Monday, April 14, 2014

ঝুঁকিমুক্ত হোক সব শিশুর জীবন by ওয়াহিদা বানু

বাংলাদেশে শিশুশ্রমিকদের অবস্থা খুবই নাজুক। যে বয়সে একটি শিশুর বই, খাতা, পেনসিল নিয়ে স্কুলে যাওয়ার কথা, দুরন্তপনা ও চঞ্চলতা নিয়ে খোলা মাঠে মুক্ত হাওয়ায় ঘুড়ির মতো উড়ে উড়ে বেড়ানোর কথা, সহপাঠীদের সঙ্গে খেলায় মেতে ওঠার কথা, সে বয়সে শিশুটিকে নেমে পড়তে হয় জীবিকার সন্ধানে। দারিদ্র্যের কশাঘাতে জর্জরিত মা-বাবা ও অভিভাবকেরা পরিবারের সদস্যদের ভরণপোষণের ব্যয়ভার বহন করতে পারেন না। তাই তাঁরা ঘরের শিশুটিকে উৎসাহিত করেন যেকোনো কাজে নিয়োজিত হতে। কখনো কখনো আবার শিশুরা নিজেদের বেঁচে থাকার তাগিদেই শ্রমে জড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন কারখানা, হোটেল-রেস্তোরাঁ, দোকান ও বাসাবাড়িতে শিশুরা কাজ করছে। কৃষি খাতেও উল্লেখযোগ্য শিশু কাজ করছে। ঝুঁকিপূর্ণ শ্রমে শিশুদের নিয়োগের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে, যা উদ্বেগজনক। যেমন: ওয়েল্ডিং কারখানায়, গাড়ি মেরামত কারখানায়, বিড়ি তৈরির কারখানায় ও জাহাজভাঙা শিল্পে বহু শিশু কাজ করছে। অথচ শিশুশ্রম নিরসনে সরকারের খুব একটা উদ্যোগ নেই।

শ্রীরামপুরে পদ্ম ফোটাতে চান বাপ্পী

বাপ্পী লাহিড়ী গতকাল শ্রীরামপুর নির্বাচনী আসনের
রঘুনাথপুরে প্রচারণা চালান। ছবি: ভাস্কর মুখার্জি
ভারতের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির টিকিটে পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার শ্রীরামপুর আসনে প্রার্থী হয়েছেন বলিউডের সংগীত পরিচালক ও শিল্পী বাপ্পী লাহিড়ী। বাপ্পী এবারই প্রথম নির্বাচনে লড়াই করছেন। একজন শক্তিশালী সংগীতশিল্পী হলেও রাজনীতিতে তিনি নতুন। এই আসনে তৃণমূলের বর্তমান সাংসদ কল্যাণ ব্যানার্জির বিপক্ষে লড়ছেন বাপ্পী। এ ছাড়া রয়েছেন কংগ্রেসের পোড় খাওয়া নেতা আবদুল মান্নান ও বামফ্রন্টের তীর্থঙ্কর রায়। তবে এসব বাঘা প্রার্থীর বিপক্ষে মোটেই বিচলিত নন তিনি। জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী তিনি। গতকাল রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় বাপ্পী লাহিড়ী নির্বাচনী এলাকা হুগলির উত্তর পাড়ার রঘুনাথপুরে আসেন। তারপর ওঠেন খোলা জিপে। যোগ দেন রোড শোতে। তিনি আসার আগে থেকেই প্রচণ্ড ভিড় এলাকায়। রাস্তার দুই পাশে বাপ্পী লাহিড়ীর বিরাট বিরাট পোস্টার। সমর্থকদের হাতে বিজেপির নির্বাচনী প্রতীক পদ্ম ফুল। বাপ্পী লাহিড়ী ও বিজেপির পক্ষে তাঁরা নানা স্লোগান দিয়ে সামনে এগিয়ে যাচ্ছেন। এলাকার মানুষের সঙ্গে কথা বলেও বোঝা গেল, বাপ্পী লাহিড়ী এবার মূল লড়াইয়ে থাকছেন। কোন্নগড়ের অভ্রপাল চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘নিশ্চিত থাকুন, বাপ্পী লাহিড়ী মূল লড়াইয়ে থাকছেন।
মানুষ এবার কল্যাণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।’ হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক হরেণ মণ্ডল বলেন, বাপ্পী লাহিড়ী এবার ঘুম কেড়ে নিয়েছে তৃণমূলের। তৃণমূল মনে করেছিল, সিপিএমকে হারানো তাদের কোনো ব্যাপারই নয়। আর বিজেপি ভোট পাবে না। বর্তমান অবস্থা বিচারে কে জিতবেন, বলা যাচ্ছে না। শ্রীরামপুরের আরও কয়েকটি এলাকায় মানুষের সঙ্গে কথা বলে বোঝা গেল, বিজেপি এখানে একেবারে ফেলনা নয়। পাশাপাশি বামফ্রন্টের প্রার্থীও ভালো ভোট টানবেন। আর কংগ্রেসের প্রার্থী আবদুল মান্নান ভূমিপুত্র। তিনি প্রচুর ভোট পেতে পারেন। ফলে চতুর্মুখী লড়াই হবে। বাপ্পী লাহিড়ী কলকাতার সন্তান। বাবা সংগীতশিল্পী অপরেশ লাহিড়ী। ২০০৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে এই আসনে তৃণমূলের কল্যাণ পেয়েছিলেন পাঁচ লাখ ৬৯ হাজার ৭২৫ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সিপিএমের শান্তশ্রী চ্যাটার্জি পেয়েছিলেন চার লাখ ৩২ হাজার ৫৩৫ ভোট। আর বিজেপির দেবব্রত চৌধুরী পেয়েছিলেন মাত্র ৩৮ হাজার ৪৭৬ ভোট। তাই বাপ্পী লাহিড়ী কি সব হিসাব-নিকাশ পাল্টে দিতে পারবেন কি না, সেই প্রশ্নটি এখন প্রবল হয়ে উঠেছে। তবে আত্মবিশ্বাসী বাপ্পী লাহিড়ী প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি জিতব। শ্রীরামপুরের বাড়িতে বাড়িতে আমি পদ্ম ফুল ফোটাব।’

মোক্ষম অস্ত্র পেয়ে গেল বিজেপি

মনমোহন সিং ও সঞ্জয় বারু
ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংকে নিয়ে সঞ্জয় বারুর লেখা বইকে ‘সস্তা গল্প’ বলে অভিহিত করেছে কংগ্রেস। তবে বারু বলেছেন, এটি সস্তা গল্প নয়। এতে নতুন কিছু নেই। আগে থেকে সবই মানুষ জানে। এরই মধ্যে মনমোহনকে আরও অস্বস্তিতে ফেলে দিয়েছেন সাবেক কয়লাসচিব পিসি পারাখ। তিনিও তাঁর নতুন বইয়ে লিখেছেন, সরকারে মনমোহনের প্রভাব খুবই কম ছিল। এদিকে যশোদাবেন ইস্যুতে নরেন্দ্র মোদি এবং বিজেপি কিছুটা বেকায়দায় পড়লেও বারুর বই নির্বাচনের মাঝপথে তাদের সামনে মোক্ষম এক অস্ত্র হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। বিজেপি বলছে, বারুর বইয়ের মাধ্যমে প্রমাণিত হলো, মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী হলেও সরকারে সোনিয়ার কথাই ছিল শেষ এবং চূড়ান্ত কথা। মনমোহন সিংয়ের গণমাধ্যমবিষয়ক সাবেক উপদেষ্টা সঞ্জয় বারু দি অ্যাকসিডেন্টাল প্রাইম মিনিস্টার নামের একটি বই লিখেছেন। সেখানে তিনি বলেন, কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং ‘ক্ষমতাহীন রাজনৈতিক পুতুল’। তিনি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আছেন ঠিকই, কিন্তু কর্তৃত্ব কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীর হাতে। এই বই প্রকাশের পর ক্ষমতাসীন কংগ্রেস নেতারা সঞ্জয় বারুকে ‘বেকার, হতাশাগ্রস্ত ও দলছুট’ বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁরা বলেছেন, তিনি (বারু) লোকসভা নির্বাচনের মাঝখানে বিজেপির রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছেন। কংগ্রেসের মুখপাত্র রণদ্বীপ সূর্যওয়ালা বলেন, ‘বারুর চাকরি-বাকরি নেই। তিনি দলছুট, হতাশাগ্রস্ত।
সস্তা প্রচার পেতে ও বইটির বিক্রিবাট্টার উদ্দেশ্যে তিনি মিথ্যা ছড়াচ্ছেন...ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস চূড়ান্তভাবে এই সস্তা কল্পকাহিনি প্রত্যাখ্যান করছে।’ সঞ্জয় বারুকে একজন ‘সুবিধাবাদী’ উল্লেখ করে রণদ্বীপ বলেন, ২০০৯ সালের সাধারণ নির্বাচনের কয়েক মাস আগে তিনি দায়িত্ব ছেড়ে চলে যান। কিন্তু কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ জোট ফের সরকার গঠন করলে তিনি আবারও ওই পদ চান। কিন্তু তাঁকে ওই পদে ‘অযোগ্য’ মনে করে ‘প্রত্যাখ্যান’ করা হয়। তিনি এখন হারানো সবকিছু ফিরে পেতে উদ্ভট সস্তা গল্প লিখে যাচ্ছেন। তবে এনডিটিভির সঙ্গে সাক্ষাৎকারে সঞ্জয় বারু কংগ্রেস নেতাদের জবাব দিয়ে বলেছেন, তাঁর বই কল্পকাহিনি নয়। তিনি মনমোহন সিং ও সোনিয়া গান্ধী সম্পর্কে নতুন কিছু বলেননি। যা লিখেছেন, তা সবারই জানা। তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কাজ করার সুবাদে কাছ থেকে যা দেখেছেন, তা-ই বইয়ে তুলে ধরেছেন। বইটির তথ্য সত্য হোক বা লেখকের বক্তব্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হোক, বিজেপি ঠিকই কংগ্রেসের বিরুদ্ধে অস্ত্র হিসেবে বইটি ব্যবহার করা শুরু করেছে। বিজেপির জ্যেষ্ঠ নেতা অরুণ জেটলি বলেন, তিনি দুই দিন ধরে বইটি পড়ছেন। সেখানে সঞ্জয় বারু একজন প্রত্যক্ষদর্শীর মতো সব বর্ণনা করেছেন। আরেক বিজেপি নেতা এল কে আদভানি প্রধানমন্ত্রী মনমোহনকে আক্রমণ করে বলেছেন, এটা নতুন কিছু নয়।
ইতিমধ্যে সবাই যা জেনে গেছে, তা-ই একজন সত্য প্রমাণিত করেছেন, যাঁকে প্রধানমন্ত্রী নিজেই তাঁর গণমাধ্যমবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে পছন্দ করেছিলেন। বিজেপির মুখপাত্র রবিশঙ্কর প্রসাদ গত শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, মা-ছেলে (সোনিয়া ও রাহুল) মিলে প্রধানমন্ত্রী পদের মর্যাদাকে ইচ্ছাকৃতভাবে বিতর্কিত করেছেন। তাঁরা কোনো জবাবদিহি ছাড়াই দেশ শাসন করতে এই ব্যবস্থা করেছিলেন। তিনি বলেন, বিজেপি কোনো ক্ষমতাহীন প্রধানমন্ত্রী চায় না। মনমোহনের অস্বস্তি আরও বাড়ালেন সাবেক কয়লাসচিব: সঞ্জয় বারুর বই নিয়ে তোলপাড় চলার মধ্যেই সাবেক কয়লাসচিব পি সি পারাখ প্রধানমন্ত্রী মনমোহনকে নিয়ে একটি বই লিখেছেন। এতে আরও অস্বস্তিতে পড়েছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী। পারাখ বইটিতে লিখেছেন, সরকারের ওপর খুবই সামান্য প্রভাব ছিল মনমোহনের। ক্রসেডার অর কন্সপিরেটর: কোলগেট অ্যান্ড আদার ট্রুথস নামের এই বইয়ে আরও বলা হয়েছে, টুজি স্পেকট্রাম ও কয়লাখনি কেলেঙ্কারির ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী মনমোহনের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পিটিআই ও এনডিটিভি।

কেট-উইলিয়ামের ঘরে আসছে আরেক অতিথি!

