Saturday, April 27, 2019
জামায়াত ত্যাগীদের নতুন দল: ‘আদর্শভিত্তিক নয়, মুখ্য উদ্দেশ্য কল্যাণভিত্তিক রাজনীতি’

মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণাপত্রে উল্লেখিত- সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার- এই তিন মূলনীতিকে বিবেচনায় নিয়ে একটি জনঅধিকার ভিত্তিক রাষ্ট্রগঠনে কল্যাণভিত্তিক রাজনীতিই এই উদ্যোগের প্রধান কারণ বলেও সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়। মঞ্জু বলেন, এই তিনি নীতির প্রতি সমর্থন, বিশ।বাস ও বাস্তবায়নে অঙ্গীকারাবদ্ধ হয়ে জণগন মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলো।
কিন্তু স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ জন্মের পর কখনোই এই প্রতিশ্যুতির পূর্ণবাস্তবায়ন ঘটেনি। আজ পর্যন্ত যারাই বাংলাদেশ শাসন করেছেন, তাদের প্রত্যেকেই মুক্তিযুদ্ধের এই মৌলিক প্রতিশ্যুতি রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছেন।
সাম্প্রতিক নির্বাচনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ৩০শে ডিসেম্বরের নির্বাচন ছিল মূলত ভোটের একটি মহড়া। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন স্পষ্ট করে দিয়েছে সরকার ও বিদ্যমান রাষ্ট্রের কাছে নাগরিক হিসেবে আমাদের অস্তিত্ব এবং ইচ্ছা-অনিচ্ছার কোন মূল্য নেই। বিরোধী জোটসমূহের পক্ষে মানুষের বিপুল সমর্থন দৃশ্যমান হলেও তারা যে স্বৈরতান্ত্রিক রাষ্ট্রযন্ত্রের বিরুদ্ধে আন্দোলন করার সামর্থ্য রাখে না, সেটাও পরিষ্কারভাবে প্রমাণিত হয়েছে
নতুন দলের সমন্বয়ক মঞ্জু বলেন, আমরা প্রত্যেক নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতায় বিশ্বাস করি, কিন্তু আমরা কোনো ধর্মভিত্তিক দল গঠন করব না। আমরা যে রাজনৈতিক দল গঠন করতে যাচ্ছি তা হবে ধর্ম, জাতি, লিঙ্গ নির্বিশেষে সকলের জন্য গ্রহণযোগ্য, উন্মুক্ত একটি প্লাটফর্ম।
সংবাদ সম্মেলনে ‘জন আকাঙ্খার বাংলাদেশ’ নামের এর রাজনৈতিক উদ্যোক্তরা মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্খাকে ধারন করে প্রতিশ্রুত বাংলাদেশ রাষ্ট্র গড়ে তোলার লক্ষ্যে ৫ টি কমিটিও গঠন করেছেন। এগুলো হলো, রাজনৈতিক প্রস্তাবনার খসড়া প্রণয়ন কমিটি; জনসংযোগ ও অন্তর্ভুক্তি তত্ত্বাবধান কমিটি; গণমাধ্যম, সনামাজিক মাধ্যম ও তথ্য-প্রযুক্তিবিষয়ক কমিটি; অর্থসংগ্রহ সংক্রান্ত প্রস্তাবণা এবং পরিকল্পনা কমিটি এবং সাংগঠনিক কাঠামো প্রস্তাবনা, কর্মকৌশল এবং পরিকল্পনা কমিটি। এসব কমিটি কাজ শুরু করেছে বলেও তিনি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে শিবিরের সাবেক এই সভাপতি বলেন, মুক্যিুদ্ধে আকাঙ্খাকে ধারন করে প্রতিশ্রুত বাংলাদেশ রাষ্ট্র গড়ে তুলতে হলে জাতীয় জীবনের সব অর্জন ও ঐক্যের জায়গাগুলো সমন্বিত করে নতুন বাংলাদেশের ভিত্তি প্রস্তুত করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, প্রচলিত কোনও রাজনৈতিক ধারা বা দলের অনুসারী কিংবা অনুরক্ত নয়, এটা সম্পূর্ণ স্বাধীন উদ্যোগের একটি স্বতন্ত্র ধারা। জামায়াতে ইসলামীসহ বিদ্যমান কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আমাদের সম্পক উল্লেখ করে বলেন, রাজনৈতিক দল হবে সত্যিকার অর্থে ইনক্লুসিভ ও একটি ইতিবাচক বাংলাদেশ গড়ার নতুন রাজনৈতিক কার্যক্রম এটি।
তিনি বলেন, আমরা ‘জনআকাঙ্খার বাংলাদেশ’ স্লোগানে একটি মঞ্চের আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশের ঘোষণা দিয়েছি। যা আমাদের রাজনৈতিক দল গঠনের প্রাথমিক পদক্ষেপ। আমরা নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করব। আলোচনা, পর্যালোচনার মধ্যদিয়ে আমরা সংগঠনের নাম, কাঠামো, কর্মপদ্ধতি ঠিক করব। আজ থেকে আমাদের কাজ শুরু হল।
এক প্রশ্নের জবাবে মঞ্জু বলেন, আগামী তিন মাসের মধ্যে নতুন দল নিয়ে সক্রিয় হওয়ার আশা রয়েছে। তবে আমরা যত তাড়াতাড়ি পারি আসব। এই রাজনৈতিক উদ্যোগের সঙ্গে সরকারের কোন সম্পর্ক আছে কিনা জানতে চাইলে মঞ্জু বলেন, অনেকে এই উদ্যোগের সঙ্গে সরকারের যোগসাজস থাকার সন্দেহ করবে- এটাই স্বাভাবিক। কিন্ত আমাদের সঙ্গে সরকারের কোন সম্পর্ক নেই। কারও মদত বা উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করতে আমরা আসিনি। অনেক বাধা-বিপত্তি এসেছিল আমাদের ওপর। সামনেও আসবে, তারপর আমরা এগিয়ে যাব।
গত ১৫ই ফেব্রুয়ারি জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল থেকে পদত্যাগকারী ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাকের কোনও সম্পর্ক আছে কিনা এই রাজনৈতিক উদ্যোগের সঙ্গে জানতে চাইলে মঞ্জু বলেন, এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে তিনি যুক্ত নয়। তবে আমরা দেশে-বিদেশে অনেকের কাছ থেকে পরামর্শ নিয়েছি।
কোনও ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল গঠন করা হবে না উল্লেখ করে মঞ্জু বলেন, আমাদের অনুপ্রেরণার উৎসস্থল ইসলামের উদার ঐতিহ্য ও সাম্যের দর্শন। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের উল্লেখিত মূলনীতি সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও ইনসাফ আমাদের জাতীয় ঐক্যের পাঠাতন। স্বাধীনতার যুদ্ধে জামায়াত ইসলামীর ভূমিকার সমালোচনা করে দলটির সাবেক এই নেতা বলেন, মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতাকারী একমাত্র বিরোধীতাকারী দল না হলেও পরবর্তী সময়ে তাদের দলীয় ভূমিকা নিয়েই বেশি প্রশ্ন ও বির্তক তৈরি হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের সময় তাদের ভূমিকার দায় স্বীকারের দাবিকে বরাবরই অগ্রাহ্য করেছে।
মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, ঔপনিবেশিক শাসনামলেও দু’বার গভীর সঙ্কটকালে জাতিকে নতুন পথ দেখিয়েছিল মুসলিম লীগ ও দ্বিতীয় পর্যায়ে আওয়ামী লীগ। আর স্বাধীন বাংলাদেশের ক্রান্তিকালে হাল ধরেছিলেন জিয়াউর রহমান। প্রায় চারযুগ পরে আজ আবার প্রিয় মাতৃভুমি তেমন আরেক বাক পরিবর্তনের সন্ধিক্ষণে। একাত্তরে যে আকাঙ্খার ভিত্তিতে স্বাধীন হয়েছিলো বাংলাদেশ, সে স্বপ্ন বাস্তবায়নের দায়িত্ব নেয়ার দায়িত্ববোধ করছি আমরা।
জামায়াতের ভেতর সংস্কারের প্রস্তাব দিয়েছিলেন, তা বাস্তবায়ন না হওয়ার কারণে নতুন এই রাজনৈতিক দল গঠন করছেন কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে মঞ্জু বলেন, অতীতে যেখানে ভুমিকা রাখতে চেয়েছিলাম সেখানে যখন নেই, সেই বিষয়ে কথা না বলি। আমরা নতুন উদ্যোগ নিয়ে কাজ করছি। অতীতের সঙ্গে এর কোনও সম্পর্কে নেই। আমরা কোনও তত্ত্বের কথা বলবো না, অধিকারের কথা বলবো।
নির্দিষ্ট ১৯টি বিষয়ে একমত হয়ে তারা সবাই এই উদ্যোগে শামিল হয়েছেন জানিয়ে মঞ্জু বলেন, তারা নির্দিষ্ট আদর্শভিত্তিক কোনো রাজনৈতিক দল গঠন করছেন না, জনগণের আকাঙ্খাভিত্তিক দল গঠন করবেন। এই রাজনৈতিক দল হবে ইতিবাচক বাংলাদেশ গড়ার নতুন কার্যক্রম।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, আইনজীবী তাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, আমি এই উদ্যোগের সঙ্গে শামিল হয়েছি। আপনারা অনেকেই আমাকে জামায়াতের সদস্য মনে করেন। কিন্তু আমি জামায়াতের আইনজীবী ছিলাম। জামায়াতের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম না। পেশাগত কারণে আমি জামায়াত নেতাদের আইনজীবী হিসেবে কাজ করেছিলাম মাত্র।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, মেজর (অব.) আবদুল ওহাব মিনার, এডভোকেট তাজুল ইসলাম, ব্যারিস্টার জুবায়ের আহমেদ ভুইয়া, মাওলানা আবদুল কাদের, মাওলানা তাজুল ইসলাম, গোলাম ফারুক, গৌতম দাস, ড. কামাল উদ্দিন প্রমুখ। তবে মঞ্চে না থাকলেও আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী।
উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারি জামায়াতে ইসলামীতে বিভক্তির অভিযোগ এনে দল থেকে বহিষ্কার করা হয় মঞ্জুুকে।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আরও ১১ বছর থাকার টিকিট পেলেন সিসি

শুক্রবার বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, গণবিক্ষোভ আরব বিশ্বের অন্য দেশগুলোকে নাড়া দিলেও মিসরের গণভোট এই সব বিক্ষোভ থেকে প্রাপ্ত ফলের বিরুদ্ধেই গেছে। মিসরের গণভোট দেশটির প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির শাসনকে সামনের বছরগুলোর জন্য আরও মজবুত করেছে। সিসির মেয়াদ বাড়াতে সংবিধান সংশোধনে তিন দিনের গণভোট ২০৩০ সাল পর্যন্ত সিসির ক্ষমতায় থাকাকে অনুমোদন দিয়েছে। তিন দিনব্যাপী ভোট শুরু হয় ২০ এপ্রিল।
কর্মকর্তারা বলছেন, ৮৮ শতাংশ ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে। যদিও সিসির বিরুদ্ধে ব্যাপক সমালোচনা রয়েছে। বলা হয়, তিনি বিরোধী দলকে দমিয়ে রাখেন, কথা বলার স্বাধীনতা দেন না।
মধ্যপ্রাচ্য নীতি বিষয়ে তাহরির ইনস্টিটিউটের অনাবাসিক ফেলো টিমোথি ক্যালডাস বলেন, সরকার এটা নিশ্চিত করেছে যে মিসরীয়রা সিসির বিকল্প যোগ্য কাউকে দেখেন না, সিসির বাইরে অন্য কেউ মিসর শাসন করবেন, এটা তাঁরা কল্পনাও করতে পারেন না।
