Monday, July 15, 2019

সৌদি কনসার্টে যেতে অস্বীকৃতি সেই মার্কিন গায়িকার

খোলামেলা পোশাকে যৌন উত্তেজক গান দিয়ে মঞ্চ মাতানো মার্কিন পপ তারকা নিকি মিনাজকে আমন্ত্রণ জানিয়ে আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছিল সৌদি আরব। আগামী ১৮ জুলাই দেশটির কিং আবদুল্লাহ স্পোর্টস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য ওই কনসার্টের জন্য ইতোমধ্যেই যাবতীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তবে এরমধ্যেই এতে অংশ নেওয়ার বিষয়ে সৌদি আরবকে সাফ না করে দিয়েছেন তিনি।
নিকি মিনাজের ঘোষণার আগে থেকেই কনসার্টটি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। একপক্ষ বলছিলেন, পবিত্র হজের মৌসুমে ব্যাপক ঢাকঢোল পিটিয়ে এমন একজন শিল্পীর কনসার্টের আয়োজন করা হয়েছে, যার গানগুলো যৌনতা সংক্রান্ত। গানের পাশাপাশি গায়িকার শারীরিক অঙ্গভঙ্গিও অশ্লীল।
অন্যদিকে গত শুক্রবার এক খোলা চিঠিতে নিকি মিনাজকে ওই কনসার্টে অংশ না নেওয়ার অনুরোধ জানায় যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশন। চিঠিতে সৌদি আরবের বিপুল অর্থ প্রত্যাখ্যান করে দেশটিতে বন্দি থাকা নারী অধিকারকর্মীদের মুক্তির দাবিতে নিজের প্রভাব খাটাতে নিকি মিনাজের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে ওই কনসার্টে না যাওয়ার ঘোষণা দেন নিকি মিনাজ। এর কারণ হিসেবে তিনি নারী অধিকার, সমকামী অধিকার এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতার প্রতি নিজের সমর্থনের কথা জানান।
বিবৃতিতে নিকি মিনাজ বলেন, ভক্তদের জন্যই শুধু আমি সৌদি আরবে যেতে চেয়েছিলাম। তবে আমি মনে করি, নারী অধিকার, এলজিবিটি সম্প্রদায় ও বাকস্বাধীনতাকে গুরুত্ব দেয়া আমার জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
মূলত নারী অধিকার প্রশ্নে হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের চিঠি পাওয়ার পরই ওই কনসার্টে আর না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন নিকি মিনাজ।
২০১৮ সালের ২ অক্টোবর ইস্তানবুলের সৌদি কনস্যুলেটে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হন সাংবাদিক জামাল খাশোগি। খুনের নির্দেশদাতা হিসেবে আঙুল ওঠে খোদ সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের বিরুদ্ধে। সৌদি আরবের পক্ষ থেকে প্রথমে এ হত্যাকাণ্ডের খবর অস্বীকার করা হয়। পরে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা স্বীকার করলেও এর সঙ্গে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সম্পৃক্ততার খবর অস্বীকার করা হয়। ওই ঘটনায় দুনিয়াজুড়ে সমালোচনার মুখে পড়ে সৌদি আরব। ২০১৯ সালের মার্চে ১০ নারী অধিকার কর্মীকে কথিত বিচারের মুখোমুখি করে ফের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে রিয়াদ। দুই ঘটনাতেই বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার কর্মীদের তোপের মুখে পড়তে হয় সৌদি আরবকে। এমন ইমেজ সংকটের মধ্যেই জেদ্দায় নিকি মিনাজের আন্তর্জাতিক কনসার্ট আয়োজনের ঘোষণা দেয় রিয়াদ। সর্বশেষ যুক্তরাষ্ট্রের একটি মানবাধিকার সংগঠনের অনুরোধে ওই কনসার্ট থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিলেন নিকি মিনাজ। সূত্র: বিবিসি।

বিয়ের গাড়িতে ট্রেনের ধাক্কা, বর-কনেসহ নিহত ৯

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় বিয়ের গাড়িবহরের একটি গাড়িতে রাজশাহী থেকে ঢাকাগামী পদ্মা এক্সপ্রেস ট্রেনের ধাক্কায় বর-কনে ও শিশুসহ কমপক্ষে ৯ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়াও ট্রেন থেকে ছিটকে পড়ে ৫-৬ জন ও মাইক্রোবাসের ৪ জন আহত হয়েছেন। সোমবার (১৫ জুলাই) বিকাল সাড়ে ৬টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
সিরাজগঞ্জ জিআরপি থানার ওসি হারুন মজুমদার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নিহতদের মধ্যে বর রাজন (২৫) ও কনে সুমাইয়া খাতুন (২০)-এর পরিচয় পাওয়া গেছে। বর রাজন হোসেন সিরাজগঞ্জ জেলা সদরের কান্দাপাড়া গ্রামের আলতাব হোসেনের ছেলে এবং কনে সুমাইয়া খাতুনের বাড়ি উল্লাপাড়ার চরঘাটিনায়। নিহতদের মধ্যে বর-কনে ছাড়া একজন শিশু এবং একজন বরের বোন। বাকিদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্থানীয়রা জানান, বরযাত্রীসহ মাইক্রোবাসটি উল্লাপাড়ার ঘাটিনা থেকে সিরাজগঞ্জ জেলা সদরের কান্দাপাড়ায় যাচ্ছিল। সলপ স্টেশনের উত্তরে পঞ্চক্রোশী আলী আহম্মদ উচ্চবিদ্যালয়ের পাশে উন্মুক্ত লেভেল ক্রসিং পারাপারের সময় মাইক্রোবাসটির সঙ্গে ট্রেনের ধাক্কা লাগে।
সিরাজগঞ্জ জিআরপি থানার ওসি হারুন মজুমদার জানান, শুনেছি ৯ জন মারা গেছেন।
অরক্ষিত রেলওয়ে লেভেল ক্রসিং-এর কারণেই এ দুর্ঘটনাটি ঘটে বলে জানিয়েছেন উল্লাপাড়া থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মো. গোলাম মোস্তফা। তিনি জানান, উন্মুক্ত লেভেল ক্রসিং পারাপার হওয়ার সময় বিয়ের গাড়িবহরের একটি মাইক্রোবাসে ট্রেনের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই বেশ কয়েকজন মারা যান। রেলওয়ে লেভেল ক্রসিং-এ কোনও ব্যারিয়ার বা বার্জ ছিল না। এমনকি সেখানে রেল বিভাগের কোনও পাহারাও ছিল না। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।
পশ্চিমাঞ্চল রেল বিভাগের পাকশীর বিভাগীয় ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) মিজানুর রহমান জানান, এটা রেল বিভাগের নির্ধারিত কোনও লেভেল ক্রসিং নয়। স্থানীয় লোকজন নিজেদের স্বার্থে চলাচলের জন্য সেখানে উন্মুক্ত রেখেছে। দুর্ঘটনার পর দেড়ঘণ্টা দেরিতে ট্রেনটি ছেড়ে ঢাকার দিকে গেছে। এছাড়াও দুর্ঘটনার জন্য মাইক্রোবাস চালকের অস্থিরতাকে দায়ী করে তিনি বলেছেন, ‘ট্রেন দেখার পরও তাড়াহুড়া করে রেল লাইন পার হওয়ার চেষ্টার কারণেই এই ঘটনা ঘটেছে।’

