Saturday, January 18, 2025

যেভাবে মাদ্রাসা নিয়ন্ত্রণ করতো আওয়ামী লীগ সরকার by পিয়াস সরকার

দেশের মাদ্রাসাগুলোর নিয়ন্ত্রণ হাতে রাখতে মরিয়া ছিল আওয়ামী লীগ সরকার।  মাদ্রাসাগুলোর নিয়ন্ত্রণ রাখতে শেখ হাসিনা দাপট দেখিয়েছেন চতুর্দিক থেকে। আবার উল্টোদিকে মাদ্রাসা ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের উন্নয়নের গাল-গপ্পো ঝেড়েছেন। প্রায়শই শিক্ষার্থীদের উগ্র সন্ত্রাসবাদীর ট্যাগ দিতেন। নিজ বলয়ে মাদ্রাসাগুলোকে রেখে বাগিয়ে নিয়েছিলেন ‘কওমি জননী’ খেতাব। নানামুখী উন্নয়নের কথা বললেও মূলত মাদ্রাসাগুলোকে রেখেছিলেন চাপের মুখে। শিক্ষার মানে উন্নয়ন না করলেও নজর ছিল স্থাপনা নির্মাণে। বেতনের জন্য দীর্ঘ আন্দোলন করেও সুখবর পাননি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী শিক্ষকরা। মাদ্রাসাগুলোতে বন্ধ রাখা হয়েছিল জাতীয়করণ, এমপিওভুক্তি, মিড ডে মিল ও উপবৃত্তিও।

মাদ্রাসা শিক্ষার মানে গুরুত্ব না থাকলেও আওয়ামী লীগ সরকার অবকাঠামোগত উন্নয়নে ছিল সজাগ। শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাবসহ করা হয়েছে নতুন নতুন ভবন নির্মাণ। প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা খরচ করে সারা দেশব্যাপী ১ হাজার ৮০০ মাদ্রাসা ভবন নির্মাণ করা হয়। মাদ্রাসার নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানগুলোতে বসানো হয় নিজ বলয়ের লোকজন। সারা দেশে নির্মিত ৫৬৪টি মডেল মসজিদে লোকবল নিয়োগের ক্ষেত্রেও ছিল আওয়ামী মনা লোক। আওয়ামী লীগ সরকারের কথামতো চলায় পুরস্কারও পেয়েছেন অনেকেই। খবর চাউর হয়েছিল সরকারের সঙ্গে অলিখিত সমঝোতায় পৌঁছেছে হেফাজতে ইসলাম। অলিখিত ও অঘোষিত কিছু শর্তে একমত হয়েছে উভয়পক্ষ। এদিকে সমঝোতার অংশ হিসেবে হেফাজতের আমীর আল্লামা শাহ আহমদ শফী পরিচালিত হাটহাজারী মাদ্রাসা লিজ পাচ্ছে ৪০ কোটি টাকা মূল্যের তিন একর জমি। তবে বিশাল এই প্রাপ্তির বিনিময়ে হেফাজত নেতারা অঙ্গীকার করেছেন তারা আর বর্তমান সরকারের বিরোধিতা করে কোনো আন্দোলন করবেন না। পাশাপাশি হেফাজত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী দায়ের হওয়া মামলাগুলোর ব্যাপারে নমনীয় হবে সরকার। যদিও বিষয়টি বরাবরই অস্বীকার করে এসেছে হেফাজত। হেফাজতে ইসলামের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুল হক বলেছিলেন, যে জমি পাওয়ার কথা বলা হচ্ছে তা অনেক আগে থেকেই হাটহাজারী মাদ্রাসার দখলে আছে। সরকারের সঙ্গে সমঝোতার কারণেই এই জমি মাদ্রাসা লিজ পাচ্ছে, তা সঠিক নয়।

