Showing posts with label শহিদুল ইসলাম. Show all posts
Showing posts with label শহিদুল ইসলাম. Show all posts

Saturday, August 8, 2015

মানবসভ্যতার অগ্রযাত্রা by শহিদুল ইসলাম

সামাজিক প্রয়োজন ও তা সম্পাদনের লক্ষ্য শিক্ষা। মানুষের ধারাবাহিক অস্তিত্ব রক্ষার জন্য শিক্ষা অপরিহার্য। সে শিক্ষা প্রাতিষ্ঠানিক হতে পারে কিংবা অপ্রাতিষ্ঠানিক হতে পারে। শিক্ষার মূল প্রেরণা হলো অভিজ্ঞতা। তবে অভিজ্ঞতাকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। সচেতন ও অসচেতন অভিজ্ঞতা। সচেতন অভিজ্ঞতা ও অসচেতন অভিজ্ঞতার মধ্যে পার্থক্য হলো, সচেতন অভিজ্ঞতা প্রগতিশীল। আর অসচেতন অভিজ্ঞতা কোনো এক বিন্দুতে এসে স্থবির হয়ে পড়ে। এখানেই প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সঙ্গে শিক্ষাবিহীন  অভিজ্ঞতার পার্থক্য রচিত হয়। অভিজ্ঞতার নতুন নতুন ব্যাখ্যার মাধ্যমেই মানব সভ্যতা এগিয়ে চলে। সেই ব্যাখ্যা করার ক্ষমতা অর্জনের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার যাত্রা শুরু হয়। যারা সেই ক্ষমতা অর্জন করে তারাই শিক্ষিত-তারাই শিক্ষক-তারাই মানুষকে জ্ঞানদানের অধিকারী। এরা অভিজ্ঞতাকে নতুন নতুন ব্যাখ্যা দান করতে পারেন। তারাই প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা-ধারা গড়ে তোলেন। ভারতের নালন্দা, তক্ষশিলা, বাংলাদেশের ময়নামতি, মহাস্থানগড় প্রাচীনতম শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান। ইউরোপের সোফিস্টরাই হলো প্রথম পেশাজীবী শিক্ষক। শিক্ষা পরিকল্পিতভাবে প্রগতিশীল। সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের সম্মতিতে গড়ে ওঠে সে শিক্ষা কিন্তু যারা পুরনো প্রতিষ্ঠিত সমাজ-কাঠামো, আচার-আচরণ বহাল রাখার পক্ষে, শিক্ষার প্রগতিশীল দর্শন অবশ্যই তাদের বিরোধিতা করে। শিক্ষার সঙ্গে স্বাধীনতার সম্পর্ক অতি নিবিড়। তাই প্রগতিশীল শিক্ষার জন্য তখন এমন একটা সমাজ-কাঠামো প্রয়োজন হয় যাকে সাধারণত গণতান্ত্রিক সমাজ বলা যায়। কারণ সে সমাজে-মানুষ স্বাধীনভাবে তার মত প্রকাশ করতে পারেন। সে সমাজে উচ্চতর শ্রেণীর নিয়ন্ত্রণে পুরনো অভ্যাস, পুরনো চিন্তা স্থান করে নিতে পারে না। নতুনের ধাক্কায় পুরনো অভ্যাসগুলো ভেসে যায়। এটা শিক্ষার  দার্শনিকদের দর্শনের কথা। বাস্তবে আজ সে সমাজের অস্তিত্ত্ব দেখা যায় না। পৃথিবীতে বড় বড় বৈপ্লবিক পরিবর্তনের সময় এ রকম সমাজের সন্ধান পাওয়া যায়। এ প্রসঙ্গে লেবাননের কবি কাহ্লিল জিবরানের ‘দি প্রফেট’ কবিতার একটি পঙ্ক্তির কথা মনে পড়ে। ‘জীবন কখনও পিছনের দিকে যায় না কিংবা জীবন আলকাতরা লেপা গতকালও নয়।’ তাই শিশুদের শিক্ষা সম্পর্কে উক্ত কবিতায় তিনি বলেন, শিশুদের ‘আত্মা আগামীকালের মাঝে বাস করে, যা তোমরা কখনও পরিভ্রমণ করতে পার না, তোমাদের স্বপ্নেও নয়।’
