Showing posts with label অন্য দিগন্ত. Show all posts
Showing posts with label অন্য দিগন্ত. Show all posts
Thursday, March 26, 2015
জীবন যেভাবে বদলে যায় by হুমায়ুন সাদেক চৌধুরী
Thursday, March 26, 2015
Anonymous
অন্য দিগন্ত,
আন্তর্জাতিক,
আলোচনা,
মতামত,
মিডিয়া,
স্পেশাল প্রতিবেদন
[নিজের
ও পরিজনের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যারা অপরাধীদের ধরতে সাহায্য করলেন, আইনের
চোখে তারাই হয়ে গেলেন আসামি! তবে আইন চোখ বন্ধ করে রাখলেও মিডিয়া রাখেনি।
তিন সাংবাদিকের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এলো সত্য। মুক্তি পেলেন তিন বিমানকর্মী।
কিন্তু তত দিনে যা ঘটে গেছে, তা রূপকথাকেও হার মানায়। তাদের জীবনটাই তখন
বদলে গেছে। বিদেশী সাময়িকী অবলম্বনে লিখেছেন হুমায়ুন সাদেক চৌধুরী]
অপরাধ দমনের জন্য একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যত ব্যবস্থা থাকে, তেমনটি আর কোথাও খুব বেশি দেখা যায় না। এখানে থাকে অনেক ভিডিও ক্যামেরা, নিরাপত্তাকর্মী এবং স্ক্যানার। এ ছাড়া প্রত্যেক যাত্রীর নাম তালিকাভুক্ত থাকে। প্রত্যেক পাইলটকে স্ক্যান করে তবেই বিমানবন্দরে ঢুকতে দেয়া হয়। এমনকি নারী পরিচ্ছন্নতাকর্মীদেরও নিরাপত্তা তল্লাশির পরই ঢুকতে দেয়া হয়। সব মিলিয়ে এমন কড়াকড়ি, কেউ যে ট্যাঁ ফো করবে, তার উপায় নেই।
এরকম অবস্থা সারা বিশ্বের সব আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেরই। ভেনিজুয়েলার তৃতীয় বৃহত্তম শহর ভ্যালেনসিয়ার আর্তুরো সিচেলেনা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটিও তার ব্যতিক্রম নয়। এখানেও বলিভারিয়ান ন্যাশনাল গার্ডের কম্যান্ডো-২৪ এর প্রহরীরা সর্বক্ষণ টহল দিয়ে চলেছে। যখন যাকে খুশি থামাচ্ছে, তল্লাশি করছে, তল্লাশির নামে বেফজুল হয়রানিও করছে। এ নিয়ে যাত্রীদের অভিযোগের অন্ত নেই।
নিরাপত্তার নামে এসব কড়াকড়ি-বাড়াবাড়ি নিয়ে যার যত অভিযোগই থাকুক, একে তাচ্ছিল্য করতে পারেন একজনই; তিনি কার্ল লুকার্ট। কারণ সব কড়াকড়ির মধ্যেও এমন ঘটনা ঘটেছিল, যা তার জীবনকে আমূল পাল্টে দিয়েছে। কিভাবে? জানতে হলে আসুন একটু পেছনে ফিরে যাই।
২০১২ সালের আগস্ট মাসের কোনো এক দিনে একটি প্রাইভেট জেট বিমান চালিয়ে আর্তুরো মিচেলেনা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসেছিলেন লুকার্ট। এ ধরনের বিমান ভাড়া করেন সাধারণত কোনো কোম্পানির সিইও, তারকা কিংবা ধনপতিরা। পাইলট লুকার্ট ভেবেছিলেন, আর্তুরো বিমানবন্দরে তার যাত্রাবিরতিটা হবে সংক্ষিপ্ত। কিন্তু মানুষ যা ভাবে, তা কি আর হয়? ‘স্বাভাবিকভাবে’ এ ক্ষেত্রেও হলো একেবারে বিপরীত। এবং বৈপরীত্যটা এমন যে, লুকার্টের সামনে তখন দু’টি বিকল্প রইল এক. মৃত্যু, দুই. মাদক বহনকারী হওয়া।
এটা ঘটল এভাবে আগস্টের সেই রাতে পাইলট লুকার্ট হঠাৎ দেখলেন তার বিমানের দিকে মেশিনগানের ব্যারেল তাক করে এগিয়ে আসছে ন্যাশনাল গার্ডের একদল সৈন্য। তিনি চেঁচিয়ে জানালেন, ‘নো! নো ব্যাগেজ!’ কিন্তু কে শোনে কার কথা! লুকার্ট দেখলেন, ওরা একে একে ৪৭টি প্লাস্টিক ব্যাগ তার জেট বিমানে ঠেসে দিলো। এসব ব্যাগভর্তি মাদক।
সুন্দরী ও গোপন কথা
কার্ল লুকার্ট যে বাণিজ্যিক বিমানটি চালান, তুষারধবল সেই বিমানটি ১৯ জন আরোহী বহন করতে পারে, আর কোথাও না থেমে একনাগাড়ে উড়তে পারে সাত হাজার মাইল। পাইলট লুকার্ট মজা করে বলেন, ‘আরে আমি তো ট্যাক্সিক্যাব চালাই। ট্যাক্সিক্যাব রাস্তায় চলে, আর আমারটা আকাশেএই যা তফাৎ।’
কথাটা পুরোপুরি অসত্য যে, তাও নয়। আগেই বলেছি, সিইও, তারকা বা ধনাঢ্য মানুষেরাই নিজেদের প্রয়োজনে এ ধরনের বিমান ভাড়া করেন। সেদিনও একটি চার্টার কোম্পানির কাছ থেকে বিমানটি ভাড়া নিয়েছিল বৈরুতের প্রিন্সেস অ্যাভিয়েশন। কথা ছিল মরক্কো থেকে ছেড়ে বিমানটি ত্রিনিদাদ-টোব্যাগো হয়ে ভেনেজুয়েলা যাবে। সেখানে যাত্রাবিরতি শেষে আফ্রিকার বেনিনে।
সেদিন বিমানটিতে যাত্রী ছিলেন একজন রাইমা তাউক। ৩৭ বছর বয়সী এই নারী খুবই আকর্ষণীয়া, খোলামেলা, বন্ধুভাবাপন্ন ও চমৎকার পোশাক পরিহিতা। বিমানে ওঠার আগে পাইলট লুকার্টের সাথে তার নিয়মমাফিক কিছু কথাবার্তা হয়। লুকার্ট জানলেন, মহিলা একজন ফ্যাশন ডিজাইনার। এ কাজে অনেক পুরস্কারও পেয়েছেন তিনি। বৈরুত, দুবাই ও সিডনিতে তার অফিস আছে।
বিমানে উঠেও পাইলটের সাথে অনেক কথা বললেন রাইমা। বৈরুতের জীবন, ভেনেজুয়েলায় তার বন্ধুর অপেক্ষা ইত্যাদি। বিমানের তরুণ স্টুয়ার্ডসদেরও অনেক সময় দিলেন তিনি।
নিরাপদ অবতরণ
প্রথম গোলটি বাধল বিমানটি টোবাগোর একটি দ্বীপে ল্যান্ড করার পর। রাইমা চান তিনি ওই রাতটা হিলটন হোটেলে কাটাবেন। কিন্তু হিলটন হোটেল তো পাশের ত্রিনিদাদে। ত্রিনিদাদ ও টোব্যাগোর মাঝখানে যে সাগরের বিপুল জলরাশি! বিষয়টা জানা ছিল না রাইমার। তা ছাড়া ওই দেশে ঢোকার এন্ট্রি ভিসাও ছিল না তার। কিন্তু এসব তো আইনের অসুবিধা, পকেটে মালকড়ি থাকলে দুনিয়ার সব অসুবিধারই ‘সুবিধা’ হয়ে যেতে সময় লাগে না। কাজে কাজেই পাইলট লুকার্ট কোরাল রিফ হোটেলে রাইমার থাকার ব্যবস্থা করে ফেললেন। হোটেল থেকে রোলস রয়েস গাড়ি এসে তাকে নিয়ে গেল।
পরদিন সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটের সময় ভেনিজুয়েলার উদ্দেশে উড়াল দিলো লুকার্টের বিমান। ওখান থেকে ৯০ মিনিট লাগবে ভেনিজুয়েলা যেতে। বিমান চলাকালে ককপিটে এলেন রাইমা। স্যাটেলাইট ফোনে কার সাথে যেন কথা বললেন। তবে কী বললেন কিছুই বুঝলেন না পাইলট। কারণ কথা হলো আরবিতে। তবে রাইমাকে বেশ খুশি খুশি মনে হলো।
ভেনিজুয়েলা এসে বিমান নিরাপদে অবতরণ করল। রাইমা নেমে হোটেলের উদ্দেশে চলে গেলেন। জ্বালানি তেল ভরতে হবে বলে বিমানে রয়ে গেলেন লুকার্ট। বিমানে তেল ভরা হচ্ছে, এ সময় তিনি অবাক হয়ে দেখলেন, ইউনিফর্ম পরা বেশ কিছু লোক বিমানটি ঘিরে রেখেছে। তেল ভরা শেষ হলে বিমানটিকে ওই রাতের জন্য পার্কিং স্পটে নিয়ে গেলেন লুকার্ট। সেখানকার কর্মীরা তাকে বললেন বিমানটিকে ১৮০ ডিগ্রি ঘুরিয়ে রাখতে। লুকার্ট অবাক, ব্যাপারটা কী! এরকম অনুরোধ তো করার কথা নয় (অনেক পরে অবশ্য তিনি এর কারণ ধরতে সমর্থ হন। এর অর্থ হলো, বিমানের কার্গো দরজাটিকে বিমানবন্দরের বাতি ও নজরদারি ক্যামেরার আওতার বাইরে নিয়ে যাওয়া)!
এর একটু পরই বিমানবন্দরের এক কর্মী এসে লুকার্টের হাতে একটি মোবাইল ফোন ধরিয়ে দিলো। ফোনের ওপাশ থেকে ভেসে এলো ভাঙা ভাঙা ইংরেজিতে একজনের গলা, যার সারমর্ম হলো, বিমানের দরজা খোলা রেখে লুকার্ট ও তার কর্মীদের ওই রাতে এক হোটেলে চলে যেতে হবে। হোটেলে পৌঁছে দেয়ার জন্য গাড়ি বাইরে অপেক্ষা করছে।
লুকার্ট রাজি হন না। এটা কি সম্ভব? তা ছাড়া বিমানের ক্রুরাও হোটেলে যেতে নারাজ। কেননা বিমান ছাড়ার শিডিউল খুব ভোরে। হোটেলে গেলে সেখান থেকে আসতেই সময় পেরিয়ে যাবে। বিমানে থাকলে সেই সময়টা তো ঘুমানো যাবে। তার চেয়েও বড় কথা, বিমানে তালা না লাগিয়ে রেখে যাওয়া সিকিউরিটি প্রটোকলের লঙ্ঘন। এমন বেআইনি কাজ লুকার্ট করতেই পারেন না। টেলিফোনকারীকে এসব যুক্তি দেখিয়ে লাইন কেটে দেয়ার একটু পর এলো রাইমার ফোন। তারও একই কথা, ‘রাতটা হোটেলে কাটাও। ভালো হবে।’ মহাবিরক্ত হলেন লুকার্ট।
‘আমরা একেবারে অসহায়’
এরপর সবাই বিছানায় চলে গেলেন, কিন্তু নানা চিন্তা ও দুশ্চিন্তায় ঘুম আর আসে না। এলেও একটু পর ভেঙে যায়। রাত ২টার দিকে দরজায় ঠক ঠক শব্দ শোনা গেল; বেশ ক’বার। উঁকি দিতেই দেখা গেল মোবাইল ফোন হাতে দাঁড়িয়ে এক লোক। কাকে যেন বলছে, ‘সব কিন্তু খুব তাড়াতাড়ি বিমানে তুলতে হবে।’
লুকার্ট কিছু বুঝে ওঠার আগেই সিনেমার দৃশ্যের মতো ঘটনাগুলো ঘটে যেতে লাগল। ঘোর কালো রঙের দুটো গাড়ি চলে এলো। সেখান থেকে নেমে একদল অস্ত্রধারী খুলে ফেলল বিমানের কার্গো দরজা। ‘এসব কী হচ্ছে, বন্ধ করো এসব!’ চেঁচালেন লুকার্ট। জবাবে তার দিকে উদ্যত হলো অস্ত্র। এরপর প্লাস্টিকের সাদা প্যাকেটে ভরে যেতে লাগল বিমান। প্রত্যেক প্যাকেটের গায়ে লেখা ‘রেড ক্রস’। সাদা প্যাকেটগুলো দেখে লুকার্টের মনে হলো যেন ‘তুষারধস হয়েছে। কিন্তু আমরা ছিলাম একেবারেই অসহায়’।
পুরো ‘কাজ’টি সারতে লাগল ২০ মিনিটের মতো। মোট ৪৭টি প্যাকেট উঠল বিমানে। কার্গো বে, যাত্রীদের আসন এবং মাঝখানের চলার পথ সবখানেই ছড়িয়ে আছে এসব প্যাকেট। পুরো সময়টায় সাত-আটজন অস্ত্রধারী দাঁড়িয়েছিল বিমানের সামনে। চোখের সামনে এসব দেখতে দেখতে লুকার্ট ও তার সহকর্মীরা বুঝে গেলেন, তাদের ডাকে কেউ আসবে না। পুরো বিমানবন্দরই এতে জড়িত। আর পুলিশকে খবর দেয়ারও উপায় ছিল না।
‘কাজ’ সেরে অন্ধকারের প্রাণীরা ফের অন্ধকারে মিলিয়ে গেল। লুকার্ট ফোন করলেন সুইজারল্যান্ডে; বিমানটি চার্টার করেছে যে কোম্পানি তার সিইও এরিক ওয়েইজকফকে। সব জানিয়ে তাকে বললেন, ‘আমাদের আসলে কিছুই করার ছিল না।’ লুকার্ট যখন কথা বলছিলেন, তখন দরজায় আবার টোকা। লুকার্ট তার কো-পাইলটকে পাঠালেন কী ব্যাপার দেখতে। কো-পাইলট ফিরে এলে দেখা গেল, আতঙ্কে তার মুখ রক্তশূন্য। তিনি জানালেন ‘লোকটি বলে গেছে, আমরা যদি এখনই বিমানটি ওড়াই, তাহলে আমাদের ওরা খুন করবে।’ রিয়ার উইন্ডো দিয়ে লুকার্ট দেখলেন, হাল্কা মেশিনগান নিয়ে বিমানের পাখার নিচে দাঁড়িয়ে আছে অস্ত্রধারীরা।
লুকার্ট ভাবতে বসলেন কী করা যায়। এই বিমানবন্দরটি রাতে বন্ধ থাকে। মধ্যরাতের পর থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত এখানে কোনো বিমান ওঠানামা করে না। লুকার্ট চেষ্টা করলেন টাওয়ারের সাথে যোগাযোগ করতে। কিন্তু কেউ ফোন ধরে না। লুকার্ট এবার ভাবলেন, এত বস্তা যে ভরা হয়েছে, বিমান কি এর ভার বইতে পারবে? তিনি ছোট একটা পরীক্ষা করলেন। দেখা গেল, ঠিক আছে। ওরা ঠিকই জানে, এই বিমান কতটা ভার বহনে সক্ষম।
শত্রু যখন অন্দরে
পরদিন সকালে বিমানটি আকাশে ডানা মেলল। মিনিট দশেক উড়তে-না-উড়তেই স্যাট-ফোনে কল এলো। এক ব্যক্তি ইংরেজিতে বলল, ‘যেখানে যেতে বলা হয়েছে বিমান যেন ঠিক ঠিক সেখানে যায়। তাহলেই তোমরা জীবন নিয়ে বাড়ি ফিরতে পারবে। কথাটা মনে থাকে যেন।’ দেখা গেল, ওরা শুধু পাইলট ও ক্রুদের স্যাট ফোন নাম্বার জানে তা নয়, তাদের দেশ কোনটি, তাদের ঠিকানা এবং আরো অনেক কিছু জানে।
এ দিকে সুইজারল্যান্ডে বিমানটির চার্টার কোম্পানির সদর দফতরে ততক্ষণে তুলকালাম শুরু হয়ে গেছে। নানা মুনি নানা মত দিচ্ছে। এর কারণও অবশ্য আছে। ২০০৪ সালে কারাকাসে এয়ার লুক্সরের একটি ফ্লাইট থেকে বিপুল মাদক উদ্ধার করা হয়েছিল। ওই ঘটনায় বিমানটি বাজেয়াপ্ত করা হয়, পাইলট ও কো-পাইলট দু’জনকেই দীর্ঘ কারাবাস করতে হয়। ঘটনাটি মনে করে আঁৎকে ওঠেন কোম্পানির সিইও এরিক। বিমানটি বাজেয়াপ্ত হলে কী হবে, ওটি তো তার কোম্পানির নয়, এক জার্মান ব্যবসায়ীর।
তবে বিমানের পাইলট লুকার্টের প্রতি কোম্পানির ‘৯৯ ভাগ’ আস্থা রয়েছে। বাকি এক ভাগ হলো সন্দেহ যে, আসলেই তো লুকার্ট এই অপকর্মে জড়িত থাকতেও পারে!
শনিবার পেরিয়ে রোববার এলো। কিন্তু এরিক এমন কাউকে পেলেন না যে, এই বিপদে তাকে একটুখানি সাহায্য করতে পারে। গুগল ঘেঁটে তিনি এবার ইন্টারপোলের নাম্বার জোগাড় করলেন। কথাও হলো এক অফিসারের সাথে। মাদক পাচারের তথ্য জানানোর জন্য অফিসার তাকে ধন্যবাদও দিলেন। ব্যস, ওই পর্যন্তই। তারপর তার আর কোনো খোঁজ নেই।
অন্য দিকে লুকার্টের বিমানের স্যাট-ফোনটি ক্রমাগত বেজেই চলেছে। ধরতেই এক ব্যক্তি জানতে চাইল, বিমানটি এখন ঠিক কোথায় আছে। প্রশ্ন শুনে ক্রুরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল। তাদের ধারণা ছিল, গ্রাউন্ড থেকেই বুঝি তাদের ওপর নজরদারি করা হচ্ছে। সর্বশেষ ফোনকলে নিশ্চিত হওয়া গেল, তা নয়।
তবে ক্রুরা তখনো নিশ্চিত ছিল না, আসলে প্লাস্টিকের ভেতরে কী রয়েছে। তারা খুলে দেখতেও ভয় পাচ্ছিল, যদি ওতে বোমা থাকে! আর যদি বিস্ফোরক থাকে এবং জিপিএস ট্র্যাকারের সাহায্যে ওরা দেখতে পায় যে, আমরা ওদের দেখানো পথে চলছি না, তাহলে বিমানটি যদি উড়িয়ে দেয়!
এর মধ্যে লুকার্টের ফোনে রাইমার কল এলো। সে খুব দুঃখ প্রকাশ করল। বারবার ‘সরি!’ বলে জানাল যে, যেভাবে পরিকল্পনা করা হয়েছিল, কাজ কিন্তু সেভাবে এগোচ্ছে না। এ দিকে লুকার্ট তো রেগে আগুন। সে ফোনে যা-তা বলল রাইমাকে। বলল, তুমি আমাদের সবাইকে মারতে বসেছ। রাইমা সব শুনেও শান্ত গলায় বলল, তোমাদের যেভাবে বলা হয়েছে, তা-ই করো। বেনিন যাও। সেখানে আমি তোমাদের জন্য জ্বালানির ব্যবস্থা করব। মাল খালাস করেই তোমরা নিরাপদে ইউরোপের দিকে চলে যেতে পারবে।
ওরা রাইমার সব কথা শুনল, তবে এক বর্ণও বিশ্বাস করল না। বরং লুকার্ট ও তার কো-পাইলট ঠিক করল, বিমানটিকে তারা কিছুতেই আফ্রিকা (বেনিন) নিয়ে যাবে না। তবে হ্যাঁ, তার আগে নিজ নিজ পরিবারকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে হবে। দু’জনই পরিবারে ফোন করে নিরাপদ কোনো জায়গায় সরে যেতে বলল।
বদলে যাচ্ছে দৃশ্যপট
এ দিকে চার্টার কোম্পানির সুইজারল্যান্ড সদর দফতরে ফোন এলো ইন্টারপোলের। তাদের তদন্তকারীরা ভেনিজুয়েলায় খোঁজ নিয়ে জেনেছে যে, একটি বিমান চুরি হয়েছে। ইন্টারপোল আরো বলল, বিমানটি বেনিনে ল্যান্ড করলে অসুবিধা হবে। বিমান বা ক্রু কাউকেই ওই দেশের বাইরে আনা সম্ভব হবে না। তবে ক্রুদের পরিবারের নিরাপত্তা বিধানে পুলিশ পাঠাল ইন্টারপোল।
কোম্পানির সদর দফতরে তখন আরো কাজ চলছে। বিশেষজ্ঞরা বসে গেছেন হিসাব কষতে যে, ট্যাঙ্কে যে পরিমাণ তেল আছে তা দিয়ে কদ্দুর যাওয়া যাবে। ইউরোপের সব গন্তব্যের মধ্যে নিকটতম হচ্ছে গ্র্যান ক্যানারিয়া দ্বীপ। সেখানে বিমানটিকে অবতরণ করানোর বিষয়ে ইন্টারপোলও একমত হলো। বলল, ক্রুদের নিরাপত্তায় সব রকম ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ দিকে বিমানের ট্রান্সমিটিং লোকেশান ইনফরমেশন বন্ধ করে দিলেন লুকার্ট। এর ফলে বিমানটি তখন কার্যত অদৃশ্য হয়ে গেল। অর্থাৎ ভূপৃষ্ঠে বসে কোনোভাবেই জানা সম্ভব হবে না যে, বিমানটি কোথায়। এরপর পাইলট বিমানটি নিয়ে গেলেন ৪৬ হাজার ফুট উঁচুতে (সাধারণত, যাত্রীবাহী জেট বিমানগুলোই এরকম উচ্চতায় চলাচল করে)। এ অবস্থায় মাদক ব্যবসায়ীরা যখন ফোন করে বিমানের অবস্থান জানতে চাইল, বিমান থেকে জানানো হলো যে, বিমান আফ্রিকার দিকে এগিয়ে চলছে।
এবার ফোনে বলা হলো বারকিনা ফাসো যেতে। আফ্রিকার এই দেশটির বেশ কয়েকটা বিমানবন্দরের নাম বলে জানানো হলো যে, এর যেকোনো একটিতে লুকার্ট যেন তার বিমানটি নামান। আশ্চর্যের বিষয় হলো, যেসব বিমানবন্দরের নাম বলা হয়েছে, তার বেশির ভাগের মালিকই সেনাবাহিনী। কিন্তু লুকার্টের গ্লোবাল এক্সপ্রেস বিমানটি তো সবখানে নামতে পারে না। এর পাখার দৈর্ঘ্য ৩০ মিটার এবং এটি নিরাপদ অবতরণের জন্য আট শ’ মিটার দীর্ঘ রানওয়ে লাগবে। আর রানওয়ের ভার বহন ক্ষমতা হতে হবে ৪৫ টন।
এ অবস্থায় লুকার্ট আবার তার বস এরিককে ফোন করলেন। বেশ কয়েকটি সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে কথা বললেন তারা। যেমন, মাদকের প্যাকেটগুলো আটলান্টিকে ফেলে দিলে কেমন হয়? লুকার্ট বললেন,্ এ কাজটি করতে গেলে বিমানটিকে সাগরের যথাসম্ভব কাছাকাছি নামিয়ে ওড়াতে হবে। এতে জ্বালানি খরচ হবে বেশি। তাহলে গ্র্যান ক্যানারিয়া পৌঁছার মতো জ্বালানির ঘাটতি পড়ে যাবে। তা ছাড়া দুই পাইলটের একজনকে কার্গো দরজাটি খুলতে হবে। দরজাটি যেহেতু ইঞ্জিনের খুব কাছে, তাই দরজা খোলার সাথে সাথে প্রবল বায়ুচাপ সৃষ্টি হবে। এটা একটা বড় ঝুঁকি। এতে একজনের প্রাণহানিও ঘটতে পারে। তার চেয়েও বড় কথা, বিমান লাস পামাসে অবতরণের পর কী হবে? পুলিশ যদি বিমানে একটাও মাদকের ব্যাগ না পায়, তাহলে তো তারা আমাদেরই ধরবে যে, তোমরা ওগুলো অন্য কোথাও রেখে এসেছ।
এসব বলতে বলতে কাছে চলে এলো গ্র্যান কানারিয়া বিমানবন্দর। কো-পাইলট এবার স্যাটেলাইট ফোনটি বন্ধ করে দিলেন। আফ্রিকায় পৌঁছার নির্ধারিত সময়সীমার ৪৫ মিনিট আগে বিমানটি লা পামাসের মাটি স্পর্শ করল। স্পেন সরকারকে আগেই সব জানিয়ে রেখেছিল ইন্টারপোল। পুলিশের একটি বিরাট দল অপেক্ষা করছিল। একদল মুখোশধারী পুলিশ কর্মকর্তা বিপুল বিক্রমে বিমানে ঢুকে পড়ল। বিমানের ভেতরে যেন ঝড় বয়ে গেল। এরপর তারা বিমানের পাইলট, কো-পাইলট ও স্টুয়ার্ডসকে ধরে বাইরে নিয়ে এলো। প্রথমে তাদের বিমানবন্দরের সেলে নেয়া হলো। পরে সেখান থেকে পাঠিয়ে দেয়া হলো পামাসের পুলিশ সদর দফতরে।
রাবার প্যাডে শয্যা
একটা সময় এসে তারা বুঝতে পারলেন যে, স্পেনিশ পুলিশ তাদেরকেই মাদক পাচারকারী ভাবছে। এরপর তাদেরকে ভূগর্ভের নির্জন প্রকোষ্ঠে আটকে রাখা হলো। প্রকোষ্ঠের আয়তন ২দ্ধ৪ মিটার। এর সামনের মেঝে থেকে ছাদ পর্যন্ত লোহার শিক। দিনের আলো দেখা যায় না। কোনো টয়লেট নেই। বেসমেন্টের তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঘুমানোর জন্য তারা পেল একটি করে রাবারের প্যাড।
এ দিকে ‘বড় শিকার’ ধরার কৃতিত্বে স্পেনে আনন্দের বন্যা বয়ে যেতে লাগল। পত্রিকায় সেই বিমানটির ছবি ছাপা হলো, তার সামনে মাদকভর্তি প্যাকেটগুলো।
অন্য দিকে চার্টার কোম্পানির সিইও এরিক ভেবে পেলেন না কী হতে কী হয়ে গেল। ইন্টারপোল তার সাথে যেসব ওয়াদা করেছিল, একে একে সবই তারা ভেঙে ফেলল। যারা ঘটনার শিকার, তাদেরই বানানো হলো আসামি। তার ওপর তাদের পক্ষের আইনজীবী প্রথম দিকে কিছুই করতে পারছিলেন না। কেননা সাক্ষ্যপ্রমাণ হিসেবে যেসব দলিল তার দেখা প্রয়োজন, কিছুই তাকে দেয়া হলো না। বলা হলো, এসব ক্লাসিফায়েড; তাই দেয়া যাবে না। এভাবে চার সপ্তাহ কেটে গেল, কিছুই হলো না। এসব মামলার দায়িত্বপ্রাপ্ত বিচারক মাতৃত্বকালীন ছুটিতে আছেন। আর যাকে তার স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে, তিনি কিছুই করলেন না।
এভাবে কেটে গেল আট সপ্তাহ। বিমানের ক্রুরা তখনো ভূগর্ভের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে বন্দী, বিমানটিও আটক স্পেনে। কোম্পানি প্রতিদিন গচ্চা দিচ্ছে হাজার হাজার ডলার।
অবশেষে অক্টোবর মাসে লুকার্ট ও তার দুই সহকর্মীকে কারাধ্যক্ষের কাছে নেয়া হলো। লুকার্টের মা ও বাবা ৬০ হাজার ইউরো জামিনে তাদের মুক্ত করলেন। তারা মুক্তি পেলেন বটে, তবে স্পেন ছাড়ার অনুমতি পেলেন না। অবশ্য বিমানটি তার মালিককে ফিরিয়ে দেয়া হলো।
এ অবস্থায় এক দিন বৈরুতে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করলেন এক নারী। তিনি নিজের পরিচয় দিলেন রাইমা তাউক বলে। জানালেন, ৩০ হাজার ইউরো দেয়া হবে এই অঙ্গীকারে তিনি ওই বিমানের যাত্রী হতে রাজি হয়েছিলেন। তাকে বলা হয়েছিল, বিমানে কিছু নিষিদ্ধ জিনিস থাকবে, তবে সেটা যে কোকেন তা তিনি জানতেন না।
রাইমাকে কে ভাড়া করেছিল? করেছিল যে লোকটি, সে আন্তর্জাতিক আইনশৃঙ্খলা কর্মকর্তাদের খুবই চেনা একজন। তার নাম আলি ক্লেইলাত। বিশ্বব্যাপী মাদক ও অবৈধ অস্ত্র ব্যবসার একজন বড় চাঁই। তার আছে কমপক্ষে ছয়টি ডাকনাম। জন্মসালেও আছে ভিন্নতা কখনো ১৯৭০, কখনো বা ১৯৬৩। তার আছে লাইবেরিয়া, দ্য নেদারল্যান্ডস, ভেনিজুয়েলা ও লেবাননের পাসপোর্ট।
২০১১ সালে ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্রে এক টনেরও বেশি মাদকের একটি চালান আটক হয়। এর সাথে জড়িত সন্দেহে ক্লেইলাতকে ধরতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অভিযান শুরু হয়। একপর্যায়ে ধরা পড়ে সে। বর্তমানে বেলজিয়ামের একটি কারাগারে আটক রয়েছে। সেদেশের আদালত তাকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দেয়ার পক্ষে রায় দিয়েছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তটি দেবে বিচার মন্ত্রণালয়।
ক্লেইলাতের সাঙ্গপাঙ্গরাই আর্তুরো মিচেলেনা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ঘটনাটিও ঘটিয়েছে। এ ঘটনায় গ্রেফতার হয়েছে ১৮ জন, যাদের নয়জন বলিভারিয়ান ন্যাশনাল গার্ডের সদস্য, দু’জন বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের অসামরিক সদস্য, গোয়েন্দা সংস্থার একজন সদস্য এবং একজন বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক। এ কাজে সহযোগিতার জন্য প্রত্যেকে পেয়েছে বিপুল পরিমাণ অর্থাত সর্বনিম্ন ১৯ হাজার থেকে এক লাখ ৮৮ হাজার ইউরো। ধারণা করা হয়, এফরেইন পেরেদা নামে এক দুর্বৃত্তই কলম্বিয়ান মাদকচক্র ও স্থানীয় অপরাধীদের মধ্যে যোগাযোগটি ঘটিয়ে দিয়েছে।
মামলা শেষ হয়েছে। লুকার্ট ও তার ক্রুরা স্বদেশ জার্মানিতে ফিরে গেছেন। পুলিশ লুকার্টকে একটি নতুন নাম দিয়েছে। তিনি এখন নতুন শহরে নতুন নাম-পরিচয়ে বসবাস করেন। কোনো অসুবিধা নেই, তবু মনের তিক্ততা কাটে না। লুকার্ট তিক্ত গলায় বলেন, ‘কিছুই আগের মতো নয়। ভালো লাগে না।’
নাম বদলে গেছে, তবে পেশা আগেরটাই আছে। এখনো লুকার্ট দুনিয়াজুড়ে প্রাইভেট ক্লায়েন্টদের বিমান চালান। তবে যাত্রীদের আগে যেমন বিশ্বাস করতেন, এখন তার চেয়ে অনেক বেশি করেন অবিশ্বাস। আর বিমান নিয়ে কখনো ভেনিজুয়েলা বা লেবানন যান না।
অপরাধ দমনের জন্য একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যত ব্যবস্থা থাকে, তেমনটি আর কোথাও খুব বেশি দেখা যায় না। এখানে থাকে অনেক ভিডিও ক্যামেরা, নিরাপত্তাকর্মী এবং স্ক্যানার। এ ছাড়া প্রত্যেক যাত্রীর নাম তালিকাভুক্ত থাকে। প্রত্যেক পাইলটকে স্ক্যান করে তবেই বিমানবন্দরে ঢুকতে দেয়া হয়। এমনকি নারী পরিচ্ছন্নতাকর্মীদেরও নিরাপত্তা তল্লাশির পরই ঢুকতে দেয়া হয়। সব মিলিয়ে এমন কড়াকড়ি, কেউ যে ট্যাঁ ফো করবে, তার উপায় নেই।
এরকম অবস্থা সারা বিশ্বের সব আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেরই। ভেনিজুয়েলার তৃতীয় বৃহত্তম শহর ভ্যালেনসিয়ার আর্তুরো সিচেলেনা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটিও তার ব্যতিক্রম নয়। এখানেও বলিভারিয়ান ন্যাশনাল গার্ডের কম্যান্ডো-২৪ এর প্রহরীরা সর্বক্ষণ টহল দিয়ে চলেছে। যখন যাকে খুশি থামাচ্ছে, তল্লাশি করছে, তল্লাশির নামে বেফজুল হয়রানিও করছে। এ নিয়ে যাত্রীদের অভিযোগের অন্ত নেই।
নিরাপত্তার নামে এসব কড়াকড়ি-বাড়াবাড়ি নিয়ে যার যত অভিযোগই থাকুক, একে তাচ্ছিল্য করতে পারেন একজনই; তিনি কার্ল লুকার্ট। কারণ সব কড়াকড়ির মধ্যেও এমন ঘটনা ঘটেছিল, যা তার জীবনকে আমূল পাল্টে দিয়েছে। কিভাবে? জানতে হলে আসুন একটু পেছনে ফিরে যাই।
২০১২ সালের আগস্ট মাসের কোনো এক দিনে একটি প্রাইভেট জেট বিমান চালিয়ে আর্তুরো মিচেলেনা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসেছিলেন লুকার্ট। এ ধরনের বিমান ভাড়া করেন সাধারণত কোনো কোম্পানির সিইও, তারকা কিংবা ধনপতিরা। পাইলট লুকার্ট ভেবেছিলেন, আর্তুরো বিমানবন্দরে তার যাত্রাবিরতিটা হবে সংক্ষিপ্ত। কিন্তু মানুষ যা ভাবে, তা কি আর হয়? ‘স্বাভাবিকভাবে’ এ ক্ষেত্রেও হলো একেবারে বিপরীত। এবং বৈপরীত্যটা এমন যে, লুকার্টের সামনে তখন দু’টি বিকল্প রইল এক. মৃত্যু, দুই. মাদক বহনকারী হওয়া।
এটা ঘটল এভাবে আগস্টের সেই রাতে পাইলট লুকার্ট হঠাৎ দেখলেন তার বিমানের দিকে মেশিনগানের ব্যারেল তাক করে এগিয়ে আসছে ন্যাশনাল গার্ডের একদল সৈন্য। তিনি চেঁচিয়ে জানালেন, ‘নো! নো ব্যাগেজ!’ কিন্তু কে শোনে কার কথা! লুকার্ট দেখলেন, ওরা একে একে ৪৭টি প্লাস্টিক ব্যাগ তার জেট বিমানে ঠেসে দিলো। এসব ব্যাগভর্তি মাদক।
সুন্দরী ও গোপন কথা
কার্ল লুকার্ট যে বাণিজ্যিক বিমানটি চালান, তুষারধবল সেই বিমানটি ১৯ জন আরোহী বহন করতে পারে, আর কোথাও না থেমে একনাগাড়ে উড়তে পারে সাত হাজার মাইল। পাইলট লুকার্ট মজা করে বলেন, ‘আরে আমি তো ট্যাক্সিক্যাব চালাই। ট্যাক্সিক্যাব রাস্তায় চলে, আর আমারটা আকাশেএই যা তফাৎ।’
কথাটা পুরোপুরি অসত্য যে, তাও নয়। আগেই বলেছি, সিইও, তারকা বা ধনাঢ্য মানুষেরাই নিজেদের প্রয়োজনে এ ধরনের বিমান ভাড়া করেন। সেদিনও একটি চার্টার কোম্পানির কাছ থেকে বিমানটি ভাড়া নিয়েছিল বৈরুতের প্রিন্সেস অ্যাভিয়েশন। কথা ছিল মরক্কো থেকে ছেড়ে বিমানটি ত্রিনিদাদ-টোব্যাগো হয়ে ভেনেজুয়েলা যাবে। সেখানে যাত্রাবিরতি শেষে আফ্রিকার বেনিনে।
সেদিন বিমানটিতে যাত্রী ছিলেন একজন রাইমা তাউক। ৩৭ বছর বয়সী এই নারী খুবই আকর্ষণীয়া, খোলামেলা, বন্ধুভাবাপন্ন ও চমৎকার পোশাক পরিহিতা। বিমানে ওঠার আগে পাইলট লুকার্টের সাথে তার নিয়মমাফিক কিছু কথাবার্তা হয়। লুকার্ট জানলেন, মহিলা একজন ফ্যাশন ডিজাইনার। এ কাজে অনেক পুরস্কারও পেয়েছেন তিনি। বৈরুত, দুবাই ও সিডনিতে তার অফিস আছে।
বিমানে উঠেও পাইলটের সাথে অনেক কথা বললেন রাইমা। বৈরুতের জীবন, ভেনেজুয়েলায় তার বন্ধুর অপেক্ষা ইত্যাদি। বিমানের তরুণ স্টুয়ার্ডসদেরও অনেক সময় দিলেন তিনি।
নিরাপদ অবতরণ
প্রথম গোলটি বাধল বিমানটি টোবাগোর একটি দ্বীপে ল্যান্ড করার পর। রাইমা চান তিনি ওই রাতটা হিলটন হোটেলে কাটাবেন। কিন্তু হিলটন হোটেল তো পাশের ত্রিনিদাদে। ত্রিনিদাদ ও টোব্যাগোর মাঝখানে যে সাগরের বিপুল জলরাশি! বিষয়টা জানা ছিল না রাইমার। তা ছাড়া ওই দেশে ঢোকার এন্ট্রি ভিসাও ছিল না তার। কিন্তু এসব তো আইনের অসুবিধা, পকেটে মালকড়ি থাকলে দুনিয়ার সব অসুবিধারই ‘সুবিধা’ হয়ে যেতে সময় লাগে না। কাজে কাজেই পাইলট লুকার্ট কোরাল রিফ হোটেলে রাইমার থাকার ব্যবস্থা করে ফেললেন। হোটেল থেকে রোলস রয়েস গাড়ি এসে তাকে নিয়ে গেল।
পরদিন সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটের সময় ভেনিজুয়েলার উদ্দেশে উড়াল দিলো লুকার্টের বিমান। ওখান থেকে ৯০ মিনিট লাগবে ভেনিজুয়েলা যেতে। বিমান চলাকালে ককপিটে এলেন রাইমা। স্যাটেলাইট ফোনে কার সাথে যেন কথা বললেন। তবে কী বললেন কিছুই বুঝলেন না পাইলট। কারণ কথা হলো আরবিতে। তবে রাইমাকে বেশ খুশি খুশি মনে হলো।
ভেনিজুয়েলা এসে বিমান নিরাপদে অবতরণ করল। রাইমা নেমে হোটেলের উদ্দেশে চলে গেলেন। জ্বালানি তেল ভরতে হবে বলে বিমানে রয়ে গেলেন লুকার্ট। বিমানে তেল ভরা হচ্ছে, এ সময় তিনি অবাক হয়ে দেখলেন, ইউনিফর্ম পরা বেশ কিছু লোক বিমানটি ঘিরে রেখেছে। তেল ভরা শেষ হলে বিমানটিকে ওই রাতের জন্য পার্কিং স্পটে নিয়ে গেলেন লুকার্ট। সেখানকার কর্মীরা তাকে বললেন বিমানটিকে ১৮০ ডিগ্রি ঘুরিয়ে রাখতে। লুকার্ট অবাক, ব্যাপারটা কী! এরকম অনুরোধ তো করার কথা নয় (অনেক পরে অবশ্য তিনি এর কারণ ধরতে সমর্থ হন। এর অর্থ হলো, বিমানের কার্গো দরজাটিকে বিমানবন্দরের বাতি ও নজরদারি ক্যামেরার আওতার বাইরে নিয়ে যাওয়া)!
এর একটু পরই বিমানবন্দরের এক কর্মী এসে লুকার্টের হাতে একটি মোবাইল ফোন ধরিয়ে দিলো। ফোনের ওপাশ থেকে ভেসে এলো ভাঙা ভাঙা ইংরেজিতে একজনের গলা, যার সারমর্ম হলো, বিমানের দরজা খোলা রেখে লুকার্ট ও তার কর্মীদের ওই রাতে এক হোটেলে চলে যেতে হবে। হোটেলে পৌঁছে দেয়ার জন্য গাড়ি বাইরে অপেক্ষা করছে।
লুকার্ট রাজি হন না। এটা কি সম্ভব? তা ছাড়া বিমানের ক্রুরাও হোটেলে যেতে নারাজ। কেননা বিমান ছাড়ার শিডিউল খুব ভোরে। হোটেলে গেলে সেখান থেকে আসতেই সময় পেরিয়ে যাবে। বিমানে থাকলে সেই সময়টা তো ঘুমানো যাবে। তার চেয়েও বড় কথা, বিমানে তালা না লাগিয়ে রেখে যাওয়া সিকিউরিটি প্রটোকলের লঙ্ঘন। এমন বেআইনি কাজ লুকার্ট করতেই পারেন না। টেলিফোনকারীকে এসব যুক্তি দেখিয়ে লাইন কেটে দেয়ার একটু পর এলো রাইমার ফোন। তারও একই কথা, ‘রাতটা হোটেলে কাটাও। ভালো হবে।’ মহাবিরক্ত হলেন লুকার্ট।
‘আমরা একেবারে অসহায়’
এরপর সবাই বিছানায় চলে গেলেন, কিন্তু নানা চিন্তা ও দুশ্চিন্তায় ঘুম আর আসে না। এলেও একটু পর ভেঙে যায়। রাত ২টার দিকে দরজায় ঠক ঠক শব্দ শোনা গেল; বেশ ক’বার। উঁকি দিতেই দেখা গেল মোবাইল ফোন হাতে দাঁড়িয়ে এক লোক। কাকে যেন বলছে, ‘সব কিন্তু খুব তাড়াতাড়ি বিমানে তুলতে হবে।’
লুকার্ট কিছু বুঝে ওঠার আগেই সিনেমার দৃশ্যের মতো ঘটনাগুলো ঘটে যেতে লাগল। ঘোর কালো রঙের দুটো গাড়ি চলে এলো। সেখান থেকে নেমে একদল অস্ত্রধারী খুলে ফেলল বিমানের কার্গো দরজা। ‘এসব কী হচ্ছে, বন্ধ করো এসব!’ চেঁচালেন লুকার্ট। জবাবে তার দিকে উদ্যত হলো অস্ত্র। এরপর প্লাস্টিকের সাদা প্যাকেটে ভরে যেতে লাগল বিমান। প্রত্যেক প্যাকেটের গায়ে লেখা ‘রেড ক্রস’। সাদা প্যাকেটগুলো দেখে লুকার্টের মনে হলো যেন ‘তুষারধস হয়েছে। কিন্তু আমরা ছিলাম একেবারেই অসহায়’।
পুরো ‘কাজ’টি সারতে লাগল ২০ মিনিটের মতো। মোট ৪৭টি প্যাকেট উঠল বিমানে। কার্গো বে, যাত্রীদের আসন এবং মাঝখানের চলার পথ সবখানেই ছড়িয়ে আছে এসব প্যাকেট। পুরো সময়টায় সাত-আটজন অস্ত্রধারী দাঁড়িয়েছিল বিমানের সামনে। চোখের সামনে এসব দেখতে দেখতে লুকার্ট ও তার সহকর্মীরা বুঝে গেলেন, তাদের ডাকে কেউ আসবে না। পুরো বিমানবন্দরই এতে জড়িত। আর পুলিশকে খবর দেয়ারও উপায় ছিল না।
‘কাজ’ সেরে অন্ধকারের প্রাণীরা ফের অন্ধকারে মিলিয়ে গেল। লুকার্ট ফোন করলেন সুইজারল্যান্ডে; বিমানটি চার্টার করেছে যে কোম্পানি তার সিইও এরিক ওয়েইজকফকে। সব জানিয়ে তাকে বললেন, ‘আমাদের আসলে কিছুই করার ছিল না।’ লুকার্ট যখন কথা বলছিলেন, তখন দরজায় আবার টোকা। লুকার্ট তার কো-পাইলটকে পাঠালেন কী ব্যাপার দেখতে। কো-পাইলট ফিরে এলে দেখা গেল, আতঙ্কে তার মুখ রক্তশূন্য। তিনি জানালেন ‘লোকটি বলে গেছে, আমরা যদি এখনই বিমানটি ওড়াই, তাহলে আমাদের ওরা খুন করবে।’ রিয়ার উইন্ডো দিয়ে লুকার্ট দেখলেন, হাল্কা মেশিনগান নিয়ে বিমানের পাখার নিচে দাঁড়িয়ে আছে অস্ত্রধারীরা।
লুকার্ট ভাবতে বসলেন কী করা যায়। এই বিমানবন্দরটি রাতে বন্ধ থাকে। মধ্যরাতের পর থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত এখানে কোনো বিমান ওঠানামা করে না। লুকার্ট চেষ্টা করলেন টাওয়ারের সাথে যোগাযোগ করতে। কিন্তু কেউ ফোন ধরে না। লুকার্ট এবার ভাবলেন, এত বস্তা যে ভরা হয়েছে, বিমান কি এর ভার বইতে পারবে? তিনি ছোট একটা পরীক্ষা করলেন। দেখা গেল, ঠিক আছে। ওরা ঠিকই জানে, এই বিমান কতটা ভার বহনে সক্ষম।
শত্রু যখন অন্দরে
পরদিন সকালে বিমানটি আকাশে ডানা মেলল। মিনিট দশেক উড়তে-না-উড়তেই স্যাট-ফোনে কল এলো। এক ব্যক্তি ইংরেজিতে বলল, ‘যেখানে যেতে বলা হয়েছে বিমান যেন ঠিক ঠিক সেখানে যায়। তাহলেই তোমরা জীবন নিয়ে বাড়ি ফিরতে পারবে। কথাটা মনে থাকে যেন।’ দেখা গেল, ওরা শুধু পাইলট ও ক্রুদের স্যাট ফোন নাম্বার জানে তা নয়, তাদের দেশ কোনটি, তাদের ঠিকানা এবং আরো অনেক কিছু জানে।
এ দিকে সুইজারল্যান্ডে বিমানটির চার্টার কোম্পানির সদর দফতরে ততক্ষণে তুলকালাম শুরু হয়ে গেছে। নানা মুনি নানা মত দিচ্ছে। এর কারণও অবশ্য আছে। ২০০৪ সালে কারাকাসে এয়ার লুক্সরের একটি ফ্লাইট থেকে বিপুল মাদক উদ্ধার করা হয়েছিল। ওই ঘটনায় বিমানটি বাজেয়াপ্ত করা হয়, পাইলট ও কো-পাইলট দু’জনকেই দীর্ঘ কারাবাস করতে হয়। ঘটনাটি মনে করে আঁৎকে ওঠেন কোম্পানির সিইও এরিক। বিমানটি বাজেয়াপ্ত হলে কী হবে, ওটি তো তার কোম্পানির নয়, এক জার্মান ব্যবসায়ীর।
তবে বিমানের পাইলট লুকার্টের প্রতি কোম্পানির ‘৯৯ ভাগ’ আস্থা রয়েছে। বাকি এক ভাগ হলো সন্দেহ যে, আসলেই তো লুকার্ট এই অপকর্মে জড়িত থাকতেও পারে!
