Monday, March 13, 2017

ঢাকার আগ্রহ তিস্তায় দিল্লির চোখ প্রতিরক্ষায় by মিজানুর রহমান

অনিশ্চয়তার ঘোর এখনও কাটেনি। তবুও আশাবাদী ঢাকা ও দিল্লি। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগামী মাসের ভারত সফরকে ‘সর্বোচ্চ কার্যকর ও ফলপ্রসূ’ করতেই পূর্ণ মনোযোগ উভয় পক্ষের। সরকার প্রধানের সফরে দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে ঝুলে থাকা তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তির একটি গ্রহণযোগ্য সুরাহা চায় ঢাকা। একই সঙ্গে দেশের মেগা প্রকল্প গঙ্গা ব্যারেজ নির্মাণে ভারতের সহযোগিতার স্পষ্ট ঘোষণা চায় বাংলাদেশ। অন্যদিকে শেখ হাসিনার সফরে দিল্লির চোখ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা সংক্রান্ত সমঝোতা (রূপরেখা চুক্তি) সইয়ে। দু’দেশের প্রতিনিধি পর্যায়ে এ নিয়ে দফায় দফায় আলোচনা চলছে।
সমপ্রতি হিন্দুস্তান টাইমসসহ দিল্লি ডেটলাইনে প্রকাশিত গণমাধ্যমের খবরে এটি বেশ খোলাসা হয়েই জনসমক্ষে এসেছে। সেগুনবাগিচার কর্মকর্তারাও এ নিয়ে এখন আর রাখঢাকা করছেন না। তারা অবশ্য এটাকে ‘প্রতিরক্ষা চুক্তি’ না বলে ‘প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বিষয়ক সমেঝোতা স্মারক বা এমওইউ’ বলাতেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছেন। প্রধানমন্ত্রীর সফর সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কেবল তিস্তা, গঙ্গা বা প্রতিরক্ষা-ই নয়, হাই প্রোফাইল ওই সফরে দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অন্তত ২০’র বেশি চুক্তি, সমঝোতা ও ডকুমেন্ট সইয়ের প্রস্তুতি চলছে। যার মধ্যে- নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা, নিউক্লিয়ার, স্পেস, স্যাটেলাইট, বাণিজ্য সহযোগিতা ও বর্ডার হাট স্থাপন এবং উভয় দেশের জনগণের পর্যায়ে মধ্যে সম্পর্ক বাড়ানোর সংক্রান্ত বিষয় রয়েছে। ঢাকার কর্মকর্তাদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন দিল্লি সফরে তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি কোনো শর্ত নয়, তারপরও প্রতীক্ষিত চুক্তিটি সইয়ে ব্যাপক আশাবাদী ঢাকা।  এ নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে। চুক্তির কাঠামোও প্রায় চূড়ান্ত হয়ে আছে। এটি যে এই মুহূর্তে বাংলাদেশের একান্ত চাওয়া সেটি দিল্লির নেতৃত্বও বুঝেন। ঢাকার তরফেও সময়ে সময়ে সেই বার্তা স্পষ্ট করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সফরের আগে দিল্লির নেতৃত্ব তার দেশের স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে বোঝাপড়া শেষ করে চুক্তিটি সইয়ের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিতে পারবে বলেও আশাবাদী বাংলাদেশ। দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা গতকাল মানবজমিনকে বলেন, আগামী ৭-১০ই এপ্রিল ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিল্লি সফর করবেন, এটি প্রায় চূড়ান্ত। আমরা এই সফরের দুই দেশের মধ্যেকার ঝুলে থাকা বিষয়গুলোর নিষ্পত্তি চাইব। সেখানে তিস্তা আমাদের অগ্রাধিকার। পাশাপাশি বিদেশি সহযোগিতায় বাস্তবায়নের পরিকল্পনায় থাকা গঙ্গা ব্যারেজ প্রকল্পে সহায়তার বিষয়ে দিল্লির স্পষ্ট ঘোষণা আদায়ের চেষ্টা থাকবে। একই সঙ্গে দুই দেশের অভিন্ন নদীগুলোর পানির সুষম ব্যবহারে দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের অঙ্গীকারের বিষয়টি আরো স্পষ্ট করতে মনোযোগ রয়েছে ঢাকার। ২০১৫ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরের ফিরতি সফরে এবার দিল্লি যাচ্ছেন শেখ হাসিনা। নানা কারণে হাই প্রোফাইল ওই সফরকে তাৎপর্যপূর্ণ মনে করা হচ্ছে। এর রাজনৈতিক তৎপর্য রয়েছে বলেও মনে করছেন পেশাদার কূটনীতিকরা। ওই সফর নিয়ে আলোচনায় গত নভেম্বরে পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক দিল্লি সফর করেছেন। আর গত মাসে ঢাকা সফর করেছেন দিল্লির বিদেশ সচিব ড. সুব্রামানিয়াম জয়শঙ্কর। ওই দুই সফরের মাঝে তড়িঘড়ি করে ঢাকা সফর করেছেন ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী মনোহর পারিকর। ভারতের কোনো প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এটাই ছিল প্রথম বাংলাদেশ সফর। দিল্লির ডেটলাইনে মনোহর পারিকরের ঢাকা সফরের যে বিশ্লেষণ ছাপা হয়েছে তাতে বাংলাদেশ-চীন বিদ্যমান সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতার সঙ্গে এর একটি যোগসূত্র খোজা হয়েছে। বলা হয়- প্রতিরক্ষা ইস্যুতে চীনের সঙ্গে ঢাকার ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠতার কারণে বাংলাদেশের সঙ্গে একটি সমন্বিত প্রতিরক্ষা চুক্তি জরুরি ভিত্তিতে সেরে ফেলতে চায় ভারত। এপ্রিলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিল্লি সফরেই এটি সই করতে চায় ভারত। এ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে, আলোচনার অগ্রগতিও আছে, তবে এখনো সেই চুক্তির কাঠামো চূড়ান্ত হয়নি। মানবজমিনের জিজ্ঞাসার জবাবে ঢাকার কর্মকর্তারাও গতকাল এমনটাই বলেছেন। তাদের ভাষায়- আলোচনা চলছে, দেখা যাক শেষ পর্যন্ত কি হয়। কর্মকর্তাদের দেয়া তথ্য মতে, সমন্বিত প্রতিরক্ষা সহযোগিতা সংক্রান্ত একটি এমওইউ সইয়ের প্রস্তুতি রয়েছে। এটি সই হলে প্রশিক্ষণ, সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ এবং দু’দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে সহযোগিতা আরো জোরদার হবে। দিল্লির সূত্রগুলো অবশ্য বলছে, ঢাকার সঙ্গে সামরিক সহযোগিতার জন্য ৫০ কোটি ডলার ঋণ দিতেও আগ্রহী ভারত। এ নিয়ে শীর্ষ নেতৃত্ব সমঝোতায় পৌঁছালে তা হবে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা খাতে ভারতের দেয়া সব থেকে বড় অঙ্কের ঋণ। ভারতীয় গণমাধ্যমের রিপোর্টে গত বছর চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বাংলাদেশ সফর এবং সেই সময়ে দুদেশের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তিও সমঝোতাগুলোর উদাহরণও টানা হয়েছে। চীনা প্রেসিডেন্টের সফরে সম্পাদিত চুক্তি মতে, বাংলাদেশে ২৫০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে চীন।
গঙ্গা ব্যারেজ নির্মাণে ভারতকে পাশে চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছে, মেঘা প্রকল্প গঙ্গা ব্যারাজ নির্মাণে সহযোগিতায় ভারতের পূর্ণ সমর্থন জরুরি। এটি নির্মাণে চীন জাপানসহ অনেকেই সহযোগিতায় আগ্রহী। তবে বড় ওই প্রকল্পে বিনিয়োগের আগে দিল্লির ইতিবাচক মনোভাব দেখতে চান বন্ধু রাষ্ট্র ও উন্নয়ন সহযোগীরা। বাংলাদেশের কর্মকর্তারা মনে করেন এ ব্যারাজ নির্মাণ হলে অববাহিকা ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে। গঙ্গা ব্যারাজ প্রকল্পের সমীক্ষার জন্য একটি ভারতীয় প্রতিনিধি দল সমপ্রতি বাংলাদেশ সফর করেছে জানিয়ে এক কর্মকর্তা গতকাল মানবজমিনকে বলেন, আশা করছি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আসন্ন দিল্লির সফরের আগেই ভারতীয় টিম তাদের মূল্যায়ন দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিবেচনায় উপস্থাপান করবে। এটি বাংলাদেশের জন্য সহায়ক হবে আশা করে তিনি বলেন, সরকার প্রধানের সফরে এ বিষয়ে একটি সুনির্দিষ্ট দিক-নির্দেশনা এবং স্পষ্ট ঘোষণা মিলবে বলেও ঢাকা আশাবাদী। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অন্য এক কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশের শীর্ষ নেতৃত্বের ভারত সফরে পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দর ও বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মতো মেগাপ্রকল্প নিয়েও আলোচনা হবে। গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত থাকতে ভারতের আগ্রহ রয়েছে। এ সফরে প্রকল্পটির প্রাথমিক কাজের জন্য (কিছু অংশ) দেশটির সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হতে পারে বলে আভাস মিলেছে। কর্মকর্তাদের মতে, শেখ হাসিনার এবারের সফরে লাইন অব ক্রেডিট বা ঋণ চুক্তির বদলে প্রকল্পভিত্তিক সুনির্দিষ্ট সহায়তার বিষয়টি আলোচনায় থাকছে। ২০১৫ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরে ২২টি চুক্তি, সমঝোতা ও ডকুমেন্ট সই হয়েছিল। ঐতিহাসিক ওই সফরে ‘নতুন প্রজন্ম, নয়া দিশা’ শীর্ষক যৌথ ঘোষণাও সই হয়েছিল। পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা মানবজমিনকে বলেন, সঙ্গত কারণেই অতীতে শীর্ষ পর্যায়ের সফরগুলো বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী মোদির গত বছরের বাংলাদেশ সফরে সম্পাদিত চুক্তি, সমঝোতা ও ঘোষণার বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা হবে শেখ হাসিনার আসন্ন দিল্লি সফরে।
মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ভারতীয় সেনাদের পরিবারকে সম্মাননা: স্বাধীনতা যুদ্ধে জীবন উৎসর্গকারী (শহীদ) ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের পরিবারকে সম্মাননা জানানোর সিদ্ধান্ত রয়েছে বাংলাদেশের। এ নিয়ে অনেক দিন ধরে কাজ চলছে। সর্বশেষ পাওয়া তথ্য মতে, ১৬৬৮ জন শহীদের নাম পেয়েছে বাংলাদেশ। সেই তালিকা ধরে পরিবারগুলোর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে। পররাষ্ট্র ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দিল্লিতে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ওই তালিকায় থাকা ৭ জন শহীদ যুদ্ধবন্ধুর পরিবারকে সম্মাননা জানাতে চায় বাংলাদেশ। সীমিত পরিসরে হলেও শহীদ পরিবারের সদস্যদের হাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেয়ার আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। এটি হবে শহীদ পরিবারগুলোকে বাংলাদেশের সম্মাননা জানানোর আনুষ্ঠানিক সূচনা। বাকিদের পর্যায়ক্রমে আনুষ্ঠানিক, অনানুষ্ঠানিক বা ব্যক্তিগত যোগাযোগে সম্মাননা জানাবে বাংলাদেশ।
সম্ভাব্য সফরসূচি: কূটনৈতিক সূত্রগুলোর দেয়া তথ্য মতে, সেখানে আগামী ৯ই এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদির মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় বৈঠকটি হতে পারে। সেখাবেই শীর্ষ বৈঠক আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। সফরের দিন-তারিখ ঠিক হলেও গতকাল পর্যন্ত শেখ হাসিনা-মোদি বৈঠকের সময়ক্ষণ ঠিক হয়নি বলে দাবি করে এক কর্মকর্তা মানবজমিনকে বলেন, সফরটি হবে ৩ দিনে। ভারতের প্রেসিডেন্ট প্রণব মুখার্জির অতিথিশালায় থাকবেন শেখ হাসিনা। বাংলাদেশের কোনো প্রধানমন্ত্রীকে এবারই ওই বিরল সম্মাননা জানাবে ভারত। সফরকালে প্রেসিডেন্ট মুখার্জির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন শেখ হাসিনা। দেশটির বিরোধীদলীয় নেতা কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গেও তার বৈঠক হতে পারে। এছাড়া, দিল্লির রাজঘাটস্থ গান্ধী সমাধিও পরিদর্শন এবং আজমীর শরিফ জেয়ারতে যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী।

ডাচদের কঠিন মূল্য দিতে হবে: এরদোগান

তুরস্কের এক মন্ত্রীর নেদারল্যান্ড সফর নিষিদ্ধ করার ঘটনায় দেশটির প্রতি বেজায় চটেছেন প্রেসিডেন্ট রিসেফ তাইয়িপ এরদোগান। তিনি বলেছেন, এই ঘটনার জন্য নেদারল্যান্ডকে কঠিন মূল্য দিতে হবে। এরদোগান নেদারল্যান্ডকে 'বানানা রিপাবলিক' (ছোট্ট গরিব দেশ) বলেও কটাক্ষ করেন। শনিবার রটেরডামের তুর্কি কনস্যুলেটে দেশটির মহিলা বিষয়কমন্ত্রী ফাতমা বেতুল সায়ান কায়ার সফরের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে নেদারল্যান্ড। এ ঘটনায় নেদারল্যান্ডের আচরণকে 'লজ্জাজনক' আখ্যা দিয়ে দেশটির কঠোর সমালোচনা করেন এরদোগান। তুর্কি শহর ইস্তাম্বুলে রোববার এক অনুষ্ঠানে এরদোগান বলেন,  নেদারল্যান্ড যদি বুধবারের নির্বাচনের জন্য ডাচ-তুরস্ক সম্পর্ক ত্যাগ করতে চায়, তাহলে এর জন্য তাদের চড়া মূল্য দিতে হবে।
তিনি বলেন, 'আমি ভেবেছিলাম নাৎসিবাদের অবসান হয়েছে। কিন্তু আমার ভাবনা ভুল ছিল। পশ্চিমে নাৎসিবাদ এখনও সক্রিয় রয়েছে।' এরদোগান আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে নেদারল্যান্ডের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপেরও আহ্বান জানান। তবে তুরস্ক সরাসরি কোনো পদক্ষেপ নেবে কিনা, তা তিনি বলেননি। এদিকে বুধবার নেদারল্যান্ডের জাতীয় নির্বাচনের আগে তুরস্কের কঠোর সমালোচনার কারণে রাজনৈতিক ঝুঁকিতে পড়েছেন ডাচ প্রধানমন্ত্রী মার্ক রুটে। তিনি তুরস্কের বিরুদ্ধে কূটনৈতিক সীমা অতিক্রমের অভিযোগ এনেছেন। মার্ক রুটে বলেন, এটি আগে কখনোই হয়নি যে, স্বাগত জানানো হবে না বলে দেয়ার পরেও কেউ কোনো দেশ সফর করেছে। গত শনিবার তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত চাভুসওগ্লুকে বহনকারী বিমান নেদারল্যান্ডে নামতে দেয়া হয়নি। এরপর মহিলা বিষয়কমন্ত্রী কায়া গাড়িতে করে রটেরডাম সফরের সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু কায়ার সফরেও নেদারল্যান্ড নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তুর্কি প্রেসিডেন্ট নেদারল্যান্ডের বিরুদ্ধে নাৎসিবাদের যে অভিযোগ করেছেন, তা দায়িত্ব জ্ঞানহীন আচরণ আখ্যা দিয়ে এরদোগানকে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মার্ক রুটে।

