Wednesday, November 26, 2014

সিরিজ নিশ্চিত বাংলাদেশের

তৃতীয় ওয়ানডেতে ১২৪ রানের জয় নিয়ে সিরিজ নিশ্চিত করলো বাংলাদেশ। মিরপুরে ২৯৮ রানের টার্গেটে ১৫৭ রানে গুটিয়ে যায় জিম্বাবুয়ে। এতে ১০.১ ওভার বাকি রেখে ১২৪ রানে হার মানে সফরকারীরা। পাঁচ ম্যাচ সিরিজে ৩-০তে এগিয়ে সিরিজ নিশ্চিত হলো বাংলাদেশের। বল হাতে নিজের নৈপুণ্যকে ছাড়িয়ে গেলেন আরাফাত সানি। চট্টগ্রামে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ২৯ রানে চার উইকেট নেন বাংলাদেশের এ বাঁ-হাতি স্পিনার। আর মিরপুরে আরাফাত সানি ৪ উইকেটে পেলেন ২৭ রান খরচায়। জিম্বাবুয়ের ষষ্ঠ ও সপ্তম উইকেট দুটি নেন মাহমুদুল্লাহ ও রুবেল হোসেন। পরে তিন  উইকেট নিয়ে জিম্বাবুয়ে ইনিংসের সমাপ্তি টানেন আরাফাত সানি। এর আগে ৬ বলের ব্যবধানে জোড়া আঘাত হেনে  জিম্বাবুয়ের সামনে টার্গেট আরও কঠিন করেন আরাফাত সানি ও সাকিব আল হাসান।  ১৮তম ওভারের শেষ বলে আরাফাত সানি জিম্বাবুয়ের ৪১ রানের জুটি ভেঙে চাপ বাড়ান সফরকারীদের। এতে স্টাম্পিং হয়ে সাজঘরে ফিরে যান আগের ম্যাচে জিম্বাবুয়ের হাফ সেঞ্চুরিয়ান সলোমন মিরে। পরের ওভারের শেষ বলে জিম্বাবুয়ের ভরসা ব্রেন্ডন টেইলরকে এলবিডব্লিউ’র ফাঁদে ফেলেন সাকিব। এতে ১৯ ওভার শেষে জিম্বাবুয়ের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৮২/৫-এ।  তৃতীয় ওয়ানডেতেও বাংলাদেশ দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন মাশরাফি বিন মর্তুজা । বল হাতে প্রথমে জোড়া  আঘাত হানেন বাংলাদেশ অধিনায়ক । পরে বাংলাদেশ পেসার রুবেল হোসেনের ডেলিভারিতে জিম্বাবুয়ের তৃতীয় উইকেটের পতন হয় মাশরাফিরই দারুণ ক্যাচে। ইনিংসের তৃতীয় ওভারের প্রথম বলে বাংলাদেশ পেসার মাশরাফির বলে জিম্বাবুয়ে ওপেনার ভুসিমুজি সিবান্দার ক্যাচ তালুবন্দি করেন আরাফাত সানি। ২৯৮ রানের টার্গেটে বাংলাদেশ পেসার মাশরাফি জিম্বাবুয়ের অপর ওপেনার হ্যামিল্টন মাসাকাদজার উইকেট তুলে নেন দলীয় ২২ রানে। রুবেল পান ওয়ানডাউন ব্যাটসম্যান মারুমার উইকেটটি। এর আগে ২৯৭/৬ সংগ্রহ নিয়ে থামে বাংলাদেশের ইনিংস। এতে শেষ দিকে ব্যাট হাতে মাহমুদুল্লাহ অপরাজিত থাকেন ৩৩ রানে। সাব্বির রহমান করেন ২২ রান। বাংলাদেশ ইনিংসের শেষ ভাগে  মাত্র ৫ বল ও ৫ রানের ব্যবধানে সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিমের উইকেট খোয়ায় বাংলাদেশ। ৪৩.১তম ওভারে দলীয় ২৩৯ রানে উইকেট দেন সাকিব। ৪৩.৬তম ওভারে স্কোর বোর্ডে বাংলাদেশের ২৪৪ রান রেখে আউট হন মুশফিক।  সাকিব ব্যক্তিগত ৪০ ও মুশফিক করেন ৩৩ রান। এর আগে ব্যাট হাতে ক্ষণিকের ধৈর্যচ্যুতির খেসারত দেন এনামুল হক বিজয়। অযথা বড় শট হাঁকাতে গিয়ে সেঞ্চুরি হাতছাড়া করেন এ বাংলাদেশি ওপেনার। জিম্বাবুয়ে লেগ স্পিনার তাফাদজাওয়া কামুঙ্গোজিকে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে এনামুল নিজের উইকেট বিসর্জন  দেন ব্যক্তিগত ৯৫ রানে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডেতে দারুণ সূচনা করে বাংলাদেশ। মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে সফরকারীরা টসে জিতে বাংলাদেশকে প্রথমে ব্যাটিংয়ে পাঠায়। ওপেনিংয়ে ১২১ রানের জুটি গড়ে তোলেন তামিম-বিজয়।  উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল ৬৩ বলে ৪০ রান নিয়ে সাজঘরে ফেরেন। ওয়ানডাউন ব্যাটসম্যান মুমিনুল হক আউট হন ব্যক্তিগত ১৫ রানে। চট্টগ্রামে পাঁচ ম্যাচ সিরিজের প্রথম দু’টি জিতে বাংলাদেশ ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে আছে। বাংলাদেশ দলে পেসার আল-আমিনের পরিবর্তে আজ দলে রাখা হয়েছে শফিউল ইসলামকে।

স্বামীসহ বীণার ২৬ বছরের কারাদণ্ড

এমনিতেই নানা বিতর্ক নিয়ে মিডিয়াতে সমালোচনার শীর্ষে থাকেন পাকিস্তানি মডেল-অভিনেত্রী বীণা মালিক। তবে এ সমালোচনার কারণে তাকে কখনোই পিছিয়ে থাকতে হয়নি। বরং জনপ্রিয়তাই যেন তার ঝুলিতে জমা পড়েছে। এবার অবশ্য ভিন্ন আঙ্গিকেই বিতর্কিত হলেন তিনি। শুধু তা-ই নয়, কারাদ-ের মতো বড় শাস্তি পেতে হয়েছে তাকে। গত মে মাসে পাকিস্তানি টিভি চ্যানেল জিও টিভির একটি অনুষ্ঠানে ধর্ম নিয়ে অবমাননা করার কারণে তাকে ২৬ বছরের কারাদ- দেন আদালত। পাকিস্তানি সন্ত্রাস দমন আদালত সম্প্রতি এ রায় ঘোষণা করেন। বীণার সঙ্গে এ সাজা পাচ্ছেন তার স্বামী আসাদ বশির খানও। এ ছাড়া আরও দু’জন একই অপরাধে সাজা পাচ্ছেন। তারা হলেন জিও টিভির মালিক মীর শাকিল-উর-রহমান ও অনুষ্ঠান সঞ্চালক শায়েস্তা ওয়াহিদি। টিভি চ্যানেলটিতে একটি ভক্তিমূলক গানের সঙ্গে বীণা তার স্বামীকে নিয়ে নেচেছিলেন। আর এ ব্যঙ্গাত্মক নাচের দৃশ্য চ্যানেলটি প্রচার করে। এর পরই বীণার বিরুদ্ধে ইসলামাবাদ, করাচিসহ বিভিন্ন শহরে অভিযোগ করা হয়। ২৬ বছরের কারাদ-ের পাশাপাশি সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের ১৩ লাখ রুপি জরিমানা করা হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, যদি এ জরিমানার টাকা শোধ করা না হয় তাহলে তাদের সম্পত্তি বিক্রি করে দেয়া হবে। আর শিগগিরই বীণা ও বাকি তিনজনকে গ্রেপ্তারের আদেশ দিয়েছেন আদালত। যদিও সাজাপ্রাপ্তরা সবাই বর্তমানে পাকিস্তানের বাইরে অবস্থান করছেন।

নেপালে সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে নরেন্দ্র মোদি যা বললেন

চীন যখন আস্তে আস্তে প্রভাব বিস্তার করছে তখন এ অঞ্চলে ভারত নেতৃত্ব দেয়ার কথা বলেছেন। নেপালে সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে এমন প্রত্যয় ব্যক্ত করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, আস্তে আস্তে একত্রিত হচ্ছে দক্ষিণ এশিয়া। রেল, সড়ক, বিদ্যুৎ ও ট্রানজিটের মধ্য দিয়ে ভারত ও বাংলাদেশ সম্পর্ক গাঢ়ো করেছে। বিদ্যুৎ খাতে সহযোগিতার নতুন যুগের সূচনা করেছে ভারত ও নেপাল। ভুটানের সঙ্গেও ক্রমান্বয়ে সম্পর্ক গাঢ়ো হচ্ছে। তেলের জন্য মালদ্বীপের সঙ্গে শিগগিরই শুরু হবে নতুন এক উদ্যোগ। দূরত্ব ও জটিলতা দূরে রাখবে না আফগানিস্তানকে। ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে রয়েছে বাস ও রেল যোগাযোগ। দক্ষিণ এশিয়ার অংশীদারদের শতকরা ৯৯.৭ ভাগ পর্যন্ত শুল্কমুক্ত সুবিধা দিয়েছে ভারত। তিনি বলেন, ভারতের দৃষ্টিতে এ অঞ্চলের স্থিতিশীলতা দাঁড়িয়ে আছে ৫টি স্তম্ভের ওপর। তা হলোÑ বাণিজ্য, বিনিয়োগ, সহায়তা, প্রতিটি ক্ষেত্রে সহযোগিতা, জনগণের মধ্যে যোগাযোগ ও কানেকটিভিটি বা সংযুক্ত থাকা। সম্মেলন শুরুর আগের দিন মঙ্গলবার চীন ও অন্যান্য পর্যবেক্ষক দেশকে সার্কে শক্তিশালী ভূমিকা রাখার সুযোগ দেয়ার আহ্বান তোলে পাকিস্তান। এমন প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে দেয় ভারত। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সৈয়দ আকবারউদ্দিন বলেন, প্রথমে আমাদেরকে সার্ক সদস্যদের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি করতে হবে। এরপর অন্যান্য চিন্তা আসতে পারে। নরেন্দ্র মোদি তার সার্ক ভাষণে বলেন, আমাদের এ অঞ্চলে রয়েছে বলিষ্ঠ গণতন্ত্র। রয়েছে শক্তিশালী উত্তরাধিকার। রয়েছে শক্তিধর তারুণ্য। রয়েছে পরিবর্তন ও উন্নতির উদগ্র বাসনা। গত কয়েক মাসে আমি বিশ্বের বিভিন্ন দেশ সফর করেছি। সব খানে দেখেছি সমন্বিতভাবে কাজ করার প্রবণতা বৃদ্ধি। তিনি বলেন, আমরা ছোট হই বা বড় হই সবাই একই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছি। তা হলো উন্নয়নের চূড়ায় আরোহন। ৩০ বছর আগে সার্কের সূচনা। তখন থেকে  আমরা দীর্ঘ পথ একসঙ্গে পাড়ি দিয়েছি। প্রতিটি ক্ষেত্রে সহযোগিতার একটি চুক্তি, একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে আমাদের। যখনই আমরা সার্কের কথা বলি শুনতে পাই দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া। এক হলো নৈরাশ্যবাদ ও অন্যটি হলো সংশয়। বর্তমানে বৈশ্বিক বাণিজ্যের শতকরা ৫ ভাগেরও কম বাণিজ্য হয় আমাদের মধ্যে। এর মধ্যে শতকরা ১০ ভাগেরও কম আন্তঃবাণিজ্য হয় সার্ক ফ্রি ট্রেড এরিয়ার অধীনে। ভারতীয় কোম্পানিগুলো বিদেশে বিনিয়োগ করছে কোটি কোটি ডলার। কিন্তু শতকরা ১ ভাগেরও কম আসছে আমাদের এ অঞ্চলে। ব্যাংক বা সিঙ্গাপুর সফরের চেয়ে এখনও এ অঞ্চলের মধ্যে সফর করা কঠিন। একে অন্যের সঙ্গে কথা বলতে গেলেও খরচ বেশি। এক দশকেরও বেশি সময় দক্ষিণ এশিয়ায় ভারত প্রায় ৮০০ কোটি ডলার সহায়তা দিয়েছে। আমরা প্রত্যেকে আমাদের মতো করে উদ্যোগ নিয়েছি। জনগণের প্রত্যাশা মতো গতিতে সার্ককে এগিয়ে নিতে আমরা ব্যর্থ হয়েছি। এর কারণ, আঞ্চলিক উন্নয়নে ফারাক। এটা হয়েছে এ জন্য যে, আমরা আমাদের মধ্যকার পার্থক্যের মাঝে আটকে আছি। অতীতের ছায়া থেকে বেরিয়ে আসতে দ্বিধা করি। এভাবে আমাদের এই মতপার্থক্যের সমাধান হবে না। এখন এক পাঞ্জাব থেকে আরেক পাঞ্জাবে পণ্য পাঠাতে হলে দিল্লি, মুম্বই, দুবাই ও করাচি হয়ে যেতে হয়। সরাসরি যোগাযোগের চেয়ে এতে ১১ গুণ বেশি সময় লাগে। খরচও বেশি হয় চার গুন। আকার ও অবস্থানের কারণে ভারতের কিছু দায়িত্ব আছে। আমি জানি ভারতকে নেতৃত্ব দিতে হবে। এতে আমরা আমাদের কাজ করব। আমি আশা করব, আপনারা প্রত্যেকেই সেই চেষ্টা করবেন। নরেন্দ্র মোদি আঞ্চলিক অবকাঠামোর দুর্বলতা ও তার উন্নয়নের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আমরা ভারতে বাণিজ্য সহজ করার কথা বলছি। এ উদ্যোগকে এ অঞ্চলে বিস্তৃত করা উচিত। আমি নিশ্চয়তা দিয়ে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি যে, সীমান্তে আমাদের বাণিজ্যের সেবার গতি বাড়বে। এখন সার্কের জন্য ভারত বাণিজ্য ভিসা দেবে ৩ থেকে ৫ বছরের জন্য। বাণিজ্য সহজ করার জন্য তিনি সার্ক বিজনেস ট্রাভেলার কার্ড সহজ করার প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, আমরা যদি আমাদের প্রতিটি শহর ও গ্রামকে আলোকিত করতে পারি তাহলে আগামীদিনে আমরা এ অঞ্চলকে আরও উজ্জ্বল করে গড়ে তুলতে পারবো। তা যদি না হয় তাহলে ভবিষ্যতে মহাশূন্য থেকে কেউ আমাদের দিকে তাকিয়ে বলবে, এটা বিশ্বের সবচেয়ে অন্ধকারময় স্থান। আমরা যেসব বিনিয়োগ করি বা বাণিজ্য করি তার পাশাপাশি আমাদের বিদ্যুৎকে নিত্যপ্রয়োজনীয় উপাদানের মতো ভাবতে হবে। এ অঞ্চলে এমন উদ্যোগে পূর্ণাঙ্গ সমর্থন দেবে ভারত। আমাদেরকে সৌরশক্তি ব্যবহারে  উচ্চাকাক্সক্ষী হতে হবে। আমাদের এ অঞ্চলের একটি দেশের সাধারণ নাগরিকদের সঙ্গে যদি অন্য দেশের নাগরিকের সম্পর্ক গড়তে পারি তাহলে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে। এ জন্যই রেল ও সড়ক পথে কানেক্টিভিটি বা সংযুক্তকরণ এতটা জরুরি। আকাশ পথেও আমাদের আরও বেশি সংযুক্ত থাকতে হবে। এ অঞ্চলে যারা আশাহীন অবস্থায় বেঁচে আছেন তাদের দিকে দৃষ্টি দেয়ার দায়িত্বও আমাদের। টিবি ও এইচআইভির মতো রোগের চিকিৎসায় সার্ক রিজিওনাল সুপ্রা রিফারেন্স ল্যাবরেটরি স্থাপনে তহবিলে যে খাতটি থাকবে তা দেবে ভারত। দক্ষিণ এশিয়ায় শিশুদের জন্য একের ভেতর পাঁচ এমন টীকা দিচ্ছি আমরা। পোলিওমুক্ত দেশের দিকে নজরদারি সমর্থন করি আমরা। যারা চিকিৎসার জন্য ভারত আসছেন সেসব রোগী ও তাদের সঙ্গীদের অবিলম্বে মেডিকেল ভিসা দেয়া হবে। তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষার সব বাধা দূর করেছে। অনলাইন ইংলিশ কোর্ট এবং ই-লাইব্রেরির মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ার ছাত্রদের সঙ্গে যুক্ত থাকতে প্রস্তুত ভারত। আমরা ভারতে ন্যাশনাল নলেজ নেটওয়ার্ক স্থাপন করতে পারলেই  এবং তা সার্কের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে পারলে খুশি হবো। দক্ষিণ এশিয়ান ইউনিভার্সিটি স্থাপনের একটি স্বপ্ন নয়া দিল্লিতে বাস্তব রূপ নিয়েছে। সার্কের জন্য একটি স্যাটেলাইট যদি ভারত স্থাপন করতে পারে তাহলে শিক্ষা, টেলিমেডিসিন, দুর্যোগ, সম্পদের ব্যবহার, আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে তা অন্য সবাইকে সহযোগিতা করবে।

নিষেধাজ্ঞা পরমাণু কর্মসূচি থামাতে পারবে না : ইরান

যে কোনো চুক্তিই হোক না কেন ইরান তার পরমাণু স্থাপনা চালু রাখবেই। তার দেশের জনগণ নিষেধাজ্ঞা ও কোনো চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না। ইরান ও ছয় জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে পরমাণু আলোচনার মেয়াদ আরও সাত মাসের জন্য বাড়ানোর পর সোমবার সরাসরি সম্প্রচারিত এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানি এসব কথা বলেছেন। ড. রুহানি বলেন, ইরানের প্রতিপক্ষরা বুঝে গেছে যে, চাপ ও নিষেধাজ্ঞা কোনো ফল বয়ে আনবে না। ইরানের কাছে অবশ্যই পরমাণু প্রযুক্তি রয়েছে এবং ইরানের অভ্যন্তরেই ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ করা হচ্ছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরান কখনও তার পরমাণু অধিকার ছাড়বে না। দেশের পরমাণু স্থাপনাগুলো অবশ্যই চালু থাকবে এবং ইরান কখনও তার সেন্ট্রিফিউজও বন্ধ করবে না। প্রেসিডেন্ট রুহানি বলেন, ইরান দুটি প্রধান লক্ষ্যকে সামনে রেখে আলোচনা করছে আর তা হল- পরমাণু কর্মসূচি অব্যাহত রাখা এবং ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার। এএফপি।

বিশ্বে শিশু পাচার বেড়েছে : জাতিসংঘ

বিশ্বে মানব পাচারের প্রতি তিন জনের একজন শিশু। পৃথিবীব্যাপী শিশু পাচার ২০১০ সালের তুলনায় ৫ শতাংশ বেড়েছে। সোমবার জাতিসংঘের মাদকদ্রব্য ও অপরাধবিষয়ক কার্যালয়ের (ইউএনওডিসি) বিশ্ব মানব পাচার রিপোর্ট ২০১৪- শীর্ষক এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা গেছে।
মঙ্গলবার এএফপির খবরে বলা হয়, পাচার হওয়া শিশুরা অনেকেই যৌন নিপীড়ন ও জোরপূর্বক কায়িক শ্রমে নিয়োগের ঘটনার শিকার। পাচার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশই মেয়েশিশু ও নারী। পাচার হওয়া শিশুদের ৬০ শতাংশ কেবল আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে হয়ে থাকে বলে ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। ইউএনওডিসির নির্বাহী পরিচালক ইউরি ফেডোটোভ বলেন, বিশ্বে এমন কোনো স্থান নেই যেখানে শিশু, নারী ও পুরুষেরা মানব পাচার থেকে নিরাপদ। ফেডোটোভের দাবি, আধুনিক দাসত্ব অনেক খারাপ।
বিশ্বের ১২৮টি দেশের মানব পাচারের তথ্য নিয়ে এই প্রতিবেদন তৈরি করে জাতিসংঘের মাদকদ্রব্য ও অপরাধবিষয়ক কার্যালয়। রিপোর্টে দেখা যায় এসব দেশগুলোর মধ্যে ১২৪টিতে মানব পাচারের ঘটনা ঘটেছে। এই প্রতিবেদনে ২০১০ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত সংরক্ষিত তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে। রিপোর্টে আঞ্চলিক, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মানব পাচার মামলার তথ্যের ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।
এর আগে ২০১০ সালে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের এ ব্যাপারে একটি প্রস্তাবনা পাস হয়। সদস্য দেশগুলো সেখানে মানব পাচার রোধে জাতিসংঘ অ্যাকশন প্ল্যান বাস্তবায়নের প্রতিশ্র“তি দেয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ সাম্প্রতিক সময়ে এ ব্যাপারে রাষ্ট্রীয়ভাবে নানা ধরনের আইন পাস করেছে।

