Thursday, November 4, 2010

গল্পালোচনা- 'অরণ্যে যুদ্ধ' by অরুন্ধতী রায়

অরুন্ধতী রায়, বুকার পুরস্কারপ্রাপ্ত ভারতের প্রখ্যাত লেখিকা ও মানবাধিকার কর্মী। তিনি গত ফেব্রুয়ারি ২০১০ সালে অঘোষিতভাবে নিঃশব্দে ঘুরে আসেন সাধারণ মানুষের জন্য নিষিদ্ধ মাওবাদী অধ্যুষিত মধ্য ভারতের যুদ্ধক্ষেত্র দন্ডকারণ্য বনাঞ্চল।

এখানে রাষ্ট্র সমর্থিত লুণ্ঠনকারী শোষকদের বিরুদ্ধে নিজেদের রক্ষা করতে ভূমিপুত্র আদিবাসীরা হাতে অস্ত্র তুলে নিয়েছে। এসব সশস্ত্র যোদ্ধা, তাদের পরিবার ও মাওবাদী সহযোদ্ধাদের সঙ্গে লেখিকা সামনাসামনি কথা বলেছেন। সরেজমিনে প্রত্যক্ষ করেছেন পুরো পরিস্থিতি। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এক সপ্তাহ অবস্থানকালে যা তিনি প্রত্যক্ষ করেছেন তার এক অসাধারণ বাঙ্ময় বর্ণনা তিনি দিয়েছেন।

রাজনৈতিক আলোচনা- 'বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা আর ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধকরণ' by বাঁধন অধিকারী

"The University will not be manufactory of slaves. We want to think truely, we want to teach freedom.... Freedom first, freedom second, freedom always...." ১৮৩৬ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন বক্তৃতায় এই সোচ্চার উচ্চারণে ব্রিটিশ উপনিবেশের অধীন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রকম্পিত করেছিলেন স্যার আশুতোষ মুখার্জী।

আজ স্বাধীন জাতিরাষ্ট্র বাংলাদেশে বসে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা এবং ছাত্ররাজনীতি নিয়ে আলাপ করতে গিয়ে তাঁকে উদ্ধৃত করছি, যখন সারাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়সহ অপরাপর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষমতাসীন মহাজোট সরকারের ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। এর আগে বিএনপি-জামায়াত জোটের শাসনামলেও ছাত্রদল আর ছাত্রশিবিরের অত্যাচারে সারাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো পরিণত হয়েছিল রাজনৈতিক ক্ষমতাসীনদের অত্যাচারের প্রদর্শনভূমিতে। সমাধানের পথ হিসেবে অনেকেই ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধকরণকে একমাত্র পথ হিসেবে দেখতেন তখনও, এখনও দেখছেন।

নিবন্ধ- 'আইলা, কৃষি এবং কোপেনহেগেন প্রাপ্তি' by ড. জীবনকৃষ্ণ বিশ্বাস

আমি এবং আমার সহকর্মী ড. আনছার আলী খুলনার আইলা আক্রান্ত দাকোপে যাই ২৭ অক্টোবর ২০০৯। তখনও আক্রান্ত এলাকা জুড়ে টালমাটাল অবস্থা।

বেশ কিছু গ্রাম আর গ্রাম নেই বলা যায়। দাকোপের ঢাকি নদীর পারে কামারখোলা এমনি এক ভেসে-যাওয়া গ্রাম। নদীবরাবর বাঁধ ভেঙে স্বাভাবিক এক খাল অস্বাভাবিক আকার নিয়েছে। সেখানেই এক মহিলার সঙ্গে আমাদের কথা হয়। অবলীলায় সে বলে যায় অস্বাভাবিক জলোচ্ছ্বাসের কথা। বাঁধের স্লুইসগেট ভেঙে পানি উপচেপড়ার কথা। দুর্বল বাঁধ-ব্যবস্থাপনার কথা। স্থানীয় প্রশাসনের ভেতরে ক্ষমতার দ্বন্দ্বের কথা। সরকারি সাহায্য নিয়ে ক্ষোভের কথা। সঙ্গে নদীর অপরপাড়ে যে ক্ষতি হয়নি সে কথাও বলতে বাকি রাখেনি।