শনিবার পেরিয়ে রোববার এলো। কিন্তু এরিক এমন কাউকে পেলেন না যে, এই বিপদে তাকে একটুখানি সাহায্য করতে পারে। গুগল ঘেঁটে তিনি এবার ইন্টারপোলের নাম্বার জোগাড় করলেন। কথাও হলো এক অফিসারের সাথে। মাদক পাচারের তথ্য জানানোর জন্য অফিসার তাকে ধন্যবাদও দিলেন। ব্যস, ওই পর্যন্তই। তারপর তার আর কোনো খোঁজ নেই।
অন্য দিকে লুকার্টের বিমানের স্যাট-ফোনটি ক্রমাগত বেজেই চলেছে। ধরতেই এক ব্যক্তি জানতে চাইল, বিমানটি এখন ঠিক কোথায় আছে। প্রশ্ন শুনে ক্রুরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল। তাদের ধারণা ছিল, গ্রাউন্ড থেকেই বুঝি তাদের ওপর নজরদারি করা হচ্ছে। সর্বশেষ ফোনকলে নিশ্চিত হওয়া গেল, তা নয়।
তবে ক্রুরা তখনো নিশ্চিত ছিল না, আসলে প্লাস্টিকের ভেতরে কী রয়েছে। তারা খুলে দেখতেও ভয় পাচ্ছিল, যদি ওতে বোমা থাকে! আর যদি বিস্ফোরক থাকে এবং জিপিএস ট্র্যাকারের সাহায্যে ওরা দেখতে পায় যে, আমরা ওদের দেখানো পথে চলছি না, তাহলে বিমানটি যদি উড়িয়ে দেয়!
এর মধ্যে লুকার্টের ফোনে রাইমার কল এলো। সে খুব দুঃখ প্রকাশ করল। বারবার ‘সরি!’ বলে জানাল যে, যেভাবে পরিকল্পনা করা হয়েছিল, কাজ কিন্তু সেভাবে এগোচ্ছে না। এ দিকে লুকার্ট তো রেগে আগুন। সে ফোনে যা-তা বলল রাইমাকে। বলল, তুমি আমাদের সবাইকে মারতে বসেছ। রাইমা সব শুনেও শান্ত গলায় বলল, তোমাদের যেভাবে বলা হয়েছে, তা-ই করো। বেনিন যাও। সেখানে আমি তোমাদের জন্য জ্বালানির ব্যবস্থা করব। মাল খালাস করেই তোমরা নিরাপদে ইউরোপের দিকে চলে যেতে পারবে।
ওরা রাইমার সব কথা শুনল, তবে এক বর্ণও বিশ্বাস করল না। বরং লুকার্ট ও তার কো-পাইলট ঠিক করল, বিমানটিকে তারা কিছুতেই আফ্রিকা (বেনিন) নিয়ে যাবে না। তবে হ্যাঁ, তার আগে নিজ নিজ পরিবারকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে হবে। দু’জনই পরিবারে ফোন করে নিরাপদ কোনো জায়গায় সরে যেতে বলল।
বদলে যাচ্ছে দৃশ্যপট
এ দিকে চার্টার কোম্পানির সুইজারল্যান্ড সদর দফতরে ফোন এলো ইন্টারপোলের। তাদের তদন্তকারীরা ভেনিজুয়েলায় খোঁজ নিয়ে জেনেছে যে, একটি বিমান চুরি হয়েছে। ইন্টারপোল আরো বলল, বিমানটি বেনিনে ল্যান্ড করলে অসুবিধা হবে। বিমান বা ক্রু কাউকেই ওই দেশের বাইরে আনা সম্ভব হবে না। তবে ক্রুদের পরিবারের নিরাপত্তা বিধানে পুলিশ পাঠাল ইন্টারপোল।
কোম্পানির সদর দফতরে তখন আরো কাজ চলছে। বিশেষজ্ঞরা বসে গেছেন হিসাব কষতে যে, ট্যাঙ্কে যে পরিমাণ তেল আছে তা দিয়ে কদ্দুর যাওয়া যাবে। ইউরোপের সব গন্তব্যের মধ্যে নিকটতম হচ্ছে গ্র্যান ক্যানারিয়া দ্বীপ। সেখানে বিমানটিকে অবতরণ করানোর বিষয়ে ইন্টারপোলও একমত হলো। বলল, ক্রুদের নিরাপত্তায় সব রকম ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ দিকে বিমানের ট্রান্সমিটিং লোকেশান ইনফরমেশন বন্ধ করে দিলেন লুকার্ট। এর ফলে বিমানটি তখন কার্যত অদৃশ্য হয়ে গেল। অর্থাৎ ভূপৃষ্ঠে বসে কোনোভাবেই জানা সম্ভব হবে না যে, বিমানটি কোথায়। এরপর পাইলট বিমানটি নিয়ে গেলেন ৪৬ হাজার ফুট উঁচুতে (সাধারণত, যাত্রীবাহী জেট বিমানগুলোই এরকম উচ্চতায় চলাচল করে)। এ অবস্থায় মাদক ব্যবসায়ীরা যখন ফোন করে বিমানের অবস্থান জানতে চাইল, বিমান থেকে জানানো হলো যে, বিমান আফ্রিকার দিকে এগিয়ে চলছে।
এবার ফোনে বলা হলো বারকিনা ফাসো যেতে। আফ্রিকার এই দেশটির বেশ কয়েকটা বিমানবন্দরের নাম বলে জানানো হলো যে, এর যেকোনো একটিতে লুকার্ট যেন তার বিমানটি নামান। আশ্চর্যের বিষয় হলো, যেসব বিমানবন্দরের নাম বলা হয়েছে, তার বেশির ভাগের মালিকই সেনাবাহিনী। কিন্তু লুকার্টের গ্লোবাল এক্সপ্রেস বিমানটি তো সবখানে নামতে পারে না। এর পাখার দৈর্ঘ্য ৩০ মিটার এবং এটি নিরাপদ অবতরণের জন্য আট শ’ মিটার দীর্ঘ রানওয়ে লাগবে। আর রানওয়ের ভার বহন ক্ষমতা হতে হবে ৪৫ টন।
এ অবস্থায় লুকার্ট আবার তার বস এরিককে ফোন করলেন। বেশ কয়েকটি সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে কথা বললেন তারা। যেমন, মাদকের প্যাকেটগুলো আটলান্টিকে ফেলে দিলে কেমন হয়? লুকার্ট বললেন,্ এ কাজটি করতে গেলে বিমানটিকে সাগরের যথাসম্ভব কাছাকাছি নামিয়ে ওড়াতে হবে। এতে জ্বালানি খরচ হবে বেশি। তাহলে গ্র্যান ক্যানারিয়া পৌঁছার মতো জ্বালানির ঘাটতি পড়ে যাবে। তা ছাড়া দুই পাইলটের একজনকে কার্গো দরজাটি খুলতে হবে। দরজাটি যেহেতু ইঞ্জিনের খুব কাছে, তাই দরজা খোলার সাথে সাথে প্রবল বায়ুচাপ সৃষ্টি হবে। এটা একটা বড় ঝুঁকি। এতে একজনের প্রাণহানিও ঘটতে পারে। তার চেয়েও বড় কথা, বিমান লাস পামাসে অবতরণের পর কী হবে? পুলিশ যদি বিমানে একটাও মাদকের ব্যাগ না পায়, তাহলে তো তারা আমাদেরই ধরবে যে, তোমরা ওগুলো অন্য কোথাও রেখে এসেছ।
এসব বলতে বলতে কাছে চলে এলো গ্র্যান কানারিয়া বিমানবন্দর। কো-পাইলট এবার স্যাটেলাইট ফোনটি বন্ধ করে দিলেন। আফ্রিকায় পৌঁছার নির্ধারিত সময়সীমার ৪৫ মিনিট আগে বিমানটি লা পামাসের মাটি স্পর্শ করল। স্পেন সরকারকে আগেই সব জানিয়ে রেখেছিল ইন্টারপোল। পুলিশের একটি বিরাট দল অপেক্ষা করছিল। একদল মুখোশধারী পুলিশ কর্মকর্তা বিপুল বিক্রমে বিমানে ঢুকে পড়ল। বিমানের ভেতরে যেন ঝড় বয়ে গেল। এরপর তারা বিমানের পাইলট, কো-পাইলট ও স্টুয়ার্ডসকে ধরে বাইরে নিয়ে এলো। প্রথমে তাদের বিমানবন্দরের সেলে নেয়া হলো। পরে সেখান থেকে পাঠিয়ে দেয়া হলো পামাসের পুলিশ সদর দফতরে।
রাবার প্যাডে শয্যা
একটা সময় এসে তারা বুঝতে পারলেন যে, স্পেনিশ পুলিশ তাদেরকেই মাদক পাচারকারী ভাবছে। এরপর তাদেরকে ভূগর্ভের নির্জন প্রকোষ্ঠে আটকে রাখা হলো। প্রকোষ্ঠের আয়তন ২দ্ধ৪ মিটার। এর সামনের মেঝে থেকে ছাদ পর্যন্ত লোহার শিক। দিনের আলো দেখা যায় না। কোনো টয়লেট নেই। বেসমেন্টের তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঘুমানোর জন্য তারা পেল একটি করে রাবারের প্যাড।
এ দিকে ‘বড় শিকার’ ধরার কৃতিত্বে স্পেনে আনন্দের বন্যা বয়ে যেতে লাগল। পত্রিকায় সেই বিমানটির ছবি ছাপা হলো, তার সামনে মাদকভর্তি প্যাকেটগুলো।
অন্য দিকে চার্টার কোম্পানির সিইও এরিক ভেবে পেলেন না কী হতে কী হয়ে গেল। ইন্টারপোল তার সাথে যেসব ওয়াদা করেছিল, একে একে সবই তারা ভেঙে ফেলল। যারা ঘটনার শিকার, তাদেরই বানানো হলো আসামি। তার ওপর তাদের পক্ষের আইনজীবী প্রথম দিকে কিছুই করতে পারছিলেন না। কেননা সাক্ষ্যপ্রমাণ হিসেবে যেসব দলিল তার দেখা প্রয়োজন, কিছুই তাকে দেয়া হলো না। বলা হলো, এসব ক্লাসিফায়েড; তাই দেয়া যাবে না। এভাবে চার সপ্তাহ কেটে গেল, কিছুই হলো না। এসব মামলার দায়িত্বপ্রাপ্ত বিচারক মাতৃত্বকালীন ছুটিতে আছেন। আর যাকে তার স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে, তিনি কিছুই করলেন না।
এভাবে কেটে গেল আট সপ্তাহ। বিমানের ক্রুরা তখনো ভূগর্ভের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে বন্দী, বিমানটিও আটক স্পেনে। কোম্পানি প্রতিদিন গচ্চা দিচ্ছে হাজার হাজার ডলার।
অবশেষে অক্টোবর মাসে লুকার্ট ও তার দুই সহকর্মীকে কারাধ্যক্ষের কাছে নেয়া হলো। লুকার্টের মা ও বাবা ৬০ হাজার ইউরো জামিনে তাদের মুক্ত করলেন। তারা মুক্তি পেলেন বটে, তবে স্পেন ছাড়ার অনুমতি পেলেন না। অবশ্য বিমানটি তার মালিককে ফিরিয়ে দেয়া হলো।
এ অবস্থায় এক দিন বৈরুতে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করলেন এক নারী। তিনি নিজের পরিচয় দিলেন রাইমা তাউক বলে। জানালেন, ৩০ হাজার ইউরো দেয়া হবে এই অঙ্গীকারে তিনি ওই বিমানের যাত্রী হতে রাজি হয়েছিলেন। তাকে বলা হয়েছিল, বিমানে কিছু নিষিদ্ধ জিনিস থাকবে, তবে সেটা যে কোকেন তা তিনি জানতেন না।
রাইমাকে কে ভাড়া করেছিল? করেছিল যে লোকটি, সে আন্তর্জাতিক আইনশৃঙ্খলা কর্মকর্তাদের খুবই চেনা একজন। তার নাম আলি ক্লেইলাত। বিশ্বব্যাপী মাদক ও অবৈধ অস্ত্র ব্যবসার একজন বড় চাঁই। তার আছে কমপক্ষে ছয়টি ডাকনাম। জন্মসালেও আছে ভিন্নতা কখনো ১৯৭০, কখনো বা ১৯৬৩। তার আছে লাইবেরিয়া, দ্য নেদারল্যান্ডস, ভেনিজুয়েলা ও লেবাননের পাসপোর্ট।
২০১১ সালে ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্রে এক টনেরও বেশি মাদকের একটি চালান আটক হয়। এর সাথে জড়িত সন্দেহে ক্লেইলাতকে ধরতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অভিযান শুরু হয়। একপর্যায়ে ধরা পড়ে সে। বর্তমানে বেলজিয়ামের একটি কারাগারে আটক রয়েছে। সেদেশের আদালত তাকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দেয়ার পক্ষে রায় দিয়েছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তটি দেবে বিচার মন্ত্রণালয়।
ক্লেইলাতের সাঙ্গপাঙ্গরাই আর্তুরো মিচেলেনা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ঘটনাটিও ঘটিয়েছে। এ ঘটনায় গ্রেফতার হয়েছে ১৮ জন, যাদের নয়জন বলিভারিয়ান ন্যাশনাল গার্ডের সদস্য, দু’জন বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের অসামরিক সদস্য, গোয়েন্দা সংস্থার একজন সদস্য এবং একজন বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক। এ কাজে সহযোগিতার জন্য প্রত্যেকে পেয়েছে বিপুল পরিমাণ অর্থাত সর্বনিম্ন ১৯ হাজার থেকে এক লাখ ৮৮ হাজার ইউরো। ধারণা করা হয়, এফরেইন পেরেদা নামে এক দুর্বৃত্তই কলম্বিয়ান মাদকচক্র ও স্থানীয় অপরাধীদের মধ্যে যোগাযোগটি ঘটিয়ে দিয়েছে।
মামলা শেষ হয়েছে। লুকার্ট ও তার ক্রুরা স্বদেশ জার্মানিতে ফিরে গেছেন। পুলিশ লুকার্টকে একটি নতুন নাম দিয়েছে। তিনি এখন নতুন শহরে নতুন নাম-পরিচয়ে বসবাস করেন। কোনো অসুবিধা নেই, তবু মনের তিক্ততা কাটে না। লুকার্ট তিক্ত গলায় বলেন, ‘কিছুই আগের মতো নয়। ভালো লাগে না।’
নাম বদলে গেছে, তবে পেশা আগেরটাই আছে। এখনো লুকার্ট দুনিয়াজুড়ে প্রাইভেট ক্লায়েন্টদের বিমান চালান। তবে যাত্রীদের আগে যেমন বিশ্বাস করতেন, এখন তার চেয়ে অনেক বেশি করেন অবিশ্বাস। আর বিমান নিয়ে কখনো ভেনিজুয়েলা বা লেবানন যান না।
পশ্চিমা বিশ্বে ইহুদিবিদ্বেষ by মেহেদী হাসান
ইহুদিদের
প্রতি মানুষের মনোভাব কেমন তা বোঝার জন্য ব্রিটেনের ইহুদি সাংবাদিক
জোনাথান কামুস ইউরোপের বেশ কয়েকটি শহরে মাথায় ইহুদি টুপি ‘কিপা’ পরে
হেটেছেন। হাটা শুরুর এক মিনিটের মাথায় তিনি আক্রমনের শিকার হন। ২৫ মিনিটের
মাথায় তার প্রতি থুতু মারতে শুরু করে তার পাশ দিয়ে হেটে যাওয়া লোকজন। এছাড়া
ইংরেজিতে চার অক্ষরের প্রকাশ অযোগ্য একটি অশ্লীল গালির আক্রমন শুনতে থাকেন
অনবরত। ‘ইউ লিটল জিউ’ ‘মার শালা ইহুদি’ ‘কুকুর তোমাকে খাবেনা’ প্রভৃতি
গালির শিকার হতে থাকেন অনরবত। তবে মুসলিম অধ্যুষিত যেসব এলাকায় জোনাথান
হেটেছেন সেখানে তিনি কোন ধরনের অপ্রীতিকার আক্রমনের শিকার হননি কারো কাছ
থেকে। কোন গালি তাকে কেউ দেয়নি। বরং অনেকে তাকে হিব্রু ভাষায় ‘শালোম’ বলে
অভ্যর্থনা জানিয়েছেন। শালোম মানে হল শান্তি।
জোনাথান হাটার সময় নিজের শরীরে একটি গোপন ক্যামেরা বেধে রাখেন । তাকে উদ্দেশ্য করে কে কি বলেছেন, কে কিভাবে তাকিয়েছে সবই ভিডিও রেকর্ড হয়েছে।
জোনাথান যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার, ব্রাডফোর্ড, ইতালির রোম, জার্মানির বার্লিন, সুইডেনের স্টকহোম এবং কোপেনহেগেন শহরে হেটেছেন। এছাড়া ইসরাইলের ইহুদি সাংবাদিক জাভিকা প্যারিসের বিভিন্ন রাস্তায় ১০ ঘন্টা হাটার দৃশ্য রেকর্ড করেছেন
সাংবাদিক জোনাথান সবচেয়ে বেশি আক্রমনের শিকার হন যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার এবং ব্রাডফোর্ড শহরে। আর কোন আক্রমনের শিকার হননি বার্লিন এবং স্টকহোমে। রোম এবং কোপেনহেগেনও তিনি বেশ আক্রমনের শিকার হন। আর সাংবাদিক জাভিবকা প্যারিসেও তীব্র ইহুদিবিদ্বেষ আক্রমনের শিকার হন। গত সপ্তাহে ব্রিটেনের ডেইলিমেইল অনলাইনে এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
জোনাথান ব্রিটেনের ম্যানচেস্টার শহরে হাটা শুরুর এক মিনিটের মাথায় ইহুদি বিদ্বেষজনিত আক্রমনের শিকার হন। সেখানে তার প্রতি থুতু মারা হয়। এমনকি বাবার সাথে হাটতে থাকা ছোট এক শিশু তাকে ইঙ্গিত করে উচ্চারন করল ‘জিউ’। জোনাথান বলেন, ম্যানচেস্টারে হাটা শুরুর আড়াই মিনিটের মাথায় একটি বালক আমার ওপর প্রায় সাইকেল উঠিয়ে দিয়ে মুখের কাছে মুখ এনে বলল ‘তুমি ইহুদি’।
ব্রাডফোর্ডে হাটা শুরুর ১৩ মিনিটের মাথায় তিনি আক্রমনের শিকার হন। ব্রাডফোর্ডে এক লোক ৫ মিনিট পর্যন্ত তার পেছনে লেগে থাকে এবং তার ছবি তোলে। এখানে সিটি পার্ক এলাকায় একজন তাকে দেখে বলে ওঠে ‘তুমি ইহুদি’। আরেকজন বলে, ‘মার শালা ইহুদিকে’। একটু পরে তিনজন যুবক একসাথে চেচিয়ে বলতে থাকে ‘তুমি ইহুদি, মুসলমান নও, দৌড়া ইহুদি। ’
জোনাথান জানান, তবে ব্রাডফোর্ডে এ ধরনের তীব্র আক্রমনের মুখে একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা ঘটল। যেইমাত্র আমি সিটি পার্কে প্রবশে করলাম একজন মুসলিম আমার দিকে তাকালেন। তিনি কিছু একটা পান করছিলেন। তার মুখে কালো দাড়ি, প্রচলিত ইসলামিক পোশাক পরিহিত। আমাকে দেখে তিনি পান করা ছেড়ে আমার দিকে বিস্ময়ে তাকালেন। এরপর বললেন ‘শালোম শালোম’। হিব্রু ভাষায় শালোম মানে হল শান্তি। পরষ্পরকে অভ্যর্থনা করার জন্য শালোম বলা হয়।
ব্রাডফোর্ডে বিভিন্ন দেশের অভিবাসিদের বসবাস। এটি ব্রিটেনের আলোচিত রাজনীতিবিদ এমপি জর্জ গ্যালওয়ের এলাকা। শেষবার গাজায় ইহুদি আক্রমনের পর এখানে ৫ হাজার মানুষ বিক্ষোভ করেছে রাস্তায়। জর্জ গ্যালওয়ে ফিলিস্তিনের যোদ্ধাদের উদ্দেশে এখানে বলেছেন, তোমরা একা নও। জোনাথান জানান, সে কারনে ব্রাডফের্ডকে বেছে নেয়া হয়েছে ইহুদিবিদ্বেষ পরীক্ষার জন্য।
জোনাথান হাটার সময় নিজের শরীরে একটি গোপন ক্যামেরা বেধে রাখেন । তাকে উদ্দেশ্য করে কে কি বলেছেন, কে কিভাবে তাকিয়েছে সবই ভিডিও রেকর্ড হয়েছে।
জোনাথান যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার, ব্রাডফোর্ড, ইতালির রোম, জার্মানির বার্লিন, সুইডেনের স্টকহোম এবং কোপেনহেগেন শহরে হেটেছেন। এছাড়া ইসরাইলের ইহুদি সাংবাদিক জাভিকা প্যারিসের বিভিন্ন রাস্তায় ১০ ঘন্টা হাটার দৃশ্য রেকর্ড করেছেন
সাংবাদিক জোনাথান সবচেয়ে বেশি আক্রমনের শিকার হন যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার এবং ব্রাডফোর্ড শহরে। আর কোন আক্রমনের শিকার হননি বার্লিন এবং স্টকহোমে। রোম এবং কোপেনহেগেনও তিনি বেশ আক্রমনের শিকার হন। আর সাংবাদিক জাভিবকা প্যারিসেও তীব্র ইহুদিবিদ্বেষ আক্রমনের শিকার হন। গত সপ্তাহে ব্রিটেনের ডেইলিমেইল অনলাইনে এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
জোনাথান ব্রিটেনের ম্যানচেস্টার শহরে হাটা শুরুর এক মিনিটের মাথায় ইহুদি বিদ্বেষজনিত আক্রমনের শিকার হন। সেখানে তার প্রতি থুতু মারা হয়। এমনকি বাবার সাথে হাটতে থাকা ছোট এক শিশু তাকে ইঙ্গিত করে উচ্চারন করল ‘জিউ’। জোনাথান বলেন, ম্যানচেস্টারে হাটা শুরুর আড়াই মিনিটের মাথায় একটি বালক আমার ওপর প্রায় সাইকেল উঠিয়ে দিয়ে মুখের কাছে মুখ এনে বলল ‘তুমি ইহুদি’।
ব্রাডফোর্ডে হাটা শুরুর ১৩ মিনিটের মাথায় তিনি আক্রমনের শিকার হন। ব্রাডফোর্ডে এক লোক ৫ মিনিট পর্যন্ত তার পেছনে লেগে থাকে এবং তার ছবি তোলে। এখানে সিটি পার্ক এলাকায় একজন তাকে দেখে বলে ওঠে ‘তুমি ইহুদি’। আরেকজন বলে, ‘মার শালা ইহুদিকে’। একটু পরে তিনজন যুবক একসাথে চেচিয়ে বলতে থাকে ‘তুমি ইহুদি, মুসলমান নও, দৌড়া ইহুদি। ’
জোনাথান জানান, তবে ব্রাডফোর্ডে এ ধরনের তীব্র আক্রমনের মুখে একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা ঘটল। যেইমাত্র আমি সিটি পার্কে প্রবশে করলাম একজন মুসলিম আমার দিকে তাকালেন। তিনি কিছু একটা পান করছিলেন। তার মুখে কালো দাড়ি, প্রচলিত ইসলামিক পোশাক পরিহিত। আমাকে দেখে তিনি পান করা ছেড়ে আমার দিকে বিস্ময়ে তাকালেন। এরপর বললেন ‘শালোম শালোম’। হিব্রু ভাষায় শালোম মানে হল শান্তি। পরষ্পরকে অভ্যর্থনা করার জন্য শালোম বলা হয়।
ব্রাডফোর্ডে বিভিন্ন দেশের অভিবাসিদের বসবাস। এটি ব্রিটেনের আলোচিত রাজনীতিবিদ এমপি জর্জ গ্যালওয়ের এলাকা। শেষবার গাজায় ইহুদি আক্রমনের পর এখানে ৫ হাজার মানুষ বিক্ষোভ করেছে রাস্তায়। জর্জ গ্যালওয়ে ফিলিস্তিনের যোদ্ধাদের উদ্দেশে এখানে বলেছেন, তোমরা একা নও। জোনাথান জানান, সে কারনে ব্রাডফের্ডকে বেছে নেয়া হয়েছে ইহুদিবিদ্বেষ পরীক্ষার জন্য।
![]() |
| লন্ডনের রাস্তায় জোনাথন |
জোনাথান
কোপেনহেগেন শহরে দুই ধরনের আচরন পান। এ শহরের বিভিন্ন রাস্তায় হাটার সময়
এক মহিলা তাকে আলিঙ্গন করে এবং আরেক লোক তার সাথে হাটার প্রস্তাব দেয় তার
নিরাপত্তার জন্য। আরেক লোক তাকে গালি দেয় “(উচ্চারনযোগ্য নয়).... ইউ লিটল
জিউ” বলে।
ইতালির কলোসিয়াম এলাকায়
বিভিন্ন দেশের হাজার হাজার পর্যটক আনাগোনা করছে। সেখান দিয়ে হাটার সময় কেউ
কেউ বলল, ‘শাবাত শালোম’। মানে শুভ শনিবার। জোনাথান জানান, এখানে ভিগনা
ক্লারায় লোকজনের মধ্যে বিদ্বেষের বদলে বিস্ময়বোধটা বেশি কাজ করছে রাস্তায়
একজন ইহুদিকে টুপি পরে হাটতে দেখে। রোমের পিগনোটো এলাকাটি মুসলিম অধ্যূষিত। সেখানে হাটার সময় অনেকে বলেছেন “শালোম”। মানে শান্তি। অনেকে এখানে ভাল সম্বোধন করেছে তাকে।
এখানে সান মার্টিনো ডি মন্টিতে ইউরোপ ফুটবল লিগ ম্যাচ উপলক্ষে অনেকে জড়ো হয়েছে। সেখানে তাকে দেখে এক বন্ধু আরেক বন্ধুর দিকে তাকিয়ে বলে “গে ফা....(উচ্চারনযোগ্য নয়)”
ইতালির টারমিনির কেন্দ্রেীয় রেলস্টেশনের এক রেস্টুরেন্টে যাওয়া মাত্র একজন ওয়েটার তার কিপা টুপি দেখামাত্র তার এক সহকর্মীকে দিকে তাকিয়ে বিদ্বেষমুলক ইঙ্গিত করে। এখানে আরেকটি পিজা দোকানের কাছে কয়েকজন লোক খুবই বিদ্বেষমূলকভাবে তার প্রতি অঙ্গভঙ্গি করে এবং আরেকজন তার কাঁধে থুতু দেয়।
বার্লিনের মার্জান এবং লিচেনবার্গে উগ্র বস্তিবাসী এবং ডানপন্থী নব্য নাজিবাদী ইহুদিবিদ্বেষীদের চারনভূমি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কিন্তু এখানে হাটার সময় কেউ তার দিকে ফিরেও তাকায়নি বলে জানান জোনাথান।
বার্লিনে মুসলিম অধ্যুষিত হারমানপ্লাজ দিয়ে হাটার সময় অনেক হিজাব পরিহিত এবং দাড়িওয়ালা লোকজনকে হাটতে এবং কর্মরত দেখা গেছে। কিন্তু অপ্রীতিকর কোন কিছু বলেনি কেউ।
বার্লিনের অন্য কোন কোন রাস্তায় হাটার সময় তরুনরা কেউ কেউ মাথা ঘুরিয়ে তার দিকে তাকিয়েছে মাত্র। কিন্তু খারাপ কিছু বলেনি।
প্রযুক্তির শহর স্টকহোমের আরেকট পরিচয় হল এখানে প্রচুর মুসলমানের বসবাস। এখানে কিপা টুপি পরিহিত কোন ইহুদিকে রাস্তায় দেখতে পাওয়া খুব কঠিন। কারণ নিরাপত্তার অভাব।
জোনাথান বলেন, সকাল আটটায় স্টকহোমের খুবই ব্যস্ত সাবওয়ে স্টেশনে দাড়িয়ে আছি ইহুদি কিপা টুপি পরে। একজন নিকাব পরিহিত মুসলিম আসে আমার কাছাকাছি। কিন্তু সে আমার কিপা টুপি দেখতে পায়নি বলে মনে হল। এরপর আরেকজন আরব লোক আসে। সে আমার পাশ দিয়ে হেটে গেল কিন্তু কিছু বললনা। এরপর বেলা বাড়ার সাথে সাথে শহরের অনেক রাস্তায় এভাবে হাটলাম। কিন্তু কারো কাছ থেকে কোন আক্রমনের শিকার হয়নি।
চার ঘন্টা হাটলেও স্টকহোম শহরে কোনো আক্রমনের শিকার হয়নি জোনাথন। শেষে ছোট ছোট শিশু আছে এমন একটি স্কুলের মাঠে যাই কিন্তু কেউ কিছু বলেনি। এভাবে ছয়, সাত, আট ঘন্টা পার হয়ে গেলেও কারো কাছ থেকে বিদ্বেষমূলক কিছুই শুনিনি। অবশেষে একটি প্লাটফর্মের কাছে অনুমান ১০ বছর বয়সী এক শিশু আমাকে দেখে তার আরেক বন্ধুকে বলল, দেখ একজন ইহুদি যাচ্ছে। তবে তার এ বলার মধ্যে কোন ঘৃনা বা বিদ্বেষ ছিলনা।
কিছুদিন আগে প্যারিসে ইসরাইলের একজন ইহুদি সাংবাদিক আক্রমনের শিকার হন এবং সে আক্রমনের ঘটনা নিজেই ভিডিও করেন। ইহুদিবিদ্বেষ বোঝার জন্য তিনি প্যারিসের রাস্তায় দশ ঘন্টা হাটেন এবং ভিডিও করেন। তার অনুসরনের ব্রিটেনের ইহুদি সাংবাদিক জোনাথান সম্প্রতি ইহুদি টুপি কিপা পরে রাস্তায় হাটেন এবং গোপন ক্যামেরায় ভিডিও করেন তার প্রতি মানুষের আচরন।
ডেইলিমেলের প্রতিবেদনে বলা হয় ২০১৪ সাল ছিল ব্রিটেনের অন্যতম ইহুদিবিদ্বেষের বছর। ১১৬৮টি ইহুদিবিদ্বেষের ঘটনা ঘটেছে। ফ্রান্সের তুলনায় এ সংখ্যা ৩৭ ভাগ বেশি। ২০১৪ সালে ব্রিটেনে ২০১৩ সালের তুলনায় দ্বিগুন ইহুদিবিদ্বেষের ঘটনা ঘটেছে এবং দিন দিন এ বিদ্বেষ বাড়ছে।
এখানে সান মার্টিনো ডি মন্টিতে ইউরোপ ফুটবল লিগ ম্যাচ উপলক্ষে অনেকে জড়ো হয়েছে। সেখানে তাকে দেখে এক বন্ধু আরেক বন্ধুর দিকে তাকিয়ে বলে “গে ফা....(উচ্চারনযোগ্য নয়)”
ইতালির টারমিনির কেন্দ্রেীয় রেলস্টেশনের এক রেস্টুরেন্টে যাওয়া মাত্র একজন ওয়েটার তার কিপা টুপি দেখামাত্র তার এক সহকর্মীকে দিকে তাকিয়ে বিদ্বেষমুলক ইঙ্গিত করে। এখানে আরেকটি পিজা দোকানের কাছে কয়েকজন লোক খুবই বিদ্বেষমূলকভাবে তার প্রতি অঙ্গভঙ্গি করে এবং আরেকজন তার কাঁধে থুতু দেয়।
বার্লিনের মার্জান এবং লিচেনবার্গে উগ্র বস্তিবাসী এবং ডানপন্থী নব্য নাজিবাদী ইহুদিবিদ্বেষীদের চারনভূমি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কিন্তু এখানে হাটার সময় কেউ তার দিকে ফিরেও তাকায়নি বলে জানান জোনাথান।
বার্লিনে মুসলিম অধ্যুষিত হারমানপ্লাজ দিয়ে হাটার সময় অনেক হিজাব পরিহিত এবং দাড়িওয়ালা লোকজনকে হাটতে এবং কর্মরত দেখা গেছে। কিন্তু অপ্রীতিকর কোন কিছু বলেনি কেউ।
বার্লিনের অন্য কোন কোন রাস্তায় হাটার সময় তরুনরা কেউ কেউ মাথা ঘুরিয়ে তার দিকে তাকিয়েছে মাত্র। কিন্তু খারাপ কিছু বলেনি।
প্রযুক্তির শহর স্টকহোমের আরেকট পরিচয় হল এখানে প্রচুর মুসলমানের বসবাস। এখানে কিপা টুপি পরিহিত কোন ইহুদিকে রাস্তায় দেখতে পাওয়া খুব কঠিন। কারণ নিরাপত্তার অভাব।
জোনাথান বলেন, সকাল আটটায় স্টকহোমের খুবই ব্যস্ত সাবওয়ে স্টেশনে দাড়িয়ে আছি ইহুদি কিপা টুপি পরে। একজন নিকাব পরিহিত মুসলিম আসে আমার কাছাকাছি। কিন্তু সে আমার কিপা টুপি দেখতে পায়নি বলে মনে হল। এরপর আরেকজন আরব লোক আসে। সে আমার পাশ দিয়ে হেটে গেল কিন্তু কিছু বললনা। এরপর বেলা বাড়ার সাথে সাথে শহরের অনেক রাস্তায় এভাবে হাটলাম। কিন্তু কারো কাছ থেকে কোন আক্রমনের শিকার হয়নি।
চার ঘন্টা হাটলেও স্টকহোম শহরে কোনো আক্রমনের শিকার হয়নি জোনাথন। শেষে ছোট ছোট শিশু আছে এমন একটি স্কুলের মাঠে যাই কিন্তু কেউ কিছু বলেনি। এভাবে ছয়, সাত, আট ঘন্টা পার হয়ে গেলেও কারো কাছ থেকে বিদ্বেষমূলক কিছুই শুনিনি। অবশেষে একটি প্লাটফর্মের কাছে অনুমান ১০ বছর বয়সী এক শিশু আমাকে দেখে তার আরেক বন্ধুকে বলল, দেখ একজন ইহুদি যাচ্ছে। তবে তার এ বলার মধ্যে কোন ঘৃনা বা বিদ্বেষ ছিলনা।
কিছুদিন আগে প্যারিসে ইসরাইলের একজন ইহুদি সাংবাদিক আক্রমনের শিকার হন এবং সে আক্রমনের ঘটনা নিজেই ভিডিও করেন। ইহুদিবিদ্বেষ বোঝার জন্য তিনি প্যারিসের রাস্তায় দশ ঘন্টা হাটেন এবং ভিডিও করেন। তার অনুসরনের ব্রিটেনের ইহুদি সাংবাদিক জোনাথান সম্প্রতি ইহুদি টুপি কিপা পরে রাস্তায় হাটেন এবং গোপন ক্যামেরায় ভিডিও করেন তার প্রতি মানুষের আচরন।
ডেইলিমেলের প্রতিবেদনে বলা হয় ২০১৪ সাল ছিল ব্রিটেনের অন্যতম ইহুদিবিদ্বেষের বছর। ১১৬৮টি ইহুদিবিদ্বেষের ঘটনা ঘটেছে। ফ্রান্সের তুলনায় এ সংখ্যা ৩৭ ভাগ বেশি। ২০১৪ সালে ব্রিটেনে ২০১৩ সালের তুলনায় দ্বিগুন ইহুদিবিদ্বেষের ঘটনা ঘটেছে এবং দিন দিন এ বিদ্বেষ বাড়ছে।
র-এর এজেন্ট পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মেজর
পাকিস্তানের
সেনাবাহিনীতে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড আনালাইসিস উইং বা
র-এর এজেন্ট হিসেবে কাজ করেছিলেন এক মেজর। তার আসল নাম রবীন্দ্র কৌশিক।
কিন্তু পাকিস্তানে তিনি নবি আহমদ শাকির নামে পরিচিত ছিলেন।
ধরা পড়ার পর তিনি পাকিস্তানের কারাগারে সাজাভোগ করা অবস্থায় মারা যান। তার কাহিনীর ওপর ভিত্তি করেই বলিউডের চাঞ্চল্যকর ছবি ‘এক থা টাইগার’ নির্মিত হয় বলে দাবি করেছে তার পরিবার।
ভারতের রাজস্থানের গঙ্গানগরে ১৯৫২ সালের ১১ এপ্রিল জন্ম হয় রবীন্দ্র কৌশিকের। প্রথম জীবনে থিয়েটার অভিনেতা হিসেবে বিপুল জনপ্রিয়তা লাভ করেন তিনি। ২১ বছর বয়সে অংশ নেন লক্ষ্ণৌতে আয়োজিত জাতীয় ড্রামা সামিটে। এখান থেকেই গোটা জীবনটা অন্য দিকে মোড় নেয় রবীন্দ্র কৌশিকের। এই নাট্য সম্মেলনেই তার ওপর দৃষ্টি পড়ে রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং বা র-এর কর্মকর্তাদের। তার অভিনয় ক্ষমতা দেখে গুপ্তচর হিসেবে রবীন্দ্র কৌশিককে পাকিস্তানে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় র।
র-এর এজেন্ট হিসেবে নিয়োজিত হন কৌশিক। দিল্লিতে দুই বছরের প্রশিক্ষণের পর ২৩ বছর বয়সে পাকিস্তানে পা রাখেন তিনি। প্রশিক্ষণকালে তাকে মুসলমানি দেয়া হয়।
এখানে নতুন নাম হয় নবি আহমদ শাকির। করাচি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি পাস করে তিনি যোগ দেন পাকিস্তানি সেনা বাহিনীতে। দক্ষতা ও কর্মক্ষমতার গুণে সহজেই উঠে সেনা বাহিনীর ওপরের স্তরে। রাজস্থানের নাট্যাভিনেতা রবীন্দ্র কৌশিক হয়ে ওঠেন পাক সেনাবাহিনীর মেজর নবি আহমেদ শাকির। বিয়েও করেন আমানত নামে স্থানীয় এক নারীকে। পাশাপাশি নিঃশব্দে চলতে থাকে র-এর কাজ।
১৯৭৯ থেকে ১৯৮৩-এর মধ্যে পাকিস্তান সরকার ও সেনাবাহিনী সম্পর্কিত অনেক গুরুত্বপূর্ণ গোপন খবর ভারতে পাঠান তিনি। র তার নাম দেয় ব্ল্যাক টাইগার। বেশ কয়েকবার তার পাঠানো খবরের জেরেই পাক সেনার হামলার পরিকল্পনা বানচাল করে দিয়েছে ভারত। কিন্তু ১৯৮৩-এর শেষের দিকে নেমে আসে বিপর্যয়।
ইনায়েত মাসিহা নামে একজনকে কৌশিকের সাথে দেখা করতে পাকিস্তানে পাঠায় র। কিন্তু ধরা পড়ে যায় সে। মাসিহাকে জেরা করেই রবীন্দ্র কৌশিকের আসল পরিচয় জানতে পারে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী।
১৯৮৩-এর সেপ্টেম্বরে গ্রেফতার হন কৌশিক। শিয়ালকোটের জেলে দুই বছর থাকার পর ৮৫ সালে তাকে মৃত্যুদণ্ডের নির্দেশ দেয় আদালত। পরে তা খারিজ করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করে পাক সুপ্রিম কোর্ট।
শিয়ালকোট ছাড়াও কোট লাখপত ও মিনারওয়ালি জেলে ১৬ বছর কাটান তিনি। মুলতানের জেলে ২০০১-এর ২১ নভেম্বর মৃত্যু হয় তার।
ধরা পড়ার পর তিনি পাকিস্তানের কারাগারে সাজাভোগ করা অবস্থায় মারা যান। তার কাহিনীর ওপর ভিত্তি করেই বলিউডের চাঞ্চল্যকর ছবি ‘এক থা টাইগার’ নির্মিত হয় বলে দাবি করেছে তার পরিবার।
ভারতের রাজস্থানের গঙ্গানগরে ১৯৫২ সালের ১১ এপ্রিল জন্ম হয় রবীন্দ্র কৌশিকের। প্রথম জীবনে থিয়েটার অভিনেতা হিসেবে বিপুল জনপ্রিয়তা লাভ করেন তিনি। ২১ বছর বয়সে অংশ নেন লক্ষ্ণৌতে আয়োজিত জাতীয় ড্রামা সামিটে। এখান থেকেই গোটা জীবনটা অন্য দিকে মোড় নেয় রবীন্দ্র কৌশিকের। এই নাট্য সম্মেলনেই তার ওপর দৃষ্টি পড়ে রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং বা র-এর কর্মকর্তাদের। তার অভিনয় ক্ষমতা দেখে গুপ্তচর হিসেবে রবীন্দ্র কৌশিককে পাকিস্তানে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় র।
র-এর এজেন্ট হিসেবে নিয়োজিত হন কৌশিক। দিল্লিতে দুই বছরের প্রশিক্ষণের পর ২৩ বছর বয়সে পাকিস্তানে পা রাখেন তিনি। প্রশিক্ষণকালে তাকে মুসলমানি দেয়া হয়।
এখানে নতুন নাম হয় নবি আহমদ শাকির। করাচি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি পাস করে তিনি যোগ দেন পাকিস্তানি সেনা বাহিনীতে। দক্ষতা ও কর্মক্ষমতার গুণে সহজেই উঠে সেনা বাহিনীর ওপরের স্তরে। রাজস্থানের নাট্যাভিনেতা রবীন্দ্র কৌশিক হয়ে ওঠেন পাক সেনাবাহিনীর মেজর নবি আহমেদ শাকির। বিয়েও করেন আমানত নামে স্থানীয় এক নারীকে। পাশাপাশি নিঃশব্দে চলতে থাকে র-এর কাজ।
১৯৭৯ থেকে ১৯৮৩-এর মধ্যে পাকিস্তান সরকার ও সেনাবাহিনী সম্পর্কিত অনেক গুরুত্বপূর্ণ গোপন খবর ভারতে পাঠান তিনি। র তার নাম দেয় ব্ল্যাক টাইগার। বেশ কয়েকবার তার পাঠানো খবরের জেরেই পাক সেনার হামলার পরিকল্পনা বানচাল করে দিয়েছে ভারত। কিন্তু ১৯৮৩-এর শেষের দিকে নেমে আসে বিপর্যয়।
ইনায়েত মাসিহা নামে একজনকে কৌশিকের সাথে দেখা করতে পাকিস্তানে পাঠায় র। কিন্তু ধরা পড়ে যায় সে। মাসিহাকে জেরা করেই রবীন্দ্র কৌশিকের আসল পরিচয় জানতে পারে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী।
১৯৮৩-এর সেপ্টেম্বরে গ্রেফতার হন কৌশিক। শিয়ালকোটের জেলে দুই বছর থাকার পর ৮৫ সালে তাকে মৃত্যুদণ্ডের নির্দেশ দেয় আদালত। পরে তা খারিজ করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করে পাক সুপ্রিম কোর্ট।
শিয়ালকোট ছাড়াও কোট লাখপত ও মিনারওয়ালি জেলে ১৬ বছর কাটান তিনি। মুলতানের জেলে ২০০১-এর ২১ নভেম্বর মৃত্যু হয় তার।
সালাহউদ্দিন নিখোজে মন্ত্রীদের বক্তব্য নিয়ে রহস্য
বিএনপির
যুগ্ম মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমদের নিখোজ হওয়া নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের
বক্তব্যে নানা ধরনের প্রশ্নের সৃষ্টি হচ্ছে। সর্বশেষ স্বরাষ্ট্র
প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, সালাহউদ্দিন আহমেদ আগেও
আত্মগোপনে ছিলেন, এখনো আত্মগোপনে রয়েছেন। স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর এই
বক্তব্যর পর আশার সঞ্চার হয়েছে যে সালাহউদ্দিন হয়তো বেচে আছে।
গনমাধ্যমে অনুসন্ধানী রিপোর্টের মাধ্যমে অনেকটা স্পষ্ট হয়েছে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাকে ধরে নিয়ে গেছে। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরাও যে বাড়ি থেকে তাকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয় সেই বাড়ির সামনে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পিকআপ ভ্যান ও মাইক্রোবাস দেখার কথা জানিয়েছেন।
সালাহ উদ্দিন আহমেদ নিখোজ হওয়ার পর এর আগে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন আট বস্তা ময়লার সাথে তাকে পাচার করার জবাব খালেদা জিয়াকেই দিতে হবে। তার এই মন্তব্যর পর সালাহউদ্দিনের ভাগ্য নিয়ে সন্দেহ বাড়তে থাকে।
সালাহউদ্দিন আহমেদের পরিবার ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মধ্যে আরো উদ্বেগ বাড়তে থাকে যখন আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আদালতে গিয়ে তাকে খুজে না পাওয়ার তথ্য জানান। যে বাসা থেকে সালাহউদ্দিন আহমেদকে ‘তুলে নেওয়ার’ অভিযোগ করেছে পরিবার, সেখানে খুঁজে এসে রায়হান নামে এক ব্যক্তির অবস্থান ও চলে যাওয়ার তথ্য পাওয়ার দাবি করেছে পুলিশ। উত্তরা পশ্চিম থানার ওসি রফিকুল ইসলামের তদন্তের এই তথ্য রবিবার বিচারপতি কামরুল ইসলাম সিদ্দিকী ও বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুরের বেঞ্চে উপস্থাপন করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি), অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), র্যাব, ঢাকা মহানগর পুলিশ ও পুলিশ সদর দফতরের দেওয়া পাঁচটি প্রতিবেদন আদালতে উপস্থাপন করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে আদালতকে বলা হয়, বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমেদকে আটক বা গ্রেফতার করা হয়নি। কোথাও তার খোঁজও পাওয়া যায়নি।
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহ উদ্দিন আহমেদ ‘নিখোঁজ’ হওয়ার ঘটনায় তাঁর স্ত্রী হাসিনা আহমেদের সাধারণ ডায়েরি (জিডি) নেয়নি পুলিশ।
স্বামীর সন্ধান চেয়ে জিডি করতে বুধবার রাতে প্রথমে রাজধানীর গুলশান থানায় যান সাবেক সংসদ সদস্য হাসিনা আহমেদ। সেখানে জিডি করতে না পেরে যান উত্তরা পশ্চিম থানায়। রাত সাড়ে ১০টার দিকে ওই থানা থেকে বের হয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘উনারা (পুলিশ) বলতেছে, কোনো রিজনেবল গ্রাউন্ড (যৌক্তিক প্রেক্ষাপট) ছাড়া জিডি নিতে পারবেন না। এটা কোনো কথা হইল নাকি? আমি উনার স্ত্রী। স্বামীর সন্ধানে সারা দিন পাগলের মতো এখানে-ওখানে ঘুরতেছি। আর উনারা আমাকে এইটুকু হেল্প করবে না। উনারা আমার একটা জিডি নেবে না।’