ক্যালডাস বলেন, বছরের পর বছর ধরে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির পর দীর্ঘ সময়ের শাসক হোসনি মুবারক ও তাঁর ইসলামি উত্তরসূরি মোহাম্মদ মুরসির অপসারণ দেখেছে মিসরীয়রা। এখনো দেশটির অনেক নাগরিকের কাছে স্থিতিশীলতাই মুখ্য বিষয়। সন্দেহ নেই, এখনো কেউ কেউ সিসিকে সমর্থন করেন এবং বিশ্বাস করেন যে প্রতিবেশী দেশগুলোর দুর্ভাগ্য বরণ করার মতো পরিস্থিতি থেকে তিনিই রক্ষা করতে পারবেন। বেশির ভাগ মিসরীয় মনে করেন, দুই প্রেসিডেন্টকে তাঁরা ক্ষমতা থেকে নামিয়েছেন। এর ফল হিসেবে দেখেছেন প্রতিবার তাঁদের জীবনযাত্রার মান আরও খারাপ হয়েছে। তাই তৃতীয় কোনো শক্তির উত্থান পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাবে, এমন ভরসা তাঁরা পান না।
গণভোটে ভোট দিয়েছেন ২ কোটি ৭০ লাখ বা ৪৪ দশমিক ৩৩ শতাংশ। সংবিধান সংশোধন অনুসারে সিসির মেয়াদ ২০২২ থেকে বাড়িয়ে ২০২৪ করা হয়েছে এবং তাঁকে পরবর্তী আরও ছয় বছর মেয়াদের জন্য ভোটে শামিল হতে অনুমোদন দিয়েছে।
ভোটের ফল প্রকাশের পর রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেখানো হয়, সিসির সমর্থকেরা তাহরির স্কয়ারে জাতীয় সংগীতের সঙ্গে জাতীয় পতাকা নাড়াচ্ছেন। এই তাহরির স্কয়ারেই গণবিক্ষোভের মাধ্যমে অপসারণ করা হয়েছিল সিসির আগের দুই প্রেসিডেন্টকে।
মেরভাট আবদেল ফাত্তাহ (৫০) নামের এক গৃহবধূ সিসির সমর্থনে বলেন, দেশ সঠিক পথে আছে, স্থিতিশীল আছে। সিসি যেসব কাজ শুরু করেছিলেন, তা শেষ করার সুযোগ দেওয়াটাই যৌক্তিক।
২০১৩ সালে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মুরসি গণবিক্ষোভের মুখে অপসারিত হওয়ার সময় সিসি ছিলেন সেনাবাহিনীর চিফ অব স্টাফ। তাঁর নেতৃত্বে মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়। ২০১৪ সালে সিসি প্রথম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। গত বছরের মার্চে ৯৭ শতাংশ ভোট পেয়ে তিনি পুনর্নির্বাচিত হন। বিরোধী রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের কঠোরভাবে দমনের কারণে সিসি মানবাধিকার সংগঠনগুলোর ব্যাপক সমালোচনার শিকার হন। দমন-পীড়নের শিকার হাজার হাজার মানুষ দেশটির কারাগারে।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
জামায়াত ত্যাগীদের নতুন দল: নতুন গণশক্তি উত্থানের জন্য উন্মুখ বাংলাদেশ: মঞ্জু

তিনি বলেন, ৩০শে ডিসেম্বরের নির্বাচন ছিল মূলত ভোটের একটি মহড়া। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন স্পষ্ট করে দিয়েছে সরকার ও বিদ্যমান রাষ্ট্রের কাছে নাগরিক হিসেবে আমাদের অস্তিত্ব এবং ইচ্ছা-অনিচ্ছার কোন মূল্য নেই।
বিরোধী জোটসমূহের পক্ষে মানুষের বিপুল সমর্থন দৃশ্যমান হলেও তারা যে স্বৈরতান্ত্রিক রাষ্ট্রযন্ত্রের বিরুদ্ধে আন্দোলন করার সামর্থ্য রাখে না, সেটাও পরিষ্কারভাবে প্রমাণিত হয়েছে
নতুন দলের সমন্বয়ক মঞ্জু বলেন, আমরা প্রত্যেক নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতায় বিশ্বাস করি, কিন্তু আমরা কোনো ধর্মভিত্তিক দল গঠন করব না। আমরা যে রাজনৈতিক দল গঠন করতে যাচ্ছি তা হবে ধর্ম, জাতি, লিঙ্গ নির্বিশেষে সকলের জন্য গ্রহণযোগ্য, উন্মুক্ত একটি প্লাটফর্ম।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বিজেপির নির্বাচনি কৌশলে পরাস্ত ভারতের বিরোধীরা by আশীষ বিশ্বাস

ভারতের দীর্ঘতম ও সবচেয়ে উত্তেজনাকর ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের তফসিলের মাঝামাঝি সময়ে এটা পরিষ্কার হয়ে গেছে যে ক্ষমতাসীন বিজেপি তাদের বিরোধী দলগুলোকে কৌশল দিয়ে পরাস্ত করেছে। ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিশাল বিজয় পেলেও ওই নির্বাচন থেকে ভিন্ন কৌশল নিয়ে এগুচ্ছে ক্ষমতাসীন দলটি।
২০১৪ সালে তরুণ, মধ্যবিত্ত এবং অন্যান্য শ্রেণীপেশার সাধারণ মানুষের কাছে ভোট প্রার্থনা করেছিল দলটি। ভারত আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে বিবেচ্য হতে শুরু করার মধ্য দিয়ে তারা নিজেরাই নিজেদের রাজনৈতিক কৃতিত্বকে ছিনিয়ে নিয়েছে। গত পাঁচ বছরের সমস্যা ও ব্যর্থতা সত্ত্বেও ভারত বিশ্বের এগারোতম অর্থনীতি থেকে ষষ্ঠ অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে।
তা সত্ত্বেও এবছর প্রার্থী নির্বাচন করতে গিয়ে আগের যেকোনও সময়ের চেয়ে নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহ জুটিকে বেশ বেগ পেতে হয়েছে। অর্থনীতির গতি নিম্নমুখী। প্রতিশ্রুত সংখ্যক চাকরির ব্যবস্থা করা যায়নি। জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতের বিষয়টিও থেকে গেছে অমীমাংসিত। হতাশ কৃষকরা বিক্ষোভ করছে। বেকার তরুণরা অশান্ত হয়ে উঠছে। শিল্প উৎপাদনের গতিও সীমিত। নোটের অবমূল্যায়ন বা নতুন জিএসটি নীতিও প্রত্যাশা মতো কাজ করছে না। তবে রেল, সড়ক, নদী এবং আকাশ অবকাঠামো উন্নয়নে আকর্ষণীয় কাজ হয়েছে। পূর্ণ বাস্তবায়ন না হলেও সবার জন্য টয়লেট, গ্রামে বিনামূল্যে বিদ্যুৎ, দরিদ্রদের জন্য রান্নার গ্যাস সরবরাহ বা সামাজিকভাবে অবহেলিতদের জন্য ব্যাংক হিসাব খোলার মতো বিভিন্ন প্রকল্প আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে নানাবিধ সুবিধা এনে দিয়েছে। জাতীয় কংগ্রেস থেকে শুরু করে তৃণমূল কংগ্রেস পর্যন্ত ভারতের বিভিন্ন বিরোধী দল এ ধরনের অর্জন চালু রাখার কথা বলেছে। এসব দলের নেতারা দাবি করেছেন, কয়েকটি রাজ্যে এই প্রকল্প সঠিকভাবে কাজে লাগানো যায়নি।
দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতকে পুনঃচিত্রায়িত করার ক্ষেত্রে বিজেপির রেকর্ড মিশ্র। বাংলাদেশ, আফগানিস্তান এবং ভুটানের একতরফা সমর্থনের মাধ্যমে কূটনৈতিক তৎপরতায় পাকিস্তানকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা ভারতের বড় ধরনের সাফল্য। কয়েক দিন আগে পর্যন্ত শ্রীনগর ও কাশ্মির উপত্যকার পরিস্থিতি উদ্বেগের কারণ ছিল। পাকিস্তান পাথর নিক্ষেপকারীদের সমর্থন দিচ্ছিলো আর উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলো নিয়মিত বিরতিতে হামলা অব্যাহত রেখেছিল। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি আত্মঘাতী বোমা হামলায় আধাসামরিক বাহিনীর ৪০ সদস্য নিহত হওয়ার পর পরিস্থিতি পাল্টাতে শুরু করে।
তবে চাপের মুখে নুয়ে না পড়ার জন্য বিজেপির নীতি নির্ধারকরা অবশ্যই কৃতিত্ব পাওয়ার দাবি রাখে। আক্রান্ত হলে পাকিস্তান পারমাণবিক বোমা ব্যবহার করতে পারে এমন ব্ল্যাকমেইলিংয়ে তারা ভেঙে পড়েনি। এর পরিবর্তে পাকিস্তানকে আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে বিচ্ছিন্ন করে ফেলতে সমর্থ হয়েছে। দিল্লি এবং কলকাতাভিত্তিক প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা মনে করেন, পাকিস্তানের উত্তেজনা ঠেকানোর জন্য সম্ভাব্য সবচেয়ে ভালো প্রতিশোধ হলো ভারতের নতুন বিশ্লেষণ। এমনকি কারগিল অভিযানের সময়েও নিয়ন্ত্রণ রেখা অতিক্রমের বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়নি ভারত।
মজার ব্যাপার হলো ওই সময়েও ভারতের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন বিজেপি নেতা অটল বিহারি বাজপেয়ী। ওই সময়ে বাজপেয়ী পাকিস্তান সমর্থিত সশস্ত্র গ্রুপকে নিস্ক্রিয় করতে পারলেও তারপরের নির্বাচনে জিতে আসতে পারেননি।
গত পাঁচ বছরে ভারত দুইবার আন্তর্জাতিক সীমানা অতিক্রম করেছে। উরি এবং পুলওয়ামায় হামলার জেরে দুইবার পাকিস্তানের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেছে ভারত। প্রথমটি ছিল স্থল হামলা আর পরেরটি ছিল বিমান হামলা। এসব হামলায় কতজন নিহত হয়েছিল বা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কেমন তা এখন গুরুত্বপূর্ণ নয়।
প্রত্যাশিতভাবেই পাকিস্তান এ অভিযানের সফলতাকে অস্বীকার করেছে। আইএনসি ও টিএমসিসহ ভারতের বিরোধী দলগুলো পাকিস্তানের অবস্থানের পক্ষ নিয়ে নিজেদের পায়ে নিজেরা কুড়াল মেরেছে। তারা ইচ্ছাকৃতভাবে এ সত্যকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছে যে ভারতের হামলার পর ৪১ দিন পর্যন্ত সাংবাদিক ও বিদেশি পর্যবেক্ষকদেরকে হামলাস্থল পরিদর্শন করতে দেয়নি পাকিস্তানিরা।
কার্গিল যুদ্ধের দিনগুলোর পর থেকে এখন পর্যন্ত যা ঘটেছে, তা কি ভারতকে তার পারমাণবিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে অনুপ্রাণিত করেছে? বিশ্লেষকরা বলেছেন, দিল্লির খুব বেশি কিছু করার ছিল না। এটি শুধু কাশ্মিরে পাকিস্তানের মদতপুষ্ট সন্ত্রাস মোকাবিলার প্রশ্ন নয়। যখন মার্কিন সেনারা আফগানিস্তান থেকে নিজেদেরকে প্রত্যাহার শুরু করেছে তখন কী ঘটতে যাচ্ছে সেটাও একটা প্রশ্ন। নতুন করে ইসলামী জঙ্গিবাদের উত্থান নিয়ে কাবুল ও দিল্লি উদ্বিগ্ন। কাশ্মিরে যারা সীমিত আকারে হামলা ও উত্তেজনার সঙ্গে জড়িত তাদের কাছ থেকে প্রয়োজনে চড়া মূল্য আদায় করে নিতে ভারত প্রস্তুত আছে এবং চ্যালেঞ্জ নিতে চায়-এ বার্তাটি যতটা সম্ভব স্পষ্ট করে পৌঁছে দিতে হবে।
এ বিষয়টিও উল্লেখযোগ্য যে, গত পাঁচ বছরে ইসরায়েলের সঙ্গে অনেকবারই নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে ভারতের বিশদ আলোচনা হয়েছে। এক বিশ্লেষক বলেন, ‘প্রথমে স্থলভাগে চালানো সার্জিক্যাল স্ট্রাইক এবং পরবর্তীতে পুলওয়ামা হামলায় ভারতের পক্ষ থেকে যে জবাব দেওয়া হয়েছে তা মধ্যপ্রাচ্য ও অন্য জায়গায় ইসরায়েলের বিশেষায়িত সামরিক হামলারই পুনরাবৃত্তি বলে মনে হয়েছে।’ ধারণাটি একইরকমের। তাহলো-সন্ত্রাসের মদতদাতাদেরকে এ কথা বোঝানো যে নিজস্ব ভূখণ্ড থেকে অভিযান পরিচালনাকারী অনিষ্টকর নন স্টেট অ্যাক্টরদেরকে দায়ী করে তারা সাজা থেকে বাঁচতে পারে না।
