Monday, February 15, 2010

সবাইকে উচ্চতর পদমর্যাদা দেওয়া সম্ভব নয় -রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদাক্রম by আকবর আলি খান

মিজানুর রহমান খানের প্রবন্ধে বিচারকদের নিম্নলিখিত সমস্যা তুলে ধরা হয়েছে: ১. বেতনের অপ্রতুলতা, ২. সর্বোচ্চ পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রে বাধা, ৩. নির্বাহী বিভাগের কর্মকর্তারা বিচার বিভাগের কর্মকর্তাদের যথেষ্ট সুযোগ-সুবিধা দেন না।
বেতনের প্রশ্নটি সম্পূর্ণ ভিন্ন। বেতনের সঙ্গে ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্সের কোনো সম্পর্ক নেই। বেতনের প্রশ্ন হলো সম্পদের। ভারত ও পাকিস্তানে শুধু বিচারকদেরই বেশি বেতন দেওয়া হয় না, বাংলাদেশের তুলনায় অন্যান্য পদে অনেক বেশি বেতন দেওয়া হয়। যেহেতু সরকারের বিঘোষিত নীতি অনুসারে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের মধ্যে ১০ গুণের বেশি ব্যবধান রাখা সম্ভব হয় না, সেহেতু সর্বোচ্চ পদে বেতন বাড়ানো সরকারের পক্ষে দুরূহ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সর্বনিম্ন পদে এত বেশি কর্মকর্তা রয়েছেন, তাঁদের বেতন বাড়লে সরকারের পক্ষে সে অর্থের সংস্থান করা অত্যন্ত কঠিন হবে। দ্রব্যমূল্যের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করলে বিচারপতিদের বিশেষ বেতন স্কেল প্রবর্তনের প্রস্তাব অবশ্যই গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার প্রয়োজন রয়েছে। তবে বর্তমানে জাতীয় বেতন স্কেল The Services (Reorganization and conditions) Act, 1975 (XXXII 0f 1975) দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। এই আইনে প্রজাতন্ত্রের সব পদের জন্য ইউনিফর্ম স্কেল প্রদান করা হয়েছে। এর ফলে জেলা জজ এবং তাঁর অধীন কর্মকর্তাদের বেতন তাঁদের সমমানের কর্মকর্তাদের চেয়ে বেশি হতে পারে না। ওই সমস্যা সমাধানের জন্য বিচারকদের বেতন নির্ধারণের পদ্ধতি পরিবর্তন করা যেতে পারে। ১৯৭৫ সালের আইন অনুসারে, বিচারকদের বেতন নির্ধারণ না করে একটি স্বতন্ত্র আইনের মাধ্যমে তাঁদের বেতন নির্ধারণ করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে বেতনের যেকোনো পরিবর্তন সংসদ কর্তৃক অনুমোদিত হবে। বর্তমানে একটি স্বতন্ত্র বেতন কমিশনের মাধ্যমে বিচারকদের বেতন নির্ধারণ সম্পর্কে সুপারিশ প্রদানের বিধান করা হয়েছে। এর পরিবর্তে বিচারকদের বেতন সুপারিশ করার দায়িত্ব সংসদের আইন ও বিচারবিষয়ক স্ট্যান্ডিং কমিটির ওপর দেওয়া যেতে পারে।
পদোন্নতি প্রশ্নে মিজানুর রহমান খান যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা প্রকৃতপক্ষে তথ্যনির্ভর নয়। পৃথিবীর কোনো দেশেই সব কর্মকর্তা সর্বোচ্চ পদে সমাসীন হতে পারেন না। বাংলাদেশে বিসিএস প্রশাসনের কর্মকর্তারা অন্য কোনো কর্মকর্তার চেয়ে হয়তো বেশি পদোন্নতি পান, এর যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে। কিন্তু সচিবালয়ের বাইরে যেসব ক্যাডার আছেন, তাঁদের সবাই সচিবের পদে পদোন্নতি পান না। যেমন ধরা যাক, আয়কর অথবা হিসাব-নিরীক্ষা অথবা শুল্ক বিভাগের কোনো সচিবের পদ নেই। তবে সচিবের পরের যতগুলো পদ আছে, এর ১০ শতাংশ পদে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে সচিবের বেতন স্কেল দেওয়া হয়ে থাকে। এটা সব ক্যাডারের জন্য প্রযোজ্য। অবশ্য আলাদা আইন করে ভিন্ন বেতন স্কেল দেওয়া হলে বিচারকদের ওই সমস্যা থাকবে না।
তৃতীয় সমস্যাটি সম্পর্কে মিজানুর রহমান খান বিস্তারিত লেখেননি। তবে মুখে জানিয়েছেন, বিচারপতিদের সার্কিট হাউসে অবস্থানের সময় যথাযোগ্য মর্যাদা দেওয়া হয় না। প্লেন, ট্রেন ও স্টিমারের টিকিটপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে সুবিধা দেওয়া হয় না। কাজেই তাঁদের মানক্রম উন্নীত করার প্রয়োজন রয়েছে। সার্কিট হাউসের সমস্যা হলো, সেখানে আসনসংখ্যা সীমিত এবং এর ফলে সবাইকে সন্তুষ্ট করা সম্ভব হয় না। সার্কিট হাউস মূলত সরকারি কাজে ব্যবহারের জন্য, ব্যক্তিগত কাজের জন্য নয়। যদি কক্ষ শূন্য থাকে, তবে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের জন্য উচ্চতর ভাড়ায় দেওয়া যেতে পারে। দেশে বর্তমানে অনেক শহরে মানসম্মত হোটেল স্থাপন করা হয়েছে। সার্কিট হাউসে উপযুক্ত কক্ষ পাওয়া না গেলে, বিচারপতিদের হোটেল ভাড়া সরকার থেকে দেওয়ার ব্যবস্থা করলে এই পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে।
বিমান ও রেলের ক্ষেত্রে জরুরি প্রয়োজনে সরকারের ব্যবহারের জন্য অল্প কিছু শহরে আসন সংরক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে এই আসনগুলো ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্সের ভিত্তিতে বণ্টন না করে, প্রয়োজন বিবেচনা করে অথবা আগে এলে আগে পাবে ভিত্তিতে বিতরণ করা যেতে পারে। অবশ্যই এই রিজার্ভেশন ব্যবস্থা তুলেও দেওয়া যেতে পারে—বর্তমানে সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা এত উন্নত হয়েছে যে সরকারের জরুরি প্রয়োজনের জন্য রিজার্ভেশন না রাখলেও চলে।
ওপরের আলোচনা থেকে এ কথা সুস্পষ্ট যে বিচারকদের মুখ্য সমস্যা হলো বেতনের অপ্রতুলতা। এ সমস্যার সমাধান ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্সে মিলবে না।
বিচারকেরা ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স নিয়ে বেশি হইচই করলে আমাদের মনে অন্য ধরনের শঙ্কা দেখা দেয়। দীর্ঘদিন ধরে এ উপমহাদেশে বিচারকদের একটি ঐতিহ্য রয়েছে। তাঁরা তাঁদের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রাখার জন্য সামাজিক কর্মকাণ্ড ও আনুষ্ঠানিকতা থেকে নিজেদের দূরে রাখেন। কাজটি অবশ্যই বেদনাদায়ক। যেকোনো সাধারণ মানুষ সামাজিক শানশওকত চায়। তবু বিচারকের মহান ও পবিত্র দায়িত্ব পালনের জন্য তাঁদের অনেক ব্যক্তিগত ত্যাগ স্বীকার করতে হবে। আমাদের দেশে যে সামাজিক পরিস্থিতি, তাতে বিচারকেরা সামাজিক আচার অনুষ্ঠানে বেশি সম্পৃক্ত হলে তাঁদের ভাবমূর্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। উচ্চতর আদালত কর্তৃক ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স সম্পর্কে রায়ের ফলে বিচারকেরা সামাজিক আচার অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যদি উত্সাহিত হন, তাহলে সমস্যার উদ্ভব হতে পারে। কাজেই তাঁদের ভাবমূর্তি সম্পর্কে তাঁদের নিজেদেরই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
একটা কথা মনে রাখতে হবে, ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্সের ভিত্তিতে যে পদমর্যাদা দেওয়া হয়, তার ভিত্তি অত্যন্ত দুর্বল। শ্রদ্ধা অর্জন করতে হয়, লোকজনকে শ্রদ্ধা করতে বাধ্য করা যায় না। দীর্ঘদিন ধরে ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্সে ঊর্ধ্বে স্থান দেওয়ার শর্তেও প্রশাসন বিভাগের কর্মকর্তারা বেশির ভাগ ক্ষেত্রে জনমনে শ্রদ্ধার আসনে সমাসীন হতে পারেননি। পুরোনো ভুল পথে না গিয়ে বাংলাদেশের বিচারকদের তাঁদের কাজের ভিত্তিতে জনমনে শ্রদ্ধা অর্জন করতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই।
ওপরের বিষয়গুলো সম্পর্কে আমি শুধু সমস্যা তুলে ধরেছি। সমস্যা সমাধান যে পর্যায়ে হবে, সে পর্যায়ে আমার সে বক্তব্য কোনো দিনই পৌঁছাতে পারবে না। তবু আমি মনে মনে ভাবি, বিষয়টি হয়তো নিচে বর্ণিত সূত্র অনুসারে নিষ্পন্ন হতে পারে:
১. ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্সকে আইনগত বৈধতা দেওয়ার আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নেওয়া সঠিক হবে না। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মতো বিষয়টি নিছক প্রটোকলের বিষয় থাকতে পারে।
২. ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্সের পদাধিকার সরকারের সব উদ্দেশ্যে ব্যবহূত হতে পারে না। আদালত এর ব্যাখ্যা চাইতে পারেন, যদি আদালতের কাছে প্রতীয়মান হয় যে সব ক্রিয়াকাণ্ডে সরকার এটি ব্যবহার করবে; তাহলে সাধারণ নাগরিক হিসেবে আমি প্রার্থনা করি, আদালতও এটিকে বৈষম্যমূলক ব্যবস্থা হিসেবে বেআইনি ঘোষণা করবেন। এই রায়ের সঙ্গে সাধারণ মানুষের মানমর্যাদা জড়িত। উপরন্তু যদি ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স সরকারের সব কাজে ব্যবহূত হয়, তাহলে প্রশাসনেও নৈরাজ্য দেখা দেবে। ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স-বলে একজন সচিব কর বিভাগের ডেপুটি কমিশনারের কাছে বিশেষ কোনো মর্যাদা দাবি করতে পারেন না। কাজেই ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স রাখতে হলে এটি শুধু সরকারি অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে।
৩. সরকার নিজ উদ্যোগে প্রয়োজনবোধে বিচারকদের বর্তমান পদমর্যাদা পুনর্বিবেচনা করতে পারে। বিচারকদের স্বতন্ত্র বেতন সম্পর্কে আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।
ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স নিয়ে শুধু বিচারকেরা অসন্তুষ্ট নন, শিক্ষকেরাও অসন্তুষ্ট। যেমন ধরা যাক, যদি আদালতের নির্দেশে ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স জারি করা হয়, তাহলে অতিরিক্ত জেলা জজেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের অথবা জাতীয় অধ্যাপকদের ঊর্ধ্বে স্থান পাবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকেরা তখন হয়তো অভিযোগ করবেন, যাঁদের মাত্র কিছুদিন আগে পড়িয়েছেন, তাঁরা ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্সে উচ্চতর মর্যাদার অধিকারী। প্রকৌশলীরা অভিযোগ করবেন, তাঁরা সর্বাধিক মেধাবী ছাত্র হওয়া সত্ত্বেও ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্সে তাঁদের স্থান অনেক নিচে। চিকিত্সকদেরও একই অভিযোগ। সারাজীবন চাকরি করার পর ডাইরেক্টর জেনারেল হেলথ সার্ভিসের পদে উত্তীর্ণ হলে অতিরিক্ত সচিবের মর্যাদাও পান না। সরকারের পক্ষ থেকে যে যুক্তি দেওয়া হয়ে থাকে, সরকারের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যাঁদের প্রয়োজন বেশি, তাঁদের আগে স্থান দেওয়া হয়। যেমন ধরা যাক, মন্ত্রিপরিষদের পদমর্যাদা সাংসদদের ঊর্ধ্বে। সাংসদেরা নির্বাচিত প্রতিনিধি। একজন অনির্বাচিত আমলাকে তাঁদের ঊর্ধ্বে স্থান দেওয়ার কী যৌক্তিকতা থাকতে পারে? সরকারের পক্ষ থেকে এ ক্ষেত্রে যুক্তি দেওয়া হয়, সরকারের সব অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর কাছাকাছি থাকা দরকার। যদি ৩৫০ জন সাংসদের পেছনে মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে বসানো হয়, তাহলে জরুরি প্রয়োজনের সময় তাঁকে খুঁজে পাওয়া কষ্টকর হবে। উপরন্তু প্রজাতন্ত্রের সামরিক-বেসামরিক বিভাগে যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী আছেন, তাঁদের সর্বোচ্চ পদধারী উপযুক্ত পদমর্যাদা প্রদান বিশেষ বিবেচনার দাবি রাখে।
বিষয়টি যদি শেষ পর্যন্ত আদালতের মাধ্যমে নিষ্পন্ন হয়, তাহলে সমস্যার চূড়ান্ত সমাধান হবে না। সরকারের জন্য বহু নতুন ধরনের অস্বস্তিকর সমস্যা সৃষ্টি হবে। এ ক্ষেত্রে অন্য একটি বিকল্প হতে পারে, ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স একেবারে তুুলে দেওয়া এবং প্রতিটি অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে কাকে কোথায় বসানো হবে, সে সম্পর্কে অনুষ্ঠানের উদ্যোক্তারা সিদ্ধান্ত নেবেন।
সমস্যা হলো, সবাই উচ্চতর পদমর্যাদা চান। বাস্তবতা হলো, সবাইকে উচ্চতর পদমর্যাদা দেওয়া সম্ভব নয়। এ সংকট প্রসঙ্গে তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর লে. জেনারেল আজম খানের একটি ঘটনা মনে পড়ছে। আমরা তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। আজম খান ফজলুল হক হলে একটি অনুষ্ঠানে এলেন। তিনি বক্তৃতার শুরুতে বললেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ বিশ্ববিদ্যালয় এবং ফজলুল হক হল হচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেষ্ঠ হল। তিনি তাকিয়ে দেখেন, তাঁর সামনে বসে আছেন সলিমুল্লাহ হলের প্রভোস্ট। তাঁকে খুশি করার জন্য বললেন, সলিমুল্লাহ হলও শ্রেষ্ঠ। আরেক দিকে বসে আছেন ইকবাল হলের প্রভোস্ট। তাঁকে দেখে বললেন, ইকবাল হলও। আজম খানের বক্তৃতার মতো যদি ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স করা যেত, তাহলে কোনো সমস্যা হতো না। আমরা তখন সবাই দাবি করতাম, ‘আমরা সবাই রাজা, আমাদের এই রাজার রাজত্বে।’ [শেষ]
আকবর আলি খান: তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা।