করোনার পর মাদ্রাসা শিক্ষার ওপর ব্যাপক গুরুত্ব বৃদ্ধি পায়। সরকারের অসহযোগিতাপূর্ণ আচরণ ও নেতিবাচক প্রভাবের পরও বেড়েছে মাদ্রাসা শিক্ষার হার। বিশেষ করে প্রাথমিক পরবর্তী শেষ কয়েক বছরে শিক্ষার্থী বেড়েছে বেশি। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো’র (বিবিএস) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। মার্চে প্রকাশিত বিবিএস’র তথ্য অনুযায়ী, ৩ বছরের ব্যবধানে ধর্মীয় শিক্ষার হার বেড়েছে ২ দশমিক ৩১ শতাংশ। অন্যদিকে সাধারণ শিক্ষার প্রতি ২ দশমিক ২৫ শতাংশ মানুষের আগ্রহ কমেছে। ৩ লাখ ৮ হাজার ৩২টি পরিবারের ওপরে সমীক্ষা চালিয়ে ‘বাংলাদেশ স্যাম্পল ভাইটাল স্ট্যাটিসটিক্‌?স-২০২৩’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২১ সালে সাধারণ শিক্ষার হার ছিল ৯৩ দশমিক ২৭ শতাংশ, ২০২৩ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৯১ দশমিক ০২ শতাংশে। ২০২১ সালে ধর্মীয় শিক্ষার হার ছিল ৪ দশমিক ৯৮ শতাংশ, ২০২৩ সালে তা বেড়ে হয়েছে ৭ দশমিক ২৯ শতাংশ।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ৪ বছরে মাদ্রাসায় প্রাথমিক পরবর্তী শ্রেণিগুলোতে শিক্ষার্থী বেড়েছে আড়াই লাখেরও বেশি। তবে এই তথ্যে উঠে আসেনি আলিয়া মাদ্রাসাগুলোর চিত্র। আবার চলতি বছর প্রকাশিত বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) করা ‘বাংলাদেশ শিক্ষা পরিসংখ্যান-২০২৩’ এর প্রতিবেদন অনুযায়ী ৪ বছরের ব্যবধানে দেশের মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে ১০ লাখের বেশি শিক্ষার্থী কমেছে। তবে একই সময়ে কারিগরি, মাদ্রাসা ও ইংরেজি মাধ্যমে শিক্ষার্থী বেড়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে মাদ্রাসাগুলোতে শিক্ষার্থী ২৭ লাখ ৫৮ হাজারের বেশি। এরমধ্যে ছাত্রী প্রায় ৫৪ শতাংশ।

দিনাজপুর সদরের প্রত্যন্ত এলাকার শিক্ষার্থীদের নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন শ্যামল কান্তি সিংহ রায়। গ্রাম বিকাশ কেন্দ্র প্রকল্পের প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর শ্যামল বলেন, ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা অধিকাংশই কৃষি শ্রমিক। এখন শ্রমিকদের সংখ্যা বাড়ছে সেইসঙ্গে কাজ কমে আসছে। আবার কৃষিতে টেকনোলজি আসার কারণেও কাজের হারটা কমছে। শিক্ষার্থীরা এখন নতুন করে যুক্ত হচ্ছে অন্য পেশায়। আর যারা শিক্ষায় থাকছে তারা স্বল্প ব্যয়ের কারণে মাদ্রাসায় যাচ্ছে। আবার অনেক মাদ্রাসায় কোনো খরচ তো লাগছেই না। উল্টো পোশাক, পরিপাটি থাকার জায়গা মিলছে। নিয়মিত ভালো খাবারের নিশ্চয়তা পাচ্ছে।

কুড়িগ্রাম জেলায় নাগেশ্বরী উপজেলায় দরিদ্র শিক্ষার্থীদের নিয়ে কাজ করেন আহসান হাবিব। তিনি বলেন, এমন শিক্ষার্থী আছে যাদের একটা খাতা কেনার মানে বিশাল ব্যাপার। একটা খাতার জন্য অভিভাবকদের কাছে আবদার করতে হয়। অনেক শিক্ষার্থী আছে যারা প্রাথমিকের পরই মানে কর্মক্ষম হওয়ার পরই কাজে যোগ দেয়। কারণ দিনব্যাপী কাজ করলে তার সে ১০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত পায়। তিনি বলেন, অনেক পরিবার আছে যাদের নিজের আয়ে সংসার চলে কিন্তু ছেলে-মেয়েকে লেখাপড়া করানোর ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও খরচ করতে পারেন না। এসব শিক্ষার্থীরা মাদ্রাসায় যাচ্ছে সেখানে তাদের কোনো খরচ করতে হচ্ছে না। বিশেষ করে খাবারের চিন্তা করতে হচ্ছে না।

গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, করোনাকালীন সময়ে আমরা দেখেছি প্রতিবেদনে ৪টি শঙ্কা প্রকাশ করেছিলাম। আমরা বলেছিলাম শিক্ষার্থীরা ঝরে পড়বে, বাল্যবিবাহ বাড়বে, শিশুশ্রম ও অপুষ্টি বাড়বে। এই ৪টি আশঙ্কাই সত্যি প্রমাণিত হয়েছে। মাদ্রাসাগুলো অধিকাংশই লিল্লাহ বোডিং। শিক্ষার্থীরা প্রায় বিনামূল্যে পড়তে পাচ্ছে। যার কারণে অভিভাবকদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন। আর বাবা-মায়েরা ইংরেজি মাধ্যমে পড়িয়ে আত্মতৃপ্তিতে ভুগছেন। যেটা অধিকাংশই ঠিক না। বর্তমানে শিক্ষায় রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ খুবই কম। যেখানে পারিবারিক বিনিয়োগ ৭১ শতাংশ অভিভাবকদের বহন করতে হয়। এই কারণেই মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীরা যাচ্ছে। দেশের মাদ্রাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ ও সিলেবাস প্রণয়নকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড (বেফাক) থেকে শেখ হাসিনার সহযোগীদের অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা।

গত ৩রা জানুয়ারি জুমার নামাজ শেষে বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেটে ‘সচেতন কওমি ছাত্র সমাজ’র ব্যানারে এই বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। এ সময় বক্তারা বলেন, কওমি মাদ্রাসার ইতিহাস শাপলা চত্বরের রক্তাক্তের ইতিহাস। আমাদের ইতিহাস বায়তুল মোকাররমের এই উত্তর গেটে মোদির বিরুদ্ধে আন্দোলন করায় আওয়ামী লীগের নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের হেলমেট বাহিনীর হামলার ইতিহাস। তাই এই কওমি অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ ও মাদ্রাসা শিক্ষার বোর্ড বেকাফকে স্বৈরাচার শেখ হাসিনার দোসরদের হাত থেকে মুক্ত করতে হবে।
তারা আরও বলেন, বেফাকে এখনো ৫ই আগস্ট পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচার শেখ হাসিনার দোসররা রয়ে গেছে। আমরা কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা বারবার আন্দোলন ও প্রতিবাদ জানিয়ে এলেও এখনো এই দোসরদের অপসারণ করা হয়নি। ফ্যাসিবাদের দোসর মৌলভি উবায়দুর রহমান খান নদভী ও আনাস মাদানীকে এখনো অপসারণ করা হয়নি। আমরা বেফাকের কাছে সব ধরনের তথ্য-প্রমাণ দেয়ার পরও তাদের অপসারণ করা হচ্ছে না। দ্রুত সময়ে তাদের অপসারণ না করা হলে কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবো।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক মুহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বলেন, প্রথম কথা হলো একেবারে প্রাথমিক শিক্ষার স্তরে একটিও ইবতেদায়ী মাদ্রাসা সরকারি নয়। অর্থাৎ মাদ্রাসা শিক্ষার প্রাথমিক স্তরকে বিগত সরকার অবহেলা করেছে।  এ ছাড়া কওমি এবং আলিয়া দ্বন্দ্ব তো আগে থেকেই ছিল সেটাকে আরও অনেক বেশি গভীর করেছে বিগত সরকার। তারা ডিভাইড অ্যান্ড রুল পলিসি নিয়েছে। তারা চেয়েছে আলিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা যাতে কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের কাছে আসতে না পারে তাদের মধ্যে ঐক্য গড়ে উঠতে না পারে। কারণ এই ঐক্য হাসিনা সরকারের জন্য সমস্যা হতে পারতো। কওমি মাদ্রাসাগুলোকে নিষ্পেষণের মধ্যে রাখা হয়েছে তাদের দুনিয়াবী কাজ কর্মের জন্য অনুপযোগী করে রাখা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আর দীর্ঘকাল ধরে চলা জেনারেল শিক্ষিত এবং মাদ্রাসা শিক্ষিতদের মধ্যে একটা যে দ্বন্দ্ব সেটা তো ছিলই। অনেক সময় দেখা গেছে ইসলামিক স্টাডিজের শিক্ষকের জন্য কলেজগুলো আবেদন করেছে, কিন্তু সরকার অনুমোদন দিচ্ছে না। এটিকে ঐচ্ছিক বিষয় হিসেবে রাখা হয়েছে এবং এমনভাবে রাখা হয়েছে যাতে কোনো শিক্ষার্থী এটি পড়তে আগ্রহ প্রকাশ না করে।