গোয়ার মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন পারিকর

ভারতের গোয়া বিধানসভা নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে বিজয়ী হয়েছে কংগ্রেস। তবে প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় সেখানে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে ক্ষমতাসীন বিজেপি। সরকার গঠনের দাবি জানানোর পর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী মনোহর পারিকরের নিয়োগপত্রও দিয়েছেন রাজ্যপাল। খবর এনডিটিভির। ৪০ আসনের গোয়া বিধানসভায় সরকার গঠনে প্রয়োজন ২১টি আসন। কিন্তু এখানে কংগ্রেস ১৭টি, বিজেপি ১৩টি আসনে এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দল জয় পেয়েছে ১০ আসনে।
শনিবার ফল ঘোষণার পরই নিজেদের ১৩ জন নির্বাচিত বিধায়কের সঙ্গে আরও ৯ জন বিধায়কের সমর্থনের কথা উল্লেখ করে রাজ্যপাল মৃদুলা সিনহার কাছে সরকার গঠনের দাবি জানায় বিজেপি। পরে ১২ মার্চ রাতেই পারিকরকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগের চিঠি পাঠান রাজ্যপাল। আগামীকাল মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মনোহর শপথ নিতে পারেন বিলে জানা গেছে। সরকার গঠনে আঞ্চলিক দলগুলোর সমর্থন আদায়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিতীন গাদকারীর সঙ্গে মনমোহন পারিকর রোববার দীর্ঘ বৈঠক করেছেন। ইতিমধ্যে এমজিপি, গোয়া ফরোয়ার্ড মনোহরকে সমর্থন দিয়েছে। মনমোহন পারিকর এখনও প্রতিরক্ষামন্ত্রী থেকে ইস্তফা দেননি। তবে মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়ে নিজ রাজ্য গোয়ায় ফিরছেন এটা নিশ্চিত।

গার্ডার দুর্ঘটনা তদন্তে ৩ সদস্যের কমিটি গঠন

রাজধানীর মালিবাগে নির্মাণাধীন ফ্লাইওভারের গার্ডার দুর্ঘটনার কারণ তদন্তে তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। সোমবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসে এ তদন্ত কমিটি গঠনের কথা বলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন। তিনি বলেন, দুর্ঘটনার জন্য দায়ীদের আইনের আওতায় আনা হবে। কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।
 সাঈদ খোকন জানান, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর আগে রোববার রাতে মালিবাগে রেলগেট সংলগ্ন ফ্লাইওভারের গার্ডার ক্রেন দিয়ে তুলতে গিয়ে নিচে ছিটকে পড়ে। এতে স্বপন নামে এক পথচারী (৪৩) নিহত হন। দুর্ঘটনায় পা হারিয়েছেন ফ্লাইওভার নির্মাণ প্রতিষ্ঠান তমা কনস্ট্রাকশনের প্রকৌশলী পলাশ (৩০), আহত হন শাহ সিমেন্টের গাড়ি চালক নুরুন্নবী (৪০)।

'গুণারত্নের বক্তব্য ব্যক্তিগত, বাস্তবতার মিল নেই'

পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক বলেছেন, গুলশানের হলি আর্টিজানের হামলায় আইএস সম্পৃক্ততার বিষয়ে রোহান গুণারত্নের বক্তব্য তার একান্তই ব্যক্তিগত। এর সঙ্গে বাস্তবতার মিল নেই। বাংলাদেশ পুলিশ এ বক্তব্য সমর্থন (এনডোর্স) করে না। সোমবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে পুলিশপ্রধানদের আন্তর্জাতিক সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের দুপুরে তিনি এ কথা বলেন। আইজিপি বলেন, গুণারত্নে তার গবেষণালব্ধ জ্ঞান থেকে আইএস সম্পৃক্ততার তথ্য দিয়েছেন। তবে এর সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই। তিনি দাবি করেন, এখন পর্যন্ত জঙ্গি সংশ্লিষ্টতায় গ্রেফতার ব্যক্তিদের কেউ কখনো বলেননি তারা আইএসের সদস্য। এমনকি যারা মারা গেছেন তাদের পরিবারের কেউই এমন কথা বলেননি। এর আগে রোববার সম্মেলনে অংশ নিয়ে ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর পলিটিক্যাল ভায়োলেন্স অ্যান্ড টেররিজম রিসার্চের (আইসিপিভিটিআর) পরিচালক রোহান গুণারত্নে দাবি করেন, ‘হলি আর্টিজানে যারা হামলা চালিয়েছিল, তারা জেএমবি নয়, তারা আইএস।
এটি সেই সন্ত্রাসীগোষ্ঠী, যারা নিজেদের ইসলামিক স্টেট বলে পরিচয় দেয়। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতৃত্ব ওই হামলা সম্পর্কে সত্য বলেননি।’ এদিকে সোমবার ভিয়েতনাম ও ব্রুনাইয়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আইজিপি দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেন। আলোচনায় ভিয়েতনামের কাছে মাদক ও মানবপাচার বন্ধে সহযোগিতা চাওয়া হয়। অন্যদিকে ব্রুনাইয়ের প্রতিনিধিরা সে দেশে কর্মরত বাংলাদেশীদের প্রশংসা করেন। বাংলাদেশীদের কঠোর পরিশ্রমী উল্লেখ করে তাদের নিরাপত্তা প্রদানে পুলিশ তৎপর রয়েছে বলে আইজিপিকে জানানো হয়। এদিকে ইন্টার‌পো‌লের সেক্রেটারি জেনা‌রেল জার‌গেন স্টকের সঙ্গে অন্য এক বৈঠকে মানবপাচার, আন্তঃদেশীয় সম্পর্ক, অপরাধ ও জঙ্গি দমনে বাংলাদেশে ইন্টারপোলের আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপনের দাবি জানানো হবে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি ফেসবুক প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জঙ্গি রিলেটেড (সংশ্লিষ্ট) কন্টেন্ট প্রতিরোধে সহায়তা চাওয়া হবে। এছাড়া সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ে বাংলাদেশকে সহায়তায় প্রশিক্ষণ ও লজিস্টিক সাপোর্ট প্রদানে আগ্রহ প্রকাশ করেছে চীন ও সাউথ কোরিয়া। ইন্টারপোলও বাংলাদেশকে প্রশিক্ষণ প্রদানে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। রোববার থেকে শুরু হওয়া তিন দিনব্যাপী সম্মেলনে ১৪টি দেশের পুলিশের প্রতিনিধিরা ছাড়াও ফেসবুক, ইন্টারপোল গ্লোবাল কমপ্লেক্স ফর ইনোভেশন (আইজিসিআই), যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই), আসিয়ানাপোল, ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ট্রেনিং অ্যাসিস্ট্যান্স প্রোগ্রামসহ (আইসিআইটিএপি) বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নিচ্ছেন।

টাঙ্গাইলে ট্রেনে কাটা পড়ে যুবকের মৃত্যু

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ট্রেনে কাটা পড়ে এরশাদ মৃধা নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে বঙ্গবন্ধু সেতু রেল সংযোগ সড়কের মির্জাপুর উপজেলার গোড়াইল গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এরশাদ মৃধার (২৫) বাড়ি উপজেলা ভাতগ্রাম ইউনিয়নের গোড়াইল গ্রামে। বাবার নাম তাজিবর মৃধা।
মির্জাপুর রেল স্টেশনের মাস্টার নাজমুল হুদা জানান, রাজশাহী থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী ধূমকেতু এক্সপ্রেস ট্রেনটি ভোরে মির্জাপুর স্টেশন অতিক্রম করে। এর কিছুক্ষণ পর গোড়াইল নামক স্থানে এক যুবক ট্রেনে কাটা পড়ে নিহত হন বলে সংবাদ পেয়েছেন তিনি।

ডেমরায় পিস্তল-গুলিসহ যুবক আটক

ডেমরায় মো. আলামিন (৩৫) নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় তার শরীর তল্লাশি করে ম্যাগাজিনসহ একটি বিদেশী পিস্তল ও ৩ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। সোমবার বেলা সাড়ে ১০টায় ডেমরার ডগাইর ছোট মুরগির ফার্ম এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। আলামিন মাদারীপুরের সদর থানার ঝিগের হাতি গ্রামের জাহাঙ্গীর মাতাব্বরের ছেলে।
যাত্রাবাড়ীর মৃধাবাড়ি এলাকার স্বপনের বাড়িতে ভাড়া থাকতো সে। ডেমরা থানার এসআই আমিনুল এসব তথ্য জানিয়ে দাবি করেছেন আলামিন একজন সন্ত্রাসী। ডেমরা থানার ওসি এসএম কাওসার যুগান্তরকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডগাইর ছোট মুরগির ফার্ম এলাকা থেকে আলামিনকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কার কাছে মুচলেকা দিয়ে ক্ষমতায় হাসিনা?

বাসভবনের বাইরে কারা থাকেন, তা জানানোর জন্য প্রধানমন্ত্রীকে আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সোমবার নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক যৌথসভা শেষে সাংবাদিকদের কাছে তিনি একথা বলেন। বিএনপি ২০০১ সালে মুচলেকা দিয়ে ক্ষমতায় এসেছে- প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, 'তাই যদি হয়, তাহলে পরে প্রধানমন্ত্রী কার কাছে মুচলেকা দিয়ে ক্ষমতায় আসলেন?' তিনি বলেন, 'প্রধানমন্ত্রী ২০০১ সালের নির্বাচন নিয়ে সম্প্রতি যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা আমাদের হতবাক করেছে। যেভাবেই হোক তিনি সরকারপ্রধান। এতবড় দায়িত্বে থেকে এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন উক্তি তিনি কিভাবে করতে পারলেন, তা আমাদের চিন্তায় আসে না।' বিএনপির মহাসচিব বলেন, 'বক্তব্যের মধ্য দিয়ে তিনি (প্রধানমন্ত্রী) বুঝিয়ে দিয়েছেন, এদেশে বিদেশীরা বিভিন্ন সময়ে সরকার পরিবর্তনে কাজ করছে। এটা জাতির জন্য কতটা মঙ্গলজনক,
তা দেশের মানুষ সহজেই অনুমান করতে পারে।' তিনি আরও বলেন, 'শোনা যায়, ২০১৪ সালে ভারতের ‘র’ এর মাধ্যমে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসেছে। ওই নির্বাচনের আগে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশে আসলেন। এরশাদকে নির্বাচনে অংশের ব্যবস্থা করলেন। তাহলে কী আমরা বুঝতে পারি ‘র’ এক্ষেত্রে বড় ভূমিকা নিয়েছিল!' হাওয়া ভবনে ‘র’য়ের এক কর্মকর্তা বসে থাকতো- এমন বক্তব্য প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এখন অন্যরকম জনশ্রুতি রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের বাইরে বিদেশী লোকজন নাকি থাকে। তারা কারা আমরা জানি না। কিন্তু এটা তার ক্লিয়ার করা উচিত।’ মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্ব যৌথসভায় যুগ্ম মহাসচিব মুজিবুর রহমান সারোয়ার, সৈয়দ মোয়াজ্জম হোসেন আলাল, খায়রুল কবীর খোকন, কেন্দ্রীয় নেতা রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, বিলকিস জাহান, এমরান সালেহ, শামা ওবায়েদ, মাহবুবুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

স্বাধীনতা দিবস ঘিরে বিএনপির সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি

মহান স্বাধীনতা দিবস ২৬ মার্চ উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে শোভাযাত্রাসহ সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। সোমবার দুপুরে নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের এক যৌথসভা শেষে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী। তিনি বলেন, ২৬ মার্চ বেলা ৩টায় রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে শোভাযাত্রা বের হবে। এর আগে সকাল ৭টায় খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে, ৯টায় শেরেবাংলা নগরে জিয়াউর রহমানের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হবে। স্বাধীনতা দিবসের দিন সকালে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন,
সন্ধ্যায় জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) উদ্যোগে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, জাতীয়তাবাদী যুবদলের উদ্যোগে আলোকচিত্র প্রদর্শনী ও ছাত্রদলের উদ্যোগে চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা হবে। পরদিন ২৭ মার্চ ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা দেয়া হবে। এতে খালেদা জিয়া প্রধান অতিথি থাকবেন। রিজভী বলেন, এ বছর আলোচনা সভার পরিবর্তে সারা দেশে শোভাযাত্রা ও রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্ব যৌথসভায় যুগ্ম মহাসচিব মুজিবুর রহমান সারোয়ার, সৈয়দ মোয়াজ্জম হোসেন আলাল, খায়রুল কবীর খোকন, কেন্দ্রীয় নেতা রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, বিলকিস জাহান, এমরান সালেহ, শামা ওবায়েদ, মাহবুবুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