শিক্ষকদের রাজনীতি -আইন ভঙ্গের প্রতিকার দেখতে চাই

প্রধান বিরোধী দল বিএনপির সিলেট বিভাগ আয়োজিত তৃণমূল পর্যায়ের এক বড় সভায় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) ও সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের চারজন শিক্ষকের উপস্থিতি এবং জননেতাদের চেয়েও জ্বালাময়ী ভঙ্গিতে তাঁদের বক্তৃতা করার খবর ওই শহরের মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। এই শিক্ষকদের বক্তৃতা দেখে ও শুনে এমনকি বিএনপির নিয়মিত নেতা-কর্মীদেরও তাক লেগেছে। বলাবলি হয়েছে, তাঁরা নাকি নেতাদেরও হার মানিয়েছেন।
কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় দুটোর আইন অনুযায়ী কাজটা ঠিক হয়নি। শাবিপ্রবির আইনের ৫১(২) ধারায় স্পষ্ট ভাষায় বলা আছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষকের রাজনৈতিক মতামত পোষণের স্বাধীনতা থাকবে। তবে তিনি রাজনৈতিক মতামত প্রচার বা নিজেকে কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত করতে পারবেন না। আর সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের ৪৬(৫) ধারা বলছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষক, কর্মকর্তা বা কর্মচারী নিজেকে কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে জড়িত করতে পারবেন না। বিএনপির সেদিনের সভায় শাবিপ্রবির একজন শিক্ষক সভাপতিত্ব করেছেন। তাহলে এটা স্পষ্ট যে, ওই চার শিক্ষক সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় দুটির আইন ভঙ্গ করেছেন।
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষকদের রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা এ দেশে নতুন কোনো বিষয় নয়। বিশেষত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়—১৯৭৩ সালের বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশের আওতাধীন এই চারটি বড় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা দলীয় রাজনৈতিক লাইনে বিভক্ত। এমন নয় যে এর ফলে জাতীয় রাজনৈতিক সংস্কৃতির উন্নতি ঘটেছে; বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের মতো মর্যাদাপূর্ণ পেশার কিছু গুণগত ও মর্যাদাগত অবনমন ঘটেছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা, গবেষণা, জ্ঞান ও বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দলীয় লাইনে শিক্ষক-রাজনীতি নেতিবাচক ছাত্ররাজনীতির জন্য ইন্ধনের কাজ করেছে: বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড থেকে শুরু করে আবাসিক হলগুলোর নিয়ন্ত্রণ, নির্মাণকাজ, এমনকি ক্যাম্পাসে স্বাভাবিক চলাফেরা-জীবনযাপনেও আধিপত্য বিস্তারের দ্বন্দ্বই হয়ে উঠেছে প্রধান বিষয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা শিক্ষার্থীদের নিয়ে পড়াশোনা, গবেষণা, সেমিনার, বিতর্ক ইত্যাদি বুদ্ধিবৃত্তিক ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ড নিয়ে ব্যস্ত থাকবেন। রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি ও মতামত তাঁদের অবশ্যই থাকবে, কিন্তু তাই বলে তাঁরা রাজনৈতিক দলের লেজুড়বৃত্তি করবেন, দলীয় নেতাদের আনুকূল্য-অনুগ্রহের জন্য দলীয় সভা ও কর্মসূচিতে যোগ দেবেন, রাজনৈতিক নেতাদের ঢঙে বক্তৃতা করবেন—এসব মোটেই বাঞ্ছিত নয়। এসবের মধ্য দিয়ে অন্তত নিজেদের শিক্ষার্থীদের কাছে শিক্ষকের মর্যাদা, গুরুত্ব ও সম্মান বাড়ে না।
শাবিপ্রবির উপাচার্য তাঁর বিশ্ববিদ্যালয়ের দুজন শিক্ষকের বিএনপির সভায় যোগ দেওয়া সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেছেন, ‘আইন অনুযায়ী একজন শিক্ষক এ ধরনের অনুষ্ঠানে যেতে পারেন না। তবে আমি মনে করি, স্বায়ত্তশাসিত বা বড় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা যদি এ ধরনের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারেন, তাহলে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ঠেকিয়ে লাভ কী?’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক প্রধান হয়ে শাবিপ্রবির উপাচার্য কী করে এমন কথা বলতে পারলেন, তা আমাদের বোধগম্য নয়। আইন আছে তা প্রয়োগ করার জন্য। মানুষ আশা করবে, বিশ্ববিদ্যালয় দুটোর বিদ্যমান আইন অনুযায়ী উল্লিখিত চার শিক্ষকের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

জাপান গার্ডেন সিটির দুর্ঘটনা -এ মৃত্যুর জবাব কী

মোহাম্মদপুরের জাপান গার্ডেন সিটিতে আগুন লেগে একই পরিবারের সাতজনের মৃত্যুর ঘটনাটি যেমন হূদয়বিদারক তেমনি আমাদের নগরজীবনে নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টিও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়। এ মৃত্যুর জবাব কী? বহুতল আবাসিক ভবনগুলোয় নিজস্ব অগ্নিনির্বাপণ-ব্যবস্থাসহ যেসব অত্যাবশ্যক সুযোগ-সুবিধা থাকা প্রয়োজন, তা অনেক ভবনেই নেই। জাপান গার্ডেন সিটি মহানগরের বৃহত্তম আবাসিক কমপ্লেক্স হলেও সেখানে ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা নেই বলে বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁরা গার্ডেন সিটি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে চুক্তিভঙ্গেরও অভিযোগ এনেছেন। এসব অভিযোগ যে একেবারে ভিত্তিহীন, তা বলা যাবে না। এক হাজার ৮০৩টি ফ্ল্যাটের এই আবাসিক কমপ্লেক্সে মসজিদ, খেলার মাঠ ও পার্কের সুবিধা না থাকাও অস্বাভাবিক।
অগ্নিনির্বাপণ কর্তৃপক্ষ বলেছে, অপ্রশস্ত সড়কের কারণে জাপান গার্ডেন সিটিতে গাড়ি নিয়ে যেতে বেগ পেতে হয়েছে, দুর্ঘটনাস্থলে যেতে তাদের বিলম্ব ঘটেছে। সময়মতো সেখানে পৌঁছাতে পারলে হয়তো পরিবারটিকে রক্ষা করা যেত। অতএব এ দুর্ঘটনার দায় গার্ডেন সিটি কর্তৃপক্ষ এড়াতে পারে না। পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৬ নম্বর ভবনের ১১তম তলার একটি ফ্ল্যাটে এক বছর ধরে মিস্ত্রিরা কাঠের কাজ করছিল, তাদের ফেলা সিগারেট থেকে আগুন লাগতে পারে। আবাসিক ফ্ল্যাটে এ ধরনের কাজ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। নাগরিক জীবনে একজনের সামান্য ভুল যে আরও অনেকের জন্য অসামান্য ক্ষতি বয়ে আনতে না পারে, সে ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
মহানগরে যেকোনো ভবন নির্মাণ করতে হলে কিছু পূর্বশর্ত পূরণ করতে হয়। বহুতল ভবন হলে নিজস্ব অগ্নিনির্বাপণ-ব্যবস্থা থাকা বাধ্যতামূলক। জাপান গার্ডেন সিটির ক্ষেত্রে কোথায় ত্রুটি ছিল, তা খতিয়ে দেখতে হবে। শুধু জাপান গার্ডেন সিটি নয়, মহানগরের যত্রতত্র এ ধরনের বহু আবাসিক ও বাণিজ্যিক কমপ্লেক্স গড়ে উঠেছে, যেখানে নিয়ম অনুযায়ী অগ্নিনির্বাপণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেই। রাজউক মহানগরের অননুমোদিত ভবন ভাঙার তোড়জোড় চালাচ্ছে, ভালো কথা। একটি ভবন নির্মাণ করতে রাজউক ছাড়াও পরিবেশ অধিদপ্তরসহ বহু সংস্থার ছাড়পত্র নিতে হয়। সেসব ছাড়পত্রই বা তারা কীভাবে ও কাদের কাছ থেকে জোগাড় করল? এর পেছনে বাঁ হাতের কারসাজি আছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। কেউ যাতে অননুমোদিতভাবে ভবন বা স্থাপনা নির্মাণ করতে না পারে, সে ব্যাপারে রাজউকের নজরদারি আরও বাড়াতে হবে।
জাপান গার্ডেন সিটির দুর্ঘটনায় যাঁরা মারা গেছেন, তাঁদের ফিরিয়ে আনা যাবে না । কিন্তু ভবিষ্যতে অনুরূপ দুর্ঘটনা যাতে না ঘটতে পারে, সে জন্যই সেখানকার বাসিন্দাদের আনীত অনিয়ম ও আইন ভঙ্গের অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। গার্ডেন সিটি কর্তৃপক্ষ সত্যি সত্যি আইন ভেঙে থাকলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সেখানকার বাসিন্দাদের সুযোগ-সুবিধা বিশেষ করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।

