Showing posts with label জ্যোতির্বিজ্ঞান. Show all posts
Showing posts with label জ্যোতির্বিজ্ঞান. Show all posts

Tuesday, September 29, 2026

১২ বিলিয়ন বছর আগের ‘মিল্কিওয়ে-সদৃশ’ গ্যালাক্সি শনাক্ত করলেন বিজ্ঞানীরা

বিগ ব্যাংয়ের মাত্র দেড় বিলিয়ন বছর পর সৃষ্টি হওয়া এক বিশাল, সুগঠিত সর্পিল গ্যালাক্সি শনাক্ত করেছেন ভারতের একদল জ্যোতির্বিজ্ঞানী। যা বর্তমান গ্যালাক্সি গঠনের ধারণাকে নতুন করে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।

বিজ্ঞানীরা জানান, মহাবিশ্বের বয়স এখন ১৩.৮ বিলিয়ন বছর। অর্থাৎ সদ্য আবিষ্কৃত এই গ্যালাক্সির আলো পৃথিবীতে পৌঁছতে সময় লেগেছে প্রায় ১২ বিলিয়ন বছর। সেই সময়ে মহাবিশ্ব ছিল বর্তমানের এক-দশমাংশ বয়সী এবং তখনকার বেশিরভাগ গ্যালাক্সি ছিল অনিয়মিত ও বিশৃঙ্খল।

কিন্তু জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ (জেডব্লিউএসটি) ব্যবহার করে গবেষক রাশি জৈন ও যোগেশ ওয়াদাদেকার যে গ্যালাক্সিটি শনাক্ত করেছেন- তা একটি পূর্ণাঙ্গ সর্পিল গ্যালাক্সি। দেখতে অনেকটা সুগঠিত, মহাজাগতিক পিনহুইলের মতো। গবেষণাটি নভেম্বর মাসে ইউরোপের শীর্ষ জার্নাল অ্যাস্ট্রোনমি অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোফিজিক্স-এ প্রকাশিত হয়।
গ্যালাক্সিটির নামকরণ করা হয়েছে ‘অলাকনন্দা’। এটি হিমালয়ের একটি নদীর নামে। এটি শনাক্ত করেন পুনে-ভিত্তিক টাটা ইনস্টিটিউট অফ ফান্ডামেন্টাল রিসার্চের (এনসিআরএ-টিআইএফআর) পিএইচডি গবেষক রাশি জৈন। তিনি জানান, ৭০ হাজার বস্তুর তথ্য বিশ্লেষণের সময় মাত্র একটি বস্তু ছিল নিখুঁত। যার ব্যাস প্রায় ৩০ হাজার আলোকবর্ষ। গ্যালাক্সিটিতে দুটি সমান্তরাল বাহু কেন্দ্রীয় উজ্জ্বল অংশকে ঘিরে পাক খেয়ে রয়েছে। যেন আধুনিক সর্পিল গ্যালাক্সিগুলোর মতোই ‘বিডস-অন-এ-স্ট্রিং’ বা মালার দানার মতো তারার গুচ্ছ।

ওয়াদাদেকার বলেন, বিগ ব্যাংয়ের মাত্র কয়েকশত মিলিয়ন বছর পরই এত বড় সর্পিল গ্যালাক্সির অস্তিত্ব আবিষ্কার এক বিস্ময়। এত অল্প সময়ে এটি ১০ বিলিয়ন সূর্য-ভরের তারকা তৈরি করেছে এবং বিশাল ডিস্ক গঠন করেছে, যা সত্যিই অবিশ্বাস্য।
দীর্ঘদিন ধরে জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের ধারণা ছিল, ‘কসমিক ডন’ সময়কালের গ্যালাক্সিগুলো ছিল ছোট ও বিশৃঙ্খল। কিন্তু অলাকনন্দা সে ধারণাকে পাল্টে দিয়েছে। এটি আকারে মিল্কিওয়ের এক-তৃতীয়াংশ এবং বর্তমান মিল্কিওয়ের তুলনায় ২০-৩০ গুণ দ্রুত তারকা সৃষ্টি করছে। জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ কার্যক্রম শুরু করার পর থেকে বহু অগঠিত, লালচে দূরবর্তী গ্যালাক্সির ছবি পাওয়া গেলেও সাম্প্রতিক আবিষ্কারে দেখা যাচ্ছে আরও পরিণত, সুগঠিত গ্যালাক্সি। অলাকনন্দার আবিষ্কার সেই ধারাবাহিকতারই নতুন প্রমাণ।

https://mzamin.com/uploads/news/main/192547_Kaium-4.webp

Thursday, September 10, 2026

তারার বিস্ফোরণের রহস্য উন্মোচন

পৃথিবী, মানবদেহসহ মহাবিশ্বের নানা বস্তু যে মৌলিক উপাদানে গঠিত, সেগুলো তারার ভেতর কীভাবে তৈরি হয় এবং সুপারনোভার বিস্ফোরণের মাধ্যমে মহাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে—এ রহস্যের গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রশ্নের উত্তর পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। সম্প্রতি প্রকাশিত দুটি পৃথক গবেষণায় তারার জীবনচক্র ও সুপারনোভা বিস্ফোরণের জটিল প্রক্রিয়া সম্পর্কে নতুন তথ্য উঠে এসেছে। বিজ্ঞানভিত্তিক সাইট স্পেস ডটকমের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রথম গবেষণায় বিজ্ঞানীরা ‘টাইটানিয়াম-৪৪’ নামের তেজস্ক্রিয় উপাদানের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। সুপারনোভা বিস্ফোরণের পরও দীর্ঘদিন মহাকাশে টিকে থাকা এই উপাদান বিশ্লেষণ করে বিস্ফোরণের প্রকৃতি বোঝার চেষ্টা করা হয়েছে। এটি সুপারনোভার ভেতরে চলা পারমাণবিক বিক্রিয়া এবং বিস্ফোরণের সময় মৌল তৈরির প্রক্রিয়া সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেয়। গবেষণায় দেখা গেছে, সুপারনোভায় আগের ধারণার তুলনায় প্রায় ৩৫ শতাংশ বেশি টাইটানিয়াম-৪৪ তৈরি হয়। নতুন এ তথ্যের ভিত্তিতে সুপারনোভার আরও নির্ভুল কম্পিউটার মডেল তৈরি করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন গবেষকরা।

দ্বিতীয় গবেষণায় ‘টাইপ-১ সুপারনোভা’ নিয়ে কাজ করেছেন বিজ্ঞানীরা। কোনো ঘন নক্ষত্র তার সঙ্গী নক্ষত্র থেকে পদার্থ টেনে নিলে সেখানে প্রচণ্ড থার্মোনিউক্লিয়ার বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। এ বিস্ফোরণে ভারী মৌল তৈরি হয় এবং বিপুল শক্তি নির্গত হয়। এর কিছু অংশ এক্স-রে বিস্ফোরণ হিসেবেও ছড়িয়ে পড়ে। মিশিগানের ফ্যাসিলিটি ফর রেয়ার আইসোটোপ বিমসের গবেষকরা এ বিস্ফোরণ ঘটানো পারমাণবিক বিক্রিয়াটি আগের চেয়ে আরও বিস্তারিতভাবে পরীক্ষা করেছেন।

গবেষকরা বিস্ফোরণের সময় সংঘটিত ‘নিকেল-কপার চক্র’ বিশ্লেষণ করে দেখেছেন, পারমাণবিক পদার্থ সত্যিই এ প্রক্রিয়ায় আটকে থাকে, তবে খুব সীমিত মাত্রায়।

বিজ্ঞানীদের মতে, দুটি গবেষণাই সুপারনোভা কীভাবে ঘটে এবং তারার বিস্ফোরণে তৈরি মৌলগুলো কীভাবে পুরো মহাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে, তা বুঝতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। গবেষণা দুটি ‘ফিজিক্যাল রিভিউ লেটার্স’-এর জুলাই সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে। 

তারার বিস্ফোরণের রহস্য উন্মোচন
তারার বিস্ফোরণের রহস্য উন্মোচন

Wednesday, August 12, 2026

মঙ্গল গ্রহের উদ্দেশে যাত্রা করেছিল নাসার কিউরিওসিটি রোভার

প্রকাশ ২৬ নভেম্বর ২০২৫ঃ পৃথিবীর ইতিহাসের সবচেয়ে উচ্চাকাঙ্ক্ষী মহাকাশ অভিযানের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণাপ্রতিষ্ঠান নাসার মার্স সায়েন্স ল্যাবরেটরি মিশন। এ মিশনের প্রাণ হলো কিউরিওসিটি রোভার। ২০১১ সালের ২৬ নভেম্বর অ্যাটলাস ভি নামের রকেটে করে মঙ্গল গ্রহের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে রোভারটি। প্রায় ৯ মাসের দীর্ঘ মহাজাগতিক ভ্রমণের পর ২০১২ সালের ৬ আগস্ট রোভারটি মঙ্গল গ্রহের গেল ক্রেটারে সফলভাবে অবতরণ করে, যা ‘ব্র্যাডবেরি ল্যান্ডিং’ নামে পরিচিত।

মঙ্গল গ্রহে দুই বছর পর্যন্ত তথ্য সংগ্রহের জন্য তৈরি করা হয়েছিল কিউরিওসিটি রোভার। তবে বিজ্ঞানীদের অবাক করে এক যুগেরও বেশি সময় ধরে মঙ্গল গ্রহে কাজ করছে রোভারটি। নাসার তথ্যমতে, মঙ্গল গ্রহে কখনো অণুজীবের জীবনধারণের জন্য অনুকূল পরিবেশ ছিল কি না, তা খুঁজে বের করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে মানব অভিযানের জন্য মঙ্গল গ্রহের বিকিরণ স্তর পরিমাপ করছে রোভারটি। বর্তমানে রোভারটি গেল ক্রেটারের কেন্দ্রে অবস্থিত বিশাল মাউন্ট শার্প বা ইওলিস মন্সের স্তরের তথ্য সংগ্রহ করছে।

গাড়ির আদলে তৈরি কিউরিওসিটি রোভারটি ২.৯ মিটার লম্বা, ২.৭ মিটার চওড়া ও ২.২ মিটার উঁচু। এর শক্তির উৎস সৌর প্যানেল নয়, বরং একটি অত্যাধুনিক মাল্টি-মিশন রেডিওআইসোটোপ থার্মোইলেকট্রিক জেনারেটর। এটি প্লুটোনিয়াম-২৩৮ মৌলে তেজস্ক্রিয় ক্ষয় থেকে বিদ্যুৎ তৈরি করে। এটিকে রাতের বেলা বা ধূলিঝড়ের সময়ও একটানা কাজ করতে পারে। কিউরিওসিটির চলাচলের জন্য ছয়টি চাকার একটি জটিল গতিশীলতা ব্যবস্থা রয়েছে। রোভারটির রোবোটিক বাহুতে ড্রিল করার এবং নমুনা সংগ্রহের ক্ষমতা রয়েছে।

গত সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত মঙ্গল পৃষ্ঠে ৩৫ দশমিক ৯৭ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করেছে কিউরিওসিটি রোভার। ২০১৮ সালে রোভারটি গেল ক্রেটারে থাকা ৩০০ কোটি বছরের পুরোনো শিলার নমুনায় বেনজিন ও প্রোপেনের মতো জৈব অণু আবিষ্কার করে। ২০২৪ সালের মার্চ মাসে এটি কাদাপাথরে দীর্ঘ-শৃঙ্খলের অ্যালকেন আবিষ্কার করে, যা জৈব বা অজৈব উৎস থেকে উদ্ভূত হতে পারে। রোভারটি এমন শিলা এবং কাদামাটির উপস্থিতি প্রমাণ করেছে, যা একসময় দীর্ঘস্থায়ী হ্রদ বা নদীর তলদেশ ছিল।

সূত্র: নাসা

কিউরিওসিটি রোভারের ফাইল ছবি
কিউরিওসিটি রোভারের ফাইল ছবি। নাসা

Saturday, August 1, 2026

পৃথিবীকে নীল বিন্দু খেতাব দিয়েছিলেন যে বিজ্ঞানী by জাহিদ হোসাইন খান

জ্যোতির্বিজ্ঞানী কার্ল স্যাগান মহাবিশ্বের সৌন্দর্যকে জনসমক্ষে নিয়ে আসার জন্য আলোচিত। তিনি ১৯৩৪ সালের ৯ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। কিংবদন্তি জ্যোতির্বিজ্ঞানী, লেখক ও বিজ্ঞান প্রচারক হিসেবে কার্ল স্যাগান আলোচিত। বিজ্ঞানের জটিল বিষয়গুলোকে সহজ ও কাব্যিক ভাষায় সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে তিনি বিশ্বকে মহাবিশ্বের বিস্ময়কর সৌন্দর্য উপলব্ধি করতে শিখিয়েছেন। তাঁর কাজ কেবল বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানেই সীমাবদ্ধ ছিল না।

কার্ল স্যাগানের সবচেয়ে বড় অবদান বলা যায় বিজ্ঞানবিষয়ক নানা বিষয়কে লেখালেখি ও টেলিভিশনের মাধ্যমে সবার সামনে ছড়িয়ে দেওয়া। ১৯৮০ সালে প্রচারিত তাঁর যুগান্তকারী টেলিভিশন সিরিজ ‘কসমস: এ পার্সোনাল ভয়েজ’ বিশ্বব্যাপী লাখ লাখ দর্শককে মহাবিশ্বের রহস্যের প্রতি আকৃষ্ট করে। এই সিরিজ বৈজ্ঞানিক ধারণাকে এমনভাবে উপস্থাপন করে, যা গভীর অথচ সহজে বোধগম্য। স্যাগানের বিখ্যাত উক্তি, ‘আমরা সবাই স্টারডাস্ট বা তারাধূলি দিয়ে তৈরি।

একজন পেশাদার জ্যোতির্বিজ্ঞানী হিসেবে স্যাগানের গবেষণা মূলত ছিল গ্রহবিজ্ঞান নিয়ে। তিনি শুক্র, বৃহস্পতি গ্রহসহ অন্যান্য গ্রহের বায়ুমণ্ডলের ওপর গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা করেন। তাঁর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কাজগুলোর মধ্যে ছিল শুক্র গ্রহের তীব্র তাপমাত্রা সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী করা, যা পরে প্রমাণিত হয়। স্যাগান মঙ্গল গ্রহে প্রাণের অনুসন্ধান এবং এর পরিবেশ নিয়ে ব্যাপক কাজ করেন। তিনি নাসার মেরিনার, ভয়েজারসহ বিভিন্ন গ্রহ অনুসন্ধানকারী মিশনে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন। মঙ্গলের পৃষ্ঠে থাকা রহস্যময় ক্যানালি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ক ছিল। স্যাগান বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণ করেন, এসব এলিয়েনদের তৈরি খাল নয়, বরং প্রাকৃতিক ভূতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য।

দূরবর্তী মহাজাগতিক প্রাণীর কাছে পৃথিবীর অস্তিত্ব জানান দিতে স্যাগান দুটি ঐতিহাসিক প্রকল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১৯৭২ সালে উৎক্ষেপিত পাইওনিয়ার ১০ মহাকাশযানে একটি বিশেষ ফলক সংযুক্ত করার ধারণা দেন স্যাগান।

