খেললেও আঙ্গুল ভেঙে ফিরতে হয় দেশে। অস্ট্রেলিয়ায় ট্রাই সিরিজে ওয়ানডে খেলায় ফেরার ইচ্ছা ছিল যুবরাজের। ৫ই ফেব্রুয়ারি শুরু হচ্ছে এ সিরিজ। তবে যুবরাজ আগামী মার্চে এশিয়া কাপের আগে মাঠে নামতে পারছেন না নিশ্চিত।

মন্দায় লেনদেন কমেছে ১১০০ কোটি টাকা

অর্থনৈতিক রিপোর্র্র্টার: বছরের প্রথম সপ্তাহে সূচক ও আর্থিক লেনদেনে পুঁজিবাজার ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও দ্বিতীয় সপ্তাহে বিপরীত চিত্র লক্ষ্য করা গেছে। এতে আগের সপ্তাহের তুলনায় গত সপ্তাহে লেনদেন ১১০০ কোটি টাকা ও সূচক সাড়ে ৩০০ পয়েন্ট কমেছে। ফলে নতুন করে বাজারে আস্থার সঙ্কট সৃষ্টি হয়েছে। তারল্য সঙ্কট ও সঙ্কোচনমূলক মুদ্রানীতির খবরে ব্যাপক দরপতনের মধ্য দিয়ে এ সপ্তাহ শেষ হয়েছে বলে বাজার সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। শেয়ারবাজারে গত কয়েক দিনের দরপতনে বিনিয়োগকারীদের ভয়ের কোন কারণ নেই বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স এসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) সভাপতি এ হাফিজ। তিনি বলেন, বাজার তার নিজস্ব গতিতে কমবে আবার বাড়বে। কিন্তু এ জন্য কোন গুজব কিংবা অসত্যের ওপর ভিত্তি করে বিনিয়োগকারীদের আস্থা নষ্ট করলে চলবে না। এ হাফিজ বলেন, বাজার তার স্বাভাবিক গতিতে বেশকিছু দিন ঊর্ধ্বমুখী ধারায় ছিল। কিন্তু হঠাৎ মুদ্রানীতি সম্পর্কে কে বা কারা গুজব ছড়িয়ে বিনিয়োগকারীদের আস্থা নষ্ট করার অপচেষ্টায় তৎপর হয়ে উঠেছে। এ ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের ধৈর্যচ্যুতি কিংবা বিচলিত হয়ে শেয়ার বিক্রি করে দেয়া মোটেও ঠিক নয়। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার যেখানে শেয়ারবাজার স্বাভাবিক করতে অত্যন্ত আন্তরিকতার পরিচয় দিচ্ছে সেখানে এ ধরনের গুজবে পড়ে মার্কেট থেকে দ্রুত বেরিয়ে যাওয়া কারোর জন্য শুভ হতে পারে না। মুদ্রানীতি সম্পর্কে হাফিজ বলেন, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টরা খুবই গুরুত্ব সহকারে চিন্তা করছে। এটি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের অহেতুক মনস্তাত্ত্বিকভাবে দুর্বল হওয়ার কোন কারণ নেই। মুদ্রানীতি পুঁজিবাজারের জন্য কোন নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না বলে তিনি মনে করছেন। বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত সপ্তাহের ৫ কার্যদিবসের মধ্যে ৪ দিনই সূচক কমেছে। একই সঙ্গে লেনদেনও ধারাবাহিকভাবে কমেছে। সপ্তাহের প্রথম দিনে সূচক ৪৯ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৪১৭ পয়েন্টে দাঁড়ায়। এদিন লেনদেন হয় ৬১৫ কোটি টাকা। দ্বিতীয় দিনে সূচক ১৬৪ পয়েন্ট কমে দাঁড়ায় ৫ হাজার ২৫৩ পয়েন্টে। এদিন লেনদেন হয় ৫৩৮ কোটি টাকা। তৃতীয় দিনেও সূচক বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত ছিল। এদিন সূচক ৯৬ পয়েন্ট কমে ও লেনদেন কমে দাঁড়ায় ৪০৭ কোটি টাকায়। চতুর্থ দিনে বাজারে কিছুটা স্বস্তিকর বাতাস দেখা যায়। এদিন সূচক ৬৫ পয়েন্ট বাড়ে তবে লেনদেন কমে দাঁড়ায় ৪০৫ কোটি টাকায়। সপ্তাহের শেষ দিনে এসে সূচক ১০৭ পয়েন্ট কমে এবং লেনদেন কমে দাঁড়ায় ৩২৭ কোটি টাকায়। সাপ্তাহিক বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত সপ্তাহে মোট আর্থিক লেনদেন হয় ২ হাজার ২৯৫ কোটি ৭ লাখ ৫৩ হাজার টাকা। আগের সপ্তাহে মোট লেনদেন হয়েছিল ৩ হাজার ৪৫৯ কোটি ৮২ লাখ ৮১ হাজার ৫৫৩ টাকা। সপ্তাহের ব্যবধানে কমেছে ৩৩৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ। এর মধ্যে ‘এ’ ক্যাটিগরির কোম্পানিগুলোর লেনদেন হয়েছে ২ হাজার ৯০ কোটি ৪৫ লাখ ৩ হাজার টাকা ও ‘বি’ ক্যাটিগরির কোম্পানিগুলোর লেনদেন হয়েছে ৭০ কোটি ৭৮ লাখ ১৬ হাজার টাকা। প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয়েছে ৪৫৯ কোটি ১ লাখ ৫০ হাজার ৬০২ টাকা। আগের সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয়েছিল ৬৯১ কোটি ৯৬ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতিদিনের লেনদেনের হার কমেছে ৩৩.৬৭ শতাংশ। গত সপ্তাহে ২৭২টি কোম্পানির মধ্যে দর বেড়েছে মাত্র ১৯টির, কমেছে ২৪৭টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৪টির। আগের সপ্তাহে ডিএসই’র সাধারণ সূচক ছিল ৫ হাজার ৪৬৭ পয়েন্টে। গত সপ্তাহে তা ৩৫২.৫১ পয়েন্ট বা ৬.৪৫ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৪৬৭ পয়েন্টে।

