Tuesday, October 15, 2024
‘ইসরায়েলকে অস্ত্র দেওয়া বন্ধ হলে যুদ্ধও বন্ধ হবে’
পেদ্রো সানচেজ বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবিলম্বে ইসরায়েলে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করতে হবে, যেমনটা স্পেন করেছে। এর কারণ খুবই সহজ এবং পরিষ্কার: অস্ত্র না থাকলে যুদ্ধও হবে না। একই কারণে, আমি বিশ্বাস করি ইউরোপীয় কমিশন, যা আমাদের আমাদের ইউরোপীয় দেশগুলোকে প্রতিনিধিত্ব করে, তাদের অবিলম্বে সেই আনুষ্ঠানিক অনুরোধের জবাব দিতে হবে, যা স্পেন ও আয়ারল্যান্ড নয় মাস আগে দিয়েছিল। এবং যদি প্রমাণিত হয় যে ইসরায়েল মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে, তাহলে ইউরোপের উচিত তেল আবিবের সাথে করা মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্থগিত করা।
তিনি আরও বলেন, একই কারণে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে জাতিসংঘের সমর্থন আরও জোরদার করতে হবে। যেমনটি আপনারা জানেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী রোববার লেবাননে মোতায়েনকৃত জাতিসংঘের শান্তিরক্ষীদের প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন, যা ইসরায়েল ও লেবাননের মতো বৈরি দুটি দেশের মধ্যে শান্তি বজায় রাখার জন্য কাজ করছে। স্পেন দেশ শুধু শান্তিরক্ষী মিশনে নেতৃত্বই দেয় না, যেখানে জেনারেল লাজারো নেতৃত্ব দিচ্ছেন, বরং আমরা এই মিশনে ৬৫০ জন সৈন্যও পাঠিয়েছি। আমি তাদের সাথে সাক্ষাৎ করেছি, তারা অসাধারণ কাজ করেছেন এবং এখনও করছেন ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে শান্তি স্থাপন করতে। আমি এখান থেকেই বলতে চাই যে আমরা ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর গতকালের বিবৃতির তীব্র নিন্দা জানাই।
লেবানন থেকে শান্তিরক্ষী বাহিনী প্রত্যাহারের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে পেদ্রো বলেন, লেবানন থেকে শান্তিরক্ষী বাহিনী প্রত্যাহার করা হবে না। আমাদের আন্তর্জাতিক আইনানুগতার প্রতি যে প্রতিশ্রুতি রয়েছে, যা রেজলিউশন ১৭০১ অনুযায়ী নির্ধারিত, আজ আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, বিশেষ করে এখন যা ঘটছে তা দেখার পর। আমি আশা করি আমাদের আশপাশের অন্যান্য দেশগুলোও একই কাজ করবে। এখন সময় এসেছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জেগে ওঠার, দৃঢ়ভাবে কাজ করার। ইসরায়েলের জনগণের প্রতি আমাদের সহানুভূতি রয়েছে, তারা যা সহ্য করেছে, তা আমরা বুঝতে পারি, কিন্তু একটি সরকার বা একজন প্রধানমন্ত্রী, বিশেষ করে নেতানিয়াহুর, এই অঞ্চলে শক্তির মাধ্যমে একটি নতুন শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চায়। এর ফলে শুধু মধ্যপ্রাচ্যে বিশৃঙ্খলা ও ধ্বংস এবং বিশ্বের আরও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হবে। সুতরাং, দ্বিরাষ্ট্র সমাধান ছাড়া দীর্ঘস্থায়ী এবং ন্যায্য শান্তি আসবে না। আমি নিশ্চিত, প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর লক্ষ্য হল দুটি রাষ্ট্রের বিকল্প ও রাজনৈতিক সমাধানকে ধ্বংস করা।
ইউক্রেন যুদ্ধ প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, পুতিনের যুদ্ধ ইউক্রেনে এখনও চলছে। যেমন আমি বলেছি, যুক্তরাষ্ট্র ও চীন বিশ্ব নেতৃত্বের জন্য তীব্র প্রতিযোগিতায় লিপ্ত, এবং ইউরোপ তার জায়গা খুঁজছে। স্পষ্টতই বিশ্ব এখন এশিয়ার দিকে ঝুঁকছে, আর গ্লোবাল সাউথ তাদের ন্যায্য অংশের দাবি করছে। এটিই সেই বহুমুখী বিশ্ব, যেখানে গণতন্ত্রের অবস্থান এখন মারাত্মকভাবে বিপন্ন।
![]() |
| স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। ছবি : সংগৃহীত |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
‘পালাব না’ বলে কোথায় গেলেন ওবায়দুল কাদের, জানেন না আওয়ামী লীগ নেতারাও
রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত আওয়ামী লীগের এক জনসভায় অংশ নিয়ে ওবায়দুল কাদের যখন এ বক্তব্য দিচ্ছিলেন, তখন মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এরপর দেড় বছরে পদ্মা, মেঘনা ও যমুনায় অনেক পানি গড়িয়েছে। বিএনপির আন্দোলন নস্যাৎ করে গত ৭ জানুয়ারি একতরফা ভোট করে চতুর্থবারের মতো সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ। কিন্তু গত জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে পতন ঘটে আওয়ামী লীগ সরকারের। গত ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে দেশ ছাড়েন শেখ হাসিনা। ওবায়দুল কাদের কোথায়, তার কোনো হদিস নেই। শারীরিকভাবে আত্মগোপনে। নেই ভার্চ্যুয়াল দুনিয়াতেও। সরকার পতনের আগে যিনি প্রায় প্রতিদিন বক্তব্য-বিবৃতি দিতেন, গণমাধ্যমে প্রকাশের জন্য গত ২ মাস ১০ দিন ধরে তাঁর কোনো বক্তব্য-বিবৃতি নেই।
এর মধ্যে ওবায়দুল কাদেরের ‘পালাব না’ বক্তব্য নিয়ে গান তৈরি হয়েছে, যা ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। এ ছাড়া তাঁর নানা বক্তব্য নিয়ে ‘মিম’ হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। তাঁর বক্তব্যের ভিডিও নিয়ে ‘প্যারোডিও’ হচ্ছে।
সরকার পতনের পর শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের বেশির ভাগ নেতা দেশ ছেড়েছেন। তাঁদের বড় অংশই ভারতে অবস্থান নিয়েছেন বলে জানা গেছে। শুধু শীর্ষ নেতা নন, মাঝারি এবং সহযোগী সংগঠনের অনেক নেতাও ভারতে রয়েছেন বলে জানা গেছে। অনেক নেতা বিদেশে থেকে গণমাধ্যমকর্মী, দেশে-বিদেশে থাকা নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কমবেশি যোগাযোগ রাখছেন। গত প্রায় আড়াই মাসে বেশ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতার সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছে এই প্রতিবেদকের। তাঁদের কেউ ওবায়দুল কাদেরের অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য দিতে পারেননি। এমনকি ওবায়দুল কাদের কোনো নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন, এমন তথ্যও নেই কারও কাছে।
‘খেলা হবে’ বলে নিজেই লোকচক্ষুর আড়ালে
ওবায়দুল কাদেরের অবস্থান নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের মধ্যে নানা কথা প্রচলিত আছে। কেউ কেউ বলছেন, তিনি ৫ আগস্টেই যশোর সীমান্ত দিয়ে ভারতে চলে গেছেন। কারও কারও মতে তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থান করছেন। আবার কেউ কেউ ধারণা করছেন, তিনি দেশের ভেতরেই আত্মগোপনে আছেন।
ওবায়দুল কাদেরের ঘনিষ্ঠ একাধিক নেতা জানিয়েছেন, ৫ আগস্ট দুপুর পর্যন্ত ওবায়দুল কাদের ধানমন্ডি এলাকায় অবস্থান করছিলেন। এর পর থেকে তাঁর সঙ্গে কারও যোগাযোগ হয়েছে, এমন তথ্য নেই।
আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা দেশে ও বিদেশে থাকা অনেক নেতা-কর্মীর সঙ্গে ফোনে কথা বলছেন, এমন বেশ কিছু অডিও প্রকাশ পেয়েছে। দলের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ওবায়দুল কাদের কারও সঙ্গে কথা বলেছেন, এমন তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি। ৫ আগস্টের আগেও প্রায় প্রতিদিন দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে তিনি বৈঠক করে ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন। জাতীয় নির্বাচনের আগে বিরোধীদের আন্দোলনের সময় তিনি পাল্টা সভা-সমাবেশে নিয়ে মাঠে থেকে বক্তব্য দিয়েছেন। ‘খেলা হবে’ বলে আলোচনা-সমালোচনায় এসেছেন। কিন্তু তিনি নিজেই চলে গেলেন লোকচক্ষুর আড়ালে, এ নিয়ে চলছে নানা আলোচনা।
দলে কাদেরকে নিয়ে বিস্ময়
ওবায়দুল কাদেরের ঘনিষ্ঠ নেতারা বলছেন, ছাত্রজীবন থেকেই ওবায়দুল কাদের গণমাধ্যমের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বক্তব্য দিতে পারদর্শী ছিলেন। এক–এগারোর আগে দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক থাকা অবস্থায় বঙ্গভবনের অক্সিজেন বন্ধ করে দেওয়ার বক্তব্য দিয়ে আলোচনায় আসেন। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে তিনি মন্ত্রিসভায় স্থান পাননি। তখন তিনি আওয়ামী লীগের ভুঁইফোড় নানা সংগঠনের ব্যানারে আলোচনা সভা ও গোলটেবিলে অংশ নিয়ে নিয়মিত বক্তব্য দিয়েছেন। তখন দলের অনেকেই তাঁকে ‘জাতির বিবেক’ বলে টিপ্পনী কাটতেন।
২০১১ সালের শেষ দিকে ওবায়দুল কাদেরকে সরকারের যোগাযোগমন্ত্রী নিয়োগ করা হয়। দলের ভেতরে আলোচনা আছে যে ভুঁইফোড় সংগঠনের কর্মসূচিতে গিয়ে সরকারের নানা সমালোচনা করার পর তাঁকে মন্ত্রিসভায় স্থান দেওয়া হয়। মন্ত্রী হওয়ার পর সারা দেশ চষে বেড়িয়েছেন, গণমাধ্যমকর্মীদের ডেকে বক্তব্য দিয়েছেন। ২০১৬ সালে দলের সাধারণ সম্পাদক পদ পাওয়ার পর ওবায়দুল কাদেরের গণমাধ্যমে উপস্থিতি আরও বেড়ে যায়। এরপর তিনি টানা তিন মেয়াদে দলের সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন। সেই ওবায়দুল কাদের সরকারের পটপরিবর্তনের পর নিখোঁজ হয়ে গেলেন! এটা দলের নেতা-কর্মীদের কাছে যেমন বিস্ময়ের, আবার ক্ষোভেরও জন্ম দিয়েছে।
ভারতে অবস্থান করা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, ওবায়দুল কাদের দলের সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পর দলের অন্য নেতাদের বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দিতেন না। এখন সুযোগ না পাওয়া নেতারা সরব হওয়ার চেষ্টা করছেন। ওবায়দুল কাদের পুরোপুরি নীরব আছেন।
ওবায়দুল কাদের সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পর প্রায় প্রতিদিন নিজ মন্ত্রণালয় কিংবা দলের কর্মসূচিতে অংশ নিতেন এবং গণমাধ্যমে সেই বক্তব্য প্রচার করা হয়েছে। কোনো কর্মসূচি না থাকলে গণমাধ্যমে প্রচারের জন্য বিবৃতি পাঠাতেন। করোনা মহামারির সময় সরকারি বাসভবন থেকে নিয়মিত ভিডিও ব্রিফিং করতেন। ২০১৯ সালের মার্চে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রায় তিন মাস দেশে ও সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন ছিলেন। ওই সময়ের পর এবারই সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ওবায়দুল কাদেরের উপস্থিতি নেই গণমাধ্যমে।
আওয়ামী লীগের এক কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, ওবায়দুল কাদের যেকোনোভাবে গণমাধ্যমের প্রচারের আলোয় থাকতে পছন্দ করতেন। কী পরিস্থিতিতে তিনি গত আড়াই মাস গণমাধ্যম ও নেতা-কর্মীদের থেকে দূরে আছেন, তা তিনিই ভালো জানেন।
ক্ষুব্ধ দলের কর্মীরা
ছাত্র-জনতার আন্দোলনে দেশ যখন উত্তাল, সেই সময় ৩১ জুলাই সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদের নিয়ে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বৈঠক করেন ওবায়দুল কাদেরসহ কেন্দ্রীয় নেতারা। বরাবরের মতো অন্যদের সুযোগ না দিয়ে নিজে বক্তব্য দিয়ে অনুষ্ঠান শেষ করতে চেয়েছিলেন ওবায়দুল কাদের। ওই দিন সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদের তোপের মুখে পড়েন ওবায়দুল কাদের। এ সময় সাবেক ছাত্রনেতাদের কেউ কেউ ‘ভুয়া ভুয়া’ বলেও স্লোগান দেন। একপর্যায়ে মিলনায়তন ছেড়ে তড়িঘড়ি চলে যান তিনি।
সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদের অনেকে সেদিন গণমাধ্যমকর্মীদের বলেছিলেন, দল বিপদে পড়ার পর সাবেক ছাত্রনেতাদের ডাকা হয়েছে। অথচ অন্য সময় তাঁদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করতেন দলের সাধারণ সম্পাদক। মুষ্টিমেয় কিছু ‘চাটুকার’ নিয়ে চলতেন তিনি। এ জন্যই তাঁরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।
ছাত্র আন্দোলনে দল ও সরকারের ব্যর্থতা এবং আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর একে অপরের বিরুদ্ধে দোষারোপ বেড়েছে বলে দলীয় নেতারা জানিয়েছেন। আর এই দোষারোপের কেন্দ্রবিন্দুতে ওবায়দুল কাদেরকেও রাখছেন দলের নেতা-কর্মীরা। এমনকি ওবায়দুল কাদের প্রকাশ্যে এলে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি হতে পারে, এমন আশঙ্কাও করছেন কোনো কোনো নেতা।
ওবায়দুল কাদেরের সশরীর এবং গণমাধ্যমে অনুপস্থিতির সময়টাতে দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ ও আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম দলের ‘ভেরিফায়েড’ ফেসবুক পেজে বক্তব্য-বিবৃতি দিয়েছেন। গণমাধ্যমকর্মীদের কাছেও নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরেছেন।
তবে তাঁদের এসব বক্তব্য নিয়েও দেশে থাকা দলের কোনো কোনো নেতা-কর্মী ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁরা বলেন, বিদেশে থেকে সরকারকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে বক্তব্য দেওয়ার কারণে দেশে থাকা নেতা-কর্মীদের বিপদ বাড়ছে।
ফেসবুকেও ছবি আসছে না কাদেরের
ওবায়দুল কাদের তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে সর্বশেষ পোস্ট দেন গত ৫ জুলাই। ওই দিন তিনি পদ্মা সেতু প্রকল্পের সার্ভিস এরিয়া-১ নামের এলাকায় নানা ভঙ্গিমায় নিজের ১২টি ছবি পোস্ট করেন। এই পোস্টে এক লাখের বেশি লাইক, লাভ, হা হা রিয়েক্ট হয়। এর মধ্যে ৫২ হাজারের মতো হা হা রিয়েক্ট। কমেন্ট করেন ৩৮ হাজারের বেশি মানুষ। শেয়ার হয় সাড়ে সাত হাজারের বেশি। এরপর আর কোনো পোস্ট নেই ওই ফেসবুক পেজে।
এর আগে নিয়মিত বিরতিতে নিজের বাসার সামনে, অফিসকক্ষে, পদ্মা সেতু এলাকায় নানা ভঙ্গিতে দাঁড়ানো ও বসা ছবি পোস্ট করেছেন ওবায়দুল কাদের। কখনো কখনো বিদেশি রাষ্ট্রদূত কিংবা অতিথির সঙ্গে বৈঠকের ছবিও দিতেন। তবে দলীয় কর্মসূচির ছবি দিতে খুব একটা দেখা যায়নি।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
নিজ্জার হত্যাকাণ্ডে জড়িত ‘ভারত সরকার মদদপুষ্ট’ বিষ্ণোই গ্যাং