জুন মাসে রাজনৈতিক সন্ত্রাস by মুহাম্মদ ওয়াছিয়ার রহমান



জুন ২০১৯ মাসটি রাজনৈতিকভাবে অপেক্ষাকৃত ঠান্ডা ছিল। তবে বিএনপি সংসদ-সদস্যরা জাতীয় সংসদকে সরব রাখে। অন্য দিকে বগুড়া-৬ আসনে উপ-নির্বাচনে বিএনপিকে জিতিয়ে সরকারকে লালকার্ড দেখায় জনগণ। এখানে আশংঙ্কার বিষয় হচ্ছে বগুড়া-৬ আসনে গত ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনে বিএনপি পায় ২ লাখ ৭ হাজার ভোট ও মহাজোট পায় ৪০ হাজার কিন্তু সেই একই সিটে গত ২৪ জুনের উপ-নির্বাচনে বিএনপি পায় ৮৮ হাজার ৪২৩ ও মহাজোটের মূল দল আওয়ামী লীগ পায় ৩২,১৯৮ ভোট। জনগণের মাঝে নির্বাচন ও ভোট সম্পর্কে দারুণ নেতিবাচক মনোভাব। এখানে সরকারদলীয় ৮ হাজার ভোটারও নির্বাচন কেন্দ্রে যায়নি ভোট দিতে।
এ মাসে ৫৮টি রাজনৈতিক ঘটনার তথ্যে নিহতের সংখ্যা ১১। এই ১১ জনের ৭ জনই খুন হয় আওয়ামী লীগের হাতে, ছাত্রলীগের হাতে ২, যুবলীগের হাতে ১ ও তাবলীগ জামায়াতের হাতে ১ জন। এ মাসে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতায় প্রাপ্ত তথ্যে আহত হয় ১৭৩ জন এবং গ্রেফতার অনেক বেশী হলেও ৪৪ জনের তথ্য পাওয়া গেছে বাকীদের পরিচয় প্রকাশিত হয়নি, গ্রেফতারকৃতরা অধিকাংশই বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী এবং দন্ডপ্রাপ্ত ৪৮ জন, এই ৪৮ জনের আওয়ামী লীগের ২২, ছাত্রলীগের ১, স্বেচ্ছাসেবক লীগের ১২, ছাত্রদলের ১২ এবং জাপার ১ জন।
প্রাপ্ত তথ্যে জুন মাসে যারা নিহত হয়- (১) রাজশাহীর পুঠিয়ায় শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের হাতে বিএনপি নেতা খুন, (২) যশোরের চৌগাছায় আওয়ামী লীগের দলীয় কোন্দলে কর্মী মমিনুর রহমান খুন, (৩) শরীয়তপুরের নড়িয়ায় আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের দ্বন্দ্বে ব্যবসায়ী ইয়াকুব আলী ছৈয়াল খুন, (৪) বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জে দলীয় কোন্দলে আওয়ামী লীগ নেতা ফখরুল হাওলাদার খুন, (৫) মাদারীপুর সদরে উপজেলা নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগের দলীয় কোন্দলে যুবলীগ নেতা এরশাদ মুন্সী নিহত, (৬) শরীয়তপুরের নড়িয়ায় আওয়ামী লীগের দলীয় কোন্দলে যুবলীগ নেতা ইমরান হোসেন সরদার খুন ও (৭) মাগুরার মোহাম্মদপুরে আওয়ামী লীগ নেতার আঘাতে গর্ভজাত শিশু নিহত, (৮) নাটোরের বড়াইগ্রাম চাঁদা তোলাকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের দলীয় কোন্দলে জেলা কমিটির সদস্য সোহেল রানা নিহত ও (৯) বরগুনা সদরে ছাত্রলীগ কর্মী রিফাত শরীফ হত্যার ঘটনায় ছাত্রলীগ কর্মী ও তাদের ক্যাডারসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়, (১০) নোয়াখালীল বেগমগঞ্জে যুবলীগের দলীয় কোন্দলে কর্মী শাহাদাত হোসেন চৌধূরী নিহত এবং (১১) কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে তাবলীগ জামাতের দলীয় কোন্দলে প্রেট্রোল বোমার আঘাতে আব্দুর রহীম নামে একজন খুন হয়।
আওয়ামী লীগ ঃ ১ জুন খুলনা মহানগরীর ২৯ ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও সদর থানা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ফকির সাইফুল ইসলামের সাথে দেখা করতে যান মহিলা আওয়ামী লীগ কর্মী জলি আক্তার। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে ফকির সাইফুল ইসলাম তাকে মারধর করে। ৩ জুন মানিকগঞ্জের ঘিওরে বাঁচামারা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল লতিফ বিরুদ্ধে ভিজিএফ-এর ২০৮ বস্তা চাল বিতরণ না করে গুদামে আটকিয়ে রাখে। ইউএনও সাবরিনা শারমিন খবর পেয়ে চাল উদ্ধার করে। জন প্রতি ১৫ কেজি দেয়ার কথা থাকেলও উপকার ভোগীদের মাঝে ৮ থেকে ১০ কেজি পরিমান বিতরণ করা হয়। লালমরিহাটের পাটগ্রামে কাফির বাজার সংলগ্ন বাইপাস সড়কের কাছ থেকে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন করে আওয়ামী লীগ নেতা ও ঝোংড়া ইউপি মেম্বার নজরুল ইসলাম। ৭ জুন মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় বৈদ্যেরগাঁও এলাকায় আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষ। আওয়ামী লীগ নেতা আজিম উদ্দিন গ্রুপ ও শাহজাহান গ্রুপের মধ্যে এই সংঘর্ষে মামুন, নূরুজ্জামান খান, আবু তালেব, তানজীল, সেলিম জাভেদ ও শরীফসহ ১০ জন আহত হয়। বরগুনার বেতাগীতে পল্লী বিদ্যুতের সংযোগ দিতে জন প্রতি ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা আদায় করে আওয়ামী লীগ বিবিচিনি ইউনিয়ন নেতা লোকমান হোসেন। তিনি ১৩ লাখ ৫৬ হাজার টাকা এভাবে আত্মসাৎ করেন। ৯ জুন যশোরের চৌগাছা সদর ইউনিয়নের বেড়গোবিন্দপুর গ্রামে আওয়ামী লীগ দু’গ্রুপের সংঘর্ষে আজাদ হোসেন, ওয়াজেদ আলী, আমিনুর রহমান, হাফিজুর রহমান পিন্টু ও হারুন-অর-রশীদ আহত হয়। সদর ইউনিয়ন পরিষদের বিগত নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নৌকা প্রতীক ও বিদ্রোহী আনারস প্রতীকের সমর্থকদের মাঝে এই সংঘর্ষ হয়।
১০ জুন শরীয়তপুরের নড়িয়ায় আওয়ামী লীগৈর দলীয় দ্বন্দ্বে চান্দনী গ্রামের ইয়াকুব আলী ছৈয়াল খুন হয়। ইয়াকুব মটর সাইকেল যোগে বাজারে যাওয়ার পথে প্রতিপক্ষ গ্রুপ তাকে খুন করে। ভোজেশ্বর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আলী আহমেদ সিকদার গ্রুপ এবং অপর আওয়ামী লীগ নেতা নূরুল হক গ্রুপের মধ্যে দ্বন্দ্বে এই হত্যাকান্ড ঘটে। ১১ জুন রাজশাহীর পুঠিয়ায় শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপি নেতা নূরুল ইসলামকে খুন করে আওয়ামী লীগ বলে তার পরিবার দাবী করে। শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনে বিএনপির নূরুল ইসলাম ও আওয়ামী লীগের আব্দুর রহমান পটল সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচন করে। ফলাফল ঘোষণার সময় নূরুল ইসলাম ২৫০ ভোটে এগিয়ে থাকে, এ নিয়ে আওয়ামী লীগের চাপে সাধারণ সম্পাদক পদের ফলাফল ঘোষণা বন্ধ থাকে। পরের দিন পুলিশ প্রহরায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী আব্দুর রহমান পটলকে বিজয়ী ঘোষণা করে। নূরুল ইসলাম বিষয়টি নিয়ে আদালতে যান এবং আদালত তার পক্ষে রায় দেয়। এই নির্বাচনী বিরোধ নিয়ে নূরুল ইসলামকে খুন করা হয় বলে তার পরিবার দাবী করে। বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ কচুবুনিয়া গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা হাফিজুর রহমান সরদার লাভলুকে ৩টি হত্যা মামলায় আটক করে পুলিশ। তবে লাভলু তাঁতী লীগে কাজ করে বলে জানা যায়।
১২ জুন জামালপুর শহরে সাংবাদিক মোস্তফা মঞ্জুরকে মারধর করা মামলার আসামী ও আওয়ামী লীগ নেতা হাসানুজ্জামান খানসহ ৮ আসামী আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করলে আদালত তাদের জামিন নামঞ্জুর করে জেল হাজতে পাঠায়। ১৪ জুন যশোরের চৌগাছায় আওয়ামী লীগের দলীয় কোন্দলে লস্করপুর গ্রামের কর্মী মমিনুর রহমান খুন হয়। নারায়নগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ জালকুড়ি সিকদার বাড়ী এলাকায় আওয়ামী লীগ নেতা মজিবর রহমানের বাড়ী থেকে উত্তর খানের অপহৃত ব্যাবসায়ী ইমরানকে উদ্ধার করে জনতা। জুম্মার নামাজে যাওয়ার সময় লোকজন ওই বাড়ীতে চিৎকারের শব্দ শুনতে পেয়ে সেখানে গিয়ে ইমরানকে উদ্ধার করে পুলিশে দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে সজল ও তার স্ত্রী মৌসুমী আক্তার মিতুকে আটক করে। নোয়াখালীর সোনাইমুড়ি পাঁচবাড়িয়া এলাকায় আওয়ামী লীগ দু’গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ ও ব্যাপাক ভাংচুর করা হয়। আওয়ামী লীগ নেতা ইব্রাহিম এমপি ও প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী জাহাঙ্গীর সমর্থিত গ্রুপের মধ্যে এই সংঘর্ষে শহীদ উল্লাহ, আনোয়ার, মান্না, ইয়াসিন, ইশরাত জাহান, হাবিব উল্লাহ, আব্দুল লতিফ, মাহমুদা, মোঃ শহীদ উল্লাহ ও অহিদুল ইসলামসহ ৩০ জন আহত হয়।
১৫ জুন বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ সদর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফখরুল হাওলাদার খুন হয়। দলীয় প্রতিপক্ষ গ্রুপের মিজান, ইসমাইল, ফারুক, পক্ষী দফাদার, ইসমাইল বাঘা, ওমর আলী, উজ্জ্বল ও শরীফ উদ্দিনের নেতৃত্বে হামলা করে ফখরুলকে হত্যা করা হয়। মাদরীপুর সদরে উপজেলা নির্বাচন নিয়ে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করায় ২২ নেতাকে বহিস্কার করে আওয়ামী লীগ। ওই নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী কাজল কৃষ্ণ দেব এবং বিদ্রোহী প্রার্থী সাবেক নৌ মন্ত্রীর ভাই ওবায়দুর রহমান খান কালু। সাবেক নৌ মন্ত্রী শাহজান খান তার ভাইয়ের পক্ষে কাজ করে। মাগুরার মোহাম্মদপুরে ঘুল্লিয়া গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ দু’গ্রুপের সংঘর্ষে সোহেল, চুন্নু মোল্লা, জিল্লুর খান, শাহিনুর মোল্লা, জিন্না ফকির ও শান্ত বিশ্বাসসহ ১৫ জন আহত হয়। বিনোদপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান এবং অপর নেতা পিকুলের সমর্থকদের মাঝে সংঘর্ষ ছাড়াও দোকানপাট, বাড়ীঘর ভাংচুর ও লুটপাট করা হয়। ১৮ জুন ফেনীর ছাগলনাইয়ায় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ব্যাপক ভোট কাটাকাটি। ভোটার শূন্য কেন্দ্র দখল করে এই কাটাকাটি করা হয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চান্দুরা সাওতাঁল মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ইভিএম-এর যন্ত্রাংশ খুলে নেয় আওয়ামী লীগের পোলিং এজেন্টরা।
১৯ জুন মাদারীপুর শহরের সবুজবাগ এলাকায় উপজেলা নির্বাচনত্তোর সহিংসতায় যুবলীগ নেতা এরশাদ মুন্সী নিহত ও অপর ২৫ জন আহত হয়। আওয়ামী লীগের দলীয় ও বিদ্রোহী প্রার্থী সমর্থকদের মধ্যে কোন্দলে এই হত্যাকান্ড হয়। এরশাদ মুন্সী দলীয় প্রার্থী কাজল কৃষ্ণ দের সমর্থক। বিদ্রোহী প্রার্থী ওবায়দুর রহমান খান সাবেক মন্ত্রী শাহজান খানের ভাই। এ সময় ব্যাপক ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। নারায়নগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ আদমজী সুলিমপাড়ায় আওয়ামী লীগ দু’গ্রুপের সংঘর্ষে হৃদয়, ইব্রাহিম, রবিউল, আরিফ, রাসেল আহমেদ, জসিম, ইসমাইল, ইউসুফ, রাকিব, সাইদুল, শুভ ও মিজান আহত হয়। যুবলীগ নেতা মতিউর রহমান ও আওয়ামী লীগ নেতা সিরাজুল ইসলাম মন্ডলের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ শেষে পুলিশ আক্তার হোসেন, মিজান, আব্দুল হান্নান, স্বপন, ফিরোজ আহমেদ, শাহাদাৎ হোসেন, রবিন, বিল্লাল হোসেন, নূর হোসেন, মিজানুর ও শামীমকে আটক করে।
২০ জুন বগুড়ার দুপচাঁচিয়ায় উপজেলা আওয়ামী লীগ অফিসে দলীয় কোন্দলে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে স্বেচ্ছাসবক লীগ উপজেলা সহ-সভাপতি রফিকুল ইসলাম আনিস ও সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা ইউনুস আলী আহত হয়। উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মিজানুর রহমান খান সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক ফজলুল হক গ্রুপের মধ্যে এই সংঘর্ষ হয়। পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িত মর্মে উপজেলা কৃষক লীগ যুগ্ম-আহবায়ক মেহেদী হাসান সজলকে আটক করে। বগুড়ার দুপচাঁচিয়ার পাঁওগাছা এলাকা থেকে ৪ গ্রাম হিরোইনসহ আওয়ামী লীগ তালোড়া পৌর সাধারণ সম্পাদক সুব্রত চয়নকে আটক করে পুলিশ। ২৩ জুন শরীয়তপুরের নড়িয়ায় নশাসন মাঝিরহাট কবর স্থানে আওয়ামী লীগের দলীয় কোন্দলে যুবলীগ নেতা ইমরান হোসেন সরদার খুন হয়। গত ২২ জুন রাতে ইমরান আহত হয়, উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেয়ার পথে মুন্সীগঞ্জের মাওয়া এলাকায় ইমরান মারা যায়। এ সময় নিহার বেগমে বাড়ী ভাংচুর করা হয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একজনকে আটক করে। সুনামগঞ্জে ছাতকে আওয়ামী লীগ নেতা শামীম আহমদ চৌধূরী পুলিশ আহত মামলা ও বিস্ফোরণ মামলায় আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করলে আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে জেল হাজতে পাঠায়।
২৪ জুন জামালপুরের বকশীগঞ্জে অটোরিক্সা ছিনতাইয়ের অভিযোগে আওয়ামী লীগ সাধুরপাড়া ইউনিয়ন সহ-সভাপতি আক্কাস আলী, আব্দুল আজিজ ও আকরাম হোসেনকে আটক করে পুলিশ। ২৬ জুন মাগুরার মোহাম্মদপুরের নারকেলবাড়িয়া গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা সৈয়দ সিকেন্দার আলী অন্তঃসত্ত্বা মুক্তা পারভীনের ওপর হামলা করে। গত ২২ তারিখের আঘাতে মুক্তা অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে মোহাম্মদপুর উপজেলা হাসপাতালে পাঠায়। মোহাম্মদপুর উপজেলা হাসপাতাল ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করে এবং সেখানে চার দিন পর একটি কন্যা সন্তান প্রশব করে। আঘাত জনিত কারনে নবজাতক মারা যায়। ২৭ জুন পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক এমপি এ.কে.এম আব্দুল আউয়ালকে তলব করে দুদক। ঘুষ-দুর্নীতি, টেন্ডারবাজী, সেতু-ফেরীঘাট ইজারা, নিয়োগ বানিজ্য ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে তাকে তলব করে দুদক।
ছাত্র লীগ ঃ ২ জুন নাটোরের বড়াইগ্রাম চাঁদা তোলাকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের দলীয় কোন্দলে জেলা কমিটির সদস্য সোহেল রানা নিহত হয়। পৌর সভার মহিষভাঙ্গা ঈদ মাঠ সাজানোকে কেন্দ্র করে উঠানো এক’শ টাকা ভাগাভাগি নিয়ে এই হত্যাকান্ড হয়। পটুয়াখালীর দুমকিতে উপজেলা যুবদল যুগ্ম-আহবায়ক সৈয়দ সাখাওয়াত হোসেনকে রাজাখালী বাসষ্ট্যান্ডে মারপিট করে সাইফুল ইসলাম ও সহিদ হাওলাদারের নেতৃত্বে ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা। ৮ জুন নরসিংদীর পলাশে চরসিন্দুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ প্রদীপ কুমার দাস, কনস্টেবল জহির, নাদিম, কাইউম ও নায়েক আল-আমিনকে মারধর করে ছাত্রলীগ। এ সময় তারা পুলিশের পোষাক ছিড়ে ফেলে। পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িত মর্মে উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি আবুল কালাম আজাদ রাজন, সুমন মিয়া, শফিকুল ভূঁইয়া, জহির, শুভ মিয়া ও রাজনকে আটক করে।
১০ জুন বগুড়া শহরে ছাত্রদল জেলা সভাপতি আবু হাসানের উপর হামলা করে ছাত্রলীগ বলে দাবী করে ছাত্রদল। ১১ জুন নাটোরের সিংড়ার চৌগ্রাম ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সহ-সভাপতি অভি দেবের বাড়ী থেকে ৬ জুয়াড়ী রফিক, শরিফুল ইসলাম, আব্দুল হাকিম, আল-আমিন, নূর নবী ও তাইজুল ইসলামকে আটক করে পুলিশ। ১২ জুন লালনিরহাটের হাতীবান্ধায় পাটিকাপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সভাপতি বাঁধন পাটোয়ারীর হামলায় ওই ইউনিয়ন সদস্য আতিয়ার রহমান, নূর মোহাম্মদ ও আরাফাত আহত হয়। সিগারেট খেতে দিয়াশলাই না দেয়ায় এ হামলা করা হয়।
১৫ জুন নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে উপজেলা ছাত্রলীগ সহ-সভাপতি আব্দুল্লাহ আল-ইমরানকে দলীয় শৃংখলা ভঙ্গ করার দায়ে বহিস্কার করে দলটি। ১৬ জুন বরিশালের উজিরপুরে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে হস্তিশুন্ড গ্রামে ছাত্রলীগ নেতা মফিজুর রহমান তালুকদারের হাতে অপর নেতা ফয়জুল হক রাকিব আহত হয়। ২২ জুন চট্টগ্রাম প্যারেড গ্রাউন্ড ময়দানে জামায়াত নেতা মাওলানা মমিনুল হক চৌধূরীর জানাজায় হামলা করে ছাত্রলীগ। হামলায় জোবায়েরসহ ৫ জন আহত হয়। ২৪ জুন লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ বাজারে আওয়ামী লীগের সভায় ছাত্রলীগ-যুবলীগের মাঝে সংঘর্ষে পুলিশের এসআই সোহেল মিয়া, ছাত্রলীগ নেতা মামুন, ফিরোজ, যুবলীগ নেতা আব্দুর রাজ্জাক রিংকু, তাজু ভূঁইয়া, রোমেল, সৌরভ ও পারভেজসহ ১০ জন আহত হয়। ছাত্রলীগ নেতা কাজী বাবুল গ্রুপ ও যুবলীগ নেতা-কর্মীদের মাঝে এই সংঘর্ষ হয়।
২৫ জুন শরীয়তপুরের ডামুড্যায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আমিনুর রহমান ও আব্দুল মালেককে মারধর করে ছাত্রলীগ। উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি রাবেল মাদবর, তার ভাই আওয়ামী লীগ নেতা জুলহাস মাদবর ও মাদারীপুর সরকারী কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতি ইমরান হোসেন তাদের মারধর করে। ঠিকাদারী নিয়ে বিরোধে এই ঘটনা ঘটে। ২৬ জুন বরগুনার সদরে আলোচিত ছাত্রলীগ কর্মী রিফাত শরীফ হত্যায় ছাত্রলীগ কর্মী রিফাত ফারাজী, রিশান ফারাজী ও তাদের ক্যাডার সাব্বির আহমেদ নয়নসহ ১২ জনের নামে মামলা দায়ের করা হয়। রিফাত শরীফ তার স্ত্রী মিন্নিকে কলেজে আনতে গেলে তার উপর হামলা করে তাকে হত্যা করা হয়। পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িত ৭ জনকে আটক করে। ২৭ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ সহ-সভাপতি নাহিদ হাসান সুজন বাকি টাকা চাওয়ায় পলাশীতে দোকানী মাহবুবকে মারধর করে। দিনাজপুর হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ দু’গ্রুপের সংঘর্ষে মামুনুর রশীদ ও রাব্বি শেখসহ ৩০ জন আহত হয়। ছাত্রলীগ নেতা নাহিদ আহমেদ নয়ন ও অপর নেতা রুহুল কুদ্দুস জোহা গ্রুপের মধ্যে রুম দখল নিয়ে এই সংঘর্ষ হয়।
 যুব লীগ ঃ ৭ জুন রংপুরের পীরগাছায় নয়াবাড়ী চৌমনমোড় এলাকায় যুবলীগ অন্নদানগর ইউনিয়ন ২নং ওয়ার্ড সভাপতি আরিফ, আতিক ও তার ভাই ছুটিতে থাকা পুলিশ সদস্য শরীফ সংখ্যালঘু সদস্য এবং মেম্বার ডাঃ রেণু মধাব বর্মণ ও ভ্যান চালক সোহরাবকে মারধর করে। অজ্ঞাত কারনে পুলিশ মামলা নেয় নাই। ১৪ জুন নারায়নগঞ্জের ফতুল্লায় কাশিপুর এলাকায় যুবলীগ দু’গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে শফিউল্লাহ, খায়রুল্লাহ, সৈকত ও কবির আহত হয়। ফতুল্লা থানা যুবলীগ যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক শফিউল্লাহ গ্রুপ এবং ২নং ওয়ার্ডের শাহীন আলম গ্রুপের মধ্যে এই সংঘর্ষ হয়। ফেনীর ফুলগাজীতে উপজেলা যুবলীগ অর্থ সম্পাদক সরোয়ার হোসেনকে ১১ বোতল ফেনসিডিল ও ১টি মটর সাইকেলসহ আটক করে পুলিশ। ১৭ জুন লালমনিরহাটের পাটগ্রামে সড়ক ও জনপদ বিভাগের উচ্ছেদ অভিযানে বাধা দেয়ায় উপজেলা যুবলীগ সভাপতি রাশেদুল ইসলাম, তার ভাই ওয়াজেদুল ইসলাম, জাহেদুল ইসলাম ও সাদেকুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা করে সওজ। ২৫ জুন নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের হাজীপুরে যুবলীগের দলীয় কোন্দলে শাহাদাত হোসেন চৌধূরী নামে এক কর্মী নিহত হয়। যুবলীগ স¤্রাট গ্রুপ ও সুমন গ্রুপের মধ্যে দ্বন্দ্বে এই হত্যাকান্ড ঘটে। ২৯ জুন চট্টগ্রামের লালখান বাজারে যুবলীগ দু’গ্রুপের সংঘর্ষে ৩ পুলিশসহ ৮ জন আহত হয়। আওয়ামী লীগ নেতা দিদারুল আলম মাসুম ও যুবলীগ আবুল হাসানাত বেলাল গ্রুপের মধ্যে এই সংঘর্ষে মোবারক, মনির হোসেন, সোহেল, রাকিব, সেলিম, সুমন ও ইমনসহ অন্যান্যরা আহত হয়।
 স্বেচ্ছাসেবক লীগ ঃ ১৮ জুন বান্দরবনে দলীয় শৃংখলা ভঙ্গের দায়ে পৌর সদস্য-সচিব ফারুক আহমেদ ফাহিম, ৩নং ওয়ার্ড সভাপতি আব্দুর রশীদ, পৌর শাখা নেতা সোহাগ, রিমন, মুন্না, ভান্ডারী, সোহেল, আলভি, হেলাল, ফিরোজ, বেলাল ও বাপ্পিকে বহিস্কার করে দলটি। ২৮ জুন নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে বসুরহাট বাজার থেকে স্বেচ্ছাসেবক লীগ বসুরহাট পৌর সাধারণ সম্পাদক নূর উদ্দিন হেলালকে আটক করে পুলিশ।
বিএনপি ঃ ১৫ জুন ঢাকার শান্তিনগর বাসা থেকে বিএনপি নেতা হাসান মামুনকে আটক করে র‌্যাব। ২০ জুন লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ থেকে পৌর বিএনপি সদস্য-সচিব আলমগীর হোসেন, ছাত্রদল উপজেলা সাবেক সভাপতি আতিকুর রহমান, উপজেলা ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক এমরান হোসেন ও ছাত্রদল সাংগঠনিক সম্পাদক জামিল চৌধূরী আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করলে আদালত তাদের জামিন নামঞ্জুর করে জেল হাজতে পাঠায়।
ছাত্র দল ঃ ১৩ জুন বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক সুজা উদ্দিনকে তার বাড়ী থেকে আটক করে পুলিশ। ২২ জুন ঢাকায় বিএনপির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় দলীয় ভঙ্গের দায়ে ১২ ছাত্রদল নেতা-কর্মীকে বহিস্কার করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে স্বাক্ষর করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বহিস্কৃতরা হলো- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক বাশার সিদ্দিকী, ঢাকা মহানগর দক্ষিন সহ-সভাপতি জহির উদ্দিন তুহীন, সাবেক কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি এজমল হোসেন পাইলট, সাবেক সহ-সভাপতি ইখতিয়ার কবীর, সাবেক সহ-সভাপতি জয়দেব জয়, সাবেক সহ-সভাপতি মামুন বিল্লাহ, সাবেক কেন্দ্রীয় যুগ্ম-সম্পাদক আসাদুজ্জামান, সাবেক যুগ্ম-সম্পাদক বায়োজিত আরেফিন, সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক দবির উদ্দিন তুষার, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম আজম সৈকত, সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মালেক ও সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা আজম পাটোয়ারী। মুন্সীগঞ্জ জেলা ছাত্রদল সভাপতি ফয়সাল মৃধাকে স্বর্ণালঙ্কার, টাকা চুরি ও মহিলাকে মারধরের অভিযোগে আটক করে পুলিশ।
জামায়াত ঃ ১৪ জুন রাজশাহীর মহিতার থানা পুলিশ জামায়াত কর্মী আবু তাহের, দিলদার হোসেন ও শিবির কর্মী কামরুল হাসানকে আটক করে। ২১ জুন গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বেলকা ইউনিয়নে অভিযান চালিয়ে পুলিশ জামায়াত নেতা আশেক আলী ও আব্দুল ওয়াহেদ মুন্সীকে আটক করে।
জাপা ঃ ১১ জুন গাইবান্ধার একটি আদালত জাতীয় পার্টি নেতা কর্নেল (অবঃ) ডাঃ আব্দুল কাদের খানকে এক মামলায় যাবজ্জীবন ও অপর মামলায় ১৫ বছরের কারাদন্ড দেয়। ডাঃ আব্দুল কাদের খান আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন হত্যা মামলার আসামী, ওই মামলাটি বিচারাধীন।
তাবলীগ জামায়াত ঃ ১০ জুন কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসের পিছনে তাবলীগ জামায়াত দু’গ্রুপের মধ্যে দ্বন্দ্বে পেট্রোল বোমার আঘাতে আব্দুর রহীম রাজন নামে এক সা’দ পন্থী ঢাকা মেডিকেল কলেজে চিকিৎসারত অবস্থায় নিহত হয়। ঘটনার জন্য জুবায়ের পন্থীদের দায়ী করা হয়। গত ১৯ মে রাজনের উপর এই হামলা করা হয়।

