Showing posts with label ফূটবল খেলা. Show all posts
Showing posts with label ফূটবল খেলা. Show all posts

Thursday, February 25, 2016

বেকহাম যেন বারাক ওবামা

বেলারুশের বিপক্ষে মাত্র ত্রিশ মিনিট খেলেছেন। গোলটোলও করেননি। অথচ ম্যান অব দ্য ম্যাচ কি না ডেভিড বেকহাম! ইংল্যান্ড দলের ইতালীয় কোচ ফ্যাবিও ক্যাপেলো জানালেন, তিনিও এতে বিস্মিত। পরে বেকহামের এই পুরস্কার জয়ের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার নোবেল পুরস্কার পাওয়ারও একটা মিল খুঁজে পেলেন, ‘৩০ মিনিট খেলেই? ওবামা যেমন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ৯ মাস দায়িত্ব পালন করেই নোবেল পুরস্কার পেলেন, এটা যেন ঠিক তা-ই।’ বেকহাম জানিয়েছেন তিনি নিজেও এই পুরস্কার পেয়ে একটু ‘বিব্রত’। তবে ওটুকু সময়েও বেকহাম ভালোই বুঝিয়েছেন তাঁর উপস্থিতি। মাঠে নামার এক মিনিট পরই কর্নার গোলমুখে না মেরে শর্ট কর্নার নিয়েছিলেন বেকহাম, আর সেটিই হয়েছে ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় গোলের উত্স। ম্যাচের শেষ দিকে বেকহামের একটা শট পোস্টে লেগেও ফিরেছে। প্রত্যুত্পন্নমতি এই ডেভিড বেকহামকে পছন্দ ক্যাপেলোর, ‘ডেভিড বেকহাম ৫, ১০, ১৫ মিনিটই খেলুক বা খেলুক ম্যাচের অর্ধেকটা, সব সময়ই দারুণ একাগ্রতা নিয়ে সে খেলে। অনেক খেলোয়াড়ের জন্যই এটা কঠিন, কিন্তু বেকহাম এটা খুব ভালোভাবেই পারে।’ এ কথায় বিশ্বকাপের দলে বেকহামকে নেওয়ার ইঙ্গিতটা দিয়েই দিয়েছেন ক্যাপেলো। সেটিকে আরও নিশ্চিত করতে আগামী নভেম্বরে এসি মিলানে ফেরাটাও একরকম নিশ্চিত। বেকহামই তো ফিরবেন, নাকি ‘বারাক ওবামা’? ক্যাপেলোর এই মন্তব্যের পর সতীর্থরা না বেকহামকে ‘ওবামা’ বলে ডাকতে শুরু করেন!

Wednesday, August 31, 2011

আর্সেনালের দুঃস্বপ্নের রাত

বিস্ময়—ইংল্যান্ডের ফুটবল আকাশে উড়ছে এই একটি শব্দ। আর্সেনাল হতভম্ব-বিস্মিত ৮ গোল খেয়ে। আর্সেনালকে ৮ গোল দেওয়ার বিস্ময় ম্যানইউ শিবিরে। আর ফুটবল অনুরাগীরা বিস্মিত ১০ গোলের অপ্রত্যাশিত এক ম্যাচ দেখে।
আর্সেনাল ম্যানইউর কাছে ২-৮ গোলে হারবে, পরশু ওল্ড ট্রাফোর্ডে ম্যাচ শুরুর আগে কেউ হয়তো স্বপ্নেও ভাবেনি। ম্যানইউ কোচ অ্যালেক্স ফার্গুসন ম্যাচ শেষে তাঁর বিস্ময় গোপন করেননি, ‘এটা সত্যিই এক বিস্ময়। কারণ, আপনি যখন আর্সেনালের বিপক্ষে খেলবেন তখন কঠিন এক ম্যাচই আশা করবেন।’ আর্সেনাল কোচ আর্সেন ওয়েঙ্গার আর কী বলবেন! স্তম্ভিত ওয়েঙ্গারের তাৎ ক্ষণিক প্রতিক্রিয়া ছিল এ রকম, ‘আপনি যখন ৮ গোল খাবেন, লজ্জা তো লাগবেই। আমাদের জন্য এটি ভয়াবহ এক দিন।’
ম্যাচের ২২ মিনিটে ফার্গুসনের তরুণ স্ট্রাইকার ড্যানি ওয়েলবেক যখন প্রথম গোল করেন, তখন অনুমানও করা যায়নি আর্সেনালের কপালে এমন দুর্ভোগ অপেক্ষা করছে। দুর্ভোগের শুরু মনে হয় এই গোলের খানিক পর থেকেই শুরু হয়েছে। ওয়েলবেকের গোল শোধ দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে ‘গানার’রা। কিন্তু অধিনায়ক রবিন ফন পার্সির পেনাল্টি ঠেকিয়ে দিয়েছেন ম্যানইউর গোলরক্ষক ডেভিড গি গিয়া। ৩-১ স্কোরলাইনে শেষ হওয়া প্রথমার্ধও বাকি ৪৫ মিনিটের নাটকের পূর্বাভাস দিতে ব্যর্থ। দ্বিতীয়ার্ধে ছয় গোল হয়েছে, পাঁচটিই করেছে ম্যানইউ। ম্যানইউয়ের বিপক্ষে এটি তো আর্সেনালের সবচেয়ে বড় পরাজয় বটেই, ১৮৯৬ সালের পরই এত বড় ব্যবধানে হারেনি ইংলিশ ফুটবলের অন্যতম পরাশক্তি।
অনেকেই আর্সেনালের এই দুরবস্থার কারণ হিসেবে দেখছেন সেস ফ্যাব্রিগাস আর সামির নাসরির বিদায়কে। আর্সেনাল কোচ অবশ্য বলছেন চোট আর দুর্বলতার কথা, ‘হীনশক্তির দল আর দুর্বলতার সমন্বয় ঘটেছে এখানে। দ্বিতীয়ার্ধে শারীরিকভাবেই ভেঙে পড়েছি আমরা। আজ (পরশু) তো আমাদের ৮ জন খেলোয়াড় বাইরে ছিল (চোট আর নিষেধাজ্ঞার কারণে)। ৮ জনকে বাইরে রেখে খেললে যেকোনো দলকেই এভাবে ভুগতে হবে।’ এই পরাজয় খেলোয়াড় কেনার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়তেও বলছে ওয়েঙ্গারকে, ‘ইংল্যান্ডে আপনি যখনই ম্যাচ হারবেন, খেলোয়াড় কেনাটাই সমাধান।’
খেলোয়াড় কেনার সময় ওয়েঙ্গার পাবেন কি না, এটাই এখন প্রশ্ন। ফ্যাব্রিগাস-নাসরির চলে যাওয়ার পর গানার সমর্থকেরা তাঁর এমিরেটসে থাকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। ১৫ বছরের আর্সেনাল-ক্যারিয়ারে সবচেয়ে বাজেভাবে হারার পর সমালোচনার তীর ধেয়ে আসছে আরও। ওয়েঙ্গার কি আর্সেনাল ছেড়েটেড়ে দেওয়ার কথা ভাবছেন? ‘না, একেবারেই না’—বলে দিয়েছেন ওয়েঙ্গার।
আর্সেনাল কোচ এই দুঃসময়ে পাশে পাচ্ছেন ম্যানইউ কোচ ফার্গুসন আর বার্সেলোনা কোচ পেপ গার্দিওলাকে। ফার্গুসনের কথা, ‘আমার মনে হয়, তাঁর দর্শন ও আর্সেনালের জন্য তিনি যা করেছেন, সেটি বিবেচনায় নিলে তাঁর সমালোচনা করাটা অন্যায় হবে।’ আর গার্দিওলা বলেছেন, ‘আমাদের মনে রাখতে হবে, ওয়েঙ্গার ফুটবলের জন্য, বিশেষ করে আর্সেনালের জন্য কী করেছেন। ম্যানচেস্টারের বিপক্ষে যা-ই হয়ে থাকুক, আর্সেনাল এখনো খুব ভালো দল। ফুটবলে এমন হয়। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে অনেক ভালো খেলোয়াড় আছে, যেখানে চোটের কারণে অনেক খেলোয়াড়ই ছিল না আর্সেনালে। ফুটবলে এমন অনেক ভালো ব্যাপার আছে, যা শুধু জয়-পরাজয় দিয়ে মাপা যায় না।