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রয়্যাল পুলিশের সহকারী কমিশনার গভিন বলেছেন, আমরা যা দেখছি তা হচ্ছে, বিষ্ণোই গ্যাং অত্যন্ত সংগঠিত একটি অপরাধী চক্র। হরদীপ সিং নিজ্জারের হত্যাকাণ্ড একটি সংগঠিত অপরাধ চক্র ঘটিয়েছে, বিশেষ করে এর জন্য বিষ্ণোই গ্যাংই দায়ি। গভিন বলেছেন, আমরা বিশ্বাস করি গ্যাংটির সঙ্গে ভারত সরকারের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। ভারত সরকারের এই এজেন্ট হত্যা, চাঁদাবাজি এবং ভীতি প্রদর্শনের জন্য দায়ি কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে ডুহেম স্পষ্টভাবে বলেন- হ্যাঁ।
কানাডার নাগরিকদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। তার অভিযোগ-ভারত সরকারের মদদেই তার দেশে অবস্থারত দক্ষিণ এশীয় কানাডিয়ানদের লক্ষ্য করে এমন জবরদস্তিমূলক আচরণ করেছে এই গ্যাং।
কানাডার প্রধানমন্ত্রীর এই অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছে দিল্লি। ভারতকে ওই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়ানো অযৌক্তিক বলে দৃঢ়ভাবে তা প্রতাখ্যান করেছে মোদি প্রশাসন। গ্যাংটির সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনার সঞ্জয় কুমার ভার্মা সহ তার পাঁচ সহকর্মী জড়িত থাকার অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করেছে দিল্লি। কানাডার পুলিশের তথ্যমতে, ভারতীয় এসব কূটনীতিক কানাডায় সংগঠিত অপরাধ চক্রের সঙ্গে কাজ করে অবৈধ উপায়ে কানাডিয়ান নাগরিকদের তথ্য সংগ্রহ করেছে।
কানাডিয়ান রয়্যাল পুলিশের সংবাদ সম্মেলনের কয়েক ঘণ্টা পর প্রধানমন্ত্রী ট্রুডো সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনিও ওই হত্যাকাণ্ডে ভারত সরকারের ইন্ধন রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন।
ট্রুডো বলেছেন, ভারত সরকার একটি মৌলিক ভুল করেছে। তারা কানাডার মাটিতে কানাডিয়ানদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সহায়তার বিষয়টি স্পষ্ট করেছে। হত্যাকাণ্ড হোক বা চাঁদাবাজি অথবা যেকোনো সহিংস কর্মকাণ্ড হোক, তা অবশ্যই অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেছেন ট্রুডো।
ভারতীয় নাগরিক নিজ্জার ১৯৯৭ সালে অভিবাসী হিসেবে কানাডায় পাড়ি জমান। পরে ২০১৫ সালে কানাডার নাগরিকত্ব পান তিনি। ভারতের বহুল আলোচিত পৃথক স্বাধীন শিখ রাষ্ট্রের দাবিতে আন্দোলন করে আসা খালিস্তানপন্থীদের অন্যতম নেতা ছিলেন তিনি। সন্ত্রাসবাদ এবং হত্যার ষড়যন্ত্রের সাথে জড়িত থাকার দায়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট জারি করেছিল।
গত বছরের জুনে কানাডার ভ্যানকুভারে একটি শিখ মন্দিরের পাশের গাড়ি পার্কিংয়ের স্থানে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন নিজ্জার। এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত সন্দেহে কানাডায় ইতোমধ্যে চার ভারতীয় নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
নিজ্জার হত্যাকাণ্ডে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ এর কর্মকর্তাদের সংশ্লিষ্টতার বিশ্বাসযোগ্য তথ্য রয়েছে বলে তদন্তের পর দাবি করেছে কানাডার আইনশৃঙ্খলাবাহিনী। এমনকি কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো এ নিয়ে প্রকাশ্যে ভারতের সরকারি কর্মকর্তাদের নিজ্জার হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ করেছেন। এই হত্যাকাণ্ড ঘিরে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ব্যাপক অবনতি ঘটেছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কানাডার প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বৃহস্পতির উপগ্রহ ইউরোপায় প্রাণের সন্ধানে নাসা
৫.২ বিলিয়ন ডলার মূল্যের মিশনের লক্ষ্য, ইউরোপার ১০ মাইল পুরু বরফের আবরণের নীচের মহাসমুদ্রে প্রাণের স্পন্দন আছে কিনা। নাসার সায়েন্স মিশন ডিরেক্টরেটের ডেপুটি অ্যাসোসিয়েট অ্যাডমিনিস্ট্রেটর স্যান্ড্রা কোনোলি বলেছেন, ‘ইউরোপা ক্লিপার মিশনের অন্যতম চ্যালেঞ্জ বৃহস্পতির প্রবল তেজস্ক্রিয়তা সামলে ইউরোপার পরিবেশ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা।’
নাসার পাঠানো মহাকাশযানটি বৃহস্পতির এই উপগ্রহের অসংখ্য হাই-রেজেলিউশনের ছবি তুলবে। ইউরোপার বরফে ঢাকা ভূভাগের মানচিত্র নির্মাণ করবে। সবথেকে বড় কথা হলো, এই উপগ্রহ বসবাস করার জন্য কতটা উপযোগী, তা খতিয়ে দেখবে। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, পৃথিবীর পর ইউরোপাই হলো আমাদের সৌর জগতের সেই স্থান, যেখানে প্রাণের স্পন্দন থাকার সম্ভাবনা সবথেকে বেশি।
বিজ্ঞানীদের অনুমান, ইউরোপার বরফে ঢাকা বহির্ভাগের নীচে রয়েছে এক বিশাল, বিরাট সমুদ্র। তাতে যে পরিমাণ পানি রয়েছে, তা পৃথিবীর মোট সামুদ্রিক জলভাগের অন্তত দ্বিগুণ! ১২৫০০ পাউন্ডেরও বেশি ভারী ইউরোপা ক্লিপার স্পেসক্রাফটে বসানো হয়েছে ন’টি বিশেষ যন্ত্র যা ইউরোপার মহাসাগরের গভীরতা, উপরিতলের যৌগ মিশ্রণ, চৌম্বক ক্ষেত্র নিয়ে গবেষণা করবে।
স্পেসক্রাফটটি ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে মঙ্গল এবং ডিসেম্বর মাসে পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ বল কাজে লাগিয়ে বৃহস্পতির উদ্দেশে পাড়ি দেবে। সাড়ে পাঁচ বছর ধরে ১৮০ কোটি মাইল পাড়ি দিয়ে ২০৩০ সালের এপ্রিল মাসে বৃহস্পতির কক্ষপথে ঢুকে পড়বে সে। এরপর চার বছর ধরে ইউরোপার পাশ দিয়ে ৪৯ বার উড়ে যাবে। এই মিশনের একজন সিনিয়র বিজ্ঞানী টম ম্যাকর্ড জানিয়েছেন, ইউরোপার উদ্দেশে মহাকাশযান পাঠানোর পরিকল্পনা চলছে ১৯৯৫ সাল থেকে, অবশেষে তা বাস্তবায়িত হলো।
সূত্র : আলজাজিরা

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ইসরাইলি হামলায় নিহত ৪০ ফিলিস্তিনি
হামাস নিয়ন্ত্রিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গাজার আটটি ঐতিহাসিক শরণার্থী শিবিরের মধ্যে সবচেয়ে বৃহৎ কয়েকটি শরণার্থী শিবিরের আশপাশের এলাকায় ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী। তাদের নিক্ষেপ করা গোলার আঘাতে জাবালিয়ার আল ফালুজার কাছে বৃহৎ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ১১জন প্রাণ হারিয়েছেন। অন্যদিকে গাজার দক্ষিণে খান ইউনুসের পূর্বাঞ্চলীয় এলাকা বানি সুহাইলায় ইসরাইলি ক্ষেপণাস্ত্রের হামলায় আরও ১০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এসময় বেশ কয়েকটি বসতবাড়িও আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার, গাজার সাবরা এলাকায় তিনটি বসতবাড়িকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় ইসরাইল। সেখান থেকে দুই জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সিভিল ইমার্জেন্সি সার্ভিস। এছাড়া এখনও ওই বাড়িগুলোতে থাকা নিখোঁজ ১২ ব্যক্তির অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে উদ্ধারকারীরা। মধ্য গাজার নুসিরাত ক্যাম্পে একটি বাড়িতে হামলায় আরও পাঁচজন নিহত হয়েছেন।
জাবালিয়া ১০ দিনেরও বেশি সময় ধরে ইসরাইলি হামলার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত রয়েছে। তেল আবিবের সেনারা উপত্যকার উত্তরের অঞ্চলগুলোতে পুনরায় বোমাবর্ষণ শুরু করায় সেখানে ভয়াবহ আতঙ্ক বিরাজ করছে।
উল্লেখ্য, হামাস-ইসরাইল সংঘাত ইতিমধ্যেই এক বছর অতিক্রম করেছে। গত বছরের ৭ অক্টোবর ইসরাইলের দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে হামাসের নজিরবিহীন হামলার পর গাজায় প্রতিশোধমূলক হামলা শুরু করে ইসরাইল, যা এখনও অব্যাহত রয়েছে। তেল আবিবের হামলায় এখন পর্যন্ত ৪২ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এছাড়া আহতের সংখ্যা লাখ ছুঁই ছুঁই। হতাহতের বেশির ভাগই নারী এবং শিশু।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গল্প- ভিখারিনী by রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

আসুন আজ পড়া যাক ভিখারিণী গল্পটি।
প্রথম পরিচ্ছেদ
এই গ্রামে দুইটি বালক-বালিকার বড়োই প্রণয় ছিল। দুইটিতে হাত ধরাধরি করিয়া গ্রাম্যশ্রীর ক্রোড়ে খেলিয়া বেড়াইত; বকুলের কুঞ্জে কুঞ্জে দুইটি অঞ্চল ভরিয়া ফুল তুলিত; শুকতারা আকাশে ডুবিতে না ডুবিতে, উষার জলদমালা লোহিত না হইতে হইতেই সরসীর বক্ষে তরঙ্গ তুলিয়া ছিন্ন কমলদুটির ন্যায় পাশাপাশি সাঁতার দিয়া বেড়াইত। নীরব মধ্যাহ্নে স্নিগ্ধতরুচ্ছায় শৈলের সর্বোচ্চ শিখরে বসিয়া ষোড়শবর্ষীয় অমরসিংহ ধীর মৃদুলস্বরে রামায়ণ পাঠ করিত, দুর্দান্ত রাবণ-কর্তৃক সীতাহরণ পাঠ করিয়া ক্রোধে জ্বলিয়া উঠিত। দশমবর্ষীয়া কমলদেবী তাহার মুখের পানে স্থির হরিণনেত্র তুলিয়া নীরবে শুনিত, অশোকবনে সীতার বিলাপকাহিনী শুনিয়া পক্ষ্ণরেখা অশ্রুসলিলে সিক্ত করিত। ক্রমে গগনের বিশাল প্রাঙ্গণে তারকার দীপ জ্বলিলে, সন্ধ্যার অন্ধকার-অঞ্চলে জোনাকি ফুটিয়া উঠিলে, দুইটিতে হাত ধরাধরি করিয়া কুটিরে ফিরিয়া আসিত। কমলদেবী বড়ো অভিমানিনী ছিল; কেহ তাহাকে কিছু বলিলে সে অমরসিংহের বক্ষে মুখ লুকাইয়া কাঁদিত। অমর তাহাকে সান্ত্বনা দিলে, তাহারঅশ্রুজল মুছাইয়া দিলে, আদর করিয়া তাহার অশ্রুসিক্ত কপোল চুম্বন করিলে, বালিকার সকল যন্ত্রণা নিভিয়া যাইত। পৃথিবীর মধ্যে তাহার আর কেহই ছিল না; কেবল একটি বিধবা মাতা ছিল আর স্নেহময় অমরসিংহ ছিল, তাহারাই বালিকাটির অভিমান সান্ত্বনা ও ক্রীড়ার স্থল।
বালিকার পিতা গ্রামের মধ্যে সম্ভ্রান্ত লোক ছিলেন। রাজ্যের উচ্চপদস্থ কর্মচারী বলিয়া সকলেই তাঁহাকে মান্য করিত। সম্পদের ক্রোড়ে লালিত পালিত হইয়া এবং সম্ভ্রমের সুদূর চন্দ্রলোকে অবস্থান করিয়া কমল গ্রামের বালিকাদের সহিত কখনো মিশে নাই, বাল্যকাল হইতে তাহার সাধের সঙ্গী অমরসিংহের সহিত খেলিয়া বেড়াইত। অমরসিংহ সেনাপতি অজিতসিংহের পুত্র, অর্থ নাই কিন্তু উচ্চবংশজাত--এই নিমিত্ত কমল ও অমরের বিবাহের সম্বন্ধ হইয়াছে। একবার মোহনলাল নামে একজন ধনীর পুত্রের সহিত কমলের বিবাহের প্রস্তাব হয়, কিন্তু কমলের পিতা তাহার চরিত্র ভালো নয় জানিয়া তাহাতে সম্মত হন নাই।
কমলের পিতার মৃত্যু হইল। ক্রমে তাঁহার বিষয়সম্পত্তি ধীরে ধীরে নষ্ট হইয়া গেল। ক্রমে তাঁহার প্রস্তরনির্মিত অট্টালিকাটি আস্তে আস্তে ভাঙিয়া গেল। ক্রমে তাঁহার পারিবারিক সম্ভ্রম অল্পে অল্পে বিনষ্ট হইল এবং ক্রমে তাঁহার রাশি রাশি বন্ধু একে একে সরিয়া পড়িল। অনাথা বিধবা জীর্ণ অট্টালিকা ত্যাগ করিয়া একটি ক্ষুদ্র কুটিরে বাস করিলেন। সম্পদের সুখময় স্বর্গ হইতে দারুণ দারিদ্র্যে নিপতিত হইয়া বিধবা অত্যন্ত কষ্ট পাইতেছেন। সম্ভ্রম রক্ষা করিবার উপায় দূরে থাক্, জীবনরক্ষারও কোনো সম্বল নাই--আদরিণী কন্যাটি কী করিয়া দারিদ্র্যদুঃখ সহ্য করিবে? স্নেহময়ী মাতা ভিক্ষা করিয়াও কমলকে কোনোমতে দারিদ্র্যের রৌদ্র ভোগ করিতে দেন নাই।
অমরের সহিত কমলের শীঘ্রই বিবাহ হইবে। বিবাহের আর দুই-এক সপ্তাহ অবশিষ্ট আছে। অমর গ্রামের পথে বেড়াইতে বেড়াইতে কমলকে তাহার ভবিষ্যৎ-জীবনের কত কী সুখের কাহিনী শুনাইত--বড়ো হইলে দুইজনে ঐ শৈলশিখরে কত খেলা খেলিবে, ঐ সরসীর জলে কত সাঁতার দিবে, ঐ বকুলের কুঞ্জে কত ফুল তুলিবে, চুপিচুপি গম্ভীরভাবে তাহারই পরামর্শ করিত। বালিকা অমরের মুখে তাহাদের ভবিষ্যৎ-ক্রীড়ার গল্প শুনিয়া আনন্দে উৎফুল্ল হইয়া বিহ্বল নেত্রে অমরের মুখের পানে চাহিয়া থাকিত। এইরূপে যখন এই দুইটি বালক-বালিকা কল্পনার অস্ফুট জ্যোৎস্নাময় স্বর্গে খেলা করিতেছিল তখন রাজধানী হইতে সংবাদ আসিল যে, রাজ্যের সীমায় যুদ্ধ বাধিয়াছে। সেনানায়ক অজিতসিংহ যুদ্ধে যাইবেন এবং যুদ্ধশিক্ষা দিবার জন্য তাঁহার পুত্র অমরসিংহকেও সঙ্গে লইবেন।
সন্ধ্যা হইয়াছে, শৈলশিখরের বৃক্ষচ্ছায়ায় অমর ও কমল দাঁড়াইয়া আছে। অমরসিংহ কহিতেছেন, 'কমল, আমি তো চলিলাম, এখন রামায়ণ শুনিবি কার কাছে।'
বালিকা ছলছল নেত্রে মুখের পানে চাহিয়া রহিল।
'দেখ্কমল, এই অস্তমান সূর্য আবার কাল উঠিবে, কিন্তু তোর কুটিরদ্বারে আমি আর আঘাত দিতে যাইব না। তবে বল্দেখি, আর কাহার সহিত খেলা করিবি।'
কমল কিছুই কহিল না, নীরবে চাহিয়া রহিল।
অমর কহিল, 'সখী, যদি তোর অমর যুদ্ধক্ষেত্রে মরিয়া যায়, তাহা হইলে--'
কমল ক্ষুদ্র বাহু দুটিতে অমরের বক্ষ জড়াইয়া ধরিয়া কাঁদিয়া উঠিল; কহিল, 'আমি যে তোমাকে ভালোবাসি অমর, তুমি মরিবে কেন।'
অশ্রুসলিলে বালকের নেত্র ভরিয়া গেল; তাড়াতাড়ি মুছিয়া ফেলিয়া কহিল, 'কমল, আয়, অন্ধকার হইয়া আসিতেছে--আজ এই শেষবার তোকে কুটিরে পৌঁছাইয়া দিই।'
দুইজনে হাত ধরাধরি করিয়া কুটিরের অভিমুখে চলিল। গ্রামের বালিকারা জল তুলিয়া গান গাইতে গাইতে গৃহে ফিরিয়া আসিতেছে, বনশ্রেণীর মধ্যে অলক্ষিতভাবে একটির পর আর-একটি পাপিয়া গাহিয়া গাহিয়া সারা হইতেছে, আকাশময় তারকা ফুটিয়া উঠিল। অমর কেন তাহাকে পরিত্যাগ করিয়া যাইবে এই অভিমানে কমল কুটিরে গিয়া মাতার বক্ষে মুখ লুকাইয়া কাঁদিতে লাগিল। অমর অশ্রুসলিলে শেষ বিদায় গ্রহণ করিয়া ফিরিয়া আসিল।
অমর পিতার সহিত সেই রাত্রেই গ্রাম ত্যাগ করিয়া চলিল। গ্রামের শেষ প্রান্তের শৈলশিখরোপরি উঠিয়া একবার ফিরিয়া চাহিল; দেখিল--শৈলগ্রাম জ্যোৎস্নালোকে ঘুমাইতেছে, চঞ্চল নির্ঝরিণী নাচিতেছে, ঘুমন্ত গ্রামের সকল কোলাহল স্তব্ধ, মাঝে মাঝে দুই-একটি রাখালের গানের অস্ফুট স্বর গ্রামশৈলের শিখরে গিয়া মিশিতেছে। অমর দেখিল কমলদেবীর লতাপাতাবেষ্টিত ক্ষুদ্র কুটিরটি অস্ফুট জ্যোৎস্নায় ঘুমাইতেছে। ভাবিল ঐ কুটিরে হয়তো এতক্ষণে শূন্যহৃদয়া মর্মপীড়িতা বালিকাটি উপাধানে ক্ষুদ্র মুখখানি লুকাইয়া নিদ্রাশূন্য নেত্রে আমার জন্য কাঁদিতেছে। অমরের নেত্র অশ্রুতে পূরিয়া গেল।
অজিতসিংহ কহিলেন, 'রাজপুত-বালক! যুদ্ধযাত্রার সময় কাঁদিতেছিস!'