এদিকে গণ-অভ্যুত্থানের পর নতুন করে মাদ্রাসার স্বীকৃতি দিতে কাজ করছে সরকার। বেসরকারি উদ্যোগে গড়ে ওঠা মাদ্রাসাগুলোকে স্বীকৃতি দিতে কাজ করা হচ্ছে। গত ১৮, ২২শে ডিসেম্বর ও ৫ই জানুয়ারি যথাক্রমে ৯, ৫ ও ৮টি মাদ্রাসার তথ্য চেয়েছে ব্যানবেইস। পরিচালক (উপ-সচিব) মোহাম্মদ মশিউর রহমান স্বাক্ষরিত এসব চিঠিতে মাদ্রাসার কাছে তথ্য চাওয়া হয়। এ ছাড়াও স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসার শিক্ষকদো বেতন কাঠামোর আওতায় আনারও উদ্যোগ নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব ড. খ ম কবিরুল ইসলাম বলেন, স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসাগুলো এমপিওভুক্তির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ইবতেদায়ি মাদ্রাসা নিয়ে দুটি উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। মাদ্রাসা জাতীয়করণ অন্তত প্রথম ধাপ হিসেবে এমপিওভুক্ত করা। ইতিমধ্যে আমার অফিসারকে এ নিয়ে নির্দেশনা দিয়েছি। তারা এ নিয়ে কার্যক্রম শুরু করবেন। দ্বিতীয়ত, এসব মাদ্রাসায় বিল্ডিং কনস্ট্রাকশনের জন্য আলাদা প্রজেক্ট করার নির্দেশনা দিয়েছি, তারা একটি ডিপিপি তৈরির প্রক্রিয়া শিগগিরই শুরু করবেন। এ সময় তিনি ইবতেদায়ি মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের জন্য উপবৃত্তি চালুর উদ্যোগ ও মিড ডে মিল চালুর প্রজেক্ট নেয়া হচ্ছে বলে জানান।

mzamin

ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াইয়ের নেতৃত্বে প্রবাসীরা by এম এম মাসুদ

ঋণে জর্জরিত দেশ। ব্যাংকগুলো ফাঁকা। রিজার্ভ তলানিতে। মূল্যস্ফীতি হু হু করে বাড়ছে। অর্থনৈতিক এমন দৈন্যদশায় কুলহারা সংশ্লিষ্টরা। একের পর এক সিদ্ধান্ত নিয়েও অর্থনীতিকে তার গতিপথে ফিরিয়ে আনা যাচ্ছিল না। বলতে গেলে বাংলাদেশ ফোকলা করে পালিয়ে যান পতিত শেখ হাসিনার সরকার। দেশের এমন দুরবস্থার মধ্যেই দেশের হাল ধরেন ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার। কিন্তু পতিত আওয়ামী লীগের আমলের পাহাড়সম দুর্নীতি, ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাট-পাচার, আর্থিক খাতে ঋণ কেলেঙ্কারি সহ বিভিন্ন কারণে খাদের কিনারে চলে যাওয়া অর্থনীতিকে টেনে ধরবে কীভাবে? অন্তর্বর্তী সরকারের হাতে কি এমন জাদুর কাঠি আছে যে, দ্রুত তার সমাধান এনে দেবে? তবে হ্যাঁ, এ সময় এগিয়ে আসে রেমিট্যান্স যোদ্ধারা। ধীরে ধীরে রেমিট্যান্স যোদ্ধারা দুই হাত মেলে ধরায় অর্থনীতি চাঙ্গা না হলেও ধস থমকে দাঁড়ায়। অর্থনীতির গতি ফেরাতে শক্ত হাতে হাল ধরেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর। চালু করেন সুশাসন। বন্ধ হয়ে যায় অর্থ পাচার। আর এতে চালিকা শক্তি হিসেবে কাজ করেছে অর্থনীতির অন্যতম সূচক রেমিট্যান্স। এ ছাড়া আরেক সূচক রপ্তানি খাতও সঙ্গ দেয় এতে।