ভারতের সঙ্গে যেকোনো বিষয়ে আলোচনায় রাজি পাকিস্তান

পাকিস্তান ও ভারতের পররাষ্ট্রসচিব পর্যায়ের আসন্ন বৈঠকে পাকিস্তান যেকোনো বিষয়ে আলোচনায় রাজি আছে। ভারতও আলোচনা শুরুর ব্যাপারে কোনো শর্তারোপ করছে না। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আবদুল বাসিত দেশটির রাষ্ট্র-নিয়ন্ত্রিত টেলিভিশন পিটিভিতে এ কথা বলেন। দ্য হিন্দু, এএফপি।
২৫ ফেব্রুয়ারি নয়াদিল্লিতে দুই দেশের মধ্যে এ আলোচনা শুরু হচ্ছে। আলোচনায় পাকিস্তানের পররাষ্ট্রসচিব সালমান বশির ও ভারতের পররাষ্ট্রসচিব নিরুপমা রাও নিজ নিজ দেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেবেন। ভারতের মুম্বাইয়ে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার পর দুই দেশের মধ্যে এটাই প্রথম বড় ধরনের আলোচনার উদ্যোগ।
আবদুল বাসিত বলেন, কাশ্মীর প্রসঙ্গ বা অভিন্ন নদীর পানিবণ্টন নিয়ে আলোচনায় পাকিস্তানের কোনো আপত্তি নেই। এ ছাড়া বেলুচিস্তান ও আফগানিস্তানে পাকিস্তানের হস্তক্ষেপের ব্যাপারে ভারতের অভিযোগের বিষয় নিয়েও আলোচনায় রাজি আছে ইসলামাবাদ। কাশ্মীর সমস্যা প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, ভারতের আন্তরিকতার অভাবেই এ সমস্যার সমাধান হয়নি। এ সমস্যার সমাধানে ভারত কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।
বিদ্যালয়ে জঙ্গি হামলা: পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের তালেবান জঙ্গিরা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে একটি উচ্চবিদ্যালয় ধ্বংস করে দিয়েছে। গতকাল শনিবার আফগান সীমান্তের কাছে উপজাতি-অধ্যুষিত মোহমান্দ জেলার কোয়ামারদির গ্রামের ওই বিদ্যালয়ে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।

মাই নেম ইজ ফ্যান, বললেন আপ্লুত শাহরুখ

আগের শুক্রবার রাহুল গান্ধী পেরেছিলেন। ঠিক এক সপ্তাহ পরে মুম্বাইবাসীও পারল। শিবসেনার রক্তচক্ষু সত্ত্বেও মুম্বাইয়ে মুক্তি পেল মাই নেম ইজ খান। সব কটি প্রেক্ষাগৃহে নয়। তবে যেখানেই প্রদর্শিত হলো, মানুষ ভিড় করে ছবিটি দেখল। তারা তুমুল হর্ষধ্বনিতে ফেটে পড়ল। উপমুখ্যমন্ত্রী আর আর পাতিল দর্শকদের উদ্দেশে বললেন, ‘এটা একটা বিরাট ব্যাপার। যাঁরা বাড়ি থেকে বেরিয়ে ছবিটি দেখেছেন, তাঁদের সবাইকে অভিনন্দন।’
আপ্লুত শাহরুখ আর করণ জোহরও। টুইটারে মুম্বাইয়ের দর্শকদের প্রতি অকুণ্ঠ ধন্যবাদ জানিয়েছেন দুজনই। শাহরুখ তো বলেই দিয়েছেন, ‘মাই নেম ইজ ফ্যান! আপনারাই সত্যিকারের নায়ক!’ অথচ গত শুক্রবার পর্যন্ত যা অবস্থা ছিল, তাতে কিন্তু এই দৃশ্যটা আশা করা যায়নি।
প্রথম দিনের পর কে কোথায় দাঁড়িয়ে? শিবসেনা ঠারেঠোরে ‘হার’ স্বীকার করেই নিয়েছে। বালসাহেব ঠাকরে বলেছেন, ‘শিবসৈনিকদের যা করার ছিল, তারা করেছে। এবার যারা শাহরুখের পাকিস্তান-প্রেমকে ভালোবাসে, তারা ছবি দেখাক! আর যারা শাহরুখের মতো পাকিস্তানপ্রেমীকে ভালোবাসে, তারা ছবি দেখুক!’ আগের শুক্রবার রাহুল গান্ধীর কাছে ধরাশায়ী হয়ে শিবসেনা বলেছিল, ফ্যাসিস্ট জমানাই তাদের কণ্ঠরোধ করেছে। এই শুক্রবারও তাদের মুখে হতাশারই সুর। আর শাহরুখ স্বস্তি ফিরে পেয়ে তাঁর ভক্তদের বলেছেন, ‘আপনাদের কদিন ধরে উদ্বেগে রাখার জন্য দুঃখিত।’
মুম্বাইয়ে ৩৮টি মাল্টিপ্লেক্স ও ২৫টি হলে মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল ছবিটি। বেশ কিছু প্রেক্ষাগৃহ ছবিটা দেখানোর সাহস পায়নি বটে, কিন্তু এগিয়ে আসে মাল্টিপ্লেক্সগুলো। শিবরাত্রির ছুটিতে মুম্বাইয়ে শুক্রবার ছিল উত্সবের আমেজ। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মাল্টিপ্লেক্সগুলোর সামনে ভিড় জমতে থাকে। উত্সুক জনতাকে দেখে সাহস পান প্রদর্শকেরাও। দুপুরের পর থেকে একটু একটু করে শুরু হতে থাকে শো।
রাতের শো-এ সব কটি মাল্টিপ্লেক্সেই দেখানো হয়েছে মাই নেম ইজ খান। এবং সকাল বা রাত, হাউসফুলের কমতি ছিল না কোথাও। সাধারণ মানুষ থেকে প্রশাসন—সবাই বলছে, বাকি প্রেক্ষাগৃহগুলো ছবিটি দেখালে আরও বেশি লোক সেটি দেখত!

আরব দেশ সফরে যাচ্ছেন হিলারি

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন গতকাল শনিবার থেকে কাতার ও সৌদি আরব সফর শুরু করেছেন। ওই সফরে তিনি আরব ও মুসলিম নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ব্যাপারে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের লক্ষ্যে মার্কিন অবস্থানের পক্ষে সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করবেন।
হিলারি আরব-ইসরাইল শান্তির লক্ষ্যে ওবামা প্রশাসনের প্রয়াসের ব্যাপারেও সমর্থন আদায়ের চেষ্টা চালাবেন। তিনি পরে কাতারের রাজধানী দোহায় যুক্তরাষ্ট্র-ইসলামিক বিশ্ব ফোরামে বক্তৃতাকালে মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের ব্যাপারে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেছেন, হিলারির স্বামী সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের হূদযন্ত্রে গত বৃহস্পতিবার অস্ত্রোপচার হওয়ায় তাঁর এ সফর এক দিন বিলম্বিত হয়েছে। তবে এ বিলম্বের ফলে তাঁর কোনো বৈঠক বাতিল করতে হবে না।
ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার পক্ষে বেইজিংয়ের সমর্থন পাওয়ার চেষ্টায় তিনি চীনে তেল সরবরাহ বৃদ্ধির প্রস্তাব দেওয়ার জন্য সৌদি আরবের প্রতি আহ্বান জানাবেন। উল্লেখ্য, চীন তাদের অধিকাংশ তেল ইরান থেকে আমদানি করে থাকে।

হলদিয়ায় বিশ্ব বাংলা কবিতা উৎসবে বাংলাদেশের ১১ কবি

পশ্চিমবঙ্গের শিল্পনগর হলদিয়ায় শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী বিশ্ব বাঙালি কবিতা উৎসব। এবার এই উৎসব ছয় বছরে পা দিয়েছে। এই উৎসবে বাংলাদেশের ১১ কবিসহ দেশ-বিদেশের ৩০০ কবি যোগ দিয়েছেন।
গত শুক্রবার এই কবিতা উৎসবের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশের প্রখ্যাত কবি সৈয়দ শামসুল হক। যোগ দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের প্রখ্যাত সাহিত্যিক বুদ্ধদেব গুহ, আবুল বাশার, লেখক ও মন্ত্রী আবদুস সাত্তারসহ বেশ কজন কবি-সাহিত্যিক।
উৎসবের উদ্বোধন করে সৈয়দ শামসুল হক বলেন, ‘বাংলাদেশে হলুদকে বলে হলদিয়া। হলদিয়া আসলে একটি পাখি। তাই বাংলাদেশের কবিরা হলদিয়া নামের শহুরে কুটুমপাখি।’ তিনি আরও বলেন, ‘সমস্ত বাঙালিই আত্মার আত্মীয়। বিশ্বজুড়ে বাংলা ভাষায় যাঁরা কথা বলেন, তাঁদের প্রথম ও শেষ পরিচয় হলো বাঙালি।’
কবিতা উৎসবকে ঘিরে এখানে আয়োজন করা হয় বইমেলার। এতে যোগ দিয়েছে ১০০টি প্রকাশনা সংস্থা। আজ রোববার শেষ হচ্ছে এ উৎসব।

আলোচনায় ফিরতে আরও সময় নিতে চায় পিয়ংইয়ং

পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ আলোচনায় ফিরতে উত্তর কোরিয়া আরও কিছু সময় নিতে পারে। তবে দেশটি দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্কের উন্নতি চায়। জাতিসংঘের এক শীর্ষ কর্মকর্তা গতকাল শনিবার এ কথা জানিয়েছেন। পিয়ংইয়ংয়ের পরমাণু কর্মসূচি পরিত্যাগের বিষয় নিয়ে আলোচনায় চাপ সৃষ্টি করতে উত্তর কোরিয়ার এক শীর্ষ কর্মকর্তা আগামী মাসে অনুষ্ঠিতব্য বৈঠকে অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্র সফর করবেন। খবর এপি ও এএফপির।
শুক্রবার পিয়ংইয়ং সফরের পর জাতিসংঘ কর্মকর্তা লিন পাসকো বলেন, উত্তর কোরিয়া পরমাণু আলোচনায় ফেরার ব্যাপারে আগ্রহী ছিল না। ওই আলোচনাটি চলছিল ছয় জাতির মধ্যে। তবে থেমে থাকা ওই আলোচনা পুনরায় শুরু করার বিষয়ে তিনি এখন আশাবাদী। জাতিসংঘের রাজনীতিবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল পাসকো বলেন, ‘আমি মনে করি, এটি অনেক বড় ধরনের আলোচনা হতে পারে।’ চীন থেকে দক্ষিণ কোরিয়ার ইনচিওন বিমানবন্দরে পৌঁছার পর তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।
লিন বলেন, উত্তর কোরিয়া তাদের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞায় অখুশি। তাই ছয় জাতি বৈঠকে ফেরার ব্যাপারেও তাদের অতটা আগ্রহ থাকার কথা নয়। চলতি সপ্তাহে বেইজিংয়ে চীন ও উত্তর কোরিয়ার পরমাণু মধ্যস্থতাকারীর মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরুর লক্ষ্যে কয়েক দিন ধরে বৈঠক হচ্ছে। উত্তর কোরিয়া গত এপ্রিলে ওই আলোচনা বন্ধ করে দেয়।
ওয়াশিংটন, সিউল ও টোকিও বলেছে, অন্য বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার আগে উত্তর কোরিয়াকে অবশ্যই নিঃশর্তভাবে তাদের পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ করতে হবে। লিনের উদ্ধৃতি দিয়ে বার্তা সংস্থা ইয়োনহ্যাপ জানায়, সাধারণভাবে উত্তর কোরীয়রা দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্কের উন্নতি চায়। কিন্তু বিশেষ কিছু বিষয়ে ভিন্নমত থাকতেই পারে।
উত্তর কোরিয়ার পরমাণুবিষয়ক এক শীর্ষ কর্মকর্তা আগামী মাসে যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাওয়ার কথা। পিয়ংইংয়ের পরমাণু কর্মসূচি বন্ধে আলোচনা পুনরুজ্জীবিত করতে তিনি ওই সফর করবেন। তবে ওয়াশিংটনের কর্মকর্তারা বলছেন, এ ধরনের কোনো সফরের পরিকল্পনা এখনো করা হয়নি।

বয়সের সঙ্গে বাড়ে ভালোবাসাও!

