Showing posts with label অরুণ কর্মকার. Show all posts
Showing posts with label অরুণ কর্মকার. Show all posts

Wednesday, September 2, 2015

জনগণ কত দামে বিদ্যুৎ কেনে? by অরুণ কর্মকার

বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম আরও বাড়ানো উচিত বলে মত দিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি। কমিটির সদস্যরা সবাই জনপ্রতিনিধি। জনগণের ভালো-মন্দ নিয়েই তাঁদের যত ভাবনা। তাই ধরে নেওয়া যায়, আখেরে জনগণের ভালোর জন্যই তাঁরা আরও দাম বাড়ানোর পক্ষে মত দিয়েছেন। তবে তাঁদের ওই মতের কিছু ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ দরকার। সংসদীয় কমিটি বিদ্যুতের উৎপাদন মূল্য ও বিক্রয় মূল্যের মধ্যে ব্যবধানের তথ্য দিয়ে দেখিয়েছে, সরকার উৎপাদন মূল্যের চেয়ে কম দামে বিদ্যুৎ বিক্রি করে। ফলে ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। কিন্তু দীর্ঘকাল ভর্তুকি অব্যাহত রাখা সম্ভব নয়। তাতে একসময় অর্থনীতি ভেঙে পড়তে পারে। তাই দাম আরও বাড়ানো উচিত।
সরকার উৎপাদন মূল্যের চেয়ে কম দামে বিদ্যুৎ বিক্রি করছে বলে যে কথাটি সংসদীয় কমিটি বলেছে, তা আংশিক সত্য। প্রকৃত সত্য হলো, সরকার কম দামে বিদ্যুৎ বিক্রি করছে বিতরণ কোম্পানিগুলোর কাছে। আর জনগণ সরকারের উৎপাদন খরচের চেয়েও বেশি দামে কিনছে। এখানে একটি তথ্যবিভ্রাটের উল্লেখ করা দরকার। সংসদীয় কমিটির সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলা হয়েছে, বর্তমানে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ ৬ টাকা ৬৮ পয়সা। আর সরকার (বিতরণ কোম্পানিগুলোর কাছে) বিক্রি করছে ৪ টাকা ৭১ পয়সা। এই তথ্যে বিভ্রাট আছে।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের উৎপাদন মূল্য ৬ টাকা ২৪ পয়সা। বিতরণ কোম্পানিগুলোর কাছে বিক্রি করা হচ্ছিল প্রতি ইউনিট ৪ টাকা ৬৭ পয়সা করে। গত বৃহস্পতিবার দাম বাড়ানোর পর এই বিক্রয় মূল্য হয়েছে প্রায় ৪ টাকা ৯০ পয়সা।
এই হিসাবে সরকার উৎপাদন মূল্যের চেয়ে কম দামে বিক্রি করছে ঠিকই। কিন্তু জনগণ কত দামে বিদ্যুৎ কিনছে? গত বৃহস্পতিবারের দাম বাড়ানোর আগে সাধারণ ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের গড় দাম ছিল ৬ টাকা ১৫ পয়সা। প্রতি ইউনিট ১৮ পয়সা হারে দাম বাড়িয়েছে এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। ফলে চলতি সেপ্টেম্বর থেকে ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের গড় দাম পড়বে ৬ টাকা ৩৩ পয়সা, যা বর্তমান উৎপাদন খরচের (৬ টাকা ২৪ পয়সা) তুলনায় বেশি। এই যে ভোক্তা পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম, তাঁরা যে সরকারের উৎপাদন খরচের চেয়ে বেশি দামে বিদ্যুৎ কেনেন, তা সংসদীয় কমিটির ব্রিফিংয়ে উল্লেখ করা হয়নি।
সরকার উৎপাদন খরচের চেয়ে কম দামে বিদ্যুৎ বিক্রি করছে বিতরণ কোম্পানিগুলোর কাছে। কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে জনগণ কিনছে সরকারের উৎপাদন খরচের চেয়ে বেশি দামে। অর্থাৎ জনগণ বিদ্যুতের উচ্চ দামই দিচ্ছে। কিন্তু সরকার পাচ্ছে না। এ পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণের উপায় কি শুধুই দাম বাড়িয়ে যাওয়া, যেমনটি বলেছে সংসদীয় কমিটি? মোটেই তা নয়।
সরকার ২০০৯-১০ সাল থেকে বিদ্যুৎ খাত উন্নয়নের যে পরিকল্পনা করে এগোচ্ছে, তাতে ২০১৩-১৪ সাল থেকে বিদ্যুতের উৎপাদন মূল্য ও ভোক্তা পর্যায়ে দাম কমে আসার কথা ছিল। তা হয়নি। কারণ, সরকার পরিকল্পনা অনুযায়ী কম দামের বিদ্যুৎ (বিশেষ করে কয়লাভিত্তিক) উৎপাদনে সফল হতে পারেনি। এই ব্যর্থতার যেমন একাধিক কারণ আছে, তেমনি সরকারের সামনে নতুন সুযোগও আছে।
সবচেয়ে বড় সুযোগ আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের অব্যাহত মূল্যহ্রাস। বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকার শুধু ফার্নেস তেলের দাম বাজারদর অনুযায়ী নির্ধারণ করলে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় সাড়ে ৫ টাকার কাছাকাছি চলে আসবে। সরকার তেলের দাম বেশি রেখে মুনাফা করবে। আবার বিদ্যুতের দামও বাড়াবে, এটা ন্যায্য কোনো ব্যবস্থা হতে পারে না। এক মুরগি দুবার জবাই করা যায় না। করা উচিতও নয়।
সরকারের মধ্যে একটা দুর্ভাবনা আছে, জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে তখন তো আবার বিদ্যুতের দাম বাড়াতে হবে। এ নিয়ে সরকারের দুর্ভাবনার কোনো কারণ আছে বলে মনে হয় না। কেননা, সরকার যখন দেশের সংকটজনক বিদ্যুৎ পরিস্থিতি মোকাবিলায় তেলচালিত ভাড়াভিত্তিক ও দ্রুত ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র করেছে, তখন জনগণ বিদ্যুতের বাড়তি দামও দিয়েছে। এখনো দিচ্ছে। গত কয়েক বছরে বিদ্যুৎ খাতের অগ্রগতিতে সরকারের কার্যক্রমে জনগণ খুশি। এত দিনে তাদের মধ্যে এই বিশ্বাসও জন্মেছে যে, বর্তমান সরকার আরও অনেক বিষয়ের মতোই বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতকেও এগিয়ে নিয়ে যেতে চায়। কাজেই সরকারের উচিত জনগণকে আস্থায় নেওয়া।
সংসদীয় কমিটিও বলেছে, মানুষের দাবি অনুযায়ী জ্বালানি তেলের দাম কিছুটা কমানো যেতে পারে। এখানে মানুষের দাবির যৌক্তিকতা হচ্ছে তেলের দাম অব্যাহতভাবে কমে আসা। দেশে-বিদেশে যাঁরা জ্বালানি তেলের দরদাম, ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে কাজ করেন, তাঁদের সবারই পূর্বাভাস হচ্ছেন, ২০২০ সাল পর্যন্ত তেলের দাম সাময়িক ওঠানামার মধ্যে নিম্নমুখীই থাকবে। কাজেই হঠাৎ করে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কাও অমূলক। আর যদি তেমন পরিস্থিতি হয়-ও, তখন জনগণকে সঙ্গে নিয়েই সরকারের পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে।
গ্যাসের দাম বাড়ানোর বিষয়ে সংসদীয় কমিটির মতের সঙ্গে সরকারি-বেসরকারি সকল পর্যায়েই সামান্য কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া ঐকমত্য আছে। গ্যাস আমাদের নিজস্ব সম্পদ বলে তা পানিতে ফেলে দিতে হবে, এমন ধারণা অগ্রহণযোগ্য। গ্যাস যখন ফুরিয়ে যাবে তখন যেন বিকল্প জ্বালানির ব্যবস্থা করা যায়, সেই হিসাবও গ্যাসের দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে করা উচিত। এ ছাড়া, বর্তমানে জনগণের যে অংশ গ্যাস পাচ্ছে না, তাদের ব্যবহৃত বিকল্প জ্বালানির ব্যয়ও একটি বিবেচ্য বিষয়।
আবাসিক খাতে যাঁরা এলপি গ্যাস ব্যবহার করেন, তাঁদের প্রতি মাসে ব্যয় ২ হাজার টাকার ওপরে। সরকার একবার ভেবেছিল পাইপলাইন গ্যাসের দাম বাড়িয়ে এলপি গ্যাস ব্যবহারকারীদের কিছু ভর্তুকি দেওয়ার কথা। ভাবনাটি অত্যন্ত শুভবুদ্ধিপ্রসূত এবং ভাবনাটি এখনো সরকারের মধ্যে রয়েছে। এই ভাবনা কার্যকর হলে জ্বালানি ব্যবহারে জনগণের মধ্যে যে বৈষম্য বিরাজ করছে, তা কমবে।

Tuesday, September 1, 2015

মুঠোফোনে পাহাড়ধসের পূর্বাভাস by অরুণ কর্মকার

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞান অনুষদ ভবনের
পাঁচতলার ছাদে বসানো হয়েছে বৃষ্টি পরিমাপক যন্ত্র।
এটি একটি সার্ভারের সঙ্গে যুক্ত, যার মাধ্যমে
পাহাড়ধসের পূর্বাভাস দেওয়া যায় l ছবি: সৌরভ দাশ
বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর ও নরওয়ের জিওটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের যৌথ গবেষণা
পাহাড়ধসের আগাম খবর দেওয়ার একটি পদ্ধতি বের করেছে বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর (জিএসবি) ও নরওয়ের জিওটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট (এনজিআই)। এ পদ্ধতিতে মুঠোফোনে পাওয়া পূর্বাভাস কাজে লাগিয়ে ইতিমধ্যে পাহাড়ধসে প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
সাধারণত, ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে অল্প সময়ের মধ্যে আলগা শিলা ও মাটির ভেতরে পানি চুইয়ে প্রবেশ করে। এতে মাটি ও শিলার ভেতর পানির চাপ বাড়ে। একপর্যায়ে ভূমিতে ফাটল দেখা দেয় এবং মাধ্যাকর্ষণের প্রভাবে ধস শুরু হয়। মূলত এই বৃষ্টিপাতের পরিমাণ, তীব্রতা, সময় ও মাটির ধরনের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে পাহাড়ধসের আগাম খবর দেওয়া হয়।
২০০৭ সালের ১১ জুন চট্টগ্রামে পাহাড়ধসে প্রায় ১২৭ জন মারা যায়। এ ঘটনার পর পাহাড়ধসে প্রাণহানি রোধে জিএসবি এ গবেষণার উদ্যোগ নেয়। ২০১০ সালে পরীক্ষামূলকভাবে আগাম সতর্কতার যন্ত্র স্থাপন করা হয়। ২০১২ সালে চীনে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ল্যান্ডস্লাইড কনফারেন্সে এই পদ্ধতি সম্পর্কে গবেষণাপত্রটি উপস্থাপন করা হয়। গত বছর জার্মানির বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞান গবেষণা প্রকাশনা সংস্থা স্প্রিনজার এ নিবন্ধটি তাদের একটি সংকলনে প্রকাশ করেছে।
এ প্রকল্পের গবেষক জিএসবির অন্যতম পরিচালক এবং নগর ও প্রকৌশল ভূতত্ত্ব বিভাগের প্রধান রেশাদ মো. ইকরাম আলী প্রথম আলোকে বলেন, পাহাড়ধসের কারণ প্রধানত ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়গুলোর মাটির ধরন। এ জন্য চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলের অতীতের পাহাড়ধসের সময়কার বৃষ্টিপাতের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, কোনো দিন তিন ঘণ্টার মধ্যে ১০০ মিলিমিটার বৃষ্টি হলে পাহাড়ধসের আশঙ্কা তৈরি হয়। একইভাবে ২৪ ঘণ্টায় ২০০ মিলিমিটার কিংবা ৭২ ঘণ্টায় ৩৫০ মিলিমিটার বৃষ্টি হলেও একই আশঙ্কা থাকে। এসব তথ্য কম্পিউটারে সংরক্ষণ করা হয়, যা একটি সার্ভার এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও সংস্থার মোবাইল ফোন নম্বরগুলোর সঙ্গে যুক্ত। এই নেটওয়ার্কের আওতাধীন কোনো এলাকায় ওই পরিমাণ বৃষ্টি হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংকেত সংশ্লিষ্ট মুঠোফোন নম্বরে পৌঁছায়। এর ওপর ভিত্তি করে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন সম্ভাব্য বিপর্যয়ের আগেই স্থানীয় লোকজনকে নিরাপদ এলাকায় সরিয়ে নিতে পারে।
স্বয়ংক্রিয়ভাবে রাখা বৃষ্টিপাতের হিসাবের তথ্য প্রতি ১৫ মিনিট পরপর অনলাইনে সংরক্ষিত হয়। বৃষ্টিপাতের হিসাব রাখার স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রটি চালু রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যাটারির চার্জ হয় সৌরশক্তির মাধ্যমে।
পাহাড়ধসের পূর্বাভাস পেতে চট্টগ্রাম মহানগর, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, কক্সবাজার ও টেকনাফে (মোট চারটি স্থানে) যন্ত্র স্থাপন করা হয়েছে। বাংলাদেশ-নরওয়ে প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা কর্মসূচির আওতায় এসব যন্ত্র স্থাপন করা হয়েছে।
পূর্বাভাস নেটওয়ার্কের এলাকায় পাহাড়ধসের আশঙ্কার বার্তা নির্দিষ্ট কয়েকটি মুঠোফোন নম্বরে স্বয়ংক্রিয়ভাবে খুদে বার্তার (এসএমএস) মাধ্যমে পৌঁছায়। চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক কিংবা তাঁদের প্রতিনিধি; টেকনাফ ও হাটহাজারীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ, আবহাওয়া অফিস, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, রেড ক্রিসেন্ট, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়, জিএসবি ও এনজিআইয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ওই সংকেত পেয়ে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে পারেন।
কক্সবাজারে গণপূর্ত বিভাগের কার্যালয়ে স্থাপিত যন্ত্রটি গত ২৫ জুলাই পাহাড়ধসের আশঙ্কার সংকেত দিয়েছিল। তার ভিত্তিতে প্রশাসন ওই এলাকার পাহাড়ে বসবাসকারী লোকজনদের সরে যাওয়ার জন্য মাইকে প্রচার চালায়। এতে অনেকেই সরে যান। কিন্তু কিছু লোক সেখানে থেকে যায়। পরদিন সেখানে একটি পাহাড়ধসে পাঁচজন প্রাণ হারায়।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর মোবাইল ফোনে খুদে বার্তা আসে। সে অনুযায়ী তিনি সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে প্রচার চালান, লোকজনকে সতর্ক করা ও প্রয়োজনে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা নেন।
টেকনাফে যন্ত্রটি স্থাপন করা হয়েছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে। সেখান থেকে পাহাড়ধসের আশঙ্কার একটি সংকেত এসেছিল গত ২৬ জুলাই। পরদিন সেখানে পাহাড়ধস হয়। তবে লোকজন আগেই সরে যাওয়ায় কোনো প্রাণহানি হয়নি।
চট্টগ্রামে দুটি যন্ত্রের একটি বসানো হয়েছে সিটি করপোরেশন ভবনে। বাটালি পাহাড়সহ আশপাশের পাহাড়গুলোতে ধসের আশঙ্কা দেখা দিলে এই যন্ত্রের মাধ্যম তার পূর্বাভাস বা সংকেত পাওয়া যাবে। অন্যটি বসানো হয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞান অনুষদ ভবনের পাঁচতলার ছাদে।
পাহাড়ধসের পূর্বাভাস পদ্ধতি যেভাবে কাজ করে
এ বিষয়ে ইকরাম আলী বলেন, আপাতত খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও রাঙামাটি শহরে তিনটি নেটওয়ার্ক স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে, যা নরওয়ের আর্থিক সহায়তায় হতে পারে। এরপর হয়তো সরকারি অর্থে আরও নেটওয়ার্ক স্থাপন করা হবে। একেকটি নেটওয়ার্ক স্থাপনে ছয় লাখ টাকার মতো খরচ হয়।
জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিজাস্টার সায়েন্স অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট বিভাগের চেয়ারম্যান, সমন্বিত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মসূচির (সিডিএমপি) সাবেক পরিচালক অধ্যাপক এ এস এম মাকসুদ কামাল প্রথম আলোকে বলেন, এই পদ্ধতি কার্যকরভাবে ব্যবহার করা গেলে পাহাড়ধসে প্রাণহানি ঠেকানো সম্ভব। অবশ্য কয়েক বছর আগে অযান্ত্রিকভাবে (ম্যানুয়ালি) এ পদ্ধতি সিডিএমপির পক্ষ থেকে চালু করা হয়েছিল বলে তিনি জানান।
তবে পদ্ধতিটি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট এলাকার জনগোষ্ঠীর সচেতনতা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন এই দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ। তিনি বলেন, পদ্ধতিটি কার্যকর হলেও মানুষ যদি পাহাড়ে যত্রতত্র বসবাস ও পাহাড় কাটার মতো কাজ চালিয়ে যায়, তাহলে প্রাণহানি ঠেকানো কঠিন হবে। এ জন্য সচেতনতা গড়ে তুলতে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ দরকার।

