Monday, August 24, 2026
রোবট মানুষের চেয়ে দ্রুত দৌড়াতে পারছে; কিন্তু সূক্ষ্ম কাজে কতটা দক্ষ
কিন্তু কোনো কিছু প্যাকেটজাতকরণ ও গুদামের কাজের পাশাপাশি বিদ্যুতের তার–সংযোগের মতো সূক্ষ্ম কাজ রোবট মানুষের মতো নিখুঁতভাবে করতে পারবে কি না, সেটিই এখন তাদের সামনে আসল পরীক্ষা।
শনিবার (২২ আগস্ট) থেকে বেইজিংয়ে শুরু হয়েছে পাঁচ দিনের বিশ্ব হিউম্যানয়েড রোবট গেমস। এখানে মানুষের খেলাধুলার আদলে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা রয়েছে। পাশাপাশি সিমুলেটেড কারখানা, রেস্তোরাঁ, অফিস ও জরুরি পরিস্থিতিতে রোবটের সক্ষমতা যাচাইয়ের জন্যও বিভিন্ন আয়োজন রাখা হয়েছে।
চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত এই আয়োজনে মোট ৫১টি ইভেন্ট রয়েছে। এর মধ্যে ৩০টি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা এবং ২১টি বিভিন্ন পরিস্থিতিভিত্তিক প্রতিযোগিতা। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ের তথ্য অনুযায়ী, এসব ইভেন্টের ৪০ শতাংশের বেশি রোবটকে পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করতে হবে।
শনিবার ১০০ মিটার দৌড়ে দুটি রোবট অ্যাথলেটদের ৯ দশমিক ৫৮ সেকেন্ডের বিশ্ব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। এই রেকর্ডের মালিক বিশ্বের দ্রুততম অ্যাথলেট উসাইন বোল্ট। রোবটের ক্ষেত্রে এটা ২০২৫ সালের তুলনায় বড় অগ্রগতি। গত বছর ১০০ মিটার দৌড়ে বিজয়ী রোবটটি ২০ সেকেন্ডের বেশি সময় নিয়েছিল।
তবে রোবটগুলো দৌড় শেষে থামতে গিয়ে সমস্যায় পড়ে। ফিনিশিং লাইনের কয়েক মিটার পর আয়োজকেরা যে মোটা ম্যাট (মাদুর) রেখেছিলেন, তারা সেগুলোতে গিয়ে সজোরে ধাক্কা খায়।
হিউম্যানয়েড রোবট গেমসের এবারের আসরে ১০০ মিটার দৌড়ের বিজয়ী রোবটটির একই মডেলের আরেকটি রোবট ৪০০ মিটার দৌড়ে ৩৯ দশমিক ৭ সেকেন্ডে প্রতিযোগিতা শেষ করে। এতে আরেকটি নতুন রেকর্ড হয়। ভেঙে যায় দক্ষিণ আফ্রিকার ওয়েড ভ্যান নিকের্কের ৪৩ দশমিক ০৩ সেকেন্ডের বিশ্ব রেকর্ড।
দর্শক ও রোবোটিকস খাতে বিনিয়োগকারী শু ছিয়াওশেং বলেন, ‘গত বছরের চেয়ে এবার প্রতিযোগিতার তীব্রতা বেশি। এর ফলে রোবটের ব্যাটারি ব্যবস্থাপনা ও তাপনিয়ন্ত্রণ সক্ষমতার ওপর বড় ধরনের চাপ পড়ছে।’
ছিয়াওশেং মনে করেন, ‘চীনের শিল্প খাতের উন্নয়নে এর (রোবটের) বিশাল গুরুত্ব রয়েছে।’
এবারের গেমসে কিছু রোবট দড়ি টানাটানি ও ভারোত্তোলন প্রতিযোগিতাতেও অংশ নিয়েছে। তাই চি ও ‘পিচ-পট’-এর মতো ঐতিহ্যবাহী চীনা খেলাতেও দেখা যাবে রোবটের অংশগ্রহণ। পিচ-পটে সরু মুখের পাত্রে তিরের মতো কাঠি ছুড়ে ফেলতে হয়।
ছোটখাটো ভুলেই আসল পরীক্ষা
দৃষ্টিনন্দন এসব প্রদর্শনীর বাইরে রোবটগুলো বাস্তব জগতের ছোটখাটো সমস্যা কতটা সামলাতে পারে, সেটিই হবে আরও গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। ছোটখাটো সমস্যার উদাহরণ হিসেবে কোনো বিদ্যুতের তার ভুল কোণে থাকা, কোনো কিছু হাতের নাগালের বাইরে চলে যাওয়া, প্যাকেটের অবস্থান বদলে যাওয়া কিংবা কাজের কোনো ধাপে ভুল করার কথা বলা যায়।
এসব পরীক্ষার মাধ্যমে রোবট কোনো বস্তু ঠিকভাবে শনাক্ত করতে পারে কি না, নির্ভুলভাবে হাত ও শরীরের অবস্থান ঠিক করতে পারে কি না, নিয়ন্ত্রিতভাবে শক্তি প্রয়োগ করতে পারে কি না এবং মানুষের সাহায্য ছাড়া ভুল শুধরাতে পারে কি না, তা বোঝা যাবে।
রোবট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান লুমোস রোবোটিকসের প্রধান নির্বাহী ইউ চাও বলেন, এই প্রতিযোগিতা রোবটের হার্ডওয়্যার উন্নত করতে সহায়তা করতে পারে। একই সঙ্গে এর মাধ্যমে শিল্পটির সক্ষমতাও তুলে ধরা সম্ভব। তবে রোবটগুলো বাস্তব জীবনের সমস্যা কতটা ভালোভাবে সমাধান করতে পারে, তার ওপরই দীর্ঘমেয়াদে এসব প্রতিযোগিতার গুরুত্ব নির্ভর করবে।
ইউ চাও আরও বলেন, ‘বাস্তব (জগতের) কাজের শেষ ধাপগুলোতে রোবট কাজ করতে পারলেই এর প্রকৃত মূল্য তৈরি হবে। শুধু দৌড়ানো আর লাফানো দক্ষতা বাড়ায় না।’
মানুষের খেলাধুলার আদলে তৈরি পরিচিত ইভেন্টগুলোর পাশাপাশি রোবটগুলো বৈদ্যুতিক গাড়িতে চার্জ দেওয়া, রেস্তোরাঁয় কাজ করা, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং হাতের সূক্ষ্ম নড়াচড়ার সক্ষমতা যাচাইয়ের প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে। শিল্পকারখানায় যন্ত্রাংশ জোড়া লাগানো ও মালামাল তোলার ইভেন্টও রয়েছে। বিদ্যুতের তার সংযোগের একটি প্রতিযোগিতায় রোবটের দৃষ্টিশক্তি, যান্ত্রিকভাবে সঠিক সংযোগ স্থাপন এবং শক্তিনিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা যাচাই করা হবে।
বেইজিংভিত্তিক রোবট নির্মাতা স্টার্টআপ গ্যালবট জানিয়েছে, তারা স্বয়ংক্রিয় হিউম্যানয়েড রোবটের টেনিস ম্যাচ আয়োজন করবে। এতে একক ও দ্বৈত দুই ধরনের ম্যাচেই রোবট অংশ নেবে। বলের গতিপথ অনুসরণ, সার্ভ করা ও প্রতিপক্ষের শট ফেরানোর মতো কাজ করতে হবে তাদের।
রোবট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান জিরোথের প্রধান বিপণন কর্মকর্তা হুয়া রং বলেন, প্রদর্শনী শেষ হওয়ার পরই আসল পরীক্ষা শুরু হবে। তাঁর ভাষ্যমতে, পণ্যটি (রোবট) বিক্রি হওয়ার পর সেটি সত্যিই ব্যবহারকারীদের সমস্যার সমাধান করতে পারে কি না, (মূল) প্রতিযোগিতাটা হবে সেখানে।
![]() |
| দড়িতে দৌড়াচ্ছে একটি হিউম্যানয়েড রোবট। চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে বিশ্ব হিউম্যানয়েড রোবট গেমসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে। ২২ আগস্ট ২০২৬ ছবি: রয়টার্স |
Sunday, August 23, 2026
মেটার চশমা দিয়ে ছবি তোলা, ফোন করা, কম্পিউটার চালানোসহ আরও যা যা করা যাবে by কাজী আকাশ
তবে আসল মজা কিন্তু চশমায় নয়; বরং ধূসর রঙের রিস্টব্যান্ডে। মেটার এই চশমার সঙ্গে আছে একটা বিশেষ ব্যান্ড। ঘড়ি পরার মতোই এই ব্যান্ড পরাও সহজ। তবে এই ব্যান্ড পরলে একটু হালকা বিদ্যুৎ স্পর্শের অনুভূতি পাবেন। ভয়ের কিছু নেই, এই ঝাঁকুনির সাহায্যে ব্যান্ডটি জানান দেয়, ব্যান্ড চালু হয়ে গেছে।
এই ব্যান্ডের নাম নিউরাল ব্যান্ড। এটা আপনার হাতের মাংসপেশি থেকে বের হওয়া বৈদ্যুতিক সংকেত ধরতে পারে। মানে আপনি আঙুল নাড়ালে বা হাতের নির্দিষ্ট অংশ নড়াচড়া করলে, ব্যান্ড সেটা বুঝে ফেলে এবং চশমাকে নির্দেশ দেয়। এই পুরো প্রযুক্তির নাম ইএমজি টেকনোলজি। বিজ্ঞানীরা প্রায় দুই লাখ মানুষের ওপর গবেষণা করে এই প্রযুক্তি তৈরি করেছেন। ফলে প্রায় সবার হাতেই এটা ঠিকমতো কাজ করে।
এই প্রযুক্তি কীভাবে কাজ করে
খুব সহজ। আপনি হাত মুঠো পাকিয়ে বুড়ো আঙুল দিয়ে তর্জনীর ওপর ঘষলে চশমার স্ক্রিনে মেনু স্ক্রল হবে। মুঠোফোনের টাচপ্যাডে আমরা যেভাবে আঙুল ঘুরাই, অনেকটা সে রকম। বুড়ো আঙুল আর তর্জনী একসঙ্গে চেপে ধরলে নির্দিষ্ট অ্যাপ খুলে যাবে। অনেকটা কম্পিউটারে মাউস ক্লিক করার মতোই।
আবার দুই আঙুল ঘুরিয়ে আলতো করে নাড়ালে গানের ভলিউম বাড়ানো-কমানো যায়। পাশ থেকে আপনাকে কেউ দেখলে মনে হবে, অদৃশ্য কোনো স্টেরিও নব ঘোরাচ্ছেন।
নিউরাল ব্যান্ডের ব্যাটারি এক চার্জে ১৮ ঘণ্টা চলে। সারা দিন ব্যবহার করার জন্য যথেষ্ট। আর এটা পানিরোধী, তাই বৃষ্টিতে ভিজলে বা ওয়ার্কআউট করার সময় ঘাম হলেও কোনো সমস্যা নেই। এর চার্জিং কেসে প্রায় ২৪ ঘণ্টার চার্জ মজুত থাকে।
চশমার জাদু
এবার আসি চশমার কথায়। দেখতে একদম সাধারণ চশমার মতো। কিন্তু ডান চোখের কাছে একটা ছোট্ট ডিসপ্লে লাগানো। চশমা পরলেই ডান গালের ঠিক নিচে একটা পর্দা ভেসে ওঠে চোখের সামনে। এটা অনেকটা মুঠোফোনের পর্দার মতো, তবে স্বচ্ছ। মানে আপনি চারপাশ দেখতে পাবেন, আবার একই সঙ্গে সেই পর্দাও দেখতে পাবেন।
যাঁরা এই চশমা পরীক্ষা করে দেখেছেন, তাঁরা বলছেন, প্রথম প্রথম একটু অদ্ভুত লাগে। কোথায় ফোকাস করতে হবে, তা চোখ বুঝতে পারে না। বাইরের রাস্তাঘাটও ভেসে থাকে পর্দায়। পর্দাটা খুব পরিষ্কার হলেও আশপাশের উজ্জ্বল আলোর সঙ্গে মিশে গেলে লেখা পড়তে একটু সমস্যা হয়।
তবে এটা মনোরঞ্জনের জন্য নয়, দৈনন্দিন কাজের জন্য। যেমন মেসেজ পড়া, ছবি তোলার আগে প্রিভিউ দেখা, স্পটিফাইয়ে গানের তালিকা দেখাসহ এ রকম কাজের জন্য তৈরি করা হয়েছে।
আরও জাদু
এই চশমার সবচেয়ে মজার বৈশিষ্ট্য এর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই। মেটা এআই নামের এই সহকারী আপনার চারপাশ বুঝতে পারে এবং সাহায্য করতে পারে নানাভাবে। সেসবের কয়েকটা নিয়ে আলোচনা করা যাক।
লাইভ ক্যাপশন ও অনুবাদ
ফিচারটা সত্যিই কাজের। সামনের কেউ কথা বললে চশমার পর্দায় লেখা হয়ে ভেসে ওঠে। ঠিক যেমন সাবটাইটেল দেখা যায়। আর সবচেয়ে মজার ব্যাপার, অন্য ভাষায় কথা বললে সেটা অনুবাদ করে দেখাতে পারে এই চশমা। ধরুন, আপনি জাপানি কারও সঙ্গে কথা বলছেন, কিন্তু কিছু তো বুঝবেন না। তখন আপনার চোখের সামনে তার কথাগুলো বাংলায় ভেসে উঠবে।
ক্যামেরা ভিউফাইন্ডার
এই প্রযুক্তির সাহায্যে আপনি ছবি তোলার আগেই দেখতে পারবেন, ছবিটা কেমন আসবে। চশমা পরে সামনে তাকালেই পর্দায় দেখা যাবে ক্যামেরা কী দেখছে। অনেকটা টিভিতে পিকচার-ইন-পিকচার যেমন হয়, সে রকম। জুমও করা যায় সরাসরি।
মেসেজ চালাচালি
এই সুবিধা বেশ গোপনীয়। হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জার বা ইনস্টাগ্রামের মেসেজ সরাসরি চশমার পর্দায় দেখা যায়। বারবার মুঠোফোন বের করার দরকার হবে না।
নেভিগেশন
এই ফিচারের সাহায্যে রাস্তা চেনা যাবে। হয়তো নতুন কোথাও যাচ্ছেন, কিন্তু পথ ঠিকভাবে জানা নেই। চশমা আপনাকে মানচিত্র দেখিয়ে পথ বলে দেবে।
ভিডিও কল
চশমা থেকেই এখন ভিডিও কল করা যাবে। মিটিংয়ে বসে স্ক্রিন শেয়ার করাও সম্ভব এই চশমার সাহায্যে।
আরও মজার ব্যাপার হলো, এআই আপনার অভ্যাস শিখে ফেলবে। আপনি সাধারণত কোন সময় কী করেন, তা বুঝে আগেভাগেই এআই সাজেশন দেবে। যেমন কোনো মিটিংয়ে গেলে সেখানে উপস্থিত লোকজনের নাম বলে দেওয়া, রাস্তায় হাঁটলে কাছের রেস্তোরাঁ বা বাসস্ট্যান্ডের খবর জানানো ইত্যাদি। কোন বিল্ডিংয়ের নাম কী, সেখানে কী কাজ হয়, তা–ও চশমায় দেখা যাবে। রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে যদি একটা ভাস্কর্য চোখে পড়ে, তাহলে সেই ভাস্কর্যের ব্যাপারেও তথ্য জানা যাবে এই চশমার সাহায্যে।
পাশাপাশি কোনো কিছুর ছবি তুলে জিজ্ঞেস করতে পারেন, এটা কী? এআই চিনতে পারবে এবং আপনাকে সে সম্পর্কে তথ্য দেবে ও বিষয়টা কী, তা বুঝিয়ে দেবে। যদিও এই ফিচার পরীক্ষার সময় ঠিকমতো কাজ করেনি বলে এক প্রতিবেদক জানিয়েছেন।
গোপনীয়তা নিয়ে চিন্তা
চশমায় ক্যামেরা থাকলে তো গোপনীয়তার প্রশ্ন আসবেই। মেটা এ ব্যাপারে সতর্ক থাকার চেষ্টা করেছে। ক্যামেরা চালু হলে একটা এলইডি বাতি জ্বলে ওঠে। মানে কেউ যদি আপনাকে দেখে, সে বুঝতে পারবে আপনি ছবি বা ভিডিও করছেন।
ভিডিও আর তথ্যগুলো যতটা সম্ভব চশমার ভেতরেই প্রসেস হয়। মেটার সার্ভারে পাঠানোর আগে সেসব এনক্রিপ্ট বা সাংকেতিক করা হয়। এআই ফিচার চালু করার আগে আপনার অনুমতি চাওয়া হবে। তবু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গণপরিসরে বা অফিসে এই চশমা পরলে মানুষ অস্বস্তি বোধ করতে পারে। তাই ব্যবহারকারীদের সামাজিক নিয়ম মেনে চলতে হবে।
আসল অভিজ্ঞতা কেমন
যাঁরা এই চশমা পরে দেখেছেন, তাঁদের অভিজ্ঞতা মিশ্র। কেউ কেউ একে সেরা স্মার্ট চশমার তকমা দিয়েছেন। কারণ, এর পর্দা পরিষ্কার, হাতের ইশারায় নিয়ন্ত্রণ করা সহজ এবং এআই ফিচার আছে। তবে সবাই এর সঙ্গে একমত হতে পারেননি। সেটাই স্বাভাবিক।
এই চশমার কিছু সমস্যাও আছে। চশমাটা আগের মডেলের চেয়ে একটু ভারী। প্রথমবার হাতের ইশারায় কাজ করাতে বেশ কয়েকবার চেষ্টা করতে হয়। যেমন ক্যামেরা অ্যাপ খুলতে বুড়ো আঙুল আর তর্জনী একসঙ্গে চেপে ধরতে হয়। কিন্তু সঠিক তাল আর সময় না মিললে কাজ হয় না। মাউস ক্লিক করা যত সহজ, আঙুল চেপে ধরা তত সহজ নয়।
আর সবচেয়ে বড় সমস্যা এর দাম। ৭৯৯ ডলার মানে প্রায় ৯৫ হাজার টাকা। একটা চশমা কেনার জন্য টাকা হয়তো সবার পকেটে নেই। তবে যাঁরা নতুন প্রযুক্তি পছন্দ করেন, তাঁদের জন্য এটা আকর্ষণীয় হতে পারে।
এই চশমা কোথায় পাওয়া যাবে
যুক্তরাষ্ট্রে ৩০ সেপ্টেম্বর এই চশমা বিক্রি শুরু হয়েছে। বেস্ট বাই, লেন্সক্র্যাফটার্স, সানগ্লাস হাট ও রে-ব্যান স্টোরে এই চশমা পাওয়া যাচ্ছে। চশমাটির দুই ধরনের আকার—স্ট্যান্ডার্ড ও লার্জ। যাঁরা চশমা পরেন, তাঁরা চাইলে পাওয়ার লেন্সও লাগিয়ে নিতে পারবেন। চশমার ওজন ৬৯-৭০ গ্রাম। একে হালকাই বলা যায়। ট্রানজিশন লেন্স দেওয়া আছে, যেটা ঘরে ও বাইরে আলোর সঙ্গে মানিয়ে নেয়।
২০২৬ সালের শুরুতে কানাডা, ফ্রান্স, ইতালি আর যুক্তরাজ্যেও এই চশমা বিক্রি শুরু হবে। তবে বাংলাদেশে কবে আসবে, সেটা এখনো জানা যায়নি। প্রযুক্তি যে কত দ্রুত এগিয়ে চলেছে, এই চশমা তার প্রমাণ। হাতের সামান্য নড়াচড়ায় কম্পিউটার চালানো, চোখের সামনে ভেসে ওঠা পর্দা, কথা বললে সেটা লেখা হয়ে যাওয়া—এসব কিছুদিন আগেও সিনেমার দৃশ্য ছিল, এখন বাস্তব।
সূত্র: সিএনবিসি, টেকপয়েন্ট ও মেটা
![]() |
| ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে মেটা তাদের নতুন রে-ব্যান ডিসপ্লে গ্লাস নিয়ে হাজির হয়েছে। ছবি: ইউটিউব চ্যানেল মিস্টারহুজদ্যবস থেকে |
উসাইন বোল্টের ১০০ মিটারের রেকর্ড ভাঙল রোবট
লাইটনিং নামের রোবটটি আজ বেইজিংয়ে শুরু হওয়া দ্বিতীয় ‘ওয়ার্ল্ড হিউম্যানয়েড রোবট গেমসের’ প্রস্তুতিমূলক একটি পরীক্ষামূলক প্রতিযোগিতায় প্রতি সেকেন্ডে সর্বোচ্চ ১৪ দশমিক ৫ মিটার গতিতে দৌড়ায়।
এই পারফরম্যান্স ২০০৯ সালে বার্লিনে বিশ্ব অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপে বোল্টের ৯ দশমিক ৫৮ সেকেন্ডের ১০০ মিটার স্প্রিন্টের বিশ্ব রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেল।
চীন মানবাকৃতির রোবটশিল্পকে একটি কৌশলগত উদীয়মান খাত হিসেবে জোর দিচ্ছে। দেশটির নীতিনির্ধারক ও প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানগুলোর আশা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও হার্ডওয়্যারের উৎপাদন অগ্রগতি, লজিস্টিকস এবং ভোক্তা ব্যবহারে এই প্রযুক্তির দ্রুত প্রসার ঘটাবে।