এই প্লেটে মানব জাতির চিত্র, আমাদের সৌরজগতের অবস্থান এবং মহাকাশযানের উৎক্ষেপণের সময়কাল চিহ্নিত করা হয়। এ ছাড়া ভয়েজার গোল্ডেন রেকর্ড পাঠানোর সময় তাঁর ভূমিকা ছিল। এটি ছিল স্যাগানের নেতৃত্বাধীন সবচেয়ে বিখ্যাত প্রকল্পগুলোর মধ্যে একটি। ১৯৭৭ সালে উৎক্ষেপিত ভয়েজার ১ এবং ভয়েজার ২ মহাকাশযানে পৃথিবীর ছবি, শব্দ, সংগীত এবং বিভিন্ন ভাষার শুভেচ্ছাবার্তা নিয়ে তৈরি এই সোনালি রেকর্ড পাঠানো হয়। কার্ল স্যাগান ১৯৯৬ সালে আমাদের ছেড়ে চলে যান।

ভয়েজার ১ মহাকাশযান থেকে তোলা একটি ছবিকে জনপ্রিয় করেন তিনি। সেই ছবিতে পৃথিবীকে একটি ফ্যাকাশে নীল বিন্দুর মতো দেখায়। ৬০০ কোটি কিলোমিটার দূর থেকে ধারণ করা ছবিটি বিশ্বকে চমকে দেয়। ছবিটি তুলতে স্যাগান নাসাকে উৎসাহিত করেছিলেন। কার্ল স্যাগানের চিন্তায় প্রথমবারের মতো মানব জাতি বুঝতে পারে, মহাবিশ্বের বিশালতার পরিপ্রেক্ষিতে মানবজাতির গুরুত্ব ও ক্ষুদ্রতা কত নগণ্য।

ভয়েজার ১ মহাকাশযান থেকে পৃথিবীকে আলোর রশ্মিতে ঝুলে থাকা এক ফোঁটা নীল ধূলিকণার মতো মনে হয়। স্যাগান সেই ছবির বর্ণনায় বলেন, এই ক্ষুদ্র বিন্দুর ওপরই বাস করছে আপনার পরিচিত প্রতিটি ব্যক্তি। আমাদের সব হাসি-কান্না, আমাদের হাজারো ধর্ম, মতাদর্শ, অর্থনৈতিক বিশ্বাস, সভ্যতার উত্থান-পতন, রাজা-প্রজা, প্রেমিক-প্রেমিকা, উদ্ভাবক আর আমাদের প্রজাতির ইতিহাসে যত পাপি ও সাধু এসেছে সবাই। তারা সবাই ছিল সূর্যের আলোয় ভেসে থাকা ধূলিকণার এক কণামাত্র।
তথ্যসূত্র: আমেরিকান সায়েন্টিস্ট

দূর থেকে পৃথিবীকে বিন্দুর সঙ্গে তুলনা করে বিশ্বকে নাড়িয়ে দিয়েছিলেন কার্ল স্যাগান
দূর থেকে পৃথিবীকে বিন্দুর সঙ্গে তুলনা করে বিশ্বকে নাড়িয়ে দিয়েছিলেন কার্ল স্যাগান। ছবি: নাসা

Wednesday, July 22, 2026

সাবেক প্রেসিডেন্ট বুশের দাবি: মহাকাশযান থেকে বেরিয়ে এসেছিল এলিয়েন, করেছে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগও

প্রকাশ ২৩ নভেম্বর ২০২৫ঃ যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যের হলোম্যান বিমানঘাঁটিতে একবার এলিয়েনের (ভিনগ্রহবাসী) মুখোমুখি হয়েছিলেন বিমানবাহিনী ও মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর কর্মকর্তারা। ১৯৬৪ সালে ঘটেছিল এই ঘটনা।

এ বিষয়ে অবগত ছিলেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ (১৯৮৯-১৯৯৩ সাল)। নতুন মুক্তি পাওয়া একটি প্রামাণ্যচিত্রে এমন অবিশ্বাস্য দাবি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে নিউইয়র্ক পোস্ট।

তবে সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়, এ দাবির পক্ষে প্রামাণ্যচিত্রে প্রত্যক্ষ প্রমাণ দেখানো হয়নি।

‘দ্য এজ অব ডিসক্লোজার’ নামের এ প্রামাণ্যচিত্রে জ্যোতিঃপদার্থবিজ্ঞানী এরিক ডেভিসের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে। সেখানে তিনি বলেছেন, ২০০৩ সালে ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় বুশ তাঁকে ওই ঘটনার কথা জানিয়েছিলেন।

এরিক ডেভিস ২০০৭ সালে মার্কিন কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠিত অ্যাডভান্সড অ্যারোস্পেস থ্রেট আইডেন্টিফিকেশন প্রোগ্রামের (এএটিআইপি) বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এ কর্মসূচি শুরু করেছিলেন প্রয়াত সিনেটর হ্যারি রিড।

নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, বুশ এরিককে বলেছেন, তিনটি মহাকাশযান ওই ঘাঁটির কাছে আসে এবং একটি অবতরণ করে। সেটি থেকে এক এলিয়েন বেরিয়ে এসে বিমানবাহিনী ও সিআইএ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে। বুশ এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে বিস্তারিত জানতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তাঁকে নাকি জানানো হয়, তা জানার ‘প্রয়োজন নেই’।

জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ মার্কিন প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগে নৌবাহিনীর পাইলট ও সিআইএর পরিচালক ছিলেন। প্রেসিডেন্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তাঁকে এ ঘটনা জানানো হয়েছিল।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গত শুক্রবার অ্যামাজন প্রাইমে মুক্তি পাওয়া ওই প্রামাণ্যচিত্রে পদার্থবিদ ও সাবেক এএটিআইপি সদস্য হ্যাল পাথহফের সাক্ষাৎকারও রয়েছে। তিনি দাবি করেছেন, ভিনগ্রহের বিভিন্ন সত্তার নমুনাও উদ্ধার করা হয়েছে।

স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমিউনোলজিস্ট ও ক্যানসার গবেষক গ্যারি নোলান বলেছেন, যেসব সামরিক সদস্য ওই মহাকাশযানের কাছাকাছি গিয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন, তাঁদের কয়েকজন ভীষণভাবে দগ্ধ বা আহত হয়েছিলেন।

প্রামাণ্যচিত্রটির পরিচালক ড্যান ফারাহ আশা করছেন, এ চলচ্চিত্র আকাশে অজ্ঞাত উড়ন্ত বস্তু তথা ইউএফও সংক্রান্ত তথ্য-উদ্‌ঘাটনের আন্দোলনকে আরও এগিয়ে নেবে এবং কোনো এক মার্কিন প্রেসিডেন্টকে প্রকাশ্যে ভিনগ্রহে প্রাণের অস্তিত্ব স্বীকার করতে সাহস জোগাবে।

নিউইয়র্ক পোস্টকে ড্যান ফারাহ বলেন, ‘আমার মনে হয়, এ চলচ্চিত্র আমাদের এক ভিন্ন জায়গায় নিয়ে এসেছে। এমন এক সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে, যেখানে কোনো প্রেসিডেন্ট সহজভাবে মাইকের সামনে দাঁড়িয়ে পুরো মানবজাতিকে বলতে পারবেন—আমরা মহাবিশ্বে একা নই।’

https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla%2F2025-11-23%2F2kjcyylj%2FWhatsApp-Image-2025-11-23-at-3.30.20-PM.jpeg?rect=0%2C0%2C1536%2C1024&w=622&auto=format%2Ccompress&fmt=avif
এআইয়ের সহায়তায় তৈরি। প্রতীকী ছবি

Tuesday, July 21, 2026

জ্যোতির্বিজ্ঞানের নতুন আবিষ্কারের খোঁজে বাংলাদেশের জ্যোতির্বিজ্ঞানী by জাহিদ হোসাইন খান

মহাকাশের বিশালতায় পৃথিবী থেকে ১ হাজার ৩৫০ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত টিওআই–২১৫৫ নামক একটি নক্ষত্রকে ঘিরে আবর্তিত হচ্ছে এক রহস্যময় বস্তু, যা বর্তমানে জ্যোতির্বিজ্ঞানী মহলে তুমুল আলোচনার জন্ম দিয়েছে। গবেষকদের মতে, টিওআই-২১৫৫বি নামের এই বস্তুটির অবস্থান এমন এক সন্ধিক্ষণে, যা নক্ষত্র ও ব্যর্থ নক্ষত্র বা ব্রাউন ডোয়ার্ফের মধ্যকার সীমানা নির্ধারণের প্রচলিত ধারণাকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে। মহাকাশবিজ্ঞানের জগতে নতুন এই রহস্যের উন্মোচন করেছে বাংলাদেশের জ্যোতির্বিজ্ঞানী মো. রেদোয়ান আহমেদ ও তাঁর আন্তর্জাতিক গবেষণা দল।

সম্প্রতি দ্য অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল জার্নালে প্রকাশিত গবেষণাপত্রে টিওআই–২১৫৫বি নামক এক অদ্ভুত মহাজাগতিক বস্তুর বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হয়েছে, যা বিজ্ঞানীদের জন্য এক বড় কৌতূহলের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। নাসার ট্রানজিটিং এক্সোপ্ল্যানেট সার্ভে স্যাটেলাইট মিশনের তথ্য ব্যবহার করে এবং পরবর্তী সময় বিভিন্ন স্থলভিত্তিক মানমন্দিরের সহায়তায় এই বস্তুর অস্তিত্ব নিশ্চিত করা হয়। টিওআই–২১৫৫বির ভর ও গঠন একে মহাজাগতিক বিবর্তনের এক সন্ধিক্ষণে দাঁড় করিয়েছে। এর ভর প্রায় ৮০ দশমিক ৬ বৃহস্পতির সমান, যা এটিকে ব্রাউন ডোয়ার্ফ বা বাদামি বামন এবং খুব কম ভরের নক্ষত্রের মধ্যবর্তী একটি সীমানায় স্থাপন করে। সাধারণত নক্ষত্র হতে গেলে কেন্দ্রে হাইড্রোজেনের ফিউশন বা সংযোজনের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার জন্য যে ন্যূনতম ভরের প্রয়োজন হয়, এই বস্তু ঠিক সেই সীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে। এটিই মূলত এই আবিষ্কারের সবচেয়ে চমকপ্রদ দিক।

টিওআই–২১৫৫বির ব্যাসার্ধ প্রায় শূন্য দশমিক ৯৭ বৃহস্পতির সমান এবং ঘনত্ব অত্যন্ত বেশি, যা একে এক অনন্য মহাজাগতিক বস্তুতে পরিণত করেছে। এই গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারের পেছনে প্রধান ভূমিকা পালন করেছেন মো. রেদোয়ান আহমেদ। একজন গবেষক হিসেবে তাঁর নিষ্ঠা ও নিরলস পরিশ্রম এই আবিষ্কারকে সম্ভব করেছে। মহাকাশ গবেষণার মতো জটিল ও সূক্ষ্ম একটি ক্ষেত্রে, যেখানে তথ্যের নিখুঁত বিশ্লেষণ অত্যন্ত জরুরি, সেখানে রেদোয়ানের নেতৃত্ব ও বিশ্লেষণাত্মক দৃষ্টিভঙ্গি প্রশংসনীয়। দীর্ঘ সময় ধরে সংগৃহীত তথ্য ও রেডিয়াল ভেলোসিটি পরিমাপের মাধ্যমে তিনি ও তাঁর সহযোগী ব্যক্তিরা প্রমাণ করেছেন, টিওআই–২১৫৫বির মতো বস্তু নক্ষত্র ও উপ-নাক্ষত্রিক বস্তুর বিবর্তনীয় মডেলগুলো পরীক্ষা করার জন্য একটি চমৎকার বেঞ্চমার্ক হিসেবে কাজ করতে পারে। রেদোয়ানের এই কাজ কেবল একটি নতুন মহাজাগতিক বস্তুর সন্ধান নয়, নক্ষত্রের জন্মের সীমা ও উপাদানের গঠন সম্পর্কে ধারণাকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।

মো. রেদোয়ান আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, যেসব মহাজাগতিক বস্তুর ভর নক্ষত্রে পরিণত হওয়ার জন্য যথেষ্ট নয় এবং তাই তাদের কেন্দ্রে হাইড্রোজেন ফিউশন শুরু হয় না, সেগুলোকে ব্রাউন ডোয়ার্ফ বা ‘ব্যর্থ নক্ষত্র’ বলা হয়। টিওআই–২১৫৫বির ভর বৃহস্পতির ভরের প্রায় ৮০ দশমিক ৬ গুণ। সাধারণত বৃহস্পতির ভরের ৭৫ থেকে ৮০ গুণ বেশি ভরের বস্তুকে নক্ষত্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কিন্তু নতুন এই বস্তু সেই তত্ত্বের একেবারে কিনারে দাঁড়িয়ে আছে।

জ্যোতির্বিজ্ঞানী মো. রেদোয়ান আহমেদ ও তাঁর দল নাসার ট্রানজিটিং এক্সোপ্ল্যানেট সার্ভে স্যাটেলাইট ও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের টেলিস্কোপ ব্যবহার করে বস্তুটির আকার ও ভর নিখুঁতভাবে পরিমাপ করেছে। জ্যোতির্বিজ্ঞানী মো. রেদোয়ান আহমেদ জানান, কেবল ভরই শেষ কথা নয়, একটি বস্তুর বয়স, রাসায়নিক গঠন ও বায়ুমণ্ডলীয় বৈশিষ্ট্যও নির্ধারণ করে সেটি নক্ষত্র হিসেবে জ্বলে উঠবে কি না। ফলে নক্ষত্র ও ব্রাউন ডোয়ার্ফের মধ্যে কোনো স্পষ্ট বিভাজন রেখা টানা সম্ভব হচ্ছে না।

টিওআই–২১৫৫বি মহাকাশের অন্যতম বিরল একটি বস্তু। এটি নক্ষত্র ও ব্রাউন ডোয়ার্ফের মধ্যকার রূপান্তরকালীন অবস্থায় থাকায় বিজ্ঞানীদের কাছে অত্যন্ত মূল্যবান। মো. রেদোয়ান আহমেদের মতে, এ ধরনের আরও মহাজাগতিক বস্তু পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা আরও ভালোভাবে বুঝতে পারবেন, কীভাবে একটি বস্তু নক্ষত্রে পরিণত হয় এবং কোন সীমা অতিক্রম করলে তার কেন্দ্রে হাইড্রোজেন ফিউশন শুরু হয়।

মো. রেদোয়ান আহমেদ অস্ট্রেলিয়ার সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিডনি ইনস্টিটিউট ফর অ্যাস্ট্রোনমির অ্যাস্ট্রোফিজিকস বিভাগের পিএইচডি গবেষক। তাঁর গবেষণার মূল ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে এক্সোপ্ল্যানেট, ব্রাউন ডোয়ার্ফ, নাক্ষত্রিক কার্যকলাপ ও রেডিও জ্যোতির্বিজ্ঞান। বর্তমানে তিনি অস্ট্রেলিয়ার পার্কস রেডিও টেলিস্কোপের ক্রায়োপ্যাফ ম্যাসার পর্যবেক্ষণের ডেটা পাইপলাইন উন্নয়নের কাজে নিয়োজিত। পাশাপাশি তিনি নক্ষত্র ও উপ–নাক্ষত্রিক বস্তুর মধ্যকার সীমানা নিয়ে গবেষণা করছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি ইন সেন্ট লুইসের অ্যাস্ট্রোমিউজার্স গ্রুপ ও বাংলাদেশের ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশের সেন্টার ফর অ্যাস্ট্রোনমি, স্পেস সায়েন্স অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোফিজিকসের অ্যাসোসিয়েট মেম্বার হিসেবে গবেষণার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।

মহাকাশবিজ্ঞানের জগতে নতুন এক রহস্যের উন্মোচন করেছেন মো. রেদোয়ান আহমেদ ও তাঁর আন্তর্জাতিক গবেষণা দল
মহাকাশবিজ্ঞানের জগতে নতুন এক রহস্যের উন্মোচন করেছেন মো. রেদোয়ান আহমেদ ও তাঁর আন্তর্জাতিক গবেষণা দল। সংগৃহীত