গণতান্ত্রিক সমাজও অপরিবর্তনীয় কোনো সমাজ-কাঠামো নয়। আজকের গণতান্ত্রিক সমাজ এক সময় তার গণতান্ত্রিক চরিত্র হারায়। তেমনি আজকের প্রগতিশীল শিক্ষাও এক সময় তার প্রগতিশীল চরিত্র হারায়। তখন শিক্ষা অতীতের পৌনঃপুনিকতায় পর্যবসিত হয। পুরনো দর্শন, পুরনো আচার-আচরণ আঁকড়ে ধরে। শিক্ষা তখন নতুন জ্ঞান সৃষ্টিতে অক্ষম হয়ে পড়ে। শিক্ষিত শ্রেণী অর্থাৎ শিক্ষক শ্রেণীও তার প্রগতিশীল চরিত্র হারিয়ে গতানুগতিকায় গা ছেড়ে দেয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষা পলায়ন করে। পুরনো চিন্তার ভারে ন্যুব্জ শিক্ষক নতুন জ্ঞানের আবির্ভাবকে যেন ভয় করে। মেলবন্ধন ঘটে যায় পরিবর্তনবিরোধী শাসক শ্রেণীর সঙ্গে শিক্ষকদের। এ প্রসঙ্গে পাওলো ফ্রেইরির পেডাগগি অব দি অপপ্রেসড্ (Pedagogy of the Oppressed) বইটি পড়তে বলব। প্লেটো (৪২৮-২৭ খ্রিঃ পূঃ-৩৪৭ খ্রিঃপূঃ) থেকে পাওলো ফ্রেইরির শিক্ষার দর্শনের ধারাবাহিকতা প্রমাণ করে যে সমাজ বদলের ইতিহাসের সঙ্গে শিক্ষা বদলের ইতিহাস অঙ্গাঙ্গিভাবে সম্পর্কিত। শিক্ষার জন্য যেমন একটি গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার প্রয়োজন তেমনি একটি সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক সমাজ গড়ে তোলায় শিক্ষারও একটি বিশেষ ভূমিকা আছে।
মানবসভ্যতার অগ্রযাত্রাদুই, শিক্ষার এ প্রগতিশীল ভূমিকার জন্য অভিজ্ঞতার মূল্যায়ন ও পুনর্মূল্যায়নের এক অবিচ্ছিন্ন ধারা গড়ে তোলা জরুরি। তার ফলে ব্যক্তির ব্যাখ্যা করার ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং বিভিন্ন পদ্ধতি অনুসরণ করে তার বিষয়ে তিনি ক্রমেই পারদর্শী হয়ে ওঠেন। মানুষে মানুষে বিভেদ ও বুদ্ধিবৃত্তিক স্বাধীনতার অভাব মানবসভ্যতার অগ্রযাত্রার জন্য প্রধান বাধাই নয় শুধু এই বিভেদ ও স্বাধীনতাহীনতা একদিন হয়তো মানবজাতিকে ধ্বংস করে দিতে পারে। বৈজ্ঞানিক-প্রাযুক্তিক বিপ্লব যে দ্রুতগতিতে সমাজের রূপান্তর ঘটাচ্ছে এবং মানুষের দীর্র্ঘদিনের বিশ্বাস-অবিশ্বাস, চিন্তাচেতনাকে দ্রুততর গতিতে পরিবর্তিত করছে, তা যেমন একদিকে সম্ভাবনাময়, একই সঙ্গে তা ভয়ঙ্করও বটে। বিশেষ করে বর্তমান বিশ্বে যখন মানুষে মানুষে বৈষম্যের পাহাড় ক্রমবৃদ্ধিমান, শ্রেণী মেরুকরণ আকাশচুম্বী এবং কথা বলা ও