করণীয় নির্ধারণে এ মাসেই ইজিএম

এ মাসেই বিশেষ সাধারণ সভার মাধ্যমে পরবর্তী করণীয় ঠিক করবে তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ। দেশের সর্বোচ্চ আদালত বিজিএমইএ ভবন সরাতে ৬ মাসের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন। রোববার থেকেই সময় গণনা শুরু হয়েছে। এ অবস্থায় আর সময়ক্ষেপণ করতে চায় না সংগঠনটি। আদালতের রায় মেনে অফিস অন্যত্র স্থানান্তরের চিন্তাভাবনা শুরু হয়েছে। কিন্তু ১৪ তলার বিশাল ভবন কে ভাঙবে। খরচ আসবে কোত্থেকে এ নিয়ে সিদ্ধান্তে আসতে পারছেন না সংশ্লিষ্টরা। তবে বিজিএমইএ নেতারা একমত হয়েছেন, বিশেষ সাধারণ সভার মাধ্যমে সবার মতামত নিয়েই পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে। এ ছাড়া বিতর্কিত বহুতল ভবনটি ভাঙার কোনো দায়দায়িত্ব বিজিএমইএ নিতে রাজি নয়। আদালতের নির্দেশ মেনে রাজউককে দিয়েই এই অপ্রীতিকর কাজটি শেষ করতে চান নেতারা। তবে এজন্য সম্ভাব্য সব খরচ রাজউককে দেয়া হবে। তবে ভবন নির্মাণ সম্পন্ন হওয়ার আগে রফতানি সংক্রান্ত দাফতরিক কর্মকাণ্ড সারতে কারওয়ান বাজার, পান্থপথ বা উত্তরার পছন্দসই কোনো একটি বহুতল ভাড়াবাড়িতে উঠবে বিজিএমইএ। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিজিএমইএ সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান রোববার যুগান্তরকে বলেছেন, আমরা আগামী ছয় মাসের মধ্যেই বিজিএমইএ ভবন ছেড়ে দেব।
একই সঙ্গে নিজেদের নতুন ভবন নির্মাণের বিষয়েও কার্যক্রম শুরু করব। তবে কোন প্রক্রিয়ায় কীভাবে এসব কার্যক্রম শেষ করব, তা সবার সঙ্গে বিশেষ আলোচনা করেই ঠিক করা হবে। জানা গেছে, চলতি মাসের শেষ দিকে বিজিএমইএ মিলনায়তনে বিশেষ সাধারণ সভা (ইজিএম) আয়োজন করা হচ্ছে। সেখানে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই সভাপতি, বিজিএমইএর সাবেক সভাপতিগণসহ পোশাক খাতের সব নেতা ও সাধারণ সদস্যরা উপস্থিত থাকবেন। ইজিএমে ভবন ভাঙার ব্যয়ভারের উৎস নির্ধারণ করা হবে। ভবনটি ভাঙার দায়িত্ব বিজিএমইএ পালন করবে, না রাজউক ভাঙবে সেটিও চূড়ান্ত হবে। একইভাবে রাজধানীর উত্তরায় সরকারের দেয়া জমিতে বিজিএমইএর নতুন ভবন কোন প্রক্রিয়ায় নির্মাণ করা হবে। সম্ভাব্য নির্মিতব্য ভবন কত তলা এবং ব্যয় কেমন হবে, অর্থায়ন কীভাবে হবে তা নিয়েও আলোচনা হবে। সূত্র আরও জানায়, নতুন ভবনের দ্রুত নির্মাণ, সম্ভাব্য ব্যয়ের অর্থ জোগান পেতে ইজিএমএর আগে খুব শিগগরিই অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এবং সর্বশেষ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দ্বারস্থ হবেন বিজিএমইএ নেতারা। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সবুজ সংকেত পেলে তারা বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গেও দেখা করবেন। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে নিষ্কণ্টক খাস জমি বিজিএমইএর নামে দ্রুত নিবন্ধন শেষ করা। একই সঙ্গে মাত্র চার থেকে পাঁচ শতাংশ সুদে ভবন নির্মাণের সম্ভাব্য ব্যয়ের অর্থ বিজিএমইএর অনুকূলে দীর্ঘমেয়াদে ঋণ হিসাবে পাওয়া। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিজিএমইএর একাধিক নেতা যুগান্তরকে জানিয়েছেন, ভবন ভাঙার বিষয়ে আদালত বিজিএমইএকে ব্যয় বহন করার নির্দেশনা দিয়েছেন। তাই বিজিএমইএ সম্ভাব্য ব্যয় বহন করবে। তবে ভবন ভাঙার দায়িত্ব নেবে না। ভবনটি রাজউককেই ভাঙতে হবে। এর কারণ হিসেবে তারা বলেন, ভবনটি নিয়ে এমনিতেই তারা বিভিন্ন সময়ে সুশীল সমাজ, পরিবেশবাদী সংগঠন এবং গণমাধ্যমের বিষোদগার শুনেছেন।
এখন ভবন ভাঙার দায়িত্ব নিয়ে কোনো অবস্থাতেই জানমালের ক্ষতি হওয়ার দায়ভার নিতে রাজি নন তারা। তাহলে আরেক দফা বিষোদগারের মুখোমুখি হতে হবে। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি ও এফবিসিসিআইএর ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন যুগান্তরকে বলেন, বিজিএমইএর বর্তমান নেতৃত্ব এ বিষয়ে খুবই সচেতন। তারা এজন্য অভ্যন্তরীণ এবং বাহ্যিক দু’ভাবেই কাজ করছে। যেহেতু এটি একটি ফরমাল অর্গানাইজেশন। তার অনেক কর্মকাণ্ড থাকে। এখানে ৩০০ লোক কাজ করে। রফতানি সংক্রান্ত ইউটি এবং ইউডি বিজিএমইএ থেকেই দেয়া হয়। এর পাশাপাশি বিজিএমইএ ৫টি স্কুল এবং ১২টি ক্লিনিক পরিচালনা করছে। শ্রমিকদের দক্ষতা বাড়ানোর জন্য নানারকম কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এর সঙ্গে পুরো পোশাক খাতের সম্পর্ক হৃৎপিণ্ডের মতো। তাই ভবন ভাঙা এবং নতুন ভবনে যাওয়ার প্রক্রিয়া ঠিক করতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। বিজিএমইএর সহ-সভাপতি (অর্থ) মো. নাছির যুগান্তরকে বলেন, আদালতের আদেশ শিরোধার্য। আমরা ভবন ছেড়ে দেব। একই সঙ্গে খুব দ্রুতই সবার সঙ্গে পরামর্শ করে ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা ঠিক করব।

ভারতীয় ঋণে ১৪ প্রকল্পের একটিও বাস্তবায়নে যায়নি

প্রকল্পের প্রস্তুতিতেই চলে যাচ্ছে প্রায় তিন বছর। ফলে শেষ পর্যন্ত মেয়াদও ব্যয় বৃদ্ধির আশংকা দেখা দিয়েছে। ভারতীয় ঋণের দ্বিতীয় লাইন অব ক্রেডিটের (এলওসি) আওতায় যেসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে, সেগুলো এখনও রয়েছে প্রস্তুতি পর্যায়েই। একটিও বাস্তবায়ন পর্যায়ে নেই। এ ঋণের আওতায় ইতিমধ্যেই ১৪টি প্রকল্পের বিষয়ে ভারতীয় এক্সিম ব্যাংকের সম্মতি পাওয়া গেছে। কিন্তু এখনও বাস্তবায়ন পর্যায়ে যেতে আরও কমপক্ষে এক বছর সময় লাগতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি নিয়ে সম্প্রতি একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)। প্রতিবেদন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। এ প্রসঙ্গে ইআরডির ভারপ্রাপ্ত সচিব কাজী শফিকুল আযম রোববার যুগান্তরকে বলেন, একটু সময় বেশিই লাগছে।
আমাদের প্রচেষ্টায় কোনো ঘাটতি নেই। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর কাছে প্রশ্ন করা উচিত, তারা কেন প্রক্রিয়া করতে এত দেরি করছে। তবে আমরা প্রথম ও দ্বিতীয় এলওসির অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাচ্ছি তৃতীয় এলওসির ক্ষেত্রে। যাতে ভবিষ্যতে আর প্রকল্প বাস্তবায়নে দেরি না হয় সেজন্য এখন আগেই প্রকল্প চূড়ান্ত করা হচ্ছে। সূত্র জানায়, ২০১৫ সালের জুনে ঢাকা সফরকালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নতুন করে ২০০ কোটি ডলার ঋণ দেয়ার ঘোষণা দেন। এটি দ্বিতীয় এলওসি নামে পরিচিত। প্রতিশ্রুতির নয় মাস পর ২০১৬ সালের মার্চ মাসে ভারতের সঙ্গে ঋণ চুক্তি হয়। তার দুই মাস পর অর্থাৎ ওই বছরের ২৭ মে ঋণ চুক্তি কার্যকর হয়। তার আগেই শুরু হয় প্রকল্প যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ রোববার যুগান্তরকে বলেন, এসব ঋণের ক্ষেত্রে আগেই প্রকল্প ঠিক করা উচিত ছিল। এখন যে অবস্থা তৈরি হয়েছে এতে সময় বেশি লাগবে, কস্ট বাড়বে- শুধু তাই নয় নানা জটিলতার আশংকাও রয়েছে। প্রকল্পগুলোর বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রকিউরমেন্ট অব ট্রাকস ফর বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশন (বিআরটিসি) প্রকল্পটি গত বছরের ২০ জুন চূড়ান্তভাবে গৃহীত হয় ভারতীয় এক্সিম ব্যাংকের কাছে। এরপর ওই বছরের ৩০ আগস্ট জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে অনুমোদন দেয়া হয়। একই সময়ে ভারতীয় এক্সিম ব্যাংক ও একনেকে অনুমোদন পায় প্রকিউরমেন্ট অব ডাবল ডেকার অ্যান্ড সিঙ্গেল ডেকার এসি অ্যান্ড নন-এসি বাসেস ফর বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশন (বিআরটিসি) প্রকল্পটিও। এ প্রকল্প দুটির দরপত্র ও দরপত্র বিজ্ঞপ্তি ৯ ফেব্রুয়ারি ভারতীয় এক্সিম ব্যাংকের কাছে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া ইম্প্রুভমেন্ট অব আশুগঞ্জ রিভার পোর্ট-সরাইল-দারখার-আখাউড়া ল্যান্ড পোর্ট রোড অ্যাট ফোর লেন ন্যাশনাল হাইওয়ে শীর্ষক প্রকল্পটি গত বছরে ২০ জুন ভারতীয় এক্সিম ব্যাংক অনুমোদন করে।
ওই বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর একনেকে অনুমোদনের জন্য উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) পাঠানো হয়। পরিকল্পনা কমিশনে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হলেও সভার সুপারিশ প্রতিপালন করা হয়নি। প্রকিউরমেন্ট অব ইকুইপমেন্ট অ্যান্ড মেশিনারিজ অব কনস্ট্রাকশন, রিপিয়ার অ্যান্ড মেইনটেনেন্স অব রোড ইনফ্রাস্ট্রাকচার প্রকল্পটি গত বছরের ১ নভেম্বর ভারতীয় এক্সিম ব্যাংক অনুমোদন দেয়। ৩ জানুয়ারি একনেক অনুমোদন দিয়েছে। ১০ জানুয়ারি বিড ডকুমেন্ট পাঠানো হয়েছে ভারতীয় হাইকমিশনে। কনস্ট্রাকশন অব ডাবল লাইন লিংক ট্র্যাক ইন খুলনা-দর্শনা জংশন সেকশন অব বাংলাদেশ রেলওয়ে প্রকল্পটি গত বছরের ১ নভেম্বর অনুমোদন দেয় ভারতীয় এক্সিম ব্যাংক। এখনও মন্ত্রণালয় থেকে ডিপিপি একনেকের জন্য পাঠানো হয়নি। এছাড়া কনস্ট্রাকশন অব নিউ ক্যারেজ ওয়ার্কশপ ইন সৈয়দপুর রেলওয়ে ওয়ার্কশপ ইনক্লুডিং ফিজিবিলিটি স্টাডি শীর্ষক প্রকল্পটি গত বছরের ২০ জুন ভারতীয় এক্সিম ব্যাংক অনুমোদন দেয়। এখন পর্যন্ত রেলপথ মন্ত্রণালয় থেকে ডিপিপি একনেকের জন্য পাঠানো হয়নি। কনভারসন অব মিটারগেজ লাইন টু ডুয়েলগেজ লাইন ইন পার্বতীপুর-কাউনিয়া সেকশন অব বাংলাদেশ রেলওয়ে প্রকল্পটি গত ১ নভেম্বর ভারতের এক্সিম ব্যাংক অনুমোদন দেয়। কিন্তু এখনও মন্ত্রণালয় থেকে ডিপিপি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়নি। বড় পুকুরিয়া-বগুড়া-কালিয়াকৈর ৪০০ কেভি বিদ্যুৎ লাইন প্রজেক্টটি গত বছরের ১ নভেম্বর ভারতীয় এক্সিম ব্যাংক অনুমোদন করে।

ইসরাইলি পুলিশের গুলিতে ফিলিস্তিনি নিহত

ইসরাইলি পুলিশের গুলিতে সোমবার এক ফিলিস্তিনী নিহত হয়েছেন। এর আগে এই ফিলিস্তিনী পুরনো নগরী জেরুজালেমের প্রবেশপথের কাছে ছুরি হামলা চালিয়ে ইসরাইলের দুই সীমান্তরক্ষীকে আহত করেছে।
পুলিশ জানায়, এই ফিলিস্তিনী সীমান্তরক্ষী বাহিনীর চৌকিতে হামলা চালিয়ে দুই সদস্যকে আহত করার পর তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। আহতদের একজনের অবস্থা গুরুতর।

বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ভিড়ে, নিহত ৩৮

হাইতির উত্তরাঞ্চলের গোনাইভেস নগরীতে রোববার একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ভিড়ের মধ্যে ঢুকে পড়ে। এতে কমপক্ষে ৩৮ জন নিহত হয়েছেন। দেশটির কর্মকর্তারা একথা জানিয়েছেন। রাজধানী পোর্ট-অ-প্রিন্স থেকে ১শ ৫০ কিলোমিটার দূরে গোনাইভেস অবস্থিত। ফরাসী ভাষার গণমাধ্যমে বলা হয়, গাড়িটি প্রথমে দু'জন পথচারীকে ধাক্কা দেয়।
এতে একজন মারা যান। এরপর চালক ঘটনাস্থল থেকে পালাতে চেষ্টা করে। বেপরোয়া চালকটি রাস্তার ওপর ব্যান্ড মিউজিশিয়ানদের ওপর গাড়ি উঠিয়ে দেয়। এতে বেশ কয়েকজন প্রাণ হারান। আহত হন বেশ কয়েকজন। তাদের হাসপাতালের জরুরি বিভাগে পাঠানো হয়। চালকটি পালিয়ে যেতে চেষ্টা করলে ক্ষুব্ধ জনগণ গাড়িটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে। তবে কী কারণে চালক বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালিয়েছে তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি।