মহাকাশে আকারে বড় বিরল গ্রহের সন্ধান

মহাবিশ্বের অসীম অন্ধকারের গভীরে লুকিয়ে আছে কোটি কোটি অচেনা গ্রহ। পৃথিবী থেকে হাজার হাজার আলোকবর্ষ দূরে থাকা তেমনই এক দানবীয় গ্রহের সন্ধান পেয়েছে নাসার ট্রানজিটিং এক্সোপ্ল্যানেট সার্ভে স্যাটেলাইট। নাসার তথ্যমতে, স্থান–কালের তরঙ্গ ব্যবহার করে দূরবর্তী নক্ষত্রকে প্রদক্ষিণ করা গ্রহটি শনাক্ত করা হয়েছে। চেনা নিয়মের বাইরে গিয়ে এবারই প্রথম নতুন গ্রহের সন্ধান পাওয়া গেছে।

ট্রানজিটিং এক্সোপ্ল্যানেট সার্ভে স্যাটেলাইট সাধারণত নক্ষত্রের খুব কাছাকাছি থাকা গ্রহগুলো আবিষ্কার করে থাকে। তবে নতুন আবিষ্কৃত এই গ্রহ নিজের নক্ষত্র থেকে অনেক দূরে অবস্থান করে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণকারী বৃহস্পতি গ্রহের মতো দূরবর্তী কক্ষপথে ঘুরছে। নতুন গ্রহটির বিষয়ে নিউ মেক্সিকো ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ডায়ানা ড্রাগোমির বলেন, ‘সার্ভে স্যাটেলাইট যখন মহাকাশে উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল, তখন কেউ ভাবেনি যে এটি কখনো এ ধরনের গ্রহ খুঁজে পেতে সক্ষম হবে। নতুন গ্রহটির ভর আমাদের বৃহস্পতি গ্রহের চেয়ে ১ দশমিক ৬ গুণ বেশি এবং এর কক্ষপথের দূরত্বও প্রায় এক। এই আবিষ্কার প্রমাণ করছে স্যাটেলাইটে ধারণ করা পুরোনো তথ্যের মধ্যে সম্ভবত আরও অনেক মাইক্রোলেনসিং গ্রহ লুকিয়ে আছে, যা গবেষকেরা আগে খোঁজার কথা ভাবেননি।’

২০২৩ সালে প্রথম গ্রহটির অস্তিত্বের ইঙ্গিত দিয়েছিল ইউরোপীয় স্পেস এজেন্সির গায়া স্পেস টেলিস্কোপ। সে সময় গায়া টেলিস্কোপের অ্যালার্ট সিস্টেমে দেখা গিয়েছিল একটি নক্ষত্র হঠাৎ অনেক বেশি উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে। মহাকাশে যখন একটি নক্ষত্র অন্য একটি দূরবর্তী নক্ষত্রের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় নিজের মহাকর্ষ বলয়ের কারণে পেছনের নক্ষত্রের আলোকে বিবর্ধিত বা বড় করে দেখায়, তখন এ ঘটনা ঘটে। বিজ্ঞানের ভাষায় একে গ্র্যাভিটেশনাল মাইক্রোলেনসিং বলা হয়। আর তাই পরবর্তী সময় বিজ্ঞানীরা টেস স্যাটেলাইটের আর্কাইভে থাকা পুরোনো তথ্য পরীক্ষা করে দেখেন। তাঁরা দেখতে পান টেস স্যাটেলাইটটিও একই মহাজাগতিক ঘটনা রেকর্ড করে রেখেছিল।

গবেষণায় দেখা গেছে, গায়া২৩ব্রা বি’ নামের গ্রহটি একটি কমলা রঙের বামন নক্ষত্রকে প্রদক্ষিণ করছে। এই নক্ষত্রের ভর আমাদের সূর্যের ভরের প্রায় ৮০ শতাংশ। গ্রহটি পৃথিবী থেকে প্রায় ৪০ হাজার আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত। টেস স্যাটেলাইটটি সাধারণত পৃথিবীর কাছাকাছি মাত্র ১৫০ আলোকবর্ষের মধ্যে গ্রহ অনুসন্ধান করে। সে তুলনায় এই গ্রহের দূরত্ব অনেক বেশি।

সূত্র: এনডিটিভি

মহাকাশ
মহাকাশ। ফাইল ছবি: রয়টার্স

Monday, July 13, 2026

মহাকাশে প্রথম সেলফি by জাহিদ হোসাইন খান

মহাকাশ অনুসন্ধানের ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আছে, যা কেবল বৈজ্ঞানিক সাফল্য নয়, মানব ইতিহাসের মাইলফলক হিসেবেও চিহ্নিত হয়। এর মধ্যে অন্যতম হলো মহাকাশে তোলা প্রথম সেলফি। এমন একসময় মহাকাশে সেলফি তোলার ঘটনা জানা যায়, যখন ‘সেলফি’ শব্দটির কোনো অস্তিত্ব ছিল না।

১৯৬৬ সালের একটি আনুষ্ঠানিক ফটোগ্রাফকে কখনো কখনো মহাকাশের প্রথম সেলফি হিসেবে দাবি করা হয়। খোলা মহাকাশে কোনো মহাকাশচারীর নিজের তোলা প্রথম সেলফি ক্যামেরাবন্দী করেন কিংবদন্তী নভোচারী এডউইন ই বাজ অলড্রিন জুনিয়র। সেই ঐতিহাসিক ঘটনা ঘটেছিল জেমিনি-১২ মহাকাশ অভিযানে। মহাকাশযানের ডকিং কৌশল পরীক্ষা করার লক্ষ্যে ১৯৬৬ সালের ১১ নভেম্বর সেই মিশন উৎক্ষেপণ করা হয়। অভিযানের কমান্ডার ছিলেন জেমস এ লভেল জুনিয়র ও পাইলট ছিলেন বাজ অলড্রিন।

১৯৬৬ সালের ১৩ নভেম্বর অলড্রিন তার তিনটি স্পেসওয়াকের মধ্যে দ্বিতীয়টি শুরু করেন। এটি ছিল একটি ২ ঘণ্টা ৬ মিনিটের তারযুক্ত টিথারড স্পেসওয়াক। এই স্পেসওয়াক চলাকালীন তাঁর মূল কাজ ছিল দৃশ্যমান তারকাক্ষেত্রের ছবি তোলা। কাজের ফাঁকেই অলড্রিন একটি স্বতঃস্ফূর্ত ও ঐতিহাসিক মুহূর্ত তৈরি করেন। তিনি স্পেসস্যুটে থাকা অবস্থায় নিজের একটি ছবি তোলেন। সেই ছবিকেই বলা হয় পৃথিবীর বাইরের প্রথম সেলফি। ছবিতে বাজ অলড্রিনকে মহাকাশের গভীর পটভূমিতে তার স্পেসস্যুট এবং হেলমেটের সম্মুখ অংশসহ দেখা যায়। যদিও ছবিতে মহাকাশযানের কিছু অংশ ও পৃথিবীকে প্রতিফলিত হতে দেখা যায়।

পরবর্তী সময়ে অ্যাপোলো–১১ অভিযানে চন্দ্রভ্রমণ করেন নভোচারী বাজ অলড্রিন। তিনি জানান, তাঁর ঝুলিতে একটি প্রথম কীর্তি রয়েছে। বাজ অলড্রিনের সেই ছবি ১৯৬৬ সালের জেমিনি–১২ অভিযানে দিনের বেলায় তোলা হয়। তিনি একটি আলট্রাভায়োলেট (ইউভি) ক্যামেরা ব্যবহার করছিলেন ছবি তোলার সময়। ছবিতে অলড্রিনকে দেখা যায় তাঁর ব্যবহৃত ইউভি ক্যামেরার পাশে। সেই ক্যামেরা যুক্তরাষ্ট্রের নর্থওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও নভোচারী কার্ল হেনাইজের মস্তিষ্কপ্রসূত যন্ত্র ছিল। আলট্রাভায়োলেট বিকিরণ তারা শোষিত ও নির্গত বিভিন্ন ধরনের বিকিরণের মধ্যে একটি। ইউভি বিকিরণ ভিন্ন একধরনের রঙের পরিসর, যা আমরা দেখতে পাই না।

জেমিনি ১২ যানে ব্যবহৃত ইউভি ক্যামেরা দেখতে সাধারণ ক্যামেরার মতোই ছিল। সেখানে একটি বিশেষ ইউভি লেন্স ও ফিল্টার ব্যবহার করা হয়, যেন ক্যামেরায় পৌঁছানো ইউভি রশ্মি ছাড়া অন্য সব বিকিরণ ফিল্টার হয়ে যায়। এই ইউভি রশ্মিকে একটি প্রিজমের মাধ্যমে পাঠানো হয়, যেন আলট্রাভায়োলেট আলোর বর্ণালি তৈরি হয়। মিশনে ব্যবহৃত আসল ক্যামেরাটি বর্তমানে স্মিথসোনিয়ান ন্যাশনাল এয়ার অ্যান্ড স্পেস মিউজিয়ামের সংগ্রহে রয়েছে।

সূত্র: অ্যামেচার ফটোগ্রাফার

মহাকাশে স্পেসওয়াকের সময় প্রথম সেলফি তোলেন বাজ অলড্রিন
মহাকাশে স্পেসওয়াকের সময় প্রথম সেলফি তোলেন বাজ অলড্রিন। ছবি: সংগৃহীত

সূর্যের সামনে স্কাইডাইভার, তৈরি হয়েছে এক অলীক আলোকচিত্র by জাহিদ হোসাইন খান

প্রাচীন গল্পে আছে, ইকারাস মোমের ডানা নিয়ে সূর্যের খুব কাছে উড়ে গিয়েছিল। তখন মোম গলে গেলে ইকারাস নিচে পড়ে যায়। সৃজনশীল এক ফটোগ্রাফার সম্প্রতি সূর্যের দারুণ এক ছবি তুলে সেই দৃশ্যের কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনায় একজন স্কাইডাইভার মাত্র এক সেকেন্ডের ভগ্নাংশের জন্য সূর্যের সামনে দিয়ে নেমে যান। ঠিক তখনই তাঁকে ক্যামেরাবন্দী করেন অ্যাস্ট্রোফটোগ্রাফার অ্যান্ড্রু ম্যাককার্থি। জ্বলন্ত সূর্যের মুখের ওপর দিয়ে যেন এক মানব প্রতিকৃতি নিচে নেমে গেল, এমন দৃশ্য ধরা পড়ে ক্যামেরা লেন্সে। দৃষ্টিবিভ্রমের এক অসাধারণ কীর্তি তৈরি করেছেন অ্যাস্ট্রোফটোগ্রাফার অ্যান্ড্রু ম্যাককার্থি।

অ্যাস্ট্রোফটোগ্রাফার অ্যান্ড্রু ম্যাককার্থি নিখুঁতভাবে তাঁর ক্যামেরা দিয়ে একজন স্কাইডাইভারকে ক্যামেরার সংকীর্ণ ফিল্ড অব ভিউয়ের মধ্য দিয়ে নেমে যাওয়ার সময় ধারণ করেন। ছবিটি বেশ পরাবাস্তব এক অনুভূতি তৈরি করেছে। ইকারাসকে নিয়ে প্রাচীন মিথের সঙ্গে ছবিটি তুলনা করেছেন অনেকেই।

অ্যান্ড্রু ম্যাককার্থি চাঁদ ও সূর্যের অত্যন্ত সূক্ষ্ম ছবি তোলার জন্য পরিচিত। তিনি সূর্যের সামনে স্কাইডাইভারের এই একটি মাত্র ছবির জন্য কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। সূর্যের ছবি তোলা এমনিতেই কঠিন কাজ। সেখানে সূর্যের সামনে গতিশীল একটি বিমান বা একজন পতিত মানবকে একই ফ্রেমে আনা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন চ্যালেঞ্জ। বিমানটির গতিপথ, সূর্যের কোণ, ক্যামেরার অবস্থান ও স্কাইডাইভারের অবতরণের মতো সব বিষয়কে মাত্র কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে এক করে কাজটি হয়েছে।

অ্যাস্ট্রোফটোগ্রাফার অ্যান্ড্রু ম্যাককার্থি বলেন, ‘বলা যায়, একেবারে অযৌক্তিক একটি কাজ করেছি। যদিও চূড়ান্ত ছবিটি দারুণ এক অনুভূতি দেয়। স্কাইডাইভার ছিলেন ইউটিউবার ও সংগীতজ্ঞ গ্যাব্রিয়েল সি ব্রাউন। সে সূর্যের উত্তাল হলুদ পৃষ্ঠের বিপরীতে একটি কালো সিলুয়েট বা ছায়ামূর্তি হিসেবে ছবিতে চলে এসেছে। সূর্যের অবস্থান ৯ কোটি ৩০ লাখ মাইল দূরে হলেও ক্যামেরায় দারুণভাবে দেখা যাচ্ছে সব। ইকারাসের সঙ্গে তুলনা করা ছবি অসম্ভব বলে মনে হয়। আগুনের মতো সৌর ক্রোমোস্ফিয়ারের আবহের বিপরীতে একটি সত্যিকারের মানব চিহ্ন আমাদের মুগ্ধ করে। দেখে মনে হবে যেন, মহাকাশে কেউ নিচে পড়ে যাচ্ছে।’

স্কাইডাইভাররা ব্রাউনের ৩ হাজার ৫০০ ফুট উচ্চতা থেকে পতন শুরু করলে প্রায় ১০ সেকেন্ড সময় ব্যয় করে প্যারাসুট খোলার আগে ছবি তোলার সুযোগ মেলে। ম্যাককার্থি একটি লুন্ট ৬০ মিলিমিটার এইচ–আলফা ক্যামেরায় তার ফ্রি ফলের ছবি তোলেন। একটি এএসআই ১ হাজার ৬০০ মিলিমিটারে একক এক্সপোজার ধারণ করা হয়। আসলে এই বিভ্রমের মূল কারণ হচ্ছে দূরত্বের সামঞ্জস্য। ব্রাউন একটি ছোট বিমান থেকে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ ফুট ওপর থেকে লাফ দেন। আর ম্যাককার্থি প্রায় আট হাজার ফুট দূরে অবস্থান করেছিলেন। স্কাইডাইভার অবশ্যই সূর্যের কাছে ছিলেন না। শুধু ক্যামেরার দৃষ্টিকোণ থেকে নিখুঁত অবস্থানের কারণে স্কাইডাইভারকে অসম্ভব কাছাকাছি দেখাচ্ছিল। আসলে লাফ দেওয়ার আগে বিমানটিকে সঠিক অবস্থানে আনার জন্য ছয়বার চেষ্টা করতে হয়েছে। স্কাইডাইভারকে ফ্রেমে ধরার জন্য মাত্র একবারের সুযোগ ছিল। ম্যাককার্থি তাঁর মনিটরে সেই ক্ষুদ্র অবয়বটিকে সূর্যের আলোর সঙ্গে মিলিয়ে একটি নিখুঁত অবয়ব ধারণ করেন।

এই ছবিকে অনেকেই পৌরাণিক রূপকথার সঙ্গে তুলনা করছেন। গ্রিক মিথের ইকারাসের সঙ্গে তুলনা করেছেন। ম্যাককার্থির এ ছবিটি সেই আখ্যানকেই একটি আধুনিক ও স্পষ্ট রূপে যেন তুলে ধরছে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

সূর্যের সামনে স্কাইডাইভারের আলোকচিত্র
সূর্যের সামনে স্কাইডাইভারের আলোকচিত্র। ছবি: অ্যান্ড্রু ম্যাককার্থি

