Sunday, November 10, 2024

ইসরায়েলি হামলায় গাজায় এক পরিবারের সবাই নিহত

ফিলিস্তিনের গাজার জাবালিয়া উদ্বাস্তুশিবিরে ইসরায়েলের বিমান হামলায় ১৩ শিশুসহ অন্তত ৩৩ জন নিহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন একই পরিবারের মা–বাবা, সন্তান, নাতি-নাতনিসহ সব সদস্যও।

গাজার স্থানীয় সময় আজ রোববার সকাল ছয়টায় উদ্বাস্তুশিবিরটিতে ওই হামলা চালানো হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নিহত ব্যক্তিরা ওই শিবিরের বাসিন্দা।

পূর্বসতর্কতামূলক কোনো বার্তা ছাড়াই ইসরায়েল উদ্বাস্তুশিবিরের একটি ভবনে এ হামলা চালায়। ওই সময় লোকজন ভবনের ভেতরে অবস্থান করছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভবনটিতে থাকা বাসিন্দাদের অনেকেই ছিলেন শিশু ও নারী। তাঁরা উত্তর গাজা থেকে ঘরবাড়ি হারিয়ে এখানে এসে আশ্রয় নিয়েছিলেন।

গাজার বিভিন্ন এলাকা থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে আশ্রয়শিবিরে ঠাঁই নেওয়া সাধারণ মানুষও যে ইসরায়েলের বোমা হামলা থেকে বাঁচতে পারছেন না, এ ঘটনা তারই উদাহরণ।

এদিকে গাজা উপত্যকায় ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠায় অগ্রগতি না হওয়ায় এ–সংক্রান্ত প্রচেষ্টায় মধ্যস্থতা করা থেকে সাময়িকভাবে সরে দাঁড়াচ্ছে কাতার।

এক বিবৃতিতে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়ে বলেছে, নির্মম এ যুদ্ধের পরিসমাপ্তি ও বেসামরিক লোকজনের চলমান দুর্দশার অবসানে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো যখন সদিচ্ছা ও আন্তরিকতা দেখাবে, তখনই আবার যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার মধ্যস্থতায় ফিরবে তারা।

বিস্তারিত উল্লেখ না করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, মধ্যস্থতা প্রচেষ্টাকে ব্ল্যাকমেল করার হাতিয়ার বানানোকে কাতার মেনে নেবে না। তারা বলেছে, গাজায় চলমান যুদ্ধকে বৈধতা দিতে ও সংকীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল করতে চলতি মধ্যস্থতা প্রচেষ্টার অপব্যবহার করা হচ্ছে।

মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, দোহায় হামাসের কার্যালয় নিয়ে গণমাধ্যমে যেসব খবর প্রকাশ করা হয়েছে, সেসব সঠিক নয়। তবে এ নিয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু বলেনি মন্ত্রণালয়।

এর আগে কাতার থেকে হামাসের নেতাদের সরিয়ে দিতে যুক্তরাষ্ট্রের তরফে আহ্বান জানানো হয়েছে এবং দোহা এ বার্তা সংগঠনটির কাছে পৌঁছে দিয়েছে বলে খবরে উল্লেখ করে বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও এপি। এরপরই কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ বিবৃতি দেওয়া হলো।

তবে হামাস কর্মকর্তারা রয়টার্সকে বলেছেন, তাঁদের নেতাদের দেশটিতে আর স্বাগত জানানো হবে না, এমন কোনো বার্তা কাতারের কাছ থেকে তাঁরা পাননি।

ফিলিস্তিনের গাজায় এক বছরের বেশি সময় ধরে নির্বিচারে হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল। গাজা, ফিলিস্তিন, ৭ নভেম্বর ২০২৪
ফিলিস্তিনের গাজায় এক বছরের বেশি সময় ধরে নির্বিচারে হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল। গাজা, ফিলিস্তিন, ৭ নভেম্বর ২০২৪ ছবি: এএফপি

বউবাজারে রহস্যময় লৌহ সুড়ঙ্গের সন্ধান, কী আছে ভেতরে?

কংক্রিটের সুড়ঙ্গের মধ্যে তৈরি করা হচ্ছে লোহার সুড়ঙ্গ। সুড়ঙ্গকে সুরক্ষা করতেই না কি এমন উদ্যোগ। মেট্রো চলাচলে যেন কোনো সমস্যা না হয়, তাই কংক্রিটের সুড়ঙ্গের মধ্যে সঠিক আকৃতির আরেকটা লোহার সুড়ঙ্গ তৈরি করা হচ্ছে। কংক্রিটের সুড়ঙ্গের মধ্যে লোহার পাতের এই সুড়ঙ্গটি দেখা গেছে কলকাতার বউবাজার এলাকায়।

এক সুড়ঙ্গ থেকে পাশের সুড়ঙ্গতে যাওয়ার রাস্তায় এই লোহার রিং দেওয়া হচ্ছে। একটি টানেল ১০৮ মিটার, অপর টানেল ৯২ মিটার। দুই টানেলকে সংযোগ করার জন্যই বানানো হচ্ছে এই সুড়ঙ্গ। দুটি সুড়ঙ্গই লোহার পাত দিয়ে বাঁধিয়ে দেওয়া হচ্ছে। যার বাইরের দিকে রয়েছে কংক্রিটের সুড়ঙ্গ।

২০১৯ সালে সুড়ঙ্গটি নির্মাণ করার পর থেকে গত পাঁচ বছরে একাধিকবার এই সুরঙ্গ নিয়ে সমস্যায় পড়তে হয়েছে মেট্রোকে। মেট্রো চলাচলে নিমির্ত সুড়ঙ্গে ঢুকে পড়ছে পানি। ফলে ব্যাঘাত হচ্ছে মেট্রো চলাচল। মাটির ভেতর থেকে পানি বেরিয়ে এসে, মাটি বসে গিয়ে বহুবার বাড়িতে ধরেছে ফাটল। ঘটেছে একাধিক দুর্ঘটনাও।

২০১৯ সুড়ঙ্গ খোঁড়ার কাজ চলাকালীন আচমকাই নেমে এসেছিল বিপর্যয়। সুড়ঙ্গে বালি এবং পানি ঢুকে যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় এলাকার অনেক বাড়ির ভিত।

সুড়ঙ্গ তৈরির কাজ শেষ হলেও, বিপত্তি তৈরি হয় এক সুড়ঙ্গ থেকে পাশের সুড়ঙ্গতে যাওয়ার রাস্তা বানাতে গিয়ে যাকে বলা হয় ক্রস প্যাসেজ। সেই কাজ করতে গিয়েও, পুনরায় পানি বেরিয়ে আসে।

এর আগে প্রায় দুবছর আগে বউবাজার এলাকায় মেট্রোরেলের সুড়ঙ্গে সমস্যা দেখা দেওয়ায় বেশ কয়েকটি বাড়িতে ফাটল ধরেছিল। সেই সময়ও মেট্রো কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের সরিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন এবং সুড়ঙ্গের মেরামতির কাজ করা হয়েছিল। তবে নতুন করে আবারও এই ধরনের ঘটনা ঘটায় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

তাই এবার বাড়তি সুরক্ষায় এই বিশেষ উদ্যোগ কেএমআরসিএলের। সুড়ঙ্গের নির্দিষ্ট জায়গায় আধ ইঞ্চি পুরু ধাতব ইস্পাতের লোহার চাদর বসানো হচ্ছে।

প্রতীকী ছবি
প্রতীকী ছবি



ইসরায়েলি সেনাদের যেভাবে উগ্রবাদী তৈরি করল নেতানিয়াহু সরকার

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী (আইডিএফ) সম্প্রতি এমন একপর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে উগ্রবাদ এবং ধর্মীয় চরমপন্থার প্রভাব ক্রমশ শক্তিশালী হয়ে উঠছে। গাজা ও লেবাননে সাম্প্রতিক সময়ে তাদের সামরিক আগ্রাসন এর স্পষ্ট উদাহরণ, যা শুধু ফিলিস্তিনিদের ওপর মানবাধিকার লঙ্ঘন বাড়িয়ে তুলছে না বরং ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকেও হুমকির মুখে ফেলছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই উগ্রবাদী প্রবণতার জন্য ইসরায়েলের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সরকার দায়ী, যিনি সেনাবাহিনীর মধ্যে উগ্র জাতীয়তাবাদী এবং ধর্মীয় চরমপন্থিদের অনুপ্রাণিত করেছেন।

ইসরায়েল দেশটি তার প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসেবে দাঁড়ানোর কথা বললেও, বাস্তবে ইহুদি ধর্মীয় জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠীগুলো ক্রমেই সেনাবাহিনী ও রাজনৈতিক কাঠামোতে প্রভাব বিস্তার করেছে। এদের মূল আদর্শ হচ্ছে ‘পবিত্র ভূমি’ পুনর্দখল, যার অংশ হিসেবে গাজা ও পশ্চিম তীরে তারা সামরিক অভিযান চালিয়ে আসছে।

বিশেষ করে, ইসরায়েলি সেনাদের উগ্রবাদী মনোভাবের উত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে ইহুদি ধর্মীয় নেতা আব্রাহাম আইজ্যাক কুকের মতবাদ। কুক বিশ্বাস করতেন ইসরায়েলের ভূমি ইহুদিদের ঈশ্বরপ্রদত্ত অধিকার এবং এই ধারণা সেনাবাহিনীতে একটি ধর্মীয় চরমপন্থার জন্ম দিয়েছে।

উল্লেখ্য, ১৯৬৭ সালের ছয় দিনের যুদ্ধে ফিলিস্তিনির অঞ্চল দখলের পর থেকে এই ধর্মীয় জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠীগুলো সেনাবাহিনীতে প্রবেশ করতে শুরু করে এবং ১৯৯০-এর দশকে তাদের সংখ্যা ছিল মাত্র ২-৪ শতাংশ। তবে বর্তমানে আইডিএফের প্রায় ৪০ শতাংশ সদস্য এই উগ্রবাদী মতাদর্শে বিশ্বাসী, যা গত কয়েক দশকে বিপুলভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই চরমপন্থি গোষ্ঠীগুলো সেনাবাহিনীর উচ্চপদে অধিষ্ঠিত হয়ে ফিলিস্তিনিদের ওপর সামরিক হামলা তীব্র করেছে।

এদিকে নেতানিয়াহু সরকারের সাম্প্রতিক নীতির ফলস্বরূপ, ফিলিস্তিনিদের ওপর সেনাদের হামলা বাড়ানো হয়েছে। গাজার বেসামরিক অবকাঠামো, হাসপাতাল ও ধর্মীয় স্থানগুলোতে বোমাবর্ষণ করা হচ্ছে। এসব হামলার উদ্দেশ্য একটাই গাজা ও পশ্চিম তীরকে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা। উগ্র জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠীগুলো এ আগ্রাসনকে বৈধতা দেয় এ রকম করে, তারা ঈশ্বরের আদেশ পালন করছে এবং তাদের আক্রমণকে বৈধ বলে মনে করে।

এই ইস্যুকে হাতিয়ার করে নেতানিয়াহু সরকার এসব চরমপন্থি গোষ্ঠীর মধ্যে সহানুভূতি তৈরি করে এবং তাদেরকে সামরিক বাহিনীতে প্রভাব বিস্তার করার সুযোগ দেয়। এতে ফিলিস্তিনির ওপর হামলার মাত্রা দিন দিন বৃদ্ধি পেয়েছে।

অপরদিকে সেনাবাহিনী রাজনৈতিকভাবে আরও একতাবদ্ধ হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কাঠামো এবং সমাজের মধ্যে ব্যাপক পরিবর্তন আসছে, যা ভবিষ্যতে দেশটির স্থিতিশীলতার জন্য বিপজ্জনক হয়ে দাঁড়াতে পারে।

বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, আগামীতে যদি ইসরায়েলে কোনো উদারপন্থি সরকার ক্ষমতায় আসে, তবে আইডিএফ ও সরকারের মধ্যে সংঘাত সৃষ্টি হবে অনিবার্য। এর ফলে দেশটির অভ্যন্তরীণ শান্তি ও নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে। 
পুরোনো ছবি

জনসংখ্যা বাড়াতে ‘মিনিস্ট্রি অব সেক্স’ চালু করতে চায় রাশিয়া

রাশিয়া তার জনসংখ্যা বৃদ্ধির জন্য অভিনব এক পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে একটি ‘মিনিস্ট্রি অব সেক্স’ চালু করার প্রস্তাব।

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের অনুগত নিনা ওসতানিনা, যিনি রাশিয়ার সংসদের পরিবার সুরক্ষা ও পিতৃত্ব-মাতৃত্ব সম্পর্কিত কমিটির চেয়ারম্যান। তিনি এই প্রস্তাব পর্যালোচনা করছেন।

শুক্রবার (৮ নভেম্বর) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম মিররের একটি প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে আসে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে বিপুল পরিমাণ সেনা হারানোর পর রাশিয়া এখন আগাম পরিকল্পনা করতে চাচ্ছে যাতে ভবিষ্যতে জনবলের অভাব না ঘটে। ক্রেমলিনের ডেপুটি মেয়র অ্যানাস্তাসিয়া রাকোভা, পুতিনের শক্তিশালী সমর্থক, জানান যে নারীদের প্রজনন হার বাড়ানোর জন্য বিশেষ টেস্টের ব্যবস্থা করা হবে।

এছাড়া আরো কিছু প্রস্তাব রাখা হয়েছে, যেমন রাত ১০টা থেকে ২টা পর্যন্ত ইন্টারনেট বন্ধ রাখা এবং আলোর ব্যবস্থা বন্ধ রাখার প্রস্তাব, যাতে দম্পতিরা একসাথে সময় কাটানোর সুযোগ পান। এছাড়া, বাড়িতে থাকা নারীদের জন্য আলাদা ভাতা দেওয়ার প্রস্তাবও রয়েছে।

বিয়ের পর প্রথম রাতে বিশেষ স্থানেই রাত কাটানোর জন্য আর্থিক সহায়তা দেয়ার প্রস্তাবও তুলে ধরা হয়েছে।

এদিকে, পুতিনের মতে, ‘রাশিয়ায় সন্তান নেওয়ার সংখ্যা বৃদ্ধি করা জরুরি।’ তিনি জানিয়েছেন, অতীতে রাশিয়ার পরিবারগুলো ৭-৮ সন্তান নিত, আর এখন সেই প্রথা ফিরিয়ে আনা উচিত।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ছবি : সংগৃহীত
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ছবি : সংগৃহীত



কানে কিছু ঢুকলে by ডা: এম আলমগীর চৌধুরী

শিশুদের বিশেষ করে তিন-চার বছরের ছেলেমেয়েদের একটা সহজাত প্রবণতা আছে যে, ছোট ছোট কোনো জিনিস নিয়ে খেলার সময় নাক, কান বা মুখের মধ্যে ঢুকিয়ে দেয়া। বড়দের একটা অভ্যাস আছে কোনো কিছু দিয়ে (যেমন- কটনবাড, মুরগির পালক, ম্যাচের কাঠি) কান খোঁচানো, চুলকানো। এতে করে খোঁচানোর সময় কাঠি ভেঙে বা কটনবাডের কটন কানে রয়ে যেতে পারে।
এ সমস্যা সম্পর্কে সবাইকে কিছুটা ধারণা নেয়ার জন্য আলোকপাত করছি।