সীমান্তের ওপারেই আর্জেন্টিনা

মাত্র ১৭ জন অশ্বারোহী সৈন্যসহ ইখতিয়ারউদ্দিন মোহাম্মদ বিন বখতিয়ার খিলজি এসে বঙ্গ বিজয় করেছিলেন। সেটা ত্রয়োদশ শতাব্দীর কথা। প্রায় আট শ বছর পর এক আর্জেন্টাইন কাল বঙ্গ বিজয় অভিযানে এলেন ঠিক ১৭ জন সঙ্গী নিয়ে। পৌঁছে গেলেন সীমান্তের ওপারে, কলকাতায়। ইনি আলেজান্দ্রো সাবেলা। আজের্ন্টিনা ফুটবল দলের কোচ। না, বখতিয়ার খিলজির মতো আক্ষরিক অর্থেই রাজ্যজয়ের নেশা তাঁর নেই। নিজেদের বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের প্রাক-প্রস্তুতি যদিও মূল লক্ষ্য, তবু দুই বাংলার ফুটবল মানসও তিনি জিততে চাইবেন। আর্জেন্টাইন ফুটবলের সৌরভ কলকাতার পর ঢাকায়ও ছড়িয়ে দিতে চাইবেন ডিয়েগো ম্যারাডোনার উত্তরসূরি। মঞ্চটা একেবারেই সাজানো। আগামী শুক্রবার ভেনেজুয়েলার সঙ্গে প্রীতি ম্যাচ খেলে পরদিন সকালেই মেসিদের নিয়ে সাবেলা উড়ে আসবেন ঢাকায়। যেখানে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে ৬ সেপ্টেম্বর প্রীতি ম্যাচে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি নাইজেরিয়া—আফ্রিকার সুপার ইগলস।
এত দিন বাংলাদেশ শুধু ঘরে ঘরে আর্জেন্টিনার আকাশি-সাদা পতাকা উড়িয়েছে। ডিয়েগো ম্যারাডোনাকে মনের বেদিতে বসিয়ে ভালোবাসার ফুল দিয়ে এসেছে। মেসি-মেসি রবে চায়ের কাপে তুলেছে ঝড়। তবে এটি এখন আর ও রকম স্বপ্নে বা ফ্যান্টাসিতে আটকে থাকছে না। ম্যারাডোনার স্মৃতিধন্য, মেসির জাদুমণ্ডিত আর্জেন্টিনা ফুটবল দল সত্যি এসে যাচ্ছে বাংলাদেশে।
আগের দিন সবার আগে এসেছেন পাঁচজন, কোচসহ আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের ১৭ জনের কলকাতায় আসার খবর বাংলাদেশ কাল পেয়ে গেছে সাতসকালেই। মেসি-মাচেরানোসহ ১৭ জনের বাকি দলটি পৌঁছাবে আগামীকাল ও পরশু। কাল রাতে স্প্যানিশ লিগে ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে ম্যাচ খেলে বার্সেলোনার তারকা মেসি সতীর্থ মাচেরানোকে নিয়ে পৌঁছাবেন আগামীকাল।
ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) ভবনে বসে দুপুরে বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন যখন আর্জেন্টিনার অগ্রবর্তী দলের কলকাতায় পৌঁছানোর খবরটি আবার জানালেন, তাঁর মুখে একটা বিজয়ের হাসি ছিল। বিজয়ই তো, গৌরবময় বিজয়ের ঘোষণা। কে কবে ভেবেছে, এই ঢাকার মাঠে আর্জেন্টিনা দলের পদচিহ্ন পড়বে! ওই অসম্ভব ভাবনাটি এখন বাস্তব।
তবে সালাউদ্দিনের মুখে একটু মেঘমেদুর অনিশ্চয়তাও ছিল! আর্জেন্টিনার অনুশীলনের ব্যাপারটি চূড়ান্ত ছিল না। মেসিদের একটা উন্মুক্ত সেশন টিকিটের বিনিময়ে দর্শকদের উপহার দেওয়ার পরিকল্পনা করে রেখেছিল বাফুফে, ৪ সেপ্টেম্বর তাদের আনুষ্ঠানিক নৈশভোজটাও রাখা হয়েছিল চূড়ান্ত করে। কিন্তু ম্যাচের নিশ্চয়তা ছাড়া আর্জেন্টিনার আর কোনো কিছু নিয়েই আয়োজনের অনুঘটক কলকাতাভিত্তিক এজেন্ট সেলিব্রেটি ম্যানেজমেন্ট গ্রুপ জানাতে পারছিল না। উড়ো খবর ছিল, আর্জেন্টিনা ৫ সেপ্টেম্বর সকালে ঢাকায় এসে পরদিন ম্যাচ খেলেই ফিরে যাবে। কাল সন্ধ্যায় সালাউদ্দিন কলকাতায় সিএমজির সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হয়েছেন, আর কোনো সমস্যা নেই। আর্জেন্টিনা ৪ সেপ্টেম্বর ফতুল্লা স্টেডিয়ামেই অনুশীলন করবে। সবকিছু হবে চুক্তি অনুযায়ীই। অনুশীলনের টিকিট বিক্রি করতেও এখন বাধা নেই।
নির্ভরযোগ্য সূত্রমতে, চুক্তিটি ৩৮ লাখ মার্কিন ডলারের। চুক্তি অনুযায়ী, ৬ সেপ্টেম্বর ম্যাচের আগে আর্জেন্টিনা দল ৪ সেপ্টেম্বর উন্মুক্ত অনুশীলন করবে, পরদিন করবে রুদ্ধদ্বার অনুশীলন, যোগ দেবে আনুষ্ঠানিক নৈশভোজে। আর এর বাইরে তাদের নিয়ে যাওয়া হবে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে। তাহলে অন্য রকম খবর এল কেন? ফতুল্লা স্টেডিয়ামের দূরত্ব ও যানজটের আশঙ্কা আর্জেন্টিনার সহকারী কোচ জুলিয়ান কামিনোর মনে অনুশীলনের ব্যাপারে ঢুকিয়ে দিয়েছিল নেতিবাচক চিন্তা। তবে সরকারি সহযোগিতার কথা বলে সেটি শেষ পর্যন্ত দূর করে দিয়েছেন সালাউদ্দিন।
এমনটাই হওয়ার কথা; প্রীতি ম্যাচ নিয়ে বাফুফে ভবনে ঈদের আগেই ছড়িয়ে পড়েছে ঈদের আমেজ। কর্মকর্তাদের ছোটাছুটি, পাতি কর্মকর্তাদের সুযোগসন্ধানী উঁকিঝুঁকি লক্ষণীয়। বাফুফে সভাপতি অবশ্য আয়োজন শেষ হওয়ার আগে হাসতে পারছেন না, ‘ধরেই রেখেছি, সাত-আট কোটি টাকা ক্ষতি হবে। এখন পৃষ্ঠপোষকদের (বেক্সিমকো) ক্ষতিটা যথাসম্ভব কম রাখতেই দৌড়ঝাঁপ করছি।’