Saturday, July 11, 2026

পৃথিবী থেকে ১৮ আলোকবর্ষ দূরে সুপার-আর্থের খোঁজ by জাহিদ হোসাইন খান

মহাবিশ্বের অন্য কোনো প্রান্তে জীবনের বসবাস আছে কি না, তা নিয়ে বিজ্ঞানীরা ২৪ ঘণ্টা আকাশের নানা কোণে উঁকি দিচ্ছেন। সেই উঁকিতে এবার পৃথিবী থেকে মাত্র ১৮ আলোকবর্ষ দূরের একটি গ্রহের খোঁজ মিলেছে। পৃথিবীর মতো কিন্তু আকারে বড় বলে এ ধরনের গ্রহ সুপার-আর্থ নামে পরিচিত। যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া (ইউসি), আরভিনের জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা এই রোমাঞ্চকর সুপার–আর্থ আবিষ্কার করেছেন।

নতুন আবিষ্কৃত গ্রহটি তার নক্ষত্রের বাসযোগ্য অঞ্চল থেকে প্রদক্ষিণ করছে। এই অঞ্চলের তাপমাত্রার কারণে তরল পানি থাকার সম্ভাবনা বেশ। গ্রহটিতে জীবনধারণের উপযোগী পরিবেশ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে বলে বিজ্ঞানীরা মনে করছেন। এই নতুন আবিষ্কৃত গ্রহটি মিল্কিওয়ে ছায়াপথের একটি নিকটবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত। এটি পাথুরে বলে মনে করা হচ্ছে। আকারে পৃথিবীর সমান হলেও ওজনে পৃথিবীর চেয়ে বহু গুণ বেশি। গ্রহের বিভিন্ন তথ্য দ্য অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। ইউসি আরভিনের পদার্থবিজ্ঞান ও জ্যোতির্বিজ্ঞান বিভাগের বিজ্ঞানী পল রবার্টসনের বলেন, আজকাল নতুন বহির্গ্রহ বা এক্সোপ্ল্যানেট আবিষ্কার করা সাধারণ হয়ে গেছে। নতুন এই গ্রহকে বিশেষ বলা যায়। এর নক্ষত্রটি আমাদের খুব কাছাকাছি অবস্থিত প্রায় ১৮ আলোকবর্ষ দূরে। মহাজাগতিক পরিভাষায়, এই দূরত্বকে প্রায় আমাদের প্রতিবেশে থাকার মতো বলা যায়।

জিজে ২৫১ সি নামের এই গ্রহ একটি এম-বামন নক্ষত্রকে প্রদক্ষিণ করছে। এই নক্ষত্র মিল্কিওয়েতে সবচেয়ে সাধারণ ও প্রাচীন নক্ষত্রের মধ্যে অন্যতম। এই সব নক্ষত্রের মধ্যে তারার মতো দাগ ও সৌরশিখার মতো তীব্র কার্যকলাপ দেখা যায়। এমন সংকেত দেখে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা গ্রহ খোঁজার চেষ্টা করেন। প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও, নতুন গ্রহটি স্বল্প দূরত্বের কারণে বেশ আকর্ষণীয়। ভবিষ্যতে সরাসরি চিত্রগ্রহণের সুযোগ রয়েছে গ্রহটির। ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার থার্টি মিটার টেলিস্কোপের মতো শক্তিশালী টেলিস্কোপ এমন ক্ষীণ বহির্গ্রহের স্পষ্ট ছবি তুলতে ও পানির সম্ভাব্য উপস্থিতি নিশ্চিত করতে সক্ষম হতে পারে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। বিজ্ঞানী কোরি বেয়ার্ড বলেন, নতুন গ্রহটির মতো গ্রহের সরাসরি ছবি তোলার ক্ষমতা রয়েছে অনেক টেলিস্কোপের।

এই বহির্গ্রহ আবিষ্কার করতে হাবিটেবল-জোন প্ল্যানেট ফাইন্ডার থেকে পাওয়া ডেটা ব্যবহার করা হয়। এই সব যন্ত্র কাছাকাছি গ্রহ থেকে সৃষ্ট মহাকর্ষীয় টানের কারণে নক্ষত্রের আলোতে খুব সামান্য পরিবর্তন শনাক্ত করতে পারে। যখন গ্রহটি তার নক্ষত্রের ওপর মহাকর্ষীয় বল প্রয়োগ করে, তখন নক্ষত্রের আলোতে ক্ষুদ্র ও নিয়মিত তারতম্য দৃশ্যমান হয়। এই দুর্বল সংকেত রেকর্ড করে গ্রহটিকে চিহ্নিত করা হয়।

সূত্র: এনডিটিভি

নতুন সুপার-আর্থ গ্রহের খোঁজ পেয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা
নতুন সুপার-আর্থ গ্রহের খোঁজ পেয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। ছবি: নাসা

মঙ্গল গ্রহের আগ্নেয়গিরির নতুন ছবি প্রকাশ করল ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা

মঙ্গল গ্রহ, তার লালচে আভার কারণে সৌরজগতের সবচেয়ে রহস্যময় গ্রহের মধ্যে অন্যতম। আমাদের পৃথিবীর যেকোনো পর্বতের চেয়ে বহুগুণ বড় অলিম্পাস মন্স নামের দৈত্যাকার এক আগ্নেয়গিরি রয়েছে সেখানে। মঙ্গল গ্রহের পৃষ্ঠতলে রয়েছে সুবিশাল উপত্যকা, প্রাচীন নদী খাত এবং জমে যাওয়া লাভার প্রবাহ। ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা (ইএসএ) সম্প্রতি মঙ্গল গ্রহে থাকা অলিম্পাস মন্স আগ্নেয়গিরির পাদদেশের চমকপ্রদ ছবি প্রকাশ করেছে। অলিম্পাস মন্স প্রায় ২৭ কিলোমিটার উঁচু ও এর ভিত্তি ৬০০ কিলোমিটারের বেশি চওড়া। এটি আমাদের সৌরজগতের বৃহত্তম আগ্নেয়গিরি।

অলিম্পাস মন্স ১৯৭১ সালে নাসার মেরিনার ৯ মহাকাশযান আবিষ্কার করে। ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার প্রকাশিত ছবিতে অলিম্পাস মন্স থেকে প্রবাহিত লাভার জমে যাওয়া ছবি দেখা যায়। ধারণা করা হয়, মঙ্গল গ্রহের প্রাথমিক ভূতাত্ত্বিক যুগে, প্রায় ৩৫০ কোটি বছর আগে অলিম্পাস মন্স গঠিত হয়। আগ্নেয়গিরিটি বর্তমানে সুপ্ত অবস্থায় রয়েছে। সাম্প্রতিককালে সেখানে কোনো অগ্ন্যুৎপাত ঘটেনি। এর মৃদু ঢাল এবং উল্কাপিণ্ডের আঘাতের গর্তের অভাব দেখে অনুমান করা যায়, সেখানকার পৃষ্ঠতল তুলনামূলকভাবে নতুন।

মার্স এক্সপ্রেস অরবিটারের তোলা ছবিতে আগ্নেয়গিরির দক্ষিণ-পূর্ব দিকে লাভা প্রবাহের স্তর, খাড়া পর্বতখণ্ড  ও প্রাচীন ধসের চিহ্ন দেখা যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইএসএ জানিয়েছে, আগ্নেয়গিরিকে ঘিরে থাকা ৯ কিলোমিটার পর্যন্ত উঁচু খাড়া ঢাল বিশাল ভূমিধসের ফলে গঠিত হয়েছে। এই ঢালের কারণে শত শত কিলোমিটার দূরে ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে যায়। লাভার প্রবাহ এখন কঠিন শিলা। একসময় আগ্নেয়গিরির ঢাল বেয়ে নেমে এসেছিল। বিশাল ফ্যান বা পাখা-আকৃতিতে ছড়িয়ে পড়েছিল চারদিকে। ঠান্ডা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেখানে খাল ও নল তৈরি হয়। কিছু প্রবাহ সমতল ভূমিতে পৌঁছানোর আগে মসৃণ, গোলাকার জিহ্বার মতো আকার নিয়ে থেমে গিয়েছিল। নিচের সমভূমিতে একটি ঘোড়ার নালের আকারের চ্যানেল একসময় লাভা ও পানি বহনের সম্ভাবনা রয়েছে। এসব কাঠামো মঙ্গলের জটিল অতীতের ইঙ্গিত দেয়। এখানে সামান্য কিছু ছোট গর্ত থাকায় পৃষ্ঠটি ভূতাত্ত্বিকভাবে নবীন। সম্ভবত মাত্র কয়েক কোটি বছরের পুরোনো।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এই পোস্টের প্রতিক্রিয়ায় একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, আমি এখানে আমার সকালের দৌড়টি দিতে চাই। আরেকজন মন্তব্য করেছেন, আমি অবাক হয়ে ভাবছি এই বিশাল লাভা প্রবাহের কারণে মঙ্গল তার চৌম্বকক্ষেত্র হারিয়েছে কি না? একজন লিখেছেন, পরিষ্কার করা হলে এই ধাপে একটি ভালো শহর ও আগ্নেয়গিরিতে প্রবেশের পথ তৈরি করতে পারত।

সূত্র: এনডিটিভি

মঙ্গল গ্রহের অলিম্পাস মন্স আগ্নেয়গিরি
মঙ্গল গ্রহের অলিম্পাস মন্স আগ্নেয়গিরি। ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা

Friday, July 10, 2026

দুই দিনের ব্যবধানে পৃথিবীর পাশ দিয়ে চলে গেল তিনটি গ্রহাণু

প্রকাশ ২০ নভেম্বর ২০২৫ঃ মহাকাশ মাঝেমধ্যে আমাদের মনে করিয়ে দেয়, সৌরজগৎ আসলে কতটা সক্রিয় ও গতিশীল। মহাকাশে গতিশীল গ্রহাণু থাকায় প্রায়ই বিভিন্ন আকারের গ্রহাণু পৃথিবীর খুব কাছ দিয়ে চলে যায়। এ সপ্তাহে মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে তিনটি গ্রহাণু পৃথিবীকে পাশ কাটিয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার বিজ্ঞানীরা।

নাসার তথ্যমতে, ১৮ নভেম্বর ‘২০২৫ ভিপি১’ ও ‘২০২৫ ভিসি-৪’ নামের দুটি গ্রহাণু পৃথিবীকে পাশ কাটিয়ে গেছে। ২০২৫ ভিপি১ গ্রহাণুটি আকারে প্রায় ৩৭ ফুট, যা একটি বাসের সমান। ৩ লাখ ৬১ হাজার মাইল দূর থেকে পৃথিবীকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার সময় গ্রহাণুটির গতি ছিল ঘণ্টায় ১৮ হাজার ৩০০ মাইলের বেশি। অপর দিকে ‘২০২৫ ভিসি-৪’ নামের গ্রহাণুটি ১২ লাখ ৪০ হাজার মাইল দূর থেকে পৃথিবীকে পাশ কাটিয়ে গেছে। এই গ্রহাণুর আকারও ছিল একটি বাসের সমান।

১৯ নভেম্বর পৃথিবীকে পাশ কাটিয়ে গেছে ‘৩৩৬১ ওরফিয়াস’ গ্রহাণু। এটির আকার ছিল প্রায় ১ হাজার ৪০০ ফুট। বড় আকারের একটি সেতুর সমান গ্রহাণুটি ঘণ্টায় প্রায় ২০ হাজার মাইল গতিতে পৃথিবীর পাশ দিয়ে গেছে।

গ্রহাণু মূলত প্রায় ৪৬০ কোটি বছর আগে সৌরজগৎ গঠনের সময় তৈরি হওয়া পাথুরে বস্তু। এদের অধিকাংশকেই মঙ্গল ও বৃহস্পতির মধ্যবর্তী প্রধান গ্রহাণু বলয়ে পাওয়া যায়। কিছু গ্রহাণু সূর্যের কাছাকাছি আসার সময় পৃথিবীর কক্ষপথে প্রবেশ করে। এ ধরনের বস্তুকে নিয়ার-আর্থ অবজেক্টস বা পৃথিবীর কাছাকাছি বস্তু বলা হয়। এগুলো সূর্য থেকে প্রায় ১২ কোটি মাইল পর্যন্ত দূরত্বে ভ্রমণ করে। নাসা জানিয়েছে, এমন বেশির ভাগ বস্তু পৃথিবীর জন্য কোনো হুমকি সৃষ্টি করে না। যদিও কিছু বড় গ্রহাণুকে সম্ভাব্য বিপজ্জনক গ্রহাণু বলা হয়।

সূত্র: এনডিটিভি

গ্রহাণুর প্রতীকী ছবি
গ্রহাণুর প্রতীকী ছবি। নাসা

Wednesday, July 1, 2026

চাঁদে ঘাঁটি গড়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ শুরু করছে নাসা

মাত্র কয়েক মাস আগে মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসা চাঁদে ঘাঁটি (মুন বেজ) গড়ার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। তাদের প্রকল্পটি এখন বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে। চাঁদের পৃষ্ঠে অবতরণযান, রোভার, ছোট চন্দ্রযান এবং অন্যান্য সরঞ্জাম পৌঁছে দিতে একটি বিস্তারিত কৌশল নির্ধারণ করছে নাসা।

গত মঙ্গলবার নাসা ঘোষণা দিয়েছে, তারা অ্যাস্ট্রোবোটিক, ফায়ারফ্লাই অ্যারোস্পেস, ইনটুইটিভ মেশিনস নামের তিনটি প্রতিষ্ঠানকে প্রায় ৫৯ কোটি ডলার দেবে। এই অর্থের বিনিময়ে প্রতিষ্ঠানগুলো চারটি মিশনের মাধ্যমে বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য মালামাল চাঁদে পৌঁছে দেবে। এর মধ্যে অ্যাস্ট্রোবোটিকই একমাত্র প্রতিষ্ঠান, যারা দুটি মিশনের দায়িত্ব পেয়েছে।

নাসা আরও ইঙ্গিত দিয়েছে, মঙ্গলে অভিযান চালানো ‘প্রমিজ’ নামের রোভারকে ভবিষ্যতে চাঁদে ব্যবহারের উপযোগী করে তোলার কথাও ভাবা হচ্ছে।

এসব উদ্যোগ একটি বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ। এর লক্ষ্য হলো, রোবটচালিত যানবাহনের মাধ্যমে চাঁদে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলা, যেন ভবিষ্যতে মানব মহাকাশচারীরা চাঁদে গেলে এই অবকাঠামোকে তাঁদের কাজ ও বসবাসের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করা যায়।

গতকাল মঙ্গলবার নাসাঘোষিত চুক্তিগুলো মূলত চাঁদে একটি স্থায়ী মানববসতি গড়ে তোলার বৃহৎ পরিকল্পনার অংশ। সেখানে ভবিষ্যতে মহাকাশচারীরা বসবাস ও কাজ করবেন। নাসার চন্দ্রঘাঁটি কর্মসূচির নির্বাহী কর্মকর্তা কার্লোস গার্সিয়া গালান এই পরিকল্পনার প্রথম ধাপকে ‘ফেজ–১’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এই ধাপ ২০২৮ সাল পর্যন্ত চলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর সম্ভাব্য ব্যয় প্রায় ১ হাজার কোটি ডলার।

গত মাসে নাসা এই কর্মসূচির প্রথম ধাপের আওতায় আরও কয়েকটি চুক্তির ঘোষণা দিয়েছে। পরিকল্পনার দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপে চাঁদে প্রথম চাপ-নিয়ন্ত্রিত আবাস নির্মাণ এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা স্থাপনের পরিকল্পনা আছে। এর মাধ্যমে ২০৩০-এর দশকে ধাপে ধাপে চন্দ্রঘাঁটি সম্প্রসারণে নাসার দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য তুলে ধরা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত নাসার আশা, মহাকাশচারীরা চাঁদে ‘আধা স্থায়ী’ বসতিতে বসবাস ও কাজ করতে পারবেন।

