Tuesday, January 12, 2010

পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের মতো না হলেও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে গোলযোগ চলছেই।

পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের মতো না হলেও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে গোলযোগ চলছেই। ভারতীয় অঞ্চলগুলোতে যে আগুন জ্বলছে, তা মূলত রাজনৈতিক। পাকিস্তানের মতো ধর্মের নামে অসন্তোষের ধুয়া এখানে দেখা যাচ্ছে না। তাহলেও দুটি দেশই এমন সমস্যার মুখে পড়েছে যার সমাধান শুধু বল প্রয়োগের মাধ্যমে সম্ভব নয়। বিক্ষুব্ধ জনগণ চায় উন্নয়ন ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা। এই আকাঙ্ক্ষাগুলোকে বরণ করে নিতে হবে এবং নীতি প্রণীত হতে হবে এসবের ভিত্তিতেই।
আসাম থেকে সম্প্রতি আমি মোটামুটি দুশ্চিন্তা নিয়ে ফিরেছি। দীর্ঘদিন ধরে অজস্র বিক্ষোভে রাজ্যটি তপ্ত হয়ে আছে। আসামে ‘বিদেশি খেদাও’ আন্দোলনের খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে সেখানকার আলোড়নের কথা আমার মনে পড়ছে। মূলত সেটা ছিল বাংলাদেশ থেকে আসা মানুষের বিরুদ্ধে আন্দোলন। এই আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী সংগঠন অল আসাম স্টুডেন্ট ইউনিয়ন (এএএসইউ) সে সময় প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর সঙ্গে আলোচনায় বসে এবং রাজীব গান্ধী প্রতিশ্রুতি দেন যে, ‘বিদেশিদের’ চিহ্নিত করা হবে এবং ভোটার তালিকা থেকে তাদের নাম বাদ যাবে। এবং চূড়ান্তভাবে তাদের আসাম থেকে বহিষ্কার করা হবে। সে রকম কিছু কখনো ঘটেনি। বাস্তবত, অসমিয়াদের অবস্থান মোট জনসংখ্যার ৪০ শতাংশে নেমে গিয়েছিল। এমনকি এ বিষয়ে চুক্তি হলেও আমার সন্দেহ রয়ে যায় যে, এটা কখনো বাস্তবায়িত হবে না। কেন্দ্রীয় সরকার অভিবাসীদের বিভিন্ন রাজ্যে পাঠিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু কোনো রাজ্যই তাদের পুনর্বাসনে রাজি হয়নি। কয়েক বছরের বিরতির পর, এটা পরিষ্কার হয়ে গেল যে ‘বিদেশিদের’ বের করে দেওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। নয়াদিল্লির উচিত জীবিকার সন্ধানে যারা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে এসেছে, তাদের কাজের অনুমতিপত্র দেওয়া। তারাও চায় তাদের মাতৃভূমিতে ফিরে যেতে, কিন্তু যেহেতু তাদের সামনে আর কোনো পথ খোলা নেই, সেহেতু তারা রয়ে গেল এবং দীর্ঘমেয়াদি লাঞ্ছনার শিকার হলো।
নয়াদিল্লি-এএএসইউ চুক্তি থেকেই ইউনাইটেড লিবারেশন ফ্রন্ট অব আসাম বা উলফার জন্ম। এই ফ্রন্ট নিজেকে সার্বভৌম আসাম রাষ্ট্রের পর্যায়ে উন্নীত করেছে এবং খোলাখুলি ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছে। এই সহিংসতার জন্য আসামে এবং অন্য যেসব জায়গায়, বিশেষত ভুটানের পাদদেশে এবং মিয়ানমার সীমান্তে যেখানে উলফা ক্যাডারদের ঘাঁটি রয়েছে, সেখানে নিহত হয়েছে হাজার হাজার মানুষ।
উলফার চ্যালেঞ্জ কাবু হয়ে যায় যখন সংগঠনটির সভাপতি অরবিন্দ রাজখোয়া এবং তাত্ত্বিক ভীমকান্ত বুড়াগোহাইনকে বাংলাদেশ সরকার ভারতের হাতে তুলে দেয়। এই অঞ্চলে ক্রিয়াশীল পাঁচটি বিদ্রোহী সংগঠন দিল্লির প্রতি ঢাকার সহযোগিতাকে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ হিসেবে চিহ্নিত করে প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছে। কিন্তু এসবে ঢাকা মোটেই বিচলিত না হয়ে বরং জানিয়েছে, বাংলাদেশের মাটি থেকে তারা ভারতীয় সশস্ত্র সংগঠনগুলোকে উপড়ে ফেলবে।
সন্দেহ নেই যে আসামের রাজ্য সরকার উলফার সঙ্গে সংলাপে বসার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছে। কিন্তু তারা সার্বভৌমত্বের দাবি না ছাড়ায় সমস্যা হয়েছে। সম্ভবত, আটক নেতারা সংলাপে বসার আগে তাঁদের নেতা পরেশ বড়ুয়ার সঙ্গে মিলিত হতে চান। কিন্তু উলফা উপলব্ধি করতে পারছে না যে, যতক্ষণ তারা সার্বভৌমত্বের দাবি আঁকড়ে থাকবে, ততক্ষণ কোনো ভারতীয় সরকার তাদের সঙ্গে বিচ্ছিন্নতা নিয়ে আলোচনায় বসতে রাজি হবে না। কারণ, আরও কয়েকটি ভারতীয় রাজ্যে স্বাধীনতার আন্দোলন চলছে।
সম্প্রতি আসামের রাজধানী গুয়াহাটি সফরের পর আমাকে আরও চিন্তিত করে তুলেছে অসম গণপরিষদের ভূমিকা। তারাই শাসক কংগ্রেস দলের প্রধান বিরোধী দল। অসম গণপরিষদ স্বাধীনতার দাবি না করলেও উলফার দিক থেকে শর্তহীনভাবে আলোচনায় বসার অবস্থান তারা সমর্থন করে। উলফার প্রতি রাজ্যে যে সহানুভূতি রয়েছে তা থেকে লাভবান হতে চায় অসম গণপরিষদ। গুয়াহাটিতে আমি নিজেই এটা দেখে অবাক হয়েছি। সেখানে একটি সেমিনারে আমি যখন বললাম যে, উলফার নেতাদের হাতকড়া পরানো উচিত নয়, সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিত শ্রোতারা বিপুল করতালি দিয়ে আমাকে অভিনন্দিত করল। আসামের মানুষ কিংবা দক্ষিণ এশিয়ার জনগণ মনে হয় না এটা বুঝছে যে, যারা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বন্দুক হাতে নেয়, রাষ্ট্র তাদের কোনো সুযোগ দেবে না। কেননা, তার মানে হলো আস্ত রাজনীতিটাই ধ্বংস হয়ে যাওয়া। তখন অন্যরাও একই পথ অবলম্বন করবে।
নাগাদের স্বাধীনতা আন্দোলন থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত উলফার। তাদের নেতা ফিজো একইভাবে সার্বভৌমত্বের দাবি তুলেছিলেন এবং লন্ডনে থেকে বিদ্রোহের নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছিলেন। সে সময় যখন যুক্তরাজ্যে ভারতীয় হাইকমিশনারের দায়িত্বে ছিলাম, তখন ফিজো মারা গেছেন। ফিজোর মৃত্যুর পর তাঁর সহযোদ্ধা খোদাও-ইয়ানথান আমার সঙ্গে দেখা করেন।
নাগাল্যান্ডে বিদ্রোহ শুরু হওয়ার পর থেকেই ইয়ানথান লন্ডনে বাস করে আসছিলেন। তিনি আমাকে বলেছিলেন যে, তিনি নাগাল্যান্ডে গিয়ে তাঁর সহযোদ্ধাদের বোঝাতে চান, তাঁদের সহিংসতার পথ ছেড়ে দিয়ে ঐক্যবদ্ধ ভারতের কাঠামোর মধ্যেই সমাধানের পথ সন্ধান করা উচিত। তিনি আমাকে বলেন, ফিজো মৃত্যুর আগে সশস্ত্র পন্থা ত্যাগ করার কথা বলেছিলেন। আমার আস্থা ছিল যে, ইয়ানথান চরমপন্থীদের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে পারবেন। আমি চাই, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল যদি ফিজোর কাছ থেকে এটা শিখতে পারত!
আমি মনে করি, উত্তর-পূর্বাঞ্চল বিষয়ে ভারতের নীতি বাস্তববাদী নয়। জওহরলাল নেহরু এই অঞ্চলকে আলাদাই রেখেছিলেন, যাতে এখানকার মানুষ তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি রক্ষা করে জীবনযাপন করতে পারে। অবশ্য যেকোনো সরকারের জন্য এটা কঠিন সিদ্ধান্ত। তবে তার আগে কেন্দ্রকে নিশ্চিত করতে হবে, এই এলাকাকে মূলধারা থেকে বিচ্ছিন্ন রাখা যাবে না এবং কেবল মানসিক বন্ধনই নয়, অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের ধারা বন্ধ করা চলবে না।
সত্যি যে পাকিস্তানকেও তালেবান-হুমকি উচ্ছেদ করতে হবে। কিন্তু ইসলামাবাদকেও বুঝতে হবে, যে পদ্ধতিতে তারা শাসন চালাচ্ছে তা বাদবাকি দেশের সঙ্গে কেন্দ্রের মানসিক বন্ধন জোরদার করতে সক্ষম হবে না।
ইংরেজি থেকে অনূদিত
কুলদীপ নায়ার: ভারতীয় সাংবাদিক।

জীবন্ত সন্তোষদা by মামুনুর রশীদ

এই তো, ৯ জানুয়ারি ছিল সন্তোষদার জন্মদিন। তাঁর কথা মনে হতেই তাঁকে যেন দেখতে পেলাম সামনে। সেই হাসি ঠোঁটে নিয়ে কাজ করছেন। টেবিল আর চেয়ারের সঙ্গে তাঁর সখ্যের দৃশ্যটাই বড় বেশি করে মনে পড়ে।
এমন অদ্ভুত মানুষ কখনো হয়? যিনি কাজে সার্বক্ষণিক। সার্বক্ষণিক মানে আন্তর্জাতিক নিয়মের আট ঘণ্টা নয়। আরও বেশি কিছু। চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে কতক্ষণ যে তিনি ঘুমোতেন, জানি না। সম্ভবত যাঁরা সময়ের বিভাজন মানেন না, তিনি তাঁদেরই একজন। আজাদ বা সংবাদ অফিসে কখনো মনে পড়ে না, কালক্ষেপণ করেছেন তিনি। বাঁ হাতে সিগারেট ধরতেন, যাতে ডান হাতে লিখতে অসুবিধা না হয়। চায়ের পর চা আসছে, যথারীতি ঠান্ডাও হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু ক্লান্তিহীন তিনি লেখায়। একটু ব্যস্ত কম মনে হতো লাইব্রেরিতে। আস্তে আস্তে পাতা ওল্টাচ্ছেন পত্রিকার বা বইয়ের। এমনি করেই দিন চলে গেছে, যেমন প্রতিদিন সকালে পত্রিকা বের হয়, সূর্য ওঠে, সূর্য ডোবে। এমনি করেই সাংবাদিকতার একজন প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন তিনি।
এই প্রবল কর্মব্যস্ততার মধ্যে তিনি নাটক দেখতেন, সমালোচনা করতেন। সেই সমালোচনার মধ্যে ছিল প্রেরণা। অফুরন্ত প্রেরণা। আমরা একসময় সংবাদ-এর সংস্কৃতি পাতাটির জন্য অপেক্ষা করতাম। সন্তোষ গুপ্ত নাটক দেখে গেছেন, তিনি লিখবেন। লিখতেনও। দেখা হলে চিকন গোঁফের ফাঁক দিয়ে একটু হেসে বলতেন, ভালোই তো।
এরই মধ্যে রাজনীতিটাও করতেন। প্রগতিশীল রাজনীতি। জীবনের শেষ দিনটি পর্যন্ত আঁকড়ে ধরে ছিলেন সেই রাজনীতি। টাকাপয়সার হিসাবে এই মানুষটিকে মাপা যাবে না। একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়েই কাটিয়ে দিলেন সারাটা জীবন।
কোনো আবেগ প্রকাশ করতেন না, কিন্তু অনেক সাংবাদিকের হাতে খড়ি থেকে প্রতিষ্ঠা পর্যন্ত থেকেছেন পাশে। কোনো ভালো প্রস্তাবে না নেই, এমন মানুষ কোথায় পাওয়া যাবে আজকে?
যে কাগজগুলোতে তিনি লিখতেন, সে কাগজে বেতন মিলত না নিয়মিত। নিয়মিত তো নয়ই, মাসের পর মাস বাকি পড়ত। কীভাবে চলত তাঁর সংসার? আজকের দিনে সাংবাদিকদের বেতন যেভাবে বেড়েছে, যেভাবে বেড়েছে জীবনযাপনের মান, তা কি কুড়ি বছর আগেও কল্পনা করা যেত? সংবাদ অফিসে বিশাল একটি টেবিলের পেছনে বসে কাজ করতে দেখতাম তাঁকে। টেবিল উপচে পড়ছে কাগজে। পত্রিকার চিঠিপত্রগুলোও দেখতেন তিনি। সংবাদ-এ যে চিঠিগুলো ছাপতেন, সেগুলো সুচারু হাতে সম্পাদনা করতেন, ফলে চিঠিপত্রের কলামটাও হয়ে উঠত সুখপাঠ্য।
সাংবাদিকতার পাশাপাশি তিনি সৃজনশীল লেখাও লিখতেন। কত ছিল তাঁর সময়? ভাবতে ভীষণ অবাক লাগে।
আমাদের জীবনে অনেক মানুষকে দেখি। তাই একজন মানুষকে কতটাই বা দেখা যায়? কিন্তু কিছু কিছু মানুষ আছে, যাঁদের সঙ্গে দেখা-অদেখাতে কিছুই যায়-আসে না।
আজও মনে হয়, সংবাদ অফিসে গেলে ঠিক সেই চেয়ারটিতে বসে সন্তোষদা। একটু হেসে বলবেন—বসেন, চা খাবেন?
যত দিন বেঁচে থাকব, তত দিন যেন এই অনুভব নিয়েই থাকি যে সন্তোষদা বেঁচে আছেন। বেঁচে থাকবেন আমাদের মৃত্যুর পরও।