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে কিছু সময় by শেখ হাসিনা

২৫ বৈশাখ, ১৪১৭। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতরে প্রবেশ করলাম। যাওয়ার পথে দেখলাম, রাস্তায় রাস্তায় মানুষ দাঁড়িয়ে আছে। চানখারপুল হয়ে আমার গাড়ি কারাগারের প্রধান ফটকে পৌঁছাল। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে এই এলাকায় ঘরে ঘরে গিয়েছি। ১৯৫৪ সাল থেকে আমরা ঢাকায় বসবাস শুরু করি। তখন থেকেই এই রাস্তায় যাতায়াত আমাদের এক রকম নিয়মিতই ছিল বলা যায়।
১৯৫৪ সালে আব্বা শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের মন্ত্রিসভায় মন্ত্রী ছিলেন। তারপর হঠাৎ করে কেন্দ্রীয় শাসন চালু হলে এবং ৯২(ক) ধারা দিয়ে জরুরি অবস্থা জারি করে কেন্দ্রীয় সরকার যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা ভেঙে দেয়। নেতাদের গ্রেপ্তার শুরু করে। আব্বা বন্দী হলেন। সঙ্গে আরও অনেক মন্ত্রী, এমপি। শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকও তখন বন্দী হন।
সেই থেকেই জেলখানায় আব্বার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আসতাম আমি, কামাল ও ছোট্ট জামাল। আমরা মায়ের হাত ধরে আব্বার সঙ্গে দেখা করতে আসতাম। মাসে দুবার দেখা করার সুযোগ পেতাম। এর আগেও আব্বা জেলে ছিলেন। ১৯৪৮ সাল থেকে তিনি বহুবার জেলে গেছেন। ১৯৪৯ থেকে ১৯৫২ সাল একটানা প্রায় তিন বছর জেলে কেটেছে তাঁর জীবন। তার পরও ১৯৬২, ১৯৬৪, ১৯৬৬, ১৯৭১ সালে বারবার গ্রেপ্তার হয়েছেন।
সেই জেলখানায় যাচ্ছি। আমরা গেটে পৌঁছালাম। গেট খুলে দেওয়া হলো। গাড়ি ভেতরে নিয়ে গেল। আমার সঙ্গে গাড়িতে বেগম সাজেদা চৌধুরী ছিলেন। আমরা নামলাম। আইজি প্রিজন স্বাগত জানালেন। জেল সুপার, জেলারসহ অন্যান্য কর্মকর্তা উপস্থিত। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা আপা ও স্বরাষ্ট্রসচিব এবং অন্য সবাই আছেন।
আমার বারবার রেহানার কথা মনে পড়ছিল। ওকে সঙ্গে নিয়েই আমার আসার কথা। জেলখানায় দুই বোন একসঙ্গে আসব, এটাই ছিল আমার চিন্তা। কিন্তু আজ রেহানাকে ছেড়ে এসে ভীষণ মন খারাপ লাগছে। যেখানে গাড়িটা থেমেছে, এই রাস্তা দিয়ে আব্বা হেঁটে আসতেন জেলগেটে। আমরা অধীর আগ্রহে তাকিয়ে থাকতাম রাস্তার দিকে। আজ আমি সেই রাস্তায়।
গার্ড অব অনার হলো। আমাদের সেই জায়গায় যেটা দেওয়ানি বলে পরিচিত, সেখানে নিয়ে যাওয়া হলো। সেখানে একটি বেদি করা হয়েছে, সেই বেদিতে ফুল দিলাম। শামিম শিকদারের নির্মাণ করা ভাস্কর্য এখানে একটা স্তম্ভের ওপর স্থাপন করা হয়েছে। ছয়টা স্তম্ভের মাঝে মধ্যের স্তম্ভে ভাস্কর্যটা রাখা। বাকিগুলো জলের ফোয়ারা, পানি নামছে বিরাট জলাধারে, টলটলে পানি।
আমগাছটা ঘিরে বেদি করা হয়েছে। যে গাছে হলুদ পাখিরা এসে বসত। অগণিত কণ্ঠের কলকাকলিতে একাকিত্বের ভার লাঘব করত এসব পাখি। নিঃসঙ্গ জীবনের সঙ্গী ছিল ওরা। আমরা গেলাম সেই ঘরটা দেখতে। টিনের চাল দেওয়া ঘর। ছোট্ট খুপরি জানালা। পাশেই উঁচু দেয়াল। বাতাস আপন মনে আসতে চাইলেও ওই দেয়াল বাধা হয়ে দাঁড়াত। একটা চৌকি আছে, লম্বা ও আড়ে অত্যন্ত ছোট। আব্বা ছয় ফুট লম্বা মানুষ হয়ে কীভাবে ওই ছোট চৌকিতে দিনের পর দিন ঘুমিয়েছেন, ভাবতে অবাক লাগে। একখানা ছোট্ট টেবিল, সঙ্গে কাঠের একখানা চেয়ার। ছোট ছোট হাঁড়ি-কড়াই। চায়ের একটা কাপ। সামান্য কয়েকটা জিনিস রাখা আছে। পাশের দেয়ালে লেখা অজুখানা। সেখানে গিয়ে দেখলাম, একটা গর্ত, ওটা পায়খানা। পাশে একটুখানি জায়গা অজু করার জন্য। সেখান থেকে কিছু দূরে একটা গোসলখানা। একটা চৌবাচ্চা আছে পানি ভরে রাখার জন্য। তার পরই পাকের ঘর। একটা তোলা মাটির চুলা, লাকড়ি দিয়েই রান্না করা হতো। সেখানে গিয়ে আমি চোখের পানি ধরে রাখতে পারিনি। দিনের পর দিন, বছরের পর বছর এই ঘরে একাকিত্বের যন্ত্রণা নিয়ে কাটাতে হয়েছে আব্বাকে। ভাবতেও পারি না। আব্বার নিজের হাতে লাগানো সফেদাগাছটা অনেক বড় হয়ে গেছে। বুড়ো হয়ে গেছে গাছটা। কামিনী ফুলগাছ লাগিয়েছিলেন তিনি। এখনো আছে গাছটা। ফুলে ফুলে ভরে যায় আর ফুল ঝরায় এই গাছটা। সুগন্ধে ভরে ওঠে সমস্ত এলাকা।
১৯৬৬ সালে বাঙালির মুক্তি-সনদ ছয় দফা দেওয়ার অপরাধে আব্বা গ্রেপ্তার হন এবং ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়েছিল তাঁকে। তাঁর বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দায়ের করা হয়েছিল। নিঃসঙ্গ এই কারাগারে বই পড়া, বাগান করাই ছিল তাঁর একমাত্র অবসর। গান শোনার জন্য একটা টেপরেকর্ডারের আবেদন করেও পাননি। তাঁকে মানসিক নির্যাতন করাই ছিল আইয়ুব-মোনায়েম সরকারের উদ্দেশ্য। বন্দী থাকা অবস্থায় ১৯৬৮ সালের ১৮ জানুয়ারি জেলখানা থেকেই পুনরায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে নিয়ে যায় আব্বাকে। এরপর ১৯ জুলাই আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা শুরু হয়। মামলা শুরু হওয়ার আগমুহূর্ত পর্যন্ত প্রায় ছয় মাস আমরা জানতেই পারিনি আব্বা কোথায় আছেন, কেমন আছেন।
একটা দেশের মানুষের জন্য একজন মানুষ কতখানি কষ্ট করতে পারেন, কীভাবে জীবন বিপন্ন করতে পারেন, দিনের পর দিন যাতনা ভোগ করেও মানসিক শক্তি সবল রেখে সংগ্রাম চালিয়ে যেতে পারেন, তা এখানে এলেই বোঝা যায়। বাংলার মানুষকে গভীরভাবে তিনি ভালোবাসতেন। বাংলার মানুষের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মুক্তির জন্য সংগ্রাম করেছেন। দরিদ্র মানুষের কষ্ট তিনি সইতে পারতেন না। তাই ক্ষুধা ও দারিদ্র্য থেকে বাংলার মানুষের মুক্তি কীভাবে দেবেন, সেটাই ছিল তাঁর একমাত্র স্বপ্ন। দেশের প্রতি প্রগাঢ় ভালোবাসাই তাঁকে অনুপ্রেরণা দেয়। এত কষ্ট সহ্য করার মতো ক্ষমতাও তিনি পান দেশের জনগণের ভাগ্য ফেরানোর লক্ষ্যে।
যখনই জেলখানায় গিয়েছি আব্বার সঙ্গে দেখা করতে, তখনই ফেরার সময় কষ্ট যেন বেড়ে যেত। তখন জামাল ছোট ছিল, আব্বাকে ছেড়ে কিছুতেই আসতে চাইত না। এরপর রেহানা যখন আসত, একই অবস্থা হতো; কিছুতেই আসতে চাইত না। আমি ও কামাল বড় ছিলাম বলে কষ্টটা বাইরে ছোটদের মতো প্রকাশ করতে পারতাম না। সবার বাবা বাচ্চাদের স্কুলে নিয়ে যায়, দোকানে নিয়ে যায়, গল্প করে, খেলা করে; আর আমরা শুধুই বঞ্চিত হয়েছি বাবার স্নেহ-আদর-ভালোবাসার সান্নিধ্য থেকে। ছোট্ট রাসেল জেলখানায় গেলে কিছুতেই আব্বাকে ফেলে বাসায় আসবে না। আব্বাকে সঙ্গে নিয়ে বাসায় যাবে। আব্বা ওকে বোঝাতেন, ‘এটা আমার বাসা, আমি থাকি। তুমি মায়ের সঙ্গে তোমার বাসায় যাও।’ কিন্তু ছোট্ট রাসেল কি তা শুনত; জেদ ধরত, কান্নাকাটি করত। বাসায় এসে বারবার মাকে জিজ্ঞেস করত, আব্বা কোথায়? মা বলতেন, এই তো আমি তোমার আব্বা। আমাকে তুমি আব্বা বলে ডাকো।
আমরা এখান থেকে গেলাম জাতীয় চার নেতাকে যেখানে হত্যা করা হয়েছিল, সেই জায়গায়। সেখানে হেঁটেই গেলাম। আব্বার ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহচর সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, এম মনসুর আলী ও কামরুজ্জামান—এই চারজনকে ৩ নভেম্বর ১৯৭৫ সালে কারাগারে বন্দী অবস্থায় নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতরে ঢুকে হত্যা করার ঘটনা সভ্য জগতে বোধ হয় এই প্রথম। বাইরে থেকে অস্ত্রধারীরা ঢুকে একের পর এক হত্যা করে এই চার নেতাকে। এখানে বেদিতে ফুল দিলাম। চারটা স্তম্ভে চারজনের ভাস্কর্য করা হয়েছে। পানির ফোয়ারার ভেতরে এই ভাস্কর্যগুলো তৈরি করা হয়েছে। এখনো গরাদে বুলেটের চিহ্ন রয়ে গেছে। দেয়ালের গায়ে যে বুলেটের চিহ্ন ছিল, তা মেরামত করা হয়েছিল বহু আগেই। সেই চিহ্ন আর খুঁজে পাওয়া যায় না। তাজউদ্দীন সাহেবের দুই মেয়ে রিমি ও মিমি, মনসুর আলী সাহেবের ছেলে মো. নাসিম এবং কামরুজ্জামান সাহেবের ছেলে রাজশাহীর বর্তমান মেয়র লিটন উপস্থিত ছিল।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের প্রথম রাষ্ট্রপতি এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি। সৈয়দ নজরুল ইসলাম ছিলেন প্রথম উপরাষ্ট্রপতি এবং বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের সহসভাপতি। তাজউদ্দীন সাহেব প্রথম প্রধানমন্ত্রী ছিলেন এবং দলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ক্যাপ্টেন মনসুর আলী ও কামরুজ্জামান কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও মন্ত্রী ছিলেন। বঙ্গবন্ধু যেভাবে নির্দেশ দিয়েছেন, সেভাবেই তাঁরা স্বাধীনতাসংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করেছেন। প্রতিটি সংগ্রামে অংশ নিয়ে জেল-জুলুম-অত্যাচার সহ্য করেছেন। অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করে বিজয় অর্জন করেছেন। এই মুক্তিযুদ্ধের বিজয়টা ঘাতকের দল মেনে নিতে পারেনি; যে কারণে পরিকল্পিতভাবে ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করে আর ৩ নভেম্বর জেলখানায় এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়। মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শক্তির দালালরা তাদের পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে এই জিঘাংসা চরিতার্থ করে। জাতি চিরদিন এই খুনি ও ষড়যন্ত্রকারীদের ঘৃণা করে যাবে।
সেখান থেকে ফেরার পথে মহিলা ওয়ার্ডে গেলাম। সাজেদা চৌধুরী, মতিয়া চৌধুরী, দীপ্তি আমার সঙ্গে ছিলেন। অনেকেই এই কারাগারে বন্দিজীবন কাটিয়েছেন। তাঁদের নিয়ে ঘুরে ঘুরে দেখলাম। যেসব কারারক্ষী সাবজেলে আমার ডিউটি করেছে, তাদের সঙ্গেও দেখা হলো। সেখান থেকে গেটে এলাম। যে কামরায় বসতে দিল, এই কামরায় আব্বার সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছিল।
১৯৬৭ সালের ১৭ নভেম্বর আমার আক্দ হয় ড. এম এ ওয়াজেদের সঙ্গে। কয়েক দিন পর ইন্টারভিউর অনুমতি পেলে মা আমাকে ও ড. ওয়াজেদকে এখানে নিয়ে আসেন। জেলখানার ফুল দিয়ে আব্বা দুটি মালা তৈরি করেন, বিয়ের প্রথম ফুলের মালা আব্বার হাত থেকে পেলাম। আব্বা মালা পরিয়ে কন্যা সম্প্রদান করেন এই কামরায়। সেই জায়গায় আজ এসে বসলাম।
এক হাজার বন্দীকে মুক্তি দেওয়া হবে, সেই ঘোষণা দিলাম। বের হওয়ার পথে দেখতে গেলাম অন্য একটি কামরা। সেখানে সব সময় আব্বার সঙ্গে সাক্ষাৎ হতো। অনেক পরিবর্তন করা হয়েছে। পাশের কামরায় পেলাম সেই টেবিলটা। গোল গোল পায়া দেওয়া একটা টেবিল। এখনো আছে। আমরা ছোটবেলায় ওই টেবিলে পা ঝুলিয়ে বসতাম। জামাল খুব ছোট ছিল, ওই টেবিলের ওপরই বসিয়ে দিলে খেলা করত। এরপর রেহানা এল আমার মায়ের কোলজুড়ে। রেহানাও খেলা করেছে ওই টেবিলে। কারণ আব্বা তো বারবারই জেলে বন্দী হয়েছেন। এরপর ছোট্ট রাসেল এল আমার মায়ের কোলে। আমাদের সবার আদরের ছোট্ট রাসেলও ওই টেবিলে বসে খেলা করেছে। পেছনে টিনের শেড দেওয়া বারান্দা এখনো ওই রকমই আছে। আমরা ওখানে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতাম, কখন আব্বা আসবেন। কারণ অনেকক্ষণ অপেক্ষা করতে হতো। জেলগেটে আসার পর বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে। অনুমতি এলে ভেতরে গিয়ে বসতাম। আমাদের ভেতরে বসিয়ে তারপর আব্বাকে আনতে যেত। মাত্র আধঘণ্টার জন্য দেখা পেতাম। এর বেশি অনুমতি ছিল না। মা ফ্লাক্সে করে চা বানিয়ে নিয়ে যেতেন, সঙ্গে কিছু নাশতা। আমরা যেখানে বসতাম, সেখানেও গোয়েন্দা সংস্থার দুজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা উপস্থিত থাকতেন। কী কথা হয় না-হয়, বোধ হয় তা ওপরে জানানোর কাজই তাঁদের ছিল।
বিকেল পাঁচটা থেকে প্রায় পৌনে সাতটা পর্যন্ত কারাগারে ছিলাম। সব বন্দীর জন্য বড় খানা দেওয়ার নির্দেশও দিয়ে এলাম। এখানে এসে বারবার এ কথাই মনে হচ্ছিল, আব্বা বাংলার মানুষকে এত ভালোবাসতেন। নিজের জীবনের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য, চাওয়া-পাওয়া সব বিসর্জন দিয়ে এই দুঃসহ কষ্টকে আলিঙ্গন করেছেন শুধু একটাই কারণে, তা হলো বাংলার মানুষের মুক্তি, স্বাধীনতা। নিজের জীবনের কথা একবারও ভাবেননি। আমার মা ছায়ার মতো সারা জীবন তাঁকে অনুসরণ করে গেছেন, কোনো চাওয়া-পাওয়া তাঁর ছিল না। স্বামীকে কতটুকু পেয়েছেন? বছরের পর বছর তো তাঁর জেলে কেটেছে আর বাইরে থাকলে আন্দোলন-সংগ্রাম নিয়ে ব্যস্ত। ঘর-সংসার, ছেলেমেয়ে—সব দায়িত্ব আমার মা কাঁধে তুলে নিয়েছেন। সহযোগিতা করেছেন, যেন স্বামী তাঁর অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেন।
আমার দাদা-দাদির কথা খুব মনে পড়ছে। তাঁরাও এই কারাগারে এসে বন্দী সন্তানকে দেখে গেছেন। আমার আব্বা খুবই সৌভাগ্যবান ছিলেন যে এমন পিতা-মাতার ঘরে জন্ম নিয়েছিলেন। রত্নগর্ভা আমার দাদি; আব্বার প্রতিটি কাজে সহায়তা করেছেন, শক্তি ও সাহস জুগিয়েছেন, আর্থিক সহায়তা করেছেন। ছেলে দেশের ও দশের জন্য কাজ করছেন। বাংলার গরিব মানুষের জন্য সংগ্রাম করে যাচ্ছেন—এই গর্ব তাঁদের ছিল। কখনো আমার দাদা-দাদি আব্বার কাজে বাধা দেননি বরং উৎসাহ দিয়েছেন এবং সহযোগিতা করেছেন। এমন বাবা-মা না হলে, তাঁদের দোয়া না থাকলে মানুষ কি এত ত্যাগ স্বীকার করতে পারে? পারে না। এই দেশের স্বাধীনতার জন্য, মানুষের কল্যাণের জন্য গোটা পরিবারকেই আত্মত্যাগ করতে হয়েছে। তবেই না আমরা এই স্বাধীনতা পেয়েছি।
আজ স্বাধীনতা সবাই ভোগ করছে, কিন্তু এর পেছনে কত মানুষের কত ত্যাগ, কত কষ্ট, কত সাধনা, তা কি কেউ মনে রাখে?
গণভবন
শেখ হাসিনা: প্রধানমন্ত্রী, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার।

