Wednesday, December 20, 2017

মোবাইল ফোনের রেডিয়েশন কি ক্যান্সারের জন্য দায়ী?

মোবাইল ফোনের রেডিয়েশন ক্যান্সারের জন্য দায়ী কিনা এ নিয়ে জল্পনা-কল্পনার শেষ নেই। অনেকে মনে করেন, মোবাইল ফোন ব্যবহার মানবদেহে ক্যান্সার তৈরিতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। এজন্য মোবাইল ফোনের ব্যবহার এড়িয়ে চলা উচিত। যদিও যোগাযোগ রক্ষার স্বার্থে বর্তমানে বেশিরভাগ মানুষকেই যন্ত্রটি ব্যবহার করতে হয়।

প্রায় তিন দশক ধরে মোবাইল ফোন প্রচলিত। যা গত ১০ বছরে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। দ্য ভার্জের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যদি মোবাইল ফোনের রেডিয়েশন মানুষের ক্যান্সার তৈরি করত, তাহলে এতোদিনে অসংখ্য ব্যবহারকারী এ রোগে আক্রান্ত হতো। কিন্তু সমাজে তেমনটি দেখা যাচ্ছে না।

পারমাণবিক বা আয়োনাইজিং রেডিয়েশন মানবদেহে ক্যান্সারের জন্য দায়ী। এটা উচ্চমাত্রার এক ধরনের শক্তি যা মানুষের ডিএনএ নষ্ট করে দেয়। এ কারণে পরবর্তীতে ক্যান্সার হয়। অন্যদিকে ফোনের রেডিয়েশন বা নন-আয়োনাইজিং রেডিয়েশন অনেক কম শক্তিসম্পন্ন। যা মানুষের ডিএনএ দ্রুত নষ্ট করতে পারে না। ফলে এতে ক্যান্সারের ঝুঁকিও অনেক কম। তবে দীর্ঘদিন মোবাইল ফোন ব্যবহারের কারণে অন্যান্য শারীরিক জটিলতা দেখা দিতে পারে।

এ সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো স্কুল অব পাবলিক হেলথের ডিন ও ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশনের বিশেষজ্ঞ জোনাথন সামেট বলেন, এ সম্পর্কে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে কিছুটা ক্যান্সার ঝুঁকি রয়েছে। আমি বলছি না, এতে জনস্বাস্থ্য সংকট তৈরি হবে। তবে যেভাবে মোবাইলের গ্রাহক বাড়ছে তাতে এ বিষয়গুলো আমাদের জানা প্রয়োজন।

২০১১ সালেও জোনাথন একই কথা বলেছিলেন। এদিকে, মোবাইল ফোনের রেডিয়েশন নিয়ে কাজ করা অন্য গবেষকরা বলছেন, মানবদেহে ক্যান্সার তৈরিতে মোবাইল ফোনের রেডিয়েশনের কোনও প্রভাব আছে কিনা তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে যদি প্রভাব থেকেও থাকে, তা খুবই সামান্য। বিষয়টি নিয়ে আরও গবেষণা হওয়া প্রয়োজন।

সৌদির মসজিদে সাকিব-অনন্ত

ওমরাহ পালন করতে এখন সৌদি আরব আছেন অনন্ত জলিল। অন্যদিকে আরব আমিরাতে টি-টেন লিগ খেলতে গিয়েছিলেন ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান। কিন্তু এবার দুই ভুবনের দুই তারকাকে পাওয়া গেলো একই ফ্রেমে। সৌদি আরবের একটি মসজিদে তাদের একসঙ্গে দেখা গেলো।

গত ১৭ ডিসেম্বর ওমরাহ পালন করতে সৌদি আরবে যান অনন্ত জলিল। অন্যদিকে বিপিএল শেষ করে সাকিব আল হাসান উড়ে গিয়েছিলেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) শারজাতে।

সেখানে কেরালা কিংসের হয়ে ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ততম সংস্করণ টি-টেন লিগে অংশ নেন সাকিব। প্রথমবারের মতো এই আয়োজনে যোগ দিয়েই চ্যাম্পিয়ন হয় সাকিবের দল কেরালা কিংস।

এরপর পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ওমরাহ পালন করতে যান সাকিব। এই সফরের ফাঁকে মসজিদে দেখা হয় সাকিব আল হাসান ও অনন্ত জলিলের। সেই মুহূর্তের ছবি ফেসবুকে প্রকাশ করেছেন মুফতি ওসামা। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, সাকিব আল হাসান, অনন্ত জলিল, শাহরিয়ার নাফিস, মুফতি উসামাসহ আরো একজন বসে আছেন।

অনন্ত জলিল সিনেমা নির্মাণ ও অভিনয়ের মাধ্যমে সবার কাছে পরিচিতি পান। ২০১০ সালে ‘খোঁজ দ্য সার্চ’ সিনেমার মাধ্যমে তার বাংলা চলচ্চিত্রে অভিষেক। এরপর হৃদয় ভাঙ্গা ঢেউ, দ্য স্পীড, মোস্ট ওয়েলকাম, নিঃস্বার্থ ভালোবাসা, মোস্ট ওয়েলকাম-টু ছবিতে নায়কের ভূমিকায় অভিনয় করেন তিনি।

বর্তমানে ব্যবসা ও ধর্মচর্চায় ব্যস্ত রয়েছেন অনন্ত। মাঝে সাহাবীদের নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণের পরিকল্পনার কথা জানালেও সেখান থেকে সরে আসেন তিনি। অনন্ত বলেন, সাহাবীদের নিয়ে সিনেমা নির্মাণ ইসলাম সমর্থন করে না।


চলচ্চিত্র থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দিয়ে সরে না দাঁড়ালেও ধর্মচর্চায় ব্যস্ত হওয়ায় তিনি এখন আর সিনেমা করবেন না বলেই মনে করছেন অনেকে। অন্যদিকে ক্রিকেট নিয়েই ব্যস্ত রয়েছেন বিশ্ব সেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান।

মহিউদ্দিনের নামে ফাউন্ডেশন করবে পরিবার

নগর আওয়ামী লীগের প্রয়াত সভাপতি এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর নামে ফাউন্ডেশন গঠন করে দাতব্য কার্যক্রম পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তার পরিবার।
মহিউদ্দিন চৌধুরীর বড় ছেলে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এ তথ্য জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার দুপুরে মহিউদ্দিনের চশমা হিলের বাসায় গিয়ে দেখা যায় টিনশেডের সেই ঘরটিতে নগর আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বসে আছেন।

সোমবার মহিউদ্দিনের কুলখানির মেজবানে পদদলনে নিহতদের শেষকৃত্যসহ বিভিন্ন বিষয়ে সেখানে আলোচনা হচ্ছিল।

সোমবার রীমা কমিউনিটি সেন্টারে ওই মর্মান্তিক ঘটনায় ১০ জনের মৃত্যু হয়।

মহিউদ্দিন চৌধুরীর পরিবারের পক্ষ থেকে নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে এক লাখ টাকা এবং শেষকৃত্যের জন্য পাঁচ হাজার টাকা দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আহতদের চিকিৎসা ব্যয়ও পরিবারের পক্ষ থেকে দেওয়ার কথা।

নওফেল  বলেন, “নিহতদের পরিবারের সাথে কথা বলেছি। তাদের বিস্তারিত তথ্য আমরা নিয়েছি।

“তাদের সন্তানদের পড়াশোনার খরচ ভবিষ্যতে আমরা বহন করব বলে আশ্বাস দিয়েছি। সবাইকে বলব ধৈর্য্য ধারণ করতে। যারা আহত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন তাদের সব ব্যয় নির্বাহ করা হবে।”

নওফেল বলেন, নিহতদের জন্য প্রাথমিকভাবে এক লাখ টাকার অঙ্ক বলা হয়েছে। এরপরও আলোচনা সাপেক্ষে পরিবারগুলোর পরিস্থিতি বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, “পারিবারিকভাবে আব্বার নামে ফাউন্ডেশন গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সেখান থেকে দাতব্য কার্য্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

“গতকালের ঘটনার পর তারা (নিহতদের পরিবার) আমাদের পরিবারের অংশ হয়ে গেছেন। তাদের পরিবারের জন্য যে ধরনের সহায়তা প্রয়োজন সেটা এই দাতব্য সংস্থা থেকে করা হবে।”

এরপর নওফেল চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহতদের দেখতে যান।

রোহিঙ্গা নির্যাতন জাতিগত নিধন: তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী

মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নির্যাতনকে ‘জাতিগত নিধন’ বলে অভিহিত করেছেন তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিম।

বুধবার কক্সবাজারের উখিয়ায় বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে তিনি এ মন্তব্য করেন। সেসময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, রোহিঙ্গাদের স্বদেশে ফেরত পাঠানো এবং নিরাপদে বসবাসের জন্য আন্তর্জাতিক সব মহলের একযোগে কাজ করা জরুরি।

এর আগে তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিম বুধবার বেলা ১১টার পরে ব্যক্তিগত বিমানে কক্সবাজার পৌঁছান। সেখান থেকে তিনি সরাসরি যান উখিয়ার বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে। পরে তিনি সেখানে মেডিকেল ক্যাম্পের উদ্বোধন এবং দুটি অ্যাম্বুলেন্স হস্তান্তর করেন।

বালুখালী ক্যাম্পে নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের সঙ্গে আলাপ করেন তিনি। এরপর কুতুপালং ক্যাম্পে রোহিঙ্গাদের মধ্যে খাবার বিতরণ করেন।

এসময় তুরস্কের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীসহ বিভিন্ন কর্মকর্তারা।

উল্লেখ্য তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিম দুই দিনের সরকারি সফরে সোমবার রাতে ঢাকায় এসে পৌঁছেছেন। মঙ্গলবার সকালে তিনি সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এছাড়া তিনি ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন এবং শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের পর বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে দুটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে।

তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী সফরকালে রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এছাড়া বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গেও বৈঠক করেন তিনি।

আশ্রয় শিবিরে রোহিঙ্গাদের কষ্ট by ম্যাথিউ সল্টমার্শ

মিয়ানমারের নৃশংসতায় কমপক্ষে ৬ লাখ ৪০ হাজার রোহিঙ্গা তাদের বাড়িঘর ছেে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছে। আত্মীয়-স্বজনহীন, নিঃসঙ্গ অবস্থায় এভাবে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছেন ১৮ বছর বয়সী কিশোরী সাহার। তার মা, পিতা ও ভাইদের জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে। ওই নারকীয় আগুনের বীভৎসতা থেকে কোনো রকমে নিজের জীবনটাকে বাঁচিয়ে পালিয়ে আসতে পেরেছেন তিনি। সাহার এখন বাংলাদেশের কুতুপালংয়ে রোহিঙ্গাদের আশ্রয়শিবিরে নিঃসঙ্গ বসবাস করছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল এমন লাখো লাখো রোহিঙ্গার মতো তিনি একজন।
আলো-ছায়ার মধ্যে তিনি জীবনকে কোনোমতে চালিয়ে নিচ্ছেন। কোনোমতে পেরিয়ে যাচ্ছে দিন। আসছে রাত। আবার দিন। তিনি জীবনের ভবিষ্যত সম্পর্কে উদ্বিগ্ন। উদ্বিগ্ন তিনি কি কখনো বিয়ে করতে পারবেন!
সাহারের মতো রোহিঙ্গাদের বিষয়ে জানতে শরণার্থী বিষয়ক জাতিসংঘের হাই কমিশনার ইউএনএইচসিআর কুতুপালং,নয়াপাড়া ও কিরোণতলি/চাকমারকুল আশ্রয়শিবিরে ৫ শতাধিক আশ্রিতার ওপর একটি জরিপ সম্পন্ন করেছে। তাতে দেখা গেছে, ওই সব আশ্রয় শিবিরে গাদাগাদি করে অবস্থান করছে রোহিঙ্গারা। তাদের বসবাসের পরিবেশ নাজুক। এতে তাদের অবস্থা সম্পর্কে অনেক উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু এত কঠিন অবস্থা সত্ত্বেও নিজের দেশে যতটুকু তার চেয়ে বাংলাদেশের পরিবেশকে নিরাপদ মনে করছে। তাদের সহায়তায় এগিয়ে আসছে সবাই।
আশ্রয় শিবিরে সাহারের আকাঙ্খার কথা ফুটে উঠেছে। বাঁশ আর তারপুলিনের তৈরি আশ্রয় শিবিরে তার রাত কাটে একাকী। অন্ধকার নামার সঙ্গে সঙ্গে তার মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। দিনের বেলা তিনি নিকট প্রতিবেশী এক বিধবা নারীর সঙ্গে সময় কাটায়। তারা একসঙ্গে পানি সংগ্রহ, কাঠ সংগ্রহ ও খাদ্য যোগাড়ের মতো কাচ করেন।
অন্তত কোনো দিক দিয়ে সাহারের সৌভাগ্য। তার একটি দোকান আছে। এ ছাড়া তার আঘে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির একটি ফুড কার্ড। তার ওপর চোখ আছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের এক নেতা বা মাঝির। হেসে দিয়ে সাহার বলেন, আমার খুব ভয় হয়। তবে প্রয়োজন হলে আমি সাহায্য পাবো।
জরিপের আওতায় নেয়া হয় নারী, পুরুষ, স্থানীয় নেতা, সিঙ্গেল পরিবার, বয়স্ক মানুষ ও বিকলাঙ্গদের। গত মাসে স্থানীয়ভাবে সবচেয়ে বিপন্ন এমন মানুষদের ঘটনা সনাক্ত করে তা ইউএনএইচসিআরের কাছে জানানোর জন্য গত মাসে ওই জরিপ পরিচালনা করা হয় অংশীদারদের সঙ্গে। এর উদ্দেশ্য ভবিষ্যতে কোন কোন খাতে অগ্রাধিকার দিতে হবে তা সনাক্ত করা।
জরিপে যেসব বিষয়ে উদ্বেগকে জোরালো হিসেবে দেখানো হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে রাতের বেলায় নিরাপত্তাহীনতা। রয়েছে নাজুক আশ্রয় শিবির ও আলোর স্বল্পতা। রয়েছে ডাকাতি ও শিশু পাচারের ঝুঁকি। স্থানীয় সম্প্রদায়ের সঙ্গে যোগাযোগে রয়েছে ঘাটতি। অথচ এসবই প্রয়োজন ছিল।
উপরন্তু পয়ঃনিষ্কাশনের সুবিধা খুবই সীমিত। এর ফলে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে গেলে লম্বা লাইন দিতে হয়। ল্যাট্রিনগুলো ভরে গেছে। নারীদের গোসলের প্রাইভেট জায়গার বিষয়ে উদ্বেগ রয়েছে অনেক নারীর।
তিন সন্তানের মা, বিধা মারজিয়া। শুধু নারীদের গোসলখানা এমন সুবিধা পেতে তাকে পূতি গন্ধময় একটি স্থানে হেঁটে যেতে হয় কয়েক শত মিটার হেঁটে। এর অর্থ হলো তিনি সপ্তাহে একবার গোসল করতে পারেন। বড়জোর দু’বার। তার ধারেকাছে শুধু নারীরা ব্যবহার করতে পারবেন এমন ল্যাট্টিন আছে মাত্র একটি। মারজিয়া বলেন, সবারই প্রাইভেসি এখানে সীমাবদ্ধ। তিনি বলেন, রাতে আমরা পর্যাপ্ত আলো পর্যন্ত পাই না।
জীবনের সবচেয়ে জটিল বিষয়টি হলো নিত্য পণ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে লম্বা লাইন। মারজিয়া বলেন, আমাদেরকে রান্না করতে হয় সূর্য ডোবার আগে। আমাদের নেই পর্যাপ্ত বাসনকোসন, মশলা, মাছ, মাংস, শাকসবজি। শিশুরা শ্রমের সঙ্গে যুক্ত। দূর থেকে তাদেরকে পানি আনতে হয়। বন থেকে কাঠ সংগ্রহ করতে হয় রান্নার জন্য। ইউএনএইচসিআর দেখতে পেয়েছে, এরপরে শিশুরা কুলি হিসেবে কাজ করে। কিনউ পিতামাতা ও শিশুরা চায় শিক্ষা ও চিত্তবিনোদনের সুযোগ।
স্বাস্থ্যসেবার বিষয়ে সীমিত তথ্য হলো আরেকটি উদ্বেগের কারণ। চিকিৎসা সেবা কেন্দ্র অনেক দূরে থাকার কারণে জটিল রোগে ভুগছেন এমন অনেকের চিকিৎসা দেয়া হয় না। এখানে রয়েছে মারাত্মক রকম হতাশা ও কোনো কিছু সহজেই প্রত্যাখ্যানের প্রবণতা। বিশেষ করে বয়স্ক ও বিকলাঙ্গদের মধ্যে এটা দেখা যায়। যুব শ্রেণি আনমনা থাকে। তারা ভবিষ্যত সম্পর্কে অনিশ্চিত।
এসব উদ্বেগ ও ক্লেশ সত্ত্বেও ব্যাপকহারে মানুষকে পালিয়ে আসতে বাধ্য করা হয়েছে। এতে মনে হতে পারে সেখানে সামাজিক অবক্ষয় হয়েছে। নারী ও যুব শ্রেণী বলেছে তারা নিত্যদিন খাদ্য ভাগাভাগি করে খান। একজন অন্যজনকে সহায়তা করেন। ক্লিনিকে অসুস্থ ব্যক্তিকে সেবা দেন। রান্নায় সহায়তা করেন।
সেখানে উন্নততর তথ্য কেন্দ্র (ইনফরমেশন পয়েন্ট) প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করছে ইউএনএইচসিআর এবং পরিকল্পনায়ও রয়েছে তা। এক্ষেত্রে স্টাফ ও অংশীদারদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করা হচ্ছে। দু’ভাবে যোগাযোগ বিষয়ক সার্ভিস শক্তিশালী করা যেতে পারে। তার এক হলো কমিউনিটি সেন্টার তৈরি করে, যেখান থেকে মানসিক সেবা দেয়া যেতে পারে। দুই হলো, জটিল ও কঠিন মানসিক সমস্যার সেবা কেন্দ্র। সেখান থেকে লিঙ্গগত সহিংসতা ও শিশুর নিরাপত্তার বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করা যেতে পারে।
লাইন ধরে সহায়তা নেয়ার ক্ষেত্রে যাতে লাইন কমিয়ে আনা যায় তার জন্য এরই মধ্যে কাজ করছে ইউএনএইচসিআর। অক্ষম ব্যক্তিদের কাছে সরাসরি সহায়তা পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। শিশু শ্রম কমিয়ে আনার জন্য জ্বালানি কাঠ ব্যবহারের বিকল্প ব্যবস্থা দেয়া হচ্ছে। বাড়ানো হচ্ছে পরিবেশগত সচেতনতা। বাড়ানো হচ্ছে গোসলখানার সুবিধা ও নারীদের জন্য ল্যাট্রিনের সুবিধা।
(ইউএনএইচসিআরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত লেখার অনুবাদ)

