Monday, August 12, 2019

ন্যাশনাল কনফারেন্স নেতাকে কাশ্মীর থেকে উত্তর প্রদেশের কারাগারে স্থানান্তর

আলী মুহাম্মাদ সাগর
ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মিরের ন্যাশনাল কনফারেন্সের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রী আলী মুহাম্মাদ সাগরকে কাশ্মির থেকে বিজেপিশাসিত উত্তর প্রদেশের কারাগারে স্থানান্তর করা হয়েছে। গতকাল (রোববার) ওই নেতাকে স্থানান্তর করা হয় বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। আলী মুহাম্মাদ সাগরকে গত ৫ আগস্ট সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি ও ওমর আব্দুল্লাহ’র সঙ্গে গ্রেফতার করা হয়।
জম্মু-কাশ্মীর থেকে বন্দিদের ভিন রাজ্যের কারাগারে পাঠানোর কেন্দ্রীয় সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী আলী মুহাম্মাদ সাগর রাজ্য থেকে পাঠানো মুখ্যধারার প্রথম নেতা। এক কর্মকর্তা বলেন, তাকে উত্তর প্রদেশের বেরেলিতে স্থানান্তর করা হয়েছে। এনডিটিভি বলছে- এ পর্যন্ত ৪৬ বন্দিকে অন্য রাজ্যে পাঠানো হয়েছে।
জম্মু-কাশ্মীর প্রশাসন সমস্যা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কায় গত শুক্রবার ২০ বন্দিকে শ্রীনগর থেকে উত্তর প্রদেশের আগ্রা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠায়। গত বৃহস্পতিবারও ২৫ বন্দিকে একইভাবে অন্যত্র পাঠানো হয়। ওইদিনেই কাশ্মীর হাইকোর্ট বার এসোসিয়েশনের সভাপতি মিয়াঁ কাইয়ুম ও কাশ্মীর চেম্বার অব কমার্সের কর্মকর্তা মুবীন শাহকেও স্থানান্তর করা হয়।
এর আগে গত ৯ অগস্ট (শুক্রবার) হিন্দি টিভি চ্যানেল ‘আজতক’ জানিয়েছিল- কাশ্মীরের বিভিন্ন এলাকার কারাগার থেকে গত বৃহস্পতিবার ৭০ জন এবং শুক্রবার ২০ জন বন্দিকে অর্থাৎ দু’দিনে ৯০ জনকে আগ্রা কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তর করা হয়েছে। 
কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে জম্মু-কাশ্মীরে সাংবিধানিক পরিবর্তন ঘটিয়ে ৩৭০ ধারা বাতিল করাকে কেন্দ্র করে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে সেখানে ব্যাপক ধরপাকড় চালানো হয়। গোটা রাজ্যে কয়েক হাজার অতিরিক্ত আধাসামরিক বাহিনীর জওয়ান মোতায়েন করাসহ কারফিউ ও অন্য বিধিনিষেধ কার্যকর করা হয়।

কারফিউয়ের ঘেরাটোপে বন্দি কাশ্মিরিদের ঈদ আনন্দ

নিরাপত্তা চৌকি, নজরদারি আর কারফিউয়ের ঘেরাটোপে বন্দি হয়ে পড়েছে কাশ্মিরিদের ঈদের আনন্দ। প্রতি বছরই ঈদুল আজহার অন্তত এক সপ্তাহ আগে থেকে উৎসবের ঢেউ লেগে যায় উপত্যকায়। দলবেধে মানুষ বাজারে যায়; পোশাকসহ বিভিন্ন সাজসরঞ্জাম কেনে। বেকারির দোকানগুলোতে সাজসাজ রব পড়ে যায়। তবে এবারের বাস্তবতা একেবারেই আলাদা। সরকারের পক্ষ থেকে কাশ্মিরিদের ঈদ উদযাপনে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হলেও শ্রীনগরের বেকারিগুলোতে প্রতি বছর ঈদের আগের দিন পণ্য ফুরিয়ে যায়, সেখানে এবার প্রতিবারের তুলনায় ১০ ভাগ পণ্যও বিক্রি হয়নি। সোমবারের ঈদকে সামনে রেখে পোশাক-পরিচ্ছদও তেমন একটা কিনতে দেখা যায়নি কাউকে। কোরবানির পশু বিক্রির হারও প্রতিবারের তুলনায় একেবারেই নাজুক।
জাতির উদ্দেশে বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রতি‌শ্রুতি দিয়েছিলেন, উপত্যকার মানুষ যাতে ইদ উৎসব পালন করতে পারেন, সরকার তার বন্দোবস্ত করবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, মানুষ যেন স্বস্তিতে ইদ উদযাপন করতে পারে তার জন্য  ছুটির দিনেও ব্যাঙ্ক খোলা রাখা হয়েছে। ৩,৬৯৭টি রেশন দোকানের মাধ্যমে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী বিলি হচ্ছে। ছ’টি ‘সব্জিমন্ডি’ বা পাইকারি বাজারে পর্যাপ্ত কাঁচা আনাজ পাঠানো হয়েছে। আড়াই লক্ষ ভেড়া গিয়েছে, মানুষ যাতে কোরবানির জন্য তা কিনতে পারেন। ইদগা-র ময়দানও তৈরি। উপত্যকার বাইরে থাকা স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য ক’দিন চলা নম্বরের সঙ্গে আরও কিছু হেল্পলাইন নম্বর যোগ করা হয়েছে। তবে কাশ্মিরের বাস্তব পরিস্থিতিতে এর কোনও প্রভাব দেখা যায়নি।

শ্রীনগরের কাপড়ের দোকানগুলো বেশিরভাগ সময়ই ছিল বন্ধ। বেকারির পণ্য ছাড়া কাশ্মিরে ঈদের কথা ভাবাই যায় না। পাউরুটিসহ বিভিন্ন পণ্যে মানুষের আগ্রহ। তবে নিরাপত্তা চৌকি আর সামরিক-আধা সামরিক বাহিনীর নজরদারির সীমা পেরিয়ে কারও পক্ষে তেমন কেউ বেকারি অথবা অন্য কোনও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে বেরও হয়নি। উপত্যকায় ঈদের আগের দিনও মোবাইল সংযোগ ছিল না। ইন্টারনেটও নেই টানা ছ’দিন। সংবাদ মাধ্যমের উপরে অলিখিত নিষেধাজ্ঞা বহাল। দুই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে কোথায় আটক করে রাখা হয়েছে, খবর নেই। পাইকারি ও খুচরো বাজারে পণ্য বাড়ন্ত। এমনকি ওষুধও।

‘আমরা আমাদের জীবনের জন্য অপরিহার্য যেসব পণ্য, সেসবই শুধু কিনে কিনে জমিয়ে রাখছি। হয়তো বিধিনিষেধ অনেক অনেক দিন ধরে জারি থাকবে; সংবাদমাধ্যম নিউজ এইটিনকে বলেন শ্রীনগরের বাসিন্দা মোহাম্মদ সালমান। তার ভাষ্য ‘ঈদ যেখানে আনন্দের উপলক্ষ্য, সেই সময়টি আমাদের জন্য দুৎসহ যন্ত্রণার হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

কাশ্মিরের রীতি অনুযায়ী ঈদের কয়েকদিন আগে থেকে আত্মীয়-পরিজনের বাড়িতে যাওয়ার চল আছে। তবে যোগাযোগ পরিস্থিতির ভয়াবহতায় এবার তা হয়নি। সেখানকার যে ছেলেমেয়েরা বাইরে পড়াশোনা করে, তারাও ঈদের আনন্দ উদযাপন করতে নিজের বাড়িতে আসে ছুটির সুযোগ নিয়ে। তবে এবার বাবা-মা তরুণ ছেলেমেয়েদের বারণ করেছেন ঈদের সময় আসতে। নাসিমা বেগমের মেয়ে থাকেন ব্যাঙ্গালুরুতে। সরকারের হেল্পলাইন সার্ভিস ব্যবহার করে তিনি মেয়েকে ফোন করতে সমর্থ হয়েছেন। নিউজ এইটিনকে তিনি বলেন, ‘ঈদ হলো উৎসবের সময়, তবে কাশ্মিরে এখন উদযাপন করার মতো কোনও বাস্তবতা নাই। আমার মেয়ে ব্যাঙ্গালুরুর এক কলেজে পড়ছে। প্রতি ঈদে ও বাড়িতে আসে। প্রতিবারের মতো এবারও আমরা তার জন্য আগাম টিকিট কেটে রেখেছিলাম। পরে ওকে আসতে মানা করেছি’। নাসিমা বলেন, ‘আমরা জানি না এবার এখানে কেমন করে ঈদ উদযাপিত হবে। ও ব্যাঙ্গালুরুতে অন্তত নিরাপদে থাকবে’। আনন্দবাজার পত্রিকা জানিয়েছে, ঈদের আগের দিন রবিবার সকাল ১০টায় ব্যাঙ্ক খোলার কথা থাকলেও খুলেছে ১১টার পরে। শ’খানেক লোক টাকা তোলার লাইনে। এক কর্মী জানান— মানুষ খেপে রয়েছেন, অথচ সিন্দুক ফাঁকা! এটিএম-এ পাঠানোর টাকাও আসেনি। আনন্দবাজার পত্রিকার খবর অনুযায়ী, পুরনো শ্রীনগরের বাসিন্দা খুরশিদ আলম শাহ বাজারে এসেছিলেন কিছু জমানো টাকা নিয়ে। সঙ্গের বড় ব্যাগের কোনাটাও ভরেনি। মুদিখানার দোকানে চাল-ডাল শেষ। বাজার ঢুঁড়ে পেয়েছেন কিছু শুকনো আনাজ। আর জেনে ফিরেছেন, কাল সকালে ইদের নমাজটা মসজিদে এসে পড়া যাবে।

কাশ্মিরে ঈদুল আজহায় কয়েক লাখ পশু কোরবানি করা হয় প্রতিবছর। এবার বাজারের অবস্থা ভয়াবহ। শ্রীনগরের একজন পশু ব্যবসায়ী মোহাম্মদ ওয়ালিদ বলেন, ঈদের আগমুহূর্তটা আমাদের ব্যবসার জন্য সবথেকে উপযুক্ত সময়। আগের দুইদিনে আমরা এক একজন ৬০০ থেকে ৭০০ পশু বিক্রি করতে পারি। তবে এবার আমি মাত্র ৫০টি ভেড়া বিক্রি করতে সমর্থ হয়েছি।‘ পশুর দামও নেমে গেছে বলে জানান তিনি। বলেন, প্রতি কেজি মাংস যেখানে সাড়ে ৩শ টাকায় বিক্রি করতাম সেখানে ২০০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে।‘ ব্যবসায় তার লাখ টাকার ক্ষতি হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

ইদ-উল-আজহার আগের দিনে শ্রীনগরের পশু বাজারে বেশ কিছু ভেড়া এসেছে বটে, কিন্তু কেনার লোক নেই। ছুটির দিনেও খোলা ব্যাঙ্ক থেকে শুকনো মুখে বেরিয়ে এলেন হাবাকের বাসিন্দা আব্দুল গফ্ফর। আনন্দবাজার পত্রিকাকে বলেন, ‘‘পকেটে একটা টাকাও নেই। ইদে ছেলেমেয়েদের নতুন জামাকাপড় কিনে দিতে হয়। কিন্তু আমার এখন চিন্তা— খাব কী!’’

কারফিউয়ের কারণে পৌরসভার কর্মীরা কাজে আসতে পারেননি। শনিবার থেকে ময়লা পরিষ্কার হচ্ছে না।   পশুর হাটের অবস্থা সব চেয়ে খারাপ। কোরবানির পরে শহরের হাল আরও খারাপ হতে পারে, এমন আশঙ্কাও করছেন অনেকে। এ সবের মধ্যেই রবিবার রাজ্যপাল সত্যপাল মালিক কাশ্মিরবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। বিবৃতিতে বলেছেন, এই ইদ কাশ্মীরে সুদিন আনবে। সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ বাড়াবে। উপত্যকার রাস্তার প্রতি মোড়ে, সেতুর ওপরে তখন মোতায়েন হচ্ছে কার্বাইন হাতে সেনা-জওয়ান। নতুন করে পড়েছে কাঁটাতার। এ প্রস্তুতি ইদের জমায়েতের পরে সম্ভাব্য  বিক্ষোভ দমনের।

দ্বিতীয়বার ডেঙ্গু আক্রান্ত ঠেকাতে ভ্যাকসিন

দেশে প্রতিদিনই উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা। মশাবাহিত এ রোগটি ছড়িয়ে পড়েছে প্রত্যেকটি জেলায়। রোগীদের চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকরা। এ অবস্থায় আলোচনা হচ্ছে ডেঙ্গুর প্রতিষেধক নিয়ে।

বিশ্বে ডেঙ্গু প্রতিরোধে উল্লেখযোগ্য কোনো চিকিৎসা না থাকলেও সম্প্রতি প্রথমবারের মতো একটি ভ্যাকসিনের (টিকা) অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। যদিও এটির উন্নয়নে এখনও কাজ চলছে, তথাপি দ্বিতীয়বারের মতো ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হওয়া ঠেকাতে এটিই এখন পর্যন্ত একমাত্র ‘ভরসা’।

যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ১ মে ‘ডেংভেক্সিয়া’ নামের এই ভ্যাকসিনের অনুমোদন দেয়। সংস্থাটির ওয়েবসাইটে দেয়া এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনুমোদনপ্রাপ্ত ভ্যাকসিনটি ৯ থেকে ১৬ বছর বয়সীদের মধ্যে চার ধরনের ডেঙ্গু ভাইরাস প্রতিরোধে কাজ করবে।

সংস্থাটির ডেপুটি কমিশনার আন্না আব্রাহাম বলেন, মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবেলায় যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ বিভাগ এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে আমরা কাজ করছি। নতুন এই ভ্যাকসিন যুক্তরাষ্ট্রের বেশকিছু অঞ্চলের মানুষের ঝুঁকি অনেক কমিয়ে দেবে।

নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘সানোফি’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধানে ‘তাকেডা’ নামের অপর একটি প্রতিষ্ঠান ভ্যাকসিনটি ২০১৫ সালে আবিষ্কার করে। এরপর তা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিপণন করা হয়।

২০১৭ সালে ফিলিপাইনে ব্যাপক হারে ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা দিলে দেশটিতে এই ভ্যাকসিন ব্যবহার করা হয়। কিন্তু এতে তেমন একটা সাফল্য আসেনি। এমনকি ভ্যাকসিন নেয়ার পরও অনেক শিশু ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত ও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এরপরই দেশটি এই ভ্যাকসিন ব্যবহার সাময়িক নিষিদ্ধ করে।

ভ্যাকসিনটি বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠান সানোফি বলছে, ভ্যাকসিনটির আরও উন্নয়ন করা হয়েছে। এছাড়া এটি ভুলভাবে ব্যবহার করা হলে তা কার্যকর হবে না। ভ্যাকসিনটি শুধু তাদের জন্য, যারা এরই মধ্যে একবার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন।

যারা এখনও রোগটিতে আক্রান্ত হননি, তারা ভ্যাকসিনটি গ্রহণ করতে পারবেন না। এটি মূলত তৈরি করা হয়েছে দ্বিতীয়বার ডেঙ্গুতে আক্রান্তের ভয়াবহতা প্রতিরোধের জন্য। এ কারণে চিকিৎসকদের পরামর্শ দেয়া হয়েছে, তারা যেন রোগীর ইতিহাস ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করে নেন।

ভ্যাকসিনটি তিনটি ইনজেকশনের মাধ্যমে দেয়া হয়। প্রথম ইনজেকশন দেয়ার ৬ মাস পর দ্বিতীয়টি এবং তৃতীয়টি এক বছর পর দিতে হয়। ৩৫ হাজার রোগীর ওপর ভ্যাকসিনটির কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হয়েছে।

এতে ৯ থেকে ১৬ বছর বয়সী রোগীদের ক্ষেত্রে প্রায় ৭৬ শতাংশ কার্যকারিতা পাওয়া গেছে। ইতিমধ্যে ১৯টি দেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন ডেংভেক্সিয়ার অনুমোদন দিয়েছে। সানোফি বলছে, এখন পর্যন্ত ডেংভেক্সিয়া গ্রহণকারীদের মধ্যে মাথাব্যথা, পেশিতে ব্যথা, জয়েন্টে ব্যথা, ক্লান্তি কিংবা সামান্য জ্বরের মতো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র বলছে, বিশ্বের এক-তৃতীয়াংশ মানুষ এডিস মশার কামড়ে হওয়া ডেঙ্গু ভাইরাসের ঝুঁকিতে বসবাস করছে। মূলত গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলের মানুষ এই রোগে বেশি আক্রান্ত হন।

এই রোগে হাসপাতালে নেয়া রোগীদের শতকরা ৯৫ ভাগই দ্বিতীয়বার ডেঙ্গু ভাইরাসে আক্রান্তের ঝুঁকিতে থাকেন। প্রতিবছর বিশ্বজুড়ে প্রায় ৪০ কোটি মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন। এর মধ্যে মৃতের সংখ্যা প্রায় ২০ হাজার।