অমর অশ্রু মুছিয়া ফেলিল।
শীতকাল। দিবা অবসান হইয়া আসিতেছে। গাঢ় অন্ধকারময় মেঘরাশি উপত্যকা শৈলশিখর কুটির বন নির্ঝর হ্রদ শস্যক্ষেত্র একেবারে গ্রাস করিয়া ফেলিয়াছে, অবিশ্রান্তবরফ পড়িতেছে, তরল তুষারে সমস্ত শৈল আচ্ছন্ন হইয়াছে, পত্রহীন শীর্ণ বৃক্ষসকল শ্বেত মস্তকে স্তম্ভিতভাবে দণ্ডায়মান। দারুণ তীব্র শীতে হিমালয়গিরিও যেন অবসন্ন হইয়া গিয়াছে। এই শীতসন্ধ্যার বিষণ্ন অন্ধকারের মধ্য দিয়া, গাঢ় বাষ্পময় স্তম্ভিত মেঘরাশি ভেদ করিয়া, একটি ম্লানমুখশ্রী ছিন্নবসনা দরিদ্র-বালিকা অশ্রুময় নেত্রে শৈলের পথে পথে ভ্রমণ করিতেছে। তুষারে পদতল প্রস্তরের ন্যায় অসাড় হইয়া গিয়াছে, শীতে সমস্ত শরীর কাঁপিতেছে, মুখ নীলবর্ণ, পার্শ্ব দিয়া দুই-একটি নীরব পান্থ চলিয়া যাইতেছে। হতভাগিনী কমল করুণনেত্রে এক-একবার তাহাদের মুখের দিকে চাহিতেছে। কী বলিতে গিয়া বলিতেছে না, আবার অশ্রুসলিলে অঞ্চল সিক্ত করিয়া তুষারস্তরে পদচিহ্ন অঙ্কিত করিতেছে।
কুটিরে রুগ্ণা মাতা অনাহারে শয্যাগত। সমস্ত দিন বালিকা এক মুষ্টিও আহার করিতে পায় নাই প্রাতঃকাল হইতে সন্ধ্যা পর্যন্ত পথে পথে ভ্রমণ করিতেছে। সাহস করিয়া ভীতিবিহ্বলা বালা কাহারও কাছে ভিক্ষা চাহিতে পারে নাই--বালিকা কখনও ভিক্ষা করে নাই, কী করিয়া ভিক্ষা করিতে হয় জানে না, কাহাকে কী বলিতে হয় জানে না। আলুলিত কুন্তলরাশির মধ্যে সেই ক্ষুদ্র করুণ মুখখানি দেখিলে, দারুণ শীত কম্পমান তাহার সেই ক্ষুদ্র দেহখানি দেখিলে, পাষাণও বিগলিত হইত।
ক্রমে অন্ধকার ঘনীভূত হইল। নিরাশ বালিকা ভগ্নহৃদয়ে শূন্য অঞ্চলে কুটিরে ফিরিয়া যাইতেছে--কিন্তু অসাড় পা আর উঠে না; অনাহারে দুর্বল, পথশ্রমে ক্লান্ত, নিরাশায় ম্রিয়মাণ, শীতে অবসন্ন বালিকা আর চলিতে পারে না, অবশ হইয়া পথপ্রান্তে তুষারশয্যায় শুইয়া পড়িল। শরীর ক্রমে আরও অবসন্ন হইতে লাগিল। বালিকা বুঝিল ক্রমে সে অবসন্ন হইয়া তুষারে চাপা পড়িয়া মরিবে। মাকে স্মরণ করিয়া কাঁদিয়া উঠিল; জোড়হস্তে কহিল, 'মা ভগবতী, আমাকে মারিয়া ফেলিয়ো না, আমাকে রক্ষা করো, আমি মরিলে যে আমার মা কাঁদিবে, আমার অমর কাঁদিবে।'
ক্রমে বালিকা অচেতন হইয়া পড়িল। কমল আলুলিতকুন্তলে শিথিল-অঞ্চলে তুষারে অর্ধমগ্না হইয়া বৃক্ষচ্যুত মলিন ফুলটির মতো পথপ্রান্তে পড়িয়া রহিল। তুষারের উপর তুষার পড়িতে লাগিল, বালিকার বক্ষের উপর তুষারের কণা পড়িতেছে ও গলিতেছে। এবং ক্রমে জমিয়া যাইতেছে। এই আঁধার রাত্রিতে একজন পান্থও পথ দিয়া যাইতেছে না। বৃষ্টি পড়িতে লাগিল। রাত্রি বাড়িতে লাগিল। বরফ জমিতে লাগিল। বালিকা একাকিনী শৈলপথে পড়িয়া রহিল।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ
উঠিতে পারেন না--অথচ কমলকে দেখিতে পাইতেছেন না, বিধবা বক্ষে করাঘাত করিয়া অধীর ভাবে কাঁদিতে লাগিলেন। দুই-একজন প্রতিবাসী বিধবাকে দেখিতে আসিয়াছিল; বিধবা তাহাদের চরণ জড়াইয়া ধরিল সজল নয়নে কাতরভাবে মিনতি করিলেন, 'আমার পথহারা কমল কোথায় ঘুরিয়া বেড়াইতেছে, একবার তাহাকে খুঁজিতে যাও।'
তাহারা বলিল, 'এই তুষারে, অন্ধকারে, আমরা ঘরের বাহিরে যাইতে পারি না।'
বিধবা কাঁদিয়া কহিলেন, 'একবার যাও--আমি অনাথ, দরিদ্র, অর্থ নাই, তোমাদের কী দিব বলো। ক্ষুদ্র বালিকা, সে পথ চিনে না, সে আজ সমস্ত দিন কিছু খায় নাই--তাহাকে মাতার ক্রোড়ে আনিয়া দেও--ঈশ্বর তোমাদের মঙ্গল করিবেন।'
কেহ শুনিল না। সে বৃষ্টিবজ্রে কে বাহির হইবে। সকলেই নিজ নিজ গৃহে ফিরিয়া গেল।
ক্রমে রাত্রি বাড়িতে লাগিল। কাঁদিয়া কাঁদিয়া দুর্বল বিধবা ক্লান্ত হইয়া গিয়াছেন, নির্জীবভাবে শয্যায় পড়িয়া আছেন, এমন সময়ে বাহিরে পদশব্দ শুনা গেল। বিধবা চকিত নেত্রে দ্বারের দিকে চাহিয়া ক্ষীণস্বরে কহিলেন, 'কমল, মা, আইলি?'
একজন বাহির হইতে রুক্ষস্বরে জিজ্ঞাসা করিল, 'ঘরে কে আছে।'
গৃহ হইতে কমলের মাতা উত্তর দিলেন। সে শাখাদীপ পার্বত্য লোক চীর বৃক্ষের শাখা জ্বালাইয়া মশালের ন্যায় ব্যবহার করে।
হস্তে গৃহে প্রবেশ করিল এবং কমলের মাতাকে কী কহিল, শুনিবামাত্র বিধবা চীৎকার করিয়া মূর্ছিত হইয়া পড়িলেন।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ
আবার চক্ষু মেলিয়া চাহিল। একজন তাহাকে জিজ্ঞাসা করিল, 'কে তুমি।'
বালিকা উত্তর দিতে পারিল না, বালিকার বাহু ধরিয়া সবেগে নাড়াইয়া আবার জিজ্ঞাসা করিল, 'কে তুই।'
কমল ভীতিকম্পিত মৃদুস্বরে কহিল, 'আমি কমল।'
সে মনে করিয়াছিল এই উত্তরেই তাহারা তাহার সমস্ত পরিচয় পাইবে।
একজন জিজ্ঞাসা করিল, 'আজ সন্ধ্যার দুর্যোগের সময় পথে ভ্রমণ করিতেছিলে কেন।'
বালিকা আর থাকিতে পারিল না, কাঁদিয়া উঠিল। অশ্রুরুদ্ধ কণ্ঠে কহিল, 'আজ আমার মা সমস্ত দিন আহার করিতে পান নাই--'
সকলে হাসিয়া উঠিল--তাহাদের নিষ্ঠুর অট্টহাস্যে গুহা প্রতিধ্বনিত হইল, বালিকার মুখের কথা মুখেই রহিয়া গেল, কমল সভয়ে চক্ষু মুদ্রিত করিল। দস্যুদের হাস্য বজ্রধ্বনির ন্যায় বালিকার বক্ষে গিয়া বাজিল; সে সভয়ে কাঁদিয়া উঠিয়া কহিল, 'আমাকে আমার মায়ের কাছে লইয়া যাও।'
আবার সকলে মিলিয়া হাসিয়া উঠিল। ক্রমে তাহারা কমলের নিকট হইতে তাহার বাসস্থান, পিতামাতার নাম, প্রভৃতি জানিয়া লইল। অবশেষে একজন কহিল, 'আমরা দস্যু, তুই আমাদের বন্দিনী। তোর মাতার নিকট বলিয়া পাঠাইতেছি, সে যদি নির্ধারিত অর্থ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে না দেয় তবে তোকে মারিয়া ফেলিব।'
কমল কাঁদিয়া কহিল, 'আমার মা অর্থ কোথায় পাইবেন। তিনি অতি দরিদ্র। তাঁহার আর কেহ নাই--আমাকে মারিয়ো না, আমাকে মারিয়ো না, আমি কাহারও কিছু করি নাই।'
আবার সকলে হাসিয়া উঠিল।
কমলের মাতার নিকটে একজন দূত প্রেরিত হইল। সে গিয়া কহিল, 'তোমার কন্যা বন্দিনী হইয়াছে--আজ হইতে তৃতীয় দিবসে আমি আসিব--যদি পাঁচশত মুদ্রা দিতে পারো তবে মুক্ত করিয়া দিব, নচেৎ তোমার কন্যা নিশ্চিত হত হইবে।'
এই সংবাদ শুনিয়াই কমলের মাতা মূর্ছিত হইয়া পড়েন।
দরিদ্র বিধবা অর্থ পাইবেন কোথায়। একে একে সমস্ত দ্রব্য বিক্রয় করিয়া ফেলিলেন। বিবাহ হইলে কমলকে দিবেন বলিয়া কতকগুলি অলংকার রাখিয়া দিয়াছিলেন, সেগুলি বিক্রয় করিলেন। তথাপি নির্দিষ্ট অর্থের চতুর্থাংশও হইল না। আর কিছুই নাই। অবশেষে বক্ষের বস্ত্র মোচন করিলেন, সেখানে তাঁহার মৃত স্বামীর একটি অঙ্গুরীয়ক রাখিয়া দিয়াছিলেন--মনে করিয়াছিলেন, সুখ হউক, দুঃখ হউক, দারিদ্র্যই বা হউক, কখনো সেটি ত্যাগ করিবেন না, চিরকাল বক্ষের মধ্যে লুকাইয়া রাখিবেন--মনে করিয়াছিলেন, এই অঙ্গুরীয়কটি তাঁহার চিতানলের সঙ্গী হইবে--কিন্তু অশ্রুময়নেত্রে তাহাও বাহির করিলেন।
সে অঙ্গুরীটিও যখন তিনি বিক্রয় করিতে চাহিয়াছিলেন, তখন তিনি তাঁহার বুকের এক-একখানি অস্থিও ভাঙিয়া দিতে পারিতেন, কিন্তু কেহই কিনিতে চাহিল না।
অবশেষে বিধবা দ্বারে দ্বারে ভিক্ষা চাহিয়া বেড়াইতে লাগিলেন। এক দিন গেল, দুই দিন গেল, তিন দিন যায়, কিন্তু নির্দিষ্ট অর্থের অর্ধেকও সংগৃহীত হয় নাই। আজ সেই দস্যু আসিবে। আজ যদি তাহার হস্তে অর্থ দিতে না পারেন, তবে বিধবার সংসারের যে একমাত্র বন্ধন আছে তাহাও ছিন্ন হইবে।
কিন্তু অর্থ পাইলেন না। ভিক্ষা করিলেন, দ্বারে দ্বারে রোদন করিলেন, সম্পদের সময় যাহারা তাঁহার স্বামীর সামান্য অনুচর ছিল তাহাদের নিকটও অঞ্চল পাতিলেন--কিন্তু নির্দিষ্ট অর্থের অর্ধেকও সংগৃহীত হইল না।
ভয়বিহ্বলা কমল গুহার কারাগারে কাঁদিয়া কাঁদিয়া সারা হইল। সে ভাবিতেছে তাহার অমরসিংহ থাকিলে কোনো দুর্ঘটনা ঘটিত না। অমরসিংহ যদিও বালক, কিন্তু সে জানিত অমরসিংহ সকলই করিতে পারে। দস্যুরা তাহাকে মাঝে মাঝে ভয় দেখাইয়া যায়। দস্যুদের দেখিলেই সে ভয়ে অঞ্চলে মুখ ঢাকিয়া ফেলিত। এই অন্ধকার কারাগৃহে, এই নিষ্ঠুর দস্যুদিগের মধ্যে একজন যুবা ছিল। সে কমলের প্রতি তেমন কর্কশভাবে ব্যবহার করিত না। সে ব্যাকুল বালিকাকে স্নেহের সহিত কত কীকথা জিজ্ঞাসা করিত, কিন্তু কমল ভয়ে কোনো কথারই উত্তর দিত না, দস্যু কাছে সরিয়া বসিলে সে ভয়ে আড়ষ্ট হইয়া যাইত। ঐ যুবাটি দস্যুপতির পুত্র। সে একবার কমলকে জিজ্ঞাসা করিয়াছিল যে, দস্যুর সহিত বিবাহ করিতে কি তাহার কোনো আপত্তি আছে। এবং মাঝে মাঝে প্রলোভন দেখাইত যে, যদি কমল তাহাকে বিবাহ করে তবে সে তাহাকে মৃত্যুমুখ হইতে রক্ষা করিবে। কিন্তু ভীরু কমল কোনো কথারই উত্তর দিত না। এক দিন গেল ও দুই দিন গেল, বালিকা সভয়ে দেখিল দস্যুরা মদ্যপান করিয়া ছুরিকা শানাইতেছে।
এ দিকে বিধবার গৃহে দস্যুদের দূত প্রবেশ করিল, বিধবাকে জিজ্ঞাসা করিল অর্থ কোথায়? বিধবা ভিক্ষা করিয়া যাহা-কিছু অর্থ সংগ্রহ করিয়াছিলেন সকলই দস্যুর পদতলে রাখিয়া কহিলেন, 'আমার আর কিছুই নাই, যাহা-কিছু ছিল সকলই দিলাম, এখন তোমাদের কাছে ভিক্ষা চাহিতেছি আমার কমলকে আনিয়া দেও।'
দস্যু সে মুদ্রাগুলি সক্রোধে ছড়াইয়া ফেলিল। কহিল, 'মিথ্যা প্রতারণা করিয়া পার পাইবি না, নির্দিষ্ট অর্থ না দিলে নিশ্চয় আজি তোর কন্যা হত হইবে। তবে চলিলাম--আমাদের দলপতিকে বলিয়া আসি যে, নির্দিষ্ট অর্থ পাইবে না, তবে এখন নরশোণিতে মহাকালীর পূজা দেও।'
বিধবা কত মিনতি করিলেন, কত কাঁদিলেন, কিছুতেই দস্যুর পাষাণহৃদয় গলাইতে পারিলেন না। দস্যু গমনোদ্যত হইলে কহিলেন, 'যাইয়ো না, আর একটু অপেক্ষা করো, আমি আর একবার চেষ্টা করিয়া দেখি।'
এই বলিয়া বাহির হইয়া গেলেন।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ
গ্রামের মধ্যে মোহনের ন্যায় ধনী আর কেহ ছিল না; আকুল বিধবা অবশেষে তাঁহার বাটীতে আসিয়া উপস্থিত হইলেন। মোহন উপহাসের স্বরে হাসিয়া কহিলেন, 'এ কী অপূর্ব ব্যাপার! এত দিনের পর দরিদ্রের কুটিরে যে পদার্পণ হইল?'
বিধবা। উপহাস করিয়ো না। আমি দরিদ্র, তোমার কাছে ভিক্ষা চাহিতে আসিয়াছি।
মোহন। কী হইয়াছে।
বিধবা আদ্যোপান্ত সমস্ত বৃত্তান্ত কহিলেন।
মোহন জিজ্ঞাসা করিলেন, 'তা, আমাকে কী করিতে হইবে।'
বিধবা। কমলের প্রাণরক্ষা করিতে হইবে।
মোহন। কেন, অমরসিংহ এখানে নাই?