চীনে চোরাই বউ বিক্রি

চীনে আলোচিত এক-সন্তান নীতির কারণে নারীদের তুলনায় পুরুষের সংখ্যা বেড়ে গেছে। এতে পুরুষরা বিয়ের জন্য মেয়ে খুঁজে পাচ্ছে না। বউয়ের ব্যাপক চাহিদার মুখে চোরাই বউ বিক্রি শুরু হয়েছে। বিদেশ থেকে নারী চুরি করে চীনে নিয়ে এসে বউ হিসেবে বিক্রি করছে চোরাকারবারিরা। সোমবার চীনের পুলিশ এ ধরনের একটি চক্রকে আটক করেছে। বিবিসি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বার্মিজ নারীদের বউ বানিয়ে চীনের পুরুষদের কাছে বিক্রি করে আসছে ওই চক্র। ওই চক্রকে আটকের সময় বিক্রির জন্য মিয়ানমার থেকে পাচার করে আনা ১৪ জন নারী ও বালিকাকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের ইতিমধ্যে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে। চীনে নারী বিক্রি এখন বড় ব্যবসায় রূপ নিয়েছে। নারী ও বালিকাদের উচ্চ বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে মিয়ানমার থেকে চীনে আনা হতো এবং পরে সর্বনিু ৫০ হাজার ইউয়ান মূল্যে তাদের বিক্রি করে দেয়া হতো। ২০১৩ সালের হিসাব অনুযায়ী, চীনে নারীর চেয়ে পুরুষের সংখ্যা ৩৩ দশমিক ৮ মিলিয়ন বেশি। চীনের জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে তিন দশকেরও বেশি সময় আগে এক সন্তাননীতি চালু করা হয়। এই নীতির প্রভাবে সেখানকার সমাজে ছেলে সন্তানের চাহিদা বেড়ে যায়।

প্রতিবেশীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক চায় ভারত

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, ভারত সমসময়ই দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সব ক্ষেত্রে বৃহত্তর আঞ্চলিক সংহতির ওপর গুরুত্বারোপ করছে। নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে আজ অনুষ্ঠেয় ১৮তম সার্ক সম্মেলনে যোগ দিতে যাওয়ার প্রাক্কালে মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে তিনি এ কথা বলেন। সম্মেলনে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের সঙ্গে মোদির বৈঠক হতে পারে বলে আশা করছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ।
হিন্দুস্থান টাইমস জানায়, মোদি বলেছেন তার সরকার প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। নয়াদিল্লি আঞ্চলিক পর্যায়ে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বেশকিছু উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি আরও কিছু করারও অঙ্গীকার করেন। সার্ক শীর্ষ সম্মেলন থেকে কিছু সুনির্দিষ্ট ফলাফল পাওয়ার আশা করে মোদি বিশেষ করে দীর্ঘদিনের আলোচনার বিষয় যোগাযোগ সম্প্রসারণের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, গত চার মাসে নেপালে এটি আমার দ্বিতীয় সফর যা কাঠমান্ডুর সঙ্গে বিশেষ সম্পর্ক স্থাপনে আমাদের গুরুত্বারোপেরই প্রতিফলন।
চলতি বছরের আগস্টে নেপাল সফরকালে গৃহীত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির দাবি করে মোদি বলেন, তিনি প্রধানমন্ত্রী সুশীল কৈরালাসহ অন্য নেপালি নেতার সঙ্গে এসব অগ্রগতি নিয়ে পর্যালোচনা করবেন। এদিকে নওয়াজ শরিফের সঙ্গে মোদির বৈঠক নিয়ে এখনও হাল ছেড়ে দিচ্ছে না নয়াদিল্লি। দুদেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে বৈঠক নিয়ে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করা হবে বলে জানিয়েছেন সুষমা স্বরাজ।

ঘূর্ণিঝড় প্রথম আবিষ্কার করেন লিওনার্দো

আজ থেকে প্রায় সাড়ে ৪০০ বছর আগে বৈজ্ঞানিক ও দার্শনিক গ্যালিলিও যখন বলেছিলেন, পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘোরে, তখন কেউ বিশ্বাস করেনি দাবিটি। এমনকি ক্যাথলিক চার্চের রোষের শিকার হয়ে শেষ জীবনে তিল তিল করে মরতে হয় ইতালির সেই বিখ্যাত বিজ্ঞানীকে। কৃত্রিম উপগ্রহ, মহাকাশে মানবযাত্রা বা মঙ্গলে জল খোঁজার মতো বৈজ্ঞানিক কার্যকলাপ গ্যালিলিও-যুগে স্বপ্নসম ছিল, বলাই বাহুল্য। কিন্তু মধ্যযুগের মতো কুসংস্কারাচ্ছন্ন বিশ্বে কয়েকজন বুদ্ধিজীবীর বৈজ্ঞানিক দাবি আজও বিস্মিত করে। সেরকমই আরও একটি বিস্ময় হল- বিধ্বংসী ঘূর্ণিঝড় হারিকেন নাকি প্রথম আবিষ্কার করেছিলেন শিল্পী, বিজ্ঞানী ও দার্শনিক লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চি। সম্প্রতি বিজ্ঞানীদের হাতে আসা কয়েকটি প্রমাণেই মিলছে এই তথ্য। আজ থেকে প্রায় ৫০০ বছরের বেশি আগে লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চির কয়েকটি ছবিতে ঘূর্ণিঝড় হারিকেন ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। মধ্যযুগের শিল্পকর্ম নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই গবেষণা করছেন বিজ্ঞানী অ্যান পিজোরুসসো। সে যুগের বিখ্যাত চিত্রশিল্পীদের ছবি নিয়ে গবেষণা করতে গিয়েই একদিন চমকে যান পিজোরুসসো। ছবিটি ছিল লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চির। শিল্পীর আঁকায় হুবহু ফুটে উঠেছে ঘূর্ণিঝড় হারিকেন। পিজোরুসসো অবাক হয়ে যান, স্যাটেলাইট প্রযুক্তি ছাড়াই কীভাবে হারিকেন চিহ্নিত করলেন দ্য ভিঞ্চি!
একটি, দুটি নয়, ১৬টি চিত্রে হারিকেনের ছবি এঁকেছিলেন লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চি। পিজোরুসসোর কথায়, ‘লিওনার্দোই প্রথম হারিকেন ঝড় আবিষ্কার করেছিলেন। এমন কয়েকটি ছবি তিনি এঁকেছিলেন সেই ঝড়ের, যার সঙ্গে বর্তমান যুগে হারিকেনের স্যাটেলাইট ইমেজে একেবারে মিলে যায়।’ প্রায় ৫০০ বছর আগে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ওপর লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চির কয়েকটি ছবি, বর্তমান আবহাওয়া বিজ্ঞানকে পদে পদে চ্যালেঞ্জ করার ক্ষমতা রাখে বলেও দাবি পিজোরুসসোর। হিন্দুস্থান টাইমস।

যে কারণে হেগেলকে সরালেন ওবামা

২০১৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লিওন প্যানেট্টার বিদায়ের পর চমক সৃষ্টি করার মতোই বিরোধীদলীয় রিপাবলিকান পার্টির নেতা চাক হেগেলকে ওই পদে নিয়োগ দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। ৬৩৫ দিন দায়িত্ব পালনের পর সোমবার হেগেলকে হঠাৎ তার পদ থেকে সরিয়ে দিলেন তিনি। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, কী কারণে তাকে সরিয়ে দেয়া হল? যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞদের বরাত দিয়ে তারই কারণ অনুসন্ধান করেছে ভারতের ইংরেজি দৈনিক টাইমস অব ইন্ডিয়া। সোমবার দৈনিকটির অনলাইনের খবরে বলা হয়, ইরাক ও সিরিয়াসহ বিশ্বে জঙ্গি মোকাবেলায় সামরিক কৌশল ও পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে হেগেলের সঙ্গে মতপার্থক্য তৈরি হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেন ওবামা। সোমবার হেগেল পদত্যাগপত্র জমা দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা গ্রহণ করেন ওবামা। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকেও এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করা হয়। তবে পদত্যাগের কারণ জানানো হয়নি। ওয়াশিংটনের বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যের জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস) ইস্যুই হেগেলের পদত্যাগের প্রধান কারণ। হেগেল সিরিয়া কিংবা ইরাকে ব্যাপক আকারের সামরিক অভিযানের পক্ষে ছিলেন। এর আগে একটি নিরাপত্তা দলকে তিনি জানিয়েছিলেন, প্রতিটি স্বার্থের বিরুদ্ধে আসন্ন হুমকি মোকাবেলায় আমাদের সবকিছু বিবেচনায় আনতে হবে। হেগেলের দলের নেতা ও ওবামার কাছে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থী জন ম্যাককেইন বলেন, ‘ওবামা প্রশাসনে নিজের দুর্বল অবস্থান ও বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব কমে যাওয়ায় হতাশায় ছিলেন তিনি।’ ডিউকি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা বিশ্লেষক চালস ডানলপ বলেন, ‘বিশ্বে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা উন্নত করতে বিস্তর পদক্ষেপের পক্ষে ছিলেন হেগেল।

ইভটিজিং যৌতুকপ্রথা বাল্যবিবাহ্ ও নারী নির্যাতন বন্ধের আহবান -কুতুবদিয়ায় নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ দিবসের সভা অনুষ্টিত by হাছান কুতুবী

নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধসহ তাদের অধিকার প্রতিষ্টায় সমাজের প্রত্যেককে দায়িত্বশীল হতে হবে। রাষ্ট্রের সকল সুযোগ সুবিধায় তাদেরকে সমহারে অধিকার দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে কোন প্রকার বৈষম্য কুরআন-হাদিসসহ দেশীয় ও আন্তর্জাতিক আইনের লংঘন বলে বিবেচিত হবে। ইভটিজিং, যৌতুকপ্রথা, বাল্যবিবাহ্ ও নারী নির্যাতন বন্ধে পুলিশ প্রশাসনসহ সর্বস্তরের নাগরিককে কঠোর ভূমিকা পালন করতে হবে। বিশ্ব নারী দের সহিংসতা প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষ্যে র‌্যালীত্তোর আলোচনা সভায় কুতুবদিয়ার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট মুহাম্মদ শাহাব উদ্দিন প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।
কুতুবদিয়া থানার আয়োজনে বুধবার সকাল ১১টায় এক বর্নাঢ্য র‌্যালী উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পদক্ষিণ শেষে থানা কম্পাউন্ডে ওসি মুহাম্মদ আলতাফ হোছাইনের সভাপতিত্বে এক আলোচনা সভা অনুষ্টিত হয়। এতে উপজেলা স্বাস্থ কর্মকর্তা ডা.শাহাবুদ্দিন, প্রেস ক্লাবের সহ-সভাপতি কামাল হুসেন, সাধারণ সম্পাদক হাছান কুতুবী, নির্বাহী সদস্য আরিফুল ইসলাম, সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সজল দাশ বিশেষ অতিথি ছিলেন। উপস্থিত ছিলেন থানার উপ-পরিদর্শক এ.বি.এম.কামাল আহমদ, বসু মিত্র, কামরুজ্জামান, গন্যমান্য ব্যক্তি ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্টানের বিপুল সংখ্যক ছাত্র-ছাত্রী।

আমেরিকায় দাঙ্গা, লুটপাট

যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরি অঙ্গরাজ্যের ফার্গুসনে কৃষ্ণাঙ্গ কিশোর মাইকেল ব্রাউনকে হত্যার রায়ের প্রতিবাদে মঙ্গলবার দাঙ্গা ও লুটপাট শুরু হয়েছে। পুলিশের সঙ্গে কৃষ্ণাঙ্গ বিক্ষোভকারীদের থেমে থেমে সংঘর্ষ চলছে। গ্র্যান্ড জুরি কৃষ্ণাঙ্গ ওই কিশোরকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাকে দায়মুক্তি দিয়ে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন না করার সিদ্ধান্ত নেয়ার পর ফার্গুসনের বাসিন্দারা সহিংস এ বিক্ষোভ করছে। ৯ আগস্ট শ্বেতাঙ্গ পুলিশ কর্মকর্তা ড্যারেন উইলসনের গুলিতে মাইকেল ব্রাউন (১৮) নিহত হয়। ওই পুলিশ কর্মকর্তা ব্রাউনকে লক্ষ্য করে কমপক্ষে ছয়টি গুলি করেন। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ জনতা বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। কয়েকদিন ধরে বিক্ষোভ চলে এবং পুলিশের সঙ্গে সহিংস সংঘর্ষ হয়। সোমবার গ্র্যান্ড জুরি গুলিবর্ষণকারী পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন না করার সিদ্ধান্ত নেয়। এরপর ফার্গুসন ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। বিক্ষোভ, দাঙ্গা ও লুটপাট শুরু হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
ওবামা বলেন, আমিও ব্রাউনের বাবা-মা’র সঙ্গে মিলিতভাবে আহ্বান জানাচ্ছি এ বিক্ষোভ যাতে শান্তিপূর্ণ থাকে। শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ সামলাতে ফার্গুসন ও এ অঞ্চলের আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যদেরও আমি সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানাচ্ছি। ফার্গুসনের সেন্ট লুইস এলাকার পুলিশ প্রধান জন বেলমার বলেন, কৃষ্ণাঙ্গ ওই কিশোর নিহত হওয়ার পর গত আগস্টে যে ধরনের সহিংসতা হয়েছিল এখন সম্ভবত তার চেয়ে বেশি সহিংসতা হচ্ছে। তিনি বলেন, জনতার দিক থেকে কমপক্ষে ১৫০টি গুলি ছোড়ার শব্দ শোনা গেছে। তিনি বলেন, ‘আমি সেখানে রাতে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ দেখিনি এবং পুরো ঘটনায় আমি হতাশ। দুর্ভাগ্যক্রমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে।’ পুলিশ প্রধান বলেন, বেশ কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বিক্ষোভকারীদের দেয়া আগুনে ভস্মীভূত হয়েছে। পুলিশের দুটি গাড়ি প্রকৃতপক্ষে পুড়ে গেছে। তিনি বলেন, ‘আমরা অপ্রস্তুত ছিলাম না। তবে আমরা ধৈর্য ধারণ করেছি। আমাদের ১০ হাজার পুলিশ সদস্য ছিল।’ আফ্রিকান আমেরিকান কমিউনিটির অনেকে পুলিশ কর্মকর্তা ড্যারেন উইলসনের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আনার আহ্বান জানিয়েছেন। সোমবার জুরি বোর্ডের সিদ্ধান্ত জানার জন্য ফার্গুসন শহরে দুপুর থেকে লোকজন জড়ো হতে থাকে। তবে জুরি বোর্ড রায়ে উল্লেখ করেছে, পুলিশ কর্মকর্তা আত্মরক্ষার্থে গুলি করার ফলে ব্রাউন মারা যান। তাই অভিযোগ থেকে পুলিশ কর্মকর্তাকে অব্যাহতি দেয়া হল। এই ঘোষণার পরেই বিক্ষোভে ফেটে পড়ে ফার্গুসনের বাসিন্দারা। বিক্ষোভকারীরা বলতে থাকে, জুরি বোর্ডের এ সিদ্ধান্ত বৈষম্যমূলক। বিক্ষোভকারীরা কয়েকটি স্থানে ব্যারিকেড দেয় এবং পুলিশকে বিদ্রুপ করতে থাকে। রায়কে কেন্দ্র করে সোমবার রাত থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের বড় বড় শহরে বিক্ষোভ শুরু হয়। নিউইয়র্কের টাইম স্কয়ার থেকে শুরু করে শিকাগো, ডেট্রোয়েটসহ কৃষ্ণাঙ্গদের বসবাসরত এলাকায় রাতেই ব্যাপক বিক্ষোভ, সমাবেশ হয়। তবে অন্য এলাকাগুলোতে বিক্ষোভ, সমাবেশ শান্তিপূর্ণ হলেও ফার্গুসন শহরের অবস্থা ভিন্ন। সেখানে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের থেমে থেমে সংঘর্ষ চলছে।
ফার্গুসন শহরে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। সোমবার মধ্য রাত পর্যন্ত সেখানকার তিনটি ভবনে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। অনেক দোকানপাটে ভাংচুর এবং লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এএফপি।

চাঁদপুরে লঞ্চ থেকে ঝাঁপ দিয়ে কলেজ ছাত্রীর আত্মহত্যা

ঢাকার শহীদ বীরউত্তম লে. আনোয়ার গার্লস কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্রী আমরীন নূর লঞ্চ থেকে চাঁদপুরের মেঘনায় ঝাঁপিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করেছেন। মতলব উত্তরের ষাটনল নামক স্থানে সোমবার রাত পৌনে ৮টায় এ ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার বেলা ১১টায় মতলব উত্তর থানা পুলিশ আমরীন নূরের লাশ উদ্ধার করে।
আমরীন নূর সোমবার বিকাল সাড়ে ৫টায় টায় ঢাকা সদরঘাট থেকে চাঁদপুরের উদ্দেশে ছেড়ে আসা এমভি সোনারতরী-২ লঞ্চে উঠেন। পথিমধ্যে চাঁদপুর নৌসীমানার মতলব উত্তরের ষাটনল নামক স্থানে লঞ্চটি এলে আমরীন নূর তার সঙ্গে থাকা ব্যাগটি রেখে লঞ্চের তৃতীয় তলা থেকে নদীতে ঝাঁপ দেন।
লঞ্চ কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের চিৎকার শুনে লঞ্চটি থামিয়ে ওই এলাকায় প্রায় দেড় ঘণ্টা ফোকাস লাইটের মাধ্যমে ব্যাপক খোঁজাখুঁজি করে তাকে জীবিত বা মৃত অবস্থায় উদ্ধার করতে পারেনি। পরে লঞ্চটি চাঁদপুর ঘাটে চলে আসে। লঞ্চে থাকা যাত্রী আবুল হোসেন ও রেহানা বেগম জানান, মেয়েটি ঢাকা থেকে লঞ্চ ছাড়ার পর লঞ্চে ঘুরে ঘুরে কান্নাকাটি করছিল। তাদের সে জানিয়েছে, সে বাসায় তার মায়ের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা করে দুপুরে অভিমান করে বাসা থেকে চলে এসেছে। লঞ্চে ফেলে যাওয়া ব্যাগ তল্লাশি করে লঞ্চ কর্তৃপক্ষ একটি বইয়ের ভেতর লেখা থেকে তার পিতার নাম ও মোবাইল নম্বর পায়। এছাড়া ওই কাগজটির মধ্যে বিভিন্ন লেখা দেখে বুঝা যায় মায়ের সঙ্গেই তার অভিমান। তিনি ঢাকার ক্যান্টনম্যান্ট এলাকায় থাকতেন।
তার পিতা অ্যাডভোকেট মীর আমিনুর রশিদ জানান, খাওয়া-দাওয়া নিয়ে মায়ের সঙ্গে অভিমান করে সে এ কাজটি করবে তা ভাবতেও পারেননি। তিনি বলেন, তার চার ছেলে-মেয়ের মধ্যে আমরীন নূর তৃতীয়। এ বিষয়ে স্থানীয় থানায় ডায়েরি করবেন বলে তিনি জানান। মঙ্গলবার বেলা ১১টায় মতলব উত্তর থানা পুলিশ মতলব উত্তরের মেঘনা নদীর এখলাসপুর এলাকা থেকে ভাসমান অবস্থায় আমরীন নূরের লাশ উদ্ধার করে। এ ব্যাপারে মতলব উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ সৈয়দ মাহবুবুর রহমান জানান, মঙ্গলবার স্থানীয় এলাকাবাসী সূত্রে খবর পেয়ে তিনি একদল পুলিশসহ মেঘনা নদীর এখলাসপুর থেকে কলেজছাত্রী আমরীন নূরের কলেজ ড্রেস পরা লাশ উদ্ধার করেছেন।