সৌদিতে প্রথম নারী রাষ্ট্রদূত পাঠাচ্ছে বেলজিয়াম

সৌদি আরবে প্রথমবারের মতো নারী রাষ্ট্রদূত নিয়োগ করতে যাচ্ছে বেলজিয়াম। বুধবার বেলজিয়ামের স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে রয়টার্স। প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ডমিনিক মিনিউরকে সৌদি আরবের নারী রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ প্রদানের ঘোষণা এসেছে। আগামী গ্রীস্মের আগেই তিনি দায়িত্ব বুঝে নেবেন।
বর্তমান সৌদি প্রশাসন সম্প্রতি নারীদের স্বাধীনতা দিয়ে ঘরের বাইরে নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইতিমধ্যে নারীদের গাড়ি চালানো এবং স্টেডিয়ামে খেলা ও হলে বসে সিনেমা দেখার অনুমতি দেয়া হয়েছে। তবে কিছু দিন আগ পর্যন্ত নারীদের ঘরে থাকারই রেওয়াজ ছিল। তাদের সার্বিক দেখভাল হতো পুরুষ অভিভাবকের ইচ্ছা ও নজরদারিতে। পাবলিক প্লেসে যেতে সৌদি নারীদের হিজাব পরতে হয়। এদিকে মিনিউরের নিয়োগে এটি প্রতীয়মান হচ্ছে যে, আগামী দিনে তেহরানেও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন দেশ নারী প্রতিনিধি পাঠাতে যাচ্ছে।

চট্টগ্রামে এক বাড়িতে চার নারীকে ধর্ষণের প্রমাণ মিলেছে

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলায় এক বাড়ির চার নারীকে ধর্ষণের ঘটনার প্রমাণ পাওয়া গেছে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষায় ওই নারীদের ধর্ষণের প্রমাণ পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে কর্ণফুলি থানার পুলিশ। ধর্ষিত নারীদের তিনজন প্রবাসী তিন ভাইয়ের স্ত্রী। অন্যজন বেড়াতে আসা ননদ। গৃহবধূদের একজন ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। ১২ ডিসেম্বর গভীর রাতে কর্ণফুলী থানার বড়উঠান ইউনিয়নের ওই বাড়িতে ডাকাতির পর তাদের ধর্ষণ করা হয়। এ ঘটনার পর পটিয়া ও কর্ণফুলী থানায় গিয়ে হয়রানির শিকার হন নিপীড়িত নারীরা। পরে ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর হস্তক্ষেপে ঘটনার পাঁচ দিন পর ১৭ ডিসেম্বর রাতে মামলা নেয় কর্ণফুলী থানার পুলিশ। থানার ওসি সৈয়দুল মোস্তফা জানান, মামলার পর ঘটনার সঙ্গে জড়িত অভিযোগে মোহাম্মদ সুমন ওরফে আবু (২৩) ও কালু নামে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধর্ষিত নারীদের পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘটনার পর সকালে পরিবারের সদস্যরা কর্ণফুলী থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ তাদের পটিয়া থানায় পাঠায়। পটিয়া থানার পুলিশ তাদের আবার কর্ণফুলী থানায় পাঠায়। পরে ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর নির্দেশে পুলিশ সক্রিয় হয়। মামলা নিতে বিলম্ব করার কথা স্বীকার করেন কর্ণফুলী থানার ওসি সৈয়দুল মোস্তফা। তিনি বলেন, প্রথমে তারা ধর্ষণের কথা বলেননি। গ্রামের নামও ভুল বলেছিলেন। এ জন্য সেটি পটিয়া থানায় পড়ায় তাদের সেখানে পাঠানো হয়েছিল। ঠিকানা বলতে ভুল করায় মামলা গ্রহণে দেরি হয়েছে।