Saturday, August 8, 2015

বিশ্ববাজারে তেলের দাম কম, বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ কমছে, দাম বাড়বে কেন? by অরুণ কর্মকার

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমায় দেশে বিদ্যুতের উৎপাদন মূল্য কমেছে। অথচ বিদ্যুতের দাম কমানো হচ্ছে না। বরং এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছে।
বেসরকারি খাতের যেসব বিদ্যুৎ কোম্পানি সরকারের অনুমোদন নিয়ে নিজেরাই জ্বালানি (ফার্নেস) তেল আমদানি করছে, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) তাদের কাছ থেকে বিদ্যুৎ পাচ্ছে অনেক কম দামে। কিন্তু বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর পিডিবির প্রস্তাবে সে দাম দেখানো হয়নি। দেখানো হয়েছে পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) সরবরাহ করা তেলের সরকার নির্ধারিত দাম। আর সেই দামের ভিত্তিতে দাম বাড়ানোর বিষয়টি বিইআরসিতে প্রক্রিয়াধীন। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা হিসাব কষে বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রয়োজন নেই।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সরকার এখন পর্যন্ত ১১টি ভাড়াভিত্তিক ও দ্রুত ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎ কোম্পানিকে নিজেদের ব্যবহারের জন্য ফার্নেস তেল আমদানির অনুমোদন দিয়েছে। এর মধ্যে ছয়-সাতটি কোম্পানি তেল আমদানি শুরু করেছে। তাদের আমদানি করা তেলে বর্তমানে প্রায় ৭৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে।
মন্ত্রণালয় এবং ওই কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, জ্বালানি তেলের দাম কমায় ওই কোম্পানিগুলোর ভাড়াভিত্তিক ও দ্রুত ভাড়াভিত্তিক কেন্দ্র থেকে পিডিবি প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ পাচ্ছে গড়ে ১০ টাকা করে। এসব কোম্পানির বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রতি লিটার ফার্নেস তেলের দাম পড়ছে ৩০ থেকে ৩২ টাকার মধ্যে।
অপরদিকে সরকার নির্ধারিত বিপিসির দামে তেল নিয়ে যেসব বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদনে আছে, তাদের ক্ষেত্রে প্রতি লিটার তেলের দাম পড়ছে ৬২ টাকা। ফলে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম পড়ছে ১৬-১৭ টাকা। ফার্নেস তেলের দাম বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হলে ভাড়াভিত্তিক ও দ্রুত ভাড়াভিত্তিক কেন্দ্রগুলো থেকে গড়ে ১০ টাকায় প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ পাওয়া সম্ভব, যা কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রের দামের প্রায় সমান।
জানতে চাইলে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত বিশেষ সহকারী ম. তামিম প্রথম আলোকে বলেন, মাত্র কয়েকটি কোম্পানির তেলের দাম কম হওয়াতেই বিদ্যুতের গড় উৎপাদন মূল্য সাড়ে ছয় টাকা থেকে কমে ছয় টাকার কাছে চলে এসেছে। দেশে সব মিলে তেলভিত্তিক কেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে আড়াই হাজার মেগাওয়াটের বেশি। এর সবটার জন্যই তেলের দাম কমানো হলে বিদ্যুতের গড় উৎপাদন মূল্য পাঁচ টাকার কাছাকাছি চলে আসবে। ফলে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো দরকার হবে না। এর সুবিধা পাবেন দেশের প্রায় সব মানুষ।
এ ছাড়া সরকার ভাড়াভিত্তিক ও দ্রুত ভাড়াভিত্তিক কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ কেনার মেয়াদ বাড়িয়ে আগের চুক্তি নবায়ন করায় সেখানেও বিদ্যুতের দাম আগের তুলনায় কমেছে। কাজেই বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর আর কোনো যৌক্তিক অবস্থা বিরাজ করছে না বলে সরকারি-বেসরকারি সূত্রগুলো বলছে।
এ ছাড়া কয়লাভিত্তিক কেন্দ্র স্থাপন বিলম্বিত হওয়ায় আরও কয়েক বছর ভাড়াভিত্তিক ও দ্রুত ভাড়াভিত্তিকসহ তেলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র চালাতে হবে। তেলচালিত কেন্দ্রের সংখ্যা এবং উৎপাদনের পরিমাণও আরও বাড়াতে হবে। এর ফলে তেলের দাম না কমালে বিদ্যুতের উৎপাদন মূল্য অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছাবে বলে মন্ত্রণালয় সূত্র বলেছে।
বর্তমানে দাম বাড়ানোর প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চাইলে বিইআরসির নির্ভরযোগ্য সূত্র বলেছে, এটা নিয়ে কাজ ও চিন্তাভাবনা চলছে। দাম তো কিছুটা বাড়াতেই হবে। গত জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত গণশুনানির ভিত্তিতে গ্যাসের দাম গড়ে প্রায় ২০ শতাংশ এবং বিদ্যুতের দাম গড়ে ৫-৬ শতাংশ বাড়ানো হতে পারে। তবে তা খুব শিগগির নয়।
দাম বাড়ানোর বিষয়ে গত মাসে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়েও একটি সভা হয়েছে। সেই সভায় দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে কিছু জটিলতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে সভার সূত্র জানায়। এর একটি হচ্ছে তেলের দাম কমে যাওয়ায় বিদ্যুতের উৎপাদন মূল্য কমার পরও দাম বাড়ানোর যৌক্তিকতা। আরেকটি হচ্ছে গ্যাসের দাম বাড়ানোর পাশাপাশি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম (এলপি) গ্যাসে ভর্তুকি দেওয়ার যে চিন্তা সরকারের ছিল, তা কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।
সরকারি-বেসরকারি সূত্রগুলো বলছে, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আরও কমার সম্ভাবনা আছে। এর অন্যতম প্রধান কারণ, ইরানের ওপর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্রদের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার। ওই নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরান বিশ্ববাজারে স্বাভাবিকভাবে তেল বিক্রি করতে পারছিল না। এখন সে বাধা উঠে যাওয়ায় বাজারে তেলের সরবরাহ বাড়বে। তাতে দাম কমার প্রবণতা অব্যাহত থাকবে।
এ ছাড়া ইরান সম্প্রতি বাংলাদেশকে প্রস্তাব দিয়েছে যে তাদের কাছ থেকে বাংলাদেশ তেল কিনলে তারা বাংলাদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ চটের ব্যাগ নেবে। এ রকম বিনিময় বাণিজ্যে তেলের দামে কিছুটা বাড়তি সুবিধাও পাওয়া যেতে পারে।

Tuesday, July 28, 2015

জ্বালানি তেল সরবরাহ ও ব্যবহারে বিশৃঙ্খলা- সরকারি নীতিকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা by অরুণ কর্মকার

ভাড়াভিত্তিক ও দ্রুত ভাড়াভিত্তিকসহ তেলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে জ্বালানি তেল ব্যবহার ও সরবরাহে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি নীতিই এই বিশৃঙ্খলার কারণ বলে জানিয়েছে পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি), বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি), এমনকি জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।
বিপিসির সূত্র প্রথম আলোকে বলেন, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) গত ছয় মাস ধরে বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহারের জন্য ফার্নেস তেল নিচ্ছে চাহিদার তুলনায় এক-তৃতীয়াংশ কম। কিন্তু ফার্নেস তেলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন হয়ে এসেছে পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনা মতোই। অপরদিকে পিডিবি ডিজেল নিচ্ছে চাহিদার তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।
অথচ বছরের শুরুতে পিডিবির দেওয়া চাহিদা অনুযায়ীই বিপিসি ফার্নেস ও ডিজেল আমদানি করছে। কিন্তু চাহিদার তুলনায় ব্যবহারে তারতম্যের কারণে বিপিসির সব মজুতাগার পরিপূর্ণ অবস্থায় আছে। এখন তেল নিয়ে যে জাহাজগুলো আসছে, সেগুলোকে তেল খালাসের জন্য এক সপ্তাহ পর্যন্ত বন্দরে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এতে বিপিসির আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে।
চাহিদার তুলনায় কম জ্বালানি তেল ব্যবহারে তারতম্যের বিষয়ে পিডিবি সূত্র প্রথম আলোকে জানায়, এ বছরের জুলাই পর্যন্ত তেলের চাহিদাপত্র তৈরি করে তারা পিডিবিকে দিয়েছেন গত নভেম্বরে। এরপর গত মার্চে বিপিসিই কয়েকটি ভাড়াভিত্তিক ও দ্রুত ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎ কোম্পানিকে ফার্নেস তেল আমদানির অনুমোদন দিয়েছে। ফলে ওই কোম্পানিগুলো আর পিডিবির কাছ থেকে তেল নিচ্ছে না। এই কারণেই পিডিবি ফার্নেস তেল কম নিচ্ছে।
অন্যদিকে চাহিদার তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি ডিজেল নেওয়ার বিষয়ে সূত্রটি আরও বলছে, বেসরকারি খাতের সামিট পাওয়ার কোম্পানি নারায়ণগঞ্জের হরিপুরে ৩৩৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার দ্বৈত জ্বালানিভিত্তিক (ডুয়েল ফুয়েল) যে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি চালু করেছে সেখানে গ্যাস সংযোগ দেওয়ার কাজ শেষ হয়নি। ফলে সেটি ডিজেল দিয়ে চালানো হচ্ছে। এ কারণে পূর্বনির্ধারিত চাহিদার তুলনায় ডিজেল অনেক বেশি নিতে হচ্ছে।
পিডিবি চাহিদাপত্র দেওয়ার পর বেসরকারি বিদ্যুৎ কোম্পানিকে ফার্নেস তেল আমদানির অনুমোদন দেওয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিপিসির চেয়ারম্যান এ এম বদরুদ্দোজা প্রথম আলোকে বলেন, এটা সরকারি নীতির কারণে দেওয়া হয়েছে। দেশের সব তেলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি সরবরাহ নির্বিঘ্ন করতে গত কয়েক বছরে বিপিসির মজুত ক্ষমতা বৃদ্ধি ও সরবরাহ নেটওয়ার্ক উন্নত করা হয়েছে। বিপিসি সব তেলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি সরবরাহ করতে সক্ষম। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর আগ্রহে সরকার তাঁদের নিজ নিজ প্রয়োজনীয় জ্বালানি তেল আমদানির অনুমোদন দেওয়ার নীতি গ্রহণ করেছে। সে অনুযায়ীই বিপিসি অনুমোদন দিচ্ছে।
বর্তমানে ১১টি বিদ্যুৎ কোম্পানিকে জ্বালানি তেল আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সরকার এই আমদানির জন্য কোনো শুল্ক কিংবা কর নেয় না। উপরন্তু কোম্পানিগুলোকে ৯ শতাংশ হারে সার্ভিস চার্জ দেওয়া হয়।
পিডিবি ও বিপিসির সূত্র অনুযায়ী, গত জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত পিডিবি ফার্নেস তেলের চাহিদা দিয়েছিল ৪ লাখ ৮৯ হাজার ২৩২ মেট্রিক টন। কিন্তু নিয়েছে ৩ লাখ ৪৩ হাজার ১০০ টন। চাহিদার তুলনায় কম নিয়েছে ১ লাখ ৪৬ হাজার ১৩২ বা প্রায় ৩০ শতাংশ।
অপরদিকে, ওই ছয় মাসের জন্য ডিজেলের চাহিদা দিয়েছিল ৯১ হাজার ২৫৫ মেট্রিক টন। কিন্তু নিয়েছে ১ লাখ ৮৮ হাজার ৭০ টন, যা চাহিদার তুলনায় প্রায় ১০৬ শতাংশ বেশি।