এ ধরনের হামলা চালিয়ে ‘কাশ্মির সমস্যা’র সমাধান করা যাবে কিনা সে বিতর্ক কেউ তুলছে না। তবে সত্যিকার অর্থে নির্বাচন যখন চলছে, তখন সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে কাশ্মির উপত্যকায় পাথর ছোড়া কিংবা পাকিস্তান থেকে উস্কানিমূলক তৎপরতা চালাতে দেখা যায়নি বললেই চলে।
মমতা বন্দোপাধ্যায় ও অন্য নেতৃত্বের সমন্বয়ে গঠিত বিরোধী জোট অর্থনীতি ও অন্যান্য ক্ষেত্রে বিজেপির ব্যর্থতাকে তুলে ধরে আক্রমণ করে যাচ্ছে বলে এ নিবন্ধে আগেই উল্লেখ করা হয়েছে। দেশের কিছু অংশে গো হত্যার মতো ইস্যুতে ডানপন্থী উগ্র হিন্দুদের প্রকোপ নিয়েও আক্রমণাত্মক ভূমিকা নিয়েছে তারা। তবে একান্তে তারা যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার কথা প্রকাশ করেছে, তাতে মনে হচ্ছে দীর্ঘ প্রচারণার মধ্যে মোদি তার পালে নতুন হাওয়া পেয়েছেন। আগের চেয়ে অনেক বেশি স্থির ও দৃঢ়চিত্ত নিয়ে হাজির হচ্ছেন তিনি। এমনকি যখন পশ্চিমবঙ্গে সমাবেশ করছেন তখনও। তিনি যেখানে যাচ্ছেন সব জায়গাতেই বিপুল মানুষের সমাগম হচ্ছে, যা তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
২০১৯ সালের নির্বাচনের সমস্যাগুলোর কথা বুঝতে পেরে মোদি তাকে ভালোভাবে প্রস্তুত করেছেন। যে ২০টি রাজ্যে তিনি প্রচারণা চালাচ্ছেন সেগুলোর প্রত্যেকটির সুনির্দিষ্ট সমস্যার কথা তুলে ধরেছেন তিনি। বেশিরভাগ জাতীয় নেতাদের মতো নিজেকে সাধারণীকরণ করে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের বিরোধী দলগুলোর কাজকে সহজ করে দেননি তিনি। উড়িষ্যা কিংবা ত্রিপুরা, তামিল নাড়ু কিংবা পশ্চিমবঙ্গ সব জায়গাতেই মোদি বিরোধীদের স্থানীয় দুর্নীতির মূল জায়গাকে সামনে এনেছেন।
কলকাতাভিত্তিক বিশ্লেষক চারুব্রত রায় বলেন, ‘আগে থেকে নিখুঁতভাবে সাজানো এ ধরনের নিবিড় কৌশলের মধ্য দিয়ে মোদি অনেক বিরোধী দলীয় নেতাকেই তাদের নিজ নিজ ঠেকিয়ে দিতে পারেন। মমতাকেই দেখুন না। তিনি গোটা ভারতে প্রচারণা চালানোর কথা বলেছিলেন। অথচ, পশ্চিম বঙ্গেই কঠোর লড়াই চালাচ্ছেন তিনি। রাহুল গান্ধীকে বাদ দিলে জাতীয় পর্যায়ের কোনও বিরোধী দলীয় নেতা নেই। আর ভাবমূর্তি, রাজনৈতিক প্রভাব ও অন্যান্য দিক দিয়ে মোদির চেয়ে পিছিয়ে আছেন রাহুল। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির চেয়ে এবং উড়িষ্যায় বিজেডি’র চেয়ে এখনও বেশি আসন পেতে পারে তৃণমূল কংগ্রেস। তবে অন্য রাজ্যগুলোতে অন্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের চেয়ে মোদি অনেক বেশি ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন যা উপেক্ষা করার নয়।’
নির্বাচন হিসেবে এখনও এটি অনেক কঠিন এক প্রতিযোগিতা। তবে এখনকার জন্য সুযোগ সুবিধাগুলো মোদির পক্ষেই রয়েছে।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
প্রেসক্রিপশন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক নয়

জনস্বার্থে দায়ের করা এ-সংক্রান্ত এক রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুল জারিসহ দুইদিনের মধ্যে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দিয়ে এ আদেশ দেন। রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোখলেছুর রহমান।
হাইকোর্ট বলেছেন, প্রেসক্রিপশন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ বিক্রি বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ওষুধ প্রশাসনের মহাপরিচালক (ডিজি) সার্কুলার জারি করবেন। দুইদিনের মধ্যে এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণে প্রতি জেলার জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও সিভিল সার্জনদের নির্দেশ দেবেন তিনি।
রিটকারী আইনজীবী সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন বলেন, আদালত আমাদের রিট পিটিশনের শুনানি শেষে একটি রুল ইস্যু করেছেন। রুলে সারাদেশে প্রেসক্রিপশন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়েছেন। একই সঙ্গে, এ আদেশ পাওয়ার দুই দিনের মধ্যে ওষুধ প্রশাসনের মহাপরিচালক (ডিজি) প্রতি জেলার সিভিল সার্জন ও ডিসিদের প্রতি সার্কুলার জারি করে এসব আদেশ বাস্তবায়ন করার জন্য পাঠাবেন।
এর ফলে আজকের এই আদেশের পরে কার্যত প্রেসক্রিপশন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি বাংলাদেশে আর হতে পারে না, হবে না।
এর আগে, গত ২২শে এপ্রিল দ্য টেলিগ্রাফ ‘সুপারবাগস লিঙ্কড টু এইট আউট অব টেন ডেথস ইন বাংলাদেশ আইসিইউ’স’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদন যুক্ত করে রিট করেন আইনজীবী ব্যারিস্টার সুমন ।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) ৮০ শতাংশ মৃত্যুর জন্য অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী সুপারবাগ দায়ী। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসক সায়েদুর রহমানকে উদ্বৃত করে টেলিগ্রাফের ওই প্রতিবেদনে বলেছে, গত বছর হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি হয়েছিলেন ৯০০ রোগী। তাদের মধ্যে ৪০০ জনই মারা গেছেন। মৃতদের মধ্যে ৮০ শতাংশের মৃত্যুর কারণ হিসেবে ব্যাকটেরিয়া বা ছত্রাকজনিত ইনফেকশনকে দায়ী করা হয়েছে। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানে এই অবস্থা বেশি দেখা যায়। কারণ এসব দেশে অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধের পরামর্শ যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয় না। আবার ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া নিজ থেকেই অ্যান্টিবায়োটিক নেয়া এবং দোকান থেকে অবৈধভাবে অ্যান্টিবায়োটিক কিনে রোগীরা ব্যবহার করে। আবার মানুষের ব্যবহৃত ওষুধ অধিক লাভের জন্য পশুর ওজন বাড়াতেও প্রয়োগ করা হয়। অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের ক্ষেত্রে দেশে আরও কড়াকড়ি প্রয়োজন। অ্যান্টিবায়োটিক দোকানে কেনাবেচা করার সুযোগ থাকা উচিত নয়। এসব ওষুধ শুধু হাসপাতাল থেকে বিতরণ করা হবে এমন উদ্যোগ নেয়া উচিত।
এছাড়া, পরিবেশবাদি সংগঠন ‘পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের’ প্রকাশিত প্রতিবেদন উদ্বৃত করে রিটে বলা হয়েছে, কৃষিখাদ্যের মাধ্যমে উচ্চমাত্রার অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ করায় রাজধানীর ৫৫.৭ শতাংশ মানুষের ক্ষেত্রে অ্যান্টবায়োটিক অকার্যকর হয়ে পড়েছে। রিটে আরও বলা হয়েছে, অপ্রয়োজনীয় ব্যবহারের কারণে অ্যান্টিবায়োটিকের কার্যকারিতা যে নষ্ট করে বা হুমকি সৃষ্টি করে, সে বিষয়টি তুলে ধরতে জাতীয় ওষুধ নীতিও ব্যর্থ হয়েছে। অপরদিকে অ্যাটিবায়োটিকের অপ্যয়োজনীয় ব্যবহার মানুষের মৃত্যুর ফাঁদ তৈরি করছে। রাষ্ট্রের দায়িত্ব হচ্ছে এই ফাঁদ থেকে মানুষকে রক্ষা করা।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
নিরাশ হবেন না -ড. কামাল হোসেন

তবে কাউন্সিলে মোকাব্বির খানের যোগ দেয়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে নেতাদের মধ্যে। দলের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মোহসিন মন্টু অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে শুরু থেকেই যোগ দেননি কাউন্সিলে। অন্যদিকে কাউন্সিলে ড. কামাল হোসেনের পাশে মোকাব্বির খানকে বসা দেখে বের হয়ে গেছেন দলের প্রশিক্ষণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম পথিক।
দল ছাড়ারও ঘোষণা দেন তিনি। এছাড়া, জেলা থেকে আসা নেতারাও তাদের বক্তব্যে মোকাব্বির খান কেন এবং কার অনুমতি নিয়ে কাউন্সিলে যোগ দিয়েছেন তার উত্তর চান ড. কামাল হোসেনের কাছে।
ক্ষমতার উৎস হল জনগণ, আর কেউ না: ড. কামাল
কাউন্সিলের শুরুতে সভাপতি ড. কামাল হোসেন শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, আমরা আজকে বলি যে, স্বৈরশাসনের চিত্র দেখা যাচ্ছে। কিন্তু নিরাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই। আমরা দেখেছি শাসকগোষ্ঠী অনেক সময় স্বৈরতন্ত্রের দিকে অগ্রসর হয়। স্বৈরাচার হয়ে যায়। কিন্তু এদেশে মানুষ কখনো স্বৈরতন্ত্রকে মেনে নেয়নি এবং নেবে না। এদেশের মালিক আপনারা। ক্ষমতার উৎস হল জনগণ, আর কেউ না। সুতরাং আপনাদের দেখতে হবে, যারা ক্ষমতায় তারা কি দেশের স্বার্থে না কি নিজের স্বার্থে কাজ করছেন। না কি অন্য কিছু করছেন। উল্টো কিছু করলে সংগঠিত হয়ে তাদের থামাতে হবে। কারণ জনগণ গণতন্ত্রের পাহারাদার। আর এই নাগরিকরা যদি দায়িত্ব পালন না করে তাহলে গণতন্ত্র স্বৈরতন্ত্রে পরিণত হতে পারে। সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার প্রশংসা করে তিনি বলেন, প্রধান বিচারপতি জনগণের হয়ে যে রায়টা দিলেন, আমি মনে করি সেটা চির স্মরণীয় হয়ে থাকবে। আর তিনি ঐতিহাসিক ভূমিকা রেখে গেলেন।