নিয়াজির আত্মসমর্পণের আগে

৯ মাসের গেরিলা যুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধারা যথেষ্ট দুর্বল করে দিয়েছিল পাক বাহিনীকে। ৩ ডিসেম্বর ভারত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করলে পাকিস্তানি জান্তার জন্য পরিস্থিতি আরও সঙ্গীন হয়ে ওঠে। ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে পাকিস্তানের দুর্বল দশা স্পষ্ট হতে থাকে। যৌথ বাহিনী বাংলাদেশের অনেকটা অভ্যন্তরে ঢুকে পড়ে। তখন কার্যত পাকিস্তানি বিমান ও নৌবাহিনী অকেজো হয়ে পড়েছিল। এমন অবস্থায় নানা ধরনের গুজব ছড়িয়ে পড়েছিল। আত্মসমর্পণের সময়টি নিয়ে আরও নানা গুজব রয়েছে। এ গুজব থেকে রাজনৈতিক বিতর্কও তৈরি হয়েছে। এ কারণে প্রয়োজন নতুন প্রজন্মের সামনে প্রকৃত তথ্য উপস্থাপন করা। প্রকৃত অবস্থা জানার জন্য পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর মালিক গভর্নর হাউসে জেনারেল নিয়াজিকে ডেকে পাঠান। এ সময়ের সেনাবাহিনীর প্রেস কর্মকর্তা মেজর সিদ্দিক সালিক একজন প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনায় পাকিস্তানি বাহিনীর একটি সংকটের চিত্র তুলে ধরেন তার গ্রন্থ Witness to Surrender-এ। তিনি বলেন, নিয়াজি গভর্নরের সামনে নিজের আবেগ ধরে রাখতে পারেননি। পাকবাহিনীর দুর্দশার কথা বলতে গিয়ে তিনি ফুঁপিয়ে কেঁদে ওঠেন। তাকে সান্ত্বনা দিয়ে গভর্নর জানান, তিনি প্রেসিডেন্টের কাছে বার্তা পাঠাবেন যুদ্ধ বিরতির ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে। পাকিস্তানি সামরিক অফিসাররাও অসহিষ্ণু হয়ে উঠেছিলেন, নিজেদের জীবন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করতে থাকেন তারা। পাকবাহিনীর আত্মসমর্পণের প্রেক্ষাপট রচিত হয় ৯ ডিসেম্বর থেকেই।
ইতিমধ্যে বাংলাদেশের বিভিন্ন সীমান্তবর্তী এলাকা শত্রুমুক্ত হচ্ছিল। অনেক শহরে হানাদার বাহিনী যৌথ বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করতে থাকে। পাকবাহিনীর সৈন্যরা আত্মরক্ষার্থে পালিয়ে আসছিল ঢাকার দিকে। এমন এক পরিস্থিতিতে ৯ ডিসেম্বর পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর এম এ মালিক ইয়াহিয়া খানের কাছে একটি বার্তা পাঠান, এতে অতি দ্রুত যুদ্ধ বন্ধের ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করেন। ইয়াহিয়া খান গভর্নর মালিক ও পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের অধিনায়ক নিয়াজি উভয়কেই তাদের বিবেচনা মতো সিদ্ধান্ত নেয়ার নির্দেশ দেন। এই পরিস্থিতিতে জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিব মার্ক হেনরি পাঁচ দফার একটি প্রস্তাব পাঠান। এগুলো হচ্ছে, ১. অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে, ২. সামরিক বাহিনীর সদস্যদের পশ্চিম পাকিস্তানে ফিরিয়ে নিতে হবে, ৩. পূর্ব পাকিস্তানে বসবাসরত অন্যসব নাগরিক যারা পশ্চিম পাকিস্তানে চলে যেতে ইচ্ছুক তাদের পশ্চিম পাকিস্তানে ফিরিয়ে নিতে হবে, ৪. ১৯৪৭ সাল থেকে যারা পূর্ব পাকিস্তানে বসবাস করছে সেসব নাগরিকদের নিরাপত্তা বিধান করতে হবে এবং ৫. নিশ্চয়তা দিতে হবে এদের কখনও দেশ থেকে বিতাড়িত করা হবে না। তবে এই প্রস্তাব যে তেমন কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পেরেছে তেমন মনে হয়নি। এদিকে গভর্নর মালিক পরবর্তী নির্দেশনার জন্য রাওয়ালপিন্ডির দিকে তাকিয়ে ছিলেন। অবস্থা পর্যবেক্ষণের জন্য ১৪ ডিসেম্বর দুপুর ১২টায় গভর্নর হাউসে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের একটি সভা ডাকেন। এই সংবাদ সকাল সাড়ে নয়টায় ভারতীয় বাহিনীর সিগন্যাল ইন্টিলিজেন্সের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লে. কর্নেল পি সি ভাল্লা পেয়ে যান। তিনি তা দ্রুত টেলিফোনে এয়ার ভাইস মার্শাল দেবাসেরকে জানান। তারা সিদ্ধান্ত নেন এই সময় গভর্নর হাউসে বিমান আক্রমণ করলে আত্মসমর্পণের বিষয়টি ত্বরান্বিত হবে। সিদ্ধান্ত অনুয়ায়ী সভায় কর্মকর্তারা যোগ দেয়ার আগেই ভারতীয় বিমান আক্রমণে গভর্নর হাউসে বেশ কয়েকটি বোমা নিক্ষিপ্ত হয়।
গভর্নর মালিক ভীত হয়ে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আশ্রয় নেন। ১৩ অথবা ১৪ ডিসেম্বর রাতে নিয়াজি পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল হামিদকে অনুরোধ করেন যাতে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান যুদ্ধ বন্ধের পদক্ষেপ নেন। ১৪ ডিসেম্বর ইয়াহিয়া খান নিয়াজির কাছে বার্তা পাঠিয়ে যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তুতি নেয়ার নির্দেশ দেন। নিয়াজির কাছে প্রেসিডেন্টের বার্তা এসে পৌঁছায় বিকেল তিনটায়। এরপর নিয়াজি এবং রাও ফরমান আলী ছুটে যান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কনসাল জেনারেল হার্বার্ট স্পিভেক-এর কাছে। তারা অনুরোধ করেন ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ করে যাতে যুদ্ধ বন্ধের ব্যবস্থা করেন। স্পিভেক জানান এ ধরনের আলোচনার যথাযোগ্য পদমর্যাদার তিনি নন। রাও ফরমান আলী প্রাসঙ্গিক একটি বার্তা প্রস্তুত করে এনেছিলেন। তারা বার্তাটি স্পিভেকের কাছে দিয়ে চলে আসেন। বার্তাটিতে তারা যুদ্ধে সাধারণ মানুষের জীবনহানির কথা বলে একটি মানবিক আবেদন জানান। এর সম্মানজনক সমাধানের জন্য কয়েকটি প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। এই প্রস্তাবনার একটি কপি হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে রাও ফরমান আলীর হাতে দেয়া হয় গভর্নরের কাছে পৌঁছানোর জন্য। তবে বার্তাটি ভারতের কর্তৃপক্ষের কাছে না দিয়ে একটি কপি ওয়াশিংটনে পাঠিয়ে দেয়া হয়। ১৯৭১-এ ভারতীয় বাহিনীর পূর্বাঞ্চলের প্রধান লে. জেনারেল জ্যাক জ্যাকব তার গ্রন্থে বলেছেন, ১৪ ডিসেম্বর বিকেল পাঁচটার দিকে যুক্তরাষ্ট্রের কলকাতার কনসুলার অফিসের একজন কূটনীতিক তাকে স্পিভেকের সঙ্গে নিয়াজির সাক্ষাৎ করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছিলেন। তিনি জানান, এই সময় যুদ্ধ বন্ধ বা আত্মসমর্পণ নিয়ে তাদের মধ্যে কথা হয়। জ্যাকব তখন কলকাতায় নিয়োজিত যুক্তরাষ্ট্রের কনসুল জেনারেল হার্বার্ট গর্ডনকে টেলিফোন করেন। কিন্তু তিনি এ ব্যাপারে তার অজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তবুও জ্যাকব বিষয়টি আবার খোঁজ নিতে অনুরোধ করেন। কিন্তু কনসুল জেনারেল নতুন কোনো তথ্য দেননি। এরপর জ্যাকব সেনাবাহিনী প্রধান মানেকশকে টেলিফোন করে অনুরোধ জানান তিনি যাতে দিল্লিতে নিয়োজিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাম্বাসেডরের কাছ থেকে তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করেন। অ্যাম্বাসেডর জানান, এ ব্যাপারে তার কাছে কোনো তথ্য নেই। তবে তার জানামতে স্পিভেক তার বার্তাটি পাকিস্তানে নিয়োজিত তাদের অ্যাম্বাসেডরকে পাঠিয়েছেন এবং অ্যাম্বাসেডর তা পাঠিয়ে দিয়েছেন ওয়াশিংটনের স্টেট ডিপার্টমেন্টে। পরে কিসিঞ্জার স্বীকার করেছিলেন স্টেট ডিপার্টমেন্ট প্রস্তাবটি নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে একদিন অপেক্ষা করতে বলেছিলেন। বার্তাটি মানেকশ ১৫ ডিসেম্বর পান। পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পণ করলে তিনি তাদের নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
পাকিস্তানের ইস্টার্ন কমান্ড ভারতের ইস্টার্ন কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করে। নিয়াজি আত্মসমর্পণের আহ্বানে সাড়া দেন। এখানে এই তথ্যটিও গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করা যায় যে ১৫ ডিসেম্বর প্রথমবারের মতো সক্রিয় হয়ে ইংল্যান্ড এবং ফ্রান্স ভারতের কাছে যুদ্ধ বিরতির পক্ষে অভিমত প্রকাশ করে। ১৫ ডিসেম্বর বিকেল পাঁচটা থেকে পরদিন অর্থাৎ ১৬ ডিসেম্বর প্রথমে সকাল ৯টা পরে তা বাড়িয়ে বিকেল তিনটা পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এসময় পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান যুদ্ধ বিরতিতে (যা বস্তুতপক্ষে আত্মসমর্পণ হিসেবে গৃহীত হবে) সম্মতি দান করেন। তবে পাকিস্তান পক্ষ ‘আত্মসমর্পণ’ (ঝঁৎৎবহফবৎ) শব্দটি ব্যবহার না করার জন্য চেষ্টা করেছিল। স্পিভেকের মাধ্যমে আত্মসমর্পণের দলিলটি নিয়াজি পান এবং এতে তার সম্মতি প্রকাশ করেন। জ্যাকব লিখেছেন জেনারেল মানেকশ ১৬ ডিসেম্বর সকাল সোয়া নয়টায় তাকে আদেশ দেন দ্রুত ঢাকায় চলে যেতে এবং সন্ধ্যার মধ্যে আত্মসমর্পণের কাজ সম্পন্ন করতে। তিনি জানিয়ে দেন ইতিমধ্যে ব্রিগেডিয়ার সান্থ লে. জেনারেল অরোরাকে নিয়ে আত্মসমর্পণের চূড়ান্ত দলিল প্রস্তুত করেছেন। জ্যাকব ঢাকা পৌঁছে নিয়াজির সদর দফতরে যান। এখানে তিনি মুক্তিবাহিনীর যোদ্ধাদের না আসার পরামর্শ দেন। তার মতে এ সময় মুক্তিযোদ্ধারা খুবই উত্তেজিত ছিল। ফলে যে কোনো অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটে যেতে পারে। তার সঙ্গে শুধু আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের কয়েকজন সংবাদকর্মী যাওয়ার অনুমতি পেয়েছিলেন। এসময় মুক্তিযোদ্ধারা চিৎকার করে বলছিলেন আমরা ভেতরে যেতে চাই, আমরা নিয়াজি ও তার সহযোগীদের ওপর প্রতিশোধ নেব। ঘৃণা ভরা নানা শব্দে তারা স্লোগান দিচ্ছিলেন। জ্যাকব মুক্তিযোদ্ধাদের বোঝালেন কিছুক্ষণের মধ্যে আত্মসমর্পণ সম্পন্ন হবে। তারা বরং চারদিকের পরিবেশ শান্ত রাখার ব্যবস্থা যেন করেন। এখন যুদ্ধবিরতি চলছে। আর সবারই জেনেভা কনভেনশনের প্রতি শ্রদ্ধা দেখানও উচিত। মুক্তিযোদ্ধারা বিষয়টি বুঝতে পেরে সেখান থেকে চলে যান। জ্যাকব দুপুর একটায় নিয়াজির দফতরে পৌঁছান। নিয়াজি অভ্যর্থনা জানান ভারতীয় জেনারেলকে। এ সময় নিয়াজি ছাড়াও আলোচনায় অংশ নেন রাও ফরমান আলী, মেজর জেনারেল জমশেদ, নৌবাহিনীর প্রধান রিয়ার এডমিরাল শরিফ, এয়ার কমডোর ইমাম এবং ব্রিগেডিয়ার বাকার সিদ্দিক। এর আগে ভারতীয় বাহিনীর মেজর জেনারেল জি. সি. নাগরার মেসেজ আসে। যৌথ বাহিনীর নেতৃত্ব দিয়ে তিনি ঢাকার দিকে অগ্রসর হচ্ছিলেন। বার্তায় তিনি নিয়াজিকে জানান, তিনি তার বাহিনী নিয়ে মিরপুর ব্রিজের কাছে চলে এসেছেন। তিনি যাতে তার প্রতিনিধি পাঠান। নাগরা একটি সাদা পতাকা ওড়ান। পাকিস্তানি সৈন্যরা নাগরাকে স্কট করে নিয়াজির সদর দফতরে নিয়ে যায়। জ্যাকব নিয়াজিকে জানান, টঙ্গীসহ কয়েকটি স্থানে এখনও বিচ্ছিন্নভাবে যুদ্ধ চলছে। এটি যুদ্ধবিরতি চুক্তির লঙ্ঘন। নিয়াজি তখন একটি নির্দেশনামা পাঠিয়ে দিলেন। জ্যাকব নাগরাকে কয়েকটি কাজ বুঝিয়ে দিলেন। প্রথমত, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য তিনি যাতে প্রয়োজনীয় সৈন্য নিয়ে অগ্রসর হন, দ্বিতীয়ত, আত্মসমর্পণের প্রস্তুতি যাতে সম্পন্ন করেন। জ্যাকব মনে করলেন ঢাকার অধিবাসী বাঙালিরা অত্যাচারিত হয়েছে, তাই জনসমক্ষে এই আত্মসমর্পণের অনুষ্ঠান করলে সবার কষ্ট অনেকটা প্রশমিত হবে। যাবতীয় প্রস্তুতি নিতে কয়েক ঘণ্টা লেগে গেল। কাছাকাছি কোথাও মাঝে মাঝেই গোলাগুলির শব্দ শোনা যাচ্ছিল। এ সময় ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে জাতিসংঘ এবং রেডক্রসের কর্মকর্তা ছাড়াও পূর্ব পাকিস্তান সরকার ও বিদেশি কর্মকর্তারা আশ্রয় নিয়েছিলেন।
তাদের নিরাপত্তার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হয়। সভাকক্ষে আত্মসমর্পণের শর্ত পড়ে শোনানো হয়। ঘরটি মৃতপুরীর মতো নিস্তব্ধ হয়ে যায়। নিয়াজির গাল বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ছিল। অন্যরা নিশ্চল হয়ে যায়। তাদের ধারণা ছিল ১৪ ডিসেম্বর স্পিভেক যেভাবে খসড়া তৈরি করেছিলেন তেমনই একটি যুদ্ধবিরতির কথা লেখা থাকবে। এটি যে পুরোপুরি আত্মসমর্পণ হিসেবে নির্ধারিত হয়ে গেল তা মেনে নেয়া তাদের জন্য খুব কষ্টের ছিল। পাকিস্তানি অফিসাররা কিছু শব্দ পরিবর্তনের কথা বলেন। ভারতীয় ও বাংলাদেশি সৈন্যদের কাছে আত্মসমর্পণ করার পরিবর্তে তারা যুদ্ধ বন্ধের মধ্যে থাকতে চেয়েছিল। কিন্তু তাদের এই আবেদন রক্ষা করা যায়নি। নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের মধ্যেই তাদের সম্মতি জানাতে হয়। ঠিক হল সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আত্মসমর্পণের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে। ঢাকার পতন নিয়ে সিদ্দিক সালিকের একটি মন্তব্য এখানে উল্লেখ করা যায়। তিনি লিখেছেন, নিয়াজি মেজর জেনারেল নাগরার বার্তাটি যখন পান তখন তার পাশে ছিলেন মেজর জেনারেল জামশেদ, মেজর জেনারেল ফরমান ও রিয়ার এডমিরার শরিফ। ফরমান জিজ্ঞেস করলেন জেনারেল নাগরা কি আলোচকদের কেউ? জবাবে নিয়াজি বললেন, না। তাহলে তাকে কি অভ্যর্থনা জানান হবে, না মোকাবেলা করা হবে। মোকাবেলা করতে হলে সামরিক শক্তির প্রয়োজন। ফরমান আলী নিয়াজিকে জিজ্ঞেস করলেন তার রিজার্ভ বাহিনী আছে কিনা। নিশ্চুপ রইলেন নিয়াজি। উত্তর খোঁজার জন্য নিয়াজি ঢাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত জামশেদের দিকে তাকালেন। জামশেদ এদিক-ওদিক মাথা নাড়িয়ে না সূচক ভাব প্রকাশ করলেন। হতাশ নিয়াজি তখন জামশেদকে উদ্দেশ্য করে বললেন, তাহলে আর কী করা। নাগরার ইচ্ছেই পূরণ করতে হবে। জেনারেল নিয়াজি নাগরাকে অভ্যর্থনা জানানোর জন্য মেজর জেনারেল জামশেদকে পাঠালেন। তিনি মিরপুর সেতুতে অবস্থানরত পাকিস্তানি সৈন্যদের যুদ্ধবিরতির প্রতি সম্মান প্রদর্শন ও নাগরার নির্বিঘ্ন আগমনের পথ সুগম করার আদেশ দিলেন। ভারতীয় জেনারেল কয়েকজন সৈন্য নিয়ে গৌরবের শিরোপা ধারণ করে ঢাকা প্রবেশ করেন। বস্তুত এভাবেই পাকিস্তানি দখলদারিত্ব থেকে ঢাকার পতন ঘটে। এদিন সকালের দিকে যৌথ বাহিনীর পক্ষ থেকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের কাছে বার্তা আসে যে আজই আনুষ্ঠানিকভাবে পাকিস্তান সেনাবাহিনী আত্মসমর্পণ করবে। এই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সরকার ও সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে যাতে প্রতিনিধি পাঠানো হয়। তাজউদ্দীন আহমদের অফিসের কাছেই প্রধান সেনাপতি জেনারেল ওসমানীর অফিস।
প্রধানমন্ত্রী এখানে এসে জেনারেল ওসমানীকে অনুরোধ করেন তিনি যাতে এই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। কিন্তু জেনারেল ওসমানী সম্মত হলেন না। তিনি তার আত্মসম্মান বোধ থেকে বললেন, যেখানে ভারতের প্রধান সেনাপতি জেনারেল মানেকশ এই অনুষ্ঠানে যাচ্ছেন না সেখানে বাংলাদেশের প্রধান সেনাপতি হিসেবে আমিও যেতে পারি না। এমন যুক্তিকে শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী ফিরে এলেন। তাই সঙ্গত কারণেই ঠিক হল মুক্তিযুদ্ধের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকারকেই পাঠানো হবে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এ কে খন্দকার কলকাতা থেকে হেলিকপ্টারে রওয়ানা হয়ে ঢাকা চলে এলেন। ইতিমধ্যে অসংখ্য বাঙালি ও মুক্তিযোদ্ধা জড় হয়েছেন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। ভারতীয় বাহিনীর জওয়ানরাও সুশৃঙ্খলভাবে দাঁড়িয়েছেন। চারদিক থেকে ‘জয়বাংলা’ স্লোগান মুখরিত করে তুলছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। আত্মসমর্পণের ঐতিহাসিক দলিলে পাকিস্তানের পক্ষে স্বাক্ষর করবেন লে. জেনারেল আমির আবদুল্লাহ খান নিয়াজি এবং বাংলাদেশের পক্ষে যৌথবাহিনীর সর্বাধিনায়ক জগজিৎ সিং অরোরা। প্রতীকী প্রতিনিধি হিসেবে পাকবাহিনীর অফিসার ও সৈনিকদের একটি দল একদিকে দাঁড়িয়েছিলেন। পাকবাহিনীর একটি দল জেনারেল অরোরাকে গার্ড অব অনার জানাল। যৌথ বাহিনীর আরেকটি দল পাকবাহিনীর পাহারায় রইল। আত্মসমর্পণের দলিলে স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সরকার ও মুক্তিবাহিনীর পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি চিফ অব স্টাফ গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার। তার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী।
ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ : অধ্যাপক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
shahnaway7b@gmail.com

রাখাইনের গণকবরে মিলল ১০ মরদেহ


মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলের রাখাইন প্রদেশের রোহিঙ্গা অধ্যুষিত একটি গ্রামে পাওয়া গণকবর থেকে  মিলেছে ১০ মরদেহ। এমন তথ্য নিশ্চিত করেছে  দেশটির সেনাবাহিনী। খবর রয়টার্স।

মিয়ানমার সেনাবাহিনী জানায়, মঙ্গলবার রাখাইনের মংডু শহরের ইন দিন গ্রামে যে গণকবরের সন্ধান পাওয়া গেছে সেখান থেকে ১০টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

সেনাপ্রধান জেনারেল মিন অং হ্লেইংয়ের ফেসবুক পেজে দেয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গণকবরের পেছনের প্রকৃত তথ্য জানতে একটি তদন্ত শুরু হয়েছে। গণকবর থেকে উদ্ধারকৃত মরদেহের ছবি ফেসবুকে শেয়ার করেছেন তিনি।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এ ঘটনার সঙ্গে যদি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা জড়িত থাকেন তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইন-অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

গণকবর থেকে মরদেহ উদ্ধারকারী দলের এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, মরদেহ দেখে মনে হচ্ছে তারা সম্প্রতি নিহত হয়নি।

উল্লেখ্য, গেলো ২৫ আগস্ট যখন রোহিঙ্গা বিদ্রোহীরা রাখাইনের ৩০টি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলা চালায়। এর জাবাবে সেনাবাহিনী অত্যন্ত কঠোর, পরিকল্পিত ও ধ্বংসাত্মক উপায়ে জবাব দেয়া শুরু করে। সেনাবাহিনীর এই অভিযানে এখন পর্যন্ত ৬ লাখের বেশি রোহিঙ্গা মুসলিম বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার মতে হত্যা করা হয়েছে ৬ থেকে ৭ হাজার মানুষ। আর এসময় ধর্ষণের শিকার হয়েছেন কয়েক হাজার নারী।