যেসব বস্তু কানে ঢুকতে পারে-
১. কটনবাড বা তুলার অংশ
২. ম্যাচের কাঠি, পুঁতির দানা, বল বিয়ারিং
৩. পেনসিলের শিস
৪. পাখি বা মুরগির পালক
৫. শস্যদানা- চাল, ধান, ফলের বীজ, মুড়ি, চিঁড়া ইত্যাদি
৬. রাবার, কাগজ, ফোম, ছোট ছোট খেলনার অংশ, আরো কত কী?
৭. অনেক সময় জীবন্ত পোকামাকড় যেমন- মশা, মাছি, আস্ত তেলাপোকা, পিঁপড়া ইত্যাদি কানের ভেতর প্রবেশ করতে পারে।

উপসর্গগুলো
১. কানে প্রচণ্ড অস্বস্তি হওয়া
২. কানে ব্যথা
৩. কানে কম শুনতে পাওয়া
৪. জীবন্ত পোকামাকড় কানে ঢুকে গেলে ভীষণ বিরক্তি এমনকি ভয়ের উদ্রেক হতে পারে।

চিকিৎসা
কানে যেকোনো কিছু ঢুকে গেলে উপযুক্ত চিকিৎসা হলো এটা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বের করে ফেলা। অবশ্যই এটার জন্য নাক, কান, গলা বিভাগ সম্পন্ন হাসপাতাল অথবা ইএনটি বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের কাছে যেতে হবে।
কানে জীবন্ত পোকা ঢুকে গেলে আগে অলিভ অয়েল দিতে হবে, যাতে করে এটি মারা যায় তারপর বের করতে হবে। বাসায় অনভিজ্ঞ হাতে অযথা খোঁচাখুঁচি করবেন না বা অদক্ষ কাউকে দিয়ে বের করার চেষ্টা করবেন না। শিশুরা ভয়ে কান্না বা নড়াচড়া করলে এবং অসহযোগিতা করলে জোরপূর্বক বের করার চেষ্টা না করে, সম্পূর্ণ অজ্ঞান করে হাসপাতালে নিয়ে বের করাই উত্তম কাজ।

বের না করলে বা অদক্ষ হাতে চেষ্টা করার জটিলতা
১. বহিঃকর্ণে আঘাত লাগা এবং তা থেকে রক্তক্ষরণ হওয়া
২. কানের পর্দা ফেটে যাওয়া
৩. মধ্যকর্ণের ভেতরে থাকা ছোট অস্থিগুলোতে আঘাত লাগা
৪. কানে ইনফেকশন হওয়া
৫. সর্বোপরি মানবদেহের মূল্যবান পাঁচটি অঙ্গের একটি হলো কান, যার শ্রবণশক্তি কমেও যেতে পারে

উপসংহার
মানসম্পন্ন কোম্পানির তৈরি খেলনার প্যাকেটের গায়ে বয়সসীমা লেখা থাকে। আরো লেখা থাকে, এ খেলনায় ছোট পার্টস আছে এবং তা তিন বছরের নিচে শিশুদের ব্যবহারের জন্য নয়।
বয়স্কদের উচিত সচেতন থাকা, অযথা যেকোনো কিছু দিয়ে কান না খোঁচানো এবং ছোটদের ছোট ছোট খেলনা দিয়ে খেলতে না দেয়া।
এরপরও কানে কিছু ঢুকলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব নাক, কান, গলা বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়া এবং উপযুক্ত পরামর্শ গ্রহণ করা।
>>>লেখক : নাক কান গলা বিশেষজ্ঞ সার্জন। অধ্যাপক, আনোয়ার খান মর্ডান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা। ফোন : ০১৮১৯২২২১৮২

জেলেনস্কি ও আব্বাসের সঙ্গে কী কথা হল ট্রাম্পের?

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ও ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফোনকলে ট্রাম্প রাশিয়ার বিরুদ্ধে জেলেনস্কিকে সমর্থনের আশ্বাস দিয়েছেন। অন্যদিকে মাহমুদ আব্বাসকে বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বন্ধে কাজ করবেন তিনি।

নির্বাচনী প্রচারণায় ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বন্ধে উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। নির্বাচনে জিতে দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েই যুদ্ধবিদ্ধস্ত দেশ দুটির নেতাদেরকে ফোন করেন তিনি।

শনিবার (৯ নভেম্বর) বার্তা সংস্থা রয়টাসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পরের দিন বুধবার ট্রাম্প ও জেলেনস্কি ২৫ মিনিট কথা বলেন। এ সময় ট্রাম্প জেলেনস্কিকে বলেন, তিনি ইউক্রেনকে সমর্থন করবেন। তবে কীভাবে করবেন, সে ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু বলেননি।

একই দিন ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের সঙ্গেও ফোনে কথা বলেন ট্রাম্প। এ সময় ট্রাম্প মাহমুদ আব্বাসকে বলেছেন, তিনি ‘যুদ্ধ বন্ধ করতে কাজ করবেন’ এবং মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রচারের জন্য ফিলিস্তিনি নেতাসহ সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী। খবর বার্তা সংস্থা রয়টার্সের।

ট্রাম্পকে মাহমুদ আব্বাস বলেছেন, তিনি আন্তর্জাতিক বৈধতার ওপর ভিত্তি করে একটি ন্যায়সঙ্গত ও সর্বাত্মক শান্তি অর্জনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত। জবাবে ট্রাম্প আব্বাসকে বলেছেন, তিনি যুদ্ধ বন্ধ করতে কাজ করবেন।

চলতি সপ্তাহে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হন ট্রাম্প। এই জয়ে ট্রাম্পকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মাহমুদ আব্বাস। হোয়াইট হাউসে তার দ্বিতীয় মেয়াদে সফল হওয়ার জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন মাহমুদ আব্বাস।

এদিকে ট্রাম্প ও জেলেনস্কির ফোনালাপের সময় তাতে যুক্ত ছিলেন বিলিয়নিয়ার ব্যবসায়ী ইলন মাস্কও। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ইলন মাস্ক ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টকে বলেন, তিনি স্টারলিংক স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ইউক্রেনের প্রতি সহযোগিতা ও সমর্থন অব্যাহত রাখবেন।

এর আগে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ায় এক্স পোস্টে ট্রাম্পকে অভিনন্দন জানান জেলেনস্কি। ট্রাম্পের বিজয়কে ‘চমকপ্রদ’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি গত সেপ্টেম্বরে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের কথা স্মরণ করছি। সে সময় আমরা ইউক্রেন-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি।

ট্রাম্পের সঙ্গে জেলেনস্কি ও মাহমুদ আব্বাসেন এই ফোনালাপের খবর এমন সময়ে সামনে এলো যখন ট্রাম্প তার শীর্ষ উপদেষ্টা ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের নির্বাচন প্রক্রিয়া এগিয়ে নিচ্ছেন। ট্রাম্প বলেছেন, তিনি বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি ও টেসলার সিইও মাস্ককে তার প্রশাসনে সরকারি দক্ষতা বাড়াতে দায়িত্ব দেবেন।

ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস, যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি (বাম থেকে)। ছবি : সংগৃহীত
ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস, যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি (বাম থেকে)। ছবি : সংগৃহীত



মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও যুদ্ধের দামামা বেজে উঠবে, ইরানের হুঙ্কার

গাজা এবং লেবাননে ইসরায়েলের সঙ্গে যে যুদ্ধ চলছে তা মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে অনেক দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে হু&শিয়ারি করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। শনিবার তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ কেবল পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং তা অন্যান্য অঞ্চলেও দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়বে এবং নিরাপত্তাহীনতা ও অস্থিরতা তৈরি করবে।

এদিকে জার্মান সংবাদ মাধ্যম স্পাইগেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পশ্চিমাদের দ্বিমুখী নীতির কঠোর সমালোচনা করেছেন আব্বাস আরাগচি। তিনি বলেন, ইসরায়েলিদের অভিযানে গাজায় ৫০ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। জার্মান সরকার এর নিন্দা জানায়নি, মানবাধিকার কাউন্সিলে প্রস্তাব উত্থাপন করেনি, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেনি। এগুলো সবই তাদের দ্বিমুখী নীতি।

আব্বাস আরাগচি বলেন, যারাই পশ্চিমাদের নীতির বিরুদ্ধে যাবে তারাই সন্ত্রাসী, আর যারা পশ্চিমাদের নীতি অনুসরণ করবে সে ভালো বন্ধু। এটা দ্বিমুখী নীতি এবং ভুল নীতি। এই আচরণ করে ইউরোপ সভ্যতা এবং মানবাধিকারের প্রতীক হতে পারে না।

গত বছরের অক্টোবরে ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলে ঢুকে এক হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষকে হত্যা করে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী। এরপর সেদিনই গাজা উপত্যকায় যুদ্ধ শুরু করে মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল। তার ঘর-বাড়ি ধ্বংস করার পাশাপাশি হত্যা করে হাজার হাজার বেসামরিক মানুষ। এরপর গাজা যুদ্ধ থেকে সামরিক শক্তি লেবাননের দিকে ঘুরিয়ে দিয়েছে ইসরায়েল। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর থেকে লেবাননে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে পুরোমাত্রার যুদ্ধ চলছে।

লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর এক জেনারেল নিহত হওয়ার পর গত ১ অক্টোবর ইসরায়েলে নজিরবিহীন হামলা চালায় ইরান। ওই দিন ইসরায়েলি ভূখণ্ডে দুই শতাধিক রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে ইরানের সামরিক বাহিনী। এই হামলার জবাবে গত ২৬ অক্টোবরে ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে বিমান চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। পাল্টাপাল্টি এই হামলায় দুই দেশই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তেল আবিব হামলা চালানোর পর যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল পাল্টা হামলা না চালাতে ইরানকে সতর্ক করলেও তেহরান কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। এবে এক্ষেত্রে তেহরান কৌশলী আচরণ করছে। তারা বলছে, গাজা এবং লেবাননে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি ইরানের প্রতিক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে। যদি ইসরায়েলিরা যুদ্ধবিরতি মেনে নেয় এবং এই অঞ্চলের নিপীড়িত ও নিরপরাধ মানুষকে গণহত্যা বন্ধ করে, তাহলে সেটি তেহরানের পাল্টা জবাবের প্রতিক্রিয়ার মাত্রা ও ধরণে প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশ্লেষকরা বলছেন- ইরান হুমকি দেওয়ার পর জবাব দিতে দেরি করে ইসরায়েলকে অস্বস্থিতে রেখেছে এবং তাদের পরিকল্পনা ভন্ডুল করে দিয়েছে। কারণ ইসরায়েল চাচ্ছে গাজা লেবানন যুদ্ধ ইরানে টেনে নিয়ে আসতে। কিন্তু তেহরান তাড়াতাড়ি পাল্টা জবাব না দেওয়ায় ইসরায়েল সেই সুযোগ পাচ্ছে না।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। ছবি : সংগৃহীত
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। ছবি : সংগৃহীত



অভিবাসী না থাকলে আমেরিকার পরিস্থিতি কেমন হবে?

এবারের নির্বাচনী প্রচারণায় অবৈধ অভিবাসন নীতি নিয়ে বেশ সোচ্চার ছিলেন সদ্য নির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত প্রায় ১০ লাখ অভিবাসী এখন ঘোর দুশ্চিন্তায় দিন পার করছেন। পরাজিত প্রার্থী কমলা হ্যারিস সরাসরি হুমকি না দিলেও সীমান্ত সুরক্ষা আইনের পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছিলেন। প্রশ্ন হলো যুক্তরাষ্ট্রে যদি অভিবাসী না থাকে তাহলে কী হবে?

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, অভিবাসী না থাকলে আমেরিকার জনসংখ্যা অনেক কম হবে। দেখা গেছে, ২০২৩ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিদেশে জন্মগ্রহণকারী চার কোটি ৭৮ লক্ষ মানুষ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বাস করেন যা মোট মার্কিন জনসংখ্যার ১৪ দশমিক ৩ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রে ১৯৩০-এর দশকের পর সর্বনিম্ন হারে জনসংখ্যা বেড়েছে ২০১০ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে। যার মানে, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবীণদের সংখ্যা সঙ্গে সঙ্গে কর্মক্ষম অল্প বয়সী মানুষ কমে যাচ্ছে।

কংগ্রেসনাল বাজেট অফিস বলছে, ২০৪০ সালে মৃত্যুর সংখ্যা জন্মকে ছাপিয়ে যাবে। তখন অভিবাসনের ফলে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাবে। বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তারিক হাসান জানিয়েছেন, অভিবাসীদের অনুপস্থিতির বড় প্রভাব পড়বে মার্কিন অর্থনীতিতে। যদি অভিবাসীদের পুরোপুরি বাদ দেওয়া হয়, তাহলে মাথাপিছু জিডিপি পাঁচ থেকে ১০ শতাংশ কমে যাবে।

যুক্তরাষ্ট্রের সিভিল সেক্টরে কর্মরত তিন কোটি ১০ লক্ষ মানুষের মধ্যে প্রায় ১৯ শতাংশই অভিবাসী। ‘ব্যুরো অফ লেবার স্ট্যাটিসটিক্স’- এর তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমশক্তিতে অংশ নেয়ার ক্ষেত্রে অভিবাসীদের হার আমেরিকায় জন্মগ্রহণকারী ব্যক্তিদের চাইতে চেয়ে বেশি। অর্থ ব্যবস্থায় ভূমিকা পালন করে এমন সেক্টর যেমন কৃষি- সম্পূর্ণরূপে অভিবাসী শ্রমিকদের উপর নির্ভরশীল। মার্কিন জাতীয় কৃষি শ্রমিক জরিপ অনুযায়ী দেশটির ৭০ শতাংশ শ্রমিক অভিবাসী।

আমেরিকান ইমিগ্র্যান্ট কাউন্সিলের গবেষণা নির্দেশক নান ব্যু জানান, অভিবাসীদের সরিয়ে দেয়ার অর্থ হলো কৃষিকাজ করা, ফল এবং শাক সবজি তোলার জন্য প্রয়োজনীয় শ্রমিক পাবেন না ক্ষেতের মালিকরা। অন্যদিকে, অভিবাসন বিরোধীদের যুক্তি হলো, অভিবাসী শ্রমিকরা কম মজুরিতে কাজ করতে প্রস্তুত এবং যার ফলে মার্কিন নাগরিকরাও কম মজুরিতে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়ার পর্যবেক্ষণ বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারী নাগরিকদের বেতনের উপর অভিবাসনের গড় প্রভাব প্রায় শূন্যের সমান।

রাজস্বের দিক থেকে ৫০০টি বৃহত্তম মার্কিন কোম্পানির বার্ষিক তালিকার প্রায় ৪৫ শতাংশ সংস্থাই অভিবাসী বা তাদের সন্তানদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত। একই সময়ে, ১০০ কোটি ডলার বা তার বেশি মূল্যের মার্কিন স্টার্ট-আপগুলোর ৫৫ শতাংশই প্রতিষ্ঠা করেছে অভিবাসীরা। অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্টারন্যাশনাল এডুকেটরসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে ১০ লক্ষেরও বেশি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে চার হাজার কোটি ডলারের অবদান রেখেছে। 

ছবি : সংগৃহীত

গাজায় যুদ্ধবিরতির মধ্যস্থতা থেকে সরে দাঁড়াল কাতার, দোহায় হামাসের কার্যালয় নিয়ে সতর্কতা

ফিলিস্তিনের গাজায় যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছিল কাতার। তবে এ দায়িত্ব আপাতত পালন করবে না দেশটি। শুধু তা–ই নয়, রাজধানী দোহায় হামাসের রাজনৈতিক কার্যালয় নিয়ে সতর্ক করে কাতার বলেছে, এ কার্যালয়ের আর প্রয়োজন নেই।

