Saturday, August 2, 2025

স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত প্রতিরোধ চলবে: হামাস

স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা না হওয়ার প্রতিরোধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে হামাস। গত মঙ্গলবার জাতিসংঘের সদর দপ্তর থেকে দেওয়া এক ঘোষণাপত্রের অস্ত্র ত্যাগের আহ্বানের জবাবে সংগঠনটি এ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার হামাসের সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দখলদারির অবসান এবং জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন ও সম্পূর্ণ সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত প্রতিরোধ থামাবে না তারা।

মঙ্গলবার জাতিসংঘের সদর দপ্তর থেকে দেওয়া ঘোষণায় বলা হয়েছিল, ‘গাজায় যুদ্ধ বন্ধে হামাসকে (এই উপত্যকায়) তার শাসনের অবশ্যই অবসান ঘটাতে হবে এবং আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণ ও সমর্থনের মাধ্যমে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের কাছে অস্ত্র সমর্পণ করতে হবে। সার্বভৌম ও স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যের সঙ্গে এটি সংগতিপূর্ণ।’

সৌদি আরব, কাতার, ফ্রান্স, মিসরসহ ১৭টি দেশ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও আরব লিগ ঘোষণাপত্রটি সমর্থন করেছে। এটি ‘দ্য নিউইয়র্ক’ ঘোষণাপত্র হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

বৃহস্পতিবার আলাদা এক বিবৃতিতে প্রতি শুক্র, শনি ও রোববার বিশ্বব্যাপী যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও তাদের মিত্রদেশগুলোর দূতাবাসের বাইরে বিক্ষোভ করার আহ্বান জানিয়েছে হামাস। ইসরায়েলের আগ্রাসন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত তা অব্যাহত রাখার আহ্বানও জানিয়েছে তারা।

অনাহারে মৃত্যু ১৫৪

গাজায় কর্মরত চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, উপত্যকাটিতে অনাহারে আরও দুটি শিশু এবং এক তরুণ মারা গেছেন। এ নিয়ে সেখানে অনাহারে মৃত মানুষের সংখ্যা দাঁড়াল ১৫৪। তাদের মধ্যে শিশু ৮৯টি।

গাজায় প্রায় ২১ লাখ মানুষের বসবাস। উপত্যকাটিতে গত মার্চ থেকে নতুন করে অবরোধ শুরু করে ইসরায়েল। এ কারণে সেখানে ত্রাণবাহী কোনো ট্রাক প্রবেশ করতে পারছিল না। আন্তর্জাতিক চাপের মুখে সম্প্রতি কিছুদিন ধরে গাজায় সীমিত পরিমাণে ত্রাণ প্রবেশ করতে দিচ্ছে ইসরায়েল। এই ত্রাণ প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য।

ত্রাণ নিতে প্রাণহানি ১৩৭৩

জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় জানিয়েছে, গাজায় গত মে মাস থেকে এখন পর্যন্ত ত্রাণ আনতে গিয়ে মোট ১ হাজার ৩৭৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এর মধ্যে ৮৫৯ জন মারা গেছেন বিতর্কিত গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশনের (জিএইচএফ) ত্রাণ বিতরণকেন্দ্রে। গত মে মাসের শেষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংস্থাটি ইসরায়েলি সেনাদের সহায়তায় গাজার কয়েকটি স্থানে ত্রাণ দিচ্ছে।

অন্য ৫১৪ জন মারা গেছেন ত্রাণবাহী ট্রাকের আশপাশে। তাঁরা ত্রাণের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। অধিকাংশই ইসরায়েলের সেনাদের গুলিতে নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয়।

আল–জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গতকাল শুক্রবার সকালে গাজায় অন্তত আরও ৪২ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ত্রাণ আনতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ১৫ জন। এ নিয়ে প্রায় ২২ মাসের সংঘাতে গাজায় ইসরায়েলি সেনাদের হামলা নিহত হয়েছেন অন্তত ৬০ হাজার ৩৩২ জন।