সমৃদ্ধির জন্য তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষা অপরিহার্য


বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর মতে, বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় এখন ১ হাজার ৬১০ ডলার। গত অর্থবছরে (২০১৬-১৭) জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৭ দশমিক ২৮ শতাংশ। আর এই প্রবৃদ্ধি অব্যাহত আছে পরপর দু’বছর ধরে। বিদেশি পত্রিকাগুলো বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে বিস্ময়কর বলে উল্লেখ করেছে। বাংলাদেশের এই অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে অবদান রয়েছে রেমিটেন্স, তৈরি পোশাক শিল্প, চামড়া শিল্প, পাটজাত দ্রব্য প্রভৃতির। রফতানির এই ধারায় নতুন করে সংযুক্ত হয়েছে তথ্যপ্রযুক্তি খাত। বাংলাদেশে এই ধারণাটি একেবারে নতুন হলেও উন্নত বিশ্বে তথ্যপ্রযুক্তির ধারণা ’৮০-৯০-এর দশক থেকেই চালু রয়েছে। বাংলাদেশের এখন ৬৬ শতাংশ মানুষ কর্মক্ষম। এই বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান শুধু প্রচলিত অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় অসম্ভব। এ সমস্যার সমাধান হতে পারে তথ্যপ্রযুক্তি খাত। উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে হলে তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষার প্রসার ঘটাতে হবে। বাংলাদেশের শিক্ষা ও অর্থনীতির একটি খারাপ দিক হল, উচ্চশিক্ষিতদের মধ্যে অন্তত ৪৭ শতাংশই বেকার। দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের চেয়েও খারাপ অবস্থানে রয়েছে শুধু আফগানিস্তান। এই বিশাল বেকারত্বের কারণ হল, প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থা, যা শুধু মানবিক, বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। এসব বিষয়ে চাকরির সুযোগ সীমিত। যার ফলে বাংলাদেশের একটি বিশাল কর্মক্ষম শিক্ষিত জনশক্তি চাকরির পেছনে ছুটে তাদের তারুণ্যকে নষ্ট করছে। এজন্য দায়ী মূলত আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা। তবে এ চিত্র পরিবর্তন করা সম্ভব, যদি আমরা তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষাকে মূলধারার শিক্ষাব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত করতে পারি।
তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, আইসিটি খাতে বাংলাদেশের আয় ২০০৮ সালে ছিল ২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা ২০১৫ সালে দাঁড়ায় ৩০০ মিলিয়ন ডলার এবং ২০১৮ সালে গিয়ে দাঁড়াবে ১ বিলিয়নে ও ২০২১ সালে গিয়ে দাঁড়াবে ৫ বিলিয়ন ডলারে। বর্তমানে এ সেক্টরে কর্মরত আছে ২ লাখ ৫০ হাজারেরও অধিক জনশক্তি, যা ২০২১ সালে গিয়ে দাঁড়াবে ৬ লাখেরও বেশি। তরুণদের মধ্যে এ সেক্টরটি জনপ্রিয়তা পাচ্ছে বেশি। আর তাই সরকার জনগণকে প্রশিক্ষিত করার জন্য ফ্রি প্রশিক্ষণের সুযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি দিবস, হাইটেক পার্ক, তথ্যপ্রযুক্তির বিভিন্ন উৎসব আইসিটি মেলা, প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতাসহ নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছে। যার ফলে এ সেক্টরটি দিনদিন জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। তবে এ সেক্টরকে আরও বেশি কার্যকর করা যাবে, যদি সরকার মূলধারার শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করে দেয়। ইতিমধ্যে ষষ্ঠ শ্রেণী থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত বাধ্যতামূলকভাবে তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষা চালু করা হয়েছে। তবে শিক্ষার্থীরা এ বিষয়টিকেও মুখস্থ করে পরীক্ষায় ভালো ফলাফল অর্জনের চেষ্টা করে। এজন্য বর্তমান পদ্ধতির পরিবর্তন ঘটিয়ে তা ব্যবহারিক শিক্ষা হিসেবে চালু করলে বিষয়টিতে শিক্ষার্থীরা আরও বেশি উপকৃত হবে। স্নাতক পর্যায়ের সব বিষয়েও যদি সরকার তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করে তা আরও বেশি কার্যকর ভূমিকা রাখবে। পত্রিকার মাধ্যমে জানতে পারলাম, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অনিন্দ্য মজুমদার সার্চ ইঞ্জিন গুগলে চাকরি পেয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ বিভাগের বিবৃতিতে উপাচার্য তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। দেশের গণমাধ্যম এটাকে উচ্ছ্বাসের সঙ্গে তুলে ধরছেন। অথচ এ গুগলেরই সিইও সুন্দর পিচাই আমাদের প্রতিবেশী ভারতের নাগরিক। শুধু কী গুগল, মাইক্রোসফটের প্রধান সত্য নাদেলাও ভারতের নাগরিক। আমেরিকার প্রযুক্তি খাতের ২৭ শতাংশ জনশক্তি ভারতীয় নাগরিক। ফেসবুক, গুগল, অ্যাপল ও মাইক্রোসফটের মতো বড় বড় প্রতিষ্ঠানের শাখা অফিসগুলো স্থাপন করা হচ্ছে ভারতে। কারণ ভারত তথ্যপ্রযুক্তিতে নেতৃত্ব দেয়ার জন্য দক্ষ জনশক্তি তৈরি করছে। সময়ক্ষেপণ না করে বাংলাদেশেও সব স্তরের শিক্ষা ব্যবস্থায় তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারিক শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করা উচিত। তাহলে আগামী দিনের তথ্যপ্রযুক্তির বিশ্বকে আমাদের দেশের শিক্ষার্থীরাও নেতৃত্ব দিতে পারবে।
শিক্ষার্থী, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়
bijoydu8@gmail.com

৬৫ বছরে বৃত্তি পরীক্ষা দিচ্ছেন ঝিনাইদহের আনজিরা

স্বামী-সন্তান শিক্ষিত এমনকি নাতি-নাতনিরাও করছে লেখাপড়া। কিন্তু আনজিরা বেগম জানে না কিছুই। নাম স্বাক্ষর, সংখ্যা গণনা, বাংলায় কোরআন শরীফ পড়া কিছুই সে পারে না। আর এই কষ্ট থেকেই ৬৫ বছর বয়সে আনজিরা বেগম নামের এক বৃদ্ধা ভর্তি হয়েছেন স্কুলে। শুধু ভর্তিই নয় কিন্ডারগার্টেনের প্লেতে শিশুদের সঙ্গে নিয়মিত একবছর ক্লাস করে বার্ষিক পরীক্ষার পর অংশ নিচ্ছেন বৃত্তি পরীক্ষায়।

শিক্ষার যে আসলেই কোনো বয়স নেই আনজিরা বেগম সেটি প্রমাণ করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এলাকায়। কোনো পিছুটান নয় বৃদ্ধা আনজিরার অদম্য সাহসিকতায় বাহবা দিচ্ছেন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ।

স্কুলের বাইরে অভিভাবকদের ভিড়। তারা অপেক্ষা করছেন পরীক্ষার পরে তাদের শিশু সন্তানদের বাড়ি নিয়ে যাবেন। আর স্কুলের ভেতরে একেকটি কক্ষ খুদে পরীক্ষার্থীতে ঠাসা। মনোযোগ দিয়ে লিখছে সবাই। তবে একটি কক্ষে খুদে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে এমন একজন বসে পরীক্ষা দিচ্ছেন যা দেখলে নিজের চোখকে বিশ্বাস করা যাবে না। মনোযোগ সহকারে খাতায় উত্তর লিখছেন পাকা চুলের এক নারী, চোখে ভারী চশমা। পরীক্ষায় তাকে সফল হতেই হবে, যেতে হবে বহুদূর। চলতে হবে যুগের সঙ্গে।

ঝিনাইদহ সোনাদাহ গ্রামের ১২ নম্বর দোগাছি ইউনিয়নের মুক্তিযোদ্ধা মোকাদ্দেছ হোসেনের স্ত্রী আনজিরা বেগম ৬৫ বছর বয়সে শিশুদের সঙ্গে খাতা, কলম, পেন্সিল আর বক্স নিয়ে বসেছেন পরীক্ষা দিতে। বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশন এর প্লে শ্রেণিতে বৃত্তি পরীক্ষা দিচ্ছেন তিনি।

বাড়ি থেকে ২ কিলোমিটার দূরে রোজভেলী নামের একটি কিন্ডারগার্টেন রয়েছে। সেখানেই গতবছর প্লেতে ভর্তি হন তিনি। ৪ সন্তানের জননী ৬৫ বছর বয়সী শিক্ষার্থী আনজিরা বেগমের পরীক্ষা কেন্দ্র ১১ কিলোমিটার দূরে ঝিনাইদহ শহরের ঐতিহ্যবাহী কাঞ্চননগর মডেল হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজে।

সবাইকে চমকে দিয়ে আনজিরা বেগম খুদে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে খুব সহজেই মানিয়ে নিয়েছেন। সহপাঠীরা কেউ নানি, কেউ দাদি বলে ডাকে তাকে।

আনজিরা বেগমের স্বামী মোকাদ্দেস হোসেন জানান, তার ৩ ছেলে-মেয়ে, তারা সবাই শিক্ষিত। আনজিরার লেখাপড়ার আগ্রহ দেখে সবাই তাকে সাপোর্ট দিচ্ছে।

এ ব্যাপারে রোজভেলী কিন্ডারগার্টেন পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম জানান, আমরা সবাই তার লেখাপড়ায়  উৎসাহ দিয়ে আসছি। অন্য ছাত্র-ছাত্রীরা ক্লাস মিস করলেও আরজিনা একদিনও ক্লাস মিস করেননি। তিনি ক্লাসে খুব মনোযোগী ছিলেন। তিনি ভালো ফল করবেন বলে আশাবাদী আমরা।

রানীর প্রত্যাবর্তন

বলিউডের এক সময়ের সাড়া জাগানো নায়িকা রানী মুখার্জি দীর্ঘ ৩ বছর বিরতির পর রুপালি পর্দায় ফিরছেন। এবার যশরাজ ফিল্মস প্রযোজিত ‘হিচকি’ ছবির মধ্য দিয়ে প্রত্যাবর্তন করছেন তিনি।

সংসার, সন্তান নিয়ে এতদিন ব্যস্ত থাকায় রুপালি পর্দার আঁড়ালে ছিলেন রানী মুখার্জি।

ইউটিউবে প্রকাশিত হয়েছে ‘হিচকি’ ছবির ট্রেলার। প্রকাশিত ট্রেইলারে শিক্ষিকার চরিত্রে দেখা যায় রানীকে। খুব দক্ষতার সঙ্গে সব কাজ করেন তিনি। কিন্তু কিছু সময় পরপর হেঁচকি ওঠে তার। এটা অনেকে তার দুর্বলতা মনে করেন। কিন্তু এ নিয়ে মোটেও চিন্তিত নন রানী। বরং নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ নিতে দেখা যায় তাকে। মনিশ শর্মা পরিচালিত ছবিটি মুক্তি পাবে আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারি।

বলিউডে তুমুল আলোচনা চলছে, রানীর আরো একটি পাওয়ার প্যাক্ট পারফরম্যান্স দেখতে চলেছে ইন্ডাস্ট্রি। ছবিটি মূলত একটি মেয়ের জীবনের গল্প, যেখানে মেয়েটি নিজের দুর্বলতাকে নিজের শক্তিতে পরিণত করবে।

ভারতীয় গণমাধ্যমকে রানী বলেন, ‘আমি এমন একটা স্ক্রিপ্টের জন্য অপেক্ষা করছিলাম, যেটি আমার কাছে চ্যালেঞ্জ। যেটি আমাকে আগ্রহী করবে। হিচকি আমাকে সেই সুযোগটা করে দিয়েছে।’

সবশেষ ২০১৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘মারদানী’ ছবিতে দেখা গেছে বলিউডের এ অভিনেত্রীকে।

পূর্ব বায়তুল মুকাদ্দাসে দূতাবাস খুলবে তুরস্ক; একই পথে লেবানন

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান বলেছেন, তার দেশ ফিলিস্তিনের পূর্ব বায়তুল মুকাদ্দাস শহরে দুতাবাস চালু করবে। একই কথা বিবেচনা করছেন লেবানন।
এরদোগান বলেছেন, “ইনশাল্লাহ, সেদিন খুব কাছেই যেদিন আমরা সেখানে আমাদের দূতাবাস চালু করব।” লেবানন পূর্ব বায়তুল মুকাদ্দাসে দূতাবাস খুলবে বলে যখন খবর বেরিয়েছে তখন তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোগান এ ঘোষণা দিলেন।
পূর্ব বায়তুল মুকাদ্দাস শহরে দূতাবাস খোলার বিষয়ে তুরস্কের প্রধান বিরোধীদল রিপাবলিকান পিপলস পার্টি বা সিএইচপি-ও সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। দলটি বলেছে, কোনো রকম সময় নষ্ট না করে দ্রুত পূর্ব বায়তুল মুকাদ্দাসে তুর্কি দূতাবাস খোলা উচিত।
বায়তুল মুকাদ্দাস শহরকে ইহুদিবাদী ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে স্বীকৃতি দিয়েছেন তার বিপরীতে তুরস্ক ও লেবানন পূর্ব বায়তুল মুকাদ্দাস শহরে নিজেদের দূতাবাস খোলার কথা বিবেচনা করছে বলে খবর বেরিয়েছে।
এ বিষয়ে লেবাননের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেবরান বাসিল তার সরকারি টুইটার পেইজে জানিয়েছেন, পূর্ব বায়তুল মুকাদ্দাস হচ্ছে ফিলিস্তিনের রাজধানী এবং তিনি দূতাবাস খোলার বিষয়ে ইচ্ছার কথা ফিলিস্তিনি স্বশাসন কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসকে জানিয়েছেন। বাসিল তার টুইটার পেইজে আরো বলেছেন, প্রেসিডেন্ট আব্বাস তাকে আশ্বস্ত করছেন যে, পূর্ব বায়তুল মুকাদ্দাস শহরে তিনি লেবাননের দূতাবাস খোলার জন্য জমি দেবেন।

মাধ্যমিক শিক্ষায় ৫১ কোটি ডলার দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক

বাংলাদেশের মাধ্যমিক শিক্ষা উন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ৫১ কোটি মার্কিন ডলার অর্থ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক।

ট্রান্সফর্মিং সেকেন্ডারি এডুকেশন ফর রেজাল্টস প্রোগ্রাম-এর আওতায় ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির ১ কোটি ৩০ লাখ শিক্ষার্থী এতে উপকৃত হবে।

বিশ্বব্যাংকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এই কর্মসূচি শিক্ষা ও পাঠদানের গুণগতমান বৃদ্ধির পাশাপাশি লেখাপড়ায় বিশেষ করে ছাত্রী ও দরিদ্র পারিবারের ছেয়েমেয়েদের স্কুলমুখী হওয়া ও ঝরেপড়া রোধ করবে।

বিশ্বব্যাংকের অঙ্গ সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন (আইডিএ) থেকে এই কর্মসূচিতে ঋণ প্রদান করা হবে। এই ঋণ সুদমুক্ত এবং ৬ বছর গ্রেস পিরিয়ডসহ ৩৮ বছরে পরিশোধযোগ্য। এতে শতকরা ০.৭৫ ভাগ সার্ভিস চার্জ নেয়া হবে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শিক্ষার গুণগতমান বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই কর্মসূচি কারিকুলামের আধুনিকায়ন এবং শিক্ষকদের পেশাগত উন্নয়ন, ব্যবস্থাপনা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণে সহায়তা করবে। এই কর্মসূচি শিক্ষাদান মূল্যায়ন ও পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারেও সহায়তা করবে।

বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ, ভুটান ও নেপালের কান্ট্রি ডিরেক্টর চিমিয়াও ফ্যান বলেন, ‘১৯৯৩ সালে বিশ্বব্যাংক একটি উদ্ভাবনী ও বিশ্বব্যাপী সুপরিচিত বৃত্তি প্রকল্পের মাধ্যমে মাধ্যমিক শিক্ষা ক্ষেত্রে সহযোগিতা প্রদান শুরু করে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের পরবর্তী চ্যালেঞ্জ হচ্ছে শিক্ষার গুণগতমান বৃদ্ধি এবং দরিদ্র ছেলেমেয়ে, বালক ও বালিকা উভয়ের দ্বাদশ পর্যন্ত পড়াশোনা সম্পন্ন করা।’