ধর্ষণের জরিমানা ভাগ করে নিলেন সরকারদলীয় নেতারা

গোদাগাড়ী উপজেলায় প্রথম শ্রেণীর এক শিশুকে ধর্ষণের পরেও থানায় মামলা হয়নি। গ্রাম্য মাতব্বররা অভিযুক্ত ধর্ষককে আর্থিক জরিমানা করে রেহাই দিয়েছেন। আর জরিমানার অর্থ সরকারদলীয় নেতাসহ গ্রাম্য মাতব্বররা ভাগবাটোয়ারা করে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, রোববার দুপুরে উপজেলার লস্করহাটি গ্রামের হযরত আলীর ছেলে হানিফ (২০) একই এলাকার ৭ বছরের এক শিশুকে নিজ বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণ করে। পরে শিশুটি ধর্ষণের কথা তার পরিবারের সদস্যদের অবহিত করে। এ ঘটনার পর ওই শিশুর পিতা ও নিকটাত্মীয়রা বিষয়টি সম্পর্কে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা আবদুল হক বাবুর কাছে অভিযোগ করেন। স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা বাবুর নির্দেশে তার সমর্থকরা ধর্ষক হানিফকে ধরে নিয়ে আসে। এক পর্যায়ে স্বেচ্ছাসেক লীগ নেতা নিজেই হানিফকে মারধর করেন। পরের দিন সোমবার রাতে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার চেম্বারে বৈঠকে হানিফকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
জরিমানার এক লাখের মধ্যে ২০ হাজার টাকা ধর্ষিতার পিতাকে দেয়া হয়। বাকি ৮০ হাজার টাকা স্বেচ্ছাসবক লীগ নেতা বাবুসহ স্থানীয় কয়েকজন মাতব্বর ভাগবাটোয়ারা করে নেন।
এ প্রসঙ্গে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা বাবু বলেন, হানিফ শিশুটিকে ধর্ষণ করে বড় অপরাধ করেছে। কিন্তু তার কাছে এসে ভুল স্বীকার করায় সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে ধর্ষক হানিফের উপযুক্ত বিচার করা হয়েছে। কিন্তু জরিমানার অর্থ ধর্ষিতার পিতাকে না দিয়ে আপনিসহ মাতব্বররা সিংহভাগ টাকা ভাগ করে কেন নিলেন- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, টাকা ভাগবাটোয়ারা করে নেয়ার কোনো ঘটনা নেই। এর বেশি আমি বলতে পারব না।
শিশু ধর্ষণের সঙ্গে অভিযুক্তকে আর্থিক জরিমানা করে ছেড়ে দেয়া এবং সে টাকা গ্রাম্য মাতব্বররা ভাগবাটোয়ারা করে নেয়ায় স্থানীয় লোকজনের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় লোকজনের বক্তব্য, ধর্ষককে ধরে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মারধর করে নিজেই বিচার করার ঘোষণা দেয়ার বিষয়টি গোদাগাড়ী থানা পুলিশকে অবহিত করা হয়েছিল। কিন্তু পুলিশ ঘটনাস্থলে এলেও ধর্ষককে রহস্যজনক কারণে আটক করেনি। প্রসঙ্গে গোদাগাড়ী মডেল থানার ওসি এসএম আবু ফরহাদ বলেন, ধর্ষণের বিষয়ে থানায় কোনো অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ছাত্রদলের অফিসে পদবঞ্চিতদের তালা

বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানী ও সহ-ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে দল থেকে বহিষ্কারে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছেন ছাত্রদলের বিদ্রোহী ও পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা। মঙ্গলবার দুপুরে নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে তারা এ আলটিমেটাম দেন। এর আগে বেশকিছু বিদ্রোহী নেতাকর্মী বিএনপি কার্যালয়ের চতুর্থ তলায় ছাত্রদল কক্ষে তালা লাগিয়ে দেন। বিকাল ৪টার দিকে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের অফিস সহকারীরা তালা খুলে দেন।
এদিকে দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আসার পথে ছাত্রদলের ৫ কর্মীকে আটক করে পুলিশ। তারা হলেন শামীম, সিদ্দিকুর রহমান, আবুল হোসেন, সোহেল রানা, জাহিদুর রহমান । দুপুরে পদবঞ্চিত নেতা তরিকুল ইসলাম টিটু ও ফেরদৌস মুন্নার নেতৃত্বে শতাধিক নেতাকর্মী মিছিল নিয়ে নয়াপল্টনে আসেন। কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে তারা বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় তারা নতুন কমিটি মানি না, মানব না; বিএনপি থেকে এ্যানী-টুকুর বহিষ্কার চাইসহ নানা স্লোগান দিতে থাকেন।
সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে পদবঞ্চিত নেতারা বলেন, ছাত্রদল কমিটিকে বিতর্কিত করার মূলহোতা এ্যানী ও টুকুকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করতে হবে। বৃহস্পতিবারের মধ্যে তাদের বহিষ্কার করা না হলে পদবঞ্চিত ছাত্রদল নেতাকর্মীরা কঠোর আন্দোলন শুরু করবেন বলেও হুশিয়ারি দেন।
ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি জাভেদ হাসান স্বাধীন, তরুণ দে, হাবিবুর রহমান সুমন, মাহবুবুল আলম আজম, সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রয়েল, গাজী রেজওয়ানুল হক রিয়াজ, রফিকুল ইসলাম রফিক প্রমুখ এ সময় উপস্থিত ছিলেন। ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটি প্রত্যাখ্যান করে শুরু থেকেই বিদ্রোহ করে আসছেন পদবঞ্চিতরা।
পাঁচ কর্মী আটক : দুপুরে নয়াপল্টনে আসার পথে বিজয়নগরের নাইট এঙ্গেল মোড়ে ছাত্রদলের পাঁচ কর্মীকে আটক করে পুলিশ। তাদের পল্টন থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। তারা সবাই ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের কর্মী। পল্টন মডেল থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন জানান, ছাত্রদলের কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। সবকিছু যাচাই-বাছাই করে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

লাশ তুলে ফের ময়নাতদন্তের নির্দেশ

যশোরের সাবেক সংসদ সদস্য ও প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা খান টিপু সুলতানের পুত্রবধূ ডা. শামারুখ মাহজাবিন সুমির লাশ উত্তোলন করে আবারও ময়নাতদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। মামলার বাদীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বিকাশ কুমার সাহা এ আদেশ দেন।
যশোর জেলা প্রশাসককে এ আদেশ কার্যকর করতে বলা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে ঢাকা সিএমএম আদালতে একটি প্রতিবেদন দেয়ার জন্যও জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আদেশে সিভিল সার্জনসহ মোট তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠনের কথাও বলা হয়েছে। ওই কমিটির নেতৃত্বেই যশোরের কারবালা কবরস্থান থেকে লাশ উত্তোলন করা হবে।
গত ১৩ নভেম্বর ডা. শামারুখের মৃতদেহ নিয়ে যশোরের কারবালা কবরস্থানে দাফন করা হয়। তার বাবা গৃহায়ন ও গণপূর্ত বিভাগের সাবেক অতিরিক্ত প্রকৌশলী নুরুল ইসলাম লাশ পুনঃময়নাতদন্তের আবেদন করেন।
শামারুখ মারা যাওয়ার ১০ দিন পরে ২৩ নভেম্বর প্রকাশিত ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে বলা হয়, তিনি আত্মহত্যা করেছেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান হাবিবুজ্জমান চৌধুরী শামারুখের ময়নাতদন্ত করেছিলেন।
পরিবারের পক্ষ থেকে একে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করা হয়। নিহতের ভাই মো. শরীফ বাবু বলেন, আমার বোনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। টিপু সুলতান ও তার পরিবারের লোকজন ঘটনাটি সুপরিকল্পিতভাবে ভিন্ন খাতে নেয়ার চেষ্টা করছেন। আমার বোনকে বাম হাত দিয়ে হত্যা করা হয়, তিন আঙুলের দাগ রয়েছে। তার ডানপাশে দুইটি নখের নিখুঁত দাগ রয়েছে। বামপাশে বৃদ্ধাঙুলের নখের দাগ রয়েছে। বাম হাতে ধারালো অস্ত্রের দাগ রয়েছে, জিহ্বা ভেতরে ছিল। আত্মহত্যা হলে জিহ্বা বের হয়ে আসত। চোখ স্বাভাবিক ছিল। আত্মহত্যা হলে চোখ উল্টে যাওয়ার কথা। বাথরুমের ভেন্টিলেটরে আত্মহত্যা করার কোনো চিহ্ন নেই। শ্যামার উচ্চতা ৫ ফুট ৫ ইঞ্চি। তার বাথরুমের ভেন্টিলেটরের উচ্চতা ৫ ফুট। শ্যামাকে হত্যা করার পর টিপু সুলতানরা সবাই মিলে আত্মহত্যার নাটক সাজিয়েছে। ১৩ নভেম্বর মারা যাওয়া শামারুখের লাশের ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ২৩ নভেম্বর বিকালে ধানমণ্ডি থানা পুলিশ হাতে পায়।
ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, চিকিৎসক শামারুখ আত্মহত্যা করেছেন।
নিহতের বাবা নুরুল ইসলাম এই ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে বলেন, মেরে ফেলা হতে পারে এমন আশংকার কথা শামারুখ তার সঙ্গে মোবাইল ফোনে বলেছিল।
সাবেক সংসদ সদস্য খান টিপু সুলতান ও ঢাকা হলি ফ্যামিলির গাইনি চিকিৎসক ডা. জেসমিন আরা দম্পতির ছেলে হুমায়ুন সুলতান সাদাফের স্ত্রী ছিলেন শামারুখ মাহজাবিন সুমি। ১৩ নভেম্বর রাজধানীর ধানমণ্ডির ৬ নম্বর রোডের ১৪ নম্বর বাসা থেকে তার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই রাতেই টিপু সুলতান, জেসমিন আরা ও হুমায়ুন সুলতানকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলা দায়েরের পরই গ্রেফতার করা হয় সাদাফকে। খান টিপু সুলতান ও তার স্ত্রী পালিয়ে যান। পরে তারা হাইকোর্ট থেকে ৪ সপ্তাহের আগাম জামিন পান। এ অনুযায়ী আগামী ১৩ ডিসেম্বর জামিনের মেয়াদ শেষ হবে।
প্রসঙ্গত, শামারুখ মাহজাবিন সুমি হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নবম ব্যাচের ছাত্রী ছিলেন। গত বছর তিনি একই কলেজ থেকে ডাক্তারি পাস করেন। দেড় বছর আগে পারিবারিকভাবে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে ধানমণ্ডির ৬ নম্বর রোডের ১৪ নম্বর বাসার তৃতীয় তলার ভাড়া বাসায় শ্বশুর-শাশুড়ি ও স্বামীর সঙ্গে বসবাস করতেন।

টেন্ডার নিয়ে ছাত্রলীগ-ঠিকাদার ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া

বরিশালে গণপূর্ত বিভাগের ৪৪ কোটি টাকার কাজ বাগিয়ে নিতে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঠিকাদারদের ঘণ্টাব্যাপী ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে র‌্যাব-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। মঙ্গলবার বেলা ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত এই ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, বরিশালে মেরিন একাডেমি নির্মাণের জন্য ১৩ অক্টোবর ৫ গ্র“পের দরপত্র আহ্বান করা হয়। সোমবার দরপত্র বিক্রির শেষ দিন পর্যন্ত ২১ কোটি টাকায় একাডেমিক ভবন নির্মাণ কাজের বিপরীতে ১০টি, ১৮ কোটি টাকায় ডরমেটরি ভবন নির্মাণ কাজের বিপরীতে ৯টি, কমান্ডেন্টের বাসভবন নির্মাণের দেড় কোটি টাকার কাজের বিপরীতে ১০টি, ডেপুটি কমান্ডেন্টের বাস ভবন নির্মাণের দেড় কোটি টাকার কাজের বিপরীতে ৪টি এবং ভূমি উন্নয়নের (মাটি ভরাট) সোয়া ২ কোটি টাকার কাজের বিপরীতে ১৮টি দরপত্র বিক্রি হয়। এর মধ্যে প্রথম ও দ্বিতীয় প্যাকেজের কাজ বুধবার রাতেই সমঝোতার মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেন ক্ষমতাসীন দলের নেতারা। মঙ্গলবার সকালে গণপূর্ত অধিদফতরে নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ে দরপত্র জমা দিতে গেলে সাধারণ ঠিকাদারদের দরপত্র জমাদানে বাধা ও পরে ধাওয়া করে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীদের একটি অংশ। এ সময় প্রথম শ্রেণীর ঠিকাদার শফিকুল আলম গুলজারকেও বাধা দেয়া হয়। তিনি বাধা উপেক্ষা করে দরপত্র জমা দেন। কিন্তু এরপরই শুরু হয় তার দরপত্র প্রত্যাহারের জন্য চাপ প্রয়োগ। জিলা স্কুলের মোড়ে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর কার্যালয়ে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের বাধা উপেক্ষা করে একটি দরপত্র দাখিল করেন আওয়ামী লীগ নেতা মশিউর রহমান মিন্টু। ছাত্রলীগ নেতা জসিম ও অসীম তাকেও দরপত্র প্রত্যাহারে চাপ দেয়। মশিউর রহমান সাংবাদিকদের জানান, দরপত্র দাখিলের সময় সাধারণ ঠিকাদারদের কার্যালয়ে ঢুকতে বাধা দেয় ছাত্রলীগ। এ নিয়ে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে সাধারণ ঠিকাদারদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে র‌্যাব-পুলিশ এসে লাঠিচার্জ করে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের হঠিয়ে দেয়।
গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাকির হোসেন জানান, তাদের বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, নির্বাহী প্রকৌশলী, ডিআইজি এবং বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে দরপত্র জমা দেয়ার জন্য টেন্ডার বাক্স রাখা হয়। তিনি শুনেছেন ঠিকাদাররা তার এবং তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর কার্যালয়ে টেন্ডার জমা দিতে এলে ছাত্রলীগ কর্মীরা বাধা দেয়।
তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আবদুল গনি জানান, সাধারণ ঠিকাদারদের দরপত্র জমা দিতে বাধা দেয়ার খবর পেয়ে পুলিশ ও র‌্যাবকে খবর দেয়া হয়।
র‌্যাব-পুলিশ দুটি কার্যালয়ে অবস্থান নিয়ে সাধারণ ঠিকাদারদের দরপত্র জমা দিতে সহযোগিতা করে।
বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শাখায়াত হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, দরপত্র জমাদানকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে লাঠিচার্জ করে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের সরিয়ে দেয়া হয়। পরে শান্ত পরিবেশে সাধারণ ঠিকাদাররা দরপত্র জমা দেন।

১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিতে অস্বীকৃতি পাঁচ আসামির

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শফিউল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেফতার পাঁচজন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। মঙ্গলবার দুপুর সোয়া ২টার দিকে রাজশাহী মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তাদের হাজির করা হলে তারা জবানবন্দি দিতে অস্বীকৃতি জানায়। বিকাল ৫টার দিকে তাদের জেলহাজতে পাঠানো হয়। এদিকে, তৃতীয় দফায় অপর তিনজনতে আরও সাতদিনের রিমান্ডের আবেদন জানিয়েছে পুলিশ।
তদন্তকারী কর্মকর্তা ও মতিহার থানার ওসি আলমগীর হোসেন জানান, আসামিদের মধ্যে হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনা হিসেবে অভিযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি ঠিকাদার আবদুস সামাদ পিন্টু ও তার সহযোগী সিরাজুল ইসলাম কালুকে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩ এ, কাটাখালী পৌর যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফুল ইসলাম ও সবুজকে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২ এ এবং আল মামুনকে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৫ এ হাজির করা হয়।
প্রায় তিন ঘণ্টা পর তাদের ম্যাজিস্ট্রেটদের কক্ষ থেকে বের করা হয়। পরে প্রিজন ভ্যানে করে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তারা ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়নি বলে যুগান্তরকে নিশ্চিত করেছেন রাজশাহী মহানিগর পুলিশের উপকমিশনার তানভীর হায়দার চৌধুরী। এ বিষয়ে কোনো তথ্যই সাংবাদিকদের জানাননি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন। আসামিদের জেলহাজতে পাঠানোর প্রায় এক ঘণ্টা পর তিনি আদালত ভবন থেকে বের হলে সাংবাদিকরা তাকে ঘিরে ধরেন। তবে তিনি কোনো প্রশ্নের জবাব না দিয়ে মতিহার জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনারের গাড়িতে চড়ে তিনি চলে যান।
এর আগে পিন্টুসহ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অভিযোগে ৬ জনকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। রোববার ঢাকায় র‌্যাবের সংবাদ সম্মেলনে আবদুস সামাদ পিন্টু বলেন, স্ত্রীর সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করায় আমি অধ্যাপক শফিউলের সঙ্গে দেখা করতে যাই। কিন্তু তিনি আমার কথা না শুনে দূরদূর করে তাড়িয়ে দেন। এ অপমান আমি কোনোভাবেই মানতে পারিনি। তাই চিন্তা করলাম শফিউলকে সাইজ করতে হবে। এ জন্য আমি উজ্জ্বল ও মানিকের সঙ্গে কথা বলে তাদের সাহায্য চাই। তারা আমার কথামতো কাজ করেছে। র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান জানান, অধ্যাপক শফিউল খুনের ঘটনায় ১১ জন জড়িত ছিল। এদের মধ্যে ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। অপরদিকে, হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশের হাতে গ্রেফতারকৃত ১১ জনের মধ্যে আরিফুর রহমান, জিন্নাহ আলী ও সাগরকে তৃতীয় সাতদিনের রিমান্ডের আবেদন জানিয়েছে পুলিশ।
বিচার দাবিতে রাবিতে গণস্বাক্ষর সংগ্রহ চলছে : রাবি প্রতিনিধি জানান, অধ্যাপক ড. একেএম শফিউল ইসলাম লিলনের হত্যার বিচার দাবিতে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালন করছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধে বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ। সোমবার থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচি চলবে বুধবার পর্যন্ত।

আসামি থেকেই যাচ্ছেন মেয়র আরিফ

সাবেক অর্থমন্ত্রী, বরেণ্য কূটনীতিক শাহ এএমএস কিবরিয়া হত্যা মামলার চার্জশিটের নারাজি দেয়া হচ্ছে না। ফলে আসামি থেকেই যাচ্ছেন সিলেটের মেয়র আরিফুল হক চৌধুুরী। মঙ্গলবার যুগান্তরের সঙ্গে আলাপ হয় মামলার বাদী ও ভিকটিমের পরিবারের। গ্রেনেড হামলায় নিহত কিবরিয়ার ছেলে ড. রেজা কিবরিয়া বলেন, চার্জশিটে আমরা মোটামুটি সন্তুষ্ট। নারাজি দেয়ার চিন্তা করছি না। তবে হত্যা ষড়যন্ত্রে জড়িত দুএকজন এবারও বাদ পড়েছে। হবিগঞ্জের তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. এমদাদুল হক এর মধ্যে অন্যতম। হত্যাকাণ্ডের দিন তার ভূমিকা ছিল অত্যন্ত রহস্যজনক। অদৃশ্য ক্ষমতা তাকে আড়াল করে রেখেছে। শুনেছি একজন সংসদ সদস্য তাকে শেল্টার দিয়ে যাচ্ছেন।
মেয়র আরিফকে চার্জশিটে আসামি করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চার্জশিটে আমাদের ভিকটিম পরিবারের কোনো হাত নেই। মেয়র আরিফ কিভাবে চার্জশিটভুক্ত আসামি হলেন তা আমাদের জানার কথাও না। তিনি বলেন, হরকাতুল জিহাদের শীর্ষ নেতা মুফতি হান্নানের ভিডিও রেকর্ডকৃত জবানবন্দি শুনেছি। সেখানে আরিফুল হক নয়, আরিফুল ইসলাম নামে একজনের নাম এসেছে। সেই আরিফ এ আরিফ কিনা তা আমি জানিনা। তদন্তকারীরাই বলতে পারবেন। তবে মামলার জন্য ভিডিও বক্তব্য নয়, লিখিত বক্তব্য প্রাধান্য পাওয়ার কথা। আদালতে দেয়া মুফতি হান্নানের বক্তব্য পড়লে বুঝা যাবে। তিনি বলেন, আমার বাবার প্রকৃত ঘাতক ছাড়া নিরাপরাধ কেউ অভিযুক্ত বা সাজাপ্রাপ্ত হোক তা আমি চাই না। আবার নৃশংস ওই হত্যাকাণ্ডে যারা জড়িত তারা যত বড় ক্ষমতাধরই হোক, তাদের আমি ভয় করি না। তাদের বিরুদ্ধে আমি সোচ্চার। তিনি বলেন, ঘাতকরা শুধু আমার বাবার হত্যাকারীই নয়, এই দেশ ও জাতির জন্য চরম হুমকি।
ড. রেজা কিবরিয়া এখন বিশ্বের অর্থনীতিবিষয়ক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পরামর্শক হিসেবে কাজ করছেন। এর আগে তিনি পিডিএফের বাংলাদেশ প্রধান, অক্সফোর্ড ইউনির্ভাসিটি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা ছাড়াও বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন দীর্ঘ ১৮ বছর।
কিবরিয়া হত্যা মামলার বাদী অ্যাডভোকেট আবদুল মজিদ খান এমপি কিছুটা নাখোশ ভিকটিমের পরিবারের ওপর। বিকালে ফোনে আলাপকালে তিনি বলেন, মামলার চার্জশিট হয়েছে। এ চার্জশিট ভিকটিমের পরিবার গ্রহণ করেছেন। তারা সন্তুষ্ট থাকলে নারাজি দেয়ার প্রয়োজন নেই। তারা অনেক বিজ্ঞ ও সচেতন। তারাই পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেবেন। আমি স্রেফ মামলার বাদী। আমাদের নেতা কিবরিয়া গ্রেনেড হামলায় নিহত হওয়ার পর আমি মামলা করেছিলাম। এখন আমরা ন্যায়বিচার প্রার্থী। স্পর্শকাতর এ মামলার সম্পূরক চার্জশিট নিয়ে শুরু থেকেই চলছে নানা লুকোচুরি। নানা ভুল ধরা পড়ে চার্জশিট জমা দেয়ার পর। জমা দেয়া চার্জশিটে প্রথমে অভিযুক্ত করা হয় আরিফুল ইসলাম চৌধুরী নামের একজনকে। অথচ নাম ঠিকানা উল্লেখ করা হয় সিলেটের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর। এছাড়া চার্জশিটে শায়েস্তানগরের স্থলে শায়েস্তাগঞ্জ উল্লেখ করা হয়। এ নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হলে আবার চার্জশিটটি সংশোধন করে ইসলাম-এর স্থলে হক এবং শায়েস্তাগঞ্জ-এর স্থলে শায়েস্তানগর বসিয়ে সংশোধন করা হয়। সম্প্রতি সিলেট সিটি মেয়র, হবিগঞ্জ পৌরসভার মেয়রসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে এ চার্জশিট দাখিল করেন সিআইডির কর্মকর্তা মেহেরুন্নেছা পারুল। তিনি ভুল সংশোধনের কথা স্বীকার করেছেন।
চার্জশিটে সিলেটের মেয়র আরিফকেই আসামি করা হয়েছে এটা নিশ্চিত হওয়ার পর সিলেটে তোলপাড় চলছে। এর আগে কিবরিয়া হত্যা মামলার প্রথম চার্জশিট দিয়েছিলেন সিআইডির তৎকালীন সিনিয়র এসএসপি মুন্সী আতিকুর রহমান। তিনি ১০ জনকে অভিযুক্ত করেছিলেন। মামলার দ্বিতীয় দফার চার্জশিট দেন সিআইডির তৎকালীন সিনিয়র এসএসপি রফিকুল ইসলাম। ওই চার্জশিটে ১৪ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছিল। উল্লেখ্য, ২০০৫ সালের ২৭ জানুয়ারি হবিগঞ্জ সদর উপজেলার বৈদ্যের বাজারে গ্রেনেড হামলায় শিকার হন সাবেক অর্থমন্ত্রী, বরেণ্য কূটনীতিক শাহ এএমএস কিবরিয়া।