অনেকে বলে থাকেন বয়স বাড়লে নাকি ভালোবাসা কমে যায়। তবে গবেষণা বলছে অন্য কথা। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভালোবাসা নাকি আরও দৃঢ় হয়। কিছু শারীরিক বাধা সত্ত্বেও বয়স্ক দম্পতিরা অনেকের চেয়ে আরও বেশি ভালোবাসায় জড়ান। শুধু তাই নয়, তাঁদের নতুন সম্পর্কও হয় পরিতৃপ্তিকর। সম্প্রতি কানাডায় পরিচালিত এক গবেষণায় এ তথ্য পাওয়া গেছে।
৬৫ বছরের বেশি বয়স্ক মানুষের ওপর করা পরীক্ষায় দেখা গেছে, তাঁরা স্পেইনার ডায়াডিক এডজাস্টমেন্ট স্কেল-এ সর্বোচ্চ স্কোর অর্জন করেছেন। তাঁদের অর্জিত পয়েন্ট ১১৯ ও ১২০। ওই স্কেল তথা নিক্তির মাধ্যমে দম্পতিদের সুখ পরিমাপ করা হয়। ওই স্কেলে কানাডিয়ানদের গড় স্কোর ১১৪। যৌন পরিতৃপ্তির বিষয়টিও স্কেলে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। কানাডার মন্ট্রিলের কুইবেক বিশ্ববিদ্যালয়ের মনস্তত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক জাইলস ট্রুডেল বলেন, এটা গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয় যে বয়স্করা এমন স্কোর করেছেন।
কুইবেকের ৫০৮ জন দম্পতির ওপর ওই গবেষণা চালানো হয়। তাঁদের সবাই ইতিমধ্যে অবসরে গেছেন। যাঁদের অধিকাংশেরই বয়স ৬৫ বছরের ওপর। তবে গবেষণায় বিচ্ছেদ হওয়া দম্পতিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
জাইলস ট্রুডেল বলেন, অবসর নেওয়ার পর দম্পতিরা পরস্পরের সঙ্গে বেশি সময় কাটানোর সুযোগ পান। বিষয়টি তাঁদের কাছে অনেকটা দ্বিতীয় মধুচন্দ্রিমার মতো। এ সময় অনেকে নতুন করে প্রেমেও পড়েন।
কিন্তু কিছু কিছু ক্ষেত্রে অবসরের পর বিপরীত প্রভাব পড়তেও দেখা যায়। তখন তাঁদের হাতে অনেক সময় থাকে। ওই সময় দীর্ঘদিন ধরে লুকায়িত বৈবাহিক সমস্যা হঠাত্ বেরিয়ে আসে।
বয়স্ক মানুষেরা অতীতে বিবাহ বিচ্ছেদ করতেন না বললেই চলে। কিন্তু গবেষকেরা সম্প্রতি দেখতে পান, আজকাল ৭০ বছর কিংবা তার বেশি বয়সের পাঁচ থেকে ছয় শতাংশ মানুষও বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটাচ্ছেন। তাঁদের মধ্যে অনেকে বিবাহ বিচ্ছেদ করছেন, কারণ তাঁর সঙ্গী প্রথম দর্শনেই অন্য একজনের প্রেমে পড়ে গেছেন।

আফগানিস্তানে তালেবানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের অভিযান শুরু

২০০১ সালে তালেবান সরকারের পতনের পর আফগানিস্তানে তালেবান জঙ্গিদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অভিযান শুরু হয়েছে এবার। ইতিমধ্যে অভিযানে ২০ তালেবান জঙ্গি নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে ন্যাটো বাহিনী। অভিযানে অংশ নিচ্ছেন ১৫ হাজারেরও বেশি মার্কিন, ব্রিটিশ ও আফগান সেনা। তালেবাননিয়ন্ত্রিত মারজাহ শহরের ওপর সরকারি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ওই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এদিকে আফগানিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলে দুটি বোমা হামলায় গতকাল চার মার্কিন সেনা নিহত হয়েছে।
অপারেশন ‘মোশতারাক’ নামের ওই অভিযান শুরু হওয়ার আগে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছেন অনেক স্থানীয় অধিবাসী। বেসামরিক লোকজনের হতাহতের সংখ্যা সীমিত রাখার জন্য অভিযানের আগে মারজাহ শহরে ন্যাটোর হেলিকপ্টার থেকে প্রচারপত্র বিলি করা হয়েছে।
হেলমান্দ থেকে পাওয়া খবরে জানা গেছে, অনেক মানুষ এখনো শহরে রয়ে গেছেন। তালেবানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হামলা প্রতিরোধে তাঁরাও পুরোপুরি প্রস্তুত। তবে ন্যাটো কমান্ডার মেজর জেনারেল নিক কার্টার বিবিসিকে বলেছেন, অভিযান এ পর্যন্ত খুবই সফল।
অভিযান মোকাবিলায় তালেবানের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রাস্তায় রাস্তায় অনেক বোমা পেতে রাখা হয়েছে—এমন আশংকা করা হচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার অপারেশন মোশতারাকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক ব্রিটিশ সেনা বোমা বিস্ফোরণে নিহত হন। ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী বব আইনসওয়ার্থ সতর্ক করে দিয়ে বলেন, সামনের দিনগুলোয় আরও অনেক হতাহতের ঘটনা ঘটতে পারে।
অপারেশন মোশতারাকে নেতৃত্ব দিচ্ছে মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনী। কিন্তু অভিযানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রয়েছেন চার হাজার ব্রিটিশ সেনা। এ ছাড়া কানাডা, ডেনমার্ক ও এস্তোনিয়ার সেনারাও অভিযানে সমর্থন দিচ্ছেন। গতকাল শনিবার সূর্যাস্তের আগে অভিযান শুরু হয়। মার্কিন মেরিন বাহিনী ও আফগান সেনা সদস্যরা হেলিকপ্টার থেকে মারজাহ অবতরণ করেন।
একজন জ্যেষ্ঠ ন্যাটো কর্মকর্তা বিবিসিকে জানান, গত বৃহস্পতিবার অভিযান শুরুর বিষয়টি অনুমোদন করেছেন আফগান প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই। অভিযানে বেসামরিক জনগণ যাতে হতাহত না হয়, সেদিকে লক্ষ্য রাখার জন্য নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক করে দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট কারজাই।
এক বিবৃতিতে তিনি বেসামরিক লোকজনের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে সম্পূর্ণ সতর্ক থাকতে আফগান ও আন্তর্জাতিক বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন। এরই মধ্যে রণাঙ্গন থেকে হতাহতের খবর আসতে শুরু করেছে। ন্যাটো বাহিনী দাবি করেছে, হামলায় এ পর্যন্ত ২০ তালেবান জঙ্গি নিহত হয়েছে।
হেলমান্দের গভর্নর মোহাম্মদ গুলাব মঙ্গল সাংবাদিকদের বলেন, প্রতিরোধ এলে প্রতিহত করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, ৬০টি হেলিকপ্টার থেকে সেনারা মারজাহ শহরে অবতরণ করেন। কৌশলগত দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ ১১টি জায়গা দখল করে নিয়েছে সেনা সদস্যরা। গভর্নর আরও জানান, ওই এলাকায় অনেক ভূমি-মাইন পুঁতে রাখা হয়েছে। শনাক্ত করার পর সেগুলো নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া হচ্ছে।
আফগানিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলে দুটি বোমা হামলায় চার মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার খবর মিলেছে। ন্যাটোর আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সহায়তা বাহিনী (আইএসএএফ) এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে হেলমান্দের দক্ষিণে মারজায় বোমা হামলায় তিন মার্কিন সেনা নিহতের কথা জানায়। এ ছাড়া অন্য একটি আত্মঘাতী বোমা হামলায় এক মার্কিন সেনা নিহত হন। আহত হয়েছেন আরও অন্তত তিনজন। গতকাল এক আত্মঘাতী হামলাকারী একটি মার্কিন সেনা টহল দলের কাছে বিস্ফোরকবোঝাই মোটরসাইকেল উড়িয়ে দিলে ওই হতাহতের ঘটনা ঘটে। আফগান সেনাবাহিনীর একজন কর্মকর্তা এ কথা জানান। ওই হামলায় এক আফগান বেসামরিক লোক নিহত এবং আরও তিনজন আহত হয়েছেন।

দুর্নীতি দমনে পদ্ধতিগত সংস্কারের পক্ষে অর্থমন্ত্রী

কেবল শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান দিয়েই দুর্নীতি খুব বেশি নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না, দুর্নীতি দমন বা প্রশমন করতে হলে পদ্ধতিগত সংস্কার আনতে হবে।
রাজধানীর একটি হোটেলে বিশিষ্ট ব্যাংকার ও অর্থনীতি বিশ্লেষক মামুন রশীদ রচিত এগিয়ে যাওয়ার অর্থনীতি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত গতকাল শনিবার এ কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, ‘পদ্ধতিগত সংস্কারের অস্ত্র আমাদের হাতেই রয়েছে। সেটা হলো তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার। তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো গেলে দুর্নীতি অনেকখানি প্রশমন করা যাবে। তবে পুরোপুরি উচ্ছেদ করা যাবে না, উচ্ছেদ হয়তো সম্ভব নয়।’
তবে অনুষ্ঠানের সভাপতি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা আকবর আলি খান বলেন, ‘দুর্নীতির জন্য পদ্ধতিগত পরিবর্তন দরকার, এতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু শুধু পদ্ধতি পরিবর্তন করেই দুর্নীতি রোধ করা যাবে না। এ জন্য যাঁরা দুর্নীতি করবেন, তাঁদের শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।’
মামুন রশীদের বইয়ে দুর্নীতি দমনে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। মূলত এ বিষয়টি কেন্দ্র করে দুর্নীতিবিষয়ক আলোচনার সূত্রপাত ঘটে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম। এতে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আরেক সাবেক উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী।
অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বইটির প্রকাশনা সংস্থা অন্যপ্রকাশের পরিচালক মাসুম রহমান এবং প্রকাশনা অনুষ্ঠানের পৃষ্ঠপোষক লঙ্কাবাংলা সিকিউরিটিজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন চৌধুরী।
আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, ‘দেড় বছর ধরে অর্থনীতি একটা বিশ্বমন্দার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এ থেকে বোঝা যায়, অর্থনীতির ব্যবস্থাপনায় একটি গুণগত পরিবর্তন দরকার। বাংলাদেশের মতো গরিব, বঞ্চিত দেশের জনগণকেই এ পরিবর্তনের দায়িত্ব নিতে হবে।’
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, ‘মন্দা আমাদের এ শিক্ষা দিয়েছে যে রপ্তানিনির্ভর অর্থনীতি, অর্থনীতিতে সরকারের নিয়ন্ত্রণ তুলে নেওয়া, সবকিছু উন্মুক্ত করে দেওয়া—এ ধরনের ধারণার ব্যাপারে পুনরায় ভাবনা-চিন্তার সময় এসেছে।’
অর্থমন্ত্রীর ভাষায়, ‘সামগ্রিক পরিস্থিতি এমন যেন আমরা একটা অন্ধকারের মধ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছি। এ অবস্থায় আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলও (আইএমএফ) তাদের বিভিন্ন সংজ্ঞায় পরিবর্তন আনতে শুরু করেছে।’
বইটিতে অনেক উপাদান রয়েছে যেগুলোর সঙ্গে একমত হওয়া যায়। তবে ভিন্নমত প্রকাশেরও সুযোগ রয়েছে এ কথা উল্লেখ করে মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘বইটিতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বিদেশ থেকে ঋণগ্রহণের সুবিধা অবাধ করার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ অর্থনৈতিক উন্নয়নের এমন সোপানে পৌঁছায়নি, যেখানে নিয়ন্ত্রণহীন বৈদেশিক ঋণগ্রহণের সুযোগ দেওয়া উচিত।’ জাতিসংঘের কাজ করার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘১৯৯৬-৯৭ সালে পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো এ কারণে মন্দার কবলে পড়েছিল।’
মির্জ্জা আজিজ বলেন, ‘মুদ্রানীতি ও সরকারের ব্যয় ব্যবস্থাপনা দিয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না। বিনিয়োগ কম হওয়ায় মুদ্রানীতি সম্প্রসারণমূলক হতে বাধ্য। সে কারণে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সরকারের জন্য অত্যন্ত কঠিন।’
সুদের হার প্রসঙ্গে মির্জ্জা আজিজ বলেন, বাংলাদেশে ব্যাংকগুলোতে আমানত ও ঋণের সুদহারের পার্থক্য অনেক বেশি। সামগ্রিকভাবে ব্যাংকিং ব্যবস্থার অদক্ষতার কারণেই এমনটি ঘটছে।
আকবর আলি খান বলেন, উচ্চ সুদহার হলেই যে খারাপ, তা নয়। আইন করে সুদহার কমাতে গেলে হিতে বিপরীত হতে পারে। এতে ঘুষের প্রবণতা বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি ঋণপ্রবাহও কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ইতালির টাইলস নিয়ে এসেছে এক্স সিরামিক

