Thursday, January 20, 2011

‘দায়িত্ববান’ ছাত্রলীগ নেতা

সরকার চালায় সরকারি দল, সরকার পরিচালনার অনেক দায়িত্ব নিতে হয় দলকে। সরকারি দলের ছাত্রসংগঠনেরও অনেক দায়িত্ব থাকবে, সেটাই তো স্বাভাবিক! নেতারা দায়িত্ববান হলে তবেই না সংগঠন দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে পারে! সূর্য সেন হলে এমনই এক ‘দায়িত্বশীল’ নেতাকে পেয়েছে ছাত্রলীগ। হলের ছাত্রদের মধ্যে যাঁরা আদব-তমিজ জানেন না, তাঁদের তা শেখানোর দায়িত্ব নিয়েছেন তিনি। নিষ্ঠার সঙ্গে এই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তিনি বিচার বসিয়েছেন, শাস্তি নির্ধারণ করেছেন, শাস্তি কার্যকরও করেছেন। ধন্য ছাত্রলীগ, ধন্য ছাত্রলীগের সূর্য সেন হল শাখার সভাপতি!হলের ছাত্ররা ‘বড় ভাইদের সালাম দেয় না, সম্মান করে না, প্রোগ্রামে আসে না’—এ অবস্থায় এটা করা ছাড়া একজন ‘দায়িত্ববান’ ছাত্রলীগ নেতার আর কী করার ছিল! ‘অভিযুক্ত’ ১০ থেকে ১২ জন ছাত্রকে হলের অতিথিকক্ষে নিয়ে ‘জেরা-শুনানি’ শেষে ‘দোষী’ প্রমাণিত হওয়ার পর অনুসারীদের দিয়ে ‘শাস্তি কার্যকর’ করেছেন। ‘দোষী’ ছাত্রদের ভাঙা চেয়ার-টেবিলের পায়া দিয়ে মারধর করা হয়েছে, দেয়ালে মাথা ঠোকা হয়েছে। এক ছাত্র আহত হয়েছেন গুরুতরভাবে। ‘শাস্তি ভোগ’ করার পর হল ছেড়েছেন কয়েকজন।ছাত্রলীগের সূর্য সেন হল শাখার এই ‘দায়িত্বশীল’ নেতার নাম সাইদ মজুমদার। হলটিতে শুধু কিছু ছাত্রের আদব-তমিজের সমস্যা আছে তা-ই নয়, সূর্য সেন হলে ‘অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির’ পাঁয়তারাও করেছিল কিছু ছাত্র। সেই ছাত্রদেরও হল থেকে বের করে দিয়েছেন তিনি। হলে ‘স্থিতিশীলতা’ রক্ষার দায়িত্ব যদি ছাত্রলীগ সভাপতি না নেন, তবে আর কে নেবে! ছাত্রলীগ ও এর ‘দায়িত্বশীল’ নেতাদের বাইরে হল কর্তৃপক্ষ বলে একটি বিষয় আছে। কিন্তু অভিযোগ না পেলে যেহেতু তারা কিছুই করতে পারে না, তাই হলের ‘স্থিতিশীলতা’ রক্ষা বা ছাত্রদের আদব-তমিজ শেখানের দায়িত্ব সরকারি দলের ছাত্রসংগঠন ও এর নেতার ওপর এসে পড়েছে স্বাভাবিকভাবেই!
ছাত্রলীগের নেতা সাইদ মজুমদার এই যে এত কিছু করলেন, তা কার জন্য? নিশ্চয়ই তাঁর রাজনৈতিক আদর্শের সরকারি দল ও নিজ ছাত্রসংগঠনের স্বার্থে। আমাদের দেশে সাধারণত দায়িত্ববান নেতাদের মূল্যায়ন কম হয়। সূর্য সেন হলের এই ‘দায়িত্ববান’ নেতাকে সরকারি দল বা তার ছাত্রসংগঠন কীভাবে মূল্যায়ন ও পুরস্কৃত করে, সেটা এখন দেখার বিষয়।

বাংলালিংকের মাধ্যমে কিউবির বিল পরিশোধ করা যাবে

বাংলালিংক মোবাইল ফোন ও বাংলালিংক মোবাইল ক্যাশ পয়েন্টের মাধ্যমে এখন থেকে কিউবির গ্রাহকেরা তাঁদের মাসিক বিল দিতে পারবেন।বাংলালিংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আহমেদ আবু দোমা এবং কিউবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জেরি মবস গতকাল মঙ্গলবার যৌথভাবে এই কার্যক্রম শুরুর ঘোষণা দেন।এ ব্যাপারে গতকাল বাংলালিংক ও কিউবির মধ্যে একটি চুক্তি হয়েছে। এই চুক্তি অনুযায়ী কিউবির গ্রাহকেরা বাংলালিংকের বিল-পে পয়েন্টের পাশাপাশি যেকোনো বাংলালিংক নম্বর থেকেও পেমেন্ট ওয়ালেট ব্যালেন্সের মাধ্যমে সরাসরি কিউবির বিল পরিশোধ করতে পারবেন। যাঁদের বাংলালিংক সংযোগ নেই বা কোনো মোবাইল ফোনই নেই, তাঁরাও কাছের বাংলালিংক মোবাইল ক্যাশ পয়েন্টে গিয়ে বিল দিতে পারবেন। এই বিল-পে সেবাটি ঢাকা ও চট্টগ্রামে ২১৯টি বাংলালিংক ক্যাশ পয়েন্টে চালু হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, চলতি জানুয়ারির শেষ নাগাদ ঢাকা ও চট্টগ্রামে বাংলালিংকের এক হাজার ২০০ বিল-পে সেন্টারে এই সুবিধা পাওয়া যাবে।জেরি মবস বলেন, ‘নতুন এই বিল দেওয়ার পদ্ধতি একটি সহজতর সমাধান, যেমনটা আমাদের গ্রাহকেরা চেয়েছিলেন। গ্রাহকদের জন্য এমন একটি সেবা দিতে পেরে আমরা অত্যন্ত গর্বিত।’

কেরানীগঞ্জে আইডিএলসি ফিন্যান্সের ১৩তম শাখা উদ্বোধন

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের পূর্ব আগানগরের নদীধারার নগরমহল রোডের একে টাওয়ারে সম্প্রতি আইডিএলসি ফিন্যান্স লিমিটেডের ১৩তম শাখা উদ্বোধন করা হয়েছে।
আইডিএলসি ফিন্যান্সের এই শাখা গ্রাহকদের এসএমই ও মেয়াদি ঋণ, লিজ ফিন্যান্স, গৃহঋণ, গাড়িঋণ, পারসোনাল লোনসহ বিভিন্ন ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক অর্থনৈতিক সেবা দেবে।
আইডিএলসি ফিন্যান্স লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম আর এফ হোসেইন আনুষ্ঠানিকভাবে এই শাখার উদ্বোধন করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আইডিএলসি লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক ও সিএফও এইচ এম জিয়াউল হক খান, এসএমই শাখার প্রধান জাহিদ ইবনে হাই এবং লিগ্যাল অ্যাফেয়ার্সের প্রধান মো. মিজানুর রহমানসহ ঊর্ধ্বতন অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আনন্দ শিপইয়ার্ডের মূল্য নির্ধারণী রোড শো

