Saturday, June 26, 2010

কেনিয়ার কারাবন্দীরাও ভোট দেবেন

কেনিয়ার নতুন সংবিধান প্রণয়নে আগামী আগস্টে অনুষ্ঠেয় গণভোটে দেশটির কারাবন্দীরা ভোট দিতে পারবেন। আফ্রিকার দেশটিতে বন্দীদের ভোটে অংশ নেওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম। দেশটির উপকূলীয় শহর মোম্বাসার একটি কারাগারের একজন বন্দীর এ সম্পর্কিত একটি পিটিশন দায়েরের পর আদালত এ আদেশ দেন। এ পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে।
মানবাধিকার সংগঠন দ্য কেনিয়া ন্যাশনাল কমিশন অন হিউম্যান রাইটসের (কেএনসিএইচআর) কর্মকর্তা হাসান ওমার হাসান বলেন, সিদ্ধান্তটি গ্রহণযোগ্য। কারাগারে বন্দীদের স্বাধীনতা থাকে না। তাই বন্দীদের অন্যান্য অধিকার সংরক্ষণ করা উচিত।

লাদেন অনুসন্ধানী মুক্ত হয়েদেশে ফিরলেন

পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তের চিত্রল এলাকা থেকে আটক মার্কিন নাগরিক গ্যারি ব্রুকস ফকনারকে ছেড়ে দিয়েছে পাকিস্তান। গত বুধবার রাতে তিনি পাকিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান।
পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ স্বাস্থ্যগত কারণে গ্যারিকে ছেড়ে দেয়। তিনি কিডনি জটিলতায় ভুগছেন বলে জানা গেছে। গত ১৩ জুন গ্যারিকে চিত্রল এলাকার একটি জঙ্গল থেকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে গ্যারি জানান, আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠন আল-কায়েদার শীর্ষ নেতা ওসামা বিন লাদেনকে ধরতেই তিনি ওই অঞ্চলে যান।

সন্ত্রাসের দায়ে পাকিস্তানে পাঁচ মার্কিনের কারাদণ্ড

পাকিস্তানের একটি আদালত সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনা এবং একটি নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী সংগঠনকে অর্থ সহযোগিতার দায়ে সে দেশে গ্রেপ্তার পাঁচ মার্কিন নাগরিককে ১৫ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন। এ ছাড়া তাঁদের প্রত্যেককে ৭০ হাজার রুপি জরিমানা করা হয়েছে।
সাজাপ্রাপ্ত এই পাঁচ নাগরিকের বয়স ১৯ থেকে ২৫ বছর। তাঁরা হলেন: মিশর, ইরিত্রিয়া, পাকিস্তান ও ইয়েমেন বংশোদ্ভূত উমর ফারুক, ওয়াকার হুসাইন, রামি জামজান, আহমেদ আবদুল্লাহ মিনি ও আম্মান হাসান ইয়ামের। সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনার অভিযোগে গত ডিসেম্বরে পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় শহর সারগোধা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
সারগোধা কারাগারের পেছনে একটি রুদ্ধদ্বার কক্ষে আদালত স্থাপন করে গত মার্চ থেকে পাঁচ মার্কিন নাগরিকের বিচার করা শুরু হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার কড়া নিরাপত্তার মধ্যে রায় ঘোষণা করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আনা পাঁচটি অভিযোগের মধ্যে তিনটি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় কারগারের পার্শ্ববর্তী এলাকায় কোনো সংবাদকর্মীকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের আইনজীবী হাসান কাচেলা জানান, তিনটি অভিযোগ থেকে পাঁচ মার্কিন নাগরিককে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনার অভিযোগে তাঁদের ১০ বছর করে কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার রুপি জরিমানা করা হয়েছে। এ ছাড়া নিষিদ্ধ একটি সন্ত্রাসী সংগঠনকে অর্থ সহযোগিতার দায়ে পাঁচ বছর করে কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার রুপি জরিমানা করা হয়েছে।
অভিযুক্ত মার্কিন নাগরিকেরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করে বলেছেন, একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তাঁরা পাকিস্তানে এসেছিলেন। সেখান থেকে মানবিক কাজে অংশ নিতে তাঁদের আফগানিস্তানে যাওয়ার কথা। তবে আইনজীবী ও পুলিশ বলেছে, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা একটি নিষিদ্ধ সংগঠনকে অর্থ জোগান দিয়েছেন। পাকিস্তান হয়ে আফগানিস্তানে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের পরিকল্পনা করেছিলেন তাঁরা। দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানে গিয়ে জঙ্গি প্রশিক্ষণ নেওয়ারও পরিকল্পনা ছিল তাঁদের।

স্পেনে ট্রেনের ধাক্কায় ১২ জন নিহত

স্পেনের রাজধানী বার্সেলোনার দক্ষিণে ট্রেনের ধাক্কায় ১২ জন নিহত হয়েছেন। সে দেশের আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষ ও সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, গত বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ক্যাসেলদেফেলস প্লাইয়া রেলস্টেশনে একদল যাত্রী রেললাইন অতিক্রম করার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ১৩ জন আহত হয়েছেন। হতাহত ব্যক্তিদের অধিকাংশই যুবক।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রায় ৩০ জন যুবকের একটি দল গ্রীষ্মকালীন এক উৎসবে যোগ দিতে ট্রেন থেকে নামে। আন্ডারপাস জনাকীর্ণ থাকায় তাঁরা রেল লাইন পার হয়ে অন্য পাশে যাওয়ার চেষ্টা করেন, এ সময় দ্রুতগামী একটি ট্রেন চলে এলে এই দুর্ঘটনা ঘটে। ট্রেনটি থেকে বেশ কয়েকবার সতর্ক ঘণ্টা বাজানো হলেও দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়নি।