যুক্তরাষ্ট্র-পাকিস্তান সম্পর্ক কি নতুনভাবে বিন্যস্ত হতে পারে? by মোহাম্মদ আইয়ুব

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সদ্য সমাপ্ত তিন দিনের ওয়াশিংটন সফরের লক্ষ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্র-পাকিস্তান সম্পর্ক পুনঃবিন্যস্ত করা। কয়েক বছর ধরে এই সম্পর্ক মারাত্মক চাপে ছিল, ২০১৭ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প দায়িত্ব গ্রহণের পর তা সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যায়। ট্রাম্প একাধিকবার বলেছেন, কাবুলের সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধরত, সন্ত্রাসী হামলা পরিচালনাকারী ও আমেরিকান সৈন্যদের হামলার সাথে জড়িত তালেবানের প্রতি পাকিস্তানের সমর্থনে তিনি প্রচণ্ডভাবে অসন্তুষ্ট।

আমেরিকান টার্গেটগুলোর ওপর হামলাকারী তালেবান ও হাক্কানি নেটওয়ার্কের মতো সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোর জন্য পাকিস্তানে নিরাপদ আস্তানার অস্তিত্ব ছিল আমেরিকার পাকিস্তানকে ১.৩ বিলিয়ন ডলারের সামারিক সহায়তা ও ৮০০ মিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক সহায়তা স্থগিত করার জন্য যথেষ্ট। ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্প তো তীব্রভাবে পাকিস্তানের সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, গত ১৫ বছরে পাকিস্তানকে যুক্তরাষ্ট্র বোকার মতো ৩৩ বিলিয়ন ডলার দিয়েছে। বিনিময়ে পাকিস্তান প্রতারণা আর মিথ্যা ছাড়া আর কিছুই দেয়নি। তারা সন্ত্রাসীদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়য়ের ব্যবস্থা করেছে।

শুরুতে পাকিস্তান এ সব অভিযোগ অস্বীকার করে আর্থিক সহায়তার জন্য চীন ও সৌদি আরবের দিকে মুখ ফিরিয়েছে। এই মনোভাব আফগানিস্তান প্রসঙ্গে দুই দেশের সম্পূর্ণ বিপরীত অবস্থান প্রকাশ করে।

অবশ্য গত বছর থেকে দুই দেশের অবস্থানে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটে। পাকিস্তান মারাত্মক আর্থিক সঙ্কটে পড়ে কার্যত দেউলিয়া হয়ে যায়। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ মাত্র দুই মাসের আমদানির পর্যায়ে নেমে যায়। চীনের কাছ থেকে জরুরিভিত্তিতে এক বিলিয়ন ডলার ঋণ পেয়ে কোনোমতে রক্ষা হয়। চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের আওতায় অযৌক্তিক আমদানি পাকিস্তানের এমন অবস্থায় পড়ার একটি কারণ ছিল।

অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সাময়িকভাবে সামাল দেয়ার জন্য পাকিস্তান বাধ্য হয়েছে আইএমএফের কাছ থেকে ৬ বিলিয়ন ডলার ঋণ গ্রহণ করতে। আইএমএফের ঋণ গ্রহণ করতে পাকিস্তানকে কঠিন কিছু সংস্কার সাধন করতে বাধ্য হতে হয়। আবার আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকে যুক্তরাষ্ট্রের ভোট শক্তি থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের সাথেও সম্পর্ক ভালো করার প্রয়োজন হয়ে পড়ে পাকিস্তানের।

আবার আফগানিস্তান জটিলতার অবসানের জন্য পাকিস্তানের সহাযোগিতার প্রয়োজন পড়ে যুক্তরাষ্ট্রের। আফগানিস্তানে মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপ ১৮ বছর ধরে চলছে। তালেবানের সাথে সমঝোতা হলেই কেবল যুক্তরাষ্ট্র মুখ রক্ষা করে আফগানিস্তান থেকে বের হয়ে যেতে পারে। আফগানিস্তানবিষয়ক বিশেষ মার্কিন দূত জালমি খালিলজাদ এক বছর ধরে তালেবানের সাথে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন একটি সমঝোতা প্রতিষ্ঠার জন্য।

তালেবানের সাথে সম্পর্ক থাকায় এই শান্তিপ্রক্রিয়ায় পাকিস্তানকে প্রয়োজন যুক্তরাষ্ট্রের। তালেবান যাতে আফগান সরকারের সাথে আলোচনায় বসে সেজন্য গ্রুপটিকে রাজি করানোর দায়িত্বও পাকিস্তানকে দিতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। পাকিস্তানও এতে সহায়তা করতে চায়। আফগানিস্তানে শান্তি প্রতিষ্ঠায় পাকিস্তানের নিজস্ব স্বার্থও রয়েছে।

ইমরান খানের সফরকালে ট্রাম্প স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, বিশ্বাসযোগ্যতা না হারিয়েই আফগানিস্তান থেকে মার্কিনিদের বের হওয়ার জন্য পাকিস্তানের সহায়তা দরকার যুক্তরাষ্ট্রের। ইমরান খানও তাতে রাজি হয়েছেন। তবে ট্রাম্পকে জানিয়েছেন, তারা যেন মনে না করেন যে এটি খুবই সহজ কাজ। কারণ পরিস্থিতি খুবই জটিল।

আফগানিস্তান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে, এতে পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও ইরান, রাশিয়া ও ভারতের মতো শক্তি নানাভাবে জড়িত। এসব দেশের স্বার্থ পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের চেয়ে ভিন্ন হতে পারে।

ইমরান খান পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে সহযোগিতার ইঙ্গিত দিয়েছেন। আফগানিস্তানে আমেরিকাকে সহায়তার বিনিময়ে তিনি পাকিস্তানে মার্কিন সামরিক ও অর্থনৈতিক সহায়তা আবার শুরুর আগ্রহ ব্যক্ত করেছেন। তাছাড়া আফগানিস্তান ও কাশ্মির প্রশ্নে পাকিস্তানের স্বার্থ রক্ষার জন্য ভারত ও আফগানিস্তানকে রাজি করানোর কাজটিও যুক্তরাষ্ট্রকে করতে হবে বলে ইমরান খান আভাস দিয়েছেন।

কাশ্মির প্রশ্নে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে মধ্যস্ততা করতে চান বলে ট্রাম্প যে বক্তব্য দিয়েছেন, সেটিকেও এই প্রেক্ষাপটে বিবেচনা করতে হবে।

ওয়াশিংটন ও ইসলামাবাদের মধ্যে এই অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক আনুকূল্য বিনিময় দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ক নতুন দিকে যাচ্ছে, এমনটা বলার সময় এখনো আসেনি। তবে দুই পক্ষই আশাবাদী যে এমনটা হতে পারে।

>>>লেখক: ইউনিভার্সিটি ডিস্টিঙ্গুইশড প্রফেসর ইমিরিটাস অব ইন্টারন্যাশনাল রিলেশন্স, মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটি, নন-রেসিডেন্ট সিনিয়র ফেলো, সেন্টার ফর গ্লোবাল পলিসি, ওয়াশিংটন ডিসি

বস্তি থেকে উচ্চশিক্ষা নিতে আমেরিকা যাচ্ছেন সিয়াম

"যখন থেকে আমি বুঝি যে পড়াশুনা কত গুরুত্বপূর্ণ, অনেক দূর যেতে হবে - তখন থেকেই আমার স্বপ্ন ছিলো যে, একদিন বাইরে যাবো, বাইরে গিয়ে পড়াশুনা করবো, মানুষের সাথে মিশবো।" এভাবেই নিজের স্বপ্নের কথা বলছিলেন সিয়াম হোসেন।
সিয়াম থাকেন রাজধানী ঢাকার রায়ের বাজার বস্তিতে, তবে সেখানে আটকে থাকেন নি তিনি।
বস্তির সংকীর্ণতা ছাড়িয়ে তিনি এখন উচ্চশিক্ষা নিতে যাচ্ছেন আমেরিকায়।
সিয়ামের আর্থিক অবস্থা বিবেচনা করে 'ডেয়ার টু ড্রিম' বা 'স্বপ্ন দেখার সাহস' নামের এই বৃত্তিটি দিয়েছে আমেরিকার ইউনাইটেড ওয়ার্ল্ড কলেজ বা ইউডব্লিউসি।
ইউডাব্লিউসি-তে ২০১৯-২০ শিক্ষাবছরে ৮০ হাজার ডলার মূল্যের পূর্ণ বৃত্তি নিয়ে পড়তে এ মাসেই নিউ মেক্সিকো যাচ্ছেন তিনি।
তবে তার স্বপ্নপূরণের এই যাত্রাটি সহজ ছিলো না সিয়ামের জন্য। কিভাবে বস্তি থেকে আমেরিকা যাওয়ার স্বপ্ন পূরণ করলেন, বিবিসি বাংলার সাথে সাক্ষাৎকারে সেকথাই বলছিলেন সিয়াম।
তিনি বলেন, তার এই অর্জনের পেছনে অবদান রয়েছে জাগো ফাউন্ডেশনের।
"২০০৭ সালে যখন জাগো ফাউন্ডেশনের স্কুলটি প্রতিষ্ঠিত হয় তখন এখানকার প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলাম আমি। ১৭ জন শিক্ষার্থী নিয়ে স্কুলের যাত্রা শুরু হলেও ক্লাসে আসতো দুই তিন জন করে।"
"মানুষ তাদের বাচ্চাদের স্কুলে পাঠাতে চাইতো না। কারণ এক ধরণের গুজব ছিলো যে, এখান থেকে বাচ্চাদের পাচার করা হবে কিনা। এমন গুজবেও আমার মা-বাবা আমাকে ভর্তি করে। এমনকি তারা অন্য বাচ্চাদের বাড়ি বাড়ি গিয়েও তাদের স্কুলে ভর্তি করাতে বলতো।"
সিয়াম জানান, ছোটবেলা থেকেই স্কুলে যাওয়া খুব পছন্দ ছিলো তার। "আশেপাশে তো দেখতাম যারা স্কুলে যেতো, তো তাদের মুখে যে হাসিটা না থাকতো, আমাদের মুখে সেটা থাকতো" - বলছিলেন তিনি।
সেই স্কুলে যখন বিভিন্ন দেশের নাগরিকরা পরিদর্শনে আসতেন, তাদের সাথে কথা বলে বা মিশে তাদের মতোই হতে চাইতেন সিয়াম।
এই স্বপ্ন পূরণের পেছনে জাগো ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা করবি রাকসান্দ ছিলেন সিয়ামের কাছে আদর্শ একজন মানুষ। তিনি বলেন, "আমার জীবনের প্রথম স্কাইপ অ্যাকাউন্ট করে দিয়েছিলেন স্যার, যাতে আমি বিদেশি নাগরিকদের সাথে যোগাযোগ রাখতে পারি।"
সিয়াম জানান, আগে বড় হয়ে একজন ভালো চিকিৎসক হতে চাইতেন তিনি। তবে এখন জীবনের লক্ষ্য বদলে গেছে তার। এখন তিনি হতে চান একজন যোগাযোগ কর্মী।
এর কারণ জানতে চাইলে সিয়াম বলেন, "আমি মনে করি আমি অনেক ভালো কথা বলতে পারি। এটা আমার আত্মবিশ্বাস। আমার মনে হয় এই সেক্টরে আমি অনেক ভালো করবো।"
সিয়াম জানান, তার এই অর্জনে শুধু তার পরিবার নয় বরং তার প্রতিবেশীরাও অনেক খুশি। সিয়ামকে দেখেই নিজেদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়ার ক্ষেত্রে অনুপ্রেরণা পান তারা।
তিনি বলেন, "আমাকে দিয়েই শুরু। আর তারা চায় যাতে আমাকে দিয়েই শেষ হয়ে না যায়। তারা আমাকে নিয়ে অনেক আশাবাদী।"
নিজের মতো অন্যদের উদ্দেশ্যে সিয়াম বলেন, "আমি সবচেয়ে বড় এক্সাম্পল (দৃষ্টান্ত) যে, যেখান থেকে আজ আমি যে পর্যায়ে এসেছি, ইনশাল্লাহ আরো অনেক দূর যাবো। আমি মনে করি, তারাও পারবে।"
"বাধা-বিপত্তি থাকে জীবনে, কিন্তু সেগুলো পার করেও যে সাফল্যের দিকে যাওয়া সম্ভব সেটাই হচ্ছে মূল বিষয়।"
বস্তির সংকীর্ণতা ছাড়িয়ে সিয়াম হোসেন এখন উচ্চশিক্ষা নিতে যাচ্ছেন আমেরিকায়।

রাষ্ট্রপতির ক্ষমার পরেও ১০ বছর জেল খেটে নিঃস্ব আজমত আলী by বিশ্বজিৎ দেব

আজমত আলী
রাষ্ট্রপতির ক্ষমা পাওয়ার পরেও কারাগারের অন্ধকার ঘরে ১০ বছর বেশি থাকতে হয়েছে জামালপুরের সরিষাবাড়ি উপজেলার তারাকান্দির পাখিমারা গ্রামের ৭৫ বছর বয়সী আজমত আলী মাস্টারকে। আর এই ১০ বছরে জেল থেকে মুক্তি পেতে জমি-জমা সব বিক্রি করে আজ তিনি নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। মুক্তি মিললেও অর্থকষ্টে, অনাহারে-অর্ধাহারে এখন দিন কাটছে তার।

আজমত আলী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ১৯৮৭ সালের ১ এপ্রিল জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এলাকার কলিম উদ্দিনের ছেলে রেজাউল নিহত হন। এ ঘটনায় আমাকে আসামি করে হত্যা মামলা করা হয়। এ মামলায় ১৯৮৯ সনের ৮ মার্চ আমাকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন জামালপুর জেলা জজ আদালত। বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা এবং হাইকোর্টে আপিল করি। এরই মধ্যে রাষ্ট্রপতি ক্ষমা করেন। ১৯৯৬ সালের ২১ আগস্ট জামালপুর কারাগার থেকে মুক্তি পাই। অপর দিকে হাইকোর্টে আপিল করা মামলায় ২০০৫ সালের ২ মার্চ হওয়া রায়ে খালাস পাই।

তবে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত ২০০৮ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি আমাকে নিম্ন আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন। এরপর ২০০৯ সালের ২৯ অক্টোবর গ্রামের বাড়ি থেকে পুলিশ আমাকে গ্রেফতার করে নিম্ন আদালতে উপস্থিত করে। পরে ২০১০ সালের ১১ আগস্ট রাষ্ট্রপক্ষের আপিলের রায়ে হাইকোর্টের রায় (খালাস) ও আদেশ রদ করে নিম্ন আদালতের যাবজ্জীবন আদেশ বহাল রাখে।

আজমত আলী জানান, ওই লিভ টু আপিলের বিষয়ে কোনও খোঁজ রাখেননি। ফলে উচ্চ আদালতকে রাষ্ট্রপতির ক্ষমার বিষয়টিও জানানো হয়নি। অন্য কেউ এ বিষয়টি উল্লেখও করেনি। পরে আজমত আলীর মেয়ে বিউটি খাতুন তার বাবার বিষয়ে আইনি সহায়তার জন্য সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যালএইড শাখায় আবেদন করেন। এরপর ২০১৯ সালের ২৭ জুন আপিল বিভাগ রিভিউ নিষ্পত্তি করে রায় দেন। পরে ১৬ জুলাই আপিল বিভাগের নির্দেশে জামালপুর কারাগার থেকে মুক্তি পান আজমত আলী।

আজমত আলী আরও জানান, যেদিন তাকে প্রথম যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয় সেদিনই তার বাবা ইজ্জত উল্লা সরদার হার্টফেল করে মারা যান। যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ১৪ বছর হলেও সব মিলিয়ে আজমত আলীকে ১৭ বছর জেল খাটতে হয়েছে।

রাষ্ট্রপতির ক্ষমার পরেও কারাদণ্ড ভোগ করতে হয় ৯ বছর ৮ মাস ১৭ দিন। এরআগে, তিনি জেল খাটেন ৭ বছর ৫ মাস ১৩ দিন। এই মামলা চালাতে গিয়ে তার আনুমানিক ৯ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। এসব কারণে তার সংসার আজ বেহাল অবস্থায় রয়েছে, অর্থকষ্টে ও অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটছে তার।

আজমত আলীর স্ত্রী জবেদা বেগম (৬০) বলেন, আমার স্বামী জেলে থাকার সময় আমার ভাই এবং বাবার বাড়ির লোকজন ও প্রতিবেশীরা অনেক সহযোগিতা করেছেন। তা না হলে আমার টিকে থাকাই অসম্ভব হয়ে পড়তো। বাবার বাড়ির এবং প্রতিবেশীদের কাছে আমি অনেক ঋণী।

এখনের আজমত আলী এবং তার স্ত্রী জবেদা বেগম বলেন, বেঁচে থাকার জন্য আমরা সরকারের কাছে সাহায্যের আকুতি জানাচ্ছি।