বিধবা উপহাস বুঝিতে পারিলেন। কহিলেন, 'মোহন, যদি বাসস্থান অভাবে আমাকে বনে বনে ভ্রমণ করিতে হইত, অনাহারে ক্ষুধার জ্বালায় যদি পাগল হইয়া মরিতাম, তথাপি তোমার কাছে একটি তৃণও প্রার্থনা করিতাম না। কিন্তু আজ যদি বিধবার একমাত্র ভিক্ষা পূর্ণ না করো, তবে তোমার নিষ্ঠুরতা চিরকালই মনে থাকিবে।'
মোহন। আইস, তবে তোমাকে একটি কথা বলি। কমল দেখিতে কিছু মন্দ নহে, আর তাহাকে যে আমার পছন্দ হয় নাই এমনও নহে, তবে তাহার সহিত আমার বিবাহের আর তো কোনো আপত্তি দেখিতেছি না। তোমার কাছে ঢাকিয়া কী করিব, বিনা কারণে ভিক্ষা দিবার মতো আমার অবস্থা নহে।
বিধবা। অগ্রেই যে অমরের সহিত তাহার বিবাহের সম্বন্ধ হইয়া গিয়াছে।
মোহন কিছু উত্তর না দিয়া হিসাবের খাতা খুলিয়া লিখিতে বসিলেন। যেন কেহই ঘরে নাই, যেন কাহারও সহিত কিছু কথা হয় নাই। এ দিকে সময় বহিয়া যায়, দস্যু আছে কি গিয়াছে তাহার ঠিক নাই। বিধবা কাঁদিয়া কহিলেন, 'মোহন, আর আমাকে যন্ত্রণা দিয়ো না, সময় অতীত হইতেছে।'
মোহন। রোসো, কাজ সারিয়া ফেলি।
অবশেষে যদি বিধবা বিবাহের প্রস্তাবে সম্মত না হইতেন, তাহা হইলে সমস্ত দিনে কাজ সারা হইত কি না সন্দেহস্থল। বিধবা মোহনলালের নিকট অর্থ লইয়া দস্যুকে দিলেন, সে চলিয়া গেল। সেই দিনই ভয়ে আশঙ্কায় ত্রস্তা হরিণীটির ন্যায় বিহ্বলা বালিকা মাতার ক্রোড়ে ফিরিয়া আসিল এবং তাঁহার বাহুপাশে মুখখানি প্রচ্ছন্ন করিয়া অনেক ক্ষণ কাঁদিয়া কাঁদিয়া মনের বেগ শান্ত করিল।
কিন্তু অনাথিনী বালিকা এক দস্যুর হস্ত হইতে আর-এক দস্যুর হস্তে পড়িল।
কত বৎসর গত হইয়া গেল। যুদ্ধের অগ্নি নির্বাপিত হইয়াছে। সৈনিকেরা দেশে ফিরিয়া আসিয়াছে ও অস্ত্র পরিত্যাগ করিয়া এক্ষণে ভূমি কর্ষণ করিতেছে। বিধবাসংবাদ পাইলেন যে,অজিতসিংহ হত ও অমর কারারুদ্ধ হইয়াছে। কিন্তু কন্যাকে এ সংবাদ শুনান নাই।
মোহনের সহিত বালিকার বিবাহ হইয়া গেল।
মোহনের ক্রোধ কিছুমাত্র নিবৃত্ত হইল না। তাহার প্রতিহিংসাপ্রবৃত্তি বিবাহ করিয়াই তৃপ্ত হয় নাই। সে নির্দোষী অবলা বালার প্রতি অনর্থক পীড়ন করিত। কমল মাতৃক্রোড়ের স্নিগ্ধ স্নেহচ্ছায়া হইতে এই নিষ্ঠুর কারাগৃহে আসিয়া অত্যন্ত কষ্ট পাইতেছে, অভাগিনী কাঁদিতেও পায় না। বিন্দুমাত্র অশ্রু নেত্রে দেখা দিলে মোহনের ভর্ৎসনার ভয়ে ত্রস্ত হইয়া মুছিয়া ফেলিত।
পঞ্চম পরিচ্ছেদ
অমর তাড়াতাড়ি জিজ্ঞাসা করিলেন, 'কমল, কমল কোথায়।'
শুনিলেন, স্বামীর আলয়ে।
মুহূর্তের জন্য স্তম্ভিত হইয়া রহিলেন। তিনি কত কী আশা করিয়াছিলেন--ভাবিয়াছিলেন কত দিনের পর দেশে ফিরিয়া যাইতেছেন, যুদ্ধের উন্মত্ত ঝটিকা হইতে প্রণয়ের শান্তিময় স্নিগ্ধ নীড়ে ঘুমাইতে যাইতেছেন, তিনি যখন অতর্কিতভাবে দ্বারে গিয়া দাঁড়াইবেন তখন হর্ষবিহ্বলা কমল ছুটিয়া গিয়া তাঁহার বক্ষে ঝাঁপাইয়া পড়িবে। বাল্যকালের সুখময় স্থান সেই শৈলশিখরের উপর বসিয়া কমলকে যুদ্ধ-গৌরবের কথা শুনাইবেন, অবশেষে কমলের সহিত বিবাহসূত্রে আবদ্ধ হইয়া প্রণয়ের কুসুমকুঞ্জে সমস্ত জীবন সুখের স্বপ্নে কাটাইবেন। এমন সুখের কল্পনায় যে কঠোর বজ্র পড়িল, তাহাতে তিনি দারুণ অভিভূত হইয়া পড়িলেন। কিন্তু মনে তাঁহার যতই তোলপাড় হইয়াছিল, প্রশান্ত মুখশ্রীতে একটিমাত্র রেখাও পড়ে নাই।
মোহন কমলকে তাহার মাতৃ-আলয়ে রাখিয়া বিদেশে চলিয়া গেলেন। পঞ্চদশ বর্ষ বয়সে কমল-পুষ্পকলিকাটি ফুটিয়া উঠিল। ইহার মধ্যে কমল একদিন বকুলবনে মালা গাঁথিতে গিয়াছিল, কিন্তু পারে নাই, দূর হইতেই শূন্যমনে ফিরিয়া আসিয়াছিল।
আর-একদিন সে বাল্যকালের খেলেনাগুলি বাহির করিয়াছিল--আর খেলিতে পারিল না, নিরাশায় নিঃশ্বাস ফেলিয়া সেগুলি তুলিয়া রাখিল। অবলা ভাবিয়াছিল যে, যদি অমর ফিরিয়া আসে তবে আবার দুইজনে মালা গাঁথিবে, আবার দুইজনে খেলা করিবে। কতকাল তাহার বাল্যসখা অমরকে দেখিতে পায় নাই, মর্মপীড়িতা কমল এক-একবার যন্ত্রণায় অস্থির হইয়া উঠিত। এক-একদিন রাত্রিকালে গৃহে কমলকে কেহ দেখিতে পাইত না, কমল কোথায় হারাইয়া গিয়াছে--খুঁজিয়া খুঁজিয়া অবশেষে তাহার বাল্যের ক্রীড়াস্থল সেই শৈলশিখরের উপর গিয়া দেখিত--ম্লানবদনা বালিকা অসংখ্যতারাখচিত অনন্ত আকাশের পানে নেত্র পাতিয়া আলুলিতকেশে শুইয়া আছে।
কমল মাতার জন্য, অমরের জন্য কাঁদিত বলিয়া মোহন বড়োই রুষ্ট হইয়াছিল এবং তাহাকে মাতৃ-আলয়ে পাঠাইয়া ভাবিয়াছিল যে, 'দিনকতক অর্থাভাবে কষ্ট পাক্, তাহার পরে দেখিব কে কাহার জন্য কাঁদিতে পারে।'
মাতৃভবনে কমল লুকাইয়া কাঁদে। নিশীথবায়ুতে তাহার কত বিষাদের নিঃশ্বাস মিশাইয়া গিয়াছে, বিজন শয্যায় সে যে কত অশ্রুবারি মিশাইয়াছে, তাহা তাহার মাতা একদিনও জানিতে পারেন নাই।
একদিন কমল হঠাৎ শুনিল তাহার অমর দেশে ফিরিয়া আসিয়াছে। তাহার কত দিনকার কত কী ভাব উথলিয়া উঠিল। অমরসিংহের বাল্যকালের মুখখানি মনে পড়িল। দারুণ যন্ত্রণায় কমল কতক্ষণ কাঁদিল। অবশেষে অমরের সহিত সাক্ষাৎ করিবার নিমিত্ত বাহির হইল।
সেই শৈলশিখরের উপরে সেই বকুলতরুচ্ছায়ায় মর্মাহত অমর বসিয়া আছেন। এক-একটি করিয়া ছেলেবেলাকার সকল কথা মনে পড়িতে লাগিল। কত জ্যোৎস্নারাত্রি, কত অন্ধকার সন্ধ্যা, কত বিমল উষা, অস্ফুট স্বপ্নের মতো তাঁহার মনে একে একে জাগিতে লাগিল। সেই বাল্যকালের সহিত তাঁহার ভবিষ্যৎ জীবনের অন্ধকারময় মরুভূমির তুলনা করিয়া দেখিলেন--সঙ্গী নাই, সহায় নাই, আশ্রয় নাই, কেহ ডাকিয়া জিজ্ঞাসা করিবে না, কেহ তাঁহার মর্মের দুঃখ শুনিয়া মমতা প্রকাশ করিবে না--অনন্ত আকাশে কক্ষচ্ছিন্ন জ্বলন্ত ধূমকেতুর ন্যায়, তরঙ্গাকুল অসীম সমুদ্রের মধ্যে ঝটিকাতাড়িত একটি ভগ্ন ক্ষুদ্র তরণীর ন্যায়, একাকী নীরব সংসারে উদাস হইয়া বেড়াইবেন।
ক্রমে দূর গ্রামের কোলাহলের অস্ফুট ধ্বনি থামিয়া গেল, নিশীথের বায়ু আঁধার বকুলকুঞ্জের পত্র মর্মরিত করিয়া বিষাদের গম্ভীর গান গাহিল। অমর গাঢ় অন্ধকারের মধ্যে, শৈলের সমুচ্চ শিখরে একাকী বসিয়া দূর নির্ঝরের মৃদু বিষণ্ন ধ্বনি, নিরাশ হৃদয়ের দীর্ঘনিঃশ্বাসের ন্যায় সমীরণের হু-হু শব্দ, এবং নিশীথের মর্মভেদী একতানবাহী যে-একটি গম্ভীর ধ্বনি আছে, তাহাই শুনিতেছিলেন। তিনি দেখিতেছিলেন অন্ধকারের সমুদ্রতলে সমস্ত জগৎ ডুবিয়া গিয়াছে, দুরস্থ শ্মশানক্ষেত্রে দুই-একটি চিতানল জ্বলিতেছে, দিগন্ত হইতে দিগন্ত পর্যন্ত নীরন্ধ্র স্তম্ভিত মেঘে আকাশ অন্ধকার।
সহসা শুনিলেন উচ্ছ্বসিত স্বরে কে কহিল, 'ভাই অমর'--
এই অমৃতময়, স্নেহময়, স্বপ্নময় স্বর শুনিয়া তাঁহার স্মৃতির সমুদ্র আলোড়িত হইয়া উঠিল। ফিরিয়া দেখিলেন--কমল। মুহূর্তের মধ্যে নিকটে আসিয়া বাহুপাশে তাঁহার গলদেশ বেষ্টন করিয়া স্কন্ধে মস্তক রাখিয়া কহিল, 'ভাই অমর'--
অচলহৃদয় অমরও অন্ধকারে অশ্রু বিসর্জন করিলেন, আবার সহসা চকিতের ন্যায় দূরে সরিয়া গেলেন। কমল অমরকে কত কী কথা বলিল, অমর কমলকে দুই-একটি উত্তর দিলেন। সরলা আসিবার সময়ে যেরূপ উৎফুল্লহৃদয়ে হাসিতে হাসিতে আসিয়াছিল, যাইবার সময় সেইরূপ ম্রিয়মাণ হইয়া কাঁদিতে কাঁদিতে চলিয়া গেল।
কমল ভাবিয়াছিল সেই ছেলেবেলাকার অমর ফিরিয়া আসিয়াছে, আর আমি সেই ছেলেবেলাকার কমল কাল হইতে আবার খেলা করিতে আরম্ভ করিব। যদিও অমর মর্মের গভীরতলে সাংঘাতিক আহত হইয়াছিলেন, তথাপি তিনি কমলের উপর কিছুই ক্রুদ্ধ হন নাই বা অভিমান করেন নাই। তাঁহার জন্য বিবাহিতা বালিকার কর্তব্যকর্মে বাধা না পড়ে এই নিমিত্ত তিনি তাহার পরদিন কোথায় যে চলিয়া গেলেন তাহা কেহই স্থির করিতে পারিল না।
বালিকার সুকুমার হৃদয়ে দারুণ বজ্র পড়িল। অভিমানিনী কতদিন ধরিয়া ভাবিয়াছে যে, এত দিনের পর সে বাল্যসখা অমরের কাছে ছুটিয়া গেল, অমর কেন তাহাকে উপেক্ষা করিল। কিছুই ভাবিয়া পায় নাই। একদিন তাহার মাতাকে ঐ কথা জিজ্ঞাসা করিয়াছিল, মাতা তাহাকে বুঝাইয়া দিয়াছিলেন যে, কিছুকাল রাজসভার আড়ম্বররাশির মধ্যে থাকিয়া সেনাপতি অমরসিংহ পর্ণকুটিরবাসিনী ভিখারিনী ক্ষুদ্র বালিকাটিকে ভুলিয়া যাইবেন তাহাতে অসম্ভব কী আছে। এই কথায় দরিদ্র বালিকার অন্তরতম দেশে শেল বিঁধিয়াছিল। অমরসিংহ তাহার প্রতি নিষ্ঠুরাচরণ করিল মনে করিয়া কমল কষ্ট পায় নাই। হতভাগিনী ভাবিত, 'আমি দরিদ্র, আমার কিছুই নাই, আমার কেহই নাই, আমি বুদ্ধিহীনা ক্ষুদ্র বালিকা, তাঁহার চরণরেণুরও যোগ্য নহি, তবে তাঁহাকে ভাই বলিব কোন্অধিকারে! তাঁহাকে ভালোবাসিব কোন্অধিকারে! আমি দরিদ্র কমল, আমি কে যে তাঁহার স্নেহ প্রার্থনা করিব!'