ভারতের বিমানে বোমা হামলার ঘটনায় কানাডার দুঃখ প্রকাশ

১৯৮৫ সালে ভারতীয় বিমানে ভয়াবহ বোমা হামলার ঘটনায় নিরাপত্তাজনিত ব্যর্থতার দায়দায়িত্ব স্বীকার করেছে কানাডা সরকার। তারা আনুষ্ঠানিকভাবে এ ঘটনার জন্য নিহত ব্যক্তিদের পরিবার-পরিজনের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে।
১৯৮৫ সালের ২৩ জুন এয়ার ইন্ডিয়ার-১৮২-কনিস্ক ফ্লাইটটি কানাডা থেকে ভারতে যাওয়ার পথে আয়ারল্যান্ডের আকাশে বোমা হামলার শিকার হয়। এতে বিমানটির ৩২৯ আরোহীর সবাই মারা যান। নিহত ব্যক্তিদের বেশির ভাগ ছিলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত কানাডীয় নাগরিক।
কানাডার প্রধানমন্ত্রী স্টিফেন হার্পার নিহত ব্যক্তিদের স্বজনদের উদ্দেশে বলেছেন, ‘আমরা দুঃখিত। আপনাদের কষ্ট মানে আমাদেরই কষ্ট। এটা বিদেশি সন্ত্রাসীদের কাজ ছিল না। নৃশংস এ ঘটনার পরিকল্পনা হয় কানাডাতেই। কানাডীয় নাগরিকেরাই এ বীভৎস কাজ করেছে। যারা এ হামলা চালিয়েছে তারা ছিল নিকৃষ্ট লোক। কাপুরুষ, ঘৃণ্য, নির্বোধ ও পাপাচারপূর্ণ লোকেরাই এ ঘটনা ঘটিয়েছে।
নিহত ব্যক্তিদের স্মরণে গত বুধবার টরন্টোতে এক অনুষ্ঠানে কানাডার প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, ‘এ রকমটি হওয়ার ছিল না। ২৫ বছর আগের এ দুর্ঘটনা রোধে ব্যর্থতার জন্য কানাডা সরকার ও নাগরিকদের পক্ষ থেকে আমি দুঃখ প্রকাশ করছি।’
কানাডার পূর্ববর্তী সরকারগুলো এ ঘটনার দায়দায়িত্ব কখনো স্বীকার করেনি। এ ব্যাপারে হার্পার বলেন, ‘যাঁরা প্রথমে স্বীকার করতে চাননি যে এ ঘৃণ্য অপরাধের জাল কানাডাতেই বোনা হয়েছে, তাঁরা এখন বিষয়টি মেনে নিয়েছেন। তবে আমাদের বিশ্বাস, বিষয়টি সবাই আগে থেকেই মেনে নিয়েছিলেন।’
বিমান হামলার ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ এ হামলার জন্য ভ্যানকুভারভিত্তিক শিখদের দায়ী করে আসা হচ্ছে। একটি স্বাধীন আবাসভূমির জন্য তারা দীর্ঘদিন ধরে ভারতে লড়াই করছে।
গত সপ্তাহে এ বিমান হামলার ঘটনায় একটি তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এতে বলা হয়, কানাডা পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ‘ক্রমাগত ভুল’-এর কারণেই বিমানটিকে হামলা থেকে রক্ষা করা যায়নি। দেশটির নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের কর্মদক্ষতা ও কার্যকর প্রচেষ্টার অভাবে হামলাকারীদেরও ধরা যায়নি।

সাহারা মরুভূমিতে বাংকার তৈরি করছে জঙ্গিরা

বিমান আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে আল-কায়েদার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মুসলিম জঙ্গিরা সাহারা মরুভূমিতে সুরক্ষিত বাংকার তৈরি করছে বলে জানিয়েছেন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আল-কায়েদা ইন দি ইসলামিক মাগরেবের (একিউআইএম) সদস্যরা সাহারা মরুভূমিতে ঘাঁটি গেড়ে বসেছে। তারা পশ্চিমা নাগরিকদের অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় এবং অবৈধ চোরাচালানের মাধ্যমে অর্থ জোগাড় করছে।
মালির একটি সূত্র জানিয়েছে, ‘আমাদের কাছে অনেক খবর আছে এবং তার ভিত্তিতেই আমরা বলছি, সাহারা মরুভূমির আলজেরিয়া ও মালির অংশে ঘাঁটি গেড়েছে একিউআইএম। বিমান আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে তারা সেখানে বাংকার তৈরি করছে।’
মালির উত্তরাঞ্চলীয় বাহিনীর এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘একিউআইএম চরম পথ বেছে নিয়েছে, এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।’
মালির প্রতিবেশী একটি দেশের এক কর্মকর্তা এ খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, বিমান হামলার আশঙ্কায় জঙ্গিরা পাহাড়ি এলাকায় সুরক্ষিত বাংকার তৈরি করছে। ওই কর্মকর্তা বলেন, মালি ও আলজেরিয়ার মরুভূমিতে এরই মধ্যে কিছু বাংকার তৈরি করা হয়েছে এবং নাইজেরিয়া সীমান্তের কাছাকাছি কিছু তৈরি শুরু হয়েছে।
একিউআইএমের জঙ্গিরা খুবই সংগঠিত এবং দ্রুত সরে পড়ার ক্ষমতা রাখে। কাজেই মরুভূমিতে তাদের ওপর আঘাত হানা বেশ কঠিন কাজ। তবে তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে সাহারা অঞ্চলের দেশগুলোকে সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছে ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, একিউআইএমের সদস্যদের শনাক্ত করে তাদের ওপর আঘাত হানার জন্য বিমান হামলা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
মালির সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং গোয়েন্দাপ্রধান সৌমেলো বউবেয়ো মাইগা বলেন, ‘আমি মনে করি, এ অঞ্চলের দেশগুলোর ব্যাপক সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থেকে তারা খুবই চিন্তিত। জঙ্গিরা এখন সাহারার নিয়ন্ত্রণ নিতে চাইছে।’
একিউআইএমের কর্মকাণ্ড নিয়ে কাজ করছেন মালির শিক্ষাবিদ হামিদ মাইগা। তিনি নিয়মিত দেশের উত্তরাঞ্চল সফর করেন। তিনি বলেন, ‘জঙ্গিরা যেসব পাহাড়ি এলাকায় বাংকার তৈরি করছে, সেখানকার লোকজন জানিয়েছে, রাতের বেলায় তারা ভারী যন্ত্রপাতির শব্দ শুনতে পায়।’ তিনি জানান, নিজেদের অবস্থান সুরক্ষিত করতে জঙ্গিরা এরই মধ্যে আশপাশের এলাকায় মাইন পুঁতে ফেলেছে।’
হামিদ মাইগা জানান, জঙ্গিদের এ ধরনের স্থাপনা তৈরির বিষয়টি থেকে পরিষ্কার যে তারা ওই এলাকায় স্থায়ীভাবে ঘাঁটি গাড়তে চায়। তা না হলে হামলা এড়াতে তারা যেকোনো মুহূর্তে সরে যেতে পারত।
আলজেরিয়ার কট্টর ইসলামপন্থীরা নব্বইয়ের দশকের শেষের দিকে গড়ে তোলে একিউআইএম। ইসলামি আইনের শাসন কায়েম করতে তারা দেশের সরকারকে হটানোর চেষ্টাও করেছিল। সংগঠনটি ২০০৬ সালে আল-কায়েদার সঙ্গে যুক্ত হয়। উত্তর ও পশ্চিম আফ্রিকার অংশবিশেষজুড়ে তাদের বেশ জোরালো কার্যক্রম আছে।