লেনদেনযোগ্য শেয়ারের সংজ্ঞা নির্ধারণে বৈঠক আজ

অর্থনৈতিক রিপোর্টার: দেশের স্টক এক্সচেঞ্জে সূচক গণনার ক্ষেত্রে ফ্রি ফ্লোটের (লেনদেনযোগ্য শেয়ার) সংজ্ঞা নির্ধারণে আজ রোববার বৈঠক করবে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) কর্তৃক গঠিত কমিটি। গত ১১ই জানুয়ারি এ কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও ১০ই জানুয়ারি এসইসি’র উপ-পরিচালক আবু রায়হান মোহাম্মদ মুতাসিম বিল্লাহ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে আজ এ বৈঠক করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয় বলে জানা গেছে। জানা যায়, গত ২৬শে ডিসেম্বর ফ্রি ফ্লোটের (লেনদেনযোগ্য শেয়ার) ভিত্তিতে স্টক এক্সচেঞ্জের মূল্যসূচক গণনার সিদ্ধান্ত নেয় এসইসি। একই সঙ্গে ফ্রি ফ্লোটের সংজ্ঞা নির্ধারণের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির আহ্বায়ক হলেন, এসইসি’র সদস্য আরিফ খান। এছাড়া কমিটিতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই), চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) ও সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিডিবিএল) প্রতিনিধি রয়েছে। কমিটিকে ১৫ দিনের মধ্যে এ বিষয়ে কমিশনের কাছে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়। প্রসঙ্গত, গত ২০শে ডিসেম্বর এসইসিতে ডিএসই’র মূল্যসূচক পুনর্বিন্যাস নিয়ে গঠিত কমিটির সদস্যদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে কমিটির সদস্যরা ভুল সূচকের পরিবর্তে নতুনভাবে মূল্যসূচক চালুর পক্ষে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন। এর আগে ১২ অক্টোবর এসইসি এই কমিটি গঠন করে।