সমস্ত রাত্রি কাঁদিয়া কাটিয়া যায়, প্রভাত হইলেই সেই শৈলশিরা উঠিয়া ম্রিয়মাণ বালিকা কত কী ভাবিতে থাকে, তাহার মর্মের নিভৃত তলে যে বাণ বিদ্ধ হইয়াছিল তাহা যদিও সে মর্মেই লুকাইয়া রাখিয়াছিল--পৃথিবীর কাহাকেও দেখায় নাই--তথাপি ঐ মর্মে-লুক্কায়িত বাণ ধীরে ধীরে তাহার হৃদয়ের শোণিত ক্ষয় করিতে লাগিল।
বালিকা আর কাহারও সহিত কথা কহিত না, মৌন হইয়া সমস্তদিন সমস্তরাত্রি ভাবিত। কাহারও সহিত মিশিত না। হাসিত না, কাঁদিত না। এক-একদিন সন্ধ্যা হইলেও দেখা যাইত পথপ্রান্তের বৃক্ষতলে মলিন ছিন্ন অঞ্চলে মুখ ঝাঁপিয়া দীনহীন কমল বসিয়া আছে। বালিকা ক্রমে দুর্বল ক্ষীণ হইয়া আসিতে লাগিল। আর উঠিতে পারে না--বাতায়নে একাকিনী বসিয়া থাকিত, দেখিত দূর শৈলশিখরের উপর বকুলপত্র বায়ুভরে কাঁপিতেছে। দেখিত রাখালেরা সন্ধ্যার সময় উদাস-ভাবোদ্দীপক সুরে মৃদু মৃদু গান করিতে করিতে গৃহে ফিরিয়া আসিতেছে।
বিধবা অনেক চেষ্টা করিয়াও বালিকার কষ্টের কারণ বুঝিতে পারেন নাই এবং তাহার রোগের প্রতিকার করিতেও পারেন নাই। কমল নিজেই বুঝিতে পারিত যে, সে মৃত্যুর পথে অগ্রসর হইতেছে। তাহার আর কোনো বাসনা ছিল না, কেবল দেবতার কাছে প্রার্থনা করিত যে 'মরিবার সময় যেন অমরকে দেখিতে পাই'।
কমলের পীড়া গুরুতর হইল। মূর্ছার পর মূর্ছা হইতে লাগিল। শিয়রে বিধবা নীরব, কমলের গ্রাম্য সঙ্গিনী বালিকারা চারি ধার ঘিরিয়া দাঁড়াইয়া আছে। দরিদ্র বিধবার অর্থ নাই যে চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করিতে পারেন। মোহন দেশে নাই এবং দেশে থাকিলেও তাহার নিকট হইতে কিছু আশা করিতে পারিতেন না। তিনি দিবারাত্রি পরিশ্রম করিয়া সর্বস্ব বিক্রয় করিয়া কমলের পথ্যাদি যোগাইতেন। চিকিৎসকদের দ্বারে দ্বারে ভ্রমণ করিয়া ভিক্ষা চাহিতেন যে, তাহারা কমলকে একবার দেখিতে আসুক। অনেক মিনতিতে চিকিৎসক কমলকে আজ রাত্রে দেখিতে আসিবে বলিয়া স্বীকৃত হইয়াছে।
অন্ধকার রাত্রের তারাগুলি ঘোর নিবিড় মেঘে ডুবিয়া গিয়াছে, বজ্রের ঘোরতর গর্জন শৈলের প্রত্যেক গুহায় গুহায় প্রতিধ্বনিত হইতেছে এবং অবিরল বিদ্যুতের তীক্ষ্ণ চকিতচ্ছটা শৈলের প্রত্যেক শৃঙ্গে শৃঙ্গে আঘাত করিতেছে। মুষলধারায় বৃষ্টি পড়িতেছে। প্রচণ্ড বেগে ঝটিকা বহিতেছে। শৈলবাসীরা অনেক দিন এরূপ ঝড় দেখেন নাই। দরিদ্র বিধবার ক্ষুদ্র কটির টলমল করিতেছে, জীর্ণ চাল ভেদ করিয়া বৃষ্টিধারা গৃহে প্রবাহিত হইতেছে এবং গৃহপার্শ্বে নিষ্প্রভ প্রদীপশিখা ইতস্তত কাঁপিতেছে। বিধবা এই ঝড়ে চিকিৎসকের আসিবার আশা পরিত্যাগ করিয়াছেন।
হতভাগিনী নিরাশহৃদয়ে নিরাশাব্যঞ্জক স্থির দৃষ্টিতে কমলের মুখের পানে চাহিয়া আছেন ও প্রত্যেক শব্দে চিকিৎসকের আশায় চকিত হইয়া দ্বারের দিকে চাহিতেছেন। একবার কমলের মূর্ছা ভাঙিল, মূর্ছা ভাঙিয়া মাতার মুখের দিকে চাহিল। অনেক দিনের পর কমলের চক্ষে জল দেখা দিল--বিধবা কাঁদিতে লাগিলেন, বালিকারা কাঁদিয়া উঠিল।
সহসা অশ্বের পদধ্বনি শুনা গেল, বিধবা শশব্যস্তে উঠিয়া কহিলেন চিকিৎসক আসিয়াছেন। দ্বার উদ্ঘাটিত হইলে চিকিৎসক গৃহে প্রবেশ করিলেন। তাঁহার আপাদমস্তক বসনে আবৃত, বৃষ্টিধারায় সিক্ত বসন হইতে বারিবিন্দু ঝরিয়া পড়িতেছে। চিকিৎসক বালিকার তৃণশয্যার সম্মুখে গিয়া দাঁড়াইলেন। অবশ বিষাদময় নেত্র চিকিৎসকের মুখের পানে তুলিয়া কমল দেখিল সে চিকিৎসক নয়, সে সেই সৌম্যগম্ভীরমূর্তি অমরসিংহ।
বিহ্বলা বালিকা প্রেমপূর্ণ স্থির দৃষ্টিতে তাঁহার মুখের দিকে চাহিয়া রহিল, বিশাল নেত্র ভরিয়া অশ্রু গড়াইয়া পড়িল এবং প্রশান্ত হাস্যে কমলের বিবর্ণ মুখশ্রী উজ্জল হইয়া উঠিল।
কিন্তু এই রুগ্ণ শরীরে অত আহ্লাদ সহিল না। ধীরে ধীরে অশ্রুসিক্ত নেত্র নিমীলিত হইয়া গেল, ধীরে ধীরে বক্ষের কম্পন থামিয়া গেল, ধীরে ধীরে প্রদীপ নিভিয়া গেল। শোকবিহ্বলা সঙ্গিনীরা বসনের উপর ফুল ছড়াইয়া দিল। অশ্রুহীন নেত্রে, দীর্ঘশ্বাসশূন্য বক্ষে, অন্ধকারময় হৃদয়ে, অমরসিংহ ছুটিয়া বাহির হইয়া গেলেন।
শোকবিহ্বলা বিধবা সেই দিন অবধি পাগলিনী হইয়া ভিক্ষা করিয়া বেড়াইতেন এবং সন্ধ্যা হইলে প্রত্যহ সেই ভগ্নাবশিষ্ট কুটিরে একাকিনী বসিয়া কাঁদিতেন।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
লেবাননের খ্রিস্টান গ্রামে ইসরায়েলের বিমান হামলা, নিহত ১৮
গাজা যুদ্ধ শুরুর পর সোমবার (১৪ অক্টোবর) উত্তর লেবাননে এই প্রথমবার এমন হামলা চালালো ইসরায়েল।
এর আগে রোববার রাতে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) হিজবুল্লাহর ২০০ লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালিয়েছে, যা দেশটির জন্য একটি বড় আঘাত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। পাশাপাশি গাজায়ও ইসরায়েলি বাহিনীর হামলার ঘটনা ঘটেছে।
লেবাননের রেডক্রস জানিয়েছে, বিমান হামলা জঘর্তা জেলার একটি খ্রিস্টান অধ্যুষিত গ্রামে সংঘটিত হয়েছে। এ অঞ্চলটি হিজবুল্লাহর শক্তিশালী ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এলাকাগুলো থেকে অনেক দূরে অবস্থিত।
স্থানীয় জনগণ এবং লেবাননের সরকারের মতে, এই হামলার শিকার হওয়া গ্রামটি যুদ্ধে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিল না। এর ফলে হামলাটিকে সুশীল সমাজ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোও নিন্দা জানিয়েছে।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী দাবি করেছে যে, তারা লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে হিজবুল্লাহর ২০০ লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে এবং বেশ কিছু ‘সন্ত্রাসী’কে নিশ্চিহ্ন করার কথা জানিয়েছে। লেবাননের সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, এ আক্রমণে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন অঞ্চলে অন্তত ৫১ জন নিহত হয়েছেন।
লেবাননের ইরান-সমর্থিত সংগঠন হিজবুল্লাহ রোববার মধ্য-উত্তর ইসরায়েলের একটি সেনাঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে, যাতে অন্তত চার ইসরায়েলি সেনা নিহত এবং ৬০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। এই হামলার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টা হামলার আশঙ্কা বাড়ছে।
গাজার উত্তরাঞ্চলে জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরে সোমবার বিমান হামলায় ১০ জন নিহত ও ৩০ জন আহত হয়েছেন। ইসরায়েলি বাহিনী একটি খাদ্য বিতরণ কেন্দ্রকে লক্ষ্যবস্তু করে আক্রমণ চালায় বলে স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে।
এছাড়া গাজার মধ্যাঞ্চলে দেইর আল-বালাহ শহরের আল-আকসা শহীদ হাসপাতালে বিমান হামলায় ৪ জন নিহত এবং অন্তত ৭০ জন আহত হয়েছেন।
গাজায় চলমান সংঘর্ষে নিহত মানুষের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪২ হাজার ২৮৯ জনে এবং আহত হয়েছেন প্রায় ৯৮ হাজার ৬৮৪ জন।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্তে বলেছেন, রোববারের হামলা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য দ্রুত ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো ইসরায়েলের আক্রমণকে অপ্রয়োজনীয় এবং বেসামরিক নাগরিকদের জন্য বিপজ্জনক বলে আখ্যা দিয়েছে।
ইসরায়েলের হামলা এবং লেবাননের প্রতিরোধ কার্যক্রম মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে গুরুতর সংঘাতের মধ্যে পরিণত হয়েছে, যা আঞ্চলিক শান্তির জন্য হুমকি হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
![]() |
| লেবাননের সামাইয়াহ গ্রামে ইসরায়েলের বিমান হামলার পর ধোঁয়া ওঠার দৃশ্য। ছবি: এএফপি |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ঘিরে ফেলল চীন, পাল্টা পদক্ষেপে সেনা পাঠাল তাইওয়ান
সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে চীন-তাইওয়ানের মধ্যে এত উত্তেজনা আর কখনও দেখা যায়নি। এরই মধ্যে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, তাইওয়ানকে ঘিরে ফেলেছে চীন। তার পদক্ষেপ হিসেবে তাইওয়ান সেনা পাঠানোর কথা জানিয়েছে।
জানা গেছে, তাইওয়ানকে ঘিরে সামরিক মহড়া চালিয়েছে চীন। এতে চীনের সেনা, নৌ, বিমানবাহিনী ছাড়াও রকেট ফোর্স, কোর্স্টগার্ড ও অন্যান্য বাহিনীও অংশ নেয়।
চীনের সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকেই এই মহড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। তারা বলছে, যুদ্ধজাহাজ ও যুদ্ধবিমান বিভিন্ন দিক থেকে তাইওয়ানের দিকে অগ্রসর হয়েছে। এ সময় তারা যৌথ আক্রমণের মহড়া চালায়। যুদ্ধ প্রস্তুতি ছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ বন্দর ও এলাকায় ব্লকেড দেওয়া, জল ও স্থলে কীভাবে হামলা চালানো হতে পারে, তার নমুনা দেখাতেই এই মহড়ার অনুষ্ঠিত হয়।
চীনের সাম্প্রতিক সময়ে এই আগ্রাসী আচরণের জন্য বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে তাইপেকে দায়ী করা হচ্ছে। চলতি বছরের শুরুতে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন লাই চিং-তে। তখনই তিনি কড়া ভাষায় বেইজিংয়ের সমালোচনা করেন। তবে প্রকাশ্যে দেওয়া ভাষণে তাইওয়ানের স্বশাসন বজায় প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, চিং-তের এমন মন্তব্যের পর বেজায় চটেছে বেইজিং।
চিং-তের পূর্বসূরিরা অনেকটা রয়েসয়ে এই ইস্যুতে কথা বলেছেন। কিন্তু তাইওয়ানের নতুন এই প্রেসিডেন্ট চেয়ারে বসেই যেন আগুন নিয়ে খেলা শুরু করলেন। তার সর্বশেষ এই মন্তব্যের পর, সামরিক মহড়া করে তাইওয়ানকে জবাব দেয় চীন। এরপর পাল্টা তাইওয়ানও পদক্ষেপ নেয়। তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিজেদের গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা রক্ষায় যথাযথ সেনা পাঠানো হয়েছে। তারা যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত বলেও জানিয়েছে তাইওয়ান।
তাইওয়ানের স্বশাসন নিয়েই বেইজিংয়ের সঙ্গে তাইপের মূল দ্বন্দ্ব। চীনের ভাষায়, তাইওয়ান তাদেরই অংশ। ভবিষ্যতে তাইওয়ানকে চীনের সঙ্গে যুক্ত করার স্বপ্নও দেখে বেইজিং। এজন্য প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগেরও হুমকি দিয়ে রেখেছে তারা। যদিও তাইওয়ানিদের বিশ্বাস, তারা আলাদা জাতি। তবে অধিকাংশ তাইওয়ানি চীন থেকে স্বাধীনতা ঘোষণা বা দেশটির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পক্ষে নয়।
![]() |
| চীনের পতাকার ওপর গ্রাফিকস। ছবি : সংগৃহীত |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আকাশ প্রতিরক্ষাকে ফাঁকি দিয়ে ইসরায়েলে ড্রোন হামলা
রোববার (১৩ অক্টোবর) মধ্য-উত্তর ইসরায়েলের বিনইয়ামিনা শহরের নিকটস্থ একটি সেনাঘাঁটিতে এই হামলা ঘটে, যা লেবানন সীমান্ত থেকে প্রায় ৪০ মাইল দূরে এবং তেলআবিবের উত্তরে অবস্থিত।
ড্রোন হামলায় চার ইসরায়েলি সেনা নিহত এবং ৬৭ জন আহত হন, যাদের মধ্যে সাতজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)।
হিজবুল্লাহ দাবি করেছে যে, তারা ইসরায়েলের পদাতিক প্রশিক্ষণ শিবির লক্ষ্য করে একঝাঁক ড্রোন পাঠিয়েছিল, যার মধ্যে একটি ড্রোন এ সেনাঘাঁটিতে আঘাত হানে।
তারা আরও জানায়, গত বৃহস্পতিবার লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় ২২ জন নিহত এবং ১১৭ জন আহত হওয়ার প্রতিশোধ হিসেবেই এই ড্রোন হামলা চালানো হয়।
সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা অত্যন্ত শক্তিশালী হওয়া সত্ত্বেও, হিজবুল্লাহর ড্রোন রোববার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ফাঁকি দিতে সক্ষম হয়। ড্রোনগুলো প্রবেশ করার সময় বিনইয়ামিনা এলাকায় কোনো সতর্কবার্তা শোনা যায়নি।
এদিকে বিনইয়ামিনা এলাকায় হামলায় একটি বিশেষ কৌশল অবলম্বন করে হিজবুল্লাহ। এক ঝাঁক রকেটের নিচে ড্রোন পাঠায় তারা। উদ্দেশ্য ছিল ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে বিভ্রান্ত করা। অন্তত একটি ড্রোন ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিতে সক্ষম হয়। ফলে একটি ড্রোন বিনইয়ামিনায় আছড়ে পড়ে, যা ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আঘাত করার বড় ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
আইডিএফের শীর্ষ মুখপাত্র রিয়ার অ্যাডমিরাল ড্যানিয়েল হাগারি জানান, তারা এ ঘটনার তদন্ত করবে এবং কীভাবে ড্রোনগুলো সেনাঘাঁটিতে প্রবেশ করল, তা খতিয়ে দেখবে। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় আরও উন্নতির প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
সূত্র: সিএনএন
![]() |
| হিজবুল্লাহর ড্রোন। ফাইল ছবি: রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচন চীনাদের ভাবনা কী
এখানে উল্লেখ্য, গাজায় যুদ্ধবিরতিতে মধ্যস্থতার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে চীন। তারা নিজেদেরকে মধ্যপ্রাচ্যকে তাদের আরব ভাই বলে বর্ণনা করেছে। ইসরাইলকে দ্ব্যর্থহীন সমর্থন দেয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছে চীন। ইউক্রেন ইস্যুতে চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই জাতিসংঘে বলেছেন, চীন এক্ষেত্রে গঠনমূলক ভূমিকা পালন করছে। অন্যদিকে তিনি অভিযোগ করেন নিজেদের স্বার্থ অর্জনের জন্য পরিস্থিতিকে ব্যবহার করছে ওয়াশিংটন। বেশির ভাগ বিশ্লেষক মনে করেন এবারের নির্বাচনে হোয়াইট হাউসে কে যাবেন তাতে বেইজিংয়ের কোনো পছন্দের কেউ নেই। তবে অনেকে মনে করেন, চীনা জনগণ এবং দেশটির নেতাদের কাছে কমালা হ্যারিস অনেকটা অস্পষ্ট। আবার অনেকে বিশ্বাস করেন ট্রাম্পের চেয়ে কমালা হ্যারিস বেশি স্থিতিশীলতা আনবেন। বিশেষ করে যখন বিষয়টি আসবে যুক্তরাষ্ট্র বনাম চীন-তাওয়ান ইস্যুতে। চার বছর বয়সী এক সন্তানের পিতা বলেন, আমি ট্রাম্পকে পছন্দ করি না। যুক্তরাষ্ট্র এবং চীনের মধ্যে একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ আছে বলে মনে করি না। অনেক সমস্যা আছে, বৈশ্বিক অর্থনীতি এবং তাইওয়ান সমস্যা আছে। তিনি মনে করেন তাইওয়ান নিয়ে বিরোধে তাদের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়ে যেতে পারে। এটা আমি চাই না। তিনি বলেন, এ জন্য আমার ছেলেকে সেনাবাহিনীতে দিতে চাই না।
অন্যদের মতো ১৭ বছর বয়সী লুসি একদিন যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে যাওয়ার আশা করে। গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করার পর তিনি বিখ্যাত ইউনিভার্সাল স্টুডিও দেখতে যেতে চান। যুক্তরাষ্ট্রে একজন নারী প্রেসিডেন্ট প্রার্থী দেখে তিনি উদ্বেলিত। বলেন, লিঙ্গ সমতার দিক দিয়ে হ্যারিসের প্রার্থিতা একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তাকে একজন প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে দেখে আমি উদ্বুদ্ধ। অন্যদিকে চীনে কোনোদিন নারী নেতৃত্ব দেখা যায়নি। এমনকি পলিটব্যুরো হিসেবে ২৪ সদস্যের যে টিম আছে তাতেও বর্তমানে নেই একজন নারী। চাইনিজ কমিউনিস্ট পার্টির সবচেয়ে সিনিয়র সদস্যদের নিয়ে এই পলিটব্যুরো। চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনাকর প্রতিযোগিতা দেখে উদ্বিগ্ন লুসি। তিনি মনে করেন, জনগণের সঙ্গে অধিক পরিমাণের জনগণের সম্পর্ক বিনিময়ের মাধ্যমে দুই দেশই তাদের সম্পর্ক উন্নত করতে পারে। দুই দেশই এ লক্ষ্যে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে। এখন পর্যন্ত চীনে পড়াশোনা করা মার্কিন শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২০১১ সালের ১৫ হাজার থেকে কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৮০০তে। তবে আগামী ৫ বছর চীনে যুক্তরাষ্ট্রের ৫০ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য দরজা খুলে দেয়ার আশা প্রকাশ করেছেন চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। কিন্তু সম্প্রতি বিবিসিতে এক সাক্ষাৎকারে চীনে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস বার্নস অভিযোগ করেছেন যে, শি জিনপিংয়ের এই প্রতিশ্রুতিকে গুরুত্ব দিয়ে নেয়নি চীন সরকারের কোনো কোনো অংশ। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র পরিচালিত গণ কূটনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেয়া থেকে চীনা নাগরিকদের বাধা দেয় সরকারের একটি মন্ত্রণালয়।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বিটিভি’র মাহফুজার অনিয়ম-দুর্নীতি: দশ মাসেও শেষ হয়নি অনুসন্ধান by মারুফ কিবরিয়া