পাকিস্তানে নয়টি ওয়েবসাইট বন্ধ করতে হাইকোর্টের নির্দেশ

পাকিস্তানের লাহোর হাইকোর্ট গুগল, ইয়াহু, ইউটিউবসহ নয়টি জনপ্রিয় সার্চ ইঞ্জিন ওয়েবসাইট বন্ধের জন্য সরকারকে নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে পাকিস্তান টেলিকমিউনিকেশন অথরিটির (পিটিএ) চেয়ারম্যানকে আগামী সোমবার আদালতে হাজির হতে নির্দেশ দিয়েছেন। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার মতো বিভিন্ন বিষয় প্রকাশ এবং এসব বিষয় প্রকাশে উৎসাহ দেওয়ার অভিযোগে গত মঙ্গলবার আদালত এই নির্দেশ দেন।
লাহোর হাইকোর্টের ভাওয়ালপুর বেঞ্চের বিচারপতি মাজহার ইকবাল সিধু একটি রিট পিটিশনের পরিপ্রেক্ষিতে এই নির্দেশ দেন। বন্ধ ওয়েবসাইটের তালিকায় এমএসএন, হটমেইল, ইসলাম এক্সপোজড, ইন দ্য নেম অব আল্লাহ ও আমাজন অ্যান্ড বিং রয়েছে। তবে আদালতের নির্দেশ গতকাল পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি।
পিটিএর কর্মকর্তারা জানান, ওয়েবসাইট বন্ধের ব্যপারে তাঁরা আদালতের কোনো নির্দেশনা পাননি। তবে গণমাধ্যমে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন দেখেছেন। ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার অ্যাসোসিয়েশন অব পাকিস্তানের মুখপাত্র ওয়াহাজ-উস-সিরাজ জানান, তাঁরা পিটিএর কাছ থেকে কোনো নির্দেশ পাননি।
এসব ওয়েবসাইট বন্ধের জন্য লাহোরের বাসিন্দা মুহাম্মদ সিদ্দিক রিট পিটিশন দাখিল করেন। তাঁর আইনজীবী লতিফ-উর-রেহমান পিটিশনের পক্ষে আদালতে তথ্যপ্রমাণ হাজির করেন। পরে আদালত ওয়েবসাইট বন্ধ ও পিটিএর চেয়ারম্যানকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন।
গত মাসে একই অভিযোগে সামাজিক যোগাযোগের জনপ্রিয় ওয়েবসাইট ফেসবুক ও ভিডিওচিত্র আদান-প্রদানের ওয়েবসাইট ইউটিউব বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। পরে অবশ্য তা খুলে দেওয়া হয়

জাতিসংঘের প্যানেলকে ঢুকতে দেওয়া হবে না: শ্রীলঙ্কা

শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী জামিনী লক্ষ্মণ পেইরিজ বলেছেন, তামিল টাইগারদের সঙ্গে যুদ্ধের সময় সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ তদন্তে গঠিত জাতিসংঘের প্যানেলকে শ্রীলঙ্কায় প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। গতকাল বৃহস্পতিবার তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।
গত বছরের মে মাসে তামিল টাইগারদের সঙ্গে যুদ্ধের শেষ দিকে শ্রীলঙ্কার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে ব্যাপকভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে। অনেক আন্তর্জাতিক সংস্থা যুদ্ধে উভয় পক্ষের বিরুদ্ধেই মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলে। আন্তর্জাতিক চাপের মধ্যে জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন এসব অভিযোগ খতিয়ে দেখতে গত মঙ্গলবার তিন সদস্যের প্যানেল নিয়োগ দেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী জামিনী লক্ষ্মণ বলেন, ‘আমরা তাঁদের ভিসা দেব না। কোনোভাবেই তাঁদের শ্রীলঙ্কায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না।’ তিনি জাতিসংঘের ওই প্যানেল গঠনকে ‘একেবারেই অপ্রয়োজনীয়’ বলে উল্লেখ করেন। জামিনী বলেন, আমরা মনে করি জাতিসংঘের ওই প্যানেল গঠন তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের শামিল। এসব বিষয় অনুসন্ধানে সরকারকে চাপমুক্ত থাকতে দেওয়া উচিত।
শ্রীলঙ্কা প্রথম থেকেই নিরপেক্ষ তদন্তের বিরোধিতা করে আসছে। গত মার্চে দেশটির প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপক্ষে বলেন, এ ঘটনায় জাতিসংঘের প্যানেল গঠন করা হলে তিনি এর বিরুদ্ধে ‘প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা’ নেবেন।