জনগণের সঙ্গে সার্কের সংশ্লিষ্টতা আরও বাড়াতে হবে : এম হুমায়ূন কবির by মোহাম্মদ কবীর আহমদ

যুগান্তর : সার্কের অগ্রগতি নিয়ে অনেকেই হতাশা ব্যক্ত করে থাকেন। এ সংস্থার সামগ্রিক অগ্রগতি নিয়ে আপনার মূল্যায়ন কী?
এম হুমায়ূন কবির : দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থার (সার্ক) সার্বিক অগ্রগতির বিষয়ে যারা হতাশা ব্যক্ত করেন, আমি তাদের সঙ্গে একমত হলেও এ বিষয়ে বিস্তৃত প্রেক্ষাপটে বিষয়টি দেখতে চাই। এ ক্ষেত্রে মনে রাখা দরকার, নিকট প্রতিবেশী দেশের নেতৃবৃন্দের মধ্যকার আলাপ-আলোচনাটাও সুসম্পর্ক রক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সেদিক থেকে বিবেচনা করলে সার্কের সদস্যরাষ্ট্রের শীর্ষপর্যায়ের নেতৃবৃন্দ যখন আলোচনায় বসেন কিংবা সার্কের বিভিন্ন পর্যায়ে যখন আলোচনা হয়- তার একটা ইতিবাচক প্রভাব আছে বলে আমি মনে করি। কূটনীতিতে এটাকে আমরা গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করি। এ ছাড়া সাফটার আওতায় বাংলাদেশসহ অন্য স্বল্পোন্নত দেশগুলো ভারতের মতো অপেক্ষাকৃত অগ্রসর দেশগুলোতে বিভিন্ন পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাচ্ছে- এটাও সার্কের সহযোগিতারই একটি প্রতিফলন। কাজেই এ অঞ্চলের দেশগুলোর সার্বিক উন্নয়নে সার্কের ভূমিকা একেবারে নগণ্য- একথা বলা ঠিক হবে না। তবে এটা ঠিক যে, সার্কের প্রতি এ অঞ্চলের জনগণের যে ব্যাপক প্রত্যাশা ছিল, সে প্রেক্ষাপটে সার্কের অর্জন বড়ই কম। সার্কের সাফল্য আরও থাকা উচিত ছিল। পারস্পরিক যোগাযোগ সম্পর্ক উন্নয়নের প্রাথমিক ধাপ- এদিক থেকে বিবেচনা করলে সার্কের গুরুত্ব আমাদের কাছে স্পষ্ট হতে পারে।
যুগান্তর : ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা আসিয়ান তার সদস্যরাষ্ট্রগুলোর উন্নয়নে যে ভূমিকা রাখতে পারছে, সার্ক তা পারছে না কেন?
হুমায়ূন কবির : ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) বা আসিয়ানের মতো সার্ক কেন এ অঞ্চলের দেশগুলোর উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারছে না- এ বিষয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে আমাদের মনে রাখা দরকার, ঐতিহাসিকভাবে এ অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যকার সম্পর্কের ক্ষেত্রে সহযোগিতার পরিবর্তে দ্বন্দ্ব বা অসহযোগিতার প্রভাবই বেশি ছিল এবং এখনও যে তা নেই সে কথা বলা যাচ্ছে না। এ ছাড়া ভারত-পাকিস্তান দ্বন্দ্ব এ অঞ্চলের দেশগুলোর একত্রে কাজ করার ক্ষেত্রে বিভিন্নভাবে প্রভাব বিস্তার করছে। পারস্পরিক সংঘাত ইউরোপের দেশগুলোতেও ছিল। কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের দেশগুলোর নেতৃবৃন্দ বুঝতে পেরেছেন, সংঘাতের চেয়ে সহযোগিতার মূল্য অনেক বেশি। এ অনুভূতিকে গুরুত্ব দিয়ে সহযোগিতাকে ক্রমাগত শক্তিশালী করতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বর্তমান পর্যায়ে এসেছে। সে তুলনায় এ অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের নেতৃবৃন্দের মধ্যে সহযোগিতার মনোভাব জোরালো, এমনটি লক্ষ করা যায়নি। ইইউর অগ্রগতির নেপথ্যে যে আরেকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামকের ভূমিকা পালন করেছে তা হল, এ সংস্থাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য ইইউভুক্ত অগ্রসর দেশগুলোর নেতৃত্ব প্রদান। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সময় থেকে শুরু করে ইইউভুক্ত দেশগুলোর নেতৃবৃন্দ তাদের ভিশন বা লক্ষ্য অনুযায়ী ইউরোপকে সাজানোর জোরালো চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। সে জন্য ইইউ উন্নয়নের মডেল হিসেবে গুরুত্ব লাভ করেছে।
অন্যদিকে সার্ক গঠনের শুরুতেই ভারতের সন্দেহ ছিল- অন্য ছোট রাষ্ট্রগুলো ভারতের বিরুদ্ধে দল বাঁধার চেষ্টা করছে কি-না; পাকিস্তানের সন্দেহ ছিল, অন্যান্য রাষ্ট্র ভারতের সঙ্গে মিলে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কিছু করছে কি-না। পারস্পরিক এ অবিশ্বাস এখনও বলা যায় আছে- যদিও অতিসম্প্রতি ভারত তার অবস্থান পরিবর্তন করেছে। কারণ ভারত এখন বুঝতে পেরেছে- সার্ক এ অঞ্চলের অন্যান্য দেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের একটা কার্যকর বাহন হতে পারে। দ্বিতীয়ত, দ্বিপক্ষীয়ভাবে যেসব ইস্যুর মীমাংসা সম্ভব হচ্ছে না, ভারত মনে করে সেসব ইস্যু সার্কের আওতায় কোনো একসময় ইতিবাচকভাবে নিষ্পন্ন করা সম্ভব। আমরা লক্ষ করছি- অর্থনৈতিকভাবে সার্কের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী দেশ হিসেবে ভারতের উত্থান হচ্ছে এবং ভারত মনে করছে, তার অর্থনীতিকে আরও সমৃদ্ধ করার জন্য সার্ক ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। এসব দিক বিবেচনায় গত এক দশক ধরে ভারত সার্কের বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করে আসছে। সে কারণেই সাফটা তাত্ত্বিকভাবে মোটামুটি কার্যকর হয়েছে; কিন্তু এখনও অনেক শুল্ক ও অশুল্ক বাধা আছে। সেগুলো আমাদের অতিক্রম করতে হবে। তবে ইতিমধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতার একটি ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে বলে আমি মনে করি। কাজেই সার্ককে ইইউ বা আসিয়ানের সঙ্গে তুলনা করলে পার্থক্যগুলো স্পষ্ট হবে। নিশ্চয়ই আমরা ওই জায়গায় পৌঁছাতে পারিনি। এর নেপথ্যে অনেক কারণও রয়েছে। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, নেতৃত্বের ভিশন, রাষ্ট্রগুলোর আয়তন, পারস্পরিক বিশ্বাস-অবিশ্বাস- এগুলো সার্কের এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে ইতিবাচক ও নেতিবাচক প্রভাব বিস্তার করছে। এবং যতদিন এ বিষয়গুলো নেতিবাচক ভূমিকায় থাকবে ততদিন সার্ক এখন যেভাবে যাচ্ছে সেভাবেই যাবে এবং এ অবস্থা কখনোই আমাদের ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা আসিয়ানের পর্যায়ে পৌঁছাতে সাহায্য করবে না। তবে আশার কথা হচ্ছে, এ অবস্থার সম্ভবত পরিবর্তন হচ্ছে।
যুগান্তর : গত দু’বছর সার্ক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়নি। অর্থাৎ এটি অনিয়মিত হয়ে পড়েছে। এটাকে আপনি কীভাবে দেখছেন?
হুমায়ূন কবির : সার্কে এ ধরনের অনিয়ম নতুন নয়। এ সংস্থা ১৯৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও এবারে সার্কের ১৮তম শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এ থেকেই স্পষ্ট, এ সম্মেলন বহুবার স্থগিত হয়েছে। এ ব্যত্যয়কে আমি বড় করে দেখতে চাই না। সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যকার পারস্পরিক সৌহার্দ্যপূর্ণ মনোভাব অক্ষুণœ থাকলে এ অনিয়ম সার্কের লক্ষ্য অর্জনে খুব একটা ক্ষতির কারণ হবে বলে মনে হয় না। তবে সার্ক সম্মেলন যাতে নিয়মিত অনুষ্ঠিত হতে পারে- এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবার চেষ্টা অব্যাহত রাখা উচিত।
যুগান্তর : বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে আমরা অনেক পিছিয়ে আছি। উন্নয়নের বিভিন্ন সূচকে আমরা এত পিছিয়ে থাকার পরও বলা হয়েছে, সার্কের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয়। উন্নত দেশগুলোর সঙ্গে তুলনা করে সার্কের কী লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা উচিত, যাতে আমাদের অর্জন পর্যবেক্ষণ করে বিশ্বের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের অবস্থা বুঝতে পারি। বর্তমান প্রেক্ষাপটে সার্ক উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় আর কী ধরনের সংযোজন দরকার, যাতে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে সার্কভুক্ত দেশগুলোর অর্জন স্পষ্ট হয়?
হুমায়ূন কবির : সার্ক উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয়- এটা নিশ্চয়ই আমাদের জন্য সন্তুষ্টির বিষয়। প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশের অগ্রগতির ক্ষেত্রে মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল বা এমডিজির একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এ ছাড়া আমাদের দেশের মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডকে গতিশীল করার জন্য ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন। এমডিজিকে সামনে রেখে আমরা দারিদ্র্য বিমোচন, নারী শিক্ষার বিস্তার, শিশুমৃত্যুর হার কমানো, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা- এ ধরনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইতিবাচক কিছু ধারা তিন দশক ধরে বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছি। সার্কের অন্য দেশগুলো লক্ষ্য অর্জনে আরও জোরালোভাবে এগিয়ে যাক- এটাই আমাদের প্রত্যাশা। সে ক্ষেত্রে ওই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সার্কের ভূমিকা এখনও আমাদের নজরে আসছে না। পোস্ট মিলিনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল-এর আলোকে আমরা মনে করি, উন্নত ও অগ্রসর উন্নয়নশীল দেশগুলোর পক্ষ থেকে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর উন্নয়ন প্রক্রিয়াকে জোরালো করার জন্য নৈতিক, আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা অব্যাহত রাখা উচিত। একই সঙ্গে সার্কের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সার্কভুক্ত সব দেশ সহযোগিতা অব্যাহত রাখলে এসব দেশের লক্ষ্য অর্জনে সাফল্য আসতে পারে।
যুগান্তর : সার্কে দ্বিপক্ষীয় বিষয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনার সুযোগ নেই। অথচ সার্কের সদস্য দেশগুলোর বেশিরভাগ সমস্যাই দ্বিপক্ষীয়। এ বিষয়টি সার্কের অগ্রগতির পথে বাধা বলে মনে করেন কি?
হুমায়ূন কবির : সার্কের পক্ষ থেকে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার সুযোগ নেই- এটা সত্য; কিন্তু সার্ক সম্মেলন চলাকালে বিভিন্ন দেশের নেতৃবৃন্দ অনানুষ্ঠানিকভাবে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন। এসব অনানুষ্ঠানিক আলোচনার অনেক গুরুত্ব রয়েছে। যেকোনো বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে দুই পদ্ধতিতে সমস্যা সমাধান করা হয়। একটি হচ্ছে দ্বিপক্ষীয়ভাবে শুরু করে বহুপক্ষীয় আলোচনায় যাওয়া, অপরটি হল বহুপক্ষীয় দিক থেকে আলোচনা শুরু করে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা। সার্ক কাঠামোতে বহুপক্ষীয় আলোচনার সূত্র ধরে দ্বিপক্ষীয় সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্র প্রস্তুত করা যেতে পারে। এখনও আমরা আশায় আছি- এ প্রক্রিয়ায় হয়তো একসময় কার্যকর ফল মিলবে। সার্কের বিদ্যমান কাঠামোর পাশাপাশি আরও সৃজনশীল কী কী পদক্ষেপ নেয়া যায় সে বিষয়ে আলোচনা অব্যাহত রাখা যেতে পারে।
যুগান্তর : এ ক্ষেত্রে সার্কের গঠনতন্ত্রে কোনো পরিবর্তন আনার প্রয়োজন আছে কি-না? এতে ভারতের সম্মতি পাওয়ার সম্ভাবনা কতটুকু?
হুমায়ূন কবির : সার্কের গঠনতন্ত্রে পরিবর্তন আনার কথা চিন্তা করা যেতে পারে। তবে এর বর্তমান কাঠামোতে কেবল ভারতের ইচ্ছা-অনিচ্ছায় এ পরিবর্তন সম্ভব নয়। প্রতিটি সদস্যরাষ্ট্রের সম্মতিতে তা করা যেতে পারে। তবে সার্কের গঠনতন্ত্র পরিবর্তনে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা অস্বীকার করা যায় না। কারণ ভারত ছাড়া সার্কের অন্য দেশগুলোর কারও সঙ্গে কারও সীমান্ত নেই। ভারত যদি দ্বিপক্ষীয় আলোচনার বিষয়টি সার্কে নিয়ে আসে, তাহলে সার্কের অন্যান্য দেশ এতে স্বস্তিবোধ নাও করতে পারে। কাজেই ভারত যদি এ বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নেয় এবং অন্য দেশগুলো যদি তাতে স্বস্তিবোধ করে বা তারা যদি দেশটির প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করতে পারে, তাহলে আমার ধারণা সার্কের গঠনতন্ত্রে পরিবর্তনের একটা উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে ভারতের কেবল সম্মতি নয়- ভারতকে এ বিষয়ে নেতৃত্ব দিতে হবে।
যুগান্তর : সার্কের গঠনতন্ত্র পরিবর্তনের প্রক্রিয়াটি কী হতে পারে?
হুমায়ূন কবির : এর জন্য সার্ক চার্টারে পরিবর্তন আনতে হবে। সদস্যরাষ্ট্রগুলো একমত হলে এ ধরনের পরিবর্তন তেমন জটিল কোনো কাজ নয়।
যুগান্তর : এ পরিবর্তনের উদ্যোগ তো বিভিন্ন দেশের পক্ষ থেকে নিতে হবে- আওয়াজটা তুলতে হবে...
হুমায়ূন কবির : এ বিষয়ে আওয়াজ যে একেবারে নেই, তা বলা যাবে না। কিছু কিছু আওয়াজ তো উঠছেই। সার্কের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় ‘সর্বসম্মত’ যে বিষয়টি রয়েছে, এটা কি আমাদের জন্য খুব উপযোগী? এতে কি আমরা উপকৃত হয়েছি? এ ধরনের আলাপ-আলোচনা বিভিন্ন পর্যায়ে হয়; কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিকভাবে এ আলোচনাটা শুরু হয়নি। থিংকট্যাংক লেভেলে, সুশীল সমাজের আলাপ-আলোচনায় এ বিষয়গুলো ইতিমধ্যে উঠে এসেছে।
যুগান্তর : সামগ্রিকভাবে সার্কের দেশগুলো যাতে দ্রুত উপকৃত হতে পারে- সে জন্য আর কী পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে?
হুমায়ূন কবির : এ বিষয়ে ইতিমধ্যে যেসব আলোচনা করেছি তার সঙ্গে আরও যা
যোগ করতে চাই তা হল, ইইউকে উদাহরণ হিসেবে নেয়া। প্রথমদিকে মাত্র কয়েকটি দেশ মিলে ইইউ প্রতিষ্ঠা করলেও সংস্থাটির কর্মপদ্ধতিতে আকৃষ্ট হয়ে সদস্য সংখ্যা বাড়তে থাকে।
যুগান্তর : বিশেষ প্রয়োজনে ইইউভুক্ত দেশগুলোর শীর্ষ নেতাদের আমন্ত্রণ জানানো হলে অল্প সময়ের ব্যবধানে সংস্থাটির শীর্ষপর্যায়ে বৈঠকের আয়োজন করা যায়। এতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় কাক্সিক্ষত গতি আসার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। সার্কে এ রকম পদ্ধতি চালু করা কতটা সম্ভব?
হুমায়ূন কবির : সেটা তো হতেই পারে এবং সেটা হয়তো বাঞ্ছনীয়ও। কিন্তু সেটা হওয়ার জন্য যে পরিমাণ সদ্ভাব-আস্থা-বিশ্বাস দরকার- সেটা কি এ অঞ্চলে আছে? ভারত-পাকিস্তান কি সে পর্যায়ে আছে? সম্প্রতি ভারতের প্রধানমন্ত্রী সার্কভুক্ত দেশের সব শীর্ষ নেতাকে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ভারতে এলে পাকিস্তানে কী প্রতিক্রিয়া হয়েছিল, সেসব বিভিন্নভাবে আমরা শুনেছি। কাজেই রাষ্ট্রগুলোর মধ্যকার দ্বিপক্ষীয়, বিশেষত জনগণের মধ্যকার সম্পর্ক উন্নয়নের বিষয়টিও এ ক্ষেত্রে জরুরি। এর অভাবে অবিশ্বাস-অনাস্থা বাড়তে থাকে।
যুগান্তর : জনগণের মধ্যকার সম্পর্ক উন্নয়নের বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা করবেন?
হুমায়ূন কবির : সার্কের কর্মকাণ্ড বর্তমানে বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হয়ে থাকে। কৃষি খাত, স্বাস্থ্য খাত, অপরাধ দমন, মাদকবিরোধী কর্মসূচি- এরকম অনেক ধরনের কাজ হচ্ছে। এসব কর্মকাণ্ড কী করে জনগণের সামনে তুলে ধরা যায় এবং বিভিন্ন কর্মসূচির সঙ্গে কী করে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানো যায়- এ বিষয়ে আরও ভাবতে হবে।
সার্কের একটি অন্যতম সমস্যা হল- এটি একটি সুপার বুরোক্র্যাটিক অর্গানাইজেশন ও আমলাতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে। যতক্ষণ আপামর জনগণের সঙ্গে সার্কের সংশ্লিষ্টতা না বাড়বে, যতক্ষণ জনগণ সার্কের মাধ্যমে সরাসরি উপকৃত না হবে- ততক্ষণ পর্যন্ত সার্কের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন থাকবে। সার্কের কর্মপদ্ধতি নিয়ে যখন আমি আলোচনা করব, তখন জনসম্পৃক্ততা কী করে বাড়ানো যায়, জনগণ কীভাবে সার্কের কাজটা দেখবে- সেটাও আমাকে চিন্তা করতে হবে। কারণ সবকিছুই করা হচ্ছে জনগণের কল্যাণে এবং সবকিছুর লক্ষ্যই জনগণ।
যুগান্তর : সার্ক ব্যাংক গঠনের কথা শোনা যাচ্ছে? এ ধরনের উদ্যোগ সদস্যরাষ্ট্রগুলোর উন্নয়নে কী ভূমিকা রাখতে পারে?
হুমায়ূন কবির : সার্কের বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানগুলোই ঠিকমতো কাজ করতে পারছে না। সার্ক ডেভেলপমেন্ট ফান্ডটি ঠিকমতো কাজে লাগানো যায়নি। এ অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিলে যে প্রশ্নটি এসে যায় তা হল, সার্ক ব্যাংক কীভাবে কাজে লাগানো যাবে? ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করতে হলে অর্থের প্রয়োজন। প্রয়োজনীয় সেই অর্থ দেবে কে? সার্কভুক্ত দেশগুলো গত প্রায় ৩০ বছরে একটিও সার্ক প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে পারেনি। ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করলেই তো হবে না। এর কাজ তো দেখাতে হবে। ব্যাংকটিকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে হলে ব্যাংকের বিনিয়োগটি লাভজনক হতে হবে। সার্ক ব্যাংক প্রতিষ্ঠার উদ্যোগটি ভালো। কিন্তু এ ব্যাংককে লাভজনক করতে না পারলে এটি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য অর্জিত হবে না। ব্যাংকটি প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি একে কী করে প্রকৃত অর্থে লাভবান করা যায়, তাও খুঁজে বের করতে হবে।
যুগান্তর : জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে সার্কভুক্ত দেশগুলো কী উদ্যোগ নিতে পারে? এ ক্ষেত্রে নেপালের বিদ্যুৎ সংকটের বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখ করা যায়।
হুমায়ূন কবির : নেপালে বিদ্যুৎ উৎপাদনের যে প্রচুর সম্ভাবনা আছে, তা কাজে লাগানোর জন্য বিনিয়োগ লাগবে, যথাযথ পরিকল্পনা লাগবে, এর জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরি করতে হবে। এসব সম্পন্ন করা হলেই তো সম্ভাবনা কাজে লাগানো যাবে। নেপালে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন করে ৮৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব। কিন্তু বর্তমানে দেশটিতে উৎপাদন হয় মাত্র ৭০০ মেগাওয়াট।
যুগান্তর : নেপালে কখনও কখনও নাকি প্রায় ২০ ঘণ্টার মতো লোডশেডিং করা হয়?
হুমায়ূন কবির : নেপালের জনসংখ্যা বাংলাদেশের ছয় ভাগের এক ভাগ। আমাদের তুলনায় তাদের অন্তত ১০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করার কথা। তারা তা করতে পারছে না। কাজেই লোডশেডিং তো হবেই। নেপালে জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের যে ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে তার সামান্যতমও দেশটি কাজে লাগাতে পারেনি।
যুগান্তর : এ অঞ্চলের দেশগুলোর জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে কী উদ্যোগ
নেয়া উচিত?
হুমায়ূন কবির : দক্ষিণ এশিয়ার বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধানে কয়লাকে এক নম্বর বা প্রধান জ্বালানি হিসেবে রাখতে হবে। কারণ বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তানে প্রচুর কয়লা রয়েছে। জলবিদ্যুতের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে ভারত, পাকিস্তান, নেপাল ও ভুটানে। বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান- এ তিনটি দেশে গ্যাস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ রয়েছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানির ক্ষেত্রে শ্রীলংকা, মালদ্বীপ ও বাংলাদেশে যেসব সম্ভাবনা আছে, তা কাজে লাগানো হলে এটিও জ্বালানি নিরাপত্তায় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর আগামী দিনের বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে হলে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রাথমিক উপকরণ বা জ্বালানির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোয় বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রাথমিক জ্বালানি এমনভাবে বিস্তৃত যে, এককভাবে কোনো দেশ বিদ্যুৎ খাতে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার পরিবর্তে আন্তঃদেশীয় সহযোগিতার মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করলে কাজটি অনেক সহজ হবে। ইতিমধ্যে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত সার্ক দেশগুলোর জ্বালানি ও বিদ্যুৎমন্ত্রীদের সম্মেলনে সার্ক গ্রিড নির্মাণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। পাকিস্তান এখনও এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানায়নি। ১৮তম সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত মন্ত্রী পর্যায়ের সিদ্ধান্তকে সার্কের সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচনা করা যায় কি-না তা আলোচিত হবে। পাকিস্তান রাজি থাকলে এবারের কাঠমান্ডু সম্মেলন দক্ষিণ এশিয়ায় বিদ্যুৎ সংকটের সমাধানে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে।
যুগান্তর : সার্কভুক্ত দেশগুলোর বিনিয়োগ ও বাণিজ্য প্রসারের অন্যতম অন্তরায় অশুল্ক বাধা। এ সমস্যা দূর করতে কী করণীয়?
হুমায়ূন কবির : ভারত বাংলাদেশকে ৯৮ শতাংশ পর্যন্ত শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার দিয়েছে। কিন্তু অশুল্ক বাধার কারণে বাংলাদেশ এলডিসিভুক্ত দেশ হিসেবে প্রাপ্ত শুল্কমুক্ত সুবিধার সুযোগ কাজে লাগাতে পারছে না। কাজেই অশুল্ক বাধা দূর করতে ভারত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
যুগান্তর : সার্কভুক্ত দেশগুলোর যৌথ উদ্যোগে গবেষণা খাতে কী ধরনের নতুন কর্মসূচি নেয়া যায়, যা দেশগুলোর টেকসই উন্নয়নে সহায়তা করবে?
হুমায়ূন কবির : দারিদ্র্য দক্ষিণ এশিয়ার সব দেশের জন্যই এক বড় সমস্যা। দারিদ্র্য বিমোচনে যে কয়েকটি বিষয় প্রধান ভূমিকা পালন করে তার অন্যতম হল শিক্ষা ও দক্ষতা। সার্কভুক্ত দেশগুলোতে ভারত অনেক এগিয়ে রয়েছে। অন্যান্য দেশে শিক্ষার প্রসার হলেও শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। একটা দক্ষিণ এশীয় মান নির্ধারণ করা যায় কিনা তা বিবেচনায় নিতে হবে। সার্কভুক্ত দেশগুলোর পাঠ্যক্রমে সমতা বা অভিন্ন মান রক্ষা করার বিষয়টি কী করে নিশ্চিত করা যায় তা আলোচনা করতে হবে। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, গণিত, ইংরেজি- এ ধরনের মৌলিক বিষয়ে সার্কভুক্ত দেশগুলোতে একই পাঠ্যসূচি অনুসরণ করার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। এই মৌলিক বিষয়ের পাশাপাশি প্রতিটি দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি- এসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় বিষয় সংযুক্ত হলে সার্কভুক্ত দেশগুলোর জনগণের পারস্পরিক সম্পর্ক বৃদ্ধিতে এটি বিশেষভাবে সহায়তা করবে। মৌলিক বিষয়ে একই পাঠ্যসূচি অনুসরণ করা হলে যৌথ উদ্যোগের উচ্চতর গবেষণায় দ্রুত ইতিবাচক ফল মিলবে। আগামী দিনগুলোতে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে দক্ষ কর্মীর চলাচল আরও বাড়বে। বর্তমানে ভারতের প্রায় পাঁচ লাখ কর্মী বাংলাদেশে কর্মরত। আমাদের দেশের দক্ষ কর্মীর সংখ্যা বাড়লে অন্য দেশে তাদের চাহিদা বড়বে। বিদ্যমান শিক্ষাব্যবস্থা অব্যাহত থাকলে আগামী দিনগুলোতে এ অঞ্চলের অন্যান্য দেশে বাংলাদেশের দক্ষ কর্মীর চাহিদা তৈরি হবে না। দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতিতে যে বিবর্তন হচ্ছে অর্থাৎ আমরা কৃষি অর্থনীতি থেকে শিল্পকারখানাভিত্তিক অর্থনীতিতে যাচ্ছি- এসব শিল্পকারখানায় দক্ষ কর্মীর চাহিদা বাড়বে। ভারতের বর্তমান সরকার শিল্পকারখানা স্থাপনের জন্য দেশীয় বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি বিদেশী বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। নেপাল ও ভুটানেও শিল্পকারখানা স্থাপনে জোরালো চেষ্টা লক্ষ করা যাচ্ছে। কাজেই আমাদের দেশের শিক্ষার্থীদের এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ সফলভাবে মোকাবেলায় সক্ষম হয়। সর্বজনীন গ্রহণযোগ্য মান রক্ষার (Commonly acceptable standard) বিষয়টি বিবেচনা নিয়ে শিক্ষা ও গবেষণায় সার্কভুক্ত দেশগুলোর সহযোগিতা বাড়ানোর উপায় খুঁজে বের করতে হবে- যাতে প্রকৃত অর্থে শিক্ষার্থী ও গবেষকদের সর্বজনীন গ্রহণযোগ্য মান বজায় থাকে। এতে আগামী দিনের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করার জন্য দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতার ক্ষেত্র প্রসারিত হবে। এ অঞ্চলের সব দেশই কম-বেশি প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ। এসব দুর্যোগ সফলভাবে মোকাবেলায় বিদ্যমান গবেষণা ও সহযোগিতাকে আরও বিস্তৃত করতে হবে।
যুগান্তর : আপনাকে ধন্যবাদ
হুমায়ূন কবির : ধন্যবাদ।