গাজায় স্টিভ উইটকফ

গতকাল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ গাজা সফর করেছেন। তিনি উপত্যকাটির রাফা এলাকায় জিএইচএফের একটি ত্রাণ বিতরণকেন্দ্রও ঘুরে দেখেন। এ সময় ইসরায়েলে নিয়োজিত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হুকাবি তাঁর সঙ্গে ছিলেন। তাঁরা পাঁচ ঘণ্টার বেশি গাজায় ছিলেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে উইটকফ নিজেই এ কথা জানিয়েছেন। আগের দিন তিনি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। উইটকফ বলেছেন, ‘মাঠের পরিস্থিতি বুঝতে ও তথ্য সংগ্রহ করতে আমরা গাজায় গিয়েছিলাম। গাজার মানবিক পরিস্থিতির একটি স্পষ্ট ধারণা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমার উদ্দেশ্য, যাতে করে গাজাবাসীর জন্য খাদ্য ও চিকিৎসাসহায়তা পৌঁছাতে পরিকল্পনা প্রণয়নে সহায়তা করা যায়।’

গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত ও আবাসন খাতের সাবেক আইনজীবী উইটকফের আন্তর্জাতিক নীতি ও মানবিক সহায়তা-সংক্রান্ত কোনো অভিজ্ঞতা নেই। তা সত্ত্বেও তিনি মধ্যপ্রাচ্যের সংকট সমাধানের চেষ্টার পাশাপাশি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধেও কূটনীতি চালাচ্ছেন। এরই মধ্যে তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করেছেন।

বিতর্কিত জিএইচএফের ত্রাণ বিতরণকেন্দ্র এলাকায় ফিলিস্তিনিদের ভিড়
বিতর্কিত জিএইচএফের ত্রাণ বিতরণকেন্দ্র এলাকায় ফিলিস্তিনিদের ভিড়। ফাইল ছবি: রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্র–রাশিয়ার সাবমেরিনের লড়াই: সাগরের তলদেশে কার শক্তি বেশি

স্নায়ুযুদ্ধ যুগের একটি পুরোনো কৌশল অনুসরণ করে পরমাণু অস্ত্রবাহী দুটি সাবমেরিন কৌশলগত অবস্থানে মোতায়েন করছে যুক্তরাষ্ট্র। এ পদক্ষেপ এসেছে রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভের প্রতিক্রিয়ার পর। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়ার অর্থনীতিকে ‘মৃত অর্থনীতি’ বলে যে মন্তব্য করেছেন, সেটিকে কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন মেদভেদেভ। পাল্টা শুল্ক ও নিষেধাজ্ঞার হুমকি কার্যকরভাবে কাজ না করার পর মস্কোর চ্যালেঞ্জের মোকাবিলায় সাবমেরিন মোতায়েনের নির্দেশ দেন ট্রাম্প।

ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্ত আসে গতকাল শুক্রবার রাতে। এর আগে সাবেক রুশ প্রেসিডেন্ট মেদভেদেভ মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ‘ডেড হ্যান্ড’ কৌশলের হুমকি দেন ট্রাম্পকে। ডেড হ্যান্ড হলো স্নায়ুযুদ্ধ-পরবর্তী একধরনের স্বয়ংক্রিয় বা আধা স্বয়ংক্রিয় পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি, যা দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্ব সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে গেলেও পাল্টা পারমাণবিক হামলা চালাতে সক্ষম। এ ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য হলো শত্রুপক্ষকে নিশ্চিত ধ্বংসের বার্তা দেওয়া।

ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে ট্রাম্পের হুমকির সরাসরি কোনো জবাব এখনো আসেনি। তবে দেশটির পার্লামেন্টের শীর্ষ সদস্য ভিক্তর ভোডোলাতস্কি বলেন, মহাসাগরে থাকা রাশিয়ার পারমাণবিক সাবমেরিনের সংখ্যা যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় অনেক বেশি।

ভোডোলাতস্কি বলেন, ‘বিশ্বের মহাসাগরগুলোতে রাশিয়ার পারমাণবিক সাবমেরিনের সংখ্যা যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় অনেক বেশি। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যেসব সাবমেরিনকে রাশিয়ার আশপাশে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন, সেগুলো দীর্ঘদিন ধরেই আমাদের নজরদারিতে রয়েছে।’

এর পেছনে প্রতিরক্ষা ও শক্তির ভারসাম্য পুনর্গঠনের চেষ্টা দেখা যাচ্ছে। উভয় দেশই নিজেদের সাবমেরিন বাহিনিকে আধুনিকায়ন ও কৌশলগতভাবে কার্যকর করে তুলতে তৎপর।