বুদ্ধিবৃত্তিক স্বাধীনতা সাংঘাতিকভাবে খর্বিত তখন সচেতন মানুষ মানব সভ্যতার ভবিষ্যত নিয়ে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। বিশ শতকের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিক বিপ্লবের সুফল যদি মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেয়া যেত, তাহলে মানুষে মানুষে বৈষম্যের দেয়ালটা ভেঙ্গে পড়ত, দু’বেলা দুমুঠো খাবারের জন্য কাউকে ভিক্ষাবৃত্তি করতে হতো না, কিংবা মেয়েদের দেহব্যবসায় নামতে হতো না, প্রতিটি মানুষের জন্য একটি করে ছোট বাড়ির ব্যবস্থা করা যেত; প্রতিটি বিদ্যালয়গামী শিশুকে স্কুলে পাঠানো সম্ভব হতো; প্রত্যন্ত অঞ্চলের সঠিক খবরটি দ্রুততম সময়ে প্রতিটি মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া যেত। কিন্তু ঘটেছে ঠিক এর উল্টোটি। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নয়ন শ্রেণীবিভাজনকে আকাশচুম্বী করে তুলেছে এবং শাসক শ্রেণী উন্নত যোগাযোগ মাধ্যমগুলোকে নিজেদের করায়ত্ত করে ফেলেছে। অবাধ যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর তাদের কড়া নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। ফলে রাজনৈতিক কাঠামো হিসেবে গণতন্ত্র আজ ভেঙে পড়েছে, অর্থনৈতিকভাবে গণতন্ত্র আজ মানুষের মুক্তি নিশ্চিত করার ক্ষমতা হারিয়েছে; ফলে গণতন্ত্র আজ তার ‘গণ’ চরিত্র হারিয়েছে। পৃথিবীর তথাকথিত গণতান্ত্রিক দেশগুলোতে ‘সংসদ ভবন’ আজ শাসক শ্রেণীর ডিবেটিং ক্লাবে পরিণত হয়েছে।
কিন্তু পৃথিবীর সকল মানুষ দারিদ্র্য থেকে মুক্তি চায়; উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে পৃথিবীর কোথায় কি ঘটছে মানুষ তা জানতে চায়; মানুষ আজ প্রতিটি শিশুকে স্কুলে পাঠাতে চায়; প্রতিটি মানুষের মাথার ওপর একটি ছাদের ব্যবস্থা করতে চায়; প্রতিটি মানুষ ঘরে ঘরে উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা পৌঁছে দিতে চায়; প্রতিটি শিক্ষিত ব্যক্তি তার বুদ্ধিবৃত্তিক স্বাধীনতা দাবি করে ; উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও গবেষণাগুলোতে মানুষ স্বাধীনভাবে পাঠগ্রহণ ও পাঠদান এবং গবেষণার কাজে মনোনিবেশ করতে চায়। মানুষ একদিকে যেমন সন্ত্রাসবাদ, ধর্মান্ধতা ও স্বৈরতন্ত্র, বর্ণবাদ, চণ্ডবাদ (fascism)  ঘৃণা করে অপর পক্ষে তারা একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ কাঠামো ও বুদ্ধির স্বাধীনতা দাবি করে। বুদ্ধিবৃত্তিক স্বাধীনতা অর্থ মত প্রকাশের স্বাধীনতা। মানব সমাজের অগ্রযাত্রার জন্য একটি