হাইডেলবার্গ সিমেন্ট উৎপাদন ক্ষমতা বাড়লো

অর্থনৈতিক রিপোর্টার: সিমেন্ট উৎপাদন ক্ষমতা দ্বিগুণ করার উদ্দেশে হাইডেলবার্গ সিমেন্ট বাংলাদেশ লিমিটেড তাদের চট্টগ্রাম প্ল্যান্টে নতুন বল মিল সংযোজন করেছে। এতে কোম্পানিটির উৎপাদন ক্ষমতা বাড়বে। সমপ্রতি হাইডেলবার্গ সিমেন্ট গ্রুপের পরিচালনা পরিষদের চেয়ারম্যান ড. বার্নড সাইফেল নতুন এই বল মিলের উদ্বোধন  করেন। এ সময় হাইডেলবার্গ এশিয়া প্যাসিফিকের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান কর্মকর্তা ড. আলবার্ট শুয়ের ও অন্য কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এই ফরেন ডিরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট নিশ্চিতভাবে আমাদের দেশের ক্রমবর্ধমান জাতীয় চাহিদা মেটানোর সঙ্গে সঙ্গে দেশের  সার্বিক উন্নয়নের মজবুত ভিত্তি গড়ে দেবে। সিমেন্ট উৎপাদনে বিশ্বের অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠান হাইডেলবার্গ সিমেন্ট গ্রুপ। হাইডেলবার্গ সিমেন্ট ৪০টিরও বেশি দেশে সুনামের সঙ্গে সর্বোৎকৃষ্ট মানের সিমেন্ট উৎপাদন ও বাজারজাত করে আসছে। হাইডেলবার্গ সিমেন্ট বাংলাদেশ লিঃ হাইডেলবার্গ সিমেন্ট গ্রুপের একটি অঙ্গপ্রতিষ্ঠান। স্ক্যান সিমেন্ট ও রুবি সিমেন্ট, দু’টি শক্তিশালী ব্র্যান্ড নিয়ে বাংলাদেশের সিমেন্ট শিল্পে হাইডেলবার্গ একটি অন্যতম নাম। দেশের বেশির ভাগ প্রধান স্থাপনা স্ক্যান কিংবা রুবি সিমেন্টে তৈরি করা হয়েছে।