Monday, July 27, 2015

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রযুক্তি পরিবর্তন করা হচ্ছে by অরুণ কর্মকার

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের রিঅ্যাক্টরের প্রযুক্তি পরিবর্তন করা হচ্ছে। আগে নির্ধারণ করা হয়েছিল এক হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতার তৃতীয় প্রজন্মের (জেনারেশন থ্রি) ‘ভিভিইআর-১০০০’ প্রযুক্তির রিঅ্যাক্টর। এখন তা পরিবর্তন করে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার ‘ভিভিইআর-টিওআই’ (থ্রি প্লাস জেনারেশন) প্রযুক্তির রিঅ্যাক্টর ব্যবহার করা হচ্ছে।
সরকারের ‘ফাস্ট ট্র্যাক প্রজেক্ট মনিটরিং টাস্কফোর্স’-এর একটি সূত্র জানায়, প্রযুক্তি পরিবর্তন নীতিগতভাবে চূড়ান্ত করা হয়েছে। দেশের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞদের একটি প্রতিনিধিদল রাশিয়া সফর করে এই প্রযুক্তির দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শন করেছে। এরপর ৫ জুলাই ঢাকায় অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তাতে প্রযুক্তি পরিবর্তনের বিষয়টি চূড়ান্তই বলা যায়।
এ ছাড়া কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞ দলের রাশিয়া সফর এবং ঢাকায় অনুষ্ঠিত সেমিনারে রূপপুর প্রকল্পের অর্থায়ন ও চূড়ান্ত চুক্তি (জেনারেল কন্ট্রাক্ট) সইয়ের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে ওই সূত্রে জানা গেছে।
রূপপুর প্রকল্পের সূত্রগুলো জানায়, প্রকল্পটি বাংলাদেশের হলেও প্রযুক্তি পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে মূলত রাশিয়া। প্রকল্পের শুরু থেকে দেশে এবং প্রবাসে কর্মরত ও অভিজ্ঞ বাংলাদেশি বিশেষজ্ঞরা প্রযুক্তি পরিবর্তনের কথা বলে এসেছেন। তাঁদের কথায় অবশ্য সরকার কখনোই কান দেয়নি। এখন সবুজ সংকেত দিয়েছে সরকার।
সূত্রগুলো জানায়, রূপপুর কেন্দ্রের রিঅ্যাক্টরের নকশা প্রণয়নকারী রুশ প্রতিষ্ঠান ‘নিঝনি নভগোরাদ ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড’-এর (রুশ ভাষার আদ্যক্ষরে এনআইএইপি) মহাপরিচালক ভ্যালেরি লিমারেঙ্কো গত জুন মাসে কয়েক ঘণ্টার এক সফরে ঢাকা এসে প্রযুক্তি পরিবর্তনের বিষয়টি সম্পর্কে প্রথম সরকারের নীতিনির্ধারকদের অবহিত করেন। এরপর পূর্বোক্ত প্রতিনিধিদলের রাশিয়া সফর ও ঢাকায় সেমিনারের আয়োজন করা হয়। এখন সরকারের সবুজ সংকেত পেয়ে নতুন প্রযুক্তির রিঅ্যাক্টরের নকশা প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে এনআইএইপি।
চুক্তি সইয়ের বিষয়ে সূত্রগুলো জানায়, আগামী নভেম্বর অথবা ডিসেম্বরে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে রূপপুর প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়ে চূড়ান্ত চুক্তি সই হবে। সেই চুক্তিতে প্রযুক্তি পরিবর্তনের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত হবে। ‘ভিভিইআর টিওআই’ রাশিয়ার ‘ভিভিইআর ১২০০’ মডেলের রিঅ্যাক্টরের রপ্তানি সংস্করণ। অর্থাৎ রাশিয়া তাদের ‘ভিভিইআর ১২০০’ প্রযুক্তির রিঅ্যাক্টর ‘ভিভিইআর টিওআই’ নামে বিদেশে রপ্তানি করবে। রাশিয়ার বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবিত সর্বাধুনিক (থ্রি প্লাস জেনারেশন) প্রযুক্তির ওই রিঅ্যাক্টর এখন পর্যন্ত শুধু রাশিয়ার নভোভারোনেঝ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ছাড়া পৃথিবীর কোথাও স্থাপন করা হয়নি। নভোভারোনেঝ কেন্দ্রটি এখন পরীক্ষামূলক উৎপাদনে আছে। কয়েক মাসের মধ্যে সেটি রাশিয়ার জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। এ ছাড়া, লেনিনগ্রাদে এই প্রযুক্তির একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের কাজ শুরু করেছে তারা। রাশিয়ার বাইরে সম্ভবত রূপপুরেই এই রিঅ্যাক্টর প্রথম স্থাপিত হতে যাচ্ছে। এটি এখন পর্যন্ত উদ্ভাবিত সবচেয়ে নিরাপদ পারমাণবিক রিঅ্যাক্টর বলে দাবি রুশ কর্তৃপক্ষের।
এ সম্পর্কে জানতে চাইলে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী, বিশিষ্ট পরমাণুবিজ্ঞানী আবদুল মতিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘ভিভিইআর টিওআই’ মডেলের রিঅ্যাক্টর ইউরোপীয় মানসম্পন্ন। রূপপুরে এই প্রযুক্তির রিঅ্যাক্টর স্থাপন করা হলে নিরাপত্তা (সেফটি) নিয়ে আর আপত্তি উঠবে না। দুশ্চিন্তাও থাকবে না।
আবদুল মতিন বলেন, আগে যে মডেলটি নির্ধারণ করা হয়েছিল (ভিভিইআর ১০০০), সেটি যথেষ্ট মানসম্পন্ন পূর্ণাঙ্গ মডেলের কোনো রিঅ্যাক্টর ছিল না। ওই মডেলের সঙ্গে একেকটি দেশ নিজেদের বা অন্য দেশ থেকে কিছু কিছু যন্ত্রাংশ এনে ব্যবহার করেছে। যেমন চীন রাশিয়ার কাছ থেকে ‘ভিভিইআর ১০০০’ মডেলের রিঅ্যাক্টর নিয়ে তা চালানোর কন্ট্রোল প্যানেল এনেছে ইউরোপ থেকে। ভারত কুদনকুলাম কেন্দ্রে ওই প্রযুক্তির রিঅ্যাক্টরের সঙ্গে নিজেদের উদ্ভাবিত কিছু যন্ত্রপাতি ব্যবহার করেছে। কিন্তু ইউরোপ ‘ভিভিইআর ১০০০’ মডেলটি গ্রহণ করেনি। তাই ইউরোপের বাজার ধরার জন্য রাশিয়া ‘ভিভিইআর টিওআই’ মডেলটি উদ্ভাবন করেছে।
এক প্রশ্নের জবাবে বিশিষ্ট এই পরমাণু প্রকৌশলী বলেন, ‘ভিভিইআর ১০০০’ ও ‘ভিভিইআর টিওআই’ মডেলের রিঅ্যাক্টরের দামে খুব বড় একটা হেরফের হওয়ার কথা নয়। মানসম্পন্ন প্রযুক্তি ও মডেলের দাম অপেক্ষাকৃত কম হয়। তা ছাড়া নতুন মডেলের রিঅ্যাক্টর ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার হওয়ায় বিদ্যুৎ অনেক বেশি পাওয়া যাবে। সে তুলনায় দাম বেশি হবে না বলে তাঁর ধারণা।
সরকার রূপপুর প্রকল্পের জন্য ১ হাজার ২০০ কোটি (১২ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার ঋণ সহায়তার জন্য রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে। এই প্রকল্পে রাশিয়া সর্বোচ্চ ৯০ শতাংশ ঋণ দেওয়ার কথা রয়েছে। সে হিসাবে প্রকল্পের মোট ব্যয় প্রায় দেড় হাজার কোটি ডলারে উন্নীত হতে পারে (সমীক্ষার ব্যয় ৫৫ কোটি ডলারসহ)।
ফাস্ট ট্র্যাক প্রজেক্ট মনিটরিং টাস্কফোর্সের সূত্র জানায়, সরকারের পূর্ব ধারণার চেয়ে রূপপুর প্রকল্পের ব্যয় অনেকটাই বেড়ে যাচ্ছে। তবে এর কারণ শুধু প্রযুক্তি পরিবর্তন নয়, প্রকল্প এলাকার ভূতাত্ত্বিক গঠন এবং পানিস্বল্পতাও ব্যয় বৃদ্ধির বড় কারণ। রুশ বিশেষজ্ঞরা সরকারকে জানিয়েছেন, প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য রূপপুরে তাঁদের বিশেষ কিছু কারিগরি কর্মকাণ্ড করতে হবে, যেগুলোকে সহজ কাজ বলা যায় না। সেখানে যে স্থাপনা করা হবে, তা হতে হবে রিখটার স্কেলে ৯ মাত্রার ভূমিকম্প সহনশীল। কিন্তু রূপপুরের মাটি নরম ও বেলে প্রকৃতির।
এর আগে, গত ফেব্রুয়ারিতে রোসাতোমের আরেক সহযোগী প্রতিষ্ঠান, রূপপুরে সমীক্ষা পরিচালনায় নিয়োজিত অ্যাটমপ্রয়েক্ট-এর বিশেষজ্ঞরা রূপপুর প্রকল্পের জন্য কুলিং টাওয়ার (বিদ্যুৎকেন্দ্রের রিঅ্যাক্টর ঠান্ডা রাখতে সীমিত পরিমাণ পানি ব্যবহারের জন্য নির্মিত স্থাপনা) তৈরি করতে হবে বলে জানিয়েছিলেন। অর্থাৎ বর্তমানে পদ্মায় পানির যে প্রাপ্যতা, তা (কুলিং টাওয়ার করা না হলে) রূপপুর প্রকল্পের জন্য যথেষ্ট হবে না।
এ বিষয়েও দেশি ও প্রবাসী বাংলাদেশি বিশেষজ্ঞরা শুরু থেকে বলে এসেছেন, পদ্মা নদীতে বর্তমানে পানির যে প্রাপ্যতা, তা দিয়ে দুই হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতার (ভিভিইআর টিওআই প্রযুক্তির রিঅ্যাক্টর ব্যবহার করা হলে ক্ষমতা হবে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট) পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালানো সম্ভব হবে না। তাঁরা ‘ভিভিইআর ১০০০’ প্রযুক্তি পরিবর্তন এবং রূপপুরে ভূমিকম্পের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলে এসেছেন। তবে সরকার কখনোই তাঁদের কথায় কান দেয়নি। এখন রুশদের সুপারিশের সঙ্গে ওই বিশেষজ্ঞদের বক্তব্যের হুবহু মিল পাওয়া যাচ্ছে।
শুধু একটি বিষয়ে দেশীয় বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য ও অভিমত এখনো উপেক্ষিত আছে। বিষয়টি হলো রূপপুর প্রকল্পের জন্য দক্ষ জনবলের অভাব। আবদুল মতিন এবং আরও কয়েকজন বিশেষজ্ঞ প্রথম আলোকে বলেন, সরকার আরও পরে এ বিষয়টি অনুধাবন করবে বলে তাঁদের বিশ্বাস। কিন্তু ২০০৯-১০ সাল থেকে দক্ষ জনবল তৈরির পদক্ষেপ নেওয়া হলে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন ও পরিচালনায় দেশ যতটা সুবিধাজনক অবস্থানে থাকতে পারত, তা আর সম্ভব হবে না।
রূপপুর প্রকল্পের বর্তমান বাস্তবায়ন পরিস্থিতি সম্পর্কে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, প্রকল্প এলাকায় দুই বছর মেয়াদি সমীক্ষার কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। পাশাপাশি রিঅ্যাক্টরের নকশা প্রণয়নের কাজও (মস্কোতে) চলেছে। আগামী নভেম্বরে এসব কাজ শেষ হবে। তারপর সই হবে প্রকল্প বাস্তবায়নের চূড়ান্ত চুক্তি।
মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সরকার চেষ্টা করছে, আগামী ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে অতিথি করে আনার। তা সম্ভব হলে তখনই দুই দেশের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তিটি সই হবে। আর পুতিনের আসা সম্ভব না হলে নভেম্বরে চুক্তি হবে। এর আগে প্রকল্পের জন্য তিনটি আলাদা চুক্তি সই হয়েছে। প্রথম চুক্তির বিষয় হচ্ছে সমীক্ষা চালানো। দ্বিতীয় চুক্তি হয়েছে প্রকল্পের মৌলিক নকশা প্রণয়নের বিষয়ে। তৃতীয় চুক্তির বিষয় বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণস্থলে ভৌত অবকাঠামো তৈরি। এই তিনটি কাজই যুগপৎভাবে চলেছে।
২০১৩ সালের ২ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকল্পের সমীক্ষার কাজ উদ্বোধন করেন। প্রকল্প এলাকার আবহাওয়া, ভূতাত্ত্বিক অবস্থা, পানি পরিস্থিতি, ভূমিকম্প ও মাটির বিভিন্ন ধরনের অনুপুঙ্খ পরীক্ষা-নিরীক্ষা এই সমীক্ষার অন্তর্ভুক্ত। এর প্রথম পর্যায় শেষে গত বছর নভেম্বরে সরকারকে প্রতিবেদন দেওয়া হয়। দ্বিতীয় পর্যায়ের সমীক্ষাও এখন শেষ পর্যায়ে। প্রকল্পের প্রকৃত ব্যয় নির্ধারিত হবে সমীক্ষার ফলাফল এবং ব্যবহৃত প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে।
সরকার ২০২০-২১ সালে প্রকল্পের প্রথম ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে। দ্বিতীয় ইউনিট চালু করার পরিকল্পনা ২০২৩ সালে।