এ রউফ চৌধুরী ব্যাংক এশিয়ার নতুন চেয়ারম্যান

ব্যবসায়ী-শিল্পপতি এ রউফ চৌধুরী ব্যাংক এশিয়ার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। গত বুধবার ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের এক সভায় তাঁকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করা হয়।
জনাব চৌধুরী ব্যাংক এশিয়ার একজন উদ্যোক্তা পরিচালক। তিনি র‌্যাংগস গ্রুপ ও সি রিসোর্সেস গ্রুপের চেয়ারম্যান এবং ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টার-এর পরিচালক।
আমেরিকার ম্যাসাচুসেটস শ্লোয়ান স্কুল অব বিজনেস থেকে ব্যবসায় ব্যবস্থাপনায় গ্র্যাজুয়েশন করার পর এ রউফ চৌধুরী ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিতে যোগ দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন। তিনি বাংলাদেশে আমেরিকান দুটি ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানির আবাসিক ম্যানেজার হিসেবে বেশ কয়েক বছর দায়িত্ব পালন করেন। এরপর তিনি যমুনা অয়েল কোম্পানিতে ১৫ বছর উচ্চপদে দায়িত্ব পালন করেন। জনাব চৌধুরী বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন।

বাংলাদেশ-ভারতের বাণিজ্য বাধা দূর হবে এ বছরই -বাণিজ্যমন্ত্রীর আশাবাদ

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান শুল্ক ও অশুল্ক প্রতিবন্ধকতাগুলো চলতি বছরের মধ্যেই দূর করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী ফারুক খান।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেছেন, দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর সম্মতিতে স্বাক্ষরিত যৌথ ইশতেহারের পূর্ণ বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশ অপেক্ষা করছে। এতে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য আরও জোরদার হবে।
বাংলাদেশ সফররত ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান এক্সপোর্ট অর্গানাইজেশনের (এফআইইও) ২০ সদস্যের এক ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের সঙ্গে মতবিনিময়কালে বাণিজ্যমন্ত্রী ফারুক খান এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এ সভায় প্রতিনিধিদলটির নেতৃত্ব দেন এফআইইও চেয়ারম্যান রমেশ কুমার আগারওয়াল।
সূত্র জানায়, অতীতে ব্যবসাকে উন্নয়নের হাতিয়ারের পরিবর্তে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে বলে সফররত প্রতিনিধিদলকে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।
সূত্র মতে, সভায় বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা বিনিয়োগের জন্য অনুকূল বলে জানিয়েছে ভারতের ব্যবসায়ীরা। বাংলাদেশের বিদ্যুৎ, পোলট্রি, কারিগরি শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, যোগাযোগ অবকাঠামো, সিরামিক, ওষুধ, বস্ত্র ও প্লাস্টিক খাতে তাঁরা বিনিয়োগে আগ্রহী এবং এ ব্যাপারে অনেক দূর এগিয়েছেনও।
জানা গেছে, বাংলাদেশে ভারতীয় বিনিয়োগের আগ্রহকে স্বাগত জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেছেন, এ দেশে বিনিয়োগের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ বিদ্যমান। কারণ, এখানে রয়েছে সহজলভ্য ও দক্ষ শ্রমিক এবং পণ্য রপ্তানিতে শুল্ক ও কোটামুক্ত সুযোগ।
ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে বাংলাদেশ বড় ধরনে ঘাটতি মোকাবিলা করে আসছে। ২০০৮-০৯ অর্থবছরে ভারত থেকে ২৮৬ কোটি ৩৬ লাখ ডলারের পণ্য আমদানির বিপরীতে সে দেশে ২৭ কোটি ৬৫ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ। ফলে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২৫৮ কোটি ৭০ লাখ ডলার। অবশ্য তার আগের বছর (২০০৭-০৮) এই ঘাটতি ছিল ৩০০ কোটি ডলার।

ফুটবলপ্রেমী ক্লিনটন

শেষ মুহূর্তে ল্যানডন ডনোভানের গোল। রুদ্ধশ্বাস ম্যাচ জিতে শেষ ষোলোতে ঠাঁই যুক্তরাষ্ট্রের। দক্ষিণ আফ্রিকায় মার্কিনদের আনন্দে যোগ দিয়েছিলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনও। দূর থেকে নয়, মাঠে বসেই খেলা দেখেছেন ক্লিনটন। জয়ের পর আর সবার মতোই যোগ দিয়েছেন উল্লাসে।
ফিফা সভাপতি সেপ ব্লাটার আর যুক্তরাষ্ট্র ফুটবল ফেডারেশন সভাপতি সুনিল গুলাতির সঙ্গে বসে খেলা দেখেছেন ক্লিনটন। ল্যানডন ডনোভানের গোলের পর সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট উল্লাসে এতটাই চেঁচামেচি করেছেন যে, ভেঙে যাওয়া গলায় স্বর ফেরাতে নাকি এক ঘণ্টা ধরে গরম লেবু-চা খেতে হয়েছে তাঁকে! তবে ক্লিনটন সবচেয়ে বড় চমকটা দিয়েছেন খেলা শেষে—আচমকাই লকার রুমে হাজির হয়ে। প্রায় ৪৫ মিনিট ছিলেন সেখানে। খেলোয়াড়দের অভিনন্দন জানিয়েছেন, ভাসিয়েছেন প্রশংসাবাক্যে।
দক্ষিণ আফ্রিকায় আসার আগে কথা ছিল ক্লিনটন বিশ্বকাপের একটি খেলা দেখেই চলে যাবেন। কিন্তু সিদ্ধান্ত পাল্টে ফেলেন সেদিনই। আগামীকাল শেষ ষোলোর লড়াইয়ে ঘানার বিপক্ষে মাঠে নামবে যুক্তরাষ্ট্র। ঠিক করেছেন সে ম্যাচটিও মাঠে বসে দেখবেন। তবে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে আরও একটি উদ্দেশ্য আছে ক্লিনটনের। যুক্তরাষ্ট্র চাইছে ২০১৮ কিংবা ২০২২ বিশ্বকাপের আয়োজক হতে। আর এই আয়োজক হওয়ার প্রচারণা কমিটির সভাপতি ক্লিনটন। শুধু দর্শকই নন, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট তাই এখন ফুটবল-কূটনীতিকও

ঘানাই আফ্রিকার ভরসা?