আজ শনিবার এএফপিকে এ তথ্য জানিয়েছে কূটনৈতিক একটি সূত্র। পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে ওই সূত্র বলেছে, ইসরায়েল ও হামাস—দুই পক্ষকেই কাতার জানিয়েছে, যতক্ষণ পর্যন্ত তারা যুদ্ধবিরতির চুক্তিতে আন্তরিকভাবে যেতে রাজি না হবে, ততক্ষণ দোহা এ বিষয়ে আর মধ্যস্থতা করবে না। ফলে দোহায় হামাসের কার্যালয় থাকার দরকার নেই।

গাজায় যুদ্ধবিরতি ও হামাসের হাতে বন্দী থাকা জিম্মিদের মুক্ত করতে দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে আলোচনা চলছে। এতে মধ্যস্থতা করছে কাতার, যুক্তরাষ্ট্র ও মিসর। তবে এখন পর্যন্ত কোনো আশার আলো দেখা যায়নি। সূত্রের দেওয়া তথ্যমতে, কাতার যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়েছে, ইসরায়েল ও হামাস আন্তরিকভাবে আলোচনার টেবিলে ফেরার আগ্রহ দেখালে তারা আবার মধ্যস্থতা করবে।

এদিকে সূত্রের বরাতে সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, কাতারে হামাস নেতাদের আশ্রয় না দেওয়ার জন্য দেশটির প্রতি আহ্বান জানিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। সম্প্রতি সে আহ্বানে সাড়া দিয়েছে দোহা। যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তার ভাষ্যমতে, জিম্মিদের মুক্তি দেওয়ার আহ্বানে হামাস নেতারা সাড়া দেননি। তাই যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র কোনো দেশের রাজধানীতে তাঁদের আশ্রয় দেওয়া উচিত হবে না।

গত বছরের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলা চালায় হামাস। এতে অন্তত ১ হাজার ১৩৯ জন নিহত হন। এ ছাড়া ইসরায়েল থেকে ২ শতাধিক মানুষকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যান হামাস সদস্যরা। সেদিন থেকেই গাজায় অব্যাহত হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। এক বছরের বেশি সময় ধরে চলা এ হামলায় এখন পর্যন্ত নিহত হয়েছেন অন্তত ৪৩ হাজার ৫৫২ জন ফিলিস্তিনি। আহত হয়েছেন ১ লাখ ২ হাজার ৭৬৫ জন। নিহত ব্যক্তিদের প্রায় ৭০ শতাংশই নারী ও শিশু বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে জাতিসংঘ।

ইসরায়েলের হামলায় নিহত ব্যক্তিদের স্বজনদের আহাজারি। আজ শনিবার গাজার খান ইউনিস এলাকার আল নাসের হাসপাতালে
ইসরায়েলের হামলায় নিহত ব্যক্তিদের স্বজনদের আহাজারি। আজ শনিবার গাজার খান ইউনিস এলাকার আল নাসের হাসপাতালে। ছবি: রয়টার্স

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে একটি পিলারের ওপর দাঁড় করানো হয়েছে -তাজউদ্দীনের পুত্র–কন্যার আলোচনা

দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের মেয়ে শারমিন আহমদ বলেন, দেশের মুক্তিযুদ্ধ ছিল জনযুদ্ধ। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে দাঁড় করানো হয়েছে একটি পিলারের (স্তম্ভ) ওপর; ‘বঙ্গবন্ধু পিলারের’ ওপর। এখানে অনেক মানুষের অবদান হারিয়ে গেছে; বিশেষ করে গ্রামবাংলার তরুণ, কিশোর, বীরাঙ্গনা—তাঁদের কাহিনিগুলো।

শনিবার ‘শতাব্দীর কণ্ঠস্বর তাজউদ্দীন আহমদ, কন্যার চোখে, পুত্রের চোখে’ শীর্ষক এক আলোচনায় শারমিন আহমদ এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ১ টাকার নোটে বঙ্গবন্ধুর ছবি, ৫, ১০, ২০, ৫০, ১০০ টাকার নোটেও বঙ্গবন্ধু। বঙ্গবন্ধুকে খাটো করা নয়, এটা হয়ে যায় এক ব্যক্তির ইতিহাস।

বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে এই আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে প্রকাশনা সংস্থা ঐতিহ্য। তাতে তাজউদ্দীন আহমদের মেয়ে শারমিন আহমদ ও ছেলে সোহেল তাজ কথা বলেন।

তাজউদ্দীন আহমদ: নেতা ও পিতা বইয়ের লেখক শারমিন আহমদ বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে চলা মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন ইতিহাস তুলে ধরে বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় আওয়ামী লীগের মধ্যে বঙ্গবন্ধু গোপনে একটি গ্রুপ লালন করেছেন। তারা গোপনে ভারতীয় আরএসএস ও গোয়েন্দাদের সঙ্গে কাজ করেছে। এটা মুক্তিযুদ্ধকে খুব ক্ষতিগ্রস্ত করে। এর ধারাবাহিকতায় মুজিব বাহিনী গঠন করা হয়। তারা মুক্তিযোদ্ধাদের আক্রমণ করে। এ ঘটনাগুলো কাউকে ছোট করার জন্য নয়। এগুলো ইতিহাসে আছে। কিন্তু এগুলো প্রকাশ হলে ভাবমূর্তিটা ওনারা (সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) যেভাবে করতে চেয়েছেন, ভয় করছেন সেটা ভেঙে যাবে।

শারমিন আহমদ বলেন, একটা সময় পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর একটা জায়গা আছেই, একটা ‘সিম্বল’। এই জায়গায় তিনি থাকবেন। এরপরের কর্ম–কীর্তি নিয়ে আলোচনা–সমালোচনা হবে। সে জায়গাটা খুলে দেওয়া দরকার।

শারমিন আহমদ বলেন, তাজউদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল সরকার গঠন করা হয়। এর আগে তেলিয়াপাড়ায় সেনা কর্মকর্তারা বৈঠক করেন। সেনা কর্মকর্তারা সরকার গঠনে সমর্থন দেন। পরে সেনা কর্মকর্তারা বলেছেন, তাজউদ্দীন আহমদের কাছ থেকেই তাঁরা নেতৃত্ব পাবেন, একটা রাজনৈতিক নেতৃত্ব দরকার। এভাবে সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের সম্মিলনের মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধ বিশাল গতি পায়। এগুলো ইতিহাসের বইয়ে নেই। তিনি বলেন, ‘এখনকার বাচ্চারা বিভ্রান্ত। তারা মনে করে এটা (মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস) শেখ পরিবারের গল্প। এটা রাসেল, জামাল, কামালের গল্প। এখানে গরিব মায়ের সন্তান, যাঁরা সম্ভ্রম হারিয়েছেন, তাঁদের গল্প নেই।’

অনুষ্ঠানের সঞ্চালক কথাসাহিত্যিক আহমাদ মোস্তফা কামাল জানতে চান, স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু দেশে ফিরে কীভাবে মুক্তিযুদ্ধ চলেছে, তা জানতে চাননি বা কখনো মুজিবনগরে যাননি কেন? এর জবাব দিতে গিয়ে তাজউদ্দীন–কন্যা শারমিন ভারতের সাবেক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক জে এন দীক্ষিতের লেখা উদ্ধৃত করে বলেন, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে জানতে মুজিব আগ্রহী ছিলেন না।

শারমিন বলেন, তিনি মনে করেন, হয়তো বঙ্গবন্ধুর মনস্তাত্ত্বিক কোনো কারণ ছিল, তাঁর অবর্তমানে একটি দেশ স্বাধীন হয়ে গেল, তখন তিনি নেতৃত্বে ছিলেন না। মুক্তিযোদ্ধাদের তিনি ঠিক আপন ভাবতে পারেননি।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতের ঘটনা তুলে ধরে সোহেল তাজ বলেন, ওই রাতে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে (বঙ্গবন্ধুর বাসভবন) তাজউদ্দীন আহমদ একটি টেপরেকর্ডার নিয়ে গিয়েছিলেন। স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র স্বাক্ষরের জন্য নিয়ে গিয়েছিলেন। হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে শত শত বিদেশি সাংবাদিক অপেক্ষা করছিলেন। পরিকল্পনা ছিল ঘোষণাটি তাঁদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে ২৫ মার্চ সে ঘোষণাটা দেওয়া হয়নি। তাজউদ্দীন সেখান থেকে চলে আসেন। সে রাতে বাড়ি ফিরে তাজউদ্দীন খুব হতাশ ছিলেন। বাসায় ফিরে ফাইলপত্র ছুড়ছিলেন। বারবার বলছিলেন, ২৩ বছরের আন্দোলন বৃথা গেল।

এসব কথা পরে নিজের মায়ের কাছ থেকে শুনেছেন বলে জানালেন সোহেল তাজ। পাকিস্তানি এক সাবেক সেনা কর্মকর্তার লেখা পাকিস্তানস ক্রাইসিস ইন লিডারশিপ বই থেকে উদ্ধৃত করে সোহেল তাজ বলেন, শেখ মুজিব (১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ) রাত দেড়টার সময় তাঁর বাসা থেকে গ্রেপ্তার হন। অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ নেতা সেখানে ছিলেন না। কেন মুজিব নিজে বাসায় রয়ে গেলেন এবং অন্যরা আন্ডারগ্রাউন্ডে (আত্মগোপনে) চলে গেলেন? এই প্রশ্নের জবাবে ওই বইয়ের লেখক বলেছেন, ঢাকা স্টেশন কমান্ডারকে মুজিব বলেছিলেন, তিনি পাকিস্তানকে রক্ষা করতে চেয়েছিলেন।

সোহেল তাজ বলেন, এখানে অনেকগুলো ‘অপশন’ (বিকল্প) ছিল। পাকিস্তান ফ্রেমওয়ার্কের ভেতরে থেকে স্বায়ত্তশাসন। এটা বিশ্লেষণ করা, ইতিহাসবিদদের খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

সোহেল তাজ বলেন, ৭ মার্চের ভাষণ ঐতিহাসিক ভাষণ। এতে বঙ্গবন্ধু পূর্ব বাংলার মানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটিয়েছিলেন। সেখানে নানা দিকনির্দেশনা ছিল। এটা অনস্বীকার্য বঙ্গবন্ধু ছিলেন বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামের প্রতীক। কিন্তু ছয় দফা আন্দোলন, স্বাধিকার আন্দোলন সবকিছুতে অনেক নেতার অবদান ছিল। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ওই মুহূর্তে দেশ এসেছিল।

দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের মেয়ে শারমিন আহমদ বক্তব্য দেন। পাশে তাঁর ভাই সোহেল তাজ। ঢাকা, ৯ নভেম্বর
দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের মেয়ে শারমিন আহমদ বক্তব্য দেন। পাশে তাঁর ভাই সোহেল তাজ। ঢাকা, ৯ নভেম্বর। ছবি: দীপু মালাকার

কুমড়োর নৌকা বানিয়ে নদীতে ভেসে রইলেন ২৬ ঘণ্টা, গিনেস বুকে নাম মার্কিন যুবকের

কুমড়োর তৈরি ভেলায় করে প্রায় ৭৪ কিমি পাড়ি দিলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দা গ্যারি ক্রিস্টেনসেন। ওয়াশিংটনের কলোম্বিয়া নদীর উপর  সম্প্রতি এতটা  পথ পাড়ি দিয়ে তিনি বিশ্ব রেকর্ডও গড়ে ফেলেছেন। ২০১১ সাল থেকে বাড়িতে কুমড়োর চাষ শুরু করেন তিনি। তখন থেকেই অতিকায় কুমড়ো ফলানোর ইচ্ছে জাগে গ্যারির মনে। যেমন ভাবা তেমন কাজ। যত্ন করে বিশাল আকারের কুমড়ো ফলাতে শুরু করেন তিনি। এর পর ‘ওয়েস্ট কোস্ট জায়ান্ট পাম্পকিন রেগাটা’ প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে ২০১৩ সাল থেকে বিশাল কুমড়ো কেটে নৌকা বানানোর কাজ শুরু করেন গ্যারি। টানা চারবার এই প্রতিযোগিতায় জয়ী হয়েছেন তিনি।‘পাঙ্কি লোফস্টার’ খেতাবও জিতেছেন এই মার্কিন যুবক। এবার এই কুমড়োই তাঁর নাম তুলে দিল গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে। প্রায় ১,২২৪ পাউন্ড ওজনের ওই কুমড়ো কেটে নৌকা বানিয়ে পাড়ি দিয়েছিলেন। উত্তর ওয়াশিংটনের বনেভিল থেকে শুরু করে কুমড়োর নৌকায় প্যাডেল করে ৭৩.৫ কি.মি. পথ অতিক্রম করেন গ্যারি। পৌঁছন ভ্যাঙ্কুভারে। জানা যাচ্ছে সব মিলিয়ে গ্যারি মোট ২৬ ঘণ্টা জলে ভেসেছিলেন। অতিরিক্ত হাওয়া আর উত্তাল নদীতে এই রেকর্ড গড়তে গিয়ে বেশ সমস্যায় পড়তে হয়েছে। সেই সময় নদীতে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৩৫ কি.মি. বেগে হাওয়া দিচ্ছিল। আর সঙ্গে প্রবল শীত। কুমড়োর নৌকা নদীর জলে জমে যাচ্ছিল।' ২৬ ঘণ্টার এই যাত্রাপথকে স্মরণীয় করে রাখতে নৌকায় একটি ক্যামেরা লাগান। যাঁরা নদীতে তাঁকে এভাবে যেতে দেখবেন, তাঁরা যাতে বুঝতে পারেন যে এটা আসলেই একটা কুমড়ো, সেজন্য নৌকার গায়ে লিখে রাখেন, ‘এটা সত্যিকারের কুমড়ো’। তবে তাঁর নিরাপত্তার জন্য গ্যারির পিছন পিছন নৌকা আসছিল। রাতেও বিশ্রাম নেননি গ্যারি। কারণ, তাঁর মনে হয়েছে, বেশি সময় গেলে কুমড়ো যদি ফুটো হয়ে যায়।   অভিনব বিশ্ব রেকর্ড গড়ে বেশ উচ্ছ্বসিত গ্যারি ক্রিস্টেনসেন।

সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

mzamin

ট্রাম্পকে হত্যার তৃতীয় প্রচেষ্টা? অভিযোগ ইরানের দিকে

ডনাল্ড  ট্রাম্পকে খুনের তৃতীয় চক্রান্ত ফাঁস! গত ৭ অক্টোবর ট্রাম্পের ওপর হামলার ছক কষা হয়েছিল। এমনটাই দাবি মার্কিন প্রশাসনের। অভিযোগের তীর  ইরানের রিভোলিউশনারি গার্ড (আইআরজিসি)- এর দিকে। আগামী বছরের জানুয়ারিতে হোয়াইট হাউসে ফিরতে যাচ্ছন এই রিপাবলিকান নেতা। ম্যানহাটনের ফেডারেল আদালতে দায়ের করা একটি ফৌজদারি অভিযোগে বলা হয়েছে, ইরানের রিভোলিউশনারি  গার্ডের অজ্ঞাতনামা এক কর্মকর্তা গত সেপ্টেম্বরে ট্রাম্পের ওপর নজরদারি চালানোর দায়িত্ব দেন ফারহাদ শাকেরিকে। শুধু তাই নয়, সাত দিনের মধ্যে হত্যার পরিকল্পনা করতেও বলেছিলেন। বলে দিয়েছিলেন, সুযোগ মতো ট্রাম্পকে হত্যা করতে হবে। সেই মতো ফারহাদ শাকেরি ট্রাম্পের ওপর নজরদারি চালান। তবে হত্যার পরিকল্পনা করতে পারেননি। ফারহাদ শাকেরিকে গ্রেপ্তার করা  হয়েছে এই চক্রান্তের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে। তাকে জেরা করেই এই তথ্য জানা গিয়েছে বলে দাবি মার্কিন কর্মকর্তাদের।

