Wednesday, July 23, 2014

ইসরাইলের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ আনলো জাতিসংঘ

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনার নাভি পিল্লাই বলেছেন, ইসরাইল আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করছে। এটা যুদ্ধাপরাধ। জেনেভায় জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের জরুরি বিতর্ক অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

নাভি পিল্লাই বলেন, গাজায় হামলা চালিয়ে বাড়িঘর ধ্বংস করে দিচ্ছে ইসরাইল। হত্যা করছে শিশুদের। এটা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন। এসময় হামাসের রকেট ও মর্টার হামলারও নিন্দা করেন নাভি পিল্লাই।
ইসরাইলের হামলায় গাজায় এ পর্যন্ত ৬৩০ জন নিহত হয়েছেন৷ নিহতদের অধিকাংশই বেসামরিক নাগরিক৷ এদিকে হামাসের রকেট হামলার কারণে তেল আবিব থেকে বিমান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে৷ যুদ্ধ বন্ধের জন্য কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে৷
ইসরায়েলের এক সেনা কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, বুধবারের হামলায় অন্তত ৩০ জন হামাস সদস্য নিহত হয়েছে৷ ইসরাইলি হামলার তীব্রতা বেড়েই চলেছে৷ গাজায় প্রতিদিন মিছিলে যোগ হচ্ছে নারী শিশুদের নিষ্পাপ মুখ৷ বুধবার ইসরায়েলের গোলার আঘাতে প্রাণ হারিয়েছে গাজার দক্ষিণে আট বছর বয়সি এক শিশু৷এক পরিবারের ৪জন শিশুসহ ১৮জন নিহত হয়েছে গাজায়।
৮ জুলাই থেকে শুরু হওয়া হামলায় ইসরায়েলের ক্ষয়ক্ষতিও বাড়ছে৷ হামাসের রকেট হামলা বন্ধ করার লক্ষ্যের কথা বলে শুরু করা হামলায় কমপক্ষে ২৯ জন সেনাসদস্যকে হারিয়েছে দেশটি৷ এক ফিলিস্তিনি স্নাইপারের গুলিতে বুধবার ইসরাইলি ট্যাংক অফিসার প্রাণ হারায় ৷
এদিকে গাজা থেকে ছোড়া রকেট তেল আবিব বিমানবন্দরের কাছের একটি বাড়িতে আঘাত হেনেছে৷ হামলার আশঙ্কায় আমেরিকা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের কয়েকটি দেশ ইসরাইল থেকে এবং ইসরাইলের দিকে তাদের সব ফ্লাইট বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে৷
ইসরাইল সরকারও  বেন গুরিয়ন বিমান বন্দরের ৮০টি ফ্লাইট সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে৷
তবে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে কোনো পক্ষই সাড়া না দিলেও শান্তি স্থাপনে প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে৷ ইসরাইল সাময়িকভাবে যুদ্ধ বন্ধ রাখলেও হামাস তা মানতে অস্বীকৃতি জানায়৷
এদিকে যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব কার্যকর করার উপায় খুঁজতে মিশর সফর করছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি৷ জন কেরি হামাসকে মিশরের দেয়া যুদ্ধ বিরতি প্রস্তাব মেনে নেয়ার আহবান জানিয়েছেন। জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন অবস্থান করছেন ইসরাইলে৷ বান কিন মুন দু পক্ষকে হামলা বন্ধ করে যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব মানার আহবান জানালেও উভয় পক্ষের মধ্যে তা অব্যাহত রয়েছে। তবে হামাস বলেছে, অবরোধ প্রত্যাহার না হলে তারা কোন যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবে সম্মত হবে না।

বিএনপি কি রাজনীতির মূল মঞ্চে ফিরতে পারবে? by এম. আবদুল হাফিজ

দেশের রাজনীতিতে এক সময়ের চমক সৃষ্টিকারী বিএনপি এখন আর তার আগের অবস্থানে নেই। দলটি এখন বড়জোর একটি বড় রাজনৈতিক সংগঠন। এখন তার আর অন্য কোনো পরিচিতি নেই- না সরকারে, না বিরোধী দলে। স্বভাবতই প্রশ্ন উঠেছে, বিএনপি কি আবার জাতীয় রাজনীতিতে তার গৌরবের স্থানটি পুনরুদ্ধার করতে পারবে? অনেকে ঢালাওভাবে বলে থাকেন, ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে অংশ নিলে বিএনপির আজকের এ দুরবস্থা হতো না। কথাটি বিতর্ক সাপেক্ষ। ক্ষমতাসীনদের দুরভিসন্ধিমূলক নির্বাচনে অংশ নিলে বিএনপি হয়তো বেশ কিছু আসনে জয়লাভ করত। কিন্তু সরকার গঠনের মতো আসন সংখ্যা আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোটই পেত। কারণ আওয়ামী লীগকে জেতানোর পরিকল্পনা নিয়েই সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী পাস করা হয়েছিল। ক্ষমতাসীন সরকারের হাতে নির্বাচন পরিচালনার ক্ষমতা এবং একটি আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশন গঠন- এসবই একটি পকিল্পিত ছকেই সম্পন্ন হয়েছিল। নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার, যার জন্য আওয়ামী এক সময় প্রাণপাত করেছিল, ইতিমধ্যেই তার অপমৃত্যু ঘটেছিল।
এ প্রেক্ষাপটে আপসহীন বলে পরিচিত বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া তার তত্ত্বাবধায়কের দাবিতে অনড় থেকে নির্বাচনে গেলেন না। গেলে কী হতো এবং না গিয়ে কী হয়েছে, সেসব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে এবং তার নির্বাচনে না যাওয়ার কী খেসারত দিচ্ছে বিএনপি, তা তো দেশবাসীই দেখছে। মামলা-মোকদ্দমায় ফেঁসে থাকা দলের শত শত নেতাকর্মী গ্রেফতার ও নির্যাতনের ভয়ে যেখানে প্রকাশ্যেই আসতে পারছেন না, সেখানে আপসহীন নেত্রীর আন্দোলনের হুংকার হয়তো হাস্যকর মনে হবে। তবে আমার বিশ্বাস, গণতন্ত্রকে এগিয়ে নেয়ার একটি অদৃশ্য চালিকাশক্তি আছে। তা না হলে আড়াই হাজার বছর ধরে নানা প্রতিবন্ধকতার সঙ্গে লড়াই করে গণতন্ত্র কীভাবে আজও টিকে আছে? এই বাংলাদেশেই আগেও গণতন্ত্রে পচন ধরেছিল এবং জাতির জনককে তা পরিহার করে উদ্ভট মতবাদের এক একদলীয় বাকশাল প্রবর্তন করতে হয়েছিল। শাসন কাজে অনভিজ্ঞ বঙ্গবন্ধু কোনো কূলকিনারা না করতে পেরে ক্ষমতার কর্তৃত্বকে কুক্ষিগত করতেই বাকশালের পথে পা বাড়িয়েছিলেন বলে অনেকে মনে করেন। তার পরিণতি আমরা সবাই জানি।
আজকের দোর্দণ্ড প্রতাপশালী আওয়ামী লীগের অবস্থা পঁচাত্তরের ট্রাজেডির পর ছিল আরও করুণ। বঙ্গবন্ধুর জীবিত দুই কন্যা তখন ভারতের আশ্রয়ে। সত্তরের নির্বাচনে নির্বাচিত এবং তেহাত্তরের নির্বাচনে পুনর্নির্বাচিত অনেক জাঁদরেল নেতা তখন অবশিষ্ট থাকলেও পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট ও ৩ নভেম্বরের গোলকধাঁধা কেটে গেলে এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পুনর্বহাল হলে আলোচ্য আওয়ামী লীগ নেতারা পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে খাপ খাওয়াতে অক্ষমতা দেখিয়েছেন; উপরন্তু তখন তারা আন্তঃউপদলীয় কোন্দলে লিপ্ত। প্রায় আধা ডজন আওয়ামী লীগ নেতার নামের ব্র্যাকেটবন্দি উপদলগুলো রাজনীতি নয়, কাদা ছোড়াছুড়িতেই তখন ব্যস্ত।
নব্বইয়ের দশকে দেশ সামরিক শাসনমুক্ত হওয়ার পর ক্ষমতাসীন অধিক আÍবিশ্বাসী খালেদা জিয়া যখন রাজনীতির অঙ্গনে কিছু ভুল পদক্ষেপ নিতে শুরু করেন, শুধু তখনই ক্ষমতার দরদালান থেকে নির্বাসিত আওয়ামী লীগ দীর্ঘ ২১ বছর পর প্রকাশ্য জনসভায় সদাচরণের কিরা-কসম খেয়ে এরশাদের ওপর ভর দিয়ে কোনোমতে ক্ষমতায় ফেরে।
পঁচাত্তরের ৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতার ঐতিহাসিক আনুগত্যের পর জিয়াউর রহমান যখন ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন এবং সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহের লাগাম টেনে ধরেন, বঙ্গবন্ধুর প্রতাপশালী আওয়ামী লীগ তখন রাজনীতির এক প্রান্তিক অবস্থানে। এরপরই রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের গৌরবোজ্জ্বল আÍপ্রকাশ। বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা-ভালোবাসা অক্ষুণ্ন রেখেই বলছি, জিয়ার মাত্র অল্প কবছরের নেতৃত্বে বাংলাদেশ তো বটেই, সারা মুসলিম বিশ্ব অবাক বিস্ময়ে তাদের ভাগ্যাকাশে এক সোনালি অরুণোদয় দেখেছিল। মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে দৃশ্যপটে আবির্ভূত বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তনের জনক এই নেতাকে আমি এর আগে আমার দুই দশকের চাকরি জীবনে দেখিনি। অথচ তিনি ছিলেন আমার নিজ জেলা বগুড়ার আমার গাবতলী থানারই সন্তান।
প্রশংসা ও প্রচারবিমুখ এ নেতাকে প্রথম দেখি যশোর সেনানিবাসে। সেনাসদরে এ স্পষ্টভাষী রাজনীতিবিমুখ মেজর জেনারেল জিয়া তখন তারই জুনিয়র মেজর জেনারেল শফিউল্লাহর অধীনে আর্মির ডেপুটি চিফ। সেনাবাহিনীর মূল স্রোত থেকে এ মেধাবী কর্মকর্তাকে সরিয়ে রাখতেই এ ব্যবস্থা। ডেপুটি চিফ হিসেবে তার দৃশ্যমান একটি কাজই দেখেছি- তা হল দেশের ক্যাডেট কলেজগুলোর তদারকি। সেই সুবাদেই তিনি তখন যশোর হয়ে ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজে যেতেন। ৫৫নং পদাতিক ব্রিগেডের ব্রিগেড মেজর আমি কখনও কখনও তাকে বিমানবন্দর থেকে সেনানিবাসে এনেছি।
একপর্যায়ে জিয়া যখন সেনাপ্রধান হলেন, দেশের ভবিষ্যৎ সেনাবাহিনীর রূপরেখা নিয়ে কম্বাইন্ড আর্মস স্কুলে (বর্তমানে বিলুপ্ত) তিনি একটি ভাষণ দিয়েছিলেন। পাকিস্তানে বেশ কিছু জেনারেলের সান্নিধ্যে এসেছি, কিন্তু আমাকে স্বীকার করতেই হবে, জিয়া প্রদত্ত যশোরের ভাষণটি আমাকে মুগ্ধ করেছিল। তবু জিয়ার কঠোর প্রকৃতি, স্বল্পভাষী স্বভাব ও গাম্ভীর্য আমার কদাচিত ভালো লেগেছে। রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর তিনি আমাদের দৃষ্টিসীমার বাইরে তার বৃহত্তর কর্মপরিসরে চলে গেলেন। মুক্তিযুদ্ধে রাজনৈতিক নেতৃত্ব না দিলেও তিনি আলবৎ জানতেন ভারতসহ প্রতিবেশীদের সঙ্গে সম্পর্কের স্পর্শকাতরতা, আন্তর্জাতিক রীতিনীতি এবং মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে আমাদের বিশেষ সম্পর্কের কথা।
সত্যি কথা বলতে কী, জিয়া শাসনের মেয়াদে একটি আধুনিক, সম্মুখ দৃষ্টি ও কর্মতৎপর বাংলাদেশের অবয়ব অস্তিত্বে আসতে থাকে। আওয়ামী লীগ তখনও রাজনৈতিকভাবে অগোছালো এবং পঁচাত্তরের জের ধরে বিমূঢ়। নানা স্তরে বিভক্ত জিয়া শাসনামলেই অস্তিত্বে এলো বিএনপি। অনেক আওয়ামী লীগ নেতা সে সময় বিএনপিতে যোগ দিয়েছিলেন। আরও অধিক দলছুট আওয়ামীরা যোগ দিয়েছিলেন এরশাদের দলে। আমি নিশ্চিত, এ দেশে যদি আর নতুন কোনো ক্ষমতাসীন দলের উদ্ভব ঘটে, আওয়ামীরাই তার নেতানেত্রী ও কর্মীবাহিনীর জোগান দেবে।
রাজনীতিতে উত্থান-পতন আছে। এ দেশেও আমরা তা আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে সীমাবদ্ধ দেখেছি। আরেকটি অপ্রিয় সত্য এ দেশ সম্পর্কে প্রযোজ্য। ক্ষমতার পালাবদল এ দেশে কদাচিত মসৃণ হয়েছে। বৈধভাবে সাংবিধানিক পথেই ক্ষমতার মসনদে একবার আসীন হলে ক্ষমতাসীনদের ক্ষমতার প্রতি আসক্তি এত বেড়ে যায় যে, তখন তাদের প্রচণ্ড ঝাঁকুনি দিতে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের দাবি ওঠে। এই ঝাঁকুনিটিই হল আন্দোলন। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয়েই সেটা করেছে। তবে এ কাজটিতে আওয়ামী লীগ অনেক বেশি পারদর্শী। ব্রিটিশদের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভের পর আমাদের অস্তিত্বের বেশির ভাগ সময় জুড়ে ছিল আন্দোলন। ভাষা আন্দোলন, স্বায়ত্তশাসনের আন্দোলন, শিক্ষা-সংস্কৃতির আন্দোলন, ছয় দফার আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণআন্দোলন এবং মুক্তিযুদ্ধ। আন্দোলনের কলাকৌশল দলটির নখদর্পণে। অষ্টম সংসদের মেয়াদের গোটা সময় জুড়ে-এক-এগারো সংঘটিত হওয়া পর্যন্ত- আওয়ামী আন্দোলনের মাঝে জীবনপণ আন্দোলনের নমুনা আমরা দেখেছি। তখন বিএনপি ক্ষমতায় ছিল। এখন আওয়ামী লীগের মতো আন্দোলন গড়ে তোলা এবং তা প্রতিহত করার আওয়ামী শক্তির সামনে বিএনপির সরকার পতনের হুমকি একেবারেই শূন্যগর্ভ।
বিএনপি ও তার নেতৃত্বের রাজনীতি করার প্যাটার্ন সম্পূর্ণ আলাদা। আন্দোলন কোনো দিনই বিএনপির বৈশিষ্ট্যসূচক গুণ ছিল না, এখনও নেই। তাছাড়া অনেক ঘাত-প্রতিঘাতের পর আওয়ামী লীগের শক্তি ও অভিজ্ঞতা বেড়েছে। তেমনিভাবে অনেক প্রতিকূলতা, দুর্বল নেতৃত্ব ও রাজশক্তির দাপটে বিএনপি আগের চেয়ে অনেক চুপসানো। তবে শেষমেশ এ দেশের রাজনীতিতে উভয় দলের টিকে থাকার স্বার্থে যৌক্তিক পথ অবলম্বন করতে হবে।
দুর্বলরা সব সময়ই অহেতুক উত্তেজনা ও আতংকে ভোগে। বিএনপিকে সেটা কাটিয়ে উঠতে অনেক কথাই বলতে হবে। কিন্তু উভয়ের মধ্যে সৃষ্ট সংকটের জট খোলার চাবিকাঠি আওয়ামী লীগের হাতে। একটি বিতর্কিত নির্বাচনে জিতে দলটির উচ্চাশা ও ক্ষমতার আসক্তি অনেক বেড়ে গেছে। তবে অগ্রজ রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে অবশ্যই বুঝতে হবে, এভাবে চিরদিন চলতে পারে না। এটা অবশ্যই গণতন্ত্র নয়। অথচ তার সাময়িক রাজনৈতিক বিপথগমন (Political aberration) বাদ দিলে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর আজীবন স্বপ্নই ছিল গণতন্ত্র। ভিন্নমত, ভিন্নপথ ও সেগুলোর প্রতি শ্রদ্ধা তো গণতন্ত্রেরই দীক্ষা। তাই তার চর্চা এবং নির্বিঘ্ন ভোটাধিকার ক্ষমতাসীনদেরই নিশ্চিত করতে হবে।
আন্দোলন করে বিএনপি সরকারের পতন ঘটাবে এটি প্রলাপোক্তি। তাই বলে ক্ষমতাসীনরাও পরিতৃপ্ত হয়ে বসে থাকতে পারে না। রাজনৈতিক প্রলয় যদি একটা ঘটেই, উভয়ের কেউই তা থেকে অক্ষত থাকবে না।
এম আবদুল হাফিজ : রাজনীতি ও নিরাপত্তা বিশ্লষক

গাজা এখন লাশের শহর- মৃত্যুনগরী, বধ্যভূমি -মসজিদে লাশ মর্গে পচা মাংসের গন্ধ

গাজা এখন বধ্যভূমি। লাশের শহর- মৃত্যুনগরী। ইসরাইলি বাহিনীর টানা ১৪ দিনের হামলায় নরকে পরিণত হয়েছে ফিলিস্তিনের এই স্বর্গোদ্যান। সকাল থেকে সন্ধ্যা গাজার আকাশে শকুনের মতো পাক খাচ্ছে ইসরাইলি বোমা। মসজিদ-হাসপাতাল-খেলার মাঠ আবাসিক এলাকা- কিছুই বাদ পড়ছে না। মসজিদ-মর্গের কোনো অমিল নেই। সবখানে পচা লাশের ভুরভুরে গন্ধ। গাজার প্রাণকেন্দ্রখ্যাত আল শাফা হাসপাতালের অবস্থা আরও শোচনীয়। পা রাখার জায়গা নেই- শুধু লাশ আর লাশ। কারও হাত নেই কারও শরীরে নিচের অংশ নেই। বোমায় কারও একাংশ পুড়ে গেছে। হাসপাতাল কমপাউন্ডে পোড়া লাশের ভেপসা গন্ধ!

