Friday, October 8, 2010

গত অর্থবছরে এসএমই খাতে ঋণপ্রবাহ বেড়েছে ১৭%

গত ২০০৯-১০ অর্থবছরে বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান সামগ্রিকভাবে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পোদ্যোগ (এসএমই) খাতে যে পরিমাণ ঋণ বিতরণ করেছে, তা আগের বছরের তুলনায় ১৭ শতাংশ বেশি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায় যে ২০১০ সালের জুন শেষে এসএমই খাতে প্রদত্ত ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৫৬ হাজার ৭২০ কোটি ১৮ লাখ টাকা। আর ২০০৯ সালের জুন শেষে এই স্থিতি ছিল ৪৮ হাজার ৪৭৩ কোটি ৫২ লাখ টাকা। তার মানে এই এক বছরে এসএমই খাতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো মোট আট হাজার ২৪৬ কোটি ৬৬ লাখ টাকা বিতরণ করেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিসংখ্যান থেকে আরও দেখা যায় যে গত অর্থবছর শেষে এসএমই ঋণের স্থিতি ওই সময়ে মোট বিতরণকৃত ঋণের স্থিতির ১৯ দশমিক ৮৬ শতাংশ।
অবশ্য তার আগের বছর অর্থাৎ ২০০৯ সালের জুন শেষে এই হার ছিল প্রায় ২১ শতাংশ। অর্থাৎ আগের বছরের তুলনায় মোট বিতরণকৃত ঋণ এসএমইর অংশ সামান্য হ্রাস পেয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি বছরগুলোয় এসএমই খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়ানোর জন্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নানাভাবে উৎসাহিত করে আসছে। বিভিন্ন ধরনের নীতি-নির্দেশনাও প্রণয়ন করেছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকে খোলা হয়েছে এসএমই ও স্পেশাল প্রোগ্রাম বিভাগ।
আবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের মোট এসএসই ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রার ৪০ শতাংশ ক্ষুদ্র শিল্পোদ্যোগে বিতরণ করার জন্যও নির্দেশনা দিয়েছে।
তবে পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় দেখা যায় যে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোই এসএমই খাতে সবচেয়ে বেশি ঋণ বিতরণ করে আসছে।
এ বছরের জুন শেষে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর মোট বিতরণকৃত ঋণের ৩২ দশমিক ৩৩ শতাংশই গেছে এসএমই খাতে। ২০০৯ সালের জুন শেষেও অবশ্য এই হার প্রায় একই রকম ছিল।
অন্যদিকে, বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোয় মোট বিতরণকৃত ঋণে এসএমই খাতের অংশ কিছুটা কমে গেছে।
২০০৯ সালের জুন শেষে যেখানে এই ব্যাংকগুলোর মোট বিতরণকৃত ঋণের ১৮ দশমিক ৭৭ শতাংশ ছিল এসএমই খাতে ঋণ, সেখানে গত বছরের জুনে এসে এই হার হয়েছে ১৭ দশমিক ৪৪ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় আরও দেখা যায় যে আলোচ্য সময়ে বিদেশি ব্যাংকগুলোর মোট বিতরণকৃত ঋণের মাত্র ১০ দশমিক ৮৬ শতাংশ গেছে এসএমই খাতে। অন্যদিকে বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোয় এই হার ছিল ১৭ দশমিক ৬৭ শতাংশ।
আবার ২০০৯ সালের জুন শেষে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মোট বিতরণকৃত ঋণের প্রায় ১৩ দশমিক ৮৩ শতাংশ ছিল এসএমই খাতে ঋণ, যেখানে ২০১০ সালের জুন শেষে এই হার ছিল সাড়ে ১২ দশমিক ২৩ শতাংশ।
এদিকে নতুন শিল্পনীতিতে (শিল্পনীতি আদেশ-২০১০) এসএমইর সংজ্ঞা পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ম্যানুফ্যাকচারিং ক্ষেত্রে ‘মাঝারি শিল্প’ বলতে যেসব প্রতিষ্ঠানে জমি ও কারখানা ভবন ছাড়া স্থায়ী সম্পদের মূল্য প্রতিস্থাপন ব্যয়সহ ১০ কোটি টাকার বেশি ও ৩০ কোটি টাকার মধ্যে কিংবা যেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ১০০ থেকে ২৫০ জন শ্রমিক নিয়োজিত রয়েছেন, সেসব প্রতিষ্ঠানকে বোঝানো হয়েছে।
আর সেবামূলক শিল্পের ক্ষেত্রে ‘মাঝারি শিল্প’ বলতে সেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে বোঝাবে, যেসব প্রতিষ্ঠানে জমি ও কারখানা ভবন ছাড়া স্থায়ী সম্পদের মূল্য প্রতিস্থাপন ব্যয়সহ এক কোটি টাকা থেকে ১৫ কোটি টাকা পর্যন্ত কিংবা যেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ৫০ থেকে ১০০ জন শ্রমিক নিয়োজিত রয়েছেন।
অবশ্য কোনো একটি মানদণ্ডের ভিত্তিতে একটি কর্মকাণ্ড মাঝারি শিল্পে অন্তর্ভুক্ত হলেও অন্য মানদণ্ডে সেটি বৃহৎ শিল্পের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। সে ক্ষেত্রে এ কর্মকাণ্ডটি বৃহৎ শিল্পের অন্তর্ভুক্ত বলে বিবেচিত হবে।
এ ছাড়া শিল্পনীতিতে ম্যানুফ্যাকচারিং ক্ষেত্রে ‘ক্ষুদ্র শিল্প’ বলতে সেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে বোঝাবে, যেসব প্রতিষ্ঠানে জমি ও কারখানা ভবন ছাড়া স্থায়ী সম্পদের মূল্য প্রতিস্থাপন ব্যয়সহ ৫০ লাখ টাকা থেকে ১০ কোটি টাকা কিংবা যেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ২৫ থেকে ৯৯ জন শ্রমিক কাজ করেন।
আর সেবামূলক শিল্পের ক্ষেত্রে ‘ক্ষুদ্র শিল্প’ বলতে সেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে বোঝাবে, যেসব প্রতিষ্ঠানে জমি ও কারখানা ভবন ছাড়া স্থায়ী সম্পদের মূল্য প্রতিস্থাপন ব্যয়সহ পাঁচ লাখ টাকা থেকে এক কোটি টাকা কিংবা যেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ১০ থেকে ২৫ জন শ্রমিক কাজ করেন।

ড্রোন আক্রমণের শোধ নিতে হামলা চালাচ্ছে তালেবান

পাকিস্তানে তালেবান জঙ্গিরা আবারও ন্যাটো বাহিনীর তেলের ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে। গতকাল বুধবার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর কোয়েটায় সর্বশেষ এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। জঙ্গিরা এ সময় ২৫টি ট্যাংকার জ্বালিয়ে দেওয়া ছাড়াও গুলি করে একজন ট্যাংকার চালককেও হত্যা করে।
এ নিয়ে গত এক সপ্তাহে পাকিস্তানে ন্যাটো বাহিনীর তেলবাহী ট্যাংকারে চতুর্থবারের মতো হামলা চালানো হলো। এতে মোট ৬০টিরও বেশি ট্যাংকার ধ্বংস হয়েছে। নিহত হয়েছে অন্তত চারজন। তালেবান বাহিনী সব কটি হামলার দায় স্বীকার করেছে। সংগঠনটি বলেছে, পাকিস্তানি ভূখণ্ডে মার্কিন চালকবিহীন বিমানের (ড্রোন) ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রতিশোধ হিসেবে এসব হামলা চালানো হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে আরও হামলা হবে।
কোয়েটার প্রধান পুলিশ কর্মকর্তা হামিদ শাকিল জানান, সকালে ১৪ জন বন্দুকধারী জঙ্গি দুটি গাড়িতে করে এসে এ হামলা চালায়। অস্ত্রধারীরা এলোপাতাড়ি গুলি চালাতে শুরু করলে লোকজন দৌড়াদৌড়ি শুরু করে। এই সুযোগে জঙ্গিরা একটি গাড়ি নিয়ে টার্মিনালের ভেতরে ঢুকে যায় এবং ট্যাংকারে পেট্রল ঢেলে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। এ সময় সেখানে ৪০টির মতো ট্যাংকার ছিল।
হামিদ শাকিল বলেন, চলন্ত অবস্থায় ট্যাংকারগুলোর নিরাপত্তা সাধারণত পুলিশই নিশ্চিত করে। কিন্তু টার্মিনালে থাকলে এর নিরাপত্তার দায়িত্ব স্থাপনাটির কর্তৃপক্ষের।
পাকিস্তান সরকার গত সপ্তাহে আফগানিস্তানের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ একটি সীমান্ত প্রবেশপথ বন্ধ করে দেয়। এরপরই সেখানে জঙ্গি হামলার ঘটনা বেড়েছে। সীমান্ত এলাকায় ন্যাটো বাহিনীর হেলিকপ্টার হামলায় তিনজন পাকিস্তানি সেনা নিহত হওয়ার পর গত বৃহস্পতিবার ওই প্রবেশপথ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর আফগানিস্তান অভিমুখী শত শত ট্রাক ও ট্যাংকার পাকিস্তানের অভ্যন্তরে আটকা পড়ে। আফগানিস্তানে নিয়োজিত ন্যাটো বাহিনীর জন্য দরকারি জ্বালানি পাকিস্তান হয়ে সরবরাহ করা হয়ে থাকে।
বুধবারের ট্যাংকার হামলার দায়িত্ব স্বীকার করে তেহরিক-ই-তালেবানের মুখপাত্র আজম তারিক বলেছেন, ‘কোয়েটায় ন্যাটো বাহিনীর ট্যাংকারে হামলা চালানোর দায় আমরা স্বীকার করছি। ড্রোন হামলা বন্ধ না হলে আমরাও হামলা চালাতে থাকব।’
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত পাকিস্তানের দূত হুসেইন হাক্কানি বলেছেন, ইউরোপে সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কার পরিপ্রেক্ষিতে এর পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে বিঘ্ন ঘটানোর লক্ষ্যেই পাকিস্তানে জঙ্গি লক্ষ্যবস্তুতে ড্রোন হামলা বাড়ানো হয়েছে।
কর্মকর্তারা জানান, ৩ সেপ্টেম্বর থেকে পাকিস্তানের উত্তর ওয়াজিরিস্তানের উপজাতি-অধ্যুষিত এলাকায় এ পর্যন্ত ২৪টি ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।