নারীর সন্তুষ্টি অর্জিত হতে আরও সময় লাগবে -সরকারের প্রথম বছর by ফরিদা আখতার

বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পরপরই ২০০৯ সালে যে কটি বিষয় খুবই গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করা হয়েছিল, তার মধ্যে কৃষি, বাজারব্যবস্থা বা দ্রব্যমূল্য পরিস্থিতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও স্বাস্থ্য উল্লেখযোগ্য। এর আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় (২০০৭-২০০৮) দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারণে মানুষের একেবারে দম বের হওয়ার দশা হয়েছিল। তাই নতুন সরকার আসার পর এসব দিকে স্বাভাবিক কারণেই পরিবর্তন সবাই আশা করছিল। অবস্থার কিছুটা উন্নতিও হয়েছে অবশ্যই। এভাবে দেখতে দেখতে এবং অবস্থা পরিবর্তনের আশা করতে করতে আমাদের দিন কেটেছে।
তবে আমি আজ নারীদের রাজনৈতিক অবস্থা নিয়েই লিখছি; কারণ, এবারের নির্বাচনের উল্লেখযোগ্য দিক হচ্ছে, সাধারণ আসনে ১৯ জন নারী জয়ী হয়ে এসেছেন। সংরক্ষিত আসন ছাড়াও এবার জাতীয় সংসদে নারীর সংখ্যা আগের তুলনায় অনেক বেশি। কিন্তু তাহলেও কি আমরা খুব এগিয়েছি? এ প্রশ্ন উঠছে। অবশ্য ৩০০ আসনের মধ্যে মাত্র ১৯টি আসনে নারী রয়েছেন, এটাকে আমরা বেশি বলিই বা কী করে। আনুপাতিক হারে তা মাত্র ৬ দশমিক ৩৩ শতাংশ। তাহলে আমাদের গন্তব্যে পৌঁছাতে এখনো পথ হাঁটতে হবে। এত তাড়াতাড়ি খুশি হলে এগোতে পারব না, খরগোশের দৌড়ের মতো কাছিমের কাছে হারতে হবে।
নারীদের সার্বিক পরিস্থিতি বর্ণনা করলে দেখা যায়, নির্যাতন কমেনি, বরং কোথাও বেড়েছে—এমন তথ্য তুলে ধরে পত্রিকাগুলো বড় শিরোনাম করেছে। কিন্তু এ বিষয়ে আমার মন্তব্য হচ্ছে, নারী নির্যাতন সংখ্যায় কমেছে কি বেড়েছে, সরকারের কাজের মূল্যায়নের জন্য এটাই একমাত্র মাপকাঠি হতে পারে না। আমাদের দেখতে হবে, যদি নির্যাতনের ঘটনা একটিও ঘটে থাকে, সে ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে কী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে? ক্ষমতাসীন দলের কেউ নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত কি না, থাকলে তাদের ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না? দুঃখের সঙ্গেই বলতে হয়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নারী হওয়া সত্ত্বেও নারী নির্যাতন প্রতিরোধের ক্ষেত্রে তাঁকে আমরা সক্রিয় দেখিনি। হয়তো তিনি উত্কণ্ঠিত হয়েছেন, কিন্তু তাঁকে সক্রিয় না দেখে হতাশ হয়েছি। ক্ষমতাসীন দলের সদস্য; বিশেষ করে, ছাত্রলীগের সদস্যদের দ্বারা নির্যাতনের যে ঘটনা ঘটেছে, সেখানেও সরকারকে প্রতিকারের কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি। কাজেই নির্যাতন প্রতিরোধের উদ্যোগে সরকার সফল হয়নি, এটা অবশ্যই বলা যায়। এ ক্ষেত্রে বিরোধী দল হিসেবে বিএনপি এবং অন্য দলও উল্লেখযোগ্যভাবে কোনো প্রতিবাদ করেনি। সে ক্ষেত্রে সরকারের মতো তারা বিফল হয়েছে।
মহাজোট সরকারে নারী দৃশ্যমান এবং প্রভাবশালী অবস্থানে আছেন বলে ধারণা করা হয়। এমন কিছু বোঝানোর জন্যই সম্ভবত প্রথম আলোতে একটি কার্টুন প্রকাশ করা হয়েছে বছরের প্রথম দিনের সংখ্যায়। ক্ষমতাসীন দলের তিনজন ‘প্রভাবশালী’ নারী শেখ হাসিনা, সাহারা খাতুন এবং দীপু মনি একই দোলনায় দুলছেন, প্রধানমন্ত্রীর হাতে তিনটা তাসের ‘টেক্কা’। ক্ষমতা বোঝানোর জন্য এই তিনটি কার্ড যথেষ্ট। অন্যদিকে বিরোধী দলে একা বেগম খালেদা জিয়া একটি ছোট টুলে দাঁড়ানো, নড়চড় নেই (দেখুন প্রথম আলো, ১ জানুয়ারি, ২০১০)। তাঁর দলে নারীদের উল্লেখযোগ্য পদে দেখা গেলেও তাদের খুব আওয়াজ শুনি না। যেমন, সেলিমা রহমান এবং বেগম সারওয়ারী রহমান সব সময় দলের উল্লেখযোগ্য পদে থাকেন। এমনকি দলের দুঃসময়ে শত চাপের মুখেও তাঁরা দলের সঙ্গে থেকেছেন। কিন্তু কার্টুনে খালেদা জিয়াকে একা দেখানো হয়েছে। হাতে কোনো কার্ড নেই। সে যা-ই হোক, এই কার্টুন অনেক কথা বলছে। বর্তমান ক্ষমতাসীন দলে যদি নারীরা গুরুত্বপূর্ণ পদে যেমন—স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র ও কৃষি মন্ত্রণালয়ে আছেন বলে সব সময় তুলে ধরা হচ্ছে, কিন্তু কার্টুনে মতিয়া চৌধুরী নেই কেন? এটাও চোখে পড়ার বিষয়। একই সঙ্গে ২০০৯ সালে রাজনীতিতে নারীর সাফল্য দেখাতে গিয়ে প্রথম আলোর নারীমঞ্চ, ইত্তেফাক-এর মহিলা অঙ্গনসহ বিভিন্ন পত্রিকায় সাহারা খাতুন ও দীপু মনির কথা আসছে। এখানেও মতিয়া চৌধুরী নেই, মন্নুজান সুফিয়ানের কথাও নেই। মতিয়া চৌধুরী তাঁর কৃষি মন্ত্রণালয়ে সফল হয়েছেন বলে জনমত জরিপেও এসেছে। তবুও তিনি অনুপস্থিত কেন? এদিকে যাঁকে মোটেও তুলে ধরা হচ্ছে না, তিনি হচ্ছেন বেগম মন্নুজান সুফিয়ান। সত্যি বলতে কি, বেগম মন্নুজান সুফিয়ান শ্রমবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী পদে আসীন হওয়ার পর তিনি যেন নাই হয়ে গেছেন। তাঁকে কদাচিত্ মিডিয়ায় দেখা যায়। ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় মন্ত্রিপরিষদের সভায় এদিক-ওদিক ক্যামেরা ঘুরলে তাঁকে হালকাভাবে দেখা যায়। তখন বুঝতে পারি, তিনি এখনো ওই পদে আছেন। শ্রমিকদের ব্যাপারে এত কথা হয়, কিন্তু মন্নুজান সুফিয়ানের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায় না। নতুন সরকারে নতুন মুখ দিয়ে গড়া মন্ত্রিপরিষদে বেগম মন্নুজান সুফিয়ানের থাকাটাও নিশ্চয়ই একটা ইতিবাচক অর্জন ছিল, কিন্তু কেন যে এটা এখন তুলে ধরা হচ্ছে না, তা বুঝতে পারলাম না। তিনি তো সাধারণ আসনেই নির্বাচিত হয়ে এসেছেন। নারীদের মধ্যেই কি একটু বৈষম্য হয়ে যায় না? নারী পাতাগুলোও কি তাঁকে ভুলে গেছে?
এদিকে রাজনৈতিকভাবে নারীদের ক্ষমতাহীন করার নজির প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ২০০৯ সালে। যেমন—সংরক্ষিত আসনে ৪৫ জন নারীকে পরোক্ষ নির্বাচনে সংসদ সদস্য করা হয়েছে, কিন্তু তাঁরা আজও কোনো নির্বাচনী এলাকা পাননি। তাঁরা কাদের প্রতিনিধিত্ব করছেন, তা-ই তাঁরা জানেন না। নিজেদের কোনো এলাকাও নেই। আবার নারীদের প্রতিনিধিত্ব করার প্রশ্নও আসছে না, কারণ, তাঁরা জনগণের ভোট; বিশেষ করে, নারীদের ভোট নিয়ে সংসদে যাননি। তাঁরা যাঁদের করুণা নিয়ে সংসদে গেছেন, তাঁরাই (সেই পুরুষ সাংসদেরাই) তাঁদের ক্ষমতাহীন করে রেখে দিয়েছেন। সংরক্ষিত আসনে বসে এত ক্ষমতাহীন ও পরিচয়হীন হয়ে থাকতে এর আগে কখনো দেখা যায়নি। উপজেলা পরিষদ নির্বাচন হলো ঘটা করে। অনেক নারী সরাসরি ভোটে জিতে এসেছেন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হয়েছেন। কিন্তু পুরো উপজেলা পরিষদই এখন ক্ষমতাহীন হয়ে বসে আছে।
সবচেয়ে বেশি চোখে পড়েছে যে এত নারী মন্ত্রী রয়েছেন, এত নারী সাধারণ আসনে নির্বাচিত হয়েছেন, নারী হুইপও হয়েছেন; কিন্তু গত এক বছরে নারী আন্দোলনের সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হয়নি। আজও দেখলাম না, তাঁরা আন্তর্জাতিক নারী দিবস, রোকেয়া দিবস কিংবা নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে দলমত-নির্বিশেষে নারী সংগঠনগুলোর সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন। হয়তো তাঁরা বলবেন, তাঁরা নারী হিসেবে নন, মানুষ হিসেবে নিজেদের দেখছেন, তাই আলাদা করে নারীদের সঙ্গে বসার প্রয়োজন তাঁদের নেই। তাঁরা এখন ‘মানুষদের সঙ্গে কাজ করেন (অর্থাত্ নারী-পুরুষ উভয়ের সঙ্গে)। মেনে নিলাম, কিন্তু যে নারী আন্দোলন তাঁদের এই ‘মানুষ’ হওয়ার ক্ষেত্রে অবদান রেখেছে, তাকে ভুলে গেলে তো চলবে না। আমরা আগে তাঁদের নারীদের মাঝে দেখেছি, নারী আন্দোলনেও তাঁরা ছিলেন। কিন্তু এখন হঠাত্ মানুষ হয়ে গেলে তো নারীদের প্রতি অবহেলা হয়ে যায়। আশা করি, বিষয়টি তাঁরা অনুধাবন করবেন।
নতুন সরকারের প্রথম বছর গেছে, দ্বিতীয় বছরে আমরা দেখতে চাই অবস্থার গুণগত পরিবর্তন হচ্ছে কি না। আমাদের চোখ, কান খোলা থাকছে ভালো কিছু দেখা এবং শোনার জন্য।
ফরিদা আখতার: নারী আন্দোলনের নেত্রী।

জোর আর জবরদখলের কাছে অসহায় পাহাড়িরা by মঙ্গল কুমার চাকমা

খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক বলেছিলেন, ‘পাহাড়িরা অসহায়, আমি নিরুপায়।’ পাহাড়িদের জমিজমা জবরদখলের উদ্দেশ্যে প্রভাবশালী গোষ্ঠীর মদদে সেটেলার নামে পরিচিত বাঙালি বসতি স্থাপনকারী কর্তৃক ২০০৩ সালে সংঘটিত খুব সম্ভবত মহালছড়ি ঘটনার পর জেলা প্রশাসক সাংবাদিকদের প্রশ্নোত্তরে এ কথা বলেছিলেন। এ কথা বলার দুই দিনের মাথায় খাগড়াছড়ি জেলা থেকে তাঁর স্ট্যান্ড রিলিজ হয়েছিল।
সেই অসহায় অবস্থা থেকে আরও করুণ দশা বিরাজ করছে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের লাগোয়া বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি, লামা ও আলীকদমের আদিবাসী পাহাড়িদের বেলায়। রাবার ও প্লানটেশনের নামে অস্থানীয়দের কাছে প্রদত্ত ইজারা, ‘আর’ কবুলিয়তের নামে আশির দশকে সেটেলার বাঙালিদের দেওয়া বিধিবহির্ভূত বন্দোবস্তি এবং তথাকথিত বনায়ন ও সামরিক কাজের জন্য অধিগ্রহণ ইত্যাদির মাধ্যমে পাহাড়িদের প্রথাগত জুমভূমি, বন্দোবস্তকৃত বা ভোগদখলে থাকা হাজার হাজার একর জমি জবরদখল করা হয়েছে। এ ছাড়া পাহাড়িদের কাছ থেকে নানা ছলচাতুরি ও দুর্নীতিগ্রস্ত ভূমি প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সহায়তায় জাল দলিলের মাধ্যমে পাহাড়িদের অনেক জায়গা-জমি হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।
এসব ইজারাদার অত্যন্ত প্রভাবশালী এবং প্রশাসনের উচ্চস্তরে তাঁদের রয়েছে সীমাহীন দৌরাত্ম্য। ফলে একটি প্লটে ২৫ একর জমি ইজারা নিলেও তাঁরা ৪০ বা ৫০ একর ভূমি জবরদখল করতে পারেন। পাহাড়িরা আপত্তি দিলে সন্ত্রাসী লেলিয়ে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ইজারাদারেরা তাঁদের উদ্যোগে আমিন-কানুনগো এনে ইচ্ছামতো ফিতা ফেলে পাহাড়িদের প্রথাগত জুমভূমি, বন্দোবস্তকৃত বা ভোগদখলে থাকা জমি জবরদখল করেন। পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তিতে অব্যবহূত ভূমি ইজারা বাতিল করার বিধান থাকলেও তা আজও কার্যকর হয়নি। লামা উপজেলার সরই ইউনিয়নে অনেক বিস্তৃত এলাকায় এককালে মারমা-ত্রিপুরাদের ঘনবসতি থাকলেও বর্তমানে প্রায় শূন্য। এই ইউনিয়নে বর্তমানে ‘ম্রো’ অধিবাসীরা উচ্ছেদের মুখে। নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী মৌজাধীন চাকপাড়ার পূর্বদিকে মাইলের পর মাইল বিস্তৃত এলাকায় রাবারবাগান করা হয়েছে।
এই বিস্তৃত অঞ্চলে রাবারবাগান গড়ে ওঠার ফলে স্থানীয় পাহাড়ি ও বাঙালিদের জীবন-জীবিকা ভেঙে পড়েছে। এসব এলাকা মূলত সমষ্টিগত মালিকানাধীন মৌজাভূমি। বিস্তৃত মৌজাভূমি বেদখল হয়ে যাওয়ার ফলে এ এলাকায় পাহাড়িদের জুমচাষ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। তাঁরা এখন রাবারবাগানে স্বল্প বেতনের দিনমজুরে পরিণত হয়েছেন। এককালে তাঁরা এসব প্রাকৃতিক বন থেকে গৃহস্থালির জন্য বাঁশ-গাছ-শণ সংগ্রহ করতেন। এখন আর কোনো বাঁশ-গাছ-শণ নেই। গাছ-বাঁশের অভাবে তাঁরা এখন মাটির তৈরি ‘গুদাম’ ঘর তুলতে বাধ্য হচ্ছেন। বাড়ির আঙিনায় টেংরা বা বেড়া পর্যন্ত তাঁরা দিতে পারছেন না। এককালে এসব বিস্তৃত মৌজাভূমি ছিল গোচারণের ক্ষেত্র। এখন গোচারণ ভূমির অভাবে গরু-মহিষ পালন করতে পারছেন না। এ এলাকার ছড়া-ঝিরি থেকে তাঁরা মাছ-ইছা-কাঁকড়া-শামুক সংগ্রহ করে পুষ্টির চাহিদা পূরণ করতেন। প্রাকৃতিক বন ধ্বংসের ফলে এসব এলাকায় মাছ-ইছা-কাঁকড়া-শামুক তেমন পাওয়া যায় না। আগে পাহাড়ি নারীরা দু-একজনেই নিরাপদে মাছ-ইছা-কাঁকড়া-শামুক ধরতে যেতে পারতেন। এখন আর পারেন না অসাধু লোকদের পাশবিক লালসার শিকার হওয়ার ভয়ে। ইতিমধ্যে অনেকে এ রকম ঘটনার নির্মম শিকার হয়েছেন বলেও জানা গেছে।
‘আর’ হোল্ডিং নামে আশির দশকে সেটেলার বাঙালিদের দেওয়া বন্দোবস্তির ক্ষেত্রেও সেটেলার বাঙালিরা ইচ্ছামতো জায়গা-জমি দখল করে থাকে। ‘আর’ হোল্ডিং হলো তথাকথিত ‘রিফিউজি’দের দেওয়া বন্দোবস্ত কবুলিয়ত, যা পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রচলিত আইন, রীতি ও পদ্ধতি লঙ্ঘন করে দেওয়া হয়েছে। এই ‘আর’ হোল্ডিং জমির চৌহদ্দি বাস্তবের সঙ্গে কোনো মিল নেই। যার ফলে ‘আর’ কবুলিয়তধারী সেটেলাররা ইচ্ছামতো জমি বাছাই করে নিজের বলে দাবি করে এবং প্রশাসনের সহায়তায় পাহাড়িদের তাদের বাস্তুভিটা ও বাগান-বাগিচা থেকে উচ্ছেদ করে জমি জবরদখল করে।
সত্যিই তাঁদের সুবিচার পাওয়ার কোনো জায়গা নেই। পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের দ্বারস্থ হয়েছেন অনেকে। কিন্তু আঞ্চলিক পরিষদের কথা কে শোনে? পার্বত্য জেলা পরিষদ এ বিষয়ে সম্পূর্ণ নীরব ও উদাসীন। তাদের কাছে দরখাস্ত দিয়েও কোনো লাভ হয়নি। এসব মনোনীত পার্বত্য জেলা পরিষদের সাধারণ মানুষের স্বার্থের প্রতি কোনো ভ্রূক্ষেপ নেই। স্থানীয় সাংসদের কাছে গেলেও অনেক সময় উদাসীনতাই মেলে। আর জেলা ও উপজেলা প্রশাসন তো বরাবরই সেটেলারদের পক্ষে। অধিকন্তু অনেক আমলা নিজের আত্মীয়স্বজনের নামে-বেনামে শত শত একর জমি দখল করেছেন।
দু-একজন পাহাড়ি মামলারও আশ্রয় নিয়েছেন। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। পাহাড়িদের অভিযোগ, বিচারব্যবস্থা নিরপেক্ষ নয়। অথবা স্থানীয় আদালতে পাহাড়িরা জিতলেও সেটেলার বাঙালিরা আবার উচ্চ আদালতে যান, যেখানে পাহাড়িদের মামলা পরিচালনা করা সাধ্যের বাইরে। আর অধিকাংশ পাহাড়ি, যাঁদের দুবেলা দুমুঠো ভাতের সংস্থান করতে বা লজ্জা নিবারণের ন্যূনতম কাপড় জোগাড় করতে হিমশিম খেতে হয়, তাঁদের পক্ষে আইন-আদালতের আশ্রয় নেওয়া বামন হয়ে চাঁদে হাত দেওয়ার মতো অবস্থা।
এ এলাকার জনগণ শিক্ষা-দীক্ষায় পিছিয়ে পড়া। কোথায় যেতে হবে, কী করতে হবে, কীভাবে প্রতিরোধ করতে হবে, তারা জানে না। তারা রাজনৈতিকভাবে সচেতন নয় বললেই চলে। নিজেদের মধ্যে প্রতিরোধ গড়ে তোলাও এক কঠিন ব্যাপার। অধিকন্তু বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি, লামা ও আলীকদম উপজেলা সেটেলার অধ্যুষিত হওয়ায় এবং চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের লাগোয়া বিধায় জোরালো প্রতিবাদ করাও ভৌগোলিকভাবে প্রতিকূল। এক এলাকার লোক অন্য এলাকায় বা অন্য উপজেলায় বা জেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য এবং ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিক্ষা গ্রহণের জন্য প্রতিদিন বাঙালি অধ্যুষিত এলাকার মধ্য দিয়ে আসা-যাওয়া করতে হয়। কোনো ঘটনা ঘটলেই এসব এলাকায় সাম্প্রদায়িকতার জিগির তোলা হয়। ফলে ভৌগোলিকভাবে পাহাড়িরা হয়ে পড়ে জিম্মি ও অসহায়। তারা নিতান্তই নিরুপায়।
মঙ্গল কুমার চাকমা : পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির তথ্য ও প্রচার সম্পাদক।