বিশ্বকাপে ভুভুজেলার ‘অত্যাচারে’ অতিষ্ঠ হয়ে গিয়েছিলেন বাঁশিটা যারা বাজায় তারা ছাড়া সবাই। কিন্তু টুর্নামেন্টের যারা প্রাণ, সেই আয়োজকদের বিদায় হয়ে যাওয়ায় কান ফুটো করা ভুভুজেলার আওয়াজ অনেকটাই স্তিমিত। এ পর্যন্ত আফ্রিকার একটি মাত্র দেশের শেষ ষোলোতে যাওয়া নিশ্চিত হওয়ায় মনে হচ্ছে ভুভুজেলার জ্বালাতন মধুর নস্টালজিয়ায় পরিণত হওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র।
দক্ষিণ আফ্রিকা বলেছে, নিজেদের পরিণতি যা-ই হোক, স্বাগতিক দেশের দায়িত্ব পালনে বিন্দুমাত্র ত্রুটি করবে না তারা। কিন্তু তাদের এই সান্ত্বনার বাণীতে গোটা আফ্রিকার ওপর নেমে আসা বিষাদের ছায়া কতটা কাটবে তা গবেষণার ব্যাপার। অথচ কী উর‌্যাসাহ নিয়েই না আফ্রিকানরা শুরু করেছিল তাদের প্রথম বিশ্বকাপ! আফ্রিকার মাটিতে অনুষ্ঠিত প্রথম বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল মহাদেশটি থেকে এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ ছয়-ছয়টি দল।
মঙ্গলবার আয়োজক দক্ষিণ আফ্রিকা ও নাইজেরিয়ার বাদ পড়ে যাওয়ার পরদিনই যুক্তরাষ্ট্রের কাছে শেষ মুহূর্তের গোল খেয়ে বিদায়-ঘণ্টা বাজে আলজেরিয়ার। ‘ডি’ গ্রুপ থেকে ঘানা গোল-গড়ে উতরে গেলেও আইভরিকোস্টের ভাগ্য ঝুলছে অনিশ্চয়তার অতি মিহি সুতোয়। উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে গোলের বন্যা বইয়ে দিতে পারলেই কেবল টিকে থাকা হবে পরাশক্তি ব্রাজিল আর পর্তুগালের গ্রুপসঙ্গী ‘হাতিদের’। কিন্তু পর্তুগালের কাছে সাত গোলে হারা উত্তর কোরিয়া ওই দুঃস্বপ্নের পুনরাবৃত্তি এড়াতে নিশ্চয়ই যথাসাধ্য করবে। সে ক্ষেত্রে ঘানারই দ্বিতীয় রাউন্ডে আফ্রিকার সবেধন নীলমণি হওয়ার সম্ভাবনা নিশ্চিত বলা চলে।
ঘানার ব্যাপারটা নিশ্চিত না হলে ১৯৮২ সালের পর থেকে এই প্রথম বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ড আফ্রিকাহীন হওয়ার আশঙ্কা ছিল। সবার নজর তাই তাদের দিকেই। বুধবার দক্ষিণ আফ্রিকার দ্য স্টার পত্রিকার এক শিরোনাম ছিল: ‘ঘানা, ডু ইট ফর আফ্রিকা’। পত্রিকাটি আয়োজক দেশকেও পরামর্শ দেয়, হতাশায় ডুবে না গিয়ে ভুভুজেলা বাদন চালিয়ে যেতে। সম্পাদকীয়তে তারা লেখে, ‘ভুভুজেলা হয়তো আজ থেকে তার জোর একটু হারিয়েই ফেলবে। কিন্তু আমাদের আয়োজক হিসেবে উষ্ণ আতিথেয়তা মেলে ধরার দায়িত্ব পালনে গাফিলতি করলে চলবে না।’
জোহানেসবার্গের এক পার্কে দক্ষিণ আফ্রিকা-ফ্রান্স খেলা দেখছিলেন তেইশ বছরের নকুফিলা খুমালো। ওই ম্যাচে ফ্রান্সকে ২-১-এ ধরাশায়ী করেও স্বাগতিকদের কোনো লাভ হয়নি। তো, আইটি পরামর্শক এ তরুণী বললেন, এদিন থেকেই বিশ্বকাপ নিয়ে স্থানীয়দের মাতামাতি পড়তির দিকে যাবে। ‘আজই শেষ ভুভুজেলার রমরমা দেখছেন। তবে ফুটবল নিয়ে আবেগটা থেকে যাবে কারণ দক্ষিণ আফ্রিকানরা অন্য কোনো দেশকে সমর্থন দেবে।’
নিজে আর কোনো আফ্রিকান দেশকে সমর্থন দিয়ে হতাশ হতে চান না বলেই কি না কে জানে, নকুফিলা এখন থেকে সমর্থন করবেন অন্যতম ফেবারিট ব্রাজিলকে। ‘আমি ব্রাজিলকে সমর্থন করি। দক্ষিণ আফ্রিকার অনেকেই তাদের সমর্থন করবে কারণ ওদের জার্সিরও একই রং—হলুদ আর সবুজ।

ফ্রান্স দেশে ফিরল পুলিশি পাহারায়

লজ্জার এক বিশ্বকাপ শেষ করে দেশে ফিরেছে ফ্রান্স ফুটবল দল। দেশে ফিরেছে তারা নীরবে, তবে কড়া পুলিশি নিরাপত্তায়।
ফ্রান্সের ফুটবল ফেডারেশনের পাঠানো বিশেষ বিমানে করে ফিরেছেন অঁরি-এভরারা। ফ্রান্সের খেলোয়াড়দের বহন করা বিমানটি ১৫ ঘণ্টার যাত্রা শেষে নেমেছে প্যারিস থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরের লা বারগেত বিমানবন্দরে।
কিছু সমর্থক গিয়ে পৌঁছেছিল সেখানেও। উপস্থিত হয়েছিলেন প্রায় এক ডজন ফটোগ্রাফার ও ক্যামেরাম্যান। তবে পুলিশ সমর্থকদের কাছেই ঘেঁষতে দেয়নি। অটোগ্রাফশিকারি আর ক্যামেরাম্যানদেরও রাখা হয় তারের বেড়ার ওপারে।
ফ্রান্স দলের লজ্জাজনক ফেরা দেখতে যারা সেখানে গিয়েছিল, তারা জানিয়েছে, বিমান থেকে নেমে সরাসরি দুটো বাসে গিয়ে ওঠেন ফরাসি খেলোয়াড়েরা। তবে ফ্রাঙ্ক রিবেরি এবং অলিম্পিক লিওঁর খেলোয়াড়েরা বিমান থেকে নেমে আবার উঠে যান অন্য দুটি প্রাইভেট বিমানে।
থিয়েরি অঁরি প্রেসিডেন্টের পাঠানো লিমুজিনে চেপে সোজা চলে গেছেন এলিসি প্রাসাদে। সেখানে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস সারকোজির সঙ্গে বিশেষ সভায় বসেছিলেন তিনি। ফ্রান্সের বিশ্বকাপ-ব্যর্থতা আর বিতর্কই যে আলোচনার মূল বিষয় ছিল, সেটা অনুমান করাই যাচ্ছে।
তিন ম্যাচের দুটিতে হেরে এবং একটিতে ড্র করে দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ড থেকেই বিদায় নিয়েছে ফ্রান্স। এর সঙ্গে আনেলকা-বিতর্ক এবং খেলোয়াড়দের ধর্মঘট মিলে ফরাসিদের লজ্জাটা বেড়েছে আরও।