আইআরজিসির বেঁধে দেওয়া সময় অর্থাৎ ৭ অক্টোবরের মধ্যে তার পক্ষে হামলা চালানো সম্ভব ছিল না বলেই জানিয়েছে অভিযুক্ত ৫১ বছরের শাকেরি। এই শাকেরিকে ‘বড় সম্পদ’ বলে উল্লেখ করছে মার্কিন প্রশাসন। কারণ তাকে জেরা করে আরও নানা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাতে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র আইআরজিসিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করেছে। এফবিআই পরিচালক ক্রিস্টোফার ওয়ে বলেছেন যে, অভিযোগগুলি প্রমাণ করে যে, ইরান মার্কিন নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করে চলেছে, যার মধ্যে ট্রাম্প, অন্যান্য নেতা এবং সরকারী কর্মকর্তারা আছেন যারা ইরানের শাসনের সমালোচনা করেন।'

তিনি বলেন, ‘আইআরজিসি অপরাধীদের এবং আঘাতকারীদের সাথে ষড়যন্ত্র করছে মার্কিন মাটিতে আমেরিকানদের লক্ষ্যবস্তু করার  জন্য। এটি সহ্য করা হবে না।’

বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে শাকেরি শৈশবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে  ছিলেন এবং একটি ডাকাতির মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পরে ২০০৮ সালের দিকে তাকে নির্বাসিত করা হয়েছিল। প্রসিকিউটররা বিশ্বাস করেন তারপর থেকে  শাকেরি  ইরানেই  রয়েছেন। শাকেরিকে ফৌজদারি অভিযোগের নথিতে একজন আফগান নাগরিক হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। নিউইয়র্কের দুই বাসিন্দা- কার্লাইল রিভেরা এবং জোনাথন লোডহোল্ট -কেও হত্যার ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ট্রাম্পকে হত্যার পরিকল্পনার অভিযোগকে ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন’ বলে অস্বীকার করেছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমায়েল বাঘাই এক বিবৃতিতে বলেছেন যে, ‘প্রাক্তন বা বর্তমান আমেরিকান কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে  হত্যা প্রচেষ্টায় ইরান জড়িত নয়।’ চলতি বছরের জুলাইয়ে পেনসিলভ্যানিয়ার বাটলারে নির্বাচনী প্রচার ছিল রিপাবলিকান প্রার্থী ট্রাম্পের। সেখানেই তার ওপর হামলা চালানো হয়। কান ঘেঁষে বেরিয়ে যায় আততায়ীর গুলি। কপালজোরে রক্ষা পান বর্ষীয়ান রাজনীতিক। এর তিন মাস পরে ফ্লোরিডার গল্ফ ক্লাবে দ্বিতীয়বার ট্রাম্পকে হত্যার চেষ্টা করা হয়।  যদিও সেবার তিনি  আহত হননি।

সূত্র : এনডিটিভি

mzamin

পাকিস্তানের রেলস্টেশনে ভয়াবহ বোমা হামলা, নিহত ২৫

পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশে বোমা হামলা চালিয়েছে ‘সন্ত্রাসীরা’। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে দেশটির কোয়েটা রেলওয়ে স্টেশনে বোমা হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৫ জনে দাঁড়িয়েছে। এতে আহত হয়েছেন আরও ৫০ জন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি। এতে বলা হয়, স্থানীয় সম্পদের ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে প্রদেশটিতে সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কয়েকটি হামলার ঘটনা ঘটেছে। বেলুচিস্তানের সিটি মেয়র হতাহতের খবর নিশ্চিত করেছেন। উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তা মুহাম্মদ বালুচ বলেন, ধারণা করা হচ্ছে ৬ থেকে ৮ কেজি ওজনের আত্মঘাতী বোমা দিয়ে হামলা চালিয়েছে হামলাকারীরা।

হতাহতের মধ্যে সামরিক ও বেসামরিক উভয় পক্ষের লোকজন রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ভিডিও ফুটেজে দেখা যায় ঘটনাস্থলে শতাধিক লোক উপস্থিত ছিলেন। বিস্ফোরণের সময় একটি ট্রেন পেশোয়ারের উদ্দেশে প্ল্যাটফর্ম ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। নিষিদ্ধ ঘোষিত বিদ্রোহী গোষ্ঠী বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) বিস্ফোরণের দায় স্বীকার করেছে। বেলুচিস্তান সরকারের মুখপাত্র শাহিদ রিন্দ এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। তিনি আরও বলেন, ‘বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল ঘটনাস্থল থেকে তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করছে। এছাড়া ঘটনার বিষয়ে একটি প্রতিবেদন চাওয়া হয়েছে।’ আব্দুল জব্বার নামের এক আহত ব্যক্তি জানিয়েছেন, তিনি স্টেশনে ঢুকে টিকিট কাউন্টার থেকে টিকিট সংগ্রহ করার সময় বিকট বিস্ফোরণ হয়। তিনি বলেন, ‘আসলে বিস্ফোরণের ভয়াবহতা মুখের ভাষায় বর্ণনা করার মতো নয়, আমার মনে হয়েছিল কেয়ামত হয়ে গেছে।’

বালুচ লিবারেশন আর্মি এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, প্রশিক্ষণ শেষে কোয়েটা থেকে ফেরার পথে পাকিস্তানের একটি সামরিক ইউনিটকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। বেলুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী এই ঘটনাকে শোচনীয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অপরাধীদের ‘পশুর চেয়েও নিকৃষ্ট’ বলেও অভিহিত করেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কর্তৃপক্ষ তাদের গ্রেপ্তারে তৎপরতা অব্যাহত রাখবে এবং 'তাদের উপযুক্ত শাস্তির আওতায় নিয়ে আসবে’। দেশটির ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিক এই বোমা হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেন, হামলাকারীরা ‘মানবতার শত্রু’।

উল্লেখ্য, বেলুচিস্তান পাকিস্তানের বৃহত্তম প্রদেশ। প্রাকৃতিক সম্পদের দিক থেকে প্রদেশটি সবচেয়ে ধনী হলেও তেমন কোনো উন্নয়নের ছোঁয়া নেই। ইরান এবং তালেবান নিয়ন্ত্রিত আফগানিস্তানের সীমান্তে এই অঞ্চলটির অবস্থান। গত কয়েক মাসের মধ্যে বেশ কয়েকটি হামলার সাক্ষী হলো বেলুচিস্তান।

mzamin

আবু সাঈদকে হত্যার পরই চূড়ান্ত ফয়সালার প্রতিজ্ঞা করেছিলাম -হাসনাত আব্দুল্লাহ by হাসনাত মাহমুদ

রংপুরে আবু সাঈদ যেদিন মারা যায় তখন আমরা একটা মিটিংয়ে ছিলাম। সেই মিটিংয়ে থাকা অবস্থায় মৃত্যুর খবর মেলার পর আমাদের ভাবনার জগৎ পুরোপুরি বদলে যায়। তখন থেকেই মনে মনে প্রতিজ্ঞা করেছিলাম এর চূড়ান্ত ফয়সালা করতে হবে। এমনটাই বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ। ১লা জুলাই থেকে ৫ই আগস্ট। ৩৬ দিনের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে পতন হয় শেখ হাসিনা সরকারের। রক্তাক্ত এই বিপ্লবের প্রতিটি দিনই ছিল ঘটনাবহুল। মানবজমিনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে আন্দোলনের নানা দিক তুলে ধরেছেন তিনি। আন্দোলনের সময় মন্ত্রীদের সঙ্গে আলোচনা করতে যাওয়ার বিষয়ে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, আমাকে নিয়ে সে সময় ব্যাপক অপপ্রচার চালানো হয়েছে। শিক্ষার্থী ও মানুষের কাছে আমাদের ভিলেন বানানোর চেষ্টা করা হয়েছে। কোনো ভাবেই তাদের সামনে সত্য তুলে ধরা হয়নি। দুঃখজনকভাবে সে সময় টেলিভিশন মিডিয়াগুলোর ভূমিকা ছিল পুরোপুরি সরকারের পক্ষে। আমাদের একরকম বাধ্য করা হয় মন্ত্রীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে। আমাদের ১৭ই জুলাই রাত থেকে মন্ত্রীদের সঙ্গে দেখা করানোর চেষ্টা করতে থাকে ডিজিএফআই একটি গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন সেদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের সঙ্গে তারা ইনফরমাল আলোচনায় বসে। যেখানে তারা আমাদের আন্দোলন থেকে সরে আসার আহ্বান জানায়, সরকারের মন্ত্রীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে জোর দিতে থাকে। তবে তারা দফায় দফায় আমাদের কনভিন্স করার চেষ্টা করেও পারেনি। আবু সাঈদকে হত্যার ঘটনা জানার পর থেকে আমরা পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিয়েছিলাম আমরা কোনো বৈঠকে বসতে পারবো না।

তিনি আরও বলেন, বৈঠকে-ফোনে কনভিন্স করতে না পেরে সেদিন রাতে তারা বাসায় চলে আসে। আমার বাসায় সে সময় সারজিস আলম ছিল। সেদিন ঢাকায় আমার মামার বাসায় গিয়েও তারা ভাঙচুর করে। আমার কুমিল্লার বাসায়ও গোয়েন্দা সংস্থার লোক পাঠানো হয়। পরে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে আমাদের পদ্মায় (রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন) নিয়ে যাওয়া হয়। আমরা যাওয়ার পর সেখানে তিন মন্ত্রী (আনিসুল ইসলাম, মহিবুল হাসান চৌধুরী ও মো. এ আরাফাত) আসে। পরে আমাদের একতলায় রেখে বৈঠকের জন্য রাজি করানোর চেষ্টা করা হয়। বললাম আমরা মন্ত্রীদের সঙ্গে কথা বলবো না আপনারা যা পারেন করেন। তারপর একটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান সেখানে থাকা কর্মকর্তাদের আমাদের আর জোর না করতে বললেন। এরপরই তিন মন্ত্রীকে আমরা বেরিয়ে যেতে দেখলাম। তবে সেখান থেকে আমাদের আর বাসায় যেতে দেয়া হয়নি। নিয়ে আসা হলো এক সেফহোমে। সেদিন থেকে আমাদের ওপর শুরু হয় মানসিক নির্যাতন।

সেফহোমের বিষয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এই আহ্বায়ক বলেন, একেবারে নির্দিষ্ট অবস্থান মনে পড়ছে না। তবে সেটি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের আশেপাশে কোনো একটি পুরাতন ভবন হবে। যদিও ভবনের বাইরে অবস্থা দেখে ভেতরের অবস্থা ছিল পুরোপুরি ভিন্ন। এসি, কনফারেন্স রুম, টিভি, শোবার ঘর সবই ছিল সেখানে। আমাদের নিয়ে গিয়ে দুটি আলাদা রুমে রাখা হয়। নিয়ে যাওয়ার পর থেকে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা দফায় দফায় এসে আন্দোলন বন্ধের চাপ দিতে থাকে। একটি সংস্থার এক জিএসও বলে আন্দোলন বন্ধ না করলে মেট্রোরেলে আগুন, সমস্ত কিলিংয়ের দায় আমাদের ওপর পড়বে। তবে আমরা অনড় ছিলাম। আমাদের একটাই কথা আমাদের সবাইকে (সমন্বয়ককে) একসঙ্গে বসতে হবে। নাহিদ ইসলাম ও আসিফ মাহমুদের সঙ্গে তখন আমাদের কোনো যোগাযোগ নেই। ফোন না থাকায় কাদেরসহ কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছিলাম না। আমাদের মামলার ভয় দেখানো হচ্ছিল। ক্যারিয়ার শেষ করে দেয়ার কথাও বলছিল। তাদের কথা শুনলে রিওয়ার্ডস দেয়ার পাশাপাশি দেশের বাইরে সেটেল করে দেয়ার প্রস্তাবও দেয়। তবে আমরা দাবি থেকে সরে না আসার ব্যাপারে অনড় ছিলাম। আমরা আসলে তাদের সব কথারই যৌক্তিক জবাব দিচ্ছিলাম। ফলে আমাদের ওপর তারা নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। রাতে ঘুমাতে দেয়নি। একটু পরপরই আমাদের জেরার মুখোমুখি হতে হয়।

হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, তারা মূলত আমাদের কাছ থেকে আন্দোলন বন্ধের স্টেটমেন্ট আদায়ের চেষ্টা করছিল। সেটি করতে পারলে এরপর থেকে যারা মাঠে নামবে তাদের ওপর সরকার আরও কঠোর হতে পারবে। আন্দোলন বন্ধ করে ক্রেডিট নেয়ার এক রকম প্রতিযোগিতা ছিল বিভিন্ন বাহিনীর মধ্যে। পরদিন আমাদের সঙ্গে একটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান দেখা করতে আসেন। তিনিও নানাভাবে আমাদের ওপর চাপ দিতে থাকেন। আমাকে কঠিন এক অবস্থায় ফেলে দেয়া হয় আমি যদি আন্দোলন প্রত্যাহার করি তাহলে ছাত্ররা আমাকে মানবে না, না করলে তাদের চাপ। এ সময় আমি একটু উত্তেজিত হয়ে যাই। কোনো ভাবেই আন্দোলন বন্ধ হবে না এবং দরকারে আমাকে গ্রেপ্তার করতে বলি। তাদের জানাই, যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতে আমার সবার সঙ্গে কথা বলতে হবে। ইন্টারনেট বন্ধ, আমি কাউকে ফোনেও পাচ্ছিলাম না। সেদিন শুক্রবার ছিল। পুলিশি জেরার কারণে আমরা নামাজও পড়তে পারিনি। অনেক চেষ্টা করার পর এক সময় হাসিবের (হাসিবুল ইসলাম) সঙ্গে যোগাযোগ হয়। এত ঘটনা সম্পর্কে সে কিছু জানতো না, সেও খুব অসহায় ছিল। পরে সেদিন সন্ধ্যায় ডিজিএফআই তাকেও তুলে নিয়ে আসে আলাদা রুমে রাখে। হাসিব মাদ্রাসা ব্যাকগ্রাউন্ডের ছিল বলে তাকে বাজেভাবে ধরা হয়। এরপর সেদিন ঢাকায় থাকা মোটামুটি সমস্ত শীর্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তারা আমাদের সঙ্গে দেখা করতে আসেন। তারা মন্ত্রীদের সঙ্গে রাতে দেখা করার জন্য প্রচণ্ড চাপ দিতে থাকে। তাদের ভাষ্য, মন্ত্রীদের তারা অনেক কষ্টে রাজি করিয়েছেন, আমাদের বৈঠকে না নিতে পারলে সেটি গোয়েন্দা সংস্থার বড় ব্যর্থতা। বারবার বলার পরও আমরা জানাই বৈঠক করবো না। তবে আমাদের দাবিগুলো দেয়ার জন্য যেতে পারি। পরে সেটি তারা মেনে নেয়।