মহাকাশ অভিযানের প্রতিযোগিতায় চীনকে টেক্কা দিতে নাসার বৃহত্তর কৌশলের অংশ হিসেবে এসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত এক দশকে চীনের মহাকাশ কর্মসূচি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতারা বারবার সতর্ক করে আসছেন, মহাকাশ প্রযুক্তিতে চীনের দ্রুত অগ্রযাত্রা যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের প্রযুক্তিগত শ্রেষ্ঠত্বকে ছাপিয়ে যেতে পারে।

বাধা মোকাবিলা

এই উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে নাসাকে ইতিমধ্যে বেশ কিছু প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

জেফ বেজোসের মালিকানাধীন মহাকাশযান প্রস্তুতকারী সংস্থা ব্লু অরিজিন চলতি বছরের শেষ দিকে তাদের বিশাল রোবোটিক অবতরণযান ব্লু মুনের একটি প্রোটোটাইপ চাঁদের দক্ষিণ মেরু অঞ্চলে পাঠানোর পরিকল্পনা করেছিল। চাঁদের দক্ষিণ প্রান্ত বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়। কারণ, সেখানে প্রাকৃতিকভাবে জমাট হওয়া বরফের মজুত থাকার সম্ভাবনা আছে। এই বরফ থেকে ভবিষ্যতে রকেটের জ্বালানি বা পানযোগ্য পানি উৎপাদন করা যেতে পারে।

তবে মে মাসে ব্লু অরিজিন বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। তখন তাদের নিউ গ্লেন রকেটটি উৎক্ষেপণ স্থলেই হঠাৎ বিস্ফোরিত হয়। এতে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে যায়, যা পুনর্নির্মাণ করতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। ফলে ব্লু মুন মিশনের উৎক্ষেপণ কতটা পিছিয়ে যাবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

মঙ্গলবার নাসার চন্দ্রঘাঁটি কর্মসূচির নির্বাহী কর্মকর্তা কার্লোস গার্সিয়া গালান ইঙ্গিত দিয়েছেন, প্রয়োজন হলে ব্লু মুন অবতরণযানকে অন্য কোনো উৎক্ষেপণযানে করে পাঠানো হতে পারে। তিনি বলেন, ব্লু অরিজিনের রকেট ও উৎক্ষেপণকেন্দ্রের কাজ যদি নাসার নির্ধারিত সময়সূচির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হয়, তাহলে সংস্থাটি ‘বিকল্প ব্যবস্থা’ বিবেচনা করছে।

এদিকে নিউ গ্লেন দুর্ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় নাসার প্রশাসক জ্যারেড আইজাকম্যান স্পষ্ট করে বলেছেন, কোনো বাধা বা সমস্যা দেখা দিলে নাসা তাদের বেসরকারি সহযোগীদের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে কাজ করবে।

৩০০০ কোটি ডলারের প্রশ্ন

ব্লু অরিজিন নাসার একমাত্র অংশীদার নয়। তবে তাদের ব্লু মুন অবতরণযান বেশির ভাগ রোবোটিক মহাকাশযানের তুলনায় অনেক বড়। এটি দুটি সংস্করণে তৈরি হওয়ার কথা, যার একটি মহাকাশচারী বহনের উপযোগী হবে। অপর দিকে মহাকাশযান প্রস্তুতকারী আরেক প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স চাঁদে মহাকাশচারী পরিবহনের জন্য তাদের স্টারশিপ রকেট তৈরির কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। অবশ্য, বিশাল এই যান এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর হয়নি।

চাঁদের পৃষ্ঠে মালামাল পৌঁছে দিতে নাসার হাতে আরও কয়েকটি বিকল্প আছে। টেক্সাসভিত্তিক ফায়ারফ্লাই অ্যারোস্পেস এখন পর্যন্ত একমাত্র প্রতিষ্ঠান, যারা পুরোপুরি সফলভাবে একটি চন্দ্রাভিযান সম্পন্ন করেছে। তাদের ব্লু গোস্ট যানটি গত বছর চাঁদের বিষুবীয় অঞ্চলের কাছে সফলভাবে অবতরণ করেছিল।

আর টেক্সাসভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ইনটুইটিভ মেশিনস দুবার চাঁদের দক্ষিণ মেরুর কাছাকাছি অবতরণযান পাঠাতে সক্ষম হলেও উভয় ক্ষেত্রেই যানগুলো অবতরণের পর কাত হয়ে পড়েছিল।

নাসার হিসাব অনুযায়ী, চন্দ্রঘাঁটি নির্মাণে প্রায় ৩ হাজার কোটি ডলার ব্যয় হতে পারে।

এই চন্দ্রঘাঁটি নাসার আর্টেমিস কর্মসূচির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এখন পর্যন্ত এ কর্মসূচির পেছনে প্রায় ১০ হাজার কোটি ডলার খরচ হয়েছে। কর্মসূচির আওতায় ইতিমধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে একটি মনুষ্যবিহীন অভিযান এবং এপ্রিল মাসে চাঁদের চারপাশে ঐতিহাসিক মনুষ্যবাহী অভিযান সম্পন্ন হয়েছে।

পাঁচ দশকের বেশি সময় পর নাসা এখন আবার মানুষকে চাঁদের মাটিতে অবতরণ করানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। দীর্ঘ মেয়াদে সেখানে একটি স্থায়ী বসতি গড়ে তোলাও তাদের লক্ষ্য।

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে নাসার সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ‘মুন বেজ’ উদ্যোগের হালনাগাদ পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। এ সময় ব্লু অরিজিন, লুনার আউটপোস্ট ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের তৈরি নতুন চন্দ্রঘাঁটি প্রকল্পের মডেল প্রদর্শন করে নাসা। ২৬ মে, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে নাসার সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ‘মুন বেজ’ উদ্যোগের হালনাগাদ পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। এ সময় ব্লু অরিজিন, লুনার আউটপোস্ট ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের তৈরি নতুন চন্দ্রঘাঁটি প্রকল্পের মডেল প্রদর্শন করে নাসা। ২৬ মে, ২০২৬ ছবি: রয়টার্স

Monday, June 15, 2026

মহাকাশে ঝড় : ১০০ কোটি টনের প্লাজমা মেঘ by আশিকুর রহমান তালহা

মহাকাশের বিশালতার মধ্যে প্রতিনিয়তই ঘটে চলেছে নানা রকম বিস্ময়কর ঘটনা। সম্প্রতি বিজ্ঞানীদের নজরে এসেছে সূর্যের পৃষ্ঠ থেকে নির্গত এক বিশাল প্লাজমা মেঘ, যার ভর প্রায় ১০০ কোটি টন। খবরটি প্রকাশের পর অনেকের মনে উদ্বেগ দেখা দিলেও জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা বলছেন, আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। তবে সূর্যের এই ভিন্ন বিস্ময়কর রূপ দেখে রীতিমতো অবাক হয়েছে পুরো বিশ্ব। সূর্যের বুকে ঘটে যাওয়া এক শক্তিশালী বিস্ফোরণের কারণে প্রায় ১০০ কোটি (১ বিলিয়ন) টন ওজনের আয়নিত কণা বা চৌম্বকীয় প্লাজমার একটি বিশাল মেঘ ধেয়ে এসেছে পৃথিবীর দিকে। গত ৮ জুন এই মহাজাগতিক মেঘটি আঘাত হেনেছে পৃথিবীর চৌম্বকক্ষেত্রে। প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ১ হাজার ৪০০ কিলোমিটারেরও বেশি তীব্র গতিতে ছুটে আসা এই প্লাজমা মেঘকে বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় ‘করোনাল মাস ইজেকশন’ (CME)। আমেরিকার স্পেস ওয়েদার প্রেডিকশন সেন্টারের (NOAA) বিজ্ঞানীরা এটিকে একটি শক্তিশালী ‘ভূ-চৌম্বকীয় ঝড়’ (Geomagnetic Storm) হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির এই আধুনিক যুগে আমাদের দৈনন্দিন জীবনে এর প্রভাব ঠিক কতটা, সেই প্রশ্নের উত্তরই খুঁজব। প্লাজমা হলো পদার্থের চতুর্থ অবস্থা। এটি অত্যন্ত উত্তপ্ত ও আয়নিত গ্যাস, যা বিদ্যুৎ পরিবাহিত করতে সক্ষম। সূর্য থেকে নির্গত এই প্লাজমা মেঘ যখন পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসে, তখন তা পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্রের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া করে ভূচৌম্বকীয় ঝড়ের সৃষ্টি করে।

প্রযুক্তিতে প্রভাব

সাধারণ মানুষের শরীরের ওপর সরাসরি কোনো ক্ষতিকর প্রভাব না থাকলেও, বিজ্ঞানীদের তৈরি আধুনিক প্রযুক্তি-কাঠামোর ওপর এটি বড় ধরনের ধাক্কা দিতে পারে। যেমনÑ

স্যাটেলাইট ও জিপিএস বিপর্যয়

মহাকাশে থাকা কৃত্রিম উপগ্রহ বা স্যাটেলাইটগুলো এই প্লাজমা মেঘের তীব্র চার্জযুক্ত কণার সরাসরি আক্রমণের শিকার হয়। এর ফলে সাময়িকভাবে জিপিএস (GPS) এবং নেভিগেশন সিস্টেমে ত্রুটি দেখা দিতে পারে, যা বিমান ও সমুদ্রগামী জাহাজের পথ চলায় বিঘ্ন ঘটায়।

ব্ল্যাকআউটের শঙ্কা

প্লাজমা মেঘের শক্তিশালী চৌম্বকীয় তরঙ্গ যখন পৃথিবীর মাটিতে আঘাত করে, তখন বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইনে অতিরিক্ত বিদ্যুৎপ্রবাহ বা ‘জিওম্যাগনেটিক্যালি ইন্ডিউসড কারেন্ট’ তৈরি হয়। এর ফলে বড় বড় ট্রান্সফরমার বিকল হয়ে বিস্তীর্ণ এলাকায় দীর্ঘ সময়ের জন্য বিদ্যুৎ বিপর্যয় ঘটতে পারে।

রেডিও ব্ল্যাকআউট

পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের আয়নোস্ফিয়ার স্তরটি ওলটপালট হয়ে যাওয়ার কারণে উচ্চ-কম্পাঙ্কের (HF) রেডিও যোগাযোগ সাময়িকভাবে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে।

মহাকাশচারীদের ঝুঁকি

আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (ISS) থাকা মহাকাশচারীরা এ সময় তীব্র মহাজাগতিক বিকিরণ বা রেডিয়েশনের ঝুঁকিতে পড়েন। এই প্লাজমা মেঘ শুধু ক্ষতিই করে না, এর রয়েছে চোখ জুড়ানো কিছু বৈশিষ্ট্য ও সুবিধা। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলোÑ

আকাশে আলোর নৃত্য

এই ঝড়ের সবচেয়ে সুন্দর উপহার হলো মেরুজ্যোতি বা অরোরা (Aurora)। সূর্যের চার্জিত কণাগুলো যখন পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের গ্যাসের সঙ্গে ধাক্কা খায়, তখন মেরু অঞ্চলের আকাশে সবুজ, বেগুনি ও লাল আলোর এক অপূর্ব ক্যানভাস তৈরি হয়। এবার এই ঝড় এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, সাধারণত যেসব অঞ্চলে অরোরা দেখা যায় না (যেমন : হিমালয় অঞ্চল), সেখানেও আকাশের উত্তর দিগন্তে হালকা রঙিন আভা দেখা গেছে।

মহাকাশের আবর্জনা পরিষ্কার

এই ঝড়ের কারণে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের উপরিভাগ কিছুটা প্রসারিত হয়। এর ফলে নিম্ন কক্ষপথে জমে থাকা মানবসৃষ্ট বিভিন্ন পুরোনো স্যাটেলাইটের ধ্বংসাবশেষ বা ‘স্পেস জাঙ্ক’ বাতাসের ঘর্ষণে পুড়ে ছাই হয়ে নিচে নেমে আসে।

এ ধরনের ঘটনা বিজ্ঞানীদের মহাকাশের আবহাওয়া বুঝতে এবং ভবিষ্যতের আরো শক্তিশালী সৌরঝড় থেকে আমাদের যোগাযোগ ব্যবস্থা ও পাওয়ার গ্রিডকে সুরক্ষিত রাখার প্রযুক্তি উন্নত করতে সাহায্য করে। সূর্যের এই কোটি কোটি টনের মারাত্মক রেডিয়েশনকে পৃথিবীর চৌম্বকক্ষেত্র একটি অদৃশ্য জালের মতো আটকে দিয়ে আমাদের রক্ষা করছে। প্রযুক্তির সাময়িক কিছু ত্রুটি বাদ দিলে, প্রকৃতি যেমন ধ্বংসাত্মক হতে পারে, তেমনি অরোরার মতো অদ্ভুত সুন্দর কোনো সৃষ্টিও এ ঘটনায় পাওয়া যায়।

মহাকাশে ঝড় : ১০০ কোটি টনের প্লাজমা মেঘ

Friday, June 12, 2026

মুসলিম গণিতবিদের নাম থেকে যেভাবে এলো ‘অ্যালগরিদম’

আধুনিক জীবনে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকা একটি শব্দ ‘অ্যালগরিদম’। অনেকের কাছেই শব্দটি এখন এক নেতিবাচক বা ভীতিজাগানিয়া অর্থ বহন করে। আমরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কী দেখব, পড়ব বা শুনব-তা নির্ধারণে সাহায্য করে এই অ্যালগরিদম। এর ফলে মানুষের নিজস্ব রুচি ও পক্ষপাতিত্ব আরো দৃঢ় হয় এবং তৈরি হয় আদর্শিক একঘেয়েমি বা ‘ইকো চেম্বার’।

শব্দটি কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা বোঝা যায় ভ্যাটিকানের একটি পদক্ষেপে। পোপ লিও চতুর্দশ তার প্রথম বিশ্বপত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সম্ভাব্য বিপদ নিয়ে আলোচনা করেছেন, যেখানে ‘অ্যালগরিদম’ শব্দটি এসেছে ১৯ বার।

কিন্তু বহুল ব্যবহৃত এই শব্দের উৎপত্তি কীভাবে? শব্দের উৎস ও ব্যবহার নিয়ে তৈরি জনপ্রিয় ইউটিউব চ্যানেল ‘রবওয়ার্ডস’-এর সঞ্চালক ও সাংবাদিক রব ওয়াটস জানান, অ্যালগরিদম শব্দটির উৎপত্তি মূলত নবম শতকের একজন পার্সিয়ান (পারস্যের) গণিতবিদের নাম থেকে। তার নাম মুহাম্মদ ইবনে মুসা আল-খাওয়ারিজমি।

ওয়াটস বলেন, ‘আমরা যখন অ্যালগরিদম শব্দটি ব্যবহার করি, তখন মূলত আল-খাওয়ারিজমি নামের ল্যাটিন রূপটিকেই উচ্চারণ করি।’ তবে দ্বাদশ শতাব্দী পেরিয়ে শব্দটির আজকের রূপে পৌঁছানোর পথটি বেশ আঁকাবাঁকা ছিল। আধুনিক ‘অ্যালগরিজম’ শব্দটি ল্যাটিন ‘অ্যালগোরিজমাস’ থেকে ফরাসি অ্যালগরিজম (algorisme) ও ইংরেজি অ্যালগরিজম (algorism) হয়ে এসেছে। বর্তমান রূপে আসার আগে এটি ‘অ্যারিথমেটিক’ বা পাটিগণিত শব্দের সঙ্গেও কিছুটা মিশ্রিত হয়ে গিয়েছিল।

কে ছিলেন মুহাম্মদ ইবনে মুসা আল-খোয়ারিজমি?