ঢাকার একটি হোটেলে গত সোমবার রাতে আনন্দ শিপইয়ার্ড অ্যান্ড স্লিপওয়েজ লিমিটেডের প্রাইস ডিসকভারি বা মূল্য নির্ধারণী রোড শো অনুষ্ঠিত হয়।অনুষ্ঠানে আনন্দ শিপইয়ার্ডের চেয়ারম্যান আবদুল্লাহেল বারী, ব্যবস্থাপনা পরিচালক আফরোজা বারী, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল্লাহ নাহিদ নিগার, নির্বাহী পরিচালক মো. তারিকুল ইসলামসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া আনন্দ শিপইয়ার্ডের শেয়ারের ইস্যু ম্যানেজার প্রাইম ফাইন্যান্স ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের পরিচালক মো. রেজাউল হক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোশারেফ হোসেন, ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ এবং বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।আনন্দ শিপইয়ার্ডের অনুমোদিত মূলধন ৫০০ কোটি টাকা, পরিশোধিত মূলধন ১৯০ কোটি টাকা। আইপিও বা প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের মাধ্যমে এই প্রতিষ্ঠান তিন কোটি শেয়ার ছাড়বে। এই প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি শেয়ারের অভিহিত মূল্য হচ্ছে ১০ টাকা।
১৯৯৯ সালে সম্পূর্ণ রপ্তানিমুখী জাহাজ নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে আনন্দ শিপইয়ার্ড অ্যান্ড স্লিপওয়েজ লিমিটেডের যাত্রা শুরু হয়। আনন্দ গ্রুপের এই প্রতিষ্ঠানটি ২০০৮ সালে জাহাজ রপ্তানি শুরু করে।বর্তমানে আনন্দ শিপইয়ার্ডে ১০টি জাহাজ নির্মাণাধীন।

ডিএসইতে দরপতনে আবারও বিক্ষোভ, শতাধিক গাড়ি ভাঙচুর

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) আজ বুধবারও দরপতন ঘটে। ডিএসইর সাধারণ মূল্যসূচকে নতুন করে আরোপ করা সার্কিট ব্রেকার অতিক্রম করায় লেনদেন বন্ধ হয়ে যায়। এর জের ধরে মতিঝিলের বিভিন্ন স্থানে বিনিয়োগকারীদের বিক্ষোভ, পাল্টাপাল্টি ধাওয়া, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একজনকে আটক করে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আজ বেলা একটায় লেনদেন শুরুর পর সূচক বাড়লেও পাঁচ মিনিটের মাথায় পতন শুরু হয়। বেলা আড়াইটার দিকে ডিএসইর সাধারণ মূল্যসূচক সার্কিট ব্রেকার বা সূচক বৃদ্ধির সর্বোচ্চ সীমা অতিক্রম করলে লেনদেন বন্ধ হয়ে যায়। এতে বিনিয়োগকারীরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ শুরু করেন। তাঁরা টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে ডিএসইর সামনের রাস্তা অবরোধ করে দফায় দফায় মিছিল করতে থাকেন। এ সময় বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে পুলিশের কয়েক দফা পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। বিনিয়োগকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। পুলিশ বিনিয়োগকারীদের সরাতে লাঠিপেটা করে।এ সময় দৈনিক বাংলা মোড়, শাপলা চত্বর, দিলকুশা সড়ক, জীবন বীমা টাওয়ারের (এসইসির অফিস) নিচতলা ও ইত্তেফাক মোড়ে বিনিয়োগকারীরা ভাঙচুর চালান। এ সময় তাঁরা শতাধিক গাড়ি ভাঙচুর করেন। এতে পুরো মতিঝিল এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় এক ঘণ্টা পর পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। এ সময় পুলিশ মতিঝিলের জীবন বীমা টাওয়ারের সামনে থেকে আবদুল ওহাব নামে একজনকে আটক করে বলে জানা গেছে।বেলা সাড়ে চারটার দিকে ডিএসইর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সতীপতি মৈত্র এক ব্রিফিংয়ে বিনিয়োগকারীদের আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বাজারে যাতে অস্বাভাবিক চাঙা বা অতিরিক্ত দরপতনের ঘটনা না ঘটে, সে জন্য সার্কিট ব্রেকার আরোপ করা হয়েছে। এতে বাজারে স্থিতিশীলতা আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।বাজার পরিস্থিতি: আজ বেলা আড়াইটা পর্যন্ত ডিএসইতে সাধারণ মূল্যসূচক ২২৬.৮৬ পয়েন্ট বা ৩.১৭ শতাংশ কমে ৬৯১৩.৩৮ পয়েন্টে দাঁড়ায়। এ সময় পর্যন্ত লেনদেন হওয়া ২৪০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম কমেছে ২৩০টির, বেড়েছে মাত্র সাতটির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে মোট তিনটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম। আজ মোট ৫৩৭ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে।চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সাধারণ সূচক বেলা আড়াইটার দিকে ৩.৩৯ শতাংশ বা ৬৯৬.৬৬ পয়েন্ট কমে ১৯৮৩৮.৮৩ পয়েন্টে দাঁড়ায়। তখন ডিএসইর মতো সিএসইর লেনদেনও বন্ধ হয়ে যায়। আজ সিএসইতে ৬৭ কোটি টাকার লেনদেন হয়। সিএসইতে লেনদেন হওয়া ১৭৫টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে মাত্র সাতটির, কমেছে ১৬৫টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে তিনটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম।এদিকে দুই স্টক এক্সচেঞ্জের লেনদেন কাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় যথারীতি চালু হবে বলে ডিএসই সূত্রে জানা গেছে।

ডিএসইতে সাধারণ সূচকের সার্কিট ব্রেকার ২২৫

দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সাধারণ মূল্যসূচকে সার্কিট ব্রেকার আরোপ করা হয়েছে। সূচকের সার্কিট ব্রেকার নির্ধারণ করা হয়েছে ২২৫ পয়েন্ট। আজ বুধবার পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) এ সিদ্ধন্ত নেয়।
আজকের লেনদেন থেকেই এ নির্দেশ কার্যকর হবে। এর ফলে ডিএসইতে সাধারণ মূল্যসূচক ২২৫ পয়েন্ট বা তার অধিক বাড়লে বা কমলে লেনদেন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যাবে। এসইসি থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই নিয়মেই লেনদেন হবে।
এসইসির মূখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আনোয়ারুল কবির ভূঁইয়া সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