ধুঁকে ধুঁকে চলছে উপজেলার সরকারি কলেজ

কোম্পানীগঞ্জের বসুরহাটে সরকারি মুজিব মহাবিদ্যালয়-এ চলছে শিক্ষক সংকট। এ কারণে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়াও বিঘ্নিত হচ্ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এই এলাকার সংসদ সদস্য এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করেছেন। আশু শিক্ষক সংকট নিরসনের অনুরোধ করেছেন তিনি। মন্ত্রীর অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমানে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরে (মাউশি) কলেজটিতে শিক্ষক পদায়নের প্রক্রিয়া চলছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শুধু বসুরহাটই নয়, দেশের উপজেলা পর্যায়ের বেশির ভাগ এবং জেলা পর্যায়ের কিছু কিছু কলেজে শিক্ষক সংকট বর্তমানে তীব্র। সম্প্রতি শিক্ষা ক্যাডারের ৩ স্তরে সর্বমোট ২ হাজার ১৩০ জনকে পদোন্নতি দেয়া হয়। এরপর মফস্বলের কলেজগুলোতে এই সংকট আরও চরম আকার ধারণ করেছে।
জানতে চাইলে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, মফস্বলের কলেজগুলো সবসময়ই আমাদের অগ্রাধিকারে থাকে। পদোন্নতির কারণে কিছু শিক্ষক অন্যত্র বদলির সুযোগ পেয়েছেন সত্যি। তবে সবাইকে সরিয়ে আনা হয়েছে। সবেতনে অনেককেই আগের স্থানে রেখে পরিস্থিতি সামাল দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। এছাড়া আরও প্রভাষক নিয়োগের জন্য আমরা ইতিমধ্যে সাড়ে তিন হাজার পদের রিকুইজিশন (চাহিদা) সরকারি কর্মকমিশনকে দিয়েছি। আশা করছি, ৩৪ ও ৩৫তম বিসিএস থেকে এটা দ্রুত পূরণ করা সম্ভব হবে। জানা গেছে, সারা দেশে বর্তমানে ৩০৩টি সরকারি কলেজ আছে। এরমধ্যে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের কলেজ মাত্র দুটি আর মাদ্রাসা ৪টি। উচ্চ মাধ্যমিক এবং উপজেলা পর্যায়ের কলেজে অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ ছাড়া আর সব পদ প্রভাষকের। সাধারণত অধ্যাপক ও সহযোগী অধ্যাপকরা অধ্যক্ষ-উপাধ্যক্ষ হয়ে থাকেন। ফলে এসব কলেজে নেতৃত্বের সমস্যা নেই। কিন্তু একদিকে সহস্রাধিক প্রভাষকের সহকারী অধ্যাপক হওয়া আর আড়াই হাজার প্রভাষকের পদ শূন্য থাকায় এর প্রভাব পড়েছে উপজেলা তথা মফস্বলের কলেজে। ফলে এসব কলেজ চলছে ধুঁকে ধুঁকে।
জানা গেছে, সর্বশেষ তিন স্তরের পদোন্নতির ফলে ২৪তম বিসিএসে নিয়োগ পাওয়া প্রভাষকরা সবাই সহকারী অধ্যাপক হয়েছেন। ২৫ থেকে ২৭তম বিসিএসের কয়েকটি বিষয় বাদে বাকিরা সহকারী হয়েছেন। কিন্তু ২৮তম বিসিএস থেকে ৩৩তম পর্যন্ত সবাই প্রভাষকই আছেন। ২৫ থেকে ৩৩তম বিসিএসে মোট আড়াই হাজার প্রভাষক আছেন। জানা গেছে, এদের মধ্যে অনেকেই মামার জোরে ঢাকাসহ বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের কলেজে আছেন। ফলে বসুরহাটের মুজিব মহাবিদ্যালয়ের মতো উপজেলা পর্যায়ের কলেজগুলো ভুগছে শিক্ষক সংকটে।
সাধারণত ঢাকার বাইরের কলেজে প্রভাষক ও সহকারী অধ্যাপক পদায়ন করে মাউশি। ঢাকার বাইরে সহযোগী অধ্যাপক ও অধ্যাপক এবং ঢাকায় সব ধরনের কর্মকর্তার পদায়ন নিয়ন্ত্রণ করে থাকে মন্ত্রণালয়। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মাউশি মহাপরিচালক অধ্যাপক ফাহিমা খাতুন বলেন, নতুন পদোন্নতিতে মফস্বলের কলেজে ছোটখাটো ধাক্কা লাগতে পারে, এই আশংকা থেকেই আমরা পদোন্নতি পরবর্তী পদায়নে সবেতনে আগের স্থানে রেখে দিয়েছি। এটা মূলত এক ধরনের সংযুক্তিই। তারপরও এটা করতে হয়েছে। এর বাইরে দেশের কোনো কলেজে কত সংখ্যক পদ শূন্য রয়েছে সেটাও নিরূপণের কাজ চলছে। আগামী সপ্তাহ নাগাদ সব তথ্য পাওয়া যাবে। এরপর সেগুলো পূরণে উদ্যোগ নেয়া হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ঢাকায় কিছু সংযুক্তি প্রয়োজনের নিরিখে করা হয়। আমরা অপ্রয়োজনীয় সংযুক্তি বের করে তাদের থেকে প্রয়োজনে শিক্ষক সংকটে থাকা কলেজে পদায়ন করব। শিক্ষা ছুটিজনিত ওএসডি যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই হয়ে থাকে বলে জানান তিনি।
সূত্র জানায়, শিক্ষা ক্যাডারে অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক, সহকারী অধ্যাপক এবং প্রভাষক- এই চারটি স্তর রয়েছে। সহকারী অধ্যাপক থেকে অধ্যাপক পর্যায় পর্যন্ত তিন স্তরে পদোন্নতি দেয়া হয়। এরমধ্যে এবার অধ্যাপক পদে ৩৬৬, সহযোগী অধ্যাপক পদে ৬৭৬ ও সহকারী অধ্যাপক পদে ১ হাজার ৮৮ জন পদোন্নতি পেয়েছেন। পদোন্নতিপ্রাপ্ত এসব শিক্ষকের বেশির ভাগ মফস্বলের কলেজের। কিন্তু পদোন্নতির পর তাদের খুব কমসংখ্যকই এ উপজেলা পর্যায়ের কলেজে পদায়ন পেয়েছেন। জেলার বড় বড় কলেজে চলে এসেছেন। এর বাইরে ইনসিটু (নিুপদে কর্মরত, কিন্তু উপরের পদের বেতনভোগী) ৪৩ অধ্যাপক, ১২৮ সহযোগী অধ্যাপক এবং ২২২ জন সহকারী অধ্যাপককেও পদায়ন করা হয়। এদের বেশির ভাগই ঢাকাসহ বিভাগীয় শহরের বড় বড় কলেজ ও অন্য সরকারী দফতরে নিয়োজিত ছিলেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এবারের পদোন্নতির কারণে প্রায় ৬ বছর ধরে ঢাকায় গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা কিছু প্রভাষককে ঢাকার বাইরে পদায়ন করা হয়। ঢাকায় থাকা এসব প্রভাষকের বেশির ভাগই প্রভাবশালী। অনেকের বিরুদ্ধে দুর্নীতিতে ব্যাপকভাবে জড়িয়ে পড়ারও অভিযোগ রয়েছে। যে কারণে মন্ত্রণালয় চিহ্নিত এসব কর্মকর্তাকে ঢাকার বাইরে পাঠিয়ে দেয়। জানা গেছে, এ ধরনের মোট ৬১ জন কর্মকর্তা রয়েছেন। এরা আবার ঢাকায়ই থাকার জন্য নিজেদের সাবেক ছাত্রলীগার পরিচয় দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় পর্যন্ত গিয়েছেন। এ নিয়ে একশ্রেণীর ব্যক্তি বিতর্ক তৈরিরও চেষ্টা করছেন। জানতে চাইলে এই অংশের একজন বিজয় কুমার ঘোষ বলেন, যেসব কর্মকর্তা ঢাকার বাইরে বদলির আদেশ পেয়েছেন তাদের মধ্যে কিছু কর্মকর্তা ছাত্রলীগের পরিচয়ে প্রধানমন্ত্রীর একান্ত ব্যক্তিগত সহকারী (এপিএস) সাইফুজ্জামান শিখরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। তারা তাদের ঢাকার বাইরে বদলির ব্যাপারে অসন্তোষ প্রকাশ করার কথাও জানান।
জানা গেছে, ৪৪২ জন কর্মকর্তা বিভিন্ন সরকারি দফতরে রয়েছেন সংযুক্ত কর্মকর্তা হিসেবে। ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) হিসেবে আছেন আরও অন্তত ২শ কর্মকর্তা। এসব কর্মকর্তার অনুপস্থিতির প্রভাবও পড়েছে মফস্বলের কলেজগুলোতে। কেননা, গ্রামে থাকবেন না বলেই একশ্রেণীর কর্মকর্তা সংযুক্তি নিয়ে শহরের বিভিন্ন কলেজ ও সরকারি দফতরে ঢুকে পড়েছেন। আর ওএসডি হিসেবে যারা আছেন তাদের বেশির ভাগ শিক্ষা ছুটি নেয়া। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শিক্ষা ছুটির আড়ালেও অনেকেরই মূলত গ্রামে না যাওয়া আর শহরে থাকার মানসিকতা রয়েছে। এর বাইরে কর্মকর্তাদের বেশির ভাগই সাধারণত শহরের কলেজে হুমড়ি খেয়ে পড়েন। এতে ফাঁকা থাকে গ্রামের কলেজ। মাউশির সহকারী পরিচালক কামাল হায়দার জানান, পদোন্নতির পর বাকি তিন স্তরে আর পদ শূন্য নেই। এরপরও নতুন করে কলেজ ধরে ধরে শূন্য পদ বের করার কাজ চলছে।

