Tuesday, August 5, 2025

গাজার হাড্ডিসার জিম্মিদের ভিডিও, পশ্চিমাদের নিন্দা ও রেড ক্রসকে সম্পৃক্ত করার আহবান

হামাস গাজায় হাড্ডিসার হয়ে পড়া ইসরায়েলি জিম্মিদের ভিডিও প্রকাশের পর পশ্চিমা নেতারা এর তীব্র নিন্দা জানিয়ে জিম্মিদের কাছে রেড ক্রসকে যাওয়ার সুযোগ দেয়ার আহবান জানিয়েছেন।

যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড্যাভিড ল্যামি বলেছেন, 'প্রচারণার জন্য জিম্মিদের ছবি ব্যবহার বিরক্তিকর' এবং তাদের নিঃশর্তভাবে মুক্তি দেয়া উচিত।

'দ্য প্যালেস্টিনিয়ান ইসলামিক জিহাদ' রম ব্রাসলাভস্কির যে ভিডিও প্রকাশ করেছেন, তাতে তাকে খুবই হালকাপাতলা ও কাঁদতে দেখা গেছে। আর হামাস শনিবার প্রকাশ করেছে এভিয়াটার ডেভিডের ক্ষীনকায় ছবি।

২১ বছর বয়সী ব্রাসলাভকি এবং ২৪ বছর বয়সী ডেভিডকে ২০২৩ সালের সাতই অক্টোবর নোভা মিউজিক ফেস্টিভ্যাল থেকে জিম্মি করে এনেছিলো হামাস।

তবে, হামাস তা অস্বীকার করে বলেছে, গাজার ক্ষুধা সংকটের মধ্যে হামাস যোদ্ধা ও সেখানকার মানুষ যা খাচ্ছে জিম্মিরাও তাই খাচ্ছে।

মোট ২৫১ জন জিম্মির মধ্যে এখন ৪৯ জন জিম্মি গাজায় আছে বলে ইসরায়েল বলছে। তবে এর মধ্যে ২৭ জন মারা গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ভিডিওগুলো প্রকাশের পর প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ওই দুই জিম্মির পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলে গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

তিনি বলেছেন জিম্মিদের উদ্ধারে 'বিরতিহীনভাবে' সব প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

রবিবার নেতানিয়াহু ওই অঞ্চলের রেড ক্রস প্রধানের সাথেও কথা বলেছেন। তিনি জিম্মিদের কাছে খাদ্য ও স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছানোর অনুরোধ করেছেন।

রেড ক্রস বলেছে, জীবন বিপন্ন হওয়ার মতো পরিস্থিতিতে যেভাবে জিম্মিদের রাখা হয়েছে সেই ভিডিও দেখে তারা আতঙ্কিত।

সংস্থাটি জিম্মিদের কাছে যাওয়ার সুযোগ দেয়ার জন্য আহবান জানিয়েছে।

হামাসের সশস্ত্র শাখা আল-কাশেম ব্রিগেড বলেছে গাজায় মানবিক করিডর নিয়মিত ও স্থায়ী ভিত্তিতে খুলে দেয়া হলে এবং সাহায্য নেয়ার সময় হামলা বন্ধ হলে জিম্মিদের কাছে রেড ক্রসের খাবার ও ঔষধ সরবরাহের অনুরোধকে তারা ইতিবাচকভাবেই দেখবে।

যুদ্ধের সময়ে রেড ক্রসের ভূমিকার জন্য ইসরায়েলে সংস্থাটিকে ব্যাপক সমালোচনা শুনতে হয়েছে। বলা হয়েছে, গাজায় থাকা জিম্মিদের পাশে দাঁড়াতে সংস্থাটি ব্যর্থ হয়েছে।

চলতি বছরের শুরুতে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যকার চুক্তির অংশ হিসেবে জিম্মিদের মুক্তির সময় নৈরাজ্যময় পরিস্থিতি নিয়ে তৈরি হওয়া ক্ষোভের মধ্যে সংস্থাটি তাদের সীমাবদ্ধতা ব্যাখ্যা করেছিলো।