নেদারল্যান্ডের আদালতে সুসিলোকে আটকের আবেদন খারিজ

ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট সুসিলো বামবাং ইউধোইয়োনোকে আটক করার ব্যাপারে একটি আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন নেদারল্যান্ডের একটি আদালত। গতকাল বুধবার আদালতের এক মুখপাত্র এ কথা জানিয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে এই আবেদন করেছিল ইন্দোনেশিয়ার বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন দ্য রিপাবলিক অব সাউথ মালাক্কাস।
গতকাল থেকে ইউধোইয়োনোর নেদারল্যান্ডে রাষ্ট্রীয় সফর শুরু করার কথা ছিল। কিন্তু আটক করা হতে পারে সন্দেহে তিনি শেষ মুহূর্তে সফর স্থগিত করেন।
ইন্দোনেশিয়া ১৯৫০ সালে স্বাধীনতা লাভের পর ওই সংগঠনের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। ১৯৯৮ সালে প্রেসিডেন্ট সুহার্তো ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর সংগঠনটি আবার সক্রিয় হয়ে ওঠে। বর্তমানে নেদারল্যান্ড থেকে তারা কার্যক্রম চালাচ্ছে। স্বাধীনতা লাভের আগে ইন্দোনেশিয়া নেদারল্যান্ডের উপনিবেশ ছিল।

ইয়েমেনে দুটি পশ্চিমা লক্ষ্যবস্তুতে সন্দেহভাজন জঙ্গি হামলা

ইয়েমেনের রাজধানী সানায় গতকাল বুধবার সন্দেহভাজন আল-কায়েদা জঙ্গিরা পশ্চিমা দুটি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। ব্রিটিশ দূতাবাসের এক গাড়িতে রকেটচালিত গ্রেনেড হামলায় দূতাবাসের এক কর্মীসহ তিনজন আহত হয়েছেন। তবে এ ঘটনায় অল্পের জন্য বেঁচে গেছেন ব্রিটেনের উপরাষ্ট্রদূত ফিওন্না গিব। এ ছাড়া অস্ট্রিয়ার এক জ্বালানি প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তারক্ষীর গুলিতে একজন নিহত হয়েছেন। ইয়েমেনের সরকারি কর্মকর্তারা এ কথা জানান।
এদিকে আল-কায়েদা বিভিন্ন দূতাবাসে হামলার পরিকল্পনা করছে—এমন তথ্যের ভিত্তিতে ইয়েমেন কর্তৃপক্ষ সানায় অবস্থিত দূতাবাসগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করেছে। এর দুই দিন পরই ব্রিটিশ দূতাবাসে এ হামলার ঘটনা ঘটল।
পুলিশ জানায়, গ্রেনেড হামলায় ব্রিটিশ দূতাবাসের গাড়িটি বিধ্বস্ত হয়েছে। গাড়িটি সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে এ ব্যাপারে পুলিশ কিছু জানায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ব্রিটিশ দূতাবাস থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে এই গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। গ্রেনেড সরাসরি গাড়িটিকে আঘাত করেছে।
সানায় অবস্থিত ব্রিটিশ দূতাবাসের এক কর্মকর্তা তাঁদের এক গাড়িতে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এতে তাঁদের একজন কর্মী আহত হয়েছেন। এ ছাড়া তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।
এদিকে ব্রিটেনের পররাষ্ট্র দপ্তরের এক বিবৃতিতে বলা হয়, স্থানীয় সময় গতকাল সকাল সোয়া আটটার দিকে এ হামলা হয়েছে। গাড়িটি তাদের দূতাবাসের পাঁচজন কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়ে দূতাবাসের দিকে যাচ্ছিল। এতে একজন সামান্য আহত হয়েছেন। তাঁকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া হামলায় কমপক্ষে দুজন পথচারী আহত হয়েছেন।
ব্রিটেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইলিয়াম হেগ বিবিসি রেডিওকে জানান, দূতাবাসের সব কর্মকর্তা-কর্মচারী বাসায় অবস্থান করছেন। তিনি আরও বলেন, ইয়েমেন খুব ভয়ংকর জায়গা। এখানে কাজ করা বেশ কঠিন।
সংবাদ সংস্থা এএফপির এক সাংবাদিক জানান, এ ঘটনার পর ব্রিটিশ দূতাবাসের আশপাশে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া দূতাবাসে আসার রাস্তাও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত ২৬ এপ্রিল এক আত্মঘাতী বোমা হামলাকারী ব্রিটিশ দূতাবাসের দুটি গাড়িতে হামলা চালায়। পরে আল-কায়েদার স্থানীয় এক গোষ্ঠী ওই হামলার কথা স্বীকার করে। এ কারণে সে সময় দূতাবাস দুই সপ্তাহ বন্ধ ছিল।
এদিকে সানার নিকটবর্তী হাদ্দাহ শহরে অস্ট্রীয় গ্যাস ও তেলের প্রতিষ্ঠান ওএমভির প্রধান এক নিরাপত্তারক্ষীর গুলিতে নিহত হয়েছেন। তিনি ফরাসি নাগরিক। নিরাপত্তা বাহিনী সূত্র এ কথা জানায়।
এই হত্যাকাণ্ডের পর নিরাপত্তা বাহিনী প্রতিষ্ঠানটি ঘিরে রেখেছে। তবে প্রতিষ্ঠানটি এ ব্যাপারে কিছুই জানায়নি। এর আগে গত জুলাইয়ে আল-কায়েদার জঙ্গিরা দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় সাবা প্রদেশে ওএমভির পরিচালিত একটি তেলক্ষেত্রে হামলা চালিয়েছিল।

কঙ্গোয় বিদ্রোহী নেতা আটক

কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলে গণধর্ষণের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে কর্নেল মেয়েলে নামের এক বিদ্রোহী নেতাকে গত মঙ্গলবার জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনী আটক করেছে। কর্মকর্তারা জানান, দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় কিভু প্রদেশে যৌথ অভিযানের সময় বিদ্রোহী দল মাই মাই চেকারের নেতা মেয়েলেকে আটক করা হয়।
গত জুলাই ও আগস্টে দেশটির পূর্বাঞ্চলে এই গণধর্ষণের ঘটনা ঘটে। ধারণা করা হচ্ছে, মেয়েলে ওই ঘটনায় নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।

মালয়েশিয়ায় বন্য প্রাণী ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা

মালয়েশিয়ায় ‘লিজার্ড কিং’ বলে পরিচিত অ্যানসন ওং নামের এক বন্য প্রাণী ব্যবসায়ীর ব্যবসার অনুমোদনপত্র বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে দুটি বাঘ, একটি কুমিরসহ তাঁর কাছে থাকা সব বন্য প্রাণী জব্দ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গত আগস্টে বিপন্ন প্রাণী পাচারের সময় তিনি ধরা পড়েছিলেন।
পেনাঙ প্রদেশের বন্য প্রাণী বিভাগের প্রধান জামালুন নাসির ইব্রাহিম বলেন, ‘প্রচলিত আইন অনুযায়ী আমরা ওং ও তাঁর স্ত্রী চিয়া বিং শির বন্য প্রাণী ব্যবসার অনুমোদন বাতিল করেছি। তাঁদের বাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে রাখা সব বন্য প্রাণী আটক করা হবে।’
ওং গত আগস্ট মাসে প্রতিবেশী দেশ ইন্দোনেশিয়া থেকে ৯৫টি বিপন্ন প্রজাতির সাপ চোরাপথে দেশে আনার সময় কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ধরা পড়েন।

ইন্দোনেশিয়ায় বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৮৬

ইন্দোনেশিয়ায় বন্যা ও ভূমিধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৮৬ জনে পৌঁছেছে। এখনো অনেক মানুষ নিখোঁজ রয়েছে বলে গতকাল বুধবার দেশটির কর্মকর্তারা জানান।
দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ওয়েস্ট পাপুয়া প্রদেশের তেলুক ওয়ান্দামা জেলায় গত সোমবার ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে বন্যা ও ভূমিধস হয়। এতে একটি গ্রাম কাদামাটির নিচে প্রায় তলিয়ে যায়।
পাপুয়ার উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযানের প্রধান মোসাম্মদ আরিফিন বলেন, ‘অনেক মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছে। তাদের সন্ধানে আমরা এখনো তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছি। তবে তাদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ।’
রেড ক্রসের একজন কর্মকর্তা জানান, মৃতের সংখ্যা অনেক বেশি এবং এখনো পর্যন্ত ৯৪ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়া গেছে।
বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কয়েক শো বাড়িঘর, শিক্ষা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। রাস্তাঘাট কাদামাটির নিচে চাপা পড়ায় উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতায় বেগ পেতে হচ্ছে উদ্ধারকর্মীদের।
তাঁবু, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও খাদ্য নিয়ে গতকাল ওই এলাকায় পৌঁঁছেছে নৌবাহিনীর একটি যুদ্ধজাহাজ।