দুদক সূত্রে জানা গেছে, বিটিভি’র সাবেক জিএম দায়িত্বে থাকাকালীন মাহফুজা আক্তারের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। এই অভিযোগের মধ্যে রয়েছে- শিল্পী সম্মানির ১৩ কোটি ২৮ লাখ টাকা ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে উত্তোলন করে তা আত্মসাতের ঘটনা। দুদকের একটি দল বিষয়টি অনুসন্ধান করছে। এ ছাড়া ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরের মে-জুন ২০২৪ মাসে অনুষ্ঠান না করে, ভুয়া বিল-ভাউচার এবং বাজেটের মাধ্যমে ১৮ কোটি টাকা লুটপাট করার অভিযোগ রয়েছে মাহফুজা আক্তারের বিরুদ্ধে। বিটিভি’র একাধিক সূত্র জানিয়েছে, অর্থ আত্মসাতের এসব কর্মকাণ্ডে বিটিভি’র সাবেক ডিজি জাহাঙ্গীর আলমের সম্পৃক্ততাও রয়েছে। এ ছাড়া আত্মসাতের এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে অতিরিক্ত পরিচালক (অর্থ) মো. আতাউর রহমান, নিয়ন্ত্রক (ডিজাইন) মোহাম্মদ সেলিম, পিএম মোহাম্মদ মোল্লা আবু তৌহিদ এবং পিএম (চলতি দায়িত্ব) সাহরিয়ার মোহাম্মদ হাসানের নামও রয়েছে। দুদকের কর্মকর্তারা জানান, অনুসন্ধানে যাদের নাম আসছে তাদের কার কি দায় আছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মূলত একটি অনুসন্ধানের মধ্যে একাধিক অভিযোগ থাকায় বেশি দেরি হচ্ছে বলেও জানা গেছে।
সূত্র জানায়, এর আগেও মাহফুজা আক্তার বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্রে স্বল্প সময়ের জন্য দায়িত্ব পালনকালেও ১ কোটি ২০ লাখ টাকা অতিরিক্ত খরচের নামে আত্মসাৎ করেছেন। অন্যদিকে, তথ্য ও সমপ্রচার মন্ত্রণালয় কর্তৃক সর্বশেষ অনুমোদিত বাংলাদেশ টেলিভিশনের শিল্পী, নাট্যকার, গীতিকার, পাণ্ডুলিপি রচয়িতা ও কলাকুশলী তালিকাভুক্তি এবং গ্রেডেশন নির্ধারণ সংক্রান্ত নীতিমালা লঙ্ঘন করে কোটি কোটি টাকা লেনদেনের মাধ্যমে ১৭৬১ জন শিল্পীকে তালিকাভুক্ত করেছে বিটিভি’র সাবেক মহাপরিচালক, ডিডিজি ড. সৈয়দা তাসমিনা আহমেদ (কমিটির আহ্বায়ক), ঢাকা কেন্দ্রের সাবেক জিএম এবং পিএম মোহাম্মদ মোল্লা আবু তৌহিদ (কমিটির সদস্য সচিব)। শেখ হাসিনা সরকারের আমলে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনের আগে তড়িঘড়ি করে নীতিমালা লঙ্ঘন করে নিজের ইচ্ছামতো কমিটি গঠনের নামে ১৭৬১ জন শিল্পীকে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে বলেও অভিযোগনামায় উল্লেখ রয়েছে।
সূত্র আরও জানায়, সাবেক মহাপরিচালক জাহাঙ্গীর আলম ক্ষমতার অপপ্রয়োগ করে এবং নীতিমালা লঙ্ঘন করে তালিকাভুক্তির আগে এবং পরে নিজের ছেলেকে দিয়ে বহু অনুষ্ঠান নির্মাণ করে ১০৭টি চেক নিয়েছেন। ক্ষমতার অপপ্রয়োগ করে তিনি তার ছেলেকে সংবাদ পাঠকসহ নজরুল, রবীন্দ্র, পল্লীগীতি এবং আধুনিক গানে তালিকাভুক্ত করেন। আর এসব অনিয়মের সঙ্গে মাহফুজা আক্তারের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে জানা গেছে দুদক সূত্রে। সূত্র আরও জানায়, মাহফুজা আক্তার চট্টগ্রামে দায়িত্ব পালনকালে ক্ষমতার অপপ্রয়োগ করে নিজেই প্রযোজক সেজে ৬৩৯টি অনুষ্ঠান নির্মাণ দেখিয়ে ভুয়া বিল-ভাউচার এবং নামে-বেনামে প্রায় ৯৮ লাখ টাকা উত্তোলন করেছেন।
সূত্র জানায়, মাহফুজা আক্তার বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্রের জিএম হিসেবে চলতি দায়িত্ব পালনকালে এবং এইচডিটিভি প্রকল্পের পিডি থাকাকালীন ক্ষমতার অপব্যবহার এবং স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে ২১ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এরই মধ্যে এই অনিয়মের বিষয়ে জানতে চট্টগ্রাম কেন্দ্রে বেশ কয়েকটি পত্র প্রেরণ করেছেন দুদকের অনুসন্ধান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।
দুদকের অনুসন্ধান সূত্র বলছে, মাহফুজা আক্তারের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের অভিযোগ রয়েছে। পাচারকৃত অর্থে কানাডার টরেন্টোতে বাড়ি কিনেছেন। দুদকের অনুসন্ধান টেবিলে এসব তথ্যও রয়েছে। পাচারের বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে সংস্থাটির পক্ষ থেকে বিএফআইইউতে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
সূত্রের বরাতে জানা গেছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে গত ১৮ই জুলাই বিটিভি’র ঢাকা কেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। বিটিভি’র একাধিক কর্মকর্তার দাবি, ভবনের বাইরের হামলা ও ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগ একটি পক্ষ করেছে। আর ভেতরের অগ্নিসংযোগের সঙ্গে মাহফুজা আক্তারসহ তার সিন্ডিকেটের কর্মকর্তারা জড়িত।
এদিকে বিটিভি’র শিল্পী, কলা-কুশলী, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মনে করছেন, বিটিভি’র ইতিহাসে এ ধরনের লুটপাট কখনোই ঘটেনি। এই সিন্ডিকেটের কারণেই বিটিভি’র ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে। ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে ঢাকা কেন্দ্রের শিল্পী সম্মানি খাতে ৬৯ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকলেও ৬ মাস অনুষ্ঠান নির্মাণ না করে পুরো খরচ দেখানো হয়েছে। এক্ষেত্রে প্রায় ৩৫ কোটি টাকা লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে বলে জানান একাধিক বিটিভি’র কর্মকর্তা। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর দুর্নীতির এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে বহু শিল্পী, কলা-কুশলী, কর্মকর্তা-কর্মচারী সমপ্রতি মানববন্ধন করে বিটিভি’র সামনে।
অনুসন্ধানের বিষয়ে জানতে চাইলে দুদকের উপ-পরিচালক (জনসংযোগ) মো. আকতারুল ইসলাম মানবজমিনকে বলেন, এ বিষয়ে অনুসন্ধান চলছে। কর্মকর্তা ভালো বলতে পারবেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুদকের এক কর্মকর্তা মানবজমিনকে বলেন, মাহফুজা আক্তার ও বিটিভি’র বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঢাকা ও চট্টগ্রাম কেন্দ্রের একাধিক অভিযোগের অনুসন্ধান চলছে। বিপুল অঙ্কের অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় অনুসন্ধানগুলো ধীরে এগুচ্ছে। তবে কাজ একদম শেষের দিকে। আগামী মাসেই প্রতিবেদন জমা দেয়া হবে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে মাহফুজা আক্তারকে একাধিকবার কল করা হয়। তিনি তার মুঠোফোন রিসিভ করেননি। এমনকি বক্তব্য জানতে তাকে ক্ষুদে বার্তাও পাঠানো হয়েছে। তাতে সাড়া দেননি মাহফুজা আক্তার। তবে এই প্রতিবেদকের কাছে থাকা অন্য একটি নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। এ সময় কল রিসিভ করে মাফফুজা আক্তারের স্বামী পরিচয়ে একজন কথা বলেন। তিনি বলেন, নম্বরটি বাসায় ব্যবহার হয়। তিনি (মাহফুজা) বাসায় নেই। আসলে আপনার কথা বলবো।
সার্বিক বিষয়ে জানতে বিটিভি’র বর্তমান মহাপরিচালক মো. মাহবুবুল আলম মানবজমিনকে বলেন, এটি একটি সেনসেটিভ বিষয়। এ ব্যাপারে কথা বলতে হলে সামনাসামনি আসুন।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আফ্রিকাসহ ১০৪টি দেশ সমর্থন জানালেও ইসরাইল-নিন্দাপত্রে সই করলো না দিল্লি
ইসরাইলের এই পদক্ষেপের নিন্দা করে জাতিসংঘের ১০৪টি দেশ ও আফ্রিকান ইউনিয়ন চিঠি প্রকাশ করে। ইউরোপ, আফ্রিকা, দক্ষিণ এশিয়ার অধিকাংশ দেশের পাশাপাশি অধিকাংশ উন্নয়নশীল দেশ তাতে সই করে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ১০টি সদস্য দেশ এই চিঠিতে সই করলেও আমেরিকা, বৃটেন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত সই করেনি।
ইসরাইল-হামাস দ্বন্দ্ব শুরুর পর থেকেই মোদি সরকারের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলছিল ভারতের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস। গুতেরেসকে সমর্থনের চিঠিতে সই না করায় ফের সরব হয়েছে রাহুল গান্ধীর দল। কংগ্রেসের প্রধান মুখপাত্র জয়রাম রমেশের মন্তব্য, "কেন প্রধানমন্ত্রী পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়কে এই অবস্থান নিতে নির্দেশ দিয়েছেন, তার পেছনে রহস্য রয়েছে? লজ্জাজনক।" কংগ্রেস নেতা পি চিদম্বরমের মন্তব্য, “কেন ভারত এই চিঠিতে সই করল না, তার কোনও ব্যাখ্যা নেই। জাতিসংঘের মহাসচিবের প্রবেশাধিকারে নিষেধাজ্ঞা জারি করে ইসরাইল চরম ভুল করেছে। ভারতের উচিত ছিল সবার আগে সই করা।” চিঠিতে সই না করলেও লেবাননে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা বাহিনীর উপরে ইসরাইলের হামলার নিন্দামূলক বিবৃতিকে সমর্থন জানিয়েছে ভারত।
সূত্র : দ্য হিন্দু

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
পলিথিন ও প্লাস্টিক বন্ধে ২০৩০ সাল পর্যন্ত সময় চান ব্যবসায়ীরা
এ সময় লিখিত বক্তব্যে বাংলাদেশ প্লাস্টিক দ্রব্য প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সামিম আহমেদ বলেন, গত ২৭ আগস্ট পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ১৭টি একবার ব্যবহার্য প্লাস্টিকের একটি তালিকা সম্বলিত গেজেট প্রকাশ করেছে। সে অনুযায়ী, একবার ব্যবহার্য প্লাস্টিক বন্ধ করার প্রচেষ্টা চলছে। ফলে প্লাস্টিক সেক্টরের ব্যবসা বাণিজ্য এবং লিংকেজ হিসেবে অন্যান্য সেক্টরের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এ আইনের কারণে শিল্প বিকাশে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হবে এবং বাজারে নেগেটিভ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এসময় খাদ্য নিরাপত্তা আইন অনুযায়ী, আয়োডিনযুক্ত লবণ প্লাস্টিক ছাড়া মোড়কীকরণ সম্ভব নয় উল্লেখ করে সামিম আহমেদ বলেন, অন্য কোনো পণ্য দিয়ে মোড়কীকরণ করা হলে তার গুণগত মান থাকবে না।এছাড়াও বর্তমান সরকার ভোজ্য তেলের সঙ্গে ভিটামিন-এ যুক্ত করতে চায় যা প্লাস্টিক কনটেইনার ছাড়া এটা সম্ভব নয়। তরল দুধ প্লাস্টিক প্যাকেজিং ছাড়া বাজারজাত সম্ভব নয় কারণ ইউভি লাইট সুরক্ষা না থাকলে দুধ নষ্ট হয়ে যায়। ওষুধের গুণগত মান রক্ষায়ও প্লাস্টিক প্যাকেজিং ছাড়া কোনো বিকল্প নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এই ব্যবসায়ী বলেন, ইউএনইএ রেজ্যুলেশনে প্লাস্টিককে বর্তমান আধুনিক মানবসভ্যতায় তার ভূমিকা এবং অবদান লিপিবদ্ধ করেছে এবং স্বীকৃতি দিয়েছে। আইএনসি প্লাস্টিক দূষণ প্রতিরোধে চলমান আলোচনায়ও প্লাস্টিক বন্ধ করার কথা বলা হয়নি।
২০০২ সালের পলিথিন ব্যাগ নিষিদ্ধের আইন বাস্তবায়নযোগ্য করার জন্য বিকল্প ব্যাগসমূহের মূল্য সহনীয় পর্যায়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করার পরামর্শ দিয়ে সামিম আহমেদ বলেন, সচেতনতা বৃদ্ধি, শিক্ষা কারিকুলামে অন্তর্ভুক্তকরণ, জনগণের অংশগ্রহণ, যথেষ্ট পরিমাণে বিনের (ঝুড়ি) ব্যবস্থা করা, সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তর করার জন্য বিনিয়োগ করতে হবে। যথেষ্ট পরিমাণ বিকল্প ব্যাগের ব্যবস্থা/সরবরাহ নিশ্চিত না করে কোনো অভিযান পরিচালনা সফল হবে না।
পরে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্লাস্টিকের পুনঃচক্রায়নের মাধ্যমে বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তর করতে হবে। এর মাধ্যমে বৈশ্বিক উষ্ণতা কমানো এবং মহাসাগরীয় প্লাস্টিক দূষণ রোধ করার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এসময় তিনি জাতিসংঘের পরিবেশ অ্যাসেম্বলির একবার ব্যবহার্য প্লাস্টিক ব্যবহার বন্ধের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০৩০ সাল পর্যন্ত পণ্যটি বন্ধে সময় নিতেও সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, যে লক্ষ্যে ২০২২ সালে প্লাস্টিক শপিং ব্যাগ বন্ধ করে দেয় তা গত ২২ বছরে অর্জন করা সম্ভব হয়নি। সাশ্রয়ী মূল্য, গুণগত মান এবং সহজে ব্যবহারযোগ্য শপিং ব্যাগের বিকল্প ছাড়া উৎপাদন ও সরবরাহ সম্ভব হয় না। সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক বন্ধ হলে প্লাস্টিক খাতের ৬০০০ হাজার শিল্প প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এর ফলে লক্ষাধিক কর্মকর্তা ও কর্মচারী চাকরি হারাবেন।
অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে প্লাস্টিক ফাউন্ডেশন। এতে ফাউন্ডেশনের আওতাভুক্ত বিভিন্ন অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
প্রবাসীরা ভয়াবহ ঝুঁকির মুখে পড়েছেন by এম এস সেকিল চৌধুরী
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রেস ব্রিফিং ও বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রচারিত খবর অনুযায়ী দেশের ব্যাপক জনগোষ্ঠীর ব্যক্তিগত তথ্য অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে উন্মুক্ত হয়ে গেছে কতিপয় অসাধু প্রভাবশালী মানুষের ব্যক্তিগত অর্থ লালসার কারণে। এ ঘটনা জাতিকে নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে ফেলে দিয়েছে। বিশেষ করে বিভিন্ন দেশে কর্মরত ও বসবাসকারী বাংলাদেশি নাগরিক যাদের এনআইডি কার্ড রয়েছে তারা ভীষণ ঝুঁকির মধ্যে পড়েছেন। অনেকের এনআইডি কার্ডে ছোটখাটো বানান বিভ্রাট ও তথ্যের ভ্রান্তি থাকার অবকাশ আছে। এ কারণে প্রবাসীদের পাসপোর্ট ও ট্র্যাভেল ডকুমেন্ট এবং বিভিন্ন দেশে অবস্থান সংশ্লিষ্ট কাগজপত্রও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
প্রবাসীদের তথ্যভাণ্ডারের সম্ভাব্য অসঙ্গতির প্রধান কারণ হচ্ছে এ বিষয়ে আমরা ‘প্রথম জেনারেশন’ এবং সম্যকভাবে অবহিত ছিলাম না সুতরাং ভ্রান্তিগুলো নির্মূল করে আদর্শ অবস্থানে আসতে আমরা এখনো সক্ষম হইনি। দ্বিতীয়ত: অনেকদিন আগে থেকে যারা বিদেশে থাকেন তাদের বিদেশের তথ্যাবলী ও দেশের তথ্যভাণ্ডারে থাকা তথ্যের সমন্বয়ে কিছু ঘাটতি আছে। এমতাবস্থায় দেশে থাকা তথ্য ভাণ্ডারের তথ্য বিদেশি নিয়োগকর্তা ও কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছালে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন।
দেশের অপরাপর জনগোষ্ঠীর তথ্যও অন্যদের কাছে থাকা নিরাপদ নয়। এটি জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। বিশ্ব সম্প্রদায় যখন নিজেদের নাগরিকদের তথ্য ভাণ্ডার সুরক্ষিত ও নিরাপদ রাখার জন্য নানা কর্মকৌশল গ্রহণ করছে, প্রতিনিয়ত নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করছে এবং নিরাপত্তা বেষ্টনী নিশ্চিত করার জন্য নিয়ত প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে তখন আমাদের দেশের কতিপয় লোক নিজেদের ব্যক্তিগত স্বার্থে দেশ জাতির নিরাপত্তা বিক্রি করে দিচ্ছে এবং এ কাজে রাষ্ট্রযন্ত্রের সকল সহায়তা পাচ্ছে। কি বিভৎস্য ও ভয়ঙ্কর এই ঘটনা!