নিউজিল্যান্ডের কুইন্সটাউনে গতকাল কেট মিডলটন ও প্রিন্স উইলিয়াম
প্রিন্স জর্জের পর ব্রিটিশ রাজপরিবারে আসছে আরেক নতুন অতিথি। আবার মা-বাবা হচ্ছেন উইলিয়াম-কেট দম্পতি। কেট গোপন রাখতে চাইলেও উৎফুল্ল উইলিয়াম গতকাল রোববার নিউজিল্যান্ড সফরকালে নিজে থেকে সাংবাদিকদের কাছে এমনই ইঙ্গিত দিলেন। উইলিয়াম-কেটের নিউজিল্যান্ড সফরে সবার মনোযোগ কেড়েছে ব্রিটিশ সিংহাসনের তৃতীয় উত্তরাধিকারী আট মাস বয়সী প্রিন্স জর্জ। উইলিয়াম দম্পতি গতকাল ক্যামব্রিজের নর্থ আইল্যান্ড শহরের দিকে যাওয়ার সময় প্রিন্স উইলিয়াম সাংবাদিকদের নতুন অতিথি আসার খবর দেন। সঙ্গে সঙ্গে সবার দৃষ্টি চলে যায় রাজবধূ কেট মিডলটনের দিকে। এই দম্পতির প্রথম সন্তান জর্জের জন্মের সময় নিউজিল্যান্ডের পক্ষ থেকে লাল পশমের একটি শাল উপহার দেওয়া হয়েছিল। শালটি বুনেছিলেন সিনথিয়া রিড।
আট বছর আগে ইংল্যান্ড থেকে নিউজিল্যান্ডে পাড়ি জমান রিড। তাঁর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় প্রিন্স উইলিয়াম বলেন, ‘খুব শিগগির তাঁকে আরেকটি শাল বুনতে হবে।’ রিড সাংবাদিকদের বলেন, নতুন অতিথি আসার খবরটি গোপন করতে চান স্ত্রী কেট মিডলটন। তাই তো একটু ঘুরিয়ে মিডলটন বললেন, লাল পশমের ওই শালটি পেয়ে জর্জ খুব খুশি হয়েছিল। তাই সে আরেকটি শাল চায়। নিউজিল্যান্ডে এক অনুষ্ঠানে কেট শুধু পানি পান করেন। ধারণা করা হচ্ছে, সন্তানসম্ভবা হওয়ায় তিনি সেখানে অন্য কোনো পানীয় পান করেননি। এএফপি।

পুলিৎজার পুরস্কারে স্নোডেনের ছায়া

এডওয়ার্ড স্নোডেন
সাংবাদিকতার ‘নোবেল’ হিসেবে খ্যাত পুলিৎজার পুরস্কার ঘোষণা করা হবে আজ সোমবার। জোর কানাঘুষা চলছে, এডওয়ার্ড স্নোডেনের ফাঁস করা গোপন তথ্যের ভিত্তিতে মার্কিন গোয়েন্দাদের আড়ি পাতার কেলেঙ্কারি উন্মোচন করে দেওয়া সাংবাদিকেরাই এবার পেতে যাচ্ছেন সম্মানজনক এই পুরস্কার। পুলিৎজার পুরস্কার দেওয়া হয় যুক্তরাষ্ট্র থেকে। দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থার (এনএসএ) চুক্তিভিত্তিক কর্মী ছিলেন স্নোডেন। দেশে-বিদেশে অসংখ্য মানুষের ফোনে আড়ি পেতে তথ্য সংগ্রহ করত এনএসএ।
গত বছর সেই তথ্য ফাঁস করে দিয়ে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করেন স্নোডেন। স্নোডেন এখন বিশ্বজুড়ে ‘নায়ক’। নিজের দেশের নাগরিকদেরও একটি অংশ তাঁকে বাহবা দিয়েছে। কিন্তু আরেকটি অংশের কাছে তিনি ‘বিশ্বাসঘাতক’, যিনি দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়েছেন। স্নোডেনের ফাঁস করা গোপন নথিগুলো ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন পোস্ট ও যুক্তরাজ্যের গার্ডিয়ান পত্রিকা। এই দুই পত্রিকার সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকেরাই এবার হয়তো পুলিৎজার পেতে পারেন। এএপি।

মুম্বাইয়ের ‘মোদি’

বিকাশ মহান্তে
মুম্বাই শহরতলির মালাদ এলাকার ব্যবসায়ী তিনি। খুব ভালো করে খেয়াল না করলে মনে হবে, তিনিই নরেন্দ্র মোদি। ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) মনোনীত প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থীর সঙ্গে তাঁর চেহারা ও সার্বিক অবয়বের বিস্ময়কর মিল রয়েছে। নাম তাঁর বিকাশ মহান্তে। বিজেপির নির্বাচনী প্রচার কার্যক্রমে বিকাশের উপস্থিতি থাকতেই হবে।
দলীয় নেতা-কর্মীরা চান, ‘স্থানীয় মোদি’ সঙ্গে থাকুন সব সময়। ৫২ বছর বয়সী বিকাশ বলেন, গত ডিসেম্বরে আসল মোদি মুম্বাই সফরে এসেছিলেন। তাঁকে একনজর দেখতে গিয়ে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছিল ‘নকল মোদিকে’। তাঁকে ঘিরে ধরেছিলেন মোদির অনুরাগী-সমর্থকেরা। পিটিআই।

যেভাবেই হোক, একটা জাগরণ তো এসেছে

গণজাগরণ মঞ্চ: প্রয়োজন ফুরিয়েছে, সরকারের পিছটান
ছাত্রলীগের সরে যাওয়ার মধ্য দিয়ে গণজাগরণ মঞ্চে যে ভাঙন শুরু হয়েছিল, তা এখন চূড়ান্ত আকার ধারণ করেছে। ক্ষমতাসীন দলও চায় না গণজাগরণ মঞ্চ টিকে থাকুক। প্রয়োজন ফুরিয়েছে গত বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি কাদের মোল্লার ফাঁসির দাবিতে গড়ে ওঠা বহুল আলোচিত গণজাগরণ মঞ্চের। এ ব্যাপারে পাঠক শফিক রহমানের মন্তব্য: আওয়ামী লীগের মূল উদ্দেশ্য ছিল এই গণজাগরণ মঞ্চকে কাজে লাগানো এবং যাতে কোনো ধরনের সরকারবিরোধী আন্দোলন না হতে পারে, তা নিশ্চিত করা। ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগের এ রকমের নাটকের মঞ্চ আর যে কত দেখতে হবে, সেটাই এখন ভাবার বিষয়! সায়েম সজল: কোনো সন্দেহ নেই গণজাগরণ মঞ্চ তৈরি হয়েছিল স্বতঃস্ফূর্তভাবেই। সরকার তার প্রয়োজনমতো মঞ্চকে ব্যবহার করেছে মাত্র। পরাগ রহমান: আওয়ামী লীগ বড় বড় ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, সংগঠন থেকে শুরু করে অনেক নিচু লেভেল পর্যন্ত যখন, যাদের দরকার মনে করেছে, ব্যবহার করেছে আর ব্যবহার শেষে ছুড়ে ফেলে দিয়েছে। আরিফুর: সাধারণ মানুষ চোখ বুজে তাদের পিছু নিয়েছিল। সবই ছিল সরকারের সাজানো। আবার তা প্রমাণিত হলো।
শিকদার দস্তগীর: শুরুতেই জানতাম, এর প্রয়োজনীয়তা সরকারের কাছে একসময় ফুরিয়ে যাবে। আওয়ামী লীগ কী জিনিস নতুন প্রজন্মের যারা জানত না, তারা এদের চিনে নিক। কাজী এস আহমদ: যেভাবেই মঞ্চের শুরুটা হোক না কেন জনসমর্থন পাওয়ামাত্র সরকার এটাকে ছাত্রসংগঠন এবং তাঁবেদার সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের মাধ্যমে গ্রাস করে এদের ব্যবহার করে এবং কাজ হয়ে গেলে ছুড়ে ফেলে দেওয়াটা আওয়ামী লীগের চরিত্র। কাজী রহমান: যেভাবেই হোক, একটা জাগরণ তো এসেছে। একে সবাই মিলে ধরে রাখতে পারলে খুব ভালো হয়। যাদের জমছে না, তারা সরে যাক। স্বল্পসংখ্যক হলেও শুধু নিবেদিতপ্রাণরাই থাকুক এর সঙ্গে। যুবক-তরুণদের আশার আলো হয়ে। যাদের দৃষ্টি থাকবে অন্ধকার অতীতের দিকে নয়, বরং উজ্জ্বল ভবিষ্যতের দিকে। আজ না হোক কাল যারা দেশকে দেবে গর্ব করার মতো দিন। আমি যদি তাদের সঙ্গে না-ও থাকি, আমার আত্মা, আমার চেতনা যেন থাকে তাদের সঙ্গে। মানুষের হাসি দেখে আমি যেন বলতে পারি—এই তো আমার দেশ। আমি তো এদেরই একজন (ছিলাম)!
মাদ্রাসার উপযোগী করতে পাঠ্যবইয়ে অদ্ভুত পরিবর্তন
সাধারণ শিক্ষার মূল পাঠ্যবইগুলোকে মাদ্রাসা শিক্ষার বৈশিষ্ট্য-উপযোগী করতে গিয়ে বইগুলোর আঙ্গিক ও মৌলিক কিছু বিষয়ে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। সাধারণ বিদ্যালয়ে আগের পাঠ্যবই-ই বহাল থাকবে। এর সমালোচনা করে পাঠক পলাশ লিখেছেন: দেশের কৃষ্টি-সংস্কৃতি ও দেশবরেণ্য কবি-সাহিত্যিকদের কথাই যদি ছাত্ররা জানতে না পারে, তাহলে মনে হয় না মাদ্রাসার ছাত্ররা সাধারণ ছাত্রদের সঙ্গে মেধায় পাল্লা দিতে পারবে। তাই সরকারের এই চেষ্টা উলুবনে মুক্তা ছড়ানো ছাড়া আর কিছু হবে না। কোহিনুর ইসলাম: সাধারণ শিক্ষা জাতি-ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে সবার জন্য। কিন্তু মাদ্রাসা শিক্ষা শুধু মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য। তাই যেসব বিষয় ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করতে পারে, সেগুলো বাদ দেওয়া হয়েছে... আমি এই পরিবর্তনের পক্ষে। রূপক চৌধুরী: তবু যে তারা (মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ) পরিবর্তনে রাজি হয়েছে, এটাই অনেক বড় পাওয়া। ইসলাম ধর্মের মৌলিক বৈশিষ্ট্য অসাম্প্রদায়িকতার দিকে ফিরে যেতে এটা একটা মাইলফলক হতে পারে। ইসলাম পৃথিবীতে তার সত্যিকার বৈশিষ্ট্য নিয়ে সুপ্রতিষ্ঠিত হবে।
সোনা চোরাচালানে পুলিশ জড়িত!
সোনা চোরাচালানিদের সঙ্গে ঢাকা মহানগর পুলিশের একজন কর্মকর্তার যোগাযোগ রয়েছে। সোনা উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেপ্তারের পর এক আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এ তথ্য জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে আব্দুল্লাহ আল সাব্বির লিখেছেন: আমি এ ঘটনায় পুলিশের কোনো দোষ দেখি না। যত দিন পর্যন্ত যোগ্য স্থানে যোগ্যতা অনুযায়ী নিয়োগ হবে না, তত দিন পর্যন্ত এসব অপরাধ চলতে থাকবে। কোনো আইনে কিচ্ছু করতে পারবে না। সাজ্জাদ হোসেইন: কোন কোন কাজে পুলিশ জড়িত নয়, তার একটা তালিকা তৈরি করলে আমরা উপকৃত হব। তানভীর রহমান: বিপথগামী কোনো সদস্যের অপকর্মের দায় তো সংশ্লিষ্ট বিভাগের ওপর বর্তায় না। এন আহমেদ: বড় দান মারতে এরা সবকিছুই করতে পারে। ভাগ-বাঁটোয়ারার সবকিছুই আগে থেকে ঠিক থাকে।
আওয়ামী লীগ কোন পথে
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার ও তার কর্মকাণ্ড নিয়ে লেখা এই কলামে পাঠক মো. মিরাজ আলম লিখেছেন: আওয়ামী লীগ কোন পথে? সহজ উত্তর—জাতীয় পার্টির অবস্থার দিকে। আর জাতীয় পার্টি বিলুপ্তির দিকে। শামীম আনসার: সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করতে জাপার মহাসচিবের পরিবর্তন, আল্লামা শফীর অনুরাগ, গণজাগরণ মঞ্চ থেকে পিছটান, প্রশ্ন ফাঁস-স্থগিত পরীক্ষা-তদন্ত কমিটি, সংসদে না থাকা বিএনপি-জামায়াত নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অধিবেশনে আলোচনা-কুরুচিপূর্ণ সমালোচনা, বাম্পার ফলনের পরও আলুর পর পেঁয়াজেরও মূল্যপতন, ভারতে সরকারের পটপরিবর্তনের সম্ভাবনা...আওয়ামী লীগকে আরও সতর্ক হতে হবে। স্বাপ্নিক রায়: শুধু আওয়ামী-বাকশালীরাই মনে করে যে, এরা ঠিক পথে আছে। কারণ, ভেজাল আর বাঁকা পথই তাদের আসল পথ। এ দেশের সিংহভাগ মানুষই মনে করে আওয়ামী লীগ দেশকে বিপথে নিচ্ছে। হাফিদ: শুধু অন্ধ আওয়ামী লীগ বলে, আওয়ামী লীগ ঠিক পথে আছে। মো. কামরুল হাসান: আওয়ামী লীগের কাছে সবাই ইউটোপিয়া চায়, ভাবটা এমন বিরোধীরা তো মহা খারাপ তুমি হও মহা ভালো।
বিবেচ্য বিষয় হওয়া উচিত আওয়ামী লীগ তুলনামূলক ভালো করছে কি না এবং উত্তরোত্তর ভালো করছে কি না। ভালো করার উপদেশ, মন্দ কাজের সমালোচনা ইত্যাদিই পারে বাংলাদেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে। মাসুদ: আওয়ামী লীগ শেষ হওয়ার পথে। একসময় জাতীয় পার্টি অনেক আসন পেত, পরে হলো রংপুরের আঞ্চলিক পার্টি, আর এখন সবশেষ হওয়া পার্টি। মহিউদ্দিন মাসউদ: কোন পথে? রাজনীতির অন্ধকারময় কানা গলিতে, যেখানে সব আছে, নেই শুধু গণতন্ত্রের রাজনীতি। আর সেই গণতন্ত্রের রাজনীতিতে তাদের পক্ষে আর ফিরে আসা সম্ভব নয়। যদি সেটা সম্ভব করতে হয় তার জন্য যে বিশাল অস্ত্রোপচার করতে হবে, সে ধরনের বিশেষজ্ঞ এবং সাহসী নেতৃত্ব ওখানে আর অবশিষ্ট আছে বলে মনে হয় না। আত্মস্বার্থের রাজনীতির এই চেহারাই সর্বশেষ পরিণতি। এ রকমটা হয়তো টেনে নিতে পারবেন তাঁরা আরও কিছুটা পথ, তাতে শেষরক্ষার দাওয়াই মিলবে না। খোলনলচের ব্যাপক পরিচ্ছন্নতা ছাড়া সদর রাস্তায় চলার সম্ভাবনা সামান্যই।