আল-খাওয়ারিজমি কেবল একজন গণিতবিদই ছিলেন না, একাধারে তিনি ছিলেন জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও ভূগোলবিদ। বর্তমান উজবেকিস্তানের আরাল সাগরের দক্ষিণ অঞ্চলে তার জন্ম। সেই অঞ্চলের নাম ছিল খাওয়ারিজম, যা থেকে তার নামের এই অংশের উৎপত্তি।

তবে গণিতেই তিনি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গেছেন। তার বিখ্যাত বই ‘দ্য কম্পেনডিয়াস বুক অন ক্যালকুলেশন বাই কমপ্লিশন অ্যান্ড ব্যালেন্সিং’-এর মাধ্যমে তিনি গাণিতিক সমস্যা সমাধানের পদ্ধতি বা অ্যালগরিদমিক প্রক্রিয়া পরিচয় করিয়ে দেন। এছাড়া পশ্চিমে হিন্দু-আরবি সংখ্যা পদ্ধতির (শূন্যের ধারণাসহ) প্রসার এবং বীজগণিত বা ‘অ্যালজেব্রা’র ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন তিনি।

পিটজার কলেজের বিজ্ঞান ইতিহাসের ইমেরিটাস অধ্যাপক জুডি গ্র্যাবাইনার বলেন, ‘দ্বাদশ শতকে ইউরোপে প্রাচীন জ্ঞানচর্চার পুনর্জাগরণ ঘটলে এই বইটি একাধিকবার ল্যাটিন ভাষায় অনূদিত হয়।’

অষ্টম শতকে ইসলামি বিজ্ঞান ও গণিতের সোনালী যুগে ‘আল’ (আরবিতে ‘নির্দিষ্টবাচক’ শব্দ) দিয়ে শুরু হওয়া আরো অনেক শব্দ ইংরেজিতে জায়গা করে নেয়। যেমন-অ্যালকোহল, অ্যালকালি, অ্যালকেমি এবং জ্যোতির্বিজ্ঞানের আলটায়ার, অলকায়েড ও আলদেবারানের মতো নক্ষত্রের নাম।

গাণিতিক রেসিপি

জ্যোতির্বিদ্যা ও রসায়নের পথ ধরে অ্যালগরিদম শব্দটির প্রবেশ ঘটে আধুনিক কম্পিউটিংয়ে। যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানার সফটওয়্যার প্রকৌশলী বিল ওয়েস্ট্রিকের মতে, ‘অ্যালগরিদম আসলে কোনো কাজ সম্পন্ন করার জন্য একটি সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা বা নিয়মের সেট।’

এটিকে কেক তৈরির রেসিপির সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, ‘রেসিপিতে উপাদানগুলো নির্দিষ্ট ক্রমানুসারে মেশাতে বা নির্দিষ্ট সময় ধরে নাড়তে বলা হয়। কেন তা করা হচ্ছে তা না বুঝলেও নির্দেশনা মানলে একটি ভালো কেক তৈরি সম্ভব।’

মিলওয়াকি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান সুসান ম্যাকরয় জানান, আধুনিক কম্পিউটারের অনেক আগেই ব্যবসা, জরিপ ও নৌ-যান চালনার মতো ক্ষেত্রে অ্যালগরিদম অত্যন্ত কার্যকর প্রমাণিত হয়েছিল। ১৭০০ শতকের শেষের দিকে সমুদ্রের বুকে সেক্সট্যান্ট (দিগন্ত ও নক্ষত্রের মধ্যকার কৌণিক দূরত্ব মাপার যন্ত্র) ব্যবহার করে অবস্থান নির্ণয়ে অ্যালগরিদম ব্যবহার করা হতো। ১৯৫০-এর দশকে ডাচ কম্পিউটার বিজ্ঞানী এডসগার ডাইকস্ট্রা ‘ডাইকস্ট্রাস অ্যালগরিদম’ তৈরি করেন, যা দুটি স্থানের মধ্যকার সংক্ষিপ্ততম দূরত্ব খুঁজে বের করে এবং আজকের ডিজিটাল ম্যাপিং বা জিপিএস (জিপিএস স্যাটেলাইট) প্রযুক্তির মূল ভিত্তি। এমনকি চাঁদে মানুষ পাঠাতেও অ্যালগরিদম সাহায্য করেছিল।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানুষকে একক ও পক্ষপাতদুষ্ট দৃষ্টিভঙ্গির দিকে ঠেলে দেওয়া এই ‘অমানবিক’ অ্যালগরিদম নিয়ে পোপের উদ্বেগ হয়তো যথার্থ। তবে এটিও সত্য যে, শত শত বছর ধরে এই অ্যালগরিদমই মানুষকে পথ খুঁজে পেতে সাহায্য করে আসছে।

সূত্র: এনপিআর

মুসলিম গণিতবিদের নাম থেকে যেভাবে এলো ‘অ্যালগরিদম’
প্রতীকী ছবি

Thursday, April 23, 2026

আবার কি চাঁদের বুকে পা রাখতে যাচ্ছে মানুষ by মো. মিন্টু হোসেন

১৯৬৯ সালের ২০ জুলাই প্রথম চাঁদে পা রেখেছিল মানুষ। এরপর পেরিয়ে গেছে প্রায় ৫৫ বছর। আবার চাঁদে মানুষ পাঠানোর তোড়জোড় শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ২০২৭ সালে আবার চাঁদে যাবে মানুষ। অবশ্য চীনও ২০৩০ সালের মধ্যে চাঁদে মানুষ পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। কীভাবে চলছে সেই প্রস্তুতি—সেসব নিয়ে এই লেখা।

শত শত বছর ধরে মানুষকে আকর্ষণ করে আসছে চাঁদ। সেখানে মানুষের প্রথম পা রাখার প্রায় ৫৫ বছর পেরিয়ে গেছে। এখন আবারও বিজ্ঞানীরা চন্দ্রজয়ের তোড়জোড় শুরু করেছেন। এ নিয়ে শুরু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, চীনসহ বিভিন্ন দেশের মধ্যে প্রতিযোগিতা।

যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা চাইছে সবার আগে চাঁদে মিশন পাঠাতে। আগামী ফেব্রুয়ারিতে চাঁদে নভোচারীসহ অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। গত সেপ্টেম্বর মাসে নাসার দায়িত্বপ্রাপ্ত উপপ্রশাসক লেকিশা হকিন্স এক সংবাদ সম্মেলনে এমন তথ্য জানিয়েছিলেন।

নাসার তথ্যানুযায়ী, চন্দ্রজয়ে ‘আর্টেমিস ২’ নামের মিশন পরিচালনা করা হবে। এ মিশন থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতা চাঁদে অবতরণের জন্য নির্ধারিত ‘আর্টেমিস ৩’ মিশনে ব্যবহার করা হবে। ২০২৭ সালে এ মিশন পরিচালিত হবে। নাসার এই তৃতীয় আর্টেমিস অভিযানের মাধ্যমে ৫৭ বছরের বেশি সময় পর আবার চাঁদের বুকে মানুষের পা পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

নাসার কর্মকর্তা হকিন্সের তথ্যানুযায়ী, নাসার আর্টেমিস ২ মিশনে প্রথম নভোযান উৎক্ষেপণের সুযোগ আসতে পারে ২০২৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি। এর আগে পরিকল্পিত উৎক্ষেপণ তারিখ ছিল ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে। তবে সময় কিছুটা এগিয়ে আনা হয়েছে।

এ মিশনের মূল উদ্দেশ্য হলো মহাকাশযাত্রার গুরুত্বপূর্ণ কিছু সিস্টেম পরীক্ষা করা, যেমন নভোচারীর জীবনধারণব্যবস্থা। এসব অভিজ্ঞতা ২০২৭ সালে চাঁদে অবতরণের জন্য নির্ধারিত আর্টেমিস ৩ মিশনে ব্যবহার করা হবে।

হকিন্স বলেন, নাসার আর্টেমিস প্রোগ্রামের লক্ষ্য হলো চাঁদে মানুষের অব্যাহত উপস্থিতি নিশ্চিত করা। এর অংশ হিসেবে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও আন্তর্জাতিক অংশীদার, বিশেষ করে ইউরোপের সঙ্গে মিলিতভাবে তৈরি প্রযুক্তি পরীক্ষা করা হবে, যা প্রথম নভোচারীদের পরবর্তী গন্তব্য মঙ্গল গ্রহে পৌঁছে দিতে সাহায্য করতে পারে।

পাঁচ দশকের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মহাকাশ কর্মসূচি আর্টেমিস, যাতে নভোচারী নিয়ে চাঁদে মিশন পাঠানো হবে। অ্যাপোলো প্রোগ্রামের এ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। মূলত চীনকে পেছনে ফেলতে যুক্তরাষ্ট্র আগাম এ মিশনের পরিকল্পনা করেছে।

চীনের লক্ষ্য হচ্ছে, ২০৩০ সালের মধ্যে চাঁদে নভোচারী পাঠানো। যুক্তরাষ্ট্র এ ক্ষেত্রে সবার আগেই সাফল্য পেতে মরিয়া। এরই মধ্যে চীন ২০৩০ সালের আগে চাঁদে মহাকাশচারী পাঠানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। নতুন রকেট ও নানা ধরনের চন্দ্র ল্যান্ডার নিয়ে বেইজিং বেশ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।

আর্টেমিস ও অ্যাপোলো কর্মসূচির মধ্যে বড় এক পার্থক্য রয়েছে। এই প্রথম যুক্তরাষ্ট্র অন্য আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সহযোগিতা ছাড়াই চন্দ্র মিশনে যাচ্ছে। এর আগে ২০২২ সালে চাঁদের মিশনের অংশ হিসেবে আর্টেমিস ১ কর্মসূচিতে নভোচারী ছাড়া প্রথম ওরিয়ন ক্যাপসুল উৎক্ষেপণ করা হয়।

এখন দ্বিতীয় মিশনটি চাঁদের কক্ষপথে একটি পরীক্ষামূলক ফ্লাইট হিসেবে পরিকল্পনা করা হয়েছে। এত ওরিয়ন ক্যাপসুল, এসএলএস রকেট এবং ভবিষ্যতে চাঁদে অবতরণের জন্য প্রয়োজনীয় কার্যপ্রণালি যাচাই করা হবে।

আর্টেমিস ২-এ কী কী থাকবে

আর্টেমিস ২-এর অভিযান প্রায় ১০ দিন চলবে এবং এতে চারজন নভোচারী ১২ লাখ মাইলের বেশি দূরত্ব পাড়ি দেবেন। পৃথিবীর কক্ষপথে দুবার ঘুরে আসার পর ওরিয়ন ক্যাপসুলে থাকা চারজন ক্রু সদস্য চাঁদের দিকে যাত্রা করবেন এবং একবার চাঁদের কক্ষপথে ঘুরবেন।

নভোচারীরা ক্যাপসুলের জানালা থেকে চাঁদের দূরপৃষ্ঠ পর্যবেক্ষণ করবেন। এ সময় চাঁদ থেকে তাদের নিকটতম দূরত্ব হবে প্রায় ৪ হাজার ৩৫০ মাইল (৭ হাজার কিলোমিটার)। নাসার এ যাত্রার সময় নভোচারীরা যেসব দৃশ্য দেখবেন, তা একটি টাইম-ল্যাপ ভিডিওতে ধরে রাখবেন।

টাইম-ল্যাপ ভিডিও হলো এমন একটি ভিডিও, যা সময়কে দ্রুততর গতিতে দেখায়। এতে দীর্ঘ সময়ের ঘটনা যেমন ঘণ্টা বা দিনের পরিবর্তন কয়েক মিনিট বা সেকেন্ডে দেখানো যায়। উদাহরণস্বরূপ, সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত, বৃষ্টি বা শহরের ব্যস্ততা এক ঝলকে দেখা।

আর্টেমিস প্রোগ্রামের অংশ হিসেবে মোট তিনটি মিশন পরিচালনা করা হচ্ছে। এ প্রোগ্রামের লক্ষ্য মানুষকে চাঁদে ফিরিয়ে নেওয়া এবং মঙ্গলে পাড়ি দেওয়া। এ প্রোগ্রামের প্রথম ধাপ, অর্থাৎ আর্টেমিস ১ উৎক্ষেপণ করা হয় ২০২২ সালের ১৬ নভেম্বর। এটা ছিল একটি পরীক্ষামূলক ফ্লাইট। ওই মিশনে কোনো মানুষ ছিলেন না। বরং মানুষের পরিবর্তে ছিল তিনটি পুতুল।

পরীক্ষামূলকভাবে পুতুলগুলোকে পাঠানো হয়েছিল। আর্টেমিস ২ মিশনও অনেকটা আর্টেমিস ১ মিশনের মতোই সম্পন্ন হবে। শুধু পুতুলের পরিবর্তে নভোযানে থাকবেন চার নভোচারী। ২০২৭ সালে চাঁদের উদ্দেশে যাত্রা করবে আর্টেমিস ৩। আর্টেমিস ৩ চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে অবতরণ করবে। ইতিমধ্যে অবতরণের সম্ভাব্য ১৩টি স্থানের নামও প্রকাশ করেছে নাসা।

চাঁদের এই অবস্থান পুঙ্খানুপুঙ্খ বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ ও প্রকৌশলীদের তথ্যের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হয়েছে। চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে অবস্থিত প্রস্তাবিত অবতরণ অঞ্চল হচ্ছে ক্যাবিউস বিয়ের কাছের শিখর, হাওর্থ, ম্যালাপার্ট ম্যাসিফ, মন্স মাউটন মালভূমি, মনস মাউটন, নোবিল রিম ১, নোবিল রিম ২, ডি গের্লাচে রিম ২ ও স্লেটার প্লেইন।

নাসা জানিয়েছে, স্থানগুলো পাথুরে। এসব এলাকা থেকে চন্দ্রসম্পদ ও সৌরজগতের বিস্তৃত ইতিহাস সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য লাভের সুযোগ আছে। মনুষ্যবাহী অভিযানের মাধ্যমে অনাবিষ্কৃত দক্ষিণ মেরুর বিভিন্ন তথ্য জানা যাবে। এ এলাকা স্থায়ীভাবে অন্ধকার অঞ্চল, যেখানে পানির উপস্থিতি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

নাসার বিজ্ঞানী লেকিশার ভাষ্য, আর্টেমিসের মাধ্যমে চাঁদে মানুষ পৌঁছাবে। অনাবিষ্কৃত অনেক এলাকা পরিদর্শনের সুযোগ থাকবে। নতুন নির্বাচিত চন্দ্র এলাকা দক্ষিণ মেরুর কাছাকাছি অবস্থিত। এসব এলাকায় নিরাপদে অবতরণ করার সুযোগ আছে। অভিযাত্রীরা সেখানে নতুন বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার সুযোগ পাবেন।

বিজ্ঞানী সারাহ নোবেল বলেন, অ্যাপোলো অভিযানের সময় যেখানে অবতরণ করা হয়, তার চেয়ে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে সম্পূর্ণ ভিন্ন পরিবেশ দেখা যায়। এ এলাকায় চাঁদের প্রাচীনতম ভূখণ্ড রয়েছে। এখানে ঠান্ডা ছায়াযুক্ত অঞ্চলে পানি ও অন্যান্য যৌগ থাকতে পারে। দক্ষিণ মেরুতে এসব স্থান নির্ধারণ করতে নাসার বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীদের একটি দল দীর্ঘদিন ধরে চন্দ্রের দক্ষিণ মেরু বিশ্লেষণ করেছে।