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে হাসিনা আহমেদ আরো বলেন, ‘কোন দেশে বসবাস করছি, যেখানে একটা মানুষ গত রাত (মঙ্গলবার রাত) থেকে মিসিং (নিখোঁজ)। তাঁকে কীভাবে, কারা নিয়ে গেছে, তুলে নিয়ে গেছে—এটা আমি সমগ্র জাতির কাছে আপনাদের মাধ্যমে বলতে চাই।’
হাসিনা আহমেদ বলেন, ‘তাঁকে (সালাহ উদ্দিন) গত রাত ১০টার সময় ছয় গাড়ি লোক ওইখানে যায়, উত্তরার বাসায় যেখানে উনি ছিলেন। ওই বাসায় ঢুকে সিকিউরিটি গার্ডকে উনারা ডিবির (পুলিশের গোয়েন্দা শাখা) পরিচয় দেন এবং উনাদের কার্ড দেখান। ডিবির পরিচয় দিয়ে উনারা উপরের তলায় উঠে যান, যেখানে উনি ছিলেন। সেখানে গিয়ে উনার দরজা ধাক্কায়ে মোটামুটি ভেঙে ফেলে ভেতরে ঢুকে যান। ঠিক সেই মুহূর্তে উনি আমাকে কল দেন। কল দিয়ে জানান যে আমাকে এ রকম আটক করার চেষ্টা করতেছে। এ মুহূর্তেই লাইনটা ওরা কেটে ফেলে।
কেটে ফেলার পর আমি আর উনাকে ট্রেস করতে পারি নাই।’
হাসিনা আহমেদ আরো বলেন, ‘আমি বহুবার চেষ্টা করেছি উনার সাথে যোগাযোগ করার। পাই নাই। বাড়ির মালিকের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলাম। বাড়ির মালিককে আমি ধরতে পারলাম এবং বাড়ির মালিকের সাথে কথা বলে জানতে পারলাম যে উনাকে (সালাহ উদ্দিন আহমেদ) এভাবে উনারা হাত বেঁধে, চোখ বেঁধে তুলে নিয়ে গেছে, ছয় গাড়ি লোকজন।’
জিডি না নেওয়ার কারণ জানতে চাইলে উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমি তাঁকে (হাসিনা আহমেদ) নৈতিক কোয়েশ্চেনটা (প্রশ্ন) করেছিলাম। জিডি করেন, মামলা করেন, যা হওয়ার সব এ থানায় হবে। কোনো আপত্তি নাই। যদি সেখানে এ ঘটনা ঘটে থাকে। তো, আপনি কি এই বাসায় ছিলেন কি না। উনি উত্তরে বলছেন, না, আমি এই বাসায় ছিলাম না।
তাহলে আপনি কী করে জানলেন? তিনি বলেন যে ওই বাসার দারোয়ান বলছে, ওই বাসার লোক বলছে। অনুগ্রহপূর্বক ওই বাসার দারোয়ান বা ওই লোককে বলেন। একটা ঘটনার অথেনটিসিটি (বিশ্বাসযোগ্যতা) যাচাইয়ের দরকার আছে। কারণ, ওই ব্যক্তি তো সমাজের আরেকজন সাধারণ নাগরিকের মতো নয়। তিনি একজন উল্লেখযোগ্য ব্যক্তি। সে ক্ষেত্রে প্রয়োজন আছে যে তিনি ওখানে আদৌ ছিলেন কি না বা আদৌ এ রকম কোনো ঘটনা ঘটছে কি না।’
সালাহউদ্দিন আহমেদের খোঁজ না পাওয়ায় অজানা আশঙ্কা এখন সালাহউদ্দিনের পরিবারে। একে একে সাত দিন পেরিয়ে যাওয়ায় তার স্ত্রী হাসিনা আহমেদ স্বামীর জীবন নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। উদ্বিগ্ন হাসিনা আহমেদ দেখা করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে। নিখোঁজের সাত দিন পরও সালাহউদ্দিন আহমেদসহ তিনজনের সন্ধান না পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট মহলগুলোতে নানা প্রশ্ন- সালাহউদ্দিন প্রকৃত অর্থেই এখন কোথায়। তারা বলছেন, কোথাও পাওয়া যাচ্ছে না সালাহউদ্দিনকে। তার ভাগ্যে কী ঘটেছে বলতে পারছেন না কেউ। আসলে তিনি এখন কোথায়। সালাহউদ্দিনের স্ত্রী হাসিনা আহমেদ বলেন, আমার একটিই চাওয়া, আমার স্বামীকে ফিরিয়ে দাও। যেভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে তুলে নিয়ে গেছে, সেরকম সুস্থ অবস্থায় তাকে আদালতে হাজির করা হোক- এটাই আমার আবেদন।
গনমাধ্যমে অনুসন্ধানী রিপোর্টের মাধ্যমে অনেকটা স্পষ্ট হয়েছে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাকে ধরে নিয়ে গেছে। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরাও যে বাড়ি থেকে তাকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয় সেই বাড়ির সামনে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পিকআপ ভ্যান ও মাইক্রোবাস দেখার কথা জানিয়েছেন।
সালাহ উদ্দিন আহমেদ নিখোজ হওয়ার পর এর আগে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন আট বস্তা ময়লার সাথে তাকে পাচার করার জবাব খালেদা জিয়াকেই দিতে হবে। তার এই মন্তব্যর পর সালাহউদ্দিনের ভাগ্য নিয়ে সন্দেহ বাড়তে থাকে।
সালাহউদ্দিন আহমেদের পরিবার ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মধ্যে আরো উদ্বেগ বাড়তে থাকে যখন আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আদালতে গিয়ে তাকে খুজে না পাওয়ার তথ্য জানান। যে বাসা থেকে সালাহউদ্দিন আহমেদকে ‘তুলে নেওয়ার’ অভিযোগ করেছে পরিবার, সেখানে খুঁজে এসে রায়হান নামে এক ব্যক্তির অবস্থান ও চলে যাওয়ার তথ্য পাওয়ার দাবি করেছে পুলিশ। উত্তরা পশ্চিম থানার ওসি রফিকুল ইসলামের তদন্তের এই তথ্য রবিবার বিচারপতি কামরুল ইসলাম সিদ্দিকী ও বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুরের বেঞ্চে উপস্থাপন করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি), অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), র্যাব, ঢাকা মহানগর পুলিশ ও পুলিশ সদর দফতরের দেওয়া পাঁচটি প্রতিবেদন আদালতে উপস্থাপন করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে আদালতকে বলা হয়, বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমেদকে আটক বা গ্রেফতার করা হয়নি। কোথাও তার খোঁজও পাওয়া যায়নি।
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহ উদ্দিন আহমেদ ‘নিখোঁজ’ হওয়ার ঘটনায় তাঁর স্ত্রী হাসিনা আহমেদের সাধারণ ডায়েরি (জিডি) নেয়নি পুলিশ।
স্বামীর সন্ধান চেয়ে জিডি করতে বুধবার রাতে প্রথমে রাজধানীর গুলশান থানায় যান সাবেক সংসদ সদস্য হাসিনা আহমেদ। সেখানে জিডি করতে না পেরে যান উত্তরা পশ্চিম থানায়। রাত সাড়ে ১০টার দিকে ওই থানা থেকে বের হয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘উনারা (পুলিশ) বলতেছে, কোনো রিজনেবল গ্রাউন্ড (যৌক্তিক প্রেক্ষাপট) ছাড়া জিডি নিতে পারবেন না। এটা কোনো কথা হইল নাকি? আমি উনার স্ত্রী। স্বামীর সন্ধানে সারা দিন পাগলের মতো এখানে-ওখানে ঘুরতেছি। আর উনারা আমাকে এইটুকু হেল্প করবে না। উনারা আমার একটা জিডি নেবে না।’
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে হাসিনা আহমেদ আরো বলেন, ‘কোন দেশে বসবাস করছি, যেখানে একটা মানুষ গত রাত (মঙ্গলবার রাত) থেকে মিসিং (নিখোঁজ)। তাঁকে কীভাবে, কারা নিয়ে গেছে, তুলে নিয়ে গেছে—এটা আমি সমগ্র জাতির কাছে আপনাদের মাধ্যমে বলতে চাই।’
হাসিনা আহমেদ বলেন, ‘তাঁকে (সালাহ উদ্দিন) গত রাত ১০টার সময় ছয় গাড়ি লোক ওইখানে যায়, উত্তরার বাসায় যেখানে উনি ছিলেন। ওই বাসায় ঢুকে সিকিউরিটি গার্ডকে উনারা ডিবির (পুলিশের গোয়েন্দা শাখা) পরিচয় দেন এবং উনাদের কার্ড দেখান। ডিবির পরিচয় দিয়ে উনারা উপরের তলায় উঠে যান, যেখানে উনি ছিলেন। সেখানে গিয়ে উনার দরজা ধাক্কায়ে মোটামুটি ভেঙে ফেলে ভেতরে ঢুকে যান। ঠিক সেই মুহূর্তে উনি আমাকে কল দেন। কল দিয়ে জানান যে আমাকে এ রকম আটক করার চেষ্টা করতেছে। এ মুহূর্তেই লাইনটা ওরা কেটে ফেলে।
কেটে ফেলার পর আমি আর উনাকে ট্রেস করতে পারি নাই।’
হাসিনা আহমেদ আরো বলেন, ‘আমি বহুবার চেষ্টা করেছি উনার সাথে যোগাযোগ করার। পাই নাই। বাড়ির মালিকের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলাম। বাড়ির মালিককে আমি ধরতে পারলাম এবং বাড়ির মালিকের সাথে কথা বলে জানতে পারলাম যে উনাকে (সালাহ উদ্দিন আহমেদ) এভাবে উনারা হাত বেঁধে, চোখ বেঁধে তুলে নিয়ে গেছে, ছয় গাড়ি লোকজন।’
জিডি না নেওয়ার কারণ জানতে চাইলে উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমি তাঁকে (হাসিনা আহমেদ) নৈতিক কোয়েশ্চেনটা (প্রশ্ন) করেছিলাম। জিডি করেন, মামলা করেন, যা হওয়ার সব এ থানায় হবে। কোনো আপত্তি নাই। যদি সেখানে এ ঘটনা ঘটে থাকে। তো, আপনি কি এই বাসায় ছিলেন কি না। উনি উত্তরে বলছেন, না, আমি এই বাসায় ছিলাম না।
তাহলে আপনি কী করে জানলেন? তিনি বলেন যে ওই বাসার দারোয়ান বলছে, ওই বাসার লোক বলছে। অনুগ্রহপূর্বক ওই বাসার দারোয়ান বা ওই লোককে বলেন। একটা ঘটনার অথেনটিসিটি (বিশ্বাসযোগ্যতা) যাচাইয়ের দরকার আছে। কারণ, ওই ব্যক্তি তো সমাজের আরেকজন সাধারণ নাগরিকের মতো নয়। তিনি একজন উল্লেখযোগ্য ব্যক্তি। সে ক্ষেত্রে প্রয়োজন আছে যে তিনি ওখানে আদৌ ছিলেন কি না বা আদৌ এ রকম কোনো ঘটনা ঘটছে কি না।’
সালাহউদ্দিন আহমেদের খোঁজ না পাওয়ায় অজানা আশঙ্কা এখন সালাহউদ্দিনের পরিবারে। একে একে সাত দিন পেরিয়ে যাওয়ায় তার স্ত্রী হাসিনা আহমেদ স্বামীর জীবন নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। উদ্বিগ্ন হাসিনা আহমেদ দেখা করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে। নিখোঁজের সাত দিন পরও সালাহউদ্দিন আহমেদসহ তিনজনের সন্ধান না পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট মহলগুলোতে নানা প্রশ্ন- সালাহউদ্দিন প্রকৃত অর্থেই এখন কোথায়। তারা বলছেন, কোথাও পাওয়া যাচ্ছে না সালাহউদ্দিনকে। তার ভাগ্যে কী ঘটেছে বলতে পারছেন না কেউ। আসলে তিনি এখন কোথায়। সালাহউদ্দিনের স্ত্রী হাসিনা আহমেদ বলেন, আমার একটিই চাওয়া, আমার স্বামীকে ফিরিয়ে দাও। যেভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে তুলে নিয়ে গেছে, সেরকম সুস্থ অবস্থায় তাকে আদালতে হাজির করা হোক- এটাই আমার আবেদন।
Monday, March 9, 2015
ভয়ের শাসন by মঈন উদ্দিন খান
গণতন্ত্র
এখন শিকলে বন্দী। ৫ জানুয়ারির একতরফা নির্বাচনের মধ্য দিয়েই কার্যত মুছে
গেছে গণতন্ত্রের সব সংজ্ঞা। শৃঙ্খলিত সেই গণতন্ত্রকে বাধা হচ্ছে আরো
আষ্টেপৃষ্ঠে। ন্যায়বিচারের পথ হয়ে গেছে সঙ্কুচিত। বিচারপতিদের অভিশংসন
ক্ষমতা সংসদে ফিরিয়ে দেয়ায় ভয়ের খড়গ নেমে এসেছে। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা আটকে
গেছে সম্প্রচার নীতিমালার বেড়াজালে। মত প্রকাশের স্বাধীনতা নেই বললেই চলে।
রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার উপর্যুপরি প্রয়োগে বিরোধী দলগুলো কোণঠাসা। বেসরকারি
সংগঠনগুলোর মধ্যে বিরাজ করছে নানা উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। এমন অবস্থায় জনমনে
পরিবর্তন প্রত্যাশা দিন দিন জোরালো হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু ‘ভয়ের শাসনে’ সব যেন
তটস্থ, নিরুপায়। একটি দেশের সংসদ যতটা কার্যকর, সুন্দর ও সুশৃঙ্খল, সেই
দেশের গণতন্ত্রও ততটা কার্যকর নয়। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে আইন পরিষদ বা সংসদ
জনগণের আকাক্সক্ষাকে ধারণ করে নির্মোহভাবে নতুন আইন প্রণয়ন করবে। কিন্তু
বাংলাদেশের আইন পরিষদ প্রশ্নবিদ্ধ। বাংলাদেশে এমন এক নির্বাচনের মাধ্যমে
সংসদ গঠিত হয়েছে যেখানে ১৫৪ জন ভোট না পেয়েই নির্বাচিত হয়েছেন। অভিনব এই
সংসদে বিরোধী দল বলতে কার্যত কিছুই নেই।
এটি ঠিক যে, আমাদের সংবিধান বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচন নিষেধ করেনি। কিন্তু অস্বাভাবিক পরিস্থিতি সৃষ্টি করে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতা সৃষ্টিকেও আমাদের সংবিধান অনুমোদন করেনি। যে দেশে কোনো স্কুলের অভিভাবক সমিতি বা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে একটি আসনে বহু লোক দাঁড়িয়ে যান, সেখানে সংসদ নির্বাচনে ১৫৪টি আসনে কেউ না দাঁড়ানোই একটি চরম অস্বাভাবিক পরিস্থিতির প্রমাণ। ১৯৯০ সালের পর কোনো নির্বাচনে একটি আসনেও এমন ঘটনা ঘটেনি, শুধু ১৯৯৬ সালে ৪৮টি আসনে এটি ঘটেছিল। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনকে তাই অস্বাভাবিক ও অগ্রহণযোগ্য নির্বাচন বলা হয়, একই বিবেচনায় ২০১৪ সালের নির্বাচনও বহুগুণ বেশি অস্বাভাবিক।
এমন একটি অস্বাভাবিক সংসদে নতুন আইন পাস হওয়া নিয়ে খুব স্বাভাবিকভাবেই উত্তপ্ত হতে পারে রাজনীতির মাঠ। আর সেই আইন যদি হয় স্পর্শকাতর ও নানা দিক থেকে তাৎপর্যপূর্র্ণ, তাহলে তো কথাই নেই।
ষোড়শ সংশোধনী, নানামুখী বিতর্ক
সম্প্রতি আইনজ্ঞ ও রাজনৈতিক অঙ্গনের ব্যাপক সমালোচনা সত্ত্বেও সংবিধানে ষোড়শ সংশোধোনী এনে বিচারপতিদের অভিশংসনের ক্ষমতা সংসদের হাতে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে।
আইন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, ১৯৭২ সালের সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদের আলোকে এই সংশোধনী আনা হয়েছে। ১৯৭২ সালের সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদে বিচারপতিদের অভিশংসনের ক্ষমতা সংসদের কাছে ছিল।
নতুন এই সংশোধনীতে বলা হয়েছে
১. এই আইন সংবিধান (ষোড়শ সংশোধন) আইন, ২০১৪ নামে অভিহিত হবে।
২. গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদের পরিবর্তে নি¤œরূপ ৯৬ অনুচ্ছেদ প্রতিস্থাপিত হবে, যথা : ‘৯৬। বিচারকদের পদের মেয়াদ। (১) এই অনুচ্ছেদের বিধানাবলি সাপেক্ষে কোনো বিচারক ৬৭ (সাতষট্টি) বছর বয়স পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত স্বীয় পদে বহাল থাকবেন। (২) প্রমাণিত অসদাচরণ বা অসামর্থ্যরে কারণে সংসদের মোট সদস্যসংখ্যার অন্যূন দুই-তৃতীয়াংশ গরিষ্ঠতার দ্বারা সমর্থিত সংসদের প্রস্তাবক্রমে প্রদত্ত রাষ্ট্রপতির আদেশ ব্যতীত কোনো বিচারককে অপসারণ করা যাবে না।
(৩) এই অনুচ্ছেদের (২) দফার অধীন প্রস্তাব সম্পর্কিত পদ্ধতি এবং কোনো বিচারকের অসদাচরণ বা অসামর্থ্য সম্পর্কে তদন্ত ও প্রমাণের পদ্ধতি সংসদ আইনের দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে।
ষোড়শ সংশোধনীর ফলে মহাহিসাব নিরীক্ষক, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনার, সরকারি কর্মকমিশনের চেয়ারম্যান, সদস্যসহ অন্যান্য সাংবিধানিক পদের ব্যক্তিদের অপসারণের ক্ষমতাও সংসদের কাছে ন্যস্ত করা হয়েছে।
এই সংশোধনী পাস হওয়ার আগে দেশের চার বিশিষ্ট আইনজীবী একটি বিবৃতিতে দিয়েছিলেন। এখানে তা উল্লেখ করা প্রণিধানযোগ্য।
বিশিষ্ট আইনজীবী ড. কামাল হোসেন, আমীর-উল ইসলাম, মাহমুদুল ইসলাম ও রোকনউদ্দিন মাহমুদ ওই বিবৃতিতে বলেছিলেন, বিচারপতিদের অভিশংসনের ক্ষমতা সংসদে ফিরিয়ে আনা হলে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা বিপন্ন হবে। তারা বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সংবিধানের মৌলিক ভিত্তি। সর্বোচ্চ আদালত অষ্টম সংশোধনী নিয়ে দেয়া যুগান্তকারী রায়ে বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর অংশ বলে ঘোষণা দিয়েছিল। কোনো আলোচনা, বিতর্ক বা যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ভারতের অভিজ্ঞতা মূল্যায়ন ছাড়াই হঠাৎ কেন সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাব আনা হলো, তা নিয়ে তারা প্রশ্ন তুলেছেন।
তারা বলেন, ভারতের সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এইচ এম সিরভাই অভিশংসন প্রক্রিয়ার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি তার ‘দ্য পজিশন অব দ্য জুডিশিয়ারি আন্ডার দ্য কনস্টিটিউশন অব ইন্ডিয়া’ বইয়ে লিখেছেন, একজন বিচারপতিকে অপসারণের ক্ষমতা আইনপ্রণেতাদের ওপর ন্যস্ত হলে রাজনৈতিক দল ও রাজ্যের বিষয়টি তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলতে পারে।
এইচ এম সিরভাই তার বইয়ে লিখেছেন, ইংল্যান্ডে ১৮৩০ সালের পর কোনো বিচারপতিকে অপসারণ করা হয়নি। দেশটিতে বিচারপতিদের অভিশংসন প্রক্রিয়া নিয়ে কোনো সমস্যাও সৃষ্টি হয়নি। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে একজন বিচারককে অভিশংসন করার অভিজ্ঞতা সুখকর নয়। একজন বিচারকের আচরণ নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত করার পর্যাপ্ত সময় সিনেট পায় না। এ ধরনের তদন্তের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক ও দলীয় বিবেচনা কাজ করে।
এই চার আইনজীবী বিচারপতিদের অভিশংসনসংক্রান্ত সংবিধান সংশোধনের আগে জাতীয় ঐকমত্যের আহ্বান জানিয়েছিলেন। কিন্তু সেই ঐকমত্য ছাড়াই পাস হয়েছে ষোড়শ সংশোধনী।
একদলীয় শাসনব্যবস্থা পাকাপোক্ত করার অভিলাষ থেকে বিচারপতিদের অভিশংসনের ক্ষমতা সংসদের কাছে ফিরিয়ে নেয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেছে অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক শক্তি বিএনপি। অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোও একই মত ব্যক্ত করেছে। কিন্তু চূড়ান্ত বিচারে কোনো দিকে ভ্রক্ষেপ না করেই পাস করা হয়েছে ষোড়শ সংশোধনী। এর ফলে বিচারকেরা কি স্বাধীনভাবেই কাজ করবেন, না ভয় ভীতিতে থাকবেন, তা আঁচ করা গেলেও অন্তর্নিহিত অবস্থা অদৃশ্যই থেকে যাবে!
সম্প্রচার নীতিমালা, খাঁচায় বন্দী গণমাধ্যম
গত ৬ আগস্ট জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালার গেজেট প্রকাশ করেছে তথ্য মন্ত্রণালয়, যা নিয়ে রীতিমতো তোলপাড় চলছে। গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে টুঁটি চেপে ধরা হয়েছে এই নীতিমালার মাধ্যমে এমন বক্তব্য আসছে প্রতিনিয়ত। সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠন, টেলিভিশন মালিকদের সংগঠন, মানবাধিকার সংগঠনসহ বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠন এ নীতিমালার কঠোর সমালোচনা করে আসছে।
নীতিমালায় সংবাদ ও অনুষ্ঠান সম্প্রচারে বেশ কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। জাতীয় সম্প্রচার কমিশন গঠনের কথা বলা হলেও কবে তা করা হবে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট সময় উল্লেখ নেই। বরং বলা হয়েছে, কমিশন গঠন না হওয়া পর্যন্ত তথ্য মন্ত্রণালয় সম্প্রচার সম্পর্কিত সব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। গণমাধ্যম-সংশ্লিষ্টদের কাছে এটাই সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়।
সম্প্রচার নীতিমালার তৃতীয় অধ্যায়ে সংবাদ ও অনুষ্ঠান প্রকাশের ক্ষেত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘কোনো আলোচনামূলক অনুষ্ঠানে কোনো প্রকার অসঙ্গতিপূর্ণ বিভ্রান্তিমূলক অসত্য তথ্য বা উপাত্ত দেয়া পরিহার করতে হবে। এ ধরনের অনুষ্ঠানে উভয় পক্ষের যুক্তিসমূহ যথাযথভাবে উপস্থাপনের সুযোগ থাকতে হবে।’
নীতিমালায় আছে, কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত গোপনীয়তার ক্ষতি করে এমন কোনো তথ্য প্রচার করা যাবে না। রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বিঘিœত হতে পারে, এমন ধরনের সামরিক, বেসামরিক বা সরকারি তথ্য প্রচার করা যাবে না। সংবাদ ও অনুষ্ঠান সম্প্রচারে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও চেতনা, রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি এবং বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় আদর্শ ও নীতিমালা সমুন্নত রাখতে হবে। জনস্বার্থ বিঘ্নিত হতে পারে এমন কোনো বিদ্রোহ, নৈরাজ্য ও হিংসাত্মক ঘটনা প্রদর্শন করা যাবে না। ধর্মীয় মূল্যবোধ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনায় আঘাত সৃষ্টি করতে পারে, এমন ধরনের অনুষ্ঠান বা বক্তব্যও প্রচার থেকে বিরত থাকতে হবে।
নীতিমালা অনুযায়ী সশস্ত্র বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত কোনো বাহিনীর প্রতি কটাক্ষ বা অবমাননাকর দৃশ্য বা বক্তব্য প্রচার করা যাবে না। অপরাধীদের দণ্ড দিতে পারেন, এমন সরকারি কর্মকর্তাদের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করার মতোও দৃশ্য বা বক্তব্য প্রচার করা যাবে না।
নীতিমালায় আরো উল্লেখ করা হয়েছে, ‘অনুষ্ঠানে সরাসরি বা বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে কোনো রাজনৈতিক দলের বক্তব্য বা মতামত প্রচার করা যাবে না।’
গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বরা বলেছেন, এই নীতিমালায় এমন কিছু ধারা রয়েছে, যার মাধ্যমে আইনের অপপ্রয়োগ হতে পারে। এর ফলে গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের আশঙ্কাও করছেন তারা। আইনজ্ঞ শাহদীন মালিকের মতে, এ ধরনের ধারার ফলে আইনের অপপ্রয়োগ হতে পারে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রাজনৈতিক দলগুলো টিভি চ্যানেল, সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রচারকাজ চালিয়ে থাকে। সরাসরি রাজনৈতিক দলের বক্তব্য প্রচার করা না গেলে দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলের সভা-সমাবেশও প্রচার করা যাবে না এমন কথাও উঠে আসছে।
জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা তথ্য অধিকার আইন, সংবিধান, মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সাথে সাংঘর্ষিক বলে মনে করছে দুর্নীতিবিরোধী আন্তর্জাতিক সংগঠন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল, বাংলাদেশ (টিআইবি) বলছে এ নীতি একুশ শতকের উপযোগী নয়। তাই নিবর্তনমূলক এ নীতি গ্রহণযোগ্য নয়।
টিআইবি সম্প্রচার কমিশনকে প্রশাসনিক, রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক প্রভাব থেকে মুক্ত রাখতে প্রশাসনের বা সরকারের অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের সদস্য, রাজনৈতিক দলের কর্মকর্তা বা কর্মচারী, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা যার অবসর গ্রহণের পর কমপক্ষে তিন বছর পার হয়নি, এমন ব্যক্তি যার স্বার্থের দ্বন্দ্বের সুযোগ রয়েছে; তাদের কমিশনের সদস্য না করার পরামর্শ দিয়েছে। পাশাপাশি নিয়োগ প্রক্রিয়ার সাথে অপসারণের বিধান রাখার কথা বলেছে সংগঠনটি।
টিআইবির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে ছয়টি সুপারিশ তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে দ্রুত স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও কার্যকর সম্প্রচার কমিশন গঠন, সম্প্রচারসংক্রান্ত আইন প্রণয়নে অংশীজনদের পরামর্শ নেয়া; কমিশন গঠনের জন্য সার্চ কমিটি গঠনে রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের সুযোগ বন্ধ করা, সম্প্রচার মাধ্যমের লাইসেন্স দেয়ার বিষয়টি রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখতে এসংক্রান্ত নীতিমালার বিষয়গুলোকে পুনর্বিবেচনা; সম্প্রচার খাতের সাথে সংযুক্ত নেতৃত্ব এবং কর্মীদের স্বনিয়ন্ত্রণব্যবস্থা উদ্ভাবনে নিজস্ব অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে একটি আচরণবিধি প্রণয়ন করে এর তদারকির ভার সম্প্রচার খাতের পেশাজীবী সংগঠনের ওপর দেয়া এবং বিজ্ঞাপন নীতিমালাকে সম্প্রচার নীতিমালা থেকে আলাদা করা।
বিএনপি মনে করে, এ নীতিমালার মাধ্যমে গণমাধ্যমকে সরকারি খাঁচায় বন্দী করার ফিকির হচ্ছে। আর সাংবাদিক সংগঠন বিএফইউজে ও ডিইউজের নেতারা বলেছেন, এ সম্প্রচার নীতিমালা সংবাদপত্র ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হরণ করবে।
জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিস কেন্দ্র (আসক) বলেছে, এই নীতিমালা দিয়ে সম্প্রচারমাধ্যমের স্বাধীনতা সঙ্কুচিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বলেছে, জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা দেশকে স্বৈরশাসন ও সহিংসতার দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।
চতুর্মুখী এরকম আপত্তি সত্ত্বেও সম্প্রচার নীতিমালার আইনি রূপ দিয়ে তা বাস্তবায়নে সরকার বদ্ধপরিকর।
এনজিও খাতে বিধিনিষেধ
‘বৈদেশিক অনুদান (স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম) রেগুলেশন আইন-২০১৪’ নিয়ে বেসরকারি সংগঠনগুলোর (এনজিও) মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া। ১৫টি বেসরকারি সংগঠন বলছে, এই আইন এনজিও খাতের বিকাশের ক্ষেত্রে ঝুঁকির সৃষ্টি করেছে। আইনটি চূড়ান্ত করার আগে এ নিয়ে আরো আলোচনা করা দরকার।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি), আইন ও সালিস কেন্দ্র, গণসাক্ষরতা অভিযান, নিজেরা করি, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন, ব্লাস্ট, বেলা, এফএনবি, অ্যাডাব, এএলআরডি, প্রিপ ট্রাস্ট, বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘ, অ্যাকশন এইড, কনসার্ন ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ও ওয়াটার এইড মনে করে, প্রস্তাবিত আইনের ৩ (২) ধারা বলবৎ থাকলে দেশে ব্যক্তিপর্যায়ের দাতব্য ও স্বেচ্ছাসেবা কার্যক্রম ব্যাহত হবে। প্রবাসীরা সেবামূলক কার্যক্রমে অবদান রাখতে নিরুৎসাহিত হবেন এবং হুন্ডি প্রথা ও কর ফাঁকির প্রবণতা বাড়বে। অন্য দিকে বেশ কিছু পেশার ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের জন্য বৈদেশিক অনুদান গ্রহণ নিষিদ্ধ করার প্রস্তাবিত ধারা প্রাসঙ্গিক নয়।
তাদের মতে, এনজিওবিষয়ক ব্যুরোর হাতে যেভাবে নিবন্ধন বাতিল করে এনজিও বিলুপ্ত করা ও প্রশাসক নিয়োগের ক্ষমতা দেয়া হয়েছে, তা যৌক্তিক হবে না।
মূলত সরকার সর্বত্র ‘নিয়ন্ত্রণমূলক’ একটি অবস্থা জারি করতে চাচ্ছে বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে। এর মাধ্যমে সরকার আসলে কোন উদ্দেশ্য হাসিল করতে চায় তাও অত্যন্ত পরিষ্কার। চরম কৃর্তত্ববাদী খেয়াল থেকেই এসব আইনকানুন আরোপিত হচ্ছে। জনগণের চাওয়া না চাওয়ার কোনো পরোয়া নেই এখানে। বিতর্ক, গঠনমূলক সমালোচনায়ও রুষ্ট হয় সরকার।
৫ জানুয়ারি নির্বাচনের পর সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকাকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব মনে করছে। আর এসব হচ্ছে এক ধরনের অহংবোধ থেকে। সরকারের ভেতরে ঘাপটি মেরে থাকা কিছু সুনির্দিষ্ট ব্যক্তিরাও সরকারকে বিপথে চালিত করছে। আর এর ফলে সঠিক ও যৌক্তিক সিদ্ধান্তের বদলে সরকার হাঁটছে একরোখা হয়ে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করেন, সরকার সময়ের ভাষ্য শুনতে ব্যর্থ হলে আগামী দিনে তাদের পথ আরো অমসৃণ হবে, পথ হারানো সরকারের ক্ষমতার পালাবদল হয়ে উঠতে পারে রক্তাক্ত পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে।
এটি ঠিক যে, আমাদের সংবিধান বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচন নিষেধ করেনি। কিন্তু অস্বাভাবিক পরিস্থিতি সৃষ্টি করে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতা সৃষ্টিকেও আমাদের সংবিধান অনুমোদন করেনি। যে দেশে কোনো স্কুলের অভিভাবক সমিতি বা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে একটি আসনে বহু লোক দাঁড়িয়ে যান, সেখানে সংসদ নির্বাচনে ১৫৪টি আসনে কেউ না দাঁড়ানোই একটি চরম অস্বাভাবিক পরিস্থিতির প্রমাণ। ১৯৯০ সালের পর কোনো নির্বাচনে একটি আসনেও এমন ঘটনা ঘটেনি, শুধু ১৯৯৬ সালে ৪৮টি আসনে এটি ঘটেছিল। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনকে তাই অস্বাভাবিক ও অগ্রহণযোগ্য নির্বাচন বলা হয়, একই বিবেচনায় ২০১৪ সালের নির্বাচনও বহুগুণ বেশি অস্বাভাবিক।
এমন একটি অস্বাভাবিক সংসদে নতুন আইন পাস হওয়া নিয়ে খুব স্বাভাবিকভাবেই উত্তপ্ত হতে পারে রাজনীতির মাঠ। আর সেই আইন যদি হয় স্পর্শকাতর ও নানা দিক থেকে তাৎপর্যপূর্র্ণ, তাহলে তো কথাই নেই।
ষোড়শ সংশোধনী, নানামুখী বিতর্ক
সম্প্রতি আইনজ্ঞ ও রাজনৈতিক অঙ্গনের ব্যাপক সমালোচনা সত্ত্বেও সংবিধানে ষোড়শ সংশোধোনী এনে বিচারপতিদের অভিশংসনের ক্ষমতা সংসদের হাতে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে।
আইন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, ১৯৭২ সালের সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদের আলোকে এই সংশোধনী আনা হয়েছে। ১৯৭২ সালের সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদে বিচারপতিদের অভিশংসনের ক্ষমতা সংসদের কাছে ছিল।
নতুন এই সংশোধনীতে বলা হয়েছে
১. এই আইন সংবিধান (ষোড়শ সংশোধন) আইন, ২০১৪ নামে অভিহিত হবে।
২. গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদের পরিবর্তে নি¤œরূপ ৯৬ অনুচ্ছেদ প্রতিস্থাপিত হবে, যথা : ‘৯৬। বিচারকদের পদের মেয়াদ। (১) এই অনুচ্ছেদের বিধানাবলি সাপেক্ষে কোনো বিচারক ৬৭ (সাতষট্টি) বছর বয়স পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত স্বীয় পদে বহাল থাকবেন। (২) প্রমাণিত অসদাচরণ বা অসামর্থ্যরে কারণে সংসদের মোট সদস্যসংখ্যার অন্যূন দুই-তৃতীয়াংশ গরিষ্ঠতার দ্বারা সমর্থিত সংসদের প্রস্তাবক্রমে প্রদত্ত রাষ্ট্রপতির আদেশ ব্যতীত কোনো বিচারককে অপসারণ করা যাবে না।
(৩) এই অনুচ্ছেদের (২) দফার অধীন প্রস্তাব সম্পর্কিত পদ্ধতি এবং কোনো বিচারকের অসদাচরণ বা অসামর্থ্য সম্পর্কে তদন্ত ও প্রমাণের পদ্ধতি সংসদ আইনের দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে।
ষোড়শ সংশোধনীর ফলে মহাহিসাব নিরীক্ষক, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনার, সরকারি কর্মকমিশনের চেয়ারম্যান, সদস্যসহ অন্যান্য সাংবিধানিক পদের ব্যক্তিদের অপসারণের ক্ষমতাও সংসদের কাছে ন্যস্ত করা হয়েছে।
এই সংশোধনী পাস হওয়ার আগে দেশের চার বিশিষ্ট আইনজীবী একটি বিবৃতিতে দিয়েছিলেন। এখানে তা উল্লেখ করা প্রণিধানযোগ্য।
বিশিষ্ট আইনজীবী ড. কামাল হোসেন, আমীর-উল ইসলাম, মাহমুদুল ইসলাম ও রোকনউদ্দিন মাহমুদ ওই বিবৃতিতে বলেছিলেন, বিচারপতিদের অভিশংসনের ক্ষমতা সংসদে ফিরিয়ে আনা হলে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা বিপন্ন হবে। তারা বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সংবিধানের মৌলিক ভিত্তি। সর্বোচ্চ আদালত অষ্টম সংশোধনী নিয়ে দেয়া যুগান্তকারী রায়ে বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর অংশ বলে ঘোষণা দিয়েছিল। কোনো আলোচনা, বিতর্ক বা যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ভারতের অভিজ্ঞতা মূল্যায়ন ছাড়াই হঠাৎ কেন সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাব আনা হলো, তা নিয়ে তারা প্রশ্ন তুলেছেন।
তারা বলেন, ভারতের সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এইচ এম সিরভাই অভিশংসন প্রক্রিয়ার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি তার ‘দ্য পজিশন অব দ্য জুডিশিয়ারি আন্ডার দ্য কনস্টিটিউশন অব ইন্ডিয়া’ বইয়ে লিখেছেন, একজন বিচারপতিকে অপসারণের ক্ষমতা আইনপ্রণেতাদের ওপর ন্যস্ত হলে রাজনৈতিক দল ও রাজ্যের বিষয়টি তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলতে পারে।
এইচ এম সিরভাই তার বইয়ে লিখেছেন, ইংল্যান্ডে ১৮৩০ সালের পর কোনো বিচারপতিকে অপসারণ করা হয়নি। দেশটিতে বিচারপতিদের অভিশংসন প্রক্রিয়া নিয়ে কোনো সমস্যাও সৃষ্টি হয়নি। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে একজন বিচারককে অভিশংসন করার অভিজ্ঞতা সুখকর নয়। একজন বিচারকের আচরণ নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত করার পর্যাপ্ত সময় সিনেট পায় না। এ ধরনের তদন্তের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক ও দলীয় বিবেচনা কাজ করে।
এই চার আইনজীবী বিচারপতিদের অভিশংসনসংক্রান্ত সংবিধান সংশোধনের আগে জাতীয় ঐকমত্যের আহ্বান জানিয়েছিলেন। কিন্তু সেই ঐকমত্য ছাড়াই পাস হয়েছে ষোড়শ সংশোধনী।
একদলীয় শাসনব্যবস্থা পাকাপোক্ত করার অভিলাষ থেকে বিচারপতিদের অভিশংসনের ক্ষমতা সংসদের কাছে ফিরিয়ে নেয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেছে অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক শক্তি বিএনপি। অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোও একই মত ব্যক্ত করেছে। কিন্তু চূড়ান্ত বিচারে কোনো দিকে ভ্রক্ষেপ না করেই পাস করা হয়েছে ষোড়শ সংশোধনী। এর ফলে বিচারকেরা কি স্বাধীনভাবেই কাজ করবেন, না ভয় ভীতিতে থাকবেন, তা আঁচ করা গেলেও অন্তর্নিহিত অবস্থা অদৃশ্যই থেকে যাবে!