Monday, May 11, 2015

মানুষের পকেট কেটে মুনাফা by অরুণ কর্মকার

বিশ্ববাজারে কম দামে জ্বালানি তেল কিনে বেশি দামে বিক্রি করে বিপুল পরিমাণ মুনাফা করছে সরকার। এতে সরকারের লাভ হলেও সব শ্রেণির মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে।
সরকার যে শুধু গাড়িতে ব্যবহৃত অকটেন বিক্রি করেই মুনাফা করছে তা নয়, গরিব মানুষের জ্বালানি কেরোসিন থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের জ্বালানি ডিজেল বিক্রি করেও বিপুল পরিমাণ মুনাফা করছে। চলতি অর্থবছরে এরই মধ্যে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) মুনাফা দুই হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে।
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমতে শুরু করে প্রায় বছর হতে চলল। এখনো জ্বালানি তেলের দাম কম। তার পরেও সরকার দেশে কোনো ধরনের জ্বালানি তেলের দাম না কমানো বা সমন্বয় না করার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত বছরের মাঝামাঝি সময় থেকেই বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমা শুরু হয়। ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলার থেকে কমে একপর্যায়ে তা ৫৮ মার্কিন ডলারে নেমে আসে। এখন এর দাম ৭৫ ডলার। আর আন্তর্জাতিক বাজার পর্যবেক্ষকেরা বলছেন, তেলের দাম অদূর ভবিষ্যতে বাড়লেও তা আর আগের পর্যায়ে উঠবে না। মনে করা হচ্ছে, আরও অনেক দিন প্রতি ব্যারেল তেলের দাম সর্বোচ্চ ৭৫-৮০ ডলারের মধ্যেই থাকবে।
সরকারের এই অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘সরকারের এই অবস্থান সঠিক নয়। বিশ্ববাজারে যেহেতু দাম কমেছে, সেহেতু দেশেও দাম কমানো উচিত। জ্বালানি তেলের বাজার স্থিতিশীল থাকে না বলে তিন মাস পর পর দাম পর্যালোচনা করে বাড়ানো বা কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে।’
জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, এখন প্রতি লিটার অকটেন ও পেট্রলের উৎপাদন ব্যয় পড়ছে ৫৬ টাকা ৮৫ পয়সা। গ্রাহকের কাছে তা বিক্রি করা হচ্ছে যথাক্রমে ৯৯ ও ৯৬ টাকা। বিপণন কোম্পানি ও বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের কমিশন বাদ দিয়ে বিপিসির মুনাফা ৩৫ টাকা ৪৯ পয়সা। একইভাবে প্রতি লিটার কেরোসিন বিপিসির মুনাফা হচ্ছে ১৩ টাকা ৭৭ পয়সা। ডিজেল ১৪ টাকা ৬৮ পয়সা। ফার্নেস তেল ১৯ টাকা ৫৭ পয়সা এবং প্রতি লিটার জেট ফুয়েলে (বিমানের জ্বালানি) বিপিসির মুনাফা হচ্ছে ১৮ টাকা ৭৫ পয়সা করে।
বিপিসির চেয়ারম্যান এ এম বদরুদ্দোজা প্রথম আলোকে বলেন, বিশ্ববাজারে তেলের দাম কম হলেও স্থিতিশীল নয়। প্রতিটি চালানেই দামের হেরফের হয়। ফলে মুনাফার পরিমাণ দীর্ঘ সময় একই রকম থাকে না। অর্থবছর শেষে চূড়ান্ত হিসাব-নিকাশ না হওয়া পর্যন্ত বিপিসির মুনাফা সম্পর্কে বলা সম্ভব নয়। তবে মুনাফা যে হচ্ছে তা ঠিক।’
বিপিসির চেয়ারম্যান বলেন, ‘যুগ যুগ ধরে বিপিসি যে লোকসান দিয়ে এসেছে, তার ফলে সংস্থার দায়-দেনা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারের কাছেই ঋণ প্রায় ২৬ হাজার কোটি টাকা। এই অবস্থায় জ্বালানি তেলের দাম কমানো হবে কি না, তা অন্যান্য সময়ের মতোই সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের বিষয়। তবে এখন পর্যন্ত বিপিসির কাছে দাম কমানোর কোনো নির্দেশনা নেই।’
বিপিসির লোকসান পোষানোর প্রসঙ্গে এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘এটা কোনো যুক্তি হতে পারে না যে বিপিসি যুগ যুগ ধরে লোকসান দিয়েছে বলে দাম কমলেও তা বেশি রাখতে হবে। বরং বিপিসির লোকসানের অঙ্ক সরকার বাজেটের মধ্যে নিয়ে আসতে পারে। তারপর দাম কমিয়ে দিলে সব খাতের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে তার ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।’
বিশ্বব্যাংকের মতো উন্নয়ন সহযোগীরা জ্বালানি তেলের দাম বিশ্ববাজারের সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমন্বয় করার পদ্ধতি প্রবর্তন করার পক্ষে, যেমনটি ভারত করেছে। তাতে বিশ্ববাজারে দাম কমলে আনুপাতিক হারে দেশেও কমবে, বাড়লে দেশেও বাড়বে। তবে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত সম্প্রতি ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত বিশ্ব ব্যাংক-আইএমএফের সভায় স্পষ্ট করেই বলেন, ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ভর্তুকির নীতি তিনি অব্যাহত রাখবেন।’
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক, অর্থনীতিবিদ মোস্তাফিজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘অতীতের অভিজ্ঞতা হচ্ছে জ্বালানি তেলের দাম কমালেও সাধারণ মানুষ তার সুফল পায় না। কারণ, জ্বালানি তেলের অন্যতম প্রধান ব্যবহারকারী পরিবহন খাত ভাড়া কমায় না। নানা অজুহাতে তারা বাড়তি ভাড়া নেয়।’
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়সংক্রান্ত বিশেষ সহকারী ম. তামিমও মনে করেন, পরিবহন খাতের মালিকানার সঙ্গে রাজনৈতিক নেতা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা যুক্ত থাকায় সরকার কখনোই ওই লবির সঙ্গে পেরে ওঠে না। তাঁরা নানা অজুহাতে ভাড়া কমাতে দেন না। আর কৃষিতে যে ডিজেল ব্যবহৃত হয় তার দাম কমিয়েও লাভ নেই। কারণ, কৃষক সরাসরি ডিজেল কেনেন না, কৃষক কেনেন পানি। সরকার ডিজেলের দাম কমালেও মহাজন সেই পানির দাম কমাবে এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই।
তবে সরকার ফার্নেস তেলের দাম কমাতে পারে বলে মনে করেন তামিম। তিনি বলেন, ‘ফার্নেস তেলের দাম কমালে বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় কমবে। ফলে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর দরকার হবে না। সেই সুবিধা সবাই পাবেন।’
জ্বালানি তেলের দাম কমালেও পরিবহন, কৃষি প্রভৃতি খাতে ব্যয় কমানোর সুবিধা সাধারণ মানুষ পাবে না বলে সরকারের ভেতরেও অনেকে মনে করেন। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘এটি সুশাসনের (গভর্নেন্স) প্রশ্ন। অর্থনৈতিক বিষয় নয়। সুশাসন তো সরকারকেই নিশ্চিত করতে হবে।’
জ্বালানি তেল
বিশ্ববাজার থেকে কম দামে কিনে দেশে বেশি দামে বিক্রি করছে সরকার
লিটারপ্রতি দাম টাকায় বিক্রয় মূল্য (দেশের বাজারে) মুনাফা (কমিশন বাদে)
অকটেন/পেট্রল ৯৬–৯৯ ৩৫.৪৯
ডিজেল ৬৮ ১৪.৬৮
কেরোসিন ৬৮ ১৩.৭৭
ফার্নেস অয়েল ৬০ ১৯.৫৭
সূত্র: বিপিসি