এদিকে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আশরাফ আল কেদরা বলেন, গাজা-ইসরাইল পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তে মোতায়েন করে রাখা ট্যাংক থেকে আল আকসা হাসপাতালে কয়েকটি গোলা হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। এতে চিকিৎসা সহকারী, নার্স ও অন্যান্য মানুষ মিলিয়ে ৭ জন নিহত এবং ৫০ জন আহত হয়েছে। গাজা অভিযানের চতুর্দশ দিন মঙ্গলবার ভোর রাতে গাজার সাতটি মসজিদে হামলা চালিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী। ওই হামলায় ৭ জন নিহত হয়েছেন। এই নিয়ে গাজায় নিহতের সংখ্যা ছয় শতাধিক ছাড়াল।
ইসরাইলি সেনাদের কবর দেয়া হবে : হানিয়া
ফিলিস্তিনের সাবেক নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী ও হামাস নেতা ইসমাইল হানিয়া বলেছেন, ইসরাইলি সেনাদের জন্য গাজা হবে কবরস্থান। সোমবার রাতে ফিলিস্তিনি জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে তিনি এ হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
ইসমাইল হানিয়া এমন সময় এই হুশিয়ারি উচ্চারণ করলেন যখন হামাস ৪৩ ইসরাইলি সেনাকে হত্যা এবং একজনকে আটক করার দাবি করেছে। অবশ্য ইসরাইল ২৭ সেনা নিহতের কথা স্বীকার করেছে।
তিনি বলেন, গাজার চলমান আগ্রাসন ও গণহত্যার মাধ্যমে ইহুদিবাদী ইসরাইলের আসল চেহারা উন্মোচিত হয়েছে। তবে, শত বাধা এবং ইসরাইলের বারবার আগ্রাসন সত্ত্বেও ফিলিস্তিনিদেরকে তাদের সংগ্রামের পথ থেকে সরানো যায়নি।
সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, অবরোধ তুলে নিতে ইসরাইল এবং মিসরের প্রতি হামাসের চাপ গাজার প্রায় ১৭ লাখ মানুষের দাবিকেই প্রতিধ্বনিত করে।
তিনি বলেন, ‘আমরা পেছনে ফিরে যাব না, আমরা অবরোধে ধীরে ধীরে মৃত্যুমুখে ফিরে যাব না। গাজার অধিবাসীরা তাদের রক্ত এবং সাহস দিয়ে অবরোধের ইতি টানবে।’ প্রসঙ্গত, ২০০৭ সালে ভোটের মাধ্যমে গাজায় হামাস ক্ষমতায় এলে ইসরাইল অবরোধ আরোপ করে একে বিশ্বের বৃহৎ কারাগারে পরিণত করে। এর সঙ্গে এক জোট হয়ে গাজায় প্রবেশের একমাত্র পথ রাফা ক্রসিং বন্ধ করে দেয় ইসরাইল ঘনিষ্ঠ মিসরের আল-সিসি সরকার।
ইসরাইলি সৈন্য নিখোঁজ
গাজায় আক্রমণকারী ইসরাইলি সেনাবাহিনীর এক সদস্যকে পাওয়া যাচ্ছে না। ধারণা করা হচ্ছে হামাস সদস্যরা তাকে আটক করেছে কিংবা তিনি নিহত হয়েছেন।

ইসরাইলের একটি স্থানীয় সংবাদমাধ্যম মারফত ইসরাইলি সেনা নিখোঁজ হওয়ার সংবাদ পাওয়া গেছে।
এদিকে, ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি হামলায় বিপর্যস্ত ফিলিস্তিনিদের ৪৭০ লাখ মার্কিন ডলার সহায়তা দেয়ার প্রতিশ্র“তি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি সোমবার এ প্রতিশ্র“তি দেন। যুক্তরাষ্ট্র ১৫০ লাখ মার্কিন ডলার ফিলিস্তিনি শরণার্থী সংস্থা ইউএনআরডাব্লিউএকে দেবে।
বাকি ৩২০ লাখ মার্কিন ডলার ফিলিস্তিনিদের সহায়তা করতে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়নবিষয়ক সংস্থাকে দেয়া হবে। এএফপি।

সানিয়া মির্জার জন্য এক কোটি রুপি

মৌসুমের শেষ গ্র্যান্ডস্লাম ইউএস ওপেন ও অন্যান্য টুর্নামেন্টের প্রশিক্ষণ এবং খরচের জন্য ভারতের টেনিস তারকা সানিয়া মির্জাকে এক কোটি রুপি অনুদান দিচ্ছে ভারতের তেলেঙ্গানা সরকার। এই ঘোষণা দিয়েছেন নবগঠিত তেলেঙ্গানা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী কে চন্দ্রশেখর রাও। মঙ্গলবার সানিয়ার হাতে চেক তুলে দেয়ার কথা মুখ্যমন্ত্রীর।

মুখ্যমন্ত্রীর দফতর থেকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মুখ্যমন্ত্রী কে চন্দ্রশেখর রাও টেনিস তারকা সানিয়া মির্জার জন্য এক কোটি রুপি অনুদান ঘোষণা করেছেন। ইউএস ওপেন ও আসন্ন অন্যান্য টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে প্রশিক্ষণের খরচের জন্য মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী নিজে সানিয়ার হাতে চেক তুলে দেবেন। সম্প্রতি ডব্লিউটিএ ডাবলস র‌্যাংকিংয়ে ক্যারিয়ারে প্রথমবার পঞ্চম স্থানে উঠে আসেন ভারতীয় এই টেনিস তারকা। ওয়েবস

কৌশল বদলেছে হামাস

গাজা উপত্যকায় গতকাল ইসরায়েলি বিমান হামলার আগাম
সর্তকবার্তা পেয়ে সন্তানদের নিয়ে বাড়িঘর থেকে
বেরিয়ে যান একদল ফিলিস্তিনি নারী। রয়টার্স
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি স্থল হামলা গতকাল মঙ্গলবার পঞ্চম দিনে গড়িয়েছে। ইসরায়েল বলছে, তাদের এই অভিযানের লক্ষ্য হামাসের নির্মিত সুড়ঙ্গগুলো ধ্বংস করা এবং গাজা থেকে ইসরায়েলের ভেতরে রকেট নিক্ষেপ থামানো। তবে হামাসের যোদ্ধারা আর আগের মতো অপেশাদার নেই। তাই ইসরায়েলও আগের অভিযানগুলোর তুলনায় এবার কৌশল পাল্টেছে। ২০০৮-০৯ সালের গাজা অভিযানের সময় যেসব স্থান থেকে রকেট ছোড়া হতো, সেগুলোই ছিল ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর মূল লক্ষ্যবস্তু। তবে এবার তারা ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোও লক্ষ্যবস্তু করছে।এর আওতায় তারা গাজা সিটির পার্শ্ববর্তী জনপদ শাজাইয়াতে আঘাত হেনেছে। আরেকটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হচ্ছে, ২০০৮-০৯ এবং ২০১২ সালের অভিযানের তুলনায় ইসরায়েল এবার অনেক বেশি সেনা ও সামরিক সরঞ্জামের সমাবেশ ঘটিয়েছে। ইসরায়েলি বাহিনী যে গাজার ব্যাপক ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায়ও অভিযান চালাবে, এটা তারই একটা ইঙ্গিত। তবে এ ধরনের এলাকায় অভিযান চালানো ইসরায়েলিদের জন্য বিপজ্জনক হবে। গত রোববারই তার একটি ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। হামাসের হামলায় এদিন অন্তত ১৩ ইসরায়েলি সেনার প্রাণহানি ঘটে। ইসরায়েলি হামলায় ফিলিস্তিনিদের মধ্যে ব্যাপক প্রাণহানি হলেও এখন পর্যন্ত দেশটি ঘোষিত লক্ষ্য পূরণে খুব বেশি সফল হয়নি। হামাস ইসরায়েলি বাহিনীর ওপরে অতর্কিতে আক্রমণ চালাতে সুড়ঙ্গ ব্যবহার করে যাচ্ছে। ইসরায়েলের ভেতরে তাদের রকেট ছোড়াও অব্যাহত রয়েছে, যদিও সংখ্যাটা কমেছে।বাস্তবতা হচ্ছে, ইসরায়েলের পাশাপাশি হামাসেরও সক্ষমতা বেড়েছে। ইসরায়েল নতুন নতুন কৌশল নিয়ে আসছে, আর তা প্রতিহত করতে হামাসসহ অন্য গোষ্ঠীগুলোও নতুন নতুন পথ বের করে নিচ্ছে। সবচেয়ে লক্ষণীয় ব্যাপার হচ্ছে, হামাসের যোদ্ধারা এখন অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি প্রশিক্ষিত। তাঁদের এমন কিছু কৌশলও জানা আছে, যেগুলো ইসরায়েল অনুধাবন করতে পারেনি বলে মনে হচ্ছে। শাজাইয়া অভিযান থেকে ফিরে আসা একজন ইসরায়েলি সেনার বরাত দিয়ে ইসরায়েলি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, হামাস এখন হিজবুল্লাহর মতো করে লড়াই করছে।
লেবাননভিত্তিক কট্টর শিয়া সংগঠন হিজবুল্লাহ আশি ও নব্বইয়ের দশকে ইসরায়েলি দখলদারত্বের বিরুদ্ধে সফল গেরিলা যুদ্ধ চালিয়েছে। এ ছাড়া ২০০৬ সালে লেবাননে ইসরায়েলি অভিযানের সময় হিজবুল্লাহ বহু ইসরায়েলি সেনাকে ঘায়েল করতে সক্ষম হয়। গাজায় সর্বশেষ ২০০৮ সালের সম্মুখ লড়াইয়ের সময়ও হামাস যোদ্ধাদের অপেশাদার বলেই মনে হয়েছে। তাঁরা তখন গাজায় সশস্ত্র মহড়া দিলেও ইসরায়েলি সেনাদের থামাতে পারেননি। তবে সংগঠনটি দৃশ্যত বুঝে ফেলেছে, ওই কৌশল ভুল ছিল। নিজেদের শক্তি প্রদর্শন করার চেয়ে যথাসম্ভব গোপন রাখাটাই ভালো। হামাসের এখনকার কৌশলকে কমান্ডো কৌশল বলা চলে। অলিগলি চেনা থাকার সুবিধা তো তারা পাচ্ছেই। হামাস এরই মধ্যে বুঝিয়ে দিয়েছে, তারা পিছু হটবে না। তারা মিসরের মধ্যস্থতায় অস্ত্রবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। এর মাধ্যমে হামাস দেখিয়ে দিতে চায়, তারাও এমন একটা সামরিক শক্তি, যাকে সমীহ করতে হবে। হামাস দাবি করেছে, তারা ইসরায়েলি এক সেনাকে বন্দী করেছে। এ খবরের সত্যতা সম্পর্কে গতকাল পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে খবর সত্যি হলে তা হবে হামাসের জন্য বড় সফলতা এবং ইসরায়েলের জন্য বড় দুঃসংবাদ। এর আগে ২০০৬ সালে হামাস সীমান্ত এলাকা থেকে ইসরায়েলি সেনাসদস্য গিলাদ শালিতকে অপহরণ করেছিল। পাঁচ বছরের মাথায় এক হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি বন্দীর মুক্তির বিনিময়ে তাঁকে ছাড়া হয়। এবারের সেনা আটকের খবর সত্যি হলে হামাস আবার ইসরায়েলের সঙ্গে দর-কষাকষি করার অস্ত্র হাতে পাবে। সেনাসদস্য অপহরণ ও হতাহত হওয়ার ঝুঁকি থাকে বলেই গাজায় এবার স্থল অভিযানের ব্যাপারে ইসরায়েলের অনেকেরই আপত্তি ছিল। ইসরায়েলি বাহিনীর হিসাবে, এখন পর্যন্ত যে ২৯ জন ইসরায়েলির প্রাণ গেছে, তার মধ্যে ২৭ জনই সেনাসদস্য। ইসরায়েল এর আগে হিজবুল্লাহর হাতে এ ধরনের ক্ষয়ক্ষতির শিকার হলেও হামাসের হাতে এই প্রথম তা ঘটল। এ ঘটনা ইসরায়েলের জনমতের ওপরে মারাত্মক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।

রাজশিশুর প্রথম জন্মদিন

বাবা–মায়ের সঙ্গে প্রিন্স জর্জ
যুক্তরাজ্যের প্রিন্স উইলিয়াম ও কেট মিডলটন দম্পতির সন্তান প্রিন্স জর্জের প্রথম জন্মদিন গতকাল মঙ্গলবার উদ্যাপন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে উইলিয়াম ও কেট তাঁদের শুভাকাঙ্ক্ষীদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন। খবর বিবিসির। উত্তরাধিকার সূত্রে ব্রিটিশ সিংহাসনের সম্ভাব্য দাবিদারদের মধ্যে প্রিন্স জর্জের অবস্থান তৃতীয়। তার দুটি নতুন ছবি গতকাল প্রকাশ করা হয়েছে। একটি ছবিতে মা-বাবার পাশে জর্জ ওপরের দিকে তাকিয়ে কিছু একটা দেখছে।
 অন্য ছবিতে সে মুগ্ধ দৃষ্টিতে একটি নীল প্রজাপতি দেখছে। লন্ডনের ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামে কয়েক সপ্তাহ আগে ছবিগুলো তোলা হয়। উইলিয়াম-কেট দম্পতি তাঁদের কেনসিংটন প্যালেসের অ্যাপার্টমেন্টে ছেলের জন্মদিন উপলক্ষে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করেন বলে সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। ওই অনুষ্ঠানে বর্তমান রানি এলিজাবেথের উপস্থিত থাকার কথা ছিল। তবে তিনি অনুষ্ঠানে ছিলেন কি না, তা তাৎক্ষণিক জানা যায়নি। উইলিয়াম ও কেট এক বিবৃতিতে বলেন, ‘জর্জের প্রথম জন্মদিনে আমরা ধন্যবাদ জানাতে চাই দেশে-বিদেশে অবস্থানকারী সবাইকে, যাঁরা এক বছর ধরে জর্জসহ আমাদের পরিবারের জন্য উষ্ণ ও আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।’ প্রিন্স জর্জকে প্রথম জনসমক্ষে আনা হয় গত বছরের ২৩ জুলাই লন্ডনের সেন্ট মেরি হাসপাতালে। ছেলেকে নিয়ে উইলিয়াম-কেট দম্পতি অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে রাজকীয় সফরও করেছেন।

ইন্দোনেশিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো

জোকো উইদোদো
ইন্দোনেশিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন জাকার্তার জনপ্রিয় গভর্নর জোকো উইদোদো।গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে ঘোষিত চূড়ান্ত ফলাফলে দেখা যায়, ৫৩ দশমিক ১৫ শতাংশ ভোট পেয়ে তিনি জয়ী হয়েছেন।৯ জুলাই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
খবর এবিসি ও বিবিসির। ফল ঘোষণার কিছুক্ষণ আগে উইদোদোর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক জেনারেল প্রাবোয়ো সুবিয়ান্তো অস্বচ্ছতা ও জালিয়াতির অভিযোগ এনে নির্বাচন প্রক্রিয়া থেকে সরে দাঁড়ান।
সেই সঙ্গে তিনি ফলাফল চ্যালেঞ্জ করে আদালতে যাওয়ার ঘোষণা দেন। নির্বাচনে মোট ভোট পড়েছে ১৩ কোটি ৩০ লাখ। এর মধ্যে উইদোদো সাত কোটি ৯৯ লাখ ৮৫৯ এবং সুবিয়ান্তো ছয় কোটি ২৫ লাখ ৭৬ হাজার ৪৪৪ ভোট পান।