রিফাত হত্যা: মিন্নিকে নিয়ে পাল্টাপাল্টি by মো. মিজানুর রহমান

বরগুনায় প্রকাশ্যে শাহনেওয়াজ রিফাতকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় এর আগে নয়ন বন্ড ও তার সহযোগীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানালেও এবার তার স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিকেই ছেলে হত্যার সঙ্গে জড়িত বলে সন্দেহ করছেন রিফাতের বাবা ও মামলার বাদী আবদুল হালিম দুলাল শরীফ। শনিবার রাত ৮টায় বরগুনা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি এ দাবি জানান।সংবাদ সম্মেলনে তিনি রিফাতের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান। মিন্নি ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে মিন্নির প্রথম বিয়ের তথ্য লুকানো এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে মিন্নির সম্পৃক্ততার অভিযোগসহ ১০টি গুরুতর অভিযোগ তোলেন দুলাল শরীফ। অপরদিকে মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, দুলাল শরীফের মাথা ঠিক নেই, তিনি ভুলভাল বকছেন।
গত ৬ই জুলাই রিফাত হত্যার নতুন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে কলেজের প্রধান ফটক থেকে মিন্নিকে নিয়ে রিফাতকে বের হতে দেখা যায়। পরে মিন্নি ফের কলেজের ভেতরের দিকে যায়। এ সময় রিফাত তার স্ত্রী মিন্নিকে ভেতরে যেতে বাধা দেয়। এরপরই সন্ত্রাসীরা কলেজ গেট থেকে রিফাতকে ধরে সামনের দিকে নিয়ে যায়।
মিন্নি তখন পেছন পেছন হাঁটছিল। কয়েক সেকেন্ড পরেই নয়ন বন্ড ও অন্যরা যখন রিফাত শরীফকে কিল, ঘুষি, লাথি দিতে শুরু করে, তখনই মিন্নি তাকে বাঁচাতে এগিয়ে যায়। আর যখন সন্ত্রাসীরা রিফাত শরীফকে কোপাতে শুরু করে তখন মিন্নি হামলাকারীদের নির্বৃত্ত করার চেষ্টা করে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, আসামিরা মিন্নির ওপরে চড়াও হয়নি এবং মিন্নি কোনোভাবেই আক্রান্ত হয়নি। তার প্রশ্ন, ‘মিন্নি কেন আক্রান্ত হয়নি?’
এ সময় মিন্নি বিবাহিত ছিল এবং আগের বিয়ের তথ্য গোপন করেছে এমন অভিযোগও করেন তিনি। এ ছাড়াও তার ছেলেকে হত্যার আগের দিন মিন্নি নয়ন বন্ডের বাসায় গিয়েছে এমনটা জেনেছেন বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানান।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি নিজের উপলব্ধি থেকেই সাংবাদিকদের সামনে হাজির হয়েছি।
রিফাত হত্যার প্রধান সাক্ষী মিন্নিকে অভিযুক্ত করলে মামলায় এর প্রভাব পড়বে কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমি আমার ছেলের হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই।’
আবদুল হালিম দুলাল শরীফ বলেন, মিডিয়ায় প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায় রিফাতকে কোপানোর সময় মিন্নি খুনিদের জাপটে ধরেছে। কিন্তু খুনিরা কেউ মিন্নির ওপর চড়াও হয়নি এমনকি মিন্নিকে একটা টোকাও দেয়নি। যখন রিফাত আহত এবং রক্তাক্ত অবস্থায় একা একা রিকশাযোগে হাসপাতাল যাচ্ছিল তখন মিন্নি তার ব্যাগ ও স্যান্ডেল গোছানোর কাজে বেশি ব্যস্ত ছিল। খুনিদের একজন রাস্তা থেকে ব্যাগ তুলে মিন্নির হাতে দিয়েছে। মিন্নি ওই ব্যাগ নিয়ে স্বাভাবিকভাবে হাঁটছিল। এ ছাড়া আমার ছেলে রিফাত শরীফকে অ্যাম্বুলেন্সযোগে বরিশাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার সময়ও যায়নি মিন্নি। আসলে সবই ছিল মিন্নির অভিনয়।
এ সময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, নিহত রিফাত শরীফের চাচা আবদুল আজিজ শরীফ ও ছালাম শরীফ।
মিন্নির বক্তব্য: এদিকে, মিন্নি দাবি করে, ‘কিছু লোক আছে যারা বিষয়টি ভিন্ন দিকে নিয়ে যেতে চেষ্টা করছে। আমি চরম মানসিক নিপীড়নে ভুগছি। কেউ আমাদের পাশে নেই, সবাই শুধু সমালোচনায় মুখর। আমি সবার সহযোগিতা চাই।’
রিফাত শরীফের ওপর হামলার ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে মিন্নি বলে, ‘ওইদিন সকাল সোয়া ১০টা হয়তো। রিফাত আমাকে বলে, ‘আব্বু আসছে, চলো, তোমার সঙ্গে দেখা করবে।’ আমি ওকে বলেছিলাম ‘আমার কাজ শেষ করে বের হই।’ ও আপত্তি করে বলে, ‘আব্বু গেটে অপেক্ষা করছে।’ আমি তখন ওর সঙ্গে বের হই। গেটের বাইরে এসে এদিক ওদিক তাকিয়ে দেখি বাবা কোথাও নেই। তখন আমি বলি, ‘তুমি মিথ্যে বলেছো, চলো রুটিন নিয়ে আসি।’ আমি ওকে নিয়ে ভেতরে যেতে চাই। ঠিক এ মুহূর্তেই ১০-১২ জন আমাদের ঘিরে ধরে এবং রিশান ফরাজী ওর পথরোধ করে। ঘটনার আকস্মিকতায় আমি হতভম্ব হয়ে ওদের পেছনে হাঁটতে থাকি। পরে যখন আক্রমণ করে তখন প্রতিরোধের চেষ্টা করি। আমি হেল্প চাই অনেকের কাছে। কেউ আসেনি। ওরা চলে যাওয়ার পর রিফাত নিজেই হেঁটে রিকশায় ওঠে। আমার পায়ের পাতা কেটে যাওয়ায় জুতো ছাড়া হাঁটতে পারছিলাম না, তখন জুতো পায়ে দিই। এ সময় একজন আমার হাতে ব্যাগ তুলে দেয়।’
রিফাতের বাবার মাথা খারাপ: মিন্নির বাবা: রিফাত শরীফের বাবা দুলাল শরীফের অভিযোগ সম্পর্কে মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর বলেন, ‘দুলাল শরীফের মাথা ঠিক নেই। দুলাল শরীফ হার্টের রোগী। এ কারণে তিনি ভুলভাল বকছেন। তার কথার কোনো ভিত্তি নেই। তার কথায় কান দেয়ারও কিছু নেই।’
মিন্নির বাবা বলেন, ‘রিফাতের ওপর হামলার পর আমি রিফাতকে আমার খরচে বরিশাল নিয়ে যাই। বরিশাল নেয়ার পর সেখানে কিছু লোক আমার ওপর হামলা করে। সেসব হামলাকারীর প্ররোচনায় মূলত এই সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে।
আমার মেয়েটি বিধবা হয়েছে। মেয়ে জামাইয়ের জন্য আমার বুক ফেটে যাচ্ছে। ভিডিও ফুটেজে রিফাত শরীফকে বাঁচানোর আপ্রাণ প্রচেষ্টা দেখে হাজার হাজার মানুষ আমার মেয়ে মিন্নিকে বাহবা দিয়েছে। আমার মেয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রিফাতকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছে। তারপরও আমার মেয়ে ও আমার পরিবারের বিরুদ্ধে মিথ্যে অপবাদ দিচ্ছে রিফাত শরীফের বাবা দুলাল শরীফ।’
মিন্নিকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে বরগুনার পুলিশ সুপার মো. মারুফ হোসেন বলেন, রিফাত হত্যা মামলাটি স্পর্শকাতর। মামলাটি আমরা অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করছি। এ হত্যাকাণ্ডে যে জড়িত থাকবে পুলিশ তাকে আইনের আওতায় আনতে বদ্ধপরিকর।
খুনিদের আড়াল করতে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র: মিন্নি
‘বরগুনায় যারা বন্ড ০০৭ গ্রুপ সৃষ্টি করেছেন, তারা খুবই ক্ষমতাবান ও অর্থশালী। তারা রিফাত হত্যার বিচারকে অন্যদিকে প্রবাহিত করার জন্য আমার শ্বশুরকে বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করছে। আমার স্বামীর খুনিদের আড়াল করতে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।’ গতকাল দুপুর ১টার দিকে বরগুনা পৌর শহরের নয়াকাটা মাইঠা এলাকায় তার বাবার বাড়িতে এক সংবাদ সম্মেলনে রিফাত হত্যা মামলার ১ নম্বর সাক্ষী ও নিহত রিফাত শরীফের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি এসব কথা বলেন। এ সময় তার শ্বশুরের করা সংবাদ সম্মেলনের অভিযোগ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন দাবি করে মিন্নি বলেন, ‘২৬শে জুন আমার চোখের সামনে আমার স্বামীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। আমি সন্ত্রাসীদের বারবার প্রতিহত করার চেষ্টা করেও আমার স্বামীকে বাঁচাতে পারিনি। সবার কাছে সহযোগিতা চাইলেও কেউ এগিয়ে আসেনি। এরপর ২৭শে জুন আমার শ্বশুর বরগুনা সদর থানায় ১২ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন। হত্যা মামলায় আমাকে কোথাও অভিযুক্ত না করে ১ নম্বর সাক্ষী বানানো হয়। এখন হঠাৎ আমাকে জড়িয়ে মামলাটি ভিন্ন খাতে নেয়ার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।’
এ সময় সিসিটিভি ফুটেজের কথা উল্লেখ করে মিন্নি বলেন, ‘অনেকে সিসিটিভি ফুটেজ দেখে আমার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, কিন্তু আসল ঘটনা জানার চেষ্টা কেউ করেন নি। আমি সেদিন কলেজে গিয়েছিলাম। রিফাত গিয়ে আমাকে বলে বাবা এসেছেন তোমাকে ডাকছে। আমি এসে দেখি রিফাতের বাবা (আমার শ্বশুর) সেখানে নেই। তাই আমি আবার কলেজের ভেতরে ঢুকে যেতে চাইছিলাম। এ সময় রিফাত আমাকে নিয়ে ঘুরতে যাওয়ার আবদার করে। এর মধ্যেই রিশান ফরাজী, রিফাত ফরাজীসহ কয়েকজন এসে ওকে জাপটে ধরে পূর্ব দিকে নিয়ে যায়। আমি ঘটনার আকস্মিকতায় হতবাক হয়ে যাই। হাঁটতে হাঁটতে তাদের পেছনে যাই। যখন দেখি রিফাতকে মারধর শুরু করেছে, আমি প্রাণপণ চেষ্টা করেছি তাকে বাঁচাতে। কিন্তু সন্ত্রাসীদের হাত থেকে তাকে রক্ষা করতে পারিনি।’
মিন্নি আরো বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ বরগুনার পুলিশ সুপার ও প্রশাসনকে আমি ধন্যবাদ জানাই আমার নিরাপত্তা দেয়ার জন্য। প্রধানমন্ত্রীর কাছে সুবিচারের জন্য আবেদন করছি। আমার বিরুদ্ধে যারা মিথ্যাচার ও ষড়যন্ত্র করছে তাদের আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবিসহ প্রকৃত সত্য উদঘাটনের জন্য আবেদন করছি।’

হাসিনা-লি বৈঠক ৩ চুক্তি সই

কূটনীতি, বাণিজ্য-বিনিয়োগ এবং সংস্কৃতি বিনিময়ে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের ৩টি চুক্তি সই হয়েছে। গতকাল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সফররত কোরীয় প্রধানমন্ত্রী লি নাক-ইয়নের আনুষ্ঠানিক বৈঠকের পর ওই চুক্তি স্বাক্ষর হয়। এর আগে বিকাল সোয়া ৪টা থেকে দুই প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীণ বাংলাদেশ ও কোরীয় প্রতিনিধি দলের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি নিয়ে আনুষ্ঠানিক বৈঠক হয়। তেজগাঁওস্থ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক এবং চুক্তি সই হয়েছে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসস। বাসসের রিপোর্ট মতে, দুই প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে ঢাকা-সিউল বিদ্যমান সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যেই নতুন ৩ চুক্তি সই হয়। চুক্তিগুলো হচ্ছে- (এক) কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ন্যাশনাল ডিপ্লোমেটিক একাডেমি এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ফরেন সার্ভিস একাডেমির মধ্যে সহযোগিতা বিষয়ক সমঝোতা।
দুই. বাংলাদেশে দক্ষিণ কোরিয়ার বিনিয়োগ বৃদ্ধির লক্ষে কোরীয় ট্রেড ইনভেস্টমেন্ট প্রমোশন এজেন্সি এবং বালাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ডেভেলপমেন্ট অথরিটির মধ্যে সমঝোতা। তৃতীয় এবং সর্বশেষ হচ্ছে- বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে ২০১৯-২৩ সাল পর্যন্ত সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচি সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক। কূটনীতি বিষয়ক সমঝোতায় দক্ষিণ কোরিয়ার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী লী তায়েহো এবং বাংলাদেশের ফরেন সার্ভিস একাডেমির প্রিন্সিপাল সৈয়দ মাসুদ মাহমুদ খন্দকার নিজ নিজ দেশের পক্ষেই সই করেন।
বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত সমঝোতায় সই করেন এ সংক্রান্ত কোরীয় এজেন্সির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা পিয়ং ওহ এবং বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট অথরিটির নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী এম আমিনুল হক। আর সংস্কৃতি বিনিময় সংক্রান্ত সমঝোতায় নিজ নিজ দেশের পক্ষে সই করেন কোরীয় উপ-পররষ্ট্রমন্ত্রী লী তায়েহো এবং বাংলাদেশের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. আবু হেনা মোস্তাফা কামাল। এর আগে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী লি বিকেল সোয়া ৪টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পৌঁছালে টাইগার গেইটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে স্বাগত জানান।
এ সময় ফুলের তোড়া দিয়ে তাকে অভ্যর্থনা জানানো হয়। পরে দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে একান্ত বৈঠক হয়। এরপর প্রতিনিধি দলদ্বয়ের নিয়ে আনুষ্ঠানিক-দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং কোরীয় প্রধানমন্ত্রী লি নিজ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন। বৈঠক এবং চুক্তি সইয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। সচিব জানান, টানা তৃতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেয়ায় শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী। একইসঙ্গে তার নেতৃত্বে গত ১০ বছরে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির প্রশংসা করেছেন লি। ইহসানুল করিম বলেন, বৈঠকে কোরীয় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের সম্ভাবনা ও বিনিয়োগের সুযোগ থাকার কথা তুলে ধরেন। কোরিয়া জ্বালানি, তথ্য-প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা খাতে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করতে চায়। পরমাণু বিদ্যুতে বিনিয়োগেও দেশটির আগ্রহ রয়েছে। বৈঠকে শেখ হাসিনা দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। বিশেষ করে বাংলাদেশে কোরিয়ার আরও বেশী বিনিয়োগ দেখতে চেয়েছেন তিনি। কোরিয়ার বাজারে বাংলাদেশী পণ্যের শুল্ক ও কোটামুক্ত সুবিধা দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রেস সচিব বলেন, জবাবে কোরিয়ান প্রতিনিধি দল বিষয়টি বিবেচনা করবে বলে জানিয়েছে।
রোহিঙ্গাদের জন্য যা যা করা সম্ভব সবই করবে কোরিয়া: প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আরও জানান, দুই প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীণ আনুষ্ঠানিক বৈঠক প্রায় ৪০ মিনিট স্থায়ী হয়। বৈঠকে রোহিঙ্গা সঙ্কট এবং দুই দেশের মধ্যকার ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ পরিস্থিতি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনায় আসে। নির্যাতনের মুখে মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া ১১ লাখ রোহিঙ্গা এ অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকি সৃষ্টি করছে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, মানবিক এ সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানে মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক মহলের এবং দ্বিপক্ষীয় চাপ অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। প্রেস সচিব বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ায় বাংলাদেশের প্রশংসা করেন কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে এ-ও বলেন, রোহিঙ্গাদের জন্য যা যা করা সম্ভব সবই করবে কোরিয়া। বাংলাদেশের উন্নয়নে কোরিয়া সহায়তা অব্যাহত রাখবে জানিয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী জানান, বৈদেশিক উন্নয়ন সহায়তা (ওডিএ) থেকে বাংলাদেশের জন্য তারা এক বিলিয়ন বরাদ্দ রেখেছেন। বাংলাদেশের এক হাজার ছাত্র কোরিয়াতে পড়াশোনা করেন। এর মধ্যে অনেকে বৃত্তি পান। এটি আরও বাড়ানোর আশ্বাস দেন কোরীয় প্রধানমন্ত্রী। দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার ৪ দেশ সফরের অংশ হিসাবে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী লি নাক-ইয়ন তিন দিনের সরকারি সফরে শনিবার বিকালে বাংলাদেশে আসেন।
বাংলাদেশের উন্নয়নযাত্রায় পাশে থাকবে দক্ষিণ কোরিয়া-লি: এদিকে মধ্য আয়ের দেশ দেশ হওয়ার পথে বাংলাদেশের উন্নয়নযাত্রায় পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী লি নাক-ইয়ান। রোববার বিকালে বঙ্গভবনে প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এই আশার কথা শোনান তিনি। প্রেসিডেন্টের প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদীন গণমাধ্যমকে বলেন, সাক্ষাতের সময় দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, বাংলাদেশ ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের এবং ২০৪১ সালে মধ্যে উন্নত দেশে পরিণত হওয়ার যে কর্মসূচি গ্রহণ করেছে তা সফল হবে। কোরিয়া বাংলাদেশের এই উন্নয়নযাত্রায় পাশে থাকবে। এর আগে বঙ্গভবনে পৌঁছালে লি নাক-ইয়োনকে ফুল দিয়ে অভ্যর্থনা জানান আবদুল হামিদ। সাক্ষাতে সময় আবদুল হামিদ বলেন, দক্ষিণ কোরিয়া বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন অংশীদার। দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ক্রমান্বয়ে সমপ্রসারিত হচ্ছে। বাংলাদেশ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের কথা উল্লেখ করে প্রেসিডেন্ট বলেন, বাংলাদেশে কোরিয়ান বিনিয়োগ ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিনি বাংলাদেশের রপ্তানি প্রকিয়াজাতকরণ এলাকায় (ইপিজেড) আরও বিনিয়োগের আহ্বান জানান। প্রেসিডেন্ট বলেন, কোরিয়া এবং বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রক্রিয়ার মধ্যে অনেক মিল রয়েছে। কোরিয়ার উন্নয়ন দেখে বাংলাদেশ উৎসাহিত।
স্মৃতিসৌধে কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা: ওদিকে আমাদের স্টাফ রিপোর্টার, সাভার থেকে জানান, সফররত দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী লি নাক-ইয়োন গতকাল সকালে জাতির বীর সন্তানদের শ্রদ্ধা জানাতে সকাল ৯টা ১০ মিনিটে স্মৃতিসৌধে প্রবেশ করেন। এ সময় তাকে স্বাগত জানান গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী শ. ম. রেজাউল করিম, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান, সেনাবাহিনীর নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল আকবর হোসেন। প্রায় ২০ মিনিট স্মৃতিসৌধে অবস্থানকালে তিনি বীর শহীদদের প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে একটি ‘নাগেশ্বরী’ ফুলের একটি চারা রোপণ করেন। সবশেষে তিনি পরিদর্শন বইতে স্বাক্ষর করে ৯টা ৩০ মিনিটে জাতীয় স্মৃতিসৌধ ত্যাগ করে সাভারস্থ ডিইপিজেড (পুরাতন) জোনে দক্ষিণ কোরিয়ার মালিকানাধীন ইয়ংওয়ান হাইটেক স্পোর্টস ওয়্যার লি. কারখানাটি পরিদর্শনে যান। জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলার পুলিশ কমিশনার শাহ মিজান শাফিউর রহমান, গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী জোয়ারদার তাবেদুন নবী এবং প্রধান বৃক্ষবিদ মো. শাহাদাত হোসেন কুদরত-ই-খোদা প্রমুখ।