নভোচারী কারা

চাঁদের কক্ষপথে ভ্রমণের জন্য নির্বাচিত ক্রুদের মধ্যে আছেন কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যান, পাইলট ভিক্টর গ্লোভার, মিশন স্পেশালিস্ট ক্রিস্টিনা কোচ এবং কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সির নভোচারী জেরেমি হ্যানসেন। নভোচারীদের ঘুম, গতিবিধি, জৈবিক নমুনা এবং ফ্লাইটের প্রভাব শরীরে কেমন হচ্ছে, তা ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।

মার্কিন নৌবাহিনীর ক্যাপ্টেন রিড ওয়াইজম্যানের আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে ১৬৫ দিন কাটানোর অভিজ্ঞতা আছে। আর্টেমিস ২ মিশনে তিনি কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করবেন।

আরেক মার্কিন নভোচারী ভিক্টর গ্লোভার আর্টেমিস ২ মিশনে অরিয়ন নভোযানের পাইলটের দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি স্পেসএক্সের ক্রু ড্রাগন ক্যাপসুলের প্রথম পাইলট ছিলেন। তাঁরও আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে ১৬৮ দিন কাটানোর অভিজ্ঞতা আছে। তিনিই প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ হিসেবে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে গিয়েছিলেন। এবার যাচ্ছেন চন্দ্রাভিযানে।

এই মিশনের একমাত্র নারী নভোচারী ক্রিস্টিনা হ্যামক কোচ। ২০১৯ সালে প্রথম নারী হিসেবে জেসিকা মেয়ারের সঙ্গে যৌথভাবে স্পেসওয়াক করার রেকর্ড গড়েন। নারীদের মধ্যে তিনিই সবচেয়ে বেশি ৩২৮ দিন আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে থেকেছেন। এ মিশনে তিনি থাকবেন মিশন-বিশেষজ্ঞ হিসেবে।

চতুর্থ নভোচারী জেরেমি হ্যানসেন কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সি থেকে মনোনীত হয়েছেন। তিনিই থাকবেন মিশন-বিশেষজ্ঞ হিসেবে। তিনি কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সির ফাইটার উড়োজাহাজের পাইলট ছিলেন। প্রথমবারের মতো মহাকাশে যাবেন তিনি।

সব মিলিয়ে এই চার নভোচারীর অভিযান ১০ দিনের। নাসা জানিয়েছে, এই মিশনের চার নভোচারী পৃথিবী থেকে আগের যেকোনো মানুষের তুলনায় সবচেয়ে বেশি দূরে যেতে পারেন। আর্টেমিস ২ মিশন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এ মিশনের ওপরই নির্ভর করবে আর্টেমিস ৩ মিশনের যাত্রা।

আর্টেমিস ৪–এর লক্ষ্য

নাসা চাঁদে আরও অন্তত একটি মিশন, অর্থাৎ আর্টেমিস ৪ পাঠানোর পরিকল্পনা করছে, যার উদ্দেশ্য হলো একটি মহাকাশ স্টেশন স্থাপন করা, যা চাঁদের কক্ষপথে ঘুরবে।

এই স্থাপনার কাজ হবে ভবিষ্যতে চাঁদে অবতরণকে সহায়তা করা এবং নভোচারীদের মঙ্গলে পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি প্রদর্শন করা, যা সম্ভবত ২০৩০-এর দশক বা তার পরেও হতে পারে।

চাঁদ নিয়ে কেন আগ্রহ

বিশ্বজুড়ে বিরল খনিজের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। চাঁদে নানা রকম বিরল খনিজ বিদ্যমান। চাঁদের সম্পদ নিয়ে বিভিন্ন দেশের আগ্রহ বাড়ছে। চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে বরফ সংরক্ষিত রয়েছে। সেখানেই আর্টেমিস ৩-এর ক্রুরা অবতরণ করবেন।

এখানেই ভবিষ্যতে বসতি স্থাপন এবং মঙ্গল গ্রহে পৌঁছাতে রকেট জ্বালানি উৎপাদনের গুরুত্বপূর্ণ স্থান হিসেবে হিসেবে দেখা হচ্ছে। পশ্চিমা শক্তিগুলো এই সম্পদ অন্বেষণ ও ব্যবহার করতে চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করছে।

নানা চ্যালেঞ্জ

আর্টেমিস ২-এর মিশন ইউরোপের মহাকাশ শিল্পের জন্যও একটি পরীক্ষা। ওরিয়ন সার্ভিস মডিউল ইউরোপীয় স্পেস এজেন্সি নির্বাচিত ইউরোপীয় কোম্পানিগুলো তৈরি করেছে। এটি বাতাস, পানি, বিদ্যুৎ, প্রপালশন ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। যদি আর্টেমিস ২ সফল হয়, তবে নাসার সর্বশেষ ১৯৭২ সালের অ্যাপোলো ১৭ চন্দ্রাভিযানের ৫৪ বছর পর মানুষ আবার চাঁদের মাটিতে পা রাখবে।

নাসাকে বিভিন্ন প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে আর্টেমিস ২-এর উৎক্ষেপণ ইতিমধ্যেই দুবার স্থগিত করতে হয়েছে। তাই আর্টেমিস ৩ মিশনের সময়কাল ২০২৭ সাল কিংবা ২০২৮, এমনকি ২০৩০-এর পর্যন্ত লাগতে পারে। এ সময় পর্যন্ত চীনের নভোচারীরাও চাঁদে পা ফেলতে পারে।

মূল চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে একটি হলো স্টারশিপ রকেট, যা মার্কিন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান মাস্কের স্পেসএক্স তৈরি করছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সঙ্গে ইলন মাস্কের সম্পর্কে অবনতি ঘটেছে। সেটি একটি দুশ্চিন্তার কারণ।

আর্টেমিস ৩-এর নভোচারীরা আর্টেমিস ২-এর মতো রকেট ও ক্যাপসুল কনফিগারেশন ব্যবহার করে চাঁদে যাবেন। কিন্তু চাঁদের পৃষ্ঠে অবতরণের জন্য তাঁরা স্টারশিপ ব্যবহার করবেন। গত আগস্টে রকেটটি সফলভাবে ফ্লাইট সম্পন্ন করেছে। এর আগে ৯ বারের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছিল।

স্পেসএক্সের ক্ষেত্রে বেশ কিছু জটিল চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। এর মধ্যে কক্ষপথে আবার জ্বালানি সরবরাহের মতো বিষয় যুক্ত রয়েছে।

তথ্যসূত্র : বিবিসি, এল পাইস ও লাইভ সায়েন্স

https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla%2F2025-11-03%2Fxzmt3otk%2FMoon-1.jpg?rect=1%2C0%2C621%2C414&w=622&auto=format%2Ccompress&fmt=avif
নাসার মনুষ্যবিহীন আর্টেমিস-১ অভিযানের ওরিয়ন নভোযান। ছবি: নাসা

Wednesday, April 15, 2026

মহাকাশেও বেঁচে থাকতে পারে এমন প্রাণী এই প্রথম পাওয়া গেল by আসহাবিল ইয়ামিন

ছবিটি দেখে মনে হতে পারে, এটি ভালুকের মতো দেখতে কোনো কার্টুন চরিত্র। তবে মজার ব্যাপার হলো, এটি কোনো কাল্পনিক প্রাণী নয়। মাইক্রোস্কোপের নিচে দেখা যায় এদের অদ্ভুত চেহারার আটটি পা। এই ছোট প্রাণীর ক্ষমতা শুনলে তুমি চমকে যাবে। এমন একটি প্রাণী কি কল্পনা করা যায়, যা প্রচণ্ড তাপ, হিমশীতল ঠান্ডা, তেজস্ক্রিয় বিকিরণ, এমনকি মহাশূন্যেও দিব্যি বেঁচে থাকতে পারে? এটি কল্পনা মনে হলেও, এটাই বাস্তব। এই অসাধারণ প্রাণীর নাম টার্ডিগ্রেড। কিন্তু কীভাবে এরা এই অবিশ্বাস্য ক্ষমতা পেল?

টার্ডিগ্রেডদের সাধারণত ‘পানি ভাল্লুক’ নামে ডাকা হয়। ১৭৭৩ সালে জার্মান বিজ্ঞানী জোহান অগস্ট এফ্রাইম গোয়েজ প্রথম এই প্রাণীকে আবিষ্কার করেন। তিনি এদের অদ্ভুত চেহারা ও ধীরগতির জন্য ‘ছোট পানি ভালুক’ নাম দেন। এর তিন বছর পর ইতালীয় জীববিজ্ঞানী লাজারো স্পালানজানি এদের ধীরগতি দেখে এই গ্রুপের নামকরণ করেন ‘টার্ডিগ্রেড’, যার অর্থ ধীরগতির পদচারী। বিজ্ঞানীরা এখন পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৩০০ প্রজাতির টার্ডিগ্রেড শনাক্ত করেছেন।

টার্ডিগ্রেড নিঃসন্দেহে পৃথিবী ও মহাকাশের সবচেয়ে আকর্ষণীয় প্রাণীদের একটি। এসব পানি ভালুকগুলো হিমালয়ের চূড়া থেকে গভীর সাগরের তলদেশ পর্যন্ত সব ধরনের কঠিন পরিস্থিতিতে বেঁচে থাকতে পারে। প্রতিকূল পরিস্থিতিতে, যেমন প্রচণ্ড তাপ, তীব্র ঠান্ডা বা শুষ্ক পরিবেশে টার্ডিগ্রেডরা নিজেদের শরীর থেকে প্রায় সব পানি বের করে দেয়। এতে এরা একটি শুকনো গুটিতে পরিণত হয়। এই বিশেষ অবস্থাকে বলা হয় ‘টন’। এ অবস্থায় এদের বিপাকক্রিয়া প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। যতক্ষণ না পরিস্থিতি আবার অনুকূল হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত এরা এ অবস্থায় থাকতে পারে। এরপর চারপাশের পরিবেশে সামান্য পানি পেলেই এরা আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসে। বিজ্ঞানীরা আগেই জানতেন যে টার্ডিগ্রেডরা ‘টন’ নামক এক বিশেষ অবস্থায় গিয়ে চরম পরিবেশে টিকে থাকতে পারে। কিন্তু তাঁরা জানতেন না, কীভাবে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়।

বিজ্ঞানীরা অবশেষে সেই রহস্যের সমাধান খুঁজে পেয়েছেন। ২০২৪ সালের ১৭ জানুয়ারি প্লস ওয়ান জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় এ–সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য জানান হয়। গবেষণাপত্রে জানান হয়েছে, যখন কোনো প্রতিকূল পরিবেশে পড়ে, তখন টার্ডিগ্রেডের কোষ থেকে কিছু রাসায়নিক পদার্থ নির্গত হয়। এসব পদার্থ সিস্টাইন নামের একটি অ্যামিনো অ্যাসিডের সঙ্গে বিক্রিয়া করে, যা টার্ডিগ্রেডের প্রোটিনের গঠন পরিবর্তন করে। এই পরিবর্তনের ফলেই প্রাণীটি সেই বিশেষ ‘টন’ অবস্থায় প্রবেশ করে, যা এটিকে চরম পরিস্থিতিতেও বাঁচিয়ে রাখে।

টার্ডিগ্রেডকে খালি চোখে দেখা গেলেও এদের আকার এতই ক্ষুদ্র যে তা সহজে চোখে পড়ে না। ওয়ার্ল্ড টার্ডিগ্রেডা ডেটাবেজ অনুসারে, এরা সাধারণত ০.০১ থেকে ১ মিলিমিটার পর্যন্ত লম্বা হয়। এই ছোট্ট প্রাণীর পুরো শরীর গঠিত মাত্র এক হাজার কোষ দিয়ে। যেখানে মানুষের শরীরে রয়েছে অসংখ্য ট্রিলিয়ন কোষ।

তুমি যদি মাইক্রোস্কোপ দিয়ে টার্ডিগ্রেড দেখো, তাহলে এর ক্ষুদ্র দেহে কোনো হাড় দেখতে পাবে না। হাড়ের বদলে এদের একটি তরলে পরিপূর্ণ অংশ থাকে, যাকে বলে হিমোলিম্ফ। মানুষের রক্তের মতোই, এই হিমোলিম্ফ পুষ্টি উপাদানে ভরপুর। এদের মেরুদণ্ড না থাকলেও সম্পূর্ণ স্নায়ুতন্ত্র রয়েছে, যা মস্তিষ্ক থেকে শরীরের বিভিন্ন অংশে সংকেত পাঠায়। এটি মেরুদণ্ডী প্রাণীর মেরুদণ্ডের মতোই কাজ করে। এদের সম্পূর্ণ পরিপাকতন্ত্র থাকলেও কোনো সংবহন বা শ্বাসযন্ত্র নেই। পানি থেকে অক্সিজেন সরাসরি এদের ত্বকের মধ্য দিয়ে শরীরে প্রবেশ করে। শরীরের ভেতর পুষ্টি ও অক্সিজেন ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য এরা পেশিগুলো সংকুচিত করে।

টন অবস্থায় থাকা টার্ডিগ্রেডরা মাইনাস ২০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ১৪৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপমাত্রা সহ্য করতে পারে। এরা বিকিরণ, ফুটন্ত তরল এবং সাগরের গভীরতম অংশের চেয়ে ছয় গুণ বেশি চাপ সহ্য করতে পারে। টন অবস্থায় থাকা কিছু টার্ডিগ্রেডকে উচ্চগতির বন্দুক থেকে গুলি করেও দেখা গেছে যে এরা প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৯০০ মিটার বেগে ছুটে যাওয়ার পরও বেঁচে থাকে।

টার্ডিগ্রেডের এই ক্ষমতা শুধু পৃথিবীর পরিবেশেই সীমাবদ্ধ নয়। বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে দেখেছেন যে এরা মহাকাশের ভয়ংকর অবস্থা সহ্য করতে পারে। ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা (ইসার) ২০০৭ সালে ফোটন-এম৩ নামের একটি মহাকাশ অভিযানে হাজার হাজার টার্ডিগ্রেডকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে এদের মহাকাশের শূন্যে, তীব্র সৌর বিকিরণ ও মহাজাগতিক রশ্মির মধ্যে ছেড়ে দেওয়া হয়। বিজ্ঞানীরা বিস্মিত হয়ে দেখেন যে পৃথিবীতে ফিরে আসার পর এদের বেশির ভাগই বেঁচে আছে। এমনকি বংশবৃদ্ধিও করেছে। পানিশূন্য অবস্থায় কিছু টার্ডিগ্রেড পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে ১০ দিন পর্যন্ত টিকে ছিল।

বেশির ভাগ টার্ডিগ্রেড উদ্ভিদ, শৈবাল ও ছত্রাকের কোষ থেকে তরল শুষে খেয়ে জীবন ধারণ করে। তবে কিছু প্রজাতির টার্ডিগ্রেড আছে যারা নেমাটোড এবং অন্য টার্ডিগ্রেডের মতো ক্ষুদ্র প্রাণীদেরও খায়। এদের নিয়ে এখনো গবেষণা শেষ হয়নি।

সূত্র: লাইভ সায়েন্স, সায়েন্টিফিল আমেরিকান, ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক

মহাকাশেও বেঁচে থাকতে পারে এমন প্রাণী এই প্রথম পাওয়া গেল
টার্ডিগ্রেডের এই ক্ষমতা শুধু পৃথিবীর পরিবেশেই সীমাবদ্ধ নয়। ছবি: পপুলার মেকানিকস