‘মেসির কাছে কেউ নেই’

এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপে লিওনেল মেসিই উজ্জ্বলতম পারফর্মার—তর্ক সাপেক্ষে এ সিদ্ধান্ত হয়তো অনেকেই মেনে নেবে। তবে ম্যারাডোনার সঙ্গে তর্ক করতে যাবেন না যেন। তাঁর হিসাবে, মেসি তো বটেই, তাঁর স্ট্রাইকার তেভেজের আশপাশেও এখনো কেউ নেই বিশ্বকাপে।
মেসি-তেভেজে মুগ্ধ আর্জেন্টাইন কোচ বলছেন, ‘এখন পর্যন্ত এই বিশ্বকাপে আমি এমন কাউকে দেখিনি, যে মেসির ৩০ ভাগও খেলতে পারে। আমাকে হয়তো উদ্ধত বলা হবে। তবে সত্যি কথা হলো, আমি এমন কাউকেও দেখলাম না যে, তেভেজের খেলারও ৩০ ভাগ খেলতে পারে। কারণ কার্তিলোজ (তেভেজ) যখন খেলে, তখন ও সবাইকে নাড়িয়ে দিয়ে যায়।’ ওয়েবসাইট।
মেসি-তেভেজের অকুণ্ঠ প্রশংসা করার পাশাপাশি ম্যারাডোনা আবারও জানিয়ে দিলেন, মেসিকে তিনি কোনো নির্দিষ্ট পজিশনে খেলার নির্দেশ দেননি, ‘আমি মেসিকে বলেছি, “আমার জীবনে আমাকে কেউ বলে দেয়নি যে, আমি কোথায় খেলব।” ফলে আমিও মেসিকে বলতে পারি না, সে কোথায় খেলবে। ও কোথায় খেলতে চায়, সেটা ওকেই ঠিক করতে হবে। ও এখন অনেক বড় হয়েছে। ওরই এখন বলতে হবে, “বল আমার”।’

শোকে কাতর স্লোভেনিয়া

কোচ মাতাজ কেককেই শুধু পেলেন সাংবাদিকেরা। শোকে কাতর স্লোভেনিয়ার খেলোয়াড়রা কেউ আসেননি সাংবাদিকদের সামনে।
পরশু গ্রুপের শেষ ম্যাচে ইংল্যান্ডের কাছে ০-১ গোলে হেরে গেছে স্লোভেনিয়া। পরাজয়ের পরেও দ্বিতীয় রাউন্ডে যাওয়ার যেটুকু সম্ভাবনা ছিল, তা শেষ হয়ে গেছে আলজেরিয়ার বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের ১-০ গোলের জয়ে। স্লোভেনিয়ার খেলোয়াড়েরা খুবই ভেঙে পড়েন। সংবাদ সম্মেলনে এসে সেটি জানালেন স্লোভেনিয়ার কোচ।
‘কিছুটা সময়ের জন্য হলেও খেলোয়াড়দের একা থাকতে দেওয়া উচিত। একটু আগেই কঠিন এক বাস্তবতার মুখোমুখি হওয়ার অভিজ্ঞতা হয়েছে ওদের’—সাংবাদিকদের কাছে খেলোয়াড়দের শোক সয়ে ওঠার জন্য সময় চাইলেন কেক। দ্বিতীয় রাউন্ডে যেতে না পারলেও ২০০২ বিশ্বকাপকে ছাপিয়ে যেতে পেরেছে এই বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ছোট দেশটি। মাত্র ২০ লাখ মানুষের দেশ স্লোভেনিয়া আলজেরিয়াকে হারিয়েছে এবং ড্র করেছিল যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে। আর ২০০২ সালে নিজেদের প্রথম বিশ্বকাপে তিনটি ম্যাচেই হেরেছিল স্লোভেনিয়া।
স্লোভেনিয়ার খেলোয়াড়েরা যে তাঁদের ২০০২ বিশ্বকাপকে ছাড়িয়ে যেতে পারলেন, এতেই খুশি কোচ কেক, ‘আমি স্লোভেনিয়াকে নিয়ে গর্বিত। আশা করছি, পুরো দেশ আমাদের এই অর্জনকে শ্রদ্ধার চোখে দেখবে।