সম্প্রচার নীতিমালা, খাঁচায় বন্দী গণমাধ্যম
গত ৬ আগস্ট জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালার গেজেট প্রকাশ করেছে তথ্য মন্ত্রণালয়, যা নিয়ে রীতিমতো তোলপাড় চলছে। গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে টুঁটি চেপে ধরা হয়েছে এই নীতিমালার মাধ্যমে এমন বক্তব্য আসছে প্রতিনিয়ত। সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠন, টেলিভিশন মালিকদের সংগঠন, মানবাধিকার সংগঠনসহ বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠন এ নীতিমালার কঠোর সমালোচনা করে আসছে।
নীতিমালায় সংবাদ ও অনুষ্ঠান সম্প্রচারে বেশ কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। জাতীয় সম্প্রচার কমিশন গঠনের কথা বলা হলেও কবে তা করা হবে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট সময় উল্লেখ নেই। বরং বলা হয়েছে, কমিশন গঠন না হওয়া পর্যন্ত তথ্য মন্ত্রণালয় সম্প্রচার সম্পর্কিত সব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। গণমাধ্যম-সংশ্লিষ্টদের কাছে এটাই সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়।
সম্প্রচার নীতিমালার তৃতীয় অধ্যায়ে সংবাদ ও অনুষ্ঠান প্রকাশের ক্ষেত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘কোনো আলোচনামূলক অনুষ্ঠানে কোনো প্রকার অসঙ্গতিপূর্ণ বিভ্রান্তিমূলক অসত্য তথ্য বা উপাত্ত দেয়া পরিহার করতে হবে। এ ধরনের অনুষ্ঠানে উভয় পক্ষের যুক্তিসমূহ যথাযথভাবে উপস্থাপনের সুযোগ থাকতে হবে।’
নীতিমালায় আছে, কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত গোপনীয়তার ক্ষতি করে এমন কোনো তথ্য প্রচার করা যাবে না। রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বিঘিœত হতে পারে, এমন ধরনের সামরিক, বেসামরিক বা সরকারি তথ্য প্রচার করা যাবে না। সংবাদ ও অনুষ্ঠান সম্প্রচারে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও চেতনা, রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি এবং বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় আদর্শ ও নীতিমালা সমুন্নত রাখতে হবে। জনস্বার্থ বিঘ্নিত হতে পারে এমন কোনো বিদ্রোহ, নৈরাজ্য ও হিংসাত্মক ঘটনা প্রদর্শন করা যাবে না। ধর্মীয় মূল্যবোধ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনায় আঘাত সৃষ্টি করতে পারে, এমন ধরনের অনুষ্ঠান বা বক্তব্যও প্রচার থেকে বিরত থাকতে হবে।
নীতিমালা অনুযায়ী সশস্ত্র বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত কোনো বাহিনীর প্রতি কটাক্ষ বা অবমাননাকর দৃশ্য বা বক্তব্য প্রচার করা যাবে না। অপরাধীদের দণ্ড দিতে পারেন, এমন সরকারি কর্মকর্তাদের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করার মতোও দৃশ্য বা বক্তব্য প্রচার করা যাবে না।
নীতিমালায় আরো উল্লেখ করা হয়েছে, ‘অনুষ্ঠানে সরাসরি বা বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে কোনো রাজনৈতিক দলের বক্তব্য বা মতামত প্রচার করা যাবে না।’
গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বরা বলেছেন, এই নীতিমালায় এমন কিছু ধারা রয়েছে, যার মাধ্যমে আইনের অপপ্রয়োগ হতে পারে। এর ফলে গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের আশঙ্কাও করছেন তারা। আইনজ্ঞ শাহদীন মালিকের মতে, এ ধরনের ধারার ফলে আইনের অপপ্রয়োগ হতে পারে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রাজনৈতিক দলগুলো টিভি চ্যানেল, সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রচারকাজ চালিয়ে থাকে। সরাসরি রাজনৈতিক দলের বক্তব্য প্রচার করা না গেলে দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলের সভা-সমাবেশও প্রচার করা যাবে না এমন কথাও উঠে আসছে।
জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা তথ্য অধিকার আইন, সংবিধান, মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সাথে সাংঘর্ষিক বলে মনে করছে দুর্নীতিবিরোধী আন্তর্জাতিক সংগঠন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল, বাংলাদেশ (টিআইবি) বলছে এ নীতি একুশ শতকের উপযোগী নয়। তাই নিবর্তনমূলক এ নীতি গ্রহণযোগ্য নয়।
টিআইবি সম্প্রচার কমিশনকে প্রশাসনিক, রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক প্রভাব থেকে মুক্ত রাখতে প্রশাসনের বা সরকারের অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের সদস্য, রাজনৈতিক দলের কর্মকর্তা বা কর্মচারী, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা যার অবসর গ্রহণের পর কমপক্ষে তিন বছর পার হয়নি, এমন ব্যক্তি যার স্বার্থের দ্বন্দ্বের সুযোগ রয়েছে; তাদের কমিশনের সদস্য না করার পরামর্শ দিয়েছে। পাশাপাশি নিয়োগ প্রক্রিয়ার সাথে অপসারণের বিধান রাখার কথা বলেছে সংগঠনটি।
টিআইবির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে ছয়টি সুপারিশ তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে দ্রুত স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও কার্যকর সম্প্রচার কমিশন গঠন, সম্প্রচারসংক্রান্ত আইন প্রণয়নে অংশীজনদের পরামর্শ নেয়া; কমিশন গঠনের জন্য সার্চ কমিটি গঠনে রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের সুযোগ বন্ধ করা, সম্প্রচার মাধ্যমের লাইসেন্স দেয়ার বিষয়টি রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখতে এসংক্রান্ত নীতিমালার বিষয়গুলোকে পুনর্বিবেচনা; সম্প্রচার খাতের সাথে সংযুক্ত নেতৃত্ব এবং কর্মীদের স্বনিয়ন্ত্রণব্যবস্থা উদ্ভাবনে নিজস্ব অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে একটি আচরণবিধি প্রণয়ন করে এর তদারকির ভার সম্প্রচার খাতের পেশাজীবী সংগঠনের ওপর দেয়া এবং বিজ্ঞাপন নীতিমালাকে সম্প্রচার নীতিমালা থেকে আলাদা করা।
বিএনপি মনে করে, এ নীতিমালার মাধ্যমে গণমাধ্যমকে সরকারি খাঁচায় বন্দী করার ফিকির হচ্ছে। আর সাংবাদিক সংগঠন বিএফইউজে ও ডিইউজের নেতারা বলেছেন, এ সম্প্রচার নীতিমালা সংবাদপত্র ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হরণ করবে।
জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিস কেন্দ্র (আসক) বলেছে, এই নীতিমালা দিয়ে সম্প্রচারমাধ্যমের স্বাধীনতা সঙ্কুচিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বলেছে, জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা দেশকে স্বৈরশাসন ও সহিংসতার দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।
চতুর্মুখী এরকম আপত্তি সত্ত্বেও সম্প্রচার নীতিমালার আইনি রূপ দিয়ে তা বাস্তবায়নে সরকার বদ্ধপরিকর।
এনজিও খাতে বিধিনিষেধ
‘বৈদেশিক অনুদান (স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম) রেগুলেশন আইন-২০১৪’ নিয়ে বেসরকারি সংগঠনগুলোর (এনজিও) মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া। ১৫টি বেসরকারি সংগঠন বলছে, এই আইন এনজিও খাতের বিকাশের ক্ষেত্রে ঝুঁকির সৃষ্টি করেছে। আইনটি চূড়ান্ত করার আগে এ নিয়ে আরো আলোচনা করা দরকার।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি), আইন ও সালিস কেন্দ্র, গণসাক্ষরতা অভিযান, নিজেরা করি, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন, ব্লাস্ট, বেলা, এফএনবি, অ্যাডাব, এএলআরডি, প্রিপ ট্রাস্ট, বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘ, অ্যাকশন এইড, কনসার্ন ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ও ওয়াটার এইড মনে করে, প্রস্তাবিত আইনের ৩ (২) ধারা বলবৎ থাকলে দেশে ব্যক্তিপর্যায়ের দাতব্য ও স্বেচ্ছাসেবা কার্যক্রম ব্যাহত হবে। প্রবাসীরা সেবামূলক কার্যক্রমে অবদান রাখতে নিরুৎসাহিত হবেন এবং হুন্ডি প্রথা ও কর ফাঁকির প্রবণতা বাড়বে। অন্য দিকে বেশ কিছু পেশার ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের জন্য বৈদেশিক অনুদান গ্রহণ নিষিদ্ধ করার প্রস্তাবিত ধারা প্রাসঙ্গিক নয়।
তাদের মতে, এনজিওবিষয়ক ব্যুরোর হাতে যেভাবে নিবন্ধন বাতিল করে এনজিও বিলুপ্ত করা ও প্রশাসক নিয়োগের ক্ষমতা দেয়া হয়েছে, তা যৌক্তিক হবে না।
মূলত সরকার সর্বত্র ‘নিয়ন্ত্রণমূলক’ একটি অবস্থা জারি করতে চাচ্ছে বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে। এর মাধ্যমে সরকার আসলে কোন উদ্দেশ্য হাসিল করতে চায় তাও অত্যন্ত পরিষ্কার। চরম কৃর্তত্ববাদী খেয়াল থেকেই এসব আইনকানুন আরোপিত হচ্ছে। জনগণের চাওয়া না চাওয়ার কোনো পরোয়া নেই এখানে। বিতর্ক, গঠনমূলক সমালোচনায়ও রুষ্ট হয় সরকার।
৫ জানুয়ারি নির্বাচনের পর সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকাকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব মনে করছে। আর এসব হচ্ছে এক ধরনের অহংবোধ থেকে। সরকারের ভেতরে ঘাপটি মেরে থাকা কিছু সুনির্দিষ্ট ব্যক্তিরাও সরকারকে বিপথে চালিত করছে। আর এর ফলে সঠিক ও যৌক্তিক সিদ্ধান্তের বদলে সরকার হাঁটছে একরোখা হয়ে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করেন, সরকার সময়ের ভাষ্য শুনতে ব্যর্থ হলে আগামী দিনে তাদের পথ আরো অমসৃণ হবে, পথ হারানো সরকারের ক্ষমতার পালাবদল হয়ে উঠতে পারে রক্তাক্ত পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে।
কুরআনে মহান স্রষ্টাই আমাদের উদ্দেশে কথা বলছেন by প্রফেসর ওয়াল্টার ওয়াগনার
[অনেক
বছর ধরে কুরআন শরিফ সতর্কতার সাথে অধ্যয়ন করে নেতৃস্থানীয় আমেরিকান গবেষক
প্রফেসর ওয়াগনার এই উপসংহারে উপনীত হয়েছেন যে, এই পবিত্র গ্রন্থের মাধ্যমে
আল্লাহ তায়ালা বিশ্বের সব মানুষের উদ্দেশে বক্তব্য দিচ্ছেন। এই বক্তব্যই
ওয়াগনার পাঠক, শিক্ষার্থী এমনকি নিজেকেও জানাতে চেয়েছেন গভীরতর উপলব্ধির
জন্য। তার লেখা ওপেনিং দি কুরআন (কুরআনকে উন্মুক্ত করা) একটি বিস্ময়কর বই,
যা মুসলিম-অমুসলিম এবং বিভিন্ন ভাষাভাষী নির্বিশেষে সবাইকে প্রেরণা জোগাবে।
বইটিতে অনন্যভঙ্গিতে ধাপে ধাপে আল কুরআনের সামগ্রিক পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে।
তিনি আংকারা থেকে প্রকাশিত সানডে’জ জামান পত্রিকার সাথে সাক্ষাৎকারে
কুরআনের সাথে তার পরিচয় সম্পর্কে বিশদ বলেছেন।]
প্রশ্ন : প্রথমে আপনি খ্রিষ্টধর্মের আদিযুগের ওপর কাজ করছিলেন। তাই জানতে ইচ্ছা করে, আল কুরআন সম্পর্কে বই লেখার প্রেরণা পেলেন কিভাবে?
উত্তর : বিশ বছরেরও বেশি দিন ধরে শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা থেকে এটি লিখেছি। আমি মনে করি, মাত্র কুরআন বুঝতে শুরু করেছি। তবে প্রকৃতপক্ষে ইহুদিধর্ম, খ্রিষ্টধর্ম ও ইসলামের মধ্যে শুধু ধর্মতত্ত্ব ও সংস্কৃতি নয়, ইতিহাসের দিক দিয়েও সম্পর্ক রয়েছে।
অতীতে কোনো কোনো সময়ে আমরা একে অন্যের মাথায় মাথা লাগিয়ে ধাক্কা মেরেছি, অন্যান্য সময়ে সশস্ত্র সঙ্ঘাতে হয়েছি লিপ্ত। তবে আমরা একই স্রষ্টার উপাসনা করি। অভিজ্ঞতা থেকে বলব, এই উপাসনার জন্য অন্যের ধর্মকে বোঝার পথ খোলা রাখা চাই।
আমি খুবই সৌভাগ্যবান যে, মুসলিম নারী-পুরুষ সম্পর্কে অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পেরেছি! বিশেষ করে তুর্কি সম্প্রদায়কে জেনেছি গত সাত বছর। পূর্বোক্ত বইটি লেখার একটা বড় উদ্দেশ্য ছিল, পরস্পরকে বোঝা যখন জরুরি, তখন প্রথমে নিজেকে বিষয়টি বুঝানো এবং এরপর অন্যদেরকে বুঝিয়ে বলা।
প্রশ্ন : আপনি যখন কুরআন শরিফ পড়ছিলেন, তখন কার কণ্ঠের কথা আপনার মনে পড়েছিল? কথা বলছিলেন কে?
উত্তর : আমি বিশ্বাস করি, কুরআন প্রত্যাদেশমূলক গ্রন্থ। বিধাতা অনেক ব্যক্তি, অনেক নবী-রাসূল, বার্তাবাহকের মাধ্যমে প্রত্যাদেশ দিয়েছেন। কুরআনে আমাদের উদ্দেশে কথা বলে মহান স্রষ্টারই কণ্ঠ। এটি শান্তি ও সুবিচারের কণ্ঠ। এই কণ্ঠ সে সব মানুষের কথা বলে যারা শান্তিতে একত্রে থাকা দরকার মনে করে আর প্রয়োজন বোধ করে বিশ্বের অন্য সবার জন্য এক হয়ে কাজ করার। আমি সেই কণ্ঠ শুনেছি। সেই কণ্ঠ পাঠক ও শিক্ষার্থীদের এবং আমার উপলব্ধি গভীর করার জন্য নিজেকেও শোনাতে চেষ্টা করেছি।
প্রশ্ন : আপনি আরবি পড়তে পারেন কি না নিশ্চিত নই। সম্ভবত অনুবাদের ওপর জোর দিয়েছেন। কিভাবে কাজ করেছেন, অধ্যয়ন করলেন?
উত্তর : অমুসলিম হিসেবে কুরআন প্রথম কয়েক দফা পড়াটা সম্ভবত বিস্ময়কর অভিজ্ঞতা। আমরা যারা বাইবেলের ঐতিহ্য থেকে এসেছি, তাদের প্রত্যাশা হলো কুরআনেও বাইবেলের জেনেসিস, এক্সোডাস কিংবা গসপেল অব মার্কের মতো বিভিন্ন অধ্যায়ের দেখা পাবো। হ্যাঁ, কুরআনেও বিভিন্ন অংশে ভাগ করা আছে। সবগুলো মিলে একটি পূর্ণরূপ পেয়েছে। কুরআন বারবার পড়তে হয়। এ বিষয়ে চিন্তা করতে হয় বারবার আর বোঝার জন্য মাথা চুলকাতে হয় বহুবার। তবে আমি মনে করি, প্রথম পদক্ষেপ হলো, উৎসাহ না হারানো। পয়লা পরামর্শ দেবো, কুরআনকে পেছন থেকে শুরু করে সামনের দিকে পড়–ন নবীকে বোঝার জন্য। তাঁর প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক। কুরআনের সাথে অন্যরা কী বলেছেন, তা-ও পড়তে হয়।
প্রশ্ন : বাইবেলীয় ঐতিহ্য ও কুরআনের মিলগুলো কী কী, আর গরমিলই বা কী, আমাদের বলুন।
উত্তর : মৌলিক পার্থক্য হলো, বাইবেল ও কুরআনের পরস্পর থেকে ভিন্ন প্রকৃতি। অবশ্য বাইবেল ও কুরআনে অভিন্ন ত্রিশজন সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে। একটি বিষয় হলো (মুসলিম শিক্ষার্থীরাও যার সাক্ষ্য দেবে), উভয় গ্রন্থে কোনো কোনো সময়ে আমরা একই ভাষা ও শব্দ পাই। তবে মূলনীতি ও ধারণা পরস্পর পৃথক।
মুসলমানরা বিশ্বাস করে, কুরআনের প্রতিটি শব্দ, প্রত্যেক বর্ণ আল্লাহ-প্রদত্ত। বাইবেল সম্পর্কে খ্রিষ্টানরা এটা মনে করে না। নির্দিষ্ট কোনো ভাষার প্রতি খ্রিষ্টানদের বিশেষ আকর্ষণ বা শ্রদ্ধা নেই। আমরা বাইবেলের অনুবাদ পড়তেই স্বচ্ছন্দ বোধ করি। এর পাণ্ডুলিপির বিভিন্নতা এবং একই কাহিনীর নানারকম বয়ান দেখেও আমি অস্বস্তি বোধ করি না। মুসলিম ছাত্রছাত্রী জিজ্ঞেস করতে পারে, ‘আসল ঘটনা কী?’ খ্রিষ্টান হিসেবে আমার কাছে এটা সমস্যা নয়। তবে শিক্ষক হিসেবে মুসলমানদের কাছে এর ব্যাখ্যা দেয়া এবং মুসলিম ছাত্রছাত্রীদের দৃষ্টিভঙ্গি জানার ক্ষেত্রে অবশ্যই আমাকে সতর্ক থাকতে হবে।
আমরা খ্রিষ্টান ও মুসলিমরা অভিন্ন অনেক নবীর ওপর বিশ্বাস রাখি। তবুও তাদের সম্পর্কে আমাদের প্রত্যাশা পৃথক। আমাদের উভয়ের একই বিশ্বাস যা, তা হলো একজন মহান সৃষ্টিকর্তা আছেন যিনি তাঁর প্রতি বাধ্য থাকতে বলেন। তিনি বিশ্বাসীদের একটি সমাজ নির্মাণ করতে বলেন, যারা তাঁর ইচ্ছা পূরণ ও উপাসনার জন্য উৎসর্গিত। অবশ্য, বার্তাবাহক ও নবী বলতে কী বুঝায়, সে ব্যাপারে খ্রিষ্টান ও মুসলমানদের মাঝে বড় পার্থক্য আছে। ইসলামের বিধান অনুযায়ী, একজন নবী শুধু ঐশী প্রত্যাদেশপ্রাপ্তই নন, তাঁকে পরিপূর্ণও হতে হবে। তাই বাইবেল পড়ে মুসলমানরা কারো কারো ব্যভিচার ও খুন করা নিয়ে প্রশ্ন তুলবে। কারণ এগুলো ঘৃণ্য অপরাধ। তাদের প্রশ্ন, ‘যারা এমন পাপী, তোমরা তার অনুসরণ কিভাবে করতে পারো?’
প্রশ্ন : খ্রিষ্টান ও মুসলমানদের পবিত্র গ্রন্থে ঈসা আ:, মুহাম্মদ সা: এবং অন্যদের কিভাবে চিত্রিত করা হয়েছে? তাঁদের মিল-অমিল কী কী?
উত্তর : আমার মুসলিম ছাত্রছাত্রীরা সব সময়ই তাদের খ্রিষ্টান সহপাঠীদের অবাক করে দেয়, যখন তারা জানায়, ‘ভালো মুসলিম হতে হলে ঈসা আ:-এর ওপরও ঈমান আনতে হবে।’ তিনি কুমারী মাতার গর্ভে জন্ম নিয়েছিলেন। অলৌকিক কাজকর্ম করেছেন; তিনি ক্ষুধার্তকে খাইয়েছেন, রুগ্ণকে করেছেন সুস্থ, মৃতকে করেছিলেন পুনর্জীবিত। তাঁকে মসিহ বলা হয়। পৃথিবীর শেষ যুগে তিনি আসবেন আবার। তিনি ছিলেন শিক্ষক; তাঁর ছিল শিষ্য। তিনি মানুষকে আহ্বান করেছেন আল্লাহর পথ অনুসরণের দিকে। কুরআনে ঈসা আ:-কে এভাবে তুলে ধরার সাথে বাইবেলের মিল রয়েছে। অবশ্য খ্রিষ্টধর্ম ও ইসলামের মূল পার্থক্য হলো, ঈসা আ:-কে ক্রুশে বিদ্ধ করা এবং তাঁর পুনরুত্থান প্রসঙ্গ।
মূসা আ:-সহ অন্য নবীদের কয়েকজন প্রসঙ্গে কুরআনে যা বলা হয়েছে, তার সাথে মিল আছে ইহুদিদের বিশ্বাসে। অর্থাৎ এই দুইয়ের মাঝে সঙ্ঘাত নয়, সম্পর্ক বিদ্যমান। আর আমি সহজ কথায় যা বুঝি, তা হচ্ছে মূসা আ: এলেন এবং সরকারকাঠামো প্রতিষ্ঠা করলেন। অপর দিকে ঈসা আ: এসে মানুষকে আধ্যাত্মিক জীবনের সন্ধান দিয়েছেন কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি ছাড়াই। খ্রিষ্টানরা পরবর্তীকালে এটা যোগ করেছে। নবী মুহম্মদ সা: এলেন। তিনি এমন একজন, যাঁর ‘পার্থিব’ ও ‘আধ্যাত্মিক’ দু’টি দিকই আছে। তিনি উভয়কে একত্র করেছেন। স্রষ্টা বিশ্বকে ভালোবাসেন এবং এর পরিচর্যা করেন। অতএব আপনাদেরকেও অবশ্যই এ কাজ করতে হবে। একই বিধাতা নবীদেরকে পাঠিয়েছেন।
প্রশ্ন : কুরআন অধ্যয়ন করে কিভাবে প্রভাবিত হয়েছেন? এটা কি আপনার জীবনে কোনোভাবে পরিবর্তন এনেছে?
উত্তর : এর মাধ্যমে যে ক’টি খুব গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব পড়েছে, তার একটি হলো আমি নামাজের ভিত্তিতে ইসলাম ও কুরআন বুঝতে পেরেছি। নামাজের খুবই পবিত্র একটা অনুভূতি আছে এবং নামাজের মধ্য দিয়ে একটি জীবন গড়ে তোলা যায়। ইসলাম সম্পর্কে যৎকিঞ্চিৎ বুঝেছি। এতে ধারণা হয়েছে, এই ধর্মের ভিত্তি হলো সৃষ্টিতত্ত্ব। আমার ওপর এ বিষয়টির প্রচণ্ড প্রভাব পড়েছে নৈতিকভাবে।
লেখক : মার্কিন ধর্মতত্ত্ববিদ; ‘যিশুর শিষ্যদের যুগের পরে দ্বিতীয় শতাব্দীতে খ্রিষ্টধর্ম’সহ কয়েকটি গ্রন্থের প্রণেতা।
ভাষান্তর : মীযানুল করীম
প্রশ্ন : প্রথমে আপনি খ্রিষ্টধর্মের আদিযুগের ওপর কাজ করছিলেন। তাই জানতে ইচ্ছা করে, আল কুরআন সম্পর্কে বই লেখার প্রেরণা পেলেন কিভাবে?
উত্তর : বিশ বছরেরও বেশি দিন ধরে শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা থেকে এটি লিখেছি। আমি মনে করি, মাত্র কুরআন বুঝতে শুরু করেছি। তবে প্রকৃতপক্ষে ইহুদিধর্ম, খ্রিষ্টধর্ম ও ইসলামের মধ্যে শুধু ধর্মতত্ত্ব ও সংস্কৃতি নয়, ইতিহাসের দিক দিয়েও সম্পর্ক রয়েছে।
অতীতে কোনো কোনো সময়ে আমরা একে অন্যের মাথায় মাথা লাগিয়ে ধাক্কা মেরেছি, অন্যান্য সময়ে সশস্ত্র সঙ্ঘাতে হয়েছি লিপ্ত। তবে আমরা একই স্রষ্টার উপাসনা করি। অভিজ্ঞতা থেকে বলব, এই উপাসনার জন্য অন্যের ধর্মকে বোঝার পথ খোলা রাখা চাই।
আমি খুবই সৌভাগ্যবান যে, মুসলিম নারী-পুরুষ সম্পর্কে অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পেরেছি! বিশেষ করে তুর্কি সম্প্রদায়কে জেনেছি গত সাত বছর। পূর্বোক্ত বইটি লেখার একটা বড় উদ্দেশ্য ছিল, পরস্পরকে বোঝা যখন জরুরি, তখন প্রথমে নিজেকে বিষয়টি বুঝানো এবং এরপর অন্যদেরকে বুঝিয়ে বলা।
প্রশ্ন : আপনি যখন কুরআন শরিফ পড়ছিলেন, তখন কার কণ্ঠের কথা আপনার মনে পড়েছিল? কথা বলছিলেন কে?
উত্তর : আমি বিশ্বাস করি, কুরআন প্রত্যাদেশমূলক গ্রন্থ। বিধাতা অনেক ব্যক্তি, অনেক নবী-রাসূল, বার্তাবাহকের মাধ্যমে প্রত্যাদেশ দিয়েছেন। কুরআনে আমাদের উদ্দেশে কথা বলে মহান স্রষ্টারই কণ্ঠ। এটি শান্তি ও সুবিচারের কণ্ঠ। এই কণ্ঠ সে সব মানুষের কথা বলে যারা শান্তিতে একত্রে থাকা দরকার মনে করে আর প্রয়োজন বোধ করে বিশ্বের অন্য সবার জন্য এক হয়ে কাজ করার। আমি সেই কণ্ঠ শুনেছি। সেই কণ্ঠ পাঠক ও শিক্ষার্থীদের এবং আমার উপলব্ধি গভীর করার জন্য নিজেকেও শোনাতে চেষ্টা করেছি।
প্রশ্ন : আপনি আরবি পড়তে পারেন কি না নিশ্চিত নই। সম্ভবত অনুবাদের ওপর জোর দিয়েছেন। কিভাবে কাজ করেছেন, অধ্যয়ন করলেন?
উত্তর : অমুসলিম হিসেবে কুরআন প্রথম কয়েক দফা পড়াটা সম্ভবত বিস্ময়কর অভিজ্ঞতা। আমরা যারা বাইবেলের ঐতিহ্য থেকে এসেছি, তাদের প্রত্যাশা হলো কুরআনেও বাইবেলের জেনেসিস, এক্সোডাস কিংবা গসপেল অব মার্কের মতো বিভিন্ন অধ্যায়ের দেখা পাবো। হ্যাঁ, কুরআনেও বিভিন্ন অংশে ভাগ করা আছে। সবগুলো মিলে একটি পূর্ণরূপ পেয়েছে। কুরআন বারবার পড়তে হয়। এ বিষয়ে চিন্তা করতে হয় বারবার আর বোঝার জন্য মাথা চুলকাতে হয় বহুবার। তবে আমি মনে করি, প্রথম পদক্ষেপ হলো, উৎসাহ না হারানো। পয়লা পরামর্শ দেবো, কুরআনকে পেছন থেকে শুরু করে সামনের দিকে পড়–ন নবীকে বোঝার জন্য। তাঁর প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক। কুরআনের সাথে অন্যরা কী বলেছেন, তা-ও পড়তে হয়।
প্রশ্ন : বাইবেলীয় ঐতিহ্য ও কুরআনের মিলগুলো কী কী, আর গরমিলই বা কী, আমাদের বলুন।
উত্তর : মৌলিক পার্থক্য হলো, বাইবেল ও কুরআনের পরস্পর থেকে ভিন্ন প্রকৃতি। অবশ্য বাইবেল ও কুরআনে অভিন্ন ত্রিশজন সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে। একটি বিষয় হলো (মুসলিম শিক্ষার্থীরাও যার সাক্ষ্য দেবে), উভয় গ্রন্থে কোনো কোনো সময়ে আমরা একই ভাষা ও শব্দ পাই। তবে মূলনীতি ও ধারণা পরস্পর পৃথক।
মুসলমানরা বিশ্বাস করে, কুরআনের প্রতিটি শব্দ, প্রত্যেক বর্ণ আল্লাহ-প্রদত্ত। বাইবেল সম্পর্কে খ্রিষ্টানরা এটা মনে করে না। নির্দিষ্ট কোনো ভাষার প্রতি খ্রিষ্টানদের বিশেষ আকর্ষণ বা শ্রদ্ধা নেই। আমরা বাইবেলের অনুবাদ পড়তেই স্বচ্ছন্দ বোধ করি। এর পাণ্ডুলিপির বিভিন্নতা এবং একই কাহিনীর নানারকম বয়ান দেখেও আমি অস্বস্তি বোধ করি না। মুসলিম ছাত্রছাত্রী জিজ্ঞেস করতে পারে, ‘আসল ঘটনা কী?’ খ্রিষ্টান হিসেবে আমার কাছে এটা সমস্যা নয়। তবে শিক্ষক হিসেবে মুসলমানদের কাছে এর ব্যাখ্যা দেয়া এবং মুসলিম ছাত্রছাত্রীদের দৃষ্টিভঙ্গি জানার ক্ষেত্রে অবশ্যই আমাকে সতর্ক থাকতে হবে।
আমরা খ্রিষ্টান ও মুসলিমরা অভিন্ন অনেক নবীর ওপর বিশ্বাস রাখি। তবুও তাদের সম্পর্কে আমাদের প্রত্যাশা পৃথক। আমাদের উভয়ের একই বিশ্বাস যা, তা হলো একজন মহান সৃষ্টিকর্তা আছেন যিনি তাঁর প্রতি বাধ্য থাকতে বলেন। তিনি বিশ্বাসীদের একটি সমাজ নির্মাণ করতে বলেন, যারা তাঁর ইচ্ছা পূরণ ও উপাসনার জন্য উৎসর্গিত। অবশ্য, বার্তাবাহক ও নবী বলতে কী বুঝায়, সে ব্যাপারে খ্রিষ্টান ও মুসলমানদের মাঝে বড় পার্থক্য আছে। ইসলামের বিধান অনুযায়ী, একজন নবী শুধু ঐশী প্রত্যাদেশপ্রাপ্তই নন, তাঁকে পরিপূর্ণও হতে হবে। তাই বাইবেল পড়ে মুসলমানরা কারো কারো ব্যভিচার ও খুন করা নিয়ে প্রশ্ন তুলবে। কারণ এগুলো ঘৃণ্য অপরাধ। তাদের প্রশ্ন, ‘যারা এমন পাপী, তোমরা তার অনুসরণ কিভাবে করতে পারো?’
প্রশ্ন : খ্রিষ্টান ও মুসলমানদের পবিত্র গ্রন্থে ঈসা আ:, মুহাম্মদ সা: এবং অন্যদের কিভাবে চিত্রিত করা হয়েছে? তাঁদের মিল-অমিল কী কী?
উত্তর : আমার মুসলিম ছাত্রছাত্রীরা সব সময়ই তাদের খ্রিষ্টান সহপাঠীদের অবাক করে দেয়, যখন তারা জানায়, ‘ভালো মুসলিম হতে হলে ঈসা আ:-এর ওপরও ঈমান আনতে হবে।’ তিনি কুমারী মাতার গর্ভে জন্ম নিয়েছিলেন। অলৌকিক কাজকর্ম করেছেন; তিনি ক্ষুধার্তকে খাইয়েছেন, রুগ্ণকে করেছেন সুস্থ, মৃতকে করেছিলেন পুনর্জীবিত। তাঁকে মসিহ বলা হয়। পৃথিবীর শেষ যুগে তিনি আসবেন আবার। তিনি ছিলেন শিক্ষক; তাঁর ছিল শিষ্য। তিনি মানুষকে আহ্বান করেছেন আল্লাহর পথ অনুসরণের দিকে। কুরআনে ঈসা আ:-কে এভাবে তুলে ধরার সাথে বাইবেলের মিল রয়েছে। অবশ্য খ্রিষ্টধর্ম ও ইসলামের মূল পার্থক্য হলো, ঈসা আ:-কে ক্রুশে বিদ্ধ করা এবং তাঁর পুনরুত্থান প্রসঙ্গ।
মূসা আ:-সহ অন্য নবীদের কয়েকজন প্রসঙ্গে কুরআনে যা বলা হয়েছে, তার সাথে মিল আছে ইহুদিদের বিশ্বাসে। অর্থাৎ এই দুইয়ের মাঝে সঙ্ঘাত নয়, সম্পর্ক বিদ্যমান। আর আমি সহজ কথায় যা বুঝি, তা হচ্ছে মূসা আ: এলেন এবং সরকারকাঠামো প্রতিষ্ঠা করলেন। অপর দিকে ঈসা আ: এসে মানুষকে আধ্যাত্মিক জীবনের সন্ধান দিয়েছেন কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি ছাড়াই। খ্রিষ্টানরা পরবর্তীকালে এটা যোগ করেছে। নবী মুহম্মদ সা: এলেন। তিনি এমন একজন, যাঁর ‘পার্থিব’ ও ‘আধ্যাত্মিক’ দু’টি দিকই আছে। তিনি উভয়কে একত্র করেছেন। স্রষ্টা বিশ্বকে ভালোবাসেন এবং এর পরিচর্যা করেন। অতএব আপনাদেরকেও অবশ্যই এ কাজ করতে হবে। একই বিধাতা নবীদেরকে পাঠিয়েছেন।
প্রশ্ন : কুরআন অধ্যয়ন করে কিভাবে প্রভাবিত হয়েছেন? এটা কি আপনার জীবনে কোনোভাবে পরিবর্তন এনেছে?