যুক্তরাষ্ট্রের সাবমেরিন শক্তি

যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও-ক্লাস ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রবাহী সাবমেরিনগুলো গোপনে চলাফেরার ক্ষমতা ও নির্ভুলভাবে পারমাণবিক অস্ত্র ছোড়ার খ্যাতি রয়েছে। এসব সাবমেরিনকে ‘বুমার’ নামে ডাকা হয় এবং এর অন্তত ১৪টি এখন সক্রিয়। দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারের জন্য তৈরি এসব জাহাজ বড় ধরনের মেরামত ছাড়াই ১৫ বছর পর্যন্ত টহল দিতে পারে। প্রতিটি সাবমেরিন ২০টি পর্যন্ত সাবমেরিন থেকে নিক্ষিপ্ত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (এসএলবিএম) বহন করতে পারে। এর প্রধান অস্ত্র হলো ট্রাইডেন্ট ডি৫ ক্ষেপণাস্ত্র।

আমেরিকান ফাস্ট অ্যাটাক সাবমেরিন

যুক্তরাষ্ট্র তিন ধরনের ফাস্ট অ্যাটাক সাবমেরিন পরিচালনা করে—ভার্জিনিয়া-ক্লাস, সিওউল্ফ-ক্লাস ও লস অ্যাঞ্জেলেস-ক্লাস (৬৮৮ ক্লাস নামেও পরিচিত)। এসব সাবমেরিনে টমাহক ও হারপুন ক্ষেপণাস্ত্র এবং এমকে-৪৮ টর্পেডো থাকে। এগুলো শত্রুপক্ষের যুদ্ধজাহাজ ধ্বংস, নজরদারি, তথ্য সংগ্রহ ও মাইন বসানোর কাজে ব্যবহৃত হয়।

ভার্জিনিয়া-ক্লাস সাবমেরিন সমুদ্রের নিচে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর সর্বাধুনিক যুদ্ধ প্ল্যাটফর্ম। এতে রয়েছে বিশেষ অভিযানের জন্য আলাদা সুবিধা ও ডুবুরিদের জন্য লক–ইন/লক-আউট চেম্বার। যুক্তরাষ্ট্রে ২৪টি ভার্জিনিয়া-ক্লাস এসএসএন ২৪টি সক্রিয় রয়েছে। যার মধ্যে আছে ইউএসএস হাওয়াই, ইউএসএস নর্থ ক্যারোলাইনা, ইউএসএস মিসৌরি ইত্যাদি।

সিউল্ফ-ক্লাস সাবমেরিন মাত্র তিনটি যার প্রথমটি ১৯৯৭ সালে কমিশনে আসে। যদিও এতে উল্লম্বভাবে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার ব্যবস্থা নেই, তবে এতে রয়েছে আটটি টর্পেডো টিউব। টর্পেডো কক্ষে ৫০টি অস্ত্র রাখা যায়।

লস অ্যাঞ্জেলেস-ক্লাস (৬৮৮–ক্লাস হিসেবেও পরিচিত) সাবমেরিনগুলো যুক্তরাষ্ট্রের সাবমেরিন বাহিনীর মেরুদণ্ড হিসেবে পরিচিত। অন্তত ২৪টি এখনো সক্রিয়। ১৯৭৬ সালে নির্মিত এসব সাবমেরিন মূলত সোভিয়েত হুমকির মোকাবিলায় তৈরি হয়। কার্যকর গতি ও নিঃশব্দ চলাফেরার জন্য এগুলো বেশ নির্ভরযোগ্য। এই শ্রেণির ডুবোজাহাজগুলো জীবনকাল শেষ হওয়ার পর ভার্জিনিয়া-ক্লাস সাবমেরিন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হবে।

রাশিয়ার সাবমেরিন শক্তি

রাশিয়ার সাবমেরিন বাহিনী পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ, যার বহরে রয়েছে প্রায় ৬৪টি সাবমেরিন। এর মধ্যে প্রায় ১৪টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রবাহী সাবমেরিন (এসএসবিএন) রাশিয়ার কৌশলগত প্রতিরক্ষার কেন্দ্রবিন্দু।

রাশিয়ার নৌবাহিনীর কাছে রয়েছে আটটি বোরেই-ক্লাস সাবমেরিন, যেগুলোর প্রতিটিতে ১৬টি বুলাভা এসএলবিএম ও ৬টি ৫৩৩ মিমি টর্পেডো লঞ্চার রয়েছে। এসব সাবমেরিন পানির নিচে শত্রুর সাবমেরিন ধ্বংস করতে রকেট ও সমুদ্রতলের মাইন ছুড়তেও সক্ষম। প্রতিটি সাবমেরিনে শতাধিক নাবিক কাজ করেন।