বাণিজ্য ঘাটতি কমেছে: পরিসংখ্যান বলছে, চলতি অর্থবছরের জুলাই-নভেম্বর সময়ে রপ্তানি ও আমদানির মধ্যে ব্যবধান বা বাণিজ্য ঘাটতি গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ কমেছে। রপ্তানি আয়ের শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি ও আমদানি প্রবৃদ্ধি কমায় বাণিজ্য ঘাটতি কমেছে বলে মনে করেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা। তথ্য বলছে, চলতি অর্থবছরের জুলাই-নভেম্বর শেষে বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৭.৮৮ বিলিয়ন ডলার, যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৯.৮৬ বিলিয়ন ডলার। পাঁচ মাসে দেশের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১০.১ শতাংশ, আর আমদানি কমেছে ১.২ শতাংশ। আমদানি প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ডলার কমে যাওয়া এবং রপ্তানি আয় প্রায় ১.৬৬ বিলিয়ন বেড়ে যাওয়ায় বাণিজ্য ঘাটতি কমেছে।

রেমিট্যান্স প্রবাহ ও রপ্তানিতে ভালো প্রবৃদ্ধি থাকায় চলতি অর্থবছরের জুলাই-নভেম্বর সময়ে দেশের বৈদেশিক লেনদেন ভারসাম্য হিসেবে পরিচিত ব্যালান্স অব পেমেন্টের ঘাটতি ৪৯.৫ শতাংশ কমে এসেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে ব্যালান্স অব পেমেন্টের সার্বিক ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২.৪৭ বিলিয়ন ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২.৪৩ বিলিয়ন ডলার কম।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশেষ ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ঘাটতি হ্রাস হওয়া দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক। এই অর্জনে রপ্তানি ও রেমিট্যান্স মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে। কারণ, বৈদেশিক ঋণ বা অনুদানের মতো উপাদানগুলোতে আমরা তেমন প্রবৃদ্ধি দেখিনি। তাছাড়া এই ঘাটতি কমেছে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার আয় থেকে। এটা ভবিষ্যতে ঋণ পরিশোধের চাপ বাড়াবে না।
আর্থিক হিসাবে ঘাটতি কমেছে: ওভারডিউ রপ্তানি আয় দেশে আসায় এবং স্বল্পমেয়াদি লোনের বহিঃপ্রবাহ কমার কারণে চলতি অর্থবছরের জুলাই-নভেম্বর সময়ে দেশের ব্যালান্স অব পেমেন্টের আরেক গুরুত্বপূর্ণ উপাদান আর্থিক হিসাবে ঘাটতিও কমেছে। এ সময়ে আর্থিক হিসাবে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৫৮১ মিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৮১১ মিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ চলতি অর্থবছরে এই ঘাটতি প্রায় ২৩০ মিলিয়ন ডলার কমেছে।
ঊর্ধ্বমুখী রেমিট্যান্স: এদিকে ঊর্ধ্বমুখী রেমিট্যান্স প্রবাহের ওপর ভর করে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই-নভেম্বর সময়ে দেশের ব্যালান্স অব পেমেন্টের অন্যতম উপাদান চলতি হিসাবে ঘাটতি আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৯৪ শতাংশ কমেছে। নভেম্বর শেষে দেশের চলতি হিসাবে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২২৬ মিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৩.৯৪ বিলিয়ন ডলার। চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে রেমিট্যান্স এসেছে ১১.১৪ বিলিয়ন ডলার। গত বছরের এই পাঁচ মাসে রেমিট্যান্স এসেছিল ৮.৮১ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ রেমিট্যান্সে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২.৩৩ বিলিয়ন ডলার বা ২৬ শতাংশ। ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, মূলত রেমিট্যান্সে প্রবৃদ্ধি হওয়ার কারণে চলতি হিসাবের ঘাটতি কমে এসেছে। গত কয়েক বছর ধরে চলতি হিসাবের ঘাটতি ধারাবাহিকভাবে বাড়ছিল। এই ঘাটতিটা কমিয়ে আনা পুরো অর্থনীতির জন্য খুব ভালো দিক।