সার্ক সম্মেলনে গুরুত্ব পাক ফুড ব্যাংকের বাস্তবায়ন by আবদুল লতিফ মন্ডল

২০০৫ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থার (সার্ক) ১৩তম শীর্ষ সম্মেলনে এ অঞ্চলের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘সার্ক ফুড ব্যাংক’ গঠনের প্রস্তাব করে ভারত। ২০০৭ সালে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ১৪তম সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে সার্ক ফুড ব্যাংক গঠনের চুক্তি হয়। সার্কভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা চুক্তিটি স্বাক্ষর করেন (কেবল ভুটানের শ্রম ও মানবসম্পদমন্ত্রী সে দেশের পক্ষে চুক্তিটি স্বাক্ষর করেন)। এ চুক্তিটি ১৯৮৮ সালের ‘সার্ক ফুড সিকিউরিটি রিজার্ভ প্রতিষ্ঠা চুক্তি’র স্থলাভিষিক্ত হয়। তবে হতাশার কথা হল, গঠনের পর সাত বছর পার হতে চললেও কার্যকর হয়নি সার্ক ফুড ব্যাংক।
সার্ক ফুড ব্যাংক অকার্যকর থাকা অবস্থায় নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে সার্কের প্রোগ্রামিং কমিটির বৈঠকের মধ্য দিয়ে ২২ নভেম্বর শুরু হয়েছে সার্কের ১৮তম সম্মেলন। ২৬ ও ২৭ নভেম্বর সার্কের আটটি সদস্য দেশ আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, ভুটান, মালদ্বীপ, শ্রীলংকা, নেপাল, ভারত ও পাকিস্তানের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানদের শীর্ষ বৈঠকের মধ্য দিয়ে শেষ হবে ১৮তম সার্ক সম্মেলন। এবারের সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে- ‘শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির জন্য গভীর সমন্বয়’। আমরা চাইব, এ অঞ্চলের দেশগুলোতে শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য চলতি সার্ক সম্মেলনে অন্যান্য বিষয়ের সঙ্গে গুরুত্ব পাক সার্ক ফুড ব্যাংক বাস্তবায়নের বিষয়টিও।
সার্ক ফুড ব্যাংক প্রতিষ্ঠা চুক্তির প্রস্তাবে বলা হয়েছে, সদস্য দেশগুলো খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে আঞ্চলিক ও উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতার গুরুত্ব অনুধাবন করে এবং তারা আরও অনুধাবন করে যে, একটি আঞ্চলিক খাদ্য মজুদ স্থাপনা তাদের খাদ্য নিরাপত্তার উন্নতি সাধনে সহায়ক হবে।
২০০৭ সালে সার্ক ফুড ব্যাংক প্রতিষ্ঠায় সার্কভুক্ত দেশগুলো যে চুক্তি স্বাক্ষর করে, তাতে সার্ক ফুড ব্যাংক স্থাপনের উদ্দেশ্যাবলী সুনির্দিষ্ট করে উল্লেখ করা হয়েছে। এগুলো হল- এই ব্যাংক ক. স্বাভাবিক সময়ে খাদ্যাভাব এবং জরুরি অবস্থায় সার্কভুক্ত দেশগুলোর জন্য আঞ্চলিক খাদ্য নিরাপত্তায় মজুদ হিসেবে কাজ করবে; খ. সার্কভুক্ত দেশগুলোর জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা প্রচেষ্টায় আঞ্চলিক সহায়তা দেবে; গ. সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক ও আঞ্চলিক সংহতি জোরদার এবং যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে আঞ্চলিক খাদ্যাভাব দূর করবে। চুক্তির অন্য প্রধান বিষয়গুলো হল- খাদ্যশস্যের (ধান ও গম) মজুদ, মজুদের গুণগত মান, খাদ্যশস্য উত্তোলন, মজুদ থেকে খাদ্যশস্য ছাড়করণের পদ্ধতি, মজুদ পুনর্ভরণ, কোনো সদস্যের নিজ মজুদের অংশ থেকে খাদ্যশস্য উত্তোলনের পদ্ধতি, খাদ্যশস্যের মূল্য নির্ধারণ, প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাদি এবং ফুড ব্যাংক পরিচালনার দায়িত্বপ্রাপ্ত ফুড ব্যাংক বোর্ডের গঠন ও কার্যাবলি।
সার্ক ফুড ব্যাংক স্থাপন চুক্তিতে ২ লাখ ৪১ হাজার ৫৮০ টন খাদ্যশস্যের মজুদ গড়ে তোলার বিধান রাখা হয়েছে। সদস্য দেশগুলোর জন্য সার্ক ফুড ব্যাংকে খাদ্যশস্য মজুদের যে পরিমাণ নির্ধারিত হয়েছে তা হল- বাংলাদেশ ৪০ হাজার, ভুটান ১৮০, ভারত ১ লাখ ৫৩ হাজার ২০০, মালদ্বীপ ২০০, নেপাল ৪ হাজার, পাকিস্তান ৪০ হাজার এবং শ্রীলংকা ৪ হাজার টন। আফগানিস্তানের জন্য কোনো মজুদের পরিমাণ ওই চুক্তিতে নির্ধারণ করা হয়নি।
২০১০ সালের ২৭-২৮ অক্টোবর ঢাকায় অনুষ্ঠিত সার্ক ফুড ব্যাংকের চতুর্থ বোর্ড সভায় খাদ্যশস্যের মজুদের পরিমাণ ৪ লাখ টনে উন্নীত করার সুপারিশ করা হয়। এ সুপারিশের পেছনের কারণগুলো হল- ক. দক্ষিণ এশিয়ায় কৃষিজমির পরিমাণ ক্রমাগত হ্রাস পাওয়ার বিপরীতে জনসংখ্যার দ্রুত বৃদ্ধি খ. সার্কভুক্ত দেশগুলোয় ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি, যার ফলে ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ার আশংকা এবং গ. দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলে জরুরি খাদ্য পরিস্থিতি মোকাবেলায় ফুড ব্যাংকে খাদ্যশস্যের মজুদের অপর্যাপ্ততা।
২০১২ সালের মে মাসে ঢাকায় অনুষ্ঠিত সার্ক ফুড ব্যাংক পরিচালনা বোর্ডের বিশেষ সভায় বাংলাদেশ ফুড ব্যাংকে খাদ্যশস্যের মজুদের পরিমাণ ৪ লাখ টনে উন্নীত করার সুপারিশ পুনর্ব্যক্ত করে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়, সার্ক ফুড ব্যাংক প্রতিষ্ঠালগ্নে খাদ্যশস্যের মজুদের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ৪১ হাজার ৫৮০ টন। তবে সময়ের ব্যবধানে এ অঞ্চলে খাদ্য নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার করতে মজুদের পরিমাণ বাড়ানো দরকার। বিশ্বের মোট জনসংখ্যার এক-চতুর্থাংশ দক্ষিণ এশিয়ায় বাস করে। সাব-সাহারা অঞ্চলের পরেই এ অঞ্চলে দারিদ্র্যের হার বেশি। বিশ্বের প্রায় ৪০ শতাংশ দরিদ্র মানুষের বাস দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে। এখানকার প্রায় ৩৫ শতাংশ মানুষ পুষ্টিহীনতার শিকার। উল্লেখ্য, সার্ক ফুড ব্যাংক কার্যকর করতে বাংলাদেশ সবসময় আন্তরিক।
শুধু তা-ই নয়, জনসংখ্যা বৃদ্ধির উচ্চ হার, আয়বৈষম্য ও সম্পদের অসম বণ্টন, প্রযুক্তি ব্যবহারে ধীরগতি, জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগের ঝুঁকি, প্রাকৃতিক সম্পদের ঘাটতিসহ বিভিন্ন দিক থেকে সার্কভুক্ত দেশগুলোর অভিন্ন সমস্যা রয়েছে। এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক অগ্রগতি অর্জন, দারিদ্র্য হ্রাস, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, জলবায়ু পরিবর্তন পরিস্থিতি মোকাবেলা এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় কার্যকর উপায় উদ্ভাবনে সার্কভুক্ত দেশগুলোর নেতাদের একসঙ্গে কাজ করার কোনো বিকল্প নেই। বিশেষ করে সার্ক ফুড ব্যাংক কার্যকর করা হলে এটি এ অঞ্চলে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।
পত্রপত্রিকা সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ইক্যুইটিবিডি (ইক্যুইটি অ্যান্ড জাস্টিস ওয়ার্কিং গ্রুপ, বাংলাদেশ) আয়োজিত এক সেমিনারে বক্তারা দক্ষিণ এশিয়ায় খাদ্য নিরাপত্তার জন্য সার্ক ফিড ও ফুড ব্যাংক বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন। সেমিনারে ১৮তম সার্ক সম্মেলনে বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো তুলে ধরার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। সেমিনারে বলা হয়, বিশ্ব খাদ্য নিরাপত্তা সূচক-২০১৪ অনুযায়ী নাগরিকদের ক্রয়ক্ষমতা, খাদ্যের সহজ লভ্যতা ও খাদ্যমানের বিষয়ে ১০৯টি দেশের ওপর পরিচালিত জরিপে বাংলাদেশের অবস্থান ৮৮তম। দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলোর অবস্থানও আশাপ্রদ নয়। সেমিনারে আরও বলা হয়, জলবায়ু পরিবর্তন দক্ষিণ এশিয়ার কৃষির জন্য মারাত্মক হুমকি। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এশিয়ার দেশগুলোর প্রকৃত উৎপাদন ৪-১০ শতাংশ কমে যেতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট দুর্যোগ থেকে মুক্তি পেতে সার্ক ফিড ও সার্ক ফুড ব্যাংক বাস্তবায়নের ওপর জোর দেন বক্তারা।
সংসদ সচিবালয়ের এক বিজ্ঞপ্তির বরাত দিয়ে পত্রপত্রিকায় রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে যে, সম্প্রতি কাঠমান্ডুতে অনুষ্ঠিত ‘সাউথ এশিয়া রিজিওনাল পলিসি ফোরাম অন ডিজাস্টার, ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড এগ্রিকালচার/ফুড সিকিউরিটি’ শীর্ষক সংলাপে যোগদানকারী ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়া দুর্যোগ মোকাবেলায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে সার্ক ফুড ব্যাংককে কার্যকর ও শক্তিশালী করার জন্য সার্কভুক্ত দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে পত্রপত্রিকার খবর অনুযায়ী পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম জানিয়েছেন, এবারের সার্ক সম্মেলনে সার্ক ফুড ব্যাংক নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হবে। প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, সার্কভুক্ত প্রায় প্রতিটি দেশে নতুন সরকার এসেছে। তাই ফুড ব্যাংক কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনি। তাছাড়া কত সময়ের জন্য খাদ্য মজুদ রাখা হবে তা নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। তবে অচিরেই এসব সমস্যা কেটে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি।
অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষকের মতে, কোনো কোনো মহলের রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবে এর আগে ১৯৮৮ সালের সার্ক ফুড সিকিউরিটি রিজার্ভ প্রতিষ্ঠা চুক্তিটি সফল হয়নি। সার্ক ফুড ব্যাংক কার্যকর করার অস্বাভাবিক দেরি দেখে তারা এর ভবিষ্যৎ নিয়েও সন্দিহান।
এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, সার্ক কাঠামোর আওতায় বেশ কয়েকটি ভালো উদ্যোগের মধ্যে সার্ক ফুড ব্যাংক অন্যতম। তাই দক্ষিণ এশিয়ার জনগণের অবস্থার উন্নয়নে একযোগে কাজ করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সহায়ক পন্থা হিসেবে সার্ক ফুড ব্যাংককে দ্রুত কার্যকর করতে হবে। এ অঞ্চলের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে সার্ক ফুড ব্যাংকের বিকল্প নেই বললেও অত্যুক্তি হবে না। সার্কভুক্ত দেশগুলোর নেতারা রাজনৈতিক সদিচ্ছা নিয়ে যত শিগগির সার্ক ফুড ব্যাংক কার্যকর করতে এগিয়ে আসবেন, ততই তা এ অঞ্চলের জন্য মঙ্গল বয়ে আনবে।
আবদুল লতিফ মন্ডল : সাবেক সচিব, কলাম লেখক

ভাড়া খাটল দুদক!

তদন্ত পর্যায়ে আসামি গ্রেফতার। দু’দফা ১২ দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ। হাজতে পাঠানো। অতঃপর আসামির কাছ থেকে ৫০ কোটি টাকা আদায়ের চুক্তি। শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের পরিচালক মোহাম্মদ সোলায়মানের কাছ থেকে অর্থ আদায়ে এভাবেই অনুঘটকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয় দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক। অভিযোগ উঠেছে, তফসিলভুক্ত দণ্ডবিধির ১০৯ ও ৪০৯ ধারা ব্যবহার করে এভাবেই ভাড়া খেটেছে দুদক। অবশ্য দুদক বিষয়টি অস্বীকার করেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের এ ভূমিকা অত্যন্ত ভয়াবহ।
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, ২০১১ সালে চট্টগ্রামস্থ ‘এসকে স্টিল’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক থেকে ১৪০ কোটি টাকা বিনিয়োগ সুবিধা নেয়। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজিম উদ্দিন চৌধুরী। ঋণ দেয়ার সময় গ্যারান্টার হন শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকেরই উদ্যোক্তা পরিচালক, ‘প্যারাডাইস কর্পোরেশন প্রাইভেট লিমিটেডের মালিক মোহাম্মদ সোলায়মান। ২০১৩ সালের ৩০ নভেম্বর ঋণটি মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে যায়। পরিপ্রেক্ষিতে দায় এসে বর্তায় ব্যাংকটির পরিচালক সোলায়মানের ওপর। এ নিয়ে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদে দেন-দরবার হলেও সোলায়মান অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হন।
এরই এক পর্যায়ে শাহজালাল ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ১৩ এপ্রিল চট্টগ্রাম কোতোয়ালি থানায় মোহাম্মদ সোলায়মান, তার দুই ভাইসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা [নং-২৭ (৪)১৪] করে। মামলার অন্য আসামিরা হলেন মেসার্স এসকে স্টিলের অংশীদার আনম জাহাঙ্গীর, সোলায়মানের ভাই প্যারাডাইজ কর্পোরেশনের পরিচালক এনামুল হক ও আনিসুল হক। মামলাটি যাতে দুদকই তদন্ত করতে পারে সে লক্ষ্যে দুদকের তফসিলভুক্ত দুটি ধারায় (দন্ডবিধির ১০৯ ও ৪০৯ ধারা) এজাহারটি রেকর্ড করা হয়। দুর্নীতি দমন কমিশন আইন-২০১৩ (সংশোধিত) অনুসারে এ দুটি ধারায় সংঘটিত অপরাধ একমাত্র দুদকই তদন্ত করতে পারবে। অভিযোগ রয়েছে, দুদকের একজন শীর্ষ ব্যক্তির সঙ্গে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ সদস্যের ‘অদৃশ্য’ সমঝোতায় দায়ের হয় এ মামলা। সংশ্লিষ্ট স্বার্থান্বেষী পক্ষের অভূত যোগসাজশে অস্বাভাবিক দ্রুততার সঙ্গে মামলাটি ‘তদন্তের’ জন্য চলে আসে দুদকে। হাজারো মামলা পড়ে থাকলেও দুদক সোলায়মানের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলাটিকে গুরুত্ব দেয়। কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয় সহকারী পরিচালক এসএম রফিকুল ইসলামকে। তদন্ত প্রক্রিয়ায় তিনি চলতি বছরের ২৫ জুন রাজধানীর বিজয়নগর আকরাম টাওয়ার থেকে গ্রেফতার করেন মোহাম্মদ সোলায়মানকে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে রিমান্ড প্রার্থনা করেন। আদালত দু’দফায় ১২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন সোলায়মানের। রিমান্ড শেষে জামিন প্রার্থনা করেন সোলায়মানের আইনজীবী। হাকিম আদালত জামিন নামঞ্জুর করে পাঠিয়ে দেন জেলহাজতে। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে হাজতি হিসেবে সোলায়মান বন্দি (বন্দি নং-১৯৩১৯/১৪) ছিলেন পুরো জুলাই মাস। এ সময় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাদের পাওনা আদায়ে মোহাম্মদ সোলায়মানের সঙ্গে ১৫ জুলাই একটি সমঝোতা চুক্তি করে। চুক্তি অনুযায়ী সোলায়মান নিজের কাছে থাকা শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের সমুদয় শেয়ার বিক্রি করে ব্যাংকের পাওনার মধ্য থেকে ৫০ কোটি টাকা পরিশোধে সম্মত হন। জানা যায়, চুক্তি সইয়ের পর দুদকের আইনজীবী সোলায়মানের জামিনে মুক্তির বিষয়ে কোনো বিরোধিতা করেনি। মামলা দায়ের থেকে চুক্তি সম্পাদন পর্যন্ত এভাবেই অনুঘটক হিসেবে নেপথ্যে থেকে কাজ করে দুদক। সোলায়মানের কাছ থেকে আদায়ের ব্যবস্থা করে দেয় শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের পাওনা ৫০ কোটি টাকা ।
দুদক কর্তৃক গ্রেফতার, রিমান্ড এবং সমঝোতা চুক্তি সম্পাদনের পর মুক্তিলাভ সম্পর্কে জানতে চাইলে মোহাম্মদ সোলায়মান যুগান্তরকে অভিমানের স্বরে বলেন, আমার ভাগ্যে জেলখানা ছিল! কারও প্রতি আমার কোনো অভিযোগ নেই! আমি আর এখন শাহজালাল ব্যাংকের পরিচালক পদে নেই। এ বিষয়ে আর কী বলব? এ নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করবেন না, প্লিজ!
এদিকে সোলায়মানকে গ্রেফতারের ফাঁদে ফেলে অর্থ আদায় করা হলেও আদায়কৃত অর্থ নিয়ে ঘটে আরেক তুলকালাম। নগদ অর্থ না থাকায় শাহজালাল ব্যাংকের উদ্যোক্তা পরিচালক মোহাম্মদ সোলায়মান নিজের কাছে থাকা ১ কোটি ৮৭ লাখ ৭৩ হাজার ৯৬০টি শেয়ার বিক্রি করতে সম্মত হয়েছিলেন বটে। কিন্তু শেয়ার বিক্রির সমুদয় টাকা ব্যাংকে এখনও জমা পড়েনি। অথচ সমুদয় শেয়ার তার আগে ক্রেতার বিও অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার হয়ে যায়। অভিযোগ উঠেছে, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সম্পৃক্ততায় শেয়ারের অবশিষ্ট ৩০ কোটি টাকা পরিশোধ না করে আত্মসাৎ করেন আক্কাস মোল্লাসহ কয়েকজন পরিচালক।
সূত্র জানায়, সোলায়মানের শেয়ার কিনে নেন ব্যাংকটির আরেক পরিচালক আক্কাস মোল্লা। তবে আয়কর ফাঁকি দিতে শেয়ারগুলো কেনেন স্ত্রী শাহান আরা বেগমের বিও অ্যাকাউন্টে। সোলায়মান তার সব শেয়ার ট্রান্সফার করে দিলেও আক্কাস মোল্লা শেয়ারের ৫০ কোটি টাকা পরিশোধ করেননি। শাহজালাল ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বুঝে পায়নি পুরো টাকা। দুটি চেকের মাধ্যমে ২০ কোটি ৬২ লাখ ৩ হাজার ৭৮৯ টাকা ব্যাংকে জমা পড়ে। বাকি ২৯ কোটি ৩৭ লাখ ৯৬ হাজার ২১১ টাকা জমা হয়নি। বলা হচ্ছে, এ অর্থ কতিপয় পরিচালক আÍসাৎ করেছেন। অথচ পুরো টাকা বুঝে না পেয়েও ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ থেকে বিক্রয় প্রক্রিয়া ‘সম্পন্ন হওয়া’র বিষয়টি অনুমোদন করিয়ে নেয়া হয়েছে। পুরো মূল্য পরিশোধ না করে কিভাবে আপনার স্ত্রী ১,৮৭,৭৩,৯৬০টি শেয়ারের মালিক হলেন- জানতে চাইলে শাহজালাল ব্যাংকের পরিচালক আক্কাস মোল্লা যুগান্তরকে বলেন, ব্রোকারেজ হাউসের মাধ্যমে শেয়ার কেনা হয়েছে। সব নিয়ম-কানুন মেনেই শেয়ার কেনা হয়েছে। ব্যাংকের সঙ্গে আন্ডারস্ট্যান্ডিং আছে। তাই পেমেন্টেরও কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি। শেয়ার বিক্রির পুরো টাকা বুঝে না পেয়ে কিভাবে শেয়ার ট্রান্সফার হল- জানতে কয়েকবার ফোন করা হয় শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী ফরমান আর চৌধুরীকে। বহুবার রিং হলেও তিনি ফোন ধরেননি। ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েও পাওয়া যায়নি উত্তর।
এদিকে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পাওনা আদায়ের অনুঘটক হিসেবে দুদকের কাজ করার ঘটনাকে ‘গুরুতর অভিযোগ’ বলে বর্ণনা করেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। দুদকের এ ভূমিকায় উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, এটি যদি সত্য হয়ে থাকে তাহলে অত্যন্ত দুঃখজনক। দুদক একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান। ব্যক্তি বিশেষের স্বার্থে এ প্রতিষ্ঠান ব্যবহৃত হলে একদিন এটি আস্থাহীন প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে।
তাই দুদকের উচিত বিষয়টি পরিষ্কার করা। আরও স্বচ্ছ হওয়া। একটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ হয়ে অর্থ আদায়ের বিষয়ে দুদক কমিশনার (তদন্ত) মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু যুগান্তরকে বলেন, আসামিকে গ্রেফতার করার পর পাওনা টাকা পরিশোধ করেছে। এটি আমাদের অর্জন।
দুদকের তফসিলভুক্ত অপরাধের মামলায় কাকে গ্রেফতার করা হবে আর কাকে করা হবে না এটি দুদকের নিজস্ব বিষয় এবং দুদকের এখতিয়ার। এ জন্য কাউকে কৈফিয়ত দেবে না দুদক।