পুলিশের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে গণফোরাম সভাপতি বলেন, পুলিশ তাদের দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করলে দেশে গণতন্ত্র ও সংবিধানের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। তিনি বলেন, পুলিশ কিন্তু দেশের মালিক না, দেশের সেবক। সংবিধান মেনে তারা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করবে। আপনারা সতর্ক থাকবেন পুলিশ যেনো তার ক্ষমতার বাইরে গিয়ে কোনো অন্যায়-অত্যাচার করতে না পারে। ড. কামাল বলেন, জনগণকে অবাধ ও নিরপেক্ষ বিষয়টি ভালোভাবে বুঝতে হবে। অর্থের বিনিময়ে ভোট বিক্রি করা অন্যায়। জনগণকে এসব ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।
মোকাব্বিরের যোগদানে আমরা লজ্জিত, জাতির কাছে ক্ষমাপ্রার্থী: মন্টু
ড. কামাল হোসেনের বক্তব্যের পর সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মোহসিন মন্টুর ঘোষণাপত্র পাঠ করার কথা ছিল। ঘোষণাপত্রের কপি কাউন্সিলর ও সাংবাদিকদের কাছেও সরবরাহ করা হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি না আসায় দলটির সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক আহমেদ ঘোষণা দেন সাধারণ সম্পাদক অসুস্থ। তিনি চিকিৎসাধীন থাকায় আসতে পারেননি। পরে তার পক্ষে কাউন্সিলের ঘোষণাপত্র পাঠ করেন দলের অপর এক প্রেসিডিয়াম সদস্য।
মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মোহসিন মন্টু মানবজমিনকে বলেন, আমি জানি ও শুনেছি মোকাব্বির খান কাউন্সিলে যোগ দিয়েছেন। হাউজে অনেকে বিরোধিতা ও প্রতিবাদ করেছেন। এটা সভাপতি বলতে পারবেন কেন মোকাব্বির খান কাউন্সিলে গেলেন, কীভাবে গেলেন। তাকেই জিজ্ঞাসা করুন। তিনি বলেন, কাউন্সিলে মোকাব্বির খানের উপস্থিতি অগ্রহণযোগ্য ও অনৈতিক কাজ হয়েছে। এটা জাতির সঙ্গে প্রতারণা হয়ে গেছে। আমি এ রকম সম্মেলনে যাব না। এবিষয়ে আমি লজ্জিত। জাতির কাছে ক্ষমাপ্রার্থী।
দলের কয়েকজন নেতা মানবজমিনকে বলেন, মোকাব্বির খান কাউন্সিলে আসবেন জেনে অসুস্থতার অজুহাত দেখিয়ে যোগ দেননি সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মোহসিন মন্টু।
আমি এই দলে থাকবো না: পথিক
দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে সংসদ সদস্য হিসেবে সপথ গ্রহণ করা মোকাব্বির খানকে কাউন্সিল মঞ্চে দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন গণফোরামের প্রশিক্ষণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম পথিক। কাউন্সিলের শুরুতে ড. কামাল হোসেনের শুভেচ্ছা বক্তব্য শেষ হওয়ার পর পথিক সাংবাদিকদের বলেন, মোকাব্বির খানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। তিনি নিজ থেকেই এসেছেন। তবে মোকাব্বির খান ড. কামালের নির্দেশেই সংসদে শপথ নিয়েছেন। দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মোকাব্বির খানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা থাকলেও এখনো নেয়া হয়নি। আর মোকাব্বির দলের সিদ্ধান্তে সংসদে শপথ নেননি। তাকে ড. কামালই পাঠিয়েছেন। পথিক আরো বলেন, ড. কামাল অফিসে আসলে মোকাব্বিরকে বের করে দেন। আবার বাসায় গেলে সংসদে যাওয়ার কথা বলেন। এটা দ্বৈত আচরণ। একজন নেতা এমন দ্বৈত আচরণ করতে পারেন না। এমন দল করা যায় না। আমি এই দলে থাকবো না।
মোকাব্বির কেন আসল জবাব চান জেলা নেতারা
কাউন্সিলে দলের সিনিয়র নেতাদের বক্তব্য শেষ হলে সীমিত আকারে সুযোগ দেয়া হয় দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত জেলা সভাপতিদের। এসময় গণফোরামের বরিশাল জেলা সভাপতি অ্যাডভোকেট হিরণ কুমার দাস মিঠু বলেন, মোকাব্বির খান দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে শপথ নিয়েছেন কিনা এটার বিষয়ে পরিষ্কার বক্তব্য চাই। দলের সিদ্ধান্ত হলে এক হিসাব। আর যদি দলের সিদ্ধান্ত না মেনে শপথ গ্রহণ করে থাকেন তাহলে এমন সংসদ সদস্য দরকার নেই।
চট্টগ্রাম থেকে আসা গণফোরামের কেন্দ্রীয় নেতা জানে আলম বলেন, ক্ষমতায় যাওয়ার বিচারে হয়তো আমরা রাজনীতিতে এখনো সফল না। সফল না হলেও এরশাদের মতো রাজনৈতিক নেতা ও জাতীয় পার্টির মতো দল আমরা হতে পারিনা। জাতীয় পার্টি নিয়ে মানুষ হাসাহাসি করে। আপনারা যারা ফেসবুকিং করেন তারা এখন একটু ফেসবুকটা খুলে দেখেন। মোকাব্বির খান ড. কামাল হোসেন স্যারের পাশে বসে থাকায় সমানে গালাগালি করছে সারাদেশের মানুষ।
কয়েকজন নেতা বলেন, দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে সুলতান মোহাম্মদ মনসুর সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেয়ায় তাকে বহিষ্কার করা হয়। কিন্তু মোকাব্বির খানও একই কাজ করেছে। অথচ তার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত এখনো কেন নেয়া হয়নি। কেন্দ্রীয় কমিটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে মোকাব্বির খানকে শোকোজ করবে। তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। কিন্তু এর পরও তিনি কিভাবে একই মঞ্চে কাউন্সিলে যোগ দেন? এসময় নেতারা দলের সভাপতি ড. কামাল হোসেনের কাছে মোকাব্বির খানের বিষয়ে স্পষ্ঠ বক্তব্য চান। কিন্তু কাউন্সিলের শেষে বিকেলে সভাপতির বক্তব্যে ড. কামাল হোসেন এসব প্রশ্ন এড়িয়ে যান।
গত ২রা এপ্রিল সিলেট-২ আসন থেকে নির্বাচিত মোকাব্বির খান সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন। এ সময় দলীয় নেতারা দাবি করেন, দলের প্যাড চুরি করে তিনি সংসদে শপথ নিয়েছেন। শপথ নেয়ার দুইদিন পর দলের সভাপতি ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে ‘ধমক’ শুনে বেরিয়ে আসেন। এ সময় ড. কামাল মোকাব্বিরকে বলেন, আপনি এখান থেকে বেরিয়ে যান, গেট আউট, গেট আউট। আমার অফিস ও চেম্বার আপনার জন্য চিরতরে বন্ধ। কিন্তু শুক্রবার গুলিস্তান মহানগর নাট্যমঞ্চে গণফোরামের বিশেষ জাতীয় কাউন্সিলে গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন যখন বক্তব্য দিচ্ছিলেন, তখন মঞ্চেই ছিলেন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোকাব্বির খান। মঞ্চে প্রথম সারিতে সভাপতি কামাল হোসেনের আসনের তিন চেয়ার পরেই মোকাব্বির খান বসেন। তার ডান পাশে ছিলেন রেজা কিবরিয়া, আর বাম পাশে অ্যাডভোকেট মহসিন রশিদ।
বেলা পৌনে ১১টায় কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে গণফোরামের বিশেষ কাউন্সিল শুরু হয় দলীয় ও জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে। কাউন্সিলের শুরুতেই শোক প্রস্তাব পাঠ করেন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য জগলুল হায়দায় আফ্রিক। দলের সভাপতি ড. কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে ও সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক আহমদের পরিচালনায় দলের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, প্রেসিডিয়াম সদস্য মফিজুল ইসলাম খান কামাল, এসএম আলতাফ হোসেন, অধ্যাপক আবু সাইয়িদ, রেজা কিবরিয়া, মেজর জেনারেল (অব.) আ ম সা আমিন, সিরাজুল হক, আওম শফিকউল্লাহ, শফিকুর রহমান খান, ফরিদা ইয়াছমীন, এসএম খালেকুজ্জামান, শান্তিপদ ঘোষ, মোশতাক হোসেন উদ্বোধনী অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, ১৯৯২ সালে আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে এসে কামাল হোসেন পরের বছর গণফোরাম গঠন করেন। ২০১১ সালের ডিসেম্বরে দলের সর্বশেষ কাউন্সিল হয়।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কথিত বাংলাদেশী অভিবাসী ইস্যুতে উত্তপ্ত ভারতের সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ

টাইমস অব ইন্ডিয়া লিখেছে, বাংলাদেশী অভিবাসীদের নাম উল্লেখ না করেই প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ, বিচারপতি দীপক গুপ্ত এবং বিচারপতি সঞ্জীব খান্নার বেঞ্চ আসাম রাজ্য সরকারের কড়া সমালোচনা করেছেন।
এ জন্যই সমালোচনা যে, রাজ্য সরকার ‘বিদেশী’দের মুক্তি দিয়ে তাদের পক্ষে কাজ করছে। বিভিন্ন বন্দিশিবিরে আটক বিদেশীদের রাজ্য সরকার মুক্তির জন্য আদালতের অনুমোদন চাইছে বলেও বেঞ্চ এর সমালোচনা করেছে। ওই রিপোর্টে আরো বলা হয়েছে, রাজ্য সরকারের হিসাবে আসামে অবস্থান করছেন এক লক্ষাধিক বাংলাদেশী অভিবাসী। তার মধ্যে মাত্র ৯০০ জনকে সনাক্ত করা হয়েছে।
রিপোর্টে আরো বলা হয়েছে, রাজ্যের পক্ষে আদালতে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা। তিনি আদালতকে জানান, কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে আলোচনার পর রাজ্য সরকার সিদ্ধান্তে এসেছে যে, যেসব বিদেশী বন্দিশিবিরগুলোতে কমপক্ষে ৫ বছর সময় পাড় করেছেন তাদেরকে বন্ডের বিনিময়ে মুক্তি দেয়া যেতে পারে। এসব বিদেশী মুক্তি পাওয়ার পর প্রতি সপ্তাহে পুলিশে রিপোর্ট করবে।
এ যুক্তি শুনে ক্ষিপ্ত হন আদালত। তারপর বলেন, আপনি সরকারের প্রতিনিধিত্ব করছেন। আপনি সংবিধান অনুসরণ করছেন না। যেসব মানুষ এ দেশের নয় এবং তারা চাইছেন এখানে বসবাস করতে, আপনি সরকারের হয়ে চাইছেন আদালত তা অনুমোদন দিয়ে একটি অবৈধ নির্দেশ পাস করুক। প্রথমত, বন্দিশিবিরগুলোতে ওইসব মানুষের থাকাই উচিত নয়। উচিত তাদেরকে ফেরত পাঠানো। বিদেশী হিসেবে ঘোষণা দেয়া হয়েছে এমন মানুষের সংখ্যা কমপক্ষে এক লাখ। আর আপনারা তাদের মাত্র ৯০০ জনকে সনাক্ত করতে পেরেছেন। এসব মানুষ এখন স্থানীয় জনগণের সঙ্গে মিশে গেছেন। তাদের বেশির ভাগের নাম আছে ভোটার তালিকায়। দেশের রাজনৈতিক কর্মকা-ে অংশ নিচ্ছেন তারা। নির্বাচনে ভোট দিচ্ছেন। আপনাদের সরকার কি এভাবেই কার্যকর রয়েছে?