Saturday, April 4, 2015

একদিকে গ্যাসের ঘাটতি, অন্যদিকে অপচয় by অরুণ কর্মকার

দেশে প্রতিদিন গ্যাসের চাহিদা ৩০০ কোটি ঘনফুটের বেশি। উৎপাদিত হচ্ছে গড়ে ২৫০ কোটি ঘনফুট। ঘাটতি ৫০ কোটি ঘনফুট। এ অবস্থায়ও দৈনিক প্রায় ৪০ কোটি ঘনফুট (মোট উৎপাদনের ১৬ শতাংশ) গ্যাস অপচয় হচ্ছে। বিদ্যুৎকেন্দ্র, সার কারখানা, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, আবাসিক, বাণিজ্যিক—সব ক্ষেত্রেই হচ্ছে অপচয়। ঘাটতির কারণে দৈনিক সর্বোচ্চ ১৪০ কোটি ঘনফুট চাহিদার বিপরীতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে সর্বোচ্চ ১০০ কোটি ঘনফুট। সেচ ও গ্রীষ্ম মৌসুমে বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাস সরবরাহ বাড়াতে সার কারখানা বন্ধ রাখতে হয়। কিন্তু অপচয় কমানোর কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয় না।
পেট্রোবাংলার সূত্র এবং বেসরকারি গবেষকেরা বলেন, পুরোনো বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সার কারখানার অদক্ষ যন্ত্রপাতি এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সেকেলে প্রযুক্তির বয়লার এ অপচয়ের প্রধান কারণ। এ ছাড়া আবাসিক ও বাণিজ্যিক খাতেও বিপুল পরিমাণ গ্যাসের অপচয় হচ্ছে। তাঁরা বলেন, বর্তমানে দেশে প্রতিদিন উৎপাদিত প্রায় ২৫০ কোটি ঘনফুট গ্যাস ব্যবহার করে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ, সার ও শিল্পপণ্য উৎপাদিত হচ্ছে, যন্ত্রপাতির দক্ষতা বাড়ানো হলে তাতে সর্বোচ্চ ২১০ কোটি ঘনফুটের বেশি গ্যাস লাগার কথা নয়। অর্থাৎ বর্তমানে চাহিদার তুলনায় দেশে দৈনিক গ্যাসের যে ঘাটতি রয়েছে, অপচয় বন্ধ করে তার প্রায় সবটাই পূরণ করা সম্ভব।
জানতে চাইলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও জ্বালানি দক্ষতা (এনার্জি এফিশিয়েন্সি) বিষয়ের গবেষক ইজাজ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, জ্বালানি অপচয়ের বিষয়টি দীর্ঘদিন একেবারেই অবহেলিত ছিল। যুগের পর যুগ অদক্ষ যন্ত্রপাতি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ গ্যাসের অপচয় করা হয়েছে। এখন জ্বালানি-সংকট দেখা দেওয়ায় বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। কিছু কাজও শুরু হয়েছে। বেসরকারি খাতের অল্প কিছু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান জ্বালানির দক্ষ ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে কাজ শুরু করেছে। সরকারও তাদের উৎসাহ দিচ্ছে। তবে তা প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ট নয়।
তিতাসের জরিপ: দেশের সবচেয়ে বড় গ্যাস বিতরণ কোম্পানি তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি একটি জরিপ করে দেখেছে, তাদের বিতরণ এলাকার শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর পুরোনো প্রযুক্তির বয়লার নতুন প্রযুক্তিতে রূপান্তর করে দৈনিক ১৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সাশ্রয় করা সম্ভব। এই রূপান্তরে ব্যয়ও বেশি নয়। এ ছাড়া আবাসিক গ্রাহকদের চুলা উন্নত প্রযুক্তির করা হলে এবং রাস্তা থেকে রান্নাঘরে গ্যাস সরবরাহের লাইন যথাযথভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা হলে প্রতিদিন গ্যাস সাশ্রয় হবে ১০ কোটি ঘনফুট। এ কাজেও ব্যয় হবে সামান্য।
পেট্রোবাংলার হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতিদিন দেশে উৎপাদিত মোট গ্যাসের ১২ শতাংশ (৩০ কোটি ঘনফুট) ব্যবহৃত হচ্ছে আবাসিক খাতে। আর শুধু তিতাসের এলাকায় প্রতিদিন ২৫ কোটি ঘনফুট গ্যাসের অপচয় হচ্ছে।
তিতাস অবশ্য শিল্পে উন্নত প্রযুক্তির বয়লার ও উন্নত চুলার ব্যবহার উৎসাহিত করে গ্যাস সাশ্রয়ের উদ্যোগ কয়েক বছর আগেই নিয়েছে। কিন্তু এখনো এতে উল্লেখযোগ্য ফল মেলেনি। সম্প্রতি হাতে গোনা কয়েকজন শিল্পগ্রাহক তাঁদের বয়লার ও যন্ত্রপাতি জ্বালানি-সাশ্রয়ী করার উদ্যোগ নিয়েছেন বলে তিতাস সূত্র জানায়।
বিদ্যুতে অপচয়: বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সূত্র জানায়, দেশে এখন গ্যাসচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মোট উৎপাদনক্ষমতা ছয় হাজার মেগাওয়াটের বেশি। এসব কেন্দ্রের জ্বালানি দক্ষতা (ফুয়েল এফিশিয়েন্সি) ৩৫ শতাংশের মধ্যে। কিন্তু এখন উন্নত প্রযুক্তির গ্যাসচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি দক্ষতা ৫০ থেকে ৫৫ শতাংশ। পুরোনো কেন্দ্রগুলোর প্রযুক্তি পরিবর্তন করা হলে এখনকার তুলনায় প্রায় অর্ধেক জ্বালানি ব্যবহার করে একই পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব।
এ ব্যাপারে সরকারি সূত্রগুলো জানায়, চাহিদার তুলনায় বিদ্যুতের উৎপাদন দীর্ঘদিন ধরে অনেক কম থাকায় এবং অর্থসংকটের কারণে পুরোনো কেন্দ্রগুলো বন্ধ করে প্রযুক্তি পরিবর্তনের সুযোগ কখনো পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে অধ্যাপক ইজাজ হোসেন বলেন, আশির দশকে চীনের ঋণে চট্টগ্রামের রাউজানে বিদ্যুৎকেন্দ্র করার সময়ও কেন নতুন প্রযুক্তি নেওয়া হলো না। তখন তো আর পুরোনো কেন্দ্র বন্ধ রেখে করার প্রশ্ন ছিল না। আসলে সরকার জ্বালানি দক্ষতার বিষয়টিকে কখনো তেমন গুরুত্ব দেয়নি।
পিডিবি সূত্র জানায়, তাদের প্রায় এক হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতার পুরোনো বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে, যেগুলোর জ্বালানি দক্ষতা সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ। এই কেন্দ্রগুলোতে যে পরিমাণ জ্বালানি ব্যবহৃত হচ্ছে, সেই পরিমাণ জ্বালানি দিয়ে এখনকার তুলনায় দ্বিগুণ বিদ্যুৎ উৎপাদিত হতে পারে। সে জন্য ওই কেন্দ্রগুলো নবায়নের জন্য বিপুল অর্থ দরকার। তবে সেই অর্থের পরিমাণ অপচয় হওয়া জ্বালানির তুলনায় অনেক কম।
বিদ্যুতের আরেকটি বড় অপচয়ের ক্ষেত্র ক্যাপটিভ পাওয়ার (বেসরকারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের নিজস্ব বিদ্যুৎ উৎপাদন)। এ ক্ষেত্রে কম দামে গ্যাস দেওয়া হয়। কিন্তু বিদ্যুৎ উৎপাদনের দক্ষতা ক্ষেত্রবিশেষে ২০ শতাংশের কম।
সারেও অপচয়: ইউরিয়া সার কারখানাগুলোতেও জ্বালানির অপচয় ব্যাপক। কর্ণফুলী সার কারখানা (কাফকো) বিদেশি বিনিয়োগে স্থাপিত একটি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান। এ কারখানায় এক মেট্রিক টন ইউরিয়া উৎপাদনে গ্যাস লাগে ২৪ হাজার ঘনফুট। অপর দিকে সরকারি কারখানাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে দক্ষ যমুনা সার কারখানায় এক টন ইউরিয়া উৎপাদনে গ্যাস লাগে ৩২ হাজার ঘনফুট। চিটাগাং ইউরিয়া সার কারখানায় লাগে ৪২ হাজার; ঘোড়াশালের জিয়া ও পলাশ সার কারখানায় লাগে যথাক্রমে ৪৩ ও ৪৯ হাজার ঘনফুট। আশুগঞ্জের সার কারখানায় লাগে ৭৩ হাজার ঘনফুট। ফেঞ্চুগঞ্জ সার কারখানায় লাগত ৮২ হাজার ঘনফুট। এটি বন্ধ করে নতুন শাহজালাল সার কারখানা নির্মাণ করা হয়েছে।
অধ্যাপক ইজাজ বলেন, কারখানাগুলোর প্রযুক্তি পরিবর্তন করে এ অপচয় বন্ধ করা যায়। কাফকোর মতো প্রতিষ্ঠানকে তা করতেই হয়। কারণ, তাদের তো আন্তর্জাতিক দামে গ্যাস কিনতে হয়। দেশের কারখানাগুলো কম দামে গ্যাস পায়। ফলে জ্বালানির অপচয় নিয়ে তাদের এবং সরকারের মাথাব্যথা কম।
সরকারি-বেসরকারি সূত্রগুলোর হিসাব অনুযায়ী, এই ক্ষতি সরকারি খাতই বেশি করছে। সরকার কারখানাগুলোর আধুনিকায়নে বিনিয়োগ না করায় এ ক্ষতি হচ্ছে। আবার এ ক্ষতির কারণেই সরকার বা প্রতিষ্ঠানগুলোর হাতে নতুন বিনিয়োগ করার মতো অর্থ আসছে না।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় শিল্পের বয়লার ও পুরোনো বিদ্যুৎকেন্দ্রের যন্ত্রপাতি পরিবর্তন করে জ্বালানি দক্ষতা বাড়ানোর একটি কার্যক্রম নেওয়া হয়েছিল। কিছু কাজও হয়েছিল। তবে সময়স্বল্পতায় তা বেশি দূর এগোয়নি।

Monday, December 15, 2014

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প- উল্টো পথে হাঁটছে বাংলাদেশ? by অরুণ কর্মকার