২০১৯ নয়, ২০২২ পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকতে চান মোদি

সেমিফাইনাল জেতার পর আত্মবিশ্বাসী ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেই আত্মবিশ্বাস চুঁইয়ে পড়ছে তার গলায়। ২০১৯ সালের ফাইনাল নিয়ে ভাবছেনই না তিনি। ভাবখানা এমন ‌যেন বিরোধীরা আগেই ওয়াক ওভার দিয়ে দিয়েছে। উত্তরপ্রদেশ, উত্তরাখন্ডে বিপুল জয়ের পর রোববার বিজেপির সদর দফতরে বিজয় ভাষণে নরেন্দ্র মোদি বলেন, “২০২২ সালে ৭৫তম স্বাধীনতা দিবসে নতুন ভারত গড়তে চাই। ‌উত্তর প্রদেশ সেই ভারত গঠনের ভিত্তি স্থাপন করেছে। নতুন ভারতে গরিবরা খয়রাতি চায় না, বরং সু‌যোগ চায়’।
তার আগে ট্যুইটারেও প্রধানমন্ত্রী লিখেছিলেন, ‘২০২২ সালের মধ্যে নতুন ভারত গঠিত হবে। ‌যে ভারত দেখলে গর্বিত হবেন গান্ধীজি, সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল।' রাজনৈতিক মহলের মতে, মোদির কথাতেই স্পষ্ট, ২০১৯ সালের নির্বাচন নিয়ে তিনি ভাবছেন না। তাই ২০২২ সালের রোডম্যাপ তৈরি করে ফেলেছেন। মোদির দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাই বলছে, কতটা আত্মবিশ্বাসী তিনি? আর মোদিকে আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে রণক্লান্ত বিরোধী শিবির। এবং ‌যোগ্য বিরোধী নেতার অভাব।

আমেরিকা বা জাপানের ফাঁদে পা না দিতে ভারতকে হুঁশিয়ারি চীনের

আমেরিকা বা জাপানের ফাঁদে পা দিয়ে চীনের বিরুদ্ধাচরণ করা উচিত নয় ভারতের। নয়াদিল্লিকে এভাবেই সতর্ক করে দিল চীনা সরকারি মিডিয়া। এমনটা করলে যে আদতে নয়াদিল্লিরই ক্ষতি, সে কথাও বুঝিয়ে দিয়েছে বেইজিং। চীনা সংবাদপত্র গ্লোবাল টাইমস-এর সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, “ভারত মহাসাগরে চীনকে রুখে দিতে ওয়াশিংটন নয়াদিল্লিকে ব্যবহার করছে। অন্যদিকে টোকিও চাইছে নয়াদিল্লির সাহায্যে প্রশান্ত মহাসাগরে চীনের বিরোধিতা করতে। ভারত মনে করতে পারে এই সুযোগে চীনকে কূটনৈতিক চাপে রাখা যাবে। কিন্তু এগুলি ফাঁদ ছাড়া আর কিছুই নয়। একবার আমেরিকা বা জাপানের ফাঁদে পড়ে গেলে ভারতেরই বিপদ বাড়বে।” সম্পাদকীয়তে আরও বলা হয়েছে, “সেই দেশই মহান হতে পারে যারা নিজেদের পেশিশক্তির উপর ভরসা রাখে। যে দেশ অন্যের কাছ থেকে সাহায্য নিয়ে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাব্যবস্থাকে মজবুত করে, তারা দুর্বল। ভারতের উচিত বিদেশি শক্তির দিকে না ঝুঁকে প্রতিবেশী চীনের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে উন্নয়ন যজ্ঞে সামিল হওয়া।” চিনা সংবাদপত্রের দাবি, এমনিতেও চিনকে কেউ রুখতে পারবে না, কিন্তু ভারত ও চীন একজোট হলে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে তারা অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠবে।
কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী সুষমা স্বরাজের সঙ্গে টেলিফোনে মার্কিন সেক্রেটারি অফ স্টেট রেক্স টিলারসনের কথা হয়েছে সম্প্রতি। দুই দেশই একযোগে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ইস্যুতে গভীর সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে একে অপরকে। ভারতের এই পদক্ষেপই চীন ভালোভাবে নিচ্ছে না। চীনা সংবাদপত্র নয়াদিল্লিকে কার্যত সতর্ক করে জানিয়েছে, চীনা রেলপথ, বন্দর ও একাধিক বৃহৎ হাইড্রো-ইলেকট্রিক প্রকল্প ভারতের সীমান্ত ছুঁয়ে ফেলেছে। তাই এই সময় বেইজিংয়ের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ করার আগে দু’বার ভাবুক নয়াদিল্লি, কড়া বার্তা গ্লোবাল টাইমস-এর। চীনের উপদেশ, বেজিংয়ের বিরুদ্ধে না গিয়ে পাশে দাঁড়াক নয়াদিল্লি, তাহলেই দেশের মানুষ নিরাপদে থাকতে পারবেন।

টেলিফোনে আড়িপাতা প্রমাণে ট্রাম্পকে চ্যালেঞ্জ

যুক্তরাষ্ট্রে গত নির্বাচনী প্রচারণার সময়ে বারাক ওবামা টেলিফোনে আড়ি পেতেছিলেন বলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে অভিযোগ করেছেন, তা প্রমাণে রিপাবলিকান দলের এক শীর্ষ আইনপ্রনেতা রোববার তার প্রতি চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন। সিনেটর জন ম্যাককেইন সিএনএনের সাথে এক সাক্ষাতকারে এ চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন। ম্যাককেইন বলেন, ‘এক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টের দুটি পছন্দের যেকোন একটি বেছে নিতে হবে।
এক্ষেত্রে আমেরিকার নাগরিকদের দাবি অনুযায়ী হয় তাকে এ অভিযোগ প্রত্যাহার করে নিতে হবে, না হয় তার করা অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ দাখিল করতে হবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘আড়িপাতার ঘটনা সত্য এটা বিশ্বাস করার আমার কোন কারণ নেই। কিন্তু আমি মনে করি, মার্কিন প্রেসিডেন্ট এক মিনিটের মধ্যেই এটা স্পষ্ট করতে পারেন।’ এদিকে ওবামা তার এক মুখপাত্রের মাধ্যমে ট্রাম্পের এমন অভিযোগ প্রত্যাখান করেছেন। ওবামার জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক জেমস ক্লেপারও এক সাক্ষাতকারে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের গত নির্বাচনী প্রচারণায় ট্রাম্প বা তার প্রচারণা শিবিরের কোন সদস্যের টেলিফোনে আড়িপাতার ঘটনা ঘটেনি।

বিএনপি জঙ্গি জোট : হাছান মাহমুদ

বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটকে ‘জঙ্গি’ জোট হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ এমপি। তিনি বলেছেন, ‘যারা ২৫ মার্চ গণহত্যা চালিয়েছে বিএনপি তাদের সঙ্গে জোট বেঁধেছে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের খেলাফত মজলিসসহ অনেকেই আছে যারা আফগানিস্তান থেকে ট্রেনিংপ্রাপ্ত। এখানে শফিউল আলম প্রধানও আছেন। যিনি ১৯৭৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেভেন মার্ডারের প্রধান আসামি ছিলেন। বিএনপি জোট হচ্ছে জঙ্গি জোট। দুশমনের জোট। যারা দেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না।’ আজ সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবের মিলনায়তনে বাংলাদেশ স্বাধীনতা পরিষদ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। হাছান মাহমুদ বলেন, বিএনপি বলে তারা নাকি মুক্তিযুদ্ধের দল।
বিএনপি এমন মুক্তিযুদ্ধের দল যারা পাকিস্তানের গুপ্তচর হিসেবে কাজ করেছে। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর জিয়াউর রহমানরা স্বাধীনতার ইতিহাস মুছে ফেলতে চেয়েছে। জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতা ঘোষক বানানোর চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু ওই সময়ে যেসব চ্যানেল, পত্রিকা বঙ্গবন্ধুকে স্বাধীনতার ঘোষক লিখেছিল তা তো মুছে ফেলা যাবে না। আওয়ামী লীগের এই মুখপাত্র বলেন, আজকে নতুন প্রজন্ম নতুন করে স্বাধীনতা ইতিহাস জানার সুযোগ পেয়েছে। বিএনপির দিকে ইঙ্গিত করে হাছান মাহমুদ বলেন, আগামী ২৫ মার্চ জাতীয় গণহত্যা দিবস পালন করা হবে। যারা ২৫ মার্চ জাতীয় গণহত্যা দিবস পালন করবে না তারা জাতীয় বেঈমান হিসেবে চিহ্নিত হবে। সভায় সভাপতিত্ব করেন সবুজবাগ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক লায়ন চিত্ত রঞ্জন দাস।

রাজধানীর দোলাইরপাড় এলাকায় আসন্ন বর্ষায়ও জলাবদ্ধতার আশঙ্কা

রাজধানীর পূর্ব দোলাইরপাড় এলাকায় আসন্ন বর্ষায়ও জলাবদ্ধতার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। বর্ষা মওসুমের আর মাত্র এক মাস বাকি থাকলেও দোলাইরপাড়-কুতুবখালী খাল ও এলাকার স্যুয়ারেজ লাইন পরিষ্কার না হওয়ায় এ আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। চিরাচরিত জনভোগান্তি কমাতে তারা অবিলম্বে খাল-নালা পরিষ্কার ও রাস্তা সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন। সরেজমিন দেখা গেছে, পূর্ব দোলাইরপাড়-কুতুবখালী খালটি দুই রোডের কারণে সীমাবদ্ধ হয়ে গেছে। দক্ষিণ কুতুবখালী রোড পর্যন্ত গিয়ে খাল শেষ হয়ে গেছে। এরপর খাল রূপ নিয়েছে নালা বা ড্রেনে। পানিপ্রবাহ না থাকায় ময়লা জমাট বেঁধে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। আগাছা ও কচুরিপানায় ভরে গেছে। যেটুকু খাল টিকে আছে তা দুই পাশ ঢালাই দিয়ে সীমাবদ্ধ করে ফেলা হয়েছে। কিন্তু এর পরও দখল থেমে নেই। দোলাইরপাড় ঢাল থেকে ওয়াসার পানির পাম্প পর্যন্ত অংশে সড়কের পাশ ঘেঁষে মাটি ফেলে ভরাট করে তার ওপর দোকান তৈরি করা হয়েছে। এ ছাড়া খালের ওপর বেশ কিছু নিচু কালভার্টও নির্মাণ করা হয়েছে। এলাকাবাসী জানান, খালটিতে ময়লা জমে থাকায় পানিপ্রবাহ ঠিক থাকে না। এ ছাড়া এলাকার স্যুয়ারেজ লাইনও ঠিকমতো পরিষ্কার করা হয় না। এ কারণে বর্ষার সময় সড়কসহ আশপাশের এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। আসন্ন বর্ষায়ও পূর্ব দোলাইরপাড় সড়কসহ আশপাশের এলাকায় জলাবদ্ধতার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় দোকান মালিকেরা জানান, বর্ষায় নোংরা পানি থেকে বাঁচতে দোকানের সামনে ছোট দেয়াল নির্মাণ করতে হয়। তার পরও ভারী বৃষ্টি হলে বা দ্রুত গতিতে যানবাহন যাওয়ার ফলে সৃষ্ট ঢেউয়ে পানি উপচে দোকানের ভেতর চলে আসে। সড়কে পানি জমে থাকায় ক্রেতা কমে ব্যবসায়ও মন্দা দেখা দেয়। খন্দকার আহসানুল হক এহসান নামে এক এলাকাবাসী বলেন, ১৫-২০ বছর ধরে এলাকাবাসী জলাবদ্ধতার সমস্যায় ভুগছে। খালটি ভরাট হয়ে থাকায় পানি ঠিকমতো অপসারণ হয় না। এ জন্য ভারী বৃষ্টি হলেই খাল উপচে নোংরা পানি সড়কে চলে আসে। মাসের পর মাস জলাবদ্ধতা দেখা দেয়।
তিনি বলেন, গত বছর প্রধান সড়কসহ এলাকার অলিগলিতে পানি জমে যায়। তখন ঘর থেকে বের হওয়া কিংবা বাসায় ফিরতে হতো নোংরা পানি মাড়িয়ে। বৃষ্টি হলে সড়কে পানির উচ্চতা বেড়ে এলাকাবাসীর ভোগান্তিও বেড়ে যেত। এভাবে প্রায় তিন মাস ধরে এলাকাবাসীকে জলাবদ্ধতার সমস্যায় ভুগতে হয়েছে। নোংরা পানির মধ্য দিয়ে চলতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার পাশাপাশি নানা রোগব্যাধিতেও ভুগতে হয় বলে তিনি জানান। এলাকার বাসিন্দা আসলাম খান বলেন, লোকজন খালে ময়লা ফেলে ভরাট করে ফেলায় পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এ কারণে পানি যেতে পারে না। বৃষ্টি হলে তখন ভোগান্তি মারাত্মক হারে বেড়ে যায়। সড়কে হাঁটুপানি জমে যায়। এর মধ্য দিয়ে রিকশা ছাড়া চলা যায় না। স্কুলের ছেলেমেয়েরা পানির মধ্য দিয়ে হেঁটে যেতে বাধ্য হয়। তখন অনেকে গর্তে পড়ে আহত হয়। আবার অনেক সময় রিকশাও উল্টে যায়। তিনি জানান, খালটি ছয় মাস আগে একবার পরিষ্কার করা হয়েছিল। কিন্তু আবার ভরাট হয়ে গেছে। আসলাম খান বলেন, পূর্ব দোলাইরপাড় রাস্তাটি ভেঙে গেছে। রড বের হয়ে গেছে। এর মধ্য দিয়ে চলতে গিয়ে প্র্য়াই দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় কমিউিনিটি পুলিশের সভাপতি এ এন এম নুরুল হুদা বলেন, খালটির মালিকানা নিয়ে দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে। আগে পানি উন্নয়ন বোর্ড খালটির মালিক ছিল। এখন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। কিন্তু সিটি করপোরেশন বলছে তারা নাকি খালটি বুঝে পাননি। এখন আমরা কার কাছে যাব? তিনি বলেন, গত বছর বর্ষায় এলাকাবাসীকে অনেক ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। এ বছর খালটি পরিষ্কার না করলে আবারো ভোগান্তিতে পড়তে হবে। এলাকার ড্রেন-স্যুয়ারেজ লাইনও ঠিকমতো পরিষ্কার না করায় ময়লা উপচে পড়ছে বলে তিনি জানান।