এক্স সিরামিক লিমিটেড দেশের বাজারে ইতালির এক্স মনিকা ব্র্যান্ডের টাইলস নিয়ে এসেছে।
ঢাকার একটি হোটেলে সম্প্রতি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই টাইলসের বিপণন কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া। অনুষ্ঠানে এক্স সিরামিকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহিন মাজহার ও ইতালির মায়োরকার চেয়ারম্যান কোরাডো মানালি এবং ইনডেক্স কোম্পানিজের চেয়ারম্যান মাজহারুল কাদের উপস্থিত ছিলেন।

আরাফাত সিকিউরিটিজের জরিমানা মওকুফ হচ্ছে না

আরাফাত সিকিউরিটিজ লিমিটেডের জরিমানা মওকুফের আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। ফলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) এ সদস্য ব্রোকারেজ হাউসের বিরুদ্ধে কারসাজির অভিযোগ করা ৫১ লাখ টাকা জরিমানা পরিশোধ করতে হবে।
কারসাজির মাধ্যমে তালিকাভুক্ত একটি কোম্পানির শেয়ারের মূল্য কৃত্রিমভাবে বাড়ানো ও বিধিবহির্ভূত লেনদেনের অভিযোগে এসইসি সম্প্রতি আরাফাত সিকিউরিটিজ লিমিটেডকে ৪০ লাখ টাকা জরিমানা করে। একই সঙ্গে এ ঘটনায় জড়িত থাকার দায়ে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুল্লাহ এবং অনুমোদিত প্রতিনিধি মজিবুর রহমানকে জরিমানা করা হয় আরও ১০ লাখ ও এক লাখ টাকা। সবমিলিয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে ও জড়িত ব্যক্তিদের ৫১ লাখ টাকা জরিমানা করে এসইসি।
কিন্তু ব্রোকারেজ হাউসটি এ জরিমানার টাকা মওকুফের জন্য এসইসিতে আবেদন করে। শুধু তাই নয়, এসইসি যাতে জরিমানার আদেশ প্রত্যাহার করে নেয়, সে জন্য নানাভাবে এসইসির শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিদের কাছে তদবির চালায়। এ কারণে শীর্ষ পর্যায়ের কেউ কেউ ব্রোকারেজ হাউসটিকে জরিমানা করার ব্যাপারে কিছুটা নমনীয় ছিলেন বলে জানা গেছে। তবে শেষ পর্যন্ত অন্য কর্মকর্তাদের দৃঢ় অবস্থানের কারণে আগের সিদ্ধান্তেই বহাল থাকতে হয়েছে এসইসিকে।

ডলারের বিপরীতে ইউরো ও পাউন্ডের দর সাড়ে আট মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন

আগের কয়েক সপ্তাহের মতো দেশের আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারে গত সপ্তাহেও মার্কিন ডলারের বর্ধিত চাহিদা লক্ষ করা গেছে। এর ফলে সপ্তাহজুড়েই স্থানীয় টাকার বিপরীতে মার্কিন ডলারের দর অব্যাহতভাবে বাড়ে। সপ্তাহের শুরুতে প্রতি মার্কিন ডলার ৬৯ টাকা ২৭ পয়সায় লেনদেন হয়, যা সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসে ৬৯ টাকা ৩৫ পয়সায় উন্নীত হয়।
ইউরোপের একক মুদ্রা ইউরো ও ব্রিটিশ পাউন্ড স্টার্লিংয়ের বিনিময় হার গত সপ্তাহে (৬-১২ ফেব্রুয়ারি) মার্কিন ডলারের বিপরীতে প্রায় সাড়ে আট মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যায়। সপ্তাহের শুরুতে ইউরো ও পাউন্ডের বিনিময় হয় যথাক্রমে ১ দশমিক ৩৬৬৩ ও ১ দশমিক ৫৫৩৫ ডলারে।
গ্রিস ও পর্তুগালের অর্থনৈতিক সংকট এবং রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে ইউরো ও পাউন্ড স্টার্লিং সপ্তাহজুড়েই বেশ চাপের মধ্যে ছিল। যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য ঘাটতি অনাকাঙ্ক্ষিখতভাবে বাড়ার খবরে মঙ্গলবার ইউরোর বিপরীতে পাউন্ড স্টার্লিংয়ের দর তিন সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যায়।
তবে সপ্তাহের মাঝামাঝি গ্রিসকে ইউরো অঞ্চলের সরকারপ্রধানদের অর্থনৈতিক সহায়তা দেওয়ার ব্যাপারে নীতিগত মতৈক্যের খবরে ইউরো ও পাউন্ড স্টার্লিং ডলারের বিপরীতে কিছুটা শক্তি ফিরে পায়। এ সময় প্রতি ইউরো ১ দশমিক ৩৮৩৯ ডলারে এবং প্রতি পাউন্ড ১ দশমিক ৫৭৬৫ ডলারে লেনদেন হতে দেখা যায়।
মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান বেন বার্নানকে প্রণোদনা প্যাকেজ তুলে নেওয়ার যে আভাস দেন, সেটিই ডলারের শক্তি বাড়ার পেছনে ভূমিকা রাখে। এ সময় প্রতি ইউরো ১ দশমিক ৩৬ ডলারের নিচে নেমে আসে। অন্যদিকে ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের প্রকাশিতব্য প্রতিবেদনে যুক্তরাজ্যের প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন হ্রাস করা হবে এমন আশঙ্কায় বুধবার তাদের মুদ্রা পাউন্ডের দরপতন ঘটে।
আমেরিকায় ডিসেম্বর মাসের বাণিজ্য ঘাটতি অনভিপ্রেতভাবে বাড়ায় জাপানি ইয়েনের বিপরীতে তাদের ডলার কিছুটা শক্তি হারায়। এর ফলে প্রতি ডলারের দর ৮৯ দশমিক ২৯ ইয়েনে নেমে আসে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের জানুয়ারি মাসের খুচরা বিক্রি প্রত্যাশার চেয়ে বেশি হয়েছে শুক্রবার এমন তথ্য প্রকাশিত হলে ডলার পুনরায় ইয়েনের বিপরীতে শক্তি ফিরে পায়।
যাই হোক, সপ্তাহ শেষে প্রতি ইউরো ১ দশমিক ৩৬১৫ ডলারে, প্রতি পাউন্ড স্টার্লিং ১ দশমিক ৫৬৮৮ ডলারে এবং প্রতি ডলার ৯০ দশমিক ০৩ ইয়েনে লেনদেন হয়।

বাজারে সরু ও সুগন্ধি চালের দর আবার কেন বাড়ছে by কে এ ইসলাম

গত ডিসেম্বরের শেষে নতুন ধান বাজারে এলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁ মোকামে সরু ও সুগন্ধি চিনিগুঁড়া চালের মণ ছিল এক হাজার ৮০০ টাকা; সেই হিসাবে প্রতি কেজি ৪৮ টাকা। গত সপ্তাহ শেষে মোকামে প্রতি মণ চিনিগুঁড়া তিন হাজার ২০০ টাকায় উন্নীত হয়। অর্থাত্ প্রতি কেজি ৮৬ টাকা। ঢাকায় দুই মাস আগেও চিনিগুঁড়া চাল খুচরা বাজারে বিক্রি হতো ৬০ টাকার নিচে, গত সপ্তাহে তা মানভেদে হয়েছে ৯০ থেকে ১০০ টাকা।
চিনিগুঁড়ার দাম তেতো হয়ে গেলেও তেমন উত্তেজনা হয়নি। কারণ এটি ভাতের চাল নয়। অসেদ্ধ ও সুগন্ধি চাল লাগে পোলাও, বিরিয়ানি ও পায়েসে। তবে সরু জাতের সেদ্ধ ভাতের চালের দাম গত দুই সপ্তাহে বেড়ে যাওয়ায় আলোচনাও শুরু হয়ে গেছে। যে মিনিকেট ও নাজিরশাইল চালের কেজি দেড় মাস আগেও ছিল ৩৩ থেকে ৩৭ টাকার মধ্যে, সেটি গত সপ্তাহ শেষে ৩৮ থেকে ৪৬ টাকা। সাধারণ চালের মিলে প্রক্রিয়াজাত চালের মূল্যস্তর নিচের দিকে আর অটোমেটিক মেশিনে বাছাই করা ব্র্যান্ডেড চালের মূল্য ওপরের দিকে।
কেন বাড়ছে: নওগাঁর আবাদপুকুর বাজার ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের হাটগুলোর ব্যাপারিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এবার আমন মৌসুমে সরু জাতের ধানের ফলন ভালো হয়নি। ফলন খারাপ হয়েছে চিকন জাতের ধান জিরা, পাইজাম ও রঞ্জিতের। জিরা ধান থেকে যে চাল হয়, তা-ই শহরে নাজিরশাইল নামে পরিচিত। নাজিরের দাম বেড়ে যাওয়ায় পুরোনো মজুদের মিনিকেট জাতের দামও বেড়েছে।
মৌসুমের শুরুতে এবার জিরা ধানের দাম ৮০০ টাকার অনেক নিচে ছিল, সেটি গত সপ্তাহে ৯২০ টাকা ছাড়িয়ে যায়। দুই সপ্তাহ আগে চিকন ধানের দামে এতটাই ঊর্ধ্বগতি ছিল যে আরও বাড়বে—এমন প্রত্যাশা থেকে হাটে ধানই ওঠেনি। তবে মোকাম সূত্র বলছে, গত সপ্তাহে সরবরাহ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে, তাই চিকন ধান আর চালের দামও সপ্তাহ শেষে কিছুটা কমেছে।
বাজার নিয়ে কারসাজি: চিকন চালের সরবরাহ চ্যানেল আর বাজার অনেকটাই পাল্টে গেছে কয়েক বছরে। কুষ্টিয়া, নওগাঁ, দিনাজপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ উত্তরাঞ্চলের কিছু বড় মিলার ও মজুদদারের হাতে এখন বিশাল পারিমাণ সরবরাহ নিয়ন্ত্রিত হয়। তাই তাঁরা বাজারে দাম কমা ও বাড়ার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের এহসান রাইস মিলের এহসান সুপার ব্র্যান্ড, আকবর শেঠের সোনার চামচ বা নওগাঁর বেলাল রাইসের রজনীগন্ধা এখন পোলাও চালের বাজারের ব্যাপক চাহিদা পূরণ করছে।
সেদ্ধ চিকন চালের বাজারেও এমন বড় বড় মিলার সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করছেন। নাজির ও মিনিকেটের ক্ষেত্রে কুষ্টিয়ার রশিদ রাইস মিলের ধানের শীষ, নওগাঁর রজনীগন্ধাসহ এমন অনেক ব্র্যান্ডের চালের বস্তা দেখা যায় ঢাকার সব চালের দোকানেই।
কুষ্টিয়া, নওগাঁ, দিনাজপুর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে অন্তত কয়েক ডজন অটো রাইস মিল আছে, যেগুলো প্রতিদিন এক থেকে চার হাজার মণ চালও প্রক্রিয়াজাত করে। সেখানে স্বয়ংক্রিয় বয়লারে সেদ্ধ হয় ধান এবং ড্রায়ার মেশিনে শুকানো হয়। চালের চেহারা যাতে ঝকঝকে হয়, সে জন্য ইউরোপ থেকে আনা মিলিং মেশিনেও ধান ভাঙাচ্ছেন কোনো কোনো মিলার। অনেক মিলে কম্পিউটারাইজড মেশিনে মরা চাল, মাটি ও পাথরের কণা বাছাই করা হয়। আটো রাইস নামে পরিচিত এই চালের দাম মণপ্রতি ৫০ থেকে ১০০ টাকা বেশিও থাকে বাজারে।
সাভারসহ আরও কিছু এলাকায় এমন কিছু মিল গড়ে উঠেছে, যেগুলো মেশিনে ছেঁটে মোটা চালকে চিকন চাল বানাচ্ছে। ভোক্তাকে খুচরা বিক্রেতারা ফাঁকি দিচ্ছেন এই চাল দিয়ে। তবে পাইকারি বাজারে ঠিকই সাভারি নাজির আর দিনাজপুরি নাজিরের মূল্যে পার্থক্য থাকে অনেক।