বাজার নিয়ন্ত্রণে রাষ্ট্রায়ত্ত কারখানায় উৎপাদন বৃদ্ধির তাগিদ শিল্পমন্ত্রীর

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণের জন্য রাষ্ট্রায়ত্ত কল-কারখানায় উৎপাদন বৃদ্ধির তাগিদ দিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া। তিনি বলেন, সরকারের হাতে পর্যাপ্ত মজুদ থাকলে সহজেই বাজার শাসন ও পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। এ লক্ষ্যে তিনি শিল্প মন্ত্রণালয় এবং এর আওতাধীন সব প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতিটি মুহূর্ত কাজে লাগানোর পরামর্শ দেন।
দিলীপ বড়ুয়া গতকাল মঙ্গলবার শিল্প মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত ২০১০-১১ অর্থবছরে মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত প্রকল্পসমূহের বাস্তবায়ন পর্যালোচনা সভায় সভাপতিত্বকালে এ তাগিদ দেন।্র
সভায় শিল্পসচিব কে এইচ মাসুদ সিদ্দিকীসহ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন করপোরেশন ও সংস্থাসমূহের প্রধান ও প্রকল্প পরিচালকেরা উপস্থিত ছিলেন বলে মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
সভায় জানানো হয়, ২০১০-১১ অর্থবছরে শিল্প মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন সংস্থায় ১৯টি প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এসব প্রকল্পের অনুকূলে মোট বরাদ্দের পরিমাণ ৪৬৪ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে রাজস্ব খাতে ৪৪৯ কোটি ৫৮ লাখ টাকা এবং প্রকল্প সাহায্য খাতে ১৪ কোটি ৮৮ লাখ টাকা বরাদ্দ রয়েছে।
সভায় শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রতিষ্ঠান বিসিক, বিএসটিআই, বিটাক, বিসিআইসি এবং বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের আওতায় বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পসমূহের অগ্রগতি বিস্তারিত আলোচনা হয়। চলতি অর্থবছরে এসব প্রকল্পের লক্ষ্যমাত্রা শতভাগ অর্জনের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সর্বোচ্চ দক্ষতা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহির সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়।

প্রাইম ফিন্যান্সিয়াল ফার্স্ট ইউনিট ফান্ডের ২০ লাখ ইউনিট শেয়ার বিক্রি

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বেসরকারি খাতে দেশের প্রথম ওপেন অ্যান্ড মিউচুয়াল ফান্ড প্রাইম ফিন্যান্সিয়াল ফার্স্ট ইউনিটের ২০ লাখ ইউনিট শেয়ার নির্ধারিত সময়ের এক সপ্তাহ আগেই বিক্রি সম্পন্ন হয়েছে। রাজধানীর একটি হোটেলে আজ বুধবার আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রাইম ফিন্যান্স অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী মঈন আল কাশেম এ তথ্য জানান।
সংবাদ সম্মেলনে মঈন আল কাশেম বলেন, বেমেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ড বিনিয়োগের উত্কৃষ্ট মাধ্যম। এই ফান্ডটির ব্যাপক চাহিদা তারই প্রমাণ। প্রাইম ফিন্যান্স অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের ওপর আস্থা রেখে ফান্ডটিতে বিনিয়োগ করায় বিনিয়োগকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ২৬ সেপ্টেম্বর প্রাইম ফিন্যান্সিয়াল ফার্স্ট ইউনিট ফান্ড পুঁজিবাজারে যাত্রা শুরু করে। উদ্বোধনী দিনেই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও পেশার বিনিয়োগকারীরা এক কোটি ৫২ লাখ ১০ হাজার টাকার মোট এক লাখ ৫২ হাজার ১০০ ইউনিট শেয়ার ক্রয় করেন। নির্ধারিত সময়ের সাত দিন আগে গত ৩১ অক্টোবর এই ফান্ডের সব ইউনিট শেয়ার বিক্রি হয়ে যায়। প্রাইম ফিন্যান্সিয়াল ফার্স্ট ইউনিট ফান্ডের প্রাথমিক আকার ২০ কোটি টাকা। এর প্রতি ইউনিটের অভিহিত মূল্য ১০০ টাকা।
ট্রাস্টির অনুমোদন সাপেক্ষে আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে নিয়মিত ক্রয়-বিক্রয়ের জন্য ফান্ডটি আবার উন্মুক্ত হবে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রাইম ফিন্যান্সিয়াল অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির প্রধান অর্থ কর্মকর্তা ও এইচ আর এম মো. হাসান ইমাম, ফান্ডটির ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রধান মইনুল ইসলাম, প্রধান গবেষক মীর আরিফুল ইসলাম, আইটি বিভাগের প্রধান মো. মহিউদ্দিন মাহমুদ ও বিনিয়োগ বিশ্লেষক আদনান হুদা।