নেশার টাকার জন্য মা ও প্রতিবেশীকে কুপিয়ে হত্যা

টাঙ্গাইলে নেশার টাকা না পেয়ে মা ও প্রতিবেশীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে এক যুবক। আজ সোমবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে মধুপুরের আউশনারা ইউনিয়নের কৈয়াপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত দুজন হলেন মিনারা (৪৮) ও তাঁর প্রতিবেশী আকবর আলী (৫২)। পুলিশ এ ঘটনায় মিরাজ (২৮) নামের ওই যুবককে আটক করেছে। স্থানীয়রা জানান, নিহত মিনারার ছেলে মিরাজ মাদকাসক্ত। সকালে মায়ের কাছে নেশার টাকা চায় সে।
টাকা না দেওয়ায় মাকে দা দিয়ে কোপাতে শুরু করে। এ সময় প্রতিবেশী আকবর বাধা দিতে এলে তাঁকেও কোপাতে শুরু করে মিরাজ। এতে ঘটনাস্থলেই মিনারা ও আকবরের মৃত্যু হয়। এ সময় মিরাজ দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে স্থানীয়রা তাকে ধরে পুলিশে সোপর্দ করেন। মধুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুজনের লাশ উদ্ধার করে। ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে লাশ দুটি পাঠানো হয়েছে। ওসি জানান, এ ঘটনায় মিরাজকে আটক করা হয়েছে। এ ছাড়া জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার বাবা আলী ও বড় ভাই আলামিনকে থানায় নেয়া হয়েছে।

কলা ও পেঁপে বাগান কেটে শত্রুতার প্রতিশোধ!

মাগুরা সদর উপজেলার চাঁনপুর গ্রামে আব্দুর রাজ্জাক ও আব্দুর রফিক মাষ্টারের কলা ও পেঁপে বাগানের ১ হাজার গাছ কেটে ১৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শত্রুতার বশবর্তী হয়ে গতকাল রোববার দিবাগত রাতে কে বা কারা কলা ও পেঁপে বাগানের ১ হাজার গাছ কেটে ফেলে রেখে যায়। বাগানে রোপণ করা সব গাছের মাঝ বরাবর ধারালো অস্ত্র দিয়ে কেটে ফেলে রাখা হয়।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আব্দুর রাজ্জাক ও আব্দুর রফিক মাষ্টার জানান, মানুষের সাথে মানুষের মনোমালিন্য থাকতে পারে যা মীমাংসা হয়ে যায় কিন্তু গাছপালার সাথে এরকম শত্রুতা আগে কখনো দেখিনি। তাদের বাগানের গাছ কেটে ১৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। গ্রামের সামাজিক দলাদলিকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষরা তাদের এ ক্ষতি করেছে বলে তিনি দাবি করেন। এ ব্যাপারে মাগুরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মো: আজমল হুদা জানান, উপজেলার চাঁনপুর গ্রামে একটি কলা ও পেঁপে বাগানের গাছ কাটার সংবাদ পেয়েছি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ সংবাদ লেখা পর্যন্ত মামলার প্রস্তুতি চলছিল।

রাজশাহীতে গুলিতে ‘মাদক ব্যবসায়ী’ নিহত

রাজশাহী নগরের মতিহার থানা এলাকায় পুলিশের গুলিতে একজন নিহত হয়েছেন। নিহতের নাম আফজাল (৩২)। পুলিশের দাবী নিহত ব্যক্তি ‘মাদক ব্যবসায়ী।  রোববার দিবগত রাতে পুলিশের অভিযানের সময় সাতবাড়িয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী তাঁর লাশ উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ূন কবীরের ভাষ্য, দিবাগত রাত দেড়টার দিকে সাতবাড়িয়া এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে যায় পুলিশ। এ সময় আফজাল নামের এক মাদক ব্যবসায়ী পুলিশের ওপর হামলা চালান। আত্মরক্ষার্থে গুলি করে পুলিশ। এ ঘটনায় পুলিশের মতিহার জোনের সহকারী কমিশনারসহ তিনজন আহত হয়েছেন।

ধর্ষণের অভিযোগ করে হেনস্তার শিকার এক রোহিঙ্গা নারী

মিয়ানমারের সেনারা যখন গত অক্টোবরে রাখাইন রাজ্যে জঙ্গিদের তল্লাশি করছিল, তার ফল সেখানকার সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের জন্য ডেকে এনেছিল বড় ধরনের বিপর্যয়। গ্রাম পুড়িয়ে দেয়া হয়েছিল, মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল, নারীদের ধর্ষণ করা হয়েছিল। বিবিসির সংবাদদাতা জোনা ফিশারের প্রতিবেদন এখানে অনুবাদ করে দেয়া হলো। রাখাইনে ধর্ষণের শিকার এক মহিলা যখন ধর্ষণের অভিযোগ করেন তখন দেশটির নেত্রী অং সান সু চির দপ্তর থেকে বলা হয়েছিল, তিনি মিথ্যা বলছেন এবং প্রতিশোধপরায়ণ সেনারা তাকে হেনস্থা করেছিল। মাটিতে দুপা মুড়ে বসে ২৫ বছরের জামালিদা বেগম আমাকে বলছিলেন, উত্তর-পশ্চিম মিয়ানমারের পিয়াউং পায়েক গ্রামে তার স্বামীকে সেনারা গুলি করে মারার পরের দিনগুলোয় কী ঘটেছিল। জামালিদা তার দুই সন্তানকে নিয়ে পালিয়ে যান এবং দূরে দাঁড়িয়ে দেখেন সেনাবাহিনী গ্রামের বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দিচ্ছে। উপগ্রহে তোলা ছবিতে দেখা যায় অন্তত ৮৫টি বাড়ি পুড়ে গেছে। পাঁচদিন পরে কয়েকজন প্রতিবেশীকে নিয়ে তিনি ফিরে আসেন এবং দেখেন তার বাড়ি ও জিনিস সব নষ্ট হয়ে গেছে। যে অল্প কটি বাড়ি অক্ষত ছিল সেখানে তারা একসঙ্গে আশ্রয় নেন। কিন্তু পরের দিন ভোরে সেনারা ফিরে আসে। ‘ওরা ৩০ জন নারীকে বেছে নেয়। অর্ধেকের বয়স ১২ থেকে ১৫র মধ্যে,’- বলেন জামালিদা। সেনারা তাদের গ্রামের স্কুলে নিয়ে যায়। ‘এরপর ওই ৩০ জনের মধ্যে থেকে তারা চারজনকে বেছে নেয়,’ বলেন জামালিদা। ‘আমি আর তিনজন অল্পবয়সী মেয়ে। আমাদের আলাদা করে দেয়া হয়। সেনারা আমাকে স্কুলের পূর্ব দিকে পুকুরধারে নিয়ে যায়। অন্য সাতজন সেনা বাকি তিনজনকে স্কুলের দক্ষিণ দিকে পাহাড়ে নিয়ে যায়। ওরা চিৎকার করে আমাকে আমার শার্ট আর থামি (লুঙ্গি জাতীয় পোশাক) খুলতে বলে। আমি রাজি না হলে আমাকে মারতে শুরু করে, আমার জামা ধরে টেনে আমাকে মাটিতে ঠেলে ফেলে দেয়। তিনজন সেনা আমাকে এক ঘণ্টা ধরে ধর্ষণ ও অত্যাচার করে। আমাদের শরীরের নিচের অংশ রক্তে ভেসে যাচ্ছিল। আমার পায়ের পেশিতে টান ধরেছিল। ওরা আমার চোখে ঘুষি মেরে বলে, আমি ওদের দিকে তাকিয়ে আছি। আমার চোখে মারের চোটে কয়লার আগুনের মতো লাল হয়ে গিয়েছিল। আমাকে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে রেখে ওরা জিপে করে চলে যায়।’ গত বছর ৯ই অক্টোবর রোহিঙ্গা জঙ্গিরা মিয়ানমারের তিনটি পুলিশ চৌকিতে আক্রমণ চালানোর পর সেনাদের উত্তর রাখাইনে ‘নির্মূল অভিযানে’ পাঠানো হয়। ওই আক্রমণে নয়জন পুলিশ সদস্য মারা যায়। এরপর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ব্যাপক অভিযোগ ওঠে, যার মধ্যে ছিল ধর্ষণের বহু অভিযোগ। মিয়ানমারে মানবাধিকার নিয়ে দীর্ঘদিন আন্দোলন চালিয়ে আসা দেশটির নেত্রী অং সান সু চি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং জোর দিয়ে বলেন, সেনারা আইনের মধ্যে থেকেই কাজ করছে। একই সঙ্গে নিরপেক্ষ সাংবাদিক বা পর্যবেক্ষকদের সেখানে ঢুকতে বাধা দেয়া হয়।
তবে তীব্র প্রতিবাদের মুখে একটি তদন্তকারী দল গঠন করেন তিনি এবং ১১ই ডিসেম্বর তারা পিয়াউং পায়েক গ্রামে ঢোকে। ওই তদন্তকারী দলের একমাত্র মহিলা সদস্য ড. থে থে জিন, যিনি মিয়ানমারের মহিলাবিষয়ক ফেডারেশনের চেয়ারম্যান তার চাপে জামালিদা প্রথম দিকে রাজি না হলেও পরে কথা বলতে রাজি হন।
‘তিনি বলেন আমরা তোমার কোনো ক্ষতি করব না, ধর্ষিতা ও নির্যাতিতা নারীদের নিয়ে এসো,’ জানান জামালিদা। ‘আমি তাদের সবকিছু বলি, ওরা রেকর্ড করে।’ জামালিদার সঙ্গে তাদের কথোপকথন তদন্তকারী দল ভিডিও করে। এবং ওই ছবির সাত মিনিট অংশ টেলিভিশনে দেখানো হয়। অবিশ্বাস্য ছিল ওই ভিডিওচিত্র। জামালিদাকে যেভাবে অনুবাদক শাসাচ্ছিল শুধু সেটার কারণেই নয়, বার্মার রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম জামালিদা তার ভাষায় তদন্তকারীদের কী বলছে তা অনুবাদও করছিল না। তার বক্তব্য পুরো অনুবাদ করার পর এটা স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, সেখানে যে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছিল তার জোরালো তথ্য-প্রমাণ রয়েছে। ওই ছবিতে জামালিদা বলছে, সেনারা তিনটি মেয়েকে জঙ্গলের ভেতর নিয়ে যায়। অনুবাদক বলে, ‘ওই মেয়েদের যে ধর্ষণ করা হয়েছে কি না তা কি তুমি দেখেছো?’ ‘দেখিনি,’- ছিল জামালিদার উত্তর। ‘তাহলে সেটা সত্যি নয়,’ অনুবাদক চিৎকার করে ওঠে। ‘হ্যাঁ-ও বলা যায়, ‘না’-ও বলা যায়,’ বলে জামালিদা। ‘ওদের শরীরের এই অংশ দিয়ে রক্ত ঝরছিল,’ জামালিদা তার দুই পায়ের মাঝের অংশ দেখিয়ে বলে। ‘সেটা বলো না, সেটা বলো না, বলো না ওদের রক্তপাত হচ্ছিল, সোজা বলো ওদের ধর্ষণ করা হয়েছে তুমি দেখেছো কি না?‘  অনুবাদক উত্তর দেয়। এরপর অনুবাদক তদন্তকারীদের বলে, জামালিদা বলছে মহিলাদের ধর্ষিতা হতে সে দেখেনি। জামালিদাকে সরাসরি জিজ্ঞেস করা হয়, তাকে ধর্ষণ করা হয়েছিল কিনা। সে তদন্তকারীদের বলে সেনারা তাকে নিয়ে গিয়ে, তার কাপড়চোপড় খুলে ফেলে তাকে নির্যাতন করেছে। ‘সরাসরি ধর্ষণ করেনি।’ অনুবাদক বলে, ‘ওকে ধর্ষণ করা হয়নি।’ পরিস্থিতি এরপর জটিল হয়ে ওঠে। ১০ দিন পর আবার জামালিদার ছবি তোলা হয়। এবার পিয়াউং পায়েকের সরকারের পছন্দের কিছু সাংবাদিক ছবি তুলতে আসে। জামালিদাকে ডেকে আনা হয়। একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি করে জামালিদা। কেবল সেইবার সে বলে তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে। তার দুবারের কথার গরমিল সঙ্গে সঙ্গে তুলে ধরা হয় অং সান সু চির দপ্তর থেকে। তার দপ্তর থেকে সেই সময় জোরেসোরে দাবি করা হচ্ছিল রাখাইনে নৃশংসতার খবরগুলো সব ‘ভুয়া’। জামালিদাকে মিয়ানমারের টেলিভিশনে দেখানো হয় এবং তাকে মিথ্যাবাদী হিসেবে তুলে ধরা হয়। অং সান সু চির ফেসবুক পাতায় বড় ছবির ব্যানারে তার কাহিনিকে মিথ্যাচারের বড় উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়।
তাহলে সত্যটা কী?
আমি জামালিদার সঙ্গে কথা বলেছি। তার জবানবন্দি বিস্তারিত এবং বিশ্বাসযোগ্য। সাংবাদিক ও তদন্তকারীদের সে যা বলেছে তার মধ্যে মিল রয়েছে- শুধু ওই একটি তথ্য ছাড়া। আমার মনে হয়েছে সে সত্যি বলছে। আমি তাকে ওই গরমিল বিষয়ে জিজ্ঞেস করেছিলাম। সে জোর দিয়ে বলেছে, সরকারি তদন্তকারীকে সে ধর্ষণের কথাই বলেছিল। কিন্তু একজন অনুবাদক চিৎকার করছিল ও তাকে মারধরের হুমকি দিচ্ছিল। ‘ওরা সবাইকে বলেছে, আমাদের ধর্ষণ করা হয়নি, নির্যাতন করা হয়নি। আমাদের দেশে ন্যায়বিচার বলে কিছু নেই,’- বলেছেন জামালিদা। থে থে জিন যে বলেছিলেন মুখ খোলার জন্য কাউকে শাস্তি দেয়া হবে না, তা ছিল শুধু ফাঁকা বুলি। সেনারা জামালিদাকে খুঁজতে এসেছিল যখন, তখন সে ভিন গ্রামে পালিয়ে গিয়েছিল। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার পর জামালিদা বুঝতে পারে সেখানেও সে নিরাপদ নয়। ‘সেনারা সব মহিলাকে উঠোনে জড়ো করেছিল আমাকে খুঁজে বের করার জন্য, আমার ছবি দেখাচ্ছিল সবাইকে। ভয়ে আমি জঙ্গলে লুকিয়েছিলাম,’ জামালিদা জানায়। দিনের পর দিন পালিয়ে বেড়ানো সহ্য করতে না পেরে জামালিদা নাফ নদী পার হয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে যায়। আমি থে থে জিনের সঙ্গেও কথা বলেছি। তিনি বলেছিলেন জামালিদার সঙ্গে কথা বলার কথা তার মনে নেই। সেনারা হয়তো তাকে খুঁজছিল, কিন্তু সেটা তাকে সুরক্ষা দেয়ার জন্য হয়রানি করার জন্য নয়।