হ্যাটট্রিকে শুরু রোনালদোর

ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো কি লিওনেল মেসিকে বার্তা পাঠালেন—এ মৌসুমেও পিচিচি ট্রফি (সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার) আমারই হতে চলেছে! রিয়াল মাদ্রিদও বার্তা পাঠাল বার্সেলোনাকে—এবার কিন্তু আমরা তোমাদের কর্তৃত্ব খর্ব করতে প্রস্তুত!
পরশু স্প্যানিশ লিগে রোনালদো আর রিয়ালের শুরুটা এ কথাই বলে। গত মৌসুমে যেখানে শেষ করেছিলেন, রোনালদো নতুন মৌসুমটা শুরু করলেন ঠিক সেখান থেকেই। গত মৌসুমে ৬টি হ্যাটট্রিক করেছিলেন, এবার রোনালদো শুরুই করলেন হ্যাটট্রিক দিয়ে। তাঁর জাদুতে রিয়াল মাদ্রিদ ৬-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে রিয়াল জারাগোজাকে। ১৯৯৫ সালের পর প্রতিপক্ষের মাঠে মৌসুম শুরুর ম্যাচে এই প্রথম ৪ বা এর বেশি গোলে জিতল রিয়াল।
হোসে মরিনহোর রিয়াল মাদ্রিদ মন ভরানো ফুটবল খেলে না, খেলে জয়ের জন্য—গত মৌসুমে মরিনহো রিয়ালের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই চলছে এই সমালোচনা। এই বদনাম ঘোচাতেই কি না, জারাগোজার মাঠে রিয়াল পসরা সাজিয়েছিল আক্রমণাত্মক ফুটবলের। জারাগোজাকে ম্যাচের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অসাধারণ ফুটবল প্রদর্শনীর দর্শক বানিয়ে রেখেছিল মরিনহোর দল।
ম্যাচ শেষে মরিনহোও গেয়েছেন ভালো ফুটবলের জয়গান, ‘জিততে হলে আপনাকে ভালো খেলতে হবে। মাদ্রিদে অন্তত এটা হয়। আমরা যদি এই স্কোরলাইনে জিতি, তাহলে বলতে হবে একটি ভালো ম্যাচই কেটেছে আমাদের।’ মৌসুমটা দারুণভাবে শুরু করতে পারার আনন্দের কথাও বলেছেন রিয়ালের পর্তুগিজ কোচ, ‘জয় পাওয়াটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, গত মৌসুম প্রথম ম্যাচ থেকে মাত্র ১ পয়েন্ট পেয়েছিলাম আমরা, আর এবার পেলাম ৩ পয়েন্ট।’
জারাগোজার জালে গোলবন্যার শুরু করেছেন গত মৌসুমে রেকর্ড ৪০ গোল করে পিচিচি ট্রফি জেতা রোনালদো। তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ রিয়ালের দল হয়ে খেলতে পারাটাই, ‘আমাদের একে অপরকে শুভেচ্ছা জানানো উচিত। কারণ, আমরা দারুণ খেলেছি। আমি আমার গোলের জন্য সতীর্থদের ধন্যবাদ জানাই। তারা আমাকে সাহায্য করেছে এবং আমিও তাদের সাহায্য করেছি। আমরা সত্যিকারের এক দল এবং এভাবেই লা লিগা জিতব।’
রিয়ালের পক্ষে বাকি তিনটি গোল করেছেন মার্সেলো, জাবি আলোনসো এবং বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামা কাকা।

সামনের দিকে তাকিয়ে বোল্ট

বর্তমানের ঘটনা এক মুহূর্ত পরই অতীত। পরশু সন্ধ্যায় দেগুর ট্র্যাকে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনাও বোল্টের কাছে এখন অতীত। পেছনের দিকে তাকিয়ে মূল্যবান সময় নষ্ট করার মানুষ বোল্ট নন। তাই বলছেন, অতীত নিয়ে তিনি ভাবতে চান না। আগামী শুক্রবারই তাঁর আরেক ইভেন্ট ২০০ মিটার দৌড়। ইতিহাসের দ্রুততম মানব বরং প্রত্যাশার দৃষ্টি নিয়ে তাকিয়ে আছেন সেদিকেই।
অনাকাঙ্ক্ষিত এক ট্র্যাজেডির শিকার হয়ে স্বপ্নভঙ্গের বেদনায় পুড়ছেন বোল্টও। প্রবল আত্মবিশ্বাস নিয়ে ট্র্যাকে নামা বোল্ট যখন ৫ নম্বর লেনটিতে দাঁড়িয়ে কাটা পড়লেন ফলস স্টার্টের ফাঁদে; পুরো গ্যালারি তখন স্তব্ধ, বিস্ময়ে হতবাক! আর বোল্ট? সঙ্গে সঙ্গেই গায়ের জার্সিটা নিক্ষেপ করলেন ট্র্যাকে! এতেও মনের ক্ষোভ, হতাশা না মেটায় দুহাত মাথায় তুলে তাকালেন আকাশের দিকে। ট্র্যাক থেকে বেরিয়ে গিয়ে মাথা কুটলেন দেয়ালে। কথা বলার শক্তিটাও ছিল না। ট্র্যাক ছেড়ে যাওয়ার সময় তাৎ ক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় শুধু জানিয়ে দেন, ধাতস্থ হতে তাঁর কিছুটা সময় প্রয়োজন।
সেই প্রয়োজনীয় সময়টা ১৮ ঘণ্টা। ট্র্যাকের ওই ট্র্যাজেডির ঠিক ১৮ ঘণ্টা পর জানা গেল বোল্টের প্রতিক্রিয়া, যা বিবৃতির মাধ্যমে জানিয়েছে তাঁর ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা দল। বোল্ট বলেছেন, ‘প্রথমত আমি অভিনন্দন জানাই আমার সতীর্থ ইয়োহান ব্লেক এবং অন্য অ্যাথলেটদের, যারা পদক জিতেছে।’ অলিম্পিক ও বিশ্ব রেকর্ডধারী স্প্রিন্টার এর পরই বলেছেন, ‘অবশ্যই ফলস স্টার্টের কারণে আমার শিরোপা ধরে রাখার সুযোগ নষ্ট হওয়ায় আমি খুব হতাশ। আমি আগের রাউন্ডগুলোতে দারুণ বোধ করছিলাম, ফাইনালে দ্রুত দৌড়ানোর জন্যও প্রস্তুত ছিলাম। এই চ্যাম্পিয়নশিপের জন্য প্রস্তুতি নিতে আমি কঠোর পরিশ্রম করেছি এবং সবকিছু ইতিবাচকই ছিল।’
১০০ মিটারের স্বপ্ন শেষ হয়ে গেলেও দেগুতে বোল্ট-জাদু দেখার সুযোগ ফুরিয়ে যায়নি। আগামী শুক্রবারই ২০০ মিটার, এরপর আছে ৪১০০ মিটার রিলে। এই দুটি ইভেন্ট ছাড়িয়ে বোল্টের দৃষ্টি প্রসারিত বাকি মৌসুমের দিকেও, ‘যাই হোক, আমি এখন অতীত নিয়ে ভাবতে চাই না। শুক্রবারের ২০০ মিটারের দিকে মনোযোগ দিতে এবং প্রস্তুতি নিতে আমার হাতে কয়েকটা দিন সময় আছে। এর পরই আছে ৪১০০ মিটার এবং মৌসুমের শেষ দিকেও কয়েকটি দৌড় আছে। আমি জানি, আমি এখন দারুণ অবস্থায় আছি এবং আমার সব মনোযোগ এখন ২০০ মিটারে ভালোভাবে দৌড়ানো।’
বোল্ট মুখ বন্ধ রাখলেও পরশুর ওই ঘটনার পর অনেকেই ফলস স্টার্টের নিয়মটি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। বোল্টকে জানিয়েছেন সমবেদনা। বোল্টও শুভাকাঙ্ক্ষীদের জানিয়েছেন কৃতজ্ঞতা, ‘আমাকে শুভেচ্ছা পাঠানোয় সবাইকে ধন্যবাদ। আপনারা গর্ব করতে পারেন ২০০ মিটারে এমন কিছু করার চেষ্টাই করব আমি।’
একবার ফলস স্টার্ট করলেই বাদের নিয়মটা চালু হয়েছে ২০১০ সালের জানুয়ারি থেকে। বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে বিশ্বের সেরা স্প্রিন্টার এই নিয়মের বলি হওয়ার পর এটির পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে তুমুল আলোচনা চলছে। তবে বিশ্ব অ্যাথলেটিকস ফেডারেশন (আইএএএফ) জানিয়েছে, এ রকম কোনো চিন্তা আপাতত নেই, ‘নিয়ম নিয়মই। এই মুহূর্তে এটাই নিয়ম। আমি যতদূর জানি, পরিষদের আগামী সভায় (দেগু চ্যাম্পিয়নশিপ শেষে) বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে না।’ বোল্টের বিষয়টি ‘হতাশাজনক’ মন্তব্য করে আইএএএফের মুখপাত্র এরপর যোগ করেছেন, ‘বোল্টের এখনো ২০০ মিটার ও ৪১০০ মিটার আছে। আর বিষয়টি নিয়ে কথা বলার আগে আরও সময় দরকার। যেসব মন্তব্য আসছে, সবই তাৎ ক্ষণিক প্রতিক্রিয়া। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে আরও সময় প্রয়োজন।’
নিয়ম সবার জন্যই সমান। ওই মুখপাত্রের দাবি, বোল্টের বাদ পড়ার মধ্য দিয়ে এটাও প্রমাণিত হয়েছে।