বিশ্বায়নের যুগে আন্তর্জাতিক নানা উপলক্ষে বাংলাদেশের বহু নাগরিকের বিভিন্ন পারিবারিক, সামাজিক ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ আছে বহির্বিশ্বের সঙ্গে। এই তথ্যপাচার এসব মানুষকে বিপদগ্রস্ত করতে পারে। আর্থিক ও বৈষয়িক নানা ক্ষেত্রে এই তথ্য সংশ্লিষ্ট থাকায় মানুষ বিপদে থাকবেন।
এমনিতেই আমাদের আন্তর্জাতিক শ্রমবাজার নষ্ট করার জন্য প্রতিযোগী কতিপয় দেশ আমাদের নামে দেশে-বিদেশে নানা অপপ্রচার চালায়। আমরাও নানা রাজনৈতিক সুবিধা নেয়ার জন্য নিজ দেশকে জঙ্গিবাদের ও ধর্মভিত্তিক রাজনীতির উত্থানের কথা বলে বেড়িয়েছি নিজেদের দলীয় রাজনীতির সুবিধা আদায়ের জন্য। এ সবই আমাদেরকে জাতি হিসেবে ঝুঁকির মধ্যে রেখেছে।
উপরন্তু কতিপয় মানুষের অতি লোভ ও অসাধুতায় গোটা জাতির নিরাপত্তা আজ ঝুঁকিপূর্ণ, এ অবস্থায় দেশে ও বিদেশে অবস্থানকারী সকল নাগরিকদের ও রাষ্ট্রের নিরাপত্তায় কী ব্যবস্থা নেয়া যায় এ ব্যাপারে খাত-সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে পরামর্শ করে তড়িৎ ব্যবস্থা নেয়া জরুরি। এ ব্যাপারে সরকারকে অতি দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানাই। এ ক্ষেত্রে যেকোনো বিলম্ব নানা বিপদ ডেকে আনতে পারে।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
চীনের সঙ্গে সামরিক যোগাযোগ বাড়াবে সরকার
সেমিনারে জাতীয় শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির প্রধান এবং নীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, বাণিজ্য শুধু বাজার সুবিধার ওপর নির্ভর করে না। প্রক্রিয়ার ওপরও নির্ভর করে বাণিজ্য সমপ্রসারণের বিষয়টি। তাই চীনের বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের শতভাগ সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে সম্পর্কের ভবিষ্যতের স্বার্থে আমাদের অশুল্ক বাধার বিষয়টিকেও বিবেচনায় নিতে হবে। আপস নিষ্পত্তির জন্য প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রিতার বিষয়টি জড়িত। তিনি বাংলাদেশে চীনা ঋণের প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনার ওপর জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশের বিদেশি ঋণের দিকে তাকালে দেখতে পাবেন প্রায় ছয়শ’ কোটি ডলার চীনের কাছে যাবে প্রায় ৫৬০ কোটি ডলার। এটা বাংলাদেশের বিদেশি ঋণের প্রায় ১০ শতাংশ। কাজেই ঋণ পরিশোধ বাংলাদেশের জন্য একটি ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দিয়েছে। চীনা ঋণের মধ্যে সরবরাহ ঋণ রয়েছে। যা পরিশোধের সময়সীমা কম। গ্রেস পিরিয়ডও কম। শর্ত কড়াকড়ি থাকে, কমিটমেন্ট চার্জের হারও বেশি। ভবিষ্যতে এগুলোতে পরিবর্তন আনার সুযোগ আছে কি না বিবেচনায় নেয়া উচিত। তার মতে, চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চীনের জন্য নির্ধারিত বিশেষায়িত শিল্পাঞ্চলে যথাযথভাবে চীনা বিনিয়োগ না হলে কর্ণফূলী টানেল আর্থিকভাবে টেকসই হবে না। দুই দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যতের স্বার্থে আরও স্বচ্ছতা আনা উচিত।
অনুষ্ঠানে চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, বাংলাদেশ সমপ্রতি উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক পরিবর্তনের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে এবং এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে রয়েছে। বাংলাদেশের সমন্বিত কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদার হিসাবে, চীন দৃঢ়ভাবে অন্তর্বর্তী সরকারকে রাষ্ট্রীয় সংস্কার, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, অর্থনৈতিক উন্নয়নের বিকাশ এবং জনগণের জীবনযাত্রার উন্নতির প্রচেষ্টায় সমর্থন করে।
উদ্বোধনীতে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব স্ট্র্যাটেজিক এবং ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের চেয়ারম্যান রাষ্ট্রদূত এফএম গওসুল আজম সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তৃতা করেন- সাংহাই ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের অধ্যাপক ইয়াং জেইমিয়ান এবং বিস’র মহাপরিচালক মেজর জেনারেল ইফতেখার আনিস প্রমুখ।
এদিকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাংলাদেশে অবকাঠামো উন্নয়ন, বিদ্যুৎ, গ্রিন এনার্জি, আইসিটি প্রভৃতি খাত নিয়ে সেমিনারে আলোচনা হয়েছে। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা এসব খাতে চীনের সহযোগিতা কামনা করেন। বাংলাদেশ-চীনের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক সৌহার্দ্যপূর্ণ সহাবস্থান ও সহযোগিতামূলক সাফল্যের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিগত বছরগুলোতে চীন এবং বাংলাদেশ নিরলসভাবে একে-অপরকে সমান মর্যাদাসম্পন্ন হিসেবে মূল্যায়ন করেছে এবং পারস্পরিক সুবিধা অনুসরণ করেছে। উভয় দেশ প্রথম থেকেই অভিন্ন মৌলিক স্বার্থের বিষয়ে একে-অপরকে সমর্থন করেছে এবং নিজ নিজ উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করেছে। এর ফলে বাংলাদেশ-চীনের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক সৌহার্দ্যপূর্ণ সহাবস্থান ও সহযোগিতামূলক সাফল্যের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
লক্ষ্মীপুরে ফিলিং স্টেশনে সিলিন্ডার বিস্ফোরণ, নিহত ৩
নিহতরা হলেন, সদর উপজেলার চরমনসার বটুমিয়ার ছেলে সুমন হোসেন (৩০), বাঞ্চানগর এলাকার সুজামিয়ার ছেলে মো. ইউসুফ মিয়া (৪৫) ও হৃদয় হোসেন (২৩)। তারা সবাই সিএনজি চালক।
বিস্ফোরণে সুমন হোসেন, রকি ইসলাম, মোহাম্মদ ফাহাদ হোসেন, সিরাজ মিয়া, হৃদয় ইসলাম, শান্ত খান ও আবদুল মালেকসহ ২০ জন অগ্নিদগ্ধ হন। তাদের মধ্যে ১০ জনের অবস্থায় আশঙ্কাজনক হওয়ায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আহতরা বাস ও সিএনজির চালক বলে জানান ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার আল আমিন।
ফিলিং স্টেশন, ফায়ার সার্ভিস ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, রাত পৌনে ২টার দিকে মেঘনা পরিবহন নামে একটি বাস গ্রীনলাইফ ফিলিং স্টেশনে গ্যাস নিতে আসে। বাসে গ্যাস ভরার সময় হঠাৎ সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হয়। এতে চারদিক ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে গেলে স্টেশনে থাকা সিএনজি চালকরা ছোটাছুটি শুরু করেন। এ সময় ঘটনাস্থলে সিএনজির তিন চালক মারা যান। আহত হন আরো ২০জন।
সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. জয়নাল আবেদিন বলেন, ‘সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ঘটনাস্থলে তিনজন মারা গিয়েছেন। গুরুতর আহত হন ২০ জন। আহতদের মধ্যে কারো পা, কারো হাত শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। তাদের মধ্যে ১০ জনের অবস্থায় আশঙ্কাজনক হওয়ায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। প্রচুর রক্তক্ষরণ হচ্ছে।’
লক্ষ্মীপুর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার রনজিত কুমার বলেন, ‘গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ৩ জন মারা গেছেন। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।’
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বাসের গ্যাস সিলিন্ডারটি মেয়াদ উত্তীর্ণ ও নিম্নমানের হওয়ায় এই দুর্ঘটনা ঘটে বলেও জানান তিনি।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গুলিতে স্বামীর মৃত্যু, সন্তানদের নিয়ে দুশ্চিন্তা লাকির by ফাহিমা আক্তার সুমি
নিহতের স্ত্রী লাকি আক্তার মানবজমিনকে বলেন, আমার স্বামী ছিল সংসারের একমাত্র উপার্জনকারী ব্যক্তি। তার মৃত্যুতে আমরা ভেঙে পড়েছি। সন্তানদের কোনো চাহিদা পূরণ করতে পারছি না। পূরণ করতে পারি না তাদের বাবার অভাব। সন্তানদের লেখাপড়া ঠিকমতো হচ্ছে না। এদের ভবিষ্যৎ কোন দিকে যাবে কীভাবে আমি তৈরি করে দিবো সেই চিন্তাই কাটছে না। আমরা এখন গ্রামের বাড়ি রাজবাড়ীতে থাকি। এরআগে ১৪ বছর ধরে ঢাকায় ছিলাম। খুব ভালো চলছিলো সন্তানদের নিয়ে। এখন অবস্থা খুবই খারাপ। আমার ছেলে গত বছর এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছিল তখন দুই সাবজেক্টে ফলাফল খারাপ এসেছিল। এইবার আবার পরীক্ষা দেয়ার কথা ছিল কিন্তু ওর বাবা মারা যাওয়ার পর আর পরীক্ষা দিতে পারেনি। ওর বাবা যে হোটেলে কাজ করতো সেই হোটেলে সে এখন কাজ করে। খুব অল্প বয়সে সংসারের হাল ধরার জন্য পড়াশোনা বাদ দিয়ে ছেলেটি কাজ শুরু করেছে। আমি এসএসসি পাস করেছিলাম। যেকোনো একটা কাজের ব্যবস্থা হলে সন্তানদের নিয়ে কোনোমতে বেঁচে থাকতে পারবো। এ বছরের জানুয়ারিতে মেয়েকেও স্কুলে ভর্তি করেছি। অল্প কিছু সহযোগিতা পেয়েছিলাম সেইটা দিয়ে কোনোমতে চলছি। তিনি বলেন, স্বপ্ন ছিল সন্তানদের মানুষের মতো মানুষ করবো। একটা সুখের সংসার হবে আমাদের কিন্তু সেটি আর পূরণ হলো না। মেয়েটা সারাদিন ওর বাবার জন্য কান্নাকাটি করে। আমি বুঝতে পারছি না সামনের দিনগুলো আমার কীভাবে যাবে। সন্তানরা বড় হলে তবুও দুশ্চিন্তা কমতো। দুইটা সন্তানই এখনো অনেক ছোট।
গণি শেখের ছোট ভাই তরিকুল ইসলাম ওইদিনের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, গত ১৯শে জুলাই শুক্রবার সকালে কাজে যাওয়ার সময় ভাটারা থানার সামনে গুলিবিদ্ধ হয় আমার ভাই। গুলশান-২ নম্বরের একটি হোটেলে স্যানিটারির কাজ করতেন। তার মোবাইল থেকে বাবাকে কল করে জানানো হয় ঘটনাটি। কিছুক্ষণ পরে বাবা আমাকে ভাইয়ের বিষয়টি জানায়। ভাইয়ের মাথার এক পাশ থেকে গুলি লেগে অপর পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়। এ সময় তাকে আশেপাশে থাকা ব্যক্তিরা উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে অবস্থা গুরুতর হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেন। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা মেডিকেলে গিয়ে জানতে পারি হাসপাতালে নেয়ার দশ মিনিট পরে আমার ভাই মারা যান। মারা যাওয়ার তিনদিন পর মরদেহ নিয়ে গ্রামের বাড়ি রাজবাড়ীতে যাই সেখানে আমার ভাইকে দাফন করা হয়। ভাইয়ের স্ত্রী ও দুই সন্তান রয়েছে। ১২ বছর ধরে ওই হোটেলে কাজ করতো ভাই। এখন ১ মাস ধরে সেই হোটেলে তার ছেলে আল আমিন কাজ করছে। সাত হাজার টাকার মতো বেতন পাবে। মেয়েটি মাত্র স্কুলে ভর্তি হয়েছে। ভাই তার আয় দিয়ে নিজের সংসারের পাশাপাশি বাবা-মাকেও দেখাশোনা করতেন। ঢাকাতে আমরা দুই ভাই একসঙ্গে থাকতাম। অনেকে খোঁজখবর নাম-ঠিকানা নিয়ে আর কোনো খবর রাখেনি।
তিনি বলেন, আমার ভাই তো মারা গেছেন তাকে তো আর পাওয়া যাবে না। তার স্ত্রী-সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি। বাবা আবদুল মজিদ ছোটবেলাতেই আমাদের ঢাকায় নিয়ে আসে। আমরা একটু বড় হলে যখন কাজ করা শুরু করেছি তখন গ্রামে চলে যায়। বাবা এখন গ্রামে নিরাপত্তা প্রহরীর কাজ করেন। সেদিন সকালে বাইরে যাওয়ার পর আমার খবর নেয়ার জন্য ভাই ফোন দিয়েছিল এরপর আর তার সঙ্গে কথা হয়নি। আমি একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করি। আমার ভাইয়ের সঙ্গে আমার খুব ভালো সম্পর্ক ছিল, দীর্ঘদিন ধরে আমি আর সে একসঙ্গে ঢাকায় থাকি। এখন প্রতিদিনই ভাইয়ের চেহারা চোখে ভাসে। মনে হয় দরজার সামনে এসে দাঁড়িয়ে আমাকে ডাকছে। আমি রান্না করতাম আমার ভাই খেতো। ভাইয়ের মেয়েটা সবসময় তার বাবার জন্য মন খারাপ করে। অপেক্ষায় থাকে তার বাবা কখন আসবে।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
তিন মাস পর্যবেক্ষণ এরপর কৌশল নির্ধারণ বিএনপি’র by কিরণ শেখ
সময় বেঁধে না দিলেও অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ দীর্ঘ হোক- তা চায় না দলটি। ইতিমধ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দু’মাস অতিবাহিত হয়েছে। আরও তিন মাস এই সরকারের পারফরমেন্স দেখতে চায় তারা। এরমধ্যে সরকারের কাজ সন্তোষজনক না হলে এবং নির্বাচনের জন্য রোডম্যাপ ঘোষণা করা না হলে সরকারের উপর বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করতে পারে দলটি।
নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর এ পর্যন্ত যেসব উদ্যোগ নিয়েছে তা নিয়ে কিছুটা মিশ্র প্রতিক্রিয়া আছে বিএনপি নেতাদের মাঝে। তারা মনে করছেন সরকারকে আরও তৎপর হওয়া দরকার। নির্বাচনসহ আরও কিছু বিষয়ে রোডম্যাপ ঘোষণা করা উচিত। এটি করা হলে সাধারণ মানুষ আশ্বস্ত হবে। দলগুলো নির্বাচন নিয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে পারবে।
সরকারের বিরুদ্ধে নানামুখী ষড়যন্ত্র হচ্ছে এটিও মনে করছেন নেতারা। এসব ষড়যন্ত্রের কারণে সরকার ব্যর্থ হলে বিএনপি বা গণ-অভ্যুত্থানে অংশ নেয়া সব দল ও মানুষ ব্যর্থ হবে বলে মনে করেন বিএনপি নেতারা। বিএনপি’র নীতিনির্ধারক পর্যায়ের একজন শীর্ষ নেতা মানবজমিনকে জানান, এই সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে দ্রব্যমূল্যের দাম এখন পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি, প্রশাসনে পুরো শৃঙ্খলা ফেরানো যায়নি। জুলাই-আগস্টে শহীদ ও আহতদের পুরো তালিকা প্রকাশ করতে পারেননি, নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণা হয়নি। সংস্কারের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো রূপরেখা নেই এবং কী পরিবর্তন করবে-সে বিষয়টিও অস্পষ্ট। এসব বিষয়সহ জনজীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে এবং নির্বাচনের পথ সুগম করতে সরকারকে যৌক্তিক সময় দিতে চায় বিএনপি। তবে সময়টা দীর্ঘ হলে নানা প্রতিক্রিয়া হতে পারে বলে নেতারা মনে করছেন।
বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান মানবজমিনকে বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দুই মাস নিয়ে আলোচনা করতে গেলে যে কথাটি সর্বাগ্রে উল্লেখ করতে হবে- সেটি হচ্ছে এই যে, এ সরকারের ওপর দেশের মানুষের প্রত্যাশা হলো আকাশচুম্বী। এ কারণেই দেশের জনগণ উন্মুখ হয়ে আছে। কখন তারা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে দেশে একটি জনপ্রতিনিধিত্বমূলক গণতান্ত্রিক সরকার পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করবে। যে ভোটের অধিকার থেকে তারা দীর্ঘ ১৭ বছর বঞ্চিত ছিল। পাশাপাশি এটাও সত্যি যে, একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পূর্বশর্ত হিসেবে কিছু অত্যাবশ্যকীয় সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে। তাই এই সরকারের উচিত দেশের মানুষের মনস্তত্ত্ব উপলব্ধি করে যত দ্রুত সম্ভব অত্যাবশ্যকীয় সংস্কারগুলো সম্পন্নপূর্বক একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দিকে অগ্রসর হওয়া। এখানে উল্লেখ্য যে, কোনো কারণে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যদি এই সত্য বিস্মৃত হয় তাহলে সেটা যে শুধু এ সরকারের জন্য বিপজ্জনক হবে তা নয়, সেটা দেশে এমন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি করবে যা পুরো দেশ ও জাতির জন্য এক মারাত্মক পরিস্থিতির সৃষ্টি করবে।