দিনে হকার রাতে ছিনতাইকারী মাদকসেবীর দখলে

নিরাপদে রাস্তা পারাপার ও সড়ক দুর্ঘটনা এড়াতে নির্মিত ফুটওভার ব্রিজে পথচারীদের তেমন আগ্রহ নেই। ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার না করে ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পারাপারের জন্য অনেক পথচারীকে গুনতে হয়েছে জরিমানা। তারপরও ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার হচ্ছে হাজার হাজার পথচারী। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ ১২৯টি জায়গায় ফুটওভার ব্রিজ থাকার কথা থাকলেও আছে মাত্র ৮৭টি। তার মধ্যে কিছু ওভারব্রিজ আবর্জনা, ধুলা, মলমূত্রে সয়লাব। এমনকি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পোস্টার সরকারি বিভিন্ন অফিসের ব্যানার পোস্টারে ঢেকে আছে গোটা ব্রিজ। এ সুযোগে ভেতরে ঘটে নানা অপ্রীতিকর ঘটনা। বাকিগুলো দিনের বেলা হকার, পকেটমার আর রাতের বেলা মাদকসেবী, ছিনতাইকারী ও পতিতাদের দখলে থাকে। এদিকে সড়ক নিরাপত্তার জন্য নগরীর চারশ’ মোড়ে জেব্রা ক্রসিং থাকার কথা কিন্তু এর অধিকাংশেরই সাদা দাগ উঠে গেছে। ফলে জেব্রা ক্রসিং চিহ্নিত স্থানগুলোও অরক্ষিত। সরেজমিন, রাজধানীর, তেজগাঁও, ফার্মগেট, কাওরানবাজার, বাংলামোটর, পরীবাগ, শাহ্‌বাগ, মতিঝিল, রাজারবাগ, কাকলী, নিউ মার্কেট, সায়েন্স ল্যাবরেটরি, আসাদগেট, কলেজগেট, কল্যাণপুর, ধানমন্ডি, পান্থপথসহ আরো কিছু এলাকার ফুটওভার ব্রিজ ঘুরে উঠে এসেছে ভিন্ন ভিন্ন চিত্র।
নিউ মার্কেটের ওভারব্রিজে গিয়ে দেখা যায়, ব্রিজের দুইপাশ হকাররা তাদের পশরা নিয়ে দখল করে নির্বিঘ্নে ব্যবসা করছে। ফলে হাঁটা চলার রাস্তা ছোট হয়ে গেছে। ইডেন কলেজের শিক্ষার্থী সুমাইয়া বলেন, একদিকে হকার দখল করে আছে অপরদিকে মানুষের চাপ মেয়েরা অনেক কষ্ট করে চলতে হয়। ইমরান নামের এক হকার বলেন, ভাই আমরা কই যামু। ব্যবসা না করলে খামু ক্যামনে। এহানে বসলেও টাহা দিতে হয়। এমনি এমনিতো আর বহি না। ফার্মগেট ওভারব্রিজের হকারদের পুলিশ কিছুদিন পর পর উচ্ছেদ করে। কিন্তু উচ্ছেদ করে ফিরে যাওয়ার পর ফের দখলে নেয় হকার।  হকার বসার কারণে হাঁটাচলার রাস্তা সরু হয়ে যায়। পথচারীরা ধাক্কাধাক্কি করে ব্রিজ পার হয়। ভিড়ের মধ্যে পকেটমার নির্বিঘ্নে তাদের কাজ চালাতে পারে। তবে দিনে হকারের উৎপাত থাকলেও রাতের অবস্থা আরো ভয়ঙ্কর। রাতে ছিনতাইকারী, মাদকসেবী ও পতিতাদের দখলে থাকে পুরো ব্রিজটি। ফার্মগেটের আরেকটি ওভারব্রিজে গিয়ে দেখাযায়, এই ব্রিজ দিয়ে মানুষ তেমন চলাচল করে না। ময়লা আবর্জনা আর নোংরা।  ব্রিজের নিচ দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে পথচারীরা রাস্তা পারাপার হন। স্থানীয় এক ব্যবসায়ী বলেন, ব্রিজটি অনেক উঁচু হওয়ায় মানুষ চলাচল কম। তবে প্রায় সময় এখানে কিছু মানুষকে শুয়ে থাকতে দেখা যায় আর মানুষ চলাচল কম থাকার কারণে মাদকসেবীরা নিরাপদে মাদক সেবন করে। কাওরান বাজারের ব্রিজটিতে একটা সময় হকারদের খুব উৎপাত ছিলো। কিন্তু কিছুদিন ধরে এই উৎপাত বন্ধ হয়েছে। ব্রিজের নিচ দিয়ে পারাপারের ব্যবস্থা না থাকার কারণে এই ব্রিজ দিয়েই পথচারীদের আসা-যাওয়া করতে হয়। রাতের বেলা বখাটেদের আড্ডা মাদকতা চলে। বাংলামোটরের ব্রিজে কোনো হকার বসে না। তাই এই ব্রিজ দিয়ে সহজেই মানুষ চলাচল করতে পারে। তবে প্রায়ই ব্রিজের নিচ দিয়ে অনেকেই ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পারাপার হতে দেখা যায়। পান্থপথের ব্রিজটি গতবছর উদ্বোধন করা হয়। পথচারীরা কম চলাচল করলেও কমবয়সী ছেলে-মেয়েদের প্রায়ই আড্ডা দিতে দেখা যায়। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর থেকে বিভিন্ন জায়গা থেকে আগত  ছেলে-মেয়েরা এখানে আড্ডায় মেতে ওঠে। মতিঝিল আইডিয়াল স্কুলের সামনের ব্রিজটি স্কুলের শিক্ষক- শিক্ষিকা, ছাত্র-ছাত্রী অবিভাবকসহ পথচারীরা ব্যবহার করে। রাজারবাগের ব্রিজটি পথচারীরা বেশি ব্যবহার করেন না। ব্রিজের নিচ দিয়েই ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করেন। হাইকোর্ট থেকে বঙ্গবাজার যাওয়ার পথে একটি ওভারব্রিজ  চোখে পড়ে। পথচারী চলাচল না থাকার কারণে ব্রিজটিতে সারাদিন কিছু মানুষ শুয়ে থাকে। আর দিনের বেশির ভাগ সময়ই মাদকসেবীদের আনাগোনা। শাহ্‌বাগ শিশুপার্কের কাছের ওভার ব্রিজটিতে সবসময় ময়লা আবর্জনা লেগেই থাকে। ভাঙা কাঠ, কাগজ, পলিথিনসহ সব ধরনের আবর্জনাই  দেখা যায়। সেতুর নিচে ফুলের বাজার থাকার কারণে মালাগাঁথা, তোড়া বানানো হয় এখানে। এরপর অবশিষ্ট অংশ ফেলে রাখা হয় ব্রিজের সিঁড়িতে। জাদুঘরের সামনের ওভারব্রিজটিও নোংরা। সিগারেট, বিভিন্ন খাবারের মোড়ক, ধুলা-বালু নোংরা। পিজি হাসপাতাল ও বারডেম হাসপাতালের সামনের ব্রিজটিও প্রায় সময় হকারদের দখলে থাকে। ধানমন্ডির সাতমসজিদ সড়কের ওভারব্রিজটি সব সময় বিভিন্ন পোস্টার-ব্যানারে ঢাকা থাকে। বেশির ভাগই বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান বা রাজনৈতিক দলের।  সেতুর ওপর মলমূত্রে সয়লাব। দুর্গন্ধে নাক চেপে হাঁটতে হয়। ব্রিজটিতে ছিন্নমূল শিশুদের আনাগোনা বেশি। আসাদগেটের ওভারব্রিজটির ব্যবহার কম। দারুসসালামের ওভার ব্রিজটি দেখতে সুন্দর হলেও পথচারীরা কম চলাচল করে। মাদকসেবী আর ছিন্নমূলরাই এখানে শুয়ে-বসে আড্ডা মেরে সময় পার করে।
এছাড়া নগরীর অনেক গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় ফুটওভার ব্রিজ না থাকার কারণে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে পথচারীদের। নগরীর গুলিস্তান মোড়, বাড্ডা লিংক রোড, বনশ্রী মোড়, বনানী কামাল আতাতুর্ক এভিনিউ, রূপসী বাংলা হোটেল সংলগ্ন প্রধান সড়ক, দৈনিক বাংলার মোড়, কাকরাইল বিজয় সরণি, গুলশান-১ ও ২, পুরানা পল্টন, টিএসসি  মোড়, সোনারগাঁও মোড়ে ঝুঁকি নিয়ে পথচারীরা রাস্তা পার হচ্ছেন। এ সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ত সড়ক। বিভিন্ন মিডিয়া অফিস, ব্যাংক, হোটেল, শপিং মলসহ অন্য বাণিজ্যিক ভবন এখানে অবস্থিত। অথচ পথচারীদের জন্য এখানে কোনো ফুটওভার ব্রিজের ব্যবস্থা নেই। একটি আন্ডারপাস থাকলেও সেটি অনেক দূরে। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি স্থান রূপসী বাংলার মোড়ে কোনো ফুটওভার ব্রিজ নেই। ফলে এখানেও ঝুঁকি নিয়েই পথচারীদের রাস্তা পার হতে দেখা যায়। বিমানবন্দর-কুড়িল বিশ্ব রোডের অবস্থা আরো ভয়াবহ। এ সড়কে রাজধানী ও তার বাইরের বিভিন্ন বাস-গাড়ি সবসময় দ্রুত গতিতে চলাচল করে। কিন্তু এ সড়কে কোনো ফুটওভার ব্রিজ নেই। বিশেষ করে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে আসা রোগীদের প্রায়ই ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার হতে দেখা যায়। ফুটওভার ব্রিজে ময়লা আবর্জনার বিষয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) অতিরিক্ত প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা  লে. কর্নেল সেলিম মাহমুদ বলেন, সবক’টি ফুটওভারব্রিজ আমাদের অধীনে নয়। তবে আমাদের অধীনে থাকা ওভারব্রিজ রক্ষণাবেক্ষণ করছি।

ট্রাম্পের কাছে উত্তর চাইলেন জন ম্যাককেইন

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের ওপর আক্রমণ শাণিয়েছেন রিপাবলিকান দলের প্রভাবশালী নেতা জন ম্যাককেইন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সদ্য বিদায়ী প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার বিরুদ্ধে সম্প্রতি অভিযোগ এনেছেন। বলেছেন, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে নিউ ইয়র্কে তার ট্রাম্প টাওয়ারের ফোনে আড়ি পেতেছিলেন বারাক ওবামা। এ বিষয়ে প্রমাণ হাজির করতে ট্রাম্পের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জন ম্যাককেইন। তিনি বলেছেন, যদি প্রমাণ দিতে না পারেন তাহলে অভিযোগ প্রত্যাহার করুন। উল্লেখ্য, সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার বিরুদ্ধে ওই অভিযোগ আনলেও এ সংক্রান্ত কোনো প্রমাণ এখন পর্যন্ত দেন নি ডনাল্ড ট্রাম্প। এ অভিযোগ তদন্তের জন্য কংগ্রেসের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে হোয়াইট হাউজ। কংগ্রেসের হাউজ ইন্টেলিজেন্স কমিটি তদন্ত করতে সম্মত হয়েছে এবং একই সঙ্গে তারা এ সংক্রান্ত কোনো তথ্য প্রমাণ থাকলে তা সোমবারের মধ্যে সরবরাহ করতে আহ্বান জানিয়েছে হোয়াইট হাউজকে। সিএনএন’কে জন ম্যাককেইন বলেছেন, বিষয়টি অনেক আগেই সহজে সমাধান করতে পারতেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি আরও বলেন, (ট্রাম্পের) অভিযোগ সত্য এমনটা বিশ্বাস করার কোনো কারণ আমি দেখি না। তবে আমি বিশ্বাস করি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট এ বিষয়টি এক মিনিটের মধ্যে শেষ করে দিতে পারতেন। তিনি যা করতে পারতেন তাহলো ফোনটি তুলে তিনি কল করতে পারতেন সিআইএ পরিচালক, জাতীয় গোয়েন্দা বিষয়ক পরিচালককে। বলতে পারতেনÑ যা ঘটে গেছে, তা সব ঠিক আছে। এখন প্রেসিডেন্টের সামনে দুটি পথ খোলা আছে। তার একটিকে তার বেছে নিতে হবে। তা হলো হয়তো অভিযোগ প্রত্যাহার করতে হবে, না হয় প্রমাণ সরবরাহ করতে হবে। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা এ বিষয়টি জানার অধিকার রাখেন। উল্লেখ্য, জন ম্যাককেইন রিপাবলিকান দলের শীর্ষ স্থানীয় একজন নেতা। তিনি এর আগে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করে পরাজিত হয়েছিলেন বারাক ওবামার কাছে। কিন্তু বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে তার সম্পর্ক কঠিন অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণাকালে তার সম্পর্কে মন্তব্য করেন ট্রাম্প। ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় সেখানে ৫ বছর জেল খাটেন জন ম্যাককেইন। সে প্রসঙ্গ তুলে ধরে ট্রাম্প বলেছিলেন, জন ম্যাককেইনকে একমাত্র হিরো হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কারণ, তিনি ধরা পড়েছিলেন। এ কথার মধ্য দিয়ে ম্যাককেইনকে একরকম খোঁচা দেয়ার চেষ্টা করেছিলেন ট্রাম্প। ট্রাম্পের প্রচারণা দলের সঙ্গে রাশিয়ার কূটনীতিক বা গোয়েন্দাদের সম্পর্কের বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন জন ম্যাককেইন। তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। জন ম্যাককেইন বলেছিলেন, রাশিয়া ও ভøাদিমির পুতিনের সঙ্গে এই সম্পর্ক নিয়ে অনেক বিষয় আছে। এগুলোতে অধিকতর নজর দিতে হবে। আমি মনে করি যুক্তরাষ্ট্রের মানুষ এ বিষয়ে তাদের সব উত্তর পেয়েছে।

কবে ব্রেক্সিট প্রক্রিয়া শুরু!