সু চির আপিল বিবেচনা করবেন সুপ্রিম কোর্ট

মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চির রাজনৈতিক দল বিলুপ্তির বিরুদ্ধে তাঁর দায়ের করা সর্বশেষ আপিলের ওপর শুনানি হবে কি না, চলতি মাসে তা বিবেচনা করবেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট।আইনজীবী নিয়ান উইন বলেন, ২৪ জানুয়ারি নেপিডোতে সুপ্রিম কোর্টে বিশেষ আপিলের পক্ষে তাঁরা যুক্তি উপস্থাপন করবেন।শুনানিতে তিনজন আইনজীবী অং সান সু চির প্রতিনিধিত্ব করবেন। নিয়ান উইন তাঁদের একজন। তিনি বলেন, যে দলটি ১৯৯০ সালের অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে জয়লাভ করেছে, সেই দলটিকে যেভাবে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে, তা আইন অনুযায়ী হয়নি। তাঁরা আদালতে এই বিষয়টি তুলে ধরবেন।সু চি শুনানিতে উপস্থিত থাকবেন কি না, তা জানা যায়নি। নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় গত বছর সু চির ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসিকে (এনএলডি) বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়।১৯৯০ সালের নির্বাচনে এনএলডি বিপুল বিজয় অর্জন করে।

ঐক্যের সরকার গঠনের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তিন মন্ত্রীর পদত্যাগ

তিউনিসিয়ায় অন্তর্বর্তীকালীন ঐকমত্যের সরকার গঠনের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পদত্যাগ করেছেন সরকারের তিন মন্ত্রী। এ সরকারকে মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে দেশটির প্রধান ট্রেড ইউনিয়ন জেনারেল ইউনিয়ন অব তিউনিসিয়ান ওয়ার্কার্স (জিইউটিটি)। আন্দোলনের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট জয়নাল আবেদিন বেন আলীকে উৎখাতে প্রধান ভূমিকা পালন করেছে এ ইউনিয়ন।এদিকে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে বেন আলীর দল আরসিডির ছয় সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রতিবাদে আন্দোলনকারীরা বিক্ষোভ করলেও ওই মন্ত্রীদের পক্ষে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ ঘানৌছি। ঘানৌছির নেতৃত্বেই নতুন এই সরকার গঠন করা হয়েছে। তাঁর দাবি, বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়নের ঘটনায় ওই মন্ত্রীদের কোনো ভূমিকা ছিল না।জেনারেল ইউনিয়ন অব তিউনিসিয়ান ওয়ার্কার্সের মুখপাত্র ইফা নাসের গতকাল মঙ্গলবার বলেন, নতুন এই সরকারকে মেনে না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইউনিয়ন। ইউনিয়নের এক বিশেষ সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এরপর সরকার থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন আনোয়ার বেন গুয়েদ্দৌর, আবদেল জলিল বেদাওয়ি ও হোসেন দিমাসাই। তিনজনই ইউজিটিটির সদস্য। জেনারেল ইউনিয়ন অব তিউনিসিয়ান ওয়ার্কার্স তাদের ফরাসি ঔপনিবেশিক আমলের ইউজিটিটি নামেই বেশি পরিচিত।প্রায় এক মাসের গণবিক্ষোভের মুখে গত শুক্রবার বেন আলী দেশ ছেড়ে সৌদি আরবে আশ্রয় নেন। এরপর দেশে শান্তিশৃংখলা স্থাপন ও নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আয়োজন করার লক্ষ্যে গত সোমবার গঠন করা হয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন ঐকমত্যের সরকার। সুশীল সমাজের কয়েকজন প্রতিনিধি, বিরোধী দলের তিনজন সদস্য এবং বেন আলী সরকারের ছয় মন্ত্রী এই সরকারে স্থান পান। কিন্তু সাবেক মন্ত্রীদের স্থান পাওয়ার বিষয়টি ভালোভাবে নেয়নি বিক্ষোভকারীরা। গতকালও রাজধানীতে বিক্ষোভ করেছে তারা। তাদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে পুলিশ।তিউনিসিয়ার হিউম্যান রাইটস লিগের প্রেসিডেন্ট মাসুদ রামদানি বলেন, ‘জনগণ যা চেয়েছে, বাস্তবে তা হয়নি। দুর্নীতির প্রতিবাদে ও স্বাধীনতার দাবিতে মানুষ দেশজুড়ে বিক্ষোভ করেছে। এ ছাড়া তাদের বিক্ষোভ ছিল দুর্নীতিবাজ হিসেবে পরিচিত বেন আলীর দলের শাসনের বিরুদ্ধে। কিন্তু আমরা এখন দেখছি, ওই দলের সদস্যরা নতুন সরকারে স্থান পাচ্ছেন।’তবে প্রধানমন্ত্রী ঘানৌছি বলেন, ‘বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়নে বেন আলীকে সহয়তাকারীদের অবশ্যই শাস্তি দেওয়া হবে। তবে ওই মন্ত্রীদের কোনো অপরাধ নেই। তাঁদের সরকারে রাখা হয়েছে, কেননা তাঁদের সহযোগিতা আমাদের প্রয়োজন।’ তিনি কখনো নিরাপত্তা বাহিনীকে বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলির নির্দেশ দেননি বলে দাবি করেন।প্রধানমন্ত্রী ঘানৌছি জানিয়েছেন, লন্ডন-প্রবাসী তিউনিসিয়ার ইসলামপন্থী দলের নেতা রশিদ ঘানৌছিকে ক্ষমার ঘোষণা দেওয়া পর্যন্ত তিনি দেশে ফিরতে পারবেন না। ১৯৯১ সালে রশিদ ঘানৌছিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।এদিকে বাণিজ্য ও উন্নয়নের বিষয়ে আলোচনার জন্য মিসরের শারম আল শেখ অবকাশ যাপনকেন্দ্রে আজ বুধবার শুরু হচ্ছে আরব লিগের অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোর সম্মেলন। তবে বাণিজ্যিক আলোচনাকে ছাপিয়ে ওই সম্মেলনের আলোচনায় চলে আসবে তিউনিসিয়ার সংকটের বিষয়।সম্মেলনের প্রস্তুতি উপলক্ষে গতকাল পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের এক সভায় কুয়েতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ আল-সাবাহ বলেন, ‘আরব দেশগুলোকে আজ আনাকাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক ঘটনার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।’