স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আমরা কাজ করছি এবং সরকারকেও সহযোগিতা করছি। ঐকমত্য হতে হবে এবং নির্বাচনী সংস্কার শেষে গণতন্ত্রের পথে চলতে হবে। সূত্র জানায়, তত্ত্বাবধায়ক সরকার তিন মাসের মধ্যে নির্বাচনের আয়োজন করে। কিন্তু বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একটা বিশেষ প্রেক্ষাপটে এসেছে। এর আগে আওয়ামী লীগ দীর্ঘ ১৫ বছরে দেশকে ধ্বংস করে দিয়েছে। এই অবস্থা থেকে বের হয়ে আসতে কিছু সময় লাগবে। এ জন্য সরকারকে বিএনপি যৌক্তিক সময় দিয়েছে। এর মানে এই নয় যে, দুই থেকে তিন বছর তারা থাকবে। এটা হতে পারে ৬ মাস কিংবা ১২ মাস। এর বেশি নয়। এ জন্য আগামী ২ থেকে ৩ মাসের মধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সবকিছু ঠিক না করলে তাদের চাপ দেবে বিএনপি। যাতে দ্রুত একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দিয়ে জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের কাছে তারা ক্ষমতা হস্তান্তর করেন।
বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে আমরা সহযোগিতা করছি। আর বিএনপি’র কৌশল কী হবে, তা বিএনপি’র নিজস্ব ব্যাপার।
যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স মানবজমিনকে বলেন, আমরা সরকারকে সময় দিতে চাই। মাত্র দু’মাস হয়েছে। এখনই মূল্যায়ন করার সময় হয়নি। কিন্তু যে গতিতে পরিস্থিতি উত্তরণে পদক্ষেপ নেয়া দরকার, তা দেখছি না! প্রশাসনে এখনো আওয়ামী লীগের দোসররা আছে। তারা ষড়যন্ত্র করছেন। কিন্তু তাদের প্রমোশন দেয়া হচ্ছে! এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে আমরা দ্রুত নির্বাচন চাই এবং জনপ্রতিনিধিত্বমূলক সরকার চাই।
ওদিকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সহযোগিতা করা এবং সামনে রাজনৈতিক ঐক্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়েও কাজ করছে বিএনপি। ইতিমধ্যে গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেয়া রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা করছেন দলটির নেতারা। এমনকি বিএনপি’র নেতৃত্বাধীন জোটগুলোর বাইরে থাকা বাম দলের নেতাদের সঙ্গেও বিএনপি নেতারা আলোচনা করেছেন। দলীয় সূত্রের দাবি, আগামীতে ভোটের মাধ্যমে যে সরকার হবে তা যেন অংশগ্রহণমূলক হয় তা নিশ্চিত করতে চায় বিএনপি। এ ছাড়া নির্বাচনের আগে জাতীয় স্বার্থে কিছু বিষয়ে জাতীয় ঐকমত্য তৈরিরও চেষ্টা চালানো হচ্ছে। বিশেষ করে বিএনপি ঘোষিত ৩১ দফার মূল বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে অন্যান্য দলের সমর্থন আদায়েরও চেষ্টা হচ্ছে। গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ পালিয়ে যাওয়ায় এখন আপাতত এই দলের বিষয়ে বিএনপিতে কোনো চিন্তা নেই। তবে দলটির এক সময়ের জোটসঙ্গী জামায়াতের সঙ্গে রাজনীতির মধ্যে অঘোষিত প্রতিযোগিতা হচ্ছে। যদিও বিএনপি নেতারা জামায়াত নিয়ে এখন প্রকাশ্যে কিছু বলছেন না। জামায়াত যে কার্যক্রম চালাচ্ছে সেটাকে রাজনৈতিক কার্যক্রম হিসেবে দেখা হচ্ছে। সামনের দিনে নির্বাচনী পরিবেশ তৈরি হলে নতুন দৃশ্যপট হতে পারে- এমনটাও মনে করছেন বিএনপি’র কোনো কোনো নেতা।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বিচার বিভাগ থেকে অবিলম্বে ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসরদের সরাতে হবে
কমিটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ফ্যাসিস্টদের দোসরদের সঙ্গে নিয়ে ছাত্র-জনতার কাঙ্ক্ষিত স্বপ্ন বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। তাই অবিলম্বে বিচার বিভাগ থেকে ফ্যাসিস্টের দোসরদের সরাতে হবে। একইসঙ্গে সরকারের পেছনে অশুভ শক্তি কাজ করছে। এখনো আইন মন্ত্রণালয়ের কারও কারও অযাচিত হস্তক্ষেপের কারণে বিচার বিভাগ স্বচ্ছতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারছে না।
এতে লিখিত বক্তব্যে সংগঠনের সভাপতি ও বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান এডভোকেট জয়নুল আবেদীন বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং ছাত্র-জনতা দীর্ঘ ১৭ বছর গণতন্ত্রের জন্য ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে এ সংগ্রামের বিরামহীনভাবে নেতৃত্ব দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তারেক রহমানের নাম দায়েরকৃত সমস্ত মামলাই হলো রাজনৈতিক এবং তার নামে ফ্যাসিস্ট রেজিমের প্রধান পলাতক শেখ হাসিনার নির্দেশে কয়েকটি মিথ্যা মামলার ফরমায়েশি রায়ও ঘোষণা করেছে। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের সঙ্গে আমরা লক্ষ্য করছি যে, তারেক রহমানের নামে দায়েরকৃত এ সমস্ত রাজনৈতিক মামলার ব্যাপারে যথাযথ কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে না। এটা খুবই দুঃখজনক। আমরা অবিলম্বে তার নামে দায়েরকৃত এ সমস্ত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করার জোর দাবি জানাচ্ছি। অন্যথায় আইনজীবী সমাজ আবারো রাস্তায় নামতে বাধ্য হবে।
সংবাদ সম্মেলনে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের মহাসচিব ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, সুপ্রিম কোর্ট বার সভাপতি ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, আইনজীবী ফোরামের কেন্দ্রীয় নেতা ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজলসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
‘শেখ হাসিনার ট্র্যাভেল ডকুমেন্ট ইস্যু গণঅভ্যুত্থানের চেতনার পরিপন্থি’
নেতৃবৃন্দ বলেন, ইতিহাসের নিকৃষ্টতম স্বৈরাচার, গণহত্যার নির্দেশদাতা শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দিয়ে ভারত সারা পৃথিবীর মানুষের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে আঘাত করেছে। তারা শুধু আশ্রয় দিয়েই ক্ষান্ত থাকেনি। সম্প্রতি তারা শেখ হাসিনার নামে ট্র্যাভেল ডকুমেন্ট ইস্যু করেছে। যা ব্যবহার করে তিনি পৃথিবীর যেকোনো দেশে ভিসা আবেদন করতে পারবেন, ভ্রমণ করতে পারবেন। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে পারবেন। শেখ হাসিনার মতো গণহত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত, শতাধিক হত্যা মামলার আসামিকে এই বিশেষ সুবিধা প্রদান জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের চেতনা পরিপন্থি। শেখ হাসিনার ট্র্যাভেল ডকুমেন্ট ইস্যুর পরও ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টার বক্তব্য দেশের জনগণের আকাক্সক্ষায় আঘাত করেছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশ্যে নেতৃবৃন্দ বলেন, সরকারকে অবিলম্বে গণহত্যাকারী হাসিনাকে আশ্রয় এবং ট্র্যাভেল ডকুমেন্ট ইস্যুর ব্যাপারে ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিক জবাব চাইতে হবে। একইসঙ্গে শেখ হাসিনাসহ ভারতসহ বিভিন্ন দেশে পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচার সরকারের মন্ত্রী, এমপি, দোসরদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের আওতায় আনতে হবে।
আগামী বুধবার সকাল ১১টায় নাগরিক ঐক্যের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গণতন্ত্র মঞ্চ ‘দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি’ নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করবে বলেও বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন- নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, ভাসানী অনুসারী পরিষদের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম বাবলু, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজ মিয়া প্রমুখ।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
প্রকাশিত সংবাদের বিষয়ে ওরিয়নের ব্যাখ্যা
কোম্পানির মালিকানা ও পরিচালনা ব্যয় নিয়ে ব্যাখ্যায় বলা হয়, চুক্তির অধীনে ‘ওরিয়ন ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড’ নামে একটি বিশেষ উদ্দেশ্যে কোম্পানি গঠন করা হয়। আজ অবধি বেলহাসা ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কন্ট্রাকটিং কোং, এলএলসি শেয়ারহোল্ডার হিসেবে রয়েছে। বেলহাসার শেয়ার জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। কোম্পানিটি দশ বছরেরও বেশি সময় ধরে সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে। দেশের প্রচলিত আইন, কোম্পানি আইন এবং অন্যান্য প্রযোজ্য নীতিমালা মেনে যাত্রাবাড়ী-গুলিস্তান উড়ালসড়কে বেলহাসার জমাকৃত পেইড-আপ ক্যাপিটাল অনুযায়ী আনুপাতিক হারে তাদের মালিকানা রয়েছে।
টোল আদায় ও এর স্বচ্ছতার বিষয়ে উঠা অভিযোগের বিষয়ে বলা হয়, টোল আদায়ের পুরো প্রক্রিয়া সরকারি নির্দেশনা এবং চুক্তির শর্ত অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে। ওরিয়ন গ্রুপের ব্যবস্থাপনা সর্বদা স্বচ্ছ এবং সুষ্ঠু, এবং এই প্রকল্পের টোল আদায়ের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অনিয়ম বা অব্যবস্থাপনার সুযোগ নেই। নিয়মিতভাবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনকে ইক্যুইটি শেয়ার সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে।
ঋণ উত্তোলন এবং ঋণ খেলাপির অভিযোগ নিয়ে ওরিয়ন গ্রুপ জানায়, প্রকল্পের জন্য বেলহাসাকে না জানিয়ে ঋণ গ্রহণের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। বিদেশি কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নামে কোনো ঋণ উত্তোলন করা হয়নি। তাই ঋণখেলাপি হওয়ার অভিযোগ ভিত্তিহীন। কোনো ঋণের অনুমতিপত্রে তাদের কোনো স্বাক্ষর নেই বা তাদের নাম উল্লেখ নাই। বাংলাদেশ ব্যাংকের গাইডলাইন অনুযায়ী এবং সকল আইনানুগ প্রক্রিয়া মেনে দেশীয় ঋণ গ্রহণ করা হয়েছে। ঋণ প্রদানকারী ব্যাংকগুলো সকল প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই এবং টেকনিক্যাল এপ্রাইজাল সম্পন্ন করেছে এবং পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদনক্রমে ঋণ গ্রহণ ও পরিশোধ করা হচ্ছে। ফ্লাইওভার নকশা এবং যানজটের বিষয়ে বলা হয়, ফ্লাইওভারটির নকশা আন্তর্জাতিকভাবে স্বনামধন্য পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ও দেশীয় বিশেষজ্ঞদের যৌথ উদ্যোগে সম্পন্ন হয়েছে। ফ্লাইওভারের নিচের রাস্তা বন্ধ করে দেয়ার মূল কারণ অবৈধ জুতার মার্কেট এবং রাস্তায় হকারদের উপস্থিতি, যা গাড়ি চলাচলে মারাত্মক বাধা সৃষ্টি করছে। অবৈধ পার্কিং, বিশেষ করে মোটরসাইকেল, সিএনজি ও রিকশায় অনিয়ন্ত্রিত অবস্থান- এ ছাড়া ট্রাফিক পুলিশের স্বল্পতা ও বেপরোয়া বাস চলাচল।
সিটি সেন্টার নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে বলা হয়, শেয়ার অপসারণ, বিদেশি কোম্পানির নামে ঋণ উত্তোলন এবং ঋণখেলাপি, অর্থ আত্মসাৎ এবং বিভিন্ন মামলায় প্রভাব খাটানোর অভিযোগগুলো বানোয়াট। প্রকল্পের অর্থনৈতিক লেনদেন যথাযথ নথিপত্রসহ আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী সম্পন্ন হয়েছে। এ ধরনের বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ওরিয়ন গ্রুপের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করছে এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তাই সঠিক তথ্য জনগণের কাছে উপস্থাপন করা অত্যন্ত জরুরি।
সিটি সেন্টারের মালিকানা বিষয়ে প্রতিবাদপত্রে বলা হয়, শেয়ারহোল্ডিং কাঠামোর বেআইনি পরিবর্তনের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন। প্রকল্পের কোম্পানি, বেলহাসা আকস জেভি লিমিটেড, ২০০৪ সালের ১১ই এপ্রিল প্রতিষ্ঠিত হয়, যেখানে বেলহাসা গ্রুপের ২৫ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে শেয়ার মূলধনে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি, ফলে বেলহাসা গ্রুপের শেয়ারহোল্ডিং আজও অপরিবর্তিত রয়েছে। মি. মাজেদ বেলহাসা ২০০৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে নিয়মিত আসতেন এবং বিগত ২০ বছরে বেলহাসা গ্রুপ থেকে কোনো দাবি উত্থাপন করা হয়নি। দেশের প্রচলিত আইন ও কোম্পানি আইন অনুযায়ী প্রত্যেক শেয়ার হস্তান্তর তাদের জমাকৃত পেইড আপ ক্যাপিটাল অনুসারে আনুপাতিক মালিকানা ধরে রেখেছে।
বিক্রয় থেকে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ নিয়ে ওরিয়ন বলে, বিক্রয় থেকে প্রাপ্ত অর্থ কোম্পানির ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা করা হয়েছে এবং সেই অর্থ দিয়ে ঋণের কিস্তি পরিশোধসহ নির্মাণকাজের খরচ মেটানো হয়েছে। শেয়ারহোল্ডাররা কোনো অর্থ গ্রহণ করতে পারেন না যতক্ষণ না লভ্যাংশ ঘোষণা করা হয়। প্রকল্প কোম্পানি এখনো কোনো লভ্যাংশ ঘোষণা করেনি, ফলে বিক্রয় থেকে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।
প্রতিবাদলিপিতে ওরিয়ন আরও জানায়, যদি বেলহাসা গ্রুপের প্রকল্প নিয়ে কোনো দাবি থাকে, তাহলে প্রথমে তারা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতো। কিন্তু এখন পর্যন্ত বেলহাসা গ্রুপ থেকে আমরা কোনো যোগাযোগ পাইনি। তথাকথিত আইনজীবী যদি বেলহাসা গ্রুপের নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে থাকেন, তাহলে তিনি আমাদের সঙ্গে কোনো বৈধ কাগজপত্রসহ যোগাযোগ করেননি।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1447)
- ► 2025 (3281)
-
▼
2024
(2551)
-
▼
October
(563)
-
▼
Oct 15
(22)
- ‘ইসরায়েলকে অস্ত্র দেওয়া বন্ধ হলে যুদ্ধও বন্ধ হবে’
- ‘পালাব না’ বলে কোথায় গেলেন ওবায়দুল কাদের, জানেন না...
- নিজ্জার হত্যাকাণ্ডে জড়িত ‘ভারত সরকার মদদপুষ্ট’ বিষ...
- বৃহস্পতির উপগ্রহ ইউরোপায় প্রাণের সন্ধানে নাসা
- ইসরাইলি হামলায় নিহত ৪০ ফিলিস্তিনি
- গল্প- ভিখারিনী by রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
- লেবাননের খ্রিস্টান গ্রামে ইসরায়েলের বিমান হামলা, ন...
- ঘিরে ফেলল চীন, পাল্টা পদক্ষেপে সেনা পাঠাল তাইওয়ান
- আকাশ প্রতিরক্ষাকে ফাঁকি দিয়ে ইসরায়েলে ড্রোন হামলা
- যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচন চীনাদের ভাবনা কী
- বিটিভি’র মাহফুজার অনিয়ম-দুর্নীতি: দশ মাসেও শেষ হয়ন...
- আফ্রিকাসহ ১০৪টি দেশ সমর্থন জানালেও ইসরাইল-নিন্দাপত...
- পলিথিন ও প্লাস্টিক বন্ধে ২০৩০ সাল পর্যন্ত সময় চান ...
- প্রবাসীরা ভয়াবহ ঝুঁকির মুখে পড়েছেন by এম এস সেকিল ...
- চীনের সঙ্গে সামরিক যোগাযোগ বাড়াবে সরকার
- লক্ষ্মীপুরে ফিলিং স্টেশনে সিলিন্ডার বিস্ফোরণ, নিহত ৩
- গুলিতে স্বামীর মৃত্যু, সন্তানদের নিয়ে দুশ্চিন্তা ল...
- তিন মাস পর্যবেক্ষণ এরপর কৌশল নির্ধারণ বিএনপি’র by ...
- বিচার বিভাগ থেকে অবিলম্বে ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসরদে...
- ‘শেখ হাসিনার ট্র্যাভেল ডকুমেন্ট ইস্যু গণঅভ্যুত্থান...
- প্রকাশিত সংবাদের বিষয়ে ওরিয়নের ব্যাখ্যা
- কানাডার কূটনীতিককে তলব নয়া দিল্লির: কূটনৈতিক উত্তেজনা
-
▼
Oct 15
(22)
-
▼
October
(563)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...