এরশাদের বর্ণিল জীবন ও একটি অধ্যায়ের অবসান

কালের কণ্ঠ অনলাইন, ১৪ জুলাই, ২০১৯:
অধ্যায়ের বর্ণিল অংশটি শেষ হয়েছে বেশ আগে। এরপর কেটে গেছে ২৯ বছর। এই দীর্ঘ সময়জুড়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে এরশাদ ও তাঁর দল কম গুরুত্বপূর্ণ ছিলেন না। গুরুত্বের এই হিসাবটি ছিল ক্ষমতার রাজনীতিকে কেন্দ্র করে। কিন্তু তারও অবসান হলো। আজ রবিবার সকাল পৌনে ৮টার দিকে সিএমএইচে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরকালে পাড়ি জমিয়েছেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন এরশাদ।

এরশাদ ১৯৩০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহারের ডিনহাটা শহরে জন্মগ্রহণ করেন। প্রাথমিক, মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করেন জন্ম শহরেই। এরপর ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ১৯৫০ সালে সেখান থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৫২ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে অফিসার পদে নিয়োগ লাভের মধ্য দিয়ে পেশাগত জীবন শুরু করেন এরশাদ। তিনি ১৯৬৯ সালে লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদে পদোন্নতি লাভের পর তৃতীয় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে। পরে পালন করেন সপ্তম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে অধিনায়কের দায়িত্ব।

মুক্তিযুদ্ধ শেষে পাকিস্তান থেকে প্রত্যাবর্তনের পর ১৯৭৩ সালে এরশাদ নিয়োগ পান বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেল পদে। তৎকালীন সরকারপ্রধান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁকে নিয়োগ দেন। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর ক্ষমতার কেন্দ্রে আসেন মেজর জিয়াউর রহমান। এ সময় এরশাদকে মেজর জেনারেল পদে পদোন্নতি দিয়ে সেনাবাহিনীর উপপ্রধান পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। ১৯৭৮ সালের ডিসেম্বরে নিযুক্ত হন চিফ অব আর্মি স্টাফ, পদোন্নতি লাভ করেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল পদে।

৩০ মে ১৯৮১ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হন। এরপরই রাজনৈতিক অভিলাষ প্রকাশ পেতে থাকে এরশাদের। ২৪ মার্চ ১৯৮২ সালে রাষ্ট্রপতি আব্দুস সাত্তারের নির্বাচিত সরকারকে হটিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেন এরশাদ। ১১ ডিসেম্বর ১৯৮৩ সালে  তিনি প্রধান সামরিক প্রশাসক হিসেবে আবির্ভুত হন। ওইদিন তিনি দেশের রাষ্ট্র ক্ষমতা রাষ্ট্রপতি বিচারপতি এ এফ এম আহসানুদ্দিন চৌধুরীর কাছ থেকে নিজের অধিকারে নেন। ১৯৮২ সালের ২৭ মার্চ বিচারপতি আবুল ফজল মোহাম্মদ আহসানউদ্দিন চৌধুরীকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে অধিষ্ঠিত করেন। যদিও বিচারপতি চৌধুরীর কোনো প্রকার কর্তৃত্ব রাখেননি এরশাদ। ১৯৮৩ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হিসেবে দেশ শাসনের পর রাষ্ট্রপতি আহসানউদ্দিন চৌধুরীকে অপসারণ করে বসে যান এ পদেই।

প্রতাপশালী এই স্বৈরশাসকের পরবর্তী সব কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়েছে রাজনৈতিক হিসাবনিকাশের মধ্য দিয়ে। ১৯৮৬ সালের ১ জানুয়ারি গঠন করেন নিজস্ব দর জাতীয় পার্টি। নবগঠিত দলটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন তিনি, আর মহাসচিব অধ্যাপক এম এ মতিন। এটিই ছিল তাঁর প্রথম প্রকাশ্য রাজনৈতিক কার্যক্রম। ওই বছরই নির্বাচন দিলেন তিনি। প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর বর্জনের মধ্যেই ১৯৮৬ সালের অক্টোবর নির্বাচন হয়। এতে জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে পাঁচ বছর মেয়াদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন এরশাদ। নির্বাচিত হওয়ার পর সে বছরের ১০ নভেম্বর তৃতীয় জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন আহ্বান করেন। সংবিধানের সপ্তম সংশোধনী আইন পাশ করে সেদিন জাতীয় সংসদ সংবিধান পুনর্বহাল করে। তবে বিরোধী দলগুলোর প্রবল আন্দোলনের মুখে ১৯৮৭ সালের ৭ ডিসেম্বর ফের সংসদ বিলুপ্ত ঘোষণা করেন। প্রধান বিরোধী দলগুলো ১৯৮৮ সালের ৩ মার্চ  অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনও বর্জন করে।

এরশাদের শাসনের বিরুদ্ধে বিরোধী দলগুলোর অবিরাম আন্দোলন চলতে থাকে এবং প্রবল গণঅভ্যুত্থানের মুখে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর তিনি পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। ১৯৯১ সালে গ্রেপ্তার হন এরশাদ। ১৯৯১ সালের সংসদ নির্বাচনে কারান্তরীণ অবস্থায় এরশাদ রংপুরের পাঁচটি আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয়ী হন। তৎকালীন  সরকার এরশাদের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি দুর্নীতি মামলা করে। এর কোনো কোনোটিতে দোষী প্রমাণিত হয়ে তিনি কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন। ১৯৯৬-এর সাধারণ নির্বাচনেও এরশাদ সংসদে পাঁচটি আসনে বিজয়ী হন। ছয় বছর কারাভোগের পর ১৯৯৭ সালের ৯ জানুয়ারি তিনি জামিনে মুক্ত হন। তবে আদালতের রায়ে দণ্ডিত হওয়ার কারণে সংসদে তার আসন বাতিল হয়ে যায়। ২০০০ সালে জাতীয় পার্টিতে ভাঙন দেখা দিলেও শেষ পর্যন্ত এরশাদের নেতৃত্বাধীন অংশই টিকে যায়।

১৯৯৬ খ্রিস্টাব্দে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় না-আসা পর্যন্ত কারারুদ্ধ থাকেন। ১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনে তিনি কারাগার থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন এবং রংপুরের পাঁচটি আসন থেকে নির্বাচিত হন। বিএনপি সরকার তাঁর বিরুদ্ধে কয়েকটি দুর্নীতি মামলা দায়ের করে। তার মধ্যে কয়েকটিতে তিনি দোষী সাব্যস্ত হন এবং সাজাপ্রাপ্ত হন। ১৯৯৬ সালের সাধারণ নির্বাচনেও তিনি পাঁচটি আসন থেকে নির্বাচিত হন। ছয় বছর আবরুদ্ধ থাকার পর ৯ জানুয়ারি ১৯৯৭ সালে তিনি জামিনে মুক্তি পান। তার প্রতিষ্ঠিত জাতীয় পার্টি ২০০০ সালে তিনভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে, যার মধ্যে মূল ধারার তিনি চেয়ারম্যান।

২০০১ সালের অক্টোবরে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এরশাদের জাতীয় পার্টি ১৪টি আসনে জয়ী হয়। এরপর তিনি ২০০৬ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪-দলীয় জোটের সঙ্গে মহাজোট গঠন করেন। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এরশাদের দল ২৭টি আসনে বিজয়ী হয়। এরপর অনুষ্ঠিত দশম এবং একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বাইরে সর্বোচ্চ সংখ্যক আসন পেয়ে বিরোধী দলের ভূমিকায় থেকেছে তাঁর দল।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারীর জাতীয় নির্বাচনে তার সংসদে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে এবং তার স্ত্রী রওশন এরশাদ প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা হন।

শারীরিক অসুস্থতার দরুন ২০১৯ সালের ২৭ জুন ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এরশাদকে। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে নেওয়া হয় লাইফ সাপোর্টে। তিনি রক্তে হিমোগ্লোবিনের স্বল্পতা, ফুসফুসে সংক্রমণ ও কিডনি জটিলতায় ভুগছিলেন।

কাজের গতি বাড়াতে ডিসিদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা

দেশে চলমান উন্নয়নের গতিধারা অব্যাহত রাখার স্বার্থে কাজের গতি বাড়াতে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বলেছেন, ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য উন্নয়নের গতিটা অব্যাহত রাখা জরুরি। আর এটা মাথায় রেখেই আপনাদের কাজ করে যেতে হবে। গতকাল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে জেলা প্রশাসক সম্মেলনের উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, আপনারা আপনাদের মেধা ও মনন দিয়ে এই দেশটাকে গড়ে তুলবেন। আর সুষ্ঠু পরিকল্পনা নিয়ে যেন কর্মক্ষেত্রে আপনাদের দক্ষতার পরিচয় রাখতে পারেন সেটাই আমি চাই। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে এবং জাতির পিতার স্বপ্নের বাংলাদেশ আমরা গড়ে তুলব। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আপনাদের চাকরিতো দীর্ঘকালীন, আর আমাদের চাকরি স্বল্প মেয়াদের।
পাঁচ বছরের জন্য আমরা নির্বাচিত হয়েছি। কাজেই এই পাঁচ বছরের মধ্যে আমাদের দেশটাকে একটা জায়গায় নিয়ে আসতে চাই এবং সেই লক্ষ্য নিয়ে আমরা যে বাজেট দিয়েছি বা পরিকল্পনা নিয়েছি বা নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষণা দিয়েছি। আর সেই লক্ষ্যটা হলো বাংলাদেশ ক্ষুধা মুক্ত, দারিদ্র্য মুক্ত, উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হবে। ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর আগেই দেশকে দারিদ্র মুক্ত করতে চান উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইতিমধ্যে আমাদের ২১ ভাগ দারিদ্র্য মুক্ত হয়েছে এবং আমি মনে করি, আমরা যদি আরেকটু প্রচেষ্টা নেই- আমাদের হাতে এখনো যে সময়টা রয়েছে তাতে ২০২১ সালের মধ্যে দারিদ্র্যের হার ২/৩ ভাগ কমাতে পারব। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা জানেন যুক্তরাষ্ট্রের দারিদ্রের হার ১৮ ভাগ। আমরা তার থেকে অন্তত এক ভাগ বেশি কমাতে চাই। আপনাদের প্রচেষ্টা থাকলে আমরা পারব। প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা আমাদের একদিন বলেছিল, বাংলাদেশ ‘বটমলেস বাস্কেট’ হবে। তাদের দেখাতে চাই দারিদ্র্যের হার কমিয়ে এনেছি। ২০২৪ সালের মধ্যে এই হারকে আরও কমাব। আর ২০৪১ সালে বাংলাদেশ হবে উন্নত সমৃদ্ধ দেশ এই দক্ষিণ এশিয়ায়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন, মন্ত্রী পরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম বক্তব্য রাখেন এবং প্রধানমন্ত্রী মূখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে খুলনা বিভাগীয় কমিশনার লোকমান হোসেন মিয়া, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ইলিয়াস হোসাইন, শেরপুর জেলা প্রশাসক আনারকলি মাহবুব এবং টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক শহীদুল ইসলাম বক্তৃতা করেন। অনুষ্ঠানে সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড নিয়ে একটি ডকুমেন্টারি প্রদর্শিত হয়। ডিসি সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রিসভার সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, সংসদ সদস্য এবং সরকারের সিনিয়র কর্মকর্তারাসহ দেশের সব বিভাগীয় কমিশনার ও ডিসিরা উপস্থিত ছিলেন।

ডিসিদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রীর ৩১ নির্দেশনা-
(১) সরকারি সেবা গ্রহণে সাধারণ মানুষ যাতে কোনোভাবেই হয়রানি বা বঞ্চনার শিকার না হন, সেদিকে অবশ্যই লক্ষ্য রাখতে হবে।
(২) জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও সাম্প্রদায়িকতা দূর করে সর্বক্ষেত্রে শান্তিশৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে আরো সতর্কতার সঙ্গে এবং কঠোরভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
(৩) যুব সমাজকে মাদকের হাত থেকে রক্ষা করতে মাদক বিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
(৪) গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, সম্ভাবনাময় স্থানীয় ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিকাশ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে দারিদ্র্যবিমোচনে ব্রতী হতে হবে।
(৫) তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির উন্নয়ন ও বিকাশে বলিষ্ঠ নেতৃত্ব দিতে হবে। দৈনন্দিন প্রয়োজনে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান ব্যবহারে জেলার সাধারণ জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।
(৬) তৃণমূল পর্যায়ে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে একাত্ম হয়ে কাজ করতে হবে।
(৭) শিক্ষার সকল স্তরে নারীশিক্ষার হার বৃদ্ধি, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয় ত্যাগের হার হ্রাস এবং ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের মূলধারায় ফিরিয়ে আনার পদক্ষেপ নিতে হবে।
(৮) ভূমি প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সরকারি ভূমি রক্ষায় সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।
(৯) কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে সার, বীজ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ইত্যাদির সরবরাহ নির্বিঘ্ন করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয়  পদক্ষেপ নিতে হবে।
১০) ভেজাল খাদ্যদ্রব্য উৎপাদন, পরিবহন ও বাজারজাতকরণ প্রতিরোধে ব্যাপক গণসচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে এবং এ ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড কঠোর হস্তে দমন করতে হবে।
(১১) দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতকরণে কমিউনিটি ক্লিনিকের কার্যক্রম আরো জোরদার করতে হবে।
(১২) পরিবেশ রক্ষায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং এই সংক্রান্ত আইন ও বিধি-বিধানের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।
(১৩) প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বিপর্যয় প্রশমনে ‘দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১২’ এবং এ সংক্রান্ত স্থায়ী নির্দেশনাবলি অনুসারে সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
(১৪) সাধারণ মানুষকে সহজে সুবিচার প্রদান ও আদালতে মামলার জট কমাতে গ্রাম আদালতগুলোকে কার্যকর করতে হবে।
(১৫) জেলা প্রশাসকগণ জেলাপর্যায়ে বিভিন্ন কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ সব কমিটিকে সক্রিয়, গতিশীল ও ফলপ্রসূ করতে হবে।
(১৬) দপ্তরসমূহের বিদ্যমান সেবাসমূহ তৃণমূলে পৌঁছানোর লক্ষ্যে তথ্য মেলা, সেবা সপ্তাহ পালনসহ ইত্যাদি কার্যক্রম জোরদার করতে হবে।
(১৭) শিল্পাঞ্চলে শান্তি রক্ষা, পণ্য-পরিবহন ও আমদানি-রপ্তানি নির্বিঘ্ন করা এবং চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, পেশীশক্তি ও সন্ত্রাস নির্মূল করার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
(১৮) বাজার ব্যবস্থার সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের প্রতি গুরুত্বারোপ করতে হবে। ভোক্তা অধিকারকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হবে এবং বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির যেকোনো অপচেষ্টা কঠোর হস্তে দমন করতে হবে।
(১৯) নারী ও শিশু নির্যাতন এবং পাচার, যৌতুক, ইভটিজিং এবং বাল্যবিবাহের মতো সামাজিক ব্যাধি থেকে মুক্তির জন্য আপনাদের দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে হবে।
(২০) নারীর প্রতি সহিংসতা, নিপীড়ন ও বৈষম্যমূলক আচরণ বন্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।
(২১) শিশু কিশোরদের পুষ্টিচাহিদা পূরণ এবং তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের লক্ষ্যে শিক্ষা, ক্রীড়া, বিনোদন ও সৃজনশীল সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। শিশু কিশোরদের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, সংস্কৃতিবোধ ও বিজ্ঞানমনস্কতা জাগিয়ে তুলতে হবে।
(২২) প্রতিবন্ধী, অটিস্টিক ও পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর কল্যাণে বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
(২৩) পার্বত্য জেলাসমূহের উন্নয়ন ত্বরান্বিতকরণের পাশাপাশি এ অঞ্চলের ভূ-প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য, বনাঞ্চল, নদী, জলাশয়, প্রাণিসম্পদ এবং গিরিশৃঙ্গগুলোর সৌন্দর্য্য সংরক্ষণ করতে হবে। এ ছাড়া পর্যটনশিল্প, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প এবং কুটিরশিল্পের বিকাশে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করতে হবে।
(২৪) ২০২০ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী কেন্দ্রীয় পর্যায় হতে তৃণমূল পর্যন্ত উদ্‌যাপনের লক্ষ্যে আপনাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
(২৫) ২০২১ সালে বঙ্গবন্ধুর আজীবন লালিত স্বপ্নের ‘সোনার বাংলাদেশ’ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদ্‌যাপন করতে হবে।
(২৬) বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন পর্যায়ে এই ব্যবস্থা নিতে হবে।
(২৭) কোনো ঢালাও পরিকল্পনা নয়, জেলার চাহিদানুযায়ী এবং তার প্রকৃতি ও পরিবেশ বিবেচনায় নিয়ে উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে।
(২৮) স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করতে হবে। ক্ষমতার বিকেন্দ্রিকরণ, জনগণের চাহিদা এবং উন্নত জীবন নিশ্চিত করার বিষয়ে বিশেষভাবে লক্ষ্য রেখে প্রকল্প ও উন্নয়ন কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে।
(২৯) প্রকৃতি ও পরিবেশ বজায় রেখে খেলাধুলার বিকাশে প্রত্যেক উপজেলায় মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
(৩০) মানুষের চিত্ত বিনোদনের ব্যবস্থা করতে হবে এবং সাম্প্রদায়িক সমপ্রীতি বজায় রাখাসহ সংখ্যালঘু নৃগোষ্ঠী, হিজড়া ও বেদে সমপ্রদায়ের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে মনোযোগী হতে হবে।
(৩১) গৃহহারা, ভূমিহীন ও ভিক্ষুকদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে।