অপরিহার্য শর্ত। এর অর্থ মত পোষণ ও তা প্রকাশ করা, তথ্য পাওয়া এবং তা প্রচার করা, মুক্ত চিন্তার অবাধ চলাচল; নির্ভয়ে তর্কে লিপ্ত হওয়া এবং সরকারি ও আমলাতান্ত্রিক বাধা-বিপত্তির বিরুদ্ধে বুদ্ধিজীবীরা নির্ভয়ে সত্যের সন্ধান করতে পারবেন এবং সে সত্য নির্ভয়ে প্রচার করতে পারবেন, তার গ্যারান্টি চায়। স্বাধীনতাই কেবল রাজনীতি, অর্থনীতি ও সংস্কৃতিসহ জীবন ও সমাজের যাবতীয় বিষয়ে মানুষকে উপযুক্ত করে তোলে। চিন্তার স্বাধীনতাই কেবল একজন ভালো রাজনীতিবিদ, অর্থনীতিবিদ, শিক্ষক, চিত্র ও সংগীত পরিচালক, সাংবাদিক, আইনজীবীর জন্ম দিতে পারে। চিন্তা যখন বিভিন্ন ধর্মের কারাগারে বন্দি ছিল, তখন কোনো জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চা সম্ভব হয়নি। চিন্তার অবাধ স্বাধীনতা প্রথম যুগে গ্রিক-রোমান সভ্যতার জন্ম দিয়েছিল। বর্তমানে পশ্চিমা সভ্যতার জন্মের শুরু ইতালির রেনেসাঁ থেকে। ধর্ম-সংস্কার আন্দোলন ও শিল্প বিপ্লবের মাধ্যমে সেখানে ধর্মীয় কারাগারের প্রাচীর ভেঙে পড়ে এবং চিন্তার স্বাধীনতা পুনর্প্রতিষ্ঠা পায়। চিন্তা ও আলোচনা-সমালোচনার অবাধ স্বাধীনতা পশ্চিমা সভ্যতার উত্থানের একটি প্রধান শর্ত ছিল।
কিন্তু ‘গণতান্ত্রিক’ বলে দাবিদার উন্নত দেশগুলোতেও চিন্তার স্বাধীনতা আজ হুমকির সম্মুখে পড়েছে। সতেরো ও আঠারো শতকের ইংল্যান্ডের ক্যামব্রিজ ও অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো পৃথিবীর বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আজ প্রতিক্রিয়ার দুর্গে পরিণত হয়েছে। গবেষণাগারগুলোতে বিশেষ উদ্দেশ্য সামনে রেখে গবেষণা পরিচালিত হচ্ছে। শিক্ষা-গবেষণায় আজ স্বাধীনতা নেই। সমাজ ও মানুষ সংক্রান্ত গবেষণা তো বটেই, প্রকৃতির গবেষণাও আজ শাসক শ্রেণীর নিয়ন্ত্রিত। গবেষণায় আজ রাষ্ট্রের তেমন ভূমিকা নেই।
তাই রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে শিক্ষা ও গবেষণায় সামান্য অর্থ বরাদ্দ করা হয়। তার দায়িত্ব আজ কতিপয় বড় কর্পোরেট ও বহুজাতিক কোম্পানির নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। প্রথমত, শাসক শ্রেণী; দ্বিতীয়, মুক্ত চিন্তার শত্রু; কুসংস্কারাচ্ছন্ন ও ধর্মান্ধ গণমানুষের সাংস্কৃতিক চেতনা; তৃতীয়, অর্থনীতি ও সংস্কৃতি সম্বন্ধে উদাসীন আত্মকেন্দ্রিক ভাবাদর্শ এবং  একটি ক্ষুদ্র আমলাতান্ত্রিক বন্ধনে আবদ্ধ জীবাশ্মভূত কুসংস্কার এবং ভাবাদর্শিক সেন্সরশিপ, যা আমলাতন্ত্রের শক্তিশালী হাতিয়ার। এরাই আজ মানবজাতির মিত্র নয়।
লেখক : শিক্ষাবিদ ও দার্শনিক