৮ দফা ও ৯ দফার বিষয়ে বলেন, আমরা মূলত ছাত্রলীগের হামলার পরদিনই দফাগুলোর একটা খসরা প্রস্তুত করেছিলাম। সেখানে মূলত ছয় দফা ছিল। পরে কাদের (সমন্বয়ক আব্দুল কাদের) ৯ দফা দেয়, তবে সেটি আমরা তখনো জানতাম না। সেদিন রাতে আমার নাহিদের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছিল। সেই আমাদের দফাগুলোর ব্যাপারে নির্দেশনা দেয়। নাহিদ অবশ্য আমাদের মন্ত্রীদের সঙ্গে দেখা না করার জন্য বলেছিল। তবে আমরা তখন বন্দি এবং কি কঠিন পরিস্থিতির মধ্যদিয়ে যাচ্ছিলাম সেটি তাকে জানাতে পারছিলাম না। সেফহোমে থাকা তিনজনকেও তারা খুব একটা একসঙ্গে বসতে দিচ্ছিল না। পরে আমরা মোটামুটি ৯ দফা নিয়েই পদ্মায় যেতে চেয়েছিলাম। যেখানে প্রথম দফা ছিল গণহত্যার জন্য শেখ হাসিনাকে ক্ষমা চাইতে হবে। তবে এ দফা নিয়ে কোনো ভাবেই যাওয়া যাবে না বলে আমাদের জানিয়ে দেয়। তারা দফাটি আমাদের কাটতে বাধ্য করে। পরে আট দফা নিয়েই আমরা রওনা দেই।

হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, আমাদের রাত ১০টায় প্রায় ৩০টি গাড়ি করে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আগে থেকেই বসেছিলেন তিন মন্ত্রী। তথ্যমন্ত্রী আরাফাত তখন আমাকে বলে, তোমরা তো ভালো করেছো এ পর্যন্ত, ওয়েল ডান। তখন আমাদের বসতে বললো। তখন আইনমন্ত্রী বললেন, ওদের বিব্রত করার দরকার নেই। আমরা দাবি দিয়ে সেখানে সর্বোচ্চ দুই মিনিটের মতো ছিলাম। পরে বাইরে এসে সাংবাদিকের সঙ্গে কথা বলি। পরে সেফ হাউজে এসে সবচেয়ে বড় সার্কাসটা দেখলাম। গোয়েন্দা সংস্থার নির্দেশনায় আমার পুরো বক্তব্য তুলে না ধরে ম্যানুপুলেটেড একটা ভার্সন প্রচার করা হয়। আমি আমার বক্তব্যে শাটডাউন কর্মসূচি অব্যাহত রাখার কথা বলেছিলাম। সেটি প্রচারই করা হয়নি। উল্টো গোয়েন্দাদের কথা মতো প্রচার করা হলো আমরা আন্দোলন স্থগিত করেছি। দুইদিন সেফহোমে চাপের পরও শাটডাউন কর্মসূচি প্রত্যাহার করিনি, তাহলে সেদিন কেন এমন ঘোষণা দিবো? সেদিনের বক্তব্যের মূল ফাইলটা আমি টিভি অফিস থেকে সংগ্রহ করেছি। আমাকে পুরোপুরি ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। আমরা বারবার বলেছি কোনো সংলাপে আমরা বসতে আসিনি। তবে টেলিভিশন মিডিয়াগুলো প্রচার করতে লাগলো আমরা সংলাপে বসেছি। আমাদের আট দফা দাবিও কেউ প্রচার করেনি।

mzamin


ট্রাম্প নির্বাচিত হওয়ার পর জেলেনস্কির সঙ্গে মাস্কের ফোনালাপ কিসের ইঙ্গিত দিচ্ছে

ডনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ নির্বাচনী সহযোগী ছিলেন বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলার প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক। যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতায় ট্রাম্পকে ফিরিয়ে আনতে মিলিয়ন মিলয়ন ডলারও খরচ করেছেন তিনি। তার প্রচেষ্টা যে শতভাগ সফল হয়েছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। ইলনকে নিয়ে ট্রাম্পও বেশ উচ্ছ্বসিত। প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর ইলনকে নিয়ে বিজয় উদ্যাপন করেছেন তিনি। এতে বোঝা যায় ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে ইলন মাস্কের গুরুত্ব অপরিসীম। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি। এতে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে ইতিমধ্যেই ডনাল্ড ট্রাম্প তার প্রশাসনে ইলন মাস্কের ইতিবাচক উপস্থিতির আগাম ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে ট্রাম্প প্রশাসনে মাস্কের ভূমিকা কি হতে পারে তা নিয়ে এখনও কোনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। যাইহোক এই ভূমিকা যে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ হবে- তাতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে গত বুধবার জয়ী হওয়ার পরপরই ট্রাম্প যে ভাষণ দিয়েছেন সেখানে ইলন মাস্কের উল্লেখ থেকে কিছু বিষয় অনুমান করা যায়। নির্বাচিত হওয়ার পর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে ফোনে কথা বলেন ট্রাম্প। তাদের মধ্যে আলাপ হওয়ার সময় ফ্লোরিডার পাম বিচে নির্বাচিত প্রেসিডেন্টের বাসভবন মার-এ-লাগোতে উপস্থিত ছিলেন মাস্ক। জলেনস্কির সঙ্গে ফোনে কথা বলার সময় মাস্কের কাছে টেলিফোনটি হস্তান্তর করেছিলেন ট্রাম্প। সে সময় জেলেনস্কির সঙ্গে কথা হয় স্পেসএক্স-এর প্রতিষ্ঠাতার।

ট্রাম্প প্রশাসন ইউক্রেনের বিষয়ে মার্কিন নীতিতে কোনো পরিবর্তন আনবে কি না সে বিষয়টিও এখনও অস্পষ্ট। কিন্তু বিজয়ী বক্তব্যে ট্রাম্প বলেছিলেন তিনি কোনোরকম ‘যুদ্ধের’ পক্ষে নন, তিনি যুদ্ধের অবসান চান। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তির বরাতে সিএনএন ট্রাম্প- জেলেনস্কির কথোপকধনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সিএনএন মার্কিন গণমাধ্যম এক্সিওস-এর বরাতে জানিয়েছে, সেদিন দু’টি বিস্ময় ছিল- প্রথমটি হচ্ছে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে মাস্কের ফোনালাপ, আর দ্বিতীয়টি হচ্ছে- জেলেনস্কি মাস্কের কথাগুলো মন দিয়ে গুরুত্বের সঙ্গে শুনেছেন। দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্পের ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তনে ইলন মাস্ক যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ সে বিষয়টিও স্পষ্ট হয়েছে সেদিন।

জেলেনস্কির সঙ্গে আধঘণ্টারও বেশি সময় ধরে কথা বলেন ট্রাম্প ও মাস্ক। নির্বাচনে ট্রাম্পের ভূমিধস জয়ে অভিনন্দন জানিয়ে কথা শুরু করেন কিয়েভের নেতা। তিনি সে সময় ইউক্রেনের পাশে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেন। তবে বিস্তারিত নীতি সম্পর্কে কিছুই উল্লেখ করেননি মার্কিন নব-নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট। মাস্কের স্টারলিঙ্কের মাধ্যমে মহাকাশে ইউক্রেনকে সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। ২০২২ সালে রাশিয়ার হামলার বিপরীতে স্টারলিঙ্ক ইউক্রেনের  সেনাবাহিনীকে রিয়েল-টাইম ড্রোন শনাক্ত এবং ডেটা ফুটেজ সংগ্রহে সাহায্য করে আসছে। এমন সব অঞ্চলে ইউক্রেনকে সহযোগিতা করেছে স্টারলিঙ্ক যেসব স্থানে মোবাইল নেটওয়ার্ক ধ্বংস করে দিয়েছে রাশিয়া।  সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের ফাঁকে ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন জেলেনস্কি। রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে কূটনৈতিক সমাধানের উপায় নিয়ে আলোচনা করেন তারা। ট্রাম্প তখন সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

mzamin

নির্বাচন পরে, সরকারের অগ্রাধিকার সংস্কারে

দায়িত্ব গ্রহণের তিন মাস পার করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এই সময়ে নির্বাচন আয়োজনের দৃশ্যত কোনো আলামত দেখা যাচ্ছে না। দায়িত্ব নিয়েই সরকার সংস্কার কার্যক্রমের পরিকল্পনা প্রকাশ করে। গঠন করা  হয় ১০টি কমিশন। কিন্তু অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মূল দায়িত্ব নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে শুরুতেই কিছু্‌ বলা হয়নি। তিন মাস পরও এ নিয়ে স্পষ্ট কোনো বক্তব্য নেই। গঠন হয়নি নির্বাচন কমিশন। কমিশন গঠনের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সংস্কারে গুরুত্ব দিয়ে চলায় ইতিমধ্যে মানুষের মাঝে দ্বিধাদ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে। অসন্তোষ দেখা যাচ্ছে নানা ক্ষেত্রে। সরকারের উপদেষ্টা, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা  বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়করাও নির্বাচন এবং সংস্কার ইস্যুতে নানা কথা বলছেন। এতে রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাকর্মীদের মাঝে সংশয় তৈরি করছে। এক এগারোর মতো মাইনাস চেষ্টা হতে পারে এমন আশঙ্কাও করছেন কেই কেউ। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও দলগুলোর নেতারা বলছেন, অতীতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার যেখানে ৯০ দিনের মধ্যে পুরো নির্বাচন আয়োজন করে দায়িত্ব হস্তান্তর করতে পেরেছে সেখানে বর্তমান সরকার ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচনের রোডম্যাপই ঘোষণা করছে না কেন? দলগুলোর নেতারা জোর দিয়ে বলছেন, টেকসই সংস্কারের জন্য নির্বাচিত সরকার দরকার। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ছাড়া সংস্কার টেকসই হবে না। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সংস্কারের সুপারিশ রেখে যেতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ কাজ এবং সংস্কারগুলো তারা করতে পারে। কিন্তু এখনো দৃশ্যত এমন কিছু দেখা যাচ্ছে না। এ ছাড়া ছাত্র-জনতার আন্দোলনে গণহত্যা চালানো, অতীতে রাষ্ট্রীয় সম্পদের লুটপাটকারীদের গ্রেপ্তার এবং বিচারে তেমন কোনো অগ্রগতিও দৃশ্যমান হয়নি। প্রশাসন স্থবির। পুলিশ প্রশাসন কার্যকর করা যায়নি। বাজারে এখনো আগের মতোই মানুষের বোবাকান্না। এই পরিস্থিতি যে সহসা ভালো হবে তারও কোনো লক্ষণ নেই। এতে মানুষের মাঝে হতাশা তৈরি হচ্ছে। যে পরিবর্তনের আশা নিয়ে মানুষ জীবন দিয়েছে, আহত হয়েছে তার প্রতিফলন  দেখা যাচ্ছে না।

রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারা মনে করছেন, সরকার নির্বাচিত নয় বলে অনেক ক্ষেত্রে প্রয়োজন হলেও কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারছে না। নির্বাচিত সরকার না এলে অনেক সমস্যারই সমাধান মিলবে না।
এসব যুক্তি সামনে রেখেই দলগুলোর পক্ষ থেকে নির্বাচনের বিষয়ে চাপ দেয়া হচ্ছে। বক্তৃতা, বিবৃতি ও সমাবেশের মাধ্যমে তারা সরকারকে এই বার্তা দিতে চাইছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সর্বশেষ শুক্রবার বিএনপি ঢাকাসহ সারা দেশে যে বড় শোডাউন করেছে এটিও সরকারের জন্য একটি বার্তা।
গতকাল কৃষক দলের এক আয়োজনে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বক্তব্য রাখেন। সেখানে তিনি প্রসঙ্গক্রমে বাজার সিন্ডিকেটের বিষয় আনেন। বলেন, এই সিন্ডিকেট ভাঙতে হলে প্রকৃত জনপ্রতিনিধি প্রয়োজন। একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমেই সেটা সম্ভব।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও শনিবার এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, জনগণের অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো সংস্কারই সফল হতে পারে না। জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণ সম্ভব একটি নির্বাচিত সংসদের মাধ্যমে।
ওদিকে সরকারের পক্ষ থেকে এ পর্যন্ত সংস্কারেই বেশি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে বলে মনে করছে দলগুলো। সরকারের তরফে দেয়া বক্তব্যেও এটা অনেকটা স্পষ্ট। সর্বশেষ বন পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এক অনুষ্ঠানে এ প্রসঙ্গে কথা বলেন। তিনি বলেন, নির্বাচন নিয়ে বিএনপি’র দাবি অমূলক নয়, তবে জনগণ আগে সংস্কার চায়।
সরকারের এমন মনোভাবের সঙ্গে কিছু দলেরও সমর্থন রয়েছে। নির্বাচনের সময়সীমা নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর তেমন কোনো তাড়াহুড়ো দেখা যাচ্ছে না। দলটির নেতারাও এ নিয়ে কৌশলী বক্তব্য দিচ্ছেন। নূরুল হক নুরের গণঅধিকারও নির্বাচনের আগে গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের কথা বলছে।

সর্বশেষ গতকাল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা ও জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক সারজিস আলম বলেছেন, শুধু নির্বাচনের জন্য দুই হাজার মানুষ জীবন দেয়নি। অর্ধ লাখ মানুষ রক্ত দেয়নি। সুষ্ঠু নির্বাচনের সঙ্গে সম্পৃক্ত সিস্টেমগুলোর যৌক্তিক সংস্কার করে অন্তর্বর্তী সরকারের নির্বাচনে যাওয়া উচিত। শনিবার দুপুরে সিলেটে এক অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন।

সারজিস আলম বলেন, গত ১৬ বছর, এমনকি ৫৩ বছর ধরে সংবিধান এই বাংলাদেশকে, মানুষকে পাঁচ বছরের জন্য ‘জনতার সরকার’ উপহার দিতে পারেনি। পাঁচ বছর পরপর অনেক বড় বড় ইশতেহার দিয়ে সরকার নির্বাচন করে, ক্ষমতায় আসে। কিন্তু ক্ষমতায় আসার কয়েক দিনের মধ্যে, কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তারা ভুলে যায়, তারা কী ইশতেহার দিয়েছিল। তারা ভুলে যায়, তারা জনতার সরকার। নির্বাচন প্রসঙ্গে সারজিস আলম বলেন, ‘আমরা বলছি না রাষ্ট্রের সবকিছু সংস্কার করে নির্বাচনে যান। আমরা এটাও বলছি না আগামী পাঁচ-ছয় বছর সংস্কার করেন। কিন্তু সংস্কারের জন্য ন্যূনতম একটা যৌক্তিক সময় লাগবে।
ওদিকে এতদিন নির্বাচন নিয়ে জামায়াতের তরফে কৌশলী বক্তব্য দিলেও গতকাল দলের নায়েবে আমীর ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের অবশ্য সরাসরিই কথা বলেছেন। সরকারের উদ্দেশ্যে তিনি বলেছেন, নির্বাচন কমিশনসহ সকল সেক্টর দ্রুত সংস্কার করে নির্বাচন দিন। নির্বাচন নিয়ে কালক্ষেপণ করবেন না। এই কালক্ষেপণ জনগণ মেনে নেবে না।
শনিবার লক্ষ্মীপুরে দলীয় এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। বলেন, এখনো দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে। বাংলাদেশের আকাশে কালো মেঘ দেখা যাচ্ছে। কোনো ষড়যন্ত্রের কাছে দেশের গণতন্ত্রকে ব্যাহত হতে দেয়া হবে না। ঐক্যবদ্ধভাবে তা মোকাবিলা করা হবে।

কৃষক দলের সভায় বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও নেতাকর্মীদের ষড়যন্ত্রের বিষয়ে সতর্ক করেছেন। বিষয়টি তৃণমূলের নেতাকর্মীদেরও অবহিত করতে নির্দেশনাও দিয়েছেন।
নির্বাচন নিয়ে সরকারের রোডম্যাপ ঘোষণা না করার সঙ্গে ছাত্র আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়া সংগঠনগুলোর নেতাদের আলাদা রাজনৈতিক  ও নাগরিক প্ল্যাটফরম গঠন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা আছে। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে এসব সংগঠনের কী ভূমিকা হয় তাও স্পষ্ট নয়। তারা দল গঠন করে নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন এমন আলোচনাও আছে। এ ছাড়া এক এগারোর সময় দুই প্রধান দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে মাইনাস করতে কিংস পার্টি তৈরির যে তৎপরতা ছিল সেই আশঙ্কাও আছে দলগুলোর। এ ছাড়া সরকার দুর্বল ও নমনীয়ভাবে দীর্ঘ সময় রাষ্ট্র পরিচালনা করলে সামনে রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে বলেও নেতারা মনে করছেন। এসব কারণেই নির্বাচন আয়োজনে সরকারকে গুরুত্ব দিতে চাপ দিচ্ছেন তারা।  

mzamin

রাজধানীতে বিশাল শোভাযাত্রায় যে বার্তা দিলো বিএনপি by পলাশ সরকার

বর্তমান যে সরকার তাতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধি রয়েছেন।  আরও রয়েছেন সাবেক সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা,  অর্থনীতিবিদ, মুক্তিযোদ্ধা, আইনজীবী, বেসরকারি সংস্থার কর্মী, মানবাধিকারকর্মী ও শিক্ষাবিদদের প্রতিনিধি।  কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি এই সরকারে নেই। অন্তর্বর্তী সরকার  মনে করে যে, দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সুরক্ষিত রাখতে এবং  স্বৈরাচারী ব্যবস্থার পুনরাবৃত্তি  ঠেকাতে এই সংস্কারগুলো সম্পন্ন করা জরুরি। তাদের মতে, নির্বাচনের আগে সকল কাঠামোগত ও আইনি সংস্কার সম্পন্ন করা হলে দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হবে...

বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে শুরু করে বিভিন্ন মহলে এখন সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো সাধারণ নির্বাচন। বহু আকাঙ্ক্ষিত এই নির্বাচন কবে হবে এবং কীভাবে হবে-এই প্রশ্নটি সাধারণ জনগণ থেকে শুরু করে রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার নিয়ে এ বছরের জুলাই-আগস্ট মাসে বাংলাদেশে ঘটে এক নজিরবিহীন ঘটনা। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনরত রাজনৈতিক দলগুলোর টানা লড়াই ও সংগ্রামকে বাড়তি উচ্চতায় নিয়ে যায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।  হাজারো ছাত্র-জনতা ও শ্রমিকের রক্তের বিনিময়ে বাংলাদেশ স্বৈরাচারী শাসন থেকে মুক্তি পায়। গঠিত হয় নোবেল বিজয়ী প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। এখনো পর্যন্ত সরকারটি তার জনপ্রিয়তা অক্ষুণ্ন রেখেছে। নির্বাচনের ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ কাঠামাগুলোর সংস্কারের কাজ শেষ করে তবে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

ইতিমধ্যে রাষ্ট্র সংস্কারে ছয়টি  কমিশন গঠন করা হয়েছে। কিন্তু এখানে একটি বড় প্রশ্ন উঠেছে, সংস্কারের সব কাজ করবে কে? বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার, না পরবর্তী নির্বাচিত সরকার? পাশাপাশি, এই সংস্কারের পরিধি ও মাত্রা নিয়েও অনেক প্রশ্ন সামনে আসছে।
বর্তমান যে সরকার তাতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধি রয়েছেন।  আরও রয়েছেন সাবেক সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা,  অর্থনীতিবিদ, মুক্তিযোদ্ধা, আইনজীবী, বেসরকারি সংস্থার কর্মী, মানবাধিকারকর্মী ও শিক্ষাবিদদের প্রতিনিধি।  কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি এই সরকারে নেই। অন্তর্বর্তী সরকার  মনে করে যে, দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সুরক্ষিত রাখতে এবং  স্বৈরাচারী ব্যবস্থার পুনরাবৃত্তি  ঠেকাতে এই সংস্কারগুলো সম্পন্ন করা জরুরি। তাদের মতে, নির্বাচনের আগে সকল কাঠামোগত ও আইনি সংস্কার সম্পন্ন করা হলে দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হবে।

৫ই আগস্ট শেখ হাসিনা দেশছাড়ার পর আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানের  নেতাদের বেশির ভাগই পলাতক। অনেকেই হত্যাসহ নানা মামলায় কারাগারে রয়েছেন। আওয়ামী লীগের সঙ্গে থাকা জাপাসহ অন্য দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধেও বহু মামলা করা হয়েছে। এই মুহূর্তে মাঠের রাজনীতিতে বিএনপি-জামায়াতে ইসলামী ও গণঅধিকার পরিষদসহ সমমনা দলগুলো বেশ সক্রিয়। বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর গত ১৬-১৭ বছর ধরে অনেক জেলজুলুম, নির্যাতন হয়েছে। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন করে আসা বিএনপি এখনো নির্বাচনের দাবিতে তাদের অবস্থানে অটল।  সরকারের মতো বিএনপিও চায় সংস্কারের মাধ্যমে দেশের কাঠামোগত একটি পরিবর্তন আসুক এবং যত দ্রুত সেই পরিবর্তনের পর একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হোক। বিএনপি‘র এই প্রত্যাশা গত তিন মাসের নয়, বরং গত দেড়যুগের।

বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত  চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সাম্প্রতিক বক্তৃতায় দলের আকাঙ্ক্ষা ও লক্ষ্য ফুটে উঠেছে। ১৯৭৫ সালের ৭ই নভেম্বরের ঐতিহাসিক ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি’ দিবস উপলক্ষে বিএনপি শুক্রবার রাজধানী ঢাকায় একটি বিশাল শোভাযাত্রা বের করে। রাজধানীবাসীর দুর্গোভের কথা মাথায় রেখে বিএনপি শোভাযাত্রা করে সরকারি ছুটির দিনে। লোকে লোকারণ্য হয় ঢাকা। এই শোভাযাত্রা শুরু হয় নয়াপল্টন বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে। শেষ হয় মানিক মিয়া এভিনিউতে জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে সমাবেশের মধ্যদিয়ে। এতে দলটির ভবিষ্যত ঠিকানার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। সমাবেশে এই সরকার নিয়ে বিএনপি’র অবস্থান ও প্রত্যাশা ফুটে এসেছে। একইসঙ্গে জনগণের আকাঙ্ক্ষা অনুসারে রাষ্ট্রের বিভিন্ন পর্যায়ে সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়নে সরকারকে দলের সমর্থন দেয়ার বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।

তারেক রহমান তার ভাষণে সরকার যাতে ব্যর্থ না হয় সে ব্যাপারে সতর্ক করেছেন।  একটি সরকারের সাফল্য ব্যর্থতা পরিমাপের জন্য যদিও তিন মাস মোটেও উপযুক্ত সময় নয়। কারণ একটি অগণতান্ত্রিক সরকার, যে কিনা রাষ্ট্রের সবগুলো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে দিয়েছিল। সেখান থেকে একটি জটিল ও অভূতপূর্ব পরিস্থিতির মধ্যদিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। এরই মধ্যে কয়েকটি অপশক্তি দাবি-দাওয়ার আড়ালে দেশে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চেয়েছিল। এমন বাস্তবতায়  সরকারে না থেকেও, তিন মেয়াদে সরকার পরিচালনায় অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বিএনপি বর্তমান সরকারকে পূর্ণ সমর্থন ও সহযোগিতা করে আসছে। সরকার যেন ব্যর্থ না হয়, সেজন্য লাখ লাখ মানুষের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত বিএনপি’র শোভাযাত্রায় সবাইকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। দেশের রিজার্ভ তলানিতে রেখে, ব্যাংকগুলো ফাঁকা  করে দিয়ে ও দেশকে ঋণের জালে বিপর্যস্ত করে গেছে আওয়ামী লীগ সরকার। বিএনপির পূর্ণ সমর্থন বাংলাদেশের অর্থনীতিকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার কঠিন কাজে সরকারকে সহায়তা করবে। সর্বশেষ বক্তৃতায় তারেক রহমান একটি সমতাভিতিক বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নের কথা বলেছেন। যে বাংলাদেশে  ধনী ও গরিবের মধ্যে বিস্তর ব্যবধান থাকবে না। যেখানে ধনী শুধু ধনীই হবেন, আর দরিদ্র শ্রেণি দিন দিন আরও দরিদ্র হবেন-এই চক্র থেকে বের হবার প্রত্যয় রয়েছে।  তিনি একইসঙ্গে একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের কথা বলেছেন। এই গণতন্ত্র কাগুজে বা কেতাবি নয়। সকলের মতামত নিয়ে বাস্তবে প্রয়োগ করা হবে এমন একটি গণতান্ত্রিক দেশের স্বপ্ন দেখা যায় তার বক্তৃতায়। একইসঙ্গে তিনি একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ার ওপর জোর দিয়েছেন। যেখানে দেশের নাগরিকদের সবার আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হবে। কোনো একটি অংশকে বঞ্চিত বা উপেক্ষা করা হবে। বরং প্রতিটি সত্তার মধ্যে আন্তঃসংযোগ ঘটিয়ে গড়া হবে নতুন বাংলাদেশ।

বিএনপি’র লাখো নেতাকর্মীর অংশগ্রহণে ঢাকায় শান্তিপূর্ণ শোভাযাত্রায় একদিকে দলীয় ঐক্য প্রকাশিত হয়েছে। অন্যদিকে এই ঐক্য বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে আগামীর সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার জন্য একটি শক্তিশালী পাটাতন বা ভিত্তি দিয়েছে। এরসঙ্গে জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে শহীদ হাজারো ছাত্র, শ্রমিকের রক্ত ও ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার হঠাতে গিয়ে যে নিদারুণ যন্ত্রণা ও অভিজ্ঞতা  দেশের মানুষ ভোগ করেছে তা জাতীয়তাবাদী শক্তিকে উজ্জীবিত করার রসদ জোগাবে। তার ভাষ্য, আর  কোনো অগণতান্ত্রিক, কর্তৃত্ববাদী ও একনায়কতান্ত্রিক  স্বৈরাচার ব্যবস্থা বাংলাদেশে ফিরে না আসুক। অর্থাৎ বিদ্যমান সরকার থেকে শুরু করে ভবিষ্যতের সরকারও  যেন আর কখনো স্বৈরাচারী না হয়ে উঠে, সে ব্যাপারেও সাবধান করে দিয়েছেন তিনি।
আগামীতে একটি সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের নির্বাচিত সরকারের হাতে মানবিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে উঠকু বাংলাদেশ।

লেখক: সংবাদকর্মী

ভোট হতে হবে, কোনো আপস নাই -তারেক রহমান

নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, প্রত্যেককে একটি মেসেজ দিতে হবে যে, তোমরা যাকে খুশি ভোট দাও, কিন্তু ভোট যাতে হয় যেকোনো মূল্যে এই ব্যবস্থাটা করতে হবে। আমাকে দেয়ার দরকার নাই। তুমি যাকে ভালো   মনে করো, তুমি তাকে ভোট দাও। ভোট হতে হবে। এটার সঙ্গে কোনো আপস নাই। গতকাল রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে কৃষক দলের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধন ও আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এ সময়  আগামী তিন মাস প্রতিটি ইউনিয়নে কৃষক সমাবেশের ঘোষণা দেন তিনি।

কৃষক দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তারেক রহমান বলেন, প্রত্যেককে একটি মেসেজ দিতে হবে যে, ভাই তুমি যে রাজনীতিতেই বিশ্বাস করো না কেন, কিন্তু তুমি একটি জায়গায় এসে দাঁড়াও। ওই ডামি নির্বাচন হতে পারবে না, ওই নিশিরাতের ভোট হতে পারবে না। দিনের আলোতে ভোট হতে হবে। যাকে খুশি তাকে ভোট দেয়ার স্বাধীনতা থাকতে হবে। নিরাপদে ভোট দেয়ার স্বাধীনতা থাকতে হবে। কেউ কাউকে ভোট দেয়ার সময় ডিস্টার্ব করতে পারবে না। যাবে, লাইন ধরবে, ভোট দিয়ে চলে আসবে। তার মত সে প্রকাশ করবে। কোনো ভয়-ভীতি থাকবে না। নিরপেক্ষভাবে ভোট হতে হবে। এটার সঙ্গে কোনো আপস নয়। ষড়যন্ত্র যদি রুখতে হয় তাহলে অবশ্যই ভোটের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে।

বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, দেশ, দেশের মানুষ এবং এদেশের জাতীয়তাবাদী শক্তি, এই তিনের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র কিন্তু থেমে নেই। এই ষড়যন্ত্র যে থেমে নেই তা আপনারা পত্র-পত্রিকায় নিউজের মাধ্যমে এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন সংবাদের মাধ্যমে, বিভিন্ন টেলিফোনের আলাপের মাধ্যমে আপনারা কম-বেশি জানতে পারছেন। কাজেই জাতীয়তাবাদী শক্তির সহকর্মীদের বলবো, ষড়যন্ত্র যে থেমে নেই। এই কথাটি প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রতিটি মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে।

তিনি বলেন, যারা মানুষের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকবে। যেদিন এরকম একটি সিস্টেম তৈরি করা সম্ভব হবে, সেদিনই বাজার পরিস্থিতি অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আনা যাবে। আমরা যেটাই উন্নত করতে চাই না কেন, জনগণের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে নিশ্চিত করতে হবে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে না পারলে জনগণের কাছে জবাবদিহি করে এরকম ব্যক্তিদের সামনে আনতে না পারলে কোনো ভাবেই আমরা ভালো কিছু করতে পারবো না।  

আদা-রসুন ও পিয়াজের দাম হঠাৎ করে বেড়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ডিমের দাম ১৬০ টাকা থেকে ২০০ টাকার কাছাকাছি চলে যাচ্ছে। কেন? এটার কিছু সমস্যা তো আছে। যেটা আমরা পত্র-পত্রিকায় দেখি। এর বাইরে আমি মনে করি, একটি বড় সমস্যা আছে- সেটি হচ্ছে আমাদের আরও উৎপাদন বাড়াতে হবে। আর পানি আমাদের বড় একটি বিষয়। ২০ কোটি মানুষের দেশে আমাদের পানির বিরাট একটি সংকট আছে। পানি কৃষির সঙ্গে সম্পর্কিত। কৃষির সঙ্গে পানি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। পানি ছাড়া আপনি কৃষির কিছুই করতে পারতেন না। শহীদ জিয়াউর রহমানের সময় খাল খনন কর্মসূচি শুরু করা হয়েছিল। ওই সময় কৃষির অনেক সেক্টরে হাত দেয়া হয়েছিল। তার ফলেই কিন্তু শহীদ জিয়া যখন দেশের দায়িত্বভার পান, তখন ফসলের উৎপাদন ছিল, বিশেষ করে ধান ১১ মিলিয়ন টনের কাছাকাছি ছিল। শহীদ জিয়ার সময় দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে দুই মিলিয়নের বেশি এটি বৃদ্ধি পায়। এর প্রধান কারণ ছিল, খাল খনন কর্মসূচি। আগামীতে বিএনপি জনগণের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করলে আমরা শহীদ জিয়ার খাল খনন কর্মসূচি আবার শুরু করবো, ইনশাআল্লাহ।