ইতিমনি খুন ও আগাম জামিন by মিজানুর রহমান খান

নীলফামারীর জলঢাকা পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্রী ইতিমনি (১৪) বাসায় একা ছিল। গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর তাকে ধর্ষণ করে হত্যা করা হয়। এর দায়ে এককভাবে অভিযুক্ত হয় ২৫ বছরের কথিত বখাটে প্রতিবেশী যুবক মাহামুদার রহমান। হাইকোর্ট থেকে তিনি আগাম জামিন নিয়েছিলেন। এখন পলাতক। নিম্ন আদালতে তিনি আত্মসমর্পণ করেননি।
আগাম জামিন হাইকোর্টের একটি অসাধারণ এখতিয়ার। বিশেষ পরিস্থিতি বিবেচনায় আদালতের এটা অত্যন্ত বিরল ক্ষেত্রে প্রয়োগ করার কথা। হাইকোর্টের কোনো কোনো বেঞ্চ অবশ্য অনেক সময় প্রায় গণহারেও আগাম জামিন প্রদানের নজির স্থাপন করছেন, যা গভীর উদ্বেগ-উত্কণ্ঠার বিষয়।
ধর্ষণ ও খুনের দায়ে অভিযুক্ত মাহামুদার অতি ভাগ্যবান। গৃহবধূ ধর্ষণ মামলায় সাজাপ্রাপ্ত এবং অন্য বহু মামলায় অভিযুক্ত জলঢাকা পৌরসভার বর্তমান মেয়রের কথিত মদদে পুলিশ তাঁকে না ধরায় জলঢাকা ক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে। আর তখনই গণজামিন দিয়ে বিতর্কিত বিচারপতি এ এফ এম আবদুর রহমান ও বিচারপতি মো. ইমদাদুল হক আজাদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ ওই অভিযুক্ত মাহামুদারকে নয় সপ্তাহ মেয়াদে আগাম জামিন দেন। দিনটি ছিল ২৮ অক্টোবর। ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার ২৮ দিন পরে মাহামুদার এদিন হাইকোর্টে আত্মসমর্পণ করেন। তাঁর আগাম জামিন জোটে। এজাহারে নাম উঠতেই মাহামুদার পলাতক হন। পুলিশ তখন বলেছে, আমরা তাঁকে খুঁজি, পাই না। আগাম জামিন লাভের পরে জলঢাকা পুলিশের অকাট্য যুক্তি: ‘ওকে ছুঁতে হাইকোর্টের মানা।’ চলতি জানুয়ারির গোড়ায় তাঁর জামিনের মেয়াদ শেষ হয়। কিন্তু তিনি এখন পলাতক। হাইকোর্টের ওই বেঞ্চসংশ্লিষ্ট ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) কাজী এম ইজারুল হক সাগর গতকাল প্রশ্নের জবাবে বললেন, ‘সব মামলায় নির্দেশনা প্রদান যে অসংগত, তা আমি বহুবার আদালতকে বলেছি। এ ক্ষেত্রেও নির্দেশনা দেওয়া ঠিক হয়নি।’ হাইকোর্টের আদেশে বিচারিক হাকিমের উদ্দেশে প্রধানত দুই ধরনের নির্দেশনা দিয়ে থাকেন হাইকোর্ট। প্রথমত, নির্দিষ্ট সময় আগাম জামিন ভোগের পর তাঁকে বিচারিক হাকিমের কাছে আত্মসমর্পণ করতে হবে। এ সময় বিচারিক আদালত তাঁর নিয়মিত জামিনের দরখাস্ত মঞ্জুর বা নামঞ্জুর করবেন কি না, তা বিবেচনায় স্বাধীন থাকেন। দ্বিতীয়ত, নিম্ন আদালতের হাত-পা বেঁধে দেওয়া। বলে দেওয়া হয়, নিয়মিত জামিনের জন্য দরখাস্ত করলে আদালত তা মঞ্জুর করবেন। আলোচ্য ক্ষেত্রে দেখলাম, শ্যাল দিয়ে বাক্যটি লেখা অর্থাত্ বিচারিক হাকিম তাঁকে নিয়মিত জামিন দেবেন। হাইকোর্টের আদেশের এ রকম ব্যাখ্যা করেন ইতিমনি হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে গড়ে ওঠা নাগরিক আন্দোলনের নেতারাও।
চাঞ্চল্যকর এই মামলা গত বছরের ১ অক্টোবর ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের অজামিনযোগ্য ৯(২) ধারার আওতায় নীলফামারীর জলঢাকা থানায় দায়ের হয়। মামলার আইও জলঢাকা থানার সদ্য বদলি হওয়া ওসি মো. আরমান হোসেন। এজাহারে তাঁর লেখা, ‘আমি ১ অক্টোবর সকাল সোয়া দশটায় মহিলা কনস্টেবল রহিমা খাতুন ও উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মাহফুজা সুলতানার সহায়তায় লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করি। ইতিমনির ডান কান থেকে রক্ত বের হয়। তাঁর থুতনিতে, দুই কানের নিচে গলায়, বাম স্তনের নিচে, ঊরুতে রক্তাক্ত জখম দেখা যায়। আমরা তাঁর যৌনাঙ্গে বীর্য দেখি, আঘাতের চিহ্ন ছিল, যা গোলাপি রং ধারণ করেছিল, এ কথা ওসি সাহেব ঠিকই সুরতহাল রিপোর্টে লিখেছেন। কিন্তু ময়নাতদন্ত রিপোর্টে তা আসেনি। আমরা খুব অবাক হই।’ মাহফুজা টেলিফোনে আমাকে বলেন। ওসি মাহামুদার কর্তৃক ধর্ষণপূর্বক হত্যাকাণ্ড ঘটল কি না, তা তদন্ত করে সুস্পষ্ট মতামতসহ প্রেরণের জন্য আবেদন জানিয়েছিলেন।
পুলিশ অভিযুক্তকে আটক না করায় এলাকার মানুষ বিক্ষোভ দেখায়। ৮ অক্টোবরে মানববন্ধন হলো। ৪ নভেম্বর হরতালে অচল হলো জলঢাকা। নারীনেত্রী আফরোজা রোজির নেতৃত্বে গড়ে ওঠে ছাত্র-জনতা সংগ্রাম কমিটি। সমাজ দেখল একমাত্র অভিযুক্ত ধর্ষক হাইকোর্টের জোরে ঘুরে বেড়ায়। এটা সত্য যে, অভিযুক্ত হলেই কাউকে অপরাধী বলা যায় না। মাহামুদারকেও আমরা আপাতত নিরীহ ধরে নিতে পারি। কিন্তু পুলিশ একমাত্র অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ পর্যন্ত করেনি। হাইকোর্টের আগাম জামিনকে পুলিশ কার্যত অপব্যাখ্যা করেছে। তারা রিমান্ডের বাইরে আসামির সঙ্গে কথা বলা আদৌ দরকারি মনে করেনি। অনেক সময় পূর্বশত্রুতা, হয়রানি, রেষারেষির কারণ থাকে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে মাহামুদারের সঙ্গে ইতির পরিবারের কোনো ধরনের বৈরিতা ছিল না।
ময়নাতদন্ত রিপোর্টে ইতিমনির মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে ১ অক্টোবর ২০০৯ ডা. দিলীপ কুমার রায় পাঁচটি জখমের বর্ণনা দেন। ‘ইতিমনির মাথার সামনের দিকে ও নাকের পাশে রক্ত জমা ছিল। তার থুতনির নিচে ও ঘাড়ের বাম পাশের উপরের দিকে জমাট রক্ত ছিল। এবং ডান বুকের উপরের দিকেও রক্ত জমা ও একই সঙ্গে জমাটবাঁধা রক্তও দেখা যায়। এসব জখমের কারণে তাঁর রক্তক্ষরণ ঘটে এবং শকে মারা যায়। এটা স্পষ্ট যে তাকে খুন করা হয়েছে।’ এতে ধর্ষণের আলামত বিষয়ে কিছু বলা হয়নি। কিন্তু অভিজ্ঞ চিকিত্সকেরা বলেন, যৌনাঙ্গের সোয়াব টেস্টে অনেক সময় বীর্যের আলামত নাও মিলতে পারে। কিন্তু তাতে ধর্ষণজনিত খুন যে হয়নি, তা প্রমাণিত হয় না। ময়নাতদন্তে স্পষ্ট যে, ইতিমনি আত্মরক্ষায় সচেষ্ট ছিল। তবে তাকে ধর্ষণের অকাট্য প্রমাণ হাজির করেছে মহাখালীর রাসায়নিক বিভাগের রিপোর্ট (নং ৪৮৩৯)।
তার পরনে ছিল গোলাপি রঙের পায়জামা, এমব্রয়ডারি করে ফুল তোলা। সিআইডির রাসায়নিক পরীক্ষক মো. কায়ছার রহমান গত ২৭ ডিসেম্বর নীলফামারীর বিচারিক হাকিমকে জানিয়েছেন, ওই পায়জামার দাগযুক্ত স্থানে ‘মানুষের বীর্য’ পাওয়া গেছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজে এখন রয়েছে ডিএনএ পরীক্ষাগার। সারা বিশ্বে ধর্ষণজনিত অপরাধীদের শনাক্ত করতে ডিএনএ পরীক্ষা সবচেয়ে কার্যকর উপায়। অভিযুক্ত ব্যক্তির ডিএনএ পরীক্ষা করলেই সত্য বেরোবে। নিয়মানুযায়ী আগামী ছয় মাস পর এই পায়জামাটি ধ্বংস করা হবে। তাই তার আগেই অভিযুক্ত ব্যক্তির ডিএনএ পরীক্ষা জরুরি। এই ল্যাবরেটরির একজন জ্যেষ্ঠ বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা প্রথম আলোকে ইঙ্গিত দেন যে, ‘অনেক সময় মহাখালীর পরীক্ষাগারে এমনভাবে আলামত পরীক্ষা করা হয় যা পরে আমাদের ল্যাবরেটরির কাজে নাও লাগতে পারে।’
এ নিয়ে কথা হলো নীলফামারীর পুলিশ সুপার গোলাম রসুলের সঙ্গে। বললেন, ‘আসামির ডিএনএ পরীক্ষা করাতে আদালতের অনুমতি লাগবে। কিন্তু আসামি কোথায়? আগাম জামিনের শেষ দিনে আদালতে ফোর্স মোতায়েন করেছিলাম। কিন্তু আসামি আসেননি।’ অভিযোগপত্র না দেওয়ার বিষয়ে পুলিশ সুপার বলেন, একমাত্র সাক্ষী নিহত ইতিমনির বাবা। তিনিই মাহামুদারকে ঘর থেকে বের হতে দেখেন। অন্যরা এই বিবরণ তাঁর বরাতেই দিচ্ছেন। তাই অভিযোগপত্র দেওয়া হয়নি।
২৩৫৫৭/২০০৯ ফৌজদারি বিবিধ মামলায় হাইকোর্টের ওই বিচারকদ্বয়ের আদেশ সত্যি অবাক করা। তাঁরা লিখেছেন, ‘মাহামুদারের আইনজীবী কেন আমাদের অসাধারণ এখতিয়ারের আওতায় আগাম জামিনলাভের যোগ্য, তার উল্লেখযোগ্য কারণ দেখাতে পারেননি।’ হাইকোর্ট তদুপরি কারণ না দেখিয়ে আগাম জামিন দেন। এখানেও ফাঁক আছে। আদেশে আগাম জামিন দেওয়া হয়নি। অভিযুক্ত ধর্ষককে টানা দুই মাস এক সপ্তাহ সময় দেন তাঁর বাড়ির দরোজার আদালতে আত্মসমর্পণের জন্য। আইনবহির্ভূত হাইকোর্টের পরিভাষায়, এর নাম নির্দেশনা। এবং এও বলে দেন যে, অভিযুক্ত যদি জামিন চান তাহলে নিম্ন আদালত তাঁকে নিয়মিত জামিন দেবেন। জামিন আদেশে দেখি, ডিএজি সাগরের নাম। কিন্তু আদেশে রাষ্ট্রের বক্তব্য নেই। ডিএজি এটা জেনে লেখকের কাছে বিস্ময় প্রকাশ করেন। উল্লেখ্য, ওই বেঞ্চ গত মাসে সাজাভোগরত ডাকাবুকোদের গণজামিন দিলে বিতর্ক হয়। তারা এও বলেছিলেন, তাঁরা ধর্ষণ মামলার আসামিদের জামিন দেননি। প্রধান বিচারপতি ১০ জানুয়ারি ওই বেঞ্চ ভেঙে দেন। এ ঘটনায় গতকালের সুপ্রিম কোর্ট অঙ্গন ছিল সরব। এটা হয়তো একটা তাত্ক্ষণিক প্রতিকার। কিন্তু আসল চ্যালেঞ্জ সামনে। শুনেছি, প্রধান বিচারপতি ওই বেঞ্চের দেওয়া অস্বাভাবিক জামিনসংক্রান্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখতে দুই সদস্যের একটি কমিটি করেছেন। তবে বিচক্ষণ ও সত্ হিসেবে সুপরিচিত এক বিচারপতি ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে কমিটির প্রধান হতে রাজি না হওয়ার কথা জেনে দুঃখ পেলাম। অবশ্য গতকাল যিনি তাঁর স্থলাভিষিক্ত হলেন তিনিও অভিজ্ঞ। ওই বেঞ্চের জামিনপ্রলয়ে বেঞ্চ কর্মকর্তাদের তুলনামূলক দায় তুচ্ছ। আমরা অপেক্ষায় থাকব সীমাহীন বিচারিক বাড়াবাড়ির জবাবদিহিতা দেখার জন্য। মাহামুদারের আগাম জামিন প্রমাণ করে যে, জামিনপ্রলয় কেবল ১৮ ও ১৯ ডিসেম্বরে ঘটেনি। ওই বেঞ্চ প্রায় টানা তিন মাস ধরে জামিনসংক্রান্ত আদেশ দিয়েছেন।
অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের সঙ্গে দেখা করে ইতিমনির ভাই শরিফুল কান্নায় ভেঙে পড়েন। সঙ্গে ছিলেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা অধ্যাপক গোলাম মোস্তফা। জানালেন, হাইকোর্টের দোহাই দিয়ে এ মামলায় অভিযোগপত্র দেওয়া থেকেও বিরত আছে পুলিশ। অন্যদিকে আসামিপক্ষ মামলা তুলে নিতে তাঁদের হুমকি দিয়ে চলেছে। ৭ নভেম্বর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে লেখা এক আবেদন থেকে দেখা যায়, ধর্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সই করেছেন সংসদের প্রতিটি রাজনৈতিক দলের স্থানীয় শাখার শীর্ষ নেতারা। তার পরও কাঁদেন ইতিমনির বাবা ইয়াকুব। তাঁকে হত্যার হুমকি এসেছে। নীলফামারীবাসী বেদনায় নীল। তাদের আশঙ্কা, তারা আদৌ বিচার পাবে না! অ্যাটর্নি জেনারেল দুঃখ প্রকাশ করেন। প্রথম আলোকে বলেন, তিনি প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নেবেন। দ্রুত ডিএনএ পরীক্ষা তাঁরও কাম্য।
সবমিলিয়ে ইতিমনিকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনা এক মস্ত পরিহাস। অভিযুক্ত মাহামুদার এখন থেকে একটা দীর্ঘ সময় পলাতক থাকতে পারেন। তখন হয়তো ওই ‘মানুষের বীর্য’ যে মাহামুদারের, তা প্রমাণ করা সম্ভব হবে না। আলামত নষ্ট হবে। ইতিমনির জন্য আন্দোলনকারীরা ইতিকে ভুলে যাবেন। কারণ, তত দিনে হয়তো আরও ইতিমনি তৈরি হবে। ‘আইন মান্যকারী’ পলাতক মাহামুদার বীরদর্পে হাইকোর্টে মিথ্যা মামলা কোয়াশ বা বাতিলের জন্য আসবেন। পুনরায় ‘আত্মসমর্পণ’ করবেন। হাইকোর্টের কোনো বেঞ্চ হয়তো উপযুক্ত সাক্ষ্য-প্রমাণহীন ‘হয়রানিমূলক’ অভিযোগ থেকে তাঁকে বেকসুর খালাস দেবেন! কে জানে তত দিনে মাহামুদার হয়তো আমাদের জনপ্রিয় নেতা হবেন।
মিজানুর রহমান খান: সাংবাদিক।
mrkhanbd@gmail.com