ব্যয়সংকোচন পরিকল্পনা নিয়ে সংকটে ক্যামেরন

বাজেট ঘাটতি মোকাবিলায় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন ব্যয়সংকোচন নীতিসহ বিভিন্ন অর্থনৈতিক সংস্কার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছেন। কিন্তু তাঁর এ সংস্কার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন খুব সহজ হবে না—এমনটাই ধারণা ব্রিটেনের সাধারণ জনগণ, রাজনীতিক এমনকি খোদ প্রধানমন্ত্রীরও।
গতকাল বুধবারই ক্ষমতাসীন রক্ষণশীল পার্টির বার্ষিক অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার কথা ছিল ক্যামেরনের। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এ ধরনের সম্মেলনে এটা তাঁর প্রথম ভাষণ। বিভিন্ন সূত্রে বলা হয়েছে, ভাষণে ক্যামেরন ব্যয়সংকোচন নীতি বাস্তবায়ন এবং ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব-সংকট মোকাবিলা যে খুব সহজ হবে না, তা স্বীকার করে নেবেন। ব্রিটেনে লোকজন যেভাবে চাকরি হারাচ্ছেন, সেটা মোকাবিলা করা যে প্রায় অসম্ভব, সেটাও তিনি মেনে নিতে পারেন।
ক্যামেরনের নেতৃত্বাধীন জোট সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করে গত মে মাসে। এর পর থেকেই বাজেট ঘাটতি মোকাবিলার এক জগদ্দল পাথর চেপে বসে তাঁর ঘাড়ে। বর্তমানে ব্রিটেনের বাজেট ঘাটতির পরিমাণ প্রায় ২৪ হাজার ২০০ কোটি মার্কিন ডলার। বিশাল এ ঘাটতি মোকাবিলায় ব্যয়সংকোচন নীতি কোন কোন ক্ষেত্রে সম্প্রসারণ করা হবে, তা এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি। ২০ অক্টোবর এ ব্যাপারে বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রকাশ করা হবে।
ইতিমধ্যে ক্যামেরন আকার-ইঙ্গিতে যেসব ক্ষেত্রে ব্যয়সংকোচনের আভাস দিয়েছেন, তাতেই ফেঁসে গেছেন তিনি। গতকাল ব্রিটেনের আই টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বিষয়গুলো নিয়ে নির্বাচনী প্রচারের সময়ই কথাবার্তা বলা উচিত ছিল। কিন্তু তা না করায় এখন ব্যয়সংকোচন নীতি বাস্তবায়ন বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে। আগেভাগে এ ব্যাপারে ভোটারদের কিছু না জানানোর জন্য জনগণের কাছে ক্ষমা চান তিনি।
শিশুদের ভরণপোষণে সাহায্য করতে সরকার এত দিন কিছুটা আর্থিক সহযোগিতা করত। ক্যামেরন সরকার ২০১৩ সাল থেকে এটা কমিয়ে আনার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে।

ইকুয়েডরে জরুরি অবস্থার মেয়াদ বেড়েছে

পুলিশ বিদ্রোহের পর ইকুয়েডরে জারি করা জরুরি অবস্থার মেয়াদ আরও বাড়ানো হয়েছে। কাল শুক্রবার পর্যন্ত জরুরি অবস্থা বলবৎ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন সে দেশের প্রেসিডেন্ট রাফায়েল কোরেয়া। প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, ইকুয়েডরের ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির অনুরোধে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
দেশটিতে ব্যয় সংকোচনের অংশ হিসেবে পুলিশের উৎসব ভাতা ও পদোন্নতি বন্ধের বিধানের প্রতিবাদে গত বৃহস্পতিবার পুলিশ বাহিনী বিদ্রোহ করে। পুলিশের বিদ্রোহী সদস্যরা প্রেসিডেন্ট কোরেয়াকে একটি হাসপাতালে ঘেরাও করে রাখেন। এ সময় প্রেসিডেন্টকে লক্ষ্য করে কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়ে মারা হয়। ১২ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর সেনাবাহিনী অভিযান চালিয়ে কোরেয়াকে মুক্ত করে। এ সময় দুই পক্ষের সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন নিহত হন। এরপর দেশটিতে গত মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়।
প্রেসিডেন্ট কোরেয়া বলেছেন, ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির নিরাপত্তার স্বার্থে কাল শুক্রবার পর্যন্ত এ জরুরি অবস্থা বলবৎ থাকবে। সরকারের বিরোধী পক্ষের কয়েকজন সাংসদ প্রেসিডেন্টের এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন।
তবে ইকুয়েডরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রিকার্ডো পেটিনো বলেছেন, পুলিশের যে সদস্যরা প্রেসিডেন্টের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি ছুড়েছিলেন, তাঁরা এখনো মুক্ত রয়েছেন। তাই সংকট এখনো দূর হয়নি।

কারজাই সরকারের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে তালেবান

আফগানিস্তানে প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাইয়ের সরকার ও তালেবান নেতারা যুদ্ধ বন্ধের বিষয় নিয়ে আলোচনা শুরু করেছেন বলে মার্কিন সংবাদ মাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট দাবি করেছে। গত মঙ্গলবার রাতে তারা এক প্রতিবেদনে বলেছে, পাকিস্তানভিত্তিক কথিত আফগান তালেবান গ্রুপ কোয়েটা শুরা এবং তালেবান নেতা মোল্লা মোহাম্মাদ ওমরের বিশেষ প্রতিনিধিরা আফগান সরকারের সঙ্গে সমঝোতা বৈঠক চালিয়ে যাচ্ছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকটি আফগান ও আরব সূত্রের বরাত দিয়ে ওয়াশিংটন পোস্ট এ খবর জানায়। ওয়াশিংটন পোস্ট দাবি করেছে, আলোচনা-সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র তাদের বলেছে, যুদ্ধ বন্ধের উপায় খুঁজতে তালেবান জঙ্গিরা খুব আন্তরিক। মোল্লা ওমরসহ অন্য তালেবান নেতারা এতদিন বলে আসছিলেন আফগানিস্তান থেকে বিদেশি সেনা সরে না যাওয়া পর্যন্ত তাঁরা কোনো আলোচনায় বসবেন না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই সূত্র বলেছে, তালেবান নেতারা বুঝতে পারছেন সমঝোতা আলোচনায় না বসলে তাঁরা নিজ নিজ গোষ্ঠীর মধ্যে তাঁদের নেতৃত্ব ধরে রাখতে পারবেন না। এ কারণে তাঁরা এখন আলোচনায় আগ্রহী হয়েছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকারে তালেবান নেতাদের অন্তর্ভুক্ত করা এবং আফগানিস্তান থেকে মার্কিন ও ন্যাটো বাহিনীর সেনা সরানো নিয়ে মূলত সরকারের সঙ্গে তাঁদের দর-কষাকষি হচ্ছে।
গত সপ্তাহে আফগানিস্তানে নিযুক্ত ন্যাটো বাহিনীর প্রধান ডেভিড পেট্রাউস বলেন, যুদ্ধ পরিহার করার বিষয় নিয়ে তালেবান এখন আফগান সরকার ও বিদেশি বাহিনীর সঙ্গে আলোচনায় বসতে চাচ্ছে। ওই সময় তিনি বলেন, এ জাতীয় আলোচনা হলে তাতে তাঁদের সমর্থন থাকবে।
তালেবানের একজন মুখপাত্র তাৎক্ষণিকভাবে পেট্রাউসের ওই বক্তব্য নাকচ করে বলেন, তাঁরা কোনো অবস্থাতেই বিদেশি সেনা বা তাঁদের ‘হাতের পুতুল’ কারজাই সরকারের সঙ্গে আলোচনা করবেন না।

পাকিস্তানে মার্কিন মানবহীন বিমান হামলার নেপথ্যে

পাকিস্তানে মার্কিন বাহিনীর মানববিহীন বিমান হামলা চালানোর মাত্রা বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে ইউরোপে সন্দেহভাজন জঙ্গি হামলা পরিকল্পনার যোগসূত্র আছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পাকিস্তানের কর্মকর্তারা বলছেন, জঙ্গিরা ইউরোপের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর পরিকল্পনা করেছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। এসব পরিকল্পনা নস্যাৎ করার চেষ্টা হিসেবে পাকিস্তানে ‘ড্রোন’ বা চালকবিহীন বিমান থেকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর মাত্রা বাড়ানো হয়েছে।
গত মাসে আফগান-সীমান্তসংলগ্ন পাকিস্তানি ভূখণ্ডে মার্কিন বাহিনী কমপক্ষে ২৬ বার মানববিহীন বিমান থেকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। গত ছয় বছরে পাকিস্তানে মার্কিন বাহিনী এক মাসে এতবার এ ধরনের হামলা চালায়নি। মানববিহীন বিমান ড্রোন নামে পরিচিত। এটি এক ধরনের চালকবিহীন ছোট আকৃতির বিমান। দূর-নিয়ন্ত্রণযন্ত্রের সাহায্যে এটি পরিকল্পনা করা যায়। সর্বশেষ গত সোমবার উত্তর ওয়াজিরিস্তানের মীর আলি শহর থেকে মাত্র তিন কিলোমিটার দূরের একটি গ্রামের বাড়িতে ড্রোন থেকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়।
যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত হুসেইন হক্কানি বিবিসিকে বলেছেন, ওই হামলায় মোট আটজন জঙ্গি নিহত হয়। নিহত জঙ্গিদের মধ্যে পাঁচজন ছিল জার্মানির নাগরিক। গত মাসে একই ধরনের একটি হামলায় ওয়াজিরিস্তানে আবদুল জব্বার নামের ব্রিটিশ বংশোদ্ভূত এক সন্দেহভাজন জঙ্গি নিহত হয়।
নিরাপত্তা কর্মকর্তারা বলেছেন, গত জুলাই মাসে আফগানিস্তান থেকে তাঁরা এক জার্মানির নাগরিককে আটক করেন। তাঁর কাছ থেকে তাঁরা জানতে পারেন, জঙ্গিরা ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানিতে কমান্ডো স্টাইলে হামলা চালানোর পরিকল্পনা করেছে।
এসব বিষয় উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত হুসেইন হক্কানি বলেন, ‘আল-কায়েদা ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর সদস্যদের পাকড়াও করতে উত্তর ওয়াজিরিস্তানে যেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করতে দেখছি, তার সঙ্গে ইউরোপে হামলা চালানোর পরিকল্পনার যোগসূত্র আছে।’ তিনি বলেন, ইউরোপে হামলার পরিকল্পনা বানচাল করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের গোয়েন্দাদের সঙ্গে পাকিস্তান কাজ করছে। গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, প্যারিস, লন্ডন ও বার্লিনে জঙ্গিরা বড় ধরনের হামলা চালানোর পাঁয়তারা করছে। ইউরোপ-ভ্রমণের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র তার নাগরিকদের সতর্ক থাকার পরামর্শও দিয়েছে।
জার্মানির গণমাধ্যমগুলোর দাবি, ২০০৯ সালে হামবুর্গ থেকে কিছু ইসলামি জঙ্গি পাকিস্তানের উত্তর ওয়াজিরিস্তানে চলে আসে।
গত সোমবার জার্মানির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, সে দেশ থেকে ৭০ জন লোক আফগানিস্তান ও পাকিস্তানে জঙ্গি প্রশিক্ষণ নিয়েছে। এর মধ্যে তাদের এক-তৃতীয়াংশ জার্মানিতে ফিরেও এসেছে। তারা সেখানে নাশকতা সৃষ্টির চেষ্টা করতে পারে বলে সে দেশের সরকার আশঙ্কা করছে।