এ সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন আসামের মুখ্য সচিব। তিনিও বেঞ্চের ক্ষোভের মুখে পড়েন। ফরেন ট্রাইবুনালের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত না করার বিষয়ে এবং এর সিদ্ধান্ত কর্তৃপক্ষের মেনে না নেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন বেঞ্চ।
বেঞ্চ থেকে মুখ্য সচিবের উদ্দেশে বলা হয়, এই লোকটা জানেন না তিনি কি বলছেন। তিনি কি মুখ্য সচিব হওয়ার যোগ্যতা রাখেন? আমরা তাকে নোটিশ দিতে যাচ্ছি আইনের বিরুদ্ধে বিবৃতি দেয়ার জন্য এবং আদালতকে ভুলপথে নেয়ার জন্য। আপনার ওই পদে থাকার কোনো অধিকার নেই।
ফরেন ট্রাইবুনালের মতামতের বিষয়ে রাজ্য সরকার তার এফিডেভিটে বলেছে, ফরেন ট্রাইবুনালের মতামত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ গ্রহণ করতেও পারে নাও পারে। এমন পদক্ষেপ নতুন করে নেয়া যেতে পারে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে। নতুন নোটিশ জারি করতে পারে তারা। রাজ্য সরকারের এমন এফিডেভিটের কড়া বিরোধিতা করেন আদালতের বিচারকরা। এ সময় মুখ্যসচিব আদালতের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং বলেন, নতুন একটি এফিডেভিট জমা দেয়া হবে।
শুনানির শেষের দিকে বেঞ্চ মুখ্যসচিবের প্রতি নমনীয়তা প্রদর্শন করেন। আইনজীবীদের কাছে প্রস্তাব করেন তাকে বসার জন্য একটি আসন দিতে। এর আগে রাজ্য সরকার দাবি করেছিল, গত চার বছরে তারা ৪৬০০০ হাজার বিদেশী নাগরিককে সনাক্ত করেছে। এর আগে গত ৩০ বছরে সনাক্ত করা হয়েছিল ৬৫০০০।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সঞ্চয়পত্রের সুদের হারে পরিবর্তন হবে না -অর্থমন্ত্রী

এ সময় বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ, প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান, মানবজমিন-এর প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক নঈম নিজাম, ডেইলি অবজারভারের সম্পাদক ইকবাল সোবহান চৌধুরী, সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)- এর সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকের শুরুতেই অর্থমন্ত্রী তার স্বাগত বক্তব্যে দেশের ব্যাংকিং খাত, পুঁজিবাজার, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের পরিস্থিতি তুলে ধরেন। বলেন, ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের কারণে করুণ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। অর্থ পাচার রোধ ও কর হার বাড়বে না বলে আশ্বস্ত করেন। পরে উপস্থিত অতিথিদের আলোচনার জন্য ফ্লোর ওপেন করে দেন।
আলোচনায় অংশ নিয়ে বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদ বলেন, উন্নয়ন হচ্ছে, কিন্তু পরিবেশের দিকে কোন মনযোগ দেয়া হচ্ছে না। ইচ্ছা মতো গাড়ি নামছে ঢাকায়। কোন নিয়ন্ত্রণ নেই। হাটার কোনো সুযোগ নেই। তিনি বলেন, যানজট কমাতে হলে বাড়তি কর আরোপ করে হলেও গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করে হাঁটার ব্যবস্থা করতে হবে।
মানবজমিন-এর প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, হাজার-হাজার, মানুষ সঞ্চয়পত্র নিয়ে পেরেশানের মধ্যে আছে আগামীতে কী হবে? হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার হচ্ছে। এই টাকা দিয়ে কানাডা-নিউ ইয়র্কে বাড়ি হচ্ছে। সারা পৃথিবীতে টাকা যাচ্ছে। তা ফেরত আনার কোনো ব্যবস্থা হচ্ছে না। তিনি বলেন, আমাদের দুর্ভাগ্য হলো- সিপিডি আমাদের দেশের অর্থনীতির চালচিত্র তুলে ধরে। কিন্তু তাদের কঠোর সমালোচনা করা হচ্ছে। সমালোচনা না করে তাদের চিহিৃত ইস্যুগুলো নিয়ে কাজ করলে দেশের উপকার হতো।
এর পর অর্থমন্ত্রী বলেন, সঞ্চয়পত্রের রেট ও রির্টানে আমরা হাত দেইনি, দিবোও না। তবে সঞ্চয়পত্রের সংস্কার নিয়ে কাজ চলছে। তিনি বলেন, সঞ্চয়পত্র যাদের জন্য করা হয়েছে শুধু তারাই এখানে বিনিয়োগ করতে পারবে। এক্ষেত্রে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।
মন্ত্রী বলেন, অনেক অবৈধ টাকায় সঞ্চয়পত্র কেনা হচ্ছে। ফলে যে পরিমাণ সঞ্চয়পত্র বিক্রি হওয়ার কথা তার চেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে। এটি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। অর্থাৎ যাদের সঞ্চয়পত্র থাকা দরকার শুধু তাদেরই থাকবে, তারাই কিনবে। তাদের কোনো সুযোগ-সুবিধা কমবে না বলে জানান অর্থমন্ত্রী।
বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক নইম নিজাম বলেন, অর্থনীতিতে চ্যালেঞ্জের সব থেকে বড় জায়গা হচ্ছে ব্যাংক খাত। ব্যাংকে কোন প্রকার দায়বদ্ধতা নেই। কিছু মানুষ ঋণের নামে লোপাট করছে। যদি এই ধারা অব্যাহত থাকে তাহলে অর্থনীতিতে সংকট আারো বাড়বে। এছাড়া শেয়ার বাজার নিয়েও নতুন করে ভাবতে হবে।
পুঁজিবাজারে ৫ লাখ কোটি টাকা দিলেও শেষ হয়ে যাবে: দেশের পুঁজিবাজারে সিংহ-ছাগলের খেলা চলছে মন্তব্য করে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমার ভয় হয়, পুঁজিবাজারকে ৫০ হাজার কোটি টাকা কিংবা ৫ লাখ কোটি টাকা দিলেও এই মুহুর্তে তা শেষ হয়ে যাবে। কারণ এখানে সমস্যা কোথায় আছে আমরা জানি। কিন্তু সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করতে পারছি না। এছাড়া ব্যাংকিং খাতে একটি করুণ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। আইন করা হচ্ছে, আমার উপর আস্থা রাখুন, ঠিক হয়ে যাবে।
দেশের অর্থনীতি ও পুঁজিবাজার ওতপ্রোতভাবে জড়িত জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, পুঁ?জিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির সঙ্গে বৈঠকের পর আমি বললাম-বর্তমান বাজার যে খারাপ হচ্ছে এর পেছনে কেউ আছে। অসাধু উদ্দেশ্য থাকতে পারে। এমন কি অন্যায় বলেছি? পরের দিন ১০০ পয়েন্ট পড়ে গেল। যদি পুঁ?জিবাজার খারাপ অবস্থা বলতাম তাহলে কি হতো।
সম্পাদকদের উদ্দেশ্য তিনি বলেন, এটা আপনারা ভালভাবে জানেন কারা করে। যারা করে তারা উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবেই করছে, চিহিৃত করে এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। অর্থমন্ত্রী ব?লেন, ওরা ভালভাবেই জানে সামনে বাজেট। পুঁজিবাজার বিষয়ে কিছু না কিছু বাজেটে প্রণোদনা থাকবে। এজন্য এখন শেয়ারের দাম বাড়ার কথা কমার কথা না। এখন কেন কমাচ্ছে, কারণ দাম কমলে যেন তারা শেয়ারটা কিনতে পারে।
বাজারে দুটি পার্টি রয়েছে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, মোহামেডান ও আবহনীর খেলা নয়, এ দু?টি পক্ষের মধ্যে এক?টি পক্ষ সিংহ অপরটি ছাগলের বাচ্ছা। এই দুই গ্রুপের মাঝে অনেক তফাৎ। নিজে থেকে ঠিক না হলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া ছাড়া বাজার কোনভাবেই ঠিক করা সম্ভব না।
তিনি বলেন, পঁজিবাজারে শত শত কম্পোনেন্ট। ওরা সারা দেশে লোক রেখে দেয়। তারা তাদের নিয়োগ কৃত লোকদের বলে দেয় কিনো কিনো। পরে দাম উঠে গেলে বিক্রি করে দেয়। আর খুজে পাওয়া যায় না। বিষয়টা হলো- অনেকে না বুঝে শেয়ার বাজারে আসে। তারাই ধরা খায়। না বুঝে ও স্বল্প সময়ের জন্য বাজারে না আশার অনুরোধ করেন তিনি।
বি?নিয়োগকারীদের উদ্দেশ্যে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাজার নিয়ে ভয় পাওয়ার কারণ নেই। দেশের অর্থনী?তির সঙ্গে তাল?মিলিয়ে পুঁ?জিবাজারের উন্নয়ন করা হবে। আমরা বারবার এ বাজারকে নিয়ে নাজুক অবস্থায় পড়তে চাই না। মানুষের গালাগালি শুনতে চাই না। এ জন্য আমরা সব ধররের ব্যবস্থা নিবো।
ব্যাংকিং ব্যবস্থা খুব ভালো নেই জানিয়ে অর্থমন্ত্রী আ.হ.ম মুস্তফা কামাল বলেন, এ খাতের উন্নয়নে অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি হচ্ছে। অনেকেই খেলাপি ঋণের বিপরীতে কোন উদ্যোগ নিতে পারছে না। মামলা করতে পারছে না। এ সব বিষয়ে উদ্যোগ নিবে অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি।
তিনি বলেন, ব্যাংক ঋণে সুদের হার বেশি। এত বেশি সুদ দিয়ে কখনই ব্যবসা করা যাবে না। সুদের ওপর নতুন করে সুদ আরোপ করা হচ্ছে। আগামীতে সুদের হার কমিয়ে নিয়ে আসা হবে। যাতে ঋণ খেলাপি না হয়। এছাড়া বাজেটে পুজিবাজারের জন্য প্রণোদনা থাকবে।
মন্ত্রী বলেন, আমার উপর বিশ্বাস রাখুন। অসততা আমাকে স্পর্শ করেনি, করবেও না। আমি অনেক কষ্ট করে লেখাপড়া করেছি। সাধারন মানুষের প্রতি আমার দায়বদ্ধতা রয়েছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যাংক থেকে কেউ ঋণ গ্রহণ করে সেখান থেকে বেরিয়ে আসাটা সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। ব্যবসা করলে লাভ বা লোকসান হতে পারে। যারা লোকসান দেয় তাদের জন্য কিছু করার ব্যবস্থা থাকে না। ঋণ খেলাপি হওয়ার পরও সব ব্যবসায়ীদের জেলে পাঠালে তো হবে না। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে হবে।
অর্থ পাচার নিয়ে মন্ত্রী বলেন, যথাযথ আইন না থাকার কারণে দেশ থেকে অর্থ পাচার হয়। মানি লন্ডারিং প্রতিরোধে আইন নিয়ে আসবো। এজন্য যেসব পণ্য বিদেশ থেকে আসবে সেগুলো শতভাগ স্ক্যানিং হয়ে আসবে। আবার যেসব পণ্য রপ্তানি হবে সেগুলোও শতভাগ স্ক্যানিং করা হবে। তাছাড়া র্যান্ডম শ্যাম্পলিং এর মাধ্যমে পরিদর্শন করার ব্যবস্থা করা হবে।
মন্ত্রী বলেন, যারা আয়কর দেয় তারা শুধু কর দেবে, আর যারা কর দেয় না তারা দেয়ই না। দেশের ৪ কোটি মানুষ কর দেয়ার যোগ্য হলেও কর দেয়া মাত্র ২৯ লাখ। এজন্য ভ্যালু এ্যাডেড ট্যাক্স নির্ধারণ করা হবে।