আজমত আলীর প্রতিবেশী আব্দুর সামাদ (৫৫) ও এ কে এম ফজলুল হক (৫০) জানান, আজমত আলীর অবর্তমানে তার মেয়েদেরকে বিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছি। তাদের সংসারটাকে দেখে-শুনে রেখেছি। আজমত আলীর তিন মেয়ে এবং এক ছেলে।

আজমত আলীর আইনজীবী জয়ন্ত কুমার জানান, রাষ্ট্রপতির ক্ষমার পরেও তাকে আটকে রাখাটা ঠিক হয়নি। তবে উচ্চ আদালত না জেনে আদেশ দেওয়ার কারণেই জটিলতার সৃষ্টি হয়। পরে বিষয়টি জানানো হলে আদালত তার মুক্তির ব্যবস্থা করেন।

কোটিপতি এক এএসআই by মোহাম্মদ ওমর ফারুক

রবিউল ইসলাম। ছিলেন পুলিশ কনস্টেবল। ২০১৭ সালের শেষের দিকে পদোন্নতি পেয়ে হয়েছেন এএসআই। তিনি এখন পুলিশ সদর দপ্তরের সংস্থাপন শাখায় কর্মরত। পুলিশের নিয়োগ ও বদলির বিষয় দেখা হয় এই শাখা থেকে। রবিউল ছোটবেলায় বাবাকে হারিয়েছেন। অভাবের সংসারে দুই সন্তানকে ফেলে চলে যান তার মা। পরে চাচার কাছেই বড় হন তিনি।
মৃত্যুর সময় মাত্র পাঁচ কাঠা জমি রেখে গেছেন তার বাবা। কিন্তু মাত্র ১১ বছর পুলিশের চাকরি করে হয়েছেন বাড়ি, গাড়ি, কোটি টাকার মালিক। মাসে বিশ হাজার টাকা ফ্ল্যাট ভাড়া দিয়ে পরিবার নিয়ে থাকেন ঢাকায়। অনুসন্ধানে জানা যায়, দুর্নীতি করে ২ কোটি ১৯ লাখ টাকার সম্পত্তি ও নগদ টাকার মালিক হয়েছেন রবিউল। নামে বেনামে এর বাইরে রয়েছে আরও অনেক সম্পত্তি। পুলিশের এই সদস্য চাকরির এগারো বছরে অবৈধ পথে আয় করেছেন কোটি টাকা, কিনেছেন জমি। রবিউলের নামে যশোরের কেশবপুর পৌর এলাকায় আছে ৩ শতাংশ জমি। জমিটি কেশবপুর সাব রেজিস্ট্রার অফিস থেকে রেজিষ্ট্রি হয় ২০১৫ সালের ২রা ফেব্রুয়ারি। দলিল নম্বর ৪৬১/১৫। দলিলে জমির দাম দেখানো হয় ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা।

কিন্তু বাস্তবে এই জমির দাম প্রায় ২১ লাখ টাকা। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৫৫ নম্বর ওয়ার্ডে (কামরাঙ্গীর চর) আছে ১১৫ দশমিক ৫০ অযুতাংশ জমি (১ কাঠার কম)। দলিল নম্বর ৩৭৭০। ঢাকা সদর সাব রেজিস্ট্রার অফিসে জমিটির দলিল রেজিস্ট্রেশন হয় ২০১৬ সালের ২৯শে মে। দলিলে জমির দাম দেখানো হয়েছে ৩ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, এই জমির বর্তমান বাজার মূল্য ৪০ লাখ টাকা। আরেকটি জমি যশোরের কেশবপুর পৌর এলাকায় রবিউলের রয়েছে আরও ১০ দশমিক ৫০ শতাংশ জমি। কেশবপুর সাব রেজিস্ট্রার অফিসে এ জমির রেজিস্ট্রেশন হয় ২০১৭ সালের ২৭শে ফেব্রুয়ারি। দলিল নম্বর-১১৮১/১৭। দলিলে জমির দাম দেখানো হয়েছে ১৬ লাখ ২১ হাজার টাকা। কিন্তু জমিটির বর্তমান  বাজার মূল্য অন্তত ৪৮ লাখ টাকা।

এছাড়া দক্ষিণ সিটির ৫৬ নম্বর ওয়ার্ডে (কামরাঙ্গীর চর) আছে আরও এক কাঠা জমি। যার দলিল নম্বর ৪৪৪৫। ঢাকা সদর সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে দলিল হয় গত বছরের ১৬ই সেপ্টেম্বর। দলিলে জমির দাম দেখানো হয়েছে ৫ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দলিলে দাম কম দেখানো হলেও এই জমির বাজার মূল্য অন্তত ৫০ লাখ টাকা।

যশোরের কেশবপুর পৌর এলাকায় ৭২ নম্বর আলতাপোল মৌজায় বাগান ও স্থাপনাসহ দোকান কেনা হয়েছে এএসআই রবিউলের শ্বশুর মো. শহীদুল ইসলাম ও ভগ্নিপতি মো. ইয়াছিন আলীর নামে। জমির দলিল নম্বর ২৩৬১। কেশবপুর সাবরেজিস্ট্রি অফিসে জমির দলিল হয় চলতি বছরের ২৯শে মে। জমির পরিমাণ যথাক্রমে দশমিক ৮৪২ শতক ও ২ দশমিক ১৫৮ শতক। দলিলে জমির দাম ৩৫ লাখ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে। অথচ স্থানীয়রা বলছেন, জমিটির বর্তমান বাজার মূল্য ৬০ লাখ টাকা। এই জমিটি তিনি কিনেছেন শ্বশুর ও ভগ্নিপতির নামে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তার শ্বশুর ও ভগ্নিপতির এই জমি কেনার সামর্থ নেই। তারা কৃষি কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। এদিকে ১৪ লাখ টাকা মূল্যের একটি মাহেন্দ্র পিকাপ আছে তার। পিকাপটির রেজি:নম্বর নং-১৪-৯৩০২। এসবের বাইরে তার বিরুদ্ধে দুদকেও রয়েছে অনেক অভিযোগ। অভিযোগ পত্র থেকে জানা যায়, যশোরের কেশবপুর থানার মংগল কোট গ্রামে লতিফ নামে এক মাদক ব্যবসায়ীর সঙ্গে তার যোগাযোগ রয়েছে। একই গ্রামের বেশ কয়েকজনের কাছ থেকে তিনি কনস্টেবল ও এ্‌সআই পদে চাকরি দেবার নাম করে অনেক টাকা নিয়েছেন। এর মধ্যে মংগলকোট গ্রামের এনামুল কাছ থেকে ৬ লক্ষ টাকা, পাশের গ্রাম শিকারপুর আজিজারের কাছ থেকে ১৩ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা, দেউলী গ্রামের চিনু মোড়ল থেকে ১২ লক্ষ এবং কেশবপুরের বালিয়া ডাঙ্গা হগ্রামের আফসার গাজীর কাছ থেকে ১০ লক্ষ টাকা।

টাকা দেয়া ব্যক্তিরা প্রত্যেকেই চাকরি পেয়ে বিভিন্ন জায়গায় কর্মরত আছেন। এই অভিযোগ থেকে জানা যায়, নিজের এলকার থানা থেকে প্রভাব খাটিয়ে ডাকাতি মামলা, মাদক মামলাসহ নানান মামলা থেকে টাকার বিনিময়ে আসামিদের বাদ দেয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এদিকে রবিউলের আপন চাচা আব্দুর রাজ্জাক তাকে ছোটবেলা থেকে দেখাশোনা করলেও সেই চাচাকেই মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী করে আসছেন বেশ কয়েকদিন ধরে। কয়েক মাস বাড়ি ছাড়া ছিলেন তিনি। এদিকে ১৪ই জুলাই রাজ্জাক বাড়িতে গেলে ২০১৫ সালের একটি পুরনো ভুয়া মামলা তাকে আটক করিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে ২৮শে জুলাই আদলতে মামলাটি মিথ্যা প্রমাণিত হওয়াকে তাকে জামিন দেয়া হয়। এর আগে গত ১৪ই মে যশোরের কেশবপুর থানায় আব্দুর রাজ্জাকের নামে সাধারণ ডায়েরি করেন (জিডি) রবিউল। জিডি নম্বর-৫৩৯। জিডিতে রাজ্জাকের সঙ্গে জমিজমা নিয়ে বিরোধের কথা বলা হলেও জমির পরিমাণ ও স্থানের কথা উল্লেখ করা হয়নি। এমনকি তার ঢাকার কর্মস্থল ও ঠিকানা সম্পর্কেও জিডিতে উল্লেখ নেই।

আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ছোটবেলা থেকেই আমি তাকে নিজের কাছে রেখে পড়ালেখার ব্যবস্থা করেছি। কারণ যখন আড়াই বছর বয়স তার বাবা মারা গেছেন। তার মা অন্যত্র চলে গিয়েছিলেন। কিন্তু এখন সে পুলিশ হওয়ার পর ক্ষমতা দেখিয়ে আমাদেরকে পৈতৃক ভিটা থেকে উচ্ছেদ করতে চাইছে। তার লোকজন আমাদের বসত ভিটায় হামলা চালিয়েছে। গত মাসে এই দুই সপ্তাহ জেল খাটলাম তার জন্য। তিন চার বছর আগের একটি ভুয়া মামলা দেখিয়ে আমাকে কারাগারে পাঠিয়েছে। এসবের বিচার কোথাও পাইনা। উপরওয়ালা যদি তার বিচার করে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে এএসআই রবিউল ইসলাম এই প্রতিবেদককে সবকিছু অনুসন্ধান করে দেখার কথা বলেন। কিন্তু অনুসন্ধান শেষ করে, এবং সকল প্রকার তথ্য নিয়ে ফোন দেয়া হয়েছে জানালে রবিউল সত্যতা স্বীকার করে প্রতিবেদককে বলেন, আপনার যা ভালো মনে হয় তা করেন। তবে পুলিশে নিয়োগ বানিজ্যের কথাটিও তিনি অস্বীকার করেন। এদিকে রবিউল তার চাচাকে দোষারোপ করে বলেন, ছোটবেলায় আমার বাবা মারা যান। এর পর থেকেই সকল সম্পত্তি আমার চাচা ভোগ দখল করে যাচ্ছে। আমি নিজে এসব সম্পত্তি চাইতে গেলে আমাকে উল্টো মামলা হামলা দিয়েছেন। অভিযোগের বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) মো. সোহেল রানা বলেন, রবিউলের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ জমা পড়েছে। এবং বিষয়টি পুলিশ সদরদপ্তর তদন্ত করছে।

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়াবেন ট্রাম্প? by হাসান ফেরদৌস

ডোনাল্ড ট্রাম্প ও হাসান রুহানি
যুক্তরাষ্ট্রের মানববিহীন ড্রোন আন্তর্জাতিক আকাশসীমায় ভূপাতিত করার শাস্তি হিসেবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে পাল্টা সামরিক হামলার নির্দেশ দিয়েও শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত বদল করেছেন। হোয়াইট হাউসের সূত্র উল্লেখ করে নিউইয়র্ক টাইমসসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় এ খবর প্রকাশিত হয়েছে। ইরানে আক্রমণের উদ্দেশ্যে মার্কিন যুদ্ধবিমান আকাশে ওঠার পর ট্রাম্প তাঁর সিদ্ধান্ত বদল করেন কী কারণে, সে কথা এখনো জানা যায়নি।
ইরানের দাবি, ড্রোনটি তারা ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য মিসাইল দিয়ে আঘাত করে ভূপাতিত করে। ড্রোনটি ইরানের আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছিল।
গত বছরের মে মাসে ইরানের সঙ্গে সম্পাদিত বহুজাতিক পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্র বেরিয়ে আসে। এরপর থেকেই তেলসমৃদ্ধ এই দেশটির সঙ্গে সামরিক সংঘর্ষের সম্ভাবনা বেড়েই চলেছে যুক্তরাষ্ট্রের। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, চুক্তিটি ত্রুটিপূর্ণ। ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন, এই চুক্তিকে ব্যবহার করে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে তার ক্ষতিকর প্রভাব ও সন্ত্রাসীদের প্রতি সমর্থন বাড়িয়েই চলেছে। নতুন চুক্তির লক্ষ্যে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়িয়ে চলেছে। এই চাপের কারণে দেশটির তেল রপ্তানি দৈনিক ২৫ লাখ ব্যারেল থেকে কমে মাত্র ২ লাখ ব্যারেলে এসে ঠেকেছে। যুক্তরাষ্ট্র এই রপ্তানি শূন্য ব্যারেলে নামিয়ে আনার পক্ষে। অর্থনৈতিক চাপের পাশাপাশি সামরিক চাপ বাড়ানোর লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে একটি যুদ্ধজাহাজ ও অতিরিক্ত সেনা পাঠিয়েছে।
বিশ্লেষকেরা এখনো বুঝে উঠতে পারছেন না, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানকে নিয়ে কী করতে চান। তিনি নতুন আরেকটি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে চান না, এ কথা নানা সময়ে বলেছেন। গত মঙ্গলবার ফ্লোরিডায় তাঁর পুনর্নির্বাচনী ক্যাম্পেইন শুরুর ঘোষণার সময়েও তিনি ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেন। বৃহস্পতিবার ড্রোন হামলার কথা প্রকাশিত হওয়ার পর প্রথম প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেছিলেন, ইরান বড় ধরনের ভুল করেছে। পরে হোয়াইট হাউসে কানাডার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় সাংবাদিকদের জানান, এটি যে ইচ্ছাকৃতভাবে করা হয়েছে, তা তিনি মনে করেন না। এটি হয়তো কোনো জেনারেলের ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। তাঁর সেই কথাকে অনেকেই এই মুহূর্তে নতুন কোনো যুদ্ধ শুরু না করার ইচ্ছা বলেই ধরে নিয়েছেন। অবশ্য তার পরপরই জানা যায়, তিনি সামরিক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন, যা অজ্ঞাত কারণে পরবর্তী সময়ে রদ করা হয়।
ট্রাম্প নিজে যুদ্ধবিরোধী হলেও পরামর্শদাতা হিসেবে যাঁদের নিয়োগ দিয়েছেন, তাঁদের অধিকাংশই অবিলম্বে ইরানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে সামরিক হামলার পক্ষে। তাঁদের অন্যতম হলেন ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন। নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক পিটার বেইনার্ট মন্তব্য করেছেন, গত দুই দশক ধরে বোল্টন ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে আসছেন। ‘তিনি বারবার যুক্ত দেখিয়েছেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধের লক্ষ্যে সে দেশের ওপর বোমা বর্ষণ করা উচিত।’
যুদ্ধের পক্ষে প্রবল উত্তেজক কথা বলা সত্ত্বেও ট্রাম্প এখন পর্যন্ত সামরিক হামলার পক্ষে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। পর্যবেক্ষকেরা বলছেন, যুদ্ধের কথা বলে তিনি নিজেকে একটি বৃত্তের ভেতর আটকে ফেলছেন। এখন কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের কাছে তার বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে।
শুধু ট্রাম্পের অতি-যুদ্ধবাদী উপদেষ্টারাই নন, ইরানের বিরুদ্ধে আশু সামরিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিদার মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশও। সৌদি আরব ও ইসরায়েল উভয়েই মনে করে, ইরান তাদের জন্য বড় হুমকি। দুই দেশই ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে। গত মাসে একটি সৌদি তেলের ট্যাংকারে আক্রমণের জন্য ইরানকে দায়ী করে সৌদি দৈনিক আরব নিউজ অবিলম্বে ইরানের ওপর বোমা ফেলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে অনুরোধ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে সিরিয়ার বিরুদ্ধে ‘সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুর ওপর সফলভাবে আঘাত হানে, ইরানের বিরুদ্ধেও একই ব্যবস্থা নিতে হবে’, পত্রিকাটি পরামর্শ দেয়।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কোন পথে এগোবেন, এখনো তা স্পষ্ট নয়। রিপাবলিকান নেতৃত্ব অবিলম্বে সামরিক ব্যবস্থা গ্রহণের পক্ষে যুক্তি দেখালেও বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা তাঁকে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণের আগে যুক্তরাষ্ট্রের ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে ঐকমত্য অর্জনের পরামর্শ দিয়েছেন।
এ কথা কতটা সত্য, আগামী কয়েক দিনেই সব স্পষ্ট হবে। সবাই একমত, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু হলে তার আগুন মধ্যপ্রাচ্যের অন্যত্র দ্রুত ছড়িয়ে পড়বে। এই যুদ্ধ ইরানের জন্য সর্বনাশা হবে, কিন্তু বিশ্ব অর্থনীতিতে ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনবে। যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের অধিকাংশ তেল রপ্তানি হয়, তা বন্ধ করে দেওয়ার ক্ষমতা ইরানের রয়েছে। তেমন কোনো ব্যবস্থা নিলে সারা বিশ্বে তেলের দাম গগনচুম্বী হয়ে পড়বে। ছোট-বড় কোনো দেশই এর প্রভাব এড়াতে পারবে না।