তিনি বলেন, কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতের জন্য ইউনিয়ন পর্যন্ত সরকারিভাবে ক্রয় কেন্দ্র করা যায় কি, এটি করলে লাভ হবে কিনা- এটি আমাদের চিন্তার মধ্যে আছে। কৃষকের জন্য শস্য বীমা চালু করা, সেচ ব্যবস্থা, কৃষকের স্বার্থ উন্নয়নসহ যাবতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য কৃষি ভিত্তিক শিল্প কলকারখানা করার উদ্যোগ গ্রহণ করা, একচেটিয়া কারবারি বন্ধ, সমবায়ভিত্তিক চাষ পদ্ধতি চালু করাসহ কৃষকের জন্য অনেক বিষয় আমাদের দেখতে হবে।    

ঝড়, বৃষ্টি, তুফান এবং বন্যায় এদেশে কৃষকের ফসল নষ্ট হয় মন্তব্য করে তারেক রহমান বলেন, আমরা কৃষি বীমার কথা চিন্তা করেছি। যাতে কৃষকের বীজ ও ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হলে, সে সময় পর্যন্ত কৃষককে সেই সহযোগিতা করা যায়। সারের সমস্যা আছে। আর একটি বড় সমস্যা আছে। সেটি হচ্ছে, কৃষি জমির পরিমাণ কমে যাচ্ছে। কীভাবে আমরা কৃষির জমি বাড়াতে পারি, এ বিষয়টি চিন্তা করতে হবে।     

তিনি বলেন, কৃষি সেক্টরে আমাদের অবশ্যই নজর দিতে হবে। বীজে সমস্যা রয়েছে। এটি একটি বিরাট সমস্যা। কৃষকের বীজের সমস্যা সম্পূর্ণভাবে সমাধান করা যায়। আমাদের ৩১ দফার মধ্যে এ ব্যাপারে কথা রেখেছি।

বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, কৃষক দল আগামী তিন মাসে প্রায় ৪ হাজারের মতো ইউনিয়নে যাবেন। কৃষকদের সঙ্গে কথা বলবেন। তাদের আমাদের দলের সদস্য পদ গ্রহণের জন্য চেষ্টা করবেন। একইভাবে তাদের সমস্যাগুলো জানার জন্য চেষ্টা করবেন। পরবর্তীতে সমাধানগুলো আমরা বের করার চেষ্টা করবো, ইনশাআল্লাহ।  
কৃষক দলের সভাপতি হাসান জাফির তুহিনের সভাপতিত্বে এবং ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু প্রমুখ বক্তব্যে রাখেন।

mzamin

যেভাবে মানিকগঞ্জ চেম্বার নিয়ন্ত্রণ করতেন জাহিদ মালেক by রিপন আনসারী

মানিকগঞ্জে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন চেম্বার অব কমার্স নিয়ে  রয়েছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। আওয়ামী লীগ  সরকারের জমানার শেষের প্রায়  দশ বছর সংগঠনের পরিচালনা পর্ষদ গঠনে নিয়মনীতির কোনো বালাই ছিল না। সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের হাতের মুঠোয় ছিল সবকিছু। নির্বাচন ছাড়াই যাকে ইচ্ছা তাকে সভাপতি বানাতেন আবার যখন তখন ছুড়ে ফেলে দিতেন। সর্বশেষ ২০১৮ সাল থেকে চেম্বার অব কমার্সের কোনো কার্যক্রম দেখাতে পারেনি মন্ত্রীর আশীর্বাদপুষ্ট পরিচালনা পর্ষদের সভাপতিরা। ব্যবসায়ীদের এই সংগঠনটিতে সর্বশেষ সভাপতির দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রীর অন্যতম প্রধান খলিফা গড়পাড়া ইউনিয়ন পরিষদের পলাতক চেয়ারম্যান ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আফসার উদ্দিন সরকার। নিয়ম অনুযায়ী দুই বছর মেয়াদে সভাপতির দায়িত্ব পেলেও অবৈধভাবে চার বছর পার করেছেন। এর আগে ২০১৮ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত সভাপতি ছিলেন জাহিদ মালেকের পুত্র রাহাত মালেক। ফলে চেম্বার অব কমার্সের সাধারণ সদস্যদের মধ্যে দেখা দেয় তীব্র ক্ষোভ।

সূত্র মতে, ১৯৯১ সালে মানিকগঞ্জ জেলা চেম্বার অব কমার্স প্রতিষ্ঠিত হয়। মূলত রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত হয়ে আসছে এই সংগঠনটির কার্যক্রম। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ সরকারের জামানার শেষের ১০ বছর এই সংগঠনটি নানা কারণেই আলোচিত সমালোচিত। সর্বশেষ ২০১২ সালে সরাসরি ভোটের মাধ্যমে পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি নির্বাচিত হন সুদেব কুমার সাহা। এরপর থেকে  ২০২৪  সাল পর্যন্ত  নির্বাচনের মুখ কেউ দেখেনি।

জাহিদ মালেকের পরিবার এবং আস্থাভাজন নেতারাই সিলেকশনের মাধ্যমে নিজেদের স্থান করে নেয় চেম্বার অব কমার্সের সভাপতিসহ বিভিন্ন পদ-পদবিতে। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি সমালোচিত হয়েছে ২০১৮ সাল থেকে ২০২৪ সালের পরিচালনা পর্ষদের দুইজন সভাপতিকে নিয়ে। এদের একজন সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের পুত্র রাহাত মালেক এবং মন্ত্রীর প্রধান খলিফা আফসার উদ্দিন সরকার। ২০১৮ সালে রাহাত মালেককে  সভাপতির আসনে বসানো হয়। দুই বছর মেয়াদের ওই কমিটির সভাপতি রাহাত মালেক একদিনের জন্যও মানিকগঞ্জের ব্যবসায়ীদের নিয়ে এক টেবিলে বসেননি। শুধুমাত্র একদিনের জন্য ঢাকার একটি হোটেলে পরিচালনা পর্ষদের নেতাদের ডেকে আপ্যায়ন এবং ব্লেজার দিয়েছেন।

ওই পরিচালনা পর্ষদের একাধিক নেতা মানবজমিনকে এমন তথ্য দিয়েছেন। এরপর ২০২০ সালে গড়পাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আফসার উদ্দিন সরকারকে চেম্বার অব কমার্সের মানিকগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি করেন। সেখানেও ভোটের কোনো বালাই ছিল না। মন্ত্রীর একক সিদ্ধান্তে প্রকৃত ব্যবসায়ী না হয়েও আফসার সরকারকে সভাপতি নিযুক্ত করেন। এ নিয়ে স্বয়ং আওয়ামী লীগের ভেতরেও ব্যাপক সমালোচনা ছিল। কিন্তু স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কারণে কেউ কোনো ধরনের প্রতিবাদ তো দূরের কথা টু শব্দ পর্যন্ত করতে পারেনি। দুই বছরের মেয়াদে আফসার সরকারকে সভাপতি করা হলেও ২০২২ সালে পুনরায় নির্বাচনের মাধ্যমে কমিটি করার কথা থাকলেও সেটাও করা হয়নি।  নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে সভাপতি হিসেবে অবৈধভাবে আরও দুই বছরসহ মোট ৪ বছর দায়িত্ব পালন করেন। তার ৪ বছরে পরিচালনা পর্ষদের কোনো সদস্য নিয়ে চেম্বার অব কমার্সের কার্যালয়ে একত্রিত হননি। ব্যবসায়ীদের সংগঠন হলেও জেলার কোনো ব্যবসায়ীদের সুখে-দুঃখে আফসার সরকার কোনো ভূমিকা পালন করেনি বলে অভিযোগ রয়েছে।

আফসার উদ্দিন সরকারের কমিটির সহ-সভাপতি রফিকুল ইসলাম পরান মিয়া মানবজমিনকে বলেন, কমিটিতে রাজনৈতিক নেতারা জড়ানোর কারণে দেশের এই পরিস্থিতিতে কারও কোনো খোঁজখবর নেই। ব্যবসায়ীদের সংগঠনে মূলত ব্যবসায়ীদের প্রাধান্য না দেয়ায় অন্যান্য পেশার লোকজন ঢুকে পড়েছে। পরিচালনা পর্ষদের মিটিং দূরের কথা কোনো কার্যক্রমই সচল ছিল না। এটা আসলে সভাপতি কেন্দ্রিক। তিনি যদি উদ্যোগ না নেন সেখানে অন্য কেউ উদ্যোগ নিয়ে মিটিং কল করতে পারে না। আফসার সরকার যে পরিপ্রেক্ষিতে সভাপতি হয়েছে সেটা সবাই জানেন। নির্বাচনের মাধ্যমে সভাপতি না হলে যা হয়। ২০১২ সালে সর্বশেষ নির্বাচন হয়েছে এরপর বাকি কমিটিগুলো সিলেকশনের মাধ্যমে হয়েছে। আফসার সরকার মূলত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হওয়ায় তিনি এই সংগঠনে কোনো সময় দিতে পারেননি।

চেম্বার অব কমার্সের পর্ষদের সাবেক আরেক নেতা শহিদুল ইসলাম সুজন বলেন, ২০১৮ সালে পরিচালনা পর্ষদে পরিচালক হিসেবে ছিলাম। সে সময় রাহাত মালেক সভাপতি ছিলেন। তার দুই বছরের মেয়াদে আমাদের নিয়ে শুধু একদিন ঢাকার একটি হোটেলে বসেছিলেন। এখানে ভালোমন্দ খাইয়েছেন এবং একটি করে ব্লেজার দিয়েছেন। সেখানেই সীমাবদ্ধ ছিল। কোনো মিটিং তো দূরের কথা চেম্বার অব কমার্সের কার্যালয়ে পা রাখেননি তিনি। তাছাড়া ২০২০ সালে আমাদের না জানিয়েই আফসার উদ্দিন সরকারকে সভাপতি করে নতুন কমিটি করেছে। যা সম্পূর্ণই নিয়ম বহির্ভূত ছিল। আফসার সরকার মূলত সভাপতির পদ বাগিয়ে নিয়ে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিতো।

মানিকগঞ্জ জেলা চেম্বার অব কমার্সের অফিস সেক্রেটারি আশফাকুর রহমান সুমন মানবজমিনকে বলেন, এখানে দীর্ঘদিন ধরেই কোনো নিয়মনীতির মধ্যে কোনো কিছুই হয়নি। ২০১২ সালে সর্বশেষ সরাসরি ভোটের মাধ্যমে কমিটি গঠিত হয়। এরপর আর কোনো ভোট হয়নি। সিলেকশনের মাধ্যমেই কমিটিগুলো হয়েছে।

চেম্বার অব কমার্সের সাবেক একাধিকবারের সভাপতি সুদেব কুমার সাহা মানবজমিনকে বলেন, আমি যখন নির্বাচিত হয়েছিলাম তখন গণতান্ত্রিক পন্থায় ভোটে নির্বাচিত হয়েছি। এরপর ষড়যন্ত্র করে আমাকে সরিয়ে সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ছেলে রাহাত মালেক ও আফসার সরকারকে সভাপতি করা হয়। কারণ তারা জানতেন আমি প্রার্থী হলে তারা আমার সঙ্গে ভোটে জিততে পারতেন না।

মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. মানোয়ার হোসেন মোল্লা মানবজমিনকে বলেন, চেম্বার অব কমার্সে  প্রশাসক নিয়োগে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত আমরা পাইনি। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে আমরা যোগাযোগ করবো সেখান থেকে সিদ্ধান্ত পাওয়া গেলে ব্যবসায়ীদের নিয়ে বসেই আমরা এই প্রতিষ্ঠানটিকে সচল করার চেষ্টা করবো। এদিকে গত ৫ই আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর চেম্বার অব কমার্সের  সভাপতি আফসার উদ্দিন সরকার এবং সাবেক সভাপতি রাহাত মালেক আত্মগোপনে চলে যাওয়ায় তাদের বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

mzamin

সংস্কার কমিশনে ব্যবসায়ীদের যুক্ত হতে বললেন ড. ইউনূসের বিশেষ দূত

অন্তর্বর্তী সরকার রাষ্ট্র সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নিতে যে ছয় কমিশন করেছে, সেসবের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের আরও সম্পৃক্ত হওয়া দরকার বলে মনে করেন প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী। তিনি বলেন, ব্যবসায়ী কমিউনিটিকে রিফর্ম কমিশনগুলোর সঙ্গে আগের চেয়ে আরও বেশি সম্পৃক্ত হতে হবে। এ কমিশনগুলোকে তাদের কাজ করার জন্য সময় নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। দেশীয়  ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সংশ্লিষ্টরা, আমাদের বন্ধু ও সমর্থকরা কমিশনগুলোর সুপারিশের জন্য মুখিয়ে আছেন। তাই ব্যবসায়ীদের এ কমিশনগুলোর সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়া প্রয়োজন।

গতকাল রাজধানীর মতিঝিলে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজে আইসিটি খাতের সংস্কার নিয়ে আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এ মন্তব্য করেন।

লুৎফে সিদ্দিকী বলেন, পুলিশ সংস্কার কমিশন ব্যবসায়ীদের জন্য কি করবে? পাবলিক সার্ভিস সংস্কারের প্রক্রিয়া কীভাবে ব্যবসাকে প্রভাবিত করবে? বেসরকারি সেক্টরের সদস্য ছাড়াই সরকারি কমিটিগুলো কেন গঠিত হচ্ছে? এই ফান্ডামেন্টাল প্রশ্নগুলো তুলতে হবে। বিশেষ দূত বলেন, সরকারে আমার সহকর্মীদের প্রতি আমার যে শ্রদ্ধা ও সম্মানবোধ- সেটা আর কোথাও পাইনি।
ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে লুৎফে সিদ্দিকী বলেন, কী করতে হবে, কবে বা কোথায় করতে হবে- সেটা আমাদের লিখে পাঠান। আমি বিষয়গুলো নিয়ে আমার সহকর্মীদের সঙ্গে কথা বলবো। তিনি বলেন, যখন সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়, তখন তিনি কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। সুনির্দিষ্ট তথ্য উপস্থাপন ছাড়া ঢালাওভাবে বলা কথাবার্তার প্রতিক্রিয়া জানানো যায় না। ডিসিসিআইয়ের সভাপতি আশরাফ আহমেদ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। আইসিটি খাত সংস্কারে নানা তথ্য ও প্রস্তাব উপস্থাপন করেন বডস্টিন টেকনোলজিসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মীর শাহরুখ ইসলাম।

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীর বলেছেন, আমাদের মহাখালীতে যে কড়াইল বস্তি আছে- সেখানে হাইটেক পার্ক করার কথা ছিল। সেটার প্ল্যান করা আছে। বস্তিবাসীদের কীভাবে পুনর্বাসন করা হবে, সেটারও প্ল্যান করা আছে। ৯০ একর জমি নিয়ে গড়ে ওঠা ৮০ হাজার মানুষের এ আবাসস্থলই ঢাকার সবচেয়ে বড় বস্তি। এখানে যদি একটা ভালো হাইটেক পার্ক করা যায়, শহরের মধ্যে অবস্থিত হওয়াতে সবাই এটাতে ইনভেস্ট করবে। শুধু আমরা না, অনেক বিদেশি কোম্পানি এটাতে ইনভেস্ট করবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