গত এপ্রিলে ২১ কিলোমিটার বেইজিং হাফ ম্যারাথনেও জয় পেয়েছিল লাইটনিং। রোবটটি দৌড় শেষ করতে সময় নিয়েছিল ৫০ মিনিট ২৬ সেকেন্ড, যা পুরুষ অ্যাথলেটদের বিশ্ব রেকর্ডের গতির চেয়ে বেশি।
হাফ ম্যারাথনে অংশ নেওয়ার সময় রোবটটির উচ্চতা ছিল ১৬৯ সেন্টিমিটার এবং পায়ের দৈর্ঘ্য ছিল ৯৫ সেন্টিমিটার। চায়না সেন্ট্রাল টেলিভিশন (সিসিটিভি) জানিয়েছে, ওয়ার্ল্ড হিউম্যানয়েড রোবট গেমসের আগে গবেষকেরা এর পায়ের দৈর্ঘ্য ১০ সেন্টিমিটার বাড়িয়ে ১ দশমিক শূন্য ৫ মিটার করেছেন।
![]() |
| চীনের বেইজিংয়ে দ্বিতীয় বেইজিং ই-টাউন হাফ ম্যারাথন ও হিউম্যানয়েড রোবট হাফ ম্যারাথনে ফিনিশিং লাইন পার হচ্ছে অনারের তৈরি লাইটনিং হিউম্যানয়েড রোবট। ১৯ এপ্রিল ২০২৬ ছবি: রয়টার্স |
Thursday, July 30, 2026
ফেই-ফেই লি কে, কীভাবে হয়ে উঠলেন ‘এআই গডমাদার’
‘এআই গডমাদার’ হিসেবে পরিচিত লি সম্প্রতি কুইন এলিজাবেথ প্রাইজ ফর ইঞ্জিনিয়ারিং সম্মাননা অর্জন করেছেন। এআই খাতে বিশেষ অবদানের জন্য যে সাত ব্যক্তি এই সম্মাননা পেয়েছেন, তাঁদের মধ্যে তিনি সম্ভবত একমাত্র নারী।
ড. হিন্টন, অধ্যাপক বেনজিও এবং ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটার সাবেক প্রধান এআই বিজ্ঞানী ইয়ান লেকানকে ‘এআই গডফাদার’ বলা হয়। কিন্তু নারীদের মধ্যে একমাত্র লি–ই ‘এআই গডমাদার’ বলা হয়। কর্মজীবনের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে তাঁকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়েছে।
লি–এর জন্ম চীনে। ১৫ বছর বয়সে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে চলে আসেন। স্ট্যানফোর্ডের এই অধ্যাপক একটি সাধারণ পরিবারেই বেড়ে উঠেছেন। কিশোর বয়সে তিনি নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যের পারসিপ্যানি শহরে মা-বাবাকে ড্রাই-ক্লিনিং ব্যবসা পরিচালনায় সহায়তা করতেন। স্নাতকে পড়ার মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত সাত বছর তিনি এই দোকান কাজ করেন। তখন তাঁর বয়স ছিল ১৮ বছর।
ব্লুমবার্গকে এক প্রশ্নোত্তর পর্বে লি বলেন, ‘আমরা আর্থিকভাবে মোটেই সচ্ছল ছিলাম না। আমার মা-বাবা ক্যাশিয়ার হিসেবে কাজ করেছেন। আমি চায়নিজ রেস্টুরেন্টে কাজ করতাম। বেঁচে থাকার জন্য সামান্য আয়রোজগার করতে আমার পরিবার ও আমি একটি ছোট ড্রাই ক্লিনারের দোকান চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম।’
লি স্নাতকে পড়াশোনা করেছেন প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ে। পরে ক্যালিফোর্নিয়ার ক্যালটেকে পিএইচডি করেন। তিনি গুগলেও কাজ করেছেন। সেখানে তিনি ২০১৮ সালের অক্টোবর পর্যন্ত গুগল ক্লাউডের প্রধান এআই কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
সেই বছর বিতর্কিত ‘প্রজেক্ট ম্যাভেন’–সংক্রান্ত ই–মেইল ফাঁসের ঘটনায় লি পদত্যাগ করেন। বর্তমানে তিনি স্ট্যানফোর্ডের হিউম্যান-সেন্টার্ড এআই ইনস্টিটিউটের সহপরিচালক। মানবকল্যাণের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) গবেষণা, শিক্ষা, নীতি ও অনুশীলন উন্নত করার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটি কাজ করছে। একই সঙ্গে তিনি ওয়ার্ল্ড ল্যাবসের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও)।
২০০৬ সালে শুরু করা ‘ইমেজনেট’ প্রকল্পের মধ্য দিয়ে লি ব্যাপকভাবে পরিচিতি লাভ করেন। প্রকল্পটি কোটি কোটি ডিজিটাল ছবিকে শ্রেণিবদ্ধ করেছিল এবং আধুনিক এআই ভিশন ব্যবস্থার প্রশিক্ষণের পটভূমি তৈরি করেছিল।
ইমেজনেট প্রকল্পের মধ্য দিয়েই মূলত সারা বিশ্বে ‘ডিপ লার্নিং’ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। ডিপ লার্নিং এআইয়ের একটি শাখা, যা নিউরাল নেটওয়ার্কের বহুস্তরযুক্ত মডেল ব্যবহার করে ডেটা থেকে জটিল নকশা বা ছক (প্যাটার্ন) শেখে।
![]() |
| যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্সের অধ্যাপক এবং এআই কোম্পানি ওয়ার্ল্ড ল্যাবসের সিইও ফেই-ফেই লিফাইল। ছবি: ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট থেকে |
Monday, June 15, 2026
মহাকাশে ঝড় : ১০০ কোটি টনের প্লাজমা মেঘ by আশিকুর রহমান তালহা
প্রযুক্তিতে প্রভাব
সাধারণ মানুষের শরীরের ওপর সরাসরি কোনো ক্ষতিকর প্রভাব না থাকলেও, বিজ্ঞানীদের তৈরি আধুনিক প্রযুক্তি-কাঠামোর ওপর এটি বড় ধরনের ধাক্কা দিতে পারে। যেমনÑ
স্যাটেলাইট ও জিপিএস বিপর্যয়
মহাকাশে থাকা কৃত্রিম উপগ্রহ বা স্যাটেলাইটগুলো এই প্লাজমা মেঘের তীব্র চার্জযুক্ত কণার সরাসরি আক্রমণের শিকার হয়। এর ফলে সাময়িকভাবে জিপিএস (GPS) এবং নেভিগেশন সিস্টেমে ত্রুটি দেখা দিতে পারে, যা বিমান ও সমুদ্রগামী জাহাজের পথ চলায় বিঘ্ন ঘটায়।
ব্ল্যাকআউটের শঙ্কা
প্লাজমা মেঘের শক্তিশালী চৌম্বকীয় তরঙ্গ যখন পৃথিবীর মাটিতে আঘাত করে, তখন বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইনে অতিরিক্ত বিদ্যুৎপ্রবাহ বা ‘জিওম্যাগনেটিক্যালি ইন্ডিউসড কারেন্ট’ তৈরি হয়। এর ফলে বড় বড় ট্রান্সফরমার বিকল হয়ে বিস্তীর্ণ এলাকায় দীর্ঘ সময়ের জন্য বিদ্যুৎ বিপর্যয় ঘটতে পারে।
রেডিও ব্ল্যাকআউট
পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের আয়নোস্ফিয়ার স্তরটি ওলটপালট হয়ে যাওয়ার কারণে উচ্চ-কম্পাঙ্কের (HF) রেডিও যোগাযোগ সাময়িকভাবে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে।
মহাকাশচারীদের ঝুঁকি
আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (ISS) থাকা মহাকাশচারীরা এ সময় তীব্র মহাজাগতিক বিকিরণ বা রেডিয়েশনের ঝুঁকিতে পড়েন। এই প্লাজমা মেঘ শুধু ক্ষতিই করে না, এর রয়েছে চোখ জুড়ানো কিছু বৈশিষ্ট্য ও সুবিধা। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলোÑ
আকাশে আলোর নৃত্য
এই ঝড়ের সবচেয়ে সুন্দর উপহার হলো মেরুজ্যোতি বা অরোরা (Aurora)। সূর্যের চার্জিত কণাগুলো যখন পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের গ্যাসের সঙ্গে ধাক্কা খায়, তখন মেরু অঞ্চলের আকাশে সবুজ, বেগুনি ও লাল আলোর এক অপূর্ব ক্যানভাস তৈরি হয়। এবার এই ঝড় এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, সাধারণত যেসব অঞ্চলে অরোরা দেখা যায় না (যেমন : হিমালয় অঞ্চল), সেখানেও আকাশের উত্তর দিগন্তে হালকা রঙিন আভা দেখা গেছে।
মহাকাশের আবর্জনা পরিষ্কার
এই ঝড়ের কারণে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের উপরিভাগ কিছুটা প্রসারিত হয়। এর ফলে নিম্ন কক্ষপথে জমে থাকা মানবসৃষ্ট বিভিন্ন পুরোনো স্যাটেলাইটের ধ্বংসাবশেষ বা ‘স্পেস জাঙ্ক’ বাতাসের ঘর্ষণে পুড়ে ছাই হয়ে নিচে নেমে আসে।
এ ধরনের ঘটনা বিজ্ঞানীদের মহাকাশের আবহাওয়া বুঝতে এবং ভবিষ্যতের আরো শক্তিশালী সৌরঝড় থেকে আমাদের যোগাযোগ ব্যবস্থা ও পাওয়ার গ্রিডকে সুরক্ষিত রাখার প্রযুক্তি উন্নত করতে সাহায্য করে। সূর্যের এই কোটি কোটি টনের মারাত্মক রেডিয়েশনকে পৃথিবীর চৌম্বকক্ষেত্র একটি অদৃশ্য জালের মতো আটকে দিয়ে আমাদের রক্ষা করছে। প্রযুক্তির সাময়িক কিছু ত্রুটি বাদ দিলে, প্রকৃতি যেমন ধ্বংসাত্মক হতে পারে, তেমনি অরোরার মতো অদ্ভুত সুন্দর কোনো সৃষ্টিও এ ঘটনায় পাওয়া যায়।

Friday, June 12, 2026
মুসলিম গণিতবিদের নাম থেকে যেভাবে এলো ‘অ্যালগরিদম’
শব্দটি কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা বোঝা যায় ভ্যাটিকানের একটি পদক্ষেপে। পোপ লিও চতুর্দশ তার প্রথম বিশ্বপত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সম্ভাব্য বিপদ নিয়ে আলোচনা করেছেন, যেখানে ‘অ্যালগরিদম’ শব্দটি এসেছে ১৯ বার।
কিন্তু বহুল ব্যবহৃত এই শব্দের উৎপত্তি কীভাবে? শব্দের উৎস ও ব্যবহার নিয়ে তৈরি জনপ্রিয় ইউটিউব চ্যানেল ‘রবওয়ার্ডস’-এর সঞ্চালক ও সাংবাদিক রব ওয়াটস জানান, অ্যালগরিদম শব্দটির উৎপত্তি মূলত নবম শতকের একজন পার্সিয়ান (পারস্যের) গণিতবিদের নাম থেকে। তার নাম মুহাম্মদ ইবনে মুসা আল-খাওয়ারিজমি।
ওয়াটস বলেন, ‘আমরা যখন অ্যালগরিদম শব্দটি ব্যবহার করি, তখন মূলত আল-খাওয়ারিজমি নামের ল্যাটিন রূপটিকেই উচ্চারণ করি।’ তবে দ্বাদশ শতাব্দী পেরিয়ে শব্দটির আজকের রূপে পৌঁছানোর পথটি বেশ আঁকাবাঁকা ছিল। আধুনিক ‘অ্যালগরিজম’ শব্দটি ল্যাটিন ‘অ্যালগোরিজমাস’ থেকে ফরাসি অ্যালগরিজম (algorisme) ও ইংরেজি অ্যালগরিজম (algorism) হয়ে এসেছে। বর্তমান রূপে আসার আগে এটি ‘অ্যারিথমেটিক’ বা পাটিগণিত শব্দের সঙ্গেও কিছুটা মিশ্রিত হয়ে গিয়েছিল।
কে ছিলেন মুহাম্মদ ইবনে মুসা আল-খোয়ারিজমি?
আল-খাওয়ারিজমি কেবল একজন গণিতবিদই ছিলেন না, একাধারে তিনি ছিলেন জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও ভূগোলবিদ। বর্তমান উজবেকিস্তানের আরাল সাগরের দক্ষিণ অঞ্চলে তার জন্ম। সেই অঞ্চলের নাম ছিল খাওয়ারিজম, যা থেকে তার নামের এই অংশের উৎপত্তি।
তবে গণিতেই তিনি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গেছেন। তার বিখ্যাত বই ‘দ্য কম্পেনডিয়াস বুক অন ক্যালকুলেশন বাই কমপ্লিশন অ্যান্ড ব্যালেন্সিং’-এর মাধ্যমে তিনি গাণিতিক সমস্যা সমাধানের পদ্ধতি বা অ্যালগরিদমিক প্রক্রিয়া পরিচয় করিয়ে দেন। এছাড়া পশ্চিমে হিন্দু-আরবি সংখ্যা পদ্ধতির (শূন্যের ধারণাসহ) প্রসার এবং বীজগণিত বা ‘অ্যালজেব্রা’র ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন তিনি।
পিটজার কলেজের বিজ্ঞান ইতিহাসের ইমেরিটাস অধ্যাপক জুডি গ্র্যাবাইনার বলেন, ‘দ্বাদশ শতকে ইউরোপে প্রাচীন জ্ঞানচর্চার পুনর্জাগরণ ঘটলে এই বইটি একাধিকবার ল্যাটিন ভাষায় অনূদিত হয়।’
অষ্টম শতকে ইসলামি বিজ্ঞান ও গণিতের সোনালী যুগে ‘আল’ (আরবিতে ‘নির্দিষ্টবাচক’ শব্দ) দিয়ে শুরু হওয়া আরো অনেক শব্দ ইংরেজিতে জায়গা করে নেয়। যেমন-অ্যালকোহল, অ্যালকালি, অ্যালকেমি এবং জ্যোতির্বিজ্ঞানের আলটায়ার, অলকায়েড ও আলদেবারানের মতো নক্ষত্রের নাম।
গাণিতিক রেসিপি
জ্যোতির্বিদ্যা ও রসায়নের পথ ধরে অ্যালগরিদম শব্দটির প্রবেশ ঘটে আধুনিক কম্পিউটিংয়ে। যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানার সফটওয়্যার প্রকৌশলী বিল ওয়েস্ট্রিকের মতে, ‘অ্যালগরিদম আসলে কোনো কাজ সম্পন্ন করার জন্য একটি সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা বা নিয়মের সেট।’
এটিকে কেক তৈরির রেসিপির সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, ‘রেসিপিতে উপাদানগুলো নির্দিষ্ট ক্রমানুসারে মেশাতে বা নির্দিষ্ট সময় ধরে নাড়তে বলা হয়। কেন তা করা হচ্ছে তা না বুঝলেও নির্দেশনা মানলে একটি ভালো কেক তৈরি সম্ভব।’
মিলওয়াকি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান সুসান ম্যাকরয় জানান, আধুনিক কম্পিউটারের অনেক আগেই ব্যবসা, জরিপ ও নৌ-যান চালনার মতো ক্ষেত্রে অ্যালগরিদম অত্যন্ত কার্যকর প্রমাণিত হয়েছিল। ১৭০০ শতকের শেষের দিকে সমুদ্রের বুকে সেক্সট্যান্ট (দিগন্ত ও নক্ষত্রের মধ্যকার কৌণিক দূরত্ব মাপার যন্ত্র) ব্যবহার করে অবস্থান নির্ণয়ে অ্যালগরিদম ব্যবহার করা হতো। ১৯৫০-এর দশকে ডাচ কম্পিউটার বিজ্ঞানী এডসগার ডাইকস্ট্রা ‘ডাইকস্ট্রাস অ্যালগরিদম’ তৈরি করেন, যা দুটি স্থানের মধ্যকার সংক্ষিপ্ততম দূরত্ব খুঁজে বের করে এবং আজকের ডিজিটাল ম্যাপিং বা জিপিএস (জিপিএস স্যাটেলাইট) প্রযুক্তির মূল ভিত্তি। এমনকি চাঁদে মানুষ পাঠাতেও অ্যালগরিদম সাহায্য করেছিল।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানুষকে একক ও পক্ষপাতদুষ্ট দৃষ্টিভঙ্গির দিকে ঠেলে দেওয়া এই ‘অমানবিক’ অ্যালগরিদম নিয়ে পোপের উদ্বেগ হয়তো যথার্থ। তবে এটিও সত্য যে, শত শত বছর ধরে এই অ্যালগরিদমই মানুষকে পথ খুঁজে পেতে সাহায্য করে আসছে।
সূত্র: এনপিআর
![]() |
| প্রতীকী ছবি |
Tuesday, May 19, 2026
২০০ বছর ধরে প্রভাবশালী দেশগুলো আকাশপথে কীভাবে নজরদারি চালাচ্ছে by ফাহমিদা আক্তার
২০২৩ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি হঠাৎ করে যুক্তরাষ্ট্রের আকাশসীমায় শনাক্ত হয় একটি চীনা বেলুন। প্রায় ২০০ ফুট উঁচুতে ভেসে ছিল সেটি। এর নিচে ঝুলে ছিল অন্তত ৩০ ফুট চওড়া একটি ফ্রেম। দক্ষিণ ক্যারোলাইনা উপকূলে এফ-২২ যুদ্ধবিমানের সাহায্যে বেলুনটি ভূপাতিত করে যুক্তরাষ্ট্র। সে সময় বেশ হইচই শুরু হয়।
যুক্তরাষ্ট্র তখন অভিযোগ করেছিল, এটি চীনের নজরদারি বেলুন। এর সঙ্গে নজরদারির সামগ্রী যুক্ত ছিল বলে দাবি করে তারা। তবে চীন দাবি করে, এটি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণকারী বেলুন ছিল এবং বেসামরিক গবেষণার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছিল। প্রবল বাতাসের কারণে বেলুনটি পথভ্রষ্ট হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আকাশসীমায় ঢুকে পড়েছিল।
বেলুন হলো আকাশপথে নজরদারির প্রাচীনতম মাধ্যমগুলোর একটি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানি সেনারা যুক্তরাষ্ট্রে অগ্নিসংযোগকারী বোমা ফেলার জন্য এ ধরনের বেলুন ব্যবহার করতেন। স্নায়ুযুদ্ধ চলাকালেও যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন ব্যাপকভাবে বেলুনের ব্যবহার করেছিল। তবে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির এ সময়ে এসেও ক্ষমতাধর দেশগুলোর মধ্যে নজরদারির কাজে বেলুনের ব্যবহার নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার বিষয়ে ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে।
এক দেশ আরেক দেশের ওপর নজরদারি চালাতে আজকাল নানা প্রযুক্তি ব্যবহার করছে ঠিকই, তবে এ ক্ষেত্রে ওপর থেকে (আকাশ থেকে) নজরদারিকে সবচেয়ে কার্যকর বলে বিবেচনা করা হয়।
আকাশ থেকে নজরদারির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনভিত্তিক স্মিথসোনিয়ান ন্যাশনাল এয়ার অ্যান্ড স্পেস মিউজিয়ামের ইমেরিটাস কিউরেটর টম ডি ক্রাউচ সামরিক দৃষ্টিকোণ থেকে এর একটি ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, শত্রুরেখার পেছনের অংশে কী আছে, তা যতটা বেশি সম্ভব নজরে রাখার জন্য উঁচুতে উঠে পর্যবেক্ষণ করাটাই সব সময় কার্যকর।