কোচ নির্বাচনে পিসিবির বিশেষ কমিটি

জিম্বাবুয়ে সফরের পরপরই পাকিস্তান দলের কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়াবেন ওয়াকার ইউনুস। স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে তিনি কিছুদিন আগেই ঘোষণা দিয়েছেন, তিনি আর পাকিস্তান দলের কোচ থাকছেন না।
এরপর থেকেই জল্পনা-কল্পনা কে হচ্ছেন পাকিস্তান দলের পরবর্তী কোচ। কেউ কেউ বিদেশি কোচের কথাও বলছেন। তবে, ওয়াকারের উত্তরসূরি বিদেশি হবেন, নাকি খাঁটি পাকিস্তানি হবেন, তা নির্ধারণ করতে সাবেক ক্রিকেটারদের সমন্বয়ে পিসিবি একটি কমিটি গঠন করে দিয়েছে। সাবেক অধিনায়ক ইন্তিখাব আলমের নেতৃত্বাধীন এই কমিটির অপরাপর সদস্যরা হলেন, জহির আব্বাস, নওশাদ আহমেদ ও রমিজ রাজা।
এদিকে, পিসিবি সূত্রের বরাত দিয়ে ইএসপিএন জানিয়েছে, বিদেশিদের মধ্যে পাকিস্তানের কোচ হওয়ার তালিকায় সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন বাংলাদেশের সাবেক কোচ ডেভ হোয়াটমোর। হোয়াটমোরের কোচিংয়ে শ্রীলঙ্কা ১৯৯৬ সালে বিশ্বকাপ জয় করে। ২০০৭ সালে বাংলাদেশ বিশ্বকাপের সুপার সিক্সে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে।
হোয়াটমোর অবশ্য বর্তমানে ভারতের জাতীয় ক্রিকেট অ্যাকাডেমির দায়িত্বে রয়েছেন। তাঁকে পিসিবির পক্ষ থেকে প্রস্তাব দেওয়া হলেও তিনি ভারতের লোভনীয় চাকরি ছেড়ে সন্ত্রাস কবলিত, অনিরাপদ পাকিস্তানে চাকরি করতে আসবেন কিনা-তা অবশ্য জানা যায়নি।
হোয়াটমোর ছাড়াও পিসিবির সংক্ষিপ্ত তালিকায় রয়েছেন আকিব জাভেদ। নব্বইয়ের দশকে পাকিস্তান দলের অন্যতম সুদর্শন এই তারকা পেসার বেশ কয়েক বছর ধরেই পাকিস্তানের বয়সভিত্তিক দলগুলোর কোচিংয়ের দায়িত্বে রয়েছেন। তিনি এবছরের বিশ্বকাপে ওয়াকার ইউনুসের ডেপুটি হিসেবে কাজ করেছিলেন। অবস্থা দৃষ্টে নাকি আকিব জাভেদেরই কোচ হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।
পাকিস্তান ক্রিকেট দলের অধিনায়কের পদ যেমন ‘মিউজিক্যাল চেয়ার’, কোচের পদও ঠিক তাই। বিদেশি কোচদের কারও এই দলটির সঙ্গে কাজ করে সুন্দর অভিজ্ঞতা হয়নি। বব উলমারতো দলের সঙ্গে থেকেই ইহলোক ত্যাগ করলেন। তাঁর মৃত্যুটি হয়তো রহস্যাবৃত হয়েই থাকবে।
রিচার্ড পাইবাস ছিলেন পাকিস্তানের প্রথম বিদেশি কোচ। ১৯৯৯ সালে পাইবাসের অধীনেই পাকিস্তান দল বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলেছিল। তবে তাঁর বিদায়টিও সুখের হয়নি।
এরপর এসেছিলেন অসি কোচ জিওফ লসন। চাকরির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তাঁকে বিদায় জানানো হয়েছে।
গত বছর কোচ হওয়ার জন্য সাবেক অস্ট্রেলীয় গ্রেট ও ভারতের সাবেক কোচ গ্রেগ চ্যাপেলকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে, পাকিস্তানের রাজনৈতিক ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করেই কিনা তিনি সেই প্রস্তাবে কোনও আগ্রহ দেখাননি।

দুঙ্গা এখন কাতারে

২০১০ সালের বিশ্বকাপ ব্রাজিল যতো তাড়াতাড়ি সম্ভব ভুলে যেতে চাইবে। ব্রাজিলের আগেও ফুটবলের সর্বশেষ বিশ্বকাপ ভুলে যেতে চাইবেন দুঙ্গা। কোয়ার্টার ফাইনালে হল্যান্ডের কাছে পরাজয় নিয়ে নয়, কোচ দুঙ্গার বিপক্ষে অভিযোগ ছিল ব্রাজিলীয় ফুটবলের ধ্রুপদি ছন্দে পতন ঘটানোর। বিশ্বকাপের পরপরই কোচের পদ থেকে বিদায় করে দেওয়া হয় তাঁকে। অথচ এই দুঙ্গাই ১৯৯৪ সালে বিশ্বকাপ জয়ে ছিলেন ‘সাম্বা’দের অধিনায়ক। ১৯৭০ সালে জুলেরিমে ট্রফির পর ২৪ বছর পর ব্রাজিলীয় অধিনায়ক হিসেবে তিনিই প্রথম হাত রেখেছিলেন হালের ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফিতে।
সেই দুঙ্গা বিশ্বকাপের পর থেকেই হন্যে হয়ে চাকরি খুঁজছিলেন। বিশ্বকাপ শেষে এক বছরেরও বেশি সময় পর তিনি একটি চাকরি খুঁজে পেলেন। ব্রাজিলের বিশ্বকাপজয়ী সাবেক অধিনায়ক দুঙ্গা এখন কাতারের আল-রাইয়ান ক্লাবের কোচ।
একটি বার্তা সংস্থার সঙ্গে আলাপকালে আল-রাইয়ান ক্লাবের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ‘দুঙ্গাই আল-রাইয়ানের নতুন কোচ।’
আল-রাইয়ানের বিদায়ি কোচ পাওলো আউতোরি কাতার অলিম্পিক দলের দায়িত্ব পাওয়ার পরপরই তাঁর উত্তরসূরি হিসেবে দুঙ্গার নাম প্রস্তাব করেন।
কাতারের এই ক্লাবটির কোচের দায়িত্ব নিয়ে বড় ধরনের একটি চ্যালেঞ্জেরই সম্মুখীন হতে হচ্ছে দুঙ্গাকে। কারণ, ১৯৯৫ সালের পর আল-রাইয়ান কাতারের পেশাদারি লিগের কোনও শিরোপা জেতেনি। দলটিকে হারানো গৌরব এনে দেওয়ার দায় এখন দুঙ্গারও।