হাঙ্গেরির বিষাক্ত বর্জ্য পরিষ্কারে সময় লাগবে এক বছর

হাঙ্গেরির পশ্চিমাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া বিষাক্ত বর্জ্য পরিষ্কার করতে এক বছর সময় লাগতে পারে। এ জন্য কোটি কোটি ডলার ব্যয় করতে হবে। দেশটির পরিবেশমন্ত্রী জোলতান ইলেস এ কথা জানিয়েছেন।
এদিকে এসব বর্জ্য দানিউবসহ কয়েকটি নদীতে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। পাশাপাশি বর্জ্য অপসারণের কাজ চলছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা থেকে স্থানীয় বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সেখানে নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও জরুরি বিভাগের দল মোতায়েন করা হয়েছে। তিনটি এলাকায় জরুরি অবস্থা বলবৎ রয়েছে।
গত সোমবার ডেভেসসার এলাকার আজকাই টিমফোল্ডজিয়ার নামের অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদন কারখানার বর্জ্য সংরক্ষণাগারের বাঁধ ভেঙে যায়। এতে তিনটি এলাকায় সাতটি গ্রাম প্লাবিত হয়। এ ঘটনায় দুই শিশুসহ চারজনের মৃত্যু হয়। অসুস্থ হয় অন্তত ১২০ জন। এ ছাড়া ছয়জন নিখোঁজ রয়েছেন। মঙ্গলবার কয়েকটি এলাকায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়।
হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান মৃত ব্যক্তিদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সান্ডোর পিন্টার রাজধানী বুদাপেস্টে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, সংরক্ষণাগারের বাঁধ মেরামত করা হয়েছে। আপাতত কোনো ঝুঁকি নেই।
দেশটির ডিজাস্টার রিলিফ সার্ভিসের মুখপাত্র টিমেয়া পেট্রোসজি জানান, এই বর্জ্য যাতে নদীতে পৌঁছাতে না পারে, এ জন্য কাজ চলছে। বর্জ্যগুলোকে নিষ্ক্রিয় করা হচ্ছে।
গতকাল এই কাজের ভালো অগ্রগতি হয়েছে। তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার সড়ক ও বাড়িঘর খুব ভালোভাবে ধুয়েমুছে পরিষ্কার করা হচ্ছে। এই কাজে গতকাল বুধবার ৫০০ লোককে নিযুক্ত করা হয়েছে। কোলোন্টার এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি সেতুও গতকাল পুনঃস্থাপন করা হয়েছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া লোকজন শিগগিরই বাড়ি ফিরতে পারছেন না।
পেট্রোসজি জানান, এসব এলাকার খাওয়ার পানি সরবরাহের ব্যবস্থা ঠিক রয়েছে। তবে সতর্কতার কারণে ওই পানি ব্যবহার না করতে সবাইকে বলা হয়েছে। এ ছাড়া বাড়িতে উৎপাদিত কোনো খাবার গ্রহণ না করতে স্থানীয় অধিবাসীদের নিষেধ করা হয়েছে।
হাঙ্গেরির পশ্চিমাঞ্চলের পানি ব্যবস্থাপনা কোম্পানির উপপ্রধান সান্ডের টোথ আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, চার-পাঁচ দিনের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারলে বিষাক্ত বর্জ্য ইউরোপের দ্বিতীয় দীর্ঘতম নদী দানিউবে ঢুকে পড়তে পারে।
পরিবেশবাদী সংগঠন গ্রিন পিস ওই কারখানার ব্যবস্থাপকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। গ্রিন পিস দাবি করে, স্যাটেলাইটের মাধ্যমে নেওয়া ছবিতে দেখা গেছে, সংরক্ষণাগারের বাঁধ ভেঙে যাওয়ার আগে সেখানে বড় ধরনের ফাটল ছিল। সময়মতো তা মেরামত করা হয়নি।

আফগান রূপকথার আরেক পর্ব

১৩৩টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলা কেনিয়ার অভিজ্ঞতার ভান্ডারে আছে চারটি বিশ্বকাপ; তার মধ্যে ২০০৩ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্ট তারা। প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটের অভিজ্ঞতাও নিতান্ত কম নয়। তুলনায় আফগানিস্তানের ক্রিকেটের এখনো শৈশবকাল। এএফপি, ক্রিকইনফো।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে হাঁটি হাঁটি পা পা করতে থাকা যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির প্রথম শ্রেণীর ম্যাচে অভিষেকই হয়েছে এই ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপে। আর সেখানেই কেনিয়াকে স্রেফ উড়িয়ে দিল আফগানরা। অধিনায়ক নওরোজ মঙ্গলের ১৬৮ রান ও দুই ইনিংসে পেসার হামিদ হাসানের ১১ উইকেটের কল্যাণে স্বাগতিক কেনিয়াকে পরশু ১৬৭ রানে হারিয়েছে আফগানিস্তান। এই জয়ে সর্বোচ্চ ৯৭ পয়েন্ট নিয়ে চার দিনের ম্যাচের এই টুর্নামেন্টের ফাইনালে চলে গেছে তারা। সেখানে প্রতিপক্ষ স্কটল্যান্ড।
নবাগত আফগানদের কাছে এই ‘অপমান’ হজম করতে না পেরে অধিনায়কত্ব ছেড়ে দিয়েছেন মরিস ওউমা। ওউমারই ডেপুটি জিমি কামান্ডে হয়েছেন নতুন অধিনায়ক।
ওউমার প্রতিক্রিয়াটা একটু বেশিই মনে হবে যখন জানবেন, হল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, কানাডা, স্কটল্যান্ড, কেনিয়া টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলোর পর ক্রিকেটের পরাশক্তি বলতে যাদের বোঝায়, সবাই-ই হেরেছে আফগানিস্তানের কাছে।
বিশ্ব ক্রিকেটের দ্বিতীয় সারির দলগুলো, যাদের ভবিষ্যতে টেস্ট পরিবারে দেখা যেতে পারে, তাদের নিয়ে আইসিসি ২০০৪ সাল থেকে শুরু করেছে ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপ নামের এই প্রথম শ্রেণীর টুর্নামেন্ট। প্রথম বছর টুর্নামেন্ট জিতেছিল স্কটল্যান্ড। আর পরের তিন বছরের চ্যাম্পিয়ন আয়ারল্যান্ড এবার ফাইনালেই উঠতে পারেনি।
টুর্নামেন্টের পরিসংখ্যান ফাইনালে আফগানিস্তানকেই ফেবারিটের তকমা পরাচ্ছে। ছয় ম্যাচের ৫টিই তারা জিতেছে, বাকি ম্যাচটিও ড্র করেছে জিম্বাবুয়ে একাদশের বিপক্ষে। আফগানিস্তানের কোচ, সাবেক পাকিস্তান অধিনায়ক রশিদ লতিফ নিজের দলকেই ফেবারিট বলছেন।

ম্যারাডোনার চাওয়া

বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখার জন্য ব্যক্তির পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানও পায় নোবেল শান্তি পুরস্কার। কিন্তু আর্জেন্টিনার মানবাধিকার গ্রুপ ‘গ্র্যান্ডমাদার অব প্লাজা ডি মেয়ো’কে কখনো নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়নি। এই না পাওয়ার হতাশা ঘোচার সময় বুঝি এল বুয়েনস এইরেস-ভিত্তিক মানবাধিকার গ্রুপটির। গ্রুপটির পক্ষে নোবেল শান্তি পুরস্কার ছিনিয়ে আনতে যে ম্যারাডোনা কাজ করছেন! আর্জেন্টাইন ‘ফুটবল ঈশ্বর’ বলছেন, আর্জেন্টিনার এই গ্রুপটি নোবেল শান্তি পুরস্কারের যথার্থ দাবিদার। নরওয়ে-ভিত্তিক নোবেল শান্তি কমিটি বরাবর চিঠি দিয়েছেন ম্যারাডোনা। উল্লেখ্য, ১৯৭৬-৮৩, সামরিক শাসনামলে অপহূত ৩০ হাজার মানুষের মধ্যে শিশুদের উদ্ধার করে নিকটাত্মীয়দের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছিল এই গ্রুপ। আগামীকাল ঘোষণা করা হবে নোবেল শান্তি পুরস্কার। দেখা যাক, ম্যারাডোনার চেষ্টা ফলবতী হয় কি না!