২০০ বছরের বেশি সময় ধরে আকাশপথে বিভিন্ন মাধ্যম ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে এক দেশ আরেক দেশের ওপর নজরদারি চালিয়ে আসছে। ওই সময় থেকে এ পর্যন্ত বেলুন থেকে শুরু করে ঘুড়ি, ক্যামেরাবাহী কবুতর, গোয়েন্দা উড়োজাহাজ, ড্রোন, স্যাটেলাইটসহ নানা মাধ্যমের ব্যবহার দেখা গেছে।
গোয়েন্দা বেলুন
১৭৯০-এর দশকের শুরুর দিকে ফরাসিরা যুদ্ধক্ষেত্রে নজরদারি চালাতে সর্বপ্রথম গোয়েন্দা বেলুনের ব্যবহার শুরু করেন। বেলুনগুলো হাইড্রোজেন গ্যাসে ভরা থাকত। এগুলো যে শত্রুপক্ষের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় গিয়ে ওড়াউড়ি করত, এমন নয়। এগুলোকে নিজেদের সীমান্ত এলাকায় একধরনের তারের সাহায্যে আটকে রাখা হতো।
বেলুনের সঙ্গে যুক্ত ঝুড়িতে দুজন সেনা বসতে পারতেন। তাঁদের একজন দুরবিন দিয়ে শত্রুপক্ষের অবস্থান দেখতেন। আর অন্যজন পতাকা ব্যবহার করে ভূমিতে থাকা কর্মকর্তাদের কাছে সংকেত পাঠাতেন।
ইতিহাসবিদ এবং ইন্টারন্যাশনাল স্পাই মিউজিয়ামের কিউরেটর অ্যান্ড্রু হ্যামন্ড বলেন, আকাশ পরিষ্কার থাকলে ওই ধরনের বেলুনে চড়ে ৫০ মাইল দূর পর্যন্ত দেখা যেত।
যুক্তরাষ্ট্রে গৃহযুদ্ধ চলার সময় উদ্ভাবক থ্যাডেউস লোও তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকনের সামনে একটি গোয়েন্দা বেলুন প্রদর্শন করেন। লিংকন তখন ওই বেলুনের কার্যকারিতা দেখে মুগ্ধ হন। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিয়ন আর্মি গোয়েন্দা বেলুনের ব্যবহার শুরু করে। সবচেয়ে বড় বেলুনটির নাম ছিল ইনট্রেপিড। এটিতে একজন টেলিগ্রাফ অপারেটরসহ পাঁচজন বসতে পারতেন।
ঘুড়ি ব্যবহার করে আকাশ থেকে ছবি তোলা
১৮৮০-এর দশকে ব্রিটিশ আবহাওয়াবিদ ডগলাস আর্চিবল্ড বড় ক্যানভাস ঘুড়ি দিয়ে বাতাসের গতিবেগ পরিমাপ করতেন। তিনি ঘুড়িতে ক্যামেরা লাগিয়ে রাখতেন আর দূর থেকে একটি কেব্লের সাহায্যে ক্যামেরার শাটারটি চালাতেন।
আর্চিবল্ডের তোলা ছবিগুলো ওই সময় বেশ আলোড়ন তৈরি করেছিল। ছবিগুলো যুক্তরাষ্ট্রের সেনা করপোরাল উইলিয়াম এড্ডির নজরে আসে। ১৮৯৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র-স্পেন যুদ্ধ চলাকালে এড্ডি নিজেই ঘুড়িতে ক্যামেরা লাগিয়ে শত্রুর অবস্থানের ছবি তুলেছিলেন।
গৃহযুদ্ধের সময় সাধারণ ফটোগ্রাফি চালু ছিল ঠিকই, তবে এড্ডির ঘুড়ি দিয়ে তোলা ছবিকেই সামরিক উড়োজাহাজ থেকে তোলা প্রথম নজরদারির ছবি হিসেবে বিবেচনা করা হয়ে থাকে।
ক্যামেরা বহনকারী কবুতর
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় কবুতর যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে উঠেছিল। কবুতরগুলো আটকে পড়া নাবিকদের সাহায্য চেয়ে পাঠানো বার্তা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছে দিত। গুপ্তচরদের পাঠানো সাংকেতিক বার্তাগুলোও যথাযথ জায়গায় পৌঁছে দিত। কবুতরের মাধ্যমে আকাশ থেকে ছবি তোলারও চেষ্টা করা হতো।
১৯০৭ সালে জার্মান ফার্মাসিস্ট জুলিয়াস নিউব্রোনার কবুতরের গায়ে লাগিয়ে ব্যবহার উপযোগী একটি ক্যামেরা উদ্ভাবন করেন এবং এটির পেটেন্ট পান। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মান সেনারা এভাবে কবুতর দিয়ে ছবি তোলা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়েছিলেন।
ইতিহাসবিদ হ্যামন্ড বলেন, তাঁরা আসলেই কবুতরের সঙ্গে ক্যামেরা বেঁধে ফ্রান্সের পরিখাগুলোতে পাঠাতেন; কিন্তু ছবি অস্পষ্ট হতো এবং বোঝা কঠিন হতো।
সিআইএও হালকা ওজনের কবুতরের ক্যামেরার পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়েছিল। তবে কবুতরগুলো নিয়ন্ত্রণ করা খুবই কঠিন।
প্রথম নজরদারি উড়োজাহাজ এবং কোডাক ক্যামেরা
সর্বপ্রথম যুদ্ধক্ষেত্রে উড়োজাহাজের ব্যবহার শুরু হয় প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে। তবে শুরুতে এগুলোকে যুদ্ধবিমান বা বোমারু বিমান হিসেবে ব্যবহার করা হতো না। তখন উড়োজাহাজের কাজ ছিল কেবল নজরদারি চালানো। দুই আসনের উড়োজাহাজে একজন পাইলট এবং একজন পর্যবেক্ষক থাকতেন। ওই পর্যবেক্ষক দুরবিন ব্যবহার করে শত্রুপক্ষের সেনাদের অবস্থান শনাক্ত করতেন।
এরপর উড়োজাহাজে ক্যামেরা বসানো শুরু হয়। যুক্তরাষ্ট্রের কোডাক কোম্পানি এ ধরনের ক্যামেরা তৈরি করে। কোডাকের রচেস্টার সদর দপ্তরে একটি প্রশিক্ষণকেন্দ্র চালু ছিল। সেখানে সেনাদের যুদ্ধক্ষেত্রে নজরদারির জন্য সহায়ক ছবি তোলার প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ নাগাদ নজরদারি বিমানগুলোতে অস্থায়ী ডার্করুম বসানো হয়। সেখানে যথাযথ সময়ে ছবিগুলো প্রক্রিয়াকরণ ও বিশ্লেষণ করা যেত। স্নায়ুযুদ্ধের সময় রুশ গোয়েন্দা সংস্থা কেজিবি স্থলভাগে গুপ্তচরবৃত্তি প্রায় অসম্ভব করে তুলেছিল। তাই মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা তখন আকাশের দিকে মনোযোগ দিয়েছিল।
প্রথম গোয়েন্দা স্যাটেলাইট
যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন যে শুধু কার আগে কে চাঁদে পৌঁছাবে তা নিয়ে প্রতিযোগিতা করত, তা নয়। কে প্রথম কক্ষপথে গোয়েন্দা স্যাটেলাইট পাঠাবে, তা নিয়েও প্রতিযোগিতায় মেতেছিল তারা।
১৯৫০-এর দশকের শেষ দিকে স্যাটেলাইটের মাধ্যমে বৈজ্ঞানিক তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনী ডিসকোভারার নামের একটি কর্মসূচি চালু করে। আদতে এটি ছিল প্রজেক্ট করোনা নামের একটি গোপন গোয়েন্দা কর্মসূচি। এর মধ্য দিয়ে গোয়েন্দা নজরদারি চালানো হতো।
১৯৬০ সালে প্রথমবারের মতো গোয়েন্দা স্যাটেলাইটগুলো সোভিয়েত ইউনিয়নে নজরদারির ছবি পাঠানো শুরু করে। স্নায়ুযুদ্ধের শেষ দিকে হেক্সাগন কেএইচ-৯ নামের স্যাটেলাইটের ব্যবহার শুরু হয়। এ স্যাটেলাইট ১০০ মাইল উঁচু থেকে ২ ফুট আকারের ছোট বস্তুরও ছবি নিতে পারত।
সিআইএর ড্রাগনফ্লাই ড্রোন
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর জাদুঘরে থাকা সবচেয়ে আলোচিত যন্ত্রগুলোর একটি হলো ইনসেক্টোথোপটার। এটি একধরনের গোপন শোনার যন্ত্র, যা দেখতে একদমই ফড়িংয়ের মতো ছিল। সে জন্য এটিকে ড্রাগনফ্লাই ড্রোন বলা হতো। সিআইএ ১৯৭০-এর দশকে এটি তৈরি করে।
ইনসেক্টোথোপটারের স্বচ্ছ ডানায় ছোট একটি গ্যাসোলিন ইঞ্জিন লাগানো ছিল। ৬০ সেকেন্ডে দুটি ফুটবল মাঠের দূরত্ব অতিক্রম করার সক্ষমতা ছিল এটির।
ইনসেক্টোথোপটার এমনভাবে তৈরি হয়েছিল, যেন একজন অপারেটর লেজার বিম ব্যবহার করে এটির ওড়াউড়িকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন এবং মাইক্রোফোনে ধারণ করা অডিও শুনতে পাওয়া যায়। তবে ইনসেক্টোথোপটার যন্ত্রটিকে কার্যকরভাবে চালানো যায়নি। কারণ, বাতাসের গতি ঘণ্টায় পাঁচ মাইলের বেশি হলেই এটি ভেঙে যেত।
প্রথম চালকবিহীন উড়োজাহাজ বা ড্রোন
প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ব্রিটিশ এরিয়াল টার্গেট নামের একটি রেডিও–কন্ট্রোলড উড়োজাহাজ ব্যবহার করা হয়। ওই সময় ব্রিটিশ সেনাদের আকাশে নিশানা করার প্রশিক্ষণ দিতে এ ধরনের উড়োজাহাজ ব্যবহার করা হতো।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটিশ সেনাবাহিনী চালকবিহীন এ উড়োজাহাজের নাম দেন কুইন বি। এটি ছিল পুনর্ব্যবহারযোগ্য। যুদ্ধবিমানের চালকেরা এটিকে নিশানা করার মধ্য দিয়ে প্রশিক্ষণ চালাতেন। ব্রিটিশ উড়োজাহাজ নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান ডি হাভিল্যান্ড এই কুইন বি উড়োজাহাজ তৈরি করেছিল।
উড়োজাহাজটির রাডার ও এলিভেটর নিয়ন্ত্রণ করার জন্য কোম্পানিটি একটি রেডিও-নিয়ন্ত্রিত সার্ভো ব্যবহার করেছিল। ইতিহাসবিদদের কেউ কেউ মনে করেন, এই মৌমাছি থিমযুক্ত চালকবিহীন বিমান থেকেই ‘ড্রোন’ শব্দটির উৎপত্তি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের গোপন নজরদারি কর্মসূচির অংশ হিসেবে সর্বপ্রথম ভিয়েতনাম যুদ্ধে জেটচালিত নজরদারি ড্রোন ব্যবহার করা হয়। এটির নাম ছিল একিউএম-৩৪ রায়ান ফায়ারবি।
ভিয়েতনাম যুদ্ধে ৩৪ হাজারের বেশি নজরদারি মিশনে এ ড্রোন ব্যবহার করা হয়। রাডারকে ফাঁকি দিয়ে চলাচলের উপযোগী করে এটির রং করা হয়েছিল। এটি যেমন শত্রুর অবস্থান পর্যবেক্ষণ করত, পাশাপাশি শত্রুপক্ষের সীমানায় প্রচারপত্র ছড়াতেও এটিকে ব্যবহার করা হতো।
এ তো গেল পুরোনো ধাঁচের সব নজরদারি মাধ্যমের কথা। তবে প্রযুক্তিতে পুরোনো হলেও এগুলো নতুনরূপে এখনো ফিরে আসছে এবং এগুলোতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি যুক্ত করে পরীক্ষা–নিরীক্ষা চলছে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মান সেনাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী ফিল্ড মার্শাল জোহানেস আরভিন রোমেল একবার বলেছিলেন, ‘ভবিষ্যতে স্থলযুদ্ধের শুরুটা আকাশ থেকেই হবে। এর মধ্য দিয়েই নির্ধারিত হয়ে যাবে, কোন পক্ষ অভিযান পরিচালনায় ও কৌশলগতভাবে দুর্বল হবে এবং যুদ্ধ চলাকালে বারবার সমঝোতার পথে যেতে বাধ্য হবে।’
রোমেলের এ কথাটি আজকের দিনে আগের চেয়ে বেশি প্রাসঙ্গিক। রাষ্ট্রগুলো এখনো অন্য দেশে গুপ্তচরবৃত্তির জন্য স্যাটেলাইট, ড্রোনসহ নানা অত্যাধুনিক মাধ্যম ব্যবহার করছে। হয়তো এটি যুদ্ধবিমানের মুখোমুখি লড়াইয়ের বিষয় নয়। তবু এটি আকাশে আধিপত্য বজায় রাখার এক লড়াই হিসেবে থেকে গেছে। নজরদারির মাধ্যমগুলোতে এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিও যুক্ত করা হচ্ছে।
এখন কথা হলো, আকাশপথে অন্য দেশের ওপর নজরদারির বিষয়টি কতটা হুমকির। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে বিশ্লেষণমূলক প্রতিবেদন প্রকাশকারী ওয়েবসাইট মডার্ন ডিপ্লোমেসির এক বিশ্লেষণে বলা হয়, নজরদারি ব্যক্তিগত গোপনীয়তার জন্য হুমকি তৈরি করে, নাগরিক অধিকারকে ক্ষুণ্ন করতে পারে এবং রাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা বিপন্ন করতে পারে। প্রতিপক্ষের সামরিক ও নাগরিক স্থাপনা তাদের অনুমতি ছাড়া পর্যবেক্ষণ করাটা নৈতিকভাবে অনুচিত।
একইভাবে নজরদারি তথ্যের ভুল বিশ্লেষণের কারণে রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে ভুল–বোঝাবুঝি তৈরি হতে পারে, যা সরাসরি সংঘাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। এ ছাড়া নজরদারি তথ্যের অপব্যবহার বা ডিভাইস হ্যাক হলে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর হাতে স্পর্শকাতর তথ্য চলে যেতে পারে। এতে দেশের জাতীয় নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব এবং অখণ্ডতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই এ ধরনের নজরদারির কাজগুলো নিয়মিত নিয়ন্ত্রিত হওয়া জরুরি। সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারের উচিত যুদ্ধবিধি এবং মানবাধিকার আইন মেনে নজরদারি কার্যক্রম পরিচালনা করা।
সূত্র: হিস্ট্রি ডট কম, এনপিআর, বিবিসি, রয়টার্স

নিউক্লিয়ার বর্জ্য সংরক্ষণ নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়ছে by জাহিদ হোসাইন খান
বর্তমানে বিভিন্ন দেশে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়। কিছু দেশ বর্জ্যকে মাটির গভীরে পুঁতে রাখে। আবার অন্য অনেক দেশ ফিল্টার করে পরিবেশে ছেড়ে দেয়। ফ্রান্স সরাসরি সমুদ্রে ছেড়ে দেয়। যুক্তরাষ্ট্রের এমআইটিসহ বেশ কয়েকটি জাতীয় গবেষণাগার বিভিন্ন কৌশলের মধ্যে তুলনা করেছে। গবেষকেরা আই-১২৯ পরিবেশে নিঃসরণ করলে কীভাবে মানুষকে প্রভাবিত করতে পারে, তা নিয়ে তথ্য বের করেছেন।
আই-১২৯ এমন কিছু নয়, যা আমরা দেখতে ও গন্ধ নিতে পারি। অনুভব করা যায় না। আই-১২৯ নিউক্লিয়ার বর্জ্যের একটি বড় সমস্যা। এটি দীর্ঘকাল ধরে টিকে থাকে। আই-১২৯ উপাদানের অর্ধজীবন প্রায় ১ কোটি ৫৭ লাখ বছর। আই-১২৯ মাটি ও পানির মধ্য দিয়ে সহজে ভ্রমণ করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে বর্জ্য সংরক্ষণ নিরাপত্তা পরিকল্পনায় আই-১২৯ বর্জ্যকে একটি প্রধান ঝুঁকির কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। পরিবেশ সংরক্ষণ সংস্থা পানিতে আই-১২৯ পরিমাণ প্রতি লিটারে মাত্র ৫ দশমিক ৬৬ ন্যানোগ্রাম পর্যন্ত সীমিত করেছে। যেকোনো তেজস্ক্রিয় উপাদানের জন্য নির্ধারিত সর্বনিম্ন সীমা এটি।
বিভিন্ন দেশে নিউক্লিয়ার বর্জ্য ও পারমাণবিক জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় ভিন্নতা দেখা যায়। ফ্রান্স তাদের খরচ হয়ে যাওয়া পারমাণবিক জ্বালানি পুনর্ব্যবহার করে। সেখানে প্রতিবছর প্রায় ১৫৩ কিলোগ্রাম আই-১২৯ সমুদ্রে নিষ্কাশন করা হয়। নিয়ন্ত্রক সীমার মধ্যে থাকলেও গবেষকেরা দেখেছেন, এই পদ্ধতিতে জ্বালানিতে ব্যবহৃত আই-১২৯ উপাদানের প্রায় ৯০ শতাংশ পরিবেশে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে নিউক্লিয়ার বর্জ্যকে পাত্রে সিল করে মাটির গভীরে পুঁতে দেওয়া। এ ছাড়া অনেক দেশে আই-১২৯ উপাদানকে অগভীর ভূগর্ভস্থ স্থানে সংরক্ষণ করা হয়। এই পদ্ধতিতে অনেক ঝুঁকি থাকে। শত শত বছর পরে মানুষ ভুলবশত ভূগর্ভস্থ স্থান খনন করলে আরও ঝুঁকি বাড়বে।
নিউক্লিয়ার বর্জ্য সংরক্ষণ নিয়ে বিশ্বব্যাপী উদ্বেগ বাড়ছে। ভবিষ্যতে কোনো ব্যর্থতার কারণে পরিস্থিতি জটিল হতে পারে। বিজ্ঞানী হারুকো ওয়েনরাইট বলেন, আই-১২৯ সংরক্ষণ জরুরি। কিছু দেশ বিপুল পরিমাণে আই-১২৯ পরিবেশে ছেড়ে দিচ্ছে। পরিবেশ সুরক্ষার ইতিহাসে ১৯৬০ দশক থেকে পারমাণবিক বর্জ্য নিক্ষেপ ও নিঃসরণ নিয়ে দুশ্চিন্তা শুরু হয়েছে। বায়ু ও পানিতে বর্জ্য মুক্ত করার কারণে দুশ্চিন্তা বাড়ছে।
সূত্র: আর্থ ডটকম
![]() |
| একটি পারমাণবিক চুল্লি। ছবি: রয়টার্স |
Monday, May 18, 2026
গুগল তৈরি করছে শক্তিশালী এআই চিপ by আহসান হাবীব
২০২৫ এপ্রিলে সীমিত পরিসরে পরীক্ষামূলকভাবে আয়রনউড চালু করে গুগল। সেই চিপ পূর্ণাঙ্গভাবে বাজারে আনার জন্য দ্রুত কাজ করছে গুগল। সম্পূর্ণ নিজস্ব নকশায় তৈরি টিপিইউ চিপ বড় আকারের মেশিন লার্নিং মডেলের প্রশিক্ষণ ও চ্যাটবট বা ডিজিটাল সহকারীর মতো বাস্তবসম্মত সেবা পরিচালনার জন্য তৈরি করা হয়েছে।
গুগলের দাবি, একসঙ্গে ৯ হাজার ২১৬টি টিপিইউ সংযুক্ত করে একটি বিশেষ ‘পড’ তৈরি করা যায়। এই পড ব্যবহার করে বৃহত্তম ও তথ্যনির্ভর এআই মডেল চালানোর সময় ডেটা বটলনেক বা তথ্যপ্রবাহের জটিলতা কার্যত দূর হয়ে গেছে। আয়রনউড আগের প্রজন্মের টিপিইউ চিপের তুলনায় চার গুণ বেশি কাজ করতে পারে। এআই প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিক ক্লড নামের ল্যাংগুয়েজ মডেল পরিচালনার জন্য প্রায় ১০ লাখ গুগলের আয়রনউড চিপ ব্যবহার করবে।