চলতি সপ্তাহেই ভারতের মন্ত্রিসভায় রদবদল

ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রতিভা পাতিলের সঙ্গে গত সোমবার নয়াদিল্লিতে বৈঠকে করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং। তাঁদের ওই বৈঠকের পর এই ইঙ্গিত আরও জোরালো হয়ে উঠছে যে চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভায় রদবদল হতে যাচ্ছে।তবে অর্থ, স্বরাষ্ট্র, প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে কোনো পরিবর্তন আসছে না বলে ধারণা করা হচ্ছে। মন্ত্রিসভায় নতুন মুখ অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন বলেও আভাষ পাওয়া যাচ্ছে।
সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী নতুন দল নিয়ে নতুন বছরের কর্মকাণ্ড শুরু করতে চান। মন্ত্রিসভার যেসব সদস্য দক্ষতা দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন, তাঁদের সরিয়ে দেওয়া হতে পারে—এ নিয়েও কথাবার্তা চলছে রাজনৈতিক অঙ্গনে।কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী মন্ত্রিসভায় রদবদলের পরিকল্পনার খুঁটিনাটি নিয়ে গত সপ্তাহে দুবারেরও বেশি বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের সঙ্গে। ২০০৯ সালের মে মাসে সংযুক্ত প্রগতিশীল মোর্চা (ইউপিএ) ক্ষমতায় আসার পর এই প্রথমবারের মতো মন্ত্রিসভায় রদবদল হতে যাচ্ছে।ডিএমকের এ রাজা, শশী থারুর ও কংগ্রেসের পৃথ্বীরাজ চাভানের বিদায়ের পর সৃষ্ট শূন্যতা এবং অনেক মন্ত্রীর ওপর অতিরিক্ত দায়িত্বের বোঝা লাঘবের জন্য মন্ত্রিসভায় রদবদলের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।শরদ পাওয়ার ও কপিল সিবাল একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন। তাঁদের দায়িত্বের বোঝা কমানো হতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। পাওয়ার বর্তমানে কৃষি, খাদ্য ও ভোক্তাবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আছেন। এর আগে তিনি বলেছেন, তিনি কিছু দায়িত্ব ছেড়ে দিতে চান। গুজব শোনা যাচ্ছে, আইনমন্ত্রী বীরাপ্পা মোইলিকে মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। আর বর্তমান সংখ্যালঘুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী সালমান খুরশিদকে দেওয়া হতে পারে আইন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। আরও গুজব রয়েছে, কংগ্রেসের মুখপাত্র মনীষ তিওয়ারিকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে।রাজার বিদায়ের পর টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়া কপিল সিবাল মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব ফিরে পেতে আগ্রহী বলে শোনা যাচ্ছে, যাতে তিনি শিক্ষা খাতে শুরু করা সংস্কার অব্যাহত রাখতে পারেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী তাঁকে আরও কিছু সময় টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রাখতে চান বলে আভাষ পাওয়া যাচ্ছে।মন্ত্রিসভায় রাজার জায়গায় নতুন নাম প্রস্তাব করতে পারে জোটসঙ্গী ডিএমকে। আলোচনায় রয়েছে সাবেক মন্ত্রী টি আর বালুর নাম। তবে টি আর বালুর অতীতের দক্ষতায় তেমন সন্তুষ্ট নন প্রধানমন্ত্রী। কয়েক দিন আগে সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে দেখা করেছেন বালু।তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রতিমন্ত্রী করা হতে পারে। আর স্বাস্থ্যমন্ত্রী গোলাম নবী আজাদকে দলীয় কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হওয়ার জন্য বলা হতে পারে।

রেকর্ডসংখ্যক জাহাজ আটক

২০১০ সালে রেকর্ডসংখ্যক জাহাজ আটক ও নাবিককে অপহরণ করেছে সোমালিয়ার জলদস্যুরা। এর মধ্যে আটজন নাবিককে হত্যা করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সমুদ্র-সম্পর্কিত পর্যবেক্ষক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ম্যারিটাইম ব্যুরো (আইএমবি) এ কথা জানায়। গত বছর জলদস্যুরা ৫৩টি জাহাজ ছিনতাই এবং এক হাজার ১৮১ নাবিককে আটক করে। এ ঘটনার ৯২ শতাংশই ঘটে সোমালিয়ার উপকূলে। এর মধ্যে গত ডিসেম্বর পর্যন্ত চাঁদার দাবিতে ছিনতাই করা ২৮টি জাহাজ এবং অপহরণ করা ৬৩৮ জন নাবিক আটক ছিল।

দুভালিয়েরকে বিচারের আওতায় আনা যাবে

হাইতির প্রধানমন্ত্রী জাঁ ম্যাক্স বেলিরিভ গত সোমবার বলেছেন যে সম্প্রতি দেশে ফেরত আসা সাবেক স্বৈরশাসক জাঁ ক্লদ দুভালিয়েরের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হলে তাঁকে বিচারের আওতায় আনা যাবে।
বেলিরিভ জানান, ‘হাইতির সংবিধানে নির্বাসন নিষিদ্ধ। সব নাগরিক তাঁদের দেশে ফিরে আসতে পারে।’ তিনি বলেন, ‘যদি দুভালিয়েরের ব্যাপারে বিচার বিভাগের কাজ শুরু হয়, তাহলে আইন অনুযায়ী কার্যক্রম চলবে।’
২৫ বছর নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে গত রোববার দেশে ফিরেছেন দুভালিয়ের। নভেম্বরে প্রেসিডেন্ট ও আইন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে সৃষ্ট রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার মধ্যে তিনি দেশে ফিরলেন। এ অবস্থায় দেশটির পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। গণতন্ত্রপন্থীদের প্রবল বিক্ষোভের মুখে ১৯৮৬ সালে ক্ষমতাচ্যুত হন এবং দেশ ত্যাগ করেন দুভালিয়ের।

