Saturday, January 30, 2010

এভাবে বাড়ুক কাজের সময় by মুনির হাসান

দিন দশেক আগে মোবাইল ফোনে একটি এসএমএস/খুদে বার্তা পেয়েছি। আমার বাসার ডিসেম্বর মাসের বিদ্যুত্ বিল তৈরি হয়েছে এবং তার পরিমাণ। প্রতি মাসে আমি এ মেসেজটি পাই, যা আমাকে বিদ্যুত্ বিল পরিশোধের কথা মনে করিয়ে দেয়। দেশজুড়ে হতে থাকা ডাচ্-বাংলা ব্যাংক-প্রথম আলো গণিত উত্সবের কারণে জানুয়ারি মাসে আমি প্রায় দৌড়ের ওপর থাকি। ফলে, বিদ্যুত্ বিলের কথা ভুলেই গিয়েছিলাম। কিন্তু ২৫ তারিখ সকালে বাসা থেকে অফিসে আসার সময় আমার মোবাইল ফোনে একটা খুদে বার্তা এল যে আমার ডিসেম্বর মাসের বিদ্যুত্ বিল এখনো দেওয়া হয়নি এবং ওই দিনই হলো আমার বিল দেওয়ার শেষ দিন। ততক্ষণে আমি বাসা থেকে বের হয়ে পড়েছি। ফলে বিদ্যুত্ বিলটি আমার পক্ষে আনা সম্ভব ছিল না। কিন্তু আমি খেয়াল করলাম, খুদে বার্তাটিতে বিল পরিশোধের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্যগুলো অর্থাত্ ডিপিডিসি, আমার গ্রাহক নম্বর, বিল নম্বর এবং বিলের পরিমাণ উল্লেখ ছিল। ২০০৯ সালের মার্চ মাস থেকে আমি আমার মোবাইল ফোন থেকে বিদ্যুত্ আর গ্যাসের বিল পরিশোধ করি। কাজেই আমি ওই দিন গাড়িতে বসে বিদ্যুত্ বিল পরিশোধ করে ফেললাম!
তথ্যপ্রযুক্তি এভাবে আমাদের জীবনযাত্রাকে বদলে দিচ্ছে। কাজের সময়ও বাড়িয়ে দিচ্ছে। বছর কয়েক আগে, বুয়েটে থাকার সময় আমি মাসে একবেলা ছুটি নিয়ে পরিষেবা বিল পরিশোধ করতে তিনটি ব্যাংকে ছুটতাম! এখন আমি ঘরে বসেই বিলগুলো দিতে পারছি। এ যেন ‘প্রযুক্তির ব্যবহার যত বেশি হয়, কাজের সময় বাড়ে, কমে আসে নষ্ট সময়’।
বছর কয়েক আগে বিশ্বব্যাংকের তরফ থেকে একটি জরিপ করা হয়েছিল সরকারের কোন সেবাটি লোকে ডিজিটালাইজেশন চায় তার ওপর। সেখানে ৫০টি সেবাকে চিহ্নিত করা হয়। এর মধ্যে এক নম্বরে ছিল পরিষেবা বিল পরিশোধে ভোগান্তির অবসান! কেবল যে দিন নষ্ট হয় তা নয়, ভয় থাকে প্রতারিত হওয়ারও। ঢাকার একটি অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সে, শুনেছি উদ্ভাবনী কেয়ারটেকার এক বছরের বিদ্যুত্ বিল তছরুপ করে কেটে পড়েছে। সেই কেয়ারটেকার নিজেই ব্যাংকের সিল/ছাপ্পড় বানিয়ে নিয়েছিল! বড় বড় কমপ্লেক্সগুলোর আরও ভয় আছে। ৫০ বা তার বেশিসংখ্যক ফ্ল্যাটের বেলায় এক মাসের বিলের পরিমাণ লক্ষাধিক টাকার বেশি হতে পারে। সশরীরে ব্যাংকে এত টাকা বহন করে নিয়ে যাওয়া মোটেই সাহসের কাজ নয়!
কিন্তু তথ্যপ্রযুক্তি আমাদের এই দিনগুলোকে বদলে দিতে পারে, যেমনটি দিয়েছে আমার সকালটিকে। বর্তমানে দেশের কয়েকটি শহরে গ্যাস, বিদ্যুত্ এবং চট্টগ্রামে পানির বিল পরিশোধের ব্যবস্থা চালু হয়েছে, আরও কিছু চালু হবে অচিরে। মোবাইল ফোন ছাড়া অপারেটরদের দোকান থেকেও এখন বিল পরিশোধ করা যায়, যেকোনো সময়, রাতের বেলায়। কিন্তু দেখা যাচ্ছে অনেকে এ ব্যবস্থা গ্রহণ করেন না। অনেকেই মনে করেন যে মোবাইল ফোনে বা ইন্টারনেটে বিল পরিশোধ করাটা বিপজ্জনক। অথচ, আপনি যেভাবেই বিল পরিশোধ করুন না কেন, পরের মাসের বিলে আপনি তার হিসাব পাবেন। যখন ব্যাংকে নগদ টাকায় বিল পরিশোধ করা হয়, তখন ব্যাংক থেকে একটি কাগজ বিদ্যুত্ অফিসে যায়। সেখানে কম্পিউটারে এন্ট্রি দেওয়ার পরই কেবল গ্রাহকের হিসাব হালনাগাদ হয়। সে কারণে অনেক সময় বিল পরিশোধ করা সত্ত্বেও পরের মাসে বকেয়া বিল দেখানো হয়। কারণ, কম্পিউটারের ডেটাবেইস তথ্য হালনাগাদ না-হওয়া। কিন্তু মোবাইল ফোন বা ইন্টারেনেটে বিল পরিশোধ করলে তা সঙ্গে সঙ্গে পরিষেবা দপ্তরের কম্পিউটার ডেটাবেইসকে হালনাগাদ করে। ফলে সে রকম কোনো ভুলের আশঙ্কা থাকে না। আবার অনেকে ভাবেন যে একটি কাগজের রসিদ দরকার! অথচ, তাঁরা নিজেরাই যখন একই দোকান থেকে মোবাইল ফোনে টাকা ভরেন তখন কিন্তু কোনো রসিদ দাবি করেন না! এটি আমাদের পুরোনো ধ্যান-ধারণা পরিত্যাগ করতে না পারার একটি উদাহরণ। যদিও উভয় ক্ষেত্রে নেপথ্যের ঘটনাগুলো একই।
কেবল বিভিন্ন বিল পরিশোধে নয়, এবারে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি-প্রক্রিয়ায় মোবাইল ফোনকে ব্যবহার করা হয়েছে একই কায়দায়। ফলে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীরা যখন রাস্তা অবরোধ করেছেন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা টিএসসির সামনে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেছেন, তখন শাবিপ্রবিতে ভর্তি হতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থী মনোনিবেশ করেছেন তাঁর পাঠে। কারণ, তাঁর এই সমগ্র প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে ১০ মিনিট সময়ও ব্যয় হয়নি, তাঁকে যেতে হয়নি শাবিপ্রবিতে দুইবার—একবার ফরম আনার জন্য আরেকবার জমা দেওয়ার জন্য। আমি দেখেছি, ঈদের দিন রাত দুইটার সময় শিক্ষার্থীরা মুঠোফোনে তাঁদের রেজিস্ট্রেশন-প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন। এই যে ১৬ হাজার শিক্ষার্থী ও তাঁদের অভিভাবকদের দুইবার সিলেটে আসা-যাওয়া করতে হলো না, তাতে আমাদের কত কার্বন নিঃসরণ কম হয়েছে? এই ১৬ হাজার শিক্ষার্থী অহেতুক কোনো কাগজ ফটোকপি করেননি। এতে কত গাছ বেঁচেছে? তিনবারের জায়গায় মাত্র একবার যেতে হয়েছে বলে এবার শাবিপ্রবিতে ভর্তি হতে ইচ্ছুক মেয়েদের সংখ্যা হয়েছে বেশি! এভাবে তথ্যপ্রযুক্তির নানা উদ্যোগ আমাদের নষ্ট সময়গুলোকে কাজের সময়ে পরিণত করতে পারে।
কেবল বিল পরিশোধ বা ভর্তিপ্রক্রিয়া নয়, প্রায় সব ক্ষেত্রে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যাপক এবং উদ্ভাবনী প্রয়োগ আমাদের নষ্ট সময়গুলোকে কাজের সময়ে পরিণত করতে পারে। ডিজিটাল বাংলাদেশকে সামনে রেখে এমন অনেক উদ্যোগ আমরা এখন দেখছি। তবে, এগুলোর পাশাপাশি আমাদের নিজেদের ধ্যান-ধারণাও পাল্টাতে হবে। কারণ, যে চিন্তা আমাদের সব সময় কাগজের রসিদ দাবি করতে প্ররোচিত করে, সেটি শেষ বিচারে বদলের পক্ষে নয়। দিনবদলের তো নয়।
মুনির হাসান::সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটি

মিয়ানমারে অস্ত্রসহ ১১ সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার

মিয়ানমারে অস্ত্র, গোলাবারুদসহ ১১ সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। চলতি বছর দেশটিতে অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি উদ্ধৃত করে দেশটির রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত সংবাদপত্র দ্য নিউ লাইট অব মিয়ানমার গতকাল বৃহস্পতিবার জানায়, সন্ত্রাসীরা দেশের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করছে। আটক এই দল বিস্ফোরক বিষয়ে থাইল্যান্ডে এবং ছোট অস্ত্র বিষয়ে কারেন বিদ্রোহীদের ক্যাম্পে বিশেষ প্রশিক্ষণ নেয়।
ইয়াঙ্গুনের উত্তরাঞ্চলে দেশটির প্রধান শিল্পাঞ্চল এলাকা মিঙ্গালাদোন থেকে গত সপ্তাহে তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে বিস্ফোরক, একটি পিস্তল ও বিস্ফোরক তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। দলটির বিরুদ্ধে ইয়াঙ্গুনের বিভিন্ন স্থানে সাতটি কারখানায় বোমা হামলা চালানোর অভিযোগ আছে।

সন্তু লারমার গাড়িবহরে হামলা

পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সভাপতি ও আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় (সন্তু) লারমা ও বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক বিশেষ সহকারী রাজা দেবাশীষ রায়ের গাড়িবহরে গত বুধবার যে হামলার ঘটনা ঘটেছে, তা এককথায় কাপুরুষোচিত। রাঙামাটি থেকে খাগড়াছড়ি যাওয়ার পথে দফা হামলার ঘটনায় সন্তু লারমাকে বহনকারী গাড়ির কাচ ভেঙে যায়, সন্তু লারমাসহ কয়েকজন আঘাত পান। আমরা এ হামলার নিন্দা জানাচ্ছি এবং দায়ী ব্যক্তিদের অবিলম্বে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।
যাঁরা পার্বত্য চট্টগ্রামের রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে চান, তাঁরা পরিকল্পিতভাবে এমন ঘটনা ঘটিয়েছেন, তা নির্দ্বিধায় বলা যায়। পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সরকারের সঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির চুক্তি স্বাক্ষরে সন্তু লারমা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। চুক্তি স্বাক্ষরের পর থেকে তিনি চুক্তি বাস্তবায়নের দাবিতে সোচ্চার রয়েছেন। হামলার সময়ও তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের বৈঠকে যোগ দিতে খাগড়াছড়ি যাচ্ছিলেন। তাঁর মতো এমন গুরুত্বপূর্ণ একজন ব্যক্তির ওপর হামলা তাই সরকারের বিশেষ মনোযোগ দাবি করে।
হামলার জন্য সন্তু লারমা পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তিবিরোধী সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টকে (ইউপিডিএফ) দায়ী করেছেন। এ অভিযোগ তদন্ত করে অপরাধীদের দ্রুত চিহ্নিত করতে হবে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুটি সংগঠনের মধ্যে যেন নতুন কোনো সহিংসতা সৃষ্টি না হয়, সে জন্য দুই দলের নেতৃত্বকে সতর্ক থাকতে হবে এবং দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে। তাঁদের উপলব্ধি করা উচিত, পাহাড়িদের দুটি সংগঠন নিজেদের মধ্যে সংঘাত ও সহিংসতায় জড়িয়ে পড়লে পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি ও স্থিতিশীলতার বিরোধীদের হাতই শক্তিশালী হবে।
প্রশাসনের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগও করেছেন সন্তু লারমা। এ ক্ষেত্রে কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়িত্বহীনতার দায়ে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তি ও স্থিতিশীলতা যেন কোনোভাবেই হুমকির মুখে না পড়ে, সে জন্য সরকারের পূর্ণ মনোযোগ প্রত্যাশিত

গ্লানিমোচন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা

২৭ জানুয়ারি, ২০১০ দিবাগত রাতে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১২ আসামির পাঁচজনের ফাঁসি কার্যকর হওয়ার মধ্য দিয়ে একটি জাতীয় গ্লানির মোচন ঘটল এবং রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ধারা সূচিত হলো। দীর্ঘ ৩৪ বছর ধরে জাতি এই দিনের অপেক্ষা করেছে।
স্বাধীন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের অধিকাংশ সদস্যের নৃশংস হত্যার বিচার রাজনৈতিক কারণে দীর্ঘ সময় ধরে বাধাগ্রস্ত হয়েছিল। হত্যাকারীদের বিচারের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য দায়মুক্তি (ইনডেমনিটি) অধ্যাদেশ নামের কালাকানুন জারি করা হয়েছিল। শুধু তা-ই নয়, হত্যাকারীদের পুরস্কৃতও করা হয়েছিল বিদেশি মিশনে লোভনীয় পদে চাকরি দিয়ে। এমনকি, পরবর্তী সময়ে তাঁদের কাউকে কাউকে রাজনৈতিক দল গঠন ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। দুর্ভাগ্যের বিষয়, ন্যায়বিচার ও মানবতাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল রাষ্ট্রীয় ও সরকারি উদ্যোগে।
কিন্তু সংকীর্ণ দলীয় রাজনৈতিক স্বার্থ ও গোষ্ঠীস্বার্থের বিপরীতে বাংলাদেশের আপামর জনসাধারণ সব সময় কামনা করেছে বঙ্গবন্ধু হত্যার সুষ্ঠু বিচার। সেই প্রক্রিয়া শুরু হতে অপেক্ষা করতে হয়েছিল দীর্ঘ ২১ বছর: ১৯৯৬ সালের সাধারণ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ জয়ী হয়ে সরকার গঠন পর্যন্ত। মামলা দায়ের, আসামিদের কয়েকজনের গ্রেপ্তার ও বিচার-প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে যাওয়ার পরও মাঝখানে সরকার পরিবর্তনের ফলে ছেদ পড়ে আবার। ২০০১ সালে নির্বাচিত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের পুরোটা আমল বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা ঝুলে থাকে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচিত, আইনের শাসনের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ কোনো সরকার জাতির জন্য এমন গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়কে এভাবে পাশ কাটিয়ে বা অনিষ্পন্ন রেখে দিতে পারে—এটা সত্যিই ছিল দুর্ভাগ্যজনক।
তবে অনেক দেরিতে হলেও বিচার সম্পন্ন হয়েছে, দণ্ডাদেশ কার্যকর হয়েছে—এটা জাতির জন্য স্বস্তির বিষয়। বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার একটি উল্লেখযোগ্য দিক হচ্ছে এটি হয়েছে দেশের প্রচলিত সাধারণ আইনে, কোনো বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে তড়িঘড়ি আসামিদের ফাঁসি দেওয়ার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এই দৃষ্টান্ত বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া সব রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের বিচারের ক্ষেত্রে এক উজ্জ্বল অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
দু-একটি রাজনৈতিক মহল মনে করে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হত্যাকাণ্ড ছিল বাংলাদেশকে কথিত একদলীয় স্বৈরশাসন থেকে মুক্ত করার একটি ঐতিহাসিক উদ্যোগ। এই দৃষ্টিভঙ্গি নিজেই স্বৈরতান্ত্রিক। কারণ, একতরফা বলপ্রয়োগ ও রক্তপাতই এর নির্ধারিত পন্থা, যা শেষ বিচারে একটি ভুল পন্থা। এই পথে গণতন্ত্র আসে না, মানুষের মুক্তির কথা বলাই বাহুল্য। বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক শক্তিকে আজ মনেপ্রাণে মেনে নিতে হবে গণতান্ত্রিক পথেই গণতন্ত্র আসে, বলপ্রয়োগ বা রক্তপাতের পথে নয়। ভবিষ্যতে আর কোনো রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড নয়, সংবিধানবহির্ভূত কোনো পন্থা নয়—এই অঙ্গীকার করতে হবে সব রাজনৈতিক শক্তিকে।
বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার রায় কার্যকর হওয়ার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ সত্যিকার অর্থে আইনের শাসনের যুগে প্রবেশ করুক। স্বস্তি ও শান্তি দীর্ঘজীবী হোক।

জাপানের প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার হুমকি দিয়ে গুলিসহ চিঠি

জাপানের প্রধানমন্ত্রী ইউকিও হাতোইয়ামাকে গতকাল বৃহস্পতিবার হত্যার হুমকি দিয়ে গুলিসহ একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক দল ডিপিজের সেক্রেটারি জেনারেলের কাছেও হত্যার হুমকি দিয়ে গুলিসহ চিঠি পাঠানো হয়। পুলিশ এ তথ্য জানিয়েছে। খবর এএফপির।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো চিঠিটি এক্স-রে যন্ত্রে পরীক্ষা করলে গুলি থাকার বিষয়টি ধরা পড়ে। কার্যালয়ের মুখপাত্র মন্ত্রিপরিষদের উপপ্রধান ইওরিহিসা মাতসুনোর বরাত দিয়ে বলেছেন, চিঠিটি না খুলে তা সরাসরি পুলিশের কাছে পাঠানো হয়। পুলিশ চিঠিটি খুলে তাতে গুলি থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করে।
টোকিও পুলিশের মুখপাত্র বলেছেন, হাতোইয়ামার বামপন্থী দল ডেমোক্রেটিক পার্টি অব জাপানের (ডিপিজে) মহাসচিব ইচিরো ওজাওয়ার কার্যালয়েও চিঠি পাঠানো হয়েছে। এই চিঠিতেও গুলি ছিল। তা ছাড়া এই চিঠিতে ‘মৃত্যু’ ও ‘দ্য টার্গেট ইজ ওজাওয়া’ লেখা রয়েছে। তবে এসব চিঠি কে বা কারা পাঠিয়েছে অথবা কী উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়েছে, সে সম্পর্কে কিছু জানা যায়নি।
গত সেপ্টেম্বরে হাতোইয়ামার সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর এ ধরনের হত্যার হুমকিসংবলিত আরও বেশ কয়েকটি চিঠি পাঠানো হয়। এর আগে ইচিরো ওজাওয়ার কার্যালয় ও বাড়ি, ক্ষমতাসীন দল ডিপিজের প্রধান কার্যালয় এবং টেলিভিশন চ্যানেল আসাহির কার্যালয়ে গুলিসহ চিঠি পাঠানো হয়।
রক্ষণশীলদের ৫০ বছরের শাসনের পর গত বছর ক্ষমতায় আসে হাতোইয়ামার নেতৃত্বাধীন বামপন্থী দল ডিপিজে।

১৫ বছর পর্যন্ত আন্তর্জাতিক সহায়তা প্রয়োজন আফগানিস্তানের: কারজাই

আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, গতকাল বৃহস্পতিবার আফগানিস্তানের ১৫ বছর পর্যন্ত আন্তর্জাতিক সহায়তা প্রয়োজন হবে। আফগানিস্তানের ভবিষ্যত্ নিয়ে লন্ডনে ৭০ জাতির আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আগে তিনি এ কথা বলেন। তালেবান যোদ্ধাদের স্বাভাবিক জীবনে আনার লক্ষ্যে একটি পরিকল্পনা নিয়ে সম্মেলনে আলোচনা হবে। তবে তালেবান জঙ্গিরা ওই পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করে দিয়েছে।
আফগান প্রেসিডেন্ট কারজাই বলেন, আফগান নিরাপত্তা বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য এবং অস্ত্রসজ্জিত করতে পাঁচ থেকে ১০ বছর যথেষ্ট। কিন্তু নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনীকে প্রতিপালনের মতো অর্থনৈতিকভাবে সামর্থ্যবান হতে আফগানিস্তানকে ১০ থেকে ১৫ বছর সহায়তা দিয়ে যেতে হবে।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউন আফগানিস্তানের কয়েকটি প্রদেশের নিরাপত্তার দায়িত্ব ধীরে ধীরে আফগান বাহিনীর কাছে হস্তান্তরের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি বলেন, তাঁদের কৌশল হচ্ছে আফগান জনগণকে যথেষ্ট শক্তিশালী হতে সহায়তা করা, যাতে তাঁরা নিজেরাই নিজেদের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিতে পারেন। তাঁদের নিরাপত্তার দায়িত্ব যেন অন্য দেশকে না নিতে হয়।
ব্রিটিশ কর্মকর্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, প্রদেশগুলোর নিরাপত্তার দায়িত্ব ধীরে ধীরে হস্তান্তরের কাজ ১২ থেকে ৩৬ মাসের মধ্যে শুরু হতে পারে।
তালেবান জঙ্গিদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে ৫০ কোটি ডলারের একটি প্রকল্পের প্রতি সমর্থন আদায়ের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন প্রেসিডেন্ট কারজাই।

উত্তর কোরিয়ার আবার গোলা নিক্ষেপ, যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ

উত্তর কোরিয়া দ্বিতীয় দিনের মতো গতকাল বৃহস্পতিবার দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে বিতর্কিত সমুদ্রসীমায় গোলা নিক্ষেপ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র এ ধরনের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধের আহ্বান জানালেও পিয়ংইয়ং তা গ্রাহ্য করেনি।
দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ বলেছেন, উত্তর কোরিয়া গতকাল স্থানীয় সময় সকাল আটটা ১৫ মিনিটে উপকূলবর্তী ঘাঁটি থেকে গোলা ছুড়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার ইয়নপিয়ংয়ের দ্বীপের কাছে এগুলো পড়লেও সে দেশের সমুদ্রসীমায় পড়েনি।
এর আগে গত বুধবার উত্তর কোরিয়া দুই দেশের বিতর্কিত সমুদ্রসীমা অঞ্চলে ৮০টিরও বেশি গোলা নিক্ষেপ করে। জবাবে দক্ষিণ কোরিয়াও ১০০টি গোলা নিক্ষেপ করে। এসব গোলায় ক্ষয়ক্ষতি অথবা হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি। তবে কোরীয় উপদ্বীপে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।
সিউল গোলা নিক্ষেপের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে এ ঘটনাকে পিয়ংইয়ংয়ের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড বলে অভিহিত করেছে। তবে পিয়ংইয়ং বলছে, নিয়মিত সামরিক মহড়ার অংশ হিসেবে তারা গোলা নিক্ষেপ করেছে।
উত্তর কোরিয়া বিতর্কিত সমুদ্রসীমা অঞ্চলে নৌযান চলাচল নিষিদ্ধ (নো সেইল জোন) ঘোষণার দুই দিনের মাথায় গত বুধবার গোলা নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। গতকালও এ ঘটনার পুনরাবৃত্তি করে পিয়ংইয়ং।
মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ফিলিপ ক্রাউলি উত্তর কোরিয়ার নো সেইল জোন ঘোষণা এবং গোলা নিক্ষেপের ঘটনাকে উসকানিমূলক তত্পরতা বলে অভিহিত করেছেন।
১৯৫০-৫৩ সালের কোরীয় যুদ্ধের পর জাতিসংঘ দুই দেশের সমুদ্রসীমা নির্ধারণ করে দেয়। কিন্তু পরবর্তী সময়ে উত্তর কোরিয়া জাতিসংঘের এই সমুদ্রসীমা নির্ধারণ অস্বীকার করে আরও দক্ষিণে তার সীমা সম্প্রসারণের দাবি জানায়। এ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে বহুদিন ধরে উত্তেজনা চলে আসছে।
২০০৯ সালের নভেম্বরে দুই দেশের নৌবাহিনীর মধ্যে খণ্ডযুদ্ধ হয়। এতে উত্তর কোরিয়ার একজন নাবিক নিহত এবং আরও তিনজন আহত হন। এ ছাড়া ১৯৯৯ ও ২০০২ সালেও দুই দেশের মধ্যে খণ্ডযুদ্ধ হয়।
দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক কর্মকর্তারা বলেছেন, তাঁদের কাছে তথ্য আছে, উত্তর কোরিয়ার সামরিক মহড়া আজ শুক্রবার পর্যন্ত চলবে।
বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, উত্তর কোরিয়া এ অঞ্চলে উত্তেজনা সৃষ্টি করে এটাই বোঝাতে চাইছে যে কোরীয় উপদ্বীপে শান্তিচুক্তি জরুরি হয়ে পড়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার পত্রিকা কোসুন ইলবো বলেছে, উত্তর কোরিয়া নর্দার্ন লিমিট লাইনে (এনএলএল) গোলা নিক্ষেপ করলে পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করবে না বলে সিউল সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তা ছাড়া দক্ষিণ কোরিয়া আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণেরও চিন্তাভাবনা করছে বলে পত্রিকাটি জানায়।

ডোমিনিকান রিপাবলিকে গেলেন জেলায়া

 হন্ডুরাসের ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট ম্যানুয়েল জেলায়া গত বুধবার ডোমিনিকান রিপাবলিকে নির্বাসনে গেছেন। দেশটির নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট পোরফিরিও লোবো ও ডোমিনিকান রিপাবলিকের প্রেসিডেন্ট লিওনেল ফার্নান্দেজের মধ্যকার এক চুক্তি অনুযায়ী জেলায়া নির্বাসনে গেলেন। একই দিন হন্ডুরাসের প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন লোবো।
ডোমিনিকান রিপাবলিকের প্রেসিডেন্টের বিশেষ বিমানে করে দেশ ছাড়েন জেলায়া। বিমানে চড়ার আগে বিমানবন্দরে জড়ো হওয়া কয়েক হাজার সমর্থকের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমরা আবার ফিরব।’ এ সময় সমর্থকেরা বিভিন্ন প্লাকার্ড ও ব্যানার বহন করছিল।
গত ২৮ জুন এক অভ্যুত্থানে জেলায়াকে ক্ষমতাচ্যুত করে নির্বাসনে পাঠায় হন্ডুরাসের সামরিক বাহিনী। সেপ্টেম্বরে তিনি গোপনে দেশে ফিরে রাজধানী তেগুচিগালপার ব্রাজিল দূতাবাসে আশ্রয় নেন। গত কয়েক মাস ওই দূতাবাসে তাঁকে অবরুদ্ধ করে রাখে দেশটির অন্তর্বর্তী সরকার। তাঁর ওপর গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। অবশেষে নতুন প্রেসিডেন্ট লোবোর প্রস্তাব মেনে নির্বাসনে যেতে রাজি হওয়ায় ওই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তুলে নেওয়া হয়।
ডোমিনিকান রিপাবলিকের স্যান্টো ডোমিঙ্গোতে অবতরণের পর জেলায়া সে দেশের নাগরিকদের ধন্যবাদ জানান।

পুনর্নির্বাচিত হওয়াই সব সমালোচনার উচিত জবাব: রাজাপক্ষে

শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপক্ষে বলেছেন, তামিল বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ-কৌশল নিয়ে যারা তাঁর সমালোচনা করেছিল, প্রেসিডেন্ট হিসেবে তাঁর পুনর্নির্বাচিত হওয়াই এই সমালোচনার উচিত জবাব। এদিকে রাজাপক্ষের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক সেনাপ্রধান শরত ফনসেকা হামলার ভয়ে আত্মগোপন করেছেন বলে জানা গেছে। এএফপি।
মঙ্গলবারের নির্বাচনে ৫৭ দশমিক ৯ শতাংশ ভোট পেয়ে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন রাজাপক্ষে। আর ফনসেকা পান ৪০ দশমিক ১ শতাংশ ভোট।
গত বছর তামিল টাইগারদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত যুদ্ধে রাজাপক্ষের যুদ্ধ-কৌশল নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয় তাঁর নিজের দেশে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে। যুদ্ধে তামিল জনগণকে নির্বাচারে হত্যার অভিযোগ ওঠে। শ্রীলঙ্কা সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ তদন্তের দাবি তোলে জাতিসংঘ ও পশ্চিমা বিশ্ব। তবে শ্রীলঙ্কা সরকার ও সেনাবাহিনী ওই অভিযোগ কানে তোলেনি।
এক বিবৃতিতে রাজাপক্ষে বলেন, ‘নির্বাচনে জনগণের এই বিশাল রায়ই ওই সব সমালোচকের জবাব।’ তিনি বলেন, শ্রীলঙ্কার মানুষ দেখিয়েছে, তারা হুমকিকে ভয় পায় না।
তবে পশ্চিমা সমালোচকদের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের ইঙ্গিতও দিয়েছেন রাজাপক্ষে। নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণার পরপরই বুধবার রাতে তিনি বলেন, ‘মূলত যুদ্ধ নিয়েই আমাদের মধ্যে যত ভুল বোঝাবুঝি। যুদ্ধ শেষ হয়েছে। আমি দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতায় এসেছি। এখন যেকোনো ইস্যুতেই আমরা একসঙ্গে কাজ করতে পারি।’
জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন জানিয়েছেন, নির্বাচনের দিন কিছু সহিংসতা হলেও নির্বাচন মোটামুটি শান্তিপূর্ণ হয়েছে। ফলাফল মেনে নেওয়ার জন্য তিনি বিরোধীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
বান কি মুন বলেন, ‘আমি আশা করছি, জাতীয় স্বার্থে সব পক্ষই সংযম ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেবে। আর সেটি হবে ভবিষ্যত্ নির্বাচন ও জাতীয় ঐক্যের শুভ লক্ষণ।’
তবে ফলাফল ঘোষণার পরপরই তা প্রত্যাখ্যান করেন ফনসেকা। তিনি বলেন, ‘ভোট কারচুপি ও নির্বাচনী আইন লঙ্ঘন করে আমাদের কাছ থেকে জয় ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।’
সাবেক সেনাপ্রধান জানান, তিনি এবং তাঁর পক্ষে সমর্থন দেওয়া রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনী ফলাফল চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করবেন।
তবে বুধবার সন্ধ্যায়ই তিনি জানান, সরকার তাঁর নিরাপত্তা দিচ্ছে না। তাঁর নিরাপত্তায় নিয়োজিত ৮০ সদস্যের নিরাপত্তা দলকেও প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। এতে করে তাঁকে জঙ্গি এবং সরকারি সমর্থকদের হামলার লক্ষ্যে পরিণত হওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে সরকার। বাধ্য হয়ে তাঁকে হয়তো বিদেশে আশ্রয় নিতে হতে পারে।
অপর একটি সূত্রে জানা গেছে, প্রাণ বাঁচাতে প্রতিবেশী দেশের সাহায্যচেয়েছেন শরত্ ফনসেকা। প্রতিবেশী দেশটিকে ভারত বলেমনে করা হচ্ছে। তবে নয়াদিল্লির তরফে এ ব্যাপারে কিছু জানানো হয়নি। বরং প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং ও রাষ্ট্রপতি প্রতিভা পাতিল রাজাপক্ষকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
নির্বাচনের দিন ফনসেকা মূলত একটি হোটেলেই অবরুদ্ধ ছিলেন। হোটেলটি ঘিরে রেখেছিল সেনাসদস্যরা। ফনসেকার এক দেহরক্ষী বুধবার রাতে বলেন, ‘আমরা কলম্বোর একটি বাড়িতে সরে গেছি। তবে সেটা কোথায় তা অবশ্যই বলা যাবে না।’
এদিকে নির্বাচনে জালিয়াতির অভিযোগ তদন্ত এবং পরাজিত প্রার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য শ্রীলঙ্কা কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে কলম্বোর মার্কিন দূতাবাস।

দেশে দ্য অ্যাসোসিয়েশন অব চার্টার্ড সার্টিফায়েড অ্যাকাউন্ট্যান্টস (এসিসিএ) নামে একটি হিসাবরক্ষণ সংস্থার যাত্রা শুরু হয়েছে।
ঢাকার গুলশানের ওয়েস্টিন হোটেলে গত বুধবার এসিসিএর নতুন অফিসের উদ্বোধন করা হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে অফিসটির উদ্বোধন করেন বাণিজ্যমন্ত্রী ফারুক খান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আকবর আলি খান, বাংলাদেশে ব্রিটিশ হাইকমিশনার স্টিফেন ইভানস ও ব্রিটিশ কাউন্সিলের পরিচালক চার্লস নাটাল। এতে স্বাগত বক্তব্য দেন এসিসিএ বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর মহুয়া রশীদ।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে এসিসিএ যুক্তরাজ্যের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর অব মার্কেটস লরি গিলো এবং বিভিন্ন হিসাবরক্ষণ সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
ফারুক খান দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে পেশাদার জনশক্তি তৈরিতে এসিসিএ বাংলাদেশে সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
মহুয়া রশীদ বলেন, বাংলাদেশের প্রায় পাঁচ হাজার শিক্ষার্থী এসিসিএ পড়ছেন। তাঁরা ব্রিটিশ কাউন্সিলের অধীনে পরীক্ষায় অংশ নেন। এসব শিক্ষার্থীকে সঠিক দিকনির্দেশনা দিতেই এসিসিএ বাংলাদেশে অফিস চালু করেছে।
লরি গিলো বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে সহায়তা করতে ও কর্মক্ষেত্রে পেশাদার অ্যাকাউন্ট্যান্ট তৈরিতে এসিসিএ ভূমিকা রেখে চলেছে।
উল্লেখ্য, বর্তমানে বিশ্বের ১৭০টি দেশে এসিসিএর এক লাখ ৩১ হাজার ৫০০ সদস্য এবং তিন লাখ ৬২ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছেন। সরকারি-বেসরকারি ও উন্নয়ন সংস্থাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের হিসাবসম্পর্কিত কাজের মাধ্যমে স্বচ্ছতা ও মূল্যবোধ সৃষ্টির প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে এসিসিএ

দেশের দুটি শেয়ারবাজারে ১,৭০০ কোটি টাকার বেশি লেনদেন

দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জে সম্মিলিত লেনদেনের পরিমাণ এবার এক হাজার ৭০০ কোটি টাকার মাইলফলক ছাড়িয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুই স্টক এক্সচেঞ্জে যৌথভাবে লেনদেন হয়েছে এক হাজার ৭০৪ কোটি টাকা।
এর মধ্যে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) এককভাবে লেনদেন হয়েছে এক হাজার ৫৮১ কোটি টাকার শেয়ার। এটি ডিএসইর ইতিহাসে এক দিনে সর্বোচ্চ লেনদেন। এর আগে গত বুধবার ডিএসইতে এক হাজার ৫১৭ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছিল।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) গতকাল ১২২ কোটি ৫৪ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। তবে ওই বাজারে এক দিনের সর্বোচ্চ লেনদেনের আগের রেকর্ডটি অক্ষুণ্ন রয়েছে। এর আগে সিএসইতে এক দিনে সর্বোচ্চ ১৬৫ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছিল।
শুধু লেনদেন নয়, উভয় স্টক এক্সচেঞ্জের মূল্য সূচকও আগের দিনের তুলনায় বেড়েছে। ডিএসইর সাধারণ মূল্য সূচক প্রায় ৮০ পয়েন্ট বেড়ে পাঁচ হাজার ৩৯০ পয়েন্ট ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে গ্রামীণফোনের কারণেই সূচক বেড়েছে প্রায় ৪৫ পয়েন্ট।
ডিএসইর হিসাব অনুযায়ী, কোম্পানিটির শেয়ারের দাম এক টাকা বাড়লে সূচক বাড়ে সাড়ে তিন পয়েন্ট। গতকাল দিনশেষে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম ১৩ টাকা বেড়েছে।
সিএসইর সার্বিক মূল্য সূচক ২৯১ পয়েন্ট বেড়ে ১৫ হাজার ৬৭৭ পয়েন্ট ছাড়িয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, কয়েক দিন ধরে এমনিতেই শেয়ারবাজারে মূল্য সূচক ও লেনদেন বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত ছিল। এর ওপর গতকাল বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত পাঁচ খুনির ফাঁসির রায় কার্যকর হওয়ার খবর বাজারকে আরও উত্তাপ জুগিয়েছে।
তবে তাঁরা বলছেন, এভাবে বাজার অব্যাহতভাবে বাড়তে থাকলে একপর্যায়ে তা বিপজ্জনক জায়গায় চলে যাবে। এ অবস্থায় যাওয়ার আগেই সরকারের উচিত নতুন নতুন শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত করা। সেটা সম্ভব না হলে তালিকাভুক্ত কোম্পানির বাকি শেয়ারগুলো অন্তত ছাড়া যেতে পারে।

ভূমিদস্যুর কালিমা মোচন দরকার

বন্দরনগর চট্টগ্রামে তিন দিনব্যাপী এক আবাসন মেলা গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়েছে। রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব) চট্টগ্রাম ক্লাবের টেনিস কমপ্লেক্সে এ মেলার আয়োজন করেছে।
‘রিহ্যাব ফেয়ার-২০১০’ শীর্ষক এ আবাসন মেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ‘আমরা ভূমিদস্যুর কালিমামুক্ত হতে চাই। পাশাপাশি একটি নীতিমালাও করা দরকার, যাতে ব্যবসায়ী ও গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষা হবে।’
প্রধান অতিথি হিসেবে মেলাটির উদ্বোধন করেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রিহ্যাব সভাপতি তানভিরুল হক। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন সাংসদ নছরুল হামিদ। এ ছাড়া মেলা কমিটির আহ্বায়ক ও রিহ্যাবের চট্টগ্রাম অধ্যায়ের চেয়ারম্যান মেজর (অব.) জামসেদ হাসান এবং মেলার স্থায়ী কমিটির সভাপতি মুরাদ ইকবাল চৌধুরী বক্তব্য দেন।
ফজলে করিম চৌধুরী বলেন, আবাসন শিল্পে ভালো মানুষের সংখ্যা বেশি। কিন্তু দুই-একজনের জন্য আমাদের সবাইকে বদনামের ভাগিদার হতে হয়। কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান অন্যায় কাজ করে। তিনি বলেন, গ্রাহকেরা সমস্যায় পড়লে কোথায় গেলে পরিত্রাণ পাওয়া যাবে, তাও তাঁরা জানেন না।
ফজলে করিম আরও বলেন, প্রতিবছর দেড় লাখ ফ্ল্যাট দরকার। সে জায়গায় রিহ্যাব মাত্র ১৪ হাজারের মতো দিতে পারছে। এ ক্ষেত্রে সরকারের সহযোগিতা করা উচিত।
নছরুল হামিদ বলেন, ‘হাতেগোনা দুই-একটি সংস্থা আইন ভঙ্গ করার কারণে আমাদের সমালোচনা হয়। অথচ দেশ গঠনে ও দেশের অর্থনীতিতে রিহ্যাব ভালো একটি ভূমিকা রাখছে। সে জন্য আমরা এখন ভূমিদস্যুর কালিমা নিয়ে বাঁচতে চাই না।’
মেলায় প্রায় ৯৭টি প্রতিষ্ঠান তাদের ফ্ল্যাট ও প্লট নিয়ে এসেছে। মেলা উপলক্ষে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নানা রকম সুযোগ-সুবিধাও দিচ্ছে গ্রাহকদের। মেলায় প্রতিটি প্রবেশমূল্য ধরা হয়েছে ৫০ টাকা।
মেলাটি আয়োজনে সহযোগিতা করেছে ১৪টি আবাসন শিল্প-প্রতিষ্ঠান।

ই-গভর্ন্যান্স প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দিলেন অর্থমন্ত্রী



দেশের সবচেয়ে বড় কম্পিউটার বাজার ঢাকার বিসিএস কম্পিউটার সিটি। গতকাল বৃহস্পতিবার শুরু হয়েছে এই বাজারের বার্ষিক মেলা ‘সিটিআইটি ২০১০’।
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত গতকাল বিকেলে কম্পিউটার সিটির খোলা জায়গায় (টেরেস) ১০ দিনের এই মেলার উদ্বোধন করেন। এ সময় তিনি বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ সেদিনই হবে, যেদিন ই-গভর্ন্যান্স চালু হবে। সত্যিকার অর্থে ই-গভর্ন্যান্স চালু হলে আমরা সুনীতি ও সুশাসন পাব। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির (বিসিএস) সভাপতি মোস্তাফা জব্বার কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে যেসব সমস্যা আছে, সেসব সমাধান করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ছাত্র-শিক্ষকেরা যাতে সহজ শর্তে ঋণ নিয়ে কম্পিউটার কিনতে পারে, সে জন্য বাজেটে ৫০০ কোটি টাকার তহবিল রাখা দরকার।
অনুষ্ঠানে এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও আমেরিকান চেম্বার অব কমার্সের (অ্যামচেম) সভাপতি আফতাব-উল-ইসলাম, এটিএন বাংলার প্রধান উপদেষ্টা সাইফুল বারী, বিসিএস কম্পিউটার সিটির সভাপতি মজিবুর রহমান এবং মেলার আহ্বায়ক এ এস এম আবদুল মুক্তাদির বক্তৃতা করেন।
মেলা উপলক্ষে কম্পিউটার সিটির বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন প্রযুক্তির নানা পণ্যের পসরা সাজিয়েছে। গতকাল উদ্বোধনের পর মেলা ঘুরে দেখা গেল যে প্রায় সব প্রযুক্তিপণ্য ও সেবায় বিশেষ ছাড় ও উপহার আছে। এবারের মেলায় নতুন প্রযুক্তির ল্যাপটপ কম্পিউটার, ডিজিটাল ক্যামেরা, এলসিডি মনিটর ও শক্তিশালী ডেস্কটপ কম্পিউটারের প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ থাকবে বলে আয়োজকেরা মনে করছেন।
কম্পিউটার সিটির ১৫৭টি স্থায়ী প্রতিষ্ঠান ছাড়া আরও ৩০টি প্রতিষ্ঠান এ মেলায় অংশ নিচ্ছে। পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রির বাইরেও কম্পিউটার সিটির নিচতলায় কেন্দ্রীয় মঞ্চে প্রতিদিন বিভিন্ন আয়োজনের মধ্যে থাকছে তারকাদের নিয়ে বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান, গুণীজন সংবর্ধনা, শিশু চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়নে অবদানের জন্য আজীবন সম্মাননা ইত্যাদি। থাকছে গেমস, ডিজিটাল আলোকচিত্র, বিতর্ক ও কুইজ প্রতিযোগিতা।
মেলায় প্রবেশমূল্য ১০ টাকা। তবে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও প্রতিবন্ধীদের কোনো টিকিট লাগবে না। প্রবেশ টিকিট নিয়ে প্রতিদিন র্যাফল ড্র অনুষ্ঠিত হবে। চূড়ান্ত র্যাফল ড্রতে প্রথম পুরস্কার হিসেবে আছে একটি গাড়ি। মেলা চলবে আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত খোলা থাকবে।
এবারের মেলার পৃষ্ঠপোষক হলো আসুস, বেলকিন, ব্রাদার, টুইনমস ও ভিউসনিক।

ঋণখেলাপি কি না আগেই যাচাই করে নিতে হবে

ব্যাংকের পরিচালক নিয়োগ বা পুনর্নিয়োগের ক্ষেত্রে এখন থেকে মনোনীত ব্যক্তি ঋণখেলাপি কি না, তা আগেই বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরোর (সিআইবি) হালনাগাদ প্রতিবেদনের মাধ্যমে যাচাই করতে হবে।
তাই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ঘোষণাপত্রের সঙ্গে পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান কর্তৃক সত্যায়িত হালনাগাদ সিআইবি প্রতিবেদনের অনুলিপি এবং পরিচালকদের হালনাগাদ তালিকাও যুক্ত করতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক গতকাল বৃহস্পতিবার এক সার্কুলারে দেশে ব্যবসারত সব ব্যাংককে এই নির্দেশ দিয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক আরও বলেছে, ব্যাংকের পরিচালক হওয়ার যোগ্যতা ও উপযুক্ততাসংক্রান্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের যে সার্কুলার বিদ্যমান রয়েছে, তাতে কোনো খেলাপি ঋণগ্রহীতা ব্যাংকের পরিচালক হওয়ার যোগ্য নন।
তবে কোনো কোনো খেলাপি তথ্য গোপন করে ও অসত্য ঘোষণা দিয়ে ব্যাংকের পরিচালক নিযুক্ত হচ্ছেন, যা বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ধরা পড়েছে।
জানা গেছে, ব্যাংকে পরিচালক নিযুক্ত করার পর নবনিযুক্ত বা পুনর্নিযুক্ত পরিচালকের স্বাক্ষরিত ঘোষণাপত্র ও পরিচালক সম্পর্কিত তথ্যাদি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে পাঠানো হয়। এরপর ওই পরিচালকের সিআইবি যাচাই করে দেখা হয় যে তিনি ঋণখেলাপি কি না। যদি খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হন, তাহলে তাঁর পরিচালকত্ব বাতিল হয়ে যায়।
ইদানীং এ রকম একাধিক ঘটনায় একাধিক পরিচালকের খেলাপি হওয়াসংক্রান্ত মিথ্যা ঘোষণা ধরা পড়েছে। এর পর বিধিমোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হলেও কোনো কোনো সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করে স্থগিতাদেশ নিয়েছেন।
সম্প্রতি ন্যাশনাল ক্রেডিট অ্যান্ড কমার্স (এনসিসি) ব্যাংকের তিনজন পরিচালকের ক্ষেত্রে তাঁদের ঘোষণাপত্র যাচাই করে দেখা গেছে যে ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করার ও পরিচালক নিযুক্ত হওয়ার তারিখে তাঁরা ঋণখেলাপি ছিলেন।
এর আগে মার্কেন্টাইল ব্যাংক, ওয়ান ব্যাংক ও ব্যাংক এশিয়ার প্রতিটিতে একজন করে পরিচালকের ক্ষেত্রেও এ ধরনের মিথ্যা ঘোষণা ধরা পড়েছে। এ ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছ থেকে নির্দেশনা পাওয়ার পর ব্যাংকগুলো সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে অপসারণ করেছে।
কিন্তু এনসিসি ব্যাংকের তিন পরিচালক আদালতে মামলা করে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনার ওপর স্থগিতাদেশ পেয়ে পরিচালক হিসেবে রয়ে গেছেন।
আবার সরকারি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিচালক নিয়োগের আগে ওই ব্যক্তির কোনো অযোগ্যতা আছে কি না, সে বিষয়ে সরকার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতামত গ্রহণ করে থাকে এবং প্রাপ্ত মতামতের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিয়ে থাকে।