‘কসাই নই, মাংস শ্রমিক’ by সাদ্দিফ অভি

ঈদুল আজহায় পশু কেনার পরের বড় কাজটি কোরবানি দেওয়া। এক্ষেত্রে যারা মুখ্য ভূমিকা রাখেন, তারা হলেন কসাই। তবে এ পেশায় জড়িত মানুষগুলো নিজেদের ‘কসাই’ নামে পরিচয় দিতে চান না। তারা চান, তাদের ‘মাংস শ্রমিক’ বলা হোক। মাংস ব্যবসায়ী সমিতিরও ‘কসাই’ শব্দে আপত্তি। তারা বলছে, মাংসের কাজ যারা করে তারা ‘মাংস শ্রমিক’। এ ব্যবসায় জড়িতরা ‘মাংস ব্যবসায়ী’।
রাজধানীর একাধিক কসাই বলেন, পশুর চামড়া নিখুঁতভাবে ছাড়িয়ে ঠিকঠাক মাংস তৈরি করার ক্ষেত্রে তাদের বিকল্প নেই। কারণ, তারা জানেন কীভাবে চামড়া অক্ষত রাখতে হয়, মাংস ঠিকঠাক তৈরি করতে হয়। তবে ‘কসাই’ শব্দটি নেতিবাচক; এর অর্থ ‘হত্যাকারী’। তাই তারা নিজেদের এই নামে পরিচয় দিতে চান না।
তারা বলছেন, মাংসের ব্যবসা বাংলাদেশের অর্থনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। এটি এখন বিদেশেও রফতানি হচ্ছে। তাই মাংস বিক্রেতাকে ‘মাংস ব্যবসায়ী’ হিসেবে এবং ‘কসাই’ না বলে তাদের ‘মাংস শ্রমিক’ বলে পরিচিত করা হোক।
রাজধানীর মোহাম্মদপুর, কাঠালবাগান বাজারসহ কয়েকটি এলাকার কসাইদের সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। তারাও ‘মাংস শ্রমিক’ হিসেবে পরিচিত হতে চান, কসাই নয়।
মাংস বিক্রেতা সাব্বির বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “‘কসাই’ শুনতে খুব খারাপ লাগে। নেতিবাচক মনে হয়। ‘কসাই’ অর্থ ‘হত্যাকারী’। আমরা তো তা করি না। আমরা বরং মানুষের উপকার করি। আর পশু কোরবানি তো হত্যা নয়।’
অনেকটা একই সুরে কথা বলেন মোহাম্মদপুরের কসাই একরাম। তিনি বলেন, “‘কসাই’ শব্দটি আমাদের পেশার সঙ্গে যায় না। আমরা মাংস শ্রমিক’।”
‘মাংস শ্রমিক’ বলার বিষয়ে ব্যাখ্যা দেন মাংস ব্যবসায়ী সমিতির মহাসচিব রবিউল আলম। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘৩০ বছর ধরে এ নিয়ে লেখালেখি করছি। ‘কসাই’ অর্থ হলো ‘হত্যাকারী’, ‘বেরহম’ বা ‘নির্দয়’। আমরা হত্যাকারীও না, নির্দয়ও না, আমরা জবাইও করি না। জবাই করেন তো মোল্লারা।”
এটা নিয়ে সংসদেও প্রায় ৩০ মিনিট বিতর্ক হয়েছে বলে জানান তিনি। বলেন, “আমরা কিন্তু এখন আর ‘কসাইখানা’ লিখি না, লিখি ‘জবাইখানা’। এখন ট্রেড লাইসেন্সেও লেখা হয় ‘মাংস ব্যবসায়ী’। আমরা যেহেতু শুধু মাংস কাটি কিংবা মাংস বিক্রি করি, সেহেতু আমরা ‘মাংস ব্যবসায়ী’ ও ‘মাংস শ্রমিক’।” এখন অনেক সাংবাদিক ‘কসাই’ শব্দটি লেখেন না বলেও দাবি করেন তিনি।
রবিউল আরও বলেন, “সবচেয়ে বড় কথা পৃথিবীতে অনেক পরিবর্তন এসেছে। আমরাও ভাষাগত দিক থেকে পরিবর্তন চাই। এখন আমরা কিন্তু নাপিতকে ‘নাপিত’ বলি না। ধোপাকে ‘ধোপা’ বলি না।” এরকম অনেক শব্দ এখন আর ব্যবহার করা হয় না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বৃষ্টিভেজা নামাজগুলো by রোকন রাইয়ান

অফিসে থাকলে জুমা পড়ি বাফুফে মাঠে। কংক্রিটের মতিঝিল। উ‍ঁচু উঁচু দালান। মাঝখানে একপুচ্ছ সবুজ মাঠ। সেটি ঢেকে আছে নানারকম গাছে। এক শুক্রবার রুকু সেজদায় মশলার ঘ্রাণ পেলাম। নামাজ শেষে দেখি পাশের গাছটি তেজপাতার। বৃষ্টিতে ভিজে মৌ মৌ ঘ্রাণ ছড়াচ্ছে। সেই নামাজের অনুভূতি ছিল সত্যিই ‘শিহরিত’।

আজকের জুমার দিনট‍া সকাল থেকেই ভেজা। বৃষ্টি হচ্ছে তো ছাড়ছে। ছাড়ছে তো ধরছে। অফিসে এলাম টুপ টুপ বৃষ্টি মাথায়। ১ টায় যখন বেরুচ্ছি তখনও হালকা বৃষ্টি। কোনোমতে দৌড়ে মাঠে পৌঁছলাম। স্যাঁতস্যাঁতে ঘাস। একটা গাছের নিচে দাঁড়িয়ে গেলাম। খুতবা শুরুর আগে ইমাম ঘোষণা দিলেন বাইরে বৃষ্টি- সবাইকে চেষ্টা করি ভেতরে জায়গা দেয়ার।

বাফুফের সামনের মসজিদটা ছোট। আবার এক তলা। মুসল্লি আসার আগেই মসজিদ ভরে যায় এই হাল। তাই ইমাম সাহেব ঘোষণা করলেও অবস্থা তথৈবচ। তবে খুতবা শেষ হলে বৃষ্টির ছিটে কমলো। আধোভেজা চটে দাঁড়াতে শুরু করলেন মুসল্লিরা। অনেকেই বগলে রাখা জায়নামাজ ফেলতে লাগলেন কাদাযুক্ত রাস্তায়।

সপ্তাহের বাকি দিনে যারা নামাজের ধারে কাছেও যান না তাদেরও টার্গেট থাকে জুমা যেন মিস না হয়। অনন্য ফজিলতের নামাজ বলে কথা। যাকে বলা হয়েছে গরিবের ঈদ। যে কারণে শহরের মসজিদগুলোতে দেখা মেলে অনন্য চিত্র। মসজিদ উপচে পড়ে মুসল্লিতে। রাস্তায় ছড়িয়ে যায় কাতারে কাতার।

বছর দুয়েক আগের কথা। তখন মদিনাবাগ মসজিদে জুমা পড়তাম। অফিস থাকায় একটু দেরিতেই আসতাম আমরা। তাই গাড়ি ফেল করা মানুষের মতো রাস্তাই ছিল আমাদের ভরসা। সেবার বৃষ্টির মৌসুমেও প্রচণ্ড গরম ছিল। জুমার দিন রোদ ছিল আকাশে। তবে একখণ্ড কালো মেঘ ঘুরছিল মাথার উপর।

খুতবা শুরু হলে রাস্তায় অসংখ্য মানুষ দাঁড়িয়ে গেলাম। তখনও কালো একখণ্ড মেঘ ছাড়া বাকি সব পরিস্কার। তবে ইমাম সাহেব রুকুতে যেতেই শুরু হলো বৃষ্টি। কিন্তু সামান্য বৃষ্টির জন্য তো মহান হুকুম নামাজ ছাড়া যায় না। সবাই ধুম বৃষ্টিতেই নামাজ সারলেন। কাপড় চোপড় তো ভিজলই সাথে মোবাইল মানিব্যাগও ভিজে একাকার।

তবে আশপাশে তাকিয়ে দেখি কারো মুখে বিরক্তির ছাপ নেই। যেন অসীম তৃপ্তি দিয়েছে বৃষ্টিভেজা এ নামাজ। পরোক্ষ পূন্যের পাশাপাশি যেন বাহ্যিক বৃষ্টিতে ধুয়ে গেছে শরীর। তখনকার অনুভূতিটা কেমন ছিল? বলার ভাষা নেই। শিহরিত’র চেয়েও আসলে বেশি কিছু।

ছোটবেলায় একবার ঈদের নাম‍াজ ভেসে যেতে দেখেছি বৃষ্টিতে। নানা মাওলানা মুসলেম উদ্দিন ঈদের নামাজ পড়াতেন। তার হাত ধরে আমিও গেলাম মাঠে। সকাল থেকে ঝিরঝিরে বৃষ্টি ছিল। তবে ততটা গায়ে মাখার মতো ছিল না বলে মানুষ জন আসতে শুরু করেছে মাঠে।

বিপত্তি বাঁধলো নামাজ শুরুর আগে। তুমুল বৃষ্টি বলতে হয় এমন ফোটা শুরু হলো। আমরা কোনোমতে মিম্বারের চাদোয়ার নিচে দাঁড়িয়ে আছি। দুয়েকজন পাশ থেকে ছাতা ধরেছেন। সেই বৃষ্টি টানা আধঘণ্টর মতো চললো। মাঠ ভিজে একাকার। আটকে গেছে পানিও। নামাজ পড়ার উপক্রম নেই। যে কয়জন মুসল্লি ছিলেন সব‍াই পাশের মসজিদে চলে গেলেন। নানার হাত ধরে আমিও গেলাম।

নামাজ শেষ হলো। কিন্তু আমার মনে হলো ঈদের আমেজ যেন আগেই শেষ হয়েছে। ঈদের নামাজও আজ পড়া হয়নি। পড়েছি জোহর নামাজ।

কাঠফাটা গরমে যখন হাহুতাশ করে মানুষ। কণ্ঠ শুকিয়ে কাঠ হয়। তখন বৃষ্টির অপেক্ষায় চাতক পাখি হই আমরা। আল্লাহ তায়ালা রহমতের বারি ঢেলে দেন। বৃষ্টি তার অপার সৌন্দর্যের লীলা দেখায়। আমরা তৃষিত হৃদয় সজীব করি। এই বৃষ্টি নামাজেও আনে তৃপ্তি। তাই কবি আহ্বান করেন- আজ বৃষ্টির জায়নামাজে/ আয় না মুমিন আয় নামাজে।

যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করবে by ইয়ান ইয়ানমিং

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্ক এসপার গত ৭ আগস্ট শনিবার এশিয়ায় ভূমিভিত্তিক মধ্যম পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনের পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন। ব্যাপকভাবে ধারণা করা হচ্ছিল যে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও অস্ট্রেলিয়াসহ এশিয়া-প্যাসিফিকে মার্কিন মিত্ররাই ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের জন্য প্রথম পছন্দের দেশ হবে।

তবে মন্ত্রীর বিবৃতির মাত্র দু’দিন পরই মার্কিন বাঁধনহীন কল্পনা গুঁড়িয়ে দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। সোমবার অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন তার দেশে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের সম্ভাবনা বাতিল করে দিয়ে বলেছেন, তাদের বিষয়টি জানানো পর্যন্ত হয়নি।

এ থেকে বোঝা যায়, ওয়াশিংটনের ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল নিয়ে এই অঞ্চলের দেশগুলোর না বলার অধিকার ও সক্ষমতা রয়েছে। এতে মনে হয়, এই অঞ্চলের কৌশলগত কাঠামো ক্রমবর্ধমান হারে মার্কিন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।

এশিয়া-প্যাসিফিক গুরুত্বপূর্ণ বিশ্ব প্রভাবকদের লালন করে এবং উদীয়মান শক্তিগুলোর উত্থান প্রত্যক্ষ করেছে। আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে গুটিকতেক বিরোধ থাকলেও এই অঞ্চলের থিমে সবসময়ই সহযোগিতা ও বিনিময় ছিল। এর ফলে কেবল এই অঞ্চলে নয়, বিশ্বেও গতিশীলতা ও সমৃদ্ধির সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। আর এই অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ উদীয়মান শক্তি চীন অনেক আঞ্চলিক শক্তির জন্য কল্যাণ ও সুযোগ নিয়ে এসেছে, আঞ্চলিক উন্নয়নে বিপুল ভূমিকা রাখছে।

অবশ্য যুক্তরাষ্ট্র সবসময়ই ক্ষতি করেছে। দেশটি এখনো এই অঞ্চলে প্রাধান্য বিস্তারের দিবা স্বপ্ন দেখে চলেছে। এ ধরনের উদ্দেশ্য থেকেই তারা এখানে ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের পরিকল্পনা করছে। কেবল চীন ও রাশিয়ার মোকাবিলার জন্যই নয়, এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলে কৌশলগত আধিপত্য জোরদার ও সংহত করার জন্যও এই পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

তবে ওয়াশিংটনের উচিত বাস্তবতা অনুভব করা, তার বিপজ্জনক খেলায় খেলতে আগ্রহী কোনো দেশ আছে কিনা তা খুঁজে বের করা। এই অঞ্চলের দেশগুলো বুঝতে পারবে যে মার্কিন ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল অন্ধভাবে অনুসরণ করা হলে তাদেরকে কেবল বিশৃঙ্খলার দিকেই পরিচালিত করবে না, সেইসাথে তাদের নিজস্ব জাতীয় স্বার্থেরও ক্ষতি হবে।

মার্কিন মিত্র হিসেবে অস্ট্রেলিয়াকে বিবেচনা করা হয় চীনকে দমনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক খেলোয়াড়। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে দেশটি চীনের উন্নয়নের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে, এ থেকে উপকৃতও হচ্ছে। বেইজিংকে সংযত করার ওয়াশিংটনের প্রয়াস শেষ পর্যন্ত এই অঞ্চলকে বিভক্ত করবে, এর প্রভাব থেকে রক্ষা পাবে না ক্যানবেরাও।

ক্যানবেরাকে কিছু গ্রহণ করতে বাধ্য করা হলে তা তাকে বিবেচনা করতে হবে। মনে হচ্ছে, এশিয়া-প্যাসিফিকের ওপর নিয়ন্ত্রণ জোরদার করার মার্কিন পরিকল্পনার বিষয়টি বুঝতে পেরেছে অস্ট্রেলিয়া এবং বুঝতে পেরেছে, এতে কেবল যুক্তরাষ্ট্র নিজের ক্ষতিই করবে। এ ব্যাপারে অস্ট্রেলিয়ার বিখ্যাত নিরাপত্তা বিশ্লেষক হিউ হোয়াইটের বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ তিনি বলেছেন, বেইজিংয়ের সাথে সঙ্ঘাতে ওয়াশিংটনকে অনুসরণ করা উচিত হবে না ক্যানবেরার। যুদ্ধে ওয়াশিংটন হেরে যেতে পারে।

ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করা হলে তা রাশিয়া, চীন ও অন্য আঞ্চলিক শক্তিগুলোর জন্য সামরিক হুমকি বলে বিবেচিত হতে পারে। এতে করে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ভারসাম্য ধ্বংস হয়ে যাবে।

এশিয়া-প্যাসিফিকের বর্তমান চিত্রে কিছু দেশ সামরিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ও অর্থনৈতিকভাবে চীনের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় অস্থিরতা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের আনা বিশৃঙ্খলা বাদ দিয়ে এই অঞ্চলের সব দেশের উচিত হবে নিরাপত্তা ও আস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য একত্রে কাজ করা।

কোনো অঞ্চলের উন্নয়নের পূর্ব শর্ত হলো নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা। কোনো অঞ্চল যদি সামরিক এলাকায় পরিণত হয়, যেখানে সব দেশই থাকে ঝুঁকির মুখে, তাহলে সে কিভাবে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি হাসিল করবে? এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অন্য সব সামরিক মিত্রদের আন্তরিকভাবে চিন্তা করা উচিত। এশিয়া-প্যাসিফিক দেশগুলোর মধ্যে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র প্রত্যাখ্যান নিয়ে একমতে উপনীত হওয়া প্রয়োজন।