বর্তমানে এআই বাজারে আধিপত্য বিস্তারে গুগল, মাইক্রোসফট, অ্যামাজন ও মেটার মধ্যে প্রতিযোগিতা তীব্রভাবে চলছে। এখনো বেশির ভাগ বড় ল্যাংগুয়েজ মডেল এনভিডিয়ার জিপিইউ–নির্ভর। গুগলের টিপিইউর মতো নিজস্ব নকশার চিপও বেশ দ্রুত জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। এসব চিপ দক্ষতা, গতি ও খরচ সাশ্রয় তিন ক্ষেত্রেই বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে। নতুন চিপের পাশাপাশি গুগল ক্লাউড প্ল্যাটফর্মে আনা হচ্ছে নানা আপগ্রেড। গুগল জানায়, তাদের সেবাকে আরও দ্রুত, সাশ্রয়ী ও নমনীয় করা হচ্ছে।
ক্লাউড বাজারে গুগল অ্যামাজন ও মাইক্রোসফটের বেশ পেছনে। চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে গুগল ক্লাউডের আয় ছিল ১৫ দশমিক ১৫ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ৩৪ শতাংশ বেশি প্রবৃদ্ধির। গুগল জানিয়েছে, ২০২৫ সালের প্রথম ৯ মাসে গত দুই বছরের চেয়ে বেশি বিলিয়ন ডলারের ক্লাউড চুক্তি সই হয়েছে। বাড়তি চাহিদা মেটাতে ৯৩ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করা হচ্ছে। গুগলের প্রধান নির্বাহী সুন্দর পিচাই বলেন, ‘আমরা আমাদের এআই অবকাঠামো পণ্যের ব্যাপক চাহিদা লক্ষ করছি। সেটা টিপিইউ–ভিত্তিক হোক বা জিপিইউ–ভিত্তিক। গত এক বছরে আমাদের প্রবৃদ্ধির অন্যতম বড় চালিকা শক্তি এটি। ভবিষ্যতে এই খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে গুগলের।’
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
![]() |
| নতুন চিপ তৈরি করছে গুগল। ছবি: রয়টার্স। |
Sunday, May 17, 2026
কম্পিউটার ভাইরাসের জন্ম ১৯৮৩ সালের ১০ নভেম্বর by জাহিদ হোসাইন খান
কম্পিউটার ভাইরাসের ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নামের মধ্যে অন্যতম হলেন গবেষক ফ্রেড কোহেন। তিনি ১৯৮০–এর দশকে ভাইরাস প্রথমবার বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণ করেন। কম্পিউটার ভাইরাসের ধারণাগত আলোচনা অনেক আগেই শুরু হয়েছিল। বাস্তব ও কার্যকরী প্রমাণ আসে ১৯৮৩ সালে। যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়ার প্রকৌশল স্নাতক ফ্রেড কোহেন তাঁর অধ্যাপক অ্যাডলম্যানের তত্ত্বাবধানে একটি গবেষণা প্রকল্পে কাজ করার সময় একটি ছোট প্রোগ্রাম তৈরি করেন। প্রোগ্রামটি নিজেকে একটি অপারেটিং সিস্টেমের মধ্যে কপি করতে ও অন্যান্য প্রোগ্রামের সঙ্গে সংযুক্ত করতে সক্ষম ছিল। বিষয়টা ঠিক একটি জৈবিক ভাইরাসের মতো।
১৯৮৩ সালের ১০ নভেম্বরে একটি ভিএএক্স ১১/৭৫০ কম্পিউটারে মাত্র আট লাইনের কোড ব্যবহার করে কোহেন তাঁর এই নমুনা ভাইরাসটির পরীক্ষা চালান। কোহেনের তৈরি করা এই প্রোগ্রাম মাত্র পাঁচ মিনিটের মধ্যে সিস্টেমের সব নিরাপত্তাব্যবস্থা ভেদ করে সিস্টেমের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। প্রোগ্রামটি সম্পূর্ণভাবে অন্য একটি প্রোগ্রামের নিয়ন্ত্রণ নিতে সক্ষম ছিল। ফ্রেড কোহেনই প্রথম ব্যক্তি যিনি এ ধরনের সফটওয়্যারের জন্য কম্পিউটার ভাইরাস শব্দটি ব্যবহার করেন। তিনি তাঁর গবেষণা প্রবন্ধে কম্পিউটার ভাইরাসের একটি স্পষ্ট সংজ্ঞা দেন। তিনি বলেন, একটি প্রোগ্রাম যা অন্য প্রোগ্রামকে সংক্রমিত করতে পারে এবং নিজের অনুলিপি তৈরি করতে পারে। তাঁর গবেষণাপত্র ১৯৮৪ সালে কম্পিউটার ভাইরাসের গবেষণা শীর্ষক একটি গবেষণাপত্র হিসেবে প্রকাশিত হয়।
সূত্র: ওয়্যার্ড ডট কম
![]() |
| একটি পরীক্ষার মাধ্যমে কম্পিউটার ভাইরাসের জন্ম হয়েছিল। ছবি: রয়টার্স |
Saturday, May 16, 2026
একই পাসওয়ার্ড সব জায়গায় ব্যবহারের ঝুঁকি কতটা by আহসান হাবীব
একই পাসওয়ার্ড বারবার ব্যবহার সাইবার নিরাপত্তার সবচেয়ে সাধারণ ও মারাত্মক ভুলগুলোর একটি। এতে ব্যক্তিগত, আর্থিক ও পেশাগত তথ্য সহজেই হ্যাকারদের হাতে চলে যেতে পারে। একটি তথ্য ফাঁস থেকেই হ্যাকাররা একই পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে ব্যবহারকারীর একাধিক অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করতে পারে। ফলে বাড়ে ক্রিডেনশিয়াল স্টাফিং, ফিশিং ও পরিচয়চুরির মতো জটিল সাইবার আক্রমণের ঝুঁকি। তাই নিজের অনলাইন উপস্থিতি সুরক্ষিত রাখতে প্রতিটি অ্যাকাউন্টের জন্য আলাদা ও শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা জরুরি। সঙ্গে পাসওয়ার্ড ম্যানেজার ও টু ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন চালু রাখলে নিরাপত্তা আরও দৃঢ় হয়।
একই পাসওয়ার্ড ব্যবহারের সবচেয়ে বড় বিপদ হলো একটি মাত্র ওয়েবসাইট হ্যাক হলে তার প্রভাব পড়ে অন্যান্য সব অ্যাকাউন্টে। কোনো জনপ্রিয় ওয়েবসাইটের লগইন তথ্য ফাঁস হলে হ্যাকাররা সেই ইউজারনেম ও পাসওয়ার্ড অন্য সাইটেও ব্যবহার করে হ্যাকিংয়ের চেষ্টা করে। যদি ই-মেইল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে একই পাসওয়ার্ড থাকে, তাহলে হ্যাকারদের জন্য ব্যবহারকারীর ডিজিটাল পরিচয়ে ঢুকে পড়া সময়ের ব্যাপারমাত্র। এতে ব্যক্তিগত ও আর্থিক তথ্য মুহূর্তেই ঝুঁকিতে পড়ে। যেমন ২০১৩ সালে ইয়াহুর বড় তথ্য ফাঁসের ঘটনায় লক্ষাধিক পাসওয়ার্ড চুরি হয়েছিল। সেই পাসওয়ার্ডগুলো পরে অন্যান্য ওয়েবসাইটেও ব্যবহার করা হয়। ফলে অনেক ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্ট একযোগে আক্রান্ত হয়। আলাদা পাসওয়ার্ড না থাকলে একবারের তথ্য ফাঁসই তৈরি করে ‘ডমিনো ইফেক্ট’। অর্থাৎ একটি হ্যাকড হওয়া পাসওয়ার্ড দিয়ে সব ওয়েবসাইটে হ্যাকড হওয়ার শঙ্কা ছড়িয়ে পড়ে সব জায়গায়।
প্রায় ৮০ শতাংশ তথ্য ফাঁস ঘটে চুরি হওয়া পাসওয়ার্ডের কারণে
একই পাসওয়ার্ড ব্যবহারে ব্যবহারকারীরা সহজেই ‘ক্রিডেনশিয়াল স্টাফিং’ আক্রমণের শিকার হতে পারেন। এটি এমন একধরনের সাইবার অপরাধ, যেখানে হ্যাকাররা চুরি হওয়া ইউজারনেম পাসওয়ার্ড স্বয়ংক্রিয় বটের মাধ্যমে বিভিন্ন ওয়েবসাইটে পরীক্ষা করে দেখে। অনেক ওয়েবসাইট একই ধরনের লগইন কাঠামো ব্যবহার করে, ফলে এক পাসওয়ার্ড একাধিক জায়গায় কাজ করতে পারে। হ্যাকিংসংক্রান্ত প্রায় ৮০ শতাংশ তথ্য ফাঁস ঘটে চুরি হওয়া পাসওয়ার্ডের কারণে। একই পাসওয়ার্ড ব্যবহার মানে হ্যাকারদের হাতে নিজের ডিজিটাল জীবনের মাস্টার চাবি তুলে দেওয়া।
একই পাসওয়ার্ডে বাড়ে স্বয়ংক্রিয় হ্যাকিংয়ের ঝুঁকি
পাসওয়ার্ড ভুলে যাওয়া স্বাভাবিক ব্যাপার, কিন্তু একই পাসওয়ার্ড ব্যবহার করলে পুনরুদ্ধারের সময় ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। যদি একাধিক অ্যাকাউন্টে একই রিকভার ই-মেইল বা ফোন নম্বর থাকে, তাহলে এক প্ল্যাটফর্মের তথ্য ফাঁস অন্য প্ল্যাটফর্মকেও প্রভাবিত করতে পারে। অনেক সময় একই নিরাপত্তা প্রশ্ন বা ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহারের কারণেও ঝুঁকি তৈরি হয়। এতে এক প্ল্যাটফর্মে পরিচয় যাচাই করতে গিয়ে অন্য অ্যাকাউন্টের তথ্য ফাঁস হয়ে যেতে পারে।
ফিশিং ও প্রতারণার সহজ শিকার
একই পাসওয়ার্ড ব্যবহারে ফিশিং ও সামাজিক প্রকৌশলভিত্তিক (সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং) প্রতারণার আশঙ্কা বেড়ে যায়। হ্যাকাররা প্রায়ই ভুয়া ওয়েবসাইট বানিয়ে ব্যবহারকারীদের সামনে আসল সাইট হিসেবে প্রদর্শন করে বিভ্রান্ত করে লগইন করতে প্রলুব্ধ করে। একবার কেউ সেই ফাঁদে পড়লে চুরি হওয়া পাসওয়ার্ড দিয়ে হ্যাকাররা সহজেই অন্যান্য অ্যাকাউন্টেও ঢুকে যেতে পারে।
একই পাসওয়ার্ডে ঝুঁকিতে পেশাগত ও ব্যক্তিগত জীবন
একই পাসওয়ার্ড ব্যবহার শুধু ব্যক্তিগত নয়, পেশাগত জীবনেও ভয়াবহ প্রভাব ফেলতে পারে। অফিসের ও ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে একই পাসওয়ার্ড ব্যবহার করলে তা কোম্পানির নিরাপত্তা নীতির লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হতে পারে, যা প্রশাসনিক ব্যবস্থা কিংবা চাকরি হারানোর কারণও হতে পারে। ফ্রিল্যান্সার ও দূর থেকে (রিমোট) কাজ করেন এমন কর্মীরা আরও ঝুঁকিতে থাকেন, কারণ, তাঁদের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট হ্যাকড হলে গ্রাহকের তথ্য বা ব্যবসায়িক টুলও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
সুরক্ষিত থাকার উপায়
– একই পাসওয়ার্ড ব্যবহার বন্ধ করাই নিরাপত্তা জোরদারের প্রথম পদক্ষেপ। নিচের কয়েকটি সহজ অভ্যাস ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে আনতে পারে।
– পাসওয়ার্ড ম্যানেজার ব্যবহার করা: এটি প্রতিটি অ্যাকাউন্টের জন্য শক্তিশালী ও আলাদা পাসওয়ার্ড তৈরি ও সংরক্ষণ করে।
– টু ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন চালু রাখা: এতে পাসওয়ার্ড ফাঁস হলেও বাড়তি এক স্তরের সুরক্ষা বজায় থাকে।
– নিয়মিত পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করা: সময় সময় পরিবর্তন করলে আগের তথ্য ফাঁসের প্রভাব কমে যায়।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
![]() |
| একই পাসওয়ার্ড সব প্ল্যাটফর্মে ব্যবহার করা ঠিক নয়। ছবি: সংগৃহীত |
Thursday, May 7, 2026
যেভাবে হাতে হাতে পৌঁছে গেল রিদ্মিক কি-বোর্ড
২০১২ সাল। ঈদুল ফিতরের ছুটি চলছে। তখন আমি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। ছুটিতে হাতে অনেক সময়, কিন্তু করার কিছু নেই। কম্পিউটারের সামনে বসে পর্দায় চোখ রেখে মনে হলো, এভাবে সময় নষ্ট না করে নতুন কিছু শেখা দরকার।
সে সময় বিশ্ববিদ্যালয়ে জাভা প্রোগ্রামিং শেখানো হচ্ছিল। অনুশীলন শুরু করলাম। প্রতিদিন কম্পিউটার খুলে কোড লিখতাম, ছোট ছোট প্রোগ্রাম, অন্য ভাষায় করা কোড আবার জাভায় করা ইত্যাদি।
একদিন ইন্টারনেটে ঘাঁটাঘাঁটি করতে গিয়ে একটি ওয়েবসাইট চোখে পড়ল। সেখানে যেকোনো ভাষার শব্দ টাইপ করলে ইউনিকোড, কোডপয়েন্ট, অন্যান্য ফরম্যাটসহ নানা আকারে দেখা যায়। এসব আমার কাছে একেবারেই নতুন। আগে ভাবতাম, বর্ণ মানে শুধুই বর্ণ। কিন্তু ওয়েবসাইটটি ঘাঁটাঘাঁটি করে বুঝতে পারলাম, প্রতিটি বর্ণের পেছনে লুকিয়ে আছে একটি কোড, একটি সংখ্যা।
প্রথমবার উপলব্ধি করলাম, ভাষা আর প্রযুক্তি একে অপর থেকে আলাদা নয়। যেখানে একটি বর্ণও কোডে রূপান্তরিত হয়, তারপর ফন্টের মাধ্যমে আবার চোখের সামনে ফিরে আসে।
সেখান থেকেই শুরু হলো ফোনেটিক কনভার্শনের জন্য কোড লেখা। বিষয়টা হলো কেউ যদি ইংরেজিতে ‘ami’ লেখেন, সেটা বাংলায় ‘আমি’ হয়ে যায়। প্রথম দিকে খুব সহজ কোড হলেও এরপর আসে যুক্তবর্ণ, রেফ, তিন বর্ণের যুক্তবর্ণ, র-এর সঙ্গে য-ফলা লেখার বিশেষ পদ্ধতি ছিল বেশ জটিল।
কখনো এক অক্ষর ঠিকভাবে পরিবর্তন হচ্ছিল না, কখনো পুরো শব্দ উল্টো দেখাচ্ছিল। কিন্তু প্রতিটি সমস্যার সমাধান মানে ছিল নতুন শেখা। ছোট ছোট সেই সাফল্যই আমাকে আরও গভীরে টেনে নিয়ে গেছে।
অ্যান্ড্রয়েডে নিজের কি-বোর্ড
২০১২ সালে হঠাৎ একদিন মনে হলো, এটি দিয়ে তো একটি অ্যান্ড্রয়েড কি-বোর্ড তৈরি করা যায়। তখন স্মার্টফোন সবে জনপ্রিয় হচ্ছে। মাসখানেক হয় আমিও ব্যবহার করছি। তাই অ্যান্ড্রয়েড ডেভেলপমেন্টের অভিজ্ঞতা ছিল না। তবে কয়েক মাস আগে বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যান্ড্রয়েড ডেভেলপমেন্ট নিয়ে সেমিনার হয়েছিল। সেই ভিডিও ছুটির আগে ডাউনলোড করে রেখেছিলাম। ভিডিও দেখেই অ্যান্ড্রয়েড ডেভেলপমেন্টের জন্য ‘কোড এডিটর’ সেটআপ করে নিই।
এভাবেই শুরু হয় আমার কি-বোর্ড তৈরির কাজ। শুরুতে নিজে ব্যবহার করার জন্যই তৈরি করছিলাম। এ কারণে শুধু ফোনেটিক ইনপুট ছিল। পরে ভাবলাম, গুছিয়ে নিলে প্লে স্টোরে প্রকাশ করা যাবে। সবাই ফোনেটিকে অভ্যস্ত নয়, তাই ইউনিজয় ও একই জাতীয় লে–আউট যোগ করে দিলাম।
একাধিক লে–আউট থাকায় তা বদলানোর জন্য একটা বাটন দরকার হলো। স্পেস বাটনের প্রতিসাম্য রক্ষা করতে স্পেস বাটনে ‘সোয়াইপ’ করে ভাষা পরিবর্তনের পদ্ধতি আনলাম। পরে ইমোজির জন্যও বাটন দরকার হলো, আবার প্রতিসাম্য রক্ষা করতে স্পেস বাটনে দীর্ঘ চাপ দিলে ইমোজি দেখাবে, এমন পদ্ধতি ব্যবহার করলাম। এভাবেই তৈরি হলো অ্যান্ড্রয়েড কি-বোর্ড।
কোটি মানুষের হাতে যেভাবে গেল
কি-বোর্ড তৈরি হওয়ার পর মনে হলো, এটা কি সত্যিই প্রকাশ করার মতো কিছু হয়েছে? নিজের জন্য করা, তাই প্রকাশে দ্বিধা ছিল অনেক। এরপরও অনেকেই সেটি প্লে স্টোরে প্রকাশে উৎসাহ দিয়েছিলেন।
কিন্তু প্লে স্টোরে প্রকাশের জন্য তো একটা নাম আর লোগো দরকার। বন্ধুদের দেওয়া নামগুলো পছন্দ করতে পারছিলাম না। তখন আরেক বন্ধু নাহিয়ান ইসলাম মেসেজ করে ‘Ridmik’ নামটি প্রস্তাব করে। সে সম্ভবত ‘rhythmic’ (রিদমিক) শব্দটাকে সংক্ষিপ্ত করে ‘Ridmik’ লিখেছিল। তবে এই রূপান্তরিত (মেটাপ্লাজম) শব্দ আমার বেশ পছন্দ হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ে পাশের হলে থাকা স্কুলবন্ধু নাঈম ইসলাম লোগো তৈরি করে দিল। এরপর ২০১৪ সালে কপিরাইট সমস্যার কারণে অ্যাপটিকে আবার নতুন করে প্রকাশ করার প্রয়োজন হয়। তখন লোগোর মূল ফাইল হারিয়ে যাওয়ায় নাঈম আবার নতুন লোগো তৈরি করে দেয়। পরে নতুন লোগো ও নাম দিয়ে কি-বোর্ডটি প্লে স্টোরে প্রকাশ করা হয়। এভাবেই শুরু হয় রিদ্মিক কি-বোর্ডের যাত্রা।
রিদ্মিক কি-বোর্ড কোনো ‘বড় প্রকল্প’ নয়। এটি ছিল এক তরুণ, মানে আমার শেখার গল্প মাত্র। সেটাই আজ কোটি মানুষের দৈনন্দিন যোগাযোগের অংশ হয়ে গেছে। সেই অলস দুপুরে যদি না ভাবতাম ‘কিছু একটা শেখা দরকার’, তাহলে হয়তো এই গল্পটার জন্ম হতো না।
প্রযুক্তি শুধু সুবিধা নয়
ইন্টারনেটের সঙ্গে আমার পরিচয় ২০০৭-০৮ সালে, মুঠোফোনের ছোট স্ক্রিন দিয়ে। তখন দেখেছি, দেশের তরুণেরা টু-জি ইন্টারনেট ব্যবহার করে নিজ হাতে মুঠোফোন সাইট বানাচ্ছে—রিংটোন, ওয়ালপেপার, ছোট ছোট গেম শেয়ার করার জন্য। কেউ আবার মুঠোফোনে অনলাইন ফোরামও চালাচ্ছিল। এসব আমাকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছিল। আজকের প্রজন্ম আরও এগিয়ে গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার ফাঁকেই তাঁরা স্টার্টআপ, প্রযুক্তি উদ্ভাবন, অ্যাপ ও গেম তৈরি করছেন, কোম্পানি পর্যন্ত খুলছেন।