কলকাতায় পৌঁছেছেন মেসি

হিগুয়েইন, ডি মারিয়ারা পৌঁছে গিয়েছিলেন আগেই। গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাত ৩টায় কলকাতায় পা রেখেছেন আর্জেন্টিনার তারকা স্ট্রাইকার লিওনেল মেসি। ভিলারিয়ালের বিপক্ষে লা লিগার ম্যাচ শেষে বার্সা সতীর্থ জাভিয়ের মাচেরানোকে নিয়ে কলকাতায় পৌঁছান ফিফার বর্ষসেরা এই ফুটবলার।
মেসিকে স্বাগত জানাতে মধ্যরাতেই কলকাতার বিমানবন্দরে হুমড়ি খেয়ে পড়েন মেসি ভক্তরা। হালকা বৃষ্টির মধ্যেও মেসির ছবি ও ব্যানার নিয়ে বিমানবন্দরে আসেন তাঁরা। তবে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই তাঁকে বিশেষ নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে বাইরে নিয়ে যান কতৃপক্ষ। আগামী ২ সেপ্টেম্বর কলকাতায় ভেনেজুয়েলার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে মাঠে নামবেন মেসি-হিগুয়েইন-মাচেরানোরা।

ব্রাজিলিয়ান ফুটবলে ঘটনাবহুল দিন

ব্রাজিল ফুটবলের এক ঘটনাবহুল দিন গেল গত পরশু। সাও পাওলোর দুই ক্লাব পালমেইরাস ও করিন্থিয়ানস সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন পালমেইরাসের দুই সমর্থক। অন্যদিকে ভাস্কো দা গামা ক্লাবের কোচ রিকার্ডো গোমেজ ম্যাচ চলাকালে স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছেন।
দুই সমর্থকের মধ্যে একজনের কোমরে লেগেছে গুলি। তাঁর অবস্থা গুরুতর। অন্যজনের পায়ে গুলি লেগেছে। পুলিশ এ খবর জানালেও বলতে পারেনি কারা গুলি করেছে। তবে পুলিশ রাবার বুলেট ছুড়ে পরে ছত্রভঙ্গ করে দেয় সংঘর্ষে জড়ানো সমর্থকদের। ম্যাচ শুরুর আগে ঘটে এ ঘটনা। ম্যাচে পালমেইরাস জিতেছে ২-১ গোলে।
ব্রাজিলের সাবেক জাতীয় ফুটবলার রিকার্ডো গোমেজ স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার পর তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে অস্ত্রোপচার করানো হয়। এর আগে গত বছরও গোমেজের একটি ছোটখাটো স্ট্রোক হয়েছিল। বিশ্বকাপ খেলা এই ফুটবলার তখন ছিলেন সাও পাওলোর কোচ।

Tuesday, August 30, 2011

ম্যাচ নিয়ে রোমাঞ্চিত এক নাইজেরিয়ান

সানডে সিজোবা, বুকোলা ওলালেকান, এমেকা ক্রিস্টিয়ান, ফ্রান্সিস, ড্যামি ইমানুয়েল—গত মৌসুমের ফুটবল শেষে একে একে সবাই ফিরে গেছেন নাইজেরিয়ায়। একমাত্র যে নাইজেরিয়ান ফুটবলারটি এখন ঢাকা আছেন, তিনি ওকোয়ে ওকে। ফেনী সকারের এই ডিফেন্ডার ঢাকায় রয়ে গেছেন একটাই কারণে। ৬ সেপ্টেম্বরের আর্জেন্টিনা-নাইজেরিয়া প্রীতি ম্যাচ বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে বসে দেখা।
এই ম্যাচ দেখার সুযোগ হচ্ছে বলে ওকোয়ে রোমাঞ্চিত। ‘আমি খুবই রোমাঞ্চিত। এর আগে আমি দেশে নাইজেরিয়ার ম্যাচ দেখেছি। কিন্তু এমন বড় মাপের কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ দেখিনি। শুধু এই একটি ম্যাচ দেখব বলেই এখনো ঢাকায় আছি’—কাল বললেন নাইজেরিয়ান ডিফেন্ডার। আর্জেন্টিনা-নাইজেরিয়া সর্বশেষ সাক্ষাত্ হয় গত ১ জুন, নাইজেরিয়ার আবুজায়। তাতে নাইজেরিয়া ৪-১ গোলে উড়িয়ে দেয় মেসিবিহীন আর্জেন্টিনাকে। ঢাকায়ও নাইজেরিয়ার জয় চান ওকোয়ে মনেপ্রাণে। তবে এবার বাজি ধরেছেন আর্জেন্টিনার পক্ষে। কারণটাও ব্যাখ্যা করলেন, ‘আর্জেন্টিনা খুব বড় মাপের দল। এই দলে রয়েছে মেসিসহ বিশ্বমানের কিছু খেলোয়াড়—হিগুয়েইন, মাচেরানো, আগুয়েরো। তাই ওদের আমি সব সময়ই সমীহ করি। ঢাকায় আর্জেন্টিনার জেতার সম্ভাবনা বেশি।’ সর্বশেষ পাঁচটি আন্তর্জাতিক ম্যাচে চারটিতে জয় নাইজেরিয়ার, তথ্যটা মনে করিয়ে দিতেই বললেন, ‘আমি জানি এটা। এখন নাইজেরিয়া আগের চেয়ে অনেক গোছানো একটি দলে পরিণত হয়েছে।’
নাইজেরিয়া জাতীয় দলে খেলার সুযোগ পাওয়া তাঁর জন্য দূর আকাশের স্বপ্ন, ‘জানি না, কোনো দিন নাইজেরিয়ার জার্সি পরে খেলার সুযোগ পাব কি না।’ প্রিয় খেলোয়াড় চেলসির মিডফিল্ডার জন ওবি মিকেল। ঢাকায় এলে তাঁর সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করবেন ওকোয়ে, ‘অনুশীলনের সময় চেষ্টা করব ওবি মিকেলের সঙ্গে কথা বলার। ওর খেলা আমার খুবই ভালো লাগে।’