সান্তোসে ফিরছেন রবিনহো

রোনালদো, আদ্রিয়ানোর পথ ধরে এবার ব্রাজিলের ফুটবলে ফিরছেন রবিনহো। আপাতত ছয় মাসের ধারে নিজের প্রথম ক্লাবটিতে ফিরছেন এই স্ট্রাইকার। ম্যানচেস্টার সিটিতে তাঁর বনিবনা হচ্ছে না, রবিনহো সান্তোসে ফিরতে চান—এমন খবর কয়েক দিন ধরেই ভাসছিল। কাল সিটির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সেটি নিশ্চিত করা হলো। রোববারই ব্রাজিলের উদ্দেশে রওনা দেবেন তিনি।

শোকাচ্ছন্ন ম্যারাডোনা

জীবনে কঠিন সময় কম আসেনি। কিন্তু উদ্দাম তারুণ্য দিয়ে উড়িয়ে দিয়েছেন সব। জীবনের মাঝ বয়সে এসে আবারও কঠিন সময়ের মুখোমুখি ডিয়েগো ম্যারাডোনা। কোচ হিসেবে তাঁর যোগ্যতার প্রশ্ন উঠেছে। দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা থেকে ফেরার পর প্রথম ম্যাচে জয় পেয়েছেন কোস্টারিকার বিপক্ষে (৩-২)। তাও আর্জেন্টিনার ঘরোয়া ফুটবলারদের নিয়ে গড়া দল নিয়েই। কিন্তু সুসময় যেন কর্পূরের মতো উবে যাচ্ছে শিগগিরই। আরও একটা দুঃসংবাদ ম্যারাডোনার জন্য। প্রেমিকা ভেরোনিকা ওজেদার গর্ভের সন্তানটি মাত্র চার মাসে অকালেই ঝরে গেছে!
আর্জেন্টিনায় নিজেদের বাড়িতে পড়ে গিয়েছিলেন ওজেদা। এর আগেও একবার একই ধরনের দুর্ঘটনার শিকার হয়েছিলেন এই ৩২ বছর বয়সী। দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গিয়েও বাচ্চাটিকে বাঁচানো যায়নি। আর্জেন্টিনার বুয়েনস এইরেসের একটি হাসপাতালের মুখপাত্র জানিয়েছেন, ‘ম্যারাডোনা আর ভেরোনিকা দুজনই শোকাচ্ছন্ন। ভেরোনিকা সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর পর পড়ে গিয়ে ব্যথা পায়। এ কারণেই গর্ভপাত ঘটে। সম্ভবত তিন বছরের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো এ ধরনের ঘটনার শিকার সে।

সিদ্দিকুরের আরও একটি শিরোপা

আমেরিকান এক্সপ্রেস বাংলাদেশ ওপেন গলফের শিরোপা জিতেছেন মোহাম্মদ সিদ্দিকুর রহমান। কাল ঢাকার কুর্মিটোলা গলফ ক্লাবে সাত স্ট্রোকের সহজ জয় পেয়েছেন বাংলাদেশের সেরা গলফার। শিরোপা জিতে প্রাইজমানি পেয়েছেন ৩ লাখ ২৩ হাজার ৩০০ ভারতীয় রুপি। রানারআপ হয়েছেন ভারতের চণ্ডীগড়ের সুজ্জান সিং আর তৃতীয় লখনওয়ের সঞ্জয় কুমার। পেশাদার গলফে এর আগে তিনটি শিরাপা জিতেছেন সিদ্দিকুর।
শিরোপা জয়ের পর উচ্ছ্বসিত সিদ্দিকুর বলেছেন, ‘এই জয়টা বিশেষ কিছু। কারণ এটা আমার ঘরের কোর্সে এবং ঘরের দর্শকদের সামনে এসেছে। আমি সত্যিই খুশি যে এই জয়টা এয়ারসেল-পিজিটিআই মেরিট অর্ডারে আমাকে প্রথমবারের মতো শীর্ষে তুলে নিয়েছে। বছরটা দারুণভাবে শুরু হলো। এই শুরুকে কাজে লাগিয়ে এখন আমি আরও ভালো করতে চাই, হোক সেটা পিজিটিআই কিংবা এশিয়ান পর্যায়ে।’

ভারতীয় টেস্ট দলে তিন নতুন মুখ

বাংলাদেশকে টেস্ট সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করার পরও ভারতীয় দল একটা দুশ্চিন্তা নিয়েই এ দেশ ছেড়ে গেছে। দুশ্চিন্তার নাম ইনজুরি। চট্টগ্রাম টেস্টে পাওয়া চোট ঢাকায় খেলতে দেয়নি শ্রীশান্ত ও ভিভিএস লক্ষ্মণকে। ঢাকা টেস্টে ইনজুরিতে পড়েছেন রাহুল দ্রাবিড় ও যুবরাজ সিং। এই চারজনের তিনজনকেই দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দুই টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচে পাচ্ছে না ভারত। ৬ ফেব্রুয়ারি নাগপুরে শুরু হতে যাওয়া প্রথম টেস্টের দলে নেই দ্রাবিড়, যুবরাজ ও শ্রীশান্ত।
প্রথম টেস্টের ১৫ সদস্যের ভারতীয় দলে অভিজ্ঞ তিন ক্রিকেটারের জায়গায় নেওয়া হয়েছে তিন নতুন মুখ ব্যাটসম্যান সুব্রামনিয়াম বদ্রিনাথ, ফাস্ট বোলার অভিমন্যু মিঠুন ও উইকেটরক্ষক ঋদ্ধিমান সাহা।
যাদের কাছ থেকে আইসিসি টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থানটি কেড়ে নিয়েছে ভারত, সেই দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে বলেই আসন্ন সিরিজটি ভারতের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ভারত ০-২ ব্যবধানে সিরিজ হারলে র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থানও হারাবে। আর ব্যবধানটা দক্ষিণ আফ্রিকার অনুকূলে ১-০ হলে দুদলেরই রেটিং পয়েন্ট হবে সমান—১২৩। এমন গুরুত্বপূর্ণ একটা সিরিজে দ্রাবিড়-যুবরাজকে হারানো ভারতের জন্য একটা ধাক্কাই। তবে নির্বাচক কমিটির চেয়ারম্যান কৃষ্ণমাচারি শ্রীকান্ত জানিয়েছেন, ইনজুরিতে পড়া ক্রিকেটারদের ফিটনেস দেখেই দ্বিতীয় টেস্টের দল ঘোষণা করা হবে। অর্থাত্ এর মধ্যেই সুস্থ হয়ে উঠলে ভারত দ্রাবিড়, যুবরাজদের ফিরে পেতে পারে ১৪ ফেব্রুয়ারি শুরু কলকাতা টেস্টে।
তামিলনাড়ুর ব্যাটসম্যান বদ্রিনাথ এর আগে ৩টি ওয়ানডে খেললেও টেস্ট ক্যাপ মাথায় ওঠাতে পারেননি। আশা করা হচ্ছে এবার উঠবে। রঞ্জিতে দারুণ বোলিং করে জাতীয় দলে জায়গা করে নিয়েছেন অভিমন্যু। অভিষেক মৌসুমেই কর্ণাটকের এই ফাস্ট বোলার ৯ ম্যাচে নিয়েছেন ৪৭ উইকেট। আর পশ্চিমবঙ্গের ঋদ্ধিমান সাহা দলে ঢুকেছেন দিনেশ কার্তিককে সরিয়ে, মহেন্দ্র সিং ধোনির পর দ্বিতীয় উইকেটকিপার হিসেবে।
ভারত দল: মহেন্দ্র সিং ধোনি (অধিনায়ক), বীরেন্দর শেবাগ, গৌতম গম্ভীর, মুরালি বিজয়, শচীন টেন্ডুলকার, ভিভিএস লক্ষ্মণ, সুব্রামনিয়াম বদ্রিনাথ, হরভজন সিং, জহির খান, ইশান্ত শর্মা, অমিত মিশ্র, সুদীপ তিয়াগি, প্রজ্ঞান ওঝা, অভিমন্যু মিঠুন ও ঋদ্ধিমান সাহা।

ঢেলে সাজানো হচ্ছে দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট

ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকার প্রধান নির্বাহী জেরাল্ড মাজোলা এখন কাজ করবেন নির্বাচক হিসেবেও। অন্তর্বর্তীকালীন নির্বাচক কমিটিতে মাজোলার সঙ্গে থাকছেন হাইপারফরম্যান্স ম্যানেজার কোরি ভ্যান জিল এবং দলের ব্যাটিং উপদেষ্টা কেপলার ওয়েসেলসও। আর বোর্ডের পুরো কাঠামো পুনর্গঠন করতে ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকার শীর্ষ কর্তারা সভায় বসছেন আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি। ওয়েবসাইট।
বুধবার বোর্ডের পক্ষ থেকে এক সংবাদ সম্মেলনে মাজেলা জানান, বোর্ড পরিচালনার পুরো প্রক্রিয়াটা নিয়েই তাঁরা পর্যালোচনা করছেন, বিশেষ করে দল নির্বাচনের প্রক্রিয়াটিতে তাঁরা বেশি গুরুত্ব দিতে চান। দল নির্বাচনের প্রক্রিয়াতে বদল আসাতেই যে কোচ মিকি আর্থারের পদত্যাগ, এটাও পরিষ্কার হয়ে গেছে মাজোলার কথায়, ‘গত কয়েক বছরে দলের সহকারী স্টাফ নিয়োগে কোচের অনেক ভূমিকা থাকত। ক্রিকেটারদের সঙ্গে কথা বলে আমাদের মনে হয়েছে, এতে পরিবর্তন আনা দরকার। এই পরিবর্তনে মিকির সায় ছিল না, এ জন্যই সে চলে গেছে।’
একই সুর আর্থারের কণ্ঠেও, ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে মতের অমিল হওয়াকেই পদত্যাগের কারণ বলেছেন তিনি। অনেক সাফল্যের পরও একটা আক্ষেপ নিয়েই যেতে হয়েছে আর্থারকে, ‘দায়িত্ব নেওয়ার সময় আমি বলেছিলাম, দুই ধরনের ক্রিকেটেই আমি দক্ষিণ আফ্রিকাকে শীর্ষে তুলতে চাই, প্রথম দক্ষিণ আফ্রিকান কোচ হিসেবে ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ায় জিততে চাই। সবই পেয়েছি, শুধু জেতা হয়নি কোনো আইসিসি ইভেন্টের ট্রফি।’

মাঠ নিয়ে ক্ষুদ্ধ কোটান

জর্জ কোটান নামটির সঙ্গে বাংলাদেশের মানুষের অনেক দিনের পরিচয়। তিনিও ভালোই জানেন এ দেশের মাটি, মাঠ ও ফুটবল সম্পর্কে। গত ডিসেম্বরেই সাফ ফুটবলে পাকিস্তান দলকে নিয়ে এসেছিলেন ঢাকায়। বাংলাদেশকে ২০০৩ সাফ ফুটবল জেতানো কোচ পাকিস্তান দল নিয়ে আবার এলেন বাংলাদেশে।
আগামীকাল চট্টগ্রাম এমএ আজিজ স্টেডিয়ামে এসএ গেমসে পাকিস্তান তাদের প্রথম ম্যাচ খেলবে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। কিন্তু শ্রীলঙ্কার আগে পাকিস্তানের প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়াল যেন মাঠ। এ জন্য আয়োজকদের দুষলেন পাকিস্তানের কোচ। তবে শুধু কোচ কোটান নন, শ্রীলঙ্কা ও আফগানিস্তানও মাঠ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে।
‘এমন মাঠে কি ফুটবল খেলা যায়? এই মাঠ খেলোয়াড়দের জন্য হুমকি। যেকোনো মুহূর্তে তারা ইনজুরিতে পড়তে পারে’—বললেন ক্ষুব্ধ কোটান। এই ধরনের টুর্নামেন্ট আয়োজনের আগে আয়োজকদের প্রস্তুতির জন্য দুই বছর সময় নেওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি।
তবে শুধু মাঠ নিয়ে মনের মধ্যে ক্ষোভ পুষে রাখছেন না তিনি। নিজেদের লক্ষ্যের কথাও জানাতে ভোলেননি, ‘আমার প্রথম লক্ষ্য সেমিফাইনাল, এর পর ফাইনাল এবং শিরোপা।’ কোটানের চোখে এসএ গেমসের ফেবারিট মালদ্বীপ। এরপর বাংলাদেশ, তৃতীয় পকিস্তান।
সদ্য সাফ জেতা পাওয়া ভারতকে এসএ গেমসের গণনাতেই রাখছেন না পাকিস্তানের অস্ট্রিয়ান কোচ, ‘ভারত সাফ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ঠিক। কিন্তু টুর্নামেন্টের পরও সবাই বলেছে পাকিস্তান ছিল ভালো দল। আমার মনে হয় না তারা এবার ভালো করবে।’
পাকিস্তানের মতো গতকাল ভারত, শ্রীলঙ্কা ও আফগানিস্তানও অনুশীলন করেছে। সবাই এমএ আজিজ স্টেডিয়ামের মূল মাঠ দেখে তার পর প্র্যাকটিস মাঠে গেছে। কোনো দলই মাঠ দেখে সন্তুষ্ট নয়। কোটান বলেন, ‘১০ বছরে একটি মাঠের উন্নতি করতে পারে না বাংলাদেশ। কীভাবে এ দেশের ফুটবলের উন্নতি হবে?’
এক সময়কার টেস্ট ভেন্যু এমএ আজিজ স্টেডিয়ামের মাঝখানে এখনো রয়েছে ক্রিকেট পিচ। উইকেটের জায়গাটি এখনো ন্যাড়া। ওই জায়গার মাটিও খুব শক্ত। আয়োজকেরা উইকেটের সাদা জায়গাটিতে সবুজ রং লাগিয়ে দিয়েছেন, যাতে দেখতে সবুজ মনে হয়। এতে আরও খেপেছেন কোটান, ‘এটা কী ধরনের তামাশা। ফুটবল হয় সবুজ ঘাসের মাঠে।’
বাফুফের সহসভাপতি ও ভেন্যু ম্যানেজার মনজুর হোসেন মালু অবশ্য আমলেই নেননি কোটানোর অভিযোগ,‘ সে সব সময়ই এমন কথা বলে। পাকিস্তানের মাঠ আমাদের চেওে খারাপ।’
আজ বিকেল তিনটায় ভারত ও আফগানিস্তানের মধ্যকার ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে এসএ গেমস ফুটবলের চট্টগ্রাম পর্ব।

মাঠের লড়াই আজ থেকেই

পল্টন কাবাডি স্টেডিয়ামের পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়া পথচারীরা এক পলক থমকে দাঁড়াচ্ছে। কৌতূহলে ভেতরে উঁকি দিয়ে দেখছে কেউ কেউ। নতুন তৈরি হওয়া হ্যান্ডবল স্টেডিয়ামের পাশেও একই রকম জটলা। সবাই আগ্রহভরে দেখছে খেলোয়াড়দের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি।
প্রস্তুতি শেষ আয়োজকদেরও। এখন অপেক্ষার পালা। আজ শুরু হচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহত্ ক্রীড়া উত্সব এসএ গেমস। রাজধানীসহ সারা দেশেই টের পাওয়া যাচ্ছে গেমসের উত্তাপ। নানা রঙের পতাকা, ব্যানার, ফেস্টুন, প্লাকার্ডে নতুন রূপে সেজেছে রাজধানী। আজই মাঠে গড়াচ্ছে খেলা। তবে গেমসের উদ্বোধনের আগেই শুরু হয়ে যাবে সেটি। শুধু ফুটবলই হবে আজ। বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে গেমসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের আগেই শুরু হয়ে যাচ্ছে গেমসের মূল আকর্ষণ ফুটবল।
প্রথমবারের মতো অন্তর্ভুক্ত মহিলা ফুটবল দিয়েই মাঠে গড়াচ্ছে এসএ গেমস। কমলাপুর বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে সকাল সাড়ে ১০টায় ভারতের মুখোমুখি হবে শ্রীলঙ্কা। স্বাগতিক বাংলাদেশের খেলাও একই দিনে। বেলা আড়াইটায় বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ নেপাল। ছেলেদের খেলাও শুরু হচ্ছে আজই। পুরুষ ফুটবলে ফেবারিট হিসেবেই টুর্নামেন্টে খেলতে নামবে গত মাসেই বঙ্গবন্ধু সাফ ফুটবল জেতা ভারত। চট্টগ্রাম এমএ আজিজ স্টেডিয়ামে বিকেল ৩টায় আফগানিস্তানের বিপক্ষে খেলবে তারা। একই ভেন্যুতে সন্ধ্যা ৬টায় শুরু ম্যাচে পাকিস্তানের প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা। আগামীকাল নেপালের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে অভিষেক হচ্ছে বাংলাদেশের নতুন কোচ জোরান জর্জেভিচের। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে খেলা শুরু হবে সন্ধ্যা ৬-২০ মিনিটে।

মিথ্যা দোষারোপ জঘন্য অপরাধ by মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান

মানব জীবনের একটি মারাত্মক ও নিন্দনীয় বদস্বভাব হচ্ছে মিথ্যা দোষারোপ করা, ইহকাল ও পরকালে যার পরিণতি খুব কঠিন ও ভয়াবহ। মিথ্যা অপবাদ বা দোষারোপ মানব চরিত্রের অত্যন্ত অপছন্দনীয় ও নিকৃষ্ট স্বভাব। জঘন্য এ মন্দ কাজের সঙ্গে মিথ্যাচার, পরচর্চা, পরনিন্দা, হিংসা-বিদ্বেষ, ছিদ্রান্বেষণ, পরশ্রীকাতরতার মতো ঘৃণ্য তত্পরতা জড়িত। মিথ্যাচারে অভ্যস্ত মানুষই কেবল কারও বিরুদ্ধে মিথ্যা দোষারোপ করতে পারে। মিথ্যা দোষারোপ মিথ্যাচারের চরম বহিঃপ্রকাশ। মিথ্যাচার জঘন্য ধরনের পাপাচার, এটি তাকওয়ার সম্পূর্ণ পরিপন্থী, কঠিন শাস্তিযোগ্য অপরাধ ও শরিয়ত-গর্হিত কাজ। পবিত্র কোরআনে নিষেধ করা হয়েছে যে ‘তোমরা মিথ্যা কথন থেকে দূরে থাক।’ (সূরা আল-হজ, আয়াত-৩০)
কারও কাছ থেকে কোনো কথা শোনার পর তার সত্যাসত্য যাচাই-বাছাই না করে অন্যের কাছে বলে বেড়ানো মিথ্যার শামিল। কোনো ব্যক্তির মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে সে যা শোনে তা-ই বলে বেড়ায়। মিথ্যা দোষারোপ মানুষের দুশ্চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ। এ ধরনের অপকর্মে অভ্যস্ত দুশ্চরিত্র ও রূঢ় স্বভাবের মানুষ জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। পরস্পর পরস্পরের বিরুদ্ধে মিথ্যা দোষারোপের প্রবণতা এমন একটি সামাজিক ব্যাধি, যার কুফল মারাত্মক। মিথ্যা দোষারোপের কারণে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সম্পর্কে কু-ধারণার সৃষ্টি হয়। ইসলামে কোনো দলিল প্রমাণ ছাড়া কারও প্রতি খারাপ ধারণা পোষণ করা হারাম। নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘মুমিনদের প্রতি তোমরা ভালো ধারণা পোষণ করবে।’
মানব জাতিকে অহেতুক অনুমান থেকে দূরে থাকার উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে পবিত্র কোরআনে ঘোষণা করা হয়েছে, ‘হে মুমিনগণ! তোমরা অধিকাংশ অনুমান থেকে দূরে থাক। কারণ, অনুমান কোনো কোনো ক্ষেত্রে পাপ।’ (সূরা আল-হুজুরাত, আয়াত-১২) এ সম্পর্কে হাদিস শরিফে বর্ণিত হয়েছে, ‘তোমরা অন্যের প্রতি মন্দ ধারণা পোষণ করা থেকে বেঁচে থাকবে। কেননা এরূপ কু-ধারণা জঘন্যতম মিথ্যা। আর কারও দোষ অনুসন্ধান করো না, কারও গোপনীয় বিষয় তালাশ করো না, একে অন্যকে ধোঁকা দেবে না, আর পরস্পর হিংসা করবে না, একে অপরের প্রতি বিদ্বেষভাব পোষণ করবে না এবং পরস্পর বিরুদ্ধাচরণ করবে না বরং সবাই আল্লাহর বান্দা, ভাই ভাই হয়ে থাকবে।’ (বুখারি ও মুসলিম)
মিথ্যা অপবাদের দ্বারা দোষারোপকৃত ব্যক্তির যথেষ্ট মানহানি করা হয়। ইসলামে এ জাতীয় গুনাহর কাজকে বিশেষভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কাউকে মিথ্যা অপবাদ দেওয়া জঘন্য ধরনের পাপ। এ জাতীয় পাপের কোনো কাফ্ফারা হয় না। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘পাঁচটি পাপ এমন, যার কাফ্ফারা নেই। তন্মধ্যে তৃতীয়টি হলো কোনো মুমিনকে অপবাদ দেওয়া।’ (মুসনাদে আহমাদ)
মিথ্যা দোষারোপ বা অপবাদের কারণে সমাজজীবনে মানুষের সম্মানহানি ঘটে। তাই কারও মানহানি করা থেকে বিরত থাকার জন্য মুসলমানদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে নবী করিম (সা.) ঘোষণা করেছেন, ‘যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের অনুপস্থিতিতে সম্মানহানি করা থেকে বিরত থাকে, আল্লাহ তাকে জাহান্নাম থেকে মুক্ত করা নিজের জন্য অপরিহার্য করে নেন।’ (আহমাদ, তাবারানী) পক্ষান্তরে কেউ অন্যায়ভাবে তার মুসলমান ভাইয়ের মান-ইজ্জত খাটো করলে সম্মান বিনষ্টকারীকে আল্লাহ লাঞ্ছিত করবেন। এ সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.) সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন, ‘কোনো মুসলমান অপর কোনো মুসলমানকে যদি এমন স্থানে লাঞ্ছিত করে যেখানে তার মানহানি ঘটে এবং সর্বদা খাটো করা হয়, আল্লাহ তাকে এমন স্থানে লাঞ্ছিত করবেন, যেখানে তার সাহায্য প্রাপ্তির আশা ছিল।’ (আবু দাউদ)
মিথ্যা দোষারোপ করার কারণ নিজেকে ভালো বা উপযুক্ত অথবা যোগ্য হিসেবে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করা, অবৈধভাবে সুযোগ-সুবিধা অর্জন, নিজের অবৈধ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা, ব্যর্থতা বা অযোগ্যতা আড়াল করা, পরশ্রীকাতরতা ও প্রতিহিংসা চরিতার্থ, অপরের মঙ্গল বা কল্যাণ মেনে না নেওয়ার মানসিকতা প্রভৃতি অন্যতম। মিথ্যা দোষারোপ খুবই মন্দ স্বভাব। কারও বিরুদ্ধে মিথ্যা দোষারোপ মানবচরিত্রের জঘন্যতম কু-অভ্যাস। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা মিথ্যা থেকে দূরে থাকবে। কেননা মিথ্যা পাপাচার পর্যন্ত পৌঁছে দেয় আর পাপাচার জাহান্নাম পর্যন্ত পৌঁছে দেয়।’ (বুখারি ও মুসলিম)
মিথ্যা দোষারোপ করার ক্ষেত্রে দোষারোপকারীকে পরচর্চা ও পরনিন্দার আশ্রয় নিতে হয়। ইসলামে পরনিন্দা ও পরচর্চাকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পরনিন্দাকারীকে কঠোর দুর্ভোগ পোহাতে হয়। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘দুর্ভোগ প্রত্যেকের যে পশ্চাতে ও সম্মুখে লোকের নিন্দা করে।’ (সূরা আল-হুমাযা, আয়াত-১) পরনিন্দা ব্যভিচার থেকেও গুরুতর অপরাধ। হাদিসে বলা হয়েছে, ‘গিবতকারী ব্যক্তিকে যে পর্যন্ত সে ব্যক্তি ক্ষমা না করে, ততক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহ তাকে মাফ করবেন না।’ (মিশকাত)
কারও বিপক্ষে মিথ্যা দোষারোপ করতে হিংসা-বিদ্বেষ মানুষকে প্ররোচিত করে। মানুষ সাধারণত পরশ্রীকাতর হয়ে এবং অবৈধভাবে লাভবান হওয়ার উদ্দেশ্যে মিথ্যা দোষারোপের অপরাধে লিপ্ত হয়। মানব চরিত্রের ক্ষতিকর মন্দ স্বভাবের মধ্যে হিংসা-বিদ্বেষ জঘন্য ধরনের বদঅভ্যাস। নেতৃত্বের মোহ, সুযোগ-সুবিধা লাভের ক্ষেত্র তৈরি, অসত্ উদ্দেশ্য চরিতার্থ করা, নিজেকে জোরপূর্বক যোগ্যতম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা প্রভৃতি খারাপ মানসিকতা মানুষকে হিংসা ও বিদ্বেষপরায়ণ হতে প্ররোচিত করে। হিংসা ও বিদ্বেষপোষণকারীর অনিষ্ট থেকে পানাহ চাওয়ার আহ্বান জানিয়ে পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর হিংসুকের অনিষ্ট থেকে (পানাহ চাই), যখন সে হিংসা করে।’ (সূরা আল-ফালাক, আয়াত-৫)
ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ জীবনে মিথ্যা দোষারোপের মাত্রা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। সবচেয়ে চরম দুরবস্থা দেখা দিয়েছে মানুষের স্ব স্ব কর্মস্থলে; যেখানে মিথ্যা দোষারোপের ব্যাপক প্রতিযোগিতা লক্ষণীয়। কর্মস্থলে বিশেষ করে চাকরিস্থলে দক্ষতা, সততা ও পারদর্শিতা প্রদর্শনের পরিবর্তে অনেকেই মিথ্যা দোষারোপের প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়ে পড়ে। একশ্রেণীর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে অধস্তন বা ঊর্ধ্বতনদের সম্পর্কে মিথ্যা দোষারোপ করা চরম এক বদঅভ্যাসে পরিণত হয়েছে। শুধু চাকরিস্থল নয়, পরিবার ও সমাজ মারাত্মক এ দুষ্ট ব্যাধিতে আক্রান্ত। হাদিস শরিফে মিথ্যা দোষারোপ করার জন্য কঠোর শাস্তির কথা বিধৃত হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি কোনো মুমিনকে এমন দোষে দোষারোপ করবে যা থেকে সে মুক্ত, আল্লাহ তাকে ‘রাদগাতুল খাবাল’ নামক জাহান্নামের গর্তে বাসস্থান করে দেবেন, যতক্ষণ সে অপবাদ থেকে ফিরে না আসে।’ (আবু দাউদ)
মিথ্যা অপবাদের ফলে একদিকে দোষারোপকারীরা অবৈধভাবে নানা ধরনের ফায়দা লুটছে, অন্যদিকে যাকে মিথ্যা দোষারোপ করা হচ্ছে, তাকে দারুণভাবে হয়রানি ও ক্ষতিগ্রস্ত করা হচ্ছে। এর দ্বারা ব্যক্তিগত সম্পর্কের অবনতি ঘটে, হিংসা-বিদ্বেষ বৃদ্ধি পায়, সামাজিক বন্ধনের ভিত্তি নড়বড়ে হয়ে পড়ে এবং পারস্পরিক ঐক্য ও সৌহার্দ্য-সম্প্রীতি বিনষ্ট হয়। মানব জীবনের গুরুত্বপূর্ণ কতিপয় ক্ষেত্রে এর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের পারস্পরিক শান্তিপূর্ণ সহ-অবস্থানকে দুর্বল করে ফেলে। তাই ইসলামের শিক্ষার আলোকে প্রত্যেকেরই মিথ্যা অপবাদ ও দোষারোপের ন্যায় জঘন্য সামাজিক অনাচারমূলক কর্মকাণ্ড থেকে সর্বাবস্থায় বিরত থাকা উচিত।
ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান: সহকারী অধ্যাপক, ইসলামিক একাডেমি, দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়। পরিচালক, ইনস্টিটিউট অব হজরত মুহাম্মদ (সা.)।
dr.munimkhan@yahoo.com

বিতর্কিত সমুদ্রসীমায় গোলা নিক্ষেপ করেছে দুই কোরিয়া

উত্তর কোরিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে বিতর্কিত সমুদ্রসীমায় দুই দেশের সেনারা গতকাল বুধবার গোলা নিক্ষপ করেছে। উত্তর কোরিয়া প্রথমে গোলা নিক্ষেপ করলে দক্ষিণ কোরিয়াও পাল্টা জবাব দেয়। তবে এতে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। সিউল এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে এটাকে পিয়ংইয়ংয়ের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড বলে অভিহিত করেছে। তবে পিয়ংইয়ং বলেছে, নিয়মিত সামরিক মহড়ার অংশ হিসেবে তারা গোলা নিক্ষেপ করেছে। খবর এপি ও এএফপির।
সিউলে জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, উত্তর কোরিয়া গতকাল স্থানীয় সময় সকাল নয়টায় নিজ ভূখণ্ড থেকে ৩০টির মতো গোলা নিক্ষেপ করে। দক্ষিণ কোরিয়া তাত্ক্ষণিকভাবে সমুদ্রসীমার পার্শ্ববর্তী একটি দ্বীপের নৌ-ঘাঁটি থেকে ১০০ গোলা নিক্ষেপ করে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা বলেন, গোলা নিক্ষেপের ঘটনায় কোনো ক্ষয়ক্ষতি অথবা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, উত্তর কোরিয়ার নিক্ষেপ করা গোলা সে দেশেরই সমুদ্রসীমায় পড়েছে। আর দক্ষিণ কোরীয় সেনারা শূন্যে গোলা নিক্ষেপ করেছে।
উত্তর কোরিয়া এক বিবৃতিতে বলেছে, বার্ষিক নিয়মিত সামরিক মহড়ার অংশ হিসেবে উপকূলীয় এলাকায় তারা গোলা নিক্ষেপ করেছে। সে দেশের কেন্দ্রীয় বার্তা সংস্থা সেনাবাহিনীর জেনারেল স্টাফের বরাত দিয়ে বলেছে, ভবিষ্যতে একই সমুদ্রসীমায় সামরিক মহড়ার অংশ হিসেবে আরও গোলা নিক্ষেপ করা হবে।
দক্ষিণ কোরীয় বার্তা সংস্থা ইয়োনহাপ জানিয়েছে, গতকাল বিকেলের দিকেও গোলা নিক্ষেপ করেছে উত্তর কোরিয়া। তবে এ ব্যাপারে দক্ষিণ কোরীয় সেনাবাহিনীর তরফ থেকে নিশ্চিত কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
উত্তর কোরিয়া বিতর্কিত সমুদ্রসীমা অঞ্চলে নৌযান চলাচল নিষিদ্ধ (নো সেইল জোন) ঘোষণার দুই দিনের মাথায় এ গোলা নিক্ষেপের ঘটনা ঘটল।
বিতর্কিত সমুদ্রসীমায় গোলা নিক্ষেপের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে উত্তর কোরীয় সেনাবাহিনীকে বার্তা পাঠিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। এতে সিউল বলেছে, গোলা নিক্ষেপ করে শুধু শুধু উত্তেজনা সৃষ্টি করা হচ্ছে। নৌযান চলাচল নিষিদ্ধসংক্রান্ত ঘোষণা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে বলা হয়েছে, এটা কোরীয় যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের শীর্ষস্থানীয় মুখপাত্র চাং চাং-কিল প্রেসিডেন্ট লি মিয়ুং-বাকের পক্ষে নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেছেন। প্রেসিডেন্ট লি বর্তমানে ভারত সফর করছেন। গোলা নিক্ষেপের ঘটনা তাঁকে অবহিত করা হয়েছে।
১৯৫০-৫৩ সালের কোরীয় যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে জাতিসংঘ দুই দেশের পশ্চিমাঞ্চলীয় সমুদ্রসীমা নির্ধারণ করে দেয়। কিন্তু পরবর্তী সময়ে উত্তর কোরিয়া তার সমুদ্রসীমা আরও দক্ষিণে সম্প্রসারণের ব্যাপারে জোর দেয়। এ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা চলে আসছে।

ভারতে গত ১১ বছরে প্রায় দুই লাখ কৃষক আত্মহত্যা করেছেন

ঋণের ভারে ও অভাবের তাড়নায় জর্জরিত হয়ে ভারতে গত ১১ বছরে প্রায় দুই লাখ কৃষক আত্মহত্যা করেছেন। ২০০৮ সালে আত্মহত্যা করেছেন ১৬ হাজার ১৯৬ জন কৃষক। ভারতের ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরো সম্প্রতি এ তথ্য জানিয়েছে।
২০০৮ সালে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার অবশ্য কৃষি ঋণের টাকা মওকুফ করে দেয়; কিন্তু তার পরও কৃষকদের আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে।
ভারতের বড় পাঁচটি রাজ্যে কৃষক আত্মহত্যার ঘটনা বেশি ঘটেছে। এই পাঁচটি রাজ্য হলো—মহারাষ্ট্র, অন্ধ্র প্রদেশ, কর্ণাটক, মধ্যপ্রদেশ ও ছত্তিশগড়। অতিবৃষ্টি, খরা ও ঋণ পরিশোধ করতে না পারা এবং অভাবের কারণে এসব রাজ্যে আত্মহত্যার ঘটনা বেশি ঘটেছে।
১৯৯৭ সাল থেকে ২০০৮—এই দীর্ঘ ১১ বছরের হিসাব থেকে দেখা গেছে, ওই সময় ভারতে এক লাখ ৯৯ হাজার ১৩২ জন কৃষক আত্মহত্যা করেছেন। মোট আত্মহত্যার ৬৬ শতাংশের বেশি ঘটেছে ওই পাঁচটি রাজ্যে। এর মধ্যে আবার ৪১ হাজারের বেশি আত্মহত্যা করেছেন কেবল মহারাষ্ট্রে।

গিনিতে অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন জ্যাঁ মারি ডোরে

গিনিতে গতকাল বুধবার অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন দেশটির প্রখ্যাত মানবাধিকারকর্মী জ্যাঁ ম্যারি ডোরে। গিনির দায়িত্বে নিয়োজিত জেনারেল সেকোবা কোনাতে ম্যারি ডোরেকে নিয়োগ দেন। সে দেশের সামরিক সরকার পদত্যাগ করতে রাজি হওয়ার পর তাঁকে এ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। দায়িত্ব গ্রহণের পর এক সংক্ষিপ্ত ভাষণে ম্যারি ডোরে বলেন, তিনি আশা করেন, এ মাসের শেষ নাগাদ নতুন সরকার গঠন করতে সমর্থ হবেন।
ম্যারি ডোরে আরও বলেন, তাঁর নতুন সরকার দেশটির অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে সর্বাত্মক চেষ্টা চালাবে। তাছাড়া শিগগিরই নির্বাচনের ব্যবস্থা করবে।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, এর মধ্য দিয়ে সামরিক শাসন অবসানের একটা সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। যদিও কাজটা মোটেও সহজ হবে না। নতুন সরকার গঠনে ডোরেকে হিমশিম খেতে হবে। তাঁর সরকারে রাজনৈতিক দল ও সুশীল সমাজের অন্তত ২০ জন নেতা এবং ১০ জন সামরিক কর্মকর্তাকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। সময়মতো নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করাও হবে দুরূহ। দেশটির ইতিহাসে রাজনৈতিকভাবে নির্বাচিত কোনো সরকার এখনো ক্ষমতায় আসেনি।
তবে নতুন প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, এ মাসের শেষ নাগাদ তিনি নতুন সরকার গঠনে সমর্থ হবেন। এই সরকার আগামী ছয় মাসের মধ্যে দেশটিতে নির্বাচন দেবে।
গিনিতে ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে লানসানা কোনতের মৃত্যুর পর বর্তমান সামরিক সরকার ক্ষমতা নেয়।

ব্ল্যাকওয়াটার পাকিস্তানে কাজ করছে: গেটস

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রবার্ট গেটস নিশ্চিত করেছেন, সে দেশের বেসরকারি নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ব্ল্যাকওয়াটার পাকিস্তানে কাজ করছে। সম্প্রতি পাকিস্তান সফরের সময় গেটস এক্সপ্রেস টেলিভিশনকে এক সাক্ষাত্কারে বলেন, ব্ল্যাকওয়াটার এবং অন্য একটি বেসরকারি নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ডায়ানকরপ পাকিস্তানে নিজেদের মতো করে কাজ করছে।
পাকিস্তান পার্লামেন্টে আইন করে বেসরকারি নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করলে যুক্তরাষ্ট্র কী পদক্ষেপ নেবে জানতে চাইলে গেটস বলেন, ‘পাকিস্তান যদি এমন আইন করে, তাহলে আমরা তা মানতে বাধ্য।’
পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশের মন্ত্রী বশির বিলোয়ারও গতকাল বুধবার স্বীকার করেছেন, ব্ল্যাকওয়াটার পাকিস্তানের সীমান্ত অঞ্চলে কাজ করছে। এক্সপ্রেস নিউজ টেলিভিশনকে তিনি বলেন, পাকিস্তান সরকারের অনুমতি নিয়েই ব্ল্যাকওয়াটার কাজ করছে।
বিলোয়ার জানান, বিষয়টি নিয়ে তিনি পেশোয়ারে মার্কিন কনস্যুলেটের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। তাঁরা জানিয়েছেন, ব্ল্যাকওয়াটার পাকিস্তানি বাহিনীর সদস্যদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে।
ব্ল্যাকওয়াটার পাকিস্তানে কাজ করছে বলে গেটস স্বীকার করার পর বিষয়টি নিয়ে পাকিস্তানে ব্যাপক হইচই পড়ে যায়। কেননা এর আগে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রেহমান মালিক বহুবার বলেছেন, ব্ল্যাকওয়াটার পাকিস্তানে কাজ করছে—এ তথ্য প্রমাণিত হলে তিনি পদত্যাগ করবেন। এ অবস্থায় মার্কিন কর্মকর্তারা গেটসের মন্তব্য প্রত্যাহার করে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।

লেনিনের মূর্তি ফিরছে বার্লিনে

একসময় ঘৃণাভরে ছুড়ে ফেলা লেনিনের মূর্তিটি আবার ফিরে আসছে জার্মানির বার্লিন শহরে। শহর কর্তৃপক্ষ মূর্তিটি নতুন করে স্থাপন করতে যাচ্ছে একটি জাদুঘরে। সময়ের আবর্তে বার্লিনের ক্ষত যে সেরে উঠছে, এটি তারই একটি ইঙ্গিত।
লেনিনের ৬২ ফুট উচ্চতার বিরাটাকায় মূর্তিটি বার্লিন থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছিল ১৯৯১ সালে, বার্লিন দেয়ালের পতনের ঠিক দুই বছর পর। মূর্তির সাড়ে তিন টন ওজনের মাথাটি পুঁতে ফেলা হয় শহরের বাইরের একটি স্থানে। দেশটি থেকে কমিউনিস্ট ও নািস শাসনের স্মৃতি মুছে ফেলতেই করা হয়েছিল এ কাজ।
লেনিনের মূর্তিটি খুঁড়ে তুলে নতুন করে স্থাপনের পরিকল্পনা করছে বার্লিন কর্তৃপক্ষ। তবে কোনো খোলা জায়গা নয়, এখন এটির জায়গা হবে নতুন একটি জাদুঘরে। ওই জাদুঘরে স্থান পাবে জার্মানির কমিউনিস্ট ও নািস আমলের আরও অনেক মূর্তি। এ ছাড়া অষ্টাদশ শতাব্দীর প্রুশিয়া যুগের মূর্তিও সেখানে থাকবে।
ওই জাদুঘর প্রকল্পের প্রধান আন্দ্রিয়া থেইসেন বলেন, ঐতিহাসিক এসব মূর্তি ছিল একসময় আমাদেরই অংশ। জাদুঘরে নতুন এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে সেটা দারুণভাবে তুলে ধরা যাবে

ওসামা বিন লাদেনের টেপ প্রমাণ করে আল-কায়েদা অনেক দুর্বল: ওবামা

যুক্তরাষ্ট্রগামী বিমানে হামলার চেষ্টার দায় স্বীকার করে অডিও টেপে আল-কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেনের বক্তব্যে বোঝা যাচ্ছে যে তিনি দুর্বল হয়ে পড়েছেন। গত মঙ্গলবার টেলিভিশনে প্রচারিত এক সাক্ষাত্কারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এ কথা বলেছেন। খবর এএফপির।
প্রেসিডেন্ট ওবামা বলেন, সন্ত্রাসী হামলার হুমকি যে এখনো রয়েছে—এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। তবে ২০০০ সালের তুলনায় অনেক দুর্বল হয়ে পড়েছে আল-কায়েদা। তিনি বলেন, বিন লাদেন টেপ পাঠিয়ে একজন নাইজেরীয় যুবকের ব্যর্থ বোমা হামলা চেষ্টার কৃতিত্ব নিতে চাইছেন। এতেই বোঝা যাচ্ছে যে তিনি কী পরিমাণ দুর্বল হয়ে গেছেন। কারণ, এটি তাঁর নেতৃত্ব দেওয়ার মতো বিষয় নয়।
আল-জাজিরা টেলিভিশনে প্রচারিত ওই অডিও টেপে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে হুঁশিয়ার করে দিয়ে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইসরায়েলকে সমর্থন দেওয়া অব্যাহত রাখে তাহলে আরও হামলা চালানো হবে। ফিলিস্তিনে শান্তি প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রও শান্তিতে থাকতে পারবে না।

লেবার পার্টির পক্ষে প্রচারে নামবেন টনি ব্লেয়ার

ব্রিটেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার আসন্ন সাধারণ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির পক্ষে প্রচার চালাবেন।
ব্লেয়ারের ঘনিষ্ঠ মিত্র বাণিজ্যমন্ত্রী পিটার ম্যান্ডেলসন ডেইলি মিরর পত্রিকাকে বলেন, ‘আমরা চাই নির্বাচনে সাফল্যের জন্য দলের সাবেক ও বর্তমান সব নেতাই অবদান রাখুক।’
ম্যান্ডেলসন বলেন, নির্বাচনী প্রচারে সবাই শরিক হবে। টনি ব্লেয়ারও দলটির প্রবীণ সদস্য হিসেবে প্রচারে অংশ নেবেন।
ব্লেয়ার ২০০৭ সালে সরকার-প্রধানের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর পর দেশের রাজনীতির ময়দান থেকে দূরেই ছিলেন। কিন্তু এবারের নির্বাচনে শ্রমিক দলকে জেতানোর লক্ষ্যে প্রচারে মাঠে নামবেন তিনি। তবে নির্বাচনে দলটির জেতার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। আগামী মে মাসে ব্রিটেনে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।