জাতীয় গ্রিড লাইনে তেল চুরি -চোর চক্রকে কঠোর শাস্তি দিতে হবে

জাতীয় গ্রিড লাইন থেকে তেল চুরি কিংবা চুরির চেষ্টার যে খবর প্রকাশিত হয়েছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এটি যেমন সম্পদের অপচয়, তেমনি তেল ও গ্যাসের জাতীয় গ্রিড লাইনের জন্য বিপজ্জনকও। গ্রিড লাইনে তেল ও গ্যাসের পাইপ পাশাপাশি থাকায় যেকোনো মুহূর্তে বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। প্রথম আলোর প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ৩ ও ৫ জানুয়ারি জাতীয় গ্রিড লাইনের গয়ঘর ও নিতেস্বর এলাকায় তেল চুরির চেষ্টা চালায় সংঘবদ্ধ চোর চক্র। নিরাপত্তারক্ষীরা আগেভাগে টের পেয়ে গেলে তাদের চেষ্টা ভণ্ডুল হয়ে যায়।
চোর চক্র তেল চুরিতে ব্যর্থ হলেও পাইপের কাছে ছয় ফুট লম্বা একটি গর্ত খোঁড়ে। গত বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারি তেলচোর চক্র জাতীয় গ্রিডের পাইপলাইন ছিদ্র করে প্রায় পাঁচ হাজার ৮০ লিটার তেল চুরি করে নিয়ে গিয়েছিল। জাতীয় গ্রিড লাইনের নিয়ন্ত্রণকক্ষে অস্বাভাবিকতা লক্ষ করে গ্রিড লাইন বন্ধ করে তল্লাশি চালালে চুরির বিষয়টি ধরা পড়ে। কৈলাসটিলা-আশুগঞ্জ উত্তর-দক্ষিণ গ্যাস ও অপরিশোধিত তেলের জাতীয় গ্রিড লাইনের সঙ্গে বিয়ানীবাজার, কৈলাসটিলা, জালালাবাদ, বিবিয়ানা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও রশিদপুর গ্যাসক্ষেত্র যুক্ত রয়েছে। এ ছাড়া ১৭৫ কিলোমিটার দীর্ঘ গ্রিড লাইনে ছয় ইঞ্চি ব্যাসের অপরিশোধিত তেল ও ২৪ ইঞ্চি ব্যাসের গ্যাসের পাইপলাইন দুটি পাশাপাশি রয়েছে। গত পাঁচ-ছয় বছরে জাতীয় গ্রিড লাইনের শুধু রাজনগর, মৌলভীবাজার সদর ও শ্রীমঙ্গল উপজেলায় সাত-আটটি তেল চুরির ঘটনা ঘটেছে বা চেষ্টা হয়েছে।
বর্তমানে একটি বেসরকারি নিরাপত্তা কোম্পানি গ্রিড লাইনের নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছে। এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ লাইনের নিরাপত্তায় সার্বক্ষণিক পুলিশি প্রহরা ও নজরদারির প্রয়োজনের কথা স্বীকার করেছে গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেড (জিটিসিএল)। এই পরিস্থিতিতে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ওপর এই জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তার দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়া কতটুকু যৌক্তিক, সেটা ভেবে দেখতে হবে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি পুলিশি প্রহরাও নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে কঠোর শাস্তি দিতে হবে চোর চক্রকে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ চুরি করতে সাহস না পায়।

গোড়ায় গলদ -বুড়িগঙ্গা ধোলাই প্রকল্পটি আগে ধোলাই করুন

বলা হয়, ঢাকার সৌভাগ্য যে তার তিন দিকে নদী। কিন্তু দুর্ভাগ্য যে নদীগুলো মানুষের অপরিণামদর্শী ও স্বেচ্ছাচারিতায় পর্যুদস্ত। শিল্প ও মনুষ্যবর্জ্যে ওগুলো এতই দূষিত যে সেখানে মাছ পর্যন্ত বাঁচে না। দূষণমুক্ত করার অনেক আন্দোলনের পর সরকার বুড়িগঙ্গার তিন কিলোমিটার ও তুরাগের দেড় কিলোমিটার এলাকার বর্জ্য অপসারণের কর্মসূচি নিয়েছে। আনুষ্ঠানিকভাবে নদী ধোলাই শুরুর দুই দিন পরই প্রথম আলোর প্রথম পাতায় সচিত্র প্রতিবেদনে দেখা গেল, কেরানীগঞ্জের আগানগর খেয়াঘাটে একটি রঙের কারখানার দূষিত রাসায়নিকযুক্ত পদার্থ সেই বুড়িগঙ্গাতেই ধোলাই করা হচ্ছে। একদিকে ধোলাই, অন্যদিকে দূষণ যদি একই সঙ্গে চলে, তাহলে দিনশেষে অর্জন বলতে তো কিছু থাকবেই না, বরং অপবাদের বোঝা মাথায় নিয়ে ফিরতে হবে।
একেই বলে গোড়ায় গলদ। জনসচেতনতা সৃষ্টি, প্রচার, ঢাকঢোল পেটানোসহ কোনো কিছুই বাদ রাখা হয়নি। শুধু বাদ থেকে গেল নদীদূষণের প্রাত্যহিক ক্রিয়াকর্ম বন্ধের ব্যবস্থা। ফলে দূষণক্রিয়ার নায়কেরা ধরে নিয়েছে যে সরকারের কাজ সরকার করবে, কষ্ট করে নদীর তলদেশের ময়লা তুলে পাড়ে রাখবে; আর ওদের কাজ ওরা করবে, প্রতিদিনের মতো নদীতে আবর্জনা ও বর্জ্য নিক্ষেপ করে নদীদূষণ চালিয়ে যাবে!
নদীর বর্জ্য পরিষ্কারের পাশাপাশি নদীদূষণের সব দুষ্কর্ম বন্ধের কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ফুটো কলসে পানি ঢালার মতো ব্যাপার হবে। তাই এদিকে প্রথম নজর দিতে হবে। নদীতীরে যতগুলো কারখানা আছে, তাদের বর্জ্য শোধনের ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করা ও তার যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই। সরকার যে এ ব্যাপারে শিল্পমালিকদের সহজ শর্তে ঋণনীতি নিয়েছে, সেটা সুফল দেবে যদি মালিকেরা ঋণ গ্রহণ করেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কারখানার বর্জ্য শোধন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সরকার নিজস্ব উদ্যোগে কেন্দ্রীয় শোধনাগার স্থাপন করে ছোট ছোট শিল্পকে সহযোগিতা দেওয়ার যে উদ্যোগ নিয়েছে, সেটাও উত্সাহজনক। কিন্তু সবই যদি কেবল কাগজে-কলমে থেকে যায়, তাহলে লাভ কী?
সবচেয়ে পীড়াদায়ক ব্যাপার হলো, নদীর দুই তীরের অবৈধ স্থাপনা ভেঙে পরিষ্কার করার কয়েক দিন পরই আবার সেগুলো অবৈধ দখলে চলে যায়, শুরু হয় নদীদখল, নদীদূষণ। দখলবাজ কায়েমি স্বার্থ সমূলে উত্পাটন না করতে পারলে কোনো কাজ হবে না। সমস্যা হলো, যারা রক্ষক, তারাই ভক্ষক! স্থানীয় প্রভাবশালীরা যখন যে সরকার ক্ষমতায় থাকে, তাদের ছত্রচ্ছায়ায় দখল ও দূষণ চালায়। অনেক সময় স্থানীয় থানা-পুলিশও তাদের সঙ্গে হাত মেলায়। তাহলে কে কাকে শায়েস্তা করবে? সরকার অবশ্য তীর সংরক্ষণে খুঁটি স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই উদ্যোগ যথাযথভাবে কার্যকর করা গেলে হয়তো পুনরায় দখল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা অনেকটা কমানো যাবে।
তবে সাম্প্রতিক উদ্যোগটি ভালো ও প্রতিশ্রুতিশীল এই অর্থে যে, এটি প্রায় দেড় বছর মেয়াদি প্রকল্প। এতে ২৫ কোটি টাকাও ঢালা হবে। তবে তার সবটাই যেন পানিতে না যায়, সে জন্য প্রকল্পটি আগে ধোলাই করা দরকার। নিশ্চিত করতে হবে যে নদী দুটির যে অংশ পরিষ্কার করা হবে, সেখানে আর কোনো দূষণ চলবে না। পাশাপাশি উজান ও ভাটায় এখন থেকেই সব ধরনের দূষণ ও দখল-তত্পরতা বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রাথমিক এসব উদ্যোগ সফল হলে ধীরে ধীরে প্রকল্পের পরিসর বাড়ানো যাবে।
ঢাকার চারপাশের নদীগুলোর স্বচ্ছ প্রবাহ নিশ্চিত করতে না পারলে শুধু নদীগুলোই মরবে না, মানুষও মরবে।

চীনে এইডস নিয়ে বেতার অনুষ্ঠান শুরু হচ্ছে

চীনে রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত বেতারে এইচআইভি/ এইডসের সচেতনতা-বিষয়ক একটি অনুষ্ঠান চলতি মাস থেকেই শুরু হতে যাচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের সর্বশেষ আভাস এটি। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম গতকাল রোববার এ খবর দিয়েছে।
চায়না ন্যাশনাল রেডিওতে আগামী ১৬ জানুয়ারি থেকে শুরু হতে যাওয়া অনুষ্ঠানটির নাম ‘পজিটিভ টকস’। প্রতি সপ্তাহে প্রচারিত হবে এটি। একজন এইচআইভি পজিটিভ ব্যক্তি অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করবেন।

ইরানে ৩০ জন নারী গ্রেপ্তার

ইরানের রাজধানী তেহরানে গত শনিবার সরকারবিরোধী এক বিক্ষোভের প্রস্তুতিকালে ৩০ জন নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিরোধী পক্ষের একটি ওয়েবসাইটে গতকাল রোববার এ দাবি করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, গত বছর নির্বাচন-পরবর্তী বিক্ষোভের পর থেকে তাঁদের সন্তানেরা নিখোঁজ রয়েছে। তাদের হত্যা করা হয়েছে বলে মায়েদের আশঙ্কা।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে ওয়েবসাইটটি জানায়, শনিবার স্থানীয় সময় বিকেল চারটায় তেহরানের লালেহ পার্কে জড়ো হয়েছিলেন প্রায় ৭০ জন মা। এ সময় সেখানে শতাধিক পুলিশ অবস্থান নেয়। তারা মায়েদের ধাওয়া করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এঁদের অনেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও প্রায় ৩০ জন পুলিশের হাতে ধরা পড়েন।
২০০৯ সালের জুনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ পুনর্নির্বাচিত হন। এ নির্বাচনে ব্যাপক জালিয়াতির অভিযোগ আনে বিরোধীরা। এ অভিযোগে নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে তেহরান। রক্তাক্ত ওই বিক্ষোভের পর থেকেই ওই নারীদের সন্তানেরা নিখোঁজ রয়েছে।

জাতিসংঘের কাছে ক্ষতিপূরণ চাইবে ইরান -দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ক্ষয়ক্ষতি

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ বলেছেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তাঁর দেশের যে ক্ষতি হয়েছে, সে জন্য তাঁর সরকার জাতিসংঘের কাছে ক্ষতিপূরণ চাইবে। যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে ইতিমধ্যে একটি দল গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। গত শনিবার রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনে সরাসরি প্রচারিত এক ভাষণে আহমাদিনেজাদ এ কথা জানান। খবর এপি ও পিটিআই।
আহমাদিনেজাদ বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ইরান তার নিরপেক্ষ অবস্থান ঘোষণা করে। এর পরও ইরানের তেলক্ষেত্রের নিরাপত্তা এবং মিত্রশক্তির পক্ষে লড়াই করা সোভিয়েত সেনাদের রসদ সরবরাহ নিশ্চিত করার কথা বলে ব্রিটেন ও সোভিয়েত ইউনিয়ন ১৯৪১ সালের ২৬ আগস্ট ইরানে অভিযান চালায়। এতে ইরানের ব্যাপক ক্ষতি হয় এবং আজ পর্যন্ত সে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়নি।
মিত্রশক্তির কথা উল্লেখ করে আহমাদিনেজাদ বলেন, তাদের কারণে ইরানি জাতির অনেক ক্ষতি হয়েছে। যুদ্ধে তারা জয় পেয়েছে। কিন্তু আজ পর্যন্ত যুদ্ধের লাভের অংশ ইরানকে দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, ‘আমি যদি বলি আমরা পুরো ক্ষতিপূরণ চাই, তাহলে জেনে রাখো যে আমরা এর শেষ দেখে ছাড়ব এবং ক্ষতিপূরণ আদায় করব।’
আহমাদিনেজাদ বলেন, ক্ষতিপূরণ আদায়ের জন্য তিনি জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুনের কাছে চিঠি লিখতে পারেন।
আহমাদিনেজাদ সতর্ক করে দিয়ে আরও বলেন, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের কারণে ইরানের যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তারা সে ক্ষতিপূরণও চাইতে পারে।