তবুও ইয়াবার ছড়াছড়ি by শুভ্র দেব

কৌশল পাল্টে ফের সক্রিয় ইয়াবা ব্যবসায়ীরা। শহরের অলিগলি থেকে শুরু করে সর্বত্রই হাত বাড়ালে পাওয়া যাচ্ছে ইয়াবা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নজরদারির মধ্যেই দেদারসে বেচা-কেনা হচ্ছে ইয়াবা। অথচ গত ফেব্রুয়ারি মাসে ঢাকডোল পিটিয়ে আত্মসমর্পণ করেছিলেন ১০২ ইয়াবা ব্যবসায়ী। এছাড়া গত বছরের মে মাস থেকে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান শুরুর পর থেকে ৩৭৬ দিনে সারা দেশে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে ৩৭৮ মাদক ব্যবসায়ী। দেশের সীমান্তবর্তী এলাকায় বাড়ানো হয়েছে বাড়তি নজরদারি। এতকিছুর পরও আসছে ইয়াবা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত বছর মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান শুরু হওয়ার পর গাঁ ঢাকা দিয়েছিলেন শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ীরা।
অভিযান কিছুটা শিথিল হওয়ার পর তারা আবার জনসন্মুখে এসে ব্যবসায় মনোযোগ দেয়। সরকারের নির্দেশে বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থা শীর্ষ ব্যবসায়ীদের তালিকা, ইয়াবার রুট ও বিভিন্ন ঘাঁটি শনাক্ত করে। এদের মধ্য ১০২ জন ব্যবসায়ী ফেব্রুয়ারি মাসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আত্মসমর্পণ করেছিল। জনমনে স্বস্তি সঞ্চার হয়েছিল হয়তো ইয়াবার ছড়াছড়ি এবার বন্ধ হবে। কিন্ত তা হয়নি। বরং নানা কৌশল অবলম্বন করে, সড়কপথ, রেলপথ, জলপথ, আকাশপথে আসছে বড় বড় ইয়াবার চালান। মাছের গাড়ি, সবজির গাড়ি, কুরিয়ার সার্ভিসে ইয়াবা পাচারের পাশাপাশি পেট ভাড়ায়ও পাচার করা হচ্ছে। 
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পার্শ্ববর্তী দেশ মিয়ানমার থেকেই ইয়াবার চালান দেশে ঢুকে। মিয়ানমারের সীমান্তে শুধুমাত্র বাংলাদেশকে টার্গেট করে গড়ে উঠেছে অনেক ইয়াবার কারখানা। এসব কারখানায় প্রতিদিন লাখ লাখ পিস ইয়াবা তৈরি হয়। রোহিঙ্গাদের বাহক হিসাবে ব্যবহার করে এসব ইয়াবা আসে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের হাতে। তারা এসব ইয়াবা ছড়িয়ে দেয় সারাদেশের মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে। গোয়েন্দাসূত্র বলছে, কিছু অসাধু কর্মকর্তা ইয়াবা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বড় অংকের টাকা নিয়ে ইয়াবার চালান দেশে ঢুকতে সহযোগিতা করছেন। এছাড়া রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় ইয়াবা ব্যবসার বড় একটি সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। তাদের রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে বেশিরভাগ সময় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কিছু করার থাকে না। আর অন্যদিকে যাদেরকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে তারা জামিনে মুক্তি নিয়ে ফের একই ব্যবসায় জড়াচ্ছে। 
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের দেয়া পরিসংখ্যান থেকে জানা গেছে, পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব, কোস্টগার্ড ও ডিএনসি ২০১৮ সাল থেকে ২০১৯ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ১ লাখ ৫০ হাজার ৭৮৮ টি মামলা করেছে। এসব মামলায় ২ লাখ ১ হাজার ২৮১ মাদকসেবী ও ব্যবসায়ীকে আসামি করা হয়েছে। এসময় উদ্ধার করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য। এর মধ্যে রয়েছে ৬ কোটি ৭৩ লাখ ৯ হাজার ৮৫৪ টি ইয়াবা ট্যাবলেট। ৫৩৩ কেজি হেরোইন। ৭ হাজার ৪২৪ কেজি গাঁজা। ৯ লাখ ৩১ হাজার ৫৬৭ বোতল ফেন্সিডিল। ১ লাখ ৩১ হাজার ৩৮১ বোতল বিদেশী মদ। ১ লাখ ২৩ হাজার বোতল বিয়ার ও ১ লাখ ৩৭ হাজার ১৫৯ টি ইনজেকটিং ড্র্যাগ।
এদিকে টেকনাফ-২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল ফয়সল হাসান খান মানবজমিনকে বলেন, সরকারের জিরো টলারেন্স ঘোষণার পর থেকে আমরা নাফ নদীতে মাছ ধরা নৌকা ট্রলার চলাচল বন্ধ করে দিয়েছি। সীমান্তে আমাদের নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু কিছু ব্যক্তি রাতের আধারে বিজিবির চোখ ফাঁকি দিয়ে রুট পরিবর্তন করে ইয়াবার চালান নিয়ে আসছে। তিনি বলেন, আমরা সবসময় সতর্ক আছি। তবুও বিশাল সীমান্তবর্তী এলাকা থাকার কারণে তারা আমাদের চোখ ফাঁকি দিচ্ছে। বন্দুকযুদ্ধে অনেক ইয়াবা ব্যবসায়ী নিহত হচ্ছে এমন প্রসঙ্গে বিজিবির এই অধিনায়ক বলেন, বন্দুক যুদ্ধে যারা মারা যাচ্ছেন এরা অনেকেই ছোট ব্যবসায়ী। মূল হোতারা সবসময় ধরা ছোঁয়ার বাইরে আছে। আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে। এর আগে সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের তালিকাভুক্ত মাদক ইয়াবা পাচারের মূল হোতারা টেকনাফে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তারা নিজেরাই ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছেন বলে এখনও সীমান্ত দিয়ে টেকনাফে ইয়াবার বড় বড় চালান ঢুকছে। তিনি বলেন, ইয়াবার চালান আসা কমেনি। কারণ ইয়াবার চাহিদা আগের মতই রয়ে গেছে। কিন্তু কেউ কেউ মিয়ানমার থেকে ইয়াবার চালান আসা ৬০/৭০ ভাগ কমে গেছে বলে প্রচারণা চালাচ্ছেন। তার এটা মিথ্যা বলছেন। 
বিজিবি সূত্র জানিয়েছে, ইয়াবা ব্যবসায়ীরা প্রতিদিনই নতুন নতুন রুট তৈরি করছে। একই রুটে তারা বেশি দিন ইয়াবা পাচার করে না। মিয়ানমার থেকে ইয়াবা আনার আগেই তারা রুট ম্যাপ করে নেয়। যে সকল স্পটে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি থাকে সে পথ তারা এড়িয়ে চলে। তারা ঘাপটি ধরে বসে থাকে। নিরাপদ সময় হিসাবে তারা গভীর রাতকে বেচে নেয়। স্থল ও জল উভয় রুটে ইয়াবা ঢুকে। তাই এসব হোতাদের ধরার জন্য নানা কৌশল অবলম্বন করছে বিজিবি। ইতিমধ্যে অনেক ছোটখাটো ইয়াবা ব্যবসায়ী বন্দুক যুদ্ধে নিহত হয়েছেন। আবার অনেককে আটক করে শাস্তির আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে।
মাদক ব্যবসায়ীরা বলছেন, আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কড়াকড়ি চললেও ইয়াবার চাহিদা মোটেও কমেনি। চাহিদা আছে বলেই যোগান হচ্ছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে খিলগাঁও এলাকার এক মাদক ব্যবসায়ী বলেন, বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরা মাদক স্পটগুলোতে অভিযান চালায়। তাই অনেকটা নিরাপদে থেকে ব্যবসা চালাতে হচ্ছে। অপরিচিত কোন ক্রেতাকে ইয়াবা দেয়া হচ্ছে না। কারণ অনেক সময় পুলিশের সদস্যরা ফাঁদ পেতে আটক করার চেষ্টা করে। তবে ব্যবসা বন্ধ নেই। সব স্পটেই কম বেশি বিক্রি চলছে।

বাংলাদেশের একটি হত্যাকাণ্ড: প্রাতিষ্ঠানিক সিস্টেমের দুর্বলতার ক্ষুদ্র বহিঃপ্রকাশ by আফসান চৌধুরী

বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণের উপকূলীয় জেলা বরগুনার একটি হত্যাকাণ্ড সারা দেশের মনোযোগ কেড়েছে। রিফাত শরীফ নামের এক তরুণকে বহু মানুষ এবং তার সম্প্রতি বিবাহিত স্ত্রী মিন্নির সামনেই কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। নয়ন বন্ডের নেতৃত্বে প্রায় ডজনখানিক তরুণ হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিল। স্থানীয়ভাবে নয়ন বন্ড গ্যাং লিডার হিসেবে পরিচিত।

এই গ্যাংগুলো সঙ্ঘবদ্ধ অপরাধের মাধ্যমেই টিকে থাকে এবং এটা কোন গোপন বিষয় নয় যে, নয়ন আর তার গ্রুপ ওই এলাকায় মাদক ব্যবসা করে আসছে।

কেউ একজন হত্যার দৃশ্য ভিডিও করে এবং একজন খালি হাতের তরুণকে বেশ কয়েকজন কুপিয়ে হত্যা করছে – এই দৃশ্যটি প্রায় সাথে সাথেই জাতীয় সংবাদ হয়ে যায়। নয়ন যে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা পেয়ে এসেছে, সেটা কোন গোপনীয় বিষয় নয়। কোন মাদক ব্যবসা বা নয়নের মতো ব্যক্তিরা রাজনৈতিক পৃষ্টপোষকতা ছাড়া টিকে থাকে না।

পরের ঘটনাগুলো প্রত্যাশিতই ছিল, কারণ এই হত্যাকাণ্ডের ছবিগুলো ভাইরাল হয়ে উঠেছিল। গ্রেফতার ও বিচারের জন্য জনগণের দাবি ওঠে। শিগগিরই বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়। পরবর্তী ঘটনাও অনুমেয় ছিল কারণ পুলিশ ঘোষণা দেয় যে, মূল ঘাতক নয়ন বন্ড পুলিশের সাথে ‘এনকাউন্টারে’ নিহত হয়েছে।

এই ধারাটা এখন এতটাই স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে যে কেউ এমনকি এটা নিয়ে মন্তব্য করারও প্রয়োজন মনে করেন না। স্বাভাবিকভাবেই পুলিশের দক্ষতাকে অভিনন্দন জানিয়ে মন্তব্য এসেছে। আরও কয়েকজন ঘাতককে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নেয়া হয়েছে।

কিন্তু নাটক বাড়তে থাকে যখন হত্যাকাণ্ডে রিফাতের স্ত্রী মিন্নির অন্তর্ভুক্তির বিষয় নিয়ে মিডিয়ার আগ্রহ বাড়তে শুরু করে। ভিডিওতে তাকে দেখা গেছে ঘাতকদের সে ঠেকানোর চেষ্টা করছে।

কিন্তু অন্যান্য ভিডিওতে সাংঘর্ষিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। মিন্নি দাবি করেছিলেন যে তিনি নয়ন বন্ডকে চিনেন না, কিন্তু পরে বিয়ের কাবিননামা প্রকাশিত হয়, যেখানে নয়ন বন্ডের স্ত্রী হিসেবে স্বাক্ষর করেছেন মিন্নি। তখন তিনি দাবি করেন যে ওই সার্টিফিকেট ভুয়া। পুলিশ পরে হত্যাকারী গ্যাংয়ের সাথে মিন্নির কথোপকথনের অডিও রেকর্ডও হাতে পায়। যারা গ্রেফতার হয়েছে, তাদের দেয়া স্বীকারোক্তি পুলিশের কাছে রয়েছে, যারা নয়নের সাথে মিন্নির যোগাযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

রিফাতের বাবা সংবাদ সম্মেলন করে অভিযোগ করেছেন যে মিন্নি হত্যার সাথে জড়িত এবং তাকে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন। মিন্নি পরে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করে অভিযোগ করেন যে, তার শ্বশুর শক্তিশালী পক্ষের চাপে পড়ে আসল হত্যাকারীদের আড়াল করার জন্য তাকে বলির পাঁঠা বানানোর চেষ্টা করছেন।

পরদিন পুলিশ মিন্নিকে প্রধান সাক্ষী হিসেবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যায়। পরে হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত সন্দেহে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ তার রিমান্ডের আবেদন জানালে আদালত রিমান্ড মঞ্জুর করে। মিন্নি এখনও নিজেকে নিরপরাধ দাবি করে যাচ্ছেন কিন্তু রিফাতের ঘাতের সাথে যোগাযোগের বিষয়ে কোন প্রশ্নের তিনি জবাব দেননি।

মিন্নির পক্ষে কোন আইনজীবী মামলা লড়তে রাজি হননি। তার বাবা অভিযোগ করেছেন যে, বেশ কয়েকজন আইনজীবীর দ্বারস্থ হলেও কেউ তাকে সাহায্য করতে রাজি হননি। এই আইনজীবীরা এটা জানাতে অস্বীকার করেছেন যে, কেন তারা সাহায্য করতে চাচ্ছেন না।

এদিকে, মিন্নির রিমান্ড বাতিল চেয়ে করা একটি আবেদন খারিজ করে দিয়ে হাই কোর্ট বলেছে যে, স্থানীয় আদালতের এই ধরনের রিমান্ড দেয়ার এখতিয়ার রয়েছে। অভিযুক্তকে আইনি সহায়তা দেয়ার বিষয় নিয়ে কোন সিদ্ধান্ত হয়নি।

তবে, পরদিন, পুলিশ মিডিয়াকে জানায় যে, হত্যা পরিকল্পনায় মিন্নির জড়িত থাকার বিষয়টিতে তারা নিশ্চিত হয়েছেন।

এনকাউন্টার এবং সোশাল মিডিয়ার উত্থান

অপরাধের ঘটনাগুলো সোশাল মিডিয়ায় প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত সেগুলো কারোর নজরেই আসছে না। এটা খুবই নিত্যনৈমিত্তিক ও অস্বাভাবিক হয়ে উঠছে। কোন একটি বিষয়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর মনোযোগ আকর্ষণের জন্য সেটা সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে ওঠাটা যেন গ্রহণযোগ্য শর্ত হয়ে উঠেছে। সেখানে পুলিশের কাছে আইনি প্রক্রিয়ায় অভিযোগ দায়েরের কোন দরকার পড়ছে না।

সোশাল মিডিয়া জনগণের ডিজিটাল অভিভাবক হয়ে উঠেছে যেন। কিন্তু এর উপর নির্ভরতা বেশি হওয়ার অর্থ হলো সেখানে আইন প্রয়োগ ও সুশাসনের আনুষ্ঠানিক সিস্টেমের দুর্বলতা রয়েছে।

সরকারের সিস্টেমগুলো কেন পর্যাপ্ত মাত্রায় এইসব ইস্যুর সমাধান করতে পারছে না? এর আংশিক কারণ হলো অপরাধ দমন ও প্রতিরোধ কাঠামোর উপর অনেক বেশি চাপ পড়ে গেছে।

বরগুনা হত্যাকাণ্ড আলাদা একটি হত্যাকাণ্ড হিসেবে শুধু গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং এর মধ্য দিয়ে আরও বড় ও কুৎসিত একটি বাস্তবতার প্রকাশ ঘটেছে। হত্যাকারীরা নিঃসন্দেহে স্থানীয় ক্ষমতাধরদের সুরক্ষা উপভোগ করে আসছিল। এই ধরনের গ্যাংয়ের জন্ম হওয়ার কারণ হলো মাদক ব্যবসা। মাদক ব্যবসার সুবিধাভোগী হলো তারা যাদের ক্ষমতা রয়েছে। যদিও বড় একটা সমালোচনা হচ্ছে স্থানীয় এমপির ছেলেকে ঘিরে, কিন্তু মাদক মাফিয়াদের সাথে কোন ধরনের যোগাযোগ থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি।

সরকার নিয়মিতভাবে মাদক ব্যবসায়ীদের হত্যা করে আসছে কিন্তু মাদক পরিস্থিতির উপর এর প্রভাব এখনও পড়তে দেখা যায়নি। ঢাকার বাইরে আইন প্রয়োগকারী ও রাজনৈতিক ক্ষমতাধর – উভয়ের বিরুদ্ধেই মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এই যোগসাজশের বিষয়টি স্পষ্ট কিন্তু এটা কতটা গভীর, সেটা এখনও অজানা রয়ে গেছে।

এমনটাও মনে হচ্ছে যে, কিছু ব্যক্তি অন্যদের চেয়ে বেশি নিরাপদে আছেন। তাই কিছু অপরাধ ঘটতে দেয়া হচ্ছে। আনুষ্ঠানিক আইন প্রয়োগকারী সিস্টেম এবং আইনের শাসন যেহেতু ব্যর্থ হচ্ছে, সে কারণে ভুক্তভোগীদের বৃত্তটি ক্রমেই বড় হচ্ছে।

ওয়াশিংটন-বেইজিং দ্বন্দ্বের নতুন রঙ্গমঞ্চ শ্রীলংকা! by ভবন জয়প্রকাস

কম্বোডিয়ার কর্মকর্তারা দাবি করেছেন যে তাদের একটি নৌঘাঁটি ব্যবহার করতে দেয়ার জন্য চীনা সামরিক বাহিনীর সাথে গোপন একটি চুক্তিতে সই করেছেন। তাদের দাবি, এই চুক্তির ব্যাপারে তারা কয়েক হাজার মাইল দূরে শ্রীলংকা থেকে সহানুভূতি পাবে।

অন্যদিকে শ্রীলংকার কর্তৃপক্ষ তাদের দেশে বিদেশী স্থায়ী উপস্থিতির কোনো পরিকল্পনার কথা বারবার অস্বীকার করে আসছে।

তবে শ্রীলংকার কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠেছে যে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সাথে গোপন চুক্তি করছেন।