তারুণ্যের উৎসব

আমাদের নববর্ষের উত্সবে
প্রাণ ফুটিয়ে তোলেন শিল্পীরা
চৈনিকেরা তাদের প্রতিটি নববর্ষের জন্য একটি করে প্রাণী বেছে নেয়—একটি চীনা বছর যদি হয় ড্রাগনের নামে, আরেকটি হবে সারমেয়র নামে। প্রাণীদের তালিকায় বাঁদর আছে। ইঁদুরও আছে। তাদের বিশ্বাস, প্রাণীদের প্রতীকী মূল্য অনুযায়ী বছরটি গুণান্বিত হবে। এ বছর ঘোড়ার বছর। হয়তো এ বছর সামরিক পরাক্রম দেখাতে পারবে বর্ষপালনকারী সব দেশ। তবে কোনো দুই দেশের মধ্যে মারামারি না লেগে গেলেই হয়। আমাদের নববর্ষের জন্য আমরা কোনো প্রাণী অথবা পাখি, এমনকি পতঙ্গ প্রতীকও বরাদ্দ রাখিনি। বাংলা নববর্ষের কেতাবি সূচনা হয়েছিল বাদশাহ আকবরের সময়। উদ্দেশ্য ছিল, খাজনা আদায়ে সুবিধা আনা। শিগগিরই দেখা গেল, শস্যচক্রে একটা গুরুত্বপূর্ণ দিন হয়ে দাঁড়িয়েছে সৌরবছরের পয়লা বৈশাখ সৌরবন্ধনীতেও। বঙ্গাব্দ প্রচলনের পেছনে বাদশাহি এলান থাকলেও নববর্ষের দিনটি ছিল বাঙালির একান্ত নিজস্ব। এর একটা আলাদা মহিমা সব সময় ছিল। তার পরও সেই মহিমার ব্যাপক প্রকাশ ঘটার জন্য; সর্বজনীনভাবে, জাঁকজমকের সঙ্গে দিনটির উদ্যাপনের জন্য অনেক দিন বাঙালিকে অপেক্ষা করতে হলো। একটি পরাধীন জাতির কোনো উদ্যাপনই সর্বৈব সুন্দর হয় না—সবচেয়ে সুখের উদ্যাপনের পেছনেও একটা বেদনা যেন জেগে থাকে, নতুবা ক্রোধ। গত শতকের ষাটের দশক পর্যন্ত নববর্ষ উদ্যাপনে প্রচ্ছন্ন একটি বেদনা ছিল। ষাটের দশকে সে জায়গায় আসে ক্রোধ। স্বাধীনতার পর আসে আনন্দ। এখন বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস। বাংলাদেশের জন্ম না হলে নববর্ষ থাকত ম্রিয়মাণ। বাংলাদেশের স্বাধীনতায় যারা বিশ্বাস করে না, তাদের কাছে নববর্ষ তাই একটা ভুলে-থাকলে-ভালো হয় ধরনের দিন, সুযোগ পেলে ভন্ডুল-করে-দেওয়া-যায় ধরনের উৎসব। রমনার বটমূলে এ জন্য তারা বোমা মেরেছিল। এ মহলটি বরাবরই নববর্ষের উদ্যাপন ভন্ডুল করতে চায়। ভন্ডুল করার হুমকি দেয়। কিন্তু এই হুমকি উপেক্ষা করে হাজার হাজার মানুষ ঘর থেকে বেরোয়। উৎসব করে। দেশের জন্য কিছু একটা করার সংকল্প নেয়। এবং সারা দিন প্রাণের সঙ্গে প্রাণ মেলায়। এবার যাঁরা সারা দিনমান উৎসবের রংকে উজ্জ্বল রাখবেন,
তাঁরা এ দেশের জেগে থাকা তরুণ। তরুণেরাই এই উৎসবের প্রাণ। তাঁরা পথে নামলে দিনটি সুন্দর হয়, রং ছড়ায় সবখানে, গান বাজে। তাঁরা নববর্ষের প্রাণ। তাঁদের পেছনে যাঁরা উৎসবের ভিত্তিটি গড়ে দেন, তাঁরা এ দেশের কৃষক, যাঁরা মাটিতে প্রাণ ফোটান। তাঁরা সারা বছর সবুজের সাধনা করেন, সেই রং সোনালি হলে তাঁদের মুখে হাসি ফোটে। নববর্ষের আসল রং সেই সবুজ-সোনালি। প্রথম রোপণ থেকে নবান্ন পর্যন্ত রঙের এই চক্রটি পূর্ণতা পায় নববর্ষে এসে, যখন তা লাল-সাদায় এসে মেশে। এই নতুন রং নতুন করে জাগিয়েছেন তরুণেরা, তাঁদেরও আগে আমাদের তাঁতি আর বুননশিল্পীরা। আমাদের নববর্ষের কোনো প্রাণী প্রতীক নেই, কিন্তু প্রাণ প্রতীক আছে। সেই প্রতীক আমাদের প্রাণ ফোটানোর শিল্পীরা, আমাদের কৃষকেরা; সপ্রাণ তরুণেরা এবং নকশায়, সুতার কাজে যাঁরা প্রাণ জাগান, সেই তাঁতি আর বুননশিল্পীরা। গঞ্জের ব্যবসায়ীরা, যাঁরা লাল মলাটের হালখাতায় নতুন বছরকে স্বাগত জানান। আমাদের খই-মুড়ি-বাতাসা-মণ্ডা প্রস্তুতকারীরা, মাটির পুতুল আর খেলনার নকশাকারীরা, কুমারেরা। কে নেই এই প্রাণের উদ্যাপনে? একসময় একটু নিভৃতেই চলত এই উৎসব—নিভৃতে, অর্থাৎ শহরের মানুষদের অলক্ষ্যে, গ্রামের চিরাচরিত শান্ত পরিবেশে যদিও চোখ-কান আর রসনার জন্য নানা আয়োজন নিয়ে নিজের মতো ঢাকঢোল বাজিয়ে হাজির হতো নববর্ষ। এখন শহর-বন্দর-গ্রাম-গঞ্জ—সারা দেশে চলে প্রাণের জোয়ার। কিন্তু জোয়ারের মূল শক্তিটা তারুণ্য। চৈত্র শেষ হয়, আর সব তরুণের মনে উৎসবের রং জমে। প্রকৃতিতে সময়টা খুব কঠোর, দারুণ অকাব্যিক। গরমে গা পোড়ে। তালু জ্বলে, তেষ্টায় ছাতি ফাটে। কিন্তু উৎসবের জোয়ারে তাতে বিন্দুমাত্র টান পড়ে না। একদিকে কঠোর, ভীষণ ও কড়ির শাসন, অন্যদিকে আনন্দ-উচ্ছ্বাস আর স্নিগ্ধতার প্লাবন। এই বৈপরীত্যের সহাবস্থান শুধু এ দেশেই সম্ভব, যেহেতু এই বৈপরীত্য ধারণ করে এ দেশের তারুণ্য।
দুই. নববর্ষ ঘটা করে উদ্যাপন করে পাহাড়িরা, রাখাইন ও অন্যান্য সম্প্রদায়ের মানুষেরা। পাহাড়ে নববর্ষকে উপলক্ষ করে চলে নানা উৎসব, জলক্রীড়া। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় সেই ষাটের দশকের শেষ বছরে বান্দরবান গিয়েছিলাম। তখন মনে হয়েছিল, বৈশাখের প্রথম দিনটা পানি দিয়ে উদ্যাপন করাটা যেন প্রকৃতি চক্রকেই আবাহন জানানো। পরে দেশ স্বাধীন হলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি হলে দেখা গেল, তরুণেরা নববর্ষ উদ্যাপন শুরু করেছেন এবং পানি ছিটাচ্ছেন একে অন্যের ওপর। সূর্য সেন হলেও আমরা ঘটা করে সে উৎসবে শামিল হলাম। আমাদের এক বন্ধু ছিল, ভয়ানক আমোদপ্রিয়, তাকে সবাই চেয়ারম্যান বলে ডাকত। এক নববর্ষের দিন চেয়ারম্যান সবাইকে টেক্কা দিতে এক ট্রাক নিয়ে হাজির। সেই ট্রাকে আমরা পানিভর্তি বালতি-মগ নিয়ে উঠে সারা ক্যাম্পাসে পানি খেলেছি। এখনো সাদা-কালো কিছু ছবি আছে সেই পানি উৎসবের। রংও মাখতাম আমরা। তবে ধুয়ে পরিষ্কার করা যায়, তেমন রং। রং দিয়ে একটা শার্ট নষ্ট করার মতো বিলাসিতা তখন কারও ছিল না। আমরা একদিন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বেরিয়ে গেলাম। বৈশাখের প্রথম দিনও আমাদের কক্ষপথ থেকে দূরে চলে গেল। তারপর এল দীর্ঘ একটা অনিশ্চিত সময়। পেছন ফিরে তাকালে এখনো পরিষ্কার অনুভব করি, আমাদের সেই বার দুয়েক পয়লা বৈশাখ উদ্যাপনের পেছনে আনন্দের সঙ্গে আরেকটা উদ্দেশ্য ছিল, একটা প্রাণের উচ্ছ্বাসে সবাইকে জড়ানো। একাত্তরের স্বজন হারানোর কষ্ট তত দিনে কিছুটা সহ্য করতে শুরু করেছে সবাই।
নতুন দেশটা নিয়ে আশা বাড়ছে, হতাশাও বাড়ছে। যে নতুন যাত্রার জন্য আমরা যুদ্ধ করেছিলাম; তা বিলম্বিত হচ্ছিল। তাতে অনেকে বাগড়াও দিচ্ছিল। সেই হতাশার একটা রাজনৈতিক প্রকাশ ছিল, সামাজিক একটা প্রকাশও ছিল। সামাজিক প্রকাশের একদিকে ছিল ক্রোধ, অন্যদিকে এ থেকে মুক্তির নানা উপায় খোঁজার ইচ্ছা। নববর্ষ উদ্যাপন সে রকম এক মুক্তির সন্ধান দিল। এ ছিল তরুণদের ইচ্ছার প্রকাশ ঘটানোর একটা উপলক্ষ। এর কলেবর ও শক্তি যে দিনে দিনে বাড়বে, এ তো অবধারিতই ছিল। আশির দশকে সামরিক ও স্বৈরশাসন, গণতন্ত্র ও মুক্তচিন্তার ওপর খড়্গ নেমে আসাকে প্রতিহত করতে তরুণেরা পথে নেমেছিলেন। তরুণেরা রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত হচ্ছিলেন, যদিও তাতে পদে পদে বাধা ছিল। সামাজিকভাবে সংগঠিত হওয়ার জন্যও একটা পথ তাঁরা শিগগিরই করে নিলেন। পয়লা বৈশাখে তাঁরা হাজারে হাজারে পথে নেমে এলেন। যেদিন সকালে ঢাকায় ছায়ানটের অনুষ্ঠানের পর চারুকলা থেকে বেরোল মঙ্গল শোভাযাত্রা, যোগ হলো নববর্ষের কৃত্যের তালিকায়, সেদিন বোঝা গেল, তারুণ্য কী বাণী দেশের মানুষকে জানাতে চায়। সে বাণী ছিল: জেগে ওঠো দেশের মানুষ। মানুষও জাগল।
তিন. নববর্ষের আকর্ষণ দিন দিন বাড়ছে; বাড়ছে এর কৃত্যের তালিকাও। এই বাড়ার পেছনে ভূমিকা রাখছে দৃশ্যমাধ্যম। এই মাধ্যমটি একটি আয়নার মতো। এতে নিজেকে দেখা যায়, আবার আশপাশের সবাইকে অথবা সবকিছুকে দেখা যায়। সিরাজগঞ্জের নববর্ষের অনুষ্ঠান এখন নেত্রকোনার অথবা সুধারামের মানুষ দেখে; নেত্রকোনা ও সুধারামের নববর্ষের অনুষ্ঠান দেখে সিরাজগঞ্জের মানুষ। এই দেখার মধ্য দিয়ে তারা একে অন্যের সঙ্গে যুক্ত হয়। এখন দৃশ্যমাধ্যমের কল্যাণে এবং এর মধ্যস্থতায় সারা দেশে এক আশ্চর্য সমাবেশ ঘটছে পয়লা বৈশাখের দিনে। দৃশ্যমাধ্যম এই উৎসবে জাঁকজমক এনেছে, বৈচিত্র্য এনেছে। কয়েক বছর থেকে দেখছি, তরুণেরা গিটার হাতে ড্রাম বাজিয়ে গান গাইছেন সারা দেশে এবং হাজার হাজার তরুণ অংশ নিচ্ছেন তাঁদের আনন্দচর্চায়। এখন নববর্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছে ঘরে না থাকার দিন। বিরামহীন উদ্যাপনের দিন। আমরা বাঙালিরা উৎসবের জন্য অধীর হয়ে থাকি। তাই শোকের দিন একুশে ফেব্রুয়ারিকেও আমরা একটা উদ্যাপনের দিন করে ফেলেছি—শহীদদের আত্মদানের শক্তিকে উদ্যাপনের। তার রং দিয়েছি সাদা-কালো। বিজয় দিবসে আমরা উদ্যাপন করি লাল-সবুজকে, পয়লা ফাগুনে হলুদ-কমলাকে। একদিন রংধনুর সব রং আমরা আরও অসংখ্য উদ্যাপনের মধ্যে ছড়িয়ে দেব। পৃথিবীর আর কোনো জাতি তার স্বাধীনতার ৪৩ বছরে এতগুলো উৎসবের নবায়ন এভাবে রঙের মধ্য দিয়ে, গানের মধ্য দিয়ে, সারা দিনের আরও নানা নৃত্যের মধ্য দিয়ে করতে পারেনি।
আমরা পেরেছি। উৎসবপ্রিয় এই জাতি একদিন উৎসবের সংখ্যা, বৈচিত্র্য ও অভিঘাতের বিচারে সবাইকে হয়তো পেছনে ফেলে যাবে। তরুণেরা যে এভাবে উৎসব আবিষ্কার বা পুনরাবিষ্কার করছেন, তার মূল কারণটি যদি কেউ শনাক্ত করতে চান, তাঁকে যেতে হবে দুটি সূত্রের কাছে—এর প্রথমটি তারুণ্যের স্বাভাবিক প্রাণশক্তি, এর উদ্ভাবনী ক্ষমতা এবং দ্বিতীয়টি নতুনত্বের প্রতি, প্রাণশক্তির বাধাহীন প্রকাশের প্রতি, পরিবর্তনের প্রতি, সৌন্দর্য, মানবিকতা, সাম্য এবং স্বাধীনতার প্রতি এই তারুণ্যের সহজাত সমর্থন ও নিষ্ঠা। আপাতদৃষ্টিতে তারুণ্যের উৎসব নিয়মমাফিক একটি বিষয় হলেও এর গূঢ় তলে কার্যকর এ দুই শক্তি এবং সেসব থেকে উদ্ভূত নানা কার্যকারণ ভিন্ন একটি ব্যাখ্যা হাজির করে। এ জন্য এক নববর্ষে রমনা বটমূলে বোমা ফেটে প্রাণহানি হলে পরের বৈশাখে সারা প্রাঙ্গণ ছেয়ে যায় মানুষে। নিয়মমাফিক হলে ভয় থাকত, দ্বিধা থাকত, মানুষ দূরে থাকত। নিয়মমাফিক নয় বলে, প্রাণের টান থেকে এ উদ্যাপন উদ্ভূত বলে, মানুষ বাধা মানে না। এই উদ্যাপনের শক্তিকে সম্মান জানাতে হবে শক্তিমানদের, দেশের মঞ্চে পুতুলখেলার সুতা নাড়েন যাঁরা তাঁদের, নানা মত ও উগ্রপথের যাঁরা পসরা সাজিয়ে বসেন সারা বছর তাঁদের এবং তরুণদের নিজেদের, বস্তুগত নানা কাজে, ক্ষমতার নানা অপচর্চায় যাঁরা ব্যবহার করেন, তাঁদের। অন্যদিকে, পয়লা বৈশাখের শক্তিকে মানুষের জন্য, পরিবর্তনের জন্য, সাম্য আর মানবিকতা প্রতিষ্ঠার জন্য যাঁরা ব্যবহার করবেন, তাঁরা টিকে থাকবেন, তাঁরা প্রতিবছর তারুণ্যের উৎসবে যোগ দিতে পারবেন। সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম: কথাসাহিত্যিক। অধ্যাপক, ইংরেজি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