তারা বলেছিলো, সংঘাতময় এলাকায় তাদের সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করতে হয়।

সমালোচনা আছে ফিলিস্তিনেও কারণ সংস্থাটিকে ২০২৩ সালের সাতই অক্টোবরের পর থেকে যেসব ফিলিস্তিনিকে ইসরায়েলের কারাগারগুলোতে রাখা হয়েছে তাদের সাথে সাক্ষাতের অনুমতি দেয়া হয়নি।

এদিকে, তেল আভিভে সপ্তাহান্তে জিম্মিদের পরিবারের সদস্যরাসহ বিক্ষোভকারীরা জমায়েত হয়ে জিম্মিদের মুক্তি নিশ্চিতের জন্য ইসরায়েলি সরকারের প্রতি আহবান জানিয়েছে।

ডেভিড ও ব্রাসলাভস্কির পরিবার শনিবার ওই সমাবেশে বলেছে 'ওই নরকে থাকা প্রত্যেককে এখনি বের করে নিয়ে আসা উচিত'।

এক ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে ব্রাসলাভস্কি কাঁদছেন ও বলছেন যে তার খাবার ও পানি ফুরিয়ে আসছে।

তিনি বলছেন যে তিনি দাঁড়াতে বা হাঁটতে পারছেন না এবং 'তিনি এখন মৃত্যুর দরজায়'।

তার পরিবার এক বিবৃতিতে বলেছে, তাদের ছেলেকে ফিরিয়ে আনতে তারা ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কাছে আবেদন করছে।

দ্বিতীয় ভিডিওতে ডেভিড বলছেন 'আমি কয়েকদিন ধরে খেতে পারছি না....মাঝে মধ্যে খাবার পানি পাচ্ছি"।

তাকে সেখানে মাটি খুঁড়তে দেখা যাচ্ছে। তিনি বলছেন যে, তিনি তার নিজের কবর খুঁড়ছেন।

তার পরিবার বলছে, হামাসের টানেলে তাকে ইচ্ছাকৃত অনাহারে রাখা হয়েছে- তিনি এখন জীবন্ত কঙ্কাল, জীবন্ত কবর দেয়া হচ্ছে।

জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মেৎস বলেছেন, ছবিগুলো দেখে তিনি আতঙ্কিত বোধ করছেন।

তিনি বলছেন যে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতির বাধ্যতামূলক পূর্বশর্ত হলো সব জিম্মির মুক্তি।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাঁক্র বলেছেন হামাস চরম নিষ্ঠুরতার প্রতীক। তিনি বলেছেন, জিম্মিদের মুক্তি, যুদ্ধবিরতি এবং গাজায় মানবিক সহায়তার জন্য ফ্রান্স অব্যাহতভাবে কাজ করছে।

ফ্রান্স, কানাডা ও যুক্তরাজ্য সম্প্রতি ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতির ইচ্ছে প্রকাশ করেছে। ইসরায়েলর এর তীব্র নিন্দা করেছে।

জাতিসংঘ সংস্থাগুলো গাজায় দুর্ভিক্ষের ভয়াবহ চিত্র বিরাজ করছে বলে আগেই বলেছে।

তারা অপুষ্টি ও মৃত্যুর তথ্য দিচ্ছে নিয়মিত। এর মধ্যেই গাজায় জিম্মিদের ভিডিও প্রকাশ হলো।

হামাস অপুষ্টিতে ৯৩ শিশুসহ ১৭৫ জনের মৃত্যুর তথ্য দিয়েছে।

জাতিসংঘ ও ইসরায়েলের কিছু সহযোগী গাজায় অনাহারের জন্য ইসরায়েলি বিধিনিষেধকেই দায়ী করেছে। ইসরায়েল অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বরং এজন্য হামাসকে দায়ী করছে।

ব্যাপক প্রমাণ সত্ত্বেও ইসরায়েল কর্তৃপক্ষ ও দেশটির সংবাদমাধ্যমের একাংশ গাজায় অনাহারের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।