বোরেই-ক্লাস সাবমেরিনগুলো ধীরে ধীরে ডেলটা ৪-ক্লাস সাবমেরিনের স্থান নিচ্ছে, যা টাইফুন-ক্লাস সাবমেরিনের সমসাময়িক হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছিল। বর্তমানে ডেলটা ৪-এর অন্তত ছয়টি সক্রিয়। প্রতিটি সাবমেরিনে ১৬টি সিনেভা এসএলবিএম থাকে। এসব সাবমেরিনই সমুদ্রের নিচে রাশিয়ার পারমাণবিক প্রতিরক্ষার প্রধান ভিত্তি।

রাশিয়ার আক্রমণাত্মক সাবমেরিনগুলোর মধ্যে ইয়াসেন-ক্লাস সবচেয়ে আধুনিক। এখন পর্যন্ত চারটি সাবমেরিন রয়েছে এই শ্রেণিতে। আগের মডেলগুলোর তুলনায় এগুলো ছোট এবং কমসংখ্যক নাবিকের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। প্রতিটি সাবমেরিনে ৩এম৫৪–১ ক্যালিবার ক্ষেপণাস্ত্র (পাঁচটি পর্যন্ত) অথবা পি-৮০০ অনিক্স ক্ষেপণাস্ত্র (চারটি পর্যন্ত) রাখা যায়। ফলে স্থলভাগে দূরপাল্লার আক্রমণ ও সমুদ্রে যুদ্ধজাহাজ ধ্বংসে এই সাবমেরিনগুলো বেশ কার্যকর।

যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া—এই দুই পরাশক্তি এখনো মহাসাগরের গভীরে নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত। স্নায়ুযুদ্ধ শেষ হলেও সেই সময়কার কৌশল ও অস্ত্রব্যবস্থার প্রতিযোগিতা যেন আজও অব্যাহত। সাবমেরিন মোতায়েন ও পারমাণবিক সক্ষমতা প্রদর্শনের এ প্রতিযোগিতা কেবল দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়াচ্ছে না; বরং গোটা বিশ্বকেই এক অস্থির ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও-ক্লাস ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রবাহী সাবমেরিন ইউএসএস আলাস্কা (এসএসবিএন ৭৩২)
যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও-ক্লাস ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রবাহী সাবমেরিন ইউএসএস আলাস্কা (এসএসবিএন ৭৩২) ফাইল ছবি: রয়টার্স

বিজেপির হয়ে নির্বাচন কমিশন ভোট চুরি করছে, অভিযোগ রাহুল গান্ধীর

বিহার রাজ্যের ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন নিয়ে বিতর্ক চলাকালীন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ভারতের নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বিরুদ্ধে ভোট চুরির মারাত্মক অভিযোগ আনলেন। আজ শুক্রবার সংসদ ভবন চত্বরে তিনি বলেন, বিরোধীদের তদন্ত অনুযায়ী, শাসক বিজেপির সুবিধা করে দিতে ইসি ব্যাপকভাবে ভোট চুরি করছে।

রাহুল বলেন, তাঁদের তদন্তে যা উঠে এসেছে তা ‘অ্যাটম বোমা’। সেই বোমা যখন ফাটবে নির্বাচন কমিশন তখন মুখ লুকানোর জায়গা পাবে না।

বিহারে ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধনের বিরোধিতা এবং সে নিয়ে আলোচনার দাবিতে বিরোধীরা যখন অনড় ও সংসদ অচল, সেই সময় রাহুলের এই দাবি বিরোধী আন্দোলনে এক অন্য মাত্রা এনে দিয়েছে। ইসির কর্তাদের নাম না করে রাহুল বলেন, যাঁরা এই ভোট চুরির কারিগর, যাঁরা এই অপকর্মের সঙ্গে যুক্ত, তাঁদের কেউ পার পাবেন না। ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত কাউকে রেয়াত করা হবে না।

ইসির কর্তাদের উদ্দেশে রাহুল বলেন, ‘আপনারা যা করছেন তা দেশদ্রোহিতা। আমরা আপনাদের প্রত্যেককে খুঁজে বের করব। অবসর গ্রহণ করলেও কাউকে ছাড়া হবে না।’