এরশাদের জীবনাবসান

সাবেক প্রেসিডেন্ট ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। ১০ দিন ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থেকে গতকাল সকাল পৌনে আটটায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বলে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) থেকে জানানো হয়। বিরোধী দলের নেতা এরশাদের মৃত্যুতে প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা শোক প্রকাশ করেছেন। এরশাদের মৃত্যুতে শোকের ছায়া  নেমে এসেছে জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের মাঝে। গতকাল বাদ যোহর ঢাকা সেনানীবাসের সেনা কেন্দ্রীয় মসজিদে এরশাদের প্রথম জানাজার পর লাশ সিএমএইচের হিমঘরে রাখা হয়। আজ সকাল সাড়ে ১০টায় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় এরশাদের দ্বিতীয় জানাজা হবে। এরপর বেলা ১২টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত মরদেহ রাখা হবে কাকরাইলে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে। বাদ আসর বায়তুল মোকাররমে হবে তৃতীয় জানাজা।
বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টারে মঙ্গলবার সকালে লাশ নেয়া হবে এরশাদের পৈত্রিক নিবাস রংপুরে। সেখানে  জেলা ঈদগাহ মাঠে হবে চতুর্থ জানাজা। এরপর ঢাকায় এনে বনানীর সামরিক কবরস্থানে তাকে দাফনের কথা রয়েছে। তবে এরশাদের লাশ উন্মুক্ত স্থানে দাফনের দাবি তুলেছেন দলের নেতাকর্মীরা। এ দাবিতে গতকাল জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের বনানীর কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেন নেতাকর্মীরা। রংপুরে সংবাদ সম্মেলন করে এ দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা। নেতাকর্মীদের এমন দাবির প্রেক্ষিতে দলটির মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙা গতকাল বিকালে জানান মঙ্গলবার দাফনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। বুধবার বাদ আছর গুলশানের আজাদ মসজিদে এরশাদের কুলখানি হবে বলে পার্টির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

সর্বশেষ গত ২৬শে জুন অসুস্থতা নিয়ে সিএমএইচ-এ ভর্তি হন এরশাদ। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে প্রথমে আইসিইউতে পরে লাইফ সাপোর্টে নেয়া হয়। এরপর দলের পক্ষ থেকে প্রতিদিন সংবাদ সম্মেলন করে এরশাদের অবস্থা জানানো হয়।

গুরুতর অসুস্থ হওয়ার কিছু দিন আগে এরশাদ নিজের সব সম্পত্তি একটি ট্রাস্টের অধীন দিয়ে যান। একই সঙ্গে ভাই জিএম কাদেরকে পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নিয়োগ দেন। এরশাদ স্ত্রী, দুই পুত্র ও দুইজন পোষ্য সন্তান রেখে গেছেন। তাদের প্রত্যেকের জন্য আলাদা সম্পত্তি রেখে গেছেন তিনি।

হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ১৯৩০ সালের ১লা ফেব্রুয়ারি কুড়িগ্রামে নানা বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তার পৈত্রিক নিবাস পশ্চিমবঙ্গের কুচবিহার জেলার দিনহাটা গ্রামে। তার পিতা মকবুল হোসেন ও মাতা মজিদা খাতুন। পিতা ছিলেন আইনজীবী। এরশাদ প্রথমে কুচবিহার ও পরে নিজ শহর রংপুরে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা শেষ করেন। ১৯৫০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৫২ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে অফিসার পদে যোগ দেন। ১৯৬০ থেকে ৬২ সালে তিনি চট্টগ্রামে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টাল সেন্টারে অ্যাডজুট্যান্ট ছিলেন। এরশাদ ১৯৬৬ সালে পশ্চিম পাকিস্তানের কোয়েটায় অবস্থিত স্টাফ কলেজে স্টাফ কোর্স সম্পন্ন করেন। ১৯৬৮ সালে শিয়ালকোটে ৫৪তম ব্রিগেডের ব্রিগেড মেজর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এরশাদ। ১৯৬৯ সালে লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদে পদোন্নতি লাভের পর ১৯৬৯ থেকে ৭০ সালে তৃতীয় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে এবং ১৯৭১ থেকে ৭২ সালে সপ্তম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাচালে এরশাদ পাকিস্তান সেনাবাহিনীর অধীনে চাকরি করেন। প্রথমে তিনি ঢাকায় অবস্থান করলেও পরে পাকিস্তান চলে যান। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি দেশে ফিরেন। এর এরশাদ দেশে ফিরে তার এক চাচার মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কাছে এসে চাকরিতে যোগ দেয়ার আর্জি জানান। এরপরই সেনাবাহিনীর চাকরিতে যোগ দেন এরশাদ। ১৯৭৩ সালে এরশাদকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেল হিসেবে নিয়োগ করা হয়। ১৯৭৩ সালের ১২ই ডিসেম্বর কর্নেল পদে এবং ১৯৭৫ সালের জুন মাসে ব্রিগেডিয়ার পদে পদোন্নতি লাভ করেন এরশাদ। একই বছর তিনি ভারতের ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজে প্রতিরক্ষা কোর্সে অংশগ্রহণ করেন। ওই বছরই আগস্ট মাসে মেজর জেনারেল পদে পদোন্নতি দিয়ে তাকে সেনাবাহিনীর উপপ্রধান নিয়োগ করা হয়। ১৯৭৮ সালের ডিসেম্বর মাসে এরশাদকে সেনাবাহিনী প্রধান পদে নিয়োগ দেয়া হয় এবং ১৯৭৯ সালে তিনি লেফটেন্যান্ট জেনারেল পদে পদোন্নতি লাভ করেন।

১৯৮১ সালের ৩০শে মে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ডের অব্যবহিত পর থেকেই প্রচারের আলোয় আসতে থাকেন এরশাদ। ১৯৮২ সালের ২৪শে মার্চ প্রেসিডেন্ট আবদুস সাত্তারের নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে জেনারেল এরশাদ রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করেন। তিনি দেশের সংবিধানকে রহিত করেন। এছাড়া জাতীয় সংসদ বাতিল ও সাত্তারের মন্ত্রিসভাকে বরখাস্ত করেন। এরশাদ নিজেকে দেশের সশস্ত্রবাহিনীর সর্বাধিনায়ক ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে দেশে সামরিক আইন জারি করে। ১৯৮৪ সালে ১৮ দফা ঘোষণা করে বাস্তবায়ন পরিষদ তৈরি করেন তিনি? সেবছরই সিনিয়র রাজনীতিকদের নিয়ে গঠন করেন ‘জনদল’? কিছুদিন পর ‘জনদল’ পরিবর্তন করে তৈরি করেন বর্তমানের জাতীয় পার্টি? ১৯৮৬ সালের পাতানো নির্বাচনে জাতীয় পার্টি সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পায়? বিরোধী দল হয় আওয়ামী লীগ? ১৯৮৮ সালে ওই সংসদ ভেঙে দিয়ে আবারও নির্বাচন দেন এরশাদ? কোনো দল ওই নির্বাচনে অংশ নেয়নি। এক পর্যায়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন শুরু করে এরশাদের বিরুদ্ধে? নয় বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়ে ১৯৯০ সালের ৬ই ডিসেম্বর ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন এরশাদ? তারপরে তাকে  গ্রেপ্তার করা হয়। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে জেল থেকে অংশ নিয়ে পাঁচটি আসনে জয়লাভ করেন সাবেক সামরিক শাসক এরশাদ। ১৯৯৬ সালে জাতীয় পার্টির সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ? ২০০১ সালে জাপা একাই নির্বাচন করলেও ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের সঙ্গে নির্বাচন করে। ২০১৪ সালের নির্বাচন বিএনপিসহ অন্যান্য অনেক দল বয়কট করলে এরশাদের জাতীয় পার্টি নানা নাটকীয়তার মধ্যে নির্বাচনে অংশ নেয়। পরবর্তীতে জাপা হয় সংসদের প্রধান বিরোধী দল। এরশাদকে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত করা হয়। ২০১৮ এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আসন ভাগাভাগি করে নির্বাচন করে জাতীয় পার্টি। নির্বাচনে বিরোধী জোট আসন কম পাওয়ায় জাতীয় পার্টিকেই বিরোধী দলের আসনে বসায় আওয়ামী লীগ।

জাতীয় পার্টি ২০০০ সালে তিনভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। যার মধ্যে জাতীয় পার্টির (জাপা) মূল ধারাটির নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন এরশাদ।

নির্বাচিত সরকারকে হটিয়ে ক্ষমতায় আসা এরশাদ স্বৈর শাসকের তকমা পেয়েছিলেন। নানা কারণে তিনি ছিলেন আলোচিত সমালোচিত। কিন্তু গ্রাম উন্নয়নের পরিকল্পনা ও ‘৬৮ হাজার গ্রাম বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে’ এই স্লোগান দিয়ে গ্রাম-বাংলায় তিনি ছিলেন ব্যাপক জনপ্রিয়। এজন্য পার্টির পক্ষ থেকে তাকে পল্লীবন্ধু উপাধি দেয়া হয়। দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগীতা সংস্থা (সার্ক) গঠনে প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের উদ্যোগকে সামনে এগিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে এরশাদ ভুমিকা রাখেন। এছাড়া উপজেলা পরিষদ ব্যবস্থা কার্যকর করা, শিল্প, ভূমি সংস্কার, গ্রাম সরকার প্রতিষ্ঠা করার মাধ্যমে তিনি গ্রামীণ উন্নয়নের পরিকল্পনা করেছিলেন। এছাড়া প্রেসিডেন্ট এরশাদ রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন শিল্পের বিরাষ্ট্রীয়করণ এবং দেশে ব্যক্তিখাতের বিকাশে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেন। এর অন্তর্ভুক্ত ছিল সরকারি মালিকানাধীন উত্তরা, পুবালী ও রূপালী ব্যাংকের বিরাষ্ট্রীকরণ। এসময়ে দেশে প্রথমবারের মত কয়েকটি বেসরকারি বাণ্যিজ্যিক ব্যাংক ও বীমা কোম্পানিকে কার্যক্রম শুরুর অনুমতি প্রদান করেন। দেশের প্রশাসনিক ব্যবস্থা পুনর্গঠন ও সংস্কারেও এরশাদ সরকার বেশ কিছু উদ্যোগ নেন। দেশের মহকুমাগুলোকে জেলায় উন্নীত করার মাধ্যমে জেলার সংখ্যা ৬৪টি করা হয় এরশাদ সরকারের আমলে। আর এগুলোর অধীনে ৪৬০টি উপজেলা বিন্যস্ত করা হয়। কেন্দ্রীয় ক্ষমতা বিকেন্দ্রিকরণের উদ্দেশ্যে এরশাদ ১৯৮২ সালের ২৮শে এপ্রিল একটি প্রশাসনিক পুনর্গঠন ও সংস্কার কমিশন গঠন করেন, যার সুপারিশ অনুযায়ী জনপ্রশাসনকে নতুন করে সাজানো হয়। এরশাদ সংবিধানের অষ্টম সংশোধনী এনে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম যুক্ত করেন, যা বাংলাদেশের অসামপ্রদায়িক চরিত্র বদলে দেয় বলে সমালোচনা করলেও পরবর্তীতে তা আর কোন সরকারই সংশোধণ করার উদ্যোগ নেয়নি। এছাড়া তিনি শুক্রবারকে সাপ্তাহিক ছুটি ঘোষণা করেছিলেন। ক্ষমতায় থাকার সময় সেচ্ছাচারিতা, দুর্নীতি, দমনপীড়ন ও অনৈতিক সুবিধা নেয়ার অভিযোগ ছিল এরশাদের বিরুদ্ধে। ক্ষমতায় থাকার সময় পাওয়া উপহার রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা না দিয়ে আর্থিক অনিয়মের মামলায় ঢাকার বিশেষ জজ আদালত এরশাদকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেয়। দুই যুগ পর হাইকোর্ট সেই সাজা বাতিল করে এরশাদকে খালাস দেন। জাপানি নৌযান কেনায় অনিয়মের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় এরশাদের প্রথমে তিন বছর এবং পরে হাইকোর্টে আপিলে সাজা কমে দুই বছরের কারাদণ্ড হয়। গ্রেপ্তার হওয়ার পর দুই বছর কারাগারে কাটানোয় এরশাদকে নতুন করে আর ওই মামলায় দণ্ড ভোগ করতে হয়নি। জনতা টাওয়ার দুর্নীতি মামলায় নিম্ন আদালত এরশাদকে ৭ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিলো। প্রায় ১৭ বছর পর হাইকোর্ট সাজা কমিয়ে এরশাদকে ৫ বছরের কারাদণ্ড এবং ৫ কোটি ৪৮ লাখ ৭০ হাজার ৮০০ টাকা জরিমানা করে। হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল চলাকালে এরশাদের সাড়ে ৩ বছর কারাভোগ শেষ হওয়ায় আপিল বিভাগ পরে জরিমানার দণ্ড বহাল রেখে এরশাদকে অবশিষ্ট দেড় বছর সাজাভোগ থেকে অব্যাহতি দেয়। এছাড়া স্বর্ণ চোরাচালান, টেলিকম দুর্নীতি, পোল্ট্রি ফার্ম দুর্নীতি মামলা, আয়কর ফাঁকি, জাহাজ কেনায় দুর্নীতি, রাজউকের প্লট বরাদ্দে অনিয়ম, হরিপুরে তেল অনুসন্ধানে দুর্নীতি এবং রাডার কেনায় দুর্নীতিসহ বিভিন্ন অভিযোগে আরও ১৯টি মামলা ছিলো এরশাদের বিরুদ্ধে। এর মধ্যে কয়েকটিতে তিনি নিম্ন আদালত থেকে বেকসুর খালাস পান। কয়েকটি মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়া হয়। তকে সেনা কর্মকর্তা মঞ্জুর হত্যা মামলাটি এখনও চলমান রয়েছে। এ মামলাটি এরশাদের সামনে তুরুপের তাস হিসেবে ছিল বলে অনেকে মনে করতেন।

সেনা কেন্দ্রীয় মসজিদে জানাজা: হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের প্রথম জানাজা বাদ যোহর ঢাকা সেনানীবাসের সেনা কেন্দ্রীয় মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়। নামাজে ইমামতি করেন ওই মসজিদের পেশ ইমাম ও ধর্মীয় শিক্ষক আহসান হাবীব। জানাজার পূর্বে এরশাদের ছোট ভাই ও জাপার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জিএম কাদের পরিবারের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন। তিনি এরশাদের বর্ণাঢ্য জীবন তুলে ধরে বলেন, রোববার সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটে সিএমএইচে আমার বড় ভাই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি ১৯৯১ সালের পর থেকে একটি সংসদ নির্বাচন ছাড়া প্রতিটি সংসদেই বিজয়ী হয়েছেন। তার পূর্বে ৯ বছর দেশের শাসনভার পরিচালনা করছেন। তিনি দেশ ও মানুষের স্বার্থে অনেক ভাল কাজ করে গেছেন। তিনি তিনবার কাবা ঘরের মধ্যে নামায পড়ার সৌভাগ্য লাভ করেছেন। মানুষ মাত্রই ভুল হয়ে থাকে। তাই আমার ভাইও ভুলের ঊর্ধ্বে নয়। তিনি কোনো ভুল ত্রুটি করে থাকলে সকলে ভাইকে ক্ষমা করে দেবেন। জানাজার পূর্বে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এরশাদের পেশা জীবন তুলে ধরা হয়। এসময় জানানো হয়, এরশাদের দাফন সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সেনাবাহিনীর সার্বিক তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হবে।