তাইওয়ানের এক সামরিক গোয়েন্দা কর্মকর্তা গ্রেপ্তার

চীনের পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে তাইওয়ানের সামরিক গোয়েন্দা কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও গণমাধ্যম সূত্রে এ খবর জানা যায়।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, গোপন তথ্য ফাঁস করার অভিযোগে লো নামের ওই কর্মকর্তাকে গতকাল পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র জানান, সার্বিক পরিস্থিতিতে প্রাথমিকভাবে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে এ ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।
তাইওয়ানের অ্যাপল ডেইলি জানায়, ২০০৭ সালে লো চীনের পক্ষে কাজ শুরু করেন। সামরিক বাহিনীর বরাত দিয়ে পত্রিকাটি জানায়, লো তাইওয়ানের গুরুত্বপূর্ণ অনেক তথ্য ফাঁস করেছেন।
তাইওয়ানের গোয়েন্দাপ্রধান সে দেশের অবসরপ্রাপ্ত গোয়েন্দাদের চীনে না যাওয়ার জন্য সতর্ক করে দিয়েছেন। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, চীনে তাঁদের অবসরপ্রাপ্ত গোয়েন্দাদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে।
১৯৪৯ সালে গৃহযুদ্ধে আলাদা হওয়ার পর থেকে চীন ও তাইওয়ান একে অপরের ওপর গোয়েন্দা তৎপরতা চালিয়ে আসছে। চীন এখনো তাইওয়ানকে নিজের ভূখণ্ড বলে মনে করে।

মস্কোয় নিযুক্ত রাষ্ট্রদূতকে প্রত্যাহার করছে টোকিও

মস্কোয় নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূতকে সাময়িকভাবে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে টোকিও। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভের কুরিল দ্বীপপুঞ্জ সফরকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনার প্রেক্ষিতে রাষ্ট্রদূতকে সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করে দেশে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে।
এদিকে বিতর্কিত ওই ভূখণ্ড নিয়ে দুই দেশের চলমান বিরোধে জাপানকে সমর্থন জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গত সোমবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়।

সাকিনাহকে পাথর ছুড়ে হত্যা করা হতে পারে আজ

ইরানের নাগরিক সাকিনাহ মোহাম্মদী আশতিয়ানিকে আজ বুধবার পাথর ছুড়ে হত্যা করা হতে পারে। একাধিক পুরুষের সঙ্গে সম্পর্ক রাখার দায়ে ইরানের একটি আদালত তাঁকে পাথর ছুড়ে হত্যা করার রায় দেন। এ ছাড়া স্বামীকে হত্যার দায়ে সাকিনাহকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
ইরানের নির্বাসিত মানবাধিকারকর্মী মিনা আহাদি জানান, ‘তিন দিন আগে আমরা এ তথ্য পেয়েছি। এ ব্যাপারে একটি চিঠি আদালত থেকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ইরানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের তাবরিজ শহরের একটি কারাগারে সাকিনাহকে বন্দী রাখা হয়েছে।’
মিনা আহাদি আরও বলেন, ‘রায় কার্যকরের সিদ্ধান্ত হয়ে থাকলে বুধবার সকালের দিকে তা কার্যকর করা হবে। এ খবর পাওয়ার পর থেকে ভীত হয়ে পড়েছি।’
২০০৬ সালে তাবরিজের পৃথক আদালতে সাকিনাহর বিচার হয়। এতে স্বামীকে হত্যার দায়ে তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। ২০০৭ সালে তাঁর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শাস্তি কমিয়ে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে একাধিক পুরুষের সঙ্গে সম্পর্ক রাখার দায়ে তাঁকে পাথর ছুড়ে হত্যার রায় দেন আদালত।
সাকিনাহর স্বামীকে হত্যায় জড়িত থাকার দায়ে তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক ছিল এমন এক ব্যক্তিকেও দোষী সাব্যস্ত করেন আদালত।

ইরানিদের ফ্রান্সে ভ্রমণ না করার পরামর্শ

ইরান তার দেশের নাগরিকদের ফ্রান্সে ভ্রমণ এড়ানোর পরামর্শ দিয়েছে। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, ফ্রান্সে পেনশন-ব্যবস্থার সংস্কারবিরোধী আন্দোলনের কারণে সেখানে অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রামিন মেহমানপারাস্ত গতকাল মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘ফ্রান্সে অস্থিরতা গুরুতর রূপ নিয়েছে। তাই দেশের নাগরিকদের ফ্রান্সে ভ্রমণ এড়ানোর পরামর্শ দিয়েছি আমরা। সেখানে বিক্ষোভ পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে এ ব্যাপারে আমাদের নাগরিকদের সতর্ক থাকা উচিত।’ তিনি জানান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট ও ফ্রান্সে ইরানি দূতাবাসের ওয়েবসাইটে এই সতর্কবার্তা প্রকাশ করা হয়েছে।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নিকোলা সারকোজির সরকারের নেওয়া পেনশন সংস্কারের উদ্যোগে সরকারি কর্মীদের অবসর নেওয়ার বয়স ৬০ থেকে বাড়িয়ে ৬২ বছর এবং পূর্ণ অবসরকালীন ভাতা পাওয়ার বসয়সীমা ৬৫ থেকে বাড়িয়ে ৬৭ বছর করা হয়েছে। সরকারের এই উদ্যোগের বিরুদ্ধে সেখানে বিক্ষোভ, সমাবেশ, ধর্মঘটসহ বিভিন্ন প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে আসছে বিভিন্ন শ্রমিক সংঘ ও শিক্ষার্থীরা। এর আগে ২০০৯ সালের জুন মাসে ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর সেখানে বিক্ষোভ শুরু হলে ফরাসি সরকারও তাদের নাগরিকদের ইরানে ভ্রমণ করতে নিষেধ করেছিল।

ইন্দোনেশিয়ায়বিমানের ফ্লাইট বাতিল

ইন্দোনেশিয়ার সবচেয়ে সক্রিয় আগ্নেয়গিরি মাউন্ট মেরাপিতে অগ্ন্যুৎপাত চলছেই। গতকাল মঙ্গলবারও আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখ থেকে লাভা ও ধোঁয়ার উদিগরণ ঘটে। অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনায় আশপাশের বিমানবন্দরগুলোতে আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলোর ফ্লাইট বাতিল করা হয়। আগ্নেয়গিরিবিষয়ক বিশেষজ্ঞরা হুঁশিয়ার করেছেন, মাউন্ট মেরাপির ভয়াবহ উদিগরণ ধীরগতিতে কয়েক সপ্তাহ, এমনকি কয়েক মাস ধরে চলতে পারে।
মালয়েশিয়ার বিমান সংস্থা এয়ার এশিয়া জানায়, মাউন্ট মেরাপির লাভা ও ধোঁয়া উদিগরণের কারণে ইন্দোনেশিয়ার ইয়োগ্যাকার্তা ও সলো নগরে গতকাল তাদের উড়োজাহাজের বিভিন্ন ফ্লাইট বাতিল করা হয়।
এয়ার এশিয়ার একজন মুখপাত্র বলেন, ইয়োগ্যাকার্তা ও সলোতে কেবল ২ নভেম্বরের ফ্লাইটগুলো বাতিল করা হয়েছে। পরিস্থিতি বুঝে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
মাউন্ট মেরাপিতে এক সপ্তাহ আগে অগ্ন্যুৎপাত শুরু হয়েছে। আগ্নেয়গিরির আশপাশের প্রায় ৫০ হাজার লোক এরই মধ্যে ঘরবাড়ি ছেড়ে অস্থায়ী শিবিরে আশ্রয় নিয়েছে।
গত সোমবার মেরাপি থেকে আরও বেশি উত্তপ্ত গ্যাস ও ধোঁয়ার উদিগরণ ঘটে। ভোর থেকে ছয়বার অগ্ন্যুৎপাত ঘটে। এ সময় গরম ছাই ও গ্যাস আকাশে বহুদূর উঠে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট সুসিলো বামবাং ইয়ুধোইয়োনো আজ বুধবার দুর্গত এলাকার আশ্রয়শিবির পরিদর্শন করবেন বলে তাঁর মুখপাত্র জুলিয়ান আলদ্রিন পাশা জানিয়েছেন।
অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনায় নতুন করে হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। সুমাত্রার উপকূলীয় এলাকায় আঘাত হানা সুনামি ও জাভায় মাউন্ট মেরাপির অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা এ পর্যন্ত ৪৭০ জনে পৌঁছেছে।