যেভাবেই হোক, একটা জাগরণ তো এসেছে

গণজাগরণ মঞ্চ: প্রয়োজন ফুরিয়েছে, সরকারের পিছটান
ছাত্রলীগের সরে যাওয়ার মধ্য দিয়ে গণজাগরণ মঞ্চে যে ভাঙন শুরু হয়েছিল, তা এখন চূড়ান্ত আকার ধারণ করেছে। ক্ষমতাসীন দলও চায় না গণজাগরণ মঞ্চ টিকে থাকুক। প্রয়োজন ফুরিয়েছে গত বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি কাদের মোল্লার ফাঁসির দাবিতে গড়ে ওঠা বহুল আলোচিত গণজাগরণ মঞ্চের। এ ব্যাপারে পাঠক শফিক রহমানের মন্তব্য: আওয়ামী লীগের মূল উদ্দেশ্য ছিল এই গণজাগরণ মঞ্চকে কাজে লাগানো এবং যাতে কোনো ধরনের সরকারবিরোধী আন্দোলন না হতে পারে, তা নিশ্চিত করা। ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগের এ রকমের নাটকের মঞ্চ আর যে কত দেখতে হবে, সেটাই এখন ভাবার বিষয়! সায়েম সজল: কোনো সন্দেহ নেই গণজাগরণ মঞ্চ তৈরি হয়েছিল স্বতঃস্ফূর্তভাবেই। সরকার তার প্রয়োজনমতো মঞ্চকে ব্যবহার করেছে মাত্র। পরাগ রহমান: আওয়ামী লীগ বড় বড় ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, সংগঠন থেকে শুরু করে অনেক নিচু লেভেল পর্যন্ত যখন, যাদের দরকার মনে করেছে, ব্যবহার করেছে আর ব্যবহার শেষে ছুড়ে ফেলে দিয়েছে।
আরিফুর: সাধারণ মানুষ চোখ বুজে তাদের পিছু নিয়েছিল। সবই ছিল সরকারের সাজানো। আবার তা প্রমাণিত হলো। শিকদার দস্তগীর: শুরুতেই জানতাম, এর প্রয়োজনীয়তা সরকারের কাছে একসময় ফুরিয়ে যাবে। আওয়ামী লীগ কী জিনিস নতুন প্রজন্মের যারা জানত না, তারা এদের চিনে নিক। কাজী এস আহমদ: যেভাবেই মঞ্চের শুরুটা হোক না কেন জনসমর্থন পাওয়ামাত্র সরকার এটাকে ছাত্রসংগঠন এবং তাঁবেদার সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের মাধ্যমে গ্রাস করে এদের ব্যবহার করে এবং কাজ হয়ে গেলে ছুড়ে ফেলে দেওয়াটা আওয়ামী লীগের চরিত্র। কাজী রহমান: যেভাবেই হোক, একটা জাগরণ তো এসেছে। একে সবাই মিলে ধরে রাখতে পারলে খুব ভালো হয়। যাদের জমছে না, তারা সরে যাক। স্বল্পসংখ্যক হলেও শুধু নিবেদিতপ্রাণরাই থাকুক এর সঙ্গে। যুবক-তরুণদের আশার আলো হয়ে। যাদের দৃষ্টি থাকবে অন্ধকার অতীতের দিকে নয়, বরং উজ্জ্বল ভবিষ্যতের দিকে। আজ না হোক কাল যারা দেশকে দেবে গর্ব করার মতো দিন। আমি যদি তাদের সঙ্গে না-ও থাকি, আমার আত্মা, আমার চেতনা যেন থাকে তাদের সঙ্গে। মানুষের হাসি দেখে আমি যেন বলতে পারি—এই তো আমার দেশ। আমি তো এদেরই একজন (ছিলাম)!
মাদ্রাসার উপযোগী করতে পাঠ্যবইয়ে অদ্ভুত পরিবর্তন
সাধারণ শিক্ষার মূল পাঠ্যবইগুলোকে মাদ্রাসা শিক্ষার বৈশিষ্ট্য-উপযোগী করতে গিয়ে বইগুলোর আঙ্গিক ও মৌলিক কিছু বিষয়ে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। সাধারণ বিদ্যালয়ে আগের পাঠ্যবই-ই বহাল থাকবে। এর সমালোচনা করে পাঠক পলাশ লিখেছেন: দেশের কৃষ্টি-সংস্কৃতি ও দেশবরেণ্য কবি-সাহিত্যিকদের কথাই যদি ছাত্ররা জানতে না পারে, তাহলে মনে হয় না মাদ্রাসার ছাত্ররা সাধারণ ছাত্রদের সঙ্গে মেধায় পাল্লা দিতে পারবে। তাই সরকারের এই চেষ্টা উলুবনে মুক্তা ছড়ানো ছাড়া আর কিছু হবে না। কোহিনুর ইসলাম: সাধারণ শিক্ষা জাতি-ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে সবার জন্য। কিন্তু মাদ্রাসা শিক্ষা শুধু মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য। তাই যেসব বিষয় ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করতে পারে, সেগুলো বাদ দেওয়া হয়েছে... আমি এই পরিবর্তনের পক্ষে। রূপক চৌধুরী: তবু যে তারা (মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ) পরিবর্তনে রাজি হয়েছে, এটাই অনেক বড় পাওয়া। ইসলাম ধর্মের মৌলিক বৈশিষ্ট্য অসাম্প্রদায়িকতার দিকে ফিরে যেতে এটা একটা মাইলফলক হতে পারে। ইসলাম পৃথিবীতে তার সত্যিকার বৈশিষ্ট্য নিয়ে সুপ্রতিষ্ঠিত হবে।
সোনা চোরাচালানে পুলিশ জড়িত!
সোনা চোরাচালানিদের সঙ্গে ঢাকা মহানগর পুলিশের একজন কর্মকর্তার যোগাযোগ রয়েছে। সোনা উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেপ্তারের পর এক আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এ তথ্য জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে আব্দুল্লাহ আল সাব্বির লিখেছেন: আমি এ ঘটনায় পুলিশের কোনো দোষ দেখি না। যত দিন পর্যন্ত যোগ্য স্থানে যোগ্যতা অনুযায়ী নিয়োগ হবে না, তত দিন পর্যন্ত এসব অপরাধ চলতে থাকবে। কোনো আইনে কিচ্ছু করতে পারবে না। সাজ্জাদ হোসেইন: কোন কোন কাজে পুলিশ জড়িত নয়, তার একটা তালিকা তৈরি করলে আমরা উপকৃত হব। তানভীর রহমান: বিপথগামী কোনো সদস্যের অপকর্মের দায় তো সংশ্লিষ্ট বিভাগের ওপর বর্তায় না। এন আহমেদ: বড় দান মারতে এরা সবকিছুই করতে পারে। ভাগ-বাঁটোয়ারার সবকিছুই আগে থেকে ঠিক থাকে।
আওয়ামী লীগ কোন পথে
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার ও তার কর্মকাণ্ড নিয়ে লেখা এই কলামে পাঠক মো. মিরাজ আলম লিখেছেন: আওয়ামী লীগ কোন পথে? সহজ উত্তর—জাতীয় পার্টির অবস্থার দিকে। আর জাতীয় পার্টি বিলুপ্তির দিকে। শামীম আনসার: সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করতে জাপার মহাসচিবের পরিবর্তন, আল্লামা শফীর অনুরাগ, গণজাগরণ মঞ্চ থেকে পিছটান, প্রশ্ন ফাঁস-স্থগিত পরীক্ষা-তদন্ত কমিটি, সংসদে না থাকা বিএনপি-জামায়াত নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অধিবেশনে আলোচনা-কুরুচিপূর্ণ সমালোচনা, বাম্পার ফলনের পরও আলুর পর পেঁয়াজেরও মূল্যপতন, ভারতে সরকারের পটপরিবর্তনের সম্ভাবনা...আওয়ামী লীগকে আরও সতর্ক হতে হবে। স্বাপ্নিক রায়: শুধু আওয়ামী-বাকশালীরাই মনে করে যে, এরা ঠিক পথে আছে। কারণ, ভেজাল আর বাঁকা পথই তাদের আসল পথ। এ দেশের সিংহভাগ মানুষই মনে করে আওয়ামী লীগ দেশকে বিপথে নিচ্ছে। হাফিদ: শুধু অন্ধ আওয়ামী লীগ বলে, আওয়ামী লীগ ঠিক পথে আছে। মো. কামরুল হাসান: আওয়ামী লীগের কাছে সবাই ইউটোপিয়া চায়, ভাবটা এমন বিরোধীরা তো মহা খারাপ তুমি হও মহা ভালো। বিবেচ্য বিষয় হওয়া উচিত আওয়ামী লীগ তুলনামূলক ভালো করছে কি না এবং উত্তরোত্তর ভালো করছে কি না।
ভালো করার উপদেশ, মন্দ কাজের সমালোচনা ইত্যাদিই পারে বাংলাদেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে। মাসুদ: আওয়ামী লীগ শেষ হওয়ার পথে। একসময় জাতীয় পার্টি অনেক আসন পেত, পরে হলো রংপুরের আঞ্চলিক পার্টি, আর এখন সবশেষ হওয়া পার্টি। মহিউদ্দিন মাসউদ: কোন পথে? রাজনীতির অন্ধকারময় কানা গলিতে, যেখানে সব আছে, নেই শুধু গণতন্ত্রের রাজনীতি। আর সেই গণতন্ত্রের রাজনীতিতে তাদের পক্ষে আর ফিরে আসা সম্ভব নয়। যদি সেটা সম্ভব করতে হয় তার জন্য যে বিশাল অস্ত্রোপচার করতে হবে, সে ধরনের বিশেষজ্ঞ এবং সাহসী নেতৃত্ব ওখানে আর অবশিষ্ট আছে বলে মনে হয় না। আত্মস্বার্থের রাজনীতির এই চেহারাই সর্বশেষ পরিণতি। এ রকমটা হয়তো টেনে নিতে পারবেন তাঁরা আরও কিছুটা পথ, তাতে শেষরক্ষার দাওয়াই মিলবে না। খোলনলচের ব্যাপক পরিচ্ছন্নতা ছাড়া সদর রাস্তায় চলার সম্ভাবনা সামান্যই।

‘আর ডাকাতি করব না’