ইরাক অভিযান ছিল অবৈধ

ব্রিটিশ সরকারের সাবেক জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মাইকেল উড বলেছেন, ২০০৩ সালের ইরাক অভিযান ছিল অবৈধ। গত মঙ্গলবার ইরাক যুদ্ধবিষয়ক একটি তদন্ত কমিটির সামনে তিনি এ কথা বলেন। সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার ওই তদন্ত কমিটির সামনে হাজির হওয়ার তিন দিন আগে মাইকেল উড এ কথা বললেন।
মাইকেল উড বলেন, ২০০৩ সালের মার্চ মাসে ইরাকের বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগকে আন্তর্জাতিক আইনের বিরুদ্ধ হিসেবে বিবেচনা করছেন তিনি। ১৯৯৯ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান আইন উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন উড।
মাইকেল উড বলেন, তাঁর মতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ শক্তি প্রয়োগের অনুমোদন দেয়নি। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী অভিযানের কোনো আইনি ভিত্তি ছিল না। তিনি বলেন, তিনি তাঁর উদ্বেগের বিষয়টি মন্ত্রীদের অবহিত করেছিলেন, কিন্তু মন্ত্রীরা তাঁর উদ্বেগকে উপেক্ষা করেছেন।
সরকারের শীর্ষ আইনজীবী অ্যাটর্নি জেনারেল পিটার গোল্ডস্মিথ সরকারকে সামরিক অভিযানের সবুজ সংকেত দিয়েছিলেন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার তদন্ত কমিটির সামনে হাজির হওয়ার আগে তদন্তের মনোযোগ যুদ্ধের বৈধতা সম্পর্কিত বিষয়ের দিকে মোড় নিল। যুদ্ধের তীব্র বিরোধিতা সত্ত্বেও ব্রিটেনকে যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিয়েছিলেন তত্কালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার। গত নভেম্বর মাসে এই তদন্ত শুরু হয়।
ব্যাপক গণবিধ্বংসী অস্ত্র সম্পর্কে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবের প্রতি সাদ্দাম হোসেনের অব্যাহত অবজ্ঞার কথা উল্লেখ করে ইরাক অভিযানের ন্যায্যতা প্রতিপাদনের চেষ্টা করেছিলেন টনি ব্লেয়ার।
২০০২ সালের নভেম্বরে পাস হওয়া জাতিসংঘের ১৪৪১ প্রস্তাব সামরিক অভিযানের আইনি ভিত্তি জোগাবে—এ কথা বলে ইরাকযুদ্ধের মাত্র কয়েক দিন আগে যুদ্ধের প্রতি নিজের অনুমোদন দিয়েছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল গোল্ডস্মিথ।
কিন্তু মাইকেল উড বলেন, ১৪৪১ প্রস্তাব এটা পরিষ্কার করে দিয়েছে যে সাদ্দাম হোসেন জাতিসংঘের চাহিদা মেনে নিচ্ছেন কি না, সেটা নির্ধারণ করবে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ। তিনি আরও বলেন, ২০০৩ সালের জানুয়ারিতে ব্রিটিশ সরকারের দৃষ্টিভঙ্গির প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিলেন তিনি।
তত্কালীন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যাক স্ট্রকে লেখা চিঠিতে উড বলেছিলেন, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের আরও কোনো উদ্যোগ ছাড়া কিংবা বড় ধরনের কোনো অগ্রগতি ছাড়া যুক্তরাজ্য আইনসম্মতভাবে ইরাকের বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগ করতে পারবে না। এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু তাঁর এই উদ্বেগ উপেক্ষা করেছেন জ্যাক স্ট্র।
উড বলেন, ‘স্ট্র আমার ওই মতামতকে এমনভাবে নিয়েছিলেন যেন আমি খুবই যুক্তিহীন বা গোঁড়া মত প্রকাশ করেছি।’ তদন্ত কমিটির সামনে উডের এ বক্তব্য তাঁর সাবেক ডেপুটি এলিজাবেথ উলমসহার্স্টের অবস্থানকে আরও মজবুত করবে। ইরাক অভিযানকে অবৈধ হিসেবে অভিহিত করে যুদ্ধের আগে পদত্যাগ করেছিলেন এলিজাবেথ।

সু চিকে অবিলম্বে মুক্তি দিতে বলেছে যুক্তরাষ্ট্র

মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চিকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার জন্য সে দেশের সামরিক সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ বছরের সাধারণ নির্বাচনের পর সু চিকে ছেড়ে দেওয়া হতে পারে, এমন ইংগিত পাওয়ার পরই ওয়াশিংটন এ আহ্বান জানিয়েছে। খবর এএফপির।
সু চির রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্র্যাসি (এনএলডি) বলেছে, তাদের কাছে তথ্য আছে যে সামরিক জান্তা সরকার নির্বাচনের পরে নভেম্বরে সু চিকে মুক্তি দেওয়ার চিন্তাভাবনা করছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ফিলিপ ক্রাউলি বলেছেন, নির্বাচনের পরে সু চিকে মুক্তি দেওয়া হলে সেটা হবে দুঃখজনক। তিনি বলেন, সু চিকে মুক্তি দেওয়ার জন্য মিয়ানমারের সামরিক সরকারের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের চাপ অব্যাহত থাকবে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন ও সিনেটর জিম ওয়েবের মধ্যকার বৈঠকের পরে ক্রাউলি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। মিয়ানমারের সামরিক সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে প্রধান আলোচকের ভূমিকা পালন করছেন জিম ওয়েব।
১৯৯০ সালে মিয়ানমারের সর্বশেষ সাধারণ নির্বাচনে বিশাল ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছিল সু চির দল এনএলডি। কিন্তু সামরিক সরকার এনএলডির হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করেনি। ১৯৬২ সাল থেকে সামরিক শাসন চলে আসছে মিয়ানমারে।
বিগত দুই দশকের মধ্যে বেশির ভাগ সময়ই সু চিকে গৃহবন্দী করে রেখেছে সে দেশের সামরিক সরকার। সু চিকে মুক্তি দেওয়ার জন্য নানাভাবে আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করা হলেও তাতে কর্ণপাত করেনি জান্তা সরকার।
বিরোধী দল এনএলডি আসন্ন নির্বাচন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে। তাদের আশঙ্কা, সামরিক শাসনকে বৈধতা দেওয়ার ষড়যন্ত্র হিসেবে এ নির্বাচনের আয়োজন করা হয়েছে। তবে কবে নাগাদ এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে সে সম্পর্কে এখনো কিছু জানায়নি দেশটির সরকার।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ক্ষমতাগ্রহণের পর থেকে মিয়ানমারের সংকট মোকাবিলায় বিশেষ নজর দিয়ে আসছেন। ওবামা প্রশাসন মিয়ানমারে রাজনৈতিক নেতাদের বন্দী করে রাখার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসে ডিবিএইচের শেয়ারপ্রতি আয় ৮৮% বেড়েছে

চলতি ২০০৯-১০ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে ডেল্টা ব্র্যাক হাউজিং ফাইন্যান্স করপোরেশন লিমিটেডের (ডিবিএইচ) শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) বেড়ে ৪৭ টাকায় উন্নীত হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ২৫ টাকা। অর্থাত্ ডিবিএইচের শেয়ারপ্রতি আয় বেড়েছে ৮৮ শতাংশ।
ঢাকায় গত মঙ্গলবার ডিবিএইচের চলতি অর্থবছরের অনিরীক্ষিত অর্ধবার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদনের ফলাফল ঘোষণাকালে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।
আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে ডিবিএইচের পরিচালন মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৩৪৩ দশমিক ২ মিলিয়ন টাকা, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ২১৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন টাকা। এ ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৫৮ দশমিক ৫২ শতাংশ।
চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে ডিবিএইচের ব্যবস্থাধীনে মোট তহবিলের পরিমাণ দুই হাজার ৬০৭ কোটি টাকা, আমানতের পরিমাণ এক হাজার ১৩৭ কোটি এবং ঋণ ও অগ্রিমের পরিমাণ এক হাজার ৪৭০ কোটি টাকায় উন্নীত হয়।
ডিবিএইচ চলতি অর্থবছরের ছয় মাসে নন-পারফরমিং লোন শূন্য দশমিক ৫ শতাংশের নিচে রাখতে সক্ষম হয়েছে।

ঋণ মূল্যায়নকারী সংস্থার পেশাদারি নিশ্চিতের আহ্বান

ক্রেডিট রেটিং বা ঋণ মূল্যায়নকারী প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের ওপর দেশের শেয়ারবাজার তথা বিনিয়োগকারীদের আশা-ভরসা অনেকাংশে নির্ভর করে। তাই নিরীক্ষক ও ঋণ মূল্যায়নকারী প্রতিষ্ঠানগুলো পেশাদারি ও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করলে অর্থনীতিতে তার ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
দ্য ইনস্টিটিউট অব কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্টেন্টস অব বাংলাদেশের (আইসিএমএবি) একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সভাপতি রকিবুর রহমান গতকাল বুধবার এ কথা বলেন।
আইসিএমএবির সভাপতি এ বি এম সামছুদ্দিনের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধিদলটি সিএমএ পেশার মানোন্নয়ন এবং অন্যান্য পেশাগত বিষয়ে আলোচনার জন্য ডিএসই কার্যালয় পরিদর্শন করে। এ সময় ডিএসইর সহসভাপতি শাকিল রিজভী, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সতীপতি মৈত্রসহ অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ থেকে অধিক পরিমাণে চিংড়ি আমদানি করতে পারে ইইউ

বাংলাদেশ থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত (ইইউ) দেশগুলো আরও অধিক পরিমাণে হিমায়িত খাদ্য আমদানি করতে পারে।
ইইউর একটি প্রতিনিধিদল গত মঙ্গল ও বুধবার খুলনা অঞ্চলের বেশ কয়েকটি মত্স্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কোম্পানি, মাছের ঘের, অবতরণকেন্দ্র, ডিপো, মাছের খাবার ও ওষুধের দোকান এবং মান নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র পরিদর্শন শেষে এমন ইঙ্গিত দেন।
বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুডস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএফএফইএ) সূত্রে জানা যায়, ইইউর খাদ্য ও ভেটেরিনারি অফিসের তিন সদস্যবিশিষ্ট এ প্রতিনিধিদল ১৮ জানুয়ারি বাংলাদেশে আসে। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন এলিজাবেথ ব্রুলিনাস্কা। অপর দুই সদস্য হলেন অস্ত্রোওয়াস্কা ও লিনা এনগ্লান্ডস। প্রতিনিধিদলটি চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার পরিদর্শন করে গত সোমবার রাতে খুলনায় এসে পৌঁছান।
প্রতিনিধিদলের সদস্যরা মঙ্গল ও বুধবারে খুলনা মহানগর ও ডুমুরিয়া উপজেলার বেশ কয়েকটি মত্স্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কোম্পানি, মাছের ঘের, অবতরণকেন্দ্র, ডিপো, মাছের খাবার ও ওষুধের দোকান এবং মান নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র পরিদর্শন করেন। পাশাপাশি তাঁরা খুলনার মত্স্য কর্মকর্তাদের সঙ্গেও দীর্ঘ সময় ধরে বৈঠক করেন।
বিএফএফইএর সহসভাপতি মো. আবদুল বাকী প্রথম আলোকে জানান, প্রতিনিধিদলটির সম্মানে গত মঙ্গলবার রাতে দেওয়া এক নৈশভোজ অনুষ্ঠানে তাঁরা খুলনার চিংড়ি উত্পাদন ও মান নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়া দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন। এ সময় তাঁরা বাংলাদেশ থেকে ইইউভুক্ত দেশসমূহে আরও অধিক পরিমাণে হিমায়িত খাদ্য আমদানির ইঙ্গিত দেন।
প্রতিনিধিদলটি গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় ঢাকায় ফিরে গেছে। আজ বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকার একটি হোটেলে তাদের সম্মানে এক নৈশভোজের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে মত্স্যমন্ত্রী, ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা ও বাংলাদেশ হিমায়িত খাদ্য রপ্তানিকারক সমিতির প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন। এ সময় প্রতিনিধিদলটি বাংলাদেশ থেকে ইউরোপে চিংড়ি আমদানির ব্যাপারে তাদের মন্তব্য জানাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রপ্তানিকারকদের সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রতিবছর তিন থেকে চার হাজার কোটি টাকার হিমায়িত মত্স্য তথা চিংড়ি রপ্তানি হয়ে থাকে। এর মধ্যে ইইউভুক্ত দেশগুলোতেই শতকরা ৪৫ ভাগ হিমায়িত খাদ্য রপ্তানি হয়ে থাকে।
তবে চিংড়ি মাছে নাইট্রোফুরানের ব্যাপক উপস্থিতির কারণে বাংলাদেশের রপ্তানিকারকেরা ২০০৯ সালের ১৯ মে থেকে স্বেচ্ছায় ইইউভুক্ত দেশগুলোতে হিমায়িত খাদ্য রপ্তানি করা থেকে বিরত থাকেন। এর পরে আলোচনার মাধ্যমে চলতি ২০১০ সালের ১০ জানুয়ারি থেকে আবার ইইউতে বাংলাদেশি মত্স্য রপ্তানি শুরু হয়।

কারসাজি রয়েছে কি না, দেখতে এসইসির তদন্ত কমিটি গঠন

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত টেলিযোগাযোগ খাতে দেশের শীর্ষস্থানীয় কোম্পানি গ্রামীণফোন লিমিটেডের শেয়ারের সাম্প্রতিক লেনদেনের পেছনে কোনো কারসাজি রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) গতকাল বুধবার দুই সদস্যের এ কমিটি গঠন করে। এসইসির পরিচালক রেজাউল করিম ও সহকারী পরিচালক ইকবাল হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত এ কমিটিকে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
যোগাযোগ করা হলে এসইসির সদস্য মনসুর আলম প্রথম আলোকে বলেন, গ্রামীণফোনের শেয়ারের সাম্প্রতিক লেনদেনের ধরন ছিল কিছুটা অস্বাভাবিক। তাই এ ক্ষেত্রে আইনবহির্ভূত কোনো ঘটনা ঘটেছে কি না, তা খতিয়ে দেখতেই এ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটি এ লেনদেনের পেছনে কোম্পানির কোনো অপ্রকাশিত মূল্যসংবেদনশীল তথ্য কাজ করেছে কি না, তাও খতিয়ে দেখবে।
এর আগে গত সোমবার এসইসি গ্রামীণফোনের শেয়ারের লেনদেনকে অস্বাভাবিক অ্যাখ্যা দিয়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই) তা তদন্ত করার নির্দেশ দেয়। এর ভিত্তিতে ডিএসই ৩৫টির মতো ব্রোকারেজ হাউসে গ্রামীণফোনের শেয়ার লেনদেনে অংশ নিয়েছে এমন শীর্ষ ২০ গ্রাহকের তথ্য সংগ্রহ শুরু করেছে। একই দিন এসইসি নিজেও তদারকি দল পাঠিয়ে ছয়টি ব্রোকারেজ হাউস থেকে লেনদেনের তথ্য সংগ্রহ করে।
প্রাথমিক এসব তদন্তে সন্দেহজনক কোনো কিছু পাওয়া গেছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে মনসুর আলম বলেন, ‘কিছু সন্দেহজনক ব্যাপার রয়েছে বলেই তো তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।’ সাম্প্রতিক সময়ে বাজারে গ্রামীণফোনের শেয়ারের যে হারে মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে, তার চেয়ে বেশি হারে অন্য অনেক দুর্বল কোম্পানির শেয়ারের মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে। তাহলে কেবল গ্রামীণফোন নিয়ে এসইসির এত উদ্বেগ কেন—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘গ্রামীণফোনের শেয়ারের দাম ও লেনদেনের ওঠানামা সূচকে অনেক বেশি প্রভাব ফেলে। তাই এ কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেনে অনৈতিক কিছু ঘটলে তা পুরো বাজারকেই প্রভাবিত করবে। সে জন্যই কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেন নিয়ে এ সতর্কতা।’
বাজার পরিস্থিতি: এসইসির তদন্ত ও কয়েকটি মার্চেন্ট ব্যাংকের ঋণসুবিধা বন্ধ হওয়ার পর গত মঙ্গলবার গ্রামীণফোনের শেয়ারের দর কিছুটা কমে। তবে গতকাল আবার তা বৃদ্ধির ধারায় ফিরে এসেছে।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, এর মাধ্যমে কোম্পানিটির শেয়ারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের ব্যাপক আস্থার প্রতিফলন ঘটেছে।
অবশ্য, এ দিন উভয় স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ারের দামই বেড়েছে।
গতকাল দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জে ট্রাস্ট ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ডের লেনদেন শুরু হয়েছে।
লেনদেনের প্রথম দিনেই ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের ফান্ডটি লেনদেন হয়েছে সর্বোচ্চ ৩০ টাকায়। অবশ্য দিন শেষে তা ২৭ টাকায় নেমে এসেছে।

শীর্ষ ১০ মন্ত্রণালয় ও বিভাগের অর্ধবার্ষিক এডিপি বাস্তবায়ন -নাজুক অবস্থা যোগাযোগ, বিদ্যুৎ ও পানিসম্পদের

যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নে রীতিমতো হতাশ সরকারের শীর্ষ মহল। দেশের অবকাঠামো দিন দিন ক্রমেই নাজুক অবস্থায় চলে যাচ্ছে। কিন্তু নতুন বিনিয়োগে সরকারের অর্থ বরাদ্দ থাকলেও তার বাস্তবায়ন হচ্ছে অত্যন্ত ধীরগতিতে।
চলতি অর্থবছরের এডিপিতে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের মোট বরাদ্দ তিন হাজার ৬৯৯ কোটি টাকা। কিন্তু ছয় মাসে মন্ত্রণালয়ের একাধিক সংস্থা মিলে মাত্র ৫৯৭ কোটি টাকা খরচ করতে পেরেছে।
শুধু যোগাযোগ মন্ত্রণালয় নয়, বরাদ্দের বিচারে শীর্ষ ১০ মন্ত্রণালয়ের অর্ধেক মন্ত্রণালয়ের অবস্থায় এ রকম নাজুক অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর সময়কালে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
তবে সরকার চিন্তিত বিদ্যুৎ, যোগাযোগ ও পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অগ্রগতি নিয়ে। কারণ এই খাতগুলোর সঙ্গে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রত্যক্ষ সম্পর্ক জড়িত।
জানা গেছে, ২০০৯-১০ অর্থবছরের বাজেট বাস্তবায়নে সরকার নানা পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করলেও প্রথম ছয় মাসে এডিপির মাত্র ২৮ শতাংশ বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
এডিপি বাস্তবায়নের বরাদ্দের শীর্ষে থাকা ১০ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে আছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। তাদের বরাদ্দকৃত ৬৮৩ কোটি টাকার মধ্যে ছয় মাসে ৫০৬ কোটি টাকা খরচ হয়েছে, যা মোট বরাদ্দের ৭৪ শতাংশ।
এর পরে আছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয় তাদের বরাদ্দকৃত ৯৪৭ কোটি টাকার মধ্যে ছয় মাসে ৩৮৬ কোটি টাকা খরচ করেছে, যা তাদের মোট এডিপি বরাদ্দে ৪১ শতাংশ।
তৃতীয় অবস্থানে আছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। এই মন্ত্রণালয় বরাদ্দকৃত দুই হাজার ৮২৮ কোটি টাকার মধ্যে ছয় মাসে ৩৯ শতাংশ খরচ করে ফেলেছে।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের জন্য চলতি অর্থবছরে মোট বরাদ্দ ছিল ছয় হাজার ৫১৩ কোটি টাকা। ছয় মাসে তারা মোট ব্যয় করতে পেরেছে দুই হাজার ৫৭০ কোটি টাকা, যা মোট বরাদ্দের ৩৯ শতাংশ।
এডিপি বাস্তবায়নে কৃষি মন্ত্রণালয়ের অগ্রগতি মোটামুটি সন্তোষজনক। গত ছয় মাসে তাদের বরাদ্দের ৩৮ শতাংশ খরচ হয়েছে। চলতি অর্থবছরে এই মন্ত্রণালয়ের মোট বরাদ্দ ৮৬০ কোটি টাকা।
স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের চলতি অর্থবছরে মোট বরাদ্দ আছে তিন হাজার ৬৩ কোটি টাকা। ছয় মাসে মন্ত্রণালয় খরচ করেছে ৮৭৬ কোটি টাকা, যা তাদের মোট বরাদ্দের ২৯ শতাংশ।
দেশের বিদ্যুতের সংকট প্রকট থাকলেও এ খাতের সক্ষমতা বাড়াতে মন্ত্রণালয়ের কাজে তেমন একটা গতি নেই। ২০০৯-১০ অর্থবছরে বিদ্যুত্ বিভাগের জন্য মোট বরাদ্দ রয়েছে তিন হাজার ১৩৩ কোটি টাকা। ছয় মাসে বিদ্যুৎ বিভাগ ব্যয় করতে পেরেছে মাত্র ৬৭৫ কোটি টাকা, যা তাদের মোট বরাদ্দের মাত্র ২২ শতাংশ।
এডিপি বাস্তবায়নে সবচেয়ে নিচে আছে গৃহায়ণ ও পূর্ত মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়টি এ বছর এডিপি বাবদ বরাদ্দ পায় ৫৪৪ কোটি টাকা। ছয় মাসে তারা ব্যয় করতে পেরেছে মাত্র ২১ কোটি টাকা, যা মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দের বিপরীতে মাত্র চার শতাংশ।
আবার পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় তাদের মোট বরাদ্দের মাত্র ১৮ শতাংশ ব্যয় করেছে।
বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের গবেষণা পরিচালক জায়েদ বখ্ত প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্রতি অর্থবছরই প্রথম ছয় মাসে এডিপির বাস্তবায়নের হার কিছুটা শ্লথ থাকে। সে বিবেচনায় এবারও কোনো ব্যতিক্রম হয়নি। তবে যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়নের হার হতাশজনক।’
জায়েদ বখ্ত আরও বলেন, ‘আমাদের অবকাঠামো খাতের বিনিয়োগ পরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়ন করতে না পারলে মধ্য আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার সব পরিকল্পনাই পিছিয়ে পড়বে।’
প্রসঙ্গত, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ২০০৯-১০ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় বলেছিলেন, ‘আমাদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হলো বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির বাস্তবায়ন। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির যথাযথ বাস্তবায়ন সব সময়ই দুর্বল; এবারের বিশেষ ভয় হলো যে এটি এতই উচ্চাভিলাষী যে ব্যর্থতার আশঙ্কা ব্যাপক। তাই শুরু থেকেই পরিবীক্ষণ, দেখাশোনা ও মূল্যায়নে জোর দিতে হবে।’
উল্লেখ্য, চলতি অর্থবছর এডিপিতে মোট ৮৮৬টি উন্নয়ন প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। গত অর্থবছর ছিল ৯০৪টি। গত অর্থবছর সংশোধিত এডিপির আয়তন ছিল ২৩ হাজার কোটি টাকা। এর বিপরীতে শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়ন করা গেছে ১৯ হাজার ৬৬৮ কোটি টাকার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প, যা মোট বরাদ্দের ৮৬ শতাংশ।
এর আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গত অর্থবছরের জন্য ২৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকার মূল এডিপি নির্ধারণ করে। পরবর্তী সময়ে এই সরকার এসে তা কমিয়ে আনে। চলতি অর্থবছরেও সরকার মূল এডিপিকে ইতিমধ্যেই কিছুটা কাটছাঁট করে সাড়ে ৩০ হাজার ৫০০ কোটি টাকা থেকে সাড়ে ২৮ হাজার কোটি টাকায় নামিয়ে এনেছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়: এদিকে গতকাল বুধবার সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মুস্তাফা মহিউদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় মন্ত্রণালয়ের চলতি অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর সময়কালের এডিপি বাস্তবায়নের চিত্র প্রকাশ করা হয়।
সভায় বলা হয়, এডিপি বাস্তবায়নে অগ্রগতির হার ৬২ শতাংশ, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২২ শতাংশ বেশি।
জানা গেছে, ২০০৯-১০ অর্থবছরের এডিপিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ছয়টি প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এ প্রকল্পগুলোর অনুকূলে বরাদ্দের পরিমাণ ৪৫ কোটি নয় লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারের অর্থায়ন দুই কোটি ৫৯ লাখ টাকা। বাকি ৪২ কোটি ৫০ লাখ টাকা প্রকল্প সাহায্য। ছয় মাসে প্রকল্পগুলোর অনুকূলে ২৮ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ছয় প্রকল্প হচ্ছে—স্ট্রেনদেনিং অ্যাকাউন্টিং অডিটিং স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড প্র্যাকটিসেস ইন দ্য করপোরেট সেক্টর, বাংলাদেশ ট্রেড সাপোর্ট প্রোগ্রাম, কোয়ালিটি সাপোর্ট এক্সপোর্ট ডাইভারসিফিকেশন প্রোগ্রাম, প্রমোশন অব সোশ্যাল এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড প্রডাকটিভিটি স্ট্যান্ডার্ড ইন দ্য আরএমজি সেক্টর, স্মল হোল্ডিং টি কালটিভেশন ইন চিটাগাং হিল ট্রাক্টস এবং ডেভেলপমেন্ট অব স্মল হোল্ডিং টি কালটিভেশন ইন নর্দান বাংলাদেশ।

পাকিস্তান-অস্ট্রেলিয়া ফাইনাল

শ্রীলঙ্কাকে ২ উইকেটে হারিয়ে অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে অস্ট্রেলিয়া। শন মার্শের ছোট ভাই মিচেল মার্শের ৯৭ রানের ইনিংসেই শ্রীলঙ্কার বেঁধে দেওয়া ২০৬ রানের জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় তারা। আগামী পরশু ফাইনালে পাকিস্তানের মুখোমুখি হবে অস্ট্রেলিয়া।

হায় লিভারপুল

লিভারপুল মাথা তুলে দাঁড়াতেই পারছে না। আশার ফানুস ফুলিয়ে পরশু উলভারহ্যাম্পটনের বিপক্ষে খেলতে নেমেছিল ‘অল রেড’রা। গোলশূন্য ড্রয়ে তা আবার চুপসে গেল। আরেকটু ম্লান হলো শীর্ষ চারে থেকে লিগ শেষ করার সম্ভাবনা।

অসন্তুষ্ট রিয়াল, তবে...