মসজিদে লাশ মর্গে পচা মাংসের গন্ধ

গাজা এখন বধ্যভূমি। লাশের শহর- মৃত্যুনগরী। ইসরাইলি বাহিনীর টানা ১৪ দিনের হামলায় নরকে পরিণত হয়েছে ফিলিস্তিনের এই স্বর্গোদ্যান। সকাল থেকে সন্ধ্যা গাজার আকাশে শকুনের মতো পাক খাচ্ছে ইসরাইলি বোমা। মসজিদ-হাসপাতাল-খেলার মাঠ আবাসিক এলাকা- কিছুই বাদ পড়ছে না। মসজিদ-মর্গের কোনো অমিল নেই। সবখানে পচা লাশের ভুরভুরে গন্ধ। গাজার প্রাণকেন্দ্রখ্যাত আল শাফা হাসপাতালের অবস্থা আরও শোচনীয়। পা রাখার জায়গা নেই- শুধু লাশ আর লাশ। কারও হাত নেই কারও শরীরে নিচের অংশ নেই।
বোমায় কারও একাংশ পুড়ে গেছে। হাসপাতাল কমপাউন্ডে পোড়া লাশের ভেপসা গন্ধ! এদিকে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আশরাফ আল কেদরা বলেন, গাজা-ইসরাইল পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তে মোতায়েন করে রাখা ট্যাংক থেকে আল আকসা হাসপাতালে কয়েকটি গোলা হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। এতে চিকিৎসা সহকারী, নার্স ও অন্যান্য মানুষ মিলিয়ে ৭ জন নিহত এবং ৫০ জন আহত হয়েছে। গাজা অভিযানের চতুর্দশ দিন মঙ্গলবার ভোর রাতে গাজার সাতটি মসজিদে হামলা চালিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী। ওই হামলায় ৭ জন নিহত হয়েছেন। এই নিয়ে গাজায় নিহতের সংখ্যা ছয় শতাধিক ছাড়াল।
ইসরাইলি সেনাদের কবর দেয়া হবে : হানিয়া
ফিলিস্তিনের সাবেক নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী ও হামাস নেতা ইসমাইল হানিয়া বলেছেন, ইসরাইলি সেনাদের জন্য গাজা হবে কবরস্থান। সোমবার রাতে ফিলিস্তিনি জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে তিনি এ হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন। ইসমাইল হানিয়া এমন সময় এই হুশিয়ারি উচ্চারণ করলেন যখন হামাস ৪৩ ইসরাইলি সেনাকে হত্যা এবং একজনকে আটক করার দাবি করেছে। অবশ্য ইসরাইল ২৭ সেনা নিহতের কথা স্বীকার করেছে। তিনি বলেন, গাজার চলমান আগ্রাসন ও গণহত্যার মাধ্যমে ইহুদিবাদী ইসরাইলের আসল চেহারা উন্মোচিত হয়েছে। তবে, শত বাধা এবং ইসরাইলের বারবার আগ্রাসন সত্ত্বেও ফিলিস্তিনিদেরকে তাদের সংগ্রামের পথ থেকে সরানো যায়নি। সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, অবরোধ তুলে নিতে ইসরাইল এবং মিসরের প্রতি হামাসের চাপ গাজার প্রায় ১৭ লাখ মানুষের দাবিকেই প্রতিধ্বনিত করে। তিনি বলেন, ‘আমরা পেছনে ফিরে যাব না, আমরা অবরোধে ধীরে ধীরে মৃত্যুমুখে ফিরে যাব না।
গাজার অধিবাসীরা তাদের রক্ত এবং সাহস দিয়ে অবরোধের ইতি টানবে।’ প্রসঙ্গত, ২০০৭ সালে ভোটের মাধ্যমে গাজায় হামাস ক্ষমতায় এলে ইসরাইল অবরোধ আরোপ করে একে বিশ্বের বৃহৎ কারাগারে পরিণত করে। এর সঙ্গে এক জোট হয়ে গাজায় প্রবেশের একমাত্র পথ রাফা ক্রসিং বন্ধ করে দেয় ইসরাইল ঘনিষ্ঠ মিসরের আল-সিসি সরকার। ইসরাইলি সৈন্য নিখোঁজ গাজায় আক্রমণকারী ইসরাইলি সেনাবাহিনীর এক সদস্যকে পাওয়া যাচ্ছে না। ধারণা করা হচ্ছে হামাস সদস্যরা তাকে আটক করেছে কিংবা তিনি নিহত হয়েছেন। ইসরাইলের একটি স্থানীয় সংবাদমাধ্যম মারফত ইসরাইলি সেনা নিখোঁজ হওয়ার সংবাদ পাওয়া গেছে। এদিকে, ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি হামলায় বিপর্যস্ত ফিলিস্তিনিদের ৪৭০ লাখ মার্কিন ডলার সহায়তা দেয়ার প্রতিশ্র“তি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি সোমবার এ প্রতিশ্র“তি দেন। যুক্তরাষ্ট্র ১৫০ লাখ মার্কিন ডলার ফিলিস্তিনি শরণার্থী সংস্থা ইউএনআরডাব্লিউএকে দেবে। বাকি ৩২০ লাখ মার্কিন ডলার ফিলিস্তিনিদের সহায়তা করতে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়নবিষয়ক সংস্থাকে দেয়া হবে। এএফপি।

গাজার ধ্বংসস্তূপে স্বজনদের খুঁজতে গিয়ে লাশ হলো যুবক

স্বজনদের খুঁজতে গিয়ে নিজেই লাশ হলো ফিলিস্তিনি এক যুবক। ইসরাইলের হামলায় তার পরিবারের সদস্যরা কোথায়, তারা নিহত হয়েছেন কিনা তা খুঁজতে গিয়েছিল ওই যুবক। কিন্তু ইসরাইলের সেনারা তার দিকে ঠান্ডা মাথায় গুলি করেছে। গুলিবিদ্ধ যুবক উঠে পালানোর চেষ্টা করলে ইসরাইলি সেনারা তাকে ফের গুলি করে। এতে নিরস্ত্র, বেসামরিক ওই যুবক গাজার ধ্বংসস্তূপের ওপর নিথর হয়ে পড়ে। রক্তে ভেসে যায় ইটপাথর। এ দৃশ্যটি ক্যামেরায় ধারণ করেছে প্যালেস্টাইনিয়ান ইন্টারন্যাশনাল সলিডারিটি মুভমেন্ট (আইএসএম)। তারা ওই যুবকের ওপর ক্যামেরা তাক করে রেখেছিল। ফলে ইসরাইলের ওই বর্বরতা তাদের ক্যামেরায় বন্দি হয়। মর্মান্তিক ওই ভিডিওটি তারা পরে প্রকাশ করেছে। ইসরাইল এভাবেই শুধু বেসামরিক মানুষকে হত্যা করছে না। তারা সোমবার দিবাগত রাতে গাজায় ৫টি মসজিদে বোমা হামলা করেছে। বোমা হামলা করেছে আল আকসা হাসপাতালে। একটি ক্রীড়া কমপ্লেক্সে। হামাসের সাবেক এক সামরিক প্রধানের বাড়িতে। এ নিয়ে ইসরাইলের এই নৃশংস হামলায় এ পর্যন্ত গাজায় নিহত হলেন ৬ শতাধিক মানুষ। পক্ষান্তরে ইসরাইলের সেনা নিহত হয়েছে ২৭ জন। গত ৮ই জুলাই থেকে নিরবচ্ছিন্নভাবে ফিলিস্তিনের গাজায় হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরাইল। গত দু’তিন দিন ধরে তারা আকাশ, স্থল ও জলপথে একযোগে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এতে নিহত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। জাতিসংঘ বলেছে, ফিলিস্তিনে নিহতদের বেশির ভাগই শিশু। নিরপরাধ এসব শিশুর লাশ স্তূপ করে রাখা হচ্ছে হাসপাতালের মর্গে। বোমার আঘাতে তাদের শরীর ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে। অনলাইনে পোস্ট করা ফিলিস্তিনি এক সাংবাদিকের এক ছবিতে দেখা যায়, একটি শিশুর মাথার খুলি উড়ে গেছে। তাকে শুইয়ে রাখা হয়েছে। তার মগজ বেরিয়ে গড়িয়ে পড়ছে। আরেকটি শিশুর পেট থেকে বেরিয়ে পড়েছে নাড়িভুঁড়ি। মুহাম্মদ আবদেল্লাহ ও আইএসএমের স্বেচ্ছাসেবকরা বলেছেন, রোববার তারা শিজাইয়াহ এলাকায় যাচ্ছিলেন। এই এলাকায় ইসরাইল সবচেয়ে বেশি ও দীর্ঘস্থায়ী হামলা চালিয়েছে। তখনই ওই এলাকায় তারা ওই যুবককে দেখতে পায়। সে ধ্বংসস্তূপের মাঝে কাউকে খুঁজছিলেন। এ কথা জানতে পেরে তারা ক্যামেরা তাক করে তার দিকে। কিন্তু ইসরাইলের সেনারা তার দিকে প্রথম গুলি করে। হামাগুড়ি দিয়ে সে রক্ষা পায় সে যাত্রায়। ওই গুলিটি কারও গায়ে লাগেনি। কিন্তু দ্বিতীয় গুলিটি তার শরীর ভেদ করে। সে আর্তনাদ করে ধ্বংসস্তূপের ওপর পড়ে যায়। তারপর ছটফট করতে করতে  মারা যায়। এ অবস্থা দেখে আবদেল্লাহ ও অন্যরা আত্মরক্ষার জন্য দূরে সরে যায়।  নাহলে তারাও ইসরাইলি সেনাদের নৃশংসতার শিকার হতে পারতো। তাদের ধারণা যে গুলিতে যুবকটি মারা গিয়েছে তা তার হৃৎপি-কে ভেদ করেছে। গুলি লাগার পর  সে দৌড়ানোর চেষ্টা করে। কিন্তু ব্যর্থ হয়ে তাদের সামনে পড়ে যায়। এরপর ইসরাইলি সেনারা পিছন থেকে তার নিতম্বে গুলি করে। এ সময় তাদের একজন কাছে গিয়ে ওই যুবককে জিজ্ঞাসা করে সে নড়াচড়া করতে পারবে কিনা। পারলে তাকে সরিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু তাদের প্রস্তাবে সে নেতিবাচক জবাব দেয়। বলে, না। আমি আর নড়াচড়া করতে পারছি না। আমার সারা শরীর রক্তে ভিজে গেছে। এ অবস্থায় জীবনের ভয়ে তাকে ফেলে আইএসএমের স্বেচ্ছাসেবকরা সরে যান। তারপর ইসরাইলি সেনারা তার ওপর আবার গুলি করে। জীবনপ্রদীপ একেবারে নিভে যায় তার। ওদিকে ইসরাইলের তীব্র হামলায় গাজা এখন এক মৃত্যুপুরী। হাসপাতালে লাশ। রাস্তায় লাশ। বিধ্বস্ত ভবনের ভিতর পড়ে আছে লাশ। হাসপাতালগুলো ভরে গেছে আহত নারী, শিশু ও পুরুষে। এর মধ্যে শিশুদের অবস্থা ভয়াবহ। স্থান সংকুলান হচ্ছে না হাসপাতালে। একই সিটে অবস্থান করছে তিন-চারটি শিশু। তাদের শরীর ক্ষত-বিক্ষত। এরই মধ্যে তাদের এক শিশু এক চিকিৎসককে আঁকড়ে ধরে তার পিতাকে এনে দেয়ার যে আকুতি জানিয়েছে তা আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ হয়েছে। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে ৭০টি স্থাপনার ওপর বোমা ফেলা হয়েছে। গাজার বেসামরিক এ অবস্থাকে বিপর্যয়কর বলে বর্ণনা করেছে জাতিসংঘের ত্রাণ দফতর। জাতিসংঘ মানবিক বিষয়ক দপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, গাজায় জনবসতি এতটাই ঘন যে গোলার হাত থেকে পালানোর কোন জায়গা নেই। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, ইসরাইলি গোলার আঘাতে গাজায় ১৮টি হাসপাতাল ও ক্লিনিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গাজায় অভিযান চালানোর সময় নিখোঁজ হয়েছে এক ইসরাইলি সেনা। তাকে হামাস ধরে নিয়ে গেছে কিনা তা পরিষ্কার নয়। ওদিকে গাজায় যুদ্ধবিরতির জন্য নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগ শুরু হয়েছে। একদিকে কূটনৈতিক উদ্যোগ চলছে, অন্যদিকে তার চেয়ে বেশি গতিতে ইসরাইল গাজায় রক্তস্রোত বইয়ে দিচ্ছে। এ নিয়ে মিশরে আলোচনা করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন ও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি। এরপরই জন কেরি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র গাজায় হতাহতের ঘটনায় উদ্বিগ্ন। তবে তিনি ইসরাইলের সামরিক অভিযানকে যথার্থ ও ন্যায়সঙ্গত বলে সমর্থন দেন। এ সময় তিনি বলেন, তাৎক্ষণিক মানবিক সহায়তা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ৪ কোটি ৭০ লাখ ডলার পাঠাচ্ছে গাজায়। যৌথ এক বিবৃতিতে পরে মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সামেহ শুকরি ও জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি-মুন বলেন, তাদের আলোচনা গঠনমূলক হয়েছে। তিনি আবারও যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছেন।

প্রশাসন নিষ্ক্রিয়, ছাত্রনেতারাই হর্তাকর্তা -ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হল ব্যবস্থাপনা by আসিফুর রহমান

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ অনুযায়ী হলে শিক্ষার্থীদের আবাসন সমস্যার সমাধানসহ সব কর্মকাণ্ড পরিচালিত হবে কর্তৃপক্ষের নির্দেশে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, হলগুলোর ওপর প্রশাসনের কোনো নিয়ন্ত্রণই নেই। ফলে হলগুলোতে শিক্ষার্থী ওঠানো, কক্ষ বরাদ্দ দেওয়া, হলে কে থাকবেন আর কে থাকবেন না—সবই নির্ভর করে ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠনের নেতাদের মর্জির ওপর। আর তাঁদের কাছে জিম্মি হাজারও শিক্ষার্থী।
প্রথম আলোর অনুসন্ধানে দেখা গেছে, হলগুলোতে প্রাধ্যক্ষরা কার্যত নিষ্ক্রিয়, আবাসিক শিক্ষকেরা খোঁজ নেন না সাধারণ শিক্ষার্থীদের। হল প্রশাসনের শিক্ষার্থীদের হলে তোলার কথা থাকলেও কাজটি করেন ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রনেতারা। আর এই সুযোগে প্রথম বর্ষের ছাত্রদের হলে তুলে জোর করে মিছিলে নেওয়া হয়।
হলগুলোতে খোঁজ নিয়ে এবং ছাত্রলীগের হল শাখার নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের অন্তত এক হাজার শিক্ষার্থী হলে উঠেছেন। এঁদের ওঠানোর পেছনে সবচেয়ে বড় পরিচয় হিসেবে দেখাতে হয়েছে, তাঁরা সবাই ছাত্রলীগ করেন।
এর মধ্যে হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলে ২৫০ জন, জহুরুল হক হলে দেড় শ’র বেশি, সূর্যসেন হলে ১৮৫, জিয়া হলে ৬০, বঙ্গবন্ধু হলে ৫৫, জসীমউদ্দীন হলে ৩৫, এফ রহমান হলে ২২, জগন্নাথ হলে ৯৫, ফজলুল হক হলে ৬৫, শহীদুল্লাহ হলে ৪৩ ও অমর একুশে হলে ৪০ জন শিক্ষার্থী ছাত্রলীগের মাধ্যমে উঠেছেন।
এ ছাড়া সলিমুল্লাহ মুসলিম (এসএম) হলে ৯৭ জন শিক্ষার্থী উঠেছিলেন। তাঁদের গত ১০ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে ছাত্রলীগ বের করে দেয়। তাঁদের নিজ নিজ এলাকার আওয়ামী লীগ নেতার সুপারিশ নিয়ে আসতে বলা হয়। পরে ওই শিক্ষার্থীদের অনেকে নিজ এলাকার আওয়ামী লীগের নেতাদের সুপারিশপত্র এনে হলে উঠেছেন বলে জানা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, হলে থাকতে হলে ছাত্রলীগের মিছিল-সমাবেশে অংশগ্রহণ অনেকটা বাধ্যতামূলক। চলতি বছর বিভিন্ন হলে ওঠা প্রথম বর্ষের ১২ জন শিক্ষার্থীর সঙ্গে এ প্রতিবেদকের কথা হয়। তাঁরা জানান, হলে ওঠার পর বিভিন্ন সময়ে রাতে মিছিলের নামে প্রথম বর্ষের ছাত্রদের দিয়ে মহড়া দেওয়ান ছাত্রনেতারা। অনেক সময় তাঁদের দিয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আকস্মিক অভিযানের নামে বেড়াতে আসা বাইরের লোকজনকে অপদস্ত বা মারধর করা হয়। এর মাধ্যমে মফস্বল থেকে আসা শিক্ষার্থীদের ‘সাহসী’ করার নামে মূলত মারামারির প্রাথমিক পাঠ দেওয়া হয়।
অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান। তিনি দাবি করেন, ‘আমরা সবাইকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সংগঠনে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানাই। জোর করে কাউকে রাজনীতি করানোর নজির আমাদের নেই।’
মেহেদী হাসান অস্বীকার করলেও ছাত্রনেতাদের নির্দেশ না শুনলে যখন-তখন হল থেকে পিটিয়ে বের করে দেওয়ার অনেক নজির রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিস ও সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে অন্তত ৯৪ জন শিক্ষার্থীকে হল থেকে বের করে দিয়েছে ছাত্রলীগ।
ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক নাজমুল হাসান অভিযোগ করেন, শুধু ছাত্রদল করার কারণে গত পাঁচ বছরে ১৪৩ জনকে হল থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে।
অবশ্য বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল, তখন ছাত্রদলও একইভাবে শিক্ষার্থীদের নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করেছিল। হল থেকে ছাত্রলীগের অনেক কর্মীকে বের করে দিয়েছিল।
এ নিয়ে চারটি হলের প্রাধ্যক্ষের সঙ্গে এ প্রতিবেদকের কথা হয়। তাঁরা জানান, দল ভারী করার জন্য ছাত্রনেতারা প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের হলে তোলেন। নির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধি না থাকায় যখন যে সরকার থাকে, তাদের ছাত্রসংগঠনের একচেটিয়া আধিপত্য থাকায় তাদের কছে প্রশাসনও জিম্মি।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক বায়তুল্লাহ কাদেরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘যারা অবৈধভাবে হলে উঠছে এবং যারা ওঠাচ্ছে, দুই পক্ষই সুযোগ নিচ্ছে। রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন না হলে এমন দুর্বৃত্তায়ন চলতেই থাকবে।’
তবে উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক প্রথম আলোকে বলেন, ‘হলে কে থাকছে আর কে থাকছে না, তা দেখার দায়িত্ব প্রাধ্যক্ষের। যদি তাঁকে ফাঁকি দিয়ে কেউ হলে কাউকে রাখে, তার বিরুদ্ধে প্রাধ্যক্ষ শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারবেন।’