কারাগারে লতিফ সিদ্দিকী

নানা জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে লতিফ সিদ্দিকীর ঠাঁই হল কারাগারেই। মন্ত্রিসভা ও ক্ষমতাসীন দল থেকে অপসারিত সাবেক এই মন্ত্রী ধর্মীয় উস্কানির মামলার পলাতক আসামি ছিলেন। গ্রেফতারি পরোয়ানা মাথায় নিয়ে দেশে ফেরার একদিন পর মঙ্গলবার দুপুরে তিনি ধানমণ্ডি থানায় আত্মসমর্পণ করেন। এরপর পুলিশ তাকে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) আদালতে হাজির করলে বিচারক আতিকুর রহমান তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। লতিফ সিদ্দিকী তার পক্ষে কোনো আইনজীবী নিয়োগ দেননি। পাশাপাশি জামিনের জন্য কোনো আবেদনও করেননি। এদিকে লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেফতারের দাবিতে পূর্বঘোষিত হরতালের কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছে হেফাজতে ইসলাম ও ইসলামী ঐক্যজোট। তারা সরকারকে ধন্যবাদও জানিয়েছে। লতিফ সিদ্দিকীকে আদালতে আনা হচ্ছে- এমন খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই সিএমএম আদালতের মূল ফটকের সামনে জড়ো হতে থাকেন আইনজীবী ও সাধারণ মানুষ। লতিফ সিদ্দিকীকে বহনকারী প্রিজনভ্যান উপস্থিত হওয়া মাত্রই- ‘নাস্তিকের গালে গালে, জুতা মারো তালে তালে’, ‘ফাঁসি ফাঁসি চাই, মুরতাদের ফাঁসি চাই’ ... ইত্যাদি স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে গোটা আদালত প্রাঙ্গণ। ওই সময় অনেকের হাতে ছিল জুতা ও ঝাড়ু। আদালত থেকে কারাগারে নেয়ার সময়েও একই ধরনের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া প্রদর্শন করেন সাধারণ জনগণ। তবে প্রিজনভ্যান থেকে এজলাসে আনা-নেয়ার পথে তিনি ছিলেন বেশ স্বাভাবিক। ভাবলেশহীনভাবে ওঠানামা করেছেন প্রিজনভ্যানে। আদালত থেকে বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের মূল ফটকে পৌঁছানোর পর নতুন নাটকের জন্ম দেন টাঙ্গাইলে বিতর্কিত এই সংসদ সদস্য। প্রিজনভ্যান থেকে নেমে পকেট গেট (ছোট ফটক) দিয়ে কারাগারে প্রবেশে অসম্মতি জানালে বিশৃংখল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। কারা কর্তৃপক্ষকে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, তাকে ভেতরে নিতে হলে প্রধান ফটক খুলতে হবে। ওই সময় লতিফ সিদ্দিকী উচ্চস্বরে বলতে থাকেন, ‘আমি এখনও এমপি। গত ৩০ বছর আমি পকেট গেট দিয়ে ইন বা আউট হইনি। আজও হবো না।’ আইন-শৃংখলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সময় তাকে বোঝানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। কিন্তু লতিফ সিদ্দিকী তার অবস্থানে অনড় থাকেন। প্রায় ১৭ মিনিট এ অবস্থা চলার সময় কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। পরে কারাগারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা প্রধান গেটটি খুলে দিলে তিনি ভেতরে প্রবেশ করেন।
যেভাবে আত্মসমর্পণ : ধানমণ্ডি থানার ওসি আবু বকর সিদ্দিক যুগান্তরকে জানান, মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নিজেই থানায় ফোন করেন আবদুল লতিফ সিদ্দিকী। ওই সময় ডিউটি অফিসার ছিলেন এসআই জাহাঙ্গীর আলম। লতিফ সিদ্দিকী ল্যান্ডফোনে ডিউটি অফিসারকে জানান, তিনি কিছু সময়ের মধ্যেই থানায় আসবেন। ডিউটি অফিসার তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি তাকে জানালে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে ফোন করেন। খবর পেয়ে রমনা জোনের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (এডিসি) ইব্রাহীম হোসেন থানায় আসেন। ওসি আবু বকর সিদ্দিক জানান, বেলা দেড়টার দিকে লতিফ সিদ্দিকী একটি প্রাইভেট কারে করে থানায় আসেন এবং সরাসরি তার কক্ষে ঢোকেন। এর আগেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে উপস্থাপনের সব কাগজপত্র তৈরি করে রাখা হয়। তৈরি রাখা হয় বিপুলসংখ্যক পুলিশও। থানায় প্রবেশের ১৫ মিনিট পরই ওসি আবু বকর সিদ্দিক তার ব্যবহৃত সরকারি গাড়িতে করেই লতিফ সিদ্দিকীকে নিয়ে আদালতের পথে রওনা হন। তখন এই গাড়ির আগে-পিছে ছিল সাদা ও পোশাকধারী পুলিশের তিনটি গাড়ি।
তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে গোয়েন্দা পুলিশের একটি সূত্র বলেছে, রোববার রাতে কলকাতা থেকে এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইটে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর থেকেই সাবেক এই মন্ত্রী তাদের নজরদারির মধ্যেই ছিলেন। তিনি যেখানে ছিলেন তার আশপাশে সার্বক্ষণিক সাদা পোশাকের পুলিশ ছিল। গ্রেফতারে আইনগত জটিলতা নিয়ে বিতর্ক থাকায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের ‘সবুজ সংকেতের’ অপেক্ষায় ছিল পুলিশ।
ওই কর্মকর্তা আরও জানান, জাতীয় সংসদের স্পিকারের বক্তব্য এবং সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সবুজ সংকেত পাওয়ার পর সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেফতারের উদ্যোগ নেয়া হয়। ওই সময় গোয়েন্দা পুলিশের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকীর সঙ্গে কথা বলেন। লতিফ সিদ্দিকী ওই কর্মকর্তাকে বলেন, ‘আমাকে নিয়ে টানাহেঁচড়ার প্রয়োজন নেই। আমি সকালে থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করবো। আমি মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলছি। আপনারা সকালে আসেন।’
এরপর গোয়েন্দা সংস্থার সংশ্লিষ্টরা সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কথা বলেন। পাশাপাশি স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয় পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের। মঙ্গলবার রাত ২টার দিকে সরকারের ওপর মহল থেকে এ সংক্রান্ত একটি সবুজ সংকেত দেয়া হয়। এতে বলা হয়, লতিফ সিদ্দিকীকে রাতে গ্রেফতার না দেখিয়ে সকালে আত্মসমর্পণের সুযোগ দেয়া। এরপরই গ্রেফতার প্রক্রিয়া থেকে সরে আসে পুলিশ।
আদালতে লতিফ সিদ্দিকী : দুপুর ২টার দিকে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের হাজতখানায় নেয়া হয় সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে। ২টা ২৫ মিনিটে আদালতের এজলাসে তোলা হয় তাকে। আসামির কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে ছিলেন তিনি। ওই সময় বিচারক তাকে বলেন, আপনার কোনো আইনজীবী আছে কিনা? জামিন চেয়েছেন কি? জবাবে লতিফ বলেন, ‘আমি কোনো আইনজীবী নিযুক্ত করিনি। নিজেই নিজের মামলার শুনানি করব। আর জামিন আবেদন করিনি।’
এ সময় মামলার বাদী অ্যাডভোকেট আবেদ রাজাকে কিছু বলার নির্দেশ দেন বিচারক। আবেদ রাজা আদালতকে বলেন, ‘মহানবী ও হজ সম্পর্কে কটূক্তি করে মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিয়েছেন লতিফ সিদ্দিকী। বিশ্বের ২শ’ কোটি মুসলমানের পক্ষে আমি ঘৃণাভরে তার বিরুদ্ধে মামলা করেছি। তার বাবা (লতিফ সিদ্দিকী) আইনজীবী ছিলেন। তার সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত কোনো বিরোধ নেই। কিন্তু তিনি জঘন্য অপরাধ করেছেন। তাই তার শাস্তি দাবি করছি।’ তার এ বক্তব্যের পরই বিচারক আদেশ দেন। তিনি বলেন, ‘আসামি জামিনের কোনো আবেদন করেনি। তাই তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিচ্ছি। তাকে কারাগারে পাঠানো হোক।’
৭ মিনিটের শুনানি : এজলাসে লতিফ ছিলেন মাত্র সাত মিনিট। কারাগারে পাঠানোর আদেশের পর আসামির কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে কথা বলতে থাকেন। তিনি বলেন, এটা একটি জামিনযোগ্য মামলা।
হাজতখানায় ২০ মিনিট : কারাগারে নেয়ার আদেশের পর পুলিশ তাকে সিএমএম কোর্ট হাজতখানা চত্বরে নিয়ে যায়। ওই সময় চত্বরে রাখা এক উচ্চপদস্থ পুলিশের গাড়িতে তাকে রাখা হয়। তখন তিনি পুলিশের কাছে পানি পান করার আগ্রহ প্রকাশ করলে তাকে পানি দেয়া হয়। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পুলিশ কর্মকর্তার গাড়িতে হাসিমুখে বসেছিলেন তিনি।
গত ২৮ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে এক অনুষ্ঠানে লতিফ সিদ্দিকী বলেছিলেন, ‘আমি কিন্তু হজ আর তাবলিগ জামাতের ঘোরতর বিরোধী। আমি জামায়াতে ইসলামীরও বিরোধী। এ হজে যে কত ম্যানপাওয়ার নষ্ট হয়। এ হজের জন্য ২০ লাখ লোক সৌদি আরবে গেছেন। এদের কোনো কাজ নাই। কোনো প্রোডাকশন নাই, শুধু ডিডাকশন দিচ্ছে। শুধু খাচ্ছে আর দেশের টাকা বিদেশে দিয়ে আসছে।’
তার এসব মন্তব্য নিয়ে সারা দেশে শুরু হয় তোলপাড়। তার ফাঁসির দাবিতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সভা-সমাবেশ ও মানববন্ধন অব্যাহত থাকে ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ায় লতিফ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে ঢাকাসহ দেশের ১৮ জেলায় তার বিরুদ্ধে ২২টি মামলা হয়। প্রত্যেকটি আদালত তার বিরুদ্ধে সমন জারি করে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু তিনি নির্ধারিত সময়ে আদালতে হাজির না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে জারি হয় গ্রেফতারি পরোয়ানা।
মন্ত্রিসভা ও দল থেকে বাদ : ওই বক্তব্যের পর গত ১২ অক্টোবর আমেরিকায় থাকাকালেই লতিফ সিদ্দিকীকে মন্ত্রিসভা থেকে অপসারণের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। ওই দিনই আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যপদ থেকে তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়। পরে তার দলের প্রাথমিক সদস্যপদও বাতিল করা হয়। পরে তিনি আমেরিকা থেকে ভারতে আসেন। কলকাতায় কিছুদিন অবস্থানের পর নাটকীয়ভাবে রোববার (২৩ নভেম্বর) রাত ৮টা ২১ মিনিটে তিনি এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইটে ঢাকায় আসেন। হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে ভিআইপি লাউঞ্জ দোলনচাঁপায় প্রায় এক ঘণ্টা বসিয়ে রাখেন। এ সময় সরকারের উচ্চপর্যায়ে যোগাযোগ করা হয় বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে। কিন্তু কোনো নির্দেশনা না থাকায় গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা তাকে আটক না করে বের হয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেন। তবে তখন থেকেই লতিফ সিদ্দিকী গোয়েন্দা নজরদারির মধ্যেই ছিলেন বলে গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছিল। এর মধ্যেই সোমবার লতিফ সিদ্দিকী আগাম জামিন নিতে হাইকোর্টে যান বলে এমন খবর ছড়িয়ে পড়ে। তবে কেউ তা স্বীকার করেনি।

আজই মাশরাফির প্রথম সিরিজ জয়?

বাংলাদেশ দলের অনুশীলন শুরুর সময় ছিল বেলা আড়াইটার পর। সাকিব আল হাসান জিমে ঘাম ঝরিয়েছেন তারও কয়েক ঘণ্টা আগে থেকে। টানা পাঁচ জয়ের পরও বাংলাদেশ জিম্বাবুয়েকে হালকাভাবে নিচ্ছে না। আজ মিরপুরে তৃতীয় ওয়ানডে জিতলেই দুই ম্যাচ হাতে রেখে সিরিজ নিশ্চিত করবে স্বাগতিকরা। অধিনায়ক মাশরাফি মুর্তজা অধিনায়ক হিসেবে এর আগে নয় ম্যাচের পাঁচটিতে জয় পেলেও সিরিজ জেতা হয়নি তার। আজ জিতলেই অধিনায়ক হিসেবে প্রথম সিরিজ জিতবেন মাশরাফি। চট্টগ্রামে ২-০-তে এগিয়ে থাকা বাংলাদেশের লক্ষ্য আজই সিরিজ নিশ্চিত করা। ডে-নাইট ম্যাচ শুরু হবে বেলা ১২টা ৩০ মিনিটে। সরাসরি ম্যাচটি সম্প্রচার করবে গাজী টেলিভিশন।
ভারতের বিপক্ষে সিরিজের পর মিরপুরে আবার ওয়ানডে ক্রিকেট ফিরছে। চট্টগ্রাম ও মিরপুরের উইকেটের পার্থক্য সবার জানা। একাদশে পরিবর্তন হতে পারে। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ব্যাটিং অর্ডারে পরিবর্তন আনা হয়েছিল। মিরপুরে সাকিব ও মুশফিককে আগে ব্যাট করতে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে টিম ম্যানেজমেন্টের। মাশরাফি বলেন, স্বস্তিতে থাকার কিছু নেই। এমনটা ভাবলেও তা হবে অপেশাদার মনোভাব। আমার মনে হয় না যে, আমরা খুব ধারাবাহিক। সিরিজ জয়ের ব্যাপারে বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, আমরা প্রত্যেকটা ম্যাচ জেতার জন্যই খেলছি। কালকের (আজ) ম্যাচ জিতলে আমাদের জন্য সহজ হয়ে যাবে সিরিজ। কেউই চাইবে না সুযোগ হারাতে। এদিকে জিম্বাবুয়ে টাইগারদের পিছু ধাওয়া করেই চলেছে। সিরিজে তিনটি টেস্ট আর দুটি ওয়ানডে খেলার পরও স্পিনারদের সামনে অসহায় এল্টন চিগুম্বুরারা। ব্যাটিং অনুশীলনে স্পিন নিয়ে তাই কাল সময় ব্যয় করল জিম্বাবুয়ে। একটা জয়ের জন্য তৃষ্ণার্ত অতিথিরা। কাল ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক চিগুম্বুরা বলেন, আমরা এখনও জয় পাইনি। একটা জয়ের জন্য আমরা ক্ষুধার্ত। সিবান্দা মনে করছেন নিজেদের বাঁচা-মরার ম্যাচে জয়ে ফিরবে জিম্বাবুয়ে। মিরপুরে বাংলাদেশ সর্বশেষ ২০১৩ সালের অক্টোবরে ম্যাচ জিতেছে। এরপর আট ম্যাচের মধ্যে সাতটিতেই হার। একটি ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়। দ্বিতীয় ওয়ানডের জন্য বাংলাদেশ দলে শুধু বাদ পড়েছেন আল-আমিন হোসেন। মিরপুরেও তিন পেসার নিয়ে খেলতে পারে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে এনামুল হক ও তামিম ইকবালের রেকর্ড ১৫৮ রানের জুটি বাড়তি আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে। তৃতীয় ওয়ানডেতেও ওপেনিং জুটি থেকে বড় রানের আশা করছে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে মাশরাফির দুর্দান্ত বোলিংয়ের সঙ্গে স্পিনার আরাফাত সানি চার উইকেট নিয়েছিলেন। মিরপুরের উইকেটে টার্ন ও বাউন্স হবে বলে ধারণা মাশরাফির।

কাদের মোল্লার ন্যায়বিচার পাওয়া না পাওয়ার প্রশ্ন

ফাঁসির রায় কার্যকর করার ক্ষেত্রে সরকারের তাড়াহুড়োর কারণে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লা ন্যায়বিচার পেয়েছিলেন কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তার আইনজীবীরা বলছেন, সরকার তাড়াহুড়ো করে তাকে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত করেছেন। তবে এ বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা।
মঙ্গলবার কাদের মোল্লার রিভিউ আবেদন খারিজ করে দেয়া রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়। এতে আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইন ১৯৭৩-এ দণ্ডিত ব্যক্তিদের পক্ষে রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন দায়েরের জন্য ১৫ দিন সময় দেয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার আপিল বিভাগের পূর্ণ রায় প্রকাশের পর তার আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, সরকারের তাড়াহুড়োর কারণে সেদিন তড়িঘড়ি করে রিভিউ আবেদন করা হয়েছিল। আমরা যদি সময় পেতাম, তাহলে ভালোভাবে প্রস্তুতি নিতে পারতাম। কিন্তু আমাদের তখন সময় দেয়া হয়নি। সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির এ সভাপতি আরও বলেন, কাদের মোল্লার ক্ষেত্রে আইনের ব্যত্যয় ঘটানো হয়েছে। সরকারের তাড়াহুড়োর কারণে তিনি ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হলেন কিনা জনমনে এখন সেই প্রশ্ন উঠেছে।
কাদের মোল্লার আরেক আইনজীবী তাজুল ইসলাম বলেন, এই রায়ের মাধ্যমে প্রমাণিত হল, কাদের মোল্লার রিভিউ আবেদন দায়েরের জন্য ১৫ দিন সময় ছিল। কিন্তু সরকারের তাড়াহুড়োর কারণে আমরা দ্রুত রিভিউ আবেদন করতে বাধ্য হয়েছিলাম। পরে তা দু’দিনের শুনানি করেই খারিজ করা হয়েছিল। রিভিউয়ের জন্য সময় পেলে কাদের মোল্লা আরও কয়েকদিন বেঁচে থাকতেন। তাকে অবশ্যই ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। তবে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, তিনি কেন ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হবেন? তার রিভিউ আবেদনের শুনানি করেই তো খারিজ করা হয়েছে।
ট্রাইব্যুনালের রায়ে যাবজ্জীবন দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত আবদুল কাদের মোল্লাকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়ে গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর রায় দেন আপিল বিভাগ। ৫ ডিসেম্বর রায়ের পূর্ণ অনুলিপি প্রকাশিত হয়। রায়ের কপি প্রকাশের পর ৮ ডিসেম্বর তা ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। ট্রাইব্যুনাল সেদিনই মৃত্যুপরোয়ানা জারি করে আদেশটি ঢাকার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও কারা কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠান। ৯ ডিসেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, সংবিধান অনুযায়ী রায় পুনর্বিবেচনার এবং জেল কোডের কোনো বিধান কাদের মোল্লার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। তাই যে কোনো দিন তার ফাঁসির রায় কার্যকর করা যাবে।
অ্যাটর্নি জেনারেলের এ বক্তব্যের পরের দিন রাতে ফাঁসি কার্যকরের উদ্যোগ নেয় কারা কর্তৃপক্ষ। ওই রাতেই কাদের মোল্লার পক্ষে দুটি আবেদন দাখিল করা হয় আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালতে। এর একটি ছিল রিভিউ আবেদন গ্রহণযোগ্যতার বিষয়ে, অন্যটি ছিল রিভিউ আবেদন। এ দুটি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে চেম্বার বিচারপতি কাদের মোল্লার ফাঁসি স্থগিত করার আদেশ দেন। এরপর ১১ ও ১২ ডিসেম্বর শুনানি নিয়ে আপিল বিভাগ দুটি আবেদনই খারিজ করে দেন। ১২ ডিসেম্বর রাতেই কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকর করা হয়। রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশের পর থেকে তার ফাঁসি কার্যকরে সময় লাগে এক সপ্তাহ।
জামায়াতের আরেক সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ কামারুজ্জামানের ফাঁসির রায়ের পরও একই অবস্থা দেখা যায়। ৩ নভেম্বর আপিলে ফাঁসি বহাল রাখার রায়ের পরে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, ‘এই রায় রিভিউয়ের (পুনর্মূল্যায়নের) কোনো সুযোগ আছে বলে আমি মনে করি না’। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘এর আগে কাদের মোল্লার রায়ের পরেও তার পক্ষ থেকে একটি রিভিউ আবেদন হয়েছিল, আদালত তা খারিজ করে দেন। এক্ষেত্রে রিভিউয়ের আর কোনো সুযোগ নেই’।
অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যক্তিগত মত জানিয়ে বলেন, ‘কামারুজ্জামানের ফাঁসি কার্যকরে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায়ের অনুলিপির প্রয়োজন হবে না। সংক্ষিপ্ত আদেশেও তার ফাঁসি কার্যকর করা যেতে পারে’। এর দু’দিন পর আইনমন্ত্রী তার বাসভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, কামারুজ্জামানের ফাঁসি কার্যকরের জন্য কারা কর্তৃপক্ষকে প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। তিনি প্রাণভিক্ষার জন্য সাত দিনের সময় পাবেন। যখন থেকে তিনি মৃত্যুদণ্ড বহালের খবর শুনেছেন, তখন থেকে এ সাত দিনের গণনা শুরু হয়েছে।
পরে অবশ্য অ্যাটর্নি জেনারেল এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, সংক্ষিপ্ত আদেশ পাঠানো হবে, নাকি পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি পাঠানো হবে, তার সম্পূর্ণ এখতিয়ার আপিল বিভাগের। এছাড়া আপিল বিভাগ যেহেতু এখনও সংক্ষিপ্ত আদেশ পাঠাননি, সেহেতু পূর্ণাঙ্গ অনুলিপিই পাঠাবেন বলে ধারণা করছি। মঙ্গলবার রায় প্রকাশের পর অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, রিভউয়ের রায় প্রকাশ হওয়ায় কামারুজ্জামানের রিভিউ নিয়ে দোদুল্যমনতা কেটে গেল। আমি বলেছিলাম রিভউ করার সুযোগ নেই। কিন্তু সুপ্রিমকোর্টের এখতিয়ার বলে তার একটা সুষ্ঠু সমাধান হল।
মাহবুবে আলম আরও বলেন, কামারুজ্জামানের রিভিউ করার সুযোগ করে দিলেও তার ক্ষেত্রে জেলকোড প্রযোজ্য হবে না বলে রায়ে বলা হয়েছে। তবে কামারুজ্জামানের রিভিউ আবেদনের নিষ্পত্তি হওয়ার পরে রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা (প্রাণ ভিক্ষা) চাইতে পারবেন। রিভিউ আবেদনের পরে কামারুজ্জামানের রায়ের কোনো পরিবর্তন না হলে রায় দ্রুত কার্যকর করতে হবে। খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, রিভিউ মানে ভুল সংশোধন করা, সঠিকভাবে মূল্যায়ন করা এবং আইনের বরখেলাপ হয়েছে কিনা তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে দেখা। যদি রায়ে কোনো ভুল হয় তা সংশোধন করে দেয়া। কামারুজ্জামানের ক্ষেত্রে আপিল বিভাগের রায় প্রকাশের পর খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখার পর রিভউ আবেদন করা হবে।