দেড় টন সোনা নিয়ে গেছেন লায়লা

প্রচণ্ড বিক্ষোভের মুখে দেশ ছেড়ে পালানোর সময়ও তিনি ছাড়তে পারেননি প্রাচুর্যের মোহ। তাই সঙ্গে নিয়ে গেছেন দেড় টন সোনা। যার মূল্য সাড়ে ছয় কোটি ডলার। এই ব্যক্তিটি হলেন তিউনিসিয়ার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট জয়নুল আবেদিন বেন আলীর স্ত্রী লায়লা তরাবেলসি। গত সোমবার তিউনিসিয়ার বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ মোনসেফ শিখরোহো এ খবর ফাঁস করেছেন। সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, গত সপ্তাহে বেন আলীর সরকারের পতনের আগে তিউনিসিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে লায়লা তাঁর গচ্ছিত ওই সোনা তুলে নেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শীর্ষ পর্যায়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, শুরুতে এই সোনা দিতে না চাইলেও পরে বেন আলীর চাপে তিনি দিতে বাধ্য হন। বেন আলী ও লায়লা এখন সৌদি আরবে রাজনৈতিক আশ্রয়ে আছেন। আড়ম্বরপূর্ণ বিলাসী জীবনযাপনের কারণে লায়লা ‘আরব বিশ্বের ইমেলদা মার্কোস’ নামে পরিচিত। একসময় তিনি কেশবিন্যাসকারীর কাজ করতেন। একপর্যায়ে বেন আলী তাঁর প্রেমে পড়েন ও বিয়ে করেন।
বেন আলী প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর ক্রমে বিলাসী জীবনযাপনে অভ্যস্ত হয়ে পড়েন লায়লা। বিশ্বের সবচেয়ে দামি আর দ্রুতগতিসম্পন্ন গাড়ির প্রতি দুর্বলতা রয়েছে তাঁর। প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে তাঁর এমন ৫০টি গাড়ি ছিল। প্রায়ই তিনি প্যারিস বা দুবাইয়ের মতো জমকালো শহরে কেনাকাটা করতে যেতেন। এতে ব্যয় হতো লাখ লাখ ডলার।
রাজধানী তিউনিসের বাসিন্দা মানতাসির বিন মাবরুক বলেছেন, ‘বেন আলীর পরিবারের সদস্যরা চোর-বাটপার—এমনকি খুনি। তাঁদের একটাই লক্ষ্য—লুটেপুটে অর্থের পাহাড় গড়তে হবে।

বহু যৌনকর্মীর সঙ্গে সম্পর্ক ছিল বেরলুসকোনির

ইতালির প্রধানমন্ত্রী সিলভিও বেরলুসকোনির সঙ্গে ‘উল্লেখযোগ্য সংখ্যক’ যৌনকর্মীর সম্পর্ক ছিল। বিপুল পরিমাণ অর্থের বিনিময়ে তিনি এসব যৌনকর্মীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন। এমনকি কোনো কোনো যৌনকর্মীর ফ্ল্যাটের খরচও বহন করেন।অপ্রাপ্তবয়স্ক নর্তকী-যৌনকর্মী কারিমা ইল মাহরুগের সঙ্গে বেরলুসকোনির সম্পর্কের বিষয়টি তদন্তকারী আইনজীবীরা এসব তথ্য জানিয়েছেন। দেশটির পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের ওয়েবসাইটে গত সোমবার এসব তথ্য ফাঁস করা হয়। তবে বেরলুসকোনি বরাবরের মতো এবারও এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
আইনজীবীরা জানান, বেরলুসকোনির সাবেক দন্ত চিকিৎসক নিকোল মিনেত্তি যৌনকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করতেন। তিনিই বেরলুসকোনির জন্য অপ্রাপ্তবয়স্ক যৌনকর্মীদের ব্যবস্থা করে দিতেন। তবে নিকোল মিনেত্তি অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। আইনজীবীরা বলেন, ইতালিতে পতিতাবৃত্তি অন্যায় নয়। তবে অর্থের বিনিময়ে অথবা অন্য কোনো উপায়ে অপ্রাপ্তবয়স্ক যৌনকর্মীদের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনও আইনসংগত নয়। ১৮ বছরের নিচে যৌনকর্মীদের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করা অপরাধ। অথচ বেরলুসকোনি সত্তরের দশকে সেই কাজটিই করেছেন।
সম্প্রতি দ্বিতীয় স্ত্রী ভেরোনিকা লারিওর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের পর বেরলুসকোনিকে নিয়ে একের পর এক যৌন কেলেঙ্কারির খবর বের হচ্ছে। তবে বেরলুসকোনি প্রতিটি ক্ষেত্রেই বলেছেন, তিনি কোনো অন্যায় করেননি।

পানি বাড়লেও ডুববে না সেই হোটেল!

বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির প্রভাবে সাগরপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে তলিয়ে যাবে বিশ্বের অনেক নিম্নাঞ্চল। ডুবে যাবে অনেক বিখ্যাত স্থাপনা। কিন্তু সে রকম পরিস্থিতিতে ‘আর্ক হোটেল’ ডুববে না, ভাসবে। রক্ষা পাবে এর ভেতরে অবস্থান করা মানুষ ও গাছপালা। এই দাবি করেছেন ওই হোটেলের নকশা তৈরি করা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা।
রাশিয়ার প্রতিষ্ঠান রেমিস্টুডিও এই আর্ক হোটেলের নকশা করেছে। স্থপতিদের আন্তর্জাতিক সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন অব আর্কিটেক্টসের আর্কিটেকচার ফর ডিজাস্টার রিলিফ কর্মসূচির সহায়তায় এই হোটেলটির নকশা করেছে তারা।
রেমিস্টুডিওর কর্মকর্তা আলেকসান্দর রেমিজভ বলেন, ‘স্থাপনা নির্মাণের ক্ষেত্রে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বিবেচনায় রাখতে হয়। প্রথমত. নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন ও চরমভাবাপন্ন আবহাওয়া থেকে রক্ষা পাওয়ার সতর্কতামূলক ব্যবস্থা। দ্বিতীয়ত. মানুষের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের প্রভাব থেকে নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা। এসব কথা মাথায় রেখে আর্ক হোটেলের নকশা করা হয়েছে।’
জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সঙ্গে টক্কর দিতে সক্ষম হোটেলটি হবে ভাসমান জীবমণ্ডল। প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তাদের দাবি, পানি যতই বাড়ুক, হোটেলের স্থাপনা কখনো ডুববে না। এটি হবে যেন কল্পবিজ্ঞান ছবির কোনো ভাসমানবলয়।
হোটেলের পুরো স্থাপনাটি থাকবে স্বচ্ছ কাচের আবরণে মোড়ানো। ভেতরে যারা থাকবে, তাদের জন্য নিরাপদ আশ্রয় হবে এটি। তাদের খাবারের চাহিদা মেটাবে স্থানীয়ভাবে চাষ করা শাকসবজি। সৌরশক্তি ও বৃষ্টির পানির মাধ্যমে হোটেলের বাসিন্দাদের জ্বালানি ও পানির চাহিদা মেটানোর ব্যবস্থা থাকবে। চারপাশে স্বচ্ছ আবরণ থাকায় আলোর সমস্যা হবে না। হোটেলের বাসিন্দাদের অক্সিজেনের চাহিদা মেটাতে প্রয়োজনীয় গাছপালা থাকবে। পানি ও সূর্যালোক রসদ জোগাবে এসব গাছাপালার।