‘মন্ত্রী সচল থাকলেও সড়কগুলো অচলপ্রায়’ by আলী ইমাম মজুমদার

ঈদ সামনে। এ সময় স্বজনদের সান্নিধ্য পাওয়ার আশায় স্থান থেকে স্থানান্তরে আসা-যাওয়া করবে লাখ লাখ লোক। এ দেশের এককালীন নৌ ও রেল যোগাযোগনির্ভর মানুষ গত অর্ধশতাব্দী যাবৎ ক্রমান্বয়ে অধিকতর হারে সড়ক-মহাসড়কের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। নৌ আর রেলপথকে ক্রমান্বয়ে উপেক্ষা করে বিশাল সড়ক যোগাযোগ নেটওয়ার্কও গড়ে উঠেছে। জনসংখ্যা আর মানুষের আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি ঈদে বেড়াতে যাওয়ার সংস্কৃতিও ক্রমান্বয়ে জোরদার হচ্ছে। জানা যায়, শুধু কক্সবাজারেই আসন্ন ঈদে যাওয়ার কথা দেড় লাখ লোকের। তাদের মধ্যে গুটি কয়েক ভাগ্যবান বিমানযাত্রী ছাড়া সবারই ভরসা সড়কপথ। অথচ ঢাকা থেকে কক্সবাজারে যেতেই এখন লাগছে ২০ থেকে ২২ ঘণ্টা। স্বাভাবিক অবস্থায় তা হওয়ার কথা সাত থেকে আট ঘণ্টা। ছুটি কাটাতে যাওয়ার ব্যাপার
বাদ রাখলেও প্রিয়জনের সান্নিধ্যে ঈদ করতে কত লাখ লোক ছোটে, তার সঠিক হিসাব কোথাও নেই। কিছু যায় নৌ আর রেলপথে। তাদেরও যথেষ্ট ভোগান্তি সহ্য করতে হয়। কিন্তু সিংহভাগ সড়কপথে যাত্রীর ভোগান্তি অন্য সবকিছুকে পেছনে ফেলছে আজ বেশ কয়েক বছর। অথচ ঠিক এমনটা ছিল না বছর দশেক আগেও।
এ সময়ে যাত্রীসংখ্যার তুলনায় যানবাহনের অপ্রতুলতা ভোগান্তির একটি কারণ। কিন্তু মূল সমস্যা হলো সড়ক যোগাযোগ নেটওয়ার্কের বেহাল অবস্থা। গত কয়েক দশক এ নেটওয়ার্কটির বিশাল অংশ চলাচলের প্রায় অযোগ্য হয়ে যায় বর্ষায়। তার পরও অধিকতর যানবাহনের চাপে এসব সড়ক-মহাসড়ক এ সময়ে পাড়ি দিতে সৃষ্টি হয় অচলাবস্থার। আর সে অবস্থা দূরীকরণে নেওয়া হয় সাময়িক কিছু কার্যক্রম। এতে ভোগান্তি কিছুটা হ্রাস পায়। শেষ হয় ঈদ উৎসব। কিন্তু ব্যাপারটি পূর্ববর্তীই থেকে যায়।

এসব সড়ক-মহাসড়ক তৈরি ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অধীন সড়ক ও জনপথ বিভাগের। এ সংস্থাটি নতুন করে যাত্রা শুরু করেছে ১৯৬২ সালে। এর আগে এটা ছিল কমিউনিকেশন ও বিল্ডিং (সিঅ্যান্ডবি) বিভাগের একটি অংশ। তখন এর আওতায় ছিল আড়াই হাজার কিলোমিটার সড়ক। আর এখন তার পরিমাণ ২১ হাজার ৫০০ কিলোমিটার। এর মধ্যে জাতীয় ও আঞ্চলিক হাইওয়ে আর জেলা সড়ক রয়েছে। এ ছাড়া তাদের আওতায় আছে ২২ হাজার ব্রিজ ও কালভার্ট। অবশ্য এক হাজার ৫০০ মিটারের ঊর্ধ্বে সেতু, ফ্লাইওভার, ওভারপাসের দায়িত্বে রয়েছে সেতু কর্তৃপক্ষ নামে আরেকটি সংস্থা। সড়ক ও জনপথ বিভাগের এ বিশাল কাঠামো ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছেন নয় হাজার ৩০০ স্থায়ী আর আট হাজার ৭০০ অস্থায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারী। সুতরাং, অবকাঠামোর ব্যাপকতার সঙ্গে তাদের জনবলকাঠামোও সংগতিপূর্ণ বলেই বিবেচনা করা যায়। তাদের কাজের রূপকল্প দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের অনুকূল, টেকসই, নিরাপদ ও মানসম্মত সড়ক অবকাঠামো তৈরি ও রক্ষণাবেক্ষণ। এ সংস্থার কাজ তদারকি, এ বিষয়ে প্রকল্প প্রস্তাবের অগ্রাধিকার নির্ধারণ, বাজেট নিয়ন্ত্রণসহ সামগ্রিক নীতিনির্ধারণের দায়িত্বে রয়েছে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সড়ক বিভাগ।
প্রায় এক দশক যাবৎ সড়ক ও জনপথ বিভাগের কাজকর্মে একটি বিস্ময়কর জড়তা লক্ষণীয় হচ্ছে। এটা সত্যি, তারা তাদের এ বিশাল সড়ক নেটওয়ার্ক রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সময়মতো পর্যাপ্ত বরাদ্দ পায় না। সীমিত সম্পদের দেশে এটা অস্বাভাবিক নয়। অতীতেও কখনো চাহিদা অনুযায়ী বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। তবে যতটুকু পাওয়া যায়, তা অগ্রাধিকার নির্ণয় করে সময়োচিত ব্যবহার করলে অবস্থা এ পর্যায়ে আসতে পারে না। এটাও ঠিক, রাজনৈতিক চাপে সঠিক ঠিকাদার নিয়োগ ও তাদের থেকে কাজ আদায় করা কঠিন হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি এটাও জানা যায় যে সেই ঠিকাদার চক্রের সঙ্গে একীভূত হয়ে গেছেন এ বিভাগের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী। এই বেহাল অবস্থায়ও তাঁদের মধ্যে প্রয়োজনীয় তৎপরতা অদৌ লক্ষণীয় হয় না।
সংস্থাটি যেহেতু যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অধীন, তাই স্বাভাবিকভাবে এর নৈতিক দায় তাদের ওপর বর্তায়। সংসদ ও জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে হয় এ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীকে। তিনি আজ প্রায় আড়াই বছর এ পদে বহাল আছেন। মন্ত্রণালয়টির আগের নেতিবাচক ভাবমূর্তি কিছুটা হলেও দূর করতে সক্ষম হয়েছেন তিনি। এ–জাতীয় ঈদ উৎসবের আগে সড়ক নেটওয়ার্ক কার্যকর রাখার জন্য অবিরাম ছোটাছুটি করেন মাস খানেক আগে থেকেই। পাশাপাশি তাঁর মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত ২৪টি কমিটিও তদারক করে যাচ্ছে বলে খবরে জানা যায়। পাশাপাশি এটাও বলার থাকে যে যাদের এ কাজগুলো করার কথা, তাদের দিয়ে তারা তা করাতে পারছে না। জনবল, যন্ত্রপাতি ও অতীত অভিজ্ঞতাসম্পন্ন সড়ক ও জনপথ বিভাগ নামের প্রতিষ্ঠানটিতে কার্যত গতি আনতে সক্ষম হয়নি এ মন্ত্রণালয়। এটা কার ব্যর্থতা, সেটা তলিয়ে দেখার আবশ্যকতা রয়েছে।
রাজনৈতিক চাপ আর বিভাগীয় কর্মকর্তাদের এর সঙ্গে একাত্মতায় নিম্নমানের কাজের অভিযোগ শুধু এ সংস্থার ওপরই আসে না। এ দায় দেশের প্রায় সব বেসামরিক প্রতিষ্ঠানের নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণকাজের জন্যই প্রযোজ্য। তাই বলে অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো এভাবে এতটা নিষ্ক্রিয় হয়ে গেছে, এমনটা বলা যাবে না। কোনো মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী কিংবা এর কর্মকর্তাদের পরিদর্শন টিম এভাবে আর কোথাও ছুটছে না। হতে পারে ঈদের সময় সড়ক অবকাঠামোর ওপর ব্যাপক চাপ মোকাবিলার মতো চ্যালেঞ্জ অন্যদের নেই। এ ক্ষেত্রে বলতে হবে, সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার সামর্থ্য বিবেচনা করেই এ বিশাল সংস্থাটির সৃষ্টি ও বিকাশ হয়েছে। অনেক বড় সড়ক, মহাসড়ক, সেতু তৈরি আর রক্ষণাবেক্ষণের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাদের। তাহলে গত কয়েক বছর সড়ক-মহাসড়কগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে এ রকম উদাসীনতা থাকবে কেন? আর কেনই বা মন্ত্রণালয় তার অধীন সংস্থাটিকে দায়িত্ব পালনে তৎপর করতে পারছে না? এভাবে মন্ত্রী ও তদারক কমিটিগুলোর নিরন্তর দৌড়–ঝাঁপ এ সংস্থার প্রাতিষ্ঠানিক অবকাঠামোর কার্যকারিতা প্রশ্নবিদ্ধ করে ফেলছে।
মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, সচিবসহ অন্য কর্মকর্তাদের দায়িত্ব মূলত নীতি প্রণয়ন, লক্ষ্য নির্ধারণ এবং সেই লক্ষ্য অর্জনের জন্য তহবিল সংগ্রহ। পাশাপাশি অধীনস্থ সংস্থার কাজ তদারক, নির্দেশনা আর ক্ষেত্রবিশেষে আন্তমন্ত্রণালয় সম্পর্কবিষয়ক জটিলতা নিরসন। এভাবেই চলছে দেশের অন্য সব প্রতিষ্ঠান আর মন্ত্রণালয় ও বিভাগ। সবকিছুই ঠিকঠাক চলছে এমন দাবি কেউ করে না। তা সত্ত্বেও একটি সংস্থার কাজ নিয়ে মন্ত্রণালয় প্রত্যক্ষভাবে এ রকম সংশ্লিষ্ট হওয়ার নজির সম্ভবত সাম্প্রতিককালে নেই। পত্রিকান্তরের খবর থেকে জানা যায়, বর্তমান যোগাযোগমন্ত্রী গত আড়াই বছরে ৬৪ জেলার ২০৪টি উপজেলায় ৩৮১ দিন সড়ক-মহাসড়ক পরিদর্শন করেছেন। তাঁর অধীন তদারক টিমগুলোও একইভাবে সক্রিয়। তবে গণমাধ্যম ফোড়ন কাটছে ‘মন্ত্রী সচল থাকলেও মহাসড়কগুলো এখনো অচলপ্রায়’। অনুসন্ধানী প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সময়মতো মানসম্মত কাজ না করার কারণে এ অবস্থা হয়েছে।

ঈদ অত্যাসন্ন। সক্রিয় ও আন্তরিক যোগাযোগমন্ত্রীর সদিচ্ছায় এবারও হয়তো বা অচলাবস্থা কিছুটা কেটে যাবে। তবে এভাবে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনা স্থায়ীভাবে চলতে পারে না। সড়ক ও জনপথ বিভাগের এ নিষ্ক্রিয়তার অবসান ঘটাতে মন্ত্রণালয়কেই উদ্যোগী হতে হবে। তদারক টিম হয়তো থাকবে, কিন্তু মূল কাজ করাতে হবে সংস্থাকে দিয়েই। তাদের মধ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে কেউ অনীহা দেখালে শাস্তি অবশ্যই দেওয়া যাবে। তবে প্রয়োজন রয়েছে সংস্থাটির ভেঙে পড়া কর্মসংস্কৃতি নতুনভাবে গড়ে তোলার। এটা অসাধ্য কোনো বিষয় হওয়ার কথা নয়। যার কাজ তাকেই করতে হবে। বিভিন্ন স্তর থেকে অবিরাম তদারকি ক্ষেত্রবিশেষে মাঠ কর্মকর্তাদের উদ্দীপনা শিথিল করে দেয়। তাঁরা নির্ভরশীল হয়ে পড়েন নির্দেশনার জন্য। পর্যাপ্ত ক্ষমতা অর্পণ আর যথোপযুক্ত তদারকিই আদর্শ কর্মসংস্কৃতি গড়ে তুলতে পারে। আর এ তদারকির সিংহভাগই করার কথা সেই বিভাগের ঊর্ধ্বতন প্রকৌশলীদের। এ রকম না করলে মন্ত্রণালয়ের বর্তমান তদারকব্যবস্থা সাময়িক কিছু সুফল দেবে। কিন্তু ঘুরে দাঁড়াবে না ঐতিহ্যবাহী এ প্রকৌশল প্রতিষ্ঠানটি। তাই সময়ের দাবির দিকে বিশেষ নজর দেওয়া হোক। তাদেরও বর্তমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দৃঢ়তার সঙ্গে অগ্রসর হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। সেদিকে অনুপ্রাণিত করতে পারে মন্ত্রণালয়। দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের জন্য টেকসই যোগাযোগব্যবস্থা অপরিহার্য। আর সেই ব্যবস্থা যারা করবে, তাদের সক্ষমতার ক্রমহ্রাসমান অবস্থার অবসান অতি প্রয়োজনীয়।
আলী ইমাম মজুমদার: সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব।
majumder234@yahoo.com

মুক্তিযোদ্ধা সনদ কেলেঙ্কারি -ভুয়া সনদের দাতা ও গ্রহীতার বিচার হতে হবে

জাল মুক্তিযোদ্ধা সনদধারীদের চিহ্নিত করার কাজ শুরু হওয়া ভালো উদ্যোগ। নতুন ৩৫ জনসহ সম্প্রতি ১৫১ জন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর সনদ বাতিল হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা সনদ বণ্টনে যে ধরনের দুর্নীতির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে, জাল সনদ খোঁজায় যেন সেটি হবে না বলেই আশা করা গিয়েছিল। কিন্তু কয়েকজন সচিবের জাল সনদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত না হওয়ায় আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।
মুক্তিযুদ্ধের সনদ প্রতারণার দায় থেকে পূর্বাপর কোনো সরকারই মুক্ত নয়। মুক্তিযোদ্ধা পরিচয়ে যখন সুযোগ-সুবিধার দরজা খোলে, তখন তা দুর্নীতির দুয়ারও খুলে দেয়। মুক্তিযোদ্ধা সনদ দেখাতে পারলে চাকরির মেয়াদ এক বছর বাড়ানোর সুযোগ খোলা মাত্রই তাই জনপ্রশাসনের কর্মকর্তাদের মধ্যে সনদ নেওয়ার হিড়িক পড়ে গিয়েছিল। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একটি প্রজ্ঞাপনে সুস্পষ্টভাবে বলা রয়েছে, চাকরিতে যোগ দেওয়ার সময়ে না জানালে পরে কাউকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে বিবেচনা করা হবে না। তাহলে পরে যাঁরা আবেদন করেছেন, তাঁদের আবেদন বিবেচনা করা হলো কিসের ভিত্তিতে?
আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের পাঁচ বছরে মুক্তিযোদ্ধা সনদ নিয়েছেন বিভিন্ন পেশার মোট ১১ হাজার ১৫০ জন। সংখ্যাটি ব্যাপক! সম্প্রতি সনদ জাল করে চাকরি নেওয়ার অভিযোগে আটক হয়েছেন পুলিশের ২৩ কনস্টেবল। মুক্তিযোদ্ধা কোটায় প্রাথমিক শিক্ষক পদে আবেদনকারী এক হাজার ৩৩৮ জনের মধ্যে ১৫২ জনের সনদ ভুয়া প্রমাণিত হয়। প্রশ্ন উঠেছে রাষ্ট্রীয় সুবিধা নেওয়া সাত হাজার সনদধারীকে নিয়েও। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় এখন ভুয়া সনদ বাতিলের ভঙ্গি করছে, কিন্তু সময়মতো এগুলো ঠেকানো হলো না কেন? যাঁদের সময়ে এই সীমাহীন দুর্নীতি হয়েছে, তাঁদের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে না কেন?
দলের খাতিরে বনে যাওয়া মুক্তিযোদ্ধা, সুপারিশে রূপান্তরিত মুক্তিযোদ্ধাদের সংখ্যা এখন হাজার হাজার। এঁরা এবং এঁদের সনদদাতারা শুধু মুক্তিযুদ্ধের মর্যাদা, ইতিহাস ও অবদানই আত্মসাৎ করেননি, তাঁরা প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদেরও তাঁদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করেছেন। এঁরা ক্ষমার অযোগ্য, এঁদের বিচার হতে হবে।