সঠিকভাবে ব্যবহৃত প্রযুক্তি পারে বৈষম্যের দেয়াল ভাঙতে, সবাইকে একই সুযোগের পরিসরে আনতে। একসময় যে সুযোগ ছিল কেবল শহরের বা বিশেষ কিছু প্রতিষ্ঠানের মানুষের জন্য, স্মার্টফোন আর ইন্টারনেটের কল্যাণে আজ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও পৌঁছে গেছে সেই সুযোগ।
আজ ইউটিউবে যে কেউ পেতে পারে বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস, প্রোগ্রামিং শেখার টিউটোরিয়াল কিংবা ডিজাইন শেখার ভিডিও। একসময় যেসব বিষয় শেখা ছিল ব্যয়বহুল বা অপ্রাপ্য, এখন সেসব এক ক্লিক দূরত্বে। দ্রুতগতির ইন্টারনেট এই পরিবর্তনকে আরও ত্বরান্বিত করেছে।
রিদ্মিক ল্যাবস থেকে ২০২০ সালে আমরা নিজের লেখা বই প্রকাশ ও পড়ার জন্য ‘বইটই’ নামে একটি অ্যাপ চালু করেছি। টিকটক, রিলস বা ছোট ভিডিওর জোয়ারেও ঢাকার বাইরের নতুন–পুরোনো অনেক লেখক-লেখিকা বই প্রকাশ করে পাঠকের কাছে পৌঁছে দিতে পারছেন। অনেকেই মুঠোফোনেই বই লিখে ঢাকার মাঝারি থেকে বড় চাকরির সমপরিমাণ আয় করছেন। প্রত্যন্ত অঞ্চলের পাঠকেরাও সহজে বই পড়তে পারছেন। সঠিকভাবে ব্যবহার করা প্রযুক্তি যে বৈষম্য কমাতে, সবাইকে সমান সুযোগ দিতে এবং প্রতিভা প্রকাশের পথ খুলে দিতে পারে, এটাই তার উদাহরণ।
প্রযুক্তির এই গণতন্ত্রায়ণই তৈরি করছে এমন এক পৃথিবী, যেখানে প্রতিভা আর পরিশ্রমই হয়ে উঠছে সাফল্যের একমাত্র মানদণ্ড। লিঙ্গ, জাতি, ভাষা বা অর্থনৈতিক অবস্থান নয়—যার মধ্যে আছে শেখার আগ্রহ, সে-ই এগিয়ে যাচ্ছে।
তরুণেরাই বদলে দেবে ভবিষ্যৎ
যদি কোনো কিছু সত্যিই ভালো লাগে, তবে সেখানে অসাধারণ কিছু করা যায়। নিজের আগ্রহ থেকেই আসে মনোযোগ আর ধৈর্য; যা শেখার পথকে সহজ করে। এমনকি এটি মানসিক শক্তিকেও দৃঢ় করে, চাপ বা ব্যর্থতার সময়ে এই প্রিয় কাজটাই হয়ে ওঠে আশ্রয়।
যাঁরা ভাবছেন, ‘আমি কী করতে পারি?’ তাঁদের বলব, বড় কিছু করতে ‘বড় কিছু’ লাগে না। দরকার কৌতূহল, শেখার আগ্রহ আর হাল না ছাড়া ধৈর্য। ভুল হবে, হতাশা আসবে, কেউ হয়তো গুরুত্ব দেবে না, কিন্তু প্রতিটি ভুলের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে শেখার পথ।
তরুণ প্রজন্ম প্রমাণ করছে, বয়স কোনো বাধা নয়, বরং সাহস ও সৃষ্টিশীলতাই বড় শক্তি। যে কৌতূহল থেকে একদিন তৈরি হয়েছিল রিদ্মিক কি-বোর্ড, সেই একই কৌতূহল হাজারো তরুণকে অনুপ্রাণিত করছে নতুন কিছু করতে। সেই নতুন প্রজন্মের হাত ধরেই তৈরি হবে আরও বড় গল্প; যা বদলে দেবে ভাষা, সমাজ আর আমাদের ভবিষ্যৎ।
![]() |
| রিদ্মিক কি-বোর্ডের উদ্ভাবক মো. শামীম হাসনাত। ছবি: দীপু মালাকার |
Friday, January 2, 2026
মানবসদৃশ আন্তঃক্রিয়ামূলক এআই নিয়ন্ত্রণে খসড়া নীতিমালা চীনের
প্রস্তাবিত নীতিমালাটি চীনের সাধারণ জনগণের জন্য উন্মুক্ত সব এআই পণ্য ও সেবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। এগুলোতে মানবব্যক্তিত্বের অনুকরণ, চিন্তাধারা ও যোগাযোগের ধরন প্রতিফলিত হয় এবং টেক্সট, ছবি, অডিও, ভিডিও বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের সঙ্গে আবেগপূর্ণ মিথস্ক্রিয়া গড়ে ওঠে। খসড়ায় উল্লেখ করা হয়েছে, সেবা প্রদানকারীদের ব্যবহারকারীদের অতিরিক্ত বা অতিমাত্রায় ব্যবহারের ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করতে হবে এবং কোনো ব্যবহারকারীর মধ্যে আসক্তির লক্ষণ দেখা গেলে উপযুক্ত হস্তক্ষেপ করতে হবে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে পণ্যের সম্পূর্ণ জীবনচক্রজুড়ে নিরাপত্তার দায়িত্ব নিতে হবে এবং অ্যালগরিদম পর্যালোচনা, তথ্য-নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষার ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। খসড়াটি সম্ভাব্য মানসিক ঝুঁকির দিকেও বিশেষ দৃষ্টি দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে- প্রদানকারীদের ব্যবহারকারীর অবস্থা শনাক্ত করতে হবে, তাদের আবেগ ও সেবার ওপর নির্ভরতার মাত্রা মূল্যায়ন করতে হবে। যদি দেখা যায় কোনো ব্যবহারকারী অতিমাত্রার আবেগপ্রবণ অবস্থায় রয়েছে বা আসক্ত আচরণ প্রদর্শন করছে, তবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে হস্তক্ষেপ করতে হবে।
একই সঙ্গে প্রস্তাবিত ব্যবস্থা কিছু বিষয়বস্তু ও আচরণগত ‘লাল রেখা’ নির্ধারণ করেছে। যেমন, সেবাগুলো এমন কোনো কনটেন্ট তৈরি করতে পারবে না, যা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ, গুজব ছড়ায়, অথবা সহিংসতা ও অশ্লীলতা প্রচার করে।

Sunday, December 14, 2025
টাইম ম্যাগাজিনের পারসন অব দ্য ইয়ার ‘আর্কিটেক্টস অব এআই’
ম্যাগাজিনের কভারের একটিতে রয়েছে ১৯৩২ সালের বিখ্যাত নিউ ইয়র্ক সিটির উঁচু বিমে বসে খাওয়া শ্রমিকদের ছবির প্রতি শ্রদ্ধা। টাইম-এর তৈরি সেই চিত্রে শহরকে ছাপিয়ে বসে আছেন মেটা’র মার্ক জাকারবার্গ, এএমডি প্রধান লিসা সু, মাস্ক, হুয়াং, অল্টম্যান, গুগলের এআইপ্রধান ডেমিস হাসাবিস, অ্যানথ্রপিকের ডারিও আমোডেই এবং স্ট্যানফোর্ড অধ্যাপক ফেই-ফেই লি। টাইম লিখেছে, একদিকে একসঙ্গে দৌড়াতে দৌড়াতে আবার একে অপরের বিরুদ্ধে প্রতিযোগিতা করতে করতে তারা বহু বিলিয়ন ডলারের বাজি ধরেছেন মানব ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ প্রযুক্তি অবকাঠামো প্রকল্পের ওপর। তারা সরকারি নীতি বদলে দিয়েছেন, ভূরাজনীতির প্রতিদ্বন্দ্বিতা নতুনভাবে গড়েছেন, আর রোবটকে মানুষের ঘরে পৌঁছে দিয়েছেন। পারমাণবিক অস্ত্র আবিষ্কারের পর থেকে মহাশক্তিধর রাষ্ট্রগুলোর প্রতিযোগিতায় এআই-ই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার।
চ্যাটজিপিটি ও ক্লদ-এর মতো জনপ্রিয় এআই মডেলের পাশাপাশি টাইম বিনিয়োগকারীদের ভূমিকার কথাও স্বীকার করেছে। বিশেষ করে সফটব্যাঙ্কের সিইও মাসায়োশি সন। তিনি এই প্রযুক্তিতে বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছেন। টাইম-এর পারসন অব দ্য ইয়ার কোনও ব্যক্তিকে সেই বছরে বিশ্বের ওপর তার প্রভাবের ভিত্তিতে দেয়া সম্মান। গত বছর এই খেতাব পেয়েছিলেন তখনকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত ডনাল্ড ট্রাম্প। আগের তালিকায় ছিলেন গায়িকা টেলর সুইফট ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও।
ম্যাগাজিনটির মালিক সিলিকন ভ্যালির বিলিয়নিয়ার মার্ক বেনিওফ। তিনি বলেছে, ২০২৫ সালেই এআই প্রতিশ্রুতি থেকে বাস্তবে পরিণত হয়েছে এবং চ্যাটজিপিটির ব্যবহার দ্বিগুণ বেড়ে বিশ্বের ১০ ভাগ মানুষের কাছে পৌঁছে গেছে। বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান কোম্পানি
এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী জেনসেন হুয়াং বলেছেন, এটাই আমাদের সময়ের সবচেয়ে প্রভাবশালী প্রযুক্তি। তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করেন, এআই বিশ্ব অর্থনীতিকে ১০০ ট্রিলিয়ন ডলার থেকে বাড়িয়ে ৫০০ ট্রিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাবে।
তবে টাইম এআই-এর অন্ধকার দিকের কথাও তুলে ধরেছে। মার্কিন কয়েকটি মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, চ্যাটবট মানুষের মানসিক চাপ বাড়িয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে আত্মহত্যার মতো ভয়াবহ সিদ্ধান্তেও ভূমিকা রেখেছে।
‘চ্যাটবট সাইকোসিস’- এমন বিতর্কও উঠেছে, যেখানে ব্যবহারকারীরা ভ্রম বা প্যারানয়িয়ায় ভুগতে শুরু করে। এক ঘটনায় ১৬ বছর বয়সী অ্যাডাম রেইন আত্মহত্যা করার পর তার পরিবার ওপেনএআই-এর বিরুদ্ধে মামলা করেছে। অভিযোগ- চ্যাটজিপিটি তাকে আত্মহত্যার পদ্ধতি সম্পর্কে তথ্য দিয়েছিল।

Friday, May 30, 2025
দূরনিয়ন্ত্রিত সেক্স রোবট: পাল্টে দেবে জীবনধারা!
এই পটভূমিতে চীনের ডংগুয়ান শহরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান রিডমি নিয়ে এসেছে তাদের নতুন, অভিনব এবং কিছুটা বিতর্কিত পণ্য- একটি দূরনিয়ন্ত্রিত সেক্স রোবট। এর দাম প্রায় ১,৪০০ পাউন্ড (প্রায় ১,৯০০ ডলার)। রোবটটি ব্লুটুথের মাধ্যমে একটি মোবাইল অ্যাপের সঙ্গে সংযুক্ত করা যায়। মুটুয়াফান নামে পরিচিত অ্যাপের মাধ্যমে এর ব্যবহারকারী রোবটকে দিয়ে সব করাতে পারবেন। মানুষের মতোই আচরণ করাতে পারবেন এই রোবটকে দিয়ে। এই অ্যাপ পাওয়া যাচ্ছে বিভিন্ন প্লাটফর্মে। অ্যাপে একটি “রুম” তৈরি করা যায়। সেখানে ১০ জন পর্যন্ত মানুষ যোগ দিতে পারে এবং রোবটটি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। এতে আছে ১০টি কম্পন মোড, ১০টি সাকশন মোড, ৬টি শব্দ মোড। বিভিন্ন ত্বকের রঙ, চুলের স্টাইল, চোখের রঙ, এমনকি পরী আকৃতির রোবটও পাওয়া যায়।
প্রতিষ্ঠানটি বলছে, এটি দেহগত ঘনিষ্ঠতা ও ডিজিটাল ইন্টারঅ্যাকশনের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করে। কিন্তু আশঙ্কাও রয়েছে। ইএসইটির সাইবার নিরাপত্তা উপদেষ্টা জেক মুর সতর্ক করেছেন। তিনি বলেছেন, এ ধরনের ইন্টারনেট অব থিংস ডিভাইসগুলোতে নিরাপত্তার ঘাটতি থাকতে পারে। হ্যাকাররা যদি অ্যাপ বা রোবটের সফটওয়্যারে প্রবেশ করতে পারে, তাহলে ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত মুহূর্তের ডেটা চুরি করে ব্ল্যাকমেইল করাও সম্ভব। আরও উদ্বেগের বিষয় হল, এই রোবটগুলি বাড়ির ভেতর নজরদারির মাধ্যমেও ব্যবহৃত হতে পারে, যদি তা দুর্বল সাইবার নিরাপত্তা দিয়ে তৈরি হয়।
এ ধরনের পণ্য সমাজে নানা প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। তার মধ্যে আছে নারী-পুরুষে শারীরিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ, প্রযুক্তির ব্যবহার, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা। মানুষের সম্পর্কের স্বরূপ কীভাবে বদলাচ্ছে তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

Monday, April 21, 2025
ফ্যাসিবাদের নতুন মুখ: প্রযুক্তি, ধর্ম ও ধ্বংসের জোট by নাওমি ক্লেইন ও এস্ট্রা টেইলর
আজকের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পটভূমিতে ভবিষ্যতের এক অন্ধকার ও বিপর্যস্ত চিত্র উঠে আসছে। এই চিন্তার ওপর ভর করে গড়ে উঠছে এক বিশাল জোট। সেই জোটের মধ্যে আছে উগ্র ডানপন্থী আদর্শবাদী, বড় প্রযুক্তি কোম্পানির মালিক আর দুনিয়াকে ধ্বংস করতে তৎপর পুঁজিবাদ। এরা জলবায়ু পরিবর্তন, মহামারি বা অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মতো সংকট না সামলে বরং সংকটগুলোর মধ্যেই মুনাফা খোঁজে।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের নির্বাচনের প্রচারণার পেছনে ছিলেন পিটার থিয়েল ও ইলন মাস্কের মতো ধনকুবেররা। তাঁদের দৃষ্টিভঙ্গি এ রকমের এক ভবিষ্যতের ইঙ্গিত দেয়। তাঁদের যে রাজনৈতিক প্রকল্প, তা এখন আর সমাজের বাস্তব সমস্যাগুলোর সমাধান করার ভানও করছে না। তাঁরা বরং পরিকল্পিতভাবে সেসব প্রতিষ্ঠান ভেঙে দিচ্ছেন, যেগুলো জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করতে গঠিত হয়েছিল। এই ধনকুবেররা গড়ে তুলতে চান প্রযুক্তিনির্ভর এক কল্পনাবিলাসী দুনিয়া, যেখানে কর্তৃত্ববাদই একমাত্র নীতি।
* সিলিকন ভ্যালি থেকে আসছে নতুন নতুন তত্ত্ব। প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীরা ছড়িয়ে দিচ্ছেন এমন তত্ত্ব, যেখানে বলা হচ্ছে যে পৃথিবীতে মানুষ আর টিকবে না। সেখানে রাজত্ব করবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা।
* দুনিয়াজোড়া কর্তৃত্ববাদকে কেবল প্রতিহত করলেই হবে না। এমন এক ভবিষ্যতের আকাঙ্ক্ষাও সামনে আনতে হবে, যার জন্য লড়াই করা যায়। যে আকাঙ্ক্ষার ভিত্তি হবে মানুষের মর্যাদা।
এই ‘শেষ সময়ের ফ্যাসিবাদের’ কিছু মূল চালিকা শক্তি আছে। সেগুলো হলো দুনিয়া যে ধ্বংস হবে, তা নিয়তিনির্ধারিত। আর তাঁরাই হচ্ছেন সেই ধ্বংসের মধ্য দিয়েও টিকে থাকার মতো শ্রেষ্ঠ মানুষ। জলবায়ু বিপর্যয়, আন্তর্জাতিক অস্থিরতা এবং গণতান্ত্রিক নিয়মের অবক্ষয়ের মুখে এঁরা পৃথিবীকে বাঁচানোর চেষ্টা করছেন না। তাঁরা বরং ভাবছেন কীভাবে এই ধ্বংসপ্রাপ্ত পৃথিবী থেকে নিজে রক্ষা পেয়ে ক্ষমতার একচেটিয়া দখল নেওয়া যায় অথবা কীভাবে এই ধ্বংসাবশেষের ওপর আধিপত্য বজায় রাখা যায়।
হামাস ইসরায়েলে মারাত্মক আক্রমণ চালালে পুরো বিশ্ব বিস্মিত হয়ে দেখল যে প্রবল প্রতাপশালী ইসরায়েলের প্রায় ১ হাজার নাগরিক নিহত হলো। তাদের অনেকেই ছিল সাধারণ নাগরিক। ইসরায়েলের পক্ষ থেকে এর পাল্টা জবাব দিতে কোনো দেরি হলো না। এরপরের মাসেই আক্রমণ করল ইসরায়েল।
সেই আক্রমণ ছিল পৈশাচিক ও নির্মম। গাজায় লাগাতার সামরিক আক্রমণে প্রাণ হারাল প্রায় ৩৩ হাজার নাগরিক। এদের মধ্যে ছিলেন হাজার হাজার শিশু ও নারী। সেই সংখ্যা এখনো বেড়েই চলেছে। সেখান থেকে যে ছবি আর খবর পাওয়া যাচ্ছে, তাতে পুরো বিশ্ব শিউরে উঠছে।
গাজাতে এই মানবিক বিপর্যয়ে পৃথিবীর সব মনোযোগ স্বাভাবিকভাবেই সেদিকে গেছে। তবে এর মধ্যে লুকিয়ে আছে গভীর এক মতাদর্শিক সংগ্রাম। এই সংগ্রাম যে কেবল মধ্যপ্রাচ্যে বিরাজ করছে, এমন নয়। এই লড়াই চলছে আসলে দুনিয়াজুড়ে।
এসবের মধ্যে আমরা আসলে যা দেখছি, তাকে সবচেয়ে ভালোভাবে ব্যাখ্যা করা যায় যে নাম দিয়ে তা হলো—‘ফ্যাসিবাদের শেষ সময়’। এ ছাড়া আর কোনোভাবে একে ব্যাখ্যা করা যায় না। এর মধ্যে মিশে আছে কিছু বিষয়। একদিকে দুনিয়া কেমন করে শেষ হয়ে যাবে সেই বিষয়ে ধর্মীয় ধারণা। তার সঙ্গে এসে জুড়েছে অতিজাতীয়তাবাদী আর কর্তৃত্ববাদী রাজনীতি। এসবের মধ্য দিয়ে দুনিয়াজুড়ে বিভিন্ন দেশের মৈত্রী নতুন আকার পাচ্ছে। আর ফাঁকতালে দুনিয়াজুড়ে বিপদে পড়েছে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ।
পুরোনো মৈত্রী নতুন আদলে
বেশ কয়েক দশকজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের খ্রিষ্টান, জায়নবাদী ও ইসরায়েলি রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কট্টরপন্থী অংশ বিশ্বজুড়ে খুব অটুট এক বোঝাপড়ার মধ্যে ছিল। এটা খুব কৌতূহলোদ্দীপক ব্যাপার যে এদের মধ্যে সম্পর্ক ছিল খুব সুসংহত। জন হ্যাগির মতো ইভানজেলিক্যাল নেতা দাবি করেছিলেন যে হারিকেন ক্যাটারিনা ছিল ‘স্রষ্টার পাঠানো এক শাস্তি। অপরাধ কী?’