বার্সার চেয়েও সিটি ভালো

লিওনেল মেসি, জাভি, আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা, ডেভিড ভিয়া, সেস ফ্যাব্রিগাস...বার্সোলোনার তারকা খেলোয়াড়ের তালিকাটা লম্বা। কম যায় না ম্যানচেস্টার সিটিও। আরব ধনকুবেরের হাতে ক্লাবের মালিকানা যাওয়ার পর থেকেই তারকাদের ভিড়। এই মৌসুমে সার্জিও আগুয়েরোর পর সামির নাসরিকেও দলে টেনেছে সিটি।
বার্সেলোনা আর সিটি—এই দুই দলের খেলোয়াড়দের ওজন মেপে হ্যারি রেডন্যাপ এই সিদ্ধান্তে এসেছেন, দলগত বিবেচনায় বার্সেলোনার চেয়ে সিটি অনেক ভালো! চেলসি মিডফিল্ডার ফ্রাঙ্ক ল্যাম্পার্ডের চাচার ফুটবল প্রজ্ঞা নিয়ে কারও প্রশ্ন নেই। অনেকে এমনও মনে করেন, ইংল্যান্ডের কোচ হওয়ার যোগ্যতাও তাঁর অনেকের চেয়ে বেশি। সুতরাং রেডন্যাপের মন্তব্যকে আপনি উড়িয়ে দিতে পারেন না। টটেনহাম হটস্পারের এই বর্ষীয়ান কোচের মন্তব্য, ‘আমি তো বলব, ওদের স্কোয়াড বার্সেলোনার চেয়েও শক্তিশালী। সত্যিই একটা অসাধারণ দল পেয়েছে তারা। আগুয়েরো, তেভেজ, জেকো বিস্ময়কর খেলোয়াড়। ওদের আক্রমণভাগের দিকে তাকান। নিজেদের দিনে ওদের যেকোনো একজন প্রতিপক্ষকে শায়েস্তা করতে পারে।’
এর পর খেলোয়াড় ধরে ধরে বিশ্লেষণ করে দিয়েছেন রেডন্যাপ, ‘ডেভিড সিলভা বিশ্বমানের, এখন বিশ্বের যেকোনো একাদশে খেলার যোগ্যতা আছে ওর। ও ছাড়াও ওদের দলটা ভালোমানের খেলোয়াড়ে ভরা। ডি ইয়ং, ইয়া তোরেরা আছে। জেমস মিলনার, অ্যাডাম জনসনের মতো খেলোয়াড়েরা একাদশে জায়গা পেতে লড়াই করছে।’
নগর প্রতিদ্বন্দ্বী ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ছায়ায় আর ঢাকা পড়তে চায় না সিটি। গতবার মর্যাদার এফএ কাপ জিতেছে তারা ১৯৬৯ সালের পর প্রথম। গতবার লিগও শেষ করেছে তিনে থেকে। প্রথমবারের মতো উঠে গেছে চ্যাম্পিয়নস লিগে। রেডন্যাপ মনে করেন, এবার থেকে সবগুলো টুর্নামেন্টেই শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করবে সিটি, ‘সত্যিই অবিশ্বাস্য একটা দল ওরা। আমি মনে করি, ধীরে ধীরে ওরা সবগুলো শিরোপার জন্যই চ্যালেঞ্জ জানাবে। কারণ বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়দের কিনে আনার মতো টাকা ওদের আছে। যদি এই মালিক থেকে যান, আমি নিশ্চিত তিনি থাকবেন, এমন একসময় আসবে, প্রিমিয়ার লিগও জিতবে ওরা।’

ভারত-শ্রীলঙ্কা লড়াইয়ের ‘শেষ’ আজ

শিরোপা যেই জিতুক, আজকের ফাইনাল শেষে একটা কথা ভেবে হয়তো স্বস্তি পাবে দুই দলই, সামনের অনেকগুলো দিন মুখোমুখি হতে হবে না একে অন্যের। এখন এত বেশি ক্রিকেট হয় যে, পরস্পরের সঙ্গে দলগুলোর দেখা নিয়মিতই হয়। কিন্তু সেটারও তো একটা সীমা আছে। আজকের ফাইনাল গত ২৫ মাসে ভারত-শ্রীলঙ্কার ৪৩তম ওয়ানডে, ভাবা যায়! দর্শকের অরুচি তো আছেই, দুই দলের ক্রিকেটারদেরও বিরক্ত হয়ে যাওয়ার কথা।
অবশ্য আজকের লড়াইটিকে ঘিরে তার পরও আগ্রহ থেকে যাচ্ছে সাম্প্রতিক বিতর্কের কারণে। সুরাজ রণদিভের ‘নো বল’-কাণ্ডের রেশ এখনো বেশ ভালোভাবেই আছে দুই দলে। অতীতে যেটা খুব বেশি দেখা যায়নি, সেই মাঠের বাইরে কথার লড়াইয়েও জড়িয়ে গেছে দুই দল। ‘প্রতিশোধ’ ব্যাপারটার বেশি কাজ করতে পারে ভারতের মধ্যেই। ‘নো বলে’ বীরেন্দর শেবাগের সেঞ্চুরি বঞ্চনা তো আছেই, তাদের ১০৩ রানে গুটিয়ে দেওয়ার লজ্জায় ডুবিয়েই ফাইনাল নিশ্চিত করেছে শ্রীলঙ্কা।
প্রতিশোধের একটা ব্যাপার অবশ্য শ্রীলঙ্কারও আছে। এই ডাম্বুলায়ই গত জুনে এশিয়া কাপের ফাইনালে তাদের হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল ভারত। দলীয় শক্তি আর টুর্নামেন্টের পারফরম্যান্সের বিচারে আজ এগিয়ে শ্রীলঙ্কাই। ব্যাটিংয়ে পুরো শক্তি নিয়ে টুর্নামেন্টে খেলছে একমাত্র স্বাগতিকেরাই। মাঠের পারফরম্যান্সেও ছিল এর প্রতিফলন, টুর্নামেন্টে একমাত্র শ্রীলঙ্কাই ভয়াবহ কোনো ব্যাটিং ধসের শিকার হয়নি।
টুর্নামেন্টে ভারত যেভাবে খেলেছে, তাতে আজ শ্রীলঙ্কাকে পরিষ্কার ফেবারিটই বলা যেত। যাচ্ছে না শেবাগের জন্য। টুর্নামেন্টে ভারত যে দুটি ম্যাচ জিতেছে, বলতে গেলে একাই জিতিয়েছেন শেবাগ। আরেকটি ‘শেবাগ স্পেশাল’ আজও হয়ে দাঁড়াতে পারে ম্যাচের নিয়ামক। তা ছাড়া সেই সেঞ্চুরি-বঞ্চনার জ্বালা মেটানোর একটা ব্যাপারও তো আছেই!

Friday, July 8, 2011

জাতীয় মহিলা ফুটবল

নুবাই চিং মারমার একমাত্র গোলে জাতীয় মহিলা ফুটবলের চূড়ান্ত পর্বে কাল বাংলাদেশ আনসার হারিয়েছে যশোরকে। এই জয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে সেমিফাইনালে উঠল আনসার, হেরেও গ্রুপ রানার্সআপ হিসেবে সঙ্গী যশোর। চট্টগ্রাম এমএ আজিজ স্টেডিয়ামে অন্য ম্যাচে গাইবান্ধা ৫-২ গোলে হারিয়েছে কিশোরগঞ্জকে। বেলী ও মিতু করেছেন দুটি করে গোল। অন্যটি তিথির।