রিজার্ভ ২০ বিলিয়ন ডলারের ঘরে: অর্থনীতির আলোচিত সূচক বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভ ২০ বিলিয়ন ডলারের ঘরে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ (ব্যালেন্স অব পেমেন্ট অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট পজিশন) হিসাবে ৮ই জানুয়ারি বাংলাদেশের রিজার্ভ ছিল ২১.৬৭ বিলিয়ন ডলার। গ্রস হিসাবে ছিল ২৬.৫৭ বিলিয়ন ডলার। এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) ১.৬৭ বিলিয়ন ডলার আমদানি বিল পরিশোধের পর বিপিএম-৬ হিসাবে রিজার্ভ নেমেছে ২০ বিলিয়ন ডলারে। গ্রস হিসাবে দাঁড়িয়েছে ২৪.৯ বিলিয়ন ডলারে। নভেম্বরের শেষদিকে দেশের নিট রিজার্ভ ছিল ২ হাজার ১৮ কোটি ডলার ও গ্রস রিজার্ভ ছিল ২ হাজার ৪৯৭ কোটি ডলার। ফলে এক মাসের ব্যবধানে অর্থাৎ ডিসেম্বরে দেশের নিট রিজার্ভ বেড়েছে ২৬২ কোটি ডলার ও গ্রস রিজার্ভ বেড়েছে ১৭৪ কোটি ডলার। গত ৫ই আগস্ট সরকার পরিবর্তনের সময় ঋণ ছিল ৩৭০ কোটি ডলারের উপরে। এর মধ্যে গত ৫ মাসে ৩৩০ কোটি ডলার পরিশোধ করা হয়েছে। এই ঋণ পরিশোধের পরও রিজার্ভ বেড়েছে। রিজার্ভের প্রধান দুই উৎস রপ্তানি আয় ও প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স বাড়ায় সূচক বাড়তে থাকে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক হুসনে আরা শিখা বলেন, প্রতি বারই আক’ুর বিল শোধের পর রিজার্ভ কমে আসে। তবে উদ্বেগের কিছু নেই। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের গতি বেশ ভালো। রপ্তানি আয়ও বাড়ছে। রিজার্ভ আবার বাড়বে।
রপ্তানি আয়: রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য বলেছে, এই ছয় মাসে পণ্য রপ্তানি থেকে মোট আয় হয়েছে ২৪.৫৩ বিলিয়ন ডলার। এই অঙ্ক গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে প্রায় ১৩ শতাংশ বেশি।
মূল্যস্ফীতি চ্যালেঞ্জ: বর্তমানে দেশের অর্থনীতিতে বড় চ্যালেঞ্জের একটি মূল্যস্ফীতি। দীর্ঘ দিন ধরে উচ্চমূল্যে স্থির নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম। এক বছরের বেশি সময় ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপে দেশের মানুষ। কিন্তু মানুষের আয় সেভাবে বাড়েনি। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ ২০২৪ সালে গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ১০.৩৪ শতাংশ। ডিসেম্বর মাসে মূল্যস্ফীতির হার দাঁড়িয়েছে ১০.৮৯ শতাংশ। আর খাদ্যে হয়েছে ১১.৯২ শতাংশ। গত জুলাই মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ১৪.১০ শতাংশে উঠেছিল, যা ছিল সাড়ে ১৩ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। অন্যদিকে ২০২৪ সালের ১২ মাসের মধ্যে প্রথম আট মাস মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৭ শতাংশের ঘরে। শেষ চার মাস ৮ শতাংশের উপরে ছিল এই হার।