রাহুলের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন এক বিবৃতি প্রকাশ করে। তাতে বলা হয়, এ ধরনের ভিত্তিহীন অভিযোগ তারা আমলে নিচ্ছে না। এই ধরনের অভিযোগ প্রায় নিত্যই হচ্ছে। এসব অভিযোগ উপেক্ষা করে স্বচ্ছভাবে কাজ করে যেতে কমিশনের কর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিহার নিয়ে সংসদ ভবন চত্বরে সম্মিলিত বিরোধীদের বিক্ষোভ দেখানোর সময় শুক্রবার গণমাধ্যমকে রাহুল বলেন, ‘মধ্য প্রদেশ বিধানসভার নির্বাচনের সময় আমাদের প্রথম সন্দেহ হয়। আমরা বুঝতে পারি ইসি কোনোভাবে কারচুপি করেছে। লোকসভা ভোটের সময় সেই সন্দেহ আরও বাড়ে। তারপর মহারাষ্ট্র বিধানসভার নির্বাচন সেই সন্দেহ বিশ্বাসে পরিণত করে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা অবাক হয়ে দেখলাম, হুট করে চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় ১ কোটি নতুন ভোটারের নাম উঠে গেল। তখন বোঝা গেল কমিশনকে বলে কোনো লাভ হবে না। তারা মানতে চাইবে না। কিছুই করবে না। সেই সময় ঠিক করা হলো, আমরা নিজেরাই উদ্যোগী হয়ে তদন্ত করব। ছয় মাস ধরে সেই তদন্ত চলে। সেই তদন্তে যা উঠে এসেছে তা অ্যাটম বোমার চেয়ে কম কিছু নয়। সেই বোমা ফাটলে ইসির কর্তারা মুখ লুকানোর জায়গা পাবেন না।’

নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে কংগ্রেসের বিষোদ্‌গার, বিশেষ করে রাহুল গান্ধীর অভিযোগ নতুন নয়। গত জুন মাসে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস পত্রিকায় রাহুল এক নিবন্ধ লিখেছিলেন। সেখানে তিনি ৫ পদক্ষেপের উল্লেখ করেছিলেন। সেগুলোর মধ্যে ছিল নির্বাচন কমিশনার পদে নিজের লোকদের নিযুক্ত করা, ভোটার তালিকায় ভুয়া ভোটার নথিবদ্ধ করা, ভোটারদের সংখ্যা বাড়িয়ে দেওয়া, যে আসনগুলোয় বিজেপি দুর্বল সেগুলোয় বেছে বেছে ভুয়া ভোটার নথিবদ্ধ করানো এবং তথ্য–প্রমাণ লুকিয়ে রাখা। তিনি লিখেছিলেন, মহারাষ্ট্র জিততে বিজেপি কেন মরিয়া তা বোঝা দুষ্কর নয়। ভোটে রিগিং করা ও ম্যাচ ফিক্সিং এক জিনিস। এভাবে ভোটে জেতা যায়, কিন্তু নষ্ট হয়ে যায় সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান ও মানুষের বিশ্বাস।

সেই নিবন্ধেই রাহুল লিখেছিলেন, মহারাষ্ট্রের পর ম্যাচ ফিক্সিং হবে বিহারে। তারপর সেই সব রাজ্যে, যেখানে বিজেপির জেতার সম্ভাবনা কম।

শুক্রবারই বিহারের খসড়া ভোটার তালিকা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের হাতে ইসি তুলে দেয়। রাজ্যের মোট ৯০ হাজার ৮১৭টি বুথের পরিসংখ্যান তাতে রয়েছে। এই নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) বিরুদ্ধে সব বিরোধী দল। তারা এই নিয়ে আলোচনার দাবিতে অনড়। সে জন্য লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠিও দেওয়া হয়েছে। বিরোধী নেতারা জানিয়েছেন, বিহার ভোটার তালিকা তৈরিতে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা না হলে তাঁরা সংসদ চলতে দেবেন না। শুক্রবার সেই দাবিতে দুই কক্ষের অধিবেশনই মুলতবি করে দেওয়া হয়।

বিহারের এসআইআর নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা চলছে। ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগে স্থগিতাদেশ দিতে সুপ্রিম কোর্ট চাননি। যদিও বিচারপতিরা বলেছেন, অনিয়ম দেখলে তাঁরা পুরো প্রক্রিয়া বাতিল করে দিতে পারেন। ভোটারদের পরিচয়পত্রের নথি হিসেবে আধার কার্ড, রেশন কার্ড ও ইসির দেওয়া ভোটার কার্ড গ্রাহ্য করতে কমিশনকে সুপারিশ করেছিলেন সুপ্রিম কোর্ট; কিন্তু ইসি তা মানতে চায়নি।

কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী
কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। ফাইল ছবি: এএফপি