এশিয়া কাপ ভারতের

পরশু ফাইনালের পোশাকি মহড়ায় ভারতকে হারালেও আসল ফাইনালে জিতল ভারতই। শ্রীলঙ্কার ডাম্বুলায় কাল স্বাগতিকদের ৮১ রানে হারিয়ে এশিয়া কাপ জিতে নিল মহেন্দ্র সিং ধোনির দল। ভারতের ৬ উইকেটে করা ২৬৮ রানের জবাবে ৪৪.৪ ওভারে ১৮৭ রান তুলেই অলআউট বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।
৫১ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে খুব বাজে শুরু হয়েছিল শ্রীলঙ্কার ইনিংসের। ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে থিলান কান্দাম্বি ও চামারা কাপুগেদারা ৫৩ রানের জুটি গড়লেও প্রতিরোধ বলতে ওটাই। কাপুগেদারা করেছেন অপরাজিত ৫৫ রান। ভারতীয় পেসার আশিস নেহরা ৪ উইকেট নিয়ে বিপদে ফেলেন শ্রীলঙ্কাকে। এর মধ্যে মাহেলা জয়াবর্ধনে ও অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুসকে ফিরিয়েছেন একই ওভারে।
এর আগে দিনেশ কার্তিকের ৬৬ আর রোহিত শর্মার ৪১ রানের সৌজন্যে শ্রীলঙ্কার সামনে ২৬৮ রানের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয় ভারত। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে কার্তিক-বিরাট কোহলি মিলে করেছেন ৬২ রান।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
ভারত: ৫০ ওভারে ২৬৮/৬ (কার্তিক ৬৬, রোহিত ৪১, ধোনি ৩৮, রায়না ২৯, কোহলি ২৮, জাদেজা ২৫*; মালিঙ্গা ২/৫৭, কান্দাম্বি ২/৩৭)। শ্রীলঙ্কা: ৪৪.৪ ওভারে ১৮৭ (কাপুগেদারা ৫৫, কান্দাম্বি ৩১, কুলাসেকারা ২০, সাঙ্গাকারা ১৭; নেহরা ৪/৪০)। ফল: ভারত ৮১ রানে জয়ী।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: দিনেশ কার্তিক
ম্যান অব দ্য সিরিজ: শহীদ আফ্রিদি

মাথা উঁচু করেই বিদায় অস্ট্রেলিয়ার

ভয় ছিল লাল কার্ডের। সংশয় ছিল রেফারিং নিয়ে। পরশু সার্বিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে এর কোনোটাই স্পর্শ করেনি অস্ট্রেলিয়াকে। তা স্পর্শ না করুক, তাদের ভাগ্যটাই যে খারাপ! সকারুদের যে বিদায় নিতে হলো প্রথম রাউন্ড থেকেই, সে এই ভাগ্য খারাপ বলেই।
জার্মানির কাছে ০-৪ গোলে বিধ্বস্ত হওয়ার পর ঘানার সঙ্গে ১-১ গোলের ড্র। দ্বিতীয় রাউন্ডের দরজা উন্মুক্ত করতে সার্বিয়ার বিপক্ষে শেষ ম্যাচে জিতলেই চলত যদি ঘানা হারাত জার্মানিকে। কিন্তু উল্টোটা হওয়ায় বড় ব্যবধানে জেতা ছাড়া কোনো উপায় ছিল না সকারুদের। শর্তের প্রথম অংশ পূরণ তারা করতে পেরেছে, সার্বিয়ার বিপক্ষে জিতেছে তারা। কিন্তু শর্তের ওই বাকি অংশ বড় ব্যবধানে জয়, সেখানেই পিছিয়ে পড়েছে। প্রাপ্ত জয়টা এসেছে ২-১ গোলে। তাই প্রথম রাউন্ড শেষে আফ্রিকান দেশ ঘানার সমান ৪ পয়েন্টই তাদের। কিন্তু গোল-পার্থক্যে ভালো থাকায় দ্বিতীয় রাউন্ডের টিকিট ঘানার হাতে, অস্ট্রেলিয়ার হাতে বিদায়ের টিকিট।
জয়ের পরও হাতে উঠেছে বিদায়ের ছাড়পত্র। ম্যাচ শেষে তাই অস্ট্রেলিয়ানরা ভাসছিলেন তৃপ্তি-অতৃপ্তি দুই রকম অনুভূতিতেই। জয়ের আনন্দ যেমন আছে, তেমনি মনের অন্য কোণ ভরে ছিল বাদ পড়ার হতাশা। ম্যাচ শেষের সংবাদ সম্মেলনে এই মিশ্র অনুভূতির কথাই জানালেন অস্ট্রেলিয়ান কোচ পিম ভারবিক, ‘এখন দুই রকম অনুভূতিই হচ্ছে আমার। এটা ছিল দারুণ এক ফল এবং মাঠের পারফরম্যান্সও ছিল দারুণ। কিন্তু দুঃখ যে আমরা শেষ ষোলো পর্বে যেতে পারলাম না।’
দ্বিতীয় রাউন্ডে যাওয়ার স্বপ্ন নিয়েই দক্ষিণ আফ্রিকায় এসেছিলেন। কিন্তু স্বপ্নটা পূরণ না হলেও শিষ্যদের প্রতি কোনো অভিযোগে নেই কোচ ভারবিকের। বলেছেন, ‘দক্ষিণ আফ্রিকায় আসার সময় ওই (দ্বিতীয় রাউন্ড) পরিকল্পনাই ছিল আমাদের। কিন্তু সেই লক্ষ্যে আমরা কাজ করতে পারলাম না। তবে এ জন্য আমি কোনো খেলোয়াড়কে দায়ী করতে পারি না। কারণ এটা উতরে যাওয়ার চিন্তায় তারা প্রতেক্যেই গত সপ্তাহে কঠোর পরিশ্রম করেছে।’
প্রথম ম্যাচে জার্মানির কাছে ৪ গোল হজম করতে হয়েছিল। অসিদের বিদায়ের কারণ ওটাই। তবে এটাকেও ফুটবলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছেন অসি কোচ, ‘প্রথম দিনের ওই ফল নিয়ে আমি চিন্তা করছি না। ফুটবলে এমনটা হতেই পারে। আমরা খারাপ ম্যাচ খেলেছি একটি। তার মূল্য কিন্তু দিতে হলো অনেক বেশি। তবে ঘানা এবং সার্বিয়ার বিপক্ষে আমরা দুর্দান্ত খেলেছি।’ আগের দিন লাল কার্ড এবং রেফারিং নিয়ে অসন্তুষ্টির কথা জানানো টিম কাহিল এদিন বলেছেন, ‘আমি গর্বিত যে আজ রাতে আমরা অনেক সুযোগ তৈরি করে খেলেছি।’
সমান পয়েন্ট সত্ত্বেও দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠতে না পারার হতাশা আছে। তবে জার্মানি ধাক্কার পরও ঘুরে দাঁড়িয়ে যেভাবে দ্বিতীয় রাউন্ডের আশায় লড়াই করে গেল, তাতে বিদায়কালেও মাথাটা উঁচুই রাখতে পারছে অস্ট্রেলিয়া। কোচের মুখেই সেই গর্বের আহ্বান, অস্ট্রেলিয়া তাদের বিশ্বকাপের জন্য গর্বই করতে পারে। বলেছেন, ‘খেলোয়াড় এবং সমর্থকদের অবিশ্বাস্য সমর্থনের জন্য আমি গর্বিত।