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকার যেভাবে এগোচ্ছে, সে বিষয়ে ভিন্নমত রয়েছে বিশেষজ্ঞদের। সরকার বলছে, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) ‘গাইডলাইন’ অনুসরণ করে এগোচ্ছে তারা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আইএইএর গাইডলাইন কিংবা ‘মাইলস্টোন অ্যাপ্রোচ’ ও সরকারের কাজের মধ্যে বড় ব্যবধান আছে। দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সরকার প্রকল্পটি ‘ফাস্ট ট্র্যাক’ কর্মসূচিভুক্ত করেছে। কিন্তু আইএইএর সময়ভিত্তিক কর্মনির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণকারী কোনো দেশের প্রকল্প বাস্তবায়ন দ্রুততর করার সুযোগ নেই। আইএইএর নির্দেশিকা অনুযায়ী, কোনো দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র করতে ১০ বছর সময় লাগে। কিন্তু ২০১৩ সালে রূপপুর প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই শুরু করে ২০১৮-১৯ সালেই শেষ করতে চায় সরকার। আইএইএর সাবেক পরিচালক (তেজস্ক্রিয়তা নিয়ন্ত্রণ), দেশের বিশিষ্ট পরমাণুবিজ্ঞানী জসিমউদ্দিন আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, যেভাবে তাড়াহুড়া করে প্রকল্পটি মাঠে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, সেটা ঠিক হয়নি। এখন পর্যন্ত এমন কোনো কারিগরি পেশাজীবী দলও গঠন করা হয়নি, যারা সার্বিকভাবে প্রকল্পটির তত্ত্বাবধান করতে সক্ষম। সরকারের সংশ্লিষ্ট অনেকেও বলেছেন, জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি থেকে শুরু করে পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বিএইআরএ) ও প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় সম্পৃক্ত ব্যক্তিরা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণ প্রক্রিয়া সম্পর্কে অনভিজ্ঞ। পারমাণবিক বিদ্যুৎ স্বচ্ছ জ্বালানি (ক্লিন ফুয়েল) হিসেবে স্বীকৃত। একদিকে পৃথিবীতে এর প্রসার ঘটছে, অন্যদিকে বিপজ্জনক হিসেবেও এর ব্যাপক সমালোচনা রয়েছে। পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে জুতসই প্রযুক্তি ও দক্ষ জনবলকে বলা হয় নিয়ামক শক্তি। রূপপুর প্রকল্পের ক্ষেত্রে এ নিয়েই প্রধান বিতর্ক। পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার পদ্মাপাড়ের একটি জনপদ রূপপুর। সেখানে ৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের প্রকল্প হাতে নেওয়া হয় ১৯৬২ সালে। তার পর থেকে একাধিকবার প্রাথমিক সমীক্ষা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত ২০০৯ সালে সরকার দুই হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতার এই প্রকল্প বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নেয়। রাশিয়ার প্রযুক্তি ও ঋণ-সহায়তায় মাঠপর্যায়ে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। এ প্রকল্পের বিষয়ে ঈশ্বরদীর মানুষের মধ্যে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। গত বৃহস্পতিবার প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনের সময় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের নানা প্রতিক্রিয়া জানা যায়। অবসরপ্রাপ্ত কলেজশিক্ষক ও ঈশ্বরদী নাগরিক মঞ্চের সদস্য আবুল কালাম আজাদ বলেন, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও বিদ্যুতের প্রয়োজন বিবেচনায় তাঁর অবস্থান প্রকল্পের পক্ষেই। তবে সাধারণ মানুষের মধ্যে দুর্ঘটনার শঙ্কা রয়েছে। এ শঙ্কা নিরসনের কোনো উদ্যোগ দেখা যায় না। ঈশ্বরদীর সমাজকর্মী পাভেল খান অবশ্য নিরাপত্তার বিষয়টিই প্রধান বলে বিবেচনা করেন। একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠী সভা-সেমিনার ও প্রচারপত্র বিলি করে নিরাপত্তা ও দক্ষ জনবলের অভাবের বিষয়টি মানুষের সামনে এনেছে। কলাম লেখক মোশাররফ হোসেন বলেন, তিনি ও তাঁর মতো অনেক লোক দোদুল্যমান অবস্থায় অছেন। নিরাপত্তার বিষয়টি অবশ্যই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। যাঁরা পরমাণু প্রযুক্তি বোঝেন, তাঁরাও পক্ষে-বিপক্ষে—দুই দিকেই আছেন। অনেকে এখনো বিশ্বাস করেন না যে এই প্রকল্প শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হবে। এমনই একজন আকবর আলী প্রামাণিক বলেন, ‘৬২ সাল থেকে দেখছি। এখন এটি বাস্তবায়ন করছে রাশিয়া। তাতে আমেরিকা অখুশি। তাদের রাজনীতির কারণে যেকোনো সময় গিট্টু লেগে যেতে পারে।’ রাশিয়া-আমেরিকার এই দ্বন্দ্বের বিষয়টি সরকারি পর্যায়েও আলোচিত। পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের নিরাপত্তা, জনবল প্রভৃতি বিষয়ে যাঁরা সমালোচনা করেন, সরকারের নীতিনির্ধারদের অনেকে এই সমালোচকদের মনে করেন তাঁরা আমেরিকার পক্ষ অবলম্বনকারী। তাই কোনো সমালোচনা তাঁরা কানে তুলতে চান না। বর্তমান পৃথিবীতে ৩১টি দেশে ৪৩৬টি পারমাণবিক রি-অ্যাক্টর সক্রিয় রয়েছে। এগুলো মোট তিন লাখ ৭৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে, যা পৃথিবীর মোট উৎপাদিত বিদ্যুতের প্রায় ১১ শতাংশ। বাংলাদেশ ছাড়াও ভিয়েতনাম, সৌদি আরবসহ অনেক দেশ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে। চীন, ভারত, ইরান, বেলারুশসহ অনেক দেশ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সংখ্যা বাড়াচ্ছে। জার্মানি, সুইডেন, সুইজারল্যান্ডসহ কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ নতুন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র না করার ঘোষণা দিয়েছে। ২০১১ সালে জাপানের ফুকুশিমা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে দুর্ঘটনার পর থেকে সে দেশের সব কটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এখন পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে অধিকতর নিরাপত্তা ও জনসমর্থন নিশ্চিত করে আবার দুটি কেন্দ্র চালু করার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।
আইএইএর কর্মনির্দেশিকা: প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণকারী দেশগুলোর জন্য আইএইএ ২০১২ সালে একটি কর্মনির্দেশিকা ও সময়সূচি তৈরি করে। সে অনুযায়ী, প্রথম বছর সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের পর প্রকল্প এলাকার বিশদ জরিপ ও পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণে লাগে আরও দুই বছর। এর এক বছরের মধ্যে প্রকল্প এলাকার প্রাথমিক নিরাপত্তা বিশ্লেষণী প্রতিবেদন (পিএসএআর) তৈরি করা হয়। এরপর নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ পিএসএআর পর্যালোচনা করে। এ পর্যায়ে শুরু হয় প্রকল্প এলাকা প্রস্তুত করার কাজ। অর্থাৎ প্রকল্প এলাকা প্রস্তুত করার পর্যায় শুরু হয় সম্ভাব্যতা যাচাই শুরুর তিন বছর পর, চতুর্থ বছরে গিয়ে। কিন্তু রূপপুরের ক্ষেত্রে গত বছর (২০১৩ সাল) অক্টোবরে সম্ভাব্যতা যাচাই শুরু হয়েছে। ২০১৫ সালেই প্রকল্প এলাকা প্রস্তুত করে মূল প্রকল্পের পুরো কাজ শুরুর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। অথচ আইএইএর নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রকল্প এলাকায় প্রথম সিমেন্ট ঢালাইয়ের কাজ (ফার্স্ট কংক্রিট) শুরু করার কথা পাঁচ বছরের মাথায়। আইএইএর ওই কর্মনির্দেশিকা অনুযায়ী, সম্ভাব্যতা যাচাই শুরুর পরবর্তী ১০ বছরের মাথায় কোনো দেশে প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি চালু হতে পারে। রূপপুরের ক্ষেত্রে ছয় বছরের মাথায় ২০১৮-১৯ সালেই প্রথম ইউনিট চালু করার কথা বলা হচ্ছে। অর্থাৎ সরকারের নীতিনির্ধারক ও রূপপুর প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মুখে আইএইএর কর্মনির্দেশিকা অনুসরণ করার কথা বললেও সে অনুযায়ী কাজ করছেন না। তবে প্রকল্পের বাংলাদেশ অংশের পরিচালক শৌকত আকবর বলেন, তাঁরা আইএইএর ২০০৯ সালের মাইলস্টোন অ্যাপ্রোচ অনুসরণ করছেন। পরমাণু শক্তি কমিশনের সূত্র জানায়, ২০০৯ সালের মাইলস্টোন অ্যাপ্রোচটি তাত্ত্বিক। সেখানে প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নকারী দেশের কোন সময় কী কাজ করতে হবে, তা নির্দিষ্ট করা নেই। কাজেই সেটি অনুসরণ করলে নিজেদের ইচ্ছেমতো কাজ করা যায়। ২০১২ সালের কর্মনির্দেশিকায় শুরু থেকে কোন কাজ কখন করতে হবে, তার স্পষ্ট উল্লেখ আছে। তাই এটি অনুসরণ করলে ইচ্ছেমতো কাজ করা যায় না। সে জন্যই বাংলাদেশ ২০০৯ সালের অ্যাপ্রোচটি অনুসরণ করছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান বলেন, ‘আমরা যে মাইলস্টোন অ্যাপ্রোচটি অনুসরণ করছি, তা আইএইএ জানে। প্রতি মাসে তাদের প্রতিনিধিদল এসে কাজ দেখে যায়। গত নভেম্বরেও এ রকম একটি প্রতিনিধিদলের সদস্যরা এসেছিলেন। আইএইএর মহাপরিচালকের সঙ্গে গত মাসেও কথা হয়েছে। আমাদের অনুসৃত অ্যাপ্রোচ ঠিক না হলে তাঁরা আমাদের বলতেন। তাঁরা বরং বলছেন, আমরা সঠিক পথেই এগোচ্ছি।’
প্রাক্‌-নির্মাণ পর্বে বিভ্রান্তি: প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইসহ প্রাক্‌-নির্মাণ পর্বের নির্ধারিত কাজ ও ব্যয় এবং মূল নির্মাণ পর্বের সম্ভাব্য ব্যয় নিয়ে প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য শুরুতেই অনেক বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে। সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য ৬০টি আলাদা সমীক্ষার মধ্যে ২২টি দেশীয় বিশেষজ্ঞ-পেশাজীবীরা করবেন বলে শুরু থেকে বলা হয়েছে। ২০১৩ সাল থেকে বলা হচ্ছে, দেশের বিশেষজ্ঞরা এককভাবে একটি সমীক্ষাও করবেন না, রুশ বিশেষজ্ঞরা সবগুলো করবেন। তবে প্রয়োজন হলে দেশের বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা নেওয়া হবে। প্রকল্প পরিচালক শৌকত আকবর প্রথম আলোকে বলেন, প্রকল্পটি নিরাপদ ও নির্ভুলভাবে বাস্তবায়নের সব দায়িত্ব যেহেতু রস-অ্যাটমের (রাশিয়ান ফেডারেশনের পরমাণু শক্তি করপোরেশন), সেহেতু সব কাজ তারাই করবে। তাদেরই দায়িত্ব নিয়ে সব করতে হবে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, রস-অ্যাটম সব ধরনের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিয়েছে, এমন কোনো প্রমাণ নেই। আর যদি তারা সেই দায়িত্ব নিয়েই থাকে, তাহলে বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কাজ কী?
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী আবদুল মতিন বলেন, প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র করার সময় যেকোনো দেশেই সকল পর্যায়ের দক্ষ জনবল না থাকতে পারে। কিন্তু সে জন্য যে দেশ বা কোম্পানি যন্ত্রপাতি সরবরাহ করবে, তারাই সব রকম সমীক্ষা ও নির্মাণকাজ করবে। তিনি বলেন, এ রকম ক্ষেত্রে ক্রেতা দেশের (বাংলাদেশ) উচিত অভিজ্ঞ কোনো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানকে পরামর্শক নিয়োগ করা এবং শুরু থেকেই প্রশিক্ষিত জনবল তৈরির পদক্ষেপ নেওয়া। ২০০৯ সালে যখন রূপপুর প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়, তখন থেকেই এই জনবল তৈরির কাজ শুরু করা হলে এত দিনে প্রকল্পের মৌলিক পদগুলোতে কাজ করার মতো দক্ষ জনবল তৈরি হয়ে যেত।
আইএইএর ‘গাইডবুক’: এর ‘টেকনিক্যাল সিরিজ নম্বর ২০০’-এর তথ্য অনুযায়ী, একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প ব্যবস্থাপনার কাজে ৪৯ জন দক্ষ পেশাজীবী প্রয়োজন। এর মধ্যে ৪৬ জন পরমাণু প্রকৌশলবিদ্যায় স্নাতক ও তিনজন স্নাতকোত্তর বা পিএইচডি ডিগ্রিধারী দরকার। প্রকল্পের ‘লাইসেন্সিং অ্যান্ড রেগুলেশন’-সংক্রান্ত কাজে ৫৫ জন দক্ষ পেশাজীবী দরকার। এর মধ্যে ৪৪ জন পরমাণু প্রকৌশলবিদ্যায় স্নাতক ও ১১ জন স্নাতকোত্তর বা পিএইচডি ডিগ্রিধারী থাকতে হবে। প্রকল্পের পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণ দলেও ৫৫ জন দক্ষ পেশাজীবী দরকার বলে বলা হয়েছে আইএইএর গাইডবুকে। এর মধ্যে ৫৩ জন পরমাণু প্রকৌশলবিদ্যায় স্নাতক ও দুজন স্নাতকোত্তর বা পিএইচডি ডিগ্রিধারী হতে হবে। কিন্তু প্রতিটি ক্ষেত্রেই এমন লোকের অভাব রয়েছে। প্রকল্প পরিচালক বলেছেন, পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণ দলের জনবল তৈরির পদক্ষেপ নেওয়া হবে প্রকল্পের যন্ত্রপাতি তৈরি শুরু হওয়ার সময় থেকে, ২০১৬ সাল নাগাদ। কিন্তু অন্যান্য ক্ষেত্রে নিজেদের দক্ষ জনবল ছাড়া শুধু আইএইএ এবং রাশিয়ার ওপর ভরসা করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে বলে অভিজ্ঞ পেশাজীবীদের অভিমত। রাশিয়ার নির্মিত ভারতের তামিলনাড়ুর কুদনকুলাম কেন্দ্রটির উদাহরণ দিয়ে তাঁরা বলেন, সেটির নকশায় নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ১৭টি ত্রুটি সংশোধন করতে হয়েছে। ভারতের অ্যাটমিক এনার্জি রেগুলেটরি বোর্ড ওই ত্রুটিগুলো শনাক্ত করতে সক্ষম হয়। সরকার বলছে, প্রকল্প বাস্তবায়ন-প্রক্রিয়ার পাশাপাশি জনবল গড়ে তোলার কাজ শুরু হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই প্রক্রিয়ায় পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণ পর্যায়ের জন্য প্রয়োজনীয় জনবল গড়ে তোলা সম্ভব হতে পারে। কিন্তু প্রকল্প ব্যবস্থাপনা এবং লাইসেন্সিং অ্যান্ড রেগুলেশন পর্যায়ের দক্ষ জনবল শুরু থেকেই দরকার। এ কাজে অন্যদের ওপর নির্ভর করা বিপজ্জনক হতে পারে। আর যারাই যত সহায়তা করুক, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সব কাজের দায়িত্ব শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশকেই নিতে হবে।
আইএইএর আট প্রশ্ন: প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নকারী কোন দেশের প্রস্তুতি কোন পর্যায়ে, তা নির্ধারণের জন্য আইএইএর আটটি প্রশ্নের একটি তালিকা রয়েছে। সংস্থার ‘মাইলস্টোনস অ্যাপ্রোচ অ্যান্ড টেকনোলজি অ্যাসেসমেন্ট’ দলিলে অন্তর্ভুক্ত এ প্রশ্ন-তালিকার প্রথমটি হচ্ছে, ‘আমাদের কি প্রয়োজনীয় জনবল আছে?’ এ প্রশ্নটির জবাব ‘না’ বোধক হলে পরবর্তী প্রশ্নে যাওয়ার দরকার নেই। সেখানেই উদ্যোগটি বন্ধ করে জনবল তৈরির পদক্ষেপ নিতে হবে। বাংলাদেশও এই পর্যায়ভুক্ত। এর পরবর্তী প্রশ্নগুলো হচ্ছে, আমরা কি অর্থের সংস্থান করতে পারব? পরমাণু কর্মসূচির প্রতি সরকার ও দেশের জনগণের সমর্থন আছে কি? পারমাণবিক বর্জ্যের কী হবে? আমাদের জন্য জুতসই/উপযুক্ত রি-অ্যাক্টর পাওয়া যাবে তো? পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য যথোপযুক্ত জায়গা আমাদের আছে কি? পারমাণবিক জ্বালানি ও বিদ্যুৎকেন্দ্রের খুচরা যন্ত্রাংশ আমরা পাব তো? এ প্রকল্প দেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে কি? এ প্রসঙ্গে আবদুল মতিন বলেন, বাংলাদেশের ক্ষেত্রে প্রথম প্রশ্নের জবাব হচ্ছে, ‘না’। এ অবস্থায় রূপপুর প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। বুঝেশুনে উপযুক্ত সময় ও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে এগোনো উচিত।
{প্রতিবেদনের সরেজমিন কাজে সহায়তা করেছেন প্রথম আলোর ঈশ্বরদী প্রতিনিধি মাহবুবুল হক}
পারমাণবিক বিদ্যুৎ​ প্রকল্প মডেল

নিয়ন্ত্রণ কাঠামো
পরমাণু চুল্লিকে ঘিরে থাকে ইস্পাত বা সিসার তৈরি এই কাঠামো। এটির কাজ জরুরি পরিস্থিতিতে তেজস্ক্রিয় পদার্থ নির্গমন আটকে রাখা।

চাপ দেওয়ার যন্ত্র বা প্রেশারাইজার
তাপ অপসারণকারী তরল বা গ্যাসকে শীতল রাখে

বাষ্প জেনারেটর
এটি তাপ বিনিময়ের কাজে ব্যবহৃত হয়। চুল্লির ভেতরে পানিকে বাষ্পে রূপান্তর করে।

টারবাইন

জেনারেটর

নিয়ন্ত্রণ দণ্ড
এটি ইউরেনিয়াম ও প্লুটোনিয়ামের ফিশনের হার নিয়ন্ত্রণে রাখে

পরমাণু চুল্লির ধারক
এটি চাপ ধারণ করে, চুল্লির শীতলীকরণ ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করে এবং মূল অংশ হিসেবে কাজ করে

বাষ্পকে ঠান্ডা করার যন্ত্র কনডেনসার
প্রেশারাইজড ওয়াটার রিঅ্যাক্টরের নমুনা
ইনফোগ্রাফিকস: প্রথম আলো
সূত্র: আইএইএ