Friday, February 8, 2013

রাজনৈতিক আন্দোলনের পথপ্রদর্শক ভাষা by শহিদুল ইসলাম

আমাদের স্বাধীনতাসংগ্রামে ভাষার প্রশ্নটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। বলা যায়, বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে কেন্দ্র করেই আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম শুরু হয়। তাই ভাষা ও তদসংক্রান্ত বিষয়ে একটু বিস্তারিত আলোচনা করা প্রয়োজন।

Monday, January 7, 2013

১০০ বিজ্ঞানীর সতর্কবার্তা এবং খাদ্যাভাবের শঙ্কা by শহিদুল ইসলাম

সম্প্রতি কালের কণ্ঠে পৃথিবীর ১০০ বিজ্ঞানীর একটি সতর্কবার্তা প্রকাশিত হয়েছে। বহুমাত্রিক সে সতর্কবার্তাটি চুলচেরা বিশ্লেষণের দাবি রাখে। আজকের দিনেও যখন আমরা বর্তমান সভ্যতার জয়গানে মাতাল, বিশ্বকে ২০২৫ সালের মধ্যে ক্ষুধামুক্ত বিশ্বে পরিণত করব বলে বড় বড় বই লিখে নোবেল পুরস্কার

Saturday, August 4, 2012

সত্যেন বোস ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রসঙ্গে কিছু কথা by শহিদুল ইসলাম

এক. পৃথিবীর যে প্রান্তেই যান, বাতাসে কান রাখলেই দুটি নাম জোরেশোরে শোনা যাবে। হিগস ও বোস। তাঁদের সাম্প্রতিক আবিষ্কার নিয়ে বিশ্বের মানুষের আজ কৌতূহলের শেষ নেই। দুজনই আজ আলোচনার কেন্দ্রে স্থাপিত হয়েছেন। তবুও বোসের ব্যাপারটা আলাদা। তিনি আমাদের ঘরের মানুষ।

Thursday, July 5, 2012

মিসরের গণ-আন্দোলন ও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান by শহিদুল ইসলাম

মধ্যপ্রাচ্যের কোনো দেশেই গণতন্ত্র নেই। প্রতিটি দেশে মানুষ মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। বছরের পর বছর অধিকারহারা সেই সব মানুষ যখন তাদের দেশের স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামে, তখন মানুষের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী মানুষ তাদের সে আন্দোলন সমর্থন না করে পারে না। তেমনি এক পরিস্থিতির জন্ম হয়েছে মিসরে।

Wednesday, July 4, 2012

মিসরের গণ-আন্দোলন ও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান by শহিদুল ইসলাম

মধ্যপ্রাচ্যের কোনো দেশেই গণতন্ত্র নেই। প্রতিটি দেশে মানুষ মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। বছরের পর বছর অধিকারহারা সেই সব মানুষ যখন তাদের দেশের স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামে, তখন মানুষের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী মানুষ তাদের সে আন্দোলন সমর্থন না করে পারে না। তেমনি এক পরিস্থিতির জন্ম হয়েছে মিসরে।

Monday, July 2, 2012

আমাদের সংবিধান ও চট্টগ্রাম ট্র্যাজেডি by শহিদুল ইসলাম

এক. চট্টগ্রামের বিয়োগান্ত পাহাড়ধসে মানুষের মৃত্যুতে প্রতিবছরের মতো এবারও এ দেশের মানুষ শোকাহত। যে কারণে প্রতিবছর পাহাড়ে ধস নামে এবং মানুষ মরে, প্রতিবছরের মতো এবারও তার বিচার-বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে। বিভিন্নজন তার মতো করে এর কারণ খোঁজার চেষ্টা করছেন। আমার প্রথমেই প্রশ্ন- এটা কি প্রাকৃতিক বিপর্যয়?

Monday, June 18, 2012

ধর্মীয় কুসংস্কার ও গোঁড়ামি প্রধানমন্ত্রীর উদ্বেগ by শহিদুল ইসলাম

৯ জুন রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে দুই দিনব্যাপী 'গ্রাম-আদালত' সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গ্রাম-আদালতের বিচারপ্রক্রিয়ার সময় একটি গুরুত্বপূর্ণ উপদেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, 'গ্রাম-আদালতে বিচারকাজ পরিচালনার সময় মনে রাখতে হবে, কারো দ্বারা প্রভাবিত হয়ে অন্যায়ভাবে কারো প্রতি অবিচার কিংবা ধর্মীয় কুসংস্কার ও গোঁড়ামিকে যেন প্রশ্রয় দেওয়া না হয়।' (সমকাল ১০-৬-২০১২)।

Sunday, June 10, 2012

সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস by শহিদুল ইসলাম

এক. ৯/১১-এর পর যুক্তরাষ্ট্র 'সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ' ঘোষণা করে এবং আন্তর্জাতিক আইন-কানুনের প্রতি কোনো রকম সম্মান না দেখিয়ে ওই সন্ত্রাসের জন্য আফগানিস্তান আক্রমণ করে। গত ১১ বছর ধরে আফগানিস্তানে 'সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ' চলছে। প্রশ্ন ওঠে, আমেরিকা কেন আফগানিস্তান আক্রমণ করল?