শ্রীলংকাকেন্দ্রিক স্ট্র্যাটেজিক বিশ্লেষকেরা দিজ উইককে বলেন, সরকার বারবার অভিযোগটি অস্বীকার করতে থাকলেও এ নিয়ে প্রচণ্ড প্রতিরোধের সৃষ্টি হয়েছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, নাগরিকেরা জোরালোভাবে মনে করছেন যে বিদেশী সামরিক ঘাঁটি তাদের জাতীয় স্বার্থের জন্য ক্ষতিকর হবে।

দক্ষিণ ভারতের প্রান্তে অবস্থিত শ্রীলংকা নিজেকে ক্রমবর্ধমান হারে যুক্তরাষ্ট্র-চীন কৌশলগত দ্বন্দ্বের মুখে দেখতে পাচ্ছে। উভয় পরাশক্তিই ভারত মহাসাগরে তাদের উপস্থিতি বাড়াতে চাইছে।

হামবানতোতা বন্দরটি চীন ১.৫ বিলিয়ন ডলারে ইজারা নিলেও এখানে নৌস্থাপনা নির্মাণের কোনো অধিকার তাদের নেই।

অনেক মার্কিন পররাষ্ট্রবিষয়ক থিঙ্ক ট্যাঙ্ক মনে করে, যুক্তরাষ্ট্রের উচিত তার কূটনৈতিক ছাতা ব্যবহার করে কলম্বোকে কাছে টানার জন্য আরো কিছু করা। তাদের মতে, তথাকথিত অবাধ ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজিতে শ্রীলংকা হতে পারে গুরুত্বপূর্ণ দেশ। তারা মনে করছে, ঋণের কারণেই চীনের প্রতি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে শ্রীলংকা।

নয়া দিল্লির ইনস্টিটিউট ফর ডিফেন্স স্টাডিজ অ্যান্ড অ্যানালাইসিসের শ্রীলংকান গবেষক গুলবিন সুলতানা বলেন, বিদেশি ঘাঁটির সাথে সার্বভৌমত্বের বিষয়টি জড়িত। এতে বিদেশী হস্তক্ষেপের প্রশ্ন ওঠে। এ নিয়ে কেবল দেশের ভেতরে নয়, বিদেশেও রাজনৈতিক বিরোধিতার সৃষ্টি হয়। তাছাড়া প্রতিবেশী দেশগুলোও এতে খুশি হয় না।

প্রধানমন্ত্রী রানিল বিক্রমাসিঙ্গে এখন মার্কিন নৌঘাঁটি নিয়ে বেশ সমস্যায় পড়েছেন। জুন মাসের শেষ দিকে স্থানীয় একটি পত্রিকায় এ নিয়ে গুজব ছড়ানোর পর পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটে। পত্রিকাটিতে কলম্বো ও ওয়াশিংটনের মধ্যে খসড়া স্টাটাস অব ফোসের্স এগ্রিমেন্টের (সোফা) ফাঁস হওয়া কপির উদ্ধৃতিও দেয়া হয়।

জাপান, ইরাক ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশের সাথে সোফা চুক্তি সই করেছে ওয়াশিংটন। এই চুক্তির বলে স্বাগতিক দেশগুলোতে আমেরিকার সামরিক সদস্য ও ঠিকাদারেরা বিনা বাধায় প্রবেশ করতে পারে।

এমনকি এসব দেশে মার্কিনিরা কোনো অপরাধ করলে তাদেরকে স্থানীয় নয়, বরং মার্কিন আইনে বিচারের মুখোমুখি হতে হয়।

পত্রিকায় প্রকাশের পর বিক্রমাসিঙ্গে বারবার জোর দিয়ে বলছেন যে তিনি দেশে স্থায়ী কোনো ঘাঁটি মঞ্জুর করবেন না।

তিনি বলেন, যে আলোচনা এখনো হচ্ছে তা ১৯৯৫ সালে ওয়াশিংটনের সাথে করা চুক্তির ধারাবাহিকতা।

তার বক্তব্যকে জোরদার করে মার্কিন দূত অ্যালেইনা বি তেপলিজ স্থানীয় মিডিয়াকে বলেন, তার দেশ শ্রীলংকায় কোনো ঘাঁটি বানানোর পরিকল্পনা করছে না।

তিনি বলেন, ত্রাণকাজের মতো কিছু বিষয়ে সহায়তার মতো চুক্তি করতে চান তারা।

বিক্রমাসিঙ্গেকে পাশ্চাত্যপন্থী বিবেচনা করা হয়। বর্তমানে প্রেসিডেন্ট মৈত্রীপালা সিরিসেনার সাথে তার বিরোধ চলছে। তিনি গত বছর বিক্রমাসিঙ্গেকে বরখাস্ত করে ২০০৫-২০১৫ পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেশ শাসনকারী মহিন্দা রাজাপাকসেকে প্রধানমন্ত্রী করেছিলেন। তবে আদালত তার এই পদক্ষেপকে অসাংবিধানিক হিসেবে অভিহিত করলে তিনি বিক্রমাসিঙ্গেকে পুনর্বহাল করতে বাধ্য হন।

বিক্রমাসিঙ্গে সোফা ধরনের একটি চুক্তি নিয়ে আলোচনার কথা স্পষ্টভাবে বাতিল না করলেও প্রেসিডেন্ট সিরিসেনা বলছেন, জাতির সাথে বেইমানি হয়, এমন কোনো চুক্তিতে তিনি সই করবেন না।

তিনি জুলাই মাসের প্রথম দিকে এক সমাবেশে বলেন, কিছু বিদেশী শক্তি শ্রীলংকায় ঘাঁটি প্রতিষ্ঠা করতে চায়। আমি তাদেরকে দেশে আসতে দেব না।

বেশিরভাগ গুজবে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র চায় শ্রীলংকার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় বন্দরনগরী ত্রিনকোমালিতে একটি নৌঘাঁটি বানাতে। এটি হলো বিশ্বের অন্যতম প্রাকৃতিক গভীর সমুদ্র পোতাশ্রয়।

ওয়াশিংটনভিত্তিক সেন্টার ফর ন্যাভাল অ্যানালাইসিস থিঙ্ক ট্যাঙ্কের স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড পলিসি অ্যানালাইসিসের পরিচালক নিলানথি সামারানায়েকে বলেন, ওই দুই ব্যক্তির দ্বন্দ্বের মধ্যেই এই বিতর্কের মূল নিহিত রয়েছে।

অবশ্য এ নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। নয়া দিল্লিভিত্তিক বিশ্লেষক সুলতানা বলেন, ফাঁস হওয়া নথি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র সম্ভবত আমেরিকান সদস্যদের জন্য আইনগত অধিকার চাচ্ছে।

থিঙ্ক ট্যাঙ্ক অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের চেন্নাই চ্যাপ্টারের পরিচালক সাথিয়া মুর্তি বলেন, ১০০ বছরের জন্য হামবানতোতা নিয়ে শ্রীলংকায় ইতোমধ্যেই চীন ঢুকে পড়েছে। এখন অন্য যেকোনো চুক্তিতেই অন্য কোনো দেশকে আনা শ্রীলংকার জন্য হবে বিপজ্জনক।

তিনি বলেন, এ ধরনের বিষয় থেকে শ্রীলংকার বিরত থাকা উচিত হবে।

নির্মাণত্রুটির কারণে পাকিস্তানকে ফাঁকি দিতে পারছে না ভারতীয় সাবমেরিন

বিশ্ববাজার থেকে সামরিক সরঞ্জাম কেনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে এগিয়ে ভারত। কৌশলগত ক্ষেপনাস্ত্র থেকে শুরু করে প্রায় সব ধরনের অস্ত্র বিশ্ববাজার থেকে সহজেই কেনা যায়। ফলে ভারতের সামরিক শক্তি অনেক বেশি। অন্যকথায় বলা যায় বিদেশী অস্ত্রে ভারতের ভাণ্ডার উপচে পড়ছে। যেমন: ট্যাংক, ফাইটার জেট, সাবমেরিন, কামান থেকে শুরু করে সব ধরনের অস্ত্রই আমদানি করা হচ্ছে। বিদেশী অস্ত্র কেনার পেছনে ভারতের এই বিপুল ব্যয়ের চাপ পড়ছে জনগণের উপর। কিন্তু ৩০ বছর ধরে অনেক চেষ্টা করেও ভারত সরকার দেশীয় অস্ত্র শিল্পের তেমন বিকাশ ঘটাতে পারেনি। ৪০ বছর ধরে চেষ্টা করে এলসিএ ফাইটার ‘তেজাস’ এখনো কোন অস্ত্র নয়। ৪০ বছরের পুরনো অর্জুন ট্যাংক এখনো অযোগ্য।
এই পরিস্থিতিতে নিজের তৈরি অস্ত্রের উপর ভরসা না রাখতে পেরে ভারতীয়রা ‘চীনা-কৌশল’ বেছে নিয়েছে। ফলে তাকে দুই পথে হাটতে হচ্ছে। প্রথম পথটি দেশে তৈরি অস্ত্রগুলোতে কারিগরি সমস্যা চলছে, অথচ বিদেশীরা উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। এই অবস্থা উত্তরণে দেশীয় উৎপাদনে সময় ও অর্থ বাঁচাতে গিয়ে বিপুল সংখ্যক নির্দেশনা মান্য না করায় নির্মাণে ঘাটতি থাকছে।
দ্বিতীয় পদক্ষেপটি ভারতের অনেক অনুকুল। তা হলো বিদেশ থেকে অস্ত্র কেনা ও ওইসব রাষ্ট্রগুলোকে বলা যে তাদের প্রযুক্তি ও ব্যবস্থাপনাগত অভিজ্ঞতা নিয়ে এসে ভারতে বসে অস্ত্রগুলো তৈরি করতে, যাতে ভারতীয় সামরিক শিল্প চাঙ্গা হয়। তৃতীয় বিশ্বের পশ্চাদপদ দেশগুলোতে এটা সাধারণ একটি অনুশীলন।
কিন্তু চূড়ান্ত ফলাফল খুবই ধীর গতির। ১৫ বছর চেষ্টার পর ভারতের তৈরি প্রথম সাবমেরিনটি সরবরাহ করলে এতে মানগত ত্রুটি ধরা পড়ে। সাবমেরিনটির নির্মাণের মান খুবই দুর্বল এবং ত্রুটিগুলো গুরুতর। এই সাবমেরিন নিয়ে যখন পাকিস্তানের পানিতে তারা হানা দেয় সহজেই ধরা পড়ে যায়, যা ভারতের জন্য খুবই বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করে।
নির্মাণ ত্রুটি ছাড়াও ভারতের স্কুইড-ক্লাস সাবমেরিনের একটি বড় গোপন বিপদ রয়েছে: এর গোপনীয়তা পুরোপুরি ফাঁস হয়ে গেছে। ২০১৭ সালে ফ্রেন্স নেভাল শিপবিল্ডিং ব্যুরোর ডিসিএনএস ইঞ্জিনিয়ারদের অবহেলায় সাবমেরিনের গোপন ডকুমেন্টগুলো ইন্টারনেটে চলে যায়। ফলে পুরো বিশ্ব তা জেনে যায়। ভারতের তৈরি ফরাসি ডিজাইনের সাবমেরিনগুলোর গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যেমন: ডুব দেয়ার সর্বোচ্চ ক্ষমতা, রেঞ্জ, ইলেক্ট্রম্যাগনেটিক সিগন্যাল, ইনফ্রারেড সিগন্যাল, কমব্যাট সিস্টেম, সাবমেরিনের শব্দগত উপাত্ত ফাঁস হওয়ায় এগুলোর পেছনে ভারতের ৩.৪ বিলিয়ন ডলার জলে গেছে এবং তাত্ত্বিকভাবে বলতে গেলে সাবমেরিনগুলো টিকে থাকার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে।
আরো মজার ব্যাপার হলো এ ব্যাপারে ভারত নির্বিকার। তারা চুক্তিটি বাতিল করেনি, এমনকি ফ্রান্সকে সিস্টেম উন্নত করতেও বলেনি। চূড়ান্ত প্রকল্প অব্যাহত আছে। এর ফলাফল হলো: ভারতে তৈরি সাবমেরিনের মান নিকৃষ্ট এবং তা ফ্রান্সের গোপন ডকুমেন্টের পর্যায়ে পৌছাতে পারবে না। এতে বহুজাতিক সামারিক শক্তিগুলো বেশ পুলকিত।

মোদির ‘নতুন ভারতের’ পথে বাধা যুক্তরাষ্ট্র by ঝাঙ জিয়াদঙ

যে মুহূর্তে নরেন্দ্র মোদি দ্বিতীয় মেয়াদে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন, ঠিক তখন থেকেই তার উপর চাপ দেয়া শুরু করেছে হোয়াইট হাউজ। গত ৩১ মে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ঘোষণা দেয় যে, ভারত যে সুবিধা ও ছাড় পাচ্ছিল এতদিন, ৫ জুন থেকে সেটা উঠিয়ে নেয়া হচ্ছে।
ভারত বৈশ্বিক বাণিজ্য শক্তি হতে শুরু করার আগেই তাকে চেপে ধরেছে যুক্তরাষ্ট্র। তামাশার ব্যাপার হলো যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র মন্ত্রী প্যাট্রিক শানাহান এখনও “অবাধ ও মুক্ত ইন্দো-প্রশান্ত” কৌশলের পক্ষে সাফাই গেয়ে চলেছেন। জুনের শুরুর দিকে সাংগ্রি-লা সংলাপে তিনি এই মন্তব্য করেন। এর মাধ্যমে বোঝা গেলো যে যুক্তরাষ্ট্র ভারতকে চীনকে মোকাবেলার জন্য একটা ভূ-রাজনৈতিক দাবার ঘুঁটি মনে করে শুধু, অংশীদার মনে করে না।
এটা বলা হচ্ছে যে, ভারত মার্কিন বিভিন্ন শিল্পের জন্য গ্রহণযোগ্য বাজার সুবিধা দিতে না পারার কারণেই তাদের বাণিজ্য সুবিধা বাতিল করলো যুক্তরাষ্ট্র। কারণ মার্কিন শিল্প যথার্থ সুবিধা না পাওয়ায় সেটা যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ট্রাম্পের যে যুক্তি, এখানেও সেটা কাজ করেছে – ‘যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এটা গ্রহণযোগ্য নয়’।
যুক্তরাষ্ট্র আক্রমণাত্মক অবস্থানে যাওয়ার কারণ হলো ভারতের সাথে তাদের বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে। তক্ষণ বাণিজ্য ঘাটতি থাকবে, ততক্ষণ সেটাকে নিজের জন্য অগ্রহণযোগ্য বিবেচনা করবে যুক্তরাষ্ট্র।
ভারত উদীয়মান শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে এবং বিশ্বের দ্রুত বিকাশমান অর্থনীতির দেশ হিসেবে চীনকেও ছাড়িয়ে গেছে তারা। মোদি সাম্প্রতিক নির্বাচনে ভূমিধস বিজয় লাভের পর, ভারতের আত্মবিশ্বাস আরও বেড়ে গেছে। এক সময় হয়তো অর্থনৈতিক দিক থেকে চীনকেও ছাড়িয়ে যাবে ভারত। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র চায় না ভারত দীর্ঘমেয়াদে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠুক।
এটা বলা যেতে পারে যে, যুক্তরাষ্ট্র ভারতের ছাড় ও সুবিধা বাতিল করায় উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য সেটা একটা সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করেছে। ২০০৮ সালের অর্থনৈতিক সঙ্কটের সময় পশ্চিমা দেশগুলো বড় ধরনের বিপর্যয়ে পড়ার পর, ভারত ও চীনের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর ব্যাপারে পশ্চিমারা তাদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলেছে। প্রথমত, পশ্চিমারা চীনকে বাজার অর্থনীতির স্ট্যাটাসের স্বীকৃতি দিতে চায় না এবং উন্নয়নশীল দেশ হিসেবেও তাদের স্বীকৃতি দিতে চায় না। ভারতের বাণিজ্য পাওয়ার হাউজ হিসেবে গড়ে ওঠার যে আকাঙ্ক্ষা, যুক্তরাষ্ট্র তাদের জিএসপি সুবিধা তুলে নেয়ায় তাদের সেই অগ্রগতি ব্যাহত হবে। ট্রাম্পের সুবিধা প্রত্যাহারের কারণে হয়তো মোদির ‘নতুন ভারতের’ স্বপ্ন ব্যাহত হবে।
তবে, চলতি মাসে জাপানের ওসাকায় গ্রুপ অব টোয়েন্টি সম্মেলনে বাণিজ্য বাধাগুলো কাটিয়ে উঠার আশা করছে ভারত। যুক্তরাষ্ট্রের চাপে ভারত এরই মধ্যে  ইরানের কাছ থেকে তাদের তেল আমদানি বন্ধ করে দিয়েছে।
চীনের বিরুদ্ধে বাণিজ্য যুদ্ধের যে প্রভাব পড়ছে, ভারতের জিএসপি সুবিধা বাতিলের প্রভাব হয়তো অত বেশি হবে না। এরপরও এটা একটা বড় ধরনের আঘাত। মূল  বিষয় হলো বাণিজ্য ঘাটতি দূর করার জন্য যা দরকার, সেটা করবে যুক্তরাষ্ট্র।