ব্যবসায় আস্থা বাড়লেও জ্বালানি সংকট বিনিয়োগের প্রধান বাধা

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেছেন, বিশ্বব্যাপী মন্দা ধীরে ধীরে কাটতে শুরু করেছে, এতে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তাদের মধ্যে আস্থা বেড়েছে। তাই ২০১০ সালের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) দেশে বিনিয়োগ আগের প্রান্তিকের তুলনায় বাড়বে। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা বাড়লেও গ্যাস-বিদ্যুত্ সমস্যার সমাধান ছাড়া দেশে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়বে না।
বিনিয়োগ বোর্ডের নির্বাহী চেয়ারম্যান এস এ সামাদ এ মতকে সমর্থন করার পাশাপাশি এ-ও বলেছেন, বিদ্যুত্ ও গ্যাস খাতে প্রচুর বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। খনি থেকে কয়লা উত্তোলন, বিদ্যুত্ উত্পাদন ও গ্যাস উত্তোলনে প্রচুর বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে।
গতকাল শনিবার ঢাকায় বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ক্লাইমেট ফান্ড (বিআইসিএফ) এবং ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স বাংলাদেশের (আইসিসিবি) উদ্যোগে আয়োজিত ‘বিআইসিএফ ২০০৯-১০ সালের ব্যবসায়িক জরিপের উল্লেখযোগ্য দিক: ব্যবসায়িক অনুভূতিতে প্রতিফলন’ শীর্ষক সেমিনারে তাঁরা এসব কথা বলেন।
রাজধানীর মতিঝিলে ঢাকা চেম্বার মিলনায়তনে অধ্যাপক ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদের সভাপতিত্বে আয়োজিত সেমিনারে বিনিয়োগ বোর্ডের নির্বাহী চেয়ারম্যান এস এ সামাদ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। স্বাগত বক্তব্য দেন আইসিসিবির সভাপতি মাহবুবুর রহমান ও বিআইসিএফের প্রধান জেমস ক্রিটলি। জরিপের ফলাফল উপস্থাপন করেন বিআইসিএফের বিনিয়োগনীতি কর্মকর্তা (আইপিও) আমিনুর রহমান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এস এ সামাদ বলেন, ‘দেশে বিনিয়োগ বাড়ানো বিনিয়োগ বোর্ডের দায়িত্ব। কিন্তু বিনিয়োগের ক্ষেত্র প্রস্তুত করা ও বিনিয়োগ পরিবেশ আকর্ষণীয় করতে হলে সরকারের অন্যান্য চার-পাঁচটি সংস্থাকেও সক্রিয় করতে হবে।’ তিনি নতুন বিদ্যুত্ ও গ্যাস উত্পাদন প্রকল্প গ্রহণে দরপত্র প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত করে এ প্রক্রিয়া সহজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সভাপতির বক্তব্যে ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, বিশ্বমন্দার প্রভাব ২০০৯ সালের প্রথম দিকে দেশের রপ্তানি তথা অর্থনীতির ওপর না পড়লেও শেষ ভাগে এসে পড়ে। তাই রপ্তানি ও বিনিয়োগ সংকুচিত হয়। কিন্তু ২০১০ সালের প্রথম দিকে দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে আস্থাা বেড়ে যাওয়ায় প্রথম প্রান্তিকে মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি বেড়েছে, যা দেশের বিনিয়োগ বাড়াতে সহায়তা করবে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে শ্রমঘন শিল্পের পরিমাণ বেশি। এ জন্য শিল্পের প্রবৃদ্ধি বাড়লেও কর্মসংস্থান বাড়বে, যা দেশের অর্থনীতির ওপর প্রত্যক্ষভাবে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।
আইসিসিবির সভাপতি মাহবুবুর রহমান বলেন, দেশের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর জন্য জিডিপিতে শিল্প খাতের অবদান বাড়াতে হবে। দেশের বিদ্যুত্ ঘাটতি ও দুর্বল অবকাঠামো শিল্প পরিচালনার জন্য বড় বাধা। দেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার জন্য বিদ্যুত্ ও গ্যাস অনুসন্ধানে বিনিয়োগ বাড়ানো সরকারের কাছে এখন সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত।
তবে বাংলাদেশ নিট পোশাক প্রস্তুতকারক সমিতির সভাপতি মো. ফজলুল হক জরিপ ফলের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে বলেন, ‘ব্যবসায়ীদের মধ্যে আস্থা কীভাবে বেড়েছে তা সমীক্ষায় উল্লেখ নেই। এত কমসংখ্যক প্রতিষ্ঠানের ওপর সমীক্ষা করে এ ধরনের পূর্বাভাস করা যায় না। তা ছাড়া বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য সমীক্ষায় বিনিয়োগ বোর্ড ও সরকারের কাছে কোনো সুপারিশ করা হয়নি।’
সমীক্ষার ফলাফল উপস্থাপন করে আমিনুর রহমান বলেন, দেশের সেবা খাত এবং ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠানগুলো উত্পাদনশীল খাত ও বড় প্রতিষ্ঠানের তুলনায় বছরের চতুর্থ প্রান্তিকে ভালো অবস্থানে রয়েছে। বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দা কাটতে শুরু করায় গত বছরের শেষ প্রান্তিকে দেশে ব্যবসায়িক মুনাফা ও বিনিয়োগ বেড়েছে, যা ব্যবসায়ীদের মধ্যে আস্থা বাড়িয়েছে। ফলে ২০১০ সালের প্রথম প্রান্তিকে দেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক মুনাফা বাড়বে বলে ব্যবসায়ীরা মত দিয়েছেন।
বিশ্বব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান আইএফসি পরিচালিত বিআইসিএফ ব্যবসা-বাণিজ্যসংক্রান্ত সংস্কারের অংশ হিসেবে দেশব্যাপী এক হাজার ৪৪০টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে জরিপ পরিচালনা করেছে। বিআইসিএফ ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে জরিপ কার্যক্রম পরিচালনা করে।
সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আফতাব-উল ইসলাম, বিআইএফটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এম এ তসলিম, ডিসিসিআইয়ের সভাপতি আবুল কাশেম খান, ঊর্ধ্বতন সহসভাপতি এম শাহজাহান খান, পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান মনসুর, নিউএজ গার্মেন্টস লিমিটেডের চেয়ারম্যান এ এস এম কাসেম প্রমুখ।

বিশ্বকাপে আফগানিস্তান

অল্পের জন্য এক দিনের ক্রিকেটের বিশ্বকাপে খেলার সুযোগটা হাতছাড়া করেছিল তারা। কিন্তু এবার আর কোনো ভুল করেনি আফগানিস্তান, জায়গা করে নিয়েছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। দুবাইয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাছাইপর্বের সুপার ফোরে নিজেদের শেষ ম্যাচে কাল সংযুক্ত আরব আমিরাতকে (১০০/৯) ৪ উইকেটে হারিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের টিকিট পেয়ে যায় আফগানরা (১০১/৬)। পরে ফাইনালে আয়ারল্যান্ডকে (১৪২/৮) ৮ উইকেটে হারিয়ে শিরোপাও জিতে নেয় আফগানিস্তান (১৪৭/২)। ফাইনালে ৪৬ বলে অপরাজিত ৬৫ রান করে ম্যাচসেরা আফগানিস্তানের মোহাম্মদ শাহজাদ। ফাইনালে হারলেও বিশ্বকাপ খেলবে আইরিশরাও। সুপার ফোরের শেষ ম্যাচে নেদারল্যান্ডসকে (৮৬) ৬৫ রানে হারিয়েছে আয়ারল্যান্ড (১৫১/৬)।

চেলসির জয়

এফএ কাপের পঞ্চম রাউন্ডের ম্যাচে কার্ডিফ সিটিকে ৪-১ গোলে হারিয়েছে জন টেরিবিহীন চেলসি। দিদিয়ের দ্রগবার ২ মিনিটের গোল ৩৪ মিনিটে শোধ করে দিয়েছিলেন সিটির মাইকেল চোপড়া। দ্বিতীয়ার্ধে চেলসির পক্ষে তিনটি গোল করেন মাইকেল বালাক, স্টারিজ ও কালু।