তাজউদ্দীন আহমদ এবং সরদার স্যার by সিমিন হোসেন রিমি

১৯৮০ সালের একেবারে শুরুতে সবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রথম বর্ষে ভর্তি হয়েছি। সবকিছু বড় বড় এবং নতুন। বলতে গেলে একেবারে কিছুই চিনি না। রুটিন এবং পাঠ্যসূচি হাতে পেয়ে সেগুলোই নাড়াচাড়া করি। মুখস্থ করে ফেলি ক্লাসরুম নম্বর, সিঁড়ির পথ, করিডর। অচেনা সবকিছুকে ঠেলে ঘড়ির কাঁটা ধরে বোকার মতো দাঁড়িয়ে থাকি রুমের সামনে। কিন্তু শিক্ষকের দেখা মেলে না, আমাদের ক্লাসও শুরু হয় না।
কিছুদিন পর একসময় সাহস করে ভেতরে ঢুকি। পরিচয় হয় একে একে। এরপর আরও কিছুদিন পর আমাদের রুটিনে শিক্ষকের নাম পরিবর্তন হয়। আমরা আমাদের প্রথম শিক্ষক হিসেবে পাই শওকত আরা আপাকে। তিনি আমাদের প্রাচীন গ্রিক সভ্যতা পড়াতে শুরু করলেন।
আমি মন্ত্রমুগ্ধের মতো তাঁর প্রতিটি ক্লাসে উপস্থিত থেকে শুনতাম তাঁর প্রতিটি কথা। সক্রেটিস (স্কুলজীবন থেকে যিনি আমার আদর্শ, অন্তরের খুব কাছের মানুষ), প্লেটো, অ্যারিস্টটল পড়তে গিয়ে আমার শুধু মনে হয় আরও জানতে হবে, আরও জানতে হবে।
নিউমার্কেটে বইয়ের দোকানে দু-একজন সহপাঠীসহ বইয়ের খোঁজে ঘুরে বেড়াই। সরদার ফজলুল করিমের অনুবাদগ্রন্থ প্লেটোর রিপাবলিক কিনি। দর্শন কোষ কিনি। সরদার ফজলুল করিম রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষক। স্যারকে সামনাসামনি দেখে বিস্ময়ে অভিভূত হয়ে যাই।
সহপাঠী ছোটন আর আমার মাথায় ঢোকে সরদার স্যারের কাছে রাষ্ট্রতত্ত্ব পড়ব।
একদিন স্যারের ক্লাসের বাইরে অপেক্ষা করতে থাকি। ক্লাস শেষে স্যারের পেছন পেছন হাঁটতে হাঁটতে বললাম, রাষ্ট্রতত্ত্ব পড়তে চাই। স্যার থমকে দাঁড়ালেন। খুব খুশি হলেন। বললেন, ‘আমি তো অনার্সের ক্লাস নিই না, তবে তোমরা যখন এসেছ আগ্রহ করে, এই আগ্রহকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে।’ স্যার বললেন, ‘তোমরা আটজন এসো এক সঙ্গে, দেখি কী করা যায়।’
আমাদের প্রথম বর্ষের ক্লাস শুরু হয়েছে দেরিতে, সঙ্গে নতুন একটা বিষয়, কেউ রাজি হলো না। স্যারকে এ কথা জানাতে গেলে তিনি মাঝে মাঝে দেখা করতে বললেন। সেই শুরু সরদার ফজলুল করিম স্যারের কাছে আমার অল্প অল্প যাওয়া।
অদ্ভুত লাগে মানুষটিকে। অসম্ভব পজিটিভ। বাবার সঙ্গে মিল খুঁজি। নিজের ভেতরে নতুন করে সাজাই সংসার, সমাজ, রাষ্ট্র, রাজনীতি, বিশ্বচরাচর। অনন্ত জিজ্ঞাসা মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা, স্বাধীন দেশে ১৫ আগস্টের নৃশংস হত্যাকাণ্ড ও জেলহত্যা নিয়ে।
স্যারের সঙ্গে মাঝে দিয়ে দেখা নেই অনেক দিন। ১৯৮৬ সালে হঠাৎ একদিন তাজউদ্দীন আহমদের ডায়েরি আম্মার (সৈয়দা জোহরা তাজউদ্দীন) কাছে ফিরিয়ে দিতে এলেন বদরুদ্দীন উমর। তাঁর সঙ্গে আরও দুজন এবং সরদার ফজলুল করিম স্যার।
স্যার আমাকে এই বাসায় দেখে অবাক হলেন। আমি তাজউদ্দীন আহমদের মেয়ে জেনে বললেন, ‘কী সাংঘাতিক মেয়ে! এত দিন একবারও বলে নাই এর পরিচয়!’
স্যার স্বভাবসুলভ হাসতে হাসতে বললেন, ‘তাজউদ্দীন ও আমার জন্ম একই বছর, ১৯২৫ সালে। তাজউদ্দীন সম্পর্কে আমার একটা ধারণা অথবা বলা যায় দৃঢ় বিশ্বাস আছে, সেটা তোমাকে আরও আগে বলা যেত।’
স্যার ইংরেজিতে বলেন, ‘তাজউদ্দীন কেম বিফোর হিজ টাইম অ্যান্ড হি ইজ ইয়েট টু বি আন্ডারস্টুড।’ নিজেই বাংলা করলেন, ‘তাজউদ্দীন সময়ের অনেক আগে আবির্ভূত হয়েছেন, তাই তাঁকে বুঝতে আমাদের এখনো অনেক বাকি।’
আমি খাতায় লিখে রাখি।
এর পর থেকে যখনই দেখা হয় অথবা দীর্ঘক্ষণ ফোনে কথা, স্যার তাজউদ্দীন প্রসঙ্গ টানতেন প্রায় একই ছন্দে, একই শব্দে—‘আমার জন্ম ১৯২৫, তাজউদ্দীনেরও। কিন্তু দেখো, তাজউদ্দীন তাঁর ডায়েরি লিখতে গিয়ে বরিশালের কোনো অখ্যাত সরদার ফজলুল করিম ছাত্রদের প্রতিবাদ সভায় যোগ দিয়েছিল, সে কথা লিখে রেখেছেন। আমি তো লিখিনি। মনেও রাখিনি কত কাউকে। তাজউদ্দীন লিখেছেন, সরদারের নাম, আরও অনেকের নাম।’
বাবার বন্ধু এবং শুভানুধ্যায়ী, যাঁদের প্রবল আগ্রহে ২৩ জুলাই ১৯৮৭ সালে প্রথম ছোট পরিসরে জন্মদিনের স্মরণ আয়োজন হয়েছিল, সরদার স্যার তাঁদের অন্যতম একজন।
১৯৭১ সালের ৭ সেপ্টেম্বর বাংলা একাডেমি থেকে পাকিস্তান আর্মি সরদার স্যারকে ধরে নিয়ে টর্চার সেলে আটকে রাখে। স্যার সেই বর্ণনাও দিয়েছিলেন তাঁর স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে, যা আজ শুধুই স্মৃতি। ছোটখাটো এই মানুষটিকে জিজ্ঞাসাবাদের নামে মানসিক অত্যাচার করার সময়ে পাকিস্তান আর্মির লোকেরা চিৎকার করে বলত, ‘ইউ পিপল দ্য বাস্টার্ড সানস অব তাজউদ্দীন, উই শ্যাল টিচ ইউ আ গুড লেসন।’
‘আমি সরদার তখন ভাবতাম, তার মানে তাজউদ্দীন সঠিক পথেই আছে। আমাদের ভয় নাই। বঙ্গবন্ধু মুজিব তো ওদের হাতে বন্দী। তাই সব রাগ ওই তাজউদ্দীনের ওপর। তাজউদ্দীনকে পেলে ছিঁড়ে টুকরো টুকরো করে ফেলবে—এমন ছিল তাদের দাঁত-মুখের ভঙ্গি।’
স্যার তাঁর স্ত্রীকে অত্যন্ত সম্মান করতেন। স্ত্রীর জন্য দুষ্টুমিতে ভরা কথা শুনে নির্মল আনন্দ উপভোগ করতাম খুব। চাচি মাঝে মাঝে নালিশ করতেন, স্যার পাশে থেকে হাসতে থাকতেন। ছেলেমেয়েদের খুব ভালোবাসতেন। স্যারের ভালোবাসা ছিল একটু ভিন্ন প্রকৃতির। মানুষের নিজস্বতা যে বিষয়টি, তাকে তিনি মূল্য দিতেন সবকিছুর ঊর্ধ্বে। বড় ছেলেটিকে নিয়ে চিন্তিত থাকতেন। কিন্তু সেখানেও ছিল অদ্ভুত এক মূল্যায়ন।
ঢাকার শ্যামলী, মগবাজার, মধুবাগ, ইন্দিরা রোডের বিভিন্ন বাসায় থেকেছেন তিনি। শক্ত মজবুত তাঁর মন। সতেজ তরুণ যুবক তিনি। বয়স হার মানে। পা ভাঙে। জোড়া লাগে। বাস ধরে ছুটে চলেন গাজীপুরে অথবা পুরান ঢাকার সেন্ট্রাল উইমেন্স বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে পড়াতে। আমাদের পাঠচক্রেও আসেন। একালের সক্রেটিস ছোটখাটো ফরসা মানুষটি। প্রশ্ন আর উত্তরের সিঁড়ি ভাঙেন। দৃষ্টি প্রসারিত। মুখে আলোর বন্যা।
১৯৮৯ সালে দৈনিক সংবাদ–এর ২১ ফেব্রুয়ারি সংখ্যায় সরদার স্যার লেখেন, ‘হেগেলের দুর্বোধ্য ভাষায় ইতিহাসের দর্শন তত্ত্বের একটি পরিচিত উক্তি হচ্ছে, “বুদ্ধিমানরা ইতিহাসের সঙ্গে যায়, নির্বোধকে ইতিহাস টেনে নেয়”। তাজউদ্দীন আহমদ ছিলেন আমাদের সমকালীন সঙ্গীদের অন্যতম সেই ব্যক্তি, যিনি ইতিহাসের গতিপথকে সচেতনভাবে অনুসরণ করেছেন। যিনি ইতিহাসের সঙ্গে গেছেন।’
সরদার স্যার তাঁর অ্যারিস্টটলের পলিটিকস বইয়ের দ্বিতীয় সংস্করণের মুখবন্ধে লিখেছেন, ‘ব্যক্তি মানুষের মৃত্যু থাকে। কিন্তু যথার্থ চিন্তাবিদের কোনো মৃত্যু থাকে না। আমাদের স্মৃতিতেই তাঁদের জীবন। এবং তাঁদের জ্ঞান ও চিন্তার ভান্ডারের বিশ্লেষণ ও অনুধাবনের মধ্যেই যেকোনো বর্তমানের অচিন্তনীয় সমৃদ্ধি।’
সরদার স্যারের সুরে সুর মেলাই, তাজউদ্দীন আহমদের মতো মানুষেরা যুগে যুগে জন্ম নেন না। এই ক্ষণজন্মা মহাপ্রাণ মানুষেরা বিশ্বকে আলোকিত করেন তাঁদের চিন্তায়, কর্মে, আহ্বানে, যা প্রতিনিয়ত পথ দেখায় আজ, আগামী এবং অনাগত ভবিষ্যৎকে। সুন্দর ভবিষ্যৎ, আত্মপ্রত্যয়ী বাংলাদেশ গড়ে তুলতে আমরা যেন তাঁদের অনুসরণ করতে পারি গর্বিত-ভালোবাসায়।
সিমিন হোসেন রিমি: সাংসদ, সমাজকর্মী ও লেখক। তাজউদ্দীন আহমদের কন্যা।
simrim_71@hotmail.com

সরকারকে বাধা দেয় কে? by মশিউল আলম

১৮ জুলাই ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের দুটি সংগঠনের একটি করে অংশ যৌথভাবে এক ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেছিল। তাদের আমন্ত্রণে সেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি সেখানে সাংবাদিকদের উদ্দেশে একটি বক্তৃতাও করেছেন, যার কিছু বিবরণ সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর বক্তৃতার অনেক কথার মধ্যে যে অংশটি সংবাদমাধ্যমের বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে, তা বেশ কৌতূহলোদ্দীপক। তিনি সংবাদমাধ্যমের উদ্দেশে বলেন, ‘সরকারের সমালোচনা করুন, কিন্তু সরকারের সামনে বাধা সৃষ্টি করবেন না।’
আমাদের কৌতূহল, সংবাদমাধ্যম কীভাবে সরকারের সামনে বাধা সৃষ্টি করে? কী ধরনের বাধার কথা বলা হচ্ছে? সংবাদমাধ্যম কী করলে সরকারের কর্মসম্পাদনে বাধা সৃষ্টি হয়?

প্রধানমন্ত্রীর উক্তির মধ্যে অবশ্য কিছু ইশারা মেলে। তিনি বলেছেন, ‘সরকারবিরোধীদের ইন্ধন বা উসকানি দেবেন না। এটা গণমাধ্যমের কাজ নয়।’ এ রকম পরামর্শের কারণ সম্ভবত এই যে বাংলাদেশে কিছু কিছু সংবাদমাধ্যম সরকারবিরোধীদের ইন্ধন বা উসকানি দিয়ে থাকে। তারা এমন অসত্য ও ভিত্তিহীন প্রচারণা চালায়, যার ফলে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়। কিন্তু বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) যে অংশ ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) যে অংশ মিলিতভাবে ওই ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেছিল, তারা সরকারবান্ধব হিসেবেই পরিচিত। সে কারণেই তারা প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ জানিয়েছিল প্রধান অতিথির আসন অলংকৃত করতে এবং প্রধানমন্ত্রীও তাদের অনুরোধ রক্ষা করে ওই মাহফিলে যোগ দিয়েছিলেন। সরকারের সামনে বাধা সৃষ্টি না করা, সরকারবিরোধীদের ইন্ধন বা উসকানি না দেওয়ার পরামর্শ অন্তত তাদের দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। কারণ, তারা সরকারবান্ধব; তারা সরকারবিরোধীদের ইন্ধন বা উসকানি দেয় না। বরং পারলে উল্টোটাই করে।
তাহলে ব্যাপারটা দাঁড়াচ্ছে এই যে প্রধানমন্ত্রী সেদিন সরকারবান্ধব সাংবাদিকদের মাহফিলে ওই কথাগুলো বলেছেন সাংবাদিক সমাজের সেই অংশের উদ্দেশে, যারা সরকারবান্ধব নয়। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যটি এমনভাবে প্রকাশিত হয়েছে, যাতে মনে হয় সামগ্রিকভাবে গোটা সংবাদমাধ্যমকে উদ্দেশ করেই তিনি কথাগুলো বলেছেন। আসলে রাজনৈতিক দলের মুখপত্রের মতো আচরণ করে এমন হাতে গোনা দু-একটি সংবাদপ্রতিষ্ঠান ছাড়া সামগ্রিকভাবে সংবাদমাধ্যমের উদ্দেশে এমন কথা বলার সুযোগ নেই। নির্দিষ্টভাবে কোনো সংবাদপত্র বা টিভি চ্যানেলের আচরণে সরকারের অভিযোগ থাকলে সে ব্যাপারে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ আছে। প্রেস কাউন্সিলে অভিযোগ করা যায়, সেখানে সন্তোষজনক প্রতিকার না মিললে আদালতেও যাওয়ার বিধান রয়েছে। তা ছাড়া, সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে ঢালাওভাবে ‘ইন্ধন’ বা ‘উসকানি’র অভিযোগের মধ্যেও সুনির্দিষ্টতা থাকে না। আসলে দেখা উচিত কোনো সংবাদপ্রতিষ্ঠান দেশের প্রচলিত আইনের পরিপন্থী আচরণ করছে কি না। সংবাদপ্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে আইনের পরিপন্থী আচরণের মধ্যে প্রধান কয়েকটি হলো অসত্য, মিথ্যা, ভিত্তিহীন সংবাদ বা গুজব প্রচার করা; এমন কিছু প্রকাশ বা সম্প্রচার করা, যার ফলে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সম্মানের হানি ঘটা কিংবা জনশৃঙ্খলা বিনষ্ট হওয়া, দাঙ্গা-হাঙ্গামা লাগার আশঙ্কা থাকে। এ ধরনের প্রতিটি আচরণের ক্ষেত্রেই আইনগত প্রতিকারের ব্যবস্থা অন্যান্য দেশের মতো এ দেশেও আছে।
সে কারণে গণতান্ত্রিক দেশগুলোর সরকারপ্রধানেরা সাধারণভাবে সংবাদমাধ্যমকে লক্ষ্য করে এ ধরনের শাসনমূলক কথা বলেন না। তাঁরা সংবাদমাধ্যমকে গণতন্ত্র, সংবিধান, আইনের শাসন, সরকারের কর্মসম্পাদন ও জনস্বার্থের ‘ওয়াচডগ’ বা পাহারাদার হিসেবে দেখেন। এই আধুনিক যুগে কোনো শাসকই যেমন জনসাধারণকে লক্ষ্য করে হুঁশিয়ারিমূলক বা শাসনমূলক বক্তব্য দেন না, তেমনি পুরো সংবাদমাধ্যমকে লক্ষ্য করেও তা করেন না। কারণ, সংবাদমাধ্যম জনসাধারণের কণ্ঠস্বর, যে জনসাধারণ সরকারকে নির্বাচিত করে কিংবা কোনো শাসকের শাসনক্ষমতায় থাকা সহ্য করে। জনসাধারণের মতামত, আশা-প্রত্যাশা, অভিযোগ-অনুযোগ ইত্যাদির প্রতিফলন ঘটে সংবাদমাধ্যমেই।
সরকারপ্রধানের এমন বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সংবাদমাধ্যমের ব্যাপারে সরকারের একটি বিশেষ দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশিত হয়, যা স্বাধীন ও দায়িত্বশীল সংবাদমাধ্যম প্রত্যাশা করে না। আমাদের প্রধানমন্ত্রী জানেন এবং তিনি সেদিন বলেছেনও যে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ সরকারের কাজের সহায়ক হতে পারে, সমাজের অসংগতি দূর করতে পারে। বস্তুত সরকারের সঙ্গে সংবাদমাধ্যমের সম্পর্ক এই দৃষ্টিভঙ্গিতেই বিচার করা উচিত। কিন্তু তা সব সময় করা হয় না। অনেক সময় বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রচারিত হলেই বরং সরকারের কোনো মহল ক্ষুব্ধ হয়, ক্রুদ্ধ প্রতিক্রিয়াও ব্যক্ত করে। বিশেষত সরকারি দল, সরকার ও আইন প্রয়োগকারী সশস্ত্র বাহিনীগুলোর সদস্যদের অনিয়ম, দুর্নীতি, সন্ত্রাস ইত্যাদি সম্পর্কে বিশদ ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশিত হলে তাঁরা বিরূপ প্রতিক্রিয়া করেন, সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে সরকারবিরোধিতার অভিযোগ তোলেন এবং যে সংবাদপ্রতিষ্ঠান এভাবে সরকারের বিরাগভাজন হয়, তাকে নানাভাবে হেনস্তা করার চেষ্টা করা হয়।
সংবাদমাধ্যমের বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের ফলে সরকারের কাজে বাধা সৃষ্টি হয় না, এই কথা সবাই জানে। বাধা সৃষ্টি হয় দুর্নীতিবাজ মন্ত্রী ও আমলাদের বেআইনি ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়ার পথে। তাঁদের কারও কারও মুখোশ খসে পড়ে কুৎসিত চেহারা জনসমক্ষে বেরিয়ে যায়। ক্ষমতাসীন দলের যেসব নেতা-কর্মী চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, সন্ত্রাস ও খুনখারাবি করেন, তাঁদের ওই সব অপরাধ সংঘটনের পথেও বাধা সৃষ্টি হয় সংবাদমাধ্যমের কারণে। ক্ষমতা ও প্রভাব-প্রতিপত্তির অধিকারী লোকদের হত্যা-অপহরণসহ নানা গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ ঘটানোর পরও আইনের ঊর্ধ্বে থেকে যাওয়ার পথে বাধা সৃষ্টি হতে পারে সংবাদমাধ্যমের কারণে। ক্ষমতাসীন দলের লোকেরা যখন পরস্পরের মধ্যে খুনোখুনি করে, তখন সেই সংবাদ সরকার ও সরকারি দলকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলে দিতে পারে। ঘুষের টাকাসহ মন্ত্রীর এপিএসের গাড়িচালক ধরা পড়লে সংবাদমাধ্যম যদি সে খবর জনসাধারণকে জানিয়ে দেয়, তাহলে ওই মন্ত্রী ও সরকারের মুখে চুনকালি লাগে। মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য বিদেশি বন্ধুদের দেওয়া সম্মাননা ক্রেস্টের সোনা-রুপা ষোলো আনাই মেরে দিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী দলের সরকারের মন্ত্রী-সচিবেরা মিলে—এই সংবাদ পরিবেশিত হলে সরকারের অবশ্যই বেকায়দা হয়ে যায়। সংবাদমাধ্যমের নিরবচ্ছিন্ন চাপের কারণে নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের ঘটনায় র্যাবের মতো এলিট ফোর্সকেও বিব্রত হতে হয়, তার তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করতে বাধ্য হতে হয় সরকারকে।
সংবাদমাধ্যমের এসব কাজই যদি হয়ে থাকে সরকারের সামনে বাধা সৃষ্টি করা, তাহলে সংবাদমাধ্যম নাচার। কারণ, এসব করাই সংবাদমাধ্যমের দায়িত্ব। উপরন্তু নিজেকে জনগণের ভোটে নির্বাচিত দাবি করে যে সরকার, সে যখন দেশে সংবিধান বলবৎ থাকা অবস্থায় বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে সভা-সমাবেশ-মিছিলসহ সব রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বাধা দিয়ে সংবিধানপ্রদত্ত গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করে, এমনকি ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের মিলনায়তনের ভেতরে ঘরোয়া সভাও করতে দেয় না, তখন সেই খবর পরিবেশন করা সংবাদমাধ্যমের দায়িত্ব বটে। এমনকি সরকারের এমন অগণতান্ত্রিক ও জবরদস্তিমূলক আচরণের সমালোচনা করে কোনো সংবাদপ্রতিষ্ঠান যদি মন্তব্য প্রকাশ করে, তবে তাকে অন্যায়ও বলা যায় না। বিরোধী দলগুলোর নিয়মতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কিংবা ক্ষমতাসীন দলের মাস্তান বাহিনী দিয়ে ভন্ডুল করার সমালোচনা সংবাদমাধ্যম অবশ্যই করবে। এটাকে সরকারবিরোধীদের ইন্ধন বা উসকানি দেওয়া বলা ঠিক হয় না। গণতন্ত্র ও আইনের শাসন থেকে বিচ্যুত হওয়া চলবে না—এ কথা সংবাদমাধ্যম সব সময় বলে যাবে। সহনশীল ও পরমতসহিষ্ণু রাজনৈতিক পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান সংবাদমাধ্যম সব সময়ই জানাবে। এমনকি ৫ জানুয়ারির একতরফা নির্বাচন আইনসিদ্ধ হলেও দেশের সব মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি, এ কথাও যদি কোনো সংবাদপ্রতিষ্ঠান বারবার বলতে থাকে এবং সব দলের অংশগ্রহণে নতুন করে সাধারণ নির্বাচনের দাবি তুলতে থাকে, তবে সেটাকেও সরকারের সামনে বাধা সৃষ্টি করা বলা ঠিক হবে না।
প্রধানমন্ত্রী সংবাদমাধ্যমকে ছেড়ে দিয়ে বরং যদি নিজের দল ও সরকারের গভীরে নিবিড় দৃষ্টি নিক্ষেপ করেন, তাহলেই বরং সরকারের সামনের প্রকৃত বাধাগুলো খুঁজে পাবেন। সরকারের সামনে বাধা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের সেই সব নেতা-কর্মী, যাঁরা নানা রকমের গুরুতর অপরাধে লিপ্ত আছেন এবং মাঝেমধ্যেই পরস্পরের প্রাণ সংহার করছেন। সরকারের সামনে বাধা মন্ত্রিসভার সেই সব সদস্য, যাঁদের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ ব্যাপক, যাঁদের আত্মীয়স্বজনেরা দেশটাকে নিজেদের পারিবারিক সম্পত্তি ভেবে নিয়েছেন। সরকারের সামনে বাধা সৃষ্টি হয় সেই সব আমলার কারণে, যাঁরা ব্যক্তিগত ভাগ্যোন্নয়নের জন্য দেশ ও জনগণের স্বার্থ জলাঞ্জলি দেন, সরকারের কোনো ভালো উদ্যোগ যাঁদের কারণে সফল হতে পারে না, যাঁরা অনিয়ম-দুর্নীতিতে আকণ্ঠ লিপ্ত থাকেন। সরকারের সেই সব বিভাগ সরকারের সৎ কাজে স্থায়ী বাধা হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে, যেগুলোতে অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, দলপ্রীতি স্থায়ী ব্যবস্থায় পরিণত হয়েছে। শুধু অসৎ ও স্বার্থপর নয়, অদক্ষ মন্ত্রী-আমলারাও সরকারের পথের বিরাট বাধা।
এসব বিষয় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জানা থাকার কথা। তাঁর মন্ত্রী-আমলাদের তাঁর থেকে ভালো করে আর কে জানে? কাদের দ্বারা কীভাবে তাঁর শাসনযন্ত্র চলছে, তা তিনি বিলক্ষণ জানেন। তাঁর দলের নেতা-কর্মীদের কার কী স্বভাব-চরিত্র, তা তাঁর চেয়ে ভালো করে কে আর বোঝে?
মশিউল আলম: সাংবাদিক।
mashiul.alam@prothom-alo.info