কারগিল যুদ্ধ: যেভাবে জেনারেল মোশাররফের ফোনে আড়ি পেতেছিল ভারত

আপডেট- ২৬ জুলাই ২০১৯: ভারতের দিল্লি থেকে বিবিসি সাংবাদিক রেহান ফজলের প্রতিবেদন।
২৬ মে, ১৯৯৯। রাত সাড়ে নটার সময়ে ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রধান, জেনারেল ভেদ প্রকাশ মালিকের ঘরে ফোন বেজে উঠল।
সাধারণ ফোন নয়। এই একেবারে গোপন আর নিরাপদ ফোন লাইন, ইংরেজিতে যাকে বলে সিকিওর ইন্টারনাল এক্সচেঞ্জ ফোন।
অন্য প্রান্তে ছিলেন ভারতের বৈদেশিক গুপ্তচর এজেন্সি রিসার্চ এন্ড অ্যানালিসিস উইং বা 'র'-এর সচিব অরভিন্দ দাভে।
তিনি জেনারেল মালিককে বলেন, পাকিস্তানের দুই জেনারেলের মধ্যে কথোপকথন তারা রেকর্ড করেছেন।
দুই জেনারেলের কথাবার্তার কিছুটা অংশ পড়েও শোনালেন মি. দাভে এবং বললেন, "এই কথোপকথনের মধ্যে বেশ কিছু গোপন তথ্য রয়েছে, যেটা আমাদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।"
সেই ফোনের কথা মনে করে জেনারেল মালিক বিবিসিকে বলছিলেন, "দাভের এই ফোনটা আসলে করা উচিত ছিল ডাইরেক্টর জেনারেল মিলিটারি ইন্টেলিজেন্সকে। কিন্তু তার সেক্রেটারি ভুল করে আমার নম্বরে ফোন করে ফেলেছিল। যখন তিনি বুঝতে পারলেন যে ডি জি এম আইয়ের [সেনাবাহিনীর নিজস্ব গুপ্তচর বিভাগ] বদলে আমার কাছে ফোনটা চলে এসেছে, খুব লজ্জা পেয়েছিলেন। কিন্তু আমি বলেছিলাম ওই কথোপকথন লিখিত আকারে যেন আমাকে খুব তাড়াতাড়ি পাঠানো হয়।"
"পুরোটা যখন আমি পড়লাম, তখন আমি আবারও অরভিন্দ দাভেকে ফোন করলাম। বলেছিলাম, আমার ধারণা এর মধ্যে একটা গলার স্বর জেনারেল মোশাররফের। তিনি সেই সময়ে চীনে ছিলেন। আর অন্য গলাটা আরেকজন খুব সিনিয়র জেনারেলের। আমি দাভেকে পরামর্শ দিয়েছিলাম ওই দুটো ফোন নম্বরে আড়ি পাতা যেন বন্ধ না হয়। 'র' সেই কাজটা চালিয়ে গিয়েছিল," জানাচ্ছিলেন জেনারেল মালিক।
বিবিসিকে তিনি আরও বলছিলেন, "দিন তিনেক পরে দুই পাকিস্তানি জেনারেলের মধ্যে আবারও একটা কথোপকথন রেকর্ড করে 'র'। কিন্তু এবার আমাকে বা ডি জি এম আইকে না পাঠিয়ে তারা ওই ফোনালাপের লিখিত বয়ান পাঠিয়ে দিল জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ব্রজেশ মিশ্র আর প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ীর কাছে।"
এর কদিন পরে ২ জুন প্রধানমন্ত্রী বাজপেয়ী আর মি. মিশ্রর সঙ্গে মুম্বাইতে নৌবাহিনীর একটা অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন জেনারেল মালিক।
ফেরার সময়ে প্রধানমন্ত্রী সেনাপ্রধানের কাছে জানতে চেয়েছিলেন ফোনে আড়ি পেতে নতুন কী তথ্য পাওয়া গেল।
"তখন ব্রজেশ মিশ্র বুঝতে পারলেন যে আমার কাছে পরের রেকর্ডিংগুলো লিখিত ভাবে আসেই নি। দিল্লিতে ফিরেই তিনি পুরো ট্র্যান্সস্ক্রিপ্ট পাঠিয়ে দিয়েছিলেন," বলছিলেন জেনারেল মালিক।
এই একটা ঘটনাতেই পরিষ্কার হয়ে যায় যে যুদ্ধের সময়েও নিজের দপ্তরের গুরুত্ব বজায় রাখতে গোয়েন্দা তথ্য সবাইকে না পাঠিয়ে কিছু বাছাই করা ব্যক্তির কাছে পাঠানো হচ্ছিল।

কী কথা হয়েছিল দুই পাকিস্তানী জেনারেলের মধ্যে?

আজিজ: 'পাকিস্তান থেকে বলছি। রুম নম্বর ৮৩৩১৫-এ ফোনটা কানেক্ট করে দিন।'
মোশাররফ: 'হ্যালো আজিজ'
আজিজ: এদিকের অবস্থা একইরকম। ওদের একটা এম আই ১৭ হেলিকপ্টার আমরা ধ্বংস করে দিয়েছি। আপনি কালকের খবর শুনেছেন? মিঞা সাহেব তার ভারতীয় সমকক্ষের সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি ওদের জানিয়ে দিয়েছেন যে ওরাই ব্যাপারটাকে বাড়িয়ে তুলছেন। বিমানবাহিনীকে ব্যবহার করার আগে ওদের যে আরও অপেক্ষা করা উচিত ছিল, সেটাও বলেছেন। তবে উত্তেজনা কমাতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সরতাজ আজিজকে দিল্লিতে পাঠাতে পারেন, এই প্রস্তাবও দিয়েছেন।'
মোশাররফ: 'আচ্ছা! এই এম আই ১৭ হেলিকপ্টারটা কি আমাদের এলাকায় ভেঙ্গে পড়েছে?'
আজিজ: 'না স্যার। ওদের এলাকাতেই পরেছে। তবে আমরাই যে ওটা ধ্বংস করেছি, সেই দাবি করিনি আমরা। মুজাহিদিনদের দিয়ে দাবি করিয়েছি যেন ওরাই নামিয়েছে হেলিকপ্টারটা।'
মোশাররফ: 'ভাল করেছ।'
আজিজ: 'দৃশ্যটা দেখার মতো ছিল স্যার। আমার চোখের সামনে ভেঙ্গে পড়ল ওদের হেলিকপ্টারটা।'
মোশাররফ: 'ওয়েল ডান। এখন কি আমাদের সীমার কাছাকাছি ওদের বিমান ঘোরাঘুরি করছে? ওরা ভয় পেয়েছে কী না, সেটা বল।'
আজিজ: 'হ্যাঁ। ওরা খুব চাপে আছে। ওদের বিমান কমই ঘুরছে এখন।'
মোশাররফ: 'বাহ। খুব ভাল।'

কথোপকথনের টেপ নওয়াজ শরীফকে শোনানোর সিদ্ধান্ত

পয়লা জুন প্রধানমন্ত্রী বাজপেয়ী আর মন্ত্রীসভার নিরাপত্তা বিষয়ক কমিটির সদস্যদের ওই ফোনালাপ শোনানো হয়েছিল।
তার তিন দিন পরে ভারত সিদ্ধান্ত নিল যে ওই টেপ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফকে শোনানো হবে। কিন্তু প্রশ্ন উঠল ওই অতি সংবেদনশীল টেপ নিয়ে কে যাবে ইসলামাবাদ!
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি সূত্র জানিয়েছে নামকরা সাংবাদিক আর কে মিশ্রকে এই দায়িত্ব দেওয়ার কথা হয়। তিনি তখন অস্ট্রেলিয়ায় ছিলেন। তাকে ভারতে ফিরিয়ে এনে এই গুরুভার দেওয়া হয়।
ইসলামাবাদ বিমানবন্দরে যাতে তাকে তল্লাশির মুখোমুখি না হতে হয়, সেইজন্য তাকে কূটনীতিকের মর্যাদা দেওয়া হয়েছিল।
তার সঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব বিবেক কাটজুকেও পাঠানো হয়েছিল।
নওয়াজ শরিফের সঙ্গে জলখাবার খেতে খেতে আর কে মিশ্র ওই টেপ শুনিয়েছিলেন আর ট্র্যান্সস্ক্রিপ্টটা তার হাতে তুলে দিয়েছিলেন।
মি. মিশ্র আর মি. কাটজু সেদিনই কাজ শেষ করে সন্ধ্যের মধ্যে দিল্লি ফিরে এসেছিলেন। এটা এতটাই গোপন রাখা হয়েছিল যে ওই সময়ে এটার কথা ঘুণাক্ষরেও কেউ টের পায় নি।
বেশ কিছুদিন পরে ৪ জুলাই শুধুমাত্র কলকাতা থেকে প্রকাশিত দা টেলিগ্রাফ কাগজে প্রণয় শর্মা একটা খবর লিখেছিলেন। হেডলাইন ছিল 'ডেলহি হিটস শরিফ উইথ আর্মি টেপ টক', অর্থাৎ দিল্লি শরিফকে সেনাবাহিনীর কথোপকথন শুনিয়ে সরাসরি আঘাত করেছে।
ওই প্রতিবেদনে লেখা হয়েছিল যে নওয়াজ শরীফকে টেপ শোনানোর জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব বিবেক কাটজুকে ইসলামাবাদে পাঠানো হয়েছিল।
'র'-এর অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব বি রমন ২০০৭ সালে 'আউটলুক' পত্রিকায় একটা প্রবন্ধ লিখেছিলেন এ নিয়ে।
লেখাটার শিরোনাম ছিল 'কারগিল টেপ প্রকাশ করাটা কি মাস্টারস্ট্রোক হয়েছিল না বড় ভুল ছিল'! সেখানে তিনি স্পষ্টই জানিয়েছিলেন যে নওয়াজ শরীফকে কথোপকথনের রেকর্ডিংটা শুনিয়ে সেটা যেন আবার ফেরত নিয়ে আসা হয়। কোনওমতেই যেন ওই টেপ ওদের হাতে না দেওয়া হয়।
আর কে মিশ্র অবশ্য অস্বীকার করেন যে তিনি মি. শরীফকে টেপ শোনাবার কাজে যুক্ত ছিলেন। বিবেক কাটজুও কখনও জনসমক্ষে ব্যাপারটা স্বীকার করেন নি।
পাকিস্তানি পররাষ্ট্র মন্ত্রীর সফরের আগে জনসমক্ষে টেপ প্রকাশ করে ভারত
নওয়াজ শরীফকে ওই কথোপকথন শোনানোর এক সপ্তাহ পরে, ১১ জুন পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রীর সরতাজ আজিজের ভারত সফরে আসা ঠিক ছিল। মি. আজিজ ভারতের মাটিতে পা দেওয়ার কিছুক্ষণ আগেই ভারত একটা সংবাদ সম্মেলন করে ওই টেপ জনসমক্ষে প্রকাশ করে দেয়।
কয়েকশো কপি তৈরি করে দিল্লিতে প্রতিটা বিদেশি দূতাবাসে সেই টেপ পাঠানো হয়েছিল।

গোপনীয়তাকে এত অবহেলা কীভাবে করলেন মুশারফ

ভারতীয় গুপ্তচরেরা ঘটনার এত বছর পরেও এটা কখনও বলেন না যে কীভাবে ওই ফোনালাপে আড়ি পাতা হয়েছিল।
পাকিস্তানিরা মনে করেন এর পেছনে সি আই এ অথবা মোসাদের সাহায্য পেয়েছিল ভারত। যারা ওই টেপ শুনেছেন, তাদের সবারই মনে হয়েছে যে ইসলামাবাদের দিক থেকে কথা অনেক স্পষ্ট। তাই সম্ভবত ইসলামাবাদ থেকেই আড়ি পাতা হয়েছিল।
কারগিল যুদ্ধের ওপরে বহুল চর্চিত বই 'ফ্রম কারগিল টু দা ক্যু' বইতে পাকিস্তানী সাংবাদিক নাসিম জাহেজা লিখেছেন, "নিজের চীফ অফ স্টাফের সঙ্গে সাধারণ টেলিফোন লাইনে এত সংবেদনশীল কথোপকথন খোলাখুলি করে জেনারেল মোশাররফ প্রমাণ করে দিয়েছিলেন যে তিনি কতদূর বেপরোয়া হয়ে উঠতে পারেন। ওই ফোনালাপেই প্রমাণ হয়ে যায় যে কারগিল অপারেশনে পাকিস্তানের শীর্ষ নেতৃত্বের কতটা মদত ছিল।"
ঘটনাচক্রে, আত্মজীবনী 'ইন দা লাইন অফ ফায়ার'-এ জেনারেল পারভেজ মোশাররফ কিন্তু এই টেপ-কাণ্ডের কোনও উল্লেখই করেন নি। তবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি পদে আসীন হওয়ার পরে ভারতীয় সম্পাদক এম জে আকবরকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে ওই টেপের কথা তিনি স্বীকার করে নেন।

টেপ প্রকাশের পরেই সরতাজ আজিজ দিল্লিতে

নওয়াজ শরীফকে কথোপকথনের রেকর্ড শোনানোর এক সপ্তাহ পরে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রী সরতাজ আজিজ দিল্লি এসেছিলেন। পাকিস্তান দূতাবাসের প্রেস সচিব বেশ উদ্বিগ্ন হয়ে বিমানবন্দরের ভি আই পি লাউঞ্জে ঘোরাঘুরি করছিলেন সেদিন।
তার হাতে অন্তত ছটা ভারতীয় খবরের কাগজ ছিল, যেগুলোতে মোশাররফ-আজিজ কথোপকথনের খবরটা শীর্ষ শিরোনাম হিসাবে ছাপা হয়েছিল।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রী যশবন্ত সিং বেশ শীতলভাবেই হাত মিলিয়েছিলেন মি. আজিজের সঙ্গে।
ওই টেপের মাধ্যমেই সারা দুনিয়ার কাছে প্রমাণিত হয়েছিল যে কারগিলের ঘটনায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী সরাসরি হাত ছিল না আর তার সেনাবাহিনী কারগিল অভিযানের বিষয় গোপন করে রেখেছিল।
পাকিস্তানের সেনাপ্রধান হিসাবে দায়িত্ব পালনের সময় জেনারেল পারভেজ মোশাররফ