অপরাধ হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের ইসরায়েল–ফিলিস্তিন সমস্যার দুই রাষ্ট্র সমাধান সমর্থন করা। তাঁর মতে, যুক্তরাষ্ট্রের ইসরায়েলকে সমর্থন করার কারণ ইহুদিদের নিরাপত্তা দেওয়া নয়। এই সমর্থন দিতে হবে, কারণ দুনিয়া শেষের যে লড়াই আর যিশুর দ্বিতীয় আগমনের জন্য ইহুদিদের জমায়েত হওয়াটা পূর্বশর্ত। তাই ইসরায়েল রাষ্ট্রকে সমর্থন দিতে হবে, এই হলো জন হ্যাগির বিশ্বাস।
ওদিকে ইসরায়েলে জায়নবাদী ও কট্টর ডানপন্থী দলগুলো প্রতিনিধিত্ব করে ধর্মতত্ত্ব আর জাতীয়তাবাদের মিশ্রণের। এ রকম দুটি দল প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কোয়ালিশনের খুবই গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। এই দলগুলো তাদের মতাদর্শিক অনুপ্রেরণা পায়, যার কাছ থেকে তাঁর নাম মেইর কাহানে। একসময় এই কাহানেকে ইসরায়েল রাষ্ট্র নিষিদ্ধ করেছিল তাঁর অতি কট্টর খোলাখুলি বর্ণবাদী দৃষ্টিভঙ্গির জন্য। আর আজ কাহানের শিষ্যরা ইসরায়েলের নীতি নির্ধারণ করে।
কিন্তু ট্র্যাজেডি হলো এই ‘ত্রাতাবাদী’ জোট যে কেবল প্রতীকী, এমন নয়। এই মৈত্রীর আছে সরাসরি আর হিংসাত্মক ফলাফল। ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গেভির বলেছেন, তাঁর লক্ষ্য হচ্ছে ফিলিস্তিনিদের স্বেচ্ছায় গাজা থেকে চলে যেতে উৎসাহিত করা। আবার ইসরায়েলের ডাক দেন ফিলিস্তিনের সব শহরকে ধুলোয় মিশিয়ে দেওয়ার।
এই মন্ত্রীরা কিন্তু একটা ধর্মতাত্ত্বিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে কথা বলছেন। তাঁরা ফিলিস্তিনের ওপর চালানো এই পৈশাচিক হামলাকে দেখেন স্রষ্টানির্ধারিত এক কাজ হিসেবে। এই হিসেবেই তাঁদের কাছে কোনো শিশু বা নারী হত্যা অপরাধ বলে মনে হয় না।
দুনিয়া ধ্বংসের প্রস্তুতি থেকে কোটিপতিদের গোপন বাংকার
২০১৭ সালে নিউইয়র্কার পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উঠে আসে ধনীদের এক নতুন পরিকল্পনা। একে বলা হচ্ছে ‘ডুমসডে প্রিপারিং ফর দ্য সুপার রিচ।‘ অর্থাৎ সমাজে বড় ধস নামলে বেঁচে থাকার জন্য ধনীদের তৈরি বিশেষ পরিকল্পনা। যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি ধনকুবের ও হেজ ফান্ড মালিকেরা তখন নিউজিল্যান্ড ও হাওয়াইয়ে বিলাসবহুল বাংকার তৈরি করছিলেন। সেখানে থাকছে ব্যক্তিগত বিমানঘাঁটি, গোপন পালানোর পথ, এমনকি ভূগর্ভস্থ নিরাপদ কক্ষ।
হাওয়াই দ্বীপ কাওআইতে তৈরি মার্ক জাকারবার্গের ‘ছোট্ট আশ্রয়স্থল’ বা পিটার থিয়েলের বিশাল নিউজিল্যান্ড এস্টেট। এগুলোকে বিচ্ছিন্ন পরিকল্পনা বা হুজুগ বলে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এগুলো একধরনের দৃষ্টিভঙ্গির প্রকাশ। এই ধনীরা মনে করছেন যে সমাজের ধস অনিবার্য। ফলে পুরোনো পৃথিবী বসবাসের একেবারে অযোগ্য হয়ে যাবে। ফলে তারা নিজেদের বাঁচিয়ে রাখার জন্য নিজেদের মতো করে ব্যবস্থা করে রাখছেন।
এই প্রবণতার সঙ্গে মিল রেখে সিলিকন ভ্যালি থেকে আসছে নতুন নতুন তত্ত্ব। প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীরা ছড়িয়ে দিচ্ছেন এমন তত্ত্ব, যেখানে বলা হচ্ছে যে পৃথিবীতে মানুষ আর টিকবে না। সেখানে রাজত্ব করবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। একটু খোঁজ নিলেই বোঝা যায়, এগুলোর মধ্যে মিশে আছে ইউজেনিকস বা জাতিগত শ্রেষ্ঠত্বের ধারণা। এসবের মূল কথা হচ্ছে—কে বাঁচবে আর কে মরবে, তা ঠিক করবে বাজার; যার হাতে বাজারের মালিকানা, তারাই টিকে থাকবে। যারা বাজারে দুর্বল তারা অনিবার্যভাবেই টিকে থাকার যোগ্য নয়।
এগুলোর মধ্যে ‘লংটারমিজম’ নামে এক মতবাদ বলে যে ভবিষ্যতে এক ট্রিলিয়ন মানুষের অস্তিত্ব রক্ষা করতে হবে। অথচ তারা বর্তমানের কোটি কোটি মানুষের দুঃখ-কষ্টকে তেমন গুরুত্ব দিতে রাজি নয়। এই মতাদর্শের সঙ্গে যুক্ত আরেকটি বিশ্বাস হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) একদিন মানুষের চেয়ে উন্নত হবে। তখন প্রযুক্তিই হবে নতুন সভ্যতা; পৃথিবীতে মানুষের গুরুত্বপূর্ণ থাকবে না।
ইলন মাস্ক তো একবার বলেই ফেলেছিলেন, ‘মানবজাতি হচ্ছে কেবল ডিজিটাল সুপারইন্টেলিজেন্সের জেনেটিক বুটলোডার।’ অর্থাৎ মানুষ হচ্ছে একধরনের অস্থায়ী যন্ত্র। এই মানুষকে অতিক্রম করে তৈরি হবে আরও উন্নত কিছু। এই দৃষ্টিভঙ্গিতে মানুষ ‘পরিত্যাজ্য’।
ধ্বংসই উদ্দেশ্য
এই আদর্শগুলো বা মতবাদগুলো কোনো সংকটের সমাধান দিতে রাজি নয়। তারা বরং সংকটকে সাদরে বরণ করছে। ট্রাম্প প্রশাসন পরিবেশ আইন, জনস্বাস্থ্য নিরাপত্তা বা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রতিষ্ঠান বা তহবিল অবলীলায় বন্ধ করে দিচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে তারা পরিকল্পিত এক বিপর্যয় তৈরি করতে চাইছে। এই অরাজকতা যত বাড়বে, মানুষ তত নিজেকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য ব্যক্তিগত প্রস্তুতি নেবে। সমাজ বা সামগ্রিক চিন্তা আর কারও মাথায় থাকবে না। তারা তখন কেবল প্রযুক্তিনির্ভর সমাধানের দিকে ঝুঁকে পড়বে। একবার এই চক্র শুরু হলে এতে লাভ হয় ধনীদের।
স্পেনে একদল জলবায়ু অধিকারকর্মী প্রতিবাদ করে বলছেন, ‘তোমাদের ক্লাউড সিস্টেম টেকাতে গিয়ে আমাদের নদী শুকিয়ে যাচ্ছে।’ অর্থাৎ এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালাতে যে বিপুল ডেটা সেন্টার লাগছে, তা স্থানীয় পানি শেষ করে দিচ্ছে। এখানে ‘ক্লাউড’ বা ‘তথ্যমেঘ’ কেবল রূপক নয়, এটি একটি বাস্তব সত্যের প্রতীক।
শেষ সময়ের পুঁজিবাদ আসলে এই পৃথিবীকে ধ্বংস করে গড়ে তুলছে এক ভার্চ্যুয়াল দুনিয়া। আগামী কয়েক বছরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জন্য বিদ্যুতের চাহিদা তিন গুণ বাড়বে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। নবায়নযোগ্য বা পারমাণবিক জ্বালানি যথেষ্ট দ্রুত বাড়ছে না। ফলে এখনো মূল ভরসা জীবাশ্ম জ্বালানি।
গুগলের সাবেক সিইও এরিক শ্মিট স্বীকার করেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিস্তারের জন্য লাগবে বিশাল পরিমাণ বিদ্যুৎ প্রকল্প, পানি ও বিরল খনিজ। তারা (প্রযুক্তনির্ভর ধনিক শ্রেণি) যেন পৃথিবীকে টিকিয়ে রাখতে বিশেষ আগ্রহী নন। কারণ, তারা আর এই পৃথিবীকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে না। একে কাজে লাগিয়ে কেবল অল্প কয়েকজন টিকে থাকাই তাদের কৌশল।
তবে এই প্রযুক্তিনির্ভর অতিধনীরা চিন্তিত অন্য কিছু নিয়ে। আর তা হলো তাঁদের এসব পরিকল্পনার মধ্যে সরকারের হস্তক্ষেপ। তাঁদের ভয়, যদি সরকার কর চাপানো শুরু করে, যদি নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়, যদি তাঁদের এসব বেহিসাবি কাজ বন্ধ করতে বলা হয়, তখন কী হবে? তাদের কাছে আসল মহাপ্রলয় হলো জবাবদিহির ভয়।
সংকটের পর সংকট
সম্প্রতি কয়েকটি সংকট এই সমস্যাগুলো সামনে নিয়ে এসেছে। এর মধ্যে আছে পরিবেশ। একে আর লুকিয়ে রাখা যাচ্ছে না। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ছে। তাপমাত্রা গত কয়েক বছরে বিশ্বজুড়ে হয়ে উঠেছে অসহনীয়। বাস্তুতন্ত্র পড়ছে ভেঙে। এসব সমস্যা এড়িয়ে যাওয়া বা ঢেকে রাখার এখন আর কোনো উপায় নেই। আর আমাদের অতিধনীরা মুখে মুখে এসব বিশেষ গুরুত্ব না দিলেও তলেতলে তাঁরা নিজেদের জন্য বিশেষ প্রস্তুতি নিয়ে রাখছেন।
এই তো কিছুদিন আগে, কোভিড-১৯ মহামারির সময় দেখা গেল যে আমাদের এই মানুষের পৃথিবী কত সহজে উলটপালট হয়ে যেতে পারে। দেখা গেল কেমন করে ভয়কে কাজে লাগিয়ে চমৎকার ব্যবসা করা যায়। সেই অতিমারি কেবল এক স্বাস্থ্যসংকট ছিল না। এটা ছিল নজরদারি, কর্তৃত্ববাদী নিয়ন্ত্রণ আর মানুষের ওপর মানুষের আস্থা ধসিয়ে দেওয়ার নতুন পরীক্ষা।
এসবের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নামের আরেক বাস্তবতা। যন্ত্র কোনো একসময় মানুষকে ছাপিয়ে যাবে—এই ভয় আজ যেন বাস্তব হয়ে দেখা দিচ্ছে। যারা এই ভয় দেখিয়ে বেড়াচ্ছে, সেই নতুন প্রযুক্তি অভিজাতেরাই এই ভয়কে বাস্তব করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। আর এসবের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পুরোনো এক ভয়—পারমাণবিক অস্ত্রের ভয়। রিচার্ড সেইমুর যেমন বলেন, ‘দুনিয়া ধ্বংস হবে কবে, তা আর বিষয় নয়, আমরা এক ধ্বংস হওয়া পৃথিবীতেই বাস করছি।’
এই ভয়াবহ ছুটে চলার শেষ কোথায়? এর জন্য তো দরকার দুনিয়াকে দেখার এক বিকল্প দৃষ্টি। সেই দৃষ্টি কেবল রাজনৈতিক হলে হবে না। তাঁকে হতে হবে একই সঙ্গে নৈতিক ও আত্মিক। দুনিয়াজোড়া কর্তৃত্ববাদকে কেবল প্রতিহত করলেই হবে না। এমন এক ভবিষ্যতের আকাঙ্ক্ষাও সামনে আনতে হবে, যার জন্য লড়াই করা যায়। যে আকাঙ্ক্ষার ভিত্তি হবে মানুষের মর্যাদা। যেখানে সব বিশ্বাসের মানুষ কেবল মানুষ হিসেবেই একে অপরকে শ্রদ্ধা করবে। মনে রাখতে হবে, পৃথিবীর সব বিশ্বাসের শিকড় হচ্ছে ন্যায্যতা।
এই প্রতিরোধের ইশারা পাওয়া যাচ্ছে ইতিমধ্যে। রাষ্ট্রের হিংস্রতাকে উপেক্ষা করে দুনিয়াজুড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে, সিনাগগ আর চার্চে, অন্য অনেক সামাজিক প্রতিষ্ঠানে মানুষ নিজের আকাঙ্ক্ষার কথা জানাচ্ছেন।
* নাওমি ক্লেইন লেখক ও অধিকারকর্মী
* এস্ট্রা টেইলর লেখক ও তথ্যচিত্র নির্মাতা
- গার্ডিয়ান থেকে নেওয়া। ইংরেজি থেকে সংক্ষেপিত অনুবাদ জাভেদ হুসেন

Friday, April 18, 2025
রাজনৈতিক অপতথ্য প্রচারের নতুন কৌশল ব্লগস্পটের ফ্রি ডোমেইন
তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান রিউমর স্ক্যানারের অনুসন্ধানে দেখা যায়, বাস্তবে এমন কোনো ঘটনাই ঘটেনি। সূত্র হিসেবে যে সাইটের লিংক দেওয়া হয়েছে, সেই সাইট বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, কোনো তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই ব্লগস্পটের বিনামূল্যের ডোমেইন সাইট ব্যবহার করে ভুয়া এই সংবাদ প্রকাশ করে পরে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।
রিউমর স্ক্যানার ইনভেস্টিগেশন ইউনিট গত বছরের (২০২৪) আগস্ট-পরবর্তী সময় থেকে এই ধরনের ব্লগস্পটের বিনামূল্যের ডোমেইন সাইটগুলোর ওপর নজর রাখছিল। চলতি এপ্রিল পর্যন্ত এমন অন্তত ১৬টি সাইটের সন্ধান পাওয়া গেছে, যেগুলোতে বাংলাদেশকে জড়িয়ে অপতথ্যের প্রচার ছিল নিয়মিত।
রিউমর স্ক্যানার ইনভেস্টিগেশন ইউনিটের দীর্ঘ অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে এসব সাইটের পেছনে কারা আছেন, কারাই বা এসব সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছেন এবং কাদের এসব অপতথ্যের শিকার বানানো হচ্ছে।
ব্লগস্পটের বিনামূল্যের ডোমেইন কীভাবে তৈরি হয়
ব্লগস্পট হল সার্চ ইঞ্জিন জায়ান্ট গুগলের একটি ফ্রি ব্লগিং প্লাটফর্ম। এই প্লাটফর্মে (http://www.blogger.com) বিনামূল্যে ব্লগ সাইট তৈরি করে তাতে নিয়মিত লেখা প্রকাশের সুবিধা রয়েছে। প্রক্রিয়াটিও বেশ সহজ। ইমেইল অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে পছন্দের নাম দিয়ে ব্লগসাইটটি খোলা হয়৷ বিনামূল্যে হওয়ায় ইউআরএলে blogspot শব্দটি থাকে। যেমন, কেউ যদি Bangladesh নাম দিয়ে ব্লগ খুলতে চান, তাহলে তার ইউআরএল হবে https://bangladesh.blogspot.com/।
এটি এসইও (SEO) ফ্রেন্ডলি ব্লগিং প্লাটফর্ম হওয়ায় গুগল থেকে অসংখ্য ভিজিটর আসে এই প্লাটফর্মে। ফলে যেকোনো লেখা সহজেই কম সময়ে অসংখ্য ভিজিটরদের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়। তা ছাড়া ফেসবুকে সাধারণত নেটিজেনরা কোনো তথ্যের পক্ষে সমর্থনমূলক লিংক খোঁজেন। এই সুযোগ নিয়ে এই ধরনের ব্লগসাইটের মাধ্যমে লেখা প্রকাশ করে লিংকটি পোস্টগুলোতে যুক্ত করে দেওয়ার প্রবণতা দেখা যায়, যা আলোচিত তথ্যটিকে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলার প্রয়াস হিসেবে দেখা হয়। মূলত এই প্লাটফর্ম ব্যবহার করেই গেল বছরের অন্তত সেপ্টেম্বর থেকে একাধিক ব্লগসাইট তৈরি করে বাংলাদেশকে নিয়ে অপতথ্য প্রচার করা হচ্ছে।
ব্লগস্পটের একাধিক সাইটে অপতথ্য
গত বছরের (২০২৪) আগস্টে বাংলাদেশে যখন গণঅভ্যুত্থান ঘটে এবং এর প্রেক্ষিতে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হয়। ঠিক তার পরের মাসেই অপতথ্য প্রচারের নতুন এই কৌশল রিউমর স্ক্যানার ইনভেস্টিগেশন ইউনিটের নজরে আসে। ‘স্বাধীন বাংলাদেশ নিউজ ২৪৭’ নামের একটি সাইট থেকে ০৫ সেপ্টেম্বর প্রথম অপতথ্য প্রচারের হদিস মেলে। সে মাসে এই সাইটে অন্তত ৬৫টি কথিত সংবাদের মাধ্যমে লেখা প্রকাশ করে পরে ফেসবুকে তা ছড়িয়ে দেওয়া হয়। পরবর্তী মাসগুলোতেও একই কার্যক্রম চালানো হয়েছে।
একই প্রক্রিয়ায় অপতথ্যের প্রচার চালিয়েছে, এমন আরও অন্তত ১৫টি সাইটের সন্ধান মিলেছে। এসব সাইটের অন্তত পাঁচটিতে দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমের নাম ও লোগো ব্যবহার করে সাইটগুলোকে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে। তাতে সফল হয়েছে এমন প্রমাণও পেয়েছে রিউমর স্ক্যানার ইনভেস্টিগেশন ইউনিট। এর মধ্যে ‘ডেইলি নিউজ বিডি আওয়ামী লীগ’ জাতীয় দৈনিক কালের কণ্ঠ পত্রিকার লোগো, ‘আমার দেশ’ জাতীয় দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার নাম ও লোগো, ‘ভোরের ডাক’ জাতীয় দৈনিক ভোরের ডাক পত্রিকার নাম ও পরিবর্তিত লোগো, ‘বিবিসি নিউজ বাংলা ২৪৭০’ ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির বাংলা সংস্করণের নাম ও লোগো এবং ‘আনন্দবাজার পত্রিকা’ ভারতের কলকাতার দৈনিক আনন্দবাজারের নাম ব্যবহার করা হয়েছে। অনুসন্ধানে পাওয়া সাইটগুলোর সব অবশ্য এখন সক্রিয় নেই।
‘স্বাধীন বাংলাদেশ নিউজ ২৪৭’ নামের যে সাইটটি থেকে প্রথম অপতথ্যের প্রচার শুরু হয়, তাতে গত ফেব্রুয়ারির পর থেকে নতুন কোনো ‘সংবাদ’ প্রচার করা হয়নি। এমনকি অপতথ্য-সংবলিত পুরোনো সব সংবাদও সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে কাছাকাছি নামের (স্বাধীন নিউজ ২৪৭) সাইটটিতে এরপরই অপতথ্যের প্রচার শুরু হয়, যা এখনো চলমান রয়েছে। এ ছাড়া কার্যক্রম শুরুর পর বর্তমানে নিষ্ক্রিয় অবস্থায় রয়েছে, এমন সাইটগুলোর মধ্যে রয়েছে ডেইলি নিউজ বিডি আওয়ামী লীগ, বিবিসি নিউজ বাংলা ২৪৭০, বাংলাদেশেরও, লিমা আক্তার ২০২২, বাংলাদেশ ৪৩৪৮, বাংলাদেশ ৩৪৪৭ এবং লিমা আক্তার ৩৪৪। শেষোক্ত পাঁচটি সাইটে এখন আর প্রবেশই করা যায় না।
এসব সাইটের অপতথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় আসা ঘটনাগুলো নিয়মিত নজর রাখেন এসব কথিত সংবাদ তৈরির কারিগররা। ঘটনার সঙ্গে মিল রেখে কাছাকাছি সময়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নামে ভুল তথ্য প্রকাশ করা হয়। যেমন গত ৭ মার্চ ফ্রান্সে বসবাসরত বাংলাদেশি অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট পিনাকী ভট্টাচার্য তার ফেসবুক পেজের মাধ্যমে জানান যে হাসপাতালে তার একটি সার্জারি হবে। এর প্রেক্ষিতে পরদিন ‘আমার দেশ’ নামের ব্লগস্পটের একটি ডোমেইন সাইটে দাবি করা হয়, পিনাকী ভট্টাচার্য হাসপাতালে অপারেশন টেবিলেই মারা গেছেন। অথচ পিনাকীর অপারেশন সফল হয়েছিল এবং তিনি সুস্থ আছেন। এসব সাইটে অপতথ্যগুলো প্রকাশের পর নির্দিষ্ট কিছু ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে সেগুলোর লিংক একই মতাদর্শের গ্রুপগুলোতে প্রচার করা হয়।
পেছনে সংঘবদ্ধ চক্র
ব্লগস্পটের বিনামূল্যের ডোমেইন সাইটগুলো কারা পরিচালনা করছে, তা জানতে গেল কয়েক মাস ধরেই অনুসন্ধান চালাচ্ছিল রিউমর স্ক্যানার ইনভেস্টিগেশন ইউনিট। এসব সাইটে কথিত প্রকাশিত সংবাদগুলো ফেসবুকে কারা নিয়মিত প্রচার করছেন তা নজর রাখা হচ্ছিল। দীর্ঘ পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে চালু থাকা একাধিক ফেসবুক অ্যাকাউন্ট, পেজ এবং গ্রুপ নিয়মিত ভিত্তিতে শুধু এসব অপতথ্যই প্রচার করেছে।
অ্যাকাউন্টগুলোর পরিচয় ও কার্যক্রম বিশ্লেষণ করতে গিয়ে সংঘবদ্ধ অন্তত দুটি চক্রের সন্ধান পেয়েছে রিউমর স্ক্যানার ইনভেস্টিগেশন ইউনিট, যারা কিনা সমষ্টিগতভাবে এসব সাইটের অপতথ্য ছড়িয়ে দিচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। এর মধ্যে একটি চক্রের সম্ভাব্য মূলহোতা হিসেবে থাকা একটি অ্যাকাউন্ট হচ্ছে তাপসী তাবাসসুম ঊর্মি (ইংরেজিতে অ্যাকাউন্টের নাম Tapasshe Tabassum Urmi)। এই অ্যাকাউন্টটিতে কোটা সংস্কার আন্দোলনে নিহত আবু সাঈদসহ অন্য নিহতদের নিয়ে বিরূপ মন্তব্যের অভিযোগে গত বছরের ৭ অক্টোবর লালমনিরহাট জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত হওয়া তাপসী তাবাসসুম ঊর্মির নাম এবং পরিচয় ব্যবহার করা হয়েছে। তবে এই অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে এই ঘটনারও মাস ছয়েক আগে, গত বছরের ১ এপ্রিল। শুরুতে অ্যাকাউন্টটির নাম ছিল রিম ঝিম (Rim Jhim)। আগস্টের গণঅভ্যুত্থান-পূর্ববর্তী সময়ে এই অ্যাকাউন্ট ব্যবহার হয়েছে নারীদের স্পর্শকাতর ছবি ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপে প্রচারের কাজে। এই কাজে একটি গ্রুপকেও ব্যবহার করা হয়েছে, যার অ্যাডমিনও এই অ্যাকাউন্ট। সাত হাজারের অধিক ফলোয়ার সমৃদ্ধ এই অ্যাকাউন্ট থেকে গত বছরের সেপ্টেম্বরে ব্লগস্পটের বিনামূল্যের ডোমেইনে তৈরি সাইটের অপতথ্য প্রচার শুরু হয়। অক্টোবরে তাপসী তাবাসসুম ঊর্মির ঘটনাটি দেশব্যাপী আলোচনার পর এই অ্যাকাউন্টটির নাম বদলে ঊর্মির নাম ও ছবি লাগানো হয়। এই অ্যাকাউন্টের পোস্টে নিয়মিত আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে কমেন্ট করার প্রমাণ পেয়েছে রিউমর স্ক্যানার ইনভেস্টিগেশন ইউনিট।