কে বেশি লম্বা দীপিকা না ক্যাটরিনা?

কে লম্বা বেশি, দীপিকা নাকি ক্যাটরিনা? ভারতে স্টাফ সিলেকশন কমিশনের (এসএসসি) তত্ত্বাবধানে একটি নিয়োগ পরীক্ষায় ছিল এমনই প্রশ্ন।

ওই পরীক্ষায় একটি নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্নে বলিউডের চারজন তারকার মধ্যে সবচেয়ে লম্বা অভিনেত্রী কে তার উত্তর জানতে চাওয়া হয়। এমন প্রশ্ন করায় সমালোচনার মুখে পড়েছেন এসএসসির চেয়ারম্যান এ ভট্টাচার্য। তিনি ক্ষমাও চেয়েছেন। এনডিটিভির এক খবরে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
পরীক্ষায় প্রশ্নের এমন অদ্ভুত ধরন দেখে কিছুটা ভড়কে যান চাকরিপ্রার্থীরা। পরীক্ষায় প্রশ্নটি ছিল: নিচের অভিনেত্রীদের মধ্যে উচ্চতায় কে সবচেয়ে লম্বা? বিকল্প উত্তর হিসেবে চারজন অভিনেত্রীর নাম দেওয়া হয়। ১) হুমা কোরাইশি, ২) ক্যাটরিনা কাইফ, ৩) দীপিকা পাড়ুকোন এবং ৪) প্রীতি জিনতা।
একজন পরীক্ষার্থী বলেন, একটি সর্বভারতীয় পরীক্ষায় যেখানে প্রায় ১০ লাখ পরীক্ষার্থী অংশ নেয়, যার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে সরকারি কর্মচারীদের যোগ্য করে তোলা, সেখানে কীভাবে এমন গুরুত্বহীন বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করা হলো? এই প্রশ্ন দিয়ে কীভাবে মেধাযাচাই সম্ভব?
এ ধরনের প্রশ্ন করায় বিপদে পড়ে গেছেন এসএসসির কর্মকর্তারাও। এসএসসির চেয়ারম্যান এ ঘটনায় ক্ষমাও চেয়েছেন। এক বিবৃতিতে এ ভট্টাচার্য বলেছেন, ‘এটা ভুল, ন্যক্কারজনক, নিকৃষ্ট মানের...আমরা খুবই মর্মাহত ও আন্তরিকভাবে দুঃখিত।’
কেরালার একটি নারী সংস্থা এই প্রশ্নের সমালোচনা করেছে এবং ব্যাখ্যা দাবি করেছে। প্রশ্নপত্রের নৈর্ব্যক্তিক অংশে দীপিকা-ক্যাটরিনার মধ্যে কে লম্বা, এ ধরনের প্রশ্ন ছাড়াও নারীদের নিয়ে ‘বিতর্কিত’ একটি বিবৃতিও ছিল।
এ ব্যাপারে এসএসসির চেয়ারম্যান বলেন, এসএসসির কেউ এই প্রশ্ন তৈরি করেনি। স্থানীয় শিক্ষকদের কাছ থেকে প্রশ্ন নিয়ে প্রশ্ন ব্যাংক করা হয়েছিল। পরে একটি বিশেষজ্ঞ প্যানেল এর মধ্য থেকে মূল প্রশ্ন নির্বাচন করেছে।
পরীক্ষার ফলাফলের জন্য ওই দুটি বিতর্কিত প্রশ্ন মূল্যায়ন করা হবে না বলেও জানান তিনি।

অলি বার বার ফিরে আসে by কাজল ঘোষ

বিশ্বকবির সার্ধশত জন্মবার্ষিকী পার হলেও তিনি কতটা প্রাসঙ্গিক- এ গানের কলিটি মনে করিয়ে দিচ্ছে। মনে করিয়ে দিচ্ছে বললে ভুল হবে, আসলে চাক্ষুষ প্রমাণ দিচ্ছে। জানি না পাঠকের গানের কলিটি মনে আছে কিনা। যদিও যে বিষয়ে লিখতে চাইছি তার জন্য পুরো গানটি এখানে উদ্ধৃত করার প্রয়োজন নেই। গত কয়েক দিনের পত্রপত্রিকা খেয়াল করলে অলি কেন বারবার ফিরে আসে তার মিল পাওয়া যাবে। ঈদে বাড়ি ফেরার নানা বিড়ম্বনা। বেহাল রাস্তাঘাট। খানাখন্দে পূর্ণ ঢাকা-চট্টগ্রামের আড়াই শ’ স্থানে। ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়কের অবস্থা করুণ। রাজধানীর বেশির ভাগই সড়কই দুরবস্থার শিকার। তার ওপর ট্রাফিক ব্যবস্থায় ভজঘট। আর টিকিট নিয়ে মানুষের ভোগান্তি তো অন্তহীন। রাত-দিন জেগেও টিকিট নামক সোনার হরিণের জন্য অপেক্ষা। ভাবতে অবাক হই একটি নির্ধারিত উৎসবের আগে সব সময় এ সঙ্কট নিয়ে আমাদের প্রশাসন আর সরকারের বাড়তি কথায়। গত এক দশকের পত্রপত্রিকার উপাত্ত ও রিপোর্ট যদি এক টেবিলে আনা যায় দেখা যাবে অবস্থার কোন পরিবর্তন নেই। খোলনলচে একই রকমের রয়েছে। ঈদ এলেই রাস্তায় দৃঢ় পদক্ষেপে আমাদের যোগাযোগমন্ত্রীদের হাঁটাহাঁটি বড়ই অম্লমধুর রসবোধের সূচনা করে। আমরা সাধারণ নাগরিক বা আমজনতা এ দৃশ্য উপভোগ করছি বহুকাল থেকেই। এ যেন রাষ্ট্রীয় অন্যান্য চাঞ্চল্যকর ঘটনার মতোই। যেমন ধরুন, বিনাবিচারে হত্যা বা এনকাউন্টারের ক্ষেত্রে এখানে একই রকমের গল্প চলছে। বন্দুকযুদ্ধ খেলায় মৃত্যু হয়েছে অনেকের। আর ঘটনার পরপরই গণমাধ্যমকে জানানো হয়েছে গুলি আর পাল্টা গুলির গল্প। একটু ভিন্নরকমের গল্প হলেও আমাদের ঈদকেন্দ্রিক ভোগান্তি আর বিড়ম্বনার চিত্র, রাস্তায় যানজট, টিকিট না পাওয়া, ঈদ মার্কেটে চাঁদাবাজি, ঈদ ছুটিতে নিরাপত্তা, বাজারে জাল টাকার ছড়াছড়ি- এগুলো নিয়ে একই রকমের গল্প। মন্ত্রীরা ডেডলাইন দেবেন, পুলিশ সাঁড়াশি অভিযানে নামবেন, টিকিটের অগ্রিম তারিখ ঘোষণা করে সবাইকে রাত জেগে স্টেশনে অপেক্ষার জন্য বলবেন। আর সাহারা খাতুন যখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন তিনি তো বলেছিলেন, ভাল করে তালা লাগিয়ে গ্রামে যেতে। প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, কারও বেডরুমের নিরাপত্তা দেয়া সম্ভব নয়। বর্তমান যোগাযোগমন্ত্রী অনেকটাই সফল, অন্তত তিনি নড়েচড়ে বসছেন এ জন্য। অন্য মন্ত্রীরা যেখানে কোন তৎপরতায় দৃশ্যমান নন, তিনি অন্তত ক্ষতিগ্রস্ত জায়গাগুলোয় যাচ্ছেন। কিন্তু কাজের কাজ কিছু হচ্ছে কিনা নাকি কেবলই হাঁটা আর হাঁটা। এমনিতেই ব্যাপক মানুষের মধ্যে তিনি হাঁটা মন্ত্রী হিসেবে পরিচিত হয়ে যাচ্ছেন। কথা হচ্ছে, সূর্য পূর্ব দিকে ওঠে আর পশ্চিমে অস্ত যায়। একই রকমভাবে ঈদ-পূজা পার্বণসহ যাবতীয় ধর্মীয় উৎসবও আমাদের জীবনে চিরন্তন। এর কোনটিই আমাদের জীবনে বিচ্ছিন্ন কিছু নয়। আর কেন প্রতি বছর এই একই বিষয়ে গণমাধ্যমে এত লেখালেখি করতে হবে, মানুষকে বাড়ি ফিরতে এতটা ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হবে। এটা কি বছরজুড়েই আমাদের পরিকল্পনায় থাকবে না? সাত দিন, দশ দিন এ রকমন কোন চ্যালেঞ্জ আমরা শুনতে চাই না। বছরের উৎসব ক্যালেন্ডার দেখেই এ সঙ্কটের সমাধান চাই। অহেতুক মানুষের ধারাবাহিক ভোগান্তির অবসান চাই।

স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি দখলের লড়াই by সোলায়মান তুষার ও রোকনুজ্জামান পিয়াস