হংকংয়ে এসিড হামলায় ৩০ জন আহত

হংকংয়ের একটি জনপ্রিয় পর্যটন এলাকায় শনিবার এসিড নিক্ষেপে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে শিশু ও পর্যটক রয়েছেন। স্থানীয় হাসপাতালে তাঁদের চিকিত্সা দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় গতকাল রোববার সন্দেহভাজন এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে।
কর্মকর্তারা জানান, কুলুন এলাকার টেম্পল স্ট্রিটের কাছে এসিড নিক্ষেপের এ ঘটনা ঘটে। বিপণিবিতান ও রেস্তোরাঁর জন্য এলাকাটি পর্যটকদের কাছে খুবই জনপ্রিয়। শনিবার রাতে পর্যটকদের ভিড়ে এলাকাটি যখন লোকে লোকারণ্য ছিল ঠিক তখন কে বা কারা পথচারীদের লক্ষ্য করে দুই বোতল এসিড নিক্ষেপ করে। এতে ৩০ জন আহত হন।
২০০৮ সালের ডিসেম্বর থেকে হংকংয়ে এ নিয়ে বেশ কয়েকটি এসিড নিক্ষেপের ঘটনা ঘটল। এসব হামলায় শতাধিক লোক আহত হয়েছেন।
পুলিশের মুখপাত্র মিচেল ম্যাক বলেছেন, ঘটনাস্থলের কাছেই একটি ভবনের ছাদ থেকে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। তিনি চীনা নাগরিক বলে নিজের পরিচয় দিয়েছেন। তাঁর বয়স ৩০ বছর। আটকের সময় তাঁর কাছ থেকে বোতলের দুটি মুখ উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের ধারণা, তিনিই এ হামলা চালাতে পারেন।
ম্যাক জানান, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়নি। এ ব্যাপারে তদন্ত চলছে। এ ছাড়া হংকংয়ে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যান্য এসিড হামলার ঘটনাগুলোতেও আটক চীনা নাগরিক জড়িত কি না, সে সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করেননি ম্যাক।
হংকংয়ের নেতা ডোনাল্ড টিসাং বলেন, এসিড হামলার ঘটনায় তথ্য দেওয়ার জন্য পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। হামলাকারীর ব্যাপারে তথ্য সরবরাহকারীকে ৩৯ হাজার মার্কিন ডলার পুরস্কার দেওয়া হবে।

নেপালে প্রাসাদ হত্যাকাণ্ডে ভারতের হাত ছিল -মাওবাদী নেতা প্রচণ্ডের অভিযোগ

নেপালের মাওবাদী নেতা পুষ্প কমল দহল ওরফে প্রচণ্ড বলেছেন, নয় বছর আগে রাজপ্রাসাদে রাজা বীরেন্দ্র ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পেছনে প্রতিবেশী দেশ ভারতের হাত ছিল। শুধু তা-ই নয়, নেপালের প্রখ্যাত কমিউনিস্ট নেতা মদন ভান্ডারীর রহস্যময় মৃত্যুর পেছনেও হাত ছিল নয়াদিল্লির। প্রচণ্ডের উদ্ধৃতি দিয়ে মাওবাদীদের মুখপত্র জনদিশা ডেইলি তাদের প্রথম পৃষ্ঠায় গতকাল রোববার এ খবর প্রকাশ করে। খবর দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়ার।
মাওবাদী নেতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রচণ্ড শনিবার এক জনসভায় বলেন, ২০০১ সালের ১ জুন নেপালের নারায়ণহিতি রাজপ্রাসাদে নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটে যায়। নেপালের জাতীয় বিয়োগান্তক ওই ঘটনার পেছনে ষড়যন্ত্রের কলকাঠি নেড়েছিল ভারত। ওই ঘটনায় রাজা বীরেন্দ্রর পরিবারের সব সদস্যই নিহত হয়।
দৃশ্যত, যুবরাজ দীপেন্দ্রর দিকেই সবার সন্দেহের আঙুল উঠেছিল। একটি তদন্ত কমিশনও ওই হত্যাকাণ্ডের জন্য যুবরাজকেই প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করেছিল। কিন্তু প্রচণ্ড বলেন, ওই ঘটনার পেছনে ছিল ভারতের ষড়যন্ত্রের হাত। প্রচণ্ড অভিযোগ করেন, রাজা বীরেন্দ্র এবং কমিউনিস্ট নেতা মদন ভান্ডারি ভারতের স্বার্থের কাছে নতি স্বীকার করেননি। এ কারণেই তাঁদের দুজনকে হত্যা করা হয়।
নেপালের রাজপ্রাসাদের উত্তাল দিনগুলোর কথা উল্লেখ করে প্রচণ্ড বলেন, রাজা বীরেন্দ্র মাওবাদী গেরিলাদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসার উদ্যোগ নিচ্ছিলেন। এ লক্ষ্যে মাওবাদী ও রাজপ্রাসাদের মধ্যে গোপন যোগাযোগের জন্য তিনি তাঁর ছোট ভাই ধীরেন্দ্রকে চর হিসেবে নিয়োগ করেছিলেন। কিন্তু পরিতাপের বিষয়, আলোচনা শুরুর আগেই প্রাসাদ হত্যাকাণ্ড ঘটে যায়।
সাবেক এই বিপ্লবী আরও বলেন, রাজা বীরেন্দ্র নিহত হয়েছিলেন, কারণ তিনি দেশের সার্বভৌমত্ব ভারতের কাছে বিকিয়ে দিতে রাজি হননি। ওই সময় তিনি ভারতের কাছ থেকে নয় বরং চীনের কাছ থেকে সমরাস্ত্র কেনার পক্ষপাতী ছিলেন। এ কারণেই তাঁকে ভারতের বিরাগভাজন হতে হয়েছিল।
সাম্প্রতিক সময়ে প্রচণ্ড ভারতের ওপর যারপরনাই ক্ষুব্ধ হয়েছেন। নেপালের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মাধব কুমার নেপালকে তিনি ভারতের পুতুল বলে মন্তব্য করেছেন। প্রচণ্ড বলেন, ভারত রিমোট কন্ট্রোলার দিয়ে প্রধানমন্ত্রী মাধবকে চালাচ্ছে।

ভারতে আইফেল টাওয়ার!

এখন ফ্রান্সে না গিয়েই আইফেল টাওয়ারের রেস্তোরাঁয় বসে খাওয়া-দাওয়া করার স্বপ্ন দেখতে পারে ভারতবাসী। কারণ, এমন স্বপ্ন সত্যি করার উদ্যোগ নিয়েছে ভারতের পন্ডিচেরি সরকার। সম্প্রতি দক্ষিণ ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় এই পর্যটন অঞ্চলটিতে আইফেল টাওয়ারের একটি প্রতিরূপ স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে স্থানীয় সরকার।
পন্ডিচেরি শহর থেকে ৮৪০ কিলোমিটার দূরে ইয়ানাম এলাকায় আইফেল টাওয়ারের প্রতিরূপটি স্থাপন করা হবে। পরিকল্পনা ঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে ইয়ানামেই আইফেল টাওয়ারের রেস্তোরাঁয় বসে খেতে খেতে আপনি উপভোগ করতে পারবেন গোদাবেরি নদী, বঙ্গোপসাগর, ধ্বংস হয়েযাওয়া ওলন্দাজ বন্দর, সমুদ্রবর্তী শহর কাকিনাদা আর কনাসিমার বিস্তৃত নারকেল বাগানের নিসর্গ।
এই পরিকল্পনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, ২৫ কোটি রুপির আইফেল টাওয়ারের প্রতিরূপটির উচ্চতা হবে ৩৩৩ ফুট। টাওয়ারের মাথায় একটি রেস্তোরাঁর পাশাপাশি থাকবে দর্শনার্থীদের দাঁড়ানোর স্থান। সেখানে চারটি দূরবীক্ষণ যন্ত্র থাকবে। টাওয়ারের শীর্ষে পৌঁছানোর জন্য থাকবে লিফট, যা ৫০ মিটার উচ্চতায় পৌঁছে দেবে দর্শনার্থীদের।
পন্ডিচেরির রাজস্ববিষয়ক মন্ত্রী মাল্লাদি কৃষ্ণ রাও বলেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী পুরোদমে কাজ শুরু হয়েছে। বছর শেষ হওয়ার আগেই প্রতিরূপটি তৈরি হয়ে যাবে। এই পরিকল্পনার পৃষ্ঠপোষক হিসেবে রয়েছে শিল্পগোষ্ঠী রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। হায়দরাবাদভিত্তিক প্রতিষ্ঠান টিম ওয়ান ইন্ডিয়া প্রকল্পের নকশা তৈরি করেছে। আর এর নির্মাণকাজের দায়িত্ব পেয়েছে নাগার্জুন কনস্ট্রাকশন।

যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও চীনে ১৯ জনের মৃত্যু

সিএনএন জানিয়েছে, উত্তর মেরু থেকে আসা হিমশীতল বাতাস ও অস্বাভাবিক তুষারপাতে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলের অনেক এলাকা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে ফ্লোরিডায় রেকর্ড পরিমাণ তুষারপাত হয়েছে। প্রচণ্ড ঠান্ডায় গত এক সপ্তাহে দেশটির মধ্যাঞ্চলে অন্তত নয়জন মারা গেছে।
মেক্সিকোর স্বাস্থ্যমন্ত্রী হোসে এঞ্জেল কর্দোভা শনিবার জানিয়েছেন, দেশজুড়ে প্রচণ্ড শৈত্যপ্রবাহে গত সপ্তাহের শেষে নয়জনের মৃত্যু হয়েছে। জাতীয় আবহাওয়া দপ্তরের মতে, সীমান্তসংলগ্ন মরুরাজ্য কোয়াহুইলা অঙ্গরাজ্যে তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নিচে ৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে।
মেক্সিকোতে শীতের কারণে কয়েকটি অঙ্গরাজ্যের বিদ্যালয় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। দেশের বিমানবন্দরগুলোতে অনেক বিমানের সময়সূচি পরিবর্তন ও বাতিল করে দেওয়া হয়েছে।
গতকাল চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানায়, প্রচণ্ড তুষারপাতে চীনের জিনজিয়াং প্রদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে একজনের মৃত্যু হয়েছে। সেখানে তাঁবু ও অন্য ত্রাণসামগ্রী পাঠিয়েছে কর্তৃপক্ষ। প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার লোককে উদ্ধারের তত্পরতা জোরদার করেছে তারা। তুষারঝড়ে শুক্রবার পর্যন্ত ৭৯৯টি ঘরবাড়ি ভেসে গেছে।
নতুন বছরের শুরু থেকে মুসলিম অধ্যুষিত মধ্য এশিয়ার সীমান্তবর্তী চীনের ওই অঞ্চলে প্রচণ্ড ঠান্ডার সঙ্গে তুষারপাতও হচ্ছে। এতে বিদ্যুত্ সরবরাহ ও যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে।

মৃত্যুসনদে লেখা হয়েছে জ্যাকসনকে হত্যা করা হয়েছে!

পপসম্রাট মাইকেল জ্যাকসনের মৃতুসনদে উল্লেখ করা হয়েছে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে। নিউজ অব দ্য ওয়ার্লড-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।
ডেপুটি করোনার চেরি ম্যাক উইলি গত বছরের ৭ জুলাই মূল মৃত্যুসনদে জ্যাকসনের মৃত্যুর কারণ বিবৃত করতে অস্বীকৃতি জানান। পরে চিকিত্সাবিষয়ক পরীক্ষক ক্রিস্টোফার রজারস গত ৩১ আগস্ট আগের মৃত্যুসনদ সংশোধন করেন।
গত বছরের ২৫ জুন ‘প্রপোফল’-এর বিষক্রিয়ায় মাইকেল জ্যাকসনের মৃত্যু হয়। তাঁর ব্যক্তিগত চিকিত্সক ইতিমধ্যেই কনরাড মারি স্বীকার করেন, তিনি পপস্টারের শরীরে ইনজেকশনের মাধ্যমে মাত্রাতিরিক্ত প্রপোফল ও অন্যান্য ওষুধ প্রয়োগ করেছিলেন। জ্যাকসনকে হত্যার উদ্দেশ্যেই তিনি ওই ওষুধ প্রয়োগ করেন কি না, এ ব্যাপারে তখন থেকেই সন্দেহ ঘনীভূত হয়।

কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাসযন্ত্র খোলার ২০২ দিন পর মারা গেলেন কিম

তাঁর মস্তিষ্কের মৃত্যু হয়েছিল অনেক আগেই। এ অবস্থায় কৃত্রিম উপায়ে ‘লাইফ সাপোর্ট’ দিয়ে চিকিত্সকেরা তাঁকে বাঁচিয়ে রেখেছিলেন। কিন্তু এভাবে আর কত দিন? তাই পরিবারের সদস্যরা মায়ার বন্ধন ছেড়ে তাঁকে শেষবিদায় দেন। চিকিত্সকদের তাঁরা জানিয়ে দেন যেন কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাসযন্ত্রটি খুলে দেওয়া হয়। আদালতের অনুমতি নিয়ে চিকিত্সকেরা খুলেও দেন তাঁর শ্বাস-প্রশ্বাসযন্ত্র। কিন্তু তার পরও আরও ২০২ দিন বেঁচে ছিলেন তিনি। অবশেষ গতকাল রোববার তিনি মারা যান।
দক্ষিণ কোরিয়ার ৭৭ বছর বয়সী ওই নারীর নাম কিম। রাজধানী সিউলের সেভারেন্স হাসপাতালে চিকিত্সাধীন ছিলেন তিনি। দেশটিতে আদালতের অনুমতি নিয়ে কোনো রোগীর এ ধরনের স্বেচ্ছামৃত্যুর এটাই প্রথম ঘটনা।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, পরিবার ও আদালতের সম্মতির পর গত ২৩ জুন কিমের শ্বাস-প্রশ্বাসের সহায়ক যন্ত্রটি খুলে নেওয়া হয়। তার পরও তিনি ২০২ দিন বেঁচে ছিলেন।
২০০৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে কিমের মস্তিষ্কের মৃত্যু হয়। এর আগে ফুসফুসের একটি পরীক্ষার সময় তিনি কোমায় চলে যান। এর তিন মাস পর কিমের সন্তানেরা চিকিত্সকদের অনুরোধ করেন যেন তাঁর মায়ের কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাসযন্ত্রটি খুলে ফেলেন। কারণ, ওই জীবন অর্থহীন এবং যন্ত্রণায় ভরা। কিন্তু আদালতের অনুমতি ছাড়া চিকিত্সকেরা ওই কাজ করতে অস্বীকৃতি জানান। পরে ২০০৮ সালের ডিসেম্বর মাসে মেলে আদালতের অনুমতি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করে। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট গত মে মাসে নিম্ন আদালতের রায় বহাল রাখেন।

কেন্দ্রের বিরুদ্ধে এবার বিদ্রোহ করলেন মমতা -পশ্চিমবঙ্গে মাওবাদী তত্পরতা

হঠাত্ করে এতটা চটে যাবেন মমতা বন্দোপাধ্যায়, এটা ভাবতে পারেননি পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিবিদ বা সাধারণ মানুষও। গত শনিবার তিনি এক সংবাদ সম্মেলনে প্রচণ্ড ক্ষোভ প্রকাশ করলেন কেন্দ্রীয় ইউপিএ সরকারের ওপর। একই সঙ্গে রাজ্য সরকারকেও তিনি তুলাধুনা করেন, যদিও মমতা ওই দিন জানিয়ে দেন, তিনি মন্ত্রী হিসেবে নয়, তৃণমূল নেত্রী হিসেবেই তাঁর ওই বক্তব্য দিচ্ছেন।
হুমকির সুরে মমতা বলেন, কেন্দ্র মাওবাদী দমনে কোনো সদর্থক ভূমিকা নেয়নি। বরং মাওবাদী দমনের নামে রাজ্যের সিপিএম সরকারকে অক্সিজেন দিয়ে মদদ দিচ্ছে। কেন্দ্র যতই মদদ দিক না কেন, পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাট থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে মাওবাদীদের।
তিনি মাওবাদীদের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, ‘বুকের পাটা থাকলে খুন করুক না তৃণমূল কর্মীদের।’ মমতা ইউপিএ সরকারকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘কেন্দ্র পশ্চিমবঙ্গে সন্ত্রাস দমনে আন্তরিক নয়। বারবার বিষয়টি রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে জানালেও তাঁদের সাহায্য মেলেনি। এতদিন ধৈর্য ধরেছি, আর নয়। কেন্দ্রের সাহায্য চাই না। এবার রাস্তায় আমরা একাই নামব। নন্দীগ্রাম ও সিঙ্গুরের আন্দোলনের সময়ও কেন্দ্রের কাছে সাহায্য চেয়ে পাইনি।’
মমতা বলেন, ‘কেন্দ্রের সদিচ্ছা থাকলে মাওবাদী দমন হতো। কেন আজ এই রাজ্যে প্রতিদিন খুন হবে? এর কৈফিয়ত কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীকে দিতে হবে।’
মমতা আরও বলেন, ‘জঙ্গলমহলে যৌথ বাহিনীর অভিযান সম্পূর্ণ ব্যর্থ। আমরা জঙ্গলমহলে যাব। জঙ্গলমহলের মাটি মাওবাদীদের কাছ থেকে উদ্ধার করে ফিরিয়ে দেব আদিবাসীদের হাতে। মাওবাদীদের আমরা রুখবই।’