ইনফিনিটি ডিসপ্লে’র নতুন ফোন আনলো স্যামসাং

‘ইনফিনিটি ডিসপ্লে’ প্রযুক্তির নতুন দুইটি স্মার্টফোন উন্মোচন করেছে স্যামসাং।

গ্যালাক্সি এস৮-এ প্রথম এ ধরনের পর্দা ব্যবহার করে ইলেক্ট্রনিক পণ্য নির্মাতা দক্ষিণ কোরীয় প্রতিষ্ঠানটি। পর্দার বেজেল প্রায় পুরোটাই বাদ দেওয়ায় এমন নাম দেওয়া হয়েছে এই পর্দার।

গ্যালাক্সি এস ৮-এর পর গ্যালাক্সি নোট ৮ এ একই ধরনের পর্দা দেখা গেছে। কিন্তু এ যাবৎ তা ফ্ল্যাগশিপ ডিভাইসের মধ্যেই সীমিত ছিল। এবার মধ্যম মানের ডিভাইসে এই পর্দা যোগ করলো প্রতিষ্ঠানটি।

গ্যালক্সি এ৮ ও এ৮ প্লাস ২০১৮ সংস্করণে এই পর্দা যোগ করেছে স্যামস্যাং, বলা হয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আইএএনএস-এর প্রতিবেদনে।

২০১৮ সালের জানুয়ারিতে ডিভাইস দুইটি বাজারে আসবে বলে জানানো হয়েছে। ডিভাইসগুলোর বাজার মূল্য কতো হবে তা জানায়নি স্যামসাং।

এই ডিভাইস দু’টিতেই প্রথমবারের মতো সামনে ডুয়াল ক্যামেরা যোগ করেছে নির্মাতা প্রতিষ্ঠানতি। এই ডুয়াল ক্যামেরার মাধ্যমে ‘লাইভ ফোকাস’ সুবিধা পাওয়া যাবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এর পাশাপাশি ফ্ল্যাগশিপ ডিভাইসের অনেক ফিচারই রাখা হয়েছে নতুন ডিভাইস দু’টিতে।

গ্যালাক্সি এস ৮-এর মতোই হোম বাটন বাদ দেওয়া হয়েছে গ্যালাক্সি এ৮ ও এ৮ প্লাস-এ। আর ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর বসানো হয়েছে পেছনে ক্যামেরার নিচে।

এ ছাড়া ‘স্যামসাং পে’ সুবিধা পাওয়া যাবে নতুন স্মার্টফোনগুলোতে। আর আইপি৬৮ স্ট্যান্ডার্ড পানি-নিরোধী করা হয়েছে ডিভাইসগুলো।

গ্যালাক্সি এ৮-এ চার জিবি র‍্যামের সঙ্গে ৩২ জিবি বা ৬৪ জিবি ইন্টার্নাল স্টোরেজ এবং ৩০০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি ব্যবহার করেছে স্যামসাং।

আর চার জিবি বা ছয় জিবি র‍্যামের সঙ্গে ৩২ বা ৬৪ জিবি ইন্টার্নাল স্টরেজের সঙ্গে ৩৫০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি রাখা হয়েছে গ্যালাক্সি এ৮ প্লাস-এ।

প্রধানমন্ত্রীকে খালেদার উকিল নোটিশ


জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উকিল নোটিশ পাঠিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। ৩০ দিনের মধ্যে জবাব না পেলে আইনি পদক্ষেপ নেয়া হবে। জানালেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বুধবার বেলা ১১টার দিকে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।

মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, সম্প্রতি জিয়া পরিবার নিয়ে প্রধানমন্ত্রী যেসব অভিযোগ উত্থাপন করেছেন এসব অভিযোগ প্রমাণ করতে না পারলে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেছিলাম। কিন্তু দুঃখজনকভাবে তারা মুখে নানা কথা বললেও অভিযোগ প্রমাণে কোনো তথ্য উপস্থাপন করতে পারেননি। তাই আমরা আমাদের অঙ্গীকার অনুযায়ী খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছি।

মির্জা ফখরুল জানান, সুপ্রিম কোর্ট বারের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন মঙ্গলবার খালেদা জিয়ার পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন।

উ. কোরিয়াকে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত করতে বাধ্য করবে যুক্তরাষ্ট্র

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এইচ আর ম্যাকমাস্টার বলেছেন, উত্তর কোরিয়াকে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত করতে প্রস্তুত তার দেশ। এজন্য প্রয়োজনে উত্তর কোরিয়াকে বাধ্য করা হবে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা পরিকল্পনা প্রকাশের একদিন পর বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ম্যাকমাস্টার এসব কথা বলেন।

এদিকে ওয়ানাক্রাই সাইবার হামলার জন্য উত্তর কোরিয়াকে দায়ী করেছে যুক্তরাষ্ট্র। গত সপ্তাহে মাইক্রোসফট এবং গুগল উত্তর কোরিয়ার একটি সাইবার হামলাকে অকার্যকর করে দেয় বলে গতকাল মঙ্গলবার হোয়াইট হাউস জানিয়েছে।

স্বাধীন ও মুক্তসমাজের ক্ষতিসাধন করতে রাশিয়া ‘নাশকতামূলক তৎপরতার একটি সূক্ষ্ম প্রচারণা’ চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জেনারেল এইচ আর ম্যাকমাস্টার। চীন ও রাশিয়াকে ‘প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তি’ বলে চিহ্নিত করে ট্রাম্পের নতুন জাতীয় নিরাপত্তা নীতি ঘোষণার পর ম্যাক মাস্টার এসব কথা বললেন।

সোমবার ট্রাম্প তার নতুন জাতীয় নিরাপত্তা নীতি ঘোষণা করেন। অন্যদিকে ট্রাম্পের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা থমাস বোসার্ট ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে জানিয়েছেন, গত মে মাসে ওয়ানাক্রাই সাইবার হামলার জন্য দায়ী উত্তর কোরিয়া। এর পক্ষে আমাদের কাছে তথ্য প্রমাণ আছে। চলতি বছরের মে মাসের এই হামলায় ১৫০টি দেশের ২ লাখ ৩০ হাজার কম্পিউটার ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ইস্ট ডেল্টায় ‘অ্যাডমিশন ফেয়ার’


চট্টগ্রামের বেসরকারি ইস্ট ডেল্টা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইডিইউ) আগামী বছরের স্প্রিং সেমিস্টারের জন্য ‘অ্যাডমিশন ফেয়ার’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার নগরীর প্রবর্তক মোড়ে ইডিইউ’র বর্ধিত একাডেমিক ভবনে এই মেলার আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে ইডিইউর চেয়ারম্যান এবং বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, “প্রতিবছর উচ্চ শিক্ষার জন্য অনেক শিক্ষার্থী যুক্তরাজ্য, জাপান, কানাডাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে পাড়ি জমাত। তাদের অনেকেই এখন এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে আগ্রহী যা আমাদের জন্য গর্বের।”

ইডিইউ’র উপাচার্য অধ্যাপক মুহাম্মদ সিকান্দার খান বলেন, মেধাবীরা যাতে পছন্দের বিষয় খুঁজে নিতে পারেন তাই এ ধরনের মেলার আয়োজন।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ইডিইউ’র ট্রেজারার অধ্যাপক সামস উদ দোহা, ডিরেক্টর শাফায়েত চৌধুরী, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার সজল বড়ুয়া, অ্যাসোসিয়েট ডিন ড. মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন।

মেলায় ভর্তির যাবতীয় তথ্য ছাড়াও স্পট এডমিশন, স্কলারশিপ, ক্যাম্পাস জব, ক্যারিয়ার প্লেসমেন্ট সেল, ক্রেডিট ট্রান্সফার ও বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যৌথ শিক্ষা কার্যক্রমের বিভিন্ন তথ্য জানার সুযোগ ছিল।

হজযাত্রীদের সঙ্গে অনিয়ম, প্রতারণা অনুসন্ধান করবে দুদক

হজ মৌসুমে অনিয়ম ও হজযাত্রীদের সঙ্গে প্রতারণার অনুসন্ধান করবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অনুসন্ধানে দুদকের সহকারী পরিচালক মাসুদুর রহমানকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি অনুসন্ধান কমিটি গঠন করা হয়েছে।

দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য বিষয়টি আরটিভি অনলাইনকে নিশ্চিত করেছেন।

চলতি মৌসুমে হজের অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতিসংক্রান্ত গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের বিষয়ে জানতে চেয়ে সোমবার সচিবালয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ে ভারপ্রাপ্ত সচিবের সঙ্গে দেখা করে দুদক এসব বিষয়ে নথিপত্র চান বলে জানা যায়।

আগামী ২৮ ডিসেম্বরের মধ্যে এ সংক্রান্ত নথিপত্র সরবরাহ করা হবে বলে জানা যায়।

ধর্ম মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর হজের অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির বিষয়ে মোট ২২৮টি হজ এজেন্সির বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা পড়ে।  টাকা নিয়েও হাজীদের মানসম্মত ট্রলিব্যাগ না দেয়া, ভিসা থাকার পরও হজে পাঠাতে টালবাহানা, সৌদি আরবে তাসরিয়াবিহীন (চুক্তিহীন) বাড়িতে রাখা ও নিম্নমানের খাবার দেয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগ ওঠেছে এসব এজেন্সির বিরুদ্ধে। এর আগে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে গেল নভেম্বরে তিনটি তদন্ত কমিটি করে ধর্ম মন্ত্রণালয়।

প্রথম কমিটিতে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব (হজ) হাফিজ উদ্দিনকে প্রধান করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (উন্নয়ন) হাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে দ্বিতীয় কমিটি এবং যুগ্ম সচিব (সংস্থা) এবিএম আমিন উল্লাহ নুরীর নেতৃত্বে তৃতীয় কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিগুলো ৭৮টি এজেন্সির অভিযোগ খতিয়ে দেখবে। ইতোমধ্যে কমিটিগুলো সংশ্লিষ্ট এজেন্সির শুনানি শুরু করেছে।

বিজিবির জন্য হেলিকপ্টার কেনা হবে : প্রধানমন্ত্রী

দুর্গম এলাকায় দ্রুত যেতে বিজিবির জন্য হেলিকপ্টার কেনা হবে। জানালেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বুধবার সকালে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) দিবস উপলক্ষে পিলখানায় কুচকাওয়াজ পরিদর্শন শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এ তথ্য জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয় নির্বাচনে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) বিরাট ভূমিকা রয়েছে। তাছাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও মানুষ সৃষ্টি দুর্যোগে বিজিবি জনগণের যান-মাল রক্ষায় ভূমিকা রাখছে। বিজিবি কর্মকর্তা ও সদস্যরা পারস্পরিক আস্থা, শ্রদ্ধা, শৃঙ্খলা মেনে চলবে, দেশের জন্য কাজ করবে।

তিনি আরো বলেন, দেশ যখনই উন্নতির পথে হাঁটে তখনই স্বাধীনতা বিরোধীরা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়।

এসময় প্রধানমন্ত্রী বিজিবিতে বীরত্বপূর্ণ ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ৫১ কর্মকর্তা ও সদস্যদের পদক প্রদান করেন।

এর আগে সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী বীর উত্তম আনোয়ার হোসেন প্যারেড গ্রাউন্ডে পৌঁছলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল ও বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবুল হোসেন তাকে স্বাগত জানান। পরে বিজিবি সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার দেন।

বিজিবি দিবসের কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, উপদেষ্টাবৃন্দ, উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে সকাল ৮টায় বাহিনীর রেজিমেন্টাল পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে দিবসের কর্মসূচির সূচনা করেন বিজিবির মহাপরিচালক। দিবসটি উপলক্ষে রাজধানীর পিলখানা বিজিবির সদরদপ্তর এবং সব রিজিওন, বর্ডার গার্ড ট্রেনিং সেন্টার অ্যান্ড কলেজ, সেক্টর ও ব্যাটালিয়ন পর্যায়ে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।

ভারত ও মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সঙ্গে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের অব্যাহত বন্ধুত্বপূর্ণ সুসম্পর্ক ও পারস্পরিক সহযোগিতা উন্নয়নের নিদর্শন স্বরূপ প্রথমবারের মতো এবার ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (বিএসএফ) মহাপরিচালক কৃষান কুমার শর্মার নেতৃত্বে ১৫ সদস্যের প্রতিনিধিদল এবং মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) কমান্ডার পুলিশ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মায়ইন্ট তোয়ের নেতৃত্বে ৬ সদস্যের প্রতিনিধিদল বিজিবি দিবসের কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।



৩৫০ কোটি বছর আগের জীবাশ্ম

অস্ট্রেলিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে এক শিলাখণ্ডের মধ্যে বিশ্বের প্রাচীনতম জীবনের ইঙ্গিত পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। তারা পিলবারা এলাকা থেকে প্রায় ৩৫০ কোটি বছরের পুরনো ক্ষুদ্র জীবাশ্ম খুঁজে পেয়েছেন, যা এ যাবৎকালের পাওয়া জীবাশ্মগুলোর মধ্যে সবচেয়ে পুরনো। এর আগে দক্ষিণ আফ্রিকায় ২৭০-২৯০ কোটি বছর আগের জীবাশ্মের অস্তিত্ব পাওয়া যায় যা জৈবপদার্থ-সমৃদ্ধ মাটিতে মিশে ছিল। নতুন এ গবেষণার কাজে নেতৃত্ব দিয়েছেন জীবাশ্মবিদ অধ্যাপক উইলিয়াম স্কফ। ১৯৯৩ সালে প্রথম এ ধরনের জীবাশ্মের নমুনার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন তিনি।
লস অ্যাঞ্জেলসের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এ অধ্যাপক বলেন, আমি মনে করি এখন প্রাচীন জীবাশ্মের বিষয়টির সমাধান হয়েছে। জীবাশ্ম নিয়ে এ গবেষণায় অধ্যাপক স্কফ বিভিন্ন কার্বন আইসোটোপের অনুপাত খুঁজে বের করার জন্য প্রাচীন শিলাটির কার্বন গঠন বিশ্লেষণ করেছেন, অর্থাৎ বিভিন্ন ধরনের কার্বন নিয়ে গবেষণা করেছেন। এ কাজে সহযোগিতা করেছেন উইসকনসিন-ম্যাডিসন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষক অধ্যাপক জন ভ্যালি। তিনি বলেন, কার্বন আইসোটোপ অনুপাতের পার্থক্য জীবাশ্মগুলোর আকারের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। এই ক্ষুদ্র জীবাশ্ম বিশ্লেষণের জন্য বিজ্ঞানীরা দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর ধরে গবেষণা করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্স জার্নালে সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে জীবাশ্ম নিয়ে এ গবেষণাটি। এতে শিলাখণ্ড থেকে পাওয়া ১১টি বিভিন্ন জীবাণু নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার কথা বলা হয়েছে। এসব জীবাণুর মধ্যে কিছু প্রজাতি বহুদিন আগেই বিলুপ্ত হয়েছে এবং কিছু প্রজাতি এখনও বিরাজমান রয়েছে। দি ইনডিপেনডেন্ট।