Sunday, November 30, 2014

বিশ্ব ঐতিহ্যের সম্মান হারাবে সুন্দরবন by অরুণ কর্মকার ও ইফতেখার মাহমুদ

‘অসামান্য এবং বৈশ্বিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ’ সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সম্পদ বিপন্ন হতে পারে বলে মন্তব্য করেছে ইউনেসকো। বাগেরহাটের রামপালে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ, সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে নৌযান চলাচল ও বন-সংলগ্ন এলাকায় দূষণকারী শিল্পকারখানা স্থাপনের ফলে এ আশঙ্কা করছে ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্য কেন্দ্র। জাতিসংঘের শিক্ষা, সংস্কৃতি ও বিজ্ঞানবিষয়ক সংস্থা ইউনেসকো সরকারকে চিঠি দিয়ে বলেছে, বিশ্বের সবচেয়ে বড় শ্বাসমূলীয় এই বনের প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় সরকার ব্যর্থ হলে বিশ্ব ঐতিহ্যের সম্মান হারাবে সুন্দরবন। বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকা থেকে সুন্দরবন নাম লেখাবে ‘বিপন্ন বিশ্ব ঐতিহ্যের’ তালিকায়। ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্য কমিশন থেকে সুন্দরবনের ভেতরে পশুর নদ দিয়ে নৌপথ চালুর ব্যাপারেও আপত্তি তোলা হয়েছে। সরকারের পশুর নদ খননের পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে ইউনেসকো বলেছে, এই তিনটি তৎপরতা সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সম্পদের ক্ষতি করবে। রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ এবং নৌপথ চালুর ফলে সুন্দরবনের পাশে আরও বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং দূষণকারী শিল্পকারখানা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে ইউনেসকো সরকারকে এ বিষয়ে একটি চিঠি দিয়েছে। সুন্দরবন রক্ষায় কী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা উল্লেখ করে ১ ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রতিবেদন চেয়েছে ইউনেসকো। বিদ্যুৎকেন্দ্র, নৌপথ, শিল্পকারখানা স্থাপন এবং নদী খননের ফলে সুন্দরবনের অপূরণীয় ক্ষতি হতে পারে উল্লেখ করে তা বন্ধে সরকারকে পদক্ষেপ নিতে বলেছে জাতিসংঘের এই সংস্থাটি। তারা বলেছে, সুন্দরবনের পাশে এমন কোনো তৎপরতা চালাতে দেওয়া উচিত হবে না, যার ফলে সুন্দরবনের অপূরণীয় ক্ষতি হয়।
গত ১১ জুলাই ইউনেসকোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সেন্টারের পরিচালক কিশোর রাও স্বাক্ষরিত সুন্দরবনসংক্রান্ত একটি চিঠি ইউনেসকোতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতকে দেওয়া হয়। এরপর ১৮ জুলাই রাষ্ট্রদূত শহিদুল ইসলাম পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বিদ্যুৎ বিভাগ ও বাংলাদেশ ইউনেসকো কমিশনের কাছে বিষয়টি অবগত করে চিঠি দেন। চিঠিতে তিনি সুন্দরবনের সম্ভাব্য ক্ষতির ব্যাপারে প্রধান দায়িত্ব নিতে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করেন।
জানতে চাইলে পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, এ ধরনের কোনো চিঠি তাঁর কাছে আসেনি। মন্ত্রণালয় থেকেও তাঁকে এ বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি। তবে সুন্দরবন রক্ষায় পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় আগের মতো ভবিষ্যতেও কাজ করে যাবে।
ইউনেসকোর চিঠিতে বলা হয়েছে, নিয়ম অনুযায়ী বিশ্ব ঐতিহ্য আছে, এমন দেশগুলোকে প্রতিবছর বিশ্ব ঐতিহ্যের সংরক্ষণ পরিস্থিতি তুলে ধরে ইউনেসকোতে প্রতিবেদন জমা দিতে হয়। গত বছরের ১ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ইউনেসকোর কাছে সুন্দরবন সংরক্ষণ বিষয়ে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময়সীমা থাকলেও বাংলাদেশ তা দেয়নি।
পরে ৮ সেপ্টেম্বর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জে্যষ্ঠ সহকারী সচিব জিল্লুর রহমান ‘সুন্দরবন সংরক্ষণ বিষয়ে’ একটি চিঠি বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড এবং রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানিকে দেয়। চিঠিতে ইউনেসকোর কাছে প্রতিবেদন দেওয়ার বিষয়টি জানোনো হয়। গত ২৫ আগস্ট বাংলাদেশ ইউনেসকো জাতীয় কমিশনের সচিব মনজুর হোসেন বিদ্যুৎ বিভাগের সচিবের কাছে আরেকটি চিঠি দিয়ে বিষয়টি জানান।
এর আগে গত জুনে কাতারের দোহায় ইউনেসকোর বার্ষিক সাধারণ সভায় সুন্দরবনের সংরক্ষণ বিষয়ে আলোচনা হয়। গত মাসে ওই সভার কার্যবিবরণী ইউনেসকো তার ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে। এতে বলা হয়,, পশুর নদীর পাশে এবং মংলা বন্দর থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে কয়লাভিত্তিক যে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি হচ্ছে, তা সম্পর্কে ওয়াল্ড হেরিটেজ সেন্টার বিস্তারিত তথ্য জানতে চায়।
ইউনেসকোর কার্যবিবরণীতে বলা হয়, শুধু রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রই প্রধান সমস্যা নয়। এই বিদ্যুৎকেন্দ্র সুন্দরবনের পাশে রামপালের উজানে আরও মারাত্মক দূষণকারী শিল্পকারখানা গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে অনুঘটকের ভূমিকা রাখছে। রামপাল প্রকল্পের পাশে আরেকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ নিয়ে ইউনেসকো সরকারের কাছে গত ১১ এপ্রিল তথ্য জানতে চেয়েছিল। কিন্তু বাংলাদেশ সাড়া দেয়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পরিবেশ বিশেষজ্ঞ এবং ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক আইনুন নিশাত প্রথম আলোকে বলেন, বাংলাদেশ সরকার পরিবেশ-জলাভূমি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার বিষয়টি সংবিধানে যুক্ত করেছে। এই তিনটি দিক থেকেই সুন্দরবন রক্ষায় সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। ফলে সাংবিধানিক কারণে ইউনেসকোর উদ্বেগের বিষয়টি সরকারকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত।
রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র সম্পর্কে ইউনেসকোর মূল্যায়ন তুলে ধরে প্রতিবেদনে বলা হয়, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রটি সুন্দরবনের বিশ্ব ঐতিহ্য এলাকা এবং বণ্যপ্রাণী অভয়ারণ্য থেকে ৬৫ কিলোমিটার দূরে। বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে যে ধোঁয়া এবং ছাই বের হবে, তা বনের জীববৈচিত্র্য এবং প্রাকৃতিক সম্পদের মারাত্মক ক্ষতি করবে। এ ছাড়া কয়লা পরিবহনের সময়ও তার সুন্দরবনের বায়ু এবং পানিকে দূষিত করবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, কয়লা পরিবহনের জন্য যে বড় আকৃতির জাহাজ সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে চলাচল করবে, তা বনের দুই পাড়ে ভাঙন সৃষ্টি করবে। বিশ্বের অন্যতম মহাবিপন্ন বা বিলুপ্তির পথে থাকা বেঙ্গল টাইগারের বসতি সুন্দরবনের পশুর নদীতে আরেক মহাবিপন্ন প্রাণী ডলফিন ও বাটাগুড় বাস্কা কচ্ছপ থাকে। আরও রয়েছে সুন্দরবনের ভোঁদড়, স্থানীয় মাছ ও অন্যান্য বিপন্ন প্রাণী। বিদ্যুৎকেন্দ্রের ফলে এসব প্রাণী আরও দ্রুত বিলুপ্তির দিকে এগিয়ে যাবে।
এর আগে গত সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের বৈশ্বিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ জলাভূমি সংরক্ষণবিষয়ক সংস্থা রামসার কর্তৃপক্ষ সুন্দরবনের ব্যাপারে উদ্বেগ জানায়। তারা সুন্দরবনের পাশে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে এ ব্যাপারে সরকারের কাছে তথ্য চায়।