সারকোজির উদ্দেশে পাঠানো বোমা গ্রিসে জব্দ

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নিকোলা সারকোজির উদ্দেশে কুরিয়ারের মাধ্যমে পাঠানো একটি বোমা জব্দ করেছে গ্রিসের পুলিশ। এর আগে এথেন্সে অপর একটি মোড়কে রাখা বিস্ফোরকের বিস্ফোরণে কুরিয়ার কোম্পানির এক কর্মী আহত হয়েছেন। এ ছাড়া আরও দুটি বিস্ফোরকভর্তি মোড়ক নিষ্ক্রিয় করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত সোমবার এসব ঘটনা ঘটে।
পুলিশের এক মুখপাত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, বিস্ফোরকভর্তি ওই মোড়ক কুরিয়ারের মাধ্যমে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের ঠিকানায় পাঠানো হচ্ছিল। এ ছাড়া প্রায় একই কায়দায় বিস্ফোরকভর্তি অপর তিনটি মোড়ক নেদারল্যান্ড, বেলজিয়াম ও মেক্সিকোর দূতাবাসের ঠিকানায় পাঠানো হয়। এথেন্সে একটি কুরিয়ার কোম্পানিতে এসব মোড়কের একটি বিস্ফোরিত হলে প্রতিষ্ঠানের একজন নারী কর্মী সামান্য আহত হন। অপর দুটি মোড়ক উদ্ধার শেষে নিষ্ক্রিয় করে পুলিশ।
পুলিশের ধারণা, এ ধরনের কর্মকাণ্ডে আল-কায়েদার কোনো হাত নেই। পুলিশের ওই মুখপাত্র জানান, গ্রেপ্তার করা ওই দুই ব্যক্তি গ্রিসের একটি বামপন্থী গেরিলা দলের সদস্য।
২০০৮ সালে এথেন্সে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে এক তরুণ নিহত হন। এর জেরে গ্রিসে বেশ কয়েক দফা গ্যাস ও বোমা হামলা হয়েছে। সে দেশের বামপন্থী দলগুলো এসব হামলার দায়িত্ব স্বীকার করেছে।

ইউরোপ জুড়ে বোমাতঙ্ক

ইউরোপ জুড়ে শুরু হয়েছে বোমাতঙ্ক। গতকাল মঙ্গলবার বার্লিনে জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মেরকেলের কার্যালয়সংলগ্ন একটি পোস্ট অফিস এবং গ্রিসের রাজধানী এথেন্সে বেশ কয়েকটি দেশের দূতাবাসে পার্সেল বোমা ও বোমাসদৃশ বেশ কিছু সন্দেহজনক বস্তু পাওয়া গেছে। এর মধ্যে রাশিয়া ও সুইজারল্যান্ডের দূতাবাসে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটেছে। তবে এতে কেউ হতাহত হয়নি।
জার্মানির নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানান, গতকাল চ্যান্সেলর মেরকেলের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা সন্দেহজনক একটি প্যাকেট পেয়েছেন। প্যাকেটটি মেরকেলের কার্যালয় থেকে কয়েক মিটার দূরে অবস্থিত একটি পোস্ট অফিস থেকে উদ্ধার করা হয়। ওই প্যাকেটে কোনো বিস্ফোরকজাতীয় পদার্থ আছে কি না, পুলিশ তা খতিয়ে দেখতে শুরু করেছে। এ ঘটনার বার্লিনে বোমাতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। শহরের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। তবে ঘটনার সময় মেরকেল বার্লিনে ছিলেন না। তিনি বর্তমানে বেলজিয়াম সফরে আছেন।
জার্মান সরকারের মুখপাত্র স্টিফেন জাইবার্ট বলেছেন, প্যাকেটে বোমা থাকার সম্ভাবনা তাঁরা একেবারে উড়িয়ে দিচ্ছেন না।
এদিকে এথেন্সে বিভিন্ন দেশের দূতাবাস থেকে পুলিশ পাঁচটি পার্সেল বোমা উদ্ধার করেছে। এর মধ্যে রাশিয়া ও সুইজারল্যান্ডে দুটি বোমার বিস্ফোরণও ঘটেছে। তবে এতে কেউ হতাহত হয়নি। এথেন্সের পুলিশ আরও জানিয়েছে, জার্মানি, বুলগেরিয়া ও চীনের দূতাবাসের ঠিকানায় পাঠানো কিছু সন্দেহজনক বস্তু তারা পেয়েছে। তারা এখন সেগুলো পরীক্ষা করে দেখছেন। এগুলো সন্ত্রাসীরা পাঠিয়েছে বলে মনে করছে এথেন্স পুলিশ। নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, ইউরোপজুড়ে আতঙ্ক ছড়ানোর জন্য আল-কায়েদাই এটি করছে।

বাগদাদে বোমায় ৩৬ জন নিহত

ইরাকের রাজধানী বাগদাদের শিয়া অধ্যুষিত এলাকায় গতকাল মঙ্গলবার ১১টি সমন্বিত গাড়িবোমা হামলায় কমপক্ষে ৩৬ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরও অন্তত ৩২০ জন। সরকারি কর্মকর্তারা এ কথা জানান।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সালেহ আল-হাসনাভি সরকারি টেলিভিশনে বলেন, হামলায় ৩৬ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরও ৩২০ জন। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে শতকরা ৮০ জনকেই চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তারা হাসপাতাল ছেড়ে গেছে।

যৌথ পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষায় ব্রিটেন-ফ্রান্স মতৈক্য

ব্রিটেন ও ফ্রান্স যৌথভাবে পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষা করার ব্যাপারে একমত হয়েছে। এ লক্ষ্যে দেশ দুটি গতকাল মঙ্গলবার লন্ডনে একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নিকোলা সারকোজি ও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন নিজ নিজ দেশের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
চুক্তি অনুযায়ী দেশ দুটি প্রতিরক্ষা সহযোগিতা হিসেবে যৌথ সামরিক বাহিনী গঠন ও বিমানবাহী জাহাজ ভাগাভাগি করে ব্যবহার করবে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
পারমাণু অস্ত্র পরীক্ষার লক্ষ্যে ফ্রান্সের উত্তরাঞ্চলের ভালডুক এলাকায় একটি কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। ২০১৪ সালে ওই কেন্দ্র চালু করা হবে। প্রেসিডেন্ট কার্যালয় সূত্র জানায়, এর মাধ্যমে দুই দেশের বিজ্ঞানীরা পরমাণু অস্ত্রের সক্ষমতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবেন।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় সূত্র আরও জানায়, ইংল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলে ফ্রান্স ও ব্রিটেনের যৌথ গবেষণাকেন্দ্র রয়েছে। ওই কেন্দ্রের সঙ্গেই কাজ করবে ফ্রান্সের ভালডুক কেন্দ্র। দুই গবেষণাকেন্দ্রে দু দেশের বিশেষজ্ঞরা কাজ করবেন।

ডেভিড মিলিব্যান্ডের প্রচারকাজে অর্থায়ন করেন ব্লেয়ার

লেবার পার্টির নেতা নির্বাচনে ব্রিটেনের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড মিলিব্যান্ডের প্রচারকাজে অর্থ জোগান দিয়েছিলেন সে দেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার। ডেভিডের পক্ষে নির্বাচনী প্রচার চালানোর জন্য ব্লেয়ার ২৭ হাজার পাউন্ড খরচ করেন। সম্প্রতি যুক্তরাজ্যভিত্তিক পত্রিকা সান এ খবর প্রকাশ করেছে।
পত্রিকাটির খবরে বলা হয়েছে, প্রকাশ্যে ডেভিডের পক্ষে সমর্থন ঘোষণা করেননি ব্লেয়ার। কিন্তু প্রচারকাজ চালানোর জন্য সাবেক প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক কর্মীকে বেতন হিসেবে এই অর্থ দেওয়া হয়।
ব্রিটেনের পার্লামেন্টে ডেভিড মিলিব্যান্ডের জমা দেওয়া আর্থিক বিবরণীর বিস্তারিত বিবরণ থেকে এ তথ্য জানা গেছে। গত সেপ্টেম্বর মাসে ব্রিটেনের বিরোধী দল লেবার পার্টির নেতৃত্বের নির্বাচনে ছোটভাই এড মিলিব্যান্ডের কাছে হেরে যান বড় ভাই ডেভিড।