স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি দখলের লড়াই শুরু হয়েছে। ক্যাম্পাস দখল, টাকা ভাগাভাগিসহ নানা বিষয়ে চলছে দ্বন্দ্ব। আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি একেএম এনামুল হক শামীম গুলিবিদ্ধ ও হত্যাচেষ্টার ঘটনায় স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এম এ হান্নান ফিরোজ গ্রেপ্তারের পর বিষয়টি সামনে এসেছে। হান্নান ফিরোজের পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেছেন, এ সব ঘটনার মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টি দখলের পাঁয়তারা চলছে। তবে এনামুল হক শামীম বলেছেন, কারও নাম উল্লেখ করে মামলা করা হয়নি। তবে পুলিশ সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তার করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সূত্র জানায়, ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টিবোর্ডের সদস্য সংখ্যা ১৩। এর মধ্যে হান্নান ফিরোজ, স্ত্রী ও কন্যাসহ এ বোর্ডে রয়েছে ৯ জন সদস্য। আর এনামুল হক শামীম, তার স্ত্রী ও বোনসহ তার পরিবারের রয়েছে ৪ জন সদস্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে একটি পারিবারিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের রয়েছে দু’টি ক্যাম্পাস। একটি ধানমন্ডিতে। অপরটি সিদ্ধেশ্বরীতে। আর রয়েছে একাধিক শাখা ক্যাম্পাস। প্রতিষ্ঠানটিতে রয়েছে প্রায় সাড়ে ১১ হাজার শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা ড. হান্নান ফিরোজ বর্তমানে রিমান্ডে রয়েছেন। তিনি পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যরা প্রতি মাসে আড়াই লাখ টাকা করে বেতন নেন। অথচ প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী ট্রাস্টি সদস্যরা কোন অর্থনৈতিক সুবিধা নিতে পারবেন না। তবে সভা সেমিনারে অংশ নিলে তারা নির্ধারিত একটা সুবিধা নিতে পারবেন। ইউজিসি সূত্র জানায় প্রতি সভায় অংশ নেয়ার জন্য ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা পেতে পারেন। ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক একে আজাদ চৌধুরী বলেন, ট্রাস্টি সদস্যরা কোন অর্থনৈতিক সুবিধা নিতে পারবেন না। তিনি বলেন, প্রতি মাসে আড়াই লাখ টাকা নেয়ার প্রশ্নই ওঠে না। এটা হয়ে থাকলে নিশ্চয় অনিয়ম। গত ১৯শে জুন ধানমন্ডির নিজ বাসা থেকে বের হওয়ার সময় ইবনে সিনা হাসপাতালের গলিতে দুর্বৃত্তের হামলার শিকার হন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য একে এম এনামুল হক শামীম। মোটরসাইকেল আরোহী দুর্বৃত্তদের গুলি তার হাতে লাগে। শামীম গুলিবিদ্ধ হওয়ার পরদিন তার চাচা নাসির উদ্দিন বাদী হয়ে ধানমন্ডি থানায় একটি মামলা করেন। তাতে হান্নান ফিরোজ বা কারও নাম ছিল না। ঘটনার পর থেকেই র‌্যাব-পুলিশ তদন্তে নামে। শামীমকে গুলি করার অভিযোগে গত ৭ই জুলাই র‌্যাব বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে হারুন, মেহেদী, মনির ও জুয়েল নামের চারজনকে গ্রেপ্তার করে। এদের মধ্যে হারুন ও মেহেদী মোটরসাইকেল আরোহী তিন দুর্বৃত্তের দু’জন। দু’দিন পর ৯ই জুলাই মোটরসাইকেল আরোহী অপর একজন রানা হাওলাদার, নাজিমুল হক মিঠু ও নূরে আলম সিদ্দিকী নামে আরও দু’জনকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। কয়েক দফা রিমান্ড শেষে ১৫ই জুলাই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় রানা। ওই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে রানা বলে, শামীমকে হত্যাচেষ্টার মূল পরিকল্পনাকারী স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান হান্নান ফিরোজ। শামীমকে হত্যার জন্য তিনি মিঠুকে দায়িত্ব দেন। এ জন্য ৬ লাখ টাকাও দেন। মিঠু তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে সে মোটরসাইকেল কেনাসহ পেশাদার কিলার ভাড়া করে। স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে রানা বলেছে, হান্নান ফিরোজের পরিকল্পনা ও মিঠুর কথামতো তারা এ কাজ করেছে। গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, নাজিমুল হক মিঠু হলো হান্নান ফিরোজের মালিকানাধীন ‘বাংলাদেশ সময়’-এর প্রশাসনিক কর্মকর্তা। গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, রানার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি ও অন্য কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদে হান্নান ফিরোজের নাম আসে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১৬ই জুলাই হান্নান ফিরোজকে ভোরে তার ধানমন্ডির ৯/এ’র বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে তিনি রিমান্ডে আছেন।
একেএম এনামুল হক শামীম একটি ব্যাংকের পরিচালক থাকাকালে ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য হন। বর্তমানে শামীম ছাড়াও তার স্ত্রী তাহমিনা খাতুন, বোন শামীম আরা হক কাকলী ও শামীমের আত্মীয় জাকির হোসেন ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য। শামীম ইউনিভার্সিটিতে নিয়মিত অফিস করলেও অন্যরা একেবারেই অনিয়মিত। কিন্তু প্রতি মাসে তারা নিয়ে নেন কাগজে-কলমে আড়াই লাখ টাকা। এর বাইরে তো আছেই। এছাড়া শামীম ডিসিপ্লিন বোর্ডের সভাপতি। হান্নান ফিরোজের পর শামীমের ট্রাস্টি বোর্ডের সভাপতি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। অন্যদিকে হান্নান ফিরোজ ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান। এর বাইরে তার স্ত্রী ফাতিনাজ ফিরোজ, ছোট ভাই মাহবুব আলম জাকির, বড় মেয়ে ফারাহনাজ ফিরোজ, ছোট মেয়ে জারাহনাজ ফিরোজ, শ্যালক তালাল রহমান, ছোট ভাই মনিরুজ্জামান মনির, চাচা সেলিম হোসেন চৌধুরী ও ছোট বোন রুমানা হক রিতা ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতায় আসায় শামীমের আধিপত্য বাড়তে থাকে ক্যাম্পাসে। তিনি রাজনীতি করলেও ক্যাম্পাসে যাতায়াত ছিল নিয়মিত। সংশ্লিষ্টরা জানান, কি কারণে শামীম গুলিবিদ্ধ হয়েছেন তা এখনও স্পষ্ট না হলেও স্টামফোর্ড নিয়ে শামীম আর হান্নান ফিরোজের মধ্যে দ্বন্দ্ব ছিল এক প্রকার প্রকাশ্যে। বিশেষ করে সিদ্ধেশ্বরী ক্যাম্পাসটি নিয়ে বছর খানেক আগে হান্নান ফিরোজ ও শামীমের মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। এছাড়া সমপ্রতি একজন ট্রাস্টি সদস্যকে সরিয়ে দেয়া নিয়ে এ দ্বন্দ্ব চরমে ওঠে। তখন থেকেই এক পক্ষ অপর পক্ষকে সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে। গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, ইউনিভার্সিটির ব্যবস্থাপনা নিয়ে শামীম ও হান্নান ফিরোজের মধ্যে দ্বন্দ্ব ছিল। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার (ডিসি-দক্ষিণ) কৃষ্ণপদ রায় বলেন, গ্রেপ্তারকৃত একজনের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে হান্নান ফিরোজের নাম আসায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমরা ঘটনার রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা করছি। ইউনিভার্সিটির ব্যবস্থাপনা নিয়ে তাদের মধ্যে মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব ছিল। তদন্ত শেষ হলেই সব কিছু বলা যাবে।
ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এম.এ হান্নান ফিরোজের স্ত্রী ও ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য ফাতিনাজ ফিরোজ বলেন, শামীমের সঙ্গে আমাদের পারিবারিক কোন দ্বন্দ্ব নেই। তিনিই শামীমকে বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়ে এসেছেন। কথিত অভিযোগের ভিত্তিতে শামীমের হত্যাচেষ্টার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে বয়স্ক একজন মানুষকে বারবার রিমান্ডে নেয়ার বিষয়টি দুঃখজনক। আমি আমার স্বামীর নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করছি। হান্নান ফিরোজের মেয়ে ফারাহনাজ ফিরোজ বলেন, সুপরিকল্পিতভাবে কতিপয় অজ্ঞাত টোকাইদের সাক্ষী বানিয়ে আরেকটি জজ মিয়া নাটকের অবতারণা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়টি দখলের পাঁয়তারা করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকেও বিভ্রান্ত করা হচ্ছে।
এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য ও ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি একেএম এনামুল হক শামীম বলেন, কারও নাম উল্লেখ করে মামলা করা হয়নি। তবে পুলিশ সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তার করেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি দাবি করে তিনি বলেন, জড়িত কেউ যেন রেহাই না পায়। শামীম আরও বলেন, হান্নান ফিরোজের সঙ্গে আমার কোন দ্বন্দ্ব নেই। পুলিশ গ্রেপ্তারকৃতদের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় দখলের অভিযোগ বিষয়ে তিনি বলেন, আমি শুরু থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে আছি। এখানে দখলের কোন প্রশ্নই আসে না। কেউ এ ধরনের অভিযোগ করলে সেটা ভুল এবং ভিত্তি নেই। সিদ্ধেশ্বরী ক্যাম্পাস তার নিয়ন্ত্রণে নেয়ার বিষয়ে শামীম বলেন, আমি দুই ক্যাম্পাসের সঙ্গেই জড়িত। ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যরা প্রতি মাসে আড়াই লাখ টাকা নেয়ার বিষয়টি স্বীকার করে শামীম বলেন, যারা ফুলটাইম বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজ করেন তারাই ওই টাকা নিয়ে থাকেন।
ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক একে আজাদ চৌধুরী বলেন, সমমনা মনের ব্যক্তিরাই ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য হন। এতে আইনি কোন সমস্যা নেই। তবে এ স্পিরিট আমি সমর্থন করি না। ইউজিসি চেয়ারম্যান বিশ্ববিদ্যালয় তো ট্রাস্টের সম্পদ। এখান থেকে ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যরা অর্থনৈতিক সুবিধা নিতে পারেন না। আড়াই লাখ টাকা কেন এক টাকাও নিতে পারবেন না। এটা হয়ে থাকলে নিশ্চয় অর্থনৈতিক অনিয়ম। তবে সভা বা কোন প্রোগ্রামে অংশ নিলে সভাপতি ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা সুবিধা নিতে পারেন। তাই বলে মাসে আড়াই লাখ টাকা? এটা নিশ্চয় বেআইনি। বিষয়টি ইউজিসি খতিয়ে দেখবে।

জাতীয় পার্টি সরকারের অংশ -বৃটিশ সরকারের মূল্যায়ন

বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ ও স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাসহ গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল। সরকারিভাবে বিরোধী দল জাতীয় পার্টি হলেও তারা ক্ষমতাসীন সরকারের অংশ। এমনকি তারা মন্ত্রিত্বও পেয়েছে। এখানে ন্যায়বিচার পাওয়া কঠিন হতে পারে। মিডিয়া, সুশীল সমাজ ও দাতা সম্প্রদায় সোচ্চার থাকার পরও ঘুষ ও দুর্নীতি ব্যাপক। দেশীয় আইনের অধীনে আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের যেসব চুক্তিতে বাংলাদেশ স্বাক্ষর করেছে তা বাস্তবায়ন ও প্রয়োগ দুর্বল। বিচার বহির্ভূত হত্যাকা-, শারীরিক নির্যাতন, দুর্নীতির অভিযোগ আছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে। এদেশে মৃত্যুদ-ের সাজা বহাল রয়েছে। বাংলাদেশ নিয়ে এক প্রতিবেদনে এ কথা বলেছে বৃটিশ সরকার। বাংলাদেশে ব্যবসা করতে আসা যুক্তরাজ্যের কোম্পানি বা ব্যবসায়ীরা নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক যে সব ঝুঁকির মুখে পড়তে পারেন সে বিষয়ে এক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এর শিরোনাম ‘ওভারসিজ বিজনেস রিস্ক- বাংলাদেশ’। এতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, মানবাধিকার, ঘুষ-দুর্নীতি, সন্ত্রাসী হুমকি, সংগঠিত সন্ত্রাস সহ বিভিন্ন ইস্যু তুলে যুক্তরাজ্যের ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হয়েছে। ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে, এক সময় বাংলাদেশ ছিল পাকিস্তানের অংশ। ১৯৭১ সালের রক্তাক্ত স্বাধীনতা সংগ্রামের মধ্য দিয়ে স্বাধীন হয় এ দেশটি। এটি একটি সংসদীয় গণতন্ত্রের দেশ। এখানে রয়েছে মুক্তবাজার অর্থনীতি। প্রধান দু’টি রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) স্থানীয় রাজনীতিতে প্রাধান্য বিস্তার করে আছে। কিন্তু এ দল দু’টির মধ্যে সম্পর্ক অত্যন্ত নাজুক। রাজনৈতিক অবস্থা এখনও সংঘাতময় ও তা কেন্দ্রনির্ভর। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে ক্ষমতায় বর্তমান সরকার। তার নেতৃত্বাধীন মহাদলীয় জোট এ বছরের ৫ই জানুয়ারি জাতীয় নির্বাচনে ভূমিধস বিজয় অর্জন করে, যদিও বিএনপি ওই নির্বাচন বর্জন করে। তাই জাতীয় সংসদের অর্ধেকের বেশি আসনে প্রার্থী নির্বাচিত হন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। বিরোধী দলগুলো এ নির্বাচন চেয়েছিল নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে। সরকার সংবিধান সংশোধন করেছে। এ পদক্ষেপ বিতর্কিত। এ সংশোধনীর মাধ্যমে জাতীয় নির্বাচন তদারকের জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা হয়। ফলে বিএনপির বর্জনের মধ্য দিয়ে জাতীয় পার্টি এখন সরকারিভাবে বিরোধী দল। ওই রিপোর্টে আরও বলা হয়, ইন্টারন্যাশনাল কোভেন্যান্ট অন সিভিল অ্যান্ড পলিটিক্যাল রাইটস, দ্য ইন্টারন্যাশনাল কোভেন্যান্ট অন ইকোনমিক, সোশ্যাল অ্যান্ড কালচারাল রাইটস, কনভেনশন অন দ্য রাইটস অব দ্য চাইল্ড সহ আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের মূল কতগুলো চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী দেশ বাংলাদেশ। কিন্তু দেশীয় আইনে এর বাস্তবায়ন ও প্রয়োগ দুর্বল। এ দেশে ট্রেড ইউনিয়ন আছে। কিন্তু তাতে রয়েছে অনেকগুলো বিধিনিষেধ ও হয়রানির অভিযোগ। ২০০৬ সালের শ্রম আইনের অধীনে শিশু শ্রম নিষিদ্ধ। তা সত্ত্বেও এ বিষয়টি রয়েছে গুরুতর উদ্বেগজনক অবস্থায়। ওই রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ভাল। জুনে সমাপ্ত অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ছিল শতকরা ৬ ভাগের কম। গত ১৫ বছরে গড় প্রবৃদ্ধি ৫ থেকে ৬ ভাগ প্রতি বছর। বাংলাদেশ তৈরী পোশাক খাতে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। রপ্তানি আয়ের শতকরা ৮০ ভাগ আসে এ খাত থেকে। এ থেকে যে অর্থ আসে তা জাতীয় প্রবৃদ্ধির শতকরা ১২ ভাগ। রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির পরও ২০১৩-১৪ অর্থবছরে তৈরী পোশাকের রপ্তানি বৃদ্ধি পেয়েছে শতকরা ১৫ ভাগ। এ খাতটিকে আরও সম্প্রসারিত করা উচিত। পশ্চিমা সরকার ও বিনিয়োগকারীদের চাপ ও সমর্থনে সরকার শ্রমিকদের অবস্থার উন্নতির চেষ্টা করছে। ওই রিপোর্টে আরও বলা হয়, ২০০৫ সালে বাংলাদেশে দারিদ্র্য ছিল শতকরা ৪০ ভাগ। তা ২০১৪ সালে কমে এসে দাঁড়িয়েছে শতকরা ৩০ ভাগ। ২০০৯ সাল থেকে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা কমেছে এক-পঞ্চমাংশ। তাদের সংখ্যা ৩ কোটি ৯০ লাখ। এর মধ্যে অতি দরিদ্রের সংখ্যা এক কোটি ৬০ লাখের বেশি। সহস্রাব্দের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে একই ধারায় এগিয়ে যাচ্ছে। এর অনেক মানদ- ভারতের চেয়েও ভাল। তবে বেসরকারি খাতে কার্যকর উন্নয়নে একটি বাধা হলো দুর্নীতি। এ ঘটনা ব্যবসায় বড় একটি ঝুঁকি। কেনাবেচার ক্ষেত্রে বেশির ভাগ সময়ই থাকে স্বচ্ছতার অভাব। রয়েছে প্রশাসনিক বেশ কিছু জটিলতা। এ ঝুঁকিকে সতর্কতার সঙ্গে মোকাবিলা করতে হবে। রাজনীতিবিদ, আমলা ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কর্মকর্তারা মাঝেমাঝেই খেয়ালখুশি মতো ক্ষমতা ব্যবহার করেন। এ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ক্ষমতার অপব্যবহারের বিষয়টি প্রকাশ হয়ে পড়েছে। ২০১৩ সালের ওপর প্রণীত ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের করাপশন পারসেপশন্স ইনডেক্সে ১৭৭টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৩৬তম। ২০১২ সালে ছিল ১৪৪তম অবস্থানে। ২০১১ সালে ছিল ১২০তম অবস্থানে। ২০১৪ সালের ওপর বিশ্ব ব্যাংক ‘ইজি অব ডুইং বিজনেস’ সার্ভেতে দেখা যায় ১৮৯টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৩০তম। আগের দু’বছর থেকে এ পরিবর্তন সামান্যই। আগের দু’বছরে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৩২ ও ১২৯। এক্ষেত্রে বাংলাদেশে যুক্তরাজ্যের ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হয়েছে। ওই রিপোর্টে আরও বলা হয়, বাংলাদেশে অন্যান্য ঝুঁকির সঙ্গে রয়েছে সন্ত্রাস, যদিও ২০০৫ সাল থেকে উল্লেখ করার মতো কোন সন্ত্রাসী হামলা হয়নি। সন্ত্রাসীদের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দল ও গোষ্ঠী দেশের ভিতরে তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে। অভিবাসী ও বিদেশীরা যেসব স্থানে চলাফেরা করেন সেখানে হামলা হতে পারে। তাই সতর্কতার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সদস্য বাংলাদেশ। ওয়ার্ল্ড ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি অর্গানাইজেশনেরও (আইপিআর) সদস্য এ দেশ। একই সঙ্গে প্যারিস কনভেনশনে স্বাক্ষরকারী। তবে আইপিআর বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশ সরকার সম্পদ বরাদ্দ করেছে নামমাত্র এবং আইন বাস্তবায়নের সক্ষমতা খুবই দুর্বল। বই, শিক্ষাবোর্ডের বইপত্র ব্যাপকভাবে নকল করা হয় ও তা নির্ধারিত দামে বিক্রি করা হয়। স্বত্ব আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে তাই বৃটিশ প্রকাশকদের ঝুঁকির বিষয়ে সতর্ক হতে হবে। ওদিকে বিদেশী ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানগুলোতে সংগঠিত অপরাধের প্রভাব বা জড়িত হওয়ার প্রমাণ পায়নি যুক্তরাজ্য। বলা হয়েছে, অনেক দেশ ও উন্নয়নশীল বিশ্বের বড় বড় শহরের তুলনায় বাংলাদেশের রাজধানী দ্রুত বর্ধনশীল। ওই সব দেশ ও শহরের চেয়ে এই ঢাকা নিরাপদ। বেশির ভাগ অপরাধ হয় সম্পত্তি নিয়ে, সুবিধা পাওয়া নিয়ে। এগুলো প্রতিরোধ করা যায় শুভ বুদ্ধিসম্পন্ন পদক্ষেপের মাধ্যমে। এছাড়া রয়েছে চুরি, ডাকাতির মতো ঘটনা। গুলশান, বনানী এলাকায় রয়েছে চুরি ডাকাতির ঘটনা। এই এলাকাগুলোতে থাকেন বিদেশীরা। আছেন বাংলাদেশীরাও। মাঝে মাঝেই এখানে ছিনতাই হয়। তাই কোন বৃটিশের উচিত হবে না বেশি অর্থ সঙ্গে রাখা অথবা স্বর্ণালঙ্কার প্রদর্শন করা। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাদের উচিত সিএনজিচালিত বেবিট্যাক্সি, বেসরকারি ট্যাক্সিতে নিরাপদে সফর করতে। এছাড়া যে হোটেলে উঠবেন সে হোটেলের পরিবহন ব্যবস্থা ব্যবহার করা উচিত।