কয়েক বছর আগে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় গিয়েছিলাম সরেজমিন প্রতিবেদন করার জন্য। বিষয়টা আগেই নির্ধারিত ছিল। কিন্তু থানা সদরে পৌঁছানোর পরপরই শুনলাম, আগের রাতে ভয়াবহ ডাকাতি হয়েছে এখানকার একটি বাড়িতে। নির্ধারিত বিষয়টি আপাতত স্থগিত রেখে ছুটে যাই সেই বাড়িটিতে। গিয়ে দেখি ডাকাতেরা বাড়ির লোকজনকে মেরে গুরুতর জখম করার পর সোনা, নগদ টাকাসহ মূল্যবান সবকিছুই নিয়ে নির্বিঘ্নে পালিয়েছে। খোঁজখবর করার সময়ই শুনতে পাই, একই রাতে আরও কয়েকটি বাড়িতে ডাকাতি হয়েছে। অবাক হয়েছিলাম গ্রামের লোকজনের প্রতিক্রিয়া দেখে। যেন এটাকেই নিয়তি বলে মেনে নিয়েছেন তাঁরা। থানা-পুলিশের সঙ্গে কথা বললাম। তাঁরাও অসহায়ত্ব পকাশ করলেন। জেনেছিলাম, শুধু আনোয়ারা না, পার্শ্ববর্তী বাঁশখালী বা চকরিয়ায়ও ডাকাতি প্রায় নিয়মিত ঘটনা। ওই ঘটনার পরদিন প্রথম আলোয় আনোয়ারার ডাকাতি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। তাতে অবস্থার যে খুব পরিবর্তন হয়েছিল, তা-ও বলা যায় না। সম্প্রতি সংবাদপত্রে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পড়ে কয়েক বছর আগের সেই ঘটনা মনে পড়ল আবার। পাশাপাশি কিছুটা বিস্ময়ও জেগেছে মনে। বিস্ময়ের কারণটা জানানোর জন্য প্রতিবেদনটির মূল বিষয়টি এখানে তুলে ধরছি। গত ১৭ মার্চ চকরিয়া উপজেলার চিরিঙ্গা ইউনিয়নের সওদাগরঘোনা সাইক্লোন শেল্টারে ৪০-৪৫ জন ডাকাত ও তাঁদের অভিভাবকেরা এসে পুলিশ প্রশাসন ও স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধি এবং এলাকার লোকজনের উপস্থিতিতে ঘোষণা দেন যে তাঁরা আর কোনো দিন ডাকাতি করবেন না।
এমনকি এলাকায় কোনো ধরনের ডাকাতির ঘটনা হলে তাঁরাই খুঁজে এনে ডাকাতদের পুলিশের হাতে সোপর্দ করবেন। আবেগঘন একটি পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছিল সভায়। ডাকাতদের কেউ কেউ অকপটে বলেছেন, অনেক অন্যায় করেছেন তাঁরা, একবার সুযোগ পেলে প্রায়শ্চিত্ত করবেন এবং বউ-ছেলে-মেয়ে নিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন করবেন। চকরিয়া এলাকায় চিংড়িঘেরে ডাকাতির বিষয়টি ছিল প্রায় নিয়মিত ঘটনা। তা ছাড়া বাড়িঘর বা চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়কে গাড়ি আটকে ডাকাতির ঘটনাও ঘটেছে বহুবার। ডাকাতদের এ রকম ‘আত্মসমর্পণ’ বা আত্মসংশোধনের ঘোষণায় নিশ্চয় কিছুটা স্বস্তি পাবেন ভুক্তভোগীরা। কথা হচ্ছে, এই ডাকাতদের প্রতিশ্রুতির ওপর কতটা নির্ভর করা যায়, কেনই বা তাঁরা হঠাৎ দীর্ঘদিনের ‘পেশা’ পরিবর্তন করতে চান? এর তাৎক্ষণিক উত্তর পাওয়া যায়নি। কৌতূহলবশত ডাকাতিপ্রবণ এলাকা আনোয়ারা ও বাঁশখালীতেও খোঁজ নিয়েছি। সেখানকার সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেল, ডাকাতির ঘটনা সেখানেও আজকাল প্রায় নেই বললেই চলে। এর কারণ নির্দিষ্ট করে কেউ জানাতে না পারলেও মোটা দাগে তাঁদের ধারণা, মানুষের আয়-উপার্জন ও কর্মসংস্থান বেড়েছে। সম্প্রতি ব্যাটারিচালিত রিকশার ব্যাপক প্রচলন হয়েছে চট্টগ্রামের শহরে ও গ্রামে। এই রিকশা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালিয়ে যা আয় করা যায়, তাতে মোটামুটি সংসার চালিয়ে নেওয়া সম্ভব বলে আগের মতো ঝুঁকিপূর্ণ ও অনৈতিক পেশায় জড়িত হতে চান না কেউ। এই ধারণা কতটা বাস্তবসম্মত, তা নিয়ে জরিপ বা গবেষণা হতে পারে। তবে গ্রামাঞ্চলে মোটের ওপর ডাকাতির প্রকোপ যে কমেছে সন্দেহ নেই। দুর্ভাগ্য, আমাদের কোনো সুসংবাদই যেন দীর্ঘস্থায়ী হয় না।
গ্রামাঞ্চলে ডাকাতি কমেছে এই সংবাদে স্বস্তির নিঃশ্বাস নেওয়ার আগেই পত্রিকান্তরে ছাপা হয়েছে নৌপথে ডাকাতির সংবাদ। গত ১৬ মার্চ রাতে সোনাদিয়া দ্বীপের কাছে একদল জলদস্যু একটি মাছ ধরার ট্রলারে হামলা চালিয়ে লুট করে নিয়ে গেছে মাছ, জালসহ মূল্যবান সরঞ্জামাদি। পাশাপাশি ট্রলারসহ জেলেদেরও অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করেছে তারা। গোয়েন্দা সূত্র বলছে, সাগর ও নদীপথে অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে ডাকাতির ঘটনা। এসব নিয়ন্ত্রণ করছে জলদস্যুদের অন্তত ১১টি দল। ডাকাতির পর এসব লুণ্ঠিত সামগ্রী নদীপথে চট্টগ্রামের বিভিন্ন ঘাটে এসে বিক্রি করা হয়। এসব কেনাবেচায় জড়িত আরও চারটি সিন্ডিকেট। প্রতিটি সিন্ডিকেটে ৮-১০ জন সদস্য। এরাই অগ্রিম টাকা দিয়ে জলদস্যুদের ডাকাতি ও লুণ্ঠনের জন্য প্ররোচিত করে থাকে। ডাকাতির মাল বিক্রি হয় সদরঘাটের বিআইডব্লিউটিসি ঘাট, চাক্তাইখাল, চরপাথরঘাটা, বার আউলিয়া ঘাট, পারকির চর প্রভৃতি এলাকায়। কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের অনেকের নামই নৌঘাট এলাকায় লোকমুখে শোনা যায়। এমনকি পত্রপত্রিকায়ও ছাপা হয়েছে অনেকের নাম। কিন্তু কেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারছে না তার কারণ ‘অজ্ঞাত’। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার বাবুল আক্তার চৌধুরী সম্প্রতি পত্রিকান্তরে বলেছেন, ‘সাগর ও নদীপথে চোরাইকৃত মালামাল চট্টগ্রামের বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি হওয়ার কথা কিছুটা শুনেছি। এটা নিয়ে আমরা কাজও করছি। তবে বেশি দূর যেতে পারিনি।’ বেশি দূর যেতে বলি না। নদী-সাগরে জলদস্যুতা হলে তার দায় অনেকটাই কোস্টগার্ডের ওপর বর্তায়। কিন্তু ডাঙ্গায় এসে যখন সেই লুণ্ঠিত মালামাল কেনাবেচা হয়, সেখানে মাল জব্দ বা ক্রেতা-বিক্রেতাদের আটক করতে বাধা কোথায়? লুণ্ঠিত মালামাল বিক্রির পথ রুদ্ধ হলে, এ কাজে অগ্রিম টাকা বিনিয়োগ করা লোকগুলোকে আইনের আওতায় আনা গেলে জলদস্যুতা কমে আসবে। বাবুল আক্তার চৌধুরী আরও বলেছেন, 
যে এলাকায় চুরি-ডাকাতি হয়, মামলাও সাধারণত সেখানে করা হয়। ফলে সেখানকার পুলিশ বিষয়টি দেখে থাকে। এ কারণে আমাদের পক্ষে জোরালোভাবে কাজ করা সম্ভব হয়ে ওঠে না।’ এসব শিশুতোষ যুক্তি গোয়েন্দা পুলিশের মুখপাত্রের জবানিতে মানানসই নয়। যে এলাকায় মামলা, সে এলাকার বাইরে সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের ধরা যাবে না, অপরাধ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে না, এমন যুক্তি দাঁড় করালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়হীনতার ব্যাপারটিই স্পষ্ট হয়ে ওঠে। জেলে সম্প্রদায়কে নিয়ে কাজ করে এমন একটি বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণ থেকে জানা গেছে, জলদস্যুতা আর সম্পদহানির আশঙ্কায় জেলেদের জন্য সাগরে মাছ শিকার দিন দিন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। দ্রুতগতির ফিশিং ট্রলার নিয়ে জলদস্যুরা সারা বছরই অতর্কিত জেলেদের ওপর হামলা করে জাল, মাছ, ইঞ্জিন ও টাকাপয়সা ছিনিয়ে নেয়। শারীরিক নির্যাতন চালায়, এমনকি খুন করে সমুদ্রে ফেলে দেয়। জলদস্যুতা রোধে এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট আইন নেই। তবে সামুদ্রিক মৎস্য অধ্যাদেশ, ১৯৮৩-এর ৪২ ধারায় মৎস্যশিকারি নৌযান, মাছ ধরার খুঁটি, যন্ত্রপাতি বা সরঞ্জামাদির ক্ষতি বা ধ্বংস করার অপরাধে তিন বছরের কারাদণ্ড বা এক লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রয়েছে। এসব বিধান যে যথাযথ প্রয়োগ হচ্ছে না বা জলদস্যুরা এর তোয়াক্কা করছে না তার প্রমাণ পত্রপত্রিকা খুললে তো পাওয়া যাচ্ছেই, পাঠকের অগোচরে থাকছে তার চেয়েও বেশি সংবাদ। শুরু করেছিলাম সুসংবাদ দিয়ে। চকরিয়ার ডাকাতেরা আর ডাকাতি করবেন না প্রতিশ্রুতি দিয়ে আত্মসংশোধনের সুযোগ চেয়েছেন। এর কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে তাঁদের আয়-উপার্জন বৃদ্ধি ইত্যাদি নানা অনুষঙ্গের পাশে যে কথাটি বলা হয়নি, তা হলো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা। জলদস্যুতা প্রতিরোধেও সে রকম সক্রিয় ভূমিকা দেখতে চাই তাদের। যাতে এই ডাকাতদের মতো জলদস্যুরাও আত্মসমর্পণ করে প্রকাশ্যে এসে কবুল করতে বাধ্য হন, ‘আর ডাকাতি করব না।’
বিশ্বজিৎ চৌধুরী: লেখক ও সাংবাদিক।
bishwabd@yahoo.com

অর্থনৈতিক অগ্রগতি

বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার মজুত যেদিন দুই হাজার কোটি ডলার ছাড়িয়ে গেল, তার আগের দিনই বাংলাদেশের অর্থনীতি ব্যবস্থাপনার প্রতি বিশ্বব্যাংকের সপ্রশংস মন্তব্য কাকতালীয় মনে হলেও দুইয়ের মধ্যে যে অন্তর্নিহিত সম্পর্ক রয়েছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, পদ্মা সেতুর জটিলতা বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়নের সহায়তায় কোনো সমস্যা হবে না। গত কয়েক বছরে সংস্থাটির আর্থিক ঋণ অনেকাংশে বাড়লেও পদ্মা সেতু প্রশ্নটি এখনো আমাদের বিদ্ধ করছে। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন আটকে যাওয়ায় দেশের বৃহত্তম এই প্রকল্প তো বিলম্বিত হলোই, পাশাপাশি যাদের কারণে এটি ঘটল, তাদের চিহ্নিত না হওয়ার বিষয়টি দুর্ভাগ্যজনক। বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ সমীক্ষায় বাংলাদেশের অর্থনীতি সম্পর্কে অনেক ইতিবাচক কথা থাকলেও গত বছরের রাজনৈতিক হানাহানিকে প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তারা যে কথাটি আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছে, সেটি হলো অর্থনৈতিক উন্নতির জন্য রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অপরিহার্য। বিশ্বব্যাংক বলেছে, গত বছরের সহিংস ও ধ্বংসাত্মক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি থেকে ১ শতাংশ খেয়ে ফেলেছে। যেখানে সাড়ে ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হওয়ার কথা, সেখানে সেটি ৫ দশমিক ৪ শতাংশে নেমে আসবে বলে তাদের ধারণা। একই সঙ্গে তারা এই আশাবাদও ব্যক্ত করেছে যে আগামী অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি সাড়ে ৬ শতাংশে নেওয়া কঠিন হবে না, যদি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।
নির্বাচনের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতি অনেকটা শান্ত থাকায় অর্থনীতির সূচকগুলো যেমন ঘুরে দাঁড়াচ্ছে, তেমনি জনগণের মধ্যেও নতুন উদ্দীপনা লক্ষ করা গেছে। ফলে, প্রতিযোগিতা সত্ত্বেও আমাদের রপ্তানি-আয় ও প্রবাসী-আয় উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো সম্ভব হয়েছে।এর সঙ্গে বিনিয়োগের স্থবিরতা কেটে গেলে দেশের অর্থনীতি প্রকৃতপক্ষে শক্ত ভিতের ওপর দাঁড়ানোর ক্ষেত্র প্রস্তুত হবে। কিন্তু এই সম্ভাবনাকে আমরা কতটা কাজে লাগাতে পারব, তা নির্ভর করছে রাজনীতির গতি-প্রকৃতির ওপর। ভবিষ্যতে যদি রাজনৈতিক অস্থিরতা ও হানাহানি বেড়ে যায়, যদি আমরা হরতাল-অবরোধের যুগে প্রত্যাবর্তন করি, তাহলে অর্থনীতি সবচেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পূর্বশর্ত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে জোরদার করা। সে ক্ষেত্রে গত ৫ জানুয়ারির একতরফা নির্বাচন কিংবা সংঘাতময় উপজেলা নির্বাচন আদর্শ হতে পারে না। বিরোধী দল সংসদে না থাকলেও তাদের সঙ্গে একটা কর্মসম্পর্ক গড়ে তোলা প্রয়োজন। তাদের শান্তিপূর্ণ সভাসমাবেশ পালনেরও অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। আবার বিরোধী দলেরও উচিত হবে না ইতিহাসের মীমাংসিত বিষয়গুলো নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তোলা। বিশ্বব্যাংক বা অন্য কোনো বিদেশি সংস্থা বলেছে তা-ই নয়, আমাদের নিজেদের প্রয়োজনেই ধ্বংসাত্মক ও বিভেদাত্মক রাজনীতি পরিহার করতে হবে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় হরতাল-অবরোধ যেমন পরিত্যাজ্য, তেমনি পরিত্যাজ্য একতরফা এবং বিতর্কিত নির্বাচনও। ক্ষমতাসীন দলটি নির্বাচনের আগে বিরোধী দলের সঙ্গে সংলাপে বসার যে আগ্রহ ব্যক্ত করেছিল, তা থেকে সরে আসা সমীচীন হবে না।