সেপ্টেম্বরে পরীক্ষামূলক চালান পাঠায় জঙ্গিরা

ইয়েমেন থেকে যুক্তরাষ্ট্রগামী বিমানে বিস্ফোরক পাঠানোর আগে একই পথে পরীক্ষামূলক একটি চালান পাঠায় জঙ্গিরা। গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি ওই চালান আটক করা হয়। মার্কিন কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন। এদিকে বিস্ফোরক পাঠানোর ঘটনায় সন্দেহভাজন আল-কায়েদা নেতা ইব্রাহিম আল-আসিরিকে গ্রেপ্তারে কঠোর অভিযান শুরু করেছে ইয়েমেন।
এদিকে ব্রিটেন সোমালিয়া থেকে ব্রিটেনগামী বিমান নিষিদ্ধ করেছে। জার্মানি ও ইয়েমেনের সব বিমান সংস্থার কাছে চিঠি দিয়ে ইয়েমেন থেকে জার্মানিগামী প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সব ফ্লাইট নিষিদ্ধ করেছে। নেদারল্যান্ডও ইয়েমেন থেকে নেদারল্যান্ডগামী বিমান স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে।
গত শুক্রবার ইয়েমেন থেকে পণ্যবাহী বিমানে করে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে বিস্ফোরকভর্তি প্যাকেট পাঠানো হচ্ছিল। হোয়াইট হাউস সৌদি আরবের গোয়েন্দা সংস্থার কাছ থেকে তথ্য পেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সব বিমানবন্দরে সতর্কাবস্থা জারির নির্দেশ দেয়। হামলার আশঙ্কায় ব্রিটেন ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন বিমানবন্দরে সতর্কতা জারি করা হয়। পরে ব্রিটেনের ইস্ট মিডল্যান্ডস বিমানবন্দর ও দুবাইয়ের বিমানবন্দর থেকে বিস্ফোরকভর্তি প্যাকেট উদ্ধার করা হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময় ইয়েমেন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের উদ্দেশে পাঠানো কিছু সন্দেহজনক প্যাকেট আটক করা হয়। তবে এসব প্যাকেটের ভেতর বিস্ফোরকের মতো কিছু ছিল না। গত সোমবার এবিসি নিউজ ও নিউইয়র্ক টাইমস পরীক্ষামূলক ওই চালানের খবর প্রকাশ করে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এসব খবরে বলা হয়, সেপ্টেম্বরের চালান ছিল গত শুক্রবারের আটক হওয়া চালানের পরীক্ষামূলক প্রক্রিয়া। নিউইয়র্ক টাইমস-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, আগের চালান দিয়ে সম্ভবত নির্দিষ্ট ওই ফ্লাইটটি শিকাগো পৌঁছা পর্যন্ত মোট সময় সম্পর্কে একটি ধারণা নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। সম্ভাব্য হামলাকারীদের পরিকল্পনা ছিল, বিস্ফোরকবাহী বিমান শিকাগো বা অন্য কোনো শহরের ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় তাতে বিস্ফোরণ ঘটানো হবে। মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, আল-কায়েদার ইয়েমেন শাখাই সেপ্টেম্বরের ওই পরীক্ষামূলক চালান পাঠায়।
ইয়েমেনের কর্মকর্তারা জানান, ইব্রাহিম আল-আসিরিকে গ্রেপ্তারে দেশটির মারিব ও সাবা প্রদেশে অভিযান শুরু করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। গোয়েন্দা কর্মকর্তারাও অভিযানে অংশ নিচ্ছেন। নিরাপত্তা বাহিনীর এক বড় দল এই অভিযান শুরু করেছে। ওই দুই প্রদেশের একটি বড় অংশ ঘেরাও করে রাখা হয়েছে। প্রদেশ দুটি পাশাপাশি অবস্থিত। এর মধ্যে সাবা আরব সাগরের তীরে অবস্থিত।
ব্রিটেন গত সোমবার জানিয়েছে, যুদ্ধবিধ্বস্ত সোমালিয়া থেকে পণ্যবাহী বিমান সে দেশে প্রবেশ স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন মধ্যপ্রাচ্য থেকে সন্ত্রাস নির্মূলে ওই অঞ্চলের মিত্রদের সঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার করেছেন। গত সোমবার ক্যামেরন পার্লামেন্টে বলেন, ইয়েমেন থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাত, জার্মানি ও ব্রিটেন হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ওই বিস্ফোরক পাঠানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তার মানে এই দেশগুলোর স্বার্থের প্রতিও হুমকি রয়েছে। ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থেরেসা মে পার্লামেন্টে বলেন, শুধু ইয়েমেন থেকে নয়, সোমালিয়া থেকেও ব্রিটেনগামী বিমান স্থগিত করা হয়েছে। ব্রিটেনের উন্নয়নমন্ত্রী অ্যালান ডানকান বলেন, নিরাপত্তার কারণে ইয়েমেন থেকে বিমান স্থগিত করা হলেও জঙ্গি দমনে লন্ডন তাদের সহায়তা করবে।
ব্রিটেন ও দুবাইয়ে বিমান থেকে বিস্ফোরক পাওয়ার পর প্রথম দেশ হিসেবে জার্মানি ইয়েমেন থেকে সব ধরনের বিমান স্থগিত করে। জার্মানির পরিবহন মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানান, জার্মানি থেকে ইয়েমেন যাতায়াতকারী সব বিমান সংস্থার কাছে ফ্লাইট নিষিদ্ধ করাসংক্রান্ত চিঠি দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশে আসছেন হোয়াটমোর

২০০৭ সালে বাংলাদেশ ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন। লক্ষ্য ছিল ভারতের কোচ হওয়া। অনেক জল এর মধ্যে পদ্মা-গঙ্গা দিয়ে গড়িয়েছে। ভারতের কোচ হওয়া হয়নি ডেভ হোয়াটমোরের। অবশেষে আজ সকালে ভারতের প্রদেশ, পশ্চিম বাংলার অনূর্ধ্ব-১৭ দলের কোচ হয়ে ঢাকায় আসছেন সেই ডেভ হোয়াটমোর।
বাংলাদেশের বহু ক্রিকেটীয় ইতিহাসের সাক্ষী বা কারিগর হোয়াটমোর ঢাকায় আসছেন আসলে সিএবি অনূর্ধ্ব-১৭ দলের বদলি কোচ হিসেবে। ঢাকায় পৌঁছে আজ হোয়াটমোরের চলে যাওয়ার কথা কুমিল্লায়। কারণ, ভারতীয় এই দলটির পরবর্তী ম্যাচ সেখানে। বাংলাদেশ সফররত এই দলটির কোচ হিসেবে এসেছিলেন গৌতম সোম। কিন্তু তাঁকে দেশে ফিরে যেতে হচ্ছে বাবার অসুস্থতার কারণে।
বিসিবির গেম ডেভেলপমেন্ট ব্যবস্থাপক নাজমুল আবেদীন বললেন, ‘ডেভ তো এখন ভারতের ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের সঙ্গে জড়িত। এখানে ও আসছে সিএবি দলটির কোচ হিসেবে। অবশ্য ও এই ম্যাচটি করেই চলে যাবে, নাকি পুরো সফরই থাকবে—সেটা আমরা নিশ্চিত নই।’
সে যে কদিনের জন্যই আসুন, বাংলাদেশে আরেকবার আসাটা হোয়াটমোরের জন্য নিশ্চয়ই অন্য রকম কিছু।

বাতিস্তাই আর্জেন্টিনার কোচ

শেষ পর্যন্ত এমনটাই ঘটবে, এটা অনুমেয়ই ছিল। অনুমান করতে পেরেছিলেন ডিয়েগো ম্যারাডোনাও। তার পরও একটা কিন্তু ছিলই। ফুটবল বিশ্বে ঠিকই ঘুরপাক খাচ্ছিল প্রশ্নটা—কে হচ্ছেন আর্জেন্টিনার পরবর্তী কোচ? অবশেষে তিন মাস ধরে বিশ্ববাসীকে ধন্দে রাখা এই প্রশ্নের ইতি টেনে দিল আর্জেন্টাইন ফুটবল ফেডারেশন (এএফএ)। ম্যারাডোনা নন, আর্জেন্টাইন মিডিয়ার আবিষ্কার এস্তুদিয়ান্তেস কোচ আলেজান্দ্রো সাবেলাও নন; সার্জিও বাতিস্তাই হচ্ছেন আর্জেন্টিনার পূর্ণকালীন কোচ।
এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত অবশ্য এএফএর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তবে আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম নিশ্চিত করেই বলেছে, ২০১৪ বিশ্বকাপ পর্যন্ত জাতীয় দলের ভার দেওয়া হচ্ছে অলিম্পিকজয়ী বাতিস্তাকে। পূর্ণকালীন কোচ নিয়োগের বিষয়ে গত সোমবার বৈঠকে বসে এএফএর নির্বাচক কমিটি। ওই বৈঠকেই চূড়ান্ত হয়েছে বাতিস্তার নাম।
সোমবারের বৈঠক শেষে এএফএর মুখপাত্র আন্দ্রেস ভেনচুুরা বলেছেন, ‘নির্বাচক কমিটি (সোমবার) দিনের মাঝামাঝি সময়ে টেকনিক্যাল সেক্রেটারি কার্লোস বিলার্দোর সঙ্গে বৈঠকে বসেছিল। ওই বৈঠকে দল বাতিস্তাকেও ডেকে পাঠানো হয়। জিজ্ঞেস করা হয়, দল নিয়ে এ পর্যন্ত তিনি কী কী করেছেন, ভবিষ্যতে কী কী করতে চান।’
বিশদ পরিকল্পনাই হাজির করেছেন বাতিস্তা। এর মধ্যে ভেরন-রিকেলমেদের ফেরানোর পাশাপাশি যুব ও বয়সভিত্তিক দলগুলো নিয়েও একটা রূপরেখা দিয়েছেন। যুব পর্যায়ে দুর্দান্ত সব ফুটবলার উঠে আসছে। বাতিস্তা মনে করেন, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে এখনই কাজ শুরু করে দিতে হবে আর্জেন্টিনাকে।
ভেরন-রিকেলমেকে তিনি ফেরাতে চান একটু অন্য ভূমিকায়। আর্জেন্টিনার ঘরোয়া ফুটবলে খেলা খেলোয়াড়দের পরিচর্যার ভার থাকবে এই দুই সিনিয়রের ওপর। এ ছাড়া ইউরোপে খেলেন এমন ফুটবলারদের নিয়ে অনূর্ধ্ব-২৫ আরেকটি দল করার কথাও বলেছেন বাতিস্তা।
তাঁর এসব পরিকল্পনা এএফএর নির্বাচক কমিটির বেশ পছন্দ হয়েছে বলেই খবর। এই কমিটি এএফএ সভাপতি হুলিও গ্রন্দোনার কাছে তাদের প্রতিবেদন দিয়েছে। গ্রন্দোনা আর বোর্ড সদস্যদেরই ওপর ন্যস্ত ছিল কোচের নাম চূড়ান্ত করার ভার।
এসবই আনুষ্ঠানিকতা। তবে আনুষ্ঠানিকতা পর্বটার অপেক্ষা অবশ্য কেউ করছে বলে মনে হয় না। বাতিস্তা নিজে যেমন অন্তর্বর্তীকালীন শব্দটি কেটে ফেলে নিজেকে কোচ ভাবতে শুরু করে দিয়েছেন। তাঁর পেশ করা বিশদ রূপরেখার মধ্যেই ধরা পড়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ছবি।
বাতিস্তার সিভিতে সবচেয়ে উজ্জ্বল হয়ে আছে ২০০৮ বেইজিং অলিম্পিকে সোনা জেতানো। ২৭ জুলাই অন্তর্বর্তীকালীন কোচ হওয়ার পর বাতিস্তার অধীনে আর্জেন্টিনা খেলেছে তিন ম্যাচ। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ১-০ গোলে জয়ের পর বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনের বিপক্ষে আর্জেন্টিনা জেতে ৪-১ গোলে। তৃতীয় ম্যাচে অপ্রত্যাশিত ১-০ হেরে যায় জাপানের কাছে। যদিও তার বড় পরীক্ষা মনে করা হচ্ছিল আগামী ১৭ নভেম্বর চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলের বিপক্ষের প্রীতি ম্যাচটিকে। কিন্তু তার আগেই পুরস্কারটা পেয়ে যাচ্ছেন বাতিস্তা।
এরই মধ্যে সুর নরম হয়ে গেছে ম্যারাডোনারও। পরশু চীনের উদ্দেশে দেশ ছাড়ার আগে বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, দলের দায়িত্বে যে-ই থাকুক, তাঁর সমর্থন থাকবে। অবশ্য বাতিস্তা নয়, ম্যারাডোনা কেবল সমর্থন করবেন আর্জেন্টিনা দলটিকে। কারণ, ‘সবার আগে আমি তো একজন আর্জেন্টাইন।