ব্রিটিশ যাত্রীর বিরুদ্ধে বোমা হামলার হুমকির অভিযোগ -দুবাইগামী বিমানে হুমকি

লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরে দুবাইগামী বিমান থেকে গ্রেপ্তার হওয়া তিন ব্রিটিশ যাত্রীর মধ্যে একজনের বিরুদ্ধে গত শনিবার বোমা হামলার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। লন্ডনের মেট্রোপলিটন পুলিশ এ কথা জানিয়েছে।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার হওয়া ৫৮ বছর বয়সী রবার্ট ফাওলসের বিরুদ্ধে বোমা হামলার হুমকি এবং মদপানের অভিযোগ আনা হয়েছে। আজ সোমবার তাঁকে লন্ডনের ওয়েস্ট মিনস্টার ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হবে। তাঁর বাড়ি ইংল্যান্ডের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর ডোভারে।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার হওয়া ৪৮ বছরের আলেকজান্ডার ম্যাকগিনের বিরুদ্ধে শুধু মদপানের অভিযোগ আনা হয়েছে। তাঁর বাড়িও ডোভারে। ২২ জানুয়ারি একই আদালতে তাঁকেও হাজির হতে বলা হয়েছে। তিনি জামিনে আছেন। আর তৃতীয় যাত্রীর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনা হয়নি। তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁর পরিচয় জানানো হয়নি।
গত শুক্রবার রাতে দুবাইগামী বিমানটি উড্ডয়নের প্রাক্কালে বিমানকর্মীদের ‘মৌখিক হুমকি’ দেওয়া হয়। এ ঘটনার পর পুলিশের সশস্ত্র কর্মকর্তারা বিমানটিতে উঠে তিন যাত্রীকে গ্রেপ্তার করেন। পরে বিমানটিতে তল্লাশি চালানো হয়। তবে বিমানে কোনো ধরনের ক্ষতিকর কিছু পাওয়া যায়নি। বিমানটিতে যাত্রী ছিল ৩৩১ জন।
এ ঘটনায় ওই দিন নির্ধারিত ফ্লাইটটি বাতিল করা হয়।
বড়দিনে যুক্তরাষ্ট্রের ডেট্রয়েটগামী একটি বিমান উড়িয়ে দেওয়ার ব্যর্থ চেষ্টার পর বিশ্বজুড়ে বিমানবন্দরগুলোতে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে। বিশ্বব্যাপী অতিরিক্ত সতর্কতার মধ্যেই লন্ডনে এ ঘটনা ঘটল।

ওবামার কাছে ক্ষমা চাইলেন সিনেটর রিড

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার কাছে ক্ষমা চেয়েছেন সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠ ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতা হ্যারি রিড। ২০০৮ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় ওবামা সম্পর্কে করা একটি বর্ণবাদী মন্তব্যের জন্য তিনি ক্ষমা চেয়েছেন। ওবামাও তাত্ক্ষণিকভাবে রিডকে ক্ষমা করেছেন।
ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী হিসেবে ওবামা যখন নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছিলেন তখন তাঁর দলেরই নেতা রিড বলেছিলেন, ‘ভোটাররা ওবামাকে পছন্দ করে কেননা তাঁর গায়ের রং “ততটা কালো নয়” এবং কথাবার্তায়ও “নিগ্রোদের মতো টান নেই”।’
২০০৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণা নিয়ে সাংবাদিক মার্ক হ্যালপেরিন ও জন হেইলেম্যান একটি বই লিখেছেন। গেইম চেঞ্জ নামের তাঁদের ওই বই সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে। রিডের ওই মন্তব্য এই বইতে আছে।
বইটি প্রকাশের পরপরই রিড তাঁর ওই মন্তব্যের জন্য ওবামার কাছে ক্ষমা চেয়েছেন এবং আফ্রিকান-আমেরিকানদের বিষয়ে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গিও তুলে ধরেছেন।
এক বিবৃতিতে রিড বলেন, ‘শব্দ ব্যবহারে এ ধরনের অপটুতার জন্য আমি সত্যিই দুঃখিত। আমার এ মন্তব্যে কোনো আমেরিকান বিশেষ করে আফ্রিকান-আমেরিকান কষ্ট পেয়ে থাকলে আমি আন্তরিকভাবে তাঁদের কাছে ক্ষমা চাইছি।’
নেভাদা অঙ্গরাজ্যের এই ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতা আরও বলেন, ‘আফ্রিকান-আমেরিকানদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অনেক ইস্যু নিয়ে আমি আমার ক্যারিয়ারজুড়ে অনেক কঠোর পরিশ্রম করেছি।’
রিডের এই ক্ষমা প্রার্থনার পরিপ্রেক্ষিতে ওবামা তাত্ক্ষণিকভাবে জানান, তিনি বিনা বাক্যে তাঁকে ক্ষমা করেছেন। এক বিবৃতিতে ওবামা বলেন, ‘হ্যারি রিড আজ আমাকে ফোন করেছিলেন এবং ওই অনাকাঙ্ক্ষিত মন্তব্যের জন্য তিনি ক্ষমা চেয়েছেন।’
ওবামা বলেন, ‘আমি হ্যারিকে ক্ষমা করেছি, কেননা আমি অনেক বছর ধরেই তাঁকে জানি। আমি দেখেছি, সামাজিক ন্যায়বিচারের অনেক ইস্যুতে তিনি কতটা আন্তরিকভাবে কাজ করেন এবং আমি জানি তাঁর মনে কী আছে।’
আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজ থেকে শুরু করে স্বাস্থ্যসেবা খাত সংস্কারের মতো বিতর্কিত বিভিন্ন ইস্যুতে ওবামার পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন রিড।

১৩২৫ কোটি টাকার লেনদেন -ঢাকার শেয়ারবাজারে আবারও রেকর্ড

বেশ কিছুদিন মোটামুটি স্থিতিশীল থাকার পর গতকাল রোববার দেশের পুঁজিবাজারে আবারও সর্বোচ্চ পরিমাণ লেনদেন হয়েছে। একই সঙ্গে মূল্যসূচকও অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। আর এ ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিয়েছে মূলত বিদ্যুত্ ও জ্বালানি খাতের শেয়ার।
বাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরকে কেন্দ্র করে বিদ্যুত্ খাতে একটি আশার সঞ্চার হয়েছে। এ সফরে বিদ্যুত্ খাতে সহযোগিতার বিষয়ে দেশটির সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই বিদ্যুত্ খাতের শেয়ারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের বিশেষ ঝোঁক লক্ষ করা গেছে, যা লেনদেনের পাশাপাশি মূল্যসূচক বাড়াতে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করেছে।
যোগাযোগ করা হলে মিউচুয়াল ফান্ড অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (প্রস্তাবিত) সেক্রেটারি জেনারেল মঈন আল কাশেম প্রথম আলোকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরে বিদ্যুত্ আমদানির ব্যাপারে ইতিবাচক অগ্রগতি হলে বিদ্যুত্ কোম্পানিগুলোর আয়ে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে—এমন অনুমান থেকেই হয়তো বিনিয়োগকারীরা এ খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।
মঈন আল কাশেম আরও বলেন, এ ধরনের জাতীয় ইস্যুতে বাজারে প্রতিক্রিয়া থেকে বোঝা যায়, বিনিয়োগকারীরা আগের তুলনায় অনেক সংবেদনশীল, যা বাজারের জন্য নিঃসন্দেহে ভালো খবর। আর লেনদেন বাড়ার খবরটি তো অবশ্যই ইতিবাচক।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গতকাল এক হাজার ৩২৫ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। দেশের পুঁজিবাজারের ইতিহাসে এটি এ যাবত্কালের সর্বোচ্চ। এর আগে গত ২০ অক্টোবর এক হাজার ২৪৫ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছিল। গতকালের আগ পর্যন্ত সেটিই ছিল সর্বোচ্চ লেনদেন।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) গতকাল লেনদেন হয়েছে ৮০ কোটি টাকার শেয়ার। এ হিসেবে দুই স্টক এক্সচেঞ্জের সম্মিলিত লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৪০৫ কোটি টাকা। এর আগে দুই স্টক এক্সচেঞ্জে সর্বোচ্চ সম্মিলিত লেনদেনের পরিমাণ ছিল এক হাজার ৩৬৭ কোটি টাকার শেয়ার।
ডিএসইর সাধারণ মূল্যসূচক আগের দিনের চেয়ে প্রায় ৯ পয়েন্ট বেড়ে চার হাজার ৭৩০ পয়েন্ট অতিক্রম করেছে। ২০০১ সালে ডিএসইর সাধারণ সূচক প্রণয়ন হওয়ার পর এটিই সর্বোচ্চ সূচক। তবে সিএসইতে গতকাল বিভিন্ন মূল্যসূচকে দেখা গেছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। স্টক এক্সচেঞ্জটির সার্বিক সূচক প্রায় ৩৪ পয়েন্ট বেড়ে ১৩ হাজার ৭৮০ পয়েন্ট ছাড়ালেও সিএসই-৩০ সূচক ১৫ পয়েন্ট কমেছে।
ডিএসইতে গতকাল লেনদেন হয়েছে ২৪৪টি কোম্পানির শেয়ার। এর মধ্যে দাম বেড়েছে ১২৭টির, কমেছে ১১৩টির। অপরিবর্তিত ছিল চারটি কোম্পানির শেয়ারের দাম।
সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ১৭৭টি কোম্পানির শেয়ার। এর মধ্যে দাম বেড়েছে ৭৪টির, কমেছে ৯৫টির আর অপরিবর্তিত ছিল আটটি কোম্পানির শেয়ারের দাম।
ডিএসইতে দর বৃদ্ধির শীর্ষ ১০ কোম্পানি: এস আলম কোল্ড রোল, বাটা সু, জেমিনি সি ফুড, মডার্ন ডায়িং, গ্লোবাল ইনস্যুরেন্স, ইউনাইটেড লিজিং, বঙ্গজ বিস্কুট, আইসিবি এএমসিএল, ডেল্টা ব্র্যাক হাউজিং ও এসিআই লিমিটেড।
দাম কমার শীর্ষ ১০ কোম্পানি: দ্বিতীয় আইসিবি মিউচুয়াল ফান্ড, মিথুন নিটিং, বিএলটিসি, মুন্নু জুটেক্স, স্ট্যান্ডার্ড ইনস্যুরেন্স, রেইনউইক যজ্ঞেশ্বর, আইসিবি, মিরাকল ইন্ডাস্ট্রিজ, লিগেসি ফুট ও রংপুর ফাউন্ড্রি।
লেনদেনের শীর্ষ ১০ কোম্পানি: বেক্সিমকো, পাওয়ার গ্রিড, তিতাস গ্যাস, ডেসকো, যমুনা অয়েল, এবি ব্যাংক, বেক্সটেক্স, লঙ্কাবাংলা ফিন্যান্স, প্রাইম ব্যাংক ও গ্রামীণফোন লিমিটেড।

বিদ্যুত্সাশ্রয়ী বাতি বাজারজাত করবে ইস্টার্ন টিউবস

দেশের বিদ্যুত্ঘাটতি মেটাতে বিদ্যুত্সাশ্রয়ী বাতি বাজারজাত করবে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ইস্টার্ন টিউবস লিমিটেড। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটি প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার লক্ষ্যে বাজারের চাহিদা অনুযায়ী ২৮ মিলিমিটার টিউবলাইটও উত্পাদন করবে।
রাজধানীর একটি হোটেলে সম্প্রতি ইস্টার্ন টিউবস লিমিটেডের বার্ষিক ডিলার সম্মেলনে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল করপোরেশনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবু হাফিজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন ইস্টার্ন টিউবসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অপূর্ব কাঞ্চন দাসগুপ্ত। এতে কোম্পানির চেয়ারম্যান শামসুল আলম ও ডিলার প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠানে ডিলাররা বাজারে ইস্টার্ন টিউবসের উত্পাদিত বৈদ্যুতিক বাল্বের গুণগত মানের প্রশংসা করেন। তাঁরা বলেন, বাজারে ইটিএল টিউবলাইটের ব্যাপক চাহিদা থাকলেও নিম্নমানের বেসরকারি উত্পাদকদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কষ্টকর হচ্ছে। সে জন্য তাঁরা বাজারে টিকে থাকার জন্য ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী ২৮ মিলিমিটার টিউবলাইট এবং বিদ্যুত্সাশ্রয়ী এনার্জি বাল্ব দ্রুত বাজারজাত করার দাবি জানান।
বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল করপোরেশনের আওতাধীন ইস্টার্ন টিউবস লিমিটেড (ইটিএল) রাষ্ট্রায়ত্ত খাতে বৈদ্যুতিক বাল্ব উত্পাদনকারী একটি প্রতিষ্ঠান। এটি আন্তর্জাতিক মানের ৩২ মিলিমিটার চার ফুট ৪০ ওয়াট এবং দুই ফুট ২০ ওয়াট টিউবলাইট বাজারজাত করে থাকে।

নোয়াখালী, ফেনী ও টাঙ্গাইলে সাউথইস্ট ব্যাংকের এসএমই সেবাকেন্দ্র চালু

নোয়াখালীর সেবারহাট, ফেনীর সোনাগাজী ও টাঙ্গাইলে সম্প্রতি সাউথইস্ট ব্যাংক লিমিটেডের তিনটি এসএমই সেবাকেন্দ্র খোলা হয়েছে।
এর মধ্যে নোয়াখালী জেলার সেবারহাটে ব্যাংকের ষষ্ঠ এসএমই সেবাকেন্দ্রের উদ্বোধন করা হয়। এটির উদ্বোধন করেন ব্যাংকের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ও মানবসম্পদ বিভাগের প্রধান সহিদ হোসেন। এ সময় ব্যাংকের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ও তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের প্রধান এস এম মাঈনউদ্দিন চৌধুরীসহ স্থানীয় ব্যবসায়ী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
ফেনীর সোনাগাজীতে এবং টাঙ্গাইলে ব্যাংকের সপ্তম ও অষ্টম এসএমই সেবাকেন্দ্রের উদ্বোধন করেন ব্যাংকের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ও তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের প্রধান এস এম মাঈনউদ্দিন চৌধুরী। এ সময় সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট, মানবসম্পদ বিভাগের প্রধান সহিদ হোসেনসহ স্থানীয় ব্যবসায়ী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

ভারতে রহিমআফরোজের গ্লোব্যাট ব্যাটারির বিপণন শুরু

ভারতের বাজারে অটোমোটিভ ব্যাটারি ও ইনভার্টার বাজারজাতকরণের লক্ষ্যে রহিমআফরোজ ব্যাটারি লিমিটেড নয়াদিল্লিতে একটি কার্যালয় এবং আহমেদাবাদ ও কলকাতায় শাখা কার্যালয় খুলেছে।
রহিমআফরোজ ইতিমধ্যে ভারতে গ্লোব্যাট ব্র্যান্ডের অটোমোটিভ ব্যাটারির বিপণন শুরু করেছে। এ পর্যায়ে ভারতের বাজার ও চাহিদা বিবেচনা করে মেইনটেন্যান্স ফ্রি গ্লোব্যাট ব্র্যান্ডের জোস, রেইস ও এইস—এ তিনটি ব্যাটারি বাজারজাত করা হচ্ছে।
এ উপলক্ষে সম্প্রতি নয়াদিল্লির একটি হোটেলে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে রহিমআফরোজ গ্লোব্যাট লিমিটেডের (আরজিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুনাওয়ার মিসবাহ মঈন, প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা সাঈদ হাসান, স্টোরেজ পাওয়ার বিভাগের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা আবু হাসনাত, বিপণন মহাব্যবস্থাপক কাজী জাভেদ ইসলাম, উপদেষ্টা বিনোদ সাগর ডুমরা, রহিমআফরোজ ইন্ডিয়া অপারেশনসের সহসভাপতি প্রশান্ত পারিদা এবং এবি ব্যাংকের অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট নজরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় ২০ জন পরিবেশক এবং নয়াদিল্লির ৪০ জন ডিলার অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশের ঈশ্বরদী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকায় (ইপিজেড) আরজিএলের অত্যাধুনিক অটোমোটিভ ব্যাটারির কারখানা অবস্থিত।
রহিমআফরোজ বর্তমানে বিশ্বের ৪২টিরও বেশি দেশে অটোমোটিভ ব্যাটারি রপ্তানি করছে।