Tuesday, May 29, 2012

ইতিহাসের বৈধতা by শহিদুল ইসলাম

এক. পার্থে এসে ঢাকার মতোই জীবন যাপন করছি। কাজ একটাই_পড়া, সেই সঙ্গে কিছু লেখা। সপ্তাহের পাঁচ দিন মেয়ের বাসায় একা থাকি। কথা বলার মানুষ নেই। তাই সময় কাটানোর জন্য বইয়ের ওপর নির্ভরতা আরো বেড়েছে। মেয়ে এখানকার আদিবাসীদের ওপর গবেষণা করে। তাই তার বাড়িতে আদিবাসীদের ওপর প্রচুর বই ও জার্নাল।

Friday, May 18, 2012

আন্তর্জাতিক নারী দিবস-এ দিবস কার? 'ওদের' না 'আমাদের'? by শহিদুল ইসলাম

আজ ৮ মার্চ ২০১১ বিশ্ব নারী দিবস। অস্ট্রেলিয়ার পার্থে বসে এটা উপলব্ধি করতে পারছি না। দেশে আজ দিবসটিকে ঘিরে প্রতিবছরের মতো এবারও যে অনুষ্ঠান, আলোচনা সভা-মিছিল হচ্ছে, এত দূরে বসে তা বোঝার কোনো উপায় নেই। কেবল ইন্টারনেটে আজ দৈনিকের পাতায় চোখ রাখলে তার কিছুটা আঁচ পাওয়া যায়।

Wednesday, May 9, 2012

হিলারির সফর : বাংলাদেশ ও পাকিস্তান by শহিদুল ইসলাম

এক. 'বাংলাদেশ বিশ্বের মডেল'- বলেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন। আর 'পাকিস্তান ব্যর্থ রাষ্ট্র'- বলেছেন মার্কিন কংগ্রেস সদস্য ডানা বোরাবাকার। মাত্র ৪০ বছর পর মার্কিন মূল্যায়নের কী পরিবর্তন? ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষিত হওয়ার পূর্বমুহূর্ত পর্যন্ত বাংলাদেশ পাকিস্তানেরই অংশ ছিল। ২৬ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর।

Saturday, May 5, 2012

প্রতিক্রিয়া-শিকড়ের সন্ধানে by শহিদুল ইসলাম

ছাত্র-শিক্ষক যদি ব্যক্তি ও দলীয় স্বার্থে সে দায়িত্ব থেকে সরে আসে, তাহলে আজকের অবস্থার সৃষ্টি হয়। তবে সব সংকটের মূলে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার দুর্বার আকাঙ্ক্ষা। বিশ্ববিদ্যালয়ের সংকট সমাধানে সরকারকে সেখান থেকে সরে আসতে হবে এক. স্নেহভাজন সুস্মিতা চক্রবর্তী একটা ভুল করে ফেলেছেন।

Thursday, May 3, 2012

বুড়ো ভোলানো ছড়া by শহিদুল ইসলাম

এক. 'ছেলে ভোলানো ছড়ায়' শিশুরা ভোলে, আর 'বুড়ো ভোলানো ছড়ায়' আমরা বুড়োরা ভুলি। গত আমেরিকার নির্বাচনে 'গণতান্ত্রিক দলের' প্রার্থী ওবামার কালো রং নামের সঙ্গে 'হোসেন' শব্দটির সম্পৃক্ততা এবং তাঁর 'যুদ্ধবিরোধী' প্রচারণায় আমরা বুড়োরা ভুলেছিলাম।