তবে ইসরায়েলেও প্রতিবাদকারীরা ক্ষীণকায় শিশুদের ছবি প্রদর্শন করে হামাসের সাথে চুক্তির দাবি জানিয়েছে। তবে অনেক ইসরায়েলিই সেখানকার জরুরি পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত নয়।

যুদ্ধ চলছে, ইসরায়েলের ওপর চাপ বাড়ছে। জনমত জরিপগুলোতে দেখা যাচ্ছে বিশ্বজুড়ে জনমত ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বৃদ্ধি পাচ্ছে যা দেশটির নেতাদের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে।

হামাসের প্রকাশ করা ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে এভিয়াটার ডেভিড গাজার টানেলে
হামাসের প্রকাশ করা ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে এভিয়াটার ডেভিড গাজার টানেলে

আল-আকসা মসজিদ চত্বরে প্রার্থনা ইসরায়েলি কট্টরপন্থী মন্ত্রীর

নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইসরায়েলের কট্টরপন্থী নেতা ও জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গভির আল-আকসা মসজিদ চত্বরে প্রকাশ্য প্রার্থনায় নেতৃত্ব দিয়েছেন। গত রোববার কয়েক শ ইহুদি বসতিস্থাপনকারী তাঁর সঙ্গে প্রার্থনায় অংশ নেয়। তাঁরা কড়া পুলিশি পাহারায় উচ্চস্বরে ইহুদি রীতি অনুযায়ী প্রার্থনা করেন। এ সময় তাঁরা মুসলিমদের উসকানি দেওয়ার চেষ্টা করেন।

মিডল ইস্ট আই এ ঘটনার বেশ কিছু ভিডিও দেখেছে। ভিডিওতে শত শত বসতিস্থাপনকারীকে আল-আকসা মসজিদ চত্বরে অনুপ্রবেশ করতে দেখা গেছে। এ সময় কিছু লোককে নাচতে ও হৈহুল্লোড় করতে দেখা যায়। এ ধরনের কর্মকাণ্ড মসজিদের পবিত্রতা লঙ্ঘন করে।

ইসরায়েলের দখলে থাকা পূর্ব জেরুজালেমের ওল্ড সিটিতে আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে ইহুদি ধর্মাবলম্বীদের প্রার্থনায় নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে মেনে আসা হচ্ছিল। যদিও ইহুদি গোষ্ঠীগুলো গত শতকে বারবার এই ভঙ্গুর ব্যবস্থাপনা লঙ্ঘন করেছে। শুধু তাই নয়, ইসলাম ধর্মের অন্যতম পবিত্র স্থানটির ওপর নজিরবিহীন হামলা চালিয়েছে তারা।

জেরুজালেমের ওল্ড সিটির বাসিন্দারা জানান, বেন গভির আসার আগে ও পরে পুরো এলাকাটিকে ‘একটি সামরিক ঘাঁটির’ মতো মনে হচ্ছিল। সেখানে অসংখ্য তল্লাশিচৌকি বসানো হয়। ইসরায়েলি সেনারা নিরাপত্তাব্যবস্থা ব্যাপকভাবে জোরদার করেছিল।
স্থানীয় বাসিন্দারা আরও জানান, বেন গভিরের পরিদর্শনের সময় ইসরায়েলি বাহিনী ফিলিস্তিনিদের মসজিদে প্রবেশ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করে। শুধু অল্পসংখ্যক স্থানীয় বাসিন্দাকে ওই স্থানে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়।

পরিদর্শনের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় বেন গভির বলেন, ‘টেম্পল মাউন্ট ইহুদিদের জন্য। আমরা চিরদিন এখানে থাকব।’

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারের মন্ত্রী হওয়ার পর থেকে বেন গভির অন্তত ১১ বার আল-আকসা মসজিদ চত্বরে অনুপ্রবেশ করেন। এদিকে বেশ কয়েকজন কট্টর ডানপন্থী রাজনীতিবিদ আল-আকসা ধ্বংস করে সেখানে একটি ইহুদি উপাসনালয় নির্মাণের পক্ষে মত দিয়েছেন। তাদের দাবি অনুযায়ী, সেখানে একসময় ইহুদি উপাসনালয় ছিল।