নারায়ণগঞ্জে তীব্র গ্যাস-সংকটে শিল্প-কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত

তীব্র গ্যাস-সংকটের কারণে নারায়ণগঞ্জে শিল্প-কারখানায় উত্পাদন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। শুধু তা-ই নয়, নারায়ণগঞ্জ জেলা সদর এবং এর আশপাশের ৮০ শতাংশ আবাসিক এলাকার জনজীবনও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে গ্যাস-সংকটে।
এ অবস্থায় বাংলাদেশ ইয়ার্ন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশন আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছে, গ্যাস ও বিদ্যুতের চাহিদা অপূরণীয় থাকলে রপ্তানিমুখী বস্ত্রশিল্প খাত ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হবে। এতে দেশের অর্থনীতিও চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে। সে জন্য এ সমিতি দ্রুত গ্যাসের সমস্যা সমাধানের জন্য সরকারের কাছে দাবি জানায়।
সুতা ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ ইয়ার্ন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এম সোলায়মান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গত বুধবার এ দাবি জানানো হয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নারায়ণগঞ্জ শহরের বিভিন্ন এলাকায় প্রতি বর্গইঞ্চি গ্যাসের গড় চাপ ১৫ থাকার নিয়ম থাকলেও প্রায়ই গ্যাসের চাপ দুই থেকে শূন্যের কোঠায় নেমে যায়। এসব এলাকায় প্রতিদিন গড়ে ১৪ ঘণ্টা গ্যাসের চাপ থাকে না।
সমিতির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সুতা বা বস্ত্র উত্পাদনের মান নিশ্চিত রাখতে শিল্প-কারখানা ২৪ ঘণ্টা চালু রাখতে হয়। এ জন্য শিল্প-কারখানাগুলোতে সার্বক্ষণিক গ্যাস ও বিদ্যুত্ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হয়। কিন্তু বর্তমানে গ্যাস-সংকটের কারণে বস্ত্র বা সুতার মান ঠিক রাখা সম্ভব হচ্ছে না।

সংশোধিত বাজেট জাতীয় সংসদের আগামী অধিবেশনেই: অর্থমন্ত্রী -কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ সোনালী, জনতা ও অগ্রণীর স্বতন্ত্র বেতনকাঠামো হবে

চলতি অর্থবছরের (২০০৯-১০) সংশোধিত বাজেট প্রণয়নের কাজ শুরু করে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি বলেছেন, ‘সংশোধিত বাজেটের কাজ এবার একটু আগেভাগেই শুরু করা হলো। জাতীয় সংসদের আগামী অধিবেশনে তা উপস্থাপন করা হবে।’
গতকাল রোববার সচিবালয়ে সামষ্টিক অর্থনীতি-সম্পর্কিত সমন্বয় কাউন্সিল এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তিন বাণিজ্যিক ব্যাংকের স্বতন্ত্র বেতনকাঠামো-সংক্রান্ত বৈঠকের পর সাংবাদিকদের এসব কথা জানান অর্থমন্ত্রী।
বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী ফারুক খান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রহমান, অর্থসচিব মোহাম্মদ তারেক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর জিয়াউল হাসান সিদ্দিকী এবং রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তিন ব্যাংকের চেয়ারম্যানরা উপস্থিত ছিলেন।
এবার মোট দেশজ উত্পাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির হারের লক্ষ্যমাত্রা যে ৬ শতাংশ ধার্য করা হয়েছে, তা অর্জিত হবে বলে সাংবাদিকদের কাছে আশাবাদ ব্যক্ত করেন অর্থমন্ত্রী। আশাবাদের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি জানান, ‘এবার রাজস্ব আদায় বাড়বে, বৈদেশিক সাহায্য প্রত্যাশা ছাড়িয়ে যাবে। দাতা সংস্থাগুলো যা-ই বলুক না কেন, মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৬ শতাংশের মধ্যেই থাকবে। আর বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের হার আগের বছরের তুলনায় ইতিমধ্যেই অনেক বেড়ে গেছে।’
অর্থমন্ত্রী জানান, আগের অর্থবছরের ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) এডিপি বাস্তবায়িত হয়েছিল ২৩ শতাংশ। তখন এডিপির আকার ছিল ২৫ হাজার কোটি টাকার মতো। এবারের এডিপির আকার ৩০ হাজার কোটি টাকা হওয়া সত্ত্বেও বাস্তবায়িত হয়েছে ২৮ শতাংশ। অর্থাত্ শুধু অনুপাতে নয়, পরিমাণেও বেড়েছে এডিপি বাস্তবায়নের হার।
স্বতন্ত্র বেতনকাঠামো: বাংলাদেশ ব্যাংক ও রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সোনালী, জনতা ও অগ্রণী ব্যাংকের স্বতন্ত্র বেতনকাঠামোর ব্যাপারে সরকার নীতিগতভাবে একমত বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।
অর্থমন্ত্রী বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ তিন ব্যাংককে বিদ্যমান বেতনকাঠামো থেকে বের করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। প্রতিযোগিতার পরিবেশে টিকে থাকতে হলে পাল্লা দিয়ে চলতে হবে। স্বতন্ত্র বেতনকাঠামোর জন্য ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদ থেকে সুপারিশ পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি অবশ্য বলেন, ‘তবে কাঠামো যেন এমন না হয় যে একজন এক লাখ টাকা বেতন পাবেন, আর আরেকজন পাবেন মোটে ৪০ হাজার টাকা।’
এ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, ‘স্বতন্ত্র বেতনকাঠামো করতে গেলে যে অতিরিক্ত খরচ হবে, তা এই ব্যাংকগুলোকে আয় করতে হবে। সুতরাং, ব্যাংকগুলো অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে যে সুপারিশ পাঠাবে, তার সঙ্গে একটি করে ব্যবসায় পরিকল্পনাও থাকতে হবে।’
বেতনকাঠামো একবারে বাস্তবায়ন করা হবে না, ধাপে ধাপে করা হবে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, সব মিলিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ সুপারিশ তৈরি করবে বাংলাদেশ ব্যাংক।
প্রবাসীকল্যাণ ব্যাংক: ‘প্রবাসীকল্যাণ ব্যাংক’ নামে একটি ব্যাংক গঠনের ব্যাপারেও নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। এ ব্যাপারে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিবকে প্রধান করে একটি কমিটি করা হয়েছে। এ কমিটি এক মাসের মধ্যে একটি প্রতিবেদন তৈরি করে অর্থ মন্ত্রণালয়ে জমা দেবে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারেও এ রকম একটি অঙ্গীকার ছিল। এর বাইরে আপাতত অন্য কোনো ব্যাংক গঠনের ইচ্ছা নেই সরকারের। প্রবাসীকল্যাণ ব্যাংকে প্রবাসীদের টাকা-পয়সা আসবে এবং এগুলোকে যথাযথ বিনিয়োগে কাজে লাগানো হবে। এখন তাঁদের টাকা-পয়সা শুধু বাড়ি কেনা, বাড়ি করা বা ভোগবিলাসে ব্যয় হয়ে যায়, বিনিয়োগে আসে না।’
প্রবাসীকল্যাণ ব্যাংক গঠিত হলে বিদেশ থেকে অর্থ পাঠানো-সম্পর্কিত প্রতারণা বন্ধ হবে বলে মনেও করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘প্রথম দিকে বিশেষায়িত ব্যাংকের কথা ভাবা হলেও প্রবাসীদের দাবি তফসিলি ব্যাংক করা। তাঁরাই হবেন এর শেয়ারহোল্ডার। তবে তফসিলি ব্যাংক গঠনের কাজটি অত সহজ নয়। সদ্য গঠিত কমিটির প্রতিবেদনে তাই এ ব্যাংক গঠনের নানা দিক উঠে আসবে।’
ব্যাংকিং বিভাগ: সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ব্যাংকিং বিভাগ নামে নতুন বিভাগ চালুর পক্ষে যুক্তি দেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘সরকারের কাজ বিভাজনের অংশ হিসেবে ব্যাংকিং বিভাগ গঠন করা হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি সব ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো এ বিভাগের আওতায় থাকবে। তবে সমন্বয়ের কাজটি অর্থ বিভাগই করবে।’
এতে বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসনে হস্তক্ষেপ আসবে কি না—এ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘না, সে রকম কোনো আশঙ্কা নেই। বাংলাদেশ ব্যাংক চলবে তার নিজের মতো।’

ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি হ্রাস নিয়ে আলোচনা হবে -প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী ৪৭ সদস্যের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল

জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পুরোনো ভবনের পঞ্চম তলায় তায়কোয়ান্দো খেলোয়াড়দের আবাসিক শিবির। সুযোগ-সুবিধা বাড়ায় ক্যাম্প নিয়ে অভিযোগ নেই খেলোয়াড়দের। অনুশীলন চলছে পরিষদের নিচতলায় জিমনেসিয়ামে। যাওয়া-আসায় ৩০ সেকেন্ডও সময় লাগে না। কিন্তু এটুকু দূরত্ব পাড়ি দিতেই কাল বিকেলে তায়কোয়ান্দো খেলোয়াড়দের কী তাড়াহুড়ো!
ততক্ষণে যে অনুশীলনে এসে পড়েছেন কোরিয়ার কোচ লি জু সং। প্রায় ১০ বছর ধরে বাংলাদেশের তায়কোয়ান্দোর সঙ্গে আছেন। পরিষ্কার বাংলায় কথা বলেন, কিন্তু গত শুক্রবার আর্মি স্টেডিয়াম চত্বর থেকে বেচারার গাড়ি চুরি হয়ে যাওয়ায় মনটা ভীষণ খারাপ হলেও অনুশীলনের ব্যাপারে খুব সিরিয়াস দেখা গেল তাঁকে। কোচ-খেলোয়াড় সবাই মিলে মন দিয়ে অনুশীলন করার একটাই উদ্দেশ্য—এবার দেশের মাটিতে এসএ গেমসে ভালো কিছু করা চাই।
গতবার কলম্বো গেমস প্রায় অপ্রত্যাশিতভাবেই একটা সোনা উপহার দিয়েছিল তায়কোয়ান্দো থেকে। সেটি এনেছিলেন সেনাবাহিনীর মিজানুর রহমান। এবার সেই সোনা ধরে রাখার বাড়তি চাপ আছে মিজানের ওপর। তা ছাড়া গোটা তায়কোয়ান্দো দলের কাছেই এই গেমসটা যে ‘মর্যাদা আর পরীক্ষার’ উপলক্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছে!
অনুশীলনের জন্য তৈরি হওয়ার এক ফাঁকে মিজান বললেন, ‘বিশ্বাস করবেন না, এবার কতটা পরিশ্রম করেছি আমরা। একটা বছর কঠোর অনুশীলনের মধ্যে ছিলাম। এখন গেমসে এর প্রতিফলন না থাকলে কষ্টের সীমা থাকবে না।’
তায়কোয়ান্দোতে এবার বাংলাদেশ কটি সোনা জিতবে? সোনা কি আদৌ আসবে? মিজানের উত্তর, ‘এটা আগাম বলা সম্ভব নয়। তবে আমি ব্যক্তিগতভাবে গতবারের সোনাটা ধরে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করব।’
তায়কোয়ান্দোর অন্য খেলোয়াড়েরা একটা কথাই ঘুরেফিরে বলছেন। খুব ভালো খেলোয়াড়ও প্রথম ম্যাচে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বীর সঙ্গে পড়ে হেরে যেতে পারে। তায়কোয়ান্দো মারামারির খেলা, খেলার সময় কে কেমন করে তার ওপরই নির্ভর সবকিছু!
কথা ঠিক। তারপরও আশা থাকেই। মূলত গতবারের সোনাজয়ী মিজানকে (মিডল ওয়েট) কেন্দ্র করেই আবর্তিত এই আশা। হেভিওয়েটে রাসিউল কবিরকে নিয়েও সতীর্থরা আশাবাদী। মেয়েদের বিভাগে পিন ওয়েটে ফারজানা আক্তার রুমি, ফ্লাইওয়েটে শাম্মী আক্তার আছেন সম্ভাবনার তালিকায়। ফারজানা এর আগে এসএ গেমসে ভালোই করেছেন। শাম্মীও এবার ভালো করবেন বলে সতীর্থদের বিশ্বাস। তবে মিজান ও রাসিউলকে নিয়েই প্রত্যাশার পারদটা চড়া। কিছুদিন আগে দক্ষিণ কোরিয়া কাপ থেকে সোনা জিতে আসা এ দুজন বাড়তি আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছেন বাংলাদেশ দলকে।
কিন্তু কথাবার্তায় মিজানের মতোই সতর্ক রাসিউল। সোনা জয়ের ব্যাপারে তাঁর কথা, ‘স্বপ্ন তো আছে সোনা জেতার। অনেক পরিশ্রম করছি আমরা। তবে জিতবই বলি কী করে?’
এক খেলোয়াড় জানালেন, ভোর ছয়টায় উঠে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে তায়কোয়ান্দো খেলোয়াড়দের রানিং দেখে এক অ্যাথলেটিকস কোচ নাকি তাঁর অ্যাথলেটদের বলেছিলেন, ‘ওরা তায়কোয়ান্দো খেলোয়াড় হয়ে এত দৌড়ায়, আর তোমরা অ্যাথলেট হয়ে অত দৌড়াও না!’
১৯৯৯ কাঠমান্ডু সাফে অভিষেকে তায়কোয়ান্দো থেকে বাংলাদেশের অর্জন ছিল ৪টি ব্রোঞ্জ, পরেরবার ১টি ব্রোঞ্জ। এবার কটি সোনা? মিডিয়ার কাছে সতর্ক প্রত্যাশা কোচ লির, ‘গতবার একটা সোনা জিতেছি। এবার প্রতিশ্রুত দেব না, তবে এক-দুটি সোনার সম্ভাবনা আছে।’ কাকে নিয়ে বেশি আশা? ‘মিজান আছে...মেয়েদের মধ্যে রুমি...।’