দ্বিতীয় টেস্টে নেই গম্ভীর-ইশান্ত

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ভারতের প্রথম টেস্ট জয়ের অন্যতম নায়ক ইশান্ত শর্মাকে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টের দলে পাচ্ছে না ভারত। শনিবার থেকে শুরু বেঙ্গালুরু টেস্টে থাকছেন না ওপেনার গৌতম গম্ভীরও। দুজনকেই ছিটকে দিয়েছে হাঁটুর পুরোনো চোট। অনভিষিক্ত ব্যাটসম্যান অভিনব মুকুন্দ ও বাঁহাতি পেসার জয়দেব উনাদকটকে ১৫ সদস্যের স্কোয়াডে ডাকা হয়েছে।

মাঠেও রং ছড়াতে চায় ব্রাদার্স

ঢোলের সঙ্গে ব্যান্ড পার্টি, পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ঘোড়ার গাড়ি, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা আর মোটর শোভাযাত্রা। ব্রাদার্স ইউনিয়ন কাল দলবদল সারতে বাফুফে ভবনে এল উৎসবের রং ছড়িয়ে।
বাংলাদেশ লিগের দলবদল এবার নিষ্প্রাণই যাবে বলে মনে হচ্ছিল। গত কয়েক দিনে সাদামাটাভাবে খেলোয়াড়-নিবন্ধন কাজ সেরে বাফুফে থেকে ফিরে গেছে দেশের অন্যতম বড় ক্লাব আবাহনী ও নবাগত শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব। মাঝখানে দুদিন ফুটবল ফেডারেশনের কেটেছে অলস সময়। কিন্তু কাল আড়মোড়া ভেঙে জেগে উঠতে হলো। হঠাৎ করেই কমলা রঙের পতাকা নিয়ে, গলায় ফুলের মালা পরে, সমর্থকদের পুষ্পবৃষ্টিতে ভিজে বাফুফে ভবনে এলেন ব্রাদার্সের ২০ জন স্থানীয় খেলোয়াড়। ছিলেন ১৪-১৫ জন বিদেশি খেলোয়াড়ও, যাঁদের বেশির ভাগই ছিলেন দর্শকের ভূমিকায়।
একটু বাজিয়ে দেখে নিবন্ধন করার জন্য ব্রাদার্স ২৪ জন বিদেশি খেলোয়াড়ের মেলা বসিয়ে ফেলেছে। আপাতত ব্রাজিলিয়ান স্টপার ড্যানিলো ও অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার এভারটনকে মনে ধরলেও তাঁদের সই করায়নি। দু-এক দিনের মধ্যেই আরও তিনজনকে চূড়ান্ত করে নাম নিবন্ধন করা হবে বলে জানালেন ব্রাদার্স ফুটবল দলের ম্যানেজার আমের খান। নতুন কমিটি গত মাসেই দায়িত্ব নিয়ে ঘর গুছিয়ে ফেলেছে ব্রাদার্সের। ঘরের ছেলে ইউসুফ, রাসেল, আসিফদের সঙ্গে কবির, লিটনদের নিয়ে গড়া দলটা ভালো করবে বলেই বিশ্বাস কর্মকর্তাদের। ক্লাবের নতুন সভাপতি নজরুল ইসলাম জানালেন, ‘চমক দিতে চাই আমরা।’ দলবদলের এই রং ফেডারেশন কাপে তো বটেই, বাংলাদেশ লিগেও দেখাতে চায় ব্রাদার্স।
গত মৌসুমে বিয়ানীবাজারে খেলা মিডফিল্ডার ফয়সাল মাহমুদকে প্রথমে নিয়েও পরে নাম কেটে দেওয়া হয়েছে। বিয়ানীবাজার থেকে তিনি ছাড়পত্র পাননি এখনো। বিষয়টিকে বিয়ানীবাজারের অভ্যন্তরীণ কোন্দল বলে দাবি করলেন ম্যানেজার আমের খান, ‘অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণেই ওকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়নি। তবে এখনো এক দিন বাকি আছে, দেখা যাক কী হয়।’
স্থানীয় খেলোয়াড়দের নাম নিবন্ধনের শেষের আগের দিন কাল আনুষ্ঠানিকতা সেরেছে আরও দুটি ক্লাব—মুক্তিযোদ্ধা ও ফেনী সকার। ব্রাদার্সের মতো মুক্তিযোদ্ধারও নতুন কমিটি। দুই বিদেশি বুকোলা ওলালেকান ও পল এমানুয়েলকে নিয়েছে তারা। সঙ্গে আবাহনীর বিপ্লব ভট্টাচার্য, রজনীকান্ত, মতিউর মুন্না, ওবায়দুরসহ মোট ২৪ জন আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্তিযোদ্ধার হয়ে গেলেন। কর্মকর্তাদের দাবি, মিডফিল্ডার এনামুল হক শরীফ তাঁদের কাছ থেকে ৯ লাখ টাকা নিয়েও মোহামেডানের সঙ্গে অনুশীলন করছেন। শরীফও এটি স্বীকার করে বললেন, ‘আমি মুক্তিযোদ্ধার কাছ থেকে টাকা নিলেও সেটা ফেরত দিয়ে দেব।’ মুক্তিযোদ্ধার পর ফেনী সকার ২৩ জন খেলোয়াড়ের নাম নিবন্ধন করিয়েছে।

বাটদের শুনানি হবে কাতারে

সালমান বাট, মোহাম্মদ আসিফ, মোহাম্মদ আমিররা কি তাহলে ক্রিকেটে নিষিদ্ধই থাকবেন? এই প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার জন্যই আগামী ৩০ ও ৩১ অক্টোবর দোহাতে বসছে আইসিসির শুনানি। গতকাল আইসিসির প্রধান নির্বাহী হারুণ লরগাত জানিয়েছেন, সাময়িক নিষিদ্ধ তিন ক্রিকেটারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই শুনানি পরিচালনা করবেন আচরণবিধি কমিশনের প্রধান মাইকেল বেলফ।
পাকিস্তানের যুক্তরাজ্য সফরে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লর্ডস টেস্টে বাট, আসিফ ও আমির স্পট ফিক্সিংয়ে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ তুলেছিল ব্রিটিশ ট্যাবলয়েড নিউজ অব দ্য ওয়ার্ল্ড। ২ সেপ্টেম্বর আইসিসি সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করে তিন ক্রিকেটারকে।
প্রথমে পিসিবি তিন ক্রিকেটারের হয়ে কথাবার্তা বললেও পরে জানিয়ে দেয়, এই নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে লড়তে হলে ক্রিকেটারদের নিজেদের দায়িত্বেই লড়তে হবে। তিন ক্রিকেটারই আলাদাভাবে নিষেধাজ্ঞা পুনর্বিবেচনার আবেদন জানান।
লরগাত মনে করিয়ে দিয়েছেন, এই শুনানি স্রেফ সাময়িক নিষেধাজ্ঞার বিপক্ষে আপিল আবেদনের জন্য; তিন ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে মূল অভিযোগের তদন্ত নিজস্ব গতিতে চলবে।

ক্রিকেট অস্কারে টেন্ডুলকারের রাত

টেস্ট-ওয়ানডের প্রায় সব রেকর্ডই লুটিয়েছে তাঁর পায়ে। হাতে উঠেছে ক্রিকেট দুনিয়ার প্রায় সব পুরস্কারই। কিন্তু ‘আসল’ পুরস্কার যে অধরা থেকে যাচ্ছিল। এত দিন পর্যন্ত আইসিসির কোনো পুরস্কার ওঠেনি তাঁর হাতে।
অবশেষে সেই রাত এল—শচীন রমেশ টেন্ডুলকারের রাত। গতকাল বেঙ্গালুরুতে আইসিসি বর্ষসেরা পুরস্কারের রাতটা আক্ষরিক অর্থেই নিজের করে নিলেন এই গ্রেট। অনেকটা অনুমেয়ভাবেই সাধারণ মানুষের ভোটে জিতে নিলেন ‘পিপলস চয়েস অ্যাওয়ার্ড’। জুরিদের ভোটে জিতেছেন বর্ষসেরা ক্রিকেটারের পুরস্কার—স্যার গারফিল্ড সোবার্স ট্রফি।
দুই হাতে দুই ট্রফি নিয়ে টেন্ডুলকারের কণ্ঠে স্বভাববিরোধী উচ্ছ্বাস, ‘আজ রাতে এই দুটি ট্রফিই জেতা বিশেষ আনন্দের ব্যাপার।’
এ বছরের পুরস্কারের জন্য আগস্ট ২০০৯ থেকে আগস্ট ২০১০ পর্যন্ত সময়ের পারফরম্যান্স বিবেচনা করা হয়েছে। হাশিম আমলা, বীরেন্দর শেবাগ ও গ্রায়েম সোয়ানকে টপকে সপ্তম গারফিল্ড সোবার্স ট্রফিজয়ী টেন্ডুলকার এই সময়ে ১০ টেস্টে ৮১.৮৪ গড়ে ১০৬৪ রান করেছেন, ১৭ ওয়ানডেতে করেছেন ৯১৪ রান। সাবেক খেলোয়াড়, সাংবাদিক, ম্যাচ রেফারি ও এলিট প্যানেলের আম্পায়ারদের নিয়ে গঠিত ২৫ সদস্যের কমিটি করেছেন এই নির্বাচনের কাজ।
নির্বাচকদের বিবেচনায় টেন্ডুলকার অবশ্য বর্ষসেরা টেস্ট বা ওয়ানডে খেলোয়াড় হননি। বিবেচ্য সময়ে ৮৫.৪৬ গড়ে ১২৮২ রান করে বর্ষসেরা টেস্ট ক্রিকেটার হয়েছেন বীরেন্দর শেবাগ। গত বছর এই পুরস্কার জিতেছিলেন তাঁর ওপেনিং সঙ্গী গৌতম গম্ভীর। পুরস্কার নিতে গিয়ে শেবাগ বললেন গম্ভীরের পুরস্কার পাওয়াটাই তাঁকে অনুপ্রাণিত করেছে, ‘আমি গম্ভীরের সঙ্গে আলোচনা করছিলাম, এবার পুরস্কারটা আমি পেতে চাই।’
ওয়ানডে বর্ষসেরা পুরস্কারটা অবশ্য ভারতে থাকেনি। বিবেচ্য সময়ে ১৬টি ওয়ানডের মধ্যে দলকে ১০টি জেতানোর পথে ৭১.২৫ গড়ে মোট ৮৫৫ রান করে এ পুরস্কারটা পেয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার হাশিম আমলা। তাঁর কাছে এই পুরস্কারটি বিশ্বকাপের আগে বিশ্বকাপ জয়ের জন্য একটা অনুপ্রেরণা।
এ বছরের ‘স্পিরিট অব ক্রিকেট’ পুরস্কারটা আবারও পেয়েছে নিউজিল্যান্ড দল। নিউজিল্যান্ডের প্রাপ্তি আছে আরও একটি—অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ব্রেন্ডন ম্যাককালামের ৫৬ বলে ১১৬ রানের ইনিংসটি পেয়েছে বর্ষসেরা টি-টোয়েন্টি পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি।
বাংলাদেশ থেকে ড্যানিয়েল ভেট্টোরি এই দুই পুরস্কারের প্রতিক্রিয়ায় বললেন, ‘আমাদের দলের ও ব্রেন্ডন ম্যাককালামের এই পুরস্কারের সঙ্গে বাংলাদেশ থেকে সিরিজটা জিতে ফিরতে পারলে এটি হবে রোমাঞ্চকর।’
ওয়ানডে ও টেস্টের দুটি বর্ষসেরা দলও বেছে নিয়েছে ক্লাইভ লয়েডের নেতৃত্বাধীন নির্বাচক কমিটি। বর্ষসেরা টেস্ট দলটির নেতৃত্ব মহেন্দ্র সিং ধোনির হাতে; ওয়ানডে দলের অধিনায়ক রিকি পন্টিং। এএফপি, ক্রিকইনফো।
আইসিসি ক্রিকেট অ্যাওয়ার্ড ২০১০
বর্ষসেরা ক্রিকেটার: শচীন টেন্ডুলকার
বর্ষসেরা টেস্ট ক্রিকেটার: বীরেন্দর শেবাগ
বর্ষসেরা ওয়ানডে ক্রিকেটার: এবি ডি ভিলিয়ার্স
বর্ষসেরা উদীয়মান: স্টিভেন ফিন
বর্ষসেরা মহিলা ক্রিকেটার: শেলি নিটচকে
সহযোগী দেশগুলোর সেরা: রায়ান টেন ডসেট
বর্ষসেরা আম্পায়ার: আলিম দার
টি-টোয়েন্টি বর্ষসেরা পারফরম্যান্স: ব্রেন্ডন ম্যাককালাম (অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৫৬ বলে ১১৬*)
স্পিরিট অব দ্য ক্রিকেট: নিউজিল্যান্ড
পিপলস চয়েস অ্যাওয়ার্ড: শচীন টেন্ডুলকার
আইসিসির বর্ষসেরা দল
টেস্ট
শেবাগ, ক্যাটিচ, টেন্ডুলকার, আমলা, সাঙ্গাকারা, ক্যালিস, ধোনি (অধিনায়ক ও উইকেটরক্ষক), সোয়ান, অ্যান্ডারসন, স্টেইন ও বলিঞ্জার।
ওয়ানডে
টেন্ডুলকার, ওয়াটসন, হাসি, ডি ভিলিয়ার্স, কলিংউড, পন্টিং (অধিনায়ক), ধোনি (উইকেটরক্ষক), ভেট্টোরি, ব্রড, বলিঞ্জার ও রায়ান হ্যারিস।