তারুণ্যের উৎসব by সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম

চৈনিকেরা তাদের প্রতিটি নববর্ষের জন্য একটি করে প্রাণী বেছে নেয়—একটি চীনা বছর যদি হয় ড্রাগনের নামে, আরেকটি হবে সারমেয়র নামে। প্রাণীদের তালিকায় বাঁদর আছে। ইঁদুরও আছে। তাদের বিশ্বাস, প্রাণীদের প্রতীকী মূল্য অনুযায়ী বছরটি গুণান্বিত হবে। এ বছর ঘোড়ার বছর। হয়তো এ বছর সামরিক পরাক্রম দেখাতে পারবে বর্ষপালনকারী সব দেশ। তবে কোনো দুই দেশের মধ্যে মারামারি না লেগে গেলেই হয়।

আর ডাকাতি করব না by বিশ্বজিৎ চৌধুরী

কয়েক বছর আগে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় গিয়েছিলাম সরেজমিন প্রতিবেদন করার জন্য। বিষয়টা আগেই নির্ধারিত ছিল। কিন্তু থানা সদরে পৌঁছানোর পরপরই শুনলাম, আগের রাতে ভয়াবহ ডাকাতি হয়েছে এখানকার একটি বাড়িতে। নির্ধারিত বিষয়টি আপাতত স্থগিত রেখে ছুটে যাই সেই বাড়িটিতে। গিয়ে দেখি ডাকাতেরা বাড়ির লোকজনকে মেরে গুরুতর জখম করার পর সোনা, নগদ টাকাসহ মূল্যবান সবকিছুই নিয়ে নির্বিঘ্নে পালিয়েছে। খোঁজখবর করার সময়ই শুনতে পাই, একই রাতে আরও কয়েকটি বাড়িতে ডাকাতি হয়েছে। অবাক হয়েছিলাম গ্রামের লোকজনের প্রতিক্রিয়া দেখে। যেন এটাকেই নিয়তি বলে মেনে নিয়েছেন তাঁরা। থানা-পুলিশের সঙ্গে কথা বললাম। তাঁরাও অসহায়ত্ব পকাশ করলেন। জেনেছিলাম, শুধু আনোয়ারা না, পার্শ্ববর্তী বাঁশখালী বা চকরিয়ায়ও ডাকাতি প্রায় নিয়মিত ঘটনা। ওই ঘটনার পরদিন প্রথম আলোয় আনোয়ারার ডাকাতি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। তাতে অবস্থার যে খুব পরিবর্তন হয়েছিল, তা-ও বলা যায় না।

চোখের সামনে খুন হচ্ছে নদী by আনু মুহাম্মদ

নদীর পানিপ্রবাহের ওপরই বাংলাদেশের জন্ম। নদী বিপন্ন হলে তাই বাংলাদেশের অস্তিত্বও বিপন্ন হয়। নদী হারানোর সর্বনাশ এক-দুই বছরে, এক-দুই দশকে বোঝা যায় না। গত কয়েক দশকে বাংলাদেশে জিডিপি যে বহুগুণ বেড়েছে তার হিসাব আমাদের কাছে আছে, কিন্তু একই সময়ে বাংলাদেশের প্রাণ এই নদীমালার কতটা জীবনহানি ও জীবনক্ষয় হয়েছে, তার কোনো পরিসংখ্যান আমাদের কাছে নেই। কংক্রিটকেন্দ্রিক তথাকথিত ‘উন্নয়নের’ বড় শিকার দুই দেশেরই নদীমালা। বাংলাদেশ অংশে নদীর বিপন্নতা ঘটেছে তুলনায় অনেক বেশি। একতরফা আক্রমণে বাংলাদেশের অসংখ্য ছোট নদী এখন একেকটি মৃতদেহ। আর বৃহৎ চার নদী পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, তিস্তা এখন বিপর্যস্ত এবং আরও আক্রমণের মুখে।

আন্দোলন, না নতুন তত্ত্বকৌশল? by মলয় ভৌমিক

ঢাকায় খালেদা জিয়া যখন উপজেলা নির্বাচন শেষে নতুন করে আন্দোলন শুরুর ঘোষণা দিচ্ছেন, তখন একই সময় লন্ডনে বসে তারেক রহমান ‘প্রথম রাষ্ট্রপতিতত্ত্ব’ হাজির করেন। প্রশ্ন হলো, আন্দোলনের কথা বলে স্বাধীনতার প্রায় সাড়ে চার দশক পর মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য জিয়াউর রহমানই দেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি—এমন তত্ত্ব বয়ান করা হলো কেন?

পয়লা বৈশাখের শুভ মুহূর্তে by মুস্তাফা জামান আব্বাসী

দূর প্রবাসে যারা, বাংলাদেশের বৈশাখের দিকে তাকিয়ে, অন্তত ফেসবুকের বাসিন্দা যারা, তাদের চোখে বৈশাখের বার্তা। চৈত্রের নিদাঘ জানান দেয় বৈশাখের আগমন। প্রথম দিনটি এল বলে। আগে থেকেই বাতাসে ঝড় তুলে আগমন শিলাবৃষ্টির, সেই সঙ্গে কালো মেঘের ভ্রুকুটি, যাতে কয়েকটি প্রাণের বজ্রাঘাতে নির্বাপণ। যার গেছে, সে-ই জানে শুধু, অন্যের কাছে নেই এর কোনো মূল্য। বাড়ে ইলিশের দাম, সেই সঙ্গে পুরোনো গানগুলোর বিন্যাস, চলে নানা প্রস্তুতি টিভির পর্দায়, নানা সাজের পয়লা বৈশাখ দ্বারে উপস্থিত।

স্বাস্থ্য পরিষেবায় তথ্যপ্রযুক্তি by রেজা সেলিম

বাংলাদেশ স্বাস্থ্য পরিষেবার কোনো উপাত্ত তথ্য নেই। উন্নত দেশগুলো তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে রোগীর সব তথ্য সংরক্ষণ করে। এতে সরকার জানতে পারে, কোন রোগে কত মানুষ আক্রান্ত। আমাদের দেশে রোগের যেসব জরিপ হয়, তাতে প্রাদুর্ভাবের পরিসংখ্যান-তথ্য কিছু কিছু ক্ষেত্রে পাওয়া যায়, কিন্তু রোগের চিকিৎসায় অনুসৃত বিস্তারিত তথ্য থাকে না।

মুক্তিযুদ্ধের মিডিয়া সেন্টার by এবিএম মূসা

প্রথমা প্রকাশন থেকে সাংবাদিক ও কলাম লেখক এবিএম মূসার প্রকাশিতব্য আত্মজীবনী বেলা যে যায়-এর নির্বাচিত অংশ প্রথম আলোয় প্রকাশিত হচ্ছে।
সাইমন ড্রিং এসেছিলেন দিন কয়েক আগে ঢাকায়। ’৭১-এর ২৫ মার্চের কালরাতে তিনি হোটেল ইন্টারকনে লুকিয়ে ছিলেন। পাকিস্তানি সেনারা অন্য বিদেশি সাংবাদিকদের সঙ্গে তাঁকে ঢাকা ত্যাগে বাধ্য করতে খুঁজে পায়নি। পরদিন সাইমন ঢাকা শহর ঘুরে হত্যাযজ্ঞের ছবি আর বিবরণ সংগ্রহ করেছিলেন। পরে সেসব লোমহর্ষক ও হূদয়বিদারক কাহিনি ছাপিয়েছেন লন্ডনের ডেইলি টেলিগ্রাফ-এ। সেই বিবরণ পড়ে ও ছবি দেখে সারা বিশ্ব শিহরিত হয়েছিল। সাইমনের মতো এ রকম আরও অনেকের এমনি সব সংবাদ, তথ্য ও ছবি দেখে বাঙালিদের সশস্ত্র বিপ্লবের পক্ষে গড়ে উঠেছিল বিশ্বজনমত।

খেলার মাঠে রাজনৈতিক চেতনা by এবিএম মূসা

প্রথমা প্রকাশন এবিএম মূসার আত্মজীবনীর কাজ যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে আসে, তখনই তিনি অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে। ফলে তাঁর জীবদ্দশায় এটি প্রকাশিত হতে পারেনি। এবিএম মূসার প্রকাশিতব্য আত্মজীবনী বেলা যে যায়-এর নির্বাচিত অংশ প্রথম আলোয় প্রকাশিত হচ্ছে।

‘রাষ্ট্রদূত’ মূসার প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা by মিজানুর রহমান খান

মেরিল্যান্ডে মার্কিন জাতীয় মহাফেজখানায় কাজ করতে গিয়ে এবিএম মূসার নামটি দেখে প্রীত হয়েছিলাম। তাঁর সংক্রান্ত মার্কিন নথির কথা ঢাকায় তাঁকে জানিয়েছিলাম। কিন্তু তাঁকে তা দেখানো হয়নি। এ নিয়ে লেখাও হয়নি। দুটি নথিতে তাঁর উল্লেখ পাই। প্রথমটি লিখেছেন ‘আমেরিকান মুক্তিযোদ্ধা’খ্যাত একাত্তরের মার্কিন কনসাল অর্চার কে. ব্লাড। এই নথিটি রীতিমতো জামাতার বিরুদ্ধে শ্বশুরের মধুর চক্রান্তভেদের সঙ্গে তুলনীয়। মূসাকে এটাও বলা হয়নি। বাষট্টির মে মাসে পূর্ব পাকিস্তান সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতির পদ তাঁকে ছাড়তে হয়। যদিও নির্বাচনের মাধ্যমে ঘটেছিল, তদুপরি এর পেছনে অন্তত ব্লাডের মনে হয়েছিল, কলকাঠি নেড়েছিলেন তাঁরই শ্বশুর আবদুস সালাম। ব্লাড বাষট্টিতেও ঢাকায় ছিলেন।

সোনিয়ার হাতের পুতুল ছিলেন মনমোহন

ড. মনমোহন সিং কেবল নামেই প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তার হাতে কোনো ক্ষমতা ছিল না। কেন্দ্র সরকারের অধিকাংশ সিদ্ধান্ত নিতেন কংগ্রেস প্রেসিডেন্ট সোনিয়া গান্ধী। মনমোহন সিং ছিলেন এক রকম তার হাতের পুতুল। এক বইয়ে এমন দাবি করেছেন ড. মনমোহন সিংয়ের সাবেক মিডিয়া উপদেষ্টা এবং সাংবাদিক সঞ্জয় বারু। লোকসভা নির্বাচনের মাঝে এই বইয়ের প্রকাশ নিয়ে কংগ্রেস এখন বেশ বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছে। সঞ্জয়ের লেখা দ্য অ্যাক্সিডেন্টাল প্রাইম মিনিস্টার, মেকিং অ্যান্ড আন মেকিং অব মনমোহন সিং নামে ওই বইয়ে বলা হয়, কংগ্রেসে দ্বৈতক্ষমতা-কেন্দ্রের বিষয়টি ঘোর বাস্তব এবং তা এতটাই যে দ্বিতীয় মেয়াদে কেবল নামেই প্রধানমন্ত্রী ছিলেন মনমোহন সিং। বস্তুত কোনো ক্ষমতাই ছিল না তার।
মন্ত্রী-আমলা নিয়োগ থেকে শুরু করে সব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তই নিতেন কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী। যদিও মনমোহন এতে স্বচ্ছন্দ্য না হলেও বাধা দেননি কখনও। সঞ্জয় বারু নামে ওই লেখক সাধারণের কাছে তেমন পরিচিত না হলেও, ভারতের জাতীয় রাজনীতি এবং মিডিয়ামহলে বেশ পরিচিত। ইউপিএ সরকারের গোড়ার বছর মনমোহন সিংয়ের মিডিয়া উপদেষ্টা ছিলেন তিনি। সেই সুবাদে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তাকে প্রায়ই দেখা যেত প্রধানমন্ত্রীর কাছাকাছি এবং টিভির পর্দায়। জানা যায়, সঞ্জয় বারু মূলত সাংবাদিক। মনমোহন রিজার্ভ ব্যাংকের গভর্নর পদে থাকার সময় থেকেই দুজনের আলাপ। পরবর্তীকালে সেই বন্ধুত্ব এতটাই গভীর হয় যে, প্রধানমন্ত্রী পদে শপথ নিয়েই বারুকে মিডিয়া উপদেষ্টা হিসেবে বেছে নেন মনমোহন। বইয়ের যে সারসংক্ষেপ শনিবার ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের কাছে পাঠিয়েছেন সঞ্জয় তাতে বলা হয়েছে, দ্বৈতক্ষমতা-কেন্দ্র যে বিভ্রান্তি তৈরি করছে, তা মনমোহনও নিজেও বুঝতেন। কিন্তু একই সঙ্গে বলতেন, দলের সভানেত্রীই যে ক্ষমতার কেন্দ্র, তা আমাকে মেনে নিতে হবে। বারু এও লিখেছেন, ২০০৪ সালে প্রধানমন্ত্রী পদের দাবি সোনিয়া গান্ধী যেভাবে ছেড়ে দিয়েছিলেন, তা মোটেই আত্মত্যাগ ছিল না। বরং সেটা ছিল কৌশলী পদক্ষেপ। প্রধানমন্ত্রীকে পদ দিলেও কর্তৃত্ব কখনও দেননি সোনিয়া। সঞ্জয়ের দাবি, মন্ত্রিসভায় নিজের পছন্দের লোকদের ঢোকাতে পারেননি মনমোহন।
উপরন্তু তার সঙ্গে আলোচনা না করেই কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর পদে প্রণব মুখার্জিকে (ভারতের বর্তমান রাষ্ট্রপতি) বসিয়েছিলেন সোনিয়া। মনমোহন এই পদে নিজের প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা রাঙ্গরোজনকে বসাতে চেয়েছিলেন। এদিকে শনিবার প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয় এক বিবৃতিতে ড. মনমোহন সিংয়ের মুখপাত্র পঙ্কজ পাচুরি সঞ্জয় বারুর এই বইটিকে আদ্যপান্ত কল্পনাপ্রসূত বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, সরকারের ভেতরের খবর জানার সুযোগ থাকার ফায়দা নিয়ে কাল্পনিক কথা লিখেছেন বারু। এই সব বক্তব্য ভিত্তিহীন। ৩০১ পৃষ্ঠার বইটি আজ থেকে ভারতের বাজারে পাওয়া যাবে। বইটিতে ভারতের এই মৃদুভাষী প্রধানমন্ত্রীর তীব্র সমালোচনা করে বলা হয়েছে যে মনমোহন সিং দুর্নীতি থেকে তার চোখ সরিয়ে রেখেছিলেন যাতে তার বিতর্কিত সরকারের টিকে থাকতে সুবিধা হয়। মনমোহন ভেবেছিলেন তিনি হয়তো তার মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিজের মতো করে বাছাই করতে পারবেন। কিন্তু সোনিয়া গান্ধী তার বিষদাঁত ভেঙে দিয়েছিলেন এবং মনমোহনের সে স্বপ্ন অংকুরেই বিনষ্ট হয়েছিল। সঞ্জয় বারু আরও লিখেছেন, মন্ত্রিসভার ওপর প্রধানমন্ত্রী ড.মনমোহন সিংয়ের কর্তৃত্ব ছিল খুব সামান্যই এবং কোনো গুরুত্বপূর্ণ ফাইল ছাড়ার আগে সোনিয়া গান্ধীর পরামর্শ নিতে হতো। এমন অসংখ্য মন্তব্য আর দাবি করা হয়েছে বইটাতে। তাই বাজারে আসার আগেই নির্বাচনের মধ্যে রাজনৈতিকমহল এ নিয়ে একেবারে সরগরম। এছাড়া সঞ্জয় তার পদের সুযোগ নিয়ে বাণিজ্যিক ফায়দা লোটার চেষ্টা করেছেন বলেও তিনি জানান।