মালাগার বিপক্ষে পাওয়া লাল কার্ডটি ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো যেমন মেনে নিতে পারেননি, মানতে পারেনি রিয়াল কর্তৃপক্ষও। তাতে কী এসে যায়? প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়কে কনুই মেরে সরাসরি লাল কার্ড দেখার শাস্তি রোনালদোকে পেতে হয়েছে। তাঁকে দুই ম্যাচে নিষিদ্ধ করেছে স্প্যানিশ লিগের ডিসিপ্লিনারি কমিটি।

বাফুফেকে রিচার্ডসের সাহায্যের আশ্বাস

তিনি ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের চেয়ারম্যান, উয়েফার পেশাদার ফুটবল কমিটির চেয়ারম্যান, ছিলেন ইংলিশ ক্লাব শেফিল্ড ওয়েনেসডের চেয়ারম্যান। পেশাদার ফুটবলের বিপুল অভিজ্ঞতা স্যার ডেভ রিচার্ডসের। বাংলাদেশের ফুটবলকে সাহায্য করতেই এগিয়ে এলেন এই ব্রিটিশ ফুটবল ব্যক্তিত্ব।
বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি কাজী সালাউদ্দিনের আমন্ত্রণেই তাঁর বাংলাদেশে আসা। কাল সালাউদ্দিনকে পাশে নিয়ে সাংবাদিকদের জানালেন, ‘এখানে আমি সরাসরি কিছু দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি না। তবে আগে আপনাদের নেওয়ার জন্য ক্ষেত্র প্রস্তুত করতে হবে। তাহলেই আমি কিছু দিতে পারব।’
তা কেমন হবে সেই ক্ষেত্রটি? বাফুফে সভাপতি সালাউদ্দিনের অনেক দিনের ইচ্ছা বাংলাদেশে একটা ফুটবল একাডেমি গড়ার। সেই একাডেমিকেই নানাভাবে সাহায্য করতে প্রস্তুত রিচার্ডস, ‘আমরা এটির নকশার ব্যাপারে সাহায্য করতে পারি। ব্যবস্থাপনার দিকটিতেও সহযোগিতা করা যেতে পারে। প্রধান কয়েকজন কোচ নির্বাচন করে আমরা তাদের প্রশিক্ষণ দেব পরে যারা অন্যদের প্রশিক্ষণ দেবে।’ বিশ্বমানের একাডেমি গড়ার জন্য সালাউদ্দিন রিচাডর্সের পরামর্শ চেয়েছিলেন। সেই একাডেমির একটি রূপরেখাও দিলেন রিচার্ডস, ‘যেনতেনভাবে একাডেমি করলেই হবে না। সেখানে জব সেন্টার, ফিটনেস সেন্টার, কম্পিউটার সেন্টার, জিমনেসিয়ামও থাকতে হবে।’
একাডেমি থেকেই ভালো ফুটবলার উঠে আসতে পারে বলে মনে করেন রিচার্ডস, ‘আমরা দারুণ একটা একাডেমি গড়েছি দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউনে। সেখান থেকে অনেক ভালো মানের খেলোয়াড় উঠে আসছে। আমি চাই বাংলাদেশ থেকেও এমন কিছু প্রতিভাবান খেলোয়াড় উঠে আসুক।’
রিচার্ডসের কথা, ইংলিশ এফএ কাপ এবং ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের মতো বাংলাদেশেও এমন জনপ্রিয় লিগ চালু হতে পারে। তবে তার আগে বাফুফেকেই ভাবতে হবে আসলে তারা কী চায়? তাঁর দিক থেকে সহযোগিতার কোনো কমতি হবে না বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি, ‘আমরা আসলে একটা ফুটবল পরিবার। এখানে সবাই সবার সাহায্য পাওয়ার যোগ্য।’

আর্থারের পদত্যাগের পর

চেইন রিঅ্যাকশন’ বোধহয় একেই বলে। আগের দিন মিকি আর্থার ইস্তফা দিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার কোচের পদ থেকে। পরদিন প্রথমে শোনা গেল, পুরো নির্বাচক কমিটিই বাতিল করে দিচ্ছে ক্রিকেট সাউথ আফ্রিকা (সিএসএ)। এর পরই ঘোষণা এল, পুনর্গঠন করা হবে পুরো ক্রিকেট বোর্ডের অবকাঠামোই!
ঘটনার শুরু আর্থারের ইস্তফা দিয়ে। ২০০৫ সালের মে মাসে রে জেনিংসের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার পর গত প্রায় ৫ বছরে দক্ষিণ আফ্রিকা দলের সাফল্যের অন্যতম কারিগর তিনি। কিন্তু গুজব রটেছিল, অধিনায়ক গ্রায়েম স্মিথের সঙ্গে তাঁর বনিবনা হচ্ছে না বেশ কিছুদিন ধরেই। সম্পর্কের অবনতি হতে থাকার কারণেই নাকি সরে দাঁড়ান আর্থার।
যদিও কাল স্মিথকে পাশে নিয়েই সংবাদ সম্মেলন করলেন সাবেক হয়ে যাওয়া কোচ। ছবিটাই বলে দিচ্ছিল, প্রথমে শোনা যাওয়া গুঞ্জনটা স্রেফ গুঞ্জনই। আর্থার নিজেও জানালেন, অধিনায়কের সঙ্গে ক্ষমতার কোনো দ্বন্দ্ব নয়, বরং সিএসএর সঙ্গেই মতের মিল হচ্ছে না তাঁর, ‘বর্তমান যা পরিস্থিতি তাতে আমার মনে হচ্ছে না, দলকে আমি এগিয়ে নিতে পারি।’
বলেছেন, ‘গ্রায়েমের সঙ্গে আমার কোনো সমস্যা নেই। গ্রায়েম তো আর অতটা ক্ষমতাধর নয়। ওর জন্য বিষয়টা কুিসত হয়ে গেল। এরই মধ্যে তিনজন কোচ আর তিনটা ভিন্ন ভিন্ন নির্বাচক কমিটির সঙ্গে ওকে কাজ করতে হলো, যদিও বয়সে ও এখনো তরুণ।’ স্মিথের সঙ্গে এই পাঁচ বছরে অসাধারণ সম্পর্ক ছিল বলেও জানালেন, ‘গ্রায়েমের সঙ্গে বিন্দুমাত্র কোনো সমস্যা আমার নেই। আমাদের সম্পর্ক বরং দারুণ ছিল।’ স্মিথও জানালেন, আর্থারের কাছ থেকে ফোনে তাঁর সরে দাঁড়ানোর খবর শোনার পর থেকেই একরকম শোকাচ্ছন্ন হয়ে আছেন তিনি।
পদত্যাগ আর্থার স্বেচ্ছায় করেছেন। তবে বোর্ডের ওপর থেকে চাপ তৈরি হয়েছিল। আর্থারের জন্য সম্মানজনক প্রস্থানের পথ করে দিয়ে তাঁকে সরে দাঁড়াতে একরকম বাধ্যই করা হয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকাকে টেস্ট আর ওয়ানডে দুই র্যাঙ্কিংয়েই এক নম্বরে তুলে এনেছিলেন। যদিও ২০০৯ সালে মাত্র একটা টেস্ট জিতেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। ওয়ানডেতেও ছিল ব্যর্থতা।
ওদিকে সিএসএর প্রধান নির্বাহী জেরাল্ড মাজোলা জানিয়েছেন, শনিবার ভারতের উদ্দেশে রওনা দেওয়া দলটির আপত্কালীন কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন কোরি ভ্যান জিল। জিল অন্তর্বর্তীকালীন নির্বাচক কমিটিতেও আছেন। এই কমিটিতে জিলের সঙ্গে আছেন কেপলার ওয়েসেলস আর মাজোলা নিজে। ১৯ ফেব্রুয়ারি বোর্ডের পরবর্তী সভায় নতুন করে ঠিক করা হবে কোচ আর নির্বাচক কমিটি।

জ্বলবে মশাল ঐক্যের প্রতীক হয়ে

বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের পুরোনো মশাল-স্তম্ভ ভেঙে নতুন স্তম্ভ করা হয়েছে। গেমসের উদ্বোধনী দিনে কাল এই স্তম্ভে মশাল জ্বলবে, যা নিভবে গেমসের সমাপনী দিনে, ৯ ফেব্রুয়ারি।
আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মশাল ফ্রেমের উচ্চতা ৬০ ফুট, মশালের উচ্চতাও ৬০ ফুট। ইস্পাতের পরিমাণ আনুমানিক ২৫০ টন। ফ্রেমের উচ্চতা ১০-১২ ফুট।
আঞ্চলিক সহযোগিতা, বন্ধুত্ব ও সাংস্কৃতিক বন্ধনের প্রতীক হয়ে জ্বলবে মশালের শিখা। প্রজ্বালিত মশালে ব্যক্ত হবে ঐতিহ্য, ঐক্যের প্রতীক ও আঞ্চলিক সহযোগিতার আকাশছোঁয়ার অভিলাষ।
এবারই প্রথম অলিম্পিকের মতো এই গেমসের আগে মশাল প্রজ্বালন করা হচ্ছে নানা আনুষ্ঠানিকতায়। গতবার যেহেতু গেমস হয়েছিল শ্রীলঙ্কায়, তাই এবার মশাল-যাত্রার শুরুটা হয়েছে সে দেশ থেকেই। শ্রীলঙ্কার অ্যাডামস পিকে জাঁকালো অনুষ্ঠান শেষে আর কোথাও না গিয়ে সরাসরি ঢাকায় মশাল এসেছে ২৪ জানুয়ারি। কাল দুপুরে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে দক্ষিণ এশীয় অলিম্পিক কাউন্সিলের সভাপতি ও বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জেনারেল আব্দুল মুবীনের কাছে তা হস্তান্তর করেন ঢাকায় শ্রীলঙ্কার ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার সি মোনাসিংহে। জেনারেল আব্দুল মুবীন সেটি তুলে দেন গেমসের উত্সব কমিটির আহ্বায়ক মেজর জেনারেল আমিন আহমদ চৌধুরীর কাছে।
আজ মেঘনাঘাট থেকে শুরু হবে মশাল-যাত্রা; সেখান থেকে নদীপথে বুড়িগঙ্গার তীরে এসে তা যাত্রা করবে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের দিকে। এ উপলক্ষে মেঘনাঘাটে হবে নৌকাবাইচ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
মশাল বহন করার জন্য মনোনীত করা হয়েছে দেশের ১২ জন ক্রীড়াবিদকে। তাঁরা হলেন—লুত্ফুন্নেসা হক বকুল, গোলাম মোস্তাফা বীর বিক্রম (যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা), জিনাত আহমেদ, কাজী সালাউদ্দিন, রকিবুল হাসান, আতিকুর রহমান, কাজী শাহানা পারভীন, আকরাম খান, লে. কমান্ডার বজলুর রহমান (অব.), জুয়েল রানা, সুবেদার মোশাররফ হোসেন ও মাহবুব আলম। মূল ভেন্যুতে মশাল প্রজ্বালন করবেন কাজী সালাউদ্দিন।
আগে জানানো হয়েছিল মেঘনাঘাটে প্রধান অতিথি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত থাকবেন, তবে কাল জানানো হলো ওই অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি গেমসের সাংগঠনিক কমিটির চেয়ারম্যান অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

‘চীনা বিপ্লবের’ মাঝে হেনিন

টেবিল টেনিসের দেশ চীনজুড়ে এখন আলোচিত হচ্ছে লন টেনিস। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো যেকোনো গ্র্যান্ড স্লাম টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে উঠেছেন দুই চীনা খেলোয়াড়!
ঝেং ঝাই উঠেছিলেন আগেই। কাল উঠে এলেন লি না। লি আবার হারিয়ে দিয়েছেন গত এক দশকে মেয়েদের টেনিসকে আলোড়িত করে রাখা উইলিয়ামস বোনদের বড় জনকে। প্রথম সেটে হেরেছিলেন বাজেভাবে, পরেরটা জেতেন টাইব্রেকে। শেষ সেটটাও লড়াই করে শেষ পর্যন্ত ভেনাসকে হারিয়েছেন ২-৬, ৭-৬ (৭/৪), ৭-৫ গেমে।
ওদিকে ভিক্টোরিয়া আজারেঙ্কার বিপক্ষে সেরেনাও হেরে বসেছিলেন প্রথম সেটটা। পরে দুর্দান্ত লড়াই করে ৪-৬, ৭-৬ (৭/৪), ৬-২ গেমে জিতে তিনিও ওঠেন সেরা চারে। আজ সেমিফাইনালে সেরেনার প্রতিপক্ষ লি। আর অবসর থেকে ফেরার পর প্রথম গ্র্যান্ড স্লামের ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে জাস্টিন হেনিনের প্রতিপক্ষ ঝেং।
ওদিকে পুরুষ এককে রাফায়েল নাদালের পর আরেকটু হলেই বিদায়ঘণ্টা বেজে যেত রজার ফেদেরারেরও। এ বছরই দোহায় নাদাল-ফেদেরার দুজনকেই হারানো নিকোলাই ডেভিডেঙ্কোর মুখোমুখি হয়েছিলেন ফেদেরার। শুরুতে ৬-২, ৩-১ পর্যন্ত লিডও ছিল এই রাশানের। টানা ১৩ ম্যাচ জেতা ডেভিডেঙ্কোর অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে প্রথমবারের মতো সেমিফাইনালে উঠে আসার স্বপ্ন শেষ পর্যন্ত পূরণ হয়নি। শেষ পর্যন্ত ফেদেরার জিতেছেন ২-৬, ৬-৩, ৬-০, ৭-৫ গেমে। উঠে এসেছেন টানা ২৩টি গ্র্যান্ড স্লামের সেমিফাইনালে। সেমিতে তাঁর প্রতিপক্ষ জো-উইলফ্রায়েড সোঙ্গা। সোঙ্গা কাল বিদায় করে দিয়েছেন নোভাক জোকোভিচকে। এই জোকোভিচের কাছেই ২০০৮ সালের অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালে হেরেছিলেন ওই টুর্নামেন্টের চমক সোঙ্গা।
এবারের অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের চমক মার্টিন সিলিচ। ২১ বছর বয়সী এই সার্বিয়ান আজও চমক দেখালে অ্যান্ডি মারেকে নিতে হবে বিদায়। আর মারে জিতলে আবারও ব্রিটিশরা একটা গ্র্যান্ড স্লাম শিরোপার স্বপ্নে বুক বাঁধবে।
তবে আজ মেয়েদের সেমিফাইনাল দুটোই চোখ টানবে বেশি। দুই চীনার উঠে আসা তো বটেই, তাতে বাড়তি রোমাঞ্চের রং চড়াচ্ছেন হেনিন। ১৮ মাস পর টেনিসে ফিরেই সেমিফাইনালে উঠেছেন। আর দুটি ধাপ পেরোলেই তো হেনিনের প্রত্যাবর্তনটা সত্যিকারের এক রূপকথা হয়ে ওঠে।

তিন ভাগে দেশে ফিরছে ভারত

তাঁরা এসেছিলেন দুই ভাগে, একদল ত্রিদেশীয় সিরিজের আগে, কয়েকজন টেস্ট সিরিজের আগে। যাওয়ার সময় ভারতীয় দল ফিরছে তিন ভাগে। গত রাত পৌনে একটায় এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইটে ঢাকা ছাড়ার কথা ছিল শচীন টেন্ডুলকার, জহির খান ও যুবরাজ সিংয়ের। বাকি যাঁরা দিল্লি যাবেন, তাঁরা ঢাকা ছাড়বেন সকাল সাড়ে নয়টায়, আর যাঁরা মুম্বাই যাবেন, তাঁরা দুপুর দেড়টায়।