জ্বলছে নিউজিল্যান্ড

নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেটাররা আন্তরিক মানুষ নন, এমন অভিযোগ তাঁদের পরম শত্তুরেও করবে না। অনুশীলনে জীবন যায়-যায় অবস্থাতেও সৌজন্যমূলক একটা হাসি দিতে জুড়ি নেই তাঁদের। অথচ কাল ড্যারেল টাফির দিকে যেতেই মাছি তাড়ানোর মতো একটা ভঙ্গি করলেন। যার অর্থ, কোনো কথা চলবে না।
তাহলে নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেটাররা কি রাতারাতি অসামাজিক হয়ে পড়লেন! নাকি একটা হারের ধাক্কায় রাতারাতি খোলসের মধ্যে ঢুকে পড়েছেন? দলের তরুণতম সদস্য কেন উইলিয়ামসন একটা ব্যাখ্যা দিলেন, ‘আসলে সবার মনই খুব খারাপ। কাল ম্যাচ শেষে সবাই ড্রেসিং রুমে খুব মন খারাপ করে বসে ছিল। এই সফরের প্রথম ম্যাচেই আমরা হেরে যাব, এটা কেউ কল্পনা করেনি।’
তা, নিউজিল্যান্ডের জন্য একটু ‘কল্পনাতীত’ ব্যাপার ঘটে গেছে বৈকি! যে দলটির বিপক্ষে প্রথম ১১টি ওয়ানডের সবগুলোতে জিতেছে তাঁরা, যে দলের বিপক্ষে পরশুর আগ পর্যন্ত ১৭ ওয়ানডেতে একটি মাত্র হার, সেই বাংলাদেশের বিপক্ষে আরেকটি পরাজয় মেনে নেওয়া তো কষ্টই।
ইচ্ছে করলে দুয়ে দুয়ে চার মিলিয়ে বলতে পারেন, হারের ধকল কাটাতেই কাল সকালে হোটেলে রয়ে গেলেন নিউজিল্যান্ডের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়েরা। সকালবেলায় মিরপুর স্টেডিয়ামে সূচি অনুযায়ী অনুশীলনে এলেন মাত্র সাত-আটজন।
যাঁরা এলেন, তাঁদের কথায় ‘কমন’ সুর একটাই—নিউজিল্যান্ড ধাক্কা খেয়েছে, তবে এই ধাক্কা কাটিয়ে উঠে সিরিজ জয়ের ব্যাপারে তারা খুবই আশাবাদী। ‘বলব না, বলব না’ করেও মাঠ ছেড়ে বেরোনোর আগে টাফি বললেন, ‘এখনো চার ম্যাচ বাকি আছে। সিরিজ জেতার ব্যাপারে আমরা পুরোপুরি আশাবাদী।’
প্রথম ম্যাচে অপেক্ষাকৃত দুর্বল দলের বিপক্ষে হারের পর আশা ছেড়ে দেওয়ার তো কোনো কারণই নেই! কেন উইলিয়ামসনও এই আশার কথাই বললেন, ‘পরের ম্যাচ থেকেই আমাদের নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী খেলতে হবে।’ একই সুরে উইকেট-রক্ষক ব্যাটসম্যান ডিজে ওয়াটলিং বলে দিলেন, ‘আশা করি পরের ম্যাচেই আমরা সিরিজে ফিরে আসব।’
আশাবাদী নিউজিল্যান্ডের কোচ মার্ক গ্রেটব্যাচও। কিন্তু সাবেক এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যানকে এখনো আসলে প্রথম ম্যাচে হারের কারণ খুঁজে বেড়াতে হচ্ছে, ‘আমরা আসলে ভালো খেলিনি। বৃষ্টির সামান্য সহায়তা নিয়ে বাংলাদেশ তাদের পরিকল্পনাগুলো খুব ভালো কাজে লাগিয়েছে। আমাদের খেলায় খুব জড়তা ছিল। ব্যাটিংয়ে কিছু সময় আমরা ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করেছি। কিন্তু দ্রুত দুটো উইকেট হারানোটা ডাকওয়ার্থ-লুইস মেথডে আমাদের জন্য বিরাট ধাক্কা ছিল। শেষ পর্যন্ত ওরা দুর্দান্ত খেলেছে, আমাদের চাপে ফেলে দিয়েছে।’
নিউজিল্যান্ডের হারের কারণ খুঁজতে গিয়ে গ্রেটব্যাচ আরেকটি ব্যাপার খুঁজে পেয়েছেন—সাকিব আল হাসান। বৃষ্টি, নিজেদের ভুল তো আছেই; এর সঙ্গে হারের জন্য বড় ‘দায়’ দিচ্ছেন তিনি বাংলাদেশি অলরাউন্ডারকে, ‘সাকিব অসাধারণ খেলেছে। ব্যাটে-বলে দুর্দান্ত একটা ম্যাচ খেলেছে। সেই সঙ্গে সমর্থনও পেয়েছে।’
প্রথম ম্যাচের পরাজয়ে আরেকটি ক্ষতিও হয়েছে নিউজিল্যান্ডের। বাংলাদেশকে হোয়াইটওয়াশ করতে পারলে ওয়ানডে র‌্যাঙ্কিংয়ে দুই ধাপ উন্নতি করে ৪ নম্বরে উঠে যেত তারা। অবশ্য এ নিয়ে কোনো আফসোস নেই বলেই দাবি গ্রেটব্যাচের, ‘আমরা আসলে এ নিয়ে ভাবছি না। আমরা একেকটা ম্যাচ নিয়ে ভাবছি। র‌্যাঙ্কিং তো থাকবেই। কিন্তু সত্যি কথা বলি, আমরা সিরিজ নিয়ে ভাবছি, প্রতিটা ম্যাচ নিয়ে ভাবছি। আসলে আমার মনে হয়, এসব জিনিস (র‌্যাঙ্কিং) নিয়ে ভাবতে শুরু করলে ভুল পথে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।’
কে জানে, সিরিজের আগে হয়তো ভেবেছেন; প্রথম ম্যাচ হেরে ব্যাপারটা হাতছাড়া হওয়ার পর আর ভাবেন না! সে যাই হোক, গ্রেটব্যাচ এখন শুক্রবারের অপেক্ষায়। আশায় আছেন, শিষ্যরা এই ম্যাচেই রুখে দাঁড়াবে, ‘সিরিজে সমতা ফেরাতে শুক্রবারের এই ম্যাচটা জিততে হবে আমাদের। জেতা ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই। আমরা ১-০তে পিছিয়ে আছি। আশা করি, শুক্রবার আমরা কঠিন প্রতিপক্ষে পরিণত হব। আমরা ভালো করেই জানি, এই ম্যাচেই তারা ২-০ করে ফেলতে পারে।’
গ্রেটব্যাচের এই জানাটা সত্যি হয়ে গেলে কেমন হয়!