অনুষ্ঠানে ডিসিসিআই সভাপতি আশরাফ আহমেদ বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি পরিষেবা, সফটওয়্যার এবং যন্ত্রপাতিসহ তথ্যপ্রযুক্তির বৈশ্বিক বাজার প্রায় ৩ ট্রিলিয়ন ডলার, তবে বিশ্বের তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বৃহত্তম জনগোষ্ঠী থাকা সত্ত্বেও, আমাদের আয় মাত্র ২.৫ বিলিয়ন ডলার, যা তেমন উল্লেখযোগ্য নয়। ঢাকা চেম্বারের সভাপতি বলেন, এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়ন, যথাযথ বাস্তবায়ন, কৌশলগত বিনিয়োগ, সরকারি ও বেসরকারি খাতসহ সকল অংশীদারদের মধ্যে সমন্বয় গড়ে তোলা জরুরি। তিনি আরও বলেন, সফ্‌টওয়্যার ও পরিষেবা রপ্তানির ক্ষেত্রে ব্যাপক প্রবৃদ্ধি হয়েছে এবং ২০২৪ অর্থবছরে রপ্তানি আয় প্রায় ১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এ খাতে দক্ষতার ব্যবধান এবং পরিকাঠামোর অভাবের কথা উল্লেখ করে আশরাফ আহমেদ বলেন, এই ব্যবধান মেটাতে শিক্ষা, লজিস্টিক পরিকাঠামো এবং প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে বিনিয়োগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উপরন্তু উচ্চমানের মূল্য সংযোজন তথ্যপ্রযুক্তি পরিষেবার জন্য তিনি গবেষণা ও উন্নয়ন এবং রপ্তানি প্রণোদনার গুরুত্বের ওপর জোর দেন। এ খাতের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর লক্ষ্যে সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়ন যথাযথ বাস্তবায়ন, কৌশলগত বিনিয়োগ, সরকারি, বেসরকারি খাতসহ সকল স্টেকহোল্ডারদের মধ্যকার সমন্বয় একান্ত অপরিহার্য বলে ডিসিসিআই সভাপতি মত প্রকাশ করেন।

বিডা’র নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন বলেন, আমাদের তৈরি পোশাক শিল্পের পর তথ্য-প্রযুক্তি খাত অত্যন্ত সম্ভাবনাময়, যেখানে বিশেষকরে তরুণ জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের পাশাপাশি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ সম্প্রসারণ সম্ভব।
ওয়ালটন ডিজি টেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড-এর অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. লিয়াকত আলী বলেন, প্রতিযোগিতামূলক নীতির অভাবে আমরা দেশে এফডিআই আকৃষ্ট করতে পারছি না। তিনি আইটি ও সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের জন্য শুল্ক ও কর কাঠামো সংস্কারেরও অনুরোধ করেন। তিনি বলেন, সেমিকন্ডাক্টর সেক্টরে বাংলাদেশের ভালো ডিজাইনের হাউজ রয়েছে, তাই সরকারি ও বেসরকারি যৌথ বিনিয়োগ বাংলাদেশে হার্ডওয়্যার উৎপাদনের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারে।

mzamin


আওয়ামী লীগ নেতার মেয়েকে নিয়ে ছাত্রলীগ নেতা উধাও

ঢাকার আশুলিয়া থানা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ইয়ারপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুমন আহমেদ ভূঁইয়ার স্কুলপড়ুয়া (১৪) মেয়েকে নিয়ে উধাও হয়ে গেছেন নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের ঢাকা জেলা উত্তর শাখার সহ-সভাপতি শেখ শাহজালাল শাওন। গত ২৮শে অক্টোবর সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে এ ঘটনা ঘটে। তবে বিষয়টি শনিবার (৯ নভেম্বর) বিকেলে জানাজানি হয়। পরে ওই মেয়ের মা ও ইউপি চেয়ারম্যান সুমন আহমেদ ভুঁইয়ার স্ত্রী জেসমিন আক্তার বাদী হয়ে ৩ জনকে আসামি করে আশুলিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, সাভার ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড স্কুল পড়ুয়া নবম শ্রেণীর ছাত্রী ১৪ বছরের নাবালিকা মেয়ে প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় গত ২৮শে অক্টোবর সকালে ছাত্রলীগ নেতা শেখ শাহজালাল শাওন তাকে জোর করে তুলে নিয়ে গেছেন। গত ২৮শে অক্টোবর সকালে বাসা থেকে রিকশাযোগে স্কুলে যাওয়ার পথে জামগড়া চৌরাস্তা সড়কে পৌঁছালে তার গতিরোধ করে সেখান থেকে অজ্ঞাত একটি প্রাইভেটকারে করে তুলে নিয়ে যায় শেখ শাহজালাল শাওন। দীর্ঘদিন ধরে ভুক্তভোগীকে মুঠোফোনে উত্ত্যক্ত ও প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল শাওন। ভুক্তভোগীর মা জেসমিন আক্তার জানান, ‘আমার মেয়েকে মাঝে মধ্যেই বিরক্ত করতো শাওন। পরে বিষয়টি শাওনের মা শাহানাজ সুলতানা ও শাওনের বোন সুপানকে শাসন করতে বলা হলে তারা উল্টো ক্ষিপ্ত হয়। আমার ধারণা, প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় আমার মেয়েকে জোর করে তুলে নিয়ে গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মাধ্যমে জানতে পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে যেয়ে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও মেয়ের কোনো সন্ধান পাইনি। বাধ্য হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।’

ইয়ারপুর ইউনিয়নের জামগড়া চেয়ারম্যান বাড়ি সংলগ্ন গ্রামের একাধিক ব্যক্তি জানান, ছাত্রলীগ নেতা শেখ শাহজালাল শাওনের সঙ্গে ভুক্তভোগীর দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। শাওন এক সময় চেয়ারম্যান সুমন আহমেদ ভুঁইয়ার ড্রাইভার ছিল। শাওনের আর্থিক অবস্থা মেয়ের পরিবারের তুলনায় খারাপ হওয়ায় তার সঙ্গে বিয়ে দিতে রাজি হয়নি। ৫ই আগস্টের পর আওয়ামী লীগ নেতা সুমন আহমেদ ভূঁইয়ার নামে একাধিক হত্যা মামলা হওয়ায় তিনি পলাতক রয়েছেন। এই সুযোগে প্রেমিক-প্রেমিকা পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। অভিযুক্ত শেখ শাহজালাল শাওন ঢাকা জেলা উত্তর শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ও আশুলিয়া থানার বেরোন মানিকগঞ্জপাড়া মহল্লার গিয়াস উদ্দিনের ছেলে। শাওনের বিরুদ্ধেও আশুলিয়া থানায় ছাত্র-জনতা হত্যার একাধিক মামলা রয়েছে। অভিযুক্ত শেখ শাহজালাল শাওনের মোবাইলে বারবার ফোন দিলেও তা বন্ধ পাওয়া গেছে। এব্যাপারে আশুলিয়া থানার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু বকর সিদ্দিক মানবজমিনকে বলেন, ‘একটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করার জন্য উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. মনিরুল ইসলামকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি তদন্ত রিপোর্ট দিলেই এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

mzamin

যৌক্তিক সংস্কারের পর জাতীয় নির্বাচন: সারজিস

যৌক্তিক সংস্কারের পর নির্বাচন দিতে হবে বলে জানিয়েছেন জুলাই ফাউন্ডেশনের সেক্রেটারি সারজিস আলম। তিনি শনিবার সিলেটে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় নিহত পরিবারের হাতে জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের আর্থিক সহযোগিতা প্রদান শেষে সাংবাদিকদের কাছে এ কথা বলেন। সারজিস বলেন,  আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের ১৬ বছরে সবচেয়ে বড় দুর্নীতিগ্রস্ত ছিল নির্বাচন কমিশন। এই নির্বাচন কমিশন সংস্কার না করলে কোনোভাবেই সুষ্ঠু নির্বাচন আশা করা যাবে না। আর শুধু একটা নির্বাচন কমিশনও সুষ্ঠু নির্বাচন দিতে পারবে না। এর সঙ্গে অনেক প্রতিষ্ঠান জড়িত। এরমধ্যে অন্যতম হলো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তাদেরও সংস্কার করতে হবে। তা না হলে নির্বাচন দিলে আবার জবরদখলের ঘটনা ঘটতে পারে। ক্ষমতার অপব্যবহার হতে পারে। আবার এই নির্বাচন ঘিরে কোনো সমস্যা দেখা দিলে সে জন্য একটা বিচারিক প্রক্রিয়া প্রয়োজন। তাই বিচারব্যবস্থারও সংস্কার প্রয়োজন। হাইকোর্টে এখনো আওয়ামী লীগের কিছু দোসর-ফ্যাসিস্ট বসে আছে। যারা তাদের যোগ্যতার বলে সেখানে যায়নি। তোষামোদী আর তেলবাজি করে তারা সেখানে গিয়েছিল। তাদেরকে এই জায়গা থেকে অপসারণ করা প্রয়োজন। একইসঙ্গে যারা এই জায়গাগুলোর জন্য যোগ্য তাদেরকে সেখানে বসাতে হবে। তিনি বলেন, রাষ্ট্রের সবকিছু সংস্কার করে নির্বাচন দেয়া হবে- এমনটি নয়। আবার আগামী ৫-৬ বছর লাগবে সংস্কার করতে- বিষয়টি এমনো নয়। কিন্তু সংস্কারের জন্য একটা যৌক্তিক সময় লাগবে। কোনো বিবেকবান মানুষ তার জায়গা থেকে চিন্তা করতে পারবে না যে এক বছরের মধ্যে সবকিছু সংস্কার হয়ে যাবে। ১৬ বছর ধরে যে সিস্টেমগুলো ধ্বংস করা হয়েছে, সেই সিস্টেমগুলোকে সংস্কার করতে একটা যৌক্তিক সময় প্রয়োজন। সর্বোপরি বিগত ১৬ বছরসহ দীর্ঘ ৫৩ বছর ধরে বাংলাদেশের সংবিধান পাঁচ বছরের জন্য দেশের মানুষকে একটি ‘জনতার সরকার’ উপহার দিতে পারেনি। তাই সংবিধানেরও সংস্কার প্রয়োজন। সারজিস বলেন, শুধুমাত্র নির্বাচনের জন্য ২ হাজার মানুষ জীবন দেননি, এই অভ্যুত্থানও হয়নি। দুর্নীতিগ্রস্ত সিস্টেমগুলোর জন্য এই মানুষগুলো বিগত ১৬ বছরে বিরক্ত হতে হতে দেয়ালে পিঠ লেগে গিয়েছিল। এই অভ্যুত্থান কিছু লোক দিয়ে হয়নি। যেই ফ্যাসিস্ট সরকারকে ১৬ বছরে বাংলাদেশের নামিদামি রাজনৈতিক সংগঠন একটুও টনক নড়াতে পারেনি, সেই শেখ হাসিনা কিছু লোকের জন্য এই দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায়নি। পুরো বাংলাদেশের ছাত্র-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নেমেছিল বলেই অভ্যুত্থান সফল হয়েছে এবং শেখ হাসিনা পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। গণঅভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে বলে জানিয়ে সারজিস জানান, সারা দেশ থেকে প্রায় ১ হাজার ৬শ’ জনের বেশি শহীদ পরিবারের তালিকা তাদের কাছে এসেছে। প্রাথমিক অবস্থায় যাচাই-বাছাই করে নির্বাচিতদের পরিবারের হাতে আর্থিক অনুদানের চেক দেয়া হচ্ছে। তারা প্রতি বিভাগে গিয়ে শহীদদের পরিবারের হাতে অনুদানের চেক তুলে দিচ্ছেন। বাকি যারা রয়েছেন তাদের কাগজপত্র সংগ্রহের কাজ চলছে। সেগুলো হাতে পেলে সেসব পরিবারকেও অনুদান প্রদান করা হবে। চেক প্রদানকালে ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ ছাড়াও সংগঠনের ৮ সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

ইসরায়েলের ঘাঁটিতে অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

লেবাননে একের পর এক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। দেশটির এ হামলায় একের পর এক প্রাণ হারাচ্ছে মানুষ। জবাবে পাল্টা হামলা চালাচ্ছে লেবাননের প্রতিরোধ যোদ্ধা হিজবুল্লাহ। এবার তারা ইসরায়েলি ঘাঁটিতে অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।

শুক্রবার (০৯ নভেম্বর) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, সেন্ট্রাল ইসরায়েলে একটি বিমানঘাঁটিকে নিশানা করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে তারা। এক মাসের বেশি সময় ধরে চলা পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপে গোষ্ঠীটির সবশেষ হামলার ঘটনা এটি।

গোষ্ঠীটি জানিয়েছে, তেল আবিবের দক্ষিণে তেল নফ বিমানঘাঁটিতে এ হামলা চালানো হয়েছে। হামলায় অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্রের একটি বহর ছোড়া হয়েছে।

আলজাজিরার জানিয়েছে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে তারা জানিয়েছে, পশ্চিমাঞ্চল এবং আপার গ্যালিলি অঞ্চলে বেশ কয়েকটি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে।

সেন্টার ফর স্ট্রাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের ( সিএসআইস) তথ্যমতে, হিজবুল্লাহর কাছে অন্তত ১০ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। এরমধ্যে সবচেয়ে কম পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হলো ফালাক-১। এটি ১১০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করতে সক্ষম। এছাড়া সর্বাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র হলো এসসিইউডি বি/সি। এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ৫৫০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুকে নিশানা করতে পারে।

বিবিসির এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সর্বাত্মক যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে মধ্যপ্রাচ্য। গত এক বছরে বিশ্বে অনেক বিপদের মুহূর্ত এসেছে। তবে এবারেরটি সবচেয়ে ভয়াবহ। সম্প্রতি লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর নেতা হাসান নাসরুল্লাহ নিহত হয়েছেন। এরপর লেবাননে স্থল হামলা শুরু করেছে ইসরায়েল।

যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা ও আঞ্চলিক শক্তিগুলো উত্তেজনা কমানোর জন্য চাপ দিচ্ছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ দ্রুত সংঘাত বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।

শিল্পোন্নত দেশগুলোর জোট জি-৭ এর পক্ষ থেকে সব পক্ষকে ধৈর্য ধরতে বলা হয়েছে; কিন্তু এখন পর্যন্ত সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ। আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে মধ্যপ্রাচ্য সর্বাত্মক যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে চলে এসেছে। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া এসব ঘটনার কারণে মূলত এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।

হিজবুল্লাহর প্রধান হাসান নাসরুল্লাহকে হত্যায় লেবাননের বৈরুতে গত ২৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় ইসরায়েল বোমা হামলা চালায়। সেখানে ব্যাপক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। অনেক আবাসিক ভবন ধসে পড়ে। মাটিতে বড় গর্ত সৃষ্টি হয়। আকাশ ধুলাবালি ও ধোঁয়ায় ভরে ওঠে। পুরো লেবানন থেকে ওই দৃশ্য দেখা যায়। এ হামলা হয় মাটির নিচে থাকা হিজবুল্লাহর বাংকার লক্ষ্য করে। এ হামলায় নিহত হন হিজবুল্লাহ নেতা হাসান নাসরুল্লাহ। ইসরায়েলের এক সপ্তাহ ধরে চালানো হামলায় ৫০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হওয়ার পর নাসরুল্লাহর মৃত্যুর খবর আসে।

তারও এক সপ্তাহ আগে এই সশস্ত্র গোষ্ঠীটিকে লক্ষ্য করে পরপর অসংখ্য ওয়াকিটকি এবং পেজার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এতে কমপক্ষে ৩২ জন নিহত এবং তিন হাজার জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছিল।

আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থায় ইসরায়েলের আইরোন ডোম। ছবি : সংগৃহীত
আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থায় ইসরায়েলের আইরোন ডোম। ছবি : সংগৃহীত