Thursday, July 7, 2011

ক্লিচকোকে বিশ্বসেরা মেনে নিলেন হায়ে

লড়াইয়ের আগে কত কী বলেছিলেন আর কত কি-ই না করেছেন ডেভিড হায়ে। কিন্তু বিশ্ব হেভিওয়েট বক্সিংয়ের চ্যাম্পিয়নশিপ নির্ধারণী ম্যাচে হারার পর সব পাল্টে গেছে। ব্রিটিশ বক্সার হায়ে ইউক্রেনিয়ান ভ্লাদিমির ক্লিচকোর শ্রেষ্ঠত্ব মেনে নিয়েছেন।
২০০৮ সালে হেভিওয়েটে পা রেখেছেন হায়ে। সেই দিন থেকেই রিংয়ে ক্লিচকো ভাইদের রক্ত দেখার জন্য মুখিয়ে ছিলেন। ২০০৯ সালেই প্রথমবার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিলেন। তখন তাঁর পরনের টি-শার্টটি আলোচনায় আসে। তাঁর টি-শার্টে আঁকা ছিল বক্সিং রিংয়ে উন্মত্ত বিজয়োল্লাসে মেতে ওঠা হায়ের দুই হাতে ধরা দুই ক্লিচকো ভাইয়ে দুটি কাটা মুণ্ড, রক্তাক্ত দেহ পড়ে আছে ক্যানভাসে।
এবার ক্লিচকো ভাইদের ছোটজনের কাছ থেকে বক্সিংয়ের সেরা দুটি বেল্ট কেড়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। হুংকার ছেড়েছিলেন, তিনিই হবেন বিশ্বসেরা। হামবুর্গে পরশুর ম্যাচের আগের এক সংবাদ সম্মেলনে ক্লিচকোর সঙ্গে হাত মেলাননি। বলেছিলেন, ম্যাচ শেষে হাসপাতালে গিয়ে তাঁর সঙ্গে হাত মেলাবেন। কিন্তু ক্লিচকোর কাছে হেরে যাওয়ার পর বলছেন—ক্লিচকোই বিশ্বসেরা।
তবে এখনই হাল ছেড়ে দিচ্ছে না হায়ে। আবার লড়ার ঘোষণা দিয়েছেন, ‘আমি আবার তার সঙ্গে লড়তে চাই। তবে এটা তার ওপর নির্ভর করে। আগে শিরোপা আমার কাছে ছিল। এখন ওটা তার কাছে এবং সেই ভালো অবস্থায় আছে। ভালো একটি লড়াই চাইলে আমার সঙ্গে লড়তে পারে। আর যদি সহজ লড়াই চায় তাহলে যারা টাকার জন্য লড়ে তাদের কারও সঙ্গে লড়তে পারে।’
এরপর ডান পায়ের আঙুলে চোটের কথা উল্লেখ করে বলেছেন, ‘আমি আমার ডান পা নাড়াতেই পারছিলাম না। তবে এটাই হেরে যাওয়ার কারণ নয়—সে আমার চেয়ে ভালো খেলেছে। এমনকি আমি শতভাগ ফিট থাকলেও মনে হয় জিততে পারতাম না। এই সময়ে বিশ্বের সেরা যোদ্ধা সে।

শনিবার কমিটির রিপোর্ট

অভিযুক্ত শেখ জামাল-রহমতগঞ্জ পাতানো ম্যাচ নিয়ে সভা করেই চলেছে বাংলাদেশ লিগ কমিটি। দুই দিন আগে কমিটির চেয়ারম্যান সালাম মুর্শেদী জানিয়েছিলেন, সোমবার (গতকাল) নিজেদের মধ্যে সভা শেষে বাফুফে সভাপতিকে রিপোর্ট দেওয়া হবে। কিন্তু কাল রাতে লিগ কমিটি রিপোর্ট দেওয়া দূরে থাক, চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নাকি নিতে পারেনি।
রাত সাড়ে আটটার সালাম মুর্শেদী তাঁর কক্ষে ভিড়ে ঠাসা সাংবাদিক সমাবেশে বলেন, ‘আমাদের এই সভা আজ আরও চলবে। আগামী কয়েকটা দিনও আমরা বসতে পারি। তবে এটা নিশ্চিত, আজ রিপোর্ট দিচ্ছি না। আগামী শনিবার বেলা তিনটায় আমরা রিপোর্ট দেব। এর কোনো নড়চড় হবে না।’
তদন্ত কমিটিকে কোনো সময় বেঁধে দেওয়া হয়নি। কমিটি অভিযুক্ত দুই দলকে ডেকে জেরা করেছে। পরে মুক্তিযোদ্ধা কোচ মারুফুল হক বোমা ফাটান। তিনি জানান, ‘১১ জুন শেখ জামাল-রহমতগঞ্জ ম্যাচের সময় ভুল করে রহমতঞ্জের ফুটবল সম্পাদক সালাউদ্দিন কালা ফোন করে আমাকে বলেন, যে ডিফেন্ডার ডিস্টার্ব করছে ওকে উঠাইয়া নিলাম। যত পারেন এবার গোল দেন...।’
মারুফ-কালা দুজনকেই ডেকে জেরা করেছে লিগ কমিটি। তার পরই সালাম মুর্শেদীর ব্যবসায়িক অফিসে কঠোর গোপনীয়তায় শুরু রিপোর্ট তৈরির কাজ। কমিটি সূত্রের খবর, ভিডিও দেখে কমিটির কাছে ম্যাচটা পাতানো মনে হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতেই দুই দলকে নাকি আর্থিক জরিমানা এবং কালা ও রহমতগঞ্জ গোলরক্ষককে কয়েক বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হবে। যেহেতু পাতানো খেলার সর্বোচ্চ শাস্তি লিগ থেকে বহিষ্কার, কাজেই জরিমানার বিধান কতটা গ্রহণযোগ্য, আগেই এসব কথাবার্তা হচ্ছে।
কালা দাবি করেছেন, ‘ম্যাচে রহমতগঞ্জের ২-০ গোলের অগ্রগামিতা ধরে রাখার জন্য’ মারুফুল হক তাঁকে সাড়ে তিন লাখ টাকা সেধেছেন। এ জন্য লিগ কমিটি মারুফুল হককেও নাকি বহিষ্কারের সুপারিশ করবে।
কালকের সভার আগে বাফুফের সভাপতি কাজী সালাউদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক করেছে কমিটি। সালাউদ্দিন কমিটিকে বলেছেন, ‘কোনো অনুমাননির্ভর রিপোর্ট দেওয়া যাবে না। যা বলার সুনির্দিষ্টভাবে দায়িত্ব নিয়ে বলতে হবে।’ এরপর নাকি কিছু বিষয় উল্টে যায়। কমিটি আরও সময় নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
সালাম বলছেন, ‘এটা একটা স্পর্শকাতর বিষয়। কমিটির কো-চেয়ারম্যান নাবিল সাহেব (কাজী নাবিল আহমেদ) ছিলেন না দেশে, তিনি আজ কমিটির মিটিংয়ে প্রথম এসেছেন। কাজেই আরও আলাপ-আলোচনা দরকার আমাদের। যা-ই করা হোক, দেশের ফুটবলের জন্য ভালো সিদ্ধান্তই আমরা নেব।’

মিডিয়া কাপ ফুটবল

কুল বিএসজেএ মিডিয়া কাপ ফুটবলের ফাইনালে উঠেছে আরটিভি। হ্যান্ডবল স্টেডিয়ামে প্রথম সেমিফাইনালে তারা ১-০ গোলে হারিয়েছে বাংলাভিশনকে। গোল করেছেন রুহুল আমিন। চ্যানেল আই ও একুশে টেলিভিশনের মধ্যকার অন্য সেমিফাইনাল খেলা চলার সময় মারামারি হলে খেলাটি বন্ধ হয়ে যায়। এই সেমিফাইনাল আজ নিষ্পত্তি করা হবে টাইব্রেকারে।