আগামী নির্বাচন সব দলের অংশগ্রহণে হবে আশা যুক্তরাজ্যের

স্টাফ রিপোর্টার: বাংলাদেশে আগামী জাতীয় নির্বাচন গ্রহণযোগ্য ও সব দলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা করে যুক্তরাজ্য। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাতে    পৃষ্ঠা ১৭ কলাম ৪
যুক্তরাজ্যের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন মন্ত্রী অ্যান্ড্রু মিশেল এ কথা জানিয়েছেন। গতকাল সন্ধ্যায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে খালেদা জিয়ার সঙ্গে ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক করেন অ্যান্ড্রু মিশেল। বৈঠকের পর আলোচনার বিষয়বস্তু সম্পর্কে গণমাধ্যমে দেয়া ব্রিফিংয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী বৃটিশ মন্ত্রীর উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে আলোচনায় অ্যান্ড্রু মিশেল বাংলাদেশে বিদেশী বিনিয়োগ হ্রাস পাওয়ায় তার উদ্বেগ জানিয়েছেন। বলেছেন, যেখানে রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা দেয়, সেখানে বিদেশী বিনিয়োগে অসুবিধা হয়। বর্তমানে বাংলাদেশে বিদেশী বিনিয়োগ হ্রাস পেয়েছে, এটা উদ্বেগজনক। বৃটিশ মন্ত্রী বিরোধীদলীয় নেতাকে বলেছেন, বাংলাদেশে দু’বছরের মধ্যে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হবে বলে আশা করে তার দেশ। শমসের মবিন চৌধুরী বলেন, বৈঠকে বৃটিশ অর্থনৈতিক উন্নয়ন সহায়তার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। মন্ত্রী জানিয়েছেন, বর্তমানে বৃটিশ উন্নয়ন সহায়তা বেড়েছে। আগামীতে এ সহায়তা আরও বাড়বে। যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের স্কলারশিপ বৃদ্ধি ও ছাত্র-ছাত্রীদের ভিসা জটিলতার সহজীকরণের জন্য বৃটিশ মন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় এ নেতা। সে সঙ্গে বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের কাছে শুভেচ্ছা পৌঁছে দেয়ার জন্য অ্যান্ড্রু মিশেলের প্রতি অনুরোধ জানান। অ্যান্ড্রু মিশেল বলেছেন, বাংলাদেশের বৃটিশ উন্নয়ন সহায়তা, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, সুুষ্ঠু-নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠান, রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আগামীকাল সংবাদ সম্মেলনে সফরের বিস্তারিত তুলে ধরবেন বলে জানিয়েছেন। সাক্ষাৎকালে ঢাকাস্থ বৃটিশ হাইকমিশনার রবার্ট গিবসন, বিএনপির সহসভাপতি শমসের মবিন চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাবেক হাইকমিশনার সাবিহ উদ্দিন আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। এদিকে গতকাল বৃটিশ হাই কমিশনের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
তিনদিনের সফরে গতকাল ঢাকায় আসেন বৃটিশ উন্নয়ন মন্ত্রী। বাংলাদেশে এটি তার প্রথম সফর। এর আগে ২০১০ সালে যুক্তরাজ্যের ওই দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী অ্যালান ডানকান বাংলাদেশ সফর করেছিলেন। ঢাকা সফরকালে বৃটিশ উন্নয়নমন্ত্রী বাংলাদেশে ডিএফআইডি সহায়তায় পরিচালিত কার্যক্রম পরিদর্শন করবেন। ডিএফআইডি বাংলাদেশে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ, সামাজিক সেবা প্রদানে সরকারের সক্ষমতা বৃদ্ধি, বেশিসংখ্যক শিশুকে উন্নত স্কুলে শিক্ষার ব্যবস্থা এবং পরিবার পরিকল্পনার উন্নয়ন ও মাতৃমৃত্যু হার কমানোকে অগ্রাধিকার দিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করে। ২০১৫ সাল নাগাদ বাংলাদেশে বিভিন্ন খাতে উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বছরে গড়ে ২৫ কোটি ডলার ব্যয় করবে ডিএফআইডি। অ্যান্ড্রু মিশেল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপুমনির সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।
সফরকালে তিনি বাংলাদেশে বৃটেনের সাহায্যে পরিচালিত প্রকল্পে অর্থ ব্যয়ে স্বচ্ছতা এবং বৈশ্বিক দারিদ্র্য বিমোচনে তার সরকারের নেয়া পদক্ষেপগুলো ঘুরে দেখবেন। রাজনৈতিক নেতৃত্ব, বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা, উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান এবং গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলবেন তিনি। বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের অংশীদারিত্ব, এ দেশের রাজনীতি, শাসনব্যবস্থা, অর্থনীতি এবং উন্নয়ন প্রবৃদ্ধি ও সম্ভাবনা নিয়ে তার অভিমত তুলে ধরবেন। হাইকমিশন জানিয়েছে, যুক্তরাজ্য তার আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ডিএফআইডির মাধ্যমে বাংলাদেশের উন্নয়নে সহায়তা দিয়ে আসছে। আগামী তিন বছরে দেশটি বাংলাদেশকে সাহায্যের জন্য যে পরিকল্পনা নিয়েছে তার মধ্যে রয়েছে- ৫০ লাখ চরম দরিদ্রের অবস্থার উন্নয়ন, ১২ লাখ প্রসূতির নিরাপদ প্রসব ও সেবার ব্যবস্থা, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৫ লাখ শিশুর শিক্ষা সমাপনীর নিশ্চয়তা এবং ১২ লাখ মানুষের জন্য নিরাপদ পানির ব্যবস্থা করা। ঢাকা সফরের প্রাক্কালে অ্যান্ড্রু মিশেল এক বিবৃতিতে বলেছেন, সাহায্যের অর্থ সঠিকভাবে ব্যয় হলে মানুষের জীবন বদলে যায়। বৃটিশ অর্থে বাংলাদেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবন কিভাবে বদলে যাচ্ছে তা দেখার জন্য বাংলাদেশ সফরের সুযোগ পেয়ে তিনি আনন্দিত বলেও জানান। এ দেশের দারিদ্র্য বিমোচন এবং জীবনমানের উন্নয়নে তার সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ বলে জানান বৃটিশ উন্নয়নমন্ত্রী।