রোববার আল আকসা পরিদর্শনের সময় ডানপন্থী লিকুদ পার্টির আইনপ্রণেতা আমিত হালেভিও উপস্থিত ছিলেন। তিনি গাজায় পানি, খাদ্য ও জ্বালানির সব উৎস ধ্বংস করতে বারবার ইসরায়েল সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আসছেন।

ইসরায়েলের কট্টরপন্থী নেতা ও জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গভির আল-আকসা মসজিদ চত্বরে প্রার্থনা করেছেন। ০৩ আগস্ট
ইসরায়েলের কট্টরপন্থী নেতা ও জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গভির আল-আকসা মসজিদ চত্বরে প্রার্থনা করেছেন। ০৩ আগস্ট। ছবি: এএফপি

শর্তসাপেক্ষে জিম্মিদের কাছে খাদ্য সহায়তা পৌঁছাতে দেবে হামাস

গাজায় আটক জিম্মিদের কাছে খাদ্য সহায়তা পৌঁছাতে দেয়া হবে বলে জানিয়েছে হামাস। তবে এক্ষেত্রে ইসরাইলকে একাধিক শর্তপূরণ করতে হবে। উপত্যকার মানুষের ওপর নির্বিচারে তারা যে হামলা চালাচ্ছে তা  বন্ধ রাখতে হবে।

রোববার এক বিবৃতিতে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকমী সংগঠনটি জানিয়েছে, তারা রেড ক্রসের সঙ্গে যৌথ সহায়তায় জিম্মিদের কাছে খাদ্য সহায়তা পৌঁছাতে রাজি, তবে ইসরাইলকে কিছু শর্ত মেনে নিতে হবে। সম্প্রতি গাজার একটি টানেলে হাড্ডিসার জিম্মির ভিডিও প্রকাশের পর পশ্চিমা নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং রেড ক্রসের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

হামাসের তরফে বলা হয়েছে, গাজায় মানবিক সহায়তা প্রবেশের সকল রুট খুলে দিয়ে ইসরাইলকে তাদের হামলা বন্ধ করতে হবে। জিম্মিদের কাছে খাদ্য পৌঁছানোর সময় তেল আবিবকে এ শর্ত মানতে হবে বলে জোর দিয়েছে সংগঠনটি।

ইসরাইলের তথ্যমতে, গাজায় এখনও ৫০ জন জিম্মি আটক রয়েছেন। যাদের ২০ জন বেঁচে আছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জিম্মিদের সঙ্গে কোনো মানবাধিকার সংস্থার যোগাযোগ বন্ধ রেখেছে হামাস। এছাড়া পরিবারগুলোও জিম্মিদের সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য জানে না।

শনিবার ইভিয়াতার ডেভিড নামের এক জিম্মির ভিডিও প্রকাশ করেছে হামাস। এ নিয়ে জিম্মিদের দুটি ভিডিও প্রকাশ করলো সংগঠনটি। সম্প্রতি প্রকাশিত ভিডিওতে ডেভিডকে হাড্ডিসার অবস্থায় দেখা গেছে। তাকে বলতে শোনা যায় যে তিনি তার কবরে অবস্থান করছেন। সেসময় তিনি দুহাতে ক্যামেরা ধরে ছিলেন। 

mzamin

আল-আকসায় ইসরাইলি মন্ত্রীর প্রার্থনা মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা উসকে দিয়েছে