এমন আইন করা হচ্ছে যে মিডিয়ার স্বাধীনতা থাকবে না

কয়েকটি ঘটনায় ইলেকট্রনিক মিডিয়ার (টেলিভিশন চ্যানেল) ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী সৈয়দ মহসিন আলী বলেছেন, এমন আইন হচ্ছে যে, তাদের (ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার) কোন স্বাধীনতা থাকবে না। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থান ভিক্ষুকমুক্ত করতে গতকাল সচিবালয়ে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার সভাপতির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। সভার শুরুতে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বলেন, নারায়ণগঞ্জে খুনের ঘটনার বীভৎস চিত্র ইলেকট্রনিক মিডিয়াগুলো ৫ থেকে ১০ সেকেন্ড করে বার বার দেখাচ্ছে। এটা দেখিয়ে তারা মানুষকে উত্তেজিত করছে। ৫ থেকে ৭টি লাশ নিয়ে টেলিভিশনগুলোতে যা ইচ্ছা তাই দেখানো হচ্ছে। আপনারা কিনা করছেন? এটা কি ইলেকট্রনিক মিডিয়ার কাজ? আপনারা সিএনএন, বিবিসি দেখেন, বড় বড় ঘটনার বীভৎসতা কি সেখানে দেখানো হয়? গণমাধ্যমকে উদ্দেশ্য করে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বলেন, পুলিশ আত্মত্যাগ করে সেটা নিয়ে খবর আসে না, খবর আসে সন্ত্রাসীদের পক্ষে। টাঙ্গাইল থেকে পতিতাপল্লী উচ্ছেদের বিষয়ে মন্ত্রী মহসিন আলী বলেন, টাঙ্গাইলের প্রাচীন যৌনপল্লীটি যে সব মাওলানা উচ্ছেদ করেছেন তাদের সৌদি আরবের আইনে শিরশ্ছেদ করা প্রয়োজন। উল্লেখ্য, সমপ্রতি টাঙ্গাইল শহরে প্রায় ২০০ বছরের পুরনো একটি যৌনপল্লী উচ্ছেদ করেন স্থানীয় জনতা ও ধর্মপ্রাণ মুসলমানেরা। পতিতাপল্লী উচ্ছেদে বিদেশী চাপের কথা জানিয়ে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বলেন, অস্ট্রেলিয়া সরকারের পক্ষ থেকে আমার কাছে ফোন এসেছে। তারা জানতে চেয়েছে, তোমাদের ওখানে কেন ক্রমাগত এগুলো হচ্ছে? এর কি জবাব দেবো? এরপর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, সৌদি আরবে যেমন শিরশ্ছেদের আইন আছে, আমাদের এখানেও এটা করা দরকার। যারা এগুলো (পতিতাপল্লী) উচ্ছেদ করেছে সেখানে শরিয়াহ আইন জারি করে তাদের শিরশ্ছেদ করা উচিত। উল্লেখ্য, প্রথমবার মন্ত্রী হওয়া মৌলভীবাজার  থেকে নির্বাচিত এই সংসদ সদস্য শপথ গ্রহণের পর থেকে বিভিন্ন মন্তব্য ও কর্মকা-ে সমালোচিত হয়েছেন। ‘হু ইজ বিএনপি’, প্রকাশ্য মঞ্চে সিগারেটে সুখটান, ‘মুখ ঢাকলে চলবে না, খুলতে হবে’- এসব মন্তব্য ও কর্মকা-ের কারণে তিনি গণমাধ্যমে বিভিন্ন সময় আলোচিত-সমালোচিত হয়েছেন। ওদিকে রাজধানীর সাতটি এলাকা ভিক্ষুকমুক্ত করার উদ্যোগ ব্যর্থ হওয়ার পর এবার সে সব এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে একই সভায়। সভা শেষে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী জানান, রাজধানীর বিমানবন্দর এলাকা, হোটেল সোনারগাঁও, রূপসী বাংলা, রেডিসন, বেইলি রোড এবং কূটনৈতিক জোন ও দূতাবাস এলাকাগুলো ভিক্ষুকমুক্ত রাখতে রোজার ঈদের পর ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। এর আগে গত বছরের ২২শে জানুয়ারি ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ এ সাত এলাকা ‘ভিক্ষুকমুক্ত’ করতে সাবেক সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী প্রমোদ মানকিনের সভাপতিত্বে এক বৈঠকে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত হয়। এসব এলাকার ভিক্ষুকদের মধ্যে যারা কর্মক্ষম নয়, তাদের সরকারি পুনর্বাসন কেন্দ্রে স্থানান্তরের পাশাপাশি রাজধানীতে শিশুদের ভিক্ষাবৃত্তি বন্ধের পদক্ষেপ নেয়া, ওই সব এলাকায় কেউ ভিক্ষা করলে তার বিরুদ্ধে পুলিশের পক্ষ থেকে ‘যথাযথ’ ব্যবস্থা নেয়া, এ কাজে মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ক্ষমতা দেয়া এবং প্রয়োজনীয় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের বিষয়েও সিদ্ধান্ত হয় ওই বৈঠকে। আগের নেয়া সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন না হওয়া সম্পর্কে সৈয়দ মহসিন আলী বলেন, ঢাকা শহরকে ভিক্ষুকমুক্ত করতে এর আগে উদ্যোগ নিয়েও অনেকে ব্যর্থ হয়েছেন। এখন আমরা আর ব্যর্থ হতে চাই না। আমরা প্রস্তুতি নিয়ে কাজটি এমনভাবে করবো যেন আর ভিক্ষা না হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত বসানোর আগে ওই সব এলাকায় মাইকে প্রচার চালানো হবে। ‘ভিক্ষুক চক্রের’ বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিয়ে পুরো দেশকেই বদলে ফেলা হবে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী সবার নাগরিক অধিকার দেয়ার কথা দিয়েছেন। এরপরও কেন তারা ভিক্ষা করবে? আমরা তো সরকারে আছি, আমরা ঘোড়ার ঘাস কাটি নাকি? সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব নাছিমা বেগম ছাড়াও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, মহানগর পুলিশ ও সিটি করপোরেশনের প্রতিনিধিরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।

মার্কিন দূতকে মতিয়া- হিসাব করে কথা বলবেন

৫ই জানুয়ারির নির্বাচন নিয়ে আমেরিকার নবনিযুক্ত রাষ্ট্র্রদূত মার্সিয়া স্টিফেন্স ব্লুম বার্নিকাটের মন্তব্যের সমালোচনা করে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেছেন, সংবিধান অনুযায়ী দেশের মানুষের অংশগ্রহণে নির্বাচন হয়েছে। অথচ নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে না এসেই আমেরিকায় বসে বাংলাদেশের নির্বাচনকে ত্রুটিপূর্ণ বলেছেন। উনি কি নির্বাচন স্বপ্নে দেখেছেন? তিনি বলেন, বাংলাদেশের ভাগ্য নির্ধারণ করবে এদেশের জনগণ। বাংলাদেশকে নিয়ে হিসাব করে কথা বলবেন। গতকাল দুপুরে তার নির্বাচনী এলাকা শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার কাপাসিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যলয় মাঠে গরিব দুঃস্থদের মধ্যে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ভিজিএফ চাল, শাড়ি, শার্ট বিতরণকালে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় তিনি বলেন, কূটনীতিকদের মনে রাখা উচিত এটা স্বাধীন সার্বভৌম দেশ। এ দেশের ভবিষ্যৎ এ দেশের মানুষই নির্ধারণ করবে। এ দেশ কারও দয়ার দান নয়। মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে এ দেশ স্বাধীন হয়েছে। এ জন্য ৩০ লাখ মানুষ শহীদ হয়েছে এবং ২ লাখ মা-বোন সম্ভ্রম হারিয়েছে। আর আমেরিকা আমাদের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছে। কৃষিমন্ত্রী ঈদের পর বিএনপির আন্দোলন প্রসঙ্গে বলেন, আমরা কোন গণতান্ত্রিক আন্দেলনে বাধা দিই না, দেবোও না। তবে মানুষ পুড়িয়ে মারবেন, বাচ্চা পুড়িয়ে মারবেন, সরকারি সম্পদ বিনষ্ট করবেন, যা খুশি তা-ই করবেন সেটা মেনে নেয়া হবে না। সরকার জনগণের জানমাল রক্ষা করার জন্য যা যা করা দরকার তার সবই করবে। এদিন মন্ত্রী নালিতাবাড়ী উপজেলার আরও ৪টি ইউনিয়নে রমজান ও ঈদুল ফিতর উপলক্ষে গরিব দুস্থদের মাঝে শাড়ি, শার্ট, ট্রাউজার, থ্রিপিস এবং গেঞ্জিসহ বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতা ও ভিজিএফের চাল ও খেজুর বিতরণ করেন। এসময় মন্ত্রীর সঙ্গে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাকীর হোসেন, পুলিশ সুপার মেহেদুল করিমসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

লন্ডনে হাসিনা ক্যামেরন বৈঠক

বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গার্ল সামিট ২০১৪-এ যোগ দিতে বর্তমানে তিনি লন্ডনে রয়েছেন। প্রধান বিরোধী জোট ও দলগুলোর বর্জনের মুখে অনুষ্ঠিত ৫ই জানুয়ারির ‘ত্রুটিপূর্ণ’ নির্বাচনের পর যুক্তরাজ্য তথা পশ্চিমা কোন দেশে এটিই তার প্রথম সফর। ওই নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত না হওয়ায় বৃটেনসহ ২৮ রাষ্ট্রের ইইউ জোট নির্বাচন পর্যবেক্ষক পাঠায়নি। নির্বাচনের পরও ইইউসহ পশ্চিমা দেশগুলো নতুন নির্বাচনের জন্য সংসদের বাইরে থাকা দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ ও সমঝোতার তাগিদ দিয়ে যাচ্ছে। তারা দ্রুততম সময়ের মধ্যে একটি নির্বাচনের জন্যও সরকারের ওপর চাপ দিচ্ছে। অবশ্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী বরাবরই বলেন, নতুন নির্বাচন নিয়ে সরকারের ওপর কোন চাপ নেই। পশ্চিমাদের সুর নরম হয়ে আসছেন বলেও দাবি তার। পশ্চিম তথা বিশ্ব রাজনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৃটিশ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে ৫ই জানুয়ারির নির্বাচন নিয়ে কি কথা হয়েছে তা ওই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত স্পষ্ট হয়নি। শেখ হাসিনার সফরসঙ্গীদের বরাত দিয়ে কিছু কথাবার্তা দেশীয় গণমাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে।  বৈঠকটি সৌহার্দ্যপূর্ণ ও আন্তরিক পরিবেশে হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র সচিব শহিদুল হক। কিন্তু বৃটিশ গণমাধ্যম বা বিশ্ব মিডিয়ায় বৈঠকের কিছুই প্রকাশ পায়নি। তাৎপর্যপূর্ণ ওই বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রী গার্ল সামিটে অংশ নিয়েছেন। সেখানে উপস্থাপক শেখ হাসিনাকে ‘দ্বিতীয় মেয়াদের প্রধানমন্ত্রী’ বলে পরিচয় করিয়ে দেন। উপস্থিত মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রী তখন উপস্থাপকের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেন এবং নিজেকে তৃতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী বলে জানান। ৫২ রাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত ওই গার্ল সামিটে দেশের নারী সমাজ বিশেষ করে কন্যা শিশুদের উন্নয়নে তার সরকারের অবদান বিস্তারিত তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তানের কিশোরী মানবাধিকার কর্মী মালালা ইউসুফজাই নারী উন্নয়নে বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়ার প্রশংসা করেছেন।
লন্ডন প্রতিনিধি জানান, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতি বৃটিশ প্রধানমন্ত্রীর আস্থার প্রকাশ ঘটেছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র সচিব শহিদুল হক। তিনি বলেন, অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ ও আন্তরিক পরিবেশে দুই প্রধানমন্ত্রীর ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। বাংলাদেশের মৌলবাদ মোকাবিলা ও সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অর্জনের প্রশংসা করেন বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন। বাংলাদেশ সফর করে এ অর্জনের কৌশল নিজ চোখে দেখতে ও জানতে চান তিনি। গতকাল স্থানীয় সময় সকাল পৌনে ৯টায় শুরু হওয়া হাসিনা-ক্যামেরন বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এসব কথা কথা বলেন পররাষ্ট্র সচিব শহিদুল হক।
স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৮টায় ডাউনিং স্ট্রিটে পৌঁছলে বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানান। এরপর তারা ভেতরে প্রবেশ করেন। শেখ হাসিনার সঙ্গে ছিলেন শেখ রেহানা, পররাষ্ট্রমন্ত্রী কে এম মাহমুদ আলী এবং নারী ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ ও লন্ডনে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মিজারুল কায়েস। বৈঠক শুরুর আগেই শেখ হাসিনার হাতে ওয়ার্ল্ড গার্ল সামিট চার্টার তুলে দেন ডেভিড ক্যামেরন। এরপর তারা বৈঠকে বসেন। প্রায় ৩০ মিনিটের বৈঠক শেষে বের হয়ে গার্ল সামিট ভেন্যুর উদ্দেশে রওনা হন শেখ হাসিনা। বৈঠকে শেখ হাসিনা গত নির্বাচন ও নির্বাচন পরবর্তী বিষয় ছাড়াও দু’দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করেন। ক্যামেরনের সঙ্গে বৈঠকটিই এখন প্রধানমন্ত্রীর লন্ডন সফরে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবেই দেখছেন প্রধামন্ত্রীর কার্যালয়ের সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনের পর বৃটিশ সরকার যে নেতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছিল তা থেকে সরে গিয়ে বাংলাদেশের প্রতি ইতিবাচক হয়ে উঠেছে- সেটাই এ বৈঠক প্রমাণ করেছে। দুই সরকারপ্রধান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়েই কথা বলেন। এরপর শেখ হাসিনা ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিট থেকে বের হয়ে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বেশ উৎফুল্ল হয়ে হাত নাড়েন।
পররাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব এ কে এম শামীম চৌধুরী সাংবাদিকদের কাছে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ সময় বাংলাদেশ সফরের জন্য আন্তরিক আমন্ত্রণ জানান বৃটিশ প্রধানমন্ত্রীকে। প্রেস ব্রিফিংকালে জানানো হয়, বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, নারীর অধিকার ও নারী স্বাধীনতায় অগ্রগতির ভূয়সী প্রশংসা করেন বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, উন্নয়ন সহযোগী দেশ হিসেবে বৃটেন বাংলাদেশে শান্তি ও সম্প্রীতি কামনা করে। বাংলাদেশে যুক্তরাজ্যের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথা উল্লেখ করেন বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশ সামাজিক উন্নয়নে যে সাফল্য দেখিয়েছে তার কৌশল নিজ চোখে দেখতে বাংলাদেশ সফরের আগ্রহ প্রকাশ করেন ডেভিড ক্যামেরন। বাংলাদেশে বিশেষ করে সিলেট অঞ্চল সফরের আগ্রহ দেখান তিনি।
ডেভিড ক্যামেরনের সঙ্গে বৈঠকে ছিলেন আন্তর্জাতিক উন্নয়ন মন্ত্রী ডেসমন্ড সোয়াইন ও ব্যারোনেস সাইদা ওয়ার্সি।
সামিট ভেন্যু ওয়ালওয়ার্থ একাডেমিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক অ্যান্থনি লেক বৈঠক করেন। স্থানীয় সময় বেলা ১১টায় এ বৈঠক ৩০ মিনিট স্থায়ী হয়। এ বৈঠকে শেখ হাসিনা শিশু শিক্ষা উন্নয়নে বাংলাদেশে তার সরকারের বিভিন্ন সাফল্য তুলে ধরেন। এর পরপরই একই ভেন্যুতে প্রধানমন্ত্রী বৈঠক করেন যুক্তরাষ্ট্র সরকারের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিষয়ক মন্ত্রী ডেসমন্ড সোয়াইন টিডির সঙ্গে। প্রায় ২০ মিনিটের বৈঠকে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা হয় তাদের মধ্যে। এরপর দুপুর ১২টায় তিনি যোগ দেন গার্ল সামিটে। সামিটের উচ্চপর্যায়ের সেশনে অংশ নিয়ে নারীর ক্ষমতায়নে ও উন্নয়নে বিশেষ করে বাল্যবিয়ে রোধে তার সরকারের উদ্যোগ ও অঙ্গীকারগুলো তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দারিদ্র্য নিরসন, শিক্ষা ও কাজের সুযোগ নিশ্চিত হলে মেয়েদের বাল্যবিয়ে কমে যাবে। আর তার সরকার সে লক্ষ্যেই কাজ করছে। মাধ্যমিক পর্যায়ে মেয়েদের শিক্ষা অবৈতনিক করার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে মাস্টার্স পর্যন্ত তা অবৈতনিক করার পরিকল্পনা রয়েছে তার। এ ছাড়া গতকাল বিকাল ৪টায় শেখ হাসিনার সঙ্গে তার হোটেলকক্ষে বৈঠক করেন যুক্তরাজ্যের শ্যাডো পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডগলাস আলেকজান্ডার এবং বিকাল ৫টায় রয়েছে অল পার্টি পার্লামেন্টারি গ্রুপের একটি প্রতিনিধি দল। রাতে হোটেল হিলটনে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে যোগ দেন শেখ হাসিনা।
বিক্ষোভ: গার্ল সামিট চলাকালে সেন্ট্রাল লন্ডনের ওয়েস্টমিনিস্টার কুইন এলিজাবেথ কনফারেন্স সেন্টারের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ ও কালো পতাকা প্রদর্শন করেছে যুক্তরাজ্য বিএনপি। এ ছাড়া সিটিজেন মুভমেন্ট আহ্বায়ক এম এ মালেকের নেতৃত্বে সদ্য অব্যাহতিপ্রাপ্ত বিএনপি নেতা খসরুজ্জামান খসরু, আমিরুল ইসলাম, আবদুর রহিমসহ বেশ কয়েক নেতাকর্মী হাসিনার গাড়িবহর লক্ষ্য করে জুতা ও ডিম নিক্ষেপ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। নেতাকর্মীরা গাড়ি আটকানোর চেষ্টা করলে তারা দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন। এ সময় তারা ‘কিলার হাসিনা, গো ব্যাক গো ব্যাক’ বলে স্লোগান দেন। তাদের হাতে প্ল্যাকার্ড ও কালো পতাকা ছিল। হাসিনার নিরাপত্তাকর্মী তাদের ছবি তোলার চেষ্টা করলে তাদের মধ্যে বাকবিত-া হয়।