অভিনন্দন, বাংলাদেশের মানুষদের by আনিসুল হক

মাত্র চার-পাঁচ মাস আগেও আমরা জানতাম না, আদৌ কি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ কিংবা এশিয়া কাপ বাংলাদেশে হতে পারবে? কী সব দিনই না আমরা পার করেছি। লাগাতার অবরোধ— বাসে-ট্রাকে পেট্রলবোমা ছোড়া হচ্ছে, রেললাইনের ফিশপ্লেট খুলে ফেলায় দুর্ঘটনায় পড়ছে ট্রেন। নাগরিকেরা বেঁচে থাকবেন কি থাকবেন না, এই নিয়ে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত, এই দেশে এশিয়া কাপ কিংবা বিশ্ব টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট হবে কি হবে না, সেটা একেবারেই গৌণ প্রশ্ন। সেই বাংলাদেশে মার্চ-এপ্রিলজুড়ে হলো এশিয়া কাপ আর বিশ্বকাপের বড় আসর এবং সুসম্পন্ন হলো কোনো রকম দুর্ঘটনা ছাড়াই। তারও আগে এল শ্রীলঙ্কা দল, বড় একটা সিরিজ হয়ে গেল বাংলাদেশের সঙ্গে। এসব খেলায় দল হিসেবে মোটেও ভালো করেনি বাংলাদেশ, কিন্তু দারুণ ভালো করেছে আয়োজক, স্বাগতিক হিসেবে। এ জন্য বাংলাদেশের প্রত্যেক মানুষ অভিনন্দন পাওয়ার যোগ্য, এ নিয়ে আমরা গৌরব বোধ করতে পারি।

জাগ্রত, উদ্যত, নির্ভয় হওয়ার পণে মঙ্গল শোভাযাত্রা by ইসমাইল হোসেন ও মেহেদী হাসান পিয়াস

‘জাগ্রত, উদ্যত ও নির্ভয়’ হওয়‍ার শপথে মঙ্গল শোভাযাত্রায় অংশ নিলেন নানা বয়স ও শ্রেণী-পেশার হাজারো বাঙালি। সোমবার  সকাল ৯টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউট থেকে এ শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স অ‍ারেফিন সিদ্দিক। শোভাযাত্রাটি রূপসী বাংলা মোড় প্রদক্ষিণ করে ফের ঢাবির ছাত্র শিক্ষক কেন্দ্রে (টিএসসি) এসে শেষ হয়।

সিলেট সেফ হোম-২, কারও কেউ নয় কি ওরা?

সিলেটের বাগবাড়িস্থ মহিলা ও শিশু কিশোরী হেফাজতিদের নিরাপদ আবাসন বা সেফ হোমে প্রতিদিনই কেউ না কেউ আসেন সাক্ষাৎপ্রার্থী হয়ে। ডাক পড়ে নিবাসীদের। তবে কারও কারও ডাক কখনোই পড়ে না। কেউ আসে না তাদের সঙ্গে দেখা করতে। দেখা করার কেউ থাকলে তাদের এ সেফহোমেই থাকতে হতো না। কেউ নেই, কোনও পরিচয় নেই তাদের। এমনকি কারওবা নামও নেই। সেফ হোমের দেয়া নামেই তারা পরিচিত হয়। তবুও সেফহোমে কোন সাক্ষাৎপ্রার্থী এলে উঁকিঝুঁকি দেয়ার চেষ্টা করে তারা। যদি কেউ তাদের চিনতে পারে। যদি কেউ চিনে নিয়ে বার্তা পৌঁছে দিতে পারে স্বজনদের কাছে। সেফ হোম ছেড়ে মায়ের কোলে ফিরে যাওয়ার তাদের স্বপ্ন ধাক্কা খায় কর্তব্যরত আনসারদের ধমকে। যার ডাক পড়ে তাকে ছাড়া অন্য কাউকে ‘নিরাপত্তা’র খাতিরে গেটের কাছে ভিড়তে দেয় না তারা।

সঙ্কুচিত হয়ে আসছে জনশক্তি রপ্তানি by দীন ইসলাম

সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো বাংলাদেশী শ্রমিকদের ভিসা কমিয়ে দিয়েছে। ফলে সীমিত হয়ে পড়ছে বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানির গন্তব্য। নতুন বাজারগুলোয়ও কাঙিক্ষত হারে শ্রমিক পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না। এর প্রভাব পড়েছে জনশক্তি রপ্তানিতে। চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন দেশে জনশক্তি রপ্তানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১১ শতাংশ কম হয়েছে।

গুজব বলেই উড়িয়ে দিলেন

সব গুজব বলেই উড়িয়ে দিলেন এ সময়ের আলোচিত বলিউড অভিনেত্রী আলিয়া ভাট। তিনি বললেন, অর্জুন কাপুর বা বরুণ ধাওয়ান- কারও সঙ্গেই আমার কোন প্রেম-ভালবাসার সম্পর্ক নেই। সবই আসলে গুজব। আর এখনও আমি মনের মতো মানুষই পাইনি, যার সঙ্গে জীবন কাটানো যায়। ২১ বছরের আলিয়ার স্পষ্ট কথা, তিনি এখনও একাই! ‘টু স্টেটস’ আর ‘হাম্পটি শর্মা কি দুলহানিয়া’ ছবির সুবাদে আলিয়ার সঙ্গে অর্জুন, বরুণের ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়েও বলিউডে জল্পনা তুঙ্গে। কে তার মন জিতেছেন, তা নিয়ে কৌতূহলের শেষ নেই। অথচ আলিয়া জানাচ্ছেন, মনের মানুষের দেখাই এখনও তিনি পাননি। এখনও এমন কেউ তার জীবনে আসেনি যার সঙ্গে নিজের জীবন বাঁধতে পারেন। তার কথায়, একজন পুরুষের মধ্যে সবচেয়ে বড় যে গুণটা আমি পছন্দ করি সেটা হলো আনুগত্য, দায়বদ্ধতা আর সততা। আমি এমন এক পরিবার থেকে এসেছি যেখানে প্রত্যেক সদস্য ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যে বিশ্বাসী, নিজের স্বাধীন মত অনুসারে চলেন। সেখানে আমি এমন কোন পুরুষকে চাইবো না, যে আমাকে দাবিয়ে রাখবে! উল্লেখ্য, অচিরেই মুক্তি পেতে চলেছে ‘টু স্টেটস’ ছবিটি। যাতে আলিয়ার সঙ্গে রয়েছেন অর্জুন। এর পরের ছবি ‘হাম্পটি শর্মা কি দুলহানিয়া’তে আলিয়ার সঙ্গে দেখা যাবে বরুণকে।

স্বাগত ১৪২১- নব আনন্দে জাগো

পুরনো ভুলে নতুনের আবাহনে পথচলার দিন আজ। আজকের আহ্বান গ্লানি মুছে, ক্লেদ, পাপ, মূঢ়তা কিংবা যা কিছু জীর্ণ-শীর্ণ-দীর্ণ আর যা কিছু পুরনো তাকে পুড়ে ছাই করার। সব পেছনে ফেলে এগিয়ে যাওয়া সামনের পানে। আজ সেই পহেলা বৈশাখ। গতকালের সূর্যাস্তের পর আজকের সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে যাত্রা শুরু আরেকটি বছরের। আজকে রাত পোহানোর সঙ্গে সঙ্গে এলো আহ্বান, ‘তোরা সব জয়ধ্বনি কর/তোরা সব জয়ধ্বনি কর/ঐ নূতনের কেতন ওড়ে কালবোশেখির ঝড়...’।

গণজাগরণ মঞ্চের প্রয়োজন শেষ, তাই- by কাজল ঘোষ

রাজনীতি এখন ব্যাকফুটে। মামলা আর দলীয় কোন্দলে কোণঠাসা বিএনপি। লেজুড়বৃত্তি করতে গিয়ে জাপা’য় চলছে সরকারিকরণ। অনেকটাই কৌশলী অবস্থানে জামায়াত-হেফাজত। ঠিক এই সময় গণজাগরণ মঞ্চ আলোচনায়। প্রথমে ছাত্রলীগ আর গণজাগরণ পাল্টাপাল্টি। তারপর বামপন্থি পাঁচ ছাত্র সংগঠনের সংবাদ সম্মেলন। মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকারকে নেতৃত্ব থেকে সরানোর দাবি। অর্থ পাচারের অভিযোগে তদন্ত কমিটি। সবশেষ শনিবার একাংশের পক্ষে গণজাগরণ মঞ্চ থেকে ইমরানকে অব্যাহতি। এ নিয়ে গত কিছুদিন থেকেই ফেসবুক, টুইটার আর ব্লগে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। একদিকে যুদ্ধাপরাধ বিচারে ধীরগতি, অন্যদিকে জামায়াত-হেফাজতের সঙ্গে সরকারের সমঝোতার বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ গণমাধ্যমে চলছে ব্যাপক আলোচনা। ভবিষ্যতে যুদ্ধাপরাধ বিচার ও জামায়াত-হেফাজতের সঙ্গে সরকারের সম্পর্ক- এই দু’টি ইস্যুতে যুগপৎ আন্দোলন গড়ে তুলতে পারে গণজাগরণ মঞ্চ। তখন সাধারণ মানুষ আবারও শাহবাগ চত্বরে দাঁড়াতে পারে। সেক্ষেত্রে সরকারের দ্বৈত চরিত্র প্রকাশ হয়ে যাওয়ার ভয়ও রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, এ চিন্তা থেকেই মঞ্চকে দুর্বল করে দেয়ার জন্য নানাভাবে চেষ্টা চলছে। সবশেষ ৫ জন সংগঠকের আয়োজনে আওয়ামী লীগের প্রচার কমিটির সদস্য কামাল পাশা চৌধুরী মঞ্চের মুখপাত্রের পদ থেকে ইমরান এইচ সরকারকে অব্যাহতি দেন। এর আগে ছাত্রলীগও ইমরানের বিরুদ্ধে অর্থ জালিয়াতির অভিযোগ আনে। সমমনা এই দু’টি গ্রুপের ইমরান বিরোধিতায় চাউর আছে- সরকার প্রয়োজনে এই সংগঠনকে সব ধরনের পৃষ্ঠপোষকতা দিলেও সামনের দিনে তা সরকারের নকশা বাস্তবায়নে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। আর এ কারণেই বর্তমানে গণজাগরণকে খ- খ- করে অধিকতর দুর্বল করে দেয়া হচ্ছে। অন্যদিকে গণজাগরণের জোয়ারে যে সব সরকার সমর্থিত বুদ্ধিজীবী মঞ্চের প্রথম সারিতে গিয়ে মাইক বাগিয়ে নিয়েছেন তারাই এখন সঙ্কটকালে নীরবতা অবলম্বন করছেন। এটাও বড় রকমের রহস্য। তবে একটি সূত্রে জানা গেছে, নতুন একটি রাজনৈতিক দল গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ইমরান এইচ সরকার। নাসির উদ্দিনইউসুফ বাচ্চুকে সভাপতি হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন তিনি। নিজে হতে  চেয়েছিলেন সেক্রেটারি। কিন্তু সে প্রস্তাবের রাজি হননি বাচ্চু। গণজাগরণ মঞ্চ নিয়ে যা হচ্ছে তা নতুন কোন কৌশল নয়। এই ইস্যুতে ইতিহাসের  চেনা পথেই হাঁটছে সরকার ও সরকারের অঙ্গ সংগঠন। গণজাগরণ মঞ্চের মতো একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সঙ্গেও একই আচরণ ছিল আওয়ামী লীগের। মূলত নিয়ন্ত্রণ নিয়েই ছিল নির্মূল কমিটির সঙ্গে আওয়ামী লীগের দ্বন্দ্ব। তখন অধ্যাপক আবদুল মান্নান চৌধুরীর নেতৃত্বে পাল্টা সংগঠন গড়ে তোলা হয়েছিল। নাম দেয়া হয়েছিল মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন কমিটি। পরে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি আর মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন কমিটি মিলে গড়ে তোলা হয়েছিল জাতীয় সমন্বয় কমিটি। গণজাগরণ মঞ্চকে নিয়ে বর্তমানে যে খেলা চলছে তার সঙ্গে অনেকেই পূর্বাপর পরিস্থিতি মিলিয়ে দেখছেন।