জ্বরে খাদ্য পরামর্শ

জ্বরে রোগীরা কিছুই খেতে চায় না বা পারে না। শিশু ও বয়স্কদের এ সমস্যা বেশি হয় এবং রোগী ক্রমাগত দুর্বল হয়ে পড়ে ও নানাবিধ জটিলতা দেখা দেয়। জ্বর হলে শরীরে ক্যালরির চাহিদা বাড়ে, ফলে বিপাক বেড়ে যায় ও রোগীর পুষ্টির দরকার হয়। রুচি কমে গেলে এমন খাবার বেছে নিন, যা অল্প খেলেও বেশি ক্যালরি পাওয়া যায়। জ্বরে প্রচুর তরল পান করতে হয়, দিনে কমপক্ষে আড়াই লিটার। পানির পাশাপাশি লবণ ও খনিজ উপাদানসমৃদ্ধ তরল যেমন- ডাবের পানি, ওরস্যালাইন, লেবু-লবণের শরবত, ফলের রস পান করা উচিত। এর ফলে রক্তচাপ হ্রাসের ঝুঁকি কমবে, অতি মিষ্টি পানীয় খেলে বমির উদ্রেক হতে পারে।
তাই বাজারের কোমল পানীয় বা আইসক্রিম সহজে পিপাসা মেটায় না। অরুচি বা বমি ভাবের জন্য তেল-মসলাযুক্ত খাবার, ফাস্টফুট ইত্যাদি না খাওয়াই ভালো। খাবারের তালিকায় পর্যাপ্ত শর্করা যেমন ভাত, জাউভাত, ওটমিল ইত্যাদি রাখুন। প্রোটিন যেমন- দুধ, দই, মাছ বা মুরগির মাংস, স্যুপ রাখুন। জ্বরে আক্রান্ত রোগীর কিছু খেলেই বমি আসে, তারা হালকা শুকনো খাবার খাবেন। যেমন বিস্কুট, মুড়ি ইত্যাদি। আদা-চা, গ্রিন-টি বা শুকনো আদা বমি ভাব কমায়। এ সময় ফল বেশি করে খেতে হবে।
হারবাল গবেষক ও চিকিৎসক
মডার্ন হারবাল গ্রুপ

সঠিকভাবে তদারকি হচ্ছে না প্রকল্পের কাজ

উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) অনুযায়ী প্রকল্প বাস্তবায়নের অগ্রগতি পরিবীক্ষণসহ পরিকল্পনা কমিশনের গাইডলাইন এবং পিপিআরের বিধিবিধান সঠিকভাবে পরিপালনের বিষয়টি তদারকি হচ্ছে না। এমনকি দফতর ও সংস্থাপর্যায়ে প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে নিয়মিত সভাও হচ্ছে না। চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) অগ্রগতি মাত্র ১১ দশমিক ৮২ শতাংশ। এমনকি জাতীয় গড় অপেক্ষাও কম বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের পর্যালোচনায় বেরিয়ে এসেছে। সম্প্রতি সুরক্ষা সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিবের সভাপতিত্বে এডিপি বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে পর্যালোচনা সভায় সভাপতির পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিধি অনুসরণ করে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে কি না তা তদারকি করার জন্য গত অক্টোবরে অধীনস্থ দফতর বা সংস্থার প্রধানদের দায়িত্ব দেয়া হয়। কিন্তু সেটি করা হয়নি। এই কাজ সঠিকভাবে পালনের জন্য আবারো দফতর বা সংস্থার প্রধানদের নির্দেশনা দেয়া হয়। পর্যালোচনা সভায় জানানো হয়, চলতি অর্থবছর এডিপিতে সুরক্ষা সেবা বিভাগের ১৮টি প্রকল্পের অনুকূলে মোট ৯৩৭ কোটি ৬১ লাখ টাকা বরাদ্দ রয়েছে। এর মধ্যে জিওবি খাতে ৮৮৩ কোটি ১৮ লাখ টাকা এবং প্রকল্প সাহায্য খাতে ৫৪ কোটি ৪৩ লাখ টাকা রয়েছে। ওই অর্থ থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ২৮৩ কোটি ৮৯ লাখ টাকা অবমুক্ত হয়েছে, যা মোট বরাদ্দের প্রায় ৩০ দশমিক ২৭ শতাংশ। কিন্তু প্রকল্প পরিচালকেরা ব্যয় করতে পেরেছে মাত্র ১১০ কোটি ৯১ লাখ টাকা বা ছাড়কৃত অর্থের মাত্র ৩৯ দশমিক ৬ শতাংশ। যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় অনেক কম।
গত অর্থবছর অগ্রগতি ছিল বরাদ্দকৃত অর্থের ২৪ শতাংশ এবং ছাড়কৃত অর্থের ৬৬ শতাংশ। এখানে জাতীয় গড় অগ্রগতি হলো ১৮ শতাংশ। সভায় এই অগ্রগতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়। পাশাপাশি কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী বাস্তবায়ন অগ্রগতি ত্বরান্বিত করতে প্রকল্প পরিচালকদের নির্দেশনা দেয়া হয় বলে সভা সূত্রে জানা গেছে। পর্যালোচনায় দেখা যায়, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতরের অগ্রগতি মাত্র ৯ দশমিক ৩৩ শতাংশ। সংস্থাটির পাঁচটি প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ রয়েছে ৬১৭ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। অর্থ ছাড় হয়েছে ১৫৪ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। কিন্তু ব্যয় হয়েছে মাত্র ৫৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা। কারা অধিদফতরের অগ্রগতি ১৭ দশমিক ৩৩ শতাংশ। ৯টি প্রকল্পের অনুকূলে বরাদ্দ রয়েছে ২৬৭ কোটি ১০ লাখ টাকা। ছাড় হয়েছে ১০৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। তারা ব্যয় করতে পেরেছে মাত্র ৪৬ কোটি ২৯ লাখ টাকা। পাসপোর্ট অধিদফতরের তিন প্রকল্পের অগ্রগতি ১৬ দশমিক ৩৯ শতাংশ। এরা ব্যয় করতে পেরেছে মাত্র ছয় কোটি ৩৬ লাখ টাকা। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের এক প্রকল্পের অগ্রগতি ৪ দশমিক ৩৬ শতাংশ। সংশ্লিষ্ট বিভাগ বলছে, ১৮টি প্রকল্পের মধ্যে আটটি চলতি অর্থবছরে শেষ হয়ে যাবে। তাই এডিপিতে অন্তর্ভুক্ত নতুন অননুমোদিত প্রকল্পগুলোর খসড়া প্রস্তাব অতি দ্রুত অনুমোদনের ব্যবস্থা নিতে হবে। এটি করা না হলে আগামী অর্থবছর এই বিভাগের এডিপির আকার কমে যাবে।

ভারতীয়রাই সবচেয়ে বেশি অভিবাসী

বিশ্বজুড়ে অভিবাসীদের বসবাসের নিরিখে ভারতীয়দের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। সবমিলিয়ে এই মুহূর্তে প্রায় ১ কোটি ৭০ লক্ষ ভারতীয় অভিবাসী ছড়িয়ে ছিটিয়ে বসবাস করছেন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে। এর মধ্যে উপসাগরীয় অঞ্চলেই বসবাস করেন প্রায় ৫০ লক্ষ ভারতীয়। ব্রিটেনে বসবাসের সংখ্যা ৩০ লক্ষ। আমেরিকা এবং আরব দেশগুলোতে বসবাস করেন ২০ লক্ষ করে। সম্প্রতি ২০১৭ সালের অভিবাসন সংক্রান্ত এক রিপোর্ট প্রকাশ করে জাতিসঙ্ঘঞ।
তাতেই এই তথ্য উঠে এসেছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী অভিবাসীদের মধ্যে ভারত রয়েছে সর্বোচ্চ স্থানে। তার পরেই স্থান মেক্সিকো’র। এই দেশের প্রায় ১ কোটি ৩০ লক্ষ অভিবাসী বিভিন্ন দেশে বসবাস করছেন। রাশিয়া, চীন, বাংলাদেশ, সিরিয়া, পাকিস্তান এবং ইউক্রেনও রয়েছে প্রথম সারিতে। জাতিসঙ্ঘের ইকনমিক অ্যান্ড সোশ্যাল অ্যাফেয়ার্সের কর্তা লিউ জেনমিন বলেছেন, ২০০০ সালের পর থেকে আন্তর্জাতিক স্তরে অভিবাসীদের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। বিভিন্ন দেশে জনস্ফীতির একটা বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়ে অভিবাসী বৃদ্ধির হার। এ ব্যাপারে জাতিসঙ্ঘের সদস্যভূক্ত প্রতিটি দেশকে সচেতন থাকারও পরামর্শ দিয়েছেন লিউ।

এক প্রতিবন্ধী শহীদ এখন আশার আলো

প্রতিবন্ধী শহীদ
দু’টি কারণে গাজা উপত্যকায় বেশ পরিচিত ছিলেন ইব্রাহিম আবু থুরাইয়া। একটি তার ব্যতিক্রমী পদ্ধতিতে গাড়ি ধোয়া, অন্যটি ইসরাইলি আগ্রাসনবিরোধী প্রতিবাদের অগ্রসেনা।  ২০০৮ সালে ইসরাইলি বিমান হামলায় ২৯ বছর বয়সী থুরাইয়া তার দু’টি পা হারিয়েছেন। তবে এতে তিনি দমে যাননি এতটুকুও। ঘরবাড়ি হারিয়ে উদ্বাস্তুশিবিরে বাস করা এই যুবক কারো ওপর নির্ভরশীল না হয়ে নিজেই করতেন জীবিকার ব্যবস্থা।
আর আগের চেয়েও অনেক বেশি উদ্যম নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়তেন ইসরাইলবিরোধী বিক্ষোভগুলোতে। কিন্তু গত শুক্রবার ইসরাইলি সেনাদের বুলেট কেড়ে নেয় এই সাহসী যুবকের জীবন।  হুইল চেয়ার নিয়েই তিনি সেদিন জেরুসালেমের অধিকার রক্ষার আন্দোলনে শরিক হয়েছিলেন, কিন্তু দখলদার সেনাদের বুলেট বাঁচতে দেয়নি এই পঙ্গু মানুষটিকেও।  ইব্রাহিমের মৃত্যুতে সাধারণ ফিলিস্তিনিদের নিরস্ত্র আন্দোলনের ওপর ইসরাইলি বর্বরতার বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে সারা বিশ্বের মানুষ। প্রতিরোধ আন্দোলনের নতুন কিংবদন্তিতে পরিণত হয়েছেন এই শহীদ। সামাজিক যোগযোগমাধ্যমে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে, বিশ্বের নামী সব সংবাদমাধ্যম ইব্রাহিমের বীরত্ব নিয়ে প্রকাশ করেছে রিপোর্ট। এক সময় মাছধরা নৌকার সাজসজ্জাকর হিসেবে জীবিকা নির্বাহ করলেও ইসরাইলি হামলায় পা হারানোর পর বেছে নেন গাড়ি ধোয়ার কাজ। হুইল চেয়ার থেকে উঠে গাড়ির বনেটের ওপর বসে গাড়ি ধোয়ার কাজটিই তাকে অধিক পরিচিতি এনে দিয়েছে। আর ফিলিস্তিনের পক্ষে বিক্ষোভকারীদের কাছেও তিনি ছিলেন অন্যতম প্রিয় সহযোগী। বিক্ষোভের ডাক এলেই ইব্রাহিম কাজ থেকে ছুটি নিয়ে চলে যেতেন প্রিয় মাতৃভূমির অধিকার রক্ষার আন্দোলনে। ট্রাম্পের জেরুসালেম ঘোষণার পর গাজা ও পশ্চিম তীরে নতুন করে শুরু হয় ইসরাইলবিরোধী জোরালো বিক্ষোভ। অন্যান্য দিনের মতো গত শুক্রবারও ইব্রাহিম যোগ দেন সীমান্তে ইসরাইলবিরোধী বিক্ষোভে। এ সময় ইসরাইলি সেনাদের একটি গুলি লাগে তার মাথায়। লুটিয়ে পড়েন ইব্রাহিম। পড়ে গাজার একটি হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।
ইব্রাহিমের মৃত্যুর ঘটনায় ঝড় ওঠে সামাজিক যোগযোগমাধ্যমে। ইব্রাহিমকে নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আইয়ের একটি ভিডিও গত শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত অনলাইনে দেখা হয়েছে ২৫ লাখ বার। শেয়ার করা হয়েছে ৩৩ হাজার বার। জেরুসালেমের সাংবাদিক নাসের আত্তা টুইটারে লিখেছেন, গাজার বাসিন্দারা মনে করেন ইব্রাহিমের মৃত্যুই তৃতীয় ইন্তিফাদার চূড়ান্তপর্যায়ের সূচনা করবে। অনেকেই তাকে দ্বিতীয় ইন্তিফাদার আলোচিত শহীদ ১২ বছর বয়সী মোহাম্মদ আল দুরার মৃত্যুর সাথে তুলনা করেন। মিডল ইস্ট আইয়ের এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, নিজের অক্ষমতার কারণে ইসরাইলবিরোধী বিক্ষোভের সময় ইব্রাহিম বিদ্যুতের খুঁটিতে উঠে ফিলিস্তিনি পতাকা ওড়াতেন। তার ভাষায় ‘পঙ্গুত্ব সত্ত্বেও যতটুকু সম্ভব’ করতেন তিনি। ২০১২ সালে আয়ারল্যান্ডের কিছু শুভাকাক্সক্ষী তহবিল সংগ্রহ করে ইব্রাহিমের জন্য একটি স্বয়ংক্রিয় হুইল চেয়ারের ব্যবস্থা করেন। শুক্রবার গুলি লাগার কিছুক্ষণ আগে এক সাক্ষাৎকারে ইব্রাহিম বলেন, ‘এই ভূখণ্ড আমাদের, আমরা তা ত্যাগ করব না। আমেরিকাকে অবশ্যই তার ঘোষণা প্রত্যাহার করতে হবে।’

লিবিয়ার প্রেসিডেন্ট গাদ্দাফিপুত্র সাইফ!

লিবিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে
প্রার্থী হবেন গাদ্দাফিপুত্র সাইফ
লিবিয়ার আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হবেন দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট মুয়াম্মার গাদ্দাফির ছেলে সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফি। গাদ্দাফি পরিবারের মুখপাত্র বাসেম আল-হাশিমী আল-সোল গত রোববার মিসরীয় গণমাধ্যম ইজিপ্ট টুডেকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ২০১৮ সালে। গাদ্দাফির ছেলের প্রতি সমর্থন রয়েছে লিবিয়ার প্রধান প্রধান উপজাতির। লিবিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা আনায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ সাইফ।
২০১১ সালে ন্যাটোর সমর্থনে বিদ্রোহীরা লিবিয়ার সাবেক নেতা গাদ্দাফিকে নৃশংসভাবে হত্যা করে। এ ঘটনার তিন মাস পর নভেম্বরে নাইজারে পালিয়ে যাওয়ার সময় মরুভূমি থেকে সাইফকে আটক করে একটি বিদ্রোহী দল। পরে আটক অবস্থার ছবি প্রকাশ হলে দেখা যায়, তার হাতের কয়েকটি আঙুল নেই। সহিংসতা উসকে দেয়া ও গাদ্দাফিবিরোধী প্রতিবাদকারীদের হত্যা করার অভিযোগে চার বছর পর বিচারে ৩০ সহযোগীসহ তাকে ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড দেন ত্রিপলির একটি আদালত। কিন্তু জিনতানের ওই বিদ্রোহী বাহিনী তাকে কখনোই ত্রিপলি কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেনি। মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালত সাইফকে ফেরারি ঘোষণা করেছেন। সাইফ আল-ইসলামের বয়স ৪৪ বছর। ২০০৮ সালে লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকস থেকে তিনি পিএইচডি অর্জন করেছেন বলে জানা যায়। ২০০০ সালের পর পশ্চিমা সরকারগুলোর সাথে সম্পর্ক স্থাপনে সাইফ মূল ভূমিকা পালন করেছিলেন।

বাস মালিক সমিতির দ্বন্দ্বে দক্ষিণাঞ্চল অচলের আশঙ্কা

ঝালকাঠি বাস মালিক সমিতি ও বরিশাল বাস মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দের মধ্যে চলমান বিরোধ এবার চূড়ান্ত রূপ ধারণ করেছে। প্রশাসনের সকল বিভাগের সমঝোতার চেষ্টাকে নাকচ করে দিয়ে মঙ্গলবার দুপুরে নিজেদের রুট থেকেই পটুয়াখালী-কুয়াকাটা এবং ঝালকাঠি থেকে পিরোজপুর, মঠবাড়িয়া, ভান্ডারিয়া, বাগেরহাট ও খুলনা রুটে বাস সার্ভিস শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে ঝালকাটি বাস মালিক সমিতির নেতারা। বরিশাল বাস মালিক সমিতির নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, ঝালকাঠি বাস মালিক সমিতি রায়াপুরা থেকে বাস চালু করলে পুরো দক্ষিণাঞ্চলে বাস ধর্মঘটের ডাক দিবে বরিশাল বাস মালিক সমিতি। বরিশাল বাস মালিক সমিতির নেতারা জানান, ঝালকাঠি বাস মালিক সমিতির নেতারা গায়ের জোরে দখলদারিত্ব নিতে চাচ্ছে। বিভাগের ছয় জেলার (পিরোজপুর, ভোলা, বরগুনা, পটুয়াখালী, ঝালকাঠি এবং বরিশাল) শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের সাথে এবং বাস মালিক সমিতির নেতাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ঝালকাঠি এবং বরিশালের বাস মালিক সমিতির মুখোমুখি অবস্থানের কারনে গোটা বিভাগজুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে। ঝালকাঠি বাস মালিক সমিতির নেতারা জানান, তাদের ন্যায্য অধিকার পেতে তারা সক্রিয় অবস্থানে রয়েছেন। যতক্ষণে বরিশাল বাস মালিক সমিতির নেতারা তাদের অধিকার ফিরিয়ে না দিবে ততক্ষনে তাদের একট্টা হওয়া মালিক সমিতি ঝালকাঠি ও পিরোজপুর এলাকায় বরিশাল বাস মালিক সমিতির কোন যানবাহন প্রবেশ করতে দেয়া হবেনা। বরিশাল বাস মালিক সমিতির নেতারা জানান, ঝালকাঠি বাস মালিক সমিতি গায়ের জোরে কোন কিছু করতে গেলে তাদের প্রতিহত করা হবে। ঝালকাঠি বাস মালিক সমিতির নেতারা জানান, তারা বসে বসে মার খাবেন না, আজ থেকে পাল্টা মার দেয়া হবে বলেও হুমকি প্রদর্শণ করা হয়।
দুই বাস মালিক সমিতির নেতাদের পরস্পর বিরোধী বক্তব্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল। খবর নিয়ে জানা গেছে, পরিবহন নিয়ে ঝালকাঠি বাস মালিক সমিতি দক্ষিণাঞ্চলের সকল রুটে প্রবেশের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। নলছিটির দপদপিয়া, রায়াপুরায় চলছে ভুড়িভোজ এবং আনন্দ উল্লাসের আয়োজন। নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে, দক্ষিণাঞ্চলের সকল রুটে বাস ঢুকানোর সময়ে বরিশাল বাস মালিক সমিতি যদি বাধা দেয় তা শক্ত হাতে প্রতিহত করতে সংর্ঘষের জন্য শতাধিক রিজার্ভ লোক রাখা হয়েছে। আর তাদের জন্যই আয়োজন করা হয়েছে ভুড়িভোজ। অপরদিকে বরিশাল বাস মালিক সমিতিও প্রস্তুতি নিচ্ছে ঝালকাঠি মালিক সমিতিকে প্রতিহত করার জন্য। ঝালকাঠি বাস মালিক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক নাছির উদ্দিন বলেন, প্রশাসনের সাথে দফায় দফায় বৈঠক করে দাবির কথা জানানো হয়েছিলো। তারা তা ভ্রক্ষেপ করেননি। ফলে আমাদের মতো করে আমরা বাস চলাচল শুরু করাবো। তিনি আরও বলেন, এতে আমাদের কেউ মারধর করতে আসলে প্রয়োজনে মার খাবো, তবুও দাবি বাস্তবায়ন করবো। ঝালকাঠি বাস মালিক সমিতির সকল দাবি ভিত্তিহীন দাবি করে বরিশাল বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কাওছার হোসেন শিপন বলেন, তারা (ঝালকাঠি বাস মালিক সমিতি) গায়ের জোরে কথা বলছেন। মূলত তারা বরিশাল বিভাগের অন্যান্য জেলার তুলনায় বেশি সুবিধা ভোগ করেও বর্তমানে কতিপয় রাজনৈতিক নেতার মদদে এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। নিয়ম ভেঙে ঝালকাঠি বাস মালিক সমিতি কিছু করতে গেলে তার কঠোর জবাব দেয়া হবে। শিপন আরও বলেন, ১৮ ডিসেম্বর বিভাগীয় কমিশনার নিজে মোবাইল ফোনে ঝালকাঠি বাস মালিক সমিতিকে অনুরোধ করেছিলেন যেন ঝালকাঠি বরিশাল রুটের অবরোধ তুলে নেয়া হয়। যেহেতু ২০ ডিসেম্বর তাদের জন্য সমন্বয় সভার আহবান করা হয়েছে।
বিভাগীয় কমিশনারের অনুরোধ উপেক্ষা করে তারা তাদের অবরোধ চালিয়ে যাচ্ছে। বরিশাল বাস মালিক সমিতির নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, ঝালকাঠি বাস মালিক সমিতি রায়াপুরা থেকে বাস চালু করলে পুরো দক্ষিণাঞ্চলে বাস ধর্মঘটের ডাক দিবে বরিশাল বাস মালিক সমিতি। পটুয়াখালী বাস মালিক সমিতির সভাপতি রিয়াজ মৃধা ঝালকাঠির অবরোধকে যুক্তিহীন দাবি করে বলেন, আমাদের সমন্বয় বরিশাল এবং বরগুনা বাস মালিক সমিতির সাথে। এর বাইরে আমাদের রুটে কাউকে ঢুকতে দেয়া হবেনা। পিরোজপুর বাস মালিক সমিতির সিনিয়র সহসভাপতি আলতাফ হোসেন নান্না বলেন, যেহেতু ঝালকাঠি অতিক্রম করে আমাদের চলাচল করতে হয়। সে কারণে ঝালকাঠি জেলার নেতাদের সাথে সাংর্ঘষিক কোনো সিদ্ধান্তে যাবো না। বরগুনা বাস মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা কিসলু বলেন, ঝামেলাটা বরিশাল এবং ঝালকাঠির। তবে সমন্বয় ছাড়া নতুন করে কেউ আমাদের রুটে প্রবেশ করতে পারবে না। ঝালকাঠি শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক বাহাদুর চৌধুরী বলেন, আমরা সকল রুটে প্রবেশ করার জন্য প্রস্তুত। কেউ বাধা দিলে সেখানেই জবাব দেয়া হবে।

সমঝোতা স্বাক্ষরের পরও রাখাইনে নিধনযজ্ঞ থামেনি

সমঝোতায় স্বাক্ষরের পরও রাখাইনে নিধনযজ্ঞ থামেনি। সমঝোতার পরও রোহিঙ্গাদের স্থাপনায় প্রতিদিনই আগুন দিচ্ছে উগ্রপন্থী বৌদ্ধরা। রোহিঙ্গা পালিয়ে আসা কিছুতেই থামছে না। কোনো না কোনো সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে রোহিঙ্গারা পালিয়ে আসছেন। গত রোববার রাতে কিয়ক্ততে উগ্রপন্থী বৌদ্ধদের দেয়া আগুনে দগ্ধ হয়ে স্কুলপড়ুয়া দুই রোহিঙ্গা ছাত্র মারা গেছে। নিহত দু’জনই কিয়ক্তের উচ্ছিপাড়া এলাকার ইলিয়াছের ছেলে বলে জানা গেছে। তাদের একজন দশম শ্রেণী এবং অন্যজন নবম শ্রেণীতে অধ্যয়নরত ছিল। সূত্র জানিয়েছে, প্রতিদিনের মতো নিজস্ব ওষুধের দোকানে রাতে ঘুমিয়ে পড়ে দুই ভাই। এ সময় বাইরে থেকে দোকানে আগুন লাগিয়ে দেয় উগ্রপন্থীরা। দোকান থেকে বের হওয়ার পথ না পেয়ে আগুনে দগ্ধ হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে দুই ভাই। এ দিকে রাখাইন রাজ্য থেকে টেকনাফের কোনো না কোনো সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে রাতে ও দিনে রোহিঙ্গারা নৌকায় এখনো বাংলাদেশে পালিয়ে আসছেন।
গত রবি ও সোমবার ৮০ পরিবারের ২৪৭ জনকে ত্রাণ সহযোগিতা দিয়ে টেকনাফে নয়াপাড়া রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে পাঠানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন সাবরাং হারিয়াখালী ত্রাণকেন্দ্রের দায়িত্ব পালন করা জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি ও টেকনাফ উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মো: দেলোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, রোববার সকাল থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে পালিয়ে আসেন আরো ৮০টি পরিবারের ২৪৭ জন রোহিঙ্গা শিশু, নারী ও পুরুষ হারিয়াখালী ত্রাণ কেন্দ্রে। পরে রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা ও প্রতিটি পরিবারকে চাল, ডাল, সুজি, চিনি, তেল, লবণ ও একটি করে কম্বল দিয়ে বাসে ২৪৭ জনকে টেকনাফের নয়াপাড়া রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে পাঠানো হয়েছে। ২৩ নভেম্বর দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা হয়। তবে ২৫ নভেম্বর আরাকানের মংডুর কাছে মিয়াও মি চ্যাঙ গ্রামে আগুন দিয়ে নিশ্চিহ্ন করে দেয়। পরের এক সপ্তাহের মধ্যে চারটি গ্রামে ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়। এখনো বাংলাদেশে পালিয়ে আসছেন হাজার হাজার রোহিঙ্গা। মংডু, বুচিডং আর রাচিডং শহরের আশপাশের প্রায় এক হাজার গ্রামে আগুন দেয়। এ বছর আগস্ট মাসের শেষের দিকে আরাকানে সামরিক অভিযান শুরুর পর এসব গ্রামে ধ্বংসাত্মক তৎপরতা শুরু হয়।

রংপুর সিটি নির্বাচন : জিতবে কে?