দেশের উন্নয়নে বৈষম্য বাড়তেই পারে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, অর্থনীতির উন্নয়ন হলে অনেক সময় মিসম্যাচ হয়। ফলে বৈষম্য বেড়ে যায়। তবে আর যেন বৈষম্য না বাড়ে, সে উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশ অবজারভারের সম্পাদক ইকবাল সোবহান চেীধুরী বলেন, ট্যাক্সের আওতা বাড়াতে হলে ইনসেনটিভের ব্যবস্থা থাকতে হবে। বাংলাদেশে এ ধরনের কোন ব্যবস্থা নেই। ব্যাংকিং খাতে আস্থা ও শৃংখলা ফিরিয়ে আনতে হবে। বাজেটে এ নিয়ে পদক্ষেপ থাকা উচিত। বিদেশি চ্যানেলে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে দেশের অর্থ বাইরে চলে যাচ্ছে। এটাকে নিয়ন্ত্রয় করতে হবে।
সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, বাজেট শুধু আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়। এটা একটা ফাউন্ডেশন। দেশের চিত্র। অথচ আমরা একটা ছকের মধ্যে আটকে আছি। বাজেটকে নতুন করে সাজাতে হবে। স্থানীয় সরকারকে ছাগলের ২নং বাচ্চার সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, এটাকে শক্তিশালী করতে হবে। এমডিজি ভালো করেছি। এসডিজিও ভালো করতে হবে। এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে বলে জানান তিনি।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সরকারের ১০০ দিন উদ্যম উদ্যোগহীন -সিপিডি’র মূল্যায়ন

দেবপ্রিয় বলেন, সরকার যখন নতুনভাবে আসে, তখন গত সময়ের বিভিন্ন অভিজ্ঞতাকে ধারণ করে নতুন ধরনের উদ্যোগ নেয়।
সেই উদ্যোগটা তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি। আমরা মনে করি সামপ্রতিক সময়ে যত নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশিত হয়েছে আওয়ামী লীগের এই নির্বাচনী (একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে) ইশতেহার সব থেকে সুচিন্তিত, সুলিখিত ও সুগঠিত।
নির্বাচনী ইশতেহার সম্পর্কে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, শাসক দলের রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও রাষ্ট্রযন্ত্রের বাস্তবায়নের মধ্যে পার্থক্য আছে। শাসক দল বলছে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স দেখানো হবে। কিন্তু রাষ্ট্রযন্ত্রের মধ্যে তা দেখছি না। আমরা দেখছি রাষ্ট্রযন্ত্রের ভেতরে, অন্যান্য সামাজিক সেবার ক্ষেত্রে সেই দুর্নীতি প্রকটভাবে রয়েছে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সাময়িক হিসাব করা ৮.১৩ শতাংশ মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধিকে ঈর্ষণীয় বলছে সিপিডি। সিপিডির মতে, এই হিসাব বাস্তবসম্মত নয়। অর্থনীতির সূচকগুলোর সঙ্গে এর মিল নেই। জিডিপির হিসাব আরো গভীরে গিয়ে করা উচিত। তা না হলে নীতি নির্ধারণে সমস্যা হবে।
রাজধানীর সিরডাপ অডিটরিয়ামে সিপিডি আয়োজিত ‘বাংলাদেশের উন্নয়নের স্বাধীন পর্যালোচনা: বর্তমান সরকারের প্রথম একশো দিন’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে সিপিডির বিশেষ ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান, গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম উপস্থিত ছিলেন। সিপিডির পর্যালোচনা উপস্থাপন করেন সংস্থাটির গবেষক তৌফিকুল ইসলাম খান ।
জিডিপি প্রবৃদ্ধি গণনার পদ্ধতির সমালোচনা করে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, সামপ্রতিক সময়ে বাংলাদেশে দেখছি প্রবৃদ্ধি-নির্ভর অর্থনৈতিক আলোচনা। কেমন একটা প্রবৃদ্ধি আচ্ছন্নতা বা আকৃষ্টতা আমরা দেখতে পাচ্ছি। অথচ অর্থনৈতিক তত্ত্বের সামপ্রতিককালের চিন্তা দেখলে দেখা যাবে, সকলেই বলবে প্রবৃদ্ধি গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু যথেষ্ট নয়। এটা অর্থনীতি শাস্ত্রের দ্বৈতজ্ঞান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।
জিডিপির হিসাব নিয়ে প্রশ্ন তুলে সিপিডি বলেছে, উৎপাদন খাত নির্ভর প্রবৃদ্ধি হয়েছে। বিবিএসের হিসাব, চামড়া খাতে প্রথম প্রান্তিকে সাড়ে ৩২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। অথচ রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রবণতা রয়েছে। রাজস্ব আদায়ে প্রবৃদ্ধি মাত্র ৬ শতাংশ। কিন্তু চলতি মূল্যে জিডিপি প্রবৃদ্ধি দেখানো হয়েছে ১২.৭ শতাংশ। আবার গত ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহে প্রবৃদ্ধি সাড়ে ১২ শতাংশ। কিন্তু গতবার একই সময়ে এই খাতে প্রবৃদ্ধি ছিল সাড়ে ১৮ শতাংশ। সিপিডির মতে, বিবিএসের হিসাব অনুযায়ী, এই প্রবৃদ্ধি অর্জনের মানে হলো, শ্রমিকদের উৎপাদনশীলতা বেড়েছে।
ড. দেবপ্রিয় বলেন, সামপ্রতিককালে অর্থনৈতিক যে প্রবৃদ্ধি দেখি তা নিঃসন্দেহে অত্যন্ত উঁচু, প্রশংসনীয় এবং অনেকের কাছে ঈর্ষণীয়। তবে যেটুকু উন্নয়ন হয়েছে তাতে ব্যক্তিখাতের বাড়তি কোনো ভূমিকা আমরা দেখিনি। এই উন্নয়নের জন্য যে ধরনের কর আহরণ দরকার তা আমরা দেখলাম না। ব্যক্তিখাতে যে ধরনের ঋণপ্রবাহ বাড়ার কথা তা আমরা দেখলাম না। পুঁজিপণ্যের আমদানি প্রবৃদ্ধি কমে গেছে। সেই সঙ্গে ব্যাংকখাতে ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে যে ধরনের চাঞ্চল্য থাকে তা-ও দেখলাম না। প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে যে ধরনের চলক থাকে, সে চলকগুলোর প্রতিফল কিন্তু আমাদের কাছে ধরা পড়ছে না। গত কয়েক বছরে বাংলাদেশে এমন কী প্রযুক্তি বা উদ্ভাবনীর রূপান্তর ঘটল যে শ্রমের উৎপাদন ক্ষমতা এমন বৈপ্লবিকভাবে বেড়ে গেল! এটা আমাদের এখন ভালো করে চিন্তা করে দেখতে হবে বলে মনে করেন সিপিডির এই ফেলো। তিনি বলেন, আমরা চাই প্রবৃদ্ধির অনুমিতি সঠিক হোক। সেটা থেকে যে ধরনের তাৎপর্য আসে সেটা যেন বাংলাদেশের নীতিকে সঠিকভাবে আগামী দিনে পরিচালিত করে। কোনো ধরনের অসম্পূর্ণ তথ্যের কারণে নীতিকে যেন বিভ্রান্ত না করে। এটাই আমাদের আকাঙ্ক্ষা। এছাড়া এখন থেকে শুরু করে বাজেট প্রকাশ পর্যন্ত সরকারকে বাস্তবমুখী কিছু পদক্ষেপ নেয়ার পরামর্শ দেন ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।
দেবপ্রিয় বলেন, রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি হলো পরিবর্তন, দিন বদল। কিন্তু তা আটকে রাখছে রাষ্ট্রযন্ত্রের মধ্যে থাকা সুবিধাভোগীরা। আওয়ামী লীগের দেয়া নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের দায়িত্ব রাজনৈতিক নেতৃত্বকেই নিতে হবে। তা না হলে এই ইশতেহার কাল্পনিক দলিল হিসেবে ইতিহাস বিচার করবে। তিনি বলেন, সরকারের গত ১০০ দিন আমরা একটি উৎসাহহীন, উদ্যোগহীন, উচ্ছ্বাসহীন এবং একই সঙ্গে উদ্যমহীন হিসেবে দেখেছি। অথচ আমরা আশা করে ছিলাম এটি একটি বড় ধরনের ১০০ দিনের উত্থানের ওপর দিয়ে প্রতিফলিত হবে। সেটা আমরা লক্ষ্য করিনি।
আমরা যেটা লক্ষ্য করেছি গতানুগতিক ধারাবাহিকতা। নতুনভাবে সে রকম কিছু আমরা লক্ষ্য করিনি। বরং যে ধরনের উদ্যোগ আমরা দেখেছি, সে ধরনের উদ্যোগ মিশ্র ইঙ্গিত দিচ্ছে। মিশ্র ইঙ্গিত কী দিচ্ছে? আমরা লক্ষ্য করেছি বিভিন্ন কর ছাড় দেয়া হচ্ছে। আমরা দেখেছি সুদের ক্ষেত্রে বড় ধরনের সুবিধা দেয়া হচ্ছে। এগুলোর ফলে বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নত হবে- এটা আমরা মনে করি না। মনে হয় যেন কোথাও সরকারকে একটি প্রতীত গোষ্ঠী করায়ত্ব করে নীতিনির্ধারণ করছে।
দেবপ্রিয় বলেন, উন্নয়নের যে ধারণা তার সঙ্গে নীতি প্রণয়নের ধারণার অসঙ্গতি দেখা যাচ্ছে। এসব ক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধিদের যে ধরনের ভূমিকা সেটা আমরা দেখতে পারছি না। বাংলাদেশের উন্নয়নের ধারাবাহিকতার জন্য যে ধরনের কাঠামোগত সংস্কারের দরকার ছিল, সেগুলোর কিছু হয়নি। এই ১০০ দিনে আমরা আশা করেছিলাম অসঙ্গতিগুলো দূর করা যাবে। আমরা সে ধরনের সচেতনতাও দেখিনি, সে ধরনের পদক্ষেপও দেখিনি।
খেলাপি ঋণ নিয়ে প্রতিবেদনে সিপিডি বলছে, খেলাপি ঋণ কমানোর লক্ষ্যে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে দেয়া সুবিধার ফলে ঋণ খেলাপিরা ও দুর্বল ব্যাংক উৎসাহিত হবে। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে তারল্য সংকট দেখা দেবে।
এ বিষয়ে সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেন, ব্যাংকিং ব্যবস্থা অর্থনীতির মূল স্তম্ভ। আমরা অতীতে দেখেছি, বড় বড় উদ্যোক্তাদের অর্থ জোগানের ক্ষেত্রে ব্যাংক ব্যবস্থার একটা ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু এখন আমরা এমন একটা পর্যায়ে পৌঁছেছি ঋণ খেলাপি এটা একটা সমস্যা তা সবাই স্বীকার করছে। সরকারও স্বীকার করছে, যার ফলে আমরা দেখছি নানামুখী উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। কীভাবে এটা (খেলাপি ঋণ) কমানো যায়। কিন্তু দুঃখজনক হলো সত্যিকার অর্থে ঋণ খেলাপি না কমিয়ে, সুবিধা দেয়ার মাধ্যমে এটা কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। যার ফলে আমরা গুড প্রাকটিস থেকে ব্যাড প্রাকটিসে চলে যাচ্ছি। সুবিধা দেয়ার ফলে ঋণ খেলাপিরা উৎসাহিত হবে। সেইসঙ্গে দূর্বল ব্যাংকও উৎসাহিত হবে। তার ফলে তারল্যের ওপর প্রভাব পড়বে বলে মনে করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক।
তিনি বলেন, ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগের জন্য যখন ব্যাংকের কাছে অর্থ চাওয়া হবে, তখন ব্যাংক যদি অর্থ দিতে না পারে তাহলে আমাদের বিনিয়োগ এবং অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ব্যাহত হবে। ফাহমিদা বলেন, আমরা মনে করি খেলাপি ঋণের বিষয়ে যে পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে তার ফলে আমরা উল্টো দিকে যাচ্ছি। এর ফলে ব্যাংকের প্রকৃত যে স্বাস্থ্য তা পুনরুদ্ধার করতে পারবে না। এটা ভাসা ভাসা একটা সমাধান। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে আমরা একটি ব্যাংক কমিশনের কথা বলেছিলাম। আমরা সেটার জন্য কাজ করছি। সরকারের কাছে আমরা বার বার ব্যাংকিং কমিশনের কথা বলেছি। কিন্তু তারা এখনও পর্যন্ত সেরকম কোনো উদ্যোগ নেয়নি। এখন আমরা শুধু ব্যাংকিং কমিশন নয়, নাগরিকদের নিয়েও কমিশনের চিন্তাভাবনা করছি।