উত্তর : এর মাধ্যমে যে ক’টি খুব গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব পড়েছে, তার একটি হলো আমি নামাজের ভিত্তিতে ইসলাম ও কুরআন বুঝতে পেরেছি। নামাজের খুবই পবিত্র একটা অনুভূতি আছে এবং নামাজের মধ্য দিয়ে একটি জীবন গড়ে তোলা যায়। ইসলাম সম্পর্কে যৎকিঞ্চিৎ বুঝেছি। এতে ধারণা হয়েছে, এই ধর্মের ভিত্তি হলো সৃষ্টিতত্ত্ব। আমার ওপর এ বিষয়টির প্রচণ্ড প্রভাব পড়েছে নৈতিকভাবে।
লেখক : মার্কিন ধর্মতত্ত্ববিদ; ‘যিশুর শিষ্যদের যুগের পরে দ্বিতীয় শতাব্দীতে খ্রিষ্টধর্ম’সহ কয়েকটি গ্রন্থের প্রণেতা।
ভাষান্তর : মীযানুল করীম
Saturday, March 7, 2015
রাজনীতিতে নতুন মোড় : সরকারে অস্থিরতা by জাকির হোসেন লিটন

হঠাৎ
করে রাজনৈতিক পরিস্থিতির মোড় ঘুরে যাচ্ছে । বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা
জিয়ার অনড় অবস্থানের কারণে সরকার কোনো পরিকল্পনায় স্থির থাকতে পারছে না।
সরকারের ভেতরে দ্বিধাদ্বন্দ্ব আর অস্থিরতা বাড়ছে। বিএনপি চেয়ারপারসনকে
গ্রেফতার করা হবে; না গুলশান কার্যালয় থেকে বের করে বাসায় পাঠানো হবে ; না
কার্যালয় তল্লাশি করে অন্য সবাইকে বের করে দেয়া হবে তা নিয়ে শেষ মুহুর্তে
চরম সিদ্ধান্তহীনতায় পড়েছেন সরকারের নীতি নির্ধারকরা।
বিশেষ করে খালেদা জিয়ার গ্রেফতারের খবরে রাজধানীসহ দেশজুড়ে নতুন করে অস্থিরতা শুরু হওয়া, ভারতের পররাষ্ট্র সচিবের মনোভাব এবং রাতে খালেদা জিয়ার সাথে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ প্রভাবশালী দেশগুলোর ক’টনীতিকদের বৈঠকের খবরে পরিস্থিতি সামাল দেয়া এখন সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাড়িয়েছে।
এর আগে খালেদা জিয়ার অনড় অবস্থানের কারনে সরকারের নানা কৌশল বারবার ব্যর্থ হয়। সর্বশেষ আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানাকে কাজে লাগিয়ে খালেদা জিয়াকে গুলশান কার্যালয় থেকে বের করার কৌশল নেয় সরকার। সরকারের শীর্ষ কর্তাব্যক্তিরা মনে করছিলেন, এই পরোয়ানার কারণে খালেদা জিয়া নিজেই ওই অফিস থেকে বের হয়ে আদালতে জামিন চাইতে বাধ্য হবেন। কিন্তু খালেদা জিয়া কার্যালয় থেকে বের না হওয়ায় সরকারের এ কৌশলও ব্যর্থ হয়। এমন প্রেক্ষাপটে বুধবার সরকার কঠোর অবস্থানে যাবার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত থাকলেও শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত তা চূড়ান্ত করতে পারেননি নীতি নির্ধারকরা। বরং পশ্চিমা কূটনীতিকদের মাধ্যমে রাজনৈতিক অধিকার ফিরিয়ে দেয়াসহ পরিস্থিতি স্থিতিশীল করার বিষয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা হয়। পশ্চিমা কূটনীতিকরাও খালেদা জিয়ার সাথে সাক্ষাতের বিষয়ে সরকারের সবুজ সংকেতে গুলশান কার্যালয়ে যান।
আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র জানায়, একদিকে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা এবং অন্যদিকে পরবর্তিত রাজনৈতিক ও কুটনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিপাকে পড়েছে সরকার। আওয়ামী লীগ ও সরকারের কট্ররপন্থী নেতা ও মন্ত্রীরা খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানোর মাধ্যমে চলমান সঙ্কটের সমাধান চান। কিন্তু অপেক্ষাকৃত মধ্যমপন্থী ও সিনিয়ররা মনে করছেন, এর মাধ্যমে আসলে সঙ্কটের চূড়ান্ত সমাধান না হয়ে আরো জটিল হতে পারে।
বিশেষ করে জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুত্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের সার্বক্ষণিক নজরদারি সদ্য সফর করে যাওয়া ভারতের পররাষ্ট্র সচিবের মনোভাব এবং সারা দেশে সরকারবিরোধী নেতাকর্মীদের প্রস্তুতির খবর সরকারের জন্য খুব সুখের বিষয় নয়। ভারতের পররাষ্ট্র সচিব দেশটির পররাষ্ট্রনীতি যে আগের মতো চলবে না তার ইঙ্গিত দেন। এছাড়া প্রবল দমন পীড়নের পরও সরকার বিরোধী আন্দোলনের নতুনমাত্রা ভবিষ্যত পথচলা যে কঠিন হবে তা দলের সিনিয়র নেতারা উপলদ্ধি করে কিছুটা পিছু হটার নীতি গ্রহনের পরামর্শ দিয়েছেন।
এমন পরিস্থিতিতে খালেদা জিয়াকে শেষ পর্যন্ত গ্রেফতার নাও করা হতে পারে। কারন খালেদা জিয়াকে গ্রেফতারের পর আলোচনার পথ যেমন রুদ্ধ হয়ে পড়তে পারে তেমনি সরকারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ এবং আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ হতে পারে। তাই তারা খালেদা জিয়াকে গ্রেফতারের পক্ষে নন দলের সিনিয়র কয়েকজন নেতা। তবে আদালতের নির্দেশনা পালন করতে গিয়ে খালেদা জিয়াকে গুলশান কার্যালয় থেকে বের করে আদালতে হাজির করে জামিনের পক্ষেও মত দিয়েছেন কেউ কেউ। কিন্তু খালেদা জিয়া জামিনের মাধ্যমে কার্যালয়ে ফেরার নিশ্চয়তা পেলে আদালতে যেতে পারেন বলে তার আইনজীবীরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন।
এদিকে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের লাগাতার অবরোধ ও হরতাল সরকারের জন্য খুব উদ্বেগেরে কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। চলমান আন্দোলনে দেশের ১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নিজেই জাতীয় সংসদে তথ্য দিয়েছেন। আর চলমান অবস্থানে জাতীয় সমস্যা ও দুর্যোগ বলে আখ্যায়িত করেছেন অর্থমন্ত্রী।
নানা চেষ্টার পরও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় এ সঙ্কট কিভাবে নিরসন হবে তা বলতে পারছেন না কেউ। হঠাৎ করে পরিস্থিতি আবারো অবনতি হওয়ায় সরকারের মন্ত্রীসভায় বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে বলে খবর বেরিয়েছে। ওই বৈঠক থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মন্ত্রীদের সাবধানে চলাফেরার পরামর্শ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
তবে আওয়ামী লীগের নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানায়, পরিবর্তিত পরিস্থিতির কারণে শেষ পর্যন্ত খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার করা নাও হতে পারে। তবে সারা দিন তিনি আদালতে না গেলে আজ রাতে অথবা আগামীকাল হয়তো তার কার্যালয়ে তল্লাশি করা হবে। এর মাধ্যমে সেখান থেকে ব্যাক্তিগত কর্মকর্তাদের কাউকে কাউকে গ্রেফতার করা হতে পারে। অন্যদিকে খালেদা জিয়াকে সেখানে নি:সঙ্গ করে রেখে নানাভাবে চাপ প্রয়োগ করা হতে পারে।
বিশেষ করে খালেদা জিয়ার গ্রেফতারের খবরে রাজধানীসহ দেশজুড়ে নতুন করে অস্থিরতা শুরু হওয়া, ভারতের পররাষ্ট্র সচিবের মনোভাব এবং রাতে খালেদা জিয়ার সাথে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ প্রভাবশালী দেশগুলোর ক’টনীতিকদের বৈঠকের খবরে পরিস্থিতি সামাল দেয়া এখন সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাড়িয়েছে।
এর আগে খালেদা জিয়ার অনড় অবস্থানের কারনে সরকারের নানা কৌশল বারবার ব্যর্থ হয়। সর্বশেষ আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানাকে কাজে লাগিয়ে খালেদা জিয়াকে গুলশান কার্যালয় থেকে বের করার কৌশল নেয় সরকার। সরকারের শীর্ষ কর্তাব্যক্তিরা মনে করছিলেন, এই পরোয়ানার কারণে খালেদা জিয়া নিজেই ওই অফিস থেকে বের হয়ে আদালতে জামিন চাইতে বাধ্য হবেন। কিন্তু খালেদা জিয়া কার্যালয় থেকে বের না হওয়ায় সরকারের এ কৌশলও ব্যর্থ হয়। এমন প্রেক্ষাপটে বুধবার সরকার কঠোর অবস্থানে যাবার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত থাকলেও শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত তা চূড়ান্ত করতে পারেননি নীতি নির্ধারকরা। বরং পশ্চিমা কূটনীতিকদের মাধ্যমে রাজনৈতিক অধিকার ফিরিয়ে দেয়াসহ পরিস্থিতি স্থিতিশীল করার বিষয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা হয়। পশ্চিমা কূটনীতিকরাও খালেদা জিয়ার সাথে সাক্ষাতের বিষয়ে সরকারের সবুজ সংকেতে গুলশান কার্যালয়ে যান।
আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র জানায়, একদিকে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা এবং অন্যদিকে পরবর্তিত রাজনৈতিক ও কুটনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিপাকে পড়েছে সরকার। আওয়ামী লীগ ও সরকারের কট্ররপন্থী নেতা ও মন্ত্রীরা খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানোর মাধ্যমে চলমান সঙ্কটের সমাধান চান। কিন্তু অপেক্ষাকৃত মধ্যমপন্থী ও সিনিয়ররা মনে করছেন, এর মাধ্যমে আসলে সঙ্কটের চূড়ান্ত সমাধান না হয়ে আরো জটিল হতে পারে।
বিশেষ করে জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুত্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের সার্বক্ষণিক নজরদারি সদ্য সফর করে যাওয়া ভারতের পররাষ্ট্র সচিবের মনোভাব এবং সারা দেশে সরকারবিরোধী নেতাকর্মীদের প্রস্তুতির খবর সরকারের জন্য খুব সুখের বিষয় নয়। ভারতের পররাষ্ট্র সচিব দেশটির পররাষ্ট্রনীতি যে আগের মতো চলবে না তার ইঙ্গিত দেন। এছাড়া প্রবল দমন পীড়নের পরও সরকার বিরোধী আন্দোলনের নতুনমাত্রা ভবিষ্যত পথচলা যে কঠিন হবে তা দলের সিনিয়র নেতারা উপলদ্ধি করে কিছুটা পিছু হটার নীতি গ্রহনের পরামর্শ দিয়েছেন।
এমন পরিস্থিতিতে খালেদা জিয়াকে শেষ পর্যন্ত গ্রেফতার নাও করা হতে পারে। কারন খালেদা জিয়াকে গ্রেফতারের পর আলোচনার পথ যেমন রুদ্ধ হয়ে পড়তে পারে তেমনি সরকারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ এবং আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ হতে পারে। তাই তারা খালেদা জিয়াকে গ্রেফতারের পক্ষে নন দলের সিনিয়র কয়েকজন নেতা। তবে আদালতের নির্দেশনা পালন করতে গিয়ে খালেদা জিয়াকে গুলশান কার্যালয় থেকে বের করে আদালতে হাজির করে জামিনের পক্ষেও মত দিয়েছেন কেউ কেউ। কিন্তু খালেদা জিয়া জামিনের মাধ্যমে কার্যালয়ে ফেরার নিশ্চয়তা পেলে আদালতে যেতে পারেন বলে তার আইনজীবীরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন।
এদিকে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের লাগাতার অবরোধ ও হরতাল সরকারের জন্য খুব উদ্বেগেরে কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। চলমান আন্দোলনে দেশের ১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নিজেই জাতীয় সংসদে তথ্য দিয়েছেন। আর চলমান অবস্থানে জাতীয় সমস্যা ও দুর্যোগ বলে আখ্যায়িত করেছেন অর্থমন্ত্রী।
নানা চেষ্টার পরও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় এ সঙ্কট কিভাবে নিরসন হবে তা বলতে পারছেন না কেউ। হঠাৎ করে পরিস্থিতি আবারো অবনতি হওয়ায় সরকারের মন্ত্রীসভায় বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে বলে খবর বেরিয়েছে। ওই বৈঠক থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মন্ত্রীদের সাবধানে চলাফেরার পরামর্শ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
তবে আওয়ামী লীগের নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানায়, পরিবর্তিত পরিস্থিতির কারণে শেষ পর্যন্ত খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার করা নাও হতে পারে। তবে সারা দিন তিনি আদালতে না গেলে আজ রাতে অথবা আগামীকাল হয়তো তার কার্যালয়ে তল্লাশি করা হবে। এর মাধ্যমে সেখান থেকে ব্যাক্তিগত কর্মকর্তাদের কাউকে কাউকে গ্রেফতার করা হতে পারে। অন্যদিকে খালেদা জিয়াকে সেখানে নি:সঙ্গ করে রেখে নানাভাবে চাপ প্রয়োগ করা হতে পারে।
খালেদাকে গ্রেফতারের ঝুঁকি নিতে চায় না সরকার by জাকির হোসেন লিটন
বিএনপি
চেয়ারপারসন ও ২০ দলীয় জোট নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে গ্রেফতারের সিদ্ধান্ত
নেয়া হলেও আপাতত সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে সরকার। চলমান সঙ্কট আরো
জটিল হওয়ার আশঙ্কা, জনমনে বিরূপ প্রভাব ও প্রবল কূটনীতিক চাপের মুখে
অবস্থান পরিবর্তন করেছেন সরকারের নীতি নির্ধারকরা। সেজন্য আদালতের
নির্দেশের পরও এখনই খালেদা জিয়াকে গ্রেফতারের ঝুঁকি নেয়া হচ্ছেনা বলে
আওয়ামী লীগ ও সরকারের একাধিক সূত্র জানিয়েছে।
তবে অন্য একটি সূত্র জানায়, বিভিন্ন চাপের মুখে সাময়িকভাবে গ্রেফতার এড়ানো গেলেও খালেদা জিয়া গ্রেফতার হবেনই। পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে সরকারের সর্বোচ্চ এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হবে। এ ক্ষেত্রে গ্রেফতার কার্যক্রম হতে পারে কয়েক ধাপে ও ভিন্ন কৌশলে।
আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র জানায়, সরকার খালেদা জিয়াকে গ্রেফতারের সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছে অনেক আগেই। তবে রাজনৈতিক বিতর্ক এড়াতে এ কাজে আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানাকে কাজে লাগাতে চেয়েছিলেন সরকারের নীতি নির্ধারকরা। সেজন্য সব ধরণের প্রস্তুতিও শেষ করা হয়। তবে শেষ মুহুর্তে গ্রেফতারকে কেন্দ্র করে ক’টনৈতিক তৎপরতা এবং উদ্ভুত রাজনৈতি পরিস্থিতি সরকারকে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে বাধ্য করে। বিশেষ করে খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার করা হলে চলমান অস্থিতিশীলতা চরম পর্যায়ে পৌঁছতে পারে এবং গণতন্ত্রের যাত্রাও ব্যাহত হতে পারে ঢাকায় অবস্থিত কূটনীতিকরা সরকারের উচ্চ পর্যায়ে এমন একটি বার্তা পৌঁছে দেন।
ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ ১৬ দেশের কূটনীতিকরা মঙ্গলবার খালেদা জিয়ার সাথে সাক্ষাতও করেন। এ ছাড়া খালেদা জিয়ার গ্রেফতার ও দেশের সর্বশেষ পরিস্থিতির ওপর জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ আন্তর্জাতিক মহলের কঠোর নজরদারি সরকারকে ভাবিয়ে তোলে।
এদিকে ব্রাসেলসভিত্তিক আর্ন্তজাতিক সংস্থা ‘ক্রাইসিস গ্রুপ’ গত মঙ্গলবার একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘বাংলাদেশের সরকারবিরোধী আন্দোলনে গত জানুয়ারি থেকে ১০০ জনেরও বেশি লোকের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এরই মধ্যে বাংলাদেশের আদালত বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়েছেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, বেগম খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার করা হলে চলমান রাজনৈতিক সঙ্কট আরও বাড়বে।’
সরকারের ভেতরে বড় একটি অংশ মনে করছে, এ অবস্থায় দেশের সাবেক একজন প্রধানমন্ত্রীকে গ্রেফতার করা হলে গণতান্ত্রিক সরকারের সবচেয়ে বড় অগণতান্ত্রিক আচরণই প্রমাণ হবে। এর মধ্য দিয়ে দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্রকারীরা মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে, যা সরকারের জন্যে বাড়তি ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
অন্যদিকে দুই মাস ধরে চলা বিএনপি জোটের অবরোধ-হরতালে ইতোমধ্যেই দেশের অর্থনীতি গভীর খাদের কিনারে গিয়ে দাঁড়িয়েচে। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ি এরই মধ্যে প্রায় এক লাখ পঞ্চাশ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়ে গেছে। এ অবস্থায় খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার করা হলে তাদের আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ হবে। বাড়তে পারে অস্থিতিশীলতা ও নাশকতা। এতে দেশের ভবিষ্যত নিয়ে চরম শঙ্কা দেখা দিতে পারে। আইনশৃঙ্খলাবাহিনীও সরকারের উচ্চ পর্যায়ে এমন রিপোর্ট দিয়েছে। ফলে খালেদা জিয়াকে গ্রেফতারে নীতিগত সিদ্ধান্ত থাকলেও সরকার আপাতত সেখান থেকে সরে আসে।
ওদিকে ক্ষমতাসীনদের কেউ কেউ মনে করছেন, আন্দোলনে গতি আনতে এবং দেশ-বিদেশের আলোচনার কেন্দ্রে থাকতে বেগম জিয়া নিজ থেকেই গ্রেফতার হতে চান। মাঠ পর্যায়ে নির্দেশনা দিয়ে গ্রেফতার হওয়ার পূর্ণ প্রস্তুতিও নিয়ে রেখেছেন তিনি। তাই সরকার তাকে এখনই গ্রেফতার করে ফাঁদে পা দিতে চাচ্ছেনা। কারণ এতে গ্রেফতারের সুফল সরকারের চেয়ে বিরোধীদের ঘরেই যাবে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও বুধবার জাতীয় সংসদে বলেছেন, আদালতে গরহাজির হয়ে খালেদা জিয়া নিজেই গ্রেফতার হতে চাইছেন। উনি (খালেদা জিয়া) বিদেশিদের সিমপ্যাথি (সহানুভূতি) চান। বিদেশি পত্রিকায় একটু পাবলিসিটি চান। এক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেয়া হবে।
তবে ভিন্ন কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে, হুটহাট এখনই গ্রেফতারের ঝুঁকি না নিলেও চূড়ান্ত পর্যায়ে খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার করা হবে। আ্ওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী নেতাদের মতে তার উস্কানিতে ছড়িয়ে পড়া সহিংসতায় এ পর্যন্ত ১০০ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। তাই খালেদা জিয়াকে ছাড় দিতে চায় না সরকার। এ ক্ষেত্রে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী যে কোনো সময় খালেদা জিয়ার কার্যালয়ে একদফা তল্লাশি চালানো হতে পারে। ওই তল্লাশিতে কার্যালয়ে অবস্থানরত সব স্টাফদের বের করে দেয়া হবে।
এ অবস্থায় কমপক্ষে দুই-এক সপ্তাহ তাকে একা থাকতে হতে পারে। শেষ ধাপে আদালতের নির্দেশে তাকে গ্রেফতার করা হবে। এর আগে খালেদা জিয়াকে গ্রেফতারে দেশে-বিদেশে ইতিবাচক মনোভাব ও জনমত সৃষ্টি করতে নানা উদ্যোগ নেবে সরকার।
এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মাদ নাসিম গতকাল বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়াকে গ্রেফতারে আওয়ামী লীগ কোনো চাপের ভয় করে না। আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। আর আইন অনুযায়ি তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
তবে অন্য একটি সূত্র জানায়, বিভিন্ন চাপের মুখে সাময়িকভাবে গ্রেফতার এড়ানো গেলেও খালেদা জিয়া গ্রেফতার হবেনই। পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে সরকারের সর্বোচ্চ এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হবে। এ ক্ষেত্রে গ্রেফতার কার্যক্রম হতে পারে কয়েক ধাপে ও ভিন্ন কৌশলে।
আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র জানায়, সরকার খালেদা জিয়াকে গ্রেফতারের সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছে অনেক আগেই। তবে রাজনৈতিক বিতর্ক এড়াতে এ কাজে আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানাকে কাজে লাগাতে চেয়েছিলেন সরকারের নীতি নির্ধারকরা। সেজন্য সব ধরণের প্রস্তুতিও শেষ করা হয়। তবে শেষ মুহুর্তে গ্রেফতারকে কেন্দ্র করে ক’টনৈতিক তৎপরতা এবং উদ্ভুত রাজনৈতি পরিস্থিতি সরকারকে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে বাধ্য করে। বিশেষ করে খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার করা হলে চলমান অস্থিতিশীলতা চরম পর্যায়ে পৌঁছতে পারে এবং গণতন্ত্রের যাত্রাও ব্যাহত হতে পারে ঢাকায় অবস্থিত কূটনীতিকরা সরকারের উচ্চ পর্যায়ে এমন একটি বার্তা পৌঁছে দেন।
ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ ১৬ দেশের কূটনীতিকরা মঙ্গলবার খালেদা জিয়ার সাথে সাক্ষাতও করেন। এ ছাড়া খালেদা জিয়ার গ্রেফতার ও দেশের সর্বশেষ পরিস্থিতির ওপর জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ আন্তর্জাতিক মহলের কঠোর নজরদারি সরকারকে ভাবিয়ে তোলে।
এদিকে ব্রাসেলসভিত্তিক আর্ন্তজাতিক সংস্থা ‘ক্রাইসিস গ্রুপ’ গত মঙ্গলবার একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘বাংলাদেশের সরকারবিরোধী আন্দোলনে গত জানুয়ারি থেকে ১০০ জনেরও বেশি লোকের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এরই মধ্যে বাংলাদেশের আদালত বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়েছেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, বেগম খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার করা হলে চলমান রাজনৈতিক সঙ্কট আরও বাড়বে।’
সরকারের ভেতরে বড় একটি অংশ মনে করছে, এ অবস্থায় দেশের সাবেক একজন প্রধানমন্ত্রীকে গ্রেফতার করা হলে গণতান্ত্রিক সরকারের সবচেয়ে বড় অগণতান্ত্রিক আচরণই প্রমাণ হবে। এর মধ্য দিয়ে দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্রকারীরা মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে, যা সরকারের জন্যে বাড়তি ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
অন্যদিকে দুই মাস ধরে চলা বিএনপি জোটের অবরোধ-হরতালে ইতোমধ্যেই দেশের অর্থনীতি গভীর খাদের কিনারে গিয়ে দাঁড়িয়েচে। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ি এরই মধ্যে প্রায় এক লাখ পঞ্চাশ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়ে গেছে। এ অবস্থায় খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার করা হলে তাদের আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ হবে। বাড়তে পারে অস্থিতিশীলতা ও নাশকতা। এতে দেশের ভবিষ্যত নিয়ে চরম শঙ্কা দেখা দিতে পারে। আইনশৃঙ্খলাবাহিনীও সরকারের উচ্চ পর্যায়ে এমন রিপোর্ট দিয়েছে। ফলে খালেদা জিয়াকে গ্রেফতারে নীতিগত সিদ্ধান্ত থাকলেও সরকার আপাতত সেখান থেকে সরে আসে।
ওদিকে ক্ষমতাসীনদের কেউ কেউ মনে করছেন, আন্দোলনে গতি আনতে এবং দেশ-বিদেশের আলোচনার কেন্দ্রে থাকতে বেগম জিয়া নিজ থেকেই গ্রেফতার হতে চান। মাঠ পর্যায়ে নির্দেশনা দিয়ে গ্রেফতার হওয়ার পূর্ণ প্রস্তুতিও নিয়ে রেখেছেন তিনি। তাই সরকার তাকে এখনই গ্রেফতার করে ফাঁদে পা দিতে চাচ্ছেনা। কারণ এতে গ্রেফতারের সুফল সরকারের চেয়ে বিরোধীদের ঘরেই যাবে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও বুধবার জাতীয় সংসদে বলেছেন, আদালতে গরহাজির হয়ে খালেদা জিয়া নিজেই গ্রেফতার হতে চাইছেন। উনি (খালেদা জিয়া) বিদেশিদের সিমপ্যাথি (সহানুভূতি) চান। বিদেশি পত্রিকায় একটু পাবলিসিটি চান। এক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেয়া হবে।
তবে ভিন্ন কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে, হুটহাট এখনই গ্রেফতারের ঝুঁকি না নিলেও চূড়ান্ত পর্যায়ে খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার করা হবে। আ্ওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী নেতাদের মতে তার উস্কানিতে ছড়িয়ে পড়া সহিংসতায় এ পর্যন্ত ১০০ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। তাই খালেদা জিয়াকে ছাড় দিতে চায় না সরকার। এ ক্ষেত্রে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী যে কোনো সময় খালেদা জিয়ার কার্যালয়ে একদফা তল্লাশি চালানো হতে পারে। ওই তল্লাশিতে কার্যালয়ে অবস্থানরত সব স্টাফদের বের করে দেয়া হবে।
এ অবস্থায় কমপক্ষে দুই-এক সপ্তাহ তাকে একা থাকতে হতে পারে। শেষ ধাপে আদালতের নির্দেশে তাকে গ্রেফতার করা হবে। এর আগে খালেদা জিয়াকে গ্রেফতারে দেশে-বিদেশে ইতিবাচক মনোভাব ও জনমত সৃষ্টি করতে নানা উদ্যোগ নেবে সরকার।
এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মাদ নাসিম গতকাল বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়াকে গ্রেফতারে আওয়ামী লীগ কোনো চাপের ভয় করে না। আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। আর আইন অনুযায়ি তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
খালেদা জিয়ার গ্রেফতারে পিছু হটছে সরকার by নাবিল ফারহান
সরকার বিরোধী আন্দোলনের তীব্রতার শঙ্কা আর
আর্ন্তজাতিক মহলের চাপের কারনে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে
গ্রেফতারের পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছে সরকার। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া
চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা বহাল থাকলেও মামলার
পরবর্তী তারিখ নির্ধারন করা হয়েছে আগামি ৫ এপ্রিল। সরকারের একাধিক মন্ত্রী
এর আগে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন ৪ মার্চ তাকে গ্রেফতারি পরোয়ানা অনুযায়ী আদালতে
হাজির করা হবে। এখন গ্রেফতারি পরোয়ানা বহাল থাকলেও তা আপাতত কার্যকর
হওয়ার কোনো সম্ভবনা নেই। ইতোমধ্যে জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
বলেছেন বিএনপি নেত্রী চাইছেন-উনাকে গ্রেফতার করলে জনরোষ থেকে হয়তো বাচা
যাবে। অবশ্য প্রধানমন্ত্রী একথাও বলেছেন আমার মনে হয় কারাগারই তার উপযুক্ত
জায়গা। খালেদা জিয়া নিজেই গ্রেফতার চাইছেন প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্য যথেষ্ট
ইঙ্গিতবাহী বলে মনে করা হচ্ছে। খালেদা জিয়া যা চাইবেন তা সরকার পূরন করবে
কিনা তা নিয়ে যথেষ্ট প্রশ্ন রয়েছে।
ক্ষমতাসীন দলের একাধিক সূত্র বলছে খালেদা জিয়াকে গ্রেফতারের পরিকল্পনা সরকারের ছিলো। তাকে কোথায় রাখা হবে সে ব্যাপারেও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিলো। কিন্তু গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর জাতীয় ও আর্ন্তজাতিক পর্যায় থেকে যে প্রতিক্রিয়া এসেছে তাতে সরকারকে আগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে হয়। গত রাতেই খালেদা জিয়ার সাথে ১৬টি ইউরোপীয় দেশের প্রতিনিধিদের সাক্ষাত ছিলো সরকারের প্রতি পশ্চিমা দেশগুলোর সতর্ক বার্তা।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলো মনে করে খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার করা হলে পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটবে। একই সাথে রাজনৈতিক সঙ্কট নিরসনে যে কোনো ধরনের মধ্যস্থতার প্রক্রিয়া ভেস্তে যাবে। কারন খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার করা হলে তার মুক্তি ছাড়া বিরোধী কোনো পক্ষই আলোচনায় বসতে রাজি হবে না। ফলে পরিস্থিতি আরো জটিল রুপ নিতে পারে। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের মতো থিঙ্কট্যাংকগুলো স্পষ্ট করে সতর্ক করেছে যে খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার করা হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনের বাইরে যেতে পারে।
এছাড়া হরতাল অবরোধ প্রায় দুই মাস সময় পার হওয়ার পরও রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনের নতুন মাত্রা ভাবনায় ফেলেছে। গত কয়েকদিন যাবত ঢাকায় হঠাৎ করে সহিংস ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় সরকারের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। মন্ত্রী পরিষদের বৈঠকে খোদ প্রধানমন্ত্রী উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
বিএনপির সূত্রগুলো বলছে এখন পরিস্থিতি যেদিকে যাক না কেন সরকারের জন্য তা স্বস্তিদায়ক হবে না। এখন যদি বিএনপি চেয়ারপারসনকে গ্রেফতার করা হয় তাহলে আন্দোলন তীব্ররুপ নেবে। ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে খালেদা জিয়ার গ্রেফতারের পর আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচী ও কৌশল নিয়ে নিয়ে বার্তা দেয়া হয়েছে। অবরোধের সাথে অসহযোগের মতো কর্মসূচীর জন্য নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এর ফলে পরিবহন ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ার সাথে সাথে সরকারি অফিস আদালতের কার্যক্রম ব্যহত হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। এমন পরিস্থিতি সরকারের জন্য সামাল দেয়া কঠিন হয়ে পড়বে।
অপরদিকে যদি খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার করা না হয় তাহলে তিনি অফিস থেকে এখনকার মতো আন্দোলন সংগঠিত করার কাজ চালিয়ে যাবেন। গুলশান অফিস থেকে তিনি সারা দেশের নেতাকর্মীদের নির্দেশান দিচ্ছেন। এ ক্ষেত্রে সরকার অফিসে তল্লাশী চালিয়ে খালেদা জিয়ার অফিস স্টাফদের বের করে আনতে পারেন। বিএনপির সূত্রগুলো বলছে সরকার এমন কৌশল নিলে খালেদা জিয়া বন্দী হিসাবে তারা ধরে নেবেন। তার প্রতিক্রিয়াও গ্রেফতারের মতো হবে।
বিএনপির সূত্রগুলো বলছে আন্দোলনের ব্যাপারে খালেদা জিয়া অনঢ় অবস্থানে আছেন। গত রাতে ১৬ দেশের কূটনীতিকদের সাথে বৈঠকে তিনি আবারো আন্দোলনের যৌক্তিকতা তুলে ধরেছেন। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে সরকার যে আরেকটি নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তা মনে করিয়ে দেয়া হয়। একই সাথে বিচার বর্হিভুত হত্যা, হাজার হাজার নেতাকর্মীর গ্রেফতার ও নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরা হয়। এমন পরিস্থিতিতে নতুন নির্বাচনের ঘোষনা ছাড়া যে দেশে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্টা করা সম্ভব হবে না তাও উল্লেখ করা হয়।
সূত্রগুলো বলছে খালেদা জিয়ার বক্তব্য বিদেশী ক’টনীতিকরা কার্যত সমর্থন করেছেন। সহিংসতার ব্যাপারে বিএনপির পক্ষ থেকেও নিন্দা করা হয়। সহিংস ঘটনার সাথে ক্ষমতাসীন দলের সংশ্লিষ্টতার কিছু তথ্য উপাত্ত তুলে ধরা হয়।
নেতাকর্মীদের দৃঢ়মনোবল ও ক’টনীতিকদের তৎপরতার কারনে বিএনপির নেতারা মনে করছেন আন্দোলনের মাধ্যমে তারা দাবি আদায় করতে সক্ষম হবেন। আন্দোলনের মধ্যদিয়ে ইতোমধ্যে প্রমান করা সম্ভব হয়েছে বাংলাদেশে রাজনৈতিক সঙ্কট রয়েছে। আর এই সঙ্কট সমাধানে নতুন নির্বাচনের জন্য আলোচনা শুরু করতে সরকার বাধ্য হবে।
ক্ষমতাসীন দলের একাধিক সূত্র বলছে খালেদা জিয়াকে গ্রেফতারের পরিকল্পনা সরকারের ছিলো। তাকে কোথায় রাখা হবে সে ব্যাপারেও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিলো। কিন্তু গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর জাতীয় ও আর্ন্তজাতিক পর্যায় থেকে যে প্রতিক্রিয়া এসেছে তাতে সরকারকে আগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে হয়। গত রাতেই খালেদা জিয়ার সাথে ১৬টি ইউরোপীয় দেশের প্রতিনিধিদের সাক্ষাত ছিলো সরকারের প্রতি পশ্চিমা দেশগুলোর সতর্ক বার্তা।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলো মনে করে খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার করা হলে পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটবে। একই সাথে রাজনৈতিক সঙ্কট নিরসনে যে কোনো ধরনের মধ্যস্থতার প্রক্রিয়া ভেস্তে যাবে। কারন খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার করা হলে তার মুক্তি ছাড়া বিরোধী কোনো পক্ষই আলোচনায় বসতে রাজি হবে না। ফলে পরিস্থিতি আরো জটিল রুপ নিতে পারে। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের মতো থিঙ্কট্যাংকগুলো স্পষ্ট করে সতর্ক করেছে যে খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার করা হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনের বাইরে যেতে পারে।
এছাড়া হরতাল অবরোধ প্রায় দুই মাস সময় পার হওয়ার পরও রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনের নতুন মাত্রা ভাবনায় ফেলেছে। গত কয়েকদিন যাবত ঢাকায় হঠাৎ করে সহিংস ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় সরকারের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। মন্ত্রী পরিষদের বৈঠকে খোদ প্রধানমন্ত্রী উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
বিএনপির সূত্রগুলো বলছে এখন পরিস্থিতি যেদিকে যাক না কেন সরকারের জন্য তা স্বস্তিদায়ক হবে না। এখন যদি বিএনপি চেয়ারপারসনকে গ্রেফতার করা হয় তাহলে আন্দোলন তীব্ররুপ নেবে। ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে খালেদা জিয়ার গ্রেফতারের পর আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচী ও কৌশল নিয়ে নিয়ে বার্তা দেয়া হয়েছে। অবরোধের সাথে অসহযোগের মতো কর্মসূচীর জন্য নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এর ফলে পরিবহন ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ার সাথে সাথে সরকারি অফিস আদালতের কার্যক্রম ব্যহত হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। এমন পরিস্থিতি সরকারের জন্য সামাল দেয়া কঠিন হয়ে পড়বে।
অপরদিকে যদি খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার করা না হয় তাহলে তিনি অফিস থেকে এখনকার মতো আন্দোলন সংগঠিত করার কাজ চালিয়ে যাবেন। গুলশান অফিস থেকে তিনি সারা দেশের নেতাকর্মীদের নির্দেশান দিচ্ছেন। এ ক্ষেত্রে সরকার অফিসে তল্লাশী চালিয়ে খালেদা জিয়ার অফিস স্টাফদের বের করে আনতে পারেন। বিএনপির সূত্রগুলো বলছে সরকার এমন কৌশল নিলে খালেদা জিয়া বন্দী হিসাবে তারা ধরে নেবেন। তার প্রতিক্রিয়াও গ্রেফতারের মতো হবে।
বিএনপির সূত্রগুলো বলছে আন্দোলনের ব্যাপারে খালেদা জিয়া অনঢ় অবস্থানে আছেন। গত রাতে ১৬ দেশের কূটনীতিকদের সাথে বৈঠকে তিনি আবারো আন্দোলনের যৌক্তিকতা তুলে ধরেছেন। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে সরকার যে আরেকটি নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তা মনে করিয়ে দেয়া হয়। একই সাথে বিচার বর্হিভুত হত্যা, হাজার হাজার নেতাকর্মীর গ্রেফতার ও নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরা হয়। এমন পরিস্থিতিতে নতুন নির্বাচনের ঘোষনা ছাড়া যে দেশে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্টা করা সম্ভব হবে না তাও উল্লেখ করা হয়।
সূত্রগুলো বলছে খালেদা জিয়ার বক্তব্য বিদেশী ক’টনীতিকরা কার্যত সমর্থন করেছেন। সহিংসতার ব্যাপারে বিএনপির পক্ষ থেকেও নিন্দা করা হয়। সহিংস ঘটনার সাথে ক্ষমতাসীন দলের সংশ্লিষ্টতার কিছু তথ্য উপাত্ত তুলে ধরা হয়।
নেতাকর্মীদের দৃঢ়মনোবল ও ক’টনীতিকদের তৎপরতার কারনে বিএনপির নেতারা মনে করছেন আন্দোলনের মাধ্যমে তারা দাবি আদায় করতে সক্ষম হবেন। আন্দোলনের মধ্যদিয়ে ইতোমধ্যে প্রমান করা সম্ভব হয়েছে বাংলাদেশে রাজনৈতিক সঙ্কট রয়েছে। আর এই সঙ্কট সমাধানে নতুন নির্বাচনের জন্য আলোচনা শুরু করতে সরকার বাধ্য হবে।
Sunday, March 1, 2015
পানি আর ইলিশ ভাসল বাঙালির বেগুন নেই by ফরিদা আখতার
Sunday, March 01, 2015
Anonymous
অন্য দিগন্ত,
আলোচনা,
পশ্চিমবঙ্গ,
ফরিদা আখতার,
মতামত,
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
পশ্চিমবঙ্গের
মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি বাংলাদেশে ঘুরে গেলেন। তার ৪০ জনের বেশি
সফরসঙ্গীর মধ্যে ছিলেন কবি সুবোধ সরকার, চলচ্চিত্র নির্মাতা গৌতম ঘোষ ও
ব্রাত্য বসু, অভিনেত্রী মুনমুন সেন, অভিনেতা প্রসেনজিত্, দীপক অধিকারী
(দেব) ও অরিন্দম শীল, কণ্ঠশিল্পী নচিকেতা ঘোষ ও ইন্দ্রনীল সেন, কবি কাজী
নজরুল ইসলামের পুত্রবধূ কল্যাণী কাজী। এছাড়া ছিলেন শিল্পপতি হর্ষ নেওটিয়া ও
সঞ্জীব গোয়েঙ্কা এবং একদল সাংবাদিক। ভারতীয় সাংবাদিকরা এ সফর নিয়ে কী
লিখছেন, আমি সে প্রসঙ্গে যাব না। বাংলাদেশের পত্র-পত্রিকায় যা উঠেছে এবং
টিভি চ্যানেল যেভাবে কভার করার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়েছে, তাতে মনে হয়েছে,
এবার সরকারের একুশে ফেব্রুয়ারির কর্মসূচিটাই মমতাকেন্দ্রিক হয়ে গেছে। সারা
দিন মমতা নিয়ে লাইভ শো কিংবা সংবাদ শিরোনাম। মমতা সন্তুষ্ট মনেই রাতে ফিরে
গেছেন। বিএনপির সঙ্গে কোনো রকম যোগাযোগ না করে বার্তা দিয়ে গেলেন, তিনি শেখ
হাসিনার পছন্দের মানুষ। তার হাসিনাদি। কাজেই হাসিনাদি পছন্দ করেন না, এমন
কারো সঙ্গে দেখা করে কাজ নেই।
বাংলাদেশের মানুষ ভোলেনি বিগত কংগ্রেস সরকারের পক্ষে মনমোহন সিংয়ের যে সরকারি সফর ছিল, তাতে তিস্তা চুক্তি প্রায় হয় হয় অবস্থায় গিয়েও হতে পারেনি মমতার আপত্তিতে। এবার তাই তিনি যখন এলেন এবং ‘আশ্বাস’ দিলেন, তখন সবাই খুব উল্লসিত হয়ে উঠল। অথচ উল্লসিত হওয়ার মোটেও কোনো কারণ নেই। কারণ আশ্বাস মানেই ‘অঙ্গীকার’ নয় এবং ‘অঙ্গীকার’ মানেই বাস্তবায়ন নয়। এটা ছোট বাচ্চাদের খেলা নয় যে, পানির ন্যায্য হিস্যা পাওয়ার বিষয়টি শুধু কলকাতার দিদির আশ্বাসে ঘটে যাবে। মমতা সোজাসাপ্টা কথা বলেন। পরিষ্কারভাবে বলেছেন, আমাদের কিছু সমস্যা আছে, আপনাদেরও কিছু সমস্যা আছে। দুই দিকের স্বার্থ বিবেচনা করেই পানি দিতে হবে। তাহলে তিনি কীভাবে বললেন, ‘আমার ওপর আস্থা রাখুন’? কিসের আস্থা? তিস্তা নদী এখন শুকিয়ে আছে। তিস্তাপাড়ের উত্তরাঞ্চলের মানুষ এ শুকনো মৌসুমে পানি পাবে কিনা, সেটা পরিষ্কার ভাষায় শুনতে চায়। ‘আশ্বাস’ বা আস্থার কথায় তাদের চিড়া ভিজবে না।
মমতা পশ্চিমবঙ্গের মানুষ। আমরা জানি বাংলাদেশের যে কয়েকটি জিনিসের ওপর তাদের বিশেষ নজর আছে, তার মধ্যে ইলিশ ও জামদানি শাড়ি রয়েছে। ইদানীং দাবি করা হচ্ছে, জামদানি কলকাতায় বোনা হচ্ছে। অথচ জামদানির যে ভৌগোলিক লক্ষণচিহ্ন (geographical indicator) তার ওপর বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তির দাবিদার একান্তই ঢাকার। জামদানি ডেমরা ছাড়া বাংলাদেশেরও আর কোথাও হয় না। ডেমরার তাঁতিরা ছাড়া এ বিশেষ ধরনের শাড়ি আর কেউই বুনতে পারেন না। বুনলেও সেটা ভালো শাড়ি হতে পারে, কিন্তু তাকে জামদানি বলা যাবে না। জামদানি মানেই ‘ঢাকাই জামদানি’। জামদানিকে অন্য কেউ নিজেদের বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি বলে দাবি করলে সেটা ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির ওপর যেমন আঘাত হয়, একইভাবে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক স্বার্থের দিক থেকেও অন্যায় করা হয়। ঢাকাই জামদানি একেবারে এলাকার নির্দিষ্ট দক্ষতার ওপর নির্ভরশীল। পশ্চিমবঙ্গ সরকার এর আগে ফুলিয়া ও সমুদ্রগড়ে টাঙ্গাইলের বসাক পরিবারদের নিয়ে গিয়ে টাঙ্গাইল তাঁত শিল্পের ক্ষতি করেছে। এখন খোদ টাঙ্গাইলেই কলকাতা থেকে টাঙ্গাইল তাঁতিদের বোনা কাপড় আসে অনেক চড়া দামে। জামদানিও একপর্যায়ে তাই হবে হয়তো। আমরা জামদানি পরব ভারত থেকে এনে! ঢাকা থেকে জামদানি বুনা উঠে যাবে। এ দুর্ভাগ্যও হতে পারে। এ আশঙ্কার মধ্যে আমরা আছি। মমতা ব্যানার্জির ব্যবসার দিকনির্দেশনাকে এসব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই বিচার করতে হবে। তিনি বাংলাদেশের বন্ধু নাকি প্রতিপক্ষ, তার প্রমাণ পেতে আমাদের পর্যবেক্ষণ আরো তীক্ষ ও সুদূরপ্রসারী হতে হবে। এ পর্যন্ত আমাদের অভিজ্ঞতা হচ্ছে, ভারত থেকে যারা রাজনৈতিক সফরে আসেন, তারা নির্দিষ্টভাবে অনেক কিছুই নিয়ে যান, বিনিময়ে কিছু কথাসর্বস্ব আশ্বাস ও ভরসা দিয়ে যান, যা শেষ পর্যন্ত পাওয়া যায় না। মমতার আশ্বাস তাই জনমনে খুব আশার আলো জাগাতে পারেনি। দুঃখিত।
মমতা ভাষা শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন এটা খুব ভালো কথা। পশ্চিমবঙ্গে বাংলা ভাষা মৃত্যুর আগের অবস্থায় ‘লাইফ সাপোর্টে’ আছে, অথচ বাংলাদেশে এ দিবসটি কত ঘটা করে এবং সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে মিলে কত মর্যাদার সঙ্গে পালিত হয়। তবু বলব, একুশ পালন আমাদের বাহ্যিক দিক, ভাষার জন্য আমরা রক্ত দিয়েছি এবং আমাদের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের গোড়ায় রয়েছে ভাষা ও সংস্কৃতির সরব উপস্থিতি। ভাষা, সংস্কৃতি ও রাজনীতি এবং রাষ্ট্রচিন্তা আমাদের মধ্যে একাকার হয়ে আছে। একই কথা পশ্চিম বাংলা সম্পর্কে খাটে না। পশ্চিম বাংলার মানুষ বাংলা ভাষাকে কম ভালোবাসে সেটা দাবি করি না, কিন্তু সেটা তাদের রাজনীতি ও রাষ্ট্রচিন্তার বাইরের চর্চার বিষয়।
একুশে ফেব্রুয়ারিতে মমতা ব্যানার্জি ভোর থেকেই ব্যস্ত ছিলেন। সেদিনই গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে মমতার বৈঠক হয়, এবং পরে তারা একসঙ্গে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন। বিডিনিউজ২৪. কমের সৌজন্যে খাবার মেনু সম্পর্কে একটু বিস্তারিত জানতে পারি। খাবারের আয়োজনে ছিল ইলিশের প্রাধান্য। ভাপা ইলিশ, সর্ষে ইলিশ, ভাজা ইলিশ আর ইলিশের ডিম ভাজা। এছাড়া ছিল চিতল মাছের কোপ্তা, রুই মাছের তরকারি, খাসির রেজালা ও হাড়ছাড়া মুরগির মাংসের তরকারি। খাবার শেষে রসমালাই ও মিষ্টি দইও পরিবেশন করা হয়। অর্থাত্ বাংলাদেশের সব ধরনের জনপ্রিয় খাবার দেয়া হয়েছে। এখন ফেব্রুয়ারি মাস। ইলিশ খাওয়ার জন্য এটা খুব ভালো সময় নয়। ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত মাছ ডিম পাড়ে অল্প সময়ের জন্য, আর বেশির ভাগ ডিম পাড়ে সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবরে। এ সময় ইলিশ মাছ অনেকেই খান না।
ইলিশের আইটেম বেশি হলেও ইলিশের সঙ্গে একটি সবজি খুব ভালো লাগে, সেটা বেগুন। সেটা মেনুতে ছিল কিনা, বোঝা যায়নি। কৃষকরা একটি বিশেষ বেগুনের চাষ করেন শুধু ইলিশের সঙ্গে রান্নার জন্য। টাঙ্গাইলের কৃষক আক্কাস আলী বেগুন নিয়ে গান রচনা করেছেন। মমতা ব্যানার্জি মাটি নিয়ে কবিতা লিখেছেন। তার হয়তো বেগুনের এ গান ভালো লাগতে পারে। এখানে ইলিশের জন্য কাঁটা চিকন ডিম বেগুনের উল্লেখ আছে। নিশ্চয় পশ্চিম বাংলায়ও ইলিশের সঙ্গে স্থানীয় জাতের বেগুনের রান্না হয়। গানের মাঝের কলি এ রকম:
কামরাঙ্গা, ভোলানাথ, আর কাঞ্চন বারমাসে
ও ভাই বোন কাঞ্চন বারমাসে
কাঁটা চিকন ডিম বেগুনি তরকারী ইলিশ মাছে রে।।
শুটকী মাছে লম্বা বেগুন, শৈল বোয়াল রুপিয়াজী
ও ভাই বোন শৈল বোয়াল রুপিয়াজী
আমার দেশী জাতের বেগুনে নাই কোন টেকনলজি।।
আমার সোনার ভাই বোন রে।।
কৃষক আক্কাস আলী গানটি লিখেছিলেন বিটি বেগুনের বিরুদ্ধে কৃষকদের সচেতন করতে। মমতা বেগুন নিয়ে জেনেটিক কারিগরির কাহিনী কতটা জানেন, জানি না, কিন্তু বাংলাদেশীদের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের জন্য এ সবজির ওপর কোম্পানির দখলদারি বন্ধের আন্দোলনে সংহতি জানাতে পারতেন।
বাংলাদেশ থেকে মমতার কাছে চাওয়া পাওয়ার দিক ছিল তিস্তার পানি, কিন্তু তিনি গঙ্গা-যমুনার কথাই বেশি বলছিলেন। অন্যদিকে তিনি শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকে তার রাজ্যে ইলিশ না পাওয়ার অনুযোগ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘ইলিশ খুব কম পাচ্ছি।’ কম পাওয়ার প্রধান কারণ, দেশের চাহিদা বিবেচনায় বিভিন্ন সময় তা রফতানি বন্ধ রাখে বাংলাদেশ সরকার। এটা নিঃসন্দেহে সঠিক সিদ্ধান্ত। এমনকি দেশেও বছরে কয়েকটি সময় ইলিশ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। ইলিশ কোনো শিল্প পণ্য নয় যে চাহিদা বেশি থাকলেই যে কোনো সময় উত্পাদন বাড়িয়ে দেয়া যাবে। উত্তরে হাসিনা বলেন, ‘পানি এলে ইলিশও যাবে।’ ২২ তারিখের পত্রিকায় এটাই প্রধান শিরোনাম হয়েছে। তিস্তা নদীতে পানির অভাবের কথা শোনান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কিন্তু মমতাও কম যান না। তিনি বলেন, তিস্তায় ইলিশ হয় না, পদ্মা, যমুনা ও মেঘনায় হয়। অর্থাত্ তিনি ইলিশ নেবেন, কিন্তু পানির ব্যাপারে শুধু ‘আশ্বাস’ দেবেন, সরবে তার ওপর আস্থা রাখার আবদার জানাবেন। এটা হয় না। এককথায় তিনি বুঝিয়ে দিলেন তিস্তার পানির সঙ্গে ইলিশের সম্পর্ক নেই। তিস্তার পানি দিতে হলে তারা নিজেদের সিদ্ধান্তেই দেবেন।
দুই
ইলিশ প্রসঙ্গে বলতে হলে আরেকটি বিষয় উল্লেখ করা প্রয়োজন, যা বাংলাদেশের জন্য এখন হুমকি হয়ে উঠেছে। সেটা হলো, কৃষিতে বায়োটেকনোলজির ব্যবহার কিংবা জেনেটিকালি মডিফাইড ফসলের প্রবর্তন। ভারতে কংগ্রেস সরকার জেনেটিকালি মডিফাইড বিটি তুলার চাষ শুরু করার পর ক্ষতিগ্রস্ত লাখ লাখ কৃষক আত্মহত্যা করেছেন। এখনো করছেন। কিন্তু ভারতে এখনো কোনো খাদ্য ফসলে এ প্রযুক্তি ব্যবহার হয়নি। বহুজাতিক কোম্পানি মনসান্টোর সঙ্গে পার্টনারশিপে ভারতের মাহিকো কোম্পানি বিটি বেগুনের গবেষণা শুরু করে। এ গবেষণা একই সঙ্গে ভারত, ফিলিপাইন ও বাংলাদেশে শুরু করা হয়েছিল ইউএসএআইডির বিশেষ কর্মসূচি Agriculture Biotechnology Support Project (ABSP II)-এর অধীনে। কিন্তু এ দুটি দেশে চাষের ছাড়পত্র পায়নি। ভারতের পরিবেশ মন্ত্রণালয় বহুজাতিক কোম্পানি মনসান্টোর স্থানীয় সহায়ক মাহিকো উদ্ভাবিত বিটি বেগুন ছাড়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা বা মরাটোরিয়াম জারি করেছে ২০১০ সালে। ভারতের সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন প্যানেল অনির্দিষ্টকালের জন্য জিএম ফসলের সব রকম মাঠ পর্যায়ের পরীক্ষা বন্ধের সুপারিশ করেছেন। অন্যদিকে ফিলিপাইনের কোর্টে গ্রিনপিস দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সম্পদ বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগকে বিটি বেগুনের মাঠ পর্যায়ের গবেষণা বন্ধের জন্য আদেশ দেয়া হয়েছে (Philippines Court of Appeals issues writ against trials for Bt Brinjal, May 25, 2013 FnB news.com)। এ ব্যাপারে উচ্চ আদালতে আপিল করা হলে সেখানেও নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা হয়। ভারতে ছাড়পত্র পেতে ব্যর্থ হয়ে তারা ফিলিপাইনে চেষ্টা চালিয়েছিল। তাদের শেষ চেষ্টা ছিল বাংলাদেশ। তাই গবেষণার মাধ্যমে পরিবেশ ও স্বাস্থ্য ঝুঁকি সম্পর্কে সম্পূর্ণ নিশ্চিত না হয়েই তারা কৃষক পর্যায়ে উন্মুক্ত চাষের অনুমতির জন্য উঠে পড়ে লেগেছিল। এর বৈজ্ঞানিক ভিত্তি থাকুক বা না থাকুক। বাংলাদেশে বিটি বেগুন চাষের অনুমোদনের মধ্যে সেটাই হয়েছে। পরিবেশ সংগঠন, কৃষক সংগঠন এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বিজ্ঞানীদের সব উদ্বেগ, উত্কণ্ঠার কোনো তোয়াক্কা না করে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সুপারিশে বাংলাদেশ সরকারের পরিবেশ মন্ত্রণালয় থেকে ৩০ অক্টোবর, ২০১৩ তারিখে শর্তযুক্ত সীমিত পর্যায়ে চাষের অনুমতি দেয়। এখন তারা সম্প্রসারণের চেষ্টা চালাচ্ছে।
ভারতের সঙ্গে পানি নিয়ে যত ঝামেলাই থাকুক না কেন, খুব সহজেই বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বারি) বিটি বেগুনের বীজ ভারতের মাহিকো কোম্পানি থেকে আনতে পেরেছে। বলা যায়, বারিকে দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশে বারির কাজ কৃষকদের দিয়ে এর পরীক্ষা করানো। এখানে বিজ্ঞানের দিক থেকে কোনো অভিজ্ঞতা অর্জনের বিষয় নেই। কারণ প্রযুক্তি ও তার তত্ত্বাবধান সবকিছুই আসছে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে। বারি গাজীপুর কার্যালয়ে নিজ জমিতে ২০০৫ সাল থেকে গবেষণা শুরু করেছে। আশ্চর্য যে, ভারতে যা হতে দেয়া হয়নি, সেই কাজ ভারতের কোম্পানির সহযোগিতায় বাংলাদেশে বিটি বেগুন বাজারজাতের জন্য কাজ করা হচ্ছে।
শুধু তাই নয়, ভারত, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের কিছু অংশ বেগুনের আদি উত্পত্তিস্থল হলেও ভারত তাদের নিজেদের আদি জাতের বেগুন বহুজাতিক কোম্পানিকে দেয়নি। অথচ বিটি বেগুনের গবেষণা ফলাফলের অপেক্ষা না করেই চুক্তির মাধ্যমে বেগুনের মেধাস্বত্ব বা বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি হিসেবে কোম্পানির ব্যক্তিগত মালিকানায় নিয়ে ফেলেছে। চুক্তিটি ২০০৫ সালের ১৪ মার্চ বারি মার্কিন বহুজাতিক বীজ কোম্পানি মনসান্টোর পক্ষে ভারতীয় কোম্পানি মাহিকো ও সাতগুরু ম্যানেজমেন্ট কনসালট্যান্ট প্রাইভেট লিমিটেডের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় সাব-লাইসেন্স চুক্তি অনুসারে জিনগত পরিবর্তন ঘটিয়ে উত্পাদিত বিটি বেগুনের মেধাস্বত্ব মনসান্টো ও মাহিকো কোম্পানির হাতে চলে গেছে। চুক্তিটির আর্টিকেল ১ দশমিক ১৯ ধারায় বলা হয়েছে, বিটি বেগুনবীজের মেধাস্বত্ব মনসান্টো-মাহিকো কোম্পানির। আর্টিকেল ১.৬ ধারায় বলা হয়েছে, বিটি বেগুনের বীজ কোম্পানির কাছ থেকে কিনে নিতে হবে। এ চুক্তির আর্টিকেল ৯.২(গ) অনুসারে, বিটি বেগুনবীজের বাণিজ্যিক ও মেধাস্বত্ব অধিকার মনসান্টো-মাহিকো কোম্পানির। বিটি বেগুনবীজ ও প্রযুক্তির বাণিজ্যিক ও মেধাস্বত্ব অধিকারের সংরক্ষণ লঙ্ঘিত হলে কোম্পানি এ চুক্তি বাতিলের অধিকার রাখে। চুক্তির ১.১৯ ও ১.৬ ধারা অনুসারে, বাংলাদেশের নিজস্ব জাতের নয়টি বেগুন, যেগুলোয় বিটি জিন সংযুক্ত করা হয়েছে, সেগুলোর মালিকানা বহুজাতিক কোম্পানির হাতে চলে যাবে। আর্টিকেল ৯.২(গ)-এ বলা হয়েছে, বিটি বেগুনবীজের ও প্রযুক্তির বাণিজ্যিক এবং মেধাস্বত্ব অধিকারের সংরক্ষণ লঙ্ঘিত হলে কোম্পানি এ চুক্তি বাতিলের অধিকার রাখে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশে বিটি জিন প্রয়োগ করা নয়টি জাত হলো— উত্তরা, কাজলা, নয়নতারা, সিংনাথ, চেগা, ইসলামপুরী, দোহাজারি ও আইএসডি ০০৬।
বাংলাদেশের মতো ভারতেও বেগুনের শত শত জাত রয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের বেগুনের জাতগুলো কৃষকের হাতছাড়া করতে বাংলাদেশ সরকার এবং কোম্পানি একসঙ্গে মিলেছে। ভারত সেদিক থেকে সতর্ক রয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশে জনগণের কাছে অগ্রহণযোগ্যভাবে ‘নির্বাচিত’ সরকার ক্ষমতায় রয়েছে। দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ ফসলের মেধাস্বত্ব দিয়ে দেয়া, প্রাণবৈচিত্র্যের ক্ষতি হওয়া এবং এ খাদ্য ফসল ভোগের পর মানবদেহে ক্ষতির সম্ভাবনা নিয়ে উত্কণ্ঠা প্রকাশ করা হলেও তার প্রতি তোয়াক্কা না করেই এবং প্রথম পর্যায়ে চাষের অভিজ্ঞতায় সফল না হয়েও কৃষি মন্ত্রণালয় এককভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে আরো সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে। প্রশ্ন হচ্ছে, আগামীতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা এলে তার সবজির তালিকায় কি এ বিটি বেগুন থাকবে? ইলিশের সঙ্গে বেগুনের স্বাদ অসাধারণ! কিন্তু বিটি বেগুনের যে ক্ষতি, তা কি মমতা নিতে পারবেন? আমাদের সরকার কি তাদের রাষ্ট্রীয় অতিথিদের এ বিটি বেগুনের তরকারি খাওয়াবে?