Thursday, April 26, 2012

কয়েকটি জরিপচিত্র by শহিদুল ইসলাম

মানুষের জীবনে ধর্মের প্রভাব বাড়ছে না কমছে, এ নিয়ে গবেষণা অনেকদূর এগিয়ে গেছে। গবেষকরা এ বিষয়ে দ্বিধাবিভক্ত। একপক্ষ বলছে বাড়ছে, অন্য পক্ষ বলছে কমছে। উভয় পক্ষই তাদের বক্তব্যের পক্ষে প্রচুর তথ্য-প্রমাণ হাজির করছে। কোনো পক্ষকেই ঝট করে নিজের বিশ্বাস অনুসারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

Tuesday, April 24, 2012

কোথায় চলেছে বাংলাদেশের রাজনীতি? by শহিদুল ইসলাম

এক. বাংলাদেশের সন্ত্রাসী অর্থনীতি ও রাজনীতি অবশেষে বাংলাদেশকে ধ্বংসের দোরগোড়ায় এনে দাঁড় করিয়েছে। বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ইলিয়াস আলীর হারিয়ে যাওয়া তার সর্বশেষ দৃষ্টান্ত। ইলিয়াস আলীর রহস্যজনক হারিয়ে যাওয়ার প্রকৃত কারণ জানা গেলে হয়তো এ বিষয়ে সর্বশেষ মন্তব্য করা যাবে।

Saturday, April 14, 2012

বৈশাখ ও সাংস্কৃতিক আগ্রাসন by শহিদুল ইসলাম

এক. মনে হচ্ছে ১৪১৮ বঙ্গাব্দটা খুব তাড়াতাড়িই চলে গেল। গত বছর নববর্ষে অনেক উপহার পেয়েছিলাম। পাঞ্জাবি, ফতুয়া, হাফ শার্ট ছাড়াও কিছু লেখার প্যাড ও খুব দামি একটি কলম, ফাউন্টেন পেন ও এর সঙ্গে একটি বল পেন। সেই উপহারগুলোর সব এখনও ব্যবহার করা হয়নি।

Monday, March 26, 2012

স্বাধীনতার ৪০ বছর প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি by শহিদুল ইসলাম

এক. পাকিস্তানের ভাবাদর্শ দ্বিজাতি তত্ত্বের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য সংস্কৃতি একটি প্রবল শক্তিধর অস্ত্র হয়ে উঠেছিল। সে লড়াইটা শুরু হয়েছিল পাকিস্তান সৃষ্টির আগে থেকেই। কিন্তু সে লড়াইয়ের পেছনে প্রচ্ছন্ন ছিল স্বাধীনতা। পরবর্তী রাজনৈতিক সংগ্রামের বিভিন্ন পর্যায়ে এই সত্যটাই সুপ্রকাশিত হয়েছিল।

Sunday, March 18, 2012

জলবায়ু পরিবর্তন ও বাংলাদেশ by শহিদুল ইসলাম

এক. ফ্রেডারিক সিটজ (Frederick Seity) একজন পদার্থবিজ্ঞানী। ১৯৬০ সালে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় একাডেমী অব সায়েন্সের সভাপতি ছিলেন। এককথায় তিনি একজন বিরাট মানুষ। ১৯৯৮ সালে তিনি বিশ্বের জলবায়ু পরিবর্তন এবং উঞ্চতা বৃদ্ধি সম্পর্কে এক বিরাট গবেষণা-প্রবন্ধ লেখেন 'ওরিগোন পিটিশন' নামে।

Tuesday, March 6, 2012

এবং নয়া সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন by শহিদুল ইসলাম

এক. গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১২ মঙ্গলবার কালের কণ্ঠের 'রাজনীতি' নামের ট্যাবলয়েডে মোহাম্মদ মেজবাহউদ্দিনের 'পদ্মা সেতু, বিশ্বব্যাংক ও একজন নোবেল লরিয়েট' শীর্ষক এক দীর্ঘ প্রতিবেদন খুব মনোযোগের সঙ্গে বারবার পড়লাম। প্রতিবেদক খুব পরিশ্রম করেছেন। লেখাটি আমার ভালো লেগেছে।