জানাজায় সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাত, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল আওরঙ্গজেব চৌধুরী ও সাবেক সেনা প্রধান আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হকসহ তিন বাহিনীর সাবেক ও বর্তমান ঊর্ধ্বতন কর্মকতারা অংশ নেন। এছাড়া এরশাদের ছোট ভাই জিএম কাদের, বড় ছেলে শাদ এরশাদ, জাপা মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, জাপা প্রেসিডিয়াম সদস্য এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার, ব্যরিষ্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, কাজী ফিরোজ রশীদ, জিয়া উদ্দিন আহমেদ বাবলু, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, সাহিদুর রহমান টেপা, হাবিবুর রহমানসহ পার্টির নেতাকর্মীরা জানাজায় অংশ নেন।

জাপার তিন দিনের শোক: জাতীয় পার্টি (জাপা) চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রেসিডেন্ট হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুতে পার্টির পক্ষ থেকে তিনদিনের শোক ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল বিকালে জাপা চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ের সামনে দলের মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। তিনি জানান, সারাদেশে জাপার নেতাকর্মীরা তিনদিন শোক পালন করবে। এসময় নেতাকর্মীরা কালোব্যাচ ধারণ করবেন। জাপা কার্যালয়ে দলীয় পতাকার সঙ্গে কালো পতাকা টাঙানো থাকবে। এছাড়া ১৫ থেকে ১৮ই জুলাই পর্যন্ত শোকবই খোলা থাকবে। কূটনীতিকসহ সর্বসাধারণের জন্য তা উন্মুক্ত থাকবে।

প্রেসিডেন্ট পার্কে শোকাতুর এরিক: বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কের ছয় তলায় ৭ হাজার ৪’শ স্কয়ার ফিটের ফ্ল্যাটটিতে থাকতেন সাবেক প্রেসিডেন্ট এরশাদ। তার সঙ্গে থাকতো ছেলে এরিক এরশাদ। এরশাদ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে যাওয়ার পর থেকে সে অনেকটা একা। বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন এরিক সকালে স্কুলে ছিল। এরশাদের মৃত্যুর পর সেখান থেকেই তাকে সিএমএইচে আনা হয়। এরশাদের ব্যক্তিগত গাড়ি চালক আব্দুল মান্নান জানান, সকালে এরিক’কে নিয়ে স্কুলে যান তিনি। সাড়ে আট’টার দিকে এরশাদের আরেক ব্যক্তিগত গাড়ির চালক আব্দুল আউয়াল তাকে ফোন করে বলেন এরিক’কে স্কুল থেকে নিয়ে আসার জন্য, এরশাদের অবস্থা তেমন একটা ভালো না। এরিক’কে নিয়ে গাড়ি করে আব্দুল মান্নান সোজা চলে যান সিএমএইচ-এ। সেখানে বাবা’কে দেখে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে এরিক। চাচা জিএম কাদের, জাতীয় পার্টির মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙাসহ পরিচিতজনকে দেখলেই জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়ে এরিক। সেনানীবাসের জানাজার পর এরিককে প্রেসিডেন্ট পার্কে নেয়া হয়। সেখানকার কর্মচারিরা জানিয়েছেন, বাবার মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছে এরিক। সে এক কক্ষ থেকে অন্য কক্ষে পায়চারি করেছে আর কান্না করেছে।

যে প্রতিক্রিয়া দিলেন বিদিশা: হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুর পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়েছেন তার সাবেক স্ত্রী বিদিশা এরশাদ। এরশাদের সঙ্গে দেখা না হওয়ায় আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন তিনি। তিনি ভারতের আজমির শরীফে রয়েছেন। বিদিশা তার ফেসবুকে লেখেন, এ জন্মে আর দেখা হল না। আমিও আজমীর শরীফ আসলাম আর তুমিও চলে গেলে। এতো কষ্ট পাওয়ার  থেকে মনে হয় এই ভালো ছিল। আবার দেখা হবে হয়তো অন্য এক দুনিয়াতে যেখানে থাকবে না কোনো রাজনীতি।

এ যেন রূপকথা, অভিনন্দন ইংল্যান্ড

কার হাতে উঠছে প্রথম শিরোপা? স্বপ্নের ফাইনালে মুখোমুখি ইংল্যান্ড - নিউজিল্যান্ড। এই সমীকরণের ম্যাচে রূপকথার গল্পকে হার মানানো ম্যাচে জয় ছিনিয়ে নেয় ইংল্যান্ড। খেলায় টাই। আবার সুপার ওভারেও টাই। শেষ পর্যন্ত বিশ্বসেরা নির্ধারণ হয় বাউন্ডারির হিসেবে। আর নতুন এক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন পেলো ক্রিকেট বিশ্ব। অভিনন্দন ইংল্যান্ড।
প্রথমে ব্যাট করে ২৪১ রান করে নিউজিল্যান্ড।
জবাবে কিউই পেসে শুরুতে বেশ নাকাল হয় ইংলিশরা। তবে ৮৬ রানে ৪ উইকেট হারানোর ধাক্কা কাটিয়ে সমালে উঠেছে স্বাগতিক ইংল্যান্ড। ইংলিশ শিবিরে স্বস্তি এনেছেন বেন স্টোকস ও জস বাটলারের জুটি। তবে এরপর ফের বিপাকে পড়ে স্বাগতিকরা। হারিয়ে ফেলেন দ্রুত ২ উইকেট। ম্যাচের শেষ মুহুর্তে এসে ইংল্যান্ড সব উইকেট হারিয়ে ম্যাচ টাই করে। এ মুহূর্তে চলছে সুপার ওভার। সুপার ওভারে আসে ১৫ রান। আর জাবাবে ফের ঐ ১৫ রানই আসে নিউজিল্যান্ডের ব্যাটসম্যানদের ব্যাট থেকে। তবে বাউন্ডারিতে এগিয়ে তাকার কারণে চ্যাম্পিয়ন হয় স্বাগতিক ইংল্যান্ড।
পাওয়ার প্লের প্রথম ১০ ওভারে আসে ৩৯ রান। দুর্দান্ত ফর্মে থাকা ইংলিশ ওপেনার জেসন রয় ফেরেন ১৭ রান করে। তাকে সাজঘরের পথ দেখান ম্যাট হেনরি। রয়ের বিদায়ের পর চাপ আরো বেড়েই যায় ইংল্যান্ডের। দীর্ঘক্ষণ উইকেটে টিকে থাকার পর রুট ও বেয়ারস্টোও পথ ধরেন সাজঘরের দিকে। রুটকে (৭) গ্র্যান্ডহোম ও বেয়ারস্টোকে (৩৬) ফেরান ফার্গুসন। দলীয় অধিনায়ক এউইন মরগানও ফেরেন বড় স্কোর না করে। ব্যক্তিগত ৯ রানে দৃর্দান্ত এক ক্যাচ লুফে নেন লোকি ফার্গুসন। উইকেটটি পান জিমি নিশাম। বাটলার ফেরেন ৫৯ রানে। আর ক্রিস ওকস ফেরেন ২ রানে। লোকি ফার্গুসন ২ উইকেট নিয়ে খেলা জমিয়ে তোলেন। শেষ পর্যন্ত টাই হয় ম্যাচ।
এরআগে, প্রথম ইনিংসে ব্ল্যাক ক্যাপসদের কেউই প্রতিক্ষীত ফাইনালে বড় কোনো জুটি গড়তে সক্ষম হননি। পুরো বিশ্বকাপে দাপিয়ে বেড়ানো অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসও আজ জ্বলে উড়তে পারেননি।
বিশ্বকাপের চূড়ান্ত লড়াইয়ে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বেশ চাপে পড়ে নিউজিল্যান্ড। ইংলিশ বোলার আর্চার-ওকসদের পেস অ্যাটাকের মুখে মোটেও সুবিধা করতে পারেনি কেন উইলিয়ামসের দল। শুরুতেই দলের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান গাপটিলের উইকেটটি খোয়ান তারা। কিউই অধিনায়ক উইলিয়ামসন (৩০) ও নিকোলসের (৫৫) দায়িত্বশীল ব্যাটিং গাপটিলের বিদায়ে সৃষ্ট চাপ থেকে বের করে আনে নিউজিল্যান্ডকে। তবে ইংলিশ বোলার প্লাঙ্কেটের দুর্দান্ত বোলিং তোপে দুজনই দ্রুত সাজঘরে ফেরেন। পরপর দুই উইকেট তুলে নিয়ে ইংলিশরা কিউইদের বেশ চেপে ধরেন। তবে রস টেলর প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও আম্পায়ারের ভুল সিদ্ধান্তের শিকার হয়ে সাজঘরে ফিরে যান। এরপর ১৯ রান করা লিয়াম প্লাঙ্কেটের শিকার হন জিমি নিশাম। ফাইনালে কিউইদের আরেক সান্ত¦না লাথাম। তার সংগ্রহ ৪৭ রান। এছাড়া দলের জন্য অবদান রাখার মতো কোনো ব্যাটসম্যান উইকেটে টিকে থাকতে পারেননি।
শেষ তিন ম্যাচের মতো আজও ইংলিশ বোলাররা ছিলেন দারুণ উজ্জ্বীবিত। ব্ল্যাকক্যাপসদের আটটি উইকেটের পতন করেন তারা। তাছাড়া বড় স্কোর গড়তে বাঁধা হয়ে দাঁড়ান ক্রিস ওকস-প্লাঙ্কেটরা। ইনিংসে নিউজিল্যান্ডের তিনজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটসম্যানকে সাজঘরে পাঠান প্লাঙ্কেট। ক্রিস ওকসও সমান উইকেট নিয়ে স্বল্প রানের মধ্যে কিউইদের বেঁধে রাখেন। এছাড়া ইংলিশ বোলারদের মধ্যে আর্চার ও মার্ক উড ১টি করে উইকেট শিকার করেন।
২৭ বছর পর বিশ্বকাপের ফাইনালে ক্রিকেটের জনক ইংলিশরা। আর টানা দ্বিতীয়বার ফাইনালে কিউইরা।
এর আগে ভারতকে সেমি ফাইনালের রিজার্ভ-ডে’তে ১৮ রানের ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করে নিউজিল্যান্ড আর বর্তমান চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়াকে ৮ উইকেটের ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনালে উঠে আসে ইংলিশরা।
বিশ্বকাপের মঞ্চে ইংলিশদের বিপক্ষের লড়াইয়ে কিছুটা এগিয়ে কিউইরা। বিশ্বকাপে দুই দলের ৯ দেখায় ব্ল্যাক ক্যাপসরা জিতেছে পাঁচ ম্যাচ অন্যদিকে ইংল্যান্ডের জয় চারটিতে। আর এবারের বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে দু’দলের ম্যাচে কিউইদের ১১৯ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়েছিল ইংলিশরা।
আর মোট ৮৪ বারের দেখায় নিউজিল্যান্ড জয় পায় ৪১ ম্যাচে ও ইংল্যান্ড ৩৭ ম্যাচে।

ইংল্যান্ড একাদশ
জেসন রয়, জনি বেয়ারেস্ট, জো রুট, এইউন মরগ্যান (অধিনায়ক), বেন স্টোকস, জস বাটলার (উইকেটরক্ষক), ক্রিস ওকস, লিয়াম প্লাঙ্কেট, আদিল রশিদ, জোফরা আর্চার এবং মার্ক উড।

নিউজিল্যান্ড একাদশ
মার্টিন গাপটিল, হেনরি নিকোলস, কেন উইলিয়ামসন (অধিয়ানায়ক), রস টেলর, টম লাথাম (উইকেটরক্ষক), জিমি নিশাম, কলিন ডি গ্র্যান্ডহোম, মিচেল সান্তনার, ম্যাট হেনরি, ট্রেন্ট বোল্ট, লকি ফার্গুসন।

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে ইসরাইল নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে- হিজবুল্লাহ

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে ইসরাইল নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে লেবাননের শিয়াপন্থি সংগঠন হিজবুল্লাহ। ইরানসমর্থিত সংগঠনগুলোর মধ্যে সব থেকে বেশি শক্তিশালী হিসেবে পরিচিত হিজবুল্লাহর প্রধান হাসান নাসরাল্লাহ এ মন্তব্য করেছেন। গত শনিবার হিজবুল্লাহ পরিচালিত আল-মানার টেলিভিশন চ্যানেলকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধে ইসরাইল নিরপেক্ষ ভূমিকায় থাকবে না। আর এতেই নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে দেশটি। এ খবর দিয়েছে আরব নিউজ। নাসরাল্লাহ বলেন, ইরান যেকোনো সময় ইসরাইলের ওপর বোমা হামলা চালাতে সক্ষম। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধের দামামার মধ্যেই এ মন্তব্য করলেন তিনি। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র যখন বুঝতে পারবে এই যুদ্ধের ফলে ইসরাইলের নাম নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে তখন তারা আবারো পিছু হটবে।
তিনি বলেন, আমাদের সম্মিলিতভাবে এ অঞ্চলে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধ থেকে বিরত রাখতে হবে।
গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদ দেশটির প্রেসিডেন্ট ট্রামেপর ক্ষমতা খর্বের পক্ষে ভোট দিয়েছে। এর ফলে শুধু নিজের ইচ্ছায় তিনি ইরানে হামলা চালাতে পারবেন না। ইরানের বিরুদ্ধে ‘অপ্রয়োজনীয়’ যুদ্ধ আটকাতে তাই ট্রামেপর ক্ষমতা খর্ব করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্র এ বছর হিজবুল্লাহকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। ১৯৭৫ সাল থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত চলা গৃহযুদ্ধ শেষে সংগঠনটি অস্ত্র ফেরত দেয়নি। বর্তমানে লেবাননের অত্যন্ত শক্তিশালী রাজনৈতিক ক্ষমতাধর দল এটি। গত বছর দেশটির পার্লামেন্টে ১৩টি আসন পেয়েছে এবং বর্তমান মন্ত্রিপরিষদে রয়েছে হিজবুল্লাহর ১৩ সদস্য। শনিবারের সাক্ষাৎকারে নাসরাল্লাহ জানান, পার্শ্ববর্তী বন্ধু রাষ্ট্র সিরিয়ার সেনাবাহিনী থেকে তার হিজবুল্লাহ সদস্যদের ফিরিয়ে আনবেন তিনি। তিনি বলেন, সিরিয়ার সেনাবাহিনী ইতিমধ্যে সমগ্র দেশের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিয়েছে। তাই হিজবুল্লাহ সদস্যদের আর সমর্থনের প্রয়োজন নেই তাদের। আমরা তাদের পাশে সবসময়ই থাকবো। এখনো আমরা আছি কিন্তু আমার মনে হয় না এত বেশি হিজবুল্লাহ সদস্য সিরিয়ায় থাকার প্রয়োজন আছে।
২০১৩ সাল থেকে সিরিয়ায় যুদ্ধ করছে হিজবুল্লাহ। সিরিয়ায় আসাদ সরকারের সব থেকে দুঃসময়ে সংগঠনটির যোদ্ধারা পাশে দাঁড়ায়। ইরান, রাশিয়া ও হিজবুল্লাহ’র সহায়তায় আসাদ বাহিনী সিরিয়ার জিহাদি ও বিদ্রোহীদের প্রায় নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছে। তবে এখন ঠিক কী পরিমাণ যোদ্ধা ফিরিয়ে নেয়া হবে তা নিশ্চিত করেন নি নাসরাল্লাহ।

'জয় শ্রীরাম' না বলায় মাদ্রাসা ছাত্রদের মারধর, ভারতের উত্তর প্রদেশে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা

উন্নাওতে মুসলিমদের বিক্ষোভ সমাবেশ
ভারতের উত্তরপ্রদেশের উন্নাও জেলায় কয়েকজন মাদ্রাসা ছাত্র 'জয় শ্রীরাম' না বলতে চাওয়ায় তাদের মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠার পর শহরে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা তৈরী হয়েছে।
ভারতে বিভিন্ন স্থানে সম্প্রতি এরকম একাধিক ঘটনা ঘটেছে।
লক্ষ্ণৌ থেকে বিবিসির সমীরাত্মজ মিশ্র বলছেন, হিন্দু ও মুসলিমদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ প্রদর্শনের পরে উন্নাও শহরে ব্যাপক হারে পুলিশ আর বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
যে মাদ্রাসার ছাত্ররা মার খেয়েছে, সেখানকার কর্মকর্তারা অভিযোগ করছেন, ছাত্রদের দিয়ে জোর করে 'জয় শ্রীরাম' বলানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু ওই স্লোগান দিতে অস্বীকার করায় তাদের ব্যাপক মারধর করা হয়।
মাদ্রাসা দার-উল উলুমের পরিচালক মো. নঈম। জানান, কজন ছাত্র বৃহস্পতিবার দুপুরে স্থানীয় জি আই সি ময়দানে ক্রিকেট খেলতে গিয়েছিল।
"১২-১৪ বছরের কয়েকজন ছাত্র যখন ওই মাঠে খেলছিল, সেখানে কয়েকজন বয়সে বড় কিছু ছেলে হাজির হয়। তারা ব্যাট কেড়ে নিয়ে 'জয় শ্রীরাম' স্লোগান দেওয়ার জন্য জবরদস্তি করতে থাকে। আমাদের ছাত্ররা 'জয় শ্রীরাম' বলতে অস্বীকার করে। তখন ওই ক্রিকেট ব্যাট দিয়েই মারা হতে থাকে। কয়েকজন ছাত্রের মাথা ফেটে গেছে।"
তার অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছে। দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ বলছে, জবরদস্তি 'জয় শ্রীরাম' বলানো হয়েছে বলে যে অভিযোগ করা হচ্ছে, ঘটনা তা নয়। কেন মাদ্রাসা ছাত্রদের মারধর করা হয়েছে, তা তদন্ত করা হচ্ছে।
কিন্তু হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো বলছে, পুলিশ একতরফাভাবে তাদের সদস্য সমর্থকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছে। মারধর বা জয় শ্রীরাম বলানোর জন্য জবরদস্তি - এসব কিছুই হয় নি।
হিন্দু যুবা বাহিনীর এক কর্মকর্তা রঘুবংশ বলছিলেন, "একটা সামান্য মারামারির ঘটনাতে ধর্মীয় রঙ লাগানো হচ্ছে। ইচ্ছে করেই করা হচ্ছে এটা। যে ভিডিওটা প্রকাশ্যে এসেছে, সেখানে (মাদ্রাসা) ছাত্ররা জয় শ্রীরাম বলানোর কথা যখন বলছে, সেটা যে কেউ ওদের বলতে শিখিয়ে দিচ্ছে, এটা তো স্পষ্ট।"
তিনি বলেন, "ওই ভিডিওটা পরীক্ষা করে দেখা হোক। হিন্দু যুবকদের বিরুদ্ধে পুলিশ যেসব অভিযোগ এনেছে, সেগুলো দ্রুত প্রত্যাহার করতে হবে।"
দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে উত্তেজনার পরিস্থিতির কারণে গোটা শহর জুড়ে প্রচুর পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। স্থানীয় পুলিশ ছাড়াও রাজ্য সশস্ত্র পুলিশ, যাকে উত্তরপ্রদেশে প্রভিন্সিয়াল আর্মড কনস্ট্যাবুলারি বা পিএসি বলা হয়, সেই বাহিনীও নিয়ে আসা হয়েছে।
এখনও উত্তেজনা থাকলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে স্থানীয় সংবাদদাতারা জানিয়েছেন।
মাদ্রাসা ছাত্রদের মারধরের পর উত্তর প্রদেশের উন্নাওতে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা

ভারতীয় ভূখণ্ডে ঢুকে দালাইলামার জন্মদিনের উৎসব বানচাল করে দিলো চীনা সৈন্যরা

সম্প্রতি ভারতীয় রাজ্য জম্মু ও কাশ্মিরের লাদাখ অঞ্চলের একটি গ্রামে তিব্বতি আধ্যাত্মিক নেতা দালাই লামার জন্ম দিনের বার্ষিক উৎসবে বাধা সৃষ্টি করেছে চীনা সৈন্যরা। ৬ জুলাই এই ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, তিব্বতি পতাকা উড়তে দেখে চীনা সৈন্যরা উত্তেজিত হয়ে তাতে আপত্তি জানাতে আসে। পরে তারা ইস্টার্ন লাদখের ডেমচকের কাছে কয়ুল গ্রাম ত্যাগ করার আগে তারা তাদের চীনা পতাকা উড়িয়ে দেয়।

ভারতীয় সরকারি সূত্র জানায়, দুটি গাড়িতে করে ১১ জন চীনা সৈন্য নিয়ন্ত্রণ রেখার কাছে ভারতীয় এলাকায় প্রবেশ করে। তারা প্রায় ৪০ মিনিট অবস্থান করে।

ভারতীয় কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠকের সময় চীনা সামরিক বাহিনী এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করেনি বলে সূত্র জানায়। দোকলাম সঙ্ঘাতের দুই বছর পর এ ঘটনা ঘটল।

ঘটনা সম্পর্কে অবগত সরকারি সূত্র জানায়, চীনা সৈন্যরা গাড়িতে করে সাদা পোশাকে আসে। ৬ জুলাই সেখানে গিয়ে তারা তিব্বতিদের দালাই লামার জন্মদিন উৎযাপনের প্রতিবাদ জানায়। তারা গ্রামবাসীদের প্রতি ‘তিব্বতকে বিভক্তকারী সব কার্যক্রম বন্ধ করো’ লেখা ব্যানার প্রদর্শন করে।

কয়ুল গ্রামের প্রধান (তিনি ভারতীয় ক্ষমতাসীন বিজেপির সদস্য) উরগাইউন চোডন বলেন, চীনা সৈন্যরা ভারতীয় সীমান্তের কয়েক কিলোমিটার ভেতরে প্রবেশ করেছিল। তারা তখন দালাই লামার জন্ম দিন উদযাপন করছিলেন।

তিনি বলেন, এ ধরনের উৎসব কয়েক বছর ধরে পালিত হচ্ছে। আমরা এসময় জাতীয় পতাকা, বৌদ্ধ পতাকা ও তিব্বতি পতাকা উড়াই। এবার চীনারা আমাদের ভূখণ্ডের কয়েক কিলোমিটার ভেতরে প্রবেশ করে বলছে যে আমরা তাদের উস্কানি দিচ্ছি। তারা আমাদেরকে পতাকা উড়াতে নিষেধ করে।

তিনি বলেন, তিনি ওই ঘটনা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংকে জানিয়েছেন।

লাদাখ অটোনোমাস হিল ডেভেলপমেন্ট কাউন্সিলের প্রধান নির্বাহী কাউন্সিলর রিগজিন স্প্যালবার স্পুটনিককে বলেন, সরকারের উচিত চীনা অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা। এটি একটি গুরুতর ব্যাপার। এবার তারা কাবজুঙ উপত্যকা নামে পরিচিত নতুন ভূখণ্ডে প্রবেশ করেছে।

তিনি বলেন, চীনাদের বিরুদ্ধে কথা না বলায়, সত্য গোপন করায় তারা আসলে সাহসী হয়ে ওঠছে।

স্থানীয় ভারতীয় নেতারা ভারতীয় সৈন্যদের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে জানতে চান, তাদের কাছে টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও তারা কেন এসেছিল। তাদের উচিত ছিল আমাদের বাহিনীকে অবগত করা।

গ্রামপ্রধান বলেন, তারা আমাদের শীতকালীন তৃণভূমি দখল করার গোপন উদ্দেশ্যে এসেছিল।

চলতি বছরের প্রথম দিকে স্থানীয় অধিবাসীরা দাবি করেন, চীনা সৈন্যরা নিয়ন্ত্রণ রেখার কাছে একটি রাস্তা নির্মাণ করেছে।

তারা অত্যন্ত গুরুতর জাতীয় নিরাপত্তামূলক এই ঘটনাটি বিবেচনা করার জন্য জাতীয় ও আঞ্চলিক নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান।

২০১৭ সালে ৭৩ দিনের দোকলাম সঙ্কটের পর এই প্রথম চীনাদের পক্ষ থেকে অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটল।

ওই ঘটনার জের ধরে দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছিল। তবে ওহান অনানুষ্ঠানিক সম্মেলনের মাধ্যমে তা প্রশমন করা হয়।

দোকলাম এলাকায় অতীতের অচলাবস্থার কারণে ডেমচুক এলাকায় ভারতীয় সেনাবাহিনী শতাধিক ট্যাঙ্ক মোতায়েন করেছে।

বাংলাদেশে দুধে চার ধরণের ক্ষতিকর মাত্রার অ্যান্টিবায়োটিক পাওয়ার দাবি by রাকিব হাসনাত

দুধের মান পরীক্ষায় গবেষক। (ফাইল ফটো)
বাংলাদেশের বাজারে থাকা বিভিন্ন ব্র্যান্ডের প্যাকেট-জাত দুধে অ্যান্টিবায়োটিকের উপস্থিতি নিয়ে ব্যাপক বিতর্কের মধ্যেই দ্বিতীয় দফায় গবেষণা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঔষধ প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক আ.ব.ম. ফারুক।

তিনি বলছেন, বিশ্বমানের ল্যাবে পরীক্ষা করে দশটি স্যাম্পলের সবগুলোতেই অ্যান্টিবায়োটিক পেয়েছে তার গবেষক দল।

বিবিসি বাংলাকে অধ্যাপক ফারুক বলেন, গত সপ্তাহে তারা আবার নমুনা পরীক্ষা করেছেন। আগের পাঁচটি কোম্পানির সাতটি পাস্তুরিত প্যাকেট-জাত দুধের একই জায়গা থেকে সংগৃহীত নমুনা এবং একই জায়গা থেকে খোলা দুধের সংগৃহীত তিনটি নমুনা অর্থাৎ মোট দশটি নমুনা উন্নত ল্যাবে পরীক্ষা করা হয়েছে।

"এবারের সবগুলো নমুনাতেই অ্যান্টিবায়োটিক সনাক্ত হয়েছে"। তিনি বলেন, উঁচু মাত্রার এই অ্যান্টিবায়োটিক মানুষের দেহের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

অধ্যাপক ফারুক বলেন, আগের গবেষণায় তিনটি অ্যান্টিবায়োটিক পাওয়া গেলেও এবার তারা চারটির সন্ধান পেয়েছেন। এর মধ্যে আগের বার পাওয়া যায়নি এমন নতুন দুটি অ্যান্টিবায়োটিক পেয়েছেন।

এর আগে গত ২৫শে জুন ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক ফারুক প্রথম যখন দুধে শক্তিশালী অ্যান্টিবায়োটিকের উপস্থিতির কথা প্রকাশ করেছিলেন তখন তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা হচ্ছিলো। কারণ এতে বলা হয়েছিলো যে বাজারে থাকা প্রথম সারির প্রায় সব দুধেই ক্ষতিকর ডিটারজেন্ট ও অ্যান্টিবায়োটিক পাওয়া গেছে।

এরপরই তার গবেষণা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলো সরকারি কয়েকটি সংস্থা ও দুধ ব্যবসায়ীরা। এ কারণেই মি ফারুককে জিজ্ঞেস করেছিলাম যে তাদের পরীক্ষা নিরীক্ষার ফল আসলে কতটা গ্রহণযোগ্য?

জবাবে তিনি বলেন, মানসম্পন্ন উন্নত ল্যাবে পরীক্ষা হয়েছে এবং এ পরীক্ষাগার নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোনো সুযোগ নেই বলে মনে করেন তিনি।

আগের দফায় গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশের পর সরকারের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ঐ গবেষণা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এটি প্রমাণে ব্যর্থ হলে অধ্যাপক ফারুকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেছিলেন।

এমনকি একজন মন্ত্রী সংসদে তার গবেষণাকে অসত্য বলে দাবি করে বলেছিলেন সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইন্সটিটিউশন (বিএসটিআই)র পরীক্ষায় বাজারের দুধ নিরাপদ পাওয়া গেছে।

কিন্তু আজ (শনিবার) বিএসটিআইয়ের পরিচালক এসএম ইসহাক আলী বিবিসিকে বলেন, যেসব মানদণ্ড ধরে তারা খাদ্য পরীক্ষা করেন তাতে অ্যান্টিবায়োটিকের বিষয়টিই নেই। অর্থাৎ দুধ বা অন্য খাদ্যে অ্যান্টিবায়োটিক আছে কিনা তা আসলে কখনো পরীক্ষাই হয়নি, যা বিএসটিআই আদালতকেও জানিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা কারখানায় তৈরি পশু খাদ্যের মাধ্যমে অ্যান্টিবায়োটিক গরুর দুধে ঢুকছে
"১৮১ টি পণ্য আমাদের জন্য বাধ্যতামূলক করা হয়েছে মনিটরিংয়ের জন্য। লোকবল কম হলেও সেটি আমরা করছি। আমরা আদালতে ৩০৫ রকমের দুধ ও দুগ্ধজাতীয় পণ্যের রিপোর্ট দিয়েছে। সেখানে আমরা বলেছি অ্যান্টিবায়োটিক টেস্টের ক্যাপাসিটি আমাদের নেই। সুতরাং সেটা আমরা টেস্ট করিনি"।

মি. আলী বলছেন, খাদ্যে পরীক্ষার জন্য যেসব মানদণ্ড নির্ধারণ করা আছে তাতে অ্যান্টিবায়োটিকের বিষয়টি নেই। ফলে অনেক খাদ্য তারা নিয়মিত পরীক্ষা করলেও এ বিষয়টি তাতে উঠে আসেনা।

অধ্যাপক ফারুক বলছেন, দুধের ক্ষেত্রে বিএসটিআই নয়টি মানদণ্ড বিবেচনায় নেয় যেখানে তারা উনিশটি মানদণ্ড বিবেচনায় নিয়ে পরীক্ষা করেছেন।

তবে দুধের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি খাদ্য নিয়ে এই বিতর্কের প্রতিক্রিয়া পড়ছে ভোক্তাদের মধ্যেই।

বেসরকারি চাকুরিজীবি মুশাররত রুবিনা মান্নান যেমন বলছেন, খাদ্যে সমস্যা থাকলে তা স্বীকার করে সমাধানের পথে গেলেই বরং তাদের আস্থা বাড়বে।

গ্রাহকদের আস্থার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে গবেষণার বিস্তারিত জানতে গবেষকদের চিঠি দেয়ার কথা জানিয়েছেন নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মাহফুজুল হক।

"এটা (অ্যান্টিবায়েটিক) যদি ক্ষতিকর মাত্রায় থাকে তাহলে সমস্যা। পরীক্ষার মেথডও গুরুত্বপূর্ণ। এসব নিয়ে আমরা নিজেরা কাজ করছি। দেখা যাক কি ফল আসে"।

মি. হক বলেন, খাদ্যের সঠিক পরীক্ষা নিরীক্ষা নিশ্চিত করতে রেফারেন্স ল্যাবরেটরি তৈরির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে এবং এখন যে গবেষণাগারগুলো আছে সেগুলোর মান উন্নত করারও পদক্ষেপ নিয়েছেন তারা।
দুধ নিয়ে সর্বশেষ গবেষণার ফলাফল

গাজায় আরেকটি যুদ্ধ আসন্ন: ইসরায়েলি সামরিক প্রতিবেদক

দখলকৃত গাজা উপত্যকার শাসক দল হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে আরেকটি যুদ্ধ খুব বেশি দূরে নয় বলে মন্তব্য করেছেন ইসরায়েলের এক সামরিক প্রতিবেদক। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম দ্য জেরুজালেম পোস্টের সামরিক প্রতিবেদক আনা আহরোনহেইম এই মন্তব্য করেছেন। এক বিশ্লেষণী প্রতিবেদনে তিনি বলেছেন, সেই যুদ্ধ হবে আগের যেকোনও যুদ্ধের চেয়ে সবচেয়ে বেশি প্রাণঘাতী ও ধ্বংসাত্মক।
২০০৮ সালে জাতিসংঘের অনুমোদিত এক নির্বাচনে হামাস জয়লাভের পর থেকেই গাজার ওপর অবরোধ আরোপ করে রেখেছে ইসরায়েল ও মিসর। এতে  চরম অর্থনৈতিক দুর্দশার মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছে সেখানকার প্রায় ২০ লাখ মানুষ। ২০১৪ সালে হামাস ও ইসরায়েলের যুদ্ধে প্রায় আড়াই হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়। মারা যায় ৬৮ জন ইসরায়েলি সেনা ও ছয় নাগরিক। আর গত মে মাসে দুই পক্ষের সর্বশেষ যুদ্ধে পাঁচ ইসরায়েলি নাগরিক ও ২০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়।
গত শুক্রবার জেরুজালেম পোস্টের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি কর্মকর্তারা বারবার বলেছেন, ভবিষ্যতে হামাসের সঙ্গে যে কোনও যুদ্ধে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী সর্বাত্মক জয় পাবে যাতে অন্য পক্ষ ভবিষ্যতে আবারও যুদ্ধে জড়ানোর আগে দ্বিতীয়বার ভাবে।
জেরুজালেম পোস্টের খবরে বলা হয়েছে, সেনাবাহিনী প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল আবিব কোচাভি এরইমধ্যে যুদ্ধকালীন অভিযান পরিকল্পনা অনুমোদন করেছেন। এছাড়া পরবর্তী যুদ্ধ শুরু হলে উপকূলীয় ভূখন্ডটির সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকা বানাতে  সম্প্রতি একটি প্রশাসনিক ইউনিট গঠন করেছেন সেনা প্রধান।
আগের যুদ্ধে ব্যবহৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদের চেয়ে চার গুণ বেশি অস্ত্র ও গোলাবারুদ প্রস্তুত রাখা হয়েছে আর সামরিক গোয়েন্দারা শত শত লক্ষ্যবস্তু প্রস্তুত করে রেখেছে বলে জানিয়েছেন সংবাদমাধ্যমটির প্রতিনিধি।
সামরিক প্রতিবেদক আনা আহরোনহেইম-এর মতে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানে যে পরবর্তী যুদ্ধের অন্তর্ভূক্ত থাকবে ভূমিতে সর্বাত্মক হামলা। আর সেকারণে হাজার হাজার সেনা সদস্য ট্যাঙ্ক, সামরিক গাড়ি নিয়ে গাজায় প্রবেশ করবে। তাদের সুরক্ষা দেবে আকাশে যুদ্ধবিমান ও নৌবাহিনীর জাহাজ।
অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় গত দশ বছরে তিনটি বড় যুদ্ধে গাজা চরমভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে স্বীকার করে নিয়েছেন জেরুজালেম পোস্টের এই বিশ্লেষক। তিনি বলেন, ইসরায়েলি নিষেধাজ্ঞা শিথিল বা অবরোধের অবসান ঘটানোর জন্য মরিয়া হয়ে আছে হামাস।
ওই বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের প্রতি দীর্ঘমেয়াদে গাজা উপত্যকাকে চুপ রাখতে সম্ভাব্য কম সময়ের মধ্যে পরবর্তী যুদ্ধ জয়ের প্রয়োজন।
ইসরায়েলি বিমান হামলায় ধ্বংস হয়ে যাওয়া বাড়ির অভ্যন্তরে এক ফিলিস্তিনি কিশোর

‘সেক্স পার্টি’ করতেন ট্রাম্প!