মমতা ব্যানার্জির জন্য আগামী নির্বাচনে বাংলাদেশের নানা ইস্যু সামনে আসতে পারে। তার মধ্যে বাংলাদেশ থেকে সন্ত্রাস রফতানি হচ্ছে বলে তারা খুব উত্কণ্ঠিত। বিটি বেগুন নিয়ে এ সন্ত্রাসের তুলনা এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে। ভারতের হিন্দুস্তান টাইমস পত্রিকার বরাতে বলা হয়েছে, সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশ থেকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কয়েকটি জেলায় বিটি বেগুনের বীজ পাচার হয়ে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে পশ্চিমবঙ্গের কৃষিমন্ত্রী বেগুনবীজের চোরাচালানের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন (প্রথম আলো, ১১ নভেম্বর, ২০১৪)। হিন্দুস্তান টাইমস পত্রিকার শিরোনামে বলা হয়েছে After terror, Bangladesh sends Bt seeds into India (নভেম্বর ১০, ২০১৪) “Terror is not the only commodity that is entering Bengal through the Bangladesh border. At a time when controversies and debates over the introduction of genetically modified (‰M) crops are raging in the country and the scientific community is yet to give its opinion, Bt Brinjal seeds are being smuggled into West Bengal and farmers in the state are believed to have sown the crop in several districts. অর্থাত্ ভারত বিটি বেগুনের বীজের এ চোরাচালানকে সন্ত্রাসের সঙ্গে তুলনা করছে, যার প্রভাব রাজনৈতিকভাবে বাংলাদেশের জন্য খুব বিপজ্জনক হতে পারে।
মমতা আসেন হাসি মুখে, যাওয়ার সময় তার হাসি আরো বেড়ে গেছে। তিনি বাংলাদেশের মানুষের কাছে এসেছেন, নাকি শুধু একটি দল ও তার সরকারের কাছেই এসেছিলেন, তা বোঝা গেল না। তিনি শেখ হাসিনার জন্য নিজের আঁকা একটি ছবি নিয়ে এসেছিলেন। শেখ হাসিনা একটি ছবি এবং ঢাকাই জামদানি দিয়েছেন মমতাকে।
মমতা ব্যানার্জি আমাদের কিছু দিতে পারবেন না। তার কাছ থেকে কিছু চাইবার আছে কি আমাদের? নেই। তবু আমরা চাই বাংলাভাষীদের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়ুক। প্রত্যাশা যে, সেটা যেন খণ্ডিত না হয়। তাকে আমরা ভালোবাসতে পারি, কোনো অসুবিধা নেই। একটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তার ক্ষমতাও সীমিত।
তার পরও বলব, আবারো আসুন বেড়াতে মুখ্যমন্ত্রী কিংবা একজন সম্মানিত বাঙালি হিসেবে। কিন্তু আপনার আশ্বাস কিংবা আপনার ওপর আস্থা রাখার কথা বলে খামাখা বিব্রত করবেন না আমাদের। নিশ্চিতভাবেই ইলিশ চলে যাবে আর বেগুনের আদি জাত ধ্বংস করার ক্ষেত্রে ভারতীয় কোম্পানিগুলোর তত্পরতা আপনি রোধ করার দায় বোধ করবেন না। আপনি আমাদের স্বার্থ দেখবেন, সে ভরসা করি না। তিস্তার পানির বণ্টনে ভারতীয় অধিকারকেই আপনি অগ্রগণ্য মনে করবেন এটাই স্বাভাবিক। তবুও আমাদের ন্যায্য পানির হিস্যা চাই। শুধু সীমান্তের ওপারের মানুষদের জন্য নয়, পানি এপারের সব মানুষেরই প্রয়োজন।
তাই আগে তিস্তার পানি আসুক। একই সঙ্গে শুধু ইলিশ ওপারে যাবে আর আমাদের বেগুনের ওপর কোম্পানির দখলদারিত্ব থাকবে, এটা মেনে নেয়া যাবে না।
লেখক: নির্বাহী পরিচালক
উন্নয়ন বিকল্পের নীতি নির্ধারণী গবেষণা (উবিনীগ)
বাংলাদেশের মানুষ ভোলেনি বিগত কংগ্রেস সরকারের পক্ষে মনমোহন সিংয়ের যে সরকারি সফর ছিল, তাতে তিস্তা চুক্তি প্রায় হয় হয় অবস্থায় গিয়েও হতে পারেনি মমতার আপত্তিতে। এবার তাই তিনি যখন এলেন এবং ‘আশ্বাস’ দিলেন, তখন সবাই খুব উল্লসিত হয়ে উঠল। অথচ উল্লসিত হওয়ার মোটেও কোনো কারণ নেই। কারণ আশ্বাস মানেই ‘অঙ্গীকার’ নয় এবং ‘অঙ্গীকার’ মানেই বাস্তবায়ন নয়। এটা ছোট বাচ্চাদের খেলা নয় যে, পানির ন্যায্য হিস্যা পাওয়ার বিষয়টি শুধু কলকাতার দিদির আশ্বাসে ঘটে যাবে। মমতা সোজাসাপ্টা কথা বলেন। পরিষ্কারভাবে বলেছেন, আমাদের কিছু সমস্যা আছে, আপনাদেরও কিছু সমস্যা আছে। দুই দিকের স্বার্থ বিবেচনা করেই পানি দিতে হবে। তাহলে তিনি কীভাবে বললেন, ‘আমার ওপর আস্থা রাখুন’? কিসের আস্থা? তিস্তা নদী এখন শুকিয়ে আছে। তিস্তাপাড়ের উত্তরাঞ্চলের মানুষ এ শুকনো মৌসুমে পানি পাবে কিনা, সেটা পরিষ্কার ভাষায় শুনতে চায়। ‘আশ্বাস’ বা আস্থার কথায় তাদের চিড়া ভিজবে না।
মমতা পশ্চিমবঙ্গের মানুষ। আমরা জানি বাংলাদেশের যে কয়েকটি জিনিসের ওপর তাদের বিশেষ নজর আছে, তার মধ্যে ইলিশ ও জামদানি শাড়ি রয়েছে। ইদানীং দাবি করা হচ্ছে, জামদানি কলকাতায় বোনা হচ্ছে। অথচ জামদানির যে ভৌগোলিক লক্ষণচিহ্ন (geographical indicator) তার ওপর বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তির দাবিদার একান্তই ঢাকার। জামদানি ডেমরা ছাড়া বাংলাদেশেরও আর কোথাও হয় না। ডেমরার তাঁতিরা ছাড়া এ বিশেষ ধরনের শাড়ি আর কেউই বুনতে পারেন না। বুনলেও সেটা ভালো শাড়ি হতে পারে, কিন্তু তাকে জামদানি বলা যাবে না। জামদানি মানেই ‘ঢাকাই জামদানি’। জামদানিকে অন্য কেউ নিজেদের বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি বলে দাবি করলে সেটা ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির ওপর যেমন আঘাত হয়, একইভাবে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক স্বার্থের দিক থেকেও অন্যায় করা হয়। ঢাকাই জামদানি একেবারে এলাকার নির্দিষ্ট দক্ষতার ওপর নির্ভরশীল। পশ্চিমবঙ্গ সরকার এর আগে ফুলিয়া ও সমুদ্রগড়ে টাঙ্গাইলের বসাক পরিবারদের নিয়ে গিয়ে টাঙ্গাইল তাঁত শিল্পের ক্ষতি করেছে। এখন খোদ টাঙ্গাইলেই কলকাতা থেকে টাঙ্গাইল তাঁতিদের বোনা কাপড় আসে অনেক চড়া দামে। জামদানিও একপর্যায়ে তাই হবে হয়তো। আমরা জামদানি পরব ভারত থেকে এনে! ঢাকা থেকে জামদানি বুনা উঠে যাবে। এ দুর্ভাগ্যও হতে পারে। এ আশঙ্কার মধ্যে আমরা আছি। মমতা ব্যানার্জির ব্যবসার দিকনির্দেশনাকে এসব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই বিচার করতে হবে। তিনি বাংলাদেশের বন্ধু নাকি প্রতিপক্ষ, তার প্রমাণ পেতে আমাদের পর্যবেক্ষণ আরো তীক্ষ ও সুদূরপ্রসারী হতে হবে। এ পর্যন্ত আমাদের অভিজ্ঞতা হচ্ছে, ভারত থেকে যারা রাজনৈতিক সফরে আসেন, তারা নির্দিষ্টভাবে অনেক কিছুই নিয়ে যান, বিনিময়ে কিছু কথাসর্বস্ব আশ্বাস ও ভরসা দিয়ে যান, যা শেষ পর্যন্ত পাওয়া যায় না। মমতার আশ্বাস তাই জনমনে খুব আশার আলো জাগাতে পারেনি। দুঃখিত।
মমতা ভাষা শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন এটা খুব ভালো কথা। পশ্চিমবঙ্গে বাংলা ভাষা মৃত্যুর আগের অবস্থায় ‘লাইফ সাপোর্টে’ আছে, অথচ বাংলাদেশে এ দিবসটি কত ঘটা করে এবং সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে মিলে কত মর্যাদার সঙ্গে পালিত হয়। তবু বলব, একুশ পালন আমাদের বাহ্যিক দিক, ভাষার জন্য আমরা রক্ত দিয়েছি এবং আমাদের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের গোড়ায় রয়েছে ভাষা ও সংস্কৃতির সরব উপস্থিতি। ভাষা, সংস্কৃতি ও রাজনীতি এবং রাষ্ট্রচিন্তা আমাদের মধ্যে একাকার হয়ে আছে। একই কথা পশ্চিম বাংলা সম্পর্কে খাটে না। পশ্চিম বাংলার মানুষ বাংলা ভাষাকে কম ভালোবাসে সেটা দাবি করি না, কিন্তু সেটা তাদের রাজনীতি ও রাষ্ট্রচিন্তার বাইরের চর্চার বিষয়।
একুশে ফেব্রুয়ারিতে মমতা ব্যানার্জি ভোর থেকেই ব্যস্ত ছিলেন। সেদিনই গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে মমতার বৈঠক হয়, এবং পরে তারা একসঙ্গে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন। বিডিনিউজ২৪. কমের সৌজন্যে খাবার মেনু সম্পর্কে একটু বিস্তারিত জানতে পারি। খাবারের আয়োজনে ছিল ইলিশের প্রাধান্য। ভাপা ইলিশ, সর্ষে ইলিশ, ভাজা ইলিশ আর ইলিশের ডিম ভাজা। এছাড়া ছিল চিতল মাছের কোপ্তা, রুই মাছের তরকারি, খাসির রেজালা ও হাড়ছাড়া মুরগির মাংসের তরকারি। খাবার শেষে রসমালাই ও মিষ্টি দইও পরিবেশন করা হয়। অর্থাত্ বাংলাদেশের সব ধরনের জনপ্রিয় খাবার দেয়া হয়েছে। এখন ফেব্রুয়ারি মাস। ইলিশ খাওয়ার জন্য এটা খুব ভালো সময় নয়। ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত মাছ ডিম পাড়ে অল্প সময়ের জন্য, আর বেশির ভাগ ডিম পাড়ে সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবরে। এ সময় ইলিশ মাছ অনেকেই খান না।
ইলিশের আইটেম বেশি হলেও ইলিশের সঙ্গে একটি সবজি খুব ভালো লাগে, সেটা বেগুন। সেটা মেনুতে ছিল কিনা, বোঝা যায়নি। কৃষকরা একটি বিশেষ বেগুনের চাষ করেন শুধু ইলিশের সঙ্গে রান্নার জন্য। টাঙ্গাইলের কৃষক আক্কাস আলী বেগুন নিয়ে গান রচনা করেছেন। মমতা ব্যানার্জি মাটি নিয়ে কবিতা লিখেছেন। তার হয়তো বেগুনের এ গান ভালো লাগতে পারে। এখানে ইলিশের জন্য কাঁটা চিকন ডিম বেগুনের উল্লেখ আছে। নিশ্চয় পশ্চিম বাংলায়ও ইলিশের সঙ্গে স্থানীয় জাতের বেগুনের রান্না হয়। গানের মাঝের কলি এ রকম:
কামরাঙ্গা, ভোলানাথ, আর কাঞ্চন বারমাসে
ও ভাই বোন কাঞ্চন বারমাসে
কাঁটা চিকন ডিম বেগুনি তরকারী ইলিশ মাছে রে।।
শুটকী মাছে লম্বা বেগুন, শৈল বোয়াল রুপিয়াজী
ও ভাই বোন শৈল বোয়াল রুপিয়াজী
আমার দেশী জাতের বেগুনে নাই কোন টেকনলজি।।
আমার সোনার ভাই বোন রে।।
কৃষক আক্কাস আলী গানটি লিখেছিলেন বিটি বেগুনের বিরুদ্ধে কৃষকদের সচেতন করতে। মমতা বেগুন নিয়ে জেনেটিক কারিগরির কাহিনী কতটা জানেন, জানি না, কিন্তু বাংলাদেশীদের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের জন্য এ সবজির ওপর কোম্পানির দখলদারি বন্ধের আন্দোলনে সংহতি জানাতে পারতেন।
বাংলাদেশ থেকে মমতার কাছে চাওয়া পাওয়ার দিক ছিল তিস্তার পানি, কিন্তু তিনি গঙ্গা-যমুনার কথাই বেশি বলছিলেন। অন্যদিকে তিনি শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকে তার রাজ্যে ইলিশ না পাওয়ার অনুযোগ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘ইলিশ খুব কম পাচ্ছি।’ কম পাওয়ার প্রধান কারণ, দেশের চাহিদা বিবেচনায় বিভিন্ন সময় তা রফতানি বন্ধ রাখে বাংলাদেশ সরকার। এটা নিঃসন্দেহে সঠিক সিদ্ধান্ত। এমনকি দেশেও বছরে কয়েকটি সময় ইলিশ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। ইলিশ কোনো শিল্প পণ্য নয় যে চাহিদা বেশি থাকলেই যে কোনো সময় উত্পাদন বাড়িয়ে দেয়া যাবে। উত্তরে হাসিনা বলেন, ‘পানি এলে ইলিশও যাবে।’ ২২ তারিখের পত্রিকায় এটাই প্রধান শিরোনাম হয়েছে। তিস্তা নদীতে পানির অভাবের কথা শোনান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কিন্তু মমতাও কম যান না। তিনি বলেন, তিস্তায় ইলিশ হয় না, পদ্মা, যমুনা ও মেঘনায় হয়। অর্থাত্ তিনি ইলিশ নেবেন, কিন্তু পানির ব্যাপারে শুধু ‘আশ্বাস’ দেবেন, সরবে তার ওপর আস্থা রাখার আবদার জানাবেন। এটা হয় না। এককথায় তিনি বুঝিয়ে দিলেন তিস্তার পানির সঙ্গে ইলিশের সম্পর্ক নেই। তিস্তার পানি দিতে হলে তারা নিজেদের সিদ্ধান্তেই দেবেন।
দুই
ইলিশ প্রসঙ্গে বলতে হলে আরেকটি বিষয় উল্লেখ করা প্রয়োজন, যা বাংলাদেশের জন্য এখন হুমকি হয়ে উঠেছে। সেটা হলো, কৃষিতে বায়োটেকনোলজির ব্যবহার কিংবা জেনেটিকালি মডিফাইড ফসলের প্রবর্তন। ভারতে কংগ্রেস সরকার জেনেটিকালি মডিফাইড বিটি তুলার চাষ শুরু করার পর ক্ষতিগ্রস্ত লাখ লাখ কৃষক আত্মহত্যা করেছেন। এখনো করছেন। কিন্তু ভারতে এখনো কোনো খাদ্য ফসলে এ প্রযুক্তি ব্যবহার হয়নি। বহুজাতিক কোম্পানি মনসান্টোর সঙ্গে পার্টনারশিপে ভারতের মাহিকো কোম্পানি বিটি বেগুনের গবেষণা শুরু করে। এ গবেষণা একই সঙ্গে ভারত, ফিলিপাইন ও বাংলাদেশে শুরু করা হয়েছিল ইউএসএআইডির বিশেষ কর্মসূচি Agriculture Biotechnology Support Project (ABSP II)-এর অধীনে। কিন্তু এ দুটি দেশে চাষের ছাড়পত্র পায়নি। ভারতের পরিবেশ মন্ত্রণালয় বহুজাতিক কোম্পানি মনসান্টোর স্থানীয় সহায়ক মাহিকো উদ্ভাবিত বিটি বেগুন ছাড়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা বা মরাটোরিয়াম জারি করেছে ২০১০ সালে। ভারতের সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন প্যানেল অনির্দিষ্টকালের জন্য জিএম ফসলের সব রকম মাঠ পর্যায়ের পরীক্ষা বন্ধের সুপারিশ করেছেন। অন্যদিকে ফিলিপাইনের কোর্টে গ্রিনপিস দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সম্পদ বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগকে বিটি বেগুনের মাঠ পর্যায়ের গবেষণা বন্ধের জন্য আদেশ দেয়া হয়েছে (Philippines Court of Appeals issues writ against trials for Bt Brinjal, May 25, 2013 FnB news.com)। এ ব্যাপারে উচ্চ আদালতে আপিল করা হলে সেখানেও নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা হয়। ভারতে ছাড়পত্র পেতে ব্যর্থ হয়ে তারা ফিলিপাইনে চেষ্টা চালিয়েছিল। তাদের শেষ চেষ্টা ছিল বাংলাদেশ। তাই গবেষণার মাধ্যমে পরিবেশ ও স্বাস্থ্য ঝুঁকি সম্পর্কে সম্পূর্ণ নিশ্চিত না হয়েই তারা কৃষক পর্যায়ে উন্মুক্ত চাষের অনুমতির জন্য উঠে পড়ে লেগেছিল। এর বৈজ্ঞানিক ভিত্তি থাকুক বা না থাকুক। বাংলাদেশে বিটি বেগুন চাষের অনুমোদনের মধ্যে সেটাই হয়েছে। পরিবেশ সংগঠন, কৃষক সংগঠন এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বিজ্ঞানীদের সব উদ্বেগ, উত্কণ্ঠার কোনো তোয়াক্কা না করে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সুপারিশে বাংলাদেশ সরকারের পরিবেশ মন্ত্রণালয় থেকে ৩০ অক্টোবর, ২০১৩ তারিখে শর্তযুক্ত সীমিত পর্যায়ে চাষের অনুমতি দেয়। এখন তারা সম্প্রসারণের চেষ্টা চালাচ্ছে।
ভারতের সঙ্গে পানি নিয়ে যত ঝামেলাই থাকুক না কেন, খুব সহজেই বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বারি) বিটি বেগুনের বীজ ভারতের মাহিকো কোম্পানি থেকে আনতে পেরেছে। বলা যায়, বারিকে দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশে বারির কাজ কৃষকদের দিয়ে এর পরীক্ষা করানো। এখানে বিজ্ঞানের দিক থেকে কোনো অভিজ্ঞতা অর্জনের বিষয় নেই। কারণ প্রযুক্তি ও তার তত্ত্বাবধান সবকিছুই আসছে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে। বারি গাজীপুর কার্যালয়ে নিজ জমিতে ২০০৫ সাল থেকে গবেষণা শুরু করেছে। আশ্চর্য যে, ভারতে যা হতে দেয়া হয়নি, সেই কাজ ভারতের কোম্পানির সহযোগিতায় বাংলাদেশে বিটি বেগুন বাজারজাতের জন্য কাজ করা হচ্ছে।
শুধু তাই নয়, ভারত, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের কিছু অংশ বেগুনের আদি উত্পত্তিস্থল হলেও ভারত তাদের নিজেদের আদি জাতের বেগুন বহুজাতিক কোম্পানিকে দেয়নি। অথচ বিটি বেগুনের গবেষণা ফলাফলের অপেক্ষা না করেই চুক্তির মাধ্যমে বেগুনের মেধাস্বত্ব বা বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি হিসেবে কোম্পানির ব্যক্তিগত মালিকানায় নিয়ে ফেলেছে। চুক্তিটি ২০০৫ সালের ১৪ মার্চ বারি মার্কিন বহুজাতিক বীজ কোম্পানি মনসান্টোর পক্ষে ভারতীয় কোম্পানি মাহিকো ও সাতগুরু ম্যানেজমেন্ট কনসালট্যান্ট প্রাইভেট লিমিটেডের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় সাব-লাইসেন্স চুক্তি অনুসারে জিনগত পরিবর্তন ঘটিয়ে উত্পাদিত বিটি বেগুনের মেধাস্বত্ব মনসান্টো ও মাহিকো কোম্পানির হাতে চলে গেছে। চুক্তিটির আর্টিকেল ১ দশমিক ১৯ ধারায় বলা হয়েছে, বিটি বেগুনবীজের মেধাস্বত্ব মনসান্টো-মাহিকো কোম্পানির। আর্টিকেল ১.৬ ধারায় বলা হয়েছে, বিটি বেগুনের বীজ কোম্পানির কাছ থেকে কিনে নিতে হবে। এ চুক্তির আর্টিকেল ৯.২(গ) অনুসারে, বিটি বেগুনবীজের বাণিজ্যিক ও মেধাস্বত্ব অধিকার মনসান্টো-মাহিকো কোম্পানির। বিটি বেগুনবীজ ও প্রযুক্তির বাণিজ্যিক ও মেধাস্বত্ব অধিকারের সংরক্ষণ লঙ্ঘিত হলে কোম্পানি এ চুক্তি বাতিলের অধিকার রাখে। চুক্তির ১.১৯ ও ১.৬ ধারা অনুসারে, বাংলাদেশের নিজস্ব জাতের নয়টি বেগুন, যেগুলোয় বিটি জিন সংযুক্ত করা হয়েছে, সেগুলোর মালিকানা বহুজাতিক কোম্পানির হাতে চলে যাবে। আর্টিকেল ৯.২(গ)-এ বলা হয়েছে, বিটি বেগুনবীজের ও প্রযুক্তির বাণিজ্যিক এবং মেধাস্বত্ব অধিকারের সংরক্ষণ লঙ্ঘিত হলে কোম্পানি এ চুক্তি বাতিলের অধিকার রাখে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশে বিটি জিন প্রয়োগ করা নয়টি জাত হলো— উত্তরা, কাজলা, নয়নতারা, সিংনাথ, চেগা, ইসলামপুরী, দোহাজারি ও আইএসডি ০০৬।
বাংলাদেশের মতো ভারতেও বেগুনের শত শত জাত রয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের বেগুনের জাতগুলো কৃষকের হাতছাড়া করতে বাংলাদেশ সরকার এবং কোম্পানি একসঙ্গে মিলেছে। ভারত সেদিক থেকে সতর্ক রয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশে জনগণের কাছে অগ্রহণযোগ্যভাবে ‘নির্বাচিত’ সরকার ক্ষমতায় রয়েছে। দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ ফসলের মেধাস্বত্ব দিয়ে দেয়া, প্রাণবৈচিত্র্যের ক্ষতি হওয়া এবং এ খাদ্য ফসল ভোগের পর মানবদেহে ক্ষতির সম্ভাবনা নিয়ে উত্কণ্ঠা প্রকাশ করা হলেও তার প্রতি তোয়াক্কা না করেই এবং প্রথম পর্যায়ে চাষের অভিজ্ঞতায় সফল না হয়েও কৃষি মন্ত্রণালয় এককভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে আরো সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে। প্রশ্ন হচ্ছে, আগামীতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা এলে তার সবজির তালিকায় কি এ বিটি বেগুন থাকবে? ইলিশের সঙ্গে বেগুনের স্বাদ অসাধারণ! কিন্তু বিটি বেগুনের যে ক্ষতি, তা কি মমতা নিতে পারবেন? আমাদের সরকার কি তাদের রাষ্ট্রীয় অতিথিদের এ বিটি বেগুনের তরকারি খাওয়াবে?
মমতা ব্যানার্জির জন্য আগামী নির্বাচনে বাংলাদেশের নানা ইস্যু সামনে আসতে পারে। তার মধ্যে বাংলাদেশ থেকে সন্ত্রাস রফতানি হচ্ছে বলে তারা খুব উত্কণ্ঠিত। বিটি বেগুন নিয়ে এ সন্ত্রাসের তুলনা এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে। ভারতের হিন্দুস্তান টাইমস পত্রিকার বরাতে বলা হয়েছে, সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশ থেকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কয়েকটি জেলায় বিটি বেগুনের বীজ পাচার হয়ে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে পশ্চিমবঙ্গের কৃষিমন্ত্রী বেগুনবীজের চোরাচালানের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন (প্রথম আলো, ১১ নভেম্বর, ২০১৪)। হিন্দুস্তান টাইমস পত্রিকার শিরোনামে বলা হয়েছে After terror, Bangladesh sends Bt seeds into India (নভেম্বর ১০, ২০১৪) “Terror is not the only commodity that is entering Bengal through the Bangladesh border. At a time when controversies and debates over the introduction of genetically modified (‰M) crops are raging in the country and the scientific community is yet to give its opinion, Bt Brinjal seeds are being smuggled into West Bengal and farmers in the state are believed to have sown the crop in several districts. অর্থাত্ ভারত বিটি বেগুনের বীজের এ চোরাচালানকে সন্ত্রাসের সঙ্গে তুলনা করছে, যার প্রভাব রাজনৈতিকভাবে বাংলাদেশের জন্য খুব বিপজ্জনক হতে পারে।
মমতা আসেন হাসি মুখে, যাওয়ার সময় তার হাসি আরো বেড়ে গেছে। তিনি বাংলাদেশের মানুষের কাছে এসেছেন, নাকি শুধু একটি দল ও তার সরকারের কাছেই এসেছিলেন, তা বোঝা গেল না। তিনি শেখ হাসিনার জন্য নিজের আঁকা একটি ছবি নিয়ে এসেছিলেন। শেখ হাসিনা একটি ছবি এবং ঢাকাই জামদানি দিয়েছেন মমতাকে।
মমতা ব্যানার্জি আমাদের কিছু দিতে পারবেন না। তার কাছ থেকে কিছু চাইবার আছে কি আমাদের? নেই। তবু আমরা চাই বাংলাভাষীদের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়ুক। প্রত্যাশা যে, সেটা যেন খণ্ডিত না হয়। তাকে আমরা ভালোবাসতে পারি, কোনো অসুবিধা নেই। একটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তার ক্ষমতাও সীমিত।
তার পরও বলব, আবারো আসুন বেড়াতে মুখ্যমন্ত্রী কিংবা একজন সম্মানিত বাঙালি হিসেবে। কিন্তু আপনার আশ্বাস কিংবা আপনার ওপর আস্থা রাখার কথা বলে খামাখা বিব্রত করবেন না আমাদের। নিশ্চিতভাবেই ইলিশ চলে যাবে আর বেগুনের আদি জাত ধ্বংস করার ক্ষেত্রে ভারতীয় কোম্পানিগুলোর তত্পরতা আপনি রোধ করার দায় বোধ করবেন না। আপনি আমাদের স্বার্থ দেখবেন, সে ভরসা করি না। তিস্তার পানির বণ্টনে ভারতীয় অধিকারকেই আপনি অগ্রগণ্য মনে করবেন এটাই স্বাভাবিক। তবুও আমাদের ন্যায্য পানির হিস্যা চাই। শুধু সীমান্তের ওপারের মানুষদের জন্য নয়, পানি এপারের সব মানুষেরই প্রয়োজন।
তাই আগে তিস্তার পানি আসুক। একই সঙ্গে শুধু ইলিশ ওপারে যাবে আর আমাদের বেগুনের ওপর কোম্পানির দখলদারিত্ব থাকবে, এটা মেনে নেয়া যাবে না।
লেখক: নির্বাহী পরিচালক
উন্নয়ন বিকল্পের নীতি নির্ধারণী গবেষণা (উবিনীগ)
Sunday, February 22, 2015
আসুন শহীদ মিনারকে একটি মসজিদ অথবা মন্দিরে পরিণত করি! by ফরহাদ মজহার
শহীদ
মিনার গড়ে উঠেছিল রাজনৈতিক প্রতিবাদের প্রতীক ও হাতিয়ার হিসাবে। প্রতীক,
কারণ রাষ্ট্রীয় সহিংসতা নিপীড়ন অত্যাচার নির্যাতনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের
জনগণের লড়াই ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে একটা বিশেষ ঐতিহাসিক মুহূর্ত হয়ে
উঠেছিল; শহীদ মিনার সেই মুহূর্তের প্রতীক। সমাজে যখনই ন্যায়সঙ্গত লড়াইয়ের
দাবি ওঠে, আমরা বার বার শহীদ মিনারে গিয়ে দাঁড়াই। ফলে লড়াইয়ের সেই বিশেষ
ঐতিহাসিক মুহূর্ত সার্বজনীন তাৎপর্য লাভ করেছে।
অন্যদিকে, একটি জনগোষ্ঠীর রাজনৈতিক পরিগঠন ও রাষ্ট্র হয়ে ওঠার সঙ্গে যে ভাষার সম্পর্ক অঙ্গাঙ্গী, ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আমরা সেটাও শিখেছি। অতএবএই মুহূর্তটিকে শুধু ভাষা আন্দোলনের দিক থেকে বিচার করলে চলবে না। ঔপনিবেশিক ইতিহাসের মধ্যে আরো অনেক প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হবে। যেমন, কেন খেটে খাওয়া কৃষক ও শ্রমিকের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের প্রশ্ন মধ্যবিত্ত শিক্ষিত শ্রেণীর ভাষা ও সংস্কৃতির দাবির সঙ্গে যুক্ত হয়ে গিয়েছিল? ভাষা আন্দোলনে? কী ঐতিহাসিক কারণ ছিল তার?
ইংরেজ ১৭৫৭ সালে এ দেশ দখল করে নেবার পর ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহ অবধি এই দেশের মানুষ—বিশেষত মুসলমান সমাজ ইংরেজি শেখেনি। ততোদিনে হিন্দু মধ্যবিত্ত শ্রেণী গড়ে উঠেছে। বাংলাভাষী মুসলমান তখন অধিকাংশই কৃষক, জোলা, কারিগর ইত্যাদি। সমাজে নিগৃহীত। যখন তারা শিক্ষার দিকে ঝুঁকল তখন অনেক আশা বুকে বেঁধে পাট বেচে মরিচ বেচে ধান বিক্রি করে তারা তাদের সন্তানদের স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে পাঠাতে শুরু করল। তারা পাকিস্তান চেয়েছিল দেশ ভাগ করবার জন্য নয়, জমিদার মহাজনদের নির্যাতন থেকে রেহাই পাবার জন্য। ঐতিহাসিক বাস্তবতা ছিল এমন যে জমিদার ও সুদখোরি মহাজনদের অধিকাংশই ছিল হিন্দু। জমিদার-মহাজনদের বিরুদ্ধে বাংলার কৃষকসহ নিপীড়িত জনগণের স্বার্থের বিরোধ সাতচল্লিশের দেশভাগের একটি প্রধান কারণ। এই দিকটি মনে না রাখলে আমরা যেমন আমাদের নিজেদের বুঝতে ভুল করব, তেমনি কেন বাংলার কৃষক ও খেটে খাওয়া শ্রেণীগুলো মধ্যবিত্ত শ্রেণীর ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষার আন্দোলনে শামিল হোল তার কোন ব্যাখ্যা পাওয়া যাবে না। অর্থাৎ মধ্যবিত্ত শ্রেণীর ভাষা আন্দোলনের পেছনে কেন কৃষক শ্রমিক খেটে খাওয়া মানুষ ঐক্যবদ্ধ হোল তার কোন কারণ খুঁজে পাওয়া যাবে না।
ধান বেচে পাট বেচে মরিচ বিক্রি করে যে-ছেলেমেয়েদের শিক্ষিত করে তুলবার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠানো হয়েছিল তাদের বুকে গুলি চালানো হয়েছে। সেই গুলির রক্তের ছিটা ও ক্ষত কৃষকের বুকে গিয়ে লেগেছে, জোলা, কারিগর মেহনতি মানুষের বুকে গিয়ে লেগেছে। পাঁজর ভেদ করে চলে গিয়েছে। মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মত সংখ্যা-গরিষ্ঠ সাধারণ মানুষের কাছে এই আন্দোলন নিছকই ভাষা ও সংস্কৃতির অধিকার রক্ষার আন্দোলন ছিল না। ঔপনিবেশিক ইংরেজ শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করেছে জনগণ, কিন্তু ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহ ব্যর্থ হবার পর তারা বুঝতে পেরেছিল তাদেরকেও ইংরেজি শিখতে হবে, শিক্ষিত হতে হবে। ভবিষ্যতের আশায় তারা তাদের সন্তানদের স্কুল, কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠাতে শুরু করল। সেই ছাত্রদের যখন খুন করা হোল সেই সময়ের পূর্ব পাকিস্তানে তখন আগুন জ্বলে উঠল।
শুধু প্রতীক নয়, শহীদ মিনার ছিল একই সঙ্গে রাজনৈতিক হাতিয়ার। সেটা আমরা সহজে বুঝতে পারি যখন কোন রাজনৈতিক আন্দোলনের সূচনা ঘটে শহীদ মিনারকে আশ্রয় করে আন্দোলনের দাবিদাওয়া নিজের ন্যায্যতা প্রমাণ করবার চেষ্টা করে। শহীদ মিনার সরগরম হয়ে ওঠে। ঠিক যে শহীদ মিনার শহুরে মধ্যবিত্ত শ্রেণীর দাবিদাওয়ার পাটাতন হিসাবেই প্রধানত ব্যবহৃত হয়ে এসেছে। শ্রমিক, কৃষক খেটে খাওয়া মানুষের ক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে নি। কিন্তু রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসাবে শহীদ মিনারের এই ভূমিকা ছিল অনন্য। শহীদ মিনারের এই রাজনৈতিক তাৎপর্য ক্ষুণ্ণ হয়েছে যখন এর অধঃপতন ঘটেছে মধ্যবিত্ত শ্রেণীর সাংস্কৃতিক মঞ্চে। এই সাংস্কৃতিকতা আবার অধিকাংশ সময় ছিল দলীয়, বাংলাদেশের বিভাজিত রাজনৈতিক বাস্তবতার নগ্ন প্রদর্শন। পতনের ধারাবাহিকতাই চলছিল এতদিন। ফলে শহীদ মিনারের বিরাজনীতিকরণ ঘটেছে দ্রুত। রাজনৈতিক লড়াই সংগ্রামের প্রতীক বা হাতিয়ার হয়ে থাকার অবক্ষয় ঘটেছে মারাত্মকভাবে।
যখন একে তথাকথিত সেক্যুলার মধ্যবিত্ত শ্রেণী মসজিদ বা মন্দিরের বিকল্প হিসাবে ভাবতে ও গণ্য করতে শুরু করেছে তখনএই পতন পচনের রূপ ধরেছে। শহীদ মিনার হয়ে উঠেছে 'পাকপবিত্র' স্থান, তার আবার একটি মূলবেদীও আছে। ‘পবিত্র’, ‘বেদী’ ইত্যাদি ধর্মতাত্ত্বিক চিহ্নে শহীদ মিনারকে ভূষিত করা হয়। দারুণ ইন্টারেস্টিং!