মেনে নিয়েছেন উডস

পতন শুধু নয়, মহীরুহ পতন হয়েছে। টাইগার উডস গলফ থেকে ছিটকে গেছেন, এমন নয়। কিন্তু প্রায় পাঁচ বছরের মধ্যে এই প্রথম নিজের নামটা আর গলফ র্যা ঙ্কিংয়ের এক নম্বরে দেখতে পাচ্ছেন না। এই না পাওয়া নিয়ে নিশ্চয়ই কষ্ট আছে দিগ্বিজয়ী এই গলফারের। কিন্তু বাস্তবতা উডস মেনে নিয়েছেন।
সর্বশেষ ২৮১ সপ্তাহ এই র্যা ঙ্কিংয়ের শীর্ষে ছিলেন উডস। সব মিলিয়ে ক্যারিয়ারের বেশির ভাগটা সময়, ৬২৩ সপ্তাহ শীর্ষে ছিলেন ১৪টি মেজরজয়ী এই গলফার। কিন্তু বছর খানেক ধরে গলফ কোর্সে যেন পাত্তাই ছিল না। পারিবারিক সংকটে পারফরম্যান্সই যে করতে পারছিলেন না। বাস্তবতা মেনে না নিয়ে উপায় নেই।
উদাসীন ভঙ্গিতে তাই উডস বলছেন, ‘হ্যাঁ, র্যা ঙ্কিং হিসাবে নিলে তো বলতেই হবে, আমি আর বিশ্বের এক নম্বর খেলোয়াড় নই। সেটা থাকতে গেলে জিততে হবে। আমি তো এই বছর জিততেই পারিনি।’
এর পরই চিরচেনা একটা কথা আবার জানিয়ে দিলেন, ‘খারাপ তো লাগছেই। কিন্তু বিশ্বের এক নম্বর হতে গেলে যেমন অনেক কিছু জিততে হয়, সে জায়গাটা ধরে রাখতে গেলেও তেমন অনেক কিছু জিততে হয়। আমি তা পারিনি।’
অবশ্য যিনি পেরেছেন, সেই যুক্তরাজ্যের গলফার লি ওয়েস্টউডের শীর্ষে থাকাটা আবার অনেকের কাছে যৌক্তিক মনে হচ্ছে না। যেমন উডসের সাবেক সুইং কোচ বাচ হ্যারমন বলছেন, উডস শীর্ষে নেই ঠিক আছে, কিন্তু জায়গাটা আসলে প্রাপ্য জার্মানির মার্টিন কেমারের।

সেঞ্চুরির সামনে ভেট্টোরি

সময়টা তাঁর একটুও ভালো যাচ্ছে না। তাই বলে সময় তো বসে থাকে না। বাংলাদেশের কাছে হোয়াইটওয়াশ হওয়ার দগদগে ক্ষত সঙ্গী করেই আগামীকাল থেকে ভারতের বিপক্ষে টেস্ট খেলতে নামতে হবে ড্যানিয়েল ভেট্টোরি ও তাঁর দলকে। এই ম্যাচটা খেলতে নামলেই ভেট্টোরির নাম তাঁর দেশের ক্রিকেট ইতিহাসে ঢুকে যাবে। স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের পর নিউজিল্যান্ডের মাত্র দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে খেলে ফেলবেন শততম টেস্ট।
শুধু ১০০টি টেস্ট খেলে ফেলছেন বলে নয়; এই রেকর্ডের সামনে দাঁড়িয়ে পেছনে ফিরে নিজের ক্যারিয়ার দেখেও তৃপ্ত ভেট্টোরি, ‘এটা আমার জন্য বিরাট সম্মানের। অসাধারণ একটা সফর চলছে। এত দিন ধরে খেলে যাওয়াটাই একটা বিরাট অর্জন। আর আমি এর মধ্যে বেশির ভাগ সময় ভালো খেলেছি। এটা আমার জন্য শুধু একটা সংখ্যা নয়। এটা আমাকে খুব তৃপ্তি দিচ্ছে।’
ভেট্টোরি অবশ্য চাইছেন না, শততম টেস্টের ভাবনা গ্রাস করে রাখুক। খেলাতেই মন দিতে চাইছেন, রেকর্ডে নয়। কিন্তু চাইলেই কি আর হয়? আরও একটা রেকর্ডের সামনে দাঁড়িয়ে যে নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক। এই টেস্টে ৩৮টি রান করতে পারলেই ভেট্টোরি অলরাউন্ডারদের সম্ভ্রান্ত এক ক্লাবে ঢুকে যাবেন—টেস্টে ৪ হাজার রান ও ৩০০ উইকেটের মালিক অলরাউন্ডারদের ক্লাব।
এই নিয়েও ভেট্টোরির উত্তেজনা আছে। তবে তাঁকে মূলত টানছে ৪ হাজার রানের সঙ্গে ৪০০ উইকেটের রেকর্ড, ‘কয়েক বছর ধরে আমি আমার খেলায় বেশ উন্নতি করেছি। দক্ষতা বাড়াতে অনেক খেটেছি। ৪ হাজার রান ও ৪০০ উইকেটের মালিক হওয়ার জন্য মুখিয়ে আছি। এবং তা থেকে খুব বেশি দূরেও নেই।’
তা আসলেই খুব বেশি দূর নয়। টেস্টে ভেট্টোরির এখন উইকেটসংখ্যা ৩২৫; আর ৭৫টা উইকেট না পাওয়ার কারণ এখন অন্তত দেখা যাচ্ছে না। সেটা পেয়ে গেলে আবার আরও ৩২টার জন্য ভেট্টোরির মন কাঁদবে! কেন? কারণ, ৪৩১ উইকেট নিয়ে নিউজিল্যান্ডের সর্বোচ্চ টেস্ট উইকেটের মালিক হয়ে আছেন সেই রিচার্ড হ্যাডলি।
হ্যাডলিকে নিশ্চয়ই টপকাতে চান ভেট্টোরি। কিন্তু উইকেটসংখ্যায় টপকে গেলেও এই গ্রেটকে আসলে কখনো টপকানো সম্ভব বলে মনে করেন না বর্তমান বিশ্বসেরা এই বাঁহাতি স্পিনার, ‘আমি যদি এটা করেও ফেলি, তার পরও স্যার রিচার্ড হ্যাডলিকে আমাদের সর্বকালের সেরা বোলার মনে করব। ওনার রেকর্ডটা তো বিস্ময়কর। আমি দীর্ঘদিন ধরে খেলছি। আর ওনার ব্যাপারটা স্রেফ দক্ষতার। উনি সর্বকালের সেরাদের একজন।

গল্পিতিহাস- 'এত যে সফলতা, তবুও বিফলতা' by সনৎ কুমার সাহা

প্রায় সোয়াশ' বছর আগে লেখা রবীন্দ্রনাথের 'দুরন্ত আশা' কবিতাটি আজও পুরনো হয়নি। বাঙালির স্বভাববৈগুণ্যে যে ক্ষুদ্রতার উৎকট প্রকাশ, তা তখন তাকে ভীষণভাবে পীড়িত করেছিল। তারই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ায় এই কবিতা।

বিদ্রূপের চাবুক তাঁর বিদ্যুতের মতো ঝলসে ওঠে- 'অন্নপায়ী বঙ্গবাসী স্তন্যপায়ী জীব/জন-দশেকে জটলা করি তক্তপোশে বসে।/ভদ্র মোরা শান্ত বড়ো, পোষ-মানা এ প্রাণ/বোতাম অাঁটা জামার নীচে শান্তিতে শয়ান।' আরও বলেন, 'তৈল-ঢালা স্নিগ্ধ তনু নিদ্রারসে ভরা/মাথায় ছোটো বহরে বড়ো বাঙালি সন্তান।' অনুকম্পাহীন ধিক্কার তাঁর কণ্ঠে উচ্চগ্রামে বাজে- 'কিসের এত অহংকার! দম্ভ নাহি সাজে-/বরং থাকো মৌন হয়ে সসংকোচ লাজে।/অত্যাচারে মত্ত-পারা কভু কি হও আত্দহারা?/তপ্ত হয়ে রক্তধারা ফুটে কি দেহ মাঝে?/অহর্নিশি হেলার হাসি তীব্র অপমান/মর্মতল বিদ্ধ করি বজ্র সম বাজে?'