‘বউকে পাঠালাম সৌদি আরবে মিসরে গিয়ে মরলো কেমনে : প্রশ্ন স্বামীর by কাওসার আজম

সংসারে সুখ আনতে গত ১ এপ্রিল স্ত্রী মিসেস বেগমকে সৌদি আরব পাঠান স্বামী আব্দুল আজিজ। ঢাকার আশুলিয়ার জিরাবো এলাকার দূর্গাপুর বড় রাঙ্গামাটিয়া গ্রামের এই নারী গৃহকর্মী হিসেবে সৌদি আরবে গেলেও তার মৃত্যু হয়েছে মিসরে। চার সন্তানের জননী বেগম কীভাবে সৌদি আরব থেকে মিসরে গেলেন, কীভাবে তার মৃত্যু হলো এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তার স্বামী আব্দুল আজিজ। মিসেস বেগমের সৌদি আরব থেকে মিসরে যাওয়া, কীভাবে মারা গেলেন এই রহস্য উদঘাটনসহ দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি ক্ষতিপূরণও দাবী করেছেন আজিজ। এজন্য প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডসহ বিভিন্ন দপ্তরে আবেদনও করেছেন তিনি।
গত ১৬ জুন ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক বরাবর করা আবেদনে আব্দুল আজিজ উল্লেখ করেন, ‘…গত ১ এপ্রিল হান্নান ব্রাদার্স লিঃ (আরএল-৫৫২)-এর মাধ্যমে বৈধভাবে সৌদি আরবে গমন করেন মিসেস বেগম (পাসপোর্ট নং BY-0379678)। যাওয়ার পর নিয়মিত যোগাযোগ থাকলেও গত ১২ মে থেকে তার সাথে শত চেষ্টা করেও যোগাযোগ করতে পারিনি। গত ১৫ জুন দুপুর সোয়া ১টার দিকে আমার মোবাইলে একটি ফোন আসে, যিনি ফোন করেন তিনি মো. আরিফুল ইসলাম ইসলাম। মিসরস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে বলছি বলে নিজেকে পরিচয় দেন। আমার স্ত্রী গত ২৯ মে মিশরে মারা গেছে বলে জানান। আমার স্ত্রীকে পাঠালাম সৌদি আরবে, কীভাবে মিসরে গেল তা আমরা জানি না। আমার স্ত্রীর কোনো রোগব্যধি ছিল না। যাওয়ার সময় শুধুমাত্র জ্বর, মাথা ব্যাথা ও গ্যাস্টিকের ওষুধ দিয়ে দেই। আমার ৪ সন্তান রয়েছে। উল্লেখ্য যে, আমার স্ত্রী যাওয়ার পর দুই মাসের বেতন পাঠিয়েছে। আমি এই মৃত্যুর সুষ্ঠু বিচার ও ক্ষতিপূরণ প্রার্থনা করছি।’
বেগমের স্বামী এই প্রতিবেদককে জানান, আমার স্ত্রীকে পাঠিয়েছি সৌদি আরবে। শুনতেছি সেখান থেকে তার মালিক নাকি মিসরে নিয়ে গিয়েছিল। সেখানে নাকি মারা গেছে। সৌদি আরব থেকে মিসরে যাবে, এ রকম কিছু সে কখনো আমাকে বলেনি। মারা যাওয়ার ১২-১৩ দিন আগে থেকে তার সাথে (স্ত্রী) আমার যোগাযোগ বন্ধ। দুই মাসে ৪৫ হাজার টাকা পাঠিয়েছে। প্রথম মাসে ১০০০ রিয়াল বেতন ব্যাংকে পাঠানোর পর ফোন দিয়ে জানিয়েছে। পরের মাসে টাকা পাঠানোর পর জানায়নি কিছু। আর সে সুস্থ মানুষ। হঠাৎ কীভাবে মারা গেল, এর বিচার চাই।  এজন্য প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছি।
এ ব্যাপারে মিসেস বেগমকে সৌদি আরবে পাঠানো রিক্রুটিং এজেন্সি হান্নান ব্রাদার্স প্রাঃ লিঃ-এর পরিচালক মো. নুরুল্লাহ নয়া দিগন্তকে বলেন, আমরা বৈধ সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেই মিসেস বেগমকে সৌদি আরবে পাঠিয়েছি। শুনছি সে নাকি মিসরে গিয়ে মারা গেছে।
পাঠালেন সৌদি আরব, মিসরে গেল কেমনে-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যেটুকু জেনেছি সেটি হলো ওই মালিক (নিয়োগকর্তা) পারিবারিক ট্যুরে মিসরে গেছে। সাথে বেগমকেও নিয়ে গেছে। সেখানে যাওয়ার পর সে মারা গেছে। তবে কীভাবে মারা গেছে, সে ব্যাপারে এই প্রতিবেদককে তিনি কিছুই বলেননি।
ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের উপ পরিচালক (জনসংযোগ) জাহিদ আনোয়ার নয়া দিগন্তকে বলেন, এ বিষয়ে একটি আবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে আমরা মিসর দূতাবাসের শ্রম উইংকে লিখেছি।
নারীকর্মী মিসেস বেগম মারা যাওয়ার খবর তার স্বামীকে দেন মিসরস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আরিফুল ইসলাম। তিনি এই প্রতিবেদককে জানান, এখনো ওই নারীকর্মীর লাশ হাসপাতালের মর্গে আছে। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে আমাদের চিঠি দেয়া হয়েছে। আমরা এ ব্যাপারে কাজ করছি। এ বিষয়ে আর কোনো কথা না বলে বিস্তারিত জানতে ঊর্ধ্বতনদের সাথে কথা বলতে পরামর্শ দেন তিনি। এ ব্যাপারে মিসরস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি জোবায়দা মান্নানের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সম্ভব হয়নি।
নাম না প্রকাশের শর্তে এক কর্মকর্তা জানান, সৌদি আরব থেকে ওই নারীকর্মীকে মিসরে যে আনা হয়েছে তার প্রপার ডকুমেন্টস আমরা পাচ্ছি না। এ ব্যাপারে বাড়িওয়ালাও কথা বলতে চাচ্ছেন না। পুলিশ এখনো আমাদের লাশ দেখতে দেয়নি। আমরা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় লেভেলে এ বিষয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করছি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মিসেস বেগম সৌদি আরব থেকে কীভাবে মিশরে গেলেন এবং কীভাবেই বা তার মৃত্যু হলো এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে মিশরস্থ দূতাবাস কর্মকর্তাদের মধ্যেও। এই দুটি প্রশ্নের উত্তর জানা এবং নারীকর্মী বেগমের লাশ বাংলাদেশে পাঠানোর ব্যাপারে পররাষ্ট্র চ্যানেলে যোগাযোগ চলছে বলে জানা গেছে।

শ্রীলংকা কেন মৃত্যুদণ্ড ফিরিয়ে আনছে?

স্থানীয় মিডিয়ার সাথে আলাপকালে শ্রীলংকার প্রেসিডেন্ট মৈত্রিপালা সিরিসেনা জানান কেন তিনি মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিধান পুনর্বহাল করছেন। তিনি বলেন, “আজ, আন্তর্জাতিক মাদক বিরোধী ও অবৈধ পাচার দিবসে আমি ঘোষণা দিতে চাই যে, মাদক সম্পর্কিত অপরাধের ব্যাপারে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ক্ষেত্রে আমি পুরোপুরি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ”।
১৯৭৬ সাল থেকে শ্রীলংকায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের উপর নিষেধাজ্ঞা চলে আসছে।
প্রেসিডেন্সিয়াল টাস্ক ফোর্স অন ড্রাগ প্রিভেনশানের (পিটিএফডিপি) সাবেক প্রধান এবং বর্তমানে শ্রীলংকার ড্রাগ রিহ্যাবিলিটেশান অথরিটির উপদেষ্টা সামান্থা কুমারা কিঠালাবারাচ্ছি ডয়চে ভেলেকে বলেন যে, ২০১৫ সালে ক্ষমতায় আসার পরপরই সিরিসেনা দেশের মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ষাঁড়াশি অভিযান চালিয়েছিলেন। তিনি একটা মাদক বিরোধী টাস্ক ফোর্স গঠন করেছিলেন এবং মাদক প্রতিরোধের জন্য কর্মকর্তাদের নিয়োগ দিয়েছিলেন।
কিঠালাবারাচ্ছির মতে, মাদক বিরোধী টাস্ক ফোর্স আরও কঠিন আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে এসেছে এবং মাদক সম্পর্কিত মামলাগুলোর নিষ্পত্তিতে পুলিশকে বাড়তি ক্ষমতা দিয়েছে। একই সাথে, স্কুল ও গ্রামগুলোতে মাদক বিরোধী সচেতনতা তৈরির জন্য হাজার হাজার কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কিঠালাবারাচ্ছি বলেন, “এই কমিটিগুলোই দাবি জানিয়েছে যাতে সরকার বড় বড় মাদক ব্যবসায়ীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে। এরপর প্রেসিডেন্ট মৃত্যুদণ্ডের রায় বাস্তবায়নের ঘোষণা দেন”।
নির্বাচনী কৌশল?
তবে ভারতীয় শহর চেন্নাইয়ের অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশানের এন সাথিয়া মূর্তির বিশ্বাস যে, মৃত্যুদণ্ড পুনর্বহালের পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে।
এপ্রিলের ইস্টার সানডে হামলার আগে ডয়চে ভেলেকে তিনি বলেছিলেন, সিরিসেনার সমর্থন রেটিং শক্তিশালী এবং তার পুনর্নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাও যথেষ্ট রয়েছে। মূর্তি বলেন, তিনি উদারপন্থী ও রক্ষণশীল উভয় গোষ্ঠির ভোট পাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে এই বিশেষজ্ঞ আরও বলেন, এটা তার ইমেজ ক্ষুণ্ণ করেছে। কারণ শ্রীলংকানরা অন্যান্য বিষয়ের উপরে তাদের জাতীয় ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকে প্রাধান্য দিয়ে থাকে।
কিন্তু ইন্সটিটিউট অব ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজ শ্রীলংকার (আইএসএসএসএসএল) রাঙা জয়সুরিয়ার মত হলো মাদক অপরাধীদের মৃত্যুদণ্ডের সিদ্ধান্ত সিরিসেনার জনপ্রিয়তা বাড়াবে বলে মনে হয় না, কারণ অধিকাংশ মানুষই এই ব্যাপারে উদাসীন।
এই বিশ্লেষক বলেন, “আমি মনে করি না, এটা তাকে পুনর্নির্বাচনে সাহায্য করবে। তবে এখনও এটা বলার সময় আসেনি যে, এই সিদ্ধান্ত শ্রীলংকার রাজনীতির উপর আসলেই কি প্রভাব ফেলবে”।
মৃত্যুদণ্ডের বিরোধিতা
মৃত্যুদণ্ড ইস্যু নিয়ে প্রেসিডেন্টের চেয়ে ভিন্ন অবস্থানে আছেন শ্রীলংকার প্রধানমন্ত্রী রানিল বিক্রমাসিঙ্গে। চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে, তিনি বলেছেন যে, তিনি মৃত্যুদণ্ড পুনর্বাহলের বিষয়টিকে সমর্থন দিবেন না।
মৃত্যুদণ্ডের ব্যাপারে বিক্রমাসিঙ্গের বিরোধিতার কারণে প্রেসিডেন্টের উপর চাপ আরও বেড়েছে। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বেশ কতগুলো মামলা করেছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো। একই সাথে তারা সিদ্ধান্ত বাতিলের জন্য শ্রীলংকান কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
অধিকার কর্মী লাকনাথ জয়াকোদি এবং ওয়েলেজ সুদেশ নান্দিমাল সিলভা মনে করেন যে, মৃত্যুদণ্ড পুনর্বাহলের সুদূরপ্রসারী পরিণতি রয়েছে এবং এটা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সকল বন্দীর উপর প্রভাব ফেলবে, যাদের মধ্যে ঘাতক, ধর্ষক, অপহরণকারী এবং সশস্ত্র লুণ্ঠনকারীরা রয়েছে।
মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের মাধ্যমে অপরাধ প্রতিরোধ করা যায় না। তাদের মতে, “যে সব দেশ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে, তারা বলে থাকে যে, অপরাধীদের প্রতিহত করতেই এটা করা হচ্ছে। বার বার এই দাবি করা হয়েছে, কিন্তু এমন কোন প্রমাণ নেই যে মৃত্যুদণ্ড অপরাধ কমানোর ব্যাপারে এমন কোন ভূমিকা রাখে, যেটা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের দ্বারা হয় না”।

জীবন্ত মাটিচাপা দেওয়া শিশুকে উদ্ধার করল কুকুর

প্রথম আলো, ১৮ মে ২০১৯: থাইল্যান্ডে নবজাতককে জীবন্ত মাটিচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছে কিশোরী এক মা। একটি কুকুরের জন্য তা সম্ভব হয়নি। কুকুরটি মাটি খুঁড়ে উদ্ধার করে ওই নবজাতককে।
নবজাতকের ১৫ বছরের মা নিজের এই মা হওয়ার বিষয়টি সবার কাছে লুকাতে চেয়েছিল। তাই ছেলেশিশুটিকে জীবন্ত মাটিচাপা দেয়। থাইল্যান্ডের বান নং খাম গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
গত ১৭ মে শুক্রবার বিবিসি অনলাইনের খবরে জানা যায়, যে জায়গায় নবজাতকটিকে মাটিচাপা দেওয়া হয়, সেখানে পিং পং নামের একটি কুকুর ঘোরাফেরা করছিল। পিং পং ঘেউ ঘেউ করছিল। মাটি খুঁড়ছিল। এরপরই কুকুরটির মালিক লক্ষ করেন, মাটির ভেতর থেকে শিশুটির ছোট্ট পা বের হয়ে আছে।
পিং পং টের পায়, নবজাতকটিকে মাটিচাপা দেওয়া হয়েছে। ছবি: বিবিসির সৌজন্যে
স্থানীয় লোকজন সঙ্গে সঙ্গে শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসকেরা তাকে স্বাভাবিক অবস্থায় নিয়ে আসেন। শিশুটি সুস্থ আছে বলে জানান তাঁরা।
পিং পংয়ের মালিক উশা নিসাইখা বলেন, গাড়ি দুর্ঘটনায় পিং পংয়ের এক পা অকেজো হয়ে যায়। থাইল্যান্ডের স্থানীয় খাওসদ পত্রিকাকে উশা নিসাইখা বলেন, ‘পিং পং খুব বিশ্বাসী ও অনুগত। এ কারণে আমি তাকে কাছে রেখেছি। যখন আমি জমিতে গবাদিপশুদের চরাতে নিয়ে যাই, পিং পং সব সময় আমাকে সাহায্য করে। পিং পং গ্রামের সবাইকে ভালোবাসে।’
নবজাতকের মায়ের বিরুদ্ধে সন্তানকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে।
চাম ফুয়াং পুলিশ স্টেশনের কর্মকর্তা পানুওয়াত পুত্তাকাম ব্যাংকক পোস্টকে বলেন, নবজাতকের মাকে তার মা-বাবা এবং মনোরোগ বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে। মা তার কাজের জন্য অনুতপ্ত।
নবজাতকের নানা-নানি শিশুটির দায়িত্ব নেবেন।
গ্রামের সবাই ভালোবাসে পিং পংকে। ছবি: বিবিসির সৌজন্যে

আফগান স্বার্থ রক্ষায় পাকিস্তানের উপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্র by দীপাঞ্জন রায় চৌধুরী

ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন দুই বছর আগে তাদের দক্ষিণ এশিয়া নীতিতে ভারতকে কেন্দ্রীয় ভূমিকায় রাখলেও এখন তারা ক্রমেই পাকিস্তানের দিকে ঝুঁকছে। সেপ্টেম্বরের মধ্যে আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহার করে নিতে বদ্ধপরিকর যুক্তরাষ্ট্র, কারণ আগামী বছর প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে। এ অবস্থায় আফগানিস্তানে নিজেদের স্বার্থ রক্ষার জন্য ব্যাপকভাবে ইসলামাবাদের উপর নির্ভর করছে দেশটি।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের ১৮ বছরের যুদ্ধের ইতি টানার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা রাখতে পারেন এবং গত বছর যে ১.৩ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা বাতিল করেছিলেন তিনি, সেটা পুনর্বহালেরও সম্ভাবনার কথা বলেছেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্র-পাকিস্তানের সম্পর্কের ব্যাপারে অবগত সূত্রের মতে, এই বিষয়টা ইন্দো-পাক সম্পর্কের ব্যাপারে ট্রাম্পের নীতিকে একটা রূপ দিচ্ছে যেটা নির্ভর করবে নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর উত্তেজনা প্রশমনের মাত্রার উপর। সোমবার হোয়াইট হাইজের বৈঠকের শুরুতে ট্রাম্প বলেন, “আমি মনে করি পাকিস্তান আমাদের সাহায্য করবে যাতে আমরা বেরিয়ে আসতে পারি”। এ সময় খান তার পাশেই বসা ছিলেন। এক বছরের মধ্যে এটা ট্রাম্পের একটা ইউ-টার্নের মতো। ট্রাম্প গত বছর টুইট করেছিলেন যে, পাকিস্তান ‘আমাদেরকে মিথ্যা ও প্রতারণা ছাড়া কিছুই দেয়নি” এবং সন্ত্রাসীদের তারা ‘নিরাপদ আশ্রয়’ দিয়েছে।

পুলওয়ামা হামলার পর ওয়াশিংটন এমনকি মাসুদ আজহারকে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী হিসেবে ঘোষণা দেয়ার ভারতীয় দাবিকে সমর্থনও করেছিল এবং পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ফিনান্সিয়াল অ্যাকশান টাস্ক ফোর্সে (এফএটিএফ) পদক্ষেপ নেয়ার প্রক্রিয়ায় তারা নেতৃত্ব দিয়েছিল।

পাল্টা টুইটে খান বলেছেন যে, সন্ত্রাস বিরোধী মার্কিন যুদ্ধে পাকিস্তানের ৭৫,০০০ জন ব্যক্তি হতাহত হয়েছে এবং ১২৩ বিলিয়ন ডলার ক্ষতি হয়েছে, যদিও ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলায় কোন পাকিস্তানি জড়িত ছিল না। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সেখানে শুধু ২০ বিলিয়ন ডলারের সামান্য সহায়তা দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র এখন পাকিস্তানের সাথে বিভেদ ঘুচানোর চেষ্টা করছে। ট্রাম্প সোমবার খানকে লক্ষ্য করে বলেন, “গত কয়েক সপ্তাহে আমরা বেশ কিছু অগ্রগতি অর্জন করেছি। যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অনেক কিছু ঘটছে, এবং আমরা মনে করি আপনার নেতৃত্বে পাকিস্তানেরও অনেক কিছু অর্জন হবে”।

জানা গেছে যে, আফগানিস্তানে পাকিস্তান যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে, ট্রাম্প সে বিষয়টির স্বীকৃতি দেয়ায় খান বৈঠকে যথেষ্ট সন্তুষ্টচিত্ত ছিলেন। ইসলামাবাদ বলেছে, ট্রাম্প সোমবার তালেবানদের সাথে আলোচনার ক্ষেত্রে পাকিস্তানের ভূমিকাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এবং খান এই প্রক্রিয়ায় পাকিস্তানের সহায়তা অব্যাহত রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আফগানিস্তানে পাকিস্তানের ভূমিকা বেড়ে যাওয়ার অর্থ হলো ইন্দো-মার্কিন দ্বিপাক্ষিক ইস্যুতে সেটা একটা ক্ষত তৈরি করবে।