এই পচন কতো গভীর রূপ নিয়েছে সেটা মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের দায়ের করা জনস্বার্থ রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে শহীদ মিনারের ‘মর্যাদা ও পবিত্রতা’ এবং ভাষা আন্দোলনের স্মৃতি রক্ষায় ২৫ আগস্ট ২০১০ তারিখে বুধবার বিচারপতি মোঃ মমতাজ উদ্দিন আহমদ ও বিচারপতি নাঈমা হায়দারের বেঞ্চের দেয়া রায়ের মধ্য দিয়ে ধরা পড়ে। রায়ে প্রতিষ্ঠিত হোল শহীদ মিনারের তাৎপর্য রাজনৈতিক তো নয়ই এমনকি সাংস্কৃতিকও নয়; শহীদ মিনারকে এখন আমাদের মন্দির বা মসজিদের মত ‘পবিত্র’ গণ্য করতে হবে। এটাও আমাদের জানিয়ে দেওয়া হোল শহীদ মিনারে মন্দিরের মতো একটি ‘মূল বেদী’ (!) আছে। শহীদ মিনারের মূল বেদীতে কোন সভা সমাবেশ করা যাবে না। তবে ‘বেদীর পাদদেশে’ সভা সমাবেশ করা যাবে।
শহীদ মিনারে ‘বেদী’ আছে এবং বেদীর পাদদেশও আছে। বেশ। অথচ বাংলাদেশের কোন্ স্থান 'পাকপবিত্র' আর কোথায় 'বেদী' স্থাপিত হয়েছে বা আগামিতে হবে সেই সিদ্ধান্ত নেবার এখতিয়ার আদালতের নয়। বাংলাদেশের সংবিধান আইন প্রণয়নের দায়িত্ব বিচার বিভাগের ওপর ন্যস্ত করে নি। শহীদ মিনারে সভা সমাবেশ করা যাবে কি যাবে না সেই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবার এখতিয়ার আদালতের নাই। এই এখতিয়ার জাতীয় সংসদের। ‘আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধানিষেধ-সাপেক্ষে’ বাংলাদেশের সর্বত্র অবাধ চলাফেরা করা ও শান্তিপূর্ণ ও নিরস্ত্র অবস্থায় ‘সমবেত হইবার এবং জনসভা ও শোভাযাত্রায় যোগদান করিবার অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের থাকিবে।’ (দেখুন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান, অনুচ্ছেদ ৩৬ ও ৩৭।)।
রায়ে আদালত নিজের এখতিয়ারের বাইরে আরো নির্দেশ দিয়েছে। যেমন, “বিশ্ববিদ্যালয় ও সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণ ও মর্যাদা রক্ষা করতে হবে।” আরো আছে, ভাষা আন্দোলনের শহীদদের মরণোত্তর পদক ও জীবিতদের জাতীয় পদক দেয়ার নির্দেশ; জীবিত ভাষা সৈনিকদের কেউ সরকারের কাছে আর্থিক সাহায্য চাইলে তা দেয়ার নির্দেশ। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাশে একটি লাইব্রেরিসহ জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করার নির্দেশ; সেখানে পর্যটকদের জন্য ভাষা আন্দোলনের তথ্য সংক্রান্ত পুস্তিকা রাখার নির্দেশ; ভাষা সৈনিকদের প্রকৃত তালিকা তৈরির জন্য সরকারকে একটি কমিটি গঠন করার নির্দেশ; এমনকি এ বিষয়ে ২০১২ সালের ৩১ জানুয়ারির মধ্যে গেজেট প্রকাশ করার নির্দেশও দেয়া হয়। অন্যান্য নির্দেশের মধ্যে আছে ভাষা সৈনিকদের সব রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো এবং তাদের জন্য সাধ্যমতো সরকারি সুবিধা নিশ্চিত করা, ইত্যাদি।
এই সকল নির্দেশের মধ্যে রাষ্ট্রের বিচার বিভাগ, জাতীয় সংসদ ও নির্বাহী বিভাগ একাকার হয়ে গিয়েছে। এই বিষয়গুলো কেন জনস্বার্থের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সেই দিকও স্পষ্ট নয়। বিচার বিভাগের সীমা কোথায় শুরু আর কোথায় শেষ আদালতের রায় দেখে আর বোঝার উপায় নাই। জনগণের লড়াই ও সংগ্রামের প্রতীক ও হাতিয়ার শহীদ মিনারের এই দুর্দশা দেখে সত্যই করুণা হয়।
রায়ে শহীদ মিনার এলাকায় ভবঘুরেরা যেন ঘোরাফেরা করতে না পারে বা ‘অসামাজিক কার্যকলাপ’ চালাতে না পারে সে জন্য তিন জন নিরাপত্তা প্রহরী নিয়োগ দেওয়ার জন্য তথ্য মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মানুষের কী কার্য সামাজিক আর কোনটাই বা 'অসামাজিক' তার নৈতিক মানদণ্ড ঠিক করে দেবার দায়িত্ব আদালতের নয়। ‘অসামাজিকতা’-র আইনী সংজ্ঞা কী? নৈতিক পরিমণ্ডলের সীমা আইন করে নির্ধারণ করা যায় না। শহীদ মিনারের নির্বাহী ব্যবস্থাপনার সমস্যা রায় দিয়ে সমাধানের চেষ্টাও বিস্ময়কর বটে। শহীদ মিনারের দারোয়ানের সমস্যাকেই আদালত আইন করে নিষ্পত্তি করতে চাইছেন। এতে আদালত কোথায় নেমে আসে সেটা আমরা আদালতকে বিবেচনা করে দেখতে অনুরোধ করব।
ভবঘুরেরা বাংলাদেশের নাগরিক, কিন্তু তাদের হাত থেকে শহীদ মিনার রক্ষা করতে হবে, এই যদি আদালতের রায় হয় তাহলে আদালত নাগরিকদের অধিকার রক্ষা করবে কীভাবে? ঠিক যে শহীদ মিনার এমনভাবে ব্যবহার করা দরকার যাতে তার রাজনৈতিক তাৎপর্য ক্ষুণ্ণ না হয়। যদি রায়ের বাস্তবোচিত মানে করি, তার মানে দাঁড়ায় বাংলাদেশের অবহেলিত, নির্যাতিত সাধারণ যেসব সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ—যেসব ঘরহারা গরিব মানুষ মাঝেমধ্যে শহীদ মিনারে এসে বিশ্রাম নিত, যাদের মাথার ওপর ছাদ নাই, কিচ্ছু নাই, তাদের জন্য শহীদ মিনার নিষিদ্ধ হোল। এই রায় গণমানুষের পক্ষে গেল না। দুর্ভাগ্য আমাদের।
আসুন রায়ের প্রতি যথাযোগ্য সম্মান প্রদর্শনপূর্বক আমরা শহীদ মিনারকে একটি মসজিদ অথবা মন্দিরে পরিণত করি। বাংলাদেশে লড়াই-সংগ্রামের ইতিহাস চুলায় যাক। কী এসে যায় শহীদ মিনার আমাদের বেড়ে ওঠার কোন প্রতীক বা হাতিয়ার কিনা। এই যুগ মসজিদের যুগ, এই যুগ মন্দিরের যুগ। আসুন আমরা আমাদের গোপনে লুকিয়ে রাখা ধর্মান্ধ অনুভূতিগুলোকে শহীদ মিনারে মনের মাধুরি মিশিয়ে সাজাই। তারপর প্রশংসা করি আমাদের সেক্যুলারিজমের। আসুন পাকপবিত্র স্থানগুলোকে আরো পাকপবিত্র করে তুলি, বেদীগুলোকে আরো পূজার ফুল দিয়ে সাজাই!!!
এই তো চাই!
অন্যদিকে, একটি জনগোষ্ঠীর রাজনৈতিক পরিগঠন ও রাষ্ট্র হয়ে ওঠার সঙ্গে যে ভাষার সম্পর্ক অঙ্গাঙ্গী, ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আমরা সেটাও শিখেছি। অতএবএই মুহূর্তটিকে শুধু ভাষা আন্দোলনের দিক থেকে বিচার করলে চলবে না। ঔপনিবেশিক ইতিহাসের মধ্যে আরো অনেক প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হবে। যেমন, কেন খেটে খাওয়া কৃষক ও শ্রমিকের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের প্রশ্ন মধ্যবিত্ত শিক্ষিত শ্রেণীর ভাষা ও সংস্কৃতির দাবির সঙ্গে যুক্ত হয়ে গিয়েছিল? ভাষা আন্দোলনে? কী ঐতিহাসিক কারণ ছিল তার?
ইংরেজ ১৭৫৭ সালে এ দেশ দখল করে নেবার পর ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহ অবধি এই দেশের মানুষ—বিশেষত মুসলমান সমাজ ইংরেজি শেখেনি। ততোদিনে হিন্দু মধ্যবিত্ত শ্রেণী গড়ে উঠেছে। বাংলাভাষী মুসলমান তখন অধিকাংশই কৃষক, জোলা, কারিগর ইত্যাদি। সমাজে নিগৃহীত। যখন তারা শিক্ষার দিকে ঝুঁকল তখন অনেক আশা বুকে বেঁধে পাট বেচে মরিচ বেচে ধান বিক্রি করে তারা তাদের সন্তানদের স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে পাঠাতে শুরু করল। তারা পাকিস্তান চেয়েছিল দেশ ভাগ করবার জন্য নয়, জমিদার মহাজনদের নির্যাতন থেকে রেহাই পাবার জন্য। ঐতিহাসিক বাস্তবতা ছিল এমন যে জমিদার ও সুদখোরি মহাজনদের অধিকাংশই ছিল হিন্দু। জমিদার-মহাজনদের বিরুদ্ধে বাংলার কৃষকসহ নিপীড়িত জনগণের স্বার্থের বিরোধ সাতচল্লিশের দেশভাগের একটি প্রধান কারণ। এই দিকটি মনে না রাখলে আমরা যেমন আমাদের নিজেদের বুঝতে ভুল করব, তেমনি কেন বাংলার কৃষক ও খেটে খাওয়া শ্রেণীগুলো মধ্যবিত্ত শ্রেণীর ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষার আন্দোলনে শামিল হোল তার কোন ব্যাখ্যা পাওয়া যাবে না। অর্থাৎ মধ্যবিত্ত শ্রেণীর ভাষা আন্দোলনের পেছনে কেন কৃষক শ্রমিক খেটে খাওয়া মানুষ ঐক্যবদ্ধ হোল তার কোন কারণ খুঁজে পাওয়া যাবে না।
ধান বেচে পাট বেচে মরিচ বিক্রি করে যে-ছেলেমেয়েদের শিক্ষিত করে তুলবার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠানো হয়েছিল তাদের বুকে গুলি চালানো হয়েছে। সেই গুলির রক্তের ছিটা ও ক্ষত কৃষকের বুকে গিয়ে লেগেছে, জোলা, কারিগর মেহনতি মানুষের বুকে গিয়ে লেগেছে। পাঁজর ভেদ করে চলে গিয়েছে। মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মত সংখ্যা-গরিষ্ঠ সাধারণ মানুষের কাছে এই আন্দোলন নিছকই ভাষা ও সংস্কৃতির অধিকার রক্ষার আন্দোলন ছিল না। ঔপনিবেশিক ইংরেজ শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করেছে জনগণ, কিন্তু ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহ ব্যর্থ হবার পর তারা বুঝতে পেরেছিল তাদেরকেও ইংরেজি শিখতে হবে, শিক্ষিত হতে হবে। ভবিষ্যতের আশায় তারা তাদের সন্তানদের স্কুল, কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠাতে শুরু করল। সেই ছাত্রদের যখন খুন করা হোল সেই সময়ের পূর্ব পাকিস্তানে তখন আগুন জ্বলে উঠল।
শুধু প্রতীক নয়, শহীদ মিনার ছিল একই সঙ্গে রাজনৈতিক হাতিয়ার। সেটা আমরা সহজে বুঝতে পারি যখন কোন রাজনৈতিক আন্দোলনের সূচনা ঘটে শহীদ মিনারকে আশ্রয় করে আন্দোলনের দাবিদাওয়া নিজের ন্যায্যতা প্রমাণ করবার চেষ্টা করে। শহীদ মিনার সরগরম হয়ে ওঠে। ঠিক যে শহীদ মিনার শহুরে মধ্যবিত্ত শ্রেণীর দাবিদাওয়ার পাটাতন হিসাবেই প্রধানত ব্যবহৃত হয়ে এসেছে। শ্রমিক, কৃষক খেটে খাওয়া মানুষের ক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে নি। কিন্তু রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসাবে শহীদ মিনারের এই ভূমিকা ছিল অনন্য। শহীদ মিনারের এই রাজনৈতিক তাৎপর্য ক্ষুণ্ণ হয়েছে যখন এর অধঃপতন ঘটেছে মধ্যবিত্ত শ্রেণীর সাংস্কৃতিক মঞ্চে। এই সাংস্কৃতিকতা আবার অধিকাংশ সময় ছিল দলীয়, বাংলাদেশের বিভাজিত রাজনৈতিক বাস্তবতার নগ্ন প্রদর্শন। পতনের ধারাবাহিকতাই চলছিল এতদিন। ফলে শহীদ মিনারের বিরাজনীতিকরণ ঘটেছে দ্রুত। রাজনৈতিক লড়াই সংগ্রামের প্রতীক বা হাতিয়ার হয়ে থাকার অবক্ষয় ঘটেছে মারাত্মকভাবে।
যখন একে তথাকথিত সেক্যুলার মধ্যবিত্ত শ্রেণী মসজিদ বা মন্দিরের বিকল্প হিসাবে ভাবতে ও গণ্য করতে শুরু করেছে তখনএই পতন পচনের রূপ ধরেছে। শহীদ মিনার হয়ে উঠেছে 'পাকপবিত্র' স্থান, তার আবার একটি মূলবেদীও আছে। ‘পবিত্র’, ‘বেদী’ ইত্যাদি ধর্মতাত্ত্বিক চিহ্নে শহীদ মিনারকে ভূষিত করা হয়। দারুণ ইন্টারেস্টিং!
এই পচন কতো গভীর রূপ নিয়েছে সেটা মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের দায়ের করা জনস্বার্থ রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে শহীদ মিনারের ‘মর্যাদা ও পবিত্রতা’ এবং ভাষা আন্দোলনের স্মৃতি রক্ষায় ২৫ আগস্ট ২০১০ তারিখে বুধবার বিচারপতি মোঃ মমতাজ উদ্দিন আহমদ ও বিচারপতি নাঈমা হায়দারের বেঞ্চের দেয়া রায়ের মধ্য দিয়ে ধরা পড়ে। রায়ে প্রতিষ্ঠিত হোল শহীদ মিনারের তাৎপর্য রাজনৈতিক তো নয়ই এমনকি সাংস্কৃতিকও নয়; শহীদ মিনারকে এখন আমাদের মন্দির বা মসজিদের মত ‘পবিত্র’ গণ্য করতে হবে। এটাও আমাদের জানিয়ে দেওয়া হোল শহীদ মিনারে মন্দিরের মতো একটি ‘মূল বেদী’ (!) আছে। শহীদ মিনারের মূল বেদীতে কোন সভা সমাবেশ করা যাবে না। তবে ‘বেদীর পাদদেশে’ সভা সমাবেশ করা যাবে।
শহীদ মিনারে ‘বেদী’ আছে এবং বেদীর পাদদেশও আছে। বেশ। অথচ বাংলাদেশের কোন্ স্থান 'পাকপবিত্র' আর কোথায় 'বেদী' স্থাপিত হয়েছে বা আগামিতে হবে সেই সিদ্ধান্ত নেবার এখতিয়ার আদালতের নয়। বাংলাদেশের সংবিধান আইন প্রণয়নের দায়িত্ব বিচার বিভাগের ওপর ন্যস্ত করে নি। শহীদ মিনারে সভা সমাবেশ করা যাবে কি যাবে না সেই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবার এখতিয়ার আদালতের নাই। এই এখতিয়ার জাতীয় সংসদের। ‘আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধানিষেধ-সাপেক্ষে’ বাংলাদেশের সর্বত্র অবাধ চলাফেরা করা ও শান্তিপূর্ণ ও নিরস্ত্র অবস্থায় ‘সমবেত হইবার এবং জনসভা ও শোভাযাত্রায় যোগদান করিবার অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের থাকিবে।’ (দেখুন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান, অনুচ্ছেদ ৩৬ ও ৩৭।)।
রায়ে আদালত নিজের এখতিয়ারের বাইরে আরো নির্দেশ দিয়েছে। যেমন, “বিশ্ববিদ্যালয় ও সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণ ও মর্যাদা রক্ষা করতে হবে।” আরো আছে, ভাষা আন্দোলনের শহীদদের মরণোত্তর পদক ও জীবিতদের জাতীয় পদক দেয়ার নির্দেশ; জীবিত ভাষা সৈনিকদের কেউ সরকারের কাছে আর্থিক সাহায্য চাইলে তা দেয়ার নির্দেশ। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাশে একটি লাইব্রেরিসহ জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করার নির্দেশ; সেখানে পর্যটকদের জন্য ভাষা আন্দোলনের তথ্য সংক্রান্ত পুস্তিকা রাখার নির্দেশ; ভাষা সৈনিকদের প্রকৃত তালিকা তৈরির জন্য সরকারকে একটি কমিটি গঠন করার নির্দেশ; এমনকি এ বিষয়ে ২০১২ সালের ৩১ জানুয়ারির মধ্যে গেজেট প্রকাশ করার নির্দেশও দেয়া হয়। অন্যান্য নির্দেশের মধ্যে আছে ভাষা সৈনিকদের সব রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো এবং তাদের জন্য সাধ্যমতো সরকারি সুবিধা নিশ্চিত করা, ইত্যাদি।
এই সকল নির্দেশের মধ্যে রাষ্ট্রের বিচার বিভাগ, জাতীয় সংসদ ও নির্বাহী বিভাগ একাকার হয়ে গিয়েছে। এই বিষয়গুলো কেন জনস্বার্থের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সেই দিকও স্পষ্ট নয়। বিচার বিভাগের সীমা কোথায় শুরু আর কোথায় শেষ আদালতের রায় দেখে আর বোঝার উপায় নাই। জনগণের লড়াই ও সংগ্রামের প্রতীক ও হাতিয়ার শহীদ মিনারের এই দুর্দশা দেখে সত্যই করুণা হয়।
রায়ে শহীদ মিনার এলাকায় ভবঘুরেরা যেন ঘোরাফেরা করতে না পারে বা ‘অসামাজিক কার্যকলাপ’ চালাতে না পারে সে জন্য তিন জন নিরাপত্তা প্রহরী নিয়োগ দেওয়ার জন্য তথ্য মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মানুষের কী কার্য সামাজিক আর কোনটাই বা 'অসামাজিক' তার নৈতিক মানদণ্ড ঠিক করে দেবার দায়িত্ব আদালতের নয়। ‘অসামাজিকতা’-র আইনী সংজ্ঞা কী? নৈতিক পরিমণ্ডলের সীমা আইন করে নির্ধারণ করা যায় না। শহীদ মিনারের নির্বাহী ব্যবস্থাপনার সমস্যা রায় দিয়ে সমাধানের চেষ্টাও বিস্ময়কর বটে। শহীদ মিনারের দারোয়ানের সমস্যাকেই আদালত আইন করে নিষ্পত্তি করতে চাইছেন। এতে আদালত কোথায় নেমে আসে সেটা আমরা আদালতকে বিবেচনা করে দেখতে অনুরোধ করব।
ভবঘুরেরা বাংলাদেশের নাগরিক, কিন্তু তাদের হাত থেকে শহীদ মিনার রক্ষা করতে হবে, এই যদি আদালতের রায় হয় তাহলে আদালত নাগরিকদের অধিকার রক্ষা করবে কীভাবে? ঠিক যে শহীদ মিনার এমনভাবে ব্যবহার করা দরকার যাতে তার রাজনৈতিক তাৎপর্য ক্ষুণ্ণ না হয়। যদি রায়ের বাস্তবোচিত মানে করি, তার মানে দাঁড়ায় বাংলাদেশের অবহেলিত, নির্যাতিত সাধারণ যেসব সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ—যেসব ঘরহারা গরিব মানুষ মাঝেমধ্যে শহীদ মিনারে এসে বিশ্রাম নিত, যাদের মাথার ওপর ছাদ নাই, কিচ্ছু নাই, তাদের জন্য শহীদ মিনার নিষিদ্ধ হোল। এই রায় গণমানুষের পক্ষে গেল না। দুর্ভাগ্য আমাদের।
আসুন রায়ের প্রতি যথাযোগ্য সম্মান প্রদর্শনপূর্বক আমরা শহীদ মিনারকে একটি মসজিদ অথবা মন্দিরে পরিণত করি। বাংলাদেশে লড়াই-সংগ্রামের ইতিহাস চুলায় যাক। কী এসে যায় শহীদ মিনার আমাদের বেড়ে ওঠার কোন প্রতীক বা হাতিয়ার কিনা। এই যুগ মসজিদের যুগ, এই যুগ মন্দিরের যুগ। আসুন আমরা আমাদের গোপনে লুকিয়ে রাখা ধর্মান্ধ অনুভূতিগুলোকে শহীদ মিনারে মনের মাধুরি মিশিয়ে সাজাই। তারপর প্রশংসা করি আমাদের সেক্যুলারিজমের। আসুন পাকপবিত্র স্থানগুলোকে আরো পাকপবিত্র করে তুলি, বেদীগুলোকে আরো পূজার ফুল দিয়ে সাজাই!!!
এই তো চাই!
Saturday, February 21, 2015
৯ দিনে ১৭ বিরোধী নেতাকর্মী হত্যা by মেহেদী হাসান
ফেব্রুয়ারি
মাসের প্রথম নয় দিনে ঢাকাসহ সারা দেশে কমপক্ষে ১৭ জন বিরোধী রাজনৈতিক
নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে। এদের অধিকাংশই কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে
বলে আইনশঙ্খলা বাহিনীর দাবি। নিহত ১৭ জনের মধ্যে দই/তিনজন বাদে সবার
রাজনৈতিক পরিচয় প্রকাশ করা হয়েছে গণমাধ্যমে পরিবেশিত খবরে। নিহত ১৭ জনের
মধ্যে কয়েকজন নিখোঁজ হবার পর তাদের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করা হয়েছে তবে
তাদের হত্যার দায় আইনশঙ্খলা বাহিনী শিকার করেনি । কিন্তু নিহতদের পরিবারের
পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের ধরে নিয়ে যাবার পর তাদের
হত্যা করা হয়েছে। নিখোঁজ হবার পর যাদের লাশ পাওয়া গেছে তাদের সবারই মাথায়
এবং বুকে কয়েকটি করে গুলির চিহ্ন রয়েছে।
কেউ নিখোঁজ হবার পর তার লাশ উদ্ধার হলেই কেবল পরিবারের সদস্যরা জানতে পারে সে নিহত হয়েছে এবং তখন তা পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হয়। কিন্তু লাশ উদ্ধার না হলে তাদের নিহত হবার খবর চাপাই থেকে যায়। সেক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মী নিহতের প্রকৃত সংখ্যা আড়ালেই থেকে যাচ্ছে।
বন্দুক যুদ্ধে নিহত হবার ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে যে বিবৃতি ইস্যু করা হয় বা গণমাধ্যমের কাছে মৌখিক যে জবাব দেয়া হয় তার সবগুলো গল্প হুবহু একই। অর্থাৎ আটককৃত ব্যক্তির দেয়া তথ্য অনুযায়ী গোপন স্থানে অস্ত্র উদ্ধার করতে যাওয়ার পর সেখানে ওৎ পেতে থাকা তার সহযোগীরা তাদের ওপর গুলি ও বোমা বর্ষণ শুরু করে এবং আটকৃত ব্যক্তিকে ছিনিয়ে নিতে চায়। এসময় আইনশঙ্খলা বাহিনীও তাদের ওপর পাল্টা গুলি চালালে অমুক অমুক ঘটনা স্থলে নিহত হয়। অথবা নিহত ব্যক্তি আইনশঙ্খলা বাহিনীর গাড়ি বা পাবলিক গাড়ি লক্ষ্য করে বোমা মারার সময় গুলিতে সে নিহত হয়েছে।
আগে এসব হত্যাকান্ডকে ক্রসফায়ার হিসেবে আখ্যায়িত করা হত। এখন এর নাম দেয়া হয়েছে বন্দুকযুদ্ধ। তবে সবচেয়ে ভয়াবহ এবং শিহরিত যেটি তাহল এখন নিহতের ঘটনার পর কোন কোন ক্ষেত্রে বলা হচ্ছে তারা ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছে।
ডেইলি স্টার, নিউএজ এবং ইন্ডিপেন্ডেট পত্রিকায় ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম ৯ দিনে যে ১৭টি হত্যাকান্ডের ঘটনা প্রকাশিত হয়েছে তা এখানে তুলে ধরা হল।
ধরে নেয়ার পর আরো তিজন নিহত ‘বন্দুকযুদ্ধে’
৮ ফ্রেব্রুয়ারি রোববার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে কথিত বন্দুকযুদ্ধে আরো তিনজন বিরোধী নেতাকর্মী নিহত হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের ধরে নিয়ে যাওয়ার পর ‘বন্দুকযুদ্ধে’র মাধ্যমে তাদের হত্যার খবর প্রকাশিত হয়।
রোববার ভোররাতে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর এলাকায় ইসলামী ছাত্রশিবির নেতা জসিম উদ্দিন ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয় বলে পুলিশের দাবি। তবে নিহতের ভাই আনিসুর রহমান দাবি করেছেন শনিবার জসিম উদ্দিনকে আগারগাও থেকে ধরে নিয়ে যায় পুলিশ। তখন থেকে সে নিখোঁজ ছিল। তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। জসিম উদ্দিন কাজিপাড়া সিদ্দিকিয়া সিনিয়ার ফাজিল মাদ্রাসায় পড়ত।
কুমিল্লায় কালা স্বপন নামে (২৭) একজন বন্দুক যুদ্ধে নিহত হয়েছে। কুমিল্লা সদর (দক্ষিণ) ওসি প্রশান্ত লাল জানান স্বপনকে শনিবার গ্রেফতার করা হয়। পরে তাকে নিয়ে ভাতপারায় অস্ত্র উদ্ধার করতে গেলে ঘটনাস্থলে ওৎপেতে থাকা তার সহযোগীরা পুলিশের ওপর গুলি চালায় । এসময় পুলিশও পাল্টা জবাব দিলে বন্দুকযুদ্ধে সে নিহত হয়।
একই দিন রাজু আহমেদ নামে যশোরের কথিত এক শীর্ষ সন্ত্রাসী র্যাবের সাথে ‘বন্দুক যুদ্ধে’ নিহত হয়েছে বলে দাবি র্যাবের।
যাত্রাবাড়িতে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ যুবক নিহত
৯ ফেব্রুয়ারি সোমবার ভোররাতে রাসেল সরদার নামে এক যুবক ডিবির সাথে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের মর্গে রাসেলের নিথর দেহ জড়িয়ে ধরে তার নববিবাহিতা স্ত্রী শেফালী বেগম বিলাপ করছে।
পরিবারের দাবি রসেল দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে একটি মোবাইল সার্ভিসিংয়ের দোকানে কাজ করত। শেফালী বেগম জানান, বৃহষ্পতিবার ১১টায় সে বাসা থেকে বের হয়। এরপর তার আর কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি। অনেক খোঁজাখুুঁজির পর রোববার ভোররাতে ঢাকা মেডিক্যালের মর্গে রাসেলের লাশ শনাক্ত করে পরিবারের সদস্যরা।
ডিবি পুলিশের দাবি সোমবার ভোররাত ৩টার দিকে যাত্রাবাড়ির মাতুয়াইল এলাকায় একদল সন্ত্রাসী ডিবি ভ্যানে বোমা ছোড়ে। তারা এসময় ডিবির গাড়ি লক্ষ্য করে গুলিও চালায়। তখন পুলিশ তাদের প্রতি পাল্টা গুলি করলে বন্দুকযুদ্ধে রাসেল নিহত হয়।
এদিকে ৯ ফেব্রুয়ারি সোমবার কুমিল্লার হাসানপুর এলাকায় রাস্তার পাশে ডোবা থেকে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। দাউদকান্দি হাইওয়ে পুলিশ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য সে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যেতে পারে।
কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজে রাখা নিহতের লাশ দেখে তাকে সনাক্ত করে তার পরিবারের সদস্যরা। তার নাম সোহেল। সে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা ছাত্রদলের সাথে জড়িত ছিল। পরিবারের দাবি তাকে শনিবার সন্ধ্যায় সাদা পোশাকের পুলিশ ধরে নিয়ে যায় এবং এরপর তাকে হত্যা করা হয়েছে।
একইদিন রাজধানীর মিরপুরের কালসি এলাকায় বুলেটে ক্ষতবিক্ষত এক যুবকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
শিবির নেতাকে গুলি করে হত্যা
৭ ফেব্রুয়ারি পিরোজপুর জেলার স্বরূপকাঠী উপজেলায় ছাত্র শিবির নেতা বাচ্চু (২৬) তথাকথিক বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে।
জামায়াত শিবিরের তিন নেতাকর্মী গুলি করে হত্যা
৬ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলা ছাত্রশিবির সভাপতি শাহাবুদ্দিন পাটওয়ারি পুলিশের কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে।
চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ওসি উত্তম চক্রবর্ত্তী বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে টহলের সময় ২০ জনের মত একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ পুলিশের গাড়িতে বোমা ছোড়ে এবং গুলি চালায়। এতে পুলিশের পাল্টা গুলিতে শাহাবুদ্দিন পাটওয়ারী নিহত হয়।
শাহাবুদ্দিনের বোন ফারজানা জানান, বৃহষ্পতিবার বিকাল চারটায় শুক্রবার শাহাবুদ্দিনকে গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে যায়। শুক্রবার সকালে শাহাবুদ্দিনের মৃত্যুর খবর পাই।
ফারজানা জানান, তার ভাই কোন বন্দুকযুদ্ধে মারা যাননি বরং তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।
শাহাবুদ্দিন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
একই দিন রাবির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক শাহাবুদ্দিন রিপন কথিক বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়। রাজশাহী মেট্রোপলিটন এর ডেপুটি পুলিশ কমিশনার একেএম নাহিদুল ইসলাম বলেন, বৃহষ্পতিবার রাত একটার সময় ১৫ জনের মত একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ পুলিশের গাড়ি লক্ষ্য করে বোমা ছোড়ে। এসময় পুলিশ পাল্টা আক্রমন চালায়। গোলাগুলির পর গুলিবিদ্ধ তিনজন শিবির কর্মী আটক করা হয় ঘটনাস্থল থেকে। পরে তাদের রাজশাহী মেডিক্যালে নেয়া হলে শাহাবুদ্দিন রিপনকে ডাক্তাররা মৃত ঘোষনা করে।
নিহত রিপন রাবি শেষ বর্ষের ছাত্র । গ্রেফতারকৃত অপর দুজন শিবির নেতা কর্মী হল হাবিবুর রহমান এবং মফিজুর রহমান। হাবিবুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের হবিবরুর রহমান হল শিবির শাখা সভাপতি। আর মফিজুর রহমান একজন কর্মী।
মজার বিষয় হল তিনজনেরই উরুতে গুলিবিদ্ধ হয়েছে। আহতহ মফিজুর রহমান জানান, বৃহষ্পতিবার রাত আটটার দিকে তারা একটি বিবাহ অনুষ্ঠান থেকে ফিরছিলেন। এসময় কাপাসিয়া এলাকা থেকে তাদের তিনজনকে পুলিশ ধরে নিয়ে যায় মতিয়ার থানায়। ওই রাতে আরো পরে পুলিশ আমার চোখ বেঁধে একটি জায়গায় নিয়ে যায় এবং মাটিতে শুইয়ে উরুতে গুলি করে।
রাবি শিবির শাখা প্রচার সম্পাদক ফরহাদ রেজা জানান, পুলিশ পরিকল্পিতভাবে রিপনকে হত্যা করেছে এবং পরে মিথ্যা গল্প সাজিয়েছে। রাতে তারা নিঁেখাজ হবার পর তাদের আত্মীয় স্বজনরা তাদের খোঁজ করে। কিন্তু পুলিশ তাদের গ্রেফতারের কথা অস্বীকার করে।
যশোর
একই দিন সাতক্ষিরা জামায়াত কর্মী শহিদুল ইসলাম (৩৫) পুলিশের কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে। তার বাড়ি সদর থানার কাশিপুর গ্রামে। যশোর মেডিক্যাল কলেজের তার লাশ রাখা হয়। কুমিল্লা এবং রাবিতে শাহাবুদ্দিন নামের নিহত দুজনের ক্ষেত্রে পুলিশ যে বন্দুকযুদ্ধের বিবরন দিয়েছে শহিদুলের ক্ষেত্রেও ঠিক একই কাহিনীর কথা জানিয়েছে যশোর পুলিশ সদর দফতর।
মিরপুরে বন্দুকযুদ্ধে যুবক নিহত
৫ ফেব্রুয়ারি বৃহষ্পিতিবার ভোররাতে পুলিশের সাথে কথিত বন্দুযুদ্ধে ২২ বছরের এক যুবক নিহত হয়। মিরপুর থানার এসআই জহিরুল ইসলাম জানান, পূর্ব মনিপুর এলাকায় বুধবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে পুলিশের টহল গাড়ি লক্ষ করে বিএনপি-জামায়াত-শিবির কর্মীরা গুলি চালায় এবং বোমা ছোড়ে। এসময় পুলিশের পাল্টা আক্রমন চালায়। ঘটনাস্থল থেকে গুলিবিদ্ধ একজনকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যালে নেয়ার পর ডাক্তাররা তাকে মৃত ঘোষনা করে। ঘটনার দুইদিন পরে ঢাকা মেডিক্যালের মর্গে নিহত যুবকের লাশ সনাক্ত করে তার পরিবারের সদস্যরা। নিহতের নাম মনির হোসেন। তার ভাই ইসরাফিল জানান, বুধবার রাতে মনিরকে একটি মেস থেকে পুলিশ আটক করে।
যাত্রাবাড়িতে র্যাবের সাথে বন্দুকযুদ্ধে ২ যুবক নিহত
বুধবার ৪ ফেব্রুয়ারি ভোররাতে র্যাবের সাথে কথিত বন্দুকযুদ্ধে ২ যুবক নিহত হয়। তাদের বয়স ২৫ থেকে ৩০ এর মধ্যে। র্যাব-১০ এর কমান্ডিং অফিসার জামিল আহমেদ বলেন, মঙ্গলবার দিবাগত রাত সোয়া দুইটার সময় র্যাব-১০ মাতুয়াইলে টাহল দিচ্ছিল। হঠাৎ একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ র্যাবের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি এবং বোমা ছোড়ে। র্যাবও তখন পাল্টা জবাব দেয়। পরে ঘটনাস্থল থেকে গুলিবিদ্ধ এবং রক্তাক্ত অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করে ঢাকা মেড্যিকালে নেয়া হলে ডাক্তার তাদের মৃত ঘোষনা করে।
৬ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার ডেইলি স্টারের একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে নিহত এ দুই যুবকের নাম উল্লেখ করা হয়েছে শাখাওয়াত হোসেন রাহাত এবং মুজাহিদুল ইসলাম জিহাদ। পরিবারের দাবি রাহাতকে অপহরন করা হয়েছিল এবং জিহাদ ১১ দিন ধরে নিখোঁজ ছিল। রাহাতের পরিবার জানায় ২১ জানুয়ারি কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ থেকে তাকে অপহরন করা হয়। রাহাতের মাত সুফিয়া বেগম জানান, ২৭ জানুয়ারি তেজগাও থানায় অপহরন মামলা দায়ের করেন। রাহাত ফার্মগেটে একটি পার্টসের দোকানে কাজ করত। অপহরনের পরদিন দোকানের মালিক শাহ আলমও রাহাতের নামে একটি সাধারন ডায়েরি করেন থানায়। শাহ আলাম জানান, ঘটনার দিন রাহাত লাঞ্চ প্যাকেট কেনার জন্য সুগন্ধা রেস্টুরেন্টে যাচ্ছিল। হঠাৎ করে আমি তার চিৎকার শুনলাম। এসময় দেখলাম তিন/চারজন মিলে তাকে একটি গাড়িতে তুলে নিয়ে গেল।
এরপর বৃহষ্পতিবার রাহাতের পরিবার তার লাশ পেল কথিত বন্দুক যুদ্ধে নিহতের পর।
জিহাদের ভাই সোহাগ জানান, ১১ দিন ধরে জিহাদ নিখোঁজ ছিল। এরপর পত্রিকায় তার ছবি দেখে ঢাকা মেডিক্যালে গিয়ে লাশ সনাক্ত করি।
২ যুবদল কর্মী হত্যা
মঙ্গলবার ৩ ফেব্রুয়ারি যশোরে যুবদলের দুই জন কর্মী নিহত হয়েছে। পুলিশের দাবি মনিরামপুর-যশোর রোডে পুলিশের গাড়িতে বোমা মারার সময় তারা ট্রাক চাপায় নিহত হয়েছে।
নিহতরা হল লিটন আলী (২২) এবং ইউসুফ মিয়া (২৫) । দুজনেরই বাড়ি মনিরামপুর।
মনিরামপুর থানার ওসি কবিরউদ্দিন বলেন মঙ্গলবার ভোররাত ৫টার সময় তারা ট্রাকে আগুন দেয়ার চেষ্টা করলে ট্রাক চাপায় ঘটনাস্থলে মারা যায়।
যশোর মেডিক্যাল কলেজে ইউসুফের চাচা আবদুল মান্নান সাংবাদিকদের জানান, সোমবার রাত আটটার দিকে তাদের দুজনকে গাংরা গ্রাম থেকে ধরে নিয়ে যায় পুলিশ। তাদের খোঁজে আমি মঙ্গলবার মনিরামপুর থানায় গেলে পুলিশ আমাকে জানায় তারা সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছে।
পুলিশ হেফাজতে জামায়াত নেতার মৃত্যু
সোমবার ২ ফেব্রুয়ারি সাইদুল ইসলাম (৪৮) নামে এক জামায়াত নেতা সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে মারা যান। তিনি বাকুয়া ইউনিয়ন জামায়াত সাধারন সম্পাদক ছিলেন।
সিরাজগঞ্জ এসপি এমরান হোসেন বলেন, জামায়াত নেতাকর্মীরা বাকুয়ায় গোপন বৈঠক করছিল। পুলিশ অভিযানে গেলে তারা টের পেয়ে পুলিশের প্রতি বোমা ছোড়ে। পুলিশও পাল্টা জবাব দেয়। এতে অনেকে আহত হয়। সাইদুল ইসলামকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হলে রাত আড়াটায় সে মারা যায়।
পারিবারিক এবং দলীয় সূত্র পুলিশের এ বক্তব্যকে মিথ্যা গল্প আখ্যায়িত করে জানিয়েছে শহিদুল ইসলামকে পুলিশ রোববার গ্রেফতার করে । এরপর গভীর রাতে ঠান্ডা মাথায় তাকে হত্যা করা হয়েছে।
কেউ নিখোঁজ হবার পর তার লাশ উদ্ধার হলেই কেবল পরিবারের সদস্যরা জানতে পারে সে নিহত হয়েছে এবং তখন তা পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হয়। কিন্তু লাশ উদ্ধার না হলে তাদের নিহত হবার খবর চাপাই থেকে যায়। সেক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মী নিহতের প্রকৃত সংখ্যা আড়ালেই থেকে যাচ্ছে।
বন্দুক যুদ্ধে নিহত হবার ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে যে বিবৃতি ইস্যু করা হয় বা গণমাধ্যমের কাছে মৌখিক যে জবাব দেয়া হয় তার সবগুলো গল্প হুবহু একই। অর্থাৎ আটককৃত ব্যক্তির দেয়া তথ্য অনুযায়ী গোপন স্থানে অস্ত্র উদ্ধার করতে যাওয়ার পর সেখানে ওৎ পেতে থাকা তার সহযোগীরা তাদের ওপর গুলি ও বোমা বর্ষণ শুরু করে এবং আটকৃত ব্যক্তিকে ছিনিয়ে নিতে চায়। এসময় আইনশঙ্খলা বাহিনীও তাদের ওপর পাল্টা গুলি চালালে অমুক অমুক ঘটনা স্থলে নিহত হয়। অথবা নিহত ব্যক্তি আইনশঙ্খলা বাহিনীর গাড়ি বা পাবলিক গাড়ি লক্ষ্য করে বোমা মারার সময় গুলিতে সে নিহত হয়েছে।
আগে এসব হত্যাকান্ডকে ক্রসফায়ার হিসেবে আখ্যায়িত করা হত। এখন এর নাম দেয়া হয়েছে বন্দুকযুদ্ধ। তবে সবচেয়ে ভয়াবহ এবং শিহরিত যেটি তাহল এখন নিহতের ঘটনার পর কোন কোন ক্ষেত্রে বলা হচ্ছে তারা ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছে।
ডেইলি স্টার, নিউএজ এবং ইন্ডিপেন্ডেট পত্রিকায় ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম ৯ দিনে যে ১৭টি হত্যাকান্ডের ঘটনা প্রকাশিত হয়েছে তা এখানে তুলে ধরা হল।
ধরে নেয়ার পর আরো তিজন নিহত ‘বন্দুকযুদ্ধে’
৮ ফ্রেব্রুয়ারি রোববার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে কথিত বন্দুকযুদ্ধে আরো তিনজন বিরোধী নেতাকর্মী নিহত হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের ধরে নিয়ে যাওয়ার পর ‘বন্দুকযুদ্ধে’র মাধ্যমে তাদের হত্যার খবর প্রকাশিত হয়।
রোববার ভোররাতে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর এলাকায় ইসলামী ছাত্রশিবির নেতা জসিম উদ্দিন ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয় বলে পুলিশের দাবি। তবে নিহতের ভাই আনিসুর রহমান দাবি করেছেন শনিবার জসিম উদ্দিনকে আগারগাও থেকে ধরে নিয়ে যায় পুলিশ। তখন থেকে সে নিখোঁজ ছিল। তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। জসিম উদ্দিন কাজিপাড়া সিদ্দিকিয়া সিনিয়ার ফাজিল মাদ্রাসায় পড়ত।
কুমিল্লায় কালা স্বপন নামে (২৭) একজন বন্দুক যুদ্ধে নিহত হয়েছে। কুমিল্লা সদর (দক্ষিণ) ওসি প্রশান্ত লাল জানান স্বপনকে শনিবার গ্রেফতার করা হয়। পরে তাকে নিয়ে ভাতপারায় অস্ত্র উদ্ধার করতে গেলে ঘটনাস্থলে ওৎপেতে থাকা তার সহযোগীরা পুলিশের ওপর গুলি চালায় । এসময় পুলিশও পাল্টা জবাব দিলে বন্দুকযুদ্ধে সে নিহত হয়।
একই দিন রাজু আহমেদ নামে যশোরের কথিত এক শীর্ষ সন্ত্রাসী র্যাবের সাথে ‘বন্দুক যুদ্ধে’ নিহত হয়েছে বলে দাবি র্যাবের।
যাত্রাবাড়িতে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ যুবক নিহত
৯ ফেব্রুয়ারি সোমবার ভোররাতে রাসেল সরদার নামে এক যুবক ডিবির সাথে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের মর্গে রাসেলের নিথর দেহ জড়িয়ে ধরে তার নববিবাহিতা স্ত্রী শেফালী বেগম বিলাপ করছে।