আলোচনা- 'মুনাফার মালা গলায় ঝুলিয়ে পুঁজিবাদীরা মানবজাতি ধ্বংসের ব্যবস্থা করছে' by বদরুদ্দীন উমর

এ বছর দুনিয়াজুড়ে শীতের প্রকোপ এমন বৃদ্ধি পেয়েছে, যা দীর্ঘদিনের ইতিহাসে দেখা যায়নি। চীন, জাপান, কোরিয়া থেকে নিয়ে ইউরোপ-আমেরিকায় যেভাবে এখন একটানা তুষারপাত হচ্ছে, এটাও এক অতি ব্যতিক্রমী ব্যাপার।

এর মধ্যে যে অস্বাভাবিকত্ব রয়েছে, এটা উপেক্ষার বিষয় নয়। মানুষ তার প্রতি অন্যের ব্যবহারের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো সতর্ক সংকেত সাধারণত দেয় না। কিন্তু প্রকৃতির আচরণ এদিক দিয়ে ভিন্ন।
মানুষ প্রকৃতির নিয়মাবলি আবিষ্কার করে সেই নিয়মকে মান্য করে তা ব্যবহারের মাধ্যমেই বিজ্ঞান ও সভ্যতার বিকাশ ঘটিয়েছে। এ কাজ প্রকৃতির নিয়ম অমান্য করে বা প্রকৃতির বিরুদ্ধতা করে মানুষ সিদ্ধ করেনি, করা সম্ভবও ছিল না। কাজেই মানুষ প্রকৃতিকে কখনো জয় করতে পারে না।

গল্পালোচনা- 'স্বাধীনতাটাকে খুঁজছি' by লে. জেনারেল মাহবুবুর রহমান (অব.)

শ্মশ্রুশোভিত তরুণ কণ্ঠশিল্পী হায়দারের একটা গান আমার খুব ভালো লাগে। বারবার শুনি। হৃদয়ের গভীরে আঘাত হানে। দলিত-মথিত করে। তবুও শুনি।

আবারও শুনি। কী বলার ছিল কী বলছি। কী শোনার ছিল কী শুনছি। কী দেখার ছিল কী দেখছি। তিরিশটি বছর ধরে আমি স্বাধীনতাটাকে খুঁজছি। হায়দার গানটা হয়তো ২০০১ সালে রচনা করে থাকবেন। আজ ২০১০ সালের নববর্ষের নতুন দিনগুলোতে তার গানটা আমার কাছে আরো অর্থবহ আরো বেদনাদায়ক। দীর্ঘ ৩৯ বছর বাংলাদেশের মানুষ ঘোর অন্ধকারে হাতড়িয়ে বেড়াচ্ছে, তন্নতন্ন করে স্বাধীনতাটাকে খুঁজছে। কোথায় তুমি হে আমার স্বাধীনতা? কোথায় তুমি আমার মুক্তিযুদ্ধের অর্জিত ফসল? বাংলার মানুষ, আবালবৃদ্ধবনিতা, কৃষক-শ্রমিক-ছাত্র_সবাই অস্ত্র হাতে প্রত্যক্ষ যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছিল। বাংলার শ্যামল প্রান্তর লাখো-নিযুত শহীদের রক্তে রঞ্জিত হয়েছিল।

আলোচনা- 'টেলিভিশন কি পত্রিকার প্রতিদ্বন্দ্বী' by ফরিদুর রেজা সাগর

টেলিভিশন যখন এদেশে প্রথম আসে তখন অনেকের ধারণা হয়েছিল, এদেশের চলচ্চিত্র ব্যবসায় ধস নামবে। এখনো বাংলাদেশ টেলিভিশন কিংবা অন্যান্য স্যাটেলাইট চ্যানেলে শুক্রবার দুপুর বেলা যে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র দেখানো হয় সেটা নিয়েও চলচ্চিত্র নির্মাতাদের অনেকের ক্ষোভ রয়েছে।
তাদের ধারণা, শুক্রবার টেলিভিশনে প্রচুর লোক সিনেমা দেখার কারণে সেদিন হলে গিয়ে সিনেমা দেখে না। অথচ শুক্রবার হলো এই দেশে ছবি রিলিজের প্রথম দিন। যাত্রা শুরু করার পর টেলিভিশন তার নিজস্ব গতিতে চলছে। আর চলচ্চিত্রের গতি আগের চেয়েও বেগবান হয়েছে। দর্শক-শ্রোতাদের কাছে অন্তত তাই মনে হয়েছে।

ফিচার- ‘অতল জলের আহ্বান' by রুবাইয়াত মনসুর

চোখ রীতিমতো ছানাবড়া হওয়ার উপক্রম। ডলফিনের ঝাঁক যে এত বড়ো হতে পারে, কে জানত! তাও আবার ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের পর্দায় নয়,

রীতিমতো বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায়। এতটাই উত্তেজিত হয়ে পড়লাম যে গবেষণার সব কাজ বাদ দিয়ে ছবি তোলায় ব্যাস্ত হয়ে উঠলাম আমরা সবাই। আমরা মানে ১৪ জনের একটা দল। দলের নেতা ব্রায়ান। আমার সঙ্গে আমার সুইস-আমেরিকান স্ত্রী এলিজাবেথও আছে। বাকীদের বেশিরভাগই শ্রীলঙ্কা, ভারত, মায়ানমার এবং বাংলাদেশের গবেষক। কক্সবাজারের সাগর উপকূল থেকে যাত্রাটা শুরু করেছিলাম ট্রলারে। দ্বিতীয় দিন কক্সবাজার আর সেন্টমার্টিনের মাঝামাঝি আসতেই স্পটেড ডলফিনের ঝাঁকটার দেখা পেলাম।

ভ্রমণ- 'গৌড়ের পথে পথে' by মৃত্যুঞ্জয় রায়

চাঁপাইনবাবগঞ্জ গেলে অনেকে শুধু সোনা মসজিদ দেখেই ফিরে আসেন। কিন্তু তার চেয়েও বেশি আকর্ষণীয় কিছু নিদর্শন ওই মসজিদের আশেপাশেই ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। এমন কিছু বিশেষ দ্রষ্টব্যের সন্ধান নিন এই লেখা থেকে।

শীত যে কী, তা হাঁড়ে হাঁড়ে টের পেলাম চাঁপাইনবাবগঞ্জ পেঁৗছে। ঘন কুয়াশা ঢাকা পথঘাট, আমবাগান। সকালে সূর্যের দেখা পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার। সূর্যের ওমের জন্য অপেক্ষা না করেই মহানন্দার পাড় ধরে পাকা রোড বেয়ে এগুতে লাগলাম স্থলবন্দর সোনা মসজিদের দিকে।

রাজনৈতিক আলোচনা- 'সেদিন বঙ্গভবনে কী ঘটেছিলঃব্যর্থ সংলাপ থেকে বঙ্গভবন,কূটনীতিকদের ভূমিকা' by কাজী হাফিজ

(১১ জানুয়ারি ২০১০ সালে লেখা) ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি। দুপুর থেকেই রাজনৈতিক মহল ও সাংবাদিকদের কাছে এ সংবাদ ছড়িয়ে পড়ে যে বিশেষ একটা কিছু ঘটতে যাচ্ছে।

আগের দিন পল্টনের বিশাল জনসভা থেকে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা 'প্রহসনের নির্বাচন' প্রতিহত করার ব্যাপক আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করেন। পুলিশের সঙ্গে মহাজোট কর্মীদের দফায় দফায় সংঘর্ষ চলেছে। ঢাকাসহ সারা দেশের জেলা পর্যায়ে সেনাবাহিনী আগে থেকেই মোতায়েন ছিল। তবে তারা তখনো নিশ্চুপ।

রাজনৈতিক আলোচনা- 'রাজনীতি পুরনো পথেই' by আবদুল্লাহ আল ফারুক

(১১ জানুয়ারি ২০১০ সালে লেখা) আজ বহুল আলোচিত সেই এক-এগারো বা ওয়ান ইলেভেন। রাজনীতিবিদদের জন্য এটি অনুশোচনারও একটি দিন। এক-এগারোর যে খৰে রাজনীতিকরা পড়েছিলেন,

তাদেরই সহজ-সরল স্বীকারোক্তি হচ্ছে, রাজনীতিতে কাঙ্ক্ষিত সেই পরিবর্তন আসেনি। রাজনীতিবিদদের মধ্যেও সেই সচেতনতা ফিরে আসেনি। দেশের রাজনীতি এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে যে গুণগত পরিবর্তন আশা করা হয়েছিল, সেটাও হয়নি। বরং সেই এক-এগারোর আগের সাংঘর্ষিক রাজনীতি যেন আবার ফিরে আসছে দেশে।