জনগণকে জাগিয়ে তুলতে হবে : বি চৌধুরী

সাবেক প্রেসিডেন্ট প্রফেসর এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেছেন, দেশের সঙ্কট মুহূর্তে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। দেশবাসীকে জাগিয়ে তুলতে হবে। তা না হলে শহীদ ডা. শামসুল আলম খান মিলনের রক্তের ঋণ শোধ করা যাবে না।
আজ বুধবার বিএনপির চিকিৎসক সংগঠন ড্যাপ আয়োজিত ডা. মিলনের ২৪গত শাহাদাত বার্ষিকীর আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
বি চৌধুরী বলেন, ডা. মিলনের শাহাদাতে বাংলাদেশ যেমন জেগে উঠেছিল তেমনি সকল দল ও মতের লোকদের নিয়ে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ করে এই সরকারের পতন ঘটাতে হবে।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিএমএ’র সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ড. এম এ মাজেদ, ডাকসু ভিপি আমানুল্লাহ আমান, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, ড্যাবের মহাসচিব অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন, ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও বর্তমানে বিএনপি নেতা হাবিবুর রহমান হাবিব। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ড্যাব সভাপতি অধ্যাপক ডা. এ কে এম আজিজুল হক।

ঢাকায় লতিফ সিদ্দিকীর ৪২ ঘণ্টা

নিউইয়র্ক থেকে কলকাতা হয়ে ঢাকা এসে থামল লতিফ সিদ্দিকীর ঝড়। এর আগেই ঝড়ের তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছেন তিনি। উড়ে গেছে মন্ত্রিত্ব, হারিয়েছেন প্রেসিডিয়াম এবং দলীয় সদস্য পদ। সব খুইয়ে প্রায় নিঃস্ব লতিফ সিদ্দিকীর বর্তমান ঠিকানা ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার। মঙ্গলবার দুপুরের পর তাকে আদালত থেকে কারাগারে পাঠানো হয়। এর আগের ৪২ ঘণ্টা দাপটের সঙ্গেই দখলে রেখেছিলেন গণমাধ্যমগুলো।
নিউইয়র্কের লতিফ সিদ্দিকী ঝড় কলকাতায় এসে কিছুটা স্তিমিত হয়ে এসেছিল। কিন্তু রোববার সন্ধ্যায় নিস্তেজ হয়ে পড়া ঝড়ো হাওয়া গতি পথ পাল্টে ঢাকার দিকে এগোতে থাকে। রাত সাড়ে আটটার আগে আঘাত হানে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইটে তিনি ঢাকায় ফিরলে গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা ছুটতে থাকেন বিমানবন্দরে। শুরু হয় তোলপাড়।
শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকেই সাবেক মন্ত্রীর নাটকটি বিয়োগান্তক পরিণতির দিকে এগোতে থাকে। নাটকের ট্রাজিক হিরো আত্মগোপনের চেষ্টা করেন। গোপনে বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে ছেলের বাসার সামনে দিয়ে বন্ধুর বাসা হয়ে সাবেক এ প্রেসিডিয়াম সদস্য বেছে নেন ধানমণ্ডি থানা। থানা থেকে আদালত, সেখান থেকে কারাগার। এরপর যবনিকা।
রোববার রাত ৮টা ২১ মিনিট থেকে মঙ্গলবার দুপুর দেড়টা পর্যন্ত দীর্ঘ ৪২ ঘণ্টার ঘটনাক্রম প্রায় এমনই। এর আগে ২৮ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে ধর্ম নিয়ে কটাক্ষ করায় দেশ-বিদেশে সর্বত্র ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন জেলায় ২২টি মামলা হয়। জারি হয় গ্রেফতারি পরোয়ানা। এই সাবেক মন্ত্রী ঢাকায় এলে বিশৃংখলার আশংকা দেখা দেয়। হরতালের ডাক দেয় বিভিন্ন সংগঠন।
সাবেক এই ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী হযরত শাহজালাল (র) বিমানবন্দরে নেমেই তিনি যাকে ফোন করেন তার অবস্থান ছিল উত্তরা ৫ নম্বর সেক্টর এলাকা। সেখান থেকে ঘনিষ্ঠ দুই ব্যক্তি গাড়ি নিয়ে আসেন শাহজালালের এক নম্বর আন্তর্জাতিক টার্মিনালে। এখান থেকে উত্তরা ৫ নম্বর সেক্টরের তিন নম্বর সড়কের একটি বাসায় যান। কিন্তু বাসায় ঢোকেননি। পরবর্তী ঠিকানা গুলশান বন্ধুর বাড়ি। এখানেই দুদিন অবস্থান করেন। বিমানবন্দর থেকে উত্তরা হয়ে গুলশান আসার পথে গোয়েন্দারা তাকে একবার হারিয়ে ফেলে। ওই ফোনকলের সূত্র ধরে তার সন্ধান পায় গোয়েন্দারা। সাবেক এ মন্ত্রীর দেশে ফেরায় আইনশৃংখলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে- এ আশংকায় একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা তার ওপর নজরদারি শুরু করে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গুলশান-১ নম্বরে তার বন্ধুর বাড়িতেই ডিএমপির একজন উপ-কমিশনার (ডিসি) মর্যাদার কর্মকর্তা তার সঙ্গে সোমবার রাতে দেখা করেন। ওই কর্মকর্তা লতিফ সিদ্দিকীকে আত্মসমর্পণের পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, স্যার আপনার জন্য আত্মসমর্পণই হবে শ্রেয়।
ডিসির কথায় লতিফ সিদ্দিকী তখন কিছুটা ভেঙে পড়েন। বলেন, রাতে নয় দিনেই তিনি নিজে থানায় গিয়ে হাজির হবেন। রাত সাড়ে ১২টার দিকে পুলিশের এই উপ-কমিশনার লতিফ সিদ্দিকীর অবস্থানের বিষয়টি পুলিশ সদর দফতরকে অবহিত করেন। পুলিশ কর্মকর্তা গুলশানের ওই বাসা থেকে বের হওয়ার সময় লতিফ সিদ্দিকীর সঙ্গে হ্যান্ডশেক করেন। তখন সাবেক এ মন্ত্রী এই কর্মকর্তাকে গলা জড়িয়ে ধরেন। বলেন, যাও ভালো থেকো, কাল আমি হাজির হচ্ছি। অবশেষে কথা রেখেছেন ধর্ম নিয়ে কটাক্ষ করা সাবেক এই মন্ত্রী। তিনি মঙ্গলবার দুপুর দেড়টায় ধানমণ্ডি থানায় হাজির হন।
এর আগে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তিনি গুলশান-১ নম্বরের ওই বাসা থেকে বের হন। আর দশজন সাধারণ মানুষের মতো একটি সিএনজি নিয়ে ধানমণ্ডির ১২ নম্বরের এক বাসায় গিয়ে কিছু সময় কাটান। নিচে দাঁড়ানো ছিল সিএনজি। পরে আবদুল লতিফ সিদ্দিকী বেলা ১টা ৩০ মিনিটে ধানমণ্ডি থানায় প্রবেশ করেন। সাবেক মন্ত্রীকে থানায় প্রবেশ করতে দেখে আঁতকে ওঠেন প্রধান গেটের নিরাপত্তায় থাকা কনস্টেবল নূরুল ইসলাম। জিজ্ঞাসা করেন, স্যার, আপনি কোথায় যাবেন। এমপি নরম স্বরে বলেন আমাকে চিনো না? ওসির রুমে যাচ্ছি। তারপর তিনি সোজা ওসির রুমে যান। তখন কক্ষে থাকা ওসি সোজা হয়ে দাঁড়ান। সম্মান দিয়ে ওসি বলেন, স্যার সালাম। কেমন আছেন? উত্তরে আবদুল লতিফ সিদ্দিকী বলেন, ভালো আর কই। ওসি বলেন, স্যার আমরা তো আপনাকেই খুঁজছি এলেন ভালোই হল। লতিফ সিদ্দিকী তখন বলেন, ওসি সাহেব ভাবলাম আপনাদের খুঁজতে কষ্ট হবে, তাই নিজেই চলে এলাম। আমি হাজির হলাম।
ধানমণ্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুবকর সিদ্দিক সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর সঙ্গে তার এই সাক্ষাৎ-আলাপের কথাগুলো যুগান্তরকে নিশ্চিত করেন। ওসি বলেন, ধানমণ্ডি থানায় তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই। তাই তাকে তিনি আদালতে নিয়ে যান। ধানমণ্ডি থানার ওসি সাবেক মন্ত্রীকে জিজ্ঞেস করেন, স্যার এই থানায় তো আপনার বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা পরোয়ানা নেই? তাহলে আসলেন কেন? উত্তরে সাবেক মন্ত্রী বলেছেন, ইচ্ছে হল তাই এলাম।
কিন্তু গোয়েন্দা সংস্থার এই সদস্য কোন স্থান থেকে সঙ্গী হন লতিফ সিদ্দিকীর? এর উত্তর পাওয়া গেছে অপর এক গোয়েন্দা সংস্থার কাছ থেকেই। সংস্থাটির একজন কর্মকর্তা বলেন, রোববার রাতে পুরোদমে নাটক করেছিলেন সাবেক এই মন্ত্রী। তিনি উত্তরার ৫ নম্বর সেক্টরে তিন নম্বর রোডে যাবেন বলে তার প্রাইভেটকার অনুসরণ করেন গোয়েন্দারা। হঠাৎ তার গাড়িটি হাওয়া হয়ে যায়। তারপর গোয়েন্দা টিমের একজন সদস্য উত্তরা পশ্চিম থানায় যোগাযোগ করে জানার চেষ্টা করেন থানার কাছে লতিফ সিদ্দিকীর কোনো অবস্থানের তথ্য আছে কিনা। থানা থেকে বলা হয়, তাদের কাছে আগে থেকে কোনো বার্তা ছিল না। এ সময়ের মধ্যে লতিফ সিদ্দিকী গুলশানে তার বন্ধুর বাড়িতে চলে আসেন। গোয়েন্দারা তখন প্রযুক্তিগত তদন্ত চালিয়ে জানতে পারেন লতিফ সিদ্দিকী যাকে ফোন করে গাড়িসহ আসতে বলেছিলেন শাহজালাল বিমানবন্দরে তার অবস্থান গুলশানে। ওই সূত্র ধরে গভীর রাতে তারা সাবেক এ মন্ত্রীর অবস্থানের পিন পয়েন্ট চিহ্নিত করেন। ওই রাত থেকেই সেই গোয়েন্দা কর্মকর্তা লতিফ সিদ্দিকীর সঙ্গেই ছিলেন। সর্বশেষ তিনিই তাকে গুলশান থেকে ধানমণ্ডি থানা পর্যন্ত পৌঁছে দেন।
লতিফ সিদ্দিকীকে ধানমণ্ডি থানার ওসির গাড়িতে করে আদালতে নেয়া হয়। এ সময় তার পরনে ছিল সাদা স্ট্রাইপ শার্ট, কালো প্যান্ট ও সাদা জুতো। তখন তার সঙ্গে থাকা একজন পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে সাবেক এ মন্ত্রীর দীর্ঘ সময় আলাপ হয়। এ সময় লতিফ সিদ্দিকী ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে বলেন, উত্তরায় তার ছেলের বাসা ছিল সেখানেও যাননি। উত্তরাতে আরেক আত্মীয়ের বাাড়িতে তার ওঠার কথা ছিল সেখানে যাননি। তিনি গুলশানে তার বন্ধুর বাড়িতেই ছিলেন। আবার গুলশানেও ছেলে অনিক সিদ্দিকীর বাসা আছে সেখানেও যাননি। ওই কর্মকর্তাকে তিনি আরও জানিয়েছেন, মানুষের কখন যে কি হয়ে যায় বলা যায় না। এই যে আমি কি বলতে গিয়ে কি বলে ফেলেছি। আর কিছু না বলে লতিফ সিদ্দিকী ভেঙে পড়েন। অনেকক্ষণ গাড়িতেই চোখ বন্ধ করে থাকেন। চোখ খুলে বলেন, আর কত দূর আদালত? তখন ওই কর্মকর্তা বলেন, স্যার মাঝামাঝি এসেছি।
গাড়িতে থাকা ওই কর্মকর্তাকে বলেছেন, আমি জানি গোয়েন্দারা আমার পিছু নিয়েছেন। আমি তো ধরা দিতেই এসেছি। জানি এটা নিয়ে কোনো সমঝোতা নয়। আর আমি তা আশাও করিনি। এ জন্যই তো দেশে এসেছি। গোয়েন্দাদের একটি সূত্র জানিয়েছে, লতিফ সিদ্দিকী গুলশানের ওই বাড়িতে অবস্থানের পর সরকারের প্রভাবশালী কয়েকজন ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলেন। তারাও তাকে সাফ বলে দিয়েছেন- উপায় নেই, একমাত্র পথ আদালত। এদিকে লতিফ সিদ্দিকী গাড়িতে থাকা অবস্থায় ধানমণ্ডি থানার ওসিকে বলেছেন, ওসি সাহেব পানি আছে। তখন ওসি আবুবকর সিদ্দিক বলেন, স্যার ফোটানো ভালো পানি আছে। পানি পান করে লতিফ সিদ্দিকী বোতলটি ওসির হাতে দিয়ে বলেন, থ্যাঙ্কস। ওসি বলেন, ওয়েলকাম স্যার।
ঘনিষ্ঠ সূত্র জানায়, ৪২ ঘণ্টায় লতিফ সিদ্দিকী অনেকের সঙ্গে শুধু পরামর্শ করেছেন। আর এ সময় পরিবারের লোকদের সঙ্গে তার কথা কমই হয়েছে। তিনি সরকারের উঁচু সারিতে থাকা বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে কথা বলেছেন। কেউ তাকে আশ্বস্ত করতে পারেনি। সবার সে ফ উচ্চারণ ছিল, আপনি আদালতে হাজির হন।

ঘুষ দুর্নীতির শীর্ষে প্রকৌশলী শহিদুর রহমান

এলজিইডির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শহিদুর রহমান প্রামাণিকের বিরুদ্ধে অভিযোগের অন্ত নেই। মুক্তিযোদ্ধা না হয়েও চাকরির মেয়াদ বাড়ানোর জন্য অনৈতিক উপায়ে সনদ নিয়েছেন। রয়েছে বিস্তর দুর্নীতির অভিযোগ। দুর্নীতি ও ক্ষমতা অপব্যবহারের অভিযোগে এলজিইডি থেকে তার বিরুদ্ধে ৫টি বিভাগীয় মামলা দায়েরের প্রস্তাব পাঠানো হলেও তিন মাস যাবত মন্ত্রণালয়ে পড়ে আছে। অজ্ঞাত কারণে মামলা দায়েরের অনুমতি মিলছে না। ওদিকে গত মাসে তাকে স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে পটুয়াখালী জেলায় বদলি করা হলেও তিনি সেখানে যোগ দেননি। এলজিইডির একাধিক সূত্র জানিয়েছে, চাকরিজীবনে অসদুপায়ে শহিদুর রহমান নামে-বেনামে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। গুরুত্বপূর্ণ একটি গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকেও তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্টভাবে একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। কিন্তু রহস্যজনক কারণে কোনো অভিযোগ আমলে নিয়ে তদন্ত করা হয়নি। গোয়েন্দা সংস্থার তিন পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ময়মনসিংহে নির্বাহী প্রকৌশলী থাকাবস্থায় তার বিরুদ্ধে ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগসাজশ করে অর্থ আত্মসাতের মামলা হয়। এছাড়া যশোর, রাজশাহী, নোয়াখালীসহ যেসব স্থানে তিনি চাকরি করেছেন সেখানে তার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির একাধিক অভিযোগ রয়েছে। পরে তদবির করে শহিদুর রহমান এলজিইডির সদর দফতরে পোস্টিং নেন। এরপর কয়েক কোটি টাকা ঘুষ দিয়ে আমব্রেলা প্রজেক্টের মতো সবচেয়ে বড় প্রকল্পে যোগ দেন। পিকে চৌধুরীকে সরিয়ে তিনি এই প্রকল্পের পিডি হিসেবে দায়িত্ব নেন। আমব্রেলা প্রজেক্টের আওতায় ওই সময় সারা দেশে সংসদীয় আসনে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার কাজ করা হয়। এলজিইডি সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়, এই প্রকল্প থেকে শহিদুর রহমান ১০০ থেকে ১৫০ কোটি টাকার অবৈধ সুবিধা নিয়েছেন। এছাড়া তার বিরুদ্ধে ক্ষমতা অপব্যবহার করে এলজিইডির অন্য প্রকৌশলীদের কাছ থেকে উৎকোচ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে। গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় শীর্ষ দুর্নীতিবাজদের প্রথম তালিকায় তার নাম ছিল। তিনি ওই সময় নোয়াখালী জেলায় কর্মরত ছিলেন। সেনাবাহিনীর একজন সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তার ভাইয়ের মাধ্যমে তিনি দুর্নীতি দমন কমিশনের তালিকা থেকে রক্ষা পান। ওই সূত্রে হঠাৎ তিনি ব্যাপক ক্ষমতাধর হয়ে ওঠেন এবং এলজিইডির অন্যতম প্রভাবশালী কর্মকর্তা হিসেবে আবির্ভূত হন। বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের সময় তার একটি ব্যাংক একাউন্টে ২০০২ সালের ৪ মে চেকের মাধ্যমে ১৮ লাখ টাকা, ২০ সেপ্টেম্বর দু’টি পে-অর্ডারে ২৫ লাখ টাকা, ২০০৩ সালের ১২ জুন চেকের মাধ্যমে ৯ লাখ টাকা, ২০০৪ সালের ২২ এপ্রিল ১১ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং ২৩ মে অপর একটি চেকে বড় অংকের অর্থ জমা হয়। এসব অর্থের কোনো বৈধ সোর্স নেই এবং তার আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিহীন। ধারণা করা হচ্ছে, এগুলো ঘুষের টাকা।
শহিদুর রহমান মোহাম্মদপুরের ইকবাল রোডে যে ফ্ল্যাটে থাকেন সেটি তার নিজের এবং ফ্ল্যাটটির বর্তমান বাজার মূল্য কোটি টাকার ওপরে। এই এলাকায় তার আরও একটি ফ্ল্যাট আছে। এছাড়া নামে-বেনামে ১৬১/১ মালিবাগ বাজার রোডে একটি বাড়ি, মেরুল বাড্ডায় আরও একটি বাড়ি এবং গাজীপুরে কয়েক কোটি টাকা মূল্যের ১০ বিঘা জমি রয়েছে।
দুর্নীতিবাজ হিসেবে বিশেষ পরিচিতি পাওয়া এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধার সনদ গ্রহণ নিয়েও জালিয়াতি করার অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়, অতিরিক্ত সময় চাকরি করার জন্য তিনি মুক্তিযোদ্ধা না হয়েও ভিন্ন উপায়ে মুক্তিযোদ্ধার সনদ জোগাড় করেন। গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার লায়েক আলী খান মিন্টু প্রধানমন্ত্রী বরাবর লেখা একটি পত্রে জানিয়েছেন, তার উপজেলার চন্ডিপুর ইউনিয়নের সন্তান শহিদুর রহমান প্রামাণিকের পিতা মৃত তমিজ উদ্দিন প্রামাণিক ১৯৭১ সালে চন্ডিপুর পাকবাহিনী ক্যাম্পের কুখ্যাত দালাল ছিলেন। তার পরিবার রাজাকার হিসেবে পরিচিত। তিনি কখনও মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না। এলাকার কুখ্যাত রাজাকার কমান্ডার শলু মিয়া তার নিকটাত্মীয়। স্বাধীনতা যুদ্ধের পর তার বাড়ি থেকে লুটের মালামাল উদ্ধার করা হয়। তারা এলাকায় স্বাধীনতাবিরোধী ও জামায়াত ঘরনার লোক বলে পরিচিত। তার ভাই স্থানীয় মাদ্রাসার অধ্যক্ষ শামীম হোসেন প্রামাণিক সক্রিয়ভাবে জামায়াতে ইসলামী মনোভাবাপন্ন।
এদিকে স্থানীয় সরকার বিভাগের কয়েকজন কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, দুর্নীতি ও ক্ষমতা অপব্যবহারের অভিযোগে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (পানিসম্পদ, পরিকল্পনা ও নকশা) শহিদুর রহমান প্রামাণিককে ১২ অক্টোবর এলজিইডির সদর দফতর থেকে পটুয়াখালী অঞ্চলে বদলি করা হয়। পরদিন তাকে রিলিজও করা হয়। কিন্তু অদ্যাবধি তিনি সেখানে যোগ দেননি। উল্লিখিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে জানতে চাইলে মঙ্গলবার শহিদুর রহমান প্রামাণিক যুগান্তরকে বলেন, তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত কোনো অভিযোগই সত্য নয়। একটি মহল তাকে হেনস্তা করতে ষড়যন্ত্র করছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তিনি ছুটিতে আছেন। এজন্য নতুন কর্মস্থলে যোগ দেননি। সম্ভবত তিনি যোগ দেবেন না। প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন কিনা জানতে চাইলে শহিদুর রহমান বলেন, ‘আমার নিয়মিত চাকরির মেয়াদ রয়েছে ২০১৬ সাল পর্যন্ত। তিনি এখনও মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে কোনো সুবিধা নেননি।’