লিগামেন্ট ছিঁড়েছে মাশরাফির

শুরুতে ধারণা করা হয়েছিল হয়তো লিগামেন্টে কেবল টানই পড়েছে মাশরাফি বিন মুর্তজার। কিন্তু চোটের পর কাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় তাঁর ডান অ্যাঙ্কেলের যা অবস্থা, তাতে এখন লিগামেন্ট ছিঁড়ে যাওয়ার আশঙ্কাই করছেন চিকিৎসকেরা। আশঙ্কাটা সত্যি হলে তিন-চার সপ্তাহ নয়, মাশরাফিকে অনুশীলনে ফিরতে অপেক্ষা করতে হবে অন্তত ৬ সপ্তাহ।
কাল দুপুরের পর মিরপুর স্টেডিয়ামে এসে বিসিবির চিকিৎসক দেবাশিস চৌধুরীকে আহত অ্যাঙ্কেল দেখিয়ে গেছেন মাশরাফি। ফেরার পথে দিয়ে যেতে পারেননি কোনো সুসংবাদ, ‘কালকের (আজ) আগে কিছুই বলা যাবে না। তবে ফোলা বেড়েছে, সঙ্গে ব্যথাও বেড়েছে। ফোলা কমলে তিন-চার দিন পর হয়তো স্ক্যান করানো হবে। তখন বোঝা যাবে ভেতরে কী অবস্থা।’ সূত্র জানিয়েছে, মাশরাফির ফোলা জায়গা ক্রমেই নীলচে হয়ে উঠছে। চিকিৎসকদের দৃষ্টিতে এটা ভেতরে রক্তক্ষরণের ইঙ্গিত। আর সাধারণত লিগামেন্ট ছিঁড়লেই রক্তক্ষরণ হয়।
ফিজিও মাইকেল হেনরি এবং দেবাশিস চৌধুরীর দুশ্চিন্তা এবং ব্যস্ততা দুটোই বেড়ে গেছে মাশরাফির কারণে। বোর্ডের বিনা অনুমতিতে মাশরাফির ইনজুরি নিয়ে হেনরি অবশ্য কোনো কথাই বলতে রাজি হননি। কোনো মন্তব্য করতে রাজি নন চিকিৎসক দেবাশিসও।
ক্যারিয়ার-জুড়ে একটার পর একটা ইনজুরি বাধাগ্রস্ত করেছে মাশরাফির অগ্রযাত্রা। বেশি ভুগিয়েছে হাঁটুর ইনজুরিই। পরশু পা পিছলে পড়ে যাওয়ার পরও প্রথম দুশ্চিন্তাটা তাঁর হয়েছিল হাঁটু নিয়ে, ‘প্রথম যখন শব্দটা পাই, মনে হচ্ছিল হাঁটুতে লেগেছে। পরে অ্যাঙ্কেলে বুঝতে পেরে স্বস্তি পেয়েছি। হাঁটুতে হলে অনেক বেশি সমস্যা হতো।’ বল করতে গিয়ে পড়ে যাওয়ার কারণও ব্যাখ্যা করলেন কাল, ‘উইকেটটা একটু শক্ত, জুতোর স্পাইক আটকাচ্ছিল না। সে কারণেই পা পিছলে যাচ্ছিল বারবার। আমার তাই খালি টেনশন হচ্ছিল নো বল না হয়ে যায়। এর মধ্যেই ওটা হলো...।’

মাঠের বাইরে অন্য লড়াই

ক্রাচে ভর দিয়ে খোঁড়াতে খোঁড়াতে বেরিয়ে যাচ্ছেন কেউ। পাশ থেকে হাতে ব্যান্ডেজ বাঁধা এক ‘রোগী’ দরজা সামান্য ফাঁক করে ভেতরে উঁকি দিলেন ডাক্তার সাহেব আছেন কি না দেখতে। একটু পর দেখা মিলল জিন্স-টি শার্ট পরা এক কেতাদুরস্ত তরুণের। ব্যান্ডেজ লাগানো হাতের আঙুল উঁচিয়ে কোথায় যেন যাচ্ছেন। আশপাশে দর্শনার্থীও কম নেই।
সবই ঠিক ছিল, ছিল না শুধু স্যাভলনের ঝাঁজালো ‘ঔষধি’ গন্ধটা। নইলে কাল বিকেলে বিসিবির মেডিকেল রুমের সামনের করিডরটাকে মনে হচ্ছিল কোনো হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ওয়েটিং রুম!
সিরিজ শুরুর আগেই ছিটকে পড়েছেন তামিম। মাশরাফি-নাজমুলকে কেড়ে নিয়েছে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ। দল থেকে ছিটকে গিয়ে আজকের মধ্যে হোটেলও ছেড়ে দেবেন তাঁরা। বাংলাদেশ দলে জয়ের আনন্দ আর হারানোর বেদনা এখানে মিলেমিশে একাকার। কাল অনুশীলনে আসা ক্রিকেটার আর চিকিৎসার জন্য আসা ক্রিকেটার তাই প্রায় সমান সমান। আগের দিন খেলা ছিল, পরের ম্যাচের আগে দুই দিন বিরতি। কালকের অনুশীলনটা ঐচ্ছিকই রেখেছিলেন কোচ জেমি সিডন্স। সাকিব আল হাসান দুপুরের দিকে বিসিবিতে এক চক্কর দিয়ে চলে গেছেন বিকেএসপিতে। উদ্দেশ্য, বিকেএসপির অসুস্থ এক ছাত্রের হাতে তুলে দেবেন প্রথম ওয়ানডেতে পাওয়া ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার ১ হাজার ডলার। সঙ্গে সতীর্থদের কাছ থেকেও নিয়ে গেছেন কিছু অর্থ সাহায্য।
বাকিদের মধ্যে হাতে গোনা কয়েকজনই এলেন অনুশীলনে। ঝিরিঝিরি বৃষ্টির মধ্যে ঘণ্টা দুয়েকের অনুশীলন, এর মধ্যেই রাজশাহী থেকে সরাসরি স্টেডিয়ামে এসে দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন দুই পেসার সৈয়দ রাসেল ও ডলার মাহমুদ। রাসেল তো খুবই আশাবাদী সুযোগ পেলে ভালো কিছু করে দেখাবেন, ‘জাতীয় লিগ খেলছিলাম। এর আগে অনুশীলনে...খেলার মধ্যেই ছিলাম। আমার বিশ্বাস সুযোগ পেলে ভালোই বল করব।’ ইনজুরিতে পড়া বোলারদের পরিবর্তক হিসেবে আসা রাসেল নিজেও ইনজুরিপ্রবণ। ব্যাপারটা মাথায় রেখে এবার একটু সতর্ক থাকবেন বলে জানালেন। রাসেল-ডলার দুজনই রাজশাহীতে খুলনা বিভাগের হয়ে ঢাকার বিপক্ষে জাতীয় লিগের ম্যাচ খেলছিলেন। আগের রাতে ঢাকা থেকে তাঁদের দলের সঙ্গে যোগ দিতে বলা হলে কাল সকাল সাড়ে ৮টার দিকে দুই পেসার ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন।
মাশরাফি-নাজমুল না থাকলেও নতুন দুজনকে পেয়ে অন্তত চার পেসারের কোটা পূরণ হলো। পরিস্থিতির দাবি মেনে আপাতত এতেই খুশি বোলিং কোচ ইয়ান পন্ট, ‘রাসেল-ডলার দুজনকেই এর আগে অনুশীলনে দেখেছি। আজ (গতকাল) তারা যোগ দেওয়ায় আমরা আবার চারজন পেস বোলার পেলাম। দেখে সবাইকেই খেলার মতো ফিট মনে হচ্ছে। শফিউলের একটু সমস্যা ছিল। আশা করছি, সে ফিট হয়ে যাবে।’ বাংলাদেশের দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম ম্যাচেই জয় দেখলেন। তাঁর কাছে এটা ‘অপ্রত্যাশিত’ হলেও বাংলাদেশ দলের বোলিং কোচ হিসেবে শুরুটাকে ‘চমৎকার’ বলছেন পন্ট। তবে ইনজুরির কারণে যেভাবে একটার পর একটা পেসারদের ‘উইকেট’ পড়ছে, তাতে চিন্তিত না হয়ে উপায় কি ইংলিশ কোচের! যদিও এসব চোটের ব্যাখ্যা আছে তাঁর কাছে, ‘কঠোর অনুশীলন চলছে। সে কারণে কিছু ইনজুরিও হচ্ছে। ফাস্ট বল করলে কখনো কখনো ইনজুরিতে পড়তে হয়। আমাদের জন্য দুর্ভাগ্যজনক হলো, এক ম্যাচেই দুজন পেসার ইনজুরিতে পড়েছে। এটা বিরল ঘটনা।’
ইনজুরির ব্যাখ্যায় বোলিং কোচের সঙ্গে একমত অধিনায়ক মাশরাফিও, ‘গত দুই মাস আমরা খুব কঠিন অনুশীলন করছি। এ ধরনের অনুশীলনে আমরা অভ্যস্ত নই। ইনজুরির এটাও হয়তো একটা কারণ। তবে এই অনুশীলন আমাদের খুবই কাজে লাগছে। আর ইনজুরি তো সবই ছোটখাটো।’
মাশরাফি বরং সবাইকে চাঙা করারই চেষ্টা করছেন, ‘মন খারাপ করার কিছু নেই। জিতেছি...সবার উৎফুল্ল থাকা উচিত। স্পিন আক্রমণে কোনো সমস্যা হলে বরং বেশি চিন্তিত হতাম। যেকোনো দলকেই আমরা স্পিন দিয়ে আক্রমণ করতে চাই। আর নিউজিল্যান্ড স্পিনে অত শক্তিশালীও না। সে ক্ষেত্রে সাকিব, রাজ (রাজ্জাক) বা সোহরাওয়ার্দীদের কেউ ইনজুরিতে পড়লে বেশি সমস্যা হতো।’
দলের মন ভালো করার একটা দায়িত্ব মাশরাফি নিজেই নিয়েছেন কাল। প্রথম ওয়ানডের জয় উদ্যাপন করতে ম্যানেজার তানজীব আহসানের সঙ্গে মিলে একটা পাঁচ তারকা হোটেলে নৈশভোজ করিয়েছেন পুরো দলকে।

লিগামেন্ট ছিঁড়েছে মাশরাফির!