সিপিডির বিশেষ ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, যেসব দেশে বৈষম্য কম, সেসব দেশে তুলনামূলকভাবে প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা সহজ হয়। তাই বৈষম্য কমানোর দিকে নজর না দিলে প্রবৃদ্ধি শ্লথ হতে পারে।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে সিপিডির সিনিয়র রিসার্স ফেলো তৌফিকুল ইসলাম খান বলেন, খেলাপি ঋণের পরিমাণ দিন দিন বাড়ছে। বর্তমান সরকারের ১০০ দিনে ব্যাংক খাতের কোনো উন্নয়ন আমরা দেখছি না। সরকারের পক্ষ থেকে ভালো ঋণ গ্রহীতাদের ছাড় দেয়ার কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু কারা ভালো ঋণ গ্রহীতা সে বিষয়ে দিক নির্দেশনা আসেনি। এটা নির্দিষ্ট করা উচিত।
পুঁজিবাজার নিয়ে খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, শেয়ারবাজারে কারসাজির সঙ্গে জড়িত দুষ্টচক্রকে থামাতে পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) বড় কোনো উদ্যোগ নেয়নি। অনিয়মের বিরুদ্ধে যে ধরনের অর্থদণ্ড দেয়া হয় তাতে কারসাজি চক্র অনিয়ম করতে আরো উৎসাহিত হয়। কারণ আর্থিক দণ্ড তার জন্য খুব বেশি সমস্যার না। সুতরাং সুশাসনের ক্ষেত্রে ছাড় দিয়ে পুঁজিবাজারকে আস্থার জায়গায় নিয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই বলে জানান তিনি। তিনি বলন, সুশাসনের ক্ষেত্রে যথেষ্ট ছাড় দেয়ার প্রবণতা রয়েছে। বর্তমান সরকারের গত ১০০ দিনে শেয়ারবাজারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আনয়নে সুশাসন দেখা যায়নি। শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন সিপিডির গবেষণা পরিচালক। তিনি বলেন, যে কোম্পানিগুলোকে শেয়ারবাজারে আনা হচ্ছে এবং এক্ষেত্রে যে রিপোর্টি জমা দেয়া হচ্ছে, সেগুলো নিয়ে অভিযোগ করা হচ্ছে। এমনকি বিএসইসির চেয়ারম্যানও রিপোর্টগুলো নিয়ে অভিযোগ তুলেছেন।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
তারা স্বেচ্ছায় শপথ নিয়েছেন -গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তির ব্যাপারে সরকারের চাপ থাকার কারণ নেই।
কেননা প্যারোলে মুক্ত হবেন কি না সেটা নির্ভর করে দন্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির আবেদনের ওপর। কিন্তু এ ব্যাপারে কোনো আবেদন আসেনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বুঝতে হবে বিএনপির জন্ম কোথায়। বিএনপি স্বর্ণলতার মতো। দেখতে সুন্দর কিন্তু শেকড় নেই। নিজের দল সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ পোড় খাওয়া দল। এই দলের সুবিধাভোগী বা অনুপ্রবেশকারী আছে বলে মনে করি না। কিছু লোক আসবে যাবে, এটা রাজনীতিতে স্বাভাবিক। আওয়ামী লীগের যথেষ্ট লোকবল আছে। আমার নতুন লোকবলের দরকার নেই। আওয়ামী লীগ একাই একশো।
ব্রুনাই সফরের বিভিন্ন দিক তুলে ধরতে গতকাল বিকেলে গণভবনে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও এতে উপস্থিত ছিলেন- পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, খাদ্যমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক প্রমুখ। সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই ব্রুনাই সফরের বিভিন্ন চুক্তি, সমঝোতা ও সফরের বিভিন্ন দিক নিয়ে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর ঘণ্টাব্যাপী সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন তিনি। ব্রুনাইয়ের সুলতান হাসানাল বলকিয়ার আমন্ত্রণে ২১ থেকে ২৩ এপ্রিল ব্রুনাই সফর করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সফরে দুই দেশের মধ্যে ছয়টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) এবং একটি বিনিময় নোট স্বাক্ষরিত হয়। ব্রুনাইতে এটাই ছিল প্রধানমন্ত্রীর প্রথম সফর।
সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপিকে রাজনীতিতে পুনরুজ্জীবিত করাটা কি আমি বুঝি না। বিএনপির কোনো ব্যাপারেই সরকার চাপ দিচ্ছে না। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে রাজনৈতিকভাবে গ্রেপ্তার করা হয়নি। আদালত দুর্নীতির কারণে তার বিরুদ্ধে রায় দিয়েছে। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলাও আওয়ামী লীগ সরকার করেনি। ১০ বছর আগে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে। তিনি বলেন, বিএনপি একটি রাজনৈতিক দল। তারা তাদের সিদ্ধান্তে দল পরিচালনা করে। এখানে সিদ্ধান্ত বিএনপির। সরকারের চাপ থাকবে কেন?
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসবাদ নিয়ে সব সময়ই উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ আছে। তবে তা নিয়ন্ত্রণে আছে। সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে। বৃহস্পতিবার রাতেও আমি আইনশৃংখলা রক্ষাকারি বাহিনীর সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেছি। রাত আটটা থেকে ১১টা পর্যন্ত তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছি। তবে সবার আগে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, নিউজিল্যান্ডের মতো জায়গায় সন্ত্রাসী হামলা হচ্ছে। সেখানে খ্রিষ্টানরা করেছে। শ্রীলঙ্কায় মুসলিমরা। এ জন্য আমি বলি জঙ্গিবাদের কোনো ধর্ম নেই। দেশ নেই। এদের বিরুদ্ধে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ নিয়ন্ত্রণে রেখেছি। কিন্তু তারপরও শঙ্কা আছে। এটা এখন আন্তর্জাতিক একটা বিষয় হয়ে গেছে। শ্রীলঙ্কায় সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে জনমত সৃষ্টি ও কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমি এই নৃশংস হামলার নিন্দা জানিয়ে শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রীকে শোকবার্তা পাঠাই।
এই কাপুরুষোচিত হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ২১ এপ্রিল শ্রীলঙ্কায় সিরিজ বোমা হামলায় নিহতদের স্মরণ করছি। এ হামলায় আমার ফুফাতো ভাই শেখ সেলিম এমপি’র নাতি আট বছরের নিষ্পাপ শিশু জায়ান চৌধুরী নিহত হয়েছে। তিনি বলেন, জায়ানের বাবা মশিউল হক চৌধুরী গুরুতর আহত অবস্থায় এখনও শ্রীলঙ্কায় একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তিনি বলেন, নিউজিল্যান্ডের মতো শান্তিপূর্ণ একটা দেশ সেখানে পুলিশও ব্যবহার করা লাগে না। ওই রকম একটা দেশে যখন এ ধরনের জঙ্গিবাদী ঘটনা ঘটাতে পারে আর বাংলাদেশে তো সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ লেগেই আছে। শেখ হাসিনা বলেন, পঁচাত্তরে যেভাবে জাতির পিতাকে হত্যা করা হয় এবং ৩ নভেম্বর জেলখানায় হত্যা এগুলো তো সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের পর্যায়ে পড়ে। যখন থেকে মিলিটারি ডিক্টেটররা ছিল তখন থেকে অনবরত ক্যু হতো, মানুষ হত্যা হতো। ২০০১ সালের নির্বাচনের পর কীভাবে মানুষের ওপর অত্যাচার হয়েছে? তারপর আসেন অগ্নিসন্ত্রাস। ২০১৩ সালের শেষের দিকে এবং ২০১৪ ও ২০১৫ সালে।
সব থেকে বড় কথা প্রকাশ্য দিবালোকে গ্রেনেড হামলা করে মানুষ হত্যা করা। যে গ্রেনেড ব্যবহার করা হয় যুদ্ধে, সে গ্রেনেড ব্যবহার করা হলো আমাদের একটা র্যালিতে। সেই র্যালিটিও ছিল সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে। তিনি বলেন, আমরা তো সেই সন্ত্রাসের শিকার। ১৫ আগস্ট সব হারালাম আমরা। তারপর শ্রীলঙ্কায় আমাদের পরিবারের একজন মারা গেল আমাদের আপনজন। প্রধানমন্ত্রী বলেন,অগ্নিসন্ত্রাস তো আরেকটা পথ দেখালো সেই ২০১৫ জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত আগুন দিয়ে দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করা। নুসরাতকেও অগ্নিসন্ত্রাসের শিকার হতে হলো। তারই শিক্ষক তাকে আগুন দিয়ে পোড়ানোর ব্যবস্থা করলো।
ভারত, রাশিয়া, জাপান ও চীন চায় রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান হোক কিন্তু এ ব্যাপারে তাদের জোরালো ভূমিকা নেই মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন,আমরা রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে নিতে চেয়েছি। কিন্তু তারা যেতে চায় না। জোরও করতে পারি না। এর সঙ্গে বিদেশি সংস্থা ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাও চায় না কক্সবাজার ছাড়তে। অথচ ভাসানচরে নেয়া গেলে রোহিঙ্গারা ভালো থাকতে পারত। তাদের জীবন এতটা অমানবিক হতো না।
তিনি বলেন, অনেক সংস্থা এদের ভাসানচরে পাঠাতে চায় না। এর পেছনে বিভিন্ন কারণ রয়েছে। আমার মনে হয়, সংস্থাগুলো রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি নিজেদের থাকা, খাওয়ার সুব্যবস্থা চান। সহজ যাতায়াত চান। এ কারণে তারা কক্সবাজার ছাড়তে চান না। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভাসানচরে ১০ লাখ রোহিঙ্গাকে সুন্দরভাবে রাখা যাবে। সুপেয় পানি, সেনিটেশনের ব্যবস্থা আছে। সাইক্লোন শেল্টার করে দিয়েছি। পর্যটনের ভালো ব্যবস্থা আছে। এদের জীবন-জীবিকার ব্যবস্থা করে দেবো। এরা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিজেদের মধ্যেও সংঘাত করছে। বেকার থাকাটা খুব খারাপ দিক। খুব সহজে এদের জঙ্গিবাদের দিকে নিয়ে যাওয়া যেতে পারে। এদের হায়ার করা যেতে পারে। ৪০ হাজারের বেশি বাচ্চা জন্ম দিয়েছে। বিভিন্ন রকম সমস্যা দেখা দিচ্ছে। এগুলোও আমাদের দেখতে হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের বেশিরভাগ সংবাদমাধ্যম ‘অর্থনৈতিক দুরবস্থার’ মধ্যে পড়েছে বলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জানান সাংবাদিকরা। এক সাংবাদিক বলেন, বিজ্ঞাপনের অভাবে টেলিভিশন শিল্প রুগ্ন শিল্পে পরিণত হচ্ছে। আরেক সাংবাদিক জানান, প্রিন্ট মিডিয়ার মরণ দশা হয়ে গেছে। সাংবাদিকদের বেতন-ভাতা দেয়াই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। একটি টেলিভিশন চ্যানেলের এক সাংবাদিক প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, এই খাত এখন রুগ্ন শিল্পের মতো ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। বিজ্ঞাপনের বাজারটা চারিদিকে ছড়িয়ে গেছে। বিদেশি চ্যানেলে বিজ্ঞাপন প্রচার হচ্ছিল দেশের আইন ভঙ্গ করে। এছাড়া নতুন নতুন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালু হয়েছে ফেইসবুক, ইউটিউব। এগুলোতে অনেক বিজ্ঞাপন চলে যাচ্ছে। আর এতে বাংলাদেশের টেলিভিশন চ্যানেলগুলো আর্থিক সংকটে রুগ্ন হয়ে পড়ছে। জবাবে শেখ হাসিনা বলেন,আপনি বলছেন রুগ্ন শিল্প হচ্ছে।