ঘটনার পরম্পরায় মিলিয়ে দেখার চেষ্টা করলে বিষয়টি স্পষ্ট হওয়া যাবে। কোথাকার জল কোথায় গড়ালো। মানুষের ভেতরকার সুপ্ত অথচ চিরায়ত চেতনার যে জাগরণ ঘটেছিল শাহবাগে সেই আওয়াজ কি থেমে গেল? শাহবাগের জাগরণ কি শুধুই সময়ের প্রয়োজনে? একটি রায়ের পর আইন সংশোধন আর ফাঁসির রায় কার্যকরের মধ্য দিয়ে যে উদ্দেশ্যে জমায়েত তা কি ফুরিয়েছে? ক্ষমতাসীনরা একাট্টা হয়ে যে আন্দোলনকে সমর্থন দিয়ে ফসল নিজেদের ঘরে তুলেছেন, মধুটুকু খেয়ে ছোবড়াগুলো তারা কি ছুড়ে ফেলে দিতে চাইছেন? না হলে হঠাৎ কেন ছাত্রলীগ সবকিছু ছাপিয়ে গণজাগরণের বিরুদ্ধে মাঠে? কেন এই পাল্টাপাল্টি? যে পুলিশ দিনের পর দিন জাগরণ কর্মীদের নিরাপত্তা দিয়েছে তারাই এখন লাঠিয়ালের ভূমিকায়? তাছাড়া, সরকারের বিভিন্ন সংস্থা গণজাগরণকে দিনের পর দিন শাহবাগে অবস্থান নিতে যখন পৃষ্ঠপোষকতা করেছে- এখন কি এমন ঘটলো যে গণেশ উল্টে গেল। যে কারণে গণজাগরণকে আর্থিক ও অনৈতিকার অভিযোগে বিভক্ত করা হচ্ছে- যদি এ বিষয়ে অভিযোগ থেকেই থাকে তবে সংগঠনের বাইরে এসে অভিযোগ কেন? কিছুদিন আগে পত্রিকায় রিপোর্ট বেরিয়েছে হেফাজতের নেতৃস্থানীয়দের চাঁদাবাজি আর টাকার ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে। এখন সংবাদ আসছে জাগরণ মঞ্চের নেতৃস্থানীয়দের নিয়ে। পুরো বিষয়টির আদ্যোপান্ত জানার চেষ্টা করছি যারা যুক্ত এই আন্দোলনের সঙ্গে তাদের কাছ থেকেই। টাকা-পয়সা নিয়ে বিতর্ক উঠেছে ভেতর থেকেই। হয়েছে তদন্ত কমিটিও। ব্লগ আর ফেসবুকে গড়ে ওঠা এই আন্দোলন দেশের ইতিহাসে অভূতপূর্ব সাড়া জাগিয়েছিল এর প্রমাণ পত্র-পত্রিকা আর ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া। ৫ই ফেব্রুয়ারির পর বাংলাদেশের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় সূচিত হয়েছে সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। কিন্তু অনিয়ন্ত্রিত আর সুস্পষ্ট গাইডলাইন না থাকায় এবং ধারাবাহিকভাবে রাজপথে অবস্থান নেয়ায় এ আন্দোলনের ভবিষ্যৎ নিয়ে সন্দিহান ছিলেন অনেকেই। আর নেতৃত্ব দখলে নিতে বা বাগিয়ে নিতে ধীরে ধীরে সরকার সমর্থিত মহল ঝাঁপিয়ে পড়েছিল তা তখনকার মিডিয়ার ফুটেজ দেখলেই লক্ষ্য করা যাবে।
প্রবল গণ-আন্দোলনের চাপে সে সময় বিএনপিও প্রথম দিকে এই আন্দোলনে সমর্থন জানিয়েছিল। অন্তত একটি ইস্যুতে বিচার বিরোধী ছাড়া সকল মহলের ঐক্য আদায়ে শাহবাগের বড় সফলতা ছিল। কিন্তু সে সময় সরকার এককভাবে এই জাগরণের ফসল ছিনিয়ে নিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করেছে এটা দিন যতই যাচ্ছে তা স্পষ্ট হচ্ছে। না হলে যে ছাত্রলীগ তার দলবল নিয়ে জাগরণের মঞ্চে সরব থেকেছে তারা এখন পিছিয়ে কেন? বা আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করা ছাত্র  নেতারা আজ জাগরণ মঞ্চ নিয়েই পত্র-পত্রিকায় ভিন্ন কথা ছড়াচ্ছেন কেন? তবে সরকার সমর্থিতরা যখনই তাদের বিরুদ্ধে কোন কর্মসূচি দেয়া হবে তারা ক্ষেপবেন এটাই স্বাভাবিক। কাদের মোল্লার রায়ের বিরুদ্ধে যে আন্দোলন গড়ে তুলেছিল অরাজনৈতিক শ্রেণী-পেশার মানুষ- তারা তো আড়ালে সরকারের জামায়াতের সঙ্গে আঁতাতের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছিল। উপজেলা নির্বাচনে জামায়াতের যে জয় এবং তা দিয়ে সরকারের নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে জায়েজ করার মধ্য দিয়ে নতুন কোন খেলা চলছে না তো! অনেকে বলছেন সরকার-জামায়াত গোপন সমঝোতা হয়েছে। কেউ কেউ বলছেন আগামীতে আবারও শাহবাগ জেগে উঠতে পারে। আবারও আন্দোলনের জোয়ারে এগিয়ে যেতে পারে। আর যখন বিরোধী দল তাদের ক্ষমতায় যাওয়া আর সরকার ক্ষমতা আঁকড়ে থাকার খেয়ালে ব্যস্ত সে সময় ওই আন্দোলনে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে সরকারের নীলনকশা। স্বতঃস্ফূর্ত এ ধরনের গণ-আন্দোলনের ভবিষ্যৎ কি? উত্তর মিলবে ইতিহাসেই। চীনের থিয়েন আন মেন চত্বর, মস্কোর লাল চত্বর, মিশরের তাহরির চত্বর, তিউনিসিয়ার হাবিব বরগুইবা চত্বর, তুরস্কের তাকসিম চত্বর, নিউ ইয়র্কের জর্জিয়া, ইউক্রেন যুকোতি পার্ক চত্বর আর সবশেষ শাহবাগ চত্বর। দেখা গেছে, এ ধরনের আন্দোলন বরাবরই হয়ে থাকে স্বতঃস্ফূর্ত। এর কোন  নেতা থাকেন না। থাকে না বড় রকমের নেতৃত্বও। বিক্ষুব্ধ, অসংগঠিত জনগোষ্ঠীই বেশির ভাগ ক্ষেত্রে প্রতিবাদ জানাতে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ে। এ ধরনের আন্দোলন বহন করে যুগসন্ধির ইঙ্গিতও। কালে কালে তা বীজ রোপণ করে ভবিষ্যতেরও। কাজেই সময়ের প্রয়োজনে ইতিহাসের ভিন্ন প্রেক্ষাপটে বা ইতিহাসের নবতর চেতনার বাস্তবায়নে এ ধরনের জাগরণ আবারও হতে পারে এটা বললে অত্যুক্তি হবে না।
গত ৫ই এপ্রিল শাপলায় হেফাজতের উত্থান আমাদের নানাভাবে ভাবিয়েছিল। রাজনীতির গতি-প্রকৃতিতে কি পরিবর্তন আসে আগামীতে। বাস্তবতা হচ্ছে তা হয়নি। নিজেদের গ্রুপিং আর টাকা পয়সার ভাগ-বাটোয়ারায় আজ হেফাজত অনেকটাই তেজ হারাতে বসেছে। নৈতিকভাবেও দুর্বল হয়েছে। এর আগে ৫ই ফেব্রুয়ারি যুদ্ধাপরাধের বিচারের দাবিতে নবজাগরণ ঘটেছিল শাহবাগে। দেশবাসী একাত্ম হয়েছিল সেই মিছিলে। যারা ক্ষমতার বাইরে থেকে দেশকে ভালবাসেন, দেশের জন্য কিছু করার তাগিদ অনুভব করেন সেসব মানুষ আশাবাদী হয়েছিল। প্রচলিত ঘুনেধরা নষ্ট হয়ে যাওয়া রাজনীতির বিরুদ্ধে এ ছিল স্বতঃস্ফূর্ত মানুষের জাগরণ। ব্লগ, ফেসবুক বা টুইটারে ঘটেছিল সেই চেতনার বিস্ফোরণ। কিন্তু সেই জাগরণ নিয়েও নানা গ্রুপিং আর আর্থিক অনিয়মের কথা এসেছে। বর্তমান বিতর্কের প্রেক্ষাপটে গণজাগরণ আর ইমরান এইচ সরকারকে নিয়ে অনেকে ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ইমরান এইচ সরকারের ওপর খাপ্পা অনেকে। কেউ বলছেন, ব্যাটা বেকুব! আন্দোলনটা আরও আগেই সম্মানজনকভাবে শেষ করে ফেলতে পারতো! আয়োডিনের অভাব!
কেউ বলছেন, ব্যাটা বদ! গোপনে টাকা খেয়েছে!
ভাই, ইমরানের ওপর রাগ তো ইমরানকে নিয়ে কথা বলেন। তাকে নিয়ে মুক্ত মনে আপনার মতামত প্রকাশ করেন। কোন সমস্যা নেই। কিন্তু ‘গজামঞ্চ’ বলে গণজাগরণ মঞ্চকে নিয়ে যখন ভেঙানো শুরু করেন, তখন আপনাকে আর চিনতে বাকি থাকে না!
আমি জানি, গণজাগরণ মঞ্চে আপনি যাননি, সেটা যে আপনার একটা ঐতিহাসিক সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল, সেটা প্রমাণ করতে আপনি এখন  দিবারাত্রি লেগে আছেন। ‘দেখছস আগেই কইছিলাম এমন হইব, এর লাইগা যাই নাই’  এইটা হচ্ছে আপনার সেই লেগে থাকার মতো।
অথবা আপনি গেছিলেন, কিন্তু মাইক্রোফোনের ভাগ পাননি। আপনি যে কত বড় একটা ব্যক্তিত্ব, এটা জাতিকে বোঝানোর কোন সুযোগই আপনাকে দেয়া হয়নি! মাইক্রোফোন-বঞ্চিত হয়ে চোখ মুখ কুঁচকে একটা ম্যাক্রো-আন্দোলনে লেগেই পড়েছেন, গজামঞ্চ কি কুৎসিত খারাপ জঘন্য একটা জিনিস এটা জাতিকে বুঝিয়েই ছাড়বেন!
কি অদ্ভুত আপনার মানসিকতা! লাখ লাখ মানুষের প্রতিবাদের তুমুল রূপটা আপনার চোখে পড়লো না! এই ‘গজামঞ্চ’ বলে যে আপনি কাদেরকে অপমান করলেন তা আপনিও জানেন না।
অবশ্য আপনাকে এসব কথা বলা বৃথা। এসব জেনে বুঝেই হাওয়া সমঝে আপনি গজামঞ্চ গজামঞ্চ বলে হাউকাউ করছেন!
ভয় নেই। আপনাকে জামায়াত-শিবির ট্যাগ করবো না। সুশীল বলেও গাল দেবো না। আপনি নিজেই ভেবে দেখেন আপনি কি। সম্ভবত ওই  ট্যাগগুলোর চেয়ে আরও খারাপ কিছু আপনি!
সময়ের প্রয়োজনে গণজাগরণ প্রশ্নে সরকার আবার কৌশল পরিবর্তন করবে কিনা তা এখনই বলা সম্ভব নয়। তবে জামায়াত-হেফাজতের সঙ্গে নেপথ্যের সমঝোতায় বিএনপির জঙ্গি সম্পৃক্ততার কার্ড সরকারের গলায় ঝুলবে এটা বলাই যায়। এতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাধারী সরকারের চরিত্রও বদলে যেতে পারে বিশ্লেষকরা এমনটাই ধারণা করছেন।

রঙে রূপে বৈশাখ বরণ

চারদিকে আজ সাজ সাজ রব। লাল-সাদা পোশাকের সমাহার। বাজছে ঢোল, ডুগডুগি। পথে পথে ভেঁপু। সারা বাংলা ভেসেছে বিপুল উচ্ছ্বাসে। ধর্ম-বর্ণ, শ্রেণী-পেশা, বয়সনির্বিশেষে সব মানুষ শামিল হয়েছেন বৈশাখী উত্সবে। ভেদাভেদ ভুলে উত্সবের রঙে ১৪২১ বঙ্গাব্দকে বরণ করে নিয়েছে বাঙালি।

পথ রাঙাতে রাতভর রংতুলির কর্মযজ্ঞ

শত বাধা, প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে বাংলাদেশ যে এগিয়ে যাচ্ছে, তার প্রতীকী প্রমাণ হয়েই যেন প্রতিবছর দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে জাতীয় সংসদ ভবনের সামনের রাজপথে প্রথম আলো-এয়ারটেলের বাংলা নববর্ষ বরণের আলপনা।