mzamin

কামারুজ্জামানের চোখে জামায়াতের ভুল

দশম সংসদ নির্বাচনেও জামায়াতের হিসাবনিকাশ সঠিক ছিল না। প্রথমত নির্বাচনে অংশ নেয়ার ব্যাপারে অত বেশি জোর দেয়া ঠিক হয়নি। জামায়াতের সঠিক সিদ্ধান্ত খালেদা জিয়ার কাছে না পৌঁছানো বা জামায়াতের সিদ্ধান্ত বুঝতে তার ভুল হওয়ার দায় জামায়াত এড়াতে পারে না। জামায়াতের সিদ্ধান্তের মূল কথা ছিল বিএনপিকে ছাড়া জামায়াত নির্বাচনে যাবে না। সহজ ভাষায় এ কথাটা খালেদা জিয়ার কাছে পৌঁছায়নি।  যে কারণে তিনি ধারণা করেছেন, জামায়াত বিএনপিকে ছাড়াই নির্বাচনে চলে যাবে। দ্বিতীয়ত, ফরিদপুরে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেলের আসন নিয়ে দরকষাকষি করা জামায়াতের একটি ভুল কাজ ছিল। কামাল ইবনে ইউসুফকেই সেই আসনটিতে মনোনয়ন দেয়া উচিত ছিল অর্থাৎ জামায়াতের উচিত ছিল সেই আসনটি ছেড়ে দিয়ে সম্ভাবনাময় কয়েকটি আসন নিয়ে দরকষাকষি করা। এতে মনে হয় বিএনপিও নমনীয় হতো। মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া জামায়াত নেতা মুহাম্মদ কামারুজ্জামান ‘ফাঁসির সেল থেকে দেখা বাংলাদেশ’ শীর্ষক বইতে এসব কথা লিখেছেন।

তিনি লিখেছেন, ‘২০০১ সালের নির্বাচনের মতো জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল নির্বাচন না করে বেগম খালেদা জিয়ার সাথে নির্বাচনী অভিযানে সম্পৃক্ত থাকতেন, তাহলে ভালো হতো। ডিজিএফআইয়ের চক্রান্তও জামায়াত আঁচ করতে পারেনি। জামায়াতকে যে শূন্য আসনে নামানোর পরিকল্পনা করা হয়, তা জামায়াত বুঝতে পারেনি। ডিজিএফআই কার্যত জামায়াতকে ধোঁকা দিয়েছে খুব চাতুরীর সাথে। এখানে উল্লেখ্য যে, ডিজিএফআই কর্মকর্তারা কয়েক দফা জামায়াত নেতাদের সাথে সাক্ষাৎ করে আস্থা লাভের চেষ্টা করেন এবং নির্বাচনের পক্ষে যাতে জামায়াত শক্তভাবে থাকে, এ ব্যাপারে জামায়াতকে উৎসাহিত করার চেষ্টা করেন। সরকার নিরপেক্ষ নির্বাচন করবে, এমন ধারণা দিতে তারা সচেষ্ট ছিলেন। জামায়াত নিজে যেহেতু প্রতারণার রাজনীতি করে না, তাই অন্য কাউকেও সেভাবে সন্দেহ করে না। জামায়াতও ভাবতে থাকে, নির্বাচন অনুষ্ঠানের মধ্যেই দেশের কল্যাণ রয়েছে।

জামায়াত আদৌ বুঝতেই পারেনি যে, একটি নীলনকশার নির্বাচন হতে যাচ্ছে। ফলে নির্বাচনে বড় ধরনের বিপর্যয় হলো। সাতকানিয়া-লোহাগাড়া আসনে শামসুল ইসলাম ও মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনে হামিদুর রহমান আযাদ- এই দুজন মাত্র বিজয়ী হন জামায়াত প্রার্থীদের মধ্য থেকে। আমি আগের নির্বাচন থেকে ৪৫ হাজার ভোট বেশি পাই। অথচ আমাকেও পরাজিত দেখানো হয়। সবই ছিল ডিজিএফআই ও ফখরুদ্দীনের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কারসাজি।