হারিরি হত্যাকাণ্ডের অভিযোগপত্র দাখিল

লেবানন সম্পর্কিত জাতিসংঘের বিশেষ ট্রাইব্যুনালের কৌঁসুলি গত সোমবার সাবেক প্রধানমন্ত্রী রফিক হারিরি হত্যাকাণ্ডের অভিযোগপত্র দাখিল করেছেন। অভিযোগপত্র দাখিলের এ ঘটনাকে স্বাগত জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা।
কৌঁসুলি ড্যানিয়েল বেলেমার দীর্ঘ তদন্ত শেষে বহু কাঙ্ক্ষিত হারিরি হত্যাকাণ্ডের অভিযোগপত্র দাখিল করেছেন। এ অভিযোগপত্রে হারিরি হত্যাকাণ্ডের জন্য হিজবুল্লাহ জঙ্গি গোষ্ঠীকে দায়ী করা হয়েছে বলে গুজব ছড়িয়ে পড়েছে। ছয় বছর আগে ২০০৫ সালে এক ভয়াবহ গাড়ি বোমা বিস্ফোরণে হারিরিসহ ২৩ জন নিহত হন।
জাতিসংঘ সমর্থিত ট্রাইব্যুনাল (এসটিএল) এক বিবৃতিতে জানায়, ট্রাইব্যুনালের কৌঁসুলি বিচারকের কাছে অভিযোগপত্র ও সহায়ক সাক্ষ্য প্রমাণ দাখিল করেছেন। বিবৃতিতে বলা হয়, অভিযোগপত্র খুবই গোপন রাখা হয়েছে। অভিযোগপত্রে নাম থাকার আশঙ্কায় হিজবুল্লাহ গত রোববার সতর্কবাণী করেন যে তারা এই হীন প্রচেষ্টা ‘প্রতিহত’ করবে।
বারাক ওবামা দুর্বৃত্তদের বিচারের আওতায় আনতে অভিযোগপত্র দাখিলের ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে স্বাগত জানান। তিনি এক বিবৃতিতে বলেন, লেবাননে হত্যাকারীদের শাস্তি প্রদান ও জনগণের সুবিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে এই অভিযোগপত্র দাখিল গুরুত্বপূর্ণ পদপেক্ষ।
লেবাননের প্রেসিডেন্ট গত সোমবার নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন-সম্পর্কিত বৈঠক স্থগিত করেছেন। অন্যদিকে আঞ্চলিক নেতারা লেবাননের চলমান সংকট নিরসনে সিরিয়া ও সৌদি আরবের মধ্যস্থতার প্রচেষ্টায় তাদের জোরালো সমর্থন দিয়েছে।

উইকিলিকসের কাছে ধনীদের ব্যাংক হিসাবের তথ্য

সুইস ব্যাংকের দুই হাজার গোপন ব্যাংক হিসাবের তথ্য গত সোমবার উইকিলিকসের কাছে হস্তান্তর করেছেন সুইস ব্যাংকের সাবেক একজন কর্মকর্তা। ব্যাংক হিসাবগুলো এশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনসহ বিভিন্ন দেশের ব্যক্তিবিশেষ ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের। এখন এসব তথ্য জনসন্মুখে প্রকাশ করবে উইকিলিকস।ওই তালিকায় কোনো ভারতীয় ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম রয়েছে কি না, এ সম্পর্কে এখন পর্যন্ত কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। দুটি ডিস্কে করে উইকিলিকসের কাছে এসব তথ্য সরবরাহ করা হয়েছে। উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ বলেছেন, এসব তথ্য ভবিষ্যতে প্রকাশ করা হবে।সুইস-ভিত্তিক ব্যাংক জুলিয়াস বায়ের-এর সাবেক ব্যাংকার রুডলফ এলমার বলেন, ব্যাংকে যাঁদের হিসাব (একাউন্ট হোল্ডার) রয়েছে, তাঁদের মধ্যে প্রসিদ্ধ ব্যক্তি, ব্যবসায়ী নেতা ও আইনপ্রণেতারাও রয়েছেন।অ্যাসাঞ্জ বলেন, ব্যবসায়ী নেতা, ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান ও আইনপ্রণেতাদের কর ফাঁকি দেওয়ার এই প্রচেষ্টার বিষয়টি তিনি উদ্ঘাটন করবেন।অ্যাসাঞ্জ বলেন, তাঁরা অন্য সব তথ্য পাওয়ার পর যে ব্যবস্থা নিয়েছেন, এই তথ্যগুলোর ব্যাপারেও একই ব্যবস্থা নেবেন। তিনি বলেন, তথ্যগুলো সম্পূর্ণ প্রকাশ করা হবে।সুইস সংবাদপত্র ডের সোনটাগ-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই তথ্যে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানিসহ বিভিন্ন দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও ধনী ব্যক্তিদের ব্যাংক হিসাব সম্পর্কে বর্ণনা রয়েছে। আর এই তথ্যগুলো ১৯৯০ সাল থেকে ২০০৯ সালের মধ্যকার।এলমার অবজারভার পত্রিকাকে বলেন, এই বিষয়ে তিনি পুরোপুরি নিশ্চিত, ব্যাংকগুলো জানে, কর ফাঁকি দেওয়ার জন্যই এসব অর্থ গোপন করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও চীনকে স্নায়ুযুদ্ধের মানসিকতা ত্যাগ করতে হবে