অ্যাকাউন্টটি অপতথ্যগুলো প্রচার করতে একটি পেজ এবং গ্রুপকে ব্যবহার করে আসছে। ‘স্বাধীন নিউজ ২৪৭’ নামের পেজটি ‘সজীব ওয়াজেদ জয়’ নামে খোলা হয় গত বছরের ৭ নভেম্বর। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে নাম বদলে বর্তমান নাম রাখা হয়। এই পেজ এবং তাপসী তাবাসসুম ঊর্মি নামের অ্যাকাউন্টটি ‘স্বাধীন বাংলাদেশ’ নামে একটি গ্রুপের অ্যাডমিন। গ্রুপটি অবশ্য বেশ পুরোনো। ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ’ নামে এটি খোলা হয় ২০২০ সালের ৭ সেপ্টেম্বর। ২০২৩ সালে গ্রুপটিতে জুয়ার কার্যক্রম চালানো শুরু হয় ‘Betx365 official Agent group’ এই নামে পরিবর্তন করে। গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে ২০২৪ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর ‘স্বাধীন বাংলাদেশের খবর ২৪/৭’ নাম রাখা হয়। এর মধ্যে ১৫ নভেম্বর ফের ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ’ নাম রাখা হলেও সর্বশেষ গত ১৯ ফেব্রুয়ারি বর্তমান নামটি রাখা হয়। এই গ্রুপের আরেক অ্যাডমিন আকাশ ইসলাম (Akash Islam) নামের একটি অ্যাকাউন্ট।
২০২৪ সালের ২৯ মার্চ অ্যাকাউন্টটি চালুর সময় নিবিড় চৌধুরী নাম ছিল। সম্প্রতি নাম বদল করা হয়েছে। অ্যাকাউন্টটি চালুর পর শুরুর দিকে অ্যাকাউন্টধারী নিজেকে মোহাম্মদ আলী পরিচয় দিয়ে জুয়ার প্রচারণা চালাত। এই কাজের জন্য একটি ফোন নম্বরও ব্যবহার করা হয়। পরবর্তীতে গত বছরের সেপ্টেম্বরে আলোচিত অপতথ্যগুলোর প্রচারে নিয়োজিত হয় এই অ্যাকাউন্ট। অপ্রিয় সত্য নামে এমন আরেকটি অ্যাকাউন্টও রয়েছে এই চক্রে। ২০২১ সালের ১৩ অক্টোবর চালু হওয়া এই অ্যাকাউন্টের সেপ্টেম্বর পরবর্তী অপতথ্যের একাধিক পোস্টে তাপসী তাবাসসুম ঊর্মি ও আকাশ ইসলাম নামের অ্যাকাউন্ট দুটির রিয়েকশন পাওয়া যায়। এই চক্রে সত্যের সন্ধানে ও আমার দেশ নামে দুটি পেজ রয়েছে যেগুলো গত বছরের অক্টোবরে কাছাকাছি সময়ে (যথাক্রমে ৭ ও ১০ অক্টোবর) চালু করা হয়। দুটি পেজই চালুর সময় নাম ছিল Tapasshe Tabassum Urmi। পরবর্তীতে নাম বদলে ফেলা হয়। আওয়ামী লীগ পরিবার নিউজ, Md Rocky Ahmed, Jahid Hasan Noyan নামের অ্যাকাউন্টগুলোও একই চক্রের ছড়ানো অপতথ্যগুলো অনিয়মিতভাবে প্রচার করছে। এসব অ্যাকাউন্ট, গ্রুপ ও পেজের পোস্টগুলো বিশ্লেষণ করে রিউমর স্ক্যানার ইনভেস্টিগেশন ইউনিট পরস্পরের মধ্যে সম্পর্ক থাকার বিষয়টি লক্ষ্য করেছে। যার যোগসূত্র হিসেবে কাজ করেছে মূলত Tapasshe Tabassum Urmi নামের অ্যাকাউন্টটি। এসব অ্যাকাউন্ট, গ্রুপ ও পেজ থেকে borer-dak, Sadhinbangladeshnews247, bbcnews2470, sadhinnews247, amardeesh247, fullmoviedownload76246 এসব সাইটে প্রকাশিত অপতথ্যগুলো পোস্ট করা হচ্ছে।
এই অ্যাকাউন্ট, গ্রুপ ও পেজগুলো থেকে অপতথ্যের পোস্টগুলো নিয়মিত আওয়ামী লীগের দলীয় এবং রাজনীতিবিদদের নামে চালু থাকা অন্তত এক ডজন আনঅফিশিয়াল গ্রুপে (যেমন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ Bangladesh Awami League, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ (ছাএলীগ যুবলীগ), বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ঢাকা মহানগর উওর, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, Sheikh Fazlul Karim Selim, সায়েমা ওয়াজেদ পুতুল, Tulip Siddiq -MP Fans, প্রতিবাদী মুজিব সেনা ঐক্য পরিষদ অনলাইন ভিত্তিক একটি রাজনৈতিক সংগঠন, ব্রিটিশ আওয়ামী লীগ সাপোর্ট টিম) পোস্ট করা হয়েছে। অনুসন্ধানের সুবিধার্থে রিউমর স্ক্যানার ইনভেস্টিগেশন ইউনিট এই চক্রকে ১ নং বলে অভিহিত করছে।
এই চক্রের বাইরে তানিয়া, রাহি, Shakib Hossain, Somi Akhter নামে অন্তত চারটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট এবং MD, Joumouna Tv, Johana Tv, News27, সময়, দৈনিক বাংলা নিউজ নামের অন্তত ছয়টি পেজের সন্ধান পেয়েছে রিউমর স্ক্যানার ইনভেস্টিগেশন ইউনিট, যারা সংঘবদ্ধভাবে bangladesar0, limaaktar2022, bangladesh4348, bangladesh3447, limaakhter344 নামের অন্তত পাঁচটি নিষ্ক্রিয় সাইট এবং banglanewsachehd, mdrasidhe44, bhdhdjjddh নামের অন্তত তিনটি সক্রিয় সাইটে প্রকাশিত অপতথ্য নিয়মিত পোস্ট করেছেন। অ্যাকাউন্টগুলোর অ্যাবাউট সেকশনে এদের পরিচয় সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেওয়া নেই। তবে পেজগুলো গত বছরের অক্টোবর থেকে চলতি এপ্রিলের মধ্যে খোলা হয়েছে। এসব পেজে শূন্য থেকে সর্বোচ্চ দুজন ফলোয়ার রয়েছে। এরাও মূলত বিভিন্ন গ্রুপে (যেমন, বাংলাদেশ প্রতিদিন, আমার দেশ, ফেসবুক মনিটাইজেশন সাপোর্ট) অপতথ্যগুলো পোস্ট করে আসছেন। অনুসন্ধানের সুবিধার্থে রিউমর স্ক্যানার ইনভেস্টিগেশন ইউনিট এই চক্রকে ২ নং বলে অভিহিত করছে।
কী ধরনের অপতথ্য প্রচার হচ্ছে
দুটি চক্রের প্রচার করা সাইটগুলোর অপতথ্যের বিশ্লেষণ করে রিউমর স্ক্যানার ইনভেস্টিগেশন ইউনিট দেখতে পায়, ১ নম্বর চক্রের সাইটগুলোতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিষয়ে যেসব অপতথ্য প্রচার করা হয়েছে, তার সবগুলোই সরকার ও ড. ইউনূসের বিপক্ষে যায়। এসব অপতথ্যের ৯০ শতাংশই সরকার ও ড. ইউনূসের পদত্যাগ সংক্রান্ত বিষয়ে। অন্যদিকে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিষয়ে এসব সাইটে যেসব অপতথ্যের প্রচার করা হয়েছে, সবই তার পক্ষে গিয়েছে। এসব অপতথ্যের সিংহভাগই তার দেশে ফেরা সংক্রান্ত। এ ছাড়া আগস্ট পরবর্তী বিভিন্ন ঘটনাপ্রবাহে অপতথ্য প্রচারের ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের পক্ষে যায়, এমন ভাষ্যে সংবাদ প্রচারের প্রবণতা দেখা গেছে এসব সাইটে। অপতথ্যগুলোয় বাহিনীগুলোকেও জড়ানো হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং বাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানকে জড়িয়েই অধিকাংশ অপতথ্য প্রচার করা হয়েছে।
২ নম্বর চক্রের ক্ষেত্রে অবশ্য অপতথ্যের প্রচারে একতরফা প্রবণতা দেখা যায়নি। এই চক্রের নিয়ন্ত্রণাধীন সাইটগুলোতে আওয়ামী লীগের পক্ষে যায়, এমন অপতথ্যের প্রচার যেমন ছিল, তেমনি দলটির বিপক্ষে যায় এমন ভুয়া তথ্যও প্রচার করা হয়েছে হরহামেশাই। এসব সাইটের একটি সাধারণ বিষয় হচ্ছে একই ‘সংবাদ’ কিছুদিন পরপর পুনরাবৃত্তি করে একই সাইট এবং একই চক্রের অন্যান্য সাইটে প্রকাশ করা হয়। এই কায়দায় শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের গ্রেপ্তারের ভুয়া খবর দেওয়া হয়েছে অন্তত ছয়বার। এসব সাইটে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে নিয়ে সবচেয়ে বেশি অপতথ্য প্রচার করা হয়েছে, যার সব কটিই বাহিনীটির বিপক্ষে যাওয়ার সুযোগ রেখেছে। এসব সাইট বেশি দিন স্থায়ী হচ্ছে না। অধিকাংশই এখন নিষ্ক্রিয় অবস্থায় রয়েছে। কতিপয় সাইট ব্যবহারের সময় সাইটে প্রবেশের কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ভিন্ন সাইটে নিয়ে যায়।
নীতিমালা আছে, কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন
ব্লগস্পট দিয়ে তৈরি সাইটগুলোর বিষয়ে ব্লগার কর্তৃপক্ষ উদার নীতিই অবলম্বন করে থাকে। তাদের ভাষ্যমতে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার আদর্শ যে পরিষেবার ভিত্তি, এই কন্টেন্ট সেন্সর করলে সেই আদর্শের বিরোধিতা করা হয়। তবে এসব মূল্যবোধ তুলে ধরার ক্ষেত্রে, তাদের পরিষেবা প্রদান করার ক্ষমতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার কাছে ভীতিপ্রদ হতে পারে, এমন অবমাননাকর আচরণ তারা প্রতিরোধ করবে বলেই জানিয়ে রেখেছে। ব্লগারের কমিউনিটি নির্দেশিকা লঙ্ঘন করেছে, এমন কন্টেন্ট সংক্রান্ত অভিযোগ জানাতে প্লাটফর্মটি তার পাঠকদের ওপর নির্ভর করে থাকে। এ ক্ষেত্রে যেকোনো পাঠক এখানে অভিযোগ জানাতে বলা হয়েছে।
ব্লগারের নীতিমালায় কোনো ব্যক্তি বা সংস্থার ছদ্মবেশ ধারণ না করতে বা নিজেকে ভুলভাবে উপস্থাপন না করতে সতর্ক করা হয়েছে। এমন কন্টেন্ট এড়িয়ে চলতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যা সংশ্লিষ্টদের আসল পরিচয় সম্পর্কে পাঠক-দর্শকদের বিভ্রান্ত করতে পারে। অথচ আলোচিত সাইটগুলোয় ছদ্মবেশে অন্য গণমাধ্যমের নাম ও লোগোর মতো পরিচয় ব্যবহার করে নিয়মিত অপতথ্যের প্রচার চালানো হচ্ছে।
কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তি বা সরকারি কর্মকর্তা মারা গেছেন, কোনো দুর্ঘটনার কবলে পড়েছেন বা হঠাৎ গুরুতর কোনো শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছেন, এমন দাবি করে ভুয়া তথ্য ছড়ানো থেকেও সতর্ক থাকার কথা স্মরণে রাখতে বলা হয়েছে ব্লগারের এ সংক্রান্ত নীতিমালায়। তবু মাসের পর মাস বাংলাদেশে রাজনীতিবিদদের ক্ষেত্রে সমজাতীয় দাবিগুলো প্রচারে ব্লগারেরই বিনামূল্যের সাইটগুলোকে কাজে লাগানো হচ্ছে।
ব্লগার কর্তৃপক্ষ বলছে, কোনো ব্লগ তাদের কমিউনিটি নির্দেশিকা লঙ্ঘন করেছে বলে মনে হলে লঙ্ঘনের গুরুত্ব অনুযায়ী তারা বিভিন্ন ব্যবস্থা নিতে পারেন। এর মধ্যে রয়েছে ব্লগ অথবা পোস্ট দেখার আগে সংবেদনশীল কন্টেন্ট সংক্রান্ত সতর্কবার্তা দেওয়া, পোস্টটি প্রকাশ করা থেকে সরিয়ে দেওয়া, যাতে শুধু ব্লগের লেখকই এটি দেখতে পান, আপত্তিকর কন্টেন্ট, পোস্ট অথবা ব্লগ মুছে দেওয়া, লেখকের ব্লগার বা গুগল অ্যাকাউন্ট অ্যাক্সেস বন্ধ করে দেওয়া, উপযুক্ত আইনি কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যবহারকারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ জানানো। অন্যদিকে এসব সাইটের অপতথ্যগুলো ফেসবুকে প্রচারের ক্ষেত্রে ভুয়া পরিচয় দিয়ে খোলা অ্যাকাউন্ট ও পেজ খোলা হয়েছে। মেটার ট্রান্সপারেন্সি সেন্টারে ফেক অ্যাকাউন্ট সম্পর্কে কঠিনভাবে সতর্ক বাণী দেওয়া হয়েছে।
বলা হয়েছে, তাদের লক্ষ্য ফেসবুক থেকে যতটা সম্ভব ভুয়া অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলা। এর মধ্যে রয়েছে তাদের নীতি লঙ্ঘনের জন্য দূষিত উদ্দেশ্যে তৈরি করা অ্যাকাউন্টগুলো তারা দ্রুততম সময়ে মুছে ফেলার কাজ করেন। মেটার এ সংক্রান্ত নীতিমালা বেশ কঠোর হলেও বছরের পর বছর অন্যের নাম-পরিচয় ব্যবহার করে ভুয়া অ্যাকাউন্ট চালু থাকছে, বিস্তার চলছে অপতথ্যের জাল।
![]() |
| রিউমার স্ক্যানারের ফ্যাক্ট চেক। ছবি : সংগৃহীত |
Saturday, March 22, 2025
কেন ইলন মাস্কের স্টারলিংকে যুক্ত হতে চায় বাংলাদেশ ও ভারত?
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ওয়াশিংটন ডিসিতে গিয়ে ইলন মাস্কের সঙ্গে আলাদা বৈঠক করেছিলেন। তারপর গত সপ্তাহে ভারতের দুই ইন্টারনেট ও টেলিকম জায়ান্ট- এয়ারটেল ও রিলায়েন্স জিও মাত্র চব্বিশ ঘণ্টার ব্যবধানে পরপর ঘোষণা করেছে যে স্টারলিংকের সঙ্গে তাদের সমঝোতা চূড়ান্ত, যার মাধ্যমে ওই সংস্থাটি ভারতে তাদের পরিষেবা দিতে পারবে। ভারতে স্টারলিংক কবে আর কীভাবে চালু হবে তা নিয়ে এখনো অনেক অস্পষ্টতা রয়েছে, তবে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা সবাই একমত যে, এদেশের কমিউনিকেশন খাতে সেটা একটা যুগান্তকারী ঘটনা হতে চলেছে। লক্ষণীয় বিষয় হলো প্রধানমন্ত্রী মোদি যেদিন আমেরিকায় ইলন মাস্কের সঙ্গে দেখা করেন (১৩ই ফেব্রুয়ারি), ঠিক সেদিনই বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসও মাস্কের সঙ্গে টেলিফোনে দীর্ঘক্ষণ কথাবার্তা বলেন। বাংলাদেশে স্টারলিংক ‘লঞ্চ’ করার জন্য সেদিন মাস্ককে অনুরোধ জানিয়েছিলেন ড. ইউনূস, ক’দিন পরে তিনি চিঠি লিখে বাংলাদেশ সফরে আসার জন্যও ইলন মাস্ককে আমন্ত্রণ জানান। মাত্র ৯০ দিনের ভেতর বাংলাদেশে স্টারলিংকের যাত্রা শুরু করা সম্ভব বলেও ওই চিঠিতে উল্লেখ করেছিলেন তিনি। এরপর স্টারলিংকের একটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফর করেছে, সে দেশের বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে গ্রাউন্ড আর্থ স্টেশন স্থাপন ও আরও নানা অবকাঠামোগত বিষয়ে স্টারলিংকের বোঝাপড়াও সম্পন্ন হয়েছে। সুতরাং বাংলাদেশ ও ভারত- দুই প্রতিবেশী দেশেই স্টারলিংকের পরিষেবা পাওয়াটা এখন নেহাত আর কিছু সময়ের অপেক্ষা বলেই ধরে নেয়া হচ্ছে, যদিও অতীত অভিজ্ঞতা বলে এই দুটো দেশেই বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে শেষ মুহূর্তেও নানা ধরনের জটিলতা তৈরি হয়ে থাকে।
এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে দক্ষিণ এশিয়ার অন্য একটি দেশে স্টারলিংক সার্ভিস কিন্তু ইতিমধ্যেই চালু হয়ে গেছে- আর সেই দেশটি হলো ভুটান। বস্তুত ২০২৪ সালের ডিসেম্বরেই ভুটানে স্টারলিংকের ইন্টারনেট প্ল্যান চালু হয়ে গিয়েছিল, তবে কোম্পানির পক্ষ থেকে তা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয় ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে। এই অঞ্চলের দ্বিতীয় দেশ হিসেবে ভারত বা বাংলাদেশ- যেখানেই স্টারলিংক আগে চালু হোক, স্যাটেলাইট-নির্ভর ইন্টারনেট পরিষেবার একটা চাহিদা যে এই দেশগুলোও অনুভব করছে সেই ইঙ্গিত কিন্তু স্পষ্ট। এমনকি গৃহযুদ্ধে দীর্ণ মিয়ানমারও চাইছে তাদের দেশে স্টারলিংক আসুক। এখন প্রশ্ন হলো, স্টারলিংক ভারত বা বাংলাদেশে এলে বাড়তি কী সুবিধা মিলবে? প্রযুক্তিগত সুবিধার বাইরেও কি স্টারলিংককে এনে কোনো বিশেষ রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক সুবিধা আশা করছে এই দেশগুলো? স্যাটেলাইটনির্ভর ইন্টারনেট পরিষেবায় অনুমতি দেয়ার মানে জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে আপস করা, এই ধরনের আশঙ্কাকেই বা কীভাবে ‘অ্যাড্রেস’ করা হবে? সবচেয়ে বড় কথা, এই পরিষেবার খরচ কি আদৌ সাধারণ মানুষের নাগালের ভেতর থাকবে? না কি শুধু ধনী কর্পোরেটরাই স্টারলিংক ‘অ্যাফোর্ড’ করতে পারবে? এই প্রতিবেদনে বিবিসি বাংলা উত্তর খুঁজেছে এই সব প্রশ্নেরই।
স্টারলিংক কী, এর বিশেষত্ব কোথায়?
স্টারলিংক হলো আসলে একটি স্যাটেলাইট-ভিত্তিক ইন্টারনেট পরিষেবা, যেটি অপারেট করে ইলন মাস্কের মালিকানাধীন এরোস্পেস কোম্পানি স্পেসএক্স। এই মুহূর্তে ইউরোপ-আমেরিকা-এশিয়া-অস্ট্রেলিয়া-আফ্রিকা জুড়ে বিশ্বের শতাধিক দেশে স্টারলিংকের পরিষেবা পাওয়া যায়। গত বছরের জানুয়ারির হিসাব অনুযায়ী, পৃথিবীকে ঘিরে বিভিন্ন কনস্টেলেশনে এই কোম্পানির প্রায় হাজার সাতেক ‘লো-আর্থ অরবিট’ (এলইও) স্যাটেলাইট বা কৃত্রিম উপগ্রহ আছে- যেগুলোর মাধ্যমে তারা ভূপৃষ্ঠে ইন্টারনেট পরিষেবা দিয়ে থাকে। ইলন মাস্ক দাবি করেছেন, মহাকাশে স্টারলিংকের এই ‘মেগাকনস্টেলেশন’ প্রতি পাঁচ বছর অন্তর অত্যাধুনিক প্রযুক্তি দিয়ে ঢেলে সাজানো হবে এবং সারা বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা স্টারলিংক গ্রাহকরা তার সুবিধা পাবেন। সাবেকি ব্রডব্যান্ড সার্ভিস যেখানে ভূগর্ভস্থ কেবল বা টাওয়ারের ওপর নির্ভরশীল, স্টারলিংকের স্যাটেলাইটগুলো কিন্তু পৃথিবীর বুকে ছোট ছোট ‘ইউজার টার্মিনালে’র সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের মাধ্যমেই ইন্টারনেট পরিষেবা দিয়ে থাকে। যেহেতু এক্ষেত্রে টাওয়ার বসানোর বা মাটির নিচে কেবল পাতার কোনো ঝামেলা নেই, তাই দুর্গম প্রত্যন্ত প্রান্তরে বা গ্রামীণ এলাকাতেও খুব সহজে স্টারলিংকের পরিষেবা পাওয়া সম্ভব। গ্রাহকের কাছে শুধু কোম্পানির ছোট ‘ইউজার টার্মিনাল’টি থাকলেই যথেষ্ট। অতি দুর্গম জায়গা থেকেও বেশ সহজে স্ট্রিমিং, ভিডিও কল, অনলাইন গেমিং বা রিমোট ওয়ার্কিং করা যায় বলেই স্টারলিংক দুনিয়া জুড়ে এত জনপ্রিয় হয়েছে। তবে বিশ্বে স্টারলিংক বৃহত্তম স্যাটেলাইট-নির্ভর ইন্টারনেট প্রোভাইডার হলেও তারা একমাত্র নয়- ওয়ানওয়েব ইউটেলসেট, আমাজনের প্রজেক্ট কুইপার, ভায়াস্যাট কিংবা হিউজেসনেটের মতো আরও অনেক কোম্পানিই এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ইন্টারনেট পরিষেবা দেয় বা দিতে চলেছে। ইউটেলসেটে আবার ভারতীয় কোম্পানি এয়ারটেলেরও বিপুল লগ্নি আছে, যদিও তারা এদিকে ভারতে স্টারলিংকের সঙ্গেও সমঝোতার কথা ঘোষণা করেছে। গত ১১ই মার্চ যখন এয়ারটেল স্টারলিংকের সঙ্গে তাদের অংশীদারিত্বের কথা ঘোষণা করেছিল, পর্যবেক্ষকরা সেটাকে ভারতের ডিজিটাল কানেক্টিভিটির ক্ষেত্রে একটা ‘ক্যু’-র সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। সুনীল ভারতী মিত্তালের কোম্পানি এয়ারটেল তখন প্রেস বিবৃতিতে জানিয়েছিল, সারা দেশ জুড়ে তাদের যে রিটেল স্টোরের (খুচরো দোকান) বিশাল নেটওয়ার্ক আছে, সেখান থেকেই স্টারলিংক তাদের নিজস্ব ডিভাইস বিপণন ও বিতরণ করতে পারবে। এর ফলে ভারতে স্টারলিংকের প্রাথমিক বিনিয়োগও অনেক কম করতে হবে। এই মুহূর্তে ভারতে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের বাজারে সবচেয়ে বড় ‘প্লেয়ার’ হলো মুকেশ আম্বানির মালিকানাধীন রিলায়েন্স জিও- যাদের সারা দেশে ১ কোটি ৪০ লাখেরও বেশি ‘ক্যাবল-ওলা’ ইন্টারনেট গ্রাহক আছে। এয়ারটেল-স্টারলিংকের সমঝোতার ফলে জিও যখন বিপাকে পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে, ঠিক তখনই মাত্র চব্বিশ ঘণ্টার ভেতর জিও প্ল্যাটফরমস লিমিটেডও ঘোষণা করে তারাও স্টারলিংকের সঙ্গে অনেকটা একই ধরনের পার্টনারশিপে যাচ্ছে। ফলে ভারতের প্রধান দুই কমিউনিকেশন জায়ান্ট- ভারতী এয়ারটেল ও রিলায়েন্স জিও- উভয় কোম্পানিই এখন ইলন মাস্কের স্টারলিংকের সঙ্গে বোঝাপড়া করে গ্রাহকদের স্যাটেলাইট-ভিত্তিক ইন্টারনেট পরিষেবা দেয়ার দিন গুনছে। তবে এই দুটো সমঝোতাই ভারতের রেগুলেটরি অথরিটির অনুমোদন সাপেক্ষে হবে বলে জানানো হয়েছে, অর্থাৎ সরকারের নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার অনুমতি পাওয়ার পরই কেবল স্টারলিংক সে দেশে ব্যবসা করতে পারবে।
ভূরাজনৈতিক স্বার্থও জড়িত?