Friday, January 29, 2010

জাহাজভাঙা শিল্পের জন্য যা দরকার by মশিউল আলম

সীতাকুণ্ডের উপকূলে পুরোনো জাহাজভাঙা শিল্পে মাঝেমধ্যেই দুর্ঘটনায় মানুষ মারা যায়, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ হারায়। যখন এমন ঘটে তখন সংবাদমাধ্যমে খবর হয়, কয়েক দিন লেখালেখি চলে; নড়েচড়ে ওঠে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলো। গত ২৬ ডিসেম্বর এ রকম এক দুর্ঘটনায় চারজনের মৃত্যু ও ২৫ জনের আহত হওয়ার পর সংবাদমাধ্যমে যথারীতি সাড়া পড়ে গেল; সীতাকুণ্ড সফর করলেন বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী। সরকারের তরফ থেকে বলা হলো, পুরোনো জাহাজ আমদানি ও ভাঙার বিষয়ে একটি নীতিমালা এবং আইনি বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করবে এমন বিধিমালা তৈরি করা হবে। ১ জানুয়ারি খবর বেরোল, পরিবেশ অধিদপ্তর ৮৪টি জাহাজ ভাঙার ইয়ার্ডকে পরিবেশগত ছাড়পত্র সংগ্রহ করার জন্য নোটিশ পাঠিয়েছে। কিন্তু এই তত্পরতা যে কিছুদিনের মধ্যে স্তিমিত হয়ে যাবে তাতে সন্দেহ নেই। কেননা প্রায় সব সমস্যার ক্ষেত্রেই স্থায়ী সমাধানের চেষ্টা বা নিরন্তর নজদারির বদলে তাত্ক্ষণিক বা অস্থায়ী সমাধান খোঁজার প্রবণতা সরকারি কর্তৃপক্ষগুলোর মধ্যে লক্ষ করা যায়। জাহাজভাঙা শিল্প এমন এক ক্ষেত্র, যেখানে সরকারের অন্তত তিনটি দপ্তরের নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন।
মদিনা এন্টারপ্রাইজ নামের এক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের একটি পুরোনো জাহাজ আমদানি ও ভাঙা নিয়ে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের মার্চ মাসে হাইকোর্ট একটি রায় দিয়েছিলেন। ইংরেজিতে লেখা ২২ পৃষ্ঠা দীর্ঘ সে রায়ের ভাষ্য থেকে এ দেশে জাহাজভাঙা শিল্পের একটা চিত্র পাওয়া যায়।
মদিনা এন্টারপ্রাইজ সিঙ্গাপুরের ইয়ালুম্বা ইন্ক নামের এক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে এমটি এন্টারপ্রাইজ নামের একটি পুরোনো তেলট্যাংকার ভাঙার উদ্দেশ্যে আমদানি করে। নিয়ম অনুযায়ী, ভাঙার উদ্দেশ্যে পুরোনো জাহাজ বিদেশ থেকে আমদানি করার জন্য এলসি খুলতে হলে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরের কাছ থেকে অনাপত্তিপত্র নিতে হয়। মদিনা এন্টারপ্রাইজ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখিয়ে অধিদপ্তরের অনাপত্তিপত্র পায় ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০০৮। তারপর অধিদপ্তর জানতে পারে, গ্রিনপিস নামের আন্তর্জাতিক সংস্থার ক্ষতিকর পদার্থবাহী জাহাজের তালিকায় ওই পুরোনো তেলট্যাংকারটির নাম রয়েছে; অধিদপ্তর অনাপত্তিপত্রটি বাতিল করে। মদিনা এন্টারপ্রাইজ বাতিলাদেশের বিরুদ্ধে আদালতে রিট করে এবং অধিদপ্তরকে তদন্তের আবেদন জানায়। অধিদপ্তর ২০০৮ সালের ২৬ আগস্ট মার্কেন্টাইল মেরিন ডিপার্টমেন্টের একজন প্রকৌশলী ও শিপ সার্ভেয়ার, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের ডক মাস্টার ও সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরের প্রধান রসায়নবিদকে নিয়ে তিন সদস্যবিশিষ্ট এক তদন্ত কমিটি গঠন করে। সে কমিটি পরের দিনই (২৭ আগস্ট ২০০৮) তদন্ত করে এবং ২৮ আগস্ট প্রতিবেদন দেয়। প্রতিবেদনে বলা হয়: ‘সমুদ্রে চলাচলের সময় এ ধরনের জলযানে যে মাত্রায় বিষাক্ত পদার্থ থাকে, এ জাহাজটিতে বিষাক্ত পদার্থের পরিমাণ তার চেয়ে বেশি নয়।’ ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তর অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়কে ২০০৮ সালের ৮ সেপ্টেম্বর এক চিঠি দিয়ে মদিনা এন্টারপ্রাইজকে দেওয়া অনাপত্তিপত্র বাতিলের আদেশ প্রত্যাহারের ইচ্ছা প্রকাশ করে। তখন অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় আদালতকে জানায় যে সরকার মদিনা এন্টারপ্রাইজের বাতিলাদেশ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আদালত ১০ সেপ্টেম্বর ২০০৮ এক আদেশে মদিনা এন্টারপ্রাইজকে ‘যথাযথ আইনকানুন মেনে’ উল্লিখিত জাহাজটি ‘ব্যবহারের’ (ভাঙা) স্বাধীনতা দেয়।
এ পর্যায়ে এগিয়ে আসে আইনবিদদের সংগঠন বেলা; ১৪ সেপ্টেম্বর ২০০৮ তারা আদালতে রিট আবেদন করে। রিটের শুনানির পর আদালত ১৭ সেপ্টেম্বর এক রুলনিশি জারি করে প্রথমে দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিতাদেশ দেন, পরে এর মেয়াদ আরও বাড়ানো হয়। মদিনা এন্টারপ্রাইজ পাল্টা আপিল করে, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ২৭ অক্টোবর হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করেন; কিন্তু তার আগেই মদিনা এন্টারপ্রাইজ আদালতের আদেশ অগ্রাহ্য করেই জাহাজটি কাটা শুরু করে। বেলা আদালত অবমাননার অভিযোগ তোলে, আবার শুনানি চলে, এভাবে পাল্টাপাল্টি যুক্তিতর্ক চলে। ১৭ মার্চ ২০০৯ হাইকোর্ট বেলার মামলার চূড়ান্ত রায় দেন, যেখানে জাহাজ কাটা বন্ধ করার পাশাপাশি অনুমতিহীনভাবে জাহাজভাঙায় নিয়োজিত সব ইয়ার্ড বন্ধ করে দিতে পরিবেশ অধিদপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়। সর্বশেষ আপিল বিভাগ ইয়ার্ডগুলো বন্ধের আদেশ স্থগিত করে জাহাজভাঙা শিল্প সম্পর্কে একটি নীতিমালা ও বিধিবিধান প্রণয়নের আদেশ দেন।
মদিনা এন্টারপ্রাইজের সঙ্গে বেলার দীর্ঘ ও জটিল আইনি লড়াইয়ের এই প্রক্রিয়ায় দেশের জাহাজভাঙা শিল্পের মালিক ও এ শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষগুলোর আচরণ লক্ষ করা দরকার।
প্রথমত, মদিনা এন্টারপ্রাইজ উল্লিখিত তেলট্যাংকারটি আমদানি করার জন্য এলসি খোলার আগে সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরের অনাপত্তিপত্রটি নিয়েছে অধিদপ্তরকে ধোঁকা দিয়ে। প্রতিষ্ঠানটি তাদের আবেদনপত্রে এ তথ্যটি গোপন করেছে যে এমটি এন্টারপ্রাইজ নামের পুরোনো তেলট্যাংকারটি গ্রিনপিসের তালিকাভুক্ত এবং তাতে ক্ষতিকর ও বিপজ্জনক পদার্থ আছে। আদালতের রায়ে স্পষ্ট ভাষায় বলা হয়েছে, মদিনা এন্টারপ্রাইজ সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরকে বিভ্রান্ত (mislead) করেছে।
কিন্তু জাহাজটি গ্রিনপিসের তালিকাভুক্ত, এটা না জানলেও সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তর কর্তৃপক্ষ জানত যে জাহাজটি ১৯৭৯ সালে জাপানে তৈরি। আর এও তাদের জানা থাকার কথা যে বাংলাদেশের আমদানিনীতি আদেশ (২০০৬—২০০৯) অনুযায়ী ২৫ বছরের বেশি পুরোনো কোনো জাহাজ ভাঙার উদ্দেশ্যে আমদানি করা নিষিদ্ধ। আমদানির সময় এমটি এন্টারপ্রাইজের বয়স হয়েছিল ২৯ বছর। তাহলে কী করে এই জাহাজ আমদানির জন্য মদিনা এন্টারপ্রাইজ সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরের অনাপত্তিপত্র পেল? আদালতের রায়ে এ বিষয়ে বলা হয়েছে: ‘সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তর এমটি এন্টারপ্রাইজ নামের পুরোনো জাহাজটি আমদানির জন্য মদিনা এন্টারপ্রাইজকে অনাপত্তিপত্র দিয়েছে এমনভাবে, যেটাকে কারসাজি (subterfuge) বলে আখ্যা দেওয়া যায়।’ সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরের প্রধান রসায়নবিদের ফাইল নোটিং উদ্ধৃত করা হয়েছে আদালতের রায়ে: ‘জাহাজটির তথ্যসমূহ রেজি. সার্টিফিকেট ও এমওএ অনুযায়ী যথাযথ আছে। অনলাইন কানেকশন পাওয়া যায়নি। জাহাজটি গ্রিনপিস তালিকাভুক্ত নয়। এমতাবস্থায় এমটি এন্টারপ্রাইজের অনুকূলে এনওসি নম্বর ০৮০৭০৩৮ অনুমোদন দেওয়া যেতে পারে।’ আদালত বিস্ময় প্রকাশ করেছেন এই বলে: ‘এটা বোধগম্য নয়, মন্ত্রণালয়ের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা অনলাইন কানেকশন পাওয়া যায়নি স্বীকার করেও কীভাবে সিদ্ধান্ত দিতে পারলেন যে জাহাজটি গ্রিনপিসের তালিকায় নেই।’ তারপর যখন অধিদপ্তর জানতে পারে জাহাজটি গ্রিনপিসের তালিকাভুক্ত, তখন অনাপত্তিপত্র বাতিল করে, কিন্তু প্রধান রসায়নবিদসহ যেসব কর্মকর্তা সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরকে বিভ্রান্ত করে মদিনা এন্টারপ্রাইজকে অনাপত্তিপত্র পাইয়ে দিয়েছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আদালতের রায়ে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয় ফাওজিয়া নামের এক কর্মকর্তার কথা, যিনি অনাপত্তিপত্র বাতিলের সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনা করতে বারবার সুপারিশ করেন। রায়ে বলা হয়েছে, ‘আমাদের অনুভূতি হচ্ছে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, অর্থাত্ ফাওজিয়ার যোগ্যতা-দক্ষতা নিরূপণের লক্ষ্যে সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরের যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া উচিত; অনুরূপভাবে, প্রধান রসায়নবিদের ভূমিকাও ওপরে বর্ণিত ঘটনাবলির পরিপ্রেক্ষিতে প্রশ্নবিদ্ধ।’
দ্বিতীয়ত, দেরিতে হলেও অধিদপ্তর যখন জানতে পারে যে জাহাজটি গ্রিনপিসের ক্ষতিকর ও বিপজ্জনক পদার্থবাহী জাহাজের তালিকাভুক্ত এবং সে কারণে মদিনা এন্টারপ্রাইজকে দেওয়া আমদানির অনাপত্তিপত্রটি বাতিল করে, তখন মদিনা এন্টারপ্রাইজ আদালতের শরণ নেওয়ার পাশাপাশি অধিদপ্তরকে আবারও বিভ্রান্ত করে। তারা বারবার দাবি করতে থাকে যে গ্রিনপিসের তালিকায় এমটি এন্টারপ্রাইজ নামের তেলট্যাংকারটি নেই। নিউ আটলান্টিয়া নামের যে তেলট্যাংকারটি আছে, সেটিই যে নাম পাল্টে এমটি এন্টারপ্রাইজ হয়েছে, এ তথ্য তারা অস্বীকার করে। সেই সঙ্গে মদিনা এন্টারপ্রাইজ তদন্ত করার জন্য অধিদপ্তরকে আবেদন জানালে অধিদপ্তর তদন্ত কমিটি গঠন করে, কিন্তু জাহাজটি গ্রিনপিসের তালিকায় আছে কি না তা খতিয়ে না দেখে বরং জাহাজটিতে কী পরিমাণ বিষাক্ত পদার্থ আছে তা নিরূপণ করতে যায়। এবং এটা তারা করে খুব তড়িঘড়ি করে। অধিদপ্তরের তৈরি তদন্ত কমিটি মাত্র এক দিনের মধ্যে জাহাজটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দেয় যে সমুদ্রগামী এ ধরনের অন্য যেকোনো জাহাজে যে মাত্রায় বিষাক্ত পদার্থ থাকে, এমটি এন্টারপ্রাইজ তেলট্যাংকারটিতে তার চেয়ে বেশি নেই। এ প্রসঙ্গে আদালতের রায়ে বলা হয়েছে: ‘সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরের উদ্যোগে পরিচালিত তদন্তটির কার্যপরিধি (টার্মস অব রেফারেন্স) দৃশ্যত আত্মস্বার্থ-প্রণোদিত, উদ্দেশ্যমূলক ও ভ্রান্ত (self-serving, motivated and misconceived)। এতে তদন্তের প্রকৃত উদ্দেশ্যের প্রতিফলন ঘটেনি। যে পরীক্ষা করা হয়েছে তা অযৌক্তিক, তদন্ত কমিটির দেওয়া তথ্যগুলো অগ্রহণযোগ্য... তদন্তকারীদের আন্তরিকতা নিয়ে আমরা সন্দিগ্ধ।’ রায়ে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তর তিন সদস্যের যে তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল, তা যথাযথ প্রতিনিধিত্বশীল ছিল না, বিশেষ করে পরিবেশ অধিদপ্তরের মতো অতি গুরুত্বপূর্ণ কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিত্ব সম্পূর্ণভাবে অগ্রাহ্য করা হয়েছে।
তৃতীয়ত, সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরের অনাপত্তিপত্রের বলে বিদেশ থেকে পুরোনো জাহাজ আমদানি করলেই তা ভাঙা/কাটার কাজ শুরু করা যায় না। এ জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরের কাছ থেকে পরিবেশগত ছাড়পত্র নিতে হয়। আদালতে এটা প্রমাণিত হয়েছে যে মদিনা এন্টারপ্রাইজ এমটি এন্টারপ্রাইজ নামের তেলট্যাংকারটি কাটার কাজ শুরু করে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র না নিয়েই। আদালতের রায়ে মন্তব্য করা হয়েছে, এ ব্যাপারে ‘পরিবেশ অধিদপ্তর সমস্ত ক্ষমতার অধিকারী হয়েও বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন (১৯৯৫) ও এর অধীনস্থ বিধি-বিধান প্রয়োগে মর্মান্তিকভাবে ব্যর্থ হয়েছে।’ শুধু মদিনা এন্টারপ্রাইজ নয়, পরিবেশ অধিদপ্তরের দেওয়া হিসাবেই ৮৪টি জাহাজ কাটার ইয়ার্ড কাজ করছে পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়াই (বাস্তবে এই সংখ্যা শতাধিক)।
অর্থাত্ জাহাজভাঙা শিল্পের সঙ্গে জড়িত সরকারের দুটি কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব-কর্তব্য পালনে বিরাট ঘাটতি আছে; অনৈতিক অনুশীলনও যে আছে, বেলার মামলার রায়ে তার আভাষ সুস্পষ্ট। এ ছাড়া বিস্ফোরক অধিদপ্তরের ভূমিকাও খুব গুরুত্বপূর্ণ। কোনো পুরোনো জাহাজ কাটা শুরু করার আগে বিস্ফোরক অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নিতে হয়। গত ২৬ ডিসেম্বর যে জাহাজটিতে বিস্ফোরণ ঘটে চারজন মানুষ মারা গেল, বিস্ফোরক অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা দূর থেকে সেটি দেখে ইয়ার্ডের লোকজনকে বলেন, কাটো, কিন্তু পেছনের দিকে ওই অংশটুকু বাদ দিয়ে। তিনি কোনো লিখিত অনুমতি দিয়ে যাননি। এই একটি ঘটনা থেকেই বোঝা যায়, দেশের সবচেয়ে বিপজ্জনক শিল্পক্ষেত্রের ব্যাপারে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবহেলা কী মর্মান্তিক। বলা হয়, জাহাজ কাটার মৌখিক অনুমতির ক্ষেত্রেও অবৈধ অর্থযোগ রয়েছে।
বাংলাদেশে জাহাজকাটা শিল্প সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ কর্মক্ষেত্রগুলোর একটি। প্রাকৃতিক পরিবেশের ক্ষতি, শ্রমিকদের স্বাস্থ্য ও প্রাণের ঝুঁকি অত্যধিক। কিন্তু এই শিল্প বন্ধ করার ভাবনা অনেক কারণেই বাস্তবসম্মত নয়। প্রয়োজন এ শিল্পের ঝুঁকি ও ক্ষয়ক্ষতি সর্বোচ্চ মাত্রায় কমিয়ে ফেলা। সে জন্য দরকার সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তর, পরিবেশ অধিদপ্তর ও বিস্ফোরক অধিদপ্তরের দায়িত্বশীলতা, আন্তরিক তত্পরতা ও সততা। আমদানিনীতি আদেশ, পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, শ্রম আইন, বাসিল কনভেনশন—এগুলো যথেষ্ট শক্তিশালী আইনি হাতিয়ার। কিন্তু এসবের যথাযথ প্রয়োগ নেই। গত মঙ্গলবার হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ আগামী দুই মাসের মধ্যে জাহাজভাঙা শিল্প সম্পর্কে পৃথক বিধিমালা ও গেজেট নোটিফিকেশন প্রকাশ করতে নির্দেশ দিয়েছেন। এটা খুবই ভালো ও দরকারি কাজ। কিন্তু বিধিমালা প্রয়োগ করা না হলে সবই নিষ্ফল। ১৭ মার্চের রায়ে আদালত বিদেশ থেকে পুরোনো জাহাজ আনার আগে সেগুলোর প্রি-ক্লিনিং বা বর্জ্যমুক্ত করা ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেওয়া নিশ্চিত করতে সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরকে নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু তারপরও সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তর আগের মতোই, অর্থাত্ পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ও বর্জ্যমুক্তকরণ নিশ্চিত না করেই বিষাক্ত পদার্থবাহী জাহাজ আমদানির অনুমোদন দিয়ে চলেছে। তাই গত মঙ্গলবার আদালত সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরকে নির্দেশ দিয়েছেন, ১৭ মার্চ ২০০৯-এর পর থেকে এ পর্যন্ত কতটি পুরোনো জাহাজ ভাঙার উদ্দেশ্যে আমদানি করা হয়েছে এবং সেগুলো কোথায় কীভাবে বর্জ্যমুক্ত করা হয়েছে সে সম্পর্কে জানাতে।
বেলার মামলার রায়ে যে চিত্র ফুটে উঠেছে, এবং ১৭ মার্চ ২০০৯ আদালতের গুরুত্বপূর্ণ রায়টির পরও যে চিত্রে কোনো পরিবর্তন ঘটেনি, সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলোর তেমন আচরণের বিচার ও শাস্তি না হলে অবস্থার উন্নতি হবে না। তাদের দায়িত্বশীলতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই সবচেয়ে জরুরি কাজ।
মশিউল আলম: সাহিত্যিক ও সাংবাদিক।
mashiul.alam@gmail.com

শ্রমবাজারে নারী ও সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা by জোবাইদা নাসরীন |

আমেরিকার কর্মক্ষেত্রগুলোতে অল্প কয়েক মাসের মধ্যেই নারীকর্মীরা সংখ্যার দিক থেকে পুরুষকর্মীদের ছাড়িয়ে যাবেন। কয়েকটি ধনী দেশে পেশাজীবী নারীরা এরই মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। ওইসিডির (অর্গানাইজেশন ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট) দেশগুলোতে বিশ্ববিদ্যালয় গ্র্যাজুয়েট সংখ্যার দিক থেকে নারীরা পুরুষদের ছাড়িয়ে গেছে। আমেরিকাতে ২০১১ সালের মধ্যে ছেলেদের চেয়ে ২৬ লাখ বেশি মেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবে। স্ক্যান্ডেনেভিয়ান অঞ্চলের দেশগুলো নারীকর্মী নিয়োগে বিশ্বে প্রথম দিকে রয়েছে। এসব দেশে কর্মজীবী নারীদের সবচেয়ে কম সামাজিক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। (সূত্র: দি ইকোনমিস্ট) ধনী দেশগুলোর কর্মক্ষেত্রে নারীদের এই অগ্রগতির খবর নিঃসন্দেহে আমাদেরও আশাবাদী করে। বাংলাদেশকে ২০১৫ সালের মধ্যে সহস্রাব্দের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) অর্জন করতে হলে কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়টি অত্যন্ত জরুরি।
বৈশ্বিক পরিপ্রেক্ষিতে, নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন সমসাময়িক কালের সবচেয়ে বড় অর্জনগুলোর একটি। কিছুদিন আগেও গৃহস্থালির মতো একঘেয়েমির কাজে নারীকে সবচেয়ে বেশি দেখা যেত। নারীর জন্য শুধু নির্দিষ্ট কিছু কাজই রাখা হতো পাবলিক পরিসরে। মনে করা হতো, বিয়ে ও সন্তান হওয়ার পর নারী তার ক্যারিয়ার ছেড়ে দেবে। এসব চিন্তায় কম-বেশি পরিবর্তন এসেছে। বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি নারী উত্পাদনমূলক নানা কাজে নিজেদের নিয়োজিত করেছে। শুধু চ্যালেঞ্জিং কাজেই নয়, চ্যালেঞ্জিং অনেক সিদ্ধান্তও আসছে নারীদের কাছ থেকে। এ ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন এখনো অনেকটাই অসম্পূর্ণ। সমস্যা রয়ে গেছে অনেক।
বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে বলা বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ ক্রমান্বয়ে বাড়লেও তা এখনো বেশ কম। বর্তমান সরকারের আমলে মন্ত্রিসভাসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় স্থান পেয়েছে নারীরা। কিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ পদেও আছে তারা। কিন্তু বিশ্বব্যাংকের ২০০৮ সালের এক রিপোর্ট অনুযায়ী সব মিলে মাত্র ২৬ শতাংশ নারী অর্থনৈতিক কাজের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে, যাদের বেশির ভাগই শ্রমিক। গার্মেন্টসশিল্পে অনেক বেশি নারীর সম্পৃক্ততা বাংলাদেশের নারীর অর্থনৈতিক কাজের সম্পৃক্ততার এ হারকে বাড়াতে সহায়তা করেছে। যদিও এ দেশে বেতন-কাঠামোতেও অনেকাংশে রয়েছে বৈষম্য। ঘরে-বাইরে নারীর অবৈতনিক শ্রম এখানে যুক্ত করা হয়নি।
বাংলাদেশে বর্তমানে শ্রমবাজারের বিভিন্ন খাতে নারীর আগমন গত ১০ বছরে নিঃসন্দেহে অনেক বেড়েছে। তবে প্রতিবছর শ্রমবাজার থেকে নারীর ফিরে যাওয়ার সংখ্যাও অনেক। নারীদের একটি বৃহত্ অংশ শ্রমবাজার থেকে বিভিন্ন কারণে ঝরে পড়ে, যার বেশির ভাগেরই কোনো হিসাব পাওয়া যায় না। শুধু পারিবারিক ও সামাজিক মতাদর্শই নয়, শ্রমবাজার নারীর জন্য এখনো সব দিক থেকে অনুকূল নয় বলে নারীর এই বিপরীতমুখী যাত্রা। এখন অনেক চাকরির বিজ্ঞাপনে নারীদের আবেদন জানাতে উত্সাহিত করে ‘ওমেন আর এনকারেজড টু অ্যাপ্লাই’ লেখা থাকলেও নারীর জন্য কর্মক্ষেত্রগুলো খুব ‘এনকারেজিং’ থাকে না। বাস্তবে কর্মক্ষেত্রে নারীর জন্য অনুকূল পরিবেশ না থাকায় বহু নারী অনেক জায়গাতেই টিকে থাকতে পারে না; তারা বাধ্য হয় তাদের জায়গা ছেড়ে দিতে। ফলে আমাদের চাকরির বাজারে নারীর আগমন যেমন বাড়ছে, তেমনি এখান থেকে নারীর ঝরে পড়ার হারও নেহাত কম নয়।
শুধু বাংলাদেশেই নয়, বিশ্বজুড়ে চাকরির বাজার থেকে নারীর ঝরে পড়ার অন্যতম কারণ, চাকরিজীবী মায়েদের জন্য কর্মক্ষেত্রে পরিবারবান্ধব অবস্থা না থাকা। অনেক চাকরিজীবী মা শুধু ডে কেয়ার সেন্টার থাকায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কম বেতনেও কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। খোদ আমেরিকার অনেক জায়গাতেই সন্তানহীন নারীর আয় অনেক বেশি, কিন্তু যাদের সন্তান আছে, সেসব নারী অপেক্ষাকৃত কম উপার্জন করে (সূত্র: দি ইকোনমিস্ট)। এ বিষয়গুলো চিন্তা করে সুইডেন ও জার্মানির ৯০ শতাংশেরও বেশি কোম্পানি সুবিধামতো কর্মসময় করেছে। তারা নতুন নতুন পদ্ধতি আবিষ্কার করার চেষ্টা করছে, যাতে কর্মক্ষেত্রে নারীকর্মীর প্রয়োজনগুলো মেটানো যায়।
বাংলাদেশে কর্মক্ষেত্রে ডে কেয়ার সেন্টারের দাবি দীর্ঘদিনের। পাশাপাশি রয়েছে আরও কিছু সমস্যা। কর্মস্থলে যৌন হয়রানি, অসম বেতন এবং যাতায়াতের সমস্যার কারণে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে নারীর জন্য পুরোপুরি নিরাপদ ও অনুকূল কর্মক্ষেত্র করা যায়নি। এমনকি অনেক বড় গার্মেন্টস কারখানা এবং অফিসেও নারীর জন্য পৃথক টয়লেটের ব্যবস্থা করা হয়নি। দেশে এখন অনেক নারীই পরিবার ও সমাজের নানা বাধা জয় করে চাকরির বাজারে প্রবেশ করলেও সেখানে বিরাজমান সমস্যার কারণে ফিরে আসতে বাধ্য হচ্ছে। এসব বিষয়ের প্রতি এখনই নজর না দিলে বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়নের কাজ অনেক কঠিন হবে। সহস্রাব্দের উন্নয়ন লক্ষ্যগুলোর তৃতীয়টি হলো নারীর ক্ষমতায়ন ও নারী-পুরুষের সমতা বিধান। শ্রমবাজারকে নারীর জন্য অনুকূল করতে না পারলে কোনোভাবেই এই লক্ষ্যে পৌঁছানো যাবে না।
প্রতিবছর কত নারী শ্রমবাজারে, শিক্ষাঙ্গনে প্রবেশ করছে, কোন স্তরের পদে কাজ করছে, এর পাশাপাশি কত নারী এই শ্রমবাজার থেকে নিজেদের সরিয়ে নিচ্ছে, কেন নিচ্ছে, এগুলোর সুনির্দিষ্ট তথ্য সরকারের কাছে থাকা প্রয়োজন। শুধু তথ্যই নয়, নারীর জন্য অনুকূল কর্মক্ষেত্র সৃষ্টি করতে সরকারকেই আগে উদ্যোগ নিতে হবে। ২০১৫ সালের আর বেশি দেরি নেই। তাই বিষয়টির প্রতি মনোযোগী হওয়ার সময় এখনই।
জোবাইদা নাসরীন: শিক্ষক, নৃবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
zobaidanasreen@gmail.com