চীনের প্রেসিডেন্ট হু জিনতাও বলেছেন, স্নায়ুযুদ্ধের মানসিকতার কারণে চীন ও যুক্তরাষ্ট্র দুই দেশেরই ক্ষতি হচ্ছে। এই মানসিকতা ত্যাগ করে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার করলে উভয় দেশই লাভবান হবে। চার দিনের যুক্তরাষ্ট্র সফর শুরুর প্রাক্কালে তিনি এ কথা বলেছেন।
দীর্ঘ প্রতীক্ষিত সফরে গতকাল মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা হন প্রেসিডেন্ট জিনতাও। এর আগে বেইজিংয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘দুই দেশের মধ্যে সুসম্পর্ক থাকলে আমরা লাভবান হব এবং বিরোধিতায় ক্ষতিগ্রস্ত হব। কাজেই, প্রথমত আমাদের আলোচনা-সংলাপ বাড়াতে হবে এবং এর মধ্য দিয়ে কৌশলগত পারস্পরিক আস্থা জোরদার করতে হবে। দ্বিতীয়ত, আমাদের স্নায়ুযুদ্ধের মানসিকতা ত্যাগ করতে হবে এবং একে অপরের উন্নতিকে বস্তুনিষ্ঠতা ও যৌক্তিকতার নিরিখে বিবেচনা করতে হবে।’
গতকাল রাতেই জিনতাওয়ের সম্মানে হোয়াইট হাউসে নৈশভোজের আয়োজন করার কথা প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার। ওই নৈশভোজে দুই দেশের শীর্ষ কর্মকর্তাদেরও উপস্থিত থাকার কথা।
আজ বুধবার ওবামা-জিনতাও বৈঠক হবে ওভাল অফিসে। এ ছাড়া সেখানে রাষ্ট্রীয় নৈশভোজের আয়োজন করা হয়েছে। এরপর শিকাগো যাবেন জিনতাও। সেখানে বৈঠক করবেন ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে। আগামী শুক্রবার শেষ হবে তাঁর চার দিনের যুক্তরাষ্ট্র সফর।
যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে জিনতাওয়ের বেইজিং ত্যাগের পর চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হং লেই বলেন, ‘এটা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটা সফর। এ সফরের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে ইতিবাচক ও সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্কের বিকাশ ঘটবে। নতুন যুগে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নতুন পথে মোড় নেবে এবং সহযোগিতার নতুন মাত্রা বৃদ্ধি পাবে।’
অপ্রকাশিত সূত্রের বরাত দিয়ে চীনা গণমাধ্যম গতকাল জানিয়েছে, জিনতাওয়ের যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময় চীনের কাছে বোয়িং কোম্পানির বিমান বিক্রিসহ দুই দেশের মধ্যে অনেকগুলো চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে। এ ছাড়া দ্রুত গতির রেলপথ তৈরিতে যুক্তরাষ্ট্রকে চীনের সহযোগিতার বিষয়েও একটি চুক্তি হতে পারে বলে জানিয়েছে চায়না ডেইলি। গত সেপ্টেম্বরে চীন সফরের সময় যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের গভর্নর আর্নল্ড শোয়ার্জেনেগার জানান, তাঁর রাজ্যে ভবিষ্যতে দ্রুতগতির রেলের অবকাঠামো তৈরিতে চীন বিনিয়োগ করবে বলে তিনি আশা করছেন।
জিনতাওয়ের সফর শুরুর এক দিন আগে গত সোমবার কয়েকটি মার্কিন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রায় ৬০ কোটি মার্কিন ডলারের চুক্তি করেছে চীন। এ ছাড়া গতকাল সরকারিভাবে জানানো হয়, আরও চুক্তির চেষ্টা চলছে। চীনের কোনো শীর্ষ নেতার বিদেশ সফরের আগে ওই দেশের সঙ্গে কিছু চুক্তি করে চীন। তারা আশা করে, এর মাধ্যমে সফরের সময় আলোচনায় একটি ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
চায়না ডেইলি জানিয়েছে, ওবামা ক্ষমতা নেওয়ার পর গত দুই বছরে যুক্তরাষ্ট্রে এটাই জিনতাওয়ের প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর। যদিও দুই বছরে দুই নেতার মধ্যে এটা অষ্টম বৈঠক। এই বৈঠকে দুই নেতার আলোচনা তাইওয়ানের কাছে মার্কিন অস্ত্র বিক্রি, চীন-মার্কিন বাণিজ্যিক বৈষম্য, কোরিয়া উপদ্বীপসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক সমস্যা এবং বিশ্ব আর্থিক মন্দাবস্থা ও জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।

ক্যালিস আছেন, চমক ইমরান তাহির

শেষ পর্যন্ত ক্যালিস থাকছেন দক্ষিণ আফ্রিকার বিশ্বকাপ দলে। ইনজুরির কারণে তাঁকে নিয়ে যে অনিশ্চয়তা দেখা গিয়েছিল, তা কাটিয়ে তিনি তাঁর চতুর্থ বিশ্বকাপটি খেলবেন। ভারতের বিপক্ষে সদ্য সমাপ্ত টেস্ট সিরিজে অসামান্য পারফরম্যান্সের পরপরই তিনি ইনজুরিতে পড়ে প্রোটিয়াদের শঙ্কায় ফেলেছিলেন। ভারতের বিপক্ষে চলমান ওয়ানডে সিরিজ মিস করায় সেই শঙ্কা আরো বেড়েছিল। তবে দক্ষিণ আফ্রিকার নির্বাচকেরা শেষ পর্যন্ত আস্থা রাখছেন তাঁর ওপর। অনেক ম্যাচজয়ী ইনিংসের স্রষ্টা ক্যালিসকে নিয়েই ঘোষিত হয়েছে ‘স্প্রিংবক’দের বিশ্বকাপ স্কোয়াড।
ইনজুরি আক্রান্ত ক্যালিস বিশ্বকাপের আগেই সুস্থ হয়ে উঠবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন দক্ষিণ আফ্রিকা দলের চিকিত্সক ডা. মোহামেদ মোসাজি। গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে ক্যালিসের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে তিনি বলেছেন, ‘জ্যাক এখন চিকিত্সাধীন আছে। তার পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠতে ধীরে ধীরে কাজ করতে হবে। তবে আমি আত্মবিশ্বাসী যে, বিশ্বকাপের আগেই সে মাঠে নামার জন্য প্রস্তুত হয়ে উঠবে।’
দক্ষিণ আফ্রিকার বিশ্বকাপ দলে সবচেয়ে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে অভিজ্ঞ উইকেটরক্ষক মার্ক বাউচারের বাদ পড়ার বিষয়টি। বাউচার সীমিত ওভারের শেষ ম্যাচটি খেলেছিলেন গত জুনে। তারপরও সবাই অনুমান করেছিলেন যে, বিশ্বকাপ দলের জন্য তাঁর মতো অভিজ্ঞ উইকেটরক্ষককে হয়তো বাদ দেবেন না দক্ষিণ আফ্রিকান নির্বাচকরা। কিন্তু শেষপর্যন্ত সবাইকে বিস্মিত করে দিয়ে উইকেটরক্ষক হিসেবে দলে জায়গা পেয়েছেন মর্নে ভন উইক। দুই সপ্তাহ আগেই তিনি টি-টোয়েন্টিতে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে দ্রুততম অর্ধশতক করেছেন। এই মারকুটে ব্যাটিংয়ের জন্যই তিনি দলে অগ্রাধিকার পেয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত লেগ স্পিনার ইমরান তাহিরের নাম ঘোষিত হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার চূড়ান্ত এই দলে। যদিও তাঁর ঝুলিতে এখন পর্যন্ত সীমিত ওভারের কোন ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা নেই। ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজেও তিনি মাঠে নামেন নি। তবে উপমহাদেশের স্পিনার-বান্ধব কন্ডিশনে তিনি বেশ ভালো করতে পারবেন বলেই আশা করছেন নির্বাচকরা। দক্ষিণ আফ্রিকার নির্বাচক কমিটির আহ্বায়ক অ্যান্ড্রু হাডসন বলেছেন, ‘তাহির খুবই মেধাবী একজন ক্রিকেটার। দক্ষিণ আফ্রিকার কন্ডিশনে দুইজন স্পিনার খেলানোটা খুবই কঠিন, সেজন্যই তাকে মাঠে নামানো হয় নি। কিন্তু আশা করছি বিশ্বকাপে সে ভালো করবে।’
দক্ষিণ আফ্রিকা দল: গ্রায়েম স্মিথ (অধিনায়ক), হাশিম আমলা, জ্যাক ক্যালিস, এবি ডি ভিলিয়ার্স, জেপি ডুমিনি, ফাফ দু প্লেসিস, কলিন ইনগ্রাম, জোহান বোথা, ওয়েন পার্নেল, ডেল স্ট্রেইন, মরনে মরকেল, রবিন পিটারসন, ইমরান তাহির, লনওয়াবো তোতসবে, মরনে ভন উইক।