ওদিকে সারা দেশে বিএনপিকে মাত্র ৩০টি আসনে বিজয়ী দেখানো হয়। এ নির্বাচনে জনমতের প্রতিফলন ঘটেনি। খালেদা জিয়ার প্রতিটি জনসভায় ছিল লাখো জনতার ঢল। আমার নির্বাচনী এলাকাতেও নির্ধারিত সময়ের কয়েকঘণ্টা পর হাজির হওয়া সত্ত্বেও লক্ষাধিক মানুষ ধৈর্য ধরে বেগম জিয়ার বক্তব্য শোনেন। খালেদা জিয়ার আগমন পর্যন্ত তারা অপেক্ষা করেছেন এবং তার কথা না শুনে কেউ চলে যাননি। নির্বাচনে চার দলের পক্ষে ভালো জনমত থাকা সত্ত্বেও হাসিনা-মইন-এরশাদের আঁতাতের কারণে এবং আন্তর্জাতিক শক্তির সমর্থনের ফলে নির্বাচনের ফলাফলে সূক্ষ্মভাবে হস্তক্ষেপ করে শেখ হাসিনার বিপুল বিজয় নিশ্চিত করা হয়। বিএনপি মাত্র ৩০টি ও জামায়াত মাত্র দু’টি আসনে জয়ী হয়। এ বিস্ময়কর ফলাফলের ব্যাপারে খোদ আওয়ামী লীগ নেতারাই হতবাক হয়ে যান।’

কামারুজ্জামান আরও লিখেছেন, ‘এ নির্বাচনের ফলাফলে বিএনপি ও জামায়াতের নেতারা এতই অপ্রস্তুত ও হতবাক হয়ে যান যে, নির্বাচনে কারচুপি ও অনিয়মের ব্যাপারগুলো তারা মিডিয়া ও পর্যবেক্ষকদের সামনে তুলে ধরার কোনো উদ্যোগ নিতেও ব্যর্থ হন। প্রিজাইডিং অফিসারগণ প্রকৃত ফলাফল কীভাবে উল্টিয়ে দিয়েছিলেন, তার দৃষ্টান্ত ২০০৮-এর এই নবম সংসদ নির্বাচন।

দুই-তৃতীয়াংশ আসনে আওয়ামী লীগের বিজয় নিশ্চিত করার জন্য সেনাসমর্থিত ফখরুদ্দীন আহমদের সরকার বহুমুখী কৌশল অবলম্বন করে। প্রশাসনকে অর্থাৎ ডিসি, এসপি, ওসিকে ব্যবহার এবং নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে রিটার্নিং অফিসার ও প্রিজাইডিং অফিসারদের ব্যবহার করে আওয়ামী লীগের বিজয় নিশ্চিত করা হয়। ওদিকে ডিজিএফআই নির্দিষ্টসংখ্যক নির্বাচনী আসনের অতিরিক্ত ব্যালট পেপার ছেপে তা নির্বাচনের আগের রাতেই ব্যালট বাক্স ভর্তি করে রাখাটা নিশ্চিত করে। ফলে কোনো কোনো নির্বাচনী আসনের ভোটকেন্দ্রে মাত্রাতিরিক্ত ভোট পড়ে। বিশেষ করে বিএনপি-জামায়াতের অনেক নিশ্চিত বিজয় লাভের মতো আসনে ৯০ থেকে শতভাগ এবং কোনো কোনো কেন্দ্রে শতভাগেরও বেশি ভোট কাস্ট দেখানো হয়। অতিরিক্ত সতর্ক ব্যবস্থা নেয়া হয়, যাতে আওয়ামী লীগ বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়।’

কামারুজ্জামান লিখেছেন, ‘অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে নির্বাচনের ফলাফল ভিন্ন হতে পারতো। আওয়ামী জোট টেনেটুনে ১৫০ আসনের বেশি পেলেও পেতে পারতো; কিন্তু বিএনপি মাত্র ৩০ এবং জামায়াত ২টি আসনে জয়লাভ করার মতো ফলাফল হতো না। হঠাৎ করে দেশের মানুষ আওয়ামী লীগের দিকে এত বিপুলভাবে ঝুঁকে পড়েছে, এমন কোনো বড় কারণ ঘটেনি।’

mzamin