ভুয়া সমিতির নিবন্ধন বাতিল করতে হবে -জলমহাল ইজারা

জয়পুরহাট জেলার আক্কেলপুরের জলমহালের ইজারা নিতে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা, শিক্ষক, কৃষক ও ব্যবসায়ীরা ভুয়া জেলে সেজে সমবায় সমিতির নিবন্ধন করিয়ে নেওয়ার ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। তাঁরা ভালো করেই জানেন এটা বেআইনি। আর এই বেআইনি কাজে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, উপজেলা মত্স্য কর্মকর্তা ও সমবায় কর্মকর্তা সহায়তা করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
মত্স্য সমবায় সমিতিগুলোর নিবন্ধনের কাজটি জেলা সমবায় অধিদপ্তর করলেও আবেদনপত্র যাচাই-বাছাইয়ের দায়িত্ব উপজেলা মত্স্য ও সমবায় কর্মকর্তার। এ ক্ষেত্রে সরেজমিন জরিপের বিধান থাকলেও তা করা হয়নি। যে কারণে মাদ্রাসাশিক্ষক থেকে শুরু করে রাজনৈতিক নেতারাও মত্স্যজীবী বনে গেছেন। পত্রিকার খবর অনুযায়ী সরকারি জলমহাল ইজারার জন্য নতুন প্রজ্ঞাপন জারির পর ১০টি মত্স্যজীবী সমবায় সমিতি নিবন্ধন নিয়েছে এবং নিবন্ধনের অপেক্ষায় আরও ৪০টি আবেদনপত্র জমা আছে।
ভুয়া মত্স্যজীবী সমবায় সমিতি নিবন্ধনের ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা একে অপরকে দায়ী করেছেন। উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা দায় চাপাচ্ছেন মত্স্য কর্মকর্তার ওপর, আবার মত্স্য কর্মকর্তা বলছেন ইউপি চেয়ারম্যানের সনদ অনুযায়ী নিবন্ধনের সুপারিশ করা হয়েছে। এতে একটি বিষয় স্পষ্ট, পরস্পরের যোগসাজশেই ভুয়া মত্স্যজীবী সমবায় সমিতিগুলোকে নিবন্ধন দেওয়া হয়েছে। এসব নিবন্ধন অবিলম্বে বাতিল করার পাশাপাশি দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। যেসব আবেদন জেলা সমবায় সমিতি অধিদপ্তরে জমা পড়েছে, তা ভালো করে যাচাই-বাছাই করা প্রয়োজন। উপজেলা সমবায় ও মত্স্য কর্মকর্তার ভুয়া প্রতিবেদনের ভিত্তিতে নিবন্ধন দেওয়া যাবে না।
সমবায় সমিতির সদস্যরা প্রকৃতই মত্স্যজীবী কি না, তা বের করা কঠিন নয়। ভোটার তালিকায় পেশা হিসেবে তাঁরা কী লিখেছিলেন? রাতারাতি তো পেশা বদলানো যায় না। উপজেলা মত্স্য কর্মকর্তা সরেজমিন জরিপ করার কষ্ট স্বীকার না করলেও ভোটার কার্ডটি পরীক্ষা করে দেখতে পারতেন। এ ধরনের ঘটনা যে শুধু আক্কেলপুরেই ঘটেছে, তা ভাববার কারণ নেই।
যখনই যে দল ক্ষমতায় থাকে, তাদের নেতা-কর্মীরা সবকিছু নিজেদের দখলে নিতে চান। আক্কেলপুরে ভুয়া মত্স্যজীবী সমিতির সঙ্গেও স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতার নাম রয়েছে। সরকারি জলমহাল ইজারা পাওয়ার অধিকার একমাত্র জেলে বা মত্স্যজীবীদেরই। রাজনৈতিক প্রভাব-প্রতিপত্তি কিংবা অর্থের জোরে সেখানে অন্য কেউ ভাগ বসাবে, তা মেনে নেওয়া যায় না।

আইলা কি ভুলে যাওয়া দুর্যোগ?

আইলা এসেছে ও চলে গেছে আট মাস হলো। কিন্তু উপকূলীয় দুর্গত এলাকার এখনো যে চিত্র, তাতে মনে হতে পারে যেন গত মাসেই এই দুর্যোগ বয়ে গেছে। খাদ্য-বস্ত্র-বাসস্থান, চিকিত্সা-পানি-জীবিকাসহ জীবিত মানুষের যা ছাড়া চলে না, তার সবকিছুরই অভাব এখনো সেখানে তীব্র। আইলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল ৫০ লাখ মানুষ। কিন্তু সরকার যেন এদের নিয়ে ক্লান্ত, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর উদ্যোগও দায়সারা। সম্প্রতি প্রথম আলোর ধারাবাহিক প্রতিবেদনে আইলাকে ‘ভুলে যাওয়া দুর্যোগ’ হিসেবে সঠিকভাবেই চিহ্নিত করা হয়েছে।
আমরা সবাই কি ভুলে গেছি, সিডর উপকূলীয় এলাকার জীবন-জীবিকা, প্রতিবেশ, কৃষি, অর্থনীতি ও সামাজিক এবং প্রাকৃতিক সুরক্ষাকে বিপর্যয়ের কিনারে ঠেলে দিয়েছিল। আর আইলা এসে তাদের বিপন্নতার খাদে ছুড়ে ফেলেছে। অন্যের সহযোগিতা ছাড়া এ অবস্থা থেকে তাদের বেরিয়ে আসা এককথায় অসম্ভব। তাই সবাই ‘ভুলে’ থাকলেও আশ্রয়হীন ক্ষুধার্ত ও বিপন্ন আইলা-দুর্গতদের এ কষ্ট ভুলে থাকার কোনো উপায় নেই।
আইলার শিকারের তালিকায় ৫০ লাখ ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ তো আছেই, এর সঙ্গে তিন লাখ ২৩ হাজার একরের জমির ফসল নষ্ট হয়েছে, গবাদিপশু মারা গেছে দেড় লাখ। ৭০ শতাংশ চিংড়ির ঘেরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সবার পুনর্বাসন হয়নি, জলাবদ্ধতার জন্য প্রধান ফসল আমনের চাষ হতে পারেনি। দক্ষিণাঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোয় সুস্থ-স্বাভাবিক জীবনের প্রায় সব শর্তই অনুপস্থিত অথবা থাকলেও অতিসামান্য। এ অবস্থায় অপ্রতুল সরকারি বরাদ্দ মরুতে যেন কয়েক আঁজলা জল। অন্যদিকে বিদেশি সংস্থাগুলো সিডরের সময় যে পরিমাণ সাহায্যের হাত বাড়িয়েছিল, আইলার বেলায় তারা ততটাই উদাসীন। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, জাতিসংঘের উন্নয়ন সংস্থা ইউএনডিপি সিডরে দিয়েছিল তিন কোটি ডলারের সাহায্য, কিন্তু আইলার ত্রাণে তাদের অবদান পাঁচ লাখ ডলারের ওপরে ওঠেনি। একই কথা প্রযোজ্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্যের ডিএফআইডি, যুক্তরাষ্ট্রের ইউএসএইডের বেলায়ও। অন্যদিকে সরকার মাত্র ১১৭ কোটি ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েই হয়রান হয়ে পড়েছে।
প্রথম আলোর বরাতে জানা যাচ্ছে, আইলার আঘাতে ১৬৬ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ আংশিক বা সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এগুলো আগের অবস্থায় ফিরিয়ে না আনলে নিরাশ্রয়ী মানুষ আগামী বর্ষায় একেবারেই ভেসে যাবে। এ ক্ষেত্রে দুটি অভিযোগ রয়েছে।
প্রথমত, সরকার কি আইলার ক্ষতকে জিইয়ে রেখে তা দেখিয়ে আন্তর্জাতিক সহায়তা আনার পন্থা গ্রহণ করেছে? দ্বিতীয়ত, ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ পুনর্নির্মাণ না করার সঙ্গে কি টেন্ডারবাজি ও দলীয়করণের সম্পর্ক রয়েছে?
ফিবছর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের অবর্ণনীয় দুর্ভোগ আমরা দেখতে চাই না। আমরা চাই না দীর্ঘদিনের পরিশ্রম, বিনিয়োগ ও যত্নে গড়া সম্পদ ও অবকাঠামো সিডর ও আইলার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের এক ধাক্কাতেই বিলীন হয়ে যাক। সে জন্যই আমরা বারবার বলে আসছি, ত্রাণ-পুনর্বাসন ও অবকাঠামো নির্মাণ যেন একটি সামগ্রিক পরিকল্পনা অনুযায়ী হয়। যেন তা উপকূলীয় অঞ্চলের ভূ-প্রকৃতি, জলবায়ু, কৃষি ও উত্পাদনব্যবস্থার সহায়ক হয়। তবে আপাতত বিপর্যয়কর অবস্থার মধ্যে থাকা আইলা-দুর্গতদের জীবন-জীবিকা স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।

জাতিসংঘের কালো তালিকা থেকে পাঁচ তালেবান নেতার নাম অপসারণ

আল-কায়েদার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার দায়ে ব্যক্তিবিশেষ বা সংগঠনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের নিষেধাজ্ঞা জারি করে জাতিসংঘের তৈরি করা তালিকা থেকে পাঁচ জ্যেষ্ঠ তালেবান কর্মকর্তার নাম অপসারণ করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের একটি প্যানেল এ কথা জানায়।
প্যানেলের এক বিবৃতিতে বলা হয়, গত সোমবার জাতিসংঘের কালো তালিকা থেকে পাঁচটি নাম অপসারণের সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়েছে প্যানেলের বৈঠকে। ওই তালিকাভুক্ত ব্যক্তি বা সংগঠনের বিরুদ্ধে ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা, সম্পদ জব্দ ও অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।
আফগান প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই বলেছেন, আফগানিস্তানের ওপর লন্ডনে অনুষ্ঠেয় আন্তর্জাতিক সম্মেলনে জাতিসংঘের কালো তালিকা থেকে তালেবান নেতাদের নাম অপসারণ করার জন্য তিনি চাপ সৃষ্টি করবেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, তালেবান জঙ্গিদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার জন্য তাঁদের অর্থ ও চাকরি দেওয়ার প্রস্তাবের প্রতি পশ্চিমা বিশ্বের সমর্থন আদায় করতে তিনি সক্ষম হবেন।
জাতিসংঘের কালো তালিকা থেকে যাঁদের নাম অপসারণ করা হয়েছে তাঁরা হলেন সাবেক তালেবান সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল ওয়াকিল মুতাওয়াকিল, সাবেক উপবাণিজ্যমন্ত্রী ফাইজ মোহাম্মদ ফাইজান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক কর্মকর্তা শামস-উস-সাফা, সাবেক উপপরিকল্পনামন্ত্রী মোহাম্মদ মুসা ও সাবেক সীমান্তবিষয়ক উপমন্ত্রী আবদুল হাকিম।
জাতিসংঘের বিবৃতিতে বলা হয়, আবদুল হাকিম তালেবানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন। ২০০৭ সালের মে মাস থেকে আফগানিস্তানের উরুজগান প্রদেশের গভর্নরের দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। অন্যদিকে ওয়ার্দাক প্রদেশ থেকে সাংসদ নির্বাচিত হয়েছেন মোহাম্মদ মুসা।

কশাঘাত করে প্রায়শ্চিত্ত করতেন পোপ দ্বিতীয় জন পল

পোপ দ্বিতীয় জন পল নিয়মিত বেল্ট দিয়ে নিজেকে কশাঘাত করতেন। বেল্টটি তিনি আলমারিতে যত্ন করে রাখতেন। শুধু তা-ই নয়, পদত্যাগসংক্রান্ত একটি গোপন কাগজে সইও করে রেখেছিলেন তিনি। তাতে লেখা ছিল যে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তিনি স্বেচ্ছা অবসরে যাবেন।
একটি নতুন বইয়ে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। হোয়াই এ সেইন্ট? নামের বইটি লিখেছেন মনসিগনর স্লমির ওদার। পোপের দায়িত্ব গ্রহণের আগ পর্যন্ত তাঁর ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। বইটি সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে। এতে ওদার লিখেছেন, পোপ দ্বিতীয় জন পল তাঁর কৃত পাপের প্রায়শ্চিত্তস্বরূপ নিজেকে কশাঘাত করতেন। পোল্যান্ড বংশোদ্ভূত এই পোপ ক্রাকোতে বিশপের দায়িত্ব পালনকালেও নিজেকে কশাঘাত করতেন। পোপ নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি এ ধারা অব্যাহত রাখেন।
ব্রিটিশ গণমাধ্যম মনসিগনর ওদারের বরাত দিয়ে বলেছে, পোপের ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা এ কশাঘাতের শব্দ শুনতে পেতেন। কশাঘাতের জন্য পোপ প্যান্টে ব্যবহূত একটি বেল্ট ব্যবহার করতেন। বেল্টটি তিনি আলমারিতে যত্ন করে রাখতেন। এটি চাবুক হিসেবে ব্যবহার করতেন তিনি।
সিস্টার টোবিয়ানা সবোদকা নামে এক সন্ন্যাসিনী গত বছর প্রথমবারের মতো দাবি করেছিলেন, পোপ দ্বিতীয় জন পল পাপের প্রায়শ্চিত্তস্বরূপ নিজেকে কশাঘাত করতেন।
পোপের ভ্যাটিকানের অ্যাপার্টমেন্টে কাজ করতেন সিস্টার সবোদকা। তিনি দাবি করেন, অনুশোচনা থেকে পোপ নিজেকে বহুবার শারীরিকভাবে আঘাত করেছেন। পোপ যখন নিজেকে আঘাত করতেন, সেই শব্দ শোনা যেত। উল্লেখ্য, পাঁচ বছর আগে মারা যান পোপ দ্বিতীয় জন পল।

ইয়েমেনে সন্ত্রাসবিরোধী গোপন সামরিক অভিযান ওবামা অনুমোদন করেছিলেন

ইয়েমেনে সম্প্রতি সন্ত্রাসবিরোধী গোপন সামরিক অভিযানের অনুমোদন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাই দিয়েছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী পত্রিকা ওয়াশিংটন পোস্ট-এর এক খবরে এ কথা বলা হয়েছে। ছয় সপ্তাহ আগে শুরু হওয়া এ অভিযানে আল-কায়েদার ছয়জন আঞ্চলিক নেতা নিহত হয়েছেন। ইয়েমেনের সেনাবাহিনীর সঙ্গে এ অভিযানে মার্কিন সেনাবাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থা অংশ নিয়েছে।
ওয়াশিংটন পোস্ট-এর গতকাল বুধবারের সংস্করণে বলা হয়েছে, গত ২৪ ডিসেম্বর ইয়েমেনে পরিচালিত একটি সামরিক অভিযানের অনুমতি দেন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। আল-কায়েদার আঞ্চলিক নেতাদের সঙ্গে মার্কিন নাগরিক আনোয়ার আল আউলাকি বৈঠক করছেন—এমন তথ্যের ভিত্তিতে ইয়েমেনের একটি ভবনে অভিযান চালানো হয় সে সময়।
মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা বলেছেন, ওই অভিযানে আনোয়ার আউলাকিকে টার্গেট করা হয়নি। এমনকি তাঁকে হত্যাও করা হয়নি। তবে এ অভিযানের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সন্দেহভাজন সন্ত্রাসী নাগরিকদের একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা করা হয়। এ তালিকায় আউলাকিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তালিকার সবাইকে হয় গ্রেপ্তার অথবা হত্যা করার নির্দেশ রয়েছে।
ইয়েমেনে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে মার্কিন উপদেষ্টারা অংশ নেননি বলে খবরে বলা হয়েছে। তবে অভিযানের পরিকল্পনা, কৌশল উন্নয়ন ও অস্ত্র সরবরাহের ক্ষেত্রে সহায়তা করেছেন তাঁরা।
ইয়েমেনের সেনাবাহিনীকে গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সাহায্য করছে যুক্তরাষ্ট্র। এসবের মধ্যে রয়েছে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের ইলেকট্রনিক ও ভিডিও পর্যবেক্ষণ, ত্রিমাত্রিক মানচিত্র এবং আল-কায়েদা নেটওয়ার্ক বিশ্লেষণ।
ওবামা প্রশাসনের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে পত্রিকাটি বলেছে, ‘ইয়েমেনের সেনাবাহিনীকে সহায়তা করার ক্ষেত্রে আমরা সন্তুষ্ট।’
ইয়েমেনের একজন শীর্ষ কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, আরব উপদ্বীপে আল-কায়েদার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে দুটি দেশ পরস্পরকে গভীরভাবে সহযোগিতা করছে। তবে ইয়েমেনের মাটিতে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে তথ্য দিয়েই বেশি সহায়তা করছে যুক্তরাষ্ট্র।
সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে একটি ‘যৌথ অভিযান কেন্দ্র’ খোলা হয়েছে। সেখানে মার্কিন উপদেষ্টারা ইয়েমেনের সেনাবাহিনী এবং যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মধ্যে সমন্বয়ের কাজ করছেন। গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং বিশ্লেষণের কাজও করছেন তাঁরা।
মার্কিন কর্মকর্তারা ইয়েমেনে আল-কায়েদার বিরুদ্ধে যৌথ সামরিক অভিযানের ব্যাপারে জানালেও মার্কিন যুদ্ধবিমান এবং ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র কোথায় ব্যবহার করা হয়েছে, সে সম্পর্কে কিছু বলেননি। তবে তাঁরা বলেছেন, মার্কিন সেনাবাহিনী সরাসরি ইয়েমেন অভিযানে অংশ নেয়নি।
ইয়েমেনে সন্ত্রাসবিরোধী এ অভিযানে আরও গুরুত্ব দেওয়ার লক্ষ্যে গতকাল লন্ডনে উচ্চপর্যায়ের একটি আন্তর্জাতিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বড়দিনে যুক্তরাষ্ট্রের ডেট্রয়েটগামী বিমানে ব্যর্থ বোমা হামলার পেছনে ইয়েমেনভিত্তিক আল-কায়েদাই জড়িত ছিল বলে সংস্থাটি দাবি করার পরিপ্রেক্ষিতে এ বৈঠকের আয়োজন করা হয়।

হন্ডুরাসে অভ্যুত্থানে জড়িত জেনারেলদের অব্যাহতি

প্রেসিডেন্ট ম্যানুয়েল জেলায়াকে ক্ষমতাচ্যুত করার সামরিক অভ্যুত্থানে জড়িত জেনারেলদের ক্ষমতা অপব্যবহারের অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন হন্ডুরাসের আদালত। এ ছাড়া সে দেশের আইনসভা জেলায়ার জন্য সাধারণ ক্ষমার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। জেলায়াকে ক্ষমতা থেকে অপসারণে জড়িতদের জন্যও আইনসভায় একই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। গত মঙ্গলবার রাতে এ দুটো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
গতকাল বুধবার হন্ডুরাসের নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে পোরফিরিও লোবোর দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনেই এই পদক্ষেপগুলো কার্যকর হলো। এর মাধ্যমে হন্ডুরাসে দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে চলা রাজনৈতিক অচলাবস্থার অবসান হবে বলেই মত প্রকাশ করেছেন বিশ্লেষকেরা।
সুপ্রিম কোর্টের প্রেসিডেন্ট (বিচারক) জর্জ রিভেরা রায়ে বলেছেন, গত ২৮ জুনের সামরিক অভ্যুত্থানের সময় অভিযুক্ত জেনারেলরা তাঁদের ক্ষমতার অপব্যবহার করেননি। কারণ তদন্তকারীরা এ ব্যাপারে অভিযোগ প্রমাণে ব্যর্থ হয়েছেন। সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল রোমেও ভাজকুয়েস, বিমানবাহিনীর প্রধান জেনারেল হাভিয়ের প্রিন্স, নৌবাহিনীর প্রধান জেনারেল হুয়ান পাবলো রদরিগেসসহ মোট ছয়জন জেনারেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছিল।
গত মঙ্গলবার রাতে হন্ডুরাসের কংগ্রেস জেলায়া এবং ওই সামরিক অভ্যুত্থানে জড়িত সবার জন্য সাধারণ ক্ষমা অনুমোদন করে। এ সময় জেলায়ার লিবারেল পার্টির কংগ্রেস সদস্যরা অনুপস্থিত ছিলেন। প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন লোবোর ন্যাশনাল পার্টির সদস্যরা। গতকাল থেকেই জেলায়ার সাধারণ ক্ষমা কার্যকর হয়েছে। এখন তিনি ব্রাজিল দূতাবাস থেকে বের হয়ে দেশে স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে পারবেন।
গত জুনের অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত করে জেলায়াকে নির্বাসনে পাঠানোর পর সেপ্টেম্বরে গোপনে দেশে ফিরে ব্রাজিল দূতাবাসে আশ্রয় নেন জেলায়া। তিনি এখনো সেখানেই অবস্থান করছেন। এদিকে গত সপ্তাহে লোবো ও ডোমিনিকান রিপাবলিকের প্রেসিডেন্টের মধ্যে সমঝোতা অনুযায়ী জেলায়া এখন সে দেশে রাজনৈতিক আশ্রয় নিতে পারেন।