ওয়েলিংটন টেস্ট ড্র, সিরিজ পাকিস্তানের

পাকিস্তান-নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার দ্বিতীয় টেস্টটাকে দুই অধিনায়কের লড়াই বললে খুব একটা ভুল হবে না। পাকিস্তানের অধিনায়ক মিসবাহ-উল হক প্রথম ইনিংসে মাত্র এক রানের জন্য মিস করেছেন ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরি। দ্বিতীয় ইনিংসে খেলেছেন হার না মানা ৭০ রানের একটি ধৈর্যশীল ইনিংস। অন্যদিকে কিউই দলপতি ভেট্টরি দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র এক রানেই আউট হয়ে গেলেও প্রথম ইনিংসে খেলেছেন ১১০ রানের চমত্কার একটি ম্যাচ বাঁচানো ইনিংস। বল হাতেও দুই ইনিংস মিলিয়ে নিয়েছেন পাঁচটি উইকেট। আর পুরো টেস্ট জুড়েই বোলার ভেট্টরি ও ব্যাটসম্যান মিসবাহর লড়াইটা ছিল উপভোগ করার মতো। শেষ পর্যন্ত দুই অধিনায়কের এই লড়াইয়ে মিসবাহই হেসেছেন শেষ হাসি। ওয়েলিংটনে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টটা অমীমাংসিতভাবে শেষ হলেও প্রথম টেস্টে ১০ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে জয়ের সুবাদে ১-০-তে সিরিজ জিতে নিয়েছে মিসবাহর পাকিস্তান।২৭৪ রানের টার্গেট নিয়ে আজ টেস্টের পঞ্চম দিনে ব্যাট করতে নেমেছিল পাকিস্তান। আরেকটু দ্রুতগতিতে ব্যাট করলে হয়তো জয়টা পেয়েও যেতে পারত তারা। কিন্তু সিরিজ জয় নিশ্চিত দেখেই হয়তো কোনো ঝুঁকি নিতে চায়নি পাকিস্তান। শেষ পর্যন্ত ২২৬ রান সংগ্রহ করেই মাঠ ছেড়েছেন পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানরা। জয় থেকে তখন তারা মাত্র ৪৮ রান দূরে ছিল। আজ পঞ্চম দিনের শুরুটা অবশ্য সুখকর হয়নি পাকিস্তানের। ১৩ ওভারের মধ্যে মাত্র ৪২ রানেই তারা হারিয়েছিল তিনটি উইকেট। ওপেনার তৌফিক উমর, সোউদির বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফিরে গেছেন রানের খাতা না খুলেই। আরেক ওপেনার মোহাম্মদ হাফিজ (৩২) ও আজহার আলীকে (১০) ফিরিয়েছেন মার্টিন। এরপর চতুর্থ উইকেট জুটিতে ১১৮ রানের পার্টনারশিপ গড়ে সেই ধাক্কা সামাল দেন মিসবাহ ও ইউনুস খান। ৮১ রান করে সোউদির বলে উইকেটের পেছনে ধরা পড়েন ইউনুস। মিসবাহ এবার জুটি বাঁধেন আসাদ শফিকের সঙ্গে। দীর্ঘক্ষণ উইকেটে থেকে এই জুটি পাকিস্তান স্কোরবোর্ডে যোগ করেন ৫৫ রান। ২৪ রান করে শফিক সাজঘরে ফিরে গেলেও শেষ পর্যন্ত ৭০ রান করে অপরাজিত ছিলেন মিসবাহ। ৭০ রানের এই ইনিংসটিতে তিনি খেলেছেন ২২৬ বল!
সংক্ষিপ্ত স্কোর
নিউজিল্যান্ড (প্রথম ইনিংস)- ৩৫৬; ভেট্টরি ১১০
পাকিস্তান (প্রথম ইনিংস)- ৩৭৬; মিসবাহ উল হক ৯৯
নিউজিল্যান্ড (দ্বিতীয় ইনিংস)- ২৯৩; গুপ্তিল ৭৩
পাকিস্তান (দ্বিতীয় ইনিংস)- ২২৬/৫
ইউনুস খান ৮১, মিসবাহ উল হক ৭০*
ক্রিস মার্টিন ২৪-৬-৬৩-২, টিম সোউদি- ১৫-২-৪৯-২

আনল বয়ে কোন বারতা! by আবেদ খান

টেন্‌টট্ বলে একটা পাখি আছে। সে চিৎ হয়ে পা আকাশের দিকে তুলে ঘুমোয়। এ নিয়ে প্রচলিত গল্পটি হচ্ছে-পাখিটি ভাবে, ঘুমিয়ে পড়ার সময় যদি আকাশ ভেঙে পড়ে তাহলে সে পা দিয়ে সেই পতন ঠেকাতে পারবে এবং নিজেও বেঁচে যেতে পারবে। এই হটেন্‌টট্ পাখির কথা মনে পড়ল সরকারি দলের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির কথা ভেবে। মনে হয়, এখন সময় এসেছে পুরো পরিস্থিতি নিয়ে গভীরভাবে ভাবনাচিন্তা

ফেলানীর মৃত্যুতে পশ্চিমবঙ্গ- নিজ ভূমেই প্রশ্নবিদ্ধ ভারতের মানবিক চেহারা

পূর্ব ভারতের অন্যতম শীর্ষ স্থানীয় সংস্থা মানবাধিকার সুরক্ষা মঞ্চ (মাসুম) মনে করে, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) বিরুদ্ধে আইনি প্রয়োগ না হওয়ায় সীমান্তে তাদের অত্যাচার দিন দিন বেড়ে চলেছে। আর এ জন্য ভারতের দুর্বল আইন ব্যবস্থা, দুর্নীতিগ্রস্ত প্রশাসন, রাজনৈতিক সদিচ্ছাকেই মূলত দায়ী করছে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর হাতে মানবাধিকার লঙ্ঘিত ইস্যুতে দীর্ঘ দিনের কাজের অভিজ্ঞতায় অভিজ্ঞ ওই সংস্থাটি।