ক্যাপেলোর বিবিধ দুশ্চিন্তা

বিশ্বকাপের দিনক্ষণ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই একের পর এক উটকো ঝামেলায় পড়ছেন ফ্যাবিও ক্যাপেলো। সবকিছুই ঠিকঠাক ছিল। বাছাইপর্বে ইংল্যান্ড দুর্দান্ত খেলেই জায়গা করে নিয়েছে বিশ্বকাপে। দলের নামি খেলোয়াড়েরাও বেশ ফর্মে। কিন্তু হঠাত্ করেই ছন্দপতনের শুরু। শুরু ক্যাপেলোর কপালের ভাঁজের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়া।
সর্বশেষ তাঁর দুশ্চিন্তার তালিকায় যোগ হয়েছে ডিফেন্ডার অ্যাশলি কোলের ইনজুরি। লিগে চেলসির গত ম্যাচে অ্যাঙ্কেলে চোট পান কোল। তিন মাসের জন্য মাঠের বাইরে ছিটকে গেছেন। বিশ্বকাপের দলে তাঁকে পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে আছে সংশয়। ক্যাপেলো বলছেন, ‘অ্যাশলির খবরটা অবশ্যই দুঃসংবাদ। ও খুবই গুরুত্বপূর্ণ একজন খেলোয়াড়। লেফটব্যাক হিসেবে ও খুবই ভালো। তা ছাড়া বিপজ্জনকভাবে ওপরে উঠে যেতে পারে। আশা করব ওর ইনজুরি দ্রুত সেরে উঠবে।’
ক্যাপেলোর প্রত্যাশা অনুযায়ী কোল দ্রুত ফিট না হলে দেখা দেবে আরেক ঝামেলা। তখন কোলের বিকল্প হিসেবে ক্যাপেলোকে দলে নিতে হবে ওয়েইন ব্রিজকে। এই ব্রিজের প্রেমিকার সঙ্গে গোপনে প্রেম করছেন বলে খবর বেরোনোয় অধিনায়কের পদ থেকে ছাঁটাই হয়েছেন জন টেরি। কোল না থাকলে ব্রিজের সঙ্গে কাঁধ মিলিয়েই ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগ সামলাতে হবে টেরিকে।
টেরিকে সরিয়ে দেওয়াটা দলে বড় কোনো প্রভাব ফেলবে না বলেই মনে করছেন ক্যাপেলো। নতুন অধিনায়ক রিও ফার্ডিন্যান্ডের প্রতি সতীর্থরা পূর্ণ আস্থা জানিয়েছেন। যদিও টেরির ব্যক্তিত্ব আর ফার্ডিন্যান্ডের ব্যক্তিত্বে বিস্তর ফারাক আছে। তাই টেরির জায়গাটা ফার্ডিন্যান্ড পূরণ করতে পারবে কি না, তা নিয়ে একটা সংশয় থেকেই যাচ্ছে।
দলে ঐক্যের সুরে ছন্দপতন হতে পারে—এটা নিয়ে তাই দুশ্চিন্তা থেকে যেতে পারে ক্যাপেলোর। ইতালিয়ান এই কোচের আরেক দুশ্চিন্তার নাম ওয়েইন রুনি। না, মাঠের বাইরের কোনো ঝামেলায় ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের তারকা স্ট্রাইকার নিজেকে জড়াননি। বরং দুর্দান্ত খেলছেন। ক্যাপেলোর দুশ্চিন্তাটা ওখানেই। রুনির ওপর বেশি চাপ পড়ে যাচ্ছে বলে মনে করছেন তিনি। ‘দয়া করে ওকে খানিকটা বিশ্রামও দিন। ওকে তো প্রতিটা ম্যাচেই খেলানো হচ্ছে। বিশ্বকাপে ওকে আমার বেশ সতেজ দরকার’—অ্যালেক্স ফার্গুসনের প্রতি ক্যাপেলোর আবেদন।

দ্বিপক্ষীয় সিরিজ মার্কিন মুলুকে

যুক্তরাষ্ট্রে তিন ম্যাচের একটি টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলবে শ্রীলঙ্কা ও নিউজিল্যান্ড। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী মে মাসে সেন্ট্রাল ব্রোয়ার্ড রিজিওনাল পার্ক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে হবে এই সিরিজ। গত বছর যুক্তরাষ্ট্র ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের (ইউএসএসিএ) কৌশলগত অংশীদারি চুক্তি করেছে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট। এরই আওতায় এই টি-টোয়েন্টি সিরিজ। এটি হবে যুক্তরাষ্ট্রে আইসিসির পূর্ণ দুই সদস্য দলের প্রথম ক্রিকেট সিরিজ।

রোনালদিনহো-জাদুতে জিতল মিলান

জয়-বন্ধ্যত্ব ঘুচল এসি মিলানের। ঘুচল তা রোনালদিনহো, ক্লাস ইয়ান হান্টেলার ও আলেক্সান্ডার পাতোর গোলে। চার ম্যাচ পর সিরি ‘আ’তে কাল তারা জয়ের মুখ দেখেছে উদিনেসের বিপক্ষে, ৩-২ ব্যবধানে।
মার্কো বরিয়েল্লোর চোটই হান্টেলারকে সুযোগ এনে দিয়েছে প্রথম একাদশে খেলার। সুযোগটা তিনি ভালোই কাজে লাগিয়েছেন জোড়া গোল করে। আর চোট কাটিয়ে বদলি হিসেবে নামা পাতো দারুণ এক গোল দিয়ে উদ্যাপন করেছেন মাঠে ফেরা।
মিলানের জার্সি গায়ে অনুজ্জ্বল হান্টেলারকে পরশুর গোল দুটি দিল নতুন প্রেরণা। এই গোল তাঁর মনে গড়ে দিয়েছে আশার বসতি, ‘আমার কাজ আমাকে করতে হবে, গোল করতে হবে। আজ শুরুর একাদশে খেলতে পেরে এবং গোল করে আমি খুশি। আশা করছি আরও খেলতে পারব।’
সংবাদ সম্মেলনে শুধু নিজের কথা বলে গেলে কেমন দেখায়, এটা মনে পড়তেই হয়তো আগামী পরশুর চ্যাম্পিয়নস লিগ ম্যাচ নিয়ে বললেন হান্টেলার। সেখানে তিনি আত্মবিশ্বাসী, ‘আমরা প্রস্তুত। কখনো আমরা ভালো খেলি, কখনো নয়। কিন্তু এবার আমরা প্রস্তুত।’
চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোতে মিলানের প্রতিপক্ষ ২০০৮-এর চ্যাম্পিয়ন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। চ্যাম্পিয়নস লিগের সাতবারের চ্যাম্পিয়ন মিলান আসলেই কতটা প্রস্তুত সেটা দেখতে পরশু সান সিরোতে গিয়েছিলেন ম্যানইউ ম্যানেজার অ্যালেক্স ফার্গুসন।
হান্টেলারের গোল আর পাতোর ফেরা তাঁকে কতটা ভাবিয়েছে কে জানে, তবে এদিন রোনালদিনহো যে জাদু দেখালেন, সেটা তাঁকে না ভাবিয়ে পারেই না। মিলানের তিনটি গোলেরই উত্স ছিলেন অনেক দিন ধরেই নিজেকে হারিয়ে খোঁজা রোনালদিনহো।

গর্বের হাসি থেকে ক্ষোভের বিস্ফোরণ

আর একটু হলেই ব্যাপারটা মতিঝিলের রাজপথে গড়ায়! বাংলাদেশের ফুটবল কর্মকর্তাদের অভিসম্পাত করতে থাকা জোরান জর্জেভিচ দুই সঙ্গীকে নিয়ে হেঁটে বাফুফে ভবন থেকে প্রধান ফটকে চলে এসেছেন। পেছনে সাংবাদিকের দল, সামনে ক্যামেরার হুড়োহুড়ি। মাঝখানে কত অনুরোধ, কত মিনতি—সবকিছুকেই ‘ব্যাকহিল’ করে জর্জেভিচ রাস্তায় নেমে পড়লেন বলে...! ঠিক ওই সময় তাঁর সামনে এসে দাঁড়ান বাফুফের সাধারণ সম্পাদক আল মুসাব্বির। ভাগ্য ভালো সাধারণ সম্পাদকের অনুরোধটা রেখে জর্জেভিচ আর হেঁটে রাজপথে নামলেন না। বাফুফে ভবন ত্যাগ করলেন গাড়িতে চড়ে।
হ্যাঁ, কাল শেষ পর্যন্ত জর্জেভিচের জন্য বাফুফের অনুরোধ পর্ব এই পর্যায়েই নেমে এসেছিল—কোচ যেন হেঁটে না গিয়ে গাড়িতে চড়ে হোটেলে ফেরেন। এর আগে বাফুফের একটার পর একটা অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছেন এই সার্বিয়ান। অন্যায্য দাবি তুলে প্রথমে প্রত্যাখ্যান করেছেন চ্যালেঞ্জ কাপে দলের সঙ্গে শ্রীলঙ্কা যাওয়ার প্রস্তাব। এরপর গণমাধ্যমের সামনে বাফুফে ও বাফুফে কর্মকর্তাদের যাচ্ছেতাই বললেন, অভিযোগ তুললেন তাঁকে নাকি তাঁর প্রাপ্য টাকা-পয়সাও দেওয়া হয়নি। সহসভাপতি বাদল রায় তখন জর্জেভিচের গাড়ির কাছে এসে বলেন, ১০ মিনিট অপেক্ষা করে যেন টাকা-পয়সা নিয়েই বিদায় হন তিনি। জর্জেভিচ সে অনুরোধও রাখেননি। ‘ত্যক্ত-বিরক্ত-ক্ষুব্ধ’ কোচ তখনই গাড়ি থেকে নেমে হাঁটা দেন।
এর আগে সাংবাদিকদের কাছে ক্ষুব্ধ কণ্ঠে, উত্তেজিত ভঙ্গিতে বাফুফের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করেছেন জর্জেভিচ। বাফুফে কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেছেন, ‘এরা নিজেদের জন্য কাজ করে। বাংলাদেশ ফুটবলের মঙ্গলের জন্য কাজ করে না। আমি খুবই হতাশ।’ কথা যত এগোয়, বাফুফে ভবনের বারান্দায় গলা তত চড়ে যায় জর্জেভিচের, ‘এদের হাতে ফুটবলের কোনো ভবিষ্যত্ নেই। এঁরা এক দল গ্যাংস্টার। আমি ফুটবলের মানুষ, ফিফাও জানে জোরান (জর্জেভিচ) কে। কিন্তু এই মানুষগুলো ফুটবলের স্বার্থে কাজ করে না।’
বাফুফে কী করলে জর্জেভিচের মনে হতো কাজী সালাউদ্দিনরা ফুটবলের স্বার্থ দেখছেন, সেটা অবশ্য খুলে বলেননি। ঘুরেফিরে একটাই অভিযোগ করে গেছেন কোচ, ‘এখন পর্যন্ত আমি বা আমার সহকারীরা একটি ডলারও পাইনি। অথচ আমরা আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী কাজ করেছি, যেমনটা করি নিজের দেশের জন্য।’ একটু পর এটাও বলেন, ‘টাকাটা সমস্যা না। তাদের কোনো লক্ষ্যই নেই। বাংলাদেশের ফুটবলের ভবিষ্যত্ ভেবে আমার কষ্ট হচ্ছে।’ জর্জেভিচের দাবি, বাফুফের সঙ্গে তাঁর চুক্তি এক মাসেরই ছিল এবং সেটা এর মধ্যেই শেষ হয়ে গেছে। দাবির পক্ষে প্রমাণ দেখাতে বাফুফে আর তাঁর মধ্যে চালাচালি হওয়া দুটো চিঠির অনুলিপি সাংবাদিকদের দেন। দুটো চিঠিতেই অবশ্য লেখা, বাফুফের সঙ্গে তাঁর চুক্তিটা ২০১০-এর ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত!
জর্জেভিচের সব রাগ-ক্ষোভ আসলে একটা কারণেই—তাঁর চার বছরের চুক্তির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যাত হয়েছে বাফুফের দরজায়। খোদ প্রধানমন্ত্রী যেখানে জর্জেভিচের ‘সাহায্য’ চেয়েছেন, সেখানে বাফুফের মন না গলাটা তাঁর জন্য মনঃকষ্টেরই। জর্জেভিচই বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং অর্থমন্ত্রী আমাকে ব্যক্তিগতভাবে অনুরোধ করেছেন, “কোচ, দয়া করে আপনার খেলোয়াড়দের নিয়ে আমাদের দেশকে গর্বিত করুন।” আমিও তাঁদের বলেছি, আমি, আমার স্টাফ এবং আমার খেলোয়াড়েরা কখনোই আপনাদের হতাশ করব না।’
বিধি বাম! জর্জেভিচকেই এখন হতাশ হয়ে ফিরতে হচ্ছে দেশে...।