অ্যানি জাম্প ক্যানন: নারীদের বিজ্ঞানচর্চায় নাক সিটকানির জবাব by শাইখ সাফাত স্বাধীন

  • ‘’নারীর বিজ্ঞানের পথে চলতে চাওয়া মানেই, নারী হিসেবে তার ভেতরের সমস্ত সৌন্দর্য বাতিল করে দেয়া নয়।‘’
উক্তিটি যার, তাকে দেখলেই বোঝা যায় কথাটি কতটা সত্য। কিন্তু অ্যানি জাম্প ক্যানন নামের এই নারীর সৌন্দর্য দেখে যত মুগ্ধ হতে হয় তার চেয়েও বেশি অবাক হতে হয় সে সময় বিজ্ঞানে তার অবদান অবদান দেখে। নক্ষত্র শ্রেনীবিন্যাসের যে ধারা তিনি সেই উনিশ শতকের শেষের দিকে করে গেছেন সেটা এখন পর্যন্ত ব্যবহার হচ্ছে জ্যোতির্বিজ্ঞানে।
তবে অ্যানি ক্যাননের জীবন সম্পর্কে বিস্তারিত জানার আগে আসলে এটা জানা দরকার জ্যোতির্বিজ্ঞানে তার অবদান কতখানি তাৎপর্যপূর্ণ ছিল। জীববিজ্ঞান সম্পর্কে যাদের ধারনা আছে তারা এটা জানবেন যে শ্রেনীবিন্যাসের সুবিধা কতখনি। একইভাবে নক্ষত্র শ্রেণিবিন্যাসের এক পদ্ধতি আবিষ্কার করেন অ্যানি ক্যানন। তার এই পদ্ধতিতে নক্ষত্রের পৃষ্ঠের তাপমাত্রার ভিত্তিতে নক্ষত্রগুলোকে ইংরেজি O, B, A, F, G, K আর M এই অক্ষরগুলোকে দিয়ে বিন্যাস করা হয়। সবচেয়ে বেশি তাপমাত্রার নক্ষত্রগুলো O গ্রুপে আর সবচেয়ে কম তাপমাত্রারগুলো M গ্রুপে।
অ্যানি জাম্প ক্যানন; সৌন্দর্য্য আর বুদ্ধিমত্তার সহাবস্থান ছিল যার মাঝে
এখন কথা হল সেই সময়, যখন কি না আজকের মতন তেমন কোন প্রযুক্তিই ছিল না, তখন কি করে নক্ষত্রের এই তাপমাত্রা মাপা হত? আসলে নক্ষত্রের তাপমাত্রার সাথে নক্ষত্রের রঙের একটা সম্পর্ক আছে। সব থেকে উজ্জ্বল নক্ষত্রগুলো মূলত নীলচে রঙের হয়। আর তাপ যত কমতে থাকে রঙ তত নীল থেকে সাদা তারপর লালের দিকে যেতে থাকে। এই রঙগুলো দিয়েই মূলত বিন্যাসটা করা হত। অ্যানি ক্যাননের আবিষ্কার করা এই হাভার্ড সিস্টেম (HARVARD SYSTEM) পদ্ধতি এখন পর্যন্ত ব্যবহার হয়ে আসছে।
তবে অ্যানি ক্যানন এই পদ্ধতির আবিষ্কারের সূচনা এত সহজ ছিল না। অ্যানি জন্মগ্রহণ করেন ১৮৬৩ সালে আমেরিকার ডোভার শহরে। ছোটবেলায় রাতের আকাশে তাকিয়ে বিভিন্ন প্যাটার্ন বের করতে শিখেছিল মায়ের কাছ থেকে। মূলত মায়ের আগ্রহেই অ্যানির আগ্রহ জন্মে নক্ষত্রের প্রতি। আর সে আগ্রহ সাথে নিয়ে তিনি ম্যাসাচুসেটের ওয়েলসলি কলেজ থেকে শেষ করে গনিত, রসায়ন আর জীববিজ্ঞানের পাঠ।
হাভার্ডের মানমন্দিরে অ্যানি ক্যানন
১৮৮৪ সালে বাড়ি থেকে বের হবার এক দশক পরে পদার্থবিজ্ঞানে গ্রাজুয়েশন শেষ করেন। ১৮৯৩ সালের দিকে স্কারলেট ফিভার নামের এক অসুখে কানের সমস্যা দেখা দেয় এবং এর পর পরই তার শ্রবণশক্তি নষ্ট হতে থাকে। আর ঠিক এর পরের বছরই মায়ের মৃত্যুর পর তার ভবিষ্যৎ মোটামুটি অনিশ্চিত হয়ে যায়। এই সময় কিছুদিনের জন্য তিনি পদার্থবিজ্ঞানের শিক্ষকতাও করেন।
কিন্তু অ্যানির মাথায় তখন নক্ষত্রের চিন্তা। ছোটবেলা থেকে আগ্রহ তো ছিলই আর এরপর বিভিন্ন সময় সে আগ্রহ বেড়েছে বৈ কমেনি। একটা ভাল দূরবীক্ষণ যন্ত্রের জন্যই তিনি আবার র‍্যাডক্লিফ কলেজে স্পেশাল ছাত্র হিসেবে ভর্তি হন। র‍্যাডক্লিফ কলেজ হাভার্ডের পাশে হওয়ায় সে সময় হাভার্ডের প্রফেসরেরা সেখানে এসে মাঝে মাঝে লেকচার দিতেন। সে সময়ই তিনি এডওয়ার্ড সি. পিকারিং নামের এক প্রফেসরের নজরে আসেন। এডওয়ার্ডই অ্যানিকে হাভার্ডের মানমন্দিরে তার অ্যাসিস্টেন্ট হিসেবে নিয়োগ দেন। মূলত সেখান থেকেই অ্যানির এই শ্রেণিবিন্যাসের চিন্তা আসে।
এভাবেই ফটোপ্লেট থেকে একের পর এক নক্ষত্রের শ্রেণিবিন্যাস করা হত সে সময়
অ্যানি ক্যানন তার কর্মজীবনে যে পরিমাণ নক্ষত্রের শ্রেণিবিন্যাস করেছেন সেটা পৃথিবীর যে কারো চেয়ে বেশি। তিনি একাই প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ নক্ষত্রের শ্রেণিবিন্যাস করেছেন, নতুন প্রায় ৩০০ নক্ষত্র, ৫ টা নোভা আর একটা বাইনারি আবিষ্কার করেন। প্রথম তিন বছরে তিনি প্রায় ৩০০০ নক্ষত্রের বিন্যাস করেন, কিন্তু কাজ করতে করতে শেষে এতই দক্ষ হয়ে ওঠেন যে একসময় প্রতি ঘন্টায় ২০০ নক্ষত্র নিয়ে কাজ করতে পারতেন, পুরোপুরি নির্ভুলভাবে। সাধারণ মানুষের তুলনায় প্রায় ১৬ গুন দ্রুততার সাথে তার চোখ কাজ করত। সবচেয়ে আশ্চর্যের ব্যাপার হল, শেষের দিকে অ্যানি শুধুমাত্র একটা আতস কাঁচ দিয়েই একবার মাত্র নক্ষত্রের স্পেশাল প্যাটার্ন দেখে মিনিটে প্রায় তিনটা করে নক্ষত্র বিন্যাস করতে পারতেন।
জ্যোতির্বিজ্ঞানে তার এই অবিশ্বাস্য এবং অসামান্য অবদানের জন্য অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন। বিশ্বের ইতিহাসে তিনিই প্রথম নারী যিনি অক্সফোর্ড থেকে এই সম্মান পান। এছাড়া আরো অনেক এওয়ার্ড পেয়েছেন। তার মাঝে সবথেকে উল্লখযোগ্য হেনরি ড্রাপার মেডেল। গবেষণা ছাড়াও তিনি ছিলেন আমেরিকার ন্যাশনাল উইমেন্স পার্টির সদস্য এবং একজন সাফ্রেজিস্ট (suffragist) যাদের কাজ ছিল জাতীয় নির্বাচনে নারীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার জন্য কাজ করা।
কিন্তু অ্যানি জাম্প ক্যাননের সবচেয়ে বড় সাফল্য জ্যোতির্বিজ্ঞানে না। তিনি সম্ভবত সবচেয়ে বেশি সম্মাননা এবং পুরষ্কার রেখে গেছেন পরবর্তী দিনের বিজ্ঞানমনষ্ক নারীদের অনুপ্রেরণার জন্য। হাভার্ডের ঐ প্রফেসরের এসিস্ট্যান্ট হিসেবে আরো অনেক নারীই কাজ করেছেন, মানমন্দিরের সকলে তাদের ‘আউট অফ দেয়ার প্লেস’ (Out of their place) বলে টিটকারি মেরেছে অনেক। তাই আজ হয়ত আরো অনেকের অবদানের সাথে বিজ্ঞানে ক্যাননের এই অবদানই, আজকের দিনের নারীদের বিজ্ঞানচর্চায় নাক সিটকানির জবাব দিচ্ছে।
হাভার্ডের মানমন্দিরে নক্ষত্র গননাকারীর দল, প্রথমদিকে যাদের টিটকারি দিতে ছাড়েনি কেউ। তাদের নেত্রী অ্যানি ক্যাননকে দেখা যাচ্ছে মাঝে

Sunday, March 29, 2026

মঙ্গল গ্রহে যেখানে মানুষ অবতরণ করতে পারে

লাল রঙের মঙ্গল গ্রহ নিয়ে মানুষের আগ্রহের শেষ নেই। তাই দীর্ঘদিন ধরে মঙ্গল গ্রহকে প্রাণধারণের উপযোগী করতে গবেষণা করছেন বিজ্ঞানীরা। শুধু বিজ্ঞানীরাই নন, মঙ্গল গ্রহে মানুষের বসতি স্থাপনের জন্য কাজ করছেন স্পেসএক্স, টেসলাসহ খুদে ব্লগ লেখার সাইট এক্সের (সাবেক টুইটার) মালিক ইলন মাস্কও। আর তাই বর্তমানে মঙ্গল গ্রহে মানুষ কীভাবে বসবাস করবে, সেই বিষয়ে অনেক গবেষণা চলছে।

মঙ্গল গ্রহে মানুষ কোথায় অবতরণ করবে, তা নিয়ে সম্প্রতি একটি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের পরিচালিত এ গবেষণায় মঙ্গল গ্রহের অ্যামাজনিস প্লানিটিয়া এলাকাকে মানুষ অবতরণের জন্য উপযোগী বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। অ্যামাজনিস প্লানিটিয়ার তিনটি অঞ্চল উপযোগী হলেও এপি-৮ নামের অঞ্চল বেশি নিরাপদ বলে জানিয়েছেন গবেষকেরা।

মঙ্গল গ্রহে যেহেতু মানুষের বেঁচে থাকার জন্য পানি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, তাই বরফ বা পানির উৎসের আশপাশেই অবতরণ স্থল নির্বাচন করেছেন গবেষকেরা। আর এ ক্ষেত্রে বরফের উপস্থিতির সম্ভাবনা থাকায় এপি ৮ অঞ্চলকে সবচেয়ে বেশি উপযোগী বলে শনাক্ত করা হয়েছে।

গবেষক এরিকা লুজ্জি জানিয়েছেন, মঙ্গল গ্রহে মানুষ যেতে চাইলে পানিসহ জ্বালানির প্রয়োজন হবে। উচ্চ রেজল্যুশনের ছবি ও ভূতাত্ত্বিক মানচিত্র ব্যবহার করে মঙ্গল গ্রহের অ্যামাজনিস প্লানিটিয়াতে এপি ১, এপি ৮ ও এপি ৯ নামের তিনটি এলাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব এলাকার নিচে বরফ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তুলনামূলকভাবে সমতল ভূখণ্ড আছে সেখানে। তিনটি এলাকার মধ্যে এপি ৮ সবচেয়ে ভালো জায়গা।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

মঙ্গল গ্রহ

Saturday, March 28, 2026

মঙ্গল গ্রহের পরিবেশ কি পৃথিবীর মতোই ছিল by জাহিদ হোসাইন খান

যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার কিউরিওসিটি রোভার দীর্ঘদিন ধরে মঙ্গল গ্রহের পথেপ্রান্তরে নানা রহস্য খুঁজে বেড়াচ্ছে। কিউরিওসিটি রোভারের কেমক্যাম যন্ত্র থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে আগে মঙ্গল গ্রহের পরিবেশ কেমন ছিল, তা জানার চেষ্টা করছেন বিজ্ঞানীরা। এ জন্য কেমক্যাম যন্ত্রের মাধ্যমে মঙ্গল গ্রহের পাথরের মৌলিক গঠনের পরিমাণ নির্ণয় করছেন তাঁরা। সম্প্রতি মঙ্গল গ্রহের গ্যালে ক্রেটার বা খাদের শিলা বিশ্লেষণ করে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি পরিমাণে ম্যাঙ্গানিজের খোঁজ মিলেছে। আর তাই শিলাগুলো পলিসমৃদ্ধ নদীতে ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে জিওফিজিক্যাল রিসার্চ প্ল্যানেটস নামের একটি জার্নালে একটি গবেষণাপত্র প্রকাশ করা হয়েছে।

লস আলামোস ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির স্পেস সায়েন্স অ্যান্ড অ্যাপ্লিকেশনের বিজ্ঞানী প্যাট্রিক গাসদা বলেন, মঙ্গল গ্রহের পৃষ্ঠে ম্যাঙ্গানিজ অক্সাইড তৈরি করা কঠিন। সেখানে এই পদার্থের খোঁজ পাব, তা আমরা আশা করিনি। পৃথিবীতে সালোকসংশ্লেষণের কারণে বায়ুমণ্ডলে বেশি অক্সিজেন তৈরি হয়। ম্যাঙ্গানিজ অক্সিডেশন এখানে অনুঘটক হিসেবে কাজ করে। মঙ্গলে গ্রহে জীবনের কোনো প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। মঙ্গল গ্রহের প্রাচীন বায়ুমণ্ডলে কীভাবে অক্সিজেন উৎপন্ন হতো, তা-ও আমরা জানি না। সেখানে কীভাবে ম্যাঙ্গানিজ অক্সাইড তৈরি হয়েছিল আর শিলায় ঘনীভূত হয়েছিল তার খোঁজ পাওয়া আমাদের জন্য সত্যিই বিস্ময়কর। নতুন এই তথ্য মঙ্গল গ্রহের বায়ুমণ্ডল বা পৃষ্ঠে পানি থাকার বিষয়টি ইঙ্গিত করে।

রোভার যে পাললিক শিলা বিশ্লেষণ করেছে, তা বালি, পলি ও কাদার মিশ্রণে তৈরি ছিল। বিজ্ঞানী গাসদা বলেন, অনেক আগে মঙ্গল গ্রহে হয়তো জীবন উপস্থিতি ছিল। হ্রদের তীরে থাকা শিলাতে ম্যাঙ্গানিজের উপস্থিতি গ্রহটিতে প্রাণের অস্তিত্ব ছিল বলে ইঙ্গিত করে। কেমক্যাম যন্ত্রের প্রধান বিশ্লেষক নিনা লানজা বলেন, প্রাচীন শিলার তথ্যের মাধ্যমে আমরা মঙ্গল গ্রহে থাকা হ্রদের পরিবেশ সম্পর্কে জানতে পারছি। পৃথিবীতে বিভিন্ন হ্রদের তীরে ম্যাঙ্গানিজসমৃদ্ধ শিলার দেখা মেলে। হয়তো আমাদের মতোই পরিবেশ ছিল মঙ্গল গ্রহে।

সূত্র: ফিজিস ডট অর্গ

মঙ্গল গ্রহ
মঙ্গল গ্রহ। নাসা