পরিবারের দাবি রসেল দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে একটি মোবাইল সার্ভিসিংয়ের দোকানে কাজ করত। শেফালী বেগম জানান, বৃহষ্পতিবার ১১টায় সে বাসা থেকে বের হয়। এরপর তার আর কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি। অনেক খোঁজাখুুঁজির পর রোববার ভোররাতে ঢাকা মেডিক্যালের মর্গে রাসেলের লাশ শনাক্ত করে পরিবারের সদস্যরা।
ডিবি পুলিশের দাবি সোমবার ভোররাত ৩টার দিকে যাত্রাবাড়ির মাতুয়াইল এলাকায় একদল সন্ত্রাসী ডিবি ভ্যানে বোমা ছোড়ে। তারা এসময় ডিবির গাড়ি লক্ষ্য করে গুলিও চালায়। তখন পুলিশ তাদের প্রতি পাল্টা গুলি করলে বন্দুকযুদ্ধে রাসেল নিহত হয়।
এদিকে ৯ ফেব্রুয়ারি সোমবার কুমিল্লার হাসানপুর এলাকায় রাস্তার পাশে ডোবা থেকে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। দাউদকান্দি হাইওয়ে পুলিশ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য সে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যেতে পারে।
কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজে রাখা নিহতের লাশ দেখে তাকে সনাক্ত করে তার পরিবারের সদস্যরা। তার নাম সোহেল। সে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা ছাত্রদলের সাথে জড়িত ছিল। পরিবারের দাবি তাকে শনিবার সন্ধ্যায় সাদা পোশাকের পুলিশ ধরে নিয়ে যায় এবং এরপর তাকে হত্যা করা হয়েছে।
একইদিন রাজধানীর মিরপুরের কালসি এলাকায় বুলেটে ক্ষতবিক্ষত এক যুবকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
শিবির নেতাকে গুলি করে হত্যা
৭ ফেব্রুয়ারি পিরোজপুর জেলার স্বরূপকাঠী উপজেলায় ছাত্র শিবির নেতা বাচ্চু (২৬) তথাকথিক বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে।
জামায়াত শিবিরের তিন নেতাকর্মী গুলি করে হত্যা
৬ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলা ছাত্রশিবির সভাপতি শাহাবুদ্দিন পাটওয়ারি পুলিশের কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে।
চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ওসি উত্তম চক্রবর্ত্তী বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে টহলের সময় ২০ জনের মত একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ পুলিশের গাড়িতে বোমা ছোড়ে এবং গুলি চালায়। এতে পুলিশের পাল্টা গুলিতে শাহাবুদ্দিন পাটওয়ারী নিহত হয়।
শাহাবুদ্দিনের বোন ফারজানা জানান, বৃহষ্পতিবার বিকাল চারটায় শুক্রবার শাহাবুদ্দিনকে গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে যায়। শুক্রবার সকালে শাহাবুদ্দিনের মৃত্যুর খবর পাই।
ফারজানা জানান, তার ভাই কোন বন্দুকযুদ্ধে মারা যাননি বরং তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।
শাহাবুদ্দিন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
একই দিন রাবির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক শাহাবুদ্দিন রিপন কথিক বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়। রাজশাহী মেট্রোপলিটন এর ডেপুটি পুলিশ কমিশনার একেএম নাহিদুল ইসলাম বলেন, বৃহষ্পতিবার রাত একটার সময় ১৫ জনের মত একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ পুলিশের গাড়ি লক্ষ্য করে বোমা ছোড়ে। এসময় পুলিশ পাল্টা আক্রমন চালায়। গোলাগুলির পর গুলিবিদ্ধ তিনজন শিবির কর্মী আটক করা হয় ঘটনাস্থল থেকে। পরে তাদের রাজশাহী মেডিক্যালে নেয়া হলে শাহাবুদ্দিন রিপনকে ডাক্তাররা মৃত ঘোষনা করে।
নিহত রিপন রাবি শেষ বর্ষের ছাত্র । গ্রেফতারকৃত অপর দুজন শিবির নেতা কর্মী হল হাবিবুর রহমান এবং মফিজুর রহমান। হাবিবুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের হবিবরুর রহমান হল শিবির শাখা সভাপতি। আর মফিজুর রহমান একজন কর্মী।
মজার বিষয় হল তিনজনেরই উরুতে গুলিবিদ্ধ হয়েছে। আহতহ মফিজুর রহমান জানান, বৃহষ্পতিবার রাত আটটার দিকে তারা একটি বিবাহ অনুষ্ঠান থেকে ফিরছিলেন। এসময় কাপাসিয়া এলাকা থেকে তাদের তিনজনকে পুলিশ ধরে নিয়ে যায় মতিয়ার থানায়। ওই রাতে আরো পরে পুলিশ আমার চোখ বেঁধে একটি জায়গায় নিয়ে যায় এবং মাটিতে শুইয়ে উরুতে গুলি করে।
রাবি শিবির শাখা প্রচার সম্পাদক ফরহাদ রেজা জানান, পুলিশ পরিকল্পিতভাবে রিপনকে হত্যা করেছে এবং পরে মিথ্যা গল্প সাজিয়েছে। রাতে তারা নিঁেখাজ হবার পর তাদের আত্মীয় স্বজনরা তাদের খোঁজ করে। কিন্তু পুলিশ তাদের গ্রেফতারের কথা অস্বীকার করে।
যশোর
একই দিন সাতক্ষিরা জামায়াত কর্মী শহিদুল ইসলাম (৩৫) পুলিশের কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে। তার বাড়ি সদর থানার কাশিপুর গ্রামে। যশোর মেডিক্যাল কলেজের তার লাশ রাখা হয়। কুমিল্লা এবং রাবিতে শাহাবুদ্দিন নামের নিহত দুজনের ক্ষেত্রে পুলিশ যে বন্দুকযুদ্ধের বিবরন দিয়েছে শহিদুলের ক্ষেত্রেও ঠিক একই কাহিনীর কথা জানিয়েছে যশোর পুলিশ সদর দফতর।
মিরপুরে বন্দুকযুদ্ধে যুবক নিহত
৫ ফেব্রুয়ারি বৃহষ্পিতিবার ভোররাতে পুলিশের সাথে কথিত বন্দুযুদ্ধে ২২ বছরের এক যুবক নিহত হয়। মিরপুর থানার এসআই জহিরুল ইসলাম জানান, পূর্ব মনিপুর এলাকায় বুধবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে পুলিশের টহল গাড়ি লক্ষ করে বিএনপি-জামায়াত-শিবির কর্মীরা গুলি চালায় এবং বোমা ছোড়ে। এসময় পুলিশের পাল্টা আক্রমন চালায়। ঘটনাস্থল থেকে গুলিবিদ্ধ একজনকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যালে নেয়ার পর ডাক্তাররা তাকে মৃত ঘোষনা করে। ঘটনার দুইদিন পরে ঢাকা মেডিক্যালের মর্গে নিহত যুবকের লাশ সনাক্ত করে তার পরিবারের সদস্যরা। নিহতের নাম মনির হোসেন। তার ভাই ইসরাফিল জানান, বুধবার রাতে মনিরকে একটি মেস থেকে পুলিশ আটক করে।
যাত্রাবাড়িতে র্যাবের সাথে বন্দুকযুদ্ধে ২ যুবক নিহত
বুধবার ৪ ফেব্রুয়ারি ভোররাতে র্যাবের সাথে কথিত বন্দুকযুদ্ধে ২ যুবক নিহত হয়। তাদের বয়স ২৫ থেকে ৩০ এর মধ্যে। র্যাব-১০ এর কমান্ডিং অফিসার জামিল আহমেদ বলেন, মঙ্গলবার দিবাগত রাত সোয়া দুইটার সময় র্যাব-১০ মাতুয়াইলে টাহল দিচ্ছিল। হঠাৎ একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ র্যাবের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি এবং বোমা ছোড়ে। র্যাবও তখন পাল্টা জবাব দেয়। পরে ঘটনাস্থল থেকে গুলিবিদ্ধ এবং রক্তাক্ত অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করে ঢাকা মেড্যিকালে নেয়া হলে ডাক্তার তাদের মৃত ঘোষনা করে।
৬ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার ডেইলি স্টারের একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে নিহত এ দুই যুবকের নাম উল্লেখ করা হয়েছে শাখাওয়াত হোসেন রাহাত এবং মুজাহিদুল ইসলাম জিহাদ। পরিবারের দাবি রাহাতকে অপহরন করা হয়েছিল এবং জিহাদ ১১ দিন ধরে নিখোঁজ ছিল। রাহাতের পরিবার জানায় ২১ জানুয়ারি কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ থেকে তাকে অপহরন করা হয়। রাহাতের মাত সুফিয়া বেগম জানান, ২৭ জানুয়ারি তেজগাও থানায় অপহরন মামলা দায়ের করেন। রাহাত ফার্মগেটে একটি পার্টসের দোকানে কাজ করত। অপহরনের পরদিন দোকানের মালিক শাহ আলমও রাহাতের নামে একটি সাধারন ডায়েরি করেন থানায়। শাহ আলাম জানান, ঘটনার দিন রাহাত লাঞ্চ প্যাকেট কেনার জন্য সুগন্ধা রেস্টুরেন্টে যাচ্ছিল। হঠাৎ করে আমি তার চিৎকার শুনলাম। এসময় দেখলাম তিন/চারজন মিলে তাকে একটি গাড়িতে তুলে নিয়ে গেল।
এরপর বৃহষ্পতিবার রাহাতের পরিবার তার লাশ পেল কথিত বন্দুক যুদ্ধে নিহতের পর।
জিহাদের ভাই সোহাগ জানান, ১১ দিন ধরে জিহাদ নিখোঁজ ছিল। এরপর পত্রিকায় তার ছবি দেখে ঢাকা মেডিক্যালে গিয়ে লাশ সনাক্ত করি।
২ যুবদল কর্মী হত্যা
মঙ্গলবার ৩ ফেব্রুয়ারি যশোরে যুবদলের দুই জন কর্মী নিহত হয়েছে। পুলিশের দাবি মনিরামপুর-যশোর রোডে পুলিশের গাড়িতে বোমা মারার সময় তারা ট্রাক চাপায় নিহত হয়েছে।
নিহতরা হল লিটন আলী (২২) এবং ইউসুফ মিয়া (২৫) । দুজনেরই বাড়ি মনিরামপুর।
মনিরামপুর থানার ওসি কবিরউদ্দিন বলেন মঙ্গলবার ভোররাত ৫টার সময় তারা ট্রাকে আগুন দেয়ার চেষ্টা করলে ট্রাক চাপায় ঘটনাস্থলে মারা যায়।
যশোর মেডিক্যাল কলেজে ইউসুফের চাচা আবদুল মান্নান সাংবাদিকদের জানান, সোমবার রাত আটটার দিকে তাদের দুজনকে গাংরা গ্রাম থেকে ধরে নিয়ে যায় পুলিশ। তাদের খোঁজে আমি মঙ্গলবার মনিরামপুর থানায় গেলে পুলিশ আমাকে জানায় তারা সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছে।
পুলিশ হেফাজতে জামায়াত নেতার মৃত্যু
সোমবার ২ ফেব্রুয়ারি সাইদুল ইসলাম (৪৮) নামে এক জামায়াত নেতা সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে মারা যান। তিনি বাকুয়া ইউনিয়ন জামায়াত সাধারন সম্পাদক ছিলেন।
সিরাজগঞ্জ এসপি এমরান হোসেন বলেন, জামায়াত নেতাকর্মীরা বাকুয়ায় গোপন বৈঠক করছিল। পুলিশ অভিযানে গেলে তারা টের পেয়ে পুলিশের প্রতি বোমা ছোড়ে। পুলিশও পাল্টা জবাব দেয়। এতে অনেকে আহত হয়। সাইদুল ইসলামকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হলে রাত আড়াটায় সে মারা যায়।
পারিবারিক এবং দলীয় সূত্র পুলিশের এ বক্তব্যকে মিথ্যা গল্প আখ্যায়িত করে জানিয়েছে শহিদুল ইসলামকে পুলিশ রোববার গ্রেফতার করে । এরপর গভীর রাতে ঠান্ডা মাথায় তাকে হত্যা করা হয়েছে।
Subscribe to:
Posts (Atom)
BNM Special
BNM Archive
BNM Archive
- ▼ 2026 (2236)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (129)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
Recent Comments
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
প্রথম আলো
আন্তর্জাতিক
মানবজমিন
আলোচনা
কালের কণ্ঠ
উপ-সম্পাদকীয়
যুগান্তর
প্রথম পাতা
মতামত
জাতীয়
সমকাল
নয়া দিগন্ত
রাজনীতি
জনকণ্ঠ
সুশীল কথন
ভারত
অর্থনীতি
বিনোদন
শেষের পাতা
ক্রিকেট খেলা
যুক্তরাষ্ট্র
মধ্যপ্রাচ্য
দেশে দেশে
স্পেশাল প্রতিবেদন
নির্বাচন
প্রথম আলো
খেলা
খোলা কলম
আইন আদালত ও বিচার
আমার দেশ
ইসরায়েল
ফুটবল খেলা
বাংলানিউজ
মুক্তধারা
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
ফিলিস্তিন
Lead
রাজধানী
অপরাধ
আন্দোলন
এক্সক্লুসিভ
আইন ও মানবাধিকার
ইরান
নারী
শিক্ষা
বিএনপি
সারা বিশ্ব
ক্রিকেট
সাহিত্য
পাকিস্তান
মুক্তমঞ্চ
কালবেলা
আওয়ামী লীগ
বাংলা ট্রিবিউন
শিশু
দুর্নীতি
সারা দেশ
চট্টগ্রাম
বিশাল বাংলা
ব্রেকিং নিউজ
সাউথ এশিয়ান মনিটর
সিলেট
ক্রীড়া
পার্সটুডে
অর্থ
খালেদা জিয়া
অর্থ ও বাণিজ্য
শিল্প বাণিজ্য
চীন
বিবিসি বাংলা
কাশ্মীর
চতুরঙ্গ
খবরাখবর
প্রধানমন্ত্রী
বিশ্ব
হত্যা
নতুন বার্তা
ধর্ম
স্মরণ
যুক্তরাজ্য
গল্প
মুসলিম
শিক্ষাঙ্গন
শেখ হাসিনা
রাশিয়া
ফুটবল
জাতিসংঘ
বার্তা২৪ ডটনেট
রস+আলো
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
সাক্ষাৎকার
মুক্তিযুদ্ধ
মিডিয়া
ইউরোপ
সৌদি আরব
হরতাল-অবরোধ
খেলা ধুলা
ইতিহাস
ছাত্রলীগ
প্রতিবেদন
জামায়াতে ইসলামী
সোহরাব হাসান
অমানবিক
পশ্চিমবঙ্গ
আলোকিত চট্টগ্রাম
আইন
চাষাবাদ- কৃষি ও কৃষক
ফিচার
ভ্রমণ
মিজানুর রহমান খান
ওয়েছ খছরু
খোলা চোখে
বাংলাদেশ-ভারত
ইসলাম ও সমাজ
সিরিয়া
যৌন নির্যাতন
নারায়ণগঞ্জ
জাতীয় সংসদ
নারী ধর্ষণ
আনন্দ
বিজ্ঞান ও গবেষণা
খেলাধুলা
ব্যাংকিং ও বিনিয়োগ
আফ্রিকা
মাদক
সন্ত্রাস
আনিসুল হক
যৌন আবেদনময়ী
সংখ্যালঘু
প্রবাস
ছুটির দিনে
মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান
তুরস্ক
সৈয়দ আবুল মকসুদ
নকশা
বিজ্ঞান প্রজন্ম ও কম্পিউটার
আফগানিস্তান
গোল্লাছুট
বইপত্র
অন্য আলো
ড. মুহাম্মদ ইউনূস
প্রতারণা
ছবি
ইউক্রেন
টাইমস্ আই বেঙ্গলী
প্রকৃতি
ব্যবসা বাণিজ্য
দুর্ঘটনা
অপহরণ
সাহিত্যালোচনা
গার্মেন্টস শিল্প শ্রমিক
জাতীয় পার্টি
রাজশাহী
স্টেডিয়াম
স্বাস্থ্য
তরুণ প্রজন্ম
দীন ইসলাম
মানবাধিকার
ফূটবল খেলা
হিন্দু
রোহিঙ্গা
মিজানুর রহমান
মশিউল আলম
আইন ও বিচার
আলী যাকের
রুদ্র মিজান
মানবকণ্ঠ
খুলনা
হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ
Exclusive
আব্দুল কাইয়ুম
নেপাল
মালয়েশিয়া
তারেক শামসুর রেহমান
আসিফ নজরুল
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
সাজেদুল হক
ফারুক ওয়াসিফ
কাফি কামাল
মৌলভীবাজার
হাসান ফেরদৌস
আনন্দ কণ্ঠ
তৃতীয় পাতা
যাপিত জীবন
ইয়েমেন
জ্যোতির্বিজ্ঞান
সড়ক দুর্ঘটনা
আলী রীয়াজ
ক্রিখেট খেলা
ফুটবল খলা
বদরুদ্দীন উমর
মরিয়ম চম্পা
রংপুর
শিল্প ও সাহিত্য
টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া
নতুনের জানালা
বৃষ্টি ও বন্যা
মোস্তফা কামাল
কক্সবাজার
এ এম এম শওকত আলী
ঢাকা
বন্ধুসভা
সংবিধান ও রাষ্ট্র
বগুড়া
মিয়ানমার
ঈদ বিশেষ সংখ্যা
গবেষণা
বাংলাদেশ
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি
মিসর
অবৈধ-অনিয়ম-কারচুপি
এ কে এম জাকারিয়া
নির্বাচনী কূটনীতি
বদিউল আলম মজুমদার
জীবনযাপন
শোক
এম আবদুল হাফিজ
পরিবেশ
সংস্কৃতি
ফ্রান্স
খবর
বাংলাদেশে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
শুভ্র দেব
অজয় দাশগুপ্ত
প্রজন্ম ডট কম
আবুল কাশেম
আমদানি ও রপ্তানি
কিশোরগঞ্জ
লেবানন
আবদুল মান্নান
কুমিল্লা
জাপান
রঙের মেলা
ঐতিহ্য
শিল্প
মুক্তমত
মাহমুদুর রহমান
রাজনৈতিক আলোচনা
শরিফুল হাসান
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল
পার্বত্য চট্টগ্রাম
ময়মনসিংহ
সংবাদ২৪.নেট
সীমান্ত সন্ত্রাস
ইরাক
আহমদ রফিক
ইফতেখার মাহমুদ
কাজের খবর
স্বপ্ন নিয়ে
টাঙ্গাইল
যশোর
HotTopic
চিকিৎসা
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়
অমর সাহা
আনোয়ার হোসেন
আলী ইমাম মজুমদার
গাজীপুর
রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন
আবুল মোমেন
থাইল্যান্ড
মুফতি এনায়েতুল্লাহ
শ্রীলঙ্কা
কলকাতা
তথ্য প্রযুক্তি
মেহেদী হাসান
পরিবেশ-জীববৈচিত্র্য
রসালোচনা
কামরুজ্জামান মিলু
বরগুনা
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
আনু মুহাম্মদ
কাজী সোহাগ
স্মৃতিচারণ
কুলদীপ নায়ার
ব্রাজিল
সারাবেলা
অস্ট্রেলিয়া
মারুফ কিবরিয়া
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
অন্য দিগন্ত
মহিউদ্দীন জুয়েল
মানসুরা হোসাইন
মুনতাসীর মামুন
শিরোনাম
শেখ রোকন
আবু সাঈদ খান
জেল থেকে জেলে
ফেসবুক
মহিউদ্দিন আহমদ
সংবাদ
কবিতা
বিশ্বজিৎ চৌধুরী
মসজিদ
আলী হাবিব
প্রকৃতি ও পরিবেশ
শিল্প ও বাণিজ্য
শেষ পাতা
আবু আহমেদ
এম সাখাওয়াত হোসেন
নুরুজ্জামান লাবু
নূর মোহাম্মদ
সুভাষ সাহা
আতাউস সামাদ
আলোচনা মতামত
অর্থনীতি ও বানিজ্য
এবিএম মূসা
আতাউর রহমান
কামাল আহমেদ
পিয়াস সরকার
আসাম
বরিশাল
রংবেরং
রাহীদ এজাজ
রোকনুজ্জামান পিয়াস
শ্রদ্ধাঞ্জলি
আশরাফুল ইসলাম
ফেনী
রণজিৎ বিশ্বাস
প্রকৃতি ও বিজ্ঞান
অরুণ কর্মকার
উত্তর কোরিয়া
মোস্তফা হোসেইন
একরামুল হক
জলবায়ু ও পরিবেশ
আশীষ-উর-রহমান
একরামুল হক শামীম
কালি ও কলম
তুহিন ওয়াদুদ
ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ
অপরাজিতা
ইন্দোনেশিয়া
জাগোনিউজ২৪.কম
মইনুল ইসলাম
মানিকগঞ্জ
মুহম্মদ জাফর ইকবাল
মোশতাক আহমেদ
আশরাফুল হক রাজীব
ফরহাদ মাহমুদ
প্রণব বল
শংকর কুমার দে
সেলিম জাহিদ
আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ
কামরুল হাসান
জনস্বাস্থ্য
পার্থ প্রতীম ভট্টাচার্য্য
রাজীব আহমেদ
শিল্পী
সাময়িকী ফ্যাশন
দেবব্রত চক্রবর্তী বিষ্ণু
বিদ্যুৎ
মোরসালিন মিজান
রবার্ট ফিস্ক
কুষ্টিয়া
নিবন্ধ
অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য
ঈদ
কাজী সুমন
জাতীয় নাগরিক পার্টি
ঝিলিমিলি
মুস্তাফা জামান আব্বাসী
মনজুরুল হক
মহসীন হাবিব
মাহবুব মোর্শেদ
রফিকুল ইসলাম
শিলালিপি
শুভ রহমান
চৌধুরী মুমতাজ আহমদ
ছিটমহল
jugantor
নোবেল পুরস্কার
পাঠকের মতামত
পাবনা
মোশাররফ বাবলু
উচ্চশিক্ষা
তানভীর সোহেল
মামুন রশীদ
আনন্দ প্রতিদিন
উৎপল রায়
এনামুল হক
কাজল ঘোষ
নদী দূষণ
নাটোর
নিত্যপণ্য
ফাহিমা আক্তার সুমি
বাংলা নববর্ষ
চারু শিল্প
দিল্লি
বিজ্ঞান
ভেনেজুয়েলা
শওকত হোসেন
নজরুল ইসলাম
নিউজিল্যান্ড
প্রযুক্তি
কাতার
পার্থ সারথি দাস
মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
আদিবাসী
গোলাম মর্তুজা
ফরহাদ মজহার
শারমিন নাহার
principalsanaullah
কালের খেয়া
ফখরুল ইসলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
মুখোমুখি প্রতিদিন
মোহীত উল আলম
রাহাত খান
অমিতোষ পাল
কানাডা
গল্পালোচনা
পানি আগ্রাসন
বিশ্বজিৎ পাল বাবু
মাহবুব তালুকদার
আব্দুল কুদ্দুস
বিদেশ
WikiOpinion
তোফায়েল আহমেদ
তৌহিদা শিরোপা
আলোকিত বাংলাদেশ
কাদের সিদ্দিকী
ড. আবু এন এম ওয়াহিদ
ফারুক মঈনউদ্দীন
মোছাব্বের হোসেন
উৎপল শুভ্র
দিনাজপুর
নোমান মোহাম্মদ
সুদীপ অধিকারী
অরূপ দত্ত
ঝড় ও দুর্যোগ
পাভেল পার্থ
ফরিদপুর
ফিরোজ মান্না
মাসুদ পারভেজ
রোজিনা ইসলাম
শরিফুজ্জামান
শিশির মোড়ল
হামিদ-উজ-জামান মামুন
আকমল হোসেন
আজিজুর রহমান
আলম শাইন
তারেক মাহমুদ
দীপংকর চন্দ
পাভেল হায়দার চৌধুরী
ফখরে আলম
মাসুদ রানা
শহিদুল ইসলাম
হুমায়ূন আহমেদ
আবুল হাসনাত
আরব আমিরাত বা দুবাই
আল আমিন
আসিফ আহমেদ
ইশতিয়াক পারভেজ
জিয়া চৌধুরী
হারুন হাবীব
অমিত বসু
ওমর ফারুক
জার্মানি
ফজলুল বারী
ফারুক চৌধুরী
মাসুদ মিলাদ
লাতিন আমেরিকা
শর্মিলা সিনড্রেলা
শাহাদুজ্জামান
হায়দার আকবর খান রনো
জাবেদ রহিম বিজন
জাহাঙ্গীর আলম
ট্রানজিট
নন্দন
যতীন সরকার
যুবলীগ
আরিফুজ্জামান তুহিন
কাজী আনিছ
খাবার
গাজীউল হাসান খান
তারেক রহমান
বাংলার দিগন্ত
মোহাম্মদ কায়কোবাদ
শেখ হাফিজুর রহমান
শৈলী
সাতকানিয়া
সুদান
কাজী হাফিজ
জোবাইদা নাসরীন
নিয়ামত হোসেন
মাহফুজুর রহমান মানিক
লুৎফর রহমান রনো
ইমরান আলী
এস এম আজাদ
জাহাঙ্গীর শাহ
মাহমুদুর রহমান মান্না
মুশফিকুর রহমান
সাতক্ষীরা
ইকতেদার আহমেদ
উৎসব
ঝিনাইদহ
মাসুদা ভাট্টি
মোকারম হোসেন
শেখ সাবিহা আলম
সিরাজগঞ্জ
সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ
হারুন আল রশীদ
WikiEducation
উজ্জ্বল মেহেদী
কনকচাঁপা
ড. মাহফুজ পারভেজ
পরিতোষ পাল
ব্যবসা
মিঠুন চৌধুরী
শাহদীন মালিক
হায়দার আলী
আহমেদ জামাল
ইমদাদুল হক মিলন
নওগাঁ
পোশাকশিল্প
বাতায়ন
আবু সালেহ আকন
এমাজউদ্দীন আহমদ
টিপু সুলতান
ড. মাহবুব উল্লাহ্
ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী
শোকাবহ ১৫ ও ২১ আগস্ট
WikiInternational
ইসলাম
এবনে গোলাম সামাদ
দক্ষিণ কোরিয়া
পারভেজ খান
ফজলুল আলম
ফরিদা আখতার
বিভাষ বাড়ৈ
মাহমুদুজ্জামান বাবু
মুনির হাসান
মোশতাক আহমদ
লিবিয়া
সুনামগঞ্জ
আপেল মাহমুদ
জহির উদ্দিন বাবর
নোয়াখালী
রিপন আনসারী
শরীফুল ইসলাম
সুব্রত আচার্য্য
উপন্যাস
কাল স্রোত
ক্রীড়া দিগন্ত
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ
গাজীউল হক
জাহীদ রেজা নূর
শাহনেওয়াজ বিপ্লব
সাইদুজ্জামান
সাময়িকী
অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী
অনন্যা আশরাফ
অনিকা ফারজানা
আদিত্য আরাফাত
ইফতেখার আহমেদ টিপু
কামাল লোহানী
ড. সা'দত হুসাইন
তামান্না ইসলাম অলি
ফারজানা লাবনী
ফারুক যোশী
মনজুর আহমেদ
রিয়েল-টাইম নিউজ
আসজাদুল কিবরিয়া
কাক ছোট গল্প
ছিনতাই
জলবায়ু
বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন
মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী
রশিদ মামুন
লক্ষ্মীপুর
সম্পাদকীয়
সাইফুদ্দীন চৌধুরী
সুমন বর্মণ
BBC
ইমরান রহমান
ইলিরা দেওয়ান
এম শাহজাহান
নওশাদ জামিল
নুরুন্নবী চৌধুরী
প্রতীক ওমর
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
বিকাশ দত্ত
মনিরুজ্জামান
মহিউদ্দিন আহমেদ
উইঘুর মুসলিম
দৈনিক ইত্তেফাক
পিটার কাস্টার্স
পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রিয় চট্রগ্রাম
বাজেট
বাণিজ্য
মোবাশ্বির আলম মজুমদার
সঞ্জয় সাহা পিয়াল
হবিগঞ্জ
Hot Topic
খুন
জোহরান মামদানি
টাকা আনা পাই
মহাকাশচারী
মাহবুবুর রহমান
শুভজ্যোতি ঘোষ
হাছান কুতুবী
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
Fantastic
আবিষ্কার
ড. কামাল
দৈনিক ইনকিলাব
ফিলিপাইন
ভুটান
নিয়ন আলোয়
সাভার
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ
ইতালি
গ্রিনল্যান্ড
শফিক রহমান
শামীমুল হক
শেয়ারবাজার
আইন আদালত
নারী নির্যাতন
পটুয়াখালী
ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
মণিপুর
মাগুরা
মেক্সিকো
অনিম আরাফাত
কিরণ শেখ
জাভেদ ইকবাল
দুদক
রাঙ্গামাটি
Art Mag
আরিফুল ইসলাম
প্রতিবাদ
প্রবাসী বাঙালি
বান্দরবান
মালদ্বীপ
শফিকুল ইসলাম
শিক্ষানীতি
সংবিধান
ইহুদি
ডিডাব্লিউ
নরসিংদী
শরিফ রুবেল
কিশোর আলো
কূটনীতি
গাইবান্ধা
জলবায়ু পরিবর্তন
ঝালকাঠি
নাইজেরিয়া
বায়ুদূষণ
যৌন অপরাধ
শাহনাজ পারভীন
স্বাধীনতা
WikiCity
WikiPolitics
বৌদ্ধ
মতিউর রহমান চৌধুরী
WikiInterview
আকবর হোসেন
ইসলামী ছাত্রশিবির
দৈনিক সংগ্রাম
Exclusive Articles
WikiEconomy
WikiLaw
ঘূর্ণিঝড়-হারিকেন
চুয়াডাঙ্গা
বাগেরহাট
ভূমিকম্প
রাজনৈতিক
সমিতির খবর
সানজানা চৌধুরী
সায়েদুল ইসলাম
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
আমাদের সময় ডট কম
কুতুবদিয়া স্পেশাল
খাগড়াছড়ি
গণমাধ্যম
ধর্মঘট
স্পেন
আইন ও আদালত
কাদির কল্লোল
তাইওয়ান
দুর্গোৎসব ও পূজা
দৈনিক আমার সংবাদ
নববর্ষ বিশেষ সংখ্যা 2013.
নূরে আলম সিদ্দিকী
প্রতিক্রিয়া
বিডিআর বিদ্রোহ
ব্যাংক
মুন্সীগঞ্জ
শিশুসাহিত্য
খ্রিষ্টধর্ম
গদ্যকার্টুন
পিরোজপুর
প্রতিদিনের সংবাদ
ভোরের কাগজ
রুমিন ফারহানা
Hit
আর্জেন্টিনা
বন্যা
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
সরল গরল
Asia
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
ডেনমার্ক
পরামর্শ
প্রকৃত্
ভাষা
ভোলা
MERIT
Soikot
WikiWoman
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
উন্নয়ন
জর্ডান
জ্বালানি
পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ফ্যাশন
রঞ্জন বসু
সাংসদ
হরতাল
WikiCrime
উইকিলিকস
ক্রিকেট ও রাজনীতি
গণতন্ত্র
গোপালগঞ্জ
চাঁদপুর
চিত্রকর্ম
ছাত্ররাজনীতি
জঙ্গিবাদ
জন্মদিন
তেল-গ্যাস
দক্ষিণ ধুরুং
দূর পরবাস
নাকিবুল আহসান নিশাদ
নারী অধিকার
নোবেল শান্তি পুরস্কার
পঞ্চগড়
পরীক্ষা
প্রবাসী শ্রমিক
বিজয় দিবস
মেঘালয়
রাঙামাটি
শিশুমৃত্যু
সুশাসনের জন্য নাগরিক
সোমালিয়া
হামলা
আন্দালিব রাশদী
ঈদুল আজহা
এনটিভি
কক্সবাজার নিউজ ডটকম
কলম্বিয়া
কুতুবদিয়া নিউজ
চট্টগ্রাম বন্দর
চিঠিপত্র
ছাত্র রাজনীতি
ঠাকুরগাঁও
ডিজিটাল বাংলাদেশ
তথ্য অধিকার
তিউনিসিয়া
দুর্যোগ
দ্বিজেন শর্মা
নির্যাতন
নড়াইল
বেলজিয়াম
ভারতের প্রধানমন্ত্রী
মরক্কো
মৃত্যু
শারদীয় দুর্গোত্সব
শিশুহত্যা
সালমান রাফি শেখ
সুবীর ভৌমিক
সুশাসন
স্মৃতি
হংকং
Africa
My Art
অধিকার
আন্তর্জাতিক নারী দিবস
একুশে টেলিভিশন
ওমান
কুয়েত
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
চুক্তি
নির্বাচন ও রাজনীতি
নেত্রকোণা
পরিবহন
পর্যটন কেন্দ্র
প্রশাসন
ফ্রান্সিস বুলাতসিঙ্ঘালা
বন্য প্রাণী
বিশ্বকাপ ফুটবল
বড়ঘোপ
ভি এস নাইপল
ভৈরব
মাওবাদী
মামলা
যানজট
লেমশীখালী
সংসদ
সমাজ
সামাজ
সুজন সুপান্থ
সুন্দরবন
সৈয়দ দিদার বখত
Middle East
Principal Sanaullah
Special Day
অগ্নিসংযোগ
অমৃতবাজার পত্রিকা
অরবিন্দ কেজরিওয়াল
আইন ও অধিকার
আগুন ও মৃত্যু
আজকের কাগজ
আল মাহমুদ
আহসান কবির
এম.এ মান্নান
এল সালভাদোর
কমল জোহা খান
কিউবা
খাদ্যসমস্যা
জঙ্গি
জর্দান
তথ্য অধিকার আইন
দ্য ডেইলি স্টার বাংলা
পানামা
পূর্বপশ্চিম
প্রাণি ও উদ্ভিদ
বঙ্গবন্ধু হত্যা বিচার
বেলুচিস্তান
ভিয়েতনাম
ভোরের ঈদ ১৯
ভয়েস অফ আমেরিকা
যায়যায়দিন
লালমনিরহাট
শিক্ষা অধিকার
শিক্ষা ও সমাজব্যবস্থা
শিশুশিক্ষা
শেরপুর
শ্রমিক
সন্ত্রাসবাদ
সিঙ্গাপুর
সুইডেন
NEWS
Palestine
fd
অরণ্যে রোদন
অরুণাচল
অর্থনৈতিক
অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক
অ্যান্টার্কটিকা
আহমেদ মুনির
ইকরাম সেহগাল
উত্তর ধুরুং
উমর মনজুর শাহ
একুশে ফেব্রুয়ারি
ঐতিহাসিক
কিশোরকণ্ঠ
কুড়িগ্রাম
কোরবান
ঘূর্ণিঝড়
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন
জাইমা রহমান
জাদুঘর
জামালপুর
জীবন
জেসমিন আখতার
জ্বালানি তেল
টেলিভিশন
তথ্যপ্র্রযুক্তি
তুষার আবদুল্লাহ
দেশপ্রেম
দৈনিক কক্সবাজার
নাগরিক সংবাদ
নারীঅধিকার
নিরাপত্তা
নির্বাচিত
নেদারল্যান্ডস
পাহাড়
পয়লা বৈশাখ
বঙ্গবন্ধু
বন্দর
বিশ্ব অর্থনীতি
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা
মহান বিজয় দিবস
মা
মাদারীপুর
মানবতা
মানববন্ধন
মিজোরাম
মিডিয়া ভাবনা
মে দিবস
রাজবাড়ী
শরীয়তপুর
শিক্ষা দিবস
শিক্ষা-প্রশাসন
শুভ বড়দিন
সজীব ওয়াজেদ জয়
সময়চিত্র
সরেজমিন প্রতিবেদন
সাতকানিয়া পৌরসভা
সুইজ়ারল্যান্ড
সুশান্ত মজুমদার
স্মরণ সভা
স্মর্রণ
হাসান আজিজুল হক
America
Burma
Child
China
Hot Video
Huw Cordey
Latin America
Marwan Barghouti
Tom Geoghegan
Tom Heap
Washington
kolkata24x7
অমানবিকতা
আহমদ ছফা
উখিয়া
উত্সব
উদ্যোগ
এসিড-সন্ত্রাস
ওয়াসি আহমেদ
কর্মসূচি
কেনিয়া
ঘড়ি
চট্টগ্রাম বন্দর
চাকরি
চারদিক
চীন ও জাপান
জনসংখ্যা
জাকির তালুকদার
জাহাজ
জাহিদ হোসাইন খান
জায়গা
জায়মা জারনাজ রহমান
জীবনী
জেলহত্যা দিবস
জ্বালানী সম্পদ
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন
ড. সাজিদ হক
ডিজিটাল
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন
তিব্বত
ত্রিপুরা
নগরজীবন
নরওয়ে
নিবন্ধন
নীলফামারী
পবিত্র আশুরা
পবিত্র ঈদুল ফিতর
পরিকল্পনা
পানিসম্পদ
পুলিশ
পেরু
পোল্যান্ড
প্যারিস
প্রান্তকথা
প্রিয়.কম
প্রেক্ষিত
বর্নাঢ্য র্যালী
বলিভিয়া
বাংলাভিশন
বাজারসুবিধা
বাস্তবসম্মত
বিচার
বিশ্ব খাদ্য দিবস
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস
বিশ্ব নদী দিবস
বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস
বিশ্ব শিক্ষক দিবস
বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যবস্থাপনা
ব্যাংক ব্যবস্থা
ব্রিটিশ
ভাষাসৈনিক
মাহমুদ আহমাদ
মুস্তাফিজ মামুন
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী
মোহাম্মদ কামরুজ্জামান
যুদ্ধ ও শান্তি
যুদ্ধাপরাধ
যুদ্ধাপরাধের বিচার
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
লবন চাষ
লামিনে ইয়ামাল
শহীদের স্মৃতি
শান্তি
শিল্প ও পরিবেশ
শিশুশ্রম
সন্ত্রাস ও রাজনীতি
সহজিয়া কড়চা
সিগন্যাল
সেলিনা হোসেন
স্বাধীন
স্বাস্থ্যনীতি
স্মরণ মুক্তিযুদ্ধ
স্মৃতিঘর
হাসপাতাল
Afghanistan
Bangladesh
Brazil
CNN
California
Comments
Croatia
Delhi
Denise Winterman
Dome of the Rock
God Mag
Google
Hugh Schofield
India
Indonesia
Jane O'Brien
Japan
Jeremy Bowen
Jerusalem
Jon Kelly
Kareem Khadder
Kate Dailey
Kim Ghattas
Lead News
Libya
Mahfuz Anam
Michal Zippori
New York
Nigeria
Pakistan
Paris
Paul Colsey
Qamrul Islam
Rosie Goldsmith
Rupert Wingfield-Hayes
Sanjoy Majumder
Source
South Sudan
The Daily Star
The Telegraph
Thomas Fessy
Tours
Vietventures
Wall Street
World's Last Chance
Young
a excellent photo in Kutubdia Island
bdnews24
google search
image
অদিতি ফাল্গুনী
অযোগ্যদে
অসারপনা
আইনকানুন
আজারবাইজান
আদিবাসী দিবস
আনোয়ারা সৈয়দ হক
আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস
আফসার আমেদ
আবদুল লতিফ মাসুম
আবু আজাদ
আলজেরিয়া
আশান উজ জামান
আহমদ ফাহমি
ইথিওপিয়া
ইভ টিজিং
ইমরান খান
ইমাম খাইর
ইলহান ওমর
ইসলাম ও জীবন
ঈদের খুশি ও আনন্দ
ঈদের বেতন
উজবেকিস্তান
উপনির্বাচ
উপনির্বাচন
উর্দুভাষী
এ পি জে আবদুল কালাম
একুশে ফেব্রুয়ারি:
ঐতিহাস
ওবামা
কক্সবাজার নিউজ
কমিল্লা
কম্বোডিয়া
কলকাতার চিঠি
কাকন রেজা
কাজাখস্তান
কাটরা
কানাই কুণ্ডূ
কালের পুরাণ
কুতুবদিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
কৈয়ারবিল
ক্রসফায়ার
ক্ষত
ক্ষমাপ্রার্থনা
ক্ষুদ্রঋণ
কয়লানীতি
খায়ের মাহমুদ
খোন্দকার শওকত হোসেন
গাম্বিয়া
গোধূলি
গোড়ার
গৌড়
গ্রামীণ অর্থনীতি
গ্রিস
গ্রেপ্তার
ঘূর্ণিঝড় সম্পাদকীয়
ঘোড়া
চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন
চরমোনাই পীর
চলতি পথে
চাঁদ
চাদ
চিনি
চিরকুট
চিলি
চেয়ারম্যান
ছাত্র-রাজনীতি
ছাত্রদল
ছাড়পত্র
ছুটিদন
জজ হত্যা দিবস
জনদুর্ভোগ
জনস্বাস্থ্যের
জবাবদিহি
জম্মদিন
জলদস্যু
জাতিগত সহিংসতা
জারদারি
জি. মুনীর
জীবনযুদ্ধ
জীবিকা
জুমকন্যার
জ্বালানি রাজনীতি
জ্বালানি সম্পদ
জ্বালানিসম্পদ
জয়পুরহাট
ঝুঁকি
ঝুঁকি হ্রাস দিবস
টিপাইমুখ
টিপাইমুখ বাঁধ
টিপাইমুখে বাঁধ
টিভি চ্যানেল
টোঙ্গা
ঢাকা টাইমস
তানজির আহমেদ রাসেল
তুর্কমেনিস্তান
তেঁতুল
তেলকূপ দুর্ঘটনা
তেলিরকাটা
দক্ষিণ মগডেইল
দারিদ্র্য বিমোচন
দায়গুলো
দায়িত্ব
দুই দু’গুণে পাঁচ
দুর্গ
দূর পরবাসে
দেবনারায়ণ চক্রবর্তী
দৈনিক আজাদী
নগরদর্পণ
নদীকৃত্য দিবস
নববধূ
নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন
নারীর ক্ষমতায়ন
নাসরীন জাহান
নাসিমা আনিস
নাসির উদ্দিনের স্বাভাবিক মৃত্যু
নিকারাগুয়া
নিজাম কুতুবী
নিপীড়ন
নিরাপতা
নির্বাসনে
নিষেধাজ্ঞা’
নীহারুল ইসলাম
নূরে আলম জিকু
নেতা ইমরান খান
নেতৃত্বে
নোযাখালী
পণ্যবাজার
পদক
পবিত্র হজ
পররাষ্ট্রনীতি
পরিস্থিতি
পর্তুগাল
পাঠকের মন্তব্
পাপুয়া নিউগিনি
পাপড়ি রহমান
পাসপোর্ট
পাহাড়ধস
পিলখানা হত্যা
পোশাক
প্রশ্নবিদ্ধ
প্রস্তাবিত
প্রাণীজী
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ
প্রয়াণ
ফাঁসি
ফিনল্যান্ড
ফেরি ও পন্টুন
বঙ্গবন্ধু হত্যা
বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তন
বঞ্চনা
বনসম্পদ
বরিশাল ছাত্রলীগ
বর্ণবৈষম্যবিলোপ দিবস
বাঁকখালী
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
বাংলাদেশের পতাকা
বার্লিন দেয়াল
বাল্যবিয়ে
বাস্তবা
বাস্তবায়
বাহরাইন
বিচার বিভাগ
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড
বিজ্ঞানচিন্তা
বিজ্ঞাপন
বিজয়
বিদ্যুত
বিদ্যুৎ-সংকট
বিদ্যুৎকেন্দ্রে
বিপ্রদাশ বড়ুয়া
বিলবোর্ড দুর্ঘটনা
বিলেতের স্ন্যাপশট
বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস
বিশ্ব পরিবেশ দিবস
বিসিবি
বুলগেরিয়া
বুলবন ওসমান
বুড়িগঙ্গা
বৃক্ষরোপণ
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন
বৈষম্য
বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর
ব্যারিস্টার নাজির আহমদ
ব্রুনাই
বড়পুকুরিয়া
ভাজিরালংকর্ন
ভালোবাসা
ভাষণ
ভেজাল
ভোজ্যতেল
মংলা থেকে
মঈনুল হাসান
মঙ্গোলিয়া
মঞ্জু সরকার
মনযূরুল হক
মনি হায়দার
মন্ত্রিসভা
মাওবাদী সহিংসতা
মাতৃভাষা ও পরভাষা
মানচিত্র নিউজ
মানসিক স্বাস্থ্য দিব্স
মানসিকতা
মালি
মাল্টা
মাহবুব রেজা
মাহামুদা খাতুন
মিথিলেশ ভট্টাচার্য
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম
মুরগি জমা
মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন
মূল্যস্ফীতি
মৃত্যু ও কিছু ভাবনা
মোহাম্মদ মোশাররফ হুসাইন
ম্যাডোনা
ম্যান্ডেলা দিবস
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল
যুদ্ধাপরাধ-বিচার
রকিব হাসান
রক্ত
রদ্ধাঞ্জলি
রবাণিজ্যে
রাগবি
রাজনৈতিক সংস্কৃতি
রাজপথ
রাষ্ট্রীয়
রাস্তার
রিয়াল মাদ্রিদ
রুবেল হোসেনের
রেলওয়ের
রোমাঞ্চিত
রোমানিয়া
র্বিজ্ঞান
শক্তিশালী
শঙ্কা
শরীরের
শশী থারুর
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস
শাকিরা
শাহ্নাজ মুন্নী
শায়খ আহমাদুল্লাহ
শিক্ষক খুন
শিক্ষক-রাজনীতি
শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস
শিক্ষাচিত্রে
শিক্ষাবিদের
শিবের গীত
শুঁটকি উৎপাদন
শেরাটনীয়
শোনা
শ্রদ্ধাঞ্জল
শ্রমবাজার
শ্রমশক্তি
ষড়যন্ত্র
সংকট
সংঘাত
সংশোধন
সঙ্গী
সততা
সন্দেশ
সমন্বয়সাধন
সমাজ ও নারী
সমুদ্রস্নান
সময়
সময় নিউজ টিভি
সময়ের প্রতিবিম্ব
সরকার
সাংবাদ
সাইক্লোন শেল্টার
সাইপ্রাস
সাজিদ গ্রেফতার
সাদাসিধে কথা
সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম
সামন্ততন্ত্র
সামরিক শাসন
সামাজি
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
সাহসী
সিডনি
সিয়াম
সুপ্রভাত
সূর্যে
সেচসুবিধা
সোনার বাংলা
স্কাইপি
স্বকৃত নোমান
স্বচ্ছতা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
স্বাধীনত
স্বাধীনতাযুদ্ধ
স্বামী
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
স্বীকৃতি
স্মৃত-নিদর্শন
স্মৃতিসৌধ
স্মৃতিসৌধে
স্লোভাকিয়া
হত্যা ও হরতাল
হাইতি
হামিদ মীর
হুগজিল্ট