নারীঘটিত কেলেঙ্কারি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পিছু ছাড়ছেই না। সর্বশেষ ঘটনার কেন্দ্রে অবশ্য তিনি নন, তাঁর একসময়ের বন্ধু জেফ্রি এপস্টিন। ধনী মক্কেলদের অর্থ লগ্নি করে মস্ত ধনী হয়েছেন তিনি। কিশোরী মেয়েদের সঙ্গে অর্থের বিনিময়ে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের অভিযোগে এপস্টিন এখন কারাগারে। তাঁর ধনী বন্ধুদের একজন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
অভিযোগ উঠেছে, কিশোরীদের নিয়ে যেসব সেক্স পার্টি দিতেন এপস্টিন, তার একজন নিয়মিত সদস্য ছিলেন ট্রাম্প। ১৯৯২ সালে এমন একটি পার্টিতে মোট ২৮ জন কিশোরীকে জড়ো করা হয়েছিল, তাতে উপস্থিত ছিলেন মোটে দুজন—এপস্টিন ও ট্রাম্প।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখন বলছেন এপস্টিনকে তিনি তেমন একটা চেনেন না। ফ্লোরিডার পাম বিচে সবাই তাঁকে যেমন চিনত, তিনিও তেমনি চিনতেন। গত ১৫ বছরে তাঁর সঙ্গে এপস্টিনের কোনো যোগাযোগ নেই। কথাটা ঠিক, ‘নিউইয়র্ক টাইমস’ খোঁজ নিয়ে জেনেছে একসঙ্গে ব্যবসা করার সময় টাকা-পয়সার ঝামেলা হওয়ায় দুজনের মুখ দেখাদেখি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। ২০০২ সালে যখন তাঁরা বন্ধু, ট্রাম্প মন্তব্য করেছিলেন এই বলে, ‘এপস্টিন একজন চমৎকার মানুষ এবং খুবই মজার মানুষ। লোকে বলে, আমার মতো ওর কম বয়সী সুন্দরী মেয়েদের ব্যাপারে বিশেষ আকর্ষণ রয়েছে।’
ট্রাম্পের জীবনীকার হিসেবে পরিচিত সাংবাদিক ও লেখক মাইকেল গ্রস জানিয়েছেন, নব্বইয়ের দশকে ট্রাম্প ঘরভর্তি মেয়েদের নিয়ে তাঁর ধনী বন্ধুদের জন্য পার্টি দিতেন। এসব মেয়ের অধিকাংশই মডেল হওয়ার জন্য ট্রাম্পের শরণাপন্ন হতো। গ্রস জানিয়েছেন, এসব পার্টিতে কোকেনের ব্যবহার হতো দেদার, আর সেখানে ট্রাম্পের ব্যবহার ছিল ‘একজন পশুর মতো’।
এপস্টিন নিয়ে যখন পত্রপত্রিকায় মহা শোরগোল, তখন আরেক কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়েছে ট্রাম্পের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। ফ্লোরিডার ডোরালে ট্রাম্পের যে গলফ ক্লাব রয়েছে, সেখানে এক নুড ক্লাবের উদ্যোগে বিশেষ গলফ পার্টির আয়োজন করা হয়েছিল। বিজ্ঞাপনে বলা হয়েছিল, এই পার্টিতে যাঁরা মোটা অঙ্কের চাঁদা দিয়ে গলফ খেলতে আসবেন, তাঁরা নিজেদের পছন্দমতো স্বল্পবসনা মেয়েদের ‘ক্যাডি’ হিসেবে সঙ্গে রাখতে পারবেন। ক্যাডিদের কাজ খেলোয়াড়ের গলফ ব্যাগ বয়ে নিয়ে যাওয়া।
এই খবর প্রকাশিত হলে ট্রাম্প ক্লাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই পার্টি থেকে সংগৃহীত অর্থের একটি অংশ যাবে শিশুদের হয়ে কাজ করে এমন এক দাতব্য প্রতিষ্ঠানে। এটি একটি ভালো কাজ—ক্লাবের পক্ষ থেকে এই সাফাই দেওয়া হয়েছিল। এক দিন পর অবশ্য সেই দাতব্য সংস্থা জানায়, শিশু ও যৌনতা—এই দুই কখনো একসঙ্গে যেতে পারে না। তাই তারা এই গলফ পার্টির সঙ্গে কোনোভাবে জড়িত থাকতে রাজি নয়।
বুধবার তীব্র সমালোচনার পর ট্রাম্পের গলফ ক্লাব পুরো ব্যাপারই বাতিল বলে ঘোষণা করেছে।

উইঘুর মুসলিমদের ওপর নিপীড়নের নিন্দা ২২ দেশের

উইঘুর মুসলিমদের ওপর চলছে নিপীড়ন
চীনের জিনজিয়াং প্রদেশে উইঘুর মুসলিমদের ওপর নিপীড়নের নিন্দা জানিয়েছে ২২টি দেশ। জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকার কর্মকর্তাদের কাছে এক লিখিত বার্তায় তারা চীনের আচরণের তীব্র সমালোচনা করেন। চীনে প্রায় দেড় কোটি উইঘুর মুসলমানের বাস। তাদের প্রতি চীনের আচরণ নিয়ে আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে রয়েছে বেইজিং।
জিনজিয়াং প্রদেশের জনসংখ্যার ৪৫ শতাংশ উইঘুর মুসলিম। এই প্রদেশটি তিব্বতের মতো স্বায়ত্তশাসিত একটি অঞ্চল। সেখানে বিদেশী মিডিয়ার প্রবেশাধিকার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত। গত ডিসেম্বরে জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকার কার্যালয় সেখানকার পরিস্থিতিকে ‘উদ্বেগজনক’ আখ্যা দিয়ে ওই অঞ্চল সফরের প্রচেষ্টার কথা জানিয়েছিল।
সর্বশেষ গত বুধবার অস্ট্রেলিয়া, ব্রিটেন, কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি ও জাপানসহ মোট ২২টি দেশের রাষ্ট্রদূত জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকার পরিষদের কলি সিক এবং হাইকমিশনার মিশেল ব্ল্যাচেতের কাছে একটি চিঠি দিয়ে নিন্দা জানান।
চিঠিতে উইঘুরদের আটক রাখার নির্ভরযোগ্য খবরের ব্যাপারে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। জিনজিয়াংয়ে উইঘুরসহ অন্যান্য সংখ্যালঘুর ওপর নজরদারির ব্যাপারেও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তারা। চীনকে এই আটক রাখা বন্ধ করে উইঘুরসহ অন্যান্য সংখ্যালঘুর চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে বলা হয়। চিঠি পাঠিয়ে ওই দেশগুলোর পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়, এটা যেন মানবাধিকার পরিষদের দাফতরিক নথি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
কোনো দেশের সমালোচনা করে ৪৭ সদস্যের এই পরিষদে চিঠি পাঠানোর ঘটনা বিরল। তবে জিনজিয়াংয়ের ওপর চাপ তৈরি করতে এটাই হয়তো একমাত্র পথ এখন। চাপ প্রয়োগের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেয়া হলে চীনের পক্ষে অনেক ভোট পড়ারও সম্ভাবনা আছে।
গত বেশ কিছু দিন ধরে বিভিন্ন সূত্রে খবর আসছে যে, সেখানে বসবাসরত উইঘুরসহ ইসলাম ধর্মাবলম্বীরা ব্যাপক হারে আটকের শিকার হচ্ছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ মানবাধিকার সংগঠনগুলোও জাতিসঙ্ঘের কাছে এ ব্যাপারে উদ্বেগ জানিয়েছে। উইঘুর মুসলিমদের গণহারে আটকের অভিযোগ এনেছে তারা। তবে চীন বরাবরই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

বিসিআইএম ইকনমিক করিডোরের জন্য ভারতের সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ by হু ওয়েজিয়া

বেল্ট এন্ড রোড ইনিশিয়েটিভের (বিআরআই) অধীতে সহযোগিতা এগিয়ে নিতে রাজি হয়েছে বাংলাদেশ ও চীন। কিন্তু এই উদ্যোগের পুরো সম্ভাবনা হাসিল করার জন্য নয়া দিল্লি’র সমর্থন প্রয়োজন।
বাংলাদেশের ভৌগলিক অবস্থান বিনিয়োগের জন্য আকর্ষণীয়। বিআরআই’র মধ্যে একটি চমৎকার অবস্থানের অধিকারী হওয়া তা ভারতীয় বাজারের জন্য একটি স্প্রিংবোর্ডে পরিণত করেছে। গত সপ্তাহে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী সরকারি সফরে বেইজিং গিয়েছেন এবং সেখানে তিনি বিআরআই ও বাংলাদেশ-চায়না-ইন্ডিয়া-মিয়ানমার (বিসিআইএম) ইকনমিক করিডোর এগিয়ে নিতে তার দেশের ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক চায় চীন। শুক্রবার টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক রিপোর্টে বলা হয় যে, বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়নে ৩১ বিলিয়ন ডলারের ইকনমিক প্যাকেজ ঘোষণা করে ইকনমিক করিডোরটি নির্মাণে নেতৃত্ব দিচ্ছে চীন।
এই অঞ্চলের উন্নয়ন জোরদারের মানে এই নয় যে চীন বাংলাদেশের উপর নয়া দিল্লির প্রভাব কমাতে চায়। চীন কখনো এই অঞ্চলের নেতৃত্ব গ্রহণের চেষ্টা করেনি। অন্যদিকে, চীন মনে করে অর্থনৈতিক করিডোরটি নির্মাণে ভারত অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
যারা এই অঞ্চলে ভারতের গুরুত্বকে খাটো করে দেখে তারা ভাবতে পারেন যে দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের প্রভাব বাড়লে বেইজিং নয়া দিল্লিকে উপেক্ষা করেই এই অঞ্চলে বিআরআই এগিয়ে নিতে পারবে। কিন্তু এখন বিশ্বায়নের যুগ, কোন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কই একচেটিয়া নয়। ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে মূল্য দেয় চীন, যদিও বাংলাদেশের সঙ্গে তার সম্পর্ক জোরদার হচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়ার উপর ভারতের প্রভাব অনেক। তাই দক্ষিণ এশিয়ায় মসৃণভাবে বিআরআই এগিয়ে নিতে হলে নয়া দিল্লির সমর্থন প্রয়োজন।
ভারতকে ছাড়া দক্ষিণ এশিয়ায় সমৃদ্ধ অর্থনীতি তৈরি করা সম্ভব নয়। চীনা কোম্পানিগুলো এখন বাংলাদেশে সড়ক, সেতু ও বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করছে। এই বিনিয়োগ আরো কার্যকর হবে যদি এশিয়ায় একটি আন্ত:সংযুক্ত নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে বাংলাদেশে অবকাঠামো উন্নয়নে সহযোগিতা করে ভারত। তাই ভারত বিসিআইএম ইকনমিক করিডোর নির্মাণে সক্রিয়ভাবে অংশ গ্রহণ করবে বলে আশা করা যায়। ইকনমিক করিডোর সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে চীনের কাছ থেকে ভারত কৃতিত্ব কেড়ে নেবে এমন ভাবনার তোয়াক্কা করে না চীন।
আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সমন্বয় সাধনের জন্য ইকনমিক করিডোর এগিয়ে নেয়ার মাধ্যমে ভারত টেকসই সুবিধা লাভ করতে পারে। ওইসব প্রচেষ্টা ভারতকে এই অঞ্চলে আরো গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ে পরিণত করবে।

পদ্মা সেতু তৈরিতে মানুষের মাথা লাগার গুজব কেন ছড়ালো? by নাগিব বাহার

পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজের জন্য মানুষের মাথা লাগবে বলে যে গুজব ছড়িয়ে পড়েছে, তার বিরুদ্ধে সতর্ক করে দিয়েছে সেতু কর্তৃপক্ষ।
পদ্মাসেতুর প্রকল্প পরিচালকের কার্যালয়ের পক্ষ থেকে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া একটি গুজবের বিষয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন থাকতে বলা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয় যে, পদ্মা সেতু নির্মাণ কাজে মানুষের মাথা লাগবে বলে একটি মহল সামাজিক মাধ্যমে গুজব ছড়াচ্ছে যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
সেতুর নির্মাণকাজের অগ্রগতি তুলে ধরে ঐ বিজ্ঞপ্তিতে নিশ্চিত করা হয় যে ব্রিজ নির্মাণে মানুষের মাথা প্রয়োজন হওয়ার বিষয়টি পুরোপুরি গুজব।
পদ্মা সেতু নির্মাণের জন্য ঐ অঞ্চলের কাছে বেশ কয়েকটি এলাকায় বিভিন্ন বয়সী মানুষ অপহৃত হচ্ছে বলেও গুজব ছড়িয়ে পড়ায় কিছু এলাকায় মানুষের মধ্যে ভিত্তিহীন আতঙ্ক তৈরি হয়েছে বলে দেশের বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে খবরও বের হয়।
তবে কোনো এলাকার আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছ থেকেই কোনো অপহরণের খবর পাওয়া যায়নি।
তাহলে কেন এমন একটি ভিত্তিহীন গুজব ছড়িয়ে পড়লো যার কারণে পদ্মা সেতুর প্রকল্প পরিচালকের দপ্তর থেকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে এই অপপ্রচারের প্রতিবাদ করতে হলো?
বাংলাদেশে সেতু নির্মাণ বা এরকম বড় কোন স্থাপনা নির্মাণ কাজে নরবলির গুজব নতুন নয়।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলোর বিভাগের অধ্যাপক সুস্মিতা চক্রবর্তী মনে করেন বাংলাদেশের দেশের শাসনব্যবস্থার ঐতিহাসিক পটভূমি এবং গ্রামাঞ্চলের মানুষের চিন্তাধারা পর্যবেক্ষণ করলেই এর কারণ বোঝা সম্ভব।
"ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করলে দেখবেন আমাদের এই অঞ্চল বিভিন্ন ধর্মের বিভিন্ন রাজা, সম্রাটদের মত বিভিন্ন ধাঁচের শাসকদের অধীনে ছিল।"
মিজ. চক্রবর্তী বলেন নানা কিংবদন্তীমূলক কাহিনী, আবহমান কাল ধরে চলে আসা জনশ্রুতি এবং স্থানীয় সংস্কৃতিতে প্রতিষ্ঠিত বিভিন্ন গল্পের ওপর বিশ্বাস করার প্রবণতা মানুষের মধ্যে প্রবল।
"কথিত আছে, ১৫৮০ সালের দিকে মৌলভীবাজারে কমলার দীঘি তৈরি করার সময় দীঘিতে যখন পানি উঠছিল না, তখন রাজা স্বপ্ন দেখেন যে তার স্ত্রী দীঘিতে আত্মবিসর্জন দিলে পানি উঠবে এবং পরবর্তীতে রাজার স্ত্রী আত্মাহুতি দেয়ার ফলেই ঐ দীঘিতে পানি ওঠে।"
দিনাজপুরের রামসাগর তৈরিতেও একই ধরণের কিংবদন্তী প্রচলিত রয়েছে বলে জানান মিজ. চক্রবর্তী।
মিজ. চক্রবর্তী বলেন, "এসব ঘটনার কোনো প্রামাণিক দলিল বা সুনিশ্চিত ঐতিহাসিক প্রমাণ না থাকলেও শত শত বছর ধরে মানুষের মুখে মুখে চলে আসার কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে এধরণের গল্পের একটা গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়।"
আবার ইতিহাস বিবেচনা করলে দেখা যায়, পৃথিবীর প্রায় সব এলাকার শাসকরাই তাদের প্রজাদের ওপর নিষ্ঠুর অত্যাচার করেছেন। শাসকদের সেসব অত্যাচারের কাহিনীও কালের বিবর্তনে মানুষের মুখে মুখে বিভিন্নভাবে পরিবর্তিত হয়ে মানুষের মনে জায়গা করে নিয়েছে, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন হলেও প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে বিদ্যমান থাকায় সরলমনা মানুষ সেগুলো বিশ্বাস করে।
সফলভাবে ব্রিজ তৈরি করতে পিলারের নিচে মানুষের মাথা দিতে হবে - আবহমান কাল থেকে মানুষের মধ্যে প্রচলিত এই কুসংস্কার নিয়ে বাংলা সাহিত্যে বেশকিছু গল্পও রয়েছে।
মিজ. চক্রবর্তী বলেন, "প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে যেসব গল্প শুনে আসে, কোনো ধরণের যাচাই ছাড়া সেগুলো বিশ্বাস করার প্রবণতার কারণেই এই প্রযুক্তির যুগেও সেসব গল্প সত্যি বলে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে।"

'সমাধান: জনগণের কাছে তথ্যপ্রবাহকে অবারিত করা'

সুস্মিতা চক্রবর্তীর মতে, "এ ধরণের গুজব যেন না ছড়িয়ে পড়ে তা নিশ্চিত করার একমাত্র পদ্ধতি, ব্রিজ নির্মাণের খুঁটিনাটি বিষয় সম্পর্কে প্রকল্প পরিচালকের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে বিস্তারিত জানানো।"
"জনগণের কাছে তথ্যপ্রবাহকে যতটা অবারিত করা হবে, সাধারণ মানুষকে ধোঁয়াশা থেকে মুক্ত করার জন্য যতবেশি প্রয়াস নেয়া হবে, ততই এধরণের গুজব তৈরি হওয়া এবং ছড়িয়ে পড়া কমবে।"
এছাড়া বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে সব বিষয়েই রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত হওয়ার প্রবণতা থাকার কারণেও এধরণের গুজব তৈরি হয় বলে মনে করেন মিজ. চক্রবর্তী।
"পদ্মা সেতুর বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিতর্ক সবসময়ই ছিল। কাজেই এর নির্মাণকাজ নানভাবে পন্ড করার চেষ্টা করে কোনো একটি মহল রাজনৈতিক ফায়দা আদায়ের চেষ্টা করতেই পারে; বিশেষ করে যখন আমাদের দেশের মানুষের মধ্যে সব বিষয়কে কেন্দ্র করেই বাজে রাজনৈতিক লড়াই তৈরি করার প্রবণতা রয়েছে।"
বুড়িগঙ্গায় বিপদতারিণী পুজা দিচ্ছেন বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের একদল নারী। গ্রামে-গঞ্জে এখনো এমন কুসংস্কার আছে যে বড় কোন নির্মাণ কাজে নরবলির প্রয়োজন হয়।