শুধু ইউরোপ নয়, বিশ্ব কাঁপিয়ে দেয়া ব্রেক্সিট বিষয়ক লিসবন চুক্তির ৫০ অনুচ্ছেদ কবে নাগাদ সক্রিয় হচ্ছে তা নিয়ে রয়েছে নানা জল্পনা। বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মার্চ মাস শেষ হয়ে যাওয়ার আগেই তিনি ৫০ অনুচ্ছেদ সক্রিয় করবেন। তবে সুনির্দিষ্ট কোনো দিনক্ষণ তিনি ঘোষণা করেন নি। ওদিকে বিভিন্ন সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে বৃটিশ মিডিয়া বলছে, আজ সোমবার হাউজ অব কমন্সে এ সংক্রান্ত একটি বিল উত্থাপন করা হবে। বিলটি অনুমোদন করলে তা উত্থাপন করা হবে হাউজ অব লর্ডসে। ফলে মঙ্গলবার তিনি অনুচ্ছেদ ৫০ সক্রিয় করতে পারেন। তবে অনলাইন স্কাই নিউজ সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছে, এ সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে’র ব্রেক্সিট বিষয়ক বিল সক্রিয় করার সম্ভাবনা ৫০/৫০। স্কাই নিউজের সিনিয়র পলিটিক্যাল করেসপন্ডেন্ট বেথ রিগবি লিখেছেন, আজ সোমবার ইউরোপীয় ইউনিয়ন ত্যাগের আনুষ্ঠানিক সমঝোতা প্রক্রিয়ার আইনী বিষয় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে পার্লামেন্টে একটি মাইলস্টোন স্থাপন করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। পার্লামেন্টে বিলটি পাস হলে বৃটেনের ‘ব্রেক্সিট সড়ক’ উন্মুক্ত হয়ে যাবে। ব্রেক্সিট বিষয়ক মন্ত্রী ডেভিড ডেভিস এমপিদের উৎসাহিত করেছেন, ব্রেক্সিট বিষয়ক বিলকে অপরিবর্তিত রাখার পক্ষে ভোট দিতে, যদিও হাউজ অব লর্ডস এ বিলে দুটি সংশোধনী এনেছে। এ বিলটির নাম দেয়া হয়েছে, ইইউ নোটিফিকেশন অব উইথড্রয়াল বিল। হাউজ অব লর্ডসের দুটি সংশোধনী সহ বিলটি আজ সোমবার হাউজ অব কমন্সে তোলা হচ্ছে। ওই দুটি সংশোধনীতে বৃটেনে বসবাসরত ইউরোপীয় ইউনিয়নের নাগরিকদের জন্য সুরক্ষা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। দ্বিতীয় সংশোধনীতে চূড়ান্ত বিচ্ছেদের বিষয়ে পার্লামেন্টকে অর্থপূর্ণ একটি ভোট করার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু সরকারের বিরোধিতা বা এ বিলের ওপর ভোট দান থেকে কনজার্ভেটিভ দলের অল্প কয়েকজন সদস্য রয়েছেন হাউজ অব লর্ডসে। এর অর্থ প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে’র জন্য সামনের পথ খোলা। অর্থাৎ বিলটি সংশোধনী ছাড়াই পার্লামেন্টের নিন্মকক্ষ গ্রহণ করতে পারে। ওদিকে হাউজ অব লর্ডসে লেবার সূত্রগুলো বলেছেন, সোমবার এ বিলটি পার্লামেন্টের উচ্চ কক্ষ থেকে পাস হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে শতকরা ৮০ থেকে ৯০ ভাগ। দৃশ্যত আজ রাতেই প্রধানমন্ত্রী অনুচ্ছেদ ৫০ সক্রিয় করার ক্ষমতা হাতে পাচ্ছেন। তাহলে তিনি তা কখন সক্রিয় করছেন? সরকারের এক সূত্র ও ব্রেক্সিট সমর্থক স্কাই নিউজকে বলেছেন, তারা বিশ্বাস করেন এ সপ্তাহে অনুচ্ছেদ ৫০ সক্রিয় করার সম্ভাবনা ৫০/৫০। ওদিকে ১৫ই মার্চ নেদারল্যান্ডসে নির্বাচন। স্কটল্যান্ডের ন্যাশনালিস্ট পার্টির বসন্তকালীন সম্মেলন সামনেই। এসব কারণে কিছুটা বিলম্বিতও হতে পারে তেরেসার ব্রেক্সিট ইস্যু। যদি প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে আগামী বুধবার নেদারল্যান্ডসে নির্বাচনের পূর্ব মুহূর্তে অনুচ্ছেদ ৫০ সক্রিয় করেন তাহলে তাতে কূটনৈতিক হতাশা সৃষ্টি হতে পারে। মনে করা হতে পারে, নেদারল্যান্ডসের নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করছে বৃটেন। ব্রেক্সিটের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান দেশটির উগ্র ডানপন্থি দল পার্টি ফর ফ্রিডম নেতা গির্ট উইলডার্স। নির্বাচনী প্রচারের সময় তিনি এ উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন। ফলে যদি মঙ্গলবার নির্বাচনের আগের দিন অনুচ্ছেদ ৫০ সক্রিয় করা হয় তাহলে ধরে নেয়া হতে পারে যে, বৃটেন তাকে সহযোগিতা করছে। এ ছাড়া স্কটল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার নিকোলা স্টার্জেনকে নিয়ে উদ্বেগে আছেন তেরেসা মে। নিকোলা স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতা প্রশ্নে দ্বিতীয় গণভোটের দাবি তুলেছেন। শনিবার এসএনপির বসন্তকালীন সম্মেলন। তার আগে যদি অনুচ্ছেদ ৫০ সক্রিয় করা হয় তাহলে নাজুক পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। কারণ, পুরো দলকে তখন একসঙ্গে পাবেন নিকোলা। তিনি সম্মেলন থেকে কঠোর কোনো অবস্থান নিতে পারেন। তাই এসব ইভেন্টে রশদ যোগাতে চাইছেন না তেরেসা মে। যদি তা-ই না হয় তাহলে অনুচ্ছেদ ৫০ সক্রিয় করা বিলম্বিত হতে পারে।

তুরস্ক-ইউরোপ টান টান উত্তেজনা, কঠোর প্রতিশোধের হুমকি

তুরস্ক ও ইউরোপীয় কয়েকটি দেশের মধ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে। এর ফলে জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, অস্ট্রিয়ার সঙ্গে তুরস্কের সৃষ্টি হয়েছে মারাত্মক কূটনৈতিক সঙ্কট। তা দিনকে দিন তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হচ্ছে দেশগুলোর নেতাদের মধ্যে। সৃষ্ট উত্তেজনা নিরসনের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। নেদারল্যান্ডসে তুরস্কের  প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগানের সমর্থনে বের করা বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ জলকামান ব্যবহার করেছে। রটারডাম শহরে তুরস্কের কনসুলেটে প্রবেশের চেষ্টা করায় তুরস্কের একজন মন্ত্রীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এর জবাবে আঙ্কারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে কঠোর প্রতিশোধ নেয়ার হুমকি দিয়েছে। তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিম কঠোর পরিণতির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। ডাচ রাষ্ট্রদূত ও সিনিয়র কূটনীতিকদের বাসা সিল করে দেয়া হয়েছে। নিরাপত্তার অজুহাতে এমনটা করা হয়েছে। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কালুসোগলুকে বহনকারী বিমান নেদারল্যান্ডে অবতরণের অনুমতি না দেয়ায় এ উত্তেজনার সূচনা। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি ও দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট। তুরস্কে প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগানের ক্ষমতা আরও বাড়ানো নিয়ে যে গণভোট আয়োজন করা হয়েছে তাতে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে তুরস্ক ইউরোপের বিভিন্ন দেশে প্রচারণা চালানোর উদ্যোগ নেয়। এমনই একটি র‌্যালিতে যোগ দিতে নেদারল্যান্ডসে গিয়েছিলেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। কিন্তু তাকে অবতরণ করতে দেয়া হয় নি। এর ফলে কঠোর প্রতিশোধ নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে তুরস্ক। এর আগে জার্মানিও একই রকম পদক্ষেপ গ্রহণ করে। এর ফলে তুরস্ক কূটনৈতিক নিয়ম ভেঙে প্রতিশোধ নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এর কড়া সমালোচনা করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারা। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগান জার্মানি ও নেদারল্যান্ডসকে নাৎসী বলে আখ্যায়িত করেছেন। এর জবাবে ডাচ প্রধানমন্ত্রী মার্ক রুত্তি বলেছেন, এমন মন্তব্য অগ্রহণযোগ্য। জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, তিনি আশা করেন তুরস্কের চেতনা ফিরবে। ডেনমার্কের নেতারা বলেছেন, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগানের সঙ্গে তাদের পূর্ব পরিকল্পিত বৈঠক স্থগিত করা হয়েছে। উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী লার্স লোকে রাসমুসেন। তিনি বলেছেন, কূটনৈতিক মূলনীতি প্রচ- চাপে রয়েছে তুরস্কে। এরদোগানের সঙ্গে বৈঠক স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছেন তিনিই। বলেছেন, হল্যান্ডের বিরুদ্ধে তুরস্ক বর্তমানে যেভাবে আক্রমণাত্মক কথা বলছে বৈঠক বাতিল তার থেকে ভিন্ন কিছু নয়। উল্লেখ্য, তুরস্কের গণভোট বিষয়ে র‌্যালি নিরাপত্তার অজুহাতে নিজ নিজ দেশে বন্ধ করেছেন জার্মানি, অস্ট্রিয়া ও নেদারল্যান্ডস। তবে এমন র‌্যালি হয়েছে ফ্রান্সে। নেদারল্যান্ডের রটারডামে সপ্তাহান্তে তুরস্কের দু’জন মন্ত্রীর দুটি সমাবেশে যোগ দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু তাদের একজনকে এসকর্ট করে নিয়ে যাওয়া হয় জার্মান সিমান্তে। তার পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বহনকারী বিমান অবতরণ করতে দেয়া হয় নি। এ ঘটনায় নেদারল্যান্ডসকে ‘ব্যানানা রিপাবলিক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন প্রেসিডেন্ট এরদোগান। এ জন্য তিনি নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে অবরোধ দেয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি পশ্চিমা দেশগুলোকে ইসলাম বিরোধী বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি এক র‌্যালিতে বলেন, এর আগে আমি বলেছিলাম আমি মনে করি নাৎসীবাদ শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু আমি ভুল ভেবেছিলাম। এখনও পশ্চিমে জীবিত আছে নাৎসীবাদ। তার এ বক্তব্যের কারণে রোববার ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ডাচ প্রধানমন্ত্রী রুত্তি। নিজের দেশ সম্পর্কে তিনি বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসীরা এ দেশের ওপর বোমা হামলা করেছিল। তুরস্ক যেভাবে কথা বলছে তা পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য। তুরস্ক যদি তার বর্তমান অবস্থান অব্যাহত রাখে তাহলে নেদারল্যান্ডস তার পদক্ষেপ সম্পর্কে বিবেচনা করবে। ওদিকে জার্মানির মন্ত্রীরাও তুরস্কের বিরুদ্ধে কড়া জবাব দিয়েছেন। জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মারকেল বলেছেন, জার্মানিতে আয়োজিত র‌্যালিতে তুরস্কের মন্ত্রীদের যোগদানের বিরোধী নয় তার সকার। কিন্তু তার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টমাস ডি মেইজিয়েরে বলেছেন, জার্মানিতে তুরস্কের রাজনৈতিক সমাবেশের বিরোধী তিনি। তিনি বলেন, তুরস্কের রাজনৈতিক প্রচারণার কোন ক্ষেত্র নেই জার্মানিতে। জার্মানির অর্থমন্ত্রী উলফগ্যাং শোয়েবল বলেছেন, সহযোগিতার আরো অগ্রগতির ভিত্তি ধ্বংস করে দিয়েছে তুরস্কে। খবর পাওয়া যায়, সুইডেনের রাজধানী স্কটহোমেও এরদোগানপন্থিরা রোববার র‌্যালি আয়োজন করেছিল। কিন্তু তা বাতিল করা হয়। সেখানে যোগ দেয়ার কথা ছিল তুরস্কের কৃষি মন্ত্রীর। সুইডেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, তুরস্কের অভ্যন্তরীন বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে জড়িত নয় সুইডেন।  উল্লেখ্য, তুরস্কের বৃহৎ বিরোধী দল সিএইচপি’র নেতা কামাল কিলিকদারোগলু অভিযোগ করেছেন, প্রেসিডেন্টে ক্ষমতা বাড়ানো নিয়ে আয়োজিত এ গণভোট অবশ্যই সুষ্ঠু হতে যাচ্ছে না। আমরা জানতে পেরেছি এরদোগানপন্থি মিডিয়া সম্প্রচার নীতি অবলম্বন করছে। তাতে বিরোধী দলকে একেবারেই বাইরে রাখা হয়েছে।

অগাধ ক্ষমতার মালিক হবেন এরদোগান!