শুরুতে ধারণা করা হয়েছিল হয়তো লিগামেন্টে কেবল টানই পড়েছে মাশরাফি বিন মুর্তজার। কিন্তু চোটের পর কাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় তাঁর ডান অ্যাঙ্কেলের যা অবস্থা, তাতে এখন লিগামেন্ট ছিঁড়ে যাওয়ার আশঙ্কাই করছেন চিকিৎসকেরা। আশঙ্কাটা সত্যি হলে তিন-চার সপ্তাহ নয়, মাশরাফিকে অনুশীলনে ফিরতে অপেক্ষা করতে হবে অন্তত ৬ সপ্তাহ।
কাল দুপুরের পর মিরপুর স্টেডিয়ামে এসে বিসিবির চিকিৎসক দেবাশিস চৌধুরীকে আহত অ্যাঙ্কেল দেখিয়ে গেছেন মাশরাফি। ফেরার পথে দিয়ে যেতে পারেননি কোনো সুসংবাদ, ‘কালকের (আজ) আগে কিছুই বলা যাবে না। তবে ফোলা বেড়েছে, সঙ্গে ব্যথাও বেড়েছে। ফোলা কমলে তিন-চার দিন পর হয়তো স্ক্যান করানো হবে। তখন বোঝা যাবে ভেতরে কী অবস্থা।’ সূত্র জানিয়েছে, মাশরাফির ফোলা জায়গা ক্রমেই নীলচে হয়ে উঠছে। চিকিৎসকদের দৃষ্টিতে এটা ভেতরে রক্তক্ষরণের ইঙ্গিত। আর সাধারণত লিগামেন্ট ছিঁড়লেই রক্তক্ষরণ হয়।
ফিজিও মাইকেল হেনরি এবং দেবাশিস চৌধুরীর দুশ্চিন্তা এবং ব্যস্ততা দুটোই বেড়ে গেছে মাশরাফির কারণে। বোর্ডের বিনা অনুমতিতে মাশরাফির ইনজুরি নিয়ে হেনরি অবশ্য কোনো কথাই বলতে রাজি হননি। কোনো মন্তব্য করতে রাজি নন চিকিৎসক দেবাশিসও।
ক্যারিয়ার-জুড়ে একটার পর একটা ইনজুরি বাধাগ্রস্ত করেছে মাশরাফির অগ্রযাত্রা। বেশি ভুগিয়েছে হাঁটুর ইনজুরিই। পরশু পা পিছলে পড়ে যাওয়ার পরও প্রথম দুশ্চিন্তাটা তাঁর হয়েছিল হাঁটু নিয়ে, ‘প্রথম যখন শব্দটা পাই, মনে হচ্ছিল হাঁটুতে লেগেছে। পরে অ্যাঙ্কেলে বুঝতে পেরে স্বস্তি পেয়েছি। হাঁটুতে হলে অনেক বেশি সমস্যা হতো।’ বল করতে গিয়ে পড়ে যাওয়ার কারণও ব্যাখ্যা করলেন কাল, ‘উইকেটটা একটু শক্ত, জুতোর স্পাইক আটকাচ্ছিল না। সে কারণেই পা পিছলে যাচ্ছিল বারবার। আমার তাই খালি টেনশন হচ্ছিল নো বল না হয়ে যায়। এর মধ্যেই ওটা হলো...।’

মাঠের বাইরে অন্য লড়াই

ক্রাচে ভর দিয়ে খোঁড়াতে খোঁড়াতে বেরিয়ে যাচ্ছেন কেউ। পাশ থেকে হাতে ব্যান্ডেজ বাঁধা এক ‘রোগী’ দরজা সামান্য ফাঁক করে ভেতরে উঁকি দিলেন ডাক্তার সাহেব আছেন কি না দেখতে। একটু পর দেখা মিলল জিন্স-টি শার্ট পরা এক কেতাদুরস্ত তরুণের। ব্যান্ডেজ লাগানো হাতের আঙুল উঁচিয়ে কোথায় যেন যাচ্ছেন। আশপাশে দর্শনার্থীও কম নেই।
সবই ঠিক ছিল, ছিল না শুধু স্যাভলনের ঝাঁজালো ‘ঔষধি’ গন্ধটা। নইলে কাল বিকেলে বিসিবির মেডিকেল রুমের সামনের করিডরটাকে মনে হচ্ছিল কোনো হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ওয়েটিং রুম!
সিরিজ শুরুর আগেই ছিটকে পড়েছেন তামিম। মাশরাফি-নাজমুলকে কেড়ে নিয়েছে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ। দল থেকে ছিটকে গিয়ে আজকের মধ্যে হোটেলও ছেড়ে দেবেন তাঁরা। বাংলাদেশ দলে জয়ের আনন্দ আর হারানোর বেদনা এখানে মিলেমিশে একাকার। কাল অনুশীলনে আসা ক্রিকেটার আর চিকিৎসার জন্য আসা ক্রিকেটার তাই প্রায় সমান সমান। আগের দিন খেলা ছিল, পরের ম্যাচের আগে দুই দিন বিরতি। কালকের অনুশীলনটা ঐচ্ছিকই রেখেছিলেন কোচ জেমি সিডন্স। সাকিব আল হাসান দুপুরের দিকে বিসিবিতে এক চক্কর দিয়ে চলে গেছেন বিকেএসপিতে। উদ্দেশ্য, বিকেএসপির অসুস্থ এক ছাত্রের হাতে তুলে দেবেন প্রথম ওয়ানডেতে পাওয়া ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার ১ হাজার ডলার। সঙ্গে সতীর্থদের কাছ থেকেও নিয়ে গেছেন কিছু অর্থ সাহায্য।
বাকিদের মধ্যে হাতে গোনা কয়েকজনই এলেন অনুশীলনে। ঝিরিঝিরি বৃষ্টির মধ্যে ঘণ্টা দুয়েকের অনুশীলন, এর মধ্যেই রাজশাহী থেকে সরাসরি স্টেডিয়ামে এসে দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন দুই পেসার সৈয়দ রাসেল ও ডলার মাহমুদ। রাসেল তো খুবই আশাবাদী সুযোগ পেলে ভালো কিছু করে দেখাবেন, ‘জাতীয় লিগ খেলছিলাম। এর আগে অনুশীলনে...খেলার মধ্যেই ছিলাম। আমার বিশ্বাস সুযোগ পেলে ভালোই বল করব।’ ইনজুরিতে পড়া বোলারদের পরিবর্তক হিসেবে আসা রাসেল নিজেও ইনজুরিপ্রবণ। ব্যাপারটা মাথায় রেখে এবার একটু সতর্ক থাকবেন বলে জানালেন। রাসেল-ডলার দুজনই রাজশাহীতে খুলনা বিভাগের হয়ে ঢাকার বিপক্ষে জাতীয় লিগের ম্যাচ খেলছিলেন। আগের রাতে ঢাকা থেকে তাঁদের দলের সঙ্গে যোগ দিতে বলা হলে কাল সকাল সাড়ে ৮টার দিকে দুই পেসার ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন।
মাশরাফি-নাজমুল না থাকলেও নতুন দুজনকে পেয়ে অন্তত চার পেসারের কোটা পূরণ হলো। পরিস্থিতির দাবি মেনে আপাতত এতেই খুশি বোলিং কোচ ইয়ান পন্ট, ‘রাসেল-ডলার দুজনকেই এর আগে অনুশীলনে দেখেছি। আজ (গতকাল) তারা যোগ দেওয়ায় আমরা আবার চারজন পেস বোলার পেলাম। দেখে সবাইকেই খেলার মতো ফিট মনে হচ্ছে। শফিউলের একটু সমস্যা ছিল। আশা করছি, সে ফিট হয়ে যাবে।’ বাংলাদেশের দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম ম্যাচেই জয় দেখলেন। তাঁর কাছে এটা ‘অপ্রত্যাশিত’ হলেও বাংলাদেশ দলের বোলিং কোচ হিসেবে শুরুটাকে ‘চমৎকার’ বলছেন পন্ট। তবে ইনজুরির কারণে যেভাবে একটার পর একটা পেসারদের ‘উইকেট’ পড়ছে, তাতে চিন্তিত না হয়ে উপায় কি ইংলিশ কোচের! যদিও এসব চোটের ব্যাখ্যা আছে তাঁর কাছে, ‘কঠোর অনুশীলন চলছে। সে কারণে কিছু ইনজুরিও হচ্ছে। ফাস্ট বল করলে কখনো কখনো ইনজুরিতে পড়তে হয়। আমাদের জন্য দুর্ভাগ্যজনক হলো, এক ম্যাচেই দুজন পেসার ইনজুরিতে পড়েছে। এটা বিরল ঘটনা।’
ইনজুরির ব্যাখ্যায় বোলিং কোচের সঙ্গে একমত অধিনায়ক মাশরাফিও, ‘গত দুই মাস আমরা খুব কঠিন অনুশীলন করছি। এ ধরনের অনুশীলনে আমরা অভ্যস্ত নই। ইনজুরির এটাও হয়তো একটা কারণ। তবে এই অনুশীলন আমাদের খুবই কাজে লাগছে। আর ইনজুরি তো সবই ছোটখাটো।’
মাশরাফি বরং সবাইকে চাঙা করারই চেষ্টা করছেন, ‘মন খারাপ করার কিছু নেই। জিতেছি...সবার উৎফুল্ল থাকা উচিত। স্পিন আক্রমণে কোনো সমস্যা হলে বরং বেশি চিন্তিত হতাম। যেকোনো দলকেই আমরা স্পিন দিয়ে আক্রমণ করতে চাই। আর নিউজিল্যান্ড স্পিনে অত শক্তিশালীও না। সে ক্ষেত্রে সাকিব, রাজ (রাজ্জাক) বা সোহরাওয়ার্দীদের কেউ ইনজুরিতে পড়লে বেশি সমস্যা হতো।’
দলের মন ভালো করার একটা দায়িত্ব মাশরাফি নিজেই নিয়েছেন কাল। প্রথম ওয়ানডের জয় উদ্যাপন করতে ম্যানেজার তানজীব আহসানের সঙ্গে মিলে একটা পাঁচ তারকা হোটেলে নৈশভোজ করিয়েছেন পুরো দলকে।