Wednesday, July 6, 2011

এবার আর্জেন্টিনায় চোখ কলম্বিয়ার

লিওনেল মেসি আর রাদামেল ফ্যালকাও এক বিন্দুতে মিলে গেছেন। ক্লাবের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের অনুবাদ জাতীয় দলে করতে পারেননি একজনও। যদিও মেসির আর্জেন্টিনা আর ফ্যালকাওয়ের কলম্বিয়ার কোপা-অভিযানের শুরুটা হয়েছে দুই রকম। আর্জেন্টিনা বলিভিয়ার সঙ্গে ড্র দিয়ে শুরু করলেও কলম্বিয়া তাদের প্রথম ম্যাচে কোপার অতিথি দল কোস্টারিকাকে হারিয়েছে ১-০ গোলে।
পোর্তোর সদ্যসমাপ্ত মৌসুমে দারুণ খেলেছেন ফ্যালকাও। জিতেছেন ইউরোপা লিগ, হয়েছেন টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা। কিন্তু পরশু কলম্বিয়ার জার্সি গায়ে আলো ছড়াতে পারেননি। ১০ জনের কোস্টারিকাকে কলম্বিয়া হারিয়েছে জার্মানির হার্থা বার্লিনে খেলা আদ্রিয়ান রামোসের গোলে। এএফপি।
২০০১ সালের কোপা বিজয়ী কলম্বিয়ার পরের ম্যাচ ৭ জুলাই, প্রতিপক্ষ আর্জেন্টিনা। আপাতত এই ম্যাচেই চোখ ভালদেরামার দেশের। গোলদাতা রামোস বলেছেন তাঁরা ওই ম্যাচের জন্য তৈরি হচ্ছেন, ‘আমরা এখন আর্জেন্টিনা ম্যাচেই মনঃসংযোগ করছি। আমরা যে প্রস্তুত সেটি নিশ্চিত করতে কঠিন অনুশীলন করতে হবে। জয় দিয়ে শুরু করতে পারা দারুণ। আমাদের আত্মবিশ্বাসটা এতে বেড়ে গেছে।’

জিদানের বার্সেলোনা-প্রশংসা

বার্সেলোনার প্রশংসা এখন কে না করে! জিনেদিন জিদানও বর্তমান বার্সেলোনার প্রশংসায় পঞ্চমুখ। তবে কাতালান ক্লাবটির ধারাবাহিক সাফল্যের পেছনে ফরাসি কিংবদন্তি বড় করে দেখছেন বার্সেলোনার যুব প্রকল্প ‘লা মেসিয়ার’ অবদানকে। বলেছেন, বার্সেলোনার সৌভাগ্য, যুব খেলোয়াড়দের ‘এক ব্যতিক্রমী প্রজন্ম’ পেয়েছে।
বার্সেলোনার বর্তমান শীর্ষ তারকারাই যুব একাডেমি ‘লা মেসিয়া’ থেকে উঠে এসেছে। লিওনেল মেসি, জাভি, ইনিয়েস্তাসহ এবারের চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে বার্সেলোনার প্রথম একাদশের ৮ জনই ছিল এই ‘লা মেসিয়া’র ফসল! জিদান বলছেন, এমন একটা দল একটা ক্লাবের জীবনে একবারই আসে। ‘বার্সেলোনার সৌভাগ্য, যুব প্রকল্প থেকে উঠে আসা সাত থেকে আটজন খেলোয়াড়ের একটা ‘ব্যতিক্রমী প্রজন্ম’ আছে। কিন্তু আপনি এ রকম প্রজন্ম বেশি দেখবেন না’—বলেছেন ফ্রান্সের ১৯৯৮ বিশ্বকাপ জয়ের নায়ক।
৩৯ বছর বয়সী এই ফরাসি খেলোয়াড়ি ক্যারিয়ার শেষ করেছেন বার্সেলোনার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদে। এখন কাজ করছেন রিয়ালের বিশেষ উপদেষ্টা হিসেবে। রিয়ালের ঘরের একজন হিসেবে ‘শত্রুপক্ষ’ বার্সেলোনার একতরফা প্রশংসা করাটা জিদানের সাজে না! তিনবারের সাবেক ফিফা বর্ষসেরা ফুটবলার তাই এটাও যোগ করেছেন, রিয়াল মাদ্রিদেরও নিজস্ব একটা যুবনীতি বা যুব প্রকল্প আছে, যেখান থেকে অনেক খেলোয়াড়ই শীর্ষ পর্যায়ে উঠে আসে যারা খুব একটা আলোচনায় আসে না।
বাজারে রিয়াল মাদ্রিদের একটা আলাদা পরিচিতি আছে, নিজেদের ঘর থেকে প্রতিভা অন্বেষণের চেয়ে ‘গ্যালাকটিকোস’ কেনার নীতিটা বেশি পছন্দ। কিন্তু জিদানের একটু দ্বিমত আছে এ ব্যাপারে, ‘অনেকেই যদিও উল্টোটা ভাবে, কিন্তু রিয়াল সব সময়ই যুব ফুটবলারদের প্রশিক্ষণের নীতিকে গুরুত্ব দেয়। আমরা বারবারই আমার ৭ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ডের চুক্তি কিংবা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর ৯ কোটি ৩০ লাখ পাউন্ডের চুক্তির কথা বলি। কিন্তু রিয়ালের যুব প্রকল্প থেকে উঠে আসা লিগের খেলোয়াড়দের কথা কমই বলা হয়।’

চ্যাম্পিয়নস লিগটা চাই-ই রোনালদোর!

দুই বছর আগে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড থেকে ৮০ মিলিয়ন পাউন্ডের বিনিময়ে রিয়াল মাদ্রিদে নাম লিখিয়েছিলেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। কিন্তু আবারও তিনি ইংল্যান্ডেই ফিরে যেতে পারেন, এবারের দল বদলের মৌসুমে এমন গুজব উঠেছিল বেশ জোরেশোরেই। রোনালদো নিজেও সে কথা অস্বীকার করেননি। এমনকি রোনালদোর মনেও ম্যানচেস্টার সিটিতে যাওয়ার একটা সুপ্ত আকাঙ্ক্ষা উঁকি-ঝুঁকি মারছিল। তবে আপাতত রিয়াল ছাড়ার চিন্তা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলেছেন তিনি। আপাতত রিয়ালের হয়ে আসছে মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগের শিরোপা জেতার লক্ষ্যেই মনস্থির করতে চান এই পর্তুগিজ স্ট্রাইকার।
ম্যানচেস্টার সিটি থেকে রোনালদোকে সরাসরি কোনো প্রস্তাব দেওয়া হয়নি। তবে তাঁকে দলে ভেড়ানোর জন্য ম্যান সিটির মালিক সপ্তাহে সাড়ে তিন লাখ পাউন্ড খরচ করতেও রাজি আছেন বলে রিপোর্ট করেছিল সানডে মিরর। এ প্রস্তাব সম্পর্কে জানতে পেরে রোনালদো বলেছেন, ‘আমি যদি স্পেন থেকে কোথাও যাই, তাহলে আবার ইংল্যান্ডেই যাব। কিন্তু এখনই না। প্রথমে আমরা চ্যাম্পিয়নস লিগটা জিততে চাই। বছরে ২০ মিলিয়ন ইউরোর প্রস্তাবটা শুনে খুব ভালো লেগেছে। কিন্তু আমি আমার এজেন্টের সঙ্গে কথা বলেছি আর এখন মনে হচ্ছে, রিয়াল মাদ্রিদে থাকাটাই আমার জন্য বেশি ভালো হবে। কারণ পরবর্তী মৌসুমে আমরাই সেরা দল হিসেবে থাকতে চাই। হোসে মরিনহোও রিয়ালেই থাকছেন। তিনি যদি চেলসিতে চলে যেতেন, তাহলে আমিও হয়তো ম্যান সিটিতে চলে যেতাম।’

মিডিয়া কাপ ফুটবল

‘কুল বিএসজেএ’ মিডিয়া কাপ ফুটবলের সেমিফাইনালে উঠেছে বাংলাভিশন, আরটিভি, চ্যানেল আই ও একুশে টেলিভিশন। গতকাল কোয়ার্টার ফাইনালে বাংলাভিশন ১-০ গোলে রেডিও টুডেকে, একুশে টিভি ১-০ গোলে ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসকে, আরটিভি ১-০ গোলে দৈনিক ডেসটিনিকে ও চ্যানেল আই ২-০ গোলে এটিএন নিউজকে হারিয়েছে। আজই দুটি সেমিফাইনাল।