কাকার দুঃখ

ম্যাচটা হতে পারত দুই রিয়াল মাদ্রিদ তারকার মুখোমুখি লড়াইয়েরও। কিন্তু আগের ম্যাচে রেফারির লাল কার্ড দর্শক বানিয়ে দিয়েছে কাকাকে। আর তাই ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর মুখোমুখি আজ হতে হচ্ছে না এই প্লে-মেকারকে। ম্যাচটি খেলতে পারবেন না বলে খারাপই লাগছে কাকার। বন্ধুর বিপক্ষে মাঠে নামার জন্য যে মুখিয়ে ছিলেন।
‘এটা খুবই হতাশার যে আমি ম্যাচটা খেলতে পারছি না। আমার বন্ধু রোনালদো তো আছেই, একই সঙ্গে ওদের দলে তিন-চারজন ব্রাজিলিয়ান খেলোয়াড়ও আছে। ম্যাচটা তাই ভিন্ন মাত্রার এক লড়াই। বছরের পর বছর ধরে এই দুই দলের ম্যাচ অন্যরকম একটা প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়ে উঠেছে’—বলেছেন কাকা।
গত সাত বছরে এই প্রথম লাল কার্ড দেখলেন কাকা। যদিও দায় তাঁর নেই। রেফারির দায়ই বেশি। কাকার এই ভেবে ভালো লাগছে, রোনালদোও তাঁর পাশে আছেন, ‘আমার মাথা বিগড়ে যায়নি যে আমি ইচ্ছে করেই ওমনটা করব। সেটা আসলে ছিল ঘটনার আকস্মিকতায় ঘটে যাওয়া একটা ঘটনা। রোনালদোর সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছে আমার। সেও বলেছে, আমার সঙ্গে যেটা করা হলো, সেটি অন্যায়।

রোবেন আইল্যান্ডে রোবেনরা

বিতীয় রাউন্ডের টিকিট তাঁরা আগেই কেটে রেখেছিলেন। তবে দলের কাছ থেকে আরও ভালো কিছু পাওয়ার আশা হল্যান্ড কোচ বার্ট ফন মারউইকের। সে কারণেই কিনা কাল ক্যামেরুনের সঙ্গে মাঠে নামার আগের দিন শিষ্যদের বায়ু পরিবর্তন করাতে চাইছিলেন, আরিয়েন রোবেনদের নিয়ে গিয়েছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার তীর্থস্থানতুল্য রোবেন আইল্যান্ডে। সেখানে ঘুরেফিরে শুধু বায়ু পরিবর্তনই হয়নি, ডাচ ফুটবলাররা পেয়েছেন নতুন অনেক অভিজ্ঞতাও।
পরশু সকালে খানিকটা তড়িঘড়ি করেই অনুশীলন সেরে নিয়েছিলেন মারউইক-শিষ্যরা। এরপর কেপটাউন থেকে একটা ফেরিতে চেপে রোবেন আইল্যান্ডের উদ্দেশে যাত্রা। ফেরিতে হইহুল্লোড় করে বেশ একটা পিকনিকের আমেজেই ছিলেন সবাই। কিন্তু রোবেন আইল্যান্ডে পা রাখতেই পাল্টে যায় সবকিছু।
নেলসন ম্যান্ডেলার একসময়ের বন্দিজীবনের ঠিকানা রোবেন আইল্যান্ড। শিষ্যদের দ্বীপটি ঘুরিয়ে দেখানোর পর মারউইক বললেন, ‘ফটক দিয়ে ভেতরে ঢুকে বন্দীরা কোথায় কীভাবে ছিলেন, সেসব দেখা-জানা এককথায় বিস্ময়কর। খেলোয়াড়দের এমন কিছু দেখানো একটা চমৎকার আইডিয়া, তাদের এটা কাজেও লাগবে।

বিব্রত ফরাসি সরকার

ফ্রান্স এর আগেও অনেকবার বিশ্বকাপের প্রথম পর্ব থেকে বিদায় নিয়েছে। কিন্তু এ রকম শোরগোল কখনো তৈরি হয়েছে বলে মনে হয় না। শুধু তো মাঠে পারফরম্যান্স নয়, মাঠের বাইরেও ফরাসি ফুটবলকে লজ্জায় ডুবিয়েছে খেলোয়াড়রা।
নিকোলাস আনেলকার গালিগালাজ, খেলোয়াড়দের বিদ্রোহ মিলিয়ে ফরাসিরা মহাবিব্রত। বিব্রত ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নিকোলা সারকোজিও। সারকোজি এই বিষয়ে কথা বলার জন্য ব্যক্তিগতভাবে ডেকে পাঠিয়েছেন থিয়েরি অঁরিকে।
এখনো পর্যন্ত ফ্রান্সের এই বিপর্যয় নিয়ে প্রেসিডেন্ট নিজে কোনো মন্তব্য করেননি। তবে এবার মুখ খুললেন সরকারের মুখপাত্র লুক চ্যাটেল। চ্যাটেল বলছেন, দেশের সবার মতোই তিনি ক্ষুব্ধ, ‘আমি আর দশজনের মতো ফ্রান্স দলের একজন সমর্থক। সবার মতোই হতাশ। দেশের নাগরিক হিসেবে এদের কার্যকলাপে নিঃস্ব বোধ করছি। শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে আমি খুব ক্ষুব্ধও।’
ফ্রান্সের খেলোয়াড়েরা যা করেছেন তাতে সে দেশের মন্ত্রীদের ‘গর্বিত’ হওয়ার তো কথা নয়। এবার বিশ্বকাপে ফ্রান্সের একমাত্র গোলদাতা ফ্লোরেন্ত মালুদা বলছেন, ‘সব খেলোয়াড়ের পক্ষ থেকে আমি আবারও জাতির কাছে ক্ষমা চাচ্ছি। যা করেছি, তাতে আমরাও গর্ববোধ করছি না। জানি না আমাদের কীভাবে ক্ষমা করা হবে।’