তুরস্ক সংসদীয় গণতন্ত্র থেকে প্রেসিডেন্ট শাসিত প্রজাতন্ত্রে ফিরতে চায়। এক্ষেত্রে জনগণের ইচ্ছা জানতে আগামী ১৬ই এপ্রিল সেখানে গণভোট আয়োজন করা হয়েছে। ওই নির্বাচনে যদি ‘হ্যাঁ’ ভোট সফল হয় তাহলে একচ্ছত্র ক্ষমতার মালিক হবেন প্রেসিডেন্ট। ফলে তিনিই তার মন্ত্রীদের নিয়োগ, বাজেট প্রস্তুত করবেন তিনি বা অনুমোদন দেবেন। নিজেই নিয়োগ করবেন বেশির ভাগ সিনিয়র বিচারক। ডিক্রি জারির মধ্য দিয়ে আইন জারি করবেন। এখানেই শেষ নয়। প্রেসিডেন্ট কারো পরামর্শ না নিয়েই, নিজে নিজেই জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে পারবেন। পারবেন পার্লামেন্ট ভেঙে দিতে। ফলে প্রেসিডেন্ট হবেন অগাধ ক্ষমতার মালিক। তুরস্কের প্রায় ৫৫ লাখ মানুষ দেশের বাইরে অবস্থান করেন। এর মধ্যে শুধু জার্মানিতেই রয়েছেন ১৪ লাখ বৈধ ভোটার। তাই এসব ভোটারকে ‘হ্যাঁ’ ভোটের দিকে ধাবিত করার জন্য প্রচারণা চালাচ্ছে সরকার। জার্মানি, অস্ট্রিয়া ও নেদারল্যান্ডসে অবস্থান করছেন তুরস্কের বহু ভোটার। তাদের কাছ থেকে ভোট পাওয়ার জন্য অনেক র‌্যালি আয়োজন করেছে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগানপন্থিরা। কিন্তু ইউরোপের এ দেশগুলো নিরাপত্তা হুমকির অজুহাতে সেই র‌্যালি করতে দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। এ নিয়েই ইউরোপের সঙ্গে তুরস্কের বিরোধ। জার্মানি, নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে বিরোধ যখন তুঙ্গে তখন অস্ট্রিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান কুর্জ বলেছেন, তার দেশে র‌্যালি করার জন্য এরদোগানকে স্বাগত জানানো হবে না। কারণ, এতে সংঘাত বাড়তে পারে। ঐক্য নষ্ট হতে পারে। ওদিকে গত বছর জুলাইয়ে তুরস্কে ব্যার্থ সামরিক অভ্যুত্থান চেষ্টা হয়। তার জবাবে তুরস্ক যে পদক্ষেপ নিয়েছে তাতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইউরোপীয় দেশগুলো। ওই অভ্যুত্থান চেষ্টার পর তুরস্ক সরকার প্রায় এক লাখ সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীকে তাদের পদ থেকে সরিয়ে দেয়। গণগ্রেপ্তার চালায়। এর বিরুদ্ধে সবচেয়ে সমালোচনা শাণায় জার্মানি।

‘আমরাও দেখবো আপনাদের বিমান কি করে তুরস্কে অবতরণ করে’

নেদারল্যান্ড ও তুরস্কের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে কূটনৈতিক উত্তেজনা। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কালুসোগলুকে বহনকারী বিমান শনিবার নেদারল্যান্ডসের রটারড্যামে অবতরণের অনুমতি দেয়া হয় নি। এ নিয়ে এ উত্তেজনার সূচনা। নেদারল্যান্ডের এ কর্মকান্ডের সমালোচনায় সেদেশের সরকারকে নাৎসী সরকার বলে অভিহিত করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়্যিপ এরদোগান। একই সঙ্গে তিনি পাল্টা পদক্ষেপ নেয়ারও ঘোষণা দিয়েছেন। উল্লেখ্য, এরদোগানের ক্ষমতা বর্ধিত করার পক্ষে আয়োজিত একটি র‌্যালির আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত নেদারল্যান্ড সফরে যান। কিন্তু শনিবার তার সঙ্গে নেদারল্যান্ড সরকার যে আচরণ করেছে তার কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছেন এরদোগান। তিনি ইস্তাম্বুলে সমর্থকদের উদ্দেশ্যে এক বক্তব্যে এমন তৎপরতাকে নাৎসী সরকারের সঙ্গে তুলনা করেন তিনি। কয়েকদিন আগে তুরস্কের সঙ্গে ঠিক একই রকম আচরণ করেছিল। তারাও তুরস্কের বিমান অবতরণের অনুমতি দেয় নি। এর জবাবে বিপুল সংখ্যক সমর্থকের সমাবেশে এরদোগান বলেন, আপনারা আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে থামিয়ে দিতে পারেন। যা খুশি তাই করতে পারেন। এখন আমরাও দেখবো আপনাদের বিমান কি করে তুরস্কে অবতরণ করে। তিনি ওইসব সরকারের সমালোচনা করে বলেন, তারা রাজনীতি বা আন্তর্জাতিক কূটনীতি জানে না। তারা নাৎসী সরকার। তারা ফ্যাসিস্ট। উল্লেখ্য, তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় ডাচ দূতাবাসের কাছে প্রতিবাদ জানাতে সমবেত হন কয়েক শত প্রতিবাদকারী। এ সময় তারা তুরস্ক ও অটোম্যান পতাকা নাড়াতে থাকে বাতাসে। ডাচ বিরোধী স্লোগান দিতে থাকে। কেউ বা ডিম ছোড়ে দূতাবাস লক্ষ্য করে। ন্যাটোর এই অংশীদারের সঙ্গে উত্তেজনা বৃদ্ধির ফলে তুর্কি কর্তৃপক্ষ ডাচ কনসুলেট, রাষ্ট্রদূতের বাসভবন, দূতাবাস প্রধান, কনসুলার জেনারেলের অফিস বন্ধ করে দিয়েছে। এর জবাব দিয়েছেন ডাচ প্রধানমন্ত্রী। তিনি তুরস্কের এমন প্রচারণাকে ‘ক্রেজি’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেছেন, আমি বুঝতে পারছি তারা ক্ষুব্ধ। কিন্তু নিয়ম মতো এটাই হওয়ার কথা ছিল। তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিমান অবতরণে অনুমতি না দেয়া সম্পর্কে ডাচ সরকারের একজন মুখপাত্র বলেছেন, জন শৃংখলা ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ থাকার কারণে ওই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু গ্রহণযোগ্য সমাধানের জন্য নিয়ম রক্ষার ডাকে সাড়া দেয় নি আঙ্কারা।

মারফতি মামা by শামীমুল হক



এ এক মারফতি শক্তি। আপদে-বিপদে, চলনে-বলনে, কাজে-কর্মে, অফিস-আদালতে, রাস্তা-ঘাটে, হাট-বাজারে, গাড়ি-ঘোড়ায়, আকাশে-বাতাসে সর্বত্র এ শক্তির প্রভাব। পান থেকে চুন খসলেও সেখানে তার কেরামতি। কঠিন বিষয়কে সহজ করে নেয়া, সহজ বিষয়কে আবার কঠিনে পরিণত করাও তার মামুলি ব্যাপার। সব ঝক্কি- ঝামেলা তার কাছে মামুলি বলেই হয়তো তিনি সবার কাছে ‘মামা’। এক সময় দালাল, এরপর লাইন, জ্যাক কিংবা লিঙ্ক নানা নামে পরিচিত ছিল। এখন সবকিছুকে ছাপিয়ে সবার কাছে ‘মামা’ হয়ে উঠেছে তারা। কে না জানে মামার শক্তির কথা? সমাজের আগা থেকে গোড়া, উপর থেকে নিচ, অভিজাত থেকে নিম্নশ্রেণি সবার কাছে পরিচিত এই মামা। কোথায় নেই তাদের প্রভাব? চাকরির বাজার, ভালো পোস্টিং, অফিসের ফাইল ছাড়ানো, বাস-ট্রেনের টিকিট, ডাক্তারের সিরিয়াল নেয়া, হাসপাতালে সিট বরাদ্দ, থানা থেকে ছাড়িয়ে আনা, কারাগারে ভালো থাকা? সবই সম্ভব মামার কাছে। শুধু কি তাই? না! আরো আছে। ভালো স্কুলে ভর্তি, মহাসড়কে বাস নামানো? সড়কে নিরাপদে বাস চলা। সেখানেও প্রয়োজন মামার। বাড়ি বানাতে জমি কিনবেন? মামা না হলে সম্ভব নয়। আবার নতুন বাড়ি করতে গিয়ে বিদ্যুৎ, পানির লাইনের সংযোগ বন্ধ থাকে মামার অভাবে। মামার নাগাল পেলে সহজেই মেলে সব। কোনো কাজের ঠিকাদারি পেতে, আবার ঠিকাদারির বিল তুলতেও লাগে মামার প্রয়োজন। সংঘর্ষে আহত হয়েছে কেউ, কিংবা প্রতিপক্ষ আঘাত করেছে। মামলা করতে প্রয়োজন ডাক্তারি সার্টিফিকেট। এখানেও লাগবে মামা। ইদানীং বাসা বাড়িতে কাজের বুয়া পেতেও লাগে মামা। রাজনৈতিক দলের পদ-পদবি পেতেও মামার ভূমিকা সবার আগে। নেশার জগতেও থাবা মেলেছে সেই মামারা। ইয়াবা, ফেনসিডিল নির্বিঘ্নে পৌঁছে দিতে কাজ করছে মামা। প্রশাসনের সঙ্গে সখ্য রেখে কোনো কোনো মামা নিজের প্রভাব দেখাচ্ছে সমাজে। দেন-দরবার আর সালিশেও এখন মামার দাপট। বিয়ে-শাদিতেও মামার জুড়ি মেলা। দু’পক্ষকে এক করে দিতে চলে মামার নানা কসরৎ।  বিদেশে লোক পাঠাতে, ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে, থানায় জিডি করতে, বাজারে মাছ কুটতে বসে আছে মামা। ‘অ্যাই মামা, কইরা দেন। যা লাগে দিমুনে।’ এই দুটি বাক্যই যথেষ্ট। মামা হয়ে যায় আপন। মামা হয়ে যায় নিজের। দৌড় শুরু। কাজ সম্পন্ন। অবশ্য এ জন্য ডিল করতে হয়। নানা কাজের নানা রেট। কোটি থেকে লাখ, লাখ থেকে হাজার, হাজার থেকে শ’। যেখানে যা প্রয়োজন তাই নেবে মামা। বাড়ির বিদ্যুৎ, গ্যাস বিল বকেয়া? লাইন কেটে দিয়েছে? কোনো ব্যাপারই না। মামার দ্বারস্থ হলে সমাধান সহজ। একটু ব্যাখ্যা করে বললে, কারো চাকরির ইন্টারভিউর কার্ড এসেছে। সবার আগে খুঁজতে হয় মামা। মামা পেলে চাকরি হবে। তবে এর আগে চলবে দর কষাকষি। কথায় মিললে মিলবে চাকরি। কোনো কোনো চাকরির রেট ওঠে ৫ থেকে ১০ লাখ টাকা। ঈদ যাত্রায় আপনার বাস-ট্রেনের টিকিট প্রয়োজন। রেল বা বাসস্ট্যান্ডে গেলেই ঘিরে ধরবে মামা। উপরি পেলেই হাতে আসবে টিকিট। সরকারি হাসপাতালে সিট খালি নেই। কিন্তু মামার দেখা পেলে সহজেই মিলে যায় সিট। নামি চিকিৎসকের সিরিয়াল প্রয়োজন। দিনের পর দিন ঘুরেও সিরিয়াল পাওয়া ভার। কিন্তু যেই মাত্র মামার দেখা মেলে সঙ্গে সঙ্গে সিরিয়াল পকেটে। পুলিশ বেহুদা ধরে নিয়ে গেছে। থানায় আটক। ছাড়াতে হবে তাকে। থানার সামনে ওত পেতে আছে মামা। গেলেই ঘিরে ধরে। তারপর দরদাম। খুলে যায় হাজতখানার দরজা। প্রথম কারাগারে গিয়ে পড়তে হয় মামার কব্জায়। পুরাতন বন্দি ‘মেট’ নামধারী মামা কেনে নেবে আসামিকে। ওই আসামির ভালো থাকা না থাকা ওই মামার ইচ্ছার উপর। ইদানীং প্রশ্নপত্র ফাঁসেও শুরু হয়েছে মামার কারবার। রাজধানীর ১০টি স্কুলের বেশক’জন শিক্ষকের নাম ওঠে এসেছে তালিকায়। সবকিছু মিলিয়ে সমাজে এখন ‘মামা’ একটি অপরিহার্য নাম। অপরিহার্য অঙ্গ। আত্মীয়তার মামা নয়, মারফতি মামার প্রভাব গোটা সমাজে।

কঙ্গনার আপত্তি

যে কোনো বিষয় নিয়ে আলোচনায় থাকা একটা নিত্য অভ্যাসে পরিণত হয়েছে বলিউড অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাউতের জন্য। সাবেক প্রেমিক হৃতিক রোশনের সঙ্গে নানান ঝামেলা নিয়ে গত এক বছর যাবৎ আলোচনায় ছিলেন তিনি।  সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে শাহরুখ খানসহ বলিউডের তিন খানের সঙ্গে অভিনয় না করার কথা জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী। সেই সাক্ষাৎকারে কঙ্গনা বলেন, বলিউড বাদশার সঙ্গে অভিনয় করতে কে না চায়? কিন্তু আমি এমন কারো সঙ্গে কেন অভিনয় করব, যার বিপরীতে অভিনয় করলে কেউ আমাকে গুরুত্ব দেবে না।  খানদের সঙ্গে কোনোরকম তিক্ততা আছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে কঙ্গনা বলেন, না, তেমন কিছু নয়। আমির খান আমার সঙ্গে তার সিনেমা নিয়ে কথা বলেছেন। আমার মনোভাব সব সময় ব্যতিক্রম। কুইন মুক্তি পাওয়া পর্যন্ত খানদের বিপরীতে অভিনয় করতে চাইতাম। কিন্তু তনু ওয়েডস মনু মুক্তির পর আমি বুঝতে পারি, আমি প্রধান চরিত্র নই। এটা আমাকে রীতিমত হতাশ করেছে।