Friday, November 28, 2014

জৈব গ্যাস প্রযুক্তি- রান্না, ব্যবসায় জৈব গ্যাস by অরুণ কর্মকার

রুমানা-আফজাল দম্পতির বাসা টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গায়। এলাকাটিতে গ্যাস-সংযোগ নেই। তাই নিজেদের রান্নার জন্য জৈব গ্যাসের ব্যবস্থা করতে চার বছর আগে স্থাপন করেছিলেন একটি মুরগির খামার। তাতে এখন নিজেদের প্রয়োজন তো মিটছেই, আরও ২৩টি পরিবারকে গ্যাস সরবরাহ দিচ্ছেন তাঁরা। পারিবারিক এই জৈব গ্যাস প্রকল্পের আসল পরিচালক গৃহকর্ত্রী রুমানা নাসরিন। স্বামী মো. আফজাল হোসেন ওরফে পামিরুল তাঁর সহায়ক ও ব্যবস্থাপক। আর আছেন একজন সাহায্যকারী— মো. দানেশ। দেশে এখন প্রায় ৫০ হাজার পরিবারের সারা বছরের রান্না চলে জৈব গ্যাসে। তবে সেখানে রুমানা-আফজাল দম্পতির মতো উদ্যোক্তা কম, যারা নিজেদের প্রয়োজনের অতিরিক্ত গ্যাস উৎপাদন করে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে আশপাশের মানুষের চাহিদা মেটাচ্ছেন। অধিকাংশ পরিবার নিজেদের প্রয়োজন মেটাতে নিজ নিজ গরু বা মুরগির খামারের বর্জ্য ব্যবহার করে জৈব গ্যাস উৎপাদনের ব্যবস্থা করেছে।
সম্প্রতি সরেজমিনে প্রকল্পটি পরিদর্শনের সময় প্রথম আলোকে রুমানা বলেন, ‘গ্যাসে রান্নার আনন্দই আলাদা। সুবিধাও অনেক। প্রথমে নিজেদের প্রয়োজনে করেছিলাম। পরে আশপাশের বাসিন্দারাও গ্যাস নেওয়ার আগ্রহ দেখান। তাই খামারের আয়তন বাড়িয়ে গ্যাস উৎপাদন বাড়ানো হয়েছে।’
আফজাল বলেন, ‘এটা ব্যবসা হিসেবেও খারাপ না। প্রতি মাসে গ্যাস বিক্রি করে প্রায় ১৪ হাজার টাকা আয় হয় তাঁদের। গ্যাস প্ল্যান্ট করতে প্রায় ৬০ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। তার মধ্যে প্রায় ১০ হাজার টাকা পাওয়া গেছে সরকারি অনুদান হিসেবে। রক্ষণাবেক্ষণে তেমন কোনো ব্যয় নেই। বছরে একবার কিছু পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার ব্যাপার থাকে মাত্র।’
আফজাল জানান, তাঁদের খামারে এখন তিন হাজার লেয়ার (ডিমের জন্য প্রতিপালিত) মুরগি। শুরু করেছিলেন এক হাজার দিয়ে। তাঁরা এখন মোট ২৫টি চুলায় গ্যাস দেন। এর মধ্যে দুটি নিজেদের। অবশিষ্ট ২৩টির প্রতিটি চুলার জন্য মাসে ৬০০ টাকা করে নিচ্ছেন। মুরগির খামার ও গ্যাসের উৎপাদন আরও বাড়ানোর কথা ভাবছেন তাঁরা। গ্যাস থাকার কারণে তাঁদের বাড়িতে ভাড়ায় থাকার জন্য অনেক পরিবার ‘সিরিয়াল’ দিয়ে রাখেন।
অবশ্য চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর উপজেলার সাদুল্যাপুর ইউনিয়নের পশ্চিম পুটিয়ারপাড় গ্রামে আবদুল কাদের আরও বড় একটি জৈব গ্যাস প্রকল্প চালাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন গ্রামীণ শক্তির পরামর্শক এম এ গোফরান। প্রায় ১২ হাজার মুরগির বর্জ্য দিয়ে পরিচালিত ওই জৈব গ্যাস প্ল্যান্টের মাধ্যমে এখন ৯০টি চুলায় গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে বলে টেলিফোনে প্রথম আলোকে জানান আবদুল কাদেরের ছেলে মো. আল-আমিন। তিনিই ওই খামার ও গ্যাস প্ল্যান্টের পরিচালক। ইডকল ও সংশ্লিষ্ট কয়েকটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার (এনজিও) সূত্রে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত এটিই সম্ভবত দেশের সবচেয়ে বড় জৈব গ্যাস প্ল্যান্ট।
বাড়িভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের মতো জৈব গ্যাসের দেশব্যাপী এই প্রকল্পেও সহায়তা করছে সরকারি খাতের ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (ইডকল)। বিশ্বব্যাংক, জার্মানির কেএফডব্লিউ ও নেদারল্যান্ডসের এসএনভির ঋণ ও অনুদানে দেশের ২৪টি এনজিওর সহায়তায় ইডকল এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। তাদের লক্ষ্য ২০১৮ সালের মধ্যে দেশে এক লাখ জৈব গ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপন।
ইডকলের প্রকল্প ছাড়া সরকারি-বেসরকারি কয়েকটি সংস্থা এবং অনেকের ব্যক্তিগত উদ্যোগেও দেশে জৈব গ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপিত হচ্ছে। সব মিলে বর্তমানে দেশে এর সংখ্যা ৫০ হাজারের মতো। প্রতি মাসেই এই সংখ্যা বাড়ছে। তবে জৈব গ্যাস প্রকল্প বাড়িভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের মতো দ্রুত সম্প্রসারণশীল নয়। এর কারণ, অধিকাংশ পরিবারে হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগল থাকলেও তা সংখ্যায় জৈব গ্যাস প্রকল্প চালানোর জন্য যথেষ্ট নয়। আবার যাঁদের তা যথেষ্টসংখ্যক আছে, তাঁরাও সবাই প্রকল্প করতে এগিয়ে আসছেন না। এ জন্য এখন ইডকলের একটি বড় উদ্যোগ হচ্ছে মানুষকে বোঝানো (মোটিভেশন)।
গ্রামাঞ্চলে যাদের স্বল্পসংখ্যক গবাধিপশু বা হাঁস-মুরগি আছে, তেমন অনেকগুলো পরিবারে তৈরি বর্জ্য একটি স্থানে একত্র করে যৌথ ব্যবহারের মতো প্রকল্প বাস্তবায়নেরও চেষ্টা চলছে। সর্বোপরি, জৈব গ্যাস তৈরির জন্য যে গবাদিপশু বা হাঁস-মুরগির বর্জ্যই লাগবে, তা নয়। মানুষের পয়োবর্জ্য ব্যবহার করেও একইভাবে জৈব গ্যাস উৎপাদন করা যায়। এটা করা হলে গ্যাস উৎপাদনের পাশাপাশি একই সঙ্গে গ্রামাঞ্চলে আধুনিক ও স্বাস্থ্যসম্মত পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থাও গড়ে তোলা সম্ভব।
গবেষণা: জৈব গ্যাসের ব্যবহার বহুমুখী করার বিষয়ে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংস্থার গবেষণা চলছে। টাঙ্গাইলের সাদ-বিন এমরান এমনই একটি গবেষণার সঙ্গে যুক্ত। সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমের কেটিএইচ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে মাস্টার্স ডিগ্রি নিয়েছেন এমরান। এরপর ওই বিশ্ববিদ্যালয়েরই ‘পলি জেনারেশন ইউনিট’ বিষয়ে গবেষণার সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন।
সম্প্রতি টাঙ্গাইলে তাঁদের বাসায় কথা হয় এমরানের সঙ্গে। তিনি বলেন, সুইডেনের ওই প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা ‘পলি জেনারেশন ইউনিট’ নামে একটি প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন। এর মাধ্যমে কোনো প্ল্যান্টে উৎপাদিত জৈব গ্যাসের একাংশ দিয়ে রান্নাবান্না, একাংশ দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং ওই বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত জেনারেটরের তাপ ব্যবহার করে পানি বিশুদ্ধ করা সম্ভব হবে।
এমরান বলেন, অবশ্য ছোট প্ল্যান্ট দিয়ে ওই সমন্বিত কাজটি সম্ভব হবে না। বাংলাদেশে জৈব গ্যাসের প্রায় সব প্ল্যান্টই ছোট। তবে এগুলো বড় করার সুযোগ আছে। সুইডেনের উদাহরণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ছোট ছোট খামারের বর্জ্য একত্র করে এক জায়গায় বড় একটি প্ল্যান্ট চালানো এবং সেখানে উৎপাদিত গ্যাস দিয়ে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব। তাতে যেসব খামার বা পরিবারের বর্জ্য ব্যবহৃত হবে, তাঁরা সবাই সেখান থেকে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও বিশুদ্ধ পানি পাবেন।
ইডকলের তথ্য অনুযায়ী, দেশে এখন ছয় আকারের জৈব গ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপিত হচ্ছে। এর মধ্যে সবচেয়ে ছোটটি হচ্ছে দৈনিক ১ দশমিক ২ ঘনমিটার গ্যাস উৎপাদনক্ষম। এরপর রয়েছে যথাক্রমে ১ দশমিক ৬, ২, ২ দশমিক ৪, ৩ দশমিক ২ এবং সবচেয়ে বড়টি হচ্ছে ৪ দশমিক ৮ ঘনমিটার ক্ষমতার।
এর মধ্যে প্রথম চারটি পরিবারভিত্তিক ব্যবহারের জন্য তৈরি হয়। এগুলো দিয়ে সাধারণত একটি পরিবারই গ্যাস ব্যবহার করতে পারে। শেষের দুটিতে একাধিক পরিবারের ব্যবহার করার মতো গ্যাস উৎপাদিত হয়। তবে গ্যাস উৎপাদনের কাঁচামাল (মুরগি, গরু এমনকি মানুষের পয়োবর্জ্য) সহজলভ্য হলে এক জায়গায় পাশাপাশি একাধিক প্ল্যান্ট বসিয়ে আশপাশে সংযোগ দেওয়া কিংবা এমরানের বর্ণিত সমন্বিত কাজে ব্যবহার করা সম্ভব।
সমস্যা কী: এলেঙ্গার রুমানা-আফজাল দম্পতির জৈব গ্যাসের অন্যতম গ্রাহক মো. বায়েজিদ হোসেন। তিনি একজন শিক্ষক। গ্রাহক হিসেবে কোনো সমস্যা আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, শীতকালে গ্যাস সরবরাহ একটু কম হয়। এ ছাড়া কোনো সমস্যা নেই।
আরেকজন গ্রাহক বলেন, লাইনে কখনো কখনো পানি জমে গ্যাস সরবরাহে কিছুটা বিঘ্ন ঘটায়। তবে এখন তা অনেক কমেছে। কারণ, লাইনে পানি ছেঁকে রাখার জন্য ফিল্টার বসানো হয়েছে।
প্ল্যান্টের মালিক আফজাল হোসেনও একটি সমস্যার কথা বলেন। যখন মুরগি বদল করতে হয়, তখন গ্যাসের উৎপাদন কম হয়। অবশ্য গ্যাস লাইনে পানি জমার সমস্যা সমাধানে যেমন ফিল্টার বসানো হয়েছে, তেমনি মুরগি বদলের সমস্যা সমাধানেরও একটি কার্যকর উপায় তিনি বের করেছেন। অন্য একটি শেডে আগে থেকেই তিনি কিছু মুরগি রেখে দেন, যেগুলো বদলে ফেলা মুরগির শেডে সঙ্গে সঙ্গে ঢোকানো হয়। তাই ভবিষ্যতে আর সমস্যা হবে না বলে তিনি নিশ্চিত।
পরিবেশ-প্রতিবেশ: অতি প্রয়োজনীয় জ্বালানি সংস্থানের পাশাপাশি জৈব গ্যাস পরিচ্ছন্ন পরিবেশও নিশ্চিত করতে পারে। প্রতিটি বাড়িতে কিংবা যৌথ অংশীদারির ভিত্তিতে জৈব গ্যাস উৎপাদনের উদ্যোগ নিলে গরু-হাঁস-মুরগির বিষ্ঠা থেকে মাটি, পানি ও বায়ুদূষণ রোধ করা সম্ভব। মানুষের বর্জ্য ব্যবহার করা হলে পরিবেশের আরও বড় সংরক্ষণ হতে পারে।
এ ছাড়া, ব্যাপকভাবে জৈব গ্যাস উৎপাদনের উদ্যোগ নিলে শহর-নগরে দুর্গন্ধময় ভাগাড় ব্যবস্থাপনা দরকার হয় না। গ্যাস উৎপাদনের পর বর্জ্যের পরিশোধিত যে অংশ (স্লারি) থেকে যায়, তা শুকিয়ে উৎকৃষ্ট জৈব সার হিসেবে ব্যবহার করা যায়। কোনো কোনো উদ্যোক্তা এ রকম স্লারি উৎপাদন করে বাজারজাত করছেন এবং তা জনপ্রিয়ও হয়েছে।
এক গবেষণায় দেখা গেছে, এক লাখ লোক অধ্যুষিত একটি এলাকায় জৈব গ্যাস উৎপাদনের মতো বর্জ্য হয় প্রতিদিন প্রায় ২০ মেট্রিক টন। এই বর্জ্য ব্যবহার করে গ্যাস উৎপাদন করা যায় প্রায় এক হাজার ৪০০ ঘনমিটার, যা দিয়ে প্রায় এক হাজার ২০০ চুলায় প্রতিদিন রান্না করা সম্ভব।
একটি জৈব গ্যাস প্ল্যান্ট প্রায় ৩০ বছর ব্যবহার করা যায়। পাঁচ বছর নির্মাণ গ্যারান্টি ও তিন বছরের নির্মাণ-পরবর্তী সেবার নিশ্চয়তা দেয় ইডকল ও তার তালিকাভুক্ত এনজিওগুলো।
{প্রতিবেদনটি তৈরিতে সহায়তা করেছেন প্রথম আলো টাঙ্গাইল প্রতিনিধি কামনাশীষ শেখর}

Saturday, July 6, 2013

বিপজ্জনক হয়ে উঠছে গ্যাস বিতরণ লাইন by অরুণ কর্মকার

যেনতেনভাবে নিম্নমানের অবৈধ লাইন বসিয়ে গ্যাস নেওয়ার চেষ্টা, বিদ্যমান লাইনে অননুমোদিত কমপ্রেসর ও বিশেষ ধরনের রেগুলেটর স্থাপনের কারণে গ্যাসের বিতরণ লাইনগুলো বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। এসব লাইনে যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটে মানুষের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে।

Friday, June 21, 2013

ড্যাপ বাস্তবায়ন হলো না by অরুণ কর্মকার

সরকার গত তিন বছরেও বিশেষজ্ঞ কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী ঢাকার বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা (ড্যাপ) বাস্তবায়নের কোনো উদ্যোগ নেয়নি। ওই সুপারিশে সরকারি-বেসরকারি যেসব স্থাপনা সরিয়ে নিতে এবং যে প্রকল্পগুলো প্রত্যাহার করতে বলা হয়েছিল, তার একটিও সরিয়ে নেওয়া বা প্রত্যাহার করা হয়নি।

Monday, June 10, 2013

বাড়বে দাম, না লোডশেডিং? by অরুণ কর্মকার

আগামী অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে সামগ্রিকভাবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে চলতি অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৩৪ শতাংশ ভর্তুকি কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। অথচ বাড়তি ভর্তুকি থাকার পরও এই খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো এখনো বিপুল পরিমাণ লোকসান দিচ্ছে।

Sunday, February 3, 2013

পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি কমিশন আইন- সংশোধনে সরকারের মধ্যেই আপত্তি by অরুণ কর্মকার

পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমিবিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইন, ২০০১ সংশোধনের বিষয়ে সরকারের মধ্যেই প্রবল আপত্তি রয়েছে। এ কারণে সংশোধনী প্রস্তাব চূড়ান্ত করার ছয় মাস পরও তা বিল আকারে সংসদে উঠছে না। কখনো উঠবে কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।

Monday, January 28, 2013

দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে অনুমোদনের প্রক্রিয়া তদন্ত করবে সংসদীয় কমিটি- বাতিলযোগ্য দরপত্র গ্রহণযোগ্য দেখিয়ে ক্রয় কমিটিতে পাস! by অরুণ কর্মকার

বাতিলযোগ্য দরপত্র বিধিবহির্ভূতভাবে গ্রহণযোগ্য (রেসপনসিভ) দেখানোর তথ্য গোপন করে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি থেকে দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের অনুমোদন নেওয়া হয়েছে। এখন চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপনের অপেক্ষায় আছে।

Saturday, January 5, 2013

জ্বালানি তেল- বোরো চাষিরা বিপাকে প্রভাব পড়বে বাজারে by অরুণ কর্মকার

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ১০০ কোটি ডলার ঋণের দ্বিতীয় কিস্তির ১৪ কোটি ১০ লাখ ডলার পেতেই মূলত জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন বোরো চাষিরা। প্রভাব পড়বে পরিবহন খাতেও। ফলে বাড়বে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়।

Monday, December 31, 2012

সরকারের ৪ বছর: জ্বালানি খাত- দৈন্য কাটেনি by অরুণ কর্মকার

গত চার বছরে সরকার জ্বালানি খাতের উন্নয়নে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। গ্যাস উত্তোলন দৈনিক ৫৫ কোটি ঘনফুটের বেশি বেড়েছে। নতুন জ্বালানি উৎসের সন্ধানও জোরদার করা হয়েছে। কিন্তু এখনো গ্যাস ও আমদানি করা তেলের ওপর নির্ভরতা বলবৎ থাকায় জ্বালানি খাতের দৈন্যদশা কাটেনি।

Sunday, December 30, 2012

উৎপাদন বাড়লেও অবস্থা নাজুক by অরুণ কর্মকার

বিদ্যুৎ খাতে বর্তমান সরকারের শাসন মেয়াদের প্রথম বছর গেছে পরিকল্পনা করতে। দ্বিতীয় বছরে প্রচুর চুক্তি সইয়ের পাশাপাশি কিছু উৎপাদন বেড়েছে। তৃতীয় ও চতুর্থ বছরেও চুক্তি সই অব্যাহত আছে। এই চার বছরে উৎপাদন বেড়েছে মোট প্রায় সাড়ে তিন হাজার মেগাওয়াট।

Wednesday, December 26, 2012

গ্যাসের প্রি-পেইড মিটার: ঢাকা ও চট্টগ্রামে আরও পাঁচ লক্ষাধিক মিটার বসানোর উদ্যোগ- গ্রাহকের খরচ কম, জ্বালানিরও সাশ্রয় by অরুণ কর্মকার

তিতাস গ্যাসের প্রি-পেইড মিটারে আবাসিক গ্রাহকদের অর্থ সাশ্রয় হচ্ছে প্রায় এক-চতুর্থাংশ। হিসাব করে গ্যাস ব্যবহার করায় তাঁদের এই অর্থ সাশ্রয় হচ্ছে। এতে তাঁরা খুশি। অন্যদিকে, গ্যাসের ব্যবহার কম হওয়ায় দেশের জ্বালানির সাশ্রয় হচ্ছে।

Sunday, December 2, 2012

পার্বত্য চুক্তির ১৫ বছর- অস্থিতিশীলতা বাড়ছে by অরুণ কর্মকার ও হরি কিশোর চাকমা

পার্বত্য চট্টগ্রামে ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড, ধর্ষণ ও অবৈধ অস্ত্রবিস্তারের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পাহাড়ি ও বসতি স্থাপনকারী (সেটেলার) বাঙালি জনগোষ্ঠীর মধ্যকার বিদ্বেষ। ফলে সেখানে বাড়ছে অস্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তাহীনতা।