আন্তর্জাতিক সাময়িকী ‘ই-ইন্টারন্যাশনাল রিলেশনসে’ গত মাসে প্রকাশিত একটি নিবন্ধে গবেষক এমা গ্যাটি ও মার্ক লিন্ডার স্টারলিংককে এই সময়ের সবচেয়ে বড় ‘জিওপলিটিক্যাল ডিসরাপ্টর’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। অর্থাৎ তারা বলছেন, বর্তমান ভূরাজনীতিতে এত বড় উথাল-পাথাল আর কোনো সংস্থাই ফেলতে পারেনি। আগামী দিনে স্টারলিংক জেন-থ্রি স্যাটেলাইটের সাহায্যে যখন ১ টেরাবিট-পার-সেকেন্ড (টিবিপিএস) গতিতে সারা দুনিয়ায় ইন্টারনেট দিতে পারবে- তখন পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি দেশই ‘ক্লায়েন্ট স্টেট’ বা অধিক ক্ষমতাশালীর ওপর নির্ভরশীল রাষ্ট্রে পরিণত হবে বলেও এই গবেষকরা পূর্বাভাস দিয়েছেন। ইতালির উদাহরণ দিয়ে তারা বলছেন, এ বছরের গোড়ার দিকে যখন ব্লুমবার্গ খবর প্রকাশ করে ইতালি তাদের দেশে স্টারলিংকে ১৫০ কোটি ইউরো বিনিয়োগ করার কথা ভাবছে- তখন ইউরোপের মহাকাশ গবেষণা মহলে রীতিমতো ত্রাহি ত্রাহি রব পড়ে গিয়েছিল! ওই নিবন্ধে মন্তব্য করা হয়েছে, ইউরোপের নিজস্ব কানেক্টিভিটি প্রকল্প ‘আইরিস-টু’ যখন অনেক বাধা-বিপত্তির পর অবশেষে প্রায় শেষের পথে- তখন সেই ইউরোপেরই একটি বৃহৎ অর্থনীতি যদি সেটাকে ছেড়ে মার্কিন একটি বেসরকারি কোম্পানিতে আস্থা রাখে তখন তাদের প্রভাব প্রতিপত্তি কতোটা তা বুঝতে অসুবিধা হয় না! এদিকে গত মাসেও যখন ইউক্রেনের ‘রেয়ার আর্থ’ খনিজদ্রব্যে অধিকার পাওয়ার জন্য মার্কিন কর্মকর্তারা তাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা চালাচ্ছিলেন, তখন দরকষাকষির অংশ হিসেবে ইউক্রেন থেকে স্টারলিংক পরিষেবা প্রত্যাহার করার হুমকি দেয়া হয়েছিল বলে রয়টার্স জানিয়েছে। অথচ যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনে অবকাঠামো এখন সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত-তাদেরই এখন স্টারলিংক সবচেয়ে বেশি দরকার! ফলে ইলন মাস্কের স্টারলিংককে যে গ্লোবাল জিওপলিটিক্সে একটি নতুন হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। এই পটভূমিতেই ভারত সরকারের তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের একজন শীর্ষস্থানীয় বিশেষজ্ঞ বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন, “সব দেখেশুনে মনে হচ্ছে ইলন মাস্কই হলেন আমেরিকার নতুন ‘ডিফেন্স কন্ট্রাক্টর’- বা প্রতিরক্ষা ঠিকাদার!” তিনি যুক্তি দিচ্ছেন, এতদিন আমেরিকার বিভিন্ন কোম্পানি সারা দুনিয়ায় অস্ত্রশস্ত্র, সাবমেরিন বা যুদ্ধজাহাজ বেচে তাদের ‘ক্লায়েন্ট স্টেট’ বানাতো- আর এখন ঠিক সেই কাজটাই করা হচ্ছে স্টারলিংক পরিষেবা বেচে। বস্তুত বিশ্বের এমন বহু দেশেই স্টারলিংক বড় বাজার তৈরি করতে পেরেছে, যেখানে ব্রডব্যান্ড কেবল বা টাওয়ার নেটওয়ার্ক যথেষ্ট ভালো- দুর্গম বা প্রত্যন্ত এলাকা ততটা নেই। ফলে আপাতদৃষ্টিতে স্টারলিংকের তেমন চাহিদা থাকার কারণ নেই, কিন্তু তবু সে সব দেশেও তাদের গ্রাহক বাড়ছে। যুক্তরাজ্য বা বৃটেন এর একটা বড় উদাহরণ, যা থেকে বোঝা যায় কোনো দেশে স্টারলিংকের প্রবেশ আসলে যতটা না ‘কানেক্টিভিটি’ সংক্রান্ত, তার চেয়ে অনেক বেশি ‘স্ট্র্যাটেজিক’ সিদ্ধান্ত। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে আমেরিকার নতুন প্রশাসনে ব্যক্তি ইলন মাস্কের সাংঘাতিক প্রভাব ও ক্ষমতা। নির্বাচনী প্রচারণার সময় থেকেই তিনি শুধু ডনাল্ড ট্রাম্পের ডান হাত নন, মি. ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে আসার পর থেকে ইলন মাস্কই প্রশাসনে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ক্ষমতাশালী ব্যক্তি। ওয়াশিংটনে ভারতের রাষ্ট্রদূত ছিলেন, এমন একজন সাবেক কূটনীতিবিদের কথায়, “ভারতই বলি বা বাংলাদেশ, কিংবা ধরা যাক থাইল্যান্ড- যারাই ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সুসম্পর্ক চাইবে তারা যে ইলন মাস্ককেও সন্তুষ্ট করতে চাইবেন এর মধ্যে তো কোনো রকেট সায়েন্স নেই!” ফলে এই সব দেশে স্টারলিংকের আসন্ন প্রবেশের নেপথ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নত করার তাগিদেরও ভূমিকা আছে বলেই অনেকে মনে করছেন। গত মাসে হোয়াইট হাউসের এক সংবাদ সম্মেলনে যখন ইলন মাস্ক ও নরেন্দ্র মোদির বৈঠক নিয়ে জানতে চাওয়া হয়েছিল, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জবাব দেন, “হ্যাঁ, ও (মাস্ক) বোধহয় ভারতে কী সব ব্যবসা-ট্যাবসা করতে চাইছে!” আবার বিবিসি বাংলার সঙ্গে সামপ্রতিক এক সাক্ষাৎকারে যখন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল নতুন মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টাতেই ইলন মাস্ককে আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে কিনা, তিনি কিন্তু সরাসরি সেটা মানতে চাননি। ওই সাক্ষাৎকারে মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, “না, এটা মূলত ছিল স্টারলিংক নিয়ে- ব্যবসায়িক সম্পর্কের একটা বিষয় ছিল। সে বিষয়েই আমরা আলাপ করেছি, যে স্টারলিংকের কানেকশনটা আমরা নিতে চাই।”
জাতীয় নিরাপত্তা হুমকিতে পড়বে?
এয়ারটেল ও জিও’র সঙ্গে সমঝোতার ঘোষণার পর ভারতে স্টারলিংক পরিষেবা পাওয়াটা এখন আর অল্প কিছু সময়ের অপেক্ষা বলেই মনে করা হচ্ছে। তবে ঘটনা হলো, বহু চেষ্টা করেও এতদিন কিন্তু স্টারলিংক ভারতে ব্যবসা করার অনুমোদন পায়নি। ভারতে একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্টারলিংক নিজেদের নথিভুক্ত করেছিল সেই ২০২১ সালের নভেম্বর মাসেই। এর কয়েকদিন পরেই কেন্দ্রীয় সরকার একটি বিবৃতি দিয়ে ঘোষণা করে, এই কোম্পানি কিন্তু এখনো ব্যবসা করার প্রয়োজনীয় লাইসেন্স পায়নি- কাজেই সাধারণ মানুষ এদের সঙ্গে কোনো চুক্তি না করলেই ভালো করবেন। বস্তুত স্টারলিংককে নিয়ে ভারতে যাবতীয় সন্দেহ বা অবিশ্বাসের মূলে আছে এই প্রশ্নটাই- এই স্যাটেলাইট-নির্ভর পরিষেবা জাতীয় নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলবে না তো? দিল্লিতে তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের ওই বিশেষজ্ঞের কথায়, “ঠিক যে কারণে টিকটক-সহ অনেকগুলো চীনা অ্যাপকে ভারতে নিষিদ্ধ করা হয়েছে, বলতে পারেন অনেকটা একই কারণে স্টারলিংককে এতদিন এ দেশে ঢুকতে দেয়া হয়নি।” এর মাঝে গত ডিসেম্বরেই ভারতের এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টোরেটের কর্মকর্তারা জানান, মাদকবিরোধী একটি অভিযানে গিয়ে তারা চোরাকারবারিদের কাছ থেকে স্টারলিংকের ডিভাইস উদ্ধার করেছেন। কয়েক সপ্তাহ পরেই ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুর থেকে খবর আসে, সেখানে চলমান গৃহযুদ্ধে বেশ কয়েকটি সশস্ত্র গোষ্ঠী পাচার করে আনা স্টারলিংক ডিভাইস ব্যবহার করছে। মণিপুরে উদ্ধার করা অস্ত্রশস্ত্রের যে ছবি ভারতের নিরাপত্তা বাহিনী প্রকাশ করেছিল, তাতে একটি স্টারলিংকের ডিভাইসও দেখা যায়। এক্স হ্যান্ডেলে সেই ছবির জবাব দিয়ে ইলন মাস্ক অতঃপর লেখেন, “এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা। ভারতের আকাশে স্টারলিংকের স্যাটেলাইট বিম সুইচ অফ করা আছে।” তবে যেকোনো কারণেই হোক, স্টারলিংককে ঘিরে ভারতের সরকারি মহলে সন্দেহ ও সংশয় আপাতত অনেকটাই কেটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। “এর একটা কারণ হতে পারে স্টারলিংক ভারতে তাদের যন্ত্রপাতি কিন্তু নিজেরা বেচবে না, এগুলো বিলি করা হবে এয়ারটেল ও জিও’র মতো দুটো ভারতীয় কোম্পানির মাধ্যমে। ভারতে স্টারলিংকের নিজস্ব কোনো গ্রাহকও থাকবে না, এরা হবেন ওই দুটি কোম্পানির গ্রাহক।” “আমি অনুমান করছি স্টারলিংকের ডিভাইসে এখানে একটা কোনো বাড়তি সফটওয়্যার যোগ করা হবে, যাতে ডেটা মনিটরিং করার একটা সুযোগ থাকে। এটা যদিও সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া, তবে হতেই পারে সেই কাজও অনেক দূর এগিয়ে গেছে”, বিবিসিকে বলছিলেন দিল্লির একজন নামি ইন্টারনেট প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ। প্রসঙ্গত, ভারতের প্রতিবেশী বাংলাদেশ কিন্তু সে দেশে স্টারলিংক আনার পক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে বলছে- এর মাধ্যমে মুক্ত ইন্টারনেটের অধিকারই আরও জোরালো হবে। বাংলাদেশ সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম গত ২৫শে ফেব্রুয়ারি এক ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন, ভবিষ্যতে সরকারগুলো যাতে কোনো অজুহাতে ইন্টারনেট বন্ধ করে দিতে না পারে, তা নিশ্চিত করতেই স্টারলিংককে বাংলাদেশে ডাকা হয়েছে। তিনি আরও লেখেন, “বাংলাদেশে স্টারলিংকের আসার অর্থ হচ্ছে, ভবিষ্যতে এ দেশে কোনো সরকার ইন্টারনেট পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে পারবে না। অন্তত নতুন কোনো ইন্টারনেট বন্ধের চেষ্টার আঘাত বিপিও ফার্ম, কল সেন্টার ও ফ্রিল্যান্সারদের ওপর আসবে না।” তবে সমপ্রতি ইউক্রেনে আমেরিকার হুমকির মধ্যে এটা পরিষ্কার হয়ে গেছে, একটা দেশে স্টারলিংকের থাকা-না থাকা শুধু সে দেশের সরকারের ইচ্ছা-অনিচ্ছার ওপর নির্ভর করবে না- আমেরিকাও সেখানে অবধারিত প্রভাব খাটাতে চাইবে।
স্টারলিংক পরিষেবার খরচ কেমন পড়বে?
তবে যাবতীয় ভূরাজনৈতিক বা নিরাপত্তাগত কচকচির বাইরে গিয়ে ভারত বা বাংলাদেশের সাধারণ একজন গ্রাহক হয়তো সবার আগে জানতে চাইবেন, স্টারলিংক পরিষেবা নিতে চাইলে খরচ কতো হবে? সেটা কি আদৌ আমার বাজেটের নাগালে হবে? এক কথায় এর উত্তর দেয়া কঠিন- কারণ এই বাজারগুলোতে স্টারলিংকের ‘প্রাইস পয়েন্ট’ ঠিক কী হবে সেটা এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি, আর তা ছাড়া বিশ্বের এক একটা বাজারে তাদের পরিষেবার খরচও এক এক রকম। বিশ্বের যে একশ’টিরও বেশি দেশে স্টারলিংক এখন চালু আছে, সেখানে তাদের মান্থলি সাবস্ক্রিপশন প্ল্যানগুলোর খরচ ১০ ডলার থেকে শুরু করে ৫০০ ডলার পর্যন্ত হয়ে থাকে। আফ্রিকায় খরচ অনেক কম, ইউরোপের তুলনায় অনেক বেশি। তবে এটি আনলিমিটেড নয়। এর সঙ্গে এককালীন খরচ দিয়ে স্টারলিংকের হার্ডওয়্যারও (ডিভাইস) গ্রাহককে কিনতে হয়, যার খরচ ২৫০ ডলার থেকে ৩৮০ ডলারের মতো পড়ে। সেই জায়গায় তুলনা করলে দেখা যাবে ভারতের টেলিকম কোম্পানিগুলো অনেক সস্তায় ‘হোম ব্রডব্যান্ড’ প্ল্যান অফার করে থাকে, যার খরচ মাসে মাত্র ৫ ডলার (৪৫০ রুপি) বা ৭ ডলার (৬০০ রুপি) থেকে শুরু। হাইস্পিড প্রিমিয়াম প্ল্যানের খরচ অবশ্য চার বা পাঁচ হাজার রুপিও হতে পারে। তার ওপর স্টারলিংকের ডেটা ব্যবহারে একটা ঊর্ধ্বসীমা আছে, কিন্তু ভারতে রিলায়েন্স জিও বা এয়ারটেলের বেশির ভাগ প্ল্যানই ‘আনলিমিটেড’। ফলে ভারতের মতো একটি ‘প্রাইস-সেনসিটিভ’ বা দাম-সচেতন বাজারে সফল হতে গেলে স্টারলিংককে খুবই প্রতিযোগিতামূলক দামে প্ল্যান অফার করতে হবে। তবে এই বাজারে প্রবেশ করাটাই যদি তাদের মূল লক্ষ্য হয়, ব্যবসা বাড়ানো নয়- তাহলে অন্য কথা। যেমন আফ্রিকার যে ১৬টি দেশে এই মুহূর্তে স্টারলিংক চালু আছে, তার মধ্যে ৫টিতেই আবার তাদের মান্থলি সাবস্ক্রিপশনের খরচ সে দেশের প্রধান ফিক্সড ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারের তুলনায় কম। হিমালয়ের কোলে ভুটানে স্টারলিংক সদ্যই পরিষেবা চালু করেছে- সেখানে আবার রয়েছে তাদের দুটি প্ল্যান। ‘রেসিডেন্সিয়াল লাইট’ প্ল্যানের খরচ মাসে ৩০০০ ন্যু (৩০০০ রুপি), কিন্তু তাতে অফুরন্ত ডেটা ব্যবহারের সুযোগ নেই। ‘স্ট্যান্ডার্ড’ প্ল্যান নিলে আবার মাসে ৪২০০ ন্যু (৪২০০ রুপি) দিয়েই গ্রাহক আনলিমিটেড ইউসেজ পাবেন। সোজা কথায়, দামের ক্ষেত্রে স্টারলিংক এক এক দেশে পরিস্থিতি অনুযায়ী এক এক ধরনের মডেল ব্যবহার করে থাকে। ভারতে বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, এদেশে স্টারলিংকের খরচ প্রতিষ্ঠিত টেলিকম জায়ান্টদের তুলনায় অনেকটাই বেশি হবে, স্টারলিংকের ডেটা স্পিডও কম থাকবে। অন্যভাবে বললে, এ দেশের দুর্গম ও ‘আন্ডারসার্ভড’ (যেখানে ক্যাবল বা টাওয়ার নেই) এলাকাগুলোতে পৌঁছানোই হবে স্টারলিংকের প্রধান লক্ষ্য- জিও বা এয়ারটেলের ব্রডব্যান্ড সার্ভিসকে তারা সেভাবে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারবে না।

BNM Special
BNM Archive
BNM Archive
-
▼
2026
(1965)
-
▼
September
(172)
-
▼
Sep 16
(13)
- ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে গোলাবারুদের ঘাটতি, পেন্ট...
- উত্তরপ্রদেশে স্কুলের সামনে মুসলিম শিক্ষককে গুলি কর...
- সৌদির যুদ্ধবিমান ভূপাতিতের দাবি, মক্কায় হামলার অভি...
- ইয়েমেনের সঙ্গে এখনই সংঘাতে জড়াতে চায় না যুক্তরাষ্ট্র
- ইউরোপে রাজনীতিতে অংশগ্রহণ বাড়ছে মুসলিমদের
- গাজায় ধসের ঝুঁকিতে প্রায় ২ হাজার ভবন, ধ্বংসস্তূপে ...
- মারিবে সৌদির এফ-১৫ ভূপাতিতের দাবি হুতিদের, মক্কামু...
- যে প্রকল্পে বদলে গেল ওদের জীবন by রোকনুজ্জামান পিয়াস
- ধ্বংসস্তূপে থাকা মৃতদেহের প্রতি অসম্মান দেখাচ্ছে ই...
- তেলের জন্য সৌদির বিকল্প উৎস খুঁজছে ইউরোপের ক্রেতারা
- মক্কা অভিমুখে ড্রোন হামলায় ওআইসির নিন্দা, অস্বীকার...
- ‘দর্শক আবার ধারাবাহিক নিয়ে কথা বলছে’
- পশ্চিমবঙ্গে ইসলামি অভিবাদন জানানোর জেরে বিতর্ক, না...
-
▼
Sep 16
(13)
-
▼
September
(172)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (129)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...