কিন্তু দেখছি এখনও অনেকে নতুন চ্যানেল চাচ্ছে। কালকে আমার তথ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা হল, আমি বললাম যত চাচ্ছে সবই দিয়ে দাও। আর কিছু না হোক কিছু লোকের তো চাকরি হবে। কর্মসংস্থান হবে। তিনি বলেন, কেবল অপারেটরদের চ্যানেল যত সামনে থাকবে তত আগে মানুষ দেখবে। কেবল অপারেটরদের খুশি করার সেটাও তো একটা বিষয় আছে। অনেকে তো আবার খুশি করে সামনেও নিয়ে আসে। ওই টেকনিক্যাল ব্যাপারও তো আছে। আছে অনেক কিছুই। বাংলাদেশে প্রয়োজনের তুলনায় অনেক সংবাদপত্র থাকার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের দৈনিক পত্রিকা প্রায় ৭০০- এর ওপরে। মফস্বলে আমাদের প্রচুর পত্রিকা। এত পত্রিকা মনে হয় পৃথিবীর কোনও দেশে চলে না। কোনও দেশে নাই। সিঙ্গাপুরে একটি মাত্র কোম্পানি। তাদের পত্রিকা। সেটাও সরকার স্পন্সরড। তাদেরই বিভিন্ন ভাগাভাগি। ব্যবসা, খবর, বিনোদন, স্পোর্টস এ রকম ভাগাভাগি। অন্যান্য সব দেশেও। আমাদের প্রতিটি আশপাশের দেশে দেখেন। আমাদের মতো এত পত্রিকা কিন্তু কোনও দেশে নেই।
গণমাধ্যমের বিশেষ করে কাগুজে পত্রিকার খারাপ সময় নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন যুগের চাহিদা বা প্রযুক্তির চাহিদা হলো অনলাইন সংবাদপত্রের। বিশ্বের অনেক দেশে বড় বড় পত্রিকা বন্ধ হয়ে গেছে। সেগুলো এখন কেবল অনলাইনে আছে। কাগুজে পত্রিকা বের করে না। ছাপা পত্রিকার সামনে প্রযুক্তি যে বাস্তবতা দাঁড় করিয়েছে সেটা সংশ্লিষ্টদের মানতেই হচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, কেবল বাংলাদেশে নয়, প্রযুক্তি সারাবিশ্বের মানুষের জন্য নানা সুযোগ সৃষ্টি করেছে, আধুনিকতার জায়গায় নিয়ে গেছে। সেজন্য এক ধরনের ধারাবাহিকতায় চলতে থাকলে হবে না। আধুনিকতা ও প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হবে। তিনি বলেন, সারাবিশ্বে অনেক নামিদামি পত্রিকা বন্ধ হয়ে গেছে। অনেক পত্রিকা কেবল অনলাইন চলে এসেছে। ছাপা বন্ধ হয়ে গেছে তাদের, সোজা কথা অনলাইনে চলে এসেছে।
এখন কাগজের ব্যবহার হয় না। এটা প্রযুক্তির প্রভাব। প্রযুক্তি এবং আধুনিকাতর প্রভাবে এভাবে বিবর্তন আসতে থাকবে। তাই বিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হবে। তিনি বলেন, আমরা সবকিছু ডিজিটালাইজড করে দিয়েছি, স্যাটেলাইটও হয়েছে। স্যাটেলাইটের মাধ্যমেও টিভি চালানো যায়। তিন মাসের জন্য বিনা পয়সায় (টিভি চ্যানেল) চালানোর প্রস্তাব দেয়া হচ্ছে। কিন্তু চ্যানেলগুলো সেভাবে নিচ্ছে না। অথচ বিদেশি জায়গায় অনেক টাকা দিচ্ছে। কিভাবে আমাদের স্যাটেলাইটের মাধ্যমে অল্প খরচে টেলিভিশন চালাতে পারে সেজন্য কথা চলছে। আর ভালো অনুষ্ঠান যারা করবে, মানুষ তাদের দেখবে। আমাদের দেশে ১৬ কোটি মানুষ, সুতরাং গ্রাহক কখনো কমবে না। তিনি বলেন,ওয়েজ বোর্ডের ব্যাপারে সরকারের যা করণীয়, তা সরকার করেছে, বাকিটা মালিকপক্ষের, সেখান থেকে সাংবাদিকরা যা আদায় করে নিতে পারেন, সেটা তাদের ব্যাপার।
সরকারের এই মেয়াদের একশো দিন নিয়ে সিপিডির বক্তব্যের জেরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একশো দিনে উল্লাস নাই, উচ্ছ্বাস নাই, হেন নাই, তেন নাই অনেকে বলে। আসলে যারা সবসময় নিরানন্দে ভোগে তারা তো উচ্ছ্বাস-উল্লাস দেখবেই না। আর এখানে উচ্ছ্বাস-উল্লাসের কি আছে আমি বুঝলাম না? আমি ১০০দিন টার্গেট করে কিছু বলিনি। কিন্তু তারপরও প্রবৃদ্ধি ৮ ভাগ এনেছি। গ্রাম বাংলায় একটা কথা আছে, গেল গেল আমার মুরগি গেল, আমি শিয়ালটা তো চিনে রাখলাম। যাই হোক, এটা আবার অন্যভাবে লিখেন না। গ্রাম্য প্রবাদ সেই হিসাবে বললাম। চিনি আমি সবাইকে। আমার অচেনা কেউ না। সব থেকে প্রবীণ কিন্তু এখানে আমি, এইটুকু মনে রাখেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন,আমরা একটা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে আছি। এই শান্তিপূর্ণ পরিবেশটাই যেন বজায় থাকে। তার জন্য আমার মনে হয় গণমাধ্যমেরও অনেক দায়িত্ব আছে। আপনারা সেই দায়িত্বটা যথাযথ পালন করবেন, সেটাই আমরা চাই।
দেশে যে উন্নয়ন হচ্ছে সেটা আপনারা নিজেরাই উপলব্ধি করতে পারেন, দেখতে পারেন। তবে মনে রাখবেন বাংলাদেশের দূর্ভাগ্য হলো, দেশ যখন খুব ভালো অবস্থায় যায়, তখনি কিন্তু আঘাতটা আসে। জাতির পিতাকে যখন হত্যা করা হলো, তখন কিন্তু তিনি যুদ্ধবিধস্ত দেশ গড়ে মাত্র তিন বছরের মধ্যে ৭ ভাগ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছিলেন। আর আমরা এখন আটের ঘরে পৌঁছে গেছি। এই বছরে ৮.১৩ ভাগ প্রবৃদ্ধি অর্জন হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সকলে তো আর এটা নিতে পারবে না, ষড়যন্ত্র তখন হবে। আর রাজনৈতিক দল হিসাবে প্রত্যেকটি দলের স্বকীয়তা আছে, স্বাধীনতা আছে সিদ্ধান্ত নেয়ার। দেশের জনগণের কল্যাণ করার জন্য আওয়ামী লীগই যথেষ্ট। আওয়ামী লীগই করবে। আর কেউ করে নাই, করবেও না।
এটাও আমার মনে হয় দেশবাসীর ভাবা উচিত। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় না আসা পর্যন্ত কিন্তু এ দেশের উন্নতি হয়নি। কোনো মানুষের উন্নতি হয়নি। আগে প্রত্যেকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে কি হতো প্রশ্ন রেখে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেখানে তো প্রতিনিয়ত গোলাগুলি আর বোমার আওয়াজ পাওয়া যেত। আমরা সেটাও বন্ধ করেছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দুইটার পরে কোনো ক্লাসই হতো না। এখন তো সন্ধ্যাতেও ক্লাশ হয়। আমরা পড়াশোনার ওপরে গুরুত্ব দিয়েছি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ইসলাম ধর্ম বিশ্বাস করি। আমরা জঙ্গিবাদ পছন্দ করি না। বাংলাদেশের অন্য ধর্মের লোকেরা সবচেয়ে ভালো আছে। সব ধর্মের লোকেরা মিলেমিশে আমরা বসবাস করছি। খ্রিস্টানদের সম্পর্কে গণমাধ্যমে যা লেখা হয়েছে তা সঠিক নয়। তারা সবচেয়ে বেশি নিরাপদে আছে।
আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বে কে আসবেন তা দল ঠিক করবে বলে জানান দলটির সভাপতি শেখ হাসিনা। তিনি বলেন,আমি একসময় অবসরে চলে যাবো। তখন দলে নতুন নেতৃত্ব আসবে। তবে কে নেতৃত্বে আসবেন তা ঠিক করবে দল। আওয়ামী লীগ ঠিক করবে দলের নেতৃত্ব দেবেন কে। সেটা আমি ঠিক করবো না। গঠনতন্ত্র আমাকে সে ক্ষমতা দেয়নি। আওয়ামী লীগকে ঢেলে সাজানোর ব্যাপারে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,তৃণমূল থেকে দলকে সম্মেলনের মাধ্যমেই ঢেলে সাজাতে হবে। একেকটি সম্মেলন আয়োজন করতে অনেক খরচাপাতি আছে। আয়োজনের ব্যাপার আছে। সামনে সম্মেলন হবে। কখনও কেউ আসে, কেউ চলে যায়, রাজনীতিতে এটা হয়। দলকে ডিজিটাল করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন,তৃণমূল থেকে শুরু করে দলের সবকিছু ডাটাবেজ করা হবে। আমি অবসর নিয়ে টুঙ্গিপাড়ায় চলে গেলেও সুইচ টিপে সব তথ্য পাবো। প্রধানমন্ত্রী বলেন,আমার ৭২ বছর বয়সের ৬০ বছরই কেটেছে রাজনীতিতে। স্কুল থেকে রাজনীতি শুরু করেছি এখনো অব্যাহত আছে।
রাজনীতিতে কে কী করেছে অনেক ঘটনা চোখে দেখেছি। আরেক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,বাইরে থেকে আওয়ামী লীগে এসে কারা সুবিধা লুটছে বা অনুপ্রবেশ ঘটেছে এর একটা তালিকা যদি আপনারা দিতে পারেন তাহলে ভালো হয়। আর মন্ত্রিসভায় যারা আছেন তারা যদি কেউ দুর্নীতি করে তাহলে তথ্য-প্রমাণসহ আমাকে দেবেন, আমি ব্যবস্থা নেব। ফাঁকা কথা বলে কোনো কাজ হবে না। একুশ বছর ক্ষমতার বাইরে থাকার পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসেছিল। তিনি প্রশ্নকারী সাংবাদিককে উল্টো প্রশ্ন করে বলেন, আওয়ামী লীগ নেতাদের ছেলে- মেয়েদের কি ভালো থাকার অধিকার নেই?
প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন,আপনারা একটু চোখ মেলে দেখেন। ২০০৮ সালের আগে বাংলাদেশের কী অবস্থা ছিল। আর এখন কোন অবস্থায় আছে। সূচকগুলো দেখুন। গ্রামের মানুষ কেমন আছে। অবশ্য আমরা জিয়াউর রহমানের মতো এলিট শ্রেণি তৈরি করতে পারিনি। কারণ আওয়ামী লীগের নীতি সেটা না। আওয়ামী লীগ শহরের এবং গ্রামের উন্নয়ন সমানভাবে করে। একবার চিন্তা করে দেখুন কোন জায়গার বাংলাদেশকে কোথায় নিয়ে গেছি। আন্তর্জাতিকভাবেও বাংলাদেশ একটা সম্মানজনক অবস্থায় আছে।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1372)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
-
▼
2019
(6282)
-
▼
April
(369)
-
▼
Apr 27
(10)
- জামায়াত ত্যাগীদের নতুন দল: ‘আদর্শভিত্তিক নয়, মুখ্য...
- আরও ১১ বছর থাকার টিকিট পেলেন সিসি
- জামায়াত ত্যাগীদের নতুন দল: নতুন গণশক্তি উত্থানের জ...
- বিজেপির নির্বাচনি কৌশলে পরাস্ত ভারতের বিরোধীরা by ...
- প্রেসক্রিপশন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক নয়
- নিরাশ হবেন না -ড. কামাল হোসেন
- কথিত বাংলাদেশী অভিবাসী ইস্যুতে উত্তপ্ত ভারতের সুপ্...
- সঞ্চয়পত্রের সুদের হারে পরিবর্তন হবে না -অর্থমন্ত্রী
- সরকারের ১০০ দিন উদ্যম উদ্যোগহীন -সিপিডি’র মূল্যায়ন
- তারা স্বেচ্ছায় শপথ নিয়েছেন -গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে ...
-
▼
Apr 27
(10)
-
▼
April
(369)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...