মিজানই বড় ভরসা তায়কোয়ান্দোর

জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পুরোনো ভবনের পঞ্চম তলায় তায়কোয়ান্দো খেলোয়াড়দের আবাসিক শিবির। সুযোগ-সুবিধা বাড়ায় ক্যাম্প নিয়ে অভিযোগ নেই খেলোয়াড়দের। অনুশীলন চলছে পরিষদের নিচতলায় জিমনেসিয়ামে। যাওয়া-আসায় ৩০ সেকেন্ডও সময় লাগে না। কিন্তু এটুকু দূরত্ব পাড়ি দিতেই কাল বিকেলে তায়কোয়ান্দো খেলোয়াড়দের কী তাড়াহুড়ো!
ততক্ষণে যে অনুশীলনে এসে পড়েছেন কোরিয়ার কোচ লি জু সং। প্রায় ১০ বছর ধরে বাংলাদেশের তায়কোয়ান্দোর সঙ্গে আছেন। পরিষ্কার বাংলায় কথা বলেন, কিন্তু গত শুক্রবার আর্মি স্টেডিয়াম চত্বর থেকে বেচারার গাড়ি চুরি হয়ে যাওয়ায় মনটা ভীষণ খারাপ হলেও অনুশীলনের ব্যাপারে খুব সিরিয়াস দেখা গেল তাঁকে। কোচ-খেলোয়াড় সবাই মিলে মন দিয়ে অনুশীলন করার একটাই উদ্দেশ্য—এবার দেশের মাটিতে এসএ গেমসে ভালো কিছু করা চাই।
গতবার কলম্বো গেমস প্রায় অপ্রত্যাশিতভাবেই একটা সোনা উপহার দিয়েছিল তায়কোয়ান্দো থেকে। সেটি এনেছিলেন সেনাবাহিনীর মিজানুর রহমান। এবার সেই সোনা ধরে রাখার বাড়তি চাপ আছে মিজানের ওপর। তা ছাড়া গোটা তায়কোয়ান্দো দলের কাছেই এই গেমসটা যে ‘মর্যাদা আর পরীক্ষার’ উপলক্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছে!
অনুশীলনের জন্য তৈরি হওয়ার এক ফাঁকে মিজান বললেন, ‘বিশ্বাস করবেন না, এবার কতটা পরিশ্রম করেছি আমরা। একটা বছর কঠোর অনুশীলনের মধ্যে ছিলাম। এখন গেমসে এর প্রতিফলন না থাকলে কষ্টের সীমা থাকবে না।’
তায়কোয়ান্দোতে এবার বাংলাদেশ কটি সোনা জিতবে? সোনা কি আদৌ আসবে? মিজানের উত্তর, ‘এটা আগাম বলা সম্ভব নয়। তবে আমি ব্যক্তিগতভাবে গতবারের সোনাটা ধরে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করব।’
তায়কোয়ান্দোর অন্য খেলোয়াড়েরা একটা কথাই ঘুরেফিরে বলছেন। খুব ভালো খেলোয়াড়ও প্রথম ম্যাচে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বীর সঙ্গে পড়ে হেরে যেতে পারে। তায়কোয়ান্দো মারামারির খেলা, খেলার সময় কে কেমন করে তার ওপরই নির্ভর সবকিছু!
কথা ঠিক। তারপরও আশা থাকেই। মূলত গতবারের সোনাজয়ী মিজানকে (মিডল ওয়েট) কেন্দ্র করেই আবর্তিত এই আশা। হেভিওয়েটে রাসিউল কবিরকে নিয়েও সতীর্থরা আশাবাদী। মেয়েদের বিভাগে পিন ওয়েটে ফারজানা আক্তার রুমি, ফ্লাইওয়েটে শাম্মী আক্তার আছেন সম্ভাবনার তালিকায়। ফারজানা এর আগে এসএ গেমসে ভালোই করেছেন। শাম্মীও এবার ভালো করবেন বলে সতীর্থদের বিশ্বাস। তবে মিজান ও রাসিউলকে নিয়েই প্রত্যাশার পারদটা চড়া। কিছুদিন আগে দক্ষিণ কোরিয়া কাপ থেকে সোনা জিতে আসা এ দুজন বাড়তি আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছেন বাংলাদেশ দলকে।
কিন্তু কথাবার্তায় মিজানের মতোই সতর্ক রাসিউল। সোনা জয়ের ব্যাপারে তাঁর কথা, ‘স্বপ্ন তো আছে সোনা জেতার। অনেক পরিশ্রম করছি আমরা। তবে জিতবই বলি কী করে?’
এক খেলোয়াড় জানালেন, ভোর ছয়টায় উঠে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে তায়কোয়ান্দো খেলোয়াড়দের রানিং দেখে এক অ্যাথলেটিকস কোচ নাকি তাঁর অ্যাথলেটদের বলেছিলেন, ‘ওরা তায়কোয়ান্দো খেলোয়াড় হয়ে এত দৌড়ায়, আর তোমরা অ্যাথলেট হয়ে অত দৌড়াও না!’
১৯৯৯ কাঠমান্ডু সাফে অভিষেকে তায়কোয়ান্দো থেকে বাংলাদেশের অর্জন ছিল ৪টি ব্রোঞ্জ, পরেরবার ১টি ব্রোঞ্জ। এবার কটি সোনা? মিডিয়ার কাছে সতর্ক প্রত্যাশা কোচ লির, ‘গতবার একটা সোনা জিতেছি। এবার প্রতিশ্রুত দেব না, তবে এক-দুটি সোনার সম্ভাবনা আছে।’ কাকে নিয়ে বেশি আশা? ‘মিজান আছে...মেয়েদের মধ্যে রুমি...।’

অনূর্ধ্ব-২৩ প্রাথমিক ফুটবল দলে সুজন

এসএ গেমসের জন্য বাংলাদেশ ফুটবল দলের ক্যাম্পে ডাকা হয়েছে ৩৯ জন খেলোয়াড়কে। মাত্র ১৭-১৮ দিন বাকি, মাত্র এই কদিনে বিশাল দলটাকে অনুশীলন করাতে গিয়ে নির্ঘাত গলদঘর্ম হতে হবে নতুন কোচ জোরান জর্জেভিচকে!
দলটা অনূর্ধ্ব-২৩। এর চেয়ে বেশি বয়সী তিনজন খেলোয়াড় নেওয়া যাবে। সেই তিনজনকে বাছতে গিয়ে বাংলাদেশ টিম ম্যানেজমেন্ট প্রাথমিক ক্যাম্পে ডেকেছে জাতীয় দলের বেশ কয়েকজন সিনিয়রকে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় নাম জাতীয় দলের অধিনায়ক আমিনুল হক। সঙ্গে মোহামেডানের লেফট ব্যাক ওয়ালি ফয়সাল, একই দলের মিডফিল্ডার আরমান আজিজ, আবাহনীর স্ট্রাইকার এনামুল। সবচেয়ে বেশি চোখ কাড়ছে আবাহনী ডিফেন্ডার সুজনের নামটি। হঠাত্ করেই অনূর্ধ্ব-২৩ দলে প্রয়োজন মনে হচ্ছে প্রায় বিস্মৃতির আড়ালে চলে যাওয়া সুজনকে!
তিনজন সিনিয়র খেলোয়াড় নেওয়ার সুযোগ কাজে লাগাবে সব দেশই। কিন্তু বাংলাদেশই বোধ হয় একমাত্র দেশ, যেখানে কে কখন জাতীয় দল বা বয়সভিত্তিক দলে ডাক পাবেন বোঝা কঠিন। দুই দিন আগে যাকে ছুড়ে ফেলা হয়েছে, দুদিন পরই দলে তিনি অপরিহার্য হয়ে
উঠলেন! সুজন যদি দলে আসার মতো খেলে থাকেন, তাহলে জাতীয় দলে কেন এলেন না? এই দলে দুজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ইংল্যান্ডপ্রবাসী খেলোয়াড় আছেন। মিডফিল্ডার সারোয়ার আহমেদ সাদিক খেলেন শ্যাডওয়েল এফসিতে, স্ট্রাইকার শিবুল মিয়া আইলসবুরি ইউনাইটেড এফসিতে।
কাল সকাল ১০টায় খেলোয়াড়দের বাফুফে ভবনে রিপোর্ট করতে হবে। সেখান থেকেই দল চলে যাবে বিকেএসপি।
খেলোয়াড় তালিকা : আমিনুল, হিমেল, মোস্তাক, নেহাল, মামুন মিয়া, আরিফ, সৈকত, নাসিরুল, মিশু, অরূপ, আকরামুজ্জামান, মিন্টু শেখ, সুজন, ওয়ালি ফয়সাল, আমিনুল, মামুনুল, শাহেদ, জিতু, রাজু, মারুফ, মোবারক, জাহেদ, মানিক, শাকিল, সোহাগ, রানা, শরিফ, জাহিদ, আরমান আজিজ, সাদিক, এমিলি, কমল, মিঠুন, সবুজ, তৌহিদুল, এনামুল, নাসিরউদ্দিন, ইউসুফ ও শিবলু।

ভারতের বোলিং উপদেষ্টা সিমন্স

ভারতীয় দলের কোচিং স্টাফে যুক্ত হচ্ছেন আরও একজন প্রোটিয়া। অ্যালান ডোনাল্ডের নামটাই বেশি শোনা যাচ্ছিল, শেষ পর্যন্ত ভারতের বোলিং উপদেষ্টার দায়িত্ব পেয়েছেন এরিক সিমন্স। ত্রিদেশীয় সিরিজ শেষে বাংলাদেশের বিপক্ষে দুই টেস্টের সিরিজের আগেই দলের সঙ্গে যোগ দেবেন সিমন্স।
ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলতে ঢাকায় আসার আগে ভারত অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি একজন বোলিং কোচের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছিলেন। শোনা যাচ্ছে ভারতের মূল কোচ গ্যারি কারস্টেনের পরামর্শেই সিমন্সকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকায় দ্বিতীয় আইপিএলে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্সের দায়িত্বে ছিলেন, তা ছাড়া বোলিং কোচ হিসেবে সিমন্সের তেমন কোনো অভিজ্ঞতা নেই। ২০০২ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত অবশ্য ছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার মূল কোচ। কারস্টেন সেই সময় সিমন্সের অধীনে খেলেছেন। ৪৭ বছর বয়সী সিমন্স ২৩টি ওয়ানডে খেললেও কোনো টেস্ট খেলতে পারেননি।

এক দিন পরই বাদ তাহির!

ক্যারিয়ারে এখনো পর্যন্ত যেসব দলে খেলেছেন, তার কয়েকটি ইস্টার্ন প্রভিন্স, হ্যাম্পশায়ার, লাহোর, মিডলসেক্স, পাকিস্তান ‘এ’, স্টাফোর্ডশায়ার, টাইটানস, রেডকো পাকিস্তান লিমিটেড, ইয়র্কশায়ার। দলগুলোর কোনোটি পাকিস্তানের, কোনোটি ইংল্যান্ডের, কোনোটি আবার দক্ষিণ আফ্রিকার। ইমরান তাহির আসলে কোন দেশের? ধন্ধে না পড়ে উপায় আছে!
তাহিরের জন্ম লাহোরে, ক্যারিয়ারের বেশির ভাগ সময় খেলেছেন ইংল্যান্ডের কাউন্টি ক্রিকেটে। আর সুযোগ পেয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার জাতীয় দলে। পেয়েছেন না বলে বলা ভালো পেয়েছিলেন। কারণ টেস্ট দলে ডাক পাওয়ার এক দিন পরই দল থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে এই লেগ স্পিনারের নাম। দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়েকে বিয়ে করার সুবাদে তাহির দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেন গত বছরের ১ এপ্রিল। তবে নাগরিকত্বের কাগজপত্রগুলো এখনো পুরোপুরি প্রস্তুত না হওয়ায় দল থেকে নাম কাটা গেছে তাহিরের। টেস্ট খেলার স্বপ্নপূরণের জন্য তাই আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে তাঁকে।
১০২টি প্রথম শ্রেণীর ম্যাচে তাহিরের উইকেট ৪২৬টি। দক্ষিণ আফ্রিকা-ইংল্যান্ড সিরিজের চতুর্থ ও শেষ টেস্টটি শুরু হচ্ছে ১৪ জানুয়ারি।

মাঠের মুখ

খেলা শুরু হতে তখনো ঘণ্টাখানেক বাকি। হন্তদন্ত হয়ে মাঠে ঢুকছিলেন গলায় মাফলার জড়ানো তরুণ। হাতে গ্যালারির টিকিট। ‘ভাই, একটু কথা ছিল...’, পরিচয় দিতেই উগরে দিলেন যত ক্ষোভ, ‘ কালোবাজারে ৫০ টাকার টিকিট ১০০ টাকা দিয়ে কিনলাম! অথচ খেলা দেখার জন্য আমার বাজেটই ছিল ১০০ টাকা...।’
বোঝা গেল টিকিটের দাম নিয়ে যে বিভ্রান্তিটা কাল স্টেডিয়ামজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল, মোহাম্মদ বুলবুল হোসেনও তার শিকার। গ্যালারিতে বসে খেলা দেখতে মাঠে এলেন এই প্রথম। আর প্রথম বারেই কি না এমন তিক্ত অভিজ্ঞতা!
বাড়ি চাঁদপুর। পড়েন চাঁদপুর সরকারি কলেজে। ঢাকায় বোনের বাসায় বেড়াতে এসে ইচ্ছে হলো, খেলা দেখবেন। আর খেলাই যখন দেখবেন, ভারতের খেলাই কেন নয়! ভারত তাঁর প্রিয় দল, বীরেন্দর শেবাগ প্রিয় ব্যাটসম্যান। তখনো বুলবুল জানেন না, ভারতকে দেখার ইচ্ছা পূরণ হলেও শেবাগকে দেখা হচ্ছে না। গ্যালারির দিকে প্রায় ছুটে ছুটে যেতে বললেন, ‘ক্রিকেট খেলা আমার ভালো লাগে। ভারতের খেলা আরও বেশি ভালো লাগে। জীবনে কোনো দিন মাঠে বসে খেলা দেখিনি। ভারত জিতলে খুব খুশি হব।’
খেলা দেখতে এসে ‘মাঠের মুখ’ হয়ে যেতে হচ্ছে বলে প্রথমে কিছুটা বিব্রত দেখাল বুলবুল হোসেনকে, ‘ভাই, কী লিখবেন আসলে আমাকে নিয়ে?’ যখন জানলেন, চাঁদপুর থেকে খেলা দেখতে আসাটাই তো একটা খবর, অস্বস্তি ঝেড়ে ফেলে দারুণ স্মার্ট এই ভারতীয় সমর্থক। ছবি তুলতে গেলে গলার মাফলার খুলে দাঁড়িয়ে পড়লেন মোবাইলের ক্যামেরার সামনে, ‘এটা থাকলে তো ছবি ভালো আসবে না। জীবনে প্রথম মাঠে এসেছি, একটা ভালো স্মৃতি থাকুক।’

টিকিট নিয়ে বিভ্রান্তি-অভিযোগ

কাল ভারত-শ্রীলঙ্কা ম্যাচের টিকিট কাটতে গিয়ে অনেক দর্শকই ক্ষুব্ধ হলো। বেশ কয়েকটি পত্রিকায় লেখা হয়েছে, গ্যালারির ২০০ টাকার টিকিটের দাম কমিয়ে ৫০ টাকা করা হয়েছে। অথচ টিকিট কাউন্টারে কিনা দাম চাওয়া হচ্ছে ২০০ টাকাই!
টিকিট নিয়ে এই বিভ্রান্তির দায় দিতে হয় স্বয়ং বোর্ড সভাপতি আ হ ম মোস্তফা কামালকেই। পরশু বিশ্বকাপ আয়োজক কমিটির সংবাদ সম্মেলনের পর বোর্ড সভাপতি নিজেই বলেছিলেন, গতকালের ম্যাচ থেকে আইডিয়া কাপে গ্যালারির টিকিটের দাম ৫০ টাকা করা হয়েছে। তার কথার ওপর ভিত্তি করে পত্রিকায় ছাপাও হয়ে গেছে সেটা। আসলে গতকাল বা আজকের ম্যাচে গ্যালারির টিকিটের দাম কমেনি। কমেছে ১৩ জানুয়ারির ফাইনাল ম্যাচের টিকিটের দাম। তাও ৫০ টাকা নয়, আগের ৩০০ টাকার পরিবর্তে কমিয়ে ফাইনালের গ্যালারির টিকিট করা হয়েছে ২০০ টাকা এবং সেটা দুই-তিন দিন আগেই জানিয়ে দিয়েছিল বিসিবি।
বিসিবি সূত্রে জানা গেছে, বোর্ড সভাপতির ছোট্ট একটা ‘স্মৃতিবিভ্রাটে’ই হয়েছে যত বিপত্তি। গ্যালারির টিকিটের মূল্য ৫০ টাকা আসলে ভারতের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের জন্য। সেটাকেই ত্রিদেশীয় সিরিজের টিকিটের দাম ভেবে ভুল করে ওই কথা বলেছেন তিনি। আর টিকিটের মূল্য ৫০ টাকা হয়েছে কমানোর পর নয়, টেস্টে সাধারণ গ্যালারির টিকিটের মূল্য আগে থেকেই ছিল ৫০ টাকা। তবে অন্যান্য টিকিটের মূল্য কাল নতুন করে ঘোষণা করেছে বিসিবি। ভিআইপি গ্র্যান্ড স্ট্যান্ডের টিকিটের দাম ১০০০ থেকে কমিয়ে ৫০০ টাকা, ক্লাবহাউস ৩০০ থেকে ২০০ টাকা, স্পেশাল এনক্লোজার ২০০ থেকে ১০০ টাকা করা হয়েছে।
টিকিট নিয়ে বিভ্রান্তির বাইরে অন্য একটা অভিযোগও শোনা গেছে কাল। ম্যাচ শুরুর আগে এক দর্শকের হাতে দেখা গেছে ‘বিক্রির জন্য নয়’ এমন সৌজন্য টিকিট। ১০০ টাকা দিয়ে গ্যালারির ২০০ টাকার টিকিট নাকি তিনি কিনেছেন ছাত্রলীগের এক ‘ভাইয়ের’ কাছ থেকে। ‘ছাত্রলীগের ভাইয়েরা এক শ টাকা করে এই টিকিট বিক্রি করছে। তাদের একজনের কাছ থেকেই কিনলাম আমি’—বলেছেন ওই দর্শক। বিসিবির টিকিট কমিটির প্রধান জি এস হাসান দেশের বাইরে থাকায় এ ব্যাপারে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। আর মিডিয়া কমিটির প্রধান জালাল ইউনুস এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। ‘এ রকম কোনো অভিযোগ আমাদের কানে আসেনি। কাজেই এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে পারব না’—বলে প্রসঙ্গটা এড়িয়ে যেতে চাইলেন তিনি।