আগামীকাল অনুষ্ঠিতব্য রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে সাতজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও লড়াই হবে মূলত ধানের শীষ, নৌকা ও লাঙ্গলের মধ্যে। মঙ্গলবার রাত ১২টা বাজার সাথে সাথেই দৃশ্যমান প্রচারণা বন্ধ হয়ে গেলেও এই ভোটযুদ্ধে বিজয়ী হতে প্রার্থীদের চলছে শেষ কৌশল প্রয়োগের নানামুখী তৎপরতা। রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এবার মেয়র প্রার্থীদের মধ্যে বিএনপি মনোনীত কাওছার জামান বাবলা ধানের শীষ, জাতীয় পার্টি মনোনীত মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা লাঙ্গল, আওয়ামী লীগ মনোনীত সরফুদ্দীন আহম্মেদ ঝন্টু নৌকা, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত এ টি এম গোলাম মোস্তফা হাতপাখা, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি মনোনীত সেলিম আখতার আম, বাসদ মনোনীত আব্দুল কুদ্দুস মই এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হোসেন মকবুল শাহরিয়ার আসিফ হাতি প্রতীক নিয়ে লড়ছেন। তবে লাঙ্গল নৌকা আর ধানের শীষের মধ্যেই লড়াই হবে বলে মনে করছে নগরবাসী। সব কেন্দ্রীয় নেতা চলে গেলেও বিএনপি প্রার্থী কাওছার জামান বাবলা ও তার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক মহানগর বিএনপি সভাপতি মোজাফফর হোসেন, সদস্য সচিব ও সেক্রেটারি শহিদুল ইসলাম মিজু, সাবেক সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান সামু, জেলা সভাপতি সাইফুল ইসলাম, সেক্রেটারি রইচ আহম্মেদ, সাবেক এমপি মহিলা সভাপতি শাহিদার রহমান জোছনা, অ্যাডভোকেট রেজেকা সুলতানা ফেন্সি, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল আহ্বায়ক আব্দুস সালাম, যুবদল জেলা সভাপতি নাজমুল আলম নাজু, সেক্রেটারি শামসুল হক ঝন্টু, যুবদল মহানগর সভাপতি মাহফুজ উন নবী ডন, জেলা ছাত্রদল সভাপতি মনিরুজ্জামান হিজবুল, সেক্রেটারি শরীফ নেওয়াজ জোহা, মহানগর ছাত্রদল সভাপতি নুর হাসান সুমন, সেক্রেটারি জাকারিয়া ইসলাম জিমসহ বিপুল নেতাকর্মী নগরীর বিভিন্ন প্রান্তে ধানের শীষের পক্ষে প্রচারণায় অংশ নেন।
নির্বাচন কমিশনের বেঁধে দেয়া সময়সূচির ভেতরে মঙ্গলবার সকাল থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা এবং তার সাথে জাতীয় পার্টির কো চেয়ারম্যান জি এম কাদের, নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক মহানগর জাতীয় পার্টির সেক্রেটারি এস এম ইয়াসির, জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও মহানগর যুব সংহতির সভাপতি হাজী আব্দুর রাজ্জাক, সেক্রেটারি হাসানুজ্জামান নাজিম, মহানগর জাতীয় পার্টির যুগ্ম সম্পাদক লোকমান হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক জায়দুল ইসলাম, মহানগর ছাত্রসমাজের সভাপতি ইয়াসির আরাফাত আসিফ, সেক্রেটারি আমিনুল ইসলাম ছোট, সাংগঠনিক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আল আমিন সুমন, জেলা ছাত্রসমাজ আহ্বায়ক আশরাফুল হক জবা, যুগ্ম আহ্বায়ক বিদ্যুৎ, স্বেচ্ছাসেবক পার্টির শামীম সিদ্দিকীসহ মূল, সহযোগী ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা বিচ্ছিন্নভাবে পুরো নগরীতে প্রচারণা চালিয়েছেন। রাতে মোস্তফা সিটি বাজারের সামনে পথসভায় প্রচারণা চালান। এদিকে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী সরফুদ্দীন আহম্মেদ ঝন্টু এবং তার পক্ষে কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আহমেদ হোসেন ছাড়াও জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মমতাজ উদ্দিন, সেক্রেটারি অ্যাডাভোকেট রেজাউল করিম, মহানগর সভাপতি সাফিউর রহমান সফি, সেক্রেটারি তুষারকান্তি মণ্ডল, ছাত্রলীগ জেলা সভাপতি মেহেদী হাসান রনি, সেক্রেটারি রাকিবুল হাসান কানান, মহানগর সভাপতি শাফিউর রহমান স্বাধীন, সেক্রেটারী শেখ আসিফ হোসেন, যুবলীগের মহানগর আহ্বায়ক সিরাজুম মুনির বাশার, জেলা আহ্বায়ক রাশেদুন্নবী জুয়েলসহ মূল, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা পুরো নগরী চষে বেরিয়েছেন প্রচারণার কাজে। প্রথম দিকে বিএনপি প্রচারণায় পিছিয়ে থাকলেও গত তিন দিন থেকে তাদের প্রচারণা নগরবাসীর মাঝে চাঞ্চল্য তৈরি করেছে। নির্বিঘœ ভোট নিশ্চিত করা হলে এই নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী কাওছার জামান বাবলার বিজয় নিশ্চিত দাবি করে তার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব শহিদুল ইসলাম মিজু নয়া দিগন্তকে জানান, নির্বাচন কমিশন আমাদের সাথে বৈরী আচরণ করায় আমরা প্রথম দিকে প্রচার-প্রচারণায় সামান্য পিছিয়ে ছিলাম। আমরা আইনের মধ্যে থেকেই প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছি। হুমকি ধমকির মধ্যেও আমরা মাঠেই আছি। শহিদুল ইসলাম মিজু বলেন, আমাদের পক্ষে মানুষের রব উঠে গেছে। মানুষ এখন ধানের শীষের পক্ষে। খালেদা জিয়ার ধানের শীষে ভোট দিয়ে তারা আওয়ামী দুঃশাসনের বিরুদ্ধে সিগন্যাল দিতে চান।
তিনি বলেন, এই নির্বাচনে আমাদের বাড়তি সুবিধা হলো মহাজোটের দুই প্রার্থী। মহাজোটভুক্ত ভোটার ও সমর্থকরা দ্বিধাদ্বন্দ্বে আছেন। সে কারণে তারা ধানের শীষকেই বেছে নিয়েছেন। তিনি আরো বলেন, এরশাদের ভাতিজা এখানে প্রার্থী হওয়ায় আমরা আরো একটা সুবিধা পেয়েছি। কারণ জাতীয় পার্টির প্রার্থী এবং এরশাদের ভাতিজা মাঠে থাকায় জাতীয় পার্টি অনেক সমর্থক তাদের কাউকেই ভোট না দিয়ে আমাদের প্রার্থীকে ভোট দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সেটিও আমাদের জন্য প্লাস পয়েন্ট। আর এই সরকারের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে মানুষ সরব। সে কারণে আমরা মানুষের সহানুভূতি পাচ্ছি। তারা ধানের শীষকেই মাথায় রেখেছেন। এ ছাড়াও আমাদের প্রার্থী বিগত পাঁচ বছর থেকেই মাঠে ছিলেন। তার কিন ইমেজ আছে। সেদিক দিয়েও আমাদের ভোট আছে অনেক। অন্য দিকে ২০ দলীয় জোটের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা একত্র হয়ে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেবেন বলে দাবি করেন এই বিএনপি নেতা। বিএনপির পক্ষ থেকে প্রচারণায় এখন খুবই গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এটা হয়েছে কেন্দ্রীয় টিম আসার পর। সোমবার দুপুরে রংপুরে আসেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সিও বাজার থেকে স্টেশন পর্যন্ত প্রধান সড়কে প্রার্থী বাবলাকে নিয়ে মির্জা ফখরুলের একটানা প্রচারণা নগরবাসীর দৃষ্টি কেড়েছে। এর আগে শুক্রবার রংপুর আসেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাবেক হুইপ জয়নাল আবদিন ফারুক। এর আগে বুধবার আসেন নির্বাচন পরিচালনা কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক ও দলের ভাইস চেয়ারম্যান ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সদস্য সচিব ও সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলু, সদস্য সহসাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম ও সামসুজ্জামান, কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য আমিনুল ইসলাম ও আব্দুল খালেক। তারাও গণসংযোগে অংশ নেন। কেন্দ্রীয় নেতারা রংপুরে আসার আগে বিএনপি মিডিয়ায় তেমন একটা গুরুত্ব না পেলেও কেন্দ্রীয় নেতারা আসায় বিএনপি মিডিয়াতে সরব হয়ে ওঠে। সংবাদ সম্মেলন এবং নির্বাচন কমিশনের প্রতি অভিযোগসহ একেক নেতা একেক সময় মিডিয়ায় এই নির্বাচন নিয়ে সরব থাকায় ঘরে বসে থাকা ভোটাররাও বিএনপির সরব উপস্থিতি দেখছেন। তবে সোমবার রাতেই এসব নেতা রংপুর ত্যাগ করেন। জাতীয় পার্টির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক এস এম ইয়াসিরের দাবি, এক দিকে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মনোনয়ন ও আশীর্বাদ অন্য দিকে লাঙ্গল প্রতীক। সাথে আছে প্রথমবার নির্বাচনে ব্যর্থতার পরও নগরবাসীর সাথে গত পাঁচ বছর হাসিমুখ কানেকশনে গড়ে ওঠা মোস্তফার ব্যক্তি ইমেজ। এর বাইরে আছে সরকার ও সাবেক মেয়র বিরোধী বিশাল জনগোষ্ঠী।
সাবেক পৌরমেয়র এ কে এম আব্দুর রউফ মানিক নির্বাচনে না থাকায় তার সমর্থক এলিট, সুধী এবং মহিলা ও রিকশা-অটো শ্রমিকদের সমর্থ আছে। সোমবার রংপুরে এসেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। রংপুরে এসেছেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব রুহুল আমীন হাওলাদার, সাবেক মহাসচিব জিয়াউদ্দিন বাবলুসহ কেন্দ্রীয় অনেক নেতা। তিনি ভোট দেয়ার জন্য এলেও নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন না। এ ছাড়াও শনিবার এসেছেন জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের। তিনি মোস্তফাকে নিয়ে মাঠ চষে বেড়াচেছন। এদিকে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর নির্বাচন পরিচালনা কমিটি, তাদের নিজস্ব জরিপ ও নির্বাচনী মাঠে থাকা বিভিন্ন পর্যবেক্ষক এবং সাধারণ ভোটারদের সাথে গত তিন দিনে কথা বলে জানা গেছে, নির্বাচনে অন্যতম প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক মেয়র আওয়ামী লীগ প্রার্থী সরফুদ্দীন আহম্মেদ ঝন্টুকে বিজয়ী করতে কর্মী সমর্থকরা জোর প্রচারণা চালাচ্ছেন। জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা তার জন্য মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। রংপুর মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা তুষারকান্তি মণ্ডলের দাবি, নৌকা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতীক, উন্নয়নের প্রতীক আওয়ামী লীগের প্রতীক। সেই প্রতীক তিনি দিয়েছেন ঝন্টুকে। পাশাপাশি পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকাকালে তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে রংপুরের উন্নয়নের জন্য অনেক কিছু এনে দিয়েছেন। এদিকে নৌকার বিজয় নিশ্চিত করতে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আহমেদ হোসেন, কেন্দ্রীয় কমিটির তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোটকেট আফজাল হোসেন, কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিশ্বনাথ সরকার বিটু, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাকির হোসেন, সেক্রেটারি সোহাগের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় টিম। বিভিন্নভাবে তারা মাঠে থাকার চেষ্টা করছেন। প্রত্যেক মানুষের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করছেন তারা। ২০১২ সালের ২০ ডিসেম্বর রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচন হয়েছিল। এতে দলীয় প্রতীকে না হলেও সরফুদ্দীন আহম্মেদ ঝন্টু মোটরসাইকেল প্রতীকে এক লাখ ছয় হাজার ২৫৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি এবার নৌকা প্রতীক নিয়ে লড়ছেন। ওই নির্বাচনে জাতীয় পার্টির সমর্থন ছাড়াই হাঁস প্রতীক নিয়ে মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা পেয়েছিলেন ৭৭ হাজার ৮০৫ ভোট। এবারের নির্বাচনে তিনি জাতীয় পার্টির মেয়র প্রার্থী। অন্য দিকে ওই নির্বাচনে কাওছার জামান বাবলা আনারস প্রতীক নিয়ে অংশ নিলেও কারচুপির অভিযোগ তুলে আগের দিনই নির্বাচন বয়কট করেছিলেন। তবুও ভোট পেয়েছিলেন ২৪ হাজারের বেশি। এবার তিনি ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এই নির্বাচনে তাকে একটি বড় ফ্যাক্টর মনে করছে নগরবাসী। আগামীকাল অনুষ্ঠিত হবে এই নির্বাচন। এবার মেয়র পদে সাতজন, সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৬৫ এবং সাধারণ কাউন্সিলর পদে ২১১ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

সঙ্কট এড়াতে কানাডা থেকে তিনটি উড়োজাহাজ কিনছে বিমান

সঙ্কট এড়াতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জন্য তিনটি নতুন উড়োজাহাজ কেনা হচ্ছে। এগুলো কেনা হবে কানাডা থেকে। উড়োজাহাজগুলো কেনার জন্য কানাডা সরকার ঋণও দেবে। ৭০ থেকে ৮০ আসনবিশিষ্ট টার্বোপ্রপ (ড্যাশ৮-কিউ৪০০এনজি) উড়োজাহাজগুলো সরাসরি ক্রয়চুক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্রীয়পর্যায়ে কেনা হবে। এ জন্য কোনো টেন্ডার দেয়ার প্রয়োজন পড়বে না।
এ ধরনের উড়োজাহাজের একমাত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান কানাডার ‘বম্বারডিয়ের ইঙ্ক’ এগুলো সরবরাহ করবে। আজ বুধবার ‘অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে বিষয়টি নীতিগত অনুমোদনের জন্য প্রস্তাব উপস্থাপন করা হবে বলে জানা গেছে। বেসরকারি বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, রাষ্ট্রীয়পর্যায়ে (জিটুজি) সরাসরি ক্রয়চুক্তির মাধ্যমে এই উড়োজাহাজ তিনটি ক্রয় করা হবে। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ বিমান ‘কানাডিয়ান কমার্শিয়াল কো-অপারেশন’ (সিসিসি)-এর সাথে চুক্তি করবে। পাশাপাশি উড়োজাহাজ ক্রয়ে কানাডা সরকারের প্রতিষ্ঠান ‘এক্সপোর্ট ডেভেলপমেন্ট কানাডা’ (ইডিসি) থেকে বাংলাদেশ বিমানের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়নের প্রস্তাব করা হয়েছে। জানা যায়, বর্তমানে রাষ্ট্রায়ত্ত বাংলাদেশ বিমানের বহরে মোট ১৩টি উড়োজাহাজ রয়েছে। এর মধ্যে ৬টি বিমানের নিজস্ব, অপর ৭টি ভাড়ায় সংগৃহীত। বিমানের নিজস্ব উড়োজাহাজের মধ্যে চারটি বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআর ও ২টি বোয়িং ৭৩৭-৮০০। ভাড়ায় সংগৃহীত উড়োজাহাজগুলোর মধ্যে একটি অভ্যন্তরীণ রুটে (ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী, সৈয়দপুর, যশোর, বরিশাল ও কক্সবাজার) এবং একটি আন্তর্জাতিক রুটে (ঢাকা, কলকাতা, কাঠমান্ডু, ইয়াংগুন) ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব রুটে বেশি যাত্রী সেবার সুযোগ থাকায় বাংলাদেশ বিমানের বহরে দীর্ঘ মেয়াদে নিজস্ব উড়োজাহাজ বাড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করছে সংস্থাটি। বিমান মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী জানুয়ারি ও মার্চে রি-ডেলিভারির জন্য ২টি উড়োজাহাজ বিমান বহর থেকে অপসারণ করা হবে এবং ২০২২ সালের শুরুতে আরো ৪টি উড়োজাহাজ ফেরত দেয়া হবে। ফলে বিমান বাংলাদেশের বহরে বিমান সঙ্কট দেখা দেবে। অন্য দিকে ভাড়ায় সংগৃহীত ২টি ড্যাশ ৮-কিউ৪০০ উড়োজাহাজের প্রতিটির রক্ষণাবেক্ষণ ও অন্যান্য খরচ ব্যতীত শুধু মাসিক ভাড়া বাবদ ১ লাখ ৬৮ হাজার ডলার ব্যয় করতে হচ্ছে।
বিমানে ড্যাস-৮ কিউ ৪০০ থেকে এনজি বা এ ধরনের ৭০ থেকে ৮০ আসনের টার্বোপ্রপ উড়োজাহাজ ক্রয় করা হলে ব্যয়ের সাশ্রয় হবে। এ বিষয়গুলো বিবেচনায় বাংলাদেশ বিমানের জন্য তিনটি উড়োজাহাজ ক্রয়ের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সূত্র জানায়, উড়োজাহাজ তিনটি ক্রয়ের জন্য ইতোমধ্যে কানাডয় বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এরপর বিক্রয় প্রস্তাব পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং নোগোসিয়েশন করার লক্ষ্যে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের একজন যুগ্ম সচিব, লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের একজন যুগ্ম সচিব ও সংসদবিষয়ক বিভাগের একজন যুগ্ম সচিব, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের একজন যুগ্ম সচিব, অর্থ বিভাগের একজন উপ-সচিব এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স লিমিটেডের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটির মাধ্যমে নেগোসিয়েশন কার্যক্রম চলছে। এ বিষয়ে বিমান মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আমাদের অনেক সম্ভাবনাময় রুট থাকা সত্ত্বেও স্রেফ উড়োজাহাজ সঙ্কটের কারণে এই রুটগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। যেমন ইতালি ও জাপানে অনেক বাংলাদেশী বসবাস করে। একসময় এসব দেশে বিমান ফ্লাইট পরিচালনা করত। তবে ভুল ব্যবস্থাপনা ও উড়োজাহাজ সঙ্কটের কারণে এই রুটে এখন আর বিমানের ফ্লাইট চলে না। এখন চেষ্টা করা হচ্ছে নতুন উড়োজাহাজ সংগ্রহ করে বন্ধ হয়ে যাওয়া রুটগুলো চালু করা যায় কি না।

খোঁজ মিলেছে নিখোঁজ সাংবাদিক উৎপল দাসের

ভুলতা পুলিশ ফাঁড়িতে উৎপল দাস
নিখোঁজ হওয়ার দুমাসেরও বেশি সময় পর সন্ধান মিলেছে সাংবাদিক উৎপল দাসের। মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টা ৪৫ মিনিটে তার পিতা চিত্তরঞ্জন দাস বিবিসিকে উৎপলের সন্ধান পাওয়ার খবর নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, " সে নারায়ণগঞ্জের ভুলতায় রয়েছে। আমরা অপেক্ষা করছি। উৎপল আসছে বাড়িতে। তার মায়ের সাথেও কথা হয়েছে"। উৎপল দাসের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ঢাকার সাংবাদিক রাজীব আহমদ জানান, রাতে হঠাৎ করেই ভাইবারে সচল দেখা যায় উৎপলকে।
এরপরই একজন সাংবাদিক তাকে কল দিলে উৎপল দ্বিতীয় দফায় সেটি রিসিভ করেন। এরপর উৎপল জানান যে তিনি নারায়ণগঞ্জের ভুলতা এলাকায় রয়েছেন এবং তিনি ভালো আছেন। আহমদ বলেন, পরে তারা বন্ধুরা প্রায় সবাই তার সাথে ফোনে কথা বলেছেন এবং উৎপল জানিয়েছেন যে তিনি তার পরিবারের সাথেও কথা বলেছেন। রাত একটার দিকে উৎপলের আরেক বন্ধু সাংবাদিক এজাজুল হক মুকুল বিবিসিকে জানান, খবর পেয়েই রাত সাড়ে বারটার দিকে তারা ভুলতার দিকে রওনা হয়েছেন। এর আগে গত ২৩ অক্টোবর উৎপল দাসের বাবা চিত্ত রঞ্জন দাস মতিঝিল থানায় একটি জিডি করেন যেখানে বলা হয় উৎপল তেরো দিন ধরে নিখোঁজ। ওইদিন উৎপলের দুটি মোবাইল নাম্বার থেকে ফোন করে এক লাখ টাকা দাবি করা হয় বলেও জানান তার বাবা। এরপর থেকেই মূলত তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিলোনা এবং তার সন্ধান চেয়ে প্রায় প্রতিদিনই নানা কর্মসূচি পালন করেছে তার সহকর্মী সাংবাদিকরা।