ইসরাইলের কট্টর ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়কমন্ত্রী ইতামার বেন-গভির জেরুজালেমের একটি পবিত্র স্থানে প্রকাশ্যে ইহুদিদের প্রার্থনায় অংশ নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার আগুনে ঘি ঢেলেছেন। মুসলিমদের কাছে হারাম আল-শরিফ (আল-আকসা প্রাঙ্গণ) এবং ইহুদিদের কাছে টেম্পল মাউন্ট নামে পরিচিত এ স্থানে দশকের পর দশক ধরে চলা এক চুক্তিকে লঙ্ঘন করেছেন তিনি। ছবি ও ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, বেন-গভির ইহুদিদের প্রার্থনার নেতৃত্ব দিচ্ছে, যদিও ঐতিহাসিক ‘স্ট্যাটাস ক্যু’ অনুযায়ী, ইহুদিদের এ স্থান পরিদর্শনের অনুমতি থাকলেও প্রার্থনার অনুমতি নেই। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।

ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর এক বিবৃতিতে বলেছে, ইসরাইলের নীতিতে কোনো পরিবর্তন আসেনি এবং মুসলমানদের উপাসনার অধিকার সংরক্ষিত আছে। ঐতিহাসিকভাবে এ স্থানটির তত্ত্বাবধায়কের ভূমিকায় রয়েছে জর্ডান। বেন-গভিরের এই পদক্ষেপকে গ্রহণযোগ্য নয় বলে আখ্যা দিয়েছে জর্ডান। হামাস বলেছে, এটি ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে চলমান আগ্রাসনের গভীরতা আরও বাড়িয়েছে। ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের মুখপাত্র বলেছেন, এই সফর সকল রকমের সীমা অতিক্রম করেছে। এই স্থানটি মুসলমানদের জন্য তৃতীয় পবিত্রতম এবং ইহুদিদের কাছে সবচেয়ে পবিত্র।

মুসলমানদের বিশ্বাস অনুযায়ী, এখান থেকেই মহানবী মুহাম্মদ (সা.) মিরাজে গমন করেছিলেন। অন্যদিকে, ইহুদি ধর্ম মতে, এখানেই প্রাচীন দুটি বাইবেলিক উপাসনালয় (টেম্পল) অবস্থিত ছিল। ১৯৬৭ সালের মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে ইসরাইল জর্ডানের কাছ থেকে পূর্ব জেরুজালেম দখল করে নেয়। পরে চুক্তি অনুযায়ী, জর্ডানকে এই পবিত্র স্থানটির ধর্মীয় তত্ত্বাবধায়কের মর্যাদা দেয়া হয়। আর ইসরাইল নিয়ন্ত্রণ রাখে নিরাপত্তা ও প্রবেশাধিকার। তবে ফিলিস্তিনিরা অভিযোগ করে আসছে, ইসরাইল সময়ের সাথে সাথে ‘স্ট্যাটাস ক্যু’ চুক্তি ভাঙছে এবং ইহুদি পর্যটকরা প্রার্থনা করলেও তাদের থামায় না পুলিশ। ওয়াকফ- যেটি ইসলামিক এনডোমেন্ট হিসেবে স্থানটি পরিচালনা করে- জানিয়েছে, রোববার সকালে বেন-গভিরসহ ১২৫০ জন ইহুদি এই প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে।

টাইমস অব ইসরাইলের তথ্যমতে, বেন-গভির আগেও এখানে এসেছে। কিন্তু এবারই প্রথম প্রকাশ্যে প্রার্থনায় অংশ নিয়েছে। তিনি পুলিশের পাহারায় পুরো প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখেন। সাংবাদিকদের সঙ্গে দেয়া বিবৃতিতে বেন-গভির বলেছে, হামাস সম্প্রতি মুক্তিপ্রাপ্ত জিম্মিদের যে ‘ভয়াবহ’ ভিডিও প্রকাশ করেছে, তা ইসরাইলের ওপর চাপ তৈরির কৌশল। তিনি আবারও দাবি করেন, গাজা উপত্যকার পুরো অংশ দখল করে নিতে হবে এবং সেখানে ফিলিস্তিনিদের স্বেচ্ছা প্রস্থান উৎসাহিত করতে হবে। মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি আসলে সাধারণ মানুষের জোরপূর্বক স্থানচ্যুতির সমান, যা আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী যুদ্ধাপরাধের পর্যায়ে পড়ে।

mzamin