শ্যুটারদের হাতে পুরস্কারের টাকা

বেশ কিছু টাকা হাতে এসে গেল ১১তম দক্ষিণ এশীয় গেমসে পদকজয়ী বাংলাদেশের শ্যুটারদের। পদক জিতলেই টাকা—এই প্রতিশ্রুতি বাংলাদেশ শ্যুটিং ফেডারেশন দিয়েছিল গেমস শুরুর আগে। কাল ছিল ফেডারেশনের সেই প্রতিশ্রুতি রাখার দিন। পদকজয়ী শ্যুটারদের পুরস্কৃত করল অর্থ পুরস্কারে।
মেয়েদের ১০ মিটার এয়ার রাইফেলে দলগত সোনা জিতেছেন শারমিন আক্তার ওরফে রত্না, সাদিয়া সুলতানা ও তৃপ্তি দত্ত। শারমিন সোনা জিতেছেন ১০ মিটার এয়ার রাইফেলের ব্যক্তিগত ইভেন্টেও। পুরুষদের ১০ মিটার এয়ার রাইফেলের দলীয় ইভেন্টে সোনা জিতেছেন আসিফ হোসেন, আবদুল্লাহ হেল বাকি ও শোভন চৌধুরী। তবে পুরুষদের ১০ মিটার এয়ার রাইফেলের ব্যক্তিগত সোনা আর আসেনি।
শারমিন আর বাকি পেয়েছেন ৩ লাখ টাকা করে। সাদিয়া ও আসিফের ভাগ্যে জুটেছে ২ লাখ করে টাকা। তৃপ্তি ১ লাখ ৭৫ হাজার, শোভন ও রমজান ১ লাখ ৫০ হাজার করে। এ ছাড়া টাকা পেয়েছেন শাহরিয়ার চন্দন (১ লাখ), সাবরিনা সুলতানা (১ লাখ ২৫ হাজার), শারমিন শিল্পা (৭৫ হাজার), সিনথিয়া নাজনীন (৫০ হাজার) এবং ফারহানা কাওসার, মিত্তি দেওয়ান, আরমিন আশা ও অন্তরা ইসলাম পেয়েছেন ২৫ হাজার করে টাকা।
কেবল তো ফেডারেশন থেকে অর্থপুরস্কার পেলেন শ্যুটাররা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও গেমসের আগে ঘোষণা করেছেন পুরস্কার। তা পেলে আরও কিছু অর্থ হাতে আসবে শ্যুটারদের। রাইফেল-পিস্তল হাতে শ্যুটাররা এবার হয়তো নিপুণ লক্ষ্যভেদী হয়ে উঠবেন।

প্যারোরে যদি সিডন্সের জবাবটা শুনতেন!

দড়ি দিয়ে ঘেরা বলে বোঝা যাচ্ছিল। নইলে বাকি মাঠের চেয়ে খুব আলাদা কিছু নয়। পার্থক্য বলতে সবুজ মাঠে আয়তাকার ওই জায়গাটা সবুজাভ। সোমবার শুরু টেস্ট ম্যাচ এই উইকেটেই হবে নাকি?
হ্যাঁ, এই উইকেটেই। ঘাস নিশ্চয়ই আরও ছাঁটা হবে। সেডন পার্কের কিউরেটর যে উত্তর দিলেন, সেটি তাঁকে জিজ্ঞেস করার আগেই জানা ছিল। ‘একটু ছাঁটতেও পারি, না-ও পারি।’
উপমহাদেশের দলের জন্য পুরোনো রেসিপি। উইকেটে ঘাস রাখো, শর্ট পিচ বোলিংয়ে কাঁপিয়ে দাও। সেডন পার্কে নতুন কিছু হচ্ছে না। নতুন মনে হলো ক্রিস মার্টিনের কথাটা। ওয়ানডে সিরিজ টিভিতে দেখেছেন। দেখে তাঁর মনে হয়েছে, শর্ট পিচ বোলিং আর আগের মতো বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের ‘অ্যাকিলিস হিল’ নয়। ‘ওয়ানডে সিরিজে শর্ট পিচ বলে কটা উইকেট পড়েছে, বলুন? বেশির ভাগ আউট তো স্লিপে ক্যাচ, এর মানে গুড লেংথ বলে। শর্ট পিচ বোলিং করলেই ওরা পটাপট আউট হয়ে যাবে—ব্যাপারটা এখন আর মোটেই এমন নয়।’
উপমহাদেশীয় ব্যাটসম্যানদের ‘ঘাস-অ্যালার্জি’ নিয়ে মজার অনেক গল্প চালু আছে। এটা সুনীল গাভাস্কারের মুখ থেকে শোনা। অস্ট্রেলিয়ায় খেলা, নিয়মিত এক ব্যাটসম্যান হঠাত্ অসুস্থ হয়ে পড়ায় ম্যাচের দিন সকালে এক ভারতীয় ব্যাটসম্যানকে ‘তুমি খেলছ’ বলায় ওই ব্যাটসম্যানের আর্তনাদ—‘আমি! আমি কেন?’
বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে আপাতদৃষ্টিতে এমন কোনো আতঙ্ক নেই। বরং প্রসঙ্গটা তুললে তাঁদের মুখে ‘নিউজিল্যান্ডের উইকেটে ঘাস থাকবে, এ তো জানা কথাই। থাকলে থাকুক’ জাতীয় কথাবার্তা। তৃতীয় ওয়ানডেতে সেঞ্চুরির পর হাঁটাচলাতেও বিচ্ছুরিত আত্মবিশ্বাস নিয়ে ইমরুল কায়েস উইকেট দেখতে দেখতে বললেন, ‘ক্রাইস্টচার্চে তো এর চেয়ে বেশি ঘাস ছিল।’ আশরাফুল বলছেন, ‘উইকেটে পেস আর বাউন্স থাকলে বরং শট খেলে মজা। বল নিশ্চিন্তে ছাড়াও যায়।’
বাংলাদেশ দল থেকে উল্টো একটা রব উঠছে—উইকেটে ঘাস আমাদের জন্যও ভালো। ভালো কীভাবে? কারণ, এই প্রথম ইটের জবাবে পাটকেল ছোড়ার ক্ষমতায় বলীয়ান বাংলাদেশ। ওয়েস্ট ইন্ডিজে বাংলাদেশের ওই স্বপ্নের সফরেও পেসারদের প্রসঙ্গ উঠলেই যিনি বিরক্তি প্রকাশ করতেন, সেই সাকিব আল হাসানই এখন বলছেন, ‘আমাদের পেস অ্যাটাক এখন অনেক ভালো হয়েছে। দুজন বোলার নিয়মিত ১৪০-এর ওপরে বোলিং করতে পারে। খালি ওরা বাউন্সার মারবে—এই দিন শেষ!’
টেস্ট অভিষেকের প্রহর গুনতে থাকা কিউই ব্যাটসম্যান পিটার ইনগ্রামের মুখেও ওই ‘১৪০-এর ওপরে’ গতির কথা। বাংলাদেশের মতো নরম-সরম দলের বিপক্ষে অভিষেক হয়ে তো ভালোই হয়েছে বলায় তীব্র প্রতিবাদ, ‘আমি তো নরম-সরম কিছু দেখলাম না। ১৪০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে বল করে এমন একাধিক বোলার আছে ওদের দলে। মাঠে চোখ গরম করে তাকানো কথাবার্তা এসবেও তো দেখলাম ওরা কম যায় না।’
রুবেলের সঙ্গে শফিউল যোগ হওয়ায় দলে ‘১৪০-এর ওপরের’ দুই পেসার। উইকেট দেখে যাদের চোখ চকচক করছে। কিন্তু উইকেটে ঘাস আর পেস-বাউন্স থাকলেই তো হবে না। সেটি কাজে লাগাতে অভিজ্ঞতা চাই, যা নিয়ে অবশ্যই বড় প্রশ্ন।
টেস্ট ম্যাচের আগে বাংলাদেশকে নিয়ে এমনই এক বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছেন নিউজিল্যান্ডের এক সাবেক। হেরাল্ড-এ লেখা কলামে বাংলাদেশ দল সম্পর্কে যারপরনাই অপমানকর কথাবার্তা লিখে অ্যাডাম প্যারোরে ঘোষণা করেছেন, দুই বছর আগে সফর করে যাওয়া দলটির চেয়েও খারাপ এবারের দল। বাংলাদেশের সঙ্গে খেলা মানে সময় নষ্ট। নিউজিল্যান্ড যেন আগামী পাঁচ বছরেও বাংলাদেশের সঙ্গে না খেলে।
যা শুনে তেলেবেগুনে জ্বলে ওঠা বলতে যা বোঝায়, তা-ই উঠলেন জেমি সিডন্স। তীব্র শ্লেষের সঙ্গে বললেন, ‘এই প্যারোরেটা কে? এর তো দেখি স্মরণশক্তি একদমই ভালো নয়। এত বড় বড় কথা বলে, অথচ খুব বেশি দিন হয়নি, অস্ট্রেলিয়া নিউজিল্যান্ডকে নিয়ে হাসাহাসি করত। অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় সারির দল আসত এখানে। প্যারোরে এতগুলো টেস্ট-ওয়ানডে খেলেছে তো নিউজিল্যান্ড অমন পচা দল বলেই। আমাদের এই দলেই তো উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান হিসেবে ওর জায়গা হবে না।’
তামিম ইকবাল তো প্যারোরের কথা শুনে সিদ্ধান্তে পৌঁছে যাচ্ছেন, ‘ওরা আসলে আমাদের ভয় পাচ্ছে। এ কারণেই এসব বলছে।’ ভয়! ভয় পাবে কেন? তৃতীয় ওয়ানডের একটু ঝলক বাদ দিলে বাংলাদেশ কি ভয় পাওয়ার মতো কিছু খেলতে পেরেছে? তামিম তার পরও নিজের উপলব্ধিতে অটল, ‘দেখুন, এই নিউজিল্যান্ডের কন্ডিশনে এসে অনেক বড় দলও সমস্যায় পড়ে। মনে নেই, অস্ট্রেলিয়া ৩০০-৩৫০ রান করেও এখানে ৩-০-তে সিরিজ হেরেছিল। ওদের বাংলাদেশে নেন না, যদি না হারাই তো কী বলব!’
প্যারোরে যা বলেছেন, নিউজিল্যান্ডের এই দলেরও কি সেই ধারণাই নাকি! মনের কথা তো বোঝার উপায় নেই, তবে প্রকাশ্য প্রতিক্রিয়ায় সাবেক উইকেটকিপারের মন্তব্যে বিরক্তিই প্রকাশ পাচ্ছে। ক্রিস মার্টিন তো উল্টো টিটকারি মেরে বললেন, ‘কলাম-টলাম লিখলে এমন কিছু বলতেই হয়।’ তৃতীয় ওয়ানডের বাংলাদেশই নাকি মার্টিনের কাছে আসল বাংলাদেশ। প্রথম দুটি ওয়ানডেতে অমন খারাপ করার কারণ খুঁজে পেতেও সমস্যা হয়নি তাঁর, ‘কোনো প্রস্তুতি ম্যাচ না খেলাটা বাংলাদেশের বড় ভুল হয়েছে। একটু মানিয়ে নেওয়াতেই তৃতীয় ওয়ানডেতে অমন খেলেছে ওরা।’
সরাসরি পূর্বসূরির ওই মন্তব্য ব্রেন্ডন ম্যাককালামেরও পছন্দ হয়নি, ‘পাঁচ বছর বাংলাদেশের সঙ্গে খেলব না—ধেত্, এটা একটা কথা হলো নাকি! তাহলে তো আমাদের সঙ্গেও অনেক দল না খেলতে চাইতে পারত। আমাদেরও অনেক খারাপ সময় গেছে।’
তরুণ এই বাংলাদেশ দলে প্রতিভার ঝলক দেখে ম্যাককালাম বরং মুগ্ধ, ‘প্রতিভাবান দল, দারুণ আক্রমণাত্মকও, ভয়-ডরহীন ক্রিকেট খেলে। এর সমস্যা হলো, এটা কখনো ক্লিক করে, কখনো করে না। আমি তো আমাদের দলের সবাইকে বলছি, অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে আমাদের ঠিক ওদের মতোই খেলা উচিত। প্রথাগত খেলা খেলে তো আমরা অস্ট্রেলিয়াকে হারাতে পারব না।’
তাই নাকি? অন্তত একটা জায়গায় বাংলাদেশকেও তাহলে অনুসরণীয় ভাবছে নিউজিল্যান্ড!